Wednesday, April 4, 2018

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনের শুরুতেই সহিংতার বলি ১: নির্বাচন কমিশনারকে রাজ্যপালের তলব

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনের শুরুতেই রাজ্যের নানা জায়গা থেকে সন্ত্রাস ও সহিংসতার অভিযোগ করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। কংগ্রেস ও বিজেপির প্রতিনিধিরা রাজ্যপালের কাছে সন্ত্রাসের পরিস্থিতি নিয়ে নালিশ জানিয়েছেন। রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্র কুমার সিংকে ডেকে পাটিয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন। আজ বুধবার দুপুরে রাজভবনে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে কথা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে তাদের নির্দেশ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। তবে রাজ্যপালের ভূমিকা নিরপেক্ষ নয় অভিযোগ তুলে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নালিশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রতিনিধিদল। তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন। অন্যদিকে পঞ্চায়েত নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানাতে চলেছে বিজেপি। গতকাল প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে মালদহের কালিয়াচকে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছে মনোনয়ন পত্র জমা। এই মনোনয়ন পত্র তোলা ও জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিন দিনে রাজ্যের বহু জায়গায় শাসক দলের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বিরোধী প্রার্থীদের। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, সর্বত্রই বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়েছে। বহু জায়গাতেই বিরোধী প্রার্থীদের খুনের ্হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বীরভূমের বিডিও অফিসের সামনে বিজেপির জেলা সভাপতিকে ছুরি মারা হয়েছে। আজ বাঁকুড়ার ওন্দাতে সিপিআইএমে মহিলা প্রার্থীকে চুল ধরে সরকারি অফিস থেকে টেনে বের করে দেওযা হযেছে। সর্বত্রই অভিযোগ শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। অবশ্য শাসক দলের গোষ্ঠী সংঘর্ষেও বহু জায়গা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দিতে বাধা দেয়ায় বুধবার নির্বাচন কমিশনের সামনে ধরণায় বসেছেন বিজেপি নেতারা। তাদের দাবি, কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের অফিসে মনোনয়ন জমা দিতে দেয়া হয়। নয়তো ফর্ম ফেরত দিতে চান তারা। এদিকে বামদলগুলিও নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র প্রার্থীদের দলবদ্ধভাবে সকলকে নিয়ে মনোনয়পত্র জমা দিতে বলেছেন্। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, শাসক দলের আক্রমণ রুখতে সবাইকে একজোট হতে হবে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে শীর্ষ স্থানীয় ভূমিকা রাখা উচিত কানাডার

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে শীর্ষ স্থানীয় ভূমিকা রাখা উচিত কানাডার। সেখানে মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ ও গণহত্যা হয়েছে তা তদন্তে পদক্ষেপ নিতে হবে কানাডাকে। প্রথমেই এগিয়ে যেতে হবে মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন প্রচেষ্টা নিয়ে। উদ্বাস্তুদের স্বাগত জানাতে হবে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্টে এসব কথা বলেছেন মিয়ানমারে নিযুক্ত কানাডার বিশেষ দূত বব রাই। তিনি একাধানে একজন আইনজীবী ও অন্যদিকে লিবারেল সাবেক অন্তর্বর্তী নেতা। তার রিপোর্টে তিনি ১৭টি সুপারিশ করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিবিসি নিউজ। এতে বলা হয়, বব রাই যেসব সুপারিশ করেছেন তার মধ্যে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে কানাডা ও আন্তর্জাতিক মিত্ররা কিভাবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সহায়তা করতে পারে। তিনি বলেছেন, বহু বছর মেয়াদী একটি তহবিল গড়ে তোলা উচিত কানাডার। আর সেটা শুরু হতে হবে এ বছর থেকেই। এর আওতায় থাকবে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে পরবর্তী চার বছরে বার্ষিক খরচ হতে পারে ১৫ কোটি ডলার। তিনি বলেছেন, এক্ষেত্রে আমরা যদি ব্যর্থ হই তাহলে পরিস্থিতি হবে আরো ভয়াবহ। বুধবার অটোয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, সামনে যে চ্যালেঞ্জ আছে তা খাটো করে দেখা উচিত হবে না কারো। এক্ষেত্রে কানাডা ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ নেয়ায় বাধ্যবাধকতা আছে। তিনি রোহিঙ্গা সঙ্কটকে অত্যন্ত ট্রাবলিং ও ট্রাজিক বলে আখ্যায়িত করেন। বব রাই তার সুপারিশে বলেন, যদি সত্যি রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন সম্ভব করতে হয় তাহলে প্রথমেই মিয়ানমারকে তার হৃদয় পরিবর্তন করতে হবে। তিনি সুপারিশে আরো বলেছেন, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ স্থাপনে নীতি গ্রহণ করতে হবে কানাডাকে। মিয়ানমারের সব সম্প্রদায়ের সত্যিকার যেসব উন্নয়ন সহায়তা প্রয়োজন তাতে সাড়া দিতে হবে। রাখাইন ও পুরো মিয়ানমারে উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানো উচিত কানাডার। বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুদের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দৃষ্টি দিতে হবে পুনরেকত্রীকরণ, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতিতে। সুপারিশে তিনি আরো বলেছেন, মিয়ানমারে মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ হয়েছে এবং যে গণহত্যা হয়েছে তা তদন্তে পদক্ষেপ নিতে মিত্রদের সঙ্গে কাজ করতে হবে কানাডাকে। সরকারের ভিতরে একটি গ্রুপ সৃষ্টি করা উচিত কানাডার। তা হবে রোহিঙ্গা ওয়ার্র্র্কিং গ্রুপ। এর চেয়ার হবেন একজন সিনিয়র উপমন্ত্রী। যৌথভাবে গৃহীত উদ্যোগ যাতে কার্যকর হয় সে জন্য একটি আন্তর্জাতিক ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি কানাডার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি তার রিপোর্টে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির নাম উল্লেখ করেন নি। বব রাই আশা করেন, এ বিষয়ে কথা বলবেন সুচি।

আফগানিস্তানে মাদরাসায় বোমা হামলা, নিহত ৭০

আফগানিস্তানের একটি মাদরাসায় বোমা হামলার ঘটনায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু শিক্ষার্থী। যাদের বয়স ১১/১২ বছর। সোমবার ভোরে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় কুন্দুজ প্রদেশের দাশত-ই আচিন জেলায় এই হামলা চালানো হয়। কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা ৭০ জন উল্লেখ করলেও স্থানীয়দের দাবি, সেখানে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, হামলার সময় মাদরাসাটিতে শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান চলছিল। এতে কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান করার কথা ছিল। নাম গোপন রাখার শর্তে ওই জেলার একজন কর্মকর্তা বলেন, বোমা হামলায় কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে তালেবানের প্রথম সারির কয়েকজন কমান্ডার রয়েছে। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রাদমানিশ বলেন, তালেবানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়। এতে ৩০ জনেরও বেশি তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন তালেবানের প্রথম সারির কমান্ডার। হামলায় কোনো বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয় নি বলেও জানান তিনি। তবে তালেবান দাবি করেছে, হামলায় তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় নি। এসময় তাদের কোনো যোদ্ধা সেখানে উপস্থিত ছিল না।

এদিকে, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বোমা হামলায় বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় অধিবাসী মোহাম্মদ আব্দুল হক বলেন, হামলার সময় মাদরাসাটিতে বিপুল সংখ্যক শিশু শিক্ষার্থী ছিল। সফলভাবে ধর্মীয় শিক্ষার কোর্স সম্পন্ন করার স্বীকৃতি হিসেবে তাদের পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠান চলছিল।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যুতে অঞ্চলটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় অধিবাসী হাজী গোলাম বলেন, ‘আমি খামারে কাজ করছিলাম। হঠাৎ হেলিকপ্টার ও জেট বিমান থেকে মাদরাসার ওপর বোমাবর্ষণের শব্দ শুনতে পাই। সেখানে সদ্য ক্বারীদের (পুরো কোরআন মজিদ মুখস্থকারী) পুরস্কার দেয়া হচ্ছিল।’ তিনি বলেন, অঞ্চলটিতে তালেবানরা বেশ সক্রিয়। কিন্তু মাদরাসার অনুষ্ঠান ছিল মূলত শিশু ও তরুণদের। হামলার পর ঘটনাস্থলে তিনি অনেক শিশুকে মৃত পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তখনো গুরুতর আহত অবস্থায় জীবিত ছিল। তার ভাষায়Ñ ‘এটা ছিল পুরোপুরি ধ্বংসযজ্ঞ। সবখানেই ছিল রক্ত।’

