Wednesday, August 25, 2021
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কার্যকরী উপায় -চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিজ্ঞানীর মতে
![]() |
| খাদ্যাভ্যাস |
দুগ্ধজাত খাবার
ভিটামিন 'বি' এবং 'সি' জাতীয় খাবার
চা-কফি কতটা খাবেন?
ভাত বেশি খাবেন না
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে ডেঙ্গু জ্বর থেকে রেহাই মিলবে?
![]() |
| নিয়মিত ব্যায়াম অথবা অন্য যে কোন ধরণের শারীরিক পরিশ্রম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Tuesday, August 24, 2021
আফগানিস্তানে দখলদারিত্বের অবসান!
একটি সামরিক জয়
কেন এত আফগান তালেবানকে বেছে নিল?
আফগানরা অপেক্ষা করেছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ দিয়েছে- শান্তি নয়
বৈষম্য ও দুর্নীতি চরমে ওঠে
আফগান মহিলাদের উদ্ধারের বিষয়ে কি হবে ?
তালিবানদের ফিরে দেখা
৯/১১ এবং আমেরিকান যুদ্ধ
স্টেরিওটাইপ এবং বিভ্রান্তি
আমেরিকায় একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন
আন্তর্জাতিক পরিণতি
এখন কি ঘটছে?
এখন কী করার আছে ?
সূত্র : annebonnypirate.org
অনুবাদ : সেবন্তী ভট্টাচার্য্য
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Saturday, August 21, 2021
একুশে অগাস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা: যেভাবে ঘটনার শুরু থেকে শেষ
ডেটলাইন ২১শে অগাস্ট ২০০৪
![]() |
| ২০০৪সালের ২১শে অগাস্ট, আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার পর সেখানে হতাহতরা পড়ে আছেন। |
ঘটনার পর মামলা
২০০৪ সালের ২২শে অগাস্ট: বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন
![]() |
| গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঠিক আগ মূহুর্তে তোলা এই ছবি: ভাষণ দিচ্ছিলেন শেখ হাসিনা |
২০০৫ সালের ৯ই জুন আটক হলেন জজ মিয়া
প্রথম অভিযোগপত্র ২০০৮ এর জুনে
![]() |
| এভাবেই নেতাকর্মীরা ঘিরে রেখেছিলেন শেখ হাসিনাকে |
৩রা জুলাই ২০১১ : সম্পূরক চার্জশীটে তারেক-বাবর
![]() |
| বিস্ফোরণের পর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ |
'তারেক-বাবর ও পাকিস্তানী জঙ্গি'
সাত বছরে ৬ তদন্ত কর্মকর্তা
![]() |
| সম্পূরক চার্জশীটে নাম এসেছে তারেক রহমানের, তিনি এখন লন্ডনে |
২০১২ সালের ২৮ মার্চ: মামলার বিচার শুরু
বিচারে দীর্ঘসূত্রিতার কারণ কী?
![]() |
| গ্রেনেড হামলার ঘটনাস্থলেই ২২ জনসহ মোট নিহত হয়েছিলেন আইভি রহমান সহ ২৪ জন |
১৮ই সেপ্টেম্বর শেষ হলো বিচারপ্রক্রিয়া: রায় দশ অক্টোবর
![]() |
| ঘটনার পরের দিন শেখ হাসিনা যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, তখনও তিনি হত-বিহ্বল |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Thursday, August 19, 2021
টেম্পোরাল লোব by নাসিমা আনিস

তো এটা ভোর! মানে আমার কাছে জীবনদায়িনী এক মাহেন্দ্রক্ষণ। এই ক্ষণে এক অর্থে নিশ্চয় তাই-ই। আমি জেগে উঠেছি বৈকি! গাছের নিচের বাতাসটায় কেমন যেন ঘ্রাণ! না, আমার পরিচয় নেই এর সাথে। এর ধারে কাছে কোনো ঘ্রাণের সাথেও আমার পরিচয় নেই। ঝাঁঝালো আর তিতকুটে কিছুর ঘ্রাণ এমন হলে হতে পারে। বাল্যে নানাপদের গাছের সাথে আমার সর্ম্পক ছিল গভীর। গভীর মানে ততটা যতটা অন্যের সাথে নেই গাছেদের। এমনকি ধানের বীজতলা থেকে খড় পর্যন্ত আমার বন্ধন! বিচুলি হয়ে যবে গরুর জাবনায় যায়, তখন আমি নিরুপায়! লতা-পাতা, বীরুত-বৃক্ষ সব কিছুর নাম আমার মুখস্ত। আমার বিশ্বাস ছিল আমি খুব গাছপ্রেমিক, মানে প্রেমিকা। আমার কাছ থেকে কখনো কেউ আমায় আলাদা করতে পারবে না যেমন তেমন গাছেদের কাছ থেকেও না। কখনো না। একটা পাতার কাঁপনও আমাকে নাড়িয়ে দিত, যেন ব্যথার দান; ঝিরঝির করে স্নায়ুগুলোকে কয়েকশ কোটিবার আলোড়ন দিয়ে মিইয়ে দেয় যেন! কিন্তু এখন কি দেখছি, এই যে গাছটার নিচে আমি, সে কি গাছ তা জানি না, জানার কথা নয়! কেন নয়! আমি তো সব গাছই চিনতাম। প্রায় সব। দু’একটা ছাড়া। কেননা আমি সারা জীবন শুধু গাছের পিছনে দাঁড়িয়ে থেকেছি। পিছন মানে সামনে পিছন যে কোনো দিকে! নাম না জানতে পারি, কিন্তু তাকে চিনি। সে কখন ফুল দিবে কখন লাল টুকটুকা হবে, ফলগুলো খেতে দলে দলে পাখি এসে কলরব করবে, সব জানতাম। এমন কি বহু ফল আমি মুখে দিয়ে চুষে চুষে দেখেছি, কোনোটা টক, কোনোটা নোনতা কোনোটা আবার তিতকুটে। কড়ই গাছের ফল খেয়ে দেখেছি মিষ্টি মিষ্টি একটা স্বাদ। জারুল, সেই বেগুনি ফুলের গোল্লা গোল্লা ফল খেয়ে দেখেছি, ভিতরে কেমন ভাঁজ ভাঁজ, টকো স্বাদ, মন্দ নয়!
তাহলে এখন কী বলবেন, এই আপনার কি আর কোনো কাজকাম ছিল না! কি সব গাছের গোটা খেয়ে বেড়িয়েছেন! ছিল তো, করেছিও। কিন্তু সে সবে বড্ড ফাঁকি ছিল। কেননা, কেউ যেমন আমায় বুঝত না, আমারও এক ধরনের না বোঝার আয়েশ ছিল। তবে, যেটুকু বুঝেছি সেটুকুতে ফাঁকফাঁকি ছিল না। আমার হাজারটা পশ্চাৎপদতার মধ্যে যে জিনিসটা বড় হয়ে দেখা দিল শেষ পর্যন্ত, সেটা আর কিছু না, টাকা। স্রেফ টাকার অভাবে আমার শেষ জীবনটা যখন দুর্বিসহ হয়ে উঠল যে এক ঝড়ের রাতে, টর্নেডোকে সহায় করে বেরিয়ে পড়লাম, আমি দেখাতে চাইলাম, এটা আমার দোষ নয়, সব দোষ ঐ ঝড়ের, সেই আমায় উড়িয়ে নিয়ে গেল। যখন আমি উড়ছি, একটা হা হা হাওয়ার চাদর আমায় নিয়ে চলেছে, চলেছে অসীম আকাশ পানে। আমি একবার শুধু নিচের দিকে তাকিয়েছি। একটা নিস্তরঙ্গ সমুদ্র, যার পানির রঙ প্রুশিয়ান ব্লু। আমি বোধ হয় একবার নিজের ছায়া দেখতে পেলাম সেই নীলে। আমি কিছুই মনে করতে পারছি না তখন। রান্নাঘরের ভাতের হাড়িটা ঘরে তোলা হয়েছে কিনা, গোয়ালের দরোজাটা খুলে দড়ি খুলে দেয়া হয়েছে কিনা গরুগুলোর, কিচ্ছু মনে থাকল না। কিন্তু আকাশ সমান ভালো লাগায় ভরে গেল ভূবন। কোনো প্রাত্যহিকতার আবিল তাতে মাখাতে চাইলাম না। কিছু পাতা আমার গায়ে ঝড়ে পড়ল, কিছু শীলাখণ্ড হুড়মুড় করে গায়ে পড়ল। আর একটা বৃহৎ কিছুর সঙ্গে সজোরে বাড়ি খেলাম। সেটা কি পাহাড় নাকি সে রকম বৃহত বৃক্ষ নাকি কোনো গ্রহের সাথে বাড়ি খেলাম জানি না। আমি সেখানে গিয়ে থামলাম, দমলাম এবং আমি বুঝলাম এবার আমার ভবলীলা সাঙ্গ হলো। ক্রমে ক্রমে এখন জেনে গেছি যার উপর পড়েছি তা এখন পাললিক শিলা, লক্ষকোটি বছর তার আশ্রয়ে কাটিয়ে দিলাম নানা বর্ণের আকাশ দেখে দেখে। কত রঙের আকাশ! এমন কি গাঢ় তীব্র বেগুনি! কিংবা ঘন কাঁচা হলুদ! রঙ পাল্টালো, ঘ্রাণ পাল্টালো, আলোও পাল্টালো। শুধু পাল্টালো না আমার এক টুকরো হৃদয়ের জমিন। পাললিক মায়ের বুক।
আবিষ্কারে মেতে যারা উঠল, প্রথমেই তারা ধরে নিল এই মহান জীবাস্মটা কোনো শক্তিমান মানুষের, কারণ এমন মহান কাজে শক্তিহীন এই পর্যন্ত আসতেই পারে না। আর কোটি বছর আগে যে পুরুষ নারী বিভাজন, সেখানে নারী অন্তঃপুরবাসিনী, জীবাশ্মের মত মহান কাজে নারীকে ভাবা যায়ই না!
