Saturday, July 6, 2013

জাতির মেরুদণ্ড কি ভেঙে যাবে? by ড. ইশা মোহাম্মদ

শিক্ষা ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি সাধন করেছে বর্তমান সরকার। তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে বইপুস্তক সরবরাহের রেকর্ড অভূতপূর্ব। উচ্চমার্গীয় ফলের ব্যাপক সমাহার ঘটেছে এ সরকারের আমলে। মেয়েদের শিক্ষাব্যয় শূন্য পর্যায়ে নামিয়ে আনার চেষ্টাও সম্ভবত ফলপ্রসূ হবে। এসবই ভালো খবর। এর উপরে আরও একটি সুন্দর খবর আছে। এ যাবতকাল যা শোনা যায়নি, তাই শোনা গেছে এবার। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করেন না। বাংলাদেশের জন্য এটি বিরল ঘটনা।
তবে এত ভালো খবর ছাপিয়ে একটি ছোটখাটো খারাপ খবরে মনটা খারাপ হয়ে গেল। খবরটি হচ্ছে, খুলনায় কয়েকটি স্কুলে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপিয়েছে প্রেস এবং বিক্রি করেছে স্কুলে। এটি অভাবনীয় নয়। কিন্তু যেটি বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় সেটি হচ্ছে, প্রশ্নটি ওই স্কুলের কোনো শিক্ষক তৈরি করেনি। প্রশ্ন তৈরি করেছে ওই প্রেসেরই লোকজন। কিন্তু পরীক্ষা নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনাই হতো না, যদি নির্বাচনের সঙ্গে এটি সম্পর্কিত না হতো। মেয়র নির্বাচনের একজন প্রার্থীকে একজন বিখ্যাত খলিফার সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন করা হয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করেছে। তাতে যথেষ্ট হইচই হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। বিষয়টি এখানেই শেষ হলে ভালো হতো। কিন্তু শংকা হচ্ছে, যন্ত্রণার নিবৃত্ত এভাবে হবে না। বরং অবহেলার কারণে ক্ষত আরও গভীর হবে।
যেসব শিক্ষক নিজে প্রশ্ন করে না, কিন্তু যাদের তারা পড়িয়েছে, তাদের অন্য লোকের তৈরি করা প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়, তারা অবশ্যই অপরাধী। তাদের শাস্তিযোগ্য অপরাধে শাস্তি দেয়া যেতেই পারে। সম্ভবত তাদের চিরতরে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করলে সেটি অন্যদের জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে। দু-চারজন শাস্তি পাওয়ার কারণে দুষ্টমতির শিক্ষকরা সাবধান হয়ে যাবেন। তারা এ ধরনের ভুল করা থেকে নিজেদের বিরত রাখবেন। কিন্তু বিষয়টির মনে হয় এভাবে নিষ্পত্তি হবে না। কারণ এখানে ব্যবসার সম্পর্ক রয়েছে।
যতদূর জানা যায়, পৃথিবীতে মাত্র একজন লোক বলেছিলেন, শিক্ষা বিতরণ করে পয়সা নেয়া অবৈধ। যে ব্যক্তি শিক্ষা দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেয় সে প্রকৃত শিক্ষক নয়, তার কাছ থেকে বিদ্যা শিক্ষা নেয়াই উচিত নয়। তিনি পৃথিবী বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিস। কিন্তু তার নিয়ম মেনে চললে সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষক বিরল হয়ে যায়। তাই তার সময়েই সফিস্টরা শিক্ষার বিনিময়ে অর্থ সংগ্রহ বৈধ ঘোষণা করে সমাজে শিক্ষকের সংখ্যা বাড়িয়ে ফেলে। একপর্যায়ে তার সুফলও পাওয়া যায়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, শিক্ষাকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই দুটি বিশেষ সেবা খাত ছিল- শিক্ষা ও চিকিৎসা। এখন এ দুটি খাতই বড় মুনাফার ব্যবসা খাত হয়ে গেছে। বাজার অর্থনীতির কুফল এটি। এ সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভবত অসম্ভব। তবে সরকার উদ্যোগ নিয়ে এটাকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারে।
বলছি না বিনা পয়সায় শিক্ষা দিতে হবে। বিনা বেতনের শিক্ষক এখন আর পাওয়া যাবে না। কিন্তু সরকার তো বেতন দিচ্ছেই কোনো কোনো স্তর পর্যন্ত। তাহলে কেন শিক্ষাকে ব্যবসায়ীর হাত থেকে মুক্ত করা যাবে না? প্রশ্নটা নৈতিকতার। শিক্ষাকে ব্যবসায়ীর হাত থেকে মুক্ত করতে না পারলে মুনাফা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। প্রজন্ম শিক্ষিত হবে না। তারা কেবল সনদধারী ব্যক্তি হয়ে যাবে। ব্যবসা ও শিক্ষার এই সম্পর্ক আলোচ্য হয়েছে এ কারণে যে, একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবসা ঢুকে পড়েছে। যে প্রেসে প্রশ্নপত্র ছাপা হয়েছে, সে প্রেসের মালিক একজন ব্যবসায়ী। তিনি নিছক মুনাফার কথা চিন্তা করে প্রশ্নপত্র ছাপিয়েছেন এবং বিক্রি করেছেন স্কুলের কাছে। কয়েকটি স্কুল কিনেছে। সম্ভবত এটাই চল ওই এলাকায়। কী খারাপ অবস্থা, ভাবা যায়? যারা পড়ায়, তারা কেন প্রশ্ন করে না? শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা সম্পর্কিত, তারা এ যাবতকাল এ কুকর্মটি সম্পর্কে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেন? রাজনৈতিক হৈচৈ না হলে তো বিষয়টি নিভৃতেই থেকে যেত। এখন শাস্তির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু জানাজানি না হলে শাস্তির প্রশ্নই উঠত না।
শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতেই হবে। নইলে ব্যবসায়ীরাই একদিন গ্রাস করবে শিক্ষাকে এবং ওই একই ধারায় সমগ্র জাতিকে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকার নিজেদের সেবা প্রতিষ্ঠান চাহিদা মোতাবেক বাড়াতে পারে না। অতি মেধাবীরাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। বাকিরা যাবে কোথায়? সুযোগ পেয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠে অসংখ্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে কী পড়ানো হচ্ছে? খোঁজ নিলে দেখা যাবে, কেবল নোটবই পড়ে তারা। সস্তা লেখকের সস্তা বই ছাপানো হয় বিভিন্ন প্রেসে। এগুলোর নাম গাইড বই। কিছু টেক্সট বই আছে, যা গাইড বইয়ের চেয়েও নিুমানের। এসব বইয়ের প্রকৃত মালিক লেখকরা নন, মালিক প্রেসের মালিক নিজেই। তারা কসরত করে কলেজ ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব বই পাঠ্য করে। ছেলেমেয়েরা এসবই পড়ছে ও অশিক্ষিত হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ংকর খবর হচ্ছে, এসব সস্তা লেখকের অধিকাংশই মৌলবাদী ঘরানার। তারা অতিকৌশলে আধুনিক চিন্তাচেতনার সঙ্গে মৌলবাদ মিশ্রণ করে বইপুস্তক লেখে। এরা নিজেরাও বিভিন্ন কলেজ ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে উমেদারি করে শিক্ষকদের মোটিভেট করে তাদের লেখা বইপুস্তক পড়ানোর ব্যবস্থা করে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অনুপ্রবেশের প্রথম সুযোগ তৈরি হয় বড় বড় কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট বিতাড়নের পর পরই। আগে অনেক সরকারি কলেজে খুব ভালোভাবে ইন্টারমিডিয়েট পড়ানো হতো। হঠাৎ সরকারের একটা ভুল সিদ্ধান্তের ফলে এসব সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট বহিষ্কৃত হয়। ফল হয় খুবই খারাপ। রাতারাতি ওইসব কলেজের আশপাশে প্রাইভেট কলেজ গজিয়ে ওঠে এবং সেখানে খুবই নিম্ন মেধার শিক্ষকরা পড়িয়ে থাকে। অনেক ব্যবসায়ী ওইসব ইন্টারমিডিয়েট কলেজের সঙ্গে লগ্নী পুঁজির কারণে সম্পৃক্ত হয়। মৌলবাদীরাও পুজি সমেত এসব কলেজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় এবং ওই একই ধারায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা প্রথম দিকে ওইসব কলেজ থেকেই আসত। কেননা, এসব কলেজের ছেলেমেয়েরা দুর্বল জ্ঞানের কারণে কোনো ভালো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারত না। পাস করার পর তারা যাবে কোথায়? বাধ্য হয়ে তারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শরণাপন্ন হতো। এই একই অবস্থা পরিদৃষ্টে অনেক ডিগ্রি কলেজে অনার্স মাস্টার্স চালু করা হয়। এর ফল হয় খুবই খারাপ। সরকারি কলেজগুলো থেকে ইন্টারমিডিয়েট তাড়ানোর ফলে ওই পর্যায়ের ছেলেমেয়েরা মৌলবাদ ও ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে। এ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে রক্ষা পাওয়ার জন্য পুরনো সরকারি কলেজগুলোতে আবার ইন্টারমিডিয়েট চালু করতে হবে। যদি বড় কলেজগুলো চাপ অনুভব করে, তবে সেখান থেকে মাস্টার্স অপসারণ করা যেতে পারে। মাস্টার্সের চাপে ইন্টারমিডিয়েট বিতাড়ন করে শিক্ষার মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়া ঠিক নয়। মাস্টার্সের চাপ কমানোর জন্য স্থানীয় পর্যায়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস তৈরি করে শুধু একজন প্রোভিসি নিয়োগ দিয়েই মাস্টার্সের চাহিদা মোকাবেলা করা সম্ভব। মাস্টার্স পর্যায়ে কয়েকটি ভালো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থাকতে পারে। তবে ব্যাঙের ছাতার মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করতেই হবে। ব্যাঙের ছাতা বিশ্ববিদ্যালয় মূলত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষাকে ব্যবসায়ীদের হাতে বন্ধক দেয়া ঠিক নয়। এতে শিক্ষার মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে। এখন যেমন অসংখ্য সনদধারী স্বল্পশিক্ষিত সামাজিক-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড করে বেড়াচ্ছে, তেমন ধারা চলতে থাকলে অচিরেই পুরো সমাজটি অনৈতিক হয়ে যাবে। আশা করি, সরকার সর্বনাশ সামাল দিতে পারবে এবং ইন্টারমিডিয়েটসহ সব ধরনের শিক্ষাকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবে।
ড. ইশা মোহাম্মদ : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

