Monday, September 21, 2026
যক্ষ্মা হতে পারে শরীরের যেকোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গে, চিকিৎসা কী by ডা. আয়শা আক্তার
তবে ফুসফুসে যক্ষ্মা সংক্রমণের হার ৮৫ শতাংশের বেশি হওয়ায় সেটাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফুসফুসের বাইরে বাকি ১৫ শতাংশ যক্ষ্মা শরীরের অন্য যেকোনো জায়গায় হতে পারে। বলা যায়, হাত–পায়ের নখ ও মাথার চুল ছাড়া শরীরের যেকোনো জায়গায় যক্ষ্মা হতে পারে।
ফুসফুসের বাইরে যক্ষ্মা
ফুসফুসের বাইরে লসিকাগ্রন্থি বা লিম্ফ নোডের যক্ষ্মা সবচেয়ে বেশি হতে দেখা যায়। সম্প্রতি সার্জিক্যাল অপারেশনের পর সেই ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা জীবাণু সংক্রমণের হার বাড়ছে। এ ছাড়া হাড়, মেরুদণ্ড ও মস্তিষ্কে যক্ষ্মার সংক্রমণও কম নয়।
সুপ্ত যক্ষ্মার জীবাণু শরীরে অনেক বছর বেঁচে থাকতে পারে। একে লেটেন্ট টিবি বলে। সক্রিয় বা অ্যাকটিভ না হলে এটি অসুস্থতা সৃষ্টি করে না। এটিকে সুপ্ত যক্ষ্মা বলা হয়। যখন কোনো কারণে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়, তখনই এটি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
চিকিৎসা কী
সঠিক ও নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে যক্ষ্মা সম্পূর্ণ ভালো করা সম্ভব। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুরো কোর্স সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। এটা ব্যক্তিভেদে ৬ মাস, ৮ মাস বা ১২ মাস, এমনকি ১৮ মাস লাগতে পারে। কারণ, কেউ যদি সম্পূর্ণ কোর্স, যাঁর জন্য যতটুকু প্রয়োজন, তা শেষ না করেন, তাহলে ওষুধপ্রতিরোধী যক্ষ্মা হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তখন আর সাধারণ ওষুধে যক্ষ্মা সারে না।
বিশেষ অঙ্গের যক্ষ্মায় এর বাইরে আরও কিছু চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে, যেমন স্টেরয়েড, অস্ত্রোপচার ইত্যাদি। ফুসফুসের যক্ষ্মায় কাশি বা কাশির সঙ্গে রক্তপাত থাকে। অন্য যক্ষ্মায় এমনটা না-ও হতে পারে।
এর উপসর্গ নির্ভর করে কোথায় যক্ষ্মা হয়েছে, তার ওপর। যেমন কোমর বা মেরুদণ্ডে ব্যথা ও ফ্র্যাকচার, গলা ও অন্যান্য স্থানের লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া, পেটে পানি আসা, চেতনা লোপ পাওয়া ইত্যাদি।
যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী জ্বরে যক্ষ্মার কথা মনে রাখতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
* ডা. আয়শা আক্তার, উপপরিচালক, ২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতাল, আগারগাঁও, ঢাকা
![]() |
| যক্ষ্মার জীবাণু শুধু ফুসফুসকে আক্রান্ত করে তা নয়, এটি মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে লিভার, কিডনি, ত্বক বা শরীরের চামড়া-হাড়সহ দেহের যেকোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। ছবি: স্কুল অব পাবলিক হেলথ, বোস্টন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুঃস্বপ্নের শৈশব থেকে আপত্তিকর প্রস্তাব, পর্দার আড়ালে জয়ার কঠিন জীবন
শুরুর গল্প
১৯৭৮ সালে লক্ষ্ণৌয়ের এক বাঙালি পরিবারে জন্ম জয়ার। ছোটবেলায় পাড়ার লোকজন তাঁকে আদর করে ডাকত ‘বুলবুল’। কিন্তু সেই ডাকে উষ্ণতার চেয়ে বেদনাই বেশি ছিল। নিজের শৈশবের কথা বলতে গিয়ে তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন—মা-বাবার অমিল, অপূর্ণতা, ক্রোধের আগুন সবই এসে পড়েছিল তাঁর ওপর। চপেটাঘাত, জুতো—কী দিয়ে যে মার খেয়েছেন, তার হিসাব নেই। এই নির্যাতন তাঁকে জেদি করেছে, আবার ভেতরটা ক্ষতবিক্ষতও করেছে।
জয়ার কথায়, মা তাঁর প্রতি কখনো আস্থাশীল ছিলেন না। অন্যের কথা সহজেই বিশ্বাস করতেন, এমনকি নিজের মেয়েকেও অপমান করতেন সামনাসামনি। তৃতীয় শ্রেণি থেকে কলেজপড়ুয়া হওয়া পর্যন্ত তাঁদের পরিবার একটি ছোট ঘরে কোনোরকমে টিকে ছিল। তাঁর বাবা ছিলেন আত্মসম্মানী, সৎ মানুষ; কিন্তু তিনিও নানা অপমানে আঘাত পেয়েছেন পুরো জীবনটা।
শৈশব-কৈশোরে বন্ধুবান্ধব প্রায় ছিলই না; কারণ, মা জয়াকে কারও বাড়িতে যেতে দিতেন না। এদিকে নৃত্য ও সংগীতে ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও তাঁকে জোর করে অভিনয়ে ঠেলে দেওয়া হয়। একটি টেলিফিল্মে প্রথম অভিনয়ের সুযোগ আসতেই বাবা তাঁকে ভোরবেলা টেনে তুলে শুটিং স্পটে নিয়ে গিয়েছিলেন—যদিও তিনি সে কাজ করতে চাননি।
আপত্তিকর প্রস্তাব
এই পথে চলতে গিয়েই জয়া অভিজ্ঞতা পান শোবিজের অন্ধকার দিকের—অশোভন প্রস্তাব, কাস্টিং কাউচ, হুমকি, ভীতি। ১৭-১৮ বছর বয়সে এক পরিচালক ও তাঁর বন্ধুর সঙ্গে যুক্ত একটি ভয়ংকর ঘটনার কথাও বলেন তিনি; এমনকি একসময় তাঁকে মুম্বাই নিয়ে যেতে চেয়েছিল এক মাফিয়া-সম্পৃক্ত ব্যক্তি।
মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক এমন জায়গায় গিয়েছিল যে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়, মেয়ের বিয়ের জন্য ‘পণের টাকা কোথায় পাবে’—এই তুচ্ছ অপমান থেকে বাঁচতে তিনি ঘর ছাড়েন। সহপাঠীকে নিয়ে পালিয়ে যান হরিদ্বার; সপ্তাহভর আশ্রমে লুকিয়ে থাকেন ভয়ে। পরে মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক আর কখনো স্বাভাবিক হয়নি। হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও মা তাঁকে দোষারোপই করেছেন—‘তুই আমাকে হাসপাতালে ঢুকিয়ে আমার শরীর খারাপ করে দিয়েছিস।’ অথচ জয়া সব সঞ্চয় খরচ করেছিলেন মায়ের চিকিৎসায়।
জীবনের বাঁকবদল
জয়ার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ২০০০ সালে, যখন তাঁকে ‘কিউঁকি সাস ভি কভি বহু থি’-তে পায়েলের চরিত্রে নেওয়া হয়। এক মাসের জন্য আসা চরিত্রটি চলতে থাকে প্রায় সাড়ে সাত বছর, তা–ও কোনো চুক্তি ছাড়াই! ছিলেন সবচেয়ে কম বেতনের অভিনেত্রীদের একজন। সম্মান পাননি, স্বীকৃতি পাননি। কিন্তু নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ‘ঘৃণা’ পেয়েছেন প্রচুর, যা তাঁর সাফল্যেরই প্রমাণ।
একবার স্মৃতি ইরানির সঙ্গে রাস্তার ধারের দোকানে খাওয়ার সময় অন্তঃসত্ত্বা নারী জয়াকে ধাক্কা দিয়ে বলেন—‘আপনার থেকে দূরে থাকতে হবে। না হলে গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হবে!’ এতটাই প্রভাব ছিল তাঁর অনস্ক্রিন চরিত্রের।
‘কিউঁকি’র পর জয়া ‘বানু মোঁ তেরি দুলহন’, ‘কসম সে’, ‘করম আপনা আপনা’-সহ বহু জনপ্রিয় সিরিয়ালে কাজ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে ‘দিল্লি ক্রাইম সিজন ৩’-এ তাঁর অভিনয়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে
![]() |
| জয়া ভট্টাচার্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Sunday, September 20, 2026
সেই যে আমার নানা রঙের উলগুলি by সুজন সুপান্থ
ক্যালেন্ডারে শীত আসার আগেই প্রকৃতিতে শীতের রং লেগেছে। ঝুপ করে নেমে আসছে সন্ধ্যা, হিমের চাদর জড়িয়ে নিচ্ছে আকাশ। মাঠ, ঘাস আর রাতে ফোটা শিউলি ফুল সকালের শিশিরে জবুথবু। জবুথবু হয়ে আছে পথের ধারে ফোটা ছোট্ট নীল ফুলের হাসি, তার নাম জেনেছি কানাইবাঁশি। আসলে ফুল ফোটাবে বলেই বৃষ্টিহীন দিনে বুনো গাছ ভিজিয়ে দিয়ে যায় শিশিরের কণা।
আচ্ছা এই যে কুয়াশা, শিশির আর শিরশিরানি—এসবই কি হেমন্তের নিজস্ব? শীতের কাছে কি তার কোনো ঋণই নেই? আবার এ কথাও তো ঠিক, হেমন্ত আছে বলেই না শীতের এত আড়ম্বর। আর তা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
ধুলা ঝেরে বাইরে এসেছে তোরঙ্গ। রাগ-অভিমান নয়, তবু এত দিন যাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল, এই হিম দিনে ‘সমারোহে এসো’ বলে বের করা হচ্ছে শীতের নানা রঙের পোশাক। গায়ে জড়ানোর আগে বাড়ির ছাদ ও উঠানগুলোতে রোদ পোহাচ্ছে নানা রঙের উল।
আমার মায়ের ছিল টিনের তোরঙ্গ। এই তোরঙ্গ বাইরে এলেই বোঝা যেত, শীত সমাসন্ন। তোরঙ্গ খুলতেই বেরিয়ে আসত ন্যাপথলিনের গন্ধমাখা ছোটবেলার সোয়েটার, গায়ে দেওয়ার জন্য পরে আর কোনো দিন যার ডাক পড়েনি। বেরিয়ে আসত ঠাকুরমার বোনা পুরোনো কাঁথা। ঠাকুরমা নেই, তবু প্রতি শীতে একবার কাঁথায় মা ছুঁয়ে নিতেন তাঁর মায়ের আঙুল।
তোরঙ্গের একদম নিচে পাট করা থাকত বাবার তরুণ বয়সের মাফলার আর চাদর। ওই মাফলার ও চাদর কখনো রোদ পেত না, পেত আদর। তোরঙ্গ থেকে বের করে গলা ও গায়ে জড়িয়ে আবার গুছিয়ে রেখে দিতেন পরের শীতে নেড়ে দেখার জন্য। এমনই প্রেম আর ম্যাজিক নিয়ে আসত শীতকাল।
ছোটোবেলায় শীতকাল আসত ভয় সঙ্গে নিয়ে। পরীক্ষার ভয়। ভয় কাটিয়ে স্কুলফেরত পথে হঠাৎ ফাঁকা জমিতে দেখা যেত বিশাল তাঁবু। জোড়া হাতি ও জোকারের ছবি আঁকা গেটে লেখা, ‘দ্য রওশন সার্কাস’ বা ‘বুলবুল সার্কাস’।
এই তাঁবুই বুঝিয়ে দিত, ‘এসেছে শীতের দূত,/ এ লগন রোদ পোহাবার।’ ভোরে শিশিরভেজা ঘাসে হাঁটলে ঠান্ডায় লাল হয়ে যেত নাক। তাই মনে হতো, সার্কাসের জোকার লাল বলের নাকে করে বয়ে এনেছে শীতের রসদ। এবার ম্যাজিক করে তা ছড়িয়ে দেবে পুরো মফস্সলে।
অন্য সব মফস্সলের মতোই আমাদের মফস্সলে আকাশে ধোঁয়ার চাদর বিছিয়ে বিষণ্নতা নিয়ে আসত ক্ষণস্থায়ী বিকেল। ঠান্ডার অজুহাতে চিকলির বিলে গা ঘেঁষে বসে থাকত প্রেমিক-প্রেমিকা। কেউ আবার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে হারিয়ে যেত ঝুপ করে নেমে আসা সন্ধ্যায়, সাদা কুয়াশায় ভরে যেত চারপাশ। এ রকম বহু প্রেম ও বিচ্ছেদের স্মৃতি হয়ে আসত শীত।
দুই
‘হরেক রঙের বাহারে,/ সকাল হলো আহারে’ গানের মতোই হাজির হতো নব্বইয়ের দশকের শীতের সকাল। অচেনা কোনো আরোহীর সাইকেলের বেল বাজাতে বাজাতে ঘন কুয়াশা পেরিয়ে যাওয়ার শব্দে শুরু হতো সকাল; কিংবা লেপ-তোশক তৈরির ধুনকারের হাঁকে। খেজুরগাছ থেকে রসের হাঁড়ি নামিয়ে আলপথ পেরিয়ে আসতেন গাছি।
কুয়াশা রঙের এই ঠান্ডা রস খাওয়ার পর নিজেকে উষ্ণ করার একমাত্র উপায় ছিল ‘পোড় পোহানো’। এ জন্য আগের দিন বিকেলেই প্রস্তুতি নিতে হতো। খড়, জমির কোণে পড়ে থাকা শুকনা ঘাস-পাতা ও ঘুঁটে কুড়িয়ে এনে ঢেকে রাখতে হতো।
সকালে ওই স্তূপে আগুন জ্বালানো হতো। চারপাশে গোল হয়ে বসে আগুন পোহাত জাড়ে জবুথবু কয়েক বাড়ির মানুষ। এরই মধে৵ হয়তো কেউ ‘গিলিগিলি ছুঁ’ বলে আগুনজ্বলা ছাইয়ের ভেতর থেকে বের করে আনত পাতলা খোসার নতুন আলু। আগুন ও আলু পোড়ার ঘ্রাণে ভেসে যেত সকালের কুয়াশা।
তিন
বেলা বাড়তে থাকলে উঠানের কোণে নরম রোদ এসে পড়ে। রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে উঠানে পাটি পেতে বই-খাতা নিয়ে বসে পড়তাম। রোদ পোহানো আর পড়াশোনা একসঙ্গে চলত। পাশে রোদ পোহাত পাখিরাও; রোদ পোহাত আচারের বয়াম, মায়ের নারকেল তেলের শিশি। এই রোদের লোভে পাশের বাড়ি থেকে ছুটে আসত সহপাঠী ববি। এমনই মায়া আর আরাম নিয়ে আসত সকালবেলার মখমলি রোদ।
যার ঘরে দেয়াল নেই, এমনকি শীতের পোশাকও নেই; যে শিশুটি বাবার লুঙ্গি গলা থেকে পা পর্যন্ত মুড়ে এসেছে আগুন পোহাতে, তার ঘরে, তার গায়েও লুটিয়ে পড়ে এই শীতের নরম রোদ। মানুষে মানুষে বিভেদ করার কোনো ষড় নেই রোদের। এমনই রোদের মাঝে বসে খোসা ছাড়িয়ে কমলালেবুর কোয়া খেতে দিতেন বাবা।
উঠানজুড়ে ভেসে বেড়াত সেই কমলালেবুর ঘ্রাণ। মনে হতো, এই উঠান যেন এক বিষণ্ন কমলালেবুর দেশ, যে দেশের রান্নাঘর থেকে ভেসে আসত অমৃতের ঘ্রাণ। মায়ের হাতে বানানো ভাপা, চিতই পিঠা, দুধ-পুলি কিংবা খেজুর রসের পায়েসের এই ঘ্রাণ পাওয়া যেত বেশ দূর থেকে; এমন ঘ্রাণ ভেসে আসত পাড়ার আর সব বাড়ি থেকেও। কী স্বাদ সেসব পিঠার!
