Friday, October 12, 2018

সৌদি কনস্যুলেটে খাশোগিকে টুকরা টুকরা করা হয়েছে -ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তুরস্ক। দেশটি বলেছে, এই হত্যাকান্ডের এমন অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং তাদের হাতে রয়েছে, যাতে প্রমাণ হয় যে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার মৃতদেহ টুকরা টুকরা করে হত্যাকারীরা। মার্কিন ও তুর্কী সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
খবরে বলা হয়, তুরস্কের হাতে থাকা রেকর্ডিংয়ে দেখা গেছে, ২রা অক্টোবর নিজের বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন খাশোগি। এসময় তার বাগদত্তা বাইরে তার ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পরই সৌদি আরবের একটি নিরাপত্তা টিম তাকে আটকে ফেলে। পরে তাকে হত্যা করে মৃতদেহ টুকরা টুকরা করা হয়।
ওই রেকর্ডিংয়ের বিষয়ে জানেন এমন একজন নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, জামাল খাশোগি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর কি ঘটেছে তা রেকর্ডিংয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘রেকর্ডিংয়ে আপনি তার (খাশোগির) ও আরবী ভাষী কয়েক জনের কন্ঠস্বর শুনতে পাবেন। এমনকি খাশোগিকে নির্যাতনের রেকডিংও রয়েছে।’ আরেকজন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, এসব রেকর্ডিংয়ের সূত্র ধরেই তুরস্ক তাৎক্ষণিকভাবে খাশোগিকে হত্যার দায়ে সৌদি আরবকে দোষারোপ করে। তবে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এসব রেকর্ডিং প্রকাশ করার বিষয়ে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছে। কেননা ইস্তাম্বুলের বিদেশী কনস্যুলেটগুলোতে তুর্কী গোয়েন্দারা কিভাবে গুপ্তচরবৃত্তি করে, তা এর মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের বিষয়ে ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে তুরস্ক। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা অডিও রেকর্ডগুলো শুনেছেন বা ভিডিও রেকর্ডগুলো দেখেছেন কিনা তা নিশ্চিত না। এদিকে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে কোন সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দেশটির কমকর্তাদের দাবি, খাশোগি কিছুক্ষণ পরই সৌদি কনস্যুলেট ছেড়ে গেছেন। তবে আসলেই খাশোগির সঙ্গে কি ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখার জন্য যৌথ তদন্ত টিম গঠনের বিষয়ে সৌদি আরবের প্রস্তাবে রাজি হয়েছে তুরস্ক। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই সৌদি আরবের তদন্তকারী দল তুরস্কে পৌছেছে। সেখানে তুর্কী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে খাশোগির নিখোঁজ রহস্য তদন্ত করবেন তারা।
প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের রাজ পরিবারের সঙ্গে নিখোঁজ সাংবাদিক খাশোগির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কট্টর সমালোচনা করতেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি লেখালেখিও করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই খাশোগির সঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমানের দ্বন্দ্ব চলছিল।

ডিজিটাল আইন স্বাধীন সাংবাদিকতার মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক -সম্পাদক পরিষদের বিবৃতি

পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নৈতিক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌল মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছে সম্পাদক পরিষদ। বৃহস্পতিবার পরিষদের বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনে আইনটি সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে। ডেইলি স্টার সেন্টারে ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে সম্পাদক পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল নিরাপত্তায় আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা সম্পাদক পরিষদ সমর্থন করে, সভায় তা তুলে ধরা হয়। তবে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষরিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩-এর মতো বিতর্কিত ধারাগুলোকে মুক্ত সংবাদমাধ্যমের পরিপন্থি, বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরোধী এবং গণতন্ত্রের সঙ্গে বিরোধাত্মক বলে মনে করে সম্পাদক পরিষদ। এ ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপনে তিনজন মন্ত্রীর দেয়া সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় সভায় গভীর হতাশা ব্যক্ত করা হয়। সভাশেষে বিবৃতিতে বলা হয় , সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগের কথা মন্ত্রিসভায় উত্থাপন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি সংশোধিত খসড়া প্রণয়নের ব্যাপারে তিনজন মন্ত্রীর দেয়া সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ায় সম্পাদক পরিষদ গভীর হতাশা প্রকাশ করছে। সম্পাদক পরিষদ বিষয়টিকে তিনজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতিতে সংগঠনের আস্থা ও বিশ্বাসের লঙ্ঘন মনে করে।
স্মর্তব্য, সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর উদ্যোগে, যিনি প্রস্তাবিত আইন নিয়ে নতুন এক দফা আলোচনা শুরুর প্রতিশ্রুতি দেন এবং সম্পাদক পরিষদকে তাতে আমন্ত্রণ জানান। একই প্রতিশ্রুতি ওই সভায় আইনমন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও দেয়া হয়েছিল।
প্রতিশ্রুত আলোচনা শুরুর একটি সুযোগ ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে প্রেসিডেন্টের সম্মতির মাধ্যমে হারিয়ে গেছে বলে সম্পাদক পরিষদ মনে করে। সাংবিধানিক এখতিয়ারবলে প্রেসিডেন্ট বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠালে ওই আলোচনা হতে পারত।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্পাদক পরিষদ অচিরেই শুরু হতে যাওয়া বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি জানাচ্ছে। সম্পাদক পরিষদের মতে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিকে বাকস্বাধীনতার প্রতি গুরুতর হুমকি বিবেচনা করে সাংবাদিক ও নাগরিক সম্প্রদায় যে উদ্বেগ জানিয়েছে, তা নিরসনের এটাই শেষ সুযোগ।
সম্পাদক পরিষদের সভায় পুলিশি হস্তক্ষেপ ও খেয়াল-খুশিমতো গ্রেপ্তারের কবল থেকে বাকস্বাধীনতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের সুরক্ষায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করতে সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
বিবৃতিতে পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা আগেও বলেছি এবং আবারো বলছি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিকে আমরা,
১. সংবিধানের ৩৯ (ক) ও (খ) ধারায় প্রদত্ত বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা;
২. আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জড়িয়ে থাকা মূল্যবোধ ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার;
৩. জাতিসংঘ সনদ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তিতে সুরক্ষিত গণতন্ত্র, মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা ও মৌলিক অধিকারের নীতি; এবং
৪. নৈতিক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌল মূল্যবোধগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করছি।
বিবৃতিদাতারা হলেন: ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, নিউজ টুডের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, মানবজমিন এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, ইনডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনিরুজ্জামান, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শহীদুজ্জামান খান, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম।

