Friday, February 7, 2014
সন্ত্রাস- ছাত্রলীগের ‘আত্মরক্ষা’ ও নিষ্ক্রিয় আইন by মশিউল আলম
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খোলা চোখে- বিচারপতি, এবার হবে তোমার বিচার by হাসান ফেরদৌস

এক. ১০ ট্রাক অস্ত্র অবৈধভাবে পাচারের ঘটনাটি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সাদেক হাসান রুমী নিজে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, যিনি এই মামলার অন্যতম অপরাধী, তাঁর সাক্ষ্য থেকেও জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অস্ত্র ধরা পড়ার ঘটনাটি নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন।
দুই. খালেদা জিয়া ঘটনার কথা জেনেছিলেন, অথচ এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। প্রমাণিত হয়েছে যে তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশেই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চট্টগ্রামের স্থানীয় পুলিশ এ নিয়ে থানায় মামলা করেছিল, কিন্তু পরে মামলাটি গোয়েন্দা বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত হয়। তারা এ নিয়ে কার্যত কিছুই করেনি। খালেদার আমলে এ বিষয়ে মামলা করা হয় এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়—এ কথা ঠিক। কিন্তু সেই কমিটির কোনো প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়নি, কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। উল্টো পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা হয়।
অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হলেও সেই ঘটনার প্রতিকার করেননি—এ জন্য খালেদা জিয়াকে অভিযুক্ত করা যায়। সব দেশের অপরাধ আইনেই অপরাধের সাথিকে—আইনের ভাষায় অ্যাকমপ্লিস ও অ্যাকসেসরি—বিচারের সম্মুখীন করার বিধান রয়েছে। ১৮৭২ সালের ভারতীয় সাক্ষ্য আইন (এভিডেন্স অ্যাক্ট) অনুসারে, যেকোনো ব্যক্তি যদি কোনো অপরাধ বিষয়ে জ্ঞাত থাকেন, সংঘটিত অপরাধ বিষয়ে জানা সত্ত্বেও এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত না করেন, বিচার ও তদন্তকাজে বাধা সৃষ্টি করেন, অথবা বিচার ধামাচাপা দিতে চান বা তা বিলম্বিত করার চেষ্টা করেন, তাহলে তেমন ব্যক্তি অপরাধী বলে বিবেচিত হবেন।
এই আইন, যা এখনো আমাদের দেশে ফৌজদারি আইনের উৎস, তা অনুসারে খালেদা জিয়াকে যে ১০ ট্রাক মামলার অন্যতম আসামি করা যেত, তা বোঝার জন্য আইনজ্ঞ হতে হয় না। আমরা এখন জানি, অস্ত্রগুলো আসছিল চীন থেকে, আর তা যাচ্ছিল আসামে বিচ্ছিন্নতাবাদী দল উলফার জন্য। উলফার সামরিক প্রধান পরেশ বড়ুয়া পুরো ঘটনা বাংলাদেশের প্রভাবশালী কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সমর্থনে ঘটাতে চেয়েছিলেন। এই প্রভাবশালী কর্তৃপক্ষের একটি হাওয়া ভবন বলে জনশ্রুতি আছে। আদালত তাঁর রায়ের পর্যবেক্ষণেও ঘটনার সঙ্গে হাওয়া ভবনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন। পরেশ বড়ুয়া দেশের এই প্রভাবশালীদের ছাতার নিচেই নিরাপদে ছিলেন। সরকারের অভ্যন্তরে, গোয়েন্দা বিভাগের কর্তাব্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে এতসব কাণ্ড ঘটবে, আর প্রধানমন্ত্রী জানবেন না, তা কী করে হয়?
একই কথা ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা নিয়ে। সেই ঘটনায় আওয়ামী লীগের প্রথম সারির এক নেত্রীসহ মোট ২৩ জন নিহত হন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর তখনো নিজ দায়িত্বে সমাসীন। হাওয়া ভবনে বসে খালেদা-পুত্র তারেক তখনো সমান্তরাল সরকার পরিচালনা করছেন, তাঁর মায়ের জ্ঞাতসারে, সম্ভবত তাঁর সমর্থনে। এই হাওয়া ভবনেই আওয়ামী লীগের সভায় গ্রেনেড হামলাকারীরা বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সরকার সে সময় নানাভাবে চেষ্টা করেছে গ্রেনেড হামলার সব দায়-দায়িত্ব উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে। একদম নিরীহ একজন জজ মিয়াকে সেই হামলায় জড়িয়ে নাটকের চেষ্টাও হয়েছে। এত সব কাণ্ড হবে, অথচ দেশের প্রধানমন্ত্রী কিছু জানবেন না, এ কেমন করে হয়? এ ব্যাপারে খালেদা নিজে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। ঘটনার জন্য কোনো দায়দায়িত্ব নেওয়া, অথবা বিচারে ব্যর্থতার জন্যও কখনো দুঃখ প্রকাশ করেননি। পরে খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগই সে ঘটনার জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন, যদিও সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজন দেখেননি।
সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর সময়ে ঘটে যাওয়া সব ঘটনার জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী দায়ী নন, তা মানি। কিন্তু সে ব্যাপারে সরকারপ্রধান দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। দেশে যখন ভালো কোনো ঘটনা ঘটে (যেমন ধরুন, ক্রিকেট খেলায় বড় ধরনের জয়, অথবা নতুন কোনো সেতু নির্মাণ), তার জন্য সরকারপ্রধান কৃতিত্ব দাবি করবেন, অথচ বড় ধরনের ব্যর্থতা, তা গ্রেনেড হামলাই হোক বা ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান, তার জন্য নিজের কোনো দায়দায়িত্ব নেই বলে পাশ কাটাবেন, তা কোনো কাজের কথা নয়।
খালেদা জিয়ার আমলে যত অঘটন ঘটেছে, তার প্রতিটির জন্য তিনি দায়ী নন, কিন্তু এর প্রতিটির দায়দায়িত্ব তাঁর—এ কথা কোনোভাবে এড়ানো যাবে না। অপরাধের জন্য যদি দায়ী না-ও হন, অথবা তাঁর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না-ও হন, সেই অপরাধের প্রতিকার অথবা তার সুবিচার বিধান সরকারের প্রধান নির্বাহী হিসেবে সে দায়িত্ব যে তাঁর, এ কথায় তো ভুল নেই। অতএব, সেই দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতার দায়ভারই বা তিনি এড়াবেন কী করে? হাওয়া ভবনের দুরাচার, তাঁর আমলের আকাশসমান দুর্নীতি, ১০ ট্রাক অস্ত্র ও ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা—এর কোনোটির জন্যই খালেদা জিয়া কেবল নিজ দায়িত্ব স্বীকার করেননি, সামান্য দুঃখও প্রকাশ করেননি। বিস্ময়ের কথা হলো এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কিছু কথা-চালাচালি ছাড়া সরাসরি কেউ খালেদা জিয়াকে কোনো প্রশ্ন করেননি। তথ্যমাধ্যম থেকেও এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা হয়নি।
এখন সময় বদলেছে। আইনের লম্বা হাত এবার একটু একটু করে এগিয়ে আসছে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায় ঘোষিত হওয়ার পর এখন তো আর গোপন নেই যে, খালেদা জিয়া আর কিছু না হোক, বড় ধরনের এক অপরাধের কথা জেনেও প্রতিকার করেননি। তাঁর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, গোয়েন্দাপ্রধান—তাঁরা সবাই প্রশ্নাতীতভাবে সেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিচারের রায় ঘোষিত হয়েছে। তাহলে খালেদা জিয়া কেন এখনো বিচারের কাঠগড়া এড়িয়ে থাকবেন? সাবেক সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি হয়তো সরাসরি বিচার থেকে অব্যাহতি দাবি করতে পারেন, কিন্তু তা হবে অপরাধেরই স্বীকারোক্তি। এর ফলে আইনগতভাবে অব্যাহতি পেলেও তাঁকে এ নিয়ে প্রশ্ন কেন করা যাবে না?
আমাদের আশা, এবার তিনি বাধ্য হবেন এ কথা জানাতে, ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক ও ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিষয়ে তিনি কী জানতেন, কখন তা জেনেছেন এবং প্রতিকার হিসেবে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন। আইন কী করবে জানি না, কিন্তু দেশের মানুষ হিসেবে সেই প্রশ্ন করার অধিকার আমাদের আছে। তথ্যমাধ্যমেরও উচিত হবে খালেদাকে সরাসরি সেই প্রশ্ন করা।
একটা সময় ছিল, যখন দেশের রাজা যা খুশি করতেন, যাকে খুশি তাকেই শূলে চড়াতে পারতেন। মানবসভ্যতা সেই সামন্ততান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারের যুগ অতিক্রম করেছে গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতায় প্রবেশের মাধ্যমে। আইনের চোখে সবাই সমান, এটি কেবল কথার কথা নয়, এটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম মৌল ভিত্তি। আমরা সেই রকম দায়বদ্ধ আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণ করতে চাই।
এ কথা প্রমাণের একটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ হবে সাবেক এই সরকারপ্রধানকে এক বা একাধিক অপরাধের দোসর হিসেবে আইনের দাঁড়িপাল্লায় টেনে তোলা।
হাসান ফেরদৌস: প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বেচাবিক্রিতে শীর্ষে হিটলারের by মেইন ক্যাম্ফ
শুধুই আই-টিউনসেই বইটি বিক্রি হচ্ছে এমনও নয়। মেইন ক্যাম্ফের জনপ্রিয়তায় এমন বাড়বাড়ন্তের বিষয়টি প্রথম যিনি খবরে তুলে আনেন, সেই সাংবাদিক ক্রিস ফ্যারোন এ ব্যাপারে জানিয়েছেন, আমাজন ডটকমেও সর্বোচ্চ বিক্রিত বইয়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে জার্মান জাতীয় সমাজতন্ত্রী নেতা হিটলারের আÍজীবনীটি।
এ ব্যাপারে বিশ্ব ইয়াহুদি কংগ্রেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রবার্ট সিঙ্গার এবিসি নিউজকে বলেন, ‘বইটির অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা অবশ্যই বৈধ। কিন্তু অনলাইনে এভাবে হরেদরে বইটি কিনছে মূলত নয়া-নাজিরা, যারা ইতিহাসের এ দানবটিকে নায়কজ্ঞানে তার এ বইটি পড়ছে।’ জনাব রবার্ট বলেন, নামিদামি কোম্পানিগুলোর উচিত এ ঘৃণাপ্রচারমূলক বইটি বেচে মুনাফা কামানোর চিন্তা বাদ দেয়া। আর যদি বেচতেই হয়, তবে এর লাভের টাকা দিয়ে ইয়াহুদি-ঘৃণা বা এমন অন্য কোনো ঘৃণা সমাজ থেকে দূর করার কাজে ব্যয় করা উচিত।
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এলিট মাইন্ডস গতবছর মেইন ক্যাম্ফের একটি সংস্করণ অনলাইনে ছাড়ে মাত্র ৯৯ সেন্ট দামে। ক্রিস ফ্যারনের মতে, তারপরই অনলাইনে বইটির বিক্রি বাড়তে শুরু করে হু হু করে। এ ব্যাপারে এলিট মাইন্ডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ফোর্ড বলেন, মূলত একাডেমিক দরকারেই এ বইটির বিক্রি বাড়ছে।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাদৃশ্যের সন্ধানে by শাহনেওয়াজ বিপ্লব
‘এ হাউজ ফর মি. বিশ্বাস’ এর নায়ক মোহন বিশ্বাস জন্ম নিয়েছিল হাতে ছয়টি আঙুল নিয়ে, হিন্দু সংস্কার মতে অমঙ্গলের প্রতীক হয়ে। ঠিক একইরকম ঘটনা ঘটেছে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কুবেরের বিষয় আশয়’ উপন্যাসের নায়কের বেলায়ও। এ উপন্যাসেও নায়ক কুবেরের জন্ম এক ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের রাতে, সেটিও অলক্ষুণে হিসেবে বিবেচিত হয়েছে উপন্যাসে।
মি. মোহন বিশ্বাস বহু প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে শেষ পর্যন্ত নিজের একটি পরিচয় চেয়েছিলেন, চেয়েছিলেন নিজের একটি ঘর; যে ঘরে তিনি তার স্বাধীনতা নিয়েই থাকবেন, যে ঘরটি মি. বিশ্বাসের ঘর বলেই চিহ্নিত হবে; সংঘবদ্ধ গণ্ডির ভেতর থেকে বেরিয়ে নিজের সতন্ত্র অবস্থান নির্মাণের চেষ্টা ‘এ. হাউজ ফর মি. বিশ্বাস’ উপন্যাসের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে। অন্যদিকে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসের দরিদ্র কুবেরও অজস্র প্রতিকূলতার মোকাবেলা করে তার সব বিষয় আশয়ের ভেতর তার নিজের এবং পরিবারের জন্য বড় একটি ঘর তৈরির স্বপ্নকে টেনে নিয়ে গেছে। সে স্বপ্নের ভেতর ছিল ঘরের সামনে থাকবে আঙ্গিনা, বাড়ির সামনের পুকুরে থাকবে টলমল জল আর মাছ।
কুবের এবং মোহন বিশ্বাস দুজনই তাদের নিজেদের সাতন্ত্র্য খুঁজেছেন নিজেদের ঘর নির্মাণের স্বপ্নের মধ্য দিয়ে কিন্তু দুটি উপন্যাসেই নাইপল এবং শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় একই পরিণতি টেনেছেন। ‘এ হাউজ ফর মি বিশ্বাস’ এ নায়ক মোহন বিশ্বাস উপন্যাসের শেষে এসে মৃত্যুবরণ করেছেন। কুবেরেরও হয়েছে একই পরিণতি। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় কুবেরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে উপন্যাস শেষ করেছেন।
নাইপল তুলসী পরিবারের প্রেক্ষাপটে একটি বড় পারিবারিক পরিমণ্ডল থেকে মি. বিশ্বাসকে বের করে নিয়ে এসেছেন। যেমনটি শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ও করেছেন তার ‘কুবেরের বিষয় আশয়’ উপন্যাসের। কুবেরকে তিনি দেবেন্দ্র লাল সাধু খাঁর পারিবারিক পরিমণ্ডল থেকে ধীরে ধীরে স্বতন্ত্র ‘কুবের’ করে তুলেছেন।
হিন্দু ধর্মীয় সংস্কারের প্রতি বিশ্বাস এর বেলায়ও উপন্যাস দুটোতে সাদৃশ্য দেখা যায়। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এবং ভি. এস নাইপল দুজনের উপন্যাসেই চরিত্রগুলো হিন্দু ধর্মীয় অনুশাসন মেনে নিয়েছে।
‘এ. হাউজ ফর মি. বিশ্বাস’ এবং ‘কুবেরের বিষয় আশয়’ উপন্যাস দুটোর কাঠামোও প্রায় একইরকম। উপন্যাস দুটোর ঘটনা একটানা বর্ণিত হয়নি। বরং দুটি উপন্যাসেই চরিত্রগুলো, নায়ককে সামনে রেখে নানা পর্ববিভক্ত হয়ে মূল কাহিনীকে টেনে নিয়ে গেছে।
এমনকি ভাষাশৈলীতেও একইরকম সাদৃশ্যের দেখা মেলে নাইপল এর ‘এ হাউজ ফর মি. বিশ্বাস’ এবং শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কুবেরের বিষয় আশয়’-এ। ইংরেজি ভাষার শ্রেষ্ঠ গদ্য সৌকর্য বিন্যস্ত হয়েছে ‘এ হাউজ ফর মি. বিশ্বাস’ এ-ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের অভিমত। একটি উদাহরণ ‘গ্রীণ ভ্যাল’ থেকে : ‘সে খাচ্ছিল তার কক্ষের সবুজ টেবিলে বসে। বড় দরজার আড়ালে জানালাকে পেছন দিয়ে বসেছিল সে এবং প্রতিজ্ঞ ছিল সে, ঘরের ভেতরে ছাদ ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া স্যাঁতসেঁতে ঝুলকালি মাখানো পুরনো কালো লোহার রডের দিকে তাকাবে না। ঘরের ভেতরে পুরনো পত্রিকা, তামাকে গন্ধ মনে করিয়ে দিচ্ছিল তাকে বিছানার নিচে রাখা বাবার বাক্সটির কথা, যে বাক্সে বাবা শায়িত আছেন মাটির নিচে কবরে।’
‘কুবেরের বিষয় আশয়’ থেকে দ্বিতীয় উদাহরণ : ‘জলের দর কথাটা শুনলে কুবেরের বড় দুঃখ হয়। ইস তখন যদি বয়স্ক থাকতাম- হাতে টাকা থাকত! এক এক দিন ট্রেনে বসে দু’পাশের মাঠ দেখে মনে হয় সাইজ মতো বিরাট একলপ্তে অনেকটা জমি গালগল্পের জলের দরে পাওয়া যেত যদি, এদানি ব্রহ্মোত্তর দেয় না কেউ। তাহলে একেবারে কলবাড়ি করে তুলত। ভদ্রআসন, পুকুর, ফলের বাসা, সম্বচ্চরের ধান মলানোর মাঠ সব-সব এক সঙ্গে হয়ে যেতে।’
নাইপলের উপন্যাসে মি. বিশ্বাসের জন্য একটি ঘরের স্বপ্নের আকাক্সক্ষায় ব্যক্ত হয়েছে মোহন বিশ্বাসের হতাশা, বিচ্ছিন্নতা আর কলোনিয়াল সমাজব্যবস্থার অসারতার মধ্যে ব্যক্তি পরিচয়ের স্বাতন্ত্র্য বড়ো হয়ে ওঠা। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কুবেরের বিষয় আশয়’এর কুবেরও মোহন বিশ্বাসের মতই হতাশ হয়েছে, ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের স্বপ্ন তার ভেতরও তীব্রভাবে ছিল।
‘এ হাউজ ফর মি বিশ্বাস’ উপন্যাসটির প্রকাশিত হয়েছে ১৯৬১-তে। ভি এস নাইপল জন্ম নিয়েছিলেন ত্রিনিদাদ এর চাগুয়ানাস-এ। তার জন্ম ১৯৩২ এর ১৭ আগস্ট। অপরদিকে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় জন্মেছেন বাংলাদেশে ১৯৩৩-এ, বড় হয়েছেন এবং বাকি জীবন কাটিয়েছেন পশ্চিম বঙ্গে। বয়সের হিসাবে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় নাইপলের চেয়ে এক বছরের ছোট। অপরদিকে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কুবেরের বিষয় আশয়’ প্রকাশিত হয়েছে ১৯৬৩-তে। প্রকাশকাল হিসাবে এ দুটো গ্রন্থের মধ্যে ব্যবধান মাত্র দেড় বছরের মতো। যদিও ভি. এস নাইপলের গ্রন্থ শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের আগে প্রকাশিত হয়েছে। সে বিচারে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় নাইপল দ্বারা কতটুকু প্রভাবিত হয়েছিলেন তার কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। দুটি উপন্যাসই পাশাপাশি রেখে পড়লে মনে হবে, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এর উপন্যাসের কুবের আর ভি. এস নাইপলের উপন্যাসের মোহন বিশ্বাস যেন একে অপরের যমজ ভাই, উপন্যাস দুটোও যেন একে অপরের যমজ। নাইপল এবং শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় যেন একইসঙ্গে বসে লিখেছেন উপন্যাস দুটো: একইরকম চরিত্র, একইরকম ঘটনা প্রবাহ, ভাষাভঙ্গি এবং একইরকমের ঘটনার সাদৃশ্যে। উপন্যাস দুটোর ঘটনার পরম্পরার এ আশ্চর্য মিল, বয়সের বিবেচনা, একইরকম উপন্যাস পরিণতি, একইরকমের উপসংহার; সাধারণ পাঠককে তো বটেই, সাহিত্য গবেষকদেরও অবাক করে।
শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এর জন্ম এশিয়ায়। পশ্চিমবঙ্গেই তিনি বড় হয়েছেন এবং জীবন কাটিয়েছেন। তাই তিনি উপন্যাসে পটভূমি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাকে অপরদিকে ভি. এস নাইপল জন্মেছেন আমেরিকা মহাদেশের ক্যারিবিয়ান দ্বীপ ত্রিনিদাদে। ফলে তিনি উপন্যাসের পটভূমি করেছেন ত্রিনিদাদকে। দুজন দু’মহাদেশে জন্মগ্রহন করলেও তাদের উপন্যাসে আশ্চর্য সাদৃশ্য রয়েছে। আসলে মানবিক ঘটনার বর্ণনায় বিশ্বের সব লেখকই শেষ পর্যন্ত একইরকম ভাবনা বাঁধনে বাঁধা।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কবিতাই বিপন্ন বিশ্বকে বাঁচাবে by কবি ফজল শাহাবুদ্দীন
শাহীন : ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত আপনার প্রথম কবিতা কোনটি? কবিতাটি কোন পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল?
