Sunday, September 11, 2011

ডিএসইতে সাড়ে সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন

দরপতনের বৃত্ত থেকে কিছুতেই যেন বেরিয়ে আসতে পারছে না দেশের শেয়ারবাজার। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নানা প্রচেষ্টাও বাজারে প্রাণ ফেরাতে পারছে না। তাদের সব ধরনের উদ্যোগই বিফলে যাচ্ছে। দিন দিন বাজার খারাপ হচ্ছে। তা ছাড়া দৈনিক লেনদেন কমার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও কমছে।
দরপতন ঠেকাতে ঈদের আগে তালিকাভুক্ত সব শেয়ারের এক ও অভিন্ন অভিহিত মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা দেয় এসইসি। ওই সিদ্ধান্তের পর টানা দুই কার্যদিবসে বাজারে তার বেশ ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। কিন্তু এরপর শবে কদর, সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদুল ফিতরের জন্য টানা নয় দিন শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকে। বন্ধের পর লেনদেন শুরু হলে ফের দরপতনের ধারায় ফিরে যায় শেয়ারবাজার।
বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে এখন ক্রেতা পক্ষ বেশ দুর্বল। আগের মতো ক্রেতা নেই বাজারে। যাঁরা আছেন, তাঁরা ছোট পুঁজির ক্রেতা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও খুব বেশি সক্রিয় নন। তার ওপর নগদ অর্থের সংকট এখনো প্রবল। এসব কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় ভুগছেন; যার প্রভাবে বাজার দরপতনের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন গতকাল বৃহস্পতিবার নেমে এসেছে ২৪১ কোটি টাকায়। এটি গত সাড়ে সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি সর্বশেষ ডিএসইতে ২০৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।
লেনদেন কমার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা বাড়ছে বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকে।
যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারে এখন প্রবল তারল্যসংকট রয়েছে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট তো আছেই। বাজারে এখন ক্রেতা পক্ষ খুবই দুর্বল। আবার একটানা দরপতনের কারণে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ে অনেকেই শেয়ার ধরে রেখেছেন।’
সাময়িকভাবে এই চিত্র কিছুটা হতাশাজনক হলেও বাজারের জন্য এটি খুবই ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করেন মোহাম্মদ এ হাফিজ। তাঁর মতে, এখন যদি বাজারে কেউ বিনিয়োগ করেন, তাঁর লোকসানের ঝুঁকি খুবই নগণ্য।
মোহাম্মদ এ হাফিজ আরও বলেন, ‘বাজারকে স্থিতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাজারে সক্রিয় হতে হবে।’
বাজারচিত্র: গত বুধবার দর বাড়লেও সপ্তাহের শেষ দিন গতকাল বৃহস্পতিবার দরপতন দিয়েই লেনদেন শেষ হয়েছে। ডিএসইতে দিন শেষে সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৭৭ পয়েন্টে। এই দিন লেনদেন হওয়া ২৫১টি কোম্পানির মধ্যে ১৫৬টিরই দাম কমেছে। বেড়েছে ৮০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৫টির দাম। লেনদেন কমেছে আগের দিনের চেয়ে ৬৭ কোটি টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক গতকাল ৬৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ১৯৮ পয়েন্টে। লেনদেন হওয়া ১৭৭ কোম্পানির মধ্যে ১২৮টিরই দাম কমেছে। বেড়েছে ৩৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির দাম। দিন শেষে সিএসইতে ৩৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে চার কোটি টাকা কম।

