Showing posts with label বরিশাল. Show all posts
Showing posts with label বরিশাল. Show all posts

Wednesday, June 10, 2026

বসতঘরের ভেতর গাছে ঝুলছে কাঁঠাল!

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামে দেখা মিলেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। একটি বসতঘরের বারান্দার মাঝখান দিয়ে উঠে গেছে কাঁঠাল গাছ, আর সেই গাছেই ধরেছে একাধিক কাঁঠাল।

প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন কৌতূহলী মানুষ।

দেখা যায়, বাড়ির বারান্দার ভেতর দিয়েই উঠে গেছে কাঁঠাল গাছের কাণ্ড।
আর সেই গাছের সঙ্গে ঝুলছে কয়েকটি কাঁঠাল। ঘরের ভেতর থেকেই ফল ধরার এমন দৃশ্য স্থানীয়দের কাছে বেশ বিস্ময়কর হয়ে উঠেছে।

বাড়ির মালিক সেলিম চাপরাসি জানান, ছোটোবেলা থেকেই তিনি গাছপালা ভালোবাসেন। একসময় তার স্ত্রী কাঁঠাল খাওয়ার পর বিচি বারান্দার পাশে ফেলে দেন।
সেখান থেকে একটা চারা গজিয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে গাছটি বড়ো হয়ে ফল দিতে শুরু করে। পরে বাড়ির বারান্দা নির্মাণের সময় গাছটি কেটে ফেলার সুযোগ থাকলেও মায়ার টানে সেটি সংরক্ষণ করেন তিনি।

সেলিম চাপরাসি বলেন, “গাছ ও ফলের প্রতি ভালোবাসার কারণেই এটি কেটে ফেলিনি বরং গাছের কোনো ক্ষতি না করে বারান্দার গ্রিল ও অন্যান্য নির্মাণকাজ করেছি। এখন ঘরে বসেই গাছে ফল ধরার দৃশ্য দেখতে পাই।”

স্থানীয়রা জানান, সাধারণত বসতঘরের এত কাছাকাছি বড়ো ফলজ গাছ খুব কমই দেখা যায়। পরিবারের পরিবেশ সচেতনতা ও গাছের প্রতি ভালোবাসার কারণেই গাছটি আজও টিকে আছে। এটি এখন শুধু ফলই দিচ্ছে না, বাড়ির সৌন্দর্যও বাড়িয়ে তুলেছে।

এলাকাবাসীর মতে, আধুনিক নির্মাণের যুগে যেখানে গাছ কেটে ফেলার প্রবণতা বাড়ছে, সেখানে সেলিম চাপরাশির পরিবার প্রকৃতি সংরক্ষণের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাদের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় অন্যদেরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন তারা।

বসতঘরের ভেতর গাছে ঝুলছে কাঁঠাল!

Sunday, February 15, 2026

বড় ব্যবধানে হেরেছেন চরমোনাই পীরের তিন ভাই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় বেশ সরব থাকলেও ভোটের ফলাফলে সাফল্য দেখাতে পারেনি চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইসলামী আন্দোলন ২৫৩ আসনে প্রার্থী দিলেও জিতেছে মাত্র একটিতে। এ ছাড়া কোনো আসনেই তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। চরমোনাই পীর ও দলের আমির সৈয়দ রেজাউল করীমের তিন ভাই এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জিততে পারেননি একজনও।

চরমোনাই পীরের ভাই দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) আসনে দ্বিতীয় হলেও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে তৃতীয় হয়েছেন। বরিশাল-৫ আসনে তিনি পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট। অন্যদিকে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে আসনটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

অন্যদিকে বরিশাল-৬ আসনে ফয়জুল করীম তৃতীয় হয়েছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৮১ হাজার ৮৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। আর হাতপাখা প্রতীকের ফয়জুল করীম পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে প্রার্থী ছিলেন চরমোনাই পীরের আরেক ভাই সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব এবং বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৭৫৩ ভোট। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী রাজীব আহসান পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট এবং জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল জব্বার পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।

পীরের আরেক ভাই মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ ঢাকা-৪ আসনে প্রার্থী ছিলেন। তিনি ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং চরমোনাই আহছানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ৪৫ শতাংশ। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে এই আসনে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট। আর হাতপাখা প্রতীকে মোসাদ্দেক বিল্লাহ পেয়েছেন মাত্র ৬ হাজার ৫১৮ ভোট। এতে তাঁর জামানতও রক্ষা হয়নি।

ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর ফয়জুল করীম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসে বরিশাল-৫ আসনে নিজের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা তুলে ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের কয়েকটি আসনে আলোচনায় ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা। তাঁদের মধ্যে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে এই দলে যোগদান করেন সাবেক সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী ও পটুয়াখালী--৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে বিএনপি থেকে যোগদানকারী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ও বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে মাওলানা অলি উল্লাহ। তবে তাঁদের মধ্যে বরগুনা-১ আসনে অলি উল্লাহ ছাড়া সবাই হেরেছেন। পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির এ বি এম মোশাররফ হোসেন ১ লাখ ২৪ হাজার ১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ৭০ হাজার ১২৭ ভোট। অপরদিকে পিরোজপুর-৩ আসনে বিএনপির রুহুল আমীন দুলাল ৬৩ হাজার ৭৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে এনসিপির প্রার্থী শামীম হামিদী (শাপলা কলি) ৩৬ হাজার ৬১৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং রুস্তম আলী ফরাজী (হাতপাখা) ৩৫ হাজার ৯৬৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

১৯৮৭ সালে দলটি প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেল ইসলামী আন্দোলন।

বরিশালের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণার মাঠে বেশ সরব থাকলেও ভোটের ফলাফলে তার প্রতিফলন ঘটেনি। এর পেছনে মূল কারণ ছিল জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের জোট ভেঙে যাওয়া। দুই দলের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার বড় সুবিধা পেয়েছে বিএনপি।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বরিশাল নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, দেশে চরমোনাই দরবারের সামাজিক প্রভাব রয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা ও উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। তবে এই প্রভাব এখনো কার্যকর ভোটব্যাংকে রূপ নিতে পারেনি।
রফিকুল আলম আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলনের ভোটভিত্তি এখনো সীমিত পরিসরেই রয়ে গেছে। তার ওপর বিএনপি ও জামায়াতের মতো সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এই সীমিত ভোটব্যাংক নিয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি তরুণ ও শহরের ভোটারদের সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক ভাষা ও আবেগপ্রবণ সংযোগ এখনো দৃঢ়ভাবে তৈরি হয়নি, যা সংসদীয় রাজনীতিতে বড় পরিসরে সমর্থন অর্জনের ক্ষেত্রে একটি বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে কাজ করছে।

সৈয়দ ফয়জুল করীম, এছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের ও সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ (বাঁ থেকে)
সৈয়দ ফয়জুল করীম, এছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের ও সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ (বাঁ থেকে) ছবি: সংগৃহীত

Tuesday, August 26, 2025

কোটিপতি হয়েও ভূমিহীন কোটায় খাসজমি হাতিয়ে নিয়েছেন সাবেক এমপি

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ সম্প্রতি দুই উপজেলার খাসজমি সম্পদশালীদের নামে বন্দোবস্ত ঠেকাতে আদালতে মামলা করে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন। অথচ তার বিরুদ্ধেই নামে-বেনামে ভূমিহীনদের খাসজমি হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, শুধু ভূমিহীনরাই খাসজমি বন্দোবস্ত পাওয়ার যোগ্য। অথচ কোটি কোটি টাকার সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ফরহাদ নিজেকে ভূমিহীন দাবি করে বিপুল পরিমাণ খাসজমি বরাদ্দ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি ফরহাদের নামে বরিশাল নগরীতে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার বাড়ি, ঢাকায় ফ্ল্যাট, পেট্রোল পাম্প এবং বিভিন্ন উপজেলায় কৃষিজমি। এত সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজেকে ভূমিহীন ঘোষণা করে তিন একরের বেশি খাসজমি নিজের নামে বরাদ্দ নিয়েছেন। এক ব্যক্তির নামে এক একরের বেশি জমি বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম না থাকায় তিনি নিজের নাম তিনভাবে ব্যবহার করেছেন। এ তিনটি নাম হলো কাজী মেজবাহ উদ্দিন, কাজী ফরহাদ উদ্দিন ও কাজী ফরহাদ হোসেন। তবে তাদের সবার বাবার নাম একই—কাজী আকতারুজ্জামান।

অভিযোগ রয়েছে, ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য থাকাকালে পদাধিকার বলে উপজেলা খাসজমি বন্দোবস্ত কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন ফরহাদ। সেই সুযোগে তিনি নিজের এবং আত্মীয়স্বজনের নামে একরে একরে চরের খাসজমি বন্দোবস্ত নেন।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের খাস খতিয়ান বইয়ের তথ্যানুযায়ী, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের লড়াইপুর মৌজার ৫২ নম্বর খতিয়ানে ১০৬৪ নম্বর দাগে কাজী মেজবাহ উদ্দিন নামে এক একর ২২ শতাংশ, একই মৌজায় ৪৮ নম্বর খতিয়ানের ১৬০৯ নম্বর দাগে কাজী ফরাদ উদ্দিনের নামে ১ একর ২৫ শতাংশ এবং কাজী ফরহাদ হোসেনের নামে ৩২ নম্বর খতিয়ানের ১৫৬০ নম্বর দাগে ১ একর ২৪ শতাংশ খাসজমি রয়েছে। তিনটি দাগের জমি বন্দোবস্ত নিতে এক নাম তিনভাবে ব্যবহার করা হলেও তাদের বাবার নাম হিসেবে কাজী আকতারুজ্জামান নামটি ব্যবহার করা হয়েছে।

