Showing posts with label রিয়েল-টাইম নিউজ. Show all posts
Showing posts with label রিয়েল-টাইম নিউজ. Show all posts

Tuesday, February 3, 2015

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় কুমিল্লায় মধ্যরাতের হত্যাযজ্ঞ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়ানো শেষে তিন বন্ধুকে নিয়ে রাতের বাসে ঢাকায় ফিরছিলেন ২৩ বছর বয়সী ফারুক আহমেদ। কিন্তু অর্ধেক পথ পার হওয়ার পরেই কুমিল্লায় তাদের বাসের ওপর পেট্রোল বোমা ছোঁড়া হয়।
আগুনে হাত পুড়ে যাওয়ায় তিনি আর বাড়িতে ফিরে যেতে পারেননি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এই ওয়েল্ডিং শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে। তবে এতে তার সাত সহযাত্রী আগুনে পুড়ে বাসের ভেতরেই কয়লা হয়ে গেছেন।
আহত হয়েছেন আরো প্রায় ২৫ জন। তাদের মধ্যে ফারুকসহ ছ’জনকে চিকিৎসার জন্যে বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হয়েছে যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর।
ফারুক আহমেদ বলেছেন, তিনি ঠিক জানেন না কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে। কারণ সেসময় তিনিসহ বাসের প্রায় সব যাত্রীই ঘুমিয়ে ছিলেন।
তার অনুমান বাসটি তখন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এবং রাত তখন আড়াইটা থেকে তিনটার মতো বাজে।
ঘুমের ঘোর কেটে যাওয়ার আগেই তিনি দেখতে পান যে বাসের চারদিকে আগুন জ্বলছে।
তিনি বলেন, ‘বাসের চারপাশে যখন আগুন জ্বলছে তখন এক বন্ধু আমাকে ডেকে তুললো। বললো, আগুন লাগছে। এক সেকেন্ডের মধ্যে আমি চারদিকে দেখি বাসের ভেতরে আগুন ছাড়া আর কিছুই নাই।’
তিনি তখন সাথে সাথে জানালা খুলে বাস থেকে লাফ দিয়ে অক্ষত অবস্থায় নেমে যান এবং বাসের ভেতরে আরো যারা ছিলেন তাদের খোঁজ নিতে শুরু করেন।
‘আমি দেখলাম রাস্তার ওপর একজন পুড়ছে। তিনি রাস্তায় পড়ে আছেন কিন্তু তার জামাকাপড় পুড়ছে।’
তাকে বাঁচাতে গেলে ফারুক আহমেদের হাত দুটো পুড়ে যায়। ডাক্তাররা বলছেন, তার শরীরের দুই শতাংশ পুড়ে গেছে।
কিন্তু তিনি যাকে বাঁচিয়েছেন তার পুড়েছে কুড়ি শতাংশ।
এক সপ্তাহ আগে কয়েক বন্ধুকে নিয়ে ফারুক কক্সবাজার গিয়েছিলেন বেড়াতে, কিন্তু হরতালের কারণে ফিরতে পারছিলেন না।
‘হোটেলে থাকছি, ঘুরছি আর খাচ্ছি। কিন্তু বাড়ি থেকে ফোনে বললো একটা জরুরি বিষয়ে বাড়িতে আসা দরকার। তখন বাসের টিকেট কিনে ঢাকার জন্যে রওনা দেই।’
কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসার পথে এই বাসটির ওপরেই ছোঁড়া হয় পেট্রোল বোমা
ফারুক আহমেদ মনে করেছিলেন বিশেষ ব্যবস্থায় হাইওয়েতে গাড়ি চলছে। তাই হয়তো কোনো অসুবিধা হবে না।
তিনি জানান, অর্ধেকটারও বেশি পথ ভালোভাবেই এসেছিলেন তারা। তারপরই হঠাৎ করে এই ‘দুর্ঘটনা’ ঘটেছে।
তিনি জানান যে বাসের কোনো সিট খালি ছিলোনা। তার ধারণা বাসটিতে ৫৫ থেকে ৬০ জনের মতো যাত্রী ছিল।
খবর পেয়ে ফারুকের মা মানিকগঞ্জ থেকে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন।
বিছানায় একমাত্র ছেলে ফারুকের মাথার পাশে বসেছিলেন তিনি।
বললেন, ‘ও বেড়াইবার গেছিলো। দরকার কইয়া আনাইছি। রাইত কইরা বাসে উইঠা ও বিপদে পাইড়া গেছে।’
সূত্র: বিবিসি

Tuesday, January 6, 2015

নিরাপত্তার জন্যই প্রেসক্লাবে থাকতে হয়েছে: ফখরুল, প্রেসক্লাবেই থাকবেন ফখরুল -শওকত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিতেই সোমবার বিকেল থেকে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, এর আগেও জাতীয় নেতৃবৃন্দ জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান নিয়েছেন। তারা সাংবাদিকদের আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন। আমিও নিরাপত্তার কারণে এখানে এসেছিলাম। আথিয়েতার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসক্লাবেই থাকবেন ফখরুল -শওকত
নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় প্রেসক্লাবে থাকবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপিপন্থি সাংবাদিক নেতারা।
মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিপন্থি সাংবাদিকদের প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ এ কথা জানান।
মির্জা ফখরুলকে প্রেসক্লাব থেকে বের করে দেওয়ার দাবিতে আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকদের কনফারেন্স লাউঞ্জে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণার প্রেক্ষাপটে বিএনপিপন্থি সাংবাদিকরা এই ঘোষণা দিলেন।
এ সময় তিনি মির্জা ফখরুলকে মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী বলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের কড়া সমালোচনা করেন।
শওকত মাহমুদ বলেন, মির্জা ফখরুল এখানে রয়েছেন, আমাদের কাছে এসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ তাকে সন্ত্রাসী বলে তাদের হাতে তুলে দিতে বলেননি।
সরকারি নীলনকশা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ ধরনের কথা বলা হচ্ছে। আর হানিফদের কথামত সাংবাদিকদের একটি অংশ প্রেসক্লাবে এসে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বিচ্ছিন্ন সহিংসতায় বিরোধী জোটের অবরোধ, তাঁতীবাজারে বাসে আগুন

বিচ্ছিন্ন সহিংসতায় সারাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দূরপাল্লার কোন যানবাহন রাজধানী ছাড়ছে না। তবে ট্রেন এবং লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। রাজধানীর ভেতরে যানবাহন চলাচলও অনেকটা স্বাভাবিক। ভোরে কদমতলী লাল মসজিদ এলাকায় পুলিশের একটি লেগুনায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় একজন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। রাজধানীর কয়েকটি স্থানে জামায়াত-শিবির কর্মীরা অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করে। নারায়ণগঞ্জে বিএনপি কর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে তা ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় কমপক্ষে পাঁচ জন বিএনপি কর্মী আহত হন। পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে।
তাঁতীবাজারে বাসে আগুন
সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের দেশব্যাপী লাগাতার অবরোধের প্রথম দিনে রাজধানীর তাঁতীবাজারে একটি বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা নাজমা আক্তার জানান, মঙ্গলবার বেলা ১টা ৫০ মিনিটের দিকে সাভার পরিবহনের বাসটিতে আগুন দেয়া হয়।তিনি বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সাভার-গুলিস্তান-সদরঘাট রুটের বাসটি তাঁতীবাজারে পৌঁছানোর পর ওই এলাকায় একটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এর পরপরই বাসটির পিছনের দিকে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
যাত্রীরা দ্রুত নেমে যাওয়ায় কেউ আহত হননি বলে জানান বাসের চালক।
৫ জানুয়ারি পূর্ব ঘোষিত ‘‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবসের’ কর্মসূচি পালন করতে বাধা দিলে সোমবার বিকেলে সারা দেশে লাগাতার অবরোধের ডাক দেন জোটের নেতা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া।

