Thursday, October 22, 2015

রোজ সাবান মেখে গোসল করেন! সাবধান

আপনি রোজ গোসল করেন অনেকটা সময় ধরে। রোজ গায়ে দামি অথবা মাঝারি দামের সাবানও মাখেন? এই নিয়ে আপনার গর্বের শেষ নেই?
সবার মাঝে ফলাও করে বলেন, আপনি কত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন?
আপনি ভাবেন এর জন্য আপনার ত্বক কত ভালো থাকবে? আপনি কত সুন্দর এবং টানটান হয়ে থাকবেন অনেক বয়স পর্যন্তও!
এক দম ভুল ভাবছেন। ইউরোপের ডাক্তাররা কিন্তু একেবারে ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। তাদের বক্তব্য, গোসল রোজ করছেন এটা খুবই ভালো। কিন্তু যে সাবান দিয়ে আপনি রোজ ঘসে ঘসে গা পরিষ্কার করছেন, চকচকে হচ্ছেন, সেটা কিন্তু মোটেই ভালো নয়।
সাবান মানেই খার। সেটা কম মাত্রা অথবা বেশি মাত্রা হতে পারে। কিন্তু রোজ আপনার শরীরে খার গেলে তা আপনার শরীরকে মোটেই চিরকাল ভালো রাখবে না। যার সুফল আজ টের পাচ্ছেন, তার অনেক বেশি কুফল কাল টের পেতে চলেছেন। তাদের পরামর্শ গায়ে মাটি মাখুন। ত্বক আজও ভালো থাকবে। আগামীতেও ভালো থাকবে। মাটির থেকে ভালো গায়ে মাখার আর কিছু নেই। কিন্তু আপনি কি এখনই এসব মানবেন?

মাতৃরূপে অবতীর্ণ ঈশ্বর by অরূপ রতন চৌধুরী

দেবী দুর্গা, অ্যাক্রেলিক, শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী
দুর্গাপূজাতে আমাদের বাড়িতে সব সম্প্রদায়ের লোকই আসত। কারণ, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এই ধরণিতে আসেন। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমরা দুর্গাপূজা করি। আমাদের আনন্দ সবার সঙ্গেই ভাগ করে নিই। সবার সঙ্গে পূজা করতে, আনন্দ করতে আর পূজার প্রসাদ সবাই একসঙ্গে খেতে কী যে আনন্দ, তা বলে বোঝানো যাবে না। পূজার প্রসাদ সবাইকে নিয়ে খাওয়া হতো। প্রথম দেওয়া হতো ফলমূল। দুপুরে দেওয়া হতো ভোগ, তাতে খিচুড়ির সঙ্গে লাবড়া অর্থাৎ নানা রকম শাকসবজি দিয়ে তৈরি নিরামিষ। সবাই প্রসাদ খেয়ে বলত, আহা কী মজা, এমন মজার খাবার কত দিন খাইনি! এই আনন্দ আর তৃপ্তি দেখে আনন্দিত হতাম। সন্ধ্যায় হতো আরতি; আরতির সময় ধূপ-ধোঁয়ায় চারদিক হয়ে যেত গন্ধময়। ধোঁয়াটে পরিবেশ আর ঢাক-ঢোল-কাঁসর ধ্বনিতে নাচ হতো। প্রতিমার সামনে ধূপচি হাতে নিয়ে আমিও নাচতাম।
সবার মিলনই দুর্গাপূজার আসল রূপ। বাঙালি হিন্দুদের সবাই তাঁর পূজা করে। তবে প্রাচীনকালে রাজা, জমিদার আর ধনাঢ্য বণিক সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেই এ পূজার প্রচলন বেশি লক্ষণীয়। তবে বহুকাল থেকে আর্থিকভাবে সচ্ছল ও ধনী ব্যক্তিরাই পারিবারিকভাবে বংশপরম্পরায় দুর্গাপূজা করে আসছেন। প্রতিবছর মা আসেন, ভক্তের পুজো নিয়ে আবার ফিরেও যান কৈলাসে। মায়ের আগমনে সন্তানের আনন্দ। মায়ের কাছে সন্তানের অধিকার সমান। কারণ, তিনি বিশ্বজনীন। সনাতন ধর্মশাস্ত্রে দুর্গা নামটির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে ‘দ’ অক্ষর দৈত্যনাশক, উ-কার বিঘ্ননাশক, রেফ রোগনাশক, গ অক্ষর পাপনাশক ও অ-কার ভয় শত্রুনাশক। তার মানেই দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ ও ভয় শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই শ্রীদুর্গা। অন্যদিকে শ্রীশ্রী চণ্ডী অনুসারে এই দেবীই ‘নিঃশেষদেবগণশক্তি সমূহমূর্ত্যাঃ’ বা সকল দেবতার সম্মিলিত শক্তির প্রতিমূর্তি। তিনি আমাদের দুর্গতি থেকে ত্রাণ করেন বলেই দেবীর নাম হয়েছে দুর্গা। তিনি সব প্রাণীতে চেতনারূপে, বুদ্ধিরূপে, শক্তিরূপে, শান্তিরূপে, শ্রদ্ধারূপে, দয়ারূপে বিরাজিতা।
আমাদের দেবগণ নিজ নিজ দেহ নিঃসৃত তেজ দ্বারা যেমন দেবীর অঙ্গ সকল সৃষ্টি করে তাকে পূর্ণরূপ দিয়েছিলেন, সেভাবেই তাঁরা নিজ নিজ শ্রেষ্ঠ অস্ত্রও তাঁর হাতে তুলে দিয়ে তাঁকে করেছিলেন রণসাজে সজ্জিতা। অশুভ শক্তির প্রতীক পরাজিত অসুরকে পায়ের তলায় রেখে যুদ্ধ করে মা শিক্ষা দিলেন জীবজগৎকে। সংসার সমরাঙ্গনে বাঁচতে মানুষের লাগে বুদ্ধি, ঋদ্ধি, সিদ্ধি ও ক্ষাত্রশক্তি। তাই তো আদ্যশক্তির মহিমায়ায় আছেন লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিক। ধনের দেবী লক্ষ্মী, বিদ্যার দেবী সরস্বতী, দেব সেনাপতি কার্তিক, গণদেবতা ও সিদ্ধিদাতা গণেশও হচ্ছেন পূজিত।  অন্যদিকে সরস্বতীর বাহন রাজহংস, লক্ষ্মী দেবীর বাহন প্যাঁচা, গণেশ ঠাকুরের ইঁদুর ও কার্তিকের বাহন ময়ূর—প্রতিটি প্রতীকই আধ্যাত্মিক তত্ত্বের ভাবমণ্ডিত। দশমীর দিন রাবণ বধ করে সাড়ম্বরে বিজয়া দশমী পালন করেন। তখন থেকে বসন্তকালে ও শরৎকালে দুর্গাপূজা ও শুভ বিজয়া দশমী পালিত হয়ে আসছে। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই চলে আসছে মাতৃ পূজার চিরন্তন ধারা এবং এটি যে কত প্রাচীন, তা আজও রহস্যাবৃত। সুদূর অতীতের কোন ধূসর প্রদোষে মাতৃরূপিণী, শক্তিরূপিণী, বরাভয় প্রদায়িনী, দুর্গতিনাশিনী দুর্গাপূজার হয়েছিল প্রথম প্রচলন তা আজও জানা যায়নি।
শ্রীরামকৃষ্ণদেব সেই তত্ত্বকেই বলছেন প্রতিমা মাটির কেনো গো? ও তো চিন্ময়ী জীবন্ত রূপ। সেই প্রতীক রূপেরই জীবন্ত রূপ কুমারী, যা বিশ্বমাতৃত্বের প্রতীক জগন্মাতাকে শ্রীরামকৃষ্ণদেব মা বলে সম্বোধন করছেন। তাই তিনি বলেছেন, ‘মাতৃভাব সাধনার শেষ কথা।’ এই মাতৃশক্তিকে উপাসনা করা হয় দুর্গাপূজায় কুমারী পূজার মাধ্যমে। মাতৃভাবে ঈশ্বরের আরাধনা তাঁর বৈচিত্র্যময়ী আরাধনার একটি রূপ। প্রত্যেক নারীকে মাতৃভাবে ভাবনা মহামায়ার শ্রেষ্ঠ উপাসনা এবং নারী মর্যাদার সর্বোচ্চ বিধি। নারী শুধু ভোগ্যপণ্য নয়, যথার্থ মূল্যায়নে সমাজে তাঁকে উচ্চাসনে সমাসীন করা কর্তব্য। পাখি যেমন একটি ডানায় উড়তে পারে না, সমাজও তেমনি পুরুষশক্তি দ্বারা চলতে পারে না। কুমারীপূজা নারীকে মূল্যায়নের সর্বোচ্চ শাস্ত্রীয় বিধি। সমগ্র বিশ্বে এই নারী মূর্তি মহামায়া রূপে প্রকাশিতা এবং মাতৃকাশক্তি কুমারীরূপে ঈশ্বরেরই আরাধনা।
শক্তিপূজা কেবল মাতৃমূর্তিতেই হয়। যেমন: দুর্গা, অন্নপূর্ণা, কালী, জগদ্ধাত্রী ইত্যাদি। তাই প্রাচীনকাল থেকে শক্তিপূজার অঙ্গ হিসেবে নারীমূর্তিতে কুমারীপূজা প্রবর্তিত হয়েছে। বর্তমানকালের সমাজব্যবস্থায় বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও অনুন্নয়নশীল বিশ্বে সমাজব্যবস্থায় নারী নির্যাতিতা। তাই নারীদেহে ভগবানের পূজা সমাজে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক। শ্রীরামকৃষ্ণদেব নিজ স্ত্রীকে ষোড়শীজ্ঞানে পুজো করে মাতৃ সম্মানের এক অত্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। আর এরই ধারাবাহিকতায় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন কুমারীপূজার মাধ্যমে নারী সমাজের তথা মাতৃশক্তি জাগরণের এক অত্যুজ্জ্বল ধারা বর্তমান সমাজে তুলে ধরেছে।
শরতের স্বর্ণিল আবহে স্বর্গের দেবী দুর্গা মর্ত্যবাসীতে নেমে আসেন, আমাদের যাবতীয় দুঃখ-দুর্দশা ও অশান্তি দূর করে এ পৃথিবীকে শান্তির আলো ​িদয়ে গড়ে তোলেন। একটি বছর পর দুর্গা দেবীর পদতলে পুষ্পাঞ্জল প্রদানের মাধ্যমে সমস্ত বিশ্বের শান্তি ও চির মঙ্গল কামনা করতে আমরা মিলিত হই এই দিনগুলোতে। সংঘাতময় এই বিশ্বে দেবী দুর্গার আগমন হয়ে উঠুক শান্তি, কল্যাণ ও সুখ-সমৃদ্ধিময়। দুর্গাপূজা এসেছে। এসেছে ত্রিনয়নী মা আমার শারদীয় এই দুর্গোৎসবে।
ড. অরূপরতনচৌধুরী : একুশে পদকপ্রাপ্ত; সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ডিপার্টমেন্ট অব ডেন্টিস্ট্রি, বারডেম হাসপাতাল; প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মানস সদস্য, জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত টাস্কফোর্স।