ভূমি অফিসের খতিয়ান বইয়ে দেখা যায়, শুধু ফরহাদের নামেই নয়, তার প্রয়াত বাবা আকতারুজ্জামানের নামেও রয়েছে এক একরের বেশি খাসজমি। এ ছাড়া শ্রীপুর ইউনিয়নের কাজী পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামেও একরে একরে খাসজমি বন্দোবস্ত নেওয়া রয়েছে। এরা সবাই মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের পরিবার হিসেবে এবং ভুয়া নাম ব্যবহার করে জমি বন্দোবস্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিজের নামে খাসজমি বন্দোবস্ত থাকার বিষয়টি সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ স্বীকার করেছেন। তবে ওই জমি তার বাবা তার নামে বরাদ্দ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। ফরহাদ বলেন, ‘ওই জমি আমার বাবা আমার নামে বন্দোবস্ত নিয়েছে। তা-ও আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন নেওয়া হয়েছে।’ সেক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সম্পদশালী হয়েও তিনি কেন এ বন্দোবস্ত বাতিল করেননি জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মশিউর রহমান বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী শুধু ভূমিহীনরাই খাসজমি বন্দোবস্ত পাবে। যারা সম্পদশালী, ট্যাক্স দেন, তাদের নামে খাস মি বন্দোবস্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। সাবেক বা বর্তমান সংসদ সদস্যদের খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই। সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ কীভাবে খাসজমি বন্দোবস্ত পেয়েছেন, তা আমাদের জানা নেই।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি হিজলা এবং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার খাসজমি প্রকৃত ভূমিহীনদের দেওয়া হয়নি বলে আদালতে মামলা করেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কাছে তথ্যপ্রমাণসহ আদালতে হাজির হাওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছে। আমরা মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের নামে খাসজমি থাকার বিষয়টিও আদালতকে জানাব।’

কোটিপতি হয়েও ভূমিহীন কোটায় খাসজমি হাতিয়ে নিয়েছেন সাবেক এমপি
কোটিপতি হয়েও ভূমিহীন কোটায় খাসজমি হাতিয়ে নিয়েছেন সাবেক এমপি


Friday, March 21, 2025

নির্বাচন করতেই দল গড়েছি, তবে এই নির্বাচন হতে হবে গণপরিষদ নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও গণহত্যাকারীদের দৃশ্যমান বিচার এবং রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতেই নির্বাচন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন করতেই আমরা রাজনৈতিক দল গড়ে তুলেছি। তবে এই নির্বাচন হতে হবে গণপরিষদ নির্বাচন। কারণ, গণপরিষদ নির্বাচন ছাড়া নতুন সংবিধান বা সংবিধানের মৌলিক সংস্কার সম্ভব নয়।’

বরিশালে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা-কর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। নগরের ক্লাব রোডে বরিশাল ক্লাবের অমৃতলাল দে মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অনেকেই ন্যূনতম সংস্কারের কথা বলছেন; কিন্তু আমরা বলতে চাই, ন্যূনতম সংস্কার বলে কিছু নেই। এই সরকারের সময়েই সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন করতে হবে। দেশের ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে এই সরকারকে এনেছে পরিবর্তন ও বিচারের আশায়। জনগণের প্রতি সেই ওয়াদা সরকারকে পূরণ করতে হবে।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘সরকার যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, সেই সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান সংস্কার এবং বিচারের মাধ্যমে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা আমরা অটুট রাখব। গণ–অভ্যুত্থানের সঙ্গে আপস করে, এমন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা হবে না। আমাদের ঐক্যের মূল ভিত্তি হলো, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা।’

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদীরা পিছু হটলেও পুরোনো বন্দোবস্তের অনেক উপাদান আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তা-চেতনার মধ্যে রয়েছে। আমরা আহ্বান জানাব, নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করতে সংস্কারের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের দিকে যেতে যাচ্ছি, সেই দিকে যেন আমরা যাই। কেননা, যারা পরিবর্তন চায়নি, তারা বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে। পরিবর্তনের সঙ্গে যারা তাল মেলাতে পারবে না তারা হারিয়ে যাবে।’

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জড়িত অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘পরিবর্তন সংস্কারের মধ্য দিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সেই পুরোনো রাজনীতি আমরা চাই না। আমরা সত্যিকার অর্থে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বরিশালের শিক্ষার্থীদের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বরিশালে আপনারা যেভাবে গণ-অভ্যুত্থানের সময় গুলির সামনে বুক পেতে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছেন, সেভাবেই দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করতে হবে। বরিশালকে দলের শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত করতে হবে।’

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পাটির মুখ্য সংগঠক হান্নান মাসুদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্যসচিব মুজাহিদুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব জাহিদ আহসান প্রমুখ। পরে নাহিদ ইসলাম জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা-কর্মীদের নিয়ে মতবিমিনয় সভায় অংশ নেন।

পটুয়াখালীতে জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া এক ব্যক্তির কলেজপড়ুয়া মেয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। ওই কলেজছাত্রী ও তাঁর পরিবারের খোঁজ নিতে পটুয়াখালীতে আসেন নাহিদ ইসলামসহ জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে দুপুরে সেখানে যান নাহিদ ইসলামসহ নেতারা। বিকেলে নাহিদ ইসলাম ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবার কবর জিয়ারতের জন্য গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে বেশ কিছু সময় অবস্থান করেন। ইফতারের পর তিনি বরিশালে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।

মতবিনিময় সভায় দুপক্ষের হট্টগোল

এদিকে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরে বরিশাল নগর ও জেলার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে নাহিদ ইসলাম ও কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। সভা চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও নাগরিক কমিটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় মঞ্চ থেকে একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে মাইকে দুপক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা শান্ত হোন, না হয় আপনারা বহিষ্কার হবেন।’ পরে মিলনায়তনের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নেমে দুপক্ষ একে অপরের দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়।

সভা সূত্র জানায়, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাটি শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টা পর এই হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় সভাস্থলে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ। তাঁরা নাহিদ ইসলামের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলা এবং বৈঠকের দাবি জানান। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত নেতারা শিক্ষার্থীদের ওই অংশকে শান্ত করলেও কর্মসূচি শেষে নাহিদ ইসলাম চলে যাওয়ার উদ্যোগ নিলে তাঁরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। এরপর আবার তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সভাকক্ষে। এ সময় মিলনায়তনে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ায় দুটি পক্ষ। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতিও হয়। সেখানে বরিশালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলার চেষ্টা করা হয়। ৩০-৪০ মিনিট ধরে উত্তেজনা চলার পর আবারও সভাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা চালান নাহিদ। এ সময় বিক্ষুব্ধরা তাঁর গাড়ি আটকে দেন। একপর্যায়ে বাধা পেরিয়ে নাহিদ ইসলামকে গাড়িতে তুলে দেওয়া হলে তাঁরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে এনসিপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা কেউ নাম উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে চাননি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল মহানগর কমিটির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসররা আমাদের কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আজকের এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা তাদের চিহ্নিত করে রেখেছি। পরিকল্পনা করেই তারা আজ এই অনুষ্ঠান বানচালের জন্য এখানে এসেছিল।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য তাঁকে বেশ কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।

সভায় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরিশাল ক্লাবের অমৃতলাল দে মিলনায়তনে
সভায় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরিশাল ক্লাবের অমৃতলাল দে মিলনায়তনে। ছবি: প্রথম আলো

Thursday, March 20, 2025

বরিশালে তরুণকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা, ৫দিনেও হয়নি কোনো মামলা

শনিবার বরিশাল নগরীর এক যুবককে ধর্ষক আখ্যা দিয়ে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। যদিও জোর গুঞ্জন উঠেছে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে পিটিয়ে হত্যা করা হয় যুবককে। লোমহর্ষক এ ঘটনার পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত থানায় এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। বরং একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায়। তবে নিহতের বাবা মনির হাওলাদার বলেছেন, ঘটনার দিনই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন তিনি। এদিকে, গাছে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার পাঁচদিনেও পুলিশ মামলা না নেয়ার সুযোগে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত শনিবার নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগরে এ ঘটনা ঘটে। দিনদুপুরে পিটিয়ে হত্যার এ ঘটনার সময় যুবক সুজনকে ধর্ষক আখ্যা দেয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর চার বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে থানায় একটি এজাহারও হয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয় হত্যাকারীরা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তারা সুজনকে দিয়ে মাদক বিক্রির চেষ্টা করে। সুজন রাজি না হওয়ায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার নাটক সাজানো হয়। এ ঘটনার সঙ্গে সাবেক এক কাউন্সিলর ও তার পুত্রের জড়িত থাকারও অভিযোগ ওঠে। অপরদিকে, পাঁচদিনের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে থানায় কোনো মামলা না হওয়াতে সন্দেহের বিষয়টি ক্রমশই দৃঢ় হচ্ছে। অভিযুক্তরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় খুনের ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার গুঞ্জন উঠেছে।

ভিডিওতে যে চার যুবককে লাঠি হাতে সুজনকে বেধড়ক পেটানোর ছবি ছিল, ঘটনার পরপরই তারা গা ঢাকা দিয়েছে। অপরদিকে, ধর্ষণের অভিযোগকারীর ঘরেও তালা। শিশুটির মেডিকেল টেস্ট সম্পন্ন করে ২২ ধারা গ্রহণ শেষে হাসপাতাল থেকে বিদায় দেয়া হয়েছে। জানতে চাইলে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী আজাদ রহমান বলেন, ‘কাউকে পিটিয়ে হত্যার নিয়ম নেই, অপরাধ করলে আদালত বিচার করবেন। সুজনকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় পুলিশ হত্যা মামলা করে আইনি ব্যবস্থা নেবে, এখানে অপমৃত্যুর মামলা হওয়ার সুযোগই নেই। কেননা, কারা হত্যা করলো তা তো সবাই দেখেছেন।’ পুলিশ দায়িত্ব এড়ানোর জন্য হত্যা মামলার পরিবর্তে অপমৃত্যুর মামলা নিয়ে আইন লঙ্ঘন করেছে বলে মনে করেন আইনজীবী আজাদ। নিহত সুজনের বাবা মনির হাওলাদার বলেন, ঘটনার রাতেই তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু ওসি বলেছেন, দাফন শেষে আসার জন্য। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে কারা পিটিয়ে মেরেছে, তা তো আপনারা দেখেছেন। ওরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার না পাওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আমি পুত্র হত্যার বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সুজনের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে। তবে নিহতের পরিবার এখনো মামলা দেয়নি। ওসি দাবি করেন, স্বজন মারা গেছে, এজন্য হয়তো বিলম্ব হচ্ছে।

mzamin

Wednesday, February 26, 2025

‘মা–বাবাকে জজের মা–বাবা করতে পেরেছি, এটা আমাকে বেশি আনন্দিত করেছে’ by এম জসীম উদ্দীন