বেলা আরেকটু বাড়লে ঝিমধরা রোদ পোহাতে আসতেন মা ও পাশের বাড়ির দিদিরা। পিঁড়ি পেতে বসে গল্প করতে করতে আশ্চর্য রঙের আলুশাক বেছে সুপারির খোলে রাখতেন তাঁরা।
কাঁচা টমেটোর সালাদ আর মাটি ফুঁড়ে কিছুদিন আগে বের হওয়া রসুন-পেঁয়াজের পাতা ও চিংড়ি দিয়ে সামান্য মুলার ঝোলে ভাত মেখে খেতে কী যে তৃপ্তি ছিল সে সময়! রান্নাঘর ভরে থাকত আচারের জন্য পাকা চালতা আর পেঁয়াজ-রসুন ও ধনেপাতার সুঘ্রাণ। এই ঘ্রাণ কি শুধুই চালতা আর পাতার! শীতের নিজস্ব ঘ্রাণ নয়?
চার
দুপুরের খাওয়া শেষে টুলে বসে ‘আদর’ বুনে রাখতেন মা। নানা রঙের উলের বল নিয়ে ক্রুশকাঁটায় বুনতেন এই আদর। এই উলের বল গড়াতে গড়াতে চলে যেত পরের বছর শীতে। কখনো পুরোনো শাড়িতে বুনে রাখতেন নতুন কাঁথা। এখন কি কেউ অমন যত্ন করে কাঁথা বা উল বোনেন? এই ‘ব্রেন রট’-এর যুগে মানুষের কি মনে থাকে বহু আগামীর কথা!
সুইডেনের ইউনিভার্সিটি অব গোথেনবার্গের তিন গবেষক জোয়ানা নর্ডস্ট্র্যান্ড, বিরজিতা গানারসন ও গ্রেটা হেগব্লুম-ক্রোনলফ ‘প্রোমোটিং হেলথ থ্রু ইয়ার্নক্র্যাফট: এক্সপেরিয়েন্সেস অব অ্যান অনলাইন নিটিং গ্রুপ লিভিং উইথ মেন্টাল ইলনেস’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছেন, উল বুনলে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য বুনন খুবই উপকারী। জার্নাল অব অকুপেশনাল সায়েন্সে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, সুই-সুতা আর ক্রুশকাঁটা অনেক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।
পাঁচ
‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের বৃদ্ধা ইন্দির ঠাকরুনের কথা মনে আছে? যিনি গায়ের ছেঁড়া চাদরের ফাঁক দিয়ে মুখ বের করে হরিকে বলেন, ‘বুড়ো মানুষকে কে দেখে বল? এই দেখ না, এই চাদরখানা! এই সন্ধ্যাবেলায় গায়ে দিয়ে বসি।’
হরি জানায়, ‘তা বেশ তো, এবার পূজোয় একখানা নতুন চাদর কিনে দেব।’
জবাবে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ইন্দির এক গাল হেসে আকুতি জানিয়েছেন, ‘হ্যাঁ, দিবি তো! হ্যাঁ, দিবি তো! ও হরি, হ্যাঁ, দিবি তো! ও হরি…।’
মফস্সলে এমন অসংখ্য ইন্দির আছেন। শীতের কুয়াশা আর নরম রোদ যেমন সবাই দেখে, তেমনি এই ইন্দিরের মতো বয়স্ক মানুষকেও সবাই দেখুক। একটি চাদরের উষ্ণতা নিয়ে হাসিমুখে শরৎ আর বসন্তের মাঝে এই নাতিদীর্ঘ হিমসেতু পেরিয়ে যাক তাঁরাও।
ছয়
রোদ পোহাতে বসা সেই বিষণ্ন কমলালেবুর দেশ পেরিয়ে এক নির্জন প্রান্তরে এসে পড়েছি। এখানে হেমন্ত আসে, শীত আসে; কিন্তু মখমলি রোদ আসে না। এখানে সঙ্গ দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)।
মানুষ হয়তো আর বুনবে না, এআইয়ের কোনো ভার্সন একদিন বুনে দেবে উল। জেমিনিকে প্রম্পট দিয়েছি, কিশোর বয়সের ফেলে আসা সেই বিষণ্ন কমলালেবুর দেশে নিয়ে যাও? অমনি দেখি, হুবহু কিশোর আমি পাটি পেতে বসে আছি বাড়ির রোদজ্বলা উঠানে!
বলেছি আবার, ভোরবেলা এই মুখের ওপর টুপ করে ফেলে দিয়ো টিনের চালা বেয়ে নামা শিশিরের ফোঁটা বা উঠানের কোণ থেকে এনে দাও কিছু নরম রোদ্দুর। দেবে বলে বাফার করছে জেমিনি। দীর্ঘ বাফারিংয়ের সামনে বসে শিশিরের হিমে ভিজে জবুথবু কানাইবাঁশি ফুলের মতো কেবলই শীত করতে থাকে…।
![]() |
| গরমকাপড় আর মায়ের কোল—শীতে ওম পেতে আর কী লাগে! ছবি: মঈনুল ইসলাম |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অপ্রতিম হত্যায় অভিযুক্তকে নিয়ে ভুক্তভোগীর ক্ষোভ: ‘চোর তুহিন থেকে খুনি তুহিন’ by এম হাসান
তার অভিযোগ, রাজনৈতিক দলের এক প্রভাবশালী নেতার হাত থাকায় অতীতে একাধিক অভিযোগ সত্ত্বেও পুলিশ তুহিনের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
শনিবার ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে আসাদ উল্লাহ সোহাগ জানান, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল তিনি তুহিনের প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। তাকে একই কৌশলে ডেকে নিয়ে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি হাতিয়ে নেয় তুহিন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে আসাদ উল্লাহ সোহাগ তার পোস্টে লেখেন, সেদিন আমাকে কৌশলে ডেকে এনে আমার বাইকটি নিয়ে যায় তুহিন। এ ঘটনায় মামলা করতে যখন আমি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় যাই, তখন পুলিশ মামলা না নিয়ে কেবল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করেছিল।
তিনি পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে লেখেন, তুহিনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে থানা পুলিশ আমাদের জানিয়েছিল, তার মাথার ওপর একটি রাজনৈতিক দলের বড় নেতার হাত রয়েছে। তাই তাকে যেন কিছু না করা হয়—এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছিল। সেদিন আমি চুপ ছিলাম, কিন্তু আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি—দেশের পুলিশের শুধু পোশাকই পরিবর্তন হয়েছে, চরিত্র বদলায়নি! অর্থ ছাড়া এই দেশে সহজ বিচারে সুবিচার পাওয়া যায় না।
মোটরসাইকেল খোয়ানোর চেয়ে সামাজিক অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়াকে দায়ী করে তিনি আরও লেখেন, আমার বাইকটি চুরির বিষয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। কিন্তু ছোট ছোট অপরাধের সঠিক বিচার না হলে অপরাধীরা পরবর্তী সময়ে কত বড় ও ভয়ানক অপরাধ ঘটানোর সাহস পায়, তা আজকের এই ঘটনা প্রমাণ করে। সেদিন যেসব নেতা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তাকে আইন ও বিচার থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, আজকে তারা তাকে কীভাবে বাঁচাবেন?
উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে এই তুহিন অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সোয়া হাতের জুতার গল্প, ২০০ বছরের কুঠিবাড়িতে যত রহস্য
স্থানীয়দের মুখে সবচেয়ে বেশি শোনা যায় কুঠিবাড়ির ‘সোয়া হাতের জুতা’র গল্প। কথিত আছে, খাজনা বকেয়া রাখা কিংবা অপরাধের অভিযোগে প্রজাদের শাস্তি দিতে সোয়া হাত মাপের একজোড়া জুতা ব্যবহার করা হতো। ওই জুতা দিয়ে অপরাধী প্রজাদের পেটানো হতো বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত দলিল পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আঠারো শতকের গোড়ার দিকে ইংরেজ জমিদার এডওয়ার্ড প্যারি ক্যাসপার এখানে কুঠিবাড়ি নির্মাণ করেন। সাপলেজায় আসার পর স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তি ফরাজউল্লাহ তাকে জমি উপহার দেন বলে প্রচলিত আছে। পরে সেখানে ক্যাসপারের জমিদারি বিস্তৃত হয়।
একসময় পৌষ মাসের শেষদিকে এই কুঠিবাড়িতে আয়োজন করা হতো পুণ্যাহ উৎসব। খাজনা আদায়ের পাশাপাশি উৎসবে জাদু প্রদর্শনী, লোকগান, যাত্রাপালা ও নিমাই সন্ন্যাস পালার আয়োজন করা হতো। এসব দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের সমাগম ঘটত।
কুঠিবাড়ির মূল ভবনটি ব্রিটিশ স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। চৌকোণাকৃতির ১৮টি খিলানের ওপর নির্মিত ভবনটি দোতলা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এর সঙ্গে ছিল আরও কয়েকটি স্থাপনা এবং বড় একটি পুকুর। স্থানীয়দের দাবি, ভবনের ওপরের তলায় ক্যাসপারের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী ও তৈজসপত্র সংরক্ষিত থাকত।
কুঠিবাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘শিলারগঞ্জ’ নামটিও। স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্রিটিশ আমলের জমিদার শিলার সাহেবের নাম থেকেই এলাকার নাম হয়েছিল শিলারগঞ্জ। তার ছেলে এডওয়ার্ড প্যারি ক্যাসপার এখানে কুঠিবাড়ি নির্মাণ করেন। পরে এলাকার নাম সাপলেজা হলেও ডাকঘরের নাম পরিবর্তন হয়নি। এখনো ‘শিলারগঞ্জ পোস্ট অফিস’ নামটি চালু রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুঠিবাড়িতে নায়েব ও পাইক-পেয়াদাদের থাকার জন্য আলাদা ভবন ছিল। একটি দ্বিতল ভবনের নিচতলায় অফিসে বসে খাজনা আদায় ও বিচারকার্য পরিচালনা করা হতো। ক্যাসপারের একটি বড় বোটও ছিল বলে জানান তারা। শীত মৌসুমে তৎকালীন চন্দ্রদ্বীপ, বর্তমান বরিশাল, থেকে তিনি ওই বোটে করে কুঠিবাড়িতে আসতেন বলে প্রচলিত আছে।
শীতকালে থাকার উপযোগী রাখতে ভবনটি উষ্ণ রাখার বিশেষ ব্যবস্থাও ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের ভাষ্য, মূল ভবনের নিচের চার কোণে কয়লার আগুন জ্বালানোর ব্যবস্থা ছিল।
তবে কুঠিবাড়ির ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত লিখিত তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না। ফলে ক্যাসপারের ব্যক্তিজীবন, তার জমিদারি পরিচালনা এবং কুঠিবাড়ি নির্মাণের নানা বিষয় এখনো অনেকটাই অজানা। স্থানীয়দের কাছে থাকা ক্যাসপারের ব্যবহৃত দুটি তরবারিসহ বেশ কিছু পুরোনো তৈজসপত্রও এখন আর দেখা যায় না।
বর্তমানে কুঠিবাড়ির তিনটি ভবনই সংস্কারের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুকুরের শানবাঁধানো ঘাটও হারিয়েছে আগের জৌলুশ। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ক্ষয়ের চিহ্ন। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে স্থাপনাটির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি মালিকানায় গেলেও ঐতিহাসিক এই স্থাপনা সংরক্ষণে এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অল্প কিছু বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল। তা দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে আরও ভালোভাবে সংস্কার করা হবে, যাতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসতে পারেন।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কুঠিবাড়িটি শুধু একটি পুরোনো ভবন নয়; এটি মঠবাড়িয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে এর ইতিহাস অনুসন্ধান, প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও যথাযথ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তা না হলে অযত্নে হারিয়ে যেতে পারে দুই শতকের পুরোনো এই ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা গল্প ও স্মৃতি।
![]() |
| ২০০ বছরের পুরোনো কুঠিবাড়ি। ছবি: কালবেলা |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সব খাবারে কি কারও অ্যালার্জি হতে পারে?
প্রশ্ন: আমার একেক সময় একেক খাবারে অ্যালার্জি হয়। দীর্ঘদিন ধরে কোনো খাবারই ঠিকমতো খেতে পারি না। অ্যালার্জিতে ত্বকের বিভিন্ন স্থানে র্যাশ ওঠে। আমি একজন নারী, বয়স ২৩। আমি কি খেয়ে বাঁচব?
- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
পরামর্শ: আপনার বর্ণনা শুনেই ভোগান্তির মাত্রাটা অনুভব করতে পারছি। কিন্তু আপনি নির্দিষ্ট সময়ের কথা উল্লেখ করেননি। ঠিক কত মাস বা বছর ধরে আপনার এই সমস্যা হচ্ছে? আপনি কি ছোটবেলা থেকেই অ্যালার্জিতে আক্রান্ত? সে ক্ষেত্রে আগে কোনো চিকিৎসা নিয়েছেন কি না, তা–ও জানা প্রয়োজন।
নানা কারণে হতে পারে অ্যালার্জি। কখনো এটি বংশগত। আবার পরিবেশগত কিছু কারণও থাকতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু খাবার থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। কিন্তু সব খাবারেই আপনার অ্যালার্জি হচ্ছে বলে যেটা মনে করছেন, তা ঠিক নয়। কিছু কিছু খাবার থেকে অ্যালার্জি হতে পারে, কিন্তু সব খাবারেই অ্যালার্জি নেই।
আপনি একজন অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরাসরি পরামর্শ নিন। চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যালার্জি প্যানেল টেস্ট করিয়ে নিন। এই টেস্টের মাধ্যমে কোন কোন খাবারে আপনার অ্যালার্জি রয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে জানতে পারবেন।
এ ছাড়া বাসাবাড়ির ধুলাবালু, পুরোনো শীতের কাপড়, লেপতোশকে জমা হওয়া মাইট কিংবা পোষাপ্রাণীর পশম নাকে গেলেও অ্যালার্জি হতে পারে। আপনার ক্ষেত্রে কোনটি বেশি দায়ী, এই পরীক্ষার মাধ্যমে তা শনাক্ত করা যাবে।
বর্তমানে অ্যালার্জির কারণে আপনার ত্বকে যে র্যাশ উঠেছে, তা–ও সরাসরি না দেখে ওষুধপথ্য দেওয়া সম্ভব না। র্যাশের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। আপনি সমস্যাটিকে আর অবহেলা করবেন না। আশা করি সুচিকিৎসায় উপকার পাবেন।
![]() |
| কিছু কিছু খাবার থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। ছবি: পেক্সেলস |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Saturday, September 19, 2026
‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ ও চব্বিশের বিপ্লবীরা by মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন
এরপর তিনি যা বললেন, সেটিই এই লেখার কেন্দ্রীয় বাক্য—‘একধারে রাজশক্তি, একধারে সত্য। একজন রাজা, হাতে রাজদণ্ড; আর একজন সত্য, হাতে ন্যায়দণ্ড।’ এক বাক্যে গোটা ঔপনিবেশিক আইনব্যবস্থার মুখোশটা খুলে গেল। রাষ্ট্র বলতে চায়, আইন আর ন্যায় এক জিনিস; আদালত বলতে চায়, রায় আর সত্য এক জিনিস। নজরুল দেখিয়ে দিলেন—না, ওরা দুই জিনিস এবং প্রায়ই ওরা পরস্পরের শত্রু। রাজদণ্ডের হাতে থাকে পুলিশ, দণ্ডবিধি, কারাগার আর ফাঁসিকাঠ। ন্যায়দণ্ডের হাতে থাকে কেবল একটি কণ্ঠস্বর। কিন্তু ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, দ্বিতীয়টিকে ভয় পায় প্রথমটি; উল্টোটা নয়।
নজরুল নিজের অবস্থানকে গুলিয়ে ফেলতে দেননি এক মুহূর্তের জন্যও। তিনি রাজদ্রোহী নন—তিনি অন্যায়ের বিদ্রোহী। এই পার্থক্যটুকু তার জবানবন্দির প্রাণ। রাষ্ট্র চেয়েছিল তাকে একটি অপরাধীর খোপে ঢুকিয়ে দিতে, যাতে তার কথার কোনো নৈতিক ওজন না থাকে। তিনি সেই খোপ ভেঙে বেরিয়ে এসে বললেন, তার বিদ্রোহ কোনো ব্যক্তি বা সিংহাসনের বিরুদ্ধে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। ‘আমি কবি, আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য, অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তিদান করার জন্য ভগবান কর্তৃক প্রেরিত।’ এই আত্মপরিচয়ের ঠিকানাটিই ঔপনিবেশিক আদালতের কাছে সবচেয়ে বিপজ্জনক ছিল। কারণ যে মানুষ নিজের বৈধতা রাষ্ট্রের কাছ থেকে নেয় না, তাকে রাষ্ট্র অবৈধ ঘোষণা করে কোনো লাভ নেই।
একশ বছর পর, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, বাংলাদেশের রাস্তায় ঠিক এই দৃশ্যটাই আবার মঞ্চস্থ হলো। একদিকে রাজদণ্ড—রাষ্ট্রীয় বাহিনী, দলীয় ক্যাডার, কারফিউ, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, গণগ্রেপ্তার, ‘ব্লক রেইড’। অন্যদিকে ন্যায়দণ্ড—হাতে কেবল একটা প্ল্যাকার্ড আর গলায় একটা স্লোগান নিয়ে দাঁড়ানো শিক্ষার্থী। রংপুরে আবু সাঈদ যখন দুই হাত দুদিকে ছড়িয়ে পুলিশের বন্দুকের সামনে বুক পেতে দাঁড়ালেন, তখন তিনি আসলে একটি বাক্যকেই শরীরে অনুবাদ করছিলেন। রাজদণ্ডের হাতে ছিল রাইফেল, তার হাতে ছিল একটি লাঠি আর একটি সত্য। গুলিটা তার বুকে লাগল, কিন্তু ভিডিওটা লাগল গোটা দেশের বুকে।
রাষ্ট্র সঙ্গে সঙ্গে তাদের গায়ে নাম সেঁটে দিতে চাইল—জঙ্গি, রাজাকার, দেশের শত্রু, বিদেশি ষড়যন্ত্রের দালাল। ঠিক যেভাবে একশ বছর আগে নজরুলের গায়ে সেঁটে দেওয়া হয়েছিল ‘রাজবিদ্রোহী’ তকমাটি। এই নামকরণের রাজনীতিটা বোঝা জরুরি—শাসক আগে প্রতিবাদকারীর পরিচয় নির্ধারণ করে নেয়, তারপর সেই পরিচয়ের উপযুক্ত শাস্তিটা প্রয়োগ করে। নজরুল সেই ফাঁদে পা দেননি; তিনি রাষ্ট্রের দেওয়া নামটা ছুড়ে ফেলে নিজের নামটা নিজে ঘোষণা করেছিলেন। চব্বিশের শিক্ষার্থীরাও তাই করলেন—‘রাজাকার’ গালিটাকে তারা স্লোগানে রূপান্তরিত করে ফিরিয়ে দিলেন। অপমানকে অস্ত্র বানিয়ে ফেরত পাঠানোর এই কৌশলটা আসলে আত্মপরিচয়ের ওপর নিজের দখল ফিরিয়ে নেওয়া।
কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র কখনোই নতুন কৌশল আবিষ্কার করে না, সে কেবল ঔপনিবেশিক পুরোনো ম্যানুয়ালটাই আবার খুলে বসে। ব্রিটিশ যে ১২৪-ক ধারা দিয়ে নজরুলকে ধরেছিল, ফ্যাসিবাদী সরকার সেই একই যুক্তি দিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বানিয়েছিল। ব্রিটিশ যেভাবে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা’র নামে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করত, চব্বিশে সেভাবেই হল বন্ধ করে, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে, শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা হলো। রিমান্ডের নামে নির্যাতন, গুম হয়ে যাওয়া তরুণ, আয়নাঘরের গল্প—এসবের কোনোটিই বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্ভাবন নয়। এগুলো ঔপনিবেশিক আমলের উত্তরাধিকার, যা স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র পরম যত্নে সংরক্ষণ করেছিল, শুধু বন্দুকের নলটা ঘুরিয়ে দিয়েছিল নিজের নাগরিকদের দিকে।
নজরুল জানতেন, কারাগার আসলে ভয় উৎপাদনের কারখানা। শাসক একজনকে বন্দি করে দশ হাজারকে চুপ করানোর জন্য। তাই তার জবানবন্দির সবচেয়ে বড় আঘাতটা ছিল ভয়ের বিরুদ্ধে। তিনি বললেন, সত্য স্বয়ং-প্রকাশ; তাকে কারারুদ্ধ করা যায় না। কবিকে জেলে পোরা যায়, কিন্তু কবির বাণীকে নয়। এই কথাটির সত্যতা চব্বিশে আমরা চোখের সামনে দেখেছি। সরকার শত শত শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে গেছে, ডিবি অফিসে বসিয়ে জোর করে আন্দোলন প্রত্যাহারের বিবৃতি পড়িয়েছে ক্যামেরার সামনে। ফল কী হলো? পরদিন সেই ভিডিওটাই হয়ে উঠল সবচেয়ে বড় প্ররোচনা। জোর করে আদায় করা স্বীকারোক্তি রাষ্ট্রকে বাঁচায় না, ফাঁস করে দেয়।
‘কারার ওই লৌহকপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট’—নজরুলের এই লাইনটা এতদিন আমাদের কাছে ছিল অনুষ্ঠানের গান। চব্বিশে এটা আবার কাজের নির্দেশনা হয়ে উঠল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে যেদিন শিক্ষার্থীরা দখলদার ছাত্রসংগঠনকে বের করে দিলেন, যেদিন গেটের তালা ভেঙে মিছিল রাস্তায় নামল, সেদিন গানটার প্রতিটি শব্দ আক্ষরিক অর্থ ফিরে পেল। রাষ্ট্র ভেবেছিল হলগুলোই তার সবচেয়ে বড় দুর্গ, কারণ ওখানে সিট মানেই আনুগত্য। অথচ সেই দুর্গই প্রথম ভাঙল। ভয় জিনিসটা এমন—যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ পাথরের মতো শক্ত, আর ভাঙলে বালির মতো গুঁড়ো।
জবানবন্দিতে নজরুল নিজেকে বলেছিলেন বাঁশি—যন্ত্র, যন্ত্রী নন। বাণীটা তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, তিনি কেবল বাহক। এই বিনয়ের ভেতরেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক সত্য—যে কথার মালিক কোনো একক ব্যক্তি নয়, সেই কথা মেরে ফেলা যায় না। ব্রিটিশ নজরুলকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিল, ভেবেছিল ‘ধূমকেতু’র আগুন নিভে যাবে। নেভেনি। চব্বিশের আন্দোলনেরও কোনো একক নেতা ছিল না, কোনো একক দপ্তর ছিল না, যেটা দখল করলেই সব শেষ। সমন্বয়কদের ধরে নিয়ে গিয়েও রাষ্ট্র দেখল, পরদিন রাস্তায় মানুষ আরো বেশি। দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি, ফেসবুকের প্রোফাইল লাল—বাণীর কোনো একটা ঠিকানা ছিল না বলেই সেটা তল্লাশি করে পাওয়া গেল না।
তবে নজরুলের জবানবন্দিকে কেবল সাহসের দলিল বলে পড়লে তার অর্ধেকটা হারিয়ে যায়। ওটা একই সঙ্গে একটা নৈতিক দর্শনের দলিল। তিনি কোথাও প্রতিশোধের কথা বলেননি, ঘৃণার চাষ করেননি। তার বিদ্রোহ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অন্যায়কারীর ব্যক্তিসত্তার বিরুদ্ধে নয়। এই জায়গাটায় চব্বিশের তরুণদের সঙ্গে তার মিলটা সবচেয়ে গভীর। যখন আন্দোলনকারীরা নিহত পুলিশ সদস্যের জানাজায় দাঁড়িয়েছেন, যখন মন্দির পাহারা দিতে সারারাত জেগে থেকেছেন, তখন তারা আসলে সেই একই নীতিতেই দাঁড়িয়েছিলেন—অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই আর প্রতিহিংসা এক জিনিস নয়। এই পার্থক্যটুকু হারিয়ে ফেললে বিদ্রোহ নিজেই নতুন রাজদণ্ড হয়ে ওঠে।
আরেকটি প্রশ্ন এই লেখাটি লেখকদের দিকে ছুড়ে দেয়। নজরুল আদালতে দাঁড়িয়ে দাবি করেছিলেন, কবির দায়িত্ব সত্যকে প্রকাশ করা—সরকারের স্তুতি করা নয়, নিরপেক্ষতার ভান করে চুপ থাকাও নয়। অথচ চব্বিশের জুলাইয়ে যখন ছেলেমেয়েগুলো রাস্তায় মরছিল, তখন দেশের বহু প্রতিষ্ঠিত কবি, অধ্যাপক ও সাংবাদিক নীরবতাকেই ভদ্রতা বলে চালিয়ে দিয়েছিলেন। কেউ কেউ আরো এগিয়ে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের যৌক্তিকতা খুঁজেছিলেন। ‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ তাদের জন্য কোনো ছাড় রাখে না। যে কলম রাজদণ্ডের ছায়ায় আরাম খোঁজে, নজরুলের সংজ্ঞায় সে কলম আর কবির থাকে না, কেরানির হয়ে যায়।
এখানেই ‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ আমাদের সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নটা করে। নজরুল রাজশক্তির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, কোনো নির্দিষ্ট রাজার বিরুদ্ধে নয়। রাজদণ্ড হাতবদল হতে পারে, কিন্তু রাজদণ্ড রাজদণ্ডই থাকে। যে গুম-খুন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে চব্বিশের ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছিলেন, সেই একই যন্ত্র কাল অন্য কারো হাতে গেলে সে কি আপনাআপনি ন্যায়দণ্ড হয়ে যাবে? নজরুলের উত্তর পরিষ্কার—না। যে কণ্ঠ শুধু নিজের প্রতিপক্ষ ক্ষমতায় থাকলে সোচ্চার হয় আর নিজের লোক ক্ষমতায় এলে চুপ করে যায়, সে কণ্ঠ ন্যায়দণ্ড ধরেনি, সে শুধু রাজদণ্ডের পালা বদলের জন্য অপেক্ষা করছিল।
এই কারণেই জবানবন্দিটি এখনো ব্যবহারযোগ্য, জাদুঘরের জিনিস নয়। একটা রাষ্ট্র যখন প্রশ্নকে অপরাধ বানায়, তখন সে যে নামেই ডাকা হোক—ঔপনিবেশিক, জাতীয়তাবাদী, উন্নয়নবাদী, বিপ্লবী—চরিত্রে সে একই। নজরুল আদালতে দাঁড়িয়ে যে মৌলিক প্রশ্নটা তুলেছিলেন, সেটা হলো—সত্য বলার অধিকারের বৈধতা কে দেয়? রাষ্ট্র? তাহলে রাষ্ট্র যা শুনতে চায় না, তা কখনোই বলা যাবে না এবং কথার স্বাধীনতা কথাটার আর কোনো মানে থাকে না। তিনি সেই বৈধতার উৎসকে রাষ্ট্রের বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন—বিবেক ও সত্যের কাছে। এই স্থানান্তরটাই তার সবচেয়ে বড় বিদ্রোহ, কবিতার চেয়েও বড়।
চব্বিশের জুলাইয়ে যে ছেলেটি টিয়ারশেলের ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে দৌড়ে গিয়ে সহপাঠীর রক্তাক্ত শরীরটা কাঁধে তুলে নিয়েছিল, সে হয়তো ‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ পড়েনি। কিন্তু সে ঠিক ওই কাজটাই করছিল, যেটা নজরুল কাগজে করেছিলেন—রাষ্ট্রের ভয়কে অস্বীকার করা। বইয়ের সঙ্গে রাস্তার সম্পর্কটা এভাবেই তৈরি হয়। কোনো প্রবন্ধ কোনো মিছিল তৈরি করে না, কিন্তু মিছিলটা যখন তৈরি হয়ে যায়, তখন সে নিজের ভাষা খুঁজতে গিয়ে পুরোনো কণ্ঠস্বরগুলোকে আবিষ্কার করে। শহীদ মিনারের দেয়ালে যেদিন কেউ নজরুলের লাইন লিখে দিল, সেদিন একশ বছর আগের একটা আদালতকক্ষ আর ২০২৪ সালের একটা রাস্তা এক হয়ে গেল।
নজরুল সেই মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। জেলে গিয়ে অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে চল্লিশ দিন অনশন করেছিলেন। রাষ্ট্র শাস্তি দিতে পেরেছিল, কিন্তু বশ করতে পারেনি। শাস্তি আর বশীকরণের এই ব্যবধানটাই সব স্বৈরশাসনের চূড়ান্ত ব্যর্থতা। চব্বিশেও তাই হলো—রাষ্ট্র মারতে পেরেছিল, আটকাতে পারেনি; ইন্টারনেট বন্ধ করতে পেরেছিল, খবর আটকাতে পারেনি; কারফিউ দিতে পেরেছিল, রাস্তা খালি রাখতে পারেনি। যেদিন একটা রাষ্ট্র বুঝতে পারে যে তার নাগরিক আর ভয় পাচ্ছে না, সেদিন তার হাতে আর কোনো হাতিয়ার অবশিষ্ট থাকে না। বন্দুক তখন কেবল শব্দ করে, শাসন করে না।
‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ তাই কোনো একটি সালের দলিল নয়, একটি অবস্থানের নাম। যতদিন কোথাও কোনো তরুণকে সত্য বলার অপরাধে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে, যতদিন কোনো আদালত ন্যায়ের বদলে ক্ষমতার সেবা করবে, ততদিন এই লেখাটা কাউকে না কাউকে খুঁজে নেবে। চব্বিশ আমাদের শিখিয়েছে, ন্যায়দণ্ড কোনো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জিনিস নয়; প্রতিটি প্রজন্মকে সেটা নিজের হাতে তুলে নিতে হয় এবং প্রতিটি প্রজন্মকেই আবার প্রমাণ দিতে হয়, সে সেটা রাজদণ্ড বানিয়ে ফেলেনি। নজরুল কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যে প্রশ্নটা রেখে গিয়েছিলেন, সেটা এখনো আমাদের ঘাড়ের ওপর ঝুলে আছে—আপনার হাতে কোনটা?

