Tuesday, August 9, 2011

কে তাঁকে মনে রেখেছে?

এত দীর্ঘ সময় খুব কম মানুষই কারাবাস করেছেন। বিপ্লবী মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ তাঁর জেলে ত্রিশ বছর ও পাক-ভারত স্বাধীনতা সংগ্রাম বইতে লিখেছেন, ‘আমি ভারতবর্ষের মধ্যে, ভারতবর্ষ কেন, সম্ভবত পৃথিবীর মধ্যে, রাজনৈতিক কারণে সর্বাপেক্ষা অধিক বৎসর যাঁহারা কারাগারে কাটাইয়াছেন, তাঁহাদের মধ্যে অন্যতম। বিভিন্ন সময় কারাগারে নেতাজী সুভাষ চন্দ্রের সাথে কাটাইয়াছি।’
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী। আজন্ম এই সংগ্রামী মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত ভারতবর্ষ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে নিজ দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে কাজ করে গেছেন।
জীবন-যৌবনের ৩০টি বছর কারাগারে কেটে গেলেও তাঁর বিপ্লব ছিল চিরজাগ্রত। জেলে আটকে রেখে তাঁর বিপ্লবী মনোভাবকে দাবিয়ে রাখা যায়নি। কখনো তিনি যোদ্ধা, কখনো গুপ্তচর।
খ্যাতিমান এই বিপ্লবীকে এখন আর কজনা মনে রেখেছেন? এমনকি তাঁর মতাদর্শের রাজনৈতিক মঞ্চেও তাঁর নামটি উচ্চারিত হয় না। মনে রাখার প্রয়োজন অনুভব করে না নিজ জেলা কিশোরগঞ্জ। গ্রামের বাড়ি কুলিয়ারচরবাসীরও ভোলা মন।
আগামীকাল ৯ আগস্ট কীর্তিমান এই ব্যক্তির মৃত্যুদিবস। ৪০ বছর আগের এই দিনে রাজনৈতিক কারণে লম্বা সময় কারাভোগকারী মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ ভারতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর দেড় মাস আগে ১৯৭০ সালের ২৪ জুন চিকিৎসার জন্য ভারতে যান তিনি। নিজ দেশ থেকে যাওয়াটা সম্মানের না হলেও ভারতবাসী তাঁকে গ্রহণ করেন সম্মান ও শ্রদ্ধায়। আনুষ্ঠানিক সম্মান জানাতে ২৫ জুলাই কলকাতা পৌরসভা আয়োজন করে নাগরিক সংবর্ধনার। সম্মান জানাতে পিছিয়ে থাকেনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও। তৎকালীন ইন্দিরা সরকার ৬ আগস্ট পার্লামেন্টে তাঁকে সংবর্ধনা দেয়। ৮ আগস্ট মহারাজের সম্মানে ভোজসভার আয়োজন করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের বহু মন্ত্রী, লোকসভার সরকারি ও বিরোধী পক্ষের অনেক সাংসদের উপস্থিতি ভোজসভাটিকে ভিন্ন মাত্রা দেয়। বিরল সম্মান পেয়ে বাসায় ফেরার পর থেকে মহারাজ শারীরিকভাবে অসুস্থ অনুভব করতে থাকেন। রাত তিনটার পর মহানায়কের জীবনাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের মানুষ সেদিন শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছিল। এর প্রমাণ মেলে পরদিন ১০ আগস্ট। মহারাজের মরদেহ নিয়ে কলকাতায় যে শোকযাত্রা বের হয়, তাতে লাখো ভক্ত ও রাজনৈতিক অনুসারীর উপস্থিতি ঘটে। পরে চোখের জলে কলকাতার কেওড়াতলা শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
মহারাজের বিপ্লবী চেতনার বিষয়টি আপামর জনসাধারণের জানা নেই। তবে রাজনীতিক, সমাজ সংস্কারক ও প্রগতিশীল সমাজকর্মীদের চোখে মহারাজকে ভারতবর্ষের আলোকবর্তিকা হিসেবে বিবেচনায় আনা হয়। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ বিপ্লবীদের এখনো উজ্জীবিত করে। মহারাজ পৃথিবীতে আসেন ১৮৮৯ সালে। জন্ম হাওরবেষ্টিত কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার নিভৃত পল্লি কাপাসাটিয়ার সাধারণ একটি পরিবারে। সালটি মনে থাকলেও তারিখটি কারও জানা নেই।
পিতা দুর্গাচরণ চক্রবর্তী ও মা প্রসন্নময়ী দেবীর পরিবারে ত্রৈলোক্যনাথ ছিলেন ছয় ভাইবোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
১৯০৮ থেকে ১৯৪৬ সালের মধ্যে কারাবাসের ৩০টি বছর ছিল মহারাজের জন্য কঠিন পরীক্ষা। পরীক্ষার এখানেই শেষ নয়, পাঁচ বছর তাঁকে গুপ্ত জীবন কাটাতে হয়। তা ছাড়া একই কারণে ১৯১৪ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছর ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে হয়।
মহারাজের ছাত্রজীবন শুরু হয় মালদহ জেলার কানসাটে। ১৯০৬ সালে তিনি বিপ্লবী পুলিনবিহারী দাশের কাছ থেকে স্বদেশি মন্ত্রের দীক্ষা গ্রহণ করেন। পলাতক জীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে মহারাজ লিখেছেন, ‘পান্তাভাত খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিন বছর পর বাড়ি ফিরি। মাত্র দশ দিন বাড়ি থাকার পর আবার শুরু সুদীর্ঘ পলাতক জীবন। তিন পয়সার ছোলা খেয়ে পঁচাশি মাইল পথ হেঁটে নিরাপদ আশ্রয় পাই।’
মহারাজের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময় আসে দেশ বিভাগের সময়। সে সময় অনেক হিন্দু পরিবার ভারতে পাড়ি জমায়। মহারাজ এ কাজটি করেননি; বরং হিন্দুরা যেন দেশত্যাগ না করে, সে বিষয়ে জেলায় জেলায় গিয়ে প্রচারণা চালান। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তান সরকার তাঁর এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ভালো চোখে দেখেনি। সন্দেহ থেকে তাঁর চিঠিপত্র পর্যন্ত জব্দ করে। জেলে ত্রিশ বছর ও পাক-ভারত স্বাধীনতা সংগ্রাম বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় দেশপ্রেমিক এই মানুষটিকে পাকিস্তান সরকার দুই বছরের জন্য কারারুদ্ধ করে রাখে।
সে সময় বিপ্লবী পুরুষটি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্বাস্থ্যহানি ঘটে। কারা কর্তৃপক্ষ কারাগারে মহারাজের মৃত্যুর আশঙ্কা করে কিছুটা ভীত হয়ে পড়ে। দায় এড়াতে তড়িঘড়ি মুক্তি দেয় নেতাকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য অনুসারীরা নেতাকে ভারতে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু সরকারের দিক থেকে অনুমতি মেলেনি। বহু আবেদন আর জনতার চাপ—সর্বোপরি ভারত সরকারের আগ্রহের কারণে ১৯৭০ সালের মে মাসে তিন মাসের জন্য তাঁর পাসপোর্ট মঞ্জুর করে সরকার। ১৯৭০ সালের ২৪ জুন মহারাজ খুব সকালে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।
তাঁর নিজ উপজেলা কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ১০ বছর আগের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ নামের একটি গণগ্রন্থাগার ছাড়া আর কোনো স্মৃতিচিহ্ন নেই। সেটিও হয়েছে এক সরকারি কর্মকর্তার হাত ধরে। সে সময় কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী মহারাজের স্মৃতি ধরে রাখার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর কর্মস্থল পরিবর্তন হওয়ার পর গ্রন্থাগারটিও মুখ থুবড়ে পড়ে।
জীবনের মূল্যবান সময় দিয়ে যে মানুষটি দেশ ও দেশের মানুষের কথা ভেবেছেন, সেই মানুষটিকে আমরা কতটুকু মনে রেখেছি? প্রশ্নটি তাঁর রাজনৈতিক অনুসারী থেকে শুরু করে প্রগতিশীল চিন্তার মানুষের কাছে এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: জেলে ত্রিশ বছর ও পাক-ভারত স্বাধীনতা সংগ্রাম
সুমন মোল্লা
sumon.mollah@yahoo.com

অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে রোজা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

সমাজে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে রোজার ভূমিকা অপরিসীম। বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট ও ক্ষুধা-তৃষ্ণায় পতিত না হলে ক্ষুৎপিপাসার মর্মজ্বালা ও যন্ত্রণা উপলব্ধি করা যায় না। সমাজের বিত্তশালী ও ধনী লোকেরা ক্ষুধা-তৃষ্ণার জ্বালা তেমন অনুভব করতে পারেন না বিধায় অসহায় গরিব-দুঃখীদের দুঃখ-দুর্দশা বুঝতে চেষ্টা করেন না। কিন্তু ধনী লোকেরা যখন রমজান মাসে রোজা রাখেন, তখন তাঁরা স্বভাবতই সমাজের গরিব-দুঃখীদের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল হন এবং তাদের আর্থিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে চরম ক্ষুধা, অভাব ও দারিদ্র্য বিমোচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন।
রমজান মাসে রোজাদার বিত্তবান লোকেরা বেশি বেশি দান-খয়রাত, সাদকা, জাকাত ও রোজার ফিতরা দ্বারা গরিব-দুঃখী ও অভাবী নিঃসম্বল ব্যক্তিদের যাঁর যাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য-সহযোগিতা করেন। মাহে রমজানে ধনী ব্যক্তিরা উপলব্ধি করেন যে, তাঁদের অর্থসম্পদে গরিব-দুঃখীদের নির্দিষ্ট অংশ বা প্রাপ্য আছে। কেননা, জনজীবনে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং সম্পদের ভারসাম্য স্থাপন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাদের (ধনীদের) সম্পদে অবশ্যই গরিব ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।’ (সূরা আল-যারিআত, আয়াত-১৯)
মাহে রমজানে গরিব-দুঃখীদের প্রতি সম্পদশালীদের প্রচণ্ড সহানুভূতি জাগে এবং ব্যাপকভাবে দানের হাত সম্প্রসারিত হয়। এমনিভাবে রোজাদার ধনী ব্যক্তি রমজান মাসে জাকাত প্রদান এবং মুক্তহস্তে দান-খয়রাত ও সাদকা আদায় করে সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য আনতে পারেন। ফলে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য অনেকটা দূরীভূত হয়।
রমজান মাসে ব্যবসা-বাণিজ্যে এক বিস্ময়কর উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়। মাহে রমজান শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই রোজাদারদের চাহিদামোতাবেক বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে আমদানি শুরু হয়ে যায়। মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে উপলক্ষ করে বেচাকেনার জন্য পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে সব ধরনের ভোগ্যপণ্য ও দ্রব্যসামগ্রীর নতুন নতুন ডিজাইন উদ্ভাবনে অঘোষিত প্রতিযোগিতা চলতে থাকে। ব্যবসায়ীরা অন্যান্য সময়ের চেয়ে প্রবল আগ্রহ ও উৎসাহ-উদ্দীপনাসহকারে এগুলো সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছে দেন। ফলে তাঁরাও প্রচুর লাভবান হন।
মাহে রমজান আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি ও কৃচ্ছ্র বা সিয়াম সাধনের মাস। কোনোভাবেই ভোগ বা মুনাফা অর্জনের মাস নয়। অথচ মাহে রমজানকে কেউ কেউ ব্যবসার মাস বলে গণ্য করেন। হালাল পন্থায় ঈমান ও ইহসানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করা ইবাদতের শামিল। হালাল উপায়ে আয়-উপার্জনের সঠিক পন্থা হলো পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে অর্থনৈতিক লেনদেন বা ব্যবসা-বাণিজ্য করা। কিন্তু বাতিল পন্থায় আয়-উপার্জন করা হারাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা পরস্পরের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস কোরো না। তবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করা যেতে পারে।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত- ২৯)
অথচ সমাজে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী রমজান মাসের আগমনে রোজাদারদের কেনাকাটার চাহিদা লক্ষ করে বাজারে খাদ্য ও পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেন। অধিক হারে মুনাফালাভের জন্য তাঁরা রোজাদারদের আর্থিক কষ্ট দেন। এটা ঘোরতর অন্যায়, মুসলমানের জন্য হারাম তথা শরিয়তগর্হিত। এটা মাহে রমজানের পবিত্রতা, কৃচ্ছ্রসাধনা ও অর্থনৈতিক শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। কিছু মুসলিম দেশে পণ্যসামগ্রীতে ভর্তুকি দিয়ে মাহে রমজানে তা হ্রাসকৃত মূল্যে বিক্রি করা হয় এবং সেখানকার নীতিবান ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য থাকে সঠিক মূল্যে রোজাদারের হাতে নির্ভেজাল পণ্যটি সরবরাহ করা, কিন্তু আমাদের দেশের নগরগুলোয় এর উল্টোটি করা হয়। এই মর্মে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘পাপী ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দুষ্প্রাপ্যতার সময় গুদামজাত করে না।’ (মুসলিম)
অন্যদিকে মাহে রমজানের শুরুতেই বাজারে জিনিসপত্রের চাহিদা স্ব্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় সারা দেশে ভেজাল পণ্যের অবাধ বাণিজ্য চলে। কতিপয় সুচতুর ব্যবসায়ী এ সময় আসল পণ্যের সঙ্গে ভেজাল মেশানো ছাড়াও অনেক সময় ভেজাল পণ্যকে আসল পণ্য বলে চালিয়ে দেন। এতে প্রতারিত হন ক্রেতাসাধারণ। ভেজাল ব্যবসায়ীরা ইসলামি আদর্শের গণ্ডিবহির্ভূত। নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘যে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (মুসলিম)
যখন রমজান মাস শুরু হয়, তখনই মুনাফাখোর ও মজুদদার অশুভ চক্রটি তৎপর হয়ে পড়ে। এতে জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। এসব দুষ্টচক্রের ফাঁদে পড়ে রোজাদার মানুষকে চরম আর্থিক দুর্ভোগ পোহাত্রেহয়। তাই মাহে রমজানের সংযম পণ্যমূল্যে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অধিক মুনাফা অর্জনের নোংরা মানসিকতা পরিহার করে রোজাদারদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ী সমাজের দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা উচিত। সেই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং সরকার কিছু পণ্যসামগ্রীতে ভর্তুকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী মনিটরিং-ব্যবস্থা প্রবর্তন করলে রোজাদারদের দুর্দশা ও কষ্ট লাঘব হতে পারে।
বর্তমান সমাজব্যবস্থায় ধনী-দরিদ্রের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য আকাশ-পাতাল। মাহে রমজানে এ অবস্থার কিছুটা হলেও উন্নতি সাধিত হয়। অত্যধিক সওয়াব প্রাপ্তির আশায় রমজান মাসে ধনী ব্যবসায়ী ঈমানদার ব্যক্তি এমনকি অতিশয় কৃপণ লোকের মধ্যেও কিছু দান-খয়রাত ও সাদকার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এতে মাহে রমজান উপলক্ষে গরিব-দুঃখীদের মধ্যে অর্থসমাগম বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থাকে ঠিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য বলা যায় না, কিন্তু অবস্থা আগের চেয়ে একটু উন্নত হয়। ধনী-দরিদ্রের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য কিছুটা হলেও দূরীভূত হয়। আসুন, আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির মাহে রমজানে বাহুল্য খরচে লিপ্ত না হয়ে সংযমী হই এবং সীমিত আয়ের দরিদ্র মানুষের প্রতি আর্থিকভাবে সহমর্মিতা প্রকাশ করি।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
ফৎ.munimkhan@yahoo.com

ছয় কোম্পানির কাছে কারণ জানতে চেয়েছে ডিএসই

তালিকাভুক্ত ছয় কোম্পানির কাছে এবার অস্বাভাবিক দরপতনের কারণ জানতে চেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার এসব কোম্পানির কাছে দরপতনের কারণ জানতে চেয়ে চিঠি দেয় ডিএসই।
কোম্পানিগুলো হলো: ব্যাংকিং খাতের আইএফআইসি ও ডাচ্-বাংলা, বিদ্যু ৎ খাতের ডেসকো, টেলিকম খাতের গ্রামীণফোন, প্রকৌশল খাতের বিডিল্যাম্পস এবং আর্থিক খাতের ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
ডিএসই ওই চিঠির জবাবে কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, অস্বাভাবিক দরপতনের মতো কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য তাদের কাছে নেই।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ছয় কোম্পানির মধ্যে গতকাল অবশ্য দিন শেষে ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্সের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছয় টাকা ২৫ পয়সা বেড়ে প্রায় এক হাজার ১৯৬ ও বিডিল্যাম্পসের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৩৫ টাকা বেড়ে সর্বশেষ এক হাজার ৮৪০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে আইএফআইসি ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের দাম ২১ টাকা ৫০ পয়সা কমে সর্বশেষ ৭৭৫ টাকা, ডেসকোর দাম ২৬ টাকা ৭৫ পয়সা কমে এক হাজার ৫৯৯ টাকা, গ্রামীণফোনের দাম সাড়ে তিন টাকা কমে ১৭৫ টাকা এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের দাম ২৪ টাকা ৭৫ পয়সা কমে এক হাজার ৪৭৮ টাকায় লেনদেন হয়েছে।
সাধারণত অস্বাভাবিক দাম বাড়তে থাকলে ডিএসই সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছে দর বৃদ্ধির কারণ জানতে চায়। কিন্তু গতকাল তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। তবে অস্বাভাবিক দরপতনের কারণ জানতে চেয়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে চিঠি দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়।