বিচারক হতে পেরে আনন্দিত সহকারী জজ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হালিমাতুস সাদিয়া। তবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী বেশি আনন্দিত মা–বাবাকে ‘জজের মা–বাবা’ করতে পেরে। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই বলেন তিনি।

হালিমাতুস সাদিয়া ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ছোটবেলায় তিনি কী হতে চেয়েছিলেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় কেউ যখন জানতে চাইত জীবনের লক্ষ্য কী? সহপাঠীরা কেউ বলত চিকিৎসক হবে, কেউ বলত প্রকৌশলী হবে। কিন্তু আমি উত্তরে বলতাম, আমি ভিন্ন কিছু হতে চাই। কিন্তু সেই ভিন্ন কিছু কী, সেটা আমি বলতে পারতাম না। এখন আমি বুঝি, ভিন্ন কিছু হওয়ার অদম্য ইচ্ছা ছিল আমার এবং অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে আল্লাহর রহমতে আমি সফল হতে পেরেছি। তবে এটা আমার শেষ গন্তব্য নয়, পেশাগত জীবনে সাফল্যের যাত্রা শুরুমাত্র।’

কথা হচ্ছিল হালিমাতুসদের বাবুগঞ্জ উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের সবুজ-শ্যামল ছায়াঘেরা একতলা বাড়িতে বসে। তাঁর সাফল্যের খবরে বাড়িতে আসছেন স্বজন–প্রতিবেশীরা। এমন সাফল্যের রহস্য জানতে চাইতেই উত্তর এল, ‘নিষ্ঠা, মনোযোগ আর অধ্যবসায়।’ তবে সাফল্যের পথে যাত্রা সহজ ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস হারাতাম, হতাশায় ভুগতাম। কাঁদতাম, আবার পড়াশোনায় ডুবে যেতাম। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। আমি আরও সাহসী হলাম। কান্না মুছে ঘুরে দাঁড়ালাম এবং মনে মনে বললাম, আমি পারব। শেষ পর্যন্ত আমি পেরেছি—এটাই সত্য। এটা আত্মবিশ্বাস, লেগে থাকা আর অধ্যবসায়ের বিজয়।’

শৈশব থেকেই হালিমাতুস সাদিয়া মেধাবী। স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। তিনি বরিশাল নগরের কাউনিয়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। পরে বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন। অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পান। ২০১৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে মাধ্যমিক এবং ২০১৭ সালে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পান। এরপর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ১৩তম হন। বাবা বলেছিলেন, ‘তুমি যদি ভিন্ন কিছু হতে চাও, তবে বিচারক হও।’ বাবার এ কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে আইন বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে স্নাতকে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৮৫ এবং স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৯৩ পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।

হালিমাতুসরা দুই ভাই-বোন। বড় ভাই নাজমুল হক মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে স্নাতক করছেন। বাবা মো. রহমান কবির এলাকায় শাহ্ আলম নামে পরিচিত। তিনি স্থানীয় চাঁদপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। কয়েক বছর হলো অবসর নিয়েছেন। মা নাসিমা আক্তার স্থানীয় লাকুটিয়া পিআরসি ইনস্টিটিউশনের (মাধ্যমিক বিদ্যালয়) জ্যেষ্ঠ শিক্ষক।

মো. রহমান কবির তাঁর মেয়ের এই সাফল্যে খুব খুশি। বললেন, ‘ও সব সময় চেয়েছে আলাদা কিছু হতে, আমরাও তা–ই চেয়েছি। এখন পেশাগত জীবনেও সাদিয়া আলাদা হোক এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করুক, সেটাই চাই।’

হালিমাতুস সাদিয়া বলেন, এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান তাঁর মা–বাবার। রাতে যখন তিনি পড়াশোনা করতেন, তখন তাঁর মা সারা রাত জেগে থাকতেন। বাবা বটবৃক্ষের মতো সারাক্ষণ ছায়া দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন প্রতিটি মুহূর্তে। মা–বাবাকে গর্বিত করতে পেরে তিনি আনন্দিত। তাঁর ভাষায়, ‘জজ হয়ে যতটা না খুশি হয়েছি, তার চেয়ে আমার মা–বাবাকে জজের মা–বাবা করতে পেরেছি, এটা আমাকে বেশি আনন্দিত করেছে। আমি চাই সন্তানেরা তাঁদের মা–বাবাকে এভাবে গর্বিত করুক।’ সফলতার বিষয়ে তাঁর মত, সফল হতে হলে পড়াশোনার ধারাবাকিতা বজায় রাখা দরকার। কে কত ঘণ্টা পড়ল, সেটার চেয়ে বড় বিষয় কী পড়া হলো, সেটা কতটুকু বুঝে পড়া হলো। তিনি কখনো সময় ধরে পড়েননি। কখনো তিনি সকাল আটটা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত পড়তেন। এখনো এক ঘণ্টা পড়েছেন।

একজন বিচারক হিসেবে নিজেকে কেমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, জানতে চাইলে হালিমাতুস সাদিয়া বলেন, ‘মানুষের বিবেক হচ্ছে বড় আদালত। আমি সব সময় বিবেককে প্রধান্য দেব। সততার সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবিচল থাকব। আর বিচারে দীর্ঘসূত্রতা আমাদের দেশে অনেক বড় সমস্যা। আমার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা থাকবে এটা লাঘবের। আশা করি, এতেও আমি সফল হব। কারণ, আমরা তো হেরে যেতে পৃথিবীতে আসিনি।’

হালিমাতুস সাদিয়া
হালিমাতুস সাদিয়া ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাড়িতে বাবা–মা–ভাইয়ের সঙ্গে হালিমাতুস সাদিয়া
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাড়িতে বাবা–মা–ভাইয়ের সঙ্গে হালিমাতুস সাদিয়া। ছবি: প্রথম আলো

Monday, December 9, 2024

হাসনাতেই জিম্মি ছিল বরিশাল by মারুফ কিবরিয়া

১৫ বছরের আওয়ামী লীগের শাসনামলে গোটা বরিশালই ছিল দলটির কাছে জিম্মি। একটি পরিবারের সিদ্ধান্তেই সব চলতো সেখানে। সেই পরিবারের নাম সেরনিয়াবাত পরিবার। স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মেয়র ছিলেন বরিশালের সর্বেসর্বা। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকতো বিভিন্ন নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন, ঠিকাদারি এবং রাজনীতি।

সম্প্রতি সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশালের একক নিয়ন্ত্রক ছিলেন সেরনিয়াবাত আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে। অর্থের বিনিময়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা, দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ পাইয়ে দেয়া ছাড়াও সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে কমিশন, সরকারি বরাদ্দের অর্থ নিজের সম্পদ উন্নয়নে ব্যয় করা ও ব্যাপক জমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে হাসনাত আবদুল্লাহ’র বিরুদ্ধে। আর এসবে ভূমিকা রাখতেন তার তিন ছেলে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ ও আশিক আবদুল্লাহ। গত ৫ই আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালানোর পরপর সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন। যদিও মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি জামিনে ছাড়া পান। গত ৩রা ডিসেম্বর ফের তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ: আওয়ামী লীগের শাসনামলে ১৫ বছরে বরিশাল অঞ্চলের যেকোনো নির্বাচনে মনোনয়ন কে পাবেন সেটার নির্ধারক ছিলেন আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা জেলা ও জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী ঠিক করে দিতেন তিনি। বিজয়ী প্রার্থীও নির্ধারণ করতেন তিনি। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তা নিয়ন্ত্রণ করতেন হাসনাত আবদুল্লাহ। টাকা না দিলে প্রার্থিতা মিলতো না- এমন অভিযোগও রয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে হাসনাত আবদুল্লাহ’র পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিলে নিজেই বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করাতেন। আর তাকে জয়ী করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা কাজে লাগাতেন।
বিভাগের ছয় জেলা ও ৪২টি উপজেলায় বেশির ভাগ কমিটিতে পদ-পদবি পেয়েছেন তার অনুসারীরা। পাশাপাশি উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের বেশির ভাগ চেয়ারম্যান ও মেয়রও হয়েছে তার পছন্দের লোকজন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্য করেছেন তিনি। মনোনয়ন নিশ্চিত করতে প্রার্থীদের গুনতে হয়েছে এলাকার গুরুত্ব বিবেচনা করে ৫০ লাখ থেকে এক কোটির অধিক টাকা।

তার নিজের পছন্দের লোক ছাড়া দলের পদ ও জনপ্রতিনিধি হওয়া প্রায় অসম্ভব করে ফেলেছিলেন আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার নির্দেশ অমান্য করতে পারে, এমন কোনো নেতা বা জনপ্রতিনিধি শান্তিতে থাকতে পারতো না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একাধিক কর্মী মানবজমিনকে বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ’র প্রভাবে ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অন্তত ৯জন চেয়ারম্যান হন। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য প্রত্যেক চেয়ারম্যান প্রার্থীর কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা নেয় তার পরিবার। ২০২২ সালের ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য তাদের দিতে হয়েছে এক কোটি টাকা করে। বিষয়টি তখন ওপেন সিক্রেট ছিল। মনোনয়ন বঞ্চিতরা তখনই বিভিন্ন ফোরামে বিষয়টি তুলেছিলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে টাকা দিতে হতো। গৌরনদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমান এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটনের মাধ্যমে হাসনাত এই টাকা নিতেন।

উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কমিশন: দলীয় নেতাকর্মী ও ঠিকাদারিতে জড়িত বেশ ক’জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পৌরসভাসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পের কোন কাজ কে পাবেন, সেটাও ঠিক করে দিতো হাসনাত পরিবার। কয়েক বছর ধরে হাসনাতের মেয়ে আর তিন ছেলে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা রাখতেন। হাসনাত পরিবারকে প্রকল্পের মোট বরাদ্দের ১০ শতাংশ থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন কাজ শুরুর আগেই দিতে হতো। উন্নয়ন কাজের দরপত্র বণ্টন ও কমিশন আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন  গৌরনদী পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমান হারিছ এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন।