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বর্তমান বাস্তবতা by মেজর জেনারেল এইচ আর এম রোকন উদ্দিন (অব.)
১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি প্রধান সশস্ত্র বিদ্রোহের অবসান ঘটিয়ে অস্ত্রধারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করে। চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি অথবা শক্তিশালী করা হয়। এটি নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক অর্জন, কারণ এর মাধ্যমে সশস্ত্র সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও শান্তির প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এখনো নিশ্চিত হয়নি। ভূমির মালিকানা, স্থানীয় পরিষদের ক্ষমতা ও নির্বাচন, বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্র ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রশাসনিক ক্ষমতা বণ্টন নিয়ে বিরোধ রয়ে গেছে। অসম্পূর্ণ বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন গড়ে উঠেছে। জনসংহতি সমিতির ভাঙনের পাশাপাশি ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট—ইউপিডিএফ এবং এর বিভিন্ন অংশ নিজেদের রাজনৈতিক ও সশস্ত্র কাঠামো তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বান্দরবানের কিছু এলাকায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টÑকেএনএফ এবং এর সশস্ত্র শাখার উত্থান নতুন নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। ২০২৪ সালে ব্যাংক ডাকাতি, অপহরণ, অস্ত্র লুট ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলায় কেএনএফের কথিত সংশ্লিষ্টতা দেখিয়েছে যে সীমিত ভৌগোলিক এলাকায় সক্রিয় একটি সংগঠনও জাতীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা-সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
চাঁদাবাজি, অপহরণ, গোষ্ঠীগত হত্যাকাণ্ড এবং অবৈধ কর আদায়ের কারণে ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক, ঠিকাদার ও সাধারণ গ্রামবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন সংগঠন বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করলেও তাদের সশস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সেই জনগোষ্ঠীর মানুষেরই স্বাধীন রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, জীবিকা ও নিরাপত্তাকে সংকুচিত করে। অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে মতামত দিতে বা গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। মিয়ানমারের সংঘাত এ পরিস্থিতিতে আরো বিপজ্জনক মাত্রা যোগ করেছে। রাখাইন ও চীন রাজ্যে যুদ্ধ, আরাকান আর্মির ক্রমবর্ধমান শক্তি, জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুতি এবং অবাধ অস্ত্রপ্রবাহ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তকে একটি অস্থিতিশীল রণসীমায় পরিণত করছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দুর্গম বনাঞ্চল, পাহাড়ি পথ এবং বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে বিস্তৃত জাতিগত এবং পারিবারিক যোগাযোগকে কাজে লাগাতে পারে। মাদক—বিশেষ করে ইয়াবা ও মেথামফেটামিনÑছোট অস্ত্র, চোরাই পণ্য এবং মানব পাচারের পথগুলোও অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। ফলে একটি স্থানীয় ঘটনা খুব দ্রুত আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা-সংকটে রূপ নিতে পারে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতাকে বিদেশি শক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহল কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ এলাকা, বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সম্ভাব্য যোগাযোগ করিডোরের কাছাকাছি অবস্থিত। আন্তর্জাতিক অধিকার সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গোয়েন্দা সংস্থা, আন্তঃসীমান্ত জাতিগত নেটওয়ার্ক ও ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী—সব পক্ষেরই এ অঞ্চলের ঘটনাবলির প্রতি আগ্রহ থাকতে পারে। এর কিছু মানবিক সহায়তা বা মানবাধিকারের বৈধ উদ্বেগ থেকে পরিচালিত হতে পারে; আবার কিছু তৎপরতার উদ্দেশ্য হতে পারে স্থানীয় সংগঠনকে প্রভাবিত করা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকে কাজে লাগানো অথবা ঢাকাকে কূটনৈতিক চাপে রাখা। তবে সরকারকে প্রমাণিত বিদেশি হস্তক্ষেপ ও অনুমাননির্ভর অভিযোগের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করতে হবে। বিদেশি অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ, প্রশিক্ষণ কিংবা নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ গোয়েন্দা তথ্য, আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। প্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। পাহাড়ি জনগণের প্রতিটি দাবি বা অভিযোগকে বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করলে নাগরিকদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা বাড়বে এবং প্রকৃত বিদেশি হস্তক্ষেপের সুযোগ আরো প্রসারিত হবে। আবার সব নিরাপত্তা-আশঙ্কাকে প্রচারণা বলে উড়িয়ে দেওয়াও বিপজ্জনক। প্রয়োজন পেশাদার প্রতিগোয়েন্দা তৎপরতা, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং স্বচ্ছ তদন্ত।
অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ অমীমাংসিত থাকলেই বিদেশি পক্ষগুলো তা কাজে লাগানোর সুযোগ পায়। ভূমিবিরোধ, দুর্নীতি, দুর্বল স্থানীয় শাসন, বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য এবং সংস্কৃতি অবজ্ঞার ধারণা সশস্ত্র সংগঠনগুলোর সদস্য সংগ্রহের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কিংবা নির্যাতনের অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত না হলে সেসব ঘটনাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই বিদেশি প্রভাব মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় শুধু গোপনীয়তা বা শক্তি প্রদর্শন নয়; বরং এমন একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা প্রত্যেক নাগরিককে সমানভাবে সুরক্ষা দেয়। সশস্ত্র গোষ্ঠী যখন সড়ক নিয়ন্ত্রণ, চাঁদা আদায় এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখায়, তখন সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে আলোচনায় অংশ নিতে পারে না।
এ কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ও কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সীমান্ত নজরদারি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা, অস্ত্র ও মাদকের পথ বন্ধ এবং সশস্ত্র ঘাঁটি নির্মাণ প্রতিরোধ করতে হবে। অভিযান হতে হবে গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর, লক্ষ্যভিত্তিক ও আইনের সীমার মধ্যে। সামষ্টিক শাস্তি, নির্বিচার আটক কিংবা কোনো সম্প্রদায়কে হয়রানি করা অন্যায় এবং কৌশলগতভাবেও ক্ষতিকর। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের পাশাপাশি সেখানে নিয়োজিত সদস্যদের স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি, মানবাধিকার ও সংঘাত-সংবেদনশীলতা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য সরকারকে একটি স্থায়ী জাতীয় সমন্বয় কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা, স্থানীয় পরিষদ এবং সব সম্প্রদায়ের গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধিরা যুক্ত থাকবেন। এই কাঠামো সশস্ত্র সংগঠন, সীমান্তপথ, চাঁদাবাজি, অবৈধ অর্থায়ন, ভূমিবিরোধ এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা সম্পর্কে সমন্বিত মূল্যায়ন করবে। সীমান্ত নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তি, ড্রোন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও দ্রুত চলাচলের সক্ষমতা দরকার; তবে প্রযুক্তি কখনো মানব গোয়েন্দা তথ্য এবং জনগণের আস্থার বিকল্প হতে পারে না। শান্তিচুক্তির প্রতিটি ধারা পর্যালোচনা করে সরকারকে প্রকাশ করতে হবেÑকোনগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনগুলো অসম্পূর্ণ এবং কোনগুলোতে আইনগত ব্যাখ্যা বা সংশোধন প্রয়োজন। এরপর একটি সময়সীমাবদ্ধ বাস্তবায়ন-রোডম্যাপ প্রণয়ন করা উচিত। গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকার ভিত্তিতে স্থানীয় ও আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন প্রতিনিধিত্বশীল শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। ভূমি কমিশনকে পর্যাপ্ত জনবল, অর্থ, কার্যকর বিধিমালা, আধুনিক জরিপ, ডিজিটাল রেকর্ড এবং ভুয়া দাবি প্রতিরোধের ক্ষমতা দিতে হবে। ভূমিবিরোধের সমাধান জাতিগত উত্তেজনা বা শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়; আইন, দলিল, ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে।
সরকার, শান্তিচুক্তির স্বাক্ষরকারী পক্ষ, চুক্তিবহির্ভূত রাজনৈতিক সংগঠন, নারী, যুবক, প্রথাগত নেতা, বাঙালি অধিবাসী এবং তুলনামূলক ছোট পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে নিয়ে নতুন সংলাপ শুরু করা প্রয়োজন। তবে সংলাপের অর্থ সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়া নয়। যেসব সশস্ত্র সংগঠন সহিংসতা ত্যাগ, অবৈধ অস্ত্র সমর্পণ এবং সংবিধান মেনে শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে অংশ নিতে রাজি হবে, তাদের জন্য যাচাইযোগ্য পুনর্বাসনের পথ রাখা যেতে পারে। যারা হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও রাষ্ট্রের ওপর হামলা চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর কিন্তু আইনসম্মত ব্যবস্থা নিতে হবে। উন্নয়নকে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। শুধু সড়ক ও পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ করলেই শান্তি আসবে না, যদি স্থানীয়রা বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কায় থাকে কিংবা উন্নয়নের সুফল না পায়। বাংলা, ইংরেজি ও উপযুক্ত মাতৃভাষায় শিক্ষা, দুর্গম এলাকায় আবাসিক বিদ্যালয়, বৃত্তি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, টেলিমেডিসিন, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। পাহাড় কাটা, বন উজাড় ও অপরিকল্পিত পর্যটন জীবিকা ধ্বংস এবং ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার এবং মিয়ানমার সীমান্তের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি, যাতে কোনো সশস্ত্র সংগঠন প্রতিবেশী ভূখণ্ডকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে। সহযোগিতার ক্ষেত্র হবে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র পাচার এবং অপরাধীদের প্রত্যর্পণ। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের নীতিনির্ধারিত হবে ঢাকায় এবং ওই অঞ্চলের জনগণের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে।
সরকারকে দুটি বিপজ্জনক ধারণা পরিহার করতে হবে—একটি হলো, পার্বত্য চট্টগ্রাম শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা; অন্যটি হলো, নিরাপত্তাব্যবস্থার কোনো প্রয়োজন নেই এবং শুধু ছাড় দিয়েই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। টেকসই শান্তির জন্য রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ও ন্যায়বিচার—উভয়ই দরকার। বাংলাদেশকে দৃঢ়ভাবে সীমান্ত ও ভূখণ্ড রক্ষা, সশস্ত্র গোষ্ঠী নিরস্ত্রীকরণ এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিহত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈধ অভিযোগের সমাধান, সমান নাগরিক মর্যাদা, বাস্তবসম্মত অঙ্গীকার পূরণ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামকে কখনো আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বা সরকারের ওপর স্থায়ী চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হতে দেওয়া যাবে না। পাহাড়ের মানুষ বাংলাদেশেরই নাগরিক; তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমৃদ্ধি দেশের সার্বভৌমত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যে রাষ্ট্র সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমনে শক্তিশালী, আইন মানতে সংযত এবং মানুষের অভিযোগ সমাধানে আত্মবিশ্বাসীÑসেই রাষ্ট্রই পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে শান্তি, যোগাযোগ ও সমৃদ্ধির সেতুতে রূপান্তর করতে পারবে।
hrmrokan@hotmail.com

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে দারিদ্র্য ঢেকে রাখার পর্দা সংস্কৃতি by এলাহী নেওয়াজ খান
মূলত, ব্রিকস সম্মেলন কেন্দ্রে যাওয়ার পথে নয়াদিল্লির প্রধান সড়কের পাশে বসন্তবিহার কুলি নামক বস্তিকে ঢেকে রাখতে এই পর্দা টানানো হয়। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনেও ওই বস্তি ঢাকতে একইভাবে পর্দা টানানো হয়েছিল। তবে এবারের ঘটনা ইতালির প্রখ্যাত সাংবাদিক ওরিয়ানা ফ্যালাসির সেই ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকারের বর্ণনার কথাটি মনে করিয়ে দিয়েছে। সেটি ছিল ফ্যালাসির নেওয়া ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাক্ষাৎকার। সে সাক্ষাৎকারের ভূমিকা অংশে নয়াদিল্লির চরম দারিদ্র্য ও বস্তির এক মর্মস্পর্শী বিবরণ তুলে ধরা হয়েছিল।
সেই ঘটনার ৫৫ বছর পর সেই দিল্লিতেই ২০২৬ সালে সেই দরিদ্রতার পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে আগের তুলনায় রাস্তায় সেই পবিত্র পশুর বিচরণ অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ফ্যালাসি তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছিলেন। এটি ছিল ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। ওরিয়ানা ফ্যালাসির সেই সাক্ষাৎকারের ভূমিকা অংশের বর্ণনাটি ছিলÑযেমন একদিকে রয়েছে নয়াদিল্লির চওড়া রাস্তা, রাজকীয় ও জাঁকজমকপূর্ণ সরকারি প্রাসাদ এবং লন, আর এর উল্টো পাড়ে নির্মম দারিদ্র্যের দৃশ্য।
ফ্যালাসির বর্ণনাটা ছিল এ রকম—‘ফুটপাতের ওপর জীর্ণ নোংরা কাপড়ের স্তূপের উপর এক বৃদ্ধ ভিখারি অঘোরে ঘুমাচ্ছিলেন, ঠিক তার পাশেই একটি গরু মলত্যাগ করছিল। যার ফলে সেই মল ছিটকে এসে ঘুমন্ত বৃদ্ধ লোকটির শরীর ও কাপড় নোংরা করে দিচ্ছিল।’
এই দৃশ্যটি দেখে নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে তিনি মৃদুস্বরে ফিসফিস করে বলে উঠেছিলেন, ‘ভারতে সবকিছু বোধ হয় একটু বেশি ধীরগতিতে চলে।’ এই মন্তব্যটি ইন্দিরা গান্ধীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছিল। ফ্যালাসি লিখেছেন, ‘তার কথাটি শেষ হতে না হতেই ইন্দিরা গান্ধী লোহার মতো শক্ত পাঁচটি আঙুল দিয়ে তার হাত চেপে ধরেছিলেন এবং অত্যন্ত শীতল ও ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি তার বিখ্যাত অব দ্য রেকর্ড মন্তব্যটি করেছিলেন।’ তিনি বলেছিলেন, ‘আমি একদল বোকা দ্বারা পরিবেষ্টিত।’