মানবসম্পদ সূচক: ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত নতুন মানব উন্নয়ন সূচকে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ মানবসম্পদ উন্নয়নে দেশ দুটোর থেকে বাংলাদেশ অধিক সফলতা অর্জন করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এ সূচকে শীর্ষে রয়েছে    শ্রীলঙ্কা। মানব সম্পদ উন্নয়নে পৃথিবীর দেশগুলোর সফলতার সম্ভাবনার ভিত্তিতে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, রাষ্ট্রগুলোকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করাই এ সূচকের লক্ষ্য।
এ সূচক অনুযায়ী, আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো মানব উন্নয়নে সব থেকে পিছিয়ে রয়েছে। সূচকে সবার থেকে পেছনে রয়েছে আফ্রিকার দেশ চাদ ও দক্ষিণ সুদান। অপর দিকে সূচকের প্রথম দিকে রয়েছে এশিয়ার দেশগুলো। বিশ্বের ১৫৭টি দেশের মধ্যে মানব উন্নয়নে সব থেকে সফল রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়া।
এরপরেই রয়েছে জাপান ও হংকং। এ সূচক দিয়ে বিশ্বব্যাংক বোঝাতে চেয়েছে, কোনো দেশের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্য সেবার ভিত্তিতে তার উৎপাদনশীলতা ও আয়ের সম্ভাবনা কতখানি। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা যাচাই করা যাবে।
সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশে জন্মানো একটি শিশুর ভবিষ্যৎ উৎপাদনশীলতা হবে তার ৪৮ শতাংশ। এক্ষেত্রে ভারতে জন্মানো একটি শিশুর উৎপাদনশীলতার সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এ হার ৩৯ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ায় সব থেকে এগিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার উৎপাদনশীলতা ৫৮ শতাংশ। বাংলাদেশের আরেক প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালের সম্ভাবনা ৪৯ শতাংশ। একইসঙ্গে বাংলাদেশে ৫ বছরের বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা শিশুর হার ৯৭ শতাংশ। ভারতে এ হার ৯৬ শতাংশ, পাকিস্তানে ৯৩ শতাংশ ও শ্রীলঙ্কায় ৯৯ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একটি চার বছরের শিশু স্কুলে যাওয়া শুরু করলে গড়ে সে প্রায় ১১ বছর পড়াশোনা করে।
এক্ষেত্রেও ভারত ও পাকিস্তান পিছিয়ে রয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে এ সময় গড়ে ১০.২ বছর ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এ সময় মাত্র ৮.৮ বছর। দেশগুলোর শিক্ষার মান নির্ণয়ে হারমোনাইজড টেস্ট স্কোর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্কোর হচ্ছে ৩৬৮। অপরদিকে ভারত ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের এ স্কোর যথাক্রমে ৩৫৫ ও ৩৩৯। বিশ্বব্যাংক দাবি করছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে শতকরা ৮৭ ভাগ ৬০ বছরের বেশি বাঁচবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের হার শতকরা ৮৩ শতাংশ ও পাকিস্তানে এ হার ৮৪ শতাংশ। এছাড়া বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জনের ৬৪ জনই শারীরিক ও মানসিক সমস্যা ছাড়াই বড় হয়। এক্ষেত্রেও পিছিয়ে রয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। ভারতের ৬২ শতাংশ শিশু ও পাকিস্তানের ৫৫ শতাংশ শিশু কোনো শারীরিক ও মানসিক সমস্যা ছাড়াই বেড়ে ওঠে।
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন চলাকালে এ সূচক প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, নতুন এ সূচক পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের সরকারকে এসব ক্ষেত্রে উন্নয়নসাধনে নতুন পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে। তিনি দাবি করেন, এ সূচক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে সে বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। তবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে রাষ্ট্রগুলোকে মনোযোগী করতে তারা লজ্জা পান না বলেও জানান তিনি। কিম বলেন, রাষ্ট্রগুলোকে এই সংকট সম্পর্কে সাবধান করে দিতেই এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। কারণ, এটি উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

