Showing posts with label অরূপ দত্ত. Show all posts
Showing posts with label অরূপ দত্ত. Show all posts
Friday, August 14, 2015
খোঁড়াখুঁড়িতে পাইপ লাইনে ফাটল: মিরপুরে গ্যাস না থাকায় ভোগান্তি বাড়ছে by অরূপ দত্ত
![]() |
| মিরপুরের কাজীপাড়ায় পদচারী–সেতুর কাছে রাস্তায় ঢাকা ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে গ্যাস পাইপ ফেটে যায়। ছবিটি মঙ্গলবার দুপুরে তোলা l ছবি : আবদুস সালাম |
অসময়ে
ঢাকা ওয়াসার পানির পাইপলাইনের গর্ত খোঁড়ায় গ্যাস পাইপ ফেটে যাওয়া এবং
বিদ্যুতের কেব্ল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে মিরপুরে এক
সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দফায় গ্যাস পাইপ ফেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আরও অনেক
স্থানে নতুন করে গর্ত খোঁড়ার সময় এলাকাবাসী আতঙ্কিত হচ্ছেন। কারণ, গ্যাস
পাইপ ফেটে যাওয়ার পর অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুলা জ্বলে না।
গর্ত খোঁড়ার কারণে চলাফেরার ভোগান্তি চরমে ওঠায় মিরপুর ১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর সেকশন এলাকায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা খননের স্থানে গিয়ে প্রতিবাদ করছেন। এসব স্থানে পাইপ খুঁড়তে বাধাও দিচ্ছেন তাঁরা। ফলে গতকাল অন্তত পাঁচটি গর্ত খোঁড়ার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে এসব এলাকায় বৈদ্যুতিক কেব্লও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।
মিরপুরের কাজীপাড়ায় ওয়াসার পানির পাইপলাইন প্রকল্পের গর্ত খুঁড়তে গিয়ে সোমবার গ্যাস লাইনের পাইপ ফেটে যায়। এ কারণে কাজীপাড়াসহ মিরপুরের বড় একটি অংশে গত সোমবার রাত ১১টা থেকে প্রায় ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এর আগে ৪ আগস্ট মধ্যরাতে মিরপুরেরই সেনপাড়া-পর্বতার শিববাড়ী এলাকায় ওয়াসার গর্ত খোঁড়ার কারণে গ্যাস পাইপ ফেটে এসব এলাকায় ১৯ ঘণ্টা গ্যাস ছিল না। এলাকাবাসীকে এসব ঘটনায় প্রচণ্ড দুর্ভোগে পড়তে হয়।
গত মঙ্গলবার সকালে কাজীপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদচারী-সেতুর কাছে খোঁড়া গভীর গর্ত। গর্তের পাশে রাস্তায় অনেক মানুষের ভিড়। তাঁদের একটাই কথা, ‘মাটির নিচে কী আছে, তা ভালো করে না খুঁজেই বড় বড় গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনা ঘটছে।’ সেনপাড়া-পর্বতার শিববাড়ী এলাকার বাসিন্দা রফিকুজ্জামান ৪ আগস্ট তাঁর বাসার কাছে গ্যাসের পাইপ ফেটে যাওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিলেন। তিনি বলেন, রাতে হঠাৎ তাঁর ঘুম ভেঙে যায় বৃদ্ধ মায়ের ধাক্কায়। মা বলেন, রান্নাঘরে গ্যাসের চুলাটি বোধ হয় বন্ধ করা হয়নি। গ্যাসের গন্ধ আসছে। পরে তিনি জানতে পারেন, বাইরে খোঁড়া গর্তের কারণে পাইপ ফেটে গেছে। তিনি বলেন, মায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছিল, মা সারা রাত ঘুমাতে পারেননি।
একই রকম আতঙ্ক ও বিরক্তি প্রকাশ করলেন ১৩ নম্বরের ন্যাম ফ্ল্যাট ভবন এলাকার বাসিন্দা আবদুর নূর, ইব্রাহিমপুরের সুনির্মল রায়, বউবাজার এলাকার রশিদুল হাই। তাঁরা বলেন, শুকনা মৌসুম বাদ দিয়ে অসময়ে এসব গর্ত খোঁড়ার কারণে চলাচলে বাড়তি ভোগান্তি বাড়ছে।
কাজীপাড়ার কয়েকজন দোকানমালিক বলেন, সোমবার গ্যাস পাইপ ফাটার আগেই গর্তটি খোঁড়া হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকায় গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে তিতাসের লোকজন গর্তের গভীরে পাইপ ফেটে যাওয়ার বিষয়ে জানতে পারেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মচারীরা জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে গ্যাসপাইপ লাইনের পাঁচটি ভাল্ভ (গ্যাস সরবরাহ লাইনে থাকে) বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সেনপাড়া-পর্বতা, মিরপুর ১৩, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ফ্ল্যাট ভবন এলাকা, বউবাজার, কাফরুলসহ ১৪ নম্বরের বেশ কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
কাজীপাড়ার বাসিন্দা আবদুর রউফ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি খুব ভোরে উঠে ভ্রমণ শেষে গরম পানিতে গোসল করেন। মঙ্গলবার গোসল করার আগে পানি গরম করতে গিয়ে দেখেন, চুলা জ্বলছে না।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ফ্ল্যাট ভবনের বাসিন্দা রিতা দেবী বলেন, গত সপ্তাহেও গ্যাসের সমস্যার কারণে বেশ কয়েক ঘণ্টা চুলা জ্বলেনি। এক সপ্তাহের মাথায় আবার এই অবস্থা।
বউবাজারের একটি হোটেলের ব্যবস্থাপক আবদুর রশীদ জানায়, গত সপ্তাহে গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অনেক ক্রেতা আসে। ভাত বা রুটি দিয়ে কুলাতে পারেননি। কখন গ্যাস আসে, এটা ঠিক বুঝতে না পেরে সিলিন্ডারের চুলায় যথেষ্ট পরিমাণ ভাত, রুটি, ডাল ও তরকারি রান্না করে রাখা হয়েছে।
তবে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার কিছু আগেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যায়। তিতাস গ্যাস কোম্পানির পরিচালক আশরাফুল হক বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ফেটে যাওয়া গ্যাস পাইপ মেরামত করা হয়েছে।
মিরপুরে পানির পাইপ লাইনের গর্তগুলো খোঁড়া হচ্ছে ঢাকা ওয়াসার ওয়াটার সাপ্লাই সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (ডিডব্লিউএসএসডিপি) আওতায়। তিনটি পর্বে মিরপুর ১০ থেকে ১৪ নম্বর সেকশন ছাড়াও শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়ায় এসব লাইন হচ্ছে।
উপপ্রকল্প পরিচালক আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, অনেক সময় মাটির গভীরে গ্যাস বা বিদ্যুৎ লাইন আছে বলে বোঝা যায় না। সে জন্য বিপত্তি ঘটে। তিনি আরও বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ওয়াসার এই প্রকল্পে ঢাকায় পানির ১ হাজার ৮০৫ কিলোমিটার পাইপ লাইন বসানোর কাজ চলছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১০০ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুত কাজ করে বাকি কাজ শেষ করা হবে।
গর্ত খোঁড়ার কারণে চলাফেরার ভোগান্তি চরমে ওঠায় মিরপুর ১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর সেকশন এলাকায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা খননের স্থানে গিয়ে প্রতিবাদ করছেন। এসব স্থানে পাইপ খুঁড়তে বাধাও দিচ্ছেন তাঁরা। ফলে গতকাল অন্তত পাঁচটি গর্ত খোঁড়ার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে এসব এলাকায় বৈদ্যুতিক কেব্লও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।
মিরপুরের কাজীপাড়ায় ওয়াসার পানির পাইপলাইন প্রকল্পের গর্ত খুঁড়তে গিয়ে সোমবার গ্যাস লাইনের পাইপ ফেটে যায়। এ কারণে কাজীপাড়াসহ মিরপুরের বড় একটি অংশে গত সোমবার রাত ১১টা থেকে প্রায় ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এর আগে ৪ আগস্ট মধ্যরাতে মিরপুরেরই সেনপাড়া-পর্বতার শিববাড়ী এলাকায় ওয়াসার গর্ত খোঁড়ার কারণে গ্যাস পাইপ ফেটে এসব এলাকায় ১৯ ঘণ্টা গ্যাস ছিল না। এলাকাবাসীকে এসব ঘটনায় প্রচণ্ড দুর্ভোগে পড়তে হয়।
গত মঙ্গলবার সকালে কাজীপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদচারী-সেতুর কাছে খোঁড়া গভীর গর্ত। গর্তের পাশে রাস্তায় অনেক মানুষের ভিড়। তাঁদের একটাই কথা, ‘মাটির নিচে কী আছে, তা ভালো করে না খুঁজেই বড় বড় গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনা ঘটছে।’ সেনপাড়া-পর্বতার শিববাড়ী এলাকার বাসিন্দা রফিকুজ্জামান ৪ আগস্ট তাঁর বাসার কাছে গ্যাসের পাইপ ফেটে যাওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিলেন। তিনি বলেন, রাতে হঠাৎ তাঁর ঘুম ভেঙে যায় বৃদ্ধ মায়ের ধাক্কায়। মা বলেন, রান্নাঘরে গ্যাসের চুলাটি বোধ হয় বন্ধ করা হয়নি। গ্যাসের গন্ধ আসছে। পরে তিনি জানতে পারেন, বাইরে খোঁড়া গর্তের কারণে পাইপ ফেটে গেছে। তিনি বলেন, মায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছিল, মা সারা রাত ঘুমাতে পারেননি।
একই রকম আতঙ্ক ও বিরক্তি প্রকাশ করলেন ১৩ নম্বরের ন্যাম ফ্ল্যাট ভবন এলাকার বাসিন্দা আবদুর নূর, ইব্রাহিমপুরের সুনির্মল রায়, বউবাজার এলাকার রশিদুল হাই। তাঁরা বলেন, শুকনা মৌসুম বাদ দিয়ে অসময়ে এসব গর্ত খোঁড়ার কারণে চলাচলে বাড়তি ভোগান্তি বাড়ছে।
কাজীপাড়ার কয়েকজন দোকানমালিক বলেন, সোমবার গ্যাস পাইপ ফাটার আগেই গর্তটি খোঁড়া হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকায় গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে তিতাসের লোকজন গর্তের গভীরে পাইপ ফেটে যাওয়ার বিষয়ে জানতে পারেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মচারীরা জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে গ্যাসপাইপ লাইনের পাঁচটি ভাল্ভ (গ্যাস সরবরাহ লাইনে থাকে) বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সেনপাড়া-পর্বতা, মিরপুর ১৩, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ফ্ল্যাট ভবন এলাকা, বউবাজার, কাফরুলসহ ১৪ নম্বরের বেশ কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
কাজীপাড়ার বাসিন্দা আবদুর রউফ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি খুব ভোরে উঠে ভ্রমণ শেষে গরম পানিতে গোসল করেন। মঙ্গলবার গোসল করার আগে পানি গরম করতে গিয়ে দেখেন, চুলা জ্বলছে না।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ফ্ল্যাট ভবনের বাসিন্দা রিতা দেবী বলেন, গত সপ্তাহেও গ্যাসের সমস্যার কারণে বেশ কয়েক ঘণ্টা চুলা জ্বলেনি। এক সপ্তাহের মাথায় আবার এই অবস্থা।
বউবাজারের একটি হোটেলের ব্যবস্থাপক আবদুর রশীদ জানায়, গত সপ্তাহে গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অনেক ক্রেতা আসে। ভাত বা রুটি দিয়ে কুলাতে পারেননি। কখন গ্যাস আসে, এটা ঠিক বুঝতে না পেরে সিলিন্ডারের চুলায় যথেষ্ট পরিমাণ ভাত, রুটি, ডাল ও তরকারি রান্না করে রাখা হয়েছে।
তবে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার কিছু আগেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যায়। তিতাস গ্যাস কোম্পানির পরিচালক আশরাফুল হক বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ফেটে যাওয়া গ্যাস পাইপ মেরামত করা হয়েছে।
মিরপুরে পানির পাইপ লাইনের গর্তগুলো খোঁড়া হচ্ছে ঢাকা ওয়াসার ওয়াটার সাপ্লাই সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (ডিডব্লিউএসএসডিপি) আওতায়। তিনটি পর্বে মিরপুর ১০ থেকে ১৪ নম্বর সেকশন ছাড়াও শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়ায় এসব লাইন হচ্ছে।
উপপ্রকল্প পরিচালক আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, অনেক সময় মাটির গভীরে গ্যাস বা বিদ্যুৎ লাইন আছে বলে বোঝা যায় না। সে জন্য বিপত্তি ঘটে। তিনি আরও বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ওয়াসার এই প্রকল্পে ঢাকায় পানির ১ হাজার ৮০৫ কিলোমিটার পাইপ লাইন বসানোর কাজ চলছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১০০ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুত কাজ করে বাকি কাজ শেষ করা হবে।
Tuesday, August 11, 2015
যখন-তখন গ্যাস-বিদ্যুৎ বিপর্যয়: রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে পাইপে ফাটল by অরূপ দত্ত
![]() |
| মগবাজারের রাশমনো হাসপাতালের সামনে রাস্তার নিচের গ্যাসের পাইপ লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। সংস্কার না করেই স্থানটি মাটিতে ভরাট করা হয়। ছবি আবদুস সালাম |
রাজধানীতে
যখন তখন যেখানে সেখানে গ্যাস-বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটছে। পানি সরবরাহও বিঘ্নিত
হচ্ছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণ ছাড়াও বৈদ্যুতিক কেব্ল ক্ষতিগ্রস্ত,
সঞ্চালন-বিতরণ লাইন সংস্কার করতে গিয়ে এই বিপর্যয় হচ্ছে বলে জানা যায়।
দিনভর পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় নাগরিক ভোগান্তি চরমভাবে
বেড়ে যাচ্ছে।
গ্যাস পাইপ ফেটে আগুন: মগবাজার প্রধান সড়কে নজরুল শিক্ষালয়ের সামনে পাইপ ফেটে পাঁচ দিন ধরে গ্যাস বেরোচ্ছে। সড়কটি ভাঙাচোরা। বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে প্রায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা। জমে থাকা পানিতে গ্যাসের বুদ্বুদ উঠে আসছে। গত সোমবার এ ঘটনা ঘটার পর নজরুল শিক্ষালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে। গ্যাসের তীব্র গন্ধে এখন সেখানে চলাচলই কঠিন হয়ে গেছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গ্যাস বেরোবার পর খবর পেয়ে তিতাস গ্যাস কোম্পানি পাইপের ফাটা অংশ সংস্কার না করে ওই স্থানে মাটি চাপা দেয়। এরপর চারপাশে ফিতা টেনে এবং কাগজে ‘সাবধান গ্যাস নির্গত হচ্ছে’ লিখে দায়িত্ব শেষ করে। গতকাল বিকেলে গ্যাসের বুদ্বুদের সঙ্গে আগুন বের হলে আতঙ্কিত এলাকাবাসী রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
যোগাযোগ করা হলে তিতাস গ্যাস কোম্পানির পরিচালক (উৎপাদন) আশরাফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে গ্যাস লাইনের ফুটো মেরামত করা হয়। কিন্তু সেখানে বিদ্যুতের অত্যন্ত শক্তিশালী ২৩০ কেভি ভোল্টের লাইন থাকায় কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। বিষয়টি ঢাকা পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানিকে (ডিপিডিসি) জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছি, প্রয়োজনে নিজে আজ (শুক্রবার) রাতে মুভ করব।’
মিরপুরের কিছু অংশ ১৯ ঘণ্টা গ্যাসবিহীন: মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১৯ ঘণ্টা মিরপুরের অনেক স্থানে গ্যাস ছিল না। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্র জানায়, সেনপাড়া পর্বতায় ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পকাজের রাস্তা খোঁড়ার কারণে মঙ্গলবার তিতাস গ্যাসের চার ইঞ্চি পাইপ লাইন ফেটে যায়। এতে মিরপুরের অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার বিকেল চারটার দিকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেনপাড়া পর্বতায় শিববাড়ি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কাছে ঢাকা ওয়াসার ‘ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (ডিডব্লিউএসএসডিপি) আওতায় গভীর গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। গর্ত খুঁড়তে গিয়ে মঙ্গলবার রাতে মাটির গভীরে থাকা চার ইঞ্চি গ্যাস পাইপ ফেটে যায়। ওই অংশ দিয়ে দ্রুত গ্যাস বেরোতে থাকে। এ অবস্থায় তিতাস গ্যাস কোম্পানি একে একে এলাকার নয়টি বাল্ব (গ্যাস সরবরাহ লাইনে থাকে) বন্ধ করে দেয়। এতে সেনপাড়া পর্বতা, মিরপুর ১৩ নম্বর, ১৪ নম্বর সেকশনের কাফরুল, বউবাজার, ইব্রাহিমপুরসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
কাফরুল
থানার বিপরীত দিকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তৈরি ২০টির মতো বহুতল ভবন
রয়েছে। একটি ভবনের ফ্ল্যাট মালিক মনোয়ার হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাতে গ্যাস
বন্ধ হওয়ার বিষয়টি তাঁরা জানতে পারেন বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে,
খাবার তৈরি করতে গিয়ে। তখন টিম টিম করে চুলা জ্বলছিল। সকাল নয়টার দিকে
গ্যাস সরবরাহ একদম বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল চারটার দিকে সরবরাহ চালু হয়। অপর
একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা বিলকিস আক্তার বলেন, আকস্মিকভাবে গ্যাস সরবরাহ
বন্ধ হওয়ায় বুধবার সকালে মেয়ের জন্য খাবার তৈরি না করেই স্কুলে
পাঠিয়েছেন। পরে বাইরে থেকে খাবার আনাতে হয়েছে।
তিতাসের পরিচালক আশরাফুল হক বলেন, ফেটে যাওয়া গ্যাস পাইপ দ্রুত মেরামত করা হয়েছে। বিষয়টি ওয়াসাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
মোহাম্মদপুরের একাংশ দিনভর বিদ্যুৎবিহীন: গতকাল শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত মোহাম্মদপুর নূরজাহান রোড, শেখেরটেক, আদাবরসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। এতে এসব এলাকায় পানির সরবরাহও বিঘ্নিত হয়। উত্তরার আজমপুরেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ছিল না বলে এলাকার একজন বাসিন্দা টেলিফোন করে জানান।
নূরজাহান রোডের আর-৪১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা নূরুন্নাহার বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল আটটার দিকে বিদ্যুৎ যাওয়ার পর প্রথমে মনে হয়েছিল লোডশেডিং। কিন্তু দুই ঘণ্টা পরও যখন বিদ্যুৎ এল না, বুঝলাম অন্য সমস্যা। প্রচণ্ড গরমে কষ্ট করতে হয়ে।’
‘এস’ রোডের বাসিন্দা শাহাবুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। বাড়িওয়ালার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংরক্ষিত ট্যাংকিতে যেটুকু পানি ছিল শেষ হয়ে গেছে।’
‘এফ’ রোডের বাসিন্দা আবদুস সবুর ও মিল্লাতুর রহমান বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করার জন্য তাঁরা গোসল বা অজু পর্যন্ত করতে পারেননি।
শেকেরটেকের বাসিন্দা পারভীন সুলতানা সন্ধ্যায় প্রথম আলোয় ফোন করে জানান, প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে যায়।
এসব এলাকার বাসিন্দারা জানান, অনেক সময় মাইকে আগেই নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ না থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়। গতকাল তেমন কোনো ঘোষণা না দেওয়ায় তাঁরা বুঝতে পারছিলেন না কখন বিদ্যুৎ আসবে।
জানতে চাইলে ঢাকা পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানির (ডিপিডিসি) স্থানীয় (স্ক্যাডা) কর্মকর্তা আমীর হোসেন জানান, মাটির নিচে একটি কেব্ল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের এই বিপর্যয় ঘটে। কারণ, এর জন্য সরবরাহকারী ফিডার বন্ধ রাখতে হয়।
গ্যাস পাইপ ফেটে আগুন: মগবাজার প্রধান সড়কে নজরুল শিক্ষালয়ের সামনে পাইপ ফেটে পাঁচ দিন ধরে গ্যাস বেরোচ্ছে। সড়কটি ভাঙাচোরা। বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে প্রায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা। জমে থাকা পানিতে গ্যাসের বুদ্বুদ উঠে আসছে। গত সোমবার এ ঘটনা ঘটার পর নজরুল শিক্ষালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে। গ্যাসের তীব্র গন্ধে এখন সেখানে চলাচলই কঠিন হয়ে গেছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গ্যাস বেরোবার পর খবর পেয়ে তিতাস গ্যাস কোম্পানি পাইপের ফাটা অংশ সংস্কার না করে ওই স্থানে মাটি চাপা দেয়। এরপর চারপাশে ফিতা টেনে এবং কাগজে ‘সাবধান গ্যাস নির্গত হচ্ছে’ লিখে দায়িত্ব শেষ করে। গতকাল বিকেলে গ্যাসের বুদ্বুদের সঙ্গে আগুন বের হলে আতঙ্কিত এলাকাবাসী রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
যোগাযোগ করা হলে তিতাস গ্যাস কোম্পানির পরিচালক (উৎপাদন) আশরাফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে গ্যাস লাইনের ফুটো মেরামত করা হয়। কিন্তু সেখানে বিদ্যুতের অত্যন্ত শক্তিশালী ২৩০ কেভি ভোল্টের লাইন থাকায় কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। বিষয়টি ঢাকা পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানিকে (ডিপিডিসি) জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছি, প্রয়োজনে নিজে আজ (শুক্রবার) রাতে মুভ করব।’
মিরপুরের কিছু অংশ ১৯ ঘণ্টা গ্যাসবিহীন: মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১৯ ঘণ্টা মিরপুরের অনেক স্থানে গ্যাস ছিল না। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্র জানায়, সেনপাড়া পর্বতায় ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পকাজের রাস্তা খোঁড়ার কারণে মঙ্গলবার তিতাস গ্যাসের চার ইঞ্চি পাইপ লাইন ফেটে যায়। এতে মিরপুরের অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার বিকেল চারটার দিকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেনপাড়া পর্বতায় শিববাড়ি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কাছে ঢাকা ওয়াসার ‘ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (ডিডব্লিউএসএসডিপি) আওতায় গভীর গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। গর্ত খুঁড়তে গিয়ে মঙ্গলবার রাতে মাটির গভীরে থাকা চার ইঞ্চি গ্যাস পাইপ ফেটে যায়। ওই অংশ দিয়ে দ্রুত গ্যাস বেরোতে থাকে। এ অবস্থায় তিতাস গ্যাস কোম্পানি একে একে এলাকার নয়টি বাল্ব (গ্যাস সরবরাহ লাইনে থাকে) বন্ধ করে দেয়। এতে সেনপাড়া পর্বতা, মিরপুর ১৩ নম্বর, ১৪ নম্বর সেকশনের কাফরুল, বউবাজার, ইব্রাহিমপুরসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
![]() |
| ইনসেটে ঘটনাস্থলে টাঙানো সতর্ক বার্তা। ছবি আবদুস সালাম |
তিতাসের পরিচালক আশরাফুল হক বলেন, ফেটে যাওয়া গ্যাস পাইপ দ্রুত মেরামত করা হয়েছে। বিষয়টি ওয়াসাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
মোহাম্মদপুরের একাংশ দিনভর বিদ্যুৎবিহীন: গতকাল শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত মোহাম্মদপুর নূরজাহান রোড, শেখেরটেক, আদাবরসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। এতে এসব এলাকায় পানির সরবরাহও বিঘ্নিত হয়। উত্তরার আজমপুরেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ছিল না বলে এলাকার একজন বাসিন্দা টেলিফোন করে জানান।
নূরজাহান রোডের আর-৪১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা নূরুন্নাহার বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল আটটার দিকে বিদ্যুৎ যাওয়ার পর প্রথমে মনে হয়েছিল লোডশেডিং। কিন্তু দুই ঘণ্টা পরও যখন বিদ্যুৎ এল না, বুঝলাম অন্য সমস্যা। প্রচণ্ড গরমে কষ্ট করতে হয়ে।’
‘এস’ রোডের বাসিন্দা শাহাবুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। বাড়িওয়ালার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংরক্ষিত ট্যাংকিতে যেটুকু পানি ছিল শেষ হয়ে গেছে।’
‘এফ’ রোডের বাসিন্দা আবদুস সবুর ও মিল্লাতুর রহমান বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করার জন্য তাঁরা গোসল বা অজু পর্যন্ত করতে পারেননি।
শেকেরটেকের বাসিন্দা পারভীন সুলতানা সন্ধ্যায় প্রথম আলোয় ফোন করে জানান, প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে যায়।
এসব এলাকার বাসিন্দারা জানান, অনেক সময় মাইকে আগেই নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ না থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়। গতকাল তেমন কোনো ঘোষণা না দেওয়ায় তাঁরা বুঝতে পারছিলেন না কখন বিদ্যুৎ আসবে।
জানতে চাইলে ঢাকা পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানির (ডিপিডিসি) স্থানীয় (স্ক্যাডা) কর্মকর্তা আমীর হোসেন জানান, মাটির নিচে একটি কেব্ল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের এই বিপর্যয় ঘটে। কারণ, এর জন্য সরবরাহকারী ফিডার বন্ধ রাখতে হয়।
Saturday, August 8, 2015
বুড়িগঙ্গার তীর ভরাট করে রিকশা গ্যারেজ by অরূপ দত্ত
![]() |
| বুড়িগঙ্গার পাড় দখলের পর এর মালিকানা দাবি করে তোলা হয়েছে সাইনবোর্ড l প্রথম আলো |
হাইকোর্টের
নির্দেশ অমান্য করে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে পাঁচ বিঘা জায়গা ভরাট করে গড়ে
উঠেছে রিকশার বিশাল গ্যারেজ। লালবাগের ইসলামপুর এলাকায় নদীর এই জায়গার
মালিক দাবিদার ব্যক্তি রীতিমতো সাইনবোর্ড টাঙিয়ে সেখানে মালিকানা চিহ্নিত
করেছেন। নদীর তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ
(বিআইডব্লিউটিএ) এ বিষয়ে বর্তমানে চুপচাপ রয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল
সাড়ে নয়টায় সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ে অন্তত পাঁচ শ
রিকশা ও ভ্যান রয়েছে। গাবতলী থেকে মিটফোর্ড হয়ে পোস্তাগোলা পর্যন্ত ৩২
কিলোমিটার রাস্তার পাশে অনেক স্থানেই নদীর পাড়ে বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল
(ফ্লাড ওয়াল) দেওয়া আছে। মদিনা পেট্রলপাম্পের অদূরে ইসলামপুরে এই
দেয়ালের ভেতরের জায়গা পুরোটাই পাকা করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে পানি
উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সেখানে সারি দিয়ে রাখা হয়েছে
রিকশা ও ভ্যান। রিকশা নিতে আসা পাঁচজন চালকের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা
প্রথমে কথা বলতে আপত্তি জানান। পরে তাঁরা বলেন, জায়গাটি সরকারি বলেই তাঁরা
জানতেন। পরে সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে রিকশা ও ভ্যান রাখার জন্য মাসে কমপক্ষে পাঁচ শ করে টাকা নেওয়া। আর ব্যাটারিচালিত রিকশা রাখতে দিতে হয় দুই হাজার টাকা করে। বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ নিয়ে ব্যাটারি চার্জের মাধ্যমেও প্রতিদিন অনেক টাকা উপার্জন হয়। গ্যারেজের সামনে বিশালাকৃতির বৈদ্যুতিক টাওয়ার। টাওয়ারের সামনেই নদীর তীরে খুঁটিতে কালো রঙের সাইনবোর্ডে সাদা অক্ষরে বড় করে লেখা—‘এই জমির মালিক মো. জুলহাস মোল্লা’।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুলহাস মোল্লা স্থানীয় শ্রমিক লীগের স্থানীয় নেতা। ঘটনাস্থলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। গ্যারেজ থেকে তাঁর একটি মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু নম্বরটি বন্ধ ছিল। লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, জুলহাস মোল্লা প্রথমে এখানে স্বল্প পরিসরে রিকশা গ্যারেজ করেন। পরে নদীর তীরে মাটি ফেলে ফেলে নদী ভরাট করে গ্যারেজের আয়তন বাড়িয়েছেন। এখন তিনি দাবি করেন, এই জায়গার মালিক তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে রিকশা ও ভ্যান রাখার জন্য মাসে কমপক্ষে পাঁচ শ করে টাকা নেওয়া। আর ব্যাটারিচালিত রিকশা রাখতে দিতে হয় দুই হাজার টাকা করে। বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ নিয়ে ব্যাটারি চার্জের মাধ্যমেও প্রতিদিন অনেক টাকা উপার্জন হয়। গ্যারেজের সামনে বিশালাকৃতির বৈদ্যুতিক টাওয়ার। টাওয়ারের সামনেই নদীর তীরে খুঁটিতে কালো রঙের সাইনবোর্ডে সাদা অক্ষরে বড় করে লেখা—‘এই জমির মালিক মো. জুলহাস মোল্লা’।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুলহাস মোল্লা স্থানীয় শ্রমিক লীগের স্থানীয় নেতা। ঘটনাস্থলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। গ্যারেজ থেকে তাঁর একটি মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু নম্বরটি বন্ধ ছিল। লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, জুলহাস মোল্লা প্রথমে এখানে স্বল্প পরিসরে রিকশা গ্যারেজ করেন। পরে নদীর তীরে মাটি ফেলে ফেলে নদী ভরাট করে গ্যারেজের আয়তন বাড়িয়েছেন। এখন তিনি দাবি করেন, এই জায়গার মালিক তিনি।
![]() |
| লালবাগের ইসলামবাগ এলাকায় বুড়িগঙ্গার পাড় ভরাট করে এভাবেই রিকশা-ভ্যানের অবৈধ গ্যােরজ তৈরি করা হয়েছে। ছবিটি গতকাল তোলা l সাইফুল ইসলাম |
ওই
তিন নেতা ছাড়াও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা
যায়, জুলহাস মোল্লা স্থানীয় সাংসদ হাজি মো. সেলিমের ছত্রচ্ছায়ায় নদীর
জায়গার মালিকানা দাবি করছেন এবং ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাজি মো. সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, জুলহাস মোল্লা ঘাটশ্রমিক লীগের নেতা বলে তিনি জানেন। কিন্তু তাঁর ছত্রচ্ছায়ায় জুলহাস মোল্লা রিকশা গ্যারেজ পরিচালনা করছে—এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। নিজ সংসদীয় এলাকায় এ ধরনের গ্যারেজ পরিচালনার বিরুদ্ধে তিনি কিছু করছেন না কেন, এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (বন্দর) গুলজার আলী প্রথম আলোকে বলেন, অতীতের স্বল্প পরিসরে নদীর জায়গায় রিকশা গ্যারেজ করা হয়েছিল। উচ্ছেদও করা হয়েছিল। আবার বিশাল জায়গা ভরাট করে গ্যারেজ করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে এলাকা পরিদর্শন করে আবারও উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হবে।
বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশে শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদের অংশে ও তীরে কোনো ধরনের স্থাপনা বা ব্যবসাকেন্দ্র নির্মাণ করা যাবে না—হাইকোর্টের এমন একটি নির্দেশনা রয়েছে। এসব নদীর জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়ে হাইকোর্টের প্রথম নির্দেশ আসে ২০০৯ সালের মে মাসে। ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল নিশি জারি করেন। মামলাটির আদেশের মূল কথা ছিল ব্রিটিশ আমলের ক্যাডেস্ট্রাল সার্ভে (সিএস) অনুসারে আইনানুগ বন্দোবস্ত ছাড়া কোনো দখলদার থাকলে তাকে অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে। এর মাধ্যমে আদালত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদেরও নির্দেশ দেন। প্রথম দফায় ২০১০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে আরও পাঁচ দফায় নির্দেশ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সংশ্লিষ্ট ‘রিভারকিপার’ শরীফ জামিল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা নদীর এলাকা ঘুরলে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ দখল আর দূষণের চিত্র দেখা যাবে। হাইকোর্টের নির্দেশ কীভাবে অমান্য হচ্ছে, তা-ও এসব স্থান ঘুরলেই বোঝা যায়। এ বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবাদ জানালেও নদী রক্ষার দায়িত্বে থাকা সব কর্তৃপক্ষই নীরব।’
সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাজি মো. সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, জুলহাস মোল্লা ঘাটশ্রমিক লীগের নেতা বলে তিনি জানেন। কিন্তু তাঁর ছত্রচ্ছায়ায় জুলহাস মোল্লা রিকশা গ্যারেজ পরিচালনা করছে—এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। নিজ সংসদীয় এলাকায় এ ধরনের গ্যারেজ পরিচালনার বিরুদ্ধে তিনি কিছু করছেন না কেন, এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (বন্দর) গুলজার আলী প্রথম আলোকে বলেন, অতীতের স্বল্প পরিসরে নদীর জায়গায় রিকশা গ্যারেজ করা হয়েছিল। উচ্ছেদও করা হয়েছিল। আবার বিশাল জায়গা ভরাট করে গ্যারেজ করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে এলাকা পরিদর্শন করে আবারও উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হবে।
বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশে শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদের অংশে ও তীরে কোনো ধরনের স্থাপনা বা ব্যবসাকেন্দ্র নির্মাণ করা যাবে না—হাইকোর্টের এমন একটি নির্দেশনা রয়েছে। এসব নদীর জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়ে হাইকোর্টের প্রথম নির্দেশ আসে ২০০৯ সালের মে মাসে। ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল নিশি জারি করেন। মামলাটির আদেশের মূল কথা ছিল ব্রিটিশ আমলের ক্যাডেস্ট্রাল সার্ভে (সিএস) অনুসারে আইনানুগ বন্দোবস্ত ছাড়া কোনো দখলদার থাকলে তাকে অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে। এর মাধ্যমে আদালত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদেরও নির্দেশ দেন। প্রথম দফায় ২০১০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে আরও পাঁচ দফায় নির্দেশ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের নেতা সংশ্লিষ্ট ‘রিভারকিপার’ শরীফ জামিল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা নদীর এলাকা ঘুরলে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ দখল আর দূষণের চিত্র দেখা যাবে। হাইকোর্টের নির্দেশ কীভাবে অমান্য হচ্ছে, তা-ও এসব স্থান ঘুরলেই বোঝা যায়। এ বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবাদ জানালেও নদী রক্ষার দায়িত্বে থাকা সব কর্তৃপক্ষই নীরব।’
Wednesday, August 5, 2015
‘সেই রাস্তাটি’ সাড়ে তিন বছরেও মেরামত হয়নি by অরূপ দত্ত
![]() |
| রাজধানীর মোহাম্মদপুরের খিলজি রোডের এই রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন |
রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং টানা বৃষ্টির কারণে মোহাম্মদপুরের খিলজি রোড এবং আশপাশের অলিগলিতে এখন আরও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে খিলজি রোড-সংলগ্ন শ্যামলী সিনেমা হলের উত্তর প্রান্তের রাস্তাটি চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে গত এপ্রিলের শুরুতে এই রাস্তাটি দেখা গিয়েছিল ভাঙাচোরা। এখন বৃষ্টিতে, জলাবদ্ধতায় প্রতিদিন রিকশা-অটোরিকশা উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।
গতকাল সোমবার সকালে ওই রাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটির খানাখন্দ আর কাদাপানিতে বেহাল অবস্থা। রাস্তার দুই পাশে শতাধিক দোকান। এই ভাঙা রাস্তা দিয়েই দিনরাতে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর এই রাস্তাটির সংস্কার হয়নি। মাঝে মাঝে ইটের খোয়া দিয়ে গর্ত বন্ধ করে স্থানীয় মানুষদের বুঝ দেওয়া হয় সংস্কার হচ্ছে।
একটি ওষুধের দোকানের কর্মচারী আবদুল আলিম বলেন, প্রতিদিনই এখানে আরোহীরা পড়ে যাচ্ছেন। পথচারীরা পিছলে পড়ে ব্যথা পাচ্ছেন। শনিবার বৃষ্টির পর ভাঙা রাস্তায় পানি জমে যায়। ডুবে যাওয়া ভাঙা রাস্তার গর্তে স্থানীয় নর্থ সাউথ মেডিকেল কলেজে যাওয়ার পথে দুজন ছাত্রী পড়ে আঘাত পান।
এলাকার ব্যবসায়ী রুহুল আমিনসহ কয়েকজন দোকানি ক্ষোভের সঙ্গেই বললেন, বৃষ্টি হলে ভাঙা এই রাস্তায় পানি জমে ডোবায় পরিণত হয়। সেই পানি মাড়ালেই চর্মরোগ। পানি শুকালে হয় কাদা। সেই কাদায় গাড়ির চাকায় ইরি ধানখেতের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়। আর শুকনা মৌসুমে ভাঙা রাস্তাটি হয় মরণ ফাঁদ। দেখার কেউ নেই।
ওই রাস্তাতেই পাওয়া যায় ভুক্তভোগী অনেককে। স্থানীয় একটি চক্ষুবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী আলমগীর খান বলেন, শ্যামলী প্রধান সড়কে যত লোক চলাচল করেন, তার চেয়ে অনেক বেশি লোক এই পথ ধরে চলেন। চলে প্রচুর যানবাহনও। তারপরও কারও নজর নেই।
শ্যামলী প্রধান সড়কের সঙ্গে লাগোয়া প্রায় ৬০ ফুটের এই রাস্তা ধরে চলাচল করেন এলাকার আশা ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ মেডিকেল কলেজ, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। চলাচল করেন স্থানীয় জেবি গার্মেন্টস, গোল্ডস্টার গার্মেন্টসহ কয়েকটি গার্মেন্টসের কর্মীরাও।
নর্থ সাউথ মেডিকেলের শেষ বর্ষের ছাত্রী শারমিন আশা ইউনিভার্সিটির ছাত্র শহীদুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিতে এই রাস্তায় চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। তারপরও চলতে হয়। এখানে বলার লোক থাকলেও শোনার কেউ নেই।
স্থানীয় একটি গার্মেন্টসের কর্মী সালমা ইসলাম জানান, রাতের বেলায় ওই পথে হেঁটে যেতে হয়। বস্তিতে যাওয়ার সহজ পথ আর নেই।
ফার্মেসি, রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেলসহ শতাধিক দোকান থাকলেও এখানে ব্যবসায়ী বা দোকানিদের কোনো সংগঠন নেই। তাজিন আবাসিক হোটেল, শ্যামলী হল সুপার মার্কেটের ভাই ভাই বিরিয়ানি হাউস, মেহ্জাবিন মেডিসিন কর্নার, জেরিন ফার্মাসহ কিছু দোকানের লোকজনের সঙ্গে কথা বললে সবাই রাস্তার কারণে চরম অসুবিধা ও ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা জানান। কিন্তু সংগঠন করার মতো পরিবেশ এখানে নেই বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেন।
এলাকাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীন। রাস্তাটির প্রতি এমন অবহেলার বিষয়ে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. কুদরতউল্লাহ বলেন, মোহাম্মদপুরের বেশির ভাগ রাস্তায় উন্নয়নকাজ হয়েছে। এটি না হওয়ার কারণ খোঁজা হবে।
ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান উন্নয়ন প্রকল্পে এই সড়কটি রয়েছে। আশা করি আগামী বর্ষার আগেই রাস্তাটি ভালো করা সম্ভব হবে।’
গতকাল সোমবার সকালে ওই রাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটির খানাখন্দ আর কাদাপানিতে বেহাল অবস্থা। রাস্তার দুই পাশে শতাধিক দোকান। এই ভাঙা রাস্তা দিয়েই দিনরাতে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর এই রাস্তাটির সংস্কার হয়নি। মাঝে মাঝে ইটের খোয়া দিয়ে গর্ত বন্ধ করে স্থানীয় মানুষদের বুঝ দেওয়া হয় সংস্কার হচ্ছে।
একটি ওষুধের দোকানের কর্মচারী আবদুল আলিম বলেন, প্রতিদিনই এখানে আরোহীরা পড়ে যাচ্ছেন। পথচারীরা পিছলে পড়ে ব্যথা পাচ্ছেন। শনিবার বৃষ্টির পর ভাঙা রাস্তায় পানি জমে যায়। ডুবে যাওয়া ভাঙা রাস্তার গর্তে স্থানীয় নর্থ সাউথ মেডিকেল কলেজে যাওয়ার পথে দুজন ছাত্রী পড়ে আঘাত পান।
এলাকার ব্যবসায়ী রুহুল আমিনসহ কয়েকজন দোকানি ক্ষোভের সঙ্গেই বললেন, বৃষ্টি হলে ভাঙা এই রাস্তায় পানি জমে ডোবায় পরিণত হয়। সেই পানি মাড়ালেই চর্মরোগ। পানি শুকালে হয় কাদা। সেই কাদায় গাড়ির চাকায় ইরি ধানখেতের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়। আর শুকনা মৌসুমে ভাঙা রাস্তাটি হয় মরণ ফাঁদ। দেখার কেউ নেই।
ওই রাস্তাতেই পাওয়া যায় ভুক্তভোগী অনেককে। স্থানীয় একটি চক্ষুবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী আলমগীর খান বলেন, শ্যামলী প্রধান সড়কে যত লোক চলাচল করেন, তার চেয়ে অনেক বেশি লোক এই পথ ধরে চলেন। চলে প্রচুর যানবাহনও। তারপরও কারও নজর নেই।
শ্যামলী প্রধান সড়কের সঙ্গে লাগোয়া প্রায় ৬০ ফুটের এই রাস্তা ধরে চলাচল করেন এলাকার আশা ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ মেডিকেল কলেজ, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। চলাচল করেন স্থানীয় জেবি গার্মেন্টস, গোল্ডস্টার গার্মেন্টসহ কয়েকটি গার্মেন্টসের কর্মীরাও।
নর্থ সাউথ মেডিকেলের শেষ বর্ষের ছাত্রী শারমিন আশা ইউনিভার্সিটির ছাত্র শহীদুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিতে এই রাস্তায় চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। তারপরও চলতে হয়। এখানে বলার লোক থাকলেও শোনার কেউ নেই।
স্থানীয় একটি গার্মেন্টসের কর্মী সালমা ইসলাম জানান, রাতের বেলায় ওই পথে হেঁটে যেতে হয়। বস্তিতে যাওয়ার সহজ পথ আর নেই।
ফার্মেসি, রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেলসহ শতাধিক দোকান থাকলেও এখানে ব্যবসায়ী বা দোকানিদের কোনো সংগঠন নেই। তাজিন আবাসিক হোটেল, শ্যামলী হল সুপার মার্কেটের ভাই ভাই বিরিয়ানি হাউস, মেহ্জাবিন মেডিসিন কর্নার, জেরিন ফার্মাসহ কিছু দোকানের লোকজনের সঙ্গে কথা বললে সবাই রাস্তার কারণে চরম অসুবিধা ও ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা জানান। কিন্তু সংগঠন করার মতো পরিবেশ এখানে নেই বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেন।
এলাকাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীন। রাস্তাটির প্রতি এমন অবহেলার বিষয়ে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. কুদরতউল্লাহ বলেন, মোহাম্মদপুরের বেশির ভাগ রাস্তায় উন্নয়নকাজ হয়েছে। এটি না হওয়ার কারণ খোঁজা হবে।
ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান উন্নয়ন প্রকল্পে এই সড়কটি রয়েছে। আশা করি আগামী বর্ষার আগেই রাস্তাটি ভালো করা সম্ভব হবে।’
Monday, August 3, 2015
রামপুরা প্রধান সড়কে মরণফাঁদ: কাউন্সিলর বললেন, মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে করতে হিমশিম খাচ্ছি by অরূপ দত্ত
![]() |
| রামপুরার ডিআইটি রোডে এ ধরনের বড় বড় গর্তের কারণে এলাকাবাসী ও যানবাহনের যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে। এই রোডেই অন্তত আটটি বড় গর্ত রয়েছে। ছবি-সাইফুল ইসলাম |
অঝোর
ধারার নয়, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির পানি একটু একটু করে জমা
হয়েছে রাজধানীর হাজিপাড়া পেট্রলপাম্পের পাশে ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে সৃষ্ট
বিশাল গর্তে। সঙ্গে বারোয়ারি আবর্জনা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের
(ডিএনসিসি) ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ডিআইটি রোডে এ রকম অন্তত আটটি বড় গর্ত
রয়েছে। এসব গর্তে যাতে কেউ পড়ে না যায়, তার জন্য কোনো সতর্কসংকেত বা
নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই।
এ বিষয়ে খোঁজখবর করতে গেলে সেখানকার একটি রড-সিমেন্টের দোকানের কর্মচারী বরকতউল্লাহ বলেন, ‘গর্ত নয়, এগুলো মরণফাঁদ।’ এ সময় স্থানীয় পেট্রলপাম্পের লাইনম্যান সুনীল বলেন, রাতে এলাকায় লোডশেডিং হলে এবং একই সঙ্গে রাস্তার বাতি না জ্বললে এসব গর্ত বড় বিপদের কারণ হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতেও এখানে রিকশা উল্টে এক আরোহীর হাত ভেঙেছে বলে সুনীল জানান।
গত শুক্রবার দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শুধু ডিআইটি সড়ক নয়, একই ওয়ার্ডের রামপুরা, উলনসহ অন্যান্য এলাকার অলিগলির রাস্তাগুলোরও প্রায় একই দশা। বর্ষার পানি জমে চলাচলেরও প্রায় অনুপযোগী হয়ে গেছে। বেশির ভাগ রাস্তা বাড়িঘরের তুলনায় নিচু হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেও পানি জমে যায়।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সত্যিই এলাকার প্রায় সব রাস্তাই খারাপ। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, নাগরিকসেবা দেব। এখন রাস্তার এ দশার জন্য মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে করতে হিমশিম খাচ্ছি।’
এই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর (বিএনপিদলীয়) আক্কেল আলী দাবি করেন, আগে রাস্তা এতটা খারাপ ছিল না।
এর আগে গত বুধবার দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাড্ডার দিক থেকে ও মৌচাকের দিক থেকে আসা যানবাহনে পুরো ডিআইটি রোড আটকে আছে। রামপুরা সেতুর ওপর থেকে দুই দিকেই বিশাল যানজট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, প্রায়ই এখানে এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
পূর্ব রামপুরার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উলনের স্কুলশিক্ষিকা রাহেলা বেগম, হাজিপাড়ার মনিহারি দোকানি আবুল কালাম যানজট সম্পর্কে একই কথা বলেন। তাঁদের মতে, ওয়ার্ডের ডিআইটি সড়কটি একমাত্র সড়ক, যে পথে বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, ঠেলাগাড়ি—সবই একযোগে চলে। এ জন্য যানজট লেগেই থাকে।
তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাতিরঝিলের মধ্য দিয়ে যে সড়কটি গিয়ে রামপুরায় যুক্ত হয়েছে, সেটাতে বাস, ট্রাক বা ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। রামপুরা থেকে মালিবাগ চৌধুরীপাড়া আবুল হোটেলের বিপরীত দিকে যাওয়ার রাস্তা ব্যবহার বাড়ানোর পর সে এলাকায়ও যানজট বেড়ে গেছে। সেখানে যানজটের কারণে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা বাড়তি সমস্যায় পড়ছেন।
রামপুরা সেতুর কাছে বনশ্রী থেকে গাড়ি বেরোনোর পথটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। আগে বনশ্রী আফতাবনগর থেকে গাড়ি রামপুরা টেলিভিশন ভবনের উত্তর দিকে খালের পাশ কাটিয়ে ডানে মোড় নিয়ে বাড্ডার দিকে যেত। গত মার্চে পথ বদল করে বনশ্রী থেকে গাড়ি বেরিয়ে বাঁ দিকে মোড় নিয়ে অন্তত ২০০ গজ ঘুরে আসার ব্যবস্থা করা হয়। তাই সেখানে বাড়তি যানজট তৈরি হয়। তখন বলা হয়েছিল, এটা সাময়িক সময়ের জন্য করা হয়েছে। কিন্তু সে ব্যবস্থা এখনো রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কুদরতউল্লাহ বলেন, আন্তসংস্থার সভায় বিষয়টি তোলা হয়েছে। দেখা যাক কী হয়। তিনি বলেন, বছর দুয়েক আগে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় মৌচাক থেকে নিকুঞ্জ পর্যন্ত প্রধান সড়ক রিকশামুক্ত করার সিদ্ধান্ত ছিল। সে বিষয়টির প্রতিও লক্ষ রাখা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থাকলেও এলাকার বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা, ড্রেনেজ পরিস্থিতির উন্নতি করার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন হাজিপাড়ার আবদুর রউফ, উলনের বজলুর রহমানসহ কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁরা বলেন, নির্বাচনের আগে অন্তত পাঁচ বছর এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো হয়নি। এবার নির্বাচনের পর মাঝে মাঝে ওষুধ ছিটানো হলেও মশার উপদ্রব কমেনি।
এসব বিষয়ে লিয়াকত আলী বলেন, সব সমস্যা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একটু সময় লাগবে।
এ বিষয়ে খোঁজখবর করতে গেলে সেখানকার একটি রড-সিমেন্টের দোকানের কর্মচারী বরকতউল্লাহ বলেন, ‘গর্ত নয়, এগুলো মরণফাঁদ।’ এ সময় স্থানীয় পেট্রলপাম্পের লাইনম্যান সুনীল বলেন, রাতে এলাকায় লোডশেডিং হলে এবং একই সঙ্গে রাস্তার বাতি না জ্বললে এসব গর্ত বড় বিপদের কারণ হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতেও এখানে রিকশা উল্টে এক আরোহীর হাত ভেঙেছে বলে সুনীল জানান।
গত শুক্রবার দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শুধু ডিআইটি সড়ক নয়, একই ওয়ার্ডের রামপুরা, উলনসহ অন্যান্য এলাকার অলিগলির রাস্তাগুলোরও প্রায় একই দশা। বর্ষার পানি জমে চলাচলেরও প্রায় অনুপযোগী হয়ে গেছে। বেশির ভাগ রাস্তা বাড়িঘরের তুলনায় নিচু হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেও পানি জমে যায়।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সত্যিই এলাকার প্রায় সব রাস্তাই খারাপ। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, নাগরিকসেবা দেব। এখন রাস্তার এ দশার জন্য মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে করতে হিমশিম খাচ্ছি।’
এই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর (বিএনপিদলীয়) আক্কেল আলী দাবি করেন, আগে রাস্তা এতটা খারাপ ছিল না।
এর আগে গত বুধবার দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাড্ডার দিক থেকে ও মৌচাকের দিক থেকে আসা যানবাহনে পুরো ডিআইটি রোড আটকে আছে। রামপুরা সেতুর ওপর থেকে দুই দিকেই বিশাল যানজট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, প্রায়ই এখানে এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
পূর্ব রামপুরার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উলনের স্কুলশিক্ষিকা রাহেলা বেগম, হাজিপাড়ার মনিহারি দোকানি আবুল কালাম যানজট সম্পর্কে একই কথা বলেন। তাঁদের মতে, ওয়ার্ডের ডিআইটি সড়কটি একমাত্র সড়ক, যে পথে বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, ঠেলাগাড়ি—সবই একযোগে চলে। এ জন্য যানজট লেগেই থাকে।
তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাতিরঝিলের মধ্য দিয়ে যে সড়কটি গিয়ে রামপুরায় যুক্ত হয়েছে, সেটাতে বাস, ট্রাক বা ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। রামপুরা থেকে মালিবাগ চৌধুরীপাড়া আবুল হোটেলের বিপরীত দিকে যাওয়ার রাস্তা ব্যবহার বাড়ানোর পর সে এলাকায়ও যানজট বেড়ে গেছে। সেখানে যানজটের কারণে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা বাড়তি সমস্যায় পড়ছেন।
রামপুরা সেতুর কাছে বনশ্রী থেকে গাড়ি বেরোনোর পথটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। আগে বনশ্রী আফতাবনগর থেকে গাড়ি রামপুরা টেলিভিশন ভবনের উত্তর দিকে খালের পাশ কাটিয়ে ডানে মোড় নিয়ে বাড্ডার দিকে যেত। গত মার্চে পথ বদল করে বনশ্রী থেকে গাড়ি বেরিয়ে বাঁ দিকে মোড় নিয়ে অন্তত ২০০ গজ ঘুরে আসার ব্যবস্থা করা হয়। তাই সেখানে বাড়তি যানজট তৈরি হয়। তখন বলা হয়েছিল, এটা সাময়িক সময়ের জন্য করা হয়েছে। কিন্তু সে ব্যবস্থা এখনো রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কুদরতউল্লাহ বলেন, আন্তসংস্থার সভায় বিষয়টি তোলা হয়েছে। দেখা যাক কী হয়। তিনি বলেন, বছর দুয়েক আগে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় মৌচাক থেকে নিকুঞ্জ পর্যন্ত প্রধান সড়ক রিকশামুক্ত করার সিদ্ধান্ত ছিল। সে বিষয়টির প্রতিও লক্ষ রাখা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থাকলেও এলাকার বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা, ড্রেনেজ পরিস্থিতির উন্নতি করার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন হাজিপাড়ার আবদুর রউফ, উলনের বজলুর রহমানসহ কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁরা বলেন, নির্বাচনের আগে অন্তত পাঁচ বছর এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো হয়নি। এবার নির্বাচনের পর মাঝে মাঝে ওষুধ ছিটানো হলেও মশার উপদ্রব কমেনি।
এসব বিষয়ে লিয়াকত আলী বলেন, সব সমস্যা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একটু সময় লাগবে।
Friday, July 31, 2015
ধূপখোলা মাঠের অস্তিত্ব বিপন্ন by অরূপ দত্ত
![]() |
| মাঠে প্রবেশপথের মুখে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যালয় : মাদকাসক্তদের আড্ডা |
পুরান
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ধূপখোলা মাঠটির অস্তিত্ব প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।
মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের পোস্তগোলা লুপ নির্মাণের সরঞ্জাম রাখতে
এই মাঠ ব্যবহার করা হয়েছিল। গত বছর অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে গেলেও
মাঠটি এখন পর্যন্ত মুক্ত করে দেওয়া হয়নি। মাঠের তিন পাশে শ্রমিকদের থাকার
জন্য যে অস্থায়ী ঘরগুলো তৈরি করা হয়েছিল তার মধ্যে দুটি রাজনৈতিক
সংগঠনের দখলে। বাকিগুলো অসামাজিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। গত রোববার বেলা ১১টা
থেকে প্রায় ১টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখে এসব তথ্য পাওয়া যায়। মাঠটির
দর্শকদের জন্য তৈরি করা গ্যালারিতে শ্রমিকদের থাকার জন্য প্রায় ৩০টি ঘর
করা হয়েছিল। তার দুটিতে এখন গড়ে উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বৃহত্তর
সূত্রাপুর থানার প্রধান কার্যালয়। গতকাল রোববার গিয়ে দেখা যায়, মাঠের
প্রবেশপথের ঠিক পাশেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাইনবোর্ড। তাতে লেখা ‘প্রধান
কার্যালয়, ৪৫ নং ওয়ার্ড, বৃহত্তর সূত্রাপুর থানা, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ)’।
দোতলায় উঠে দেখা যায়, কার্যালয়ে তালা ঝোলানো। স্থানীয় দোকানিরা বলেন,
সন্ধ্যার পর এখানে নেতা-কর্মীরা আসেন। মাঠের রক্ষণাবেক্ষণে পালা করে তিনজন
প্রহরী কাজ করেন। গতকাল পাওয়া গেল আবুল হোসেন নামের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ
প্রহরীকে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাস দুয়েক আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের
কার্যালয়টি গড়ে ওঠে। তবে এর বাইরে তিনি নেতা-কর্মীদের নামধাম বা রাজনৈতিক
কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানেন না বলে জানান।
যোগাযোগ
করা হলে বৃহত্তর সূত্রাপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু
আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাঠটি অনেক দিন ধরে অবহেলার শিকার। এটি যেন আবার
খেলার মাঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় তার জন্য আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি।’
স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যালয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি স্থানীয় ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। জানতে চাইলে আনিসুর রহমান বলেন, খালি পড়ে থাকায় এখানে অফিস করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। সিটি করপোরেশন যদি বলে তবে তাঁরা অফিস উঠিয়ে নেবেন।
রাজনৈতিক সংগঠনের দখল করা ঘরগুলোর বাইরে অন্তত ২৮টির কোনো কোনোটার দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। প্রহরী আবুল হোসেন বলেন, এখন এসব ঘরে কেউ থাকে না।
তবে স্থানীয় দোকানিরা বলেন, এসব ঘর মাদকাসক্তদের নিরাপদ আখড়া। দিনের বেলায়ও এখানে মাদক সেবন চলে। সন্ধ্যার পর বসে মাদকসেবীদের রীতিমতো আড্ডা। চলে অসামাজিক কাজও। প্রকাশ্যে বিক্রি হয় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এই প্রতিবেদকের সামনেই তিন তরুণকে দেখা যায়, এক ব্যক্তির হাতে টাকা গুঁজে দিয়ে কাগজে মোড়া কিছু নিতে। মাঠপাড়ের বসার সিঁড়িতে বিচ্ছিন্নভাবে ভাগ হয়ে আড্ডা দিতে দেখা যায় আরও কিছু তরুণকে। এখানে কী করছে, জানতে চাইলে এক তরুণ ঘুমজড়ানো কণ্ঠে জবাব দেয়, ‘দেখবার পারতাচেন না, ব্যাগটি (সবাই) মিল্লা গপ্প করবার লাগচি।’
মাঠটির দুই-তৃতীয়াংশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা পাথর, পরিত্যক্ত ব্লকের খণ্ড ও স্ল্যাবের ধ্বংসাবশেষ। এগুলো এমনভাবে রাখা হয়েছে যে কিছুতেই সেখানে খেলাধুলা করা সম্ভব নয়। মাঠের এখানে-ওখানে বড় বড় গর্ত। জমে আছে ময়লা পানি। হাঁটতে গেলেও হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা। তারপরও এলাকার পুরোনো বাসিন্দারা অভ্যাসবশত মাঝে মাঝে মাঠে হাঁটতে আসেন। গতকাল দেখা হয় চারজন স্থায়ী বাসিন্দার সঙ্গে। এঁদের মধ্যে রায়হানুল হক নামের একজন বলেন, আগে এখানে সকাল-সন্ধ্যা নিয়মিত হাঁটতেন। মাঠের বেহাল অবস্থায় এখন আর হাঁটার পরিবেশ নেই।
মাস খানেক আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন মো. জামান। এসে পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে শান্তি পাচ্ছেন না। দুঃখ করে বললেন, ‘এই মাঠে খেলে বড় হয়েছি। অনেক দিন পর দেশে ফিরে দেখলাম মাঠটিকে আর মাঠ বলে চেনাই যায় না। এখানকার শিশুরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
সিটি করপোরেশন মার্কেটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ব্যবসায়ী বলেন, উড়ালসড়ক নির্মাণের জন্য শ্রমিকদের থাকার যেসব ঘর তৈরি হয়েছে, সেগুলো তেমন মজবুত করে বানানো হয়নি। কারণ কাজ শেষে সেগুলো ভেঙে ফেলার কথা। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় নয় মাস পরেও ঘরগুলো ভাঙা হয়নি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত মো. নূরুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ধূপখোলা মাঠ থেকে নির্মাণসামগ্রীগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হবে। এ ছাড়া অবৈধভাবে কেউ যদি স্থাপনা দখল করে থাকে তবে সম্পত্তি বিভাগের সঙ্গে কথা বলে উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হবে।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যালয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি স্থানীয় ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। জানতে চাইলে আনিসুর রহমান বলেন, খালি পড়ে থাকায় এখানে অফিস করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। সিটি করপোরেশন যদি বলে তবে তাঁরা অফিস উঠিয়ে নেবেন।
রাজনৈতিক সংগঠনের দখল করা ঘরগুলোর বাইরে অন্তত ২৮টির কোনো কোনোটার দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। প্রহরী আবুল হোসেন বলেন, এখন এসব ঘরে কেউ থাকে না।
তবে স্থানীয় দোকানিরা বলেন, এসব ঘর মাদকাসক্তদের নিরাপদ আখড়া। দিনের বেলায়ও এখানে মাদক সেবন চলে। সন্ধ্যার পর বসে মাদকসেবীদের রীতিমতো আড্ডা। চলে অসামাজিক কাজও। প্রকাশ্যে বিক্রি হয় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এই প্রতিবেদকের সামনেই তিন তরুণকে দেখা যায়, এক ব্যক্তির হাতে টাকা গুঁজে দিয়ে কাগজে মোড়া কিছু নিতে। মাঠপাড়ের বসার সিঁড়িতে বিচ্ছিন্নভাবে ভাগ হয়ে আড্ডা দিতে দেখা যায় আরও কিছু তরুণকে। এখানে কী করছে, জানতে চাইলে এক তরুণ ঘুমজড়ানো কণ্ঠে জবাব দেয়, ‘দেখবার পারতাচেন না, ব্যাগটি (সবাই) মিল্লা গপ্প করবার লাগচি।’
মাঠটির দুই-তৃতীয়াংশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা পাথর, পরিত্যক্ত ব্লকের খণ্ড ও স্ল্যাবের ধ্বংসাবশেষ। এগুলো এমনভাবে রাখা হয়েছে যে কিছুতেই সেখানে খেলাধুলা করা সম্ভব নয়। মাঠের এখানে-ওখানে বড় বড় গর্ত। জমে আছে ময়লা পানি। হাঁটতে গেলেও হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা। তারপরও এলাকার পুরোনো বাসিন্দারা অভ্যাসবশত মাঝে মাঝে মাঠে হাঁটতে আসেন। গতকাল দেখা হয় চারজন স্থায়ী বাসিন্দার সঙ্গে। এঁদের মধ্যে রায়হানুল হক নামের একজন বলেন, আগে এখানে সকাল-সন্ধ্যা নিয়মিত হাঁটতেন। মাঠের বেহাল অবস্থায় এখন আর হাঁটার পরিবেশ নেই।
মাস খানেক আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন মো. জামান। এসে পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে শান্তি পাচ্ছেন না। দুঃখ করে বললেন, ‘এই মাঠে খেলে বড় হয়েছি। অনেক দিন পর দেশে ফিরে দেখলাম মাঠটিকে আর মাঠ বলে চেনাই যায় না। এখানকার শিশুরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
সিটি করপোরেশন মার্কেটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ব্যবসায়ী বলেন, উড়ালসড়ক নির্মাণের জন্য শ্রমিকদের থাকার যেসব ঘর তৈরি হয়েছে, সেগুলো তেমন মজবুত করে বানানো হয়নি। কারণ কাজ শেষে সেগুলো ভেঙে ফেলার কথা। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় নয় মাস পরেও ঘরগুলো ভাঙা হয়নি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত মো. নূরুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ধূপখোলা মাঠ থেকে নির্মাণসামগ্রীগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হবে। এ ছাড়া অবৈধভাবে কেউ যদি স্থাপনা দখল করে থাকে তবে সম্পত্তি বিভাগের সঙ্গে কথা বলে উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হবে।
Thursday, July 16, 2015
রেললাইনের দুই পাশ জুড়ে অবৈধ বাজার by অরূপ দত্ত
![]() |
| রাজধানীর জুরাইনে রেললাইনের দুই ধার ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাজার। যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা l হাসান রাজা |
জুরাইন
রেললাইন ঘেঁষে অবৈধ বাজারের বিস্তার গত এক বছরে আরও বেড়েছে। জুরাইন
বাজারের ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, আগে রেললাইনের দুই ধারে প্রায় আধা
কিলোমিটার অংশে বাজার বসত। এখন আগের তুলনায় অন্তত ২০০ মিটার বেড়েছে। এই
বাজার ক্রেতা-বিক্রেতা দুই পক্ষের জন্যই বিপজ্জক।
গত সোমবার দুপুরে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জুরাইন লেভেল ক্রসিং থেকে পশ্চিম দিকে যত দূর চোখ যায়, রেললাইনের দুই পাশে কাঁচা তরিতরকারি, হাঁস-মুরগিসহ হরেক রকম পণ্যের সমারোহ। রেললাইন দেখা যায় না।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে এক ঘণ্টা পর পর ট্রেন চলাচল করে। রেলপথের দুই ধারে ঝুঁকি নিয়ে চলে বিক্রিবাট্টা। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কারওয়ান বাজারে মাছের আড়তের কাছে ট্রেনে কাটা পড়ে চারজন মারা যাওয়ার পরও জুরাইনে কোনো রকম উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি বলে লাইনের উভয় পাশের মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
মূল বাজারের চেয়ে দামে সস্তা, একসঙ্গে কিনলে কিছু শাক-সবজি, এমনকি ফলও ফাউ পাওয়া যায়। এ জন্য ক্রেতাদের সমর্থন পান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জুরাইন রেললাইন ঘেঁষে বসা বিক্রেতারা। দিনে-রাতে অন্তত দুই হাজার ক্রেতা জুরাইন রেললাইন থেকে কাঁচা সামগ্রী কিনে থাকে—এমন তথ্য জানা যায় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে।
রেললাইনের কাছাকাছি এলাকায় বেশ কয়েকটি বাজার রয়েছে, যেগুলোর রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে জুরাইন নিউ সুপার মার্কেট, তালপট্টি মার্কেট, মৎস্য মার্কেট, মুরগি হাট, ফার্নিচার মার্কেট ইত্যাদি। এগুলোর সামনেই রেললাইন ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকান। সেখানে আছে তরিতরকারি, সব ধরনের ফল, পান, প্লাস্টিক সামগ্রী, হাঁড়ি-পাতিল, খেলনাসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান। ‘ভাসমান’ বলা হলেও এখানে সকাল সাতটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা বেচাকেনা চলে।
জুড়াইন প্রধান সড়কের দক্ষিণ প্রান্তে ফার্নিচার মার্কেটের সামনে রেললাইনের কাছে কাঠের সামগ্রীর অনেকগুলো দোকান সাজানো দেখা যায়। বেশির ভাগই অল্প দামি কাঠের সামগ্রীর। গত বছরের নভেম্বরে সেখানে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি।
গত সোমবার বেলা তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রান্ত থেকে ট্রেন আসছিল। দেখা গেল, সামনে দাঁড়ানো ক্রেতাদের দ্রুত সরে যেতে বলছেন রেললাইন ঘেঁষে বসা বিক্রেতারা। নিউ সুপার মার্কেটের কাছাকাছি এলাকায় রেললাইনের ধারে বসা বিক্রেতা মো. ইসরাফিল জানান, জীবিকার প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে তিনি এখানে বসেন, অন্য কোথাও বসার জায়গা নেই।
সবজি, ফল, পান বিক্রেতাসহ অন্তত ১০ জন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে বসার জন্য প্রতিদিন ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ‘চাঁদা’ দিতে হয়। চাঁদার হার নির্ধারিত হয়, কতটুকু জায়গাজুড়ে দোকান সাজানো হয়েছে তার ভিত্তিতে। যে মার্কেটের সামনে দোকানঘর, সেই মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতিকে টাকাটা দিতে হয়।
