Monday, June 18, 2018

ইসলামি ও রাষ্ট্রীয় আইনের সমন্বয় চায় গ্রিস

ইউরোপে গ্রিস একমাত্র দেশ যেখানে ইসলামি আইন ও রাষ্ট্রীয় আইন সহঅবস্থান করছে। কিন্তু গত জানুয়ারিতে হওয়া নতুন একটি আইন ও সাম্প্রতিককালে একজন মুসলমান বিধবা নারীর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে দেশটিতে এই দুই ধারার আইনের সহঅবস্থান নিয়ে নতুন চিন্তার উদ্রেক হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, দুই নারী তাদের মৃত ভাইয়ের উইলকে চ্যালেঞ্জ করে ইসলামি আইন অনুযায়ী সম্পত্তির ভাগ দাবি করেছেন। অপর দিকে সংশ্লিষ্ট বিধবা নারী গ্রিসের আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট হতে না পেরে বঞ্চনার অভিযোগ করেছেন ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে। গ্রিস সরকার ও অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, সেখানকার রায় ওই নারীর পক্ষে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আবার গ্রিসের আইন নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করার প্রসঙ্গ সামনে আসবে।
ঘটনার শুরু এটি উইল থেকে। গ্রিসের চাতিজে মোল্লা স্যালির স্বামী মারা যাওয়ার আগে প্রায় ১০ লাখ ডলারের সম্পত্তি স্ত্রীর নামে উইল করে দিয়ে গিয়েছিলেন। এ ঘটনা প্রায় এক দশক আগের। প্রথম দিকে স্যালি তার স্বামীর উইল করা সব সম্পত্তির উত্তরাধিকার হওয়ার কথা ভাবলেও, বাদ সাধে তার স্বামীর বোনরা। আদালতে তারা এই মর্মে আবেদন করেন: মৃত ব্যক্তি মুসলমান সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। তারাও মুসলমান সম্প্রদায়ের সদস্য। ইসলামি আইন অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ভাগ তার বোনদেরও পাওয়ার কথা। সুতরাং স্যালি সব সম্পত্তি একা পেতে পারেন না। মামলাটি উত্থাপনের পর নিম্ন আদালত গ্রিসের রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী স্যালির পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে গ্রিসের সর্বোচ্চ আদালতে রায়ের ফল উল্টে যায়। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, ওই উইলের বৈধতা নেই, ইসলামিক আইনেই সম্পত্তির বণ্টন করতে হবে। আদালত স্যালিকে স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় সম্পত্তির বিবাদ মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে বিধবা মোল্লা স্যালি জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ আদালতের আইন অনুযায়ী ইসলামি আইনে যদি সম্পত্তির বণ্টন করতে হয় তাহলে উইলের মাধ্যমে স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া তিন চতুর্থাংশ সম্পত্তিই তাকে দিয়ে দিতে হবে।  সংক্ষুব্ধ  স্যালি ‘ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ হিউম্যান রাইটসে’ ধর্ণা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, ইসলামি আইনের কারণে তার অধিকার খর্ব হয়েছে। তার আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেছেন, মুসলমান হওয়ায় তার জন্য ইসলামি আইনকে প্রযুক্ত করা হচ্ছে। যেহেতু তিনি সংখ্যালঘু, সেহেতু তাকে সংখ্যালঘু বিচারকের (মুফতি) কাছে যেতে বলা হচ্ছে। সেটা কোনও সুবিধা নয়, বরং অসুবিধা। তার মক্কেল স্যালি ‘একাধিক দিক দিয়ে বঞ্চনার শিকার।’ আইনজীবী কিসতাকিসের মতে ‘নারী হওয়ায় তাকে সম্পত্তি হারাতে হচ্ছে। তিনি যদি বিধবা না হয়ে বিপত্নীক হতেন তাহলে তাকে কোনও সম্পত্তি হারাতে হতো না।’ ‘ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ হিউম্যান রাইটসে’ আগামী মাসে মোল্লা স্যালির মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
আল জাজিরা লিখেছে, গত জানুয়ারিতে গ্রিস সরকার একটি আইন পাস করেছে। যাতে  বলা হয়েছে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরনপোষণ, সন্তানের আইনানুগ অভিভাবকত্ব, উত্তরাধিকারসহ অন্যান্য কিছু বিষয়ে নাগরিকরা গ্রিসের রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার পাবে। বিবাদমান পক্ষগুলো যদি ইসলামি আইনে মামলার ফয়সালা করতে রাজি হয় তাহলেই ইসলামি আইন কার্যকর হবে। বিবাদমান কোনও এক পক্ষ রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার চাইলে, সেটাই প্রথম পচ্ছন্দ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
গত ৪ দশক ধরে গ্রিসের মুফতিরা রাষ্ট্রীয় আইনেই সম্পত্তি বণ্টনের কাজ করে আসছেন। তবে মুফতি হলেও সম্পত্তির মালিকের ইচ্ছানুযায়ী মূলত রাষ্ট্রীয় আইনেই সেটা হয়ে আসছিল। তার কারণ গ্রিসের থ্রাস অঞ্চলের মুসলমানরা মূলত রাষ্ট্রীয় আইনই পছন্দ করে। অন্যদিকে আবার গ্রিসের আদালতে ইসলামি আইনে সম্পত্তি বণ্টনের রীতি শুরু হয়েছে, যার কারণ রাষ্ট্রীয় আইনেই সংখ্যালঘুদের জন্য তাদের ধর্ম অনুযায়ী বিচার করার কথা বলা হয়েছিল। গ্রিসের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ধর্মবিষয়ক সাধারণ সম্পাদক মন্তব্য করেছেন, ‘গ্রিসের মুসলমানদের ৯৯ থেকে ১০০ শতাংশই সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে ইসলামি আইনের বদলে গ্রিসের রাষ্ট্রীয় আইনকেই বেশি পছন্দ করেন। এমন কি তারা যা করাতে চান তা মুফতিদের দিয়ে করিয়ে নেওয়ার পথও তারা বের করে ফেলেছেন।’
আল জাজিরা লিখেছে, যে কারণে গ্রিসের মুসলমানরা ইসলামি আইন থেকে সরে গিয়ে রাষ্ট্রীয় আইনে উত্তরাধিকার নির্ধারণে আগ্রহী হয়েছেন তা হলো, ইসলামি আইনে পুরুষদের সম্পত্তিতে বেশি দেওয়া হয়েছে; নারীদের চেয়ে দ্বিগুণ। তাছাড়া ইসলামি আইনে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকারদের মধ্যে ভাই-বোন ছাড়াও বাবা-মাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইলহাম আহমেতের মতে, আরও একটি সমস্যা হচ্ছে, ইসলামি আইন উইলকে স্বীকৃতি দেয় না। আর সেজন্য মোল্লা স্যালির সমস্যাটি দেখা দিয়েছে। স্যালি রোদোপির বাসিন্দা। সেখানকার তিন জন সংসদ সদস্যের একজন ইলহাম আহমেত। জানুয়ারিতে হওয়া নতুন আইন নিয়ে আহমেত উচ্ছ্বসিত। কারণ তাতে মুসলমানদের করা উইলগুলো আইনত প্রাধান্য পাবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা উইলগুলো এই আইনের সুরক্ষা পাবে না। আবার নতুন আইন নিয়ে আহমেতের একটি আশঙ্কাও রয়েছে—সেটা দেনমোহর নিয়ে। ইসলামি আইনের বাধ্যবাধকতা না থাকলে দেনমহর পরিশোধের মামলায় স্ত্রীর পাওনা অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে।