সেই টুকরো জমিন, পাললিক যখন ব্যবচ্ছেদ করতে লাগল, দেখল পরতে পরতে খোলা যায় তাকে। সেটা হৃদপিণ্ড নাকি মস্তিষ্ক! নিশ্চয়ই মস্তিষ্ক, আমি এই কথা জেনেছিলাম, হৃদয় বলে কিছু নেই, মস্তিষ্কই সব। সেই সব চালায়।
আজ পর্যন্ত কোনো ফসিলে তারা জীবন্ত অবশিষ্ট কিছু পায়নি সেখানে এই মস্তিষ্ক জুড়ে রয়েছে আমসত্ত্ব, কি জারুলের ফল, হা হা হা, এই উপমা ছাড়া আর কি উপমা, পেঁয়াজের খোসা! মানে পরতের পর পরত।
টেম্পোরাল লোব উন্মোচন হল, ওরা অবাক বিস্ময়ে আমার মাথার হাড়ের ভিতর তাকিয়ে আছে। অবিশ্বাস্য, অসম্ভব এই জাতীয় কিছু প্রতিক্রিয়া দিয়ে দিয়ে ওরা হয়রান হয়ে গেল, পরস্পরকে আলিঙ্গন করতে ভুলে গেল, কিংবা কি জানি ওদের পৃথিবীতে বোধ হয় আলিঙ্গন টালিঙ্গন নেই! আমি দেখছি মানুষ আসলে মানতেই চায় না তার সীমাবদ্ধতা। এই মানতে না চাওয়াই তার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা। পাললিক শীলায় লেপটে থাকা আমার মাথার কি একটা অংশ হাতে নিয়ে তারা পাগল হয়ে আছে। আমি বলতে চাইছি হে আমার কোটি প্রজন্মের উত্তরসূরী, কেন এত অবাক হচ্ছ। তোমাদের এই গ্রহে কি কোনো অজানা নেই! সব জেনে বসে আছ! ওরা আমার কথা শুনতে পায়, কিন্তু বুঝতে পারে সামান্যই। আমার টেম্পোরাল লোব খুঁজে পেয়েছ, মানে কি আমার সব জেনে বসে আছ! আমার ব্যক্তিগত বলে কিছু রাখনি! তবে কি এই সভ্যতা সে রকম, যেখানে নারী বা পুরুষ নেই, সবাই দুই জননের অধিকারী! কারো কোনো দৈহিক বাহাদুরি নেই, শক্তি দেখানোর ব্যাপার নেই!
কিন্তু তোমরা আমার সব যে জেনে গেলে, কি হবে আমার! আমি আসলে ইচ্ছে করেই সংসার থেকে পালিয়েছিলাম, সেটা জেনে এত হাসছ কেন! কত পরাধীন ছিলাম সংসারের সদস্যদের কাছে, সমাজের কাছে। বলেকয়ে পালানোর কোনো পথ ছিল না। আর পালিয়ে তো কোথাও যাবার জায়গা ছিল না। মেয়েদের নিজের বলে কিছু থাকতে নেই, সে যুগ যে! তো একটা উছিলা খুঁজছিলাম, বিধাতা দিলেন। আমার বিধাতা শব্দটা তারা বুঝতে সময় নিচ্ছিল, আলোচনা করছিল। আমি আকাশের কথা বললাম সেখানে কেউ একজন নিয়ন্ত্রণ করছেন। এবার তারা বুঝল। এভাবে অবশ্য অনেক কিছুই বোঝাতে হয়েছে। বেশিরভাগ কথা তো ওখানে ধরা ছিল, আমারগুলো। ও পাশের কথাগুলো আমার নিউরণে ততটা পরিষ্কার গাথা নেই।—খাবার নিয়ে কী হয়েছিল? কিংবা আরো আরো প্রশ্ন, আমি শুনতে পাই কিন্তু দেখতে পাই সামান্য। শুনছি যে বলছি, আসলে সেটা আমার আন্দাজ, যে আমি খাবার নিয়ে একটা প্রশ্ন পাব ওদের কাছ থেকে। নয় কেন! এটা তো জানা কথা। খাওয়ার খোটা, পরার খোটা, উপার্জন করতে না পারার খোটা, বাবা-মায়ের প্রচুর টাকা পয়সা না থাকার খোটা, সবই তো শুনতে হয়েছে। কিন্তু সত্য, আমি কিচ্ছু হজম করিনি। না হজম হওয়ার যে কী উপকারিতা, এই তো প্রথম পেলুম! কে আর আমার মত কোটি কোটি বছর পর এমন এক ভীন মানুষের মুখোমুখি হয়ে সওয়াল-জবাব করেছে, নির্ভয়ে!
একটা প্রশ্নই হয়ত করে, কী খাওয়া হতো। আমি বলি ভাত, আমরা ভেতো বাঙালি। আমার কথা ওরা বুঝতে পারে, বুঝে অয় অয় বলে। মানে ঠিক আছে বা ঠিক বুঝতে পেরেছি। আমি যা শুনতে পাই তার কিছুই বুঝতে পারি না। কিন্তু কোনো কারণে ওদের বিস্ময়ের কারণগুলোর একটু সুরাহা করতে মন চাইল। আমি কোন কালের তারা কোন কালের এ এক বিশাল ধাঁধাঁ। আমি কোনো কারণ ছাড়াই বলতে চাইলাম, আমার কিছু আগে রবীন্দ্রনাথ, লালন ছিলেন, আমার শেখ মুজিবের যুগ। শুনে ওরা আবার আ আ আ করতে লাগল, মানে ওরা এই নামগুলো জানে। আমি বললাম আমরা ভাত খেতাম, তাই ভাতের খোটা দিত। আমরা কাপড় পরতাম তাই কাপড়ের খোটা দিত। আমাদের বেঁচে থাকতে টাকার দরকার হত, তাই টাকার খোটা দিত। আমরা এসবে খুব কষ্ট পেতাম, হৃদয় থেকে অভিশাপ আসত, কিন্তু ওদের কিছুই হত না। আমাদের অভিশাপে ওরা আরো শক্তিশালী হত। ওরা জোর করে আমাদের সন্তান ধারনে বাধ্য করত, সন্তান থাকলে শক্ত হয় বাঁধন যে। সন্তানহীনের কোনো মূল্য নেই। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ওদের সব কথা শুনতে হত।
ওরা মনে হয় এতক্ষণে সবই বুঝে ফেলেছে। আর আ আ আ করে যাচ্ছে।
ওরা আমায় জাদুঘরে নিয়ে যাবে, সেখানে আজ পর্যন্ত কোনো জ্যান্ত টেম্পোরাল লোব রাখতে পারেনি। আমিই প্রথম। আমি বলি আপনারা এই আবিষ্কারের জন্য কি নোবেল প্রাইজ পাবেন? শুনে ওরা খিক খিক করে হাসে, হাসিতে একধরনের কৃত্রিমতা ছেয়ে থাকে। আমার মনে হয় ওরা নোবেলের নাম জানলেও জানতে পারে কিন্তু সে বড় হাস্যকর একটা বস্তু বলে জানে।
আমায় যখন মাটির নিচের কোনো একটা ল্যাবে নিয়ে যাচ্ছে তখন মনে হল একটা কথা বলা জরুরি, মানে বলে রাখা ভালো। বললাম আমি কিন্তু নারী, আমার স্মৃতিশক্তি তাই পুরুষদের তুলনায় অনেক তীক্ষ্ণ।
তারা এবার একটা জোরে হাসি দিল, সেই খিক খিক নয়, কিছুটা সুন্দর। বলে, তাই তো তোমার সবকিছু অটুট, ঘ্রাণ, শ্রবণ, কথাবলা, দেখা, দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি, সব। আর তুমি সত্যি পৃথিবীর সুন্দরতম মানুষ।
আহ্ টেম্পোরাল লোব সজাগ ছিল ভাগ্যিস, তাইতো এই অনুমোদন পেলুম!
