Thursday, November 8, 2018

বাংলার জমিদারদের অপার কীর্তি শশী লজ by নাকিবুল আহসান নিশাদ

ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনামলকে বলা হয়ে থাকে জমিদার প্রথা বা জমিদার শাসনের স্বর্ণযুগ। সেই সময় থেকেই বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে শশী লজ। এটি মূলত মহারাজা শশীকান্ত আচার্য্যের বাড়ি। ময়মনসিংহ রাজবাড়ি নামেও এটি পরিচিত। স্থানীয়ভাবে এই স্থাপনার আরেক নাম ‘বাতিঘর’। এটি শহরের কেন্দ্রস্থলে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত।
জমিদার মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য্য অষ্টদশ শতকের শেষার্ধে ‘ক্রিস্টাল প্যালেস’ নামে একটি মনোরম প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। ‘রংমহল’ নামেও এর পরিচিত ছিল। ১৮৯৭ সালের ১২ জুন ভূমিকম্পে এটি ধ্বংস হয়ে যায়।
ঊনিশ শতকের গোড়ার দিকে একই স্থানে মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য্যের উদ্যোগে বাইজেন্টাইন ধাঁচের নির্মাণশৈলীতে শশী লজের নির্মাণ শুরু হয়। তা শেষ হওয়ার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নিঃসন্তান সূর্যকান্তের দত্তক পুত্র শশীকান্ত আচার্য্যের হাত ধরে ১৯০৫ সালে ভবনটি গড়ে ওঠে। তার নামানুসারে এর নামকরণ হয় ‘শশী লজ’। মহারাজ শশীকান্ত ১৯১১ সালে কিছু সংস্কারের মাধ্যমে এই বাড়ির সৌন্দর্যবর্ধন করেন। তখন এটি হয়ে ওঠে অনিন্দ্য সুন্দর।
পুরো বাড়িটি ৯ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। শশী লজের মূল ফটকে রয়েছে ১৬টি গম্বুজ। ভেতরে প্রায় প্রতিটি ঘরেই আছে ঝুলন্ত ঝাড়বাতি। বিশাল প্রাসাদের পুরোটা জুড়ে মার্বেল পাথরে আবৃত। সব মিলিয়ে ১৮টি বিশাল ঘর। বসতঘর ছাড়াও আছে নাচঘর।
শশী লজের ভেতরে বারান্দা অতিক্রম করে কয়েক ধাপ সিঁড়ি পেরোলেই রঙ্গালয়। এর একপাশে বিশ্রাম ঘর। তারপর কাঠের মেঝেযুক্ত হলঘর। তার পাশেই বর্ণিল মার্বেল পাথরে নির্মিত ফোয়ারা। ঠিক ওপরে ঝোলানো স্ফটিকের স্বচ্ছ কাচের ঝাড়বাতি মুগ্ধকর। ভেতরে আধুনিক টয়লেট।
দোতলায় ওঠার জন্য দু’পাশে রয়েছে সিঁড়ি। এতে বিশেষ বাদ্যের ব্যবস্থা ছিল। সিঁড়িতে মানুষ পা রাখলেই সুমধুর বাজনা শোনা যেতো। জানা যায়, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে মহারাজা এক লাখ (মতান্তরে তিন লাখ) টাকা ব্যয়ে একটি স্ফটিকের সংগীত বাক্স কিনে এনেছিলেন। ভূমিকম্পের সময় সিঁড়িটি ভেঙে যায়। তখন জমিদার ছিলেন কলকাতায়। লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, সংগীত বাক্স ধ্বংস হওয়ার কথা শুনে ভবন ভাঙার চেয়েও বেশি কষ্ট পেয়েছেন তিনি।
জমিদার সূর্যকান্ত আচার্য্য ছিলেন সংস্কৃতিমনা। শশী লজের প্রতিটি কোণে তার সেই মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। মূল ভবনের সামনে বাগানের মাঝখানে আছে শ্বেতপাথরের ফোয়ারা। এর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে গ্রিক দেবী ভেনাসের স্নানরত স্বল্পবসনা একটি মূর্তি। বলা হয়ে থাকে, এত বড় মার্বেল পাথরের মূর্তি দেশে আর কোথাও নেই!
মূল ভবনের ঠিক পেছনেই দুই ঘাট বিশিষ্ট একটি পুকুর দেখা যায়। এর একটি ঘাট কালের বিবর্তে ভেঙে গেছে। তবে কিছু কিছু ইট এখনও চোখে পড়ে। আর অন্যটি এখনও আগের মতোই রয়েছে। দ্বিতল এই ঘাট মার্বেল পাথরে আবৃত ছিল। কিন্তু এখন তা আধুনিক টাইলস দিয়ে ঢেকে দেওয়া। জমিদার সূর্যকান্ত আচার্য্য ও তার পরের জমিদাররা এখানে বসে পুকুরে হাঁসের খেলা দেখতেন। এই পুকুরেই জমিদারের স্ত্রী স্নানসহ অন্যান্য কাজ করতেন।
বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ১৯৮৯ সালে শশী লজকে সংরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর এখানে একটি জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু অদ্যাবধি শশী লজ অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এটি মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে ময়মনসিংহে যাওয়া যায়। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার বাসে আড়াই থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগবে। এনা ট্রান্সপোর্টের ভাড়া জনপ্রতি ২২০ টাকা আর সৌখিন পরিবহনের ভাড়া ১৫০ টাকা। এছাড়া কমলাপুর ও বিআরটিসি টার্মিনাল থেকে ঢাকা-নেত্রকোনা রুটের গাড়িতে চড়ে ময়মনসিংহে যেতে পারেন। বাস থেকে নামবেন মাসাকান্দা বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে অটো বা রিকশায় যেতে হবে শশী লজ বা ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে।
ট্রেনের ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে তিস্তা এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহের উদ্দেশে ছাড়ে। অগ্নিবীনা এক্সপ্রেস ঢাকা ছেড়ে যায় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে। দুটোই আন্তঃনগর ট্রেন। এছাড়া মেইল ট্রেনেও যেতে পারেন। এগুলো হলো মহুয়া এক্সপ্রেস, দেওয়ানগঞ্জ এক্সপ্রেস, বলাকা এক্সপ্রেস ইত্যাদি।
যেখানে থাকবেন
ঢাকা থেকে গিয়ে শশী লজে ঘুরে একদিনেই ফিরে আসা যায়। তবে ময়মনসিংহের আরও কিছু জায়গায় ঘুরতে হলে থাকতে হবে হোটেলে। এক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন আমির ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল মুস্তাফিজ ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল হেরা, হোটেল সিলভার ক্যাসেল, হোটেল খাঁন ইন্টারন্যাশনাল। এছাড়া রয়েছে নিরালা রেস্ট হাউস, হোটেল ঈশা খাঁ, হোটেল উত্তরা, তাজমহল ইত্যাদি।
ছবি: লেখক

বিনা খরচে ঘরে বসেই মিলবে আইনি সেবা

অসহায় ও অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের বিনা খরচে আইনি পরামর্শ, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও মামলায় আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি সহায়তা দিতে সংস্থাটি ‘বিডি লিগ্যাল এইড’ নামে একটি অ্যাপও উদ্বোধন করেছে। এতে দেশের যেকোনও প্রান্ত থেকে অ্যাপটির সাহায্যে ঘরে বসেই বিনা খরচে আইনি সহায়তা পাবেন অসহায় ও অসচ্ছল বিচারপ্রার্থী।
অ্যাপটির মাধ্যমে ঘরে বসে যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে
গুগল প্লেস্টোর থেকে ‘BD Legal Aid’ নামের অ্যাপ্লিকেশনটি স্মার্টফোনে ইনস্টলের পর সহজেই বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় এটি ব্যবহার করা যাবে।
অ্যাপটি ওপেনের সঙ্গে সঙ্গে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়ার হেল্প লাইন নম্বর ‘১৬৪৩০’ দেখা যাবে। নম্বর মনে রাখার ঝামেলা এড়াতে এখান থেকে লিগ্যাল এইড অফিসে ফোন বা মেসেজ পাঠিয়ে আইনি সহায়তা চাওয়া ও পাওয়া যাবে। এরপর অ্যাপটির দ্বিতীয় অপশন থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা লিগ্যাল এইড অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শের ঠিকানা পাওয়া যাবে।
আদালতে মামলার সর্বশেষ আপডেট জানতে বিচারপ্রার্থীদের প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই ভোগান্তি এড়াতে লিগ্যাল এইড অফিসে দায়ের করা অভিযোগ কিংবা মামলাটির নম্বর সার্চ করে এর সর্বশেষ তথ্য জানা যাবে অ্যাপটির তৃতীয় অপশনটি থেকে।