জমি দখলে সেরা: জমি পছন্দ হলেই নিজের করে নিতেন আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার পরিবার। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দুই একর ১৯ শতাংশ জমির রেকর্ড নিজ নামে করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। এছাড়াও বরিশাল নগরীর বান্দ রোড, কালিবাড়ী রোড, সিঅ্যান্ডবি রোড, কাশিপুরে এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক একর জমির মালিক তিনি ও তার পরিবার। এসব জমি নামমাত্র টাকায় ভয়-ভীতি দেখিয়ে কেনার অভিযোগ রয়েছে। বরিশাল নগরীসহ গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ায় নামে-বেনামে শত একরের ওপর জমি রয়েছে।

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ‘দি লক্ষ্মণ দাস সার্কাস’ এর মালিকের অরুণ দাসের মালিকানাধীন লীলা সিনেমা হলের ভবনসহ ৩৪ শতাংশ জমি জোর দলিল করে নিয়েছেন। এছাড়াও অরুণ দাসের আরও ৯৬ শতাংশের দীঘি নেয়ার চেষ্টা করেন। অরুণ দাস অভিযোগ করেন, পূর্বপুরুষের ৯৬ শতাংশ জমির ওপরে থাকা ঐতিহ্যবাহী পালরদী দীঘি তার নামে নেয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা। বাধ্য হয়ে গত ১০ বছর ধরে গৌরনদী যাননি তিনি।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতার ১৫ বছরে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ পালরদী গ্রামের রিকশা মিস্ত্রি নূর মোহাম্মদের ১ একর ৪৮ শতাংশ, পৌর যুবলীগের সদস্য ফিরোজ হাওলাদারের ৫৬ শতাংশ, উত্তর বিজয়পুরে দুই হিন্দু পরিবারের ৭০ শতাংশ, এক চিকিৎসকের ১০ শতাংশ, অপর একটি পরিবারের ৬০ শতাংশ জমি লিখে নেন আবুল হাসনাত। ২০১৯ সালে উপজেলার উত্তর বিজয়পুর এলাকার মৃত ময়জুদ্দিনের ২৮ শতাংশ জমি হাসনাতের মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত হোমিওপ্যাথিক কলেজকে রেকর্ড করে নিয়েছেন। গৌরনদী মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি পাঠাগারের নামে বিভিন্ন জনের ৩০ শতাংশ জমি রেকর্ড করিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি: হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচনী এলাকা বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া)। গত তিনটি সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া সম্পদ বিবরণী থেকে জানা যায়, ১০ বছরে হাসনাত আবদুল্লাহ’র ব্যক্তিগত সম্পদ বেড়েছে।
১০ বছরের ব্যবধানে হাসনাত আবদুল্লাহ’র বার্ষিক আয় ১৬ গুণ বেড়ে হয় ৪ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩৪ টাকা। আর আর্থিক বা অস্থাবর সম্পদ ১৩ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ কোটি ৪৭ লাখ ১০ হাজার ৮২০ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি কিছুটা কমে ১৭ একর এবং অকৃষিজমি কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ দশমিক শূন্য ৪৯ শতাংশ। আগের পুরোনো দালানের বাইরেও রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের কথা হলফনামায় উল্লেখ করেন তিনি।

সিটি করপোরেশনে চাচা-ভাতিজার ত্রাস: ২০১৮ সালে অনেকটা বিতর্কিত ভোটের মধ্য দিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র হন হাসনাত আবদুল্লাহ’র ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। পাঁচ বছরে পরিবারের ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্যসহ সব নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। ২০২৩ সালে তাকে আর আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ভাতিজার বদলে দেয়া হয়েছে বরিশাল মহানগীরর রাজনীতিতে অচেনা মুখ আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাত। তিনিও শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে। এক বছরেই নানা বিতর্ক এবং অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।

বরিশাল সিটির একাধিক প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানবজমিনকে জানান, খোকন সেরনিয়াবাত মেয়র হওয়ার পর বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবং টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নেন। বিভিন্ন স্থাপনা, বাস টার্মিনাল, বালুমহাল, ব্যবসায়িক স্থান ইত্যাদি দখল করেন। বরিশালের বিভিন্ন হাটবাজারের ইজারা বাতিল করার পর সেগুলো তার দলের লোকজনের কাছে তুলে দেয়া হয় এবং এর মাধ্যমে নিয়মিত উৎকোচ আদায় হতো। এ ছাড়া ছয়তলা বা তার বেশি উচ্চতার ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের সময়ও উৎকোচ গ্রহণের ব্যাপারে অভিযোগ আছে। বরিশাল সিটি করপোরেশন চলতি বছরের মার্চ মাসে নগরীর সড়ক ও ড্রেন সংস্কারের জন্য ২৬৭ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করে। এই টেন্ডারে বরিশালের বিতর্কিত ঠিকাদার মাহফুজ খানের নামও উঠে আসে। একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, এসব প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারদের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেয়া হতো এবং এসব কাজের জন্য শতকরা ১০ শতাংশ অগ্রিম টাকা দাবি করা হতো। প্রায় সব ঠিকাদারি কাজে খোকন সেরনিয়াবাতের লোকজন নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ টাকা নিতেন, যা পৌঁছাতো খোকনের হাতে।

বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালেও খোকন তার লোকজন বসান। যেখানে আগে ছিলেন বাসমালিক গ্রুপের সভাপতি আফতাব হোসেন। খোকন তাকে সরিয়ে ছাত্রলীগ নেতা অসীম দেওয়ানকে সেখানে বসিয়ে দেন। স্থানীয় বাজারগুলো থেকে আয় প্রতিদিন তার বাসায় পৌঁছাতো। এ ছাড়া খোকন সেরনিয়াবাতের লোকজন বরিশাল লঞ্চঘাটসহ অন্যান্য নদীবন্দরের ঘাট দখল করে নেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএর এক কর্মকর্তা জানান, একসময় ঘাটের রাজস্ব আদায় বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। একইভাবে, বরিশালের দু’টি বাস টার্মিনাল থেকে প্রতি মাসে ২৫-৩০ লাখ টাকা আদায় করা হতো; যা খোকনকে দিতে হতো। নতুন দূরপাল্লার পরিবহনের আগমনের পরও ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা তার হাতে পৌঁছাতো। এ ছাড়া বরিশাল প্ল্যানেট পার্কের চুক্তি নবায়নকালে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। পার্কের পরিচালনা পরিষদের এক সদস্য জানান, চুক্তির নবায়ন এবং সিটি করপোরেশনের ফি ছাড়াও আলাদা ৪০ লাখ টাকা খোকন সেরনিয়াবাতকে দিতে হয়েছিল।

৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর খোকন সেরনিয়াবাত বরিশাল ছেড়ে পালিয়ে যান, এরপর তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এদিকে, বরিশাল আওয়ামী লীগ নেতারা তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, খোকন সেরনিয়াবাত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছাড়া সরাসরি মেয়র হয়ে ওঠেন; যা বরিশালবাসীর জন্য এক দুঃখজনক ঘটনা। বরিশালবাসী এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদরা খোকন সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য পদক্ষেপ এবং সরকারি পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে আরও খতিয়ে দেখার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে খোকন সেরনিয়াবাত, সাদিক আবদুল্লাহ কিংবা হাসনাত আবদুল্লাহ’র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সাদিক দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, খোকন সেরনিয়াবাত দেশের ভেতরেই কোথাও পালিয়ে রয়েছেন।

mzamin

Friday, August 2, 2024

আবারো জ্বলে উঠেছে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন: বিবিসি’র প্রতিবেদন

কোটা আন্দোলনকে ঘিরে ছাত্র-জনতার ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধরপাকড় নিয়ে আবারো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বৃটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। বুধবার ‘ফ্রেশ ভায়োলেন্স ইন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট প্রটেস্ট’ শিরোনামে প্রকাশিত বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাপক ধরপাকড় এবং শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়াকে কেন্দ্র করে আবারো উত্তপ্ত বাংলাদেশ। গত কয়েকদিনে আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে বুধবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভে নামে শিক্ষার্থীরা। তারা আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার মুখে পড়ে। যাতে আবারো দেশ জুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সিলেটে শিক্ষার্থী এবং পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সেখানে কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। এ ছাড়া বুধবার রাজধানী ঢাকা সহ অন্যান্য জেলায়ও পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। জুলাই মাস জুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ছিল বাংলাদেশ। কোটা সংস্কারের দাবিতে সড়ক-মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছে তারা।  সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

যাতে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আন্দোলনরত প্রায় ১০ হাজার ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মূলত নিহতদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার এবং আটক ছাত্র-জনতার মুক্তির দাবিতে আবারো উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। জুলাইয়ের শেষ দিনে দেশটিতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আটকের খবর পাওয়া গেছে।

বরিশাল থেকে বিবিসি’র প্রতিনিধির পাঠানো ছবির বরাতে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বরিশালে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ। সেখানে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করতে দেখা গেছে। গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। এদিন গ্রেপ্তার হওয়া অনেকেই নারী শিক্ষার্থী ছিল। বুধবার শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা ‘হত্যা, গ্রেপ্তার, হামলা এবং ছাত্র ও গুমের বিরুদ্ধে নতুন কর্মসূচি দিয়েছে এবং সে অনুযায়ী বিক্ষোভ করছে। জুলাই মাসের শুরু থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত হলে রাতারাতি পুরো দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে এবং ব্যাপক সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরে ২১শে জুলাই সুপ্রিম কোর্ট কোটা ৭ শতাংশ সংরক্ষণের রায় দেন। তবে শিক্ষার্থীদের নিহত এবং তাদের গণগ্রেপ্তার করার প্রতিবাদে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তারা দেশটির বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে বলে বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে।

দেশের এমন সহিংস পরিস্থিতির জন্য সরকার প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে দেশ জুড়ে সরকারের দমন-পীড়নের সমালোচনা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তির আলোচনা স্থগিত করেছে। মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান জোসেপ বোরেল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, স্থগিত সহযোগিতা চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ইইউ এবং বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা।

Wednesday, July 17, 2019

বাঁচানো গেল না সার্জেন্ট কিবরিয়াকে

শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়াকে। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রক্ত দেয়ার জন্য সহকর্মীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিকালে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায়ও নেয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চলে নিবিড় চিকিৎসা। কিন্তু সকল মায়া ত্যাগ করে তিনি গতকাল সকালে মারা যান। তার মৃত্যুতে বরিশাল পুলিশ প্রশাসনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত সোমবার সকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কর্ণকাঠী জিরো পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। বেলা সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী যমুনা গ্রুপের বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যানকে (ঢাকা মেট্রো উ-১২-২০৫৪) থামার সংকেত  দেন তিনি।
কাভার্ডভ্যানটি ট্রাফিকের সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া একটি মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটির সামনে গিয়ে ফের তাকে থামার সংকেত দেন। তখন কাভার্ডভ্যানচালক জলিল মিয়া সার্জেন্ট কিবরিয়াকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। জানা যায়, তার দুই পায়ের ৪টি স্থান ভেঙে যায় এবং মূত্রথলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার রক্তের প্রয়োজন হওয়ায় ওয়্যারলেস বার্তা পেয়ে হাসপাতালে অগণিত সহকর্মী হাজির হন। কিন্তু কিবরিয়ার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে একটি বিশেষ এয়ার এম্বুলেন্সে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিবরিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরপরই তাকে জরুরি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। রাতেই বরিশালের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। গতকাল সকালে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির নলছিটি থানা পুলিশ ধাওয়া করে চালক জলিল সিকদারসহ কাভার্ডভ্যানটি আটক করে। কাভার্ডভ্যানচালক মো. জলিল মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বন্দর থানায় বরিশাল  মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

Wednesday, June 19, 2019

‘খরচই উঠছে না, মুখে হাসি থাকবে কোথা থেকে?’ by এম জসীম উদ্দীন

কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বোরো ধান ও চাল ক্রয় শুরু করলেও বাজারে এর প্রভাব তেমন পড়েনি। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বাজারে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি হচ্ছে। এতে হতাশ প্রান্তিক কৃষকেরা।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছরই কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য বিভাগের মাধ্যমে ধান-চাল ক্রয় করে সরকার। তবে সরকারের এই ভর্তুকির অর্থ সাধারণ কৃষকদের পকেটে না গিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী, ধান-চাল ব্যবসায়ী ও মিলমালিকদের পকেটে চলে যায়। এবারও তা–ই ঘটছে। কৃষকেরা বলছেন, সরকার ২৬ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৪০ টাকায় প্রতি মণ ধান ক্রয় করছে। আর ৩৬ টাকা দরে ১ হাজার ৪৪০ টাকায় প্রতি মণ চাল ক্রয় করছে। কিন্তু স্থানীয় বাজারে ৪০ কেজির জায়গায় ৪৫ কেজি ধরে প্রতি মণ ধান ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করছেন কৃষকেরা।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের যুবক সিরাজুল ইসলাম (৩৬) এবার ৮ একর জমিতে বোরোর আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো পেয়েছেন। তবে ভালো ফলন হাসি ফোটাতে পারেনি সিরাজুলের মুখে। তিনি বলেন, ‘বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ধানের মূল্য কম। ৮ একর জমিতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে বোরো আবাদ করেছি। কিন্তু ধানের যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচ ওঠে। লাভ ঘরে তোলা যাবে না। ধান কাটাতে মজুরি দিতে হয়েছে ৩৪ হাজার টাকা। মুখে হাসি আসবে কোথা থেকে?’
সিরাজুলের মতো আরও অনেক কৃষক আছেন, যাঁরা ধান আবাদ করে বিপাকে পড়েছেন। লাভ তো দূরে থাক, আসলও ঘরে তুলতে পারছেন না। উজিরপুর, গৌরনদীর কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এমন হতাশার কথা শোনা গেল।
গৌরনদীর বার্থী গ্রামের মাসুদ সরদার (৪৬) এবার এক একরে বোরো আবাদ করেছেন। তিনি বললেন, ‘জমি চাষ, সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক, সেচ, মাড়াইসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ ধান ফলাতে আমাদের ৮৭৫ টাকা ৭৬ পয়সা খরচ হয়েছে। কিন্তু বাজারে প্রতি মণ ধানের দাম পাচ্ছি ৪৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা। এই ক্ষতি কীভাবে পোষাব আমরা? বাজার থেকে চাল কিনতে গেলে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে কিনতে হয়। তবু বছরের খোরাকিটা এই দিয়ে রাখি। কিন্তু এই সব করে আমাদের কোমর ভেঙে যাচ্ছে।’
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, চলতি বছর বরিশালের ছয় জেলায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৭৬৩ মেট্রিক টন ধান। এরই মধ্যে এই ধানের বেশির ভাগ কাটা হয়ে গেছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে মনে করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক তৌফিকুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে প্রচুর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। সরকার প্রতি মণ ধানের মূল্য ১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব খাদ্য বিভাগের।
বরিশাল বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৮ মার্চ খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় বোরো ধান ও চাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়। ফড়িয়ারা লাভবান না হয়, সে জন্য কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়। গত ২৫ এপ্রিল থেকে এই ক্রয় শুরু হয় এবং তা পুরো আগস্ট মাস পর্যন্ত চলবে। এই কার্যক্রমের আওতায় বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ১৬ হাজার ৩০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ হাজার ১৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে।
আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল পর্যন্ত বিভাগের ছয় জেলায় ১০০ মিলমালিকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। তাঁরা চাল সরবরাহ করবেন। গতকাল পর্যন্ত এই বিভাগে ৬২৭ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কোনো ধান সংগ্রহ করা যায়নি।
ধান ক্রয়ের বিষয়ে প্রচার চালানো হয় কি না জানতে চাইলে বরিশাল বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজা মো. মোহসিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ধান-চাল ক্রয়ের আগে মাইকিং, সাইনবোর্ড ঝোলানো, প্রচার চালানোর নিয়ম আছে। সেটা ঠিকভাবে করা হয় না বলে কৃষক জানতে পারে না—এমন অভিযোগ আছে তবে। সেটা সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা ক্রয় কমিটি দেখভাল করে।’

Thursday, May 30, 2019

পাঁচ বছরের গ্যারান্টিতে রাস্তা, নষ্ট হলে ঠিক করে দেবেন ঠিকাদার by সালেহ টিটু

দেশে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের গ্যারান্টিসহ আধুনিক পেভার মেশিন দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায়। ওই সময়ের মধ্যে রাস্তায় যে কোনও ধরনের সংস্কার বা মেরামত প্রয়োজন হলে ঠিকাদার নিজ দায়িত্বে তা করে দেবেন। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং দেওয়া হচ্ছে নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়কে। থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং দেশে এটাই প্রথম হবে বলে দাবি করেছে সিটি করপোরেশন।
২০০২ সালে সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার পর থেকে তিনটি পরিষদের আমলে একই সড়কে তিন থেকে চারবার সংস্কার করা হলেও অল্পদিনের ব্যবধানে তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতো। আর ভোগান্তিতে পড়তে হতো নগরবাসীসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা লাখো মানুষকে। বর্ষায় ভোগান্তির মাত্রা আরও বেড়ে যেতো। অভিযোগ ছিল, নিম্নমানের কাজ করে টাকা ভাগবাটোয়ারা হতো সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। আর এ কারণে নগরীতে পিচ ঢালাই সড়কও বাড়েনি।
বরিশালে পেভার মেশিন দিয়ে নির্মিত সড়ক
বরিশালে পেভার মেশিন দিয়ে নির্মিত সড়ক
এবার প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ডেঞ্চ কার্পেটিং’-এর মাধ্যমে নগরীর অভ্যন্তরে নির্মিত হচ্ছে উন্নতমানের সড়ক। আধুনিক বিটুমিন মিক্সিং প্লান্টে চার প্রকারের পাথর এবং বিটুমিন মিক্সিং করে পেভার মেশিন দিয়ে প্রায় ৬০ মিলিমিটার পুরু সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। আমতলা বিজয় বিহঙ্গ মোড় থেকে সদর রোড, নাজিরের পোল এবং সোনালী আইসক্রিম মোড় হয়ে পলাশপুর পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এবং জেলখানা মোড় থেকে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সোয়া ২ কিলোমিটার সড়কে ‘ডেঞ্চ কার্পেটিং’-এর কাজ শেষ। এভাবে নগরীর অলিগলির সড়কও পেভার মেশিন দিয়ে করার পরিকল্পনা রয়েছে সিটি করপোরেশনের।
সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মু. আনিচুজ্জামান জানান, ‘সড়কে পিচ ঢালাই শেষে তিনটি রোলার দিয়ে কমপেকশন করায় সড়কের স্থায়িত্বকাল বেড়ে গেছে। পানি জমে না থাকলে এবং রক্ষণাবেক্ষণ করলে সড়ক পাঁচ বছরেও কিছু হবে না বলে গ্যারান্টি রয়েছে।’
থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং
থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং
অপরদিকে দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো বরিশাল নগরীতে আধুনিক প্রযুক্তির (থ্রিডি) জেব্রা ক্রসিং দেওয়া হচ্ছে। নগরীর জিলা স্কুল মোড়ে আধুনিক মেশিন দিয়ে এবং চারুকলা শিল্পীদের সহযোগিতায় জেব্রা ক্রসিংয়ের কাজ শুরু হয় গত শুক্রবার থেকে।
সিটি করপোরশেনের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আনিচুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নগরীর অতি গুরুত্বপূর্ণ ৮টি পয়েন্টে থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং করা হচ্ছে। পয়েন্টগুলো হচ্ছে−জিলা স্কুল মোড়, জেলখানা মোড়, কাকলীর মোড়, লঞ্চঘাট মোড়, শিশুপার্কের (প্ল্যানেট পার্ক) সামনে, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা, নথুল্লাবাদ, আমতলার মোড়। এরপর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং করে দেওয়া হবে। উন্নতমানের সড়ক নির্মাণের পরপরই জেব্রা ক্রসিংয়ের কাজ করবে সিটি করপোরেশন।’
থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং অঙ্কনের উদ্বোধন করেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ
থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং অঙ্কনের উদ্বোধন করেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ
সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের সড়কের কাজ হচ্ছে বরিশালে। কিছু টাকা বেশি লাগলেও রাস্তা টেকসই হয়েছে। এতে প্রতিবছর সড়ক সংস্কার করার প্রয়োজন হবে না। থাকবে না নগরবাসীর ভোগান্তি। এছাড়া টেকসই সড়ক নির্মাণ করায় সাশ্রয় হওয়া টাকা দিয়ে একই মানের বর্ধিত এলাকার রাস্তা নির্মাণ করা হবে।’
থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং বিষয়ে মেয়র বলেন, ‘বাংলাদেশের মধ্যে এই প্রথম বরিশাল নগরীর সড়কে থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং করা হচ্ছে। ৫০ থেকে ১শ’ ফুট দূর থেকে চালকরা সহজেই জেব্রা ক্রসিং দেখতে পারবেন এবং ৮-৯ ইঞ্চি উঁচু মনে করবে। এর ফলে তারা তাদের যানবাহনের গতি কমাবেন। এতে করে স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীসহ সবাই সহজে চলাচল করতে পারবে এবং দুর্ঘটনা কমবে।’

