Friday, June 20, 2014

আমার জামান ভাই by শাহাবুদ্দীন নাগরী

১৯৭৮ সালে পরিচয়ের সূত্রটা যে এত দীর্ঘ হবে তা আমি ভাবতেই পারিনি। অনার্সপড়ুয়া একটি ছাত্রকে তিনি পরম আদরে ডেকে নিয়ে বসিয়েছিলেন তার চট্টগ্রামের বাংলাদেশ পরিষদের অফিস কামরায়। তিনি তখন ডাকসাইটে অফিসার। তারপর সদ্য প্রকাশিত তার অনূদিত গ্রন্থ ‘হাড়কিপটে বুড়ী’র একটি কপিতে আমার নাম লিখে স্বাক্ষর করে তুলে দিয়েছিলেন আমার হাতে। সেই যে বন্ধন, তারপর কত চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে গেছে আমাদের জীবনে, তা আর ছিন্ন হয়নি। ছিন্ন হল এই ১২ জুন ২০১৪ তারিখে সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। এই অনন্য সাধারণ ব্যক্তিটি আর কেউ নন, আমার অতি প্রিয়জন ফখরুজ্জামান চৌধুরী (১৯৪০-২০১৪)। আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০), আবিদ আজাদ (১৯৫২-২০০৪)সহ অনেকেই তাকে ডাকতেন ‘ফখরু ভাই’ বলে, শুধু তার সমবয়সী-অসমবয়সী বন্ধুদের ভেতর আমিই ডাকতাম ‘জামান ভাই’ বলে। আমার দেখাদেখি অনেকেই তাকে পরে জামান ভাই নামে সম্বোধন করা শুরু করেছিলেন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, পরিচয়ের সেই প্রথম দিন থেকেই তিনি আমাকে ‘আপনি’ সম্বোধন করতেন। কারণটা আমার অজানাই থেকে গেল। ছেলেটির হাতে তার স্বাক্ষরিত বইটি তুলে দিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনি তো সাহিত্যিক, বইটি পড়ে আপনার মতামত জানাবেন।’ এতদিন পর আমি আর মনে করতে পারি না বইটি পড়ে তাকে মতামত জানিয়েছিলাম কি না, কিন্তু সেই সূত্রেই যে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ পরিষদের লাইব্রেরিটিতে যাওয়া, ব্যবহার করা এবং তার সঙ্গে দেখা করে এক কাপ চা খেয়ে আসা আমার প্রায় রুটিনের মতো হয়ে গিয়েছিল তা স্পষ্ট মনে আছে। জামান ভাই ছিলেন আমার চেয়ে প্রায় ষোল বছরের বড়, কিন্তু কীভাবে যেন এই অসম বয়সের দুটি মানুষের মধ্যে গভীর সখ্য গড়ে উঠেছিল। দীর্ঘসময় তিনি বাংলাদেশ পরিষদ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের আবাসিক পরিচালক ছিলেন, পরিষদ বিলুপ্তির পর সেখান থেকে ঢাকায় বদলি হয়ে যান ১৯৮২ সালের দিকে।
শেষের দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কীটতত্ত্বে থিসিস করার কারণে তার দফতরে যাওয়া হতো কম, আমি সকাল-সন্ধ্যা ক্যাম্পাসে থাকায় এক সময় তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন হলেও পত্র-পত্রিকায় মাঝে মাঝেই তার লেখা দেখতাম। চমৎকার সব অনুবাদ করতেন, গল্প লিখতেন। আমরা যারা কবিতাপাঠক তারা অনেক ক্ষেত্রেই অনুবাদ কবিতা পড়ে মজা পাই না, কিন্তু জামান ভাইয়ের অনুবাদ করা কবিতা পড়ে আমরা মূল কবিতার স্বাদ-গন্ধ-নির্যাস অনুভব করতে পারতাম। এক অসাধারণ মেধাবী মানুষ ছিলেন ফখরুজ্জামান চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে অনার্স এবং মাস্টার্স করলেও ইংরেজিতে তার দখল ছিল ঈর্ষণীয়। চমৎকার ইংরেজি লিখতে পারতেন। ভালো ইংরেজি না জানলে বাংলায় ভালো অনুবাদ করা যায় না এটা তো চিরন্তন সত্য। কত কত বিখ্যাত বই অনুবাদ করেছেন জীবনজুড়ে তা তার গুণমুগ্ধ পাঠকরাই বলতে পারবেন ভালো। মৌলিক সাহিত্য রচনায়ও তার জুড়ি মেলা ভার ছিল। ভালো কবিতাও লিখতেন এক সময়।
জামান ভাই আমার খুব কাছে থেকে দেখা একজন মানুষ। তার জীবনের অনেক কথিত-অকথিত অধ্যায়ের সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত। প্রায় মলিন হয়ে যাওয়া বন্ধনের সূত্রটি আবার জোড়া লাগে ১৯৮৯ সালে আমি চাকরিসূত্রে ঢাকায় চলে আসার পর। তখন আবদুল মান্নান সৈয়দ, আবিদ আজাদ মিলে আমরা বের করছি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘শিল্পতরু’। সোনারগাঁও রোডে শিল্পতরু’র অফিস। রোজ বিকালে আড্ডা বসত ওখানে। দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক তখন রেজোয়ান সিদ্দিকী। এক বিকালে রেজোয়ান সিদ্দিকীকে একটা লেখা দিতে দৈনিক বাংলা অফিসে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি তার মুখোমুখি বসে আছেন ফখরুজ্জামান চৌধুরী। আমি প্রথমে খেয়াল করিনি তার পেছনে ছিলাম বলে। রেজোয়ান ভাই জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘চেনেন নাকি উনাকে? বিখ্যাত অনুবাদক এবং সাহিত্যিক ফখরুজ্জামান চৌধুরী।’ আমি ঘাড় কাত করে তাকে দেখে সালাম দিই, উচ্ছ্বসিত হই, তিনিও বোধহয় ভেতরে ভেতরে আনন্দিত হয়েছিলেন। কেননা, রেজোয়ান ভাইয়ের হাতে লেখাটা দিয়ে বেরিয়ে যেতে তিনি বলেছিলেন, ‘চলেন, আমিও আপনার সঙ্গে যাই।’ সিনিয়রদের সামনে বরাবরই আমি সংকুচিত থাকি, যতক্ষণ না তিনি সংকোচের দ্বারটা ছিঁড়ে ফেলেন। অনেক বছর পর দেখা আমাদের, কোথায় কী করছি পর্ব শেষ হল স্বাভাবিক নিয়মে। আমি তখন থাকি হাতিরপুলে বিখ্যাত বিজ্ঞান লেখক আবদুল্লাহ্ আল মুতীর (১৯৩০-৯৮) ভাড়াটিয়া হিসেবে, জামান ভাই থাকতেন ভূতের গলিতেই, ভাবী দিলারা জামানের পৈত্রিকসূত্রেপ্রাপ্ত বাসায়। আমরা শিল্পতরু’তে নিয়মিত আড্ডা দেই, সুযোগ পেলে তিনিও যেন আসেন এমন অনুরোধ করায় তিনি বলেছিলেন, ‘দেখি, আসব।’