চতুর্থ অপশনের সাহায্যে আবেদনপত্রের প্রয়োজনীয় ঘরগুলো পূরণ করে ঘরে বসেই আপনার অভিযোগ লিগ্যাল এইড অফিসে পাঠিয়ে দিতে পারবেন। এর পরবর্তী অপশনেই থাকছে জাতীয় লিগ্যাল এইড, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, দেশের বিচার বিভাগীয় পোর্টাল এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট। এখান থেকে ক্লিক করে ওই সব ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাবে।
অ্যাপটির ষষ্ঠ অপশনটি কানেক্টেড রয়েছে লিগ্যাল এইডের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে। ওই চ্যানেলে লিগ্যাল এইড সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্যচিত্র রয়েছে। আর অ্যাপটির সর্বশেষ অপশনের সঙ্গে লিগ্যাল এইডের ফেইসবুক পেইজ কানেক্টেড রাখা হয়েছে। এতে অ্যাপটির মাধ্যমে যে কেউ সরাসরি লিগ্যাল এইডের ফেইসবুক পেইজে গিয়ে সেখান থেকে মেসেজ অপশনে যেতে পারবেন এবং অভিযোগ জানাতে পারবেন।
লিগ্যাল এইডে আইনি সহায়তা চেয়ে আবেদন জানানোর পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণের বার্তা জানিয়ে দেয় সংস্থাটি। আবেদনকারীর আবেদন অনুমোদন পেলে সঙ্গে সঙ্গে তার মোবাইলে ফোনে কল কিংবা মেসেজ দিয়ে এ তথ্যও জানিয়ে দেওয়া হয়।
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক মো. জাফরোল হাছান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ১ নভেম্বর থেকে অ্যাপটি পরিপূর্ণভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। আমরা আশা করছি, মানুষ খুব সহজেই এই অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসে আইনি সহায়তা নিতে পারবেন। আমাদের আইনমন্ত্রী (অ্যাডভোকেট আনিসুল হক) এসব সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে খুবই আগ্রহী এবং আন্তরিক। তাই আমরা ইতোমধ্যে প্রত্যেক জেলার লিগ্যাল এইড অফিসগুলোকে জানিয়ে দিয়েছি, তারা যেন সেবা গ্রহীতাদের এই অ্যাপের ব্যবহার জানায়। একইসঙ্গে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটিকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

মধ্যবর্তী নির্বাচন: ডেমোক্র্যাটদের ঘুরে দাঁড়ানোতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প by মাহাদী হাসান

২০১৮ সালের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ‘গণভোট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। যদিও ট্রাম্প এই নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন না। কেউ কেউ এই নির্বাচনকে মার্কিন রাজনীতির চরিত্র নির্ধারক হিসেবেও আখ্যায়িত করেছিলেন। নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে হয়নি রিপাবলিকানদের। ফলে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চ কক্ষ সিনেট এখন রিপাবলিকানদের এবং নিম্ন কক্ষ হাউস ডেমোক্র্যাটদের দখলে। হাউসের রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ফলে দেশ পরিচালনায় আগামী দুই বছর ট্রাম্পকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। যদিও সিনেট রিপাবলিকানদের থাকায় ট্রাম্প যে কোনও ইস্যু সহজে কংগ্রেসে উত্থাপন করতে পারবেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, ভোটের এই ফলাফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছুটা চাপে পড়েছেন। সিনেট ও হাউসে রিপাবলিকানদের একক কর্তৃত্বের অবসান হয়েছে। এতে করে ২০২০ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত মিলছে।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের ভোটের ফলাফলে মূলত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দূরত্বের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিজাত শ্রেণির সঙ্গে বাকিদের পার্থক্য রয়েছে। বেশিরভাগ রক্ষণশীল শ্বেতাঙ্গের কাছেই ট্রাম্প খুবই জনপ্রিয়।
ভোটের ফলাফল রিপাবলিকানদের জন্য সাফল্য ও ব্যর্থতার হলেও ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাফল্যই উদযাপন করতে চান। এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘আজকের রাতে আমরা দারুণ সাফল্য পেয়েছি। সবাইকে ধন্যবাদ।’
ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এখন যেকোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডেমোক্র্যাটিক কমিটির প্রধানদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে ট্রাম্পকে। তাদের বিরোধিতার মুখেও পড়তে হতে পারে তাকে। রিপাবলিকানদের কাছ থেকে এমন বাধা কখনোই পাননি ট্রাম্প।
ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদের নেতা ন্যান্সি পেলোসি এর আগে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আবারও দায়িত্বে ফিরবেন তিনি। ডেমোক্র্যাট এই নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সাংবিধানিক ক্ষমতা ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, আজকের ফল ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের চেয়েও বড় কিছু। এটা সাংবিধানিক ক্ষমতা ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার রায়।
ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের সময় প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। ট্রাম্পের শাসনামলে নিম্নকক্ষে অভিবাসন আইন, ওবামাকেয়ার প্রত্যাহার ও সামাজিক কর্মসূচি ব্যয় কমানোর মতো রক্ষণশীল প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে। যদিও এসব প্রস্তাবের অনেকগুলোই সিনেটে বাতিল হয়েছে। কিন্তু এখন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় তারা নিজেদের কর্মসূচি বিষয়ক বিল উত্থাপন করতে পারবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ডেমোক্র্যাটদের তালিকায় প্রথমেই থাকবে সরকারের নৈতিক ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ন্যান্সি পেলোসি।
এখন ট্রাম্পকে কোনও আইন পাস করাতে হলে দলীয় বৃত্ত অতিক্রম করতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ গত কয়েক মাস ধরে তিনি ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা করতে গিয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন।
ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্প প্রশাসনকে নজরদারিতে রাখার উদ্যোগ নিতে পারবে। এখন হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম স্কিফ। এই কমিটিউ ২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। স্কিফ ঘোষণা দিয়েছেন, ট্রাম্পের বৈদেশিক অর্থ লেনদেনের বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করবেন। এমনকি ট্রাম্পের আয়কর প্রদানের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা ও প্রকাশ করা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের আরও কয়েকজন কর্মকর্তাও নজরদারির আওতায় আসতে পারেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রায়ান জিংকে থাকবেন এই তালিকার সর্বাগ্রে।
পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় ট্রাম্পকে অভিশংসনের বিষয়টিও রয়েছে আলোচনায়। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নিম্নকক্ষে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস করানো সহজ হবে নীল শিবিরের। স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলার নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে এবং তাতে ট্রাম্পের যোগসাজশের বিষয়টি উঠে আসলে অভিশংসনের প্রস্তাব নিশ্চিতভাবেই আনবেন ডেমোক্র্যাটরা।
হাউসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় চ্যালেঞ্জ থাকলেও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সংহত হওয়া ট্রাম্পের জন্য স্বস্তিদায়ক।
জয় নিশ্চিতের কিছুক্ষণ পরই ডেমোক্রেটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। ট্রাম্পের ব্যবসায়িক বিষয়াবলী খতিয়ে দেখা, বিশেষ করে তার কর রিটার্ন নিয়েও কাজ করার কথা জানায় তারা।
পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটির প্রধান হতে যাওয়া ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি জ্যারর্ড ন্যাডলার বলেন, ‘ট্রাম্প বুঝতে পারবেন যে তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন।

বিফ্রিংয়ের আগে বৈঠকে কী আলোচনা করলেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা by আদিত্য রিমন

বেইলি রোডে নিজের বাসভবনে ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন ড. কামাল হোসেন (ছবি– নাসিরুল ইসলাম)
গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপ শেষে দুপুর ৩টার দিকে বেইলি রোডের নিজ বাড়িতে আসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেন। এর আধাঘণ্টার মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঐক্যফ্রন্টের নেতা সুলতান মোহাম্মদ মুনসুরসহ অন্য নেতারা আসেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ শেষে বিকাল ৪টায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংবাদ সম্মেলন করে। এর আগে প্রায় একঘণ্টা বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।
একঘণ্টার ওই বৈঠক প্রসঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে নেতারা সংলাপ নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। এর মধ্যে সংলাপের সাফল্য হিসেবে দু’টি বিষয়কে চিহ্নিত করেন তারা। আর তা হলো– প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, নির্বাচনের আগপর্যন্ত আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের নামে কোনও মামলা হবে না এবং নেতাকর্মীদের নামে থাকা রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে।  দ্বিতীয়ত, সংলাপের পরে সারাদেশে সভা-সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।  এ ছাড়া, বৈঠকে সংলাপ নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কী বলা হবে তা ঠিক করেন নেতারা।
বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা জানান, কামাল হোসেনের বাসায় প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল বৃহস্পতিবারের (৮ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলেন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনের ভাষণের বিষয়টি। সংবাদ সম্মেলনে সংলাপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কী বলেন তা পর্যবেক্ষণ করবেন নেতারা। এ ছাড়া, আগামীকাল নির্বাচনি তফসিল নিয়ে ভাষণ দেবে নির্বাচন কমিশন।  তাও পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে ইতিবাচক কিছু না পাওয়া গেলে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হবে বলে একমত হয়েছেন নেতারা।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা আশা করি, আরও সংলাপ হবে। সংলাপের মাধ্যমে আমাদের দাবিগুলো মেনে নেবে সরকার। তবে সরকার যদি আমাদের দাবিগুলো না মেনে নেয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বৈঠক করে করণীয় ঠিক করবে।’
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘৭ দফা দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত আছে। রাজশাহীর পরে খুলনা, বরিশালসহ বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করা হবে। এ ছাড়া, ঐক্যফ্রন্টের পরবর্তী বৈঠকে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করা হবে।’
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন বলেন, ‘আমরা কামাল হোসেনের বাসায় কোনও বৈঠক করি নাই। কামাল হোসেন সংলাপ থেকে এসে রেস্ট নিয়েছেন শুধু। এটাকে বৈঠক বলা যাবে না। ওই সময় নেতারা শুধু পারস্পরিক আলোচনা করেছে।’

ফৈজাবাদ হবে অযোধ্যা, আহমেদাবাদ হবে কর্ণবতী: এটা ইতিহাস বিকৃতি-গৌতম পাল

ভারতের বিজেপিশসিত উত্তর প্রদেশের ফৈজাবাদ জেলার নাম পরিবর্তন করে অযোধ্যা করার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। গতকাল (মঙ্গলবার) অযোধ্যায় দীপাবলির এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি নামকরণের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে ‘অযোধ্যা’র নামে এই জেলা পরিচিত হবে।