Tuesday, February 19, 2019

শেবাচিমের ডাস্টবিনে ২২ অপরিণত শিশুর মরদেহ

বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ময়লার স্তূপ থেকে ২২টি অপরিণত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এসব মরদেহ দেখতে পান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। একসঙ্গে এতগুলো মানবশিশুর মরদেহ এভাবে ফেলে দেয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় ঘটনা জানাজানির পর। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তার কিছুই বলতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল মোদাচ্ছের আলী কবির জানান, রাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হাসপাতালের পশ্চিম পাশে কেন্দ্রীয় পানির ট্যাংকের পাশে থাকা ডাস্টবিনের ময়লা অপসারণ করছিলেন।
এ সময় তারা ময়লার ভেতরে বালতি ভরা অপরিণত শিশুর মরদেহগুলো দেখতে পান।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান তারা। তিনি বলেন, সেখানে ২২টি অপরিণত শিশুর মরদেহ ছিল। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এগুলো মেডিকেল কলেজের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রিজার্ভ (ফরমালিন দেয়া) করা বহু পুরনো নবজাতক হতে পারে; যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা দেয়া হয়। যেগুলো এখন ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় ফেলে দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তদন্তের পর সবকিছু পরিষ্কার হবে বলে তিনি জানান।

Wednesday, July 18, 2018

বিসিসি নির্বাচন: প্রচারণায় কেন্দ্রীয় নেতারা

বরিশাল এখন পোস্টার আর মাইকের নগরীতে পরিণত হয়েছে। পুরো নগরীতে পোস্টার আর পোস্টার। দুপুরের পর থেকেই একাধিক মাইকের শব্দে কান ঝালাপালা। ধানের শীষের পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মাঠে নেমে পড়েছেন স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আগেই মাঠে নেমে পড়েছেন তৃণমূল কর্মীরা। জাপা, ইসলামী আন্দোলনও পিছিয়ে  নেই। পাড়ায় মহল্লায় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদেরও চলছে বিরামহীন প্রচারণা। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পর বরিশালে ফিরে এসেছে নির্বাচনী পরিবেশ।
বরিশালে আগামী ৩০শে জুলাই অনুষ্ঠেয় সিটি নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কা থাকলেও প্রার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রচার প্রচারণা নিয়ে। এটাই স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে সাধারণ ভোটারদের মাঝে। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ মেলেনি। বড় দল দু’টি একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনলেও তা খুব একটা আমলে নেয়নি নির্বাচন কমিশন।
বরিশালে এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মীর্জা আব্বাস সরোয়ারের পক্ষে এলাকায় এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একসঙ্গে ১৫/২০টি অটো নিয়ে হচ্ছে ধানের শীষের মিছিল। মাইকে মাইকে চলছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেবার প্রচারণা। সম্ভবত এবারই প্রথম সরোয়ারের পক্ষে চান শিরিনসহ জেলা ও মহানগরের সব নেতা মাঠে নেমেছেন। এভাবে প্রচারণা চলতে থাকলে বিএনপির শঙ্কিত ভোটাররাও মাঠে নেমে আসবে বলে মনে করছেন জেলা যুবদল সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লব।
অপরদিকে প্রথম থেকেই আওয়ামী লীগের ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চলছে নগরীতে। একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বরিশাল এসেছেন। কেউ কেউ প্রচারণা করে ঢাকাও চলে গেছেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম মুরাদ, ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, অ্যাডভোকেট আফজাল হেসেন, সুুদিপ রায়, বলরাম পোদ্দার অন্যতম। এর মধ্যে অ্যাডভোকেট ফজলে নুর তাপস এবং অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রচারণায় অংশ নেননি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস  গণসংযোগ করেছেন। তবে এখনও কেন্দ্রীয় কোনো নেতা বরিশালে এসে তার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেননি। এ সময় ইকবাল বলেন, ‘নগরবাসী আমাকে তাদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করলে নগর ভবন নয় এটা হবে সেবক ভবন।’
এদিকে দিনরাত প্রচার প্রচারণা চললেও বরিশালের ভোটাররা এখনও সতর্ক। প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। সবাইকেই আশ্বস্ত করছেন। হোটেল বা রেস্তরাঁয় চায়ের কাপে ঝড় নেই। কেউ কাউকে তার মনের কথাটিও বলতে সাহস পাচ্ছেন না। নির্বাচন কমিশনের এবং প্রশাসনের আশ্বাসে নির্বাচনী পরিবেশ ফিরে এলেও নির্বাচনের ২/৩দিন আগে বোঝা যাবে নির্বাচন কেমন হবে- এ বক্তব্য প্রায় সব ভোটারের।
এদিকে এক প্রার্থী অপর প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে একের পর এক অভিযোগ করে চলেছেন। এখন পর্যন্ত বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ৭ এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির ৫টি অভিযোগ জমা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার হেলাল উদ্দিন খান বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকি করতে বরিশাল জেলা প্রশাসনের ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে আইনি সহায়তা দিতে ৩০শে জুলাই নির্বাচন কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে থাকবেন।’

Tuesday, May 15, 2018

বরিশালে মাদরাসা শিক্ষক লাঞ্ছনায় তোলপাড়

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে হেরে এক ইমামের মাথায় মলমূত্র ঢেলে লাঞ্ছিত করেছে পরাজিত জাপা নেতা জাহাঙ্গীর খন্দকার ও তার লোকজন। সেই সঙ্গে মলমূত্র ঢালার ওই দৃশ্যটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয় তারা। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে। এ পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে। এরা হচ্ছে বাদল (২৫)। সে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নূর মোহাম্মদের ছেলে। সোহাগ বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আ. মজিদ সরদারের ছেলে। ১২ নম্বর রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামের মৃত মো. হাসেম মুসল্লির ছেলে মিনজু (৪৫)। গতকাল দুপুরে বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১০-১২ জন। এদের সকলকে গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এদিকে দুর্বৃত্তদের বিচারের দাবিতে বুধবার (১৬ই মে) মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে স্থানীয় আলেম সমাজ।
গতকাল দুপুরে বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরিশালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নে ন্যক্কারজনক ঘটনার শিকার লাঞ্ছিত ইমাম আবু হানিফা (৫০) কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদরাসার সুপার ও নেছারবাগ বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম।
অভিযুক্তরা হলো- পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম খন্দকার, সহযোগী জাকির হোসেন জাকারিয়া, মো. মাসুম সরদার, মো. এনামুল হাওলাদার, মো. রেজাউল খান, মো. মিনজু, সোহেল খন্দকার ও মিরাজ হোসেন। অভিযুক্ত সবার বাড়ি কাঁঠালিয়ায়।
ইমাম আবু হানিফা ও স্থানীয়রা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হন এইচ এম মজিবর ও জাহাঙ্গীর খন্দকার।
এই নির্বাচনে ইমাম আবু হানিফা সভাপতি প্রার্থী এইচ এম মজিবর রহমানের পক্ষ নেন। নির্বাচনে বিজয়ী হন এইচ এম মজিবর রহমান। পাশাপাশি সভাপতি প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকার হেরে যায়। এ নিয়ে আবু হানিফার সঙ্গে জাহাঙ্গীর খন্দকারের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
পাশাপাশি বিভিন্ন সময় ইমাম আবু হানিফাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকার ও তার সহযোগীরা। গত শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আবু হানিফা মসজিদ থেকে বের হলে তার পথরোধ করে পরাজিত প্রার্থী ও তার লোকজন।
এ নিয়ে ইমামের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরাজিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর খন্দকারের এক সহযোগী ইমাম আবু হানিফার হাত ধরে ফেলে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীর খন্দকার ইমামকে ধরে রাখে। এ সময় তার আরেক সহযোগী হাঁড়ি ভর্তি মলমূত্র এনে ইমাম আবু হানিফার মাথায় ঢেলে দেয়। এতে উল্লাসে ফেটে পড়ে। পরে দৃশ্যটি ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয় তারা।
এ বিষয়ে রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি এবং দেখেছি। যতই বিরোধিতা থাকুক সমাজের একজন সম্মানিত ইমামকে এভাবে কেউ অপমানিত করতে পারে ভাবতেও ঘৃণা লাগে। বিষয়টি দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল হক জানান, মাদরাসার সুপার আবু হানিফা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশ সুপার জানান, তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেই দ্রুত বাকেরগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দেন আসামিদের ধরতে। সেই সঙ্গে তিনি বাদী ও তার ভাইয়ের সঙ্গে নিজে কথা বলেন। এরপর ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশ পেয়েই স্থানীয় পুলিশ দুইজনকে আটক করে। অপর আসামিদের যে কোনো মুহূর্তে ধরা হবে বলে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান। তিনি বলে এটি ধিক্কারযোগ্য একটি ঘটনা। মাদরাসা সুপারের মাথায় মানুষের মল ঢেলে লাঞ্ছিত করার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। খবরটি জানার পর থেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও মামলায় অভিযুক্ত সবাইকে আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যে ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও চিত্রের বাইরে পুরো ঘটনার সঙ্গে ১০ থেকে ১২ জন জড়িত। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়া হবে। অন্যদের দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান এসপি সাইফুল।