দেশে এখন সিভিল সোসাইটি নেই: রাজনীতিবিদরা না চাইলে কেউ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, বাংলাদেশে এখন সিভিল সোসাইটি নেই। সিভিল সোসাইটি রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে । বিভক্ত হয়ে গেলে সেটা আর সিভিল সোসাইটি থাকে না। সিভিল সোসাইটিতে বিভক্তি যদি বাড়তে থাকে তাহলে তাদের কোনো উদ্যোগই সফল হবে না।
মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া, অর্থনৈতিক অগ্রগতিসহ নানা ইস্যুতে কথা বলেন লেখক, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. আকবর আলি খান। ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তা-হানাহানি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একমাত্র রাজনীতিবিদরাই আমাদেরকে এটা থেকে উদ্ধার করতে পারে। অন্য কেউ পারবে না।
সকল রাজনীতিবিদ যদি চান তাহলে দেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। আর যদি রাজনীতিবিদরা না চান তাহলে কেউই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। আগামী সংসদ নির্বাচন কেমন হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যা লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাতে অতীতের অভিজ্ঞতাই আবার পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে মনে হয়। ব্যতিক্রমধর্মী নির্বাচন হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
আকবর আলি খান বলেন, গত ৪৭ বছরে নানা ঘাত-প্রতিঘাত সত্ত্বেও অর্থনীতি এবং সামাজিক খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিস্ময়কর। এই অর্থনৈতিক অর্জন নিয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি সত্যিই আনন্দিত। আমরা এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নই। আমরা অনেক দূর এগিয়ে এসেছি। তবে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়েছে সেভাবে পৃথিবীর অন্যান্য দেশও এগিয়েছে। এবং আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য সূচকে আমাদের দেশকে এখনো অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছিলাম তারা সমাজতান্ত্রিক একটি সমাজ ব্যবস্থা চেয়েছিলাম। সমাজতান্ত্রিক সমাজে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল যে এই সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য কম হবে। বাংলাদেশে এখন অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়ে চলেছে। যখন মুক্তিযুদ্ধ হয় তখন আমাদের এখানে ধনবৈষম্য খুব কম ছিল। অর্থনৈতিক এই বৈষম্যটাকে আমরা ‘জিনি সহগ’-এর নিক্তিতে পরিমাপ করে থাকি। ১৯৭০ সালের কাছাকাছি সময় আমাদের ‘জিনি সহগ’ ৩ শতাংশের নিচে ছিল। কিন্তু এখন সেটা ৫ শতাংশের কাছাকাছি চলে এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের যে ধনবৈষম্য সেটা পৃথিবীর শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ দেশের মধ্যে ছিল। এখন কিন্তু এটা ৬০ ভাগের মধ্যে চলে এসেছে। এবং এটা যদি আরো বাড়ে তাহলে আমরা ৮০ ভাগ দেশের কাছাকাছি চলে যাবো। এ ব্যাপারে আমাদের অবশ্যই উদ্যোগ নেয়া উচিত। এবং সে জন্য সরকারকেও বিভিন্ন ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করার প্রয়োজন রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে এসব সমস্যার চট জলদি কোনো সমাধান নেই। এটা যদি অতি দ্রুত সমাধান করতে যাওয়া হয় তাহলে বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর তার খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থনৈতিক বৈষম্য সম্পর্কে তিনি বলেন, বৈষম্য তো শুধু বাংলাদেশেই যে হচ্ছে তা নয়। এটা সারা পৃথিবীতেই হচ্ছে। আজকের এই সমাজ ব্যবস্থায় অর্থ কামাই করা অত্যন্ত সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং তার ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ধনবৈষম্য বাড়ছে। তবে বাংলাদেশে এই ধনবৈষম্য বাড়ার পেছনে যে শুধু বৈধ বা আইনগত আয় আছে তা নয়। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে বেআইনি আয়ও রয়েছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। কারণ যারা কালো টাকা কামাই করে ধনবৈষম্য বৃদ্ধি করছে তাদের বিরুদ্ধে সমাজে অনেক ক্রোধ থাকে। সুতরাং যদি ব্যাংক খেলাপি, কর খেলাপি এবং অন্যদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে বাংলাদেশে ধনবৈষম্য সামাজিক অসন্তোষেরও সৃষ্টি করবে। এ থেকে বেশ বড় ধরনের সামাজিক অসন্তোষ হতে পারে।
শিক্ষিত মধ্যবিত্ত তরুণদের চাকরির জন্য লড়াই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ঠিকই কিন্তু চাকরি তৈরি হচ্ছে না। এজন্য সরকারেরও যেমন ব্যর্থতা আছে তেমনি মধ্যবিত্ত শ্রেণির ব্যর্থতাও রয়েছে। আমাদের যে মধ্যবিত্ত শ্রেণি তারা ‘হোয়াইট কালার’ বা ভদ্রবেশী চাকরি চায়। সুতরাং একটা দেশে সেই পরিমাণ হোয়াইট কালার চাকরি বাড়ানো সম্ভব হয় না। হোয়াইট কালার চাকরির যোগ্যতা সৃষ্টি করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এতো সমস্যা রয়েছে যার ফলে আমরা অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য লোক খুঁজে পাই না। ফলে আমাদের এখানে বাইরের প্রতিবেশী দেশগুলোর লোকজন এসে যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি নিয়ে যায়। সেখানে আমাদের দেশের ছেলেরা চাকরি পাচ্ছে না।  এক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনোভাবের পরিবর্তন করতে হবে। এবং সরকারকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত ৩টি প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন করেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় কমিশন কোনো কোটাই থাকা উচিত নয় বলে মত দিয়েছিল। তৃতীয় কমিশনও কোটা মোটামুটি তুলে দেয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে মহিলা ও ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর জন্য কোটা ব্যবস্থা রাখা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করতে পরামর্শ দেয় এ কমিশন। ৩টি কমিটিই একই ধরনের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু যে কারণে বাংলাদেশে কোটা ব্যবস্থা চালু আছে তার অন্যতম কারণ হচ্ছে কোটা থেকে যারা উপকার পায় তারা কোনো মতেই কোটা ব্যবস্থার পরিবর্তন চায় না। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী কোটা কোনো চিরস্থায়ী ব্যবস্থা না। কোটা ব্যবস্থা একটি লক্ষ্য নিয়ে করা হয় এবং সেই লক্ষ্য অর্জিত হলো কিনা সেটা নির্দিষ্ট সময় অন্তরালে মূল্যায়ন করা উচিত। এবং মূল্যায়ন করে যদি দেখা যায় লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে তাহলে কোটা তুলে দেয়া উচিত। আর যদি লক্ষ্য অর্জিত না হয় তাহলে প্রয়োজনে কোটা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। এই পর্যালোচনাটি বাংলাদেশে গত ৪৬ বছরেও হয়নি। এ বিষয়ে আমি পাবলিক সার্ভিসের অনুরোধে যে প্রতিবেদন তৈরি করেছিলাম সেখানে আমার বক্তব্য ছিল যে, নিদিষ্ট সময় অন্তরালে কোটা ব্যবস্থা অবশ্যই পর্যালোচনা করা উচিত। বিভিন্ন সরকার কায়েমি স্বার্থবাদীদের স্বার্থ রক্ষার্থে কোটা ব্যবস্থায় কোনো হস্তক্ষেপ করতে রাজি ছিল না। সেহেতু আমি কোটা সংস্কার করার সুপারিশ দিয়েছিলাম। কোটা তুলে দেয়ার সুপারিশ করিনি। তবে সরকার কোটা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এবং এ সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। তারা সমস্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বিচার বিবেচনা করে এই সুপারিশ দিয়েছে। সরকার এটা গ্রহণ করেছে। তবে কোটা নিয়ে যেটাই করা হোক না কেনো সেটা সারা দেশের শতকরা ১শ’ ভাগ লোকের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সরকার যেহেতু সচিব কমিটির অনুরোধে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তাই এর বিরুদ্ধে যদি কোনো প্রতিক্রিয়া হয় তাহলে সেটা সরকারকেই মোকাবিলা করতে হবে। প্রয়োজনে সচিব কমিটি দিয়ে মহিলা ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে এখন কোনো প্রতিবন্ধী কোটা নেই। মাত্র ১% অপশনাল কোটা রয়েছে। অপশনাল কোটা আসলে কোটা না। সেখানে আদৌ তাদের জন্য কোনো কোটা দেয়া সম্ভব কিনা এবং দিলে তার কি প্রতিক্রিয়া হবে সেটাও দেখার প্রয়োজন আছে। বিভিন্ন সার্ভিসে শারীরিক যোগ্যতা নির্ধারণ করা আছে। প্রতিবন্ধীদের শারীরিক যোগ্যতার বিষয়টি অবিলম্বে শিথিল করার প্রয়োজন রয়েছে। এবং তাদের জন্য কোটা ব্যবস্থার প্রয়োজন আছে। একইসঙ্গে সরকার সামগ্রিকভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য কী করতে পারে সেটা দেখারও প্রয়োজন আছে বলে মনে করছি।
স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলতে পারিনি। রাজনীতিবিদরা এবং বাংলাদেশের নাগরিকরাও এর জন্য দায়ী। নাগরিকরা তাদের কর্তব্য ভালোভাবে পালন করতে পারেনি। তবে আমি আশা করবো নাগরিকরা এ ব্যাপারে সচেতন হবেন। এবং যেরকমভাবে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ও বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সাধারণ ছাত্ররা আন্দোলন করেছেন একইভাবে দেশের প্রশাসন ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করার জন্য দেশের সাধারণ নাগরিকরা এগিয়ে আসবেন বলে বিশ্বাস করি।

‘রাজনৈতিক বার্তা’ প্রচারে অস্বীকৃতি মোবাইল অপারেটরদের by কাজী সোহাগ

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়গুলো সরকারি তথ্য হিসেবে প্রচার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বেসরকারি মোবাইল অপারেটররা। এসএমএস-এর মাধ্যমে ওইসব তথ্য প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছিল ডাক , টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর মাধ্যমে ২৯শে সেপ্টেম্বর ই-মেইলের মাধ্যমে টেলিটকসহ চার অপারেটরকে ওই অনুরোধ জানানো হয়। পরে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক সম্মিলিতভাবে চিঠি দিয়ে ওই ধরনের সরকারি তথ্য প্রচার করতে অস্বীকৃতি জানায়। চিঠিতে তারা যুক্তি তুলে ধরে বলে, যে এসএমএসগুলোকে পরিবেশন করতে বলা হয়েছে তা জাতীয় জরুরি বিষয় কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত কোনো বিষয় নয়। যেসব বিষয় প্রকৃতিগতভাবে রাজনৈতিক এবং যে বিষয়বস্তু সংবলিত এসএমএস ভিন্ন মতাবলম্বী সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে আমরা সে ধরনের বার্তা প্রচারে বিরত থাকি। মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সও গ্রাহকদের মধ্যে এধরনের বৈষম্যমূলক বার্তা প্রচারে বাধা দেয়।
অপারেটরদের এ ধরনের অস্বীকৃতির পর বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কমিশনের লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং (এলএল) বিভাগে পাঠানোর সুপারিশ করে।
বেসরকারি তিন অপারেটর সরকারি তথ্য প্রচারে অস্বীকৃতি জানালেও রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক সেসব তথ্য নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচার করে। অপারেটরদের ই-মেইলে ৯টি এসএমএস পাঠিয়ে বলা হয় এগুলো ২৯শে সেপ্টেম্বর থেকে ৭ই অক্টোবর পর্যন্ত প্রচার করতে।
এসব এসএমএস প্রচারে অস্বীকৃতি জানিয়ে দেয়া চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন-বাংলালিংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও এরিস অস, গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি এবং রবি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। অপারেটররা তাদের দেয়া চিঠিতে জানান, মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো জরুরি জাতীয় বিষয় অথবা জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু সম্মানের সঙ্গে জানাতে চাই, ই-মেইলের মাধ্যমে যে এসএমএসগুলোকে পরিবেশন করতে বলা হয়েছে তা জাতীয় জরুরি বিষয় কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত কোনো বিষয় না। এমতাবস্থায়, এসএমএসগুলোর বিষয়বস্তু কি গ্রহণযোগ্য? আমাদের এটাকে বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে পরিবেশন করতে হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়, আমরা এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, যে এসএমএসগুলোকে পরিবেশন করতে বলা হয়েছে তা প্রকৃতিগতভাবে রাজনৈতিক। যেসব বিষয়বস্তু নিয়ে এসএমএস পাঠানো হয়েছে তা ভিন্ন মতাবলম্বী সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে। আমরা সাধারণত এ ধরনের বার্তা প্রচারে বিরত থাকি।
মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সও গ্রাহকদের মধ্যে এধরনের বৈষম্যমূলক বার্তা প্রচারে বাধা দেয়। চিঠিতে বলা হয়, আমাদের কার্যক্রমের নীতিমালা অনুযায়ী, আমাদের প্রস্তাব হলো- এধরনের এসএমএস প্রচারের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তানুযায়ী কর্মকাঠামো অনুসরণ করতে হবে। প্রথমত, বর্তমানে যে এসএমএসগুলো পরিবেশনের অনুরোধ করা হচ্ছে ভবিষ্যতে এধরনের বিষয়বস্তু সংবলিত এসএমএস পরিবেশনের ক্ষেত্রে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসএমএস প্রচারের শর্তানুযায়ী শুধু বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিবেশন করা হবে। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয় সংবলিত এসএমএস নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে প্রচার করা হবে। চিঠির শেষে বলা হয়, রাজনৈতিক এসএমএস পরিবেশনে একটি কার্যকর কাঠামো নিশ্চিত করতে আমরা যেকোনো ধরনের সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করছি। অপারেটরদের এ চিঠি পাওয়ার পর বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ ২রা অক্টোবর অপারেটরদের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কমিশনের লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং (এলএল) বিভাগে পাঠানোর সুপারিশ করে।
বিটিআরসির ওই চিঠিতে বলা হয়, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়সমূহ এসএমএস-এর মাধ্যমে ‘গভট ইনফো’ হিসেবে প্রচারের লক্ষ্যে এসএমএস সমৃদ্ধ একটি কপি সম্প্রতি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয় হতে কমিশনের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। ওই এসএমএস কনটেন্টগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের অনুমোদনসাপেক্ষে গত ২৭/০৯/২০১৮ এবং ২৯/০৯/২০১৮ইং তারিখে সম্মিলিতভাবে সর্বমোট ১০টি এসএমএস কনটেন্ট প্রেরণের জন্য সব মোবাইল অপারেটরকে ই-মেইলের মাধ্যমে নির্দেশনা দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে শুধু টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড হতে এসএমএসগুলো প্রেরণ করা হচ্ছে বলে জানা যায়। এছাড়া গ্রামীণফোন লিমিটেড, রবি আজিয়াটা লিমিটেড এবং বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড সম্মিলিতভাবে ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বক্তব্য পত্র মারফত কমিশনকে অবহিত করে।

দেশের ৪১ শতাংশ পরিশোধিত পানিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া -বিশ্বব্যাংকের গবেষণা

পানি ও স্যানিটেশনের সুযোগে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করলেও সব ধরনের পরিশোধিত পানির ৪১ শতাংশের মধ্যে ক্ষতিকর জীবাণু ‘ই.কোলাই’ রয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই ব্যাকটেরিয়ার কারণে সব ধরনের মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যবিধি ও দারিদ্র্য সংক্রান্ত’- শীর্ষক  প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর শিরিন জুমা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রুখসানা কাদের, বিশ্বব্যাংকের প্র্যাকটিস ম্যানেজার তাকুয়া কামাতা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জর্জ জোসেপ বলেন, পানি ও স্যানিটেশনের সুযোগে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করলেও পানির সব ধরনের উন্নত উৎসের ৪১ শতাংশে ক্ষতিকর জীবানু ‘ই.কোলাই’ রয়েছে। এতে অন্ত্রে উচ্চমাত্রার দূষণের প্রমাণ মেলে। বাংলাদেশে ১৩ শতাংশ পানির উৎস আর্সেনিক দূষণের জাতীয় মাত্রার উপরে রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেটে আর্সেনিক দূষণের পরিমাণ বেশি।
তিনি জানান, শহরের ৫২ শতাংশ ও গ্রামের মাত্র ২৭ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাইপলাইনে পানির ব্যবস্থা আছে। সেখানে স্বল্পতা আছে সাবান ও স্যানিটেশনের সুযোগের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গৃহস্থালিতে স্যানিটেশনের ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে এখনো সেই সুবিধা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের মাত্র ৫২ শতাংশ ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানায় টয়লেট রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র অর্ধেকের মতো স্কুলে। আর ১০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে টয়লেট আছে একটি, যা জাতীয় গড়ের অর্ধেক।
স্কুলের ভালো স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় মাসিক ঋতুস্রাবের সময়ে ২৫ শতাংশ ছাত্রী অনুপস্থিত থাকে বলে জানান এই বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বর্তমানে সারা দেশে ৫ কোটি মানুষ টয়লেট শেয়ার করে। অর্থাৎ একাধিক পরিবারের লোকজন একটি টয়লেট ব্যবহার করে। এই সংখ্যা গ্রামে যেমন রয়েছে তেমনি শহরেও রয়েছে। তবে শহরের বস্তি এলাকায় টয়লেট শেয়ারের সংখ্যা গ্রাম এলাকার লোকজনের তুলনায় তিনগুণ বেশি। ফলে এসব লোকজন নানা প্রকার রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে দ্রুত দারিদ্র্যবিমোচন হচ্ছে। তাই, দারিদ্র্যবিমোচনের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শহরাঞ্চলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। পানি ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার ডেলটা প্ল্যান গ্রহণ করেছে। আগামী ১০০ বছরে পানি ব্যবস্থাপনায় কী কী করা হবে তার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় অনেক লবণাক্ত পানির কারণে নানা রকম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর শিরিন জুমা বলেন, বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ হিসাবে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদন। পানির দূষণ ও নিম্নমান এবং স্যানিটেশনের বাজে অবস্থা অনেক অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তিনি বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি হিসাব দিয়েছিল, বৈশ্বিকভাবে পানি ও স্যানিটেশনে নিশ্চিতে যদি ১ ডলার খরচ করা হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় ওটার বিপরীতে লাভ আসবে ৫ ডলার।

উন্নয়নে বাংলাদেশ অসাধ্য সাধন করেছে -প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অসাধ্য সাধন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমি জানি না পৃথিবীতে কোনো দেশ এত অল্প সময়ে এত উন্নতি লাভ করেছে কি না। কিন্তু আমরা সেটা করেছি। গতকাল গণভবন থেকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০টি জেলার ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের একযোগে উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৫টি জেলার জনগণের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে এবং গ্রামীণ জনপদের ভাগ্যবঞ্চিত জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। বলেন, দারিদ্র্যসীমাকে ২১ ভাগে নামিয়ে এনে আমরা দারিদ্র্য হ্রাসে সাফল্য অর্জন করেছি। বাংলাদেশের মানুষের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, আমরা সবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছি, সব দিক থেকে মানুষ যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে তার ব্যবস্থা করেছি।
তিনি বলেন, দিন বদলের যাত্রা শুরু হয়েছে এবং তা এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতা বিরোধী চক্র যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মহান বিজয়কে মেনে নিতে পারেনি, তাদের চক্রান্তে জাতির পিতাকে ’৭৫-এর ১৫ই আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং বাঙালি জাতি তাদের জীবনমান উন্নত করার সকল সম্ভবনাকে হারিয়ে ফেলে। ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সবসময় চেষ্টা করেছে জাতির পিতা যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন- সেই স্বপ্ন পূরণ করতে।
প্রধানমন্ত্রী গৃহীত ৩৩ উন্নয়ন প্রকল্প তুলে ধরেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- ৭টি সেতু ও কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট ঘাটে ৫৫০ মিটার দীর্ঘ জেটি, নারী ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ৬ তলা বিশিষ্ট ৬টি নগর মাতৃসদন ভবন এবং ৩ তলা বিশিষ্ট ১০টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৯টি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট ঘাটে ৫৫০ মিটার দীর্ঘ জেটি নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে জেটি নির্মাণ হওয়ায় মানুষকে আর কাদাপানি মাড়িয়ে যেতে হবে না। সুন্দরভাবে জেটিতে নামতে পারবেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা বা পর্যটকরাও যাতায়াত করতে পারবেন। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের প্রতি তার সরকারের দৃষ্টি রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানেই তিনি প্রথমবারের মতো তার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ৭০টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করেছিলেন।
সম্প্রসারিত ৯টি উপজেলা কমপ্লেক্স হলো- নীলফামারী জেলার ডোমার, নওগাঁ জেলার আত্রাই ও রাণীনগর, নাটোর জেলার শিংড়া, সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ, যশোর জেলার শার্শা, মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া, নোয়াখালী সদর উপজেলা এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার নারী ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ৬ তলা বিশিষ্ট ৬টি নগর মাতৃসদন ভবন এবং ৩ তলা বিশিষ্ট ১০ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তুলেছে। এগুলো হচ্ছে- গাজীপুর জেলা সদর একটি মাতৃসদন ও তিনতলা বিশিষ্ট নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কুষ্টিয়া জেলার পৌরসভা সদরে একটি ৬ তলা বিশিষ্ট মাতৃসদন ও তিনতলা বিশিষ্ট ২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র, রংপুর সিটি করপোরেশন একটি ৬ তলাবিশিষ্ট নগর মাতৃসদন ও ৩ তলা বিশিষ্ট ২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩টি তিন তলা বিশিষ্ট নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র।
সেতুগুলোর বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার মুকুন্দপুর থেকে কান্তজির বাজার পর্যন্ত ডেপা নদীর ওপর ২২৮ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর ৫৬০ মিটার দীর্ঘ শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে চারটি উপজেলার সঙ্গে শেরপুরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে, জামালপুর জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর শহীদ মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীরউত্তম সেতু নির্মাণ হয়েছে, ফলে জেলার ইসলামপুর দেওয়ানগঞ্জ মহাসড়কের সঙ্গে বকশীগঞ্জ-কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী-রাজিপুর মহাসড়কের পাশাপাশি বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর স্থলবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর-মির্জাপুর-মোকরা সড়কে ধলেশ্বরী নদীর ওপর ৫২০ দশমিক ৬০ মিটার দীর্ঘ জননেত্রী শেখ হাসিনা সেতু নির্মিত হওয়ায় নাগরপুর ও সিরাজগঞ্জের চৌহালির সঙ্গে ঢাকার নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে, গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর ৩১৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের ফলে পুরো কাপাসিয়া উপজেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হলো, নড়াইল জেলার চিত্রা নদীর ওপর শেখ রাসেল সেতু নির্মিত হওয়ায় এটি গোপালগঞ্জ এবং যশোরের মধ্যে নড়াইল হয়ে যোগাযোগ স্থাপন করবে, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর ৬৮৬ দশমিক ৭৫ মিটার দীর্ঘ শেখ লুৎফর রহমান সেতু নির্মাণের ফলে উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার হ্রাস পাবে পাশাপাশি বরিশাল ও শরীয়তপুর জেলার সঙ্গেও যোগাযোগটা দ্রুততর হবে।
প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে নওগাঁর রাণীনগরের এক মসজিদের ইমামের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তার সরকারের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পুনরোল্লেখ করে শান্তির ধর্ম ইসলামকে কেউ যেন আর বদনাম দিতে না পারে সেজন্য সচেষ্ট থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় ভিডিও কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন এলজিআরডি এবং সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট তহবিলে আরো ২০ কোটি টাকা অনুদান: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট তহবিলে আরো ২০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রয়োজনে তাদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য বর্তমান সরকার সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট তহবিল গঠন করে। গতকাল গণভবনে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালালের হাতে চেক হস্তান্তর করেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য সচিব আবদুল মালেক, পিআইবি’র মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, বাসস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক এবং বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) কামরুন নাহার, বিএফইউজে’র মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ কোটি টাকা সিডমানি দিয়ে ২০১৪ সালে ট্রাস্ট তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেন। পরে বিগত চার বছরে বিভিন্ন বেসরকারি মিডিয়া থেকে দেয়া আরো টাকায় তহবিল ১৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। গত ১৯শে সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো ২০ কোটি টাকা দেয়ার আশ্বাস দেন।

নতুন যম ৪৩

আগে সবার যম ছিল ৫৭ ধারা। এখন থেকে অনলাইন প্রকাশনার জন্য বেশি যম হবে ডিজিটাল আইনের ৪৩ ধারা। কারণ ৫৭ ধারা প্রয়োগের যাচাই চূড়ান্ত করার এখতিয়ার ছিল আদালতের। ৫৭ ধারার আওতায় পুলিশ শুধু গ্রেপ্তার করতে পারতো। অনলাইন মাধ্যম বা ওয়েবসাইট পুলিশ বন্ধ করতে পারতো না। পুলিশ এখন তা পারবে। বিলকুল তল্লাশি, দেহতল্লাশি, গ্রেপ্তার এবং ইন্টারনেটসহ পুরো কম্পিউটার সিস্টেম জব্দ করতে পারবে। এর ফলে বাস্তবে পুলিশ কার্যত তাৎক্ষণিক কোনো ওয়েব প্রকাশনা চলমান রাখা অসম্ভব করে তুলতে পারে।
আনুষ্ঠানিকভাবে ব্লক বা অপসারণ করতে হলে ৮ ধারার আওতায় মহাপরিচালকের মাধ্যমে বিটিআরসিকে অনুরোধ করবে পুলিশ।
তবে এসবের কোনো কিছুর জন্যই তাকে আদালতের সাহায্য নিতে হবে না। পুলিশকে এজন্য কোনো আগাম মামলা দিতে হবে না।
তবে একটা শর্ত আছে। পুলিশ এ ধরনের তল্লাশি অভিযানে আসার আগে কমপক্ষে এসআই পদের কাউকে থানায় একটা লিখিত রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে। আগে লিখে তারপর তাকে অভিযানে নামতে হবে। সংবাদমাধ্যম আদালতের এখতিয়ার তৈরি হয়েছে পুলিশ আগে লিখেছে কিনা তা তদন্ত করে দেখার।
উল্লেখ্য, এখন বিলুপ্ত ৫৭ ধারার অপরাধগুলো চারভাগে ডিজিটাল আইনে ঢুকেছে। এর ফলে ৪৩ ধারার আওতায় দেশের যেকোনো পুলিশ অফিসারের মনে ‘বিশ্বাস’ জন্মালেই হলো যে, ৫৭ ধারার অপরাধগুলো কোথাও ঘটেছে। এমনকি বাস্তবে আদৌ না ঘটলেও চলবে। শুধু সাবেক ৫৭ ধারার অপরাধ ঘটার ‘সম্ভাবনা’ আছে, এরকম কোনো পুলিশ অফিসারের মনে হলেই হলো।
মন্ত্রিসভা একটি রক্ষাকবচ তৈরি করে দিয়েছিল। ৪৩ ধারায় বলা হয়েছিল, এইরূপ বিশ্বাসের কারণ লিখে মহাপরিচালকের অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু বিল পাসের দিন জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি ষোলোকলা পূর্ণ করেছে। এক জাপা সংসদ সদস্যের সংশোধনীর কারণে মহাপরিচালকের অনুমোদন  লাগার বিধানটি লোপ পেয়েছে। সেদিক থেকে জাতীয় পার্টি অনেক বিশেষজ্ঞের মতে সরকারি দলের থেকেও বেশি ক্ষতিকর ভূমিকা রেখেছে। অনেকের মতে, জাপা সরকারি দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, এটা অবিলম্বে সরকারি দলের বিবেচনায় নেয়া উচিত হবে। কারণ, এজেন্সির যিনি মহাপরিচালক হবেন, তাকে অবিশ্বাসের কোনো কারণ ছিল না। কারণ তাকে তো বর্তমান সরকারই নিয়োগ দেবে।
৪৩ ধারা বলেছে, পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার। (১) যদি কোনো পুলিশ অফিসারের এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে কোনো স্থানে এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বা হইতেছে বা হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে বা সাক্ষ্য প্রমাণাদি হারানো, নষ্ট হওয়া, মুছিয়া ফেলা, পরিবর্তন বা অন্য কোনো উপায়ে দুষ্প্রাপ্য হইবার বা করিবার সম্ভাবনা রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি, অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া নিম্নবর্ণিত কার্য সম্পাদন করিতে পারিবেন,-
ক. উক্ত স্থানে প্রবেশ করিয়া তল্লাশি এবং প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হইলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; খ. উক্ত স্থানে তল্লাশিকালে প্রাপ্ত অপরাধ সংঘটনে ব্যবহার্য কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, তথ্য-উপাত্ত বা অন্যান্য সরঞ্জামাদি এবং অপরাধ প্রমাণে সহায়ক কোনো দলিল জব্দকরণ;
গ. উক্ত স্থানে উপস্থিত যেকোনো ব্যক্তির দেহ তল্লাশি;
ঘ. উক্ত স্থানে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ করিয়াছেন বা করিতেছেন বলিয়া সন্দেহ হইলে উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার।
গত ২৩শে জানুয়ারি তথ্যপ্রযুক্তি সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী এক সারসংক্ষেপে মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছিলেন, ‘বিদ্যমান বাস্তবতার নিরিখে ২০০৬ সালের ৫৭ ধারার উপাদানসমূহ বিবেচনাক্রমে পৃথক ৪টি ধারায় (২৫ [মিথ্যা, ভীতিপ্রদর্শক তথ্য], ২৮ [ ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতি], ২৯ [মানহানি] এবং ৩১ [আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো]) বিন্যস্ত করা হয়েছে। নতুন ডিজিটাল আইনে এসব অপরাধ করলে কেউ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি পাবেন। যেমন ২৫ ধারায় তিন বছর জেল, দ্বিতীয়বার করলে ৫ বছর জেল হবে। ২৮ ধারায় প্রথমবার অপরাধ করলে ৫ বছর, দ্বিতীয়বার করলে ১০ বছর, ২৯ ধারায় মানহানি করলে প্রথম ৩ বছর, দ্বিতীয় বারে ৫ বছর এবং ৩১ ধারায় প্রথমে সাত ও পরে ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান আছে।
নতুন ডিজিটাল আইনের ৮ ধারা বলেছে, কতিপয় তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করিবার ক্ষমতা।-১. মহাপরিচালকের নিজ অধিক্ষেত্রভুক্ত কোনো বিষয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টি করিলে তিনি উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ক্ষেত্রমত, ব্লক করিবার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে, অতঃপর বিটিআরসি বলিয়া উল্লিখিত, অনুরোধ করিতে পারিবেন। ২. যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত দেশের বা উহার কোনো অংশের সংহতি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জনশৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন করে, বা জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণার সঞ্চার করে, তাহা হইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করিবার জন্য মহাপরিচালকের মাধ্যমে, বিটিআরসিকে অনুরোধ করিতে পারিবেন। ৩. উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন কোনো অনুরোধ প্রাপ্ত হইলে বিটিআরসি, উক্ত বিষয়াদি সরকারকে অবহিতক্রমে, তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ক্ষেত্রমত, ব্লক করিবে।

এ মিসিং ভয়েস: ওয়াশিংটন পোস্টের অন্যরকম প্রতিবাদ

এ এক অন্যরকম প্রতিবাদ। কলামের শিরোনাম দেয়া আছে। তবে কোনো লেখা  নেই। এভাবেই সৌদি সাংবাদিক, কলামনিস্ট জামাল খাসোগির নিখোঁজ হওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বিখ্যাত মার্কিন সাংবাদপত্র ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’। শুক্রবার পত্রিকাটির সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় একটি শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘এ মিসিং ভয়েস’। এর উপরে ব্যবহার করা হয়েছে ফোনে আলাপরত খাসোগির ছবি। আর শিরোনামের নিচে খাসোগির নাম। এরপর ওই পৃষ্ঠায় দু’টি কলাম একেবারে ফাঁকা রাখা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি আরবের কনসুলেটে নিজের কাজে গিয়ে নিখোঁজ হন খাসোগি।
তারপর থেকে বিষয়টি নিয়ে সারাবিশ্বে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তুরস্কের কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন জামাল খাসোগিকে হত্যা করে মৃতদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে কনসুলেট থেকে। তবে এ অভিযোগ একেবারেই অস্বীকার করেছে সৌদি আরব। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পম্পেও।
গত বছর ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হলে সৌদি আরব সরকারের কড়া সমালোচক জামাল খাসোগি চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে বসবাস করতে থাকেন। তুরস্কের এক যুবতীকে বিয়ের কথা ছিল তার। সে জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ তুলতে তিনি ইস্তাম্বুলে যান সৌদি আরবের কনসুলেটে। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ। কেউই বলতে পারছেন না তিনি কোথায়? শুক্রবার ওয়াশিংটন পোস্টের গ্লোবাল অপিনিয়ন পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে শুধু কয়েকটি শব্দ। তাতে জামাল খাসোগিকে সৌদি আরবের সাংবাদিক, লেখক ও ওয়াশিংটন পোস্টের কলামনিস্ট হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। সম্পাদকীয় পাতার নিচের দিকে এ কথা লিখে বলা হয়েছে, উপরে যে ফাঁকা জায়গাটি দেখা যাচ্ছে সেখানে খাসোগির লেখা থাকা উচিত ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার বিকালে তিনি ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনসুলেটে প্রবেশের পর থেকে তার কোনো কথা আর শোনা যায় নি। ওদিকে, সাংবাদিক জামাল খাসোগি নিখোঁজের আগে সৌদি কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, সৌদি আরবের এমন দাবি প্রমাণের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। ওয়াশিংটনও সৌদি আরবকে এ বিষয়ে তদন্তে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছে।
বুদাপেস্টে একটি সম্মেলন শেষে এরদোগান জানান, আমাদের যত দ্রুত সম্ভব এই তদন্তের একটি ফলাফলে আসতে হবে। খাসোগি কনসুলেট থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, শুধু এ কথা বলে তারা নিজদেরকে সুরক্ষিত রাখতে পারে না। এরদোগান নিজেও ঘটনার তদন্তকাজ পর্যবেক্ষণ করছেন জানিয়ে বলেন, তুরস্কের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রমাণাদি নেই। এদিকে সৌদি কনসুলেটের একটি সূত্র খাসোগিকে হত্যা করা বা তাকে অপহরণ করার অভিযোগ পুরোপুরিই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের ভাই এবং সৌদি রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রকে একই দাবি করে জানিয়েছেন, তদন্তকাজে সহায়তা করার জন্য তুরস্কের অনুমতিতে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে একটি নিরাপত্তা দল তুরস্কে পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ এ বিষয়ে জানিয়েছেন, এটা নিয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন। আশা করি, এটা খুব তাড়াতাড়িই সমাধান হয়ে যাবে। এখন এ বিষয়ে কেউ কিছু জানে না। তবে কিছু অপ্রীতিকর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যা আমি একদমই পছন্দ করছি না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে রিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। খাসোগির নিখোঁজ তদন্তে সৌদি আরবের সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাতে করে তদন্ত প্রতিবেদনটি স্বচ্ছ হয়।

কেন পদত্যাগ করলেন নিকি হ্যালি?

সবাইকে অবাক করে দিয়ে পদত্যাগ করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, বিশ্বস্ত বলে পরিচিত নিকি হ্যালির পদত্যাগের খবর সবাইকে চমকে দিয়েছে। এমনকি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। তার পদত্যাগের খবরটি প্রথম প্রকাশ করেন অ্যাক্সিওস জোনাথন শন। এ খবর শুনে প্রথমে যে প্রতিক্রিয়া বেরিয়ে আসে তা হলো- কি! নিকি হ্যালি পদত্যাগ করেছেন? যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সিএনএন’কে বলেছেন, হ্যালি পদত্যাগের কথা শুধু তার স্টাফদেরকে জানিয়েছেন মঙ্গলবার সকালে। এ ঘটনা জানেন এমন আরেকটি সূত্র বলছে, জন বল্টন ও মাইক পম্পেও এ খবর জেনে বিস্মিত হয়েছেন। তারা পরের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন- কেন তিনি পদত্যাগ করেছেন?
দ্বিতীয় প্রশ্নটির উত্তরই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
কি কারণে নিকি হ্যালি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন সে বিষয়ে সিএনএন বলছে, আমরা আসলে কিছুই জানি না। বিস্ময়কর এমন পদত্যাগের পর তার সঙ্গে বসে সমস্যা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অথবা তার পদত্যাগের কারণ জানার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে নিকি হ্যালি এরই মধ্যে জাতিসংঘে তার প্রায় দু’বছরের মেয়াদ শেষ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি এক বছর সাত মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। হয়তো তাই তিনি ভেবে থাকবেন- এটা তার বিদায় নেয়ার কারণ। ওদিকে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, বছরের শেষের দিকে দায়িত্ব ছাড়বেন নিকি হ্যালি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওভাল অফিসে নিকি হ্যালিকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন ডনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি হ্যালির ভূয়সী প্রশংসা করেন। বলেন, হ্যালি আমার কাছে বিশেষ একজন মানুষ। তিনি কর্মক্ষেত্রে অবিশ্বাস্য দক্ষতা দেখিয়েছেন। চমৎকার একজন মানুষ তিনি। এসময় নিকি হ্যালিও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তবে ঠিক কি কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন তা পরিষ্কার করেননি। কয়েকটি সূত্র বলছে, ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হ্যালি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কিন্তু হ্যালি এসব গুঞ্জন নাকচ করে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী নির্বাচনে তিনি লড়ছেন না। বরং তিনি ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণা করার ঘোষণা দেন।
কে হচ্ছেন জাতিসংঘে পরবর্তী মার্কিন দূত
আগামী ২/৩ সপ্তাহের মধ্যে জাতিসংঘে পরবর্তী মার্কিন দূতের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই এই পদের বিপরীতে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এদের মধ্যে ট্রাম্প কন্যা ইভাঙ্কা অন্যতম। খোদ প্রেসিডেন্টই ইভাঙ্কাকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন দূত হিসেবে ইভাঙ্কা বিস্ময়কর হবেন। কিন্তু তার মানে এই না যে, তিনি ইভাঙ্কাকেই ওই পদে নিয়োগ দিচ্ছেন। চূড়ান্তভাবে ইভাঙ্কা যদি দূত হিসেবে নিয়োগ পান, তাহলে স্বজনপ্রীতির দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করেন ট্রাম্প। যদিও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইভাঙ্কা জাতিসংঘে পরবর্তী মার্কিন দূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার খবর নাকচ করে দিয়েছেন।
এ ছাড়া ট্রাম্পের সাবেক সহকারী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দিনা পাওয়েলের নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি ইভাঙ্কা ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ। ব্যাংকারের পেশা ছেড়ে হোয়াইট হাউসে চাকরি নিয়েছিলেন। বছরখানেক আগে হোয়াইট হাউস ছেড়ে তিনি পুরনো পেশায় ফিরে যান। দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি ট্রাম্পের বেশ আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন। দিনা পাওয়েল মার্কিন প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের বৈদেশিক সফরগুলোর অন্যতম পরিকল্পনাকারী তিনি। একই সঙ্গে জার্মানিতে নিযুক্ত বর্তমান মার্কিন দূত রিক গ্রেনেলের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনিও ট্রাম্পের বেশ ঘনিষ্ঠ। তবে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রিক গ্রেনেলের নাম নেই বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় তিনি বলেন, হ্যালির বিপরীতে পাঁচ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা তার কাছে রয়েছে। কিন্তু গ্রেনেল তাদের মধ্যে নেই। ট্রাম্প বলেন, ‘সে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছে। সে এতই ভালো করছে যে, আমি তাকে সরাতে চাই না। ব্যক্তিগতভাবে আমি রিককে তার বর্তমান জায়গাতেই রাখতে চাই।

চলার পথে হরহামেশাই যৌন হয়রানির শিকার নারীরা

চলার পথে হরহামেশাই যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারীরা। বাসে উঠতে গেলে প্রায়শই তাদের পড়তে হচ্ছে বিপত্তিতে। শাহবাগ এলাকা থেকে ছবিটি তুলেছেন আমাদের আলোকচিত্রী জীবন আহমেদ।