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Sunday, August 15, 2021
গল্প- সুইটনেস by টনি মরিসন

>>>>>>
দোষ আমার নয়। তাহলে আমাকে দোষ দিতে পারো না তোমরা। এতে আমার হাত ছিল না। কী করে এমনটি হলো আমি জানিও না। আমার দু পায়ের সংযোগস্থল থেকে অন্যরা ওকে টেনে বের করে। তার এক ঘণ্টার মধ্যেই আমি বুঝতে পারি কোথাও একটা গোলমাল হয়ে গেছে। সত্যিই গোলমাল হয়ে গেছে। ওর গায়ের রং এতটাই কালো, আমি দেখার সঙ্গে সঙ্গে ভয়ে সিটিয়ে যাই। মাঝরাতের মতো কালো। সুদানের মানুষের মতো কালো। আমার ত্বক মোটামুটি ফর্সা; মাথার চুলের রংও ভালো; আমরা এরকম রংকে বলি উজ্জ্বল হলুদ। লুলা অ্যানের বাবার রংও এ রকমই। আমার পরিবারের লোকেরা যে যেখানে আছে তাদের কারো গায়ের রং ওর গায়ের রংয়ের ধারে কাছে নয়। ওর গায়ের রংয়ের সবচেয়ে কাছের তুলনা চলে আলকাতরার সাথে। তবে ওর চুলের রং গায়ের সঙ্গে খাপ খায় না। হালকা কোঁকড়ানো হলেও বেশ সোজা। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাংটা প্রজাতির লোকদের চুলের মতো। তোমাদের মনে হতে পারে আমাদের সুদূর কোনো পূর্বপুরুষের বৈশিষ্ট্য ওর মধ্য দিয়ে ফিরে এসেছে। কিন্তু কার কাছ থেকে ওর আবির্ভাব হয়েছে কার কাছে? আমার নানিকে তোমরা দেখেছ নিশ্চয়ই। তাকে শ্বেতাঙ্গ বলেই তো মনে করা হতো; তার বিয়েও হয়েছিল শ্বেতাঙ্গের সাথে। তার সন্তানদের সম্পর্কে একটা কথাও তিনি বলেননি কাউকে। আমার মায়ের কিংবা খালাদের কাছ থেকে কোনো চিঠি পেলে না খুলে, না পড়েই ফেরত পাঠিয়ে দিতেন। শেষে তারা আর কোনো খবর পেলেন না। তাকে তার মতো থাকতে দিলেন। তখনকার দিনে প্রায় সব বর্ণসংকর এবং সংকরদের সংকর সন্তানদের প্রায় সবাই এরকমই করতেন, বিশেষ করে তাদের চুল মনের মতো হয়ে থাকলে। কল্পনা করতে পারো কতজন শ্বেতাঙ্গের শরীরের অভ্যন্তরে কৃষ্ণাঙ্গের রক্ত বয়ে চলেছে? অনুমান করে দ্যাখো। আমি শুনেছি এরকম শ্বেতাঙ্গের সংখ্যা শতকরা বিশজন। আমার নিজের মা লুলা মে নিজেকে শ্বেতাঙ্গের বংশধর বলে চালিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু কৃষ্ণাঙ্গ থাকতেই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর জন্য অবশ্য তাকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। নিজেদের বিয়ের সময় বাবা আর মা গিয়েছিলেন আদালত ভবনে। সেখানে দুটো বাইবেল রাখা ছিল। একটার ওপরে হাত রেখে কৃষ্ণাঙ্গরা শপথ নিতেন। আরেকটা রাখা ছিল শ্বেতাঙ্গদের জন্য। তাদেরকে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য রাখা বাইবেলে হাত রাখতে দেয়া হয়েছিল। বাইবেল বলে কথা! বাইবেল নিয়ে কি প্রতারণা করা যায়? এক শ্বেতাঙ্গ দম্পতির বাড়িতে হাউসকিপার হিসেবে কাজ করতেন আমার মা। আমার মায়ের হাতের রান্নাই তারা প্রতিবেলা খেতেন। গোসলের সময় বাথটাবে বসে আমার মাকে পিঠ কচলে দিতে বলতেন তারা। তাকে আরো কত গোপন কাজকর্ম করতে বলতেন খোদা মালুম। কিন্তু কখনোই তাদের বাইবেল ছুঁতে দিতেন না।
তোমরা কেউ কেউ হয়তো মনে করতে পারো গায়ের রং নিয়ে আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা খারাপ কাজ; ত্বক যত হালকা ততই ভালো। সামাজিক ক্লাবে, পাড়া প্রতিবেশে, গির্জায়, মহিলা সমিতিতে এমনকি কৃষ্ণাঙ্গদের স্কুলে পর্যন্ত এরকম বিভাজন দেখা যায়। না হলে সামান্য একটু মর্যাদাই বা রাখা যায় কী করে? ওষুধের দোকানে গিয়ে অন্যের থুথু থেকে বাঁচার আর অন্য কী উপায় থাকতে পারে? বাসস্টপে কোণঠাসা হয়ে ছিটকে পড়া থেকে নিজেকে বাঁচাতে, শ্বেতাঙ্গদের জন্য পুরো ফুটপাতটা ছেড়ে দিয়ে নালার ওপর দিয়ে হাঁটতে গিয়ে, মুদির দোকানে শ্বেতাঙ্গ ক্রেতাদের জন্য বিনামূল্যের একটা কাগজের ব্যাগের জন্য যখন আমাদের পাঁচ সেন্ট ধরা হয় তখন আর কী-ই বা করার থাকে? নামের সঙ্গে আরো কত কিছু জুড়ে দেয়ার কথা তো বাদ দিলেও আরো অনেক, অনেক কিছু শুনেছি। গায়ের রং একটু উজ্জ্বল হওয়াতে বিভাগীয় বিপণীতে হ্যাট কেনার আগে মাথায় দিয়ে পরোখ করে দেখতে কিংবা লেডিস রুম ব্যবহার করতে আমার মাকে বাধা পেতে হয়নি। আর আমার বাবা জুতা পায়ে লাগে কিনা দেখার জন্য দোকানের সামনের অংশে জুতা পরতেন, পেছনের রুমে নয়। তাদের দুজনের কেউই “শুধু কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য” লেখা ফাউন্টেন থেকে পানি খেতে পারতেন না, তৃষ্ণায় ছাতি ফেটে মারা গেলেও না।
বলতে খারাপ লাগলেও বলতেই হচ্ছে, শুরু থেকেই মেটারনিটি ওয়ার্ডে লুলা অ্যান শিশুটি আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেই যাচ্ছিল। জন্মের সময় ওর ত্বক অন্যান্য বাচ্চাদের মতোই ফ্যাকাশে ছিল। এমনকি আফ্রিকার বাচ্চাদেরও এরকমই থাকে। কিন্তু দ্রুতই ওর ত্বকের রং বদলে যেতে থাকে। আমার চোখের সামনে ওর ত্বক নীলাভ কালো হয়ে যাওয়া দেখলাম; মনে হলো আমি পাগল হয়ে যাব। আমি জানি, মিনিট খানেকের জন্য আমি মাথা খারাপই হয়ে গিয়েছিলাম। ওর মুখের ওপরে এক সেকেন্ডের জন্য একটা কম্বল চেপে ধরেছিলাম। কিন্তু এর বেশি আর কিছু করতে পারিনি। মনে প্রাণে যতই চাই না কেন এই ত্বক নিয়ে ওর জন্মানো ঠিক হয়নি, তবু আমার পক্ষে আর নিষ্ঠুর হওয়া সম্ভব হয়নি। আমার এমনও মনে হয়েছিল, ওকে কোনো এতিমখানায় দিয়ে দিব। কিন্তু যে মায়েরা গির্জার সিঁড়ির ওপরে গোপনে বাচ্চা রেখে চলে যায় তাদের মতো হতে সাহস পাইনি। সম্প্রতি জার্মানির এরকম এক দম্পতির কথা শুনেছি। তাদের দুজনেরই ত্বক তুষারের মতো সাদা। তাদের কালো ত্বকের একটা বাচ্চা হয়েছে। কেউ কোনো সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। মনে হয় যমজ বাচ্চার কথা শুনেছিলাম: একটা সাদা ত্বকের, আরেকটার ত্বক কালো। তবে ঠিক জানতে পারিনি, খবরটা সত্যি কিনা। তবে আমার ক্ষেত্রে জানি, লুলা অ্যানকে পরিচর্যা করা মানে কোনো নিগ্রো শিশুকে পরিচর্যা করা; নিগ্রো শিশুকে আমার বুকের দুধ খাওয়ানো। বাড়ি ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ওকে বোতলে দুধ খাওয়ানো শুরু করি।
আমার স্বামী লুই ট্রেনে যাত্রীদের ঘুমানোর জায়গার পরিচারক। কাজ থেকে ফিরে এসে আমার দিকে এমনভাবে তাকাল যেন আমি সত্যি পাগল হয়ে গেছি আর শিশু মেয়েটার দিকে তাকানোর ভাব দেখে মনে হলো লুই ভাবছে ও এসেছে বৃহস্পতি গ্রহ থেকে। যা তা নিয়ে বেশি মাথা ঘামানোর মতো মানুষ নয় লুই। লুই যখন ‘ধুস্ শালার! এটা কী নরকের কীট রে!’ বলল, তখনই আমি বুঝে গেলাম আমাদের মধ্যে ঝামেলার শুরু হলো বলে। সত্যি সত্যি সেরকমই হতে লাগল। তার আর আমার মধ্যে ঝগড়াঝাটি চলতে লাগল। আমাদের দাম্পত্য জীবন খান খান হয়ে গেল। আমরা এক সঙ্গে তিনটে বছর খুব ভালোই ছিলাম। কিন্তু শিশুটার জন্মের পর থেকে লুই আমাকে দোষ দিতে লাগল। লুলা অ্যানের সাথে তার আচরণ দেখে মনে হলো সে ওকে চেনেই না। আরও বেশি খারাপ হতে লাগল ওর প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি— ও যেন লুইয়ের শত্রু। লুই ওকে কোনো দিন ছুঁয়ে পর্যন্ত দেখল না।
আমি অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে মজা লুটিনি— সে কথাটা আর লুইকে বোঝানোর চেষ্টা করিনি। কারণ চেষ্টা করে লাভ হতো না। সে জোর মনে নিশ্চিত থাকত, আমি মিথ্যে বলছি। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের যুক্তিতর্ক চলল বেশ। শেষে আমি লুইকে বললাম, লুলা অ্যানের ত্বকের রং এসেছে তার পরিবারের কোনো পূর্বপুরুষের কাছ থেকে। আমার পরিবারের কারো কাছ থেকে আসেনি। এরপর জটিলতা সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আমার কথা শুনে আর কোনো রকম প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে লুই বের হয়ে যায়। সুতরাং মাথা গোঁজার জন্য আমাকে আরো সস্তা একটা জায়গার খোঁজ করতে হয়। থাকার ঠাঁই খোঁজার ব্যাপারে আমি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করি। বাড়ির মালিকদের কাছে আবেদন করার সময় আমি লুলা অ্যানকে সাথে নিইনি। ওর দেখাশোনার জন্য এক কিশোরী কাজিনের কাছে রেখে যেতাম। পরেও অবশ্য ওকে নিয়ে খুব বেশি বাইরে বের হইনি। কারণ দু-একবার যখনই বের হয়েছি, ওর হাত গাড়ির দিকে উৎসুক লোকজন এগিয়ে এসেছে, উকি দিয়ে আদরের কোনো কথা বলবে ভেবেছে। কিন্তু সাথে সাথে চমকে গিয়ে কয়েক কদম পিছিয়েছে। তাদের মুখে অবজ্ঞার ভাব ফুটে উঠতে দেখেছি। সেটা আমার জন্য দুঃখের ছিল। যদি আমার গায়ের রং কালো হতো আর ওর গায়ের রং সাদা হতো তাহলে আমাকে বেবিসিটার মনে করাটা স্বাভাবিক ছিল। গায়ের রং কালো হলে, এমনকি ত্বকের ওপরে হলুদ রংটা খানিক বেশি থাকলেও শহরের ভদ্রপাড়ায় বাসা ভাড়া পাওয়া বেশ কঠিন ছিল। নব্বইয়ের দশকে, লুলা অ্যানের জন্মের সময় আইন জারি হয়েছিল— বাসা ভাড়া দেয়ার সময় বৈষম্য দেখানো যাবে না। কিন্তু খুব কম বাড়িঅলাই সে আইনের পরোয়া করেছে। কৃষ্ণাঙ্গ ভাড়াটিয়াকে বাসা ভাড়া না দেয়ার নানা অজুহাত বের করেছে তারা। তবে মি. লেইফের বাড়ি ভাড়া পেয়ে আমি নিজেকে সৌভাগ্যের অধিকারী মনে করলাম। তবে বিজ্ঞাপনে যা উল্লেখ্য করেছিলেন ভাড়া তার চেয়ে সাত ডলার বেশি নিলেন আমার কাছ থেকে। আর টাকা দেয়া এক মিনিট দেরি হলে আর কথা ছিল না; তার বাহ্যজ্ঞান লোপ পাওয়ার অবস্থা।
আমাকে ‘মাদার’ কিংবা ‘মামা’ বলার বদলে ‘সুইটনেস’ ডাকতে শিখিয়ে দিলাম লুলা অ্যানকে। সেটাই নিরাপদ মনে হলো আমার। ওর গায়ের রং আর মোটা ঠোটে আমাকে মামা ডাকলে লোকজন গুলিয়ে ফেলতে পারে। তাছাড়া ওর চোখের রংটাও আরেক বিদঘুটে বিষয়— কাকের মতো কালো, কিন্তু তার ওপরে আবার নীলের ছোঁয়া। দেখলে কেউ ডাইনি মনে করতে পারে।
সুতরাং আমাদেরকে অনেক দিন কাটাতে হয়েছে শুধু আমাদের দুজনের পরষ্পরের সান্নিধ্যে। আর পরিত্যক্ত স্ত্রী হওয়া কী যে কঠিন অভিজ্ঞতা তা আর মুখে বলা যায় না। আমার মনে হয় আমাদেরকে এভাবে ফেলে যাওয়ার জন্য লুই অনুতপ্তবোধ করেছে। কারণ কয়েক মাস পরে আমার ঠিকানা খুঁজে বের করে মাসে মাসে টাকা পাঠাতে শুরু করে সে। আমি অবশ্য তার কাছ থেকে কখনও টাকা চাইনি, কিংবা টাকার জন্য আদালতের দারস্থও হইনি। তার পাঠানো মাসে পঞ্চাশ ডলার এবং আমার হাসপাতালের রাত্রিকালীন চাকরি থেকে পাওয়া বেতন দিয়ে আমার আর লুলা অ্যানের মোটামুটি চলে যেতে থাকে; আমরা ওয়েলফেয়ারের দান থেকে নিজেদের মুক্ত করতে সক্ষম হই। ওয়েলফেয়ারের সুবিধা নেয়া যে রকম লজ্জার তাতে আমার মনে হয় ‘ওয়েলফেয়ার’ কথাটার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়াই ভালো: আমার মায়ের বালিকা বয়সে এটার নাম ছিল ‘রিলিফ’। যা-ই হোক, এ রিলিফ অনেকটা হাপিয়ে যাওয়ার পরে বিশ্রামের নিঃশ্বাসের মতো। এটা স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না। ওয়েলফেয়ারের ইতর কেরানিগুলোর স্বভাব চরিত্র মুখ থেকে ফেলে দেয়া থুথুর মতো। হাসপাতলে চাকরিটা পাওয়ার পর আমি যা উপার্জন করতে শুরু করলাম ওরা কোনো দিন সে পরিমাণও আয় করতে পারেনি। আমার মনে হয় ওদের দেয়া চেকের মধ্যেও হীনতার উপস্থিতি ছিল। সে কারণেই ওরা আমাদেরকে ভিক্ষুকের মতো দেখত। বিশেষ করে যখন ওরা লুলা অ্যানের দিকে তাকিয়ে আবার আমার দিকে তাকাত ওদের চাহনি দেখে মনে হতো আমি যেন প্রতারণা করছি। হাসপাতালের কাজটা পাওয়ার পর অবস্থার অনেক উন্নতি হলেও আমাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে। আমি লুলা অ্যানকে খুব সতর্কতার সাথে মানুষ করেছি। আমাকে কঠোর হতে হয়েছে, খুব কঠোর। ওকে ভালো করে শিখিয়ে দিয়েছি, অন্যদের সাথে কীভাবে আচরণ করতে হবে, কারো সাথে বিবাদে না জড়ানোর জন্য কীভাবে মাথা নিচু করে থাকতে হবে। লুলা অ্যান ওর নাম কত বার বদল করল না করল তা নিয়ে আমার মাথা ঘামানোর কিছু নেই। কিন্তু ওর গায়ের রঙের বোঝা ওকে সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে। তবে এটা আমার কোনো দোষ থেকে হয়নি; আমি দোষী নই, মোটেও না।
ওহ, হ্যাঁ, লুলা অ্যান খুব ছোট থাকা অবস্থায় ওর সাথে যে রকম আচরণ করেছি আমি তার জন্য খুব অনুতাপ হয় আমার। কিন্তু তোমাদের বুঝতে হবে: ওকে রক্ষা করার দরকার ছিল তো আমারই। জগৎ সংসার কেমন তা তো ওর জানা ছিল না। ওরকম ত্বকের কারণে কেতাদুরস্ত হওয়া, কিংবা সঠিক পথে থেকেও অন্যের অন্যায় আচরণের বিপক্ষে কঠিন হওয়ার চেষ্টা করার তো কোনো মানে হয় না। সঠিক কথাটি মুখের ওপর বলতে গেলেই কিশোর অপরাধের নাম করে জেলখানায় ঢুকিয়ে দেবে। এ জগতে চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গকে সবার শেষে বিবেচনা করা হয়; কিন্তু চাকরি থেকে ছাঁটাই করার সময় তাকেই প্রথমে ছাঁটাই করা হয়। জন্মের পর ওতো এসবের কিছু জানত না। জানত না ওর কালো ত্বক শ্বেতাঙ্গদের কী রকম ভয় পাইয়ে দিতে পারে, কিংবা ওকে নিয়ে তারা কীভাবে হাসাহাসি করবে, তামাশা করবে। একবার একটা মেয়েকে দেখেছিলাম; লুলা অ্যানের মতো এতটা কালো নয়। বয়স দশ বছরের ওপরে হবে না মোটেই। একদল শ্বেতাঙ্গ ছেলে পায়ে পা লাগিয়ে ওকে বার বার ফেলে দিচ্ছে। উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেই দলের আরেক ছেলে ওর পিঠের ওপরে লাথি দিয়ে আবার ফেলে দিচ্ছে। মজা দেখে হাসতে হাসতে ছেলেগুলোর পেটে খিল ধরে যাওয়ার উপক্রম। অনেক কষ্টে মেয়েটা উঠে চলে গেল; তবু ওদের হাসি আর যেন থামে না। নিজেদের নিয়ে ওদের গর্বের শেষ নেই মনে হলো। আমি বাসের জানালা দিয়ে দেখেছিলাম তাদের উল্লাস; নইলে আমি মেয়েটাকে সহায়তা করতে পারতাম, তাকে শ্বেতাবর্জনার স্তুপ থেকে উদ্ধার করতাম। এবার বুঝতে পারছ, লুলা অ্যানকে আমি না শেখালে ও সব সময় রাস্তা পার হওয়া এবং শ্বেতাঙ্গ ছেলেদের থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারত না। ওকে এতসব শেখানোর ফলাফল পাওয়া গেছে। শেষ পর্যন্ত ওর জন্য আমি গর্বিত।
তোমাদের জানা দরকার, মা হিসেবে আমি খারাপ ছিলাম না। তবে ভালো করতে গিয়ে আমার একমাত্র মেয়েকে দুঃখ দেয়ার মতো কোনো কাজ করে ফেলতেও পাির। কারণ ওকে রক্ষা করার দরকার ছিল আমার। অবশ্যই। দরকার ছিল শুধু আমার ত্বকের সুবিধার কারণে। প্রথমত শুধু ওর পরিচয়ের জন্য সাধারণভাবে ওকে ভালোবাসতে পারিনি আমি, ওর কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয়কে এড়িয়ে সেটা সম্ভব ছিল না। তবে এখন আমি পারি। সত্যিই পারি। আমার মনে হয় সেটা ও বুঝতে পারে। আমার তো সে রকমই মনে হয়।
গত দুবার ওর সাথে দেখা হওয়ার সময় ওকে আমার কাছে নজরে পড়ার মতোই মনে হয়েছে। বেশ সাহসী, আত্মবিশ্বাসী। প্রতিবার ও যখন আমাকে দেখতে এসেছে আমি ভুলেই গেছি আগে ও কতটা কালো ছিল। কারণ নিজের সৌন্দর্যকে ও ফুটিয়ে তুলেছে সুন্দর সাদা পোশাকে।