সুশীল সমাজের নিরপেক্ষ অবস্থানই কাম্য by ইকতেদার আহমেদ

সুশীল সমাজকে বলা হয় জাতির বিবেক। দেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নীতিবান, নাগরিক-অধিকার সচেতন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে আপসহীন, সত্যবাদী, ন্যায়নিষ্ঠ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী, সৎ ও সাহসী ব্যক্তির সমন্বয়ে সুশীল সমাজ গঠিত হয়ে থাকে। জাতির যে কোনো দুর্যোগে সুশীল সমাজ সর্বাগ্রে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ন রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে উদ্যোগী হয়। কিন্তু আমাদের দেশে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের কারণে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন বিকশিত হতে না পারায় সুশীল সমাজ আজ ডান ও বাম ঘরানায় দ্বিধাবিভক্ত। কোনো সুশীল সমাজ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে সরকার বা বিরোধী দলের লেজুড়বৃত্তি করলে তাকে আর সুশীল সমাজ বলা যায় না। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশীল সমাজের নিরপেক্ষ অবস্থান কাম্য। ডান ও বাম ঘরানার বাইরে আমাদের সুশীল সমাজের মধ্যে মধ্যবর্তী একটি ঘরানার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। বর্তমানে আমাদের সুশীল সমাজের অধিকাংশ ব্যক্তি নিরপেক্ষ অবস্থান হারিয়ে সরকারি বা বিরোধী জোটের মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছেন। এ ধরনের সম্পৃক্ততা সুশীল সমাজের স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র রক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের মোটামুটি নিরপেক্ষ বলা গেলেও বর্তমানে তাদের সংখ্যা নগণ্য এবং ডান ও বাম ঘরানার সুশীল সমাজের প্রভাবে বলতে গেলে তারা অনেকটা কোণঠাসা। সুশীল সমাজের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা এনজিও’র সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিটি এনজিও’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে। আমাদের দেশে বর্তমানে দু’ধরনের এনজিও’র কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়। এর একটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী এনজিও, অপরটি হচ্ছে দেশীয় চিন্তা-চেতনা ও ভাবধারাকে কাজে লাগিয়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত এনজিও। প্রথমোক্ত এনজিওগুলোর কার্যক্রমের শতভাগই বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট। অপরদিকে শেষোক্ত এনজিওগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায়, বৈদেশিক সাহায্য ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে অনুদান প্রাপ্ত হয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি দেখা গেল, শতভাগ বিদেশী সাহায্যপুষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী একটি স্বনামধন্য এনজিও (যেটি দুর্নীতি নির্মূলের নামে সোচ্চার) স্ব অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে, এর কতিপয় কর্ণধার বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে মানববন্ধন, মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের বিশেষ দলের মতাদর্শের আজ্ঞাবহে পরিণত করেছেন। ৫-৭ বছর আগে এ এনজিওটির কর্ণধার হিসেবে যারা ছিলেন, তাদের কেউ কখনও কোনো ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অংশীদার হয়ে মানববন্ধন, মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলন করতে দেখেননি। তাছাড়া তাদের সততা, একাগ্রতা, আন্তরিকতা, ন্যায়পরায়ণতা, যোগ্যতা, দক্ষতা, নৈতিকতা, মানবতা, আদর্শবাদীতা প্রভৃতি ছিল প্রশ্নাতীত।
সুশীল সমাজের মধ্যে এমন অনেকে আছেন, যারা পেশাগতভাবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী। সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা বলে তাদের অনেকে দেশের দুস্থ, নিপীড়িত, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার কার্যক্রম যতটুকু না জনকল্যাণমুখী, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রচারমুখী। সামাজিক দায়বদ্ধতার নামে সরকার থেকে তারা যে হারে কর রেয়াত নেন, তাদের এ কর রেয়াত না দিয়ে সরকার যদি নিজস্ব উদ্যোগে রেয়াত সংশ্লিষ্ট অর্থ ব্যয় করত, তাহলে সেটা আরও বেশি অর্থবহ হতো বলে দেশের সচেতন নাগরিকরা মনে করেন। এসব ব্যবসায়ীর অনেকে নিজ নামে অথবা নিজ পিতা-মাতা অথবা শ্বশুর-শাশুড়ি-আত্মীয়ের নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে নিজেকে দানশীল ও সমাজ হিতৈষী বলে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও কার্যক্ষেত্রে দেখা যায়, তাদের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয় সরকারি ও বিদেশী সাহায্য নির্ভর।
সুশীল সমাজের মধ্যে এমন অনেকে আছেন, যারা আইন পেশার সঙ্গে জড়িত এবং দেশের শীর্ষ আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃত। তাদের অনেকে শিক্ষা ও সেবামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু স্ব পেশার প্রতি অনুগত থেকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাদের যে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার নৈতিক দায়িত্ব ছিল, তা থেকে তারা আজ অনেক দূরে। তাদের বিপুল অর্থের বিনিময়ে সমাজের শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্তদের আইনি সহায়তা দেয়ার চিত্র থেকেই এটা ফুটে ওঠে। অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অধ্যাপনা ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে সম্পৃক্ত হতে দেখা যেত না। এখন তাদের এক বিরাট অংশ সরকারি ও বিরোধী দলের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেদের অধ্যাপনা পেশাকে গৌণ বিবেচনায় বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত। বর্তমানে দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিম্নমুখী। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে যে মানের ছাত্রছাত্রীর আগমন ঘটে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের মেধা বিকাশে মনোনিবেশ না করে শুধু ভালো ফলাফলের আশায় শিক্ষকদের অনুগামী হওয়ার ব্যাপারে বেশি সচেষ্ট থাকে। এতে করে লেখাপড়া না করেও তারা ভালো ফলাফল ঠিকই করে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে এলে দেখা যায় তারা শুধু নামেই ডিগ্রিধারী, মেধার মান ডিগ্রির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
চিকিৎসকরা মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে চিকিৎসা পেশায় আÍনিয়োগ করেন। শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকদের বেশ কয়েকজন বছরে একবার নিজ এলাকায় চিকিৎসা শিবির করে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকেন। তবে কতিপয় চিকিৎসক নিয়মিত বিভিন্ন সমাজ গঠনমূলক কাজে অংশগ্রহণ করে সুশীল সমাজের অংশ হিসেবে সুনামের ভাগিদার হলেও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় বিভিন্ন আর্থিক কেলেংকারিতে জড়িয়ে পড়ে পুরো চিকিৎসক সমাজকে বিব্রতকর অবস্থায় নিপতিত করেছেন। পদস্থ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা নিয়মিত টকশো, গোলটেবিল বৈঠক, মতবিনিময় সভা প্রভৃতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যদিও নিজেদের সুশীল সমাজের সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট, কিন্তু তাদের দু’-একজনের অতীত খুঁজতে গিয়ে জানা যায় নানা আর্থিক অনিয়মে বিজড়িত হওয়াসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বন উজাড়ের চাঞ্চল্যকর কাহিনী।
সরকারের পদস্থ সচিব পদমর্যাদার যারা সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলেছেন, তাদের দ’ু-একজনের চাকরিকালীন বিভিন্ন অনিয়ম বিষয়ে অবহিত হওয়ার পর অনেককেই বলতে শোনা গেছে, সরকারি পদে বহাল থাকাকালীন দেশকে কিছু দেয়ার পরিবর্তে তারা শুধু দুর্নীতিলব্ধ সম্পদ আহরণে মত্ত ছিলেন। আর তাই তাদের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা সমাজকে প্রতারণা করার শামিল। বরেণ্য প্রকৌশলী, স্থপতি ও কৃষিবিদদের কয়েকজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে সুপরিচিত। সমাজের সব ধরনের গণসংযোগ কার্যক্রমে তাদের সফল পদচারণা। কিন্তু যখন শোনা যায়, তাদের কেউ কেউ চাকরিরত অবস্থায় নির্ধারিত অংকের সম্মানী দ্বারা সন্তুষ্টি ব্যতিরেকে ঠিকাদারের বিলে স্বাক্ষর করতেন না, তখন তাদের অতীত আচরণ তাদের সহকর্মীদের লজ্জায় ফেলে দেয়।
স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কর্মকর্তা বিরল এমন একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদধারী যদি অবসর পরবর্তী সুশীল সমাজের একজন হিসেবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ভাব দেখান, তবে তা সাধারণ্যে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে সে বিতর্কে না গিয়েও বলা যায়, এটা নিজ ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে মোটেও সহায়ক নয়। বর্তমানে সুশীল সমাজের মধ্যে বিভিন্ন পেশাধারী এমন অনেক আছেন, যারা নিজ গ্লানি থেকে মুক্ত হওয়ার আকাক্সক্ষায় প্রথমত সুশীল সমাজের অতঃপর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আবরণে ভূষিত হওয়াকে কৌশল হিসেবে বেছে নিয়ে অনেকটা সফলতাও পেয়েছেন। আমাদের সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, লেখক ও কলামিস্টদের অনেকে সুশীল সমাজের খাতায় নাম লিখিয়ে দিব্যি নিজ ব্যক্তিত্ব, বিবেক ও মননশীলতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে দেশের বৃহৎ দুটি রাজনৈতিক জোটের যে কোনো একটির প্রতি অনুগত অবস্থানে তাদের নিয়ে গেছেন। মূলত দেশ ও সমাজ গঠনে সুশীল সমাজের যে ভূমিকা থাকা উচিত, তাদের কেউ এর ধারে-কাছেও নেই। তাদের একপেশে মনোভাবের কারণে জাতি আজ সংবাদ উপস্থাপন, বুদ্ধিভিত্তিক সাহিত্য চর্চা, লেখনী ও কলামে বস্তুনিষ্ঠতার পরিবর্তে পক্ষপাতদুষ্টতার প্রভাব অবলোকন করছে। আমাদের সমাজে বর্তমানে রাজনীতি প্রতিটি শ্রেণী ও পেশার মধ্যে এমনভাবে জেঁকে বসেছে যে দলীয় রাজনীতির প্রতি অনুগত না হলে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা, সততা সবকিছুই অর্থহীন। বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মধ্যে রাজনীতির এ করালগ্রাসী থাবার কারণে এমন অনেকে আছেন যারা ন্যায্যপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবেন ভেবে বাম বা ডান ঘরানার পেশাজীবী হিসেবে সুশীল সমাজের মধ্যে আÍপ্রবেশ ঘটিয়েছেন। এভাবে বিভিন্ন পেশাজীবী দুটি বিশেষ ঘরানার সুশীল সমাজ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কারণে তারা একদিকে যেমন নিজেদের পেশাদারিত্ব হারিয়েছেন, অন্যদিকে নিজ প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করে এর ঐতিহ্য ও সুনামের প্রতি কালিমা লেপন করেছেন।
কয়েক বছর পর আমরা যখন আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব, এর প্রাক্কালে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আমাদের সুশীল সমাজ কি দেশের প্রয়োজনে নিজ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ অবস্থান অথবা মধ্যপন্থা ধরে রাখতে পেরেছেন? অতি সম্প্রতি ডান ও বাম ঘরানার সুশীল সমাজ নামধারী কতিপয় ব্যক্তি আমাদের বড় দুই রাজনৈতিক দলের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে নিজেদের রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব উপস্থিতি ঘটানোর ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছিলেন। বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের বর্তমান বিবদমান পরিস্থিতিতে তারাই একমাত্র বিকল্প হিসেবে বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দলের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন- এমন অভিনব চিন্তা-চেতনা নিয়ে জনগণের সামনে উপস্থিত হলেও তাদের এ উদ্যোগের সফলতা পেয়েছেন কি-না তা বোধগম্য নয়। সুশীল সমাজের একজন প্রতিনিধি সরকারের বিতর্কিত রাজনৈতিক কর্মসূচির স্বপক্ষে কথা বলার পর তিনি কি নিজেকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ভাবতে পারেন? এটি আজ একটি মৌলিক প্রশ্ন। অনুরূপ বক্তব্য দেশের প্রধান বিরোধী দলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে সুশীল সমাজ গণতন্ত্র বিকাশ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছে। সে কারণেই ভারতে আজ গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। আমরা আমাদের দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমৃদ্ধি চাইলে আমাদের গণতন্ত্রের চর্চা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আর সেটা তখনই সম্ভব, যখন আমাদের সুশীল সমাজ নিরপেক্ষভাবেই সবকিছু বিচার করবে।
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ ও সাবেক রেজিস্ট্রার, সুপ্রিমকোর্ট

