Wednesday, February 3, 2016

চাভেজের প্রতিশ্রুতি পূরণে ‘মরিয়া’ বিরোধীরা!

কারাকাসের উপকণ্ঠের এই ভবনগুলোর
মতো দরিদ্রদের জন্য দেশজুড়ে বহু বাড়ি
বানি​য়েছেন প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ
রাজধানী কারাকাস থেকে গাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টার পথ কিউদাদ মিরান্দা। সেখানে গেলেই চোখে পড়ে অনেকগুলো ছিমছাম ভবন। আকাশে মাথা তুলে দাঁড়ানো এসব ভবনে ২০ হাজার মানুষের বাস, আগে যাঁরা ছিলেন বস্তির বাসিন্দা। বাড়িগুলো বানিয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ। বাস্তুহারা মানুষগুলোর হাতে তিনি তুলে দিয়েছিলেন ঘরের চাবি; আর তাঁরা চাভেজকে দিয়েছিলেন ভোট।
অবশ্য, চাভেজ মানুষগুলোকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ফ্ল্যাটগুলো তাঁদের নামে লিখে দেবেন। তখন কেউ ইচ্ছা করলেই নিজের বাড়ি বিক্রি করে দিতে পারবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি চাভেজ পূরণ করেননি।
কাঁড়ি কাঁড়ি সরকারি অর্থ ঢেলে এই গৃহায়ণ প্রকল্প যখন হাতে নেওয়া হয়েছিল, তখন চাভেজের বিরোধিতায় কোমর বেঁধে নেমেছিলেন বিরোধীরা। অনেকে সেই আন্দোলন থেকেই জনপ্রিয়তা পেয়ে আজ ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট সদস্য। গত মাস থেকে পার্লামেন্টের দখলও চাভেজবিরোধী জোট ডেমোক্রেটিক ইউনিটি রাউন্ড টেবলের (এমইউডি) হাতে। সেই জোটই এখন চাভেজের নেওয়া উদ্যোগের ফায়দা নিতে চাইছে।
কিউদাদ মিরান্দা কারাকাসসহ দেশজুড়ে চাভেজ ও তাঁর সমাজতন্ত্রী আন্দোলন বাস্তুহারাদের জন্য বানিয়েছিল হাজার হাজার বাড়ি। সেগুলোর মালিকানা এখন দরিদ্রদের হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে ভোট টানতে চায় চাভেজবিরোধীরা। অথচ চাভেজ যখন এসব প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন, তখন এই নেতারাই বলতেন, এটা চাভেজের ভোট কেনার একটা কৌশল।
ব্যাংক অব আমেরিকা মেলি লিঞ্চের অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সিসকো রড্রিগুয়েজ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এখন চাভেজমের (চাভেজের রাজনৈতিক আন্দোলন) জনপ্রিয় উপাদানগুলোকেই নকল করার চেষ্টা করছে।’
ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে চলতি মাসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় চাভেজবিরোধীরা। গত ১৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েই তারা দ্রুততার সঙ্গে পার্লামেন্ট থেকে চাভেজের ছবি সরিয়ে ফেলেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তির জন্য এরই মধ্যে খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত। এমনকি চাভেজের অনুগত বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকেও নানাভাবে শাসাচ্ছে তারা।
কিন্তু দেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতির কারণে আইনপ্রণেতারা জনপ্রিয় কিছু করতে বাড়তি চাপে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় বছরে ৭২০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ঘটতে পারে। খাদ্যসংকট ক্রমেই বাড়তে থাকায় দোকানগুলোর সামনে মানুষের সারিও ক্রমেই লম্বা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে বিবেচিত তেলের মূল্য কমতেই আছে। আর প্রেসিডেন্ট পদে চাভেজের অনুগত মাদুরো থাকায় অর্থনীতি-সংক্রান্ত নীতিতে পার্লামেন্টের হাতে কোনো ক্ষমতা নেই। সুতরাং, চাভেজবিরোধী আইনপ্রণেতারা এখন চাভেজ ও তাঁর অনুসারীদের নির্মিত বাড়িগুলোর দিকেই ঝুঁকছেন।
ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৩ সালে মারা যাওয়া চাভেজ সুউচ্চ ভবন বানিয়ে দেশের দরিদ্র মানুষগুলোকে বস্তি থেকে সেখানে নিয়ে ঠাঁই দেওয়ার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটা শুরু করে দিয়েছিলেন। পরে মাদুরো তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। কিন্তু চাভেজের আগের সরকারগুলোও ভোটারদের বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার নজির রেখেছে।
এ-সংক্রান্ত আইনের খসড়া লেখার কাজে নিয়োজিত আইনপ্রণেতা হুলিও বোর্হেসের যুক্তি, এসব বাড়ি দরিদ্র মানুষগুলোকে প্রথমবারের মতো পুঁজি দেবে। এটা ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে সাহায্য করবে। এটা এখন থেকে দরিদ্র মানুষগুলোকে তাদের নিজেদের ভাগ্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। তিনি বলেন, ‘লোকজনের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যেন তারা শিশু। এই আইন আপনাকে বাড়ি বিক্রি ও এর উত্তরাধিকার নির্বাচনের সুযোগ করে দেবে, যা এখন আপনি করতে পারছেন না।’
তবে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সমর্থকদের ভাষ্য, প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন তাঁরা। অথচ, বিরোধীরা এখন তার কৃতিত্ব নিতে মরিয়া। মাদুরোর ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির আইনপ্রণেতা দারিও ভিভাস বলেন, ‘আমরাই লোকজনকে বাড়ি দিয়েছি। হুলিও বোর্হেসরা একটি বাড়িও বানায়নি।’

হারলেন ট্রাম্প, টিকলেন হিলারি by হাসান ফেরদৌস

আইওয়াতে দলীয় ককাসে স্বামী বিল ক্লিনটনের সঙ্গে
হিলারি ক্লিনটন। সোমবার রাতে ডে ময়েন শহরে
২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পরীক্ষায় ব্যর্থ হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বিলিয়নিয়ার ক্যাসিনো ব্যবসায়ী, তাঁর নিজের কথায়, জিততে ভালোবাসেন। নিজের বিজয় সম্পর্কে তিনি এতটা নিশ্চিত ছিলেন যে আইওয়া ককাসের ঠিক আগ মুহূর্তে অনুষ্ঠিত সপ্তম বিতর্কে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তাঁকে ডিঙিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিলেন অতি-কট্টর রক্ষণশীল সিনেটর টেড ক্রুজ, মুখ্যত আইওয়ার ইভানজেলিক্যাল ভোটারদের সমর্থনে। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিও, যিনি তৃতীয় স্থানে থেকেও নিজেকে বিজয়ী ভাবছেন।
অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান দুই প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও বার্নি স্যান্ডার্স, প্রায় সমান সমান ভোট পেয়েছেন। এই ফলাফল খুব বিস্ময়কর ছিল না, যদিও একজন ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট’-এর কাছ থেকে এমন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিলারিকে নিঃসন্দেহে বিস্মিত ও কিঞ্চিৎ হতোদ্যম করেছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পর তিনি এ দেশের সবচেয়ে পরিচিত নাম, নির্বাচনী তহবিল ও সংগঠনের দিক দিয়ে তিনি অন্য সবার চেয়েও এগিয়ে। তা সত্ত্বেও স্যান্ডার্সকে নিশ্চিতভাবে পরাস্ত করার অক্ষমতা তাঁর দলের ভেতরে উদ্বেগের সঞ্চার করেছে।
রিপাবলিকান প্রার্থী
টেড ক্রুজ ২৭.৭%
আইওয়া তাঁর অতি রক্ষণশীল ইভানজেলিক্যাল প্রবণতার জন্য সুবিদিত। এই রাজ্যের রিপাবলিকান সমর্থকেরা বরাবর তাদের চোখে সবচেয়ে ‘খ্রিষ্টপন্থী’ এমন প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যদিও জাতীয়ভাবে তাঁরা মোটেই সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থীদের মধ্যে পড়েন না। যেমন, ২০০৮ ও ২০১২ সালে যথাক্রমে ধর্মযাজক মাইক হাকাবি ও ‘স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি রক্ষণশীল’ সিনেটর রিক স্যান্টোরাম এই রাজ্যের বিজয়ী শিরোপা ছিনিয়ে নেন। বলাই বাহুল্য, দুজনের একজনও নির্বাচনী দৌড়ে খুব একটা এগোতে পারেননি।
২০১৬ সালের নির্বাচনে টেড ক্রুজ নিজেকে সবচেয়ে অধিক ‘খ্রিষ্টপন্থী’ হিসেবে উপস্থিত করেন। রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে ক্রুজ তাঁর ‘এস্টাবলিশমেন্ট বিরোধী’ অবস্থানের কারণে নিন্দিত হয়েছেন। স্বাধীনচেতা বলে পরিচিত আইওয়ার ভোটারদের কাছে ক্রুজের এই ওয়াশিংটন-বিরোধী অবস্থান আদৃত হয়েছে। তবে শেষ বিচারে যে কারণে তিনি ভোটের হিসাবে শীর্ষস্থান দখল করেন, তা হলো তৃণমূল পর্যায়ে অত্যন্ত কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা। ট্রাম্পের পরাজয়েরও সেটি প্রধান কারণ। মিডিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত মনোযোগ পেয়ে ট্রাম্প নিজেকে বিজয়ী ভাবা শুরু করেছিলেন, অথচ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের জন্য এই রাজ্যে কোনো অর্থপূর্ণ প্রচারণা গড়ে তুলতে পারেননি।
রিপাবলিকান প্রার্থী
ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৩.৪%
ক্রুজ ও ট্রাম্প উভয়েই রিপাবলিকান দলের নেতৃত্বের কাছে আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত। দলের সবচেয়ে রক্ষণশীল সমর্থকদের মধ্যে তাঁদের জনপ্রিয়তা থাকলেও জাতীয়ভাবে তাঁরা ‘নির্বাচনযোগ্য’ নন। তাঁরা দুজনেই সংখ্যালঘু, বিশেষত আফ্রিকান-আমেরিকান ও ম্যাক্সিকান-আমেরিকানদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। কিঞ্চিৎ মধ্যপন্থী মার্কো রুবিওর তৃতীয় স্থান অর্জন করে রিপাবলিকান এস্টাবলিশমেন্টের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করেছেন। অধিকাংশ ভাষ্যকার একমত, আইওয়া ককাসের পর রুবিও রিপাবলিকান চাঁদাদাতাদের সুনজরে পড়বেন।
জেব বুশ, যিনি নিজ দলের নেতাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়, আইওয়ায় মাত্র ২ শতাংশ ভোট পেয়ে কার্যত নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছেন।