গুজরাটের উপ-মুখ্যমন্ত্রী নীতিনভাই প্যাটেল
অন্যদিকে, একইদিনে বিজেপিশাসিত গুজরাটের উপ-মুখ্যমন্ত্রী নীতিনভাই প্যাটেল ঐতিহ্যবাহী ‘আহমেদাবাদ’ শহরের নাম পরিবর্তন করে ‘কর্ণবতী’ রাখার পক্ষে সাফাই দিয়েছেন।
আহমেদাবাদের নাম পরিবর্তন করে কর্ণবতী রাখার চেষ্টা
উপ-মুখ্যমন্ত্রী নীতিনভাই প্যাটেলের দাবি, ‘এখানকার মানুষ অনেকদিন ধরে আহমেদাবাদের নাম পরিবর্তন করে কর্ণবতী রাখতে চাচ্ছেন। আইনি প্রক্রিয়া  অতিক্রম করতে যদি মানুষের সমর্থন পাওয়া যায় তাহলে আমরা ওই শহরের নাম পরিবর্তন করার জন্য তৈরি আছি।’
তিনি বলেন, ‘আহমেদাবাদের মানুষ কর্ণবতী নাম পছন্দ করেন। সঠিক সময়েই আমরা নাম পরিবর্তন করে দেবো।’
‘ফৈজাবাদ’ জেলার নাম পরিবর্তন করে ‘অযোধ্যা’ রাখা হচ্ছে
উত্তর প্রদেশে এরআগে ঐতিহাসিক ‘এলাহাবাদ’ শহরের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রয়াগরাজ’ করা হয়েছে। এবার ‘ফৈজাবাদ’ জেলার নাম পরিবর্তন করে ‘অযোধ্যা’ করা হবে বলে  গতকাল (মঙ্গলবার) মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অযোধ্যা আমাদের সম্মান, গর্ব এবং মর্যাদার প্রতীক। কেউ অযোধ্যার প্রতি অন্যায় করতে পারবে না।’
একইদিনে তিনি শ্রীরামের নামে বিমানবন্দর করার পাশপাশি রামের পিতা দশরথের নামে মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন,‘অযোধ্যায় এক নয়া মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ হচ্ছে। ওই মেডিক্যাল কলেজের নামকরণ রাজর্ষি দশরথের নামে হবে। এখানে বিমানবন্দরও নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই বিমানবন্দরের নাম রাখা হবে মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামের নামে।’
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের  সিনিয়র অধ্যাপক ড. গৌতম পাল
বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে নাম পরিবর্তনের হিড়িক প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট সিনিয়র অধ্যাপক ড. গৌতম পাল আজ (বুধবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘আসলে কেন্দ্রে যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আছে তারা সবক্ষেত্রেই তাদের অপদার্থতা প্রমাণ করেছেন। আর্থিক ক্ষেত্র থেকে সাধারণ প্রশাসন পর্যন্ত সবক্ষেত্রেই তারা ব্যর্থ। এই অবস্থায় আগামী ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের জন্য তাদের হাতে আর কোনো ইস্যু নেই। নরেন্দ্র মোদি সরকারে আসার সময় উনি  দু’কোটি বেকারের চাকরি দেয়ার কথা বলেছিলেন। আমরা সকলেই ভালো থাকব, অর্থাৎ ‘আচ্ছে দিন’ আমাদের সকলের সামনে আসছে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা দেখছি মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে! তারা ধর্মীয়ভাবে সমাজকে বিভক্ত করতে চাচ্ছেন, সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। মন্দির বা নাম পরিবর্তনের ইস্যুর মধ্য দিয়ে তারা ভোট নেয়ার ফন্দি করছেন।’  
অধ্যাপক ড. গৌতম পাল বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় যে নাম পরিবর্তন হচ্ছে, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এগুলোর কোনও প্রয়োজন নেই। এর মধ্যদিয়ে ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে। নাম পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার বিন্দুমাত্র উপকার হবে না। আমার মনে হয় এই ধরণের প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকা উচিত। নাম পরিবর্তন করে যে নাম দেয়া হচ্ছে, একটা ধর্মকে এগিয়ে দেয়া হচ্ছে, এরফলে কার্যত হিন্দু ধর্মকে অপমান করা হচ্ছে। কারণ, হিন্দু ধর্মের মূল কথা হচ্ছে সহিষ্ণুতা।  ভারতের মধ্যে যে বিভিন্ন ভাষাভাষী ও ধর্মের মানুষ আছেন তাঁদের সহাবস্থান, ভারতীয় সংস্কৃতিকে বজায় রাখা উচিত। এই যে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে তা আগামী লোকসভা নির্বাচনে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য। আমি এই ধরণের নাম করণের প্রচেষ্টাকে ব্যক্তিগতভাবে নিন্দা জানাই। আমার মনে হয় সামগ্রিকভাবে ভারতের ইতিহাসকে বিকৃত করার ওই অপচেষ্টাকে প্রতিহত করা উচিত।’
সিপিআইয়ের শীর্ষনেতা এস সুধাকর রেড্ডির মতে, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকার জন্যই যোগী আদিত্যনাথ ফৈজাবাদের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। এরফলে বিজেপি’র মুসলিম-বিরোধী ভাবনাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ওয়াশিংটনে সবচেয়ে শক্তিধর নারী হতে পারেন ন্যান্সি পেলোসি

এর আগেও তিনি ইতিহাস গড়েছিলেন। এবারও সেই ইতিহাসের পথ ধরে তিনি অগ্রসর হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হয়েছিলেন কোনো নারী। তিনি ডেমোক্রেট দলের ন্যান্সি পেলোসি (৭৮)। ওই পদে তিনি চার বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার আবার সেই প্রতিনিধি পরিষদ ফিরে পেয়েছে ডেমোক্রেটরা। ফলে এবারও এর স্পিকার হতে পারেন তিনিই। আর এর মধ্য দিয়ে তিনিই হয়ে উঠতে পারেন ওয়াশিংটনের ‘মোস্ট পাওয়ারফুল ওম্যান’ বা সবচেয়ে শক্তিধর নারী।
এ খবর দিযেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়েছে, ন্যান্সি পেলোসি যদি এবারও স্পিকার হন তাহলে সবচেয়ে শক্তিধর নারীর মশালটাই শুধু তার হাতে থাকবে এমন নয়। একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সামনে তীব্র এক বিরোধী প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারেন। ন্যান্সি পেলোসি এই পদে এলে কেন তাকে সবচেয়ে শক্তিধর নারী হবেন তারও একটি ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। বরা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর হলেন প্রেসিডেন্ট। এর পরেই রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার। বর্তমানে প্রথম দুটি পদে রয়েছেন যথাক্রমে ডনাল্ড ট্রাম্প ও মাইক পেন্স। এর পরের পদটি প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের। সেই পদে যদি ন্যান্সি পেলোসি যান তাহলে নিঃসন্দেহে তিনি হবেন ওয়াশিংটনে সবচেয়ে শক্তিধর নারী। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের দায়িত্বে আছেন রিপাবলিকান পল রায়ান।
প্রথম দফায় যখন ন্যান্সি পেলোসি স্পিকার ছিলেন তখন ক্ষমতায় রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। তার শেষ দু’বছর তীব্র বিরোধিতা গড়ে তোলেন ন্যান্সি পেলোসি। অর্থাৎ প্রতি পদে পদে তিনি প্রেসিডেন্ট বুশকে ঘায়েল করেছেন। এবার যদি তিনি স্পিকার হন তাহলে ট্রাম্পকেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। এর ফলে রিপাবলিকানরা কোনো আইন প্রয়োগ করতে গেলেই তাতে ন্যান্সি পেলোসি ও ডেমোক্রেট নেতারা বাধার সৃষ্টি করতে পারেন। আটকে দিতে পারেন নতুন প্রস্তাবিত ট্যাক্স কর্তন থেকে শুরু করে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ পর্যন্ত বহুবিধ এজেন্ডা। তার চেয়েও বড় ভয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারেন ন্যান্সি  পেলোসি। তিনি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে চালু করতে পারেন অভিশংসন প্রক্রিয়া। যদি তাই করেন তাহলে ট্রাম্পের টিকে থাকাকে কঠিন করে তুলতে পারেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এমন শক্তিশালী রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রয়োগ করার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন তিনি। এক্ষেত্রে তিনি রাজনৈতিক উপায়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন। যখন প্রয়োজন হবে তখন তার পাশে দাঁড়াতে পারেন। যখন প্রয়োজনীয় আইন পাসের দরকার হবে তখন তাতে সহায়তা করবেন। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটদের বিজয় সুনিশ্চিত হওয়ার পর বক্তব্য রেখেছেন ন্যান্সি পেলোসি। তিনি তাতে বলেছেন, আমাদের মধ্যে অনেক মতবিরোধ আছে। তা সত্ত্বেও ডেমোক্রেট পরিচালিত কংগ্রেস সবাইকে নিয়ে সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। মার্কিন জনগণ শান্তি চায়।