Wednesday, May 1, 2019

দুই কারণে শপথ নেননি মির্জা ফখরুল: আসন শূন্য ঘোষণা

দুই কারণে শপথ নেননি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রথমত, দলের মহাসচিব হিসেবে সংসদের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের যোগসূত্র রক্ষার দায়িত্ব পালনকে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত ও শারীরিক অসুবিধার কারণে এক সঙ্গে দুই দায়িত্ব পালনকে কঠিন মনে করছেন তিনি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এই ব্যাপারে প্রথমে একমত না হলেও তাকে বুঝিয়ে বলে রাজি করিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল দৈনিক মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, তার এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কোন সুযোগ নেই। নিজে সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও দলের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক এবং রাজনীতিতে এটাকে চমক ও ইউটার্ন হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব। এদিকে তিনি যে আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন সন্ধ্যায় সেই বগুড়া-৬ আসন শূন্য ঘোষণা করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। এখন সংসদে বিএনপি দলীয় এমপিদের নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হারুনুর রশীদ।
সেই সঙ্গে প্রত্যাহার করা হবে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমানের বহিষ্কারাদেশ।
সংসদে না যাওয়ার ব্যাপারে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা করে দৈনিক মানবজমিনকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমার সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে দুইটি প্রধান কারণ আছে। একটি হচ্ছে, আমি মনে করছি যে- এই সময়ে সংসদের বাইরে থাকাটাই আমার জন্য বেশি প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে আমার দলের যে উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূল নেতৃবৃন্দের মধ্যে একটি যোগসূত্র রক্ষা করা এবং আমাদের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগসূত্র রক্ষা করার দায়িত্বটা আমাকেই এখন পালন করতে হচ্ছে। এটা একটা প্রধান কারণ। আরেকটি হচ্ছে, আমার ব্যক্তিগত কিছু অসুবিধা আছে।
আমার শারীরিক অবস্থা, সবকিছু মিলিয়ে আমি সবসময় সময় দিতে পারব না। অনেক সময় দুটো দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তো এই কারণেই আমি আপাতত সিদ্ধান্ত নিয়েছি সংসদে যাবো না। আর এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তার নিজের দিক থেকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ না থাকলেও দলের সিদ্ধান্তে তার পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, আমার লিডার যিনি এখন আছেন চেয়ারপারসনের দায়িত্বে, তারেক রহমান, উনাকে জানিয়েই তো আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি তো এককভাবে সিদ্ধান্ত নিইনি। প্রথমে উনি রাজী হতে চাননি, পরে আমি তাকে বুঝিয়ে বলার পরে তিনি একমত হয়েছেন। বিএনপির সংসদে অংশগ্রহণ ও তার বিরত থাকার বিষয়টি রাজনীতিতে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন জানতে চাইলে মির্জা আলমগীর বলেন, দলের জন্য আমার মনে হয় যে প্রয়োজন ছিল এমন সিদ্ধান্তের। এর মধ্যদিয়ে অনেক রকমের ভুল বোঝাবুঝি দূর হবে। ভ্রান্ত ধারণা দূর হবে। আমি এমন একটি অবস্থায় থাকতে পারবো, যেখানে আমি দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারবো।
সংসদে যাওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত দিলেও নিজে যাচ্ছেন না- এটাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন জানতে চাইলে মির্জা আলমগীর বলেন, এটা তো বৃহত্তর স্বার্থে, দলীয় সিদ্ধান্তে। আমরা তো সংসদেই যাচ্ছি কৌশলগত কারণে। কৌশলগত কারণেই আমি বাইরে থাকছি। রাজনীতিতে বিএনপির কৌশল কি হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব বলেন, রাজনীতিতে বিরোধী দলের রাজনীতি করার তেমন স্পেস নেই। সংসদে যেটুকু স্পেস আছে, সেটুকুকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। একটা কথা সত্য যে, সংসদে যে চারজন বা পাঁচজন যখনই যাচ্ছেন, এতে করে তাদের একটি অফিসিয়াল অবস্থান তৈরি হয়। যাতে সবজায়গায় তারা কথা বলতে পারে এবং তাদের কথার একটি মূল্য থাকে।
দেশে যেমন, বাইরেও তেমন। এক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা তো আমাদের রাজনীতিতে প্রয়োজন। বিএনপির সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্তে দলে কেমন প্রভাব ফেলবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখনও কথা বলিনি। এটা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত আশা করি এটা নিয়ে আপত্তি কারো থাকবে না। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো সংসদে গেছি সংসদকে বৈধতা দেয়ার জন্য নয়। একথা আমরা পরিষ্কার করে বলেছি। যে নির্বাচনই হয়নি কোনো। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি, বৈধতাও দেইনি, সম্পূর্ণ কৌশলগত কারণে, গণতন্ত্রের ন্যূনতম স্পেস ব্যবহার করতে সেখানে গেছি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সঙ্কটময় আখ্যায়িত করে মির্জা আলমগীর বলেন, এই মুহুর্তের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অত্যন্ত সংকটময়। আমার মনে হয় যে, এতটা খারাপ বোধহয় আর কখনো ছিল না। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ন্যূনতম পরিবেশ সেটাও এখানে নেই। বিরোধীদল হিসেবে যারা কাজ করছি তাদের প্রচণ্ড একটা চাপের মধ্যে আমাদের কাজ করতে হয়। প্রতিমুহূতের্হ গ্রেপ্তার, মামলা, কোর্টে যাওয়া- আমাদের নরম্যাল লাইফ বলতে তো এখন আর কিছু নেই। বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনীতিতে শূন্য একটি অবস্থা তৈরি হয়ে গেছে। সেখানে আমাদের তিন চারজন মিলে পার্লামেন্টে গিয়ে কথাগুলো বলছে, সেগুলো কাজে দেবে বলে আমাদের মনে হয়। অন্তত সেটুকু আসতে হবে। রাজনীতিতে সেটা আসবে। আমার কাছে মনে হয় যে, এটা একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ হয়েছে। 
বিএনপির দায়িত্বশীল দুইটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, দলের চেয়ারপারসনের সম্মতির ভিত্তিতে রাজনীতিতে ইউটার্ন করে সংসদে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নতুন সিদ্ধান্তের পর স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচিত হিসেবে পাঁচজনকে শপথ নিতে বলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানালেও শপথ না নেয়ার ব্যাপারে নিজের মনোভাবের কথাটি জানিয়ে দেন তিনি। শপথ নেয়ার ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অব্যাহত চাপের মধ্যেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন মির্জা আলমগীর। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় দলীয় সিদ্ধান্তে অন্যরা শপথ নেবেন এবং দলীয় কৌশলেই তিনি শপথগ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন। দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপে তিনি জানিয়েছেন, শপথ গ্রহণের ব্যাপারে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় সিদ্ধান্তটি যখন প্রকাশ করা হয় তখন তিনি কৌশলগত কারণেই তার শপথ না নেয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেননি। কারণ এতে গণমাধ্যমের ফোকাসটি সরে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দলীয় ৬ জন বিজয়ীর একজন হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে সংসদে দলীয় এমপিদের নেতৃত্ব দেয়ার কথা তার। কিন্তু তিনি শপথ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি হারুনুর রশীদ সংসদে দলীয় এমপিদের নেতৃত্ব দেবেন।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের দীর্ঘদিনের দাবি থেকে গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থে সরে এসে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। নানামুখী ছাড় দিয়ে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে তুলেছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলের বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সঙ্গে সংলাপেও যোগ দিয়েছিল। কিন্তু দলের চেয়ারপারসনসহ কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ মেলেনি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচনী পরিবেশ। উল্টো ভোটের আগের রাতে প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরে রাখাসহ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছিল বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সেই সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের টিকিটে বিজয়ী ৮ জন শপথ নেবেন না। কিন্তু গণফোরাম মনোনীত দুই বিজয়ী প্রার্থী শপথ নেয়। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এদিকে বিএনপির নির্বাচিতদের ওপর এলাকাবাসী এবং সরকারের তরফে চাপ বাড়তে থাকে দিনদিন। এক পর্যায়ে তারা বিষয়টি শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আনেন এবং নিজেরা কয়েকদফায় বৈঠক করেন। তখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে তাদের ডেকে সতর্ক করা হয়।
চাপের মুখে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রথমে শপথ নেন ঠাকুরগাঁও-৩ থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান। এই পর্যায়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারও করা হয়। কিন্তু তারপর ব্যাপক চাপের মুখে পড়েন অন্যরা। বিএনপি দলীয় এমপিদের বিশেষ কোথাও অবস্থান করিয়ে শপথ গ্রহণ করানো হবে এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহলে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দুই এমপিকে ডাকা হয়। তারা বৈঠকে নিজেদের মনোভাব, চাপ, সংসদে গিয়ে কিভাবে ভূমিকা রাখা যায় সে ব্যাপারে যুক্তিসহ সার্বিক বিষয়গুলো শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরেন। এতদিন দলের স্থায়ী কমিটি শপথ গ্রহণ না করার ব্যাপারে অনঢ় থাকলেও সে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর। তারই প্রেক্ষিতে তিনি দলের নানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট নাগরিক, শুভাকাঙ্ক্ষিদের সঙ্গে আলোচনা করে শেষ পর্যন্ত শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন।
তারই প্রেক্ষিতে সোমবার বিকালে দলের চারজন এমপি শপথ নেন এবং সন্ধ্যার পর দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি বলেন- ‘ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে সংসদে কথা বলার সীমিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংসদ ও রাজপথের সংগ্রামকে যুগপৎভাবে চালিয়ে যাওয়াকে আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করছি। জাতীয় রাজনীতির এই সংকটময় জটিল প্রেক্ষিতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা, মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অংশ হিসেবে আমদের দল সংসদে অংশ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ দলের চার এমপির শপথ গ্রহণের পর এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মী এবং রাজনৈতিক মহলে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দলের অনেক নেতাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিএনপির জোটসঙ্গী এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম ও বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে নিজেদের অসন্তোষের কথা প্রকাশ করেন।

দুই রাষ্ট্র সমাধানের বিকল্প নেই: ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত

রিয়াদ মনসুর
জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—এই দুই রাষ্ট্র গঠনের কোনো বিকল্প নেই। জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ‘দুই রাষ্ট্র সমাধানের’ পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রদূত মনসুর নিউইয়র্কে প্রথম আলোর প্রতিনিধিকে এই কথা বলেন।
১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের পরিকল্পনায় ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনকে বিভক্ত করে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল ও আরব রাষ্ট্র ফিলিস্তিন গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার বলেছেন ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ নামে পরিচিত ফর্মুলা মৃত। এই ফর্মুলা অনুসরণ করে এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রতিষ্ঠার যতগুলো উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে, কুশনারে মতে তার সবই ব্যর্থ হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রদূত মনসুর বলেন, ‘কুশনার ঠিক কী চায়, তা আমরা জানি না। হোয়াইট হাউস থেকে নানা সময় নানা কথা শোনা গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে একবার দুই রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্য সময় বলেছেন, উভয় পক্ষ যে সমাধানে সম্মত হবে, তাতেই তিনি সম্মতি দেবেন। আমরা তাঁর কাছ থেকে এখনো স্পষ্ট কিছু শুনতে পাইনি।’
গত মাসে নিউইয়র্কে টাইম ম্যাগাজিন আয়োজিত এক ফোরামে কুশনার বলেন, তিনি যে শান্তি প্রস্তাব চূড়ান্ত করছেন, তা মূলত উন্নয়নমুখী। ফিলিস্তিনি জনগণকে উন্নততর জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান তাঁর এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য। একে একটি ‘বিজনেস প্ল্যান’ উল্লেখ করে কুশনার বলেন, তাঁর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে উভয় দেশের জনগণের জীবনেরই গুণগত মান উন্নীত হবে। ফোরামে অংশগ্রহণকারী একজন সাংবাদিক একে ‘অর্থনৈতিক শান্তি পরিকল্পনা’ নামে অভিহিত করলে কুশনার তাতে সম্মতি দেন।
এই পরিকল্পনার বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত মনসুর বলেন, ‘ইসরায়েল ও আমেরিকার প্রতিটি পদক্ষেপ থেকে এ কথা মোটেই মনে হয় না যে তারা ফিলিস্তিনি জনগণের জীবনের মানোন্নয়নে উৎসাহী। বরং উল্টো, তারা একের পর এক এমন সব ব্যবস্থা নিয়েছে, যার লক্ষ্য ফিলিস্তিনি জনগণকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। বস্তুত আমরা এখন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রয়েছি।’
সম্প্রতি ইসরায়েল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে তাদের উপার্জিত কর হস্তান্তর করতে অস্বীকার করায় সেখানে অর্থনৈতিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। এই অর্থের একটা অংশ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলে অন্তরীণ ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দীদের পরিবারের মধ্যে বণ্টন করে থাকে। ইসরায়েলের তাতে আপত্তি করেছে। তারা বন্দী ফিলিস্তিনিদের পরিচর্যায় ব্যয় করা অর্থ বাদ দিয়ে উপার্জিত করের অবশিষ্টাংশ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দিতে প্রস্তুত। কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, তিনি এই প্রস্তাবে সম্মত নন। তাদের উপার্জিত করের পুরোটাই ফেরত দিতে হবে বলে তিনি দাবি করেছেন।
রিয়াদ মনসুর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ফিলিস্তিনি জনগণের কল্যাণ চায়, তাহলে তাদের উচিত হবে এই অর্থের পুরোটা ফিরিয়ে দিতে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। তিনি মন্তব্য করেন, এ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন যা করেছে, তার একটাই লক্ষ্য, আর তা হলো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকারকে সমর্থন করে যাওয়া।
রিয়াদ মনসুরের কথা, এই সরকারের জন্য উপহার হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সংযুক্তি মেনে নিয়েছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতিসমূহ তিনি ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করে নেবেন। সেটির স্বীকৃতি হবে ইসরায়েলের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের আরেক উপহার।
রাষ্ট্রদূত মনসুর জানান, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বীকৃতির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো অর্থপূর্ণ যোগাযোগ নেই। এই অচলাবস্থা এই মুহূর্তে পরিবর্তিত হবে না বলেই তিনি মনে করেন।
রিয়াদ মনসুর বলেন, ‘আমরা সবাই এখন ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছি।’

সোনায় মোড়ানো হোটেল!

আবুধাবির পাঁচ তারকা হোটেল আমিরাত প্যালেস। হোটেল তো নয়, দেখে মনে হবে রূপকথার সোনায় মোড়ানো কোনো রাজ্যপুরী। আক্ষরিক অর্থেই হোটেলটির ভেতরে শুধু সোনা আর সোনা ছড়ানো। সোনা দিয়েই এর অন্দরসজ্জা করা হয়েছে। আর ছাদটি পুরো সোনার পাতায় সজ্জিত। আর এর চাকচিক্য ধরে রাখতেই প্রতিবছর দেদার অর্থ খরচ করে চলেছে কর্তৃপক্ষ। সোনায় মোড়ানো ছাদের সংস্কারকাজেই বছরে ব্যয় করতে হয় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার (১ কোটি ৯ লাখ টাকা)!
৩০০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই হোটেল ২০০৫ সালে যখন চালু হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল আর দামি হোটেলের তকমা গায়ে লাগে তখনই। এক দশকের বেশি সময় পার হওয়ার পরও এর ঔজ্জ্বল্য এতটুকু কমেনি। স্বর্ণমণ্ডিত কারুকার্য রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন স্থায়ী কর্মী রাখা হয়েছে এখানে। নাম মনোজ কুরিয়াকোস। পেশায় প্রকৌশলী। দক্ষিণ ভারতের কেরালার বাসিন্দা কুরিয়াকোস তাঁর দলবল নিয়ে দুই হাজার বর্গমিটারের (৬ হাজার ৫৬০ বর্গফুট) অলংকৃত ছাদের সংস্কারকাজ চালান দৈনিক। যে সোনা ব্যবহার করা হয় এতে, সেটিও ২২ ক্যারেট! এ ছাড়া রুপার পাতাও ব্যবহার করা হয়েছে এর সজ্জায়।
হোটেলে আগত অতিথিরা এসব সোনার কারুকার্য দেখেন আর মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে হোটেল ভবন এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত। ফলে সোনার পাতা বসানোর কাজ যেন অন্তহীন চলতে থাকে কুরিয়াকোস ও তাঁর দলের।

