Monday, October 18, 2010

কবিতা- 'উৎসর্গ' by অসীম সাহা

আমরা আলোর সন্ধানে বেরুলাম।
কোথায় আলো?
নদী-সমুদ্র-পর্বত পেরিয়ে, আকাশ-নীলিমা অতিক্রম করে
আমরা চলে এলাম
সত্য ও সুন্দরের প্রতীক কয়েকজন মৌন মনীষীর কাছে।
হাত দিয়ে তাঁদের দেহ স্পর্শ করতেই ধ্যানমগ্ন
তাঁরা চোখ মেলে তাকালেন -
সঙ্গে-সঙ্গেই আমরা বললাম, ‘হে সত্য, আলো দাও।’
আমাদের কথা শুনে তাঁরা চোখ বন্ধ করলেন।
আর তাঁদের পবিত্র গ্রন্থের ওপরে কীসের যেন ঘন ছায়া পড়লো।
সেই ঘন আবরণের ভেতর থেকে একটুখানি মুখ বের করে
তাঁদের কেউ একজন বলে উঠলো, ‘চরৈবেতি, চরৈবেতি।’
আমরা মুখ ফিরিয়ে এগোতে লাগলাম।

তিনটি কবিতা' by বদরে মুনীর

একটা মুখোশ

একটা মুখোশ প’রে আছি।
দেখা যাচ্ছে, শ্রুতিও সজাগ;
মনে হচ্ছে মুখোশটা মুখ
হয়ে উঠছে, মিশে যাচ্ছে দাগ।
ভালোই তো ধাবমান সব,
চলমান, ঢলোঢলোমান;
গতিশীলতার গর্ত ঘিরে
নিরত নিযুত হন্যমান।
আমি দেখি, আমাকে দেখে না -
কত বড় বাতেনি ব্যাপার!
কত দূর, কত আপেক্ষিক
মুখোশের ওপার, এপার!

আমার কোনো শত্রু নেই - লিউ সিয়াওবো

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী লিউ সিয়াওবোর নিচের বিবৃতিটি প্রথম প্রকাশিত হয় হংকংভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ইন চায়না’য়। এটিই কারাবন্দী হওয়ার আগে শেষবারের মতো প্রকাশিত লিউ সিয়াওবোর কোনো বিবৃতি। এরপর আর প্রকাশ্যে তিনি কোনো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। ২০০৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করে চীন সরকার।আমার জীবনের গত অর্ধশতকের মধ্যে ১৯৮৯ সালের জুন মাসটা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করি। ছাত্ররাও আমাকে সাদরে গ্রহণ করে নেয়। একই সঙ্গে আমি বুদ্ধিজীবী হিসেবেও নাম কুড়াতে থাকি। আমার প্রবন্ধ ও বই প্রকাশিত হতে থাকে। দেশে ও দেশের বাইরে ইউরোপ, আমেরিকা থেকে গুণীজন হিসেবে ডাক আসতে থাকে। ওই সময়টায় আমি একজন লেখক ও একজন ব্যক্তি হিসেবে সৎ, দায়িত্বশীল ও আত্মমর্যাদা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা চালাই। এই অবস্থানে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই ১৯৮৯ সালের আন্দোলনে জড়িয়ে যাই। তাই প্রতিবিপ্লবী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই সময় আমাকে কারাবন্দী করা হয়। আমি আমার শিক্ষকতার পেশা হারাই। চীনে আমার বক্তব্য দেওয়া বা লেখালেখি প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ ধারণ ও গণতন্ত্রের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার দায়ে একজন শিক্ষক হারান তাঁর পেশা, একজন লেখক হারান তাঁর লেখালেখির অধিকার, একজন বুদ্ধিজীবী হারান প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার। এটা একই সঙ্গে আমার জন্য যেমন দুঃখজনক, তেমনি দুঃখজনক চীনের জন্যও। অথচ এই চীনই ৩০ বছর ধরে সংস্কার ও মুক্তবাজারের কথা বলে আসছে।
এসব কথা যখন আমি ভাবি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করি, ৪ জুনের পর থেকে আমার অধিকাংশ অভিজ্ঞতাই আদালতসংশ্লিষ্ট। ওই দিনের পর যে দুবার আমি প্রকাশ্যে আমার মতপ্রকাশের সুযোগ পেয়েছি, তার একটি ছিল ১৯৯১ সালে বেইজিংয়ের মিউনিসিপ্যাল ইন্টারমিডিয়েট পিউপিলস কোর্টে, আরেকটি আজকে।
২০ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সেই ৪ জুনের ভূত এখনো আমাকে তাড়া করে ফেরে। ৪ জুন আমার মধ্যে যে মানসিক পরিবর্তন এনে দেয়, তার ধারাবাহিকতায় ধারণ করা আমার রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নিজ দেশে আমি মতপ্রকাশের অধিকার হারাই। আমার রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী আমাকে বছরের পর বছর নজরবন্দী করে রেখেছে, গৃহবন্দী করে রেখেছে, কারাগারে পাঠিয়েছে। তারপরও আমি এ শাসনব্যবস্থায় দাঁড়িয়েই বলতে চাই, আমার কোনো শক্র নেই, আমি কাউকে ঘৃণা করি না। এমনকি যেসব পুলিশ ভাই আমার ওপর নজর রাখেন, তাঁদের না, যেসব আইনজীবী আমাকে মামলায় জড়ান, তাঁদেরও না। আমি আপনাদের পেশাদারিকে সম্মান করি। তবে সেই সঙ্গে এটাও সত্যি, আপনাদের নজরদারি কিংবা আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমি মানি না।আমি মনে করি, ঘৃণা একজন মানুষের বিবেক-বিবেচনা ও ন্যায়বোধকে ধ্বংস করে দেয়। শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব একটা জাতির মানসিক শক্তিকে নিঃশেষ করে দেয়, নিষ্ঠুর প্রবৃত্তিকে উসকে দেয়, ধৈর্য ও মানবিকতার দ্বার রুদ্ধ করে, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথে একটি জাতির অগ্রযাত্রাকে রুখে দেয়। তাই আমি আমার ব্যক্তিগত তিক্ত অভিজ্ঞতাকে ভালোবাসা, শুভকামনা ও সেবায় রূপান্তরিত করে আমার জাতির উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের পথ সুগম করতে চাই।প্রত্যেকে জানেন, উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যেই চীনে সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ শুরু হয়। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এসব পদক্ষেপের মানে হচ্ছে, শ্রেণীসংগ্রামের যে নীতিতে মাও সে-তুংয়ের সরকার পরিচালিত হতো, তা থেকেই ক্রমশ সরে আসা। এই সংগ্রামের দর্শন থেকে সরে আসার প্রক্রিয়াটা আরেক অর্থে অন্যের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষের মনোবৃত্তি থেকেও সরে আসার প্রক্রিয়া বলে আমি মনে করি। এটা এমন এটি প্রক্রিয়া, যা দেশে এবং দেশের বাইরে মানুষে মানুষে বিভেদ ঘুচিয়ে পৃথক মূল্যবোধ ও স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় সাধনে সহযোগী ভূমিকা রাখবে। এই সংস্কার ও মুক্ত করার প্রক্রিয়া দেশবাসীর মধ্যে সৃজনশীলতা ও পরদুঃখকাতরতা সৃষ্টির পথকে সুগম করবে। নিজেকে পৃথক করে রাখার মনোবৃত্তি থেকে ক্রমশ সরে আসার প্রক্রিয়া আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতির গতি পরিবর্তন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে বেগবান করেছে। এই সংস্কারের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালে চীন জাতিসংঘের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষর করার অঙ্গীকার করে। ২০০৪ সালে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) সংবিধানে সংশোধনী আনে। প্রথমবারের মতো সংবিধানে যুক্ত হয় ‘রাষ্ট্র এর নাগরিকদের মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও তা রক্ষায় বদ্ধপরিকর’-এর মতো লাইন। এসব পদক্ষেপ এটাই ইঙ্গিত করে যে, চীনের আইনে মানবাধিকার একটি মৌলিক নীতি হিসেবে ইতিমধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছে।আমি ব্যক্তিগতভাবে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেও ও দণ্ডভোগ করলেও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, চীনের রাজনৈতিক অগ্রগতি থামবে না। ভবিষ্যতে একটি মুক্ত, স্বাধীন চীন দেখার ব্যাপারে আমি প্রচণ্ড আশাবাদী। এমন কোনো শক্তি নেই, যা মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে রুখতে পারে। আমার দেশও এ মাটিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে বলে আমি বিশ্বাস করি।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানবাধিকারে মৌলিক ভিত্তি, মানবিকতার উৎস, সত্যের গর্ভধারিণী। বাকস্বাধীনতার টুঁটি টিপে ধরা মানে মানবাধিকারকে পদদলিত করা, মানবিকতাকে নিষ্পেষিত করা, সত্যের অবদমন ঘটানো। সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত বাকস্বাধীনতার অধিকার ভোগ করা একজন চীনা নাগরিকের সামাজিক দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে। আমি এ চর্চা করে কোনো অপরাধ করিনি। শুধু স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করার কারণে যদি আমাকে অভিযুক্ত করা হয়, তবে আমি বলব, আমার কোনো অভিযোগই নেই।
ইংরেজি থেকে ভাষান্তর ইসরাত জাহান
লিউ সিয়াওবো: এ বছর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী চীনা মানবাধিকারকর্মী।

বন্দরের অচলাবস্থা নিরসন হওয়ায় বিকেএমইএ সন্তুষ্ট

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) সেনাবাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিরসন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা নিরসনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ব্যবস্থাকে আশাব্যঞ্জক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে বিকেএমইএ বলেছে, এর ফলে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসছে।
বিকেএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে কয়েক দিনে নিটশিল্পসহ দেশের সব রপ্তানি খাতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। এর মধ্যে দ্রুত প্রবৃদ্ধিশীল ও সম্ভাবনাময় নিটওয়্যার শিল্প খাত ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।
এ ছাড়া বিকেএমইএ বন্দরের ব্যবস্থাপনাগত মানোন্নয়নে নৌপরিবহনমন্ত্রীসহ যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের সবাইকেও বিকেএমইএ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার যেভাবে কাজ করেছে সেটির প্রশংসা করেছে বিকেএমইএ। সংগঠনটি বন্দরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, তথা বন্দর পরিচালনা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনয়ন ও সেবা প্রদান অঞ্চলগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে না আসা পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।
বিকেএমইএ আশা প্রকাশ করে বলেছে, বন্দর ব্যবহারকারীরা সবাই দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশের কথা চিন্তা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসে বন্দর কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ দেশের স্বার্থেই চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা একান্ত প্রত্যাশিত।

সংখ্যার চমক!

প্রিয়জনের জন্ম তারিখ ভুলে বিপত্তিতে পড়েননি, এমন লোক হয়তো কমই খুঁজে পাওয়া যাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এই দম্পতির তিন সন্তানের বেলায় তেমনটি ঘটার কোনো কারণ নেই। কারণ তিনজনের জন্ম তারিখ হলো পর্যায়ক্রমে ৮, ৯ ও ১০। আরও খোলাসা করে বললে, একজনের জন্ম ০৮-০৮-০৮ তারিখে, দ্বিতীয়জনের ০৯-০৯-০৯ ও তৃতীয়জনের ১০-১০-১০। ঘটনাটি কাকতালীয়, সাজানো নয়—এমনটিই দাবি ওই দম্পতির।
শাদ ও বারবি সোপার দম্পতির ঘর আলো করে এসেছে ওই তিন সন্তান। সবচেয়ে ছোট সন্তান সিয়ারা নিকোল জন্মেছে গত রোববার। তারিখটা ছিল ১০-১০-১০। যে দিনটি ১০০ বছরে মাত্র একবারই আসে।
অবিশ্বাস্য এ ঘটনা নিয়ে ঝক্কিঝামেলাও কম পোহাতে হচ্ছে না। শাদ ও সোপার প্রতিনিয়ত সন্তানদের জন্ম তারিখ নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হচ্ছেন। পরিচিত লোকজন কোনোভাবেই একে কাকতালীয় বলে মানতে পারছেন না। তাঁদের ধারণা, শাদ ও সোপার পূর্বপরিকল্পনা করেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তবে ৩৬ বছর বয়সী সোপার বলেছেন, ঘটনা পুরোপুরি কাকতালীয়। এতে তাঁদের কোনো হাত ছিল না।
শাদ ও সোপারের প্রথম সন্তান ক্লোয়ি কোরিন নির্ধারিত তারিখেই জন্মগ্রহণ করেছে। কিন্তু দ্বিতীয় সন্তান ক্যামেরন ডেইন নির্ধারিত তারিখের ১১ দিন আগে জন্ম নেয়। তৃতীয় সন্তান সিয়েরাও আগাম জন্মগ্রহণ করে। সোপারের স্বাস্থ্যগত জটিলতা এড়াতে চিকিৎসক নির্ধারিত তারিখের আগেই তাঁর অস্ত্রোপচার করেন।
সোপার সাংবাদিকদের বলেন, এ রকম অনন্য তারিখে তিন সন্তান জন্ম নেওয়ায় তিনি খুবই উদ্বেলিত।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সোপারের চতুর্থ সন্তান নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না? আর ১১-১১-১১ তারিখে সে সন্তান জন্মের কোনো সম্ভাবনা আছে কি না? এ ব্যাপারে সোপারের মন্তব্য, ‘না! আর না। আমরা তিনটি সন্তান চেয়েছিলাম। তা পেয়েই আমরা খুশি।’

বাড়ি ফিরেছেন চিলির খনিশ্রমিকেরা

চিলিতে উদ্ধার হওয়া ৩৩ জন শ্রমিকের মধ্যে ৩১ জনই হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে গেছেন। চিকিৎসকদের কাছ থেকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার পর তাঁরা তাঁদের বাড়িতে ফিরে যান। তবে দুজন শ্রমিকের অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে রেখে দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসক পাওলা নিউম্যান জানান, দুই শ্রমিককে আরও চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একজনের দাঁতে অস্ত্রোপচার করতে হবে, আর অন্যজন মাথাব্যথার কারণে হাঁটতে পারছেন না। তিনি ওই দুই শ্রমিকের নাম জানাননি। গত বৃহস্পতিবার তিনজন এবং শুক্রবার ২৮ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
খনির সুড়ঙ্গ ধসে আটকে পড়া ৩৩ জন শ্রমিককে ৬৯ দিন পর কঠিন এক অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়। খনিকূপে ভয়াবহ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য বিখ্যাত হওয়া ওই শ্রমিকদের ছুটি ও নগদ অর্থসহায়তা দেওয়ার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। এদিকে এ উদ্ধার তৎপরতার পর থেকে কপিয়াপোতে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। খনিশ্রমিক জুয়ান ইলেনস, ইডিসন পেনা ও কার্লোস ম্যামানির আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা মিষ্টি বিতরণ এবং স্যাম্পেনের ছিপি খুলে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছে। খনির গহ্বরে ওই ৬৯ দিনের অভিজ্ঞতার বর্ণনা করতে গিয়ে এক শ্রমিক বলেন, ‘ওই সময় আমাদের প্রতিদিন এক চামচ পরিমাণ টিনজাত টুনা ও স্যামন মাছ খেয়ে থাকতে হয়েছে। এই অন্ধকার গহ্বরেই মারা যেতে হবে—এই ভয় সব সময় আমাদের তাড়া করে ফিরত।’

ফ্রান্সে পেনশন সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ধর্মঘট অব্যাহত