অর্থনীতি স্থিতিশীল, অনিশ্চয়তাও আছে

এক দশক ধরেই বাংলাদেশ গড়ে ৬ শতাংশের বেশি মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আসছে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধিকে আরেকটু বাড়িয়ে ৭ শতাংশে নিয়ে যেতে পারছে না।
বিশ্বব্যাংক বলছে, বেসরকারি বিনিয়োগের ফাঁদ থেকে বের হতে পারলেই কেবল বাংলাদেশ ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে। আর এ জন্য প্রয়োজন সহায়ক বিনিয়োগ পরিবেশ। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল বলেই মনে করছে সংস্থাটি। তবে অনিশ্চয়তাও আছে।
গতকাল মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের কার্যালয়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদেরা যখন ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়ে এই সংশয়ের কথা বলছিলেন, তার খানিকটা দূরেই তখন সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অনুমোদন নিয়ে বৈঠক হচ্ছিল। আর সেই পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে ২০২০ সাল নাগাদ ৮ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন। এই লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী বলে বৈঠকেই অর্থমন্ত্রী সমালোচনা করেছেন।
বেসরকারি খাত কেন বিনিয়োগ করছে না—সেই প্রশ্ন উঠল বিশ্বব্যাংকের সংবাদ সম্মেলনটিতে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাটির বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বললেন একটি সহায়ক বিনিয়োগ পরিবেশের অভাবের কথা। তিনি বলেন, দেশে সামগ্রিকভাবে একটি সহায়ক বিনিয়োগ পরিবেশে ঘাটতি আছে। একজন বিনিয়োগকারী যদি দেশের মধ্যে বা বিদেশে পণ্য বিক্রি করা নিয়ে স্বস্তিতে না থাকেন, তা হলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবেন না। তিনি বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা একটি বড় বিষয়। এর সঙ্গে আরও আছে পরিবহন ও বন্দরের মতো অবকাঠামো-সুবিধা পাওয়া। এর পাশাপাশি সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কথা বলছে। এটাও দ্রুত হওয়া প্রয়োজন। কারণ, বাংলাদেশে জমি পাওয়া একটি বড় সমস্যা।
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর গতকাল হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশের অর্জন ও ঝুঁকিগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। সংস্থাটির পূর্বাভাস হচ্ছে, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সংস্থাটি মনে করছে, প্রাক্কলন করা এই প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে ভোগ ও রপ্তানি। পাশাপাশি সম্প্রতি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সরকার যে বেতনকাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে, তা প্রবৃদ্ধি গণনায় দশমিক ৯ শতাংশ বিন্দু যুক্ত হবে।
প্রবৃদ্ধির এই পূর্বাভাস দিয়ে ড. জাহিদ হোসেন অবশ্য বলেছেন, সংখ্যা নিয়ে আলোচনা না করাই ভালো। কারণ, এতে কেবল তাপই ছড়ায়, আলো দেয় না। বিশ্বব্যাংক এ সময় জানায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পূর্বাভাস হচ্ছে প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, আর আইএমএফ বলছে সাড়ে ৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক আরও মনে করে, চলতি অর্থবছরের জন্য ৬ দশমিক ২ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতির যে লক্ষ্য, তাও আওতার মধ্যেই থাকবে। এর কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানোর ব্যাপারে সাবধানী এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল।
প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্পর্ক বিষয়ে কিছু উপাত্তও প্রকাশ করা হয়েছে। যেমন, ২০১০-১৫ সময়ে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ, আর একই সময়ে মোট বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২৮ শতাংশ। একই সময়ে চীনের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বিনিয়োগের হার ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ। ভারতে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, বিনিয়োগ ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হচ্ছে শ্রীলঙ্কা। দেশটি ২৮ দশমিক ১ শতাংশ বিনিয়োগ করেও জিডিপি বাড়িয়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ হারে। কারণ, দেশটি তাদের উপকরণগুলো উৎপাদন বাড়াতে বেশি দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পেরেছে।
বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন জাহিদ হোসেন। তাঁর ভাষায়, বিশ্ব অর্থনীতি এখন পৌষ মাসের সকালের মতো অবস্থায়। তখন কুয়াশা থাকে, সামনের কিছু তেমন দেখা যায় না। এর একটি প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে থাকবে। বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ঝুঁকিও আছে। যেমন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরবরাহব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমছে। প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমেছে। তবে আমদানি এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে। এ ক্ষেত্রে অর্থ পাচারের প্রশ্নটি চলে আসে। কেননা, পুঁজি যন্ত্রপাতি আমদানি বেড়েছে ৩০ শতাংশ। অথচ এর সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগের চিত্রটি মিলছে না। পুঁজি যন্ত্রপাতির শুল্কহার সর্বনিম্ন। এর ফলে এসব যন্ত্রপাতি আমদানির মাধ্যমে অর্থ পাচার সহজ। সুতরাং বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন জাহিদ হোসেন।

কাদের সিদ্দিকীর প্রার্থিতা বাতিলে আপিল করবে ইসি

টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপ-নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর প্রার্থিতা নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কাদের সিদ্দিকী নির্বাচনে যাতে অংশ নিতে না পারে সে জন্য আগামী সপ্তাহেই হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে কমিশন।
বুধবার কাদের সিদ্দিকীর এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন। এর পর বৃহস্পতিবার রিটার্নিং অফিসার তাকে গামছা প্রতীক বরাদ্ধ দেয়।
ইসি সূত্র জানায়, কাদের সিদ্দিকীর প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে নির্বাচন কমিশন আপিল বিভাগে আবেদন করবে।
বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইসির প্যানেল আইনজীবি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ইয়াসিন খান। তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। আগামী রোববার থেকে মঙ্গলবারে মধ্যে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।
ইসি আইন শাখার কর্মকর্তারা জানান, আপিল বিভাগের হাকোর্ট বিভাগের আদেশ স্থগিত হলে কাদের সিদ্দিকীর প্রতীক বরাদ্দের সিদ্ধান্তও বাতিল হতে পারে। ফলে তখন নির্বাচনে থাকতে পারবে না কাদের সিদ্দিকী।
আগামী ১০ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৪ আসনের এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গত ১৩ অক্টোবর কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন উপ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে তা ১৮ অক্টোবর খারিজ দেয় কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের এই দুই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও প্রার্থিতা ফিরে পেতে ২০ অক্টোবর হাই কোর্টে রিট করেন কাদের সিদ্দিকী। গতকাল বুধবার রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের অবকাশকালীন বেঞ্চ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন। এর ফলে আজ বৃহস্পতিবার প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া হয় কাদের সিদ্দিকীকে।

আঙুলের ছাপ শনাক্তের নতুন পদ্ধতি

আঙুলের ছাপ শনাক্তের নতুন পদ্ধতি। ছবি: সিএসআইআরও
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার একজন গবেষক এক ধরনের তরল পদার্থ প্রক্রিয়াজাতকরণের দাবি করেছেন যা কোনো পৃষ্ঠের ওপর ফেললে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে আঙুলের ছাপ উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠবে। গবেষকেরা দাবি করছেন, এ পদ্ধতির প্রয়োগে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সময় ও খরচ কমে যাবে।
অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস সাময়িকীতে এ গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিএসআইআরও) গবেষক ক্যাং লিয়াং বলেন, অপরাধীর আঙুলের ছাপ সংগ্রহে পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। অনেক সময় জটিল কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে প্রমাণ পরীক্ষাগারে পাঠাতে হয় এবং সেখানে তাপ ও ভ্যাকুয়াম ট্রিটমেন্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আঙুলের ছাপ বের করা হয়।
কিন্তু নতুন এ পদ্ধতিতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া লাগবে না। ঘটনাস্থলেই আঙুলের ছাপ খুঁজে বের করে ডিজিটাল একটি যন্ত্রে তার ছবি তুলে রিয়েল টাইমে আগের ডেটাবেজে মিলিয়ে নেওয়ার সুবিধা থাকবে।
গবেষকেরা বলছেন, তাঁরা যে মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক (এমওএফ) ক্রিস্টাল লিকুইড তৈরি করেছেন তা কোনো পৃষ্ঠে এক ড্রপ ফেলে আলট্রাভায়োলেট লাইট দিয়ে দেখলে অদৃশ্য আঙুলের ছাপ দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, পেপটিড ও লবণ দিয়ে তৈরি এই তরল পৃষ্ঠের ওপর হালকা একটি প্রলেপ তৈরি করে যা আঙুলের ছাপের অনুরূপ বা রেপ্লিকা তৈরি তৈরি করতে পারে। এটি যেহেতু আণবিক স্তরে কাজ করে তাই প্রিন্ট নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে বলে লিয়াং দাবি করেছেন।
জানালা, মদের গ্লাস, ধাতব ব্লেড, প্লাস্টিকের বৈদ্যুতিক বাতি প্রভৃতির ওপর এ তরল পদার্থটির পরীক্ষা চালিয়ে সফল হওয়ার দাবি করেছেন গবেষকেরা। গত ১০০ বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা আঙুলের ছাপ শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।
গবেষকেরা বলছেন, নতুন এই পদ্ধতি প্রয়োগে সময় ও খরচ বাঁচবে এবং তদন্তে দক্ষতা বাড়বে। তথ্যসূত্র: আইএএনএস।

আকস্মিক সফরে মস্কোয় বাশার, যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা

ক্রেমলিনে মঙ্গলবারের বৈঠকের সময় করমর্দন
করেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আকস্মিক
সফরে সেদিনই মস্কো যান বাশার l ছবি: রয়টার্স
সিরিয়ায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্যে এই প্রথম দেশের বাইরে গেলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। গত মঙ্গলবার আকস্মিক সফরে সবচেয়ে বড় মিত্র বলে পরিচিত রাশিয়া গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। এ সময় রুশ প্রেসিডেন্ট সিরিয়ায় সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।
রুশ প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ক্রেমলিনে মঙ্গলবার বৈঠক করেন পুতিন ও বাশার। বৈঠকে সিরিয়ায় ‘জঙ্গিবিরোধী’ বিমান হামলা চালানোর জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান বাশার।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের মস্কো সফরকে ‘কাজের সফর’ বলে উল্লেখ করেন। সিরিয়ার সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রেসিডেন্ট বাশার গতকাল বুধবার সকালের মধ্যেই সিরিয়া ফিরে গেছেন। দৃশ্যত প্রেসিডেন্ট বাশার সিরিয়ায় ফিরে যাওয়ার পরই তাঁর সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে মস্কো।
ক্রেমলিন থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতার বৈঠকে পুতিন সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আমরা সিরিয়ায় শুধু অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবদান রাখতে চাই না, সিরিয়ায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়ও অবদান রাখতে চাই। আর এই প্রক্রিয়ায় অবশ্যই বিশ্বের পরাশক্তিগুলো এবং ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ, যারা সিরিয়া সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকবে।’
পুতিন বলেন, সিরিয়ার জনগণই তাদের দেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও বলেন, সিরিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সব রাজনৈতিক পক্ষ, জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে নিয়েই।
সিরিয়ায় অভিযান চালানোর জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান বাশার। তিনি বলেন, ‘সিরিয়াকে সহায়তা দেওয়ার জন্য আমি প্রথমেই রুশ ফেডারেশনের নেতৃত্বের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। সন্ত্রাসবাদ এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এর বিস্তৃতি আরও বাড়ছে। রাশিয়ার উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত ছাড়া সন্ত্রাসবাদ আরও ছড়িয়ে পড়বে।’
বাশার বলেন, সিরিয়া সংকট সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে রাশিয়া যেসব রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে, তা দেশটিকে আরও দুর্যোগময় পরিস্থিতির দিকে যাওয়া থেকে ঠেকিয়ে রেখেছে।
পক্ষে ‘যুক্তি-প্রমাণ’ উল্লেখ করে বাশার দাবি করেন, রাশিয়া আন্তর্জাতিক নীতি মেনেই সিরিয়ায় অভিযান চালাচ্ছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সংবাদে পুতিন-বাশারের বৈঠককে প্রধান প্রতিবেদন করা হয়। টেলিভিশনের ভিডিওচিত্রে গাঢ় রঙের স্যুট পরা বাশারকে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়। এ সময় বাশারকে নিরুদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল। বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই সোউগু উপস্থিত ছিলেন।
পরে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সোউগু বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরিয়ার সরকারকে মস্কোর সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, রুশ বিমান হামলার সহায়তা নিয়ে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ইতিমধ্যে আইএসের কবজা থেকে বেশ কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
রাশিয়া গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় সামরিক অভিযান শুরু করে। মস্কো বলছে, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধেই তাদের এই অভিযান। তবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি মিত্র দেশের অভিযোগ, আইএসের কথা বললেও রাশিয়ার হামলার মূল্য লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট বাশারবিরোধী বিদ্রোহীদের নিশ্চিহ্ন করা।
সিরিয়ায় ২০১১ সালের মার্চে শুরু হওয়া গণতন্ত্রপন্থীদের বাশারবিরোধী আন্দোলন ধীরে ধীরে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। পাশাপাশি সেখানে উত্থান ঘটে আইএসসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর।
বাশারের রাশিয়া সফরে যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মস্কো সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ বৃহস্পতিবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। মস্কোয় বাশারকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানানোয় রাশিয়ার সমালোচনা করেছে হোয়াইট হাউস।
এদিকে বাশারের সঙ্গে পুতিনের আলোচনার পর রাশিয়া সিরিয়ার সংকট সমাধানে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। মস্কো বলেছে, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ আগামীকাল শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলবেন। সৌদি ও তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সিরিয়া নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এরিক স্কালজ বলেন, বাশারের জন্য লাল গালিচা অভ্যর্থনা দেখলাম, যিনি (বাশার) তাঁর নিজের জনগণের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বাশারের মস্কো সফরে তাঁরা বিস্মিত নন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগের বিষয় বাশার সরকারের প্রতি রাশিয়ার চলমান সামরিক সমর্থন।
গত মঙ্গলবার আকস্মিক সফরে রাশিয়া যান বাশার। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। এ সময় রুশ প্রেসিডেন্ট সিরিয়ায় সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন। বৈঠকে সিরিয়ায় ‘জঙ্গিবিরোধী’ বিমান হামলা চালানোর জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান বাশার।
সিরিয়ায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্যে এই প্রথম দেশের বাইরে গেলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার।
সিরিয়ার সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রেসিডেন্ট বাশার গতকাল বুধবার সকালের মধ্যেই সিরিয়া ফিরে গেছেন। সিরিয়ায় ফিরে যাওয়ার পরই দৃশ্যত তাঁর সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে মস্কো।
রাশিয়া গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় সামরিক অভিযান শুরু করে।
মস্কো বলছে, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধেই তাদের এই অভিযান।
তবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি মিত্র দেশের অভিযোগ, আইএসের কথা বললেও রাশিয়ার হামলার মূল্য লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট বাশারবিরোধী বিদ্রোহীদের নিশ্চিহ্ন করা।
সিরিয়ায় ২০১১ সালের মার্চে শুরু হওয়া গণতন্ত্রপন্থীদের বাশারবিরোধী আন্দোলন ধীরে ধীরে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। পাশাপাশি সেখানে উত্থান ঘটে আইএসসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর।

যেভাবে হারিয়ে যায় একটি গ্রহ

শিল্পীর চোখে সাদা বামন নক্ষত্র এভাবেই
গ্রাস করে কোনো গ্রহ। ছবি: নাসার সৌজন্যে
পৃথিবীর মতো ছোট গ্রহকে গ্রাস করে নিতে পারে সূর্যের মতো নক্ষত্র। বিজ্ঞানীদের এ রকম তত্ত্বের কথা হয়তো অনেকেই শুনেছেন। কিন্তু এর আগে এ ধরনের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ বিজ্ঞানীদের হাতে ছিল না। নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ ‘কে২ মিশন’ ব্যবহার করে সম্প্রতি এ ধরনের একটি ঘটনা পর্যবেক্ষণ করার দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার গবেষকেরা বলছেন, বড় একটি সাদা বামন নক্ষত্রের প্রভাবে ক্ষুদ্র পাথুরে একটি গ্রহ যেভাবে বাষ্প হয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় তার শক্ত প্রমাণ পেয়েছেন তাঁরা। তত্ত্ব মতে, সাদা বামন নক্ষত্র তাঁর সৌরমণ্ডলে থাকা গ্রহগুলোকে গ্রাস করে নিতে পারে। এই আবিষ্কারের ফলে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের এ তত্ত্বটি বৈধতা পেল।
নাসার পাঠানোর এক বিবৃতিতে হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিকসের গবেষক অ্যান্ড্রু ভ্যান্ডারবার্গ বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা প্রচণ্ড মাধ্যাকর্ষণের চাপে ক্ষুদ্র একটি গ্রহকে চূর্ণ হতে, এর রশ্মিতে গ্রহের সবকিছু বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে এবং ওই নক্ষত্রের দিকে পাথুরে উপাদান ধেয়ে যেতে দেখেছি।’
নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য।
গবেষকেরা বলেন, আমাদের সূর্যের মতো বয়সী কোনো নক্ষত্র, জ্বালানি পুড়িয়ে শেষ করে লাল দানবে পরিণত হবে। এরপর আস্তে আস্তে এর ভর অর্ধেক কমে যাবে এবং আকারে প্রায় পৃথিবীর সময় হয়ে যাবে। মৃত আর অধিক ঘনত্বের এই অবশিষ্টাংশকে সাদা বামন নক্ষত্র বলে।
গবেষকেরা বলছেন, তাঁরা যে সাদা বামন নক্ষত্রটির কথা বলছেন তার নাম ‘ডব্লিউডি ১১৪৫‍+০১৭’। এর প্রভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রহটির ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি ধূলিকণা, পাথর ও গ্রহাণুর আকারের অন্য উপাদানগুলো প্রতি সাড়ে চার ঘণ্টা অন্তর ওই নক্ষত্রটিকে প্রদক্ষিণ করছে। তথ্যসূত্র: ইন্দো এশিয়ান নিউজ সার্ভিস।

ফের স্বচ্ছ তদন্তের কথাই বললেন কূটনীতিকরা

নিরাপত্তা নিয়ে এখনও বিশ্বাসযোগ্য হুমকি রয়ে গেছে। তাই বিদেশীদের সতর্ক থাকতে হবে। বুধবার চার দেশের রাষ্ট্রদূতরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কথাই জানিয়েছেন। তারা কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেন- আসলে দুই বিদেশী হত্যা নিয়ে কি হতে যাচ্ছে? তদন্ত অগ্রগতি সম্পর্কেও তারা জানতে চান। একাধিকবার তারা বলেছেন, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত হতে হবে। তবে তারা এটাও বলেছেন, নিরাপত্তা নিয়ে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতগণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেড়ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। দুই বিদেশী হত্যার পটভূমিতে ওই চার দেশের কূটনীতিকরা এখন একসঙ্গেই দৌড়ঝাঁপ করছেন। এর আগে তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন। যে বৈঠকটি ছিল নানা কারণে আলোচিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্র্শিয়া বার্নিকাট সোজাসাপ্টা বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে এখনও শঙ্কা রয়ে গেছে। তিনি অবশ্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, কূটনীতিকরা জানতে চান- দুই বিদেশী হত্যা নিয়ে তদন্ত কতদূর? তদন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে হচ্ছে কিনা? একপর্যায়ে তারা বলেন, কি হতে যাচ্ছে তাদের কাছে স্পষ্ট নয়।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন বলেন, অবশ্যই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে হবে। তদন্ত এগিয়ে চলেছে। আমরা হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার নিরন্তর প্রয়াস চালাচ্ছি। খুব শিগগিরই তা উন্মোচিত হবে। কূটনীতিকরা বলেন, তাদের নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই সতর্কতা দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের কাছে জানতে চান- হুমকির সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য আছে কিনা? থাকলে শেয়ার করলে ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে। আমাদের গোয়েন্দারা খুঁজে বের করবে। তখন কূটনীতিকরা বলেন, যেসব জায়গায় শঙ্কা রয়েছে সেসব জায়গায় তাদের নিজেদের গোয়েন্দারাই কাজ করছেন। এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের বলেন, আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি তাহলে সমস্যা চিহ্নিত করা যাবে। ওই ঘটনার সঙ্গে আইএসের সম্পৃক্ততা আছে কিনা এ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, চার রাষ্ট্রদূত হুমকির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। বর্তমানে বাংলাদেশে দুই লাখ ১৪ হাজার  ৭০০ জন বিদেশী অবস্থান করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিয়মিত দেয়া হবে কিনা রাষ্ট্রদূতদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যতদিন নিরাপত্তা দেয়া দরকার ততদিন দেয়া হবে।

হরিয়ানায় জীবন্ত পুড়িয়ে ২ শিশু হত্যা

ভারতের উত্তরাঞ্চলে বল্লভগড়ে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে নিম্ন বর্ণের দুটি শিশুকে। এ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে সেখানে। আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা ওই দুই শিশুর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। তারা এ সময় আগ্রার মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়। পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতন্ডা হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানা রাজ্যে। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ আটক করেছে চার জনকে। হরিয়ানা রাজ্য পুলিশ বলেছে, একদল মানুষ ওই দুই শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এর মধ্যে একটি শিশুর বয়স মাত্র ৮ মাস। অন্যটির বয়স দুই বছর। সম্পর্কে তারা ভাই বোন। তারা যখন ঘরের মধ্যে অবস্থান করছিল তখন ওই দুর্বৃত্তরা জানালা দিয়ে ঘরের ভিতর পেট্রোল ছুড়ে মেরে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে শিশু দুটির পিতামাতাও আহত হন। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর অফিসের এক কর্মকর্তা জওয়াহার যাদব বলেছেন, এ ঘটনাটি ঘটেছে শত্রুতা থেকে। এখানে জাতপাত নিয়ে কোন বিরোধ ছিল না। পরিস্থিতির শিকার পরিবারটি বলছে, উচ্চ বর্ণের লোকেরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এক বছর আগে ওই এলাকায় একটি হত্যাকা- ঘটেছিল। তার প্রতিশোধ নিতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে সারা বিশ্বের মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট দিতে বলেছেন। সম্প্রতি ওই এলাকা সফর করেছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী। তিনি সেখানকার গরীবদের রক্ষায়, তাদের অবস্থার উন্নতি না করতে পারার জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন।

ঋণের দায়ে...

একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের লাশ পাওয়া যায় এই বাড়িতে
ফ্রান্সের একটি বাড়িতে তিন শিশু ও তাদের বাবা-মাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় লিলে শহরের কাছে এ ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার দেশটির স্থানীয় এক আইনজীবী এ তথ্য জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিনটি শিশুর বয়স যথাক্রমে ছয় মাস, চার বছর ও ১০ বছর। এর মধ্যে প্রথম দুজন ছেলে শিশু। তাদের মায়ের বয়স ৪০, বাবার বয়স ৪২ বছর। দোতলা ওই বাড়িতে মা ও তাঁর তিন সন্তানের লাশ বিছানায় পাওয়া যায়।
বাবার লাশ পাওয়া যায় ঝুলন্ত অবস্থায়, গলায় ফাঁস লাগানো ছিল। তিনি একটি চিরকুট রেখে গেছেন। এতে ১৬ অক্টোবর তারিখ লেখা। চিরকুটে তিনি তাঁর এমন কাজের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় আইনজীবী ফ্রেদেরিক ফেঁবো বলেন, চিরকুটে ওই ব্যক্তি (পুরুষ) ঋণগ্রস্ত হওয়া এবং বড় ধরনের আর্থিক সমস্যায় পড়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
পুলিশ বাড়িটি সিলগালা করেছে। তারা এই মর্মান্তিক ঘটনা তদন্ত করছে। ক্রিসতেল্লা নামের এক নারী প্রতিবেশীর ভাষ্য, পরিবারটি প্রায় এক বছর ধরে ওই এলাকায় বাস করে আসছে। এলাকাটি খুবই শান্ত ও আবাসিক। ওই পরিবারের শিশুরা প্রায়ই ফুটপাতে সাইকেল ও স্কুটার চালাত। অন্য একটি সূত্রের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে ওই পরিবারের সদস্যদের দেখা যায়নি।

