Monday, October 14, 2024

ইরান সামরিক শক্তিতে এগিয়ে, তবুও ইসরায়েলের আগ্রাসনের কারণ কী? -আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধান শহরগুলোতে অন্তত ১৮০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, এ হামলা গাজায় চলমান ইসরায়েলি সহিংসতা, লেবাননে সাম্প্রতিক বিমান হামলা, এবং আইআরজিসি, হামাস ও হিজবুল্লাহ নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, এ হামলায় তেলআবিবের তিনটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু ছিল এবং তেহরান প্রথমবারের মতো ‘ফাতাহ’ হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহার করেছে। তবে আল-জাজিরা এ তথ্য নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করতে পারেনি।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পাল্টা প্রতিশোধের ঘোষণা দেন এবং ইরানের এ আক্রমণকে ‘বড় ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইরানকে এর মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং আক্রমণ প্রতিহত করতে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে।

বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ফলে আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক শক্তিতে ইরান ১৪তম এবং ইসরায়েল ১৭তম স্থানে রয়েছে। যদিও সামরিক র‍্যাঙ্কিংয়ে ইরান তিন ধাপ এগিয়ে, তবু ইসরায়েল কেন এত প্রভাবশালী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সেনাসংখ্যা ও সামরিক ব্যয় ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস)’ অনুযায়ী, ইরানের সামরিক বাহিনীতে ৬ লাখ ১০ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে, যেখানে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন শাখায় সদস্য রয়েছে। বিপরীতে, ইসরায়েলের সক্রিয় সেনাসদস্য ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ এবং তাদের রিজার্ভ সেনার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৫ হাজার।

সামরিক ব্যয়ে ইরান ২০২৩ সালে ১০.৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, যেখানে ইসরায়েল ২৭.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। সামরিক খাতে ইসরায়েলের এই অতিরিক্ত ব্যয় তার আধুনিক অস্ত্রাগার এবং উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলায় সহায়ক।

স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী ইরান স্থলবাহিনীতে বেশ শক্তিশালী, ১০ হাজার ৫১৩টি ট্যাংক এবং ৬ হাজার ৭৯৮টি কামান নিয়ে। তবে ইসরায়েল আধুনিক ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান দিয়ে এই ঘাটতি পুষিয়ে নেয়। বিমানবাহিনীর ক্ষেত্রে ইসরায়েলের উন্নত যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টারগুলো ইরানের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। নৌবাহিনীতে ইরান শক্তিশালী হলেও, ইসরায়েলের পাঁচটি সাবমেরিন এবং উন্নত প্যাট্রোল যুদ্ধজাহাজ আঞ্চলিক নিরাপত্তায় একটি বড় ভূমিকা পালন করে।

আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ইসরায়েলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বেশ কার্যকর, যা বহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম। অন্যদিকে, ইরান বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতা অর্জন করেছে। তাদের কাছে রয়েছে রাশিয়ার তৈরি এস-৩০০ এবং নিজস্ব বাভার-৩৭৩ ব্যবস্থা। তবে ইসরায়েলের আয়রন ডোম এবং অন্যান্য উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তাদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম।

পারমাণবিক সক্ষমতা ইসরায়েলের আনুমানিক ৯০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, যা তাদের সামরিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেনি, তবে তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করে তুলেছে, যা ভবিষ্যতে একটি ঝুঁকি হতে পারে।

ইসরায়েলের দাপটের কারণ
ইসরায়েলের সামরিক ব্যয়, উচ্চ প্রযুক্তি, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের চেয়ে এগিয়ে রাখে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থনও তাদের প্রভাবশালী করে তুলেছে। সামরিক শক্তির পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, এই শক্তি এবং মিত্রদের সহায়তায় ইসরায়েল আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে সক্ষম।

ইরান সামরিক র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকলেও, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশলগত মিত্রদের সমর্থনে ইসরায়েল এখনো আঞ্চলিক শক্তির শীর্ষে অবস্থান করছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা থেকে দিল্লি ব্যাঙের ছাতার মতো বেড়ে উঠেছে কিডনি সিন্ডিকেট -দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অন্তর্তদন্ত

ভুয়া পরিবার, ভুয়া নথি, ভুয়া ডায়াগনস্টিক ল্যাব যা শুধুমাত্র কাগজে কলমে বিদ্যমান সঙ্গে বানোয়াট সিল। একটি প্লাস্টিকের বাক্স তাতে আবার লাল ‘অফিসিয়াল’ স্টিকার-এভাবেই আদ্যোপান্ত একটি ১০ সদস্যের জাল সিন্ডিকেট দিল্লির সার্জনের চারপাশে ঘোরাফেরা করে। এগুলো হলো একটি আন্তর্জাতিক কিডনি প্রতিস্থাপন র‍্যাকেটের নেপথ্য কারিগর। অভিযুক্তদের সাথে ভারতের রাজধানী দিল্লির দুটি সুপরিচিত হাসপাতালের  সংযোগ ছিল, তারা সিস্টেমের ত্রুটিগুলোকে কাজে লাগিয়েছিল। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি তদন্তে গোটা বিষয়টি সামনে এসেছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের হাতে যে তথ্য প্রমাণ এসেছে তার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অনুমোদনের ফর্ম এবং প্রচুর কল রেকর্ড। যার ভিত্তিতে ৫০ বছর বয়সী একজন সার্জনসহ ১০ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সার্জন অ্যাপোলো হাসপাতালে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য প্রায় ২০-২৫টি কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট পরিচালনা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নয়ডার ইয়াথার্থ হাসপাতালগুলোও গত তিন বছর ধরে তদন্তাধীন। পুলিশ ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই দুটি হাসপাতালে বাংলাদেশি রোগীদের ওপর পরিচালিত ১২৫-১৩০ টিরও বেশি ট্রান্সপ্লান্টের বিশদ বিবরণ চেয়েছে। কেস রেকর্ডের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেগুলো সবকটি অভিযুক্ত সার্জন, ডা. বিজয়া রাজাকুমারী দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ১লা জুলাই।  তিনি এখন জামিনে আছেন এবং আদালতে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ভারতের মেডিকেল সেক্টরে কর্মরত একজন অনুবাদকসহ দুই বাংলাদেশিও রয়েছে। এই বছরের এপ্রিলে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে একটি সতর্কবার্তায়   বিদেশিদের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সাথে জড়িত ‘বাণিজ্যিক লেনদেন’ বৃদ্ধির বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। তদন্ত শুরু হওয়ার পরে দিল্লি পুলিশ এই চক্রটির  হদিস পায়। ১৭ জুন দায়ের করা একটি মামলা এবং এক মাস পরে চার্জশিট দাখিলের পর দিল্লি হাইকোর্ট ২৩ আগস্ট ডা. রাজাকুমারীকে জামিন দেয়। পুলিশের মতে, রাজাকুমারী প্রাথমিকভাবে দিল্লিতে ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলোর সাথে যুক্ত ছিলেন। নয়ডার অ্যাপোলো হাসপাতাল এবং ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হায়দ্রাবাদ-ভিত্তিক অ্যাপোলো গ্রুপ অব হাসপাতালের অংশ। অন্য আসামিরাও এখন জামিনে রয়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর দিল্লির একটি আদালত প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ ভারতীয় সংবিধানের ধারায় এবং মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন ১৯৯৪-এর অধীনে দাখিল করা চার্জশিটটি বিবেচনা করে।

নিয়ম ও নিয়মের ফাঁক

ভারতে অঙ্গ দান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় শুধুমাত্র নিকটাত্মীয়দের মধ্যে। যেমন, বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তান, দাদা-দাদি, নাতি-নাতনি এবং স্ত্রীকে কিডনি  দান করার অনুমতি দেয়া হয়। অন্যান্য আত্মীয়রা বিশেষ পরিস্থিতিতে কিডনি দান করতে পারে সরকার-নিযুক্ত কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে। বিদেশি নাগরিকদের অবশ্যই একটি ‘ফর্ম ২১’ জমা দিতে হবে, যার জন্য মূলত সংশ্লিষ্ট দূতাবাস থেকে একটি অনাপত্তি সনদপত্র প্রয়োজন। যেখানে বলা থাকবে এই অঙ্গদান ওই ব্যক্তি স্বেচ্ছায় করছেন, অর্থের  বিনিময়ে বা বলপূর্বক নয়। রেকর্ড মোতাবেক এই  ‘ফর্ম ২১’  দিল্লি-ঢাকা র‌্যাকেটের মূলে রয়েছে। পুলিশের মতে, প্রতিটি অস্ত্রোপচারের জন্য এই ফর্মটি সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটটি জাল পরিবার এবং নথি ব্যবহার করে দাতা এবং প্রাপকদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করেছে বলে অভিযোগ। এই পদ্ধতিতে ফর্ম ২১-এর অপব্যবহার ভারতে বেড়ে চলেছে। কেস রেকর্ডের বিশ্লেষণে দেখা যায় যে,  নয়ডার অ্যাপোলো হাসপাতালে বাংলাদেশি রোগীদের নিয়ে ডা. রাজাকুমারী ১ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৩ এর মধ্যে মোট ৬৬টি কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি পরিচালনা করেছেন। এই  একই সার্জন বিদেশিদের উপর ৭৮টি অপারেশন পরিচালনা করেছেন  ২০২২ এর ৭ আগস্ট থেকে ২০২৪ এর ১৩ মে -এর মধ্যে।  নয়ডার ইয়াথার্থ হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচারগুলো করা হয়েছে। যার মধ্যে ৬১জন বাংলাদেশি রোগী রয়েছেন ।

অ্যাপোলো, নয়ডা: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ১ এপ্রিল ২০১৯ থেকে ৩১ মে ২০২৪-এর মধ্যে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য ৯০টি ফর্ম-২১ যাচাইকরণ পর্যালোচনা করেছে। যাতে শুধুমাত্র একটির ক্ষেত্রে একজন নিকটাত্মীয়র অস্তিত্ব মিলেছে। বাকি ১৫টির ক্ষেত্রে যে নিকটাত্মীয়র উল্লেখ রয়েছে তা ভুয়া। বেশিরভাগই দাতাকে দূরের আত্মীয় হিসাবে চিত্রিত করে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৫০% ক্ষেত্রে দাতা ছিলেন প্রাপকের বোনের ছেলে, প্রাপকের স্ত্রীর ভাই (১২%), মায়ের বোনের ছেলে (৯%), স্বামীর বোনের ছেলে (৬%) , কখনোবা বাবার বোনের ছেলে (৫%)।

ইয়াথার্থ, নয়ডা: স্ক্যানারের অধীনে ৬১টি অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে একজনও প্রাপকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, স্ত্রী, ভাই-বোন নয়। রেকর্ডে  কমপক্ষে ১৪টি ভুয়া পারিবারিক সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। যেমন প্রাপকের বোনের ছেলে (৩১ %), প্রাপকের স্বামীর বোনের ছেলে (১৮%), প্রাপকের স্ত্রীর বোনের ছেলে (১৫%), প্রাপকের মায়ের বোনের ছেলে (১৫%) এবং প্রাপকের স্ত্রীর ভাই (৫ %)।  

পুলিশের মতে, এই ধরনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, প্রাপকের নিকটাত্মীয়দের ভুলভাবে জাল নথি সংগ্রহ করা হয়েছিল যাতে বানোয়াট পারিবারিক সম্পর্ক তুলে ধরে জাল দাতা তৈরি করা যায়।বাংলাদেশের দরিদ্র ব্যক্তিদের ৪-৫ লাখ টাকায় (ভারতীয় মুদ্রায়) কিডনি দান করার জন্য প্রলুব্ধ করা হতো এবং প্রাপকদের থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়) নেয়া হতো। নয়ডায় এই হার অনেক বেশি। গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশিরা পুলিশকে বলেছে যে, তারা দাতাদের জন্য অর্থ প্রদানসহ প্রতি ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য প্রায় ৮ লাখ টাকা আয় করতো। কথিত জাল নথিগুলো যেগুলো ফর্ম-২১ এর  কপিগুলো সুরক্ষিত করতে ব্যবহৃত হয়েছিল, তার স্ক্রিনিং কিভাবে হয়েছিল সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বাংলাদেশ হাইকমিশন দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাথে কথা বলতে চায়নি। রেকর্ডগুলো দেখায় যে, পুলিশ তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাইকমিশনের ভেরিফিকেশন রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে।

কীভাবে তারা এটা করেছে

পুলিশের মতে, রেকর্ডে চিহ্নিত মেডিকেল অনুবাদক রাসেল এবং তার সহকর্মী রোকন ল্যাপটপে টেমপ্লেট সংরক্ষণ করার পরে নথিতে হেরফের করেছিলেন। তাদের কাছ থেকে একাধিক জিনিস জব্দ করেছে পুলিশ। যেমন, রোকনের বাড়িতে অফিসিয়াল স্টিকারসহ ‘ওয়েসিস আরাবিয়া প্রিমিয়াম ডেটস’ লেবেলযুক্ত একটি প্লাস্টিকের বাক্স মিলেছে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন কর্মকর্তার ২০টি সীলমোহর, ডিজিটাল স্বাক্ষর, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য, পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং রাজু ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরি থেকে মেডিকেল রিপোর্টসহ ৯৯১টি ওয়ার্ড ফাইল সম্বলিত একটি পেনড্রাইভ উদ্ধার হয়েছে। রাজু ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরির আদতে কোনো অস্তিত্ব নেই। পুলিশ জানায়, এসবই কিডনি প্রতিস্থাপনের সময় ভুয়া পারিবারিক সম্পর্ক দেখানোর ক্ষেত্রে  ব্যবহার করা হতো। রাসেলও জিজ্ঞাসাবাদের সময় দাবি করেছেন যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা রোগীর ফাইলগুলো ত্বরান্বিত করার জন্য প্রতি ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়) চার্জ করেছিলেন।

একটি নমুনা যা বড় সত্য উদ্ঘাটন করেছে

তদন্তের সময় পুলিশ দিল্লির জাসোলায় রোকনের ভাড়া করা বাসা থেকে ঢাকার একজন ৪৪ বছর বয়সী ব্যক্তির কিডনি প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত নথি উদ্ধার করেছে যা রোগীর ৩৫ বছর বয়সী ভাইয়ের মাধ্যমে  ইয়াথার্থে পরিচালিত হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। ওই ভাইকে আইনি  দাতা হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। এই নথিগুলোর মধ্যে একটি ফর্ম-২১ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (কনস্যুলার) এর স্বাক্ষর এবং সীলমোহরসহ দাতা এবং প্রাপকের ফটোতে ‘অফিসিয়াল’ সিল রয়েছে। পুলিশ জানায়, হাইকমিশনের দুটি জাল সিলও পাওয়া গেছে। রেকর্ডগুলোতে  ফর্ম-২১-এর সাথে সংযুক্ত বেশ কিছু নথিও মিলেছে যেখানে একজন অ্যাডভোকেট, পুলিশ স্টেশন এবং দায়িত্বে থাকা অফিসারের কথিত সীল সম্বলিত বাংলাদেশ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট রয়েছে, রয়েছে সিনিয়র সহকারী সচিব (কনস্যুলার); সিনিয়র সহকারী সচিব (আইন ও বিচার বিভাগ); ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার উইং এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নথি। পুলিশ অভিযোগ করেছে আসামিদের কাছ থেকে ভুয়া সিল মিলেছে। যার মধ্যে রয়েছে - দাতা, প্রাপক এবং অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের  জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুদিত কপি, বাংলায় বিয়ের সার্টিফিকেট এবং তাদের ইংরেজি অনুবাদ, মৃত আত্মীয়দের মৃত্যু সনদপত্র। সিলগুলো দাতার হলফনামা, আত্মীয়দের কাছ থেকে একটি অনাপত্তি সনদ এবং একটি ভুয়া পারিবারিক নথি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা বাংলাদেশের একটি পাবলিক নোটারি দ্বারা স্ট্যাম্প করা হয়েছিল।

৪৪ বছর বয়সী রোগীর ‘ভুয়া পারিবারিক সম্পর্ক’ মোতাবেক তার বাবা ২০১৯ সালে ক্যান্সারে মারা গেছেন। কাল্পনিক রাজু ল্যাবের রিপোর্টে রক্তে উচ্চ শর্করার মাত্রার কারণে তার মাকে দাতা হিসেবে অনুপযুক্ত হিসেবে দাবি করা হয়েছে। ল্যাবের অন্যান্য সনদপত্রগুলো রক্তের ধরণ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে প্রাপকের স্ত্রী, তার বাবা এবং তার দুই ভাইকে বাতিল করেছে। একমাত্র  স্ত্রীর বড়  ভাইকে দাতা  উপযুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে ল্যাব রিপোর্টে। পুলিশের সন্দেহ তিনি একজন ভুয়া আত্মীয়। রাসেল পুলিশকে বলেছে যে দুটি হাসপাতালে   অপারেশন করা হয়েছিল তারা নথি যাচাইয়ের জন্য রাজু ল্যাবে ই-মেইল পাঠাত। রেকর্ডগুলো দেখায়, অভিযুক্তের এই ই-মেইল অ্যাকাউন্টে অ্যাক্সেস ছিল এবং তারা নিজেরাই নথিগুলো যাচাই করতো।

ইয়াথার্থ হাসপাতালের দাবি


মামলাটি নয়ডায় ইয়াথার্থ হাসপাতাল এবং অ্যাপোলো হাসপাতালে পরিচালিত ২০-২৫ টি কিডনি প্রতিস্থাপনের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। এই বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ইয়াথার্থ হাসপাতালের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “সাম্প্রতিক মামলার বিষয়ে, আমরা স্পষ্ট করতে চাই যে পরিদর্শনকারী পরামর্শদাতাসহ সমস্ত ক্ষেত্রে আমাদের কঠোর বহু-স্তরীয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়া মেনে করা হয়েছে। আমরা আমাদের প্রক্রিয়াগুলোকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছি। এটি জোর দেয়া গুরুত্বপূর্ণ যে ইয়াথার্থ হাসপাতাল সর্বদা ট্রান্সপ্লান্ট পদ্ধতির জন্য সমস্ত আইনি এবং নৈতিক নির্দেশিকা মেনে চলে। আমরা কর্তৃপক্ষকে তাদের তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছি। আমরা সততা এবং সহানুভূতির সাথে মানুষের সেবা করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  আমরা সর্বদা  আমাদের রোগী এবং তাদের পরিবারের উপর রাখা আস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করি।'

mzamin

ইসরাইলে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় নিহত ৪, আহত ৬১

ইসরাইলের উত্তর সীমান্তে একটি সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে লেবাননের যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এতে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সের চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬০ এর অধিক সেনা। আইডিএফ-কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হাইফার দক্ষিণে ৩৩ কিলোমিটার দূরে একটি শহরে বিনইয়ামিনার কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে আইডিএফ-এর সাত সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।

হিজবুল্লাহ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তেল আবিব এবং হাইফার মধ্যবর্তী একটি এলাকায় অবস্থিত আইডিএফ-এর গোলানি ব্রিগেডের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরকে লক্ষ্য করে হামলা করেছে হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরাইলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) জানিয়েছে, হামলায় ৬১ জন আহত হয়েছেন- যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। তারা আরও জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ৩৭ জনকে আটটি আঞ্চলিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

mzamin

‘ন্যাশনাল ডে’ পালনের জেরে নতুন করে উত্তেজনায় চীন-তাইওয়ান

দ্বীপ রাষ্ট্র তাইওয়ানের সমুদ্র ও আকাশ সীমার কাছে নতুন করে সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন। ১০ অক্টোবর তাইওয়ানের ‘ন্যাশনাল ডে’ পালনের জেরে দ্বীপটির সীমান্তে চলছে বেইজিংয়ের নৌ ও বিমান বাহিনীর যৌথ মহড়া। চীনের সামরিক বাহিনীর পূর্বাঞ্চলের কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন লি শি সোমবার বলেছেন, এই যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়েছে নৌ ও বিমান বাহিনীর ভারি যুদ্ধযান। মহড়াটির নাম দেওয়া হয়েছে সোর্ড-২০২৪। মূলত মহড়ার মাধ্যমে তাইওয়ানের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল সীমান্তে নিজেদের সামরিক শক্তি জরো করেছে চীন। কেননা তারা দ্বীপরাষ্ট্রটির সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

এতে বলা হয়, তাইওয়ানের মূল বন্দর এবং বিশেষ এলাকাকে টার্গেট করেই সীমান্তে এই মহড়া শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের জাতীয় ঐক্য রক্ষায় এই মহড়া বৈধ এবং প্রয়োজনীয় অপারেশন বলে মনে করছে বেইজিং। কবে নাগাদ এই মহড়া শেষ হবে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের মুখপাত্র লি শি।

চীনের এই মহড়াকে অযৌক্তিক এবং উস্কানিমূলক বলে অভিহিত করেছেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্তে উপযুক্ত বাহিনীর মাধ্যমে টহল জোরদার করা হয়েছে। এরমধ্যে ২৫টি যুদ্ধবিমান ও নৌ বাহিনীর ৭টি যুদ্ধজাহাজ সহ মোট ১১টি যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ানের সমুদ্র ও আকাশ সীমায় পাহারায় পাঠানো হয়েছে।

প্রসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, চীনের উচিত তাইওয়ানের জনগণের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক জীবনযাপনের প্রতি সম্মান করা এবং সামরিক উস্কানি থেকে বিরত থাকা।
সম্প্রতি সময়ে চীন তাইওয়ান সীমান্তে নিজেদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। তারা তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে। চীনের হুমকি থাকা সত্ত্বেও এ বছরের ১০ অক্টোবর ‘ন্যাশনাল ডে’ পালন করেছে তাইওয়ানের জনগণ। দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে ন্যাশনাল ডে পালিত হওয়ার কয়েকদিন পরেই সামরিক মহড়া শুরু করলো চীন। যেকোনো দখলদারিত্ব প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে ‘ন্যাশনাল ডে’ উপলক্ষ্যে দেয়া নিজের ভাষণে বলেছেন, তাইওয়ানের ২৩ মিলিয়ন মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করার কোনো অধিকার নেই চীনের।

mzamin

ইরানকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘টিএইচএএডি’ অ্যান্টি মিসাইল পাচ্ছে ইসরাইল

ইরানকে মোকাবিলায়  যুক্তরাষ্ট্রের ‘টিএইচএএডি’ অ্যান্টি মিসাইল পাচ্ছে ইসরাইল। তেল আবিবকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, ইসরাইলের আত্মরক্ষার্থেই এই অ্যান্টি-মিসাইল সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইসরাইলকে এসব অস্ত্রের চালান দেয়ার অর্থ হচ্ছে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এসব অস্ত্রের পাশাপাশি মার্কিন সামরিক সেনাও ইসরাইলে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে এসব অ্যান্টি-মিসাইলের চালান হাতে পেলে ইরানকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে ইসরাইল।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে তেহরানের পারমাণবিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসরাইলকে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বাইডেন প্রশাসন ইরানে সরাসরি হামলার বিপক্ষে। কেননা ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা হলে ইরান সর্বাত্মক যুদ্ধের পথে আগাতে পারে যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। এছাড়া ইসরাইলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকায় ইরানের পাশে দাঁড়াতে পারে রাশিয়া ও চীন যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মস্কো ও বেইজিংয়ের সরাসরি উপস্থিতির সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। মূলত এ কারণেই ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

পেন্টাগনের মুখপাত্র মেজর জেনারেল প্যাট্রিক রাইডার বলেছেন, মূলত তারা ইরান ও তার সমর্থিত গ্রুপগুলোর হামলাকে প্রতিরোধ করতেই ইসরাইলে সেনা মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনারা ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। ইসরাইলের অভ্যন্তরে মার্কিন সেনা মোতায়েনের ঘটনা বিরল। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান সমর্থিত গ্রুপগুলোর হামলার মুখে পড়ায় ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা করেছে মার্কিন সেনারা। তবে সেটা ইসরাইলের ভূখণ্ডের বাইরে থেকে।

‘দ্য টার্মিনাল হাই অল্টিটিউিড এরিয়া ডিফেন্স সিস্টেম’ (টিএইচএএডি) হচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি আধুনিক সংস্করন। ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে জোরালো করতেই বিশেষ এই অ্যান্টি-মিসাইল দেবে যুক্তরাষ্ট্র।  

টিএইচএএডি ব্যাটারির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, সাধারণত বিশেষভাবে তৈরি এই একটি অ্যান্টি-মিসাইল পরিচালনায় ১০০ সৈন্যের প্রয়োজন। এসব অ্যান্টি মিসাইলের একটি ভ্যান থেকে একসঙ্গে ছয়টি লঞ্চার ছোড়া সম্ভব, যার প্রতিটি লঞ্চারে আটটি করে ইন্টারসেপ্টর এবং শক্তিশালী রাডার রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রোববার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা ইসরাইলকে ক্ষেপণাস্ত্র ও নিজেদের সেনা সহায়তা দিয়ে সেনাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, যদিও আমরা সর্বাত্মক যুদ্ধে থেকে নিজেদের বিরত রাখার চেষ্টা করছি কিন্তু আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই- ইরানের জনগণ এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় অমাদের কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই।

mzamin

ইহুদিদের ‘বিশেষ দিনে’ ইরানে হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল! -এনবিসির প্রতিবেদন

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইহুদিদের বিশেষ উৎসব ‘ইয়োম কিপুর’র ছুটির মধ্যেই তেহরানে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। তবে এখনো হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেনি দেশটির মন্ত্রিসভা।

গত ১ অক্টোবর ইরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা হামাস, হিজবুল্লাহ ও আইআরজিসির কমান্ডার হত্যার প্রতিক্রিয়া। এর পরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভয়ংকর প্রতিশোধের হুমকি দেন। ১০ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে আলোচনা করা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

শুক্রবার (১২ অক্টোবর) এনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরায়েল লেবানন ও গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। তেল উৎপাদক দেশ হিসেবে পরিচিত ইরান ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক হামলার বিপরীতে কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করেছে এর মধ্যেই।

ইসরায়েলের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, তেল উৎপাদন কেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েল হামলার মাত্রা কিছুটা কমাতে পারে।

নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, যেখানে ইরানে হামলার বিষয়ে পরামর্শ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলকে ‘অতিরিক্ত’ প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংসের জন্য অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে, এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ২০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। তারা লেবাননের রামিয়া অঞ্চলে একটি টানেলও আবিষ্কার করেছে, যেখানে অস্ত্র ও রসদ পাওয়া গেছে।

অপরদিকে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে রকেট ও মিসাইল দিয়ে হামলা বাড়াচ্ছে, যার ফলে বহু ইসরায়েলি সেনা হতাহত হয়েছে।

এদিকে ইরান এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, যাতে ইসরায়েলকে আকাশসীমা ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

উল্লেখ্য, বিশেষ ‘ইয়োম কিপুর’ দিনটিতে ইহুদিরা ব্যক্তিগত ও সামাজিক প্রার্থনা ও উপবাস পালন করে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এ কারণে, ইসরায়েলের হামলা সেই দিনটি চিহ্নিত করতে পারে, যখন সবকিছু বন্ধ থাকে এবং সরকারের পক্ষ থেকে একটি নীরবতা বজায় রাখা হয়।

ইহুদিদের ধর্মীয় ছুটির সবচেয়ে গৌরবময় দিন ইয়োম কিপুর উৎসবে। ছবি : সংগৃহীত
ইহুদিদের ধর্মীয় ছুটির সবচেয়ে গৌরবময় দিন ইয়োম কিপুর উৎসবে। ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন ভারতে। নেতাদের প্রায় সবাই আত্মগোপনে। গ্রেপ্তার হয়েছেন কেউ কেউ। জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীদেরও দেখা মিলছে না। টানা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের এই হাল নিয়ে নানা আলোচনা। নানা প্রশ্ন। আওয়ামী লীগ আর রাজনীতিতে ফিরতে পারবে? ফিরলে কীভাবে, কোন কৌশলে ফিরবে? এসব প্রশ্নের চটজলদি জবাব হয়তো কারও কাছে নেই। তবে দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের বরাতে মানবজমিন জানতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছেন শেখ হাসিনা। তার ধারণা ওই নির্বাচন আওয়ামী লীগের কোনো সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। সুযোগের বিপরীতে হতাশার বার্তাও নিয়ে আসতে পারে মার্কিন মুলুকের নির্বাচন। আসছে ৫ই নভেম্বর গণতান্ত্রিক পৃথিবীর অন্যতম দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু গত জুলাইয়ে বাইডেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসকে সমর্থন দেয়ায় নয়া দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। এরপর থেকেই ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলকান শিবির প্রচারণায় নেমে পড়েছে। রিপাবলিকান প্রার্থী কমালা হ্যারিসের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার হাতছানি। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্যও বিশেষ বার্তাবহ হতে পারে। বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সরকারের সম্পর্কের বৈরিতার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে সময়ে সময়ে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির কর্মকর্তাদের হেয় করে কথা বলা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তরফেও বহু চেষ্টা চালানো হয়েছে আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ে। দফায় দফায় কর্মকর্তারা সফর করেছেন। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গেও নানা সময়ে আলোচনা চালিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই চেষ্টাকে ভালো চোখে দেখেনি বরং গণতান্ত্রিক এই চেষ্টাকে অবজ্ঞা করে স্বৈরতান্ত্রিক ভাবধারায় সরকার পরিচালনা করা হয়েছে। জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে বিদেশি শক্তির হাত থাকতে পারে এমন কথাও বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের কারও কারও তরফে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেই জানিয়েছে, জুলাই-আগস্টের বিপ্লব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

আওয়ামী লীগ মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকান শিবির জয় পেলে বাংলাদেশ নিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন হবে না এবং ভারত সরকারের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সম্পর্ক অপরিবর্তিত থাকবে। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হলে বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন অবস্থানের হেরফের হতে পারে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন বাতাবরণ তৈরি হতে পারে। সুযোগ তৈরি হতে পারে আওয়ামী লীগের জন্যও। যদিও কূটনৈতিক বোদ্ধারা মনে করেন, নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হলেও যুক্তরাষ্ট্রর নীতি পরিবর্তন খুব একটা হয় না।

এসব দিক চিন্তা করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদেরও ওই দেশের নির্বাচন নিয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তানভীর কায়সারের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার টেলিফোন আলাপে এমন একটি ইঙ্গিত মিলেছিল। যদিও ওই টেলিফোন আলাপ প্রকাশ হওয়ার পর তানভীরকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই ফোনালাপে শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে স্থানীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ৫ই নভেম্বরের আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবস্থানের খুব একটা হেরফের হচ্ছে না। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় দলীয় নির্দেশনা আসতে পারে। পরিবর্তন আসতে পারে দলের নেতৃত্বেও।

ওদিকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রচ্ছন্ন চাপে পড়েছে ভারত সরকার। দেশটিতে আশ্রয় নেয়ার পর শেখ হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্টে অবস্থানের নির্ধারিত ৪৫ দিন পেরিয়ে গেছে আরও আগেই। এমন অবস্থায় তিনি কোন স্ট্যাটাসে ভারতে অবস্থান করছেন তা যুক্তরাষ্ট্রের তরফে জানতে চাওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে চাউর হয়েছে ভারতে ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট পেয়েছেন শেখ হাসিনা। এই ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট ব্যবহার করে তিনি তৃতীয় কোনো দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন। যদিও এই ডকুমেন্ট পাওয়ার বিষয়ে ভারত বা বাংলাদেশ কোনো পক্ষ থেকেই স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এ বিষয়ে জানিয়েছেন, ‘ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট যেকোনো দেশ যেকোনো ব্যক্তিকেই ইস্যু করতে পারে। আমাদের তা ঠেকানোর কোনো উপায় নেই। ভারত ‘ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট’ দিলে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট বা অবনতি হবে এমন আশঙ্কা নেই বলেও তিনি জানান।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট নিয়েই ভারতে অবস্থান করতে হবে। এই ডকুমেন্ট দিয়ে তিনি তৃতীয় কোনো দেশেও যেতে পারবেন।

ওদিকে বিভিন্ন সূত্রে বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে- ভারতের বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু আমিরাত তাকে গ্রহণ করেনি। তাকে বিমানবন্দরে ১৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় কাটাতে হয়েছে এমন খবরও এসেছে। যদিও এসব খবরের সত্যতা কোনো সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেনি।

ভারতে অবস্থান করা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশে ইতিমধ্যে গণহত্যার দায়ে অনেক মামলা দায়ের হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব মামলার বিচার প্রক্রিয়াও শুরু হতে যাচ্ছে দ্রুতই। এসব মামলায় পরোয়ানা জারি হলে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইতে পারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে করা ভারতের চুক্তির আওতায়ই এটির সুযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে টানাপড়েন হতে পারে এমন আশঙ্কাও রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পর দলীয় অনেক বিষয় খোলাসা হতে পারে। শেখ হাসিনা ভারতে থাকবেন নাকি অবস্থান পরিবর্তন করবেন সেটিও এরই মধ্যে নিশ্চিত হতে পারে। 

mzamin

রতন টাটার সঙ্গে জামশেদনগরে by সিরাজুল ইসলাম কাদির

১০ অক্টোবর খুব ভোরে হোয়াটসঅ্যাপে এক বার্তা পেলাম—বিরল এক শিল্পপতি রতন টাটার চিরবিদায়। ক্ষুদ্র বার্তাটি হৃদয়ের গভীরে গিয়ে আঘাত করল। মনে পড়ল প্রায় ২১ বছর আগের কথা। টাটার আমন্ত্রণে জামশেদনগরে ভ্রমণ এবং রতন টাটার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপের কথা।

২০০৩ সালের ২ মার্চ বুধবারের কথা। বাংলাদেশ বিমানে আমরা কলকাতা পৌঁছালাম। তখনো দুপুর হয়নি। বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তা খুঁটিয়ে পাসপোর্ট দেখলেন। ভ্রমণের কারণ জানতে চাইলেন। বললাম, ‘টাটার আমন্ত্রণে এসেছি। টাটা শিল্প গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জামশেদজি টাটার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আমন্ত্রণ। ৩ মার্চ তাঁর ১৬৬তম জন্মবার্ষিকী।’ ভদ্রলোক উৎসুক চোখে তাকালেন। বললাম, ‘আমরা কয়েকজন সাংবাদিক এসেছি। জানেনই তো টাটা ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্পপ্রতিষ্ঠান।’ যাতে দ্রুত ছাড়া পাই সে জন্য টাটা নিয়ে আরও কিছু কথা বললাম। আমার কথায় দ্বিমত করলেন কর্মকর্তা। তিনি বললেন, ‘টাটা দ্বিতীয় বৃহত্তম? টাটা এখন দ্য লারজেস্ট।’ আমি বললাম, ‘কেন রিলায়েন্স’? তিনি বললেন, ‘দুই ভাই যেভাবে ঝগড়াঝাঁটি করছে, তাতে এখন আর এক নম্বর নেই।’ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পাসপোর্ট তুলে দিলেন আমার হাতে।

ইমিগ্রেশন ছাড়তেই দরজার মুখে ‘টাটা স্টিল’ প্ল্যাকার্ড হাতে এক দীর্ঘকায় তরুণীর সাক্ষাৎ মিলল। সপ্রতিভ। ভিজিটিং কার্ড এগিয়ে দিলাম। তাঁর নাম শিল্পশ্রী। টাটার শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা। আরেকটু এগোতেই পরিচয় হলো টাটা স্টিলের গৌতম ব্যানার্জির সঙ্গে। তিনি করপোরেট কমিউকেশনস ব্যবস্থাপক।

কলকাতার একটা হোটেলে আমাদের বিরতি-বিশ্রামের ব্যবস্থা হলো। বিকেল চারটায় ট্রেন। হাওড়া স্টেশন থেকে যাত্রা। চমৎকার ব্যবস্থা। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ। আরামকেদারা। আপ্যায়নে কোনো ত্রুটি নেই। কোনো প্রয়োজন আর অসুবিধা জানানোর উপায় নেই। চিলের মতো ছোবল দিয়ে গৌতম তা লুফে নেন। সেই প্রয়োজন না মেটা পর্যন্ত তাঁর স্বস্তি নেই। আমরা যে চার–পাঁচ দিন ছিলাম, ছায়ার মতো তিনি আমাদের সঙ্গী হয়েছিলেন। কী আন্তরিকতা আর আতিথেয়তা!

ট্রেনে শিল্পশ্রী বললেন, ‘জামশেদনগর আপনাদের ভালো লাগবে। পরিচ্ছন্ন, সবুজে ঘেরা।’ তাঁর কথা আমি আমলে নিইনি। উন্নত দেশই শিল্পনগরকে দূষণমুক্ত রাখতে পারে না...।

রাত ১১টা নাগাদ জামশেদনগর পৌঁছালাম। রেলস্টেশনের নাম টাটা নগর। টাটার বিশ্রাম ভবনে থাকার ব্যবস্থা হলো। সবার জন্য পৃথক কক্ষ। ছিমছাম। বাহুল্য নেই। ভালো লাগল। রাতের খাবারেও কোনো বাহুল্য ছিল না। বুঝতে দেরি হলো না বিশাল সম্পদের মালিক টাটা শিল্পগোষ্ঠী কী মিতব্যয়ী। আর্থিক শৃঙ্খলা না থাকলে কারও পক্ষেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

বেশ ভোরে ঘুম ভেঙে গেল। প্রস্তুতি নিয়ে বের হলাম। চওড়া রাস্তা। দুই পাশে সবুজের ছড়াছড়ি। রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন। গাড়ির পেছনে কালো ধোঁয়া। সব বাড়ি বাংলো টাইপের। বহুতল ভবন একেবারেই চোখে পড়েনি। একতলা বা দোতলা। সামনে সবুজ বাগান। সবকিছু ছবির মতো। প্রথম আলোর কাইয়ুম ভাই অর্থাৎ আব্দুল কাইয়ুম মুকুল বললেন, ‘আহ শান্তি লাগছে। ঢাকায় উঁচু উঁচু ঘরবাড়ি দেখতে দেখতে আর শ্বাস নিতে পারছি না।’

সকাল সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানস্থলে টাটার প্রতিষ্ঠাতা জামশেদজির ভাস্কর্য। ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে। আজকের এই টাটার গোড়াপত্তন হয়েছে তাঁরই হাতে। নিষ্ঠা, সেবা আর শ্রম দিয়ে তিনি এই শিল্পকে সামনের দিকে এগিয়ে দিয়েছেন। তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম এই শিল্পকে মহিরূপে বিকশিত করতে সমান দায়িত্বের পরিচয় দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানস্থলে আলাপ হলো রাজেশ্বর পান্ডের সঙ্গে। তিনি টাটা স্টিলের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি। এখানে প্রায় ৪৪ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। আর গোটা টাটার কর্মিবাহিনীর সংখ্যা ৫ লাখের বেশি। ২০৪ বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ টাটা শিল্প গ্রুপে কখনো শ্রমিক–অসন্তোষের কথা শোনা যায়নি। কী করে সম্ভব? জানতে চাইলে বললেন, ‘এখানে আমরা নিজেদের শ্রমিক মনে করি না। এই প্রতিষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ আমরা। কোম্পানি ভালো আয় করলে তার অংশ আমাদের ভাগেও জোটে। রতন টাটা চেয়ারম্যান বটে, কিন্তু তাঁর বিশাল সম্পদ-বৈভব নেই। তিনি ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন।’

কলকাতা থেকে আমাদের সঙ্গে এসেছেন মহাশ্বেতা সেন। তিনি ‘বৈষ্ণবী’র সহযোগী পরিচালক। এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি ভারতে টাটার জনসংযোগের কাজ করে। তিনি বললেন, ‘টাটার সাফল্যের গোপন রহস্য এখানেই। তাঁরা সম্পদকে নিজেদের পরিবারের বিত্ত মনে করেন না। যে সমাজের কাছ থেকে তাঁরা নিচ্ছেন, সেই সমাজকেই ফিরিয়ে দিচ্ছেন।’ কিছু পরই তাঁর এ মন্তব্যের সত্যতা মিলল। টাটা যেসব সামাজিক কল্যাণধর্মী কাজ করে, তার কিছু কিছু নমুনা দেখানো হলো আমাদের।

আলাপ হলো সমাজসেবা ও পারিবারিক উদ্যমের প্রধান কর্মকর্তা শক্তি শর্মার সঙ্গে। জামশেদজির নামানুসারে নাম হয়েছে এই নগরের। জামশেদনগর ঝাড়খন্ড প্রদেশেরই একটি শহর। এটি আগে ছিল বিহার রাজ্যে। ভারতের সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যপীড়িত রাজ্য। এই রাজ্যের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে টাটার কত যে উদ্যোগ, তা নিজের চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না।

ইস্পাতের মতো কঠিন শিল্প নিয়ে যাঁরা নাড়াচড়া করেন, তাঁদের ইস্পাতের নিচে যে এ রকম একটা কোমল হৃদয় থাকতে পারে, তা ভাবাই যায় না। আদিবাসীদের জন্য রয়েছে শিক্ষামূলক কর্মসূচি, স্বাস্থ্য কর্মসূচি, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি। শক্তি শর্মা এসব কর্মসূচির বর্ণনা দিতে দিতে বললেন, ‘বাংলাদেশ অবশ্য ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির পথপ্রদর্শক।’ ড. ইউনূসের নাম উঠতেই অজান্তে তাঁর হাত উত্তোলিত হলো। তিনি সালাম জানালেন ড. ইউনূসকে। বললেন, ‘তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা।’

টাটার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান হিসেবে আগামী মাসে দায়িত্ব নেবেন মানজের হোসেন। নৈশভোজের অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রশ্ন করলাম ‘কী করে আপনারা এই শহরটাকে এভাবে ছবির মতো করে রেখেছেন? কোথায় এর প্রাণশক্তি?’ তিনি বললেন, ‘আমাদের প্রাণশক্তি জামশেদজি। সেন্টার ফর এক্সেলেন্সে তাঁর নিজের হাতের লেখা যত্ন করে সংরক্ষণ করা আছে। তিনি তাঁর উত্তরসূরির উদ্দেশে লিখে গেছেন।’

১৯০২ সালে জামশেদজি তাঁর পুত্র দারবিজকে এই উপদেশবাণী দেন শিল্পনগরী স্থাপনের ছয় বছর আগে। তাঁর এই হিতোপদেশের বাংলা হচ্ছে এ রকম—‘শিল্পকারখানা করার আগে অবশ্যই প্রশস্ত রাস্তার জন্য জায়গা ছেড়ে দেবে। আর ওই রাস্তার দুই পাশে ছায়াদানকারী গাছ লাগাবে। এর ফাঁকে ফাঁকে লাগাবে একটি করে দ্রুতবর্ধনশীল গাছ। উন্মুক্ত জায়গা আর বাগানের জন্য প্রচুর জমি ছেড়ে দেবে। ফুটবল, হকি ও পার্কের জন্য বিশাল এলাকা সংরক্ষণ করে রাখবে। মসজিদ, মন্দির আর গির্জার জন্য পৃথকভাবে জায়গা রাখবে।’

সকালের অনুষ্ঠানস্থলে সামনের সারিতে আসীন ছিলেন টাটার বর্তমান চেয়ারম্যান রতন টাটা। আমি গিয়ে পরিচিত হতেই সোফায় তাঁর পাশে আসন গ্রহণের জন্যে আহ্বান জানালেন। আলাপের একপর্যায়ে বললেন, ‘মুনাফা নয়, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা শিল্প করছি।’ জানতে চাইলাম‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিলেন কেন’? জবাবে বললেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নে যদি কিছু করা যায়, সেই আকাঙ্ক্ষা থেকে।’ জামশেদপুরে অর্থনৈতিক উন্নতি দেখে তাঁর এই মন্তব্য হৃদয় থেকে এসেছে বলে মনে হলো।

(স্মৃতিচারণামূলক লেখাটি ইউপিএল থেকে প্রকাশিতব্য রয়টার্সের দিনগুলো বই থেকে নেওয়া হয়েছে।)

 * সিরাজুল ইসলাম কাদির রয়টার্সের সাবেক ব্যুরোপ্রধান এবং বর্তমানে অ্যামচ্যাম জার্নালের সম্পাদক

রতন নাভাল টাটা (২৮ ডিসেম্বর ১৯৩৭ -  ৯ অক্টোবর ২০২৪)
রতন নাভাল টাটা (২৮ ডিসেম্বর ১৯৩৭ - ৯ অক্টোবর ২০২৪) এএফপি

শিক্ষা ঋণ বদলে দিতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা by পিয়াস সরকার

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর করতে ‘শিক্ষা ঋণ’র ধারণা দিয়েছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি মনে করেন, এর মাধ্যমে গরিব-মেধাবী শিক্ষার্থীরা সমভাবে শিক্ষার পরিবেশ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গতিশীলতার সঙ্গে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে শিক্ষা জীবন শেষ করতে পারবেন। যা ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক উপকারী হবে। মানবজমিনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এহসানুল হক মিলন শিক্ষার বিষয়ে নানান কথা বলেন।

২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা এহসানুল হক মিলন বলেন, বিনা পয়সায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়ছেন। তারা বিনামূল্যেই পড়ুক কিন্তু একটু টাকাটা ঘুরিয়ে দেয়া যায়। ধরেন একজন শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিবছর সরকার এক লাখ টাকা খরচ করছে। এই শিক্ষার্থীকে প্রথম বর্ষের পর সার্টিফিকেট দেয়া হলো- ‘তিনি ভালো করেছেন এবং গ্রেড পয়েন্ট এত’। এরপর সরকার ওই শিক্ষার্থীকে এক লাখ টাকা শিক্ষা ঋণ দেবে অর্থাৎ পরবর্তী বছরের জন্য এক লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা হবে। এর সঙ্গে এর ৩০ শতাংশ শিক্ষার খরচ দেবে শিক্ষার্থীর হাতে। পাঁচ বছরে সরকার থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা পাবে ওই শিক্ষার্থী। গ্যারান্টার হবে শিক্ষক, চেয়ারম্যান। সার্টিফিকেটের জন্য শিক্ষার্থীকে প্রতিটি পরীক্ষায় পাস করতে হবে। সাড়ে ৬ লাখ টাকার মধ্যে শিক্ষার্থী দেড় লাখ টাকা হাতে পাবে। যার কারণে শিক্ষার্থীর কোনো চিন্তা থাকবে না। পড়ালেখার বাইরে টাকার সন্ধান করতে হবে না। তবে এটা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কার্যকর ‘বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ’ খুবই জরুরি। যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। কিন্তু কেউ যদি পড়ালেখা না করে সরকারের তো কোনো সমস্যা নাই। চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট দেবে না। ওই শিক্ষার্থী তার বাবার টাকায় পড়ুক, ৫০ বছর থাকুক। ওই শিক্ষার্থী এই অর্থ ব্যয় করে নিজের জীবন প্রতিষ্ঠিত করবে। এরপর নির্দিষ্ট সময় পরপর ব্যাংক ম্যাসেজ দেবে- ‘পে ব্যাক ইউর লোন।’ এই লোন পরিশোধের জন্য কোনো চাপ বা শাস্তি দেয়া হবে না। ধরে নিলাম ওই শিক্ষার্থী সিনিয়র সচিব থেকে পদত্যাগ করছেন। এক কোটি টাকা পেনশন পাচ্ছেন। সেখান থেকে টাকাটা কেটে নেয়ার অনুমতি চাওয়া হবে। কারণ তার টাকা পরিশোধের যোগ্যতা আছে। এরপরও যদি না দিতে চান সেটাও সমস্যা নাই। সরকার জোর করবে না। ধরে নেই আরেক শিক্ষার্থী সিআইপি কার্ড চায়। ওখানে তথ্যে উল্লেখ থাকবে যে স্টুডেন্ট লোন পরিশোধ করেনি। আশা করি শিক্ষার্থীদের পিছনে ব্যয় করা ৫০ শতাংশ অর্থ ফেরত আসবে। বাকি টাকাটা পরিশোধ হলো না সমস্যা নাই। এখন তো বিনামূলেই পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি’র এই নেতা বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছেন ‘বাই দ্য স্টুডেন্ট, ফর দ্য স্টুডেন্ট, ফর দ্য এডুকেশন’। এরপর আমরা অনেক ভাগ্যবান একজন কনক্রিট শিক্ষাবিদকে দেশের কর্ণধার হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন আন্দোলনরত নন-পলিটিক্যাল শিক্ষার্থীরা। আমাদের দেশের ছাত্র রাজনীতি হয় মূল দলের প্রতি বায়াস্‌ড হয়ে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বার্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নন-পলিটিক্যাল শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলন করলেন। রক্ত দিলেন।
শিক্ষার সংস্কারের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক এই শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার সংস্কার কাজ এখনো শুরুই হয়নি। এরজন্য সময় দিতে হবে। শিক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্ব ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের মতো একজন গুণী মানুষ পেয়েছেন। কিন্তু শিক্ষা প্রশাসনে আগে যারা দায়িত্ব পালন করছিলেন তারা কিন্তু এখনো সেখানেই আছেন। যদিও কিছু লোককে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা স্যাডো মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখন যে সরকার রয়েছে তারা পলিটিক্যালি এত স্ট্রং নয়। কোর কমিটিতে যেমন এনসিটিবি’তে (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড) আওয়ামী লীগের লোকেরা রয়ে গেছেন। এনসিটিবি’র টেন্ডার হয় জুন-জুলাইয়ে। কিন্তু তারা দায়িত্বই নিয়েছেন আগস্টে। পরিমার্জনই এখনি হয়নি। এই কাজটা এত সহজ নয়। কারণ গত ১৫ বছরে তারা এতটা ধ্বংস করেছেন যে বলা যায় বইগুলোকে- ‘শরীফ থেকে শরীফা বানিয়ে ফেলেছে’। এই ধ্বংসাবশেষ থেকে বের হওয়া খুবই কঠিন। অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে- ‘পুরনো শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়া হবে’। এটার জন্য অবশ্যই সময়ের প্রয়োজন।

সমালোচনার জেরে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন কমিটি বাতিলের বিষয়টি তিনি সমর্থন করেন না উল্লেখ করে বলেন, সমালোচনা তো হবেই। উনি দায়িত্ব দেয়ার পর সমালোচকরা যা বলছেন সেটার কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা এটা দেখতে হবে। ইসলাম ফোবিয়া নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। বইগুলো তো ধর্ম ছিল না। তবে আমি বলতে চাই, ধর্মীয়-নৈতিকতার বিষয়টি থাকতে হবে। প্রত্যেকটি ধর্মের ভালো কথা, নৈতিকতা, আদর্শের কথা উল্লেখ থাকতে হবে।