আমাদের আড্ডার নিয়মিত সদস্য হয়ে গিয়েছিলেন জামান ভাই। তখন তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন), শাহবাগের বেতার ভবনে বিটিভি’র অফিসে বসতেন। বিকালে বাসায় ফিরেই এসে জুটতেন আমাদের আড্ডায়। রাত ন’টার আগে কোনোদিন উঠতেন না। ‘শিল্পতরু’ ছিল একটি উদারপন্থী পত্রিকা, আমরা সেভাবেই পত্রিকাটির চরিত্র নির্মাণ করেছিলাম। সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল ‘শিল্পতরু’র পাতা। এমন একটি পত্রিকা পেয়ে জামান ভাই হয়ে ওঠেন ‘শিল্পতরু’র নিয়মিত লেখক এবং উপদেশক। ওই সময়ের কোনো লেখক এই পত্রিকার আড্ডায় আসেননি, তা ছিল রীতিমতো বিরল। ১৯৯১ সালের শেষদিকে কবি আল মাহমুদ উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে পাক্ষিক ‘পালাবদল’ প্রকাশ শুরু করলে জামান ভাই এই পত্রিকায় লিখেছিলেন তার ঐতিহাসিক ধারাবাহিক উপন্যাস ‘ঐরাবত ও অঙ্কুশ’। ‘পালাবদল’ নিয়মিত লেখার ব্যাপারে আমি তাকে জোর তাগাদা দিলে তিনি উপন্যাসটি লিখেছিলেন, যা পরে বই আকারে প্রকাশ (১৯৯৩) করে মঈনুল আহসান সাবেরের ‘দিব্য প্রকাশ’। এই আড্ডার সূত্রেই আমি আর জামান ভাই খুব কাছাকাছি চলে আসি। সাহিত্যের গণ্ডি থেকে আমাদের সম্পর্ক এসে নামে পারিবারিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে। আমরা প্রায় শুক্রবার সকালে তখন নিউমার্কেটের ‘প্রকাশ ভবন’-এ গিয়ে অতিরিক্ত আড্ডা দেয়া শুরু করি। ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ, পারিবারিক-সামাজিক বিষয়-আশয়, দেশ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব নিয়ে আমাদের আলোচনা কোথায় যে শুরু হতো আর কোথায় যে শেষ হতো তার ঠিক-ঠিকানা থাকত না। আমরা টেলিফোনে কথা বলা শুরু করলে কখনও কখনও ঘণ্টাও পেরিয়ে যেত।
তার প্রিয় মানুষ ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, কেন এই মানুষটি তার প্রিয় ছিল সে কথা বহুবার বলেছেন। আনিসুজ্জামান স্যারের মনে আছে কি না জানি না, একবার একটি টিভি চ্যানেল তার আর দিলারা জামান ভাবীর সাক্ষাৎকার প্রচার করেছিল। অনুষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠান থেকেই একজন প্রিয় মানুষের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে উপস্থাপক উপস্থিত দম্পতির সম্পর্কে জানতে চাইতেন সেই প্রিয় মানুষটির কাছে। প্রিয় মানুষটি আগেই ঠিক করা থাকত। জামান ভাই নাম দিয়েছিলেন আনিস স্যারের। আনিস স্যার তার বিমুগ্ধ বাচনভঙ্গিতে চমৎকার মন্তব্য করেছিলেন জামান ভাই এবং দিলারা ভাবী সম্পর্কে। তার প্রিয় বন্ধুদের আরেকজন ছিলেন ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল (১৯৩৬-৮৯)। হেনা স্যার যখন মারা যান জামান ভাই তখন সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায়। তাদের জীবনের অনেক ঘটনা তিনি আমাকে বলেছিলেন নিঃসঙ্কোচে। হেনা স্যারের অকালমৃত্যু তাকে অত্যন্ত শোকাহত করেছিল।
তার বন্ধুর সংখ্যা মোটেও কম ছিল না, কিন্তু শেষদিকে এসে এখন বুঝতে পারি আমাকে তিনি হয়তো সবচেয়ে বেশি স্নেহ করতেন, আমার ফোন পেলে যত কষ্টই হোক কথা বলতেন, আমার উপস্থিতি তাকে উজ্জ্বল করে তুলত। কিন্তু জীবনের পথ পরিক্রমায় নানা টানাপোড়েনে আমি যে তাকে সময় দিতে পারিনি, সে কথা মনে হলে এখন কষ্টই হয়। আমেরিকায় থিতু হওয়ার জন্য দু’বার গিয়েছিলেন আমেরিকা। কিন্তু শরীর সায় দেয়নি। ফুসফুসের কষ্টে দীর্ঘকাল ধরে ভুগলেও শেষদিকে এসে তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। ওকলাহোমায় ছোট মেয়ের বাসা থেকে কয়েকবার তাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। ডাক্তাররা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন জীবনের। উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে ফিরে এসে বিদেশ যাওয়ার ভুল সিদ্ধান্তটি নিয়ে বহু আক্ষেপ করেছিলেন তিনি। দু’দফায় আমেরিকায় থাকার সময় নিয়মিত লিখেছেন সাপ্তাহিক ২০০০-এ ‘আমেরিকার চিঠি’, বন্ধু ড. হারুন-উর-রশীদের তাগাদায় দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকায় ধারাবাহিক লিখেছেন ‘লেটারস্ ফ্রম ওকলাহোমা’। খুব কম লিখতেন জামান ভাই, কিন্তু যা লিখতেন তা ছিল সুপাঠ্য ও সুখপাঠ্য। জীবনের শেষদিকে এসে অভিমানের সুরে বলতেন, কী হবে লিখে? প্রায় ৫০টির বেশি বইয়ের গ্রন্থকার তিনি, প্রত্যেকটি বই মূল্যবান, অনেকগুলো বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ দেশে কত রাম-শ্যাম-যদু-মধু অনুবাদ কর্মে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ঘরে তুলেছে, জামান ভাইকে সেটি পেতে ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। জীবনে তদবির করেননি, লক্স্যচ্যুত হননি আদর্শ থেকে, বিশ্বাসে অবিচল থেকেছেন, ১৯৯৬ সালে তাকে বিটিভি থেকে তথ্য মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে দ্বিধা করেননি। স্ত্রী দিলারা জামানের সাফল্যে আনন্দিত হতেন, প্রবাসী মেয়ে আর মেয়েজামাইদের দিকে লক্ষ্য রাখতেন সব সময়, নাতি-নাতনিদের জন্য ছিল অফুরান ভালোবাসা। শয্যাশায়ী থেকেও প্রতিদিন যোগাযোগ রাখতেন আমেরিকা আর কানাডায়। মৃত্যুর ২০/২৫ দিন পূর্বে আমার সঙ্গে তার শেষ দেখা। এক বন্ধুসহ তার বাসায় গিয়েছিলাম এক বিকালে। কী যে খুশি হয়েছিলেন বলে বোঝানো যাবে না। কয়েক মাস আগে লাইফসাপোর্টে ছিলেন। বাসায় এসে একেবারে শয্যাশায়ী, উঠে বসতেও পারতেন না। নাকে অক্সিজেনের পাইপ থাকত সব সময়। কানে কম শুনতে পেতেন। সেদিন প্রায় দু’ঘণ্টা ছিলাম আমরা। উঠব উঠব করছিলাম, কিন্তু তিনি চা খেয়ে যেতে বললেন। আমরা চা খাব না বলায় বলেছিলেন, আপনারা খেলে আমিও এক কাপ খেতে পারি। আমরা চা খেয়েছিলাম শুধু তার জন্য। তাকে সারাক্ষণ দেখভাল করত যে ছেলেটি সে তাকে চামচে তুলে তুলে চা খাইয়ে দিয়েছিল। সেদিনও ভাবিনি তার সঙ্গে এটাই আমার শেষ দেখা। মৃত্যু অনেক নির্মম, ভালোবাসা-স্নেহ আর বন্ধনের মূল্য বোঝে না। জামান ভাইকে হারিয়ে আমার মনে হচ্ছে আমি আমার জীবনের একজন শ্রেষ্ঠ বন্ধুকে হারিয়ে ফেলেছি। মাফ করবেন জামান ভাই, আপনার মরদেহের সামনে দাঁড়াবার শক্তি আমার ছিল না।