আম খাইও জাম খাইও তেঁতুল খাইও না

সামনে ছোটখাটো একটা জটলা। চন্দি মা উদ্যানে এ দৃশ্য বিরল নয়। ভোরের বাতাস গায়ে মেখে যারা হাঁটছে, দৌঁড়াচ্ছে কিংবা হা-হা, হি-হি করছে- ফেরার সময় এখান থেকে তারা এটা-সেটা কিনে নিয়ে যায়। এর মধ্যে কোনো জিনিস সস্তায় বিক্রির ঘোষণা এলে সেখানে মানুষের হুমড়ি খেয়ে পড়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এখানেও নিশ্চয়ই সে ধরনের কিছু একটা হয়েছে। সমাজের আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো আমার জীবনও অর্থনীতির সস্তা সূত্রের ছকে আবদ্ধ। কাজেই পাশ কাটিয়ে যেতে যেতেও থেমে গেলাম। ভিড় ঠেলে দেখলাম, জটলার মধ্যমণি একজন আম বিক্রেতা। এখন আমের মৌসুম। ঢাকা শহরের অলি-গলি-রাজপথে রকমারি আমের পসরা। এই আম বিক্রি হয় কেজির মাপে। দাড়িপাল্লা-বাটখারার মাপে পাওয়া আম কিনে খেতে গিয়ে মনটা খচখচ করে- বিষ খাচ্ছি না তো! বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হল। আমার মতো যাদের শৈশব-কৈশোর গ্রামে কেটেছে, এরকম দুর্ভাবনা নিয়ে এক সময় আম খেতে হবে- এমন কথা কেউ কি ঘুণাক্ষরেও ভেবেছিল? তখন চিন্তার বিষয় ছিল একটাই- আমে পোকা আছে কিনা! পোকা থাকলেই বিপদ। এখন আমি বাজারে গিয়ে চকচকা-ফকফকা শাক-সবজি, ফলমূলের মধ্যে কোনোটায় পোকার আক্রমণের চিহ্ন রয়েছে কিনা, তা তালাস করি। পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় তো করিই না, বরং উৎফুল্ল হই। পোকামাকড়ের আক্রমণের চিহ্ন থাকার মানেই হল, সেগুলোর মধ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর বিষ বা রাসায়নিক মিশ্রণের আঁচড় লাগেনি। ভাবা যায়, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই আমাদের জীবনধারা কেমন উল্টে গেছে। কী অদ্ভুত এ পরিবর্তন!
আমের দাম শুনে দমে গেলাম। সস্তার স-ও নেই। তাহলে লোকজনের হুমড়ি খেয়ে পড়ার রহস্যটা কী! খনিকক্ষণ বাদে আম বিক্রেতার কথায় সেটা পরিষ্কার হল। এক খদ্দেরকে আম দেয়ার ফাঁকে সে চিৎকার করে উঠল,
: লইয়া যান- লইয়া যান, গাছপাকা আম...
এই তাহলে ঘটনা! মানুষের হুমড়ি খেয়ে পড়ার এই ঘটনার পেছনেও আমি আমাদের পরিবর্তিত জীবনধারার রূপটিকেই খুঁজে পেলাম। গাছের পাকা আম ক্রেতার হাতে তুলে দিতে গেলে পচে-গলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি আছে। সেই ঝুঁকি নেয়ার মানসিকতাসম্পন্ন বিক্রেতা-ব্যবসায়ী এ দেশে খুবই কম। নীতি-নৈতিকতাহীন অসাধু ব্যবসায়ী ও তাদের দোসরদের ভাবনায় শুধু থাকে- কাঁচা আম আড়তে আন, বাজারে ছাড়ার একদিন আগে তাতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশাও, ক্রেতার হাতে যেতে যেতে সেগুলো পেকে যাবে। সেই আম খেয়ে কার কিডনি বিকল হল, কার লিভার পচে গেল, কে ক্যান্সারে আক্রান্ত হল, সেটা না দেখলেও চলবে। তাদের দেখার বিষয় একটাই- লাভের কড়ি। লাভের কড়ি গুনতে গিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা অন্ধ-বিবেকহীন অমানুষ হয়ে গেছে। এ অমানুষদের দুষ্ট প্রবণতা সম্পর্কে যারা সম্যক অবহিত, তারা স্বভাবতই কেমিক্যালমুক্ত ফলমূলের অপেক্ষায় উন্মুখ থাকে। এরকম পরিস্থিতিতে কেউ যদি তার ঝাঁকার আমগুলো গাছপাকা বলে ঘোষণা দেয়, তখন সেখানে ভিড় তো জমবেই!
গাছপাকা আমের কথা শুনে আমি আবারও অতীতে ফিরে গেলাম। গাছের ফল গাছেই খাওয়া বলে একটা কথা আছে। বানর-কাঠবিড়ালী ছাড়াও নানা প্রজাতির পাখি এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। আমার শৈশব-কৈশোরও এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে গাছে উঠে পাকা আম খাওয়ার সময় হাতে থাকত ছোট্ট একটা চাকু। এই চাকু বাজার থেকে কেনার প্রয়োজন পড়ত না। আমরা নিজেরাই তৈরি করে নিতাম। একবার আমাদের লজিং মাস্টার চাকু তৈরির কাঁচামাল- এক টুকরা পুরনো লোহার রড আবিষ্কার করার পর অবাক হয়ে বললেন,
: তোমার বইয়ের চিপায় এইটা কী?
- শিক।
: শিক দিয়া তুমি কী কর?
- চাক্কু বানামু।
চাকু বানানোর কথা শুনে লজিং মাস্টারের চোখ কপালে উঠে গেল। ভীত গলায় তিনি বললেন,
: চাক্কু বানাবা মানে? চাক্কু দিয়া তুমি কী করবা?
- আম খামু।
আম খাওয়ার সেই চাকু তৈরির জন্য আমরা রেললাইনের পাশে ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতাম। দূর থেকে ট্রেনের আওয়াজ ভেসে আসার সঙ্গে সঙ্গে লোহার ছোট্ট-চিকন রডটা রেললাইনের ওপর রেখে দিতাম। ভারী ট্রেন প্রবল বেগে চলে যাওয়ার সময় লৌহদণ্ডটিকে চ্যাপ্টা করে দিয়ে যেত। এরপর ঘষেমেজে সেটাকে চাকুর রূপ দেয়া হতো।
গাছে চড়ে শুধু পাকা আম নয়- পাকা পাকা জাম খাওয়ার উৎসবও চলত। জাম গাছে ওঠার সময় আমাদের সঙ্গে থাকত একটা ছোট্ট টিনের কৌটা বা পানির মগ, লবণ ও কাঁচামরিচ। চানাচুর বা ঝালমুড়ি বিক্রেতাদের পদ্ধতি অনুকরণ করে লবণ-মরিচ সহযোগে পাকা জামে মুখ রঙিন করার ফাঁকে ফঁকে আমরা ছড়া কাটতাম- আম খাইও, জাম খাইও, তেঁতুল খাইও না। তেঁতুল খাওয়ার ব্যাপারে আমাদের ভীতি ছিল- কারণ বড়দের বলতে শুনেছি, তেঁতুল শরীরের রক্ত পানি করে দেয়।
নগরে আমার বাস ছোট্ট একটা খাঁচায়। খাঁচায় আবদ্ধ নাগরিক জীবনে শৈশবের সেই আম-জাম গাছ নেই। তবে রাস্তাঘাটে, বাজারে ও আধুনিক শপিংমলে এসব ফলের ছড়াছড়ি। থরে থরে সাজিয়ে রাখা ফলের গায়ে সর্বনাশের আলপনা দেখে আমি আমার শৈশবের ছড়া পুরোপুরি উল্টে যায়। তেঁতুল নিয়ে নয়, এখন আমি ভয় পাই আম-জাম নিয়ে। সম্প্রতি সরকার খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও রাসায়নিকের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে আইন পাস করেছে। আইন পাস হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় টেলিভিশনে এক ব্যবসায়ীকে বলতে শুনলাম-
: ফরমালিনের ব্যবহার বন্ধ হইলে তো ব্যবসাই করতে পারুম না...
কী আশ্চর্যজনক কথা! ব্যবসায়ীর কথা শুনে তাকে আমার মাছি বলে মনে হল। মাছির গল্পটা হচ্ছে এরকম-
স্কুলে পড়ার সময় একদিন ক্লাসে ফজল স্যার জিজ্ঞেস করলেন,
: এই- তোমরা বলতে পারবা, একটা বাঘ বেশি ভয়ংকর, না একটা মাছি বেশি ভয়ংকর?
ছাত্ররা বাঘের কথা বলল। ফজল স্যার মাথা নেড়ে বললেন,
: হইল না! শোন, বাঘ থাকে জঙ্গলে। সে যদি কোনো কারণে লোকালয়ে ঢুইক্যাও পড়ে, তবে আর কয়জন মানুষ মারতে পারবে? কিন্তু মাছি আমাদের আশপাশেই থাকে। সে প্রাণঘাতী কোনো জীবাণু ছড়ানোর মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের জীবন সংহার করতে পারে। তাইলে কী দাঁড়াইল? কে বেশি ভয়ংকর?
আমরা সমস্বরে বলে উঠলাম,
: মাছি- মাছি।
কাড়াকাড়ি-ধাপাধাপির মধ্যেও আমার ভাগ্যে দুই কেজি আম জুটল। ওজন করার সময় আম বিক্রেতাকে বললাম,
: তোমার আম সত্যি সত্যি গাছপাকা তো?
- এইটা আবার জিগাইতে হয় নাকি? আমের গায়ে লাইগ্যা থাকা আঠা দেইখ্যা বুঝেন না!
: গায়ে লাইগ্যা থাকা চিহ্ন দেইখ্যা আজকাইল কিছু ঠাহর করা যায় না রে ভাই! বাজারে মাছের গায়ে গরু-ছাগলের রক্ত মাইখ্যা ঝকঝকা করা হয়। লাল রঙ মাখাইয়া সাদা আলুরে লাল আলু বানানো হয়। সবুজ রঙ মিশাইয়া অ্যাংকর ডালরে মটরশুঁটি বানানো হয়। তুমি বাজার থেইক্যা এক শিশি আঠা কিইন্যা আমের গায়ে ছিটাইয়া দেও নাই, তার নিশ্চয়তা কী!
: শতভাগ নিশ্চিত হইয়া লইয়া যান- ঠকবেন না। গাজীপুরে আমার কয়েকটা গাছ রাখা আছে। ওইসব গাছে যে আমগুলান পাকে, কেবল সেইগুলারই বোঁটা ছিইড়া বিক্রির জন্য লইয়া আসি...
বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর আম প্রথম খেল আমাদের ছোট ছেলে জাহিন মিয়া। খাওয়ার কিছুক্ষণ পর সে মুখ-গলা-বুকে হাত দিয়ে তার মাকে বলল,
: আম্মু, আমার এইখানে- এইখানে ব্যথা করতেছে।
ছেলের কথা শুনে লবণ বেগম ধড়মড়িয়ে উঠে বলল,
: হায়, হায়! জহু এইসব কী বলতেছে!
ব্যাপারটা পরখ করার জন্য আমি একটা আম খেলাম। পুরো মুখ বিস্বাদে ছেয়ে গেল। কেউ যাতে আতংকিত না হয়, সে জন্য বিষয়টা গোপন করে লবণ বেগমের উদ্দেশে বললাম,
: সদ্য বোঁটা ছিঁড়া আম তো! এখনও কষ বাইর হইয়া সারে নাই। সেই জন্যই মুখে কষ-কষ লাগতেছে!
- সদ্য না ফদ্য- কষ না ফস, এই সব লইয়া গবেষণা না কইরা আমগুলান সোজা ডাস্টবিনে ফেলাইয়া দিয়া আস।
: ঠিক আছে ফেললাম। কিন্তু সেইখান থেইক্যা কেউ টুকাইয়া নিয়া খাইলে তারাও তো ক্ষতির সম্মুখীন হইতে পারে! আমগুলা যাতে মানুষের নাগালে না যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
- কী করতে চাও?
: এক কাজ কর। আমগুলারে ব্লেন্ডার মেশিনের সাহায্যে জুস বানাইয়া কমোডে ঢাইল্যা দিয়া ফ্লাশ কইরা দেও। ব্যাস, ঝামেলা শেষ।
বাজার থেকে টাকা দিয়ে জিনিস কিনে আনার পর তা নিয়ে এরকম দুর্ভোগের মুখোমুখি হলে শুধু লবণ বেগম কেন, কোনো গৃহিণীরই মাথা ঠিক থাকার কথা নয়। লবণ বেগমের চেহারায় রণরঙ্গিনী ভাব ফুটে উঠতে দেখে আমি তাড়াতাড়ি বলে উঠলাম,
: ঠিক আছে, তোমার কিছু করার দরকার নাই। যা করার আমিই করতেছি...
মোকাম্মেল হোসেন : সাংবাদিক

মিসর ও নির্বাচনবাদী ইসলামপন্থার সংকট by ফরহাদ মজহার

মিসরের সেনাবাহিনী সংবিধান স্থগিত ও নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। যুক্তি দিয়েছে বিরোধী দলের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বেঁধে দেয়া ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমঝোতা করতে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ব্যর্থ হয়েছেন। সমঝোতার একটা প্রস্তাব শেষ মুহূর্তে মুরসি দিয়েছিলেন, কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। মোহাম্মদ মুরসির পতনে ইসলামপন্থী মুসলিম ব্রাদারহুড বিরোধী সেক্যুলারিস্ট এবং উদারপন্থীরা দারুণ উল্লসিত। উল্লসিত ব্রাদারহুডবিরোধী ভিন্নধারার ইসলামপন্থীরাও। তারা তাহরির ময়দানে মুরসি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানাচ্ছিল। সেই বিক্ষোভ জানানোর যথেষ্ট কারণ মোহাম্মদ মুরসির স্বল্পস্থায়ী দুই বছরের শাসনামলের ভুলভ্রান্তি, সন্দেহ নেই। কিন্তু গত দুই বছরের অচলাবস্থার সব দোষ শুধু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া ব্রাদারহুডের বা মোহাম্মদ মুরসির একার নয়। সবারই। সেনাবাহিনী মুরসিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করায় তাহরির ময়দানে আনন্দ আর উল্লাস দেখা গেছে। তাহরিরে একবার আমরা দেখেছিলাম হোসনি মোবারকের দীর্ঘ সেনা সমর্থিত স্বৈরশাসনের অবসানে বিজয়ের আনন্দ, আর এবার দেখছি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারকে সেনাবাহিনী উৎখাত করেছে বলে উল্লাস। এ ঘটনা থেকে এ সিদ্ধান্ত টানা কতটুকু সঠিক যে সেক্যুলারিস্ট ও উদারবাদীরা ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে নিজের কান কিংবা নাক কেটে ফেলতে রাজি। অর্থাৎ মিসরের জনগণের দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত নির্বাচনী ব্যবস্থাকে রক্ষা করা তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেনি, তার চেয়ে মুরসিকে ক্ষমতা থেকে তাড়ানো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। সেনাবাহিনী পাশ্চাত্য শক্তির সমর্থন ছাড়া এই কাজ করেছে মনে হয় না। তবে লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, একটি নির্বাচিত সরকারকে সশস্ত্র শক্তির জোরে উৎখাত করার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জন্য কাতর পাশ্চাত্য কোনো দেশ বিচলিত বোধ করে আপত্তি জানায়নি। তাদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা হচ্ছে, এর ফলে মিসরে যেন সন্ত্রাস ও সহিংসতা ব্যাপক ও বিস্তৃতি লাভ না করে ।
বিশ্লেষণ বিবর্জিত কায়দায় কিছুই না বোঝার আলস্য প্রমাণ করে, মিসরের ঘটনাকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে বোঝার চেষ্টা অনেকে করবেন। ষড়যন্ত্র থাকতেই পারে। থাকেও। বিভিন্ন শ্রেণী ও শক্তি পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ করে, লড়াই সংগ্রামের নানা মোড় বা বাঁক থাকে, কিন্তু রাজনীতি ষড়যন্ত্র মাত্র নয়। কোনো একটি ‘ষড়যন্ত্র’ কেন সফল বা বিফল হল তার ব্যাখ্যার জন্য সমাজ ও রাজনীতির গতিপ্রক্রিয়ার হদিস নেয়া জরুরি হয়ে পড়ে। যারা বলছেন মার্কিন, ইসরাইলি ও পাশ্চাত্য শক্তির ষড়যন্ত্রে একটি নির্বাচিত ইসলামপন্থী সরকারের পতন ঘটেছে, তারা পুরোটা সঠিক বলছেন না। সেনাবাহিনী মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থরক্ষা করবে, এটা নতুন কোনো তথ্য নয়। সেনাবাহিনীর প্রতি মার্কিন-ইসরাইলি সমর্থন ছাড়া সাধারণভাবে পাশ্চাত্যের সমর্থন থাকাটা অসম্ভব কিছু নয়। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মিসরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নিজস্ব টানাপোড়েন আছে। তাকে উহ্য রেখে কিংবা হিসাবে না নিলে মিসরের রাজনীতির কিছুই আমরা বুঝব না। মিসরে একটি উদার নির্বাচনমুখী লিবারেল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বহাল থাকুক এটা পাশ্চাত্য দেশগুলো একদমই চায়নি বা চায় না সেটা বলা যাবে না। মিসরের ঘটনাবলী সম্পর্কে জুলাইয়ের তিন তারিখে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্র“প যে মন্তব্য করেছে, তার মূল সুরটা পাশ্চাত্যের স্বার্থে মিসরে একটি উদার গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে ওকালতি বলা যায়। ফলে রাষ্ট্রভেদে ভিন্নতা সত্ত্বেও মিসরের ঘটনাবলীর প্রতি পাশ্চাত্যের সাধারণ মনোভাব বোঝা কঠিন নয়। সে মনোভাব হচ্ছে, পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক ধারাগুলো নিরাপস লড়ছে তাদের বাদ দিয়ে উদার ও নির্বাচনবাদী ইসলামপন্থীদের সঙ্গে পাশ্চাত্য দেশগুলো রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে রাজি। ‘ভালো মুসলমানদের’ সঙ্গে কৌশলগত মৈত্রী এবং ‘খারাপ মুসলমানদের’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ- এই নীতি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্য দেশগুলো সরে আসেনি। সে কারণে মিসরে সেক্যুলারিস্ট বা লিবারেলদের তিরস্কার করতে তাদের বাধা নাই। সময় ও সুযোগ পেলে এই নীতি নিয়ে আমরা আগামী কোনো এক নিবন্ধে আলোচনা করব। এখানে মিসরের ঘটনাবলী থেকে বাংলাদেশে আমাদের জন্য শিক্ষণীয় কিছু আছে কি-না সে কথা মনে রেখে দুই-একটি কথা বলব।

ঠিক যে, মুরসি কিছুকাল আগে সব ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবাদের মুখে সরেও এসেছিলেন। বিরোধীদের প্রতি কড়া কথা কম বলেননি, কিন্তু আপসের চেষ্টাও করেছেন। তিনি বিরোধীদের জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করার প্রস্তাব এবং নতুন পার্লামেন্টের নির্বাচন ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্র“তিও দিয়েছিলেন। কিন্তু বিরোধী পক্ষ তার সরকারে যোগদানের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে পরিচালিত গণআন্দোলনের অর্জন ধরে রাখার জন্য গণঐক্যের চেষ্টা করেছেন মুরসি। নির্বাচিত হয়ে শুধু ব্রাদারহুডের সরকার গঠন করা তিনি জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট মনে করেননি। যদিও এই উপলব্ধি একটু দেরিতে হয়েছিল। কিন্তু এটা পরিষ্কার, একটি জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা নস্যাৎ হওয়ার পেছনে মোহাম্মদ মুরসিকে একা দায়ী করা যায় না। তাছাড়া গণপরিষদ মুরসি বিলুপ্ত করেননি, করেছে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত। মিসরের অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্য শুধু মুরসির অর্থনৈতিক নীতি দায়ী নয়, বরং আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠানের অধীনে থেকে মিসরীয় জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। এখনও নয়।
জেনারেল আবদেল ফাতাহ আল সিসি মোহাম্মদ মুরসিকে অপসারণের ঘোষণা যখন টেলিভিশনে দিচ্ছিলেন, মুরসিবিরোধী রাজনৈতিক দলের অনেক প্রভাবশালী নেতা তার পাশে ছিলেন। যেমন বিরোধীদলীয় নেতা মোহামেদ আল-বারাদেই, আল আজহার মসজিদের শেখ, ইসলামপন্থী নূর পার্টির এবং কপটিক খ্রিস্টীয় সম্প্রদায়ের প্রধান।
সেনাবাহিনী ১৯৫২ সাল থেকে যে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছিল, মুরসি তা বহাল রেখেছিলেন। সংবিধান সভায় ব্রাদারহুড সদস্যরাই নির্বাচিত হয়ে এসেছিলেন, সংবিধান প্রণয়নের সভায় তাদেরই প্রাধান্য ছিল, তারাই নতুন সংবিধানের খসড়া করেছিলেন এবং মুরসি তাকে সমর্থনও করেছিলেন। কিন্তু সেই সংবিধানে সেনাবাহিনীকে গণতন্ত্রবহির্ভূত ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। যেমন মিলিটারি ট্রাইব্যুনালে বেসামরিক নাগরিকদের বিচার করার সাংবিধানিক ক্ষমতা। বাজেট বরাদ্দ অনুযায়ী রাষ্ট্র থেকে পাওয়া অর্থ কোথায় কিভাবে খরচ করবে, তার জন্য পার্লামেন্ট বা জনগণের কাছে জবাবদিহি করার দায় থেকে সেনাবাহিনী মুক্ত ছিল। একটি জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিল এমনভাবে গঠনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যেখানে সেনাবাহিনীরই প্রতিনিধিত্ব বা আধিপত্য বহাল থাকে। সেই জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলকে যে কোনো খসড়া আইনের বিরুদ্ধে ভেটো দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল। সংবিধানের ভূমিকায় (preamble) ২০১১ সালের গণবিক্ষোভে সেনাবাহিনীর ‘অবদান’ আছে স্বীকার করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে নতুন সংবিধান সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। অর্থাৎ গণআন্দোলন ও গণবিক্ষোভের পরে একটি গণতান্ত্রিক গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের যে ইচ্ছা, আকাক্সক্ষা ও সংকল্প মিসরীয় জনগণের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছিল, মোহাম্মদ মুরসি তার বিপরীত দিকে অবস্থান নিয়েছিলেন। মুরসির সরকারের বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভ করছিলেন, তারা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সন্ত্রাসী ও সহিংস কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।
প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে ব্রাদারহুড নিজের পক্ষে যে যুক্তি খাড়া করছিল তার মূল কথা ছিল, বৈধতা। যেহেতু ব্রাদারহুড জনগণের ভোটে নির্বাচিত, অতএব তাদের সব সিদ্ধান্ত ‘বৈধ’। নির্বাচনে জিতে আসাটাই যা কিছু করার ‘বৈধতা’ অর্জনের মানদণ্ড। নির্বাচনবাদী ইসলামপন্থীরা গণতন্ত্র সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করে, তার সঙ্গে মোহাম্মদ মুরসির কার্যকলাপ ভিন্ন কিছু নয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারাটাই আসল কথা। এই নির্বাচনী বিজয়ই ক্ষমতাসীনদের যে কোনো আইন বা বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়। ফলে নির্বাচিত হয়ে এসে একটি ইসলামী সংবিধান প্রণয়ন ও ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমও তা হলে ‘বৈধ’। ব্রাদারহুডের যুক্তি হচ্ছে, মুরসি তো অবৈধ কিছু করেননি, তিনি যা করেছেন তা বৈধভাবেই করেছেন। অতএব তা গণতন্ত্রবিরোধী হলেও অন্যদের তা মানতে হবে। বলাবাহুল্য, ব্রাদারহুড ও তাদের সমর্থকরা ছাড়া বাকি মিসরীয় জনগণ এই ‘বৈধতার’ যুক্তি মানেননি। কারণ লড়াইটা গণতন্ত্রের জন্য, নির্বাচন সেই লড়াইয়ের ধারাবাহিকতার একটি স্তর মাত্র। মোহাম্মদ মুরসি ও ব্রাদারহুডের নির্বাচনে জয়ী হওয়া চলমান লড়াইয়েরই অংশ। নির্বাচিত হয়েছে বলেই ব্রাদারহুড এমন কোনো সংবিধান দিতে পারে না, যা জনগণের গণতান্ত্রিক আশা-আকাক্সক্ষার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
মিসরের ঘটনাবলীকে আমি এভাবে হাজির করার কারণ হচ্ছে, এখান থেকে আমাদের জন্য শিক্ষণীয় দিকগুলো চিহ্নিত করা। বাংলাদেশেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অর্থ একই সঙ্গে সংবিধান সভার নির্বাচনও বটে। কারণ জাতীয় সংসদ সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে। এখানেও আমরা দেখি নির্বাচিত হয়ে গণতন্ত্রের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সংশোধনী আনা ও আইন প্রণয়ন করা স্বাভাবিক ঘটনা। যেহেতু জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সেই সংশোধনী বা আইন পাস হয়, অতএব এসব সংশোধনী ও আইন ‘বৈধ’। সব সরকারের আমলেই এই কুকর্ম হয়েছে। তবে শেখ হাসিনার বর্তমান আমল অন্তত এই দিক থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অসাধারণ বলেই বিবেচিত হবে। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পুরো ৭ মার্চের বক্তৃতাই সংবিধানে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এই নজির তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের আগামীতে বেশ সুবিধাই হবে। তারা চাইলে আখেরি নবীর বিদায় হজের ভাষণ, কিংবা সম্ভব হলে সহি বোখারি পুরোটাই সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। যদি ইসলামপন্থীরা কোনোদিন ক্ষমতায় এসে পুরো কোরআন শরিফ সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করতে চান, তাহলে সেটাও বৈধ হবে। এর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থন থাকবে। শেখ হাসিনা যদি শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তৃতা সংবিধানে যুক্ত করতে পারেন, তো কোরআন শরিফ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না কেন? তিনি যদি পেরে থাকেন, তাহলে ইসলামপন্থীরা পারবেন না কেন? এখন যেভাবে আমরা পঞ্চদশ সংশোধনীসহ বাংলাদেশের সংবিধানকে মানছি, তখনও তেমনি মেনে নিতে হবে। শেখ হাসিনার রাজনীতি আর ব্রাদারহুডের রাজনীতি এই দিক থেকে আলাদা কিছু নয়। বৈধতার রাজনীতি আর গণতান্ত্রিক রাজনীতি সমার্থক নয়। আমরা এখনও তার ফারাক করতে শিখিনি।

যে কোনো নির্বাচনবাদী অগণতান্ত্রিক শক্তির মতো নির্বাচনবাদী ইসলামপন্থীদেরও সাধারণ রাজনৈতিক কৌশল হচ্ছে নির্বাচনের সুবিধা নিয়ে সরকার গঠন করার সুযোগ অর্জন করা এবং সরকারে থেকে রাষ্ট্রের চরিত্র বদলে দেয়া। অর্থাৎ গণতন্ত্র কায়েম না করে রাষ্ট্রকে ইসলামী চরিত্র দান করার চেষ্টা করা। ইসলামবিরোধীরা যাকে মধ্যযুগীয় শাসন ব্যবস্থা বলে গণ্য করে এবং অনায়াসে প্রমাণ করতে পারে, পাশ্চাত্যে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে মানবেতিহাসের অর্জনগুলোর সঙ্গে এ ধরনের শাসন ব্যবস্থার মৌলিক বিরোধ রয়েছে। এটাও তারা অনায়াসে প্রমাণ করতে পারে যে, গণতন্ত্রের সুবিধা নিয়ে নির্বাচনবাদী ইসলামপন্থীরা গণতন্ত্র ধ্বংস করার কপট কৌশল গ্রহণ করে। গণতন্ত্রের জন্য যা বিপজ্জনক। নির্বাচনবাদী ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, এই ধারা আসলে গণতন্ত্রেই বিশ্বাস করে না। কিন্তু গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে গণতন্ত্র নস্যাৎ করার চেষ্টা চালায়। রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক হোক বা না হোক, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করার ব্যবস্থায় ইসলামপন্থী রাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে দাবি তোলা হয়, তাকে সে কারণে শুধু ইসলাম বা ধর্মের বিরোধিতা বলে গণ্য করা ভুল হবে। সেটা এই কপটতারও বিরোধিতা বটে। যে কোনো অগণতান্ত্রিক, বর্ণবাদী ও গণবিরোধী শক্তি জাতিবাদ, সমাজতন্ত্র কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার স্লোগান দিয়ে নির্বাচিত হয়ে সংবিধান বদলিয়ে রাষ্ট্রকে ফ্যাসিস্ট রূপ দান করলে তারাও একই যুক্তিতে কপটই বটে। এই রাজনীতির বিরোধিতা করার অর্থও একই যুক্তিতে ভাষা, সংস্কৃতি, সমাজতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধিতা নয়, ফ্যাসিবাদের বিরোধিতা করা।
নির্বাচনবাদী ইসলামপন্থীরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আজ অবধি কোনো যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে পারেনি। তারা নিজেদের যতই পাশ্চাত্যের উদার গণতন্ত্রের (ষরনবৎধষরংস) অনুরাগী ও সমর্থক বলে প্রমাণ করতে চেষ্টা করে, ততই তাদের রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা আরও করুণভাবে ফুটে ওঠে। তারা নিজেদের সাতিশয় উদার প্রমাণ করার জন্য নিজেদের ধর্মভিত্তিক সংগঠন ও দল থাকার পরও নতুন ‘অসাম্প্রদায়িক’ দল গঠন করে। কিংবা স্বেচ্ছায় বা রাষ্ট্রের হুকুমে তাদের গঠনতন্ত্র বদলাতে বাধ্য হয়। আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের পরিবর্তে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে। আধুনিক রাষ্ট্র গঠন, সেটা পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রের আদলে হোক কী ইসলামী হোক, ইসলামপন্থী রাজনীতির আদৌ লক্ষ্য হতে পারে কি-না, সেই গোড়ার নীতিগত প্রশ্ন তারা তোলে না বা এড়িয়ে যায়। ফলে সবই শেষাবধি কৌশল অবলম্বন ছাড়া ভিন্ন কোনো অর্থ বহন করে না। অথচ মূল লড়াই কৌশলে নয়, নৈতিক বা আদর্শগত জায়গায়। মানবেতিহাসের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইসলামের সম্ভাব্য ভূমিকা পরিচ্ছন্ন করার চিন্তা ও তৎপরতা নির্ণয়ের প্রশ্নে।
প্রশ্ন হচ্ছে, ইসলামী রাজনীতি জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্ববাসীকে কী দিতে পারে, যা প্রচলিত নানা আদর্শ বা রাজনীতি দিতে অক্ষম। শুধু মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার যে রাজনীতি, তাকে মুসলমানদের রাজনীতি বলা যেতে পারে। সবার নয়। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় সেই রাজনীতি গড়ে ওঠা ও সাময়িক শক্তিশালী হয়ে ওঠার বাস্তবতা পূর্ণ মাত্রায় আছে এবং বেশ কিছুকাল থাকবে। অসম বিশ্বব্যবস্থায় মুসলিম দেশ ও জনগণ নানাভাবে নির্যাতিত। ফলে নিপীড়িতের সংগ্রামে ‘ইসলাম’ ভূমিকা রাখবে। রাখছেও। কিন্তু মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতিই কি ইসলামী রাজনীতি? ব্যস। আর কিছু না? তাহলে ইসলামী রাজনীতি কি সাম্প্রদায়িক বৃত্তের বাইরে আসতে আদৌ সক্ষম নয়? এর উত্তর তখনই দেয়া সম্ভব, যখন ইসলাম নিজেকে বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও চর্চা কিংবা ঈমান-আকিদার ব্যাপার হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে তার অন্তর্নিহিত দর্শন, আদর্শ বা নীতি সবার জন্য সবার বোধগম্য প্রকাশভঙ্গি ও সর্বজনগ্রাহ্য যুক্তির ভাষায় (চঁনষরপ জবধংড়হ) হাজির করতে সক্ষম হবে। যখন নিজেদের বক্তব্যের যথার্থতার জন্য মুসলমানদের নিজেদের বিশ্বাস ও ধর্ম চর্চার বরাত দিতে হবে না। এভাবে হাজির করাকে ভুলভাবে ‘সার্বজনীন’ গণ্য করা হয়। এভাবেই গ্রিক দর্শন আশ্রয় করে খ্রিস্টধর্ম নিজেকে সর্বজনগ্রাহ্য দর্শন ও সভ্যতা হিসেবে হাজির করে। কিন্তু দাবি করে, এই সভ্যতাই সবার মান্য, ইউরোপীয় সভ্যতাই একমাত্র ‘সার্বজনীন’ বিশ্বসভ্যতা। অথচ ‘আধুনিক ইউরোপীয় সভ্যতা’ মানবেতিহাসের শেষ ও একমাত্র পরিণতি নয়। ইউরোপের সভ্যতা ও ইতিহাসের অবদান মেনে নিলেও ইউরোপই বিশ্ব নয়, অতএব ইউরোপের ইতিহাসই বিশ্ব ইতিহাস নয়, ইউরোপ বিশ্বসভ্যতার একমাত্র আদর্শ হতে পারে না। অন্য জনগোষ্ঠীরও নিজ নিজ ধর্ম, সংস্কৃতি ও জীবনের লড়াই-সংগ্রামের নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে, যা বিশ্ব ইতিহাসের বাইরের কোনো বিষয় নয়, মানবেতিহাসের ভেতরের জিনিস। তাকে উপেক্ষা করা গোলকায়নের এই যুগে কঠিন।
ইসলাম যখনই নিজেকে গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামের প্রেরণা, অনুঘটক বা মতাদর্শ হিসেবে হাজির করেছে, তখনই জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। তার সার্বজনীনতার বৈশিষ্ট্য কেমন হতে পারে তার উদাহরণ তৈরি হয়েছে। রাজতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র, উপনিবেশবাদ, জাতপাতবিরোধী সংগ্রামসহ সাধারণভাবে জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াইকে ইসলাম যখনই তার নীতি ও আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছে ও লড়েছে, নিপীড়িত জনগণ তার লড়াইয়ের সাড়া দিতে দ্বিধা করেনি। কিন্তু যখনই ইসলাম নিজেকে অমুসলমানদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের লড়াই হিসেবে হাজির করেছে, তখনই সে লড়াই পর্যবসিত হয়েছে সাম্প্রদায়িকতা ও সংকীর্ণ স্বার্থবুদ্ধির অন্ধ চোরাবালিতে। ইসলামের ইতিহাসে এই রক্তাক্ত টানাপোড়েনের ইতিহাস অনেক তিক্ত ও দীর্ঘ। কমিউনিস্টদের নতুন সমাজ ও নতুন ধরনের মানুষ তৈরি করার ঐতিহাসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা দৃশ্যত ব্যর্থ হওয়ার পর ঐতিহাসিক বাস্তবতার কারণেই বিদ্যমান রাষ্ট্র ও আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার সংস্কার, আমূল পরিবর্তন ও পরিগঠনের আকাক্সক্ষা নিয়ে বিশ্বব্যাপী জনগণের বিশাল একটি অংশ ইসলামপন্থী রাজনীতির প্রতি আগ্রহী এবং অনেকে সমর্থক হয়ে উঠছে। কিন্তু সে রাজনীতি যদি শুধু মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার বৃত্তে আটকা পড়ে থাকে, তবে সেই বৃত্তেই তাকে হোঁচট খেয়ে পড়ে থাকতে হবে। মিসরে ইখওয়ানুলের রাজনীতির বর্তমান দৃশ্যমান পরিণতি এই দিক থেকেই বিচার করতে হবে। জালিম বিশ্বব্যবস্থার বিরুদ্ধে নিরাপস লড়াই না করে পাশ্চাত্যের উদার গণতন্ত্রের জন্য ইসলাম বিপজ্জনক নয়, সেটা প্রমাণের কৌশলের ওপর নির্বাচনবাদী ইসলামপন্থা রাজনীতিতে টিকে থাকতে চায়। ফলে তার ক্ষমতায় আসতে পারা না পারা বা ক্ষমতায় টিকে থাকা না থাকা নির্ভর করে পাশ্চাত্য বা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ওপর। বিদ্যমান রাষ্ট্র ও আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার সংস্কার, আমূল পরিবর্তন ও পরিগঠনের যে আকাক্সক্ষা নিয়ে জনগণের বিশাল অংশ ইসলামপন্থী রাজনীতির পক্ষাবলম্বী হয়ে ওঠে, তাদের প্রত্যাশা মেটাতে ইসলামী রাজনীতি ব্যর্থ হয়।
মিসরের রাজনীতি এখন ঠিক কোন দিকে মোড় নেবে, এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থক ছাড়া মিসরীয় জনগণের প্রায় সবারই সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সরকারের বিরুদ্ধে চলে যাওয়াকে ইসলামবিরোধীদের ষড়যন্ত্র হিসেবে না দেখে নির্বাচনবাদী রাজনীতির সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখাই শ্রেয়। গণতান্ত্রিক লড়াই-সংগ্রামের প্রতি ইসলামপন্থী রাজনীতির নীতি ও কৌশলের ঐতিহাসিক সীমাবদ্ধতাও এ ক্ষেত্রে দায়ী। এই দিকগুলো থেকে দেখলে মিসরের ঘটনাবলী থেকে বাংলাদেশে ইসলামপন্থী ও ইসলামবিরোধী রাজনৈতিক ধারার দুই পক্ষই কিছুটা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে, এই আশা করি।

দ্রব্যমূল্য আয়ত্তে থাকুক by রাজু আহমেদ বনি

সামনে রমজান মাস। এ সময় নাকি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। ছোলা, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনির ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পায় রমজানে। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবির মাধ্যমে এর সামান্যই আমদানি করা হয়।

ভোটারদের বিনা পয়সায় কিছু দেওয়া যাবে না

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে বিনা পয়সায় কিছু দেওয়ার ঘোষণা যুক্ত করা উচিত নয়। ইশতেহারের বিষয়বস্তু কী হওয়া উচিত, সে-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা তৈরি করতেও নির্বাচন কমিশনকে আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালত বলেন, যদিও ইশতেহার-সংক্রান্ত আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার আগেই ওই সব নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে, তার পরও কমিশন এখন এই ইশতেহারকে আচরণবিধির আওতায় আনতে পারে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশনা কার্যকর হলে রাজনৈতিক দলের নেতারা জনগণকে আর ল্যাপটপ, টিভি, ফ্যান ইত্যাদি জিনিস বিনা পয়সায় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, এভাবে বিনা পয়সায় উপহার দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হলে নির্বাচনী দৌড়ে সব প্রার্থী সমানতালে ছুটতে পারবেন না। পিটিআই।

মার্কিন দূতাবাস বন্ধের হুমকি দিল বলিভিয়া

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস সে দেশের মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বলিভিয়ায় লাতিন আমেরিকার পাঁচটি দেশের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে তিনি এই হুমকি দেন। মোরালেস গত মঙ্গলবার রাশিয়া থেকে ফেরার পথে স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স ও পর্তুগাল তাঁকে বহনকারী বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দেয়। বলিভিয়ার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশেই তা করা হয়েছে। বাধাদানকারী দেশগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারির তথ্য ফাঁসকারী মার্কিন নাগরিক এডওয়ার্ড স্নোডেন ওই বিমানে আছেন সন্দেহে বাধা দেওয়া হয়। তবে মোরালেসের বিমানে স্নোডেন ছিলেন না। আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতে এবং মোরালেসের প্রতি সমর্থন জানাতে গত বৃহস্পতিবার বলিভিয়ার কোচাবাম্বা শহরে বৈঠকে অংশ নেন আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও সুরিনামের প্রেসিডেন্টরা। বৈঠকে মোরালেস অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটনের নির্দেশে ইউরোপীয় দেশগুলো তাঁর বিমানকে বাধা দেয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘প্রয়োজন হলে বলিভিয়ায় মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের প্রয়োজন নেই। আমাদের মর্যাদা আছে, সার্বভৌমত্ব আছে। যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই আমরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনেক ভালো আছি। তাই মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করতে আমার হাত কাঁপবে না।’ বৈঠক শুরুর আগে এক সমাবেশে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো বলেন, ‘ইউরোপের একটি দেশের মন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের নিদের্শেই তাঁরা প্রেসিডেন্ট মোরালেসের বিমানকে তাঁদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেননি।’ ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া বলেন, ‘ভেবে দেখুন ইউরোপের কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কী হতো। একে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে দেখা হতো।’ এদিকে স্পেন বলেছে, তারা বলিভিয়ার কাছে দুঃখ প্রকাশের কোনো কারণ দেখছে না। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল গার্সিয়া-মার্গালো এক টিভি সাক্ষাত্কারে বলেন, বলিভিয়ার প্রেসিডেন্টের বিমান যখন আসে, তখন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির মেয়াদ ছিলনা। এএফপি।

দারিদ্র্য বিমোচনে সমবায় by কাজী কোহিনূর বেগম তিথি

দারিদ্র্য বিমোচনে সমবায় সমিতির ভূমিকা অনস্বীকার্য। সে জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও সমবায় সমিতি গঠন দরকার। প্রতি বছর জুলাই মাসের প্রথম শনিবার পালিত হয় আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস।

৩০ লাখ ডলারের ডিনার সেট

ভারতের পাতিয়ালার সাবেক মহারাজার ফরমাশে তৈরি একটি রুপার ডিনার সেট নিলামে ৩০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে। লন্ডনের ক্রিস্টিজ নিলামঘর থেকে নাম উল্লেখ না করা একজন ক্রেতা এক হাজার ৪০০ পিসের সেটটি কিনেছেন। সোনার প্রলেপ দেওয়া প্রতিটি তৈজসপত্রে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন নকশা। সেটটির ওজন প্রায় ৫০০ কেজি। ১৯২২ সালে প্রিন্স অব ওয়েলসের পাতিয়ালা সফর উপলক্ষে মহারাজা ভূপিন্দর সিং এটি লন্ডন থেকে ফরমাশ করে তৈরি করিয়েছিলেন। প্রিন্সের তিন দিনের পাতিয়ালা সফরের শেষ দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি ছিল একটি রাজকীয় ভোজসভা। সেই প্রিন্স অব ওয়েলসই পরে রাজা অষ্টম এডওয়ার্ড হন। এক বিবৃতিতে ক্রিস্টিজ বলেছে, ‘বিশেষ বিক্রির’ অংশ হিসেবে সেটটি বিক্রি হয়। পাঞ্জাবে অবস্থিত পাতিয়ালা ছিল ব্রিটিশ ভারতের সবচেয়ে ধনাঢ্য দেশীয় রাজ্যগুলোর একটি। শৌখিন ও জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য বিখ্যাত এ রাজ্যের মহারাজা ভূপিন্দর সিং প্রথম ভারতীয় হিসেবে নিজের জন্য বিমান কেনেন। গাড়ির ব্যাপারেও তাঁর বেশ আগ্রহ ছিল। তাঁর মোটর শোভাযাত্রায় ২০টি পর্যন্ত রোলস রয়েস দেখা গেছে। ভূপিন্দর সিং ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন। ইতিহাসবিদেরা লিখেছেন, তিনি বেশ কয়েকবার বিয়ে করেন। প্রণয়ীর সংখ্যাও ছিল অনেক। বেশ কয়েকজন ছেলেমেয়ের বাবা হয়েছিলেন মহারাজা। বিবিসি।

শ্রমজীবীদের স্বার্থেই জিএসপি জরুরি by মো. আতিকুর রহমান

ওভেন ও নিটওয়্যার গার্মেন্ট অর্থাৎ তৈরি পোশাকশিল্প হলো বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত। এই রফতানি খাতের প্রায় অর্ধেক ক্রেতাই যুক্তরাষ্ট্রের, যা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

নওয়াজের বিশেষ দূত ভারতে

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বিশেষ দূত শাহরিয়ার খান তিন দিনের সফরে ভারতে এসে গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর হাতে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর চিঠিও তুলে দেন। বিশেষ দূত শাহরিয়ার খান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশংকর মেনন, পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাই ছাড়াও দেখা করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত সতীন্দর লাম্বার সঙ্গেও। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে নওয়াজ শরিফ পাকিস্তান সফরের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছেন কি না সে বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আকবরউদ্দিন কোনো মন্তব্য করেননি। মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, শাহরিয়ার খান ভারতীয় নেতাদের জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোই পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য। পাকিস্তানের বিদ্যুত্ ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে বিদ্যুত্ কিনতে তাদের আগ্রহের কথাও নতুন করে জানানো হয়েছে। নওয়াজ শরিফ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যে ‘ট্র্যাক টু ডিপ্লোম্যাসি’ শুরু হয়েছে, শাহরিয়ার খান তার সঙ্গে যুক্ত। যেমন ভারতের দিক থেকে যুক্ত সতীন্দর লাম্বা।

কাগজ-কলম কিংবা প্রযুক্তি by মাহফুজুর রহমান মানিক

লেখার অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হিসাব করতে গেলে অবশ্যম্ভাবী হয়ে দুটি বিষয় মাথায় হাজির হয়_ কাগজ ও কলম। লেখার সঙ্গে এ দুটি বিষয় এত অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত যেন এগুলো ছাড়া লেখালেখি কদাপি সম্ভব নয়।

বিবাদ করে ম্যান্ডেলার সুনামহানি করবেন না: ডেসমন্ড টুটু

নেলসন ম্যান্ডেলার তিন সন্তানের মরদেহ নতুন করে সমাহিত করা নিয়ে সৃষ্ট পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুজন নেতা। তাঁরা হলেন ডেপুটি প্রেসিডেন্ট কেগালেমা মোতলান্তে ও আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মান্ডলা অভিযোগ করেন, পরিবারের কিছু সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চান। তাঁরা ম্যান্ডেলার সম্পত্তি বেহাত করতে চান। ম্যান্ডেলা পরিবারের এই কলহে অসন্তোষ প্রকাশ করে ডেপুটি প্রেসিডেন্ট মোতলান্তে এক রেডিও অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা প্রার্থনা করছি যেন মাদিবার পরিবারের সদস্যরা এ বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে মিটিয়ে নেন।’ শান্তিতে নোবেলজয়ী আর্চবিশপ টুটুও ম্যান্ডেলার পরিবারের সদস্যদের মতপার্থক্য দূর করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ আমরা কি শুধু আমাদের স্বার্থ আর ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না? বিষয়টি প্রায় ম্যান্ডেলার মুখে থুতু ছিটিয়ে দেওয়ার পর্যায়ে নেমে গেছে।... প্লিজ, আমরা কি তাঁর কীর্তিকে অক্ষুণ্ন রাখতে পারি না?’ বিবিসি।

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ-সংসদে অসংসদীয় ভাষা কে থামাবেন? by আফতাব উদ্দিন ছিদ্দিকী

সংসদে অশালীন ও অসংসদীয় ভাষার চর্চাটা এতকাল বিচ্ছিন্ন ঘটনা হলেও হালে তা নিরবচ্ছিন্ন ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অশালীন ও অসংসদীয় ভাষা পরিহার করে স্পিকার প্রাসঙ্গিক বিষয়ে বক্তব্য দিতে অনুরোধ করেন।

আমি আমার জীবনকে উপভোগ করেছি

নেলসন ম্যান্ডেলা
‘জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি—এই বিষয়টি বুঝতে পেরেও আমি আশাবাদী রয়েছি। আমার মনোবল অতি উচ্চমাত্রার। কারণ, আমি এরই মধ্যে জীবনকে উপভোগ করেছি।’ কথাগুলো বলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নায়ক জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা নেলসন ম্যান্ডেলা। তবে এখন নয়, প্রায় ১৫ বছর আগের বলা কথা এটি। ১৯৯৮ সালে দেশের প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ক্যানসারে আক্রান্ত মৃত্যুপথযাত্রী এক কিশোরকে দেখতে গিয়ে ওই কথাগুলো বলেছিলেন ম্যান্ডেলা। সেই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল, যা এত দিন অপ্রকাশিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস গত বৃহস্পতিবার ভিডিওটি সম্প্রচার করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা ম্যান্ডেলার নিজের অবস্থাই এখন সংকটাপন্ন। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, মস্তিষ্কের ক্যানসারে আক্রান্ত ১৫ বছর বয়সী কিশোরটি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে। তার পরনে ম্যান্ডেলার ‘ট্রেডমার্ক’ মাদিবা শার্ট। শান্তিতে নোবেলজয়ী ম্যান্ডেলাকে কাছে পেয়ে তার চেহারায় কিছুটা প্রশান্তির ছাপ। মুখে লাজুকতা মাখা মৃদু হাসি। ম্যান্ডেলা একটি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে কিশোরটির পাশে বসে আছেন। ম্যান্ডেলা কিশোরটির উদ্দেশে আরও বলেন, ‘যদি তোমার মন আশাবাদী না হয়, মনোবল অতি উচ্চ না হয়, তাহলে ওষুধ খুব বেশি কাজ করবে না।’ ম্যান্ডেলা দেখে আসার প্রায় তিন মাস পর ওই কিশোর মারা যায়। এএফপি।