ফ্রান্সে গতকাল শনিবারও সরকারের পেনশন সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে রাজপথে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। এসব সমাবেশে কমপক্ষে তিন লাখ ৪০ হাজার মানুষ যোগ দেয়। চলমান আন্দোলনের জের ধরে ধর্মঘটী বিক্ষোভকারীরা জ্বালানি তেলের পাইপলাইন কেটে দেওয়ায় প্যারিসের বিমানবন্দরগুলোতে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ধর্মঘটী কর্মচারীদের অসহযোগিতার কারণে দেশের বেশির ভাগ তেল শোধনাগার এখন বন্ধ।
প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির সরকার পেনশন সংস্কার কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীদের অবসর নেওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ৬০ থেকে ৬২ বছর করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে।
গতকালও রাজপথে নেমে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিস হর্তেফিউক্স শিক্ষার্থীদের ওপর জোরজুলুম না চালাতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সংস্কার পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে সরকারকে বাধ্য করতে শ্রমিক সংগঠনগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই লক্ষ্যে স্বাভাবিক কর্মদিবসে তারা ধর্মঘট বজায় রেখেছে। সপ্তাহান্তে দেশের বড় বড় শহরে ব্যাপক বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। গতকাল তারা দেশজুড়ে ২৩০টির বেশি সমাবেশ করার কর্মসূচি নেয়। তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হলেও গতকাল দেশের ১২টি তেল শোধনাগারের মধ্যে ১০টি বন্ধ ছিল।

কল সেন্টারগুলো থেকে কৃষিতথ্য সরবরাহের নীতিমালা তৈরি হবে

কৃষকদের কাছে ভুল তথ্য সরবরাহ করলে কল সেন্টারগুলোকে শাস্তি পেতে হবে। একই সঙ্গে ভুল তথ্যের কারণে কৃষকের ক্ষতির দায়ভার কে নেবে, তা নির্ধারণের জন্য নীতিমালা তৈরি করবে সরকার।
এতে করে ভুল তথ্য সরবরাহে দেশের কৃষি তথা কৃষকদের ক্ষতি হলে তথ্য সরবরাহকারী কল সেন্টারগুলোকে আইনগতভাবে সাজা দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ভুলের দায়দায়িত্ব কার ওপর পড়বে, সে বিষয়ে নীতিমালা তৈরি হলে ভুল অনেক কমে আসবে। তাই কৃষিতথ্য সরবরাহের বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়সহ কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি-বেসরকারি কল সেন্টারগুলো কৃষকদের শতভাগ সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে না পারায় ব্যাপক আকারে ফসলের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। এতে শুধু কৃষকই নয়, বরং সমগ্র দেশে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের কল সেন্টারগুলো শতভাগ সঠিক কৃষিতথ্য সরবরাহ করতে পারছে না। সম্প্রতি দেশের অন্যতম মুঠোফোন অপারেটর বাংলালিংক তথ্য অধিদপ্তরে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তাতে কৃষি খাতে সরবরাহকৃত তথ্যের ৯৩ শতাংশ সঠিক বলে দাবি করা হয়েছে।
একই ধরনের ফলাফল পাওয়া গেছে দেশের বিভিন্ন সরকারি কৃষিতথ্য কার্যালয়েও।
এ প্রসঙ্গে বাংলালিংকের বিপণন পরিচালক শিহাব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশে কৃষি একটি বড় খাত। দেশের কৃষক ও এই খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য পেতে অনেক কষ্ট করতে হয়। তাই সহজে কৃষিতথ্য কৃষকের কাছে পৌঁছাতে মোবাইল ফোন-শিল্পের বিকল্প নেই।’
এসব বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বাজার উন্নয়ন সহযোগী ক্যাটালিস্টের অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে এবং বাংলালিংকের পরিকল্পনায় কৃষিতথ্য সম্পর্কে আগ্রহী ব্যক্তিদের তথ্য সরবরাহ শুরু হয় বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে কৃষিসচিব সি কিউ মুশতাক আহমেদ ক্যাটালিস্টের তত্ত্বাবধানে কৃষিতথ্য সরবরাহের জন্য গ্রামীণফোনের কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার (সিআইসি) এবং বাংলালিংকের হেলপ লাইন ‘জিজ্ঞাসা ৭৬৭৬’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এ প্রসঙ্গে কৃষিসচিব বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে কৃষি। কৃষি বিষয়ে অগণিত তথ্য রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। কল সেন্টারের মাধ্যমে ভুল তথ্য কৃষকের কাছে চলে যেতে পারে। কৃষকের ক্ষতি হতে পারে। কাজেই তথ্য সরবরাহের আগে সত্যতা যাচাই করতে হবে।
কৃষিসচিব ভুল তথ্য দেওয়ার চেয়ে, তা না দেওয়াই ভালো। তাই এ বিষয়ে একটি যথার্থ নীতিমালা থাকলে ভালো হয় বলে জানান তিনি।
কৃষিসচিব আরও জানান, সরকার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ও গবেষণার মাধ্যমে এসব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির মাধ্যমে তা যাচাই-বাছাই করে তবেই কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে কিছুটা সীমাবদ্ধতা থেকেই যায়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশই কল সেন্টারের মাধ্যমে কৃষিতথ্য কৃষকের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে এ খাতে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। তাই সরকারিভাবেই বেসরকারি কল সেন্টারকে উৎসাহিত করতে হবে। তবে কৃষি বিষয়ে অনভিজ্ঞতা ও যান্ত্রিক ত্রুটি সম্পর্কে সরকারসহ সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
শতভাগ সঠিক তথ্যের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ফকরুল আহসান জানান, শতভাগ সঠিক তথ্য সরবরাহ করা কঠিন। শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশেই এখনো কৃষকদের শতভাগ তথ্য দিতে পারছে না। এ জন্য বরাদ্দ বেশি রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে আসবে।

সু চিকে মুক্তি না দেওয়ায় বান কি মুনের উদ্বেগ

মিয়ানমারে নির্বাচনের আগে দেশটির বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সু চিকে মুক্তি দিতে জান্তা সরকার অস্বীকৃতি জানানোয় জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গত শুক্রবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মুন ওই উদ্বেগের কথা জানান। ৭ নভেম্বর মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা।
মুন অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণে জান্তা সরকারের পদক্ষেপ ‘মন্থর ও অপূর্ণাঙ্গ’। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে জান্তা সরকারের অস্বীকৃতিতে গভীর হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। মুন আরও বলেন, গত বছর তাঁর মিয়ানমার সফরের পর থেকে জান্তা সরকার কয়েকটি বিষয়ে নমনীয়তা, দেখিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বন্দীদের আটকে রাখাসহ অং সান সুচিকে গৃহবন্দী রাখার ব্যাপারটি গভীর উদ্বেগের।
জান্তা সরকারের প্রতি দেশটিতে বাকস্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, রাজনৈতিক কিতর্ক ও গণমাধ্যমের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে মুন বলেন, ‘এসব দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।’

কাবাডি লিগ

কাবাডি লিগে গতকাল স্বর্ণালী সংসদ ও ধলপুর ক্রীড়া চক্র জয় পেয়েছে। প্রথম খেলায় স্বর্ণালী সংসদ তিনটি লোনাসহ ৪২-৩১ পয়েন্টে ডায়মন্ড স্পোর্টিং ক্লাবকে এবং দিনের দ্বিতীয় খেলায় ধলপুর ক্রীড়া চক্র চারটি লোনাসহ ৬৪-৪৫ পয়েন্টে ইনস্টিটিউট অব কাবাডিকে হারিয়েছে।

চীনে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র

চীনের মানবাধিকার কর্মী লিউ সিয়াওবো নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই মার্কিন সরকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল এক্সিকিউটিভ কমিশন অন চায়নার বার্ষিক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর কমিশনের চেয়ারম্যান সিনেটর বায়রন ডর্গান এবং সহযোগী চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান সান্ডার লেভিন বলেন, ‘চীনে গত বছর মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এটা নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে গত বছর রাজনৈতিক আটকের নতুন প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবী এবং মানবাধিকার-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে, বিশেষ করে, এ জন্য যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তাদের আটকের ঘটনা বেড়েছে। এ ছাড়া সরকার রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মনে করে দেশের এমন এলাকায় যেমন, তিব্বত ও জিনজিয়াংয়ে অভিযান জোরদার হয়েছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে ডর্গান ও লেভিন বলেন, ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় আটকের ঘটনার প্রভাব পড়ছে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং চীনে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালান এমন ব্যক্তিদের ওপর।’
মার্কিন আইনপ্রণেতারা আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক স্বার্থে আটকের এসব ঘটনার ফলে চীন সরকার অগ্রগতির সুযোগ হারাচ্ছে এবং চীনা নাগরিকেরা মানবাধিকার ও আইনের শাসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
ডর্গান ও লেভিন বলেন, ‘আমরা জানি, কয়েক দশক আগের চীন আর এখনকার চীন এক নয়। অনেক কিছুই বদলে গেছে এবং সরকার ও জনগণকে যেসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তা অনেক জটিল।’
মার্কিন আইনপ্রণেতারা আরও বলেন, ‘প্রতিবেদনে যেমন বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো অনেক ক্ষেত্রে চীনারা সফলতা পেয়েছে এবং দেশের মানুষের একটি বড় অংশের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। এসব কিছুর জন্য চীনার গর্ব করতেই পারে।’ তাঁরা আরও বলেন, ‘কিন্তু চীনকে অবশ্যই মৌলিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে।’
তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি, দালাই লামার হোয়াইট হাউস সফর এবং বাণিজ্যিক বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চীন-মার্কিন সম্পর্কে সম্প্রতি যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, এই প্রতিবেদন তা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

রোনালদিনহোর মরিনহো-বন্দনা

কোচ মরিনহোর প্রশংসা কে না করছে! অন্য অনেকের মতোই রিয়াল কোচের প্রশংসায় পঞ্চমুখ রোনালদিনহো। এসি মিলানের এই ব্রাজিলিয়ান বলেছেন, ‘মরিনহো বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ। তাঁর প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা।’

ব্রাদার্সের ফুটবল কমিটি

সম্প্রতি এশিয়াটিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সোহরাব হোসেনকে সভাপতি ও মোহাম্মদ শাহজাহান হোসেনকে সম্পাদক করে গতকাল গঠিত হয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়নের ২০১০-১১ মৌসুমের ফুটবল কমিটি। বিজ্ঞপ্তি।
সরিষাবাড়ীতে ফুটবল: সরিষাবাড়ী ওয়ালটন ফুটবলে কাল ধনবাড়ি ফুটবল একাদশ ২-১ গোলে হারিয়েছে গোপালপুর ফুটবল একাদশকে।—সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে ফুটবল: মৌলভীবাজারে বঙ্গবন্ধু কাপ আমন্ত্রণমূলক ফুটবলে সিলেট জেলাকে ট্রাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে হারিয়েছে ঢাকা জেলা। —মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ফুটবল: নগরকান্দা উপজেলার এমএন একাডেমি মাঠে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ফরিদপুর সদর উপজেলাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আলফাডাঙ্গা উপজেলা। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় কলি করেছেন একটি গোল, বাকি গোলটি করেছেন ইতো।

অযোধ্যা মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আবেদনের সিদ্ধান্ত

অযোধ্যার বিতর্কিত মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি)। গতকাল শনিবার লক্ষেৗতে এআইএমপিএলবির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অযোধ্যা মামলার রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী করণীয় নিয়ে এআইএমপিএলবির আইন বিশেষজ্ঞদের দেওয়া পরামর্শের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও কমিটির সদস্য কাসিম রসুল ইলিয়াস সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এআইএমপিএলবির কার্যনির্বাহী কমিটি আইন বিশেষজ্ঞদের দেওয়া পরামর্শ খতিয়ে দেখবে।
উল্লেখ্য, ৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে এআইএমপিএলবির আইন বিশেষজ্ঞদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মুম্বাই হামলা সম্পর্কে আগেই হুঁশিয়ারি পেয়েছিল এফবিআই

২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার তিন বছর আগেই এ ব্যাপারে হুঁশিয়ারি পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। ওই হামলায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডেভিড হেডলির স্ত্রী এফবিআইকে জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বামী লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে জড়িত এবং তিনি হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে কাজ করছেন।
প্রোপাবলিকা নামের একটি সংবাদপত্রের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মুম্বাইয়ে পাকিস্তানি সন্ত্রাসীদের হামলার তিন বছর আগেই এফবিআই জানতে পারে, এক আমেরিকান ব্যবসায়ী পাকিস্তানে লস্কর-ই-তাইয়েবার জঙ্গিদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এফবিআই তখন এ বিষয়ে নিউইয়র্কে খোঁজখবর নিয়েছিল।’
২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছিল ১৬৬ জন। ওই হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবাকে দায়ী করে আসছে ভারত।
জনস্বার্থে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রোপাবলিকা। তাদের প্রতিবেদনটি গত শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকাও ওই প্রতিবেদনের আংশিক প্রকাশ করেছে। তবে এই প্রতিবেদনের বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি এফবিআই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘পারিবারিক কলহের কারণে ডেভিড হেডলির জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি এফবিআইকে জানিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী।’
এফবিআইকে দেওয়া তিনটি সাক্ষাৎকারে হেডলির স্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি (হেডলি) লস্কর-ই-তাইয়েবার সক্রিয় জঙ্গি। পাকিস্তানে ওই জঙ্গি সংগঠনের শিবিরে তিনি অনেক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। রাতের বেলা দেখা যায়, এমন চশমা ও অন্যান্য সরঞ্জাম তিনি কিনেছেন।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে হেডলির স্ত্রীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি প্রোপাবলিকা। তিনি এফবিআইকে জানান, পাকিস্তানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় হেডলি চর হিসেবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অর্থ পেতেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘হেডলির এ বিষয়টি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মান উন্নয়ন এবং তাদের নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সঙ্গে একজন আত্মস্বীকৃত সন্ত্রাসীর সঙ্গে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সম্পর্কের বিষয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।’
মুম্বাই হামলায় জড়িত সন্দেহে গত বছর হেডলিকে গ্রেপ্তার করে এফবিআই। হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকারও করেছেন। তিনি বর্তমানে শিকাগোর একটি কারাগারে।
প্রোপাবলিকা লিখেছে, ‘কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হেডলির দিকে নজর রেখেছিল এফবিআই। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, বা আদৌ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানাতে অস্বীকার করেন তাঁরা। পারিবারিক কারণে ২০০৫ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কয়েক দিন জেল খেটেছিলেন তিনি। তবে তাঁর বিচার করা হয়নি। মুম্বাই হামলার ১১ মাস পর ব্রিটিশ গোয়েন্দারা সতর্ক করে দেন হেডলির সঙ্গে ইউরোপে আল-কায়েদার জঙ্গিদের যোগাযোগ আছে। এর পরই কেবল তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়, তার আগে নয়।’
প্রোপাবলিকা জানিয়েছে, স্ত্রী প্রথম জানানোর পর থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত চার বছর হেডলি বিভিন্ন দেশে লস্কর-ই-তাইয়েবার পক্ষে তথ্য সংগ্রহের কাজ করেছেন। এই সময়ে তিনি মার্কিন ব্যবসায়ী পরিচয়ে পাঁচবার মুম্বাই সফর করেন এবং হামলার লক্ষ্যস্থল নির্ধারণ করেন।
হেডলির বাবা ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক। তাঁর শৈশবও কেটেছে পাকিস্তানে। পরিবারের দেওয়া নাম ছিল দাউদ গিলানি। তবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সুবিধার জন্য ২০০৫ সালে তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ডেভিড হেডলি।