এক অভিভাবকের প্রস্থান by ফজলুল হক সৈকত

নতুন সমাজ বিনির্মাণে মৌলিক কারিগর হিসেবে বাংলাদেশে যে অল্প কয়জন ব্যক্তি চিন্তা ও কর্মসাধনায় জীবন অতিবাহিত করেছেন, তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে সরদার ফজলুল করিম একটি অনন্য নাম। প্রতিবাদী, আপসহীন, নির্ভীক, প্রাণোচ্ছল এবং জীবনবাদী মানুষ ছিলেন এই লোকটি। সরদার একাধারে অ্যাকাডেমিশিয়ান, দার্শনিক, অনুবাদক, রাজনৈতিক কর্মী ও নিবন্ধকার হিসেবে পরিচিত। মাত্র ২১ বছর বয়সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করা এই কালজয়ী মানুষটি সৃজনশীল ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক চিন্তা ও কর্মের জন্য অল্প সময়ের মধ্যেই তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ‘শত্র“’ রূপে চিহ্নিত হন। সাম্যবাদী বামপন্থি সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে চার মেয়াদে প্রায় ১১ বছর জেল খাটতে হয়েছে তাকে। কারাগারে থাকাকালে ১৯৫৬ সালে তিনি পাকিস্তান ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় কর্মস্থল বাংলা একাডেমির অনুবাদ শাখায় যোগ দেন ১৯৬৩ সালে; ১৯৭১-এ সেখানে সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় আগের শিক্ষকতা পেশায় ফিরে আসেন। ‘দর্শনকোষ’ সরদারের সাহিত্যিক ও লেখক জীবনের অন্যতম প্রধান কাজ। এ ছাড়া তিনি রাজনীতি ও সমাজ-রূপান্তর-বিষয়ক বেশ কিছু ওয়ার্ল্ড ক্লাসিক অনুবাদ করে সুধী সমাজের নজর কাড়েন। প্লেটোর ‘সংলাপ’ এবং ‘রিপাবলিক’, অ্যারিস্টটলের ‘পলিটিক্স’, রুশোর ‘সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট’ তার বিখ্যাত অনুবাদকর্ম; ‘নূহের কিস্তি ও অন্যান্য’ তার অনন্য মৌলিক নিবন্ধগ্রন্থ।
সরদার ছিলেন প্রজ্ঞাবান রাজনীতিক। তার চেতনায় সমাজতন্ত্রের চেয়ে জাতীয়তাবাদী বোধই বেশি জাগ্রত ছিল। আর সম্ভবত সে কারণেই কৃষকের ছেলে সরদার ফজলুল করিম মাটি-প্রেমী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অবিরাম লড়াইয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিনিধি হিসেবে দেশে-বিদেশে পরিচিতি লাভ করেছেন। কিংবদন্তি কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসটি কিশোর সরদারকে বিপ্লবী হতে অনুপ্রাণিত করে। সারা জীবন সেই অভিজ্ঞান তিনি ধারণ ও লালন করেছেন। জ্ঞান-পিপাসু দার্শনিক সরদার মনেপ্রাণে লালিত আদর্শ থেকে কখনো একবিন্দু বিচলিত হননি; কোনো জাগতিক অপ্রাপ্তিও ছিল না তার। সংসারের জাঁতাকলে পিষ্ট হলেও, চারপাশের প্রতিকূলতায় মাঝে-মধ্যে বিপন্ন হলেও ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন পরিপূর্ণ ও তৃপ্ত মানুষ। নিজ দেশের সমাজ রূপান্তরের প্রত্যাশায় তিনি ইংল্যান্ডের স্কলারশিপ প্রত্যাখ্যান করেছেন; বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকরি ছেড়েছেন। ছাত্রজীবনে সরদার ফজলুল করিম প্রগতি লেখক সংঘের কাজে সম্পৃক্ত হন। কলেজে পড়ার সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে তিনি হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশ করতেন। কৃষকের ছেলে হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতেন এই বিপ্লবী দার্শনিক। যোগ দিয়েছেন ঐতিহাসিক কিছু কৃষক সমাবেশেও। গণমানুষের মুক্তির জন্য তিনি ছিলেন সার্বক্ষণিক সংগ্রামী এক সাহসী যোদ্ধা। একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছেন তিনি সারা জীবন। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমৃত্যু সত্য ও ন্যায়ের জন্য সাধনা করলেও শেষ জীবন পর্যন্ত শাসকদের শোষণ-নিপীড়ন আর নিজ সমাজের অধঃগতি দেখে বিচলিত হয়েছেন। ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিচিত্র পটপরিবর্তন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ প্রভৃতি ইতিবাচক ঘটনার সাক্ষী হয়েও রাষ্ট্রের সবখানে সুবিধাবাদীদের জয়জয়কারে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। যে সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কৈশোরে সংগ্রামের পাঠ নিয়েছিলেন, সারা জীবন যে চেতনা লালন করে গেছেন, তার বাস্তব প্রতিফলন না দেখতে পেয়ে একরকম প্রবল হতাশায় নিমজ্জিত হয়েই তাকে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। শেষ কয়টি বছর অবহেলা আর সঙ্গীহীনতার যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে পার করেছেন তিনি। এটি সত্য কথা। বর্তমান বাংলাদেশের আদর্শ-বিচ্যুৎ রাজনীতিই হয়তো এর প্রধান কারণ। কিন্তু সরদাররা অন্য এক সত্যের জন্য জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। উত্তর প্রজন্ম তাদের অবদানের কথা স্বীকার করবে কি না; তাদের কর্মপন্থা অনুসরণ করে সমাজ-পরিবর্তনের নতুন কোনো পাঠ গ্রহণ করবে কি না, তাও আজ সংশয়াবদ্ধ।
উৎপাদনমুখী রাজনীতি এবং জনগণের অধিকার ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সরদার ফজলুল করিমের যে অংশগ্রহণ, জ্ঞানচর্চা ও অর্জনের জন্য তার যে সাধনা ও অনুপ্রেরণা, তার তাৎপর্য এবং সাফল্য কতটুকু, সে বিচারের জন্যও বোধকরি আমাদেরকে আরও কিছুটা ক্রান্তির কাল পারি দিতে হবে। প্রসঙ্গত, জ্ঞান-সাধনা ও চিন্তাচর্চার বিরল পথে সরদারের আরেক সহযাত্রী আহমদ ছফার ‘একটি প্রবীণ বটের কাছে প্রার্থনা’ কবিতা থেকে খানিকটা পাঠ নিতে পারি : ‘যেইখানে সময়ের ধেনু/ বছরে বছরে শীর্ণকান্তি বছর বিয়ায়/হস্তীর বিষ্ঠার মতো স্তূপাকারে শতেক বছর/নিদ্রা যায় অচেতন মাটির ওপর।/ যেইখানে ইতিহাস করুণ গোঙায়/ কুয়াশার মতো এসে/ চুপিসারে ঘুমন্ত অতীত/ অতর্কিতে আগামীরে খুন করে যায়।’ আমরা আজ সমাজের গায়ে চাপিয়েছি নতুন চাদর। নাম দিয়েছি ‘পরিবর্তন’! সবুজ ভূমির বুকের ওপর আমরা নির্মমভাবে গড়ে তুলছি অট্টালিকা। হাউজিং আর বায়িং ব্যবসার জালে এখনকার তরুণ সমাজের স্বপ্ন আবদ্ধ। বিদেশের সোনালি জগতে পাড়ি জমানোর মোহেও আটকে গেছি আমরা। অথচ সরদার ফজলুল করিম, তার পূর্বসূরি ও সতীর্থরা স্বপ্ন দেখতেন একটি সুন্দর সাম্যচিন্তার রাষ্ট্র হবে আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমি! কিন্তু হায় কপাল, একসময় যে ভারতের দিকে পৃথিবীর মানুষের চোখ ও মন নিবন্ধ ছিল, আজ তার সন্তানেরাই ছুটছে বিদেশ-বিভুঁইয়ে! ইতিহাসের স্বপ্নভঙ্গের এই সত্য ও বেদনার ছবি চোখে দেখে যেতে হয়েছে সরদার ফজলুল করিমকে।
মাটির মানুষের জগতে হিংস তা এবং হানাহানি দেখে আকাশের বিশাল জগতে আশ্রয় নিয়েছিলেন সরদার ফজলুল করিম। সেখানেও দেখেছেন জাতি-বৈরিতার প্রবল প্রকোপ। সুতরাং মানুষের মতো কর্তব্য পালনের জন্য তিনি বারবার মানুষের কাছেই ফিরে গেছেন। হয়তো অনেক কিছুই তিনি এড়িয়ে যেতে পারতেন; ব্যক্তিগত সাফল্যের পেছনে ছুটতে পারতেন। কিন্তু সামাজিকের কী এক প্রবল দায় থেকে তিনি যেন মুক্ত হতে পারেননি। উদাসীন, ভাবুক, বস্তুগত বিষয়-জ্ঞানহীন মানুষ বলতে আমরা যা বুঝি, সরদার ফজলুল করিম ছিলেন তেমনই একজন সাধারণ মানুষ। ‘ক্ষুদ্র সাফল্যের চাইতে মহৎ ব্যর্থতা অনেক বেশি কাক্সিক্ষত’- সরদারের জীবনে বোধকরি এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত। সরদার কী ধরনের মানুষ ছিলেন, তাকে এই সমাজ চিনতে পেরেছিল কি না- ধারণ করতে সমর্থ হয়েছিল কি না, সে প্রশ্ন তো রয়েই গেল। অনাগতকালে কোনো সমাজবিজ্ঞানী হয়তো এসবের উত্তর খুঁজে দেখবেন। তবে এ কথা ঠিক- এই দেশ এবং এই দেশের মানুষকে নিয়ে সরদারের অনেক স্বপ্ন ছিল। আর তিনি স্বপ্ন ও চিন্তাকে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন রাষ্ট্রের সর্বত্র। তিনি কেবল শিক্ষক, রাজনীতিক বা দার্শনিক ছিলেন না, ছিলেন শান্তির স্বপক্ষের একজন নিরন্তর যোদ্ধা। নির্বিবাদী নিরীহ সংসারি এই মানুষটি সৃজনশীলতা, সহনশীলতা, অভিভাবকীয় ভঙ্গি আর দার্শনিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবেন আমাদের মাঝে।

