Saturday, July 20, 2013

কেটের জন্য শুভকামনা

লন্ডনের সেন্ট মেরি’জ হাসপাতালের বাইরে কেটের
মুখাবয়বের মুখোশ পরা কয়েকজন নারী ছবি: এএফপি
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, যেকোনো সময় মা হতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী কেট মিডলটন। আর কেটের মা হওয়ার আগের প্রতিটি মুহূর্ত অনুসরণ করছে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। এই দৌড়ে সবার থেকে এগিয়ে যুক্তরাজ্যের মামসনেট। নাম থেকেই বোঝা যায়, মায়েদের নিয়েই মামসনেটের কাজকারবার। যুক্তরাজ্যের ৪৪ লাখ মানুষ এই ওয়েব ফোরামের সদস্য। গত সপ্তাহেই ওয়েবসাইটটি একটি গুজব ছড়ায় যে ডাচেস অব কেমব্রিজ কেটের প্রসববেদনা উঠেছে। মামসনেটের মুখপাত্র জেইন জেন্টেল বলেন, ‘কেউ পেটে সন্তান ধারণ করলেই সারা বিশ্বের সব অন্তঃসত্ত্বা নারীর সঙ্গে তার একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। কারণ তারা সবাই একজন আরেকজনের অবস্থা উপলব্ধি করতে পারেন।’ জেন্টেলও বর্তমানে ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এটি তাঁর দ্বিতীয় সন্তান। এ অবস্থায় কেটের যে অনুভূতি বা শারীরিক অস্বস্তি, সে ব্যাপারে তিনিও সমব্যথী। জেন্টেল বলেন, ‘এই প্রচণ্ড গরমে যা অবস্থা (ইংল্যান্ডে দাবদাহ চলছে), কেটের প্রতি আমি সহানুভূতি জানাই।’ তিনি বলেন, প্রত্যেক নতুন মায়ের জন্যই এটা জীবন বদলে দেওয়ার একটা অভিজ্ঞতা। কেটের জন্য জেইন জেন্টেলের পরামর্শ, ‘প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করুন। এটা অসাধারণ একটা অভিজ্ঞতা।’ এএফপি।

বনেধ অচল কাশ্মীর

জম্মুর ভাতিন্দি এলাকায় গতকাল বিক্ষোভের সময়
পুলিশের মুখোমুখি স্থানীয় বাসিন্দারা ষ এএফপি
বিএসএফের গুলিতে বিক্ষোভকারী হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে ডাকা বনেধ গতকাল শুক্রবার ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীর অচল হয়ে পড়ে। সম্ভাব্য সহিংস বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে শত শত পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী বিএসএফের সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাজ্যজুড়ে গতকাল দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অধিকাংশ সরকারি কার্যালয় বন্ধ ছিল। কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরের প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণে রামবান জেলার গুল এলাকায় গত বৃহস্পতিবার বিএসএফের গুলিতে চারজন বিক্ষোভকারী নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার স্বাধীনতাপন্থী জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (জেকেএলএফ) তিন দিনের বনেধর ডাক দেয়। গতকাল শ্রীনগরে শত শত পুলিশ ও বিএসএফের সদস্য মোতায়েন করা হয়। শহরের রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য। জম্মুর ভাদেরওয়াহ, বানিহাল, থাথরি, কিশতওয়ার, গুল ও দোদাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা বিএসএফ ও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। বুধবার গভীর রাতে বিএসএফ কথিত জঙ্গিদের গ্রেপ্তারের জন্য গুল এলাকায় একটি মাদ্রাসায় তল্লাশি চালায়। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় ওই মাদ্রাসার একজন তত্ত্বাবধায়ককে পেটানো হয়। এর প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় লোকজন বিএসএফের একটি ঘাঁটির সামনে বিক্ষোভ করে। এর একপর্যায়ে বিএসএফের সদস্যরা গুলি চালান। এতে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছিল, ওই ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়। কিন্তু গতকাল পুলিশের মহাপরিদর্শক রাজেশ কুমার বলেন, চারজন নিহত এবং ৩৭ জন আহত হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাজ্যের শান্তি বিনষ্ট করতে পারে। এএফপি ও পিটিআই।

ভারতের নতুন প্রধান বিচারপতি হলেন পি সত্যশিবম

পি সত্যশিবম
ভারতের নতুন প্রধান বিচারপতি হলেন বিচারপতি পি সত্যশিবম। দেশের ৪০তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি গতকাল শুক্রবার তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। নয় মাস আগে নিযুক্ত প্রধান বিচারপতি বাঙালি মুসলিম আইনজ্ঞ আলতামাস কবিরের স্থলাভিষিক্ত হলেন সত্যশিবম। রাষ্ট্রপতি ভবনের দরবার হলে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতির শপথ নেন পি সত্যশিবম। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীসহ শীর্ষনেতা ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিচারপতি সত্যশিবম ২০০৭ সালের আগস্টে সুপ্রিম কোর্টে যোগ দেন। আগামী বছরের এপ্রিলে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সত্যশিবমের পূর্বসূরি আলতামাস কবির মাত্র নয় মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্বে থাকাকালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগের বিদ্যমান কলেজিয়াম ব্যবস্থা বাতিলের বিরোধিতা করেছিলেন। সত্যশিবমও এ ব্যবস্থা বাতিলের বিরোধী। তবে তিনি এ ব্যবস্থার কিছু অসুবিধার কথা স্বীকার করেছিলেন। পিটিআই।

ফুকুশিমার ২০০০ কর্মী ক্যানসারের ঝুঁকিতে

ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্র
জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রায় দুই হাজার কর্মী থাইরয়েড ক্যানসারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। পারমাণবিক স্থাপনাটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান গতকাল শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার (টেপকো) জানায়, বিস্ফোরণের পর থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির বিকিরণের ফলে পারমাণবিক স্থাপনাটি নিরাপদ করার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের প্রায় ১০ শতাংশের মধ্যে এই ক্যানসারের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। সেই হিসাবে সংখ্যাটি দাঁড়ায় এক হাজার ৯৭৩। ২০১১ সালের মার্চে ভয়াবহ সুনামির ফলে ফুকুশিমা দাইচি নামে পারমাণবিক স্থাপনাটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে টেপকো জানায়, মাত্র ১৭৮ জন কর্মী তেজস্ক্রিয় রশ্মির শিকার হয়েছে। এদিকে টেপকো কর্তৃপক্ষ গতকাল বলেছে, একটি চুল্লি থেকে বাষ্প বের হওয়ার কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনার কথা জানিয়ে বলা হয়েছিল এতে আশু বিপদের ঝুঁকি নেই। এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্র অতি গোপন তথ্যে প্রবেশাধিকার কঠোর করছে

মার্কিন সরকার অতি গোপন গোয়েন্দা তথ্যে প্রবেশাধিকার আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনের মতো আর কেউ যাতে গোপন তথ্য ফাঁস করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) তথ্য ফাঁস রোধে যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে কোনো ব্যক্তির পক্ষে তথ্য সংগ্রহ করা আগের চেয়ে বেশি কঠিন হবে। জানা গেছে, মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্রের নিরাপত্তায় যে নিয়ম চালু রয়েছে, এনএসএর তথ্যের ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম চালু করা হবে। এ ব্যাপারে মার্কিন উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাস্টন কার্টার কলোরাডোয় অ্যাসপেন সিকিউরিটি ফোরামে বলেন, ‘কখন আমরা তথ্য ফাঁস রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেব?... এর উত্তর হলো, এখনই।’ স্নোডেন কী পরিমাণ তথ্য নিয়ে গেছেন—এ প্রশ্নের জবাবে কার্টার বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই মুহূর্তে এটা বলতে পারি যে “প্রচুর পরিমাণে” তথ্য নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।’ একই ফোরামে বক্তৃতায় এনএসএর পরিচালক জেনারেল কিথ আলেকজান্ডার বলেছেন, তথ্যে প্রবেশাধিকার কঠোর করতে ‘দুই ব্যক্তি নিয়ম’ চালু করা হতে পারে। স্পর্শকাতর তথ্য ডাউনলোড করতে হলে দুই ব্যক্তির সম্মতির প্রয়োজন হবে। এদিকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগে বিচারাধীন সেনা ম্যানিংয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুকে সহায়তা করার’ অভিযোগ খারিজ করে দেওয়ার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। সামরিক আদালতের বিচারক কর্নেল ডেনিস লিন্ড সেই আবেদন নাকচ করে দিয়ে বলেন, ম্যানিংয়ের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগের বিচার করার মতো যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। ‘হুয়াওয়েই চীনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করেছে’: চীনের টেলিকম প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েই বেইজিংয়ের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সিআইএর সাবেক প্রধান মাইকেল হেইডেন। অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিবিষয়ক পত্রিকা অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ-এর সঙ্গে আলাপকালে হেইডেন এ অভিযোগ করেন। রয়টার্স ও এএফপি।