তবে জুরাইন নিউ সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান বলেন, তিনি বা ব্যবসায়ী সমিতির কোনো সদস্য চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নেন। ব্যবসায়ী সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন সদস্য বলেন, ‘রেলের কিছু কর্মকর্তার প্রশ্রয়ে অবৈধ বাজারের সীমানা আরও বেড়েছে। এলাকার থানা বা রেলওয়ে পুলিশ অবৈধ দোকানিদের কখনো বাধা দেয় না। অবৈধ বাজার উচ্ছেদের দায়িত্ব তাদেরই।’
জুরাইন বাজার বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুর রহীম বলেন, ‘ভাসমান বিক্রেতাদের বাধা দিলে “পাবলিক” ক্ষেপে যায়। কারণ এদের কাছে তুলনামূলক সস্তায় জিনিসপত্র পাওয়া যায়।’
রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় এস্টেট কর্মকর্তা নূরুন্নবী কবির প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন কারণে পুলিশ না পাওয়ায় বেশ কিছুদিন রেলের ধারের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ ছিল। শিগগির আবারও অভিযান শুরু হবে। অভিযানে জুরাইনসহ নারায়ণগঞ্জ রুটের অবৈধ বাজারও উচ্ছেদ করা হবে।
গত সোমবার দুপুরে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জুরাইন লেভেল ক্রসিং থেকে পশ্চিম দিকে যত দূর চোখ যায়, রেললাইনের দুই পাশে কাঁচা তরিতরকারি, হাঁস-মুরগিসহ হরেক রকম পণ্যের সমারোহ। রেললাইন দেখা যায় না।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে এক ঘণ্টা পর পর ট্রেন চলাচল করে। রেলপথের দুই ধারে ঝুঁকি নিয়ে চলে বিক্রিবাট্টা। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কারওয়ান বাজারে মাছের আড়তের কাছে ট্রেনে কাটা পড়ে চারজন মারা যাওয়ার পরও জুরাইনে কোনো রকম উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি বলে লাইনের উভয় পাশের মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
মূল বাজারের চেয়ে দামে সস্তা, একসঙ্গে কিনলে কিছু শাক-সবজি, এমনকি ফলও ফাউ পাওয়া যায়। এ জন্য ক্রেতাদের সমর্থন পান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জুরাইন রেললাইন ঘেঁষে বসা বিক্রেতারা। দিনে-রাতে অন্তত দুই হাজার ক্রেতা জুরাইন রেললাইন থেকে কাঁচা সামগ্রী কিনে থাকে—এমন তথ্য জানা যায় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে।
রেললাইনের কাছাকাছি এলাকায় বেশ কয়েকটি বাজার রয়েছে, যেগুলোর রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে জুরাইন নিউ সুপার মার্কেট, তালপট্টি মার্কেট, মৎস্য মার্কেট, মুরগি হাট, ফার্নিচার মার্কেট ইত্যাদি। এগুলোর সামনেই রেললাইন ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকান। সেখানে আছে তরিতরকারি, সব ধরনের ফল, পান, প্লাস্টিক সামগ্রী, হাঁড়ি-পাতিল, খেলনাসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান। ‘ভাসমান’ বলা হলেও এখানে সকাল সাতটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা বেচাকেনা চলে।
জুড়াইন প্রধান সড়কের দক্ষিণ প্রান্তে ফার্নিচার মার্কেটের সামনে রেললাইনের কাছে কাঠের সামগ্রীর অনেকগুলো দোকান সাজানো দেখা যায়। বেশির ভাগই অল্প দামি কাঠের সামগ্রীর। গত বছরের নভেম্বরে সেখানে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি।
গত সোমবার বেলা তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রান্ত থেকে ট্রেন আসছিল। দেখা গেল, সামনে দাঁড়ানো ক্রেতাদের দ্রুত সরে যেতে বলছেন রেললাইন ঘেঁষে বসা বিক্রেতারা। নিউ সুপার মার্কেটের কাছাকাছি এলাকায় রেললাইনের ধারে বসা বিক্রেতা মো. ইসরাফিল জানান, জীবিকার প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে তিনি এখানে বসেন, অন্য কোথাও বসার জায়গা নেই।
সবজি, ফল, পান বিক্রেতাসহ অন্তত ১০ জন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে বসার জন্য প্রতিদিন ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ‘চাঁদা’ দিতে হয়। চাঁদার হার নির্ধারিত হয়, কতটুকু জায়গাজুড়ে দোকান সাজানো হয়েছে তার ভিত্তিতে। যে মার্কেটের সামনে দোকানঘর, সেই মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতিকে টাকাটা দিতে হয়।
তবে জুরাইন নিউ সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান বলেন, তিনি বা ব্যবসায়ী সমিতির কোনো সদস্য চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নেন। ব্যবসায়ী সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন সদস্য বলেন, ‘রেলের কিছু কর্মকর্তার প্রশ্রয়ে অবৈধ বাজারের সীমানা আরও বেড়েছে। এলাকার থানা বা রেলওয়ে পুলিশ অবৈধ দোকানিদের কখনো বাধা দেয় না। অবৈধ বাজার উচ্ছেদের দায়িত্ব তাদেরই।’
জুরাইন বাজার বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুর রহীম বলেন, ‘ভাসমান বিক্রেতাদের বাধা দিলে “পাবলিক” ক্ষেপে যায়। কারণ এদের কাছে তুলনামূলক সস্তায় জিনিসপত্র পাওয়া যায়।’
রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় এস্টেট কর্মকর্তা নূরুন্নবী কবির প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন কারণে পুলিশ না পাওয়ায় বেশ কিছুদিন রেলের ধারের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ ছিল। শিগগির আবারও অভিযান শুরু হবে। অভিযানে জুরাইনসহ নারায়ণগঞ্জ রুটের অবৈধ বাজারও উচ্ছেদ করা হবে।
Monday, July 13, 2015
ঢাকা দক্ষিণে সমাধান হয়নি, সমস্যা বেড়েছে by অরূপ দত্ত
![]() |
| বাংলাবাজার মোড়ে পদচারী–সেতুটি কেউ ব্যবহার করে না, এভাবে খালি পড়ে থাকে। নিচে যানজট। ছবি: হাসান রাজা |
আবর্জনার
কনটেইনার দুটি ভরে উপচে পড়ছে রাস্তায়। চারদিকে ছড়িয়ে আছে পয়োলাইনের
ফুটো নিংড়ানো নোংরা পানি। বাস, মিনিবাস, লেগুনা চলছে বেপরোয়া।
বাসগুলো হঠাৎ যাত্রী তুলছে রাস্তার মাঝ থেকে। দাঁড়িয়ে পড়ছে যেখানে
সেখানে। বেঁধে যাচ্ছে যানজট। ফাঁকফোকরে ছুটছে ঘোড়ার গাড়ি। পথচারীরা
হাঁটছেন রাস্তায়। প্রায় শূন্য চতুর্মুখী পদচারী-সেতুতে অলস সময় কাটাচ্ছে
ভবঘুরেরা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউর একটি উঁচু ভবন থেকে চরম অব্যবস্থাপনার এমনই চিত্র দেখা যায়। কাছে এলে পরিবেশ আরও দুর্গন্ধময়। গত বুধবার দুপুরে ও বৃহস্পতিবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে বাসিন্দা ও দোকানিদের সঙ্গে এসব সমস্যা নিয়ে কথা বললে তাঁরা কিছুটা বিরক্তই হন। তাঁদের কথা হচ্ছে, বছরের পর বছর এ অবস্থাই চলছে। কোনো প্রতিকার নেই।
নবনির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহমান মিয়াজী নির্বাচনের আগে গত ১১ এপ্রিল প্রথম আলোকে শুনিয়েছিলেন আশার কথা। ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দ্রুত নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার। প্রথম আলোকে তিনি বলেছিলেন, ‘সদরঘাট ওয়াইজঘাটসহ চারদিকে নোংরা পরিবেশ, রামকান্ত নন্দী লেন থেকে শাঁখারীবাজারের সুয়ারেজ লাইন খুবই খারাপ। এই পাইপলাইন সংস্কারের জন্য আগে সিটি করপোরেশনে গিয়েছিলাম, তখন বলা হয়েছিল নির্বাচিত প্রতিনিধি না বললে কাজ হবে না। এখন আমি কাউন্সিলরের জন্য নির্বাচন করছি। জিতলে তাদের কাছে ভালোভাবেই যাব।’
প্রায় তিন মাস পর গত বুধবার যখন কাউন্সিলর আবদুর রহমান মিয়াজীকে বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া হলো, তিনি প্রথমে খানিকটা খেপে গেলেন। বললেন, ‘শপথ নেওয়ার পর মাত্র দুই মাস হলো, এত তাড়াতাড়ি কি সমস্যা সমাধান সম্ভব?’
উদ্যোগ তো নিতে পারেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কিছু পয়োলাইন পরিষ্কার করিয়েছি। কিছু করার চেষ্টা করছি।’
কিন্তু এলাকায় গিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে তরল পয়োবর্জ্য। শাঁখারীবাজারের সঙ্গে যুক্ত রমাকান্ত নন্দী লেনের পয়োলাইন থেকে উপচে পড়ছে ময়লা পানি। রমাকান্ত নন্দী লেনের বাসিন্দা অখিল লাল সাহা, কবিরাজ গলির হরিভূষণ ঘোষসহ কয়েকজন বাসিন্দা বললেন, সুইপার ডেকে লাইন পরিষ্কার করলে কোনো কাজ হবে না। মান্ধাতার আমলের লাইন, পুরো লাইনই পাল্টাতে হবে।
এই ওয়ার্ডের কবিরাজ লেন, জিএল গার্থ লেন, কৈশাল ঘোষ লেন, কুমারটুলী লেন, পাটুয়াটুলী লেনসহ বেশির ভাগ এলাকারই এ অবস্থা। গত বুধবার দুপুর এবং বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের বৃষ্টিতে কুমারটুলীসহ ওয়ার্ডের কিছু রাস্তায় স্থায়ী জলাবদ্ধতাও হয়।
সদরঘাট টার্মিনাল এলাকা থেকে বাকল্যান্ড বাঁধ রোড ধরে ওয়াইজঘাট। পুরো রাস্তায় ময়লা-আর্বজনার স্তূপ দেখা যায় আগের মতোই। কাউন্সিলর বলেন, ‘সুইপাররা পরিষ্কার করার কিছু সময় পর আবার ময়লা জমে যায়। বিশেষ করে মৌসুমি ফল ও সবজির বর্জ্য বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে। প্রতিকারের চেষ্টা করা হচ্ছে।’ তবে একজন ফলবিক্রেতা বলেন, অন্য আবর্জনাও নিয়মিত পরিষ্কার না করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।
ওয়ার্ডের বেশির ভাগ রাস্তা অলিগলি আরও ভেঙে গেছে। কোতোয়ালি থানার সামনের রাস্তা, সদরঘাট, ওয়াইজঘাট স্নানঘাট, আহসান উল্লাহ রোড, সিমসন রোড, পাটুয়াটুলী রোড, ইসলামপুর লিয়াকত অ্যাভিনিউ, পি কে রায় রোড (বাংলাবাজার), চিত্তরঞ্জন অ্য্যাভিনিউ, নর্থব্রুক হল রোড, লয়াল স্ট্রিট—প্রায় সব রাস্তার অবস্থাই বেহাল। কোনো কোনো রাস্তায় সৃষ্ট গর্ত বন্ধ করতে ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে।
ইসলামপুর, নবাববাড়ী এলাকায় তৈরি পোশাক আনা-নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তা সব সময়ই খারাপ—এমন যুক্তি দেখালেন কাউন্সিলের তিন সহযোগী। তবে ইসলামপুর নবাববাড়ির আবদুল হক, মিজানুর রহমান, বখতিয়ার আহমেদসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ওই সড়কটি ঠিক কবে মেরামত করা হয়েছে, তাঁরা স্মরণ করতে পারেন না। নির্বাচনের আগে বর্তমান কাউন্সিলর বলেছিলেন, রাস্তা মেরামত করে দেবেন।
জানতে চাইলে কাউন্সিলর বলেন, ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি রাস্তা খারাপ। জরুরি ভিত্তিতে কিছু রাস্তা মেরামতের জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে।
ওয়াইজঘাট স্নানঘাটের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। দখল, অবৈধ স্থাপনা আর অব্যবস্থাপনার সাক্ষী হয়ে আছে যেন ঘাটটি। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক তাপস পাল প্রথম আলোকে বলেন, দুর্গাপূজার পর শতাধিক প্রতিমা এবং কালীপূজার দুই শতাধিক প্রতিমা বিসর্জন হয় এই ঘাটে। সে সময় বোঝা যায়, দিন দিন এখানে অব্যবস্থাপনা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাউন্সিলর বলেন, আগামী দুর্গাপূজার আগে স্নানঘাটের সমস্যা দূর করার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সেখানে একটি গভীর নলকূপ বসানোর কাজ করবে ঢাকা ওয়াসা।
ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস ও নীরব চাঁদাবাজি অ্যাবহত আছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন। তাঁরা বলেন, ‘মুঠোফোনের মাধ্যমে নিয়মিত চাঁদা চাওয়া হয়। না দিলে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউর একটি উঁচু ভবন থেকে চরম অব্যবস্থাপনার এমনই চিত্র দেখা যায়। কাছে এলে পরিবেশ আরও দুর্গন্ধময়। গত বুধবার দুপুরে ও বৃহস্পতিবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে বাসিন্দা ও দোকানিদের সঙ্গে এসব সমস্যা নিয়ে কথা বললে তাঁরা কিছুটা বিরক্তই হন। তাঁদের কথা হচ্ছে, বছরের পর বছর এ অবস্থাই চলছে। কোনো প্রতিকার নেই।
নবনির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহমান মিয়াজী নির্বাচনের আগে গত ১১ এপ্রিল প্রথম আলোকে শুনিয়েছিলেন আশার কথা। ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দ্রুত নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার। প্রথম আলোকে তিনি বলেছিলেন, ‘সদরঘাট ওয়াইজঘাটসহ চারদিকে নোংরা পরিবেশ, রামকান্ত নন্দী লেন থেকে শাঁখারীবাজারের সুয়ারেজ লাইন খুবই খারাপ। এই পাইপলাইন সংস্কারের জন্য আগে সিটি করপোরেশনে গিয়েছিলাম, তখন বলা হয়েছিল নির্বাচিত প্রতিনিধি না বললে কাজ হবে না। এখন আমি কাউন্সিলরের জন্য নির্বাচন করছি। জিতলে তাদের কাছে ভালোভাবেই যাব।’
প্রায় তিন মাস পর গত বুধবার যখন কাউন্সিলর আবদুর রহমান মিয়াজীকে বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়া হলো, তিনি প্রথমে খানিকটা খেপে গেলেন। বললেন, ‘শপথ নেওয়ার পর মাত্র দুই মাস হলো, এত তাড়াতাড়ি কি সমস্যা সমাধান সম্ভব?’
উদ্যোগ তো নিতে পারেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কিছু পয়োলাইন পরিষ্কার করিয়েছি। কিছু করার চেষ্টা করছি।’
কিন্তু এলাকায় গিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে তরল পয়োবর্জ্য। শাঁখারীবাজারের সঙ্গে যুক্ত রমাকান্ত নন্দী লেনের পয়োলাইন থেকে উপচে পড়ছে ময়লা পানি। রমাকান্ত নন্দী লেনের বাসিন্দা অখিল লাল সাহা, কবিরাজ গলির হরিভূষণ ঘোষসহ কয়েকজন বাসিন্দা বললেন, সুইপার ডেকে লাইন পরিষ্কার করলে কোনো কাজ হবে না। মান্ধাতার আমলের লাইন, পুরো লাইনই পাল্টাতে হবে।
এই ওয়ার্ডের কবিরাজ লেন, জিএল গার্থ লেন, কৈশাল ঘোষ লেন, কুমারটুলী লেন, পাটুয়াটুলী লেনসহ বেশির ভাগ এলাকারই এ অবস্থা। গত বুধবার দুপুর এবং বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের বৃষ্টিতে কুমারটুলীসহ ওয়ার্ডের কিছু রাস্তায় স্থায়ী জলাবদ্ধতাও হয়।
সদরঘাট টার্মিনাল এলাকা থেকে বাকল্যান্ড বাঁধ রোড ধরে ওয়াইজঘাট। পুরো রাস্তায় ময়লা-আর্বজনার স্তূপ দেখা যায় আগের মতোই। কাউন্সিলর বলেন, ‘সুইপাররা পরিষ্কার করার কিছু সময় পর আবার ময়লা জমে যায়। বিশেষ করে মৌসুমি ফল ও সবজির বর্জ্য বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে। প্রতিকারের চেষ্টা করা হচ্ছে।’ তবে একজন ফলবিক্রেতা বলেন, অন্য আবর্জনাও নিয়মিত পরিষ্কার না করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।
ওয়ার্ডের বেশির ভাগ রাস্তা অলিগলি আরও ভেঙে গেছে। কোতোয়ালি থানার সামনের রাস্তা, সদরঘাট, ওয়াইজঘাট স্নানঘাট, আহসান উল্লাহ রোড, সিমসন রোড, পাটুয়াটুলী রোড, ইসলামপুর লিয়াকত অ্যাভিনিউ, পি কে রায় রোড (বাংলাবাজার), চিত্তরঞ্জন অ্য্যাভিনিউ, নর্থব্রুক হল রোড, লয়াল স্ট্রিট—প্রায় সব রাস্তার অবস্থাই বেহাল। কোনো কোনো রাস্তায় সৃষ্ট গর্ত বন্ধ করতে ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে।
ইসলামপুর, নবাববাড়ী এলাকায় তৈরি পোশাক আনা-নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তা সব সময়ই খারাপ—এমন যুক্তি দেখালেন কাউন্সিলের তিন সহযোগী। তবে ইসলামপুর নবাববাড়ির আবদুল হক, মিজানুর রহমান, বখতিয়ার আহমেদসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ওই সড়কটি ঠিক কবে মেরামত করা হয়েছে, তাঁরা স্মরণ করতে পারেন না। নির্বাচনের আগে বর্তমান কাউন্সিলর বলেছিলেন, রাস্তা মেরামত করে দেবেন।
জানতে চাইলে কাউন্সিলর বলেন, ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি রাস্তা খারাপ। জরুরি ভিত্তিতে কিছু রাস্তা মেরামতের জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে।
ওয়াইজঘাট স্নানঘাটের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। দখল, অবৈধ স্থাপনা আর অব্যবস্থাপনার সাক্ষী হয়ে আছে যেন ঘাটটি। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক তাপস পাল প্রথম আলোকে বলেন, দুর্গাপূজার পর শতাধিক প্রতিমা এবং কালীপূজার দুই শতাধিক প্রতিমা বিসর্জন হয় এই ঘাটে। সে সময় বোঝা যায়, দিন দিন এখানে অব্যবস্থাপনা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাউন্সিলর বলেন, আগামী দুর্গাপূজার আগে স্নানঘাটের সমস্যা দূর করার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সেখানে একটি গভীর নলকূপ বসানোর কাজ করবে ঢাকা ওয়াসা।
ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস ও নীরব চাঁদাবাজি অ্যাবহত আছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন। তাঁরা বলেন, ‘মুঠোফোনের মাধ্যমে নিয়মিত চাঁদা চাওয়া হয়। না দিলে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়।’
Tuesday, July 7, 2015
নির্বাচনের আগের সমস্যা রয়েই গেল by অরূপ দত্ত
![]() |
| কোর্ট হাউস স্ট্রিট সড়কের বেহাল অবস্থা। খানাখন্দে ভরা এই সড়কে একটু বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ছবিটি গতকাল বিকেলে তোলা l আবদুস সালাম |
তিন
মাস আগে গত ৭ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড
(শাঁখারীবাজার-রাজার দেউড়ি) এলাকা ঘুরে যেসব সমস্যা দেখা গিয়েছিল তার
সমাধান তো হয়ইনি। তিন মাস পর গতকাল রোববার এলাকায় গিয়ে দেখে গেছে অবস্থা
আরও খারাপ হয়েছে।
রাস্তা আরও ভেঙেছে, খাওয়ার পানিতে আসছে ময়লা, হয়ে পড়েছে দুর্গন্ধযুক্ত। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় রাস্তা তলিয়ে আছে। নর্দমার পানি উপচে পড়ছে।
এলাকাবাসীর ভাষায়, ‘একটা বিষয়ে এলাকার উন্নতি হচ্ছে। নির্বাচিত হওয়ার পর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কোতোয়ালি এলাকায় সন্ধ্যা ভবনের পাশে তাঁর কার্যালয়টিকে অনেক টাকায় সৌন্দর্যমণ্ডিত করছেন।’ সেখানে তিনি বসলে এলাকার সমস্যা এবং নানা ধরনের সনদ সংগ্রহের জন্য তাঁরা যেতে পারবেন।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘দুই মাস ২৯ দিন হয় শপথ নিয়েছি। এখনো ভালো কিছু করতে না পারলেও চেষ্টা করছি। শাঁখারীবাজারের পয়োনিষ্কাশন লাইন ৪২ বছর ধরে যা বন্ধ ছিল। এক থেকে ১৪০ নম্বর বাড়ি পর্যন্ত নিষ্কাশন-ব্যবস্থা সচল করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজার দেউড়ি পানির পাম্প চালু হয়েছে।’
এলাকাবাসী বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেই পয়োব্যবস্থা চালুর কাজ শুরু করেছিল ঢাকা ওয়াসা। আর রাজার দেউড়ি পানির পাম্পটি পাশের ওয়ার্ডের অধীন এলাকায়।
বাস্তবতা হচ্ছে শাঁখারীবাজারের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করেও খুব একটা লাভ হয়নি। পানি টোলা, রাজার দেউড়ি, রাধিকা বসাক লেন, আওলাদ হোসেন লেন, উৎসব পোদ্দার লেনে ঘুরে রাস্তায় পয়োপানি ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। দুপুরের বৃষ্টির পানি আর পয়োপানি একাকার হয়ে ছড়িয়ে আছে পুরো এলাকায়।
রাজার দেউড়িতে পানির নতুন পাম্প বসানোর পর সরবরাহ বাড়লেও পুরোনো ও ফাটা পাইপলাইনের কারণে আগের মতোই ময়লা পানি আসছে। শাঁখারীবাজারের মুখে শনি মন্দিরের কাছে রাস্তার একটি কল থেকে গতকালও বাসিন্দাদের পানি সংগ্রহ করতে দেখা যায়। পানির কষ্টের বিষয় তুলে ক্ষোভ জানান পানিটোলার বৃদ্ধা বাসন্তী দেবী, রাধিকা বসাক লেনের অভয় মজুমদার এবং রাজার দেউড়ির সুদেব মজুমদার।
ভাঙা রাস্তায় জলাবদ্ধতা: জেলা প্রশাসন কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয় এবং জজ কোর্টের পেছনে কোর্ট হাউস স্ট্রিট এলাকার রাস্তা গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে বৃষ্টির পানিতে প্রায় তলিয়ে যায়। পানির নিচেই ভাঙাচোরা রাস্তা। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিলেন রিকশা-অটোরিকশার যাত্রী আর পথচারী। রাজার দেউড়ি এলাকার বাসিন্দা অরুণ ঘোষ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আশা করেছিলাম জয়ী কাউন্সিলর অন্তত রাস্তা মেরামত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিবর্তন করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।’
ময়লা পানি মাড়িয়ে কোচিং সেন্টার থেকে ফিরছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি-ইচ্ছুক আলেয়া রহমান। বললেন, ‘রিকশার টায়ার ফেটে যাওয়ার পর শাঁখারীবাজার মোড়েই নামতে হয়েছে।’
ফলের দোকানি আবদুর রশিদ বলেন, জায়গাটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও কোর্ট হাউস স্ট্রিটের রাস্তা কখনোই মেরামত করা হয়নি।
তিন মাস আগে ওয়ার্ডের রাস্তার বেহাল দশা দেখা গিয়েছিল গারদখানার গলি, রাধিকা মোহন বসাক লেন, হরিপ্রসন্ন মিত্র রোড, সৈয়দ আওলাদ হোসেন লেন, প্রসন্ন পোদ্দার লেনে। গতকাল দেখা গেল ওই রাস্তাগুলোর সবই এখন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শাঁখারীবাজার প্রধান রাস্তা খোঁড়া হয়েছিল প্রায় এক মাস আগে। এখনো ঠিক না করায় ১০ ফুটের রাস্তা আরও ছোট হয়েছে।
কাউন্সিলর বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা হিসাব দেবেন বিভিন্ন এলাকার রাস্তা মেরামতে কত টাকা খরচ হতে পারে। তার ভিত্তিতেই কাজ ধরা হবে।’
আবর্জনার স্তূপ : শাঁখারীবাজারের মুখে, কালী মন্দিরের বিপরীত দিকের গলিতে, প্রসন্ন পোদ্দার লেনে আবর্জনার স্তূপ আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা জানান, সিটি করপোরেশনের ওপর ভরসা না করে পাড়ায় পাড়ায় ময়লাবাহী ভ্যানগাড়ি হয়েছে। মাসে ৬০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। সেই ময়লা নিয়ে রাখা হয় রাস্তার মোড়ে মোড়ে। সিটি করপোরেশন অনেক সময় তিন দিনেও সরিয়ে নেয় না।
এ বিষয়ে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান রকিব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়মিতই ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে থাকে। তবে নির্ধারিত কনটেইনারে আবর্জনা না ফেলে যেখানে-সেখানে ফেললে সমস্যা হয়।’
এক ফুটের নর্দমা: শাঁখারীবাজারসহ ওয়ার্ডের বেশির ভাগ এলাকার সব নর্দমার গভীরতা সর্বোচ্চ এক ফুট। বৃষ্টি না হলেও উপচে পড়ে ময়লা পানি। রাখাল চন্দ্র বসাক লেন, বাঁশি চরণ সেন পোদ্দার লেন, ইসলামপুরের একাংশ, কৈলাস ঘোষ লেনসহ কিছু এলাকার নর্দমাতো বন্ধই হয়ে গেছে। সেখানে গৃহস্থালির বর্জ্যও ফেলা হয়। তার ওপর এলাকার গ্যাস-সংযোগের লাইন গেছে খোলা নর্দমার ভেতর দিয়েই।
কাউন্সিলর রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, এলাকাবাসীকে নর্দমায় গৃহস্থালির বর্জ্য না ফেলতে অনুরোধ করেছেন। আগে পুরো ওয়ার্ডে ১০ হাজার লোক বাস করতেন। এখন বাস করেন লক্ষাধিক। নর্দমাকে অন্তত তিন ফুট গভীর করতে হবে। এ ছাড়াও পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য প্রচুর তহবিলের প্রয়োজন।
রাস্তা আরও ভেঙেছে, খাওয়ার পানিতে আসছে ময়লা, হয়ে পড়েছে দুর্গন্ধযুক্ত। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় রাস্তা তলিয়ে আছে। নর্দমার পানি উপচে পড়ছে।
এলাকাবাসীর ভাষায়, ‘একটা বিষয়ে এলাকার উন্নতি হচ্ছে। নির্বাচিত হওয়ার পর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কোতোয়ালি এলাকায় সন্ধ্যা ভবনের পাশে তাঁর কার্যালয়টিকে অনেক টাকায় সৌন্দর্যমণ্ডিত করছেন।’ সেখানে তিনি বসলে এলাকার সমস্যা এবং নানা ধরনের সনদ সংগ্রহের জন্য তাঁরা যেতে পারবেন।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘দুই মাস ২৯ দিন হয় শপথ নিয়েছি। এখনো ভালো কিছু করতে না পারলেও চেষ্টা করছি। শাঁখারীবাজারের পয়োনিষ্কাশন লাইন ৪২ বছর ধরে যা বন্ধ ছিল। এক থেকে ১৪০ নম্বর বাড়ি পর্যন্ত নিষ্কাশন-ব্যবস্থা সচল করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজার দেউড়ি পানির পাম্প চালু হয়েছে।’
এলাকাবাসী বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেই পয়োব্যবস্থা চালুর কাজ শুরু করেছিল ঢাকা ওয়াসা। আর রাজার দেউড়ি পানির পাম্পটি পাশের ওয়ার্ডের অধীন এলাকায়।
বাস্তবতা হচ্ছে শাঁখারীবাজারের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করেও খুব একটা লাভ হয়নি। পানি টোলা, রাজার দেউড়ি, রাধিকা বসাক লেন, আওলাদ হোসেন লেন, উৎসব পোদ্দার লেনে ঘুরে রাস্তায় পয়োপানি ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। দুপুরের বৃষ্টির পানি আর পয়োপানি একাকার হয়ে ছড়িয়ে আছে পুরো এলাকায়।
রাজার দেউড়িতে পানির নতুন পাম্প বসানোর পর সরবরাহ বাড়লেও পুরোনো ও ফাটা পাইপলাইনের কারণে আগের মতোই ময়লা পানি আসছে। শাঁখারীবাজারের মুখে শনি মন্দিরের কাছে রাস্তার একটি কল থেকে গতকালও বাসিন্দাদের পানি সংগ্রহ করতে দেখা যায়। পানির কষ্টের বিষয় তুলে ক্ষোভ জানান পানিটোলার বৃদ্ধা বাসন্তী দেবী, রাধিকা বসাক লেনের অভয় মজুমদার এবং রাজার দেউড়ির সুদেব মজুমদার।
ভাঙা রাস্তায় জলাবদ্ধতা: জেলা প্রশাসন কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয় এবং জজ কোর্টের পেছনে কোর্ট হাউস স্ট্রিট এলাকার রাস্তা গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে বৃষ্টির পানিতে প্রায় তলিয়ে যায়। পানির নিচেই ভাঙাচোরা রাস্তা। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিলেন রিকশা-অটোরিকশার যাত্রী আর পথচারী। রাজার দেউড়ি এলাকার বাসিন্দা অরুণ ঘোষ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আশা করেছিলাম জয়ী কাউন্সিলর অন্তত রাস্তা মেরামত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিবর্তন করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।’
ময়লা পানি মাড়িয়ে কোচিং সেন্টার থেকে ফিরছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি-ইচ্ছুক আলেয়া রহমান। বললেন, ‘রিকশার টায়ার ফেটে যাওয়ার পর শাঁখারীবাজার মোড়েই নামতে হয়েছে।’
ফলের দোকানি আবদুর রশিদ বলেন, জায়গাটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও কোর্ট হাউস স্ট্রিটের রাস্তা কখনোই মেরামত করা হয়নি।
তিন মাস আগে ওয়ার্ডের রাস্তার বেহাল দশা দেখা গিয়েছিল গারদখানার গলি, রাধিকা মোহন বসাক লেন, হরিপ্রসন্ন মিত্র রোড, সৈয়দ আওলাদ হোসেন লেন, প্রসন্ন পোদ্দার লেনে। গতকাল দেখা গেল ওই রাস্তাগুলোর সবই এখন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শাঁখারীবাজার প্রধান রাস্তা খোঁড়া হয়েছিল প্রায় এক মাস আগে। এখনো ঠিক না করায় ১০ ফুটের রাস্তা আরও ছোট হয়েছে।
কাউন্সিলর বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা হিসাব দেবেন বিভিন্ন এলাকার রাস্তা মেরামতে কত টাকা খরচ হতে পারে। তার ভিত্তিতেই কাজ ধরা হবে।’
আবর্জনার স্তূপ : শাঁখারীবাজারের মুখে, কালী মন্দিরের বিপরীত দিকের গলিতে, প্রসন্ন পোদ্দার লেনে আবর্জনার স্তূপ আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা জানান, সিটি করপোরেশনের ওপর ভরসা না করে পাড়ায় পাড়ায় ময়লাবাহী ভ্যানগাড়ি হয়েছে। মাসে ৬০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। সেই ময়লা নিয়ে রাখা হয় রাস্তার মোড়ে মোড়ে। সিটি করপোরেশন অনেক সময় তিন দিনেও সরিয়ে নেয় না।
এ বিষয়ে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান রকিব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়মিতই ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে থাকে। তবে নির্ধারিত কনটেইনারে আবর্জনা না ফেলে যেখানে-সেখানে ফেললে সমস্যা হয়।’
এক ফুটের নর্দমা: শাঁখারীবাজারসহ ওয়ার্ডের বেশির ভাগ এলাকার সব নর্দমার গভীরতা সর্বোচ্চ এক ফুট। বৃষ্টি না হলেও উপচে পড়ে ময়লা পানি। রাখাল চন্দ্র বসাক লেন, বাঁশি চরণ সেন পোদ্দার লেন, ইসলামপুরের একাংশ, কৈলাস ঘোষ লেনসহ কিছু এলাকার নর্দমাতো বন্ধই হয়ে গেছে। সেখানে গৃহস্থালির বর্জ্যও ফেলা হয়। তার ওপর এলাকার গ্যাস-সংযোগের লাইন গেছে খোলা নর্দমার ভেতর দিয়েই।
কাউন্সিলর রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, এলাকাবাসীকে নর্দমায় গৃহস্থালির বর্জ্য না ফেলতে অনুরোধ করেছেন। আগে পুরো ওয়ার্ডে ১০ হাজার লোক বাস করতেন। এখন বাস করেন লক্ষাধিক। নর্দমাকে অন্তত তিন ফুট গভীর করতে হবে। এ ছাড়াও পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য প্রচুর তহবিলের প্রয়োজন।
Monday, July 6, 2015
যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি- ঢাকা উত্তরে: জলাবদ্ধতা, আবর্জনার ভাগাড় by অরূপ দত্ত
![]() |
| মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনের পেছনে সিআরপির পাশে খালের ওপর ভাষানটেক বস্তি। দখলে–দূষণে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় মিরপুরের অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে l সাবিনা ইয়াসমিন |
ভাঙা
খোঁড়া রাস্তা। মাঝারি বৃষ্টিতে হাঁটুপানি। হঠাৎ লোডশেডিং। রিকশাটি সোজা
গর্তে। ময়লা পানিতে আরোহী মা ও মেয়ে। মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনে গ্লোরি
স্কুল অ্যান্ড কলেজের গলিতে এমন দৃশ্য দেখেও অবাক হননি দুই পাশের দোকানিরা।
কারণ, বর্ষা শুরুর পর প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
মাত্র কয়েক দিন আগে গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার কষ্টের অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন স্কুলশিক্ষিকা আঞ্জুমান আরা বেগম। গত বুধবার সকালে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘মেয়ের বাঁ হাঁটুর ব্যথাটি এখনো যায়নি। নোংরা পানিতে আমার চশমা পড়ে যাওয়ার পর আর খুঁজে পাইনি।’ দুর্ঘটনার দিন সকাল-সন্ধ্যার ২৭ মিলিমিটারের বৃষ্টিতে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা হয়েছিল।
বুধবার দেখা গেল, খোঁড়াখুঁড়ি আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গ্লোরি স্কুলের রাস্তাটির এমনই বেহাল অবস্থা যে, মনে হয় দেখার কেউ নেই। পানির সরবরাহ বাড়াতে তিন মাস আগে ঢাকা ওয়াসা সড়কটি খুঁড়েছে। বিশাল বিশাল গর্ত করে চারপাশে পাকা বক্স তৈরি করা হয়েছে। বসানো হয়েছে মোটা পাইপ। সেই গর্ত এখন মরণ ফাঁদ। গর্ত ছাড়াও রাস্তার এখানে-সেখানে ইট বেরিয়ে আছে। এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন, মোকাররম হোসেন, সৈকত তালুকদারসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, রাস্তা তো মেরামত হয়ইনি, উপরন্তু পানির সরবরাহও বাড়েনি।
ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ডি এম কামরুল আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে একটি বিশেষ প্রকল্পের কাজ চলছে। কাজ শেষে পানির সরবরাহ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, রাস্তা খোঁড়ার আগেই মেরামতের জন্য ক্ষতিপূরণ সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হয়।
এলাকাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। মিরপুর ১৩ ও ১৪ নম্বর সেকশন, কাফরুল ও আশপাশের এলাকা নিয়ে এই ওয়ার্ড। কাফরুল বাইশটেকি, হাজি আলী হোসেন রোড, ব্লক বি ও সির অন্তত ১০টি রাস্তায় দেখা গেছে, আগে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে চলার মতো অবস্থা নেই।
মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হলেই ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। তবে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগদলীয় বর্তমান কাউন্সিলর মো. জামাল মোস্তফা। প্রশ্নের মুখে গতকাল তাঁর সুর একটু ভিন্ন। বললেন, ‘শপথ নেওয়ার পর এত অল্প সময়ে সবকিছু করা সম্ভব নয়। কী কাজ হয়েছে, তা অন্তত এক বছর পর খবর নেবেন। তবে একেবারেই যে কাজ করছি না, তা নয়। রাস্তার বাতি বছরের পর বছর ভালো ছিল না, সারানো হয়েছে। রাস্তা মেরামতের চেষ্টা হচ্ছে। তবে প্রধান সমস্যা ঢাকা ওয়াসা। ওয়াসার কারণে এলাকায় জলাবদ্ধতা। ১৪ নম্বর থেকে ভাষানটেক হয়ে গোড়ান চটবাড়ি পর্যন্ত (ভাষানটেক-রূপনগর খাল) খালটি ভরাট হয়ে গেছে। ওয়াসা ভরাটমুক্ত না করায় পানি যেতে পারে না।’
১৪ নম্বরের পেছনে বাংলাদেশ পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের (সিআরপি) পাশে ভাষানটেক বস্তি এলাকায় খালটি ময়লা পানি ও আবর্জনায় সংকুচিত হয়ে আছে। দুই বছর আগে সেখানে খাল ছিল ৩০ ফুট চওড়া। এখন ৫ ফুট থেকে সর্বোচ্চ ১৫ ফুট।
হারমেন মেইনার স্কুলের পাশে ১৩ নম্বর প্রধান সড়কের ওপর ময়লা-আবর্জনার দুটি কনটেইনার দেখা যায় গত বুধবার। পুরো এলাকার আবর্জনাবাহী ভ্যান এসে সেখানে জড়ো করে ঢোকানো হচ্ছে কনটেইনারে। কনটেইনার বহনের জন্য রাখা হয়েছে ট্রাক। দুর্গন্ধ ঠেকাতে বন্ধ করে রাখা হয়েছে হারমেন মেইনার স্কুলের রাস্তামুখী জানালাগুলো।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, কনটেইনার রাখার আগের জায়গা নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় আপাতত হারমেন মেইনার স্কুলের কাছে রাখা হয়েছিল। পরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
মাত্র কয়েক দিন আগে গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার কষ্টের অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন স্কুলশিক্ষিকা আঞ্জুমান আরা বেগম। গত বুধবার সকালে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘মেয়ের বাঁ হাঁটুর ব্যথাটি এখনো যায়নি। নোংরা পানিতে আমার চশমা পড়ে যাওয়ার পর আর খুঁজে পাইনি।’ দুর্ঘটনার দিন সকাল-সন্ধ্যার ২৭ মিলিমিটারের বৃষ্টিতে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা হয়েছিল।
বুধবার দেখা গেল, খোঁড়াখুঁড়ি আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গ্লোরি স্কুলের রাস্তাটির এমনই বেহাল অবস্থা যে, মনে হয় দেখার কেউ নেই। পানির সরবরাহ বাড়াতে তিন মাস আগে ঢাকা ওয়াসা সড়কটি খুঁড়েছে। বিশাল বিশাল গর্ত করে চারপাশে পাকা বক্স তৈরি করা হয়েছে। বসানো হয়েছে মোটা পাইপ। সেই গর্ত এখন মরণ ফাঁদ। গর্ত ছাড়াও রাস্তার এখানে-সেখানে ইট বেরিয়ে আছে। এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন, মোকাররম হোসেন, সৈকত তালুকদারসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, রাস্তা তো মেরামত হয়ইনি, উপরন্তু পানির সরবরাহও বাড়েনি।
ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ডি এম কামরুল আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে একটি বিশেষ প্রকল্পের কাজ চলছে। কাজ শেষে পানির সরবরাহ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, রাস্তা খোঁড়ার আগেই মেরামতের জন্য ক্ষতিপূরণ সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হয়।
এলাকাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। মিরপুর ১৩ ও ১৪ নম্বর সেকশন, কাফরুল ও আশপাশের এলাকা নিয়ে এই ওয়ার্ড। কাফরুল বাইশটেকি, হাজি আলী হোসেন রোড, ব্লক বি ও সির অন্তত ১০টি রাস্তায় দেখা গেছে, আগে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে চলার মতো অবস্থা নেই।
মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হলেই ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। তবে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগদলীয় বর্তমান কাউন্সিলর মো. জামাল মোস্তফা। প্রশ্নের মুখে গতকাল তাঁর সুর একটু ভিন্ন। বললেন, ‘শপথ নেওয়ার পর এত অল্প সময়ে সবকিছু করা সম্ভব নয়। কী কাজ হয়েছে, তা অন্তত এক বছর পর খবর নেবেন। তবে একেবারেই যে কাজ করছি না, তা নয়। রাস্তার বাতি বছরের পর বছর ভালো ছিল না, সারানো হয়েছে। রাস্তা মেরামতের চেষ্টা হচ্ছে। তবে প্রধান সমস্যা ঢাকা ওয়াসা। ওয়াসার কারণে এলাকায় জলাবদ্ধতা। ১৪ নম্বর থেকে ভাষানটেক হয়ে গোড়ান চটবাড়ি পর্যন্ত (ভাষানটেক-রূপনগর খাল) খালটি ভরাট হয়ে গেছে। ওয়াসা ভরাটমুক্ত না করায় পানি যেতে পারে না।’
১৪ নম্বরের পেছনে বাংলাদেশ পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের (সিআরপি) পাশে ভাষানটেক বস্তি এলাকায় খালটি ময়লা পানি ও আবর্জনায় সংকুচিত হয়ে আছে। দুই বছর আগে সেখানে খাল ছিল ৩০ ফুট চওড়া। এখন ৫ ফুট থেকে সর্বোচ্চ ১৫ ফুট।
হারমেন মেইনার স্কুলের পাশে ১৩ নম্বর প্রধান সড়কের ওপর ময়লা-আবর্জনার দুটি কনটেইনার দেখা যায় গত বুধবার। পুরো এলাকার আবর্জনাবাহী ভ্যান এসে সেখানে জড়ো করে ঢোকানো হচ্ছে কনটেইনারে। কনটেইনার বহনের জন্য রাখা হয়েছে ট্রাক। দুর্গন্ধ ঠেকাতে বন্ধ করে রাখা হয়েছে হারমেন মেইনার স্কুলের রাস্তামুখী জানালাগুলো।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, কনটেইনার রাখার আগের জায়গা নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় আপাতত হারমেন মেইনার স্কুলের কাছে রাখা হয়েছিল। পরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
Wednesday, July 1, 2015
ঢাকা দক্ষিণ সিটি- অবৈধ দখলে বালুর মাঠের ১০ বিঘা জমি by অরূপ দত্ত
![]() |
| উটের খামার, টিনের ছাপরা ও খাল ভরাট করে রাজউকের জমি বেদখল। ছবিটি গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন থেকে তোলা l আবদুস সালাম |
অরক্ষিতভাবে
ফেলে রাখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে ভরাট করা জলাধারের ১০ বিঘার মতো
জায়গা চলে গেছে অবৈধ দখলদারদের হাতে। গড়ে উঠেছে শতাধিক গ্যারেজ, অবৈধ
বাসস্ট্যান্ড, বস্তিঘর। নিয়মিত যোগ হচ্ছে টিনের ও বাঁশের নতুন নতুন
স্থাপনা। পানি ধারণের বিশাল অংশ বিলীন হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে মাঝারি ধরনের
বৃষ্টিতেই এলাকার চারদিকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে প্রায় ১৫ বিঘা জায়গায় জলাধার ছিল। একসময় সেখানে খাল ও ঝিলপথে নৌযান চলত। আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে ভরাট শুরু হয়। নব্বই দশকের মাঝামাঝি পুরোপুরি ভরাট করে ফেলা হয়। স্থাপত্য ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘চারদিকে জলাবদ্ধতার জন্য অন্যতম দায়ী জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া। ঢাকা শহর থেকে এ ধরনের পানি ধারণ ক্ষেত্রগুলোর অস্তিত্ব হারিয়ে গিয়ে নগরবাসীর জন্য স্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি করেছে।’
ভারী বা মাঝারি বৃষ্টির পানি গড়িয়ে আগে খালে ও ঝিলে পড়ত। এখন বৃষ্টির পানি জমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডের মধ্যে পড়েছে কমলাপুর, মতিঝিল, বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি, সোনালী ব্যাংক কলোনি, আর কে মিশন রোড ও গোপীবাগ কবি জসীমউদ্দীন রোড, টিটি পাড়া এলাকাগুলো।
ঢাকা ওয়াসা সেগুনবাগিচা খালের ওপরই রমনা মৎস্য ভবন এলাকা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ বক্স কালভার্ট নির্মাণ করে। যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনের জায়গাও রয়েছে। এর বাইরে রাজউক কিছু জায়গা বিক্রি করে এবং কিছু জায়গার বাণিজ্যিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি প্রায় ১০ বিঘা জায়গা দখলদারদের হাতে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় দখলকারীরা গড়ে তুলেছে পাকা, আধা পাকা স্থাপনা।
বর্তমানে এলাকাটি বালুর মাঠ বলে পরিচিত। সেখানে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা সড়ক ও কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। জায়গার মালিক রাজউক সড়কটি নির্মাণ করে ১০ বছর আগে ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে। কমিউনিটি সেন্টারের জন্য তিন বিঘা জায়গা বরাদ্দ নেওয়া হয়। বিশাল জায়গাজুড়ে রয়েছে উটের খামার।
মোটর গ্যারেজ, বাসস্ট্যান্ড, দোকানপাট: গতকাল সোমবার সকালে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনের অংশ থেকে শুরু করে টানা দক্ষিণ দিকে অন্তত ৭০টির মতো মোটর গ্যারেজ। টিনের বা বাঁশের বেড়ার এসব স্থাপনার সামনে খোলা জায়গা। সেখানে এবং সামনের রাস্তায় গাড়ির যন্ত্রপাতি বিছিয়ে রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন মালিকেরা। এখানে তিনটি গ্যারেজের মালিক আবদুল হালিম। প্রথম আলোকে তিনি জানান, তাঁর ট্রেড লাইসেন্স আছে। এখানে গ্যারেজ করার জন্য রাজউকের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন যেহেতু ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে, তাই রাজউকের অনুমতির প্রয়োজন নেই।’
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগ ও রাজস্ব বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, এখানে গ্যারেজ করার কোনো অনুমতি তারা দেয়নি। রাজস্ব বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু সেই লাইসেন্স গ্যারেজ বা দোকান নির্মাণের অনুমতিপত্র নয়।
বালুর মাঠের পূর্ব প্রান্তে এবং বিচ্ছিন্নভাবে রয়েছে আরও ৩০টির গ্যারেজ। অনেককেই মালিক বলে জানা গেলেও তাঁরা কথা বলতে রাজি হননি।
বালুর মাঠের দক্ষিণ দিকে কমিউনিটি সেন্টারের সামনের রাস্তার অর্ধেকটাজুড়ে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড। পূর্ব দিকের খোলা জায়গাও এলোমেলোভাবে রাখা হয় বাস। কমলাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছন পর্যন্ত রয়েছে বিভিন্ন দোকানপাট ও বস্তি।
সন্ধ্যার পর এলাকায় ছিনতাই ও নানা অসামাজিক কাজও হয় বলে পথচারী ও ভুক্তভোগীরা বলেন। রামকৃষ্ণ মিশন রোডের দ্বিতীয় লেনের বাসিন্দা ইমরুল আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, শাজাহানপুর এলাকায় তাঁর দোকানে যাওয়া আসায় বালুর মাঠের রাস্তা ব্যবহার করেন। কিন্তু ইদানীং সন্ধ্যার পর এ রাস্তায় চলাচল করতে ভয় পান। ১৫ জুন রাত নয়টার দিকে অস্ত্রের মুখে তাঁর মানিব্যাগ ও মুঠোফোন কেড়ে নেয় তিন ছিনতাইকারী। রিকশাওয়ালাকেও মারধর করে।