শিশুদের খেলা বলে কথা...

বড়দের এই ধরনের খেলার ছবি সচরাচর আমরা দেখি না। শিশুদের এই নির্মল আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করে নেই।

নামাজ-রোজা ইসলামের ভিত্তি

মাহে রমজানসহ সারা বছরে আল্লাহর কাছে বান্দার আনুগত্য প্রকাশের সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা হলো নামাজ। একজন ইমানদার নারী-পুরুষের প্রধান করণীয় ইবাদত নামাজ প্রতিষ্ঠা করা। নামাজের সময় শরীরের শ্রেষ্ঠ অঙ্গ মাথা মাটিতে লুটিয়ে সিজদায় পড়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। কারণ, নামাজ হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্যের প্রধান নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা যেসব ইবাদত ফরজ করে দিয়েছেন তন্মধ্যে সালাত অন্যতম। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার সালাত কায়েম করার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত দাও এবং যারা রুকু করে তাদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪৩) রমজান মাসে সব ফরজ ইবাদতের মধ্যে নামাজই সবচেয়ে অগ্রগণ্য। নামাজ ইমানকে মজবুত করে। |নামাজের মাধ্যমেই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল’ বলে সাক্ষ্য দেওয়া, নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, জাকাত প্রদান করা, রমজান মাসে রোজা পালন করা ও সামর্থ্যবান ব্যক্তির বায়তুল্লাহ জিয়ারত করা।’ (বুখারি ও মুসলিম) রোজা রেখে নিয়মিতভাবে মনোযোগসহকারে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সম্পন্ন করা মুসলমানদের অবশ্যকর্তব্য। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ ফরজ করে দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করে সময়মতো নামাজ আদায় করবে এবং রুকু-সিজদায় খেয়াল রেখে মনোনিবেশের সঙ্গে নামাজ আদায় করবে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন।’
(আবু দাউদ) হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আছে, ‘আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘আমি আপনার উম্মতের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছি এবং প্রতিজ্ঞা করছি, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো গুরুত্বসহকারে আদায় করবে, তাকে নিজ দায়িত্বে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। যে ব্যক্তি গুরুত্বসহকারে নামাজ আদায় করবে না, তার ব্যাপারে আমার কোনো দায়িত্ব নেই।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজা) নামাজ হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজ সম্পর্কে হিসাব নেওয়া হবে। তার নামাজ যদি যথাযথ প্রমাণিত হয়, তবে সে সাফল্য লাভ করবে। আর যদি নামাজের হিসাবই খারাপ হয়, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (তিরমিজি) ‘যে ব্যক্তি সঠিকভাবে ও যথাযথ নিয়মে নামাজ আদায় করবে, তা কিয়ামতের দিন তার জন্য পূর্ণ মুক্তির অছিলা, আলোকবর্তিকা ও মুক্তির কারণ হবে। যে যথারীতি নামাজ আদায় করবে না, তার জন্য তা নূর, অকাট্য দলিল ও মুক্তি কিছুই হবে না।’ (আহমাদ, দারেমি, বায়হাকি) এক ওয়াক্ত থেকে পরবর্তী ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত গুনাহ পরবর্তী জুমার নামাজের মাধ্যমে মাফ করে দেওয়া হয়। এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত গুনাহ পরবর্তী রমজানের রোজা-নামাজের মাধ্যমে মাফ করে দেওয়া হয়।যদি কারও জীবনে একবার লাইলাতুল কদর নসিব হয়, তাহলে জীবনের পূর্বের সব গুনাহ আল্লাহ তাআলা এক রাতে একসঙ্গে মাফ করে দেন। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়তের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করে, তার বিগত জীবনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে কিয়াম করে, তার বিগত দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম বা রাত জেগে ইবাদত করে, তার বিগত জীবনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’
(বুখারি ও মুসলিম) একদিন শীতকালে নবী করিম (সা.) প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। তখন গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ছিল। তিনি গাছের একটা শাখা গ্রহণ করে বললেন, ‘যে মুসলমান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, তার পাপগুলো ওই গাছের ঝরা পাতার মতো ঝরে যায়।’ (মিশকাত) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও বাড়ির পাশ দিয়ে যদি কোনো নদী প্রবাহিত হয়, কেউ যদি সেই নদীতে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে, তাহলে তার শরীরে কি কোনো ময়লা থাকতে পারে?’ সাহাবায়ে কিরাম বললেন, না; তিনি বললেন, ‘এটাই হলো নামাজের দৃষ্টান্ত। যে ব্যক্তি পাঁচবার নামাজ প্রতিষ্ঠিত করে, আল্লাহ তার সব পাপ মুছে দেন।’ (আবু দাউদ) রোজাদার মুসলমানদের নিজেদের নামাজ আদায় করার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে পরিবার-পরিজনসহ অধীনস্থদের নামাজ আদায় নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দাও এবং নিজেও এতে অবিচল থাকো।’ (সূরা ত্বাহা, আয়াত: ১৩২) প্রাত্যহিক নামাজ আদায় নিশ্চিত করার জন্য পরিবারপ্রধানকে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে সন্তানেরা নামাজের জন্য ছোটবেলা থেকেই অভ্যস্ত হয়। নামাজ হচ্ছে বেহেশতের চাবি ও সব ইবাদতের মূল ভিত্তি। নামাজ মানুষকে সব খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। যাঁরা মাহে রমজানসহ সর্বাবস্থায় নিয়মিত নামাজ পড়ে থাকেন, তাঁদের পক্ষে কোনো প্রকার অশ্লীল ও অপকর্ম করা সম্ভব নয়। এ জন্যই নামাজকে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাই রোজাদারদের আল্লাহর সন্তুষ্টি, দুনিয়ার সফলতা ও আখিরাতের মুক্তি প্রত্যাশার জন্য অবশ্যকরণীয় হচ্ছে পাঞ্জেগানা নামাজ, জুমার নামাজ, তারাবি নামাজ ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা। নামাজের ফজিলত সম্পর্কে মুসলমান ভাইবোনেরা যদি অন্তর দিয়ে বোঝার চেষ্টা করতেন, তাহলে কখনোই তাঁরা নামাজ থেকে দূরে থাকতেন না। তাই আসুন। আমরা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে সচেষ্ট হই।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক।
dr.munimkhan@yahoo.com