প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে মুরসিপন্থীদের বিক্ষোভ

জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের বাইরে ইসলামপন্থী দল হামাসের
সমর্থকেরা গতকাল মুরসির সমর্থনে ও মিসরীয় সেনাপ্রধান আবদেল
ফাত্তাহ আল-সিসির বিরুদ্ধে মিছিল বের করে ষ ছবি: এএফপি
মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল শুক্রবারও রাজধানী কায়রোতে তাঁর হাজারো সমর্থক বিক্ষোভ করেছেন। যদিও আগের দিন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। সেনাবাহিনী দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে ইসলামপন্থী মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এর পর থেকেই মুসলিম ব্রাদারহুড তাদের নেতাকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে। ব্রাদারহুডের অভিযোগ, সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবৈধভাবে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। তিনি এখনো দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট। মুরসিকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ব্রাদারহুড। এর অংশ হিসেবে গতকাল কায়রোর উপকণ্ঠে নাসার এলাকায় রাত-দিন চব্বিশ ঘণ্টা অবস্থানের জন্য তাঁবু গেড়েছেন দলটির কর্মী-সমর্থকেরা। মাগরিবের নামাজের পর হাজারো সমর্থক সেখানে জড়ো হয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল সিসির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে প্রথম দেওয়া ভাষণে মিসরের সেনা-সমর্থিত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আদলি মানসুর বলেন, ‘আমরা এখন সংকটময় সময় পার করছি। কিছু লোক আমাদের সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে চায়। রক্তাক্ত পথে হাঁটতে চায়। কিন্তু আমরা শান্তি ও স্থিতিশীলতা চাই। তবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সংঘাত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’ তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা বিক্ষোভের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, আপনারাও তাদের মোকাবিলা করবেন। মুসলিম ব্রাদারহুডের জ্যেষ্ঠ নেতা এসাম এল-এরিয়ান গতকাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তায় বলেন, ‘আমাদের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ উপায়ে চলবে। সারা দেশের স্কয়ারগুলোতে কর্মী-সমর্থকেরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করবেন।’ মুরসিপন্থীদের তাহরির স্কয়ারে আসা প্রতিরোধ করতে নীল নদের সেতুর ওপর সামরিক বাহিনীর সাঁজোয়া যান রাখা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ। মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গতকাল মিসরের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নবী ফাহমির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এ সময় কেরি আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার সফল হবে। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানান। মিসরের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ পশ্চিমা মিত্র যুক্তরাষ্ট্র চলমান এ সংকটের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনাকে সেনা অভ্যুত্থান বলে এখনো আখ্যা দেয়নি হোয়াইট হাউস। এ ঘটনাকে সেনা অভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকার করলে মার্কিন আইন অনুযায়ী মিসরের সামরিক বাহিনীকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার সহায়তা বন্ধ করে দিতে হবে। গত ৩ জুলাই মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এ সময়ের পর থেকে সংঘর্ষে অন্তত ৯৯ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই ৮ জুলাই কায়রোতে সেনাদের গুলিতে নিহত হন। এএফপি ও রয়টার্স।

পুতিনবিরোধী নাভালনির অপ্রত্যাশিত জামিন

রাশিয়ায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পুতিনবিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনিকে দেশটির এক আদালত গতকাল শুক্রবার জামিন দিয়েছেন। নাভালনি তাঁর ওই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। তবে তাঁর জামিন পাওয়াটা বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। গত বৃহস্পতিবার উত্তর রাশিয়ার কিরোভ শহরের একটি নিম্ন আদালত নাভালনিকে অর্থ আত্মসাতের একটি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। গতকাল বিচারক আপিল নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত জামিনে মুক্তির আদেশ দিয়ে বলেন, নাভালনিকে আটক রাখা হলে তিনি আগামী ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় মস্কো নগরের মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। এতে তাঁর নাগরিক অধিকার হরণ করা হবে। নাভালনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রধান সমালোচকদের অন্যতম। পেশাগত জীবনে আইনজীবী নাভালনি জামিন পাওয়ার পর বিস্মিত হয়েছেন। প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রুশ আইনব্যবস্থায় এ এক অনন্য ঘটনা।’ বৃহস্পতিবার দণ্ডিত হওয়ার পর নাভালনি মেয়র পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করে সমর্থকদের ওই নির্বাচন বয়কট করতে বলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আগমুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ মেয়র প্রার্থীর কারাদণ্ড হওয়াটা পুতিন সরকারের জন্য খুব বিব্রতকর। জামিনে মুক্তি দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এএফপি।

অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব মানে না ইইউ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সদ্যঘোষিত এক নীতিমালায় বলেছে, জোটটি গোলান মালভূমি, ফিলিস্তিনশাসিত গাজা ও পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে না। গতকাল শুক্রবার ইইউর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সংস্থাটির নিজস্ব সাময়িকীতে এ নীতিমালা প্রকাশিত হয়েছে। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তি আলোচনা আবার শুরুর ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির তোড়জোড়ের মধ্যে ইইউ তার এই অবস্থানের কথা প্রকাশ করল। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার শান্তি আলোচনা শুরুর বিষয়ে কেরির পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার দাবি তোলে। এরপর গতকাল ফিলিস্তিনের প্রধান আলোচকের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শুক্রবার ইইউর সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই নীতিমালায় ইইউর সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ইসরায়েলের দখল করা ভূখণ্ডে সক্রিয় ইহুদি কোনো সংগঠনকে কোনো ধরনের সহায়তা দিতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের আগের সীমানা বিবেচনা করে সহায়তা দেওয়া যাবে। ইইউর সাময়িকীতে বলা হয়, ‘ইইউ পূর্ব জেরুজালেমসহ গাজা ও পশ্চিম তীর এবং গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয় না। আইনগত দিক থেকে এসব এলাকাকে ইসরায়েলি অংশ বলে বিবেচনাও করে না ইইউ।’ এদিকে এ বিষয়ে কয়েকটি পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসরায়েল। বৈঠকে দেশটি হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, ইইউর এই উদ্যোগের ফলে জোটটির সঙ্গে তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তেল আবিবে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্তফ বিগোত বলেন, ‘আমি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, এটি অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের বিষয়ে ইইউর আগের অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা মাত্র।’ মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি গতকাল ফিলিস্তিনের প্রধান আলোচক সায়েব এরেকাতের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেছেন। একই দিনে দ্বিতীয়বার বৈঠকের বিষয়টি অনেককে বিস্মিত করেছে। এএফপি ও রয়টার্স।

জোখারকে গ্রেপ্তারের ছবি প্রকাশ করেছেন ক্ষুব্ধ পুলিশ কর্মী

জোখার সারনায়েভ
সন্দেহভাজন বোমা হামলাকারী জোখার সারনায়েভের ছবি রোলিং স্টোন সাময়িকীর প্রচ্ছদে ব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন পুলিশের এক কর্মী তাঁকে গ্রেপ্তার করার কিছু গোপন ছবি প্রকাশ করেছেন। বোস্টন পুলিশের আলোকচিত্রী সার্জেন্ট শ্যন মারফি অভিযোগ করেন, রোলিং স্টোন-এর প্রচ্ছদে জোখারের যে সৌম্য-শান্ত চেহারার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তা বোস্টন হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের কষ্ট দেবে। ওই প্রচ্ছদকে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের প্রতি সাময়িকীটির ‘মশকরা’ বলেও আখ্যা দেন মারফি। মারফির প্রকাশিত ছবিতে জোখারকে নৌকার ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে দেখা যায় তাঁর কপালের জখম থেকে রক্ত ঝরছে। এসব ছবি প্রকাশের ব্যাপারে পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, মারফির প্রকাশিত ছবি কোনো গণমাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে না। কারণ তা অনুমোদিত নয়। ছবি প্রকাশ করায় মারফির বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল ঐতিহ্যবাহী বোস্টন ম্যারাথনে জোড়া বোমা হামলায় তিনজন নিহত ও ১৭০ জন আহত হন। বিবিসি ও সিএনএন।

শিক্ষকদের বেতন নিয়মিত হোক by শরিফুল ইসলাম

জুলাই মাস শেষ হতে চলল। এখনও বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা বেতন পাননি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বেতন সংক্রান্ত কোনো তথ্যই নেই। বেতন ছাড় হওয়ার পরেও শিক্ষকদের হাতে তা পেঁৗছাতে সপ্তাহখানেক লাগে।

শিক্ষা শেষে কাজ চাই by মিঠুন গোস্বামী

৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে লাগাতার ছাত্র আন্দোলন স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানলে রূপ নিয়েছিল।