Sunday, January 4, 2015

হঠাৎ করেই পাল্টে গেল রাজনীতির দৃশ্যপট, ঢাকার ১৪ স্পটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে আগুন, সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন, অনড় খালেদা

(গাজীপুর শহরের শিববাড়ি মোড় এলাকায় ঢাকা-গাজীপুর সড়কে বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে ভিআইপি সাতাইশ পরিবহনের একটি বাসে  আগুন দিয়েছে দুবৃত্তরা। স্থানীয়রা এবং খবর পেয়ে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভায়।আগুনে বাসের সবগুলো আসন পুড়ে গেছে।) একতরফা নির্বাচনের বর্ষপূর্তির একদিন আগেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এদিন ঢাকার ১৪টি স্পটসহ কয়েকটি জেলায় গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের পূর্বঘোষিত সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে এ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ঢাকার পল্টন, গুলিস্তান, তেঁজগাও, গেন্ডারিয়া, নর্দা, সায়দাবাদ, যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া, আজিমপুর, কুড়িল, মালিবাগ, উত্তরা ও পোস্তাগোলায় বাসে আগুন দেয়া হয়। মতিঝিলে একটি প্রাইভেটকারে আগুন দেয় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এছাড়া চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট, ময়মনসিংহ সদর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এবং গাজীপুরের চান্দিনা চৌরাস্তা মোড় ও জয়দেবপুরেও বাস পোড়ানোর খবর পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহের ঘটনায় আহত হয়েছেন চালকসহ অন্তত ১০ জন।
হঠাৎ করেই পাল্টে গেল রাজনীতির দৃশ্যপট
এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। ছিল না কারো কল্পনাতেও। ৫ জানুয়ারির আগেই যে দেশে যুদ্ধংদেহী অবস্থা তৈরি হবে তেমন ধারণা ছিল না কারোরই। কিন্তু হঠাৎ করেই পাল্টে গেল রাজনীতির দৃশ্যপট। শনিবার মধ্যরাতে খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করার পর রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে দেশ। সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। অথচ এই সময়ে এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। বিশেষ করে ৩১ ডিসেম্বর  সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ‘নরম’ অবস্থানের কারণে সবাই ধরেই নিয়েছিলেন যে আপাতত রাজনীতির মাঠ গরম হচ্ছে না। কিন্তু সেসব পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে ৫ জানুয়ারির বিতকির্ত নির্বাচনের এক বছর পূর্তির আগের দিনই উত্তপ্ত হয়ে সারা দেশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।  নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশত গাড়িতে অগ্নিসংযোগ কিংবা ভাঙচুর করা হয়েছে। বিএনপি নেতারাও কঠোর অবস্থানই নিয়েছেন। খালেদা জিয়া তো সাফ জানিয়েই দিয়েছেন যে তিনি ‘অবৈধ’  সরকারের নিষেধাজ্ঞা মানেন না, সোমবারের পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ হবেই। এ অবস্থায় পরিস্থিতি আয়ত্বে রাখতে পুলিশ-র‌্যাবের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকায় প্রায় ১৭৭ জনসহ সারা দেশে ৪ শতাধিক লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দূর পাল্লার বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়ে সারাদেশ কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলেছে সরকার। ঢাকা আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারপরও শাসকদল  সোমবার মহড়া দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, রাজনৈতিক মাঠ আরো পরের দিকে উত্তপ্ত হতে পারে বলে যারা আশঙ্কা করেছিলেন তারা অবাক হয়ে দেখছেন মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। রাজনৈতিক সংঘাত সহসাই আবার কোন পর্যায়ে পৌঁছায় তা নির্ভর করছে সরকার কতটা কঠোরতার পরিচয় দেয় কিংবা বিএনপি-জামায়াত জোট কতটা শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে পারে তার ওপর নির্ভর।
সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়নের কথা হয়। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহসিন রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাজধানীতে ২৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে রাজধানীতে আজ বিকেল ৫টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি’র যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, যেকোনো সহিংসতা ও অরাজকতা পরিহার করতে এবং নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি অধ্যাদেশের ২৮ ও ২৯ ধারা অনুসারে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। কেউ এ নির্দেশ অমান্য করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ডিএমপি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোমবার ১০টায় নয়া পল্টনে সমবেশ॥ অনড় খালেদা জিয়া
২০ দলীয় জোট প্রধান এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সোমবার সকাল ১০টায় সমাবেশ করতে অনড় রয়েছেন। তিনি নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে রাজধানীর নয়া পল্টনস্থ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ হতে বলেছেন। যেকোনো মূল্যে তিনি সমাবেশ করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বাধা এলে তা প্রতিরোধ করার নির্দেশও দিয়েছেন। তিনি নিজেও ওই সমাবেশে উপস্থিত হবেন বলে জানিয়েছেন। বিএনপি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়া সবস্তরের নেতাকর্মীদের নয়া পল্টনের সমাবেশে উপস্থিত হতে বলেছেন। এছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরিকদেরও এতে সমবেত হতে বলেছেন। কোনো ধরনের বাধা এলে তা প্রতিরোধ করতেও বলা হয়েছে। ২০ দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এখন আর পিছু হটার অবকাশ নেই। সোমবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার সমাবেশ করতে না দেয়া হলে এর পর থেকে প্রতিদিনই এই কর্মসূচি থাকবে বলে সূত্র জানিয়েছে। খালেদা জিয়া এখনো তার গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন। তবে তিনি সোমবার নয়া পল্টন রওনা হবেন।

Wednesday, October 8, 2014

বিমানবন্দর ঘেরাওয়ের হুমকি ফয়জুল্লাহর

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ইস্যুতে বিমানবন্দর ঘেরাও এবং হরতাল কর্মসূচি দিয়ে সারা দেশ অচলের হুমকি দিয়েছেন।
তিনি বুধবার দলের লালবাগ কার্যালয়ে বাদ যোহর এক সভায় এ হুমকি দেন। সভা থেকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়।

মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, মুরতাদ আব্দুল সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজন ইসলাম, মহানবী (সা.), হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিষোদগার করেই চলেছেন। অথচ সরকার তাদের ব্যাপারে নির্বিকার।
তিনি বলেন, ‘নাস্তিক্যবাদীদের এসব ঘৃণ্য অপকর্ম ও অমার্জনীয় ধৃষ্টতার বিচার আল্লাহর জমিনে হবেই। আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তার দুনিয়ায় কেউ থাকতে পারবে না।’
মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘মুরতাদ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর ফাঁসির বিকল্প নেই। সরকার শরীয়তের বিধান অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকর না করে, তবে আল্লাহ ও রাসূল প্রেমিক জনতা সরকারকে ছেড়ে দেবে না।’
তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকী বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চাইলে এবং সরকার তাকে প্রশ্রয় দিলে বিমানবন্দর ঘেরাও, হরতালসহ ‘সব অচল’ কর্মসূচি দিয়ে গোটা দেশ অচল করে দেওয়া হবে।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি তৈয়্যেব হোসাইন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা যুবায়ের আহমদ, মাওলানা জসিম উদ্দীন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াসেল, মাওলানা শেখ লুকমান হোসাইন, মাওলানা সালমান, মাওলানা রিয়াজতুল্লাহ, মাওলানা ইসহাক প্রমুখ।

আইএস নিয়ে তুরস্কে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, নিহত ১৪

সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তৃত এলাকা দখলে রাখা জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তুরস্কে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।
এ বিক্ষোভে সরকারি বাহিনীর টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। আটজন পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছে ৩০ জন এবং শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রোসেফ তাইয়েপ এরদোগান সতর্ক করে মঙ্গলবার বলেন, সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত গুরুত্বপূর্ণ শহর কোবানি আইএস যোদ্ধাদের হাতে চলে গেছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী সেখানে ব্যর্থ হয়েছে।
তার এ বক্তব্যের পর মঙ্গলবার রাতে তুরস্কের কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্বাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে আইএস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে তুরস্কের পদক্ষেপের প্রতিবাদে কুর্দিরা রাস্তায় নেমে আসে। ক্রমান্বয়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
নিরাপত্তা বাহিনী প্রথমে বাধা না দিলেও এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের নিবৃত করার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তারা সড়কে আগুন জ্বেলে প্রতিবাদ ও গাড়িতে ভাঙচুর করতে থাকে এবং পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে।
এক পর্যায়ে বিক্ষোভ দমনে পুলিশ জলকমান ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তুমুল সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়। আর শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।
তুরস্কের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে কোবানি শহরে আইএস জঙ্গিদের ওপর হামলা করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাতে থাকে।
এই বিক্ষোভ দেশটির রাজধানী আঙ্কারা এবং সবচেয়ে বড় শহর ইস্তাম্বুলেও ছড়িয়ে পড়ে। আর এই দুটি শহর থেকেই শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। এখানে সংঘর্ষে আট পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন আহত হয় বলে বুধবার সকালে সরকারি তরফে জানানো হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় কুর্দি অধ্যুষিত শহর দিয়ারবাকিরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়। সংঘর্ষের সময় পূর্বাঞ্চলের মাস- এর ভার্তো শহরে ২৫ বছর বয়সী একজন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম খবর দিয়েছে।
আর দুজন মারা গেছে দক্ষিণাঞ্চলের সিরতে প্রদেশে এবং আরো একজন মারা গেছে পার্শ্ববর্তী ব্যাটম্যানে।
এছাড়া কর্তৃপক্ষ দিয়ারবাকির, সিরতে এবং ভ্যানসহ ছয়টি শহরে কারফিউ জারি করেছে। এসব এলাকায় সহস্রাধিক বিক্ষোভকারী কোবানিতে আইএস ঢুকে পড়ায় বিক্ষোভ করে।
এর আগে ১ অক্টোবর সংসদে এরদোগান ভাষণে বলেন, তুরস্ক আইএসসহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এ সময় তিনি প্রয়োজনে ইরাক এবং সিরিয়াতে আইএস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব করেন।
এরদোগান বলেন, ‘আমরা আইএস এবং অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এই অঞ্চলে কার্যকরি যুদ্ধেই রয়েছি। এ অঞ্চলের নিরাপত্তাই সব সময় আমাদের অগ্রাধিকার।’
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আযহার দিন থেকে কোবানি দখলে এসে আইএস যোদ্ধারা বাধার সম্মুখীন হয়। এ সময় পথে পথে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই হয়। সোমবার রাতভর লড়াই শেষে তারা মঙ্গলবার ভোরে কোবানিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
কোবানির দখল নিলেও এখনো থেমে থেমে কুর্দি এবং সিরীয় পুলিশের সঙ্গে আইএস যোদ্ধাদের সংঘর্ষ হচ্ছে।
কোবানি দখল করার ফলে আইএস যোদ্ধারা এখন সিরিয়া এবং তুরস্কের সীমান্তের শক্ত নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে। ইতোমধ্যে দুই লাখ লোক কোবানি থেকে তুরস্ক এবং পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গেছে।
এদিকে, আইএস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সর্বশেষ শান্তিপ্রিয় কানাডা যোগ দিয়েছে। মঙ্গলবার সংসদে ভোটাভুটিতে আইএস জঙ্গিদের ওপর বিমান হামলার পক্ষে ভোট পড়ে। হোয়াইট হাউস কানাডার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা, আলআহরাম

Friday, October 3, 2014

বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিক্ষোভ, লতিফ সিদ্দিকীর ফাঁসি দাবি

মহানবী (সা.), হজ ও তাবলিগ জামায়াত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ফাঁসির দাবিতে ঢাকায় বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।

শুক্রবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমার পর হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ইসলামী দল ও সাধারণ মুসল্লিরা এ বিক্ষোভে অংশ নেন।

নামাজের পর বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিলটি বের হয়ে পুরানা পল্টন এবং দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে ফের বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় লতিফ সিদ্দিকীর ফাঁসি দাবি করে মুসুল্লিদের স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এদিকে, পূর্ব ঘোষিত এই কর্মসূচি ঘিরে আজানের পরপর অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান নেয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায়। সমাবেশ চলাকালে ওই এলাকা কর্ডন করে রাখে তারা।

হেফাজতে ইসলামের লালবাগ কার্যালয়ের সামনে থেকে সংগঠনের নায়েবে আমির আবদুল লতিফ নেজামী ও যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহর নেতৃত্বে বিশাল মিছিল বের করা হয়। পরে আজিমপুরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে, পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে লতিফ সিদ্দিকীর বিচার দাবি করে আজ জুমার পর সারাদেশে বিক্ষোভ করেছে হেফাজতে ইসলামীসহ বিভিন্ন ইসলামী দল এবং সাধারণ মুসুল্লিরা।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সঙ্গে সফরে নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে মহানবী (সা.), হজ, তাবলিগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করে সমালোচিত হন লতিফ সিদ্দিকী।

এ ঘটনায় দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানায় আওয়ামী লীগ। তবে তাকে কেবল মন্ত্রিসভা থেকে নয়, দল থেকেও সরিয়ে দেয়া হবে বলে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন।

Thursday, September 25, 2014

বাংলাদেশে সেনা অভ্যুত্থানের আশঙ্কা ভারতের by ফাতিমা ফেরদৌসী আশা

সেনা অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ‘চরমপন্থী অংশ’ শেখ হাসিনাকে  উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে বলে খবর রয়েছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থার হাতে।

ভারতীয় দৈনিক দা ইকোনমিক টাইমস বৃহস্পতিবার এ খবর দিয়েছে।
ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, একাজে মদত যোগাচ্ছে ‘চরমপন্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে যে জামায়াতে ইসলামী শেখ হাসিনা সরকারকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে, যা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকে, ওবামা প্রশাসনের কাছে বাংলাদেশের ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর’ হুমকি মোকাবিলার কৌশলের বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। এ সময় আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থনও চাওয়া হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালের অপরাধের অভিযোগ এবং পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন লস্কই-ই-তৈয়বাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতার জন্য জামায়াতের বিরুদ্ধে দমনাভিযান চালাচ্ছেন। গত বছর জামায়াতকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করেছে বিচার বিভাগ।
আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে মোদি যখন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং অন্যান্য মার্কিন নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন তখন তিনি হাসিনার ওপর ‘হুমকি’ এবং বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ওবামার সাথে বৈঠকে মোদি বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সাম্প্রতিক আল-কায়েদার হুমকির বিষয়টিও উত্থাপন করতে পারেন বলে দাবি করছে সূত্র।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওবামার সাথে বৈঠকের আগেই মোদি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ২৭ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিার সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন।
ওই বৈঠকে মোদি শেখ হাসিনার ওপর হুমকির বিষয়টি জানাবেন বলে জানিয়েছে ইকোনমিক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সাথে বৈঠকে মোদি বলেন, ‘বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন শেখ মুজিব এবং বাংলাদেশকে রক্ষা করছে শেখ হাসিনা।’

Wednesday, September 24, 2014

এ কে খন্দকার ‘অথর্ব’, শফিউল্লাহ ‘কাপুরুষ’: কাদের সিদ্দিকী

মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এবং সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার, বীর উত্তমকে ‘অথর্ব’ এবং মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কে এম শফিউল্লাহ বীর উত্তমকে ‘কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। সোমবার নয়াদিগন্ত পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে কাদের সিদ্দিকী এ মন্তব্য করেন।

কাদের সিদ্দিকী লিখেছেন, ‘জীবনে পবিত্র কুরআন ছাড়া আর কোনো গ্রন্থ অতবার পড়িনি, যা এ কে খন্দকারের ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’ এ ক’দিনে পড়েছি। পাঠকের সামনে কিছু প্রশ্ন তুলে ধরতে বইটা পড়ার প্রয়োজন ছিল। এত ‘অথর্বরা’ যে অত বড় বড় দায়িত্বপূর্ণ পদে এতদিন দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ভাবতেই কেন যেন অবাক লাগে। সত্যিই কেউ ভাবতে পারে? শত্রু কবলিত দেশে ওরকম একটা লাখ লাখ লোকের সমাবেশে স্বাধীনতা ঘোষণা করা যায়? তারপরও ছক্কল ধরেছেন তারা নির্দেশ পায়নি। ইচ্ছে না থাকলে পাবেন কী করে?’

নিয়মিত কলামে কাদের সিদ্দিকী আরো লিখেছেন, ‘ভদ্রলোকেরা কয়েক বছর এক দোকান খুলেছেন ‘কমান্ডার্স ফোরাম’। যুদ্ধের বেলায় কমান্ড নেই, কমান্ডার্স ফোরাম! ফোরাম থেকে পদত্যাগ করেছেন। এখন সভাপতি আরেক কাপুরুষ। হাইকোর্ট যাকে অথর্ব কাপুরুষ হিসেবে আগেই রায় দিয়েছেন। সেই জেনারেল শফিউল্লাহ এখন কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি।’

তিনি লিখেছেন, ‘লোকগুলোর যখন যৌবন ছিল, কার্যশক্তি ছিল, তখন জিয়া-এরশাদের গোলামি করেছেন।’

বঙ্গবন্ধুকে সম্বোধন করে লেখা এই নিবন্ধে বলা হয়, ‘এখন সবাই তোমার (বঙ্গবন্ধুর) কন্যার অধীন। একটা মজার ব্যাপার! তোমাকে যারা গালাগাল করেছে এখন তারা সবাই তোমার কথা বলতে বলতে কাঁদতে কাঁদতে নাকের চোখের নোনা পানি হজম করছে। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বোনকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয়। …তবে মাঝে মাঝে ভয় যে হয় না তা নয়। চার দিকে শত্রুর মধ্যে প্রিয়জন কেউ থাকলে তার জন্য সত্যিই শঙ্কা হয়।’

বঙ্গবীর লিখেছেন, ‘সম্প্রতি বহুল আলোচিত এ কে খন্দকারের বইয়ে তার খেতাব পাওয়া নিয়ে দু’কথা আলোকপাত করি। এ কে খন্দকার ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’ লিখে মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে বরবাদ করেছেন। আমি চেষ্টা করছি ‘বাহিরে খন্দকার, ভেতরে মোস্তাক’ নামে একটা বই লিখতে। লেখার কাজ প্রায় শেষ। শুধু চোখ বুলানো বাকি। আশা করি ইনশাআল্লাহ কোরবানি ঈদের এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করে ফেলব। তাই সেখানে ১৪ পর্বের বইয়ের সব ক’টা পর্ব নিয়েই কমবেশি আলোচনা করব। তুমি তো জানই, জনাব খন্দকার একজন বীর উত্তম খেতাবধারী। খেতাবপ্রাপ্ত না বলে খেতাবধারী বললাম, মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ খেতাব প্রদানে তিনি ছিলেন চেয়ারম্যান, মেজর এম এ ওসমান ও মেজর এম এ মঞ্জুর ছিলেন সদস্য। তারা তিনজনই নিজেদেরটা নিজেরাই নিয়ে নিয়েছেন। তবে ওইসব বীরত্বসূচক খেতাব পাওয়ার জন্য যা যা দলিল দস্তাবেজ থাকা দরকার, যে ধরনের ঘটনা বা যুদ্ধে সাহস দেখানো দরকার তার কিছুই উল্লেখ নেই। মুক্তিযুদ্ধে কোনো ভূমিকা থাকলে তো উল্লেখ থাকবে।’

কাদের সিদ্দিকী জানান, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরত্বসূচক পদক বা খেতাব পেতে প্রধান সেনাপতি জনাব এম এ জি ওসমানীর যে প্রস্তাব সরকার অনুমোদন করেছিল, সেখানে ছিল সম্মুখযুদ্ধে সাহসী কর্মকাণ্ডের জন্য যোদ্ধাদের উৎসাহিত করতে পদক দেয়া। বীরত্বসূচক পদকের প্রধান শর্ত হবে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ। সেটা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করে অথবা শত্রুকে আক্রমণ করে হোক। যেভাবেই হোক যুদ্ধে অংশ নিতে হবে। যে কারণে জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী প্রধান সেনাপতি হয়েও খেতাব পাননি বা নেননি।’

কাদের সিদ্দিকী লিখেছেন, দেশ আবার উত্তাল হতে যাচ্ছে। সে দিন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসির বদলে আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছে। এ এক চমৎকার সাজা। ৯০ বছর বয়সে গোলাম আযমের ৯০ বছর জেল। আজীবন কারাদণ্ড হয়েছিল জয়পুরহাটের কসাই আব্দুল আলীমের। ক’দিন আগে ভদ্রলোক ইন্তেকাল করে পরপারে গেছেন। সে দিন কারাদণ্ড হয়েছে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর। অনেকে মনে করছেন বহু ঘাটে যুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সাথে এটা একটা আপসের প্রয়াস। আবার সরকার অন্যভাবেও দেখতে পারে। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জামায়াতের বাইরেও একটা ধর্মীয় আবেগ আছে। সেটা যাতে বিস্ফোরিত না হয় তার জন্যও কৌশল নিতে পারেন। যাই হোক, এখন দেশের মানুষ সরকারি চালাকি আগেই ধরে ফেলে। আর ডিজিটাল জামানায় কোনো কিছু গোপন থাকে না, সবই ওপেন সিক্রেট। কে কার সাথে কথা বলে, কী বলে, কী সব কাগজপত্র আদান প্রদান হয় ইন্টারনেটের কল্যাণে তার অনেক কিছুই ধরা পড়ে। তাই বেশি চালাকির সুযোগ কই।

নিবন্ধে বলা হয়, বহু বছর ধরে শুনে আসছি, অতি চালাকের গলায় দড়ি। এখন অনেকের গলায় সেই দড়ি পরছে। সরকার সত্যিই একটা বুদ্ধির কাজ করেছে। এ সরকার থাকলে জেলে, অন্য সরকার এলে দু’চার মাস পর জাতীয় হিরো হয়ে বাইরে। শুনেছি, আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় শুনে মহিলা প্রসিকিউটর জ্ঞান হারিয়েছেন। তা তিনি হারাতেই পারেন। জ্ঞান হারালেই কোনো যোগ্যতা প্রমাণ হয় না। অমন ঢংয়ের অজ্ঞান অনেকেই হতে পারে। তবে এটা সত্য, যুদ্ধাপরাধী অভিযোগে অভিযুক্ত সবার অপরাধ প্রমাণ হবে না। কেউ কেউ মুক্তও হবেন। সবার দণ্ড ফাঁসি হবে না, কমবেশি কারাদণ্ডও হবে- এটাই আইনের বিধান।

কাদের সিদ্দিকী লিখেছেন, খন্দকার কী কাজের জন্যে বীর উত্তম হলেন বা খেতাব পেলেন বা নিলেন তার বইয়ে যা লিখেছেন তা আমি তোমায় জানিয়েছি। এরকম বউ-পোলাপান নিয়ে ভারত গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম লেখালেই যদি খেতাব পাওয়া যায় তাহলে আরো কয়েক লাখ যোদ্ধাকে খেতাব দিতে হয়। হ্যাঁ, তিনি খেতাব পেতে পারতেন, ’৫১ সালে চাকরিতে যোগ দিয়ে পাকিস্তানে যাওয়ার পর ’৬৯ সালের ৪ মার্চ ঢাকায় আসেন। তিনি তখন উইং কমান্ডার হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বিমান কর্মকর্তা হিসেবে সর্বজ্যেষ্ঠ হিসেবে দাবি করেছেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদাররা বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে তিনি যদি তার পুরো স্কোয়াড্রন নিয়ে সীমান্ত পার হতেন তাহলে তাকে বীর উত্তম দিলে কারো কোনো আপত্তি থাকত না। সব ক’টা না পারতেন অন্তত একটা বিমান নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে একটা বোমা ফেলে চলে যেতেন। বোমা না ফেলতে পারলেও কোনো আপত্তি ছিল না, তিনি একটা বিমান নিয়ে গেলেই হতো। যুদ্ধরত অবস্থায় যদি শুনতাম আমাদের কোনো বাঙালি বিমানকর্তা কয়েকটা বিমান উড়িয়ে দিয়েছে কিংবা জ্বালিয়ে দিয়েছে বা বিমান নিয়ে বন্ধুরাষ্ট্র ভারতে চলে গেছে তাহলে কতই-না শক্তি পেতাম। এর কিছুই তিনি করেননি বা করতে পারেননি। আর কিছু না পারতেন ৫-১০টা ফাইটারের তেলের ট্যাংকে এক ছটাক চিনি ঢেলে যেতেন- তা-ও বুঝতাম একটা কিছু করেছেন। কোনো জেড-এর ট্যাংকে এক ছটাক চিনি দিলে আর দয়া করে একবার ইঞ্জিন স্টার্ট করে ২-৪ মিনিট চালালে তারপর কাউকে আর কিছু করতে হতো না। আপনা আপনিই ইঞ্জিন সিজ হতো। আবার নতুন ইঞ্জিন বসিয়ে তারপর সে ফাইটার দিয়ে ফাইট করতে হতো। আমি বলতে চাইনি স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে, বন্ধু-বান্ধব ত্যাগ করে আমাদের মতো অনিশ্চিত জীবনে ঝাঁপিয়ে পড়তে; কিন্তু বীর উত্তম খেতাব যখন নিবেন তখন তো বীরের মতো কিছু একটা করতে হবে। তা তো বাহিরে খন্দকার ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’ দেখাতে পারেননি।

কাদের সিদ্দিকী লিখেছেন, দরিদ্র মানুষের রক্ত-ঘামের পয়সায় জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত পণ্ডিতি করে ২০১২ সালে ‘একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাথা খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারক গ্রন্থে’ লিখেছেন, ১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানীসহ হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় আসার পথে ফেঞ্চুগঞ্জে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে আব্দুর রব পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এ জন্য যদি তাকে বীর উত্তম খেতাব দেয়া হয়ে থাকে পণ্ডিতেরা দিতেই পারেন; কিন্তু হেলিকপ্টারে কোথাও যাওয়ার পথে গুলি খাওয়া যুদ্ধ বোঝায় না। আর জেনারেল ওসমানীকে বহন করা হেলিকপ্টার কোনোমতেই ঢাকার পথে ছিল না। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের স্থানীয় ক্যাম্প বা ঘাঁটি পরিদর্শন করছিলেন। সবাই এসেছিলেন আগরতলা থেকে, তারা কেন ভাঙা হেলিকপ্টারে সিলেট থেকে এতিমের মতো আসার চেষ্টা করবেন? সেখান থেকে আগরতলা হয়ে সবার একসাথে আসাই তো সমীচীন ছিল। এ তো দেখছি ক্যান্সারের মতো ইতিহাস বিকৃতির রোগে ধরেছে।

আর মুক্তিবাহিনী কখনো এক কথা নয়। আমাদের বহু পণ্ডিত জনাব আতাউল গনি ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি যেমনটা এখানে বলেছেন অথবা সর্বাধিনায়ক বলতে চান। তিনি মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের নন। মুক্তিযুদ্ধটা একটা সার্বিক ব্যাপার। সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, আরো অনেক কিছু জড়িত। যুদ্ধটা তার একটা অংশ।

Thursday, July 24, 2014

আন্দোলনে ব্যর্থ হলে বিএনপি আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে -সাক্ষাত্কারে অধ্যাপক পিয়াস করিম

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক পিয়াস করিম বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে খুন-গুম, অর্থনৈতিক জালিয়াতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশব্যাপী জনগণের ক্ষোভ রয়েছে। আন্দোলনের মাঠ তৈরিই আছে। এখন বিএনপির কাজ হলো জনগণের এ ক্ষোভকে ভাষা দিয়ে আন্দোলনে নামা। আর ঈদের পর আন্দোলনে নামার যে হুমকি দিচ্ছে, এটা তাদের জন্য শেষ সুযোগ। এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে দেশের জনগণের কাছে অপ্রাসঙ্গিক ও ব্যর্থ দল হিসেবে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে বিএনপি।

গত সপ্তাহে আরটিএনএনএর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাত্কারে ড. পিয়াস করিম এসব কথা বলেন। সাক্ষাত্কারে দেশের রাজনৈতিক সংকট ও উত্তরণের উপায় নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
পিয়াস করিম বলেন, দেশ পরিচালনায় আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির ব্যর্থতায় রাজনীতিতে প্রধান শক্তি হিসেবে ভবিষ্যতে জামায়াতের উত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও আমি তা চাই না। তবে চোখ বন্ধ রাখলেই তো মহাপ্রলয় ঠেকানো যাবে না, প্রলয় হবেই। তবে জামায়াত না হলে আরেকটি শক্তি (সেনাবাহিনী) দেশের ক্ষমতায় চলে আসবে।
ঈদের পর খালেদা জিয়ার সরকার পতনের আন্দোলন প্রসঙ্গে পিয়াস করিম বলেন, দল গুছানো এবং আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে তৃণমূলকে কোনো নির্দেশনা ছাড়া খালেদার আন্দোলনের ডাক অনেকেই হেসে উড়িয়ে দিলেও কেন তিনি বার বার হুমকি দিচ্ছেন তা ভেবে দেখতে হবে। তিনি অবশ্যই সাধারণ কেউ নন, তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। না জেনে-বুঝে তো তিনি এমন কথা বলবেন না। নিশ্চয়ই সে রকম প্রস্তুতি তার রয়েছে। আর এখনই তা বলে সরকারকে সজাগ করে দেয়ার মত ভুলও তিনি করবেন না।
দেশের চলমান সংকট উত্তরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি, ফলে জনগণের পছন্দের সরকার ক্ষমতায় আসেনি। তাই সকল দলের অংশগ্রহণে অবিলম্বে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
তবে তিনি বলেন, এমন অক্ষম, অপদার্থ ও একচোখা নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা কখনই সম্ভব নয়।
তার পুরো সাক্ষাত্কারটি নিম্নে তুলে ধরা হল-
আরটিএনএন: কেমন আছেন স্যার?
পিয়াস করিম: কথাটির উত্তর দু’ভাবে দেয়া যায়। ভাল থাকার যে অনেকগুলো দিক রয়েছে, তার সবগুলোতে ভাল নেই। সাধারণভাবে বললে ভাল আছি। এছাড়া সবাইকে নিয়ে ভাল থাকার কথা বললে উত্তর হল- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় একদিকে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, শত শত মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়েছে, অন্যদিকে মানুষ বিয়ে-শাদীও করেছে এবং সন্তান জন্ম দিয়েছে। তখনও মানুষ ভাল ছিল তবে কেমন ভাল ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাধারণত হাজারো সমস্যার মাঝে সবাই যেমন ভাল থাকার চেষ্টা করে আমিও তেমন ভাল আছি।
আরটিএনএন: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম। সেই বাংলাদেশ এখন কেমন আছে?
ড. পিয়াস করিম: ’৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় পেলেও তাদের ক্ষমতায় যেতে দেয়া হয়নি। এরপরই ’৭১ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়। এ সময় ডা. মিলন, নূর হোসেনসহ অনেকেই জীবন দিয়েছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে দেশে প্রতিনিধিত্বমূলক সেই গণতন্ত্র নেই। এখন লোকের মৃত্যু অন্য মানুষের কাছে কোনো ব্যাপারই না, সবাই এটা সাধারণভাবে নেয়।
আরটিএনএন: সরকারি দলের লোকজন বলছেন দেশে এখন গণতন্ত্রের স্বর্ণযুগ চলছে। বিরোধীরা বলছেন, দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। আপনার কী মনে হয়?
পিয়াস করিম: বাংলাদেশের চলমান গণতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষসহ কারো আস্থা নেই। মানুষের প্রতিবাদী কথা বলার কোনো অধিকার নেই। তারপরও কিভাবে যে দেশে গণতন্ত্রের স্বর্ণযুগ চলছে তা আমার বোধগম্য নয়। তবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রধান দুই দলকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনীতিবিদরা যদি এ ব্যাপারে ভূমিকা পালন না করে এবং গণতন্ত্র নিয়ে এমন কথা বলতে থাকেন তবে মানুষ তাদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে। অদূর ভবিষ্যতে কেউ এমন গণতন্ত্র আশা করবেন না।
আরটিএনএন : দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে কীভাবে দেখছেন?
পিয়াস করিম: জনগণের সামনে তাদের আশা পূরণ করার মত এ দুই দল ছাড়া কোনো দল নেই। আমরা আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপিকে ভোট দেই না। যখন একদল ক্ষমতায় এসে দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে মানুষের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালায় তখনই অতিষ্ঠ হয়ে তাদের হাত থেকে বাঁচতে অন্যদলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করি। পর্যায়ক্রমে আবারও তাদের নির্যাতনের শিকারে পরিণত হই। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঘুরে ফিরে এদেরকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করি।
আরটিএনএন: দেশের বর্তমানের রাজনীতি ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে কতটা আশাব্যাঞ্জক?
পিয়াস করিম : দেখুন ইতিহাস বার বার পাল্টায়। ’৪৮-এ কেউ জানতো না ’৫২-তে কি হবে। ’৬৯-এ জানতো না ’৭১-এ কি হবে এমনকি ’৭৪-এ ও কেউ জানতো না ’৭৫-এ কি হবে। আমাদের পূর্ববর্তীরাও আমাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু রেখে যায়নি। ঘটনার পরিক্রমায় আমরা এসব পাচ্ছি। এখন তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা এখন রাজনৈতিক সহিংসতা চায় না। মারামারির রাজনীতিতেও বিশ্বাস করে না।
আরটিএনএন: ঈদের পর খালেদা জিয়া সরকার পতন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। সত্যিই কি বিএনপি আন্দোলন করতে পারবেন? নাকি আগের মতই ব্যর্থ হবে বলে মনে করেন?
পিয়াস করিম: খালেদা জিয়া ঈদের পর যে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন অনেকেই এটাকে হেসে উড়িয়ে দিচ্ছেন। দল গুছানো এবং আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে তৃণমূলকে কোনো নির্দেশনা ছাড়া তিনি কেন বার বার সরকারকে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন তা ভেবে দেখার বিষয়। কারণ তিন বার নির্বাচিত একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় না জেনে বুঝে কিছু বলবেন না। হয়তো হুমকি দেয়ার মত সে রকম প্রস্তুতি তার রয়েছে। আর এখনই তা বলে সরকারকে সজাগ করে দেয়ার মতো ভুলও তিনি করবেন না।
সরকারের বিরুদ্ধে খুন-গুম, অর্থনৈতিক জালিয়াতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশব্যাপী জনগণের ক্ষোভ রয়েছে। মাঠ তো তৈরিই আছে। এখন বিএনপির কাজ হলো জনগণের এ ক্ষোভকে ভাষা দিয়ে আন্দোলনে নামা। তা করতে না পারলে দেশের জনগণের কাছে অপ্রাসঙ্গিক ও ব্যর্থ দল হিসেবে বিএনপি ইতিহাসের আঁঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।
আরটিএনএন: আওয়ামী লীগের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা ও তার বিপরীতে বিএনপির অক্ষমতা বজায় থাকলে কেউ কেউ মনে করছেন প্রধান শক্তি হিসেবে জামায়াতের উত্থান হতে পারে। আপনি কি মনে করেন?
পিয়াস করিম: সরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা আর সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির অক্ষমতায় রাজনীতিতে প্রধান শক্তি হিসেবে ভবিষ্যতে জামায়াতের উত্থানের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
যদিও আমি চাই না জামায়াত আসুক। কারণ আমি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। তবে চোখ বন্ধ করে রাখলেই মহাপ্রলয় ঠেকানো যাবে না, প্রলয় হবেই। তেমনি এই দুই দলের ব্যর্থতায় দুটি বিষয় হতে পারে। এক হল প্রধান শক্তি হিসেবে জামায়াতের উত্থান। অপরটি সামরিক শক্তি চলে আসতে পারে-যা আওয়ামী লীগ, বিএনপি এমনকি সাধারণ জনগণ কারো কাছেই কাম্য নয়।
আরটিএনএন: জামায়াত নিষিদ্ধে গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে একাত্ম হননি কেন?
পিয়াস করিম: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও জামায়াত নিষিদ্ধের দাবিতে যখন শাহবাগ উত্তাল ছিল তখন জামায়াত কেন নিষিদ্ধ করা যাবে না সে সম্পর্কে যুক্তি তুলে ধরায় আমার ওপর অন্যায় আক্রমণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আমি জামায়াতের হয়ে কাজ করছি। আসলে আমি শুধু বাস্তবতাটুকু তুলে ধরেছিলাম মাত্র। গণজাগরণ মঞ্চ আমার বক্তব্য বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ দেখুন আজ আইনমন্ত্রী জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে একই কথা বলছেন। আর সে কথাতে প্রধানমন্ত্রীও সায় দিচ্ছেন।
আরটিএনএন: শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে কারা লাভবান হয়েছে?
পিয়াস করিম: সকল ধরনের সামাজিক মুভমেন্টগুলো হয়ে থাকে বিরোধী শক্তির পক্ষে এবং সরকারের বিরুদ্ধে। অথচ শাহবাগের আন্দোলনটি হয়েছে সরকারের পক্ষে। প্রথম থেকেই সরকার এ আন্দোলনকে পৃষ্ঠপোষকতা করায় লাভের পুরোটা অংশ সরকার পেয়েছে। অন্যদিকে গণজাগরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের পুরোটা ফল ভোগ করেছে বিরোধী শক্তি। গণজাগরণ মঞ্চের দাবিগুলো যেমন ভেবে দেখার মতো তেমনি হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলোও ভাবার মতো। এগুলোকে পাশ কাটানো যাবে না।
আরটিএনএন: পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন? প্রথমে আওয়ামী লীগ মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বললেও এখন সে অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, এর কারণ কী?
পিয়াস করিম: ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে সর্বমোট ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। ৪১টি দলের মধ্যে ১০/১১ দলের অংশগ্রহণ ছিল। সেটা আবার একপক্ষীয়। এটাকে কখনোই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলতে পারি না। রাজনীতিবিদরা যখন দায়সারা নির্বাচন করে তখন দেশের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।
নির্বাচন পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিদেশি চাপের ফলে সেই সময় আওয়ামী লীগ বলেছিল এটা একটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। খুব শিগগিরই আরেকটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন দেয়া হবে। কিন্তু পরবর্তীতে শক্তিশালী বিরোধীদল না থাকায় এবং বিরোধী শক্তির আন্দোলন তীব্রতর না হওয়ায় তারা দ্রুত নির্বাচনের ব্যাপারে ড্যামকেয়ার ভাব দেখায়। তাছাড়া বিরোধী শক্তিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধিতাকারী দেশগুলোকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওয়াদা থেকে ফিরে আসে। পুরো সময়টা ক্ষমতায় থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।
আরটিএনএন : চলমান সংকট উত্তরণের উপায় কি?
পিয়াস করিম : ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে না পারায় জনগণের পছন্দের সরকার ক্ষমতায় আসেনি। ফলে এই মুহূর্তে দেশের চলমান সংকট উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া। সে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা দলকেই দেশের এসব সংকট নিরসনে কাজ করতে হবে।
আরটিএনএন : অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কি এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সম্ভব?
পিয়াস করিম : কখনোই না। এমন অক্ষম, অপদার্থ ও একচোখা নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা কখনই সম্ভব নয়। যদি এ কমিশনের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেটাও ৫ জানুয়ারির মত আরেকটি নির্বাচন হবে। আর এমন নির্বাচন হওয়ার চেয়ে না হওয়াই ভাল।
আরটিএনএন : দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হানাহানি, সহিসংসতায় একের পর এক ছাত্র খুন, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা সকল অস্থিরতা বিরাজমান। একজন শিক্ষক হিসেবে এটাকে কীভাবে দেখছেন?
পিয়াস করিম : আসলে আমরা জাতি হিসেবে লজ্জার চরম সীমায় পৌঁছে গেছি। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায়। প্রমাণ থাকা সত্বেও জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা অস্বীকার করে জাতিকে অবাক করে দিয়েছেন। এটা অপরাধীদের উত্সাহিত করে। তাছাড়া শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীরা আসে পড়াশুনা করতে, খুনাখুনি করতে নয়। এমন ঘটনা দুঃখজনক।
আরটিএনএন : দীর্ঘদিন গবেষণা এবং শিক্ষকতা পেশা নিয়ে আপনি অনকেটা নীরবে চললেও এখন আপনাকে দেশের চলমান বিভিন্ন বিষয়ে সরব দেখা যায়। এটা কি শুধুই সামাজিক দায়বদ্ধতা, না অন্য কিছু?
পিয়াস করিম : দেখুন, ছাত্রজীবনে আমি বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। তখন তাদের সঙ্গে দেশ এবং দশের কল্যাণে কাজ করতাম। কিন্তু এই সময়ে বাম শক্তিগুলো যে আন্দোলন করছে, তার ওপর আস্থা রাখতে পারছি না। দলগুলো এখন তাদের আদশের্র মূল জায়গা থেকে সরে সুযোগ সুবিধার রাজনীতিতে নেমে পড়েছে। তাদের মধ্যে রুটি ভাগাভাগির দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। দেশের কল্যাণের কথা তো বলতেই হবে। এই দায়বদ্ধতা থেকেই আমি কথা বলে যাচ্ছি।
আবার অনেকে বলেন আমি বিএনপির লোক। সেটা আমি স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করছি না। তবে বিএনপির প্ল্যাটফর্মে থেকেই দেশের পক্ষে কথা বলার সুযোগ বেশি। তাই তাদের পক্ষেও বলতে পারেন।
আরটিএনএন: আমাদেরকে সময় দেয়ায় আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
পিয়াস করিম: আপনাদের এবং আরটিএনএন-এর সকল পাঠককেও ধন্যবাদ।