গরিবের দিকে ছুটছে দীর্ঘস্থায়ী রোগ

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে গত কয়েক দশকে একটি নীরব পরিবর্তন ধরা পড়েছে। তা হল, যেসব দীর্ঘস্থায়ী রোগ এতদিন ধনী পরিবারে দেখা যেত, তা এখন দরিদ্রদের মাঝে দেখা যাচ্ছে বেশি। এতে আপাতদৃষ্টে চিকিৎসাসেবার মান বাড়তে দেখা গেলেও পরিস্থিতি আরও জটিলতার দিকেই যাচ্ছে। সম্প্র্রতি আইসিসিবিআরবি’র এক গবেষণায় জানানো হয়েছে এ তথ্য। এ সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব এপিডেমিওলজি। বাংলাদেশের চাঁদপুরের মতলবে দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলোতে মৃত্যুর হার নিয়ে আইসিডিডিআরবি ২৪ বছর ধরে যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছে তার ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল হেলথ অ্যাট জন হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক ডেভিড এইচ পিটার বলেন, গবেষণাটি খুবই স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসাসেবার সহজলভ্যতায় যেমন পরিবর্তন ফুটে উঠেছে, তেমনই দীর্ঘস্থায়ী রোগের সঙ্গে দারিদ্র্যের সম্পর্কও দেখানো হয়েছে।
আইসিডিডিআরবি’র অর্থনীতি ইউনিটের সাবেক প্রধান এবং লিভারপুল স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক এএম খান বলেন, গ্রামাঞ্চলের রোগীদের কাছে দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলোর জন্য চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়া সবচেয়ে জরুরি।
আইসিডিডিআরবি’র চিকিৎসক ড. আব্বাস ভূঁইয়া বলেন, গরিবদের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করে তোলার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের উচিত সেবার পাশাপাশি আর্থিক ঝুঁকির নিরাপত্তার দিকেও নজর দেয়া। ওয়েবসাইট।

সাদা চামড়ার লাশ ফেলার শর্তে মিশন

গুলশানে ইতালি নাগরিক হত্যার ঘটনায় তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ খুনি চক্রের দু-একজন বাদে সবাইকেই তাদের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনী দু’তিন দিনের মধ্যে খুনিদের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সিজারি তাভেল্লার খুনের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে দেখা গেছে, একাধিক গ্রুপে ভাগ হয়ে এ খুনের আগে ও পরের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করে। এক খুনি গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে যার চুক্তি হয়েছিল সেই যুবক বলেছিল গুলশানে গিয়ে একজন সাদা চামড়ার লোকের লাশ ফেলতে হবে। তখন সে জিজ্ঞেস করেছিল, কার লাশ ফেলতে হবে? এক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি আছে কিনা? খুনির এ প্রশ্নের জবাবে ওই যুবক বলেছিল, ‘শুধু সাদা চামড়া হলেই হবে।’ গোয়েন্দাদের ওই খুনি আরও জানায়, সে তাভেল্লাকে চিনত না। খুন হওয়ার পরের দিন পত্রিকায় তার নাম জানতে পারে।
এদিকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা গুলশানে ঘটনাস্থলের কাছের একটি বাড়ির সিসিটিভির ফুটেজ থেকে সন্দেহভাজন তিনজনকে শনাক্ত করেছেন। ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চড়ে দু’জন ও মোবাইল ফোনে কথা বলা অবস্থায় আরেকজন ঘটনাস্থল পার হচ্ছেন।
জানা যায়, খুনে অংশ নেয়া তিনজনসহ ৬ থেকে ৭ জনকে ইতিমধ্যে আইনশৃংখলা বাহিনী তাদের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে মূল নির্দেশ দাতাকে এখনও ধরা সম্ভব হয়নি। এমনকি নির্দেশ দাতার সেকেন ইন কমান্ডকেও না। মূল নির্দেশ দাতাকে ধরা গেলে তাভেল্লা হত্যার আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে। সূত্র জানায়, সেকেন ইন কমান্ড খুনের আগে ও পরে সব ধরনের ছক তৈরি করে গ্র“পগুলোর হাতে দেয়। ঘটনাটির পেছনে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির হাত থাকলেও তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহের জন্য আইএস করেছে বলে সামজিক মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে ইতালি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করে সরকারবিরোধীদের ভাড়াটে খুনিরা। আর খুনের পর গুলশান থেকে উত্তরার জসিম উদ্দিন সড়ক ও টঙ্গির ঝিনু মার্কেটে বসে খুনি চক্রের সদস্যরা টুইট, ব্লগিং ও ফেসবুকে তথ্য আদান প্রদান করে।
একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের ঘটনায় ফরিদ, মারুফ ও আনসারী নামে যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে তাদের কাছেও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের সূত্র ধরে গোয়েন্দারা অভিযান চালাচ্ছে।

তুরস্ককে দ্রুত ইইউ-এর সদস্য করতে এরদোগানের আহ্বান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান দ্রুত তার দেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করার জন্য এই জোটের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
তিনি গতকাল (রোববার) ইস্তাম্বুলে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের সঙ্গে সাক্ষাতে তার দেশকে ইউরোপের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করার জন্য জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও স্পেনের প্রতি আহবান জানান।
শরণার্থী সমস্যা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিকল্পনার বিষয়ে তুর্কি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য গতকাল ইস্তাম্বুল সফর করেন মার্কেল।
ইউরোপ অভিমুখে শরণার্থীদের ঢল কমিয়ে আনার লক্ষ্যে তিন দিন আগে ইউরোপীয় সরকারগুলো একটি চুক্তি সই করেছে। তুরস্ককে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভূক্ত করার পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করার কথাও বলা হয়েছে ওই চুক্তিতে।
তুরস্কে আর মাত্র দুই সপ্তাহ পর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ অবস্থায় বিভিন্ন ইস্যুতে ইউরোপের সঙ্গে তুরস্কের সমঝোতাকে সরকার নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহার করছে বলে সরকার বিরোধীরা অভিযোগ করেছে।

নারী না ডাইনি?

ঘুমে ঢুলছিলেন মহিলা। সেই সময় তার ঘরে ঢুকে খেলতে শুরু করেছিল একরত্তি ছেলেটা। ঘুমে ব্যাঘাত হওয়ায় প্রচণ্ড রাগে কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে শিশুটির লিঙ্গ ও আঙুল কেটে দিলেন তিনি! ঘটনাটা ঘটেছে চীনে।
দুপুর বেলা বসে বসেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন লিউ তাও। ছোট্ট জিয়ামঙ্গ সেই সময় ঘরে ঢুকে খেলতে থাকলে ঘুম ভেঙে যায় লিউয়ের। প্রথমে শিশুটিকে ঘর থেকে বের করে দেন তিনি। কিছুক্ষণ পরই খেলতে খেলতে আবার ঘরে ঢুকে পড়ে জিয়ামঙ্গ। এ বার রাগের মাথায় ছুরি ও কাঁচি দিয়ে শিশুটির লিঙ্গ ও আঙুল কেটে ফেলেন লিউ। তাতেও শান্তি হয়নি। শিশুটির মাথায় ও মুখেও গুরুতর আঘাত করেন তিনি। এর পর একটা ফুলদানিতে কাটা অঙ্গগুলো লুকিয়ে রেখে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিরুত্তাপভাবে আবার ঘুমিয়ে পড়েন তিনি!
জিয়ামঙ্গলের বাবা জানিয়েছেন লিঙ্গ ও বেশ কয়েকটা আঙুল খোয়া গিয়েছে ছেলের। চিনের জিয়াঙ্গা হাসপাতালের চিকিত্সকরা জানিয়েছেন কাটা অঙ্গ জোড়া লাগার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই অপরাধের জন্য ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে লিউয়ের।

দুর্গার আলেখ্য by আহমদ কবির

দোকরা পদ্ধতিতে পিতলে ঢালাই দুর্গা মূর্তি -প্রথম আলো
বাংলাদেশ কেবল মুসলমানের দেশ নয়, হিন্দু-খ্রিষ্টান-বৌদ্ধ ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষগুলোরও দেশ; বিশেষত যথেষ্ট হিন্দু বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান-উৎসবগুলোও সর্বজনীন। সেখানে মুসলমানদের সঙ্গে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড়ি—সবাই থাকবে। বিশ্বাসের জায়গা আলাদা রেখেও সবাই একে অপরের আমন্ত্রণে যাবে, আহার গ্রহণ করবে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করবে। সুখ-দুঃখের কথা বলবে এবং প্রীতি বিনিময় করবে। ধর্মীয় বিভেদ-বৈষম্য থাকলে এবং আভিজাত্য ও জাত-পাতের বাছবিচার থাকলে মনের সংকীর্ণতা কোনো দিন ঘুচবে না। তাতে মিলন উপরি উপরি থাকবে, মনের গভীরে প্রবেশ করবে না।
সম্প্রীতি ও মিলনই হচ্ছে দুর্গার আলেখ্যের অর্থাৎ দুর্গোৎসবের মূল কথা। মুসলমানেরা তো দুর্গাপূজা করে না, কিন্তু দলে দলে তারা পূজামণ্ডপ দেখতে যায়, কেউ কেউ খেয়েও আসে এবং নৃত্যগীতেও লম্ফঝম্প দেয়, কেউ গায়ও। বাংলাদেশের মুসলমানেরা কেবল দুর্গাপূজার দর্শক হবে না, হিন্দুদের সহযোগী ও বন্ধু হবে। সম্প্রীতির কথা শুধু মুখে বললে হবে না, কাজেও দেখাতে হবে। দুর্গাপূজা একসময় বারোয়ারি ছিল, কিন্তু এটি এখন সর্বজনীন। হিন্দুর দুর্গতিতে মুসলমান এগিয়ে আসবে, এটাই প্রত্যাশিত।
পুরাণ মতে, দুর্গার বাপের বাড়ি হিমালয়, মেনকা তাঁর মা। কিন্তু পুরাণের দেবী পিত্রালয় বঙ্গে যেদিন আসেন, সেদিন হলো মহালয়া। এটি আসলে দেবীর আগমন বার্তা; আকাশে-বাতাসে, সাদা মেঘের ভেলায়, নদী কিনারে কাশফুলের স্বচ্ছ মেলায়; শিউলি ফুল ও প্রভাতের শিশিরের দ্যুতিতে। দেবী পুত্র-কন্যাদের নিয়ে আসেন; অনেকটা ঘুমের ঘোরে, অনেকটা সুপ্তিতে। এদিকে পূজার্থীরা দেবী বরণে হাজার হাজার পূজামণ্ডপ তৈরি করেন। দেবী মূর্তি তখনও চক্ষুমুদিতা, তাঁর চোখ খুলে দিয়ে তাঁকে জাগ্রত ও জীবন্ত করতে হবে, তাঁর পুত্র-কন্যাদেরও। এই ধর্মীয় কৃত্যটির নাম বোধন; ষষ্ঠী পুজোর সন্ধ্যায় এটি করে নিতে হয়।
দেবী দুর্গা যে-রূপে আসেন, সেটি আবহমানকাল ধরে বাঙালির কাছে সুপরিচিত। বাঙালি ভক্তিমান পূজারিরা এই রূপটি বহু আগেই গড়ে দিয়েছে। দেবী সিংহবাহিনী, হাতে ত্রিশূল, পদদলিত মহিষাসুর; ত্রিশূল মহিষাসুরের বক্ষে প্রবিষ্ট, দেবী সর্বাঙ্গ সালংকারা; বাঙালি রমণীর মতো শাড়ি সজ্জিতা। তবে যেনতেন শাড়ি নয়, সোনালি পট্টবস্ত্র অত্যুত্তম, সূতি বস্ত্র হলে সূক্ষ্ম, মসলিন-মিহি, সাধারণত লাল বা স্বর্ণ পাড়ের, দেবী মহা মহিমা ও মহা মর্যাদার মহা উপযোগী। দেবীর মাথায় স্বর্ণমুকুট, বাহুতে কাঁকন-বলয়, সুকৃষ্ণ কেশদাম পশ্চাদ্গামিনী, মুক্ত বেণি।
দেবীর চোখ ক্রোধী নয়, তবে বিস্ফারিত দীপ্তোজ্জ্বল কঠিন। দেবী ত্রিনয়না, স্বামী শিবের আদলে এটি হয়েছে। শিবের মতো তাঁর হাতেও ত্রিশূল। দেবীর রূপবিভা ও কান্তি অভূতপূর্ব বৈভবপূর্ণ। সবটা মিলিয়ে দেবী মহা শ্রদ্ধা ও ভক্তির মহা মা, মহামায়া। হালের বাঙালি পটুয়ারা দেবীর মুখাকৃতিকে রূপসী চিত্রনায়িকার আদলে গড়লেও দেবী থেকে যান মাতৃরূপেই। দেবীর সঙ্গে দেবীর পুত্র-কন্যারাও স্ব স্ব মহিমা, পরিচিতি, বৈশিষ্ট্য, সজ্জা ও বাহন নিয়ে আসেন। যেমন গণদেবতা গণেশের মুখমণ্ডলে হাতির শুঁড়-মুখ, পেট মোটা হয়েছে ওই মুখাকৃতির কারণে, সঙ্গে ইঁদুরও ঘোরাফেরা করে; মহা রূপবান দেব সেনাপতি সশস্ত্র কার্তিক ময়ূর বাহন; সর্বাঙ্গ-সালংকারা রূপৈশ্চর্য ও ধনে গরবিনী লক্ষ্মী, সঙ্গে প্যাঁচা আর বিদ্যাদেবী শুভ্র সমুজ্জ্বল সরস্বতী হংসবাহনী। দুর্গার একলা মূর্তি দিয়ে পুজো হতে পারে না তা নয়, তবে তা হয় না। পুত্র-কন্যাগণ, সিংহবাহন ও মহিষাসুর নিয়েই দুর্গামূর্তির পূর্ণতা। সব মিলিয়েই মূর্তি বাহিনীর এক পূজাপট। দুর্গার সার্বক্ষণিক বাহন সিংহ; কিন্তু দুর্গা মাঝেমধ্যে বৃষ, মর্কট, মহিষ, গরুড়, হংসকেও বাহন করে মর্ত্যে অর্থাৎ বঙ্গে আসেন; কদাচিৎ তুরঙ্গম, কখনো বহিত্র তাঁর বাহন হয়।
কিন্তু যে বাহনেই দুর্গা আসুন না কেন, শরতের নির্দিষ্ট দিনক্ষণে ও তিথিতে দুর্গার আগমনের কিছুমাত্র বিলম্ব ঘটে না। যথাসময়েই দেবী আসেন, বাঙালি হিন্দুর প্রধান উৎসবের মধ্যমণি হয়ে। বাঙালি হিন্দুরা দেবীর পিত্রালয়-যাপনের কয়টা দিন আনন্দে-উল্লাসে, হুল্লোড়ে, কেনাকাটায়, সুখাদ্য তৈরিতে, সাংস্কৃতিক উৎসব সৃষ্টিতে, পর্যটনে, নতুন সাহিত্য সৃষ্টিতে, সংগীত রচনায় ও পরিবেশনায় এবং টেলিভিশনে চলচ্চিত্রে নতুন নতুন সূচি তৈরিতে স্ব স্ব ব্যস্ত থাকে। শুধু বাংলাদেশে নয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গে, ত্রিপুরায়, আসামের একাংশে এবং ভারতের ও পৃথিবীর যেখানে যেখানে বাঙালি অধিবাস করছে, সেসব জায়গায়ও উৎসবের ঢল বয়ে যায়। আজকাল প্রযুক্তির বিপুল প্রসারে, বিশেষভাবে টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের কল্যাণে দুর্গাপূজা বিশ্বময় ছড়িয়ে গেছে। দুর্গা ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের পুজো সাকার বিধায় সায়ন্তনে আলোক বিভায়, পুষ্পরাজির শোভায়, ধূপ-ধুনোয়, আরতির তুমুল নৃত্য-গানে, ঢোল-বাদ্য-ঘণ্টায় অতীব জমকালো, মনোমুগ্ধকর ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। সঙ্গে থাকে পুরোহিতের বিশেষ পূতপবিত্র সজ্জা ও মুখাভাব, মন্ত্র ও ত্রোস্তের মধুর গম্ভীর সামধ্বনি। উচ্চবিত্ত বাঙালি হিন্দুর দুর্গাপূজা সব সময় জৌলুশপূর্ণ ও মহার্ঘ। নিম্নবিত্তদের পূজায় অত জৌলুশ থাকে না থাকলেও ভক্তি, প্রীতি ও আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি থাকে না। সাঁওতাল ও অন্য আদিবাসীদের পূজা সাদামাটা, মূর্তি ঝলমলে নয়, কিন্তু গভীর ভাবব্যঞ্জক। বঙ্গভূমিতে অনার্য আদিবাসীরাই দুর্গাপূজার পথিকৃৎ।

