Sunday, July 31, 2016

তুর্কি সেনাবাহিনীতে ব্যাপক রদবদল

তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডাররা শুক্রবার প্রেসিডেন্ট
রিসেপ তায়েপ এরদোগানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন -এএফপি
তুরস্কের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশটির সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক রদবদল আনা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর তিন প্রধানকে স্বপদে বহাল রাখা, ৯৯ জন কর্নেলকে জেনারেল ও এডমিরাল পদে পদোন্নতিসহ অন্য বিষয়ে ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিলের (ইয়াস) সভায় এসব পরিবর্তন আনা হয়। প্রায় ৫ ঘণ্টার ওই বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন এসব তথ্য জানিয়েছেন। খবর এএফপি, রয়টার্স ও আল জাজিরার। ১৫ জুলাই অভ্যুত্থানচেষ্টার পর এটাই ছিল তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইয়াস সভা। প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের কাছে পাঠানো হবে। বুধবার হঠাৎ করেই দেশের ১৪৯ জন এডমিরাল ও জেনারেলকে বরখাস্তের ঘোষণা দেয়ার পর এ বৈঠকে বসে তুরস্কের শীর্ষ সেনা কমান্ডাররা।
ওই বৈঠকের কিছুক্ষণ আগে তুরস্কের সেনাবাহিনীর দু’জন জেনারেল চাকরি থেকে পদত্যাগ করে দেশের সরকারের এ দমন-নিপীড়নের প্রতিবাদ জানান। দেশটির ল্যান্ড ফোর্সেস চিফ অব স্টাফ জেনারেল ইহসান ইয়ার এবং প্রশিক্ষণবিষয়ক কমান্ডার জেনারেল কামিল বাসোগলু পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তারা দু’জনেই ছিলেন ‘অরজেনারেল’। এটা তুরস্কের জেনারেলদের সর্বোচ্চ পদ। ইয়াস বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে, তুরস্কের ‘চিফ অব স্টাফ’ হিসেবে জেনারেল হালুসি আকার তার পদে বহাল থাকছেন। এছাড়া, টার্কিশ ল্যান্ড ফোর্সেসের কমান্ডার জেনারেল সালিহ জেকি কোলাক, বিমানবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল আবিদিন উনাল এবং নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল রিসেপ বুলেন্ত বস্তানোগ্লুও তাদের পদে বহাল থাকছেন। তবে আধা সামরিক বাহিনী ‘গেন্ডারমেরি’র জেনারেল কমান্ডার ও জেনারেল স্টাফ ডেপুটি চিফ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই দুই পদে নিয়োগ পেয়েছেন যথাক্রমে জেনারেল ইয়াসের গুলের এবং জেনারেল উমিত দান্দার। জেনারেল মুসা অ্যাভেসার এখন নতুন ফার্স্ট আর্মির কমান্ডার, জেনারেল ইসমাইল মেতিন তেমেল সেকেন্ড আর্মি কমান্ডার হয়েছেন। এদিকে, ৯৯ জন কর্নেলকে জেনারেল ও অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। ১৬ জেনারেল ও এডমিরালকেও পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। আর ২০ জেনারেল ও অ্যাডমিরালের চাকরি এক বছর বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের প্রায় অর্ধেক জেনারেল ও এডমিরালকে অসম্মানজনকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেনা অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১৬৮৪ জন জেনারেল ও এডমিরালকে বরখাস্ত করে এরদোগান সরকার। দেশের আরও ১০৯৯ সেনা অফিসার ও ৪৩৬ জুনিয়র অফিসারকে অসম্মানজনকভাবে বরখাস্ত করে সরকার। এছাড়া, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনীর অধিকারী দেশ তুরস্কের মাত্র ১ দশমিক ৫ ভাগ সদস্য সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার টার্কিশ জেনারেল স্টাফের প্রেস অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স ডিপার্টমেন্টের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থানচেষ্টায় মোট ৮ হাজার ৬৫১ সৈনিক জড়িত ছিল। এদের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৬ জন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে এতে জড়িয়ে পড়েছিল। এদের ১ হাজার ২১৪ জন আবার ক্যাডেট। সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অভ্যুত্থানচেষ্টায় ২৪টি জঙ্গি বিমানসহ ৩৫টি বিমান ব্যবহৃত হয়েছিল, যা মোট বিমানের সাত শতাংশ। এতে আরও বলা হয়, অভ্যুত্থানচেষ্টায় ৮টি অ্যাটাক হেলিকপ্টারসহ ৩৭টি হেলিকপ্টার (যা মোট সংখ্যার প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ), ১৭২টি সাঁজোয়া যান, ৭৪টি ট্যাংক ব্যবহƒত হয়েছিল। বিদ্রোহীরা তিনটি জাহাজও ব্যবহার করেছিল।

দিল্লির রাস্তায় হাঁটুপানি

আকস্মিক বন্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির
রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ
যানজটের। শুক্রবার তোলা ছবি। -এপি
ভারতের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে দেশটির নয়াদিল্লির রাস্তায় যানজটে আটকা পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সারা রাত ধরে এসব লোক রাস্তার মধ্যে কাটিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ ভয়াবহ এ পরিস্থিতি সামাল দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন। স্থানীয় টিভি চ্যানেলের খবরে দেখা গেছে, নয়াদিল্লির সঙ্গে সংযুক্ত গুরগাঁও শহরের রাস্তার সংযোগস্থল জুড়ে মাইলের পর মাইল রাস্তা যানজটে পরিপূর্ণ। খবর এএফপির। বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দা ও অফিসযাত্রী লোকেরা হাঁটু সমান পানিতে চলাচল করেছেন। শুক্রবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হারানা রাজ্যের রাস্তাগুলোতে মানুষ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় সরকার। এছাড়া এ এলাকার স্কুল-কলেজগুলোও দু’দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গুরগাঁও ভারতের ‘মিলেনিয়াম শহর’ হিসেবে স্বীকৃত। এখানেই রয়েছে দেশের বেশ কয়েকটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, বিশ্ব সেরা গলফ কোট, দেশ সেরা হাসপাতাল ও জমকালো শপিং মল। গুরগাঁও পুলিশ বলেছে,
রাস্তায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে দিল্লির নাগরিকরা গুরগাঁও শহরে এসেছে। ফলে অতিরিক্ত মানুষের চাপে এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে তাদের ফিরে যেতে আদেশ দেয়া হয়েছে। অনুভূতি শর্মা নামের এক বাসিন্দা তার সন্তানকে কয়েক কিলোমিটার দূরের একটি শিশু রক্ষণাবেক্ষণাগার থেকে নিয়ে আসতে পারেনি। সন্ধ্যা ৭টায় বাসা থেকে রওনা হয়ে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত যানজটে আটকা ছিলেন। শর্মা বলেন, আমার এক প্রতিবেশী রাত ৮টায় তাকে নিয়ে রওনা হন, তখনও আমি যানজটে আটকা ছিলাম। রাজেশ মেহতা নামের একজন টুইটারে লেখেন, গুরুগ্রাম! কি দুঃস্বপ্নের রাত কাটিয়েছি। ৫ ঘণ্টায় পার হয়েছি মাত্র ১ কিলোমিটার পথ। রাস্তার পাশে গাড়ি পার্ক করে গাড়িতে ঘুমিয়ে রাত কাটিয়ে দিয়েছি। স্থানীয় হিন্দুদের কাছে গুরগাঁও শহরটি ‘গুরুগ্রাম’ নামে পরিচিত। এপ্রিল মাসে স্থানীয় সরকার এটির নাম পরিবর্তন করে গুরুগ্রাম রাখেন। দেশটিতে চার মাসব্যাপী মৌসুমী বৃষ্টি শুরু হয় জুন মাস থেকে। এটা দেশের ৩৩ কোটি কৃষকের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। তবে ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ অংশে অতি বৃষ্টির কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়।

যেসব সমস্যা তৈরি করবেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নানামুখী সমস্যায় পড়বে। যেমনটা পড়বে গোটা বিশ্ব। প্রথম সমস্যাটি তৈরি করবে তার সীমাহীন অশালীনতা। আমেরিকা অনেক কিছুই দেখেছে, তবে নারীর প্রতি ঘোরতর ঘৃণা প্রদর্শনকারী একজন সম্ভাব্য প্রেসিডেন্টকে এর আগে দেখেনি। নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সালে স্থপতি ফিলিপ জনসনের সঙ্গে এক কথোপকথনে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তাদের আবর্জনার মতো বিবেচনা করতে হবে।’ তিনি এখনও তাদের বিরক্তিকর জীব হিসেবে দেখে থাকেন। সমস্যা তৈরি করবে তার নির্লজ্জ বর্ণবাদী চরিত্রও। তার প্রথম স্ত্রীর মতে, ট্রাম্প হলেন সেই ব্যক্তি যিনি তার বেডসাইড টেবিলে হিটলারের ভাষণগুলো সংগ্রহে রেখেছেন এবং যিনি হাসতে হাসতে কৃষ্ণাঙ্গদের বলেন ‘অলস’, মেক্সিকানদের উপহাস করেন ‘ধর্ষক’ বলেন এবং গোটা মুসলমান জনগোষ্ঠীকে সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী বলে গণ্য করেন।
তার ইহুদিবিদ্বেষও সমস্যার কারণ হবে। গত বছর ডিসেম্বরে রিপাবলিকান জিউইশ কোয়ালিশনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা আমাকে সমর্থন দিচ্ছ না, কেননা আমি তোমাদের টাকা চাই না।’ সমস্যা দেখা দেবে তার অজ্ঞতার কারণেও- শুধু বিশ্বের জন্য নয়, তার নিজ দেশের জন্যও। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেনের সদস্যপদ থাকা-না থাকা নিয়ে গণভোটের কয়েকদিন আগেও তিনি ‘ব্রেক্সিট’ শব্দটির মানে জানতেন না। আর এই চলতি মাসে জানা গেছে, তিনি জানেন না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে মোট কয়টি অনুচ্ছেদ আছে। তবে সবচেয়ে মারাত্মক ও উদ্বেগজনক সমস্যাটি হবে, বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তিধর দেশটির নেতার ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে কিছু সরলীকৃত ধারণা। ফলে ‘আমেরিকাকে আবারও মহান’ করার প্রতিশ্র“তি সত্ত্বেও ট্রাম্পের ওইসব সরলীকৃত ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ও নিরাপত্তার ভিত্তিকে দুর্বল করে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ সংক্রান্ত পুনরালোচনা নিয়ে গত মার্চে তার যে ধারণা প্রকাশ পেয়েছে সেটার কথাই ধরুন। তার ধারণাটি নির্বোধের মতো।
বিশ্বে মুদ্রা মজুদের ক্ষেত্রে যে যুক্তরাষ্ট্র একচেটিয়া অবস্থান ধরে রেখেছে, ঋণ ‘পুনরালোচনার’ ক্ষেত্রে সে দেশের সরকারের নাকি কিছুই করার নেই! তবে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প যখন তার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবেন, তখন এর পরিণতি হবে বিপর্যকর। ক্লিভল্যান্ডে মনোনয়ন দৌড়ে তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেটার কথাই ধরুন। ন্যাটোর কোনো সদস্যরাষ্ট্র হুমকির সম্মুখীন হলে জোটের অন্য দেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে সমর্থন দেবে- সংস্থাটির এই নীতি তিনি পুনর্বিবেচনা করবেন। উল্লেখ্য, এই প্রক্রিয়া বাল্টিক দেশগুলোকে স্বাধীন রেখেছে। ট্রাম্পের মতে, এর ফলে রাশিয়া বিশ্বে তার হুমকি প্রদর্শনের বিষয়টি পুনঃপরীক্ষা করবে। প্রতিবেশীর সঙ্গে তার সীমানার সহজ সমন্বয় ঘটাবে অথবা অন্যদের দ্বারা ‘জিম্মি হিসেবে আটক’ কোনো সংখ্যালঘু রুশভাষীর উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। বাস্তবতা হল, এর ফলে পোল্যান্ড বা ইউক্রেনে হামলা করতে পারে রাশিয়া। রাশিয়া কেনইবা ন্যাটো সদস্য ও তার প্রতিবেশীদের ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকবে? এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপান বা অন্য কোনো পশ্চিমা মিত্রের সঙ্গেও যুদ্ধ বাধাতে পারে রাশিয়া। ট্রাম্প সুযোগ পেলেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের প্রশংসা গাইতে ভোলেন না।
একবার তিনি সিএনএনের ল্যারি কিংকে (তার বেস্টসেলার ‘থিংক বিগ’ ও ‘কিক অ্যাসে’র প্রচারকালে) বলেছিলেন, পুতিন একজন মহান নেতা, যিনি ‘একটি মহান কাজ করে যাচ্ছেন... রাশিয়ার পুনর্গঠন’। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত পুতিন স্বাক্ষরিত একটি মন্তব্য প্রতিবেদনকে ট্রাম্প ‘মাস্টারপিস’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, যেখানে সিরিয়ায় মার্কিন নীতির সমালোচনা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে, ইউক্রেন নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধকালীন পরিস্থিতির প্রায় দুই বছর পর তিনি ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, নেতৃত্বের জন্য পুতিন ‘এ’ পাওয়ার যোগ্য। সত্য হল, রাশিয়ার সঙ্গে পুতিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক পুরনো ও ঘনিষ্ঠ। বর্তমান শতকের প্রথম দশকের শুরুতে মার্কিন ব্যাংকগুলো যখন ট্রাম্পকে কালোতালিকাভুক্ত করে, তখন তিনি রুশ উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ টরন্টো, সোহো ও পানামায় সরিয়ে নেন। ট্রাম্প নিজের স্বার্থে ও নানা সুবিধার জন্য রুশ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং নিজের প্রভাব খাটিয়েছেন- এ সংক্রান্ত অসংখ্য তথ্য এখন বেরিয়ে আসছে। ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হলে প্রকৃতই তা হবে আতংকজনক একটি ব্যাপার। সমস্যা শুধু তার অশালীনতা, নারী বিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও অজ্ঞতা নয়। এটি আমেরিকার প্রতি তার বিশ্বাসঘাতকতার কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে।
প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে ভাষান্তরিত
বার্নার্ড-হেনরি লেভি : ফরাসি দার্শনিক ও লেখক

মুস্তাফিজের অস্ত্রোপচার ইংল্যান্ড না অস্ট্রেলিয়ায়?

মুস্তাফিজুরের অস্ত্রোপচার করাতে হবে, তা বৃহস্পতিবারই জানা গেছে। কিন্তু কোথায় তার অস্ত্রোপচার হবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য সেরা জায়গাতেই মুস্তাফিজের অস্ত্রোপচার করাতে চায় বিসিবি। এ মুহূর্তে তিনি ইংল্যান্ডে থাকলেও অস্ট্রেলিয়াতে তার অস্ত্রোপচার হতে পারে। ২০ বছর বয়সী এই পেসারের অবস্থা নিয়ে কাল বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখনও নিশ্চিত করিনি কোথায়, কখন ওর অস্ত্রোপচার হবে। অস্ট্রেলিয়াতেও কথা বলব। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। যদি অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্রোপচার করানো হয়, তবে গ্রেগ হয়ে’র কাছে পাঠানো হতে পারে। তিনিও এ ধরনের অস্ত্রোপচার করেন। আশা করছি, দু’একদিনের মধ্যে আমরা বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারব।’
বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় এমআরআই রিপোর্টে মুস্তাফিজের বাঁ-কাঁধের ল্যাবরামে ধরা পড়েছে গ্রেড-২ শ্রেণীর চোট। অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় নেই। লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনউইচের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টনি কোচার মুস্তাফিজের দ্বিতীয় এমআরআই রিপোর্ট দেখে অস্ত্রোপচারের পরামর্শই দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে মুস্তাফিজের অস্ত্রোপচার হলে পুরোপুরি সুস্থ হতে কমপক্ষে পাঁচ মাস সময় লাগবে। বিসিবির চিকিৎসক বলেন, ‘এ ধরনের ইনজুরি সারতে কমপক্ষে পাঁচ মাস সময় লাগে। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে আমরা জেনেছি পাঁচ মাসের মধ্যেই খেলার মতো ফিট হয়ে যাবে মুস্তাফিজ।’ মুস্তাফিজের অস্ত্রোপচার হলে নিশ্চিতভাবেই ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড সিরিজ এবং নিউজিল্যান্ডে অ্যাওয়ে সিরিজের দুটিই মিস করবেন কাটার মাস্টার। শুধু তাই নয়, আগামী ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিপিএলের চতুর্থ আসরও মিস করবেন তিনি।

ওজন কমাচ্ছেন অভিনেত্রী তিশা

টিভি পর্দার বাইরে সিনে পর্দায়ও ব্যস্ততা বেড়েছে নুসরাত ইমরোজ তিশার। তবে আজকাল এ অভিনেত্রী যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই নিজের ওজন নিয়ে নতুন এক প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। সবাই প্রশ্ন করছেন ‘তিশা এতো শুকিয়েছো কেন?’
সত্যিই তিশার ছিপছিপে শরীর দেখে অবাক হচ্ছেন অনেকেই। পাশাপাশি কেউ কেউ আবার কৌতূহলও প্রকাশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয় করছি এখন। তাই ছবির প্রয়োজনেই ওজন কমাচ্ছি।’ এর আগে ভিন্নধারার ছবিতে অভিনয় করলেও চলতি বছর থেকে পুরো বাণিজ্যিক ঘরানার ছবির নায়িকা বনে গেছেন তিনি। গেল ঈদেও শাকিব খানের নায়িকা হয়ে হাজির হয়েছেন সিনেমা হলের পর্দায়। আনন্দনগর প্রতিবেদক