পাবলো নেরুদার অপ্রকাশিত ২০ কবিতা

পাবলো নেরুদা
চিলির নোবেলজয়ী কবি পাবলো নেরুদার অপ্রকাশিত ২০টির বেশি কবিতা খুঁজে পাওয়া গেছে৷ পাবলো নেরুদা ফাউন্ডেশন এ কথা জানিয়েছে৷ নেরুদার কিছু পাণ্ডুলিপির তালিকা করতে গিয়ে পাওয়া গেছে অমূল্য ওই কবিতাগুলো৷ এগুলো নেরুদারই লেখা বলে নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা৷ খবর বিবিসির৷ কবিতাসমগ্র টোয়েন্টি লাভ পোয়েমস অ্যান্ড অা সং অব ডেসপেয়ার বইয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত পাবলো নেরুদা একাধারে চিলির কবি, কূটনীতিক ও রাজনীতিক ছিলেন৷ পাবলো নেরুদা তাঁর ছদ্মনাম৷ আসল নাম নেফতালি রিকার্দো রেইয়েস বাসোয়ালতো৷
তিনি ১৯৭৩ সালে মারা যান৷ মৃত্যুর দুই বছর আগে ১৯৭১ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান৷ পাবলো নেরুদা ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, নতুন যে কবিতাগুলো পাওয়া গেছে, তার বেশির ভাগই ১৯৫৬ সালের পর লেখা৷ চলতি বছরের শেষের দিকে এগুলো লাতিন আমেরিকায় প্রকাশ করা হবে৷ এ জন্য নেরুদার ১১০তম জন্মবার্ষিকী এবং টোয়েন্টি লাভ পোয়েমস অ্যান্ড অা সং অব ডেসপেয়ার বইটি প্রকাশের ৯০তম বার্ষিকীকে বেছে নেওয়া হতে পারে৷ কবিতাগুলো স্পেনে প্রকাশ করা হবে ২০১৫ সালে৷ ফাউন্ডেশন আরও জানায়, কিছু বক্সে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির মধ্যে কবিতাগুলো পাওয়া যায়৷ এরপর সেগুলো বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়৷ তাঁরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এগুলো নেরুদার লেখা বলে নিশ্চিত করেন৷ কবিতাগুলোর মধ্যে ছয়টির বিষয়বস্তু ভালোবাসা৷ অন্যগুলোর বিষয়বস্তু আলাদা৷ পাবলো নেরুদা তাঁর ভালোবাসার কবিতা ও বামপন্থী মতাদর্শের জন্য বিখ্যাত৷ ১৯২৪ সালে টোয়েন্টি লাভ পোয়েমস অ্যান্ড অা সং অব ডেসপেয়ার প্রকাশিত হওয়ার পর কবি হিসেবে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে৷ তখন নেরুদার বয়স মাত্র ১৯ বছর৷

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আবেদন শুনতে রাজি

দলবির সিং সুহাগ
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে লে. জেনারেল দলবির সিং সুহাগের নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে দেওয়া একটি আবেদন শিগগিরই শুনতে রাজি হয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট৷ গতকাল বৃহস্পতিবার আদালত এ কথা জানিয়েছেন৷ খবর এনডিটিভির৷ আদালত জানান, আগামী মাসের প্রথম দিকে বিষয়টি নিয়ে শুনানি হবে৷ ১ আগস্টের সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার কথা আছে সুহাগের৷
গত এপ্রিল-মে মাসে মাসব্যাপী লোকসভা নির্বাচনের সময় নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে সুহাগের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সরকার৷ সরকারের একেবারে শেষ সময়ে এবং হাতে সময় থাকার পরও আগেভাগে বিষয়টি চূড়ান্ত করায় তখন সমালোচনা হয়৷ বিরোধী দল বিজেপির পক্ষ থেকেও তখন আপত্তি করা হয়৷ তবে সুহাগের নিয়োগের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আরেক লে. জেনারেল রবি দাস্তানি৷ তিনি নিজেকে সেনাপ্রধান পদের দাবিদার উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, সুহাগকে সেনাপ্রধান করা হলে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন হবে৷

মালিকির বিদায় চায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরাকে সুন্নি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকিকে সরে যেতে হবে৷ যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি ইতিমধ্যে ইরাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছে৷ এদিকে ইরাক সংকট মোকাবিলায় মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা৷ তিনি গত বুধবার কংগ্রেসের নেতাদের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন৷ রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষস্থানীয় সিনেটর মিচ ম্যাককনেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন৷ খবর রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি ও দি ইন্ডিপেনডেন্টের৷ সুন্নি সম্প্রদায় মনে করে, ইরাকে বর্তমান সংকটের জন্য নুরি আল মালিকির নিপীড়নমূলক ও বৈষম্যমূলক শাসনই দায়ী৷ যুক্তরাষ্ট্রও মনে করে, মালিকি ক্ষমতায় থাকলে ইরাকে শিয়া-সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়৷ কেউ কেউ এমনও বলছেন, মালিকির এখনই বিদায় নেওয়া উচিত৷ ইরাকে কয়েক দিন ধরে গুটি কয়েক জঙ্গির হামলা এবং একের পর এক শহর দখলের পরও মালিকি ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চাইছেন৷ তাঁর সরকারের তিন লাখ ৫০ হাজার প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী তাঁদের কিছুই করতে পারছে না৷ এমনকি পরিস্থিতির কোনো ব্যাখ্যা দেননি মালিকি৷ ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র মালিকিকে ইরাকের ক্ষমতায় বসায়৷ কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তাঁর ওপর প্রতিবেশী ইরানের প্রভাব সবচেয়ে বেিশ৷ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিষয়টি স্বস্তিকর নয়৷
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল কংগ্রেসে বলেছেন, ইরাকের বর্তমান সরকার দেশটির শিয়া, সুন্নি ও কুর্দি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার কখনোই পূরণ করেনি বা করার চেষ্টা করেনি৷ সুন্নি জঙ্গিদের দমনে মালিকি সরকার বিমান হামলা চালাতে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে৷ তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেয়নি৷ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরাকে মার্কিন বিমান হামলা আসন্ন না হলেও সে সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি প্রেসিডেন্ট ওবামা৷ তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরাকি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালানোর জন্য এখনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেনি৷ ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড লেভান্টের (আইএসআইএল) জিহাদি জঙ্গিরা মসুলসহ ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শহর ইতিমধ্যে দখল করে নিয়েছে৷ বছরের শুরুতে তারা ফালুজা দখল করেছে৷ এখন তারা রাজধানী বাগদাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে ইরাকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর৷ ‘সন্ত্রাসীদের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে’ কী কী ‘বাড়তি পদক্ষেপ’ নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকির সঙ্গে বুধবার আলোচনা করেছেন৷ এ ছাড়া ইরাকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানিয়েছেন বাইডেন৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরাকের ব্যাপারে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ওবামার সামনে এখন বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে৷ কংগ্রেসের অনুমোদন পাওয়া যাবে না বলেই তিনি গত বছর সিরিয়ায় সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন৷ তবে ইরাক সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এখন ওবামা একক সিদ্ধান্তেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন৷
২০০৩ সালে ইরাকের মসুল শহরে মার্কিন অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জেনারেল ডেভিড পেট্রাউস৷ তিনি বলেছেন, ইরাকে আবার মার্কিন সেনা পাঠানো উচিত হবে না; এমনকি বিমান হামলাও নয়৷ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক প্রধান পেট্রাউস বলেন, ইরাককে যদি সাহায্য করতেই হয়, তাহলে সেটা হতে হবে দেশটির জনগণের সরকারের প্রতি৷ এখন বিমান হামলা চালিয়ে সহায়তার অনুরোধে রাজি হলে মার্কিনরা ইরাকের ‘শিয়া মিলিশিয়া বিমানবাহিনী’ হিসেবে পরিচিত হবে৷ বাগদাদের ২০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত বাইজি এলাকায় ইরাকের বৃহত্তম তেল শোধনাগারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবারও সরকারি বাহিনী ও সুন্নি জঙ্গিদের মধ্যে লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে৷ সেখানকার অনেক কর্মীকে আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে৷ গতকাল আরও ২৫০-৩০০ জন কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়৷ ওই শোধনাগারে এক দিন আগে হামলা চালিয়ে জঙ্গিরা জাতীয় তেল সরবরাহের বিষয়টিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে৷ আল-আরাবিয়া টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, বাইজির ওই তেল শোধনাগার থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে৷ একটি ভবনে উড়ছে আইএসআইএলের একটি কালো পতাকা৷ সুন্নি জঙ্গিরা শোধনাগারের বেশির ভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ তবে নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করছে, তারা তেল শোধনাগার জঙ্গিমুক্ত করার কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছেন৷ গতকাল শোধনাগার থেকে বের হয়ে আসা একজন শ্রমিক টেলিফোনে বার্তা সংস্থাকে বলেন, বুধবার রাতভর সামরিক হেলিকপ্টার থেকে জঙ্গিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়৷

ইরাকের অখণ্ডতা রক্ষায় দরকার ফেডারেল সরকার

সুন্নি জঙ্গিদের একের পর এক শহর দখল আর ক্রমাগত আক্রমণের কারণে ইরাকে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার অবসানের ইঙ্গিত পাচ্ছেন বিশ্লেষকেরা৷ তাঁদের পরামর্শ, দেশটির অখণ্ডতা রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রীয় (ফেডারেল) সরকারপদ্ধতি অবলম্বন করাই হবে এখন সবচেয়ে ভালো উপায়৷ জঙ্গিদের সশস্ত্র উত্থানে ইরাকে জাতিগত ও সাম্প্রদািয়ক বিভক্তি চরম রূপ নিয়েছে৷ ১৯২০ সালে আধুনিক ইরাক রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হয়৷ এর পর থেকে প্রায় সব সময়ই দেশটিকে জাতিগত ও ধর্মীয় দ্বন্দ্ব-সংঘাত মোকাবিলা করতে হয়েছে৷ দেশটির জনসংখ্যার অধিকাংশই আরব বংশোদ্ভূত শিয়া মুসলমান৷ কিন্তু ১৯৩২ সালে স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সুন্নি আরব সংখ্যালঘুরাই ইরাকের শাসনক্ষমতায় ছিল৷ স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেন ওই বছর মার্কিন অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হলে দৃশ্যপট পাল্টে যায়৷ ইরাকে সংখ্যালঘু কুর্দি জনসংখ্যাও কম নয়৷ তাদের আবাস মূলত ইরাক, ইরান, তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্ত এলাকাজুড়ে৷ নিজেদের একটি রাষ্ট্রের জন্য তাদের লড়াই শতবর্ষের৷ বর্তমান সংকটের সুযোগ নিয়ে তারা তেলসমৃদ্ধ কিরকুক এলাকাটি দখল করে নিয়েছে৷ এদিকে শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা সুন্নি জঙ্গিদের প্রতিরোধে সশস্ত্র যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন৷ এতে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের গবেষক ফানার হাদ্দাদ বলেন, ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল শহরটি জঙ্গিদের দখল সার্বিক পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে৷ অন্তত কুর্দি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে এ কথাই বলতে হয়৷
কিরকুকের যে সমস্যাকে ইরাকের সবচেয়ে ঝামেলাপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হতো, সেটি রাতারাতি সমাধান হয়ে গেল৷ কুর্দিরা এ জন্য জঙ্গিদের নিশ্চয়ই ধন্যবাদ দেবে৷ ইরাকে ১৯৯১ সাল থেকে কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ছিল৷ তেলসম্পদের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরেই কিরকুক এলাকাটি নিজেদের দখলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল৷ এখন কুর্দিদের প্রধানমন্ত্রী নেচিরভান বারাজানি বলছেন, গত সপ্তাহের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া এখন ‘প্রায় অসম্ভব’৷ সুন্নি সম্প্রদায় অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর স্বায়ত্তশাসনই হতে পারে সবচেয়ে ভালো সমাধান৷ হাদ্দাদ মনে করেন, আরব অধ্যুষিত ইরাকে যেকোনো ধরনের বিভক্তি বিতর্ক তৈরি করবে৷ সুন্নি ও শিয়া সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক নেতাদের বিরোধ নিয়ন্ত্রণই হতে পারে ভালো সমাধান৷ কিন্তু সম্প্রতিক ঘটনাবলির আগে আরব অধ্যুষিত ইরাকে এ রকম বিভক্তির জোরালো সম্ভাবনা আর কখনো দেখা যায়নি৷ কিন্তু সুন্নি জঙ্গিদের লক্ষ্য ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা৷ যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষক জন ড্রেইক বলেন, ইরাক ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবে কি না, তা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে৷ দেশটিতে ভৌগোলিক বা শাসনতান্ত্রিক বিভক্তি অসম্ভব নয়৷ প্রাচ্যবিষয়ক ফরাসি গবেষক অার্তুর কেসনে বিশ্বাস করেন, ইরাক ঐক্যবদ্ধই থাকবে৷ তবে সে জন্য অবশ্যই ফেডারেল বা কনফেডারেল সরকারব্যবস্থায় যেতে হবে৷ আর সংবিধানে সেই সুযোগও রাখা হয়েছে৷ সুন্নি নেতাদের অনেকেই জাতীয়তাবাদী এবং তাঁরা ক্ষমতার ভারসাম্যপূর্ণ ভাগাভাগি চান৷ নিজ নিজ অঞ্চলে তাঁরাও স্বায়ত্তশাসন চান৷