সমাপনী পরীক্ষার চ্যালেঞ্জ by মোঃ সিদ্দিকুর রহমান

শিক্ষা শিশুর জন্মগত অধিকার। শিশুর অধিকার অর্জনের পথ মসৃণ ও কণ্টকমুক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। শিশু যাতে তার অধিকার, আনন্দঘন পরিবেশ গ্রহণ করতে পারে সে ব্যবস্থা নেয়া সমাজ ও রাষ্ট্রের কর্তব্য। সেজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা পারিবারিক পরিবেশে শিশুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এ নির্যাতন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাকে শিশুর কাছে অধিকতর আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে বিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলা, নাচ, গান প্রতিযোগিতা তথা সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। বছরের শুরুতে রঙিন আকর্ষণীয় ছবি সহকারে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হচ্ছে। শিশুদের জন্য মজার গল্প, মিনাকার্টুন বই সরবরাহ করছে। উচ্চ মধ্যবিত্ত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সন্তানদের শিক্ষা একই মানের করার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু করেছে। এতে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিশুর ওপর অমানবিক বইয়ের বোঝা হ্রাস পেয়েছে। ফলে অধিকাংশ অভিভাবকের মনে ধারণা জš§াতে শুরু করেছে, জ্ঞান অর্জনের জন্য অপ্রয়োজনীয় বইয়ের বোঝার দরকার নেই।
এ অবস্থায় আবারও শিশুকে বাধ্য করা হচ্ছে নোট-গাইডের বোঝা বহন করতে। বর্তমানে ইউআরসি সাবক্লাস্টারসহ পাঠদান সংক্রান্ত বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে শিশুর সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে তেমন কোনো প্রশিক্ষণ দেয়া হয় না। শিক্ষকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নোট-গাইড বা জাতীয় পত্রিকার মাধ্যমে সমাপনী পরীক্ষার পরিবর্তিত মানবণ্টন, প্রশ্নের নমুনা সম্পর্কে জানেন। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের অনেক ক্ষেত্রে বছরের ৬ মাস গড়িয়ে যায়। ২০১২ ও ২০১৩ সালের জন্য শিক্ষকদের কাছে পরিবর্তিত মানবণ্টন সংক্রান্ত কোনো কপি আদৌ পৌঁছেনি, যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নোটবইয়ের বদৌলতে পেয়েছেন। এক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নোট-গাইড কৌশলে বিক্রির প্রমাণ মিলেছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশ-প্রজ্ঞাপন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যায়। অথচ শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ সমাপনী পরীক্ষার তথ্য পাঠানো হয় না। জানতে চাওয়া হলে জবাব আসে ইন্টারনেটে পাবেন, এখনও হয়নি। ভাবখানা এমন, সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ইন্টারনেটের আওতাভুক্ত।
শিশুদের ক্ষেত্রে নতুন কিছু পরিবর্তন আনতে হলে শিক্ষকদের ডিসেম্বরের আগে ধারণা দেয়া প্রয়োজন। পাঠ্যপুস্তক অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রশ্ন সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেয়ে থাকেন। অথচ ২০১৩ সালে নতুন পাঠ্যপুস্তকের মানবণ্টনের নমুনা প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা দেয়ার পরিবর্তে দেয়া হয়েছে পুরনো ধ্যান-ধারণা। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করত অনেকটা ঈদের খুশির আমেজ। তাদের মনে পরীক্ষা ভীতি বলে তেমন কিছু ছিল না। বেশির ভাগ স্কুলে শতভাগ পাস এবং এ অথবা এ প্লাসের ছড়াছড়ি। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের মধ্যে বিভিন্ন স্কুলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তথা বিদ্যালয়ের অধিকতর সুনাম অর্জনের মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। মে ২০১৩-তে বাজারের গাইডবইয়ে সমাপনী পরীক্ষার নমুনা প্রশ্ন দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিক্ষকরা মিলিয়ে দেখে তা হুবহু এক, যা বিলম্বে হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর দরকার ছিল। যার ফলে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরনো ধারণা মোতাবেক পরীক্ষা নিতে বাধ্য হয়। নতুন মানবণ্টন নমুনা প্রশ্ন আগের বছরের তুলনায় ব্যাপক। অথচ শিক্ষার্থীদের ওই সময়ে উত্তর দেয়া সম্ভব নয়।
আড়াই ঘণ্টা সময় হলে শিক্ষার্থীরা অনায়াসে লিখতে পারবে। অপরদিকে শিশু শিক্ষার্থীদের ২ ঘণ্টার বেশি সময়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হলে জীবনের প্রথম পরীক্ষা হবে ক্লান্তি ও বিষাদময়। তাই পরীক্ষা তাদের মনে বিতৃষ্ণা জš§াবে। ২০১৩ সালের বাংলা ও ইংরেজি প্রশ্নপত্রে পাঠ্যবইবহির্ভূত অনুচ্ছেদ থাকবে। জীবনের শুরুতে পাবলিক পরীক্ষায় পাঠ্যবইবহির্ভূত অনুচ্ছেদ থেকে ২৫ নম্বরের প্রশ্ন থাকলে শিশুর মনে অজানা প্রশ্ন সম্পর্কে পরীক্ষার আগে ভীতি-উৎকণ্ঠা জš§াবে। প্রশ্নের উত্তর শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে লিখতে পারবে কি-না এ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা থাকবে। শতকরা ৯০ ভাগ শিশুর জন্যই উত্তর দেয়া দুরূহ হবে। বাংলায় ১৩ নম্বর প্রশ্নে এলোমেলো কবিতার লাইনগুলো পর পর সাজিয়ে লেখা প্রশ্নের উত্তর যথার্থভাবে দিতে হলে শিশুকে বড় বড় কবিতা মুখস্থ করতে হবে।
কম মেধাসম্পন্ন শিশুর জন্য বড় কবিতা মুখস্থ করা কঠিন। ১৫ নম্বর ফরম পূরণ প্রশ্ন পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের স্ববিরোধী। যেখানে পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কোড নম্বর ব্যবহার করা হয়, সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বিস্তারিত তথ্য লিখে খাতার টপশিটে কোড নম্বর দেয়ার প্রয়োজন নেই। ইংরেজি ৭ নম্বর প্রশ্নে জবধৎৎধহমব করে গল্প লেখার জন্য পুরো অধ্যায় ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। বাংলা কবিতার মতো কোন বাক্যের পর কোন বাক্য লিখতে হবে এবং ঘড়ঁহ, চৎড়হড়ঁহ সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। এখানে পুরো গল্প বা অধ্যায় অনেকটা মুখস্থ করার মতো আয়ত্ত করা শিশুর কাছে অনেকটা যন্ত্রণাদায়ক। গণিত বিষয়ে প্রশ্নের মানবণ্টন ও নমুনা প্রশ্নের জন্য ২ ঘণ্টা সময় যথেষ্ট। আমার পর্যবেক্ষণে প্রশ্নের মানবণ্টনে তেমন কোনো সমস্যা পরিলক্ষিত হয়নি। পাঠ্যপুস্তকে উদাহরণের প্রদত্ত অংকগুলো অনুশীলনীর সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, প্রাথমিক বিজ্ঞান ও ধর্ম বিষয়ে বিগত পরীক্ষাগুলোয় ৫টি রচনামূলক ও ভুল/শুদ্ধ নির্ণয় কর প্রশ্ন ছিল। ২০১৩ সালে ৫টির পরিবর্তে ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং ভুল/শুদ্ধ প্রশ্ন নেই। ৮টির মধ্যে ২টি যোগ্যতাভিত্তিক। যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে শিক্ষার্থীকে চিন্তাভাবনা করে লিখতে হয়। তাতে বেশি সময় লাগে। এতে সব প্রশ্নের উত্তর কমপক্ষে আড়াই ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন।
এবার প্রশ্নপত্র বহির্ভূত সমস্যা নিয়ে আলোকপাত করছি। প্রতিবছর জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সমাপনী পরীক্ষার কাজের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসগুলোতে ডেপুটেশনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে নিয়োজিত করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ভীষণভাবে ব্যাহত হয়। ৫০০-১৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য প্রতি কেন্দ্রে একই বরাদ্দ দেয়া হয়। এ বরাদ্দ ও ২ জন এমএলএসএস নিয়োগ অপ্রতুল। কোড নম্বর বসানোর জন্য নিয়োজিত শিক্ষকদের সম্মানী সর্বমোট ৫০০ টাকা, যা দিয়ে যাতায়াতের ব্যয় মেটানোও সম্ভব নয়। সারাদেশের সাধারণ মানুষের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার স্লোগানকে বাস্তবায়িত করতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফিসের নামে টাকা নেয়া স্ববিরোধী অথচ বছরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফিসের নামে ৩ বার টাকা আদায় করা হয়। বিগত বছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমাপনী পরীক্ষার ফি ছিল ৪০ টাকা অথচ এ বছরে করা হয়েছে ৬০ টাকা। এটি অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের পরপন্থী।
এসবদ্ধ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য কতিপয় প্রস্তাব পেশ করছি : * প্রশ্নের মানবণ্টন, নমুনা প্রশ্নসহ পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব বিষয় ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা। * পাঠ্যবইয়ের অনুশীলনীতে যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নের ধারণা দেয়া। * পরীক্ষার সময়সূচি ২ ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যে বাংলা ও ইংরেজিতে পাঠ্যবই বহির্ভূত অনুচ্ছেন বাদ দেয়া। * কবিতার লাইনগুলো সাজিয়ে লেখার পরিবর্তে আগের মতো কবির নামসহ ১০ লাইন লেখা। * বাংলা প্রশ্নে ফরম পূরণ পরীক্ষার গোপনীয়তার স্বার্থে বাদ দেয়া। * ইংরেজি ৭ নম্বর জবধৎৎধহমব করে গল্প লেখা প্রশ্ন না রাখা। * বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, প্রাথমিক বিজ্ঞান, ধর্মবিষয়ক রচনামূলক প্রশ্ন ৮টির পরিবর্তে যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নসহ সর্বমোট ৫টি করা। * ভুল/শুদ্ধ নির্ণয় করা ও মিলিয়ে লেখা সংযুক্ত করা। * গণিত বইয়ে উদাহরণের আলোকে সমস্যা সমাধানে পর্যাপ্ত অংক রাখা। * শিক্ষকদের পরীক্ষা-সংক্রান্ত দাফতরিক কাজে নিয়োগ না করে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড বা এ কাজে অস্থায়ীভাবে লোক নিয়োগ করা। * পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থী অনুযায়ী বরাদ্দ ও পর্যাপ্ত এমএলএসএস নিয়োগ করা। * কোড নম্বর বসানোর দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষদের সন্তোষজনক সম্মানী প্রদান করা। * প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যবইয়ের মতো পরীক্ষা-সংক্রান্ত ফি প্রথা বাতিল করে সরকারিভাবে প্রশ্ন ও কাগজসহ সমুদয় খরচের ব্যবস্থা করা। * শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া অতিরিক্ত ২০ টাকা শিগগির ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করা। এসব পরামর্শের আলোকে সমাপনী পরীক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো দূর করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা করছি।
মোঃ সিদ্দিকুর রহমান : প্রাথমিক শিক্ষাবিষয়ক গবেষক; সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি

এমন রায় কে চেয়েছিল ... by মো. শরিফুল ইসলাম খান

লাখো শহীদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই। আমার সোনার বাংলায় আলবদরের ঠাঁই নাই।

ভালোই তো, ভালো না? by ফরহাদ মজহার

তথ্য মন্ত্রণালয় তথ্য চায়। তাদের কাছে তথ্য নাই যে তা না, তবু তারা তথ্য চায়। আজব ব্যাপার! তথ্য মন্ত্রণালয় তথ্য চেয়েছে ‘অধিকার’ ও ‘টিআইবি’র কাছে। দৈনিক জনকণ্ঠে বিভাষ বাড়ৈ রিপোর্ট করেছেন, “শাপলা চত্বরের মৃত্যুর বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিপাকে ‘অধিকার’ (১৪ জুলাই ২০১৩)”। ভালো তো, ভালো না? পড়ুক অধিকার বিপাকে। আসলে কেউই মারা যায়নি। জাতীয় সংসদেও সরকারদলীয় নেতৃস্থানীয় সংসদ সদস্যরা বলেছেন, ৫ মে রাতে হেফাজতের সমাবেশে কোনো প্রাণহানির ঘটনাই ঘটেনি। আর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ১৯ জুন জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তৃতায় বলেন, ‘৫ মে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ওপর কোনো গুলিবর্ষণ করা হয়নি বরং হেফাজতের কর্মীরা লাল রঙ লাগিয়ে মৃতের অভিনয় করেছে। হেফাজতের কর্মীরা গায়ে লাল রঙ মেখে রাস্তায় শুয়ে ছিল। পরে পুলিশ এলে তারা ভয়ে দৌড়ে পালায়।’ খুবই সুন্দর ব্যাখ্যা। ২৬ জুন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম জাতীয় সংসদে বলেছেন, ‘হেফাজতের সমাবেশে কোনো গুলি হয়নি। কোনো হত্যাকাণ্ড হয়নি। যদি বিরোধী দল একজন নিহত হয়েছে এমন প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’
এমনকি পুলিশ কর্মকর্তারাও আমাদের নিশ্চিত করেছেন, ৫ মে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঢাকার পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ ৮ মে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, ‘রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজত কর্মীদের সরিয়ে দিতে যে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই অভিযানে কোনো মরণঘাতী অস্ত্রেরও ব্যবহার করা হয়নি।’
ভালো তো, ভালো না! তারপরও তথ্যের কী দরকার!
অধিকার সম্প্রতি ‘হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ও মানবাধিকার লংঘন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। টিআইবি প্রকাশ করেছে ‘গ্লোবাল করাপশন ব্যারোমিটার ২০১৩’। বোঝা যাচ্ছে দুটো প্রতিবেদনই সরকারকে বেশ ক্ষিপ্ত করেছে। দুটো প্রতিবেদনের চরিত্র এক নয়। আমরা বিষয়ের পার্থক্যের কথা বলছি না, তাদের তথ্যানুসন্ধানভিত্তিক প্রতিবেদনের পদ্ধতির দিক থেকে বলছি। ‘অধিকার’-এর প্রতিবেদন বাস্তবে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ওপর সরকার যে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে সেক্ষেত্রে বাস্তবে কী ঘটেছে, নানা সাক্ষীসাবুদের ভিত্তিতে তৈরি করা প্রতিবেদন। তবে চলমান। অধিকার বলছে, ৫ মে দিবাগত রাতে নিরস্ত্র ও ঘুমিয়ে থাকা মানুষের ওপর সরকারের সশস্ত্র ও সহিংস হামলায় যারা শহীদ হয়েছেন তারা তার একটা তালিকা তৈরি করেছে। রিপোর্ট প্রকাশ করার দিন অবধি তারা ৬১ জন বাংলাদেশের নাগরিকের শহীদ হওয়ার একটি প্রাথমিক কিন্তু অসম্পূর্ণ তালিকা পেশ করেছে। এই অনুসন্ধান চলমান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে, এতে কোনো সন্দেহ নাই। কিন্তু তারা যা পেয়েছে তার ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারকে বোঝানো, এ কাজটা সরকারের নিজেরই করা উচিত। হেফাজতে ইসলামের ওপর যে অকথ্য দমন-নিপীড়ন চলছে, তার ফলে তাদের পক্ষে অবিলম্বে কোনো তালিকা হাজির করা সহজ নয়। তাছাড়া গ্যারান্টি কী যে সরকার নাম-ঠিকানা-পরিচয়সহ তালিকা পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করবে না? পদ্ধতির দিক থেকে দেখলে ‘অধিকার’-এর প্রতিবেদন হচ্ছে আসলে কী ঘটেছে তার ওপর সরেজমিন তদন্ত করে তৈরি করা রিপোর্ট। টিআইবি দুর্নীতির যে ব্যারোমিটার প্রকাশ করেছে, সেটা আসলে ব্যারোমিটারই বটে। সরকার আসলে দুর্নীতি করছে কি-না, তার ওপর সরেজমিন তদন্ত করে তৈরি করা রিপোর্ট এটা নয়। তবে দুর্নীতিকে সাধারণ মানুষ কিভাবে উপলব্ধি করে, সেই উপলব্ধির মাত্রা জরিপ করে তৈরি করা রিপোর্ট। টিআইবির রিপোর্ট দুর্নীতির বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সরেজমিন গবেষণা করে তৈরি করা রিপোর্ট নয়। দুর্নীতি সম্পর্কে মানুষের অনুভূতি বা উপলব্ধির মাত্রা নির্ণয় করার জরিপ। সরকারকে জনগণ কিভাবে দেখে ও কিভাবে বিচার করে তার একটা ইঙ্গিত টিআইবি রিপোর্টে মেলে। কিন্তু ‘অধিকার’-এর রিপোর্ট সেটা নয়। সরকার কয়েক লাখ লোক মেরে ফেললেও জনগণ মনে করতেই পারে যে কাজটি খারাপ হয়নি। তারা বলবে, ভালো না? ভালোই তো! মৌলবাদী, প্রতিক্রিয়াশীল, পশ্চাৎপদ ও আরও নানা গুণাবলী সংবলিত হেফাজতিদের এভাবে আরশোলার মতো মেরে ফেলাই উচিত। নইলে সভ্যতা বলে কিছু টিকবে না, থাকবে না। কিন্তু ‘অধিকার’ মানবাধিকার সংগঠন হওয়ার কারণে পড়েছে বিপদে। যদি আমরা নিজেদের ‘সভ্য’ বলি গণ্য করি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ইত্যাদি বস্তা বস্তা গালগল্পে বিশ্বাস করি, তাহলে হেফাজতে ইসলামের সদস্য ও সমর্থকদের এদেশের নাগরিক বলে স্বীকার করতে হবে। উপায় নাই। আরশোলা গণ্য করে মেরে ফেলা যাবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সুনির্দিষ্ট আইন ও বিচার ব্যবস্থার নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যাবে। কিন্তু শেষরাতে ইলেক্ট্রিসিটি বন্ধ করে পরিকল্পিতভাবে ব্ল্যাক আউটের অন্ধকার শামিয়ানার অধীনে টিভি ও সংবাদপত্রের কর্মীদের সরিয়ে দিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের একটি নির্বাচিত সরকার যেভাবে হত্যার উš§াদনায় মেতে উঠেছিল, সেটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য ঘটনা। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের এই ইতিহাসের জন্য যারা দায়ী, তাদের তো একদিন না একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। অতএব আসলে কী ঘটেছে, সততার সঙ্গে সেই ঘটনাবলী নথিভুক্ত করে রাখা দরকার। এটা ‘অধিকার’-এর কাজ নয়, সব নাগরিকেরই দায়। এমনকি শুধু হেফাজতে ইসলামের একার কর্তব্যের মধ্যেও এই দায় পড়ে না। রাষ্ট্রব্যবস্থা যদি গণতান্ত্রিক হয়, তাহলে নাগরিকদের মানবাধিকার অলংঘনীয়। এখানে কোনো আপস চলবে না। হেফাজতের তেরো দফা দাবি তোলা ও প্রচারের যেমন অধিকার আছে, তা বাতিল করার অধিকারও যে কোনো নাগরিকের আছে। হেফাজতের ঈমান-আকিদা এবং বিশ্বাসের ঘোর বিরোধী হলেও তাদের হত্যা করার অধিকার রাষ্ট্র বা সরকারের থাকতে পারে না। ধর্ম কিংবা আলেম-ওলামাদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি যাই হোক- সবাই নাগরিক, প্রতিটি নাগরিকের নাগরিক অধিকার রাষ্ট্রকে রক্ষা করতেই হবে।
কিন্তু অধিকার ‘বিপাকে’ কেন? দৈনিক জনকণ্ঠের বিভাস বাড়ৈ বলছেন, ‘‘৫ মে হেফাজত-জামায়াতের ভয়াবহতার পর রাতের অবস্থান সরাতে চালানো অভিযান নিয়ে দেশে-বিদেশে দফায় দফায় হত্যার কাল্পনিক তথ্য ছড়িয়ে এবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে মানবাধিকার সংগঠনের নামে সক্রিয় গ্র“প ‘অধিকার’। দিনের পর দিন সংগঠনটি রীতিমতো হেফাজত-জামায়াতের ভাষায় ৬২ জনকে হত্যা ও কয়েকশ’ নিখোঁজের জন্য সরকারকে দায়ী করে রিপোর্ট প্রকাশ করে চললেও এখন সেই তথ্য স্পষ্ট করতে পারছে না। মানবাধিকারের ধোয়া তুলে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে দেশে-বিদেশে বিএনপি, জামায়াত, হেফাজতসহ উগ্রবাদীদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের সুযোগ করে দিয়ে অধিকার এখন তাদের আবিষ্কৃত ‘নিহত’দের নাম, পিতার নাম, গ্রামের বাড়িসহ ঠিকানার তথ্য দিতে ব্যর্থ। তথ্য মন্ত্রণালয় নিহতদের পরিচয় চাইলেও চলছে লুকোচুরি। এদিকে কেবল অধিকার নয়, মাদ্রাসার গরিব ছাত্রদের পুঁজি করে ফায়দা লুটতে তিন হাজার নিহত ও কয়েক হাজার নিখোঁজের দাবি করে চুপসে গেছে বিএনপি-জামায়াতের øেহধন্য হেফাজত। দুই মাসেও হেফাজত তিন হাজার তো দূরের কথা নিহতের কোনো তালিকাই প্রকাশ করতে পারেনি।’’ বোঝা যাচ্ছে সরকার ও তার সমর্থকদের ‘রঙ মেখে শুয়ে থাকা’ তত্ত্বের জায়গা থেকে কথাগুলো বলা হচ্ছে। খুনি ও মানবাধিকার লংঘনকারী সরকার ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রের প্রতি নির্বিচার পক্ষপাতে দুষ্ট এ লেখা। উপেক্ষাই করা উচিত। তবে কিছু আমোদের খোরাক হলে ক্ষতি কী?