সে যাই হোক, ওই পটভূমিতে বর্তমানে ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির স্বরূপটা আমাদের জানা দরকার। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী ভারতে জীবনযাত্রার প্রকৃত মান বোঝার জন্য দৈনিক ৪ দশমিক ২০ ডলারের একটি উচ্চতর দরিদ্রসীমা ব্যবহার করা হয়েছে। আর এই উচ্চতার মানদণ্ড অনুযায়ী ভারতের প্রায় ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষÑঅর্থাৎ ৩৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। অর্থাৎ মানুষ এখন না খেয়ে মারা যাচ্ছে না ঠিকই, তবে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মানসম্মত জীবনযাত্রার দিক থেকে বড় একটি অংশ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এছাড়া ভারতের সিংহভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে এবং কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কাজের সন্ধানে গ্রাম থেকে এসে শহরে অভিবাসনের ফলে বস্তি অঞ্চলে দরিদ্রের একটি নতুন রূপ তৈরি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অন্যদিকে ভারতে অর্থনৈতিক বৈষম্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। অক্সফাম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের সিংহভাগ সম্পদ মাত্র ১ শতাংশ ধনকুবেরের হাতে পুঞ্জীভূত হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উত্তরণ ধীরগতির হয়ে পড়েছে।
এদিকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপিএইচআই যৌথভাবে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে, তা শুধু আয়ের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার মান—এই তিনটি বিষয়ের বারোটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। এই আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী, ভারতে তীব্র দারিদ্র্য অনেক কমেছে বটে, তবে এখনো দেশটির হেডকাউন্ট রেশিও ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ ১৬ শতাংশের অধিক মানুষ এখনো প্রতিদিনের জীবনে পুষ্টি, মানসম্মত বাসস্থান, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কিংবা শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারের কোনো না কোনোটি থেকে বঞ্চিত।
যদিও বাগাড়ম্বরপূর্ণ প্রচারণার কারণে ভারতের অর্থনীতির সত্যিকারের চেহারা জানা সম্ভব হয় না। তবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উপদেষ্টা জয়ন্ত ভান্ডারী বিভিন্ন সময়ে ভারতের দারিদ্র্য ও অর্থনীতি সম্পর্কে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তা থেকে প্রকৃত সত্যটা পাওয়া যায়। তিনি ভারতকে মেরুদণ্ডহীন জেলিফিশের সঙ্গে তুলনা করে মতাদর্শহীন রাষ্ট্র বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ভারতের দারিদ্র্য ও অর্থনীতি সম্পর্কে বিস্ফোরক সব মন্তব্য করেছেন।
ভান্ডারীর মতে, ভারত বিশ্বশক্তি হয়ে উঠছে—এই প্রচারণামূলক আখ্যানটি একটি মরীচিকা। মহাকাশ অভিযান, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন, ট্রিলিয়ন ডলারের মোট জিডিপির আড়ালে সাধারণ নাগরিকদের প্রকৃত অর্থনৈতিক দুর্দশাকে আড়াল করা হচ্ছে। তিনি যুক্তি দেন যে, মোট জনসংখ্যার অনুপাতে মাথাপিছু আয় অত্যন্ত কম। তার মতে, প্রকৃত অর্থে ভারত এখনো বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি। যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ তীব্র অর্থনৈতিক অসমতা, কর্মসংস্থানের অভাব এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে।
ভান্ডারী মনে করেন, ভারতের অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার মূল কারণ শুধু ভুল নীতি নয়, বরং সাংস্কৃতিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়। তিনি বলেন, ভারতে সর্বস্তরের শাসনব্যবস্থায় দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সমাজে যুক্তি ও সৃজনশীলতার অভাব, লোকদেখানো জাতীয়তাবাদ ও অন্ধবিশ্বাস যোগ্যতার স্থান দখল করে নিয়েছে।
তিনি স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করেন, ভারতের পক্ষে পরবর্তী চীন হওয়া অসম্ভব। চীন যেভাবে তাদের শাসনতান্ত্রিক সক্ষমতা ও উৎপাদনযোগ্যতার মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে এনেছে, সে ক্ষেত্রে ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং অদক্ষতার কারণে সেই স্তরের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব নয়।
জয়ন্ত ভান্ডারী আরো বলেছেন, ভারতের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণেই দেশের শিক্ষিত তরুণ ও দক্ষ পেশাজীবীরা সুযোগ পেলেই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তার মতে, দেশের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের কোনো সুনির্দিষ্ট ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ না থাকায় এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্ববাণিজ্যের দুটি দুঃস্বপ্ন: রুদ্ধ হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবে by প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে নিয়ে জিবুতি ও ইয়েমেনকে যুক্ত করেছে। বাব আল-মান্দেব ফারসি শব্দ। এর অর্থ মৃত্যু দরজা। অতীতে নাবিকরা দিকনির্দেশনা ভুল করে এই পথে দিশাহারা হয়ে পড়তেন বলেই এমন নামকরণ করা হয়েছিল। ভৌগোলিকভাবে এটি সরু; কিন্তু বিশ্ব জ্বালানি অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব অসীম।
একটির অচলাবস্থা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে কাঁপিয়ে দেয়; অন্যটির সংকট জাহাজকে আফ্রিকা ঘুরিয়ে দেয়। কিন্তু দুটিই যদি একই সময়ে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সংকট আর মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার অভিঘাত ছড়িয়ে পড়বে বিশ্ববাণিজ্য, জ্বালানি, খাদ্য, শিল্প, মূল্যস্ফীতি ও কোটি কোটি মানুষের জীবনে।
২০২৬ সালের মধ্যপ্রাচ্য সংকট সেই আশঙ্কাকে আর শুধু কল্পনায় থাকতে দিচ্ছে না। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাবে ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত তরল পরিবাহিত হয়েছে, যা বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম তরল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য হওয়া তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। একই সময়ে প্রতিদিন ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এ পথ দিয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের ২০ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ হরমুজ কেবল একটি জলপথ এবং বিশ্ব জ্বালানি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ধমনি।
আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হরমুজ দিয়ে যাওয়া অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেটের প্রায় ৮৯ শতাংশের গন্তব্য এশিয়া। চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া ছিল প্রধান ক্রেতা। তাই হরমুজের সংকটের প্রথম ধাক্কা পড়বে এশিয়ার শিল্পোন্নত অর্থনীতিতে; কিন্তু দ্বিতীয় ধাক্কা পড়বে পুরো বিশ্বে। কারণ তেলের বাজার বৈশ্বিক বাজার।
ইতোমধ্যেই এর নমুনা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি যুদ্ধ-পূর্ব মাত্রার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে এবং ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
তেলের দাম বাড়লে শুধু পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ে না। বাড়ে ট্রাকের ভাড়া, জাহাজের ভাড়া, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়, কারখানার উৎপাদন খরচ, কৃষির সেচ ও পরিবহন ব্যয়। অর্থাৎ তেলের দাম হলো অর্থনীতির এমন একটি সুইচ, যেটি চাপ দিলে একসঙ্গে বহু খাতের ব্যয় বেড়ে যায়।
অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব বিশ্ববাণিজ্যের আরেক দরজা স্বরূপ। হরমুজের সংকট মূলত জ্বালানি সরবরাহের সংকট। বাব আল-মান্দেবের সংকটের চরিত্র কিছুটা ভিন্ন। এটি বিশ্ববাণিজ্যের সময় ও দূরত্বের সংকট।
ইয়েমেন ও আফ্রিকার জিবুতি-ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর উত্তরে রয়েছে সুয়েজ খাল। ফলে এশিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়া জাহাজের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার।
বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট সেই আশঙ্কাকেই বাস্তবতার কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথিদের তৎপরতায় বাব আল-মান্দেবও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনায় বড় বড় জাহাজ কোম্পানি আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ বেছে নিচ্ছে। সম্প্রতি ব্রেন্ট তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
দুটির সংকট একসঙ্গে হলে এখানেই শুরু হবে আসল দুঃস্বপ্ন। হরমুজ বন্ধ হলে উপসাগরীয় তেল ও এলএনজির প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বাব আল-মান্দেব বন্ধ হলে এশিয়া-ইউরোপের সমুদ্রপথে সুয়েজের কার্যকারিতা আরো কমে যাবে। অর্থাৎ একটি পথ বন্ধ করবে জ্বালানির সরবরাহ, আর অন্যটি বাড়াবে বাণিজ্যের দূরত্ব ও পরিবহন ব্যয়। একসঙ্গে ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতি দুই দিক থেকে চাপে পড়বে। বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি বাণিজ্য সমুদ্রপথে পরিচালিত হয়।
বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব বোঝার জন্য সুয়েজ খালের কথা মনে রাখতে হবে। এশিয়া থেকে ইউরোপে জাহাজ যদি বাব আল-মান্দেব দিয়ে লোহিত সাগরে ঢুকতে না পারে, তাহলে সুয়েজ খাল ব্যবহার করেও লাভ নেই। তাকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরতে হবে।
এ কারণেই লোহিত সাগরের সংকট শুরু হওয়ার পর বড় বড় শিপিং কোম্পানি আফ্রিকা ঘুরে যেতে শুরু করেছিল। এখন যদি একই সময়ে হরমুজও অচল থাকে, তাহলে জ্বালানি পরিবহন ও কনটেইনার বাণিজ্য দুই ক্ষেত্রেই বিকল্প পথের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে।
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাব আল-মান্দেব দিয়ে তেল পরিবহন ৮ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন পর্যন্ত উঠেছিল বলে ইআইএর তথ্য দেখায়। একই সময়ে সুয়েজ খাল ও সুমেড (SUMED) পাইপলাইন দিয়ে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত তরল পরিবহনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন। এই সংখ্যাগুলো দেখায়, এই জলপথগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশের জন্য এ সংকটের অভিঘাত আরো তীব্র হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এটা নতুন বিপদের ঘণ্টা।
হরমুজে তেল ও এলএনজি সরবরাহ কমলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়বে। বাব আল-মান্দেব ও সুয়েজের সংকটে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় বাড়বে। এই দুই ব্যয় একসঙ্গে বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ও বাড়বে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি।
একজন বাংলাদেশি নাগরিক হরমুজ বা বাব আল-মান্দেবের মানচিত্র হয়তো কখনো দেখেননি। কিন্তু ওই দুই জলপথের সংকট তার বাজারের ব্যাগে, বাসের ভাড়ায় কিংবা বিদ্যুতের বিলে এসে পৌঁছাতে পারে।
কৃষির জন্য ডিজেল দরকার। সেচে বিদ্যুৎ দরকার। সার আমদানি করতে বৈদেশিক মুদ্রা দরকার। কৃষিপণ্য পরিবহনে জ্বালানি দরকার। বন্দরে পণ্য খালাস ও দেশের অভ্যন্তরে পরিবহনে জ্বালানি দরকার।
আধুনিক বিশ্ববাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে ‘জাস্ট ইন টাইম’ মডেলের ওপর দাঁড়িয়েছে। কারখানায় কাঁচামাল বেশি দিন পড়ে থাকবে না; প্রয়োজন অনুযায়ী আসবে। কিন্তু সমুদ্রপথে অনিশ্চয়তা বাড়লে এই মডেল ভেঙে পড়ে। একটি কনটেইনার যদি নির্ধারিত সময়ের বদলে দুই-তিন সপ্তাহ দেরিতে আসে, তাহলে পুরো উৎপাদন পরিকল্পনা বদলে যেতে পারে।
এ কারণেই হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবকে আলাদা দুটি আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো বিশ্ব অর্থনীতির দুটি স্পর্শকাতর স্নায়ু। আজ হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় তলানিতে এবং বাব আল-মান্দেবেও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি বন্ধ থাকাই যদি বিশ্ববাণিজ্যের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়, তাহলে দুটি একসঙ্গে বন্ধ হওয়া হবে সেই দুঃস্বপ্নের দ্বিতীয় অধ্যায়।
একটি জাহাজকে কয়েক হাজার অতিরিক্ত নটিক্যাল মাইল যেতে হয়। এতে জ্বালানি খরচ বাড়ে, জাহাজের সময় বাড়ে, ক্রু ও বীমা ব্যয় বাড়ে এবং একই পরিমাণ পণ্য পরিবহনের জন্য বেশি খরচ হয়।
কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য শুধু জাহাজ ও বন্দরের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বীমা, ব্যাংকিং, ক্রেডিট, জ্বালানি, কনটেইনার, বন্দর, সরবরাহচুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইন।
হরমুজ এবং বাব আল-মান্দেব, দুটি প্রণালি ভৌগোলিকভাবে অনেক দূরে। কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতির শিরা-উপশিরায় তারা একই স্রোতের অংশ। একটি তেল ও গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে; অন্যটি এশিয়া-ইউরোপের বাণিজ্যপথকে সুয়েজের সঙ্গে যুক্ত করে। তাই একটির সংকট অন্যটির বিকল্প নয়; বরং দুটির সম্মিলিত সংকট বিশ্ব অর্থনীতির সরবরাহ, জ্বালানি ও পরিবহন—তিন স্তম্ভেই আঘাত করতে পারে।
সৌদি আরব কিছু তেল হরমুজ এড়িয়ে বিকল্প রুটে পাঠাতে পারে। মিসরের সুমেড পাইপলাইনও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। কিন্তু এগুলোর সক্ষমতা সীমিত এবং দীর্ঘ সমুদ্রপথের তুলনায় ব্যয় বেশি। EIA-ও উল্লেখ করেছে, বিকল্প রুটগুলো দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও সীমিত সক্ষমতার। অর্থাৎ সংকটের সময় বিশ্ব বুঝতে পারে দক্ষতার জন্য তৈরি বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা সবসময় স্থিতিস্থাপকতার জন্য তৈরি নয়। কারণ হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব যদি একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়, তখন বিশ্ববাজারে শুধু জাহাজের পথ বন্ধ হবে না, একইসঙ্গে বিশ্বায়নের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসই সংকুচিত হয়ে আসবে।
* প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন
- fakrul@ru.ac.bd