চকবাজার ট্র্যাজেডি: তছনছ দুটি পরিবার by মরিয়ম চম্পা

একা থাকার এই ভালো লাগায় হারিয়ে গিয়েছি, নিঃসঙ্গতা আমাকে আর পাবে না...। ৩রা জানুয়ারি ফেসবুকে এ লেখা পোস্ট করেছিলেন রেহেনুমা তারান্নুম দোলা। এর দেড় মাসের মধ্যে  হারিয়ে গেছেন দুই বান্ধবী বৃষ্টি ও দোলা। শাড়ি ছিল তাদের দু’জনের ভীষণ প্রিয়। কোনো উৎসব কিংবা পার্বণে শাড়ি থাকতো তাদের প্রথম পছন্দের তালিকায়। শিল্প-সাহিত্যে ও আবৃত্তিতে আগ্রহ ছিল বেশ। দুজনেই ভর্তি হয়েছিলেন প্রজন্মকণ্ঠ নামে একটি আবৃত্তি সংগঠনে।
বাবার পরিবারে একমাত্র মেয়ে ছিলেন বৃষ্টি। পুরো নাম ফাতেমা-তুজ-জোহরা বৃষ্টি।
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে দুই বোনের মধ্যে দোলা ছিলেন বড়। বাবা এবং মায়ের পরিবারে তিন কুলে আপন বলতে কেউ নেই বললেই চলে। তাই দোলার বাবা-মা দুই মেয়েকে দিয়েই তাদের না পাওয়ার বেদনা পূর্ণ করতেন। স্কুলে পড়ার সময় থেকে বৃষ্টি এবং দোলার মধ্যে তৈরি হয় গভীর বন্ধুত্ব। দুই বান্ধবীর সম্পর্কের সূত্র ধরে তাদের বাবা-মায়েরও একে অন্যের বাসায় যাতায়াত ছিল সবসময় । মন খারাপ থাকলে দোলা বৃষ্টির বাসায় কিংবা বৃষ্টি দোলার বাসায় চলে আসতেন। তাদের মন ভালো করার প্রধান অনুসঙ্গ ছিল শাড়ি। দুজনেই শাড়ি পড়ে চলে যেতেন বাসার ছাদে। তুলতেন নানা রং ও ঢং এ সেলফি। কেনাকাটায় ছিল জোড়া মিলানো। যেটাই পছন্দ হতো সেটা দুটি করে কিনতেন। পড়তেন একই কিংবা কাছাকাছি ডিজাইনের চশমা। তারা  ছিল ঠিক যেন মানিক জোড়। মৃত্যুও আলাদা করতে পারেনি তাদের। দুই বান্ধবীকেই কবর দেয়া হয়েছে আজিমপুর গোরস্থানে। দুটি পরিবারই দুই মেয়েকে হারিয়ে শোকাতুর। কাঁদতে ভুলে গেছে তারা। তাদের চলে যাওয়ার দেড় মাস পূর্ণ হয়েছে। দুই পরিবারের সদস্যদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মানবজমিনের সাথে কথা বলেছেন তারা।
বৃষ্টির ভাই সাইদুল ইসলাম সানি বলেন, দুই ভাই এক বোনের মধ্যে আপু ছিল সবার বড়। বাবা জসিমউদ্দিন পুরান ঢাকা ও নিউমার্কেটে ব্যবসা করেন। মা শামসুন্নাহার গৃহিনী। লালবাগ শাহী মসদিজ সংলগ্ন হাজী রহিম বক্স লেনে বাসা। আমাদের ফ্যামিলিতে বৃষ্টি আপু একমাত্র মেয়ে ছিলেন। এবং সে ছিলেন অতি আদরের। ঘটনার দিন আমার সঙ্গে আপুর সর্বশেষ কথা হয় রাত ১০ টায়। আমি ফোন দিয়ে বলি, তুই এত রাতে বাহিরে কোথায় আছিস। বাহিরে কেন? তখন আপু বলে আমার প্রোগ্রাম শেষ। এখন রওয়ানা দিচ্ছি। তখন আমি বললাম, আমাকে আসতে হবে? উত্তরে আপু বললো, আসতে হবে না। দোলা সাথে আছে। এটাই ছিল শেষ কথা।
দোলা আপুও ছিলেন আমার নিজের বোনের মতো। আমাদের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও তার আম্মু আমাদের অনেক আদর করতেন। ঘটনার দিন দুপুর তিনটায় তারা দুজন আমাদের বাসায় আসে। শিল্পকলায় নির্ধারিত অনুষ্ঠানের জন্য দুজনেই রেডি হয়ে বের হন। এরপর দোলা আপুর চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে রাত ১০টা ২৮ মিনিটে তার কথা হয়। এসময় তার চাচাতো ভাইকে আমাদের বাসা থেকে এগিয়ে নিতে বলে।
যখন সর্বপ্রথম আগুন লাগে তখন বাসার ছাদের ওপর দাড়িয়ে আমি দেখছিলাম। এসময় প্রথমে আমার বন্ধুদের সবার বাসায় ফোন দিয়ে আগুন লাগার বিষয়টি জানাই। ঠিক তখনো জানিনা আমার বোন বৃষ্টি বাসায় আসেনি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে দোলা আপুর আম্মু ফোন দিয়ে জানায় দোলার ফোন বন্ধ। ওদের কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো খোঁজ খবর নাই। এরপরতো তাদের দুজনকে অপহরনের নাটক করে আমাদের দুই পরিবারের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ নেয়া হয়। পরবর্তীতে ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। আমাদের পরিবারে বৃষ্টি আপুর গুরুত্ব বাবার কাছে সবসময়ই বেশি ছিল। ওই সময় যদি বাবার কাছে ৫ লাখ টাকাও মুক্তিপন দাবি করতো বাবা সেটা দিতে দ্বিধাবোধ করতেন না। মোবাইল ফোনের সর্বশেষ লোকেশন এবং ঢাকা মেডিকেলের বরাত দিয়ে ১২ দিন পর আমরা নিশ্চিত হই তারা আর বেঁচে নেই।
আমার ব্যক্তিগত যে কোনো বিষয় বৃষ্টি আপুকে জানাতাম। কোথাও বেড়াতে গেলে আপুর জন্য আমি যা পেতাম তাই নিয়ে আসতাম। অধিকাংশ সময় আমি মাঝরাতে বাসায় ফিরতাম। এসময় আপুকে ফোন করলে সে এসে দরজা খুলে দিতেন। বয়সে ছোট হলেও বড় ভাইয়ের মতো শাসন করতাম তাকে। গত জানুয়ারি মাসে আমরা কুমিল্লায় ঘুরতে গিয়েছিলাম। এসময় দোলা আপুও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তাদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বের চাইতে আরো বেশি কিছু। ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত দুজন একত্রে সিটি কলেজে  পড়ালেখা করেছে। এরপরতো বৃষ্টি আপু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে যায়। পরে দোলা আপু ইডেনে চান্স পেলেও সাবজেক্ট পছন্দ না হওয়ায় ক্যানন্টমেন্টে বিইউপি ‘ল’ কলেজে ভর্তি হন। তারা দুজনে যা কিছুই কিনতেন জোড়া মিলিয়ে দুটি করে কিনতেন। কোনো পছন্দের জিনিস একটি কিনতেন না। চশমা, ড্রেস, শাড়ি, জুতা, সবকিছুই এক জোড়া করে কিনতেন। এমনকি শপিংএ ও যেতেন একত্রে। মারা যাওয়ার পর বৃষ্টি ও দোলা আপুকে একই কবরস্থান আজিমপুরে দাফন করা হয়। কবর দুটি সামান্য দুরত্বে। মরনও তাদের আলাদা করতে পারেনি।  
পেশায় দলিল লেখক দোলার বাবা দলিলুর রহমান দুলাল বলেন, দোলার মা সোফিয়া রহমান ছিল তার বান্ধবীর মতো। ওরা দু’বোন ছিল। ছোট বোন লিসা অগ্রণী গালর্স স্কুলের শিক্ষার্থী। দোলা ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ঢাকা সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে। মিরপুর সেনানিবাসে ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ল’ ডিপার্টমেন্টের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন দোলা। ওইদিন দোলাকে শিল্পকলা একাডেমির একটি আবৃত্তি অনুষ্ঠানে আমার নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। বিকাল ৪টায় যখন রেডি হয় তখন আমি বলি তুমি কি একা যাচ্ছো? দোলা বলে, বাবা বৃষ্টি আমার সাথে যাচ্ছে। তখন আমি বলি, অনুষ্ঠান শেষ করে তুমি অবশ্যই রাত ৯টার মধ্যে বাসায় ফিরবে। আগামীকাল ২১শে ফেব্রুয়ারি। যে কোনো সময় রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। এরপর দোলার সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় ৯টা ৩৯ মিনিটে। এসময় ফোনে বলেন, বাবা আমাদের অনুষ্ঠান শেষ। আধা ঘণ্টার মধ্যে আমরা পৌছে যাবো। এখন রিকশায় আছি। তুমি টেনশন করবে না।   
এরপরতো আমি পাগলের মতো মেয়েকে খোঁজাখুঁজি করেছি। দোলা হারিয়ে যাওয়ার ১২ থেকে ১৪ দিন পর একটি ভিডিও ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হই সে আর বেঁচে নেই। ২১ দিনের মাথায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তার লাশ সনাক্ত করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দোলা আর বৃষ্টির বন্ধুত্বের সম্পর্কটা ছিল একদম বাল্যকাল থেকে। যখন তারা চতুর্থ কিংবা পঞ্চম শ্রেণীতে পড়তো। শাড়ি পড়ার সখ ছিল ওদের। বাসার ছাদে শাড়ি পড়ে ছবি তুলতো। ফেসবুকে দিতো। আমাদের মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। দুই মেয়েকে নিয়ে আমাদের ছোট্ট ও সুখের সংসার ছিল। ওকে ছাড়া আমাদের পরিবারের বর্তমান অবস্থা এতোটাই খারাপ যে বলে বোঝানো যাবে না। দোলার চলে যাওয়ার আগুন বুকের মাঝে এখনো দাউ দাউ করে জ্বলছে।

বাংলাদেশ, ভারতে হামলার হুমকি আইএসের -নতুন আমিরের নাম ঘোষণা

বাংলাদেশে নতুন আমিরের নাম ঘোষণা করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস। তার নাম আবু মুহাম্মদ আল বাঙালি। আইএস সম্পৃক্ত একটি গ্রুপ এ নাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ ও ভারতে হামলার সরাসরি হুমকি দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় একটি পোস্টার প্রকাশ করেছে আইএস। তাতে বলা হয়েছে ‘যদি তোমরা মনে করো বাংলায় ও হিন্দে খিলাফতের সেনাদের স্তব্ধ করে দেবে তাহলে এটা সুনিশ্চিতভাবে জেনে রাখো যে, আমাদের লোকেরা কখনো নীরব হবে না। তাদের প্রতিশোধ নেয়ার তৃষ্ণা কখনো মুছে যাবে না’।
টাইমস অব ইন্ডিয়া আরো লিখেছে, ঢাকায় একটি সিনেমা হলের কাছে ছোটখাট একটি হামলা চালানোর মাত্র একদিন পরেই এ ঘটনা ঘটলো। সোমবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে সাতটার দিকে গুলিস্তান সিনেমা হল এলাকায় ওই বিস্ফোরণ ঘটে।
যদিও এতে কেউ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় নি, তবে দু’তিন জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এরপর মঙ্গলবার দিনের শুরুতে আরবি ভাষায় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে আইএস। এ সংগঠনের মুখপত্র আমাক-এর মাধ্যমে তারা ঢাকায় ওই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে। পাশাপাশি প্রকাশ করে তাদের নেতা আবু বকর আল বাগদাদির বক্তব্য। বাংলাদেশের এমন প্রেক্ষাপটের দিকে নিবিড় নজর রাখছে ভারতের গোয়েন্দারা। তারা সোমবার রাতের ওই হামলাকে একটি স্মোকস্ক্রিন বা ধোয়াটে আবহ সৃষ্টি হিসেবে দেখছেন। মনে করছেন প্রকৃত হামলা হয়তো বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গে চালাতে পারে আইএস।
দ্রুত পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট ও বাংলা ভাষায় আইএস সংশ্লিষ্ট পোস্টারের প্রচার থেকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে এলার্ম বেল বেজে গেছে। গত বৃহস্পতিবার আইএস টেলিগ্রামপন্থি চ্যানেলগুলো বাংলায় একটি পোস্টার প্রকাশ করে। বিষয়টি নিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রথম রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয় ওই পোস্টারের মাধ্যমে আইএস বলেছে ‘শিগগিরই আসছি’। কিন্তু এ বক্তব্য নিয়ে নানা বিতর্ক আছে।
ওদিকে মঙ্গলবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রধান আসাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাস বিরোধী, বহুজাতিক সন্ত্রাস ও ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট বিষয়টিতে তদন্ত করছে। সোমবার গুলিস্তানে যে বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে তা সাধারণ হাতবোমার থেকে ভিন্ন।
টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, ‘শিঘ্রই আসছি, ইনশাল্লাহ’ লেখা পোস্টারের পর তদন্ত শুরু করেছে বিভিন্ন এজেন্সি। ওই পোস্টারে আল মুরসালাত গ্রুপের একটি লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে মঙ্গলবার যে হুমকি দেয়া হয়েছে তা ওই একই গ্রুপ দিয়েছে।
একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বিষয়টি গুরুত্বর। ন্যাশনাল তাওহিদ জামায়াত নামের একটি স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে সিরিজ বোমা হামলা করেছে আইএস। আইএসের কেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় উগ্রপন্থি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন। তাদের একটি অংশের মাধ্যমে বাংলাদেশে শক্তিশালী উপস্থিতি আছে আইএসের। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই হুমকিকে উপেক্ষা করা যাবে না। কারণ, জেএমবির অপারেটিভরা কলকাতায়, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য অংশে ও প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে বেশ পরিচিত। তারা এখানে সদস্য সংগ্রহ করে। আত্মগোপন করে আছে। এসব কথা বলেছেন সন্ত্রাস বিরোধী অন্য একটি ইউনিটের কর্মকর্তা।

ছবিতে শ্রমজীবী মানুষের জীবন

শ্রমজীবী মানুষের জীবন ছবি তুলেছেন জীবন আহমেদ















ঢাকায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন: শিশুর মুটিয়ে যাওয়া রোধ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে

দেশে বয়সের তুলনায় ওজন বেড়ে  যাওয়া শিশুর সংখ্যা তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বিশ্বে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে শিশু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। গ্রামের চেয়ে শহরে মুটিয়ে যাওয়া শিশুর সংখ্যা বেশি। আর এক্ষেত্রে ছেলেরা এগিয়ে। এজন্য জীবনযাত্রার পরিবর্তন করতে হবে। বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনস (বিসিপিএস) মিলনায়াতনে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক পেডিয়েট্রিক সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। এন্ডোক্রাইন সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিইএসবি) এই সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে শিশু বিশেষজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুরাইয়া বেগম তার মূল প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশে খুব তাড়াতাড়ি মুটিয়ে যাওয়া শিশুর সংখ্যা বাড়ছে।
এটি প্রতিরোধ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন করতে হবে। খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনতে হবে। শিশুদের শারীরিক ব্যায়াম ও খেলাধুলা বাড়াতে হবে। তিনি আরো বলেন, ফাস্ট ফুড বা জ্যাঙ্ক ফুড এড়াতে হবে।
শিশুদের অল্প অল্প করে খেতে হবে। টিভি দেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিশুদের ঘুমানোর ঘরে টিভি রাখা যাবে না। খাওয়ার সময়ে টিভি দেখা নিষেধ। সর্বোচ্চ দু’ঘণ্টা টিভি দেখা যেতে পারে। ৩ বছরের নিচে শিশুকে টিভি না দেখানোই ভাল। ৩ থেকে ৬ বছরের একজন শিশু সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট টিভি দেখতে পারে। আর ৭ থেকে ১১ বছরের শিশু ৬০ মিনিট। তিনি বলেন, শিশুরা অতিরিক্ত প্রতিঘণ্টা টিভি দেখার কারণে ২ শতাংশ হারে মুটিয়ে যায়। এই শিশু বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রি-স্কুল শিশুদের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট খেলাধুলা করতে হবে। স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ৬০ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম ও খেলাধুলার মধ্যে থাকতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের ৯০ মিনিট বিভিন্ন ব্যায়াম করতে হবে। এর মধ্যে সাইক্লিং, সাঁতারকাটা, জাম্পিং, ক্রিকেট ও টেনিস খেলতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বে গত ৪০ বছরে বয়সের তুলনায় ওজন বেড়ে যাওয়া শিশুর হার ৩০০ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে (৬ থেকে ১৫ বছরের) বয়সের তুলনায় মুটিয়ে যাওয়া শিশু ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, অতিরিক্ত ওজন ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, শহরে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, গ্রামে এক দশমিক ২ শতাংশ, ছেলেরা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেয়েরা এক দশমিক ৫ শতাংশ শিশু দেখা গেছে। পিইএসবি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. হোসনে আরা বেগমের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিপিএস’র সভাপতি ও  ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ, বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. ফৌজিয়া মোহসিন, অধ্যাপক ডা. সৈয়দা আফরোজা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, মালয়েশিয়া ও ভারতের শিশু বিশেষজ্ঞ এবং দেশের চার শতাধিক শিশু চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে শিশুদের বিভিন্ন হরমোনজনিত রোগ ও ডায়াবেটিস সমন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেন চিকিৎসকরা। এতে ৬টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ ও  গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

স্বেচ্ছায় পদ ছাড়ছেন সম্রাট আকিহিতো- ২০০ বছরের মধ্যে প্রথম

ঐতিহাসিক এক ঘটনা ঘটছে আজ জাপানে। ২০০ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো সম্রাট সেখানে স্বেচ্ছায় সিংহাসন ছেড়ে দিচ্ছেন। আজ বুধবার নতুন সম্রাট হিসেবে সিংহাসনে বসবেন তার পুত্র যুবরাজ নারুহিতো। সম্রাট আকিহিতোর পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে টোকিওর ইমপেরিয়াল প্যালেসে। বয়স এবং স্বাস্থ্যগত কারণে সম্রাট হিসেবে নিজের ভূমিকা পরিপূর্ণভাবে পালন করতে অক্ষম বলে এর আগে জানান আকিহিত। ফলে ৮৫ বছর বয়সী এই সম্রাটকে সিংহাসন ছেড়ে দিতে বৈধ অনুমতি দেয়া হয়েছে।
জাপানে সম্রাট পড়ের রাজনৈতিক কোনো ক্ষমতা নেই। তবে এ পদটিকে জাতীয় প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
সম্রাট আকিহিতো ২০১৬ সালে ঘোষণা দেন, বয়সের কারণে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে তার শঙ্কা। তিনি সিংহাসন ছাড়ার আভাস দেন তখনই। স্বাস্থ্যগত কারণে তার এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন বেশিরভাগ জাপানি।
এরপর দেশটির সংসদ একটি আইন পাস করে, যাতে তিনি সিংহাসন ত্যাগ করতে পারেন। রাজ প্রাসাদ মাৎসু-নো-মা রাজ্য কক্ষে এই অনুষ্ঠান হচ্ছে। তবে এর বেশিরভাগ আয়োজনই থাকবে লোকচক্ষুর আড়ালে।
স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় আয়োজন শুরু হওয়ার কথা। এ সময় সম্রাট আকিহিতো এবং সম্রাজ্ঞী মিচিকো কক্ষে প্রবেশ করবেন। অনুষ্ঠানস্থলে তখন উপস্থিত থাকবেন প্রায় ৩৩০ অতিথি।  ১০ মিনিট ধরে চলার কথা এই অনুষ্ঠান। সম্রাট হিসেবে আকিহিতোর শেষ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হবে।
বুধবার সকালে যুবরাজ নারুহিতো সম্রাট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। জাপানের ১২৬তম সম্রাট হতে যাচ্ছেন যুবরাজ নারুহিতো। তিনি জাপানকে ‘রেইওয়া’ যুগে নিয়ে যাবেন। ৫৯ বছর বয়সী নারুহিতো পড়াশোনা করেছেন অক্সফোর্ডে। ১৯৮৬ সালে একটি চায়ের আসরে রাজকুমারী মাসাকো ওয়াডার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ১৯৯৩ সালে তারা বিয়ে করেন।
এই দম্পতির একমাত্র সন্তান প্রিন্সেস আইকোর জন্ম হয় ২০০১ সালে। যদিও জাপানের বর্তমান আইন অনুযায়ী কোন নারী সিংহাসনে বসতে পারেন না। যে কারণে প্রিন্সেস আইকো সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী নন।
যুবরাজ নারুহিতোর পর উত্তরাধিকারীর তালিকায় রয়েছেন তার ভাই প্রিন্স ফুমিহিতো। এরপরে রয়েছেন ফুমিহিতোর সন্তান ১২ বছরের হিসাহিতো।

৫ বছর পর আইএস নেতা বাগদাদির ভিডিও প্রকাশ, হুমকি

প্রায় ৫ বছর পর প্রকাশ হয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদির ভিডিও। এর মধ্য দিয়ে তিনি নতুন করে দৃশ্যমান হলেন। হুমকি দিয়েছেন ফ্রান্স ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর। ১৮ মিনিটের ওই ভিডিওতে তিনি সিরিয়ার বাঘোজে যুদ্ধ শেষ ও অনেক যোদ্ধার প্রাণহানীর কথা স্বীকার করেন। অন্য এক অংশে শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ভিডিওতে তাকে বেশ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বলে মনে হয়েছে। এ খবর দিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর ওপর নজরদারি করা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান  সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। এ ছাড়া একই বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সাইট ইন্টেলিজেন্স লিখেছে, প্রায় পাঁচ বছর পরে প্রথম ভিডিওতে দেখা গেছে আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদিকে। অন্যদিকে রয়টার্স লিখেছে, সোমবার আইএসের সামাজিত যোগাযোগ মাধ্যমে একটি হুমকিযুক্ত ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। এটি মনে করা হচ্ছে আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদির। পাঁচ বছর আগে তিনি খেলাফত ঘোষণা করেছিলেন। আল ফুরকান নেটওয়ার্কে ১৮ মিনিটের ওই ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। এতে বাগদাদির সঙ্গে দেখা যায় একজন দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকে। তাকে বলতে শোনা যায়, সিরিয়ায় আইএসের সর্বশেষ ও শক্তিশালী ঘাঁটি বাঘোজের নিয়ন্ত্রণ হারানোর জবাবে আইএস শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলা চালিয়েছে। যেসব নেতাকে হত্যা করা হয়েছে এবং জেলে নেয়া হয়েছে তার বদলা নিতে আহ্বান জানাতে শোনা যায় তাকে। তিনি পশ্চিম আফ্রিকায় অপারেশনে থাকা জঙ্গিদেরকে ‘ক্রসেডার ফ্রান্স’ ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা বহুগুণ করার আহ্বান জানান। তবে এই ভিডিওটির যথার্থতা ও কবে এটি রেকর্ডিং করা হয়েছে তা নিরপেক্ষ কোন সূত্র থেকে যাচাই করা যায় নি।
রয়টার্স আরো লিখেছে, ২০১৪ সালে ইরাকের মসুলে ক্যামেরাবন্দি হয়েছিলেন বাগদাদি। তারপর তাকে আর কোনো ভিজুয়াল মাধ্যমে দেখা যায় নি। ফলে তার পর এই প্রথম ভিডিওর মাধ্যমে বাগদাদির উপস্থিতি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু অডিও রেকর্ডিং প্রকাশিত হয়েছে।
এবারের ভিডিওটির সূচনায় বলা হয় এটি ধারণ করা হয়েছে এপ্রিলের শুরুর দিকে। এতে বাগদাদিকে দুই পা ক্রস করে একটি মেঝেতে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তিনি তিনজন সহযোগীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছিলেন। ওই সহযোগীদের মুখ অস্পষ্ট করে দেয়া ছিল। বাগদাদিকে এ সময় বেশ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী দেখা যায়। ২০১৪ সালের তুলনায় কিছুটা বয়সের ছাপ পড়েছে তার শরীরে।
সোমবার প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে তাকে দেখা যায় কালো আলখাল্লা একটি পোশাক পরা। তার ওপর ওয়েস্টকোট। লম্বা ও ঘন দাড়ি। দাড়ির নিচের দিকে লালচে আভা। পিছনে দেয়ালে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে একটি বন্দুক।
বাগদাদি এতে বলেন, আজ আমাদের যুদ্ধ হলো শত্রুদের বিরুদ্ধে শত্রুতার যুদ্ধ। শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত জিহাদ চলবে। আল্লাহ আমাদেরকে বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত জিহাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
এই ভিডিওতে বাগদাদি এ মাসের প্রথম দিকে লিবিয়ার ফুকাহাতে ভয়াবহ হামলার জন্য জঙ্গিদের অভিনন্দন জানান। বুরকিনা ফাসো ও মালির জঙ্গিরা আইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের জন্য তাদেরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি গ্রেটার সাহারায় আইএস নেতা আবু ওয়ালিদ আল সাহরাবি ও তাদেরকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানান।