Showing posts with label ফিলিস্তিন. Show all posts
Showing posts with label ফিলিস্তিন. Show all posts

Thursday, August 27, 2026

ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ

আল-জাজিরাঃ ইসরাইল কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখলে নিলেও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স।

তিনি বলেন, ‘আমরা কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করছি না।’

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সন্ডার্স এ কথা বলেন। এ সময় কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখল নিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিভিন্ন দাবিরও জবাব দেন তিনি।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দাবি, কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি ইহুদি ন্যাশনাল ফান্ডের মালিকানাধীন। পরিকল্পিত একটি কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য জায়গাটি জেরুজালেম পৌরসভাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরে পাস হওয়া একটি আইনের কথাও উল্লেখ করেছে তারা। ওই আইনে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম সীমিত করার কথা বলা হয়।

ইউএনআরডব্লিউএ অবশ্য এসব দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির বক্তব্য, কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র জাতিসংঘের একটি স্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এটি সুরক্ষিত।

সন্ডার্স বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর দায়িত্ব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সরাসরি দিয়েছে। ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সংস্থাটির কাজ হলো ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মানবিক ও জনসেবা দেওয়া।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি মানবিক সংস্থা। আমরা উন্নয়নমূলক কাজও করি। গুরুত্বপূর্ণ সেবা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে।’

সন্ডার্স জানান, সাধারণ পরিষদ অন্য কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত অথবা ফিলিস্তিন প্রশ্নের একটি স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইউএনআরডব্লিউএ তার কাজ চালিয়ে যাবে।

ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের পর কর্মী ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে নিরাপত্তা মূল্যায়ন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে জাতিসংঘের স্থাপনায় ইসরাইলি বাহিনীর বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেছেন সন্ডার্স। তার মতে, এ ধরনের বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেওয়া ঠিক হয়নি। এসব সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে।

সন্ডার্স বলেন, ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মুখোমুখি বসে এসব সমস্যা সমাধানের সময় অনেক আগেই এসেছে।

ইউএনআরডব্লিউএর ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করছি না।’ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ -:এআইডিএর প্রধান

গাজার ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর জোট অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজের (এআইডিএ) নির্বাহী পরিচালক অ্যাথেনা রেবার্ন।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) দেওয়া বক্তব্যে রেবার্ন বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, ইসরাইলের অবৈধ উপস্থিতির অবসান এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের দিকে অগ্রগতি—এই তিনটি বিষয় দিয়ে বোর্ড অব পিসের কার্যক্রম বিচার করা উচিত। এসব মৌলিক মানদণ্ডে বোর্ডটি ব্যর্থ।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কাজ করা শতাধিক আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে এআইডিএ। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে রেবার্ন নিরাপত্তা পরিষদের সামনে গাজার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের অধীনে বোর্ড অব পিস গঠিত হয়েছে। এই প্রস্তাব সহিংসতা কমানোর সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু একই সময়ে এটি ইসরাইলের ‘অবৈধ উপস্থিতি’ আরো পাকাপোক্ত করার কাজ করেছে।

রেবার্নের অভিযোগ, গাজার ফিলিস্তিনিদের অধিকার এখন তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকারী পক্ষের ‘দূরপ্রসারী, খামখেয়ালি ও স্বেচ্ছাচারী’ শর্তের নিচে চাপা পড়ে গেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থা এমন একটি পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করে তুলেছে, যেখানে প্রায় ২০ লাখ মানুষ গাজায় আটকা পড়ে আছেন। তাদের বেঁচে থাকার জন্য মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ সেই সহায়তার প্রবেশ ও বিতরণ নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত করছে সেই রাষ্ট্র, যার নীতির কারণে এই সংকট ও ঘাটতির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

রেবার্নের ভাষায়, ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে অগ্রাধিকার না দিয়ে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তাদের জীবনযাপন ক্রমেই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

নিরাপত্তা পরিষদে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গাজার বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হওয়াই যেকোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। সেই মানদণ্ডে বর্তমান বোর্ড অব পিসের কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল -:ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান

ইসরাইল জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে বিলুপ্ত করে ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যুটিই ‘মুছে ফেলতে’ চায় বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির প্রধান ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স।

তার মতে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের উপস্থিতি বিলীন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ইউএনআরডব্লিউএর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অভিযান চালানো হয়েছে।

আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সন্ডার্স এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের কাছে কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান শুধু একটি স্থাপনা দখলের ঘটনা নয়। এর পেছনে আরো বড় লক্ষ্য রয়েছে।

মঙ্গলবার কাফর আকাব এলাকায় অবস্থিত ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি দখলে নেয় ইসরাইলি বাহিনী। অভিযানে ইউএনআরডব্লিউএর কর্মীরা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। এ সময় ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া গুলিতে অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি আহত হন।

অভিযানে অংশ নেন ইসরাইলের কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। সেখানে তিনি ঘোষণা দেন, ‘জেরুজালেম ও ইসরাইলে এই সংস্থার কোনো জায়গা নেই।’

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই অভিযান ও স্থাপনা খালি করার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলি আইনের আওতায় এ পদক্ষেপ বৈধ। একই সঙ্গে ইউএনআরডব্লিউএর বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় হামাসকে সহায়তা করার অভিযোগ তোলেন তিনি।

তবে ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান সন্ডার্সের বক্তব্য, এর লক্ষ্য আরো গভীরে।

তার ভাষ্য, সংস্থাটিকে অর্থসংকটে ফেলে বিলুপ্ত করা গেলে ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যুটিও আর থাকবে না—এমনটাই আশা করছে ইসরাইল।

সন্ডার্স বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর অর্থায়ন বন্ধ করে সংস্থাটিকে বিলুপ্ত করা হলে ফিলিস্তিনি শরণার্থী সমস্যাটি ‘শেষ হয়ে যাবে’। একই সঙ্গে শরণার্থীদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার, পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিপূরণের দাবিও আর থাকবে না।

কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সন্ডার্স। তিনি বলেন, কেন্দ্রটি স্থানীয় তরুণদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল।

তার ভাষ্য, কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৩৪০ তরুণ প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হবে। এই কর্মসূচি তরুণদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ার সুযোগ করে দিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সন্ডার্স বলেন, প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি হারানোর অর্থ শুধু একটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। এর সঙ্গে শত শত তরুণের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও বন্ধ হয়ে গেল।

ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল
ছবি: এপি

ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জাতিসংঘে কাতার

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে হবে বলে জানিয়েছে কাতার। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক অধিবেশনে এ কথা বলেছেন জাতিসংঘে কাতারের রাষ্ট্রদূত আলিয়া আহমেদ সাইফ আল-থানি। খবর আলজাজিরা।

গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে আয়োজিত ওই অধিবেশনে আরব গোষ্ঠীর পক্ষে বক্তব্য দেন আল-থানি। তিনি বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান না ঘটালে ন্যায়সংগত, পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই শান্তি অর্জন করা সম্ভব নয়।

তিনি গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের চলমান ‘গুরুতর লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানান। আল-থানি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র এবং ২০২৫ সালের ব্যাপক পরিকল্পনা—যুদ্ধ বন্ধ, জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনের জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি—উভয়কেই ইসরায়েলের প্রত্যাখ্যান।

আল-থানি বলেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে মৌলিকভাবে দুর্বল করা হচ্ছে। এ কারণে তিনি পরিকল্পনাটির পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানান কাতারের এই রাষ্ট্রদূত।

ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জাতিসংঘে কাতার

Wednesday, August 26, 2026

জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যালয় দখল করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল ইসরাইলি মন্ত্রী

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এ সময় কেন্দ্রটির কর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। পরে এর প্রাঙ্গণে ইসরাইলের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উগ্রপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এ ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। অভিযান ও পতাকা উত্তোলনের পর তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাটিকে একইভাবে দেখছেন।

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের একটি সংস্থার পরিচালিত স্থাপনায় ইসরাইলি বাহিনীর প্রবেশ এবং কর্মীদের সেখান থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাকে গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের সংস্থার কার্যক্রমে এ ধরনের হস্তক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রশ্ন উঠেছে।

ইউএনআরডব্লিউএ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে। সংস্থাটির স্থাপনায় অভিযান চালানো এবং সেখানে ইসরাইলের পতাকা তোলার ঘটনা তাই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইসরাইলের উগ্রপন্থি রাজনীতিক বেন-গভির দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএ-এর এই স্থাপনায় অভিযানকে তার প্রকাশ্য সমর্থন সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউএনআরডব্লিউএ ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের সংস্থার পরিচালিত স্থাপনায় এ ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যালয় দখল করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল ইসরাইলি মন্ত্রী
ইতামার বেন-গভির। ছবি: আল-জাজিরা

Monday, August 24, 2026

ফিলিস্তিনের মানুষের গল্প বাঁচিয়ে রাখতে ‘গাজা পাবলিকেশনস’ by রবিউল কমল

গাজায় যুদ্ধ ও ধ্বংসের মধ্যেও মানুষের গল্প, স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা ধরে রাখতে ‘গাজা পাবলিকেশনস’ নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন লেখক হুসাম মারুফ।

১৪ আগস্ট প্রকাশিত এক লেখায় নিজের এই উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

যুদ্ধের শুরুর দিকে মারুফ পরিবারের সঙ্গে রাফাহ শহরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। চারপাশে তখন গোলাবর্ষণ চলছিল। প্রতিদিনই তাঁর মনে হতো, যেকোনো সময় মৃত্যু হতে পারে।

তবে শুধু মৃত্যুর ভয়ই তাঁকে ভাবিয়ে তুলছিল না। তাঁর ভয় ছিল, নিজের লেখা পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগেই যদি তিনি মারা যান, তাহলে তাঁর গল্প, স্মৃতি ও অভিজ্ঞতাগুলোও হয়তো হারিয়ে যাবে।

মারুফ মনে করেন, একজন মানুষের মৃত্যু আর তাঁর স্মৃতি মুছে যাওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। একজন মানুষ মারা যেতে পারেন, কিন্তু তাঁর জীবন, ভালোবাসা, ভয়, স্বপ্ন ও অভিজ্ঞতার চিহ্নগুলোও যদি হারিয়ে যায়, তাহলে সেটি আরও বড় ক্ষতি।

গাজায় তখন অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রন্থাগার ধ্বংস হচ্ছিল। লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও থেমে যাচ্ছিল। তখনই মারুফের মনে প্রশ্ন আসে, এই সময়ের মানুষের গল্পগুলো কে সংরক্ষণ করবে?

এই ভাবনা থেকেই শুরু হয় ‘গাজা পাবলিকেশনস’।

গাজার ভেতরে তখন বই ছাপার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তাই মারুফ সিদ্ধান্ত নেন, বই গাজার বাইরে ছাপা হবে। তবে সম্পাদনা, নকশা ও অন্যান্য কাজ গাজা থেকেই শুরু করা হবে।

তিনি একজন সম্পাদক, প্রুফ রিডার, ডিজাইনার, বিপণনকর্মী এবং মুদ্রণ ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা কয়েকজনকে নিয়ে একটি ছোট দল তৈরি করেন। তাঁদের কয়েকজনকে তিনি আগে চিনতেন না। কিন্তু সবাই উদ্যোগটির গুরুত্ব বুঝে স্বেচ্ছায় যুক্ত হন।

শুরুতে খুব অল্প সামর্থ্য নিয়েই কাজ শুরু হয়। তৈরি করা হয় একটি সাধারণ লোগো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ। এরপর এমন বই খোঁজা শুরু হয়, যেগুলোতে যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনিদের জীবন ও অভিজ্ঞতার কথা আছে।

‘গাজা পাবলিকেশনস’-এর লোগোতে রয়েছে একটি বালুঘড়ি। তবে সেখানে বালু নিচে পড়ে না। মাঝখানে একটি বাধা থাকায় বালু আটকে থাকে। মারুফের কাছে এই বালুঘড়ি গাজার যুদ্ধকালীন জীবনের প্রতীক।

তাঁর মতে, গাজায় তখন সময় যেন থেমে গিয়েছিল। কাজ, পড়ালেখা, সামাজিক জীবন এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা অনেক কিছুই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মানুষ কেবল বর্তমান মুহূর্তটি পার করার চেষ্টা করছিল।

প্রকাশনাটির প্রথম বই ছিল আমের আল-মাসরির ‘দ্য ম্যান হু লুকড ব্যাক’। বইটিতে কেবল বোমা হামলার কথা নেই। যুদ্ধের মধ্যে মানুষের ভয়, পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং নিজের পরিচয় ধরে রাখার চেষ্টার কথাও রয়েছে।

বইটি প্রকাশের দিনই মারুফ জানতে পারেন, তাঁর এক কাজিনের মেয়ে ও সন্তানেরা বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন। একই দিনে তাঁকে দুটি বিপরীত অনুভূতি সামলাতে হয়। একদিকে আনন্দ—গাজা থেকে একটি বই বের হয়ে পৃথিবীর পাঠকের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে গভীর শোক—একটি পুরো পরিবার হারিয়ে গেছে।

সেদিনই তাঁর কাছে আরও পরিষ্কার হয়ে যায়, বই প্রকাশের কাজটি শুধু সাহিত্য প্রকাশের বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবন ও স্মৃতি ধরে রাখারও একটি চেষ্টা।

দ্বিতীয় বই ছিল রেহাম আল-সাবির উপন্যাস ‘আই অ্যাম অ্যাট ইউর ডোর’। এতে যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনি নারীদের জীবনের কথা বলা হয়েছে। বাস্তুচ্যুতি ও ভয় ছাড়াও দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট সমস্যাগুলোও উঠে এসেছে।

যেমন স্যানিটারি প্যাড, সাবান, ডিটারজেন্ট ও শ্যাম্পুর মতো প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব। স্বাভাবিক সময়ে এসব সাধারণ জিনিস হলেও যুদ্ধের সময় এগুলোর অভাব নারীদের ব্যক্তিগত জীবন, গোপনীয়তা ও মর্যাদায় বড় প্রভাব ফেলে।

তৃতীয় বই ‘দ্য পাওয়ার অব দ্য সি শু’ লিখেছেন ফিলিস্তিনি লেখক বিসান নাতিল। শিশুদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা এই বইয়ে শরণার্থীশিবিরের শিশুদের জীবন উঠে এসেছে। বাড়ি হারানো, বোমা হামলার ভয়, ক্ষুধা, পানির সংকট, খেলতে না পারা—সবকিছুর পাশাপাশি বইটিতে শিশুদের ছোট ছোট অনুভূতির কথাও বলা হয়েছে।

‘গাজা পাবলিকেশনস’-এর কাজ চালাতে গিয়ে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যেত, দলের সদস্যদের সঙ্গে দিনের পর দিন যোগাযোগ করা যেত না। একবার দীর্ঘ সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর তাঁরা ভেবেছিলেন, মারুফ হয়তো মারা গেছেন। পরে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়, কাজও আবার শুরু হয়।

বইগুলো পোল্যান্ডে ছাপা হয়েছে। এরপর জার্মানি, জর্ডান ও কায়রোর বিভিন্ন বিতরণকেন্দ্রের মাধ্যমে সেগুলো পাঠকদের কাছে পৌঁছেছে। বইগুলো নিয়ে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আগ্রহ দেখা গেছে বলে জানান মারুফ।

পরে নিজের পুরোনো বাড়ির জায়গায় ফিরে তিনি দেখেন, পুরো বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের সামনে একটি গাছ এবং তার পাশে ছোট আরেকটি গাছ তখনো দাঁড়িয়ে আছে।

সেই ছোট গাছটির দিকে তাকিয়ে তাঁর মনে হয়, লেখাও অনেকটা এমন। লেখা যুদ্ধ থামাতে পারে না। হারিয়ে যাওয়া মানুষকে ফিরিয়ে আনতে পারে না। কিন্তু চারপাশের সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও মানুষের গল্প, স্মৃতি ও পরিচয় ধরে রাখতে পারে।

মারুফের কাছে ‘গাজা পাবলিকেশনস’ সেই কাজটিই করছে—যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও যেন মানুষ কেবল সংখ্যা হয়ে হারিয়ে না যায়, বরং তার গল্প পৃথিবীর কাছে থেকে যায়।

(লিটারেরি হাবে প্রকাশিত হুসাম মারুফের কলাম অবলম্বনে)

গাজার প্রকাশনা সংস্থা ‘গাজা পাবলিকেশনস’ থেকে প্রকাশিত বইয়ের প্রচ্ছদ ও হুসাম মারুফের প্রতিকৃতি অবলম্বনে গ্রাফিকস: প্রথম আলো
গাজার প্রকাশনা সংস্থা ‘গাজা পাবলিকেশনস’ থেকে প্রকাশিত বইয়ের প্রচ্ছদ ও হুসাম মারুফের প্রতিকৃতি অবলম্বনে গ্রাফিকস: প্রথম আলো

গাজায় মরদেহ দাফনের জায়গা পাননি, দাদার কবরে বাবাকে দাফন করলেন ছেলে

আল–জাজিরাঃ মৃত বাবাকে কোথায় কবর দেবেন, তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী ওমর আল-সাওহি। তাঁর বাবা মোহাম্মদকে (৪০) গাজার ইয়েলো লাইনের কাছে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলিরা।

মোহাম্মদ গাজা নগরীর জায়তুন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত ১০ জুন ইসরায়েলিদের নির্ধারিত সামরিক এলাকা ইয়েলো লাইনের পাশে ফুটপাতের একটি দোকানে চা ও কফি বিক্রি করছিলেন। আচমকা একটি বুলেট এসে তাঁর ঘাড়ে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মারা যান।

ওমর তাঁর বাবার মরদেহ দাফনের জন্য জায়তুন করবস্থানে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন, একের পর এক মরদেহে ঠাসা পুরো কবরস্থান। কোথাও একটুকরা জায়গা ফাঁকা নেই। এখানে শায়িত বেশির ভাগই গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর জাতিগত নিধনের শিকার।

জায়গার অভাব এবং যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে বেশির ভাগ কবর শুধু একটি পাথর দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। আর সেই পাথরে নিহত ব্যক্তির নাম লেখা একটি কাগজ সেঁটে দেওয়া হয়েছে।

ওমর আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমি কবরস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দেখলাম, চারদিকে শুধু কবর আর কবর। চারদিকে বালুর স্তূপ, আর তার নিচেই দাফন করা হয়েছে মানুষের মরদেহ।’

ওমর আরও বলেন, যুদ্ধের আগে যেভাবে একটি কবর তৈরি বা প্রস্তুত করা হতো তার ছিটেফোঁটাও এখন নেই। একটি কবরের ওপর শুধু পাথরের টুকরা রেখে দেওয়া হয়েছে। তার ওপর এক টুকরা কাগজে নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় লিখে রাখা হয়েছে।

বর্তমানে গাজায় একটি কবর প্রস্তুত করতে প্রায় ৫০০ শেকেল (১৬৭ মার্কিন ডলার) খরচ হয়। ওমরের পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। তাই তাদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল।

ওমর বলেন, ‘সেখানে নতুন কোনো কবরের জায়গা ছিল না। তাই দাদার কবরেই বাবাকে দাফন করতে বাধ্য হয়েছি।’

গাজায় সব ধরনের নাগরিক পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া এবং অনবরত ইসরায়েলি হামলার ঝুঁকির কারণে যুদ্ধের সময় নিহত হাজারো ফিলিস্তিনির মরদেহ শনাক্ত বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অনেক পরিবার তাঁদের স্বজনদের মরদেহ বাড়িঘরের আঙিনায়, তাঁবুর পাশে, উদ্বাস্তু শিবিরের মাঠে, স্কুল কিংবা হাসপাতালের চত্বরে দাফন করতে বাধ্য হয়েছেন।

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর গাজায় ইসরায়েলি সহিংসতার মাত্রা কিছুটা কমে আসে। তখন পরিবারগুলো বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এবং অস্থায়ী কবর থেকে তাঁদের স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করে কবরস্থানে নিয়ে দাফন করার সুযোগ পান।

তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত আরও অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের জন্য দাফনের জায়গার প্রয়োজন ছিল। গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন হাসপাতালের চত্বরে থাকা ৭টি গণকবর থেকে এ পর্যন্ত ৫২৯ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সহিংসতা কমায় মোহাম্মদের পরিবার তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে যথাযথ মর্যাদায় দাফনের জন্য কবরস্থানে নিয়ে যায়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সেখানে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামলা থেকে রক্ষা পায়নি কবরস্থানগুলোও। ফলে এত মানুষের মরদেহ দাফনের জন্য কবরের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

গাজার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোয় কবরস্থানে প্রবেশেও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এতে পরিবারগুলোর জন্য স্বজনদের দাফনের জায়গা খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলি হামলায় লাখো ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাঁদের আশ্রয় দিতে কবরস্থানের জন্য নির্ধারিত অনেক জায়গাকে উদ্বাস্তু শিবিরে পরিণত করা হয়েছে।

গাজার কর্তৃপক্ষ বলেছেন, কবরের ফলক তৈরির পাথরসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকট রয়েছে। এ কারণে এখন একটি কবর তৈরিতে ৭০০ থেকে ১ হাজার শেকেল বা প্রায় ২৩৫ থেকে ৩৩৫ ডলার খরচ হচ্ছে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের ইট-পাথর, কাদা কিংবা ঢেউটিন দিয়ে অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে। পরে অর্থের ব্যবস্থা হলে স্থায়ী কবরের ফলক বসানো হচ্ছে।

গাজার ৬০টি কবরস্থানের অনেকগুলোই যুদ্ধ শুরুর আগেই প্রায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। গাজার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ইকরামি আল-মাদালাল বলেন, নতুন কবরস্থান তৈরি করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

মন্ত্রণালয় নতুন কবরের জায়গা খুঁজছে। একই সঙ্গে অস্থায়ীভাবে দাফন করা মরদেহগুলো কবরস্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে। তবে ইচ্ছেমতো মরদেহ সরানো যায় না। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এ কাজ করতে হয়।

গাজার খান ইউনিস কবরস্থানে ১৯ বছরের বেশি সময় ধরে কবর খোঁড়ার কাজ করেন তাফেশ আবু হাতাব। তাঁর পুরো কর্মজীবনে গাজা যুদ্ধের মতো এত কঠিন সময় আর কখনো আসেনি।

যুদ্ধ শুরুর সময় কবরস্থানটিতে ছিল প্রায় ৬০টি কবর। এখন সেখানে কবরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। যুদ্ধের একপর্যায়ে তাফেশকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর খুঁড়তে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এত ভয়াবহ রক্তপাত আমরা কখনো দেখিনি। প্রতিদিনই কয়েক ডজন শহীদকে এখানে দাফন করতে হচ্ছে।’

তাফেশ যাঁদের জন্য কবর খুঁড়েছেন তাঁদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। কখনো কখনো একটি পরিবারের সব সদস্যকে একসঙ্গে দাফন করতে হয়েছে।

ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছেলেকে দাফন করা হয়েছে। ছেলের কবরের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা। খান ইউনিস, দক্ষিণ গাজা, ১৮ জানুয়ারি ২০২৪
ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছেলেকে দাফন করা হয়েছে। ছেলের কবরের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা। খান ইউনিস, দক্ষিণ গাজা, ১৮ জানুয়ারি ২০২৪ ছবি: রয়টার্স

গাজায় শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে ইসরাইলের হুমকি

গাজা উপত্যকায় শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধ না হলে গুপ্তহত্যা বাড়ানো ও আবাসিক এলাকা খালি করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। যদিও ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজার কাছে উদ্ধার করা চারটি ঘুড়িতে কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি এবং এগুলো জনসাধারণের জন্য কোনো ঝুঁকিও তৈরি করেনি।

গাজার বাস্তুচ্যুত শিবিরগুলোতে শিশুরা বিনোদনের জন্য নিয়মিত ঘুড়ি ওড়ায়। সুতা ছিঁড়ে গেলে বাতাসে ভেসে ঘুড়ি সীমান্তের ওপারে ইসরাইলি এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

ঘুড়ি, বেলুন বা ড্রোন উৎক্ষেপণ অব্যাহত থাকলে হত্যাকাণ্ড বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ। রোববার কাৎজ বলেন, বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক, ‘ঘুড়ি ড্রোনের মতোই’।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, শিশুদের খেলনাকে আগ্রাসন চালানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইল।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন; ধ্বংস হয়েছে উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো।

সূত্র: আনাদোলু

গাজায় শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে ইসরাইলের হুমকি
ছবি: সংগৃহীত।

ফিলিস্তিনে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান আলবানিজের

গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজি । তিনি বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ এখন অত্যন্ত জরুরি।

মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আলবানিজি বলেন, ‘তৃতীয় রাষ্ট্রগুলোর ওপর দায়িত্ব রয়েছে—আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায় অনুযায়ী ইসরাইলের অবৈধ দখলদারত্বের অবসানে পদক্ষেপ নেওয়া।’

২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের দেওয়া একটি পরামর্শমূলক রায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই রায়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারত্বকে অবৈধ বলে অভিহিত করা হয়। একই সঙ্গে দখলদারত্ব বজায় রাখতে সহায়তা না করার জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

আলবানিজি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সাধারণ পরিষদের ‘ইউনাইটিং ফর পিস’ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। গাজা ও পশ্চিম তীরের সংঘাত নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

‘ইউনাইটিং ফর পিস’ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার আওতায় নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্যের অভাবে কোনো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না হলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে পরিষদ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

সূত্র: আনাদোলু

ফিলিস্তিনে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান আলবানিজের

গাজায় লাশে ভরে গেছে কবরস্থান, দাফনের জায়গাও আর নেই

২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। সেখানে কাগজে-কলমে ‘যুদ্ধবিরতি’ চালু থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। এতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে দেড় লক্ষাধিক। সেই সঙ্গে ঘর ছাড়া হয়েছে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় এখন এমন সংকট দেখা দিয়েছে যে লাশ দাফন করার জায়গা পেতেও হিমশিম খাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। তেমনি গাজার ২০ বছর বয়সী ওমর আল-সাওহি। তার সামনে এখন এক কঠিন বাস্তবতা- বাবা মোহাম্মদকে কোথায় দাফন করবেন?

৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় রাস্তার পাশে ছোট একটি দোকানে চা-কফি বিক্রি করছিলেন। গত ১০ জুন ইসরাইলের নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছে তার ঘাড়ে একটি গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যু হয়।
বাবার মরদেহ দাফনের জন্য ওমর জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে কবরের জায়গা প্রায় ফুরিয়ে গেছে। গাজায় চলমান যুদ্ধ ও ব্যাপক প্রাণহানির কারণে কবরস্থানগুলোতে ঠাসাঠাসি করে মরদেহ দাফন করা হচ্ছে।
অনেক কবরেই স্থায়ী কোনো সমাধিচিহ্ন নেই। শুধু একটি পাথর এবং তার সঙ্গে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা একটি কাগজ লাগিয়ে রাখা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জায়গার সংকট এবং নির্মাণসামগ্রীর অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ওমর আল-জাজিরাকে বলেন, আমি কবরস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অসংখ্য কবর দেখেছি। চারদিকে বালুর পাহাড়, আর সেই বালুর নিচে মানুষকে দাফন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোথাও শুধু একটি পাথরের সঙ্গে শহীদের নাম লেখা কাগজ লাগানো হয়েছে। যুদ্ধের আগে যেভাবে কবর তৈরি ও প্রস্তুত করা হতো, এখন আর সেভাবে করার সুযোগ নেই।
বর্তমানে গাজায় একটি কবর তৈরির খরচ প্রায় ৫০০ শেকেল বা ১৬৭ ডলার। ওমরের পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। তার ওপর নতুন কবর খোঁজার মতো জায়গাও ছিল না।
নতুন কবরের জন্য কোনো জায়গা ছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের দাদার কবরে বাবাকে দাফন করতে হয়েছে, বলেন ওমর।

গাজায় যুদ্ধের কারণে সেবা ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে ইসরাইলি হামলার ঝুঁকির কারণে মৃতদের শনাক্ত করা ও যথাযথভাবে দাফন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে যুদ্ধের সময় হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ হিসেবে গণনা করা হয়েছে।
অনেককে বাড়ির আঙিনায়, তাবুর পাশে, বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরের ভেতরে, স্কুল কিংবা হাসপাতালের চত্বরে অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গাজায় ইসরাইলি হামলার মাত্রা কিছুটা কমে আসে। এরপর পরিবারগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে কিংবা অস্থায়ী কবরস্থানে থাকা স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১,২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজন হয়েছে নতুন দাফনস্থল। গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোর প্রাঙ্গণে থাকা সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আল জাজিরা বলছে, গাজায় কবরের সংকট শুধু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে যুদ্ধে নিহত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির কারণে নয়। ইসরাইলি হামলায় বহু কবরস্থানও ধ্বংস হয়েছে।
গাজার ধর্মীয় ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে।

এ ছাড়া ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে কবরস্থানে প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফলে পরিবারগুলোর জন্য দাফনের জায়গা আরও কমে গেছে।

গাজার ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ইকরামি আল-মাদালাল জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই গাজার ৬০টি কবরস্থানের অনেকগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
৫০ বছর বয়সী তাফেশ আবু হাতাব গত ১৯ বছর ধরে কবর খোঁড়ার কাজ করছেন। তার মতে, গাজায় চলমান যুদ্ধ তার কর্মজীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়।
তিনি যে খান ইউনিস কবরস্থানে কাজ করেন, যুদ্ধ শুরুর সময় সেখানে ছিল প্রায় ৬০টি কবর। এখন সেই কবরস্থানে প্রায় ৬,০০০ মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
যুদ্ধের একপর্যায়ে তাফেশকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে।

গাজায় লাশে ভরে গেছে কবরস্থান, দাফনের জায়গাও আর নেই

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ সাবেক কূটনীতিকের

আল–জাজিরাঃ ইসরায়েলের ওপর যৌথভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপে নিজ নিজ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ জন সাবেক কূটনীতিক। তাঁরা সতর্ক করে বলেন, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা চিরতরে মুছে দিচ্ছে।

গতকাল শনিবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য মঁদ-এ প্রকাশিত এক খোলাচিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনে আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের সমানাধিকার নিশ্চিত করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী কূটনীতিকদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জেরেমি গ্রিনস্টক ও এমির জোন্স প্যারি, ফ্রান্সের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক পরিচালক ইভ অবিন দে লা মেসুজিয়ের, ডেনিস বোচার্ড প্রমুখ। তাঁদের অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

চিঠিতে বলা হয়, ‘ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশের পরোক্ষ মদদে উগ্র ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের চরম সহিংসতা জাতিগত নিধনের শামিল। বিশ্ব এখন ইসরায়েলকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখে না।’

ইরান, কাতার ও ইয়েমেনে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাস হপটনও চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি আল–জাজিরাকে বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের নতুন তোড়জোড় শুরু হওয়ায় এ চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরে এমনভাবে নতুন বসতি গড়ার পাঁয়তারা করছে, যা ভবিষ্যতে সেখানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো সুযোগই রাখবে না।

গাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এ চিঠি সামনে এল। গত বছরের অক্টোবরে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা থামেনি। উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই যুদ্ধবিরতির পর থেকেও এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৮৫ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।

‘কথা নয়, এবার কাজ চাই’

লিবিয়ায় নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার মিলেট আল–জাজিরাকে বলেন, এই চিঠির মূল উদ্দেশ্য হলো শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পদক্ষেপের দাবি জানানো।

পিটার মিলেট বলেন, ‘আমরা কথা নয়, কাজ দেখতে চাই। গত কয়েক মাস ও বছর ধরে আমাদের মন্ত্রীরা শুধু নিন্দা আর সমালোচনা করে বিবৃতিই দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখন ইসরায়েলের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ এবং গাজায় সাহায্য পাঠানোর ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।’

২০২৫ সালে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সাবেক কূটনীতিকেরা বলেন, সেই স্বীকৃতিকে এখন জরুরি পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী কূটনীতিকেরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও লেবাননে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এ অঞ্চলের বর্তমান সীমানা নির্ধারণে তাদের ঐতিহাসিক দায় রয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের দুই দেশই বিশ্বাস করে যে যারা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’

চিঠিতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে কয়েকটি পদক্ষেপ একসঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যচুক্তি স্থগিত করা এবং ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করা।

এ ছাড়া চিঠিতে ইসরায়েলি বসতিতে বাণিজ্য বন্ধ, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বিদেশিদের সম্পত্তি কেনায় নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএসহ অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গাজায় সাংবাদিক, কূটনীতিক ও আইনপ্রণেতাদের নিরাপদে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে চিঠিতে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আইন ভঙ্গের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে আইনের শাসন রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং সহিংসতাও বন্ধ হবে।

‘আমরা এভাবে চলতে দিতে পারি না’

মিলেট আরও কঠোর পদক্ষেপ চান। তিনি ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতে এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিতে তাঁর সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মিলেটের অভিযোগ, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের জর্ডান নদী পার হয়ে জর্ডানে চলে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এভাবে চলতে দিতে পারি না।’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ আহ্বানে কান দেবেন কি না—এমন প্রশ্নে মিলেট সংশয় প্রকাশ করলেও বলেন, ‘চাপ সৃষ্টি করা জরুরি। বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা যদি ইসরায়েলের অর্থনীতিতে আঘাত হানে, তবে এক বড় প্রভাব সেখানে পড়তে বাধ্য।’

গাজা সিটির পশ্চিমে শাতি শরণার্থীশিবির-সংলগ্ন ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে এক ফিলিস্তিনি শিশু
গাজা সিটির পশ্চিমে শাতি শরণার্থীশিবির-সংলগ্ন ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে এক ফিলিস্তিনি শিশু। ফাইল ছবি: এএফপি

Sunday, August 23, 2026

গাজা থেকে উড়ে আসা ঘুড়ির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ইসরায়েলের

গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের দিকে উড়ে আসা ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনায় সেনাবাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনে গাজা থেকে ওড়ানো অন্তত চারটি ঘুড়ি ইসরায়েলের নাহাল ওজ কিবুতসে গিয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ঘুড়িগুলোতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি এবং এতে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকিও ছিল না।

তবে দক্ষিণ ইসরায়েলে অতীতে গাজা থেকে দাহ্য পদার্থ বহনকারী ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘুড়ি ও বেলুনের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকায় আগুন লাগানোর অভিযোগও রয়েছে।

এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, পশ্চিম নেগেভের ইসরায়েলি বসতিগুলোর দিকে গাজা থেকে যেকোনো ধরনের উড্ডয়ন বা নিক্ষেপের ঘটনা মোকাবিলায় আমি সেনাবাহিনীকে অবিলম্বে ও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি বলেন, গাজা থেকে যেকোনো কিছু পাঠানোর ঘটনাকে তিনি সব দিক থেকেই যুদ্ধের কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছেন এবং ইসরায়েলি বসতিগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কাটজ আরও বলেন, বেলুনকে ঘুড়ি হিসেবে বিবেচনা করা হবে, আর ঘুড়িকে ড্রোন হিসেবে; এর সঙ্গে বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এ ধরনের কিছু আয়োজন, উৎক্ষেপণ বা এতে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে এবং সর্বোচ্চ কঠোরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০১৮ সাল থেকে গাজার ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দিকে দাহ্য পদার্থ বহনকারী ঘুড়ি ও বেলুন ওড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এসবের কারণে সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতি ও বিস্তীর্ণ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

গাজা থেকে উড়ে আসা একটি ঘুড়ি হাতে নিয়ে দেখছেন ইসরায়েলি সেনা। ছবি : সোশ্যাল মিডিয়া
গাজা থেকে উড়ে আসা একটি ঘুড়ি হাতে নিয়ে দেখছেন ইসরায়েলি সেনা। ছবি : সোশ্যাল মিডিয়া

গাজায় সাড়ে ৩ লাখের বেশি রোগীর জরুরি ওষুধ প্রয়োজন

গাজা উপত্যকায় ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি রোগীর জরুরি ওষুধ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্যালেস্টিনিয়ান মেডিকেল রিলিফ সোসাইটির পরিচালক মোহাম্মদ আবু আফাশ। শনিবার তার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে আল জাজিরা।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ আবু আফাশ বলেন, গাজায় বিপুলসংখ্যক রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে যে পরিমাণ চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশ করছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম।

আবু আফাশ সতর্ক করে বলেন, গাজা উপত্যকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসাসহায়তা প্রবেশ না করলে সেখানকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ বাড়ানো না হলে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। খোদ দখলদার বাহিনীও তা স্বীকার করে নিচ্ছে। যেমন, গাজার নুসেইরাত এলাকায় বুধবার (১৯ আগস্ট) চালানো এক হামলায় হামাসের এক সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

বাহিনীটি দাবি করে, নিহত ব্যক্তির নাম সাবাহি সামি মাহমুদ শাহাতা। তিনি হামাসের সামরিক শাখার একজন প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন।

ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযোগ, শাহাতা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামলায় অংশ নিয়েছিলেন এবং ইসরায়েলিদের আটক করে রাখার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে বন্দিদের মুক্তি ও তাদের রেডক্রসের কাছে হস্তান্তরের সময় আয়োজিত হস্তান্তর অনুষ্ঠানেও শাহাতা অংশ নিয়েছিলেন।

সূত্র: আল জাজিরা

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার একটি এলাকা। পুরোনো ছবি
ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার একটি এলাকা। পুরোনো ছবি

Saturday, August 22, 2026

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে ১৭ বছরের ফিলিস্তিনি নিহত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের গুলিতে ১৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) খিরবেত হামরুশ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম করিম সান্দ শালালদেহ। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। খবর আল জাজিরার।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বড় একটি দল খিরবেত হামরুশ এলাকায় ফিলিস্তিনিদের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। হামলায় একটি বাড়িতে আগুনও ধরে যায়।

হামলার সময় করিম শালালদাহের বুকে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার মৃত্যুর খবর জানায় ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

একই ঘটনায় ৭০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনিও গুলিতে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওয়াফা।

এদিকে হেবরনের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। হামলায় বেশ কয়েকটি যানবাহন ও সরঞ্জামে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াফা।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে সংস্থাটি জানায়, হেবরনের দক্ষিণে দেইর শামস এলাকায় একদল সশস্ত্র বসতিস্থাপনকারী ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে পাথর ছুড়ে হামলা চালায়। এতে পাঁচজন আহত হন। এ সময় কয়েকটি ভেড়াও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

হামলাকারীরা ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালায় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় অধিকারকর্মী ওসামা মাখামরা ওয়াফাকে বলেন, বসতিস্থাপনকারীদের একটি দল মাসাফের ইয়াত্তার শা‘ব আল-বাতিম এলাকায় ইব্রাহিম আল-জাবারিনের বাড়িতে ঢুকে সম্পত্তি ভাঙচুর করে। পরে ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় প্রবেশ করে ইব্রাহিম আল-জাবারিন ও তার ছেলে জিবরিলকে গ্রেপ্তার করে।

এ ছাড়া নিরাপত্তা সূত্র জানায়, হেবরনের উত্তরে বেইত উম্মার শহরেও ইসরায়েলি সেনারা কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করে আসছেন, এসব হামলার সময় অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি বা সহায়তা থাকে।

সূত্র : আল জাজিরা 

নিহত করিম শালালদাহ। ছবি : আল কুদস ইউকে
নিহত করিম শালালদাহ। ছবি : আল কুদস ইউকে

শিশু হত্যা বন্ধ হলেই আমরা ন্যায়বিচার পাব: হিন্দ রজবের মা

গাজায় পাঁচ বছর বয়সী হিন্দ রজাবকে ইসরাইলি বাহিনী হত্যার দুই বছর পর দায় স্বীকার করেছে সামরিক বাহিনী। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রজবের পরিবারের গাড়িতে এবং তাকে বাঁচাতে পাঠানো প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অ্যাম্বুলেন্সের গুলি চালিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।

অনেকের কাছে, এই ফৌজদারি তদন্তের ঘোষণাটি গণহত্যা যুদ্ধের অন্যতম প্রতীকী একটি মামলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

হিন্দের মা, ওয়েসাম হামাদার জন্য, এতে খুব বেশি কিছু বদলায় না।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি শিশুরা যখন মারা যেতেই থাকে, তখন একটি সামরিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পরিমাপ করা যায় না। হিন্দের হত্যাকাণ্ড গাজার শিশুদের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

৩০ বছর বয়সী ওয়েসাম হামাদার টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ন্যায়বিচার হলো যুদ্ধ বন্ধ হওয়া।’

২০২৪ সালের ২৯শে জানুয়ারি, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নির্দেশে হিন্দ ও তার পরিবার গাজা শহর থেকে পালিয়ে যাচ্ছিল।

তদন্ত অনুযায়ী, তারা যখন গাড়ি চালিয়ে চলে যাচ্ছিল, তখন ইসরাইলি বাহিনী তাদের বহনকারী কালো কিয়া গাড়িটির ওপর গুলি চালায় এবং এতে ৩০০টিরও বেশি গুলি লাগে।

গাড়িচালক হিন্দের চাচা এবং অন্যান্য আত্মীয়রা নিহত হন। তার ১৫ বছর বয়সী চাচাতো বোন লায়ানও নিহত হওয়ার আগে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) ডিসপ্যাচারদের সাথে ফোনে কথা বলতে সক্ষম হয়।

একমাত্র জীবিত হিন্দ, তার আত্মীয়দের মৃতদেহের মাঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে ছিল। সে সাহায্যের জন্য আকুতি জানিয়ে বারবার পিআরসিএস-কে ফোন করে।

পরে সংস্থাটি তাকে উদ্ধারের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠায়, কিন্তু অবশেষে হিন্দ এবং প্যারামেডিক উভয়ের সাথেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

হিন্দ রজবের চাওয়া সাহায্যের আকুতি গাজার সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর প্রতিধ্বনিত হয়েছে। যা তাকে শিশুদের ওপর যুদ্ধের ভয়াবহতার এক বিশ্বব্যাপী প্রতীকে পরিণত করেছে। ‘দ্য ভয়েস অফ হিন্দ রজব’ নামক একটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত তথ্যচিত্র নির্মাণে অনুপ্রেরণা জোগায়। এই তথ্যচিত্রটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার জেতে এবং বাফটা ও অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন লাভ করে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষিত হয়েছে, ভেস্তে গেছে বা কার্যকর হতে ব্যর্থ হয়েছে। তবুও একটি বাস্তবতা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে: ফিলিস্তিনি শিশুরা এখনো সহিংসতার প্রধান শিকার হয়ে চলেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর, ২০২৩ থেকে ৭ অক্টোবর, ২০২৫-এর মধ্যে ৬৪,০০০-এরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।

১০ অক্টোবর, ২০২৫-এ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরেও সহিংসতা অব্যাহত ছিল। পরবর্তী ৩০০ দিনে গাজায় অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিশু হত্যা বন্ধ হলেই আমরা ন্যায়বিচার পাব: হিন্দ রজবের মা
হিন্দ রজবের একটি বিশাল প্রতিকৃতি তার মৃত্যুর দ্বিতীয় বার্ষিকীতে এবং তার মৃত্যু নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র অস্কার মনোনয়ন পাওয়ার পর, স্পেনের বার্সেলোনার বার্সেলোনেটা সৈকতে উন্মোচন করা হয়, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬। ছবি: সংগৃহীত।

ট্রাম্পের প্রস্তাবে নেতানিয়াহুর ভেটো by সাঈদ আরিকাত

গাজা উপত্যকায় চলমান সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। এজন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনাও ইসরাইলের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি রোডম্যাপ ও গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া হামাসকে সুবিধা দিতে পারে বলে নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের কট্টরপন্থি শরিকরা মনে করে। নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য ট্রাম্পের গাজা প্রস্তাবে সরাসরি ভেটো দেওয়ারই শামিল। এর মাধ্যমে কার্যত ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প মনে করতেন আমেরিকার শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা অতিরিক্ত সতর্কতা দেখিয়েছেন। তার মতে, মিত্র, প্রতিপক্ষ এবং আমলারা ওয়াশিংটনকে উপেক্ষা করতে শিখে গেছে, কারণ ওয়াশিংটন ভুলে গেছে কীভাবে অন্যদের বাধ্য করতে হয়। এজন্য গাজা প্রস্তাবের মাধ্যমে এর বিপরীত চিত্রই তুলে ধরার কথা ছিল, যেখানে ট্রাম্প একটি রূপরেখা চাপিয়ে দেবেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তা মেনে নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে সেই অপরিহার্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে দাবি করে আসছে।

কিন্তু তার সেই রূপরেখাকে নেতানিয়াহুর দ্রুত প্রত্যাখ্যান শুধু আলোচনার একটি কৌশল ছিল না, বরং এটি ছিল মূলত একটি আগাম ভেটো। এর লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের উদ্যোগটি গতি পাওয়ার আগেই সেটিকে দুর্বল করা। এই বিরোধকে একজন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে সাধারণ মতপার্থক্য হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু তাতে বিষয়টির বৃহত্তর তাৎপর্য আড়ালে পড়ে যায়। হামাসকে ‘প্রকৃত অর্থে’ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করা যাবে না—নেতানিয়াহুর এই অনড় অবস্থান ট্রাম্পের প্রস্তাবের মূল ভিত্তিতেই আঘাত করেছে। একই সঙ্গে এটি এমন একটি প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে, যা ওয়াশিংটন কয়েক দশক ধরে এড়িয়ে চলেছে। সেই প্রশ্নটি হচ্ছে—যখন কোনো পরাশক্তি তার মিত্রকে নিজস্ব কূটনীতির শর্তাবলি নির্ধারণের সুযোগ দেয়, তখন বাস্তবে কী ঘটে?

ট্রাম্পের ১৫ দফা রূপরেখা পারস্পরিক পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর আওতায় একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার অধীনে হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রক্রিয়া ও ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠতে শুরু করবে এবং নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনী গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে সরে যাবে। কিন্তু নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কার্যত সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছেন। তার যুক্তি হলো, হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত ইসরাইল কোনো অর্থবহ সেনা প্রত্যাহার করতে পারে না। কিন্তু ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ বলতে কী বোঝায়, তা কে নির্ধারণ করবে এবং কে তা যাচাই করবে? আর তখন কী হবে যখন ইসরাইল দাবি করবে যে, হামাস কোথাও অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে অথবা নতুন কোনো হুমকি দেখা দিয়েছে?

প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর যদি ইসরাইল সরকারের হাতেই থাকে, তবে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি এমন এক মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা শুধু ইসরাইলই নির্ধারণ ও পরিবর্তন করবে। এটি ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে একটি স্থায়ী ভেটো বা বাধার সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক ও ফিলিস্তিনি অন্তর্বর্তী কাঠামোর কাছে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে হবে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর অবস্থান অনুযায়ী ইসরাইল কখন তাদের সামরিক কর্তৃত্বের অবসান ঘটাবে, সেটি তারাই ঠিক করবে। হামাসের হুমকি কখন দূর হয়েছে, তা যদি ইসরাইল একাই নির্ধারণ করে, তবে উত্তরণ প্রক্রিয়া কখন শুরু হবে, তাও দেশটিই ঠিক করবে। এর ফলে নিরস্ত্রীকরণের মোড়কে গাজায় ইসরাইলের নিরাপত্তা উপস্থিতি অনির্দিষ্টকাল বজায় থাকবে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর এই মতপার্থক্য সংঘাতকে আরো তীব্র করবে। ট্রাম্প চান গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে। তিনি এমন একটি কূটনৈতিক সাফল্য চান, যা তার নিজের অর্জন হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং প্রমাণ করবে যে, প্রচলিত কূটনীতি যেখানে ব্যর্থ, সেখানে মার্কিন শক্তি সফল হয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহুর হিসাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার কাছে, ইসরাইলি বিজয়ের সংজ্ঞার সঙ্গে যুদ্ধ অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এমন কোনো সমঝোতা—যার মাধ্যমে লড়াইও থামল, হামাসের হাতে কিছু সক্ষমতাও রয়ে গেল অথবা ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক পক্ষের হাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা হস্তান্তরিত হলো, সে রকম কিছু মানবে ইসরাইল। এটিকে নেতানিয়াহুর সরকারের উগ্রপন্থি মিত্ররা যুদ্ধের মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসা বা পরাজয় হিসেবে তুলে ধরবে।

ট্রাম্প সাফল্যের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন লেনদেন বা বিনিময়ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আর নেতানিয়াহু তা দেখেন সর্বোচ্চ অর্জনের দৃষ্টিকোণ থেকে। তারা মিত্র হলেও তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য এক নয়। ফলে এমন এক সংঘাতের সৃষ্টি হয়, যেখানে একদিকে আছেন এমন এক প্রেসিডেন্ট, যিনি সমাধান চাইছেন, অন্যদিকে এমন এক প্রধানমন্ত্রী যার রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকে আছে সেই সমাধানটি ঠেকিয়ে রাখার ওপর। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের সংঘাত ঠিক এখানেই।

নেতানিয়াহু একটি বিষয় ভালোভাবেই বোঝেন, যা ইসরাইলের আগের সরকারগুলো প্রয়োগ করেছে। আর তা হলো ইসরাইল যদি অনড় অবস্থান নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া ‘রেড লাইন’ বা কঠোর সীমারেখা আলোচনা সাপেক্ষে নমনীয় হয়। তাদের এই কৌশলটি হলো—সময়ক্ষেপণ করা, আপত্তি জানানো, নিরাপত্তার দোহাই দেওয়া, রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের পিছু হটার জন্য অপেক্ষা করা। এভাবেই তারা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে যুগ যুগ ধরে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে। কিন্তু তারপরও ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সব কথা বা শর্ত কখনোই মেনে চলেনি। ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে তা আবার প্রমাণ হলো। সবসময়ই দেখা গেছে, সংঘাতের রাজনৈতিক মূল্য যখন বেড়ে গেছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইসরাইল সরকারের কাছে নতি স্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এমন এক মিত্রকে অর্থায়ন করে চলেছে যে নিয়মিতভাবে মার্কিন নীতি অগ্রাহ্য করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এজন্য ইসরাইলের ওপর অর্থবহ চাপ সৃষ্টির পরিবর্তে শুধু গোপনে অনুরোধ করে থাকে। নেতানিয়াহু দীর্ঘদিনের এই ধারা অব্যাহত থাকার ওপরই ভরসা করছেন।

ট্রাম্প এ ধরনের রাজনৈতিক স্থবিরতা ভাঙার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এটি করতে হলে শুধু নেতানিয়াহুকেই নয়, বরং দেশটির সেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে, যা ইসরাইল সরকারের ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করাকে কঠিন করে রেখেছে। কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা নেতানিয়াহুকে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটনের ঘোষিত লক্ষ্য অমান্য করলে কোনো মাশুল গুনতে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষ্ক্রিয়তা ইসরাইলের অনমনীয় মনোভাব বজায় রাখাকে বরাবরই উৎসাহিত করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামনে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা। ইসরাইল যদি তার গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করা অব্যাহত রাখে, তবে তিনি বা তার প্রশাসন কী করবে? এর উত্তর পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার বাস্তব প্রয়োগ প্রয়োজন। এর মধ্যে থাকতে পারে সামরিক সহায়তার সঙ্গে শর্ত জুড়ে দেওয়া, অস্ত্র সরবরাহ ধীর করা অথবা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া যে, ইসরাইলি নীতি যখন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘোষিত লক্ষ্যকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করে, তখন সহায়তা আর সহজে পাওয়া যাবে না।

রাজনৈতিক এই ঝুঁকি নেওয়ার সদিচ্ছা ছাড়া মার্কিন নেতৃত্বের বুলি শুধু লোকদেখানো নাটক ছাড়া আর কিছু নয়। ‘ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে’—এই বয়ান সামনে রেখে হামাসকে ধ্বংস করা ও গাজা উপত্যকা চিরদিন দখলে রাখার জন্য ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া লাইসেন্সই বরং বহাল থাকবে। ট্রাম্প যদি ইসরাইলের পক্ষের এই বয়ানে পরিবর্তন আনতে না পারেন, তবে তা এটাই প্রমাণ করবে, ইসরাইলি নেতারা বড় কোনো শাস্তির ভয় ছাড়াই মার্কিন কূটনীতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো—তাদের ক্ষমতার অভাব নয়, বরং সেই ক্ষমতা প্রয়োগের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। ক্ষমতা প্রয়োগের সদিচ্ছা ছাড়া ক্ষমতা শুধুই লোকদেখানো অভিনয়। গাজার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সেই অভিনয় ক্রমেই উন্মোচিত হচ্ছে।

* আলজাজিরা অবলম্বনে মোতালেব জামালী

ট্রাম্পের প্রস্তাবে নেতানিয়াহুর ভেটো
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

ফিলিস্তিনিদের হত্যার আহ্বান বেন-গভিরের, জার্মানিতে নিন্দার ঝড়

গাজায় ফিলিস্তিনিদের হত্যার আহ্বান জানিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তার মন্তব্যের পর জার্মানিতে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে ইহুদি ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় সংগঠনগুলোও নিন্দায় সরব হয়েছে। একই সঙ্গে বেন-গভিরের ওপর জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিও জোরালো হয়েছে।

সোমবার এক বক্তব্যে বেন-গভির বলেন, গাজায় ‘সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করে’ হত্যাকাণ্ড চালানো উচিত। প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে ‘সরিয়ে ফেলা’ উচিত। শুধু তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করা সশস্ত্র ফিলিস্তিনিই নয়, গাজায় এমন মানুষও রয়েছেন, যাদের বেঁচে থাকা উচিত নয়—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

‘এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’

বেন-গভিরের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস। ছুটিতে থাকা সত্ত্বেও বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ম্যার্ৎসের মুখপাত্র জানান, চ্যান্সেলর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে গাজায় ইসরাইলের নতুন করে ভূখণ্ড দখলের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ম্যার্ৎসের মতে, দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরাইলকে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করতে হবে, তাদের সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং গাজায় জনপ্রশাসন ও মানবিক সহায়তা চালু রাখতে হবে।

‘এবার সীমা অতিক্রম করেছে’

বেন-গভিরের মন্তব্যের এক দিন আগেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান জার্মানির অর্থমন্ত্রী ও চ্যান্সেলরের ডেপুটি লার্স ক্লিংবাইল। তিনি বলেন, জার্মান সরকার কোনোভাবেই এ ধরনের বক্তব্য মেনে নিতে পারে না।

ক্লিংবাইল জানান, বেন-গভিরকে ইউরোপীয় পর্যায়ে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতি জার্মানির পূর্ণ সংহতি থাকলেও এমন বক্তব্যের ক্ষেত্রে নীরব থাকার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এবার এমন একটি সীমা অতিক্রম করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে জার্মানির রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) সদস্য হিল্ডগার্ড বেন্টেলেও বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউরোপে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে নির্মূল বা নিশ্চিহ্ন করতে চাওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের দাবি

জার্মানির বিরোধী দল গ্রিন পার্টিও বেন-গভিরের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। দলটির নেত্রী ফ্রান্সিসকা ব্রান্টনার জার্মান সরকারকে বেন-গভিরের জার্মানিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় পর্যায়েও আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ব্রান্টনার বলেন, বেন-গভিরের উগ্র বক্তব্য নতুন নয়। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো বক্তব্যের কারণে এবার তিনি নতুন করে আলোচনায় এলেও অতীতেও এমন বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে যেসব দেশ ইতিমধ্যে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, জার্মানিরও তাদের অনুসরণ করা উচিত।

জার্মানির লেফট পার্টিও বেন-গভিরের বক্তব্যে ক্ষোভ জানিয়েছে। দলটির নেতা লেয়া রাইজনার ইসরাইলি মন্ত্রীর পাশাপাশি ইসরাইল সরকারের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরাইলে সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের দাবি তুলেছেন তিনি।

ইহুদি ও খ্রিষ্টান সংগঠনগুলোরও নিন্দা

বেন-গভিরের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে জার্মানির ইহুদিদের কেন্দ্রীয় পরিষদ। সংগঠনটির সভাপতি ইয়োসেফ শুস্টার বলেন, এই বক্তব্য ইহুদি মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থি এবং এর ফলে ইসরাইলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

বেন-গভিরের আচরণকে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে শুস্টার বলেন, এ ঘটনা উগ্র ডানপন্থি শক্তিগুলোর বিপজ্জনক রূপও তুলে ধরেছে।

জার্মানির প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন কার্স্টেন ফেয়াহ্রসও মন্তব্যটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বেন-গভিরের বক্তব্যকে ‘মানবতার ওপর আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা রয়েছে—এই বিশ্বাস সব ধর্মের মানুষের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। মানুষের এই মর্যাদা কেউ দিতে পারে না, আবার কেড়ে নিতেও পারে না।

যেসব দেশে নিষিদ্ধ বেন-গভির

অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর ফলে এসব দেশে তার প্রবেশে বাধা রয়েছে।

জার্মানির বুন্ডেস্টাগে রক্ষণশীল সংসদীয় দলের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক মুখপাত্র ইয়ুর্গেন হার্ড্টও ইইউকে বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের সর্বজনীন স্বীকৃতির বার্তা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। হার্ড্ট একই সঙ্গে ইসরাইলের মন্ত্রিসভা থেকেও বেন-গভিরকে বাদ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