মেসির চোখে ম্যারাডোনাই সেরা

টানা দুটো জয়। যেকোনো অধিনায়কের মুখভরা হাসি থাকারই কথা। হাসি ফুটেছে লিওনেল মেসির মুখেও। ভেনেজুয়েলার পর নাইজেরিয়াকে হারানো, ১-০ জয়ের পর ৩-১-এ জয়। আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক দলের এই উন্নতির ধারাটা দেখতে চান সামনেও।
নাইজেরিয়ার ম্যাচ নিয়ে মেসি বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের বেশ কিছু ব্যর্থতার পর এই জয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জয় ব্যাপারটাই ইতিবাচক, এটা আপনার মধ্যে তৃপ্তির অনুভূতি এনে দেয়।’
কলকাতা ও ঢাকা সফরে একটা জিনিসই মেসির পছন্দ হয়নি—অসহ্য গরম। এ ছাড়া বাকি সবকিছুই উপভোগ করেছেন, ‘আমরা কিন্তু দুটো ম্যাচেই ভালো সুযোগ তৈরি করেছি। মাঠের অবস্থা আর ভীষণ গরম আবহাওয়ার পরও আমরা ভালো খেলেছি। দল সম্পর্কে একটা ভালো ধারণাও গড়ে উঠেছে। ম্যাচ জেতাটাই আসল। এখন এই উন্নতির ধারাটা ধরে রাখতে হবে।’
নতুন কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলার সূচনাটাও হয়েছে ইতিবাচক, যদিও আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমে কড়া সমালোচনা হচ্ছে নাইজেরিয়ার খেলার ধরন নিয়ে। এই ম্যাচে মেসির ওপর বেশ চড়াও হয়ে খেলেছে নাইজেরিয়া। একবার তো মারাত্মক ফাউলের শিকার হয়ে মাঠে পড়ে ছিলেন মেসি। ঠোঁট কেটে গিয়েছিল তাঁর।
মেসি অবশ্য নাইজেরিয়ার ওপর কোনো রাগ পুষে রাখেননি, ‘শুধু আমাকেই নয়, ওরা আমাদের অনেক খেলোয়াড়কেই আঘাত করেছে। তবে আমার মনে হয় না ওরা ইচ্ছা করে নোংরা খেলেছে। আমিও মাঠে এমনটা ভেবে নামি না, আমাকেই মারা হবে, আমি মাঠে নামি খেলার জন্য।’
আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে মেসির অনেক স্বপ্ন। জানিয়েছেন নিজের ব্যক্তিগত একটা স্বপ্নের কথাও। বার্সেলোনায় খেলা শেষ করে মেসি আবার ফিরে যেতে চান তাঁর নিজের প্রথম ক্লাবে। রোজারিওর মেসির শুরুটা হয়েছিল স্থানীয় নিওয়েলস ওল্ড বয়েজে। কিন্তু পেশাদার লিগে অভিষেক হওয়ার অনেক আগেই ১৩ বছর বয়সে চলে যান বার্সেলোনায়।
‘সেই ছোট্টটি থাকার সময়ই আমি আর্জেন্টিনার লিগে নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখেছি। আমি তাদের হয়ে খেলতে চাই। ছোটবেলায় টিভিতে ওদের খেলা কতদিন দেখেছি।’ আরও বলেছেন, পেলের চেয়ে ম্যারাডোনাই সেরা, ‘ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়টির নাম ম্যারাডোনা। এতে কোনো সন্দেহই নেই। আমি পেলেকে খেলতে দেখিনি, তবে ডিয়েগোই যে সেরা, এটা জানার জন্য পেলের খেলা দেখার দরকারও আমার নেই।’

এরপর ঢাকায় ম্যারাডোনা-ম্যানইউ?

মেসি ঢাকায় আসার পর আর কিছুই অসম্ভব মনে করছেন না কাজী সালাউদ্দিন। বাফুফের সভাপতি কাল বলেছেন, বাফুফের শীর্ষ পদে ফের নির্বাচিত হলে ঢাকায় প্রথমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে আনার চেষ্টা করবেন।
‘আগামী এপ্রিলে বাফুফের বর্তমান কমিটির চার বছরের মেয়াদ শেষ। আবার নির্বাচিত হলে আগামী জুলাইয়ের ১২ অথবা ১৫ তারিখ ঢাকায় ম্যানইউকে দেখতে পারেন’—বলেছেন সালাউদ্দিন।
জুলাইয়ের ১২ অথবা ১৫ তারিখ কেন? তাঁর কথা, ‘ওই দুটি দিনে ম্যানইউর শিডিউল পাওয়া যেতে পারে। সে জন্যই বলেছি।’ পাশাপাশি যোগ করেন, ‘যেহেতু ম্যারাডোনা এখন দুবাইয়ের আল ওয়াসল ক্লাবের কোচ, আমাদের কাছাকাছিই আছেন, চেষ্টা করলে আনা কঠিন কিছু নয়। আমি আবার নির্বাচিত হলে ম্যারাডোনাকে আনতে চাইব জুলাইয়ের মধ্যে।’
নতুন লক্ষ্য নিয়ে সালাউদ্দিন যখন কথা বলছিলেন তাঁর কক্ষে, ঢাকায় আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচ আয়োজনের নানা অব্যবস্থাপনার আরও কিছু ছবি পাওয়া গেল। গোটা আয়োজনটা ছিল বাফুফের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ৫০ হাজার টাকার টিকিট কেটেও অনেকে গিয়ে দেখেন, আসন দখল। কে বা কারা আসন দখল করে ফেলেছে। আঙুল তোলা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর। তারা নিজেদের লোকজনকে দেদার মাঠে ঢুকিয়েছে বলে বাফুফের কর্মকর্তারা বলাবলি করছেন।
সালাউদ্দিন নিজেই দিলেন বিস্ময়কর তথ্য, ‘কার কথা কী বলব, আমি নিজেই বসার জায়গা পাইনি! এমনকি সালমান ভাইকে (৩০ কোটি টাকার এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান) পর্যন্ত বসার জায়গা দিতে পারিনি। সব সিট দখল, যারা বসে আছে, তাদের অনেককে চিনিও না। সালমান ভাই পরে বললেন, তাঁকে গ্যালারিতে বসার ব্যবস্থা করে দিতে। শেষমেশ ফেডারেশনের এক কর্মকর্তাকে তুলে তাঁকে বসতে দিয়েছি ভিআইপিতে। আমি নিজে দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম, ঠিকভাবে খেলাও দেখতে পারিনি। এই হলো অবস্থা...।’
কারা, কীভাবে ভিআইপি বক্সসহ নানা জায়গায় ঢুকে পড়ে বিনা টিকিটে ম্যাচ দেখেছে, তার তদন্ত দাবি করেছেন এই আয়োজনের নিরাপত্তা কমিটির প্রধান বাফুফের সহসভাপতি বাদল রায়। পাশাপাশি বিভিন্ন সাব-কমিটির নামে কারা দেদার কার্ড (যা গলায় ঝুলিয়ে শাহেনশাহর মতো অচেনা সব লোক খেলা দেখেছে বিনা টিকিটে) বিলিয়েছে, তারও তদন্ত চেয়েছেন। অনুশীলন সেশনের টিকিট-বাণিজ্যসহ আর যেসব বাণিজ্য হয়েছে, সবকিছুরই তদন্তের দাবি উঠেছে।
সালাউদ্দিন তদন্তের আভাস দিয়েছেন, অবশ্যই আমরা সবকিছু খতিয়ে দেখব। তদন্ত হতেই হবে। নইলে ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারব না। শিক্ষা নেওয়াটা জরুরি।’ আয়োজক কমিটির প্রধান আনোয়ারুল হক জানালেন, ম্যাচের সময় মাঠে বড় পর্দাটা অচল হয়ে থাকার জন্য নিজেদের দায় স্বীকার করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে চিঠি দিয়ে দায়িত্ব নিতে বলেছেন তিনি।
এই আলোচনায় উঠে আসে ডিসেম্বরে ভারতের কটকে অনুষ্ঠেয় সাফ ফুটবলের জন্য বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি নিয়েও। এখন পর্যন্ত বাফুফে কোনো পরিকল্পনাই করেনি। আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের আড়ালে আসল জিনিসটাই ঢাকা পড়ে আছে। সালাউদ্দিন কাল বললেন, ‘এবার জাতীয় দলকে প্রস্তুতির জন্য দুই মাস সময় দিয়ে বলব, প্রস্তুতির ঘাটতি রাখিনি। কাজেই ফল দাও।’ তবে সেখানে নানা মতের পর মাস খানেক অনুশীলন হবে বলেই মনে হলো।
সাফ টুর্নামেন্ট শেষে ডিসেম্বরে ফেডারেশন কাপ দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু। নভেম্বরে বাংলাদেশ লিগের দ্বিতীয় স্তর। সুপার কাপ নিয়েও কথা উঠেছে। এটি নিয়ে সালাউদ্দিন বলছেন, ‘সুপার কাপ রাখব কি রাখব না, ভেবে দেখতে হবে। রাখলে কীভাবে করব, সেটিও ভাবতে হবে।’
এ মাসেই ঢাকায় হওয়ার কথা ছিল প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নস লিগ। নতুন করে এটির ভাগ্য নির্ধারিত হবে কয়েক দিনের মধ্যেই।

কঙ্গোর কারাগার থেকে এক হাজার বন্দীর পলায়ন

কঙ্গোর একটি কারাগার থেকে প্রায় এক হাজার বন্দী পালিয়ে গেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কাটঙ্গা প্রদেশের কাসাপা কারাগারে গত বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া এক শীর্ষ জঙ্গিকে মুক্ত করতে মুখোশ পরা বন্দুকধারীরা কারাগারে ঝটিকা হামলা চালালে ওই বন্দীরা পালিয়ে যায়। প্রদেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিকাঙ্গা কাজাদি এ কথা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, কারারক্ষীদের চোখে ধুলো দিয়ে আটজন বন্দুকধারী দর্শনার্থী সেজে প্রদেশটির লুবাম্বাশি শহরের কাছে কাসাপা কারাগারে ঢুকে পড়ে। জেলখানাটিতে মাই-মাই সম্প্রদায়ভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠীর শীর্ষ নেতা ‘কমান্ডার গেডোন’ খ্যাত গেডোন কায়্যুঙ্গু মুটাঙ্গা আটক ছিলেন। বন্দুকধারীদের হামলার সুযোগে বন্দীরা কারাগারের বেষ্টনী দেয়াল ভেঙে পালিয়ে যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিকাঙ্গা বলেন, বন্দুকধারীরা পুলিশ ও কারারক্ষীদের লক্ষ করে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় দুইজন নিহত হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাঁরা কারারক্ষী, দর্শনার্থীসহ দুইয়ের অধিক মৃতদেহ দেখেছেন।
বন্দুকধারীরা ওই জঙ্গি নেতাকে মুক্ত করা ছাড়াও জেলখানা থেকে মোট ৯৬৭ জন বন্দীকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। তবে পালিয়ে যাওয়া ১৫০ জন বন্দীকে ফের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

কাশ্মীর থেকে সাইবার ক্যাফের মালিকসহ তিনজন আটক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির হাইকোর্টের অভ্যর্থনাকক্ষে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের আটক করা হয়।
এদিকে গতকাল ভারতীয় মুজাহিদিন নামে আরও একটি জঙ্গি সংগঠন এ হামলার দায় স্বীকার করে গণমাধ্যমে ই-মেইল বার্তা পাঠিয়েছে।
নয়াদিল্লির হাইকোর্টে গত বুধবার ওই শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং প্রায় ৮০ জন আহত হয়।
আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাইবার ক্যাফের একজন মালিক রয়েছেন। বাকি দুইজনের একজন সাইবার ক্যাফের মালিকের ভাই ও অপর জন কর্মচারী এর আগে হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি (হুজি) গণমাধ্যমে যে ই-মেইল বার্তা পাঠিয়েছিল, তা ওই সাইবার ক্যাফে থেকে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বুধবার হামলার পর হুজি ওই দিনই ই-মেইলে এ হামলার দায় স্বীকার করে। হুজি ই-মেইল বার্তায় জানিয়েছে, ২০০১ সালে ভারতের পার্লামেন্টে সন্ত্রাসী হামলার দায়ে আফজাল গুরুর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাতিল করা না হলে এ ধরনের হামলা আরও চালানো হবে। তবে ই-মেইল বার্তাটি সত্যিই হুজির কি না, তা খতিয়ে দেখছে ভারত সরকার। হুজি এর আগেও ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
হুজি এ হামলার দায় স্বীকার করার এক দিন পর গতকাল ভারতীয় মুজাহিদিন এ হামলার দায় স্বীকার করে গণমাধ্যমে ই-মেইল বার্তা পাঠিয়েছে। ‘ছুটু’ নামে পাঠানো ওই ই-মেইল বার্তায় বলা হয়েছে, এ হামলায় হুজির কোনো ভূমিকা নেই। ভারতীয় মুজাহিদিন এ হামলা চালিয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব আর কে সিং সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে হাইকোর্টের একটি ফটকের পাশের অভ্যর্থনাকক্ষে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। তখন আদালতের ভেতরে প্রবেশের জন্য অভ্যর্থনাকেন্দ্রে কয়েক শ লোক অবস্থান করছিল। হাইকোর্টের ৫ নম্বর ফটকসংলগ্ন ওই অভ্যর্থনাকেন্দ্রের কাউন্টারের পাশেই বিস্ফোরকভর্তি একটি ব্রিফকেস রাখা ছিল।
চার মাস আগেও দিল্লি হাইকোর্টকে আরেকবার হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তখন হাইকোর্টের সামনে গাড়ি রাখার স্থানে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বা কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

সেনা নির্যাতনেই মৃত্যু হয়েছিল বাহা মুসার

ইরাকে যুক্তরাজ্যের সেনা হেফাজতে নির্যাতনেই বাহা মুসার নামের এক ইরাকি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ইরাকি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। নির্যাতনে মুসার মৃত্যু হয়েছে বলে এতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান স্যার উইলিয়াম গেজ বাতিল করে দেওয়া পদ্ধতিতে ইরাকে বন্দী নির্যাতনের এ ঘটনায় যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন।
ইরাকের বসরায় ২০০৩ সালে ব্রিটিশ সেনা হেফাজতে বাহা মুসার মৃত্যু হয়। তাঁর শরীরে ৯৩টি ক্ষত ছিল। ২০০৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বসরার হেইথাম হোটেল থেকে মুসা ছাড়াও নয়জন ইরাকিকে যুক্তরাজ্যের ‘ফার্স্ট ব্যাটালিয়ন দ্য কুইনস ল্যাঙ্কাশায়ার’ রেজিমেন্টের সদস্যরা গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের দুই দিন পরই দুই সন্তানের জনক মুসার মৃত্যু হয়।
স্যার উইলিয়াম বলেন, মুসা ও অন্যদের ওপর বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছিল। নির্যাতনকারীদের দলে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাও ছিলেন। তা ছাড়া অন্য সেনারাও এই নির্যাতনের কথা জানতেন। তার পরও ঘটনাটি প্রকাশ করার মতো নৈতিক সাহস না থাকায় ওই সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের নিন্দা জানান স্যার উইলিয়াম।

অস্ত্রোপচার শেষে দেশে ফিরলেন সোনিয়া গান্ধী

অস্ত্রোপচার শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি দেশে ফেরেন বলে দলের মুখপাত্র জনার্দন দ্বিবেদী জানান। গত ৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে সোনিয়া গান্ধীর অস্ত্রোপচার হয়।
তবে সোনিয়া গান্ধীর অসুস্থতা কিংবা কী জন্য তাঁর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ল, তা জানা যায়নি।
জনার্দন দ্বিবেদী জানান, সোনিয়া গতকাল সকালে দেশে ফিরেছেন এবং ভালো আছেন। সোনিয়া গান্ধী কবে থেকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু করতে পারবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে দলের মুখপাত্র বলেন, এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। এটা চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করছে।
সোনিয়া বিদেশে অবস্থানকালে কংগ্রেসের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাঁর ছেলে রাহুল গান্ধী আছেন ওই কমিটিতে।

ফুকুশিমা পরিদর্শনে গেলেন জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিকো নোদা গতকাল বৃহস্পতিবার ভূমিকম্প ও সুনামিবিধ্বস্ত ফুকুশিমা এলাকা পরিদর্শনে গেছেন। এক সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তিনি সেখানে গেলেন।
ফুকুশিমার দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন ও ফুকুশিমার গভর্নর ইউহেই সাতোর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে নোদার। গত ১১ মার্চের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল ফুকুশিমার জে-ভিলেজ স্পোর্টস ফ্যাসিলিটি পরিদর্শন করেন। এখানে থেকে ছয় মাস ধরে কর্মীরা পরমাণু দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছেন। কর্মীদের উদ্দেশে নোদা বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আপনারা জাপানের জনগণের জন্য সামনের সারিতে থেকে কাজ করেছেন। এ জন্য আপনাদের আমার অন্তস্তল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’
নোদা ফুকুশিমায় মোতায়েন সেনাদেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তাঁরা জাপানের কল্যাণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন।
ইয়োশিহিকো নোদা গত শুক্রবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানের স্থলাভিষিক্ত হন। ভূমিকম্প ও সুনামি-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থতার জন্য সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেন কান।

মহাপ্লাবনের আশঙ্কায়

চীনের এক ব্যক্তির ধারণা হয়েছে, আরেক মহাপ্লাবনে ২০১২ সালে পৃথিবী ধ্বংস হতে যাচ্ছে। তাই তিনি বাঁচার আশায় ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত হজরত নূহ্ (আ.)-এর নৌকার অনুকরণে একটি নৌকা বানাতে শুরু করেছেন। চীনের সাংহাই ডেইলি পত্রিকা এ কথা জানিয়েছে।
আট মিটার দীর্ঘ ও আড়াই মিটার প্রস্থের এ নৌকা বানাতে ২০ হাজার ইউয়ান (তিন হাজার ১৩০ ডলার) ব্যয় হবে। নৌকাটিতে বাতাস চলাচলের তিনটি পথ ও কয়েকটি ছোট জানালা রাখা হয়েছে। এদিক-সেদিক চলাচলসহ একটি ট্রাকের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য নৌকাটিতে ছয়টি চাকাও লাগানো হয়েছে।
সাংহাই ডেইলি জানায়, হেনান প্রদেশের লুওহে অঞ্চলের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি বলেন, মহাপ্রলয়ের দিন নৌকাটি পানিতে ভাসানো হবে। নৌকার দরজা-জানালাগুলো দৃঢ়ভাবে বন্ধ রাখা হবে।
২০ জন মানুষ ধারণক্ষম নৌকাটিতে তিনটি কক্ষ রয়েছে। প্রথমটি বিশ্রামকক্ষ, দ্বিতীয়টি একটি ভাড়ার যেখানে প্রায় এক মাসের খাদ্য মজুদ রাখা যাবে আর তৃতীয় ও শেষটি শয়নকক্ষ। তা ছাড়া নৌকাটিতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহে জেনারেটর ও রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও রাখা যাবে।

জাতিসংঘের স্বীকৃতির দাবিতে ফিলিস্তিনের প্রচারণা শুরু

জাতিসংঘের ১৯৪তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রচারণা শুরু করেছে ফিলিস্তিন। এ প্রচেষ্টায় সমর্থন দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। তবে যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়েছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ ব্যাপারে কোনো প্রস্তাব গেলে তারা তাতে ভেটো দেবে।
জাতিসংঘের কাছে প্রস্তাব উপস্থাপনের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে গতকাল বৈঠক করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। এ বৈঠকে যোগ দেন আব্বাসের দল ফাতাহর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।
মাহমুদ আব্বাস ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে দেখা করে সদস্যপদ পাওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়ার দাবিতে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অবস্থিত জাতিসংঘ কার্যালয়ের উদ্দেশে গতকাল রামাল্লা শহর থেকে একটি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে এতে যোগ দেয় শতাধিক মানুষ। জাতিসংঘের স্বীকৃতির দাবিতে তারা স্লোগান তোলে, ‘আমরা আমাদের পরিচয় চাই, আমরা রাষ্ট্র চাই।’ তাদের প্রস্তাবে সমর্থন দেওয়ার দাবি জানিয়ে সেখানে বান কি মুনের উদ্দেশে একটি পত্র দেওয়া হয়।
পদযাত্রা ও প্রচারণার সমন্বয়কারী আহমেদ আসাফ বলেন, ‘আজ থেকে আমরা প্রচারণা শুরু করলাম এবং আমাদের গন্তব্য জাতিসংঘ কার্যালয়। আমরা আশা করছি, আমাদের দাবিতে তারা সাড়া দেবে।’
আহমেদ আসাফ আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের চেয়ে আমরা কম গুরুত্বপূর্ণ নই। আমরা ১৯৪তম সদস্য হতে চাই।’
বান কি মুনের উদ্দেশে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ফিলিস্তিনকে ১৯৪তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রচারণা অব্যাহত থাকবে। ৬৩ বছর আগে ফিলিস্তিনের মানুষ তাদের নিজেদের ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়। তাদের ন্যায়বিচার ও অধিকার আদায়ের জন্য আপনি তাদের পাশে দাঁড়াবেন।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘দখলদারির অবসান এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা এবং সর্বোপরি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করছি, আপনিও ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির বিষয়টি সমর্থন জানাবেন।’
তবে ফিলিস্তিনের এই প্রচেষ্টায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কূটনৈতিক মহলে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চাইলে তাদের জন্য একমাত্র পথ হবে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মধ্য দিয়ে যাওয়া। কয়েক বছর ধরে এই আলোচনা বন্ধ আছে।
তবে ফিলিস্তিন জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েল পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বন্ধ না করা পর্যন্ত তারা আলোচনায় যাবে না। আর ইসরায়েলি রাজনীতিবিদেরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিলে তাতে সহিংসতার আশঙ্কা আরও বেড়ে যাবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তৃতীয় শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে ওবামা মনোনীত উইন্ডি শারম্যান গত বুধবার বলেছেন, ‘ফিলিস্তিন যদি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব উত্থাপন করে, তাহলে আমরা তাতে ভেটো দেব।’

মোশাররফকে বিশ্বাস করাটা ছিল ভুল

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক বিশেষজ্ঞ ব্রুস রিডেল বলেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বেশ কিছু ভুল করেছে। সবচেয়ে বড় ভুলটি ছিল ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার পর ইরাক দখল করতে গিয়ে পাকিস্তানের আল-কায়েদাকে পাত্তা না দেওয়া। আরেকটি কৌশলগত ভুল ছিল, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পাকিস্তানের তখনকার প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফকে বিশ্বাস করা।
রিডেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এটা এমন একটা যুদ্ধ, যা অনেক বছর আগেই শেষ হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘নাইন-ইলেভেন হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিষ্ঠুর ও চতুর শত্রুপক্ষের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এটা মোকাবিলায় কঠোর ও অব্যাহত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত ছিল। কিন্তু আমরা এর কোনোটাই না করে বড় ভুল করেছি।’
আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কীভাবে মূল্যায়ন করেছে, সে-সংক্রান্ত একটি নিবন্ধ লিখতে গিয়ে রিডেল এসব কথা বলেন। তিনি বর্তমানে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনে পররাষ্ট্রনীতির ওপর কাজ করছেন।
রিডেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার কৌশলগত যেসব ভুল করেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ইরাক দখল করতে গিয়ে পাকিস্তানের আল-কায়েদাকে উপেক্ষা করা। পাকিস্তানের আল-কায়েদাকে হুমকি হিসেবে নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, লাদেনের দক্ষতাকে অবমূল্যায়ন করেছে বুশ প্রশাসন। ভুল করেছে পারভেজ মোশাররফকে বিশ্বাস করে। সন্ত্রাসবাদ দমনে তাঁর প্রশাসন কিছুই করেনি। পাকিস্তান এখনো বিশ্বব্যাপী জিহাদের মূল কেন্দ্র।
তবে বিন লাদেনের মৃত্যুর পর চিত্র অনেকটা পাল্টেছে বলে অভিমত রিডেলের। তিনি বলেন, লাদেনের মৃত্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সাম্প্রতিক বিপ্লব যুক্তরাষ্ট্রের সেসব ভুল পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সবশেষে রিডেল বলেন, ‘আমাদের শত্রুরা এখনো ভয়ংকর এবং তাদের মোকাবিলা করাটা অতটা সহজ নয়। তাই সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আরেকটি দশক ব্যয় না করে যাতে দ্রুত সফলতা অর্জন করা যায়, সে লক্ষ্যে আমাদের সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

গ্রাউন্ড জিরোতে নির্মিত স্মারকস্তম্ভ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নয়-এগারোর সন্ত্রাসী হামলায় গুঁড়িয়ে যাওয়া টুইন টাওয়ারের গ্রাউন্ড জিরোতে নির্মিত স্মারকস্তম্ভ (মেমোরিয়াল) ‘নিউ গ্রাউন্ড জিরো’ অবশেষে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে।
নয়-এগারোর সন্ত্রাসী হামলার এক দশক পূর্তির দিন আগামী রোববার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মারকস্তম্ভটি নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। এর পরদিন অর্থাৎ ১২ সেপ্টেম্বর সেটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ গ্রাউন্ড জিরোতে নির্মিত নতুন বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্রটিকে (ডব্লিউটিসি) আর ‘গ্রাউন্ড জিরো’ না বলে সেটিকে ‘৯/১১ স্মারকস্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত করতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন।
সন্ত্রাসী হামলায় মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্রটির মোট ১৬ একর জায়গার অর্ধেক নিয়ে নির্মিত হয়েছে ৯/১১ স্মারকস্তম্ভটি। মেয়র ব্লুমবার্গ বলেন, ‘গ্রাউন্ড জিরোর সেই ভয়াল স্মৃতি কখনোই আমাদের স্মৃতিপট থেকে মুছে যাবে না। কিন্তু এই ১৬ একর জায়গাকে প্রকৃত পরিচয়ে ডাকার সময় এসেছে: “বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্র, জাতীয় ১১ সেপ্টেম্বর স্মারকস্তম্ভ এবং জাদুঘর”।’
ধ্বংস হয়ে যাওয়া টুইন টাওয়ার যে স্থানে দাঁড়িয়ে ছিল, ঠিক তার পদচিহ্নে নির্মিত হয়েছে জোড়া সুইমিং পুল। সেখানকার জলপ্রপাতটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বড় কৃত্রিম জলপ্রপাত। পুল দুটির পাড় বাঁধা হয়েছে ব্রোঞ্জ দিয়ে। সেখানে খোদাই করা হয়েছে ২০০১ সালে নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া ও পেন্টাগনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ব্যক্তিদের নাম ছাড়াও ১৯৯৩ সালে বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্রে বোমা হামলায় নিহত ছয় ব্যক্তির নামও। পুল দুটির চারপাশে লাগানো হবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, যেগুলো আশা ও নবজীবনের (হোপ অ্যান্ড রিনিউয়াল) বার্তা বহন করবে। পুল দুটির বিষয়বস্তু (থিম) হচ্ছে—অনুপস্থিতির প্রতিবিম্ব (রিফ্লেকটিং অ্যাবসেন্স)।
স্মৃতিস্তম্ভের পাশে লাগানো হয়েছে একটি ‘সার্ভাইভর ট্রি’। এটি সেই নাশপাতিগাছ, যেটি সন্ত্রাসী হামলার পর বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্র থেকে উদ্ধার করে একটি নার্সারিতে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। গত বছর সেটি পুনরায় সেখানে রোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়া জায়গাটি পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে আরও কমপক্ষে ৪০০ গাছ রোপণ করা হবে।
স্মারকস্তম্ভটির নকশা এঁকেছেন স্থপতি মাইকেল অ্যারাড এবং সেখানকার ভূ-দৃশ্য স্থপতি পিটার ওয়াকার। মোট ৬৩টি দেশের পাঁচ হাজার ২০০-র বেশি নকশার মধ্য থেকে তাঁদের নকশা বাছাই করা হয়।
স্মারকস্তম্ভটির বাইরে ৯/১১ জাদুঘরটির নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। জাদুঘরটিতে স্থান পাবে নয়-এগারো হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিল্পকর্ম। এর মধ্যে থাকবে স্থিরচিত্র, অডিও এবং ধারণকৃত ভিডিওচিত্র, সংরক্ষিত বিবৃতি, ডিজিটাল নথি, উদ্ধার করা বিভিন্ন জিনিসপত্র, কাপড়চোপড়, হাতের লেখা চিঠি, ই-মেইল বার্তা ও ডায়েরি। সেগুলো হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের স্মৃতি বহন করে চলবে। জাদুঘরটি আগামী বছরের ১১ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হতে পারে।