দুই বাটের আশা

পাকিস্তান ক্রিকেটের দুই বাটেরই কাটছে অস্থির সময়। স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক সালমান বাট সাময়িক নিষিদ্ধ। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি ইজাজ বাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রধান প্রশাসক হিসেবে সঠিকভাবে বোর্ড পরিচালনা করতে পুরো ব্যর্থ তিনি। তাঁর খামখেয়ালি আচরণে পাকিস্তানের ক্রিকেট বা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দাবি উঠেছে পিসিবি থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার।
তবে যতই ঝড় বয়ে যাক, দুই বাটই বুনে চলেছেন আশার জাল। সালমান বাট আশাবাদী, দ্রুতই দলে ফিরবেন তিনি। ইজাজ বাটের আশা, আরও এক মেয়াদের জন্য পিসিবির সভাপতি থেকে যাবেন। কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ইজাজ বাট।
পিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিই আবার পিসিবির প্রধান পৃষ্ঠপোষক। বোর্ড সভাপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন তিনিই। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে ২০০৮ সালে পিসিবি সভাপতি হওয়া ইজাজ বাটও তাই আশাবাদী, আরও দুই বছরের জন্য মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকলেও নিজেকে অনুশীলনে ব্যস্ত রেখেছেন বাট। প্রতিদিন নিয়ম করে অনুশীলন করছেন এবং আইসিসির নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও স্বপ্ন দেখছেন আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে খেলার, ‘আমি প্রতিদিনের রুটিনমতো দুই ঘণ্টা করে অনুশীলন করছি। কারণ আমি দলে ফিরে আসার জন্য নিজেকে প্রস্তুত থাকতে চাই।’
স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ক্ষতি করেছে বলেই জানিয়ে দিলেন বাট। তবে এতে নাকি তাঁর একটা শিক্ষাও হয়েছে! ‘আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা ভালোই যাচ্ছিল। আমিও ভালো করছিলাম। এই অভিযোগটা আমার ক্যারিয়ারের ক্ষতি করেছে। কিন্তু এটা আমার জন্য বড় একটা অভিজ্ঞতাও। চারপাশের লোকজনের সঙ্গে আমার যোগাযোগটা কেমন হবে, এটা আমাকে তা ভালো করেই শিখিয়েছে’—বলেছেন বাট।
এদিকে পিসিবিকে দ্রুত শোধরাতে সতর্কবার্তা দিয়েছে আইসিসি। ইমরান খান বলছেন, এটা পাকিস্তানের জন্য লজ্জার। ‘আইসিসি আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে এবং আমাদের নোটিশ দিয়েছে। এটা প্রতিটি পাকিস্তানির জন্যই লজ্জার। লজ্জা পাকিস্তানের ক্রিকেটের জন্য। এবং এর কারণ পাকিস্তানে ক্রিকেটের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই’—বলেছেন পাকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে ইজাজ বাট মামলার ভয়ে সরে এসেছেন, ইসিবির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন—বোর্ড সভাপতির এমন আচরণেও সমালোচনা করেছেন ইমরান।

কাশ্মীরের সব এলাকা থেকে কারফিউ প্রত্যাহার

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সব এলাকা থেকে গতকাল শনিবার কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কারফিউ প্রত্যাহারের পর সেখানে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হুররিয়াত কনফারেন্সের এদিন কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল না।
কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর ও অন্য প্রধান শহরগুলোয় ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান খুলেছে। সরকারি ছুটির কারণে সরকারি কার্যালয় বন্ধ ছিল। তবে ব্যক্তিমালিকাধীন কার্যালয় ও অন্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠাগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলেছে। সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
সরকারি কর্মকর্তারা আরও বলেন, শহর ও আন্তজেলার সব রুটে সব ধরনের যানবাহন চলেছে।

স্নাইডার থাকতে চান, তবে...

ইন্টার মিলানের প্রতি ওয়েসলি স্নাইডারের ভালোবাসা অটুটই আছে! ডাচ মিডফিল্ডার ইতালিয়ান ক্লাবটিতেই থেকে যেতে চান। কিন্তু ইন্টার যে এখনো ঝুলিয়ে রেখেছে তাঁর নতুন চুক্তি। বাধ্য হয়েই দুই দিন পরপর মিডিয়ার কাছে নিজের দাবি-দাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিতে হয়। আবারও হাজির হলেন এই ২৬ বছর বয়সী। ইন্টারকে এই বলে বার্তা পাঠালেন, ‘আমি যদি চলে যেতে চাই, আমার হাতে অনেক বিকল্পই আছে। কিন্তু আমি প্রাধান্য দেব ইন্টারের সঙ্গে নতুন চুক্তিটাকে। আশা করি, এটা শিগগিরই হবে।’
গত মৌসুমে ইন্টারের ট্রেবল জয়ের অন্যতম নায়ক বিশ্বকাপেও হল্যান্ডকে তুলেছেন ফাইনালে। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, ইন্টারে বেতন-বোনাস বাড়বে। কিন্তু এর আগে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটি নাকি হাস্যকর।

ফ্রান্সে পেনশন সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ধর্মঘট অব্যাহত

ফ্রান্সে গতকাল শনিবারও সরকারের পেনশন সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে রাজপথে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। এসব সমাবেশে কমপক্ষে তিন লাখ ৪০ হাজার মানুষ যোগ দেয়। চলমান আন্দোলনের জের ধরে ধর্মঘটী বিক্ষোভকারীরা জ্বালানি তেলের পাইপলাইন কেটে দেওয়ায় প্যারিসের বিমানবন্দরগুলোতে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ধর্মঘটী কর্মচারীদের অসহযোগিতার কারণে দেশের বেশির ভাগ তেল শোধনাগার এখন বন্ধ।
প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির সরকার পেনশন সংস্কার কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীদের অবসর নেওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ৬০ থেকে ৬২ বছর করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে।
গতকালও রাজপথে নেমে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিস হর্তেফিউক্স শিক্ষার্থীদের ওপর জোরজুলুম না চালাতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সংস্কার পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে সরকারকে বাধ্য করতে শ্রমিক সংগঠনগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই লক্ষ্যে স্বাভাবিক কর্মদিবসে তারা ধর্মঘট বজায় রেখেছে। সপ্তাহান্তে দেশের বড় বড় শহরে ব্যাপক বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। গতকাল তারা দেশজুড়ে ২৩০টির বেশি সমাবেশ করার কর্মসূচি নেয়। তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হলেও গতকাল দেশের ১২টি তেল শোধনাগারের মধ্যে ১০টি বন্ধ ছিল।

বাড়ি ফিরেছেন চিলির খনিশ্রমিকেরা

চিলিতে উদ্ধার হওয়া ৩৩ জন শ্রমিকের মধ্যে ৩১ জনই হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে গেছেন। চিকিৎসকদের কাছ থেকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার পর তাঁরা তাঁদের বাড়িতে ফিরে যান। তবে দুজন শ্রমিকের অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে রেখে দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসক পাওলা নিউম্যান জানান, দুই শ্রমিককে আরও চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একজনের দাঁতে অস্ত্রোপচার করতে হবে, আর অন্যজন মাথাব্যথার কারণে হাঁটতে পারছেন না। তিনি ওই দুই শ্রমিকের নাম জানাননি। গত বৃহস্পতিবার তিনজন এবং শুক্রবার ২৮ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
খনির সুড়ঙ্গ ধসে আটকে পড়া ৩৩ জন শ্রমিককে ৬৯ দিন পর কঠিন এক অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়। খনিকূপে ভয়াবহ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য বিখ্যাত হওয়া ওই শ্রমিকদের ছুটি ও নগদ অর্থসহায়তা দেওয়ার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। এদিকে এ উদ্ধার তৎপরতার পর থেকে কপিয়াপোতে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। খনিশ্রমিক জুয়ান ইলেনস, ইডিসন পেনা ও কার্লোস ম্যামানির আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা মিষ্টি বিতরণ এবং স্যাম্পেনের ছিপি খুলে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছে। খনির গহ্বরে ওই ৬৯ দিনের অভিজ্ঞতার বর্ণনা করতে গিয়ে এক শ্রমিক বলেন, ‘ওই সময় আমাদের প্রতিদিন এক চামচ পরিমাণ টিনজাত টুনা ও স্যামন মাছ খেয়ে থাকতে হয়েছে। এই অন্ধকার গহ্বরেই মারা যেতে হবে—এই ভয় সব সময় আমাদের তাড়া করে ফিরত।’

অ্যাশেজে বিসিসিআইয়ের ‘শিক্ষাসফর

ইউডিআরএস। চার অক্ষরের এই শব্দসংক্ষেপ ক্রিকেটারদের হাতে এনে দিয়েছে বিরাট ক্ষমতা। মাঠের আম্পায়ারদের কোনো সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে সেটি চ্যালেঞ্জ করা যাবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুলের হার কমিয়ে আনার জন্যই এই প্রযুক্তির ব্যবহার। যদিও আম্পায়ার ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ইউডিআরএস) এখনো বাধ্যতামূলক করতে পারেনি আইসিসি। প্রধান বাধা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ভারত ঠিক নিশ্চিত নয় ইউডিআরএস কতটা কার্যকর। তা ছাড়া এই প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যয়বহুল বলে এ উপমহাদেশের বাকি তিন দেশও খুব একটা আগ্রহী নয়।
বিসিসিআইয়ের আস্থা তৈরির একটা ভালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া অ্যাশেজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিসিসিআইয়ের কর্তাব্যক্তিদের। ব্রিসবেনের প্রথম টেস্ট নয়তো অ্যাডিলেডের দ্বিতীয় ম্যাচটি দেখবে ওই প্রতিনিধিদল। সঙ্গে আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাতও থাকবেন। লরগাত আশাবাদী, সেখানে ইউডিআরএসের ব্যবহার দেখার পর ভারত আর না করতে পারবে না।
দ্বিতীয় সমস্যাটিরও সমাধান প্রায় করে ফেলেছে আইসিসি। ইউডিআরএস প্রযুক্তি ব্যবহারে যে খরচ সেটি স্পনসরদের কাছ থেকে তোলা হবে। অস্ট্রেলিয়ার চ্যানেল নাইন নাকি আপাতত রাজিও হয়েছে ইউডিআরএসের স্পনসর হতে।

বৃথাই টেলরের নিঃসঙ্গ লড়াই

কলিন ইনগ্রামের জন্ম পোর্ট এলিজাবেথে। তবে ‘ক্রিকেটার’ ইনগ্রামের জন্ম ব্লুমফন্টেনে। গোলাপের শহরের ফ্রি স্টেট একাডেমিতে শুরু করেছেন ক্রিকেট-জীবন, বেড়ে উঠেছেনও এই শহরেই। সেই ব্লুমফন্টেনেই অভিষেকে সেঞ্চুরি করে আনন্দ যেন দ্বিগুণ হয়ে গেছে ইনগ্রামে। ম্যাচ শেষে বললেন, ‘এই শহর আমার দ্বিতীয় বাড়ির মতো। এখানে অভিষেকে সেঞ্চুরি, এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না।’
ইনগ্রামের স্বপ্নপূরণের দিনে জিম্বাবুয়েকে ৬৪ রানে হারিয়েছে তাঁর দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। ইনগ্রামের (১২৬ বলে ১২৪) সঙ্গে হাশিম আমলার (৯৬ বলে ১১০) জোড়া সেঞ্চুরি আর ডেভিড মিলারের ৩১ বলে ৫১ স্বাগতিকদের তুলে দিয়েছিল ৬ উইকেটে ৩৫১ রানের পাহাড়ে। ৬৪ রানের উদ্বোধনী জুটির পর দ্বিতীয় উইকেটে ১৩৬ রানের জুটি গড়েন আমলা ও ইনগ্রাম। পঞ্চম উইকেটে দুই তরুণ বাঁহাতি ইনগ্রাম ও মিলার ৭৬ রানের জুটি গড়েছেন মাত্র ৪৬ বলে। শেষ ১০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলেছে ৯৬। ৪ উইকেট নিলেও মিঙ্গিরাই মাসাকাদজা রান দিয়েছেন ৮৬।
ব্রেন্ডন টেলরের লড়াই জিম্বাবুয়েকে নিয়ে যেতে পেরেছে ২৮৭ রান পর্যন্ত। ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করতে নেমে পুরো ৫০ ওভার উইকেটে থেকে ১৩৬ বলে ১৪৫ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেছেন টেলর। তবে টেলরকে সঙ্গ দিতে পারেননি আর কেউ, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হ্যামিল্টন মাসাকদাজার ৩০। আরেক অভিষিক্ত দক্ষিণ আফ্রিকান হুয়ান থেরন নিয়েছেন ৩ উইকেট। ছয় বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমে বোলিংয়ে ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি গ্রান্ট ফ্লাওয়ার, ব্যাটিংয়ে করেছেন ১৩ রান। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ আজ পচেফস্ট্রুমে।

কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হচ্ছেন মার্কিন সেনা

তিনজন আফগান বেসামরিক লোককে হত্যার অভিযোগে কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হচ্ছেন এক মার্কিন সেনা। চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে মে মাসের মধ্যে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এসব হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে প্রথম প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে পরিকল্পিতভাবে এসব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর কোর্ট মার্শালের সিদ্ধান্ত হয়। অভিযুক্ত ওই সেনাসদস্যের নাম জেরেমি মরলক।
তিন আফগানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার সঙ্গে মরলকের পাশাপাশি আরও চার মার্কিন সেনার বিচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে আরও সাত সেনাসদস্যের বিচার করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলভিত্তিক সেনাঘাঁটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বেসামরিক লোকজনকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামরিক আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ তবে কবে নাগাদ কোর্ট মার্শাল হবে সে-সম্পর্কে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে মরলকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে প্যারোলে মুক্তির সুযোগও থাকবে না।
মরলকের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ছাড়াও এ সংক্রান্ত তদন্তে বাধা দেওয়া ও নিয়ন্ত্রিত মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে।

ইরাক যুদ্ধে ৭৭ হাজার প্রাণহানি

ইরাক যুদ্ধের সময় পাঁচ বছরে প্রায় ৭৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ১৮৫ জন বেসামরিক নাগরিক ও ১৩ হাজার ৭৫৪ জন সৈন্য। মার্কিন সামরিক বাহিনী সাত বছর স্থায়ী ওই যুদ্ধে ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিহতদের এই হিসাব প্রকাশ করেছে।
সূক্ষভাবে হিসাব করে সম্পাদিত বিস্তারিত তথ্যসংবলিত এই তালিকা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ওয়েবসাইটে জুলাই মাসে প্রকাশিত হয়। ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে চলতি সপ্তাহে মাত্র অল্প কয়েকটি গণমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ করা হয়

মেইঞ্জের স্বপ্ন টুটল হামবুর্গে

রূপকথাটা থেমে গেল কাল। মেইঞ্জের স্বপ্ন গেল টুটে। বুন্দেসলিগায় টানা সাত ম্যাচ জেতার পর কাল হামবুর্গের কাছে নিজেদের মাঠে ০-১ গোলে হেরে গেল তারা। তবে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে এবারের বুন্দেসলিগায় শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকা বায়ার্ন মিউনিখ। মারিও গোমেজের হ্যাটট্রিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন নিজেদের মাঠে হ্যানোভারকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে।
নিজেদের মাঠে মেইঞ্জ কাল নেমেছিল বুন্দেসলিগায় একটি নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। হামবুর্গের বিপক্ষে জিততে পারলে বুন্দেসলিগার শুরুতে টানা ৮ ম্যাচ জেতা প্রথম দল হয়ে যেত তারা। ছাপিয়ে যেত বায়ার্ন আর কাইজারস্লটার্নের কীর্তি। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে বায়ার্ন জিতেছিল টানা ৭ ম্যাচ। ২০০১-০২ মৌসুমে কাইজারস্লটার্ন আর এবার মেইঞ্জও গড়েছে সেই একই কীর্তি।
নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি নিয়ে নেমে ভালোই খেলছিল মেইঞ্জ। তবে ভাগ্য বিড়ম্বনা করেছে তাদের সঙ্গে। দু-দুবার বল পোস্টে না লাগলে ঘরের মাঠে জয় আর নতুন ইতিহাস গড়ার আনন্দে ভাসতে পারত তারা। ভাগ্য যেমন বিড়ম্বনা করেছে, তেমনই সাহায্যও করেছে মেইঞ্জকে। হামবুর্গকেও তো গোলবঞ্চিত করেছে পোস্ট। আবার একটি বল জালে ঢুকলেও সেটি বাতিল করেছেন রেফারি। কিন্তু ৮৯ মিনিটে পাওলো গুয়েরেরোর গোলে হেরে যায় মেইঞ্জ।
এই পরাজয়ে শীর্ষস্থানটিও হারিয়েছে তারা। শীর্ষস্থানটি চলে গেছে পরশু কোলনকে ২-১ গোলে হারানো বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে। ৮ ম্যাচ থেকে দুই দলেরই পয়েন্ট ২১ করে। তবে গোল ব্যবধান এগিয়ে রেখেছে ডর্টমুন্ডকে। বায়ার্ন কাল দাপটের সঙ্গে জিতেও আছে নবম স্থানে। ৮ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট তাদের।
এদিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার ওয়েস্টব্রমে আটকে গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। হাভিয়ের হার্নান্দেজ ও নানির দুই গোলে ২৫ মিনিটের মধ্যেই ২-০-তে এগিয়ে যায় ম্যানইউ। তবে ৫ মিনিটের মধ্যে (৫০ ও ৫৫ মিনিট) দুই গোল করে ম্যাচে ফেরে ওয়েস্টব্রম। ২ গোলের প্রথমটি এভরার আত্মঘাতী, দ্বিতীয়টি করেছেন শোয়ি। তবে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও সামির নাসরি ও চামাকের গোলে বার্মিংহামের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে আর্সেনাল।

দক্ষিণ কোরিয়ার নৌ-মহড়া যুদ্ধ ঘোষণার শামিল

গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র পাচার রোধে দক্ষিণ কোরিয়া যে বহুজাতিক নৌ-মহড়ার আয়োজন করতে যাচ্ছে, উত্তর কোরিয়া সেটাকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হিসেবে বর্ণনা করেছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পত্রিকা মিনজু জোসন গতকাল শনিবার এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া এই প্রথমবারের মতো এ ধরনের মহড়ার আয়োজন করতে যাচ্ছে। এতে অংশ নেওয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার তিনটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। এ দেশগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীও মহড়ায় যোগ দেবে। চার জাতির এ মহড়ায় ১০টি যুদ্ধজাহাজ ও বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান অংশ নেবে। দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর বুসান থেকে দিনব্যাপী ওই মহড়া শুরু হবে। মহড়ার দিন-তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।
মহড়ার ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে উত্তর কোরীয় দৈনিক মিনজু জোসন। পত্রিকাটিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার পতুল সরকার ওই মহড়ার মাধ্যমে বহু কষ্টে তৈরি আলোচনার পরিবেশ নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করছে। এটা একধরনের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও উসকানিমূলক সামরিক তৎপরতা। দক্ষিণ কোরিয়া যা করছে, সেটা তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রিত ওই পত্রিকার আরেক জায়গায় বলা হয়েছে, মার্কিন হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনে তারা সেনাবাহিনীকে হাজার গুণ শক্তিশালী করে সাজাবে।

৪-০-এর দিন

আজকের ম্যাচ নিয়ে দুটি সংশয় আছে। প্রথমত, ম্যাচটা হবে তো? আবহাওয়ার পূর্বাভাস সত্যি হলে দ্বিতীয় ম্যাচের মতো আজও খলনায়ক হতে পারে বৃষ্টি! আরেকটা সংশয়—ম্যাচ যদি হয় এবং এই ম্যাচেও জিতে বাংলাদেশ যদি সিরিজ জয়ের ব্যবধান ৪-০ করে ফেলে, ‘নিউজিল্যান্ড হোয়াইটওয়াশ’ কথাটা কি বলা যাবে?
বৃষ্টি নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। কিন্তু শেষ ম্যাচ জিতলে বাংলাদেশ ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার স্বাদ পাবে কি না—তা নিয়ে কাল বিকেলে বেশ ভাবনায়ই পড়ে গেল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। সাংবাদিকদের কৌতূহল, বোর্ড কর্মকর্তাদের প্রশ্ন, এমনকি জাতীয় দলের ওপেনার শাহরিয়ার নাফীসও জানতে চাইলেন, ‘আমরা ৪-০-তে জিতলে এটাকে কি হোয়াইটওয়াশ বলা হবে?’ যত দূর জানা গেছে, বাংলাদেশ জিতলে নিউজিল্যান্ড হোয়াইটওয়াশই হবে। বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া দ্বিতীয় ম্যাচে যেহেতু টসটা পর্যন্ত হয়নি, সিরিজ তো কার্যত চার ম্যাচেরই। বাংলাদেশ চারে চার করতে পারলে, নিউজিল্যান্ডের হোয়াইটওয়াশের জ্বালায় পোড়ারই কথা।
তা হোয়াইটওয়াশের স্বাদ আজ নিতে পারবে তো বাংলাদেশ? ৪-০-এর দিন কি আজ হবে? দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের বুদ্বুদ, ‘হবে’। বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাক তো পাল্টা প্রশ্নই করলেন, ‘ভালো খেললে কেন হবে না?’ শাহরিয়ার নাফীসও অসম্ভব মনে করছেন না কিছুই, ‘৪-০ হতেই পারে। তবে ভালো খেলতে হবে সবাইকে। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে আমরা ভালো খেলব। এখন মাঠে সেটা করে দেখাতে হবে।’
ইনডোরে নেট প্র্যাকটিস শেষে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে মুশফিকুর রহিমের কথায় জেদই খুঁজে পাওয়া গেল একটা। যেন নিউজিল্যান্ডকে ৪-০-তে হারাতে না পারলে এত দিনের কষ্টটাই মাটি! ৩-০-তে জেতা নয়, সিরিজ জয় মানেই ৪-০, ‘আমাদের ৪-০-তেই জিততে হবে। বড় বড় দলের বিপক্ষে বহু সিরিজে আমাদের অবস্থাও নিউজিল্যান্ডের মতো হয়েছে। সিরিজ আগেই হেরে যাওয়ার পরও দেখেছি প্রতিপক্ষ আমাদের শেষ ম্যাচে ১০ উইকেটে হারানোর জন্য খেলেছে। আমরাও তাই খেলব। শেষ ম্যাচেও জেতার জন্যই মাঠে নামব।’
মুশফিকুর রহিমের মতো ৪-০-এর স্বপ্ন গোটা বাংলাদেশ দলই দেখছে। টিম-বয় খোকন-নাসির থেকে শুরু করে কোচ জেমি সিডন্স—কার চোখে নেই সেটা? নিউজিল্যান্ডকে শেষ ম্যাচেও না হারানো গেলে যেন তৃপ্তির শেষ ঢেকুরটা তোলা যাচ্ছে না। সিডন্সের অবশ্য ৪-০-এর প্রত্যাশার সঙ্গে একটা অতৃপ্তি দূর করার ব্যাপারও আছে। বাংলাদেশ তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করলেও কোচের চোখে এই তিন ম্যাচে অসংখ্য ভুল করেছে দল। শেষ ম্যাচে ৪-০-তে সিরিজ জয়ের সঙ্গে সেই ভুলগুলোর সংশোধন চান তিনি, ‘প্রথম তিন ম্যাচে আমরা অনেক ভুল করেছি। শেষ ম্যাচে সেগুলো শোধরাতে হবে। বিশ্বকাপ ও জিম্বাবুয়ে সিরিজকে সামনে রেখে আমাদের অনেক কাজ। তবে সবার আগে এই সিরিজটা ৪-০-তে জিততে হবে।’
সিডন্সের চোখে শেষ ম্যাচটা এক অর্থে ‘সংশোধনের ম্যাচ’ই। সিরিজে এখন পর্যন্ত যে যেটা করতে পারেননি, তাঁর কাছ থেকে সে অসমাপ্ত কাজের পূর্ণতা চান কোচ। রকিবুল-জুনায়েদ রান পাননি, গত ম্যাচে সম্ভাবনা জাগিয়েও ২৬০-২৭০ রান করতে পারেনি দল, পাওয়ার প্লেটাকে ভালোভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না—সিডন্সের উন্নতি পরিকল্পনায় সবই আছে। তবে পাওয়ার প্লের ব্যাটিংয়ে উন্নতি আনাটাকে আলাদা করে গুরুত্ব দিচ্ছেন কোচ, ‘আমরা ভালো সময়ে পাওয়ার প্লে নেওয়ারই পরিকল্পনা করি। কিন্তু যখনই আমরা সেটা নিই তখনই তিন-চারটা উইকেট পড়ে যায়। সেজন্য খুব বেশি রানও হয় না। এ জায়গায় অবশ্যই উন্নতি করতে হবে। উন্নতিটা পরের ম্যাচেই কীভাবে আনা যায়, তা নিয়ে আমি কথা বলেছি।’
বাংলাদেশ দলের জন্য পরিস্থিতিটা নতুন। শেষ ম্যাচে এসে এখন তারাও বলতে পারছে ‘কোনো ছাড় নয়’ ‘আরও উন্নতি চাই’ ‘ভুল শোধরানোর ম্যাচ...’ ইত্যাদি ইত্যাদি। ৪-০-এর দিন না হয়ে যদি এটা নিউজিল্যান্ডের জন্য সান্ত্বনার ৩-১-এর দিনও হয়ে যায়, প্রাপ্তির খাতাটা কিন্তু ভরাই থাকল।
সামনে যত মাইলফলক
 আজ জিতলে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে নয় নম্বর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ উঠে যাবে আটে। গত আগস্টে শ্রীলঙ্কার ত্রিদেশীয় সিরিজের সময়ও দুইয়ে ছিল যারা, সেই নিউজিল্যান্ড নেমে যাবে সাতে
 এই ম্যাচ জিতলে কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে প্রথম টানা চার ম্যাচ জিতবে বাংলাদেশ।
 আর দুটি উইকেট পেলে মোহাম্মদ রফিককে (১১৯) টপকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় তিনে উঠে যাবেন সাকিব আল হাসান।
 তিন উইকেট পেলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে দেড় শ উইকেট হয়ে যাবে আবদুর রাজ্জাকের।
 ৩৫ রান করলে পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে দুই হাজার রান হবে শাহরিয়ার নাফীসের।
 ৭৫ রান করলে ওয়ানডেতে এক হাজার রান হবে জুনায়েদ সিদ্দিকের।

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরগরম

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে সরগরম যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির মাঠ। নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। ২ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ৩৯ আসনে জয় নিশ্চিত করতে চায় রিপাবলিকান পার্টি। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য এ কয়টি আসনে জয়ী হতে হবে তাদের। অন্যদিকে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য মরিয়া ডেমোক্রেটিক পার্টি। জোরেশোরে প্রচারণায় নেমেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ডেমোক্র্যাট দলের ঝানু নেতা ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও চষে বেড়াচ্ছেন এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্য।
ডেমোক্র্যাট দলের নির্বাচনী কৌশল মূলত আত্মরক্ষামূলক। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের প্রচারণা আক্রমণাত্মক, যা রাজনীতির মাঠকে রীতিমতো উত্তপ্ত করে তুলেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুদ্ধনীতির বিষয়টি মোটেই প্রাধান্য পাচ্ছে না। আফগানিস্তান ও ইরাকে এখনো মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। আফগান রণাঙ্গন থেকে আসছে মার্কিন সেনাদের মৃতদেহ। তার পরও এবারের নির্বাচনে আফগান যুদ্ধ কোনো ইস্যু হয়ে ওঠেনি দেশের কোথাও। মন্দাগ্রস্ত অর্থনীতি, ব্যাপক কর্মহীনতা আর সমকামীদের অধিকারের মতো কয়েকটি বিষয়ই প্রাধান্য পাচ্ছে প্রচারণা ও বিতর্কে। নিউইয়র্ক টাইমস এবং সিবিএস নিউজ পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অর্থনৈতিক মন্দাকেই দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে মনে করেন। জরিপে মাত্র তিন শতাংশ নাগরিক আফগান যুদ্ধকে একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতিবিজ্ঞানের অধ্যাপক জন মুয়েলার বলেছেন, মার্কিন জনগণ এখন অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়েই বেশি উদগ্রীব। ব্যাপক কর্মহীনতা, আবাসনশিল্পের সংকট, স্বাস্থ্যবীমা ও অবসর ভাতার মতো ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়েই জনগণকে এখন বেশি ভাবতে হচ্ছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা পড়েছেন কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে। এরই মধ্যে পরিচালিত বেশ কিছু জরিপে দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ বেশি কটি আসন ডেমোক্র্যাটদের হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম। রাজ্য গভর্নর হিসেবেও রিপাবলিকানদের জয়ী হয়ে আসার সম্ভাবনা বেশ কটি ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত রাজ্যে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকান পার্টির হাতে গেলে প্রেসিডেন্ট ওবামার সংস্কার উদ্যোগ ব্যাহত হবে। আর তাই ২০১২ সালে নিজের পুনর্নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওবামাকে বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে—এ আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠছে।
এদিকে নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ডেমোক্রেটিক পার্টি তাদের প্রচারণার কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। যেসব আসনে প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা নেই, সেখানে প্রচারণা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্তত ৪০টি আসনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের পাল্লা চলছে। প্রতিটি টিভি চ্যানেলে পাল্টাপাল্টি প্রচারণা চলছে এগুলো নিয়ে। এ আসনগুলো ডেমোক্র্যাটদের দখলে ছিল। তারা এ ৪০টি আসন ধরে রাখতে মরিয়া। তবে রিপাবলিকানরা আরও অন্তত ১২টি আসনে আক্রমণাত্মক প্রচারণায় নেমেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এসব আসনে জনমত জরিপের ফল ডেমোক্র্যাট দলের অনুকূলে নয়। ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর সর্বশেষ এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর ৪৭ শতাংশ ভোটার রিপাবলিকান প্রার্থীকে জয়ী দেখতে চান। ৪৪ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর বিজয়ের পক্ষে।
ডেমোক্র্যাট দলের নির্বাচনী কৌশলবিদ মার্ক ম্যালসেন বলেছেন, ‘আত্মরক্ষার জন্যই এখন ধরে রাখা সম্ভব এমন সব নির্বাচনী আসনকেই ডেমোক্র্যাট দলের গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।

জাতিসংঘের অস্থায়ী সদস্য হতে চেষ্টা চালাবে পাকিস্তান

পাকিস্তান আগামী বছর জাতিসংঘের অস্থায়ী সদস্য হওয়ার চেষ্টা চালাবে। গতকাল শনিবার জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আবদুল্লাহ হুসেইন হারুন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এক্ষেত্রে ভারত তাঁদের সমর্থন করবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
আবদুুল্লাহ হুসেইন হারুন বলেন, ‘আগামী বছর এশিয়া অঞ্চল থেকে আমরা নিরাপত্তা পরিষদে একটি আসন পাওয়ার চেষ্টা চালাব।
আমার বিশ্বাস, ভারত এ ক্ষেত্রে তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদের সমর্থন দেবে।’ জাতিসংঘের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে ভারত যাতে তাদের দুই বছরের মেয়াদকাল ভালোভাবে পূর্ণ করতে পারে, সে কামনা করেন তিনি। ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে এই মেয়াদকাল শুরু হবে। নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে ভারত নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সমর্থন ছিল।
হারুন বলেন, ভারতকে পাকিস্তানের সমর্থন দেওয়ার মূলে ছিল এশীয় দেশগুলোর জোট ধরে রাখার চেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এক বছর আগে আমরা এশীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিরা মিলে আলোচনা করি। তখন এশীয় দেশগুলোর পারস্পরিক বিশ্বস্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এক গ্রুপে ‘তিন ভাই’

ফেডারেশন কাপের মূল পর্বে খেলছে ‘তিন ভাই’য়ের দল। এই আনন্দে ভেসে যেতে পারত বাংলাদেশের ফুটবলের ‘তিন ভাই’ আবাহনী, শেখ জামাল ধানমন্ডি ও শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। কিন্তু দল তিনটি আনন্দে ভেসে যেতে পারছে না। কারণ তিন দলই পড়েছে এক গ্রুপে।
আবাহনী নামের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি না থাকলেও দলটিকে শেখ কামাল বলতে পারেন। ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা তো প্রয়াত শেখ কামাল। পরে বঙ্গবন্ধুর অন্য দুই ছেলে শেখ জামাল ও শেখ রাসেলের নামেও গড়ে উঠেছে দুটি ক্লাব। আবাহনী তো আগে থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলের পরাশক্তি। আর এ বছর শেখ জামালের জন্মই হয়েছে পরাশক্তি হিসেবে। বড় বাজেটের এই ক্লাবটিকে আপনি বাংলাদেশের বিকল্প জাতীয় দল বলতে পারেন। কারণ আমিনুল, এমিলি, এনামুলদের সঙ্গে আরও জনা দশেক জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের ঠিকানা এবার শেখ জামাল।
আজ মূল পর্বের উদ্বোধনী দিনই দেখবে আবাহনী ও শেখ জামালের রোমাঞ্চকর লড়াই। কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বেলা ৩টায় শুরু প্রথম ম্যাচটা শেখ রাসেল ও রহমতগঞ্জের। বিকেল সাড়ে ৫টায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ লিগের হ্যাটট্রিক শিরোপাজয়ী আবাহনী ও শেখ জামাল।
গতকাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে হয়ে যাওয়া ড্র সাজিয়ে দিয়েছে একই গ্রুপে ‘তিন ভাই’-এর লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট। সবার মধ্যেই একে অন্যকে ছাপিয়ে শিরোপা জয়ের প্রত্যয় রয়েছে। অথচ সত্য হলো, যেকোনো এক ‘ভাই’কে সেমিফাইনালের আগে বিদায় নিতে হবে, যেহেতু গ্রুপের শীর্ষ দুই দল উঠবে সেমিফাইনালে।
বাংলাদেশের ফুটবলের আরেক পরাশক্তি মোহামেডানের অভিযান শিরোপা ধরে রাখার। এই লক্ষ্য নিয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা মাঠে নামছে আগামী পরশু। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তাদের উদ্বোধনী ম্যাচের প্রতিপক্ষ। মোহামেডান-মুক্তিযোদ্ধা ম্যাচকে এবার আবার মহারণ বলা যেতে পারে। গত বছর তিনেকের শক্তিহীন মুক্তিযোদ্ধা এবার ভালো দল গড়েছে।
এই গ্রুপের অন্য দুই দল ব্রাদার্স ও ফেনী সকার ক্লাব। আগামী পরশু মুখোমুখি হচ্ছে এ দুটি দলও।
গ্রুপ
এ বি
আবাহনী মোহামেডান
শেখ রাসেল মুক্তিযোদ্ধা
রহমতগঞ্জ ব্রাদার্স
শেখ জামাল ফেনী সকার

রোনালদিনহোর মরিনহো-বন্দনা

কোচ মরিনহোর প্রশংসা কে না করছে! অন্য অনেকের মতোই রিয়াল কোচের প্রশংসায় পঞ্চমুখ রোনালদিনহো। এসি মিলানের এই ব্রাজিলিয়ান বলেছেন, ‘মরিনহো বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ। তাঁর প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা।’

কিউইদের উইলিয়ামসন-শিক্ষা

হেলমেটটা খুললেন তড়িঘড়ি। ব্যাটটা একটু উঁচিয়ে আবার দ্রুতই নামিয়ে নিলেন লাজুক ভঙ্গিতে। কার উদ্দেশে ব্যাট তুলবেন কেন উইলিয়ামসন? ভরা গ্যালারির একজন লোকও তো দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানায়নি, একটা তালির শব্দও শোনা যায়নি!
‘স্পোর্টিং’ হিসেবে বাংলাদেশের দর্শকের সুনাম আছে। প্রতিপক্ষের অর্জনকে স্বাগত জানাতে কুণ্ঠা নেই। কিন্তু দেশপ্রেম বলে কথা। দেশের সিরিজ জয়ের স্বপ্নে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন যিনি, তাঁকে কেন অভিনন্দন জানানো! নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েও তাই তেমন উদ্যাপন করা হলো না উইলিয়ামসনের। ছোট্ট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনটাও শেষ পর্যন্ত বিস্বাদ হয়ে গেল দল ম্যাচ ও সিরিজ হারায়।
উদ্যাপন করতে পারেননি, তবে নির্ভার হতে পেরেছেন। ২০ বছর বয়সী অলরাউন্ডারকে বলা হচ্ছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর দল নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের কোচ সাবেক টেস্ট অলরাউন্ডার গ্রান্ট ব্যাডবার্ন তাঁকে বলেছেন ‘ভবিষ্যৎ মাইকেল ক্লার্ক।’ সাবেক নিউজিল্যান্ড ওপেনার ও অকল্যান্ড কোচ ম্যাট হর্ন বলেছেন, ‘নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে একরাশ তাজা বাতাস উইলিয়ামসন।’ তবে এই তাজা বাতাস অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে। গত আগস্টে ডাম্বুলার ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে অভিষেক। যাঁকে নিয়ে এতে স্বপ্ন নিউজিল্যান্ডের, প্রথম দুই ওয়ানডেতেই কি না তিনি আউট শূন্য রানে!
সন্দেহাতীত প্রতিভাধর বলেই ওই টুর্নামেন্টের পরের দুটি ম্যাচেও সুযোগ পেলেন। তৃতীয় ম্যাচে ব্যাটিং পাননি, চতুর্থ ম্যাচে এসে পেলেন প্রথম আন্তর্জাতিক রান। তবে থেমে গেছেন ১৩ রানেই। নির্বাচকেরা তবু ধৈর্য হারালেন না। তিনি যে লম্বা দৌড়ের ঘোড়া! পাঠিয়ে দেওয়া হলো বাংলাদেশেও। সফরের শুরুর দিকেই বলেছিলেন, সব ম্যাচই খেলার আশা করছেন। কারণ কন্ডিশনটা তাঁর জন্য উপযোগী, ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ স্পিনটাও যে ভালো পারেন। সেই সুযোগ এল চতুর্থ ম্যাচে। কী দারুণভাবেই না সুযোগটাকে কাজে লাগালেন!
সিরিজ হারের পর নিজেদের আচরণও অনেকটা বদলে ফেলেছে কিউইরা। কাল নিজেদের নিরাপত্তার ঘেরাটোপে আটকে কঠোর অনুশীলন করলেন দলের সবাই। ম্যাচের আগের দিন এমন পরিশ্রম বিরল ঘটনা। তবে শেষ ম্যাচটা জিততে মরিয়া নিউজিল্যান্ড হয়তো প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চায় না। এমন সিরিয়াস অনুশীলনের মাঝেও একটু ফুরফুরে লাগছিল উইলিয়ামসনকে। কারণটা ব্যাখ্যা করলেন নিজেই, ‘একটু নির্ভার তো লাগছেই। আমাকে যাঁরা সুযোগ দিয়েছেন, বারবার উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের আস্থার প্রতিদান দিতে পেরে ভালো লাগছে।’
আগের ম্যাচে উইলিয়ামসনের ইনিংসটা অনেককেই মনে করিয়ে দিয়েছে তাঁর এক পূর্বসূরির কথা। ২০০৩ সালে ভারতের বিপক্ষে মোহালি টেস্টে পায়ে ক্র্যাম্প নিয়েও ১৪৫ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছিলেন ওপেনার মার্ক রিচার্ডসন। কুম্বলে, হরভজনদের সুইপ করতে গিয়ে পায়ের ব্যথায় বারবার রিচার্ডসনের গগনবিদারী চিৎকার ক্রিকেট রূপকথারই অংশ হয়ে গেছে। উইলিয়ামসন ব্যথায় চিৎকার করেননি, তবে ক্র্যাম্প নিয়েও খেলে গেছেন দলের আশাকে সঙ্গী করে। শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে ছয় রান নিয়ে দলকে প্রায় অসম্ভব এক জয়ের স্বপ্নও দেখিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত আর পারেননি।
জেতাতে না পারলেও দলকে কিছু একটা ঠিকই দিতে পেরেছেন। আগের ম্যাচ শেষে অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি বলেছিলেন, ‘কেন (উইলিয়ামস) আমাদের দেখিয়েছে, এই উইকেটে কীভাবে ব্যাটিং করতে হয়!’ দলের সবচেয়ে জুনিয়র সদস্যের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষাটা আজ হয়তো কাজে লাগাতে চাইবেন ভেট্টোরিরা। তবে সাকিবরাও নিশ্চয়ই বসে থাকবেন না, তাঁদের যে পেয়ে বসেছে জয়ের নেশা!

ফেদেরারের বিরুদ্ধে বেটিংয়ের অভিযোগ

এক যুগের পেশাদার ক্যারিয়ার। ‘বিতর্ক’ শব্দটা তাঁর নামের পাশে বসতে দেননি। সেই রজার ফেদেরারের বিরুদ্ধে এক জুয়াড়িকে সহযোগিতার অভিযোগ উঠল। জিম অ্যাগেট নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, ২০০৭ ফ্রেঞ্চ ওপেনে ফেদেরার একটি ম্যাচের আগেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছিলেন তাঁর ম্যানেজমেন্ট সংস্থা আইএমজির মালিক টেড ফর্স্টমানকে।
শুধু ফেদেরার নন, ধনকুবের ফ্রস্টমান নাকি একইভাবে টাইগার উডসের কাছ থেকে আগাম তথ্য নিয়ে বাজি ধরতেন গলফে। এভাবে ফর্স্টমান বিস্তর কামিয়েছেন বলে অ্যাগেটের অভিযোগ।
যদিও চীনে খেলতে আসা সুইজারল্যান্ডের টেনিস তারকা রজার ফেদেরার এই খবর উড়িয়ে দিয়েছেন। ‘আমার নাম ব্যবহার করে এ ধরনের রটনা ছড়ানো হচ্ছে দেখে আমি খুবই হতাশ। আমি এ ধরনের কিছু কখনোই করিনি। ভক্তরা আমার সম্পর্কে ভালো করেই জানেন। লুকোনোর কিছুই নেই। কেউ যদি এ ধরনের খবরের পেছনে সামান্য সত্যতা আছে বলে মনে করে, তাদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আমার করার কিছু নেই।

দুই বাটের আশা

পাকিস্তান ক্রিকেটের দুই বাটেরই কাটছে অস্থির সময়। স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক সালমান বাট সাময়িক নিষিদ্ধ। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি ইজাজ বাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রধান প্রশাসক হিসেবে সঠিকভাবে বোর্ড পরিচালনা করতে পুরো ব্যর্থ তিনি। তাঁর খামখেয়ালি আচরণে পাকিস্তানের ক্রিকেট বা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দাবি উঠেছে পিসিবি থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার।
তবে যতই ঝড় বয়ে যাক, দুই বাটই বুনে চলেছেন আশার জাল। সালমান বাট আশাবাদী, দ্রুতই দলে ফিরবেন তিনি। ইজাজ বাটের আশা, আরও এক মেয়াদের জন্য পিসিবির সভাপতি থেকে যাবেন। কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ইজাজ বাট।
পিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিই আবার পিসিবির প্রধান পৃষ্ঠপোষক। বোর্ড সভাপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন তিনিই। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে ২০০৮ সালে পিসিবি সভাপতি হওয়া ইজাজ বাটও তাই আশাবাদী, আরও দুই বছরের জন্য মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকলেও নিজেকে অনুশীলনে ব্যস্ত রেখেছেন বাট। প্রতিদিন নিয়ম করে অনুশীলন করছেন এবং আইসিসির নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও স্বপ্ন দেখছেন আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে খেলার, ‘আমি প্রতিদিনের রুটিনমতো দুই ঘণ্টা করে অনুশীলন করছি। কারণ আমি দলে ফিরে আসার জন্য নিজেকে প্রস্তুত থাকতে চাই।’
স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ক্ষতি করেছে বলেই জানিয়ে দিলেন বাট। তবে এতে নাকি তাঁর একটা শিক্ষাও হয়েছে! ‘আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা ভালোই যাচ্ছিল। আমিও ভালো করছিলাম। এই অভিযোগটা আমার ক্যারিয়ারের ক্ষতি করেছে। কিন্তু এটা আমার জন্য বড় একটা অভিজ্ঞতাও। চারপাশের লোকজনের সঙ্গে আমার যোগাযোগটা কেমন হবে, এটা আমাকে তা ভালো করেই শিখিয়েছে’—বলেছেন বাট।
এদিকে পিসিবিকে দ্রুত শোধরাতে সতর্কবার্তা দিয়েছে আইসিসি। ইমরান খান বলছেন, এটা পাকিস্তানের জন্য লজ্জার। ‘আইসিসি আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে এবং আমাদের নোটিশ দিয়েছে। এটা প্রতিটি পাকিস্তানির জন্যই লজ্জার। লজ্জা পাকিস্তানের ক্রিকেটের জন্য। এবং এর কারণ পাকিস্তানে ক্রিকেটের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই’—বলেছেন পাকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে ইজাজ বাট মামলার ভয়ে সরে এসেছেন, ইসিবির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন—বোর্ড সভাপতির এমন আচরণেও সমালোচনা করেছেন ইমরান।

আরও কিছু পাওয়ার ম্যাচ

সিরিজ জয় হয়ে গেছে। আজ শেষ ম্যাচে তাহলে কী পাওয়ার আছে বাংলাদেশের?
সিরিজ ৪-০ করা, আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরে উঠে যাওয়া ছাড়াও মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজও অনেক কিছুই চাইছে বাংলাদেশ দল। সংক্ষেপে বলতে পারেন, তারা এবার চাইছে নিজেদের ছাড়িয়ে যেতে।
সিরিজ হেরে যাওয়ার পরও শেষ ম্যাচে এসে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বিন্দুমাত্র ছাড় না পাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকই হয়েছে দলটার। অসহায়ের মতো মেনে নিতে হয়েছে সবলের ‘অত্যাচার’। নিউজিল্যান্ডকে উপলক্ষ করে ক্রিকেটের প্রথম বিশ্বের দেশগুলোকে এবার সেটাই ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। শেষ ম্যাচে আজ বাংলাদেশও নিউজিল্যান্ডকে এক রত্তি ছাড় দিতে রাজি নয়। কিউইদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেই বিজয়োল্লাসে মাততে তৈরি সাকিব আল হাসানের দল। অপরদিকে ড্যানিয়েল ভেট্টোরিদের জন্য এ ম্যাচ সান্ত্বনার জয় পাওয়ার চ্যালেঞ্জ। সিরিজ হারলেও বাংলাদেশ থেকে একেবারেই খালি হাতে দেশে ফেরাটা যে খারাপ দেখায়!
জেমি সিডন্স একটু একটু করে প্রত্যাশার সীমানা বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বলে সিরিজ শুরুর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এক-আধটা জয় দিয়েই উন্নতির পথে হাঁটাটা ধরে রাখতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। এরপর যখন সাকিবরা জেতাই শুরু করলেন, সিরিজ জয়ের স্বপ্ন এঁকে দিলেন তিনি। এখন সিরিজ জয়ও হয়ে যাওয়ার পর কোচ বলছেন, ‘৪-০ চাই।’ এই চাওয়াটা শুধু কিউইদের হোয়াইটওয়াশ করার জন্যই নয়, কোচ প্রমাণ করতে চান, দলের উন্নতির ধার ক্রমেই বাড়ছে।
টানা তিন ম্যাচ জিতলেও এর কোনোটাতেই বাংলাদেশ দল তাদের সেরা খেলা খেলেনি বলে ধারণা সিডন্সের। সেরা খেলা মানে নির্ভুল খেলা, সামর্থ্যের শেষবিন্দু উজাড় করে দিয়ে খেলা। মাইক্রোম্যাক্স ওডিআই কাপ সাকিব-শাহরিয়ারের জ্বলে ওঠা দেখেছে। দেখেছে মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর ভালো খেলার সামর্থ্য আর নাঈম-রাজ্জাকদের দুর্দান্ত ফিল্ডিং। কিন্তু জুনায়েদ সিদ্দিক বা রকিবুল হাসানের কাছ থেকে প্রত্যাশা মেটেনি। আড়াই বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা শাহরিয়ারও তো কেবল একটা ইনিংসই খেললেন বলার মতো! পাওয়ার প্লেতে শফিউল ইসলাম-রুবেল হোসেনের কাছ থেকেও আরও ভালো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা আছে। এসব অপূর্ণতা দূর করে দল ভালো ক্রিকেট খেলবে, আজকের ম্যাচে এটাই চাওয়া সিডন্সের, ‘রান করা, উইকেট নেওয়া, ভালো ফিল্ডিং করা—এসবই আমরা চাই। যে তিনটা ম্যাচ হয়ে গেছে সেগুলো নিয়ে কেউই আর ভাবছে না। সবার একটাই চিন্তা, পরের ম্যাচে ভালো খেলতে হবে।’ ভুল শোধরানো আর অতৃপ্তি দূর করার জন্যই হয়তো শেষ ম্যাচেও আগের ম্যাচের দলটাই খেলাবে বাংলাদেশ।
নিউজিল্যান্ড যে এ ম্যাচে সান্ত্বনার জয় চায়, সেটা তাদের দলের মুখপাত্র হয়ে কেউ না বললেও চলছে। আর বলবেন-ই বা কে? দ্বিতীয় হারটার পর থেকেই যে মুখে কলুপ এঁটেছে পুরো দল! কেউ তো কথা বলছেই না, সাংবাদিকেরা ধারেকাছে গেলেও যেন তাঁদের আপত্তি। নিউজিল্যান্ড কথা না বললেও বাংলাদেশ কোচই কাল তাদের পক্ষ থেকে বলে দিতে চেষ্টা করলেন, এ ম্যাচে আসলে কী চাইতে পারে ভেট্টোরির দল। ‘তারা যেন কিছুটা দমেই গেছে। মনে হচ্ছে, খেলা শেষ করে এখন সবাই দেশে ফেরার জন্য উন্মুখ। তবে আমরা আমাদের পা মাটিতেই রাখব এবং খুব ভালো ক্রিকেট খেলব। আশা করি, জয়ের জন্য সেটাই যথেষ্ট এবং তাতে ওদের হোয়াইটওয়াশও করা যাবে।’
কোচ-ক্রিকেটারদের মতো এই স্বপ্ন দেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষেরও। সিরিজ জয় দেখার পর আজ সরকারি ছুটির দিনে মানুষ হোয়াইটওয়াশ দেখতেও স্টেডিয়ামের দিকে ছুটবে, আশাটা সিরিজ আয়োজক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী আশরাফ হোসেনের। কিন্তু সেটা যে মধুর এক সমস্যাও! মাঠে দর্শকের ঢল নামুক, বিসিবি সব সময় তাই চেয়ে এলেও বিশ্বকাপের জন্য সংস্কারকাজের মধ্যে অত লোক জায়গা দেওয়ার সামর্থ্য কোথায় গ্যালারির? তার পরও আজকের ম্যাচের জন্য বিক্রীত-অবিক্রীত মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার টিকিট ছাড়া হচ্ছে বলে জানালেন গাজী আশরাফ। ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার বাসনা তো অনেকেরই থাকে!

অ্যাশেজে বিসিসিআইয়ের ‘শিক্ষাসফর’

ইউডিআরএস। চার অক্ষরের এই শব্দসংক্ষেপ ক্রিকেটারদের হাতে এনে দিয়েছে বিরাট ক্ষমতা। মাঠের আম্পায়ারদের কোনো সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে সেটি চ্যালেঞ্জ করা যাবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুলের হার কমিয়ে আনার জন্যই এই প্রযুক্তির ব্যবহার। যদিও আম্পায়ার ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ইউডিআরএস) এখনো বাধ্যতামূলক করতে পারেনি আইসিসি। প্রধান বাধা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ভারত ঠিক নিশ্চিত নয় ইউডিআরএস কতটা কার্যকর। তা ছাড়া এই প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যয়বহুল বলে এ উপমহাদেশের বাকি তিন দেশও খুব একটা আগ্রহী নয়।
বিসিসিআইয়ের আস্থা তৈরির একটা ভালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া অ্যাশেজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিসিসিআইয়ের কর্তাব্যক্তিদের। ব্রিসবেনের প্রথম টেস্ট নয়তো অ্যাডিলেডের দ্বিতীয় ম্যাচটি দেখবে ওই প্রতিনিধিদল। সঙ্গে আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাতও থাকবেন। লরগাত আশাবাদী, সেখানে ইউডিআরএসের ব্যবহার দেখার পর ভারত আর না করতে পারবে না।
দ্বিতীয় সমস্যাটিরও সমাধান প্রায় করে ফেলেছে আইসিসি। ইউডিআরএস প্রযুক্তি ব্যবহারে যে খরচ সেটি স্পনসরদের কাছ থেকে তোলা হবে। অস্ট্রেলিয়ার চ্যানেল নাইন নাকি আপাতত রাজিও হয়েছে ইউডিআরএসের স্পনসর হতে।

বৃথাই টেলরের নিঃসঙ্গ লড়াই

কলিন ইনগ্রামের জন্ম পোর্ট এলিজাবেথে। তবে ‘ক্রিকেটার’ ইনগ্রামের জন্ম ব্লুমফন্টেনে। গোলাপের শহরের ফ্রি স্টেট একাডেমিতে শুরু করেছেন ক্রিকেট-জীবন, বেড়ে উঠেছেনও এই শহরেই। সেই ব্লুমফন্টেনেই অভিষেকে সেঞ্চুরি করে আনন্দ যেন দ্বিগুণ হয়ে গেছে ইনগ্রামে। ম্যাচ শেষে বললেন, ‘এই শহর আমার দ্বিতীয় বাড়ির মতো। এখানে অভিষেকে সেঞ্চুরি, এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না।’
ইনগ্রামের স্বপ্নপূরণের দিনে জিম্বাবুয়েকে ৬৪ রানে হারিয়েছে তাঁর দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। ইনগ্রামের (১২৬ বলে ১২৪) সঙ্গে হাশিম আমলার (৯৬ বলে ১১০) জোড়া সেঞ্চুরি আর ডেভিড মিলারের ৩১ বলে ৫১ স্বাগতিকদের তুলে দিয়েছিল ৬ উইকেটে ৩৫১ রানের পাহাড়ে। ৬৪ রানের উদ্বোধনী জুটির পর দ্বিতীয় উইকেটে ১৩৬ রানের জুটি গড়েন আমলা ও ইনগ্রাম। পঞ্চম উইকেটে দুই তরুণ বাঁহাতি ইনগ্রাম ও মিলার ৭৬ রানের জুটি গড়েছেন মাত্র ৪৬ বলে। শেষ ১০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলেছে ৯৬। ৪ উইকেট নিলেও মিঙ্গিরাই মাসাকাদজা রান দিয়েছেন ৮৬।
ব্রেন্ডন টেলরের লড়াই জিম্বাবুয়েকে নিয়ে যেতে পেরেছে ২৮৭ রান পর্যন্ত। ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করতে নেমে পুরো ৫০ ওভার উইকেটে থেকে ১৩৬ বলে ১৪৫ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেছেন টেলর। তবে টেলরকে সঙ্গ দিতে পারেননি আর কেউ, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হ্যামিল্টন মাসাকদাজার ৩০। আরেক অভিষিক্ত দক্ষিণ আফ্রিকান হুয়ান থেরন নিয়েছেন ৩ উইকেট। ছয় বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমে বোলিংয়ে ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি গ্রান্ট ফ্লাওয়ার, ব্যাটিংয়ে করেছেন ১৩ রান। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ আজ পচেফস্ট্রুমে।

মেইঞ্জের স্বপ্ন টুটল হামবুর্গে

রূপকথাটা থেমে গেল কাল। মেইঞ্জের স্বপ্ন গেল টুটে। বুন্দেসলিগায় টানা সাত ম্যাচ জেতার পর কাল হামবুর্গের কাছে নিজেদের মাঠে ০-১ গোলে হেরে গেল তারা। তবে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে এবারের বুন্দেসলিগায় শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকা বায়ার্ন মিউনিখ। মারিও গোমেজের হ্যাটট্রিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন নিজেদের মাঠে হ্যানোভারকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে।
নিজেদের মাঠে মেইঞ্জ কাল নেমেছিল বুন্দেসলিগায় একটি নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। হামবুর্গের বিপক্ষে জিততে পারলে বুন্দেসলিগার শুরুতে টানা ৮ ম্যাচ জেতা প্রথম দল হয়ে যেত তারা। ছাপিয়ে যেত বায়ার্ন আর কাইজারস্লটার্নের কীর্তি। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে বায়ার্ন জিতেছিল টানা ৭ ম্যাচ। ২০০১-০২ মৌসুমে কাইজারস্লটার্ন আর এবার মেইঞ্জও গড়েছে সেই একই কীর্তি।
নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি নিয়ে নেমে ভালোই খেলছিল মেইঞ্জ। তবে ভাগ্য বিড়ম্বনা করেছে তাদের সঙ্গে। দু-দুবার বল পোস্টে না লাগলে ঘরের মাঠে জয় আর নতুন ইতিহাস গড়ার আনন্দে ভাসতে পারত তারা। ভাগ্য যেমন বিড়ম্বনা করেছে, তেমনই সাহায্যও করেছে মেইঞ্জকে। হামবুর্গকেও তো গোলবঞ্চিত করেছে পোস্ট। আবার একটি বল জালে ঢুকলেও সেটি বাতিল করেছেন রেফারি। কিন্তু ৮৯ মিনিটে পাওলো গুয়েরেরোর গোলে হেরে যায় মেইঞ্জ।
এই পরাজয়ে শীর্ষস্থানটিও হারিয়েছে তারা। শীর্ষস্থানটি চলে গেছে পরশু কোলনকে ২-১ গোলে হারানো বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে। ৮ ম্যাচ থেকে দুই দলেরই পয়েন্ট ২১ করে। তবে গোল ব্যবধান এগিয়ে রেখেছে ডর্টমুন্ডকে। বায়ার্ন কাল দাপটের সঙ্গে জিতেও আছে নবম স্থানে। ৮ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট তাদের।
এদিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার ওয়েস্টব্রমে আটকে গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। হাভিয়ের হার্নান্দেজ ও নানির দুই গোলে ২৫ মিনিটের মধ্যেই ২-০-তে এগিয়ে যায় ম্যানইউ। তবে ৫ মিনিটের মধ্যে (৫০ ও ৫৫ মিনিট) দুই গোল করে ম্যাচে ফেরে ওয়েস্টব্রম। ২ গোলের প্রথমটি এভরার আত্মঘাতী, দ্বিতীয়টি করেছেন শোয়ি। তবে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও সামির নাসরি ও চামাকের গোলে বার্মিংহামের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে আর্সেনাল।

কিউইদের উইলিয়ামসন-শিক্ষা

হেলমেটটা খুললেন তড়িঘড়ি। ব্যাটটা একটু উঁচিয়ে আবার দ্রুতই নামিয়ে নিলেন লাজুক ভঙ্গিতে। কার উদ্দেশে ব্যাট তুলবেন কেন উইলিয়ামসন? ভরা গ্যালারির একজন লোকও তো দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানায়নি, একটা তালির শব্দও শোনা যায়নি!
‘স্পোর্টিং’ হিসেবে বাংলাদেশের দর্শকের সুনাম আছে। প্রতিপক্ষের অর্জনকে স্বাগত জানাতে কুণ্ঠা নেই। কিন্তু দেশপ্রেম বলে কথা। দেশের সিরিজ জয়ের স্বপ্নে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন যিনি, তাঁকে কেন অভিনন্দন জানানো! নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েও তাই তেমন উদ্যাপন করা হলো না উইলিয়ামসনের। ছোট্ট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনটাও শেষ পর্যন্ত বিস্বাদ হয়ে গেল দল ম্যাচ ও সিরিজ হারায়।
উদ্যাপন করতে পারেননি, তবে নির্ভার হতে পেরেছেন। ২০ বছর বয়সী অলরাউন্ডারকে বলা হচ্ছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর দল নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের কোচ সাবেক টেস্ট অলরাউন্ডার গ্রান্ট ব্যাডবার্ন তাঁকে বলেছেন ‘ভবিষ্যৎ মাইকেল ক্লার্ক।’ সাবেক নিউজিল্যান্ড ওপেনার ও অকল্যান্ড কোচ ম্যাট হর্ন বলেছেন, ‘নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে একরাশ তাজা বাতাস উইলিয়ামসন।’ তবে এই তাজা বাতাস অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে। গত আগস্টে ডাম্বুলার ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে অভিষেক। যাঁকে নিয়ে এতে স্বপ্ন নিউজিল্যান্ডের, প্রথম দুই ওয়ানডেতেই কি না তিনি আউট শূন্য রানে!
সন্দেহাতীত প্রতিভাধর বলেই ওই টুর্নামেন্টের পরের দুটি ম্যাচেও সুযোগ পেলেন। তৃতীয় ম্যাচে ব্যাটিং পাননি, চতুর্থ ম্যাচে এসে পেলেন প্রথম আন্তর্জাতিক রান। তবে থেমে গেছেন ১৩ রানেই। নির্বাচকেরা তবু ধৈর্য হারালেন না। তিনি যে লম্বা দৌড়ের ঘোড়া! পাঠিয়ে দেওয়া হলো বাংলাদেশেও। সফরের শুরুর দিকেই বলেছিলেন, সব ম্যাচই খেলার আশা করছেন। কারণ কন্ডিশনটা তাঁর জন্য উপযোগী, ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ স্পিনটাও যে ভালো পারেন। সেই সুযোগ এল চতুর্থ ম্যাচে। কী দারুণভাবেই না সুযোগটাকে কাজে লাগালেন!
সিরিজ হারের পর নিজেদের আচরণও অনেকটা বদলে ফেলেছে কিউইরা। কাল নিজেদের নিরাপত্তার ঘেরাটোপে আটকে কঠোর অনুশীলন করলেন দলের সবাই। ম্যাচের আগের দিন এমন পরিশ্রম বিরল ঘটনা। তবে শেষ ম্যাচটা জিততে মরিয়া নিউজিল্যান্ড হয়তো প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চায় না। এমন সিরিয়াস অনুশীলনের মাঝেও একটু ফুরফুরে লাগছিল উইলিয়ামসনকে। কারণটা ব্যাখ্যা করলেন নিজেই, ‘একটু নির্ভার তো লাগছেই। আমাকে যাঁরা সুযোগ দিয়েছেন, বারবার উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের আস্থার প্রতিদান দিতে পেরে ভালো লাগছে।’
আগের ম্যাচে উইলিয়ামসনের ইনিংসটা অনেককেই মনে করিয়ে দিয়েছে তাঁর এক পূর্বসূরির কথা। ২০০৩ সালে ভারতের বিপক্ষে মোহালি টেস্টে পায়ে ক্র্যাম্প নিয়েও ১৪৫ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছিলেন ওপেনার মার্ক রিচার্ডসন। কুম্বলে, হরভজনদের সুইপ করতে গিয়ে পায়ের ব্যথায় বারবার রিচার্ডসনের গগনবিদারী চিৎকার ক্রিকেট রূপকথারই অংশ হয়ে গেছে। উইলিয়ামসন ব্যথায় চিৎকার করেননি, তবে ক্র্যাম্প নিয়েও খেলে গেছেন দলের আশাকে সঙ্গী করে। শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে ছয় রান নিয়ে দলকে প্রায় অসম্ভব এক জয়ের স্বপ্নও দেখিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত আর পারেননি।
জেতাতে না পারলেও দলকে কিছু একটা ঠিকই দিতে পেরেছেন। আগের ম্যাচ শেষে অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি বলেছিলেন, ‘কেন (উইলিয়ামস) আমাদের দেখিয়েছে, এই উইকেটে কীভাবে ব্যাটিং করতে হয়!’ দলের সবচেয়ে জুনিয়র সদস্যের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষাটা আজ হয়তো কাজে লাগাতে চাইবেন ভেট্টোরিরা। তবে সাকিবরাও নিশ্চয়ই বসে থাকবেন না, তাঁদের যে পেয়ে বসেছে জয়ের নেশা!