Tuesday, May 1, 2018

‘অত্যাচারী ঝুমুর’ ও একটি ছাত্রীনিবাসের গল্প by উদিসা ইসলাম

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাস। সেখানে ফারজানা আক্তার ঝুমুর নামের এক ছাত্রলীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ। কখনও খিস্তিখেউর, কখনও মারধর। প্রশাসনকে বলেও যখন উপায় খুঁজে পাননি তখন অত্যাচারের শিকার ৬ ছাত্রী একত্রিত হয়ে মারধর করেন ঝুমুরকে, পুড়িয়ে দেন তার কিছু জিনিসপত্র। এবার নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তদন্ত কমিটি হয়। হল প্রশাসন নির্দেশ জারি করে ঝুমুর ও সেই ছয় ছাত্রীকে হলের বাইরে থাকতে হবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত।
ঝুমুরের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ৬ ছাত্রী এখন শহরে মেসে থাকছেন। হল কর্তৃপক্ষ তাদের কোনও জিনিসপত্র নিতে দেননি বলে অভিযোগ করে এক শিক্ষার্থী জানান, অভিভাবকের মাধ্যমে পোশাক ও বইপত্র নিতে হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে।
ঝুমুরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা শিক্ষার্থীরা হলেন বিএম কলেজের জান্নাতুল ফেরদৌসি, রহিমা আফরোজ ইভা, ফাতিমা শিমু, শাকিলা, তানজিলা আক্তার মিষ্টি ও শারমিন আক্তার।
কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষক কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য এই ঘটনায় জড়িতদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাইনি কোনও শিক্ষার্থীকে বাইরে থাকতে হোক। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত করতে এর বাইরে কোনও অপশন ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঝুমুরের বিরুদ্ধে এটা প্রথম অভিযোগ, এমন নয়; এর আগেও তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল।’
আবারও ঝুমুরের ফিরে আসা বিষয়ে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,‘ঝুমুর রাজনীতি করে, তার সঙ্গে নেতাদের ওঠাবসা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে হল কর্তৃপক্ষও খুব একটা আমলে নেয় না কখনও। দুপক্ষকে ডেকে মাফ চাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। তারপর নানাভাবে সিস্টেম করে সে আবারও আগের মতোই আচরণ শুরু করে।সে ভীষণ অত্যাচারী।’
কারও সাতেপাঁচে না থাকার পরও ভুল করে হলের বাইরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তানজিলা আক্তার মিষ্টি বলেন, ‘আজ কয়দিন কী অবস্থায় আছি, তা বলে বোঝানো সম্ভব না। বন্ধু-বান্ধবের বাসায় আর কয়দিন থাকা যায়! আমার নামটি ভুল করে এসেছে, আমি ঘটনার সঙ্গে ছিলাম না।’
ঘটনার সঙ্গে যারা ছিলেন তাদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের ছয়জন ও ঝুমুরকে সাময়িক হলের বাইরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি আজকে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। যার যার কথা আলাদাভাবে বলে এসেছি। কাপড়চোপড় নিতেও ভেতরে আমাদের ঢুকতে দেবে না। অভিভাবকদের মাধ্যমে ফেরত নিতে হবে। এখন আমরা মেসে আছি।’
ঝুমুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে কী? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ না থাকলে সাতজন মিলে তাকে মারতে যাবো কেন? সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা অত্যাচার দেখতে দেখতে ক্লান্ত। এর বিপরীতে তাকে মারা অন্যায় হয়েছে। কিন্তু অনেকদিনের ক্ষোভ জমা হয়ে এই পরিণতি হয়েছে।’ অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি কখনও রাজনীতি করিনি। আমাদের সঙ্গে একজন কেবল ডিগ্রি লেবেলের ছিল, তিনি ঝুমুরের বন্ধু। বাকিরা আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী।’
কী ঘটেছিল? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে ঐষী নামের একজনকে মেরেছে একদম ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে। ঘুমন্ত অবস্থায়। এরপর শারমিনকে মেরেছে। আগেও একাধিকজনকে গালাগালি-খিস্তির ঘটনা ঘটেছে। স্যারদের জানানো হয়েছে। পদক্ষেপ নেননি। এলাকার নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা, সে সবকিছু সামলে নেয়। এর আগে তাকে সাময়িক বহিষ্কারও করা হয়েছিল। সে সবাইকে ধরে আবার ফিরেছে। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মেয়েরা অভিযোগ করে। কিন্তু কী পদক্ষেপ নেয়? দুজনকে ডেকে মাফ চাওয়া-চাওয়ি। তারপর সব আবার আগের মতো।’
ওই ছাত্রী বলেন,‘আমরা সেদিন স্যারদের কাছে অভিযোগ করে স্মারকলিপি দিয়েছি শুনে ঝুমুর আমাদের পথ আটকে জিজ্ঞেস করেছিল। এরপর কথা কাটাকাটিরএকপর্যায়ে আমরা তাকে মেরেছি। কী করবো, ভালোভাবে অভিযোগ করলে স্যারদের কানে তো কিছু পৌঁছায় না। আমরা সবাই সমবয়সী, গালাগালি কেন করবে? মারবে কেন? গত চারদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমাদের সবার জন্য ওই একই শাস্তির ব্যবস্থা হলো।’
তদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদার বলেন, ‘ঝুমুর এবং জান্নাতুলের বিরুদ্ধে এরকম নানা অভিযোগের কথা কানে এসেছে। কিন্তু এটি যখন মারামারি পর্যায়ে চলে গেছে তখন আমরা বাধ্য হয়েছি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে। ঝুমুরকে আগেও সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। জান্নাতুল পাস কোর্সের শিক্ষার্থী, তার সিট পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু কীভাবে যেন পেয়েছে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঝুমুর এবং হল সুপার নূর মোহাম্মদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, কলেজের ছাত্রলীগ নেত্রী ফারজানা আক্তার ঝুমুরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের ছাত্রীদের নির্যাতন, অনৈতিক কাজে বাধ্য করা ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে সাধারণ ছাত্রীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি দেন। অভিযোগ দেওয়ার পর ঝুমুর গত ২২ এপ্রিল ছাত্রীদের নানাভাবে শাসানোর একপর্যায়ে কয়েকজনকে মারধরও করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ ছাত্রীদের কয়েকজন ঝুমুরকে মারধর করে তার রুমের আসবাবপত্র সড়কে এনে পুড়িয়ে দেন।

Thursday, March 15, 2018

বরিশালে সাংবাদিকের উপর ডিবি পুলিশের বর্বরতা

বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য কর্তৃক সাংবাদিক সুমন হাসানকে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের আট সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্ট অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ। মঙ্গলবার রাতে প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়ায় এসআই আবুল বাশারসহ তার টিমের মোট আট সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। এরমধ্যে দুইজন এএসআই ও বাকিরা কনস্টবল। এদিকে সাংবাদিককে নির্যাতনের ঘটনায় বরিশালের সাংবাদিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর দক্ষিণ চকবাজারের পুরাতন বিউটি হলের সামনের একটি বাসায় মাদকের অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ।
খবর পেয়ে সাংবাদিক সুমন হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান শেষে ডিবি পুলিশের সদস্যদের সাথে কথা বলতে চাইলে বাগ্বিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে ডিবির আটজন সদস্য মিলে সুমনের উপর চড়াও হয়। এসময় সুমনকে বেধড়ক মারধর ও অন্ডকোষ চেপে ধরায় সুমন অজ্ঞান হয়ে পরে। পরবর্তীতে ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে জ্ঞান ফিরলে পুনরায় সুমনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করা হয়। খবর পেয়ে বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিকরা উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রউফকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে সুমনের শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন ও তার কাছে নির্যাতনের কথা শুনে উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রউফ এবং উত্তম কুমার পাল সাংবাদিক মহলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা নির্যাতনের সাথে জড়িত ডিবি পুলিশের এসআই আবুল বাশার ও তার টিমের আটজনকে রাতে ক্লোজড করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উপ-পুলিশ কমিশনার সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন। নির্যাতনের শিকার বেসরকারী টেলিভশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাম্যান সাংবাদিক সুমন হাসান উপ- পুলিশ কমিশনার (ডিবি) উত্তম কুমার পাল ও (দক্ষিণ ) গোলাম রউফের কাছে বলেন, বিউটি হল সংলগ্ন একটি বাসায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। অভিযান শেষে ডিবি পুলিশের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে এসআই আবুল বাশার, তার টিমের সদস্য সাইফুল ইসলাম, মাসুদ হোসেন, আলতাফ হোসেনসহ সবাই আমার ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে তারা (ডিবি পুলিশ) আমাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে এবং ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোড় জবরদস্তি করতে থাকে। এসময় ডিবি পুলিশ আমার বাসায় মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেয়াসহ ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়। এমনকি ডিবি পুলিশ আমার অন্ডকোষ চেঁপে ধরলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
তারপর আমাকে ডিবি অফিসে নিয়ে বুকের ওপর লাথি দেয়াসহ নানা কায়দায় নির্যাতন করা হয়। এদিকে সুমনের উপর নির্যাতনের খবর শুনে বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিকরা ডিবি অফিসে গেলে কতিপয় ডিবি পুলিশ সদস্যর সাথে সেখানে বসেও সাংবাদিকদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ডিবিসি’র বরিশাল ব্যুরো চীফ অপূর্ব অপুসহ কয়েকজন সংবাদকর্মীকে লাথি, কিল-ঘুষিও দেয়া হয়, যা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও প্রমাণ পেয়েছেন। এতো ঘটনার পরেও সবকিছুই অস্বীকার করেছেন ডিবি পুলিশের ওই টিমের প্রধান এসআই আবুল বাশার। তিনি জানিয়েছেন, সুমনের শরীরে কোন হাত দেয়া হয়নি। উল্টো সুমন আমাদের মারধর করেছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার নাসির উদ্দিন মল্লিক জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়ায় রাতেই এসআই আবুল বাশারসহ তার টিমের আট সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। এ ঘটনায় বরিশালের সাংবাদিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাব, মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাব, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি, বরিশাল টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, বরিশাল ফটো সংবাদিক ঐক্য পরিষদ, গৌরনদী উপজেলা প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিক সংগঠনগুলো সাংবাদিককে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বরিশালে সাংবাদিকের ওপর পুলিশি নির্যাতন, তোলপাড়