ওর কাছ থেকে একটা শিক্ষা আমি পেয়েছি, সেটা আগেই পাওয়া উচিত ছিল: বাচ্চাদের সাথে বড়রা যে আচরণ করে থাকে তার গুরুত্ব অনেক। বড় হতে হতে ওরা কখনোই ভোলে না সে সব। ওর সক্ষমতা আসার সাথে সাথে লুলা অ্যান আমাকে সেই অসহনীয় অ্যাপার্টমেন্টে রেখে চলে যায়। আমার থেকে যতটা সম্ভব দূরে চলে যায় ও। নিজেকে ভালো পোশাকে সজ্জিত করে, ক্যালিফোর্নিয়াতে ব্যস্ততার বড় চাকরি শুরু করে। তারপর ফোন করে না, কিংবা আর দেখা করতে আসে না। মাঝে মধ্যেই টাকা পয়সা, এটা ওটা পাঠায়। কিন্তু কত দিন যে ওকে দেখি না! শেষ কবে দেখেছি মনে করতে পারি না।
নগরীর বাইরে আরো সব বড় বড় ব্যয়বহুল নার্সিং হোম আছে; তবে আমি থাকি উইনস্টন হাউস নামের একটাতে। আমার এটাই ভালো লাগে। আয়তনে ছোট, খরচ কম, বাড়ির মতো পরিবেশ। চব্বিশ ঘণ্টা নার্সদের সেবাযত্ন। সপ্তাহে দুদিন ডাক্তার আসেন। আমার বয়স এখন তেষট্টি। এরকম জায়গায় আসার পক্ষে বেশ অল্প বয়স। কিন্তু হাড়ের একটা রোগের আক্রমণে আমি কাহিল হয়ে গিয়েছিলাম। সেবাযত্ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। শারীরিক দুর্বলতা কিংবা ব্যথার চেয়ে একঘেয়েমি আরো বেশি খারাপ। তবে এখানকার নার্সরা খুব ভালো। আমি যখন বললাম আমি নানি হতে যাচ্ছি একজন নার্স আমার কপোলে চুমু দিয়ে দিল। মেয়েটার হাসি আর প্রশংসা অতি সম্মানের মুকুটের মতো মনে হলো। লুলা অ্যানের পাঠানো নীল কাগজের চিরকুটটা আমি মেয়েটাকে দেখালাম। চিরকুটের নিচের অংশে লুলা অ্যান স্বাক্ষর করেছে, ‘ব্রাইড’ বলে। ওই শব্দটাতে আমি মনোযোগ দিইনি। ওর কথাগুলো আমার কাছে কিছুটা ইন্দ্রিয় বিলাসী মনে হলো বলে। “এস, অনুমান করতে পারো এই খবরটা দিতে কত আনন্দিত হয়েছি আমি? খুব শিঘ্রই আমার বাচ্চা হতে যাচ্ছে। আমার খুব শিহরণ লাগছে। আশা করি তোমারও।” আমার শিহরণ শিশুটাকে নিয়ে, ওর বাবাকে নিয়ে নয়। কারণ লুলা অ্যান শিশুর বাবা সম্পর্কে কিছুই লেখেনি। আমার জানতে ইচ্ছে করে সেও ওর মতোই কালো নাকি! যদি তা-ই হয় তাহলে আমাকে যতটা চিন্তায় পড়তে হয়েছিল লুলা অ্যানের তত চিন্তার কিছু নেই। আমার অল্প বয়সের সে অভিজ্ঞতা থেকে এখন দিন খানিকটা বদলে গেছে। নীলচে কালো রঙের মানুষদের এখন টিভিতে, ফ্যাশন ম্যাগাজিনগুলোতে, বিজ্ঞাপনে— সবখানেই দেখা যায়। এমনকি সিনেমাতেও তারা অভিনয় করছে।
খামের ওপরে ওর নিজের ঠিকানা নেই। সুতরাং বুঝতে পারি, আমি এখনও খারাপ মা-ই রয়ে গেছি। আমার মৃত্যুর দিন পর্যন্ত শাস্তি পেতে হবে আমাকে। কেননা প্রয়োজনের দিকে নজর দিয়ে, বাস্তবতার দিকে খেয়াল করেই আমি ওকে মানুষ করেছি। আমি জানি ও আমাকে ঘৃণা করে। আমাদের সম্পর্ক কত নিচে নেমে গেছে: ও আমাকে টাকা পাঠায়। বলতেই হচ্ছে, এজন্যও আমি ওর কাছে কৃতজ্ঞ। নইলে অতিরিক্ত খরচের জন্য ভিক্ষে করতে হতো। অন্য কয়েকজনকে সেটা-ই করতে দেখেছি। একাকী খেলার জন্য তাসের সেট চাইলেই আমি পেতে পারি; তার জন্য লাউঞ্জের পুরনো রংচটা সেট নিয়ে খেলতে হবে না আমাকে। মুখে ব্যবহারের জন্য বিশেষ ক্রিমও আমি কিনতে পারি। কিন্তু নিজেকে অতটা বোকা বানানোর পক্ষে নই আমি। আমি জানি, যেটুকু বিবেকবোধ ওর অবশিষ্ট আছে তার চেয়েও নিচের একটা কাজ হলো শুধু টাকা পাঠিয়ে দূরে চুপ করে থাকা।
আমার কথা যদি বিরক্তিকর মনে হয়, অকৃতজ্ঞের মতো শোনায় তাহলে এর আংশিক কারণ হলো আমার অনুশোচনা— যে সকল ছোটখাটো কাজকর্ম আমি করিনি, কিংবা ভুল করে করেছি সেগুলোর জন্য অনুশোচনা। প্রথম যখন ওর রজঃস্রাব হয়েছিল তখনকার কথা মনে আছে; ওর প্রতি আমার প্রতিক্রিয়াও মনে আছে। কিংবা হাঁটতে গিয়ে হোঁচট লাগলে, কোনো কিছু ফেলে দিলে চিৎকার করে উঠেছি। আরো একটা সত্যি কথা হলো, ওর জন্মের সময় ওর ত্বকের কথা ভেবে আমি হতাশবোধ করেছি, বিরক্তবোধ করেছি। খুব দ্রুত আমাকে সেসব স্মৃতি দূরে ঠেলে দিতে হবে। সে স্মৃতি জিইয়ে রেখে লাভ নেই। আমি জানি, ওরকম পরিস্থিতিতে ওর জন্য যেটা সবচেয়ে ভালো সেটাই করেছি আমি। আমার স্বামী যখন আমাদের ছেড়ে চলে যায়, লুলা অ্যান আমার কাছে একটা বোঝা ছিল তখন। একটা বড় বোঝা। কিন্তু আমি সে বোঝা ভালো করেই বহন করেছি।
আমি ওর প্রতি কঠোর ছিলাম ঠিকই, তোমরা জোর গলায় বলতেই পারো। ওর বয়স বারো পেরিয়ে তেরোর দিকে যাওয়ার সময় আমাকে আরো কঠোর হতে হয়েছে। মুখে মুখে কথা বলত, আমার রান্না খেতে দিলে খেতে চাইত না, আমি চুল বেধে দিলে স্কুলে গিয়ে খুলে ফেলত। আমি চাইতাম না অন্যদের চোখে ওকে খারাপ দেখা যাক। লোকে কী কী নামে ডেকে ওকে ক্ষেপাতে পারে সে সব সম্পর্কেও ওকে সতর্ক করে দিতাম। আমার কোনো কোনো সতর্কতা হয়তো ওর মনে বেশি দাগ কেটেছে। দ্যাখো, কেমন বদলে গেছে। ক্যারিয়ার নিয়ে কত সফল, সচ্ছল! ওকে কি আর ছোট করে দেখার সুযোগ আছে?
এখন ওর পেটে বাচ্চা। চমৎকার অর্জন লুলা অ্যান। যদি মনে করে থাকো মাতৃত্ব মানে মধুর স্বরে কথা বলা, মাতৃত্ব মানে প্রাপ্ত কোনো মূল্যবান দ্রব্য, কিংবা ডায়াপার ইত্যাদি, তাহলে তোমার মানসিক ঝাঁকি খাওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। বড় ধরণের ঝাঁকি। কল্পনা করে দ্যাখো তোমার বেনামি ছেলেবন্ধু, কিংবা স্বামীর কথা! আই লাভ ইউ মাই বেবি!