ফেদেরারের বিরুদ্ধে বেটিংয়ের অভিযোগ

এক যুগের পেশাদার ক্যারিয়ার। ‘বিতর্ক’ শব্দটা তাঁর নামের পাশে বসতে দেননি। সেই রজার ফেদেরারের বিরুদ্ধে এক জুয়াড়িকে সহযোগিতার অভিযোগ উঠল। জিম অ্যাগেট নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, ২০০৭ ফ্রেঞ্চ ওপেনে ফেদেরার একটি ম্যাচের আগেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছিলেন তাঁর ম্যানেজমেন্ট সংস্থা আইএমজির মালিক টেড ফর্স্টমানকে।
শুধু ফেদেরার নন, ধনকুবের ফ্রস্টমান নাকি একইভাবে টাইগার উডসের কাছ থেকে আগাম তথ্য নিয়ে বাজি ধরতেন গলফে। এভাবে ফর্স্টমান বিস্তর কামিয়েছেন বলে অ্যাগেটের অভিযোগ।
যদিও চীনে খেলতে আসা সুইজারল্যান্ডের টেনিস তারকা রজার ফেদেরার এই খবর উড়িয়ে দিয়েছেন। ‘আমার নাম ব্যবহার করে এ ধরনের রটনা ছড়ানো হচ্ছে দেখে আমি খুবই হতাশ। আমি এ ধরনের কিছু কখনোই করিনি। ভক্তরা আমার সম্পর্কে ভালো করেই জানেন। লুকোনোর কিছুই নেই। কেউ যদি এ ধরনের খবরের পেছনে সামান্য সত্যতা আছে বলে মনে করে, তাদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আমার করার কিছু নেই।’

আরও কিছু পাওয়ার ম্যাচ

সিরিজ জয় হয়ে গেছে। আজ শেষ ম্যাচে তাহলে কী পাওয়ার আছে বাংলাদেশের?
সিরিজ ৪-০ করা, আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরে উঠে যাওয়া ছাড়াও মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজও অনেক কিছুই চাইছে বাংলাদেশ দল। সংক্ষেপে বলতে পারেন, তারা এবার চাইছে নিজেদের ছাড়িয়ে যেতে।
সিরিজ হেরে যাওয়ার পরও শেষ ম্যাচে এসে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বিন্দুমাত্র ছাড় না পাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকই হয়েছে দলটার। অসহায়ের মতো মেনে নিতে হয়েছে সবলের ‘অত্যাচার’। নিউজিল্যান্ডকে উপলক্ষ করে ক্রিকেটের প্রথম বিশ্বের দেশগুলোকে এবার সেটাই ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। শেষ ম্যাচে আজ বাংলাদেশও নিউজিল্যান্ডকে এক রত্তি ছাড় দিতে রাজি নয়। কিউইদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেই বিজয়োল্লাসে মাততে তৈরি সাকিব আল হাসানের দল। অপরদিকে ড্যানিয়েল ভেট্টোরিদের জন্য এ ম্যাচ সান্ত্বনার জয় পাওয়ার চ্যালেঞ্জ। সিরিজ হারলেও বাংলাদেশ থেকে একেবারেই খালি হাতে দেশে ফেরাটা যে খারাপ দেখায়!
জেমি সিডন্স একটু একটু করে প্রত্যাশার সীমানা বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বলে সিরিজ শুরুর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এক-আধটা জয় দিয়েই উন্নতির পথে হাঁটাটা ধরে রাখতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। এরপর যখন সাকিবরা জেতাই শুরু করলেন, সিরিজ জয়ের স্বপ্ন এঁকে দিলেন তিনি। এখন সিরিজ জয়ও হয়ে যাওয়ার পর কোচ বলছেন, ‘৪-০ চাই।’ এই চাওয়াটা শুধু কিউইদের হোয়াইটওয়াশ করার জন্যই নয়, কোচ প্রমাণ করতে চান, দলের উন্নতির ধার ক্রমেই বাড়ছে।
টানা তিন ম্যাচ জিতলেও এর কোনোটাতেই বাংলাদেশ দল তাদের সেরা খেলা খেলেনি বলে ধারণা সিডন্সের। সেরা খেলা মানে নির্ভুল খেলা, সামর্থ্যের শেষবিন্দু উজাড় করে দিয়ে খেলা। মাইক্রোম্যাক্স ওডিআই কাপ সাকিব-শাহরিয়ারের জ্বলে ওঠা দেখেছে। দেখেছে মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর ভালো খেলার সামর্থ্য আর নাঈম-রাজ্জাকদের দুর্দান্ত ফিল্ডিং। কিন্তু জুনায়েদ সিদ্দিক বা রকিবুল হাসানের কাছ থেকে প্রত্যাশা মেটেনি। আড়াই বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা শাহরিয়ারও তো কেবল একটা ইনিংসই খেললেন বলার মতো! পাওয়ার প্লেতে শফিউল ইসলাম-রুবেল হোসেনের কাছ থেকেও আরও ভালো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা আছে। এসব অপূর্ণতা দূর করে দল ভালো ক্রিকেট খেলবে, আজকের ম্যাচে এটাই চাওয়া সিডন্সের, ‘রান করা, উইকেট নেওয়া, ভালো ফিল্ডিং করা—এসবই আমরা চাই। যে তিনটা ম্যাচ হয়ে গেছে সেগুলো নিয়ে কেউই আর ভাবছে না। সবার একটাই চিন্তা, পরের ম্যাচে ভালো খেলতে হবে।’ ভুল শোধরানো আর অতৃপ্তি দূর করার জন্যই হয়তো শেষ ম্যাচেও আগের ম্যাচের দলটাই খেলাবে বাংলাদেশ।
নিউজিল্যান্ড যে এ ম্যাচে সান্ত্বনার জয় চায়, সেটা তাদের দলের মুখপাত্র হয়ে কেউ না বললেও চলছে। আর বলবেন-ই বা কে? দ্বিতীয় হারটার পর থেকেই যে মুখে কলুপ এঁটেছে পুরো দল! কেউ তো কথা বলছেই না, সাংবাদিকেরা ধারেকাছে গেলেও যেন তাঁদের আপত্তি। নিউজিল্যান্ড কথা না বললেও বাংলাদেশ কোচই কাল তাদের পক্ষ থেকে বলে দিতে চেষ্টা করলেন, এ ম্যাচে আসলে কী চাইতে পারে ভেট্টোরির দল। ‘তারা যেন কিছুটা দমেই গেছে। মনে হচ্ছে, খেলা শেষ করে এখন সবাই দেশে ফেরার জন্য উন্মুখ। তবে আমরা আমাদের পা মাটিতেই রাখব এবং খুব ভালো ক্রিকেট খেলব। আশা করি, জয়ের জন্য সেটাই যথেষ্ট এবং তাতে ওদের হোয়াইটওয়াশও করা যাবে।’
কোচ-ক্রিকেটারদের মতো এই স্বপ্ন দেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষেরও। সিরিজ জয় দেখার পর আজ সরকারি ছুটির দিনে মানুষ হোয়াইটওয়াশ দেখতেও স্টেডিয়ামের দিকে ছুটবে, আশাটা সিরিজ আয়োজক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী আশরাফ হোসেনের। কিন্তু সেটা যে মধুর এক সমস্যাও! মাঠে দর্শকের ঢল নামুক, বিসিবি সব সময় তাই চেয়ে এলেও বিশ্বকাপের জন্য সংস্কারকাজের মধ্যে অত লোক জায়গা দেওয়ার সামর্থ্য কোথায় গ্যালারির? তার পরও আজকের ম্যাচের জন্য বিক্রীত-অবিক্রীত মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার টিকিট ছাড়া হচ্ছে বলে জানালেন গাজী আশরাফ। ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার বাসনা তো অনেকেরই থাকে

কবিতা- 'সেরগেই এসেনিন বলছে' by আবদুল মান্নান সৈয়দ

ইসাডোরা, বার্লিনে তোমার সঙ্গে আছি আমি।
আমার সঙ্গে আরেক কবি - গাধাও বলতে পারো -
গলায় ঝোলানো গিটার,
খামোখাই,
বাজাতে-টাজাতে পারে না।
কোত্থেকে এলেন আমাদের সেই মহাকথাশিল্পী,
ম্যাকসিম গোর্কি।
চেহারা ভাঙাচোরা হলে কী হবে,
চোখ দুটিতে তাঁর যেন ছুরির ঝলক,
সেই চোখ সব-কিছুর অন্তস্তলে ঢুকে যায়।
আমার দিকে তাকিয়ে গোর্কি,
চোখে স্নেহ ঝরে পড়ছে,
বললেন, ‘এসেনিন, কবিতা লিখছ তো?’
আমি পাশের গাধা-কবিটার সঙ্গে
তাঁর পরিচয় করিয়ে দিলাম।

কবিতা-মোহাম্মদ রফিক এর কপিলা থেকে ও অঙ্গীকার

কানে ফুল নাকের নোলক তারও
বহু আগে
পঞ্চাশের মন্বন্তর, ডোম্বি বাড়ন্ত আহার
তবু
বাবুদের আনাগোনা
এমন শরীল একহারা
নরম কাদায় চ্যাং

বন্ধকী দিছিস বাজু
এই বাজী
বিয়ের রাতের থনে
জউনার উচাটন সোতে

নাও দিয়ে পারাপার
পারানির কড়ি
চোলাইয়ের
স্বাদে

কবিতা- 'সেতু' by বায়েজীদ মাহবুব

মানুষ বানায় এত কম সেতু আর এত বেশি দেয়াল
সেতু সরলরেখা। তাকে সরল রাখা পুরকৌশল। সেতু সরলরৈখিক
সর্বদা। সেতু কুটিল নয়, লাগসই প্রয়োগহেতু। আহা

সেতুর ছাউনি নাই। তোমার আমার তাই
যোগাযোগে গোলযোগ। কেননা তোমার জানা,
সেতুর ছাউনি নাই। তোমার আমার তাই
যোগাযোগে তালগোল। কেননা…

কবিতা- 'রেঙ্গুন সনেটগুচ্ছ : গৌতমই সর্বহারাদের ঘরামি' by চয়ন খায়রুল হাবিব

১.
নীল আশ্বস্ত হয় শুধুমাত্র অন্যান্য নীলে
নীল বদলে যায় আকাশ্চুম্বী বিদ্যুতের নীল
কাতর নীল পূর্ণিমা হেঁটে যায়
বাংলার রাজকীয় বাঘের থাবায়
ক্ষিপ্ত বৈশাখের বিক্ষিপ্ত মহামল্লারে
নীলে নীলে নীল নীলপাহাড়ি মূর্ছনায়
আমার দেহঘড়ির চোদ্দতলায় চোদ্দ নীলের জালা
শিশু ণিল সবসময় ঘুমোচ্ছে
নৌনীল ভালোবাসে সাগরে ডুবসাঁতার
তাহলে কোন ণিল সবচেয়ে সত্যিকারের নীল
এর উত্তরে নীল রানার বয়ে আনে
মহানীল পদ্মসূত্রের শ্লে­াক
যখন শেষবারের মতন থামে নীল হৃতস্পন্দন
যখন ধনুর জাতক চিৎকার করে ওঠে : নির্বাণ নীল

প্রবন্ধ- ‘পারস্যে’: মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের ভাবনা' by অদিতি ফাল্গুনী