আক্রমণাত্মক রাহুল গান্ধী

রাহুল গান্ধী
দিল্লির অদূরে হরিয়ানা রাজ্যের সোনপেড গ্রামের দলিত হত্যার জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দলের ‘মনোভাবকে’ দায়ী করলেন কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধী। গতকাল বুধবার তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহনলাল খাট্টার, বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) যে মনোভাব নিয়ে চলছে, এই ঘটনা তারই ফল। রাহুলের কথায়, ‘ওঁরা মনে করেন, কেউ যদি দুর্বল হয় তাহলে তাকে পিষে দাও। তাকে দাবিয়ে রাখো। আজ দেশের চতুর্দিকে যা হচ্ছে তা এই মনোভাবেরই ফল। এই সরকার গরিবদের তোয়াক্কা করে না।’ গত মঙ্গলবার ভোরে সোনপেড গ্রামের এক দলিত পরিবারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে পুড়ে মারা যায় দুই শিশু, একজনের বয়স আড়াই, অন্যজনের এক বছর। তাদের মা রেখা ও বাবা জিতেন্দ্র গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। অভিযোগ, বিবাদের জেরে গ্রামের সংখ্যাগরিষ্ঠ উচ্চবর্ণের বাসিন্দারাই এ কাণ্ড ঘটিয়েছে।
ভোরবেলায় সবাই যখন ঘুমে অচেতন, তখন পেট্রল ছড়িয়ে ওই পরিবারের ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই অভিযোগে পুলিশ গতকাল পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও অনেকে ফেরার। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে গ্রামবাসী গতকাল ফরিদাবাদ-বল্লভগড় মহাসড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষোভের কারণে মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার উপদ্রুত গ্রামে যাওয়ার কর্মসূচি বাতিল করে দেন। রাহুলকে প্রশ্ন করা হয়, মিডিয়ায় ছবি ছাপানোই তাঁর এই সফরের উদ্দেশ্য কি না। উত্তরে রাহুল বিজেপি শীর্ষ নেতাদের একহাত নেন। তিনি বলেন, ‘ছবি তোলা? দেশের সর্বত্র দুর্বল, গরিব মানুষ মারা যাচ্ছে। তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো, তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়ানোই তো উচিত।’ কংগ্রেস সহসভাপতি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের মনোভাবই দায়ী। তাঁরা দুর্বল ও গরিবদের পিষে ফেলতে চান। এসব সেই মনোভাবেরই প্রতিফলন।’ হরিয়ানায় কংগ্রেসকে হারিয়ে বিজেপি সরকার গঠন করেছে। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি মুসলমানদের গরুর মাংস না খাওয়ার নিদান দিয়েছেন। দলিতদের প্রতি এই আক্রমণ বিহারের নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে সে রাজ্যের শাসকগোষ্ঠীর একটা বড় হাতিয়ার হতে পারে। রাহুলের মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য সেটাই।

বৃত্তি নিয়ে কাতারে যাবে ‘ঘড়ি বালক’

আহমেদ মোহাম্মদ
‘ঘড়ি বালক’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ বছরের কিশোর আহমেদ মোহাম্মদ বৃত্তি নিয়ে সপরিবারে মধ্যপ্রাচ্যের কাতারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে সে উচ্চতর পড়াশোনা করবে। খবর বিবিসির। আহমেদ মোহাম্মদকে কাতার ফাউন্ডেশন ফর এডুকেশন, সায়েন্স অ্যান্ড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট একটি পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি দিচ্ছে। এটি শিক্ষা, গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের স্কুলছাত্র সুদানি বংশোদ্ভূত আহমেদের তৈরি করা একটি ঘড়ি নিয়ে সম্প্রতি তুলকালাম হয়ে যায়। স্কুলের শিক্ষকেরা তার ঘড়িটি দেখে বোমা বলে সন্দেহ করেন। পরে পুলিশ এসে কড়া পাহারায় তাকে থানায় নিয়ে যায়। কয়েক দিন পর ডালাসের পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, আহমেদ নির্দোষ। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কিছুই পাওয়া যায়নি। আহমেদের নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে ওঠে সমালোচনার ঝড়।
অনেকে অভিযোগ করেন—মুসলিম বলেই এমন আচরণের শিকার হতে হয়েছে আহমেদকে। কাতার ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার জন্য আহমেদকে পূর্ণ বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আহমেদের পরিবার বলেছে, ‘আহমেদের গ্রেপ্তারের মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর থেকে সহায়তার অনেক প্রস্তাব পেয়ে আমরা অভিভূত।’ যুক্তরাষ্ট্রে আহমেদ নির্দোষ ঘোষিত হওয়ার পর এ নিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক ও টুইটার। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্বয়ং টুইটার বার্তায় আহমেদের তৈরি ঘড়ির প্রশংসা করে তাকে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। গত সোমবার আহমেদ হোয়াইট হাউসে বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গসহ অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সমর্থন জানিয়েছেন।

কোন পরিস্থিতি জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটায় by আলী রীয়াজ