সাংবাদিক সুমন হাসানকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে মিডিয়াসহ বরিশালের সুশীল সমাজ। বুধবার সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রত্যাহারকৃত নির্যাতনকারী ৮ পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বরিশাল প্রেস ক্লাব, রিপোর্টাস ইউনিটিসহ ৬টি সাংবাদিক সংগঠন, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা গোয়েন্দা পুলিশের অমানবিক নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ চকবাজারের পুরাতন বিউটি হলের সামনে ডিবি পুলিশ একটি বাসায় মাদকের অভিযান চালালে সাংবাদিক সুমন হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অভিযানের বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ৮ পুলিশ সদস্য মিলে সুমনের ওপর চড়াও হয়। সাংবাদিক পরিচয় শুনে এ সময় সুমনকে বেধড়ক মারধর ও অণ্ডকোষ চেপে ধরে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর হাতকড়া পরিয়ে, গলা পেঁচিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে সুমনকে ডিবির কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিকরা ছুটে যান ডিবির কার্যালয়ে। এ সময় ডিবিসির রিপোর্টার অপুরায় ও মানবকণ্ঠের সালেহ টিটুকেও লাঞ্ছিত করে ডিবির সদস্যরা। উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রউফকে অবহিত করলে তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য সবাইকে তার কক্ষে নিয়ে আসেন। এ সময় সুমনের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও সুমনের কাছে নির্যাতনের কথা শুনে উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রউফ ও উত্তম কুমার পাল দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ডিবি পুলিশের এসআই আবুল বাশার ও তার টিমকে তাৎক্ষণিক ক্লোজড ও টিমের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্ট অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও জানান। নির্যাতনের শিকার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা পার্সন সুমন হাসান উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) উত্তম কুমার পাল ও (দক্ষিণ) গোলাম রউফকে বলেন, ‘বিউটি হল সংলগ্ন একটি বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের কাছে অভিযানের বিষয়টি জানতে চাইলে ডিবি পুলিশের এসআই আবুল বাশার, তার টিমের সদস্য সাইফুল, মাসুদ ও আলতাফসহ ওই টিমের সকলে আমার সঙ্গে চড়াও হয়। এ সময় আমি সাংবাদিক পরিচয় দিলে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আমার ওপর। একপর্যায়ে তারা আমাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে এবং ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোর জবরদস্তি করতে থাকে। এ সময় ডিবি পুলিশ আমার বাসায় মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেয়াসহ ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়। তবে আমি বিনা অপরাধে সেখানে না যাওয়ার জন্য বললে তারা আমার অণ্ডকোষ চেপে ধরে। সঙ্গে সঙ্গেই আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। তারপর আমাকে ডিবি অফিসে নিয়ে বুকের উপর লাথি দেয়াসহ নানা কায়দায় নির্যাতন করে।’ এদিকে সুমনকে নির্যাতনের খবর শুনে বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিকরা ডিবি অফিসে গেলে কতিপয় অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যর সঙ্গে সেখানে বসে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন সংবাদকর্মীকে লাথি, কিল-ঘুষিও দেয়া হয়। যা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও প্রমাণ পেয়েছেন। তবে এত ঘটনার পরও সবকিছুই অস্বীকার করেছেন ডিবি পুলিশের ওই টিমের প্রধান এসআই আবুল বাশার। তিনি জানিয়েছেন, সুমনের শরীরে কোন হাত দেয়া হয়নি। উল্টো সুমন আমাদের মারধর করেছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার নাসির উদ্দিন মল্লিক জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়ায় এসআই আবুল বাশারসহ তার টিমের মোট ৮ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। যার মধ্যে দুজন এএসআই ও বাকিরা কনস্টেবল। এদিকে এই ঘটনায় বরিশালের সাংবাদিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঘটনায় বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
অভিযুক্ত ডিবির কনস্টেবল বরখাস্ত
ওদিকে ডিবিসি টেলিভিশনের ক্যামেরারপার্সন সুমন হাসানকে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ডিবির কনস্টেবল মাসুদুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং একই সঙ্গে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এডিসি রুনা লায়লাকে প্রধান করে কমিটিকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডিবি) নাসিরউদ্দিন মল্লিক জানান, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট রাতেই পুলিশ কমিশনার বরাবর দাখিল করতে বলা হয়েছে। এর পরপরই ওই রিপোর্ট ঢাকা হেডকোয়ার্টার্সে পাঠানো হবে।
এ ঘটনায় বুধবার বেলা ১১টায় অশ্বিনী কুমার হলের সামনের সড়কে মানবন্ধন করে সংবাদ কর্মীরা। তারা বলেন, অভিযুক্তদের ফৌজদারী আইনে মামলা করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার।

Sunday, March 11, 2018

কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি দুনিয়ার মোহে পড়তে পারে না

মানবতার কল্যাণ ও শান্তি কামনায় মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হল বরিশালের ঐতিহ্যবাহী চরমোনাইর বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল। শনিবার কীর্তনখোলা নদীর তীরে লাখো ভক্ত-মুরিদরা এ মোনাজাতে অংশ গ্রহণ করেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
এর আগে ফজরের নামাজের পর পীর চরমোনাই মাহফিলে অংশ গ্রহণকারী মুসল্লিদের উদ্দেশে হেদায়েতি বয়ান পেশ করেন। বয়ানে পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের প্রস্তুতির নসিহত করে বলেন, এ দুনিয়া থাকার জায়গা নয়। তাই কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি দুনিয়ার মোহে পড়তে পারে না। তিনি বলেন, দুনিয়া হল আখেরাতের কামাইয়ের জায়গা। এখান থেকে পরকালের জীবনকে সাজাতে যার চেষ্টা যত বেশি হবে, পরকালে সে ততই সফলতা লাভ করবে। পরে মোনাজাতে মহান আল্লাহর কাছে সব পাপ ও অন্যায় থেকে মুক্তির জন্য আকুতি জানান মুসল্লিরা। দেশ-জাতি ও মানবতার কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়। দোয়া করা হয় মিয়ানমারের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য।

Monday, December 11, 2017

সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব: এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা

বরিশালে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এক স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাতে নগরীর রুপাতলীর শেরে বাংলা সড়কের জাহিতুন্নেছা মহিলা মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আবু সালেহ। সে শেরে বাংলা সড়ক এলাকার লিটন মৃধার ছেলে ও নগরীর নুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। নিহতের মামা মাসুম বিল্লাহ জানান, গত ১৮ নভেম্বর সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে আবু সালেহর সঙ্গে সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের ছাত্র হৃদয় রহমানের মারামারি হয়। পরে শালিসি বৈঠকে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। রোববার প্রাইভেট পড়ে বাসায় ব্যাগ রেখে চায়ের দোকানে আসে সালেহ। এসময় রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হৃদয়। পরে তাকে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার সহকারী কমিশনার ফরহাদ সরদার জানান, হামলাকারীকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Sunday, December 3, 2017

বরিশালে মেডিক্যাল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, গ্রেফতার ১

নিহত সাদিয়া, গ্রেফতারকৃত সিরাজুল
বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির প্যাথলজি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী সাদিয়া আক্তারকে (২১) অপহরণ করে ধর্ষণ শেষে হত্যার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ওই উপজেলার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদারের পুত্র সিরাজুল ইসলামকে (২৫) গ্রেফতার করেছে।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি কেএম তারিকুল ইসলাম জানান, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে সিরাজুল পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, ধর্ষণের বিষয়টি ওই ছাত্রী ফাঁস করার হুমকি দেয়ায় তাকে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দিয়েছে। বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই আব্দুল ওহাব জানান, গত ২০ নভেম্বর নগরীর ২৭নং ওয়ার্ডের ডেফুলিয়া খান বাড়ীর বাসিন্দা আলমগীর হোসেন খানের কন্যা ওই ছাত্রী কলেজের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় সাদিয়ার পিতা ২২ নভেম্বর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে এবং ওই ছাত্রীর মোবাইল নম্বর ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ সিরাজুল ইসলামকে আটক করে। মঠবাড়িয়া থানার ওসি আটককৃত সিরাজুল ইসলামের বরাত দিয়ে আরও জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর সাথে ঘটনার ১৫ দিন পূর্বে সিরাজের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের কথা বলে গত ২০ নভেম্বর ওই ছাত্রীকে বরিশাল থেকে মঠবাড়িয়ায় এনে তার সহযোগীদের নিয়ে একাধিকার ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষণের বিষয়টি ওই ছাত্রী ফাঁস করার হুমকি দেয়ায় তাকে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেয়া হয়। ওসি আরও জানান, এখন পর্যন্ত নিহত ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের আটকের জন্যও পুলিশের অভিযান চলছে বলেও ওসি উল্লেখ করেন।
বাল্যবিয়ের শিকার কিশোরীর আত্মহত্যা
বাল্যবিয়ের শিকার বরিশাল নগরীর ৫নং ওয়ার্ডের পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা কিশোরী সিমা আক্তার (১৬) শনিবার দুপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহত সিমা ওই এলাকার সিরাজ সিকাদারের কন্যা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্বামী মেহেদী হাসানের সাথে অভিমান করে সিমা পরিবারের সবার অজান্তে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। স্বজনরা মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কাউনিয়া থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের না করায় লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।