কালের আয়নায়-জাতীয় নিরাপত্তা এবং দায়িত্বহীন সাংবাদিকতা by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বিকেলে (লন্ডন সময়) লন্ডনে এসে পেঁৗছেছেন। এটা তার বেসরকারি সফর। ছোট বোন রেহানার বড় মেয়ে কাউন্সিলর টিউলিপের (ব্রিটিশ লেবার দলীয় কাউন্সিলর) বিবাহোত্তর সংবর্ধনা উপলক্ষে পরিবারের অনেক সদস্যসহ তিনি লন্ডনে এসেছেন।

আফ্রিকান ইউনিয়ন মিসরের সদস্যপদ স্থগিত করেছে

আফ্রিকার দেশগুলোর জোট আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) মিসরের সদস্যপদ স্থগিত করেছে। গতকাল শুক্রবার এক বিশেষ বৈঠকের পর এইউ এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। মিসরে সেনা অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই দিন পর এইউ এই সিদ্ধান্ত নিল। এইউর শান্তি ও নিরাপত্তা কাউন্সিলের সেক্রেটারি আদমোর কামবুদজি জানান, জোটের শান্তি ও নিরাপত্তা পরিষদ মিসরের সদস্যপদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবিধান পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত সদস্যপদ স্থগিত থাকবে। দেশটি এই সময়ের মধ্যে এইউর কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না। মিসরের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সংবিধান স্থগিত করারও ঘোষণা দেন। বিধান অনুযায়ী সংবিধান স্থগিত করার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে মিসরের সদস্যপদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এইউ। আল-জাজিরা।

মিসর কি নব্বই দশকের আলজেরিয়া হবে?

নব্বইয়ের দশকে আলজেরিয়ায় সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয় ইসলামপন্থীরা। কিন্তু সেনাবাহিনীর বাধায় ক্ষমতা পায়নি তারা। এর জেরে দেশটিতে প্রায় এক দশক ধরে চলে গৃহযুদ্ধ। প্রাণ হারায় অন্তত দুই লাখ মানুষ। সবচেয়ে জনবহুল আরব রাষ্ট্র মিসরের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকেই আলজেরিয়ার সেই সময়ের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। পার্থক্য একটাই, মিসরে মোহাম্মদ মুরসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, মুরসির এই পরিণতির জন্য তাঁর নিজের এবং দল ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টিরও (এফজেপি) দায় আছে। এই এক বছরে কোনো ক্ষেত্রেই তিনি চোখে পড়ার মতো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেননি। রাজনৈতিক দল এফজেপির মূল সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড। দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকার পরও মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে তাদের সমর্থিত প্রার্থী মুরসিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। বলা হয়, দেশটিতে সবচেয়ে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সংগঠিত সংগঠন ব্র্রাদারহুডই। জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে মাত্র এক বছরের মাথায় ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার বিষয়টিকে অবশ্যই তারা সহজভাবে নেবে না। চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণেই সেই আলজেরিয়ার কথা উঠেছে। তার কিছু ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে ব্রাদারহুডের নেতা-সমর্থকদের কথাবার্তায়। ব্রাদারহুডের সুপরিচিত নেতা মোহাম্মদ এল বেলতাগি বলেন, মিসরকে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এই বার্তা প্রতিষ্ঠিত হবে যে ‘গায়ের জোরে’ সরকার পরিবর্তন সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ইউটিউবে দেওয়া এক ভিডিওচিত্রে মুরসির একজন সমর্থক সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা অনেক নতুন মুজাহিদ তৈরি করেছেন, যাঁরা শহীদ হতে প্রস্তুত। এই মুজাহিদদের ১০ জনের মধ্যে একজনও যদি আত্মঘাতী হামলায় নিজেকে উড়িয়ে দেন, তার কারণ হবেন আপনিই।’ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার কয়েক ঘণ্টা আগে কায়রোয় তাঁর সমর্থনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অংশ নেন সরকারি কর্মচারী মোহাম্মদ নুফিল। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, মুরসিকে সরিয়ে দেওয়া হলে তাঁর সমর্থকেরা সহিংস হয়ে উঠবে। মিসরের পরিস্থিতি বর্তমানের সিরিয়া কিংবা নব্বইয়ের দশকের আলজেরিয়ার মতো হবে।’ যুক্তরাজ্যের ডারহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক খলিল আল-আনানি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিসরে সহিংসতা হবে। বিশেষ করে সিনাই উপত্যকা অঞ্চল তো হোসনি মোবারকের পতনের পর থেকেই অস্থিতিশীল রয়েছে। তবে ইসলামপন্থীদের বুঝতে হবে সহিংসতা কোনো সমাধান নয়।

সিএনজি স্টেশন- অন্যায্য ধর্মঘট

শুক্রবার দেশের সিএনজি স্টেশনগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট আহ্বান করেছিল সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নামে হয়রানি করা হচ্ছে_ এমন অভিযোগ এনে মাত্র

চট্টগ্রাম বন্দর- অব্যবস্থাপনা দূর করুন

চট্টগ্রাম বন্দরকে বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন বললে অত্যুক্তি হবে না। এ বন্দরের সুবিধা ব্যবহার করে আমদানি-রফতানি তথা বৈদেশিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি পরিচালিত হয়। সম্প্রতি বন্দরের সুবিধাদির আধুনিকায়ন হয়েছে।

অপ্রকাশিত ভিডিওতে ম্যান্ডেলা আমি আমার জীবনকে উপভোগ করেছি

‘জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি—এই বিষয়টি বুঝতে পেরেও আমি আশাবাদী রয়েছি। আমার মনোবল অতি উচ্চমাত্রার। কারণ, আমি এরই মধ্যে জীবনকে উপভোগ করেছি।’

মার্কিন দূতাবাস বন্ধের হুমকি দিল বলিভিয়া

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস সে দেশের মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বলিভিয়ায় লাতিন আমেরিকার পাঁচটি দেশের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে তিনি এই হুমকি দেন।

চীন ও পাকিস্তানের সম্পর্ক মধুর চেয়ে মিষ্টি: নওয়াজ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, চীনের সঙ্গে তাঁর দেশের সম্পর্ক মধুর চেয়ে মিষ্টি। প্রথম বিদেশ সফরে বেইজিং গিয়ে নওয়াজ গতকাল শুক্রবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ মিসর কি নব্বই দশকের আলজেরিয়া হবে?

নব্বইয়ের দশকে আলজেরিয়ায় সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয় ইসলামপন্থীরা। কিন্তু সেনাবাহিনীর বাধায় ক্ষমতা পায়নি তারা। এর জেরে দেশটিতে প্রায় এক দশক ধরে চলে গৃহযুদ্ধ। প্রাণ হারায় অন্তত দুই লাখ মানুষ।

৩০ লাখ ডলারের ডিনার সেট

ভারতের পাতিয়ালার সাবেক মহারাজার ফরমাশে তৈরি একটি রুপার ডিনার সেট নিলামে ৩০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে। লন্ডনের ক্রিস্টিজ নিলামঘর থেকে নাম উল্লেখ না করা একজন ক্রেতা এক হাজার ৪০০ পিসের সেটটি কিনেছেন।

লন্ডনে সুলতানা কামাল আপসের রাজনীতির কারণে মৌলবাদীরা শক্তিশালী হয়েছে

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রধান সুলতানা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে সুন্নি পুরুষ ছাড়া আর কেউই সম্পূর্ণ মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারেন না।

ফখরুলের অভিযোগ সরকার গাজীপুরে ভোট ডাকাতির পরিকল্পনা করেছে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, সরকার গাজীপুরে ভোট ডাকাতির পরিকল্পনা করেছে বলেই সেনা মোতায়েন করতে চাচ্ছে না। ভোট ডাকাতির পরিকল্পনা করেছে বলেই তারা সেনা মোতায়েনের বিরোধিতা করছে।

শেখ হাসিনা-উইলিয়াম হেগ বৈঠক সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন চায় যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুতারোপ করেছেন। যুক্তরাজ্যে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বৈঠকে হেগ এ গুরুতারোপ করেন।

জয়পুরহাট চারু ও কারুকলার শিক্ষক নেই জেএসসি পরীক্ষার্থীরা বিপাকে

জয়পুরহাটে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় চারু ও কারুকলা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ না করেই ওই বিষয়টিকে আবশ্যিক (বাধ্যতামূলক) হিসেবে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করায় জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে।

নদ থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছেন ছাত্রলীগ নেতা

ঝিনাইদহের শৈলকুপার বিজুলিয়া এলাকায় কুমার নদ থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছেন ছাত্রলীগের নেতা কর্নেল বিশ্বাস। ১৫ দিন ধরে বালু তোলায় ওই নদের পাড় ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।

পাঁচ সাংবাদিক ও এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত প্রেসক্লাবে হামলা, ভাঙচুর

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেনের নেতৃত্বে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় প্রেসক্লাবে হামলা চালানো হয়েছে। এতে পাঁচ সাংবাদিক ও এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

পটুয়াখালীতে অতিবৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ার আউশে ব্যাপক ক্ষতি আমন আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

ঘূর্ণিঝড় মহাসেন, অতিবৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে পটুয়াখালীতে চলতি বছর আউশ ফসল আবাদের ২৬ হাজার হেক্টরের বেশি জমি অনাবাদি ছিল। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকেরা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ৬০ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় by সাইফুদ্দীন চৌধুরী

দেশের উচ্চশিক্ষার দ্বিতীয় বৃহত্তম পাদপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ বছর হয়ে গেল। ১৯৫৩ সালের আজকের এই দিনে অর্থাত্ ৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়েছিল। রাজশাহীতে এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের একটি ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে।

কলকাতার চিঠি পঞ্চায়েত নির্বাচন ও মমতার স্বপ্নভঙ্গ by অমর সাহা

পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সরকার কাঠামোর মূল ভিত্তিই হলো পঞ্চায়েত রাজ। এই পঞ্চায়েত রাজের আওতায় একেবারে গ্রাম পর্যায় থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত গড়া হয় স্থানীয় সরকার। রাজ্যের প্রতিটি গ্রামে গড়া হয় গ্রাম পঞ্চায়েত।

কলকাতার চিঠি পঞ্চায়েত নির্বাচন ও মমতার স্বপ্নভঙ্গ by অমর সাহা

পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সরকার কাঠামোর মূল ভিত্তিই হলো পঞ্চায়েত রাজ। এই পঞ্চায়েত রাজের আওতায় একেবারে গ্রাম পর্যায় থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত গড়া হয় স্থানীয় সরকার। রাজ্যের প্রতিটি গ্রামে গড়া হয় গ্রাম পঞ্চায়েত।

কলকাতার চিঠি পঞ্চায়েত নির্বাচন ও মমতার স্বপ্নভঙ্গ by অমর সাহা

পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সরকার কাঠামোর মূল ভিত্তিই হলো পঞ্চায়েত রাজ। এই পঞ্চায়েত রাজের আওতায় একেবারে গ্রাম পর্যায় থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত গড়া হয় স্থানীয় সরকার। রাজ্যের প্রতিটি গ্রামে গড়া হয় গ্রাম পঞ্চায়েত।

কলকাতার চিঠি পঞ্চায়েত নির্বাচন ও মমতার স্বপ্নভঙ্গ by অমর সাহা

পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সরকার কাঠামোর মূল ভিত্তিই হলো পঞ্চায়েত রাজ। এই পঞ্চায়েত রাজের আওতায় একেবারে গ্রাম পর্যায় থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত গড়া হয় স্থানীয় সরকার। রাজ্যের প্রতিটি গ্রামে গড়া হয় গ্রাম পঞ্চায়েত।

একটি স্বাধীন শক্তিশালী একক প্রতিষ্ঠান গঠন করুন নিরাপদ খাদ্যের প্রত্যাশা

আমাদের দেশের মানুষ যা যা খায়, তার মধ্যে এমন একটিরও নাম এখন বলা যাবে না যেটি ভেজাল বা বিষমুক্ত হিসেবে নিশ্চিন্তে খাওয়া যায়। ভাত, মাছ, মাংস, শাকসবজি, ফলমূল থেকে শুরু করে কোনো ধরনের খাদ্যকেই এখন আর নিরাপদ খাদ্য হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।

আর্থিক খাতের শৃঙ্খলার জন্য হুমকি রাজনৈতিক বিমা

বেসরকারি খাতের ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিমা খাতেও দৃশ্যত রাজনৈতিক বিবেচনায় একসঙ্গে ১১টি বিমা কোম্পানিকে লাইসেন্স প্রদানের ঘটনা আর্থিক খাতের শৃঙ্খলার জন্য একটি হুমকি।

জিএসপি-বাংলাদেশের পাশে আছে ইউরোপীয় কমিশন

শ্রমমান উন্নয়নের মাধ্যমে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) সুরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাহী সংস্থা ইউরোপীয় কমিশন বাংলাদেশকে সাহায্য করছে।

জিএসপি-বাংলাদেশের পাশে আছে ইউরোপীয় কমিশন

শ্রমমান উন্নয়নের মাধ্যমে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) সুরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাহী সংস্থা ইউরোপীয় কমিশন বাংলাদেশকে সাহায্য করছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বললেন-ষড়যন্ত্রের কারণেই স্থগিত হয়েছে

ষড়যন্ত্রের কারণে আমেরিকার বাজারে জিএসপি স্থগিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গার্মেন্ট খাতকে ধ্বংস করে দেওয়া গেলে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। দেশ আবার পরাধীন হয়ে যাবে।