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অখণ্ড ভারত: এক অসম্ভব স্বপ্ন by শাহীদ কামরুল
‘অখণ্ড ভারত’ হয়তো একটি রাজনৈতিক কল্পনা, কোনো হারানো ভূগোলকে পুনরুদ্ধারের আকাঙ্ক্ষা, কিংবা নির্বাচিত ইতিহাসের স্মৃতিকে বর্তমানের মানচিত্রে আবার এঁকে দেওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ইতিহাসের মাটিতে কল্পনার বীজ বপন করলেই তার ডালে ফুল ফোটে না। ইতিহাসের নিজস্ব ঋতু আছে, ভূগোলের নিজস্ব স্মৃতি আছে, আর মানুষের আত্মপরিচয়ের গভীরে এমন কিছু শিকড় প্রোথিত থাকে, যেগুলো কোনো সাম্রাজ্যিক মানচিত্রের রেখা দিয়ে উপড়ে ফেলা যায় না। মানচিত্রে একটি রেখা টেনে দেওয়া সহজ; কিন্তু একটি জাতির সার্বভৌম ইচ্ছার সীমারেখা আঁকা হয় রক্ত, অশ্রু, স্মৃতি, আত্মত্যাগ এবং সম্মতির কালিতে। কাগজের ওপর আঁকা সীমান্ত মুছে ফেলা যায় এক টানে; কিন্তু মানুষের চেতনায় খোদাই হয়ে থাকা স্বাধীনতার রেখা কোনো কলমে মুছে ফেলা যায় না।
যে রাষ্ট্র তার প্রতিবেশীর কাছ থেকে বন্ধুত্বের পরিবর্তে ভীতি, সমতার পরিবর্তে আনুগত্য এবং সহযোগিতার পরিবর্তে নতজানুতা দাবি করে, সে অজান্তেই নিজের চারপাশে একটি অদৃশ্য প্রাচীর তুলে দেয়। বাইরে থেকে তার প্রাসাদ যতই উঁচু হোক, তার জানালায় যতই বিজয়ের পতাকা উড়ুক, ভেতরে যদি আস্থার বাতাস প্রবেশ না করে, তবে একদিন সেই প্রাসাদ নিজেরই প্রতিধ্বনির মধ্যে বন্দি হয়ে পড়ে। ক্ষমতার সবচেয়ে বড় বিপর্যয় কখনো কখনো পরাজয় নয়; বরং এমন এক নিঃসঙ্গতা, যেখানে চারপাশে সবাই উপস্থিত থেকেও কেউ আর হৃদয়ের দরজা খুলতে চায় না।
ভারতের সফট পাওয়ারের (Soft Power) শক্তি অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। বলিউডের রঙিন পর্দা, ভারতীয় সাহিত্য ও দর্শনের সুদীর্ঘ ঐতিহ্য, উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতীয় প্রবাসীদের উপস্থিতি এবং ইংরেজি ভাষায় ভারতীয় বুদ্ধিজীবীদের সক্রিয়তা ভারতকে বিশ্বপরিসরে একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচিতি দিয়েছে। জওহরলাল নেহরুর জোটনিরপেক্ষতার নীতি, উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের প্রাথমিক কল্পনা বহু দশক ধরে ভারতের একটি আকর্ষণীয় মুখ নির্মাণে ভূমিকা রেখেছিল। আমেরিকান রাজনৈতিক বিজ্ঞানী জোসেফ নাইয়ের চিন্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রাষ্ট্র শুধু সামরিক শক্তি কিংবা অর্থনৈতিক প্রলোভনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে না; আকর্ষণ, সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধও মানুষের মন জয় করার শক্তিশালী মাধ্যম।
কিন্তু এখানেই লুকিয়ে থাকে সূক্ষ্ম বিপদের রেখা। আকর্ষণ যখন প্রভাবের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, আর প্রভাব যখন নিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষায় রূপ নেয়, তখন সংস্কৃতির যে সেতু একদিন দুই তীরকে কাছে এনেছিল, সেটিই ধীরে ধীরে আধিপত্যের সিঁড়িতে পরিণত হতে পারে। ফুল দিয়ে যদি পথ দেখানো হয়, তাকে সৌন্দর্য বলা যায়; কিন্তু সেই ফুলের আড়ালে যদি পথের দিক নির্ধারণের চেষ্টা থাকে, তখন সৌন্দর্য আর নিছক সৌন্দর্য থাকে না।
ইতালীয় মার্কসবাদী চিন্তক আন্তোনিও গ্রামসির হেজিমনি (Hegemony) ধারণা এই জায়গাটিকে বুঝতে বিশেষভাবে সহায়ক। গ্রামসি দেখিয়েছিলেন, আধিপত্য সবসময় বন্দুকের নল দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় না। অনেক সময় তা মানুষের চিন্তা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সংবাদমাধ্যম এবং দৈনন্দিন বোধের মধ্যে এমনভাবে প্রবেশ করে যে মানুষ আধিপত্যকে আর আধিপত্য হিসেবে চিনতেই পারে না। শিকল তখন আর লোহার তৈরি থাকে না; শিকল হয়ে ওঠে ধারণা। কারাগারের দেয়াল তখন ইট-পাথরে নয়, মানুষের চিন্তার ভেতরে নির্মিত হয়।
একটি সমাজ যখন ভাবতে শুরু করে, ‘আমাদের নিরাপত্তার জন্য ওদের দরকার’, ‘আমাদের স্থিতিশীলতার জন্য ওদের অনুমোদন প্রয়োজন’, কিংবা ‘ওদের অসন্তুষ্ট করা বিপজ্জনক’, তখন আধিপত্য আর সীমান্তের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকে না; সে মানুষের মনের ভেতরে ঘর বানিয়ে ফেলে। তখন শাসককে প্রতিটি দরজায় প্রহরী বসাতে হয় না, কারণ মানুষের ভয়ই প্রহরীর কাজ করতে শুরু করে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিজয় তাই শুধু ভূখণ্ড দখল নয়; বরং অন্যের কল্পনাশক্তির ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভারতীয় উপমহাদেশে শুধু সেনাবাহিনীর শক্তিতে শাসন করেনি। আইন, শিক্ষা, আমলাতন্ত্র, জনশুমারি, মানচিত্র, ইতিহাসচর্চা এবং জ্ঞান উৎপাদনের মধ্য দিয়েও তারা একটি ঔপনিবেশিক শৃঙ্খলা নির্মাণ করেছিল। মানচিত্র তখন শুধু ভূখণ্ডের ছবি ছিল না; তা হয়ে উঠেছিল ক্ষমতার একটি ভাষা। ইতিহাস তখন শুধু অতীতের বিবরণ ছিল না; তা হয়ে উঠেছিল বর্তমানকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি উপায়।
বিখ্যাত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সাহিত্যতাত্ত্বিক অ্যাডওয়ার্ড সাঈদ তার ওরিয়েন্টালিজম (Orientalism) গ্রন্থে দেখিয়েছেন, জ্ঞান ও ক্ষমতা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ নয়। কে কাকে কীভাবে বর্ণনা করবে, কে সভ্য, কে পশ্চাৎপদ, কে নিরাপদ, কে বিপজ্জনক, কে মধ্যপন্থি এবং কে উগ্র, এই শব্দভান্ডারও ক্ষমতার রাজনীতির অংশ হতে পারে। কোনো জনগোষ্ঠীকে একটি নির্দিষ্ট নামে ডেকে দীর্ঘদিন ধরে তার পরিচয় ব্যাখ্যা করতে থাকলে একসময় সেই ব্যাখ্যাই যেন তার ওপর আরোপিত আয়নায় পরিণত হয়।
আসলে, ক্ষমতা শুধু আদেশ দেয় না; ক্ষমতা শ্রেণিবিন্যাস তৈরি করে, পরিচয়ের নাম দেয়, ‘স্বাভাবিক’ ও ‘অস্বাভাবিক’-এর সীমা নির্ধারণ করে এবং কোন সত্য দৃশ্যমান হবে আর কোন সত্য অন্ধকারে ঢাকা থাকবে, তার কাঠামো নির্মাণ করে। ফলে কোনো জনগোষ্ঠীর পরিচয়, কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কিংবা কোনো রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে যে ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়, সেই ভাষাও ক্ষমতার একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের প্রশ্নটি তাই ভারতপ্রীতি বনাম ভারতবিদ্বেষের সরল দ্বন্দ্ব নয়; এর কেন্দ্রে রয়েছে স্বাধীনতা (Sovereignty) । প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক একটি প্রয়োজনীয় বাস্তবতা, কিন্তু বন্ধুত্ব কখনো অভিভাবকত্বের সমার্থক হতে পারে না। বড় রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছোট রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার আত্মমর্যাদা এবং স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি (Strategic Autonomy) । ছোট ভূখণ্ড মানেই ছোট আত্মা নয়; সামরিক শক্তিতে দুর্বল হওয়া মানেই রাজনৈতিক ইচ্ছায় দুর্বল হওয়া নয়।
বাংলাদেশের প্রয়োজন তাই নতজানু আনুগত্য কিংবা অন্ধ বৈরিতার কোনো একটি প্রান্ত বেছে নেওয়া নয়; প্রয়োজন বিচক্ষণ কূটনীতি, জাতীয় স্বার্থ এবং সমমর্যাদার সম্পর্ক। বন্ধুত্ব থাকবে, বাণিজ্য থাকবে, সীমান্ত সহযোগিতা থাকবে, নিরাপত্তা সহযোগিতা থাকবে; কিন্তু জাতীয় সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি থাকবে ঢাকার হাতেই। প্রতিবেশীর সঙ্গে হাত মেলানো যায়, কিন্তু নিজের হাতের মুঠোয় থাকা কলমটি অন্যের হাতে তুলে দেওয়া যায় না।
তাছাড়া, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা (Sovereignty) শুধু পতাকা বা সীমান্তে নয়; তা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, স্মৃতি ও মানুষের আত্মপরিচয়ে বাস করে। যে জাতি নিজের ইতিহাসকে অন্যের আয়নায় দেখতে অভ্যস্ত হয়, একসময় সেই আয়নাকেই নিজের মুখ বলে ভুল করতে পারে। তবে আত্মপরিচয় কোনো দুর্গ নয়; গভীর শিকড়ের বৃক্ষের মতোই সে বহির্বিশ্বের বাতাস গ্রহণ করতে পারে।
বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসনের কল্পিত সম্প্রদায় (Imagined Communities) ধারণা দেখায়, জাতি শুধু ভূখণ্ড নয়; অভিন্ন স্মৃতি ও কল্পনায় নির্মিত একটি কমিউনিটি (Community)। বাংলাদেশের পরিচয়ও ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, বৈচিত্র্য, নদী, সাহিত্য ও রাজনৈতিক সংগ্রামের বহুস্তরীয় অভিজ্ঞতায় গড়ে উঠেছে। তাই এই বহুত্বই তার শক্তি, কোনো দুর্বলতা নয়।
আদতে, ‘অখণ্ড ভারত’ ধারণাটিকেও তাই ইতিহাসের আদালতে নতুন করে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। উপমহাদেশের ইতিহাস একদিকে সাংস্কৃতিক সংযোগের, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিচ্ছেদেরও ইতিহাস। ভাষা, খাদ্য, সাহিত্য, ধর্ম, সংগীত এবং পারিবারিক স্মৃতির সীমান্ত আধুনিক রাষ্ট্রের সীমান্তের চেয়ে অনেক পুরোনো। কিন্তু সাংস্কৃতিক সংযুক্তি থেকে রাজনৈতিক পুনরেকত্রীকরণের দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নেয় না। একই নদীর দুই তীরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ একই জলের স্মৃতি বহন করতে পারে; একই ভাষার শব্দ উচ্চারণ করতে পারে; একই গানের সুরে আবেগ খুঁজে পেতে পারে। কিন্তু তাই বলে দুই তীরকে একটি ঘর বানানো বাধ্যতামূলক নয়। ইতিহাসের আত্মীয়তা আর রাষ্ট্রের একীভবন এক জিনিস নয়। সাংস্কৃতিক নৈকট্য সীমান্তকে নরম করতে পারে, কিন্তু সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে অকার্যকর করে না। ইউরোপের ইতিহাসেও বহু জাতি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির বন্ধনে যুক্ত থেকেও পৃথক সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিকশিত হয়েছে। তাই ভারতীয় সভ্যতার বিস্তৃত ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে সম্মান করা এবং একটি অখণ্ড রাজনৈতিক ভূখণ্ডের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা এক বিষয় নয়। অতীতের একটি অভিন্ন স্মৃতি ভবিষ্যতের একটি অভিন্ন রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক নকশা নয়।
যাই হোক, শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন শিক্ষা হলো, কোনো সাম্রাজ্য তার মানচিত্রের আয়তন দিয়ে চিরস্থায়ী হয় না। তার স্থায়িত্ব নির্ভর করে প্রতিবেশীদের আস্থা, নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তি এবং অন্যের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানের ওপর। নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ক্ষমতার বাস্তবতা বুঝেছিলেন; কিন্তু আধুনিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি আরো একটি শিক্ষা দিয়েছে : জবরদস্তি দিয়ে আনুগত্য আদায় করা যায়, কিন্তু বৈধতা আদায় করা যায় না।
ভারত যদি সত্যিকারের আঞ্চলিক নেতৃত্ব চায়, তার পথ আধিপত্য নয়, আস্থা ও সমমর্যাদার অংশীদারত্ব। ভয় দিয়ে প্রতিবেশীকে নীরব করা যায়, হৃদয়ে জায়গা করা যায় না। বাংলাদেশের পথও তাই নতজানু আনুগত্য বা অন্ধ বৈরিতা নয়; জাতীয় স্বার্থ, সাংবিধানিকতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির ভিত্তিতে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ। দিল্লি, ওয়াশিংটন, বেইজিং বা মস্কো নয়, বাংলাদেশের দিকনির্দেশ নির্ধারিত হবে বাংলাদেশেই।
তাই ‘অখণ্ড ভারত’-এর রাজনৈতিক ফুল ফুটবে কি না, তার উত্তর কোনো স্লোগান, প্রচারণা কিংবা টেলিভিশন স্টুডিও দিতে পারবে না। উত্তর দেবে ইতিহাস, ভূগোল এবং জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছা। ফুলের ছবি হাজারবার আঁকা যায়, তার নামে অসংখ্য কবিতা লেখা যায়, কাগজে তার জন্য নতুন মানচিত্রও তৈরি করা যায়; কিন্তু শিকড় যদি মাটির গভীরে না থাকে, তবে সেই ফুল কাগজের ফুল হয়েই থেকে যায়।
দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ কোনো একক রাজধানীর স্বপ্নে নয়; বরং সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক মর্যাদা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যে ভারত সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী, তাকে বাংলাদেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত ভয় পেতে হবে না। আর যে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে সার্বভৌম, তাকে নিজের সার্বভৌমত্ব প্রমাণ করার জন্য ভারতের প্রতি ঘৃণা ছড়াতে হবে না।
আধিপত্যের বীজ বারবার বোনা যেতে পারে। নতুন নতুন বয়ান বাজারে আসতে পারে। ভূরাজনীতির মঞ্চ বারবার নতুন সাজে সজ্জিত হতে পারে। কিন্তু জনগণের ইতিহাসের মাটি যদি জেগে থাকে, তবে প্রতিটি সাম্রাজ্যিক কল্পনার সামনে এক অদৃশ্য প্রাচীর দাঁড়িয়ে থাকবে। সেই প্রাচীরের নাম সার্বভৌমত্ব; তার ভিত্তির নাম আত্মমর্যাদা; আর তার প্রাণ হলো জনগণের নিজের ভবিষ্যৎ নিজে নির্ধারণ করার অধিকার।
তাই ‘অখণ্ড ভারত’ যদি রাজনৈতিক আধিপত্যের স্বপ্ন হয়, তবে তার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কোনো বাহ্যিক শক্তি নয়; প্রশ্নটি ইতিহাসের নিজস্ব বিধানের : জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো মানচিত্রই চিরস্থায়ী নয়। কারণ মানচিত্র কালি দিয়ে আঁকা যায়, সাম্রাজ্য শক্তি দিয়ে বিস্তৃত করা যায়, সীমান্ত ক্ষমতা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করা যায়; কিন্তু একটি জাতির ভবিষ্যৎ আঁকা যায় শুধু তার নিজের ইচ্ছার ক্যানভাসে।
আর সেই ক্যানভাসে অন্যের রঙ যতই গাঢ় হোক, ইতিহাসের শেষ তুলির আঁচড়টি নিজের হাতেই রাখে একটি জাতি। সার্বভৌমত্বের রঙ তাই সহজে মুছে যায় না। যে জাতি নিজের ভবিষ্যৎ নিজে লিখতে শেখে, তার ভাগ্যের পৃষ্ঠা অন্য কেউ দীর্ঘদিনের জন্য নিজের নামে লিখে রাখতে পারে না।
* শাহীদ কামরুল, সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষক, ফ্রাই ইউনিভার্সিটি বার্লিন, জার্মানি
- sahidkamrul25@gmail.com

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হুথিদের দখলে বাব আল-মান্দেব, সৌদির অনুরোধ সত্ত্বেও দূরে যুক্তরাষ্ট্র
এই পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহান্তে মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। বৈঠকে হুথিরা আশ্বস্ত করেছে, লোহিত সাগরে তারা মার্কিন জাহাজে হামলা করবে না। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
হুথিদের এমন আশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন আছে। অতীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি। তাদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানও রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া ছাড়া ওয়াশিংটনের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই।
সৌদি আরবের চাপ
হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গত সপ্তাহে তিনি ট্রাম্পকে দুবার ফোন করে হামলার অনুরোধ করেন বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এরপর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জরুরি সমন্বয়ের জন্য রিয়াদ যান। এতে বোঝা যায়, সৌদিকে সমর্থন করলেও সরাসরি ইয়েমেন যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরাইলও সৌদির হয়ে ইয়েমেনে হস্তক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে বলে খবর এসেছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইসরাইল সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা কম। গাজা, লেবানন, সিরিয়া, পশ্চিম তীর ও ইরান নিয়ে একসঙ্গে চাপ সামলাতে হচ্ছে দেশটিকে। এর মধ্যে ইয়েমেন নতুন আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র হতে পারে।
ওয়াশিংটনের ওপর সৌদির আস্থা কমছে
ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের অনাগ্রহ সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। গত কয়েক বছর ধরেই রিয়াদ বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজছে।
২০১৮ ও ২০১৯ সালে সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার পর সম্পর্ক বহুমুখী করার উদ্যোগ নেয় দেশটি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে সৌদি। পরে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিও বাড়ানো হয়।
ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সাইমন মাবন বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় নয়। বরং নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব আরো বহুমুখী করার চেষ্টা।
ইরান যুদ্ধেই চাপে যুক্তরাষ্ট্র
ইয়েমেনে সরাসরি না জড়ানোর বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ইরান যুদ্ধ। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতের শেষ কোথায়, তা স্পষ্ট নয়। এরই মধ্যে তেল ও যুদ্ধের খরচ বেড়েছে।
পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম চার মাসেই খরচ হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ২২ বিলিয়ন ডলার গেছে গোলাবারুদে। অসংখ্য মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভান্ডারে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধব্যবস্থার মজুত কমে যাওয়ার খবরও এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য বলছে, তাদের হাতে এখনো বিপুল অস্ত্র রয়েছে।
এর মধ্যে ইয়েমেনে নতুন যুদ্ধ শুরু হলে সামরিক চাপ আরো বাড়বে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প নিজেই দীর্ঘস্থায়ী ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
বাব আল-মান্দাবে চাপে কারা?
হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাব—দুটি নৌপথই এখন ঝুঁকিতে। হরমুজ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল তেল ও গ্যাস বিশ্ববাজারে যায়। আর বাব আল-মান্দাব এশিয়া ও চীনের বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, বাব আল-মান্দাব দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে চীনের ওপর চাপ বেশি পড়তে পারে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রও রেহাই পাবে না। সৌদি অবকাঠামো ও জাহাজে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাড়বে পরিবহন ও জ্বালানির খরচ, যার প্রভাব পড়বে মার্কিন ভোক্তাদের ওপরও।
অধ্যাপক মাবনের মতে, হুথিদের বাব আল-মান্দাব নিয়ন্ত্রণে থাকতে দেওয়া চীনকে দুর্বল করা বা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা নয়। ইরান যুদ্ধেই চাপে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এখন ইয়েমেনে নতুন যুদ্ধের সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডায়াবেটিক রোগীর পায়ের যত্নে যা করতে হবে by ডা. অনন্ত কুমার কুন্ডু
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত একজন মানুষের ক্ষেত্রে পায়ের যত্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ডায়াবেটিস থাকলে পায়ে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি স্নায়ুজনিত সমস্যা ও অনুভূতি হ্রাস পায়। ডায়াবেটিক রোগীর পা সব সময় সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে।
পায়ের যত্নে যা করবেন
● খালি পায়ে কখনোই হাঁটা যাবে না। খোলা স্যান্ডেল পরাও ঠিক নয়। পা যথেষ্ট সুরক্ষা পায় এমন ঢাকা জুতা বা কেডস পরবেন।
● সব সময় নরম ও আরামদায়ক জুতা পরতে হবে। জুতার সামনের দিকটা প্রশস্ত হতে হবে, যাতে আঙুলগুলো যথেষ্ট স্পেস বা স্থান পায়।
● মোজা ছাড়া জুতা পরবেন না। তবে ভেজা মোজা পরা নিষেধ। মোজা প্রতিদিন পরিবর্তন করতে হবে।
● পায়ের নখ কাটতে নেইল কাটার ব্যবহার করবেন। তবে সাবধান থাকতে হবে যেন আঙুলে আঘাত না লাগে। খুব গভীর করে কখনো নখ কাটবেন না।
● পায়ের কড়া নিজে কাটবেন না বা ঘষবেন না।
● প্রতিদিন কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে ভালোভাবে পা ধুতে হবে এবং শুকনা কাপড় দিয়ে পা ও দুই আঙুলের মাঝের জায়গা ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে।
● প্রতিরাতে নিজের পা দুটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখুন। পায়ের তলা দেখতে কারও সাহায্য নিন বা আয়না ব্যবহার করুন। পায়ে লালচে বা কালো রং, পা ফোলা, ফোঁড়া বা ফুসকুড়ি, কড়া বা সংক্রমণ দেখলে সচেতন হোন। দ্রুত চিকিৎসককে বিষয়টি জানান।
● কখনোই গরম পানিতে আগে পা চোবাবেন না বা গরম সেঁক নেবেন না। এটা করার আগে হাত দিয়ে বা অন্য কাউকে দিয়ে পানি কতটা গরম ও সেই তাপ সহনীয় কি না, সেটা পরীক্ষা করে নিন।
●স্বাভাবিক রক্ত চলাচলের জন্য প্রতিদিন পায়ের ব্যায়াম করতে হবে।
* ডা. অনন্ত কুমার কুন্ডু, ডায়াবেটিস ও হরমোন রোগবিশেষজ্ঞ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল
![]() |
| ডায়াবেটিসে আক্রান্ত একজন মানুষের ক্ষেত্রে পায়ের যত্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: পেক্সেলস |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নারীদের ম্যামোগ্রাম টেস্ট কেন জরুরি, কোথায় করবেন, খরচ ও প্রস্তুতি কেমন by ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন
কারা ম্যামোগ্রাম করবেন
যদি আপনার বয়স ৪০ বা তার বেশি হয়, তাহলে আজই ম্যামোগ্রাম করার পরিকল্পনা করুন। বয়স ৩৫ পার হওয়ার পর পরিবারে কারও স্তন ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে আরও আগেই শুরু করা উচিত।
বোন, মা, খালা বা ঘনিষ্ঠ কোনো আত্মীয়ের ব্রেস্ট ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে আরও সতর্ক হতে হবে। কেবল নিজে নয়, মা, খালা, বোন, ভাবি, বন্ধু—সবাইকে উৎসাহিত করুন এই পরীক্ষা করতে। সঠিক সেন্টার ও বিশেষজ্ঞ বেছে নিন।
কোথায় করবেন
ম্যামোগ্রাম করার আগে খোঁজখবর নিন যেখানে পরীক্ষাটি করবেন সেখানে থ্রি–ডি টমোসিনথেসিস ম্যামোগ্রাম সুবিধা আছে কি না। সেখানকার প্রযুক্তিবিদ ও রেডিওলজিস্ট অভিজ্ঞ কি না। তাঁরা নিয়মিত ব্রেস্ট আলট্রাসাউন্ড, কোর বায়োপসি—এসব করেন কি না। বায়োপসির ক্ষেত্রে মেটালিক ক্লিপ ব্যবহার করা হয় কি না ইত্যাদি।
সঠিক প্যাথলজি ল্যাব নির্বাচন করতে হবে। বায়োপসির পর নমুনা এমন পরীক্ষাগারে পাঠানো উচিত যেখানে ইআর, পিআর, হার টু, কেওয়াই ৬৭ ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি টেস্টগুলো নির্ভুলভাবে হয়। কারণ, নির্ভুল রিপোর্টই সঠিক চিকিৎসার প্রথম ধাপ। চিকিৎসার ক্ষেত্রে টিম অ্যাপ্রোচে গুরুত্ব দিন। যদি ম্যামোগ্রামে কোনো স্বাভাবিকতা ধরা পড়ে, তাহলে ভয় পাবেন না। আজকাল চিকিৎসা উন্নত, কার্যকর ও অত্যন্ত সফল।
খরচ ও প্রস্তুতি
বাংলাদেশে ম্যামোগ্রাম তুলনামূলক সস্তা। সরকারি হাসপাতালে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়। ম্যামোগ্রাম একটি বিশেষ ধরনের এক্স–রে, তাই তেমন প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই।
শরীরে ধাতব অলংকার যেমন চেইন বা হার খুলে রাখতে হবে। হালকা ও সহজে খোলা যায় এমন পোশাক পরুন। ডিওডোরেন্ট, লোশন, অ্যান্টিপারসপিরেন্ট ইত্যাদি না ব্যবহার করা ভালো। স্বাভাবিক খাবার খেতে পারবেন।
* ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, নিউব্রুনস্উইক, কানাডা
![]() |
| ম্যামোগ্রাম ও প্যাপ টেস্ট নারীর জীবন বাঁচাতে পারে। ছবি: ফ্রিপিক |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Friday, September 18, 2026
মদ খাওয়ার টাকা দাবি, না দেওয়ায় উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ব্যবসায়ীকে মারধর
ভিডিওতে আফশার আলী নামের ওই ব্যবসায়ীকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে এক ব্যক্তি বারবার মারধর করছেন। একপর্যায়ে হামলাকারী তাকে ক্ষমা চাইতে বলেন । আলী ক্ষমা চাওয়ার পরও তাকে চড় ও ঘুষি মারতে থাকেন ওই ব্যক্তি। এ সময় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী হামলা থামানোর চেষ্টা করেন।
আফশার আলীর জানান, শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে কারারি থানার জামদুয়া এলাকার কাছে তার ওপর হামলা হয়। হামলার আগে মূল অভিযুক্ত তার কাছে মদ খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করেন। তাকে বলা হয়, ‘তুমি এত আয় করো, আমাদের একটু মদও খাওয়াতে পারো না?’ এরপরই তাকে মারধর শুরু করা হয়।
আলী জানান, পরে আরো কয়েকজন ওই হামলায় যোগ দেন। তারা তাকে বেধড়ক মারধর করার পাশাপাশি তার কাছে থাকা ৪ হাজার ৫০০ রুপি নিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর কারারি থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আলী। পরে তিনি কৌশাম্বির পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিচার ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কৌশাম্বি পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সূত্র: মুসলিম মিরর
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত। |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তীব্র অর্থ সংকটে ইসরাইলের সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
সেনাবাহিনীর আশঙ্কা, অর্থের ঘাটতির কারণে সেনা নিয়োগ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ভারী সাঁজোয়া যান মেরামতের মতো কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। লেবাননে শীতকালীন সামরিক প্রস্তুতিও পর্যাপ্ত নয় বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
এদিকে প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকারের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিরোধ চলছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যে অর্থ চেয়েছে তা রাষ্ট্রীয় বাজেটে কোনো প্রভাব না ফেলেই সরবরাহ করা সম্ভব। তিনি প্রস্তাব করেন যে, ক্ষমতাসীন জোটের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল থেকেই এই অর্থ সংস্থান করা যেতে পারে।
ইসরাইলের ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা বাজেট আগে প্রায় ১৪৩ বিলিয়ন শেকেল থাকলেও ইরান ও লেবাননে সামরিক অভিযানের পর তা বাড়িয়ে প্রায় ১৮৩ বিলিয়ন শেকেল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বাড়তি অর্থের একটি বড় অংশ এখনো সেনাবাহিনীর হাতে পৌঁছায়নি।
সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও সম্প্রতি বলেছেন, বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি সেনাবাহিনী বর্তমানে বাজেট নিয়েও সংকটে রয়েছে।
গাজায় গণহত্যা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে হামলার পাশাপাশি, গত বছর থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে দুটি যুদ্ধ চালিয়েছে। এছাড়া তারা ইয়েমেন ও কাতারেও আঘাত হেনেছে এবং সিরিয়ায় প্রায় প্রতিদিনই স্থল অভিযান ও কামানের গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিন এবং লেবানন ও সিরিয়ার বিভিন্ন ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে ইসরাইল । তারা এসব এলাকা থেকে সরে আসতে কিংবা জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা অনুযায়ী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
সূত্র: আনাদোলু
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত ভুল মনে করেন ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার
জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ শেষ করার কৌশল নিয়ে অনাস্থা সবচেয়ে বেশি ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে। তাদের ৯৫ শতাংশ এমন মত দিয়েছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের ৮৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকান ভোটারদের ৪৩ শতাংশও একই মত পোষণ করেন।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভুল বলেছেন ৬০ শতাংশ ভোটার। বিপরীতে ৩৭ শতাংশ এটিকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন। জুনের জরিপে ৫৮ শতাংশ ভোটার সামরিক পদক্ষেপকে ভুল বলেছিলেন। অর্থাৎ এ বিষয়ে বিরোধিতার হার বেড়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র কম নিরাপদ হয়ে পড়বে বলেও মনে করছেন ভোটারদের একটি বড় অংশ। এ ধরনের মত দেওয়া ভোটারের হার এপ্রিলে ৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৭ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে ৩২ শতাংশ মনে করেন, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আরও নিরাপদ হবে।
জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামগ্রিক কর্মদক্ষতায় অনুমোদনের হার ৩৯ শতাংশ পাওয়া গেছে। তার প্রতি অসন্তুষ্ট ৬১ শতাংশ ভোটার। পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার আরও কমে ৩৭ শতাংশে নেমেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বনিম্ন।
ফক্স নিউজের এই জরিপটি ১১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ২১১ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে পরিচালিত হয়। জরিপের নমুনার ত্রুটিসীমা প্লাস বা মাইনাস ৩ শতাংশ পয়েন্ট। ফক্স নিউজ জানিয়েছে, উপগোষ্ঠীগুলোর ফলাফলে ত্রুটির সীমা আরও বেশি হতে পারে।
সূত্র: ফক্স নিউজ