ডিএসইর কারণ দর্শানোর জবাব দিয়েছে দুই কোম্পানি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) গতকাল রোববার তালিকাভুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক কমার কারণ জানতে চেয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ফার্স্ট লিজ ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও সিঙ্গার বিডি।
ডিএসইর কারণ দর্শানোর জবাবে আজ প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের কাছে শেয়ারের এ মূল্যকমার পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। আজ ডিএসইর ওয়েবসাইটে এ কথা জানানো হয়েছে।

চারটি মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত চারটি মিউচুয়াল ফান্ড তাদের লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ২১ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ১৮ শতাংশ, আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ১৫ শতাংশ এবং ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড নয় শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠান চারটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
চারটি মিউচুয়াল ফান্ডেরই বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ আগস্ট। এ সময় ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের নিট মুনাফা ২৬ কোটি ৫৪ লাখ, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৪৩ কোটি ৩৫ লাখ, আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ২১ কোটি ৩৪ লাখ এবং ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডের নিট মুনাফা ১৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

১৫ দফা দাবিতে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের স্মারকলিপি

পুঁজিবাজারে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) ১৫ দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেনের কাছে স্মারকলিপি দেন।
১৫ দফার মধ্যে রয়েছে, পুঁজিবাজারের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশ ফান্ডের আকার পাঁচ হাজার কোটি থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা, পুঁজিবাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পুনর্বিনিয়োগে বাধ্য করা, বিনিয়োগকারীদের ‘বিনিয়োগ নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত এসএলআর ও সিআরআরের হার কমানো, বাজারে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে নিয়ে আসা, কোনো কোম্পানি আইপিওতে আসার ক্ষেত্রে মূল্য আয় অনুপাত (পিই) ১৫ নির্ধারণ, সব কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা রূপান্তর, বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন, মার্জিন ঋণের হার ১:২ কার্যকর, পুঁজিবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, সরাসরি তালিকাভুক্ত না হয়ে আইপিওর মাধ্যমে নতুন কোম্পানির শেয়ার বাজারে আসা, মার্চেন্ট ব্যাংকের অমনিবাস হিসাব বন্ধ করা, ব্রোকারেজ হাউসের কমিশন সর্বোচ্চ ৩৫ পয়সা নির্ধারণ, পুঁজিবাজারের স্বার্থে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা ও আন্দোলনরত বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করা।
এসইসির চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান শেষে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এসইসির চেয়ারম্যানের কাছে আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছি। তিনি দাবিগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।’
পরে এক ব্রিফিংয়ে এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে ১৫ দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে দাবিগুলো বিবেচনার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সমন্বিত কমিটি হবে

শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি আইনকানুন পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার সম্পর্কে শিক্ষিত করে তুলতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হবে।
আজ সোমবার বেলা ১১টায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সঙ্গে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ও বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সোনালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ওয়ালিউর রহমান সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এসইসি আমাদের ডেকেছিল। সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের অজ্ঞতার কারণে বাজার অস্বাভাবিক আচরণ করছে। তাঁদের শিক্ষিত করতে পারলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব।
শেয়ারবাজারে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ব্যাপারে ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘আমরা সাধ্যমতো বিনিয়োগ করছি এবং তা চালিয়ে যাব।’ এ ছাড়া বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন ইস্যু বাজারে নিয়ে আসার বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে।
পরে এসইসির পক্ষ এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এসইসি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে আজ বিএমবিএর নেতা ও মার্চেন্ট ব্যাংকের সিইওদের সঙ্গে বর্তমান বাজার-পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁদের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে।
সাইফুর রহমান আরও বলেন, বৈঠকে একটি সমন্বিত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে কমিটি পুঁজিবাজারের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের আরও শিক্ষিত করে তুলতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। কমিশনের পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে। এ ছাড়া ওই বৈঠকে গবেষণা ও পরামর্শসেবা উন্মুক্ত করে দেওয়া, মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শসেবা নিরূপণ করা, ডিসক্রিশনারি বা ঐচ্ছিক হিসাবধারীদের মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো যাতে আরও সুচিন্তিতভাবে পরামর্শ দেয়, সে বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।
সাইফুর রহমান বলেন, বাজারে একটি গুজব ছিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিংগেল পার্টি এক্সপোজারের সময়সীমা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। তবে প্রকৃত বিষয় হলো এই সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এটা নিতান্তই গুজব। তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে সরকারি শেয়ার ছাড়া শুরু হয়েছে। এটা যাতে অব্যাহত থাকে, সে ব্যাপারেও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ন্যাটোর তদন্ত শুরু

আফগানিস্তানের মাইদান ওয়ারদাক প্রদেশে মার্কিন চিনুক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনার গতকাল রোববার তদন্ত শুরু করেছে ন্যাটো। ধারণা করা হচ্ছে, গত শুক্রবার তালেবানের গ্রেনেড হামলায় ওই হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ৩০ জন মার্কিন ও সাত আফগান সেনাসহ ৩৮ জনের প্রাণহানি হয়।
হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই তালেবান দাবি করে, তাদের ছোড়া রকেটচালিত গ্রেনেডের আঘাতে এটি বিধ্বস্ত হয়। তবে বিদেশি সেনা ও আফগান সরকারসংশ্লিষ্ট ঘটনার বিষয়ে তালেবান কখনো কখনো অতিরঞ্জিত দাবি করে থাকে।
ওয়াশিংটনে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তালেবানের গ্রেনেড হামলায় ওই হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-সহায়তা বাহিনী (আইএসএএফ) বলেছে, হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব সে দেশের সেনা ও পুলিশ বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরুর দুই সপ্তাহ পর ওই হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটল। ২০১৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব সে দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করার কথা বিদেশি বাহিনীর।

পাকিস্তানে বোমা বিস্ফোরণে ১৬ ট্যাংক ধ্বংস

পাকিস্তানের পেশোয়ারে গত শনিবার বোমা বিস্ফোরণে ১৬টি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। এসব ট্যাংকে আফগানিস্তানে নিয়োজিত সামরিক জোট ন্যাটোর জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হতো।
পেশোয়ারের পুলিশ কর্মকর্তা খুরশিদ খান জানান, পেশোয়ার শহরের অদূরে এক টার্মিনালে ন্যাটোর জ্বালানি তেলবাহী ৪৬টি ট্যাংক পার্ক করা ছিল। সেখানে বোমা বিস্ফোরণে ১৬টি ট্যাংক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা অন্য ট্যাংকগুলো সরিয়ে নিচ্ছি। টার্মিনালে বোমা পেতে রাখা হয়েছিল, নাকি কোনো ট্যাংকের সঙ্গে বোমা লাগানো হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।’ খুরশিদ খান জানান, এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। তবে কয়েক দিন আগে আফগানিস্তানে বিদেশি সেনাদের সরঞ্জাম সরবরাহ লাইনে হামলা চালানোর ঘোষণা দেয় তালেবান গোষ্ঠী।

জ্যাকুলিন কেনেডির গোপন অডিও টেপ প্রকাশ হচ্ছে

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির স্ত্রী জ্যাকুলিনের গোপন অডিও টেপ অবশেষে প্রকাশ করা হচ্ছে। সেগুলো প্রকাশিত হলে কেনেডি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জ্যাকুলিনের অভিমত ও তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বিভিন্ন অজানা তথ্য জানা যেতে পারে। বার্তা সংস্থা পিটিআই গতকাল রোববার এ খবর জানিয়েছে।
আমেরিকার ৩৫তম প্রেসিডেন্ট কেনেডি ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাসের মধ্যে নেতৃস্থানীয় মার্কিন ইতিহাসবিদ আর্থার এম শেলসিঙ্গার জুনিয়র জ্যাকুলিনের ওই সাক্ষাৎকার রেকর্ড করেন। তবে তিনি তাঁর মৃত্যুর ৫০ বছরের আগে সেটি প্রকাশ না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পর থেকেই অডিও টেপগুলো বোস্টনের কেনেডি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ছিল।
কেনেডির মৃত্যুর পাঁচ বছরের মাথায় গ্রিক জাহাজ ব্যবসায়ী অ্যারিস্টটলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জ্যাকুলিন। তখন থেকেই বিশ্ববাসীর কাছে তিনি জ্যাকি নামে পরিচিত। ১৯৯৪ সালের মে মাসে ৬৪ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তবে সম্প্রতি তাঁর মেয়ে ক্যারোলিন কেনেডি ওই টেপগুলো মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এবিসিতে প্রকাশে সম্মত হয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদপত্র সানডে এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এবিসি টিভি নেটওয়ার্কের এক মুখপাত্র এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুই ঘণ্টার একটি বিশেষ টিভি অনুষ্ঠানে অডিও টেপ প্রকাশ করা হবে। তবে তিনি বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানান।
সানডে এক্সপ্রেস দাবি করেছে, কেনেডি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তাঁর স্ত্রীর অভিমত উঠে আসতে পারে ওই টেপে।

পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের উদ্যোগে আদালতে মামলা

পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের জন্য রাজ্য সরকারের উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ করে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। অল ইন্ডিয়া লিগ্যাল এইড ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী জয়দীপ মুখার্জি সম্প্রতি এই মামলা করেন।
আইনজীবী জয়দীপ তাঁর আরজিতে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা এই রাজ্যের ইতিহাস পাল্টে ফেলার চক্রান্ত। এই নামের সঙ্গে রয়েছে এক ইতিহাস। সেই ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা সফল করতে দেওয়া হবে না। আরজিতে তিনি আরও বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মুষ্টিমেয় নেতা জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এত বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। নাম পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনে গণভোট আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। ৩ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে রাজ্যের মহাকরণে সর্বদলীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ১৯ আগস্ট পরবর্তী বৈঠক ডাকা হয়েছে।
এদিকে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের আপত্তি তুলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল এসইউসিআই। তবে বিরোধী জোট বামফ্রন্ট নাম পরিবর্তনের পক্ষে রয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ থেকে বাংলা, বঙ্গ বা বঙ্গ প্রদেশ নাম করার প্রস্তাব তোলা হয়েছে।

অধিকাংশ ব্রিটিশ মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনার পক্ষে

অধিকাংশ ব্রিটিশ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে ফিরিয়ে আনার পক্ষে। গতকাল রোববারের দ্য মেইল পত্রিকায় প্রকাশিত এক জরিপের ফলে এ তথ্য জানা গেছে। ১৯৬৯ সালে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড রহিত করা হয়।
মেইল পত্রিকার হয়ে জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ‘সারভেশন’ এক হাজার ব্রিটিশের ওপর গত শুক্র ও শনিবার জরিপটি চালায়। এর ফলাফলে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ ব্রিটিশই সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ‘মৃত্যুদণ্ড’ পুনঃপ্রবর্তনকে সমর্থন করেন। ৩৪ শতাংশ এর বিরোধী। সমর্থকদের ৬৩ শতাংশ পুরুষ ও ৪৪ শতাংশ নারী।
কোন পদ্ধতিতে এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত, সে প্রশ্নের জবাবে ৬৬ ভাগ প্রাণঘাতী ইনজেকশন, ১২ ভাগ ফাঁসি, পাঁচ ভাগ বৈদ্যুতিক চেয়ারে ও চার ভাগ ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করার পক্ষে মত দিয়েছেন। গণহত্যা, শিশু হত্যা, সন্ত্রাসবাদী কাজ ও যুদ্ধাপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে সমর্থকেরা মত প্রকাশ করেন।
যুক্তরাজ্যে সর্বশেষ ১৯৬৪ সালে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। গণদাবির প্রেক্ষিতে বিষয়টি আবার সামনে উঠে এসেছে।

সিরিয়ার দেইর আল-জউর শহরে সেনাবাহিনীর হামলা

সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর দেইর আল-জউর শহরে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন সিরিয়ায় সামরিক অভিযান বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রতি আহ্বান জানানোর পরের দিনই এই হামলা চালানো হলো। মানবাধিকারকর্মীরা জানান, গতকাল রোববার ভোরের আগমুহূর্তে আকস্মিক ওই হামলা শুরু হয়। এতে কমপক্ষে ৫২ জন নিহত হয়।
মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের কর্মী রামি আবদেল রহমান বলেন, প্রায় ২৫০টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া গাড়ি বেশ কয়েকটি এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে। সিরিয়ায় গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনরত স্থানীয় সমন্বয় কমিটি জানায়, শহরের নয়টি এলাকায় প্রবেশ করেছিল সেনাবাহিনী। ওই এলাকাগুলোতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ হয়েছে। চারদিক থেকে আক্রমণ হওয়ায় লোকজন পালিয়ে যেতে পারেনি।
এদিকে হোমস প্রদেশের হুলা শহরে সেনাবাহিনীর হামলায় চারজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী আবদেল রহমান। তবে ওই হামলায় সাতজন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় সমন্বয় কমিটি।
অপরদিকে সিরিয়ার হামা শহর এখনো অবরুদ্ধ করে রেখেছে সেনাবাহিনী। গত রোববার থেকে ওই শহরে সেনা অভিযানে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক লোক নিহত হয়।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গত শনিবার সিরিয়ার বেসামরিক লোকজনের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ বন্ধের জন্য বাসার আল-আসাদের প্রতি আহ্বান জানান।

হাসপাতাল ছাড়লেন সালেহ

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ সৌদি আরবের একটি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। দুই মাস তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সৌদি সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট সালেহকে গত শনিবার রাতে ওই হাসপাতাল থেকে রিয়াদের একটি বাসভবনে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি কত দিন সেখানে অবস্থান করবেন, তা উল্লেখ করেননি ওই কর্মকর্তা।
এদিকে ইয়েমেনের জুনিয়র তথ্যমন্ত্রী আবদো আল-জানাদি প্রেসিডেন্ট সালেহর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করতে অসম্মতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট রিয়াদে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা অনুমতি দিলেই তিনি দেশে ফিরবেন।
ইয়েমেনে সালেহর সরকারের বিরুদ্ধে এখনো আন্দোলন চলছে। ইয়েমেনের রাজধানী সানার সরকারি বাসভবনে গত ৩ জুন বোমা হামলায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য সৌদি আরবের সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হন সালেহ। ওই হামলায় ১১ জন নিহত ও ১২৪ জন আহত হন। ওই হামলার পর ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে হাজির হন সালেহ। তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ না করে বলেন, তাঁর ওপর চালানো হামলায় ‘সন্ত্রাসের উপাদান’ ও ‘সন্ত্রাসীদের সংশ্লিষ্টতা’ ছিল। এর তিন দিন পর তাঁকে জন ব্রেনানের সঙ্গে টেলিভিশনে দেখা যায়। ব্রেনান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সন্ত্রাস দমনবিষয়ক একজন উপদেষ্টা।
সালেহর দেশত্যাগের পর থেকে ইয়েমেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদ্রাবুহ মনসুর হাদি দেশ পরিচালনা করছেন। ইয়েমেনের সরকারবিরোধীরা সালেহর প্রত্যাবর্তন প্রতিহত করতে ইতিমধ্যে একটি অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে। ১৯৭৮ সালে ইয়েমেনের ক্ষমতায় আসেন সালেহ। গত জানুয়ারি থেকে বিক্ষোভকারীরা সালেহর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

