Tuesday, April 6, 2010

মাওবাদী দমনে অভিযান জোরদারের নির্দেশ

মাওবাদীদের হুমকি, ভূমি মাইন বিস্ফোরণ ও বনেধর মধ্যেই গতকাল রোববার পশ্চিমবঙ্গের লালগড় সফর করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম।
সেখানে তিনি মাওবাদীদের দমনে যৌথ অভিযান জোরদার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অস্ত্র ছেড়ে আলোচনার টেবিলে এলে সরকার মাওবাদীদের সঙ্গে বসতে রাজি আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিদাম্বরম কলকাতা থেকে গতকাল সকালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার লালগড়ে যান। তিনি লালগড় থানায় উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে জঙ্গলমহালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মাওবাদীদের তৎপরতা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে তিনি কথা বলেন এলাকাবাসীর সঙ্গে। শোনেন তাঁদের কথাও।
এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সাংবাদিকদের জানান, মাওবাদীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হবে। এ জন্য আধা সামরিক বাহিনীর আরও সদস্য ওই অভিযানে যোগ দেবেন। তবে সেনাবাহিনী এ অভিযানে অংশ নেবে না। সঙ্গে তিনি এ-ও জানিয়ে দেন, মাওবাদীরা অস্ত্র ছেড়ে আলোচনার টেবিলে বসতে চাইলে সরকারের তাতে আপত্তি নেই। তিনি ‘পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনসাধারণের কমিটি’কেও সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।
চিদাম্বরমের এই সফরের বিরোধিতা করে পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনসাধারণের কমিটি মাওবাদী অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাকুরা জেলায় গতকাল সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টার বন্ধ্ কর্মসূচি পালন করে। আজ সোমবার তারা সড়ক অবরোধেরও ডাক দিয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের আগের দিন মাওবাদীরা লালগড় থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

ওডিশায় ১০ নিরাপত্তাকর্মী নিহত
ওডিশায় গতকাল মাওবাদীদের পেতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে নিরাপত্তাকর্মীদের একটি বাস বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে আধা সামরিক বাহিনীর ১০ জওয়ান নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিনজন। এ ছাড়া ঝাড়খণ্ডে বন বিভাগের একটি অতিথি ভবনেও হামলা চালিয়েছে মাওবাদীরা।
মালকানগিরি থেকে অভিযান চালিয়ে ফেরার পথে ওডিশার কোরাপুট জেলার গোবিন্দ পল্লিঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওডিশা পুলিশের ডিআইজি সঞ্জীব পান্ডা বলেন, ১০ জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ব্রিটিশ যুগলের সাজা বহাল

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে প্রকাশ্যে চুম্বনের দায়ে এক ব্রিটিশ যুগলের এক মাসের কারাদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন আদালত। গতকাল রোববার দুবাইয়ের আপিল আদালত ওই সাজা বহাল রাখেন।
যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমে ওই যুগলের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ইউএইতে থাকা ব্রিটিশ নাগরিক আয়মান নাজাফি (২৪) ও তাঁর বান্ধবী শার্লট লেউইস (২৫)। গত বছরের নভেম্বর মাসে জুমেরা সমুদ্রসৈকতের কাছে একটি রেস্তোরাঁয় ওই যুগল প্রকাশ্যে চুম্বন করে। তখন রেস্তোরাঁয় থাকা আমিরাতের এক নারী (৩৮) যুগলের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হলে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। প্রকাশ্যে চুম্বনের দায়ে আদালত গত জানুয়ারি মাসে ওই যুগলকে এক মাসের কারাদণ্ড ও মদ পান করায় ২৭২ মার্কিন ডলার জরিমানার আদেশ দেন। যুগলেরা পরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে আদালত গতকাল আগের রায় বহাল রাখেন। সাজার মেয়াদ শেষ করার পর ইউএই ত্যাগ করতে পারবেন তাঁরা।
যুগলের আইনজীবী খালাফ আল-হোসেনি আদালতকে জানান, মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ৩৮ বছর বয়সী আমিরাতি নারী ভিন্ন ধরনের বিবৃতি দিয়েছেন। ওই নারী পুলিশকে জানান, তিনি চুম্বন দিতে দেখেছেন। কিন্তু শুনানির সময় জানান যে তাঁর মেয়ে ঘটনাটি দেখেছে।
আত্মপক্ষ সমর্থনে আইনজীবী জানান, সম্ভাষণ বা শুভেচ্ছা জানাতে তার মক্কেল শুধু গালে চুম্বন করেছে, যা অনুমোদিত। তাঁরা শুধুই বন্ধু।
লন্ডনে থাকা আইমানের মা বলেন, ‘আমার আমান ভালো ছেলে। সে খুব জ্ঞানী ও প্রাপ্তবয়স্ক। সে সেখানকার (ইউএই) নিয়মকানুন জানে। সে কখনো এটা করতে পারে না।

জঙ্গিদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ‘নীরব যুদ্ধ’

পাতালরেলের ব্যস্ত জনস্রোতে সন্ত্রাসীদের আত্মঘাতী হামলা এবং ৩৯টি প্রাণের মৃত্যু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, উত্তর ককেশীয় অঞ্চল থেকে সন্ত্রাসীরা এখনো হাত গুটিয়ে নেয়নি। বরং এ হামলা রাশিয়ায় ইসলামি জঙ্গিদের প্রভাব ও ক্ষমতাকে বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে।
অনেক দিন ধরেই রাশিয়া উগ্রপন্থী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ‘নীরব যুদ্ধ’ চালিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির মতো তারা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ নিয়ে ততটা উচ্চকিত নয়। তবে দিনদুপুরে মস্কো শহরের কেন্দ্রে ব্যস্ত পাতালরেল-স্টেশনে এ হামলা ও জীবনক্ষয় রাশিয়ার এই নীরব যুদ্ধের আরও কিছু ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। এই যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য সেসব বিদ্রোহীর বিরুদ্ধে, যারা স্বপ্ন দেখে ককেশীয় অঞ্চলে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করার।
এই হামলার জন্য উত্তর ককেশীয় অঞ্চলের চেচেন বিদ্রোহীরা দায় স্বীকার করেছে। এর আগে চেচেন বিদ্রোহী নেতা দকু উমারভ শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করার যুদ্ধকে চেচেন সীমান্ত থেকে রাশিয়ার কেন্দ্রে নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, ভবিষ্যতে রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে আত্মঘাতী বোমা চালানো হবে। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায়ই হয়তো মস্কোর পাতালরেলে এই হামলা।
এ ব্যাপারে বার্তা সংস্থা ককেশিয়ান নটের প্রধান সম্পাদক গ্রেইগরি শেভেদভ বলেন, চেচেনরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সীমান্ত থেকে রাশিয়ার ভেতরেই টেনে নিয়ে এসেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভয় হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে শুরু করে অন্যান্য শহরে বিদ্রোহীদের আরও হামলার পরিকল্পনা রয়েছে কি না।’
১৯৯৫ সালে রাশিয়ার চেচনিয়া অভিযানের পর থেকেই বিভিন্ন চেচেন গ্রুপ রাশিয়ার প্রধান হুমকিতে পরিণত হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরেই চেচনিয়া, ইঙ্গুশেতিয়া ও দাগেস্তানের ইস্যুগুলো থেকে রাশিয়ার জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে প্রবাহিত করে রাখা হয়েছে। মস্কোর গত সোমবারের হামলা ও দাগেস্তানে বুধবারের আত্মঘাতী হামলা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, চেচেনদের বিদ্রোহ কেবল উত্তর ককেশাসে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা একেবারে বাড়ির দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার নীতিনির্ধারক ও সরকার সব সময়ই দেশের মানুষকে বুঝিয়ে এসেছে যে চেচনিয়া ও দাগেস্তানেই রয়েছে সন্ত্রাস ও বিদ্রোহের সব উপাদান। সমস্যাটিকে এত দিন আঞ্চলিক হিসেবে দাবি করে এলেও এ সপ্তাহের দুটি আত্মঘাতী হামলার পর সেই সুযোগটি আর থাকছে না।
রাজনীতির মাঠে চেচনিয়া সমস্যা ও বিদ্রোহ একটি সাধারণ অস্ত্র। কোন পক্ষ কত কঠোরভাবে চেচনিয়াকে দমন করতে পেরেছে, তা-ই নাকি রাশিয়ার রাজনীতিতে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক। সে কারণেই হয়তো ১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চেচনিয়ার বিরুদ্ধে একটি নির্মম সেনা অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই সেনা অভিযানটি পুতিনকে তাঁর ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে সহায়তা করলেও আখেরে বিরাট ক্ষতি করে ফেলেছে দেশেরই।
এই অভিযানের ফলে চেচেন বিদ্রোহীরা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে এবং প্রতিশোধস্পৃহা তাদের নিরীহ জনসাধারণ হত্যায় প্রলুব্ধ করছে। ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে গত সোমবারের মস্কো হামলা আরও একটি রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠবে কি না, সেই আশঙ্কা এখন সবার।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কিসিঞ্জারের হুঁশিয়ারি আমলে নেননি ভুট্টো

ইসলামাবাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের হুঁশিয়ারি আমলে নেননি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টো। পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসের উপপ্রধান জেরাল্ড ফিউয়ারস্টেইনের বরাত দিয়ে গতকাল রোববার এ কথা জানায় সংবাদমাধ্যমগুলো।
পাকিস্তানের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিউয়ারস্টেইন বলেন, ভারতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ হওয়ার ভুট্টোর পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন কিসিঞ্জার। ১৯৭৬ সালে ভুট্টো-কিসিঞ্জারের ওই বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি ভুট্টো কিসিঞ্জারের সতর্কবার্তা আমলে নেননি এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছিল পাকিস্তান। ১৯৭৬ সালের আগস্টে লাহোরে কিসিঞ্জারের সঙ্গে ভুট্টোর বৈঠকের সময় আমি ছিলাম প্রটোকল অফিসার।’
ভুট্টোকে পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রতিভাবান রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করে ফিউয়ারস্টেইন বলেন, ‘ওই সময় ভুট্টোকে রক্ষা করার জন্য সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউল হকের কাছে তিনটি ক্ষমা করার অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট।’
এক প্রশ্নের জবাবে ফিউয়ারস্টেইন জানান, পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে সাজা দেওয়ার সময় হস্তক্ষেপ করেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

বিক্ষোভকারীদের হটাতে আদালতের আদেশ চাইবে থাই সরকার

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের পর্যটনস্থল থেকে লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিতে আজ সোমবার আদালতের আদেশ চেয়ে আবেদন করবে দেশটির সরকার। সংঘর্ষ এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নমনীয় থাকলেও আদালতের আদেশ প্রার্থনার সিদ্ধান্ত সরকারের কঠোর অবস্থানে যাওয়ার পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে গণগ্রেপ্তারের হুমকি সত্ত্বেও গতকাল লক্ষাধিক ‘লাল শার্টধারী’ আইন ভেঙে পর্যটন এলাকায় শক্ত অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। খবর এএফপির।
তিন সপ্তাহ ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার অনুসারীরা পার্লামেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনসহ ব্যাংককের প্রধান প্রধান কার্যালয় অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। কয়েক দিন আগে তারা ব্যাংককের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিতে শুরু করে। গতকাল তারা সেখানে পর্যটকদের থাকার স্থান পাঁচতারকা হোটেল ও সুপারমার্কেটগুলো বন্ধ করে দেয়। অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে তারা সেখানে সভা-সমাবেশও করে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সরকার প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করতে আদালতের আদেশ চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী সুথেপ থাউগসুবান গতকাল বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে সরকার আদালতের আদেশ চেয়ে আবেদন করবে। তিনি বলেন, সরকারের আইন বিশেষজ্ঞরা আবেদনের খসড়া তৈরি করছেন। আজ সোমবার আদালতে ওই আবেদন পেশ করা হবে। আদেশ পাওয়ার পর সরকার তার পরবর্তী কর্তব্য ঠিক করবে।
উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকায় তাঁরা জোরজবরদস্তি এড়াতে চান। তবে পরিস্থিতির কারণে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাঠানো হতে পারে।
পুলিশ বলেছে, গত শনিবার ৬০ হাজার বিক্ষোভকারী ছিল। প্রায় ৩০ হাজার লোক এখনো রাজপথে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, গতকাল সেখানে লক্ষাধিক লোকের জমায়েত হয়েছিল। সরকার তাদের ঘরে ফিরে যেতে বললেও আন্দোলন থেকে তাদের সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
পর্যটন-বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সরকার কয়েক দিন আগে পর্যটনস্থলে বিক্ষোভ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে এক বছরের জেল হবে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই হুমকি কোনো কাজে আসেনি। গতকাল বিক্ষোভকারীরা পর্যটনস্থলের বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়। আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা জতুপর্ন প্রমপ্যান গতকাল বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড়ের সাহস প্রধানমন্ত্রী অভিজিতের নেই। তাদের ওপর যদি গুলি চলে, তাহলে তা তাঁর জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।
আন্দোলনকারীদের বেশির ভাগই গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র কৃষক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক এই বিক্ষোভকারীরা ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভার সরকারকে বুর্জোয়াবান্ধব হিসেবে মনে করছে বলে গণমাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দুই দফা বৈঠক হলেও সমঝোতা ছাড়াই সে বৈঠক শেষ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী ভেজ্জাজিভা এক টেলিভিশন ভাষণে বিক্ষোভকারীদের পর্যটনস্থল ছেড়ে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কিছু লোক সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকার নমনীয় অবস্থানে থাকার চেষ্টা করবে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ চাইয়াপুম থেকে আসা কাম্পা ন’গাওকোর নামের ৫৫ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী গতকাল বলেন, তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার অথবা জেলহাজতের ভয় করছেন না। তিনি জানান, তিনি নিশ্চিত যে তাঁকে আটক করা হলে জেলে গিয়ে তিনি অসংখ্য বিক্ষোভকারীকে পাশে পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী এক বছর আগে ২০১০ সালে নির্বাচনের কথা বললেও বিক্ষোভকারীরা তা মানছে না এবং তারা সরকারকে সেনা সমর্থিত সরকার হিসেবে অভিহিত করছে।
থাইল্যান্ডে ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ত্যাগ করেন। এরপর ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় থাই সংবিধান সংশোধন করে সাধারণ নির্বাচন দেওয়া হয়। থাকসিনের সমর্থকেরা ওই সংবিধান সংশোধনকে অবৈধ বলে দাবি করে। ২০০৮ সালে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর থাকসিন দেশে ফেরেন এবং একটি মামলায় আদালত তাঁকে কারাদণ্ড দেন। গ্রেপ্তার এড়াতে সিনাওয়াত্রা আবার দেশ ছাড়েন।