হামলার পরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তালেবানরা বলেছে, হামলায় প্রায় ১৫০ জন আলেম ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। নিহত ও আহতদের বেশির ভাগই শিশু। তবে সেখানে কোনো তালেবান যোদ্ধা নিহত হওয়ার খবর অস্বীকার করেছে তারা।
আফগানিস্তানে নিয়োজিত জাতিসংঘের মিশন ইউএনএমএ বলেছে, একটি মানবাধিকার সংগঠন সোমবারের হামলার ঘটনাটি তদন্ত করবে। টুইটার বার্তায় সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘গতকালের হামলায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি ইউএনএমএ তদন্ত করে দেখবে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে নিয়োজিত মানবাধিকার সংগঠন প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবে।’
সম্প্রতি তালেবানদের ওপর সরকারি বাহিনীর হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর সহায়তায় তালেবানদের ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে তারা। মূলত এর মাধ্যমে তালেবানদের সমঝোতায় বাধ্য করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সরকারি বাহিনীর এসব হামলায় তালেবান যোদ্ধাদের পাশাপাশি অনেক বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে নানগারহার প্রদেশে আফগান নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীর চালানো হামলায় সাতজন নিরীহ কৃষক ও দুই তরুণ নিহত হয়। এর আগে জানুয়ারিতে কান্দাহারে আফগানিস্তানের বিশেষ বাহিনীর এক অভিযানে কমপক্ষে ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

ইউটিউব সদর দফতরে কে এই হামলাকারী নারী!

ঊনচল্লিশ বছর বয়সী যুবতী নাসিম আঘদাম। নিজে একজন ইউটিউবার। অর্থাৎ ইউটিউবে ভিডিও পোস্ট করে সেখান থেকে অর্থ আয় করে। কিন্তু ইউটিউব তার ভিডিও বা আনুষঙ্গিক পোস্টগুলো সেন্সর করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। এ ছাড়া নতুন ইউটিউব তার মতো অনেককে সামান্য রাজস্ব দিচ্ছে এমন ক্ষোভ ছিল তার। এর ফলে ইউটিউবের ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ আচরণ ও তার ভিডিও সেন্সর করার প্রতিশোধ নিতে ইউটিউবের সদর দফতরে হামলা চালিয়েছে নাসিম। সেখানে তিনজনের ওপর গুলি চালিয়ে নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি যে ইউটিউবের ওপর ক্ষিপ্ত এ বিষয়ে আগে থেকেই পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন তার পিতা ইসমাইল আঘদাম। তার মেয়ে নাসিম ইউটিউব সদর দফর থেকে ৪৭০ মাইল দূরের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি পুলিশকে এ বিষয়টি অবহিত করেন। জানিয়ে দেন, ইউটিউবের ওপর ক্ষোভ রয়েছে নাসিমের। খবরে বলা হচ্ছে, ইউটিউব সম্প্রতি তাদের নতুন নিয়ম কানুন করেছে। তারা নাসিমের ভিডিও সেন্সর করছিল এবং তা প্রদর্শন করছিল না বলে অভিযোগ ছিল ৩৯ বছর বয়সী ওই যুবতীর। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ইউটিউব সদর দফতরে প্রবেশ করার সময় নাসিম আঘদামের চোখে ছিল চশমা। আর ছিল মাথায় ছিল স্কার্ফ। তিনি নিরাপত্তা প্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। এরপরই কর্মচারীদের দিকে গুলি করা শুরু করেন। উল্লেখ্য, নাসিম আঘদাম এর আগে তার বয়ফ্রেন্ডকে গুলি করে হত্যা করেছে। ফলে তার মধ্যে সহিংসতা আছে এমন ধারণা নিয়ে তদন্ত শুরুর কথা বলেছিলেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। নাসিম আঘদাম স্বঘোষিত একজন পশু অধিকারকর্মী। তাকে ইউটিউবে অনেক চ্যানেলে এবং সামাজিক মিডিয়াতে দেখা যেতো। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে দেখা যায়, তার পোস্ট করা বিষয়গুলোকে বৈষম্যমুলকভাবে দেখা হচ্ছে এবং তা ফিল্টার করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এমন অভিযোগ আনছেন। তিনি বলেন, তার ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি। বিপুল সংখ্যক মানুষ এই চ্যানেল ভিজিত করে। কিন্তু বিনিময়ে তাকে যথোপযুক্ত অর্থ ইউটিউব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। ইউটিউব সদর দফতরে হামলা চালানোর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তার চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগের সব পেজ মুছে ফেলা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের গভর্নরের বিরুদ্ধে নালিশ জানালেন তৃণমূলের এমপিরা

পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগে গভর্নর কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে নালিশ জানালেন তৃণমূলের এমপিরা।আজ (বুধবার) দিল্লিতে রাজনাথ সিংয়ের দফতরে সাক্ষাৎ করে তৃনমূল এমপিদের এক প্রতিনিধিদল গভর্নরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান।
পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে সম্প্রতি রামনবমীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পরে গভর্নর সেখানে  পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন।
এছাড়া বিগতদিনে বসিরহাট,  ধুলাগড় প্রভৃতি স্থানের সংঘর্ষের কথা উল্লেখ করে রাজ্যে ক্রমশ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের আবহ তৈরি হয়েছে বলেও গভর্নর রিপোর্ট দিয়েছেন।
ওই ঘটনায় রাজ্যের শাসকদল তৃনমূল ক্ষুব্ধ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, রাজ্যে প্রশাসনের প্রধান হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাকে অন্ধকারে রেখেই গভর্নর নিজের কাজ করে চলেছেন যা প্রকারান্তরে প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ। কেন প্রশাসনের কাজে গভর্নর বারবার হস্তক্ষেপ করছেন আজ সে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তিনি  অনেক গভর্নরের সঙ্গেই কাজ করেছেন। কিন্তু আগে কখনো কাউকে বর্তমান গভর্নরের মতো ভূমিকা নিতে দেখেননি।
সম্প্রতি রামনবমীতে অস্ত্র মিছিল ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল, রানিগঞ্জ, কাঁকিনাড়া, পুরুলিয়া ও কান্দিতে ছ’জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ১২৫ জন আহত হন। এসকল ঘটনায় ৬৭টি দোকান ও বাড়ি আগুনে পুড়েছে। এছাড়া কাঁকিনাড়ায় ৬টি, পুরুলিয়ায় ২টি এবং আসানসোলে ১টি পুলিশের গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। রানিগঞ্জে বোমার আঘাতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।

পশ্চিমের সঙ্গে ‘সর্বশেষ যুদ্ধে’ জড়াতে পারে রাশিয়া!