তালেবান ও আফগান বাহিনীর ঐক্যবদ্ধ ঈদ উদযাপন, জনমনে উচ্ছ্বাস

আফগানিস্তানে সে দেশের সেনাবাহিনী ও তালেবান যোদ্ধারা ঐক্যবদ্ধভাবে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। ঈদ উপলক্ষে দুই পক্ষের ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মধ্যে বিরল এই ঘটনার দেখা মেলে। বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর ও সোশ্যাল মিডিয়ার ছবি থেকে থেকে দেখা গেছে, পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে, শুভেচ্ছা জানিয়ে ঈদ উদযাপন করছে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী ও তালেবান যোদ্ধারা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বেসামরিক নাগরিকরা অভূতপূর্ব এ দৃশ্যে নিজেদের বিস্ময় ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
গত ৭ জুন (বৃহস্পতিবার) আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি  আগামী ২০ জুন পর্যন্ত তালেবানের সঙ্গে অস্ত্রবিরতি কার্যকরের ঘোষণা দেন। দুই দিন পর ৯ জুন (শনিবার) তালেবানের পক্ষ থেকে জানানো হয়,  ঈদের ছুটির দিনগুলোতে (৩ দিন) তারা তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখবে। অস্ত্রবিরতি চলাকালে সেনাবাহিনী ও তালেবান যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ ঈদ উদযাপনের বেশ কিছু ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি সেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে দুই বাহিনীর সদস্যদের কোলাকুলির খবর দিয়েছে। বিভিন্ন শহরে জনতা চিৎকার করে ও শিস দিয়ে আফগান যোদ্ধাদের স্বাগত জানিয়েছে বলে জানিয়েছে আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। জালালাবাদে তারা ফল ও মিষ্টি দিয়ে তালেবান যোদ্ধাদের বরণ করে নিয়েছে।
কুন্দুজের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমির বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “আমি আমার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি দেখলাম তালেবান এবং পুলিশ পাশপাশি দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছে।” অন্য একজন বলেন, “এটা সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ঈদ। এই প্রথম আমরা নিরাপদ বোধ করছি। এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।” রাজধানী কাবুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াইস বারমাকের সঙ্গে তালেবান নেতাদের সাক্ষাতের ছবিও প্রকাশ পেয়েছে।
সিএনএন আফগান নিরাপত্তা সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, মাত্র কয়েকদিন আগেও যুদ্ধরত তালেবানরা শনিবার কাবুলের নিরাপত্তা চেকপোস্টগুলোতে নিজেদের অস্ত্র জমা দিয়ে শহরে ঢোকেন। একজন স্বাধীন সংবাদকর্মীর বরাতে তারা জানায়, তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে আফগান সেনারা কোলাকুলি করছে এমন দৃশ্য দেখে আফগান জনতার ভেতরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। এমন দৃশ্য শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না।রাজধানীর বাইরে দেশটির অন্যান্য শহরের আফগান সেনারাও তালেবানদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুক ও টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।
এদিকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের হেরাত প্রদেশে লিফলেট বিতরণ করেছে তালেবান সদস্যরা এবং সেখানকার লোকজনও এই বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সাহসিকতার প্রশংসা করে। বৃহস্পতিবার রাতে হেরাতের রাস্তায় তরুণরা ‘যুদ্ধবিরতি! যুদ্ধবিরতি!’ বলে নাচানাচি করে। হেরাতে অবস্থানরত ইজ্জতুল্লাহ নামের এক তালেবান সদস্য বলেন, জনগণ কীভাবে এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে তা আমরা দেখেছি। তাই ঈদের পর এটা বাড়ানো যায় কিনা তা নিয়ে আমাদের নেতারা আলোচনা করবে।

বিশ্বকাপে রাশিয়ান যুবতীদের জন্য সেক্স নিষিদ্ধ নয়

বিশ্বকাপ ফুটবল হবে আর সেখানে পর্যটকদের জন্য সেক্স নিষিদ্ধ থাকবে এমনটা যেন এ যুগে বেসুরো মনে হতে পারে। তাও আবার রাশিয়ার মতো একটি পশ্চিমা দেশে! বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে রাশিয়ার যুবতী, নারীদেরকে বিদেশী পর্যটকদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন রাশিয়ান রাজনীতিক, পার্লামন্টের পরিবার, নারী ও শিশু বিষয়ক কমিটির চেয়ারওম্যান তামারা প্লেটনিওভা। কিন্তু বিষয়টি ভাল মনে হয় নি পুতিনের কাছে। তিনি তামারার ওই নির্দেশ বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বলেছেন, বিদেশী পর্যটকরা এসেছেন রাশিয়ায় বিশ্বকাপ উপভোগ করতে। তাদের সঙ্গে রাশিয়ান নারী বা যুবতীদের সেক্স নিষিদ্ধ থাকতে পারে না। ফলে তামারা যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন তা আর হালে পানি পাচ্ছে না।  তিনি রাশিয়ান নারীদের সতর্ক করে বলেছিলেন, তারা যেন বিদেশী পর্যটকদের শয্যাসঙ্গী না হন। এতে দেশে সিঙ্গেল মায়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। যে সন্তান জন্ম নেবে তার পিতৃপরিচয় নিয়ে সঙ্কট দেখা দেবে। এ ছাড়া এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তো রয়েছেই। আরও বলেছিলেন, অর্থের লোভে পড়ে বা প্রেমে পড়ে যেভাবেই হোক রাশিয়ান নারীদের এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পর্কে জড়ানোর কোনো শুভ অর্থ হতে পারে না। কিন্তু শেষ অবধি তার এ আহ্বান যেন প্রেসিডেন্ট পুতিনের কানের কাছেও পৌঁছাতে পারে নি। প্লেবয় হিসেবে পরিচিতি পাওয়া রাশিয়ান এই প্রেসিডেন্ট তাই এগিয়ে এলেন। তিনি তামারা প্লেটনিওভা’র দেয়া নিষেধাজ্ঞা ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলেন। বললেন, রাশিয়ান নারীদের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া যাবে না। তারা তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারেন। পুতিনের মুখপাত্র, সাবেক প্রেসিডেন্ট দমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, সব দেশই একে অন্যকে বর্ণবাদী, সমকামী হিসেবে আখ্যায়িত করে। এ নিয়ে বিশ্বকাপে নাক গলানোর কিছু নেই। রাশিয়ার নারীরা যা ভাল মনে করেন তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে তাই করতে পারেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মতে, ১৯৮০ সালে মস্কোতে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন গেমস বা অলিম্পিক গেমস নিয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন তামারা। ওই গেমস চলার সময় রাশিয়ান মেয়েদের সঙ্গে বিদেশী পর্যটকদের সেক্সের সুবাদে জন্ম হয়েছে বিপুল সংখ্যক সন্তানের। এদেরকে ‘চিলড্রেন অব দ্য অলিম্পিকস’ বা অলিম্পিকের সন্তান  হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এ নিয়ে যখন তামারাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বিশ্বকাপ শুরুর আগে তখন তিনি রাশিয়ান নারীদেরকে সাবধান করেছিলেন। তাদের প্রতি অনুরোধ করেছিলেন, তারা যেন বিদেশী পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করেন। ওই প্রশ্নের উত্তরে তামারা বলেছিলেন, অনেক নারী বা যুবতী রাশিয়ায় পুরুষদের শয্যাসঙ্গী হবেন। তার ফলে তারা সন্তানের জন্ম দেবেন। হয়তো তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন অথবা হবেন না। এমন সম্পর্কের ফলে যেসব সন্তানের জন্ম হবে তাদেরকে পরে মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, এটা ঘটেছিল সাবেক সোভিয়েত যুগে। তাই তিনি নিজের বিশ্বাস নিয়ে বলেছিলেন, রাশিয়ান সন্তান জন্ম হওয়া উচিত রাশিয়ান পিতামাতার ঔরসে অথবা একই জাতীয়তা পরিচয়ের নারী পুরুষের মধ্যে। তিনি বলেন, যদি মা-বাবা একই জাতির হন তাহলে পরিস্থিতি যা দাঁড়ায়, তাদের পরিচয় ভিন্ন হলে সেখানে তার চেয়ে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তার ভাষায়, আমাদেরকে আমাদের নিজেদের সন্তান জন্ম দিতে হবে। তামারার এমন সেক্স নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য মিখাই ল দেগতিয়ারিওভের মাথায় আঘাত করেছে। তিনি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস’কে বলেছেন, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে আমাদের আরো বেশি ভালবাসার কাহিনী আছে। আরো ভিন্ন ভিন্ন দেশের মানুষ এখানে ভালবাসায় মগ্ন হন। অধিক পরিমাণ সন্তানের জন্ম হয়। এটা খুবই ভাল একটি বিষয়।

উল্লাসে মেক্সিকোতে ভূমিকম্প

অকস্মাৎ যেন ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো মেক্সিকো। মানুষ যে যা পরা ছিল সেভাবেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়লো। না, তাদের চোখেমুখে হতাশা নেই। ভয় নেই। তারা আনন্দে ঘর ছেড়ে রাস্তায়। রংবেরংয়ে ছেয়ে গেল পুরো মেক্সিকো। তাদের উল্লাসে, আনন্দের কান্নায় যেন সত্যি সত্যি কেঁপেছে মাটি। ভূমিকম্প নির্ণয়কারী ডিটেক্টরও হয়তো বুঝতে পেরেছে তা। বিশ্বকাপ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন দল জার্মানিকে হারানোর পর এমনই এক উন্মাদনায় মেতে ওঠে মেক্সিকো। রোববার জার্মানিকে তারা হারানোর পর এমন উন্মাদনার কথা লিখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে তুলে ধরা হয়েছে মেক্সিকানদের ফুটবলের প্রতি ভালবাসা আর অবিশ্বাস্য পারফরমেন্সের কথা। মেক্সিকার দীর্ঘ পতাকা ছেড়ে গেছে দেশ। বাতাসে দোল খাচ্ছে তা। মেক্সিকান সিটির ডাউনটাউনে আইকনিক অ্যানজেল অব ইন্ডিপেন্ডেন্স ভাস্কর্য্যরে মাথায় পরিয়ে দেয়া হয়েছে ‘সোমব্রেরো’ লেখা হ্যাট। দেশের অনানুষ্ঠানিক ফুটবল সঙ্গীত গাইছেন সমবেত সুরে মানুষ। তারা গাইছেন ‘সেইলিতো লিন্ডো’ অথবা অতি জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত ‘প্রিটি লিটল স্কাই’। একটি ক্যাথেড্রালের সুউচ্চ টাওয়ারের সামনে বসানো হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন। এটি মেক্সিকো সিটির সবচেয়ে বড় স্কয়ার। এখানে বসানো ওই স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে মেক্সিকান ফুটবলের জার্সিগুলো। মানুষ তা দেখছে। আনন্দে উদ্বেলিত হচ্ছে। কখনো বা চোখ থেকেই নিজের অজান্তে ঝর ঝর ঝরে পড়ছে অশ্রু। খেলা শুরুর ৩৫তম মিনিটে তারকা খেলোয়াড় হারভিং লোজানো যখন জার্মানির বিরুদ্ধে গোল করে বসেন তখন সেই উত্তাল জনতা সমুদ্রে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের মতো উচ্চতায় উঠে গেল। চারদিকে তখন চিৎকার। এক সুরে সবাই বলে উঠলেনÑ ‘ইয়েস উই ডিড ইট’। ইন্সটিটিউট অব জিওলোজিক্যাল অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক ইনভেস্টিগেশনস বলেছে, ৩৫তম মিনিটে গোল হওয়ার সাত সেকেন্ড পরে রাজধানীর দুটি স্থানে ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘আর্টিফিশিয়ান’ বা কৃত্রিম ভূমিকম্প। এ ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়েছে পুরো মেক্সিকো লাফিয়ে ওঠার জন্য। ম্যাচ শেষে ৪৭ বছর বয়সী রোডোলফো পুলিদোর নেতৃত্বে সবাই চিৎকার করে বলতে লাগলেন ‘মেক্সিকো! মেক্সিকো! মেক্সিকো!’ সেই চিৎকার যেন কংক্রিটের প্রাচীর ভেদ করে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাচ্ছিল। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য যে কংক্রিটের ব্যারিয়ার ব্যবহার করা হয় তা যেন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। পুলিদো এই সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন তার গার্লফ্রেন্ড আর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে। তিনি বলেন, আমি অবিশ্বাস্য রকম খুশি। দিনটি ছিল ফাদারস ডে। তাই পুলিদো বলেন, দিনটিতে দুটি গিফট পেলাম আমি। এক হলো মেক্সিকো জিতেছে। আর হলো ছেলের সঙ্গে নিয়ে তা উপভোগ করতে পারা। পুলিদো বলেন, এখন তার সাহস বেড়ে গেছে অনেক। মেক্সিকো পরের রাউন্ডে উঠবে এটা হলফ করে বলতে পারেন তিনি। তারপর কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল। এরপর জিতে আসতে পারে ফাইনালেও। বলতে বলতে চোখ ছল ছল করে ওঠে তার। মেক্সিকোতে নিজ দেশের টিমকে ডাকা হয় ‘এল ত্রি’ নামে। এর কারণ, এ দেশটির পতাকায় রয়েছে তিনটি রং। সামনেই মেক্সিকোতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সেই নির্বাচনে এগিয়ে আছেনব অ্যান্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ অব্রাডোর। তিনি এক নির্বাচনী প্রচারণা থেকে তার দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সমর্থকদের বলেছেন, রোববার যেমন করে মেক্সিকো জিতেছে ঠিক একইভাবে মেক্সিকো জিতে যেতেই থাকবে। ওদিকে সামাজিক যোগাযোগ মিডিয়ায় তো বাণ ডেকেছে। একজন আরেকজনকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। অন্যরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করছেন। কারণ, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। একটি গোলপোস্টের পাশে দাঁড়িয়ে প্রহরা দিচ্ছেন ওচোওয়া। এমন একটি ছবি পোস্ট করে তারা এর ক্যাপশন লিখেছেন ‘হেই! উই অলরেডি হ্যাভ এ ওয়াল’। অর্থাৎ, দেখ আমরা এরই মধ্যে দেয়াল বানিয়ে ফেলেছি। আরেকটি ছবিতে ব্যঙ্গ করা হয়েছে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেলকে নিয়ে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মারকেল তার কাছে একটি ফোন ধরে আছেন। আর বলছেন, ‘ডনাল্ড? আমি অ্যাঙ্গেলা। অনুগ্রহ করে দেয়ালটা নির্মাণ করুন’। উল্লেখ্য, আগামী শনিবার রাশিয়ার রোস্তোভ-অন-ডোভে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে মেক্সিকো।