যোগাযোগ করা হলে রাজউকের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজউকের নিজস্ব জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে রাজউক।’ তবে ঠিক কবে উচ্ছেদ অভিযান চলবে, তা তিনি জানাননি।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে প্রায় ১৫ বিঘা জায়গায় জলাধার ছিল। একসময় সেখানে খাল ও ঝিলপথে নৌযান চলত। আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে ভরাট শুরু হয়। নব্বই দশকের মাঝামাঝি পুরোপুরি ভরাট করে ফেলা হয়। স্থাপত্য ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘চারদিকে জলাবদ্ধতার জন্য অন্যতম দায়ী জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া। ঢাকা শহর থেকে এ ধরনের পানি ধারণ ক্ষেত্রগুলোর অস্তিত্ব হারিয়ে গিয়ে নগরবাসীর জন্য স্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি করেছে।’
ভারী বা মাঝারি বৃষ্টির পানি গড়িয়ে আগে খালে ও ঝিলে পড়ত। এখন বৃষ্টির পানি জমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডের মধ্যে পড়েছে কমলাপুর, মতিঝিল, বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি, সোনালী ব্যাংক কলোনি, আর কে মিশন রোড ও গোপীবাগ কবি জসীমউদ্দীন রোড, টিটি পাড়া এলাকাগুলো।
ঢাকা ওয়াসা সেগুনবাগিচা খালের ওপরই রমনা মৎস্য ভবন এলাকা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ বক্স কালভার্ট নির্মাণ করে। যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনের জায়গাও রয়েছে। এর বাইরে রাজউক কিছু জায়গা বিক্রি করে এবং কিছু জায়গার বাণিজ্যিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি প্রায় ১০ বিঘা জায়গা দখলদারদের হাতে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় দখলকারীরা গড়ে তুলেছে পাকা, আধা পাকা স্থাপনা।
বর্তমানে এলাকাটি বালুর মাঠ বলে পরিচিত। সেখানে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা সড়ক ও কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। জায়গার মালিক রাজউক সড়কটি নির্মাণ করে ১০ বছর আগে ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে। কমিউনিটি সেন্টারের জন্য তিন বিঘা জায়গা বরাদ্দ নেওয়া হয়। বিশাল জায়গাজুড়ে রয়েছে উটের খামার।
মোটর গ্যারেজ, বাসস্ট্যান্ড, দোকানপাট: গতকাল সোমবার সকালে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনের অংশ থেকে শুরু করে টানা দক্ষিণ দিকে অন্তত ৭০টির মতো মোটর গ্যারেজ। টিনের বা বাঁশের বেড়ার এসব স্থাপনার সামনে খোলা জায়গা। সেখানে এবং সামনের রাস্তায় গাড়ির যন্ত্রপাতি বিছিয়ে রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন মালিকেরা। এখানে তিনটি গ্যারেজের মালিক আবদুল হালিম। প্রথম আলোকে তিনি জানান, তাঁর ট্রেড লাইসেন্স আছে। এখানে গ্যারেজ করার জন্য রাজউকের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন যেহেতু ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে, তাই রাজউকের অনুমতির প্রয়োজন নেই।’
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগ ও রাজস্ব বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, এখানে গ্যারেজ করার কোনো অনুমতি তারা দেয়নি। রাজস্ব বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু সেই লাইসেন্স গ্যারেজ বা দোকান নির্মাণের অনুমতিপত্র নয়।
বালুর মাঠের পূর্ব প্রান্তে এবং বিচ্ছিন্নভাবে রয়েছে আরও ৩০টির গ্যারেজ। অনেককেই মালিক বলে জানা গেলেও তাঁরা কথা বলতে রাজি হননি।
বালুর মাঠের দক্ষিণ দিকে কমিউনিটি সেন্টারের সামনের রাস্তার অর্ধেকটাজুড়ে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড। পূর্ব দিকের খোলা জায়গাও এলোমেলোভাবে রাখা হয় বাস। কমলাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছন পর্যন্ত রয়েছে বিভিন্ন দোকানপাট ও বস্তি।
সন্ধ্যার পর এলাকায় ছিনতাই ও নানা অসামাজিক কাজও হয় বলে পথচারী ও ভুক্তভোগীরা বলেন। রামকৃষ্ণ মিশন রোডের দ্বিতীয় লেনের বাসিন্দা ইমরুল আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, শাজাহানপুর এলাকায় তাঁর দোকানে যাওয়া আসায় বালুর মাঠের রাস্তা ব্যবহার করেন। কিন্তু ইদানীং সন্ধ্যার পর এ রাস্তায় চলাচল করতে ভয় পান। ১৫ জুন রাত নয়টার দিকে অস্ত্রের মুখে তাঁর মানিব্যাগ ও মুঠোফোন কেড়ে নেয় তিন ছিনতাইকারী। রিকশাওয়ালাকেও মারধর করে।
যোগাযোগ করা হলে রাজউকের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজউকের নিজস্ব জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে রাজউক।’ তবে ঠিক কবে উচ্ছেদ অভিযান চলবে, তা তিনি জানাননি।
Tuesday, June 30, 2015
সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবৈধ বাস–ট্রাক টার্মিনাল by অরূপ দত্ত
সড়কটি বাস-ট্রাকের অবৈধ টার্মিনালে পরিণত হয়েছে। চালকেরা তাঁদের মর্জিমাফিক গাড়িগুলো দাঁড় করিয়ে রেখেছেন সড়কের দুই পাশ দিয়ে।
যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল হয়ে রাজধানী সুপার মাকের্ট পর্যন্ত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের (গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী উড়াল সড়ক) নিচে অবৈধ টার্মিনালের বিস্তার। এর সঙ্গে যাত্রাবাড়ী মোড় এবং ডেমরাগামী সড়কের মুখেই অবৈধ টেম্পোস্ট্যান্ড। ফলে সড়কটি সংকুচিত হয়ে সৃষ্টি করছে তীব্র যানজটের।
এ ছাড়া সড়কের দুই পাশজুড়ে কাঁচা সবজি থেকে আসবাবপত্রসহ হরেক পণ্যের বাজার। যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ। এর সঙ্গে পথের ওপরই রাখা আবর্জনার কনটেইনার। গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ওই এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী প্রধান সড়কে ছিল প্রচণ্ড যানজট। বিশৃঙ্খলভাবে বাস-ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখায় নোয়াব স্টোন টাওয়ারের কাছে সড়ক এতই সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে যে সেখান দিয়ে একটির বেশি বাস যেতে পারছে না। এসব বাস যাবে চট্টগ্রাম, সিলেট বা নোয়াখালীর দিকে। যাত্রাবাড়ী থানার কাছেও সড়ক বন্ধ করে বাস-ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখতে দেখা গেছে।
দুই পাশের দোকানের ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী লোকজন বলেন, সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ বাস-ট্রাক ও টেম্পোস্ট্যান্ডের জন্য প্রচণ্ড যানজট হচ্ছে। দিন দশেক পর ‘ঈদের যাত্রা’ শুরু হবে। এখন থেকে এই প্রধান সড়কটির অবৈধ টার্মিনাল উচ্ছেদ না করা হলে ঢাকা থেকে বেরোতেই সব দূরপাল্লার পরিবহনের কয়েক ঘণ্টা লেগে যাবে। ওই ব্যবসায়ীরা বলেন, উড়ালসড়ক থাকলেও অতিরিক্ত টোলের জন্য বাসসহ বেশির ভাগ যানবাহন দুই পাশের সড়কই ব্যবহার করে। তাই এই সড়কের ওপর চাপ পড়ে বেশি।
অবশ্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক-পূর্ব) মাইনুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ঈদ সামনে রেখে অবৈধ পার্কিং ও সড়কে বিশৃঙ্খলতা রোধে প্রচার অভিযান জোরদার করা হবে। সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
এই অবৈধ টার্মিনালের কারণে বর্তমানে গুলিস্তান থেকে যাত্রাবাড়ী যাতায়াতে সব ধরনের যানবাহনেরই দুঃসহ যানজটে পড়তে হচ্ছে। অফিস ছুটির পর বিকেলে মতিঝিল থেকে, আর কে মিশন রোড, রাজধানী সুপার মার্কেট হয়ে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগছে। ফিরতি পথেও একই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বাজার, অবৈধ স্থাপনা: উত্তর যাত্রাবাড়ী যাওয়ার সড়কের মুখে শহীদ জিয়াউর রহমান বিদ্যালয়ের সামনে ফুটপাতের ওপরই অনেক স্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেখা গেল, ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের ওপরও চৌকি পেতে সবজির দোকান। সড়কের ঠিক মাঝখানে রিকশাভ্যানে করে বিক্রি হচ্ছে মুরগি। রয়েছে ফলমূল, প্লাস্টিকসামগ্রী আর স্যান্ডেলের পসরা।
সবজি বিক্রেতা আবদুল মিয়া বলেন, সড়কে পসরা সাজানো ছাড়া তাঁর মতো লোকদের উপায় নেই। তবে এখানে বসার জন্য তাঁকে টাকা দিতে হয়। কাদের টাকা দিতে হয়, সেটা বলতে রাজি হননি তিনি।
যাত্রাবাড়ী থানার বিপরীত দিকে সড়কজুড়ে বসা বাজার উচ্ছেদ করা হয়েছিল গত বছরের শেষ দিকে। সেখানে আবারও বাজার বসেছে। তরিতরকারি, ফলমূলের সারি সারি দোকান।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্থানীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হাশেম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) লোকবল কম, তাই উচ্ছেদ সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া ফুটপাতের কাঁচাবাজার সকালে উচ্ছেদ করলে বিকেলেই আবার বসে যাচ্ছে। তাঁদের পক্ষে বারবার উচ্ছেদের কাজ পরিচালনা সম্ভব নয়।
সড়কের ওপরই বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অবৈধ স্থাপনা। যাত্রাবাড়ীর কাছে ফাতেমা নাজ ফিলিং স্টেশনের সামনে তিনটি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে।
যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল হয়ে রাজধানী সুপার মাকের্ট পর্যন্ত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের (গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী উড়াল সড়ক) নিচে অবৈধ টার্মিনালের বিস্তার। এর সঙ্গে যাত্রাবাড়ী মোড় এবং ডেমরাগামী সড়কের মুখেই অবৈধ টেম্পোস্ট্যান্ড। ফলে সড়কটি সংকুচিত হয়ে সৃষ্টি করছে তীব্র যানজটের।
এ ছাড়া সড়কের দুই পাশজুড়ে কাঁচা সবজি থেকে আসবাবপত্রসহ হরেক পণ্যের বাজার। যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ। এর সঙ্গে পথের ওপরই রাখা আবর্জনার কনটেইনার। গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ওই এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী প্রধান সড়কে ছিল প্রচণ্ড যানজট। বিশৃঙ্খলভাবে বাস-ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখায় নোয়াব স্টোন টাওয়ারের কাছে সড়ক এতই সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে যে সেখান দিয়ে একটির বেশি বাস যেতে পারছে না। এসব বাস যাবে চট্টগ্রাম, সিলেট বা নোয়াখালীর দিকে। যাত্রাবাড়ী থানার কাছেও সড়ক বন্ধ করে বাস-ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখতে দেখা গেছে।
দুই পাশের দোকানের ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী লোকজন বলেন, সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ বাস-ট্রাক ও টেম্পোস্ট্যান্ডের জন্য প্রচণ্ড যানজট হচ্ছে। দিন দশেক পর ‘ঈদের যাত্রা’ শুরু হবে। এখন থেকে এই প্রধান সড়কটির অবৈধ টার্মিনাল উচ্ছেদ না করা হলে ঢাকা থেকে বেরোতেই সব দূরপাল্লার পরিবহনের কয়েক ঘণ্টা লেগে যাবে। ওই ব্যবসায়ীরা বলেন, উড়ালসড়ক থাকলেও অতিরিক্ত টোলের জন্য বাসসহ বেশির ভাগ যানবাহন দুই পাশের সড়কই ব্যবহার করে। তাই এই সড়কের ওপর চাপ পড়ে বেশি।
অবশ্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক-পূর্ব) মাইনুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ঈদ সামনে রেখে অবৈধ পার্কিং ও সড়কে বিশৃঙ্খলতা রোধে প্রচার অভিযান জোরদার করা হবে। সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
এই অবৈধ টার্মিনালের কারণে বর্তমানে গুলিস্তান থেকে যাত্রাবাড়ী যাতায়াতে সব ধরনের যানবাহনেরই দুঃসহ যানজটে পড়তে হচ্ছে। অফিস ছুটির পর বিকেলে মতিঝিল থেকে, আর কে মিশন রোড, রাজধানী সুপার মার্কেট হয়ে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগছে। ফিরতি পথেও একই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বাজার, অবৈধ স্থাপনা: উত্তর যাত্রাবাড়ী যাওয়ার সড়কের মুখে শহীদ জিয়াউর রহমান বিদ্যালয়ের সামনে ফুটপাতের ওপরই অনেক স্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেখা গেল, ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের ওপরও চৌকি পেতে সবজির দোকান। সড়কের ঠিক মাঝখানে রিকশাভ্যানে করে বিক্রি হচ্ছে মুরগি। রয়েছে ফলমূল, প্লাস্টিকসামগ্রী আর স্যান্ডেলের পসরা।
সবজি বিক্রেতা আবদুল মিয়া বলেন, সড়কে পসরা সাজানো ছাড়া তাঁর মতো লোকদের উপায় নেই। তবে এখানে বসার জন্য তাঁকে টাকা দিতে হয়। কাদের টাকা দিতে হয়, সেটা বলতে রাজি হননি তিনি।
যাত্রাবাড়ী থানার বিপরীত দিকে সড়কজুড়ে বসা বাজার উচ্ছেদ করা হয়েছিল গত বছরের শেষ দিকে। সেখানে আবারও বাজার বসেছে। তরিতরকারি, ফলমূলের সারি সারি দোকান।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্থানীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হাশেম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) লোকবল কম, তাই উচ্ছেদ সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া ফুটপাতের কাঁচাবাজার সকালে উচ্ছেদ করলে বিকেলেই আবার বসে যাচ্ছে। তাঁদের পক্ষে বারবার উচ্ছেদের কাজ পরিচালনা সম্ভব নয়।
সড়কের ওপরই বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অবৈধ স্থাপনা। যাত্রাবাড়ীর কাছে ফাতেমা নাজ ফিলিং স্টেশনের সামনে তিনটি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে।
Sunday, June 28, 2015
ডিএনডি বাঁধের ভেতর জলাবদ্ধতা- শতাধিক অবৈধ স্থাপনা, পানিবন্দী মানুষ by অরূপ দত্ত
কাপড়ের
দোকান থেকে খাবার হোটেল—কী নেই! শনির আখড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায়
আড়াই শ গজ দূরে খাল ভরাট করে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকানপাট। এই
স্থানটি ঢাকা-ডেমরা-নারায়ণগঞ্জ (ডিএনডি) বাঁধের ভেতরে গোদনাইল থেকে
মৃধাবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত ১১ কিলোমিটার খালের অংশ এটি।
শুধু শনির আখড়ার এই স্থান নয়, পূর্ব দোলাইরপাড়ের দুই পাড়, রায়েরবাগ, সাইনবোর্ড এলাকায় খাল ও নিচু ভূমি দখল ও ভরাট করে গড়ে উঠেছে অন্তত ১০০ দোকানপাট। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা কুতুবখালী থেকে শনির আখড়া পর্যন্ত বাঁধ এলাকা ঘুরে এসব অবৈধ স্থাপনা দেখা যায়। অপরিকল্পিত সরু কালভার্ট, জলাভূমিতে মাছের অবৈধ ঘের, ভাসমান ময়লার স্তূপ। বৃষ্টির পর পানি নামতে না পারায় বাঁধের ভেতরের নিচু ভূমি তলিয়ে গেছে।
প্রায় দেড় বছর আগে শনির আখড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছের খাল এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয় গড়ে ওঠে। দেখাদেখি গড়ে ওঠে আরও কিছু অবৈধ স্থাপনা। প্রথম আলোয় এর ছবিও ছাপা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন তখন এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই আবার অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে। বর্তমানে কাপড়ের দোকান, খাবার হোটেল, হাঁড়িপাতিল, প্লাস্টিক সামগ্রী, জুতা, মুঠোফোন সার্ভিসের দোকানসহ হরেক রকম সামগ্রীর টিন ও বাঁশের দোকানঘর রয়েছে। বেশির ভাগেরই সাইনবোর্ড নেই। এখানকার একটি কাপড়ের দোকানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিক্রয়কর্মী বলেন, জায়গাটি দোকানমালিকের। ভাতের হোটেলের একজন কর্মচারী আলতাফ বলেন, তাঁর মালিকের কাছে জায়গার দলিলও রয়েছে। তবে দোকানের মালিকদের পাওয়া যায়নি।
শনির আখড়ার বাসিন্দা আবদুর রহিম, কদরতউল্লাহ, মনসুর আলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্থানীয় অন্তত আটজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে খাল ছিল চওড়ায় ৪০ থেকে ৬০ ফুট। দখলে-দূষণে এখন ১৫ থেকে ২০ ফুট। খালের জায়গা দখল করে যারা ব্যবসা করছে, তারা এলাকার প্রভাবশালী। বাঁধের শুরুর অংশ কুতুবখালীর একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা সাইফুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০ বছর আগেও এখানে চওড়া খাল দেখেছি। এখন দখলদারেরা খালের জায়গাকে নিজেদের জায়গা বলে দাবি করলেও কেউ কিছু করতে পারছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড সাময়িক উচ্ছেদের পর আর খবরই রাখে না।’
জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার পর আবার দখল হয়ে যায়। দখল ও আবর্জনার দূষণে খাল ও নিচু জমি ভরাট হয়ে পড়ায় জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না স্থানীয় লোকজন।’
শুধু শনির আখড়ার এই স্থান নয়, পূর্ব দোলাইরপাড়ের দুই পাড়, রায়েরবাগ, সাইনবোর্ড এলাকায় খাল ও নিচু ভূমি দখল ও ভরাট করে গড়ে উঠেছে অন্তত ১০০ দোকানপাট। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা কুতুবখালী থেকে শনির আখড়া পর্যন্ত বাঁধ এলাকা ঘুরে এসব অবৈধ স্থাপনা দেখা যায়। অপরিকল্পিত সরু কালভার্ট, জলাভূমিতে মাছের অবৈধ ঘের, ভাসমান ময়লার স্তূপ। বৃষ্টির পর পানি নামতে না পারায় বাঁধের ভেতরের নিচু ভূমি তলিয়ে গেছে।
প্রায় দেড় বছর আগে শনির আখড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছের খাল এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয় গড়ে ওঠে। দেখাদেখি গড়ে ওঠে আরও কিছু অবৈধ স্থাপনা। প্রথম আলোয় এর ছবিও ছাপা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন তখন এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই আবার অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে। বর্তমানে কাপড়ের দোকান, খাবার হোটেল, হাঁড়িপাতিল, প্লাস্টিক সামগ্রী, জুতা, মুঠোফোন সার্ভিসের দোকানসহ হরেক রকম সামগ্রীর টিন ও বাঁশের দোকানঘর রয়েছে। বেশির ভাগেরই সাইনবোর্ড নেই। এখানকার একটি কাপড়ের দোকানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিক্রয়কর্মী বলেন, জায়গাটি দোকানমালিকের। ভাতের হোটেলের একজন কর্মচারী আলতাফ বলেন, তাঁর মালিকের কাছে জায়গার দলিলও রয়েছে। তবে দোকানের মালিকদের পাওয়া যায়নি।
শনির আখড়ার বাসিন্দা আবদুর রহিম, কদরতউল্লাহ, মনসুর আলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্থানীয় অন্তত আটজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে খাল ছিল চওড়ায় ৪০ থেকে ৬০ ফুট। দখলে-দূষণে এখন ১৫ থেকে ২০ ফুট। খালের জায়গা দখল করে যারা ব্যবসা করছে, তারা এলাকার প্রভাবশালী। বাঁধের শুরুর অংশ কুতুবখালীর একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা সাইফুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০ বছর আগেও এখানে চওড়া খাল দেখেছি। এখন দখলদারেরা খালের জায়গাকে নিজেদের জায়গা বলে দাবি করলেও কেউ কিছু করতে পারছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড সাময়িক উচ্ছেদের পর আর খবরই রাখে না।’
জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার পর আবার দখল হয়ে যায়। দখল ও আবর্জনার দূষণে খাল ও নিচু জমি ভরাট হয়ে পড়ায় জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না স্থানীয় লোকজন।’
![]() |
| ডিএনডি বাঁধ এলাকায় খাল দখল করে দুই পাশে গড়ে উঠেছে এমন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা l ছবি: প্রথম আলো |
প্রধান প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘বসবাসকারীদের অনেকেই
খালের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা ফেলে। যার পরিণতিতে বৃষ্টি হলেই লোকালয় তলিয়ে
যায়। উচ্ছেদ করে সাময়িকভাবে দখল বন্ধ করা যায়। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা
সচেতন না হলে পাউবোর একার পক্ষে এগুলো রোধ সম্ভব নয়।’
বাঁধের ভেতরের রায়েরবাগের বাসিন্দা বশির আহমেদ বলেন, বৃষ্টি হলে আগে খালের পানি নেমে যেত। এখন খালের বিভিন্ন অংশ দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি আটকে থাকে। খাল ছাড়াও বাঁধের ভেতরে রায়েরবাগ ও আশপাশের এলাকায় জলাভূমিতে মাছের ঘের দেখা যায়। এগুলোর জন্য লোকালয় থেকে পানি বেরোতে পারছে না। বাঁধের ভেতরে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ বাস করে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এদের অনেকেই এখন পানিবন্দী। বর্ষা শুরুর পর বর্তমানে শ্যামপুর, তিতাস খালসহ কয়েকটি খালের ভাসমান বর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে এই জলাবদ্ধ লোকালয়ে। খাল এলাকায় অন্তত পাঁচটি কালভার্ট দেখা যায়, যেগুলো খালের চেয়ে অনেক সরু। ভেতরে আবর্জনা জমে পানি যেতে পারে না।
বাসিন্দাদের ভোগান্তি: উল্লিখিত এলাকাগুলো ছাড়াও ডিএনডি বাঁধ এলাকার মাতুয়াইল, আমতলী, সারুলিয়া, ডগাইর, দেইলা, গোবিন্দপুর, রসুলপুর, দৌলতপুর, মুন্সিবাগ, আদর্শনগর, কান্দাপাড়া, সাহেবপাড়া, সানারপাড়, বাগমারা, মৌচাক, কুতুবআইল, নয়ামাটি, চানমারি, শহীদনগরসহ বাঁধের ভেতরে এই এলাকাগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বর্ষা শুরুর পর, বিশেষ করে ১১ জুন রাজধানীতে ভারী বৃষ্টিপাতের পর থেকে এই জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নেয়। সেই থেকে অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে আছে বাসিন্দারা।
শিমরাইল এলাকায় একটি পাম্পস্টেশনের ওপর এখন পুরো বাঁধ এলাকা নির্ভরশীল। সেখানে ৫১২ কিউসেক পানি নিষ্কাশন ক্ষমতার চারটি এবং ১১২ কিউসেক ক্ষমতার ২২টি পাম্প থাকলেও সবগুলো কাজ করছে না।
পূর্ব দোলাইরপাড়ের বাড়ির মালিক বদরুল আলম বলেন, তাঁদের বাড়িটিকে জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে সামনে দুই ফুট উঁচু করে মাটির বাঁধ দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।
মৃধাবাড়ির নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দা আবদুল লতিফ বলেন, বদ্ধ ময়লা পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করার কারণে তাঁর পরিবারের সদস্যদের চর্মরোগ হয়েছে। ডগাইর এলাকার মো. মোহসীন, দেইলার ফজলুল করিম, মাতুয়াইলের রশিদুল হক বলেন, নিম্নাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির খুব অভাব। ঘরে ঘরে পেটের পীড়া দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানির জন্য বাড়ির বউ-ঝিরা কুতুবখালী, দনিয়া এসব এলাকার পাম্পে লাইন দিচ্ছেন।
নিচু এলাকায় বসবাসকারী নিম্নবিত্তদের ঘরের ভেতরে চৌকি বা মাচা পর্যন্ত পানি। চৌকির ওপর চুলা জ্বালিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রান্নার কাজ হচ্ছে।
বাঁধের ভেতরের রায়েরবাগের বাসিন্দা বশির আহমেদ বলেন, বৃষ্টি হলে আগে খালের পানি নেমে যেত। এখন খালের বিভিন্ন অংশ দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি আটকে থাকে। খাল ছাড়াও বাঁধের ভেতরে রায়েরবাগ ও আশপাশের এলাকায় জলাভূমিতে মাছের ঘের দেখা যায়। এগুলোর জন্য লোকালয় থেকে পানি বেরোতে পারছে না। বাঁধের ভেতরে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ বাস করে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এদের অনেকেই এখন পানিবন্দী। বর্ষা শুরুর পর বর্তমানে শ্যামপুর, তিতাস খালসহ কয়েকটি খালের ভাসমান বর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে এই জলাবদ্ধ লোকালয়ে। খাল এলাকায় অন্তত পাঁচটি কালভার্ট দেখা যায়, যেগুলো খালের চেয়ে অনেক সরু। ভেতরে আবর্জনা জমে পানি যেতে পারে না।
বাসিন্দাদের ভোগান্তি: উল্লিখিত এলাকাগুলো ছাড়াও ডিএনডি বাঁধ এলাকার মাতুয়াইল, আমতলী, সারুলিয়া, ডগাইর, দেইলা, গোবিন্দপুর, রসুলপুর, দৌলতপুর, মুন্সিবাগ, আদর্শনগর, কান্দাপাড়া, সাহেবপাড়া, সানারপাড়, বাগমারা, মৌচাক, কুতুবআইল, নয়ামাটি, চানমারি, শহীদনগরসহ বাঁধের ভেতরে এই এলাকাগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বর্ষা শুরুর পর, বিশেষ করে ১১ জুন রাজধানীতে ভারী বৃষ্টিপাতের পর থেকে এই জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নেয়। সেই থেকে অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে আছে বাসিন্দারা।
শিমরাইল এলাকায় একটি পাম্পস্টেশনের ওপর এখন পুরো বাঁধ এলাকা নির্ভরশীল। সেখানে ৫১২ কিউসেক পানি নিষ্কাশন ক্ষমতার চারটি এবং ১১২ কিউসেক ক্ষমতার ২২টি পাম্প থাকলেও সবগুলো কাজ করছে না।
পূর্ব দোলাইরপাড়ের বাড়ির মালিক বদরুল আলম বলেন, তাঁদের বাড়িটিকে জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে সামনে দুই ফুট উঁচু করে মাটির বাঁধ দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।
মৃধাবাড়ির নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দা আবদুল লতিফ বলেন, বদ্ধ ময়লা পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করার কারণে তাঁর পরিবারের সদস্যদের চর্মরোগ হয়েছে। ডগাইর এলাকার মো. মোহসীন, দেইলার ফজলুল করিম, মাতুয়াইলের রশিদুল হক বলেন, নিম্নাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির খুব অভাব। ঘরে ঘরে পেটের পীড়া দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানির জন্য বাড়ির বউ-ঝিরা কুতুবখালী, দনিয়া এসব এলাকার পাম্পে লাইন দিচ্ছেন।
নিচু এলাকায় বসবাসকারী নিম্নবিত্তদের ঘরের ভেতরে চৌকি বা মাচা পর্যন্ত পানি। চৌকির ওপর চুলা জ্বালিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রান্নার কাজ হচ্ছে।
Wednesday, June 24, 2015
রোজার মধ্যে পানির কষ্ট- পশ্চিম নাখালপাড়ায় পানির জন্য মিছিলও হয়েছে by অরূপ দত্ত
ছোট
একটি ট্রলিতে (পানির ছোট গাড়ি) ঢাকা ওয়াসার পানি এসেছে। সেই পানি
সংগ্রহের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন জনা পঞ্চাশেক নারী-পুরুষ। কিন্তু সে
পানিতে চাহিদা মিটল না। পরে পানির জন্য লাইন ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনতে
লাগলেন তাঁরা। আবার কখন আসবে পানি?
রোজা রেখে পানির পাত্র নিয়ে ছোটাছুটি করছেন রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ার একদল নারী-পুরুষ। রোজার গত চার দিনসহ প্রায় ২০ দিন ধরে এ অবস্থা চলছে। সেখানে প্রায় এক শ বাড়িতে পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে। ঢাকা ওয়াসা কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে পানির লাইন পরিবর্তন করতে গিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি করেছে।
গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে পানির জন্য জারিকেন, হাঁড়ি-কলসি নিয়ে রাস্তায় দলে দলে মানুষ অপেক্ষা করছেন। সাড়ে ১২টার দিকে আসে ওয়াসার ট্রলি।
পানির দাবিতে গত শুক্রবার মিছিলও করেছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা। পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক এলাকা পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
৯১ নম্বর নাখালপাড়ার বাসিন্দা রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলেও এখন প্রচণ্ড গরম পড়ছে। এই গরমে পানির অভাবে গোসল পর্যন্ত করা যাচ্ছে না।’
অপর এক বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, ‘শেষ রাতে সেহ্রিতে এবং সন্ধ্যায় ইফতারে কেনা পানি পান করতে হচ্ছে। কেনা পানি প্রাণভরে পান করা যায় না। রোজা রেখে সারা দিন অফিসে কাজ করে বাসায় এসে হাত-মুখ ধোয়ারও পানি পাচ্ছি না।’
গৃহবধূ তসলিমা জানান, অল্প পানিতে ইফতারি তৈরি করতে সমস্যা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পেছনে ওয়াসার যে গভীর নলকূপটি রয়েছে, সেখানে সময়ে-অসময়ে ভিড় করছেন অনেক পরিবারের লোক।
এলাকার বনফুল ভবনের সামনে রাস্তায় পানির পাইপ পরিবর্তনের কাজ চলছে।
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ডিএমএ (ডিস্ট্রিক্ট মিটারিং এরিয়া) প্রকল্পের অধীনে পানির লাইন পরিবর্তনের এ কাজ চলছে। পানির নতুন পাইপ বসানোর জন্য রাস্তায় বড় বড় গর্তও খোঁড়া হয়েছে। পানির গাড়ি এলে ঝুঁকি নিয়ে সেই গর্তের পাশে দাঁড়িয়ে লাইন ধরছে মানুষ।
এলাকার বাসিন্দা আবদুর নূর চৌধুরী বলেন, ‘পানির লাইন পরিবর্তন করা হবে ভালো কথা, কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না করে রমজান মাসে কেন এই কষ্ট দেওয়া?’ তিনি ও ভুক্তভোগী আরও কয়েকজন জানান, পানির দাবিতে আগে একদিন মিছিল করা হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও মিছিল করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এ ডি এম কামরুল আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘পানির সরবরাহ বাড়াতে পুরো এলাকার লাইন পরিবর্তন করতে হচ্ছে। কারিগরি বিষয় বলে কাজটি মাঝপথে বন্ধও করা যাচ্ছে না। জনগণ কষ্ট করছে আমরা জানি, চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রুত কাজ শেষ করতে।’
রোজা রেখে পানির পাত্র নিয়ে ছোটাছুটি করছেন রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ার একদল নারী-পুরুষ। রোজার গত চার দিনসহ প্রায় ২০ দিন ধরে এ অবস্থা চলছে। সেখানে প্রায় এক শ বাড়িতে পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে। ঢাকা ওয়াসা কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে পানির লাইন পরিবর্তন করতে গিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি করেছে।
গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে পানির জন্য জারিকেন, হাঁড়ি-কলসি নিয়ে রাস্তায় দলে দলে মানুষ অপেক্ষা করছেন। সাড়ে ১২টার দিকে আসে ওয়াসার ট্রলি।
পানির দাবিতে গত শুক্রবার মিছিলও করেছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা। পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক এলাকা পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
৯১ নম্বর নাখালপাড়ার বাসিন্দা রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলেও এখন প্রচণ্ড গরম পড়ছে। এই গরমে পানির অভাবে গোসল পর্যন্ত করা যাচ্ছে না।’
অপর এক বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, ‘শেষ রাতে সেহ্রিতে এবং সন্ধ্যায় ইফতারে কেনা পানি পান করতে হচ্ছে। কেনা পানি প্রাণভরে পান করা যায় না। রোজা রেখে সারা দিন অফিসে কাজ করে বাসায় এসে হাত-মুখ ধোয়ারও পানি পাচ্ছি না।’
গৃহবধূ তসলিমা জানান, অল্প পানিতে ইফতারি তৈরি করতে সমস্যা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পেছনে ওয়াসার যে গভীর নলকূপটি রয়েছে, সেখানে সময়ে-অসময়ে ভিড় করছেন অনেক পরিবারের লোক।
এলাকার বনফুল ভবনের সামনে রাস্তায় পানির পাইপ পরিবর্তনের কাজ চলছে।
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ডিএমএ (ডিস্ট্রিক্ট মিটারিং এরিয়া) প্রকল্পের অধীনে পানির লাইন পরিবর্তনের এ কাজ চলছে। পানির নতুন পাইপ বসানোর জন্য রাস্তায় বড় বড় গর্তও খোঁড়া হয়েছে। পানির গাড়ি এলে ঝুঁকি নিয়ে সেই গর্তের পাশে দাঁড়িয়ে লাইন ধরছে মানুষ।
এলাকার বাসিন্দা আবদুর নূর চৌধুরী বলেন, ‘পানির লাইন পরিবর্তন করা হবে ভালো কথা, কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না করে রমজান মাসে কেন এই কষ্ট দেওয়া?’ তিনি ও ভুক্তভোগী আরও কয়েকজন জানান, পানির দাবিতে আগে একদিন মিছিল করা হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও মিছিল করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এ ডি এম কামরুল আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘পানির সরবরাহ বাড়াতে পুরো এলাকার লাইন পরিবর্তন করতে হচ্ছে। কারিগরি বিষয় বলে কাজটি মাঝপথে বন্ধও করা যাচ্ছে না। জনগণ কষ্ট করছে আমরা জানি, চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রুত কাজ শেষ করতে।’
Tuesday, June 23, 2015
ঢাকা দক্ষিণে পায়ে চলার পথে কাঁচাবাজার by অরূপ দত্ত
রাজধানীর
ওয়ারীর লারমিনি স্ট্রিটের বাসিন্দারা আকাশে কালো মেঘ দেখলেই ভয় পান।
কারণ, এক পশলা বৃষ্টি হলেই রাস্তা তলিয়ে যায়। বাসা থেকে বেরোতে হলে
যানবাহন ছাড়া উপায় নেই।
ওয়ারীর সানাই কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশের বাড়ির বাসিন্দারা বলেছেন, ১১ জুন সকালের ভারী বৃষ্টির পর প্রায় চার ঘণ্টা এলাকার রাস্তা জলমগ্ন ছিল। মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
শুধু জলাবদ্ধতা নয়, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় সবগুলো রাস্তাই ভাঙাচোরা। যানজট, ঘন ঘন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে এই ওয়ার্ডে। ওয়ার্ডের অন্তত ২০টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনের আগে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন ঘরে ঘরে গিয়ে যেসব আশ্বাস দিয়েছিলেন, তা পূরণে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ তাঁরা দেখতে পাননি। পায়ে চলা পথ বন্ধ করে এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট করা কাঁচাবাজারটিও বন্ধের কোনো উদ্যোগ নেই।
টিপু সুলতান রোড, লালমোহন সাহা স্ট্রিট, ভজহরি সাহা স্ট্রিট, দক্ষিণ মৈশুন্ডি, জয়কালী মন্দির রোড, নবাব স্ট্রিট, র্যাঙ্কিন স্ট্রিটসহ আশপাশের এলাকা নিয়ে ৪১ নম্বর ওয়ার্ড। গতকাল রোববার ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ রাস্তাই খানাখন্দে ভরা। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা লালমোহন সাহা স্ট্রিট ও দক্ষিণ মৈশুন্ডি এলাকার। প্রতিটি সড়কের নর্দমার দুদিকের দেয়াল ভেঙে গেছে। লালমোহন সাহা স্ট্রিটের প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, আশির দশকের শুরুতে মিউনিসিপ্যালিটি এখানে কিছু নর্দমা করেছিল। পরে সেগুলো পরিষ্কার করা ছাড়া কোনো সংস্কার হয়নি। নর্দমার সংখ্যাও কম। সংস্কার না করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
আওয়ামী লীগদলীয় কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি শপথ নেওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিদিন আবর্জনা পরিষ্কার করাচ্ছি। প্রতি শনিবার বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সব সমস্যার সমাধান এত দ্রুত সম্ভব নয়। জলাবদ্ধতা দূর করতে নিজের পকেটের টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ঢাকা ওয়াসার কাছে পানিনিষ্কাশন পাম্প চাইলে তারা বলে যন্ত্র নষ্ট। পরে টাকা দিলে কাজ হয়।’
কাউন্সিলর জানান, এলাকার সব রাস্তা মেরামত করতে হবে। ২০ বছর নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি। সব ঠিকঠাক করতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বাজেট করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তহবিল পাননি। মেয়র বলেছেন, বর্ষা যাক।
পায়ে চলা পথে কাঁচাবাজার: ওয়ারীর নবাব স্ট্রিটে প্রথমে মার্কেট ও পরে পথচারীদের পায়ে চলা পথ বন্ধ করে তৈরি করা হয়েছে কাঁচাবাজার। এখানে আগে বস্তি ছিল। মাদকাসক্তদের উপদ্রব বন্ধ করতে বস্তি উচ্ছেদ করে এলাকাবাসীর চলাচলের পথ তৈরি করা হয়।
কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেনের নিজেরও একাধিক দোকানঘর রয়েছে এই কাঁচাবাজারে। নির্বাচনের আগে গত ১২ এপ্রিল এই প্রার্থী প্রথম আলোর প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে তিনি এলাকায় নাগরিক সেবার পাশাপাশি ওয়ার্ড এলাকাকে পরিবেশবান্ধব করে তুলবেন। গতকাল রোববার বিষয়টি মনে করিয়ে দিলে তিনি বলেন, ‘কাঁচাবাজারটি পরিবেশ নষ্ট করছে, এটা ঠিক নয়। তা ছাড়া, এই বাজার বন্ধ করার দায়িত্ব তাঁর নয়, সিটি করপোরেশনের।’ তিনি নিজের দোকান বহাল রেখেছেন কেন—এই প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দেননি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার মধ্যে এই বাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে তাঁর অনুমোদন নেওয়া হয়।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, উল্লিখিত জায়গাটি ওয়ারী মৌজার ২০ নম্বর দাগে অবস্থিত। এর একপাশে বলধা গার্ডেন, অন্যপাশে ৬/২ নবাব স্ট্রিট। জায়গাটি দখল করে বস্তি বানিয়ে প্রায় ৮০টি পরিবার বসবাস করত। সিটি করপোরেশন ২০১১ সালে বস্তি উচ্ছেদ করে। পরে বলধা গার্ডেনের পশ্চিম প্রান্তের দেয়াল ঘেঁষা এই জায়গাটিতে পায়ে চলার পথ তৈরি করা হয়। পায়ে চলা পথটি উত্তরে নবাব স্ট্রিট ও দক্ষিণে হেয়ার স্ট্রিটের বড় সড়কের সংযোগ তৈরি করেছিল।
৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আবুল হোসেন দাবি করেন, পথটি অকেজো হয়ে পড়েছিল। বখাটেদের আড্ডা হতো। এখানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মার্কেট করে ৪৪ জনের নামে আলাদাভাবে অস্থায়ী ভিত্তিতে দোকান বরাদ্দ দেয়। প্রথমে কাপড় ও খাবারের দোকান করা হয়। পরে সবজির দোকান করা হয়। ক্রমে ক্রমে রাস্তাজুড়ে কাঁচাবাজার বসে যায়। দোকান বরাদ্দপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনি নিজে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা রয়েছেন। সিটি করপোরেশনের লোকজনও আটটির মতো দোকান পান। কিন্তু দোকানগুলো ভালো না চলায় সেখানে কাঁচাবাজার করা হয়।
নবাব স্ট্রিটের বাসিন্দা অপূর্ব পাল বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বলধা গার্ডেনে আগেই পরিবেশ বিপর্যয় ঘটেছে। কাঁচাবাজারটি তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ওয়ারীর সানাই কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশের বাড়ির বাসিন্দারা বলেছেন, ১১ জুন সকালের ভারী বৃষ্টির পর প্রায় চার ঘণ্টা এলাকার রাস্তা জলমগ্ন ছিল। মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
শুধু জলাবদ্ধতা নয়, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় সবগুলো রাস্তাই ভাঙাচোরা। যানজট, ঘন ঘন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে এই ওয়ার্ডে। ওয়ার্ডের অন্তত ২০টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনের আগে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন ঘরে ঘরে গিয়ে যেসব আশ্বাস দিয়েছিলেন, তা পূরণে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ তাঁরা দেখতে পাননি। পায়ে চলা পথ বন্ধ করে এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট করা কাঁচাবাজারটিও বন্ধের কোনো উদ্যোগ নেই।
টিপু সুলতান রোড, লালমোহন সাহা স্ট্রিট, ভজহরি সাহা স্ট্রিট, দক্ষিণ মৈশুন্ডি, জয়কালী মন্দির রোড, নবাব স্ট্রিট, র্যাঙ্কিন স্ট্রিটসহ আশপাশের এলাকা নিয়ে ৪১ নম্বর ওয়ার্ড। গতকাল রোববার ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ রাস্তাই খানাখন্দে ভরা। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা লালমোহন সাহা স্ট্রিট ও দক্ষিণ মৈশুন্ডি এলাকার। প্রতিটি সড়কের নর্দমার দুদিকের দেয়াল ভেঙে গেছে। লালমোহন সাহা স্ট্রিটের প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, আশির দশকের শুরুতে মিউনিসিপ্যালিটি এখানে কিছু নর্দমা করেছিল। পরে সেগুলো পরিষ্কার করা ছাড়া কোনো সংস্কার হয়নি। নর্দমার সংখ্যাও কম। সংস্কার না করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
আওয়ামী লীগদলীয় কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি শপথ নেওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিদিন আবর্জনা পরিষ্কার করাচ্ছি। প্রতি শনিবার বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সব সমস্যার সমাধান এত দ্রুত সম্ভব নয়। জলাবদ্ধতা দূর করতে নিজের পকেটের টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ঢাকা ওয়াসার কাছে পানিনিষ্কাশন পাম্প চাইলে তারা বলে যন্ত্র নষ্ট। পরে টাকা দিলে কাজ হয়।’
কাউন্সিলর জানান, এলাকার সব রাস্তা মেরামত করতে হবে। ২০ বছর নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি। সব ঠিকঠাক করতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বাজেট করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তহবিল পাননি। মেয়র বলেছেন, বর্ষা যাক।
পায়ে চলা পথে কাঁচাবাজার: ওয়ারীর নবাব স্ট্রিটে প্রথমে মার্কেট ও পরে পথচারীদের পায়ে চলা পথ বন্ধ করে তৈরি করা হয়েছে কাঁচাবাজার। এখানে আগে বস্তি ছিল। মাদকাসক্তদের উপদ্রব বন্ধ করতে বস্তি উচ্ছেদ করে এলাকাবাসীর চলাচলের পথ তৈরি করা হয়।
কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেনের নিজেরও একাধিক দোকানঘর রয়েছে এই কাঁচাবাজারে। নির্বাচনের আগে গত ১২ এপ্রিল এই প্রার্থী প্রথম আলোর প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে তিনি এলাকায় নাগরিক সেবার পাশাপাশি ওয়ার্ড এলাকাকে পরিবেশবান্ধব করে তুলবেন। গতকাল রোববার বিষয়টি মনে করিয়ে দিলে তিনি বলেন, ‘কাঁচাবাজারটি পরিবেশ নষ্ট করছে, এটা ঠিক নয়। তা ছাড়া, এই বাজার বন্ধ করার দায়িত্ব তাঁর নয়, সিটি করপোরেশনের।’ তিনি নিজের দোকান বহাল রেখেছেন কেন—এই প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দেননি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার মধ্যে এই বাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে তাঁর অনুমোদন নেওয়া হয়।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, উল্লিখিত জায়গাটি ওয়ারী মৌজার ২০ নম্বর দাগে অবস্থিত। এর একপাশে বলধা গার্ডেন, অন্যপাশে ৬/২ নবাব স্ট্রিট। জায়গাটি দখল করে বস্তি বানিয়ে প্রায় ৮০টি পরিবার বসবাস করত। সিটি করপোরেশন ২০১১ সালে বস্তি উচ্ছেদ করে। পরে বলধা গার্ডেনের পশ্চিম প্রান্তের দেয়াল ঘেঁষা এই জায়গাটিতে পায়ে চলার পথ তৈরি করা হয়। পায়ে চলা পথটি উত্তরে নবাব স্ট্রিট ও দক্ষিণে হেয়ার স্ট্রিটের বড় সড়কের সংযোগ তৈরি করেছিল।
৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আবুল হোসেন দাবি করেন, পথটি অকেজো হয়ে পড়েছিল। বখাটেদের আড্ডা হতো। এখানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মার্কেট করে ৪৪ জনের নামে আলাদাভাবে অস্থায়ী ভিত্তিতে দোকান বরাদ্দ দেয়। প্রথমে কাপড় ও খাবারের দোকান করা হয়। পরে সবজির দোকান করা হয়। ক্রমে ক্রমে রাস্তাজুড়ে কাঁচাবাজার বসে যায়। দোকান বরাদ্দপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনি নিজে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা রয়েছেন। সিটি করপোরেশনের লোকজনও আটটির মতো দোকান পান। কিন্তু দোকানগুলো ভালো না চলায় সেখানে কাঁচাবাজার করা হয়।
নবাব স্ট্রিটের বাসিন্দা অপূর্ব পাল বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বলধা গার্ডেনে আগেই পরিবেশ বিপর্যয় ঘটেছে। কাঁচাবাজারটি তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
Monday, June 22, 2015
উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি- কাউন্সিলর বলেন, নাগরিক সুবিধা দিতে ফান্ড লাগে by অরূপ দত্ত
নির্বাচনের
প্রায় দুই মাস পরও উন্নতির কোনো ছোঁয়া লাগেনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি
করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে। বরং বর্ষার মধ্যে রাস্তা খুঁড়ে
বিশাল গর্ত করায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। ওয়ার্ডের ১২টি রাস্তার অবস্থা বেহাল।
বিশুদ্ধ পানির জন্য রোজার মধ্যে ছোটাছুটি করছে লোকে। যখন-তখন বিদ্যুৎ চলে
যাচ্ছে। ঘটছে স্কুলের জায়গা দখলের ঘটনা।
হাটখোলা, টিকাটুলী, কে এম দাস লেন, অভয় দাস লেন, রামকৃষ্ণ মিশন রোডের কিছু অংশ, পেয়াদাপাড়া এলাকা নিয়ে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড। লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। গতকাল শনিবার ওয়ার্ডের এলাকাগুলো ঘুরে ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব সমস্যার কথা জানা যায়। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ময়নুল হক এলাকাবাসীকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাদের সব ধরনের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। নির্বাচিত হওয়ার পর গতকাল বিষয়টি তাঁকে মনে করিয়ে দিলে তিনি বলেন, ‘নাগরিক সুবিধা দিতে হলে ফান্ড লাগে, সিটি করপোরেশন এখন পর্যন্ত কোনো ফান্ড দেয়নি। আমি কী করতে পারি?’
স্কুলে স্থাপনা ভেঙে জায়গা দখল: কে এম দাস লেনে কাজী আরেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের কর্মচারীদের থাকার ঘরসহ মোট ১০টি স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের লোকজন। এলাকাবাসী জানান, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষে শপথ অনুষ্ঠানের পর থেকে ভাঙা শুরু হয় এবং ১০ জুনের মধ্যে দখল নেওয়া হয়। সেখানে এখন স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যরা যেতে পারছেন না। গতকাল দুপুরে কে এম দাস রেললাইনের পাশে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল চৌহদ্দির বেশির ভাগ স্থাপনাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
স্কুল পরিচালনা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ আলী খান প্রথম আলোকে বলেন, স্কুলের জায়গার মধ্যে আবদুস সোবহান নামের এক ব্যক্তির দুই কাঠা জমিতে চারটি ঘর ছিল (দাগ নম্বর ১২১২৭), সেগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। স্কুলের সঙ্গে ছিল আরও ছয়টি স্থাপনা। সবই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সভাপতি অভিযোগ করেন, স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
জানতে চাইলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার বিষয় স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এখানে কিছু টাউট-বাটপার বসবাস করে স্কুলের এবং এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছিল। তাদের তাড়িয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জায়গাটি সিটি করপোরেশনের। সিটি করপোরেশনই নতুন স্থাপনা তৈরি করে স্কুল পরিচালনা করবে। তবে স্কুলের নাম হিসেবে কাজী আরেফের নামই বহাল থাকবে।
বর্ষায় খোঁড়াখুঁড়ি ও জলাবদ্ধতা: অভয় দাস লেন তারা ভবনের সামনে রাস্তার মাঝখানে বিশাল গর্ত খুঁড়ে পাকা বক্স করা হয়েছে। এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে মাস খানেক আগে এই গর্ত খোঁড়া হয়। এলাকায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে দোকানি ও বাসিন্দারা জানান। ফ্যান্ডস টাওয়ারের ফ্ল্যাট মালিক শিবব্রত রায়, অনন্যা ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ব্যবস্থাপক মো. এরশাদসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ১১ জুনের প্রবল বৃষ্টির পর অভয় দাস লেন মসজিদের সামনে থেকে সেন্ট্রাল উইমেন কলেজ পর্যন্ত পুরো এলাকা তলিয়ে ছিল। পরের দিনগুলোর মাঝারি বৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ডি এম কামরুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘জলাবদ্ধতা ঠেকাতে আমরা নিয়মিতই কাজ করছি।’ তারাবাগের সামনে রাস্তা খোঁড়া হয় ভাঙা পাইপ মেরামতের জন্য। তবে সেটা দীর্ঘদিন যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে— বিষয়টি কর্তৃপক্ষের জানা ছিল না, ঠিকাদার জানেন।’
বেহাল রাস্তা, মেরামতে তহবিল নেই: ওয়ার্ড এলাকায় ১২টি রাস্তা ও অলিগলি রয়েছে, যেগুলো পুরো বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের জর্জ গলি বলে পরিচিত রাস্তা চলাচল করতে গিয়ে ভাঙাচোরা গর্তে যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। গতকাল দুপুরে এই প্রতিবেদকের সামনেই একটি রিকশা উল্টে যেতে যেতে রক্ষা পায়। আরোহী রবিউল আহমেদ ওই স্থানেই নেমে হেঁটেই বাসার উদ্দেশে রওনা হন। একই অবস্থা দেখা যায় কে এম দাস লেনের বাকি রাস্তা, রেললাইনসংলগ্ন তিনটি রাস্তায়।
পানি-বিদ্যুতের কষ্ট: ওয়ার্ড এলাকায় পানির কষ্ট নির্বাচনের আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। গতকালও বিশুদ্ধ পানির জন্য রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে, বালুর মাঠ পাম্পে স্বামীবাগ পাম্প এলাকার গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা যায়। অন্তত ১০ জনের সঙ্গে কথা হয়। সবারই কথা হচ্ছে, পানির সরবরাহ কম, তার ওপর দুর্গন্ধ।
ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, পানির সমস্যা কমাতে আরেফ হাসপাতালের কাছে একটি গভীর নলকূপ বসানো হবে। এতে পানির দুর্গন্ধ কমবে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ যেন অবৈধ লাইন নিতে গিয়ে পাইপ ফুটো করতে না পারে, সে জন্য ওয়াসার পাশাপাশি গ্রাহকদেরও সচেতন হতে হবে।
বিদ্যুতের সমস্যাও ভোগাচ্ছে এলাকাবাসীকে। কখনো ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ, কখনো বেশি ভোল্টেজ, কখনো সরবরাহ বন্ধ। সম্প্রতি টানা আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা সাপ্তাহিক বাজারের মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে বলে অভিযোগ করেন পেয়াদাপাড়ার বাসিন্দা আবদুল আলীম। ৬৪/বি-এর বাসিন্দা অজয় হালদার বলেন, ইদানীং কোনো দিন তিন-চারবার বিদ্যুৎ চলে যায়।
হাটখোলা, টিকাটুলী, কে এম দাস লেন, অভয় দাস লেন, রামকৃষ্ণ মিশন রোডের কিছু অংশ, পেয়াদাপাড়া এলাকা নিয়ে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড। লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। গতকাল শনিবার ওয়ার্ডের এলাকাগুলো ঘুরে ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব সমস্যার কথা জানা যায়। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ময়নুল হক এলাকাবাসীকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাদের সব ধরনের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। নির্বাচিত হওয়ার পর গতকাল বিষয়টি তাঁকে মনে করিয়ে দিলে তিনি বলেন, ‘নাগরিক সুবিধা দিতে হলে ফান্ড লাগে, সিটি করপোরেশন এখন পর্যন্ত কোনো ফান্ড দেয়নি। আমি কী করতে পারি?’
স্কুলে স্থাপনা ভেঙে জায়গা দখল: কে এম দাস লেনে কাজী আরেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের কর্মচারীদের থাকার ঘরসহ মোট ১০টি স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের লোকজন। এলাকাবাসী জানান, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষে শপথ অনুষ্ঠানের পর থেকে ভাঙা শুরু হয় এবং ১০ জুনের মধ্যে দখল নেওয়া হয়। সেখানে এখন স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যরা যেতে পারছেন না। গতকাল দুপুরে কে এম দাস রেললাইনের পাশে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল চৌহদ্দির বেশির ভাগ স্থাপনাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
স্কুল পরিচালনা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ আলী খান প্রথম আলোকে বলেন, স্কুলের জায়গার মধ্যে আবদুস সোবহান নামের এক ব্যক্তির দুই কাঠা জমিতে চারটি ঘর ছিল (দাগ নম্বর ১২১২৭), সেগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। স্কুলের সঙ্গে ছিল আরও ছয়টি স্থাপনা। সবই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সভাপতি অভিযোগ করেন, স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
জানতে চাইলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার বিষয় স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এখানে কিছু টাউট-বাটপার বসবাস করে স্কুলের এবং এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছিল। তাদের তাড়িয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জায়গাটি সিটি করপোরেশনের। সিটি করপোরেশনই নতুন স্থাপনা তৈরি করে স্কুল পরিচালনা করবে। তবে স্কুলের নাম হিসেবে কাজী আরেফের নামই বহাল থাকবে।
বর্ষায় খোঁড়াখুঁড়ি ও জলাবদ্ধতা: অভয় দাস লেন তারা ভবনের সামনে রাস্তার মাঝখানে বিশাল গর্ত খুঁড়ে পাকা বক্স করা হয়েছে। এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে মাস খানেক আগে এই গর্ত খোঁড়া হয়। এলাকায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে দোকানি ও বাসিন্দারা জানান। ফ্যান্ডস টাওয়ারের ফ্ল্যাট মালিক শিবব্রত রায়, অনন্যা ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ব্যবস্থাপক মো. এরশাদসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ১১ জুনের প্রবল বৃষ্টির পর অভয় দাস লেন মসজিদের সামনে থেকে সেন্ট্রাল উইমেন কলেজ পর্যন্ত পুরো এলাকা তলিয়ে ছিল। পরের দিনগুলোর মাঝারি বৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ডি এম কামরুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘জলাবদ্ধতা ঠেকাতে আমরা নিয়মিতই কাজ করছি।’ তারাবাগের সামনে রাস্তা খোঁড়া হয় ভাঙা পাইপ মেরামতের জন্য। তবে সেটা দীর্ঘদিন যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে— বিষয়টি কর্তৃপক্ষের জানা ছিল না, ঠিকাদার জানেন।’
বেহাল রাস্তা, মেরামতে তহবিল নেই: ওয়ার্ড এলাকায় ১২টি রাস্তা ও অলিগলি রয়েছে, যেগুলো পুরো বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের জর্জ গলি বলে পরিচিত রাস্তা চলাচল করতে গিয়ে ভাঙাচোরা গর্তে যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। গতকাল দুপুরে এই প্রতিবেদকের সামনেই একটি রিকশা উল্টে যেতে যেতে রক্ষা পায়। আরোহী রবিউল আহমেদ ওই স্থানেই নেমে হেঁটেই বাসার উদ্দেশে রওনা হন। একই অবস্থা দেখা যায় কে এম দাস লেনের বাকি রাস্তা, রেললাইনসংলগ্ন তিনটি রাস্তায়।
পানি-বিদ্যুতের কষ্ট: ওয়ার্ড এলাকায় পানির কষ্ট নির্বাচনের আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। গতকালও বিশুদ্ধ পানির জন্য রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে, বালুর মাঠ পাম্পে স্বামীবাগ পাম্প এলাকার গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা যায়। অন্তত ১০ জনের সঙ্গে কথা হয়। সবারই কথা হচ্ছে, পানির সরবরাহ কম, তার ওপর দুর্গন্ধ।
ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, পানির সমস্যা কমাতে আরেফ হাসপাতালের কাছে একটি গভীর নলকূপ বসানো হবে। এতে পানির দুর্গন্ধ কমবে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ যেন অবৈধ লাইন নিতে গিয়ে পাইপ ফুটো করতে না পারে, সে জন্য ওয়াসার পাশাপাশি গ্রাহকদেরও সচেতন হতে হবে।
বিদ্যুতের সমস্যাও ভোগাচ্ছে এলাকাবাসীকে। কখনো ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ, কখনো বেশি ভোল্টেজ, কখনো সরবরাহ বন্ধ। সম্প্রতি টানা আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা সাপ্তাহিক বাজারের মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে বলে অভিযোগ করেন পেয়াদাপাড়ার বাসিন্দা আবদুল আলীম। ৬৪/বি-এর বাসিন্দা অজয় হালদার বলেন, ইদানীং কোনো দিন তিন-চারবার বিদ্যুৎ চলে যায়।
Subscribe to:
Posts (Atom)
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2002)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
বিনোদন
শেষের পাতা
ক্রিকেট খেলা
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
দেশে দেশে
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ইসরায়েল
ফুটবল খেলা
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ফিলিস্তিন
Lead
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
ইরান
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
কালবেলা
চট্টগ্রাম
বিশাল বাংলা
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
মুসলিম
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
জাতিসংঘ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সাক্ষাৎকার
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
ইউরোপ
খেলা ধুলা
সৌদি আরব
ছাত্রলীগ
ইতিহাস
প্রতিবেদন
জামায়াতে ইসলামী
সোহরাব হাসান
অমানবিক
পশ্চিমবঙ্গ
আলোকিত চট্টগ্রাম
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
জাতীয় সংসদ
নারী ধর্ষণ
আনন্দ
খেলাধুলা
বিজ্ঞান ও গবেষণা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
আফ্রিকা
মাদক
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
সংখ্যালঘু
প্রবাস
ছুটির দিনে
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
সৈয়দ আবুল মকসুদ
তুরস্ক
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
আফগানিস্তান
গোল্লাছুট
বইপত্র
অন্য আলো
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
ইউক্রেন
দুর্ঘটনা
অপহরণ
সাহিত্যালোচনা
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
স্বাস্থ্য
ফূটবল খেলা
হিন্দু
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
নেপাল
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
জ্যোতির্বিজ্ঞান
সড়ক দুর্ঘটনা
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
শিল্প ও সাহিত্য
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
কক্সবাজার
এ এম এম শওকত আলী
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
Exclusive
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
গবেষণা
বাংলাদেশ
মিসর
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
শোক
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
সংস্কৃতি
ইয়েমেন
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
জীবনযাপন
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
লেবানন
আবদুল মান্নান
জাপান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
কুমিল্লা
শিল্প
মুক্তমত
মাহমুদুর রহমান
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
পার্বত্য চট্টগ্রাম
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
যশোর
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
চিকিৎসা
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা
মেহেদী হাসান
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
তথ্য প্রযুক্তি
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
ব্রাজিল
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
মসজিদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
রোকনুজ্জামান পিয়াস
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
উত্তর কোরিয়া
একরামুল হক
জলবায়ু ও পরিবেশ
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
তুহিন ওয়াদুদ
কালি ও কলম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
কুষ্টিয়া
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
জনস্বাস্থ্য
জাতীয় নাগরিক পার্টি
ঝিলিমিলি
নিবন্ধ
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
উচ্চশিক্ষা
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
প্রযুক্তি
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কাতার
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
ঝড় ও দুর্যোগ
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
শিশির মোড়ল
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
হুমায়ূন আহমেদ
আবুল হাসনাত
আল আমিন
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
হারুন হাবীব
অমিত বসু
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জার্মানি
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
লাতিন আমেরিকা
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
আরব আমিরাত বা দুবাই
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
ব্যবসা
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
দক্ষিণ কোরিয়া
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
লিবিয়া
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
ইসলাম
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
আসজাদুল কিবরিয়া
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
Fantastic
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
মহাকাশচারী
জোহরান মামদানি
নিয়ন আলোয়
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
ইতালি
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
নরসিংদী
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জলবায়ু পরিবর্তন
ঝালকাঠি
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
যৌন অপরাধ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
কিশোর আলো
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
ইহুদি
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
চুয়াডাঙ্গা
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
ধর্মঘট
স্পেন
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গণমাধ্যম
গদ্যকার্টুন
পিরোজপুর
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
প্রবাসী শ্রমিক
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
সোমালিয়া
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
চিঠিপত্র
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
হংকং
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কুয়েত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চুক্তি
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সমাজ
সামাজ
সুজন সুপান্থ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
ওমান
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শেরপুর
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সিঙ্গাপুর
সুইডেন
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
রাজবাড়ী
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
পোল্যান্ড
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আলজেরিয়া
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রিস
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নীহারুল ইসলাম
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রকিব হাসান
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট



