বেন-গভিরের সর্বশেষ মন্তব্যের পর জার্মানিতে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তাতে ইসরাইলি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞার দাবি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

ফিলিস্তিনিদের হত্যার আহ্বান বেন-গভিরের, জার্মানিতে নিন্দার ঝড়
ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতির কারণে ‘কবর’ হতে পারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষার

সিএনএনঃ ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত একটি বসতি স্থাপন পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নিয়েছে ইসরায়েল। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। এতে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনার ‘কবর’ রচিত হতে পারে।

ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় জেরুজালেমের কাছে ‘ই–ওয়ান’ এলাকায় ১ হাজার ২০০টির বেশি আবাসন ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। এর মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেম থেকে পশ্চিম তীর পর্যন্ত ইহুদি বসতিগুলোর একটি ধারাবাহিক ব্লক গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এই বসতি পশ্চিম তীরকে উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত করবে। এতে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমও পশ্চিম তীরের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অথচ পূর্ব জেরুজালেমকে সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী বিবেচনা করা হয়।

ইসরায়েলে আগামী অক্টোবরের শেষে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর এক সপ্তাহ আগে নতুন আবাসন নির্মাণের দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হবে।

ইসরায়েলি বসতি পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন পিস নাউ গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এটি শেষ মুহূর্তের একটি পদক্ষেপ। (নেতানিয়াহু) সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলে সংঘাত ও রক্তপাত চলমান রাখার নীতি হিসেবে এটি করা হচ্ছে।’

বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও চাপের কারণে ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে জেরুজালেমের কাছে ই–ওয়ান এলাকায় কোনো পরিকল্পনা বা নির্মাণকাজ এগোয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের অনুমোদন দ্রুত এগিয়ে নিয়েছে।

কিছু পশ্চিমা দেশ বসতি স্থাপন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। গত মে মাসে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানিসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানিকে পশ্চিম তীর ও ই–ওয়ান এলাকায় বসতি নির্মাণে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। তারা এ ক্ষেত্রে ‘আইনি ও সুনামগত ঝুঁকির’ কথা উল্লেখ করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসের নেতারা একই সতর্কতা পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা বলেন, ‘পশ্চিম তীরে এখন গুরুতর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চলছে। বেসামরিক মানুষের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের নজিরবিহীন সহিংসতা ও ফিলিস্তিনি অর্থনীতির ওপর কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত আরও উদ্বেগজনক।’

ইসরায়েল গত বছর ই–ওয়ান পরিকল্পনাটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। দেশটির কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ তখন বলেছিলেন, ‘স্লোগান দিয়ে নয়, পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিষয়টি আলোচনার টেবিল থেকে মুছে দেওয়া হচ্ছে।’

ই–ওয়ান পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। এর জবাবে নিষেধাজ্ঞাসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংস করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্য তা মেনে নেবে না।’

এর জবাবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ইহুদি জনগণ তাদের ঐতিহাসিক ছোট্ট মাতৃভূমির কোথায় বসবাস করতে পারবে, সে বিষয়ে যুক্তরাজ্যের উপদেশ দেওয়া হাস্যকর।’

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বলে মনে করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্য। এ ধরনের মনোভাব সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা অনুমোদনহীন কয়েক ডজন বসতি গড়ে তুলেছেন। পরে এসব বসতির জন্য ইসরায়েল সরকারের অনুমোদনও আদায় করেছেন তাঁরা।

জাতিসংঘে নিয়োজিত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেন, ই–ওয়ান এলাকায় নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও হুমকিস্বরূপ’। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’

এদিকে মিসরও ইসরায়েলের দরপত্রের তীব্র সমালোচনা করেছে। একই সঙ্গে পরিকল্পনাটি বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

এক বিবৃতিতে মিসর বলেছে, ‘অবৈধভাবে বসতি সম্প্রসারণ এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনগত মর্যাদা ও জনমিতিক (জনসংখ্যার গঠন) কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এসব পদক্ষেপ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরের খান আল-আহমার বেদুইন গ্রামের দৃশ্য। গ্রামটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরায়েলের। ২৩ জানুয়ারি ২০২৩
ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরের খান আল-আহমার বেদুইন গ্রামের দৃশ্য। গ্রামটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরায়েলের। ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ফাইল ছবি: রয়টার্স

Friday, August 21, 2026

ইসরাইলি সেনারাই গুলি করেই হত্যা করেছিলো হিন্দ রজবকে, বাঁচাতে আসা অ্যাম্বুলেন্সেও করা হয় হামলা

গাজায় ২০২৪ সালে পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজব ও তার পরিবারের ছয় সদস্যকে বহনকারী গাড়িতে সেনাদের গুলি চালানোর কথা অবশেষে স্বীকার করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। বুধবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় মিলিটারি পুলিশের মাধ্যমে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে গার্ডিয়ান।

২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাজা সিটিতে ইসরাইলি আক্রমণ থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার সময় শিশু হিন্দের পরিবারের গাড়িটি হামলার মুখে পড়ে। গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের সাথে টানা তিন ঘণ্টা ফোনে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল অবুঝ শিশু হিন্দ। তাকে উদ্ধারে যাওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানো হয়, যাতে দুজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন।

এতদিন ওই এলাকায় সেনা উপস্থিতির কথা অস্বীকার করে আসলেও স্বাধীন তদন্তে ইসরাইলি ট্যাংকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর বুধবার ইসরাইলি বাহিনী স্বীকার করে যে, তাদের সেনারাই গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। হিন্দ রজবের ঘটনা ছাড়াও দক্ষিণ গাজার রাফায় ২০২৫ সালের মার্চে ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ত্রাণকর্মীকে হত্যার ঘটনায় ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হামলার পর বুলডোজার দিয়ে মরদেহ ও গাড়ি গণকবরে মাটিচাপা দিয়েছিল সেনারা। তবে ২০২৪ সালের এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের গাড়িবহরে বিমান হামলায় বিদেশি ত্রাণকর্মী নিহতের ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা না নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইসরাইল। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের হত্যার ঘটনায় ইসরাইলি বাহিনীর এমন তদন্ত ঘোষণার নজির থাকলেও দোষীদের শেষ পর্যন্ত শাস্তির আওতায় আনা হয় না বললেই চলে।

ইসরাইলি সেনারাই গুলি করেই হত্যা করেছিলো হিন্দ রজবকে, বাঁচাতে আসা অ্যাম্বুলেন্সেও করা হয় হামলা

দুই দশক পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাদিম বসতিতে ফিরল ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা

২০০৫ সালে খালি করে দেয়ার প্রায় দুই দশক পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাদিম বসতিতে আবারও ফিরে এসেছে নতুন প্রজন্মের ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা। ইসরাইলের বর্তমান সরকারের মদদে তেল আবিব থেকে ত্রিশটি পরিবার সামরিক পাহারায় এই বসতিতে প্রবেশ করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশটির চরম ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ একে তাদের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন বলে দাবি করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

কাদিম সংলগ্ন এলাকার ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা জানান, বসতিস্থাপনকারীদের এই প্রত্যাবর্তনে তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনিদের বেশ কিছু দোকানপাট ও গাছপালা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এমেক দোতান নামের অপর একটি নতুন বসতির পাশের ফিলিস্তিনি বাসিন্দা সামের জাবের জানান, অস্ত্রধারী বসতিস্থাপনকারীরা গভীর রাতে তাদের ঘরে আলো ফেলে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং ছবি তুলছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার সমালোচনা করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

২০০৫ সালে প্রত্যাহার পরিকল্পনার আওতায় কাদিমসহ চারটি বসতি খালি করার পর সেখানে ইসরাইলিদের প্রবেশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, বর্তমান সরকার তা বাতিল করেছে। ২০২২ সালের শেষদিক থেকে পশ্চিম তীরজুড়ে শতাধিক নতুন বসতির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া জেনিন শরণার্থী শিবিরের পাশে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির পর প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি জমিতে নতুন সামরিক ফাঁড়িও তৈরি করছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। জেনিনের গভর্নর সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই দখলদারিত্বের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি শহরগুলোকে বিভক্ত করার পাঁয়তারা চলছে।

দুই দশক পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাদিম বসতিতে ফিরল ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা