Thursday, May 4, 2023

পাইলস হলে কখন অপারেশন করতে হবে by ডা. মোহাম্মদ তানভীর জালাল

পায়ুপথের  বিভিন্ন নানা রোগের মধ্যে বেশি দেখা যায় পাইলস। এর  বিশেষ কিছু  চিকিৎসা রয়েছে। দেখা যায় অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে প্রায় ৯০ ভাগ পাইলসের রোগী সার্জারি বা অস্ত্রোপচার ছাড়াই ভালো হয়ে যায়। পাইলস সাধারণত দুই  ধরনের  হয়ে থাকে। যে পাইলস ভেতরে থাকে তা হলো ইন্টারনাল পাইলস, বাইরের দিকে থাকে এক্সটারনাল পাইলস।

লক্ষণসমূহ
মলত্যাগের পর ব্যথাহীন রক্তপাত পাইলসের অন্যতম উপসর্গ। পাইলস যদি প্রথম ধাপে থাকে, তবে মলদ্বারে বাড়তি মাংসের মতো কোনো কিছু থাকে না। শুধু মলত্যাগের পর রক্ত যায়।
দ্বিতীয় ধাপের পাইলসে মলত্যাগের পর তাজা রক্ত যাওয়ার পাশাপাশি মলত্যাগের পর মনে হয়, ভেতর থেকে কী যেন একটা বাইরে বেরিয়ে আসে। তবে সেটি এমনিতেই ভেতরে ঢুকে যায়।
তৃতীয় ধাপের পাইলসে মলত্যাগের পর বাড়তি মাংসের মতো বের হওয়া অংশ এমনিতেই আর ভেতরে ঢুকে যায় না; চাপ দিয়ে ঢুকিয়ে দিতে হয়।
চতুর্থ ধাপের পাইলস হলে মলত্যাগের পর বাড়তি যে মাংস বের হতো, সেটি আর ঢুকছে না বলে মনে হয়।
অনেক সময় পাইলসের ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। একে বলা হয় থ্রম্বোসড পাইলস।

চিকিৎসাসমূহ
পাইলসের ধরন বা উপসর্গের ওপর এর চিকিৎসা নির্ভর করে। অস্ত্রোপচার করতে হবে কিনা, তা পরীক্ষা করে চিকিৎসক নির্ধারণ করে থাকেন।
প্রথম ধাপের পাইলসের শুরুতেই রোগী চিকিৎসকের কাছে গেলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। এ ধরনের রোগীকে পায়খানা স্বাভাবিক করার জন্য খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও পানি পান করতে হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য বা শক্ত পায়খানা হলে  মল নরম করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেতে হবে। যদি ওষুধে কাজ না হয়, তখন বেন্ডিং বা সেক্লরো থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। যেমন রিং লাইগেশন, ইনজেকশন।
দ্বিতীয় ধাপের পাইলসেও অস্ত্রোপচারের দরকার নেই। কিছু আধুনিক চিকিৎসার সহায়তা নেয়া হয়।
তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের পাইলসে অস্ত্রোপচারের দরকার হয়। আধুনিক স্টেপলড হেমোরয়ডেকটমিতে বাইরে কোনো কাটাছেঁড়া হয় না, মলত্যাগের পর ড্রেসিং করারও প্রয়োজন হয় না। ৭ দিন পর থেকেই রোগী স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে যেতে পারেন।
তবে কারও যদি মলদ্বার একদম বাইরে বের হয়ে আসে এবং ইনফেকশন থাকে, তখন ওপেন হেমোরয়ডেকটমি  করতে হবে।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, কলোরেক্টাল, ল্যাপারোস্কপিক ও জেনারেল সার্জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। চেম্বার: ১৯, গ্রিন রোড, একে কমপ্লেক্স, লিফ্‌ট-৪, ঢাকা।
যোগাযোগ: ০১৭১২-৯৬৫০০৯।


সেরিব্রাল পালসি ও কিছু কথা by ডা. এম এ হক

সেরিব্রাল পালসি নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারের একটি, যা শিশুর শারীরিক ও মানসিক উভয় সমস্যাই দেখা দেয়। এই রোগে স্থায়ীভাবে শিশুর পেশির নড়াচড়া এবং অঙ্গবিন্যাসকে প্রভাবিত করে, যা শিশুকে আজীবন অক্ষম করে রাখে।

সেরিব্রাল পালসি হলো গর্ভাবস্থায়, জন্মের সময় বা জন্মের পরপরই মস্তিষ্কের ক্ষতি বা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ না ঘটার ফলে সৃষ্ট  রোগসমূহের একটি। এই রোগে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, শেখার সমস্যা, বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা, মৃগীরোগ এবং অনিচ্ছাকৃত বিভিন্ন পেশি নড়াচড়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।

কারণ: জিনগত সমস্যা; মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহের অভাব; শিশুর মস্তিষ্কে আঘাত ইত্যাদি কারণে এই রোগ হতে পারে।
লক্ষণ: ঘাড় শক্ত না হওয়া, বধিরতা, ঝাপসা দৃষ্টি, চলাচলের সমস্যা, বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা, শক্ত পেশি, খুব শক্ত বা খুব ফ্লপি পেশি টান, পেশির সমন্বয় এবং ভারসাম্যর অভাব, কম্পন, অনিচ্ছাকৃত ঝাঁকুনি, ধীরে নড়াচড়া, হাঁটতে অসুবিধা, শরীরের বিভিন্ন নার্ভের সমস্যা, কথা বলতে অসুবিধা, মস্তিষ্ক বিকাশে বিলম্ব, চিবানো-খাওয়া বা চুষতে অসুবিধা, গিলতে অসুবিধা, নতুন কিছু শিখতে অসুবিধা, হামাগুঁড়ি দেয়া বা উঠে বসাতে অসুবিধা হওয়া, শুনতে অসুবিধা হওয়া, খিঁচুনি (মৃগীরোগ), চোখের অস্বাভাবিক নড়াচড়া, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, অস্বাভাবিক স্পর্শকাতরতা, মূত্রাশয়ের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো অন্ত্রের সমস্যা ইত্যাদি।

প্রতিকার: নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারের কারণে যেহেতু সেরিব্রাল পালসি ঘটে সেহেতু আমাদেরকে আগে শিশুর পিতা-মাতার পরিবারের জেনেটিক হিস্ট্রি সংগ্রহ করতে হবে। উভয় পরিবারের জেনেটিক হিস্ট্রি থেকে শিশুর নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। তখন সে অনুযায়ী ওষুধের মাধ্যমে শিশুর ইমিউনিটি সিস্টেমকে নেগেটিভ প্রভাব মুক্ত করতে হবে। অতঃপর ওষুধের মাধ্যমে ইমিউনিটি সিস্টেমকে সক্রিয় করে তুলতে হবে। এর সঙ্গে কার্যকরী খাবার এবং প্রয়োজনীয় ব্যায়ামের সহযোগিতা নিতে হবে। কোনো অঙ্গের বাহ্যিক সমস্যা থাকলে প্রয়োজনীয় থেরাপির সহযোগিতা নিতে হবে। এভাবে সমন্বিত চিকিৎসার ফলে ধীরে ধীরে শিশুর নিউরোডেভেলপমেন্ট ঘটবে এবং শিশু স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পাবে।
অতএব, আমরা যেন এ সকল শিশুকে অযতœ অবহেলায় না রেখে সঠিকভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান করলে এ সকল শিশু স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। ফিরে আসতে পারে সমাজের মূলস্রোতে।

লেখক:  ডা. এমএ হক, পিএইচ. ডি, এম. ফিল, ডিএইচএমএস। গবেষক ও চিকিৎসক (ক্রনিক ডিজিজ অ্যান্ড নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার)।
চেম্বার: ড. হক হোমিও ট্রিটমেন্ট এন্ড রিসার্চ সেন্টার, বিটিআই সেন্ট্রা গ্রান্ড, গ্রাউন্ড ফ্লোর (জি-৪), ১৪৪ গ্রিন রোড, পান্থপথ, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭১২-৪৫০ ৩১০


জেলেনস্কিকে ‘চিরতরে মুছে ফেলা’ ছাড়া আর কোনো উপায় রইলো না: দিমিত্রি মেদভেদেভ

ক্রেমলিনে ড্রোন হামলার পর পাল্টা প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে চিরতরে মুছে ফেলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে মেদভেদেভ বলেন, ইউক্রেন আজ যে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, তাতে জেলেনস্কিকে চিরতরে মুছে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় রইলো না। এ খবর দিয়েছে আরটি।

খবরে বলা হয়, জেলেনস্কিকে নাৎসি জার্মানির প্রধান অ্যাডলভ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন মেদভেদেভ। বর্তমানে রাশিয়ার ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান তিনি। এছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সবথেকে ঘনিষ্ঠদের একজনও তিনি। পুতিনের উত্থানের একদম প্রথম থেকেই তার ছায়ার মতো ছিলেন মেদভেদেভ। তিনি বলেন, জেলেনস্কি এসে আত্মসমর্পন চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন, এমনটার দরকার নেই আর। হিটলারও স্বাক্ষরের সুযোগ পায়নি। অ্যাডমিরাল ডোনিটজের মতো সবসমই কাউকে না কাউকে পাওয়া যাবে প্রেসিডেন্ট পদে বসানোর জন্য।

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় রুশ সেনাদের আক্রমণে জার্মানির রাজধানী বার্লিনের পতন হয়।

রুশদের হাতে পড়ার থেকে মৃত্যুকে শ্রেয় ভেবে আত্মহত্যা করেছিল হিটলার। এরপর জার্মানির প্রধান বানানো হয় অ্যাডমিরাল ডোনিটজেকে। সেই পড়ে জার্মানির আত্মসমর্পণ হতে শুরু করে বাকি নথিপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই ইতিহাসের আবারও পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে বলে হুঁশিয়ারি দেন মেদভেদেভ।

রাশিয়ার এই সাবেক প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের প্রথম থেকেই সরাসরি কথা বলার জন্য আলোচনায় রয়েছেন। যদিও কখনও জেলেনস্কিকে আক্রমণের হুমকি দিয়ে কোনো বার্তা দেয়া হয়নি রাশিয়ার তরফ থেকে। তবে বুধবার মস্কোতে দুইটি ড্রোন হামলার পর রুশ নেতারা সরাসরি জেলেনস্কিকে হুমকি দিয়ে বার্তা দিয়েছেন। এমনকি জেলেনস্কির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোকজনকেও টার্গেট করার হুমকি দিয়েছেন মেদভেদেভ।

এদিকে, রাশিয়া ক্রেমলিনের ওপর ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলা চালাতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পাভেল ফেগেনহাওয়ার নামে এক সমর বিশেষজ্ঞ। রাশিয়ার থিংক ট্যাংক সোভিয়েত একাডেমি অব সায়েন্সেস-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ গবেষক ফেগেনহাওয়ার বলেছেন, রুশ কর্মকর্তারা যে প্রতিশোধ নেয়ার কথা বলছেন সেটি সত্যি হতে পারে। হয়ত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভবনে হামলার জন্য নিজ সেনাদের নির্দেশ দিতে পারে রাশিয়া।

মেদভেদেভ ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি- চেয়ারম্যান। এর চেয়ারম্যান হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।


তুরস্কে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এরদোগানের প্রতিদ্বন্দ্বী -বিবিসির রিপোর্ট

মানুষের জীবনে বিপদ অনেকভাবেই আসে। তবে তুরস্কের দীর্ঘদিনের নেতা রিসেপ তাইয়্যেফ এরদোগানের জন্য সবথেকে বড় বিপদ এখন কামাল কিলিচদারোগলু নামের এক বিরোধী নেতা। ছয় দলের বিরোধী জোটের সমর্থন নিয়ে তিনি এরদোগানের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জয়ী হলে তিনি তুরস্কে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবেন।

তিনি বিবিসিকে বলেন, তরুণরা গণতন্ত্র চায়। তারা চায় না যে, সামান্য টুইটের কারণে পুলিশ ভোরবেলা তাদের বাড়িতে অভিযান চালাক। তিনি ১৪ই মে’র নির্বাচনে এরদোগানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। জনমত জরিপে তিনি এরদোগান থেকে সামান্য এগিয়ে আছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে কে জয়ী হবেন তা নির্ধারণে দ্বিতীয় রাউন্ডের নির্বাচন আয়োজন হবে।

কামাল বলেন, বর্তমানে তুর্কিরা প্রেসিডেন্টকে অপমান করার জন্য জেলে যাচ্ছেন। আমি ক্ষমতায় গেলে তরুণরা নির্দ্বিধায় আমার সমালোচনা করতে পারবে। আমি নিশ্চিত করব যে, তারা যেন সেই অধিকার পায়।

৭৪ বছর বয়সী কামাল তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল ‘রিপাবলিকান পিপলস পার্টি’র (সিএইচপি) নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যদিও তার সমর্থকরা তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

এ নিয়ে কামাল বলেন, তুরস্কের রাজনীতিতে থাকা মানেই ঝুঁকির জীবন বেছে নেয়া। এরদোগান ও তার মিত্ররা যাই করুক না কেন আমি আমার পথে হাঁটব। তারা আমাকে থামাতে পারবে না। তারা আমাকে ভয় দেখাতে পারবে না। আমি এই জাতির কাছে সেই প্রতিশ্রুতিই দিয়েছি। ৬৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট এরদোগান অতীতে তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে উপহাস করে বলেছিলেন যে তিনি একটি ভেড়াও পালতে পারেননি। কিন্তু এখন কামালই তার সবথেকে বড় আতঙ্ক।
সম্প্রতি বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি ইজমিরের বন্দর নগরীতে সমাবেশ করেন কামাল। সেখানে লাখো মানুষ পতাকা উড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান। স্লোগানে স্লোগানে মানুষ বলেন, কামাল কিলিচদারোগলুর মধ্যেই আমাদের সকল আশা! ভিড়ের মধ্যে বেশিরভাগই বয়সে তরুণ। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন পাঁচ লাখ তুর্কি। ১৫ বছর বয়সের ওগুজ নামের এক তরুণকে দেখা গেলো সমাবেশে। তার ভোট দেয়ার বয়স হয়নি। কিন্তু তারপরেও তিনি কামালের পক্ষে কথা বলতে সমাবেশে যোগ দিয়েছে। ওগুজ মনে করে যে, কামাল একজন ভালো মানুষ এবং তিনি তার ভবিষ্যৎকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। তিনি প্রেসিডেন্ট হলে আমাদের অর্থনীতির উত্থান ঘটবে, এবং আমরা উপরে উঠব।

কামাল জানিয়েছেন যে, তিনি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমাদের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের বিষয়ে আরও নজর দেবেন। ক্রেমলিনকে ছেড়ে পশ্চিমদের দিকে ঝুঁকবেন তিনি। যেখানে এরদোগান অনেকটাই রুশপন্থী বলে মনে করা হয়। কামাল বলেন, আমরা সভ্য বিশ্বের অংশ হতে চাই। আমরা মুক্ত গণমাধ্যম এবং সম্পূর্ণ বিচারিক স্বাধীনতা চাই। এরদোগান সেভাবে ভাবেন না। তিনি আরও স্বৈরাচারী হতে চান। আমাদের এবং এরদোগানের মধ্যে পার্থক্য হল কালো এবং সাদার মধ্যে পার্থক্য।

গত ২০ বছর ধরে তুরস্ক শাসন করছেন এরদোগান। কামাল ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি নির্বাচিত হলে এরদোগানকে অবসরে পাঠিয়ে দেবেন তিনি। তাছাড়া এরদোগান নিজেই চুপচাপ পিছিয়ে যাবেন। এটা নিয়ে কারো কোনো উদ্বেগ থাকা উচিত নয় বলে মনে করেন কামাল। যদিও অন্যরা এতটা নিশ্চিত নয়। এরদোগান হেরে গেলে তিনি ফলাফল নিয়ে বিতর্ক করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সোয়লু সতর্ক করেছেন যে ভোটের মধ্য দিয়ে পশ্চিমারা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা চালাবে।

কামাল বলেছেন, সম্মিলিত বিরোধী দল সজাগ থাকবে। সমস্ত ভোটকেন্দ্রে একাধিক পর্যবেক্ষক থাকার মাধ্যমে, আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে ভোট সঠিকভাবে ও নিরাপদে পরিচালিত হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা দেড় বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছি। কামাল বলেন, এখন এক কেজি পেঁয়াজের দাম ৩০ লিরা। এরদোগান যদি ক্ষমতায় থাকেন তাহলে এর দাম হবে ১০০ লিরা।

তুরস্কে ব্যাপকভাবে মূল্যস্ফীতির জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোগানের অর্থনৈতিক নীতিকে দায়ী করা হয়। নির্বাচনে যেই জিতুক না কেনো, তাকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও একটি বিভক্ত জাতির নেতৃত্ব দিতে হবে। দেশব্যাপী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন কামাল। মঞ্চে তিনি হার্ট ইমোজির মতো করে সমর্থকদের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে চলেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, সব ঠিক হয়ে যাবে, সবাই যেনো এই বিশ্বাস রাখে। যদিও ধর্মীয় রক্ষণশীলরা তাকে পছন্দ করছেন না। তারা কামালের বিরোধিতা করছেন এবং এরদোগানকে সমর্থন দিচ্ছেন।

ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় তুরস্কে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জনমত জরিপ বলছে, এরদোগানের থেকে এগিয়ে আছেন কামাল। যদিও এরদোগানের জোট পার্লামেন্টের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না যে, সামনের দিনগুলো শান্তিপূর্ণভাবে পাড় করতে পারবে তুরস্ক।


মেয়েদের কবরে হঠাৎ কেন তালা দিচ্ছেন পাকিস্তানি বাবা-মায়েরা?

পাকিস্তানে বাড়ছে বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের সংখ্যা। এমনকি তারা সমাধি থেকে মৃতদেহ তুলে ধর্ষণ করছে। শুনে অবিশ্বাস্য বলে মনে হলেও পাকিস্তানে ঘটছে এমনটাই। আর তাই পরিবারের নারী  সদস্যদের কবরগুলিতে তালা দেওয়া শুরু হয়েছে। পাকিস্তান ভিত্তিক ডেইলি টাইমস 'আনসেফ ইন গ্রেভস' শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করেছে যেখানে চমকপ্রদ ঘটনা সামনে এসেছে। প্রকাশনাটি বলেছে-''নারীদের কবরের উপর তালা লাগানোর হৃদয় বিদারক দৃশ্য সমগ্র সমাজকে লজ্জায় মাথা নত করে দেয়। দানবদের লালসা থেকে মৃতদেহের পবিত্রতা নিশ্চিত করার জন্য এই চেষ্টা চালাচ্ছেন পাকিস্তানি বাবা-মায়েরা। ''পাকিস্তানে নেক্রোফিলিয়া অর্থাৎ মৃতদেহের সঙ্গে যৌনতার অভিযোগ নতুন নয়। গত কয়েক বছরে কবর থেকে নারীদের দেহ তুলে সেই দেহকে যৌন প্রবৃত্তি নিবৃত্তির কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে নেক্রোফিলিয়া বৃদ্ধির সাথে সাথে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা বিষয়টি হাইলাইট করেছেন এবং লোহার গেট ও  প্যাডলক দেয়া সুরক্ষিত কবরের ছবি শেয়ার করেছেন।


হ্যারিস সুলতান নামে একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ও প্রাক্তন মুসলিম নাস্তিক কর্মী লিখেছেন- ''কট্টর ইসলামপন্থী মতাদর্শ এই ধরনের কাজের জন্য দায়ী।'' সুলতান লিখেছেন, “পাকিস্তান এমন একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, যৌন-ক্ষুধার্ত সমাজ তৈরি করেছে, মানুষ এখন নারীদের কবরে তালা লাগাচ্ছে।

যাতে তাদের ধর্ষণ না করা হয়।” এর আগে ২০১১ সালে, করাচি শহর থেকে মুহাম্মদ রিজওয়ান নামে একজন কবর রক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কারণ সে ৪৮টিরও বেশি নারী মৃতদেহের সঙ্গে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছিলো। গত বছরের মে মাসে পাকিস্তানের গুজরাটের চক কমলা গ্রামে একটি কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, তাঁকেও  ধর্ষণ করা হয়েছিলো। আশ্চর্যজনকভাবে ঘটনাটি ঘটে সেই রাতেই, যে রাতে মেয়েটির পরিবার তাকে দাফন করেছিল। ২০২১ সালে, উপকূলীয় শহর গোলামুল্লাহর কাছে মৌলভী আশরাফ চান্দিও গ্রামে একটি সদ্য কবর দেওয়া কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করেছিল কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি। মৃতের পরিবার জানায়, যে গ্রামের জমিদারের ছেলে স্থানীয় কিছু গুন্ডাদের নিয়ে এই জঘন্য অপরাধ করে। একইভাবে ২০২০ সালে পাঞ্জাব প্রদেশের ওকারায় একটি কবরস্থানে একজন মহিলার মৃতদেহকে ধর্ষণ করার সময় এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরা হয়েছিল।

সূত্র : wionews.com

নতুন বাসা পছন্দ নয়, টানা ২৭দিন পায়ে হেঁটে পুরোনো মালিকের কাছে ফিরলো প্রভুভক্ত কুকুর

আয়ারল্যান্ডের একটি কুকুর তার নতুন মালিককে ছেড়ে ৬৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে আগের বাসায় ফিরে এসে শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে। কুপার নামের গোল্ডেন রিট্রিভারটিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি টাইরোনের ডুঙ্গাননের একটি পরিবার দত্তক নিয়েছিল; তবে কুকুরটি নতুন পরিবেশে খুশি ছিল না। তাই তার পুরোনো মালিকের কাছে ফিরে যেতে বড়সড় ঝুঁকি নেয় কুপার। মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, অর্থের অভাবে কুকুরটির ঠিকমত যত্ন নিতে পারছিলেন না তার মালিক। তাই তিনি কুকুরটিকে ক্যানেলে পাঠিয়েছিলেন। টাইমস নাউ-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কুকুরটি তার নতুন জায়গায় মাত্র কয়েক ঘন্টা কাটায়, সেখানে তার নতুন রুমমেট 'মলি'র সাথে থাকার কথা ছিল। তবে নতুন পরিবেশ পছন্দ না হওয়ায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কুপারের নতুন মালিক তার খোঁজে পোষা প্রাণীর দাতব্য সংস্থা, Lost Paws NI-তে পৌঁছে যান। কিন্তু গোল্ডেন রিট্রিভারটি ২৫দিন ধরে অনুসন্ধান দলের নজর এড়াতে থাকে। ২২ এপ্রিল, দাতব্য সংস্থাটি অন্যান্য পোষা মালিকদের কাছ থেকে কুপারের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায়।

তাকে তার পুরোনো বাসার আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। পরে ২৭এপ্রিল, একজন স্থানীয় Lost Paws NI-কে জানায় তিনি গোল্ডেন রিট্রিভারটিকে তার আসল বাসায় ফিরে যেতে দেখেছেন।

Lost Paws NI-এর একটি বিবৃতি অনুসারে, কুকুরটি তার আগের বাসায় ফেরার জন্য ২৭দিন ধরে ট্র্যাফিক এবং মানুষের নজর এড়িয়ে একটানা হেঁটে গেছে। কুকুরটি শুধুমাত্র গন্ধ শুঁকে তার পুরোনো বাসায় ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে। ডুঙ্গানন থেকে কুক্সটাউন, তারপর ম্যাগেরফেল্ট এবং অবশেষে টোবারমোর পর্যন্ত কোনো মানবিক সহায়তা এবং কোনো খাবার ছাড়াই একটানা যাত্রা করেছিলো কুপার। এই ২৭ দিনে কুপার  রাস্তা, বন, মাঠ অতিক্রম করেছে। এমন অনেক এলাকা সে অতিক্রম করেছে যেখানে সে আগে কখনও যায়নি। কুকুরটি তার পুরোনো বাসায় ফিরে যাবার পর বিস্মিত হয়েছিলেন তার নতুন মালিক নাইজেল ফ্লেমিং। তবে  কুপার তার পছন্দের পরিবেশে ফিরে গেছে জানতে পেরে তিনি খুশিই হয়েছিলেন।

সূত্র : wionews.com