ফজল শাহাবুদ্দীন : ‘সন্ধ্যা’ নামের একটি কবিতা। মাসিক মাহে নও আর দৈনিক মিল্লাতের সাহিত্য পাতায়। কবি আবদুল কাদির ছিলেন মাহে নওয়ের সম্পাদক আর মিল্লাতের সম্পাদক ছিলেন কবি তালিম হোসেন।
একজন কবি হিসেবে জীবনটাকে কীভাবে উপভোগ করলেন?
: ভোগ করাই তো হল না। বয়েস তো হল কয়েক কুড়ি। উপভোগের কথা আর কী বলব। একবার মন্ত্রী হওয়ার একটা সুযোগ এসেছিল- তবে হতে পারিনি। হলে হয়তো উপভোগেরও একটা সুযোগ হয়ে যেত।
নিজের লেখা কোন কবিতাটি আপনার প্রিয়? কেন?
: অনেকদিন আগে আমার লেখা একটি ক্ষুদ্র কবিতা আমার বেশ প্রিয় হয়ে উঠেছিল। টাঙ্গাইলের এক তরুণ কবি ঢাকা এলে বারবার আমাকে বলত- এমন একটি কবিতা লিখেও সুখ। হায় মীর আবুল খায়ের আজ কোথায়? সেই তরুণ বয়সেই সেসব ছেড়ে চলে গেল। কবিতাটির নাম ‘কোনো একজনকে’।
কবিতাটি হচ্ছে-
‘তুমি কি জানো না মেয়ে
সবচেয়ে
নীল যার চোখ,
বনের পাখির মতো যার গলা ভাঙে নির্মোকঃ
শ্রাবণ বাতাসে ভিজে
যার দেহ ফুলে ওঠে ঘননীল উতলা শেমিজে
সেই মেয়ে তুমি ছাড়া আর কেউ নয়
জলের সুরভি ভরা শুধু সুরময়।
কৈশোরকালে কবিতা রচনা শুরুর সেই দিনগুলোর কথা কি মনে পড়ে? কেমন ছিল সেই দিনগুলো?
: আমার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় আমার বয়স যখন সতেরো বছর তিন মাস- আমি তখন আর কৈশোরকালে ছিলাম না এবং যৌবনেও উপস্থিত হতে পারিনি। রবীন্দ্রনাথের সমাপ্তি গল্পের মতো অবস্থা আমার। দিনগুলো আমার তখন- মধুর ছিল সুন্দর ছিল। এক ধরনের মুগ্ধতা ছিল চিত্তে, এক ধরনের অস্থিরতা ছিল অঙ্গে অঙ্গে, আর এক ধরনের আলো-অন্ধকারের খেলা ছিল সব অনুভবে এবং চৈতন্যে।
এই তো সেই সব দিন সেই সব রাত এবং সেই সব গোধূলি সন্ধ্যা।
কবিতা করতে গিয়ে আপনাকে লেখাপড়া বন্ধ রেখে পোস্ট অফিসে কেরানির চাকরি নিতে হয়েছিল। সেই ঘটনার কথা যদি একটু বলেন...।
: আমার আব্বাকে আমি বলেছিলাম, I have opted for poetry.. ফলশ্র“তি হিসেবে আমাকে আমার শিক্ষা জীবনের সাময়িক ইতি টানতে হয়েছিল। আমি তখন জগন্নাথ কলেজের ছাত্র। সেই সময় আমার বাংলার অধ্যাপক ছিলেন শ্রী অজিত কুমার গুহ এবং মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী। মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন- আমাকে অচিন্ত্যনীয় উৎসাহ দিয়েছিলেন কবিতা রচনায়। একটি গভীর নেশার মতো তখন ছিল কবিতা আমার কাছে। অবশ্য সেটা বেশ পরে উপলব্ধি করেছিলাম।
প্রথম যৌবনের মতো সেই উন্মাদনা। আসলে কবিতা যখন অন্তর্দাহে মিশে যায় তখন আকাশ স্তম্ভিত হয়, নদী উন্মত্ত হয়, আর বৃক্ষ শাখায় আন্দোলিত হয় চিরকালের .....।
যদি ‘প্রিয় কবি’ সম্পর্কে জানতে চাই- তাহলে কার নাম আপনি উল্লেখ করবেন? একজনের নাম.....।
: না, দু’জনের নাম বলছি। রবীন্দ নাথ ঠাকুর ও জীবনানন্দ দাশ।
আধুনিক কবিতার জনক বলা হয় জীবনানন্দকে। তাহলে রবীন্দ নাথ, নজরুল এদের কী বলা যাবে?
: আধুনিক বাংলা কবিতার প্রারম্ভ মাইকেল থেকে। রবীন্দ নাথ আর নজরুল আমাদের আধুনিক মৌলিক কবিদের অন্য দু’জন- যার চতুর্থ জন হলেন জীবনানন্দ দাশ।
তিরিশের পর ‘ছন্দোবদ্ধ’ কবিতার চর্চা নেই বললেই চলে। ছন্দবিহীন কবিতার এই উত্থানকে আপনি কিভাবে দেখেন?
পরবর্তী কবিরা প্রায় সবাই অসংখ্য ছন্দোবদ্ধ কবিতা লিখেছেন- এমনকি সনেটও রচনা করেছেন।
‘কবিতা’ না ‘গদ্য’- সাহিত্যের এ দুটি ধারার কোনটাকে আপনি শক্তিশালী বলে মনে করেন?
: একটি সমুদ্র বাতাস অন্যটি অরণ্য মর্মর- এরকম ভাবতে ভালো লাগে আমার।
এই দেশে একমাত্র কবি, যিনি উপন্যাস রচনা করে অশ্লীলতার দায়ে কারাবরণ করেছেন, তিনি আপনি। সেই উপন্যাস এবং গ্রেফতার প্রসঙ্গে কিছু বলবেন কি?
: সে অনেক লম্বা কাহিনী। আমি ঢাকায় অরণ্যরাত্রির জন্য আর সমরেশ বাবু কলকাতায় প্রজাপতির জন্য এরেস্ট হয়েছিলেন। তবে আমি আগে হয়েছিলাম- সমরেশ বাবু আমাকে কলকাতায় তেমনি কৃতিত্ব দিয়েছিলেন।
প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে একটি লক্ষ্য থাকে। আপনার জীবনেও নিশ্চয়ই ছিল- সেই লক্ষ্য সম্পর্কে যদি জানতে চাই।
: আমার জীবনকে আমার একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট নক্ষত্রের মতো মনে হয়েছে সব সময়- এখনও মনে হয়। আমার ধারণা সত্যিকার লক্ষ্য থাকে একজন বিজ্ঞানীর, কবির নয়।
আপনার ‘প্রিয় বন্ধু’ কে?
: বন্ধুত্ব একটি আপেক্ষিক অর্থের শব্দ।
সতীর্থ শামসুর রাহমান এবং আল মাহমুদ সম্পর্কে যদি মূল্যায়ন করতে বলা হয়- তাহলে কিভাবে করবেন?
: আমার ধারণা শামসুর রাহমান আর আল মাহমুদ পঞ্চাশ দশকের বাংলা কবিতার শ্রেষ্ঠ কবিদের দু’জন। ওরা দু’জনেই আমাকে পঞ্চাশের অনুল্লেখযোগ্য কবি বলে মনে করেন।
প্রায়শঃই আপনি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কথা বলেন, উচ্চ কণ্ঠে তার কবিতা আবৃত্তি করেন- তার প্রতি আপনার এই অবসেশানের কারণ কি?
: মধুসূদন আধুনিক বাংলা কবিতার প্রারম্ভ। আমি মধুসূদন দত্তকে বাংলা ভাষার প্রধান মৌলিক কবিদের একজন বলে মনে করি। মধুসূদনকে বাংলাদেশে নতুন করে মূল্যায়ন করা উচিত। মধুসূদনের নাটকীয়তাকে গভীরতার অর্থে আবিষ্কার আর প্রতিষ্ঠা এখন প্রয়োজন।
ইদানীং তরুণদের মধ্যে সনেট চর্চার আগ্রহ একেবারে নেই বললেই চলে। এটিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
: আমি শংকিত নই। সনেটবিহীন একটি কবিতার
জগৎ বৃষ্টিহীন এবং ছায়াহীন ও হাওয়াবিহীন একটি প্রান্তরের মতো মনে হয় আমার।
‘কবিতা’ নিয়ে আপনার কোনো বিশেষ পরিকল্পনা আছে কি?
: আছে। আমি বাংলাদেশে একটি কবিতা লাইব্রেরি ও কবিতা আর্কাইভ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। পঁচিশ বছর আগে এমনি একটি বাসনার কথা আমি এবং কবি সৈয়দ আলী আহসান, কবি শামসুর রাহমানসহ উচ্চারণ করেছিলাম।
মরার আগে তেমনি একটি কিছু দেখে যেতে চাই।
আপনাকে বলা হয় ‘অন্তহীনতার কবি’। কেউ কেউ বলেন ‘মুক্তিযুদ্ধের কবি’- এ সম্পর্কে আপনার কি মূল্যায়ন?
: আমি জানি, আমি শুধু একজন কবি।
পৃথিবীর মহাপৃথিবীর প্রকৃতির মহাপ্রকৃতির জগতের মহাজগতের সমুদ্রের মহাসমুদ্রের কবি- শুধু একজন কবি।
আপনার কবিতায় ‘মুক্তিযুদ্ধ’ একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে- অথচ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ বলে দাবিদার অনেকেই আপনাকে তাদের দলভুক্ত করতে নারাজ- বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
: এরকমটি হয়। কখনও কখনও। কোনো কোনো দেশে। আমার ধারণা, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধটি সবমিলিয়েই একটি অসাধারণ কবিতা। তাকে সঠিকভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন। এখানে স্বপক্ষ-বিপক্ষ অর্থহীন।
‘মুক্তিযুদ্ধ’ নিয়ে যে বিতর্ক, দলাদলি ও বিভক্তি- তাতে করে জাতি হিসেবে আমরা কি দুর্বল হয়ে পড়ছি না? এ থেকে উত্তরণের উপায় কি?
: এসব কিছুই হচ্ছে সততাবিহীন রাজনীতির জন্য। আমাদের জীবনে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে পারলে এসব বিতর্ক বিভক্তি অপসারিত হয়ে যাবে।
‘মুক্তিযুদ্ধের কবি’ হিসেবে আপনি নিশ্চয়ই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক- এটা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় বিচার শুরু হচ্ছে- সেটাকে কি আপনি সমর্থন করেন?
: একজন কবি হিসেবে সর্বক্ষেত্রে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চাই আমি। আমি জানি সত্যই চিরকালের পরম মুক্তি আনবে একদিন।
এক সময় রাজনীতিবিদরা জনগণের জন্য রাজনীতি করতেন। অভিযোগ উঠেছে- এখন তারা নিজেদের এবং দলের জন্য রাজনীতি করেন। এটা কতখানি সত্যি? এ ব্যাপারে আপনার কোনো বক্তব্য আছে কি?
: এক সময় দেশে নেতারা ছিলেন- তারাই নেতৃত্ব দিতেন সব বড় কাজে। এখন নেতারা নেই আছেন শুধু রাজনীতিবিদরা- তারা কেবলি রাজনীতি করেন নিজের জন্য দলের জন্য।
আমাদের দেশে রাজনীতিবিদদের মতো কবিদের মধ্যেও দলাদলি ও বিভক্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ প্রবণতা কি কবিতার জন্য ক্ষতিকর নয়? এ থেকে উত্তরণের কোনো উপায় আছে কি?
: সারাদেশে যখন দলাদলি হয়- সর্বক্ষেত্রে যখন হানাহানি হয়, তখন কবিতা যারা লেখেন তাদের মধ্যেও দলাদলি হানাহানি হবে এটা অনাকাক্সিক্ষত হলেও অসত্য নয়। তবে প্রকৃত কবিতার সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। সত্যিকার কবিতার নিজস্ব একটি সংগোপন পথ আছে- সেপথ নির্জন নিঃসঙ্গ এবং শান্তিময়।
কবিতায় যখন রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটে তখন কবিতা কি তার স্বকীয়তা হারায় না? এতে করে কি তার কাব্যগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না?
: কবিতা শুধু সোগান হয়ে যায়। উচ্চারণ কেবলি চিৎকারের মধ্যে পথ হারায়।
একজন কবি এবং একজন সাধারণ মানুষের মধ্যে পার্থক্য কি?
: সব মানুষই আসলে কবি। যাদের অক্ষরজ্ঞান নেই তারাও। সাধারণ অসাধারণ সব মানুষের মধ্যেই কবিতা সংক্রমিত হতে পারে, হয়। তখন এই সাধারণ সব মানুষের চিত্তেই বৃষ্টি নামে, বাতাস বয়ে যেতে থাকে ক্রমাগত এবং সেই বৃষ্টি আর বাতাস পৃথিবীকে বাঁচায়- মানুষকে উত্তরিত করে এক নতুন চন্দি মায় নতুন শূন্যতায় নতুন শব্দলোকে।
লোকে বলে, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ আপনার বন্ধু। আপনি কি এটাকে সমর্থন করেন? এই বন্ধুত্বের নেপথ্যকথা যদি একটু বলেন-
: সাবেক রাষ্ট্রপতি আমাকে নিজের বন্ধু বলে স্বীকার করেন এটা আমি জানি। এতে সমর্থন করার বা না করার তো কিছু নেই। এরশাদ কিছুদিন আগে মুন্নি সাহা নামে এক ভদ্রমহিলার কাছে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আমার কবিতা তার ভালো লাগে।
এরশাদ সাহেবের সঙ্গে মিলে আমরা বাংলাদেশে একটা কবিতা উৎসব করেছিলাম, সেই থেকে তার সঙ্গে আলাপ- সেই এশীয় কবিতা উৎসব- এখন তিনি যদি আমার বন্ধু হন তাহলে খুশি হওয়ার কথা তো আমারই। আমি তো তার রাজনৈতিক দলেও যোগ দিতে পারতাম। কিন্তু তিনি তো সেই রকম কোনো কিছুই করেননি।
একজন রাজনৈতিক নেতা কি একজন কবির বন্ধু হতে পারেন?