১. অধিকার ‘রীতিমতো হেফাজত-জামায়াতের ভাষায়’ কথা বলে। তার মানে হেফাজত-জামায়াত নাগরিক ও মানবিক অধিকারের ভাষায় কথা বলে, কারণ এটাই ‘অধিকার’-এর ভাষা, আদর্শ ও রাজনীতি। ভালো তো, ভালো না?
২. দুই মাসেও হেফাজত নিহতদের তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। বিলকুল ঠিক। কিন্তু ভালো তো, ভালো না? আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি একাত্তর সালে। ইতিমধ্যে ৪২ বছর চলে গেছে। তিরিশ লাখ প্রাণের বিনিময়ে এ দেশের যে স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতার শহীদদের তালিকা ৪২ বছরে করা সম্ভব হয়নি, আর হেফাজত দুই মাসে তাদের নিহত-আহতদের তালিকা প্রকাশ করে ফেলবে? এতে তো আমরাই বিপদে পড়ে যাব। তাতে কি আমরা এই অভিযোগ সহ্য করব, আমাদের তিরিশ লাখ শহীদের সংখ্যার তথ্য ‘আবিষ্কৃত’। অথবা আমরা অযোগ্য। অথবা মুক্তিযুদ্ধ ও তার শহীদদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এই তথ্য লুকিয়ে রেখেছি। অথচ হেফাজতে ইসলামকে এই অতিকথনগুলো সহ্য করতে হচ্ছে।
স্বাধীনতা যুদ্ধ চলার সময় খুনি পাকিস্তানি সরকার ও সেনাবাহিনীও বারবার বলেছিল, গণহত্যার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছিল সেসব মিথ্যা। শেখ হাসিনার সরকারের মতো দাবি করেছিল যারা নিহত হয়েছে তাদের নাম-ঠিকানার তালিকা সরকারের কাছে জমা দেয়ার। উদ্দেশ্য, সেই তালিকা মোতাবেক শহীদের পরিবারকে ধরা এবং তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালানো। শেখ হাসিনার সরকারও এজন্যই তালিকা চায়। হেফাজতের বিরুদ্ধে দমন-নিপীড়ন চালানোর জন্য। হেফাজতের নেতারা মনে হচ্ছে যথেষ্ট বুদ্ধিমান। তারা টের পেয়েছে, পাকিস্তানি সরকারের ভূত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হয়ে এখন বাংলাদেশ শাসন করছে। সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের সরকার ও রাষ্ট্র কায়েম হোক, তখন তারা সেই গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে তালিকা দেবে।
৩. অধিকার তাদের ‘আবিষ্কৃত নিহতদের নাম, পিতার নাম, গ্রামের বাড়িসহ ঠিকানার তথ্য দিতে ব্যর্থ’! ভালোই তো, ভালো না? কেন ‘অধিকার’ হেফাজতের ওপর আরও দমন-পীড়ন চালানোর জন্য সরকারের হাতে তালিকা ধরিয়ে দেবে? সরকারের কি গোয়েন্দা বিভাগ নাই? প্রশাসনিক লোকবলের কি অভাব পড়েছে নাকি সরকারের? ফলে ‘অধিকার’-এর তালিকা না দেয়াই মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে একমাত্র যুক্তিপূর্ণ কাজ। নাগরিকদের ওপর সরকার ও রাষ্ট্র দমন-পীড়ন জেলজুলুম হত্যা রক্তপাত চালাক, সেটা কি আমরা চাই? সেটা দৈনিক জনকণ্ঠ কিংবা বিভাষ বাড়ৈয়ের নীতি হতে পারে। সে নীতি হতে পারে সেসব টিভিওয়ালা ও সংবাদপত্রের, যারা হেফাজত তালিকা তৈরি করতে পারছে না ও প্রকাশ করছে না ইত্যাদি কোলাহলে দীর্ঘদিন আমাদের কান ঝালাপালা করে রেখেছে। কিন্তু এটা তো মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর নীতি হতে পারে না।
কিন্তু ‘অধিকার’-এর যুক্তি আর হেফাজতের যুক্তি এক হবে না। এটা আন্দাজ করতে পারি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাবে ‘অধিকার’ কী বলেছে সেটা এখন জানা যাচ্ছে। এই সত্য কেউই অস্বীকার করছে না যে বিপুলসংখ্যক আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য ৫ মে রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে ঘুমন্ত মানুষের ওপর গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে অনাকাক্সিক্ষত ও অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে হেফাজতিদের তাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু কেউই মারা যায়নি, হতাহত হয়নি। শুধু রঙ মেখে দুষ্ট হেফাজতিরা শুয়ে ছিল। সে রাতে মানুষকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার ভিডিও ও ছবি আমরা ফেসবুকে দেখলেও সেসব তাহলে বানোয়াট। ফটোশপের কারসাজি।
দেখা যাচ্ছে, সরকার যা বলছে আর ‘অধিকার’ একই কথা বলছে না। দেশে ও বিদেশের আরও অনেক মানবাধিকার সংগঠনের মতো ‘অধিকার’-এর চোখে সরকার তার নিজের দেশের নাগরিকদের হত্যার দায়ে অভিযুক্ত। কিন্তু অভিযুক্ত এ ঘটনার কোনো নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দূরে থাকুক, উল্টা তার অপরাধ ও দায় অস্বীকার করছে। অথচ শুধু নিজ দেশের জনগণের কাছে নয়, সরকার নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও বিধিবিধানের মানদণ্ডে অপরাধী বলে অভিযুক্ত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারকে এই দায়েই দায়ী করছে। তারপরও সে রাতে কিছুই ঘটেনি বা কোনো প্রাণহানি হয়নি দাবি করে সরকার প্রমাণ করছে, এ ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান ও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা জনগণকে জানানোর বিষয়ে সরকার একদমই আন্তরিক নয়। এ পরিস্থিতিতে সরকারকে তালিকা সরবরাহ করা বিপজ্জনক।
তাছাড়া হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা ও পরবর্তী দমনপীড়নের কারণে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ভীতসন্ত্রস্ত। মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে এদের প্রতি ‘অধিকার’-এর দায় আছে। গত ৫ মে’র ঘটনায় অন্তত এক লাখ তেত্রিশ হাজার পাঁচশ’ জন (১,৩৩,৫০০) অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ২৩টি মামলা দায়ের করেছে সরকার। সরকার দমনপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক যেহেতু ভিকটিম ও সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো আইন বাংলাদেশে নাই। অথচ মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে ভিকটিমদের নিরাপত্তা বিধান ‘অধিকার’-এর কর্তব্য।
এ পরিস্থিতিতে ‘অধিকার’ কী করতে পারে। অধিকার সরকারকে অবশ্যই সহযোগিতা করতে চায়। কিন্তু সরকারকে তিনটি শর্ত দিয়েছে ভিকটিমদের পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে। ১. নিহতদের তালিকা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে যেসব মানবাধিকার সংগঠন কাজ করছে, তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অবিলম্বে সুপ্রিমকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা। ২. তথ্য প্রদানকারী, ভিকটিম/তাদের পরিবার ও সাক্ষীদের জন্য সুরক্ষার সুস্পষ্ট প্রতিশ্র“তি দেয়া এবং সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৩. এই তথ্য প্রদানকারী, ভিকটিম/তাদের পরিবার ও সাক্ষীদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটবে না, সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেয়া।
দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ব্যাপারটা এক অদ্ভুত জিনিস। সমাজ যেখানে দুই পক্ষে বিভক্ত এবং এক পক্ষ আরেক পক্ষকে শত্র“ মনে করে, মানুষের ভালো-মন্দ হুঁশজ্ঞান আর থাকে না, তখন মানবাধিকার কর্মীদের বিরাট ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। খুবই বিনয়ের সঙ্গে ভেজা ও মিনমিনে গলায় মানবাধিকার কর্মীকে বোঝাতে হয়, আরশোলা তুমি মারলে মারতে পার, তবে মুশকিল হচ্ছে আরশোলা তো একটি প্রাণী। যে আরশোলা মারবে বলেই পণ করে বসে আছে, তার হিংস্র ও বদ্ধমূল সংকল্প থেকে তাকে সরিয়ে আনা যাবে কি-না সেটা আগাম বলা যাবে না। কিন্তু কাউকে না কাউকে বলে যেতেই হবে। হেফাজতে ইসলামের আদর্শ, রাজনীতি, কর্মপদ্ধতি- সবই কারও বিবেচনায় মন্দ হতে পারে, কিন্তু তারা দেশের নাগরিক। তাদের কথা বলার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের, ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। তারপরও শেখ হাসিনা বলবেন, তারা রঙ মেখে শুয়ে ছিল, সাড়া পেয়ে পালিয়েছে। এই রেকর্ড বাজবে। কিছু করার নাই। কিন্তু কেউ যদি নিজেকে মানবাধিকার কর্মী বলে দাবি করেন, তাকে তার কথাগুলো বলে যেতে হবে। সে কাজ তখন মানবাধিকার রক্ষার লড়াই নয়, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হয়ে ওঠে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েমের লড়াই। কিন্তু বিভাস বাড়ৈরা বলবেন, গণতন্ত্র, নাগরিক ও মানবিক অধিকার হচ্ছে জামায়াতি আর হেফাজতিদের ভাষা। ‘অধিকার’ তাদের ভাষাতেই কথা বলছে।
ভালোই তো, ভালো না!

