Showing posts with label কলম্বিয়া. Show all posts
Showing posts with label কলম্বিয়া. Show all posts

Tuesday, August 11, 2026

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১১১ , ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন অনেকে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং আতঙ্কে বাসিন্দাদের অনেকেই নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। সংস্থ্যাটি জানিয়েছে, সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন বড় শহরেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় রিসারালদা প্রদেশে। কফি উৎপাদনের জন্য পরিচিত এ অঞ্চলের গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো টেলিভিশন চ্যানেল কারাকোলকে জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন।

কলম্বিয়ার অন্যতম বড় শহর ক্যালিও ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, অন্তত ৩০টি ভবন ধসে পড়েছে। এসব ভবনের মধ্যে ১০টিতে উদ্ধারকাজ চলছে। তবে ক্যালিতে এখনো প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে অংশ নেওয়া ক্যালির স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস অসোরিও বলেন, ‘ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। শব্দটি বোমা বিস্ফোরণের মতো মনে হয়েছিল। পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমরা প্রতিবেশীরা সবাই মিলে কাজ করছি। মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছি। আমাদের ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন।’

এদিকে রিসারালদা প্রদেশের রাজধানী পেরেইরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে একটি ভবনের ফাটল ধরা সম্মুখভাগ ধসে পড়তে দেখা গেছে। এতে চারপাশে ধুলা ও ধ্বংসাবশেষের মেঘ তৈরি হয়। রাস্তায় থাকা মানুষ আতঙ্কে ছুটে পালান।

ম্যানিজালেস শহরের একটি নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের ওপরের টাওয়ারগুলোর একটিও ভূমিকম্পের আঘাতে ধসে পড়েছে।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের প্রদেশ চোকোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রদেশটির গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানিয়েছেন, রাজধানী কুইবদোতে প্রাণহানি, বহু মানুষ আহত এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের পরাঘাত বা আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিন পরই এ শক্তিশালী ভূমিকম্পে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে তার প্রশাসন। এর আগে গত জুনে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছিল। সূত্র: এপি, রয়টার্স 
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

Friday, January 9, 2026

ভেনেজুয়েলার পর কলম্বিয়া, কিউবা, মেক্সিকোর দিকে দৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের

ভেনেজুয়েলায় ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামে সামরিক অভিযানে নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের পর দৃশ্যত যুক্তরাষ্ট্রের চোখ এখন কলম্বিয়া, কিউবা ও মেক্সিকোর দিকে। অনেকেই বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী টার্গেট হতে পারে এই দুটি দেশ। এরই মধ্যে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে কিউবা। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো প্রসঙ্গে বলেছেন, তাদের সঙ্গে অবশ্যই কিছু একটা করতে হবে। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করেছেন। তিনি  পেত্রোকে উদ্দেশ্য করে বলেন- তাকে ‘নিজের খবর রাখতে হবে।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোকেন তৈরি করছেন এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছেন। সুতরাং তাকে নিজের খবর রাখতে হবে।

মাদুরোর নাম উল্লেখ না করেই পেত্রো ওয়াশিংটনের অভিযানকে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের উপর হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে, এর ফলে মানবিক সংকট তৈরি হবে। ট্রাম্প ক্যারিবিয়ানে কথিত মাদক চালানবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে সামরিক মোতায়েনের নির্দেশ দেয়ার পর থেকেই পেত্রো এসব পদক্ষেপের সমালোচক। মাদকবিরোধী কৌশলের অংশ হিসেবে ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দেন যে, কলম্বিয়ার মাদক উৎপাদন ল্যাবেও হামলা চালানো হতে পারে। একে পেত্রো ‘আক্রমণের হুমকি’ বলে নিন্দা করেন।

কারাকাস থেকে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরিয়ে নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে দেশটি পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও বিচক্ষণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা না যায়, ততক্ষণ আমরা দেশটি পরিচালনা করব। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের দ্বিতীয় আক্রমণ চালানোর জন্য প্রস্তুত।

লাতিন আমেরিকা নিয়ে ওয়াশিংটনের বৃহত্তর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, পশ্চিম গোলার্ধে আবার কখনও আমেরিকার আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না। তার ভাষায়, আমরা নিজেদের চারপাশে ভালো প্রতিবেশী চাই, স্থিতিশীলতা চাই, শক্তির উৎস চাই। ওই দেশে আমাদের বিরাট ‘এনার্জি’ রয়েছে এবং সেটাকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। আমাদের নিজেদের জন্যই তা প্রয়োজন।

ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন যে, দেশটিকে আবার মহান করতে যা দরকার তিনি তা করতে আগ্রহী। তবে বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর দেশীয় সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, তার (মাচাদো) জন্য নেতা হওয়া খুব কঠিন হবে। দেশে তার ভেতরে সেই সমর্থন বা সম্মান নেই। তিনি খুব ভদ্র একজন নারী, কিন্তু তার সে সম্মান নেই।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বড় তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলায় পাঠাবে। ভেঙেপড়া তেল অবকাঠামো মেরামতে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে এবং দেশের জন্য আয় সৃষ্টি করবে। তার ভাষায়, আমাদের বিশাল মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো সেখানে যাবে, বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, ভেঙেচুরে যাওয়া তেল বিষয়ক অবকাঠামো ঠিক করবে এবং দেশটির জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে। ভেনেজুয়েলার সব তেলের ওপর আরোপিত অবরোধ বহাল আছে। আমেরিকান নৌবহর প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক বিকল্প খোলা রয়েছে যতক্ষণ না আমাদের সব দাবি পুরোপুরি মেনে নেয়া হয়।

মেক্সিকো ও কিউবার উদ্দেশে বার্তা
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে কিউবা। তিনি বলেন, আমি যদি হাভানায় সরকারে থাকতাম, তাহলে অন্তত কিছুটা হলেও চিন্তিত হতাম।
লাতিন আমেরিকায় দীর্ঘ সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এর মধ্যে ১৯৬১ সালের কিউবান নির্বাসিতদের নেতৃত্বাধীন ব্যর্থ ‘বে অব পিগস’ অভিযান, যা ফিদেল কাস্ত্রোকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছিল। মেক্সিকো প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটির সঙ্গে কিছু একটা করতেই হবে। তিনি দাবি করেন, আমরা তার  (প্রেসিডেন্ট শেইনবাউমের) সঙ্গে খুব বন্ধুত্বপূর্ণ। তিনি একজন ভালো নারী। কিন্তু মেক্সিকো চালাচ্ছে মাদক কার্টেলগুলো।
ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমকে বহুবার জিজ্ঞেস করেছেন ‘আপনি কি চান আমরা ওই কার্টেলগুলোকে গুঁড়িয়ে দিই?’ কিন্তু তিনি নাকি সবসময়ই ‘না’ বলেছেন।

mzamin

Friday, December 12, 2025

‘এরপর তাঁর পালা’: কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোকে ট্রাম্পের হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, দক্ষিণ আমেরিকার এই নেতা তাঁর মাদকবিরোধী অভিযানের পরবর্তী নিশানা হতে পারেন।

গতকাল বুধবার হোয়াইট হাউসে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক গোলটেবিল বৈঠকে ট্রাম্পকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তিনি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোর সঙ্গে কথা বলেছেন কি না। এই প্রশ্নের পরই রিপাবলিকান নেতা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

ট্রাম্প প্রথমে বলতে শুরু করেন, ‘আসলে আমি তাঁকে (পেত্রো) নিয়ে খুব বেশি ভাবিনি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেশ শত্রুভাবাপন্ন ছিলেন।’ এরপর বেশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘তিনি যদি নিজের ভালো না বোঝেন, তাহলে তাঁকে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কলম্বিয়া প্রচুর মাদক উৎপাদন করছে। তাদের কোকেন তৈরির কারখানা আছে। আপনারা জানেন, তারা কোকেন তৈরি করে এবং তা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করে। সুতরাং, তাঁর ভালো হওয়া উচিত, নয়তো এরপর তাঁর পালা। এরপর তাঁর পালা। আমি আশা করি, তিনি শুনছেন। এরপর তাঁর পালা, কারণ যাঁরা মানুষ হত্যা করেন, তাঁদের আমরা পছন্দ করি না।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন তিনি ক্যারিবীয় সাগরে একটি তেল ট্যাঙ্কার দখলে নেওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক অভিযানের বিষয়ে কথা বলছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল কথিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে শাস্তি দেওয়া।

আধুনিক কলম্বিয়ার ইতিহাসে প্রথম বামপন্থী নেতা পেত্রোর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ।

পেত্রোকে নিয়ে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যের কারণে কলম্বিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এই দেশটি বৈশ্বিক ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার ছিল।

‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ অংশীদার

জানুয়ারিতে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে ফিরে আসার আগপর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকায় কলম্বিয়া ছিল মার্কিন সহায়তার অন্যতম বৃহত্তম প্রাপক।

কলম্বিয়া কেবল তাদের সীমান্তের মধ্যে কোকেন উৎপাদন নিয়েই সংগ্রাম করছে না, বরং ছয় দশক ধরে চলা অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিয়েও লড়ছে। সেখানে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে রয়েছে বামপন্থী বিদ্রোহী, ডানপন্থী আধা–সামরিক ও অপরাধী চক্র।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, কোকেন ও অন্যান্য পণ্যের কাঁচামাল কোকা উৎপাদনে কলম্বিয়া বিশ্বে বৃহত্তম। প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর বা ৬ লাখ ২৫ হাজার ১৭৬ একর জমিতে কোকা চাষ হয়।

সমালোচকদের যুক্তি, কোকা নির্মূলের চেষ্টা করা হলেও গ্রামীণ কৃষকদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করা হয়নি। ফলে তাঁরা অসুবিধায় পড়েছেন।

এর পরিবর্তে পেত্রোর সরকার সেই অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু করেছে, যারা এই পাতাটিকে মাদকে রূপান্তর করে।

তবে পেত্রোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীদের অভিযোগ, কলম্বিয়ায় কোকেন উৎপাদন বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

এই ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, গত ২৩ অক্টোবর তিনি পেত্রোকে একজন ‘গুন্ডা’ বলে অভিহিত করে বলেন, কলম্বিয়া আর ‘খুব বেশি দিন পার পাবে না’।

২ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কলম্বিয়ায় সরাসরি হামলার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। তিনি মন্ত্রিসভাকে বলেন, ‘আমি শুনছি কলম্বিয়া দেশটি কোকেন তৈরি করছে। যারা এটি করছে এবং আমাদের দেশে বিক্রি করছে, তাদের ওপর হামলা চালানো হতে পারে।’

তবে পেত্রো তাঁর কাজের বর্ণণা দেন এবং মাদক উৎপাদনকারী স্থাপনা ধ্বংসের জন্য তাঁর সরকারের চালানো অভিযানের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর দায়িত্বকালে ১৮ হাজার ৪০০টি মাদক পরীক্ষাগার ধ্বংস করা হয়েছে।

ডিসেম্বরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকির দ্রুত জবাব দেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে পেত্রো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে মনে করিয়ে দেন, তাঁর দেশ ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ অপরিহার্য অংশ ছিল।

পেত্রো লেখেন, ‘যদি কোনো দেশ মার্কিনদের হাজার হাজার টন কোকেন সেবন বন্ধ করতে সাহায্য করে থাকে, তবে তা হলো কলম্বিয়া।’

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করিয়ে লেখেন, ‘মিত্র দেশের ওপর আক্রমণ চালিয়ে তিনি যেন জাগুয়ারকে জাগিয়ে না তোলেন।’ তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত করার অর্থ যুদ্ধ ঘোষণা করা। দুই শতাব্দীর কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষতি করবেন না।’

এর বদলে পেত্রো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কোকেন পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরাসরি অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ‘কলম্বিয়ায় আসুন মি. ট্রাম্প। আমি আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যাতে আপনি আমাদের প্রতিদিন ভেঙে ফেলা নয়টি পরীক্ষাগার ধ্বংসের কাজে অংশ নিতে পারেন।’

বিস্তৃত সংঘাত

মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই ছাড়াও অন্য আরও বেশ কিছু বিষয়ে পেত্রো ও ট্রাম্পের মধ্যে বাদানুবাদ হয়েছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় গত ২৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়নের বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই নেতার মধ্যে কথার লড়াই হয়।

প্রায়শই যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ও হাতকড়া পরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের বিতাড়নের কঠোর সমালোচনা করেন পেত্রো। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ার অভিবাসীদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করতে পারে না।’

পেত্রো সতর্ক করে দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের নিয়ে আাসা উড়োজাহাজ গ্রহণ করবেন না।

জবাবে ট্রাম্প কলম্বিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন, যা পরে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত পেত্রো পিছু হটতে বাধ্য হন।

তবে দুই নেতা ক্রমাগত বাগ্‌যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্প পেত্রোর ‘টোটাল পিস’ পরিকল্পনার কঠোর সমালোচক, যা কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়িয়ে থাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনার একটি নীলনকশা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে পেত্রোকে শাস্তি দেওয়ার জন্যও পদক্ষেপ নিয়েছেন। সেপ্টেম্বরে পেত্রো নিউইয়র্ক নগরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যান। সেখানে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে অংশ নেন।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন পেত্রোর বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া ও উস্কানিমূলক কার্যকলাপের’ অভিযোগ এনে তাঁর ভিসা বাতিল করে। পরের মাসে তারা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাঁর যেকোনো সম্পদ জব্দ হয়ে যাবে।

অন্যদিকে, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ট্রাম্পের বোমা হামলার অন্যতম কঠোর সমালোচক হয়ে উঠেছেন। ২ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ক্যারিবীয় সাগরে কমপক্ষে ২২টি নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যাতে প্রায় ৮৭ জন নিহত হয়েছেন।

গত ১৭ অক্টোবর একটি নৌযানে হামলায় কলম্বিয়ার ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন), একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যদের লক্ষ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ১৬ অক্টোবর আরেকটি হামলায় দুজন বেঁচে গিয়েছিলেন, যাঁদের একজন কলম্বিয়ার নাগরিক।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। পেত্রো এসব হামলাকে ‘হত্যা’ ও কলম্বিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। ছবি: রয়টার্স

Monday, October 20, 2025

মাদক পাচারকারীদের থেকে জব্দ সোনা গাজার সহায়তায় দেওয়ার ঘোষণা দিলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো গাজার পুনর্গঠনে অভূতপূর্ব এক উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, মাদক পাচারকারীদের কাছ থেকে জব্দ করা সোনা আহত ফিলিস্তিনি শিশুদের চিকিৎসায় ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

কলম্বিয়ার সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি কলম্বিয়ার সমর্থনের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিজের অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে পেত্রো লিখেছেন, ‘আমি ন্যাশনাল এজেন্সি ফর অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে মাদক পাচারকারী চক্র থেকে বাজেয়াপ্ত সোনা গাজার আহত শিশুদের চিকিৎসার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি।’

পেত্রো আরও যোগ করেন, কলম্বিয়া জাতিসংঘে একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দেবে, যেখানে যুদ্ধের পর গাজাকে পুনর্গঠন এবং সেখানে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের কথা থাকবে।

কলম্বিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ন্যাশনাল এজেন্সি ফর অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (এসএই) নিশ্চিত করেছে, তারা প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া পরীক্ষা শুরু করেছে। প্রেসিডেন্টের এ উদ্যোগ কলম্বিয়ার মানবিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

কলম্বিয়ার এই প্রস্তাব এমন একসময়ে এল, যখন জাতিসংঘের হিসাবে গাজা পুনর্গঠনের খরচ ৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম তিন বছরেই প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও বেশ কয়েকটি আরব দেশের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুসারে, বন্দী বিনিময়ের পাশাপাশি গাজা পুনর্গঠন প্রকল্প শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চুক্তিতে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইসরায়েলি জিম্মিদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার নেতাদের অন্যতম একজন। তিনি বারবার ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে গাজায় ‘জাতিগত নিধন’ চালানোর অভিযোগ এনেছেন।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তিনি ‘যুদ্ধ শেষ করতে এবং এই উপত্যকা পুনর্গঠনে’ জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-10-16%2Fyrqumwq1%2Fpetro.jpg?rect=0%2C16%2C668%2C445&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। ছবি: রয়টার্স

Sunday, September 28, 2025

ভিসা বাতিল করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র: কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো গতকাল শনিবার তাঁর মার্কিন ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত শুক্রবার নিউইয়র্কের রাস্তায় ফিলিস্তিনপন্থী একটি বিক্ষোভে যোগ দেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। এ সময় তিনি মার্কিন সেনাদের প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশ না মানার অনুরোধ জানান। এর পরই যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তাঁর ভিসা বাতিল করা হবে।

গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এখন থেকে আমার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা নেই; কিন্তু আমি পরোয়া করি না। আমার ভিসার দরকার নেই…আমি শুধু কলম্বিয়ার নাগরিক নই, ইউরোপেরও নাগরিক। আমি নিজেকে বিশ্বের একজন স্বাধীন মানুষ মনে করি।’

গুস্তাভো আরও বলেন, ‘(গাজায় ইসরায়েলের) জাতি হত্যার নিন্দা জানানোয় ভিসা বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে, তারা আর আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করছে না।’

গাজায় জাতি হত্যার অভিযোগ বারবারই অস্বীকার করে আসছে ইসরায়েল। দেশটি বলছে, হামাসের হামলার পর তারা শুধু আত্মরক্ষা করছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত উপত্যকাটিতে ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সেখানকার সব মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একাধিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও জাতিসংঘের এক তদন্ত বলছে, এ পরিস্থিতি জাতি হত্যার শামিল।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে পেত্রো বিশ্বব্যাপী একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠনেরও আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ বাহিনীর প্রধান কাজ হবে ফিলিস্তিনিদের মুক্ত করা। তিনি মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে বলেন, ‘মানুষের দিকে অস্ত্র তাক করবেন না। ট্রাম্পের আদেশ না মেনে মানবতার আদেশ মানুন।’

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছে, বেপরোয়া ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর মার্কিন ভিসা বাতিল করা হচ্ছে।

জবাবে কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যেখানে জাতিসংঘ তার সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মতপ্রকাশের অধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়, সেখানে কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ভিসা বাতিল করা এ সংস্থার চেতনার পরিপন্থী।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। চলতি বছরের শুরুতে পেত্রো যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত মানুষদের দেশে ফেরত পাঠানোর ফ্লাইট বন্ধ করে দেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয়। পরে অবশ্য দুপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়।

চলতি বছরের জুলাইয়ে পেত্রো অভিযোগ করেন, মার্কিন কর্মকর্তারা তাঁর দেশে অভ্যুত্থান ঘটানোর ষড়যন্ত্র করছেন। এরপর উভয় দেশ তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়। ওয়াশিংটন অবশ্য এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালে পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং দেশটিতে কয়লা রপ্তানি নিষিদ্ধ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ রয়টার্স

Monday, January 27, 2025

অভিবাসী ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-কলম্বিয়ার মধ্যে উত্তেজনা: পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেন ট্রাম্প-পেত্রো

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুইটি সামরিক বিমানে করে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হয় কলম্বিয়াতে। তবে বিমান দুটি অবতরণের অনুমতি দেননি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি কলম্বিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ ও নিষেধাজ্ঞা দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, ট্রাম্প বলেছেন, কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সকল পণ্যের ওপর অবিলম্বে শুল্ক কার্যকর হবে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে এই শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত হবে।

জবাবে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেছেন, তিনিও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। তিনি এর আগে রোববার জানিয়েছেন যে অভিবাসীদের ফেরত নিয়ে আসা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানকে তিনি নিজ দেশে প্রবেশের অনুমতি দেননি। তিন বলেছেন, আমরা আমাদের নাগরিকদের বেসামরিক বিমানে আনা হলে এবং অপরাধীর মতো আচরণ না করা হলে গ্রহণ করবো এবং অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে হবে মর্যাদা ও সম্মানের সাথে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, ফেরত পাঠানো হবে এমন অভিবাসীদের নিয়ে দুইটি সামরিক সান ডিয়েগো থেকে রওনা দিয়ে রোববার কলম্বিয়ায় অবতরণের কথা ছিলো। কিন্তু পরে জটিলতার কারণে ফ্লাইট দুটি বাতিল করা হয়। জবাবে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জরুরি ও চূড়ান্ত পাল্টা পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে এবং দেশটির সরকারের কর্মকর্তা, তাদের সহযোগী ও সমর্থকদের ভিসা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে।

ট্রাম্প জানান, কলম্বিয়া সরকারের সমর্থকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে এবং নিরাপত্তা জনিত কারণে সব কলাম্বিয়ান নাগরিক ও পণ্যবাহী কার্গো ইন্সপেকশন করা হবে। এসব পদক্ষেপ সবেমাত্র শুরু হলো বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তার প্রশাসন কলম্বিয়া সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রে জোর করে ঢুকে পড়া সন্ত্রাসীদের গ্রহণ করার আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করতে দেবেন না।

জবাবে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রো সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পাল্টা শুল্ক আরোপ ও কলম্বিয়ার ঐতিহ্য উদযাপনের ঘোষণা দেন। আপনার পদক্ষেপে আমি ভীত নই। কারণ কলম্বিয়া সৌন্দর্যের দেশ হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার দেশের নাগরিক যাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে- তাদের জন্য তার প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান পাঠানোর প্রস্তাব করেছেন। রোববার পেত্রো বলেন, ১৫ হাজার ৬৬৬ জনের বেশি আমেরিকান কলম্বিয়াতে অবৈধভাবে অবস্থান করছে- তবে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের দেয়া এ তথ্য বিবিসি স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখতে পারেনি। পেত্রো বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মতো তিনি অবৈধ আমেরিকান অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে কোনো তল্লাশি চালাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্র যত কফি আমদানি করে তার ২০ শতাংশ আনা হয় কলম্বিয়া থেকে। এর মূল্য প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। এছাড়া দেশটি কলম্বিয়া থেকে কলা, ভোজ্য তেল, অ্যাভোকাডো ও ফুল আমদানি করে থাকে। নতুন করে শুল্ক আরোপের কারণে এসব পণ্যের দাম বাড়বে। ফলে গ্রাহকদের বেশি দামে কফি কিনতে হবে, যা এড়াতে আমদানিকারকরা ভিন্ন সূত্র খুঁজতে পারে। এর ফলে কলম্বিয়ার উৎপাদকদের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কলম্বিয়া সরকার ও তার সমর্থকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে কূটনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

mzamin