জিএসপি হারানোর পেছনে ইউনূস ও আমিনুল ইস্যু

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা হারানোর পেছনে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছে লন্ডনের প্রভাবশালী পত্রিকা দি ইকোনমিস্ট।

ঘর-মন-জানালা অপেক্ষা

প্রায় প্রতিদিন ক্লাসে যাওয়ার পথে বায়োলজি ল্যাবে চোখ বুলিয়ে যাই। মাঝারি সাইজের ল্যাব, তার ভেতরে ছোট্ট একটি রুম, যেখানে তিনি বসেন, সেই ১০৯ নম্বর রুমের দরজায় কিছুক্ষণের জন্য চোখ দুটি আটকে থাকে।

মূল রচনা যেমন আছি তেমনই থাকতে চাই—নাসির হোসেন

প্রথম ব্যাট
রংপুরে অগ্রণী ক্লাবের হয়ে খেলার সময় ইউটি নামের একটা ব্যাট দিয়ে খেলেছিলাম। ওটাই আমার জীবনের প্রথম ব্যাট।

কা র্য কা র ণ ক্যামেরার ফ্ল্যাশ কি বিদ্যুৎ টেনে আনে? by আব্দুল কাইয়ুম

প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক জাহিদুল করিম (সেলিম) গত ২৬ জুন গাজীপুরে নির্বাচনী প্রচার মিছিলের ছবি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাঁর মুখ, হাত-পা ঝলসে যায়। একটি ভবনের ছাদ থেকে তিনি ছবি তুলছিলেন।

তথ্য সত্য

উটপাখি ঘোড়ার চেয়ে দ্রুতগতিতে ছুটতে পারে।
হাতি তিন মাইল দূর থেকেও পানির গন্ধ পায়

রাজনীতির সপ্তাহ-হায় গণতন্ত্র হায় জনগণ! by চৌধুরী আফতাবুল ইসলাম

গণতন্ত্রের শেষ কথা- জনগণ, জনগণের সরকার, জনগণের শাসন। অবশ্য এ ক্ষেত্রে শর্ত প্রযোজ্য। রাজনৈতিক নেতা, রাজনৈতিক দলগুলোর যদি এই আদর্শ-দর্শনের প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা, সমর্পণ থাকে শুধু তাহলেই।

সবার অংশগ্রহণের নির্বাচন চায় ব্রিটেন-লন্ডনে শেখ হাসিনাকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ। লন্ডনে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (ব্রিটেনের স্থানীয় সময়) সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হোটেল স্যুটে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে তিনি এ বিষয়টি তুলে ধরেন।

রিটার্নিং অফিসারের অভিযোগ-ফলাফল ঘোষণা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে

বেসরকারি ও সরকারি ফলাফল ঘোষণা নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী আবদুল মান্নানের অভিযোগ প্রসঙ্গে রিটার্নিং অফিসার মতিয়ার রহমান গতকাল শুক্রবার বিকেলে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।

হেফাজত-জামায়াত জাপার ভোটে ভরসা বিএনপির by মাহাবুব হাসান মেহেদী

জামায়াত-হেফাজতের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির কমবেশি সমর্থন, সেই সঙ্গে জাহাঙ্গীরের সমর্থকদের ক্ষোভকে পুঁজি করে গাজীপুরে আজ ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী এম এ মান্নান জয়লাভ করবেন- এমনটাই আশা করছে বিএনপি।

এরশাদ-জাহাঙ্গীরের সমর্থনে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ by শাহীন আকন্দ

গাজীপুর নগরের চাপলিয়া এলাকার ভোটার আরিফ হোসেন, নজরুল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টায় আড্ডা দিচ্ছিলেন রহিম মিয়ার চায়ের দোকানে বসে।

গাজীপুর সিটি নির্বাচন-ভোটের লড়াই হোক শঙ্কামুক্ত

আয়তনে দেশের বৃহত্তম সিটি করপোরেশন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন আজ। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

কাতাদাকে জর্দানে ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

কট্টরপন্থী মুসলিম নেতা আবু কাতাদাকে নিজের দেশ জর্দানের কাছে হস্তান্তর করছে যুক্তরাজ্য। কাল রবিবার তাঁর জর্দানে পৌঁছানোর কথা। জর্দানের এক কর্মকর্তা গত বুধবার এ কথা জানান।

স্নোডেনকে বিয়ের প্রস্তাব আনার

ইন্টারনেট ও টেলিফোনে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নজরদারির কথা ফাঁসকারী এডওয়ার্ড স্নোডেনকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন সাবেক রুশ গোয়েন্দা আনা চ্যাপম্যান। গত বুধবার স্নোডেনকে পাঠানো এক টুইটার বার্তায় এ প্রস্তাব দেন তিনি।

পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৯

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৯ জন। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী চামান এলাকায় গতকাল শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে আফগানিস্তানের ছয় কর্মকর্তা রয়েছেন।

চীন-রাশিয়া যৌথ নৌ মহড়া শুরু

রাশিয়া ও চীন গতকাল শুক্রবার থেকে যৌথ নৌ মহড়া শুরু করেছে। জাপান সাগরে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী এ মহড়া আগামী ১২ জুলাই শেষ হবে। চীন জানিয়েছে, বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় মহড়া।

দিল্লির গণধর্ষণ-কিশোর আসামির রায় ১১ জুলাই

নয়াদিল্লিতে চলন্ত বাসে ছাত্রী গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র কিশোর আসামির তদন্ত ও শুনানি গতকাল শুক্রবার শেষ হয়েছে। আগামী ১১ জুলাই কিশোর বিচার আদালত (জেজেবি) তার মামলার রায় দেবেন। জেজেবি এ কথা জানিয়েছেন।

'চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক মধুর চেয়েও মিষ্টি'

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ চীন ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে 'মধুর চেয়েও মিষ্টি' অভিহিত করেছেন। গতকাল শুক্রবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খোয়াছিয়াংয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

'জীবনটা যাপন করে ফেলেছি'

১৫ বছর আগের কোনো একদিন। ক্যান্সারে আক্রান্ত এক কিশোরকে হাসপাতালে দেখতে যান প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা। তখন তাঁর বয়স ৮০। কিশোরটির মনে সাহস জোগাতে কিংবদন্তি নেতা বলেছিলেন, 'আশাবাদী হও, মনে সাহস রাখো।'

মেয়ে হবে কেটের!

ব্রিটেনের জনগণ তো বটেই পুরো বিশ্ববাসী ব্রিটিশ রাজপরিবারের অনাগত সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার প্রহর গুনছে। একই সঙ্গে অপেক্ষা চলছে ব্রিটিশ সিংহাসনের তৃতীয় উত্তরাধিকারী ছেলে হবে, নাকি মেয়ে, তা জানার।

বসে নেই ব্যবসায়ীরাও

জোহানেসবার্গের হাইদে পার্ক মার্কেটের বইয়ের দোকান 'এক্সক্লুসিভ বুকস'। দোকানের তাকে থরে থরে সাজানো বই। বেশির ভাগই ম্যান্ডেলাকে নিয়ে। ম্যান্ডেলার আত্মজীবনী, সাক্ষাৎকার, ভাষণ থেকে শুরু করে এমন কোনো বই নেই যে পাওয়া যাচ্ছে না।

ম্যান্ডেলাকে নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিস্থলে থাকা নেলসন ম্যান্ডেলার অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। গত ২৬ জুন আদালতে ম্যান্ডেলার পরিবারের পেশ করা নথি থেকে গত বৃহস্পতিবার জানা যায়, ম্যান্ডেলা বোধশক্তিহীন হয়ে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট সভা শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম প্রসঙ্গে তোপের মুখে উপাচার্য

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভায় শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম সম্পর্কে কয়েকজন সিনেট সদস্যের তোপের মুখে পড়েছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফ। সমালোচনার মুখে উপাচার্য একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ‘মাফিয়া’ বলে উল্লেখ করেন।

বিপজ্জনক হয়ে উঠছে গ্যাস বিতরণ লাইন by অরুণ কর্মকার

যেনতেনভাবে নিম্নমানের অবৈধ লাইন বসিয়ে গ্যাস নেওয়ার চেষ্টা, বিদ্যমান লাইনে অননুমোদিত কমপ্রেসর ও বিশেষ ধরনের রেগুলেটর স্থাপনের কারণে গ্যাসের বিতরণ লাইনগুলো বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এসব লাইনে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

বুয়েটের প্রতিবেদন ৯৪ কারখানা ভবনে ত্রুটি by ইফতেখার মাহমুদ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের একটি দল ১০২টি তৈরি পোশাক কারখানা ভবন পরিদর্শন করে ৯৪টিতে বিভিন্ন রকম ত্রুটি পেয়েছে। এর মধ্যে দুটি ভবনকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও চারটিকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

শ নি বা রে র বিশেষ প্রতিবেদন তাক লাগালেন আবুল মিয়া by উজ্জ্বল মেহেদী

চাষির হাতে লাঙল, বলদের কাঁধে জোয়াল। কোথাও আবার বলদ না পেলে চাষিকেই টানতে হয় জোয়াল। ফসল ফলাতে এভাবে মানুষে-বলদে হাড়খাটুনিই চলে আসছে যুগযুগান্তর ধরে। তবে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারও তো নতুন নয়।

গাজীপুরে আজ ‘জাতীয়’ নির্বাচন by শরিফুল হাসান ও মাসুদ রানা

জাতীয় নির্বাচন বলতে যা বোঝায় তার সবই আছে। শুধু নেই নৌকা আর ধানের শীষ প্রতীক। এর বদলে আছে দোয়াত-কলম আর টেলিভিশন।
প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব ও নাটকীয়তা, জোট-মহাজোটের পাল্টাপাল্টি দোষারোপের রাজনীতি,

টেলিফোন ও ইন্টারনেটে গুপ্তচরগিরি-ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসছে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র

ইন্টারনেট ও টেলিফোনে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নজরদারি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে বসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ইইউর একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী সোমবার ওয়াশিংটনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বন্ধের হুমকি বলিভিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলিভিয়া। প্রেসিডেন্ট এবো মোরালেসের সঙ্গে ইউরোপের কয়েকটি দেশের 'অশোভন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের' পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তারা।

মুরসির অপসারণ-যুক্তরাষ্ট্রের মিসর নীতি কোন পথে?

দুই মাস আগে মিসরের জন্য ১৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা অনুমোদন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ইসরায়েলের পর কোনো দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সহায়তা এটি।

নতুন বীমা কম্পানি-রাজনৈতিক বিবেচনা কাম্য নয়

আরো ১১টি বীমা কম্পানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আবেদন আহ্বানের আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে নতুন বীমা কম্পানির প্রয়োজন নেই বলে জানানো হলেও শেষ সময়ে এসে সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিল, তা প্রশ্ন আকারে দেখা দিয়েছে।

গাজীপুর সিটি নির্বাচন-গণতন্ত্র জয়যুক্ত হোক

নবগঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আজ। শেষ পর্যন্ত ঘুরেফিরে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বা জোটের প্রার্থীই নির্বাচনে মেয়র পদে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ২৪ ঘণ্টা আগে শেষ হয়েছে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। ভোটগ্রহণ শেষে ফলের অপেক্ষা।

মিসরে সামরিক অভ্যুত্থান by তারেক শামসুর রেহমান

শেষ পর্যন্ত সামরিক বাহিনী মিসরের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করল। এর মধ্য দিয়ে পতন ঘটল গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মুরসি সরকারের। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, 'সামরিক বাহিনী মোহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করে দেশকে রক্ষায় তাদের ওপর অর্পিত ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে।'

পবিত্র কোরআনের আলো-ইউসুফ (আ.)-এর পরিচয় প্রকাশের উত্তম পদ্ধতি

৮৯. কা-লা হাল 'আলিমতুম মা- ফা'আলতুম বিয়ূসুফা ওয়া আখীহি ইয আনতুম জা-হিলূনা। ৯০. কা-লূ--- আইন্নাকা লা আনতা য়ূসুফু, কা-লা আনা য়ূসুফু ওয়া হা-যা--- আখী-, কাদ মান্নাল্লা-হু 'আলাইনা-, ইন্নাহূ মায়্যাত্তাকি ওয়া য়াসবির ফাইন্নাল্লা-হা লা- য়ুদী'উ আজরাল মুহসিনীনা।

আন্তর্জাতিক সমবায় দিবসমিল্ক ভিটা : দুগ্ধশিল্প বিকাশের অগ্রদূত by মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী

আজ ৬ জুলাই, আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিবছর জুলাই মাসের 'প্রথম শনিবার' এ দিবস উদ্‌যাপিত হয় সাড়ম্বরে বিশ্বব্যাপী।
৪০ বছর ধরে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে সুপরিচিত ও সমাদৃত 'মিল্ক ভিটা'।

গ্রামীণ ব্যাংককে লালন করা প্রয়োজন by ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন

নোবেল বিজয়ী গ্রামীণ ব্যাংক ও এর প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশে-বিদেশে আবারও আলোচনার শীর্ষে। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ব্যক্তি ইউনূসকে তাঁর অসাধারণ সৃষ্টি গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে আবারও।

রমনার রাতের স্টার বনাম লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টার by মিজানুর রহমান পলাশ

সেই মেয়েটার কথা বলি।

বিশাল একটা ট্যুর দিয়ে বান্দরবন থেকে ফিরছি। চিটাগাং শহরে খুব দুঃসম্পর্কের এক রিলেটিভ আছে। তার বাসায় গেলাম।

তার একটাই মেয়ে- ভাল একটা কলেজে পড়ে- ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে। শ্যামলা গায়ের বর্ণ- কিন্তু বড় বড় মায়া কাড়া চোখ- মেয়েটাকে অনিন্দ্য সুন্দরী বলা যাবে না হয়তো কিন্তু বেশ আকর্ষণীয়।

বাড়িতে বুয়েটের ভাইয়া এসেছে- আশা করলাম সে তার ক্লাসের কোন প্রবলেম দেখাবে, লেখাপড়া সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন করবে।

আমাকে দেখে তার প্রথম অভিব্যক্তি হলো- ইসস! বাইরে ঘুরে ঘুরে ভাইয়া কি কালো হয়ে গেছেন!

তার মনে অনেক দুঃখ- সেই সব দুঃখ সে আমার সাথে শেয়ার করলো! কি সেই সব দুঃখ- পরীক্ষায় নাম্বার কম পেয়েছে? ফার্স্ট হতে পারে নি? স্যার বকেছে?