১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সাবেক এই সংসদ সদস্য কারিগরি শিক্ষা সেক্টরের বিষয়ে বলেন, শিক্ষায় দেশে ৭১ শতাংশ ব্যয়ভার বহন করে পরিবার। বাকিটা সরকারসহ অন্যরা ব্যয় বহন করে। তবে কারিগরি শিক্ষা পুরোপুরি বৃত্তিমূলক শিক্ষা। এটার খরচ সরকার দিচ্ছে। আর্থ সামাজিক উন্নয়নে এটা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে ২১টি মন্ত্রণালয় কারিগরি শিক্ষার উপর প্রজেক্ট করে। এই অর্থগুলো নষ্ট করছে। এই বিষয়গুলো একখানে এনে একটা কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় করা যেতে পারে। অতিদরিদ্র পরিবারের মানুষগুলো মাদ্রাসায় যায়। কারণ সেখানে কোনো খরচ হচ্ছে না। সেজন্য এই সেক্টরের লোকজন মূলধারায় আসছে না। আমরা ক্ষমতায় আসার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার সুযোগ করেছিলাম। এরপর বোর্ডগুলোকে এক্সটেন্ড করি। কিন্তু মাদ্রাসায় যারা আছেন তারা তো উচ্চ শিক্ষার মূল্যায়ন করার মতো না। এরপর ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় করে তাদের দায়িত্ব দিলাম। কিন্তু আমরা শিক্ষায় যেটুকু অগ্রগতি করেছিলাম বিগত সরকার শিক্ষার গাড়িকে পেছনের দিকে নিয়ে গেছে। অর্থাৎ তারা পিছিয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম মাদ্রাসা শিক্ষায় কর্মমুখী করতে। আমরা কারিগরি মাদ্রাসার উদ্যোগ নেই। ইংরেজি মিডিয়ামে ইংরেজিতে গুরুত্ব দেয়া হয় তেমন মাদ্রাসায় আরবিকে প্রাধান্য দেয়া হবে। যাতে তারা মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে সহজে কাজ করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের কাজের একটা বড় সুযোগ আছে কিন্তু যোগাযোগ দক্ষতাটা নেই।

এহসানুল হক মিলন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এতটাই শিক্ষা নিয়ে কাজ করেছিল যে, তারা পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বোর্ড পরীক্ষা আনলো। তারা শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ বানালো। পৃথিবীতে এখন আর গিনিপিগ বানানোর প্রয়োজন নাই। এখন গ্লোবাল ভিলেজ সবই আমরা জানি। আমরা পঞ্চম জেনারেশন কম্পিউটার ব্যবহার করছি। আমরা এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করছি। এডুকেশনেও আমাদের লেটেস্টটা ব্যবহার করতে হবে। বিশ্ব যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে, পরীক্ষা কমিয়ে দিচ্ছে সেখানে আওয়ামী লীগ পঞ্চম, অষ্টম শ্রেণিতে পরীক্ষার আয়োজন করলো। এরপর তারা বললো, পরীক্ষার প্রয়োজন নাই, এরপর বললো, কোনো পরীক্ষাই নাই। মানে যখন যা মন চেয়েছে করেছে। আমেরিকায় আমি দেখেছিলাম সেখানে যে পেশাতেই যাই না কেন লাইসেন্স লাগবে। এজন্য আমি শিক্ষকদের লাইসেন্স দেয়ার জন্য এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) তৈরি করলাম। কেউ যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করতে চায় সেটাকে অনেক সময় করা যায় না, আবার প্রয়োজনও আছে। এজন্য শিক্ষার মান রক্ষায় শিক্ষকদের যোগ্যতা ধরে রাখার জন্যই তাদের লাইসেন্সের ব্যবস্থা করা। এনটিআরসিএ’র ড্রাফট আমিই প্রথমে করেছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার এটাকে দুর্নীতির রাজ্য বানালো। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয় কসাই বা গ্রামের প্রতিপত্তিওয়ালা লোক। তিনি শিক্ষকদের উপর খবরদারি করেন। এরপর ক্রাইটেরিয়া ঠিক করা হলো এই যোগ্যতাগুলো থাকলে সভাপতি হতে পারবেন। এরপর আমরা বদলির ব্যবস্থাও করেছিলাম। কিন্তু পুরোপুরি বাস্তবায়নের কাজ করার সময় পাইনি। এরপর আওয়ামী লীগ এটাকে এমনভাবে রাজনৈতিক ও দুর্নীতিগ্রস্ত করে ফেললো যে কোনো উপকারই এখন মিলছে না।

পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)’র বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে (২০০১ সালের আগে) বিসিএস ভাইভাতে ২০০ নম্বর ছিল। আমরা এটাতে কমিয়ে ১০০ নম্বর করেছি। অন্যান্য পরীক্ষাসহ বিশেষ করে বিসিএস পরীক্ষার ভাইভার নম্বর আরও কমানো যেতে পারে। ভাইভাতে স্বজনপ্রীতি করা সহজ। কারণ এটার নির্দিষ্ট কোনো কাঠামো নেই। কারচুপি করলে ধরাও খুব কঠিন। আবার এই ভাইভাতেও কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণ করে নম্বর বণ্টন করা যেতে পারে। পিএসসি সদস্যদের খুঁজে বের করতে হবে যারা স্বজনপ্রীতিতে যুক্ত নন। ধরেন একজন শিক্ষক ৩০ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তাদের চরিত্র তো একদিনে ফুটে ওঠে না। চরিত্র বুঝে যোগ্য লোকদের নিয়োগ দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, পিএসসি পরিচালনার জন্য সদস্যরা কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বিশ্ববরেণ্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নিয়েছেন। বিশ্বের কোনো দেশের সরকার প্রধান হয়তো এত গ্রহণযোগ্য নন। আর উনি যদি একটা শিক্ষা কমিশন না করেন তাহলে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবে। এই সরকারের কাছে চাওয়া এমন একটা শিক্ষা কমিশন করতে হবে প্রয়োজনে সংবিধানের সঙ্গে সন্নিবেশিত করতে হবে যাতে পরবর্তী সরকার পাল্টাতে না পারে। সেখানে বেসিক কিছু ধারা থাকবে যেগুলো পরিবর্তন করা যাবে না। বিগত সরকার জাতির ভবিষ্যত নিয়ে খেলাধুলা করেছে। জাতির সঙ্গে এর থেকে বড় অন্যায় কোনো সরকার কোনোদিন করেনি।

mzamin


পাঁচ মিলিয়ন ডলারের লোভ দেখিয়ে প্রতারণা

যুক্তরাষ্ট্রে মারা যাওয়া কথিত ব্যক্তির বীমার পাঁচ মিলিয়ন ডলারের লোভ দেখিয়ে অভিনব উপায়ে প্রতারণার মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে আজিজ মোল্লা নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি’র নিউমার্কেট থানা পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল সকালে রাজধানীর খিলগাঁও থানা পুলিশের সহায়তায় বনশ্রীর মডেল এজেন্সি নামের একটি অফিস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৯টি ব্যাংকের ৯টি চেক বই, ৩টি এটিএম কার্ড, দু’টি ভিসা কার্ড ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দু’টি মোবাইল জব্দ করা হয়। ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, গত ২৯শে সেপ্টেম্বর দুপুরে ‘Anna Harrison’ নামের ফেসবুক আইডির সঙ্গে বাদী নুরুজ্জামানের যোগাযোগ হয়। সেই ব্যক্তি বাদীকে একটি হোয়াটস অ্যাপ নম্বর দিয়ে কথা বলতে বলেন। হোয়াটহ অ্যাপে তিনি বাদীকে জানান, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ বেলটন নামে এক ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত থাকা অবস্থায় মারা যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের এলাইনস ব্যাংকে বেলটনের পাঁচ মিলিয়ন ডলার জমা রয়েছে। তিনি বাদীকে মৃত ব্যক্তির আত্মীয় পরিচয় দেয়ার জন্য বলে এবং এলাইনস ব্যাংক ম্যানেজারের আরেকটি হোয়াটস অ্যাপ নম্বর দেয়।

তিনি বলেন, ‘Anna Harrison’ তার বানানো ম্যাসেজ সেই ব্যাংক ম্যানেজারকে দিতে বলে। তারপর বাদীকে তিনি তার কথিত আইন উপদেষ্টার নম্বর দিলে বাদী তার সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। কথিত আইন উপদেষ্টা বীমার টাকা পাওয়ার জন্য বাদীকে ৭৬ হাজার ডলার প্রেরণ করতে বলে। পরবর্তী সময়ে ‘Anna Harrison’ ৭৬ হাজার ডলার পরিশোধের একটি পেমেন্ট স্লিপ বাদীকে প্রদান করে। কথিত ব্যাংক ম্যানেজার বীমার ৫ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য একটি শিপিং কোম্পানির কাছে দু’টি লাগেজ প্রদান করেছে বলে বাদীকে জানায় এবং প্রমাণস্বরূপ একটি ভিডিও দেখায়। ব্যাংক ম্যানেজার বীমা খরচ এবং ডেলিভারি খরচ বাবদ ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা প্রদান করার কথা বললে বাদী তার কথামতো ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের উত্তরা শাখার একটি অ্যাকাউন্টে তা প্রদান করে।

ডিসি বলেন, এরপর গত ৩রা অক্টোবর সকাল ৮টায় একটি নম্বর থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে ঢাকা বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয় দেয় এবং বাদীর দু’টি লাগেজ কাস্টমসে আটকে আছে বলে জানায়। লাগেজ দু’টি ছাড়াতে ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা দেয়ার কথা বললে বাদী তাদের কথামতো ইসলামী ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে তা দেন। এরপর বাদী কথিত কাস্টমস কর্মকর্তার কথামতো আয়কর ও ট্যাক্স বাবদ আরও ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ইসলামী ব্যাংকের আরেকটি অ্যাকাউন্টে দেন। এসব টাকা প্রদান করার পরও তাদের পক্ষে বাদীর কাছে আরও ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। এভাবে বারবার টাকা চাওয়ায় বাদীর সন্দেহ হলে তিনি বিমানবন্দর কাস্টমসের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ। তিনি বলেন, এভাবে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি বাদীর কাছ থেকে সবমিলিয়ে ১৭ লাখ ৬৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় বাদী নুরুজ্জামানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে শনিবার নিউমার্কেট থানায় প্রতারণার মামলা করা হয়। ওই মামলায় আজিজ মোল্লাকে খিলগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আজিজ মোল্লা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

mzamin


সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিককে হত্যা নিয়ে তোলপাড়, দায় স্বীকার লরেন্স বিষ্ণুই গ্যাংয়ের

মুম্বইয়ে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে মহারাষ্ট্রের বিধায়ক ও সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিককে। তার এই মৃত্যুকে ঘিরে ভারতে তোলপাড় চলছে। সব মিডিয়ায় সংবাদ শিরোনাম হয়েছে এ ঘটনা। লোকমুখে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ সব কাহিনী। কারণ, বাবা সিদ্দিক একজন নামকরা রাজনীতিক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন হরিয়ানার গুরমাইল বলজিত সিং (২৩) এবং উত্তর প্রদেশের ধর্মরাজ কাশ্যপ (১৯)। তৃতীয় জন উত্তরপ্রদেশের শিব কুমার গৌতম হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে চতুর্থ একজন এই ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে মনে করা হয়। তিনি পলাতক রয়েছেন। তবে  লরেন্স বিষ্ণুই শনিবার রাতের হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তাকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, তিনি একটি কুখ্যাত গ্যাংয়ের সদস্য। এই গ্যাংয়ের নাম লরেন্স বিষ্ণুই। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। অভিযোগ আছে লরেন্স বিষ্ণুই পাঞ্জাবের খালিস্তানপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। এই গ্যাংয়ে অস্ত্র চালাতে দক্ষ এমন সদস্য আছে ৭০০।

কে এই লরেন্স বিষ্ণুই: লরেন্স বিষ্ণুইয়ের জন্ম ১৯৯৩ সালে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে। ২০১০ সাল পর্যন্ত তাঁর জীবন কেটেছে রাজ্যের আবোহার শহরে। এরপর তিনি ডিএভি কলেজে ভর্তি হতে চণ্ডিগড়ে পাড়ি জমান। ২০১১ সালে যোগ দেন পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস স্টুডেন্টস কাউন্সিলে। সেখানে তার পরিচয় হয় ‘গ্যাংস্টার’ গোল্ডি ব্রারের সঙ্গে। এরপর ধীরে ধীরে অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিষ্ণুইয়ের বিরুদ্ধে দুই ডজনের বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। রয়েছে হত্যা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ। যদিও এসব অভিযোগের কোনোটাই স্বীকার করেননি তিনি। গ্যাংয়ের সদস্যদের মাধ্যমে কারাগারে বসেও বাইরের অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে চণ্ডিগড়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড শুরু করেন বিষ্ণুই। ২০১৩ সাল নাগাদ তিনি ত্রাস সৃষ্টিকারী এক চরিত্রে পরিণত হন। কয়েকটি হত্যার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে পড়ে। পরে তার গ্যাং মদ বেচাকেনা ও অস্ত্র চোরাচালানে অর্থ লগ্নি  শুরু করে। হত্যাকারীসহ ভয়ংকর সব অপরাধীদেরও আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়ে আসছে তারা। লরেন্স বিষ্ণুইয়ের নাম নতুন করে সামনে আসে ২০২২ সালে। সে বছরের ২৯ মে পাঞ্জাবের গায়ক সিধু মুসওয়ালাকে হত্যা করা হয়।

কারাগারে বিষ্ণুই: ২০১৪ সালে রাজস্থান পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ হয় লরেন্স বিষ্ণুইয়ের। এরপর তিনি কারাবন্দী হন। সেখান থেকেই আরও সংঘবদ্ধভাবে অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। কারাগারে থাকাকালে জস্বিন্দর সিং ওরফে রকি নামের আরেক অপরাধীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে তার। ২০১৬ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন রকি। বন্দী অবস্থায়ও লরেন্স বিষ্ণুইয়ের প্রভাব-প্রতিপত্তি বেড়েই চলেছিল। রাজস্থানের ভারতপুর জেলায় যে কারাগারে তিনি বন্দী ছিলেন, সেখানকার কর্মকর্তাদের হাত করে নানা কার্যসিদ্ধি করতেন। ২০২১ সালে তাকে সেখান থেকে দিল্লির তিহার কারাগারে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই কারাগারের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, আইপি কলের মাধ্যমে গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বিষ্ণুই। এ ছাড়া ২০২৩ সালে ভারতের ডানপন্থী নেতা সুখদেব সিং গোগামেদিকে জয়পুরে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সুখদেবের সঙ্গে অস্ত্রধারী একজন চা পান করছেন। তিনিই গুলি চালান। পরে বিষ্ণুইয়ের গ্যাংয়ের সদস্য রোহিত গোদারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে সুখদেবকে হত্যার দায় স্বীকার করেন। ২০১৮ সালে বলিউড তারকা সালমান খানকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে বিষ্ণুই গ্যাং। সে বছর মুম্বইয়ে সালমানের বাসায় হানা দেন সাম্পাথ নাথ নামে বিষ্ণুই গ্যাংয়ের এক সদস্য। তিনি দাবি করেন, কালো হরিণ শিকারের কারণে সালমানকে হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তার ওপর। বিরল প্রজাতির এই হরিণকে বিষ্ণুই সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করে। সালমান খানকে সরাসরি হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন লরেন্স বিষ্ণুই। ভারতের যোধপুরে আদালতে এক শুনানি চলাকালে তিনি বলেছিলেন, ‘সালমান খানকে এই যোধপুরেই হত্যা করা হবে। তারপর তিনি আমাদের সত্যিকারের পরিচয় জানতে পারবেন।’
এরপর ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বইয়ের বান্দ্রায় সালমান খানের বাসার বাইরে গুলি চালানো হয়। এই এলাকাতেই শনিবার হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বাবা সিদ্দিক। সালমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও ছিল তার। সালমানের বাসার বাইরে গুলির পর সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল, এ কাজের জন্য দু’জনকে ভাড়া করেছিল বিষ্ণুই গ্যাং।

mzamin

গণহত্যা সমর্থকদের বিচারের আওতায় আনা হবে: নাহিদ

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং  তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অন্যায়ভাবে কারো বিরুদ্ধে কোনো মামলা হলে সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্র জনতার আন্দোলনে আহতদের জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনুদানের চেক হস্তান্তরকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যারা সরাসরি ফ্যাসিস্ট সরকারের সাথে সম্পৃক্ত ছিল, উস্কানি দাতা ছিল এবং গণহত্যার সমর্থন করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, যদি কোন সাংবাদিক বা তার পরিবার মনে করে যে মামলার মাধ্যমে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে, আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা তাদের সহযোগিতা করব। আহত ও নিহতদের মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি লিগ্যাল টিম কাজ করছে। আমরা স্পেশাল ট্রাইবুনালে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। নাহিদ ইসলাম বলেন, শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। বিষয়টি চলমান রয়েছে।

আহতদের বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গণঅভ্যুত্থানে যারা শহিদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন তারা দেশের বীর সন্তান। আন্দোলনে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা জীবন দিয়েছেন তাদের সেই আত্মত্যাগকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই। তিনি বলেন, আমরা অনুরোধ করবো শহিদ এবং আহতদের যেন আমরা কোন দল বা ব্যানার দিয়ে ভাগ করে না ফেলি। আমরা যেন তাদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করি।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন,ঢাকা মেডিকেলে আসার আগে অনেকে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের সেই খরচ আমরা দিয়ে দিবো।

চেক হস্তান্তরকালে ছাত্র জনতার আন্দোলনে আহত জামাল হোসেন বয়স্কদের মাসিক ভাতা এবং তরুণদের চাকরির ব্যবস্থা করার জন্য উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানান।

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় মামলা হচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, দ্রুতই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হবে, যাতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোথাও কোন ব্যবস্থা না নেয়া হয়। আন্দোলনকারীদের হত্যার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যরা যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা।

এসময় ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আহতদের মাঝে বিতরণ করা অনুদানের হিসাব সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরে জানান, এ পর্যন্ত মোট একশ বাইশ জনকে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে এক কোটি বাইশ লাখ চৌষট্টি হাজার চারশ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি জানান,এরমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন ৩০ জনের মধ্যে ২৩ জনকে জনপ্রতি ১ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে বাকি ৭ জনের নাম সম্পূর্ণ না থাকায় তাদের বিকাশের মাধ্যমে আজই টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন ৩৩ জনের বিকাশে এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূর্নবাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ৫৯ জনের বিকাশে টাকা পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

mzamin


র‌্যাব-সেনা পোশাকে ডাকাতি আতঙ্ক

র‌্যাব-সেনাবাহিনীর পোশাক পরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীর বাসায় ডাকাতি করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় শহর জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘটনায় ডাকাতদলের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পরও নগরবাসীর মধ্যে আরও বেশি আতঙ্ক কাজ করছে। কারণ গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৫ জনই বিভিন্ন বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য। বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই সদস্যরা চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। তবে তারা থেমে যাননি। নতুন করে আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। এ ছাড়া র‌্যাব-সেনাবাহিনীর পোশাক পরে ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি বাড়ছে। কারণ এভাবে যে কারও বাসায় এসব পোশাকের আড়ালে ডাকাতি করার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই মোহাম্মদপুরের ঘটনার পর ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখন আতঙ্কিত। যদিও সকল শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এ বিষয়ে তৎপরতা শুরু করেছেন। ঘটনার পর র‌্যাব ডাকাতদলের ৮ সদস্য ও ডিবি ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। মোহাম্মদপুর থানায় ডাকাতি মামলাও হয়েছে। সকল সংস্থাই এটিকে গুরুত্বসহকারে নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাজে ফিরলেও এখনো থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম, টহল, মামলা গ্রহণ, আসামি গ্রেপ্তার, তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, নজদারিতে পুলিশ পুরোদমে সক্রিয় নয়। অপরাধীরা এই সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। যদিও পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। সব জায়গায় পুলিশ সক্রিয়।

শুক্রবার রাত ৩টার দিকে মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড় বেড়িবাঁধ এলাকায় আবু বকর নামের ব্যবসায়ীর বাসায় র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর পোশাক পরে ২০ থেকে ২৫ জন প্রবেশ করে। বৈধ অস্ত্র থানায় জমা দেয়া হয়নি এমন অভিযোগে তারা বাসায় প্রবেশ করে। আবু বকরের বাসায় ও অফিসে ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর তারা সাড়ে ৭৫ লাখ টাকা ও ৬০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যায়। ভুক্তভোগী আবু বকর বলেন, দু’টি মাইক্রোবাস ও দু’টি প্রাইভেটকার নিয়ে বাসার ভেতরে ২৫-৩০ জন ঢুকেছিল বাইরেও তাদের লোকজন ছিল। বাসায় ঢুকে বৈধ অস্ত্র থানায় জমা দেইনি তাই তারা অস্ত্র নিতে এসেছে এমন অভিযোগ করে। আমি অস্ত্র আগেই থানায় জমা দিয়েছি এমন কথা জানানোর পরও তারা বাসার আলমারি খুলে তছনছ শুরু করে। পরে তারা ফ্ল্যাটের একপাশে আমার অফিসে যায় এবং একইভাবে অস্ত্র আছে বলে সিন্দুক ও আলমারি খুলে টাকা নিয়ে নির্বিঘ্নে চলে যায়। প্রায় ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে ভোর সোয়া ৪টার দিকে বের হয়ে যায়। আবু বকর আরও বলেন, আমার বাসা-অফিস মিলে নগদ ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রী, কন্যা, ছেলের বউয়ের প্রায় ৬০ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। নগদ টাকার মধ্যে বড় অংশ ছিল জমি বিক্রির টাকা। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী ইফতেখার হাসান জানান, মুখে মাস্ক লাগিয়ে সেনাবাহিনীর পোশাক পরে আসা লোকজনকে দেখে দারোয়ান গেট খুলে দেয়। এরপর তারা তিনতলায় আবু বকরের ফ্ল্যাটে যায়। র‌্যাবের জ্যাকেট পরা ও সাদা পোশাকের লোকজনও ছিল তাদের সঙ্গে। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস বলেন, গ্রেপ্তার ১১ জনের মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য। বাকি তিনজন সাধারণ মানুষ। তাদের কাছ থেকে সোনার একটি ব্রেসলেট ও আংটি উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতির এ ঘটনায় কোনো বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। ডিবি মোহাম্মদপুরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলায় সরাসরি জড়িত যে তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে তারা হলো- শরীফুল ইসলাম তুষার (৩৫), জাকির হোসেন (৩৭) এবং মো. মাসুদুর রহমান (৪৭)। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দুই লাখ ২০ হাজার নগদ টাকা, প্রায় ৪ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ও দুটি আইফোন উদ্ধার করা হয়। ডিএমপি মিডিয়ার উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুল রহমান বলেন, ডাকাতির ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি ডাকাতি মামলা রুজু করা হয়েছে।

এদিকে গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম বলেছেন, দুর্গাপূজার পর সারা দেশে ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হবে। মাঝে মাঝে আপনাদের যে শঙ্কা তৈরি হয় এবং আমাদের কাছে যে অভিযোগ আসে আমরা সেগুলোকে আমলে নিতে চাই। আমরা যেন আইনশৃঙ্খলা অবনতির ঘটনাগুলো প্রতিহত করতে পারি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, মোহাম্মদপুরের ঘটনাটি সবদিক দিয়েই আমাদের অবাক করেছে। অতীতেও ভুয়া পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবির পরিচয় দিয়ে ডাকাতি- অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এই ঘটনা পূর্বের ঘটনার সঙ্গে নতুন কিছু মাত্রা যোগ করেছে। অতীতের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক কোনো ব্যবস্থা না করায় এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে এবং প্রতিবারের ঘটনায় নতুন কিছু মাত্রা যোগ হচ্ছে। মোহাম্মদপুরে যেটা দেখলাম বিভিন্ন বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত ও আরও কিছু লোক মিলে একটি গ্যাং তৈরি করে র‌্যাব-সেনাবাহিনীর পোশাক পরে ডাকাতি করেছে। আমরা এখন যে পরিস্থিতিতে আছি সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হতে আরও অনেক সময় লাগবে। এই সময় এসে এ ধরনের ডাকাতি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

mzamin

সিলেটে ৩ শ’ কোটি টাকার পাথর লুট

সিলেটে অবাধে চলছে পাথর লুটের মহোৎসব। গত ১০ বছর ধরে জাফলং ও ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি লিজে না থাকার কারণে দু’টি কোয়ারিতে অন্তত ১০ কোটি লাখ ঘনফুট পাথর মজুত ছিল। কিন্তু ৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপটের পর দু’টি কোয়ারিতে হরিলুট চলছে। এতে প্রায় ৩ কোটি লাখ ফুট পাথর লুট হয়েছে। গোয়াইনঘাট প্রশাসনের তথ্য মতে- জাফলং কোয়ারিতে পাথর মজুত ছিল ৩ কোটি ৭৪ লাখ ঘনফুট। ৫ই আগস্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুপস্থিতিতে সেখানে ব্যাপক লুটপাটে প্রায় ১ কোটি ঘনফুট পাথর উধাও হয়ে গেছে। এই পাথরের মূল্য একশ’ কোটি টাকারও বেশি। একই ঘটনা ঘটেছে কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ  কোয়ারিতে। দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট এখন পাথরশূন্য। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন; ৫ই আগস্ট থেকে টানা তিন দিন সাদাপাথরে পাথর লুট চলে। একই সঙ্গে বাংকার এলাকায়ও পাথর লুট হয়। প্রায় ১ কোটি ঘনফুট পাথর লুট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। এই পাথরের মূল্যও একশ’ কোটি টাকার বেশি। পাথরের মজুত থাকায় সিলেটে এ দু’টি কোয়ারি নিয়ে পাথরের মজুত থাকায় গত দুই বছর ধরে লিজের জন্য খনিজ উন্নয়ন ব্যুরোতে নানা তদবির করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় দু’টি কোয়ারির ইজারা মূল্য ১শ’ কোটি টাকা পর্যন্ত হাঁকা হয়। কিন্তু সরকারের পরিবেশগত বিধিনিষেধ থাকায় দু’টি কোয়ারি ইজারা দেয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে; এবার লুট হওয়া পাথর থেকে সরকার কোনো রাজস্ব পায়নি। এতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার কারণে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরে বর্তমানে পাথর লুট বন্ধ রয়েছে। তবে; রেলওয়ের বাংকার এলাকায় এখনো পাথর লুট হচ্ছে। প্রতিদিন শতাধিক নৌকা বাংকার থেকে পাথর নিয়ে এসে বিভিন্ন ক্রাশার মিলে বিক্রি করছে। প্রশাসন থেকে অভিযান চালালেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

দেশের অন্যতম বড় কোয়ারি হচ্ছে জাফলং পাথর কোয়ারি। পর্যটনের সঙ্গে কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ হওয়ার কারণে বিগত সরকারের শেষের ১০ বছর পুরোপুরি সিলগালা ছিল এ কোয়ারি। এ কারণে কোয়ারি অভ্যন্তরে স্তূপে স্তূপে পাথর জমা ছিল। কিন্তু ৫ই আগস্টের পর থেকে পাথর লুটপাটের কারণে এখন পূর্বের মতো কোয়ারি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত শনিবার কোয়ারি এলাকায় সাঁতার কাটতে গিয়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৪ই নভেম্বর জাফলংকে পরিবেশ-প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণার গেজেট প্রকাশ হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আবেদন করেছিল ২০১২ সালে। এরপর থেকে কয়েকটি ধাপে জাফলং থেকে বালু ও পাথর কোয়ারির ইজারা কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- জাফলংয়ে পাথর লুটের সঙ্গে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম শাহপরান, বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন ও পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আমজাদ বক্স সহ একটি প্রভাবশালী চক্রের নাম আলোচিত হচ্ছে। এদের নেতৃত্বে এখনো কোয়ারি এলাকায় পাথর লুট করা হচ্ছে। তারা জাফলংয়ের পাথর লুটপাটের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতা ইমরান হোসেন সুমনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট করে নিয়েছে। এ ব্যাপারে ইমরান আহমদ সুমন অভিযোগ করেছেন। এরই মধ্যে প্রশাসন সক্রিয় হয়ে জাফলংয়ের কোয়ারি এলাকার প্রবেশমুখে বাঁশ দিয়ে  বেড়া দিয়েছে। কিন্তু এই বেড়া ভেঙে পাথর লুট হচ্ছে।

কান্দুবস্তি ও নয়াবস্তি প্রতিবছরই ভারতের ডাউকির প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায়। এ কারণে এলাকার মানুষ পানির ঢল থেকে বাঁচতে দু’টি গ্রামের উজানে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন। এক মাস ধরে পাথরখেকোরা ওই বাঁধে লুটপাট চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ইতিমধ্যে বাঁধের অর্ধেক অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। বাঁধ থেকে কয়েক কোটি টাকার পাথর লুট করা হয়েছে। এখনো প্রতিদিন বাঁধের অংশ থেকে পাথর লুট বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ব্যাপারে তারা প্রতিবাদ জানালেও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মহড়ার কারণে চুপ রয়েছেন। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- ‘লুটের আগে সেখানকার কয়েকটি সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন আকারে অবহিত করা হয়েছে।’ সমপ্রতি জাফলং পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি সিলেটের একটি টিম। বেলা সিলেটের সমন্বয়ক এডভোকেট শাহ সাহেদা বলেন- লুটপাট নয়, প্রকাশ্যেই পাথর তোলা হচ্ছে।

 মেশিন ব্যবহার করে পাথর তোলা হচ্ছে। এ নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সব কিছু অবগত করেছি। এরপরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।  এদিকে- জৈন্তাপুর উপজেলায় অবৈধভাবে বিভিন্ন বালুমহাল ও পাথর কোয়ারি থেকে সিন্ডিকেট চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জৈন্তাপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না গ্রামবাসী। বিভিন্ন সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে কতিপয় নেতাকর্মী বালুমহাল, পাথর কোয়ারিতে সক্রিয় আছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাঁদা উত্তোলনের কথা প্রকাশ পেলেও ভয়ে মুখ খুলতে চায় না কেউ। চাঁদাবাজ উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয় অভিযুক্তরা হলেন- ইন্তাজ আলী, আব্দুল মান্নান, রহিম উদ্দিন, রহমান আলী, তাজউদ্দিন, মিজানুর রহমান, সামছুজ্জামান সেলিম, হারুন আহমদ, আহসান উল্লাহ, শুয়াইবুর রহমান ও তাদের লোকজন।

ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে ইসরাইল: যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও পারমাণবিক অবকাঠামো হামলা চালাতে পারে ইসরাইল। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ নিতেই তেল আবিবের এই সম্ভাব্য প্রতিশোধের কথা জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। শনিবার মার্কিন বিশেষ কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমটি।

এই খবরের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস ও লেবাননের বিরুদ্ধে গত এক বছর যাবত সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে ইসরাইল। গত মাসে লেবাননে ইসরাইলের হামলায় হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হওয়ার পর এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। তখন ইসরাইলের হামলায় ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ড কর্পের কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছিলেন। যার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলে দুই শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় তেহরান। এরপর থেকেই পাল্টা প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে তেল আবিব। বিশ্লেষকরা বলছেন, উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের কোনো সংঘাত বেঁধে যেতে পারে।

১লা অক্টোবর ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইসরাইল। যেকোনো সময় তেহরানের সামরিক ঘাঁটি এবং পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালাতে পারে নেতানিয়াহুর বাহিনী। হামাস ও হিজবুল্লাহ নেতাদের হত্যা করার মাধ্যমেই ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

যদিও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত নেই বলে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে গণমাধ্যমটি বলেছে ইসরাইল কীভাবে এবং কখন তেহরানকে লক্ষ্যবস্তু করবে সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ইহুদিদের ধর্মীয় ছুটি ইয়োম কিপ্পুর সময় তেহরানের হামলার একটি প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তারা।

এক বছর আগে গাজা যুদ্ধের শুরুতে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলে রকেট হামলা করলে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। যা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তীব্রভাবে বেড়েছে। হিজবুল্লাহ রোববার বলেছে, দক্ষিণ লেবাননের রামিয়া গ্রামে অনুপ্রবেশে বাধা দিতে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে তাদের যোদ্ধারা।

ইসরাইলের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা হিজবুল্লাহর ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ ধ্বংস করতে দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। শনিবার ইসরাইলের বিমানবাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিসহ ২০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এ সময় হিজবুল্লাহ কর্তৃক ছোড়া বেশ কয়েকটি রকেট লঞ্চার ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

mzamin

প্রকাশিত হচ্ছে পুতিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নাভালনির মরণোত্তর স্মৃতিকথা

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নেতা আলেক্স নাভালনির মরণোত্তর স্মৃতিকথা প্রকাশিত হচ্ছে আগামী ২২ অক্টোবর। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন রাশিয়ার ভিন্নমতালম্বী ওই নেতা। তিনি বিশ্বাস করতেন তিনি কারাগারেই মারা যাবেন। বার্তা সংস্থা এএফপি-কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

এতে বলা হয়, দ্য নিউ ইয়র্কার শুক্রবার এই বই থেকে উদ্ধৃতাংশ প্রকাশ করেছে, যাতে নাভালনির জেলখানার ডায়েরি এবং তার আগের লেখা রয়েছে। সেখানে নাভালনি ২০২২ সালের ২২ মার্চ লিখেছেন, আমি আমার বাকি জীবন কারাগারে কাটিয়ে দেব এবং এখানেই মারা যাব।

তিনি আরও লেখেন, কারাগারে আমাকে বিদায় বলার মতো কেউ থাকবে না... আমাকে ছাড়াই প্রতিটি বার্ষিকী উদযাপন করা হবে, আমি আমার নাতি-নাতনিদের দেখতে পাব না।

নাভালনি তার ডায়েরি লিখার সময় একটি আর্কটিক পিনাল কলোনিতে ‘চরমপন্থার’ অভিযোগে ১৯ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। এ বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৪৭ বছর বয়সে কারাগারে তার মৃত্যুতে নিন্দার ঝড় ওঠে। তার মৃত্যুর জন্য অনেকেই পুতিনকে দোষারোপ করেছে। নাভালনিকে ২০২০ সালে বিষ ক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর বিদেশ থেকে জরুরি চিকিৎসা শেষে রাশিয়ায় ফিরে আসার পর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারিতে ডায়েরিতে নাভালনি লিখেছেন, একমাত্র ভয় হচ্ছে আমরা আমাদের জন্মভূমি এক দল মিথ্যাবাদী, চোর এবং ভন্ডদের দ্বারা লুণ্ঠিত হওয়ার জন্য রেখে যাব।

লন্ডন টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ডায়েরিটি কারাগারে নাভালনির ওপর নির্যাতন এবং অনশনের ফলে তার শরীরের অমানবিক দশার কথা প্রকাশ করে।

নাভালনি আরও লিখেছেন, আজ আমি বিধ্বস্ত বোধ করছি। আমরা গোসলখানায় গেলাম। গরম ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা আমার জন্য কষ্টের ছিল। ফলে আমার পা আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে আসে।

তিনি আরও লেখেন, এখন সন্ধ্যা হয়েছে এবং আমার দুর্বল লাগছে। মনে হয় শুধু শুয়ে থাকি, এবং প্রথমবারের মতো আমি আবেগতাড়িত হয়ে নিজেকে খুব নিচু মানের ভাবছি।

mzamin

মেডিকেল রেকর্ড নিয়ে ডেমোক্রেট রিপাবলিকান কথার লড়াই

বিভিন্ন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ডনাল্ড ট্রাম্পকে ঘায়েল করে চলেছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী কমালা হ্যারিস। তিনি নিজের মেডিকেল রেকর্ড প্রকাশ করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, কমালা চমৎকার স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শারীরিকভাবে যোগ্য। এ তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর ট্রামেপর মেডিকেল রেকর্ড নিয়ে আক্রমণ করেন। বলেন, ডনাল্ড ট্রাম্প তার স্বাস্থ্যগত রেকর্ড প্রকাশ করেননি। স্বচ্ছতায় ঘাটতি আছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের। কমালা হ্যারিস আরও বলেন, তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী চান না যে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ জানতে পারুক তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য শারীরিকভাবে যোগ্য কিনা। তবে ট্রাম্পের মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ না করে তার প্রচারণা টিম চিকিৎসকদের উদ্ধৃত করে বলেছেন, ট্রাম্প যথার্থ ও চমৎকার স্বাস্থ্যের অধিকারী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির থেকে বলা হয়েছে, রিপাবলিকান এই প্রার্থী চরমমাত্রায় ব্যস্ত আছেন। তিনি প্রচারণা শিডিউল নিয়ে কাজ করছেন। তারা আরও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রতি সহনশীলতা নেই কমালা হ্যারিসের।

হোয়াইট হাউস থেকে একটি মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশের পর এই বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়, বর্তমানের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য শারীরিক এবং মানসিক যে সুস্থতা প্রয়োজন তা তার আছে। তিন বছর ধরে কমালা হ্যারিসের চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্নেল ডা. জোশুয়া সিমনস। তিনি এপ্রিলের এক রিপোর্টে লিখেছেন, কমালা অবিস্মরণীয় স্বাস্থ্যের অধিকারী। তার সঙ্গে যোগ করেন তিনি সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। তিনি আরও যোগ করেন, কমালা হ্যারিসের পরিবারে কোলন ক্যান্সার এবং এলার্জির ইতিহাস আছে। এ জন্য কমালা পূর্বেই সতর্কতা অবলম্বন করেন। এর মধ্যে তিনি কোলনস্কোপি করিয়েছেন। বার্ষিকভিত্তিতে ম্যামোগ্রাম করিয়েছেন। কমালা হ্যারিসের মেডিকেল  রেকর্ড প্রকাশের পর তার প্রচারণা টিমের এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পকে তার মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন- এবার আপনার পালা ডনাল্ড ট্রাম্প। নর্থ ক্যারোলাইনায় এক প্রচারণা সভার আগে ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। কিন্তু ট্রাম্প টিম এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তারা শুধু মুখেই বলছে, ট্রাম্প পারফেক্ট এবং এক্সিলেন্ট স্বাস্থ্যের অধিকারী।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রার্থিতা জানান দিয়ে প্রচারণা শুরু করলে তাকে নিয়ে যেমনভাবে রিপাবলিকানরা সমালোচনা করেছিলেন, ঠিক একইভাবে ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্পের বয়স এবং তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে আক্রমণ করে চলেছেন ডেমোক্রেটরা। যদি ৫ই নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্প নির্বাচিত হন তাহলে তা হবে এ পদে তার দ্বিতীয় মেয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি। তার মেয়াদ শেষে বয়স হবে ৮২ বছর। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে। আগামী জানুয়ারিতে ৮২ বছর বয়সে ক্ষমতা ছাড়বেন বাইডেন। ফলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় বাইডেনের ৮২ বছর বয়সের রেকর্ডকে স্পর্শ করে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রেসিডেন্ট হবেন তারা। ওদিকে কমালা হ্যারিসের শিবিরের সমালোচনা, চাপের জবাবে ট্রাম্পের প্রচারণা বিষয়ক যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং বলেন, ট্রাম্প স্বেচ্ছায় তার ব্যক্তিগত চিকিসকের কাছ থেকে আপডেট প্রকাশ করেছেন। পেনসিলভ্যানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার পর ওই চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন। তার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ট্রাম্প চমৎকার স্বাস্থ্যের অধিকারী।

mzamin

ব্যাকফুটে চুন্নু, গ্রেপ্তার নাকি পুনর্বাসন! by আশরাফুল ইসলাম

বাংলাদেশের রাজনীতির এক আলোচিত-সমালোচিত চরিত্র জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। অন্য একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হয়েও বিগত ১৫ বছরেরও বেশি সময়ে আওয়ামী শাসনামলে ছিলেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। এমপি থেকে শুরু করে মন্ত্রিত্ব পর্যন্ত সব স্বাদই নিয়েছেন। আলোচনা রয়েছে, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন থেকে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো যখন নির্বাচন বয়কট বা বর্জনের পথে হাঁটে, তখন জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে নেয়ার ক্ষেত্রে কৌশলী ভূমিকা রাখেন মুজিবুল হক চুন্নু। মহাজোটের অংশীদার হিসেবে তখন তিনি হাসিনা সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে চুন্নু তার নিজ আসন কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) এর প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে আওয়ামী লীগকে সরিয়ে দেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত ড. মিজানুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে সরকারি দলের সহযোগিতায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির মাধ্যমে তাকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য হন মুজিবুল হক চুন্নু। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর পুরস্কার হিসেবে মুজিবুল হক চুন্নু মন্ত্রিসভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর রাতের ভোটের নির্বাচনেও মুজিবুল হক চুন্নুর কৌশলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোটের সঙ্গী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় জাতীয় পার্টি।

