Friday, December 26, 2025

ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ ইনকিলাব মঞ্চের

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তাঁর সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও রয়েছেন।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর এই কর্মসূচি শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। বিকেল ৪টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কর্মসূচি চলছিল।

ওসমান হাদি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখ। তিনি গত বছরের আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন। ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন তিনি। অনেক দিন ধরে তিনি গণসংযোগ করে আসছিলেন।

১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। তাঁকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি। গত রোববার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে তাঁর জানাজা হয়। তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ-সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের পাশে দাফন করা হয়।

ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে আসছে ইনকিলাব মঞ্চ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে।

শাহবাগ মোড় অবরোধে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ‘আপস না বিপ্লব, বিপ্লব বিপ্লব’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘শাহবাগ না ইনসাফ, ইনসাফ ইনসাফ’, ‘এই দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’, ‘বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন।

কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথেই থাকবেন। এই অবরোধ চলছে, এই অবরোধ চলবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা যাবেন না।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ওসমান হাদির যে লড়াই ছিল, তা চলছে। ওসমান হাদিকে সামনে রেখে এই লড়াই চলবে।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমাদের যেই লড়াই, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে টিকিয়ে রাখার, আমাদের সেই লড়াই চলবে।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-26%2F72pq8vti%2FShabagh.jpg?rect=0%2C173%2C4160%2C2773&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও রয়েছেন। ছবি: প্রথম আলো

এপস্টেইন মামলার আরও ১০ লাখের বেশি নথি খুঁজে পাওয়ার কথা বলেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইন মামলাসংশ্লিষ্ট আরও ১০ লাখের বেশি নথি খুঁজে পেয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, আগামী কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসব নথি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং নিউইয়র্কের ফেডারেল প্রসিকিউটররা বিচার বিভাগকে (ডিওজে) এই নতুন তথ্য পাওয়ার বিষয়টি অবহিত করেছেন।

গতকাল বুধবার বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো আড়াল করতে আমাদের আইনজীবীরা দিনরাত কাজ করছেন। তারপর যত দ্রুত সম্ভব আমরা নথিগুলো প্রকাশ করব।’

বিভাগটি আরও জানায়, সব নথি প্রকাশ করতে আরও ‘কয়েক সপ্তাহ’ সময় লাগতে পারে। নতুন একটি আইনের অধীন এপস্টেইন–সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের সময়সীমা ১৯ ডিসেম্বর নির্ধারিত থাকলেও তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় চাপের মুখে রয়েছে বিচার বিভাগ।

সংস্থাটি বলেছে, তারা ফেডারেল আইন এবং নির্দেশনা অনুযায়ী নথিগুলো প্রকাশের ক্ষেত্রে পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

তবে এফবিআই এবং সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের মার্কিন অ্যাটর্নি কীভাবে এই বিপুলসংখ্যক নতুন নথি খুঁজে পেলেন, তা বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইনের অপরাধসংক্রান্ত হাজারো নতুন নথি প্রকাশ করেছে। ওই আইনের আওতায় এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত নথিগুলোতে ভিডিও, ছবি, ই–মেইল এবং তদন্ত প্রতিবেদন রয়েছে। তবে এগুলোর কিছু জায়গায় কালো করে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আর কিছু নথি একেবারেই জনসমক্ষে আনা হয়নি।

শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, এখনো কয়েক লাখ নথি প্রকাশ হওয়া বাকি।

২০১৫ সালে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নামের এক নারী। তাঁর অভিযোগ, যৌন ব্যবসার কাজে লাগানোর জন্য আরও কয়েকজন অল্প বয়সী নারীর সঙ্গে তাঁকেও পাচার করেছিলেন জেফরি এপস্টেইন ও তাঁর বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েল। ওই সময় ভার্জিনিয়া কিশোরী ছিলেন।

২০১৯ সালে শিশুদের যৌন নিপীড়ন এবং যৌন ব্যবসার জন্য নারী পাচারসহ নানা অভিযোগে এপস্টেইনকে গ্রেপ্তার করা হয়; কিন্তু বিচারকাজ শুরু হওয়ার আগেই কারাগারে এপস্টেইনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরে জানানো হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এমন একটি যৌন চক্র চালাতেন, যেখানে কিশোরীদের যৌনকর্মের জন্য সমাজের ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হতো।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্কের একটি আদালতের বিচারক এপস্টেইনের মামলার নথিগুলো প্রকাশের অনুমতি দেন। এসব নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রু, স্টিফেন হকিংসহ খ্যাতনামা ব্যক্তিদের নাম আসায় শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়।

জেফরি এপস্টেইন ও তাঁর বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েল
জেফরি এপস্টেইন ও তাঁর বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েল। ছবি: রয়টার্স

প্রশ্নপত্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্যাতন প্রসঙ্গ, দিল্লিতে সাময়িক বরখাস্ত এক অধ্যাপক

মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্যাতন নিয়ে প্রশ্ন করার কারণে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া (জেএমআই) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপককে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেমিস্টার পরীক্ষার জন্য তিনি যে প্রশ্ন তৈরি করেছিলেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এরপর ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে এ সপ্তাহের শুরুতে অনুষ্ঠিত বিএ (অনার্স) সোশ্যাল ওয়ার্ক প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় আসা ১৫ নম্বরের প্রশ্নটি। ‘ভারতে সামাজিক সমস্যা’ শীর্ষক ওই প্রশ্নপত্রে শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছিল, ‘উপযুক্ত উদাহরণসহ ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নির্যাতন নিয়ে আলোচনা করো।’

এই প্রশ্নটি তৈরি করেছিলেন অধ্যাপক বীরেন্দ্র বালাজি শাহারে। অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে শিক্ষক সদস্যের পক্ষ থেকে অবহেলা ও অসতর্কতার পরিচয় হিসেবে বর্ণনা করে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অধ্যাপককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, একাডেমিক দায়িত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সিএ শেখ সফিউল্লাহর স্বাক্ষরিত একটি আদেশ- যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে বরখাস্তের বিষয়টি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আদেশে আরও বলা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে অধ্যাপক শাহারের কর্মস্থল (হেডকোয়ার্টার) হবে নয়াদিল্লি এবং তিনি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া হেডকোয়ার্টার ত্যাগ করতে পারবেন না।

একই আদেশে ‘নিয়ম অনুযায়ী’ একটি পুলিশ এফআইআর দায়ের করা হবে বলেও উল্লেখ ছিল। তবে পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানায়, আপাতত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর দায়ের করার ইচ্ছা নেই। এক কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষক সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশ মামলা করার প্রস্তাব নেই। বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে একটি কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আদেশের ভাষা থেকে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই এই ব্যাখ্যা দেয়া হয়। সোমবার প্রশ্নপত্রের ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে অনেক ব্যবহারকারী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তারা প্রশ্নের ভাষা ও উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এতে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক পক্ষপাতের অভিযোগ করেন।

কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র উপদেষ্টা কাঞ্চন গুপ্তা এক্সে বরখাস্তের নোটিস শেয়ার করার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। তিনি লিখেছেন, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। এই প্রশ্নে খারাপ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত রয়েছে।

বরখাস্তের আদেশ ছাড়া জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি না দিলেও সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধান কমিটি খতিয়ে দেখবে প্রশ্নটি কীভাবে তৈরি ও অনুমোদিত হয়েছিল এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম বা পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেছে কি না। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ীই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।

mzamin