না, তার দুঃখ হলো- বাসার সবাই এত ফর্সা, সে কেন শ্যামলা হলো!

আমার ইন্টারে পড়ার সময় একটাই টার্গেট ছিলো কি করে বুয়েটে চান্স পাওয়া যাবে, যারা আরো উন্নত শ্রেণীর তারা হয়তো তখন স্বপ্ন দেখত এম আই টি হাভার্ডে পড়ার।

তার জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্টে, যে সময়ের উপর তার সমগ্র ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে- সেই সময়ে সে ভাবছে কি করে তার চামড়াটা আরো সাদা করে ফেলা যায়! সে ভাবছে না কি করে আরো ভাল রেজাল্ট করা যায়, কি করে একজন বড় বিজ্ঞানী হওয়া যায়, ডাক্তার হওয়া যায়, লেখক কিংবা প্রকৌশলী হওয়া যায়!

সে ভাবছে কি করে আরো সুন্দর হওয়া যায়! চামড়াটা আরো ফর্সা করা যায়।

কি ভাবছেন?  অবাক হলেন? দাড়ান দাড়ান- আপনার জন্যে আরো বড় বিস্ময় অপেক্ষা করছে!

এ বছর লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে আই বি এর ছাত্রত্ব হারিয়েছেন সোমা নামের এক মেয়ে। আই বি এ থেকে বহিষ্কারের বিনিময়ে তিনি নিঝের ঝুলিতে ভরতে পেরেছেন প্রথম পাচজনের মধ্যে অবস্থান, পেয়েছেন লাক্সের একটা বিজ্ঞাপনের কাজ করার সুযোগ।

বাংলানিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাদিয়া আর্জুমান্দ বানু সোমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) ১৮ ব্যাচের বিবিএর ছাত্রী। সোমার গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরের মুন্সীপাড়ায়। ঢাকার আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০০৭ সালে জিপিএ-৫ নিয়ে এসএসসি এবং ২০০৯ সালে জিপিএ-৫ নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। ভর্তি পরীক্ষায় যোগ্যতার প্রমাণ রেখে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে ভর্তি হন।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে এসে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় টিকে গেলে তার নিয়মিত লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটতে থাকে। আইবিএর নিয়ম ভঙ্গ করায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তাকে ড্রপ আউট হিসেবে চিহ্নিত করে নোটিশ দেয়। সোমা পুনরায় আইবিএতে ছাত্রত্ব রক্ষার আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ তার আবেদন নাকচ করে। ফলে তার আইবিএ‘র বিবিএর ছাত্রত্ব হারায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রেস্টিজিয়াস শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সোমার এই মাঝপথে ঝড়ে পড়ার পেছনে দায়ী ওই সুপারস্টার প্রতিযোগিতা।

সেই খবর নিয়ে ব্লগে আধখানা চাঁদ নামে একজনের কমেন্ট পড়ুনঃ

    যে ইউনিলিভারের সামান্য একটা রিয়েলিটি শো এর জন্য এত বড় ত্যাগ স্বীকার করল সোমা, আই বি এ থেকে পাস করলে এই ইউনিলিভার তাকে সালাম করে নিত এবং চাকরি দিত। আর সে হয়ত তখন নিজেই ইউনিলিভার থেকে এমন ফালতু রিয়েলিটি শো এরেঞ্জ করতে পারত। সোমা অনেক বড় বোকামি করল।

হায়রে বাংলাদেশের অন্যতম সম্মানিত প্রতিষ্ঠান, লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী যেখানে পড়ার স্বপ্নে বিভোর- সম্মান ও নিশ্চিত ভবিষ্যত ছেড়ে দিয়ে আসতে কি পরিমান ব্রেন ওয়াশের দরকার- কল্পনা করা যায়?

এরকমই হবে।

যতদিন ফেয়ার এন্ড লাভলী আপনাকে সাতদিনে আরো ফরসা কর তোলার গ্যারান্টি দিয়ে ব্যবসা করে যাবে, যতদিন লাক্স ঘষলেই আপনি স্টার হয়ে যেতে পারবেন, যতদিন টিভিতে বিজ্ঞাপন আসবে অসুন্দর মেয়ের বিয়ে হয় না, তারা চাকরী পায় না, তারা অবলম্বন হতে পারে না- ততদিন এ ধারা চলতেই থাকবে।

তাই কিনে আনুন লাক্স, গায়ে মাখুন পন্ডস- হয়ে যাবেন সাদার চেয়েও বেশি সাদা। শর্টস পড়ে সাদা চামড়া দেখিয়ে হেটে আসুন মঞ্চে- আধবুড়ো কিছু পারভার্টদের সামনে। তারা আপনাকে ঘুরে ঘুরে দেখবে। মঞ্চের সামনে দেখবে- পেছনে দেখবে, দিনে এবং রাতের অন্ধকারে দেখবে। এই রকম অনেককে অনেক ভাবে আপনার ফর্সা শরীর দেখিয়ে আপনি হবেন স্টার। চোখ সামনে রেখে, বুক ফুলিয়ে, কোমর দুলিয়ে আপনি হেটে যাবেন- দর্শকরা আপনাকে কামনা করবে, সিটি বাজিয়ে উৎসাহ দেবে!- আপনি জানেন না দেশের জাতীয় পাখির নাম। আপনি দেখলে চিনতে পারেন না জাতীয় ফুল- কিন্তু তবুও আপনি স্টার। আপনি শোনেন নি লালনের নাম, পড়েন নি রবিঠাকুরের কোন কবিতা- তবু আপনি স্টার।

রমনার প্রস্টিটিউটদের খদ্দের রিকশাওয়ালারা, তাদের রেট বিশ টাকা- তাদের কেউ স্টার বলে না। কারন তাদের এই পেশায় নামতে একের পর এক চামড়া দেখিয়ে প্রতিযোগিতা করে বেড়াতে হয় নি। তাদের জোর করে এই পেশায় নামানো হয়েছে। তারা কেউ স্বেচ্ছায় আসে নি।

কিন্তু আপনি স্বেচ্ছায় এসেছেন, এ জন্যে বছরের পর বছর ধরে আয়নায় দাঁড়িয়ে প্রাকটিস করেছেন, একের পর এক লাক্স ঘষেছেন, এই মেখেছেন, সেই মেখেছেন- তারপরে কত রাউন্ড পরীক্ষা দিয়ে আজ এখানে এসে দাঁড়িয়েছেন- আপনি তাই স্টার। প্রকাশ্যে হয়তো আপনি বছরে গোটা কয়েক বিজ্ঞাপন আর নাটক করবেন। পেছনে হয়তো আপনি বড় বড় ব্যবসায়ীদের শয্যাসঙ্গিনী হবেন, তাদের সাথে ঘুরতে যাবেন থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া কিংবা সিংগাপুর। বি জি  এম ই এর অনুষ্ঠানে অর্ধ নগ্ন  হয়ে খেমটা নাচবেন। শেরাটনে অর্ধ-লক্ষ টাকা রেটে দেহ বিক্রি করবেন।

এ জন্যেই হয়তো আপনি স্টার!

আপনি আরো এগিয়ে যান, কর্পোরেট বেনিয়াদের কাছে নিজেকে তুলে দিন, পণ্যের মত বিক্রি করে দিন আপনার শরীরটাকে। আখের মত করে নিংড়ে তারা রস উপভোগ করুক, বিনিময়ে ছুড়ে দিক কিছু ডলার, যেমন মানুষ পোষা কুকুরের দিকে রুটি ছুড়ে দেয়- সেই ডলার কুড়িয়ে আপনি দামী পোশাক, গাড়ি আর ফ্লাট কিনুন! মেধা আর বুদ্ধি দিয়ে নয়, শিক্ষা আর প্রজ্ঞা দিয়ে নয়- শরীর দিয়ে হয়ে উঠুন অবলম্বন!

আপনি হয়ে উঠুন স্টার, হয়ে উঠুন রোল মডেল- অল্প বয়েসী মেয়েরা আপনাদের ফলো করুক, বই দূরে ঠেলে টেনে নিক প্রসাধনের বক্স, সারাদেশ ভরে যাক নর্তকী আর উচ্চবিত্ত প্রস্টিটিউটে, আর  অসুন্দর মেয়েগুলো জীবনটা কাটিয়ে দিক অবহেলায়! আমরা অশিক্ষিত থাকি, আমরা নির্বোধ থাকি- তাও আমাদের হট হতে হবে, সেক্সি হতে হবে। যেদিন এই দেশের প্রত্যেকের চামড়া সাদা, প্রতিটা মেয়ে হট, সেক্সি এবং হর্নি, প্রতিটা ছেলে সিক্সপ্যাক-ম্যাচো হবে সেদিন আমরা সবাই না খেয়ে মরে গেলেও নিজেদেরকে আধুনিক এবং উন্নত বলে দাবি করতে পারবো! আমরা আপনাদের দিকে তাকিয়ে সেই দিনের প্রত্যাশায় আছি!

স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় অনেক কালো নিগ্রো মার্সিডিজে চড়ে, আর অনেক সাদা চামড়া ভিক্ষা করে। করুক- তাও আমরা মার্সিডিজে চড়া কালো না  হয়ে পথের পাশের সাদা ভিকিরি হতেই চাই। আমরা জাতি গত ভাবে কালোফোবিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আছি, আমাদের চিকিৎসা করবে কে?

যতদিন আমরা মানুষের বাইরের সৌন্দর্যকে তার ভেতরের সৌন্দর্য থেকে বড় করে দেখবো, যতদিন উচ্চ শিক্ষিত এবং মেধাবী একটা ছেলে বা মেয়ের তুলনায় ৩৬-২৪-৩৬ ফিগারের কোন নির্বোধ সুন্দরী কিংবা কোন এক উচ্ছৃঙ্খল ম্যাচো সিক্স প্যাকের ছেলে আমাদের কাছে বেশি আদরণীয় হবে যতদিন- ততদিন আমরা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করতে পারব না। আমরা মধ্যযুগীয় বর্বরই থেকে যাবো! আর ততদিন এইসব কর্পোরেট বেনিয়াগুলো আমাদের সাদা চামড়ার লোভ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা ব্যবসা করে যাবে। তাদের এই রেসিজমের কোন সাজা হবে না, কেউ প্রশ্ন তুলবে না গায়ের রঙ কালো হলে তাকে নিন্দে করা রেসিজম জেনেও তারা বছরের পর বছর কেন এই সব বিজ্ঞাপন দেখিয়েছে, সরকার কেনই বা তাদের বাধা দেয় নি!

এইভাবে এইসব নষ্টরা দখল করে নিচ্ছে সব কিছু-

    আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে।
    সবচে সুন্দর মেয়ে দুইহাতে টেনে সারারাত
    চুষবে নষ্টের লিঙ্গ; লম্পটের অশ্লীল উরুতে
    গাঁথা থাকবে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী। চ’লে যাবে,
    কিশোরীরা চ’লে যাবে, আমাদের তীব্র প্রেমিকারা
    ওষ্ঠ আর আলিঙ্গন ঘৃণা ক’রে চ’লে যাবে, নষ্টদের
    উপপত্নী হবে। এই সব গ্রন্থ শ্লোক মুদ্রাযন্ত্র
    শিশির বেহালা ধান রাজনীতি দোয়েলের স্বর
    গদ্য পদ্য আমার সমস্ত ছাত্রী মার্ক্স-লেনিন,
    আর বাঙলার বনের মত আমার শ্যামল কন্যা-
    রাহুগ্রস্থ সভ্যতার অবশিষ্ট সামান্য আলোক-
    আমি জানি তারা সব নষ্টদের অধিকারে যাবে।

    (হুমায়ুন আজাদ)

একটা মানুষের সৌন্দর্য কখনো শুধুমাত্র তার গায়ের বর্ণে নির্ধারিত হতে পারে না। আর তেমনি একটা মানুষের যোগ্যতা পারেনা তার সৌন্দর্য দিয়ে নির্ধারিত হতে। সৌন্দর্য নশ্বর, একটু বয়স হলেই চলে যায়। কিন্তু তার অর্জিত জ্ঞান, তার বিচার বিবেচনা, তার  যুক্তিবোধ, তার প্রাজ্ঞতা- বিচক্ষণতা, তার মূল্যবোধ এগুলো নশ্বর নয়, এগুলো বয়সের সাথে সাথে বাড়ে। এগুলোই তাকে মানুষ করে তোলে।

যে ছেলেগুলো বা মেয়েগুলো নিজেদের রূপ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগে তাদের জন্যে করুনা অনুভব করা ছাড়া আর কিইবা করার আছে?

এ দেশে সবচেয়ে সস্তা হচ্ছে নারীর শরীর, দু বেলা খাওয়ার টাকা দিয়েই সারারাতের জন্যে একটা সুন্দর শরীরের জোগাড় হয়ে যায়।

কিন্তু মেয়েগুলো কি বোঝে? স্বয়ং ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েদের মাঝেই রূপ নিয়ে যে ধরনের অহংকার, সুপিরিয়রটি/ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স দেখি তাতে অবাক হই। সে কি জানে তার চেয়ে অনেক সুন্দর একটা শরীর সামান্য কয়েক হাজার টাকায় পাওয়া যায়। সে যদি শরীর সর্বস্ব হয়, তার চিন্তা যদি শুধু নিজের শারীরিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে তাহলে সে খুবই সস্তা। কিন্তু তার যোগ্যতা, গুণাবলী, মনুষ্যত্ব, রুচি-বোধ এগুলো অমূল্য- টাকা দিয়ে কেউ কেনার দুঃসাহস করবে না। তার উচিত নিজেকে উন্নত করা, বিকশিত করা- শুধু শরীরটাকে নয়।

মানুষ অমূল্য- শরীরের মূল্য খুবই সামান্য!

যদি কেউ সুন্দর শরীরের অধিকারী হয়ে জন্মায় সেটা একটা বোনাস- কিন্তু তাকে সেটা পূঁজি করেই বসে থাকলে চলবে না। শিক্ষা-জ্ঞান ও গরিমায় অপরকে ছাড়িয়ে যাবার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

যদি অনন্ত জনম থাকতো প্রতিবারই আমি বুদ্ধিমান- মেধাবী- জ্ঞানী হয়ে জন্মাতে চাইতাম-হোক কুদর্শন তাও নির্বোধ সুন্দর হয়ে নয়!

মিজানুর রহমান পলাশ
নজরুল  ইসলাম হল
বুয়েট, ঢাকা।
> সরব থেকে <