কে হায় 'রাস্তা' খুঁড়ে... by একরামুল হক শামীম

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ 'হায় চিল' কবিতায় লিখেছেন, 'কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে'। হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে চাওয়া লোকজনের সংখ্যা হিসাব করে বলা কঠিন।

জীবনের সার্থকতা কীসে? by মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম

নৈতিকতা কাকে বলে তা পড়েছি কিন্তু শিখিনি। তাহলে কি শুধু পড়ার জন্যই নৈতিকতার সংজ্ঞা বইয়ে ছাপানো হয়েছিল, শেখার জন্য নয়? মনে পড়ে ছোটবেলায় ভাবসম্প্রসারণ পড়েছিলাম ‘পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না, পরের জন্য তোমার হৃদয় কুসুমকে প্রস্ফুটিত করিও’। স্যার খুব সুন্দর করে বুঝিয়েছিলেন, মহান সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীর সব বস্তুকে অন্যের উপকারের জন্য সৃষ্টি করেছেন। অপরের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করার মধ্যে রয়েছে মানব জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। মানুষ অপরের মঙ্গলের জন্য নিজের প্রচেষ্টা নিয়োজিত করলে তাতে তার মহান চরিত্রের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। ফুলকে এখানে রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। ফুলের সৌন্দর্য ও ঘ্রাণ কিছুই নিজের জন্য নয়। অন্যের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার মধ্যেই ফুলের সার্থকতা। এভাবে নিজেকে বিলিয়ে যখন ফুলের জীবনের অবসান ঘটে তখন উজাড় করা ভালোবাসা মানুষের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকে। পৃথিবীতে যারা মহৎ ব্যক্তি তারা অন্যের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। ফুল এবং মহৎ ব্যক্তি আদর্শের প্রতীক। অপরের জন্য জীবন উৎসর্গ কখনও জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং তা জীবনের সার্থকতা। ‘বিশ্বমানবতাকে উদার হৃদয়ে গ্রহণ করে মানুষের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেয়াই মানুষের নীতি হওয়া উচিত।’ এ ভাবসম্প্রসারণটিও আমরা সবাই পড়েছি, কিন্তু আমরা কি শিখেছি? তাহলে প্রশ্ন? আমাদের কি উচিত ছিল না এ ভাবসম্প্রসারণটি শিখে, হৃদয়ে আবৃত করে দেশ, জাতি ও বিশ্বে প্রয়োগ করা? তাহলে কি আমরা বলতে পারি না? আমাদের বড় বড় চেয়ারের বড় বড় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য এত বড় বড় পড়ার ডিগ্রির প্রয়োজন নেই, শুধু একটা ভাবসম্প্রসারণই যথেষ্ট ছিল।
আমি মনে করি, আজ আমাদের স্লোগান হওয়া উচিত ‘পুষ্প যেমন আপনার জন্য ফোটে না, তেমনি আমরা সম্মিলিতভাবে দেশ, জাতি ও বিশ্বের জন্য আমাদের হৃদয় কুসুমকে প্রস্ফুটিত করি।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার জীবনের অন্তিম মুহূর্তে দুঃখ করে বলেছিলেন ‘আমার আÍা অতৃপ্তি রয়ে গেল, এই জন্যই যে আমি গরিব, দুঃখী ও অসহায় মানুষদের নিয়ে কিছুই লিখে যেতে পারলাম না। এই জন্যই পারিনি যে, আমি তাদের মধ্যে সৃষ্ট হইনি।’ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অসহায় মানুষদের নিয়ে এত লেখালেখি করার পরও যদি তিনি দুঃখ করে এ কথা বলতে পারেন, তাহলে আমাদের অবস্থা কী? গরিব, দুঃখী ও অসহায় মানুষদেরই বা হবে কী? বলা হয়ে থাকে, একবিংশ শতাব্দীর এই যুগ প্রতিযোগিতার যুগ। অর্থের প্রতিযোগিতা, লোভের প্রতিযোগিতা, হিংসা-বিদ্বেষের প্রতিযোগিতা, ক্ষমতার প্রতিযোগিতা; শুধু নেই নৈতিকতার প্রতিযোগিতা। আমরা ভাবি না এসব প্রতিযোগিতা আমাদের নিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের দিকে, অধঃপতনের দিকে।
মনে পড়ে আব্রাহাম লিংকনের ঐহিতাসিক ভাষণের কথা, তিনি বলেছিলেন- ‘কারোর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ না করে সবার প্রতি উদার মনোভাব নিয়ে বাকি কাজগুলো শেষ করে জাতিকে সম্মুখের দিকে অগ্রসর করি।’ তার আহ্বানে সাড়াও এসেছিল ভালোভাবে। আব্রাহাম লিংকনের ভাষণ ও সাড়াদানকারী সমর্থকরা আমাদের আদর্শ হওয়া উচিত। এখন আমাদের মধ্য থেকে কে আহ্বান করবে? আর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসবেই বা কে? আমরা যার যার মনে সে সে। দুঃখ করে বলতে হয়, আমরা আমাদের ভুলের কথা কখন বুঝব? আমরা কি সেই সময় বুঝব যখন বুঝেও কোনো কাজ হবে না। জাতির অন্তিম মুহূর্তে বুঝেও জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। গ্রিক লেখক সফক্লিস বলেছিলেন- ‘আমরা আমাদের শেষ সময়ে শিখি, যখন শিখেও কাজে আসে না’।
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম : শিক্ষক

হৃদয়নন্দন বনে-কত চাই আর? by আলী যাকের

আজ এই বর্ষণমুখর সকালে যখন সমকালের জন্য এই কলামটি লিখতে শুরু করেছি তখন মনটা ভারি উৎফুল্ল ছিল। বৃষ্টি, বৃষ্টি! বর্ষা আমায় মাতিয়ে তোলে। বর্ষার শব্দে আমার সমস্ত মন এক অনাবিল আনন্দে ভরে যায়।

কালের আয়নায়-এই রায় গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অশুভ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

মানুষ মহাশত্রুরও মৃত্যু কামনা করে না। কিন্তু একাত্তরের ঘাতকদের নেতা গোলাম আযমের মৃত্যুদণ্ডাদেশ না হওয়ায় হতাশায় মুহ্যমান হয়েছি_ এ কথা বলতে কিছুমাত্র দ্বিধাবোধ করছি না।

পাটের বাজার মন্দা- সোনালি দিন ফেরাতে উদ্যোগ চাই

তিন বছর ধরে অব্যাহতভাবে পাটের বাজারে মন্দা চলার পরও শুধু পাট কমিশনের সুপারিশ প্রণয়ন ছাড়া নাজুক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের আর কোনো বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সংঘাতের রাজনীতি আর নয়- দুই দল দেশেই আলোচনায় বসুক

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা রাজপথে সহিংসতার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক বিরোধ নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

পাপুয়া নিউগিনিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে নৌপথে যাওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের অস্ট্রেলিয়ায় ঠাঁই হবে না

নৌযানে সাগর পাড়ি দিয়ে সে দেশে যাওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের আর ঠাঁই দেবে না অস্ট্রেলিয়া। তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হবে পাপুয়া নিউগিনিতে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড গতকাল শুক্রবার এ ঘোষণা দেন।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে’ পুতিনবিরোধী নাভালনির অপ্রত্যাশিত জামিন

রাশিয়ায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পুতিনবিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনিকে দেশটির এক আদালত গতকাল শুক্রবার জামিন দিয়েছেন। নাভালনি তাঁর ওই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন।

অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব মানে না ইইউ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সদ্যঘোষিত এক নীতিমালায় বলেছে, জোটটি গোলান মালভূমি, ফিলিস্তিনশাসিত গাজা ও পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে না।

কেটের জন্য শুভকামনা

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, যেকোনো সময় মা হতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী কেট মিডলটন। আর কেটের মা হওয়ার আগের প্রতিটি মুহূর্ত অনুসরণ করছে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্র অতি গোপন তথ্যে প্রবেশাধিকার কঠোর করছে

মার্কিন সরকার অতি গোপন গোয়েন্দা তথ্যে প্রবেশাধিকার আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড

তরুণীর লাশ উদ্ধার



চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুসংলগ্ন কর্ণফুলী নদী থেকে গতকাল শুক্রবার রাতে পুলিশ এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে। গতকাল বিকেলে লাশটি দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন।

দেশে অর্থ প্রেরণ বার্কলেজকে রুশনারা আলীর অনুরোধ

যুক্তরাজ্যের বার্কলেজ ব্যাংক বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দরিদ্র দেশে অর্থ পাঠানোর কাজে নিয়োজিত মানি ট্রান্সফার এজেন্সিগুলোর সঙ্গে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশে বক্তারা গোলাম আযমের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিল করতে হবে

অবিলম্বে গোলাম আযমের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের দাবি তুলেছে গণজাগরণ মঞ্চ। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন মঞ্চের নেতারা।

সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় নিয়ে কোনো কথা বলবেন না বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশবিষয়ক একটি সেমিনারে অংশ নিয়ে গতকাল শুক্রবার

কাহালুর লাচ্ছা সেমাই by দুপচাঁচিয়া

ঈদ উপলক্ষে বগুড়ার কাহালু উপজেলার শেখাহার গ্রামে লাচ্ছা সেমাই তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। এখান থেকে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই মেট্রিক টন লাচ্ছা সেমাই যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

কার্যালয় ঘেরাও উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শ্রমিক দলপতিদের এক বছরের পরিবহন বিলের দেড় লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। টাকার দাবিতে শ্রমিকেরা গত বৃহস্পতিবার ওই প্রকৌশলীর কার্যালয় ঘেরাও করেছেন।

বিরামপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

দিনাজপুরের বিরামপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরমান হোসেনের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ওই প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিদ্যালয় তহবিলের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যানবাহনের গ্যাস পুড়ছে বাড়ি ও কলকারখানায় by মোহামঞ্চদ আলম

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) সিলিন্ডারের মাধ্যমে অবৈধভাবে শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কারখানা ও বাড়ির মালিকেরা ভ্যানে সিলিন্ডার স্থাপন করে সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নিয়ে ব্যবহার করছেন।

যানবাহনের গ্যাস পুড়ছে বাড়ি ও কলকারখানায় by মোহামঞ্চদ আলম

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) সিলিন্ডারের মাধ্যমে অবৈধভাবে শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কারখানা ও বাড়ির মালিকেরা ভ্যানে সিলিন্ডার স্থাপন করে সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নিয়ে ব্যবহার করছেন।

কোচিং, নোটবই, গাইডবই যেন না লাগে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতির প্রচলন করে মন্ত্রণালয় প্রশংসনীয় কাজ করেছে। কিন্তু পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা নতুন পদ্ধতির পরীক্ষা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ, প্রশ্নকাঠামো কঠিন, আবার চিন্তাভাবনা করে উত্তর দিতে হয়।

আপস-সমঝোতার বিকল্প নেই স্বদেশে সংঘাত, বিদেশে মতৈক্য

রাজপথে সহিংসতা চলতে থাকলে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান আসবে না, বরং তা আরও ঘনীভূত হতে হতে একটা সময় সমাধানের অতীত পর্যায়ে চলে যেতে পারে।

ধর্ম রোজা পালন মুমিনের বার্ষিক প্রশিক্ষণ by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

পার্থিব জগতে শিক্ষকতাসহ দুনিয়ার সব কাজে যেমন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে যেমন জ্ঞানার্জনের প্রয়োজন এবং কর্মক্ষেত্রে যেমন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা হয়, তেমনি মুসলিম জাতির আত্মশুদ্ধি ও প্রশিক্ষণ লাভের মাস পবিত্র রমজান।

মিসর ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীই যেখানে সর্বময় শাসক by আয়েশা সিদ্দিকা

৩ জুলাইয়ের যে অভ্যুত্থানে মিসরে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করা হয়েছে, তা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটতে পারে যেকোনো দেশেই।

শাহরি রমজান-সিয়াম সাধনায় অদৃশ্যে বিশ্বাসের তাৎপর্য by মুফতি আবদুল ওয়াহিদ কাসেমি

চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের দাবি, অতিরিক্ত খাবার গ্রহণে মানুষের শরীরে চর্বি বা মেদ বাড়ে। তখন মানুষ অতিরিক্ত মোটা হয়ে পড়ে। লিভার যন্ত্রের অসুবিধা হয়। ফুসফুসে চাপ পড়ে। শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। কিডনি ঠিকমতো কাজ করে না।

সুস্থ হয়ে শিগগিরই ফিরছেন তারেক রহমান : ফখরুল-রায় নিয়ে কথা নয়

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুস্থ হয়ে শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, 'লন্ডনে চিকিৎসাধীন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে।

অনুপ চেটিয়াকে নিতে ভারতের বিশেষ বিমান-সুব্রত বাইন ও সাজ্জাদকে ফেরত পাঠাবে ভারত

একটি বিশেষ বিমানে ভারতে নিয়ে যাওয়া হবে বাংলাদেশের কারাগারে আটক ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়াকে। বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে তাঁকে দিল্লিতে নেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।

নিষিদ্ধ নয়, তবু নিঃশেষ হচ্ছে জামায়াত

জামায়াতে ইসলামীকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা না হলেও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দলটি ধ্বংস হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে লন্ডনভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্ট।

রাজনীতির সপ্তাহ-আমাদের এত মানবতা! by মোস্তফা মামুন

গোলাম আযমের রায়ের চার রকম প্রতিক্রিয়া হয়েছে।
১. সরকার বা আওয়ামী লীগ খুশি।
২. বিএনপি নিশ্চুপ।

বিচিত্র ভুবন

বেলুন বসন
আমাদের দেশে মেলায় গেলে দেখা যায় বেলুনওয়ালাদের খেল।

ঘর-মন-জানালা আশা আপু

তখন কোন ক্লাসে পড়ি, আজ অনেক ভেবেও তা মনে করতে পারি না। তবে ওই দিন নানাবাড়ির পাশের মনোহারী দোকানি রাসেল মামার কথাটা আজও যেন মনে খোদাই করে রাখা আছে। রাসেল মামা বলেছিল, ‘আশা আপুর সঙ্গে তোর বিয়ে।’

ঘর-মন-জানালা মাঝে মাঝে তুই

প্রিয় তন্ময়,
কত দিন পর তোকে লিখছি বল তো? এক বছর? হবে হয়তো।

কা র্য কা র ণ কালো কি কোনো রং? by আব্দুল কাইয়ুম

কোনো বস্তুর ওপর দৃশ্যমান সব তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো পড়ার পর যদি বস্তুটি তা সবটুকু শুষে নেয় এবং বলতে গেলে কোনো আলো ফেরত না পাঠায়, তাহলে তাকে আমরা কালো বলি। তাহলে কালো কি কোনো রং? সাধারণ ভাষায় আমরা বলি, ওই জিনিসের রং কালো।

লেখক হওয়ার পালা আপনার

আসছে ঈদ। আসছে লেখক হওয়ার দারুণ সুযোগ। ছুটির দিনে বরাবরের মতোই ভরসা রাখতে চায় পাঠকদের ওপর। সর্বোচ্চ ৬০০ শব্দের মধ্যে লিখে ফেলুন জম্পেশ একটা গল্প। আর পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।

বিরোধী নেতা নতুন ভবন খুলে দেশ ধ্বংস করবেন-মুগদা হাসপাতাল উদ্বোধনের পর জনসভায় হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষমতায় যেতে পারলে হাওয়া ভবনের মতো নতুন ভবন খুলে আবারও দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করবেন। নতুনভাবে দেশ পরিচালনার নামে নতুনভাবে তিনি দেশ ধ্বংস করবেন।

আজ বিদায় নিচ্ছে 'বিতর্ক' কমিশন-অর্ধকোটি টাকা খরচে গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের সুপারিশমালা আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না সন্দেহ by আবুল কাশেম

বাক্স-পেঁটরা গুছিয়ে বিদায়ের প্রস্তুতি শেষ 'বিতর্কিত' গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের। আজই এর শেষ দফায় বর্ধিত কর্মমেয়াদের অন্তিম দিন। ২০১২ সালের ১৬ জুন গঠিত হওয়ার পর দফায় দফায় সময় নিয়ে ওই কমিশন সরকারের কাছে দেওয়া

২২ কোটি টাকার খাদ্য গবেষণাগার-ঘটা করে উদ্বোধন, তারপর ৯ মাস অলস

ভেজাল খাবারে বাজার যখন সয়লাব, তখন অলস পড়ে আছে ২২ কোটি টাকার ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি। ৯ মাস আগে অত্যাধুনিক এ খাদ্য গবেষণাগারটি উদ্বোধন করা হয়েছিল ঘটা করে। কিন্তু নিয়োগবিধি না থাকায় জনবল পাওয়া যায়নি।

২২ কোটি টাকার খাদ্য গবেষণাগার-ঘটা করে উদ্বোধন, তারপর ৯ মাস অলস

ভেজাল খাবারে বাজার যখন সয়লাব, তখন অলস পড়ে আছে ২২ কোটি টাকার ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি। ৯ মাস আগে অত্যাধুনিক এ খাদ্য গবেষণাগারটি উদ্বোধন করা হয়েছিল ঘটা করে। কিন্তু নিয়োগবিধি না থাকায় জনবল পাওয়া যায়নি।