ইব্রাহিমোভিচের ইনজুরি

আর্সেনালের বিপক্ষে আগামীকাল চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে খেলতে পারবেন না জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের। প্রথম লেগে ২-২ গোলের ড্রয়ে দুটি গোলই করেছিলেন এই সুইড স্ট্রাইকার।

মুখ খুললেন মালিক

অনেক প্রশ্ন। সেসব প্রশ্নের জবাব নিয়ে হাজির শোয়েব মালিক। গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের পর এই প্রথম মুখ খুললেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে প্রথমেই জানিয়ে দিলেন, ‘সানিয়াই হবে আমার প্রথম স্ত্রী। আশেয়া সিদ্দিকি আসলে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’
মালিক স্বীকার করেছেন, আয়েশার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের শুরু ২০০১ সালে। টেলিফোনে। এর পর আয়েশা তাঁকে বেশ কিছু ছবি পাঠান। ওই ছবি দেখার পর মালিক এবং তাঁর পরিবার আয়েশার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করে। কিন্তু আয়েশা সুকৌশলে প্রতিবার সেটি এড়িয়ে যান বলে জানিয়েছেন মালিক।
টিভি চ্যানেলগুলোতে তাঁর সইযুক্ত যে কাবিননামা দেখানো হচ্ছে সেটি কার? মালিক স্বীকার করে নিলেন, ২০০২ সালে ‘নিকানামা’য় সই তিনি করেছিলেন। কিন্তু সেটি আয়েশার পাঠানো ছবিগুলোর মেয়েটির কথা ভেবে, বাস্তবে যে মেয়ের সঙ্গে আয়েশার চেহারার কোনো মিলই নেই। ‘আমি ভেবেছিলাম, ছবিগুলোতে দেখা মেয়েটির সঙ্গেই আমার বিয়ে হচ্ছে। কিন্তু আসলে সেই মেয়েটি তো অন্য আরেকজন। এটা প্রতারণা’—বলেছেন মালিক।
মালিক এও জানিয়েছেন, আয়েশার ‘বড় বোনের’ সঙ্গে একবার দেখা হয়েছিল তাঁর। তখন সেই কথিত বড় বোন জানিয়েছিল, আয়েশা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারবে না। কারণ সে মুটিয়ে গেছে। মালিকের ধারণা, বড় বোনের পরিচয়ে আসলে আয়েশাই দেখা করেছিল তাঁর সঙ্গে!
২৮ বছর বয়সী মালিক জানিয়েছেন, আগে থেকেই সব ঘটনা সানিয়াকে জানানো হয়েছে, ‘সত্যটা সানিয়া জানে। এবং ও আমাদের এই বিয়ে নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত।’ সানিয়াকে সব ধরনের সমর্থন দিয়ে যাবেন মন্তব্য করে পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক বলেছেন, ‘যত দিন খুশি সানিয়া খেলে যাবে। এবং অবশ্যই সে ভারতের হয়েই খেলবে। আমার পরিবার এবং আমি ওকে সমর্থন দিয়ে যাব।’

বাংলাদেশে বেঙ্গল ইউনাইটেড

ব্রিটেনে প্রবাসী বাঙালিরা লন্ডনের অংশবিশেষকে ‘মিনি বাংলাদেশ’ বানিয়ে ফেলেছেন। সেই প্রবাসীরা আর সবকিছুর মতো নিয়মিত ফুটবল খেলেন এবং মাঝেমধ্যেই প্রবাসীদের সেসব ফুটবল দলের দু-একটি বাংলাদেশ সফরে আসে। সে রকমই একটি দল ‘স্পোর্টিং বেঙ্গল ইউনাইটেড’ এখন ঢাকায়।
লন্ডনে প্রবাসী বাঙালি ফুটবলারদের অভিভাবক সংগঠনটির নাম ‘বাংলাদেশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন’। সেই সংগঠনের ছাতার নিচেই বেঙ্গল ইউনাইটেড লিগ খেলে। আর এ সবকিছুর মধ্য দিয়ে তাঁরা পান ফেলে যাওয়া বাংলাদেশের ছোঁয়া। কাল ফুটবল ফেডারেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বেঙ্গল ইউনাইটেডের সভাপতি সুরত মিয়া।
বাংলাদেশে লন্ডন থেকে এ রকম প্রবাসীদের দলের আসা এবং তাঁদের নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাওয়াটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। কখনো খেলোয়াড় বিনিময়, কখনো কোচ বিনিময়ের কথা দেন তাঁরা। কাল সংবাদ সম্মেলনে প্রসঙ্গটা উঠলে সুরত মিয়া বললেন, তাঁরা হালকা কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না। বাংলাদেশের ফুটবলে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য তাঁরা বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনকে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন।
বেঙ্গল ইউনাইটেড দলটি এরই মধ্যে রংপুরে একটি ম্যাচ খেলে জিতেছে। আজ তারা ঢাকায় মহানগরী একাদশের বিপক্ষে খেলবে। এর পর ৮ ও ১০ তারিখ যথাক্রমে সিলেট ও সুনামগঞ্জে একটি করে ম্যাচ খেলবে তারা।

গেইলকে হারিয়ে দিলেন জয়াবর্ধনে

নিজেদের ইনিংস শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। পাওয়ারই কথা। ক্রিস গেইলের ঝড়ে প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২০০ রান তুলেছিল স্বাগতিকেরা। এত বড় রান তো বটেই, কলকাতার জয় নিশ্চিত দেখাচ্ছিল প্রতিপক্ষের নাম কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব বলে। টানা চার ম্যাচ হেরে কলকাতায় খেলতে এসেছিল পয়েন্ট তালিকায় সবার নিচে থাকা দলটি। যাদের আগের আট ম্যাচে জয় ছিল একটিই। সেই পাঞ্জাব কাল ইডেনে হারিয়ে দিল সৌরভ গাঙ্গুলীর দলকে। মাহেলা জয়াবর্ধনের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে পাঞ্জাব জিতল ৮ উইকেটে, ১০ বল হাতে রেখে!
বৃথাই গেল গেইলের ৪২ বলে খেলা ৮৮ রানের ইনিংস। ৩১ বলে সৌরভের ৩৬ রানের ইনিংসটার কথাও বলতে হবে। মারকুটে গেইলের পাশে ম্লান ছিল হয়তো, কিন্তু দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এক পাশে হাল ধরে রাখার কাজটি ভালোমতোই করেছেন মনোজ তিওয়ারি। গেইলের দিনে পার্শ্বচরিত্র হয়ে থাকাই তো ভালো। ৬টি চারের পাশাপাশি ৮টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন গেইল। এর চারটি ছক্কাই রবি বোপারার এক ওভারে। ১৩তম ওভারটিই অপয়া গেছে পাঞ্জাবের। ওই ওভারে উঠেছে ৩৩ রান।
আইপিএলের সবচেয়ে খরুচে ওভারের রেকর্ড করেও জয়ের তৃপ্তি নিয়ে বোপারা যে মাঠ ছাড়তে পারলেন, এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত মাহেলা জয়াবর্ধনের কাছে। ৫৯ বলে ১১০ রানের ইনিংসে ১৪টি চার আর ৩টি ছক্কা মেরেছেন জয়াবর্ধনে। কলকাতার নখদন্তহীন বোলিং আর মরা উইকেটকেও ধন্যবাদ দেওয়া যায়। পঞ্চাশের ঘরে দুটি আর দ্বিতীয় উইকেটে দুই লঙ্কান সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের ৯৮ রানের জুটি অনায়াসে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছে পাঞ্জাবকে।
এই জয়ে প্রীতি জিনতার দলের যতটা লাভ হয়েছে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হয়েছে শাহরুখ খানের দলের। জিতলে ৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ চারে উঠে যেত তারা। সেমিফাইনালের আশাটা উজ্জ্বল হতো। ৮ ম্যাচের সাতটিই জিতে যে তালিকায় সবার ওপরে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস।
অন্য ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে (১৪৭/৯) ৩৭ রানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (১৮৪/৫)। নয় ম্যাচে দিল্লির পয়েন্ট এখন ১২, সমান ম্যাচে বেঙ্গালুরুর ১০। কালকের আগ পর্যন্ত দু দলের পয়েন্ট সমান ১০ থাকলেও রান রেটে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে ছিল বেঙ্গালুরু, দিল্লি ছিল তাদের ঠিক পেছনে।

তারকাদের সম্মান দেয় না পাকিস্তান-ওয়াসিম আকরাম

১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি নিজেও এ রকম ঘটনা কম দেখেননি। পাকিস্তানের ক্রিকেটে যে খেলোয়াড়দের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর ব্যাপারটা একটু কমই আছে, সেটা ভালোই জানা সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরামের। তার পরও একজন সাবেক ক্রিকেটার বলেই মেনে নিতে পারছেন না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ কর্মকাণ্ড। মোহাম্মদ ইউসুফ, ইউনুস খানদের সঙ্গে বোর্ড যে ব্যবহারটা করছে, তাতে তিনি বেশ আহতই।
ইএসপিএনস্টার ডট কমে লেখা নিজের এক কলামে আকরাম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বোর্ডের আচরণে। ক্রিকেটারদের অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কারাদেশ দেওয়ার সমালোচনা করে আকরাম লিখেছেন, ‘ইউনুস খানের ঘটনার চেয়ে ইউসুফের সিদ্ধান্তেই দুঃখ পেয়েছি বেশি। তাঁর অবসর পাকিস্তানের ক্রিকেটকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেই। ২৪টি টেস্ট সেঞ্চুরি আর ৭ হাজার রান করা কারও বিকল্প খোঁজা সহজ নয়। সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে পাকিস্তান যে রকম আচরণ করছে, সেটা খুবই দুঃখজনক।’
ইউসুফের ঘটনা ওয়াসিম আকরামকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অতীতে, ‘ইউসুফের মতো সাবেক অনেক খেলোয়াড়কেই তাদের প্রাপ্য সম্মান দেয়নি পাকিস্তান। আমি নিজে, জাভেদ ভাই (মিয়াঁদাদ) বা ওয়াকার ইউনুস—হঠাৎ করেই দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেছি আমরা! এ রকম উদাহরণ আরও আছে।’ আকরাম দুঃখ করে লিখেছেন, ‘জানি না দুই দশক ধরে যারা দেশের ক্রিকেটে অসামান্য অবদান রেখে গেল, এ রকম আচরণই তাদের প্রাপ্য কি না। অন্তত একটা বিদায়ী ম্যাচ তো পেতে পারে তারা! কিংবা একটা উষ্ণ সংবর্ধনা...এমন একটা মুহূর্ত যা একজন ক্রিকেটারের আজীবন মনে থাকবে। আমি নিশ্চিত, পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষও চায় তাদের প্রিয় তারকাকে একটিবারের জন্য বিদায়ী অভিবাদন জানাতে। ইউসুফের সেটা প্রাপ্যও।’
আইপিএলে কলকাতা নাইটরাইডার্সের বোলিং উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন আকরাম। এর মধ্যেই পত্রপত্রিকা পড়ে জেনেছেন শহীদ আফ্রিদিদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সম্পর্কে। আকরামের আশা, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেবেন আফ্রিদি।

মহানগর স্কুল ফুটবল

মহানগর মহিলা স্কুল ফুটবলে কাল চারটি ম্যাচের মাত্র দুটিই ঠিকভাবে হয়েছে। বাকি দুই ম্যাচের একটিতে এক দল পেয়েছে ওয়াকওভার, নির্ধারিত আরেকটি ম্যাচ কালকের পরিবর্তে হবে আজ।
আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিআইটির মধ্যকার ম্যাচটি হয়েছে ড্র। আরেক ম্যাচে জমিলা খাতুন লালবাগ গার্লস হাইস্কুলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল। ভিকারুননিসার গোল তিনটি করেছে মরিয়ম, হাবিবা ও নিনি।
স্যার জন উইলসন স্কুল আর সামারফিল্ড স্কুলের ম্যাচটিতে সামারফিল্ড ১১ জন খেলোয়াড়ই নামাতে পারেনি। তাই উইলসন স্কুলকে ২-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করা হয়। রাজধানী হাইস্কুল ও গ্রীন হেরাল্ডের ম্যাচটি কাল হওয়ার কথা।

ঢাকায় পাকিস্তানের সাবেক আম্পায়ারদের দল

বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যান্ড স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশনের আমন্ত্রণে কাল ঢাকায় এসেছে ১৫ সদস্যের পাকিস্তান ক্রিকেট আম্পায়ার্স একাদশ দল। বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স একাদশের বিপক্ষে দুটি প্রীতি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছাড়াও ঢাকায় আম্পায়ারদের একটি কর্মশালায় অংশ নেবেন তাঁরা।
ফতুল্লা স্টেডিয়ামে প্রথম প্রীতি ম্যাচটি আজ, ১১ এপ্রিল দ্বিতীয়টি বিকেএসপিতে। এর আগে ১০ এপ্রিল মিরপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের আম্পায়ারদের সঙ্গে একটি কর্মশালাও আছে। সফরকারী দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিন্ধু প্রদেশের ক্রীড়ামন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী শাহ। দলের সঙ্গে থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন সাবেক টেস্ট আম্পায়ার শাকিল খান, মেহবুব শাহ, ফিরোজ বাট, সেলিম বদর। আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ার আলিম দারের আসার কথা থাকলে ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেননি।

শেখ রাসেলের সহজ জয়

১৩ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ লিগের পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিল শেখ রাসেল। আর সমান ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ছিল ষষ্ঠ স্থানে। কালকের ম্যাচ শেষেও সেটি অপরিবর্তিত থাকল। সিটিসেল বাংলাদেশ লিগে মুক্তিযোদ্ধাকে কাল ৩-০ গোলে হারিয়েছে শেখ রাসেল।
শেখ রাসেল প্রথমার্ধ জুড়ে দাপট দেখিয়ে গোল পেয়েছে একেবারে শেষ মুহূর্তে। প্রথম গোলটা এসেছে পেনাল্টি থেকে। রাজন মিয়াকে বক্সের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন আজমানি। পেনাল্টিতে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সামির ওমারি। রাসেলের দ্বিতীয় গোলও ওমারির। ৬৬ মিনিটে করা ওমারির গোলের আগেই অবশ্য মুক্তিযোদ্ধা খেলায় সমতা নিয়ে আসতে পারত। কিন্তু ৬০ মিনিটে আমিন রানার শট চলে যায় পোস্টের বাইরে। ৬ মিনিট পর আবদুল্লাহ পারভেজের কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে রাসেলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ওমারি।
খেলা শেষ হওয়ার ২ মিনিট আগে কামালের গোলে আরও বেড়ে যায় রাসেলের জয়ের ব্যবধান।
আজকের খেলা : ফরাশগঞ্জ-রহমতগঞ্জ (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, বিকেল ৫টা)।