মহাজোট প্রার্থী হিসেবে চুন্নু ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। সে নির্বাচনে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরার স্বীকারোক্তি তিনি নিজেই দিয়েছেন। ২০২২ সালের ৩১শে জুলাই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে জাতীয় পার্টির সংলাপে তিনি বলেছিলেন, ‘রাতে কিন্তু কাজটা (ভোট দেয়া) হয়। হয় মানে কী, আমরাই করাইছি। কী বলবো এটা হয়। এটা হয় না, ঠিক না।’ এর আগে ২০২১ সালের ৯ই অক্টোবর জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান থেকে মুজিবুল হক চুন্নুকে মহাসচিব করা হয়। তাকে মহাসচিব করার ব্যাপারেও সরকারি দল আওয়ামী লীগ এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তদবির ছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্র বলছে, সর্বশেষ গত ৭ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে মহাসচিব হিসেবে প্রায় একক সিদ্ধান্তে চুন্নু জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে নিয়ে যান। এমনকি গত ৭ই জানুয়ারির নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় মুজিবুল হক চুন্নু তার নির্বাচনী পোস্টারে নিজেকে ‘জাতীয় পার্টি মনোনীত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত’ প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন। সে সময় বিষয়টি বেশ সমালোচিত হয়। এদিকে গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শুরুর দিকে বেশ স্বস্তিতেই ছিলেন মুজিবুল হক চুন্নু। ৫ই আগস্ট সেনাপ্রধানের সঙ্গে জাতীয় পার্টির বৈঠক এবং ৩১শে আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দলে ছিলেন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের বিরোধিতার মুখে পরবর্তীতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকে ডাক পায়নি জাতীয় পার্টি। এতে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বিপাকে পড়েন। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যেই গত ৬ই অক্টোবর রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় মুজিবুল হক চুন্নুকে আসামি করা হয়।

 বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিকে ঘিরে গত ৫ই আগস্ট রাজধানীর আজমপুর এলাকায় গুলিতে নিহত আলমগীর হোসেন (৩৪) এর মা মোসা. আলেয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে করা এ মামলায় ৬নং আসামি করা হয়েছে মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে এটি মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রথম ও একমাত্র মামলা। এরপর থেকেই অনেকটা ব্যাকফুটে রয়েছেন মুজিবুল হক চুন্নু। তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়টি তার নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে জানাজানি হওয়ার পর সেখানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার নিজ এলাকার মানুষ মুজিবুল হক চুন্নুকে এ মামলায় অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতি চুন্নু কীভাবে সামাল দিবেন, সেটিই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শনিবার (১২ই অক্টোবর) জাতীয় পার্টি আয়োজিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সকল থানা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ বরাবরই আমাদের অনৈতিকভাবে বিভিন্ন চাপে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করেছে। তাদের কাছে অনেক সময় আমরা জিম্মিও ছিলাম।

এখন কোনো চাপ নেই তাই আমরা স্বাধীনভাবে আমাদের রাজনৈতিক কর্মকৌশল প্রণয়ন করে জনগণকে প্রকৃত সেবা দেয়ার লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হবো। জনগণ আমাদেরকেই সমর্থন করবে। এজন্য ধৈর্য্য ধারণ করে কারও কোনো উস্কানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে পার্টির সকল সাংগঠনিক কার্যক্রমে একাগ্রতার সহিত অংশগ্রহণ করতে হবে এবং জনগণকেও উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলীয় ফোরামে চুন্নু যাই বলেন না কেন, আওয়ামী লীগকে সর্বগ্রাসী হয়ে উঠতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল জাতীয় পার্টি এবং এক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকায় ছিলেন মুজিবুল হক চুন্নু। তাই বর্তমান পরিস্থিতি জাতীয় পার্টি কিংবা চুন্নু কারওরই অনুকূলে নয়।
বিশেষ করে চুন্নুর বিরুদ্ধে বেশি সরব আলোচনা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হবেন কি-না, সেটি নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তিনি পুনর্বাসিত হন কি-না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

mzamin


‘কাঠগড়ায়’ দোনা সীমান্তের সাদ্দাম by মুফিজুর রহমান

সিলেট সীমান্তের আলোচিত দু’টি ঘটনা। একটি হচ্ছে বিচারপতি মানিক আটক ও অন্যটি আওয়ামী লীগ নেতা ইছহাক আলী খান পান্না হত্যা। এ দু’টি ঘটনা নিয়ে এখনো কানাইঘাটের  দোনা সীমান্তে তুমুল আলোচনা। বিরাজ করছে ক্ষোভও। আর এ দুটি ঘটনায় যার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে সে হচ্ছে যুবলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন। সীমান্তের চোরাকারবারি সে। এর আগে চোরাচালানের অনেক ঘটনায় তার নাম উচ্চারিত হয়েছে। রয়েছে একাধিক মামলাও। সেই সাদ্দাম ও চোরাকারবারি চক্রের বিরুদ্ধে  বুধবার সিলেটের ডিআইজি’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পূর্ব লক্ষ্মী প্রসাদ ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন। আর এই অভিযোগেও তিনি তুলে এনেছেন বিচারপতি মানিক আটক ও পান্নার ঘটনা। তবে; ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিনের দাবি- এ দুটি ঘটনা এলাকার মানসম্মান ক্ষুণ্ন করেছে। এতে এলাকার মানুষ বিব্রত। অভিযোগে নাজিম উদ্দিন সাদ্দাম ছাড়াও তার পিতা আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল হক, তার চোরাকারবারি চক্রের সদস্য খাসারিপাড়া গ্রামের কাওছার আহমদ, পাতিছড়া গ্রামের শামীম আহমদ, এরালিগুল গ্রামের জসিম উদ্দিন, মিকিরপাড়ার এনাম উদ্দিন, খাসারিপাড়ার শিহাব উদ্দিন, এরালিগুলের ইয়াছিন, মিকিরপাড়ার সেলিম আহমদ ও রাতছড়ার আবুল কালাম।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন; এ দু’টি ঘটনায় সাদ্দামের নাম আলোচিত হওয়ায় সে এখন আত্মগোপনে রয়েছে। বেশির ভাগ সময়ই বসবাস করছে  দোনা সীমান্তের ভারতের অংশে। অভিযোগে নাজিম উদ্দিন জানিয়েছেন- বিগত ১৫ বছর সাদ্দামের চক্রের সদস্য দোনা সীমান্ত এলাকাকে চোরাচালানের নিরাপদ রুটে পরিণত করেছে। তাদের নেতৃত্বে ভারত থেকে গবাদিপশু, মাদক, ইয়াবা, আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরণের চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করে। একই সঙ্গে তারা ভারতে মানব পাচার করে থাকে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় এতদিন তাদের এই অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। ৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টা থাকায় অনেকেই সীমান্ত দিয়ে পালাতে পারেনি।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন- সাদ্দাম ও চক্রের চোরাচালানিদের সহযোগিতায় দোনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন ক্ষমতাচ্যুত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাবেক এমপি রণজিৎ সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা বিধান কুমার সাহা, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, সাবেক বিচারপতি মানিক সহ বহু নেতা ও কর্মকর্তারা। এসব নেতা সাদ্দাম ও তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব নেতাকে নিরাপদে পৌঁছে দেয়ায় সহযোগিতা করে। গত ২৩শে আগস্ট সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে পাচারকালে স্থানীয় জনতা আটক করে ফেলে। ওই সময় তার মানিকের সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা ইসহাক আলী খান পান্না হৃদরোগে বা যেকোনো ভাবে ভারত অংশে মৃত্যুবরণ করেন। আর বিষয়টি চোরাকারবারিদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গোটা দেশে দোনা সীমান্তের নাম ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে দোনা সীমান্তে মানব পাচারের হিড়িক পড়ায় আসামিদের নাম ও ছবি মিডিয়ায় প্রকাশ হয়। নাজিম উদ্দিন জানান, সাদ্দাম ও তার সহযোগীরা বিচারপতি মানিক জনতার হাতে আটক হওয়ার আগেই তার সঙ্গে থাকা ৬০ লাখ টাকা, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন এসব ঘটনায় এলাকাবাসী সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি ডিআইজিকে অনুরোধ করেন। এদিকে; অভিযোগের ব্যাপারে একাধিকবার সাদ্দামের বাংলাদেশি ও ভারতের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকার লোকজন জানিয়েছেন- দেশ জুড়ে আলোচিত দু’টি ঘটনার পর থেকে সাদ্দাম ও তার সহযোগীরা ভারতে বেশির ভাগ সময় বসবাস করছে।

mzamin

আওয়ামী লীগের নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার অজুহাত সঠিক নয়: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংলাপে জাতীয় পার্টিকে না ডাকার পেছনে আওয়ামী লীগের তিনটি নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার অজুহাত ভ্রান্ত ও সঠিক নয়। আমার কাছে এটি খুবই অদ্ভুত মনে হয়েছে। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে আমাদের দলের ইতিহাস আছে, দীর্ঘদিন রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরা বলে এসেছি তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে জাতীয় পার্টি। কিন্তু হঠাৎ করে সংলাপে ডাকা হলো না শাস্তিস্বরূপ এবং সেটিকে ব্যাপকভাবে প্রচারণা করা হচ্ছে। যা আমাদের জন্য বিব্রতকর। গত শনিবার বিকালে রংপুর নগরীর দর্শনাস্থ পল্লী নিবাস বাসভবনে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমরা ২৭০ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলাম। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলে তাকে সরকার সিএমএইচে নিয়ে যায় এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধা দেয়। ওই সময় জাতীয় পার্টির ক্ষুদ্র একটি অংশ নির্বাচনে ছিল। সেই সময় রংপুরে নির্বাচন বর্জনের আন্দোলনও হয়েছিল। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি’র স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এসেছিল। তাই সেই নির্বাচনকে তারাও বৈধতা দিয়েছিল বলেই পরবর্তীতে নির্বাচন করেছে।
২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে এসে সেই নির্বাচনকে বৈধতা দিয়েছে। বিএনপি’র কয়েকজন সংসদ সদস্য প্রায় ৪ বছর সংসদেও ছিল। ২০২৪ সালে আমরা নির্বাচনের না যাওয়ার ঘোষণা দিলে আওয়ামী লীগ আমাদের দলকে দু’ভাগে বিভক্ত করে রওশন এরশাদকে দলের প্রতীক, নাম ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার প্রক্রিয়া করেছিল। আমরা নির্বাচন বর্জন করলে রওশন এরশাদকে জাতীয় পার্টির প্রতীক দিয়ে নির্বাচন করানো হতো। এরপরেও আমি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলে আমার অফিস র‌্যাব, পুলিশ, এসবি, বিজিবি দিয়ে ঘিরে রেখেছিল, যা দেশবাসী জানে। পরবর্তীতে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার গ্যারান্টি দিলে আমরা নির্বাচনে আসি। তাই আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সঠিক নয়।  
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি একমাত্র দল যারা সন্ত্রাসবাদ, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, হাট দখল, জমি দখল, অবৈধ ব্যবসা, লুটপাটের সঙ্গে কখনো জড়িত ছিল না। বিএনপি’র আমলে আমরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছি, আর আওয়ামী লীগের আমলে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না। জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বি। মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, বেকারত্ব বাড়ছে। মানুষ মিল-কারখানা চালাতে পারছে না, উপার্জন কমে যাচ্ছে। সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো- মানুষের নিরাপত্তা দেয়া, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা ও বেকারত্ব দূর করা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে তিনি বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। তবে তাদের দোষারোপ করা যাবে না। তারা ভগ্নস্তূপের মাঝে দায়িত্ব নিয়েছে। প্রশাসন নড়বড়ে, অর্থনীতি নাজুক, আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। এর ওপর মানুষের পাহাড় সমান প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এইচএম ইয়াসির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আজমল হোসেন লেবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, মহানগর জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন প্রমুখ।

mzamin