ব্রিটেনে হামলার ছক কষছে আইএসআইএল

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লিভ্যান্ট বা আইএসআইএল জঙ্গিরা যুক্তরাজ্যে হামলার ছক কষছে। তিনি বলেছেন, আইএসআইএল জঙ্গিদের মধ্যে ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছে এবং এরা দেশে ফিরে ব্রিটেনের জন্য সব চেয়ে বড় হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। ব
রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে বুধবার এ কথা বলেছেন ক্যামেরন। আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তান থেকে ব্রিটিশ গেরিলাদের ফেরার চেয়ে ইরাক ও সিরিয়ায় যুদ্ধরত নাগরিকদের ফেরা অনেক বেশি ঝুঁকির বিষয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেন, ইরাক, সিরিয়া, সোমালিয়া ও নাইজেরিয়ার ইসলামি বিদ্রোহীদের পরাজিত করতে হবে। নইলে দেশে ফিরে এসে তারা আমাদের ওপর হামলা চালাবে। ইরাক ও সিরিয়া থেকে ইউরোপের গেরিলারা ফিরে গেলে মারাত্মক। এপি।

প্রেম করার জন্য ছুটি চাইলেন আনুশকা শর্মা!

‘বোম্বে ভ্যালভেট’ ছবির শুটিং নিয়েই ব্যস্ত আনুশকা শর্মা। কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। শুটিংয়ের জন্য বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছেন তিনি। বিদেশ বিভুঁইয়ে শুটিং করে অনেকটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এই অবশ্য ক্লান্তি দূর করার জন্য রয়েছে। প্রেমিক ক্রিকেটার বিরাট কোহলি তার সঙ্গেই ছবির সেটেই অবস্থান করছেন।আনুশকার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, প্রেমিকাকে সঙ্গ দেয়ার জন্য গতকালই শ্রীলঙ্কা ছুটে গেছেন কোহলি। অবশ্য এটাই প্রথম নয়, শুটিং চলাকালীন এর আগেও কয়েকবার সেখানে উপস্থিত হতে দেখা গেছে তাকে। কিন্তু নির্মাতা অনুরাগ কশ্যপের বারণের কারণে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি কোহলি।

এরই মধ্যে গুঞ্জন রটেছে, শুটিং থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন আনুশকা। ক্লান্তির অজুহাত দিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর জন্যই নাকি ছুটির আবেদন করেন তিনি। অবশ্য বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন আনুশকা।

ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতি

মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা-সমর্থনের জন্য বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া সম্মাননা ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির নজিরবিহীন ঘটনাটির দৃষ্টান্তমূলক আইনি প্রতিকার প্রয়োজন। কারণ, এর সঙ্গে গোটা জাতির মান-মর্যাদা জড়িত। কিন্তু এর তদন্ত–প্রক্রিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ কিন্তু মনে রাখা দরকার, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে জাতির কলঙ্ক ঘুচবে না। ঘটনাটি তদন্তের ভার নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি৷ তারা একটি উপকমিটি গঠন করেছে৷ সেই উপকমিটি তদন্তের সময় দেড় মাস বাড়ানোর আবেদন কেন করেছে, আর সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কেনই-বা তা অনুমোদন করেছে, তা বোধগম্য নয়। কারণ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে বিশদ তদন্ত হয়েছে এবং ক্রেস্টের সোনা-রুপা, কাঠ ইত্যাদিতে জালিয়াতির মাত্রাসহ এ ঘটনায় কার কতটা দায়, তাও মোটামুটি পরিষ্কারভাবেই বলা হয়েছে৷ তার পরও এ ঘটনা নিয়ে অনেক পানি ঘোলা করা হয়েছে৷ এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে এমন মন্তব্য করেছেন, যাতে মনে হতে পারে, এ গুরুতর জাতীয় লজ্জার বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ মহলেও যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। তাহলে আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে? যঁাদের হাতে আইন প্রয়োগের দায়িত্ব, তঁারা তো উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। দ্বিতীয়ত, এ ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির ঘটনার প্রধান দায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলামের৷ তিনিই আবার এ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, যে কমিটি এ ঘটনা তদন্তের ভার নিয়েছে৷
ফলে সংসদীয় কমিটি নিরপেক্ষভাবে ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ প্রতিকারের পথ প্রশস্ত করতে সক্ষম হবে—এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। উপরন্তু বাড়তি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে সংসদীয় কমিটিকে না জানিয়ে মন্ত্রণালয় মামলা করায়। এখন মামলার বিবাদী ক্রেস্ট সরবরাহকারী দুই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্তারা সংসদীয় কমিটির তলবকেও অগ্রাহ্য করে বলছেন, তঁারা কমিটির সামনে হাজির হবেন না; যা বলার আদালতে গিয়ে বলবেন। কিন্তু মামলা হয়েছে বলেই তঁারা সংসদীয় কমিটির তলব অগ্রাহ্য করতে পারেন? এ স্পর্ধা তঁারা কোথায় পেয়েছেন? তা ছাড়া মন্ত্রণালয় কেন সংসদীয় কমিটির তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তঁাদের না জানিয়ে মামলা করতে গেল, সেটাও একটা যুক্তিসংগত প্রশ্ন। সংসদীয় কমিটির সদস্যদের কেউ কেউ এতে অসন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি বলেছেন, ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মন্ত্রণালয় চটজলদি মামলা ঠুকে দিয়েছে। তা যদি সত্য হয়, তবে এর নিন্দা জানানোর ভাষা খঁুজে পাওয়া কঠিন। আর মন্ত্রণালয় মামলা করেছে ক্রেস্ট সরবরাহকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে; সাবেক প্রতিমন্ত্রী, সাবেক ও বর্তমান সচিবসহ ১৩ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নয়। অর্থাৎ পুরো ঘটনাটির ব্যাপারে আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়া যে বস্তুত শুরুই হয়নি, তা বেশ স্পষ্ট। এ টালবাহানা গ্রহণযোগ্য নয়। জাতি ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির নজিরবিহীন ন্যক্কারজনক অপরাধের হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।