রাজদণ্ড হাতে সিংহাসনে জোকার

র‌্যাংকিং জিনিসটা তাহলে একেবারে ফালতু নয়! রাজদণ্ড হাতে মেলবোর্নে সিংহাসনের বসলেন দুই নাম্বার ওয়ান। আগের দিন প্রমীলা এককের শিরোপা জিতেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। কাল পুরুষ এককে শেষ হাসি হাসলেন নোভাক জোকোভিচ। সুপার সানডের থ্রিলার ফাইনালে অ্যান্ডি মারেকে ৭-৬ (৭/৫), ৬-৭ (৪/৭), ৬-৩, ৬-০ গেমে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে নিজের পঞ্চম শিরোপা উঁচিয়ে ধরলেন জোকার। গড়লেন নতুন ইতিহাস। উক্ত যুগে পুরুষ এককে পাঁচবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের কীর্তি নেই আর কারও। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ছয়বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছেন রয় এমারসন। তার সেই কীর্তি সাদা-কালো যুগের। জোকোভিচকে বলা হয় ‘কিং অব মেলবোর্ন পার্ক’। ২০০৮ সালে এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা জিতেছিলেন সার্ব তারকা। কাল জিতলেন নিজের অষ্টম গ্র্যান্ডস্লাম খেতাব। মেলবোর্নে জোকারের রেকর্ড এক কথায় দুর্দান্ত। পাঁচবার ফাইনালে উঠে পাঁচবারই চ্যাম্পিয়ন। জোকোভিচ যদি মেলবোর্নের রাজা হন, তবে মারেকে বলতে হবে ট্রাজিক হিরো! চারবার ফাইনালে খেলে চারবারই রানারআপ।
মেলবোর্নে নিজের চার ফাইনালের তিনটিতেই জোকোভিচের কাছে হেরেছেন মারে। সবমিলিয়ে ব্রিটিশ তারকার বিপক্ষে হেড-টু-হেডে ১৬-৮-এ এগিয়ে জোকোভিচ। ইউএস ওপেন ও উইম্বলডন ফাইনালে জোকোভিচের বিপক্ষে জয়ের সুখস্মৃতি থাকলেও মেলবোর্নের গেরোটা কিছুতেই যেন খুলতে পারছেন না মারে। কাল প্রথম দুই সেটে লড়াইটা হয়েছে সেয়ানে সেয়ানে। প্রথম সেট টাইব্রেকারে হারার পর দ্বিতীয় সেট টাইব্রেকারে জিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন মারে। কোর্টের কোন পাশে কে খেলছেন, তা বোঝা হাচ্ছিল না! কিন্তু লড়াকু ও নাছোড়বান্দা মনোভাব তৃতীয় সেটে আর ধরে রাখতে পারেননি মারে। লম্বা-লম্বা র‌্যালি খেলে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে চতুর্থ সেটে মরণছোবল দেন জোকার। ৬-০ গেমে উড়য়ে দেন মারেকে। বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম জিতে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখাটাও নিশ্চিত করেছেন জোকোভিচ। রানারআপ হওয়ার সুবাদে পরবর্তী র‌্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে চারে উঠে আসবেন মারে। এদিকে কাল মিশ্র দৈত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মার্টিনা হিঙ্গিস-লিয়েন্ডার পেজ জুটি। ফাইনালে তারা ৬-৪, ৬-৩ গেমে হারিয়েছেন মাদেনোভিচ-নেস্টর জুটিকে। এএফপি।

মন্দির নির্মানে জমি, অর্থ দিয়েছেন মুসলিমরা

মধ্য প্রদেশে রাম মন্দির নির্মাণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মুসলিমরা। এ কাজে তারা জমি দিয়েছেন। সংগ্রহ করেছেন ৫০ হাজার রুপি। অনলাইন জি নিউজ বলেছে, এর মাধ্যমে সেখানকার মুসলিমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। মধ্য প্রদেশের মরেনা জেলার খেদাকালা গ্রাম। মুসলিমদের জন্য গ্রামটি এরই মধ্যে অনেক পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। কারণ, ওই গ্রামে নির্মাণ করা হবে ‘শ্রী রাম জানকি মন্দির’। তাতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে মুসলিমরা অর্থ সংগ্রহ করেছেন। নিজেরা যে যেভাবে পারেন তার জন্য সহায়তা করছেন। কেউ বা জমি দান করছেন। উল্লেখ্য, ওই গ্রামে ৮০টিরও বেশি মুসলিম পরিবার বসবাস করেন। খেদাকালা গ্রামের শান্ত কুমার সিং বলেন, সম্ভাব্য সব উপায়ে মন্দির নির্মাণে সহায়তা করছেন মুসলিম ভাইয়েরা।

দলবাজি by সাজেদুল হক

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্টি ভিখুর মতো চরিত্র তাদের। জনগনের সব সম্পদ গ্রাস করতে চান তারা। ঘরে-বাইরে তারা কায়েম করেছেন দলতন্ত্র। দলীয় প্রধানের চেয়েও তারা বড় নেতা মনে করেন নিজেদের। আসল পেশা হারিয়ে রাজনীতি ক্রমশ পরিণত হয় তাদের প্রধান পেশায়। কোথায় নেই আজ দলতন্ত্র। কোথায় নেই দলবাজি। মর্যাদার লড়াই বাংলাদেশে আজ চলমান। সবচেয়ে বেশি শোনা যায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মর্যাদার-অমর্যাদার কথা। তারা বলছেন, বেতন বাড়ানোর জন্য নয়, নিজেদের মর্যাদা নিয়েই আন্দোলন করছেন তারা। এ সত্য অস্বীকার করার জো নেই, ক্ষমতার খুঁটি যাদের যত শক্ত রাজদরবারে তাদের গুরুত্ব তত বেশি। এ আর নতুন কি? গণতান্ত্রিক দুনিয়ার কথা অবশ্য আলাদা। বাংলাদেশে আজ কোনো কোনো গোষ্ঠী ক্ষমতার রাজনীতিতে নিজেদের খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। এবং আসলে তারা গুরুত্বপূর্ণও। যে কারণে তাদের কদর বেশি। বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে তাদের সন্তুষ্টির বিষয়টিই প্রধান বিবেচ্য। সে সুযোগ তারা আদায় করেও নিয়েছেন। দুটি শ্রেণিই এক্ষেত্রে প্রধান। শিক্ষকরা ক্ষমতার রাজনীতিতে অতটা গুরুত্বপূর্ণ নন। কিন্তু গুরুত্বহীন করার জন্য তাদের নিজেদের দায় কম নয়। শিক্ষকরা আজ এক একটি রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠন। সাদা-নীল-গোলাপী যত নামই দেয়া হোক না কেন আদতে তারা কেউ আওয়ামী লীগ, কেউ বিএনপি, কেউ জামায়াত। মূল দলের নেতাদের তো অবশ্যই, কখনও কখনও তারা ছাত্রসংগঠনের নেতাদের কাছেও করুণাপ্রার্থী। কেন তাদের নিয়ে আজ মশকরা করা হয়। দলের কাছে নিজেদের বিক্রি করে দেয়ার জন্যই শিক্ষকদের এ পরিণতি বরণ করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে আইনজীবীরা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জাতির যে কোনো ক্রান্তিকালে সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের মতো মানুষেরা চেষ্টা করেছেন দূতিয়ালির। কখনও তারা সফল হয়েছেন, কখনওবা ব্যর্থ। সেই হিরণ্ময় মানুষেরা আজ কোথায়। আদালতপাড়ায় শতভাগ কায়েম হয়েছে দলতন্ত্র। পার্টি অফিস থেকেই ঠিক করে দেয়া হয় কোন পক্ষের নেতা হবেন কারা। আইন পেশার মতো স্বাধীন পেশায় নিয়োজিতরাও যে কারণে আজ কোন স্বাধীন ভূমিকা রাখতে পারছেন না। তারা আজ বিভক্ত সমন্বয় পরিষদ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামসহ নানা শিবিরে। চিকিৎসকরাও লিপ্ত রয়েছেন একই ধরনের দলবাজিতে।
অন্য সব পেশার মতো সাংবাদিকতাও আজ দলবাজিতে আক্রান্ত। আওয়ামী লীগ-বিএনপি ক্লাবে বিভক্ত সাংবাদিকরা। বিভক্তির মাঝেও আবার বিভক্তি। দখল-পালটা দখলে নিজেদের জড়িয়েছেন সাংবাদিকরা। সরাসরিই রাজনৈতিক দলের লেজুড়ভিত্তিতে মগ্ন হয়েছেন তারা। দলীয় প্রধান অখুশি হন এমন কোনো বক্তব্য তারা রাখেন না। কখনও কখনও দলবাজিতে দলীয় নেতাকর্মীদের চেয়েও আজ এগিয়ে সাংবাদিকরা।
জনপ্রশাসনে গত কয়েক বছর ধরে চালু হয়েছে ওএসডি কালচার। এর মূলেও রয়েছে দলতন্ত্র। দলবাজরা বাগিয়ে নিচ্ছেন পদোন্নতিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। প্রশাসনের সর্বত্র তাদের দাপট। বিরোধী সমর্থক হিসেবে পরিচিতদের তারা করে রাখেন কোণঠাসা। ওএসডি হয়ে সময় কাটাতে হয় তাদের। রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা গচ্ছা যায় এতে। তাতে অবশ্য দলতন্ত্রের কিছু যায় আসে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেকেও এখন দলবাজিতে আক্রান্ত। বাহিনীর অনেকেই এখন বক্তব্য রাখেন রাজনৈতিক নেতাদের মতো। বিরোধীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।
বাংলাদেশে আলেম-ওলামারা বহু আগ থেকেই বিভক্ত। রাজনীতির সীমারেখা তাদের বিভক্তিকে আরও প্রকট করেছে। নিজেদের রাজনৈতিক লাইন অনুযায়ী ধর্মের ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন তাদের অনেকে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও বিরোধী সমর্থক আলেমদের বিভক্তিরেখা খুব স্পষ্ট। এক ধরনের আলেম, কথিত পীর প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছেন। তাদের অনুষ্ঠানে দেয়া হচ্ছে পৃষ্ঠপোষকতা। অন্যদিকে, সরকারবিরোধী বলে পরিচিতদের ওপর নেমে আসছে খড়গ।
সারা দুনিয়ায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা নিরপেক্ষভাবে তাদের ভূমিকা পালন করে থাকেন। বিশেষ করে রাষ্ট্রের নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনগণের পাশে দাঁড়ান তারা। তবে বাংলাদেশে নাগরিক সমাজও আজ স্পষ্ট দুভাগে বিভক্ত। মানুষ তাদের চিনেন রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে। অবশ্য অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, রাষ্ট্রের ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে নাগরিক সমাজ তাদের ভূমিকা রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হচ্ছে, আনুষ্ঠানিকভাবেই বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ দুই ভাগে বিভক্ত। শত নাগরিক, হাজার নাগরিক- নানা নামে এই বিভক্তি।
রাজনীতির এই ভয়ঙ্কর বিভক্তি গ্রাস করেছে বাংলাদেশের গ্রামগুলোকেও। গ্রামগুলোতে আগে কোনো রাজনীতি ছিল না বিষয়টা এমন নয়। তবে রাজনীতির বাইরেও মানুষের মাঝে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তবে দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচন তৃণমূলের মানুষের মধ্যে বিভক্তির রেখাকে আরও স্পষ্ট করেছে। গোষ্ঠীতন্ত্রের সঙ্গে দলতন্ত্রের সংযুক্তি তৈরি করেছে নতুন সংকট।
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, ছারপোকারা ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। রক্তচোষা ছারপোকাদের মতো রক্তচোষা দলবাজি গ্রাস করেছে বাংলাদেশের সব সেক্টরকে। দলবাজি এখন এক গভীর অসুখের নাম। যদিও দলবাজরা সুখেই আছেন।

অমিত শাহর মাছের চোখ আসাম by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ
অমিত শাহ আক্ষরিক অর্থেই বৃষস্কন্ধ। বিজেপির এই সর্বভারতীয় সভাপতির রাজনৈতিক শক্তির মূল আধার যিনি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যিনি নিজেই নিজের বুকের ছাতির মাপ জানাতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত হননি, অমিত তাঁর চেয়েও বিপুলায়তন। বয়স তাঁর মাত্রই ৫১। কিন্তু দায়িত্ব, অভিজ্ঞতা ও গাম্ভীর্য তাঁকে এমন করে তুলেছে, যাতে মনে হয় তিনি ও তাঁর রাজনৈতিক গুরু সমবয়সী।
এই মানুষটির ঘাড়েই দলের দায়িত্ব দ্বিতীয়বারের মতো সঁপে দেওয়া হয়েছে। তিন বছর পর দেশ যখন আবার সাধারণ নির্বাচনের জন্য তৈরি হবে, তত দিন পর্যন্ত অমিত শাহই থাকবেন বিজেপির দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। এই নির্বাচন সেই অর্থে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিজেপির গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী কোনো সভাপতি পরপর দুবারের বেশি (মেয়াদ তিন বছরের) পদে থাকতে পারবেন না। সেই ফরমান অনুযায়ী অমিত শাহকেও ২০১৯ সালের পর সরে যেতে হবে। অথচ অমিত একটানা ছয় বছর পদে থাকতে পারছেন না ভাঙা বছরে সভাপতি হওয়ায়। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে চমকপ্রদ সাফল্য এনে দেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি তো বটেই, গোটা দলই (আদভানি-জোশিদের মতো দলের বৃদ্ধ-ব্রিগেড বাদে) তাঁকে সভাপতি দেখতে ব্যাকুল হয়। ভোট পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন রাজনাথ সিং। নরেন্দ্র মোদি তাঁকে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করায় সভাপতির আসন রাজনাথকে খালি করতে হয়। মোদি সেই শূন্যস্থানে অমিতকে বসিয়ে দেন। এর আগে এক জনসভায় তিনি বলেছিলেন, বিজেপির এই ভারতজয়ের ম্যান অব দ্য ম্যাচ হলেন অমিত শাহ।
প্রবল স্রোতের মুখে খড়কুটো তো কোন ছার, বড় বড় পাথরও ভেসে যায়। মোদি-মাহাত্ম্যের রেশ ধরে সাধারণ নির্বাচনের পরে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, ঝাড়খন্ড ও জম্মু-কাশ্মীরের ভালোমতো সাফল্য এমন একটা ধারণার জন্ম দেয়, যেন মোদি-শাহ জুটিই বিজেপি ও ভারতের ভবিতব্য। সেই ধারণা প্রথম ভালোমতো হোঁচট খায় দিল্লিতে। অজ্ঞাতকুলশীল অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর হামাগুড়ি দেওয়া দল আম আদমি পার্টির হাতে প্রবল পরাক্রম বিজেপিকে এভাবে হেনস্তা হতে হবে, দুঃস্বপ্নেও কেউ ভাবতে পারেনি। ৭০ আসনের মধ্যে মাত্র তিনটি জেতে বিজেপি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করতে রাতারাতি যাঁকে আমদানি করা হয়, সেই কিরণ বেদিরও হেরে যাওয়া প্রকারান্তরে মোদি-শাহর মুখে কালি লেপে দেয়। কিন্তু তখনো তাঁরা বোঝেননি, আরও বেশি অপমান অপেক্ষায় আছে বিহারে।
বিহারে বিজেপির ভরাডুবি নিঃসীম শূন্যে উড়ন্ত বিজেপিকে আছড়ে ফেলে দেয় বাস্তবের রুক্ষ জমিতে। ভোটের ফল বেরোনোর আগে থেকেই একটা কথা চাউর হয়েছিল, বিহারে বিপর্যয় ঘটলে অমিত শাহকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে পাঠানো হবে। এই জল্পনার কিছুটা কারণও ছিল। গুজরাট থেকে নরেন্দ্র মোদির দিল্লি উত্তরণ রাজ্য রাজনীতিতে একটা শূন্যতার সৃষ্টি করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী আনন্দিবেনের পক্ষে সেই শূন্যতা ভরাট করা সম্ভব ছিল না। ইতিমধ্যে সংরক্ষণের দাবিতে রাজ্যের প্যাটেল সমাজে আলোড়ন তুলে দেন হার্দিক প্যাটেল নামে আরও এক অজ্ঞাতকুলশীল। ২৩ বছরের এই যুবক গোটা রাজ্যকে উত্তাল করে দেন। দিল্লি ও বিহারের বিপর্যয়ের দরুন অমিত শাহর নেতৃত্বের প্রতি প্রশ্ন উঠে যাওয়ায় অনেকের ধারণা হয়েছিল, রাজ্য সামলাতে কেন্দ্র থেকে সরিয়ে অমিত শাহকেই পাঠানো হবে গুজরাটে, দুই দিক সামাল দিতে। কিন্তু তা হলো না। অমিত শাহই দ্বিতীয়বারের জন্য দায়িত্ব পেলেন।
এ জন্য অমিত শাহ চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন নরেন্দ্র মোদির প্রতি। কেননা, শাহ ছাড়া মোদি আর কাউকে চিন্তায়ও আনেননি। মোদির সুরে না নেচে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) উপায়ও ছিল না। কারণ, দলে দ্বিতীয় নেতৃত্ব হিসেবে দল ও সংঘ আর কাউকে তুলে ধরতে পারেনি।
অটল বিহারি বাজপেয়ি বরাবরই ছিলেন বিজেপির মুখ। তিনি সংগঠন করেননি কখনো। সাংগঠনিক দায়িত্ব যা কিছু পালন করার করেছিলেন লালকৃষ্ণ আদভানি। বিজেপিতে নেতা তৈরি কেউ যদি করে গিয়ে থাকেন, তা হলেন আদভানিই। প্রয়াত প্রমোদ মহাজন থেকে শুরু করে দলে আজ যাঁরাই কেউকেটা, সবাই আদভানির হাতে তৈরি। কার নাম করব? নরেন্দ্র মোদি? অরুণ জেটলি? সুষমা স্বরাজ? রাজনাথ সিং? ভেঙ্কাইয়া নাইডু? উমা ভারতী? শিবরাজ সিং চৌহান? বসুন্ধরা রাজে? বিজেপিতে পঞ্চাশ থেকে পঁয়ষট্টি—এমন একজনকেও পাওয়া যাবে না, যাঁর রাজনৈতিক জীবন আদভানিকে কেন্দ্র করে পাক খায়নি। এখন এক অদ্ভুত খরা। নতুন নেতা কোথাও সেভাবে উঠে আসছেন না। মোদি একজনকেই তুলে এনেছেন। তিনি অমিত শাহ।
অমিত শাহকে একান্তই যদি সরাতে হতো, যদি তাঁকে গুজরাটে পাঠাতে হতো, কাকে তা হলে দায়িত্বে বসানো হতো, সেই চিন্তা বিজেপি যে করেনি তা নয়। কিন্তু তা করতে নেতৃত্বের কালঘাম ছুটে গিয়েছিল। আরএসএসেরও। দুটি নাম আলোচনার স্তরে উঠে এসেছিল। রাজস্থানের ওম মাথুর ও হিমাচল প্রদেশের জগৎ প্রকাশ নাড্ডা। কিন্তু দুজনের কেউই সর্বজনগ্রাহ্য নন। দলের নিয়ম হলো, এক ব্যক্তি এক পদ। ফলে মন্ত্রিসভার কাউকে যে ডবল দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেই গুড়েও বালি। দিল্লি ও বিহারের ধাক্কার ফলে নেতারাও এ কথা বুঝে গেছেন, পরের রাজ্যগুলো কঠিন ঠাঁই। ফলে মন্ত্রিত্ব ফেলে কেউ সংগঠনের কাঁটার মুকুট পরতে রাজি হননি। অমিত শাহর জন্য দ্বিতীয় দফার উত্তরণ তাই মসৃণ হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন হলো, পরবর্তী তিন বছর অমিত শাহ অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো বাধাহীন এগোতে পারবেন কি না। সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো, কঠিন, খুবই কঠিন কাজ। আগামী তিন মাসের মধ্যে পাঁচ রাজ্যে ভোট। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পদুচেরি। প্রতিটি রাজ্যই কঠিন ঠাঁই। পরের বছর পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশ। তার পরেই সাধারণ নির্বাচনের দামামা বেজে যাবে।
বিজেপির ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলছে এ বছরের পাঁচ রাজ্য বিধানসভার ভোট। এই পাঁচ রাজ্যের মধ্যে কেরালা, তামিলনাড়ু ও পদুচেরির কথা আলোচনা না করলেও চলবে। কেননা, ভোট চুকেবুকে গেলে দেখা যাবে, বিজেপি যে তিমিরে ছিল, হয়তো সেই তিমিরেই থেকে গেছে। এই কিছু মাস আগেও বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে খুব তেড়েফুঁড়ে এগোতে চাইছিল। তাদের মনে এমন একটা ধারণা জন্মেছিল যে একটু চাপ দিলেই বোধ হয় মমতা-সাম্রাজ্য ঝুরঝুর করে ঝরে যাবে। সেই ভাবনা ও কল্পনা যে আকাশ–কুসুম, কিছুদিনের মধ্যেই তারা তা টের পেয়েছে। তবে মচকানো মানে খেলা শুরুর আগেই হেরে বসে যাওয়া। বিজেপি তা জানে। তাই রাজ্যে নেতাদের ভিড় তারা বাড়িয়েই চলেছে। তবে আরও পাঁচ বছর পর কী হবে, সেই জল্পনায় না গিয়ে বলা যায়, এবারের ভোটে রাজ্য দখলের দিবাস্বপ্ন বিজেপির না করাই ভালো। অঙ্কটা খুবই সহজ। ২০১১ সালে সিপিএমকে সরাতে রাজ্যে একটা রংধনু-জোট তৈরি হয়েছিল। এবার তা হচ্ছে না। কাজেই মমতা-রথ ড্যাং ড্যাং করে এগিয়ে যাবে।
এ বছর অমিত শাহ সবেধন নীলমণি। অতএব, শুধুই আসাম। আসামই তাঁর মাছের চোখ। কিন্তু সেখানেও জোর দিয়ে বলা যাবে না, শেষ পর্যন্ত বিজেপিই সরকার গড়বে। এটা ঠিক, ১৫ বছর ধরে কংগ্রেস আসামে একক ক্ষমতায় আসীন। ১৫ বছর ধরে তরুণ গগৈ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির কোনো অভিযোগও কেউ আনতে পারেনি। কিন্তু এটাও ঠিক, কংগ্রেসের ঘর ভেঙে তাদের প্রধান ‘স্ট্র্যাটেজিস্ট’ হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে বিজেপি বের করে এনেছে। ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকে’ বড় করে তুলে ধরে তারা আসামে ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বড়ো উপজাতিদের সঙ্গে তারা জোট বেঁধে নিয়েছে এবং চেষ্টা চালাচ্ছে ছোট ছোট অথচ খুবই সংঘবদ্ধ জনজাতিদের সঙ্গে জোট বাঁধার। অর্থাৎ, ২০১১ সালের পশ্চিমবঙ্গের ঢঙে আসামে কংগ্রেসবিরোধী একটা রংধনু জোট তৈরিতে বিজেপি আগ্রহ নিয়ে এগোচ্ছে। এ খেলায় অমিত শাহ যদি সফল হন, তাহলে বলা যেতেই পারে, আসামের লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি হবে।
তবে একটা বড় ‘কিন্তু’ অমিত শাহর ঘাড়ের ব্যথা হিসেবে থাকছেই। বদরুদ্দিন আজমল। এই ‘আতর কিং’য়ের দল অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) রাজ্যে যে প্রভাব, তাতে নয় নয় করেও গোটা বিশেক আসন তারা পাবেই। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে আর যা–ই হোক, অমিত শাহর সঙ্গে তিনি যে হাত মেলাবেন না, তা এখনই বলে দেওয়া যায়। বদরুদ্দিন আজমল কিছুদিন ধরেই জোটের হাত তরুণ গগৈয়ের দিকে বাড়িয়ে রেখেছেন। গগৈ সেই হাত ধরেননি। তাঁর আশঙ্কা, ভোটের আগে বদরুদ্দিন আজমলের সঙ্গে হাত মেলালে কংগ্রেসের মূল শক্তি অহমিয়া, হিন্দু বাঙালি এবং হিন্দু ও মুসলমান অহমিয়া ভোটে বিজেপি দাঁও মারতে পারে। অতএব, জোট যদি করতেই হয়, ভোটের পর, আগে নয়।
রাজীব গান্ধী আসাম চুক্তি করার পর ক্ষমতায় এসেছিল আসাম গণপরিষদ। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন প্রফুল্ল মহন্ত। সেটা ছিল এক সুনামি। সেই দুর্দিনেও কংগ্রেস পেয়েছিল ২৫টি আসন। এবার রাজ্যে তেমন কোনো ঝড় নেই। তবু কংগ্রেসের যাবতীয় প্রতিরোধ ভেঙে ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে অমিত শাহ আসাম লুট করলে সেটা হবে কিছুটা ফিকে হয়ে যাওয়া তাঁর পাগড়ির আরও একটা ঝলমলে পালক। বিজেপির আসাম দখল বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এই রাজ্যের সমাজ ও রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর তার প্রভাবও অস্বীকার করা যাবে না।
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রথম আলোর নয়াদিল্লীর প্রতিনিধি।

অর্থপাচারের মহোৎসব ও দুর্নীতি by হারুন-আর-রশিদ

বাংলাদেশে দুর্নীতির যে মহোৎসব চলছে, সেটা টিআইবিসহ আরো বহু সংগঠন থেকে দীর্ঘ দিন ধরে বলা হচ্ছে। সরকার বিষয়টিকে তেমন আমলে নেয়নি। গত ৯ ডিসেম্বর ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশকে অন্যায়মুক্ত করে প্রকৃত স্বাধীন দেশে রূপ দিতে না পারলে আগামী প্রজন্ম আমাদের শাসকদের ক্ষমা করবে না। আজ বাংলাদেশ ৪৫ বছরে যে অবস্থানে (মালয়েশিয়ার পর্যায়ে) যাওয়ার কথা ছিল, তা পারেনি অসৎ চক্রগুলোর কারণে। তারা গণতন্ত্রকে নিজেদের আদলে গঠন করে নিয়েছে, যাতে কৌশলে লুটপাট করা সহজ হয়। ’৭১-এর স্বপ্ন যদি মানবতাবিরোধী সব কর্মকাণ্ডের কবর দেয়ার স্বপ্ন হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ দুর্নীতি, শোষণ, বৈষম্য, বিভাজন ও অশ্লীলতা থেকে মুক্ত একটি মডেল রাষ্ট্রের উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। ৪৫ বছর ধরে তা হতে দেয়া হয়নি। এটি ১৬ কোটি মানুষের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। জনগণ এর কার্যকর প্রতিবাদও গড়ে তুলতে পারেনি। বাংলাদেশকে যারা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেয়নি, তারা এক অর্থে অপরাধী।
একজন অর্থনীতিবিদ বলেছেন, ১৯৭৫-২০১৪- এই চার দশকে বাংলাদেশে সরকারিভাবে আসা দুই লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার অনুদানের ৭৫ ভাগই লুট হয়েছে।
১০ ডিসেম্বর ২০১৫ প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার লিড নিউজ ছিল- ‘আরো ৭৬ হাজার কোটি টাকা পাচার’। বাংলাদেশ থেকে ২০১৩ সালে ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার পাচার হয়েছে, যা টাকার অঙ্কে হিসাব করলে দাঁড়ায় ৭৬ হাজার ৩৬১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এই অর্থ আগের বছরের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। জিএফআই সাত বছর ধরে উন্নয়নশীল দেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে পাচার হচ্ছে, তা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। এবার ‘উন্নয়নশীল রাষ্ট্র থেকে অবৈধ অর্থের প্রবাহ ২০০৪-১৩’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত আমদানি-রফতানির সময়ে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে যত অর্থ পাচার হয়েছে, তা বাংলাদেশের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, পল্লী উন্নয়ন, শিক্ষা ও ভৌত অবকাঠামো খাতের মোট উন্নয়নবাজেটের সমান। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জা মো: আজিজুল ইসলাম বলেছেন, তিন বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্থবির হওয়ার পেছনে বড় কারণ হলো, অবৈধ পথে অর্থপাচারের ঘটনা। পাচাররোধে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রাজস্ব বোর্ডকে সমন্বিতভাবে অনুসন্ধানের পরামর্শ দিয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থপাচারের বিষয়টি তারা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, ‘আগামী দিনেও এ দেশ থেকে অর্থ পাচারের ঘটনা অব্যাহত থাকবে। কারণ, এটি অনেকাংশে সুশাসনের অভাবের সাথে জড়িত। আইন করে এটা ঠেকানো যাবে না।’ ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত উপরিউক্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাচার হলেও ২০১৩ সালে এর পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি। মোট কথা, অর্থ পাচার হওয়া দেশগুলোর মধ্যে খারাপ অবস্থানে গেছে বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৫৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা চার লাখ ৪১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। এই পাচারকৃত অর্থ দিয়ে অন্তত দুই বছরের বাজেট তৈরি করতে পারত বাংলাদেশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গড়ে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৫৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
শুধু ২০১৩ সালে পাচার হওয়া অর্থ টাকার অঙ্কে ৭৬ হাজার ৩৬১ কোটি ৪০ লাখ, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন খাতের সাতটি বাজেটের সমপরিমাণ অর্থ। পরিবহন খাতে বাজেট ২১ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ খাতে বাজেটে বরাদ্দ ১৬ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা, গৃহায়ন খাতে বাজেটে বরাদ্দ ১১ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। শিক্ষা খাতে বাজেট ১০ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা, পল্লী উন্নয়ন খাতে আট হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে ছয় হাজার ৮৩ কোটি টাকা এবং শিল্প খাতে বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ এক হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি প্রতিবেদনটিকে ‘আই ওপেনিং’ বা চোখ খুলে দেয়ার প্রতিবেদন হিসেবে মনে করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সাধারণত কর ফাঁকি দিয়ে টাকা পাচার করা হয়। অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে। ১০ ডিসেম্বর রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘কারো যদি হক বা অধিকার পাওনা থাকে, তা যেন দ্রুত পরিশোধ করা হয়। কর হলো রাষ্ট্রের হক।’
আমরা দেশটাকে স্বাধীন করলাম এ জন্যই কি- উপার্জন করব এ দেশে, আর টাকাগুলো পাচার করব বিদেশে? স্ত্রী-ছেলেমেয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়, যাতে টাকাগুলো নিরাপদে রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ধারাবাহিকভাবে অর্থ লুণ্ঠনের সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থ লুণ্ঠনের বড় সেক্টর হলো ভূমি অধিদফতর। এই সেক্টরে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে দুর্নীতির মাধ্যমে। দেশের রেলওয়ের প্রায় সাড়ে চার হাজার একর জমি ভূমিদস্যুদের দখলে চলে গেছে।
৪৪ বছর ধরে অবৈধ পথে যত টাকা একশ্রেণীর মানুষ লুটপাট করেছে, এর পরিমাণ সম্পর্কে অনেক বিশেষজ্ঞ এভাবে বক্তব্য দিয়েছেন- এই টাকা দিয়ে নতুন একটি বাংলাদেশ গড়া যায়। রাষ্ট্রের টাকা রাষ্ট্রের উন্নয়নের কাজে ব্যয় হলে বাংলাদেশ মালয়েশিয়াকে টপকে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব হতো না। সৎ ও নিষ্ঠাবান হতে পারিনি বলেই চার দশকে আমরা যে অবস্থানে যাওয়ার কথা, তার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারিনি। এই ব্যর্থতার দায় তাদেরই বেশি নিতে হবে, যারা বিগত চার দশকে দেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। জাপান ও সিঙ্গাপুরে কোনো খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ নেই। আছে মেধা, সততা ও দেশপ্রেম। বাংলাদেশে সবচেয়ে সস্তা হলো, মানবসম্পদ। খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদেও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। শুধু সততা ও সুশাসনের অভাবে দেশটা এগোতে পারছে না। অস্থিতিশীল রাজনীতি ও গণতন্ত্র বারবারই বেহাল দশায় পতিত হওয়া আমাদের উন্নয়নের যাত্রাপথে সব সময় প্রতিবন্ধক। রাজনীতিতে সহিষ্ণুতার অভাবেও দেশটাকে আমরা সাজাতে পারিনি। এক হিসাবে, যে টাকাগুলো বিগত এক দশকে পাচার হয়েছেÑ তা দিয়ে ২০০টি ভারী শিল্পকারখানা স্থাপন করা যেত। এর ফলে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো। দালালের খপ্পরে পড়ে সমুদ্রপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বহু জীবনের সর্বনাশই শুধু ঘটেনি, অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। দেশটাকে আমরা জোর করে অন্ধকারের সুড়ঙ্গের কিনারে পৌঁছে দিচ্ছি। দেশে ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেয়া হবে। এখানে বড় অঙ্কের নিয়োগবাণিজ্য আছে বলে ধারণা করা যায়। দলীয় রাজনীতির কোটার এই নিয়োগেও যে যত বেশি অর্থ দিতে পারবে, তার চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা তত বেশি। বাকি সবাই আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখার জন্য চাকরির বিজ্ঞাপনে বন্দী হয়ে থাকবে। দেশটা যখন যে ক্ষমতায় যায় শুধু যেন তার। বাংলাদেশে ‘রাজনীতি’ মুনাফা অর্জনের সহজতম বাণিজ্যে রূপ নিয়েছে। এই বাণিজ্যে পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় না। প্রয়োজন শুধু লবিং। দলীয় ক্যাডাররা বিনা চ্যালেঞ্জেই চাকরি পেয়ে যায়, তেমন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় না। পরীক্ষা নেয়া হলেও তা লোক দেখানো বা নিয়ম রক্ষার নাটক। এই যদি দেশের অবস্থা দাঁড়ায়, তাহলে পেশিশক্তির বিজয় ঘটবে। মেধা ও মানবিকতার পরাজয় ঘটবে। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার একটি মূল কারণ এটি।
প্রতিদিন দেশে ধর্ষণের চিত্র ফুটে উঠছে, নারীকে যেভাবে পণ্য হিসেবে গণ্য করে দাসপ্রথার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা একটি মুসলিমপ্রধান দেশে কখনো চিন্তাই করা যায় না। রাস্তাঘাটে, ব্যানারে, টিভি সিরিয়ালে দেখা যায়- নারীর দেহকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পণ্যের পর্যায়ে। ছেলেদের শরীর ঢাকা থাকলেও মেয়েদের টপলেস করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে একশ্রেণীর লোক। এটাও একধরনের বড়মাপের দুর্নীতি। সমাজ, রাষ্ট্র- সব কিছুই ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। দেশে নারী নির্যাতনের প্লাবন যে হারে বাড়ছে, তাতে সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তিরা শঙ্কিত। দুর্নীতি এখন বহুমাত্রিক। আগে দুর্নীতির পরিধি ছিল সীমাবদ্ধ। এখন সব স্তরে ও পর্যায়ে দুর্নীতি অনুপ্রবেশ করেছে। দুর্নীতির এমন এক সংস্কৃতির চর্চা চলছে, যেখানে অনেক সময়ে লাল-সবুজের বাংলাদেশকে খুঁজে পেতে কষ্ট হয়।
লেখক : গ্রন্থকার ও কলামিস্ট
harun rashidar@gmail.com

দশ-বারো বছরের মধ্যেই গ্যাস শেষ হয়ে যাবে

জ্বালানী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, যেভাবে আমাদের গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে, সে হিসেবে এভাবে গ্যাস আর দশ থেকে বারো বছর চলবে। যদি নতুন আবিষ্কৃত গ্যাস পাইপ লাইনে না আসে তাহলে আমাদের এই মজুদকৃত গ্যাস উল্লেখিত বছরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।
সংসদে আজ মঙ্গলবার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের পয়েন্ট অব অর্ডারের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
মাগরিবের বিরতির পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক পুনরায় শুরু হলে হাজী সেলিম পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে জ্বালানী তেলের দাম কমানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
জবাবে ফ্লোর নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে আমরা বিকল্প হিসেবে একটি পরিকল্পনা নিয়েছি। আবাসিক জ্বালানী খাতে পাইপ লাইনের ১২ শতাংশ মানুষ ব্যবহার করে। বাকিরা সবাই সিলিন্ডার বা লাকড়ি ব্যবহার করে। সকলে যাতে সুনিশ্চিতভাবে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি ব্যবহার করতে পারে সেজন্য আমরা একটি অ্যাকশন প্লান তৈরি করছি। আগামীতে আবাসিক খাতে আমরা কি ধরনের জ্বালানি দেব।
নসরুল হামিদ আরো বলেন, বেশ কিছু দিন যাবৎ গ্যাসের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এখন আপাতত প্রবলেম নেই। বাসা-বাড়িতে এখন গ্যাস নিয়মিত হয়ে গেছে। কিছুদিন গ্যাসের পাইপ লাইনে ময়লা দেখা গিয়েছিল একারণে সেটা পরিস্কার বা মেইনটেনেন্সের জন্য গ্যাসের প্রেশারটা কমিয়ে দেয়া হয়েছিল।
জ্বালানী তেলের লাভের টাকা উন্নয়নে খরচ করি
তিনি বলেন, বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমে গেলেও এখনো আমরা তা কমাতে পারিনি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)র আর্থিক লাভের টাকা আমরা পকেট রেখে দেই নাই। বা কোন জায়গায় রাখি নাই। উন্নয়নে খরচ করি। পাইপ লাইন তৈরির করার জন্য এই টাকাগুলো ব্যবহার করছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুধু ডিজেল আমদানি হয় কিন্তু পেট্রোল আমদানি হয় না। পেট্রোলের চাহিদা বাড়ানোর জন্য এর দাম ৩০ টাকা কমানো যেতে পারে। এতে সিএনজি ব্যবহার কমে যাবে। যে গাড়িতে আমরা সিএনজিতে গ্যাস দেই এতে এটা কমে যাবে। তখন এটা আমরা শিল্পতে ব্যবহার করতে পারব।
নসরুল হামিদ বলেন, মূল্য বেশি হওয়ায় জ্বালানি তেলে অবশ্যই অতিরিক্ত মুনাফা হচ্ছে। কিন্তু বিপিসি ৩২ হাজার কোটি টাকা দেনা ছিল। বর্তমানে এটা কিছুটা কমে এসেছে। গত বছর দশ হাজার কোটি টাকার মতো অতিরিক্ত পেয়েছি। সেখান থেকে সাত হাজার টাকা চারটি ব্যাংকের দেনাসহ ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করেও দুই-আড়াই হাজার কোটি টাকা রয়েছে। বিপিসির নতুন পাইপ লাইন ইনফ্রাকটাচার উন্নয়ন চলছে। এই টাকাগুলো আমরা পকেট রেখে দেই নাই। বা বিপিসি কোন জায়গায় রেখে দেয় নাই। আমরা আগামীতে পাইপ লাইন করার জন্য এই টাকাগুলো ব্যবহার করছি।

‘বকশিশ’ দিলে মিটারে চলে কিছু অটোরিকশা by একরামুল হুদা

ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত সিএনজি চালিত অটোরিকশার মাত্র ৩৮ শতাংশ মিটারে চলাচল করে। মিটারে চলাচলকারী এসব অটোরিকশার ৮১ শতাংশই ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বকশিশ দাবি করে। এ ছাড়াও যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না ৭৩ শতাংশ অটোরিকশা।
বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। গত ২০ থেকে ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এক হাজার ৯৩টি অটোরিকশার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং এক হাজার ১৬০ জন অটোরিকশা যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিপ চলাকালীন সময় ও স্থানে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম দেখা যায়নি।  
রাজধানী ঢাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার নতুন ভাড়ার হার ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়। নতুন ভাড়া অনুযায়ী অটোরিকশার প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১২ টাকা। প্রতি এক মিনিট ওয়েটিংয়ের (যাত্রাবিরতি, যানজট ও সিগন্যাল) জন্য দুই টাকা। মালিকের জমা ৯০০ টাকা। কিন্তু ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পরও অনেক চালকই তা মানছেন না। এ অবস্থার মধ্যেই আজ পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম মহানগরেও অটোরিকশার বাধ্যতামূলকভাবে মিটারে চলাচল শুরু হচ্ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সচিব মুহাম্মাদ শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রামের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অটোরিকশার মিটারে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। চট্টগ্রামের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে সহযোগিতা করার জন্য দু-এক দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম যাবেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে মুহাম্মাদ শওকত আলী বলেন, পরিসংখ্যান সব সময় একটি বিতর্কের বিষয়। তা ছাড়া এই প্রতিবেদনটি বিআরটিএর কাছে দেওয়া হয়নি। জরিপটি করার সময় যদি বিআরটিএ অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হতো তাহলে হয়তো আরও ফলপ্রসূ ফলাফল পাওয়া যেত। তবে ১০০ ভাগ অটোরিকশা মিটারে চলে সেটা আমরাও বলছি না। যাতে সবাই মিটারে যায় বিআরটিএ বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টাই করছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, প্রাইভেট নিবন্ধিত অটোরিকশাগুলো ভাড়ায় যাত্রী বহন করে এবং ঢাকা জেলার অটোরিকশা বেআইনিভাবে ঢাকা মহানগরে প্রবেশ করছে। এসব অটোরিকশার ৩৮ শতাংশ মিটার বিহীনভাবে চলাচল করছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবেদনটি করার সময় ঢাকা মহানগরীর সদরঘাট, গুলিস্তান, প্রেসক্লাব, পল্টন, কাকরাইল, দৈনিক বাংলা, মতিঝিল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, খিলগাঁও চৌরাস্তা, ফকিরাপুল, ফার্মগেট, মালিবাগ, মিরপুর-১০, ধানমন্ডি, এলিফ্যান্ট রোড, শাহবাগ, বিমানবন্দর, মহাখালী এলাকাগুলো ঘুরে দেখা হয়েছে। এ সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ সব এলাকায় বিআরটিএ বা অন্য কোনো সংস্থার কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।
এই ব্যাপারে বিআরটিএর সচিব মুহাম্মাদ শওকত আলী বলেন, যানবাহনের অনিয়ম পর্যবেক্ষণের জন্য বিআরটিএর ছয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। তবে এই ভ্রাম্যমাণ আদালতগুলোর কোনো নির্দিষ্ট সময় এবং নির্দিষ্ট স্থানে থাকে না। এ ছাড়া অনিয়ম ধরার সুবিধার্থে কখন কোনো জায়গায় কোনো আদালত বসবে বা কোনো আদালত থাকবে কি না তাও কাউকে জানানো হয় না।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিআরটিএর কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। অথবা তারা যে ব্যবস্থা নিচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে যাত্রীদের কথা বিবেচনা না করে এক লাফে অটোরিকশার ভাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়িয়েও এই খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে না। চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা বেড়েই চলছে আর যাত্রীরা প্রতিনিয়ত জিম্মি হচ্ছে।

মায়ের দুধে রক্ষা ৩০ হাজার কোটি ডলার

মায়ের দুধ যে শিশুর শরীর-স্বাস্থ্যের জন্য অতুলনীয়—এ কথা কে না জানে। এ কথা শুনলে অনেকেই অবাক হবেন যে, দীর্ঘদিন ধরে যে মায়েরা সন্তানকে বুকের দুধ পান করান, তাঁরা বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে ৩০ হাজার কোটি (৩০০ বিলিয়ন ডলার) ডলার বাঁচাচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক চিকিৎসা-বিষয়ক গবেষণা সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত প্রবন্ধে এমনটা জানা যায়।
এএফপির খবরে জানানো হয়, দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ জার্নাল পরিচালিত জরিপ বলছে, মায়ের বুকের দুধ পান করলে আট লাখের বেশি শিশুর মৃত্যু রোধ করা যায়। আর প্রতিবছর স্তন ক্যানসারে ২০ হাজার মায়ের মৃত্যু রোধ করা যায়।
গবেষণার অন্যতম গবেষক ব্রাজিলের ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব পেলোতাসের ইমেরিটাস অধ্যাপক চেজার ভিক্টোরিয়া বলেন, ধনী, দরিদ্র সব দেশে মায়েরা সন্তানকে বুকের দুধ পান করালে টাকা ও জীবন দুটিই বাঁচানো সম্ভব। গবেষণায় ১ হাজার ৩০০টির বেশি গবেষণাপত্র পর্যালোচনায় নেওয়া হয়েছে। ২৮ ধরনের বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণ অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, মায়ের বুকের দুধ পান করলে সন্তান ও মায়ের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকেও লাভবান হওয়া যায়।
মাতৃদুগ্ধ পান না করালে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ২০১২ সালে মাতৃদুগ্ধ কম পান করানো ও শিশুর বিকল্প খাদ্যের ব্যবহার বেশি হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ৩০ হাজার কোটি ডলার বেশি ব্যয় হয়েছে।
জরিপ ও গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ব্রাজিলে ৯০ শতাংশ শিশু ছয় মাস পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ পান করে। ব্রিটেনে ৪৫ শতাংশ শিশু মাতৃদুগ্ধ পান করে। মাতৃদুগ্ধ পান করলে শিশুরা ফুসফুসের প্রদাহ, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ থেকে রক্ষা পায়। এতে চিকিৎসার খরচ বাঁচে।
যুক্তরাষ্ট্রে এভাবে ২০০ কোটির বেশি, ব্রিটেনে ২ কোটি ৯০ লাখ, চীনে ২০ কোটি ও ব্রাজিলে ৬০ লাখ ডলার খরচ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
ধনী দেশগুলোতে প্রতি পাঁচজনে একজন মা ১২ মাস ধরে সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করান। নিম্ন আয়ের দেশে তিনজনে একজন ও মধ্য আয়ের দেশে প্রথম ছয় মাস সন্তানদের মাতৃদুগ্ধ পান করানো হয়। ব্রিটেনে এক বছর বয়স পর্যন্ত ১ শতাংশ শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো হয়। আয়ারল্যান্ডে ২ শতাংশ আর ডেনমার্কে ৩ শতাংশ শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো হয়।
মাতৃদুগ্ধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি উপযুক্ত পরিবেশ, পরিস্থিতি তৈরির কথা বলেছেন গবেষকেরা। ল্যানসেট এটিকে বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিকল্প শিশু খাদ্যের বাজার যেভাবে ফুলেফেঁপে উঠছে ও প্রচার চালাচ্ছে, সেখানে মায়েদের মাতৃদুগ্ধ পান করানোর মতো উপযুক্ত পরিবেশ ও সুবিধা দিতে না পারলে এটি হারিয়ে যেতে পারে। এই সুবিধার মধ্যে রয়েছে মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানো, কর্মস্থলে মাতৃদুগ্ধ পানের ব্যবস্থা রাখা, জনসমক্ষে মাতৃদুগ্ধ পানের ব্যবস্থা রাখা প্রভৃতি। এএফপি অবলম্বনে

পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে এমন কোনো কথা নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, পাকিস্তান বরাবরই হতাশাজনক আচরণ করছে। সম্প্রতি পাকিস্তান হাই কমিশনের দু একজন কূটনীতিক মানি লন্ডারিংসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে ধরা পড়েছেন। আবার পাকিস্তানে আমাদের দূতাবাসের এক কর্মীকে পাওয়া যাচ্ছিল না- এসব ঘটনা খুবই হতাশাজনক। তবে এর জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। যুদ্ধকালেও যুদ্ধরত রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় থাকে, পৃথিবীতে এমন অনেক নিদর্শনও আছে।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে আজ সরকারি দলের আবদুল মান্নানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এমন কথা বলেন। বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
আবদুল মান্নান প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, গত সোমবার ঢাকাস্থ পাক হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তাকে অনৈতিক কাজের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদ করে পরে ছেড়ে দেবার ঘটনার জেরে পাকিস্তানে বাংলাদেশী এক কূটনীতিককে কয়েক ঘন্টার জন্য পাওয়া যায়নি। এর আগে আর এক পাক কূটনীতিক জঙ্গিদের অর্থ সরবরাহ বা মানি লন্ডারিঙের সঙ্গে যুক্ত ছিল তারও প্রমাণ রয়েছে। এ ধরনের জঘণ্য কর্মকাণ্ডের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত আমাদের সরকার নিয়েছেন কিনা। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্পর্কের টানাপোড়েন কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। টানাপোড়েন হলেই কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে- এমন নয়। পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আমরা আপাতত কিছু করতে চাচ্ছি না বলেও সংসদকে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থকে মাথায় রাখতে হবে। সে কথা চিন্তা করেই আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সর্ম্পক মূল্যায়ন ও পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য।
অভ্যান্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো বরদাস্ত করা হবে না
ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের অপর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম ও রায় কার্যকরের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অযাচিত বিবৃতি বা মন্তব্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল, যা কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবারই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। পাকিস্তান হাইকমিশনারকে বিভিন্ন সময় এজন্য তলবও করা হয়েছে। অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা আমাদের পররাষ্ট্রনীতির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। আমরা অন্যসব রাষ্ট্রের কাছ থেকেও একই আচরণ প্রত্যাশা করি। কিন্তু, পাকিস্তান বরাবর আমাদের হতাশ করেছে। এ বিষয়ে সব কূটনৈতিক ফ্রন্টে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। ভবিষ্যতে, পাকিস্তানি মহল বা কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল আচারণ করবে এবং এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকবে বলে প্রত্যাশা করি।
মুহিবুর রহমান মানিকের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি সার্বভৌম দেশের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বচ্ছ বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে পাকিস্তানের করা মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে কূটনৈতিক শিষ্টাচার-বহির্ভূত।
মাহমুদ আলী বলেন, পাকিস্তান বিভিন্ন বিবৃতিতে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ক্রটিপূর্ণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছে। এমনকি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ভারত-এর মধ্যকার স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অপব্যাখ্যা করেও বিবৃতি দিয়েছে। ত্রিদেশীয় চুক্তিতে বাংলাদেশে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা যাবে না- এমন কোনো কিছুর উল্লেখ নেই। বরং পাকিস্তানই ১৯৭১ সালে গণহত্যার জন্য চিহ্নিত ও আটককৃত নিজ দেশের নাগরিকদের বিচারের আওতায় আনার বাধ্যবাধকতা অনুসরণে ব্যর্থ হয়েছে।

এতিমদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতেও বাধা by সালমা বেগম

জন্মের পর থেকে বাবা-মা’র আদর থেকে তারা বঞ্চিত। সামাজিকভাবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় যাদের ঠিকানা এতিমখানা বা শিশু নিবাস। পিতা-মাতার পরিচয় হয় তো আর কোনোদিন মিলবে না। রাষ্ট্রই যাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। সেই শিশু নিবাসের বাসিন্দাদের রাষ্ট্রীয় পরিচয় পেতে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এদের একজন সমাজকল্যাণ অধিদপ্তারের আওতাধীন ছোটমণি নিবাসের আয়া মমতাজ বেগম। কাগজে-কলমে বয়স তেইশ বছর হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা কখনো অনুভব করেননি তিনি। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে নতুন বেতন স্কেলের আওতায় আনা হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হওয়ায় নিজের পরিচয়পত্রের জন্য যান আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগে। পিতামাতার নাম অজ্ঞাত থাকায় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে মমতাজ বেগমকে। জন্ম নিবন্ধন কার্ডে পিতামাতার নাম অজ্ঞাত থাকায় মমতাজের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া সম্ভব নয় বলে তাকে জানিয়ে দেয়া হয়। এরপর মমতাজকে উপ-পরিচালক বরাবর দরখাস্ত করতে বলা হয়। মমতাজ বেগম জানান, গত সপ্তাহে আবার তিনি পরিচয়পত্রের জন্য গেলে অন্য একজন কর্মচারী তার শিশু নিবাসের সনদ, জন্ম নিবন্ধন কার্ড এবং বিভিন্ন কাগজপত্র দেখে পরিচয়পত্রের জন্য অনুমোদন করেন। এভাবে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জন্ম-পরিচয়হীন নাগরিকরা। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জন্মের পরই প্রতিটি শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য দেশে আইন করা হয়েছে। নিয়ম থাকলেও পরিত্যক্ত এবং পিতামাতার নাম অজ্ঞাত শিশুদের জন্ম নিবন্ধন করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শুধু জন্ম নিবন্ধন নয়, পিতামাতার নাম অজ্ঞাত থাকলে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্যও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনাও নেই এনআইডি উইং কর্মকর্তাদের প্রতি। জানতে চাইলে এনআইডি উইংয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত পরিত্যক্ত কিংবা পিতামাতা অজ্ঞাত এমন কাউকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে আসেননি তাদের কাছে। তাই এই বিষয়ে কোনো ধারণা নেই তার।  তেজগাঁও শিশু পরিবারের উপ তত্ত্বাবধায়ক বেগম ঝর্ণা জাহিন জানান, অধিকাংশ সময় বিভিন্ন বেবি হোম বা ছোটমণি নিবাস থেকে আসা শিশুদের জন্ম নিবন্ধন করতে সমস্যায় পড়তে হয়। যেসব শিশুর পিতামাতা দু’জনই অজ্ঞাত থাকে তাদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য সঠিক নীতিমালা নেই। তিনি জানান, জন্ম নিবন্ধন যেহেতু শিশুদের অধিকারের অনেক বিষয় জড়িত তাই চাইলেই নিজের নাম দিয়ে এসব শিশুদের জন্ম নিবন্ধন করা সম্ভব হয় না। যে কারণে অনেক সময় পিতামাতার নাম মৃত আদম এবং মৃত হাওয়া দিয়েই নিবন্ধন করতে হয়। যেটা সঠিক কোন পদ্ধতি নয়। এই উপ-তত্ত্ববধায়ক আরও জানান, অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্টাফের মৃত দাদা-নানার নাম ব্যবহার করে পরিত্যক্ত এবং অজ্ঞাত শিশুদের জন্ম নিবন্ধন করা হয়। তবে বিভিন্ন সময় ফোরাম এবং সেমিনারে এসব নিয়ে অধীনস্থ পরিচালকদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সঠিক কোন নিতিমালা তৈরি হয়নি। প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা পদবি ব্যবহার করে এইসব শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের নিয়ম করা হলে পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হবে না। জাহিন আরও বলেন, যেহেতু এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে রাষ্টীয় খরচে বড় করা হচ্ছে। তাহলে সঠিক নীতিমালা প্রয়োগ করে তাদের রাষ্ট্রীয় নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করা প্রয়োজন। জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়ে এই উপতত্ত্বাবধায়ক জানান, জন্ম নিবন্ধন সঠিকভাবে হলেই জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। বর্তমানে তেজগাঁও শিশু পরিবারের একশ’ পঁচাত্তর জন নিবাসীর মধ্যে বারো জনের পিতামাতার নাম অজ্ঞাত। যদিও এখন পর্যন্ত অজ্ঞাত একজন নিবাসি তেজগাঁও শিশু পরিবার থেকে বের হয়েছেন। তবে ওই সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজন না হওয়ায় সেটা নিয়ে কোন ঝামেলায় পড়তে হয়নি। ছোটমণি নিবাসের উপ-তত্ত্বাবধায়ক সেলিনা আক্তার বলেন, রাষ্ট্রের খরচে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী বড় হচ্ছে। কিন্তু সঠিক নীতিমালা প্রয়োগ করে তাদের রাষ্টীয় নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে না। কোন প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এদের কিছু রাষ্ট্রীয় অধিকার আছে। তিনি বলেন, প্রতিনিয়তই সরকারি শিশু পরিবার এবং ছোটমণি নিবাসে পরিত্যক্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। সরকার এই পরিত্যক্ত জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বলে ঘোষণা করে নাগরিকত্ব না দিলে এরা কোথায় যাবে। তিনি জানান, তার অধীনস্থ ছোটমণি নিবাসে বর্তমানে চব্বিশ জন শিশু আছে। তাদের মধ্যে আট জনের পিতা-মাতা অজ্ঞাত দেয়া আছে। সেক্ষেত্রে তাদের সঠিক নীতিমালা অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র না দেয়া হলে সরকারি সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হবে।

মোদির হাতে ৪৭০০ রুপি, দিল্লিতে অ্যাকাউন্ট নেই

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে আছে নগদ চার হাজার ৭০০ রুপি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত সম্পত্তির হিসাব অনুযায়ী তাই।
এ ছাড়া নরেন্দ্র মোদির কোনো ‘মোটরসাইকেল, উড়োজাহাজ, ছোট নৌকা বা হালকা নৌযান, জাহাজ নেই’। দিল্লিতে তাঁর কোনো ব্যাংক হিসাব নেই, আছে গুজরাটে।
পিটিআই ও এনডিটিভি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, ২০১৪ সালের ২৬ মে থেকে মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ৩০ জানুয়ারি এ হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।
মোদির দপ্তর থেকে যে হিসেব প্রকাশ করা হয়েছে, এতে দেখা যাচ্ছে, গত বছর মার্চে প্রধানমন্ত্রীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ এক কোটি ৪১ লাখ রুপি। গুজরাটের গাঁন্ধীনগরে তার একটি বাড়ি রয়েছে। গত ১৩ বছর ওই বাড়ির দাম প্রায় ২৫ গুণ বেড়েছে। ২০০২ সালের ২৫ অক্টোবর কেনা ওই বাড়ির বাজারমূল্য এখন বেড়ে হয়েছে কোটি রুপির মতো।
মোদির এখন দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে থাকেন। এখনো দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কোনো ব্যাংক হিসাব নেই। আজও তাঁর ব্যাংক হিসাব গুজরাটেই। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) আছে ৩১ লাখ রুপির কিছু কম। এর প্রায় ৯৪ হাজার রুপি ওই ব্যাংকেই রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর কোনো কৃষি জমি নেই এবং তাঁর কোনো বাণিজ্যিক কিংবা রিয়েল স্টেটের প্রপাটি নেই।
সম্পত্তির হিসেব দেখাচ্ছে, তাঁর কোনো গাড়ি নেই। ব্যাংক থেকে তিনি কোনো ঋণ নেননি। তার ‘চারটি সোনার আংটি আছে’। ৪৫ গ্রাম ওজনের এই চারটি আংটির গত বছরের ৩১ মার্চ অনুযায়ী বাজার মূল্য এক কোটি ২০ লাখ রুপি।
এগুলো নরেন্দ্র মোদির নিজের সম্পত্তির হিসেব। তবে তাঁর স্ত্রী যশোদাবেনের কত সম্পত্তি রয়েছে, তিনি তা জানেন না বলেই ওয়েবসাইটে ঘোষিত বিবরণীতে বলা হয়েছে।
এ বারই নির্বাচন কমিশনে হলফনামা দিয়ে যশোদাবেনকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিয়েছেন মোদি।

সবচেয়ে কম বয়সী জোড়া যমজ পৃথক হলো

পরস্পর যুক্ত অবস্থায় জন্ম নিয়েছিল যমজ বোন মায়া ও লিদিয়া। মাত্র আট দিন বয়সেই অস্ত্রোপচার করে তাদের পৃথক করেছেন সুইজারল্যান্ডের পাঁচজন শল্যচিকিৎসক। তাঁদের সহযোগিতায় ছিলেন দুই নার্স এবং ছয়জন অবেদনবিদ। বিশ্বে সবচেয়ে কম বয়সী যুক্ত যমজ শিশুকে আলাদা করার অস্ত্রোপচারে এটিই প্রথম সাফল্য। খবর এএফপির।
গত ১০ ডিসেম্বর ওই অস্ত্রোপচারে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। সুইজারল্যান্ডের সাপ্তাহিক পত্রিকা লো মাতাঁ দিমঁশ গত রোববার এ খবর প্রকাশ করে। বার্নের একটি হাসপাতালে নির্ধারিত সময়ের দুই মাস আগেই গত ২ ডিসেম্বর জন্ম হয় মায়া ও লিদিয়ার। তাদের যকৃত ও বুক সংযুক্ত ছিল। আরেক বোন কামিলাও একই দিনে জন্ম নেয়।
জেনেভা ইউনিভার্সিটি হসপিটালের শিশু শল্যচিকিৎসা বিভাগের প্রধান বারবারা ওয়াইল্ডহ্যাবার ওই অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন।

যুবলীগকর্মীর বিয়ের হুমকি : পুলিশ প্রহরায় ছাত্রীর এসএসসি পরীক্ষা

বগুড়া সদর উপজেলায় বিয়ের ভয়ে পালিয়ে থাকা এক ছাত্রীকে নিরাপদে এসএসসি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে আটকও করা করেছে। ওই ছাত্রী গোকুল তছলিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে।
সদর থানার ওসি আবুল বাশার বলেন, স্থানীয় যুবলীগকর্মী রাব্বী ও আকুল মিয়া ওই ছাত্রী ও তার সপ্তম শ্রেণীর ভাগ্নিকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে চান।
অভিভাবকরা রাজি না থাকায় ৯ জানুয়ারি তারা তাদের অপহরণের চেষ্টা করেন, বাড়ি ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেন এবং দুটি গরু লুট করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ছাত্রীর চাচা বলেন, হামলার পর ভাতিজিসহ ভাইয়ের পরিবার আত্মগোপন করলে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাদের বাড়ি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।
পরে পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে ভাতিজির পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তাদের বাড়িতেও বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।
এ ঘটনায় চাচা আটজনের নামে মামলা করলে রবিবার রাতে রনি, সনি, জয় ও আকুলের বড় বোন আসমাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ওসি জানান।

পরিকল্পনা ছিল জিয়াকে হত্যা করার, প্রথম বিদ্রোহ করেন রফিক

২৫ মার্চ রাত ১২টার দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২০ বালুচ রেজিমেন্ট আমাদের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল স্টোর আক্রমণ করে এবং প্রায় ২৩৫ জন সৈন্যকে মেরে ফেলে, ৯০০ জনের মতো অ্যারেস্ট করে জেলখানায় নিয়ে যায়। আবার ঢাকায় রাত ১০টা থেকে পিলখানায় ২২ এফএফ আমাদের ইপিআরকে নিরস্ত্র করতে থাকে। ইপিআর কন্ট্রোল রুমে মেজর দেলওয়ার ও কুতুবুদ্দীন ইপিআরের ওয়ারলেসে অনবরত মেসেজ পাঠাচ্ছিল যে আমাদেরকে নিরস্ত্র করা হচ্ছে। যে যেখানে আছ, তোমরা ইমিডিয়েটলি অ্যাকশনে যাও। সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তারা ওই মেসেজ দিতে পারে, তারপর তাদেরও নিরস্ত্র করা হয়। দশটার দিকে রফিক চট্টগ্রামে এই মেসেজটাই পান। তখনই তিনি অ্যাকশনে চলে যান। আমাদের মধ্যে তিনিই প্রথম অ্যাকশনে যান এবং পুরোপুরি বিদ্রোহ করেন। উনি ওয়ারলেসে মেসেজ পাঠান Bring some wood for me।
প্রয়াত মেজর জেনারেল আমীন আহম্মেদ চৌধুরী ‘১৯৭১ ও আমার সামরিক জীবন’ শীর্ষক বইতে এসব কথা লিখেছেন। সদ্য প্রকাশিত এ বইতে আরও লেখা হয়েছে- এদিকে ১০টার পরে মেজর জিয়াকে তার সিও কর্নেল জানজুয়া চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠান সোয়াত আনলোড করার জন্য। অর্থাৎ সেখানে মেজর জিয়া নিরস্ত্রভাবে যাবেন এবং তাঁকে মেরে ফেলা হবে- এই হলো উদ্দেশ্যে। তাকে নেভির গাড়িতে করে বন্দরের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়, কিন্তু দেওয়ানহাটের কাছে রেলের বগি দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। সুতরাং সেখানে তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন। এর মধ্যে, সাড়ে দশটার পর প্রথমবারের মতো স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার আবদুল কাদের ফোন করেন, কথা বলেন ক্যাপ্টেন অলির (বীর বিক্রম অলি আহমদ। পরে কর্নেল, বর্তমানে রাজনীতিবিদ) সঙ্গে। তিনি বলেন, ঢাকায় ক্র্যাকডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে, আর্মি মুভ করা আরম্ভ করেছে, আপনারা যে যা পারেন তাই নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যান। এ কথা জেনে ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান চৌধুরী (বীর বিক্রম, ৩৬ পিএমএ, পরে ব্রিগেডিয়ার) জিপে করে দেওয়ানহাটে এসে মেজর জিয়াকে রাস্তায় অপেক্ষা করতে দেখেন। মেজর জিয়া দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলেন। ক্যাপ্টেন খালেক জিয়াকে বললেন, ‘স্যর, ঢাকায় ক্র্যাকডাউন শুরু হয়ে গেছে, আপনি বন্দরের দিকে যাবেন না। আমি আপনাকে ইউনিট লাইনে ফিরিয়ে নিতে এসেছি।’ এ কথা শুনে মেজর জিয়া এক হাত দিয়ে অন্য হাতে মুষ্টাঘাত করে বললেন, we will revol: । মেজর জিয়া ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামানকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন; তিনি বাকিদের নিয়ে আসছেন।
সবকিছু করতে সাড়ে বারোটা-একটা বেজে যায়। কাপ্তাই থেকে ক্যাপ্টেন হারুন আহমেদ চৌধুরী (বীর উত্তম, ৩৬ পিএমএ, পরবর্তীতে মেজর জেনারেল ও রাষ্ট্রদূত) ট্রুপস নিয়ে এসে কালুরঘাটে মেজর জিয়ার সঙ্গে যোগ দেন পরদিন ভোরে (২৬ মার্চ)। এই ফোর্সই শেষ পর্যন্ত ৮ম বেঙ্গলের প্রধান ফোর্স হয়ে দাঁড়ায়। ২৫ মার্চ ১২টার দিকে প্রায় ১৫০ ট্রুপসকে চট্টগ্রাম বন্দরে হত্যা করা হয়। তা ছাড়া ইবিআরসিতে আরও ২৩৫ ট্রুপসকে হত্যা করা হয়। মেজর জিয়ার কাছে সৈন্য এবং অস্ত্র কোনটাই তেমন ছিল না। তাই কাপ্তাই থেকে আসা ইপিআর ইউনিটটি একটি বিরাট ফোর্স হিসেবে কাজ করে। ওনারা পরে কালুরঘাট ব্রিজে পজিশন নেন। পরে মেজর জিয়া বোয়ালখালিতে চলে যান। এসব আমি পরে জানতে পেরেছি।