Friday, December 6, 2013

কাদের মোল্লার লাশ আলাদা স্থানে কবরস্থ করার দাবি

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার পর তাঁর লাশ ‘আলাদা স্থানে’ কবরস্থ করার দাবি জানিয়েছেন।

Friday, June 28, 2013

বাংলাদেশ হবে ভারতের পরিবহন সড়ক, সব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

আগামী এক মাস সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে পরিবহন সড়ক হিসেবে ব্যবহার করতে যাচ্ছে ভারত। ইতোমধ্যে ভারতের ত্রিপুরায় খাদ্যশস্য পরিবহনে বাংলাদেশ অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস (আইএএনএস)।শনিবার আইএএনএস- কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন ত্রিপুরার খাদ্যমন্ত্রী ভানুলাল সাহা। বার্তা সংস্থাটির কাছে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য নিজ ভূ-খণ্ডের ওপর দিয়ে ত্রিপুরায় পরিবহনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ সরকার।’ নিরাপত্তা বিষয়ক কিছু বিষয় নিষ্পত্তির পর এক মাসের মধ্যে এই খাদ্যশস্য পরিবহন শুরু হবে বলে জানান ভানুলাল। পশ্চিমবঙ্গের হালদিয়া বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে আশুগঞ্জ হয়ে ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব মিজোরাম, মণিপুর ও ত্রিপুরা রাজ্যে যাবে। প্রথমবারের এই চালানে চাল, গম ও চিনি নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মুখ্য সচিব বি কে রায় আইএএনএস- কে জানান, ‘এই খাদ্যশস্য পরিবহনের জন্য ইতিমধ্যে দরপত্রও ডেকেছে ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া।’ সময় এবং খরচ বাঁচাতে বাংলাদেশের নদীপথ ও স্থলসড়ক ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এদিকের দক্ষিণ-পূর্ব প্রদেশগুলোয় খাদ্যশস্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নেওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘ মেয়াদে চালু রাখতে চায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বর্ষা মৌসুমসহ বছরের বেশিরভাগ সময় ভারতের এ প্রদেশগুলো খাদ্যের সরবরাহ সংকটে থাকে। খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতি, মালবাহী রেল ইঞ্জিনের অভাবসহ নানা কারণে এই সংকট বিরাজ করে বলে মন্ত্রী জানান। এছাড়া এসব রাজ্যের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রসহ অন্যান্য রাজ্যের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ঘাটতির মূলে রয়েছে স্থলপথের বৈরী অবস্থা। রাজ্যগুলোর চারপাশজুড়ে রয়েছে মিয়ানমার, ভূটান, চীন ও বাংলাদেশ। মূল ভূ-খণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অঞ্চলটি পাহাড়ি হওয়ায় সেখান দিয়ে পণ্য পরিবহন অত্যন্ত দুরূহ। অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মধ্যকার বাংলাদেশ রুটটি ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে দেশটির সরকার। বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ভারতের মূলভাগের সঙ্গে এ রাজ্যসমূহের সড়কপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে ভারী যন্ত্রাংশ কোনো কিছুই সরবরাহ সম্ভব হয় না। ফলে ভারত বহুদিন ধরে বাংলাদেশের কাছে রেলওয়ে, সড়কপথ ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে অনুমতি চেয়ে আসছে। খরচ ও সময়ের দিক দিয়ে এটি তাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে।
উল্লেখ্য, নয়াদিল্লি থেকে গোয়াহাটি হয়ে আগরতলার দূরত্ব যেখানে ২৬৩৭ কিলোমিটার আর কলকাতা ১ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার সেখানে কলকাতা থেকে বাংলাদেশ হয়ে আগরতলা মাত্র ৩৫০ কিলোমিটারের দূরত্বে। ফলে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পণ্য পরিবহন করতে পারলে ভারতের কেন্দ্রের সঙ্গে এসব রাজ্যের প্রায় সাড়ে ছয়শ’ কিলোমিটার দূরত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে দেশটির অন্যান্য অংশের সঙ্গে রাজ্যগুলোর বাণিজ্যিক ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব। সময় ও খরচ উভয়ই হিসেবেই লাভজনক। বাণিজ্যিক বিচ্ছিন্নতার কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের দূরত্বও কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে নয়াদিল্লি। ২০১১ সালের মে মাসে ত্রিপুরায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাপাতি নেয়া হয় বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড ব্যবহার করে। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে পালটানায় ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় ওই যন্ত্রাংশের চালান বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ত্রিপুরা নেয়া হয়। এদিকে, নেপাল ও ভূটান তাদের ব্যবসা বাড়াতে এই পরিবহন সুবিধা ব্যবহারে আগ্রহী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী এক মাস সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে পরিবহন সড়ক হিসেবে ব্যবহার করতে যাচ্ছে ভারত। ইতোমধ্যে ভারতের ত্রিপুরায় খাদ্যশস্য পরিবহনে বাংলাদেশ অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস (আইএএনএস)।শনিবার আইএএনএস- কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন ত্রিপুরার খাদ্যমন্ত্রী ভানুলাল সাহা। বার্তা সংস্থাটির কাছে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য নিজ ভূ-খণ্ডের ওপর দিয়ে ত্রিপুরায় পরিবহনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ সরকার।’ নিরাপত্তা বিষয়ক কিছু বিষয় নিষ্পত্তির পর এক মাসের মধ্যে এই খাদ্যশস্য পরিবহন শুরু হবে বলে জানান ভানুলাল। পশ্চিমবঙ্গের হালদিয়া বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে আশুগঞ্জ হয়ে ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব মিজোরাম, মণিপুর ও ত্রিপুরা রাজ্যে যাবে। প্রথমবারের এই চালানে চাল, গম ও চিনি নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মুখ্য সচিব বি কে রায় আইএএনএস- কে জানান, ‘এই খাদ্যশস্য পরিবহনের জন্য ইতিমধ্যে দরপত্রও ডেকেছে ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া।’ সময় এবং খরচ বাঁচাতে বাংলাদেশের নদীপথ ও স্থলসড়ক ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এদিকের দক্ষিণ-পূর্ব প্রদেশগুলোয় খাদ্যশস্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নেওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘ মেয়াদে চালু রাখতে চায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বর্ষা মৌসুমসহ বছরের বেশিরভাগ সময় ভারতের এ প্রদেশগুলো খাদ্যের সরবরাহ সংকটে থাকে। খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতি, মালবাহী রেল ইঞ্জিনের অভাবসহ নানা কারণে এই সংকট বিরাজ করে বলে মন্ত্রী জানান। এছাড়া এসব রাজ্যের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রসহ অন্যান্য রাজ্যের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ঘাটতির মূলে রয়েছে স্থলপথের বৈরী অবস্থা। রাজ্যগুলোর চারপাশজুড়ে রয়েছে মিয়ানমার, ভূটান, চীন ও বাংলাদেশ।
মূল ভূ-খণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অঞ্চলটি পাহাড়ি হওয়ায় সেখান দিয়ে পণ্য পরিবহন অত্যন্ত দুরূহ। অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মধ্যকার বাংলাদেশ রুটটি ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে দেশটির সরকার। বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ভারতের মূলভাগের সঙ্গে এ রাজ্যসমূহের সড়কপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে ভারী যন্ত্রাংশ কোনো কিছুই সরবরাহ সম্ভব হয় না। ফলে ভারত বহুদিন ধরে বাংলাদেশের কাছে রেলওয়ে, সড়কপথ ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে অনুমতি চেয়ে আসছে। খরচ ও সময়ের দিক দিয়ে এটি তাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে।

Friday, May 31, 2013

রাজশাহীতে চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ২০ এমপির দিনভর বৈঠক by জিয়াউল গনি সেলিম

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে শুক্রবার দিনভর রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন সরকারের চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ অন্তত ২০ এমপি। দুপুরে নগরীর অদূরে হরিয়ানে অবস্থিত রাজশাহী চিনিকলে রাজশাহী বিভাগীয় আওয়ামী লীগের যৌথসভার ব্যানারে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

Saturday, April 13, 2013

তত্ত্বাবধায়কের অধীনে না হলে নির্বাচন প্রতিরোধ: বিএনপি

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হলে আগামী নির্বাচন প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার একদলীয় শাসন কায়েমের ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও মনে করেন তারা।

Saturday, April 6, 2013

ধর্মীয় নেতাদের ডাকে নানা মতের লাখো মানুষের চেনাজানা

রাজধানীমুখী এই অভিযাত্রার ডাক দিয়েছিল একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী; হেফাজতে ইসলাম। দেশের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে শিক্ষাবিস্তারে নিয়োজিত প্রায় ১৮ হাজার মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাই হেফাজতের মূল জনবল বলা চলে।

শফীর বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, আইনজীবী তানিয়া আমীর

হেফাজতে ইসলামের আমির ও হাটহাজারি মাদ্রাসার মহাপরিচালক শায়খুল হাদিস আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বিরুদ্ধে ‘আল্লাহর শানে অবমাননা’র মামলা করা হচ্ছে। শাহ আহমদ শফী তার ‘ভিত্তিহীন প্রশ্নের জবাব’

Thursday, March 28, 2013

পল্লবীর শাহ আলমকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ: অধিকার

পল্লবী থানার পুলিশ সদস্যরাই শাহ আলমকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত অধিকারের এক তদন্তানুসন্ধান প্রতিবেদনে।

Wednesday, March 27, 2013

কে হবেন রাষ্ট্রপতি? by ফরহাদ মজহার

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মানুষের প্রচুর ভালবাসা পেয়েছেন। ব্যক্তি হিশাবে এটা বিরল সৌভাগ্য। তবে তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর মূল্যায়ন রাজনৈতিক ভাবেই হওয়া উচিত। সেটা তাঁর মৃত্যুর পরপরই করতে হবে এমন কথা নাই।

‘রাজনৈতিক অধিকারের নামে সহিংসতা’ বন্ধ নয় কেন

রাজনৈতিক অধিকারের নামে অব্যাহত সহিংসতা বন্ধে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে তা জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। এক আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিজামুল হক ও জাফর আহমেদের অবকাশকালীন বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

কড়া হরতালে জনদুর্ভোগ চরমে

আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি, সারা দেশে গণহত্যার প্রতিবাদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় বিরোধী জোটের ডাকে বুধবার সকাল ৬টা থেকে সারা দেশে টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়েছে।