: মানুষে মানুষে বন্ধুত্ব হয়।
অবশ্য দুটি বেড়াল আছে আমার বাসায়, ওরাও আমার বন্ধু- ওরা আমার কথা বোঝে আমিও ওদের কথা অনুমান করতে পারি।
কবি এরশাদ সম্পর্কে যদি জানতে চাই- তাহলে কীভাবে আপনি শুরু করবেন?
: এই তো বললাম, একজন ভালো মানুষ- যিনি আর একজন মানুষের বন্ধু হতে পারেন।
আপনার একটি কবিতায় আপনি লিখেছেন, ‘প্রেম সেতো একা, এক পক্ষ।’ প্রেম সম্পর্কে আপনার এই মূল্যায়ন কেন? একি একজন কবির অন্তর্গত হাহাকার? নাকি চিরায়ত প্রেমিক সত্তার একান্ত উচ্চারণ?
: এটা মূল্যায়ন নয়। এটা একজন কবির অন্তর্গত এক হাহাকার। আমার বিশ্বাস পৃথিবীর সব প্রেমিকই আসলে কবি- সে শুধু অকাতরে ভালোবাসতে পারে- ভালোবাসা কিংবা প্রেমের লেনদেন করে না করতে পারে না।
জীবনের অস্তলগ্নে যদি প্রিয় কোনো চরণ লিখে যেতে বলা হয়- তাহলে কোন চরণটি আপনি লিখে রেখে যেতে চান?
: শেষ চরণটি- আর্তনাদের মতো কিছু পঙ্ক্তি।
আপনি একজন কবি, আবার একজন সম্পাদকও। এ দুটি চরিত্রে অভিনয় করতে বলা হলে কোনটিতে আপনি সাবলীল বোধ করবেন?
: এ দুটি চরিত্র থেকে বের হয়ে গিয়ে আমি অভিনয় করব তৃতীয় একটি চরিত্রে- কেননা জীবন তো অভিনয় নয়- অভিনয় জীবনের অভিনয় শুধু। আর কিছু নয়।
অগ্রজ কোনো কবির কবিতা কোনোদিন আপনাকে প্রভাবিত করেছিল কি? সেই কবি এবং তার কবিতা সম্পর্কে যদি বলতেন-
: তেমন কিছু নয়। তবে জীবনানন্দের কবিতা আমাকে আপ্লুত করেছিল প্রবলভাবে। মনে আছে আমার রূপসী বাংলার প্রথম দুটি কবিতা কবিকণ্ঠে ছাপা হয়েছিল। সেখান থেকে একটি লাইন আমি শামসুর রাহমানকে শুনিয়েছিলাম- ‘দেখিব কাঁঠাল পাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে’- সেই শুরু। জীবনানন্দ- অন্য কোনো কবির নাম করতে পারব না।
সমকালীন বিশ্ব কবিতায় বাংলা কবিতার কোনো অবস্থান আছে কি?
: কোনো অবস্থান নয়। আমাদের কবিতাগুলো কোনো ইউরোপীয় ভাষায় রচিত হলে আধুনিক বাংলা কবিতার কমপক্ষে ছ’জন কবি নোবেল পুরস্কার পেত। এ কথা আমি জার্মান কবি গুন্টার গ্রাসকে বলেছিলাম।
তরুণদের মধ্যে কোন কোন কবির কবিতা আপনার ভালো লাগে?
: আমি জানি আমাদের তরুণ কবিদের মধ্যে অনেক ভালো কবি আছেন। কিন্তু আমি তো সবার কবিতা পাঠ করতে পারি না। তবে ষাট আর সত্তর দশকের রফিক আজাদ আর প্রয়াত আবিদ আজাদের নাম বলতে পারি।
বাংলাদেশে পিরিওডিক্যাল পত্রিকার জনক বলা হয় আপনাকে। এ দেশের সবচেয়ে আলোচিত পিরিওডিক্যাল পত্রিকা ‘বিচিত্রা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকও আপনি। বিচিত্রার ধারাবাহিকতায় এ দেশে এখন অনেকগুলো সাপ্তাহিক, পাক্ষিক প্রকাশিত হচ্ছে। এই অর্জনকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
: সাময়িকীর সব সময়ই বর্ণাঢ্য। আমি এক সময় সম্পাদক ছিলাম একাধিক সাময়িকীর, মাসিক পত্রিকার, সাপ্তাহিক পত্রিকার।
আমার খুব ভালো লাগে যখন দেখি নতুন নতুন সুন্দর উজ্জ্বল পত্রিকা সব বুকস্টলে ফুটপাতে।
বৈচিত্র্যওতো একটি পিরিওডিক্যাল পত্রিকা- বৈচিত্র্য বর্ণাঢ্য হোক রং ও তুলিতে লেখায় আর কবিতায়- এই আমার কামনা।
আপনি দুটি গান লিখে তিনটি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছিলেন। সেই দুটি গান এখনও জনপ্রিয়। এরপর আর কোনো গান লিখেননি কেন?
: আধুনিক বাংলা গানের অবস্থা খুব ভালো নয়, এমনি ধারণা আমার দীর্ঘদিনের। সিনেমার গান সম্পর্কে আরও বেশি। উর্দু গান-গজল সবই লিখেছেন এবং এখনও লিখছেন উর্দু সাহিত্যের সত্যিকার ভালো ও প্রসিদ্ধ কবিরা। বাংলা গানের বেলায় তেমনটি হয়নি- সিনেমার গানও তাই। রবীন্দ নাথ আর নজরুল ঐতিহাসিক ব্যতিক্রম। সেই ধারায় দ্বিজেন্দ লাল এবং সমগোত্রীয় অন্যরা। যেমন রজনীকান্ত।
সুতরাং গান লেখার জন্য না আমার কোনো মানসিক প্রস্তুতি ছিল না ইচ্ছা।
এমনি সময় অনুরোধ এল বন্ধু আলমগীর কবিরের কাছ থেকে এবং গান দুটি লিখেও ফেললাম। পুরস্কারগুলো পেয়ে গেলাম। পরে আরও গান লিখিনি কেননা আর কেউ অনুরোধ করেননি।
আপনার একটি কবিতায় আপনি ত্রিশ লাখতম জন্মদিনের কথা বলেছেন। আপনার এই ধারণার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো দার্শনিকতা কাজ করেছে- কি সেই দার্শনিকতা- জানতে চাই।
: আমার একটি কবিতায় (অন্ধকারের ওপারে, বাতাসের কাছে) আমি বহুদিন আগে লিখেছিলাম-
আমরা কেউ মরি না
না মানুষ না বৃক্ষ না কীটপতঙ্গ না পাখি
কেউ মরে না, না পৃথিবী না চন্দ
না সূর্য না ঘাসফুল না লতাগুল্ম
না সৌরমণ্ডল না নক্ষত্র না নীহারিকাপুঞ্জ
কেউ মরে না আমরা কেউ মরি না
একটি অন্তহীন মৃত্যুহীন বিলয়হীন
সমাপ্তিহীন জীবনের অংশ হয়ে
আমরা বেঁচে থাকি বেঁচে আছি
এবং এই বেঁচে থাকার
কোনো অতীত নেই বর্তমান নেই ভবিষ্যৎ নেই
একটি সময়হীনতার স্থির কেন্দ্র বিন্দুতে
আমরা বেঁচে আছি সবাই।
এই যে মৃত্যু তার মধ্যে নিহিত আছে আমার ত্রিশ লাখতম জন্মদিনের উচ্চারণ। একটি চিরকাল বিস্মৃত মহাজীবন তার সঙ্গে নিশ্চয়ই একটি নিশ্চিত দর্শন আছে। কিন্তু সে কথা বলতে একটি সম্পূর্ণ গ্রন্থের রচনা শুরু করতে হবে। তার জন্য অন্য সময়, ভিন্ন পরিসর প্রয়োজন।
আশির দশকে ঢাকাতে আপনাদের প্রচেষ্টায় ‘এশীয় কবিতা উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে উৎসবের সোগান ছিল ‘কবিতা বিপন্ন বিশ্বকে বাঁচাবে’। আজকে বিশ্বব্যাপী হানাহানি সন্ত্রাসের এ মুহূর্তে আপনি কি মনে করেন সেই সোগানটি আবার তুলে ধরার প্রয়োজন এসেছে? কবিতা দিয়ে সহিংসা-সন্ত্রাসরোধ কীভাবে সম্ভব?
: কবিতাকে আমরা যদি গ্রহণ করতে পারি সঠিকভাবে, উপলব্ধি করতে পারি প্রার্থনার মতো- তাহলে অনেক কিছুই সম্ভব। আমি এখনও বিশ্বাস করি- ‘কবিতা বিপন্ন বিশ্বকে বাঁচাবে’।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান- এ দু’জন সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
: একজন কবি হিসেবে আমার কোনো সুযোগ নেই এদের মূল্যায়ন করার। আমি শুধু জানি এরা দু’জনই ছিলেন অসম্ভব দেশপ্রেমিক। অসামান্য মানব আর মানবতাপ্রেমিক।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অরণ্যে রোদন- বইমেলার আকাশে অনেক তারা by আনিসুল হক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মায়ের ভাষার স্টাইলটা আনতে চেয়েছি by কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক
হাসান আজিজুল হক : এই তো আছি ভালোই। তোমরা ভালোই তো আছো?
হ্যাঁ, তা আছি। ৭৫তম জন্মদিন তো একজন লেখকের একটা ল্যান্ডমার্কও। এ নিয়ে কিছু বলবেন?
:কোনো কোনো কাগজে কি কি সব এসেছে শুনলাম। স্থানীয় কাগজেও নিউজ ছিল আর-কি।
আমরা আপনার ‘আগুনপাখি’ নিয়ে কিছু কথা বলি। এ উপন্যাসের মূল প্রণোদনাটা আপনি পেলেন কী করে?
:সাজ্জাদ শরিফ আমায় দেশ ভাগ নিয়ে কোনো গল্প লেখার বিষয়ে আগ্রহী কি-না জানতে চায়। আমি বললাম, তা তো আছেই। আমি একটা লিখে দেব। তা গল্প হয় কি-না বলতে পারব না। লিখলাম ‘একটি নির্জলা কথা’।
এটা তো গল্পই ছিল? তারপরের কথাও বলুন।
:হ্যাঁ,- তো, সনৎকুমার সাহা এটি পড়ে বেশ উদ্দীপ্ত হলেন এবং তিনি বললেন, এটার ভেতর কিন্তু দারুণ একটা ফোর্স আছে। আপনি এ নিয়ে কাজ করতে পারেন! আমি তখন বললাম, তাহলে দেব নাকি ডিনামাইট ফাটিয়ে হা হা হা? তখনই এটিকে একটা উপন্যাসে রূপান্তর করার কথা ভাবলাম। এর ভাষা নিয়েও অনেক ভাবনা শুরু হল আমার।
আমারও যদ্দূর মনে পড়ছে, ২০০৪ এর দিকে আপনি চট্টগ্রামে এ ধরনের উপন্যাসে বর্ধমানের একটা ভাষা ব্যবহারের কথা বলেছিলেন। এ নিয়ে আমরা মতবিনিময় করছিলাম। আমার কাছেও মনে হল, এই উপন্যাসের জন্য বর্ধমান এলাকার ভাষাটা ব্যবহার করলে তো ভালোই হবে। তবে কথা হচ্ছে হাসান ভাই, আপনি কেবল ক্রিয়াপদ আর কিছু বিশেষ্য, বিশেষণ আর অন্বয়বাদী শব্দেই স্থানীয় শব্দ আনলেন। এতে কি ভাষার আলাদা শক্তিটা আনা গেল?
:আমি কিন্তু একপর্যায়ে চিন্তা করলাম পুরোটায় যবগ্রামের ভাষা দিই। তবে এখানে পাঠস্বাদুতার বিষয়টাও ভাবতে হল। তুমি দেখবে, এই ভাষাতে পুরুষ/মহিলা, মহিলা/মহিলা, এমনকি হিন্দু মহিলা আর মুসলিম মহিলার ভেতর পার্থক্য আছে। আমি আমার মায়ের ভাষার স্টাইলটা আনতে চেয়েছি।
তবু ভাষা তো দেখি অনেকটা প্রমিত আচরণেই ছিল।
:আমি ভাষাকে উন্মুক্ত আকাশের মতোই একটা বিষয় মনে করি। মানুষ তার স্বাধীন মতে তা ব্যবহার করবে। লেখার সঙ্গে এর একটা সংযোগ তো থাকা দরকার!
উপন্যাসে কি আপনি যুক্ত বাংলার বা বিশেষ কোনো রাজনৈতিক আকাক্সক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন? শরৎ বসু বা সুবাস বসু কিংবা আবুল হাশিমদের মিলিত বাংলার কথা বলতে চেয়েছেন?
: যুক্ত বাংলার একটা বিষয় শরৎ বসু-আবুল হাশিমদের রাজনৈতিক ইচ্ছায় ছিল। কিন্তু জিন্নাহ, বলবভাই প্যাটেল বা নেহেরুকে সামাল দেবে কে? গান্ধী অবশ্য দেশ ভাগ নিয়ে তখন বলেছিলেন, আমার বুকের ভেতর শেল মারা হল! তবে এই উপন্যাসে আমি আমার মায়ের সাফারিংসটাই আনতে চেয়েছি,- হিন্দু, মুসলিম, যুক্ত বাংলা, সর্বভারতীয় কোনো বিষয় নয়। যতভাবেই বলো জাহাঙ্গীর, পশ্চিমবাংলার মুসলমানদের যন্ত্রণা তো ছিল আলাদা।
আপনি কি এ উপন্যাস লিখে তৃপ্ত, উপন্যাসের একটা আদল মনমতো আনতে পেরেছেন?
:আমি তো বলেছি। আমার যা বলার ছিল তা বলেছি তো।
তবু ‘তিস্তাপুরাণ’, ‘খোয়াবনামা’র ভেতর যে আলাদা একটা অদ্ভুত শক্তি বা বিষয় আছে, তা তো এখানে আছে বলে মনে হয় না! তা কি এখানে অনেকটা পারিবারিক ডায়েরির আকারে আসেনি?
:আমি তো পারিবারিক একটা বিষয়ই সব কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে ভিন্ন আদলে আনতে চেয়েছি।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটা উপন্যাস লেখার কাজ অনেকটাই গুছিয়ে এনেছিলেন, কিন্তু তার অকাল মৃত্যুতে তা আর হল না। এতে বাংলাসাহিত্যের বড় ক্ষতি হল বলতে হয়। আপনার কি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এ ধরনের কাজ করার কোনো পরিকল্পনা আছে?
:তুমি যা বললে তা অত্যন্ত সত্যি কথা, ইলিয়াস যে মাঝে মাঝে বলতেন না যে একশ/দেড়শ বছর বাঁচা দরকার, আমিও নিজে সেটা অনুভব করি। হ্যাঁ, তিনি মুক্তিযুদ্ধের ওপর উপন্যাস লেখার ব্যাপারে কাজ শুরু করেছিলেন। নোট তৈরি করছিলেন, তার পরিকল্পনার কথা তো জানতামই। কিন্তু তিনি তা শেষ করতে পারলেন না। আমাদের কপাল ভালো যে দুটো উপন্যাস তিনি লিখে যেতে পেরেছিলেন। তার মৃত্যুতে মুক্তিযুদ্ধের মহৎ একটা লেখা থেকে নিশ্চয়ই আমরা বঞ্চিত হয়েছি। তার কাজটা তো আর আমার নেয়ার বিষয় নয়। কেউ কারও কাজ হাতেও নিতে পারে না। মানুষের আয়ু যদি নিরবধি হতো তাহলে অনেক আশার বাণীই শোনাতে পারতাম তোমাদের- কিন্তু তা তো নয়। কতকিছুই তো করতে চাই- তরলাবালা : বঙ্গরমণী গাথা উপন্যাসটি শেষ করতে চাই। মাস ছয়েক পর আবার তা শুরু করব ভাবছি। তবে হ্যাঁ, মুক্তিযুদ্ধকে বিশাল ক্যানভাস করে কিছু করতে গেলে ইলিয়াসের চাওয়ার মতোই দুশ বছরের আয়ু দরকার।
কথাশিল্পী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র কথা আপনি বিশেষ মর্যাদা দিয়েই স্মরণ করেন এবং তা যর্থার্থই। তবে আমরা আপনার লেখা থেকে এও জানি যে, আপনি বলে থাকেন কথাসাহিত্যের ইতিহাস ফর্মের ইতিহাস নয়। আমরা যদি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র শিল্পসম্মত উপন্যাসের কথা বলি, যেমন ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ বা ‘চাঁদের অমাবস্যা’র কথা যদি বলি, তাহলে এগুলোর ফর্মের বিশেষত্বও কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে ফর্মের এই বিশেষত্বটা কি অস্বীকার করবেন?
: না না, ফর্মের বিষয়টা তো আমি অস্বীকার করবই না। কিন্তু এ জায়গায় আমি বার বার বলছি, ওয়ালীউল্লাহ্ আগে ফর্ম ঠিক করে লিখেছিলেন? নাকি লেখার ব্যাপারটাকে খুব এফেকটিভলি কী করে প্রকাশ করা যায়, সেইটা ভেবে ফর্ম তৈরি করেছিলেন? কোন্টা আগে?! ওই যুগে যে কথা তাকে বলতে হবে, তা সব-চাইতে তীব্রভাবে, সব-চাইতে গভীর ভাবে, সব-চাইতে একেবারে তল পর্যন্ত বিবেচনা করে, তা যদি বলতে হয় তাহলে লালসালুর নিজস্ব ফর্ম দরকার। যে-কথাগুলো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলতে চেয়েছিলেন, সেই কথাগুলোকে তত জোর দিয়ে প্রকাশ করার জন্য মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলাদা ফর্মের প্রয়োজন ছিল। একেবারেই ফর্মলেস লেখা, প্রায় কোনোরকমের কারিগরি নেই, কৌশল নেই, খুবই সাধারণভাবে তৈরি করা এলোমেলো লেখা কার? বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পথের পাঁচালিতে তিনি কোনো ফর্মেরই তোয়াক্কা করেননি। কাজেই কোনো লেখাকে শুধু ফর্মের দিক চিন্তা করে নিন্দা-মন্দ করতে হয় না। কারণ তখন মনে হয়, ঠিক যে কয়টা প্যাঁচ থাকলে কৌটোর মুখটা ঠিকমতো লাগবে, সেই কয়টা প্যাঁচই বিভূতিভূষণের ঢাকনাতে আছে, বুঝতে পেরেছ? সেই কয়টা দরকারি প্যাঁচই আবার মানিকের ঢাকনাতে আছে। একেই বলে ফর্ম আর বক্তব্য বিষয়ের এক অদ্ভুত বিবাহ। এই বিবাহটা ঘটাতে হয়। একজন লেখককে এভাবে কাজ করতে হয়। নাটক তো অনেককাল আগে থেকেই লেখা হচ্ছে, সফোক্লিসও
নাটক লিখেছেন, আবার শেকসপিয়রও নাটক লিখেছেন; শেকসপিয়র আজ থাকলে তোমাদের জিজ্ঞেস করতেন, তোমরা ফর্ম ভাঙার জন্য নাটক লিখছ, নাকি অন্যকিছু? কথা হচ্ছে, এই যে মাতামাতিটা করা হয়, তাতে আঁধার এবং আধেয়’র মধ্যে একাত্ম সম্পর্ক, তা আমরা মিস্ করি। এ জন্যই এ দুটোকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা করতে চাওয়ার, করার কোনো দরকার নেই। সফোক্লিসের ফর্মটা আমাদের কাছে ত্র“টিপূর্ণ মনে হয় না, পুরনোও মনে হয় না। মনে হয় যে, হ্যাঁ, কীভাবে সফোক্লিস, ইউরিপিডাস বা ঈসকাইলাসরা অদ্ভুতভাবে গল্পটা বললেন তাই কিন্তু বড়। তুমি ওইভাবে গল্পটা বলতেও পারবে না। তারা তাদের কথাগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে বলার জন্যই ওই ফর্মটা বেছে নিয়েছেন। ওর চাইতে সংক্ষেপে, ওই কয়টি পাতার মধ্যে এই মহাট্র্যাজেডি নাটকে আনা যেত না। সেই জন্যই আমার মনে হয় যে, যে যত বড় লেখক তার তত ভালো ফর্ম। ফর্মের নিজস্ব ইতিহাস যদি ধরি তাহলে নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। কারণ সমাজের বিবর্তনের, সমাজের ক্রম-অগ্রসরমানতার পারস্পরিক নিজস্ব ধাপ অনুপাতে একটা চেহারা আছে। সেই জন্য ফর্মের ইতিহাস দেয়া যায়। একটু ভাবলেই বুঝতে পারবে, পৃথিবীর সব লেখকই নিজের কাছে অনন্য এবং নিজের ফর্ম হন্যে হয়ে খুঁজতে যাওয়া ভুল। এমনকি ম্যাজিক রিয়েলিস্টদের ভেতর তুমি যতগুলো লেখককে অন্তর্ভুক্ত করতে চাও, সেই লেখকদের একজনের ফর্মের সঙ্গে অন্যজনের ফর্মের কোনো মিল নেই। ইউসার লেখার সঙ্গে মার্কেজের লেখা, ফুয়েন্তেজ, কার্পেন্তিয়র বা হুয়ান রুলফোর লেখা- কারও সঙ্গে কারও লেখা মিলবে? হুয়ান রুলফোর মাত্র পাদ্রে পেরোমার নামের চমৎকার একটা উপন্যাস আর কয়েকটা মাত্র ছোটগল্প। কী অপূর্ব শিল্প। কিন্তু তার সঙ্গে কারও মিল পাবে? শুধু ফর্ম নিয়ে এসব তোমরা বলো কেন? লেখকরা এভাবে বলার জন্য বলেছে তোমাদের? আমরা আগে ফর্ম নিয়ে কাজ করছি, তারপরে উপন্যাস বা গল্প লিখেছি- এ-রকম বলেছে কোনো লেখক? তোমরা সমালোচকরা এসব কেন বলো? হ্যাঁ, বুঝবার জন্য ইচ্ছা হলে বলতে পার? সেই জন্য আমি ফর্মের ব্যাপারটা এভাবেই দেখি।
: আমার তো ইচ্ছা আছে সেই বয়োবৃদ্ধ নারী, নানা পীড়নে আক্রান্ত সেই নারীর বিষয়ে ধারাবাহিকতা রেখে আরও কিছু কাজ করা যায় কি-না- দেখা যাক।
আপনার সঙ্গে কথা বলা মানেই একটা সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে স্পর্শ করা,- আপনি দীর্ঘজীবী হোন হাসান ভাই।
: তোমার সঙ্গে কথা বলতেও ভালো লাগছে- ভালো থেকো।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সপ্তাহের হালচাল- বিএনপি কি তাহলে হেরে যেত? by আব্দুল কাইয়ুম

না, তা নয়। ওই জরিপের ফলাফলও যথার্থই ছিল। ওই সময় যদি বিএনপি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলত, ঠিক আছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন করব, তাহলে বিএনপির বিজয় ছিল অবধারিত। এটা মনগড়া কথা নয়। গত ২৪ জানুয়ারি রাতের ট্রেনে রাজশাহী যাচ্ছিলাম। সেখানে পরদিন গণিত উৎসব হবে। আমাদের কক্ষের বাকি দুজনের সঙ্গে আড্ডা জুড়ে দিলাম। তাঁরা রাজশাহীর অধিবাসী। বললেন, নির্বাচনে না গিয়ে বিএনপি মারাত্মক ভুল করেছে। তাদের বিজয় ছিল অবশ্যম্ভাবী। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আওয়ামী লীগের সাংসদেরা বহাল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায়, এ অবস্থায় কি বিএনপিকে জিততে দেওয়া হতো? তাঁরা কথাটা উড়িয়ে দিলেন। বললেন, কারচুপির কোনো সুযোগই ছিল না। মানুষের বন্যায় সব ভেসে যেত।
আমি রাজশাহীতে গিয়ে বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে জানলাম, নির্বাচনে গেলে মোট ছয়টি আসনের সব কটিতেই বিএনপি চোখ বন্ধ করে জিতে যেত। কারও মধ্যে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা যায়নি। যেমন রাজশাহী-৬, বাঘা-চারঘাট আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এক লাখ ২৭ হাজার ভোট পেয়ে জিতেছিলেন। এবারও তিনি জিতেছেন। বিএনপির প্রার্থী ছিল না। ছিল আওয়ামী লীগেরই বিদ্রোহী প্রার্থী। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে এই দুই আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বীর মিলিত ভোটের পরিমাণ মোট মাত্র ৯১ হাজার। গত নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের চেয়েও প্রায় ৩০ হাজার কম! তাহলে দেখুন, আওয়ামী লীগের অবস্থান কত পড়ে গেছে। বিএনপি থাকলে তাদের বিজয় কে ঠেকাত?
দুই দিন আগে ঢাকায় সাতক্ষীরার একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি বললেন, ওদের ওখানে নির্বাচন হলে চারটি আসনের সব কটিতেই আওয়ামী লীগ পরাজিত হতো। সেখানে মূলত জামায়াতের প্রভাব। বিএনপির তেমন প্রভাব নেই। কিন্তু কথা তো একই। জামায়াত জিতলেও তো বিএনপির ভাগেই যেত। হয়তো সদর আসনে জাতীয় পার্টি জিতত। বাকি তিনটির মধ্যে জামায়াত একটি ও বিএনপি দুটি আসন পেত। আমি ওখানের লোকজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দেখেছি, তাদের চিন্তার সঙ্গে সব মিলে যায়।
সিলেটে কথা বললাম। পরিচিতজনেরা জানালেন, সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৭টিতেই বিএনপি চোখ বন্ধ করে জিতে যেত। আওয়ামী লীগ হয়তো দুটি আসনে জিততে পারত।
অবশ্য আলোচ্য তিন জেলায় বিএনপির পাল্লা ভারী। ফরিদপুর, দিনাজপুরসহ অন্য অনেক জেলায় হয়তো আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাও জিতত। ফলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিএনপি জিতলেও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হতো। বিএনপি হয়তো ভেবেছিল সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্বাচনে গেলে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকবে। এই চিন্তাই তাদের কাল হয়েছে। মানুষ এখন আর কোনো দলের একাধিপত্য চায় না। এটা সত্যিই দুর্ভাগ্য যে বিএনপি মানুষের মনের কথা বুঝতে পারেনি।
মোটের ওপর নির্বাচনে গেলে বিএনপি অনায়াসে জিততে পারত। প্রশ্ন ওঠে, অবস্থাটা যদি ওই রকমই হয়ে থাকে, তাহলে আজ কেন জরিপে মানুষ বলছে যে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি কম ভোট পেত? এর কারণ হলো, বিএনপি নির্বাচন বর্জনের জন্য যে মারাত্মক ও নির্মম সহিংসতার পথ ধরেছিল, তার ফলে মানুষ ক্রমে দূরে সরে গেছে। পেট্রলবোমা, ককটেল, পুলিশ হত্যা, বাস-ট্রাকের চালক হত্যা, শিশু হত্যা, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, দিনের পর দিন হরতাল-অবরোধ—এর প্রতিটি কর্মসূচি মানুষের মন বিষিয়ে তুলেছে। কৃষক থেকে শুরু করে গরিব দিনমজুর-খেটে খাওয়া মানুষ ছিল অসহায়। অনেক ব্যবসায়ী শিল্পপতিকে লোকসান গুনতে হয়েছে।
বিএনপি যদি সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকেই নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করত, তাহলে মানুষের ঢল নামত বিএনপির পক্ষে। কিন্তু পরে যখন দেখল দেশকে বিএনপি সহিংসতার বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিচ্ছে, তখনই ভোটারদের মনোভাব বদলাতে থাকে। এ জন্যই নির্বাচনের আগে ও পরে জরিপের ফলাফল উল্টে গেছে। বিএনপি বলবে, ওরা কোনো সহিংসতা করেনি, করেছে জামায়াত। হতে পারে। কিন্তু তাদের মৌন সমর্থন
ছাড়া কি জামায়াতের সাধ্য ছিল সহিংসতা করার? এটা তো মানুষ বোঝে।
আরেকটি প্রশ্ন হলো, নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষে এত বিশাল সমর্থন থাকা সত্ত্বেও মানুষ কেন রাস্তায় নেমে নির্বাচন প্রতিহত করল না? কারণ, মানুষ সহিংসতার পথে নয়, গণতন্ত্রের পথেই ওই একতরফা নির্বাচনকে ‘না’ বলাকে শ্রেয় মনে করেছে। দু-চারটি ছাড়া বাকি সব কটি আসনেই মানুষ বাসায় বসে থেকে, ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে তাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের একটা বড় অংশ বলতে গেলে বিএনপির সহিংসতার প্রতিও ‘না’ জানিয়ে দিয়েছে। তাদের দলে দলে রাস্তায় নেমে না আসার কারণ এটাই। এখানে বিএনপি ভুল করেছে। তাদের হিসাব ছিল জনপ্রতিরোধ নির্বাচন রুখে দেবে, সরকারের পতন ঘটবে। মানুষ কিন্তু সেই মেজাজে ছিল না।
বিএনপির সহিংসতা ও একটানা হরতাল-অবরোধে বিপর্যস্ত হয়ে আজ, নির্বাচনের পর, মানুষ আগের মতো আর বিএনপিকে ঢালাওভাবে ভোট দিতে আগ্রহী না। ডিআই জরিপের ফলাফলের এটাই তাৎপর্য। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর মানুষ একটু স্বস্তি পেয়েছে। দিনের পর দিন হরতাল-অবরোধ-ককটেল খেতে কেউ রাজি নয়। এখন শান্তিতে চলাফেরা করা যাচ্ছে। পথেঘাটে বোমা-ককটেলে মারা যাওয়ার আশঙ্কা কম। এটাই ভালো।
একটা বিষয় পরিষ্কার। বোমা মেরে সরকারের পতন ঘটানোর স্বপ্ন থেকে বিরোধী দলকে বেরিয়ে আসতে হবে। জামায়াত যে বৃহস্পতিবার আবার হরতাল ডেকেছে, তার বোঝা কিন্তু ওই বিএনপিকেই টানতে হবে। তাই জামায়াতের সংশ্রব ছাড়তে হবে, অথবা পরিষ্কার বলতে হবে জামায়াতের হরতাল বিএনপি সমর্থন করে না। তারা সংবাদ সম্মেলন করে, পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে বলুক যে জামায়াতের সঙ্গে ওরা নেই।
যদি বিএনপির বোধোদয় হয় ভালো। না হলে মানুষ তার পথ বেছে নেবে। বাঙালির টিকে থাকার অসাধারণ ক্ষমতা। সেদিন প্রথম আলো কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক মহাসচিব আইরিন খান বলছিলেন, সাধারণ বাঙালি ইটালিতে যায়। প্রথমে রাস্তায় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে পথচারীদের কাছে গোলাপ ফুল বিক্রি করে দুই পয়সা কামাই করেন। একটু পয়সা জমলেই ছোটখাটো ব্যবসা খুলে বসেন। তাঁরাই দেশে টাকা পাঠান। দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার সমৃদ্ধ করেন।
অবরোধের সময় আমি বাসে করে যাচ্ছিলাম। খুব ভিড়। হঠাৎ একজন আসন ছেড়ে আমাকে প্রায় জোর করে বসিয়ে দিলেন। জানতে পারলাম, তিনি আমাদের পত্রিকা অফিসের সামনে রোজ বিকেলে জুতার খুচরা দোকান বসান। রমজান মিঞা। তিনি বাসে করে গুলিস্তানে যান আর সেখান থেকে জুতা কিনে এনে কারওয়ান বাজারে বিক্রি করেন। লাভ মোটামুটি ভালো। তিনি জানালেন, এত হরতালের মধ্যেও ক্রেতা মোটামুটি ছিল, তিনি খেয়েপরে বেঁচে আছেন। অল্পে খুশি বলেই তাঁর মুখে হাসিটি অমলিন। বলেন, হরতাল-অবরোধের মধ্যেও তো সংসার চালাতে হবে। রোববার তাঁর সঙ্গে দেখা হলে বলেন, স্যার, আমাদের ব্যবসা আবার পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। রমজান মিঞাকে হাজার সালাম জানাই। তাঁরা আছেন বলেই দেশ অচল হয় না।
রাজশাহীতে কথা হচ্ছিল আলমিরা আর্টস অ্যান্ড ফার্নিচারের স্বত্বাধিকারী আরাফাত রুবেলের সঙ্গে। পারটেক্সের ব্যবসা করেন। নিজে ডিজাইন করেন, তাঁর আসবাব জনপ্রিয়। তিনি বললেন, রাজনৈতিক গোলযোগে যেটুকু লোকসান হয়েছিল, গত তিন সপ্তাহে পুষিয়ে গেছে। এখন কেনাকাটার ধুম পড়েছে। আর চিন্তা নেই।
এই মানুষগুলো আছে বলেই বাংলাদেশ টিকে আছে। টিকে থাকবে।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়- ছাত্রলীগের দামি পিস্তল ও কিছু সস্তা জীবন by ফারুক ওয়াসিফ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়- ছাত্রলীগের দামি পিস্তল ও কিছু সস্তা জীবন by ফারুক ওয়াসিফ

অস্ত্রটা বাংলাদেশে এসেছে নাকি মাত্র তিন মাস হলো। অবশ্য অবৈধভাবে এর আগেও আসতে পারে। স্মার্ট পিস্তল হাতে ইমনকে ড্যাশিং দেখালেও কাজের বেলায় তিনি ঠনঠনা। গুলিবাজির ভিডিও দেখলে যে কেউ-ই বুঝবেন, অস্ত্রের প্রশিক্ষণ ঠিকমতো হয়নি। হাত কাঁপে, বুলেটভরা ম্যাগাজিন ভুল করে খুলে ফেলে। নিজের গুলির শব্দে নিজেই ভয়ে চমকে ওঠে। অন্য কারণের পাশাপাশি এই আনাড়িপনার জন্যও তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা যুক্তিযুক্ত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুখ্যাত ক্যাডার এবং পরে সাংসদ হওয়া অভি নাকি চা-সিগারেট খেতেন না হাত কাঁপবে বলে। ছাত্রশিবিরের বন্দুকবাজদেরও তুখোড় নামডাক আছে। ছাত্রলীগের ক্যাডাররা অভিকে না পেলে শিবিরের ক্যাডারদের কাছ থেকে অস্ত্র চালনা শিখতে পারে।
তিন লাখ সাড়ে তিন লাখ টাকার অস্ত্র যে চালায়, তাকে চালাতে দলের কত টাকা লাগে? সেই টাকা কোথা থেকে জোগাড় হয়? পিস্তলের চোখ দিয়ে দেখলে ইমন লাখো টাকার সেলিব্রিটি ক্যাডার। আর যাঁদের তাক করে সে গুলি করেছে, তাঁরা ‘সামান্য’ কয় টাকার বেতন বাড়ানো নিয়ে আন্দোলন করা ‘সস্তা’ ছাত্রছাত্রী। বলা হয়, সস্তার তিন অবস্থা। এই সস্তা শিক্ষার্থীরা ডাইনিংয়ের পানিপ্রধান ডাল আর কাঁকরময় ভাত খান, গাদাগাদি করে চৌকিতে ঘুমান আর মাস চালানো নিয়ে টাকার টানাটানিতে ভোগেন। তো ইমনদের পক্ষে এঁদের কীভাবে সম্মান করা সম্ভব?
ইমনের যাঁরা বস, তিনি ভিসি হতে পারেন, এলাকার এমপি-মন্ত্রী-নেতা হতে পারেন। তাঁরা অনেক খানদানি লোক। তাঁরা ছাত্রলীগের মতো দুর্দান্ত মেধাবী সংগঠন পোষেন। এদের দিয়ে ক্যাম্পাসগুলোতে দখলদারি-জমিদারি পত্তন করেন। ছাত্রলীগ আছে বলেই ছাত্রছাত্রী ও বেয়াড়া শিক্ষকদের প্রজা বানিয়ে রাখতে পারেন। আন্দোলনের স্পর্ধা দেখালে পুলিশ ও ছাত্রলীগ লেলিয়ে প্রজাদের সস্তা পিঠে ছররা গুলির লাল আলপনা এঁকে দেন। পত্রিকা আর টিভিতে ইমনদের পিস্তলের বাহাদুরির পাশাপাশি এ রকম কিছু প্রজার ছিদ্রময় পিঠের ছবি এসেছে। অবশ্য গুলি-বন্দুক কিনতে সরকারকে কত টাকা ব্যয় করতে হয়, তা আমরা জানি না। সেই টাকায় কতজনের পড়ালেখার খরচ রাষ্ট্র দিতে পারত, তা-ও জানা নেই। পুলিশের অস্ত্র, জলকামান, টিয়ার গ্যাস ইত্যাদি কিনতে তো টাকার অভাব হয় না; অভাব হয় কেবল বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে।
এই গল্প জমিদার ও প্রজার গল্প, এই গল্প শিকার ও শিকারির গল্প। শিকারির হাতে অস্ত্র থাকবে, শিকারেরা রক্তাক্ত হবে; এটাই নিয়ম। ক্যাম্পাসগুলোতে দেখেছি, শিক্ষার্থীরা সরকারদলীয় সংগঠনকে ভয় পান। কখনো সেই সংগঠন ছাত্রলীগ; কখনো তা হয় ছাত্রদল-ছাত্রশিবির। তার পরও এদের সঙ্গেই বাস করতে হয় হলে, বিচরণ করতে হয় একই ক্যাম্পাসে। শিকারির চোখ দিয়ে, জমিদারের চোখ দিয়ে ছাত্রছাত্রী ও ছাত্রবান্ধব শিক্ষকদের দেখতে কেমন লাগে জানা নেই। কিন্তু শিকার হিসেবে, প্রজা হিসেবে জানি, ওই সব জমিদার ও শিকারিকে শিক্ষার্থীরা অন্তরের অন্তস্তল থেকে ঘৃণা করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, রাজশাহীর ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। গত বছর জগন্নাথ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করেছিল, তাদের কারোরই কি শাস্তি হয়েছে? জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়েরকে যারা কুপিয়ে হত্যা করেছিল, তাদের কি আটক করে আদালতে তোলা হয়েছে? এসব আশ্বাস মনকে ক্লান্ত করে। শ্রদ্ধা-ভক্তি উঠে যায়। বিশ্বজিতের হত্যাদৃশ্য সমগ্র দেশবাসীর হূদয়ে যে হাহাকার আর ধিক্কারের জন্ম দিয়েছিল, তার ধাক্কায় খুনিদের বিচার হয়েছে। হয়তো প্রকাশ্যে গুলি করার দৃশ্য দেখে নিন্দার ঝড় ওঠায় ইমনেরাও আটক হবে। কিন্তু যে ছাত্রলীগকে মাস্তানি, খুনোখুনি, মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকতে দেখা যায়, যে সংগঠনের হাতে রয়েছে ইমনের পিস্তলের চেয়েও ভয়ংকর অস্ত্র, সেই ছাত্রলীগ নিয়ে আমরা কী করব? ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাসকে আমরা ঘৃণা করেছি, ছাত্রলীগের বেলায় কি সেই ঘৃণার মনকে ঘুমিয়ে রাখব?
একটি দেশে দুর্বৃত্ত ক্ষমতা আর প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্র কতটা উদগ্র হতে পারে, ক্যাম্পাসগুলো তার উদাহরণ। ক্যাম্পাসের বাইরে নিপীড়ক ক্ষমতা অনেক চতুরালি জানে। দরকার মোতাবেক তারা নরম ও গরম হয়। কিন্তু ক্যাম্পাসের সরকারদলীয় ক্যাডাররা কাটা রাইফেলের নলের মতো সর্বদাই গরম। প্রতি মুহূর্তে তাদের ক্ষমতা দেখাতে হয়, নইলে কর্মীরা অনুগত থাকবে না, প্রতিপক্ষ সুযোগ নেবে আর ছাত্রছাত্রীরা হয়ে উঠবে ‘বেয়াদব’। তাদের হাঁটাচলা, মোটরসাইকেল দৌড়ানো, হম্বিতম্বি, গুলিবাজি—সবই তাদের রাজনীতির ট্রেডমার্ক। এগুলো তারা নিজেদের জন্য করে, দলের জন্য করে, ওপরঅলাদের দাপট জারি রাখার জন্য করে, নেতা হওয়ার জন্য করে। তাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে ছাত্রলীগ ভেড়ার পালে নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়বে এটাই তো স্বাভাবিক। একবিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাক-ব্রিটিশ আমলের মতো লাঠি-টিয়ার-গুলিতে লুটিয়ে পড়লে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এ দেশে জনগণের অধিকারকে দাপুটে রাজনীতি আর স্বৈরাচারী প্রশাসন কী মূল্য দেয়, তা যাঁরা ভুলে গেছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রণা দিয়ে তা তাঁরা বুঝে নিতে পারেন।
ইমনরা একা নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়ের নির্দেশ ছাড়া ছাত্রলীগ বা পুলিশ গুলি করতে পারত না। তাঁর নির্দেশ ছাড়া ছাত্রলীগের অস্ত্রবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করাও যাবে না। তিনি চেয়েছেন বলেই নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ানো পাঁচ তরুণ শিক্ষকের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ ওঠানো হচ্ছে। সরকার-প্রশাসন জানে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সর্বজনের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো সর্বদাই বাহান্ন, উনসত্তর, নব্বইয়ের মতো উত্থান ঘটানোর সম্ভাবনা রাখে। এ ধরনের গণ-আন্দোলন কখনোই পুলিশ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। জোট বাঁধা শিক্ষার্থীরা পুলিশকে ভয় পায় না। তা ছাড়া সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির জন্য অনেক পুলিশ লাগবে। কথায় কথায় পুলিশ ব্যবহার করলে মিডিয়ায় শোরগোল উঠবে, মানবাধিকারের প্রশ্ন উঠবে। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ বা ছাত্রদল বা ছাত্রশিবিরের এমবেডেড সন্ত্রাসীদের কৌশলের সঙ্গে চালাতে পারলে এসব হুজ্জত এড়ানো যায়। তাই অন্য সব ইমন ও সম্ভাব্য ইমনদের ভয় নেই। বহিষ্কারের নামে তাদের আইনি বিচার থেকে দায়মুক্তি দেওয়া চলবে; যেমন বহিষ্কারের দায়মুক্তি ভোগ করে চলেছে জুবায়েরের খুনি ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। তাই অন্যায় ক্ষমতার অন্যতম খুঁটি ছাত্রলীগও ‘দায়মুক্ত’ থাকবে।
কিন্তু সেই সব শিক্ষার্থীর কী হবে? যাঁরা আন্দোলন করে মার খেয়েছেন, এখন আবার ‘ছাত্রশিবিরের’ ভাঙচুরের দায়ে যাঁদের নামে অভিযোগ গঠন করা হচ্ছে? ইতিমধ্যে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন ও বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর নেতা-কর্মীসহ ৫০ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে। সেই পাঁচ তরুণ শিক্ষকেরই বা কী হবে, যাঁরা ছাত্রলীগের ক্যাডারদের সামনে বুক চিতিয়ে বলেছিলেন, ‘ওদের মারতে হলে আমাদের বুকের ওপর দিয়ে যেতে হবে।’ সেই পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত হবে। গত জরুরি অবস্থার সময়ও শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় রাবির অন্য পাঁচ শিক্ষককে জেলে পাঠানো হয়। এঁরা আছেন বলে নীতি নামক জিনিসটা এখনো চূড়ান্তভাবে লাটে ওঠেনি।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ওলেখক।
bagharu@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতীয় সংসদ- অনুগত বিরোধী দলের অবিচল আস্থা by আলী ইমাম মজুমদার
এটা অনেকটাই অচেনা আর ব্যতিক্রমী এক সংসদ। প্রথমত বলতে হয়, এ সংসদের অধিকাংশ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। এটা অভূতপূর্ব। বাকি আসনগুলোয় খুব কম ক্ষেত্রেই কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। মনে হয়েছে যেন ‘ফ্রেন্ডলি ম্যাচ’ চলছে ক্ষেত্রবিশেষে ওয়াকওভার। দেশের বৃহত্তর দুটো দলের একটির নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশ নেয়নি। সুতরাং, ভোট দেওয়ার উৎসাহ ছিল খুব কমসংখ্যক লোকেরই। তদুপরি, ব্যাপক সন্ত্রাস হয়েছে, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে। হতাহত অনেক। ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল চার শতাধিক কেন্দ্রে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত পাঁচ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয় আগের রাতে। ভোটকর্মী নিহত হয়েছেন একাধিক। সুতরাং, একে ব্যতিক্রমী একটি সংসদ বলা যেতেই পারে।
তারপর আসছে বিরোধী দলের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জাতীয় পার্টির সরকারি দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে। রওশন এরশাদ সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিমালা অনুসারে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। আবার আসন বিন্যাসে তাঁর পাশাপাশি বসছেন সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত এ দলের সদস্যরাও। কিন্তু তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতাও বটে। বিরোধী দলের নেতার বক্তব্য অনুসারেই এটা ‘নিউ কনসেপ্ট’। তাই আমাদের অনেকের কাছেই অচেনা ঠেকছে। এমনকি সরকারি দলের কারও কারও কাছেও। সে দলের একজন প্রবীণ সাংসদের (যিনি গেল মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন) মতে, জাতীয় পার্টির এ আচরণ গাছেরটি খাওয়া আর তলারটি কুড়ানোর মতো। কাঁঠালের আমসত্ত্ব হয় না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এ নিউ কনসেপ্টের ভবিষ্যৎ আমাদের অজানা। তবে আপাতত আমরা সংসদে সক্রিয় বিরোধী দলের অবস্থান থেকে বঞ্চিত হলাম।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ১৯৯১ সালের পর পালাক্রমে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তাদের যখন যারা বিরোধী দলে ছিল, তারা সংসদীয় দায়িত্ব পালন করেনি বললেই চলে। অথচ বেতন-ভাতাসহ সব সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে। উপভোগ করেছে মর্যাদা। সংসদ বর্জন একটি স্বাভাবিক সংস্কৃতি হয়ে পড়েছিল। বর্তমান বিরোধী দল হয়তো তা করবে না। কিন্তু তারা প্রকৃত বিরোধী দল কি না, সেটা নিয়েই সংশয় রয়েছে। তদুপরি যারা নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সংসদের বাইরে রইল, তারা কিন্তু এ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশীদার নয়। অংশীদার নয় তাদের সমর্থক জনগোষ্ঠী। এ অবস্থায় একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত। একে স্থিতিশীল রাখতে হলে সংলাপের মাধ্যমে প্রধান দলগুলোকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশীদার হতে হবে। ‘বন্দুকযুদ্ধ’ আর ‘ক্রসফায়ার’ সাময়িক সমাধান দিলেও স্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হবে না। তবে দলমত-নির্বিশেষে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারি পদক্ষেপের আবশ্যকতা অস্বীকার করা যায় না। স্বার্থান্ধ ব্যক্তি ব্যতীত কেউ নৈরাজ্য সমর্থন করে না। তবে এর নামে বিরোধী দল দমনও সমর্থনযোগ্য নয়। এ কার্যক্রম পক্ষপাতহীন হলে ব্যাপক জনসমর্থন পাওয়া যাবে।
সংসদের বর্তমান বিরোধী দল সব জাতীয় সমস্যাতেই সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে বলে জানিয়েছে। এটাই হওয়ার কথা এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশেও তাই হয়। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে যোগাযোগ হয়। হয় না শুধু আমাদের এ দুর্ভাগা দেশে। বর্তমান বিরোধী দলের নেতার এ মনোভাব গুরুত্বের সঙ্গে গৃহীত হতো, যদি তিনি প্রকৃতই বিরোধী দলে অবস্থান নিতেন। এ ছাড়া তাঁর দলটি ব্যাপক জনসমর্থিতও নয়। ভাগাভাগির নির্বাচন না হয়ে সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে এ দলের আসন সংখ্যা বর্তমানের ধারে-কাছেও আসবে না বলে অনেকে মনে করেন। তাই তাদের সহযোগিতার প্রস্তাবটি শিষ্টাচারের বিবেচনায় প্রশংসনীয় হলেও রাজনৈতিকভাবে তেমন মূল্য বহন করে না। এতে উৎসাহিত হওয়ার কোনো কারণও লক্ষণীয় হয় না।
দলটি ১৯৯০ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দ্বৈত নীতি নিয়ে চলছে। এমনকি ক্ষমতায় থাকাকালেও প্রধান দুটো দলকে বিপরীতমুখী রাখতে সদা সচেষ্ট ছিল। সেটা যখন সম্ভব হয়নি, তখনই ক্ষমতা হারায়। শুরুতে তাদের পতিত স্বৈরাচার বলত উভয় প্রধান দল। সে পতনের দিনটিও উদ্যাপন করত। দুমুখো নীতির জন্য দলটির এখন কিন্তু বেশ কদর। বড় শরিকেরা এখন ‘পতিত’ আর ‘স্বৈরাচার’ শব্দগুলো মুখেও তোলে না। অবশ্য গেল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটি আরেক দফা ভেঙেছে। যেটুকু আছে, সেখানেও নেতৃত্বের মেরুকরণ লক্ষণীয়। শেষতক কোথায় দাঁড়ায়, এটাও দেখার বিষয়।
এ দেশ ১৯৮৮ আর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেখেছে। দেখেছে এ বছরের জানুয়ারির নির্বাচন। প্রতিটি নির্বাচনের ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষিত রয়েছে। তবে মাত্রার হেরফের হলেও কোনোটিই জনসমর্থিত এমন দাবি করা যাবে না। এখানে ‘ফ্রেন্ডলি ম্যাচ’-এর জন্য জাতীয় পার্টিকে নেওয়া হয়েছে। আর তারা যখন গেছেই, শুধু বিরোধী দলের নেতার পদ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকার কথা নয়। মন্ত্রিত্ব আর বিশেষ দূতের পদও চেয়েছে। পেয়েছেও। তাই তাদের কোনো নেতা সরকারের সমালোচনা করলেও তা ‘ফ্রেন্ডলি’ হবে। তির্যক হবে না—এটা অন্তত বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে জোর দিয়ে বলা যায়।
সরকারের কাছে এ বিরোধী দলের নেতার কদর কিন্তু অনেক। নির্বাচন নিয়ে এরশাদ যখন একপর্যায়ে বিগড়ে যান বা তা করার ভান করেন, তখন হাল ধরেন এ নেতাই। এরশাদ ‘র্যাবের সহায়তায়’ সিএমএইচে ভর্তি হন। মাস খানেক তথায় থাকেন। মাঝেমধ্যে খেলেন গলফ। জনৈক মুখপাত্রের মাধ্যমে নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানাতে থাকেন। তখন রওশন এরশাদ নির্বাচনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, এরশাদের নির্দেশেই তা করা হচ্ছে। তাই সরকারি দল তাদের একজন প্রবীণ নেতার আসন ছেড়ে দেয় তাঁকে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসেন তিনি।
ওই প্রবীণ নেতাকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করে সব দিক সামাল দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের নেতার পদ ছাড়াও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি আর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত পদে নিয়োগ দলটিকে ক্ষমতার অংশীদার করেছে। সুতরাং, সরকারের প্রতি তাঁর আস্থা অবিচল থাকারই কথা।

এরশাদ বর্তমান প্রধান দুটো দলের সঙ্গেই সময়ে সময়ে জোট করেছেন। কখনো তারা তাঁকে ঠকিয়েছে। কিংবা তিনি তাদের। কারাবাস করেছেন দুটো দলের সরকারের সময়েই। তাঁর দলের মধ্যেও এ দুই দলের প্রতি চিহ্নিত অনুরাগী কয়েকজন নেতা আছেন। হুমকি-ধমকি যা-ই দিক, একা তাঁরা এগোতে পারবেন না। এটা এরশাদ ও রওশন এরশাদ উভয়ই ভালোভাবে বোঝেন। বোঝেন দলের অন্যরাও। তাই যখন যেদিকে সুবিধা, সেদিকেই ঝুঁকে পড়েন। অতীতের অবজ্ঞা, অবহেলা আর কথা না রাখার বিষয়গুলোও উপেক্ষা করেন নিজেদের গরজেই। আর তা করতে গিয়ে চৈতন্য মহাপ্রভুর শিষ্য ও বন্ধু নিত্যানন্দ রচিত একটি গানের কলি হয়তো বা স্মরণে আনেন। সে গানের কলিটি হচ্ছে:
মেরেছিস কলসির কানা,
তাই বলে কি প্রেম দেব না?