পরিকল্পনাহীন উন্নয়নকাজ

১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ শাসনামলে রংপুর পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ২০১২ সালের ২৮ জুন রংপুরকে সিটি করপোরেশনের মর্যাদা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সিটি করপোরেশনের প্রজ্ঞাপন জারির দিন রংপুরে শুধু মিষ্টি উৎসবই হয়নি, সেদিন শহরজুড়ে আনন্দের বন্যায় ভেসেছিলেন রংপুরবাসী। গত দুই বছরে সেই আনন্দ হতাশায় রূপ নিতে চলেছে। নির্বাচিত নগরপিতা শরফুদ্দীন আহমেদ গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে প্রায় ছয় মাস প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হাসান আহমেদ। চলতি জুন মাসে রংপুর সিটি করপোরেশন দুই বছর পূর্ণ করছে। রংপুর বিভাগ এবং সিটি করপোরেশন হওয়ার কারণে রংপুরে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু জীবনযাত্রার মান বাড়েনি। রংপুরে পৌরসভা ছিল ৫০ বর্গকিলোমিটারের। সিটি করপোরেশন হয়েছে ২০৭ বর্গকিলোমিটারের। দুই বছরেও এই সিটি করপোরেশনের অর্গানোগ্রাম চূড়ান্ত হয়নি। জনবলকাঠামোসহ অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়নি। ফলে সিটি করপোরেশন চলেছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মো. গোলাম কবির ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘পৌরসভার আদলেই চলছে সিটি করপোরেশন এবং বৃহৎ পরিসরের নাগরিক সুবিধা দিতে গিয়ে পুরোনো পৌরসভার সুযোগ-সুবিধাও ব্যাহত হচ্ছে।’ রংপুর বিভাগ ঘোষণার পর শহরের সড়কগুলো চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে প্রায় তিন বছর।
এখন পর্যন্ত সেই সড়কের কাজ শেষ হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই এখন অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা যায়। সড়কের দুই ধারে অসংখ্য প্রাচীন গাছ ছিল। সড়ক সম্প্রসারণের জন্য সেই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। গত তিন বছরে সেই গাছ আর লাগানো হয়নি। প্রধান সড়কগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ সড়ক বিভাগের হওয়ার কারণে সিটি করপোরেশন নগরের ছোট ছোট সড়কে ১১ হাজার গাছ রোপণ করলেও প্রধান সড়কগুলোতে কোনো গাছ রোপণ করতে পারছে না। অথচ যেকোনো বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দিলেই গাছ লাগানো সম্ভব। সিটি করপোরেশনের অবস্থা জানার জন্য সম্প্রতি গিয়েছিলাম নগরপিতার কার্যালয়ে। তিনি রংপুরকে নিয়ে তঁার অনেক স্বপ্নের কথা শোনালেন; বললেন, রংপুরকে অচল করে দিয়ে হলেও রংপুরের মানুষের জন্য তিনি সরকারকে গ্যাস দিতে বাধ্য করবেন। কিন্তু নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে তঁার কণ্ঠে শোনা গেল কিছুটা হতাশার সুর। ২০৭ বর্গকিলোমিটারের রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য মাস্টারপ্ল্যান করার কাজ প্রায় চূড়ান্ত। সেই মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কাজ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি। সিটি করপোরেশনে চারটি নতুন থানা হবে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী যেখানে থানাগুলোর জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে সেগুলো হচ্ছে না বলে জানালেন তিনি। একই সঙ্গে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী অধিকাংশ কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলেও তঁার আশঙ্কা। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক বছর তিন মাসের মধ্যে এই সিটি করপোরেশন ১৪৮টি সড়ক এবং ৩৭টি ড্রেনের কাজ করেছে। নতুন অর্থবছরে আরও অনেক কাজের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন নগরপিতা। বেসরকারি সংস্থা জাইকা নগর উন্নয়নে বৃহৎ কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
তারা প্রায় ২৯১ কোটি টাকার কাজ করার জন্য প্রকল্প হাতে নিয়েছে। নগরপিতার ভাষ্য অনুযায়ী এই অর্থ পঁাচ কোটিও হতে পারে। জাইকার কাজের সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, তারা মূল শহরে ৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে তাদের উন্নয়ন-পরিধি সীমাবদ্ধ রেখেছে। অবশিষ্ট অংশে উন্নয়ন হবে না। অথচ এই এলাকাগুলোতে উন্নয়ন সবচেয়ে বেশি জরুির। অনেক এলাকায় সড়ক কঁাচা, সড়কবাতি নেই, পল্লী বিদ্যুৎ দিনের অধিকাংশ সময়ে থাকে না। এদিকে নতুন এলাকাগুলোতে নাগরিক সুবিধা দিতে না পারার কারণে কর্তৃপক্ষ নতুন কর আরোপও করতে পারছে না। অন্যদিকে এখন পর্যন্ত রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রংপুর ওয়াসা গড়ে ওঠেনি। নগর ভবনের জন্য এখনো স্থান নির্দিষ্ট হয়নি। নগর ভবনের জন্য উপজেলা পরিষদ ব্যবহার করতে চাইলেও সরকারের অনিচ্ছার কারণেও তা সম্ভব হয়নি। পৌরসভাকালীন মোট ২০ জন কাউন্সিলর ছিলেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা ৪৪ জনে উন্নীত হয়েছে। তঁাদের এখনো মানসম্মত কার্যালয় নিশ্চিত করা যায়নি; সে কারণে নগর ভবন গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। মেয়রের সঙ্গে কথা বলে একটি বিষয় পরিষ্কার, নগরের কাজ বাস্তবায়নে রয়েছে সমন্বয়হীনতা। রংপুর জেলা প্রশাসন ও নগর প্রশাসন উভয়ের মধ্যে সমন্বয় বিধান করা অতি জরুরি। একই শহরে সমন্বয়হীনভাবে দুই প্রশাসন কাজ করলে তার পরিণতি কখনোই ভালো হতে পারে না। সে জন্য রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য যে মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে, তা বাস্তবায়ন হওয়া উচিত উভয়ের সম্মতিতে। তঁাদের অবশ্যই রংপুরবাসীর সুবিধা–অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে৷ একটি পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার জন্য কাজ করতে হবে। রংপুর নগরের উন্নয়ন নিয়ে নগরপিতার আগ্রহের কমতি না থাকলেও সমন্বয়হীনতা রংপুরকে অনেকখানি পিছিয়ে দেবে। রংপুরে একটি জনসভায় এখানকার উন্নয়নের দায়িত্ব নিজে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নগর প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার কারণে যেন এই উন্নয়নচেষ্টা কিছুতেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে রংপুরের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। সরকারের দৃষ্টিও রাখা চাই রংপুরকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার।
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর৷