Tuesday, November 23, 2010

খবর- কোরীয় সীমান্তে ব্যাপক গোলাবিনিময়ে নিহত ২

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় সমুদ্র উপকূলীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় আজ মঙ্গলবার ব্যাপক গোলাবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার দুই মেরিন সেনা নিহত ও কমপক্ষে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সিউল দাবি করেছে, তাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় সমুদ্র উপকূলীয় সীমান্তবর্তী ইয়ংপিয়ং দ্বীপে উত্তর কোরিয়া আজ প্রায় ২০০ ভারী গোলা নিক্ষেপ করেছে। আত্মরক্ষার্থে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারাও পাল্টা গোলা ছুড়ে এর জবাব দিয়েছে। এ নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে ওই সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শিল্প-অর্থনীতি 'চামড়াশিল্প শিগগিরই সরছে না' by আলী আসিফ

হাজারীবাগের ট্যানারি (চামড়া প্রক্রিয়াকরণ কারখানা) মোড়ে পা রাখতেই বোটকা গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে। ওই কারখানার সঙ্গে সংযুক্ত বর্জ্য নিষ্কাশন নালার দিকে তাকালেও পেট গুলিয়ে উঠতে পারে। অপরিশোধিত এই রাসায়নিক বর্জ্য মিশছে বুড়িগঙ্গায়। অথচ সাত বছর আগে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে এখনো তা শেষ করতে পারছে না সরকার। ২০০৩ সালের ১৬ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় (একনেকে) ‘চামড়া শিল্পনগরী (বিসিক) সাভার’ নামে একটি প্রকল্পের অনুমোদন নেওয়া হয়।

ফিচার- ‘র‌্যাগিং : পৌষ মাস না সর্বনাশ?' by সমুদ্র সৈকত

প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পর ক্যাম্পাসে নতুন বন্ধুবান্ধব নিয়ে ভালোই সময় কাটছিল রাবি্বর। সারা দিন ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি শেষে রাতে আসর জমাতেন গণরুমে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলের ইংরেজির ছাত্রটির তখন বেশ সুদিন চলছে। এক রাতে হঠাৎ ডাক এল ৩২৮ নম্বর রুম থেকে। শুনে সবাই তটস্থ, না জানি কী আছে কপালে! কারণ রুমটি রাজনৈতিক নেতাদের ডেরা! সদলবলে গিয়ে দেখা গেল, নেতারা আছেন বেশ খোশ মেজাজে।

ভর্তি এবার লটারিতে! by হাবিবুর রহমান তারেক ও তমাল আবদুল কাইয়ুম

কতটুকুই বা বয়স ওদের! এ বয়সেই ওদের নামতে হয় ভর্তি নামক যুদ্ধে। ক্লাসে যাওয়ার আগেই বইতে হয় বইয়ের চাপ। এ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন অভিভাবকরাও! চিন্তাটা তাঁদেরই বেশি। ভর্তির গুরুত্ব বুঝে ওঠার মতো বয়স তো আর ওদের হয়নি! তাই সকালে ঘুম থেকে উঠেই সন্তানকে নিয়ে কোচিং, শিক্ষকদের পেছনে দৌড়ঝাঁপ। যেকোনো মূল্যে সন্তানকে ভর্তি করাতে হবে নামি স্কুলে। এ অবস্থার অবসান হওয়ার দিন এল বুঝি! প্রথম শ্রেণীতে আর ভর্তি পরীক্ষা নয়, লটারির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করার কথা ভাবছে সরকার।

আলোচনা- 'পেট্রোবাংলার ভূমিকা এবং কিছু প্রশ্ন' by ড. এম শামসুল আলম

জ্বালানি নিরাপত্তা বিধানের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে গ্যাসের মূল্য সহনীয় রাখা আবশ্যক। তাই জাতীয় বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধি করে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রয়োজন। এই বিবেচনায় সরকারের সম্মতি সাপেক্ষে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির কৌশলগত পরিকল্পনা জানানোর শর্তে গণশুনানির ভিত্তিতে পেট্রোবাংলার মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব যৌক্তিক প্রমাণিত না হওয়ায় বিইআরসি ৩০ নভেম্বর ২০০৮ তারিখে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত অর্থে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২৩ এপ্রিল ২০০৯ অর্থ মন্ত্রণালয় ২৪৩ নং পত্রে অবহিত করে যে গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে প্রাপ্ত অর্থের প্রদত্ত করের সমপরিমাণ অর্থ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বিপরীতে বরাদ্দ রাখা হবে, যা গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে অন্তর্ভুক্ত হবে।

আন্তর্জাতিক- 'যুক্তরাষ্ট্রের ইরাকনীতি ইরানকে বিজয়ী করছে' by ফয়সাল আমিন ইস্ত্রাবাদি

যুক্তরাষ্ট্রের ইরাকনীতি এখন দোদুল্যমান। ইরাকে সাধারণ নির্বাচন হয়ে গেছে সাত মাস আগে। যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে বলেছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী কে হবে-না হবে এ নিয়ে তারা ভাবতে চায় না। কিন্তু তারা নূরি আল-মালিকিকেই যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়, তাও বোঝা যায়। এ বিষয়ে তারা কিছু কূটনৈতিক কার্যক্রমও গ্রহণ করেছে। মালিকিকে আরেক মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী রাখার ব্যাপারে ইরাকের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ জানানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ চাপ তা-ই প্রমাণ করে। কিন্তু অধিকাংশই তাদের সেই অনুরোধকে আমলে আনেনি।

ন্যাটোর নতুন পরিকল্পনা মার্কিন ‘ব্যর্থতার প্রতীক’: তালেবান

আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার ও দেশটির সেনাদের হাতে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে ন্যাটোর পরিকল্পনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যর্থতার প্রতীক’ বলে আখ্যা দিয়েছে তালেবান গোষ্ঠী। কট্টরপন্থী এই গোষ্ঠীর মতে, সদস্যদেশগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তার আশ্বাস না পাওয়ায় ন্যাটো এ পরিকল্পনা নিয়েছে।
আগামী বছরের শুরুতে আফগান যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা প্রত্যাহার ও ২০১৪ সালের মধ্যে নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব দেশটির সেনাদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত শনিবার পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে এ-সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও ন্যাটোর মহাসচিব অ্যান্ডার্স রাসমুসেন এতে স্বাক্ষর করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আফগানিস্তানে সামনের দিনগুলোতে বিদেশি সেনাদের কঠিন যুদ্ধের মুখে পড়তে হবে। দেশটি ২০১৪ সালের মধ্যে সেনা অভিযানের বিষয়টি একেবারে নাকচ করে দেয়নি।
লিসবন চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল তালেবান এ প্রতিক্রিয়া জানায়। তালেবানের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তানের জনগণ এবং বিশ্বের স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের জন্য এটি সুসংবাদ। এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ব্যর্থতার প্রতীক। ‘লিসবন বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দখলদারেরা গত নয় বছরে কাবুলে কোনো সরকারব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। ভবিষ্যতেও তারা কখনো তা করতে পারবে না। তালেবান গোষ্ঠী দাবি করে, আফগানিস্তানে বিদেশি সেনাদের ধ্বংস অনিবার্য। পূর্বসূরিদের মতোই তাদের পরিণতি হবে। সদস্যদেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত না দেওয়ায় ন্যাটো বাধ্য হয়েই নতুন এই পরিকল্পনা নিয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আবারও আফগানিস্তান থেকে দ্রুত বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়। বলা হয়, বিদেশি সেনারা অর্থহীনভাবে চাপিয়ে দেওয়া এবং জয় সম্ভব নয়—এমন এক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার এক দিনের জন্যও দেরি করা উচিত নয় বলে উল্লেখ করা হয়।
চলতি বছরের শুরুতে তালেবান দমনে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে বড় ধরনের অভিযান চালায় ন্যাটো বাহিনী। দেশটির বেশ কিছু এলাকা, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে তালেবান গোষ্ঠী এখনো বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আফগানিস্তানে বর্তমানে ৪৮টি দেশের দেড় লাখ সেনা রয়েছে।
লিসবনে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ন্যাটোর মহাসচিব অ্যান্ডার্স ফগ রাসমুসেন বলেন, আফগান সেনারা আগামী বছরের শুরুতে কয়েকটি জেলার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবেন। ধীরে ধীরে পুরো দেশের দায়িত্ব তাঁদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে প্রয়োজনে বিদেশি সেনারা সহায়কের ভূমিকা পালন করবেন।

আইনশৃঙ্খলার অবনতি

ঈদুল আজহার ছুটির আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত উপর্যুপরি সহিংস ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশেষ করে গত ঈদের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে, এবার অপরাধের ঘটনা অনেক বেশি। এসব ঘটনায় কেবল সাধারণ মানুষ নয়, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতাও খুন হয়েছেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, বখাটেদের অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ঢাকায় এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা এবং কুড়িগ্রামে দিনমজুর বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু।
যশোরের ঝিকরগাছায়, কক্সবাজারের টেকনাফে এবং রাঙামাটির কাউখালীতে খুন হয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা। এর মধ্যে বিএনপি ও যুবদলের নেতার মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা জড়িত বলে অভিযোগ আছে। এ ছাড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে চাঁদপুরে, ময়মনসিংহের নান্দাইলে, গাজীপুরের শ্রীপুরে, সিলেটের গোয়াইনঘাটে, ফেনীর পরশুরামে এবং চট্টগ্রামের পটিয়ায়। কেরানীগঞ্জ ও টঙ্গীতে গণপিটুনিতে মারা গেছে তিনজন। এ অবস্থায় কোনোভাবেই বলা যায় না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠার পর ধারণা করা হয়েছিল, নারী উত্ত্যক্তকারীরা নিবৃত্ত হবে। কিন্তু নাতনিকে বাঁচাতে গিয়ে কুড়িগ্রামে বখাটেদের হাতে বৃদ্ধ নানার মৃত্যুর ঘটনা প্রমাণ করে, দুর্বৃত্তদের দমনে ভ্রাম্যমাণ আদালতই যথেষ্ট নয়। মাদক সেবন করে বাসার সামনে হল্লা করার প্রতিবাদ করায় রাজধানীর বাসাবোতে বখাটেরা পিটিয়ে হত্যা করে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে। তারা এতটাই শক্তিমান যে আক্রান্তকে সময়মতো হাসপাতালেও নিয়ে যেতে পারেননি স্বজনেরা। পাড়ায় পাড়ায় বখাটেদের উৎপাত বেড়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বিকার। যে সমাজে অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে প্রতিবাদকারীকে লাঞ্ছিত বা খুন হতে হয়, সেই সমাজে অপরাধ কীভাবে কমবে?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন। শিষ্টের পালন করতে না পারলেও দুষ্টের সঙ্গে যে তাদের দহরমমহরম রয়েছে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। বিভিন্ন স্থানে বখাটে ও মাস্তানদের হাতে একাধিক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরও অপরাধীদের ধরার ব্যাপারে তাদের নিষ্ক্রিয়তা দুঃখজনক। কখনোসখনো আসামি ধরা পড়লেও তদন্ত ও চার্জশিটের দুর্বলতার কারণে সহজেই তারা ছাড়া পেয়ে যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রায়ই একটি কথা বলেন, ‘অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ দেশবাসী এ রকম আশ্বাসবাণী বহুবার শুনেছে। এখন তারা বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখতে চায়। দেখতে চায়, দল-মতনির্বিশেষে সব অপরাধীকে পাকড়াও করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়েছে। উপযুক্ত শাস্তিই পারে অপরাধের মাত্রা কমাতে। অপরাধ করে একজন ছাড়া পেলে অন্যরাও অপরাধ সংঘটনে আরও বেপরোয়া হয়ে পড়ে।
আশা করি, পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার আগেই সরকার কঠোর হাতে অপরাধীদের দমন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

মুর্শিদাবাদে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ভারতের ঐতিহ্যবাহী আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমবঙ্গের ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি গতকাল শনিবার মুর্শিদাবাদে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।
প্রণব মুখার্জি বলেন, আগামী জানুয়ারি থেকে একটি অস্থায়ী ভবনে এই ক্যাম্পাসের কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে এর জন্য ২৫ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
মুর্শিদাবাদের অহিরনে ২৬০ একর জমির ওপর গড়া হচ্ছে এই ক্যাম্পাস। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে ওই জমি অধিগ্রহণ করেছে।
২০০৭ সালে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ক্যাম্পাস গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুর্শিদাবাদ ছাড়া বাকি চারটি ক্যাম্পাস গড়া হচ্ছে কেরালার মাল্লাপুরম, মধ্যপ্রদেশের ভোপাল, বিহারের কাটিহার ও মহারাষ্ট্রের পুনেতে।

নতুন বইয়ে ওবামা ও মিশেলকে ‘বর্ণবাদী’ বলেছেন পেলি

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর সারাহ পেলিন তাঁর নতুন বইয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তাঁর স্ত্রী মিশেল ওবামাকে ‘দেশপ্রেমবর্জিত’ ও ‘বর্ণবাদী’ বলে অভিহিত করেছেন।
গত শুক্রবার দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকা বাই হার্ট: রিফ্লেকশনস অন ফ্যামিলি, ফেইথ অ্যান্ড ফ্ল্যাগ নামের বইটিতে পেলিন বর্ণবাদী রাজনীতির খনি চষে বেড়িয়েছেন।
বইয়ের বর্ণনায় পেলিন দাবি করেন, মিশেল তাঁদেরই একজন, টি-পার্টির আন্দোলনকে যাঁরা বর্ণবাদের পক্ষপাতে দুষ্ট বলে মনে করেন। তাঁরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত অন্যায্য ও অসাম্যের একটি দেশ।
পেলিন তাঁর দাবির সমর্থনে ২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় মিশেল ওবামার ভাষণের একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। মিশেল ওবামা বলেছিলেন, ‘আমার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে এই প্রথম আমাদের দেশের জন্য সত্যিই আমি গর্বিত।’
মিশেলের এ মন্তব্যের ব্যাপারে পেলিন বলেন, ‘আমি মনে করি, তাঁর এই মন্তব্যে আমাদের অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ তিনি ও তাঁর স্বামী উভয়ই প্রায় দুই দশক ধরে রেভারেন্ড জেরেমিয়া রাইটের গির্জায় গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে এই যাজকের বিষোদ্গার শুনেছেন।’
বইয়ে ফার্স্ট লেডি মিশেল সম্পর্কে পেলিন মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে তখনই তাঁর গর্ব হতে থাকে, যখন তাঁর স্বামী নির্বাচনে জয় পেতে শুরু করেন।

মৃতের সংখ্যা ২৮৩

ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট মেরাপি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে এ পর্যন্ত ২৮৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে দুই লাখ ৭০ হাজারের বেশি লোক গৃহহীন হয়ে এখনো অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে। গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে মাউন্ট মেরাপি আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা রত্নাসারি বলেন, ‘মাউন্ট মেরাপির অগ্ন্যুৎপাতে মৃতের সংখ্যা ২৭৫ থেকে বেড়ে ২৮৩ জনে দাঁড়িয়েছে। দুই লাখ ৭০ হাজারের বেশি লোক এখনো অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজন মারা গেছেন এবং আগ্নেয়গিরির চারপাশ থেকে আরও লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’

হাইতির প্রধান কারাগারেও ছড়িয়ে পড়েছে কলেরা

হাইতিতে মহামারি আকারে দেখা দেওয়া কলেরার প্রকোপ এবার ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির সর্ববৃহৎ কারাগারেও। বিবিসি অনলাইন জানিয়েছে, কলেরায় আক্রান্ত হয়ে গত কয়েক দিনে রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সের কারাগারে ১৩ জন বন্দী মারা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাইতির কারাপ্রধান জ্যা রোল্যান্ড সেলিসটিন জানিয়েছেন, কলেরায় আরও ৩০ বন্দী আক্রান্ত হয়েছে। তিনি কারাগারের পরিস্থিতিকে ‘মারাত্মক’ হিসেবে অভিহিত করেন।
হাইতির কারা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত কারাবন্দী থাকায় পোর্ট অ প্রিন্সের এ কারাগারে কলেরায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারাগারটিতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার বন্দী রয়েছে।
গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে হাইতিতে মহামারি আকারে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত কলেরায় আক্রান্ত হয়ে সে দেশের এক হাজার ২০০ লোক প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে ১৯ হাজারেরও বেশি লোক।
এদিকে সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে, হাইতির এ বিপদে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার পরিমাণ খুবই অপর্যাপ্ত।

মিসরে ব্রাদারহুডের ১০০ সদস্য গ্রেপ্তার

মিসরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের কয়েক দিন আগে গত শুক্রবার বিরোধী দল ইসলামি ব্রাদারহুডের কমপক্ষে ১০০ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ২৮ নভেম্বর দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি শহর থেকে ব্রাদারহুডের সদস্যদের আটক করা হয়। এর মধ্যে শরকিয়া প্রদেশ থেকে ২০ জন এবং কালুবিয়া থেকে ৩০ জনকে আটক করা হয়।

ভোট গ্রহণ শেষ মাইন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে দুজন নিহত

বিহার বিধানসভার নির্বাচনে গতকাল শনিবার শেষ দফার ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল ২৬টি আসনের ভোট গ্রহণ করা হয়। ২৪ নভেম্বর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
ভোট গ্রহণের সময় গয়া জেলার লোন্ডা গ্রামের কাছে মাওবাদীদের পুঁতে রাখা মাইন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে দুজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় তিন সাংবাদিকসহ নয়জন আহত হন।
নির্বাচনে ষষ্ঠ ও শেষ দফায় গতকাল রোহতাস, আওরঙ্গাবাদ, বক্সার, কাইমুর ও গয়া জেলার ২৬টি আসনের বিপরীতে ৪২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের আগের রাতে রোহতাস জেলায় অস্ত্রসহ ছয় মাওবাদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আগাম সতর্কতা হিসাবে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আওরঙ্গবাদ জেলার ছয়টি ভোটকেন্দ্রে উন্নয়ন না হওয়ার প্রতিবাদে ভোটাররা ভোট বর্জন করেন।
গত ২১ অক্টোবর বিহার বিধানসভার নির্বাচনে ভোট নেওয়া শুরু হয়।

জান্তার সঙ্গে কাজ করতে চান সু চি

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, তিনি সামরিক জান্তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। জান্তাদের নতুন রাজনৈতিক পদ্ধতি জনগণের সহায়ক হলে তাতে সমর্থন দেওয়ার কথাও বলেছেন সু চি। গত শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে একই দিন সিএনএনকে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে জান্তা সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সু চি বলেন, তবে এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে চোখে গোলাপি কাচের চশমা পরলে চলবে না।
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী সু চিকে সে দেশের জান্তা সরকার গত ২১ বছরের মধ্যে অন্তত ১৫ বছর গৃহবন্দী করে রাখে। গত সপ্তাহে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পরই জান্তা সরকারকে গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে নিয়ে আসার ব্যাপারে গভীর ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন সু চি। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সামরিক জান্তাকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি আমরা নাকচ করে দিইনি।’
মিয়ানমারে অহিংস উপায়ে একটি শান্তিপূর্ণ বিপ্লব ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভাবনা কী—জানতে চাইলে সু চি বলেন, ‘কতগুলো ধাপে বিষয়টি নিয়ে কাজ করা যেতে পারে। এ নিয়ে আমরা এখনো আলোচনা করিনি। তবে সামরিক শাসন আর চাই না, এমনটি বলছি না, বরং একে নাটকীয় পরিবর্তনের চেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে আমরা দেখব। কারণ, নাটক সব সময় মঙ্গলজনক নয়।’
রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ব্যাপারে সু চি বলেন, ‘আমি একজন রাজনীতিক। ব্যক্তির নিজের কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, তাকে কখনোই সে অবস্থা থেকে বের করে আনা ঠিক নয়। আমি রাজনীতি নিয়ে কাজ করি। সুতরাং আমি একজন রাজনীতিক। মিয়ানমারের জনগণও আমাকে রাজনীতিক হিসেবে দেখতে পছন্দ করে।’
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও গ্রামে গ্রামে গিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন সু চি।
এদিকে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সু চি বলেন, ‘অসংখ্য মানুষের মুখ থেকে শোনা যাচ্ছে, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে হাত মেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। আমি অবশ্য মনে করি, এটা একটা ভালো উদ্যোগ। তবে আমি আশা করি, ওয়াশিংটন মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়গুলোর ওপর জোর দেবে। সে ক্ষেত্রে তারা চোখে গোলাপি কাচের চশমা পরবে না। বাস্তব চিত্রটাই দেখবে।’

আশ্রয়কেন্দ্র গুটিয়ে নিতে জান্তার নির্দেশ
মিয়ানমারের জান্তা সরকার সে দেশের একটি বেসরকারি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ৮২ জন এইচআইভি ও এইডস রোগীকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সু চি গত বুধবার ওই আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখার পরদিনই সরকার এ নির্দেশ দেয়। আশ্রয়কেন্দ্রটির এক মুখপাত্র গতকাল শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
গৃহবন্দী অবস্থা থেকে গত সপ্তাহে মুক্তি পাওয়ার পর রেঙ্গুনের অদূরে ওই আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিদর্শনে যান সু চি। সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ওষুধসহ সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একপর্যায়ে তাঁকে দেখতে আসা ছয় শতাধিক মানুষের এক সমাবেশে বক্তব্য দেন সু চি।
গণতন্ত্রপন্থী কর্মী ও ওই আশ্রয়কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা দানকারী ফিউ ফিউ থিন বলেন, সু চির পরিদর্শনের পরদিন সরকার সকল রোগীকে আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগের নির্দেশ পাঠায়। এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ওই নির্দেশে বলা হয়, এ সময়ের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে না গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিয়ানমারের আইন অনুযায়ী, ওই আশ্রয়কেন্দ্রের মালিককে দুই সপ্তাহ পরপর সেখানে রাত যাপন করতে আসা মানুষদের থাকার অনুমতি নবায়ন করতে হয়।
অং সান সু চির দলের মুখপাত্র ও ওই আশ্রয়কেন্দ্রের একজন ব্যবস্থাপক জেয়ার বলেন, তাঁর ধারণা, সু চির ওই কেন্দ্রটি পরিদর্শনের জেরেই সরকার চাপ সৃষ্টি করছে।

জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে বাজেট পাস করবেন নেপালের প্রেসিডেন্ট

বাজেট পাস করার জন্য জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করবেন নেপালের প্রেসিডেন্ট রাম বরণ যাদব। বাজেট নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিতণ্ডার এক দিন পর গতকাল শনিবার এক মন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন।
গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর এখন পর্যন্ত কোনো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে পারেননি নেপালের আইনপ্রণেতারা। ফলে ক্ষমতার কেন্দ্রে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে নির্ধারিত সময়ের পর চার মাস পেরিয়ে গেলেও নেপালে এখনো বাজেট পাস করা সম্ভব হয়নি। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গত শুক্রবার পার্লামেন্টে বাজেট উত্থাপনের চেষ্টা করে। কিন্তু এতে বাদ সাধেন মাওবাদী আইনপ্রণেতারা। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত খবরে দেখা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থমন্ত্রী বাজেট নিয়ে পার্লামেন্টে ঢোকার মুখে বিরোধী আইনপ্রণেতারা তাঁর ব্রিফকেস টেনে ধরেন। বিরোধী মাওবাদীদের দাবি, বর্তমান প্রশাসন তাদের ক্ষমতার অতিব্যবহার করছে।
তথ্যমন্ত্রী শঙ্কর পোখরেল বিরোধীদের এই কর্মকাণ্ডকে লজ্জাজনক হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, পার্লামেন্টের অধিবেশন দুই সপ্তাহের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হবে। এতে করে প্রেসিডেন্ট জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে বাজেট পাস করানোর সুযোগ পাবেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। কেননা এ পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকাণ্ড চালানো সম্ভব নয়।’
তথ্যমন্ত্রী পোখরেল আরও বলেন, ‘নতুন সরকার নিয়োগে ব্যর্থতা এবং বাজেট পাসে বিলম্বের কারণে ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে অনেক। এক্ষুনি যদি আমরা ব্যবস্থা না নিই, তাহলে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হবে।’
মাওবাদীদের চাপের মুখে গত জুন মাসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল। এরপর দফায় দফায় চেষ্টা করেও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি।

বতসোয়ানার প্রেসিডেন্টের কৃশকায় ও লম্বা বউ চাই

বয়স ৫৭ বছর। এখনো বিয়ে করেননি। রাজ্যের ঝামেলার কারণে জীবনসঙ্গী হিসেবে এখনো কাউকেই পাওয়া হয়নি বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট ইয়ান খামার। এবার মত পাল্টেছেন। যত ব্যস্ততাই থাক, আর দেরি নয়, বিয়ে করা চাই। তবে এখানেও ঝামেলা বেধেছে। যেনতেন কাউকে বউ করে আনলে চলবে না। ফার্স্ট লেডিকে হতে হবে কৃশকায় ও লম্বা।
প্রেসিডেন্ট ইয়ান খামা সম্প্রতি তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে এক বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র নিয়ে তিনি এতই ব্যস্ত যে, জীবনসঙ্গী হিসেবে কাউকে পছন্দ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, আমি এমন একজন নারী চাই যিনি হবেন লম্বা ও কৃশকায় এবং দেখতে সুন্দর।’
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি এমন কোনো নারীকে চাই না, যিনি কিনা দরজা থেকে বের হতে গিয়ে আটকে যাবেন। কোথাও বসতে গিয়ে তাঁর ওজনে আসবাবপত্র ভেঙে যাবে।’

২০০ বছরের পুরোনো শ্যাম্পেন উদ্ধার

বাল্টিক সাগরের তলদেশ থেকে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ১৬০ বোতল শ্যাম্পেন উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো শ্যাম্পেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ফিনল্যান্ডের আল্যান্ড আইল্যান্ডের একটি উৎসবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘোষণায় বলা হয়, গত জুলাই মাসে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের মধ্যবর্তী বাল্টিক সাগরের তলদেশে একটি জাহাজের ভগ্নাবশেষ থেকে ডুবুরিরা ১৬০ বোতল শ্যাম্পেন উদ্ধার করেন। শ্যাম্পেনগুলো প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো হলেও এর স্বাদ এখনো বেশ চমৎকার। শ্যাম্পেনগুলো উনিশ শতকের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এগুলোর সঠিক বয়স এখনো নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।

এবার কমিক বইয়ে কার্লা ব্রুনি

ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি কার্লা ব্রুনি সারকোজি এত দিন মডেল ও গায়িকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এবার তিনি আবির্ভূত হয়েছেন কমিক বইয়ের চরিত্র হিসেবে। একটি মার্কিন প্রকাশনা গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছে।
ব্লুওয়াটার নামের ওই প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির স্ত্রী কার্লা ব্রুনি এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা কারণে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। এবার তিনি অবিনশ্বর হয়ে থাকবেন কমিক বইয়ের পাতায়।
৩২ পৃষ্ঠার কমিক বইটি গত মাসে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু এটি এখনো ফ্রান্সে প্রকাশিত হয়নি। ব্রুনির অনুমতি পেলেই এটি ফ্রান্সের বাজারে আসবে। বইটিতে কার্লা ব্রুনির রাজনৈতিক জীবন ভিন্ন আঙ্গিকে চিত্রায়ণ করা হয়েছে।
ব্লুওয়াটারের প্রকাশক ড্যারেন ডেভিস জানিয়েছেন, কমিক বইয়ে ব্রুনির নাম দেওয়া হয়েছে রিনি। ‘ফিমেল ফোর্স’ বা নারীর ক্ষমতা নিয়ে তাঁরা ধারাবাহিকভাবে যে বইগুলো প্রকাশ করছেন, এটি তার একটি।
ডেভিস আরও জানান, ব্রুনি সারকোজি আদতেই একটি মজাদার চরিত্র। বইটিতে তাঁর উচ্চাভিলাষী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। একজন বালিকা যখন বইটি পড়বে, তখন তার মনে হবে, চেষ্টা করলে সে যেকোনো কিছুই হতে পারবে। কমিকটিতে ব্রুনির জন্ম থেকে শুরু করে ২০০৮ সালে সারকোজিকে বিয়ে করার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৯৭০ সালে তাঁর পরিবারের ফ্রান্সে চলে আসা, তাঁর মডেল ও গায়কজীবন, এইডস নিয়ে কাজ করাসহ তাঁর বর্ণিল জীবনের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে বইটিতে।

মাচু পিচুর প্রত্ননিদর্শন ফিরিয়ে দিচ্ছে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়

পেরুর প্রেসিডেন্ট অ্যালান গার্সিয়া জানিয়েছেন, শত বছর আগে মাচু পিচু থেকে নিয়ে যাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রেসিডেন্ট গার্সিয়া গত শুক্রবার বলেন, ‘গবেষক হিরাম বিংহাম যেসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে গিয়েছিলেন, তার সবই ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়।’
গার্সিয়া জানান, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তে তাঁর সরকার কৃতজ্ঞ।
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো ফিরিয়ে আনতে সাত বছর ধরে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দেনদরবার করছে পেরুর কর্তৃপক্ষ। ওই সব নিদর্শনের মধ্যে আছে সিরামিক পণ্য, গয়না এবং জীবজন্তুর হাড়। মার্কিন গবেষক বিংহাম পেরু থেকে এগুলো ধার করে নিয়ে গিয়েছিলেন ১৯১২ থেকে ১৯১৬ সালের মধ্যে। কিন্তু আর এগুলো ফিরিয়ে দেননি।
পেরুর দাবি, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তাদের ৪৬ হাজার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তাদের কাছে আছে মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার। এর মধ্যে মাত্র ৩৩০টি জাদুঘরে রাখার উপযুক্ত এবং এসব জিনিস রাখার আইনগত অধিকার তাদের আছে।

এক কোটি ডলারের হেরোইন জব্দ করেছে নাইজেরিয়া

ইরান থেকে যাওয়া একটি জাহাজে অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কোটি ডলার মূল্যের হেরোইন জব্দ করেছে নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ। লাওসের আপাপা সমুদ্রবন্দরে ওই জাহাজের ইঞ্জিনের অংশবিশেষ কেটে প্রায় ১৩০ কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল ড্রাগ ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির (এনডিএলইএ) একদল কর্মকর্তা গত শুক্রবার এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন নাইজেরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এনডিএলইএর মুখপাত্র মিশেল ওফেইজু জানিয়েছেন, চার মাস আগে বিদেশি গোয়েন্দা সূত্রগুলো সতর্ক করে দেয়, নাইজেরিয়ায় বড় ধরনের মাদকের চালান আসতে পারে। এ গোয়েন্দা তথ্যের পর নাইজেরিয়ায় আসা জাহাজের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়।
গত শুক্রবার ওই জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়। জাহাজের ইঞ্জিনের একটি অংশে ১৩০ কেজি হেরোইন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে ওই অংশ কেটে হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
নাইজেরিয়ার শুল্ক বিভাগের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এভি মনটেনিগ্রো নামের একটি জাহাজে করে ওই হেরোইন আনা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন সমুদ্রবন্দর হয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাজারে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার করা হয়।
এর আগে গত অক্টোবর মাসে একই বন্দর থেকে নাইজেরিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ইরান থেকে আসা একটি মালবাহী জাহাজে অভিযান চালিয়ে বিপুল অস্ত্র জব্দ করেন। এসব অস্ত্রের মধ্যে ছিল রকেট লঞ্চার, গ্রেনেড, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র।

২০১৪ সালের পর আফগানিস্তানে বিদেশি সেনারা অভিযানে অংশ নেবেন না

আফগানিস্তানে ২০১৪ সালের পর বিদেশি সেনারা কোনো অভিযানে অংশ নেবেন না। গতকাল শনিবার পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে এ-সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও ন্যাটোর মহাসচিব অ্যান্ডার্স ফগ রাসমুসেন এতে স্বাক্ষর করেন।
ন্যাটোর মহাসচিব অ্যান্ডার্স ফগ রাসমুসেন বলেন, ‘আফগানিস্তানে ২০১৪ সালের পর বিদেশি সেনারা কোনো অভিযানে অংশ নেবেন না। আমরা একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আফগান জনগণ নিজেরাই তাদের দেশ পরিচালনার অধিকার পাবে।’
তিনি বলেন, আফগান সেনারা আগামী বছরের শুরুতে কয়েকটি জেলার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবেন। ধীরে ধীরে তাঁরা পুরো দেশের দায়িত্ব নেবেন। বিষয়টি নিয়ে আফগান সেনারা আলোচনা শুরু করেছেন।
রাসমুসেন জানান, ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ আফগান সেনারা পুরো দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবেন বলে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে সেখানে তাঁরা সহায়কের ভূমিকা পালন করবেন বলে জানান।

জার্মানির পার্লামেন্ট ভবনে হামলা হতে পারে

আল-কায়েদা এবং এর সহযোগী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো জার্মানির পার্লামেন্ট ভবনে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। আগামী ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাসে এই হামলা চালানো হতে পারে। জার্মানির সাপ্তাহিক ডের স্পিগেল কাল সোমবারের সংখ্যায় এ খবর প্রকাশ করবে।
ডের স্পিগেল পুলিশ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এই প্রতিবেদন করেছে। বিভিন্ন টেলিফোন কলের সূত্র ধরে জার্মানির ফেডারেল ক্রাইম অফিস (বিকেএ) হামলার পরিকল্পনার বিষয়টি জানতে পারে। দেশের বাইরে থেকে এসব টেলিফোন কল আসে। ডের স্পিগেল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় সদস্যের একটি দল ওই হামলা চালাতে পারে। তাদের মধ্যে দুজন এরই মধ্যে বার্লিনে ঢুকেছে। ছয় থেকে আট সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ওই দুই ব্যক্তি বার্লিনে অবস্থান করছেন। অন্য চারজনের মধ্যে একজন জার্মান, একজন তুর্কি ও একজন আফ্রিকান নাগরিক। আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ওই চারজন জার্মানিতে ঢোকার অপেক্ষায় আছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হামলার পরিকল্পনার কথা জানায়। এতে বলা হয়, আল-কায়েদার সহযোগী ভারতীয় একটি শিয়া গোষ্ঠী জার্মানিতে হামলার পরিকল্পনা করে। হামলার উদ্দেশ্যে দুটি দলকে জার্মানিতে পাঠানো হয়েছে।
এসব তথ্য পাওয়ার পর জার্মানির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস ডে মেজিয়ার গত বুধবার দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেন। এরপর পার্লামেন্ট ভবনের চারদিকে ব্যারিকেড দিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজিয়ার বুধবার বলেন, ‘জার্মানিতে হামলার পরিকল্পনা জানতে পেরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। চলতি মাসেই একটি হামলা চালানো হতে পারে বলে খবর পেয়েছি আমরা।’

গ্যাস নির্গমনের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত

নিউজিল্যান্ডের পাইক রিভার কয়লাখনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় ২৯ জন খনিশ্রমিক আটকা পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন বিদেশি শ্রমিক আছেন। বিদেশি শ্রমিকদের দুজন অস্ট্রেলীয়, দুজন ব্রিটিশ ও একজন দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক। গতকাল শনিবার দেশটির পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গ্যাস নির্গমন বন্ধ না হওয়ায় দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা যায়নি। এমনকি আটকে পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে যোগযোগ স্থাপন করাও সম্ভব হয়নি।
গ্রেমাউথ শহরের মেয়র ককশুর্ন বলেন, আটকে পড়া শ্রমিকদের আত্মীয়স্বজন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। শ্রমিকদের বয়স ১৭ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে। তাঁদের স্বজনেরা খনির কাছেই অপেক্ষা করছেন।
পাইক রিভার কয়লাখনির প্রধান নির্বাহী পিটার হুইটাল বলেন, বাতাসের অবস্থা পরীক্ষা করে উদ্ধারকারী দল খনির কাছেই অপেক্ষা করছে। গ্যাস নির্গমন বন্ধ না হওয়ায় তারা খনির ভেতরে ঢুকতে পারছে না। তিনি জানান, মিথেন গ্যাসের কারণে খনিতে ওই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।
জেলা পুলিশ কমান্ডার সুপারিনটেনডেন্ট গ্যারি নোলেস জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা খনির ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না।
গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলীয় গ্রেমাউথ শহরের পাইক রিভার কয়লাখনিতে বিস্ফোরণের পর খনির ভেতর থেকে পাঁচজন শ্রমিক বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। ২৯ জন শ্রমিক খনির ভেতরে আটকা পড়েছেন। এর আগে খনি কর্তৃপক্ষ ২৭ জন শ্রমিকের আটকে পড়ার খবর নিশ্চিত করেছিল।

ক্ষুদ্রঋণের সুদহার-নীতির কিছু বিষয় স্পষ্ট করেছে এমআরএ

মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) গত ১০ নভেম্বর ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার ও অন্যান্য বিষয়ে যে নীতিমালা জারি করেছে, তার কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করতে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।
নীতিমালায় সুদের সর্বোচ্চ হার ২৭ শতাংশ নির্ধারণ; সুদের হারের হিসাব ক্রমহ্রাসমান ঋণস্থিতির ভিত্তিতে গণনা করা; এবং সাধারণ ক্ষুদ্রঋণের কিস্তিসংখ্যা ৫০-এ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এগুলো নিয়ে কিছু অস্পষ্টতা দেখা দেওয়ায় বিষয়গুলো স্পষ্টীকরণে এমআরএর পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার হিসাবের ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট রেট নামে একটা পদ্ধতিতে সুদ নির্ণয় করা হয়, যার ফলে ক্ষুদ্রঋণের প্রকৃত সুদের হার নির্ধারণে বিভিন্ন প্রকার বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
এ পদ্ধতিতে হিসাবের কারণে ১৫ শতাংশ সুদের হারের প্রকৃত হার দাঁড়ায় ন্যূনতম ৩০ শতাংশ, যা ঋণগ্রহীতাসহ অনেকের কাছেই অস্পষ্ট থাকে। এ পদ্ধতিতে এক হাজার টাকা ঋণের ওপর ১৫ শতাংশ হারে সুদ আরোপের ফলে ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে এক বছরে আদায় করার কথা এক হাজার ১৫০ টাকা (১০০০ টাকা আসল + ১৫০ টাকা সুদ)।
কিন্তু ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান এই এক হাজার ১৫০ টাকা ৫০ কিস্তির মাধ্যমে আদায় করলে প্রতিটি কিস্তিতে ঋণগ্রহীতাকে পরিশোধ করতে হয় ২৩ টাকা (২০ টাকা আসল + ৩ টাকা সুদ)। এভাবে ৫০তম কিস্তিতে ঋণগ্রহীতা যখন ৯৮০ টাকা আসল পরিশোধ করেছেন তখনো অবশিষ্ট ২০ টাকার আসলের জন্য সুদ পরিশোধ করবেন পূর্ণ আসল এক হাজার টাকার ওপর।
৫০তম কিস্তিতে ঋণগ্রহীতার অবশিষ্ট আসল ২০ টাকার ওপর সুদ পরিশোধ করার কথা প্রায় ১১ পয়সা (দশমিক ১০৮ টাকা)। অথচ তাকে পরিশোধ করতে হচ্ছে তিন টাকা যা আগের হার।
এভাবে সাপ্তাহিক কিস্তির মাধ্যমে ঋণগ্রহীতার ঋণের আসল টাকার পরিমাণ কমে এলেও কথিত ফ্ল্যাট পদ্ধতিতে তিনি ক্রমহ্রাসমান ঋণস্থিতির (যা ক্রমান্বয়ে কমে আসবে) ওপর সুদ পরিশোধ না করে মূল এক হাজার টাকার ওপর শেষ কিস্তি পর্যন্ত একই হারে সুদ পরিশোধ করায় প্রকৃত সুদের হার দাঁড়ায় ন্যূনতম দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩০ শতাংশ।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতসহ সারা বিশ্বে ঋণের সুদের হার নির্ণয়ের ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতি অবলম্বন করা হলেও বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ খাতে কথিত ফ্ল্যাট পদ্ধতিতে সুদ নির্ণয় করে কিস্তি আদায় করা হচ্ছে।
এমআরএর ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়েছে, প্রকৃত সুদের হার আরও নির্ভর করে ঋণপ্রদানের সময় থেকে কিস্তি আদায়কালীন বিরতিকালের (গ্রেস পিরিয়ড) ওপর, ঋণপ্রদানকালে বাধ্যতামূলক যেসব অর্থ আদায় করা হয় তার ওপর এবং সর্বোপরি কিস্তিসংখ্যার ওপর।
এসব কর্তনসহ কিস্তির হ্রাসভেদে (অনেক ক্ষেত্রে ৩৭ থেকে ৪৬ পর্যন্ত) কথিত ফ্ল্যাট হারে প্রকৃত সুদের হার দ্বিগুণের বেশি দাঁড়ায়।
এমআরএ বলছে, গরিব ঋণগ্রহীতা ওই হারে ঋণ নিয়ে ঋণের অর্থ ব্যবহার করে উল্লিখিত হারের চেয়ে অধিক হারে মুনাফা অর্জন করলেই কেবল তাদের পক্ষে ঋণের অর্থের সদ্ব্যবহার হবে। তিনি কিস্তি প্রদান করতে পারবেন এবং যে উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ করছে অর্থাৎ দারিদ্র্য বিমোচনের পথে অগ্রসর হবেন।
এমআরএ আরও বলছে, অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে যে প্রচলিত হারে ব্যাংকঋণ নিয়ে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসা সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে ক্ষুদ্রঋণ খাতে গড়ে আর্থিক খরচ (বা তহবিল ব্যয়) মাত্র সাত শতাংশ, যা ব্যাংকিং খাতের ক্ষেত্রে তিন থেকে চার শতাংশ।
উল্লেখ্য, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঞ্চয়ের পরিমাণ গড়ে ঋণস্থিতির ৩০ শতাংশ। আর এ সঞ্চয়ের ওপর সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ হারে সুদ প্রদান করা হয়।
তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তহবিল রয়েছে যার প্রকৃত ব্যয় নেই। এসব অর্থের সঙ্গে ব্যাংকঋণ যোগ করলে এই খাতের গড় আর্থিক খরচ দাঁড়ায় উল্লিখিত সাত শতাংশ।
নীতিমালায় সুদের হার সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ নির্ধারণ করার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্জিন (প্রশাসনিক খরচ ও মুনাফা) দাঁড়াবে ২০ শতাংশ যা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখনো বেশি। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত তহবিলের পরিমাণ কমের কারণে (অধিক প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য) বা উচ্চহারে ব্যাংকঋণের ফলে আর্থিক ব্যয় বেশি হলেও উচ্চ মার্জিনের কারণে (২০ শতাংশ) তাদের পক্ষে লাভজনকভাবে ব্যবসা চালানো সম্ভব।
এমআরএ তাই মনে করে, প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাসকরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যমে সুদের হার আরও কমিয়ে আনা সম্ভব।

পাঁচ দিন বন্ধের পর আজ থেকে আবার শেয়ারবাজার চালু

ঈদুল আজহার তিন দিনের সরকারি ছুটি এবং শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি—সব মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আজ রোববার থেকে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন আবার শুরু হচ্ছে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জে ঈদের আগের শেষ লেনদেন হয়েছে গত সোমবার।
ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে শেয়ারবাজার ছিল বেশ চাঙা। ওই দিন দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই সাধারণ মূল্যসূচক ও বাজার মূলধনের রেকর্ড হয়েছে। বেড়েছিল লেনদেনের পরিমাণও।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের ঠিক আগে আগে শেয়ার বিক্রি করে টাকা ওঠানো যায় না। তাই এ সময় শেয়ার বিক্রির চাপ তুলনামূলক কম থাকে। আবার যাঁরা ঈদের ছুটিতে ঢাকা বা দেশের বাইরে যান, তাঁরা ছুটির পর নব-উদ্যমে বিনিয়োগ শুরু করেন। এ সময় সাধারণত বাজার চাঙা হয়ে ওঠে। এর সুযোগ নিতে অনেকে আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছেন। এ বিষয়টিই ঈদের আগে বাজার চাঙা হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না থাকলে এ ধারা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করেন তাঁরা।
ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক প্রায় ১৩৬ পয়েন্ট বেড়ে আট হাজার ৪৪৩ পয়েন্ট অতিক্রম করে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ সূচক ৪২৪ পয়েন্ট বেড়ে ২৩ হাজার ৯৪২ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ইতিহাসেই এটি সর্বোচ্চ সূচক।

৬০ বছরে বিদেশে পাচার হয়েছে ভারতের ২০ লাখ কোটি রুপি

গত ৬০ বছরে ভারত থেকে অন্তত ৪৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। ভারতীয় টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ লাখ ৩২ হাজার ৮০০ কোটি রুপি। এই অর্থ ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অন্তত ৪০ শতাংশ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইনটিগ্রিটির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ দেব কর এক গবেষণা সমীক্ষায় এই তথ্য পরিবেশন করেছেন।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর ফাঁকি দিতে বহু বেসরকারি সংস্থা এবং ধনী ভারতীয় বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ জমা রেখেছেন। প্রতিবছর গড়ে ভারতীয়দের এক হাজার ৬০০ কোটি ডলার বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা পড়ছে।
দেব কর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
এই সমীক্ষা করা হয়েছে ১৯৪৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সময়কে ধরে। ভারতীয়দের এই কালো টাকা শুধু সুইস ব্যাংকেই জমা হয়নি, বরং চলে গেছে মরিসাস, হংকং, সিঙ্গাপুর, ম্যাকাও, সিশেলস, থাইল্যান্ড এবং দুবাইতেও। সেখানে ব্যবসায়িক কাজে বিনিয়োগও হচ্ছে এই টাকা।
এদিকে ভারতীয় শিল্পপতি, বেসরকারি সংস্থা এবং বিভিন্ন পুঁজিপতির হাত ধরে বিদেশে পাচার হওয়া ভারতের কালো টাকা এখনো উদ্ধার করতে পারেনি ভারত সরকার। গত আগস্ট মাসে সুইজারল্যান্ড সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত ভারতীয়দের কালো টাকা উদ্ধারের জন্য একটি চুক্তি সম্পাদন হয়; তবে এখনো কালো টাকা উদ্ধারে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

কাল থেকে শুরু অ্যাকটিভ ফাইন ও আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড-১-এর লেনদেন

অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস লিমিটেড ও আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন আগামীকাল সোমবার থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শুরু হবে। ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস লিমিটেড জানিয়েছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন ‘এন’ ক্যাটাগরিতে আগামীকাল সোমবার থেকে ডিএসইতে শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএসইর ট্রেডিং কোড হবে "ACTIVEFINE" ও কোম্পানি কোড হবে ১৮৪৮৩।
এদিকে আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড-১ জানিয়েছে, ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফান্ডটির ইউনিটের লেনদেন ‘এ’ ক্যাটাগরিতে আগামীকাল থেকে ডিএসইতে শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএসইর ট্রেডিং কোড হবে "IFILISLMF1" কোম্পানি কোড ১২১৮১।

ঈদের ছুটির পর আবারও চাঙা শেয়ারবাজার

ঈদুল আজহার ছুটির পর আজ রোববার আবারও চাঙা হয়ে উঠেছে ঢাকার শেয়ারবাজার। আজ সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে বেড়ে রেকর্ড হয়েছে। বেড়েছে আর্থিক লেনদেন, বেশির ভাগ শেয়ারের দর ও বাজার মূলধন। ঈদুল আজহার তিন দিনের সরকারি ছুটি এবং শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি—সব মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আজ রোববার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়। এর আগে গত সোমবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জে ঈদের আগের শেষ লেনদেন হয়।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট ২৪৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৮টির, কমেছে ৬৪টির ও দর অপরিবর্তিত রয়েছে পাঁচটির।
এদিকে আজও সাধারণ সূচকের রেকর্ড হয়েছে। সূচকের ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে আজ লেনদেন শুরু হয়। বিকেল তিনটায় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৫৪ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ৮৫৯৮ দশমিক ১৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়, যা ডিএসইর সর্বোচ্চ রেকর্ড।
আজ ডিএসইতে মোট দুই হাজার ৮২৪ কোটি টাকার কিছু বেশি লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ২৫১ কোটি টাকা বেশি।
আজ ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩,৬০,০৪০ কোটি টাকা, যা ডিএসইর ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
আজ লেনদেনে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো—বেক্সিমকো, এনসিসি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, ইউসিবিএল, কনফিডেন্স সিমেন্ট, এবি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস, প্রাইম ফিন্যান্স ও ইস্টার্ন ব্যাংক।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দুলামিয়া কটনের শেয়ারের দর। এ ছাড়া আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, কেয়া ডিটারজেন্ট, কাশেম ড্রাইসেল, আজিজ পাইপ, সাফকো স্পিনিং, এইচআর টেক্সটাইল, দেশ গার্মেন্টস, কেয়া কসমেটিকস ও ফেডারেল ইনস্যুরেন্স দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে আফতাব আটোমোবাইলের শেয়ারের দর। এ ছাড়া যমুনা ব্যাংক, এএমসিএল (প্রাণ), প্রথম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, বিডি ফিন্যান্স, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, প্রাইম প্রথম আইসিবিএ মিউচুয়াল ফান্ড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক দাম কমায় শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান।

অপ্রস্তুত স্টেডিয়ামেই অনুশীলন

বিশ্বকাপ উপলক্ষে ড্রেসিংরুম, মিডিয়া বক্স, গ্যালারি, স্কোরবোর্ড, সাইট স্ক্রিন—সবকিছুই সাজাতে হচ্ছে নতুন করে। চট্টগ্রামের জহুর আহম্মদ চৌধুরী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে এখন চলছে ভাঙাগড়ার খেলা। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে যে এ মাঠে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজের শেষ দুটি ওয়ানডেও হওয়ার কথা! আগামী ১০ ও ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ম্যাচ দুটির জন্য কতটা প্রস্তুত এই স্টেডিয়াম? জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে যে সব কাজ শেষ হবে না, সেটা স্বীকার করছেন বিসিবি ও বিশ্বকাপ ভেন্যুর দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিরাও।
জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করতে হবে ড্রেসিংরুম, মিডিয়া বক্স, প্যাভিলিয়ন, বিদ্যুৎ-সংযোগ ও পানির লাইনের কাজ। কিন্তু এসব তার আগে শেষ হবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে ঘোর সংশয়। যদিও ভেন্যুর চেয়ারম্যান সিরাজুদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেছেন, ‘ড্রেসিংরুম ও মিডিয়া বক্সের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু ফার্নিচার লাগানো হবে। সেটা ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই হয়ে যাবে আশা করি। তবে গ্যালারির যে পাশটা দ্বিতল হচ্ছে সেটা প্রয়োজনে এই সিরিজে ব্যবহার করা হবে না।’
গতকাল স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা গেছে, ইলেকট্রনিক সাইট স্ক্রিনের কাজ এখনো শেষ হয়নি। জিম্বাবুয়ে সিরিজে ব্যবহার করতে হবে আগের ম্যানুয়াল স্ক্রিনই। মিডিয়া বক্স ও ড্রেসিংরুমে বিদ্যুতের লাইন টানা, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও কাচ লাগানোর কাজ এখনো বাকি। এ ছাড়া রঙের কাজ, সিঁড়িতে রেলিং লাগানোসহ অন্যান্য বেশ কিছু কাজও বাকি আছে। তবে আগামী ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে পানি ও বিদ্যুৎ-সংযোগ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী আলমগীর।
পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী (পাহাড়তলী) আকত আলী নতুন বিদ্যুৎ-সংযোগের কাজ শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কবে কাজ শেষ হবে, সে নিশ্চয়তা দিচ্ছেন না। তিনি বলেছেন, ‘আমরা মাত্র কয়েক দিন আগে কাজ শুরু করেছি। কাজ কবে শেষ হবে সেটা এখনই বলতে পারব না। তবে জিম্বাবুয়ের খেলার সময় বিশেষ ব্যবস্থায় কিছু করা যেতে পারে।’
এমন বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যেই আজ থেকে চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে জাতীয় দলের তিন দিনের অনুশীলন ক্যাম্প। মুত্তিয়া মুরালিধরনের সঙ্গে বিশ্বকাপের প্রচারণায় অংশ নিতে মুম্বাই যাওয়া সাকিব আল হাসান দেশে ফিরবেন ২৩ নভেম্বর। অন্যদের নিয়ে আজ সকালে চট্টগ্রামে আসছেন কোচ জেমি সিডন্স। অনুশীলনের জন্য মাঠ ও উইকেটের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে।
চট্টগ্রামে অনুশীলন করতে এসে খেলোয়াড়দের সমস্যায় পড়তে হবে ড্রেসিংরুম নিয়ে। আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে মাঠের এক পাশে তাঁবু টানিয়ে দেওয়া হলেও শৌচাগার ব্যবহারের জন্য ছুটতে হবে দোতলায়। সঙ্গে নির্মাণকাজের ঝক্কি তো পোহাতে হবেই। ইট-বালুর স্তূপ, ভাঙা আস্তরণ, নির্মাণকাজের শব্দ—এসব সঙ্গী করেই চলবে জাতীয় দলের তিন দিনের অনুশীলন ক্যাম্প। চট্টগ্রামে সিডন্সের এই ক্যাম্প ‘কন্ডিশনের’ সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু স্টেডিয়ামেরই যে ‘কন্ডিশন’, মানিয়ে নেওয়ার কাজ কতটা হয় কে জানে?

ভারতীয় বোলারদের প্রত্যাবর্তন

ড্যানিয়েল ভেট্টোরির সিদ্ধান্ত, আগের দিনের বৃষ্টির প্রভাব কিংবা কিউই দুই ব্যাটসম্যানের চোট; কারণ কী তা নিয়ে তর্ক হতে পারে। তবে এটা ঠিক, শেষ পর্যন্ত নিজেদের খুঁজে পেয়েছেন ভারতীয় বোলাররা।
নখদন্তহীন হয়ে দুই টেস্ট কাটানোর পর ভারতীয় বোলাররা নাগপুরে নিজেদের খুঁজে পাওয়ায় সিরিজের তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই পেছন পায়ে চলে গেছে সফরকারী নিউজিল্যান্ড। ভেজা আউটফিল্ডের জন্য দেরিতে শুরু হওয়া ও আলোর অভাবে আগে শেষ হয়ে যাওয়া প্রথম দিনে যে ৫৬ ওভার খেলা হয়েছে, তাতে ১৪৮ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে ভেট্টোরির দল।
অথচ শেষ টেস্টে টস করতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সবকিছুই ড্যানিয়েল ভেট্টোরির পক্ষে ছিল। উইকেটকে নিষ্প্রাণই মনে হচ্ছিল, তাঁর ব্যাটসম্যানরা ফর্মে ছিলেন, সর্বোপরি চোটের জন্য ম্যাচ খেলতে পারছেন ভারতের এই সিরিজের সেরা বোলার জহির খান। টসে জিতে সে জন্যই ‘ব্যাট’ বলে দিয়েছিলেন ভেট্টোরি।
কিন্তু তাঁর একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেছে ওই টসের সময়েই। টস করতে মাঠে যাওয়ার সময় ভেট্টোরি দেখেছেন ফিল্ডিং অনুশীলন করতে গিয়ে পিঠে চোট পেয়েছেন আগের ম্যাচের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান ম্যাককালাম। তাই বাধ্য হয়ে ফর্মে থাকা এই ওপেনারকে বাদ দিয়ে ইনিংস শুরু করতে পাঠানো হয় মার্টিন গাপটিল ও টিম ম্যাকিন্টশকে। উদ্দেশ্য, একটু সেরে ওঠার জন্য ম্যাককালামকে সময় দেওয়া। শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে ম্যাককালামকে নামতে হয় আট নম্বরে।
শ্রীশান্ত ও ইশান্তও যে এই দিনটাকেই বেছে নিয়েছিলেন! নিজের পরপর দুই ওভারে দুই ওপেনারকে তুলে নেন শ্রীশান্ত। ইনিংসের ১৫ ও ১৭তম ওভারে রস টেলর ও ভেট্টোরিকে ফিরিয়ে দেন জহিরের চোটে সুযোগ পাওয়া ইশান্ত। মাঝের ১৬তম ওভারে কেন উইলিয়ামসনকে আউট করেন প্রজ্ঞান ওঝা। নিউজিল্যান্ডের তখন ৫ উইকেটে ৫১ রান। ৮২ রানে নিউজিল্যান্ড হারায় ষষ্ঠ উইকেট; ওঝার বলে ক্যাচ দেন হপকিন্স।
এই বিপর্যয়ের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের যা কিছু প্রাপ্তি তা এই ষষ্ঠ উইকেট পড়ার পর; সপ্তম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন আহত দুই ব্যাটসম্যান জেসি রাইডার ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।
পায়ের পেশিতে ব্যথা নিয়েই ৪ নম্বরে ব্যাট করতে নামতে হয় রাইডারকে। আর ম্যাককালাম ৮ নম্বরে! ব্যথা নিয়ে খেলতে নামায় রানার পাননি কেউই। ফলে সিঙ্গেল, ডাবল নেওয়ার জায়গায় বল পাঠিয়েও দাঁড়িয়ে থেকেছেন দুজন। তার পরও ১৯.৩ ওভারে সপ্তম উইকেটে তাঁদের জুটিটা হয় ৪২ রানের।
১১৩ বলে ৫টি চারসহ ৫৯ রানের ‘বীরত্বপূর্ণ’ ইনিংস খেলে হরভজন সিংয়ের একমাত্র শিকার হয়ে ফিরেছেন রাইডার। তবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ৩৪ রানে অপরাজিত ম্যাককালাম। তবে সঙ্গী চোট ও সাউদিকে নিয়ে কত দূর যেতে পারবেন?

ফেদেরারের সংশয়

ছয় বছর ধরেই এটা হয়ে আসছে। কখনো নাদাল-সাম্রাজ্য, কখনো ফেদেরার-রাজ। টেনিস ইতিহাসে আর কখনোই কেবল দুজন খেলোয়াড়ের মধ্যে টানা ছয় বছর র্যা ঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুটো স্থানের হাতবদল হয়নি। সামনের আরও কয়েক বছরও হয়তো ছবিটা থাকবে একই রকম। যদিও ফেদেরারই বলছেন, হয়তো আর কখনোই এক নম্বর ওঠা হবে না তাঁর!
‘কোনো সন্দেহ নেই আমার জন্য এটা হবে চ্যালেঞ্জিং। রাফা দারুণ খেলছে। ওকে টপকে যাওয়া আমার জন্য কঠিন’—এক নম্বরের মুকুট কবে ফিরিয়ে নিচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেছেন রজার ফেদেরার।
২০০৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো র্যা ঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠেন এই সুইস। রাফায়েল নাদালের তখন মাত্রই আবির্ভাব। এরপর এই স্প্যানিয়ার্ড একসময় দুই নম্বরে উঠে গেলেও ফেদেরার একে ছিলেন রেকর্ড টানা ২৩৭ সপ্তাহ। ২০০৮ সালের ১৭ আগস্ট দুইয়ে নেমে যান ফেদেরার, পরদিন এক নম্বরে ওঠেন নাদাল। টানা ৪৬ সপ্তাহ শেষে আবারও ফেদেরারের কাছে মুকুট সঁপে দিতে হয় তাঁকে গত বছর জুলাইয়ে। শীর্ষস্থানটির হাতবদল আরেকবার হয়েছে, গত জুনে। এরপর গত ২৪ সপ্তাহ শীর্ষে নাদাল।
ফেদেরারের এক নম্বরে ওঠা নিয়ে কথা হচ্ছে, কারণ এই কিংবদন্তি যে আরেকটি রেকর্ডের সামনে। সব মিলে ক্যারিয়ারে ২৮৫ সপ্তাহ এক নম্বরে কাটিয়েছেন ফেদেরার। বিশ্ব রেকর্ড থেকে মাত্রই এক সপ্তাহ দূরে। পিট সাম্প্রাস তাঁর ক্যারিয়ারে ২৮৬ সপ্তাহ ছিলেন শীর্ষে। সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লামের মতো এই রেকর্ডটাও সাম্প্রাসের কাছ থেকে ফেদেরার কেড়ে নিতে পারবেন কি? ২৯ বছর বয়সী অবশ্য দাবি করলেন, ‘দেখুন, এক নম্বর নিয়ে আমি মোটেও মাথা ঘামাচ্ছি না।’

ধোনি বিশ্রামে, গম্ভীর অধিনায়ক

বেশ কিছুদিন ধরেই নির্বাচকদের কাছে বিশ্রামের অনুরোধ জানিয়েছিলেন ধোনি। শুক্রবার তো বলেই দিয়েছেন, একটানা খেলতে খেলতে হাঁপিয়ে উঠেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর অনুরোধ মঞ্জুর হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বহু কাঙ্ক্ষিত বিশ্রাম পাচ্ছেন ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। দলকে নেতৃত্ব দেবেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান গৌতম গম্ভীর।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুধু ধোনিই নয় শেবাগ, টেন্ডুলকার, জহির খান ও হরভজন সিংকেও বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। দল গঠনে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের হোয়াইটওয়াশ হওয়ার ব্যাপারটি ভারতীয় নির্বাচকদের মাথায় ছিল কি না, তা জানা না গেলেও নির্বাচকেরা বলেছেন, আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগে সিনিয়র খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়াটাকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে ভাবছেন তাঁরা। আর কয়দিন পরেই বিশ্বকাপ যুদ্ধে ঝাঁপ দিতে হবে দলকে। বিশ্বকাপের আগে যেন কোনো ইনজুরির প্রকোপ দলকে ঘিরে না ধরে, সে জন্যই এ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। শেবাগ, টেন্ডুলকার, জহির খান ও হরভজন—এ চারজনই ছোটখাটো ইনজুরি সমস্যায় বেশ অনেক দিন ধরেই ভুগছিলেন। এত দিনে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার একটা ফুরসত পেলেন তাঁরা।
দলে দীর্ঘদিন পরে ফিরেছেন যুবরাজ সিং। ধোনির অনুপস্থিতিতে অধিনায়ক হিসেবে প্রথমে যুবরাজের কথা চিন্তা করা হলেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে গম্ভীরের হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে অধিনায়কত্ব। ভারতের ক্রিকেট নির্বাচক কমিটির এক সূত্রের বরাত দিয়ে একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নাকি স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে গম্ভীরের কথাই ভাবছেন নির্বাচকেরা।
ধোনির অনুপস্থিতিতে উইকেট রক্ষকের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, এটা নির্ধারণ করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে নির্বাচকদের। এর আগে ধোনির অবর্তমানে এ দায়িত্ব পালন করেছেন পার্থিব প্যাটেল। এবারও তাঁরই অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সমীকরণটা পাল্টে দিয়েছেন নবাগত ঋদ্ধিমান সাহা। রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার হয়ে আসামের বিপক্ষে অপরাজিত ১৭৮ রানের চমত্কার এক ইনিংস খেলে পার্থিব প্যাটেলকে টপকে দলে জায়গা করে নিয়েছেন ঋদ্ধিমান।
ভারত দল: গৌতম গম্ভীর, মুরলি বিজয়, ভিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, সুরেশ রাইনা, সৌরভ তিওয়ারি, ঋদ্ধিমান সাহা, আর আশিন, প্রাভিন কুমার, ভিনয় কুমার, মুনাফ প্যাটেল, শ্রীশান্ত, ইউসুফ পাঠান, রবীন্দ্র জাদেজা।

তারকা কয়েল

গুয়াংজু থেকে ঢাকা ঘুরে আবার গুয়াংজু পৌঁছাচ্ছে সেই আলোচিত ইলেকট্রনিক মশার কয়েল। কয়েলের কপাল বটে! জড় পদার্থ না হলে এই কয়েলকে বলতে হতো ১৬তম এশিয়ান গেমসের অন্যতম তারকা! বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কাছে কয়েলটি জমা দিয়েছেন ফজলুর রহমান (বাবুল)। আগামীকাল কারাতে দল এশিয়ান গেমস ভেন্যুতে আসার সময় ওটা নিয়ে আসছে। বাফুফে সদস্য ফজলুর রহমান বিওএর প্রতিনিধি হিসেবে এশিয়ান গেমস-পল্লিতে ছিলেন। তিনি ঢাকা ফিরে যাওয়ার পর আয়োজকেরা অভিযোগ তোলে, ফজলুর রহমানের কক্ষে থাকা ইলেকট্রনিক মশার কয়েল পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য বাংলাদেশকে ৩০ আরএমবি (বাংলাদেশি টাকায় ৩০০ টাকার ওপরে) জরিমানা করা হয়। জরিমানার ঘটনায় বাংলাদেশ পড়ে যায় লজ্জায়। ফজলুর রহমান জানান, ভুলে তিনি ওটা নিয়ে গেছেন দেশে। ভুল, শুদ্ধ—যা-ই হোক, গেমসে এসে এভাবে জরিমানা দেওয়ায় দেশের মান-মর্যাদাতেই টান পড়েছে!

পেডারসেনের জোড়া গোলে ব্ল্যাকবার্নের জয়

মর্টেন পেডারসেনের জোড়া গোলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলায় অ্যাস্টন ভিলাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ব্ল্যাকবার্ন। টানা পাঁচ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর আজ রোববার রাতে হারের স্বাদ পেতে হলো ভিলাকে।
দুই দলই লড়েছে সমান তালে, তবে শেষ হাসি হেসেছে ব্ল্যাকবার্ন। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে ব্ল্যাকবার্নকে গোল এনে দেন পেডারসেন। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নরওয়ের এই মিডফিল্ডার।

সর্বাত্মক আন্দোলন বনাম জনদুর্ভোগ

ঈদের আগমুহূর্তে ১৪ নভেম্বর হঠাৎ সারা দেশে হরতাল ডেকে বিএনপি ঘরে ফেরা মানুষের জন্য যে কী পরিমাণ দুর্ভোগ ডেকে এনেছিল, তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হলো, আরও বড় দুর্ভোগের পালা শুরু হতে যাচ্ছে। বিএনপি সর্বাত্মক আন্দোলনের যে ডাক দিয়েছে, তা সরকারের জন্য যতটা না দুশ্চিন্তার কারণ হবে, এর চেয়ে বেশি সমস্যার কারণ হয়ে উঠবে সাধারণ মানুষের জন্য। রাজধানীর দৈনন্দিন জীবন এখন এত বেশি কর্মমুখর যে মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করলেও এর ধাক্কা সারা নগরে পড়ে, রাস্তাঘাটে সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা। এখন আন্দোলনের নামে যদি রাজপথ আটকে সমাবেশ, লংমার্চ, অবরোধ শুরু হয়, আর তারই একপর্যায়ে তথাকথিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে যদি হরতাল ডাকা হয়, তাহলে জনহয়রানির সীমা থাকবে না।
গণ-আন্দোলন গণতন্ত্রে স্বীকৃত। কিন্তু সেই আন্দোলন যেন মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে না তোলে, সেটা দেখার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। বিরোধী দল বা সরকারি দল—কোনো পক্ষেরই এ ব্যাপারে নিস্পৃহ থাকার সুযোগ নেই। বিরোধী দলকে যেমন দেখতে হবে, তাদের দাবি আদায়ের জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ কতটা যুক্তিযুক্ত, তেমনি আবার সরকারি দলকেও দেখতে হবে তাদের অবিবেচনাপ্রসূত কোনো পদক্ষেপের কারণে যেন বিরোধী দল রাজপথে নামতে বাধ্য না হয়।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে ‘উচ্ছেদ’-এর পদক্ষেপ এখনই না নিলে হয়তো এই মুহূর্তে রাজনীতি তপ্ত হয়ে ওঠার সুযোগ থাকত না। বিষয়টি আদালতেই নিষ্পত্তি হতে পারত। সরকারকে দেশ চালাতে হবে, তাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তাদের স্বার্থেই দরকার বেশি। সরকারের পরামর্শদাতারা অতি উৎসাহী হয়ে দেশে অনাসৃষ্টির বীজ বপন করছেন কি না, তা ভেবে দেখার দায়িত্ব সরকারেরই। কারণ হরতালের জন্য মানুষ বিএনপিকে দোষ দিলেও পাশাপাশি এ কথাও বলছে, সরকার কেন অন্তত ২৯ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত অপেক্ষা করল না। অর্থাৎ জনদুর্ভোগের দায় সরকার এড়াতে পারে না।
অন্যদিকে বিরোধী দল বিএনপি এর আগে বলেছে, তারা এমন কোনো কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছে না, যা মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়। নতুন ধারার আন্দোলনের চিন্তাভাবনার কথা তারা বিভিন্ন সময় বলেছে। এমনকি শুধু জিয়া পরিবারকেন্দ্রিক আন্দোলন খালেদা জিয়াই চান না, এ রকম মনোভাবের কথা মাস খানেক আগে চারদলীয় জোটের সভায় আলোচিত হয়েছে বলে পত্রিকার খবরে জানা গেছে। তাহলে কেন বিএনপি বাড়ি নিয়ে হরতাল ডাকল? এটা কি বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল, নাকি আকস্মিকভাবে জুড়ে দেওয়া কোনো কর্মসূচি? দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিকে এসব খুঁজে দেখতে হবে।
বিএনপি সংসদে যায় না, অথচ সংসদীয় গণতন্ত্র ধ্যান-জ্ঞান বলে তারা দাবি করে। বিতর্কিত সব বিষয়ই সংসদে আলোচনা হতে পারে। তর্কবিতর্ক সংসদেই হোক। তাহলে দেশবাসী জানতে পারবে, কার দাবি কতটা ন্যায্য। এর পরও সভা-সমাবেশ বা আন্দোলন হতে পারে। সেগুলো খোলা মাঠ বা হলঘরে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। রাজপথকে রেহাই দিন।
হরতাল বা লংমার্চের মতো কর্মসূচি গ্রহণের অধিকার থাকলেও এর প্রয়োগ আপাতত স্থগিত রাখাই শ্রেয়। কারণ মানুষের জন্যই রাজনীতি। তাদের ভালো-মন্দ উপেক্ষা করা যায় না।

ডিএসই: সাধারণ সূচক কমেছে ৭৭ পয়েন্ট

ছয় কর্মদিবস অব্যাহত ঊর্ধ্বগতির পর আজ সোমবার কিছুটা কমেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক। আজ আর্থিক লেনদেন গতকালের চেয়ে কমেছে। তবে বেড়েছে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, সাধারণ সূচকের নিম্নগতির মধ্য দিয়ে আজ লেনদেন শুরু হয়। এরপর কয়েকবার বাড়া-কমার পর দিন শেষে সাধারণ মূল্যসূচক ৭৭ দশমিক ১১ পয়েন্ট কমে ৮৫২১ দশমিক ০৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। আজ লেনদেন হওয়া মোট ২৪৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৫টির, কমেছে ১০৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর।
আজ ডিএসইতে মোট দুই হাজার ৭৪৫ কোটি টাকার কিছু বেশি লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৭৯ কোটি টাকা কম।
আজ লেনদেনে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো বেক্সিমকো, ইউসিবিএল, পিপলস লিজিং, এনসিসি ব্যাংক, শাইনপুকুর সিরামিক, শাহজালাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বেক্সিমকো টেক্সটাইল, পূবালী ব্যাংক ও এনবিএল।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অ্যাকটিভ ফাইনের শেয়ারের দর। এ ছাড়া সিনোবাংলা, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, সিএমসি কামাল, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, অগ্নি সিস্টেম, অ্যামবি ফার্মা, বিডি অটোকার, স্টান্ডার্ড সিরামিক ও দেশ গার্মেন্টস দর বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড-১-এর ইউনিটের দর। এ ছাড়া ইস্টার্ন ব্যাংক, ইস্টার্ন হাউজিং, যমুনা ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, সপ্তম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, অ্যাপেক্স ট্যানারি, সাউথইস্ট ব্যাংক ও কনফিডেন্স সিমেন্ট দর কমে যাওয়া শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
আজ ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩,৫৮,১৩৯ কোটি টাকা।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়তে ন্যাটো ও রাশিয়া একমত

একসময়ের চরম শত্রুভাবাপন্ন দুই শক্তি রাশিয়া ও ন্যাটো ইউরোপের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আফগানিস্তানসহ অন্যান্য নিরাপত্তা ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। লিসবনে সদ্যসমাপ্ত ন্যাটো সম্মেলনে তারা এসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
২০০৮ সালে রাশিয়া জর্জিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর পর ন্যাটো ও রাশিয়ার সম্পর্কের মধ্যে যে শীতল সম্পর্কের সূচনা হয়, এর মাধ্যমে তা কিছুটা হলেও উষ্ণ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্মেলনে গত শনিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, ইউরোপে সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ন্যাটো যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে তাঁদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। মেদভেদেভ বলেন, সব বিরোধ অতিক্রম করে তাঁরা একটি সহযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে ছোড়া যেকোনো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো সম্ভব হবে। ইরানের দিক থেকে এ ধরনের হামলা এলে সহজেই তা যাতে ঠেকানো যায়, সেজন্যই এ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৬ বছর বয়সে বিয়ে করার আহ্বান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করতে সে দেশের মেয়েদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটিতে তরুণ-তরুণীদের বিয়ের গড় বয়স বেড়ে যাওয়ায় তিনি এ আহ্বান জানান। গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় দৈনিক জাম ই জাম-এর প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।
ইরানে জন্মহার নিয়ন্ত্রণে নব্বইয়ের দশকে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি নেওয়া হয়। তখন ধর্মবিরোধী ও পশ্চিমা বিশ্ব থেকে আমদানি করা উল্লেখ করে এই কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করেন আহমাদিনেজাদ। তবে ওই কর্মসূচির ফলে দেশটিতে নাটকীয়ভাবে জন্মহার কমে যায়।
প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘আমাদের ছেলেদের বিয়ের বয়স ২০ এবং মেয়েদের ১৬ থেকে ১৭ বছর করা উচিত। বর্তমানে ছেলেদের বিয়ের গড় বয়স ২৬ এবং মেয়েদের ২৪ বছরে পৌঁছেছে। কোনো কারণ ছাড়াই বিয়ের গড় বয়স এমন বেড়ে গেছে।’
২০০৫ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ জনসংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে জোর দেন। গত জুলাই মাসে জন্মহার বাড়ায় শিশুপ্রতি বিশেষ আর্থিক সুবিধারও ঘোষণা দেন তিনি। তবে সমালোচকেরা বলছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ দেশটির বেকারত্ব বাড়াবে।

বসতি নির্মাণ বন্ধ না হলে কোনো আলোচনা নয়: মাহমুদ আব্বাস

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, পূর্ব জেরুজালেমসহ সমগ্র ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি স্থাপন বন্ধ না হলে তাঁরা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনায় বসবেন না। গতকাল রোববার কায়রোয় মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের সঙ্গে বৈঠক শেষ করে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘যদি সামগ্রিক অর্থে বসতি স্থাপন বন্ধ করা না হয়, অন্য কথায় বসতি স্থাপন বন্ধের আওতায় যদি জেরুজালেমকে অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, তাহলে আমরা পুনরায় আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব গ্রহণ করব না।’
গত সপ্তাহে এক বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ৯০ দিন বসতি স্থাপনা স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেন। তবে তাঁর ওই প্রস্তাবে পূর্ব জেরুজালেমে বসতি স্থাপন বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
হিলারির ওই প্রস্তাব লিখিত আকারে হাতে না পাওয়ায় নেতানিয়াহু প্রস্তাবটি তাঁর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে পেশ করেননি। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বলেছেন, ওয়াশিংটন লিখিত আকারে প্রস্তাবটি ইসরায়েলের কাছে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। গত সপ্তাহে রামাল্লায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত জর্জ মিশেলের একান্ত সহকারী ডেভিড হল প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কাছে ওই প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ২ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়। তবে পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি শুরু হলে তিন সপ্তাহ পরই সে আলোচনা ভেস্তে যায়।

উ. কোরিয়ায় কয়েক শ সেন্ট্রিফিউজ দেখেছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞ

যুক্তরাষ্ট্রের এক পরমাণুবিজ্ঞানী চলতি মাসে উত্তর কোরিয়ায় কয়েক শ সেন্ট্রিফিউজ দেখেছেন। গত শনিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ কথা জানা গেছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজে এই সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। পরমাণু বোমা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা।
ওই সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিগফ্রিড হেকার নামের ওই পরমাণু বিশেষজ্ঞকে উত্তর কোরিয়ার ইয়ংবিয়ন পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনে নিয়ে যান সে দেশের কর্মকর্তারা। সেখানে একটি কক্ষে তিনি দেখেন, কয়েক শ সেন্ট্রিফিউজ বসানো রয়েছে। উত্তর কোরিয়ায় তিনি একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে সফরে ছিলেন। কর্মকর্তারা হেকারকে জানান, তাঁদের দুই হাজার সেন্ট্রিফিউজ কাজ করছে। তবে উত্তর কোরিয়া পরিদর্শনকারী ওই মার্কিন প্রতিনিধিদল এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ২০০২ সাল থেকে ধারণা করে আসছিল, উত্তর কোরিয়ায় এ ধরনের কর্মসূচি চালু ছিল। কিন্তু মার্কিন ওই বিশেষজ্ঞের দাবি এখন নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা। উত্তর কোরিয়ায় প্লুটোনিয়াম-নির্ভর পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এখন মার্কিন বিজ্ঞানীর এই দাবি সত্য হলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে পরমাণু বোমা তৈরির আরেকটি পথও খোলা রয়েছে দেশটির জন্য।
একটি সূত্র বলেছে, ওই স্থাপনাটি তাদের কাছে (পরিদর্শক দল) একটি পরমাণু স্থাপনা বলেই মনে হয়েছে। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ওই স্থাপনা কতটা আধুনিক ও উন্নত, তা দেখে বিস্মিত হয়েছেন হেকার। তবে ওই স্থাপনায় শুধু স্বল্পমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হয় কি না, তা যাচাই করে দেখার সুযোগ পাননি তিনি। হেকার জানান, ওই স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সাড়ে তিন শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। পরমাণু বোমা তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দরকার। তবে উত্তর কোরীয় কর্তৃপক্ষ কী কারণে হেকারকে তাদের ওই স্থাপনা দেখতে দিয়েছেন, তা পরিষ্কার জানা যায়নি।
উত্তর কোরিয়া সফর থেকে ফিরে হেকার কয়েক দিন আগে হোয়াইট হাউসকে এই খবর জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎপর হয়ে ওঠে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার বিশেষ দূত স্টিফেন বসওয়ার্থ সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য শনিবার এক সফর শুরু করেছেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও চীন সফর করবেন।

আফগানিস্তানে নির্বাচনে জয়ী অনেক প্রার্থীর ফল বাতিল হচ্ছে

আফগানিস্তানে এবার সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করা বেশ কিছু প্রার্থীর ফলাফল বাতিল করে দিয়েছে জাতিসংঘ সমর্থিত নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ইলেকটোরাল কমপ্লায়ান্টস কমিশন (ইসিসি)। ভোট জালিয়াতির দায়ে তাঁদের ফল বাতিল ও ওই সব প্রার্থীকে নির্বাচনের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে ঠিক কত প্রার্থীর ফল বাতিল হয়েছে তার সংখ্যা এবং তাদের নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসিসির একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ওই বিজয়ীদের অযোগ্য ঘোষণা করা হচ্ছে। অযোগ্য হিসেবে তাঁদের নাম ঘোষণার পর তাঁরা কোনো রকম আবেদন করার সুযোগ পাবেন না।
সূত্র জানিয়েছে, ইসিসি বাতিল হওয়া প্রার্থীদের নামের তালিকা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইলেকশন কমিশনে (আইইসি) হস্তান্তর করবে। এরপর আইইসি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করবে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের ২৪৯ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই সেখানে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। নির্বাচনের দিন বড় ধরনের অঘটন না ঘটায় নির্বাচন তুলনামূলকভাবে সুষ্ঠু হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে বিভিন্ন সংগঠন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের দুই মাস পরও ফল ঘোষণার দিন ঠিক না করায় ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। খোদ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।

পার্সেল বোমার মতো হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা আল-কায়েদার

পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে পার্সেল বোমার মতো হামলা ক্রমাগত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনভিত্তিক আল-কায়েদা। পশ্চিমা দেশগুলোকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন করার লক্ষ্যে তারা এ ধরনের হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত শনিবার আল-কায়েদার ইংরেজি সাময়িকী ইন্সপায়ার পর্যবেক্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘ইন্টেলসেন্টার’ এ তথ্য দিয়েছে।
ওই সাময়িকীতে আল-কায়েদা ইন অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (একিউএপি) জানায়, গত মাসের শেষের দিকে কার্গো বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যে পার্সেল বোমা পাঠানো হচ্ছিল, সেটার পেছনে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্য ছিল না। উদ্দেশ্য ছিল বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন করা।
একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক জানায়, ‘আমেরিকার পতন ঘটানোর জন্য আমাদের বড় ধরনের আক্রমণে যাওয়ার কোনো দরকার নেই। পার্সেল বোমার মতো ছোট হামলা চালানো তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ। এতে বেশি লোকের প্রয়োজন নেই। অল্প সময়েই এটি করা যায়। এতে খরচও কম।’
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ইহুদিদের একটি উপাসনালয়ের ঠিকানায় পার্সেলে বিস্ফোরক পাঠানোর সময় ব্রিটেন ও দুবাইয়ে ধরা পড়ে। এরপর ইয়েমেন থেকে আসা কার্গো বিমানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের অনেক দেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
সাময়িকীতে আরও বলা হয়, ‘ওই পার্সেল বোমা পাঠানোর জন্য মাত্র চার হাজার ২০০ ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। আর সময় লেগেছে মাত্র তিন মাস। কিন্তু এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে নতুন করে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়েছে। তাতে ব্যয় হয়েছে কয়েক শ কোটি ডলার। এ হামলার পরিকল্পনার শুরু থেকেই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমা বিশ্বকে অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন করা।
সাময়িকীতে বলা হয়, দুটি বিষয়ের ওপর আমাদের সাফল্য নির্ধারণ করা হয়। প্রথমটি হলো, আমাদের পাঠানো বোমা আধুনিক নিরাপত্তামূলক যন্ত্রপাতিকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। আর দ্বিতীয়টি হলো, ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলোকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করানো। আমরা এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাব এবং মাঝপথে যদি আমাদের পাঠানো বোমা আটকও করা হয়, তাতেও আমাদের দুঃখ নেই। এ ছাড়া আমরা বিশ্বের অন্যান্য ইসলামি জঙ্গি সংগঠনকে এ ধরনের ছোট ছোট হামলা করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করব। আমাদের পরিকল্পনা আগে থেকেই শত্রুদের জানাতে চাই। কেননা আমাদের হামলার মূল লক্ষ্য বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটানো নয়।
‘আমাদের এ ধরনের হামলার আরেকটি উদ্দেশ্য হলো, বিমান পরিবহনব্যবস্থায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। কেননা ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে আকাশপথ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

ফিলিপাইনে আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই উদ্গিরণ

ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপের মাউন্ট বুলুসান আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে গতকাল রোববার আবারও ছাইয়ের উদিগরণ হয়েছে। ক্ষতিকর ছাইয়ের কবল থেকে রক্ষা করতে আগ্নেয়গিরিটির আশপাশের দুটি গ্রামের নারী ও শিশুসহ কয়েক শ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সে দেশের কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
ফিলিপাইনের জাতীয় দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান হোসে লোপেজ বলেছেন, ‘শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য এ ছাই মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই গ্রাম দুটি থেকে জরুরি ভিত্তিতে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আপাতত কয়েকটি সরকারি স্কুলে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
লোপেজ বলেন, ৬ নভেম্বর আগ্নেয়গিরিটি ছাই উদিগরণ করে। এর পর থেকে এর জ্বালামুখ দিয়ে মাঝেমধ্যেই ছাই বেরিয়ে আসছে। এ সময়ের মধ্যে অন্তত ৭৫০ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের এক মুখপাত্র ম্যানিলায় বলেছেন, আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে ১১ নভেম্বর এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি শ্বাসকষ্টজনিত অসুখে ভুগছিলেন।
এর আগে বুলুসান আগ্নেয়গিরির আশপাশের চার বর্গকিলোমিটার এলাকাকে বিপজ্জনক ঘোষণা করে সরকার। ওই এলাকায় ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়।
রাজধানী ম্যানিলা থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে লুজন দ্বীপে মাউন্ট বুলুসান আগ্নেয়গিরি অবস্থিত। সে দেশের ২৩টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয়।
স্থানীয় সরকার সূত্রে জানা গেছে, আগ্নেয়গিরিটির আশপাশের ছয়টি শহরে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ বাস করে।
বুলুসান আগ্নেয়গিরির ১৬ বার অগ্নুৎপাতের ইতিহাস রয়েছে। ২০০৬ সালে আগ্নেয়গিরিটি শেষবারের মতো অগ্নুৎপাত ঘটায়। গত ৬ নভেম্বর থেকে আবারও ছাই বের হতে থাকে।

ন্যাটোর নতুন পরিকল্পনা মার্কিন ‘ব্যর্থতার প্রতীক’: তালেবান

আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার ও দেশটির সেনাদের হাতে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে ন্যাটোর পরিকল্পনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যর্থতার প্রতীক’ বলে আখ্যা দিয়েছে তালেবান গোষ্ঠী। কট্টরপন্থী এই গোষ্ঠীর মতে, সদস্যদেশগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তার আশ্বাস না পাওয়ায় ন্যাটো এ পরিকল্পনা নিয়েছে।
আগামী বছরের শুরুতে আফগান যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা প্রত্যাহার ও ২০১৪ সালের মধ্যে নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব দেশটির সেনাদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত শনিবার পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে এ-সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও ন্যাটোর মহাসচিব অ্যান্ডার্স রাসমুসেন এতে স্বাক্ষর করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আফগানিস্তানে সামনের দিনগুলোতে বিদেশি সেনাদের কঠিন যুদ্ধের মুখে পড়তে হবে। দেশটি ২০১৪ সালের মধ্যে সেনা অভিযানের বিষয়টি একেবারে নাকচ করে দেয়নি।
লিসবন চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল তালেবান এ প্রতিক্রিয়া জানায়। তালেবানের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আফগানিস্তানের জনগণ এবং বিশ্বের স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের জন্য এটি সুসংবাদ। এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ব্যর্থতার প্রতীক। ‘লিসবন বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দখলদারেরা গত নয় বছরে কাবুলে কোনো সরকারব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। ভবিষ্যতেও তারা কখনো তা করতে পারবে না। তালেবান গোষ্ঠী দাবি করে, আফগানিস্তানে বিদেশি সেনাদের ধ্বংস অনিবার্য। পূর্বসূরিদের মতোই তাদের পরিণতি হবে। সদস্যদেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত না দেওয়ায় ন্যাটো বাধ্য হয়েই নতুন এই পরিকল্পনা নিয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আবারও আফগানিস্তান থেকে দ্রুত বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়। বলা হয়, বিদেশি সেনারা অর্থহীনভাবে চাপিয়ে দেওয়া এবং জয় সম্ভব নয়—এমন এক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার এক দিনের জন্যও দেরি করা উচিত নয় বলে উল্লেখ করা হয়।
চলতি বছরের শুরুতে তালেবান দমনে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে বড় ধরনের অভিযান চালায় ন্যাটো বাহিনী। দেশটির বেশ কিছু এলাকা, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে তালেবান গোষ্ঠী এখনো বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আফগানিস্তানে বর্তমানে ৪৮টি দেশের দেড় লাখ সেনা রয়েছে।
লিসবনে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ন্যাটোর মহাসচিব অ্যান্ডার্স ফগ রাসমুসেন বলেন, আফগান সেনারা আগামী বছরের শুরুতে কয়েকটি জেলার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবেন। ধীরে ধীরে পুরো দেশের দায়িত্ব তাঁদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে প্রয়োজনে বিদেশি সেনারা সহায়কের ভূমিকা পালন করবেন।

সূচনাতেই লুকিয়ে অ্যাশেজের ভবিষ্যৎ

হাজারো দর্শকের গর্জন, ধারাভাষ্যকারদের উত্তেজিত কণ্ঠ ছাপিয়ে প্রথম বলটি করলেন স্টিভ হার্মিসন। ব্যাটসম্যান ছেড়ে দিলেন, আসলে ছাড়তে বাধ্য হলেন। উইকেটকিপার নয়, বলটির ঠিকানা হলো দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের হাত! ২০০৬-০৭ অ্যাশেজ শুরুর সেই বলটিই নাকি নির্ধারণ করে দিয়েছিল পুরো সিরিজের গতিপথ। নন-স্ট্রাইক প্রান্ত থেকে সেই বলটি দেখা ম্যাথু হেইডেনের ধারণা, এবারও অ্যাশেজের গতিপথ ঠিক করে দেবে শুরুর সময়টা।
অনেকের ধারণা, গ্যাবায় হার্মিসনের বিশাল ওয়াইডেই নাকি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড দলের নড়বড়ে মানসিকতা। ৫-০-তে সিরিজ হারের লজ্জা নিয়ে ফিরতে হয় দেশে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই হেইডেনের ধারণা, অ্যাশেজ জিততে হলে আগে জিততে হবে প্রথম সেশন, ‘হার্মিসনের ওই ডেলিভারিতে ক্রিকেট-বিশ্ব হতবাক হয়ে গিয়েছিল। স্ট্রাইকে থাকা জাস্টিন ল্যাঙ্গারের কথা না-ই বললাম, ও তো ভেবেছিল ভুল উইকেটে ব্যাটিং করছে! এই শুরুই অনেকটা ঠিক করে দিয়েছিল সিরিজের গতিপথ। এবারও প্রথম দুই ঘণ্টা ভালো খেলতে হবে, এটাই পুরো গ্রীষ্মের গতিপথ ঠিক করে দেবে।’
৫১.৬২ গড়ে ৪১৩ রান করে ওই সিরিজে ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করায় বড় অবদান ছিল হেইডেনের। ওই অ্যাশেজটাই আবার দুঃসহ অভিজ্ঞতা হয়ে আছে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের জন্য। অধিনায়ক হিসেবে অ্যাশেজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন, দেশে ফিরেছেন হোয়াইটওয়াশ হয়ে। চোটের কাছে হার মেনে ক্রিকেট ছেড়ে দিয়েছেন, সেই জ্বালা মেটানোর উপায় আর নেই। তবে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়কের আশা, ‘অ্যান্ডারসন এখন অনেক পরিণত বোলার, পিটারসেন বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন, আছে স্ট্রাউসের মতো ভালো অধিনায়ক, এবার ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা দারুণ।’
ফ্লিটনফ-কলিংউডের সঙ্গে একমত নন হেইডেন। গত বছর ক্রিকেটকে বিদায় জানানো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারের যুক্তিটা অদ্ভুত, ‘সংবাদমাধ্যম আমাদের ক্রিকেটারদের একটু বেশিই সমালোচনা করছে। এটাই ওদের ঐক্যবদ্ধ করবে, অ্যাশেজে ওরা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেবে।’

কলম্বোয় নেই গলের দুই পেসার

দাম্মিকা প্রসাদ ও থিলান তুষারাকে দলের বাইরে ছিটকে দিলেন ক্রিস গেইল। গলে গেইলের ধোলাই খাওয়াতেই দ্বিতীয় টেস্টের দলে জায়গা পাননি এই দুই শ্রীলঙ্কান পেসার। দুজন মিলে ৫১ ওভারে ১৯৫ রান দিয়ে উইকেট পাননি একটিও। এঁদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন নুয়ান কুলাসেকারা ও শামিন্দা ইরাঙ্গা। ওয়ানডে দলের নিয়মিত মুখ কুলাসেকারা নিজের ১১ টেস্টের সর্বশেষটি খেলেছেন গত ডিসেম্বরে। পেস বোলিং প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি থেকে উঠে আসা ইরাঙ্গা জাতীয় দলে ডাক পেলেন এই প্রথম। টিকে গেছেন প্রথম টেস্টের একাদশে না থাকা দুই পেসার দিলহারা ফার্নান্দো ও সুরাঙ্গা লাকমল। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু আগামীকাল।

স্বর্গ থেকে পতন চেলসির!

এ কী হলো চেলসির? একের পর এক জয়ে উড়তে থাকা ‘ব্লু’রা টানা চার ম্যাচের মধ্যে তৃতীয় পরাজয়ের স্বাদ পেল পরশু। সর্বশেষ হারটি তাদের বার্মিংহামের কাছে, ০-১ গোলে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ১০ ম্যাচে একটি মাত্র হারের পাশে ৮টি জয় ও ১টি ড্র থেকে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল ‘ব্লু’রা। এখনো সেখানেই তাদের অবস্থান। তবে তাদের ধরে ফেলেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পয়েন্ট সমান (১৪ ম্যাচে ২৮), শুধু গোল ব্যবধানে পিছিয়ে অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল।
বার্মিংহামের কাছে এই পরাজয়ে আব্রামোভিচ-যুগে সবচেয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো চেলসির। ২০০৩ সালে আব্রামোভিচ কিনে নেওয়ার পর লিগে এই প্রথম ৪ ম্যাচের তিনটিতে হারল চেলসি। এর আগে ২০০৫-০৬ মৌসুমে হোসে মরিনহোর অধীনে লিগের শেষ দুটি ম্যাচ হেরেছিল ‘ব্লু’রা। তার পরও অবশ্য শিরোপা জিতেছিল তারা।
হঠাৎ করে চেলসির কেন এমন পতন? নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছেন না ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তি। নিজের করা ভবিষ্যদ্বাণী স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি শুধু খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, ‘আমি ভালো একজন জাদুকর! সবকিছু যখন ঠিকঠাকভাবে চলছিল, তখন বলেছিলাম কঠিন সময় হয়তো আসবে। সেই সময়টা এসেছে। তবে শিগগিরই এটা কাটিয়ে উঠতে হবে আমাদের। এ জন্য সবাইকে ধরে রাখতে হবে আত্মবিশ্বাস।’
আগের সপ্তাহে সান্ডারল্যান্ডের কাছে ৩-০ গোলে পরাজয়ের পর হতাশা ঝরেছিল আনচেলত্তির কণ্ঠে। পরশু আরও হতাশ হয়েছেন। তবে এবার অন্য কারণে, ‘সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ হয়েছিলাম। এবার আমি হতাশ ফলের কারণে।’
পরাজয় মানতে পারছেন না আনচেলত্তি। মানবেন কী করে? বাউয়েরের ১৭ মিনিটের গোলে পিছিয়ে পড়া ছাড়া পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণই ছিল চেলসির কাছে। তবে একের পর এক আক্রমণে বার্মিংহামকে কোণঠাসা করে রেখেও গোলটি আর শোধ দিতে পারেনি তারা।
চেলসির বাজে দিনে প্যাট্রিস এভরা ও হাভিয়ের হার্নান্দেজের গোলে উইগানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে পয়েন্ট ২৮-এ নিয়ে গেছে ম্যানইউ। এখন শুধু গোল ব্যবধানেই এগিয়ে চেলসি। ওদিকে ওয়েস্টহামকে ৩-০ গোলে হারিয়ে লিভারপুল পেরিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের মধ্যবিন্দু। গোল তিনটি করেছেন গ্লেন জনসন, ডির্ক কিউট ও ম্যাক্সি রদ্রিগেজ।
ইতালিয়ান সিরি ‘আ’তে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের দুর্দান্ত গোলে ফিওরেন্টিনাকে হারিয়ে (১-০) শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এসি মিলান। বুন্দেসলিগায় রাউল গঞ্জালেসের হ্যাটট্রিকে ভেরডার ব্রেমেনকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে শালকে জিরো ফোর। বায়ার্ন মিউনিখ ধুঁকছে এখনো। প্রথমে এগিয়ে গিয়েও পরশু তারা ১-১ গোলে ড্র করেছে বায়ার লেভারকুসেনের সঙ্গে।
সিটির জয়: নিন্দুকের মুখ বন্ধ করে দিয়ে কাল ম্যানচেস্টার সিটি ৪-১ গোলে জিতল, সেটিও ফুলহামকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে। খেলা দেখতে এসেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে জোড়া গোল উপহার দিয়েছেন কার্লোস তেভেজ। অন্য দুটি গোল আরেক আর্জেন্টাইন পাবলো জাবালেতাও আর ইয়া তোরের। এই জয় দিয়ে আবারও ৪-এ উঠে এসেছে সিটি।

নিভৃতে তৈরি হচ্ছেন লিউ শিয়াং

সবার সঙ্গে তিনি গেমস-পল্লিতে থাকেন না। গুয়াংজুতেই ইরশা নামের এক দ্বীপে একাকী নিজেকে তৈরি করে চলেছেন। চীনের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া তারকার কাছে এবারের এশিয়ান গেমস যে নিজেকে আবার বড় মঞ্চে তুলে ধরার উপলক্ষ।
২০০৪ এথেন্স অলিম্পিকে সোনাজয়ী হার্ডলার লিউ শিয়াং গত বেইজিং অলিম্পিকে শেষ মুহূর্তে চোট পেয়ে ছিটকে পড়েন। কান্নার রোল উঠেছিল গোটা চীনে। দুই বছর পর ঘরের মাঠে আর কান্না নয়, চীনা জনতা এবার হাসতে চায়। লিউয়ের কাছে এটা তাই ‘সুযোগ’ও বটে।
চীনের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সাংবাদিক—কার মুখে নেই তারকা হার্ডলারের নাম! ১৬তম এশিয়াড যেন লিউয়ের অপেক্ষায় দিন গুনছে। কাল অ্যাথলেটিকস শুরু হয়েছে বটে, কিন্তু চোখ রয়েছে লিউয়ের দিকে। এ কারণেই চলমান গেমসে চীন দেড় শ সোনা জিতে ফেললেও তেমন উচ্ছ্বাস নেই। লিউয়ের একটি সোনাই যেন এক শ সোনার সমান হবে!
স্থানীয় সাংবাদিক ঝাই লিংয়ের ভাষায়, ‘অ্যা...লিউ...লিউ...। উই ওয়েত ফর হিম। হিজ ওয়ান গোল্ড মেডেল ইজ ভেরি ইমপর্তেন্ত।’
বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া স্বেচ্ছাসেবী জু জাইয়ে মুখেও লিউ-বন্দনা, ‘লিউর খেলার দিন দেখবেন স্টেডিয়াম ভরে যাবে। লিউ ভীষণ জনপ্রিয় এখানে। চীনের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়াবিদদের একজন। বাস্কেটবল তারকা ইয়াও মিং খেলতে পারছেন না চোটের কারণে, লিউয়ের দিকে তাই চোখ আরও বেশি।’
২৪ নভেম্বর ১১০ মিটার হার্ডলসে সোনা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামছেন সাংহাইয়ের বাসিন্দা। ২০০২ বুসান এবং ২০০৬ দোহা এশিয়াডে সোনা জিতেছেন। এশিয়াডে এবার জিতলে তৃতীয় সোনা হবে। একটি অলিম্পিক সোনা, তিনটি এশিয়াড সোনার পাশে সবচেয়ে বড় তথ্য, ১১০ মিটার হার্ডলসে লিউ সাবেক বিশ্ব রেকর্ডধারী। টাইমিং—১২.৮৮ সেকেন্ড।
অলিম্পিকে চীনের পক্ষে পুরুষ অ্যাথলেটদের মধ্যে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে প্রথম সোনা তাঁরই। দেশের প্রথম ‘ত্রিমুকুট’জয়ীর নামের পাশে আছে বিশ্ব রেকর্ড, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নের খেতাব। শিয়াং নামের অর্থ ‘উড়ন্ত’। খ্যাতির চূড়াতেই তিনি উড়ছেন।
জন্ম সাংহাইয়ের পুতোয়। বয়স ২৭। ইনজুরির কারণে ১৩ মাস বাইরে থাকা লিউ গত বছর এশিয়ান অ্যাথলেটিকস, পূর্ব এশিয়ান গেমস, বিশ্ব ইনডোরে খেলেছেন। খেলার বাইরে মানবিক আবেদনেও সাড়া দেন। ২০০৮ সিচুয়েনে ভূমিকম্পে হতাহতদের জন্য ২৫ লাখ ইউয়েন ত্রাণ তহবিলে দিয়েছেন। শুধু খেলা, খেলা ও খেলা—এর বাইরে তাঁর কোনো কাজ নেই। তাই বলতে পারেন, ‘নো গার্লফ্রেন্ড, নো টাইম’।
লিউয়ের জন্য আউতি স্টেডিয়াম সেজেগুজে আছে। আধুনিকতার চূড়ান্ত নিদর্শন এই স্টেডিয়ামে কাল সন্ধ্যায় কয়েকটি ইভেন্টে বাছাই হলো। ১০০ মিটারের বাছাই শেষে বাংলাদেশের দুজন অ্যাথলেটই মোটামুটি হাসিমুখে কথা বলতে পেরেছেন, যা সচরাচর দেখাই যায় না!
১০০ মিটারের হিটে আজহারুল ইসলাম উত্তীর্ণ হয়ে পরের রাউন্ডে (সেমিফাইনাল) গেছেন। টাইমিং ১১.১৯ সেকেন্ড। ছয়জনের মধ্যে চতুর্থ বাংলাদেশের দ্রুততম মানব। বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা হিটেই বাদ—বরাবরের এই অপবাদ থেকে এবার অন্তত মুক্তি মিলল।
এমন প্রতিযোগিতার মঞ্চে দৌড়ানোর মতো অ্যাথলেট নেই বাংলাদেশে। অ্যাথলেট-খরায় ৪০০ মিটারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন আজহার এবার জাতীয় প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চ্যাম্পিয়নও হয়ে গেছেন।
নাজমুন নাহার (বিউটি) অবশ্য প্রথম হিটের বৈতরণী পার হতে পারেননি। ১২.৭২ সেকেন্ড সময় নিয়ে ছয়ে পঞ্চম। নাজমুনের মূল ইভেন্ট ২০০ মিটার, সেটিতেই যদ্দূর সম্ভব ভালো টাইমিং করার ব্যাপারে তাঁকে আশাবাদী দেখাল, ‘১০০ মিটারে যা হয়েছে, মনে হয় ঠিকই আছে। আমার তো এটা মূল ইভেন্ট নয়।’
আজহার যে সেমিফাইনালে উঠেছেন, সেটা তিনি তাৎক্ষণিক বুঝতে পারেননি। বাংলাদেশি সাংবাদিকদের কাছে জেনে তাই একটু বিস্মিতই হলেন, ‘তাই নাকি, এটা তো খুবই খুশির খবর আমার জন্য!’
আজহার নিজের পারফরম্যান্সে খুশি, তবে আর সবার মতো লিউ শিয়াংয়ের জন্য তাঁরও অপেক্ষা, ‘লিউর খেলা দেখতে হবে এবার। না হলে অপূর্ণই থেকে যাবে সফরটা।’

মেসি-রোনালদোর রাত

২৯ নভেম্বর ন্যু ক্যাম্পের মহারণের জন্য নিজেদের ঝালাই করে নিল দুই দলই। ঘষে-মেজে তৈরি করে রাখা হলো তীর-তূণ। শাণ দিয়ে রাখা হলো সব মারণাস্ত্র। দুই সেনাপতিও মকশো করে রাখলেন পা। ‘এল ক্লাসিকো’ না জমে পারেই না!
রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা এবারও শুরু থেকে গায়ে গায়ে এগিয়ে চলেছে। কয়েক ম্যাচ ধরে ছবিটা প্রায় একই রকম: বার্সা জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠে তো পরের ম্যাচেই জায়গা পুনরুদ্ধার করে রিয়াল। পরশুও তা-ই হলো। আলমেরিয়াকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বার্সা যখন রিয়ালকে বার্তা পাঠাল, পরের ম্যাচে রিয়ালও অ্যাথলেটিক বিলবাওকেও উড়িয়ে দিল ৫-১ গোলে।
এ তো গেল দলগত লড়াইয়ের হিসাব। এবার ব্যক্তিগত খেরোখাতার দিকে তাকান। পয়েন্ট টেবিলের মতো সর্বোচ্চ গোলদাতার জায়গাটিও নিয়ে দ্বৈরথ বেশ জমেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর লিওনেল মেসির। পরশু ম্যাচ শুরুর আগে লিগে গোলসংখ্যায় রোনালদোর চেয়ে এক ঘর পেছনে ছিলেন, সেটার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে মেসি করে বসলেন হ্যাটট্রিক।
রোনালদো দর্শক হয়ে মেসির উল্লাস দেখবেন! তিনিও পাল্টা জবাব দিলেন ওই হ্যাটট্রিক করেই। ১২ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলে দুই দলের মধ্যে যেমন এক পয়েন্টের ব্যবধান (রিয়াল ৩২, বার্সা ৩১), গোলদাতার তালিকাতেও রোনালদো-মেসির ব্যবধানও ওই এক (যথাক্রমে ১৪ ও ১৩)।
গত কয়েক ম্যাচের ফলাফলই বলছে, বার্সা ফিরে পেয়েছে তাঁর কাতালান সুর। অবনমন অঞ্চলে ঘুরপাক খেতে থাকা আলমেরিয়া তাই হয়তো ৮ নম্বর বিপদসংকেত আগেই পেয়ে থাকবে। তা ছাড়া বার্সার একটা প্রতিশোধ নেওয়ারও ব্যাপারও ছিল। গতবার এই আলমেরিয়ার মাঠ থেকেই হারতে হারতে ড্র নিয়ে ফিরেছিল বার্সা। দুই দফায় পিছিয়ে পড়ে দলকে উদ্ধার করেছিলেন মেসি।
পরশুও মেসি করলেন ম্যাচের প্রথম গোল। ১৭ মিনিটে গোলমুখ খোলার পরই যেন গোলবৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। শুধু গা ভেজাতে পারলেন না ডেভিড ভিয়াই। আত্মঘাতী গোলও হলো একটা। গোল করলেন ইনিয়েস্তা, পেদ্রোও। মেসি দ্বিতীয় গোলটি করে লা লিগায় পূর্ণ করে ফেললেন সেঞ্চুরিও। হ্যাটট্রিক এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে। মাত্র ১৫৪ ম্যাচে মেসি করেছেন তাঁর ১০১তম গোলটি।
দুটো গোলও করিয়েছেন। বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করেছেন বোজান কিরকিচ। লিগে প্রতিপক্ষের মাঠে বার্সা তাদের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ডটা ছুঁয়েই ছেড়েছে মাঠ (আগের রেকর্ডটি ১৯৫৯ সালের)।
রিয়ালের শুরুটাও করেছিলেন এক আর্জেন্টাইন, ১৯ মিনিটেই গঞ্জালো হিগুয়েইনের গোল। এরপর রোনালদোও ব্যবধান বাড়ান। যদিও বিলবাও একটি গোল শোধ করে দিলে ২-১ স্কোর নিয়ে বিরতিতে যায় রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধের ১২ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করেন সার্জিও রামোস। রিয়ালের শেষ দুটো গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন রোনালদো। শেষ গোলটি অবশ্য অতিরিক্ত সময়ে আসা পেনাল্টি থেকে।
কে কার চেয়ে এদিন ভালো খেলেছে, এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু বার্সার পর রিয়ালও বড় ব্যবধানে জিতে অন্তত মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে সমানে সমান থাকল। দুই দলকে ২৯ নভেম্বর তারিখটা তাতিয়ে রেখেছে বলেই হয়তো পাওয়া গেল এমন উদ্দীপিত ফুটবল। যদিও আলমেরিয়া কোচের চাকরি খেয়ে নেওয়া জয়ের পরও গার্দিওলা বলছেন, ‘এমন নয় যে আমরা কাউকে সতর্কবার্তা পাঠাতে চেয়েছি। বাকি ম্যাচগুলোর মতোই আমরা স্রেফ দুর্দান্ত খেলেছি। প্রথমার্ধে (৫-০) আমরা যতগুলো সুযোগ পেয়েছিলাম অন্যান্য ম্যাচেও কিন্তু তা-ই পেয়ে থাকি। পার্থক্য হলো, এদিন সুযোগগুলো কাজে লেগেছে।’
ওদিকে রোনালদোর দাবি, বার্সা নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন, ‘আলমেরিয়ায় ৮ গোলে জিতে আসাকে আমি মোটেও পাত্তা দিতে রাজি নই। পারলে ওরা পরের সোমবার আট গোল করে দেখাক।’

ডি ভিলিয়ার্সে চাপা পড়ল পাকিস্তান

চা-বিরতির সময় গ্রায়েম স্মিথের সঙ্গে এবি ডি ভিলিয়ার্সের কী আলোচনা হয়েছিল কে জানে। দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক হয়তো বলেছিলেন, ‘রেকর্ড গড়ার সময় পাবে, কিন্তু ট্রিপল সেঞ্চুরির নয়।’ এ জন্যই হয়তো তিন শ করতে না পারার হতাশা নয়, রেকর্ডের আনন্দে ভেসেই মাঠ ছাড়লেন ডি ভিলিয়ার্স। ২৬ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের উল্লাস দেখে মনে হলো, জাভেদ মিয়াঁদাদের ২৮০ রানে ইমরান খান বা শচীন টেন্ডুলকারের ১৯৪ রানে রাহুল দ্রাবিড়ের ইনিংস ঘোষণা করে দেওয়ার মতো বিতর্ক এবার হবে না। আগের দিন সকালে ৩ উইকেট পড়ার পর উইকেটে গিয়েছিলেন, ডি ভিলিয়ার্স কাল মাঠ ছাড়লেন হার না-মেনেই।
মাঠ ছাড়ার সময় পুরো দক্ষিণ আফ্রিকা দল নিচে নেমে এসে অভিনন্দন জানাল ডি ভিলিয়ার্সকে। সবার আগে জড়িয়ে ধরলেন স্মিথ, যাঁর ২৭৭ রানকে পেছনে ফেলে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েছেন ডি ভিলিয়ার্স। স্মিথের ইনিংস ঘোষণার সময়টা নিয়ে অবশ্য কেউ চাইলে প্রশ্ন তুলতেই পারেন। ৩৬৯ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় দ্বিশতক ছোঁয়ার পর ডি ভিলিয়ার্স ৭৭ রান করেছেন মাত্র ৪৯ বলে, শেষ ৩০ রান এসেছে ১১ বলে। যে গতিতে এগোচ্ছিলেন, তাতে তিন শর জন্য হয়তো আর দু-তিনটি ওভারই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়’—স্মিথের হাতে চিরায়ত এই যুক্তি তো আছেই।
তবে পাকিস্তানের জন্য দুঃসহ দিনটাও তানভির আহমেদ কখনোই ভুলতে পারবেন না ব্যক্তিগত কারণে। ৩২ ছুঁইছুঁই বয়সে এসে শৈশবের স্বপ্ন সত্যি হওয়ার আনন্দে টেস্ট শুরুর আগের রাতে ঘুমাতে পারেননি। প্রথম দিনের চার উইকেটের সঙ্গে কাল নিলেন দুটি, কুয়েতে জন্ম নেওয়া করাচির পেসারের আরও অনেক রাত কাটবে অভিষেকের সুখস্বপ্নে। অভিষেকে পাকিস্তানের হয়ে তাঁর চেয়ে ভালো বোলিংয়ের রেকর্ড আছে আর তিনজনের—মোহাম্মদ জাহিদ (৭/৬৬), মোহাম্মদ নাজির (৭/৯৯), ও আরিফ বাট (৬/৮৯)।
পাকিস্তানকে কম যন্ত্রণা দেয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার লেজও। বোথার সঙ্গে ৪২, স্টেইনের সঙ্গে ৫৯, হ্যারিসের সঙ্গে ৩৫ রানের জুটির পর ডি ভিলিয়ার্স-মরকেলের অবিচ্ছিন্ন শেষ উইকেট জুটিতে এসেছে রেকর্ড ১০৭! ১৯২৯ সালে ওয়েন স্মিথ-বেলের ১০৩ রানই ছিল শেষ উইকেটে এর আগে প্রোটিয়াদের একমাত্র শতরানের জুটি। প্রথম ওভারে হাফিজকে হারানোর ধাক্কা সামলে দিনটা নিরাপদে পার করেছেন তৌফিক ও আজহার।

ম্যারাডোনাকে মরিনহোর শ্রদ্ধা

কয়েক দিন আগেই মরিনহোর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন ম্যারাডোনা। এ সময়ের অন্যতম সেরা এই কোচকে স্থান দিয়েছিলেন সব রকমের সমালোচনার ঊর্ধ্বে। এবার ম্যারাডোনার সেই মন্তব্যের প্রতিদানে তাঁকেই ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করলেন হোসে মরিনহো।
গত শুক্রবার রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনে উপস্থিত হন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। এ সময় ফুটবলের এ জীবন্ত কিংবদন্তিকে নিজের অটোগ্রাফ-সংবলিত একটি জার্সি উপহার দেন মারিনহো। সেখানে তিনি লেখেন, ‘তুমিই এক নম্বর খেলোয়াড়, আমি তোমাকে শ্রদ্ধা জানাই।’ তবে অটোগ্রাফ ওয়ালা জার্সি উপহার দিয়ে মরিনহো কিন্তু যারপরনাই বিব্রত। ম্যারাডোনার অনুরোধেই তাঁকে জার্সি ও অটোগ্রাফ দিলেও এমন একজন কিংবদন্তিকে অটোগ্রাফ দেওয়াটা খুব ‘বিব্রতকর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন রিয়াল কোচ। মরিনহো আরও বলেছেন, তিনি কেবল ফুটবলার ম্যারাডোনার গুণমুগ্ধই নন, ম্যারাডোনার কোচিংও তাঁর ভালো লাগে। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে হেরে গেলেও ম্যারাডোনার কৌশল নিয়ে মুগ্ধতাই ঝরে পড়েছে মরিনহোর মন্তব্যে। আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের কোচের পদটি হাতছাড়া হয়ে গেলেও ম্যারাডোনাকে পেশাদারি কোচ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইউরোপীয় ফুটবল আঙিনার অন্যতম সেরা এই ট্যাকটিশিয়ান।

বিপর্যয় কাটিয়ে লড়ছে পাকিস্তান

ডি ভিলিয়ার্সের অপরাজিত ২৭৮ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস আর ক্যালিসের সেঞ্চুরিতে ৫৮৪ রানের পাহাড় গড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে লড়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে মিসবাহ উল হকের দলের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩১৭ রান। প্রথম ইনিংসে এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে ২৬৭ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান, হাতে রয়েছে চারটি উইকেট।
গতকাল ইনিংসের প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ হাফিজের উইকেট হারিয়ে ফেললেও আজ শুরুটা ভালোভাবেই করেছিল পাকিস্তান। তৌফিক উমর আর আজহার আলী খুব সাবধানতার সঙ্গে খেলে সচল রাখছিলেন পাকিস্তান স্কোরবোর্ডের চাকা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেছিলেন ১১৭ রান। পাকিস্তানকে ভালো একটা অবস্থানে নিয়ে যাবেন এ দুজন—সবাই যখন এমনটা প্রত্যাশা করছে, তখনই আঘাত হানেন জ্যাক ক্যালিস। ৪৩ রান করে হাশিম আমলার হাতে ধরা পড়েন তৌফিক উমর। তৌফিক ফিরে গেলেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন আজহার আলী। পৌঁছে গিয়েছিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি। কিন্তু মাত্র ১০ রানের আক্ষেপ নিয়ে ডেল স্টেইনের বলে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে আজহার ফিরে গেলে বিপর্যয়ে পড়ে যায় পাকিস্তান। তবে এরপরই বাধা হয়ে দাঁড়ান আসাদ শফিক ও অধিনায়ক মিসবাহ উল হক। পঞ্চম উইকেটে এ দুই ব্যাটসম্যান গড়ে তোলেন ১০৭ রানের জুটি। হ্যারিসের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে শফিক খেলেছেন বিপর্যয় কাটানো ৬১ রানের এক ইনিংস। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন মিসবাহ।

আলোচনা- 'ইভ টিজিং : দায়ী কে?' by ফখরে আলম

আমার একটিই মেয়ে। সে ক্লাস নাইনে পড়ে। স্কুলে একাই যাতায়াত করে। সাম্প্রতিক সময়ের ইভ টিজিংয়ের নানা ঘটনায় আমার মেয়েটি রোগা হয়ে গেছে। একা একা সে খবরের কাগজ পড়ে। একা একা চুপ করে বসে থাকে। আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি। কিন্তু আমরা কোনো সিদ্ধান্তে পেঁৗছাতে পারি না। একজন সংবাদকর্মী হয়েও মেয়েকে আমি কোনো অভয় দিতে পারি না। একবার মনে করি কুংফু কারাত শেখাব। একবার মনে করি, তাকে সাহসী করে তুলব। কিন্তু মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে ইভ টিজিংয়ের নানা খবর শুনে আমিও তার মতো রোগা হয়ে যাই। বিষয়টি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গেও কথা বলি।

কল্প গল্প- '...আজব খাওয়া, ভোজ কয় যাহারে!' by আলী হাবিব

অনেক দিন আগে বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বিটিভি ছাড়া আর কোনো টেলিভিশন চ্যানেল ছিল না। বিটিভির সেই একচ্ছত্র আধিপত্যের সময় হুমায়ূন আহমেদের কোনো একটি ধারাবাহিক নাটকে একটি খাদক চরিত্র ছিল। সেই খাদক খেতে পারত। একবারে একটি গরু খেয়ে ফেলতে পারত। নাটকের একটি দৃশ্য ছিল এ রকম_খাদককে খাওয়ানো হবে। ভোজের আগে গরুটি নিয়ে সে সারা গ্রাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। পেছনে একদল শিশু-কিশোর। খাদক ঘুরে ঘুরে গ্রামের লোককে গরুটি দেখাচ্ছে।

রাজনৈতিক আলোচনা- ''উচিত কথায় ননদ বেজার, গরম ভাতে বিলাই (বিড়াল)' by আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

লিখতে বসেছিলাম 'বিশ্বের পরবর্তী সুপারপাওয়ার কে হবে, চীন, না ভারত' শীর্ষক আমার অসমাপ্ত লেখাটির শেষাংশ। এমন সময় খবর এল বিএনপির সহসভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে শুধু তাঁর পদ থেকে নয়, দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সর্বস্তরের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত। আসলে দলের চেয়ারপারসনের ফরমান। সভায় উপস্থিত স্থায়ী কমিটির আর সব সদস্য 'জি ম্যাডাম' বলে অনুগত পারিষদের ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে বিএনপির রাজনীতিতে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর মেকিয়াভেলিয়ান চতুর হাসিটি নিশ্চয়ই হেসেছেন।

প্রকৃতি- 'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষশত্রু' by মেহেদী উল্লাহ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের ছুটিতে আবারও গাছ কেটেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেটসংলগ্ন সড়কদ্বীপের প্রায় ৩০টি দেবদারু ও ঝাউগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। নির্বিচারে কেন এ বৃক্ষনিধন? বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা মনগড়া উত্তর দিয়েছেন। কারণ তাঁরা নিজেরাই জানেন না এত গাছ একসঙ্গে কাটার সদুত্তর কী? এ গাছগুলোই এত দিন ক্যাম্পাসের শ্রীবৃদ্ধি করেছে। পাশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিচর্চার মুক্তমঞ্চ। পরিবেশের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের আচার-অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ববাহক ছিল গাছগুলো। সংগঠনগুলোর উৎসবের আগে গাছগুলোতে চোখ রাখলেই বোঝা যেত মুক্তমঞ্চের আসছে অনুষ্ঠানটি কী ধরনের। উৎসবের ধরন-আমেজ ফুটিয়ে তোলা হতো সড়কদ্বীপ ও আশপাশে।

ইতিহাস- 'ইতিহাসে মওলানা ভাসানীর আসন' by সৈয়দ আবুল মকসুদ

পঞ্চাশ-ষাট বছর আগের গ্রামগুলো আজ নেই। পল্লিতে বিদ্যুৎ গেছে। বহু বাড়িতে টেলিভিশন চলে। হিন্দি সিনেমার কর্কশ সংলাপ কানে এসে লাগে। সে শব্দে ঘুঘুর ডাক শোনা যায় না। তা সত্ত্বেও প্রত্যন্ত পল্লিতে এখনো হাঁটতে ভালো লাগে।কিছুদিন আগে এক নিঝুম গ্রামের ভেতর দিয়ে হাঁটছিলাম। এক বাড়িতে এক বৃদ্ধ তাঁর ভাতিজাকে ধমকাচ্ছেন। বকাঝকার মধ্যে চাচার একটি উক্তি: ভাত খাও ঠাকুর চেনো না। জোয়ানমর্দ ভাতিজা গোয়ালঘরের বেড়ায় ঠেস দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু যে একজন ভাতিজা তার ঠাকুরকে চেনে না, তা নয়। পৃথিবীর অনেক জাতি ও জনগোষ্ঠী ভাতটা খায় ঠিকই, কিন্তু ঠাকুর চেনে না।

ইতিহাস- 'টিকে থাকুক ‘টেগর লজ’' by আশীষ-উর-রহমান

পাঁচ লাখ টাকায় এক অমূল্য স্থাবর সম্পদ কিনেছে কুষ্টিয়া পৌরসভা। বাড়িটি শহরের মিলপাড়ায়। জায়গা খুব বেশি নয়, সাকল্যে নয় কাঠা। তার ওপরে ছোট্ট দোতলা বাড়ি। পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা। উত্তর-দক্ষিণ দুই পাশেই বারান্দা। পশ্চিম পাশের কুঠুরির কোণে দোতলায় ওঠার প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি। বাড়িতে প্রবেশের পথ অবশ্য উত্তর দিকে। একেবারে মিলপাড়ার সড়কের সঙ্গে লাগোয়া। বাড়িটির নাম ‘টেগর লজ’। ছোট্ট বাড়িটি মাপের চেয়ে মর্যাদায়, গৌরবে যে বড় হয়ে উঠেছে তা ওই ঠাকুরের স্মৃতিধন্য হওয়ার কারণেই। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়ির যেমন বিপুল খ্যাতি ও পরিচিতি, সে তুলনায় শহরের ভেতরের এই বাড়ি প্রায় অপরিচিতই বলা যায়। কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরেরা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কুষ্টিয়া রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশে বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন ১৮৯০ সালের শেষ ভাগে।

আলোচনা- 'কর্মশক্তি ও টাকার অপচয়!' by রোজিনা ইসলাম

চাকরি আছে, বেতন-ভাতা আছে, কাজ নেই। জনপ্রশাসনে এঁদের বলা হয় বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংক্ষেপে ওএসডি। বর্তমানে এঁদের সংখ্যা ৩৭৭।বেতন-ভাতা বাবদ বছরে তাঁদের পেছনে রাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৩৬ কোটি ৮৮ লাখ আট হাজার টাকা। মাসে তিন কোটি সাত লাখ ৩৪ হাজার টাকা। দক্ষ হওয়ার পরও সচিব-পর্যায় থেকে শুরু করে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পদমর্যাদার এসব কর্মকর্তাকে মাসের পর মাস বসিয়ে রেখে বেতন দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা ছুটি বা প্রশিক্ষণের জন্যও অনেকে ওএসডি রয়েছেন। তবে তাঁদের সংখ্যা হাতেগোনা। সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের হিসাব ও প্রশাসন শাখাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব পাওয়া গেছে। প্রসঙ্গত, ওএসডির সংখ্যা প্রায়ই পরিবর্তন হয়ে থাকে।