২১ মে থেকে হকি লিগ

চলতি ক্লাব কাপ হকি শেষেই শুরু হওয়ার কথা ছিল প্রিমিয়ার লিগ। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। গতকাল লিগ কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রিমিয়ার লিগ শুরু হবে ২১ মে থেকে। এর ফলে লিগে খেলার জন্য খেলোয়াড়দের অপেক্ষা আর বাড়ল। কেননা, গত বছর লিগই হয়নি। সময় পেছানোর কারণ, এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্ব।
এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্ব আগামী ৭ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত হবে ঢাকাতেই। আর সে জন্যই পেছানো হলো প্রিমিয়ার লিগ। গতকাল সভা শেষে হকি ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা বললেন, শুরুর পর কোনো বিরতি ছাড়াই চলবে প্রিমিয়ার লিগ।
ওদিকে ক্লাব কাপে গতকাল ‘ছোট’ দুই দলের খেলায় ওয়ারী ২-১ গোলে হারিয়েছে সাধারণ বীমাকে।

‘বছরে তিন কাল—গরম-শীত-বাদলা’ by উদিসা ইসলাম

দুপুর। রাজধানীর বিজয় সরণিতে জ্বলছে লালবাতি। নানা বয়সী শিশুরা নানা রকম জিনিস বিক্রি করে যাচ্ছে রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশে। সংবাদপত্র-পপকর্ন-চকলেট-তোয়ালে-ফুল-মুঠোফোনের আবরণ, আরও কত কি। সবুজ বাতিতে রাস্তা ব্যস্ত হলে সব বিক্রেতা মোড়ের ফোয়ারার বেদিতে বিশ্রাম নিতে বসে। মাথা গুনে দেখা গেল, ওরা ১৭ জন। এর মধ্যে ছয়জনের হাতে ফুল—গোলাপ, মল্লিকা, রজনীগন্ধা, গন্ধরাজ। এরই মধ্যে আবারও জ্বলে ওঠে লালবাতি। লাল-সবুজ-লাল বাতির আসা-যাওয়ার মধ্যেই ওদের সঙ্গে পরিচিত হই। এরপর ওদের পাশে পাশে রাস্তায় নেমে যাই। ওরা কী বলে এসব জিনিস বিক্রি করে তা শুনব। ওরা কী নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে তা জানব।
জানতে চাইলাম, এক জায়গায় রোজ বিক্রি করো, ক্রেতা পাও? ফোকলা দাঁতে হেসে উত্তর দেয় আট বছরের মেয়ে বেলি, ‘পেত্যেক দিন নতুন নতুন কথা তৈরি কইরা দেয় মায়ে। এক কথা রোজ শুনব নাকি?’
‘গতকাল কী বলে বিক্রি করছিলে?’ জানতে চাই।
‘মনে নাই।’
ফুল কখন বিক্রি হয় বেশি বলতে গিয়ে সে বলে, ‘কদম ফুটলে আর ভাইয়া বেড়াইতে নিয়া আইলে।’
এখন কী কাল চলছে, সেটা সে জানে কি না জানতে চাইলে দুই পাশে মাথা নেড়ে জানিয়ে দেয়, সে জানে না।
তাকে কিছুক্ষণ আমাদের কালগুলো নিয়ে গল্প করেতই সে বলল, ‘বুঝছি, ফুল বেশি ফুটলেই বসন্ত।’
অমনি নয় বছরের ছেলে বেলাল বলে ওঠে, ‘আপনে মিথ্যা বলতেছেন। এক বছরে তিন কাল—গরম-শীত-বাদলা।’
ওদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাই সংসদ ভবনের পেছনে। আট বছরের শিশু লাইলী এই জায়গায় দাঁড়িয়ে পথচারীদের অনুরোধ করছে, ‘একটা নেন, খিদে লাগসে, খাব।’ খালি পা, হাতাকাটা ময়লা জামা, এলোমেলো চুল।
‘কবে থেকে এখানে বিক্রি করছ?’
‘এই রবিবারের আগের রবিবার।’ মোটামুটি শুদ্ধ ভাষা। মা কোথায়, জানতে চাইলে সে সতর্ক হয়ে পাশের ১১ বছরের পপকর্ন বিক্রেতা হালিমকে ডাক দেয়। ছেলেটি কাছে আসতেই এবার মেয়েটি বলে ওঠে, ‘অপরিচিত কেউ কথা বলতে আইলে মা হালিম ভাইরে ডাকতে বলে।’ ওদের দুজনেরই মা শ্যামলীর একটি বাড়িতে পাশাপাশি ঘরে থাকেন। ওদের একজনের মা ফুলের তোড়া বানান আর অন্যজনের মা ছোট ভাইকে নিয়ে রাস্তায় ভিক্ষা করেন।
ওদের সঙ্গে সারা দিন থাকতে চাইলে একজন বলে, ‘আমরা তো সারা দিন রোডেই থাকি। এখানে আপনি কী করবেন?’
‘তোমাদের সারা দিনের কাজ দেখব’—বলতেই ওরা উল্টো দিকে হাঁটা দেয়। কারণ জানতে চাইলে একটু দূরে বসে থাকা প্রতিবন্ধী মোখলেস বলেন, ‘এখানে এনজিওর মহিলারা আসে মাঝে মাঝে। কাজ বন্ধ রাইখ্যা তাদের সাথে কথা বললে দিন শেষে বয়স বুঝে টাকা দেয়। পর পর দুবার তাদের সাথে কথা বলে দিন শেষে এনজিও আপারা যে টাকা দিছে, তা তাদের দিনের আয়ের চেয়ে কম হইছে। তাই এরা আর এনজিওদের কথা শুনবে না বলছে।’
পথে হকার বা ভিক্ষা করা শিশুদের বেসরকারি উদ্যোগে পড়ানোর প্রচেষ্টা কাগজে-কলমে থাকলেও আসলে সেগুলো কার্যকর কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়। রোকেয়া সরণি থেকে প্রেসক্লাবের সামনে পর্যন্ত যত জন শিশু রয়েছে, তাদের বেশির ভাগেরই হাতেখড়িও হয়নি। মেয়েশিশুদের অবস্থা আরও নাজুক।
বেলির মা শেফালি বেগম বিক্রিবাটা শেষ হলে মেয়েকে ডাকতে আসেন। বেলিকে কোনোভাবে স্কুলে পাঠানো যায় কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যারা নাকি পুরা পড়াবে না। দু-তিন বছর পেটে শিক্ষা ঢুকার পর মাইয়া কী করব? পড়ার দেমাগে তো রাস্তায় নামবার চাইবে না?’ বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগ একেবারেই কম কেন, জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিশু অধিকারবিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের দেশে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে, সেগুলোর সামর্থ্য থাকলেও ইচ্ছা নেই। যেটুকু চেষ্টা আছে, সেটা শ্রমজীবী শিশুদের জন্য, পথশিশুদের সেখানে কম উৎসাহিত করা হয়।’
রাজধানীর নানা সড়ক ওদের বাঁচিয়ে রাখে, কখনো কখনো সড়ক দুর্ঘটনায় সেখানেই ওদের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। শীতে গায়ে সোয়েটার নেই, গরমে মশা আছে, কিন্তু মশারি নেই। মাথার ওপর ফ্যান নেই। বর্ষায় বৃষ্টি নামলে মধ্যরাতে দৌড়ে আশ্রয় খুঁজতে হয়। এরা বসন্ত চিনবে কেন? ভাত-কাপড় আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ওদের জীবনের শেষ। এই পথশিশুদের অভিভাবক কিংবা এদের পড়ানোর বিষয়ে যে সংস্থাগুলো ভাবে বলে দাবি করা হয়, তাদের সবাই মনে করে, পড়ার পেছনে সময় দিলে হয়তো দুবেলা পেটে ভাত জুটবে না। আর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রাষ্ট্র করে দিতে পারছে না বলেও এদের ভাগ্যে নতুন মাত্রা যোগ হবে না। আমরা কি ওদের খাবারের জোগান বা পড়ার সুযোগ করে দিতে পারব?
এ প্রশ্নের উত্তর আমাদের না জানা থাকলেও ওরা জানে। ওরা জানে, খুব কম মানুষ অন্যের ভালো করে। ওরা জানে, জোর করে নিজের জায়গা করে নিতে হয়। ওরা এও জানে, ওদেরও মানুষের মর্যাদা পাওয়ার কথা ছিল, যাঁরা নিজেদের মানুষ বলে দাবি করছেন, তাঁরাই সেই কথা রাখেননি।

তোশিরো নাকামুরার স্বপ্ন -সময়ের প্রেক্ষিত by মনজুরুল হক

শিমানে জেলার অবস্থান জাপানের প্রধান দ্বীপ হোনশুর পশ্চিমে। হিরোশিমার ঠিক উত্তরে অবস্থিত জাপান সাগরের তীরবর্তী এই জেলাটি জাপানের বাইরে তেমন পরিচিত নয়। জনসংখ্যার হিসাবে জাপানের ৪৭টি জেলার মধ্যে শিমানের অবস্থান হচ্ছে ৪৬তম। ২০০৯ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাবে শিমানের জনসংখ্যা ছিল সাত লাখের কিছু ওপরে, যার ২৮ শতাংশই হচ্ছে ৬৫ বছর কিংবা বেশি বয়সী লোকজন। জনসংখ্যার অনুপাতিক হারে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধ লোকজনের বসবাসও শিমানে জেলাতেই। এর অন্যতম একটি কারণ অবশ্যই হচ্ছে, অর্থনৈতিক মন্দার মুখে কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে আসায় তরুণ প্রজন্মের আশপাশের বড় শিল্পাঞ্চলগুলোয় চলে যাওয়া। ফলে তরুণ প্রজন্মকে অঞ্চল ছেড়ে চলে না যাওয়ায় উৎসাহিত করতে নানা রকম পদক্ষেপ স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকেও নিতে হচ্ছে।
জেলার ঠিক মধ্যাঞ্চলে পাহাড় ঘেরা এক উপত্যকায় গড়ে উঠেছে প্রাচীন শহর ওদা। ষোড়শ শতকে শহরটি ছিল সমৃদ্ধ এক জনপদ। ইওয়ামি গিনজান রৌপ্য খনি সেখানে নিয়ে আসে বিত্ত ও সমৃদ্ধি। চতুর্দশ শতকের শুরুতে রুপার খনির সন্ধান পাওয়া গেলেও গৃহযুদ্ধকবলিত জাপানে পরবর্তী প্রায় ৩০০ বছর প্রভাবশালী বিভিন্ন সামন্ত প্রভুদের মধ্যে চলা যুদ্ধে খনির মালিকানার হাতবদল প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সপ্তদশ শতকের শুরুতে তোকুগাওয়া সামন্ত প্রভুর নেতৃত্বে জাপানের একীভূতকরণ চূড়ান্ত আকার নেওয়ার পর ইওয়ামি গিনজান রুপার খনির মালিকানাও শোগুন আধিপত্যের হাতে চলে আসে। সেই সময়টা ঘটনাক্রমে হয়ে উঠেছিল এশিয়াজুড়ে রুপার সমৃদ্ধির সময়। ইওয়ামি রৌপ্য খনির জন্য সময়টা তাই হয়ে ওঠে সমৃদ্ধির সবচেয়ে ভালো সময়। রুপার চাহিদা মেটানোর জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়ে আসা খনিশ্রমিকদের কল্যাণে ওদা শহর ও এর আশপাশের ওমরি অঞ্চল ক্রমশই জনবসতিপূর্ণ এক এলাকায় পরিণত হয়। তবে রুপার সেই সমৃদ্ধির সময় দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়নি। ১৬০২ সালে চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার সময় ইওয়ামি খনির বার্ষিক উৎপাদন ছিল ১৫ টন। তবে বিনিময় মুদ্রার অবস্থান থেকে রুপার স্থানচ্যুতির ফলে এশিয়াজুড়ে রুপার চাহিদা আবারও পড়ে যাওয়া ধীরে ধীরে উৎপাদন কমাতে হয়। ইওয়ামি রৌপ্য খনি পরবর্তী সময়ে আরও প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর ধরে সক্রিয় থেকে গেলেও খনিভিত্তিক শহর ওদার ক্রমশ জনশূন্য হয়ে পড়ার প্রবণতার শুরু তখন থেকেই। যে পথ ধরে দীর্ঘ যাত্রার শেষে অতীতের সমৃদ্ধ সেই জনপদে বর্তমানে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪০০ জনে।
জনসংখ্যার ক্রমশ পতনমুখী ধারা হচ্ছে জাপানের দূরবর্তী বিভিন্ন মফস্বল শহরের মোকাবিলা করতে হওয়া সার্বিক এক সমস্যা। জাপান সরকার যে এ বিষয়ে সচেতন, সরকারের গ্রহণ করা সাম্প্রতিক নানা রকম পদক্ষেপ তার প্রমাণ তুলে ধরছে। স্থানীয় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সহায়তা করা হচ্ছে সরকারের সে রকম একটি পদক্ষেপ, শিমানে জেলাও সার্বিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা পেয়ে আসছে। তবে সরকারের নেওয়া সে রকম উদ্যোগের বাইরে স্থানীয়ভাবে নিজস্ব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ওদা শহরকে আবারও প্রাণবন্ত করে তোলায় ব্যতিক্রমী ভূমিকা পালন করে যাওয়ার মধ্য দিয়ে জাপানের সংবাদ মাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণে যিনি সক্ষম হয়েছেন, তিনি হলেন শহরের সফল ব্যবসায়ী তোশিরো নাকামুরা। ওদা শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নাকামুরার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এখন জাপানের রাষ্ট্রীয় সীমানার গণ্ডি অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায়। যা কিনা অন্যভাবে শহরে নিয়ে এসেছে নতুন এক প্রাণচাঞ্চল্য।
ওদা শহর হচ্ছে নাকামুরা পরিবারের কয়েক পুরুষের আদি নিবাস। প্রায় ২০০ বছর আগে পরিবারের এক পূর্বপুরুষ ইওয়ামি খনি এলাকায় বসতি গড়ে কামারের পেশায় নিয়োজিত হয়েছিলেন। তোসিরো নাকামুরার জন্ম ১৯৪৮ সালে পাহাড় ঘেরা দূরবর্তী সেই মফস্বল শহরে। স্কুলের লেখাপড়া শেষ করে নাকামুরা শুরুতে জাপানের কিওতো শহরে ও পরে যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন ও বিকলাঙ্গতার চিকিৎসা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ২৬ বছর বয়সে দেশে ফিরে আসার পর নিজের শহর ওদাতেই তিনি দেশে ও বিদেশে লাভ করা শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ ঘটাতে সেই শিক্ষার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হন। নাকামুরা ব্রেইসের উৎপত্তি সেখান থেকেই। ১৯৭৪ সালে ওদা শহরে পৈতৃক নিবাসের সামনে মাত্র ৩৩ বর্গমিটার জায়গায় কৃত্রিম দেহাঙ্গ তৈরির কারখানা গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে বাণিজ্যের জগতে নাকামুরার প্রবেশ। নগরকেন্দ্রিক কারখানা গড়ে তোলার প্রবণতায় সাড়া না দিয়ে কেন তিনি দূরবর্তী এক মফস্বল শহরকে বেছে নিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন যে নিজের শুরু করা সেই ব্যবসার মধ্য দিয়ে ক্রমশ পিছিয়ে পড়া এক জনপদকে আবারও সজীব করে তোলার চিন্তা তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং নিজের সেই আদি পৈতৃক নিবাসের জনশূন্য হয়ে পড়া বন্ধ করতে কিছু একটা তিনি করতে চেয়েছিলেন। তোশিরো নাকামুরার বাবা প্রায়শই আক্ষেপ করে বলতেন, একসময়ের বিশ্বখ্যাত রুপার খনির শহর এখন ভুতুড়ে এক শহরে পরিণত হচ্ছে। বাবার সেই আক্ষেপ তোশিরোকে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দিয়েছিল এবং শহরের জন্য কিছু একটা করতে পারার বাসনা নিয়ে শেষ পর্যন্ত সেখানেই কারখানা তৈরির সিদ্ধান্ত তিনি নেন।
ক্ষুদ্র সেই পরিসরে যাত্রা শুরু করা নাকামুরা ব্রেইসের বার্ষিক বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে কয়েক কোটি মার্কিন ডলারে। কৃত্রিম হাত, পা, আঙুল ও স্তন তৈরির দিক থেকে কোম্পানি এখন বিশ্বের প্রধান একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত, যা কিনা নাকামুরার নিজের জন্য এনে দিয়েছে বিত্তের বৈভব, যার অনেকটাই তিনি আবার খরচ করছেন শহরের প্রাচীন বিভিন্ন ভবন ও বাড়িঘর সংরক্ষণে। বিশ্বজুড়ে ব্যবসা বিস্তৃত হলেও নাকামুরা এখনো নিজ শহরের সাধারণ পৈতৃক নিবাসে বসবাস করছেন এবং তাঁর কোম্পানির সদর দপ্তরও ওদা শহরেই রয়ে গেছে।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে ওদা শহরের জনসংখ্যা ৪০০-এর সামান্য বেশি। ৪০০ জনসংখ্যার সেই শহরের ৬৫ জন বর্তমানে নাকামুরা ব্রেইসে কর্মরত। শুধু তাই নয়, তরুণরা যেন শহর ছেড়ে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় তরুণদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ায় নাকুমুরা ব্রেইস বিশেষভাবে তৎপর। কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের ৬৫ জন কর্মীর গড় বয়স হচ্ছে ৩৩ বছর।
ব্যবসায়িক সাফল্য তোশিরো নাকামুরাকে সমাজের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে তৎপর হতে উৎসাহিত করছে এবং ওদা শহর ও ওমোরি অঞ্চলকে পর্যটক আকর্ষণকারী এক কেন্দ্রে পরিণত করে নেওয়ার লক্ষে নানা রকম কাজ তিনি করে চলেছেন।
ওদা শহরে নাকামুরা ব্রেইসের অতিথি আপ্যায়ন ভবনে কিছুদিন আগে এক আলাপচারিতায় নিজের নতুন এক বাসনার কথা তোশিরো নাকামুরা আমাকে জানালেন। সেই বাসনা হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র লোকজনের দুর্দশা লাঘবে কিছু একটা করতে পারা। সেই একই ভবনে নাকামুরা ব্রেইসের চিকিৎসাকলা গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিত। কৃত্রিম দেহাঙ্গকে কীভাবে সহজে ব্যবহার উপযোগী ও দেখতে ঠিক মূল দেহাঙ্গের মতো করে তৈরি করে নেওয়া যায়, সেই গবেষণা কেন্দ্রে চালানো হচ্ছে। কোম্পানির তৈরি কৃত্রিম একটি পা দেখিয়ে নাকামুরা বললেন, সিলিকনের প্রলেপ দেওয়া সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি সংযুক্ত সে রকম একটি পায়ের বাজারমূল্য ১০ লাখ ইয়েনের বেশি। সে রকম উচ্চমূল্য যে দরিদ্র জনগণের ধরাছোঁয়ার বাইরে, সেই চিন্তা প্রায়শই তাঁকে তাড়িত করে। সস্তায় কীভাবে কৃত্রিম দেহাঙ্গ তৈরি করে নেওয়া যায়, সেই গবেষণাও তাই তাঁর প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছে। গবেষণার একটি ফলাফলও তিনি সেখানে রেখেছিলেন, যেটা হচ্ছে কাঠের তৈরি খুবই সাধারণ একটি কৃত্রিম পা, যার ভেতরের আস্তরনে দামি সিলিকন ব্যবহার না করে সাধারণ বস্ত্র কাজে লাগানো হয়েছে। কাঠের সেই নমুনাটি তৈরি করেছেন স্থানীয় একজন প্রতিবন্ধী। ফলে বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলের কাঠের কারিগরদের পক্ষে সে রকম কিছু তৈরি করে নেওয়া অসম্ভব মোটেও নয়।
তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে দুর্ঘটনা কিংবা হানাহানিতে পা হারিয়ে ফেলা যে চিরদিনের জন্য ভয়ংকর এক দুরবস্থায় দরিদ্র মানুষজনকে ফেলে দিতে পারে, সে বিষয়ে নাকামুরা অবগত। তাঁদের জন্য কিছু একটা এখন তিনি করতে চাইছেন এবং সেই আশা নিয়ে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের দিকেও তিনি তাকিয়ে। প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে নাকামুরা ব্রেইস প্রস্তুত। তবে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি ঠিক গতানুগতিক ব্যবসা হিসেবে না দেখে বরং জনকল্যাণে নিয়োজিত সামাজিক ব্যবসা হিসেবে দেখতে হবে, যে ধারণা আমাদের গ্রামীণ ব্যাংকের কর্ণধার অধ্যাপক ইউনূস বিশ্বজুড়ে প্রচার করে আসছেন। ফলে সেই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ গড়ে ওঠা মনে হয় নতুন এক আশা বিশ্বের অবহেলিত প্রতিবন্ধীদের মনে জাগিয়ে তুলতে পারে এবং নাকামুরা ব্রেইসের সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশ হয়ে উঠতে পারে এশিয়া অঞ্চলজুড়ে সস্তার কৃত্রিম পা সরবরাহের এক কেন্দ্রে।
মনজুরুল হক: শিক্ষক ও সাংবাদিক।

পার্কটি হয়ে উঠুক দেশজ প্রাণীর অভয়াশ্রম -প্রস্তাবিত সাফারি পার্ক by খসরু চৌধুরী

রাজধানী ঢাকা শহরের অদূরে রাথুরায় আরেকটি সাফারি পার্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাই। দুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের সাফল্য ও অভিজ্ঞতা পার্ক নির্মাণে সহায়ক হবে বলে আশা রাখছি। রাথুরা এলাকায় সাফারি পার্ক নির্মাণের জন্য সরকার বন বিভাগের ২১০ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং নির্মাণ ব্যয়ের জন্য ৩২.০৪ কোটি এবং পশুপাখি কেনার জন্য ১.০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সবকিছু সচল থাকলে এ বছর জুলাই মাসে পার্ক নির্মাণ শুরু হবে বলে আশা করা যায়।
ঢাকার কাছাকাছি এ ধরনের একটি পার্কের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল অনেক কাল ধরেই। আমাদের বনভূমিগুলোকে যে ধরনের মানবসৃষ্ট উৎপাত সহ্য করতে হয়, তাতে বনে গিয়ে কারও পক্ষে দু-একটি প্রাণীর বেশি দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। কিন্তু সাফারি পার্কের কৃত্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশে জীবজন্তু দেখার সুযোগ মেলে। জীবজন্তুদের জন্য অবশ্য সাফারি পার্কের এলাকা মোটেই সুখের নয়। কারণ, একেকটি প্রাণী বিশেষভাবে গড়ে ওঠে একেক ধরনের বনাঞ্চলে। তাদের খাদ্য, শিকার ও গড়ে ওঠা সেই সব জঙ্গল সমর্থিত। সাফারি পার্কের মধ্যে পরিবেশগত সুবিধা না থাকলেও প্রাণীরা চিড়িয়াখানার চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় থাকে। সাফারি পার্কের প্রজনন রেকর্ডও চিড়িখানার চেয়ে ভালো।
দুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটি ঢাকা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় অনেকেই সেখানে যেতে পারে না। রাথুরায় নতুন পার্ক হলে ঢাকা থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে দর্শনার্থীরা সেখানে পৌঁছতে পারবে। এ পার্কটি করার মূল উদ্দেশ্য নিয়ে দু-একটি প্রস্তাব রাখতে চাই। এটা নীতিনির্ধারকেরা ভেবে দেখবেন।
বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং গ্রামীণ বনভূমি যেভাবে নষ্ট হচ্ছে, তাতে প্রতিদিনই কোনো না কোনো বন্য প্রাণী উদ্বাস্তু হয়ে গ্রামবাসীর হাতে মারা পড়ছে। ফলে খুব দ্রুতই আমাদের দেশি বন্য প্রাণী শেষ হয়ে যাচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গন্ধগোকুল গোত্র ও বিড়াল গোত্রের প্রাণী মেরে ফেলা হচ্ছে। শিয়ালও বাদ যাচ্ছে না। এ অবস্থায় এসব প্রাণীর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা পার্কের মাধ্যমে হতে পারে।
সবচেয়ে ভালো হয় বিদেশ থেকে দামি প্রাণী আমদানি করে পার্ক না ভরিয়ে বাংলাদেশে যেসব প্রাণী রয়েছে, ওই সব প্রাণীর আবাসনের ব্যবস্থা পার্কে করলে। বাংলাদেশ এমন একটি আশ্চর্য দেশ, যেটি আকারে ছোট হলেও প্রাণিবৈচিত্র্য অসাধারণ। এই প্রাণীগুলোর বর্ণবৈচিত্র্য আকার-প্রকারও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এ দেশে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাটিতে হাঁটা স্তন্যপায়ী হাতি, সবচেয়ে দীর্ঘ সরীসৃপ গোলবাহার সাপ, দীর্ঘ বিষধর শঙ্খচূড় পাওয়া যায়। আমাদের দেশের সুন্দরবন এখনকার পৃথিবীর সবচেয়ে ডোরাকাটা বাঘের ঘনবসতির এলাকা। অথচ আমাদের দেশের কোনো চিড়িয়াখানায় বা পার্কে সুন্দরবনের বাঘ নেই। ১৯৭৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত একমাত্র যে বাঘটি ছিল, সেটি বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে তখনকার বন বিভাগ পচাব্দীগাজীকে দিয়ে সুন্দরবন থেকে বাঘের বাচ্চা ধরে বঙ্গবন্ধুকে উপহার দিলে তিনি সেটি ঢাকা চিড়িয়াখানায় অর্পণ করেন। পরে আনা বাঘগুলো ভারতীয় চিড়িয়াখানায় জন্মানো বাঘ, সুন্দরবনের নয়।
বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এমন অনেক প্রাণী ভারতে যথেষ্ট পরিমাণে আছে। সেগুলো পার্কের জন্য আনা যেতে পারে। বারাশিঙা হরিণ, এশীয়, এক শিঙের গন্ডার, বুনো মোষ, গাউর, গুলবাঘ বা চিতাবাঘ, লামচিতা, সোনালি বিড়াল, মার্বেল বিড়াল, রামকুত্তা, শ্লথ ভালুক, হিমালয়ান বাদামি ভালুক, সান ভালুক, ডোরা হায়েনা, বাদামি নেকড়ে, নীলগাই, প্যারাইল্লা বানর—প্রাণীগুলো আশপাশের দেশ থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে। পাখিদের মধ্যে ময়ূর ও বার্মিজ ময়ূর, হাড়গিলা, কালো গলার স্টর্ক, ডেমোসেল ক্রেন, সারস—ভারত, নেপাল, মিয়ানমার থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে। দেশে বর্তমানে থাকা প্রাণী এবং বিলুপ্ত হওয়া প্রাণী একত্র করতে পারলে আমরা একটা অসাধারণ সংগ্রহশালা পাব। স্নেকপার্ক, মেরিন অ্যাম্পোরিয়াম করার জন্য বিদেশি প্রাণী আমদানির দরকার নেই। এ দেশেই এদের পাওয়া যাবে।
প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের (রাথুরা) জন্য জমি অধিগ্রহণের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ, পরবর্তীকালে পার্কের সম্প্রসারণের প্রয়োজন হতে পারে। তা ছাড়া এই এলাকার আশপাশের গজারি বন অনেকটাই দখলকারীদের হাতে চলে গেছে। এ ছাড়া পার্কের জমির আওতায় বেসরকারি-সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কটেজ নির্মাণ, রেস্তোরাঁ নির্মাণের সুযোগ দিতে হবে। স্থানীয় জনসাধারণ যাতে পার্কের আয় থেকে উপকৃত হতে পারে, তারও ব্যবস্থা রাখতে হবে। এদিকের নদী-খালগুলোর পানি কলকারখানার বর্জ্যে পচে বিষাক্ত হয়ে আছে। পার্কের ভেতর অবশ্যই জলপ্রবাহের নদীর কিছুটা অংশ রাখা দরকার। এ কাজের জন্য পার্কের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত জলের খাত, যাতে বর্জ্য পচা না হয়, এর জন্য পানি ব্যবহারকারী আশপাশের কারখানাগুলোকে নিবৃত্ত করা প্রয়োজন।
আমাদের অনিকেত বন্য প্রাণী, বিলুপ্ত বন্য প্রাণী পার্কের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত হলে উদ্বৃত্ত প্রাণী আমাদের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আশ্রয় নিতে পারবে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে আনা আফ্রিকার জেব্রা, জিরাফ, সিংহ ও উটপাখি দিয়ে আমাদের সাফারি পার্ক ভরিয়ে লাভ নেই। তার জন্য রয়েছে চিড়িয়াখানা। সাফারি পার্ক হয়ে উঠুক দেশজ প্রাণীর অভয়াশ্রম।
খসরু চৌধুরী: সাংবাদিক, বন বিশেষজ্ঞ।

লেজুড়বৃত্তির এই ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে হবে -ছাত্ররাজনীতি by বদিউল আলম মজুমদার

মাননীয় কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী কিছুদিন আগে ছাত্ররাজনীতিকে গলিত শবের সঙ্গে তুলনা করেছেন (প্রথম আলো, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১০)। বর্তমান সরকারের সবচেয়ে সফল, সত্ ও করিতকর্মা মন্ত্রী ছাড়াও মতিয়া আপা হলেন অগ্নিকন্যাখ্যাত ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির অন্যতম পুরোধা। তাই তাঁর মুখ থেকে যখন কোনো কথা বিশেষত ছাত্ররাজনীতি নিয়ে উচ্চারিত হয়, তখন সবাই মনোযোগ দিয়ে শোনে। আমরা আশা করি, সরকার তাঁর কথার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ছাত্ররাজনীতির গলিত শবের সৎকারের উদ্যোগ নেবে।
ছাত্ররাজনীতির গলিত শব থেকে নিঃসরিত পূতিগন্ধ আজ সারা দেশে এক অসহনীয় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বস্তুত চরম পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত ছাত্ররাজনীতি বর্তমানে বেসামাল পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু ছাত্ররাজনীতির তো এমন দুরবস্থা অতীতে ছিল না, মতিয়া আপাদের সময়ে তো নয়ই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেই, বিশেষত গত দুই দশকের গণতান্ত্রিক শাসনামলে ছাত্ররাজনীতির চরম অবক্ষয় ঘটেছে। এর বিরূপ প্রভাব মূল দলের ওপরও পড়ছে, কারণ ছাত্রসংগঠনের ক্যাডাররা দলে আধিপত্য বিস্তারে নেতাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।
আমাদের দেশে ছাত্ররাজনীতির সূচনা হয়েছে অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের অনুকরণে। বিশ্বখ্যাত ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত ছাত্র সংসদে (যেমন অক্সফোর্ড ইউনিয়ন) নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ছাত্রছাত্রীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাঁদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে সংসদের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন ধরনের ‘এক্সট্রা কারিকুলার’ বা পাঠ্যসূচিবহির্ভূত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। তারা কোনোভাবেই দলীয় রাজনীতির লেজুড় হিসেবে ব্যবহূত হয় না।
রাজনৈতিক দলের লেজুড় হিসেবে কাজ করেনি বলেই আমাদের ছাত্রছাত্রীরা অতীতে জাতির ক্রান্তিলগ্নে ঐতিহাসিক অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছিল। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পেরেছিল। কিন্তু বর্তমানে ছাত্ররাজনীতির নামে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্নভাবে চরম বিশৃঙ্খলা ও দ্বন্দ্ব-কলহে লিপ্ত। আরও লিপ্ত চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুনখারাবির মতো অপরাধী কর্মকাণ্ডে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইডেন ও বদরুন্নেছা কলেজের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যকার মারামারির পেছনে রয়েছে ভর্তি ও সিট-বাণিজ্য থেকে অর্জিত টাকার ভাগাভাগি এবং নেতাদের কাছ থেকে ফায়দা আদায়ের লক্ষ্যে ছাত্রীদের অনৈতিক কাজে জোর করে ব্যবহার নিয়ে কলহ। আমরা যারা এককালে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলাম, তাদের কাছে এ ধরনের পঙ্কিলতা অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয় ও অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কিন্তু কেন ছাত্ররাজনীতির এ চরম অবক্ষয়? কীভাবে তা ঘটল? এর জন্য দায়ীই বা কারা?
আমাদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদকেন্দ্রিক কার্যক্রম এখন সম্পূর্ণই অনুপস্থিত। এমনকি বহুদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় না। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে অতীতের ছাত্ররাজনীতির পরিবর্তে বর্তমানে ‘ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারের রাজনীতি’ বিরাজ করছে। এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গঠিত তাদের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনগুলোকে ‘বি-টিম’ হিসেবে ব্যবহার করছে। আর ছাত্রদের নেতা-নেত্রীরা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহার করছে মিছিল-মিটিংসহ অন্যান্য অনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করার মাধ্যমে। প্রতিদানে তারা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, এমনকি ছিনতাই ও সন্ত্রাসের মতো বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার লক্ষ্যে। তাই অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনগুলোর নামে বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যে অপকর্মের ‘দুষ্টচক্র’ বিরাজ করছে, তাকে কোনোভাবেই ছাত্ররাজনীতি বলা যায় না। বরং তা অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ছাত্ররাজনীতির জন্য চরম কলঙ্ক।
বিরাজমান ছাত্ররাজনীতি যে অতীতের ধারা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এগুলো যে ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে পরিচালিত হয় না, তা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় এগুলোর নেতৃত্বের দিকে তাকালেই। আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃত্বে রয়েছেন মূলত অছাত্ররাই। উদাহরণস্বরূপ, ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতির বয়স ৪৭ বছর, যিনি গত সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন। তিনি বিবাহিত, এক সন্তানের জনক এবং পেশায় ব্যবসায়ী। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকও বিবাহিত এবং পেশায় ব্যবসায়ী। একইভাবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ১৭১ জনের মধ্যে ১০৩ জনই বিবাহিত, ১০২ জনের বয়স পঁয়ত্রিশের ওপরে এবং ১৫০ জনের ছাত্রত্ব নেই, যদিও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অছাত্ররা সংগঠনের সদস্য থাকতে পারে না (প্রথম আলো, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১০)।
প্রথম আলোর উপরিউক্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। সংগঠনের গঠনতন্ত্রে ২৯ বছরের বেশি বয়স্কদের নেতৃত্বে থাকার ওপর বিধিনিষেধ থাকলেও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বয়স পঁয়ত্রিশের কোঠায়। এ ছাড়া ৮৭টি জেলা কমিটির মধ্যে ৮২টির নেতৃত্বে রয়েছে অছাত্ররা। উপরন্তু বিবাহিতদের সংগঠনের সদস্য হওয়ার অযোগ্য হলেও ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের কমিটির একটি বিরাট অংশই বিবাহিত। ছাত্রদলের মতো ছাত্রলীগের কমিটিগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ এবং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বও অছাত্রদের কাঁধে। ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সম্প্রতি ইস্তফা দেয়া সাধারণ সম্পাদক উভয়ই অছাত্র, যদিও গঠনতন্ত্রে অছাত্রদের সংগঠনের সদস্য থাকার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এমনকি বাম ছাত্রসংগঠনগুলোও বর্তমানে অছাত্রদের দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমান ছাত্ররাজনীতিতে অল্পসংখ্যক ছাত্রছাত্রী প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং তারা কোনোভাবেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব করে না। অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষত বড় দলগুলোর ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের জোর করে মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করানো হয়। ভর্তি ও সিটের বিনিময়ে অনেক নিরীহ ছাত্রছাত্রী এই সংগঠনগুলোর সঙ্গে জড়িত হতে বাধ্য হয়। নিরাপত্তার খাতিরেও অনেক ছাত্রছাত্রীকে ছাত্রসংগঠনে নাম লেখাতে হয়।
ছাত্ররাজনীতির বর্তমান অবক্ষয়ের জন্য মূলত দায়ী আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর দেউলিয়াপনা। দেউলিয়াপনার কারণেই আমাদের রাজনীতি ক্রমাগতভাবে নিয়মতান্ত্রিকতার ধারা ছেড়ে রাজপথে স্থান নিয়েছে। মিছিল, ধর্মঘট, হরতাল, অবরোধ ইত্যাদির মূল হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আর এ কাজে ছাত্রছাত্রীরা মূলত ‘লাঠিয়াল’ হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। নেতা-নেত্রীদের নিজেদের পুত্র-কন্যাদের পরিবর্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েদেরই এ লাঠিয়ালির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতির কারণে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ সেখানে বহুলাংশে অনুপস্থিত। নিয়মিত ক্লাস হয় না, যথাসময়ে পরীক্ষা হয় না, পরীক্ষার ফলও যথারীতি প্রকাশিত হয় না। সেশনজট এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অসংখ্যক ছাত্রছাত্রীর জীবনের শ্রেষ্ঠ বছরগুলোর একটি অংশ অপচয় হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী ছাত্রছাত্রী ও পরিবারগুলোই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, পুরো জাতির মেধার বিকাশ এবং উৎপাদনশীলতাও ব্যাহত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ছাত্ররাজনীতিই নয়, শিক্ষক-রাজনীতিও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানের অবনতির অন্যতম কারণ। অনেক শিক্ষকই, বিশেষত দলবাজির সঙ্গে যুক্ত অনেকে এখন আর নিয়মিত ক্লাস নেন না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই বর্তমানে শিক্ষক নিয়োগ হয় না, হয় ভোটার নিয়োগ। এ ছাড়া কোনো শিক্ষক দায়িত্ব পালন না করলে কিংবা গর্হিত কাজে লিপ্ত হলেও দলীয় বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। উপরন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মুক্তচিন্তার পাদপীঠ না হয়ে এখন দলীয় রাজনীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
বিরাজমান ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারের রাজনীতি ইতিমধ্যে আমাদের অনেক ক্ষতি সাধন করেছ। শিক্ষার মানে ধস নামানো এবং সেশনজট সৃষ্টি ছাড়াও এর কারণে অনেক প্রাণ অকালে ঝরে পড়েছে। একটি হিসাবমতে, ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই শ নীতি-আদর্শবিবর্জিত তথাকথিত ছাত্ররাজনীতির বলিতে পরিণত হয়েছে। ছাত্রলীগের অন্তঃকলহের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরীহ ও মেধাবী ছাত্র আবু বকর, যশোরের রিপন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ক্যাডারদের নৃশংস হামলায় নিহত ছাত্রলীগের কর্মী ফারুক এ মৃত্যুর মিছিলে সর্বশেষ সংযোজন।
আমাদের আশঙ্কা, সহিংসতা ও মৃত্যুর মিছিলের এখানেই শেষ নয়, এটি এগিয়ে চলবে এবং আরও বিস্তৃত পরিসরে। নেতা-নেত্রীদের ক্ষুদ্র স্বার্থে পরিচালিত ছাত্ররাজনীতি-কেন্দ্রিক সহিংসতার আগুন দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে, বিশেষত ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে অবস্থিত ছাত্রলীগের অন্তঃকলহের মাধ্যমে, যার আলামত ইতিমধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে। কারণ এ আগুনে, ফায়দা বিতরণের মাধ্যমে, ক্রমাগতভাবে ঘি ঢালা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের, বিশেষত ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে ফায়দা পাওয়া কিংবা দলের ছত্রচ্ছায়ায় অনেকটা নিরাপদে ভর্তিবাণিজ্য-সিটবাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, দখলদারি ইত্যাদি গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়াই বর্তমানের ছাত্ররাজনীতির মূল আকর্ষণ। এসবের আকর্ষণেই ছাত্র নামধারী অনেক অবাঞ্ছিত ব্যক্তি এখন ছাত্রলীগের দিকে ছুটছে। মাননীয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আশঙ্কা অনুযায়ী, শিবিরের ক্যাডাররা সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রলীগে যোগ দিলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই, কারণ ভাত ছিটালে কাক আসবেই ।
কিন্তু নীতি-আদর্শের পরিবর্তে ভাত ছিটিয়ে কাক জড়ো করার পরিণতি অনিবার্যভাবে অশুভ। কারণ ভাত বা বিতরণ করার মতো ফায়দার পরিমাণ সীমাহীন নয়। আর যতক্ষণ ফায়দা পাওয়ার সম্ভাবনা বিরাজ করবে কিংবা অন্যায় ও অনৈতিক কাজ করে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে পার পেয়ে যাওয়া যাবে, তত দিন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের মতো সহযোগী সংগঠনে যোগ দেওয়ার আকর্ষণ অব্যাহত থাকবে। ফলে সীমিত পরিমাণের ফায়দা লাভের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে, যা সহিংসতায় রূপ নিতে বাধ্য। এভাবে সহিংসতার ব্যাপ্তি এবং অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটবে।
এটি আজ সুস্পষ্ট যে বিরাজমান স্বার্থপরতার ছাত্ররাজনীতি জাতি হিসেবে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। আমাদের রাজনীতিবিদেরা এ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। এ কারণেই, যতটুকু মনে পড়ে, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আগের মেয়াদে বিরোধী দলের সম্মতি সাপেক্ষে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এবার তা করার অপূর্ব সুযোগও সৃষ্টি হয়েছিল। সব রাজনৈতিক দলের পরামর্শক্রমে জারি করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অধ্যাদেশ, ২০০৮-এর বিধান অনুযায়ী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠন থাকা বেআইনি। নবম জাতীয় সংসদ প্রথম অধিবেশনেই এ বিধান বলবত্ রেখে অধ্যাদেশটি অনুমোদন করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কোনো রাজনৈতিক দলই আইনের এ বিধানটি মানেনি এবং নির্বাচন কমিশনও এ ব্যাপারে কোনোরূপ উচ্চবাচ্য করেনি, যদিও কমিশন সমপ্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি লিখেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই প্রথম ছাত্রলীগকে অঙ্গসংগঠনের পরিবর্তে সহযোগী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে একটি অনৈতিক খেলা খেলেছে, যদিও আইন অনুযায়ী অঙ্গ ও সহযোগী উভয় ধরনের সংগঠনই থাকাটা বেআইনি। বিএনপি অবশ্য আনন্দচিত্তেই সর্বক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগকে অনুসরণ করেছে। অর্থাৎ জনস্বার্থের বিপক্ষে অনৈতিকতার আবারও বিজয় হলো! শ্রদ্ধেয় রাজনীতিবিদেরা সজ্ঞানেই তা করলেন!
পরিশেষে, মাননীয় কৃষিমন্ত্রীর বিরাজমান ছাত্ররাজনীতিকে গলিত শবের সঙ্গে তুলনায় দেশের অধিকাংশ জনগণ একমত। গলিত শবের কোনো চিকিৎসা হয় না, এর পুনর্জীবনও ঘটানো যায় না। জরুরি ভিত্তিতে এর কবর দিতে হয়। তেমনিভাবে বর্তমানে চরম পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত ছাত্রদের ব্যবহারের রাজনীতির সংস্কারও সম্ভব নয়। সম্ভব নয় এর লাগাম টেনে ধরে বা অপরাধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত কিছু ব্যক্তিকে শাস্তি দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনা। যত দিন ফায়দাবাজির রাজনীতি বজায় থাকবে, রাজনীতিবিদেরা ছাত্রছাত্রীদের লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করবে এবং ছাত্রছাত্রীরা রাজনৈতিক দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে, অর্থাৎ লেজুড়বৃত্তির ছাত্রসংগঠন বিরাজমান থাকবে, তত দিন ছাত্র সংসদ-কেন্দ্রিক সুস্থ ও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্ররাজনীতি গড়ে উঠবে না। শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ফিরে আসবে না, শিক্ষার মানে উন্নতি ঘটবে না, এমনকি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজও ত্বরান্বিত হবে না। তাই জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইনের ৯০(গ) ধারা প্রয়োগ করে অবিলম্বে বর্তমানের লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য আমরা সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ জানাই, যাতে ভবিষ্যতে দেশে সত্যিকারের কল্যাণমুখী ছাত্ররাজনীতির বিকাশ ঘটতে পারে। উল্লেখ্য, দণ্ডবিধির ১৫৩(খ) ধারার অধীনেও বিরাজমান ছাত্রদের ব্যবহারের রাজনীতি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’।

আবার কিশোরীর আত্মহত্যা -এভাবে আর চলতে পারে না

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়ার ১৪ বছর বয়সী ইলোরার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল এক বখাটের উপদ্রব। অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী কোমলপ্রাণ কিশোরীটির স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছিল রেজাউল নামের বখাটে তরুণের অন্তহীন উপদ্রবে। শেষে কিশোরীকে স্কুলে আনা-নেওয়া করতেন তার মা। কিন্তু তাতেও নিস্তার মেলেনি তার। শনিবার বিকেলে বিষ পান করে নিরুপদ্রব শান্তির দেশে চলে গেছে সে।
চারুকলার ছাত্রী সিমি বা কিশোরী ফাহিমার মতো এই ইলোরাও যেন বলে গেল: আমাদের এই সমাজ, রাষ্ট্র, এই শাসনব্যবস্থা, এর পুলিশ—কেউ তার স্বস্তি, শান্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। সে আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল চূড়ান্তভাবেই। নইলে এমন চরম সিদ্ধান্ত কেন নিতে হলো তাকে?
মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা এখন নিয়মিত অপরাধের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের খবর যতটা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হচ্ছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের তত কঠোরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না। যারা এসব অপরাধ করছে, তাদের অনেকেই সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী। বিশেষত সরকারি দল বা তার অঙ্গসংগঠনগুলোর ছত্রচ্ছায়ায় তারা এসব অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। বিশেষত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মেয়েদের সঙ্গে জবরদস্তিমূলক আচরণে সরকারপন্থী ছাত্রসংগঠনের একশ্রেণীর নেতা-কর্মীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আসছে বেশি। যেমন, ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এক কর্মীর হাতে এক ছাত্রীর লাঞ্ছিত হওয়া, প্রকাশ্যে তাঁর চুল টানা ও চড় মারার খবর ছাপা হয়েছে। ওই ছাত্রী নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী লাঞ্ছনাকারী ছাত্রলীগের এক নেতাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পরপরই ছেড়ে দিয়েছে। হাসতে হাসতে সেই ছাত্রলীগ নেতা থানা থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন—এমন ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। এগুলো যদি হয় আইন প্রয়োগের নমুনা, তাহলে নারী নির্যাতন কমবে—এটা আশা করা নির্বুদ্ধিতা।
দুঃখের বিষয়, অন্যায়-অপরাধের বিরুদ্ধে, বিশেষত নারীদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধও দুর্বল হয়েছে। পাড়ায়-মহল্লায় পরিচিত প্রতিবেশীদের সামনেই মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, জবরদস্তিমূলক আচরণ করা, এমনকি সহিংসতার আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা ঘটছে—কেউ প্রতিবাদ করছে না। অল্প কিছু বখাটে, সন্ত্রাসীর অন্যায়-অপরাধের অসহায় নীরব দর্শক হয়ে যাচ্ছে গোটা জনপদ। কারণ ওই স্বল্পসংখ্যক দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছে, আইন তাদের ক্ষেত্রে ঠিকভাবে কাজ করছে না। ফলে সমাজের প্রত্যেকেই বিচ্ছিন্নভাবে নিজ নিজ নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। সম্মিলিত প্রতিবাদ-প্রতিরোধ হারিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি সব বিচারে উদ্বেগজনক। আইন প্রয়োগের ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হবে; অন্যায়-অপরাধের রাজনৈতিক প্রশ্রয় এবং পুলিশের দুর্নীতিজনিত শৈথিল্যের অবসান ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে সমাজের হারানো সম্মিলিত প্রতিবাদ-প্রতিরোধের শক্তিও ফিরে পেতে হবে।

যুদ্ধকালীন অপরাধের বিচার -বিএনপির অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের দাবি রাখে

একাত্তরের যুদ্ধকালীন অপরাধের বিচারের প্রশ্নে বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য আরও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করল। অথচ প্রত্যাশা ছিল, তিনি এ বিষয়ে তাঁর দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন। কিন্তু প্রচলিত আইনে যুদ্ধকালীন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার চেয়ে বিএনপি আমাদের অবাক করল।
বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলেরই জানা যে ১৯৭৩ সালে প্রণীত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনটি বাংলাদেশের সংবিধানে বিশেষভাবে রক্ষাকবচ দেওয়া আছে। সংবিধানের ৪৭(৩) অনুচ্ছেদ বলেছে, এই আইন সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্য বিবেচনায় কখনো বেআইনি বা বাতিল বলে গণ্য হবে না। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ ও ১৯৭৩ সালের আইনটি কালের সাক্ষী। আমাদের সাংবিধানিক কাটাছেঁড়ার ইতিহাস পেরিয়ে এই আইন সত্যি কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। সে কারণে হাইকোর্টের মর্যাদাসম্পন্ন আমাদের নবগঠিত ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধকালীন খুন, ধর্ষণ, লুটতরাজ ইত্যাদি অপরাধসহ যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে সম্পূর্ণরূপে এখতিয়ারপ্রাপ্ত।
আমাদের বাদানুবাদপূর্ণ রাজনীতির কোনো পর্বেই ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে বলে জানা যায় না। প্রচলিত আইনে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার করা সম্ভব—এমন কথা এর আগে কখনো শোনা যায়নি। মনে রাখা দরকার, রোম সংবিধি ও আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত প্রবর্তন-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশ যুদ্ধকালীন সময়ে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধসহ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারের শর্তাদি নির্ধারণে রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃত। বিশ্বের অন্য যেসব দেশ যুদ্ধকালীন অপরাধের বিচার করেছে, তারা বিশেষ আইন বা ট্রাইব্যুনালের আওতায় করেছে। কতিপয় দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, বিশেষ করে বিচার বিভাগের অবস্থা এতটাই নাজুক যে তারা জাতিসংঘের সহযোগিতা নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা এতটা শক্তিশালী রয়েছে যে তারা নিজেরাই ট্রাইব্যুনাল করে বিচার সম্পন্ন করতে পারে। যথেষ্ট বিলম্বে হলেও সম্প্রতি সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারে তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু নবগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করুক তা তাঁরা সমর্থন করেন না। বিএনপি নেতার বক্তব্যে এটুকুও পরিষ্কার হয়নি যে তাঁরা যুদ্ধাপরাধের বিচার চান। সরকার বিচার না করলে তাঁরা যে আদৌ মনঃক্ষুণ্ন হবেন, এমন কিছুরও ইঙ্গিত মেলে না। বিএনপি নেতা ২ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি স্পষ্ট করেন এভাবে: ‘প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু এখন তো যুদ্ধাপরাধী নেই।’
১৯৭৩ সালের আইনটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। উপরন্তু যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞা আইনে দেওয়া আছে। এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের বিকাশের আলোকে দেখাই সংগত। তবে বিএনপি যদি আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার-প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের স্বাভাবিক আশঙ্কা ব্যক্ত করে, তা বোধগম্য। সেখানে হয়তো আমাদেরও অভিন্ন উদ্বেগ থাকবে। কিন্তু বিএনপির মহাসচিব যা বলেছেন, তা মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সেক্টর কমান্ডারের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নীতিগত অবস্থান হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

গাজায় কাপড় ও জুতার চালান প্রবেশ করতে দিতে রাজি ইসরায়েল

ফিলিস্তিনে হামাসশাসিত গাজায় কাপড় ও জুতার একটি চালান প্রবেশ করতে দিতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। গতকাল রোববার ফিলিস্তিনের সীমান্ত কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। প্রায় দুই বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো ধরনের চালান গাজায় প্রবেশ করতে দিতে রাজি হলো ইসরায়েল।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা রাইদ ফাতুহ জানান, ইসরায়েল পাঁচ ট্রাক কাপড় ও পাঁচ ট্রাক জুতার চালান গাজায় প্রবেশ করতে দিতে রাজি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই চালান জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গাজায় যাচ্ছে। আমরা নিশ্চিত কাপড় ও জুতাই সেখানে পাঠানো হচ্ছে। তাই আমরা অনুমতি দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে, হামাসের ব্যাপারে আমাদের নীতির পরিবর্তন হয়েছে।’
২০০৭ সালের জুন মাসে গাজার ক্ষমতায় আসে হামাস। এরপর থেকে ১৫ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই এলাকাটির ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে ইসরায়েল। এর আগে ২০০৬ হামাস ইসরায়েলি এক সেনাকে অপহরণ করে। তার মুক্তির বিনিময়ে শতাধিক ফিলিস্তিনির মুক্তি দাবি করে তারা। এ ঘটনার পর গাজায় অবরোধ আরোপ করে ইসরায়েল।

নিজ খামারে খুন হলেন দ. আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ নেতা টেরিব্ল্যানচ

দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিজের খামারে খুন হয়েছেন দেশটির বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ নেতা ইউজিন টেরিব্ল্যানচ (৬৯)। পুলিশ জানিয়েছে, মজুরি না দেওয়ায় গতকাল রোববার খামারের দুই শ্রমিক তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ওই দুজনকে আটক করা হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার উগ্র ডানপন্থী আন্দোলনের নেতারা এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নাটাল পুলিশ ক্যাপ্টেন আদেল মিবার্গ বলেন, টেরিব্ল্যানচের মৃতদেহটি একটি বিছানা থেকে উদ্ধার করা হয়। তাঁর মুখ ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিছানার পাশে একটি বড় কাটা ছুরি ও একটি কাঠের লাঠি পড়ে ছিল।
ক্যাপ্টেন মিবার্গ বলেন, টেরিব্ল্যানচকে আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম রাজ্যের ভেন্টার্সড্রপ শহরে নিজের বাড়িতে হত্যা করা হয়েছে। দুই তরুণ শ্রমিকের সঙ্গে মজুরি নিয়ে বিরোধের পরই তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তাঁদের এ ঘটনায় অভিযুক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আশির দশকের প্রথম দিকে শ্বেতাঙ্গদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচার শুরু করে আলোচনায় আসেন টেরিব্ল্যানচ।
এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের কারণে সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টিতে উসকানি দেওয়া উচিত হবে না। প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে পাঠানো এক বিবৃতির উল্লেখ করে বার্তা সংস্থা সাপা এ কথা জানিয়েছে।

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে সম্মেলন করবে ইরান

ইরান জানিয়েছে, চীনের অংশগ্রহণে এ মাসে তারা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করবে। ইরানের আশা, এতে পরমাণু কর্মসূচির কারণে ইরানের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপের চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিবিষয়ক প্রধান মধ্যস্থতাকারী সাইদ জলিলি গতকাল রোববার সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে এটি হবে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ইরান সব জাতিকে নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। তিনি বলেন, চীনারা ইরানের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এ সম্মেলনে তারা অংশ নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ১২ ও ১৩ এপ্রিল আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা সম্মেলন হওয়ার কিছুদিন পর ১৭ ও ১৮ এপিল তেহরানে ‘নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর অল, নিউক্লিয়ার উইপন্স ফর নো-ওয়ান’ শীর্ষক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এবং তাদের সহযোগীদের অভিযোগ, ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে। তাই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে জাতিসংঘ যাতে নতুন করে অবরোধ আরোপ করে, সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে তেহরান বলছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। শুধু পরমাণু জ্বালানি তৈরিতেই তারা এ কর্মসূচি নিয়েছে।
ইরানের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও ভেটো ক্ষমতার অধিকারী দেশ চীন। নতুন করে কোনো অবরোধ চাইছে না দেশটি। চীন চাইছে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
জলিলি বলেন, সমস্যা সমাধানে গত বছর জেনেভায় হওয়া পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনাসহ নিজেদের গুচ্ছ প্রস্তাব নিয়ে এখনো বিশ্বশক্তির সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছে ইরান।

ব্রিটিশ যুগলের সাজা বহাল

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে প্রকাশ্যে চুম্বনের দায়ে এক ব্রিটিশ যুগলের এক মাসের কারাদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন আদালত। গতকাল রোববার দুবাইয়ের আপিল আদালত ওই সাজা বহাল রাখেন।
যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমে ওই যুগলের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ইউএইতে থাকা ব্রিটিশ নাগরিক আয়মান নাজাফি (২৪) ও তাঁর বান্ধবী শার্লট লেউইস (২৫)। গত বছরের নভেম্বর মাসে জুমেরা সমুদ্রসৈকতের কাছে একটি রেস্তোরাঁয় ওই যুগল প্রকাশ্যে চুম্বন করে। তখন রেস্তোরাঁয় থাকা আমিরাতের এক নারী (৩৮) যুগলের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হলে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। প্রকাশ্যে চুম্বনের দায়ে আদালত গত জানুয়ারি মাসে ওই যুগলকে এক মাসের কারাদণ্ড ও মদ পান করায় ২৭২ মার্কিন ডলার জরিমানার আদেশ দেন। যুগলেরা পরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে আদালত গতকাল আগের রায় বহাল রাখেন। সাজার মেয়াদ শেষ করার পর ইউএই ত্যাগ করতে পারবেন তাঁরা।
যুগলের আইনজীবী খালাফ আল-হোসেনি আদালতকে জানান, মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ৩৮ বছর বয়সী আমিরাতি নারী ভিন্ন ধরনের বিবৃতি দিয়েছেন। ওই নারী পুলিশকে জানান, তিনি চুম্বন দিতে দেখেছেন। কিন্তু শুনানির সময় জানান যে তাঁর মেয়ে ঘটনাটি দেখেছে।
আত্মপক্ষ সমর্থনে আইনজীবী জানান, সম্ভাষণ বা শুভেচ্ছা জানাতে তার মক্কেল শুধু গালে চুম্বন করেছে, যা অনুমোদিত। তাঁরা শুধুই বন্ধু।
লন্ডনে থাকা আইমানের মা বলেন, ‘আমার আমান ভালো ছেলে। সে খুব জ্ঞানী ও প্রাপ্তবয়স্ক। সে সেখানকার (ইউএই) নিয়মকানুন জানে। সে কখনো এটা করতে পারে না।

মাওবাদী দমনে অভিযান জোরদারের নির্দেশ

মাওবাদীদের হুমকি, ভূমি মাইন বিস্ফোরণ ও বনেধর মধ্যেই গতকাল রোববার পশ্চিমবঙ্গের লালগড় সফর করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম।
সেখানে তিনি মাওবাদীদের দমনে যৌথ অভিযান জোরদার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অস্ত্র ছেড়ে আলোচনার টেবিলে এলে সরকার মাওবাদীদের সঙ্গে বসতে রাজি আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিদাম্বরম কলকাতা থেকে গতকাল সকালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার লালগড়ে যান। তিনি লালগড় থানায় উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে জঙ্গলমহালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মাওবাদীদের তৎপরতা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে তিনি কথা বলেন এলাকাবাসীর সঙ্গে। শোনেন তাঁদের কথাও।
এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সাংবাদিকদের জানান, মাওবাদীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হবে। এ জন্য আধা সামরিক বাহিনীর আরও সদস্য ওই অভিযানে যোগ দেবেন। তবে সেনাবাহিনী এ অভিযানে অংশ নেবে না। সঙ্গে তিনি এ-ও জানিয়ে দেন, মাওবাদীরা অস্ত্র ছেড়ে আলোচনার টেবিলে বসতে চাইলে সরকারের তাতে আপত্তি নেই। তিনি ‘পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনসাধারণের কমিটি’কেও সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।
চিদাম্বরমের এই সফরের বিরোধিতা করে পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনসাধারণের কমিটি মাওবাদী অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাকুরা জেলায় গতকাল সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টার বন্ধ্ কর্মসূচি পালন করে। আজ সোমবার তারা সড়ক অবরোধেরও ডাক দিয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের আগের দিন মাওবাদীরা লালগড় থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

ওডিশায় ১০ নিরাপত্তাকর্মী নিহত
ওডিশায় গতকাল মাওবাদীদের পেতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে নিরাপত্তাকর্মীদের একটি বাস বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে আধা সামরিক বাহিনীর ১০ জওয়ান নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিনজন। এ ছাড়া ঝাড়খণ্ডে বন বিভাগের একটি অতিথি ভবনেও হামলা চালিয়েছে মাওবাদীরা।
মালকানগিরি থেকে অভিযান চালিয়ে ফেরার পথে ওডিশার কোরাপুট জেলার গোবিন্দ পল্লিঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওডিশা পুলিশের ডিআইজি সঞ্জীব পান্ডা বলেন, ১০ জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে সতর্কাবস্থায় সেনারা

শ্রীলঙ্কায় পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় সামরিক বাহিনীর প্রায় ২০ হাজার সদস্যকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। গতকাল রোববার সে দেশের পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র প্রশান্থ জয়াকোডি এ কথা জানান। এসব সেনাসদস্য নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন।
শ্রীলঙ্কায় বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর মনিটরিং ইলেকশন ভায়োলেন্সের (সিএমইভি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের ভোট গ্রহণের প্রাক্কালে এ পর্যন্ত তাঁরা ৩২৫টি ছোটখাটো নির্বাচনী সহিংসতার খবর পেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে প্রায় ৫০টি ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রশান্থ জয়াকোডি বলেন, ‘ইতিমধ্যে ৬০ হাজার পুলিশসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনে নিরাপত্তা রক্ষার কাজে তাঁদের সহায়তা করতে সেনাসদস্যদেরও সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। যেসব এলাকায় সহিংসতা বেশি হয়েছে, সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’ তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সেনাসদস্য মোতায়েন করা হবে না। তবে যেসব স্থানে গোলযোগ দেখা দেবে, তাঁরা সেখানে পুশিলকে সহায়তা করবেন।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কিসিঞ্জারের হুঁশিয়ারি আমলে নেননি ভুট্টো

ইসলামাবাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের হুঁশিয়ারি আমলে নেননি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টো। পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসের উপপ্রধান জেরাল্ড ফিউয়ারস্টেইনের বরাত দিয়ে গতকাল রোববার এ কথা জানায় সংবাদমাধ্যমগুলো।
পাকিস্তানের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিউয়ারস্টেইন বলেন, ভারতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ হওয়ার ভুট্টোর পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন কিসিঞ্জার। ১৯৭৬ সালে ভুট্টো-কিসিঞ্জারের ওই বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি ভুট্টো কিসিঞ্জারের সতর্কবার্তা আমলে নেননি এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছিল পাকিস্তান। ১৯৭৬ সালের আগস্টে লাহোরে কিসিঞ্জারের সঙ্গে ভুট্টোর বৈঠকের সময় আমি ছিলাম প্রটোকল অফিসার।’
ভুট্টোকে পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রতিভাবান রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করে ফিউয়ারস্টেইন বলেন, ‘ওই সময় ভুট্টোকে রক্ষা করার জন্য সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউল হকের কাছে তিনটি ক্ষমা করার অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট।’
এক প্রশ্নের জবাবে ফিউয়ারস্টেইন জানান, পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে সাজা দেওয়ার সময় হস্তক্ষেপ করেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

জঙ্গিদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ‘নীরব যুদ্ধ’

পাতালরেলের ব্যস্ত জনস্রোতে সন্ত্রাসীদের আত্মঘাতী হামলা এবং ৩৯টি প্রাণের মৃত্যু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, উত্তর ককেশীয় অঞ্চল থেকে সন্ত্রাসীরা এখনো হাত গুটিয়ে নেয়নি। বরং এ হামলা রাশিয়ায় ইসলামি জঙ্গিদের প্রভাব ও ক্ষমতাকে বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে।
অনেক দিন ধরেই রাশিয়া উগ্রপন্থী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ‘নীরব যুদ্ধ’ চালিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির মতো তারা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ নিয়ে ততটা উচ্চকিত নয়। তবে দিনদুপুরে মস্কো শহরের কেন্দ্রে ব্যস্ত পাতালরেল-স্টেশনে এ হামলা ও জীবনক্ষয় রাশিয়ার এই নীরব যুদ্ধের আরও কিছু ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। এই যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য সেসব বিদ্রোহীর বিরুদ্ধে, যারা স্বপ্ন দেখে ককেশীয় অঞ্চলে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করার।
এই হামলার জন্য উত্তর ককেশীয় অঞ্চলের চেচেন বিদ্রোহীরা দায় স্বীকার করেছে। এর আগে চেচেন বিদ্রোহী নেতা দকু উমারভ শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করার যুদ্ধকে চেচেন সীমান্ত থেকে রাশিয়ার কেন্দ্রে নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, ভবিষ্যতে রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে আত্মঘাতী বোমা চালানো হবে। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায়ই হয়তো মস্কোর পাতালরেলে এই হামলা।
এ ব্যাপারে বার্তা সংস্থা ককেশিয়ান নটের প্রধান সম্পাদক গ্রেইগরি শেভেদভ বলেন, চেচেনরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সীমান্ত থেকে রাশিয়ার ভেতরেই টেনে নিয়ে এসেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভয় হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে শুরু করে অন্যান্য শহরে বিদ্রোহীদের আরও হামলার পরিকল্পনা রয়েছে কি না।’
১৯৯৫ সালে রাশিয়ার চেচনিয়া অভিযানের পর থেকেই বিভিন্ন চেচেন গ্রুপ রাশিয়ার প্রধান হুমকিতে পরিণত হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরেই চেচনিয়া, ইঙ্গুশেতিয়া ও দাগেস্তানের ইস্যুগুলো থেকে রাশিয়ার জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে প্রবাহিত করে রাখা হয়েছে। মস্কোর গত সোমবারের হামলা ও দাগেস্তানে বুধবারের আত্মঘাতী হামলা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, চেচেনদের বিদ্রোহ কেবল উত্তর ককেশাসে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা একেবারে বাড়ির দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার নীতিনির্ধারক ও সরকার সব সময়ই দেশের মানুষকে বুঝিয়ে এসেছে যে চেচনিয়া ও দাগেস্তানেই রয়েছে সন্ত্রাস ও বিদ্রোহের সব উপাদান। সমস্যাটিকে এত দিন আঞ্চলিক হিসেবে দাবি করে এলেও এ সপ্তাহের দুটি আত্মঘাতী হামলার পর সেই সুযোগটি আর থাকছে না।
রাজনীতির মাঠে চেচনিয়া সমস্যা ও বিদ্রোহ একটি সাধারণ অস্ত্র। কোন পক্ষ কত কঠোরভাবে চেচনিয়াকে দমন করতে পেরেছে, তা-ই নাকি রাশিয়ার রাজনীতিতে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক। সে কারণেই হয়তো ১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চেচনিয়ার বিরুদ্ধে একটি নির্মম সেনা অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই সেনা অভিযানটি পুতিনকে তাঁর ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে সহায়তা করলেও আখেরে বিরাট ক্ষতি করে ফেলেছে দেশেরই।
এই অভিযানের ফলে চেচেন বিদ্রোহীরা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে এবং প্রতিশোধস্পৃহা তাদের নিরীহ জনসাধারণ হত্যায় প্রলুব্ধ করছে। ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে গত সোমবারের মস্কো হামলা আরও একটি রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠবে কি না, সেই আশঙ্কা এখন সবার।

বিক্ষোভকারীদের হটাতে আদালতের আদেশ চাইবে থাই সরকার

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের পর্যটনস্থল থেকে লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিতে আজ সোমবার আদালতের আদেশ চেয়ে আবেদন করবে দেশটির সরকার। সংঘর্ষ এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নমনীয় থাকলেও আদালতের আদেশ প্রার্থনার সিদ্ধান্ত সরকারের কঠোর অবস্থানে যাওয়ার পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে গণগ্রেপ্তারের হুমকি সত্ত্বেও গতকাল লক্ষাধিক ‘লাল শার্টধারী’ আইন ভেঙে পর্যটন এলাকায় শক্ত অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। খবর এএফপির।
তিন সপ্তাহ ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার অনুসারীরা পার্লামেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনসহ ব্যাংককের প্রধান প্রধান কার্যালয় অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। কয়েক দিন আগে তারা ব্যাংককের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিতে শুরু করে। গতকাল তারা সেখানে পর্যটকদের থাকার স্থান পাঁচতারকা হোটেল ও সুপারমার্কেটগুলো বন্ধ করে দেয়। অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে তারা সেখানে সভা-সমাবেশও করে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সরকার প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করতে আদালতের আদেশ চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী সুথেপ থাউগসুবান গতকাল বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে সরকার আদালতের আদেশ চেয়ে আবেদন করবে। তিনি বলেন, সরকারের আইন বিশেষজ্ঞরা আবেদনের খসড়া তৈরি করছেন। আজ সোমবার আদালতে ওই আবেদন পেশ করা হবে। আদেশ পাওয়ার পর সরকার তার পরবর্তী কর্তব্য ঠিক করবে।
উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকায় তাঁরা জোরজবরদস্তি এড়াতে চান। তবে পরিস্থিতির কারণে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাঠানো হতে পারে।
পুলিশ বলেছে, গত শনিবার ৬০ হাজার বিক্ষোভকারী ছিল। প্রায় ৩০ হাজার লোক এখনো রাজপথে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, গতকাল সেখানে লক্ষাধিক লোকের জমায়েত হয়েছিল। সরকার তাদের ঘরে ফিরে যেতে বললেও আন্দোলন থেকে তাদের সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
পর্যটন-বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সরকার কয়েক দিন আগে পর্যটনস্থলে বিক্ষোভ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে এক বছরের জেল হবে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই হুমকি কোনো কাজে আসেনি। গতকাল বিক্ষোভকারীরা পর্যটনস্থলের বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়। আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা জতুপর্ন প্রমপ্যান গতকাল বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড়ের সাহস প্রধানমন্ত্রী অভিজিতের নেই। তাদের ওপর যদি গুলি চলে, তাহলে তা তাঁর জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।
আন্দোলনকারীদের বেশির ভাগই গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র কৃষক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক এই বিক্ষোভকারীরা ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভার সরকারকে বুর্জোয়াবান্ধব হিসেবে মনে করছে বলে গণমাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দুই দফা বৈঠক হলেও সমঝোতা ছাড়াই সে বৈঠক শেষ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী ভেজ্জাজিভা এক টেলিভিশন ভাষণে বিক্ষোভকারীদের পর্যটনস্থল ছেড়ে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কিছু লোক সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকার নমনীয় অবস্থানে থাকার চেষ্টা করবে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ চাইয়াপুম থেকে আসা কাম্পা ন’গাওকোর নামের ৫৫ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী গতকাল বলেন, তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার অথবা জেলহাজতের ভয় করছেন না। তিনি জানান, তিনি নিশ্চিত যে তাঁকে আটক করা হলে জেলে গিয়ে তিনি অসংখ্য বিক্ষোভকারীকে পাশে পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী এক বছর আগে ২০১০ সালে নির্বাচনের কথা বললেও বিক্ষোভকারীরা তা মানছে না এবং তারা সরকারকে সেনা সমর্থিত সরকার হিসেবে অভিহিত করছে।
থাইল্যান্ডে ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ত্যাগ করেন। এরপর ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় থাই সংবিধান সংশোধন করে সাধারণ নির্বাচন দেওয়া হয়। থাকসিনের সমর্থকেরা ওই সংবিধান সংশোধনকে অবৈধ বলে দাবি করে। ২০০৮ সালে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর থাকসিন দেশে ফেরেন এবং একটি মামলায় আদালত তাঁকে কারাদণ্ড দেন। গ্রেপ্তার এড়াতে সিনাওয়াত্রা আবার দেশ ছাড়েন।

ইব্রাহিমোভিচের ইনজুরি

আর্সেনালের বিপক্ষে আগামীকাল চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে খেলতে পারবেন না জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের। প্রথম লেগে ২-২ গোলের ড্রয়ে দুটি গোলই করেছিলেন এই সুইড স্ট্রাইকার।

রাজশাহীতে ক্লেমন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদের রাজশাহী ক্রিকেট একাডেমির উদ্যোগ ও আকিজ গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজশাহীতে আজ শুরু হচ্ছে ক্লেমন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। রাজশাহী কলেজ মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মুক্তি সংঘ ও বাংলাদেশ পুলিশ একাদশ।
ক্লেমন, মজো, স্পা ও ফ্রুটিকা—এ চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে মোট ৩২টি দল অংশ নিচ্ছে টুর্নামেন্টে। টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাল খালেদ মাসুদ বলেছেন, ‘রাজশাহীর খেলোয়াড়দের ম্যাচ খেলার অভ্যাস তৈরি করতেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন।’ টুর্নামেন্ট পরিচালনার জন্য ১ লাখ টাকা দিচ্ছে আকিজ গ্রুপ।

গেইলকে হারিয়ে দিলেন জয়াবর্ধনে

নিজেদের ইনিংস শেষেই জয়ের সুবাস পাচ্ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। পাওয়ারই কথা। ক্রিস গেইলের ঝড়ে প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২০০ রান তুলেছিল স্বাগতিকেরা। এত বড় রান তো বটেই, কলকাতার জয় নিশ্চিত দেখাচ্ছিল প্রতিপক্ষের নাম কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব বলে। টানা চার ম্যাচ হেরে কলকাতায় খেলতে এসেছিল পয়েন্ট তালিকায় সবার নিচে থাকা দলটি। যাদের আগের আট ম্যাচে জয় ছিল একটিই। সেই পাঞ্জাব কাল ইডেনে হারিয়ে দিল সৌরভ গাঙ্গুলীর দলকে। মাহেলা জয়াবর্ধনের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে পাঞ্জাব জিতল ৮ উইকেটে, ১০ বল হাতে রেখে!
বৃথাই গেল গেইলের ৪২ বলে খেলা ৮৮ রানের ইনিংস। ৩১ বলে সৌরভের ৩৬ রানের ইনিংসটার কথাও বলতে হবে। মারকুটে গেইলের পাশে ম্লান ছিল হয়তো, কিন্তু দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এক পাশে হাল ধরে রাখার কাজটি ভালোমতোই করেছেন মনোজ তিওয়ারি। গেইলের দিনে পার্শ্বচরিত্র হয়ে থাকাই তো ভালো। ৬টি চারের পাশাপাশি ৮টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন গেইল। এর চারটি ছক্কাই রবি বোপারার এক ওভারে। ১৩তম ওভারটিই অপয়া গেছে পাঞ্জাবের। ওই ওভারে উঠেছে ৩৩ রান।
আইপিএলের সবচেয়ে খরুচে ওভারের রেকর্ড করেও জয়ের তৃপ্তি নিয়ে বোপারা যে মাঠ ছাড়তে পারলেন, এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত মাহেলা জয়াবর্ধনের কাছে। ৫৯ বলে ১১০ রানের ইনিংসে ১৪টি চার আর ৩টি ছক্কা মেরেছেন জয়াবর্ধনে। কলকাতার নখদন্তহীন বোলিং আর মরা উইকেটকেও ধন্যবাদ দেওয়া যায়। পঞ্চাশের ঘরে দুটি আর দ্বিতীয় উইকেটে দুই লঙ্কান সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের ৯৮ রানের জুটি অনায়াসে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছে পাঞ্জাবকে।
এই জয়ে প্রীতি জিনতার দলের যতটা লাভ হয়েছে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হয়েছে শাহরুখ খানের দলের। জিতলে ৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ চারে উঠে যেত তারা। সেমিফাইনালের আশাটা উজ্জ্বল হতো। ৮ ম্যাচের সাতটিই জিতে যে তালিকায় সবার ওপরে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস।
অন্য ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে (১৪৭/৯) ৩৭ রানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (১৮৪/৫)। নয় ম্যাচে দিল্লির পয়েন্ট এখন ১২, সমান ম্যাচে বেঙ্গালুরুর ১০। কালকের আগ পর্যন্ত দু দলের পয়েন্ট সমান ১০ থাকলেও রান রেটে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে ছিল বেঙ্গালুরু, দিল্লি ছিল তাদের ঠিক পেছনে।

তারকাদের সম্মান দেয় না পাকিস্তান by ওয়াসিম আকরাম

১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি নিজেও এ রকম ঘটনা কম দেখেননি। পাকিস্তানের ক্রিকেটে যে খেলোয়াড়দের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর ব্যাপারটা একটু কমই আছে, সেটা ভালোই জানা সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরামের। তার পরও একজন সাবেক ক্রিকেটার বলেই মেনে নিতে পারছেন না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ কর্মকাণ্ড। মোহাম্মদ ইউসুফ, ইউনুস খানদের সঙ্গে বোর্ড যে ব্যবহারটা করছে, তাতে তিনি বেশ আহতই।
ইএসপিএনস্টার ডট কমে লেখা নিজের এক কলামে আকরাম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বোর্ডের আচরণে। ক্রিকেটারদের অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কারাদেশ দেওয়ার সমালোচনা করে আকরাম লিখেছেন, ‘ইউনুস খানের ঘটনার চেয়ে ইউসুফের সিদ্ধান্তেই দুঃখ পেয়েছি বেশি। তাঁর অবসর পাকিস্তানের ক্রিকেটকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেই। ২৪টি টেস্ট সেঞ্চুরি আর ৭ হাজার রান করা কারও বিকল্প খোঁজা সহজ নয়। সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে পাকিস্তান যে রকম আচরণ করছে, সেটা খুবই দুঃখজনক।’
ইউসুফের ঘটনা ওয়াসিম আকরামকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অতীতে, ‘ইউসুফের মতো সাবেক অনেক খেলোয়াড়কেই তাদের প্রাপ্য সম্মান দেয়নি পাকিস্তান। আমি নিজে, জাভেদ ভাই (মিয়াঁদাদ) বা ওয়াকার ইউনুস—হঠাৎ করেই দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেছি আমরা! এ রকম উদাহরণ আরও আছে।’ আকরাম দুঃখ করে লিখেছেন, ‘জানি না দুই দশক ধরে যারা দেশের ক্রিকেটে অসামান্য অবদান রেখে গেল, এ রকম আচরণই তাদের প্রাপ্য কি না। অন্তত একটা বিদায়ী ম্যাচ তো পেতে পারে তারা! কিংবা একটা উষ্ণ সংবর্ধনা...এমন একটা মুহূর্ত যা একজন ক্রিকেটারের আজীবন মনে থাকবে। আমি নিশ্চিত, পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষও চায় তাদের প্রিয় তারকাকে একটিবারের জন্য বিদায়ী অভিবাদন জানাতে। ইউসুফের সেটা প্রাপ্যও।’
আইপিএলে কলকাতা নাইটরাইডার্সের বোলিং উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন আকরাম। এর মধ্যেই পত্রপত্রিকা পড়ে জেনেছেন শহীদ আফ্রিদিদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সম্পর্কে। আকরামের আশা, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেবেন আফ্রিদি।

ঢাকায় পাকিস্তানের সাবেক আম্পায়ারদের দল

বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যান্ড স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশনের আমন্ত্রণে কাল ঢাকায় এসেছে ১৫ সদস্যের পাকিস্তান ক্রিকেট আম্পায়ার্স একাদশ দল। বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স একাদশের বিপক্ষে দুটি প্রীতি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছাড়াও ঢাকায় আম্পায়ারদের একটি কর্মশালায় অংশ নেবেন তাঁরা।
ফতুল্লা স্টেডিয়ামে প্রথম প্রীতি ম্যাচটি আজ, ১১ এপ্রিল দ্বিতীয়টি বিকেএসপিতে। এর আগে ১০ এপ্রিল মিরপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের আম্পায়ারদের সঙ্গে একটি কর্মশালাও আছে। সফরকারী দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিন্ধু প্রদেশের ক্রীড়ামন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী শাহ। দলের সঙ্গে থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন সাবেক টেস্ট আম্পায়ার শাকিল খান, মেহবুব শাহ, ফিরোজ বাট, সেলিম বদর। আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ার আলিম দারের আসার কথা থাকলে ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেননি।

আন্তজেলা ক্রিকেটে প্রসেনজিতের সেঞ্চুরি

আন্তজেলা ক্রিকেটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসেনজিতের ১০৫ রানের সৌজন্যে কুমিল্লা স্টেডিয়ামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া (২৮৫/৮) ১৯১ রানে জিতেছে লক্ষ্মীপুরের বিপক্ষে। ফরিদপুরে নারায়ণগঞ্জ (২৭৭) ১৯৫ রানে হারিয়েছে মুন্সিগঞ্জকে (৮২)। আর জামালপুরে নেত্রকোনা (১০৭) ৯ উইকেটে হেরেছে ময়মনসিংহের (১১০/১) কাছে। এ ছাড়া রংপুরে নীলফামারী ৩৯ রানে ঠাকুরগাঁওকে, পাবনায় রাজশাহী ৭ উইকেট নাটোরকে এবং কুষ্টিয়ায় ঝিনাইদহ ৮ উইকেটে চুয়াডাঙ্গাকে হারিয়েছে।

মহানগর স্কুল ফুটবল

মহানগর মহিলা স্কুল ফুটবলে কাল চারটি ম্যাচের মাত্র দুটিই ঠিকভাবে হয়েছে। বাকি দুই ম্যাচের একটিতে এক দল পেয়েছে ওয়াকওভার, নির্ধারিত আরেকটি ম্যাচ কালকের পরিবর্তে হবে আজ।
আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিআইটির মধ্যকার ম্যাচটি হয়েছে ড্র। আরেক ম্যাচে জমিলা খাতুন লালবাগ গার্লস হাইস্কুলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল। ভিকারুননিসার গোল তিনটি করেছে মরিয়ম, হাবিবা ও নিনি।
স্যার জন উইলসন স্কুল আর সামারফিল্ড স্কুলের ম্যাচটিতে সামারফিল্ড ১১ জন খেলোয়াড়ই নামাতে পারেনি। তাই উইলসন স্কুলকে ২-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করা হয়। রাজধানী হাইস্কুল ও গ্রীন হেরাল্ডের ম্যাচটি কাল হওয়ার কথা।

২১ মে থেকে হকি লিগ

চলতি ক্লাব কাপ হকি শেষেই শুরু হওয়ার কথা ছিল প্রিমিয়ার লিগ। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। গতকাল লিগ কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রিমিয়ার লিগ শুরু হবে ২১ মে থেকে। এর ফলে লিগে খেলার জন্য খেলোয়াড়দের অপেক্ষা আর বাড়ল। কেননা, গত বছর লিগই হয়নি। সময় পেছানোর কারণ, এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্ব।
এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্ব আগামী ৭ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত হবে ঢাকাতেই। আর সে জন্যই পেছানো হলো প্রিমিয়ার লিগ। গতকাল সভা শেষে হকি ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা বললেন, শুরুর পর কোনো বিরতি ছাড়াই চলবে প্রিমিয়ার লিগ।
ওদিকে ক্লাব কাপে গতকাল ‘ছোট’ দুই দলের খেলায় ওয়ারী ২-১ গোলে হারিয়েছে সাধারণ বীমাকে।

বিজয় ১২৭, ৪০ ওভারে ৪৬৯ রান

সময়টা একদমই ভালো যাচ্ছে না রাফায়েল নাদালের। কয়েক সপ্তাহ আগেই হেরেছেন ইন্ডিয়ান ওয়েলসে। পরশু হারলেন মায়ামি এটিপি মাস্টার্সে। এই নিয়ে ১৩টি টুর্নামেন্টে তাঁকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। কিন্তু সেমিফাইনালে অ্যান্ডি রডিকের কাছে ৪-৬, ৬-৩, ৬-৩ গেমে হারের পরও নাদাল বলছেন লক্ষ্যের সঠিক পথেই আছেন তিনি। এএফপি।
কেন বলছেন সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন নাদাল, ‘আমি ভালো খেলছি। এই দুটি (ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও মায়ামি) টুর্নামেন্টে বেশ কিছু ভালো ম্যাচ খেলেছি। এ অবস্থায় থাকলে জয় এক দিন আসবেই।’
তা হয়তো আসবে কিন্তু একের পর এক টুর্নামেন্ট হেরে যাওয়াটা যে নাদালের মতো তারকার জন্য একদমই বেমানান। সর্বশেষ শিরোপা জিতেছিলেন গত বছর মে মাসে রোম মাস্টার্সে। অবশ্য এই ব্যর্থতার পেছনে আছে ইনজুরি। হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর ইন্ডিয়ানা ওয়েলসের টুর্নামেন্টই প্রথম খেলতে নামেন তিনি। কোর্টের খরা প্রভাব ফেলেছে টেনিস র্যাঙ্কিংয়েও। গত জুলাইয়ে শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে পড়া নাদালের বর্তমানে র্যাঙ্কিং ৪। তবে আসছে সপ্তাহেই নতুন র্যাঙ্কিং প্রকাশিত হলে তিনে উঠে আসবেন এই স্প্যানিয়ার্ড।
রডিকের কাছে হেরে গেলেও শুরুর সেটটা জিতেছিলেন নাদাল এবং দুর্দান্ত খেলেই। তবে খেলার সেই গতি ধরে রাখতে পারেননি।
মায়ামির টুর্নামেন্টে রডিক ফাইনালে পেয়েছেন টমাস বার্ডিচকে। চতুর্থ রাউন্ডে শীর্ষ তারকা রজার ফেদেরারকে হারিয়ে দেওয়া চেক খেলোয়াড় বার্ডিচ সেমিফাইনালে ৬-২, ৬-২-এ হারিয়েছেন সুইডেনের রবিন সোদারলিংকে।