চৈতন্য মহাপ্রভু আর তাঁর শিষ্য সেই প্রেম বিলিয়েছিলেন নিছক সদিচ্ছায়। আর আমাদের বর্তমান সংসদের বিরোধী দলের প্রেম কিন্তু অনেক চড়া মূল্যে কেনা।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতীয় সংসদ- অনুগত বিরোধী দলের অবিচল আস্থা by আলী ইমাম মজুমদার
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাষ্ট্র ও রাজনীতি- সংকট উত্তরণে একটি গুচ্ছ প্রস্তাব by নূহ-উল-আলম লেনিন

আপাতত দেশবাসী হানাহানি, সন্ত্রাস, রক্তপাত ও সাম্প্রদায়িক উন্মত্ততার হাত থেকে কিছুটা নিষ্কৃতি পেয়েছে। অর্থনীতি ও জনজীবনেও কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। আন্দোলনের নামে গত কয়েক মাস যে নারকীয় তাণ্ডব, নাশকতা ও গণহত্যা হয়েছে, দেশবাসী তার পুনরাবৃত্তি রোধে বদ্ধপরিকর। বিরোধী জোট যদি এর থেকে কিছু শিক্ষা নিয়ে থাকে, তাহলে তা তাদের জন্য যেমন, তেমনি দেশের জন্যও কল্যাণ বয়ে আনবে।
দশম জাতীয় সংসদ একটা বাস্তবতা। আইন ও সংবিধানের দৃষ্টিতে এই সংসদ যেমন বৈধ, তেমনি এই সরকারও বৈধ। অতএব, এই সংসদকে এবং সরকারকে কাজ করতে দিতে হবে। তবে আইনগত ও সাংবিধানিকভাবে বৈধ হলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়ে গেছে, এমনটি বলা যায় না। এ জন্য সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা স্থায়ী সমাধানসূত্র উদ্ভাবিত ও বাস্তবায়িত না হলে দেশে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব হবে না।
বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করেন বলেই একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন নিয়ে সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে রেখেছেন। ৫ জানুয়ারির আগেই তিনি প্রস্তাব দিয়ে রেখেছেন—ক. সন্ত্রাসী, যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিবাদী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে ছাড়তে হবে বিএনপিকে; খ. হত্যা, সন্ত্রাস, অবরোধ, হরতাল, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও হানাহানি বন্ধ করতে হবে। আর এ দুটি শর্ত পূরণ হলে সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। অর্থবহ সংলাপের মধ্য দিয়ে যদি মৌলিক প্রশ্নে মতৈক্য হয়, তাহলে একাদশ জাতীয় সংসদ এগিয়ে আনা বা গ্রহণযোগ্য কোনো ফর্মুলার ভিত্তিতে অগ্রসর হওয়া যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী দরজা খোলা রেখেছেন। এই দরজা দিয়ে সংকট উত্তরণের দায়িত্ব বিরোধী দলসহ সব পক্ষ গ্রহণ করবে কি না, সেটি দেখার বিষয়।
গত ২৯ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মহামান্য রাষ্ট্রপতিও তাঁর ভাষণে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে অন্তত এটুকু স্পষ্ট হয়েছে, দেশে একটা রাজনৈতিক সংকট আছে, আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যার আশু সমাধান হওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতি নিজে সংলাপের তাগিদ দেওয়া ছাড়া সমাধানসূত্র চাপিয়ে দেননি। প্রধানমন্ত্রীও তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেননি। দেশের গণমাধ্যম ও সিভিল সোসাইটি, ব্যবসায়ী মহল ও কল্যাণকামী রাজনৈতিক মহল বর্তমান সংকট উত্তরণের বিষয়ে তাদের আকাঙ্ক্ষা, তাগিদ ও নানামুখী চিন্তা-ভাবনাও প্রকাশ করছে। দুই দিন আগেও যাঁরা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন স্থগিত রাখার জন্য আদাজল খেয়ে নেমেছিলেন, তাঁরাও অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে সংকট উত্তরণের কথা বলছেন।
দেশের একটি প্রধান দৈনিকসহ একাধিক সংবাদপত্র তাদের সম্পাদকীয়তে এবং ‘সুশীল সমাজের’ কোনো কোনো সংগঠন সংলাপের সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা ঠিক করার কথা বলেছেন। আমার দল আওয়ামী লীগের অবস্থানের কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। আমি একজন নাগরিক হিসেবে মনে করি, ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ প্রশ্নে মতৈক্য হলেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সুশাসনের সংকটের সমাধান হবে না। নির্বাচনই গণতন্ত্র নয়, এর অনুষঙ্গ মাত্র। প্রতিটি নির্বাচিত সরকারের আমলে আমরা লক্ষ করেছি, বিরোধী দল দিনের পর দিন সংসদ বর্জন করে চলেছে। ১৯৯১ সালের পর অদ্যাবধি কোনো সংসদই কার্যকর হয়নি। সংসদ অকার্যকর রেখে গণতন্ত্র সম্পূর্ণ হতে পারে না।
১৯৯১ সাল থেকে অদ্যাবধি জাতীয় উন্নয়নের মতো মৌলিক প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো রকম মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ভাবাদর্শগত প্রশ্নের অনিবার্য বিভক্তি সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে দল ও জোটগুলোর মধ্যে যে মতৈক্যের প্রয়োজন ছিল, তা-ও হয়নি। অথচ সংসদে বেতন-ভাতা, বিনা শুল্কে দামি গাড়ি ক্রয় ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রশ্নে সব সাংসদ অনন্য জাতীয় মতৈক্য প্রদর্শন করেছেন। জাতীয় স্বার্থে বৈদেশিক নীতির প্রশ্নেও সরকার ও বিরোধী দলের মতৈক্য থাকার বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা ও ভারতবিরোধিতা বিএনপি-জামায়াতের কাছে একটা মোক্ষম অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা পাকিস্তানি ধারা।
একজন নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও এর অনুষঙ্গ আর্থসামাজিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আমি নিম্নলিখিত প্যাকেজ প্রস্তাব সরকার, বিএনপি ও দেশের কল্যাণকামী সব মানুষের কাছে উত্থাপন করছি—
১. বর্তমান সংবিধানের আওতার মধ্যেই নির্বাচনকালীন সরকার এবং অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের উপায় উদ্ভাবন করতে হবে। অনির্বাচিত সরকার অথবা তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গ্রহণযোগ্য হবে না।
একটি যথার্থ শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা, ক্ষমতা ও এখতিয়ারের বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছার ঐকান্তিক চেষ্টা চালাতে হবে। মোদ্দা কথা, এমন একটা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে, যেখানে জনগণ নির্ভয়ে তার পছন্দসই প্রার্থী বা দলকে ভোট দিতে পারবে। কোনো অপশক্তি ভোটের ফলাফল উল্টে দিতে পারবে না।
২. জেএমবি ও হরকাতুল জিহাদের মতো সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী ও স্বাধীনতাবিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
৩. ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।
সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক গ্যারান্টিসহ জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রতিটি দলকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।
৪. কোনো রাজনৈতিক দল সংসদ বর্জন করতে পারবে না। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ওয়াকআউট বা কোনো একটি ইস্যুতে সংসদ বয়কট চললেও একটানা সংসদ বর্জন নিষিদ্ধ করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল একটা নির্দিষ্ট মেয়াদের (সাত দিন বা ১০ দিন হতে পারে) অতিরিক্ত সংসদ বর্জন করলে সংশ্লিষ্ট দল, জোট বা সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। যেমন—সংসদ বর্জনকারী কোনো দল বা জোট বা ব্যক্তি সব ধরনের সংসদীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
৫. সুনির্দিষ্ট গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, দুর্নীতি তথা সংবিধানবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ছাড়া রাজনৈতিক নির্যাতন/ হয়রানি/ মত প্রকাশের স্বাধীনতা/ গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে।
৬. হরতাল ও অবরোধ নিষিদ্ধ থাকবে। অন্তত ২০২১ সাল পর্যন্ত জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে হরতাল-অবরোধ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে সংবিধান ও আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী শ্রমিক শ্রেণীর বৈধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার বা ধর্মঘটের অধিকার বহাল থাকবে।
রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ ও আইনসংগত সভা, সমাবেশ, মিছিল, পদযাত্রা, অনশন ইত্যাদির ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা চলবে না।
এর পরও যদি কোনো দল বা জোট হরতাল বা অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি নেয়, তাহলে এতে দেশের যে সম্পদ ধ্বংস হবে, জনগণের জানমালের যে ক্ষতি হবে, হরতাল ও অবরোধ আহ্বানকারী দল সেই ক্ষতি পূরণে আইনত বাধ্য থাকবে—এই মর্মে জাতীয় মতৈক্যের ভিত্তিতে সংসদে আইন পাস করতে হবে।
৭. যুদ্ধাপরাধের বিচারসহ যেকোনো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাস, দুর্নীতির বিচার করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলবে না। বিচার বিভাগের কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া অথবা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করা চলবে না।
দেশে সুশাসন ও আইনের শাসনের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।
আমি মনে করি, উল্লিখিত বিষয়গুলোতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপের মধ্য দিয়ে মতৈক্য সৃষ্টি হলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র স্থায়ী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।
আমার প্রস্তাব হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এখনই উল্লিখিত বিষয়গুলোতে সংলাপে উৎসাহিত না হয় অথবা উদ্যোগ গ্রহণ না করে, তাহলে জনমত সৃষ্টি এবং জাতীয় মতৈক্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দেশের নাগরিক সমাজের একটি ফোরাম গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে এ বিষয়গুলো আলোচনা করে একটা মতৈক্যের জায়গায় পৌঁছানো যায়।
রাজনৈতিক দলগুলোকে দোষারোপ না করে দল-মতনির্বিশেষে আমাদের দেশের মূলধারার সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী, সংবিধিবদ্ধ এনজিও (যারা বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্ত) ছাড়া অন্য সব সুশীল সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন ও শ্রমজীবী মানুষের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সর্বদলীয় নাগরিক ফোরাম উল্লিখিত বিষয়গুলোতে প্রথমে নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করতে পারে। কিছুটা সময়সাপেক্ষ ও দুরূহ হলেও এই সর্বদলীয় নাগরিক ফোরাম যদি উল্লিখিত বিষয়ে মতৈক্যের ভিত্তিতে একটি ‘জাতীয় সনদ’ বা প্রস্তাব প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়, তখন তা দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পেশ করা যেতে পারে।
আমরা আশা করতে পারি, এ-জাতীয় মতৈক্যের প্রস্তাব রাজনৈতিক দলগুলো সানন্দে গ্রহণ করবে। আর রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতির ভিত্তিতে সংকট উত্তরণে উল্লিখিত প্রস্তাব বাস্তবায়ন এবং সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কত দ্রুত এই নির্বাচন হবে, তা নির্ভর করবে উল্লিখিত প্যাকেজ প্রস্তাব গ্রহণ ও মতৈক্য প্রতিষ্ঠার ওপর।
সর্বোপরি একটি আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন স্বাধীন, সার্বভৌম সভ্য জাতি হিসেবে বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে যেমন অন্য কোনো দেশের কাছে ধরনা দিতে পারে না, তেমনি যত শক্তিধরই হোক, আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপও আমরা বরদাশত করতে পারি না। আমাদের সব দলের সম্মিলিত কর্তব্য হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ এবং দারিদ্র্যের লজ্জা ঘুচিয়ে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার স্বপ্ন রূপায়ণ করা।
নূহ-উল-আলম লেনিন: সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাষ্ট্র ও রাজনীতি- সংকট উত্তরণে একটি গুচ্ছ প্রস্তাব by নূহ-উল-আলম লেনিন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অরণ্যে রোদন- বইমেলার আকাশে অনেক তারা by আনিসুল হক

আমার চোখের সামনেই মেলা বড় হলো। সেই যে আশির দশকের শুরুতে বুয়েটে পড়ব বলে ঢাকায় এসেছিলাম। বন্ধুদের নিয়ে যেতাম বাংলা একাডেমির বইমেলায়। পুকুরের পাড়ে একটা স্টলে লেখা: এখানে নির্মলেন্দু গুণকে পাওয়া যায়। তখনই আরেক রসিক কবির ফোঁড়ন, নির্মলেন্দু গুণের ডজন কত?
মনে হচ্ছে সেদিনের ঘটনা। আমার প্রথম কবিতার বই খোলা চিঠি সুন্দরের কাছে বেরিয়েছে, ১৯৮৯ সাল, একটা মাদুরে বইগুলো বিছিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম একাডেমি চত্বরে। তখন আমার ওজন ছিল ৫০ কেজি, এখন ওজন ৮০। তখন বয়স ছিল ২৪, এখন ৪৯। প্রথম বই যে বয়সে বেরিয়েছিল, ২৪-এ, তার চেয়ে বেশি বছর তারপর আমি পার করে দিলাম, ২৫ বছর পরে এখন আমার বয়স ৪৯।
কিন্তু নিজেকে এখনো সেই হালকা-পাতলা জিনসের নীল রঙের শার্ট পরা এলোমেলো চুলে বড় দাঁতের কিশোরটিই মনে হয়। মনে হচ্ছে, ওই তো দাঁড়িয়ে আছেন আহসান হাবীব, উন্মাদ সম্পাদক, তাঁর কাছে নিয়ে গেলেন বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের মাহফুজ ভাই, বললেন, ‘এর বই রাখো তোমার স্টলে।’ হাবীব ভাই এককথায় রাজি হয়ে গেলেন। আমার বই বইমেলার একটা স্টলে শোভা পাচ্ছে।
বইমেলার ভেতরেই তখন বসত চায়ের দোকান। অনেকগুলো। হুমায়ূন আহমেদ, শামসুর রাহমান, মহাদেব সাহা—সবাই সেই চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিতেন। মহাদেবদার পাশের চেয়ারে বসেছিলাম। শামসুর রাহমান আর হুমায়ূন আহমেদও একই টেবিলে বসে পড়ায় টেবিলের মর্যাদা হঠাৎ গেল বেড়ে। আমি কী করব, বুঝে উঠতে পারছি না। এমন সময় কবি ফেরদৌস নাহার পাশ দিয়ে যেতে যেতে বলে উঠলেন, ‘মিটুন তো দেখি একেবারে বড়দের দলে যোগ দিয়ে বসেছ।’ লজ্জায়, সংকোচে কী করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এসব স্টলে অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা দিতেন রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। বইমেলা থেকে বের হয়েই একবার রাতের ট্রেনে তাঁর সঙ্গে ময়মনসিংহে গিয়েছিলাম কবিতা পড়তে।
ভোরের কাগজ বের হলো ফেব্রুয়ারি মাসে। স্টল নেওয়া হলো বইমেলায়। তখন ভোরের কাগজ-এর শেষ পাতায় লিখতে শুরু করলাম বইমেলা প্রতিদিন। এখন সেটাই রেওয়াজ হয়ে গেছে, সব পত্রিকাতেই রোজ বইমেলার খবর ছাপা হয়। ভোরের কাগজ-এ আমিই লিখেছি কয়েক বছর।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস আসতেন। আমি তো ছোট্ট একটা মানুষ, গিয়ে স্যারের আঙুল ধরে ফেললাম। বললাম, ‘স্যার, কেমন লাগছে মেলা? কী কী বই বেরোল।’ হাসলেন। আমাকে সঙ্গে নিয়ে পুরো মেলা হাঁটলেন। কিন্তু প্রশ্নের উত্তর দিলেনই না। সাক্ষাৎকার নেওয়া হলো না। হাসান আজিজুল হক স্যার এলে তো আমি পোষা বিড়ালের মতো চঞ্চল হয়ে উঠতাম। তখন আমারও দু-একটা বই বেরিয়ে গেছে, কিশোর পাঠকেরা স্যারের সামনেই হয়তো আমার কাছে অটোগ্রাফ চাইছে, আমি লজ্জায় মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছি, রশীদ হায়দার তাই দেখে বললেন, ‘হাসানকে
পেয়ে আনিস যে একেবারে পাগল হয়ে গেলে!’ আরও লজ্জা! আমি কি রশীদ ভাইকেও কম পছন্দ করি নাকি।
আশির দশকে মেলায় হাঁটতেন হেলাল হাফিজ। আমি তাঁর সঙ্গে হাঁটতাম। একদিন অনেকক্ষণ হাঁটার পরে রসিকতা করে বললাম, ‘নাহ্, আর বড় কবিদের সঙ্গে হাঁটব না।’ হেলাল ভাই হেসে বললেন, ‘এভাবে বলতে হয় না আনিস।’ সেই হেলাল ভাই এবার বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। অভিনন্দন, হেলাল ভাই।
দাদাভাইয়ের কথাও খুব মনে পড়ে। রংপুরে থাকতে কচি-কাঁচার মেলা করতাম বলে ঢাকায় এসে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন আশ্রয়। প্রথম দিকে কচি-কাঁচার আসরে ছড়া-কবিতা ছাপা হতো, পরের দিকে তাঁর সম্পাদিত ইত্তেফাক-এর বিশেষ সংখ্যাগুলোয় ছাপিয়ে দিতে লাগলেন কবিতা। একদিন তিনি হাঁটছেন বর্ধমান হাউসের ঝুলবারান্দার সামনে দিয়ে, সঙ্গে লুৎফর রহমান রিটন আর আমীরুল ইসলাম, আমি ছুটে গেলাম, ‘দাদাভাই, জানেন, আমার বই অমুক আর অমুক লেখকের মতোই বিক্রি হয়।’ দাদাভাইয়ের মুখের কথা একটু আটকে যেত, বললেন, ‘সেটা তো ভালো খবর হলো না!’ খুব হতোদ্যম হয়েছিলাম।
হুমায়ুন আজাদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে নিয়মিত। বসতেন আগামীর স্টলে। বেলা তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত স্বাক্ষর দিতেন বইয়ে। কথা বলতেন পাঠকদের সঙ্গে। প্রথমবার যখন তাঁর নারী বইমেলায় এল, নদী থেকে বেরিয়েছিল, প্রথম দিন মলাট ছাড়াই, তাই বিক্রি হয়ে যেতে লাগল। আমি বললাম, ‘স্যার, নারী তো কভার ছাড়াই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বললেন, ‘নারী তো কভার ছাড়াই ভালো।’ এটা লিখে দিয়েছিলাম বলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘বেশি স্মার্ট হোয়ো না।’ কিন্তু এত ভালোবাসতেন আমাকে যে পরের দিনই সব ভুলে গিয়ে ডেকে নিলেন কাছে।
মুহম্মদ জাফর ইকবালের সঙ্গেও আমার প্রথম পরিচয় বইমেলাতেই। আহসান হাবীব ভাই-ই পরিচয় করিয়ে দিলেন। জাফর স্যার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছেন, নতুন লেখকদের সঙ্গে পরিচিত হতে চান, আহসান হাবীব ভাই আমাকে তাঁর স্টলের সামনে দাঁড় করিয়ে রেখে জাফর ইকবাল স্যারকে ডেকে আনলেন, ‘এই যে আনিসুল হক, নতুনদের মধ্যে যারা...’
সেই যে মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের সঙ্গে খাতির হলো, সেটা আজ অবধি অটুট আছে।
হুমায়ূন আহমেদ জনপ্রিয় হয়ে গেলে আর বইমেলায় স্বাভাবিকভাবে আসতে পারতেন না। আসতেন রাত সাড়ে আটটার দিকে। এসে যে স্টলে বসতেন, সেই স্টলে এমন ভিড় হতো যে স্টল ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হতো। অমনি ভিড় ঠেলে স্যারের কাছে গিয়ে বাচ্চাদের একটা বই কিনে বললাম, স্যার, আমার মেয়ে পদ্যর জন্য অটোগ্রাফ দেন। স্যার লিখলেন, ‘পদ্য, তুমি কেমন আছ?’ একটা লাইন হঠাৎ লিখে ফেলেই তিনি আমাকে বুঝিয়ে দিলেন, কেন একজন মানুষ সবার থেকে আলাদা।
মাহমুদুল হককে আমি কখনো বইমেলায় দেখিনি। কিন্তু তাঁর বই কবে আসবে, সাহিত্যপ্রকাশে গিয়ে খুব খোঁজ নিতাম, আরেকজনকে খোঁজ নিতে দেখতাম, আমাদের লেখক বন্ধু ইমতিয়ার শামীমকে। তাঁকে দেখলাম বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণেই, খাটিয়ার মধ্যে শোয়ানো।
সমুদ্র গুপ্ত খুব মজার মানুষ ছিলেন। বড় বড় চুল, সাদা, বড় বড় গোঁফ, বইমেলায় হেঁটে বেড়াচ্ছেন! একাকী রৌদ্রর দিকে নামে তাঁর কবিতার বই বেরোল, তাতে কবিতা ছিল, ধুলো নিয়ে, সেটা উদ্ধৃত করে বললাম, মেলায় ভীষণ ধুলো...তিনি পরের দিন বললেন, ‘প্রচারটা কায়দা করে ভালোই দিয়েছিস রে!’
প্রণব ভট্ট ছিলেন এক মজার চরিত্র। কার বই বেশি বিক্রি হচ্ছে, এটা খোঁজ নিয়ে বেড়াতেন বিভিন্ন স্টলে। হুমায়ূন স্যার তাঁকে বই উৎসর্গ করে লিখেছিলেন, ‘তাঁর পুরোটা শরীরজুড়ে কলিজা।’ সত্যি, তিনি আমার বইয়ের বিজ্ঞাপন বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর খরচে প্রকাশ করে দিতেন।
শহীদুল জহিরকে আমি কোনো দিনও বইমেলায় দেখিনি, কিন্তু যেবার সেরাতে পূর্ণিমা ছিল বেরোল, সেবার হইচই পড়ে গিয়েছিল। খন্দকার আশরাফ হোসেন কিন্তু ছিলেন বইমেলার নিয়মিত চরিত্র, বই বেরোত, লিটল ম্যাগাজিন বেরোত, টিচার ইন ল কথাটা তিনিই আমাকে শিখিয়েছিলেন আর ফাঁদ বইটা হাতে নিয়েই বলেছিলেন কাফকায়েস্ক।
এবার বইমেলায় আমরা তো খুব অনুভব করব মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানেরও অভাব। সেই কবে বাংলা একাডেমি স্টল থেকে কিনেছিলাম তাঁর গঙ্গাঋদ্ধি থেকে বাংলাদেশ। তাঁর বইটা, আমরা কি যাব না তাদের কাছে যারা শুধু বাংলায় কথা বলে, খুব নাড়া দিচ্ছে। আমরা সবকিছুতে ইংরেজিতে ফিরে যাচ্ছি। বিয়ের আমন্ত্রণপত্র থেকে শুরু করে দোকানের নামফলক। কিন্তু খুব বিস্মিত হয়েছি, প্রশাসনের প্রশিক্ষণেও ইংরেজিরই চল দেখে।
এখনো বইমেলায় মাঝেমধ্যেই আসেন সৈয়দ শামসুল হক ও আনোয়ারা সৈয়দ হক। পাশে গিয়ে দাঁড়াই। ছবি তুলি। কী যে ভালো লাগে। আনিসুজ্জামান স্যারকে আসতে হয়, চেয়ারম্যান হিসেবে, আবার অনুরোধের ঢেঁকি গিলতে, বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করতে। কাইয়ুম চৌধুরী, রফিকুন নবী, হাশেম খান এলেই বুঝতে হবে, সেরা স্টলের পুরস্কারের বিচার চলছে। মুনতাসীর মামুন স্যারের সঙ্গ খুব মজার, আগে সময় প্রকাশনীতে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পরে একটা ঢাউস বই বিক্রি হলেই ফরিদ আহমেদকে বলতেন, ‘ফরিদ, এবার মনে হয় এক কাপ চা খাওয়ার দাম উঠেছে।’ আমরা দুজনই ফরিদ আহমেদের কিপ্টেমি নিয়ে খুবই রসিকতা করি, ফরিদ ভাই সহ্য করেন। আসাদুজ্জামান নূর অনেক আগে থেকেই বইমেলায় নিয়মিত আসেন এবং বই কেনেন। আবুল মাল আবদুল মুহিতও আসতেন কেডস পরে, বৈকালিক হাঁটার কাজটাও সারতেন, বইও কিনতেন। মন্ত্রী হওয়ার পরে তো তাঁদের পেছনে ভিড় লেগে থাকবে। যেমন নিরিবিলি হাঁটতে দেখা যাবে রামেন্দু মজুমদারকে। এক আধবার আসবেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। কিছুক্ষণ বসবেন। তারপর চলে যাবেন।
মুহম্মদ জাফর ইকবাল এলে তো পেছনে তাঁকে মৌচাকের মতো ঘিরে ধরবে কিশোর-তরুণেরা। ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদক হয়ে যাওয়ার পর কম সময় পান, তবু বলি, মিলন ভাই, বইমেলায় সময় দিন, আসুন। যেমন সেলিনা হোসেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, মঈনুল আহসান সাবের, নাসরীন জাহান, তবক দেওয়া পান মুখে আসাদ চৌধুরীকে না দেখলে মনে হবে বইমেলা অসম্পূর্ণই রয়ে গেল।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই বইমেলা হোক। সব স্টল সামনেরবার শুধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই থাকুক। এমনকি উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চ ও গ্যালারিটাও নিয়ে নেওয়া হোক মেলার ভেতরে, সেখানে অনুষ্ঠান হোক। বড় লেখক ও আলোচকেরা একাডেমি প্রাঙ্গণে সেমিনার করে ওই পাশে যদি পদধূলি না দেন, তাহলে কেমন করে হবে?
বইমেলায় যাই। সন্ধ্যার আকাশে চাঁদ ওঠে। একদিন যে লেখকেরা-কবিরা এই মেলায় নিয়মিত আসতেন, আজ আর আসেন না, তাঁদের কথা মনে পড়ে। কিন্তু আকাশভরা অনন্ত নক্ষত্রবীথি দেখলে মনে হয়, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ দাশ থেকে শুরু করে শামসুর রাহমান—প্রত্যেকেই তো আছেন মেলায়। বই থাকা মানেই তো লেখকদের উপস্থিতি।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিল্লির চিঠি- ভারতের দৃষ্টিতে সরকারের এক মাস by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

নির্বাচনের পর একটা মাস দেখতে দেখতে কেটে গেল। এই এক মাসে নির্বাচন নিয়ে দেশ ও বিদেশে কম হইচই হলো না। ভোট সাঙ্গ হওয়ার পরপরই ভারতের প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশ সরকারকে আশ্বস্ত করল। ভারত এ নির্বাচনকে ‘সাংবিধানিক ও বৈধ’ বলার পাশাপাশি স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয়, হিংসা কখনো নির্ণায়ক হতে পারে না। সব রাজনৈতিক দল বা অধিকাংশের যোগদানের মধ্য দিয়ে দ্রুত আরেকটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে দাবি পশ্চিমা দুনিয়া থেকে উঠেছে, ভারত তেমন কোনো অভিপ্রায় প্রকাশ করেনি। শুধু বলেছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে তার মতো করে চলতে দেওয়া দরকার এবং বাংলাদেশের জনগণই সে দেশের নির্ণায়ক ভূমিকায় থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করে ভারতের মতোই তাঁর সরকারের পাশে সমর্থন উজাড় করে একে একে দাঁড়িয়ে পড়ল রাশিয়া ও চীন। দক্ষিণ এশিয়ায় যে তিন বৃহৎ শক্তির প্রভাব ও স্বার্থ অন্য সবার চেয়ে বেশি, সেই তিন শক্তির সমর্থন সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে স্বস্তিই শুধু এনে দেয়নি, তাঁর বিরুদ্ধ-শক্তিদেরও বেশ কিছুটা হতোদ্যম করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ আরেকটা নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে ঠিকই, কিন্তু শেষ বিচারে তারাও কিন্তু লাগামছাড়া সহিংসতাকে সমর্থন করতে পারেনি। তাদের দাবি বিরোধীদের ভেঙে যাওয়া মনোবল বাড়াতেও বেশ ব্যর্থ। নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া যদি বিরোধীদের প্রথম হার হয়ে থাকে, দ্বিতীয় হোঁচট তাহলে কূটনৈতিক লড়াইয়ে। সব মিলিয়ে দুই রাউন্ড লড়াই শেষে শাসকগোষ্ঠী বিরোধীদের চেয়ে দুই কদম এগিয়ে গেছে।
সাধারণ নির্বাচনের রেশ থাকতে থাকতেই বেজে উঠেছে দেশের উপজেলা নির্বাচনের প্রথম পর্বের দামামা। এই নির্বাচনের দিকে অতীব আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে ভারত। কারণ, ভারত মনে করছে, বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতির গতি কোন খাতে বইবে, কয়েক দফার এই নির্বাচন তা ঠিক করে দিতে পারে। ভারতের যাঁরা বাংলাদেশের রাজনীতিকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন, যাঁরা নীতি নির্ধারণে সহায়ক হন, তাঁদের ধারণাও এমন যে, ভোট বর্জন করে বিএনপি নিজেদেরই বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতের সমস্যাও সৃষ্টি করেছে। বিএনপি অতিমাত্রায় পশ্চিমা দুনিয়ার ওপর ভরসা করেছিল। ভেবেছিল, তারা বাংলাদেশ সরকারকে বাধ্য করাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে ভোটে যেতে। এ অন্ধ নির্ভরতা তাদের পক্ষে যে সহায়ক হয়নি, নির্বাচন কেটে যাওয়ার পর এখন তা বোধগম্য হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নবনির্বাচিত সরকারের কূটনৈতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্তি ঠেকানো যায়নি। আরও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি তোলা সত্ত্বেও পশ্চিমা দুনিয়া এ কথা জানিয়ে দেয় যে তারা এই সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে। দ্রুত নির্বাচনের দাবিও ক্রমে আবছা হয়ে আসছে। ফলে দল রাখতে শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত একরকম বাধ্য হয়েই বিএনপিকে নিতে হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তই কিন্তু বুঝিয়ে দিচ্ছে, বিরোধীদের ভোট বর্জনের আগের সিদ্ধান্তটি কত বড় ভুল ছিল। কারণ, এক মাস আগের পরিস্থিতির সঙ্গে আজকের অবস্থার মৌলিক কোনো পরিবর্তন কিন্তু ঘটেনি। এক মাস আগে নবম সংসদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা, দশম সংসদের প্রধানমন্ত্রীও তিনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি হাসিনা মানেননি, সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বেই ভোট হয়েছিল, এবারও উপজেলা নির্বাচন হবে তাঁরই শাসনামলে। বিএনপি যে যুক্তিতে সাধারণ নির্বাচন বর্জন করেছিল, অবস্থা অপরিবর্তিত থাকায় সেই একই যুক্তিতে উপজেলার ভোটও তাদের বর্জন করা উচিত। কিন্তু তা না করায় প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিএনপির কোন অবস্থানটা ঠিক আর কোনটা ভুল। আগেরটা ঠিক হলে এবারেরটা ভুল, নয়তো আগেরটা ভুল হলে এবারেরটা ঠিক।
দ্বিতীয় প্রশ্নটিও এরই পিঠাপিঠি এসে পড়ছে। উপজেলা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অবাধ হলে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা বা অভিযোগ আর ধোপে টিকবে না। সে ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দ্রুত আরও একটি নির্বাচনের দাবির যৌক্তিকতাও ফিকে হয়ে যাবে। ওই দাবিতে আন্দোলন অযৌক্তিক হয়ে পড়বে।
উপজেলার ভোট শান্তিপূর্ণ হলে একরকম, না হলে অন্য রকম। বাংলাদেশের রাজনীতির পরবর্তী প্রবাহ অনেকটাই নির্ভর করছে ভোট কেমন হয় তার ওপর। ভারতের নজরও সেদিকে। ভোট-পরবর্তী এই এক মাসে ভারতের নজরে বেশ কয়েকটি বিষয় এসেছে। যেমন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মধ্য দিয়ে পূর্বতন সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। দুর্নীতিগ্রস্তদের বেশির ভাগকে বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষদের তিনি দায়িত্বে এনেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, বিরোধীদের হতোদ্যম করে কথায় কথায় হরতালের ডাক দেওয়ার মারাত্মক প্রবণতা বন্ধ করেছেন। এতে সাধারণ মানুষ হাঁফ ছেড়ে বাঁচছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়ায় রাজনৈতিক-অসামাজিক অপকর্মের হার কমছে।