![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চাঁদে যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিকে মহাকাশকে অস্ত্রমুক্ত রাখার আন্তর্জাতিক চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস-অস্ত্র মোতায়েন, অন্যদিকে চীনের কড়া হুঁশিয়ারি। যেটা আমরা শুধু এতদিন 'স্টার ওয়ার্স' বা কল্পবিজ্ঞানের সিনেমায় দেখেছি, এবার ঠিক সেটাই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। কিন্তু মহাকাশে এমন কী ঘটতে যাচ্ছে যার জন্য ২৫ হাজার সেনার এক বিশাল স্পেস ফোর্স তৈরি করছে আমেরিকা? সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন থেকে উঠে এসেছে এক নতুন মহাজাগতিক যুদ্ধের পূর্বাভাস।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বড় ধরনের সামরিক পরিকল্পনার কথা উঠে আসে ওয়াশিংটনের বাইরে বুধবার আয়োজিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ। সম্মেলনে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগনন মহাকাশের নতুন এই যুদ্ধের ফ্রন্টের কথা জানান। এই চরম পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগননের মতে, চীন মহাকাশে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধকে মহাকাশে ছড়িয়ে দিতে চায়। আর মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষায় প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করাই স্পেস ফোর্সের কাজ। এর কয়েক দিন আগেই বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কক্ষপথে কার্যকর মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র মোতায়েন করেছে।
আগামী পাঁচ বছরে নিজেদের ‘স্পেস ফোর্স’ দ্বিগুণ করে ২৫ হাজারে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারা, যার বড় অংশই মোতায়েন থাকবে সরাসরি যুদ্ধের কমব্যাট কমান্ডে। মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের দাবি, চীনের মতো সম্ভাব্য শত্রুরা মহাকাশের বিভিন্ন অংশে সক্রিয়ভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মহাকাশ সংকট মোকাবিলায় ২০২৪ সালেই নিজস্ব সামরিক মহাকাশ বাহিনী গড়ে তুলেছিল বেইজিং। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, তারা যুদ্ধকে মহাকাশে বিস্তৃত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, চীন সব সময় মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো বন্ধ করতে হবে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’-কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে, যেখানে মহাকাশকে সব ধরনের সামরিকীকরণ থেকে মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবুও পিছপা হচ্ছে না আমেরিকা। মহাকাশে সামরিকীকরণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাশিয়া একটি মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র তৈরি করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনের পর উদ্বেগ বাড়ছে। আমেরিকা চাঁদের চারপাশে যুদ্ধের ছক কষছে, তখন বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটা নিয়ে উদ্বেগে সারা বিশ্ব।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
![]() |
| প্রতীকী ছবি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাব আল-মান্দাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে ইতালি
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে ক্রোসেত্তো বলেন, বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা ইতালির রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ অচল হয়ে পড়লে এর অর্থনৈতিক প্রভাব হবে গুরুতর।
বাব আল-মান্দাব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ। সুয়েজ খাল দিয়ে যাতায়াতকারী তেল, গ্যাস ও কনটেইনারবাহী জাহাজের জন্যও প্রণালিটি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে গত কয়েক সপ্তাহে বাব আল-মান্দাবের কৌশলগত গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। ইরান-সমর্থিত হুতি আন্দোলন ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত সামরিক অভিযান চালিয়ে পুরো উপকূলীয় এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপও তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
এ পরিস্থিতিতে বাব আল-মান্দাব দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটি নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এককভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
![]() |
| বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ। ছবি: এএফপি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শীতে ত্বকের যত্নে মধু কীভাবে উপকার করে by সুরাইয়া সরওয়ার
ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতেও সাহায্য করে মধু। মধু দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় ত্বকবান্ধব কিছু ফেসপ্যাক।
বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি জানান রূপচর্চায় মধু ব্যবহারের কিছু উপায়—
* ১ চা-চামচ টক দই ও ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে নিন। প্যাকটি ত্বকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ দেখাবে।
* ১ চা-চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এরপর প্যাকটিতে সামান্য গোলাপজল যোগ করুন। ত্বকে মেখে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। এটি মুখের টি-জোন, অর্থাৎ নাক, কপাল ও থুতনির তেলতেলে ভাব কমাবে, ত্বককে করবে টান টান।
* ১ চা-চামচ মধু ও ২-৩ ফোঁটা লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে দিন। কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। প্যাকটি ত্বকের দাগ হালকা করতেও সহায়তা করে।
* শুষ্ক ও নিস্তেজ ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে ১ চা-চামচ অ্যালোভেরা জেল ও ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে নিন। প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
* ১ চা-চামচ ওটসগুঁড়া, ১ চা-চামচ মধু ও সামান্য পানি মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করুন। স্ক্রাব ব্যবহারের আগে প্রথমে মুখ পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিন। এরপর স্ক্রাব হাতে নিয়ে চক্রাকারে মুখের ত্বকে ঘষুন। মনে রাখবেন, ত্বকে খুব জোরে স্ক্রাব ঘষা যাবে না। ৪-৫ মিনিট স্ক্রাবিং করার পর ধুয়ে ফেলুন। এটি মৃত কোষ দূর করে ত্বককে কোমল করে। চাইলে মুখের পাশাপাশি হাত-পায়ের ত্বকেও স্ক্রাবটি ব্যবহার করতে পারেন।
* ১ চা-চামচ দুধ ও ১ চা-চামচ মধু একসঙ্গে মেশান। এটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। প্যাকটি শীতের রুক্ষ ত্বককে নরম করে, ফিরিয়ে আনে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা।
ত্বকের যত্নে মধু ব্যবহারের নিয়ম
* সপ্তাহে ২-৩ বার যেকোনো প্যাক ব্যবহার করুন।
* সব সময় প্যাক ব্যবহারের আগে ত্বক পরিষ্কার করে নিন।
* সাধারণ প্যাক ব্যবহার করে ত্বকে ১৫-২০ মিনিট রাখা উচিত। এর চেয়ে খুব বেশি সময় প্যাক ত্বকে রাখবেন না।
* যেকোনো উপাদান প্রথমবার ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্যাচ টেস্ট করে নিন।
* প্যাক ধোয়ার পর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
| মধুতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট উপাদান। মডেল: হৃদি। কৃতজ্ঞতা: শোভন মেকওভার। ছবি: সুমন ইউসুফ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার আলজাজিরাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিনিধিদলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগী কর্মকর্তারা থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরান সরকারের মূল প্রতিনিধিদল জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নিতে পারবে। তবে এবার প্রতিনিধিদলের আকার সীমিত রাখা হবে।
এ ছাড়া ইরানি প্রতিনিধিদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ এবং বিলাসপণ্য কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এসব ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নীতির অংশ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে বলে দপ্তরটি জানিয়েছে।
এবারের ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কোনো সুস্পষ্ট সমাধানের পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু করা এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের আলোচনা ফের শুরুর বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশ্বের সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। প্রণালিটির কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষের দিকে এগোচ্ছে। তিনি তেহরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার প্রশাসনের সরাসরি আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন। তবে একই সময়ে ইয়েমেনের বাব আল-মান্দাব প্রণালি ঘিরে হুতি বাহিনী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতিসংঘ অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে।
সূত্র: আলজাজিরা
![]() |
| মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: এএফপি |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সৌদি-হুতি পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ৫
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইফ গভর্নরেটে হুতিদের একটি ড্রোন বাধা দিয়ে ধ্বংস করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি সৌদি আরবে বসবাসকারী একজন ইয়েমেনি নাগরিক।
চলতি মাসে হুতিদের হামলা জোরদার হওয়ার পর সৌদি আরবে এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার অভিযোগ করেছে হুতিরা। তাদের দাবি, সৌদি যুদ্ধবিমান তাইজ প্রদেশের ৩টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছে।
হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেল আলমাসিরাহ জানিয়েছে, ইয়েমেনের আবস শহরে সৌদি হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।
পরে হুতিদের সমর্থক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর হামলায় তিন শিশু নিহত এবং বেশ কয়েকজন ইয়েমেনি আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীকে বোঝাতে তারা ‘সৌদি-সমর্থিত ভাড়াটে বাহিনী’ শব্দটি ব্যবহার করেছে।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে হামলা-পাল্টা হামলা বেড়েছে। এতে ইয়েমেনের সংঘাতের পাশাপাশি সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
![]() |
| সৌদিতে ড্রোন হামলার পর। ছবি: আল জাজিরা |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইউরোপ থেকে ২৫ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা ভাবছে পেন্টাগন
বৃহস্পতিবার এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন ও পশ্চিমা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনা প্রত্যাহারের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে এনবিসি। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি থাকা দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, ইতালি ও স্পেন রয়েছে। প্রস্তাবিত সেনা কমানোর ফলে এসব দেশ প্রভাবিত হতে পারে।
ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে পেন্টাগনের ছয় মাসের পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এসব বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। ইউএস ইউরোপিয়ান কমান্ডের প্রধান ও ন্যাটোর সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে প্রাথমিক বিশ্লেষণ তুলে ধরতে পারেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পর্যালোচনায় বিমান, নৌ ও স্থলবাহিনী নিয়ে একাধিক বিকল্প তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি কিছু মার্কিন সেনা ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পুনর্মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
আগামী ৬ নভেম্বর হেগসেথের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর কোনো প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর নিজেদের প্রচলিত প্রতিরক্ষার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে আরও বেশি কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়ে আসছে প্রশাসন।
তবে ইউরোপে মার্কিন সেনা কমানোর সম্ভাবনায় কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা ও ইউরোপীয় সরকারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করা হলে রাশিয়াকে প্রতিরোধে ন্যাটোর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এনবিসি আরও জানিয়েছে, ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনার প্রক্রিয়া নিয়ে পেন্টাগন ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। গত জুনে পেন্টাগন ন্যাটোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সম্ভাব্য বড় আকারের সেনা কমানোর বিষয়ে অবহিত করার প্রস্তুতি নিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এতে হস্তক্ষেপ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে কয়েকজন মার্কিন সিনেটর রুবিওর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ইউরোপে মার্কিন সামরিক অবস্থান নিয়ে পর্যালোচনায় পররাষ্ট্র দপ্তর ও দেশটির কূটনীতিকদের পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
![]() |
| পোল্যান্ডে মার্কিন বাহিনী। ছবি: গেটে ইমেজেস |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1997)
-
▼
September
(204)
-
►
Sep 19
(8)
- ‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ ও চব্বিশের বিপ্লবীরা by মোহা...
- পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বর্তমান বাস্তবতা by মেজর জেনা...
- ভারতে দারিদ্র্য ঢেকে রাখার পর্দা সংস্কৃতি by এলাহী...
- বিশ্ববাণিজ্যের দুটি দুঃস্বপ্ন: রুদ্ধ হরমুজ ও বাব আ...
- অখণ্ড ভারত: এক অসম্ভব স্বপ্ন by শাহীদ কামরুল
- হুথিদের দখলে বাব আল-মান্দেব, সৌদির অনুরোধ সত্ত্বেও...
- ডায়াবেটিক রোগীর পায়ের যত্নে যা করতে হবে by ডা. অনন...
- নারীদের ম্যামোগ্রাম টেস্ট কেন জরুরি, কোথায় করবেন, ...
-
►
Sep 18
(12)
- মদ খাওয়ার টাকা দাবি, না দেওয়ায় উত্তরপ্রদেশে মুসলিম...
- তীব্র অর্থ সংকটে ইসরাইলের সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা নি...
- ইরানে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত ভুল মনে করেন ৬০ শতাংশ মার্...
- চাঁদে যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের
- বাব আল-মান্দাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে ইতালি
- শীতে ত্বকের যত্নে মধু কীভাবে উপকার করে by সুরাইয়া ...
- জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ভিস...
- সৌদি-হুতি পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ৫
- ইউরোপ থেকে ২৫ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা প্রত্যাহার...
-
►
Sep 19
(8)
-
▼
September
(204)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







-c70033-720x405.webp)