    ‘বোগদাদে ব্রিটিশদের আকাশফৌজ আছে। সেই ফৌজের খৃষ্টান ধর্মযাজক আমাকে খবর দিলেন, এখানকার কোন্ শেখদের গ্রামে তাঁরা প্রতিদিন বোমা বর্ষণ করছেন। সেখানে আবালবৃদ্ধবণিতা যারা মরছে তারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উর্দ্ধলোক থেকে মার খাচ্ছে; এই সাম্রাজ্যনীতি ব্যক্তিবিশেষের সত্তাকে অস্পষ্ট করে দেয় বলেই তাদের মার এত সহজ। খৃস্ট এই-সব মানুষকেও পিতার সন্তান বলে স্বীকার করেছেন, কিন্তু খৃস্টান ধর্মযাজকের কাছে সেই পিতা এবং তাঁর সন্তান হয়েছে অবাস্তব, তাঁদের সাম্রাজ্যতত্ত্বের উড়ো জাহাজ থেকে চেনা গেল না তাদের, সেইজন্যে সাম্রাজ্য জুড়ে আজ মার পড়ছে সেই খৃস্টেরই বুকে। তা ছাড়া উড়ো জাহাজ থেকে এই-সব মরুচারীদের মারা যায় এত অত্যন্ত সহজে, ফিরে মার খাওয়ার আশঙ্কা এতই কম যে, মারের বাস্তবতা তাতেও ক্ষীণ হয়ে আসে। যাদের অতি নিরাপদে মারা সম্ভব মারওয়ালাদের কাছে তারা যথেষ্ট প্রতীয়মান নয়। এই কারণে, পাশ্চাত্য হননবিদ্যা যারা জানে না তাদের মানবসত্তা আজ পশ্চিমের অস্ত্রীদের কাছে ক্রমশই অত্যন্ত ঝাপসা হয়ে আসছে।’ (পারস্যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পৃষ্ঠা ৬২৯, একাদশ খণ্ড , বিশ্বভারতী কর্তৃক প্রকাশিত ১২৫ তম রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত সুলভ সংস্করণ, আষাঢ় ১৩৯৭, পুনর্মুদ্রণ পৌষ ১৪০২।)
তেতাল্লিশ পৃষ্ঠার ভ্রমণ কাহিনী ‘পারস্যে’ মূলতঃ রবীন্দ্রনাথের ইরান যাত্রার বিবরণ হলেও এই ভ্রমণ কাহিনীর শেষ কয়েক পাতায় ইরান সীমান্ত পার হয়ে ইরাক ঘুরে দেখার কথাও আছে। অন্য নানা ভ্রমণ আখ্যানের মতো ভ্রমণ কড়চার পাশাপাশি সমকালীন বিশ্ব রাজনীতি বিশ্লেষণ, পূর্ব-পশ্চিম বা প্রাচ্য-পাশ্চাত্য নিয়ে ভাবনা, বেড়াতে যাওয়া দেশের ইতিহাস-শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ক তথ্য পর্যালোচনা সহ নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু, সবচেয়ে যেটা বিস্ময়কর মনে হয়েছে তা’ হলো পশ্চিম এশিয়া তথা খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ ইরান-ইরাক-আরবে পশ্চিমা বৃটিশ-মার্কিনী শক্তিসমূহের লুব্ধ আগ্রাসী তৎপরতা কবির তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এড়াতে পারে নি। মুখর হয়েছেন তিনি পশ্চিমের আগ্রাসী ও সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে। ভ্রমণ কাহিনীর শুরুতেই কবি আমাদের জানিয়ে দিচ্ছেন ১৯৩২ এর ১১ এপ্রিল পারস্যরাজের কাছ থেকে তিনি নিমন্ত্রণ পেলেন। সত্তর বছরে দেশের বাইরে আর ঘুরে না বেড়ানোর ভাবনা মাথায় ঘোরা ফেরা সত্ত্বেও পারস্যরাজের নিমন্ত্রণে ভেতরের চঞ্চল মনটি তার সাথে সাথেই আগ্রহী হয়ে উঠলো। প্রথমে বিমানে করে কলকাতা থেকে এলাহাবাদ হয়ে বোম্বে। সেখান থেকে ১২ই এপ্রিল জাহাজে উঠে পারস্য যাত্রা। ইরাণে ঢুকেই প্রথম যে বিষয়টি তাঁকে মুগ্ধ করে তা’ হলো রেজা শাহ পাহলভি কর্তৃক নতুন বিধান অনুযায়ী মোল্লা বা ধর্মীয় পুরোহিতের পোশাক পরতে বা পদবি পেতে রীতিমতো পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। ভারতের অসংখ্য পাণ্ডা পুরোহিত ও সন্ন্যাসী পেশায় যে তীব্র ব্যবসা দেখা যায়, প্রকৃত সন্তের বদলে ভণ্ডদেরই এই সংখ্যাধিক্য রোধে এমন একটি পরীক্ষা হলে বেশ হতো বলে কবি মনে করেন এবং সে ভাবনা আমাদের পাঠকদের সাথেও ভাগ করে নেন: ‘সাধুতা ও সন্ন্যাস যদি নিজের আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য হয় তা হলে সাজ পরবার বা নাম নেবার দরকার নেই, এমন-কি নিলে ক্ষতির কারণ আছে; যদি অন্যের জন্য হয় তা হলে যথোচিত পরীক্ষা দেওয়া উচিত।’

প্রবন্ধ- 'গণশিক্ষায় কেসস্টাডি ‘হৈমন্তি’র অপুরুষ বনাম ‘সমাপ্তি’র পুরুষ' by এস এম রেজাউল করিম

একাডেমি নাকি রবীন্দ্রনাথের ভালো লাগতো না, কিন্তু সেই রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের সকল একাডেমিতে খবরদারি করে যাইতেছেন এখন পর্যন্ত। রবীন্দ্রনাথের এই প্রতিশোধস্পৃহা আমার ভালো লাগে, একাডেমির জন্য এইটা মর্যাদাহানির কারণ হইতে পারতো; কিন্তু সেটা যাতে না হইতে পারে সেজন্যই সম্ভবতঃ একাডেমি তাঁরে অমানুষ (দেবতা) করে রেখেছে। ঈশ্বর শ্রীকৃষ্ণের ননী চুরি যেমন চুরি নয়, দেবতার ঐ অধিষ্ঠানও তেমন একাডেমির ইজ্জতে হামলা চালায় না। একাডেমি মারফতে জানা যায়, গুরুদেব ছোটগল্পের সংজ্ঞা দিয়েছেন যে, এই সাহিত্যিক পদার্থ শেষ হইয়াও শেষ হইবে না। গুরুদেব যতদিন মানব ছিলেন ততদিন কিছু মানবিক ভুল করেছেন, ‘সমাপ্তি’ গল্প এইরকম একটা ভুলের উদাহরণ। একটি মৃম্ময়খণ্ডের ‘নারী’ হবার গল্প এটি, ঠিক ‘নারী’ হবার নয়, বরং মৃম্ময়খণ্ড দিয়া ‘নারী’ গড়ার গল্প, ভাস্কর হইলেন একজন নর। পুরুষ হওয়া আবার নরের ক্যারিয়ার সাফল্য, একজন নর-অপূর্ব এই নারী গড়েন, ঠিকঠাক গড়বার মধ্য দিয়া তাঁর ক্যারিয়ার সাফল্য অর্জন করেন–মানে ‘পুরুষ’ হন। গল্পটি ‘নারী’ গড়ার মাধ্যমে একজন নরের পুরুষ হওয়ার আদ্যন্ত বৃত্তান্ত, ফলে ‘শেষ হইয়া ঠিক শেষ-ই হইয়া যায়’ গল্পটি। এই মানবিক ভুলের কারণে গল্পটি গুরুদেবের নিক্তিতে ‘গল্প’ হইলো না ঠিক, তবে পুরুষতান্ত্রিক নন্দনতত্ত্বের কারণে গণশিক্ষার বড়ো উপাদান/টেকস্ট/কেসস্টাডি হইয়া পড়লো।
নারী হওয়ার সকল শরীরী যোগ্যতা ছিলো মৃম্ময়খণ্ডটির কিন্তু সংস্কৃতি’র অভাব ছিলো প্রকট। তাঁর প্রধান প্রধান অযোগ্যতা এইগুলো: সে দ্যাখে-“…হরিণশিশুর মতো নির্ভীক কৌতূহলে দাঁড়াইয়া চাহিয়া চাহিয়া দেখিতে থাকে,অবশেষে আপন দলের বালকসঙ্গীদের নিকট ফিরিয়া গিয়া এই নবাগত প্রাণীর আচারব্যবহার সম্বন্ধে বিস্তর বাহুল্য বর্ণনা করে।” ; শুধু দ্যাখে তাই না, অপূর্ব যখন আছাড় খেয়ে পড়ে মৃম্ময়খণ্ডটি তখন “সুমিষ্ট উচ্চকণ্ঠে তরল হাস্যলহরী”-র মাধ্যমে জানান দেয় তাঁর দেখা; “গ্রামের যত ছেলেদের সহিতই ইহার খেলা; সমবয়সী মেয়েদের প্রতি অবজ্ঞার সীমা নাই। শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটোখাটো বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।”, “ঠিক যেন বালকের মতো মুখের ভাব। মস্ত মস্ত দুটি কালো চক্ষুতে না আছে লজ্জা, না আছে ভয়, না আছে হাবভাবলীলার লেশমাত্র।”।

প্রবন্ধ- 'রবীন্দ্রজন্মের দেড়শ বছর গায়ক রবীন্দ্রনাথ' by করুণাময় গোস্বামী

রবীন্দ্রসঙ্গীত বলতে আমরা রবীন্দ্রনাথের রচিত গান বুঝি। গায়ক হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে কখনো আমরা এর সঙ্গে যুক্ত করি না। তবে অনেক স্থানে রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছেন, তাতে মনে হয়, শুধু রচয়িতা হিসেবে নয়, গায়ক হিসেবেও তাঁর অনেক স্থান থাকুক তেমন একটা ইচ্ছে তিনি পোষণ করতেন। ১৯৩৮ সালে তিনি কথাচ্ছলে বলেছিলেন, “গলা এককালে ছিল বটে! গাইতেও পারতুম গর্ব করবার মতন। তখন কোথাও কোনো মিটিঙে গেলে সবাই চিৎকার করত, ‘রবিঠাকুরের গান, রবিঠাকুরের গান’ বলে। আজকাল রবিঠাকুরের গান বলতে বোঝায় তার রচিত গান, গীত নয়। তোমরা আমায় এখন একবার গাইতে বলেও সম্মান দাও না। যখন গাইতুম তখন গান লিখতে শুরু করিনি তেমন, আর যখন লিখলুম তখন গলা নেই।” এমন কথা তিনি জীবনে বহুবার বলেছেন।

প্রবন্ধ- 'রবীন্দ্রজন্মের দেড়শ বছর “একজন তৃতীয় সারির কবি”: রবীন্দ্রকবিতার বোর্হেসকৃত মূল্যায়ন' by রাজু আলাউদ্দিন

রবীন্দ্রনাথের অনুবাদক-ভাগ্য রীতিমত ঈর্ষণীয় বলা যেতে পারে। জীবদ্দশায় তাঁকে নিয়ে ইউরোপীয় ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ লেখকরা লিখেছিলেন এবং তাঁর লেখা অনুবাদও করেছেন ইউরোপের বিভিন্ন ভাষার গুরুত্বপূর্ণ সব লেখকরা। তাদের অনেকেই পরবর্তীতে জয় করেছিলেন নোবেল পুরস্কার। রুশ ভাষার বরিস পাস্তেরনাক অনুবাদ করেছেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা। ফরাসী ভাষায়  আঁদ্রে জীদের মতো লেখক। আরও একজন ফরাসী কবি ছিলেন যিনি রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি অনুবাদের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছিলেন, তিনি সাঁ ঝ পের্স। যদিও পরে তিনি এই দায়িত্ব অর্পণ করেন আঁদ্রে জীদকে। অন্য একটি ইউরোপীয় ভাষা অর্থাৎ স্প্যানিশে অনুবাদ করেছেন হুয়ান রামোন হিমেনেথের মতো কবি। তিনিও নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত। আমরা হয়তো অনেকেই জানি না হিমেনেথের সমগ্র রচনার এক তৃতীয়াংশ হলো রবীন্দ্রনাথের অনুবাদ। স্প্যানিশ ভাষার আরেক লেখক এবং অনুবাদক রাফায়েল কানসিনোস আসসেন্সও অনুবাদ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথের মানব ধর্ম নামের প্রবন্ধের বইটি। রাফায়েল ছিলেন বোর্হেসের গুরু, যিনি জানতেন ১৪টির মতো ভাষা। এই সব ভাষা থেকে তিনি অনুবাদ করেছেন। কিন্তু যে তথ্যটি আমরা একেবারেই জানি না তাহলো এই যে স্প্যানিশ ভাষার আরেক লেখক যিনি আজ বিশ্বব্যাপী অসাধারণ এক কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত অর্থাৎ হোর্হে লুইস বোর্হেস, তিনিও রবীন্দ্রনাথের লেখা অনুবাদ করেছিলেন। তবে অন্যদের মতো কোনো রবীন্দ্র-মুগ্ধতা থেকে সে অনুবাদ তিনি করেননি, করেছেন অ-মুগ্ধতার কারণ দেখিয়ে, একটি নমুনা হাজির করার সূত্রে। এই নমুনাটি পেশ করার আগে আমি আরেকটি মন্তব্য এখানে হাজির করতে চাই। রবীন্দ্রনাথের কবিতার প্রতি অ-মুগ্ধতার সেই নমুনাটি আমরা দেখতে পাবো, ভ্রমণলেখক ও ঔপন্যাসিক পল থেরোর সাথে বোর্হেসের এক কথোপকথনে:
বিক্তোরিয়া ওকাম্পোর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ, প্যারিস ১৯৩০; শেষ দেখা

প্রবন্ধ- 'জাতীয় কবিতা উৎসব ২০০৯-এ পঠিত প্রবন্ধ সাম্রাজ্যবাদের যুগে দুই বিশ্বের কবিতা' by সলিমুল্লাহ খান

Hegemony entails the dominance of a given discourse even among those who are not its beneficiaries. It is the cultural arm of imperialism.

যে ভাবধারায় আপনার স্বার্থ নাই সেই ভাবধারার সম্মুখে আপনিও যখন নতি স্বীকার করেন তখন বলিতে হইবে সেই ভাবধারার আধিপত্য কায়েম হইয়াছে। সাম্রাজ্যবাদের সাংস্কৃতিক প্রকাশ এমনই।
—একবাল আহমদ (২০০৬/ক: ২৩১) 
জাতীয় কবিতা পরিষদের আমন্ত্রণ পাইয়া আমার মনে হইয়াছিল আরেকবার জন্মগ্রহণ করিবার আমন্ত্রণ পাইয়াছি। কিন্তু লিখিতে বসিয়া টের পাইলাম এই কাজ অতিশয় কঠিন—পাণিগ্রহণের চেয়ে কম কঠিন নহে। কথাটা খুলিয়া বলিব।
শিল্পী মার্ক শাগালের ছবিতে মন্দির ভাঙছে স্যামসন।
আর যে অপবাদই কবিদের দেওয়া যাউক না কেন তাঁহারা বড় সহনশীল এই অপবাদ কেহ দিতে পারিবেন না। কবিরা সমালোচনা ব্যবসায়ীদের কত সহ্য করিতে পারেন তাহা আমার জানা নাই। স্মরণ করুন খোদ জীবনানন্দ দাশের বাক্য। সমারূঢ় সমালোচককে তিনি বরং কবিতা লিখিয়া দেখিবার রূঢ় উপদেশই দিয়াছিলেন। কবিরা শুদ্ধ স্বজনের সমালোচনা শুনিতে প্রস্তুত, তাহার অধিক শুনিবেন না। ইচ্ছায় হই আর অনিচ্ছায় হই, আমি সমালোচনার আদার বেপারি। একদা কবিযশোপ্রার্থীদের সঙ্গে কিছু সময় আমিও কবিতা-জাহাজের খবর লইয়াছিলাম। এই কথা স্বীকার করিতে দোষ নাই। সেই সুবাদে কিনা জানি না: কবিদের সমালোচনা করিবার খানিক অধিকার আমিও হয়তো অর্জন করিয়াছি।

প্রবন্ধ- 'কাজী নজরুল:রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দের পারস্পরিকতায়' by আবদুল মান্নান সৈয়দ

সাকি,
কোথায় তোমার চিঠি? এদিকে তোমার বান্ধবীর চিঠির তোড়ে আমি তো প্রায় ভেসেই যাচ্ছি। রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লেখায় না-হারিয়ে ছাড়বে না মনে হচ্ছে। আমিও ছাড়বার পাত্র নই। তুমি জানো কিনা জানি না, রবীন্দ্রনাথ এন্ডরুজ সাহেবকে একবার সাহেব মহোদয় বিদেশ থেকে ফিরলে একতাড়া চিঠি তাঁর হাতে অর্পণ করেন। আমিও সেই আদর্শে তোমার উদ্দেশে এই চিঠি লেখা শুরু করলাম। রবীন্দ্রনাথের মতো অবসর নেই তো আমার—ফলে একগোছা পত্র রচনা করতে একটু সময় নেবে হয়তো। কিন্তু রবীন্দ্রাদর্শ ভুলছি না। বলতে পারো, এই চিঠি তার শুভসূচনা।
আজকে তোমার সঙ্গে নজরুল নিয়ে একটু গল্প করি।—নজরুলের সঙ্গে অগ্রজ শ্রেষ্ঠ কবি রবীন্দ্রনাথ আর পরবর্তী শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দের সম্পর্কের দ্বন্দ্বসমাস। ওটা অনিবার্য। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দের কালে আমি থাকলে নিশ্চিতভাবে তাঁদের সঙ্গে আমার ভালো-মন্দ সম্পর্কের একটা গাঁটছড়া পড়তই। আমার আকঙ্ক্ষক্ষা নীরবতা। কিন্তু আমার বিধিলিপি একেবারে উল্টোটা।