Wednesday, April 9, 2014

নিজের দুটি চরণ ঢাকো, তবে... by আলী ইমাম মজুমদার

পাঠক বুঝতে পারছেন রবীন্দ্রনাথ থেকে নেওয়া এ শিরোনাম। শিরোনামের ব্যাখ্যায় পরে আসা যাবে। আগে মূল বিষয়বস্তু আলোচনায় আসুক। তা হচ্ছে সম্প্রতি পাঁচ পর্বে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ভোট নেওয়া শেষ হলে বেতার-টিভি আর সংবাদপত্রের অনেক প্রতিবেদন আমরা দেখলাম। কিছু আবার সচিত্র। বিভিন্ন সংবাদপত্রের শিরোনামগুলোই নির্বাচন পর্বটির গুণগত দিক তুলে ধরেছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি সবচেয়ে সদয় শিরোনাম দেখা গেল, ‘শেষটাও ভালো হলো না’। এ ছাড়া রয়েছে ‘রাতেই কেন্দ্র দখল করে ভোট’, ‘ভোটার তাড়াল পুলিশ’, ‘শুরুর আগেই ভোট শেষ’, ‘শান্তিপূর্ণ ভোট ডাকাতি’, ‘ভোট ডাকাতি ও সহিংসতা: মূল দায় ইসির নেপথ্যে সরকার’, ‘রাতেই কেন্দ্র দখল করে সিল: কারচুপিতে কর্মকর্তাও’ ইত্যাদি। ভোটের সমাপনী পর্বের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অনুপস্থিতিতে তাঁর দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচন কমিশনার ‘সার্বিকভাবে ভালো ভোট হয়েছে’ বলে দাবি করেন। এ মূল্যায়নটির যৌক্তিকতা তিনিই জানেন।

ঢাকার গলায় গ্লানির মালা by কাজী খালিদ আশরাফ

আশির দশকে এক কাব্যপ্রেমী জেনারেল প্রবাদ রচনা করেছিলেন যে ‘গ্রাম বাঁচলে দেশ বাঁচবে’। ৩০ বছরে পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষ এখন শহর-নগরে বাস করে। এখন আমরা বলতে বাধ্য যে শহর চললে দেশ চলবে। তার মানে এই নয় যে একালে গ্রামের গুরুত্ব কমে গেছে। তবে শহর নিয়ে এখন চলছে নতুন তাড়না ও উদ্দীপনা।

রাষ্ট্র নয়, ব্যক্তি হোক নির্ধারক by কাজী আলিম-উজ-জামান

ইন্টারনেট গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যক্তিমানুষ, রাষ্ট্র, সমাজকে প্রভাবিত করে চলেছে। এই শতাব্দীতে ইন্টারনেট ছাড়া জীবনযাপন কল্পনাও করা যায় না। নাগরিকের চিন্তা-ভাবনাকে আরও শাণিত করে তাকে পরিণত করেছে বিশ্ব নাগরিকে। ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের নাগরিক আর পরাক্রমশালী রাষ্ট্রের নাগরিকের মধ্যে পার্থক্য অনেকটা ঘুচিয়েছে ইন্টারনেট। উভয়েরই সমান ক্ষমতাবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশটা যদি বরিশাল হতো! by সোহরাব হাসান

৬ এপ্রিল বিভাগীয় বইমেলা উপলক্ষে বরিশালে গিয়েছিলাম। এতে সব মিলিয়ে ৬৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান যোগ দেয়। ৩ এপ্রিল মেলা উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। মেলায় প্রতিদিনই আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন চলছে, যাতে বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। একটি বইমেলায় কত বই বিক্রি হলো, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, বই সম্পর্কে পাঠককে আগ্রহী করে তোলা। কালেভদ্রে নয়, প্রতিবছরই জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে মেলার আয়োজন হওয়া উচিত।

সিনেমা ও মঞ্চের শিল্পীরাই মমতার ভরসা? by রজত রায়

এবারের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক চরিত্রের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন সিনেমা ও মঞ্চের শিল্পীরা। টালিউডের শিল্পীরা আগেও দু-একবার নির্বাচনে লড়ে দিল্লি গেছেন। যেমন, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে টালিউডের দুই শিল্পী তাপস পাল ও শতাব্দী রায় ২০০৯ সালে লোকসভা ভোটে দাঁড়িয়ে জিতেছিলেন। এবারও তাঁরা লড়ছেন। তবে শুধু তাঁদেরই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরেক ধাপ এগিয়ে একঝাঁক শিল্পী-অভিনেতাকে ভোটে প্রার্থী করেছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত মুখ টালিউডের জনপ্রিয় নায়ক দেব, যাঁর অভিনীত চাঁদের পাহাড় থেকে শুরু করে অনেক সিনেমাই বক্স অফিসে সাড়া জাগিয়েছে। এ ছাড়া রয়েছেন বিগত দিনের অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়, মুনমুন সেন, ভূমি ব্যান্ডের মূল গায়ক সৌমিত্র, জনপ্রিয় গায়ক ইন্দ্রনীল সেন এবং নাট্যজগতের পরিচিত মুখ অর্পিতা ঘোষ। এই নবাগতদের মধ্যে একমাত্র অর্পিতা ঘোষকেই কয়েক বছর ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে। আর বাকিদের কাউকে কাউকে মাঝেমধ্যে কলকাতার বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গেলেও রাজনীতিতে তাঁদের আগে দেখা যায়নি। ভারতের নির্বাচনে শোবিজ তারকারা ...