যুক্তরাজ্যে একজন সাবেক রুশ গুপ্তচরের ওপর নার্ভ এজেন্ট (বিষাক্ত গ্যাস) প্রয়োগের ঘটনায় রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর যুদ্ধ লেগে যেতে পারে এবং তা হবে ‘সর্বশেষ যুদ্ধ’।
যুক্তরাজ্যের সরকারি গণমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রুশ সেনাবাহিনীর সাবেক এক শীর্ষ জেনারেল এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
বর্তমানে নিরাপত্তা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার প্রধান লে. জেনারেল ইয়েভগেনি বুজনিস্কি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্ক এতটাই খারাপ হয়ে পড়েছে যে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ার যথার্থ কারণ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পরিণতি শীতল যুদ্ধের চেয়ে অনেক খারাপ হতে পারে, এবং ফলাফল খুব খুব খারাপ হতে পারে...মানব ইতিহাসের সর্বশেষ যুদ্ধ লেগে যেতে পারে।’
জেনারেল বুজনিস্কি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া রাশিয়া খুবই ভয়ঙ্কর।’
প্রসঙ্গত, ইংল্যান্ডের সলসবেরি শহরে গত মাসে স্বপক্ষত্যাগী এক সাবেক রুশ গুপ্তচর এবং তার মেয়েকে নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগে হত্যাচেষ্টার জন্য সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করে যুক্তরাজ্য।
এরপর যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ২০টিরও বেশি ইউরোপীয় দেশ থেকে দেড়শতাধিক রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়। পাল্টা জবাবে রাশিয়াও সমান সংখ্যক পশ্চিমা কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে।
শুধু ব্রিটেন বা আমেরিকা নয়, সারা বিশ্বের বহু দেশই তো সলসবেরির ঘটনায় রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে বিশ্বাস করে- এমন প্রশ্নে জেনারেল বুজনিস্কি বলেন, ‘আপনারা যখন বিশ্বের কথা বলেন, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং আর দু-একটি দেশের কথা বোঝান।’
এদিকে ব্রিটেনের সরকারি যে গবেষণাগারে (পোর্টন ডাউন ল্যাব) সলসবেরিতে প্রয়োগ করা নার্ভ এজেন্ট পরীক্ষা করা হচ্ছিল, তারা মঙ্গলবার বলেছে, নভিচক নামের ওই বিষাক্ত গ্যাস যে রাশিয়া থেকে এসেছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সিরিয়ায় টেকসই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিলো ইরান-রাশিয়া-তুরস্ক

রুহানি (বামে), পুতিন (মাঝে) ও এর্দোগান (ডানে)
সিরিয়ায় টেকসই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টরা। আজ বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়া সিরিয়ার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, ভূগৌলিক অখণ্ডতা এবং সাম্পদ্রায়িক সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সিরিয়া সংকটের সামরিক সমাধান নেই। রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। তিন দেশের নেতারাই সিরিয়া ইস্যুতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
আজ (বুধবার) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টরা সিরিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি 'আস্তানা' ও 'সোচি' বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এর্দোগানের পাশাপাশি তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অংশ নেন।
ত্রিদেশীয় শীর্ষ বৈঠক শুরুর আগে রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন ড. রুহানি। তিনি দুই দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে কথা বলেন। আজকের শীর্ষ বৈঠকের আগে তিন দেশের মধ্যে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর রাশিয়ার সোচিতে রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে সিরিয়া বিষয়ক প্রথম শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে কাজাখস্তানের আস্তানায় সিরিয়ায় শাস্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের নিয়মিত বৈঠক শুরু হয়।

সিসি’র নিঃশর্ত নিয়ন্ত্রণে মিশর by রিফাত আহমাদ

আব্দেল ফাত্তাহ সিসি’র জয় আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। তাই স্থানীয় সময় সোমবার প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল কারো জন্যই খুব একটা বিস্ময়কর ছিল না। মিশরের এই বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। দ্বিতীয় দফায় মিশরের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক এই সেনাপ্রধান। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪১.৫ শতাংশ। ২০১৪ সালের নির্বাচনের চেয়ে ভোটার উপস্থিতি কমেছে ৬.৫ শতাংশ। সিসি’র জয় অবধারিত থাকলেও এই নির্বাচন পরিচিতি পেয়েছে ‘ওয়ান ম্যান শো’ হিসেবে। সেদিক দিয়ে বিবেচনা করলে মিশরের সামপ্রতিক এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনটিকে প্রতিযোগিতামূলক বলাটা অতিমাত্রায় অতিরঞ্জন হয়ে যাবে। নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন মোটে দু’জন: ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি ও অপরজন হচ্ছেন তারই এক সমর্থক মুসা মোস্তফা মুসা। মুসা প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেন একেবারে শেষ মুহূর্তে। আবেদন করার সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র ঘণ্টা কয়েক আগে। শুধু প্রার্থী বিবেচনা ছাড়াও, নির্বাচনটি অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সমপন্ন হয়েছে এমনটা বলাও সঠিক হবে না। নির্বাচনের কয়েকদিন আগেই বদ্ধ পরিবেশের অভিযোগ এনে প্রতিযোগিতা থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী। এদের মধ্যে দু’জন কর্তৃপক্ষের হাতে বন্দিও হয়েছেন। নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ ওঠেছে, সরকার ভোটারদের সক্রিয় করতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে। বিরোধীদলীয় কেউ কেউ এই রাষ্ট্রের এই প্রচেষ্টাকে অন্যায্য বলে দাবি করেছেন। বস্তুত, অকেজো ব্যালটের সংখ্যা, সিসি’র প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষে পড়া ব্যালটের চেয়ে সংখ্যায় বেশি ছিল। অনেক ভোটারই ব্যালট পেপারে সিসি ও মুসা’র নাম কেটে জনপ্রিয় ফুটবল তারকা মোহাম্মদ সালাহ’র নাম লিখে দিয়েছে। দ্য ইকোনমিস্ট অনুসারে এমন ব্যালট পেপারের সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। মুসা এর চেয়েও কম ভোট পেয়েছেন। এই বিষয়টিকে মিশরের গণতান্ত্রিক ধারায় পরিবর্তন হিসেবে না দেখে বরং ভবিষ্যতে কি ঘটতে চলেছে সেদিকে নজর রাখা দরকার। সিসি’র এই জয়কে তার আগের জয়ের বিদায় হিসেবে দেখাটাই সবচেয়ে কার্যকরী। কেননা, ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি বেশিরভাগ রাষ্ট্র পরিচালিত প্রতিষ্ঠানেরই জোরালো সমর্থন রয়েছে। এজন্য মিশরের ভেতর ও বাইরে, কোন জায়গায়ই সিসি’র জয় নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। আর আগের বারের মতন এইবারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে সিসি’র গুরুত্ব বাছাই করা: মিশরের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার উন্নতি। এছাড়া, নাগরিক সমাজে আরো স্বাধীনতা এনে দেয়া ও বৃহৎ পরিসরে সামাজিক নিরাপত্তার প্রতি নজর দেয়ার মতন বিষয়ও খেয়াল রাখতে হবে। সিসি দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার আরো একটি দিক হচ্ছে, তিনি এখন থেকে গুরুত্বের সঙ্গে কে তাকে অনুসরণ করবে সেদিকে নজর দেয়া শুরু করবেন। তিনি চাইলে কোনো উত্তরসূরি ঠিক করে রাখতে পারেন- তবে সে ব্যক্তি কে হবে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অথবা, তিনি এটাও মেনে নিতে পারেন যে, তিনি সমর্থন করেন না এমন একজন তার রেখে যাওয়া আসন দখল করবে। তবে তেমনটা কল্পনা করা কঠিন। কেননা, মিশরের বর্তমান প্রশাসন দেশটিতে সত্যিকারের রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার পথ সংকুচিত করে রেখেছে। পরিস্থিতি এমন মোড়ও নিতে পারে যে, দেখা গেল, সিসি নিজেই তৃতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নেমে গেলেন। তবে সেক্ষেত্রে, সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে। দূর করতে হবে প্রেসিডেন্টের দুই মেয়াদি সময়সীমা বিষয়ক আইন। আর এর জন্য প্রয়োজন হবে গণভোটের। বর্তমান পরিস্থিতি হিসেবে, মিশরের অভিজাত ব্যবসায়ী শ্রেণি সিসি’কে সমর্থন করে। এছাড়া, সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের সমর্থকদের একটি অংশও সিসি’র পক্ষে রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলের অবস্থা একেবারে নাজুক। বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়ার সক্ষমতা তাদের নেই। মুসলিম ব্রাদারহুডপন্থি, বিদ্রোহীপন্থি কর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে সিসি’র বেশ কয়েকজন বিরোধিতাকারী রয়েছেন। তবে তারা সংবিধান পরিবর্তনের কোনো পদক্ষেপ নস্যাৎ করার মতো সক্ষমতা রাখেন না। কিন্তু তবুও, সিসি এ বিষয়ে খুব স্বস্তিতে নেই। ভোটারদের সক্রিয় করার চেষ্টা সত্ত্বেও কম ভোটার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে জনগণের অনাগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিষয়টি কায়রোতে প্রভাব ফেলবে। এমনকি আকারে বৃদ্ধি পেলে তা রাজনৈতিক সিস্টেমেও বিঘ্ন ঘটাতে পারে। রাজনৈতিক পরিবেশে মতদ্বৈধতা বিরাজমান। কিন্তু এটা ছড়িয়ে পড়ার জন্য রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমের প্রয়োজন। তা যদি সম্ভব না হয় তাহলে পরিণতি আরো অদম্য হয়ে ওঠতে পারে। মিশর ছেড়ে বাইরের দিকে নজর দিলে, সিসি প্রশাসনকে বেশকিছু পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে লেবানন, ইথিওপিয়ায় রেনেসাঁ বাঁধ নির্মাণ ও নীল নদের পানি নিয়ে ভয়ানক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে সিসি’র জন্য সৌভাগ্য যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ তাকে সমর্থন করেন। আর এই সমর্থন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এখানে বিশদভাবে বর্ণনা করার মতো না হলেও, কিছু বিষয় সিসি’র প্রতিকূলেও রয়েছে। বিশেষ করে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সিসি’র বন্ধুত্বপূর্ণ সমপর্ক নিয়ে খুব একটা উল্লসিত নয় ওয়াশিংটন। এছাড়া, ট্রামপ প্রশাসন এটাও চায় যে, মিশরে সিসি সরকার বিভিন্ন এনজিও’র ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিক। কেননা, সেখানে এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে বেশকিছু আমেরিকান এনজিও কর্মী দেশটির আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তবে এসব বাদ দিলে ট্রামপ প্রশাসন বেশ ভালোভাবেই সিসি’কে সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর ট্রামেপর নতুন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টনও সিসি’র সমর্থক। অন্যদিকে, ইউরোপের সঙ্গে সিসি’র সমপর্ক পাঁচমিশালী। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিশরের সমপর্কের মূল ভিত্তি হচ্ছে আইএস ও অভিবাসন দমন। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করে, মিশর এসব ইস্যুতে সঠিক অবস্থানেই আছে। যদিও, ওইসব দেশগুলো থেকে প্রতিনিয়ত মিশরের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। আমেরিকা আর ইউরোপ ছাড়া আমিরাত ও সৌদির সঙ্গে মিশরের সমপর্ক সব মিলিয়ে বেশ ভালোই। অন্যভাবে বললে, সিসি’র জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন সমস্যা তেমন একটা নেই।
(দ্য আটলান্টিক ও আল জাজিরা অবলম্বনে)