কাশ্মিরে আবারও সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা ভারতের

কাশ্মিরে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত সশস্ত্র বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করছে ভারত সরকার। রমজান মাস উপলক্ষে একতরফাভাবে ঘোষিত ৩০ দিনের অস্ত্রবিরতি শেষে এ অভিযান শুরু হচ্ছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর টুইটকে উদ্ধৃত করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরটি জানিয়েছে।
কাশ্মিরে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর কেউ কেউ সরাসরি স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত। কেউ কেউ আবার কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে। ইতিহাস পরিক্রমায় ক্রমেই সেখানকার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইসলামীকিকরণ হয়েছে। এখন সেখানকার বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর মধ্যে হিজবুল মুজাহিদীন সবথেকে সক্রিয়। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মিরের জাতিমুক্তি আন্দোলনকে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী তৎপরতার থেকে আলাদা করে শনাক্ত করে না। সন্দেহভাজন জঙ্গি নাম দিয়ে বহু বিদ্রোহীর পাশাপাশি বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। কাশ্মির প্রশ্নে সমগ্র ভারতীয় স্টাবলিশমেন্টের দৃষ্টিভঙ্গিতেই সেখানকার সমস্যাকে ‘বিচ্ছিন্নতা আর জঙ্গিবাদের’ সমস্যা আকারে দেখা হয়ে থাকে। কাশ্মিরের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে থাকে ভারতীয় বাহিনী। তবে রমজান উপলক্ষে এক মাসের অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছিল তারা। রমজান শেষ হওয়ার পর আবারও অভিযান শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।
রবিবার (১৭ জুন) টুইটারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী অস্ত্রবিরতি পালন করলেও জঙ্গিরা অনবরত বেসামরিক লোকজন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে গেছে। এতে হতাহত হয়েছে মানুষ।’
পুলিশের দাবি, গত ৩০ দিনে ছয় বেসামরিক, ৯ নিরাপত্তাকর্মী ও ২০ জনেরও বেশি বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই লাইন অব কন্ট্রোলের কাছে মারা গেছে। এ সহিংসতা চলার মধ্যে প্রখ্যাত সাংবাদিক সুজাত বুখারীকে রহস্যজনকভাবে হত্যা করা হয়।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজ্য বিজেপি’র (ভারতীয় জনতা পার্টি) মুখ্য মুখপাত্র সুনীল শেঠী বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম জঙ্গি ও পাকিস্তানের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে। আমাদের বন্দুক বন্ধ ছিল, কিন্তু জঙ্গিরা প্রতিদিন হামলা চালিয়ে গেছে। অস্ত্রবিরতি অর্থহীন হয়ে পড়েছিল। সরকারের পক্ষে অস্ত্রবিরতি অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। রাস্তায় এতো রক্তপাতের পরও আমরা তা চালিয়ে যেতে পারি না।’
উল্লেখ্য, বিশ্বের সবথেকে সামরিকায়িত অঞ্চলগুলোর একটি কাশ্মির। জননিরাপত্তা আইনের নামে সেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনী ধারাবাহিক আটক-গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করে।  ব্রিটিশ মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০১৫ সালের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ১৯৯১ সাল থেকে তখন পর্যন্ত এই আইনের আওতায় ৮ হাজার থেকে ২০ হাজারের মতো মানুষকে আটক করা হয়েছে।

ভিডিও ক্লিপ নিয়ে সরগরম বৃটেন

রগরগে একটি ভিডিও ক্লিপ নিয়ে এবার বৃটেনের রাজনীতি গরম হয়ে উঠেছে। ওই ভিডিও ক্লিপটি বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ও পরিবেশ, খাদ্য ও শহর উন্নয়ন বিষয় মন্ত্রী মাইকেল গভ সহ মন্ত্রীপরিষদের অনেক সদস্য ব্যবহার করেন হোয়াটঅ্যাপেরা এমন একটি গ্রুপে গোপনে পোস্ট করে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন । কিন্তু সেই ভিডিও ক্লিপটি গোপনে হোয়াটসঅ্যাপে পোস্ট করেছেন ক্ষমতাসীন দলের একজন এমপি অ্যানড্রু বাইজেন। ফলে এ নিয়ে গরম বিতর্ক চলছে। বলা হচ্ছে, ওই ভিডিও ক্লিপে খুব কাছ থেকে একজন নারীর শরীরের আপত্তিকর অঙ্গগুলো দেখানো হয়। তিনি যখন একটি স্পোর্টস কারের পাশে একজন যুবককে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন তখন এসব দেখানো হয়। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হওয়ার পর অ্যানড্র্রু ব্রাইজেন বলেছেন, কমপিউটারে কি-বোর্ডে ভুল করে চাপ লেগে এটা পোস্ট হয়ে গেছে। এমনটা হয়ে গেছে দুর্ঘটনাক্রমে। তবে তাতে তাকে কেউ ছেড়ে কথা বলছেন না। তার বিরুদ্ধে নিন্দা জানাচ্ছেন নারী-পুরুষ মন্ত্রী ও এমপিরা। জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ক্লেয়ার পেরি বলেছেন, এমন ছবি পোস্ট করা একেবারেই অনভিপ্রেত। কারণ, তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে এই ছবি দেখতে পেয়েছে। পেরি যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন তা চেক করতে গিয়ে তার ছেলে দেখে ফেলেছে এই ছবি। তিনি এমন অভিযোগ করার পর উল্টো তাকে আক্রমণ করে কথা বলেছেন অ্যানড্র্রু ব্রাইজেন। তিনি বলেছেন, মিস পেরির ছেলে ওই ক্লিপ দেখে ফেলেছেন বলে যে কথা বলেছেন, তা খুবই হাস্যকর। কারণ, তিনি এটা তার ছেলেকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন।  কেলম্সফোর্ডের কনজার্ভেটিভ দলের এমপি ভিকি ফোর্ডও সমালোচনা করেছেন অ্যানড্র্রু ব্রাইজেনের। বলেছেন, নিজের আচরণ নিয়ে খুব বেশি ভাবতে হবে অ্যানড্র্রু ব্রাইজেনকে। তাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী অ্যানড্রু গ্রিফিথস। একজন এমপি বলেছেন, যখন আমার মোবাইল ফোনে এই ছবি দেখতে পেয়েছি ভেবেছিলাম এটা কোনো সফট পর্নো ছবি ছিল।