২২ কোটি টাকার খাদ্য গবেষণাগার-ঘটা করে উদ্বোধন, তারপর ৯ মাস অলস

ভেজাল খাবারে বাজার যখন সয়লাব, তখন অলস পড়ে আছে ২২ কোটি টাকার ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি। ৯ মাস আগে অত্যাধুনিক এ খাদ্য গবেষণাগারটি উদ্বোধন করা হয়েছিল ঘটা করে। কিন্তু নিয়োগবিধি না থাকায় জনবল পাওয়া যায়নি।

৫৪ শতাংশ খাদ্যে ভেজাল আইন এখনই হচ্ছে না! by আশরাফুল হক রাজীব

আমরা প্রতিদিন যেসব খাবার গ্রহণ করি তার অর্ধেকেরও বেশি খাবারে মেশানো আছে ভেজাল। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট দেড় যুগের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বলেছে, ভেজাল ব্যবহার অব্যাহতভাবেই চলছে।

দুই তদন্ত কমিটির উল্টো প্রতিবেদন-তেল লুটপাটের পাঁয়তারা! by আরিফুজ্জামান তুহিন

দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণের জন্য বেসরকারি খাতে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল মিলিয়ে মোট ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয় সরকার। এর মধ্যে দুটির অনুমোদন হয় গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আর সবগুলো চালু হয় বর্তমান সরকারের আমলে।

জোখারের আহতাবস্থার ছবি ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ম্যারাথনে সন্দেহভাজন হামলাকারী জোখার সারনায়েভের আহত অবস্থার ছবি ফাঁস করেছে পুলিশ বিভাগের এক ফটোগ্রাফার। স্থানীয় সাময়িকী রোলিং স্টোনের প্রচ্ছদে জোখারের একটি ছবি প্রকাশের প্রতিবাদে তিনি এ কাজ করেন।

ধর্মঘটে অচল কাশ্মীর, কারফিউ জারি

বিএসএফের গুলিতে সাত বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য। কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ডাকা তিন দিনের ধর্মঘট।

ইরাকে মসজিদে বোমা হামলায় নিহত ২০

ইরাকে গতকাল শুক্রবার একটি সুনি্ন মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ২০ জন মারা গেছে। কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। রাজধানী বাগদাদের উত্তরে দিয়ালা প্রদেশের আল-ওয়াজিহিয়া শহরে আবু বকর আল-সাদিক মসজিদে এ হামলা করা হয়।

দিল্লিতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ-কিশোর আসামি ডাকাতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত

একজনকে জোর করে আটকে রাখা ও ডাকাতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে নয়াদিল্লিতে চলন্ত বাসে মেডিক্যাল ছাত্রী গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত কিশোর আসামি। দিল্লির কিশোর বিচার আদালত (জেজেবি) এ রায় দেন।

মিসরে নিরাপত্তা রক্ষার অঙ্গীকার মনসুরের-আলোচনার ইঙ্গিত ব্রাদারহুডের

শেষ দিন পর্যন্ত দেশকে অরাজকতা ও সহিংসতার হাত থেকে রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন মিসরের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আদলি মনসুর। ক্ষমতায় আসার প্রায় দুই সপ্তাহ পরে গত বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেন মনসুর।

বিশ্বভ্রমণে নামছে গ্লোবের 'হ্যামলেট'

ইংরেজি সাহিত্যে যে কয়টি 'ট্র্যাজেডি' অত্যন্ত শক্তিমান, জনপ্রিয় এবং পাঠক বা দর্শক হৃদয়ে প্রভাব বিস্তারকারী হিসেবে বিবেচিত, সেগুলোর মধ্যে উইলিয়াম শেকসপিয়ারের 'হ্যামলেট' অন্যতম। ৪০০ বছর আগে রচিত এই নাটকটির সমসাময়িকতা ফুরোবার নয়।

সীমানার ব্যাপারে ইসরায়েলের নিশ্চয়তা চায় ফিলিস্তিন

ইসরায়েলের কাছ থেকে ১৯৬৭ সালের আগের সীমানা নিয়ে সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের নিশ্চয়তা পেলেই কেবল শান্তি আলোচনায় যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রের জরিপ-বেশির ভাগ মানুষ ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) হামলার বিরোধী বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ। গত সোমবার ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার প্রকাশিত এক জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে।

তীব্র দাবদাহে যুক্তরাজ্যে ৭৬০ জনের মৃত্যু

ব্রিটেনে তীব্র দাবদাহে গত ৯ দিনে ৭৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। লন্ডনের আবহাওয়া বিভাগ এ কথা জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অংশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

প্রশাসনে পদোন্নতি-যোগ্যতাই হোক মাপকাঠি

পদায়নের সুযোগ সীমিত হলেও পদোন্নতি থেমে নেই জনপ্রশাসনে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ৩২৬ জন উপসচিব যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন। এর আগে সরকার কয়েক দফায় জনপ্রশাসনে পদোন্নতি দিয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ-অপরাধী সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক

মানবতাবিরোধী অপরাধের সংগঠক দল হিসেবে জামায়াতকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ও নিষিদ্ধের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু আইনগত বাধার কারণে অনেক দিন এই জনদাবি পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

রাজনীতিতে নতুন বিপদ by ড. মো. মইনুল ইসলাম

গত এপ্রিল, ২০১৩-তে অনেকটা আকস্মিকভাবেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে হেফাজতে ইসলাম নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন বেশ জোরেশোরে তাদের আগমন ঘোষণা করে।

পবিত্র কোরআনের আলো-পৃথিবীর ইতিহাসে সব নবী-রাসুল পুরুষ ছিলেন

১০৯. ওয়ামা--- আরসালনা- মিন কাবলিকা ইল্লা- রিজা-লান নূ-হী--- ইলাইহিম মিন আহলিল কুরা, আফালাম য়াসীরূ ফিল আরদি ফায়ানযুরূ কাইফা কা-না 'আ-কিবাতুল্লাযী-না মিন কাবলিহিম, ওয়ালাদা-রুল আ-খিরাতি খাইরুল লিল্লাযী-নাত্তাকাও, আফালা- তা'কিলূনা।

কালের পুরাণ ক্ষমতা by সোহরাব হাসান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি তাদের ৪৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী উৎসব ও পুনর্মিলনীর আয়োজন করে ৪, ৫ ও ৬ জুলাই। স্লোগান ছিল ‘সাংবাদিকতায় সততা ও শুদ্ধাচার: গণতন্ত্র, সুশাসন, জবাবদিহির অঙ্গীকার’।

সাত বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম শ্রমিক বিদেশে যাচ্ছেন  সরকার বলছে সংখ্যা নয়, মানের দিকে নজর জনশক্তি রপ্তানির দুঃসময় by শরিফুল হাসান

২০১২ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) বিদেশে গিয়েছিলেন তিন লাখ ৭৪ হাজার ৮৩৭ জন কর্মী। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এ সংখ্যা এক লাখ ৬৬ হাজার ৪৯৭ জন কমে জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে দুই লাখ আট হাজার ৩৪০ জন।

শ নি বা রে র বিশেষ প্রতিবেদন কৃষকের বন্ধু by মো. আবদুর রহমান ঢালী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আদমপুর গ্রাম। এই গ্রামে একটা নদ ছিল। নাম কালাডুমুর। নদটি ভরাট। বোরো মৌসুমে সেচের জন্য হাহাকার উঠত গরিব কৃষকদের। ব্যাপারটি ছুঁয়ে গেল গ্রামেরই এক ব্যক্তির। সেটা ২০০৭ সালের কথা।

আন্দোলন-নির্বাচন দুই প্রস্তুতিই নিচ্ছে বিএনপি

বিএনপি ধরেই নিয়েছে, সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকটের সমাধানের সম্ভাবনা নেই। এ অবস্থায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দলকে তিন ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

ঘুরে দাঁড়াতে চায় হতাশ আ.লীগ

পাঁচ সিটি করপোরেশনে পরাজিত আওয়ামী লীগ হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায়। এ জন্য বিতর্কিত বিষয়গুলো থেকে বেরিয়ে দলকে নির্বাচনমুখী করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দুদক কি সময়ের দাবি মেটাতে পারবে? by সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ

দুর্নীতি একটি বিশ্ব সমস্যা। বিশেষ করে বিকাশশীল বা উন্নয়নশীল দেশে এ সমস্যা অত্যন্ত ভয়াবহ আকারে দেখা যাচ্ছে। অনেক দেশ যে স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সে স্বপ্ন ভেস্তে গেছে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতিতে। বাংলাদেশের কথা ধরা যাক।

চৈতন্যের মুক্ত বাতায়ন-ভারত ও বাংলাদেশে গণতন্ত্রের রূপভিন্নতা by যতীন সরকার

দক্ষিণ এশীয় উপমহাদেশটির অন্তর্গত দেশগুলোর মধ্যে ভারতই আয়তনে সর্ববৃহৎ এবং এর লোকসংখ্যাও সর্বাধিক। এ দেশটির এ অঞ্চলে বৃহত্তম ও একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশ বলে পরিচিত।

চৈতন্যের মুক্ত বাতায়ন-ভারত ও বাংলাদেশে গণতন্ত্রের রূপভিন্নতা by যতীন সরকার

দক্ষিণ এশীয় উপমহাদেশটির অন্তর্গত দেশগুলোর মধ্যে ভারতই আয়তনে সর্ববৃহৎ এবং এর লোকসংখ্যাও সর্বাধিক। এ দেশটির এ অঞ্চলে বৃহত্তম ও একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশ বলে পরিচিত।