ভারত খুব আগ্রহের সঙ্গে নজর রাখছে বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কের গতি-প্রকৃতির ওপর। জামায়াতের সহিংসতা বন্ধে সরকারের কঠোর মনোভাব কত দিন বজায় থাকে এবং বিএনপিও কত দিন তাদের আগের মতো গুরুত্ব দেয়, তার ওপরও দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি অনেকখানি নির্ভর করবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া ও তাদের শাস্তিদান নতুন সরকারের অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার থেকে সরকারকে সরাতে চাপ সৃষ্টির শেষ নেই। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই নানাভাবে চাপ দিতে শুরু করেছে। ভারতও তার মতো করে সচেষ্ট। জামায়াতকে কোনো রকম রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসর হাসিনা সরকার দিক, এটা ভারতের কাম্য নয়। জামায়াত দমনে হাসিনা সরকারের পাশে থাকার বিষয়ে ভারতের বিন্দুমাত্র দোলাচল নেই। জামায়াত দমন কর্মসূচি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-প্রক্রিয়া চালু রাখা সত্ত্বেও ইসলামি দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রিজ (ওআইসি) শেখ হাসিনার সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ভারত মনে করছে, নতুন সরকারের এটাও একটা বড় কূটনৈতিক সাফল্য।
গণতন্ত্রে মানুষের আস্থা অর্জনই প্রথম ও শেষ কথা। সেই আস্থা অর্জনের প্রথম ধাপ হলো বিশ্বাসযোগ্য ও ভরসাযোগ্য একটা সরকার গঠন। হাসিনা একেবারে প্রাথমিক এ কাজে সফল বলে ভারত মনে করছে। তাঁর দ্বিতীয় কাজ হওয়া উচিত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। ভোটে জেতার পর হাসিনা দেশের সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষায় যেভাবে তৎপর হয়েছেন ও এ প্রবণতা বন্ধে যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দিয়েছেন, ভারত তাতে খুশি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশিই চলে আসে সুপ্রশাসনের প্রশ্ন। এই সুপ্রশাসন নিশ্চিত করতে গিয়ে তাঁকে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলকেও শাসন করতে হবে। ভারত মনে করে, যে যে বিষয়ে হাসিনাকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়েছে, সেগুলোর অন্যতম হলো এত দিন নিজের দলের বিভিন্ন সংগঠনে লাগাম না টানা। দীর্ঘ মেয়াদে মানুষের মন জেতার জন্য এই দিকে তাঁর নজর দেওয়া আবশ্যিক। মন্ত্রিসভায় যা করেছেন, সংগঠনেও তা করা প্রয়োজন।
প্রশাসনিক এসব অবশ্য কর্তব্যের মধ্য দিয়েই প্রধানমন্ত্রীকে উজ্জ্বল করে তুলতে হবে দেশের অর্থনীতির চালচিত্রটা। দেশের স্বাধীন ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের হিসাব অনুযায়ী লাগাতার রাজনৈতিক অসন্তোষের দরুন গত বছরে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর পরিমাণও নানা কারণে কমে গেছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের সংখ্যাও কমেছে। লাগাতার আন্দোলনের ডাক, আন্দোলনের নামে সহিংসতা, মানুষ খুন, হরতাল, সম্পত্তি নষ্ট দেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হারে কোপ মেরেছে। প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াবে বলে অনুমান। হাসিনাকে এই দক্ষিণমুখী প্রবাহকে রুখে উত্তরমুখী করে তুলতে হবে। কাজটা কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয় বলেই ভারত মনে করে। নির্বাচনের পর গত এক মাসে দেশ আবার স্বাভাবিক হওয়ার দিকে অনেকখানি এগিয়েছে। এই গতি অব্যাহত রাখাই হাসিনার প্রথম ও প্রধান কাজ হওয়া উচিত বলে ভারত মনে করছে।
তাহলে বেশির ভাগ দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের সংসদের পরবর্তী নির্বাচনের পশ্চিমা ও প্রধান বিরোধী দলের সম্মিলিত দাবি কত দ্রুত পূরণ হতে পারে? সরকারের প্রথম মাসপূর্তির প্রাক্কালে ভারত মনে করে, একমাত্র বাংলাদেশের মানুষই তা ঠিক করবেন।
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিল্লির চিঠি- ভারতের দৃষ্টিতে সরকারের এক মাস by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সপ্তাহের হালচাল- বিএনপি কি তাহলে হেরে যেত? by আব্দুল কাইয়ুম
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাম-রুবেলার গণতন্ত্র by মাকসুদুল আলম
বালুভর্তি ট্রাক নয় এবার অস্ত্রভর্তি ট্রাক। গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কে ফেলানো দু’টি বা পাঁচটি নয়, বন্দর থেকে খালাস পাওয়া পুরো ১০ ট্রাক। বহুল আলোচিত চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রীদের শাস্তি হওয়ায় মামলার পুনঃতদন্তের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আদালতে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় সংসদে বলা হয়েছে, ‘এ অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও হাওয়া ভবনের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হবে। সব ষড়যন্ত্রের বিচার করা হবে। তদন্ত করে প্রমাণ মিললে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’ ভাল কথা। তবে এই হক কথাটি ছাত্রলীগের বেলায় প্রযোজ্য হলে হয়তো দেশবাসীর আস্থা অর্জন করা সম্ভব হতো। ছাত্রলীগের আত্মরক্ষার অধিকারের নমুনা এখন দেশবাসী টিভির খবরে ও পত্রপত্রিকায় দেখতে পাচ্ছে। এ ছাত্র সংগঠনের অস্ত্রধারীরা কিছু দিন পরপর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও রাস্তাঘাটে নামীদামি সব আধুনিক অস্ত্রের মহড়া দিয়ে থাকে। অস্ত্রধারীরা থাকে আইনের ঊর্ধ্বে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছি বলে মুখে ফেনা তোলা হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীদের একজন ছাড়া কাউকে ধরা হয়নি। মামলা হলেও আসামি করা হয়নি। একজনকে ধরতেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহল থেকে নির্দেশের প্রয়োজন পড়েছে। চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজিপি)-এর চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, ‘চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আটক হওয়া ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলার দায় তৎকালীন সরকারকেই নিতে হলে আওয়ামী-লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ৫৭ জন সেনা অফিসারসহ নিহতদের হত্যাকাণ্ডের দায়ভার কে নেবে?’ এটিও হক কথা। সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ নেই হুমকি-ধমকির। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের জরিপকারীদের তদন্তের দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যে জরিপকারীদের কোন ধারণাই নেই কিভাবে জরিপ চালাতে হয়। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জরিপের ক্লাসে বহিরাগতদের অংশগ্রহণের কোন সুযোগ থাকলে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের জরিপকারীদের পাঠানোর ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। ওই মন্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু পশ্চিমা দূতাবাস ও এ দু’টি পত্রিকা ‘মারাত্মক ভুল’ করেছে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে কালিমালিপ্ত করতে চেয়েছিল তারা।
৫ই জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই নিজ এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছেন সৈয়দ মহসীন আলী। শহরজুড়ে আনন্দ মিছিল করেছেন। মন্ত্রীর চেয়ারে বসেই সংবাদকর্মীর প্রশ্নের জবাবে ক্ষিপ্ত কণ্ঠে হুঙ্কার ছেড়ে বলেছেন, ‘হু ইজ বিএনপি? দিস ইজ মহসীন আলী। আমরা এদের (বিএনপিকে) ডেমোলিস (বিলুপ্ত) করে দেব।’ কিছুদিন পর নিজেই প্রায় ডেমোলিস হওয়ার মতো অবস্থা। প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে নিজের কাণ্ডজ্ঞানের যথোপযুক্ত পরিচয় দেন এ মন্ত্রী। সিলেট বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জেএসসি ও পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মঞ্চে বসেই ধূমপান করে দেশব্যাপী সমালোচিত হন এ মন্ত্রী। প্রকাশ্যে ধূমপান দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সামনে বসেই ধূমপান করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। নিজে সংবাদের শিরোনাম হয়ে উঠেন। অবস্থা বেগতিক দেখে পরে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ্যে ধূমপান করার জন্য ক্ষমা চান তিনি। সমাজকল্যাণমন্ত্রীর অসামাজিক কর্মকাণ্ডে হতভম্ব হয়ে সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ফেসবুকে অনেকে মহসীন আলীকে পরিবেশ বা স্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন, যা পাঠকের হাসির খোরাক যুগিয়েছে মাত্র।

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাম-রুবেলার গণতন্ত্র by মাকসুদুল আলম
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উদ্বেগের মধ্যে ত্বকী মঞ্চের প্রতীকী অনশন পালিত by রাজীব নূর ও আসিফ হোসেন

দুই পক্ষই শহীদ মিনারে কর্মসূচি পালন করবে বলে ঘোষণা দেওয়ায় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। নারায়ণগঞ্জে নাগরিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম নেতা রফিউর রাব্বির ছেলে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী গত বছরের ৬ মার্চ নিখোঁজ হয়। ৮ মার্চ শহরের চারারগোপ এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীসংলগ্ন কুমুদিনী খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ত্বকীর খুনিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে রফিউর রাব্বি ও ত্বকী মঞ্চের নেতারা খুনের জন্য শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ ওসমান পরিবারের সদস্য ও তাঁদের সহযোগীদের দায়ী করে আসছেন।
খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ত্বকী মঞ্চ প্রতি মাসের ৬ থেকে ৮ তারিখের মধ্যে শহীদ মিনারে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। গত ৬ ডিসেম্বর ত্বকী মঞ্চের সমাবেশ চলাকালে শামীম ওসমানের অনুসারীরা তোলারাম কলেজ থেকে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে শহীদ মিনার এলাকায় আসে। একই সময় ত্বকী মঞ্চের লোকজন মিছিল নিয়ে বের হলে সংঘর্ষ বাধার উপক্রম হয়। পুলিশ মিছিল দুটির মাঝখানে অবস্থান নিলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়। এরপর আবার ৮ জানুয়ারিতে ত্বকী মঞ্চের নির্ধারিত কর্মসূচির সময় শামীম ওসমানের অনুসারীরা শহীদ মিনার দখল করে রাখে। পরে ত্বকী মঞ্চ শহরের ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গিয়ে সমাবেশ করে। এর দুই দিন পর ১০ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডের ১১ মাস পূর্তিতে ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করবে বলে ঘোষণা দেয় এবং শহীদ মিনার ব্যবহারের জন্য সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে রাখে।
কিন্তু মহান ভাষা দিবস উপলক্ষে সেখানে একই সময়ে সমাবেশ ডাকেন শামীম ওসমানের অনুগত জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। গত বুধবার হঠাত্ করেই শামীম ওসমান অনুসারী যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নামে একটি ব্যানার লাগানো হয়। ব্যানারে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এ জন্য শহীদ মিনারের তত্ত্বাবধানকারী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ফলে গত বুধবার শহীদ মিনারে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।
ত্বকী মঞ্চ প্রতীকী অনশনের কর্মসূচি পালন করতে পারবে কি না—এ সংশয়ের কারণে আজ নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে নয়টার দুই ঘণ্টা আগে শহীদ মিনারে অবস্থান নেয়। পরে সকাল নয়টার দিকে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী শহীদ মিনারে আসেন। এ সময় ছাত্রলীগের উদ্যোগে সেখানে কিছু চেয়ার নিয়ে আসা হয়। তবে পরিস্থিতি প্রতিকূল বুঝতে পেরে ছাত্রলীগ শহীদ মিনার ছেড়ে আশপাশে অবস্থান নেয়। তাই ত্বকী মঞ্চের অনশন চলাকালে পুরো সময় ধরে সেখানে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে।
অবশ্য জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাফায়াত আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আগে জানতাম না যে শহীদ মিনারে ত্বকী মঞ্চের কর্মসূচি আছে। তাই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াবার জন্য ছাড় দিয়েছি।’
অনশন শেষে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, ‘আমরা প্রায় এক মাস আগে আমাদের কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। শহীদ মিনার ব্যবহারের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থেকে অনুমতি নেওয়ার পর র্যাব ও পুলিশকে কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেছি। তবু আমাদের কর্মসূচি পণ্ড করতে শামীম ওসমানের লোকজন পাল্টা সমাবেশ ডেকে আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেছে।’
ত্বকী মঞ্চের কর্মসূচি ভণ্ডুল করার চেষ্টা কেন করা হয়েছে—এ প্রশ্ন তুলে রাব্বি বলেন, কারণ ওসমানরা জানেন এখানে কাদের বিরুদ্ধে কথা হবে। কারা ত্বকীকে হত্যা করেছে, এটা সারা দেশের মানুষসহ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও জানেন। তিনি দ্রুত হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার জন্য র্যাবের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, র্যাব কিশোরগঞ্জের সোনালী ব্যাংকের ১৬ কোটি টাকা উদ্ধার করতে পারল মাত্র ৪৮ ঘণ্টায়। অথচ এখনো কেন ত্বকী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দিতে পারল না?
অনশন চলাকালে আরও বক্তব্য দেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হালিম আজাদ, জেলা খেলাঘরের সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, জেলা বাসদের সমন্বয়ক নিখিল দাস, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এ বি সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, ত্বকীর চাচা কবি ওয়াহিদ রেজা, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি প্রদীপ ঘোষ, জেলা উদীচীর সাবেক সভাপতি খেলাঘরের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন প্রমুখ।
সবশেষে ত্বকীর মা রওনক রেহানা পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1429)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
February
(405)
-
▼
Feb 07
(30)
- সন্ত্রাস- ছাত্রলীগের ‘আত্মরক্ষা’ ও নিষ্ক্রিয় আইন b...
- খোলা চোখে- বিচারপতি, এবার হবে তোমার বিচার by হাসান...
- বেচাবিক্রিতে শীর্ষে হিটলারের by মেইন ক্যাম্ফ
- সাদৃশ্যের সন্ধানে by শাহনেওয়াজ বিপ্লব
- কবিতাই বিপন্ন বিশ্বকে বাঁচাবে by কবি ফজল শাহাবুদ্দীন
- অরণ্যে রোদন- বইমেলার আকাশে অনেক তারা by আনিসুল হক
- মায়ের ভাষার স্টাইলটা আনতে চেয়েছি by কথাসাহিত্যিক হ...
- সপ্তাহের হালচাল- বিএনপি কি তাহলে হেরে যেত? by আব্দ...
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়- ছাত্রলীগের দামি পিস্তল ও কি...
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়- ছাত্রলীগের দামি পিস্তল ও কি...
- জাতীয় সংসদ- অনুগত বিরোধী দলের অবিচল আস্থা by আলী ই...
- জাতীয় সংসদ- অনুগত বিরোধী দলের অবিচল আস্থা by আলী ই...
- রাষ্ট্র ও রাজনীতি- সংকট উত্তরণে একটি গুচ্ছ প্রস্তা...
- রাষ্ট্র ও রাজনীতি- সংকট উত্তরণে একটি গুচ্ছ প্রস্তা...
- অরণ্যে রোদন- বইমেলার আকাশে অনেক তারা by আনিসুল হক
- দিল্লির চিঠি- ভারতের দৃষ্টিতে সরকারের এক মাস by সৌ...
- দিল্লির চিঠি- ভারতের দৃষ্টিতে সরকারের এক মাস by সৌ...
- সপ্তাহের হালচাল- বিএনপি কি তাহলে হেরে যেত? by আব্দ...
- হাম-রুবেলার গণতন্ত্র by মাকসুদুল আলম
- হাম-রুবেলার গণতন্ত্র by মাকসুদুল আলম
- উদ্বেগের মধ্যে ত্বকী মঞ্চের প্রতীকী অনশন পালিত by ...
- উদ্বেগের মধ্যে ত্বকী মঞ্চের প্রতীকী অনশন পালিত by ...
- ‘অপরাধ এবং বাংলাদেশের রাজনীতি’
- ‘অপরাধ এবং বাংলাদেশের রাজনীতি’
- মোদি, মমতা ও তৃতীয় ফ্রন্ট
- সেরা কূটনীতিকের একজন কেরি?
- আফগান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের প্রথম টেলিভিশন বিতর্ক
- বক্তা মোদি শ্রোতা ওবামা!
- দুই পক্ষই শিশুদের নির্যাতন করছে
- নাদেলার আগমন বিল গেটসের বিদায়
-
▼
Feb 07
(30)
-
▼
February
(405)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