ওবামা ও মার্কিন বাহিনীর জন্য স্রষ্টার অনুকম্পা কামনা করে প্রার্থনা

বিপন্ন অবস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরণের জন্য গণপ্রার্থনার মাধ্যমে স্রষ্টার অনুকম্পা প্রার্থনা করা হয়েছে। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন নগরে গত শনিবার এ গণপ্রার্থনার আয়োজন করেন রাজ্যের গভর্নর রিক কেরি। এতে যোগ দেয় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
প্রার্থনাসভায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতাদের ওপর স্রষ্টার অনুকম্পা কামনা করা হয়। গভর্নর রিক কেরি বলেন, ‘চলমান এ অন্ধকারে যারা আলোর দিশা পাচ্ছে না, হে স্রষ্টা, তুমি তাদের অনুকম্পা করো।’
প্রার্থনাসভার একপর্যায়ে রিক পেরি সমবেত জনতার উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘হে স্রষ্টা, আমরা আমাদের প্রেসিডেন্টের জন্য প্রার্থনা করছি, যাঁর ওপর স্রষ্টার আশীর্বাদ রয়েছে। হে স্রষ্টা, তুমি প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পরিবারকে নির্দেশনা দাও।’
তবে গণপ্রার্থনার আয়োজন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন রক্ষণশীল গভর্নর রিক পেরি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে চাইবেন তিনি। সমালোচকদের মতে, গণপ্রার্থনার আহ্বান করে রক্ষণশীলদের আনুকূল্য পাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
স্রষ্টাকে ভুলে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দুর্গতি নেমে এসেছে বলে প্রচার করে আসছেন রিক পেরি। তাঁর এ গণপ্রার্থনায় সব ধর্মের বিশ্বাসীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে রক্ষণশীল খ্রিষ্টান ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের লোক এতে যোগ দেয়নি। এমনকি সব রাজ্যের গভর্নরদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও উপস্থিত ছিলেন একমাত্র ক্যানসাস রাজ্যের গভর্নর স্যাম ব্রাউন ব্র্যাক।
রাজনীতির সঙ্গে ধর্মকে সম্পৃক্ত করছেন গভর্নর রিক পেরি, এমন অভিযোগে উদারনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। দুই সপ্তাহ আগে ফেডারেল আদালত মামলাটি বাতিল করার পর গভর্নর পেরি তাঁর বহুল প্রচারিত গণপ্রার্থনার কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। গণপ্রার্থনা চলাকালীন ফ্রিডম ফ্রম রিলিজিয়ন ফাউন্ডেশনসহ বেশ কয়েকটি প্রগতিশীল সংগঠন প্রতিবাদ সমাবেশ করে। তারা গভর্নর পেরির এ গণপ্রার্থনাকে রাজনৈতিক ভাঁওতাবাজি বলে স্লোগান দেয়।

এমিলি-মিঠুনকে ক্ষমা করেনি বাফুফে

জাতীয় দল লেবানন যাওয়ার আগের দিন মানিকগঞ্জে খ্যাপ খেলতে গিয়েছিলেন জাহিদ হাসান এমিলি ও মিঠুন চৌধুরী। ওই ঘটনায় হতবাক হয়ে যায় ফুটবল অঙ্গন।
বাফুফের জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটি এই দুই খেলোয়াড়কে তিন দিনের মধ্যে জবাব চেয়ে আজ কারণ দর্শাও নোটিশ দিচ্ছে। যদিও ২০ জুলাই ঘটনার দিন রাতেই দুই খেলোয়াড়কে ডেকে পাঠানো হয় বাফুফে ভবনে এবং তখন তাঁরা দুজনই কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান। তবে ব্যবস্থাপনা কমিটি মনে করে, দুই খেলোয়াড়ের অবশ্যই শাস্তি পাওয়া উচিত।
নোটিশ পাচ্ছেন জাতীয় দলের আরেক খেলোয়াড় জাহিদ হোসেন। ২৮ জুলাই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে লেবাননের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে কোচ তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নিলে এই তরুণ ডাগ আউটে ক্ষুব্ধ হয়ে পানির বোতলে লাথি মেরে ছুড়ে ফেলেন।
কাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আরও অন্যতম সিদ্ধান্ত—অক্টোবরে ঢাকায় এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল হচ্ছে, বিকেএসপিতে বাংলাদেশ দলের ক্যাম্প শুরু ২০ আগস্ট। ৩০-৩৫ জনের প্রাথমিক দল গঠনের লক্ষ্যে প্রায় ২০০ খেলোয়াড়ের ট্রায়াল শুরু আজ থেকেই।

হার দিয়ে শুরু একাডেমির

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শুরুটা ভালো হলো না জিপি-বিসিবি একাডেমি দলের। পরশু সফরের প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিক একাডেমি দলের কাছে তারা হেরেছে ৬ উইকেটে।
সোয়েটোর এলকা ক্রিকেট ওভালে প্রথমে ব্যাট করে ৪৬.৪ ওভারে ২১৪ রান করে জিপি-বিসিবি একাডেমি দল। অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান করেন সর্বোচ্চ ৬৩ রান। এ ছাড়া আলাউদ্দিন বাবু ৩৫ ও আনামুল হক ৩৩ রান করেন। জবাবে ওপেনার লেনার্ট ফন উইকের অপরাজিত ১১৪ রানের সৌজন্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ৪১.৩ ওভারেই ম্যাচ জিতে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দল। জিপি-বিসিবি একাডেমি দলের সোহাগ গাজী ২টি এবং আলাউদ্দিন বাবু ও আল-আমিন একটি করে উইকেট নেন।
জোহানেসবার্গে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেটি হয়ে যাওয়ার কথা কালই।

সাবেলার আর্জেন্টিনা-স্বপ্ন

স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন আলেজান্দ্রো সাবেলা। স্বপ্ন দেখতেন, একদিন আর্জেন্টিনার কোচ হবেন। বহুদিনের লালিত স্বপ্নটা পূরণ হয়েছে। এবার আরেকটা নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন—আর্জেন্টিনার হূতগৌরব পুনরুদ্ধার করবেন।
১৯৭৪ সালে শুরু করা খেলোয়াড়ি জীবনে ইতি টানেন ১৯৮৯ সালে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে খেলেছেন মাত্র ৪টি ম্যাচ। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করলেও ফুটবল ছাড়েননি। রিভার প্লেট ও এস্তুদিয়ান্তেসের সাবেক মিডফিল্ডার বেছে নেন কোচিং ক্যারিয়ার।
শুরুতে অবশ্য আর্জেন্টিনার সাবেক কোচ ড্যানিয়েল পাসারেলার সহকারী হিসেবেই কাজ করেন বিভিন্ন ক্লাবে। সহকারী কোচের ভূমিকায় ছিলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলেও। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আলফিও বাসিলে এবং ১৯৯৮-এ পাসারেলার সঙ্গে কাজ করেছেন। মূল কোচের দায়িত্ব পান ২০০৯ সালে, আর্জেন্টিনার ক্লাব এস্তুদিয়ান্তেসে। খেলোয়াড় হিসেবে না পারলেও কোচ হিসেবে এস্তুদিয়ান্তেসকে জেতান কোপা লিবার্তোদোরেস।
খেলোয়াড়ি জীবনে আর্জেন্টিনার হয়েও কিছু করতে পারেননি। কোচ হিসেবে কি পারবেন? সাবেলা প্রত্যয়ী, ‘আমি কখনোই আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি। জাতীয় দলের কোচ হওয়া অনেকে সম্মানের। আবার অনেক দায়িত্বও আছে। আর্জেন্টিনার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চাই আমি।’
এখন গৌরবের মানদণ্ড আরেকটা বিশ্বকাপ জেতানো। দুবারের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা বড় স্বপ্ন নিয়ে নিজের দেশে কোপা আমেরিকা খেলতে নেমেছিল। কিন্তু সেই স্বপ্নের মৃত্যু হয় কোয়ার্টার ফাইনালেই। তবে পেছনের এই ব্যর্থতা নিয়ে বসে না থেকে সাবেলা এগিয়ে যেতে চান সামনে।
সাবেলার এই এগিয়ে যাওয়া হবে নিজস্ব কায়দায়। আগামী মাসে কলকাতা ও ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ভেনেজুয়েলা ও নাইজেরিয়া প্রীতি ম্যাচের দল সাবেলা ঘোষণা করবেন শিগগিরই। এর আগে দল সম্পর্কে একটা ইঙ্গিত অবশ্য দিয়েছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে ভারসাম্যপূর্ণ মানুষ। দলটাও ভারসাম্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে চাই। যে দলের একটি নিশ্ছিদ্র রক্ষণভাগ থাকবে, থাকবে ভালো একটি মাঝমাঠ এবং আগ্রাসী আক্রমণভাগ।’
তবে এর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যেটা প্রয়োজন, তা হচ্ছে দলীয় ঐক্য এবং দলের প্রতি ভালোবাসা। দল দেওয়ার আগেই খেলোয়াড়দের প্রতি সেই বার্তাটা পৌঁছে দিয়েছেন সাবেলা, ‘খেলোয়াড়দের অবশ্যই এটা মনে রাখতে হবে, সবার ওপরে দল।’

ভারতের, না ভারতীয় বোর্ডের কণ্ঠস্বর?

ভারতীয় ক্রিকেটের কণ্ঠস্বর তাঁরা। ক্রিকেটের যেখানেই ভারত, সেখানেই সুনীল গাভাস্কার-রবি শাস্ত্রী। তবে সাম্প্রতিক বিতর্কে এই দুই সাবেক অধিনায়ক একটু বিব্রতকর অবস্থায়ই পড়েছেন ধারাভাষ্য নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, ভারতের ক্রিকেট এবং ক্রিকেট বোর্ডের হয়ে কথা বলার বিনিময়ে গাভাস্কার-শাস্ত্রী মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছেন বিসিসিআই থেকে। ক্রিকেটারদের ‘চোট-ব্যবস্থাপনা’সহ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে আরও অনেক ব্যাপারেই বিসিসিআইয়ের সমালোচনায় সোচ্চার অনেকে। কিন্তু বোর্ডের ‘অফিসিয়াল মুখপাত্র’ বলেই নাকি মুখ খুলছেন না গাভাস্কার ও শাস্ত্রী!
ঘটনার সূত্রপাত আসলে আইপিএল থেকে। টুর্নামেন্টটি প্রচারের স্বত্ব পায় সনি টেলিভিশন, কিন্তু গাভাস্কার ও শাস্ত্রী আগে থেকেই অন্য একটি টিভির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। আইপিএলের ধারাভাষ্য দলে তাই এঁরা ছিলেন না। এ সময়ই এগিয়ে আসেন আইপিএলের সাবেক ‘সর্বেসর্বা’ লোলিত মোদি। গাভাস্কার ও শাস্ত্রী দুজনকেই আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য করেন, প্রতি মৌসুমে প্রত্যেকের সম্মানী ১ কোটি রুপি। শেষ নয় এখানেই, বোর্ডের ধারাভাষ্যকার হিসেবে বিসিসিআইও দুজনের সঙ্গে বার্ষিক ৩ কোটি ৬০ লাখ রুপির চুক্তি করে! লোভনীয় এমন সব প্রস্তাবের পর আগের টিভির সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন করতে বিন্দুমাত্র ভাবতে হয়নি গাভাস্কার-শাস্ত্রীকে।
বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সাবেক দুই অধিনায়কের এমন চুক্তিতে সমালোচনামুখর দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা। অনেকে কথার তীর ছুড়ে শাস্ত্রী-গাভাস্কারকে পরোক্ষে ‘চোর’ বলতেও ছাড়েননি। সাবেক অধিনায়ক বিষেন সিং বেদি বলেছেন, ‘আমরা বিস্মিত নই। এই বোর্ড সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে, সবাই জানে তাদের নীতি বলতে কিছু নেই। সবখানেই স্বার্থের সংঘাত। ভিন্নমতাবলম্বীদের এখানে সহ্য করা হয় না।’
সাবেক বাঁ হাতি স্পিনার মনিন্দর সিং হাতটা ঘোরালেন একটু অন্যভাবে। গাভাস্কার-শাস্ত্রীকে কোনো অপবাদ দিতে রাজি নন তিনি, ‘দেশটার মধ্যে কী হচ্ছে, এটা তারই একটা প্রতিচ্ছবি। দুর্নীতি জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে এবং ক্রিকেটও এর বাইরে নয়।’ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি বাড়াতে বোর্ড সাবেক ক্রিকেটারদের টাকা দেবে, বিষয়টা মানলেও মনিন্দর বলছেন, ‘বোর্ড যদি সত্যিই ক্রিকেটের উন্নতি চায়, এ রকম অভিজ্ঞ সাবেক ক্রিকেটারদের তারা টাকা দিয়ে ক্রিকেট-সংক্রান্ত কমিটিতে রাখতে পারে বা অন্য কোনো কাজেও লাগাতে পারে। কিন্তু ধারাভাষ্যে কেন?’
এক সাময়িকীতে সাবেক অধিনায়ক কপিল দেব বলেছেন, ‘এটা যদি সত্যি হয় যে শাস্ত্রী ও গাভাস্কারের বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি আছে, বোর্ডের স্বার্থ দেখাটাই তাদের দায়িত্ব। তারা কেন বোর্ডের বিরুদ্ধে যাবে? কোনো কংগ্রেস নেতা কি সংসদে গিয়ে তার দলের বিপক্ষে কথা বলে?’ ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ায় অনেক সাবেক ক্রিকেটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাস্ত্রী-গাভাস্কারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তও দাবি করেছেন।
গাভাস্কার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকারই করেছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে তিনি বলেছেন, ‘এটা একদমই অনাকাঙ্ক্ষিত। কেউই আমাকে বলে দিতে পারে না, ধারাভাষ্যে আমি কী বলব। কোনো কিছু আমার পছন্দ না হলে আমি সেটার বিরুদ্ধে বলি। আমার মনে হয়, এই অধিকারটা আমি অর্জন করেছি।’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বিসিসিআইও। ‘এখানে স্বার্থের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তারা কি বলবে, সে ব্যাপারে বিসিসিআই কোনো নির্দেশনা দেয় না। তারা স্বাধীন ধারাভাষ্যকার এবং তারা যা বলে, সেটা সম্পূর্ণই তাদের নিজস্ব মতামত’—সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন বিসিসিআই সহসভাপতি রাজীব শুক্লা।

ফিরে এল দিল-স্কুপ!

শটটার নাম হতে পারত ‘অ্যাশ-স্কুপ’। ২০০৭ বিশ্বকাপের সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্কুপ খেলে এনটিনি-নেল-ল্যাঙ্গেভেল্টদের দিশেহারা করে ফেলেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। স্কুপ খেলেই পরে ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাতালেন তিলকরত্নে দিলশান। আশরাফুলকে ভুলে গিয়ে ধারাভাষ্যকারেরা শটের নাম দিয়ে দিলেন ‘দিল-স্কুপ!’
সে যা-ই হোক, দিল-স্কুপের ‘জন্মদাতা’র ব্যাট থেকেই যেন শটটি উধাও হয়ে গিয়েছিল। ঝুঁকিপূর্ণ বলে অনেক দিন ধরে শটটি খেলছিলেন না দিলশান। দিলশানের ব্যাটে আবার দিল-স্কুপ দেখা গেল পরশু, পাল্লেকেলেতে ৫৭ বলে ১০৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটার পথে।
প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন মিচেল জনসনের বলে দিল-স্কুপ খেলেই। অধিনায়কের বিধ্বংসী ইনিংসেই প্রথম টি-টোয়েন্টি ৩৫ রানে জিতেছে শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ শেষে দিলশান জানালেন, নতুন কোচ রুমেশ রত্নায়েকের উৎসাহেই ফিরে এসেছে দিল-স্কুপ!
গত মাসের মাঝামাঝি শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয় রত্নায়েককে। নতুন কোচের সঙ্গে আলোচনাই আত্মবিশ্বাসী করেছিল দিলশানকে, ‘গত দেড় বছর আমি দিল-স্কুপ খেলিনি, কিন্তু কাল (ম্যাচের আগের দিন) রুমেশের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হলো। রুমেশ জিজ্ঞেস করল, আমি কেন শটটি খেলা বন্ধ করেছি। আমি ওকে বলেছিলাম, ‘‘ঠিক আছে, আগামীকাল হয়তো আবার আমাকে শটটি খেলতে দেখা যাবে।’’ বেশ কিছুক্ষণ উইকেটে কাটানোর পর আমি আত্মবিশ্বাস পেয়ে গিয়েছিলাম। দিল-স্কুপ খেলার পর ওরা ফিল্ডিং পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে এবং আমি অন্য জায়গাগুলো থেকে রান পেয়েছি।’
দিল-স্কুপে দিশেহারা হওয়ার কথা উঠে এল অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক ক্যামেরন হোয়াইটের কণ্ঠেও, ‘কেউ যখন উইকেটকিপারের ঠিক মাথার ওপর দিয়ে বল পাঠিয়ে দেয়, তখন কাজটা কঠিন হয়ে যায়। ওই শটের জন্য ফিল্ডিং সাজাতে গেলে অন্য কিছু জায়গা ফাঁকা হয়ে যায়। সেই জায়গাগুলোতে মারার সামর্থ্যও আবার দিলশানের ভালোই আছে।’
রান পাওয়াটা খুব জরুরি ছিল দিলশানের জন্য। ইংল্যান্ডে ৫ ওয়ানডেতে করেছিলেন মাত্র ২৩। অধিনায়কত্ব চাপ হয়ে গেল কি না, ফিসফাস শুরু হয়ে গিয়েছিল। উদ্যাপনটাই বলে দিচ্ছিল, সেঞ্চুরিটা কত বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে। সেই উচ্ছ্বাস উঠে এল কণ্ঠেও, ‘এই ইনিংসে দারুণ খুশি আমি। শুরুতে একটু দেখেশুনে খেলেছি, ছয়-সাত ওভারের পর চালিয়ে খেলেছি। সব মিলিয়ে দলের পারফরম্যান্সেও আমি খুশি।’
পাল্লেকেলেতেই আজ সিরিজের শেষটি-টোয়েন্টি।

টার্ফে শেওলা, হকিতেও!

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের সবুজ অ্যাস্ট্রো টার্ফ দেখে চেনার উপায় নেই। টার্ফের ওপর থিকথিকে কাদা। শেওলা ধরেছে কোথাও কোথাও। টার্ফের মতোই যেন শেওলা ধরেছে হকি ফেডারেশনেও।
লিগ নেই, দলবদল নেই। খেলাধুলা বন্ধ। খেলোয়াড়েরা হতাশ। হকিস্টিক তুলে রেখে অনেকেই পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হয়ে গেছেন। বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টায় আছেন অনেকে। জাতীয় দলের স্ট্রাইকার রাসেল মাহমুদ জিমি গার্মেন্টস ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ডিফেন্ডার আসাদুজ্জামান চন্দন। গোলরক্ষক জাহিদ হোসেন কোচিং করাচ্ছেন। গত এপ্রিলে অস্ট্রিয়ায় খেলতে যাওয়া কামরুজ্জামান, মামুনুর রহমান চয়ন, ইমরান হাসানরা আবারও বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পড়াশোনা শেষ করে চাকরির চিন্তা মশিউর রহমান বিপ্লব, শেখ মোহাম্মদ নান্নুদের।
১৯৭৪ সালে শুরু হওয়া প্রথম বিভাগ হকি আগে নিয়মিত হলেও এখন আর মাঠে গড়ায় না। সর্বশেষ হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। ১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া প্রিমিয়ার ডিভিশন কখনোই ধারাবাহিক ছিল না। ১৩ বছরে লিগ হয়েছে ৭ বার। সর্বশেষ ২০০৮-এর খেলা হয়েছে ২০১০-এ। প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ হচ্ছে না বলে প্রিমিয়ারও শুরু করা যাচ্ছে না। দারুণ এক অজুহাত ফেডারেশনের।
খেলা নেই বলে হতাশা প্রকাশ করলেন রাসেল মাহমুদ, ‘ফেডারেশন থেকে বলছে রোজার জন্য খেলা বন্ধ। কিন্তু রোজার মধ্যে তো অন্যান্য ফেডারেশনে খেলা হচ্ছে। সুপার কাপ ফুটবল হলো, হ্যান্ডবল হলো, ক্রিকেট হচ্ছে। কিন্তু হকিই হচ্ছে না। আমরা খুবই হতাশ। আমরা যদি উদ্যোগ নিয়ে কিছু করতে যাই, তাহলে ফেডারেশন আবারও হয়তো আমাদের নিষিদ্ধ করবে। সবাই আমাদের দুষবে, এতে হকিরই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।’ জার্মানির ক্লাব ডিএসডিতে খেলার জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন ইমরান। জানালেন, ‘সুযোগ পেলেই বিদেশে খেলতে যাব। এখানে তো কোনো খেলা হচ্ছে না। ফেডারেশন আর ক্লাব কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্বের ভুক্তভোগী আমরা।’ চন্দন বললেন, ‘খেলা নেই, কী করব? হকিস্টিক জাদুঘরে রেখে দেওয়ার কথা চিন্তা করছি।’ মোহামেডানের হকি কমিটির চেয়ারম্যান সাজেদ আদেলের কথা, ‘এ দেশের হকি কোমায় চলে গেছে। তাকে লাইফসাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।’ আবাহনীর হকি কর্মকর্তা শহীদুল্লাহ দোলন তাকিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রীর দিকে, ‘আমরা হাল ছেড়ে দিয়েছি। এখন যা অবস্থা, তাতে অদূর ভবিষ্যতে বলা হবে, বাংলাদেশে হকি বলে একটা খেলা ছিল। আমাদের শেষ ভরসা ক্রীড়ামন্ত্রী।’
তবে এত কিছুর পরও হকি মাঠেই আছে বলে দাবি সাধারণ সম্পাদক খন্দকার জামিল উদ্দিনের, ‘এই মাসে খেলা নেই কিন্তু আগামী অক্টোবরে যুব হকি হবে। এরপর জাতীয় হকি। সেপ্টেম্বরে হল্যান্ড থেকে আসবেন সাবেক ডাচ খেলোয়াড় বাইড বার্নিং। তাঁকে নিয়ে সারা দেশে কোচেস কোর্স করানো হবে।’ জানালেন, প্রথম বিভাগের দলবদলের তারিখও হয়ে গেছে— ১৩-১৫সেপ্টেম্বর। তাহলে লিগ কেন হচ্ছে না? ক্লাব কর্মকর্তাদের অসহযোগিতাই এর মূল কারণ বলে মনে করেন তিনি, ‘লিগ চালাতে পারছি না, কারণ ক্লাবগুলো রাজি হচ্ছে না। তারা এখন বলে যে ঈদের পর ছাড়া খেলবে না। একেকবার একেক কথা বললে আমি কী করব? রোজার মধ্যে সব জায়গায় খেলা হচ্ছে, অথচ হকির বেলায় আপত্তি কেন?’

আবারও ‘দেয়ালের’ আড়ালে ভারত

‘দ্য ওয়াল’ নামটা তাঁর জন্য খুব মানিয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, রাহুল দ্রাবিড়কে বলা যায় ভারতীয় ক্রিকেটের ‘ত্রাণকর্তা’। কেন? একটু ফিরে তাকান নিকট অতীতে।
২০০৭ সালের অক্টোবর থেকেই ওয়ানডে দলের বাইরে দ্রাবিড়। এই যুগের ওয়ানডের জন্য ও অচল, প্রতিভাবান সব তরুণও উঠে আসছে—এই ছিল যুক্তি। কিন্তু ইংল্যান্ডে ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শর্ট বলে রায়না-রোহিত-পাঠানদের কাঁপাকাঁপি দেখে ‘এসওএস’ পাঠানো হলো দ্রাবিড়কে। কারণ, সামনেই তখন শ্রীলঙ্কার ত্রিদেশীয় সিরিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। শ্রীলঙ্কায় ৩ ইনিংসে ১৪, ৪৭ ও ৩৯; দক্ষিণ আফ্রিকায় ৭৬ ও ৪ করার পর আবার ছুঁড়ে ফেলা হলো।
এই সিরিজেই চোট আর পেসারদের বাজে বোলিংয়ে বল হাতে নিতে হল মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। উইকেটকিপিং করবেন কে? দ্রাবিড় আছেন না!
প্রথম টেস্টে ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পেলেন ওপেনার গৌতম গম্ভীর। খুব গুরুতর কিছু নয়, কিন্তু ঝুঁকি এড়াতে খেললেন না দ্বিতীয় টেস্ট। স্কোয়াডে বাড়তি ওপেনারও নেই। ওপেন করবেন কে? কেন, দ্রাবিড়!
ইংল্যান্ডের বাউন্স-সুইংয়ে দিশেহারা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বুক চিতিয়ে লড়েছেন কেবল দ্রাবিড়। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজে কী হবে? বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে দ্রাবিড়কে লাগেনি, কিন্তু ইংল্যান্ডের পরীক্ষায় দলকে পার করাবে কে? ফেরাও দ্রাবিড়কে!
বরাবরই আদর্শ ‘টিম ম্যান’, ছুড়ে ফেলার লজ্জা-অপমান ভুলে হাসিমুখে দ্রাবিড় জানালেন, ‘আমি প্রস্তুত।’ ‘প্রতিভাবান’ তরুণদের প্রবাহে যাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের শোকগাথা লিখে ফেলা হয়েছিল অনেক আগেই, তাঁর গায়েই আবার চাপছে ভারতের রঙিন জার্সি। তবে সম্ভাব্য পরিণতিটাও হয়তো জানেন দ্রাবিড়, ইংল্যান্ড সিরিজের পরই আবার ফুরাবে তাঁর প্রয়োজন। আগেভাগেই তাই জানিয়ে দিয়েছেন, এই সিরিজই শেষ।
যথারীতি বিতর্কও কিছু হচ্ছে, ‘তারুণ্য ভান্ডার’ নিয়ে এত গর্ব ভারতের, হঠাৎ কেন প্রয়োজন পড়ল অচল একজনের? তা ছাড়া তরুণদের রণাঙ্গনে না পাঠালে ওরা যুদ্ধ করতে শিখবে কীভাবে! তবে টেস্ট সিরিজে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্স দেখেই এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানোর লোক বেশি। যেমন ওয়াসিম আকরাম। চলতি সিরিজে ধারাভাষ্য দিচ্ছেন সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক। তাঁর অভিমত, ‘দ্রাবিড়ের টেকনিক দুর্দান্ত, কঠিন উইকেটে ও বরাবরই কার্যকরী। এই দলে কেবল দ্রাবিড়ই ৫০ ওভার খেলতে পারে, এই মুহূর্তে ভারতের এমন একজনকেই প্রয়োজন। আমার মনে হয়, ভারতের নির্বাচকদের হাতে আর কোনো বিকল্প ছিল না।’
আকরাম আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, ‘ওয়ানডে সিরিজে ভালো খেললে ওকে ওয়ানডে দলেও স্থায়ী করা উচিত। ২০১৫ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ও থাকবে না। কিন্তু যত দিন পারফর্ম করে, তত দিন খেলানো উচিত।’ নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে প্রধান নির্বাচক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের যুক্তি, ‘ইংল্যান্ডের কন্ডিশন বিবেচনা করে আমরা দল নির্বাচন করেছি। অনেক ভেবেচিন্তে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং দল খুব ভালো হয়েছে।’

বার্সা রিয়াল চেলসির জয়

প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে হেরে গেলে হয়তো কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু নতুন মৌসুম শুরুর আগে আত্মবিশ্বাসে ঘা তো লাগেই। পর পর দুই ম্যাচে হেরে বার্সেলোনার সেই ছন্দপতনই হয়েছিল। অবশেষে পরশু যুক্তরাষ্ট্র সফরে তাদের শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিল ইউরোপ ও স্পেন চ্যাম্পিয়নরা। টেক্সাসে মেক্সিকোর ক্লাব আমেরিকাকে তারা হারিয়েছে ২-০ গোলে। ২৪ মিনিটে প্রথম গোলটি করেছেন ডেভিড ভিয়া, শেষ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন সেইডু কেইটা। চীন সফরের প্রথম ম্যাচে গুয়াংজু এভারগ্রান্ডেকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর পরশু রিয়াল মাদ্রিদ ৬-০ গোলে হারিয়েছে তিয়ানজিন তেদাকে। গোল পেয়েছেন কাকা, ডি মারিয়া, হিগুয়েইন, রোনালদো, বেনজেমা (২)। ওদিকে প্রাক-মৌসুমে আগের ছয়টি ম্যাচ জেতার পর পরশু স্কটিশ ক্লাব রেঞ্জার্সকে নিজেদের মাঠেই ৩-১ গোলে হারিয়েছে চেলসি।
কমিউনিটি শিল্ড ম্যানইউর: কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসনের মুখ রক্ষা করেছেন স্মলিং, নানিরা। কমিউনিটি শিল্ডের ‘ম্যানচেস্টার ডার্বি’কে সামনে রেখে ফার্গুসন বলেছিলেন, নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের হই-হুল্লোড় থামিয়ে দেবেন। কাল ওয়েম্বলিতে ৩-২ গোলে দলকে জিতিয়ে শিষ্যরা মান রেখেছে বটে, তবে উদ্বেগাকুল সময়ই কেটেছে ম্যানইউ কোচের। ফার্গুসনের টেনশন বাড়িয়ে লেসকট ও জেকোর গোলে প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩ গোল করে ম্যানইউ ম্যান সিটিকে হতাশ করে জিতে নেয় মৌসুমসূচক কমিউনিটি শিল্ড। ৫২ মিনিটে গোল করে ম্যানইউকে ম্যাচে ফেরান স্মলিং। ৫৮ মিনিটে সমতাসূচক গোলের পর অতিরিক্ত সময়ে দলের জয়সূচক গোলটিও করেছেন নানি।

ভারত ফিরে আসতে পারে: সৌরভ

ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির ভূমিকাটা এখন ধারাভাষ্যকারের। কমেন্ট্রি বক্সে বসে খুব কাছ থেকেই দেখেছেন সদ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় নেওয়া দেশটির ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুটি টেস্টে অসহায় আত্মসমর্পণ। নিজেদের গর্ব কিছুটা হলেও ফিরে পাওয়ার জন্য পরের দুটি টেস্টে জয় খুব জরুরি হয়ে পড়েছে ভারতের জন্য। কিন্তু এই মুহূর্তে জহির খানের ইনজুরি সেই সম্ভাবনার গুড়েও বালি ফেলে দেওয়ার উপক্রম ঘটিয়েছে।
সৌরভ গাঙ্গুলি মনে করেন, জহির খানের ইনজুরি পরের দুই টেস্টে ভারতের সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলবে। তবে একজন খেলোয়াড়ের ইনজুরিই যে সব সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটিয়েছে—এমনটা মনে করেন না তিনি। সৌরভ গাঙ্গুলির মতে, ভারতের এখনো সিরিজে ফিরে আসার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
সৌরভ গাঙ্গুলির বলেন, ‘জহির যেহেতু খেলতে পারবে না, তাই অন্য বোলারদের দায়িত্ব অনেকটাই বেড়ে গেছে। ভারত যদি সিরিজ ড্র করতে চায়, তাহলে বাকি বোলারদেরও পারফর্ম করতে হবে।’
ভারতের সম্ভাবনা সম্পর্কে সৌরভ গাঙ্গুলির বলেন, ‘সিরিজের প্রথম দুটি টেস্টে হেরে ভারত অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে ভারত—এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমি এখনো মনে করি, সিরিজের বাকি দুটি টেস্ট জিতে এই সিরিজ ২-২-তে ড্র করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের সামনে।’

ইব্রার কণ্ঠে মিলানের জয়গান

ইন্টার মিলানের টানা পাঁচ বছরের শ্রেষ্ঠত্ব চ্যালেঞ্জ করে ছয় বছর পর গত মৌসুমে লিগ শিরোপা ঘরে তুলেছে এসি মিলান। এবার তো মৌসুমটাই শুরু করল সেই ইন্টার মিলানকে হারিয়ে সুপারকোপা জিতে। পরশু বেইজিংয়ের এই ‘মিলান ডার্বি’ জয়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ মেতেছেন মিলান প্রশংসায়।
‘ইব্রা’ বলছেন, মিলান বিজয়ীদের দল। প্রথমে পিছিয়ে পড়েও মিলান মৌসুমসূচক শিরোপা জিতেছে ২-১ গোলে। ইব্রাহিমোভিচের বিশ্বাস, এই জয় মিলানের ‘বিজয়ী’ মানসিকতারই ফসল।
২৯ বছর বয়সী সুইডিশ এটাও মনে করেন, এই জয় দলে জয়ের মানসিকতা আরও জোরালো করবে, ‘এই ধারা বজায় রেখে দল জিততেই চাইবে।’ মিলানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আরও বলেছেন, ‘আমি জিততে চাই। আমরা মিলান এবং জয়টাই আমাদের কাম্য। কারণ, এটাই ক্লাবের মানসিকতা। ক্লাবের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যই আমাদের ওপর এই দায়িত্ব আরোপ করে।’
বার্সেলোনায় এই সুইডিশ ছিলেন অবহেলিত। কোচ পেপ গার্দিওলা অধিকাংশ ম্যাচেই ইব্রাহিমোভিচকে বসিয়ে রাখতেন বেঞ্চে। গার্দিওলার সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণেই গত মৌসুমে বার্সা থেকে ধারে খেলতে আসেন এসি মিলানে। মিলানে এসেই ইব্রাহিমোভিচ স্বরূপে ফেরেন। ৩৯ ম্যাচে ২১ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১২টি।
এই সাফল্যের রহস্য দলের এক হয়ে খেলা। পরশু তিনিই যেমন নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কৃতিত্ব দিলেন সতীর্থদের, ‘ভালো করার জন্য আমি সতীর্থদের ধন্যবাদ দেব। তাদের সাহায্য ছাড়া আমি কিছুই করতে পারতাম না। আমার গোলটির জন্য (ক্লারেন্স) সির্ডফকে ধন্যবাদ দেব।’
এদিকে হারের পর ইন্টার মিলানের অধিনায়ক হাভিয়ের জানেত্তি বলেছেন, ‘দলের এককাট্টা হতে আরও সময় দরকার।’ ভুল কিছু বলেননি এই আর্জেন্টাইন। ব্রাজিলিয়ান কোচ লিওনার্দো চলে যাওয়ার পর দায়িত্ব বর্তেছে জিয়ান পিয়েরো গ্যাসপেরিনির কাঁধে। নতুন কোচের অধীনে গুছিয়ে উঠতে সময় তো কিছু লাগবেই।