আসছে মানুষ, যাচ্ছে মানুষ

ঈদের তৃতীয় দিনেও ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। পরিবার- পরিজনের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগ করে নিতে অনেকেই ছুটছেন আপন  গন্তব্যে। অন্যদিকে, কর্মজীবী মানুষেরা  ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছেন। সোমবার (১৮ জুন) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সরেজমিনে এরকম চিত্র দেখা গেছে।
কমলাপুর স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে  অপেক্ষা করছেন কয়েকশ’ যাত্রী। তাদের সবাই ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। অন্যদিকে, ঢাকার বাইরে থেকে আসা ট্রেনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় না থাকলেও আসছে প্রচুর যাত্রী। ফিরে আসা যাত্রীদের বেশির ভাগই চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থী। তেমনই একজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমেশ কুমারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি আর  মাত্র একদিন আছে। তাই আগেই চলে এসেছেন তিনি। এই একটাদিন ঢাকায় বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
চাকরির টানে ঈদের ছুটি শেষ করে ফিরে এসেছেন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারি ব্যাংকের অফিস শুরু হয়ে গেছে। না আসলে তো চাকরি থাকবে না। তাই চলে আসা। ঈদের ছুটি আরও  কয়েকদিন হলে ভালো হতো।’
এদিকে, ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি যাচ্ছেন একটি বেসরকারি কোম্পানির নিরাপত্তা কর্মী অমল রায়। তিনি বলেন, ‘ঈদের আগের দিন থেকে গতকাল (রবিবার) পর্যন্ত ডিউটি করেছি। এবার ছুটি পাইলাম। অনেক দিন পর বাড়ি যাইতেছি।’
কমলাপুরের স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের জন্য শুধু ঢাকা থেকে পাঁচটি বিশেষ ট্রেন রয়েছে। সারাদিনে ৬৯টি ট্রেন কমলাপুর স্টেশন থেকে চলাচল করে। এছাড়া, যাত্রীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সংখ্যায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আছেন।

বিশ্বকাপ দেখতে চাকরি ছাড়ছে কলম্বিয়ানরা

জাতি হিসেবে কলম্বিয়া প্রায় সব কিছুতেই বিভক্ত। রাজনীতি থেকে শুরু করে সংঘাত কিংবা সংস্কৃতি- কোনো কিছুতেই এই ৪ কোটি ৮০ লাখ জনসংখ্যার দেশটি ঐক্যবদ্ধ নয়। ব্যতিক্রম শুধু একটি জায়গায়। সেটি হলো জাতীয় ফুটবল দল। আর অনেক কলম্বিয়ানের কাছে বিশ্বকাপের চেয়ে জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হতেই পারে না। এ মুহূর্তে যেসব দল বিশ্বকাপ খেলছে, তার মধ্যে কলম্বিয়ার অবস্থান স্বাগতিক দেশ রাশিয়া থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূরত্বে। অথচ, কলম্বিয়ানরা এই বিশ্বকাপে জার্মানদের চেয়েও বেশি টিকেট কিনেছে। প্রায় ১৪৭০০ কলম্বিয়ান নাগরিক এবার বিশ্বকাপ দেখতে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন বা জমাবেন। এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ। এমনই একজন কলম্বিয়ান ফুটবল ভক্ত হলেন আন্দ্রে ফিলিপ ফাজারদো (২৫)। নিজের তিন বন্ধুকে নিয়ে তিনি রাশিয়ায় গেছেন। বিশ্বকাপ দেখতে পেশায় ডাক্তার ফাজারদো নিজের চাকরি ছেড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ছুটি পেতাম না। কিন্তু এই বিশ্বকাপ হলো জীবনে আসা একমাত্র সুযোগের মতো। আমি রাশিয়ায় আসা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবিইনি। পুরো দুনিয়ায় ফুটবল আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
তবে বিশ্বকাপ দেখতে এমন আত্মত্যাগ কলম্বিয়ানদের মধ্যে বিরল নয়। হুয়ান এস্তেবান গার্সিয়া পেশায় একজন প্রকৌশলী। বিশ্বকাপ সফরের খরচ মেটাতে তিনি ঋণ নিয়েছেন। ক্রেডিট কার্ডও নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ক্রেডিট কার্ড ছাড়া ভিসা ও ভ্রমণের সব খরচ জোগাতে পারতাম না। তবে এটি একেবারে বিফলে যাবে না।’ এস্তেবান গার্সিয়া এবারই প্রথম নিজ দেশের বাইরের কোনো দেশে গেছেন।
তারা চার বন্ধু ইউরোপ হয়ে ভ্রমণ করছেন। বিভিন্ন দেশে থামতে হচ্ছে তাদেরকে। পুরো সফরের আয়োজন অবশ্য ফিলিপ গার্সিয়ার। তার ভাষ্য, ‘এই সফরের পরিকল্পনা করতে কয়েক মাস লেগেছে। তবে সফরটা হলো মোট ৫ সপ্তাহের। রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের যে দূরত্ব, তাকে অনেকটা মজার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি আমরা।’ ফিলিপ গার্সিয়ার হিসাব করে দেখেছেন, তাদের প্রত্যেকের ৩ হাজার ডলারেরও বেশি খরচ হয়েছে। অথচ, একজন কলম্বিয়ানের মাসিক বেতন হলো গড়ে ২৯১ ডলার।
চতুর্থ বন্ধু হুয়ান জোস মোগিও পেশায় একজন গ্রাফিক ডিজাইনার। তিনিও বিশ্বকাপ নিজ চোখে দেখতে চাকরি ছেড়ে এসেছেন। তার কাছে এই সফর অনেকটা জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ হওয়ার মতো। তিনি বলেন, ‘ফুটবল হলো এমন একটা বিষয় যা প্রত্যেক কলম্বিয়ানের কাছে অভিন্ন। সেই ছোটবেলা থেকেই। প্রত্যেক রোববার পুরো দেশ ফুটবল খেলা দেখে।’
মোগিও বলেন, ‘কলম্বিয়ায় ফুটবল যেন ধর্মের মতন। এটিই একমাত্র জিনিস যেটি সবাইকে একত্রিত করে। আমার নিজ দলকে রাশিয়ায় খেলতে দেখবো, সেটি হবে আমার জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্তগুলোর একটি।’
তবে শক্তিমত্তা বিবেচনায় বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি কলম্বিয়া। অক্টোবরে পেরুর সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে দলটি। ফলে অনেক কষ্টেই বাছাইপর্ব অতিক্রম করতে পেরেছে কলম্বিয়া। তারপরও কলম্বিয়ার ভক্তরা নিজ দল নিয়ে অনেক উচ্ছ্বসিত।
উত্তরাঞ্চলীয় শহর বোগোটার সড়কগুলোর প্রায় প্রত্যেক কোণে দলের স্টিকারের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। ৫ ডলার ব্যায়ে আপনি এক প্যাকেট স্টিকার কিনতে পারবেন। এক বিক্রেতা বলেন, ‘খেলা যখন শুরু হবে, আমরাও ব্যস্ত হতে শুরু করবো। এখন প্রতিদিন ১০-১৫টা বক্স বিক্রি করছি। খেলা শুরু হলে ২০টা করে বেচবো।’ প্রতি বক্সে ৫০ প্যাকেট স্টিকার থাকে। অর্থাৎ এই একজন বিক্রেতাই প্রতিদিন ১ হাজার প্যাকেট বিক্রির প্রত্যাশা করছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের একটি স্টিকার কারখানা পুরো লাতিন আমেরিকায় প্রতিদিন ৯০ লাখ স্টিকার যোগান দিয়েছে।
বোগোতার আরেক বিক্রেতা বলেন, তার পরিবার গত ৩টি টুর্নামেন্টে স্টিকার বিক্রি করেছে। তার ভাষ্য, ‘এটাই শহরের সেরা ব্যবসা। ফুটবল ও দলের স্টিকারের জন্য লোকজন পাগল হয়ে যায়। আমরা প্রতিদিন প্রায় ২০ বক্স স্টিকার বেচি।’
রাজধানী শহরের রাস্তায় রাস্তায় দলের জার্সি গায়ে লোকজন হাটাহাটি করছে। বার কিংবা রেস্তোরাঁর সামনে উড়ছে দেশের তেরঙ্গা পতাকা। বোগোতার লাইবারটিক্স বারের মালিক ক্রিস বলেন, ‘আমি আমার পানশালায় টিভি লাগাবো। আমরা কিন্তু স্পোর্টস বার নই। তবে বিশ্বকাপে টিভি চালু থাকতেই হবে।’
আগেরবার প্রতিবেশী ব্রাজিলে বিশ্বকাপ হওয়ায় সময় নিয়ে সমস্যা হয়নি। কিন্তু এবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ও দুপুর ১টায় খেলা হবে। কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, এতে তাদের সমস্যাই হবে না। এক ভক্ত বললেন, ‘বরং আমরা পুরো দিনজুড়ে পার্টি করতে পারবো।’

স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন প্রশ্নে বাংলাদেশিদের পক্ষে লড়ছেন ব্রিটিশ এমপিরা by অদিতি খান্না

স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতায় শত শত বাংলাদেশি পেশাজীবীর যুক্তরাজ্যে থাকা ও কাজ করার বিষয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে গত সপ্তাহে ওয়েস্টমিনিস্টার হলে আয়োজিত এক বিতর্কে বাংলাদেশিদের পক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেছেন বিভিন্ন দলের ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরা।
লেবার পার্টির সংসদ সদস্য লিন ব্রাউন তার পূর্ব লন্ডনে অবস্থিত নির্বাচনি আসনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। ‘তুচ্ছ কারণবশত’  স্থায়ী বসবাসের আবেদন নাকচ করে দেওয়ার যে প্রবণতা যুক্তরাজ্যে দেখা দিয়েছে তার ভুক্তভোগী সাদেক লিন ব্রাউনের নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা। স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসের জন্য যে আবেদন সাদেক করেছিলেন তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আর যে প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা করেছে তা ‘অস্বচ্ছ।’ যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তিনি এতটাই বীতশ্রদ্ধ হয়েছেন যে তিনি বাংলাদেশে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন—যদিও তার আবেদনটি এখন বিচার বিভাগীয় পুনর্মূল্যায়নের তালিকায় রয়েছে।
অধ্যাপক সাদেক যে এলাকায় বসবাস করেন সেই ওয়েস্ট হ্যামের সংসদ সদস্য ব্রাউন বলেছেন, ‘সাদেকের স্ত্রী ও কন্যা ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্য ছেড়ে চলে  গেছেন। তার দ্বিতীয় কন্যার জন্ম হয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু সাদেক এখনও তাকে দেখতে পারেননি। কেন? কারণ তিনি বাংলাদেশে যেতে পারছেন না। যদি তিনি যান, তাহলে আর যুক্তরাজ্যে ফিরতে পারবেন না।’
‘বাংলাদেশে সাদেক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিন ছিলেন। এখন আমাদের দেশের সরকার যদি তার সঙ্গে এমন খারাপ আচরণ করে, তাহলে তিনি এখানে কেন থাকবেন? আর তিনি না থাকার কথাই ভবেছেন।’
অধ্যাপক সাদেক যুক্তরাজ্যে সাত বছর ধরে বসবাস করছেন। তিনি ২০১৬ সালে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন (আইএলআর) চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে আবেদন খারিজ করে দেয়। ২০১১ সালে সাদেকের দাখিল করা কর নথিতে সামান্য  ত্রুটি ছিল। তিনি তা স্বীকার করে নিয়ে ওই বছরই তা সংশোধন করেন এবং পাওনা টাকা পরিশোধ করে দেন। ওই ঘটনার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার আবেদন বাতিল করে দিয়েছে।
ব্রাউন এরপর আরও বলেন, ‘এটা খারাপ চরিত্রের কোন উদাহরণই হতে পারে না। অথচ তাকে চাকরিচ্যুত হতে হয়েছে। এমন কি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন চাকরি হিসেবে তিনি যে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পাঠদান করান তাও বন্ধ হয়ে যাবে শীঘ্রই। তিনি অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ইউনিসেফের  সঙ্গে কাজ করেন। বাংলাদেশিদের প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার কাজেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
লিন ব্রাউন এসব তথ্য তুলে ধরেছেন ‘অভিবাসন নীতি: ধারা ৩২২ (৫)’ শীর্ষক বিতর্ক অনুষ্ঠানে। অভিবাসন আইনের ৩২২(৫) ধারার কারণে শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী ও প্রকৌশলীদের কি ধরণের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তা জানতে ‘স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির’ (এসএনপি) অ্যালিসন থেউলিসের আহ্বানে বিতর্ক অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয় গত বুধবার। ওই ধারায় আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের যে বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা মূলত জঙ্গিদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়ার জন্য যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কর নথিতে থাকা ‘তুচ্ছ ভুলকে’ যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন বাতিলের কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যা ওই ধারাটির অপব্যবহার।
সংসদ সদ্যস অ্যালিসন থেউলিস বলেছেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট যাদের সঙ্গে কথা বলেছি তাদের কেউই এমন কিছুর সঙ্গে জড়িত নন যাকে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা যেতে পারে।’
‘আবেদন প্রত্যাখ্যানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঘটনায় কারণ হিসেবে এমন বিষয়ের কথা লেখা হয়েছে যা কার্যত মানুষের স্বাভাবিক ভুলের মধ্যে পড়ে। পাশাপাশি ‘হার ম্যাজেস্টিস রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমস’ (এইচআরএমসি) কথা যদি ধরি, ভুল সংশোধনের পর তাদের আর ওই সংক্রান্ত বিষয়ে কোন কিছু বলারই থাকে না। কয়েকটি ক্ষেত্রে এমনও দেখা গেছে, কয়েক পাউন্ডের হিসাব এদিক ওদিক হওয়ার কারণ দেখিয়ে আবেদন বাতিল করা হয়েছে। কারণ হিসেবে দেখানো ঘটনাগুলোও অনেক  বছর আগেকার।’
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী ক্যারোলিন নোক্স এ সময় বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় অধ্যুষিত নির্বাচনি আসনগুলোর এমপিদের উত্থাপিত অভিযোগের জবাব দেন। তিনি জানান, বাতিল করা আবেদনগুলো পুনঃনিরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। আর তাতে দেখা গেছে, টায়ার ওয়ান ভিসায় যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন এমন পেশাজীবীদের বাতিল হওয়া আবেদনের ২৮১টির ক্ষেত্রেই ৩২২(৫) ধারা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার ৬৭১টি আবেদন পুনঃনিরীক্ষা করা হবে।
ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের নোকস বলেছেন, টায়ার ওয়ান ভিসাপ্রাপ্তদের ওপর চালানো নিরীক্ষা থেকে ২০১০ দেখা গিয়েছিল, ওই ভিসায় যুক্তরাজ্যে যাওয়া ব্যক্তিদের ২৯ শতাংশই অদক্ষ পেশাজীবী। আরও ৪৬ শতাংশের পেশা সংক্রান্ত তথ্য অস্পষ্ট। ওই নিরীক্ষার পর যে ‘কড়া নজরদারি’ চালু কড়া হয়েছে সে বিষয়টি তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।
‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই: করের নথিতে সামান্য ভুলের কারণ দেখিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন খারিজ করে দেওয়ার কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত আমরা নেইনি। আমরা আবেদনকারীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে উপস্থাপিত যুক্তিকেও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের সঙ্গে বিবেচনা করি।’
এ বিষয়ে অদিতি ভরদ্বাজ মন্তব্য করেছেন, ‘এই প্রক্রিয়ার কারণে বহু মানুষকে আইনি জটিলতায় পড়তে হবে।’ অদিতি ভরদ্বাজ দক্ষ পেশাজীবীদের একটি সংগঠনের সমন্বয়কারী। স্থায়ী বসবাসের আবেদন বাতিলে তুচ্ছ ঘটনাকে কারণ হিসেবে দেখানোর প্রতিবাদে তার সংগঠন গত কয়েক মাসে সংসদ ভবনের সামনে ৪টি বড় প্রতিবাদ কর্মসূচী আয়োজন করেছে। ঘটনাটির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণে চালানো তাদের প্রচেষ্টা দেখে স্বয়ং সংসদ সদস্যরা পর্যন্ত তাদের প্রশংসা করেছেন।
যুক্তরাজ্যে ৫ বছর বসবাসের পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্থায়ীভাবে বসাবসের আবেদন করা যায়। ২০১১ সালে টায়ার ওয়ান ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হলেও, ওই সময়ের আগে যেসব দক্ষ পেশাজীবী টায়ার ওয়ান ভিসায় যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন, নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করার জন্য তারা গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত  সুযোগ পেয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যখন স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন বাতিল করে দিচ্ছিলেন তখন এই বাতিল করার প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি বিশেষ প্রবণতা লক্ষ্য করেছিলেন আইন বিশেষজ্ঞরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইনের ৩২২(৫) ধারা ব্যবহার করছিল আবেদন বাতিলের কারণ দেখাতে গিয়ে।  ওই ধারায় অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের যুক্তরাজ্যে থাকার আবেদন বাতিল করার বিধান দেওয়া রয়েছে। কর বিভাগকে দেওয়া আয়ের হিসেব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া আয়ের হিসেবের মধ্যে  পার্থক্য দেখতে পেয়ে আবেদনকারী পেশাজীবীদের ‘চারিত্রিক সততা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই কারণ দেখিয়ে তাদের আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়। পুনর্বিবেচনা করা না হলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্য ছেড়ে চলে যেতে হবে।

ইরানে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে নারীদের ফুটবল

এখনও স্টেডিয়ামে গিয়ে ফুটবল খেলার অনুমোদন নেই ইরানি নারীদের। ‘ইনডোর গেম’ হিসেবেই তাদের ফুটবল খেলতে হয়। বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হয় ট্রাউজার-পূর্ণ হাতা জার্সি ও হিজাব। তবে ধর্মীয় বিধিনিষেধকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে ইরানের নারী ফুটবলাররা। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আর লক্ষ্য অর্জনের প্রবল ইচ্ছাশক্তিই তাদের স্বপ্ন পূরণের ভরসা।
নারীদের ফুটবল নিয়ে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নারীদের এখনও স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলতে দেওয়া না হলেও পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির রাজধানীতে বড় একটি বিলবোর্ড টাঙাতে দেখা গেছে। সেখানে জার্সি গায়ে, ক্যাপ্টেনের ব্যান্ড পরা ও হাতে ফুটবলসহ এক নারীর ছবিসহ বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। ওই বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ধারাভাষ্যকার হতে আগ্রহীরা যেন নতুন মুখের সন্ধানে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। আলজাজিরা তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, বিশাল বড় ওই বিলবোর্ডের বিজ্ঞাপনই প্রমাণ করে, ইরানে প্রমীলা ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
গত বছর ইরানের জাতীয় ইনডোর প্রমীলা ফুটবল দল এশিয়া কাপে জয়ী হয়েছে। এতে আরও অনেক বেশি ইরানি নারী খেলাটির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। অনুর্ধ্ব ১৯ জাতীয় প্রমীলা ফুটবল দলের সাবেক সদস্য ও বর্তমানে কোচ মিনা রেজাই বলেছেন, ‘সমাজ এখন এটাকে ভালো চোখেই দেখে। ফুটবল এখন ইরানি নারীদের কাছে সবচেয়ে পছন্দের খেলা হয়ে উঠেছে। উঠে আসতে আমাকে ছোটবেলায় অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। তবে আমি আপনাকে এতটুকু বলতে পারি, চেষ্টা করলে সফলতা অনিবার্য।’
ইরানে প্রমীলা খেলোয়াড়দের সমস্যা নিয়ে প্রায়ই যে প্রসঙ্গ সামনে আসে, তা হলো পোশাক সংক্রান্ত রীতি। সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রমীলা খেলোয়াড়দের ট্রাউজার ও লম্বা হাতার জার্সির সঙ্গে হিজাব পরতে হবে। ইরানি ফুটবল বিশেষজ্ঞ দোস্তমোহাম্মদির মন্তব্য, ‘ইসলাম নারীদের সামাজিক এসব কাজে অংশগ্রহণে কোনও বাধা দেয়নি। দেশে দেশে হিজাব ও পোশাক নিয়ে কিছু বাধা ও সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু সেটা মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হচ্ছে, তাদেরকে খেলতে দেওয়া হচ্ছে এবং সেটাও পেশাদার হিসেবে।’
খেলোয়াড়দের হিজাব পরা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে  বিরুদ্ধ মত থাকলেও ইরানি কোচ রেজাই মনে করেন না এটা খুব বড় কোনও বাধা। তার ভাষ্য, ‘হিজাব পরে খেলা কঠিন। এতে স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করাতে সমস্যা হয়। কিন্তু সেটা এমনও বড় কিছু না। আমাদের প্রমীলা দলের খেলোয়াড়রা হিজাব পরেই জাপান ও চীনের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে। যদি কেউ কোনও কিছু সত্যি বিশ্বাস করে এবং মন থেকে চায় তাহলে যত বাধাই আসুক আসুক না কেন তা মেনে নিয়েই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

যে কারণে বন্ধ হয়েছে ২০২ মাদ্রাসা by এস এম আববাস

বেতন-ভাতার সরকারি অংশ পাওয়ার অপেক্ষায় সারাদেশে বছরের পর বছর টিকিয়ে রাখা হয় তিন শতাধিক দাখিল মাদ্রাসা। হাতেগোনা দু’একটি মাদ্রাসার অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী থাকলেও বেশিরভাগে সেসব নেই। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ন্যূনতম শর্ত পূরণের মতো অবস্থাও নেই এসব মাদ্রাসার। তবুও টিকিয়ে রাখা হয়েছিল এগুলো। তবে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার লেমুয়া চন্দ্রকান্দা আলিম মাদ্রাসার অনিয়ম খুঁজতে গিয়ে বদলে গেছে দৃশ্যপট। এই মাদ্রাসার এমপিও বন্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের কাছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা চাওয়ার পর একদিনে বন্ধ করা হয় ২০২টি মাদ্রাসা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) রনক মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় না ও পাসের হার শূন্য, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নিয়ম-নীতি না মেনে সরকারি বেতন-ভাতার অংশ পাওয়ার আশায় অচল প্রতিষ্ঠানও টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চোখে পড়েছে আমাদের। এর পেছনে যাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে,  তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জানা গেছে, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার লেমুয়া চন্দ্রকান্দা আলিম মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী প্রত্যাশিত সংখ্যায় না থাকা ও আশানুরূপ ফল অর্জন না করায় সেখানে এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) বন্ধের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। এই বিভাগের সহকারী সচিব মো. আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত ওই চিঠির পর এমপিও বন্ধ না করে উল্টো পুরো মাদ্রাসার এমপিও বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এটি পেয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা চায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।
সহকারী সচিব মো. আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত চিঠিতে ব্যাখ্যা চেয়ে বলা হয়, লেমুয়া চন্দ্রকান্দা আলিম মাদ্রাসার এমপিও বন্ধ করার অনুরোধের পর কেন পাঁচ মাস পর এমপিও বন্ধের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলো তা আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে জানাতে হবে। এছাড়া লেমুয়া চন্দ্রকান্দা আলিম মাদ্রাসার মতো দেশে কতটি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কাছে তা জানতে চায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এসব চিঠি পেয়ে এ বছরের ৯ এপ্রিল ২০৭টি দাখিল মাদ্রাসা সুপারকে চিঠি দেয় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এতে বলা হয়, কেন প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি ও একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল ও অনলাইন পাসওয়ার্ড ইআইআইএন বন্ধ করা হবে না, ২১ কর্মদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে তা জানাতে হবে।
এরপর গত ২৮ মে ওই ২০৭টি মাদ্রাসার মধ্যে ২০২টি মাদ্রাসার পাঠদানের অনুমতি ও একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল ও অনলাইন পাসওয়ার্ড ইআইআইএন বন্ধ করা হয়। তবে এখনও মন্ত্রণালয়ের চিঠির ব্যাখ্যা দেয়নি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।
এদিকে বন্ধ করা মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে কতটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেই বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা। এছাড়া সেগুলো কতদিন ধরে এমপিওভুক্ত, কতটি মাদ্রাসা বেতন-ভাতার সরকারি অংশ পাওয়ার অনুপযুক্ত ছিল, অনুযুক্ত থাকার পরও কেন প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে এমপিও দেওয়া হয়েছে, কারা এর সঙ্গে যুক্ত; এসব জানতে চাওয়া হবে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কাছে।

ঈদের নামাজের ব্যবস্থা করলো মন্দির কমিটি

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজিরের স্বাক্ষী হলো পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার গোবরডাঙা শহর। ঈদের নামাজ আয়োজনের জন্য যুতসই স্থান পাচ্ছিলেন না গোবরডাঙার গড়পাড়া এলাকার মুসলিমরা। ঈদগাহ কোথায় করবেন তা নিয়ে বিপাকে পড়ে যান। তাদের এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী স্থানীয় যুবকেরা। মন্দির সংলগ্ন মাঠটি তারা নিজ দায়িত্বে পরিস্কার করে দেন।
কলকাতার এই সময় এ উঠে এসেছে ঘটনাটি। এতে বলা হয়, কয়েক মাস আগেই গোবরডাঙা-সহ উত্তর ২৪ পরগনার অনেক জায়গা গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। ওই সংঘর্ষে প্রচুর ঘরবাড়ি ভাঙচুর হয়, চলে লুঠপাট। শনিবার ঈদের দিনের এই ঘটনা সেই অতীতকে ভুলিয়ে দিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গড়পাড়ায় ঈদগাহ থাকলেও সেখানে নামাজ পড়ার কোনও জায়গা নেই। একেবারেই ছোট মসজিদ। শনিবার মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন ঈদগাহে নামাজ পড়ার সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরেন মসজিদ কমিটির কর্তাদের কাছে। মসজিদ কমিটি ঈদগাহর স্থান সঙ্কটের কথা জানান সমীর নন্দী, শঙ্কর দত্ত, বিশ্বজিত দাসের মতো স্থানীয় যুবকদের ।  তারা মসজিদ কমিটিকে বলেন, ‘কোনও চিন্তা করবেন না। আমরা আছি।’ ওই এলাকায় একটি ক্লাবের পাশেই রয়েছে দুর্গামন্দির। দুর্গা পুজা কমিটির সভাপতি সমীর নন্দী ও তার বাকিরা মিলে সিদ্ধান্ত নেন, মন্দির সংলগ্ন মাঠটি ঈদের জামাত আয়োজনের উপযোগী করে দেবেন। যেমন কথা, তেমন কাজ। তারা মন্দির লাগোয়া মাঠ পরিষ্কার করে দেন তাড়াতাড়ি। তার পর সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। স্থানীয় যুবকদের এই ভূমিকায় সেখানকার মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন যারপরনাই খুশি।
গড়পাড়ার মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু বক্কর বলেন, ‘এলাকার ঈদগাহটি খুব ছোট। সেখানে বসে এক সঙ্গে নামাজ পড়ার জায়গা ছিল না। ফলে সমস্যা হচ্ছিল। অনেক দূরে যেতে হতো নামাজ পড়তে। স্থানীয় হিন্দু ভাইরা সেই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন তাদের মন্দির সংলগ্ন মাঠের জায়গা ছেড়ে দিয়ে। খুব ভালো লাগছে। এই সহাবস্থান নিঃসন্দেহে নজির হয়ে থাকবে।’
দুর্গা পুজো কমিটির সভাপতি সমীর নন্দী বলেন, ‘আমরা সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শুধুমাত্র ঈদগাহে জায়গা না থাকার কারণে খুশির ঈদে নমাজ পড়া বন্ধ থাকবে, মানুষ হিসেবে এটা আমরা মেনে নিতে পারিনি। তাই তাদের সুযোগ করে দিতে পেরে আনন্দই হচ্ছে। এই ভাবে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের সুখে দুঃখে এগিয়ে এলেই সাম্প্রদায়িক হানাহানি বন্ধ হয়ে যাবে।’
খবরের শেষে বলা হয়, সংস্কৃতি চর্চার পীঠস্থান হিসেবে গোবরডাঙার নাম রয়েছে। স্থানীয় ক্লাবের পাশে যেমনি দুর্গামন্দির কমিটির জায়গা রয়েছে, তেমনি তার পাশেই আছে মসজিদ। আবার একটু দূরেই গির্জাও আছে। ভীন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে এখানে সম্প্রীতি নজরে পড়ার মতো।