আমার কথা শোনো। মা হলে কেমন লাগে এখন বুঝতে যাচ্ছ— জগৎ সংসার কেমন, কেমন করে চলে এ জগৎ, মা হওয়ার পরে জগৎটা কেমন করে বদলে যায়— সব দেখতে পাবে।
সব সৌভাগ্য তোমার জন্য! ঈশ্বর তোমার সন্তানের মঙ্গল করুন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শেখ মুজিব হত্যার পর জেনারেল জিয়া যে মন্তব্য করেছিলেন

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Friday, August 13, 2021
ইসলামভীতির শিকার ইলহান ওমর-রাশিদা তালিব, ‘জীবন ঝুঁকিতে’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলপন্থি এডভোকেসি গ্রুপ হলো এআইপিএসি। তারা দ্বিপক্ষীয় (বাইপার্টিসান) হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করে। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যেসব সদস্য সমালোচনা করেন, তাদের বিরুদ্ধে তারা দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপন প্রচার করে যাচ্ছে। এটা করা হচ্ছে বিশেষ করে যারা ডেমোক্রেট, তাদের বিরুদ্ধে।
ইলহান ওমরের যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক জেরেমি স্লেভিন বুধবার এআইপিএসি-এর কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা একটি পোস্ট স্পন্সর করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্র এবং তালেবানের মধ্যে, ইসরাইল এবং হামাস, গণতন্ত্র এবং সন্ত্রাসের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখতে পারছেন না।
জেরেমি স্লেভিন বলেছেন, কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর যেসব ঘৃণাপ্রসূত ম্যাসেজ পেয়েছেন ঠিক সেই রকমই ভাষা ব্যবহার করেছে এআইপিএসি। স্লেভিন লিখেছেন, কোনো ভুল করবেন না। ইসলামভীতি থেকে বার বার বিজ্ঞাপন প্রচার করার মাধ্যমে প্রতিনিধি ইলহান ওমরের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে এআইপিএসি। এটা বলা উচিত নয়, কিন্তু মুসলিম-আমেরিকানদের ভিত্তিহীনভাবে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত করা হলো ইসলামভীতির একটি টেক্সটবুক উদাহরণ। এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার বিষয়ক এই নারীর কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে নিয়মিতভাবে এটা করা হচ্ছে।
জেরেমি স্লেভিনের এই পোস্টের পর ওয়াশিংটনভিত্তিক নাগরিক অধিকার বিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে এআইপিএসির এমন বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো হয়েছে। ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এমন প্রচারণাকে তারা ইসলামভীতি, অসততা এবং বিপজ্জনক বিজ্ঞাপন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কেয়ার-এর উপ নির্বাহী পরিচালক এডওয়ার্ড আহমেদ মিশেল বলেছেন, এআইপিএসির এমন ইসলামভীতির ভাষা ফেসবুকের ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রতিনিধি ইলহান ওমর ও অন্য মুসলিম আমেরিকান নেতাদের বিরুদ্ধে সহিংস হুমকি উস্কে দেবে। খুব সহজভাবে বলা যায়, এআইপিএসির এই একগুঁয়েমিতে ইলহান ওমরের জীবন ঝুঁকিতে। এসব ঘৃণাপ্রসূত বিজ্ঞাপন অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা উচিত ফেসবুক কর্তৃপক্ষের। পক্ষান্তরে ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এভাবে ইসলামভীতি, ঘৃণা উসকে দেয়ার জন্য এআইপিএসির বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো উচিত কংগ্রেসনাল নেতাদের।
কিন্তু এই ক্ষোভ এআইপিএসির গতিবিধি পাল্টাতে পারেনি। উল্টো ইসরাইলপন্থি এই গ্রুপটি তাদের বার্তায় মিনেসোটার ডেমোক্রেট প্রতিনিধি ইলহান ওমরকে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত বলে বার্তা প্রচার করেছে আবারও। জেরেমি স্লেভিনের প্রতিক্রিয়ার জবাবে এআইপিএসি একটি টুইট করেছে। তাতে তারা বলেছে, আপনি আমাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে আক্রমণ করে কথা বলছেন। আপনার এই আক্রমণ আমাদেরকে ইলহান ওমরের বিষয়ে বিচ্যুত করতে পারবে না। প্রতিনিধি ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলকে তালেবান এবং হামাসের মতো একই পর্যায়ে ফেলেছেন। এটা ক্ষোভের। গণতান্ত্রিক মিত্র এবং সন্ত্রাসীদের মধ্যে কোনো নৈতিক সমতা করা চলে না। এসব সন্ত্রাসী গণতান্ত্রিক মিত্রদের টার্গেট করে।
এখানে উল্লেখ্য, ইসরাইলপন্থি এই গ্রুপটি জুনের একটি বিতর্কের দিকে ইঙ্গিত করেছে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনকে প্রশ্ন করেছিলেন ইলহান ওমর। আফগানিস্তান এবং ফিলিস্তিনে যুদ্ধাপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন- এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি কংগ্রেশনাল শুনানিতে ব্লিনকেনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন- এই দুটি ঘটনার ক্ষেত্রে যদি আভ্যন্তরীণ আদালত বিচার করতে না পারে, ন্যায়বিচার করতে না এবং আমরা যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরোধিতা করি, তাহলে দমিয়ে রাখার জন্য অপরাধের শিকার যেসব মানুষ তারা ন্যায়বিচারের জন্য কোথায় যাবে বলে আমরা মনে করি?
ইলহান ওমর পরে এর একটি ভিডিও পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এর সঙ্গে যুক্ত করে দেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের পক্ষ থেকে কিভাবে নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে, তা। ইলহান ওমর লিখেছেন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শিকার সবার জন্য জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচারের জন্য সমতা বজায় রাখতেই হবে। যুক্তরাষ্ট্র, হামাস, ইসরাইল, আফগানিস্তান এবং তালেবানদের দ্বারা অচিন্তনীয় নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করেছি আমরা।
তবে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সুনির্দিষ্ট কিছু মামলার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে তালেবান ও হামাসের সঙ্গে যুক্ত করেননি। এরপরই প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেট নেতারা তার এই ব্যাখ্যাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওই ইস্যু থেকে সরে আসেনি এআইপিএসি। তারা শুধু ইলহান ওমরকে আক্রমণ করেই ক্ষান্ত দেয়নি। তারা একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও ফিলিস্তিনে মানবাধিকার বিষয়ক প্রথম সারির সমর্থক রাশিদা তালিবের বিরুদ্ধেও আক্রমণ করেছে। বুধবার তার বিরুদ্ধেও নেমেছে এআইপিএসি।
জেরেমি স্লেভিনের পোস্টের জবাবে মিশিগানের এই কংগ্রেসওমেন লিখেছেন, এসব নিয়ে আমি খুবই মর্মপীড়ায়। তিনি লিখেছেন, ইসরাইল ছড়িয়ে দিচ্ছে ঘৃণার উস্কানি। বিদ্বেষপূর্ণ, বিপজ্জনক মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। এতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে না।
ওদিকে টুইটার একাউন্টের শীর্ষে রাশিদা তালিবের বিরুদ্ধে পোস্ট ‘পিন’ বা স্থির করেছে এআইপিএসি। এ অবস্থায় আমেরিকান-আরব এন্টি-ডিসক্রিমিনেশন কমিটির (এডিসি) আইনি পরিচালক আবেদ আয়ুব এআইপিএসির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন, বার বার ইসলামভীতি ছড়িয়ে দিচ্ছে এআইপিএসি। ফিলিস্তিনি অধিকারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে এন্টি-আরব আক্রমণ চালাচ্ছে তারা। বার বার তারা এটাই দেখিয়েছে যে, আসলেই তারা ধর্মান্ধ ও বর্ণবাদী।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মন্ত্রী কথন- মুহূর্তে মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিধিনিষেধ জারির পর প্রথম কয়েকদিন কঠোর অবস্থানে থাকে প্রশাসন। পরে আবার সবকিছু ঢিলেঢালাভাবে চলতে থাকে। ফলে লকডাউনের যে মূল উদ্দেশ্য তা অর্জন হচ্ছে না। ভ্যাকসিন নিয়ে সরকারের যে খসড়া পরিকল্পনা ছিল তাও সরবরাহের ঘাটতি থাকার কারণে বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকার দফায় দফায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে করোনা মোকাবিলার মূল অস্ত্রই হচ্ছে ভ্যাকসিন। পাশাপাশি জনগণকে মাস্ক পরানো নিশ্চিত করা। কিন্তু এই দুই ইস্যুতেই সরকার পরিকল্পনা মাফিক এগোতে পারছে না। শুরুর দিকে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আনা অক্সফোর্ডের টিকা নিয়ে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম জোরেশোরে এগোলেও পরবর্তীতে সরবরাহের ঘাটতির কারণে তা থমকে যায়। জুন মাসে বিকল্প উৎস থেকে টিকা এনে আবার গণটিকা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় সে কার্যক্রমও সীমিত করতে হয়। অপরদিকে মাস্ক পরানোর জন্য যে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে তা খুব একটা কাজে আসছে না। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানানোর ব্যাপারে আইন বা অধ্যাদেশ জারি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল সরকারের নীতি-নির্ধারকরা।
কিন্তু বিষয়টি সময় সাপেক্ষ হওয়ায় তা সহসাই হচ্ছে না। ফলে সংক্রমণের লাগাম টানতে দফায় দফায় বিধিনিষেধ দিতে হচ্ছে সরকারকে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হলে আবার বিধিনিষেধ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিককের সঙ্গে মতবিনিময়ে বলেছেন, প্রয়োজনে আবার বিধিনিষেধ জারি করা হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সরকারের পরবর্তী কৌশল কী হবে এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুটি কৌশলই আমরা অবলম্বন করবো। একটা হলো বিধিনিষেধ বা লকডাউন দেয়া। আরেকটি হচ্ছে ছেড়ে দেয়া, কিন্তু সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। পরিস্থিতি খারাপ হলে আবারো লকডাউন দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর যেকোনো দেশে বাড়লেই, যেমন অস্ট্রেলিয়াতে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে, কারফিউ দেয়া হয়েছে, সেখানে লকডাউন দেয়া হয়েছে। আমেরিকাতে দেয়া হয়েছে। দেয়া হচ্ছে কেন? কারণ এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম।
এক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিভিন্নভাবে তাদের অপরিহার্যতা। এটা খোলা প্রয়োজন, কারণ হচ্ছে ব্যবসা করে, কাজ করে, তাদের দিকে তাকিয়ে কিন্তু এ বিষয়গুলো শিথিল করা প্রয়োজন। যদিও পরিস্থিতি কিন্তু এখনো সন্তোষজনক নয়। করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ঈদের পর ২৩শে জুলাই থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের বিধিনিষেধ ১১ই আগস্ট থেকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তুলে নেয়া হয়েছে। সেদিন থেকেই সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলা। ১৯শে আগস্ট থেকে পুরোদমে চলবে গণপরিবহন, খুলছে পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে আসন সংখ্যার অর্ধেক ব্যবহার করে পর্যটন, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র খোলার শর্ত দিয়েছে সরকার। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৯শে আগস্ট পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সড়ক, রেল ও নৌপথে সব প্রকার গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে। এ ছাড়া, পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র আসন সংখ্যার ৫০ ভাগ ব্যাবহার করে চালু করতে পারবে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রণীত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। যেকোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অবহেলা করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব বহন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ১লা জুলাই দেশে লকডাউন জারি করা হলেও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে কোরবানির ঈদের সময় ৯ দিন তা শিথিল করা হয়েছিল। ঈদের ছুটির পর ২৩শে জুলাই থেকে আবার লকডাউন শুরু হলেও এরমধ্যে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। এরপর ১লা আগস্ট সব রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা খোলার অনুমতি মেলে। ১১ই আগস্ট থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সব ধরনের অফিস-আদালত খোলার অনুমতি দেয়া হয়।
বাসে-ট্রেনে গাদাগাদি করে এলে আবার সংক্রমণ বাড়বে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
করোনা থেকে সুরক্ষায় প্রত্যেককে আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, আমরা মৃত্যুর হার কমাতে চাই। শুধু সরকার পারবে না, সবাইকে প্রয়োজন। নিজেদের সুরক্ষা নিজেদের করতে হবে। বাসে ট্রেনে গাদাগাদি করে আসলে চলবে না। তাহলে আবার সংক্রমণ বাড়বে। গতকাল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘ডেঙ্গু ও করোনা মহামারিতে চ্যালেঞ্জ’- শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন (বিএসএম) ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) যৌথভাবে কর্মশালার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন- বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন-এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মো. বিল্লাল আলম। সঞ্চালনা করেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুদীপ রঞ্জন দেব।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ভ্যাকসিনের ব্যাপক চাহিদার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জানালে তিনি দ্রুতই চীনের সিনোফার্মের ৬ কোটি টিকা কেনার ব্যাপারে নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সেই ৬ কোটি টিকা ক্রয়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সময়মতো টাকা ছাড় দিয়ে অনুমোদন দিয়েছে। এখন ধাপে ধাপে ক্রয়কৃত সিনোফার্মের ৬ কোটি টিকা দেশে আসতে থাকবে। অন্যান্য মাধ্যমেও আমাদের আশানুরূপ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দেশে চলমান টিকা কার্যক্রমের গতি চলমানই থাকবে। তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহে ৫৪ লাখ এবং পরের মাসে আবার ৫০ লাখ টিকা সবমিলিয়ে এই মাসে ১ কোটি টিকা আসবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিবি, পক্স আগে মানুষের ছিল না। প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে অসুখগুলো আসে, এখনো আসছে। আমরা জানি যে, করোনা কোনো একটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে এসেছে। স্মল পক্স প্রতিরোধ করা গেছে। কোনো এক সময় করোনাও মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ভ্যাকসিন পাচ্ছি। কোভ্যাক্স থেকে আমরা ভ্যাকসিন পাচ্ছি, নিজেরাও কিনছি। ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে হলে ২৬ থেকে ২৭ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োজন হবে। একসঙ্গে এত ভ্যাকসিন আমরা পাবো না, রাখতেও পারবো না। আমরা চেষ্টা করছি, যখন যেটা পাওয়া যায় আনার জন্য। বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্র ভ্যাকসিন তৈরি করেছে এবং স্টক করেছে। জনসংখ্যার চারগুণ-পাঁচগুণ বেশি ভ্যাকসিন তারা স্টক করেছে। অনেক দেশ আছে যেখানে ভ্যাকসিন পৌঁছেনি।
তিনি বলেন, আমরা একেবারে সবাইকে ভ্যাকসিন দিতে পারবো না। ধৈর্য্য ধরতে হবে। আস্তে আস্তে সবাইকে আমরা ভ্যাকসিন দিচ্ছি। পৌনে দুই কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে। কোটি কেটি লোক রেজিস্ট্রেশন করেছে। আমাদের যারা বিরোধী আছেন, ভ্যাকসিন যখন কম থাকে তখন বলে ভ্যাকসিন কোথায়? যখন বেশি লোক আসে, লোক বেশি কেন এলো? না এলেও অসুবিধা, এলেও তাদের কাছে অসুবিধা। তাদের আমি অন্য কোনো কাজে দেখিনি। করোনার সময় মানুষের পাশে তাদের কখনো দেখিনি। মাঝে-মধ্যে টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি। শুধু সমালোচনায় দেখেছি। সমালোচনা করা সহজ খুব।
তিনি বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ডেঙ্গু রোগী বাড়বে। হাসপাতালে জায়গা সংকুলনার করতে পারছি না। এখন প্রায় সবই খুলে দেয়া হয়েছে। জীবন-জীবিকা পাশাপাশি চলবে। জীবন বেশি গুরুত্ব। জীবনকে রক্ষা করে আমাদের জীবিকা অর্জন করতে হবে। আমরা মৃত্যুর হার কমাতে চাই। শুধু সরকার পারবে না, সবাইকে প্রয়োজন। নিজেদের সুরক্ষা নিজেদের করতে হবে। সংক্রমণ অনেক বেড়েছিল, এখন কমে এসেছে। ৩২ শতাংশে উঠেছিল, এখন তা ২৩ শতাংশ। এই কমার হার ধরে রাখতে চাই। যারা বাসে- ট্রেনে চলেন, গাদাগাদি করে এলে চলবে না। তাহলে সংক্রমণ আবার বাড়বে বলেন- স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর বলেন, হাসপাতালে শয্যা বাড়িয়ে লাভ হবে না যদি সংক্রমণের মূল উৎস চিহ্নিত না করে কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম অনুষ্ঠানে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে মশার প্রাদুর্ভাব বাড়বে। কোভিড নিয়ে বলতে চাই, আমি অনেক পরে এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত হয়েছি। আমরা রাতারাতি হাসপাতাল বাড়িয়ে ফেলতে পারি না, চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়িয়ে ফেলতে পারি না। এখন সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে, আমাদের খেয়াল করতে হবে আমরা যেন এই রোগ বাড়িয়ে না চলি। হাসপাতালে আর বেড বাড়ানো সম্ভব হবে না। নন-কোভিড রোগীদের সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের সংযত হতে হবে।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, আমরা করোনা নিয়ে ক্লান্ত সবাই। এর মধ্যে নতুন করে এলো ডেঙ্গু। করোনায় বড়রা আক্রান্ত বেশি হয়। উল্টো ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে। আমরা খুব একটা ভালো সময়ে নেই। প্রতিদিনই সংক্রমণ হচ্ছে। মৃত্যু ২০০ এর উপরে। আমরা নানা পন্থা অবলম্বন করেছিলাম, তার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি সেটা খুব একটা মানা হচ্ছে না। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বেশি। চিকিৎসার চেয়ে মশা নিধন বেশি জরুরি। ডেঙ্গু চিকিৎসায় আলাদা হাসপাতাল দরকার নেই। আমি মনে করি, ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতাল করলে চিকিৎসায় সময় নষ্ট হবে। পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ বলেন, সিটি করপোরেশন বাড়ি আঙিনাভিত্তিক অভিযান চালাচ্ছে। অফিস-আদালতকে আরও গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
এর আগে ডেঙ্গু ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন-এর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির করোনার চিকিৎসার দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, বিএসএমএমইউ’র ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1329)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ▼ 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)