একটি দেশে কেন জঙ্গিবাদ বা সহিংস উগ্রপন্থা বিস্তার লাভ করে, কেন এ ধরনের আদর্শ মানুষকে আকর্ষণ করে, কারা জঙ্গিবাদের প্রতি আকর্ষিত হয়? কয়েক দশক ধরেই সমাজবিজ্ঞানী, নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকেরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন। প্রকৃতপক্ষে এই প্রশ্নগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে গত শতকের ষাটের দশকে, যখন সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি মানুষের আকর্ষণ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন দেশে কমিউনিস্ট পার্টি সশস্ত্র বিপ্লবের পথে সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু তার আগেও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অংশ হিসেবে সহিংসতার ব্যবহারকে (যেমন: আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি, বাস্ক গেরিলাদের সংগঠন) বোঝার জন্যও একই ধরনের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। সত্তরের দশকে ইতালির রেড ব্রিগেড, জার্মানির বাদের-মেইনহফ, জাপানে রেড আর্মিকে যাঁরা অনুসরণ করেছেন, সেসব গবেষকও এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। ফলে এ বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে কখনোই ঘাটতি ছিল না।
এই প্রশ্নগুলো নতুন করে শক্তিশালী হয়ে ওঠে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর; আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আল-কায়েদার আবির্ভাব, আফগানিস্তানে তালেবানের গ্রহণযোগ্যতা এই প্রশ্নগুলোতে নতুন মাত্রা যোগ করে দেয়। এই পর্যায়ে রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে ধর্মের প্রশ্ন। কেউ কেউ এই প্রশ্নও তোলেন যে রাজনৈতিক আদর্শ ও ধর্মের মধ্যে কোনো বিভাজন টানা উচিত হবে কি না।
রাজনৈতিক ইসলামের মধ্য থেকে একটি ধারা আগেও সহিংসতাকে তাদের কৌশল হিসেবেই শুধু বেছে নিয়েছিল তা নয়, তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় একেই একমাত্র পথ বলেও বিবেচনা করে সে পথেই অগ্রসর হয়েছে। তালেবান সেই ধারার প্রতিনিধিত্ব করে। ২০০১ সালের ঘটনাবলির কারণে তাদের প্রতি মনোযোগ আকর্ষিত হয়। এই ধারার লক্ষ্য সীমিত বলেই বিবেচিত হওয়া দরকার, কেননা নিজস্ব রাষ্ট্রের মধ্যেই তারা তাদের আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং চেয়েছে। অন্যপক্ষে, আমরা দেখতে পাই ইসলামের রাজনৈতিক দিককে আশ্রয় করে আরও সংগঠনের আবির্ভাব বা পুনরুত্থান ঘটে, যাদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রাষ্ট্রসীমাকে অস্বীকার করে তাদের ভাষায় ‘খেলাফত’ প্রতিষ্ঠা। একই সঙ্গে প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক কাঠামোকে তারা চ্যালেঞ্জ করতে উৎসাহী হয়ে ওঠে। কৌশল ও কর্মপদ্ধতি তাদের জন্য গৌণ বিষয়। হিযবুত তাহ্‌রীর সেই ধারার প্রতিনিধি।
এই ঘটনাপ্রবাহ ইসলামপন্থী রাজনীতির মধ্যে যেমন বিভিন্ন ধারার জন্ম দেয়, তেমনি এসব ধারার আবেদন বোঝার তাগিদ তৈরি হয়। অবশ্যই এই ঘটনাপ্রবাহ নিজের মতো করে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়নি। চলমান আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি, অর্থনীতির বিশ্বায়ন, প্রযুক্তির উৎকর্ষ—সবই তাকে প্রভাবিত করেছে। ২০১০ সাল নাগাদ আমরা দেখতে পাই যে আরও একধরনের সংগঠনের আবির্ভাব ঘটে, যারা যুদ্ধবিধ্বস্ত কিংবা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত অঞ্চলগুলোয় তাদের নিজস্ব কর্তৃত্ব স্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের রাষ্ট্র, যাকে তারা ‘খেলাফত’ বলে বর্ণনা করে, প্রতিষ্ঠা করে এবং সারা পৃথিবীর মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বের দাবিদার হয়ে ওঠে। নাইজেরিয়ার বোকো হারাম ও ইরাকে ইসলামি রাষ্ট্র এর উদাহরণ।
এই ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি ২০০১ সাল থেকে ইসলামপন্থী সহিংস চরমপন্থী সংগঠনগুলো নিয়ে গবেষণার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এসব গবেষণার ফলাফলের দিকে দৃকপাত না করে অনেক বিশ্লেষক, রাজনীতিবিদ সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গিবাদের কারণ হিসেবে তাঁদের ধারণাকে প্রকৃত কারণ বলে বর্ণনা করতে শুরু করেন। এই প্রবণতার সবচেয়ে বড় দিক হলো এই যে তাঁরা ধরে নিলেন যে দারিদ্র্যই হচ্ছে সহিংস চরমপন্থার কারণ এবং সুযোগবঞ্চিত মানুষেরা জঙ্গি সংগঠনের আদর্শের প্রতি আকর্ষিত হয়। তালেবান নেতৃত্ব, পাকিস্তানের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাংগঠনিক কাঠামো ও আফগান যুদ্ধে পাকিস্তানি কয়েকটি মাদ্রাসার ভূমিকার ওপরে নির্ভর করে অনেকে মাদ্রাসাকেই ইসলামপন্থী সহিংস চরমপন্থার উৎস বলে প্রচার করতে থাকে। এসব ধারণা শিগগিরই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে শুরু করে; কেননা দেখা যায় যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের অধিকাংশ নেতা কিংবা আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরা দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত কিংবা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষিত নয়।
পরবর্তী কয়েক বছরে গবেষকেরা তাঁদের অতীত গবেষণা, সংগৃহীত তথ্য ইত্যাদির আলোকে কিছু সাধারণ উপসংহারে উপনীত হন। যাতে ধারণা দেওয়া হয় যে সন্ত্রাসবাদের কিছু ভিত্তিগত (ইংরেজিতে আন্ডারলায়িং), অন্যভাবে বললে সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল কারণ রয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে আরও সুনির্দিষ্ট, বাস্তবতানির্ভর ও তথ্যসমৃদ্ধ গবেষণাকাজের পরে দেখা যাচ্ছে যে এই ধরনের মূল কারণ চিহ্নিত করার বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন একই রকমের আর্থসামাজিক অবস্থা সবাইকে সন্ত্রাসী করে তুলছে না। তা ছাড়া যারা এই ধরনের সন্ত্রাসী কাজে যুক্ত হয়, তারা কেবল পরিস্থিতির চাপে যোগ দেয় না, ক্ষেত্রবিশেষে কিছুর আকর্ষণে যুক্ত হয়। সেটা বিশেষ করে কোনো নেতার আকর্ষণ হতে পারে, হতে পারে যে এই ধরনের সংগঠন তাকে এমন কিছু দিতে পারে, যা তাকে সমাজের অন্য কোনো সংস্থা, পরিবার বা বন্ধু দিতে পারছে না। তা ছাড়া মানুষ স্বেচ্ছায় অনেক কিছু করে, কেবল পরিস্থিতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে করে না। সন্ত্রাসের মূল কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টার একটা বড় দুর্বলতা হচ্ছে যে, ধরে নেওয়া হয় যে সম্ভাব্য সন্ত্রাসীরা কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা দিয়ে প্রভাবিত হয়।
এসব দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে গবেষকেরা গত কয়েক দশকে বিভিন্ন দেশে যেখানে জঙ্গিবাদ প্রসারিত হয়েছে, যেসব ব্যক্তি জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হয়েছে, যেসব জঙ্গি সংগঠন শক্তি সঞ্চয় করতে পেরেছে, তাদের ওপর গবেষণা করে এই উপসংহারে পৌঁছেছেন যে জঙ্গি হয়ে ওঠা এবং জঙ্গিবাদের প্রসারের ক্ষেত্রে কতিপয় বিষয় চালকের ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ এই বিষয়গুলো ব্যক্তিকে সন্ত্রাসের পথে ঠেলে দেয়, সমাজে জঙ্গিবাদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে এবং সন্ত্রাসী সংগঠন তৈরি করে। এই ড্রাইভার বা চালিকাগুলোকে ভাগ করা হয়েছে চারটি ভাগে: অভ্যন্তরীণ সামাজিক-অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বৈশ্বিক।
অভ্যন্তরীণ চালকের মধ্যে রয়েছে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্নতা বা প্রান্তিকতা অনুভব করা, সামাজিকভাবে বৈষম্যের শিকার হওয়া, হতাশার বোধ, অন্যদের তুলনায় বঞ্চিত অনুভব করা। রাজনৈতিক চালকগুলোর মধ্যে আছে রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া, সরকারের কঠোর নিপীড়ন ও সুস্পষ্টভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সর্বব্যাপী দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের দায়মুক্তির ব্যবস্থা, স্থানীয়ভাবে অব্যাহত সংঘাত, সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এলাকা তৈরি হওয়া। সাংস্কৃতিক চালকের মধ্যে আছে এই ধারণা বিরাজ করা বা তৈরি হওয়া যে ইসলাম আক্রমণের বা বিপদের মুখোমুখি, নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হুমকির মুখে এবং ক্ষেত্রবিশেষে নিজের ইসলামি সংস্কৃতির বিকাশ বা সমাজে অন্যদের ওপরে নিজের ইসলামি সংস্কৃতিকে চাপিয়ে দেওয়া।
বৈশ্বিক চালকের মধ্যে আছে নিজেদের ভিকটিম বলে মনে করা। একার্থে এটি সাংস্কৃতিক চালকের সঙ্গে যুক্ত। ইসলাম বিপদের মুখে—এই ধারণার সঙ্গে যখন যুক্ত হয় যে মুসলিম জনগোষ্ঠী অন্যত্র অন্যায় ও বৈষম্যের শিকার, যদি এই ধারণা সৃষ্টি হয় যে বিশ্বব্যবস্থা মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য অন্যায্য, তাহলে তা এক শক্তিশালী চালকের ভূমিকা পালন করতে পারে।
এ ছাড়া বৈশ্বিক চালকের আরেকটি হচ্ছে ‘কাছের শত্রু-দূরের শত্রু’র ধারণা। যখন অভ্যন্তরীণভাবে দেশের ভেতরে নিপীড়ন বৃদ্ধি পায়, যখন ‘কাছের শত্রু’কে পরাজিত করতে সক্ষম হয় না, তখন দেশের বাইরে ‘দূরের শত্রু’র বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চালানোর আগ্রহ তৈরি হয়। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রু বলে বিবেচনা করে, তার কারণগুলোর মধ্যে নিপীড়ক সরকারগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সমর্থন অন্যতম বলেই তাদের দলিলপত্র, প্রচারণা ও সদস্য সংগ্রহের প্রচারণায় স্পষ্ট। এই চালকগুলো একক ও সম্মিলিতভাবে কাজ করে এবং সব জায়গায় সবগুলো না থাকলেও তার কার্যকারিতা অক্ষত থাকে বলেই দেখা গেছে।
আজ যখন বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট বা আল-কায়েদার মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সে সময় বোঝা দরকার কোন ধরনের পরিস্থিতিতে কোন ধরনের চালক দেশীয় বা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের জন্য অনুকূল অবস্থার জন্ম দেয়। জঙ্গিবাদ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে চাইলে এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।  (শেষ)
আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।

মণ্ডপ ও বাড়ি যখন একাকার by প্রতীক বর্ধন

পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের সবুজ স্বপন সংঘ
পূজা কমিটির পূজা মণ্ডপ l ছবি: প্রথম আলো
পুরান ঢাকার দুর্গোৎসবের সমারোহ মানেই শাঁখারীবাজার। এ সময় শাঁখারীবাজারের রূপ যেন বদলে যায়। বাজারের মূল সড়কের প্রস্থ বড়জোর ১০ ফুট হবে, দুই পাশে পুরোনো দিনের দোতলা, তিনতলা ভবন, তার নিচে শাঁখা, পূজার উপকরণসহ বিভিন্ন মনিহারি দ্রব্যের দোকান। সেই সড়কে ১৫ ফুট পরপর একটি করে পূজার মণ্ডপ— বয়স ৪০, ৫০ বা ৬০ বছর। রাস্তায় বাঁশের খুঁটি পুতে তার ওপর মাচা বসানো হয়েছে, সেই মাচার ওপর মণ্ডপ বানানো হয়েছে। তার নিচ দিয়েই হাঁটতে হয়, সেখানে হাঁটতে গেলে মানুষের গায়ে গায়ে লেগে যায়, তবু মানুষের কমতি নেই, নেই উৎসবের কমতি।
পূজা উপলক্ষে রাস্তার ওপর আরও কিছু ভ্রাম্যমাণ দোকান বসেছে। তারা সবাই পদ্মফুলসহ দুর্গাপূজার বিভিন্ন উপকরণ বিক্রি করছে। মূল পূজার অনুষ্ঠানের সময় সেখানে ঢাকের শব্দ ও উলুধ্বনিতে কান পাতা দায়। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ অঞ্জলি দিতে আসেন, অষ্টমী ও নবমীর দিন কত জন অঞ্জলি দেন, সেই হিসাব করার সাধ্য কার! সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পরও কানে ঢাক ও উলুধ্বনির অনুরণন হয়।
পূজার সময় এই ছোট্ট মহল্লার মানুষের যেন দম ফেলার ফুরসত থাকে না। এত এত পূজা, তার জোগাড় তো তাঁদেরই করতে হয়, এ তো আর কম ঝক্কি নয়! যাঁদের সে অভিজ্ঞতা আছে, তাঁরা সেটা বুঝবেন, কিন্তু যাঁদের তা নেই, তাঁদের পক্ষে সেটা বোঝা মুশকিল। নাওয়া-খাওয়া ভুলে এই পূজার পেছনেই সারাদিন লেগে থাকতে হয়।
শাঁখারীবাজারে যেমন বারোয়ারি পূজা আছে, তেমনি বাড়ির পূজাও আছে। শাঁখারী পুষ্পনাথ সেন ২০/২১ বছর ধরে নিজ বাড়ির পূজা করছেন। পঞ্চমীর দিন তাঁর সঙ্গে কথা হলো।  তিনি বললেন, শাঁখারীবাজারে মোট নয়টি পূজা হয়। পাকিস্তান আমলে শাঁখারীবাজারে দুটি বা তিনটি পূজা হতো, স্বাধীনতার পর বেড়েছে। ফুরসত নেই তাঁর। কথার ফাঁকে ফাঁকেই বাড়ির লোকেরা পূজার আয়োজনের বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করছিলেন, তিনিও নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছিলেন। আরও বললেন, পূজার কটা দিন যে কীভাবে কেটে যায়, টেরই পাওয়া যায় না। এ সময় বাড়ি আর মন্দির যেন একাকার। খিচুড়ি-লাবড়া-লুচি-পায়েস—পূজার সময় এসবই তাঁদের খাদ্য। এই পূজার বিশেষত্ব হচ্ছে, তাঁরা শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন দেন না, চৈত্র মাসে একই প্রতিমায় বাসন্তী পূজা করার পর মূর্তি বিসর্জন দেন, যদিও সাধারণভাবে দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রতিদিনই তাঁরা দেবীর ভোগ দেন। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, দুর্গাপূজা মূলত চৈত্র মাসেই হতো। পরবর্তীকালে রাজা রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার অকালবোধন করেন।
পূজার সময় এত মানুষের সমাগমেও শাঁখারীবাজারের বাসিন্দারা বিরক্ত হন না। এমনকি তাঁরা নিজেদের বাড়িতে অনেক দর্শনার্থীদের আপ্যায়ন করেন, প্রয়োজন হলে নারী দর্শনার্থীদের টয়লেট ব্যবহার করতে দেন। এসবই তাঁরা হাসিমুখে মেনে নেন। কারণ, তাঁরা জানেন, শাঁখারীবাজারে না এলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পূজা সার্থক হয় না।
আসলে শুধু শাঁখারীবাজারই নয়, পুরান ঢাকার মণ্ডপে না ঘুরলে হিন্দুদের পূজা যেন সম্পূর্ণ হয় না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, একসঙ্গে এত পূজার মণ্ডপ ঢাকার আর কোথাও নেই। শুধু সূত্রাপুর থানাতেই ৪০-৪২টি পূজা হয়। আর এখানকার পূজার যে ঐতিহ্য রয়েছে, তার আকর্ষণও মানুষকে টেনে নিয়ে আসে। সেখানে গেলে মানুষ এক ঐতিহ্যের অংশে পরিণত হয়।
বাংলাবাজারের পূজার বয়স এবার ৮২ হলো। কয়েক প্রজন্মের আয়োজকেরা এত দিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই পূজা করে আসছেন। সেখানকার আয়োজকেরা বললেন, অষ্টমীর দিন তাঁরা দুই হাজার মানুষকে খিচুড়ি, লুচি ও পায়েস দিয়ে আপ্যায়ন করেন, এলাকাবাসীর মধ্যে খিচুড়ি বিতরণ করেন। তাঁরা নবমীর রাতে আরতি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন আর দশমীর দিন গরিবদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করেন। ফলে পূজার কটা দিন দম ফেলার ফুরসত থাকে না। এলাকার হিন্দু-মুসলমাননির্বিশেষে সবাই তাতে অংশ নেন। তাঁরা বলেন, ঢাকার কিছু স্থানে এখন অনেক জাঁকজমকপূর্ণ পূজা হলেও পুরান ঢাকার আমেজ সেখানে নেই। সে কারণেই পুরান ঢাকার পূজা অনন্য।
ওদিকে ঋষিকেশ দাস রোডের একরামপুর পূজা কমিটি ৪৪ বছর ধরে পূজা করছে। এর মধ্যে ৪১ বছর ধরে তারা একই স্থানে পূজা করে আসছে। এই পূজা কমিটির অনেক সদস্যই বীর মুক্তিযোদ্ধা আর কমিটির ১০ জন সদস্য মুসলিম ধর্মাবলম্বী।
ঢাকা নগরে পূজার আমেজ পেতে হলে পুরান ঢাকায় যাওয়ার বিকল্প নেই। শাঁখারীবাজার থেকে নর্থ ব্রুক হল রোড, বাংলাবাজার, ফরাশগঞ্জ, ঋষিকেশ দাস রোড, নারিন্দা, গেন্ডারিয়া—সব স্থানেই রয়েছে ঢাক ও উলুর মিলিত ধ্বনি। সঙ্গে আছে ঐতিহ্যের অংশ হওয়ার আহ্বান। দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা শেষ হবে। কিন্তু দুর্গাপূজার পর পুরান ঢাকা ঝিমিয়ে পড়বে না, শুরু হয়ে যাবে লক্ষ্মীপূজার আয়োজন, আর তারপর তো কালীপূজা আছেই। সব পূজাই সেখানে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়।

চূড়ান্ত প্রার্থিতায় কারা

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন প্রার্থীরা। ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রার্থিতা ঘোষণা দিয়েছেন রিপাবলিকান দলের ১৫ নেতা। পক্ষান্তরে ডেমোক্রেট দল থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন ৬ প্রার্থী। মূল ভোটের আগে দলের চূড়ান্ত প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা জয়ের জন্য সতীর্থ নেতাদের সঙ্গে লড়ছেন উভয় দলের প্রার্থীরা। চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি ‘প্রাইমারি’ বলে পরিচিত। প্রাইমারির লড়াইয়ে প্রার্থীরা নিজ দলের রাজনীতিবিদ, নেতৃবৃন্দ আর দাতাদের সমর্থন আদায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সাধারণত প্রাইমারি জয়ী প্রার্থী দলের পক্ষ থেকে প্রার্থিতা পেয়ে থাকেন। শেষমেশ কে কে হতে যাচ্ছেন ডেমোক্রেট আর রিপাবলিকান দলের চূড়ান্ত প্রার্থী সেদিকেই সবার চোখ। ডেমোক্রেট প্রার্থীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছেন সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্ষীয়ান ডেমোক্রেট নেতা বার্নি স্যান্ডার্স। ওদিকে রিপাবলিকান দলের প্রার্থীদের মধ্যে সব থেকে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ জব্লিউ বুশের ভাই জেব বুশ ও বিলিয়নেয়ার বিজনেস টাইকুন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া, সাম্প্রতিক প্রেডিকশন মার্কেটে এগিয়ে রয়েছেন আরেক রিপাবলিকান নেতা মার্কো রুবিও। অতীত ইতিহাস থেকে দেখা গেছে, প্রাইমারির লড়াইয়ে মাঠে নামা প্রার্থীদের মধ্যে জরিপ, তহবিল গঠন আর সমর্থনের (এনডোর্সমেন্ট) মানদণ্ডে যারা শীর্ষ তিনটি অবস্থানে থাকেন, তাদের মধ্য থেকেই একজন দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। এসব মানদণ্ডের বিচারে এখন পর্যন্ত দুই দলের কোন প্রার্থী কোন অবস্থানে রয়েছেন তা বিস্তারিত তুলে ধরেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
প্রেডিকশন মার্কেট: চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে আগাম ধারণা পাওয়ার জন্য প্রেডিকশন মার্কেটের অতীত ইতিহাস বেশ ভালো। প্রচারণার সময় ট্রেডাররা সম্ভাব্য চূড়ান্ত ফল নিয়ে বাজি ধরেন। কিন্তু প্রেডিকশন মার্কেটের অন্যতম একটি দুর্বলতা হলো, তারা কখনও কখনও অপেক্ষাকৃত কম সম্ভাবনাময় প্রার্থীদের সম্ভাবনা অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করে থাকে। মার্কেটের সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী, ডেমোক্রেট দলের প্রার্থিতা জয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। এরপর আছেন বার্নি স্যান্ডার্স। আর এখনও নির্বাচনে নামার ঘোষণা না দিয়েও তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থিতা জয়ের সম্ভাবনায় জেব বুশকে হটিয়ে শীর্ষে গেছেন মার্কো রুবিও। তৃতীয় অবস্থানে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
জাতীয় সমর্থন (ন্যাশনাল এনডোর্সমেন্ট): রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লিন ভ্যাভরেকের মতে, চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন ১৯৮০ সাল থেকে সে ধারণা পাওয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র সেরা নির্দেশক হলো ন্যাশনাল এনডোর্সমেন্ট। এর কারণ হলো, দীর্ঘ প্রচারণায় কে টিকে থাকতে পারবে সে বিষয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো ধারণা থাকে রাজনৈতিক অভিজাতদের। তাছাড়া, তারা প্রার্থীদের প্রশংসা বা সমালোচনা করে ভোটার ও দাতাদের প্রভাবিত করতে পারেন। এবারের নির্বাচনে চোখে পড়ার মতো একটি বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত শীর্ষ রিপাবলিকান প্রার্থীরা এনডোর্সমেন্ট পেয়েছেন অনেক কম। জেব বুশ রিপাবলিকান সিনেটর, প্রতিনিধি আর গভর্নরদের মাত্র ৮.৮ শতাংশের সমর্থন পেয়েছেন। অপরদিকে, ৬০.২ শতাংশ ডেমোক্রেট কর্মকর্তার সমর্থন পেয়েছেন হিলারি ক্লিনটন।
আইওয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের জরিপ: নির্বাচনের এখনও অনেক মাস বাকি থাকায়, জরিপের গুরুত্ব ততটা জোরালো নয়। কেননা, বেশিরভাগ ভোটার এখনও নির্বাচন নিয়ে মনোযোগ দিচ্ছেন না। এর আগের ৬টি রিপাবলিকান প্রার্থিতা লড়াইয়ে মাত্র দুবার চূড়ান্ত প্রার্থীকে আগাম বেছে নিতে সক্ষম হয় আইওয়া। পক্ষান্তরে ডেমোক্রেটদের ক্ষেত্রে আইওয়া অপেক্ষাকৃত ভালো করেছে। বিগত ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনকে সঠিক বেছে নিয়েছে জরিপে। এবারে আইওয়া জরিপে এগিয়ে ডেমোক্রেট প্রার্থিতায় এগিয়ে আছেন হিলারি। তার পরেই আছেন স্যান্ডার্স। পক্ষান্তরে রিপাবলিকানদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন ট্রাম্প। এরপর আছেন অপর রিপাবলিকান প্রার্থী বেন কারসন। নিউ হ্যাম্পশায়ারের জরিপেও রিপাবলিকান শীর্ষ দুই প্রার্থী তারা। আর ডেমোক্রেট প্রার্থীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স। দ্বিতীয় অবস্থানে হিলারি। চূড়ান্ত প্রার্থী বেছে নিতে নিউহ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের রেকর্ড আইওয়া থেকে কিছুটা ভালো। বিগত ৬ দফায় রিপাবলিকান ৪ জন ও ডেমোক্রেট ৩ জন চূড়ান্ত প্রার্থীকে আগাম বেছে নিতে সক্ষম হয়েছেন এ অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা। উল্লেখ্য, উভয় রাজ্যে সাম্প্রতিক পাঁচটি পৃথক জরিপের গড় ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে প্রার্থীদের অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে।
তহবিল সংগ্রহ: জাতীয় সমর্থনের মতো তহবিল সংগ্রহও দুটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত এটা একজন প্রার্থীর সামর্থ্যের প্রকাশ। এবং দ্বিতীয়ত, এটা তার সামর্থ্য আরও বৃদ্ধির উৎসে রূপান্তর হয়। তহবিল গঠনের দিক দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রিপাবলিকান প্রার্থী জেব বুশ ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের তুলনায় অনেক এগিয়ে আছেন। জেব বুশের নির্বাচনী প্রচারণায় এখন পর্যন্ত ১৩ কোটি ৩৩ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ হয়েছে। পক্ষান্তরে হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা তহবিলে জমা পড়েছে ৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।
শেষমেশ দুই দল থেকে কে জয়ী হবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে নির্বাচনের এখনও অনেক মাস বাকি থাকতেই জমে উঠেছে লড়াই।

ফাইজাকে নিতে চান অনেকেই by সালমা বেগম

ফাইজাকে দত্তক নিতে ভিড় ছোটমনি শিশু নিবাসে। কেউ কেউ যোগাযোগ করছেন মোবাইল ফোনে। কিন্তু শিশু নিবাস এখনই কারও জিম্মায় দিতে চায় না ফাইজাকে। এ নিয়ে শিশু নিবাসের উপপরিচালক সেলিনা পারভীন বলেন, অনেকে বাচ্চা দত্তক নিতে চান ভাল কথা। কিন্তু কেবল ফাইজাই কেন? এখানে তো ২ দিন বয়সী বাচ্চাও রয়েছে। জন্মের ২৭তম দিনে ছোটমণি শিশু নিবাসে নিয়ে আসা হয় ফাইজাকে। এরপর পার হয়ে গেল একসপ্তাহ। শিশু নিবাসের উপপরিচালক সেলিনা পারভীন বলেন, এখনও প্রতিনিয়তই এই শিশুকে দত্তক নিতে আসছেন। ভিড় করছেন ছোটমণি নিবাসে। সেলিনা আক্তার বলেন, কাউকেই কথা দেইনি। সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বাচ্চা দত্তক নেয়ার কোন নীতিমালা নেই। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শিশু দত্তক দেয়া হয়। এটার জন্য অনেক নিয়মের মধ্যে যেতে হয়। ফাইজার ব্যাপারে তিনি বলেন, মহামান্য আদালত যদি মনে করেন তাহলেই এটা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, এখানে ২৬টি বাচ্চা আছে। ফাইজা তো ২৭ দিন বয়সে এসেছে। কিন্তু দুই দিন বয়স এমন বাচ্চাও আছে আমার কাছে। ফাইজাকে যদি দত্তক দিতেই হয়, তাহলে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের আওতাধীন ৮০টি পরিবার আছে। তাদের কাছে দেবো। যে শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়েছে তার জন্য এত ভিড় কেন? তিনি অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিনের এত ভিড়ের কারণে অন্য বাচ্চাদের দেখাশোনা করতে সমস্যা হচ্ছে। সময় মতো কাজ শেষ করতে পারি না। সংবাদকর্মী এবং দত্তক নিতে আগ্রহী মানুষের ভিড় এড়াতে ছোটমনি নিবাসের প্রধান দরজাসহ কয়েকটি স্থানে প্রবেশ সংরক্ষিত লিখে দেয়া হয়েছে। ছোটমনি শিশু নিবাসের বেশ কিছু সমস্যার কথাও তুলে ধরেন সেলিনা আক্তার। বলেন, ২৬টা বাচ্চাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শীত আসছে। বাচ্চাদের একটু বেশি যত্নের প্রয়োজন। কিন্তু একজন আয়া দিয়ে তো আর ২৬ জন বাচ্চার কাজ করানো সম্ভব নয়। কমপক্ষে তিনজন আয়া প্রয়োজন। নাইট ডিউটি করার জন্য কাউকে পাওয়া যায় না। ছোট বাচ্চাদের রাতে বুকে জড়িয়ে ঘুমাতে হয়। এভাবে হিসাব করলে ২৬ জন আয়া দরকার। উপপরিচালক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ধাক্কা দিয়ে চালানো হচ্ছে। ছোটমনি নিবাসে ১০০ সিট থাকলেও নেই পর্যাপ্ত লোকবল। ছোট্ট এসব শিশুর দেখাশোনার জন্য প্রশিক্ষিত দুজন লোক দরকার। নার্সের কোন পোস্ট নেই। শিশুরা একটু অসুস্থ হলেই হাসপাতালে নিতে হয়। তখন তো আরও সংকটে পড়ি। সকাল-দুপুর-রাত তিন সময় তিনজনকে পাঠাতে হয় হাসপাতালে। বর্তমানে যারা এখানে কাজ করছেন, অনেকেই দায়সারা। মানবতা কিংবা আগ্রহ নিয়ে এই বাচ্চাদের দেখাশোনা করা দরকার। কিন্তু দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে একঘেঁয়েমি চলে আসছে। বাচ্চাদের সঙ্গে সঙ্গে এসব কর্মীরও একটু বিনোদনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। প্রতিদিন পাঁচবার খাওয়াতে হয় এক একটি বাচ্চাকে। ছয়জন বাচ্চা একসঙ্গে থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক সময় যিনি বাচ্চাদের নোংরা কাপড় পরিষ্কার করেন তাকেই বাচ্চাদের খাওয়ানোর কাজ করতে হয়। ছোটমনি নিবাসে সাত বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের রাখা হয়। সাত বছরের পর তাদের অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। সেলিনা আক্তার বলেন, এখানে আসার সময় কোন বাচ্চাই জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট নিয়ে আসে না। আমরা বাচ্চাদের দেখে অনুমান করে বয়স নির্ধারণ করি। বাচ্চার বয়স সাত বছর হলে তাদের শিফট করার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বলেন, ছোটমনি নিবাসে প্রতিবন্ধী শিশুদের রাখা হয় না। কারণ, তাদের পিছনে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। এছাড়াও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার জন্য একজনকে সঙ্গে সঙ্গে থাকতে হয়। এখানে সেরকম ব্যবস্থা নেই। সেলিনা আক্তার বলেন, ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত সর্বমোট ১১ জন উপ-তত্ত্বাবধায়ক এখানে কর্মরত ছিলেন। কেউই খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না এখানে। কিন্তু আয়া, খালাসহ বাচ্চাদের দেখাশোনা যারা করছে তারা কেউ কেউ চৌদ্দ-পনের বছর থেকেই এখানে কাজ করছেন।

ওবামার বিস্ট : বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত গাড়ি

গাড়িটির কোড নেম 'দি বিস্ট'। মার্কিন প্রেসিডেন্টর ব্যবহৃত গাড়ি। গাড়িটি আক্ষরিক অর্থেই বিস্ট-ই বটে! গাড়ির অন্তঃসজ্জা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও যোগাযোগ-ব্যবস্থা প্রত্যেকটা জিনিসই অত্যাধুনিক। যার জন্য বিস্ট-কে বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত গাড়ির আখ্যা দেয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিদেশে গেলেও গাড়িটি সেখানে যায়। বসতে পারেন সাতজন।
প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেট কার হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত স্টেট কার। ১৯৩০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রেসিডেন্টকে গাড়ি বরাদ্দ দিয়ে আসছে যাতে থাকে উন্নত যোগাযোগ সরঞ্জাম, বর্ম এবং সামরিক প্রতিরক্ষা।
বর্তমান প্রেসিডেন্সিয়াল লিমুজিন ব্যবহৃত হচ্ছে ২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে।
এক ঝলকে দেখে নেয়া যাক মার্কিন প্রেসিডেনশিয়াল গাড়িতে কী কী আছে—
কালো রঙের লিমুজিন-ঘরানার গাড়িটির নির্মাতা জেনারেল মোটর্স। পোশাকি নাম দ্য বিস্ট হলেও অনেক সময়ে তাকে ‘ক্যাডিলাক ওয়ান’ বা ‘লিমো ওয়ান’ বলে ডাকা হয়। সাধারণভাবে প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেট কার বলা হয়। ক্যাডিলাক মডেলের চিহ্ন বহন করলেও গাড়িটির বহু অংশই শেভ্রলে কোডিয়াক ট্রাকের থেকে নেয়া।
গাড়িটি স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, টাইটেনিয়াম ও সেরামিক দিয়ে তৈরি। দরজায় আট-ইঞ্চি পুরু স্টিল প্লেটের বর্ম রয়েছে (যেমনটি যুদ্ধের ট্যাঙ্কে থাকে) যা বুলেট থেকে রকেট, আইইডি হামলা- সব প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এমনকি, জানলার কাচও পাঁচ-ইঞ্চি পুরু বহুস্তরবিশিষ্ট। ফলে, স্টিলের বর্ম ও কাচ মিলিয়ে বিস্টের দরজার ওজন আর একটি বোয়িং ৭৫৭ বিমানের দরজার ওজন প্রায় সমান। চালকের দরজার কাচ ছাড়া আর কোনো জানলা খোলা যায় না। ফলে, রাসায়নিক ও জৈবিক হামলা হলেও প্রেসিডেন্ট অক্ষত থাকবেন।

গাড়ির স্যাসির ওজন প্রায় ৬,৩৫০ কিলোগ্রাম। পুরো গাড়ির ওজন প্রায় ৮ টন। তুলনায় রোলস রয়েস ফ্যান্টম-এর (বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গাড়ির মডেল) স্যাসির ওজন মাত্র ২,৫৫০ কেজি। ফলে গাড়ি না বলে একে ট্যাঙ্ক বলাই উচিত।
শুধু গাড়ির স্যাসিই নয়, তার তেলের ট্যাঙ্কও আর্মার-দিয়ে মোড়া. যাতে তাকে তাক করে কোনো হামলা না হয়। পাশাপাশি, ফুয়েল ট্যাঙ্ককে মুড়ে থাকে একটি ফোমের জ্যাকেট। যাতে কোনো কারণে আগুন ধরে গেলেও তেলের ট্যাঙ্কে কোনো বিস্ফোরণ ঘটবে না।
বিস্টের পুরো গাড়ি যেখানে অত্যাধুনিক, সেখানে চাকাই বা বাদ যাবে কেন! গাড়ির চাকাগুলো কেভলার (বুলেটপ্রুফ) দিয়ে মোড়া। ফলে কোনোভাবে তাতে ফুটো হবে না, বা হাওয়া বের হবে না। যদিও বা কোনোভাবে সে রকম পরিস্থিতি হয়ও, বা চাকার রবার খুলে গেলেও, তার স্টিলের রিমের সাহায্যেই প্রেসিডেন্টের গাড়ি দিব্যি দৌড়বে।

গাড়ির ডিকিতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য সব উপকরণই মজুত থাকে। যেমন টিয়ার গ্যাস, শটগান। রয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডার, প্রেসিডেন্টের রক্তের গ্রুপের মানানসই রক্তের পাউচ, আপত্কালীন মেডিক্যাল কিট, নিজস্ব অত্যাধুনিক অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা– যেমন দেখা যায় জেমস বন্ডের ছবিতে।
গাড়ির চালকের আসনে থাকেন ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের অফিসার। যিনি এই গাড়ি চালাতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ওই বিশাল ও ভারি গাড়ির মুখকে মুহূর্তের মধ্যে উল্টো অভিমুখে ঘোরাতে তিনি সিদ্ধহস্ত। চালকের সুবিধের জন্য গাড়িতে রয়েছে নাইট-ভিসন ক্যামেরা, ইনফ্রা-রেড সেন্সর। ফলে, নিকষ আঁধার হোক বা ধোঁয়ায় ভরা পরিবেশ— কোনো পরিস্থিতিতেই গাড়ি চালাতে অসুবিধে হবে না।
গাড়িতে রয়েছে অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিস্টে রয়েছে বিশেষ জিপিএস প্রযুক্তি, ওয়াই-ফাই ও স্যাটেলাইট ফোনের ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে যেকোনো সময়ে গাড়ি থেকেই ভাইস-প্রেসিডেন্ট, পেন্টাগন, সামরিক কর্তা ও বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ‘পোটাস’ বা ‘ইগল’ (মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এই কোডনামেই ডাকা হয়) যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন। গাড়িতে বসেই প্রেসিডেন্ট যোগাযোগ করতে পারবেন পৃথিবীর যে কারো সাথে। চাইলে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে পরমাণু হামলার নির্দেশও দিতে পারবেন!
এহেন একটি গাড়ি তৈরি করতে খরচ পড়ে প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন ডলার। তবে, সব ভালো হলেও বিস্টের অপারগতা এক জায়গাতেই, তা হলো এই গাড়ি বেশি উচ্চগতি তুলতে পারে না। সুপারচার্জার থাকা সত্ত্বেও এত ভারী গাড়ি ঘণ্টায় ৬০ মাইলের বেশি গতি তুলতে অক্ষম। শুধু তাই নয়, এই গাড়ির তেল খরচও যথেষ্ট। গড়ে ৩ লিটারে এক কিলোমিটার। তবে, গাড়ির সওয়ারির নাম যখন বারাক হুসেন ওবামা, সেখানে তেলের খরচ কম হলো না বেশি, তাতে কী-ই বা এসে যায়!