Monday, December 10, 2012

শিশু নির্যাতন-জিন তাড়ানোর নামে বর্বরতা

আট বছর বয়সী একটি শিশু আতিকুল ইসলাম। পড়ত ময়মনসিংহের একটি মাদ্রাসায়। গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের আল মাসরাতুল আহলিয়া দারুল উলুম ফারুকিয়া নামের ওই মাদ্রাসায় নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে ছোট এই শিশুটিকে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়-অভিনন্দন, জাতীয় ক্রিকেট দল

প্রাণভরা অভিনন্দন জাতীয় ক্রিকেট দলকে। সাবাস, দলের প্রতিটি লড়াকু সদস্য শ্বাসরুদ্ধকর বা স্নায়ুক্ষয়ী কিংবা এ ধরনের কোনো শব্দ হয়তো দুর্ধর্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয় দলের জয় সম্পর্কে ক্রিকেট বোদ্ধারা ব্যবহার করবেন।

কায়রোতে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু কে by ডেভিড ইগনেটিয়াস

কায়রোর মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বন্ধুত্ব হয় কিভাবে? প্রশ্নটি আরবেরও অনেকে জিজ্ঞেস করেন এবং তাঁরা এর জবাবও প্রত্যাশা করেন। বিশেষ করে যে মুহূর্তে কায়রোতে প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসির বাহিনী ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদে বিশ্বাসী মানুষের ওপর নির্যাতন চালায়, তখন এই প্রশ্নটা আরো জোরালো আকারে দেখা দেয়।

কে কার মুখ দেখতে চাননি? by আবদুল লতিফ সিদ্দিকী

পাঠক, প্রথমেই কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না, অনুরোধ আমার। বাধ্য হয়ে কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ের অবতারণা করতেই হচ্ছে। মন্ত্রী হওয়ার পর পত্রিকায় লেখালেখি বন্ধ করে দিয়েছি। বিতর্ক না হয়ে তর্ক-তাণ্ডব, কোলাহল-হলাহলের সূত্রপাত ঘটে বলে।

চরাচর-বিশ্ব মানবাধিকার দিবস : নিশ্চিত হোক মৌলিক অধিকার by তামান্না ইসলাম অলি

আজ ১০ ডিসেম্বর। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ এ দিনটির ঘোষণা দেয়। এ দিবসটির মাধ্যমে বিশ্বের প্রতিটি দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক ও মানবতাবিরোধী কাজ থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়।

'কেউ কথা রাখেনি' by কর্নেল এস এম শওকত আলী

গত ১৯ নভেম্বর ২০১২ বরিশাল বঙ্গবন্ধু পার্ক ময়দানে ১৮ দলের এক বিশাল জনসভায় ভাষণদানকালে বিরোধীদলীয় নেত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন, দুই-দুবার নির্বাচিত বাংলাদেশের ভূতপূর্ব প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে আকুল আবেদন করে বলেছেন, 'আমাকে সমর্থন করুন, আরেকবার ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ দিন।

টিআইয়ের প্রতিবেদন, দুর্নীতি ও অন্যান্য by মাহমুদুর রহমান মান্না

গত কিছু দিনের পত্রপত্রিকার খবর পড়ে নিশ্চিত করে বলা যায় যে পদ্মা সেতু আবার আটকে গেছে। পদ্মা সেতু এ দেশের সাধারণ মানুষের কাছে একটি স্বপ্নের সেতু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর দেশের ভূখণ্ডকে উত্তর-দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করেছে যে নদী, এর তীরবর্তী বা দুই পারের জনগোষ্ঠীর কাছে সেতুটি স্বপ্নের চেয়ে অধিক কিছু।

কুতুবদিয়া নিরিবিলি by এস এম রানা

শুঁটকি খেতে ইচ্ছা করছে। একেবারে টাটকা শুঁটকি, যা লবণ দিয়ে শুকানো হয়নি। খোলা থেকে নিয়েই রান্না করা যায় এমন। হোক তা লইট্টা, ছুরি কিংবা চিংড়ি। অনেক জায়গায়ই এমনটা মেলে, তবে সেই সঙ্গে জায়গাটা যদি সুন্দর হয়, রথ দেখা, কলা বেচা_দুই-ই হবে। তাই কুতুবদিয়া। কক্সজারের বাতিঘর। শান্ত নিরিবিলি সুন্দর পৃথিবী। দিনটা ছিল শুক্রবার। সকালেই চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাসস্টেশন থেকে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাটে পৌঁছানোর জন্য বাস ধরি। এস আলম পরিবহনের বাসে চড়ে ১৪০ টাকা ভাড়ায় মগনামা ঘাটে পৌঁছাতে সময় লাগল সাড়ে তিন ঘণ্টা। মগনামা থেকে সাগর শুরু হয়। ঘাটটি ইট-পাথরের। চাইলে ঘাটে জলযোগও করা যায়। ঘাট থেকে ৩০ মিনিট পর পর ইঞ্জিনচালিত নৌকা ছাড়ে কুতুবদিয়ার উদ্দেশে। স্পিডবোটেও যাওয়া যায়। ভাড়া জনপ্রতি ৮০ টাকা।
শাহেদ ভাই চলেছে আমার সঙ্গে। নৌকা ছাড়লে ঢেউয়ের কোলে চড়ি। ঢেউ বড় হয়ে এলে আল্লাহ আল্লাহ করি। সহযাত্রী দু-একজন বলেন, 'ডরের কিছু নাই, কিছু ন অইব।'
২৫ মিনিট পর আলী আকবর ডেইল ঘাটে নোঙর করে নৌকা। ভাড়া চুকিয়ে নেমে পড়ি। প্যারাবন পেলাম ঘাটের কাছেই। জেলের দলে দেখলাম কেউ ছেঁড়া জাল জোড়া দিচ্ছে, কেউ মাছ বাছছে; কাটাকুটিও করছে কয়েকজন। কয়েকজনকে কিছু মাছ শুঁটকিপল্লীতে নিয়ে যেতে দেখলাম। আমরা তাদের পিছু নিই। ছবি তুলে ফেলি অনেক।
নামাজ পড়ি উপজেলা সদরে। বড় একটি পুকুরকে ঘিরে পুরো উপজেলা পরিষদ চত্বর, থানা এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি অফিস। আমরা দ্বীপের পশ্চিম প্রান্তে রওনা দিই। সেখানে শুঁটকিপল্লী আরো বড়। আছে শান্ত এক সৈকত, বাতিঘর এবং দেশের একমাত্র বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প।
শাহেদ ভাইয়ের এক আত্মীয়র বাড়িতে দুপুরের ভোজ নিই। বিশাল আয়োজন। মেহমানদের জন্য দ্বীপবাসীর মমতার শেষ নেই। সামুদ্রিক তাজা মাছ, নানা পদের শুঁটকি, দেশি মুরগি_আরো কত কী যে খাওয়াল!
উদর পুরিয়ে ৩টায় হাঁটা দিলাম। দ্বীপবাসীকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে দেশের একমাত্র বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পটি এখানে স্থাপিত হয়েছে। টারবাইনগুলো ঘুরছে বাতাসে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জমা হয় ব্যাটারিতে। সেই বিদ্যুৎই দ্বীপবাসীকে সীমিত পর্যায়ে দেওয়া হয়। দ্বীপে লবণের চাষও হয় ব্যাপক। শুঁটকি আর লবণেই চলে কুতুবদিয়া।
বিকেল ৪টায় সৈকতে এসে নামি। সারি সারি ঝাউগাছ। উচ্চতা ৪০ থেকে ৫০ ফুট। দেখে মনে হতে পারে, গাছগুলো আকাশ ছোঁয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। সামনে এগোতেই বোঝা গেল, বালুর রাজ্যে পা পড়েছে। গতি কমে আসে। হাঁটতে হাঁটতে দাঁড়াই, দেখতে দেখতে হাঁটি। উর্মির নৃত্য মাতাল করে দেয়। পায়ের কাছে ঢেউ এসে কী যেন চায়। আমি অবোধ, বুঝতে নারি। সূর্য যখন গোল লাল থালায় পরিণত হয়, তখন আর চোখ ফেরাই না।
সৈকত ধরে আরেকটু গিয়ে বিশাল সব পাথর দেখি। একটা পাথরকে ঠিক মানুষের মতো দেখায়...ওই তো মাথা, পায়ের দিকটাও বোঝা যায়। জোয়ারের সময় সাগরে হারায়, ভাটায় ফিরে আসে। আরো হেঁটে আলী আকবর ডেইল বাজারে যাই। নশতা করি। বাতিঘর দেখতে হাঁটা দিই। আদি বাতিঘরটা সাগর নিয়ে গেছে। পরে এখনকারটা হয়েছে। রাতের বেলা দিক খুঁজে ফেরা নাবিককে পথ দেখায় এ ঘর। ঘরের আশপাশ সুসজ্জিত। দ্বীপের পশ্চিম প্রান্তের আলী আকবর ডেইল থেকে উত্তর প্রান্তের ধুরং বাজার পর্যন্ত সৈকতের সবটাই সুন্দর। বাতিঘর দেখে আবার বাজারে আসি। ৮টা বাজলে ফিরে আসার পথ ধরি, নইলে পারাপারের নৌকা পাওয়া যাবে না।
ছবি : লেখক