ডেটিং পয়েন্টে অন্যরকম দৃশ্য by শুভ্র দেব

নেশা লেগেছে রাজধানীর ডেটিংস্পটেও। সুষ্ঠু বিনোদনের ছোঁয়া নিতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে অনেককেই বিব্রতকর অবস্থায়। মাদক আর অশ্লীলতার ছড়াছড়ি। ভবঘুরে, মাদক বিক্রেতা, মাদকসেবী ও যৌনকর্মীদের আড্ডাও চলে সমানতালে। সকাল থেকে চলে সেই গভীর রাত পর্যন্ত। রয়েছে হিজড়াদের উৎপাতও। এতে করে ডেটিংস্পটগুলো হারাচ্ছে সুষ্ঠু বিনোদনপ্রেমী। ডেটিংস্পট নামে পরিচিত রাজধানীর রমনা পার্ক, টিএসসি, বলধা গার্ডেন, বোটানিক্যাল গার্ডেন, চন্দ্রিমা উদ্যান, জিয়া উদ্যান, ওসমানী উদ্যান, পান্থকুঞ্জ, আনোয়ারা উদ্যান, মিরপুর বেড়িবাঁধসহ অন্যান্য স্পটগুলো এখন তার চিরচেনা রূপ হারাচ্ছে। এক সময় এসব স্থান সব শ্রেণির মানুষের প্রাণভরে নিঃশ্বাস আর প্রেমিক জুটিদের ডেটিংয়ের পছন্দের তালিকায় ছিল। কিন্তু চরম অব্যবস্থাপনা, মাদকসেবী ও বিক্রেতা, ভবঘুরে, হিজড়াদের চাঁদাবাজি ও ভাসমান পতিতাদের উৎপাতে আগ্রহ হারাচ্ছে অনেকে। চিরচেনা রমনা পার্কে আড্ডা দিতে দেখা যায় অনেক তরুণ-তরুণীকে। রমনায় ঘুরতে আসা শিমুল-তানহা নামের দুই তরুণ-তরুণী বলেন, পার্কটি অনেক বড় থাকার কারণে মানুষের ঘেঁষাঘেঁষি কম। তাছাড়া ভেতরের পরিবেশটা অন্যান্য স্থানের চেয়ে অনেক ঠাণ্ডা। তবে সেখানে ঘুরতে আসা আলম নামের এক তরুণ জানালেন ভিন্ন কথা। দিনের রমনা পার্কের সঙ্গে রাতের কোনো মিল নাই। দিনেও যেমন মাদকসেবীদের উৎপাত থাকে রাতের বেলা তার সঙ্গে যোগ হয় ভাসমান পতিতা। নিরাপত্তাকর্মীদের যোগসাজশেই এমনটা হয় বলে তিনি জানিয়েছেন। কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী বিষয়টি অস্বীকার করলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, কম বেশি হয়। তবে এখানে বড় একটি সিন্ডিকেট কাজ করে। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওঠা দায়।
বেশিরভাগ প্রেমিক জুটিদের আগ্রহের স্থান বলধা গার্ডেন। সবুজে ঘেরা নির্মল বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে অনেকেই ছুটে যেতেন সেখানে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আজ অনেকটা বেহাল হয়ে পড়েছে বলধা গার্ডেন। সরজমিন দেখা যায়, টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করে কপোত-কপোতীরা হারিয়ে যায় অন্য জগতে। গার্ডেনের ভেতরে পুকুর পাড়ের চার পাশে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গাছ। আর এই গাছের আড়ালেই জুটি বেঁধে বসে বসে অন্তরঙ্গ সময় পার করছেন প্রেমিক জুটিরা। নিরাপত্তাকর্মীরা সেখানে থাকলেও টিকিটের প্রবেশ মূল্যের পাশাপাশি বাড়তি টাকা দিলেও পাওয়া যাচ্ছে বাড়তি সুবিধা। অনেকেই সেই সুযোগটাও লুফে নিচ্ছে। পাশাপাশি বলধা গার্ডেনে মাদক সেবন চলে। অনেক বখাটেকে এখানে বসে নির্বিঘ্নে মাদক সেবনের দৃশ্যও দেখা গেছে। একটু ভিন্ন চেহারা দেখা যায় জিয়া উদ্যান ও চন্দ্রিমা উদ্যানে। সকাল থেকেই সেখানে সব বয়সী মানুষের আনাগোনা লেগে থাকে। লেকের পাড়ে সারি সারি প্রেমিক জুটি বসে থাকা এটা নিত্যদিনের ঘটনা। অনেকেই এখানে ঘুরতে এসে বেশ আনন্দ উপভোগ করেন। এক পাশে জাতীয় সংসদ ভবন। চওড়া লেকের পাড়ে বসার ব্যবস্থা আর সবুজের সমারোহ আছেই। রায়হান নামের মধ্য বয়সী এক চাকরিজীবী বলেন, জায়গাটা ভালোই লাগে। অবসর পেলেই চলে আসি। বন্ধুদের সঙ্গেই আসা হয়। কিছু সময় আড্ডা দিয়ে চলে যাই। রিমন-সেতু নামের প্রেমিক জুটি বলেন, অনেকেই আসে। এজন্য আসা হয়। মাঝে মধ্যে হিজড়া, মাদকসেবী আর ভবঘুরেরা খুব ঝামেলা করে। না হলেই সব ঠিকঠাক ছিল। তবে রমনা পার্কের মতো রাতের জিয়া উদ্যান ও চন্দ্রিমা উদ্যানের চেহারা পাল্টে যায়। ভুল করে যদি কেউ সন্ধ্যার পর সেখানে যায় তবে তাকে পড়তে হয় অনেক বিব্রতকর অবস্থায়। কারণ সেখানে সন্ধ্যার পর থেকে চলে অবাধে মাদক বিক্রি, সেবন আর যৌনতা। এমনকি সেখানে ভাড়ায় প্রেমিকাও পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিলেই গল্প করা থেকে শুরু করে সেখানকার রাতের বেলার অস্থায়ী প্রেমকুঞ্জে অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর সুযোগ হয়। জিয়া উদ্যান সম্পর্কে ধারণা নাই এমন অনেককেই সেই সুযোগটা নিতে গিয়ে সর্বস্ব হারাতে হয়েছে। সেখানকার সিন্ডিকেট ও নিরাপত্তাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে কিছু নারীকে দিয়ে মেলামেশার নামে সর্বস্ব লুট করার পরিকল্পনা করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র মিলনায়তন (টিএসসি) এলাকায় এক সময় প্রেমিক জুটিদের জম্পেশড আড্ডা হতো। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই এখানে আড্ডা দিতে চলে আসতো। এখনো অনেকেই আসে। তবে এখনকার চেহারা একটু অন্যরকম। সোহরাওয়ার্দী ও টিএসসি এলাকা এখন অনেকটা অঘোষিত মাদকের হাট হয়ে গেছে। দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে এখানে মাদক সেবন ও বিক্রি হয়। তাই আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেক বিনোদনপ্রেমীরা টিএসসি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কম ভিড়ে। টিএসসি এলাকার ইমন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছাড়াও এখানে সব শ্রেণির মানুষের আনাগোনা ছিল। বিশেষ করে কপোত-কপোতীরা বেশ প্রাণ খুলেই আড্ডা দিতো। কিন্তু এখন মাদকের ছড়াছড়ি হওয়াতে সেই চির চেনা রূপ আর দেখা যায় না।
মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে মাদকসেবী-বিক্রেতা আর যৌনকর্মীদের রাজত্ব। বোটানিক্যাল গার্ডেনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের এক সিন্ডিকেট। যারা হাতিয়ে নিয়ে যায় সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা। গত সপ্তাহের ঘটনা। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘুরতে এসেছেন দুই বন্ধু। মিরপুর চিড়িয়াখানায় ঘুরাঘুরির পর প্রবেশ করেন বোটানিক্যাল গার্ডেনে। ঘুরাঘুরির একপর্যায়ে সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক লোক এসে তাদের বলে মামা লাগবে নাকি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই নিরাপত্তাকর্মী তাদের জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে অস্থায়ীভাবে তৈরি কিছু ছোট ছোট খুপড়ি ঘরে বসে আছেন কিছু তরুণী। দর কষাকষি করে একটু আড়ালে যাওয়ার পর বাধা আসে। তাদের ঘিরে ফেলে উঠতি বয়সী কয়েক তরুণ। অনেক কাকুতি মিনতি করেও তারা রেহাই পাননি। সঙ্গে থাকা ৭ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোনসহ আরো কিছু জিনিস দিয়ে তাদের ফিরে আসতে হয়েছে। সূত্রমতে, এখানে বড় ধরনের একটি সিন্ডিকেট মাদক ব্যবসা আর মানুষকে হেনস্তা করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসব কারণে বোটানিক্যাল গার্ডেন এক আতঙ্কের নাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসব জেনেও অনেক সময় চুপ করে থাকেন।

ইরানে ফার্সি নববর্ষের আমেজ এখনো শেষ হয়নি (নওরোজ উপলক্ষে ইরানের বাজারে কেনাকাটার কিছু ছবি)

প্রতিবছর নওরোজ উপলক্ষে ইরানের বাজারগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। কেনাকাটার আমেজ চলে বহুদিন ধরে। ইরানের শিরাজ নগরীর একটি প্রসিদ্ধ ও ঐতিহাসিক বাজার "ওকিল বাজার" যেখানে চলছে এখনো কেনাকাটা। নিচের গ্যালারিতে এ বাজারে কেনাকাটার কিছু ছবি দেয়া হল।



প্রতিবছর নওরোজ উপলক্ষে ইরানের বাজারগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। কেনাকাটার আমেজ চলে বহুদিন ধরে। ইরানের শিরাজ নগরীর একটি প্রসিদ্ধ ও ঐতিহাসিক বাজার "ওকিল বাজার" যেখানে চলছে এখনো কেনাকাটা। নিচের গ্যালারিতে এ বাজারে কেনাকাটার কিছু ছবি দেয়া হল।

বদলে গেছে এশিয়ার বৃহত্তম যৌন পল্লীর চিত্র

ভারতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা শহরের একটি বেশ্যালয়- সোনাগাছি। বলা হয়, এটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় যৌন পল্লী বা রেড লাইট এলাকা। সম্প্রতি এই বেশ্যালয়ের চেহারা অনেক বদলে গেছে।
এলাকাটিকে রঙিন করে তোলার চেষ্টা করছেন কয়েকজন ট্রান্সজেন্ডার শিল্পী। যৌনকর্মীদের বিভিন্ন ভবনের দেওয়ালে তারা রঙ তুলিতে ছবি এঁকে দিয়েছেন।
যৌনকর্মীদের একটি সমবায় সমিতির অফিস উপরের ভবনটি। তার গায়ে এই ম্যুরাল এঁকেছেন শিল্পীরা।
সোনাগাছি খুবই জীর্ণ একটি এলাকা। ভবনগুলোও পুরো। সরু সরু গলি চলে গেছে এদিকে ওদিকে। তার একপাশে হয়তো যৌনকর্মীদের বাড়িঘর আর অন্যপাশে আবাসিক ভবন।
বলা হয়, এই রেড লাইট এলাকায় দেহ বিক্রি করছে ১১ হাজারেরও বেশি যৌনকর্মী।এই এলাকার কিছু কিছু ভবনে ব্যাঙ্গালোর-ভিত্তিক একটি গ্রুপের সহযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার শিল্পীরা এসব ম্যুরাল এঁকেছেন। বলা হচ্ছে, যৌন কর্মীদের অধিকারের বিষয়ে তাদেরকে সচেতন করে তুলতেই এই কর্মসূচি। এর অন্যতম লক্ষ্য: নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ।এই ম্যুরালটি আঁকতে সময় লেগেছে এক সপ্তাহ।এখানে প্রতিদিন যাওয়া আসা করে বহু মানুষ। আসে খদ্দের ও দালাল। বাইরে থেকেও আসে ফেরিওয়ালারা। উপরের ছবিতে এরকমএকজন ফেরিওয়ালাকে তার ভ্যানে করে পণ্য বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।
আয়োজকরা বলছেন, সোনাগাছির আরো কিছু ভবনে ছবি আঁকার পরিকল্পনা আছে শিল্পীদের।বেশ্যাবৃত্তি ভারতে এখনও একটি বড় সমস্যা। ধারণা করা হয় সারা দেশে ৩০ লাখের মতো নারী এই যৌন ব্যবসার সাথে জড়িত আছেন।

এস-৪০০ সরবরাহে গতি আনতে চায় রাশিয়া ও তুরস্ক

আঙ্কারায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন ও এরদোগান
রাশিয়ায় তৈরি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ তুরস্কের কাছে সরবরাহের কাজে গতি আনতে সম্মত হয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
মঙ্গলবার আঙ্কারায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান পুতিন। তিনি বলেন, “তুরস্কের কাছে রাশিয়ার উচ্চ কার্যক্ষমতাসম্পন্ন এই ব্যবস্থা হস্তান্তরের কাজ আরো দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।”
পুতিন আরো বলেন, তুরস্কের পক্ষ থেকে অনুরোধ করার পর তার সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ কেনার জন্য মস্কোর সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে আঙ্কারা। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সালের গোড়ার দিকে এ ব্যবস্থা সরবরাহ শুরু করার কথা রয়েছে।
তবে মার্কিন সরকার তুরস্ককে এ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থা কেনার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এটি সংগ্রহ করলে আঙ্কারার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে ওয়াশিংটন।
ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ৪০২ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আকাশে চলমান যেকোনো বিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রকে শনাক্ত করে কার্যকরভাবে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।  রাশিয়া এখন পর্যন্ত এ ব্যবস্থা শুধু চীন ও ভারতের কাছে বিক্রি করেছে।
২০১৫ সালে সিরিয়া-তুর্কি সীমান্ত থেকে আমেরিকা তার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা- প্যাট্রিয়ট সরিয়ে নেয়ার পর তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আমেরিকা প্যাট্রিয়ট সরিয়ে নেয়ার ফলে তুরস্কের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে আঙ্কারা মনে করছে।

পশ্চিমবঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে বিজেপি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় শাসকদল তৃনমূল ও বিরোধী বিজেপি’র মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
আজ (বুধবার) রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবিতে তারা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাবেন। তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন। 
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম, বাঁকুড়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলাসহ রাজ্যের বিভিন্নস্থানে মনোনয়নকে ঘিরে তৃণমূলের সঙ্গে বিরোধীদের তীব্র সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে তৃনমূল  বাধা দিচ্ছে এবং তাদেরকে মারধর করছে। পুলিশ এ ব্যাপারে যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না বলে অভিযোগ।
তৃনমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের উন্নয়ন ব্যাহত করতে বিরোধীরা একজোট হয়েছে। রাজ্যবাসী ভোটে তার মোক্ষম জবাব দেবে।শান্তিপূর্ণভাবেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজ চলছে। সংঘর্ষ নিয়ে কোনও মন্তব্য না করে এসব নির্বাচন কমিশনের দেখার বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গতকাল (মঙ্গলবার) বিজেপি প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে তাদের অভিযোগের কথা জানিয়েছেন। গভর্নর কেশরিনাথ ত্রিপাঠি আজ (বুধবার) রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে ডেকে পাঠিয়ে ওই ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এদিকে, গভর্নর নির্বাচন কমিশনারকে ডেকে পাঠাচ্ছেন এমন খবর আগেভাগে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের মুখ থেকে ব্যক্ত হওয়ায় গভর্নরের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এরফলে গভর্নরকে এ রাজ্যের মানুষ আর নিরপেক্ষ মনে করে না বলে মন্তব্য করেছেন পার্থ বাবু। তার প্রশ্ন গভর্নর কাকে ডাকবেন, সেটা দিলীপবাবুরা আগেভাগে জেনে যাচ্ছেন কী করে? ওই ঘটনাকে ‘অনৈতিক কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
রাজ্যের উত্তর বঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ আজ বলেন, মানুষ উন্নয়ন চায়। আমরা বিগত ৭ বছরের মধ্যে মানুষের উন্নয়নের জন্য একশ’ শতাংশ কাজ করেছি। কোথাও কোনো সন্ত্রাস নেই। বিরোধীদের কোনো জনবল না থাকায় তারা অনেক জায়গাতেই প্রার্থী দিতে পারছেন না।
এদিকে, গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে সন্দেশখালির মেটিয়াখালিতে বিভিন্ন বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও বোমাবাজি করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। এ সময় সিপিএম ও বিজেপি’র দফতরেও ভাঙচুর করা হয়।ওই ঘটনার প্রতিবাদে আজ (বুধবার) সকালে এলাকার আদিবাসী নারীরা ঝাঁটা হাতে নিয়ে সন্দেশখালিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দেয়া আটকাতেই তৃনমূল আশ্রিত দুর্বৃত্তরা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ। কিন্তু শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে ওই অভিযোগকে নাকচ করে দেয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে আগামী মাসের ১, ৩ ও ৫ মে ভোট গ্রহণ হবে। ফল ঘোষণা হবে ৮ মে। ২ এপ্রিল নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে।

ইসরাইলের অপরাজেয় থাকার ‘মিথ’ ভেঙে দিয়েছে সিরিয়া: জারিফ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের সেনারা অপরাজেয় বলে যে মিথ বা কল্পকাহিনী তৈরি করা হয়েছিল সিরিয়ার জনগণ তা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। 
তুরস্কের রাজধানী আংকারায় পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় জাওয়াদ জারিফ একথা বলেছেন। বুধবার ইরানি প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির সঙ্গে জাওয়াদ জারিফও আংকারায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেবেন। বৈঠকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।
সিরিয়া ইস্যুতে জাওয়াদ জারিফ বলেন, “প্রথমত সবাই মেনে নেবেন যে, সিরিয়া সমস্যার সমাধান অবশ্যই রাজনৈতিক উপায়ে সমাধান করতে হবে; দ্বিতীয়ত- এই রাজনৈতিক সমাধান হতে হবে সিরিয়ার জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে।”
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ইহুদিবাদী ইসরাইল সিরিয়ার ওপর তার আগ্রাসী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছিল কিন্তু সম্প্রতি আমরা দেখলাম ইসরাইলের অপরাজেয় থাকার মিথ ভেঙে দিয়েছে সিরিয়ার জনগণ।”
গত ১০ ফেব্রুয়ারি সিরিয়ার সামরিক বাহিনী ইসরাইলের একটি এফ-১৬ জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করে। সিরিয়ার ওপর বোমা হামলা চালিয়ে ইসরাইলের ছয়টি বিমান ফেরার পথে সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে এবং একটি জঙ্গিবিমান ভূপাতিত হয়।
সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভূপাতিত ইসরাইলের এফ-১৬ বিমান

সিরিয়া থেকে সেনা সরাতে চান ট্রাম্প; পেন্টাগনের ভিন্ন সুর

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা ফিরিয়ে নিতে চাইলেও ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দপ্তর।
পেন্টাগন ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ ইস্যুতে সম্পূর্ণ ভিন্ন নীতি নিয়েছেন। তারা বলছেন, সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের মিশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেনা ফিরিয়ে নেয়া হবে না।
গতকাল রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফোরামে দেয়া বক্তৃতায় মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল জোসেফ ভোটেল বলেন, “যদিও উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের কবল থেকে ইরাক ও সিরিয়ার শতকরা ৯০ শতাংশ ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে তারপরও সেখানে মার্কিন সেনা উপস্থিতির দরকার রয়েছে।” ভোটেল বলেন, “এখনো এমন কিছু এলাকা রয়েছে সেখানে দায়েশের উপস্থিতি ও তৎপরতা রয়েছে।”
জেনারেল ভোটেলের পাশাপাশি পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ দূত ব্রেট ম্যাকগুর্ক বলেন, “দায়েশ এখনো শেষ হয়ে যায় নি। আমরা সিরিয়ায় গিয়েছি দায়েশের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য কিন্তু আমাদের মিশন এখনো শেষ হয় নি।”
মার্কিন কর্মকর্তারা সিরিয়ায় দায়েশ-বিরোধী লড়াইয়ের দাবি করলেও বাস্তবতা হচ্ছে- সেখানে মার্কিন হামলায় দায়েশের বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। বরং মার্কিন বিমান হামলায় ইরাক ও সিরিয়ায় হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে; এমনকি ইরাক ও সিরিয়ার বহু সেনাও মারা গেছে। মার্কিন নির্লিপ্ততার কারণেই রুশ সামরিক বাহিনী সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে।

সাবধান! বাসায় বাসায় গ্যাস বোমা by মরিয়ম চম্পা

আপনি হয়তো জানেনই না যে, আপনার প্রিয় বাসাটি একটি বড় ‘গ্যাস চেম্বার বা বোমায়’ পরিণত হয়ে আছে। এই বোমাটি একটি ইলেক্ট্রিক স্পার্কিং কিংবা যুতসই থার্মাল সোর্স (আগুন) পেলেই বিস্ফোরিত হয়ে কেড়ে নিতে পারে আপনার পুরো পরিবার। অবাক হচ্ছেন? না, অবাক হবেন না। কারণ, এদেশের বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ নগর ব্যবস্থার অসংখ্য বাসাবাড়ির ক্ষেত্রেই এই কথাটি প্রযোজ্য। ইদানীং কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা থেকে বিষয়টি হয়তো অনেকের নজরে এসেছে। কিন্তু, আমরা (বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সিটিটিসি, ডিএমপি) দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই ঢাকা শহরেই প্রায় অর্ধশত বাসা, দোকান এবং অফিস কক্ষে এই ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে দেখেছি। এসব ঘটনায় মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে নিহত এবং আহত মানুষের সংখ্যা এই শহরের সন্ত্রাসী বোমা হামলায় হতাহতদের মোট সংখ্যার থেকেও অনেক বেশি।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এভাবেই সতর্ক করেছেন ‘গ্যাস বোমার’ ব্যাপারে। সম্প্রতি গ্যাস বোমায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে গত ২৪শে মার্চ রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায়। গ্যাস থেকে ঘটা ওই বিস্ফোরণে মারাত্মক দগ্ধ হন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাওহীদুল ইসলাম, শাহীন মিয়া, হাফিজুর রহমান ও দীপ্ত সরকার। তাওহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকিরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এই চার মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যু সারা দেশের মানুষকেই নাড়া দিয়েছে। শোকের সাগরে ভাসিয়েছে তাদের সহপাঠীদের।
গত ২৭শে মার্চ পল্লবীর মুসলিমবাগ এলাকায় একটি বাড়িতে পানির ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন দগ্ধ হয়। ওই বাড়ির নিচতলায় থাকা পানির ট্যাঙ্কে পানি আছে কিনা, তা দেখার জন্য দেশলাই জ্বালাতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায়। এতে দগ্ধ হন পাঁচ জন। তাদের মধ্যে হাসিন আরা বেগম, হাসান এবং ৩ বছর বয়সী শিশু রুহী মারা যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল জানান, দগ্ধদের মধ্যে হাসিন আরা খানমের ৯৫ শতাংশ, রুহির ৯০ শতাংশ ও হাসানের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। জানা যায়, ঘটনার দিন ১১টার দিকে ওই বাড়ির রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করার জন্য হাসান নামে একজন শ্রমিক ট্যাঙ্কের ঢাকনা খুলে টর্চলাইট দিয়ে আর্বজনা দেখছিলেন। এসময় তিনি ট্যাঙ্কের মধ্যে গ্যাসের গন্ধ পান। সেটা দূর করতে তিনি সেখানে মোম জ্বালান। তখনই বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে সেখানে থাকা পাঁচজনই দগ্ধ হন।
পুলিশ কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেনের স্ট্যাটাসে দেয়া তথ্যে আরো বেশকিছু দুর্ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়। ২০০৯ সালে গুলশানের একটি বাসায় এমন একটি বিস্ফোরণের ফলে বিল্ডিং-এর দেয়াল প্রায় ১০/১২ ফুট দূরে গিয়ে একটি গাড়ির ওপর পড়ে। টয়লেটে গিয়ে সিগারেট ধরাতেই এই ঘটনাটি ঘটে। এতে ওই ব্যক্তি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ার পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেয়ার পথে মারা যান। ২০১১ সালের দিকে কোতোয়ালি এলাকায় একটি সেলুনে বিস্ফোরণ ঘটে। একই বছর এলিফ্যান্ট রোডের একটি শোরুমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ২০১২ সালে মিরপুরের একটি বাসায় বিস্ফোরণ হয়। ২০১৩ সালে ভূতেরগলির একটি বাসায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ২০১৫ সালে হাজারীবাগে একটি টয়লেটে বসে সিগারেট ধরাতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে, বাসার টয়লেটের লাইনের একটি ছিদ্র গ্যাস লাইনের একটি ছিদ্রের সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে একটি জায়গায় মিশে গেছে। সেই ছিদ্র দিয়ে গ্যাস প্রবেশ করায় দু’তলার ঐ টয়লেটটি একটি ‘গ্যাস চেম্বার’-এ পরিণত হয়। এতেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ২০১৮ সালে ভালুকা এবং পল্লবী ছাড়াও কুমিল্লায় একটি ঘটনা ঘটেছে। এভাবে গত ১০ বছরে প্রায় একশ’টি ঘটনা বা বিস্ফোরণ ঘটেছে।
ঢামেকের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, প্রতিদিন ইনডোরে গড়ে ৩০-৪০ জন দগ্ধ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এছাড়া আউটডোরে প্রায় ১০০-১৫০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আগুনে দগ্ধ হয় রান্না করতে গিয়ে। তিনি বলেন, ৮০%, ৯০% বার্ন আমরা কোনোদিন বাঁচাতে পারবো না। আমরা প্রতিদিনই আপনাদের বলবো যে রোগীর শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। এটা কোনো সমাধান নয়। মানুষ যাতে না পোড়ে সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে। এটা হচ্ছে আমাদের সকলের এখন মেইন কাজ। নির্দিষ্ট একটি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে। গতকাল রাতে ও আজ সকালে তিনজন এসেছে। এভাবে আসতেই থাকবে। চারটা ব্রিলিয়ান্ট ছেলে যারা মারা গেল তাদেরকে বাবা-মা কতো কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও তাদের বাঁচানো গেল না। কারণ একজন মানুষের শরীরের ৯০% যখন পুড়ে যায় সেই রোগী আর বাঁচে না। এ বিষয়ে সোচ্চার না হলে শুধু আমরা কি চিকিৎসা করলাম আর আপনারা কি প্রতিবেদন লিখলেন এটা কোনো সমাধান নয়। সামন্ত লাল বলেন, আমাদের দেশের অধিকাংশ দুর্ঘটনার বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্ত্বেও আমরা দুর্ঘটনার শিকার হই। এর প্রধান কারণ হচ্ছে সচেতনতার অভাব। এক্ষেত্রে ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, তিতাস প্রত্যেকেরই উচিত গণ ও জনসচেতনতা তৈরি করা। পোশাক কারখানার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাবো মালিকরা কোনোদিন ব্রয়লার ঠিকমতো চেক করে দেখে না। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬ লাখ মানুষ আগুনে দগ্ধ। যদি একটু সচেতনতা তৈরি করা যায় তাহলে এই ৬ লাখ মানুষের বেশিরভাগকেই সুরক্ষা দেয়া সম্ভব।
এদিকে শ্রমিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর তথ্যমতে, ২০১৭ সালের প্রথম ১০ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেপটিক ট্যাঙ্কে নেমে ৩১ জন শ্রমিক মারা গেছেন, যা বিগত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
সাবধানতার পরামর্শ পুলিশ কর্মকর্তার: নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট স্পেশাল অ্যাকশন ডিভিশন, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম, ডিএমপি মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরো লিখেছেন, গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের ত্রুটিপূর্ণ চুলা বা সরবরাহ লাইনের ত্রুটির কারণে গ্যাস লিকেজ হয়ে ঘরের আনাচে কানাচে তা জমে থাকে। জমে থাকা এই গ্যাস কোনো আগুন কিংবা ইলেক্ট্রিক শর্টসার্কিটের সংস্পর্শে আসা মাত্র প্রজ্বলিত (ওমহরঃবফ) হয়ে প্রচুর তাপ, চাপ ও শব্দের উৎপত্তি করে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। এভাবেই কিছু বুঝে ওঠার আগে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে অগণিত শহুরে মানুষের প্রাণ।
এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনাই সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ পেলেও ত্রুটিবিচ্যুতি নির্ণয় করে পুরোপুরি সচেতন করা সম্ভব হয়নি। সেই সঙ্গে কোনো সমন্বিত উদ্যোগও চোখে পড়েনি। গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা ত্রুটিবিচ্যুতিগুলো তুলে ধরায় কিছু কিছু মানুষ জানলেও তা মোট নগরবাসীর তুলনায় অপ্রতুল। ফলে অনেকের অগোচরেই একেকটি বাসা একটি ‘বৃহৎ গ্যাস বোমা’য় পরিণত হয়ে যাচ্ছে। এতে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে পরে যাচ্ছে আমাদের আধুনিক, তবে ত্রুটিপূর্ণ নগর সভ্যতার অসংখ্য বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শুধুমাত্র একটু সচেতন হলেই সবাই সপরিবারে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ। আমি কাউকে আতকিঙ্কত করছি না, আবার একেবারে নিরাপদ আছেন তাও বলছি না। বরং সচেতন হতে পরামর্শ দিচ্ছি।
আর করণীয় সম্পর্কে একটু ধারণা দিচ্ছি: ১. ত্রুটিমুক্ত গ্যাসের চুলা এবং মানসম্মত গ্যাস পাইপ ব্যবহার করে তা নিয়মিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। ২. বাসার আর্কিটেকচারাল ডিজাইন প্রস্তুত করার সময় নিশ্চিত রাখতে হবে যেন পুরো বাসার আনাচে কানাচে বাতাস অবিরাম যাতায়াত (ঈরহংঃধহঃ ঋষড়-িঈঋ) করতে পারে। ৩. বাসা দীর্ঘ সময় ধরে বদ্ধ থাকলে দরজা- জানালা খুলে এয়ার ফ্লো নিশ্চিত করে বিদ্যুতের সুইচ চাপতে হবে, কিংবা চুলায় আগুন জ্বালাতে হবে। ৪. রান্নাঘরে সর্বোচ্চ পরিমাণ ভেন্টিলেশন সিস্টেম নিশ্চিত করতে হবে। ৫. বাসার ভেতর কোনো গ্যাস সিলিন্ডার রাখা যাবে না। পাইপের মাধ্যমে দূর থেকে চুলায় গ্যাস সংযোগ নিতে হবে। ৬. বাসার ইলেক্ট্রিক ওয়ারিং-এ ভালো মানের তার ব্যবহার করতে হবে। তারের মধ্যে কোনো প্রকার জোড়াতালি থাকা যাবে না। ত্রুটিমুক্ত সুইচ ব্যবহার করতে হবে। ৭. বাসায় ত্রুটিপূর্ণ কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস না রাখাই ভালো। কেননা, ইলেক্ট্রিক এবং থার্মাল- এই দুটো ইগনিশন সোর্সই যেকোনো ত্রুটিপূর্ণ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস থেকে সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি খোদ ডিভাইসটিও বিস্ফোরিত হতে পারে। ২০১০ সালে রামপুরায় একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেন বিস্ফোরিত হয়ে ব্যবহারকারী দগ্ধ হয়ে মারা যায়। ৮. বাসার ভেতর আবদ্ধ জায়গায় মোমবাতি জ্বালানো এবং ধূমপান করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম। ৯. বাসার ভেতর জমে থাকা গ্যাসের অস্তিত্ব নিশ্চিত করার জন্য স্বল্প মূল্যের এক ধরনের ‘গ্যাস ডিটেকশন ডিভাইস’ পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনারা সবাই সপরিবারে সুস্থ থাকুন এবং অন্যদের সুস্থতাও নিশ্চিত করুন।

স্ত্রী ও তার প্রেমিক মিলে খুন করেন আইনজীবী রথীশকে, লাশ বাইরে নেয়া হয় আলমারিতে করে

স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক এবং স্নিগ্ধার প্রেমিক কামরুল মাস্টার মিলেই খুন করেন রংপুর বিশেষ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে। স্নিগ্ধা এবং কামরুল দীর্ঘ দুই মাস ধরে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তারা উভয়েই তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
বুধবার রংপুর র‌্যাব-১৩ অফিসে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এ হত্যাকান্ডের ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগেই তাজহাট  মোল্লা পাড়ার দুই কিশোরের সহযোগিতায় ২৮শে মার্চ একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরের মেঝের বালু সরিয়ে গর্ত করে রাখে তারা। পরের দিন রাতে ভাত ও দুধের সঙ্গে ১০টি ঘুমের বড়ি খাওয়ানো হয়। এরপর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে স্নিগ্ধা ও কামরুল মিলে তাকে হত্যা করেন।
র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, এরপর শিক্ষক কামরুল পরদিন শুক্রবার ভোর পাঁচটায় রথীশের বাড়ি থেকে বের হন। সকাল নয়টায় তিনি একটি ভ্যান নিয়ে আসেন। লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী তাঁর প্রেমিকের সহায়তায় একটি আলমারি পরিবর্তনের নাম করে সেই আলমারিতে লাশ ভরে নিয়ে তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে শহরের তাজহাট মোল্লাপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে পুঁতে রাখেন। ওই আলমারি বহন করে ভ্যানে তোলার কাজে তিনজন ব্যক্তি নিয়োজিত ছিল, তাদের কামরুল ঠিক করেন।
র‌্যাবের মহাপরিচালক জানান, রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রী স্নিগ্ধাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব গতকাল মঙ্গলবার নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকান্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং মৃতদেহের অবস্থান সম্পর্কে র‌্যাবকে জানান। এরপর র‌্যাব গতকাল রাত ১১টায় শহরের তাজহাট মোল্লাপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতর থেকে মাটি খুঁড়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। রাত আড়াইটায় নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন।
উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ছিলেন রংপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রংপুর বিভাগের ট্রাস্টি, পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক। এছাড়া তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনেরও প্রথম সারির নেতা। তিনি জাপানি নাগরিক কুনিও হত্যার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন। এছাড়া, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী ছিলেন।

এই দেশ বিদ্বেষের সঙ্গে কখনো এগিয়ে যেতে পারে না: রাহুল গান্ধী

কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, এই দেশ বিদ্বেষের সঙ্গে কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। তিনি আজ (মঙ্গলবার) কর্ণাটকে এক জনসমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতাসীন বিজেপি’র সমালোচনা করে রাহুল বলেন, ‘আমরা ভালবাসা ও করুণার সঙ্গে কাজ করি, বিদ্বেষের সঙ্গে কাজ করি না। নরেন্দ্র মোদিজি মনে করছেন এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপায় হল ঘৃণা, ক্ষোভ ও সংঘর্ষ। কিন্তু এই দেশ বিদ্বেষের সঙ্গে কখনো এগিয়ে যেতে পারে না।’
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (সাবেক বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা) ইয়েদুরাপ্পার মতো দুর্নীতিগ্রস্তদের উৎসাহ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বেশ কিছু দুর্নীতি হয়েছে। তার দলে যেকেউ দুর্নীতিকে উৎসাহ দিচ্ছেন।
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী
তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘(বিজেপি সভাপতি) অমিত শাহের ছেলের কোম্পানি ৫০ হাজার টাকা থেকে কীভাবে ৮০ কোটি টাকায় পৌঁছয়? নীরব মোদি, বিজয় মালিয়া ও ললিত মোদিদের দেশ থেকে কে পালাতে দিয়েছে?’
রাহুল বলেন, ‘আমেরিকাকে কেবল ভারত ও চীন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে কিন্তু মোদিজি দেশের শক্তিকে বোঝেন নি। উনি দেশে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করছেন।’
রাহুলের অভিযোগ, সরকার ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাস হয়ে যাচ্ছে, নির্বাচনের তারিখ ফাস হচ্ছে বর্তমান সরকারের আমলে এসব ঘটনা ঘটছে। প্রধানমন্ত্রী বেকারদের চাকরি, কৃষকদের স্বস্তি, প্রত্যেকের ব্যাংক একাউন্টে ১৫ লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণ হয়নি।
রাহুল গান্ধী আজ শিমোগাতে রোড-শো’ করলে রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার জনতা তাকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপচে পড়া জনতার ভিড় সামাল দিতে পুলিশকে রাস্তার পাশে মোটা দড়ি টাঙিয়ে ব্যারিকেড করে রাখতে হয়।