রুহুলের সম্পদ তালাশ করবে দুদক

জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ও সাংসদ এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের অবৈধ সম্পদের অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বুধবার দুপুরে কমিশনের নিয়মিত সভায় তাঁর অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাপা মহাসচিবকে নিয়ে মোট আটজন সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী-সাংসদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুদক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টচার্য প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় রুহুল আমিন হাওলাদারের উল্লেখিত সম্পদের বাইরেও বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কুয়াকাটায় তাঁর বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। দুদক এসব বিষয়ে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নবম সংসদ নির্বাচনের আগে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের নগদ অর্থ ছিল ১৭ লাখ ৬৮ হাজারের কিছু বেশি। কিন্তু পাঁচ বছর পর এসে এখন তাঁর নিজের নগদ টাকাই আছে ছয় কোটি ৬৬ লাখের বেশি। ২০০৮ সালে তাঁর নামে কোনো শেয়ার বা বন্ড ছিল না। এখন তাঁর নিজের ও স্ত্রীর নামে সাড়ে আট কোটি টাকার শেয়ার, দুটি ল্যান্ডক্রুজার গাড়ি, প্লটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পদ বেড়েছে।

হলফনামা অনুযায়ী, জাপা মহাসচিব বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান ভাড়া থেকে আয় করেছেন এক কোটি ৬২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। গতবার এ খাত থেকে আয় করেন ১৩ লাখ আট হাজার ৯৩৮ টাকা। সাংসদ ভাতা হিসেবে তাঁর বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ৬২৫ টাকা।

গত পাঁচ বছরে রুহুল আমিন হাওলাদার ৬৭ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩০ টাকা দামের একটি এবং তাঁর স্ত্রী ৫৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩০ টাকা দামের একটি গাড়ির মালিক। স্ত্রীর কাছে ১০০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য অলংকার রয়েছে। আর রুহুল আমিন ধার দিয়েছেন ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এমনকি স্ত্রীকেও তিনি অর্থ ধার দিয়েছেন।

রুহুল আমিনের নামে গুলশানে ১২ দশমিক ৭ কাঠা জমি, স্ত্রীর নামে পূর্বাচলে সাড়ে ৭ কাঠা জমি, রুহুল আমিনের আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন আছে দুই কোটি ৩৩ লাখ ৭৬ হাজার ১৩৮ টাকা মূল্যের। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে ২০০৮ সাল থেকেই ১০ লাখ টাকার দালান ও একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে বলে রুহুল আমিন হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

বিমানের ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধানে নতুন আশা

মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের নিখোঁজ উড়োজাহাজের সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ থেকে সাগরতলে আরও দুটি নতুন সংকেত পাওয়া গেছে। এতে নতুন আশা সঞ্চারিত হয়েছে। দিন কয়েকের মধ্যেই কিছু একটা খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী অনুসন্ধানকারীরা। অস্ট্রেলীয় অনুসন্ধান দলের প্রধান অ্যাংগাস হিউস্টন আজ বুধবার অনেকটা আশাবাদী কণ্ঠে এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেন।

এ নিয়ে শব্দতরঙ্গের মাধ্যমে সাগরতল থেকে প্রবাহিত চারটি সংকেত পাওয়ার কথা দাবি করেছে অনুসন্ধানকারী দল। এর আগে মার্কিন নৌবাহিনী দুটি সংকেত পাওয়ার দাবি করে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ও রাতে আরও দুটি সংকেত পাওয়ার দাবি করেছে অস্ট্রেলীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ওশেন শিল্ড।

ধারণা করা হচ্ছে, উড়োজাহাজটির ককপিটের তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণে ব্যবহূত ‘ব্ল্যাক বক্স’ থেকে শব্দগুলো ভেসে আসছিল। ব্ল্যাক বক্সের ব্যাটারির মেয়াদকাল এক মাস। দুর্ঘটনার পর ইতিমধ্যে এক মাস পেরিয়ে গেছে।

আজ সাংবাদিকদের হিউস্টন বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা সঠিক এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছি। আমি এখন আশাবাদী যে, আমরা ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাব। কয়েক দিনের মধ্যেই ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন পাওয়া ওই সংকেতের সূত্র ধরে ভারত মহাসাগরের দূরবর্তী অংশে বিমানের ধ্বংসাবশেষ শনাক্তের কাজটি সহজ হবে না বলেও সতর্ক করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ওই কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট এলাকায় আজ ১১টি সামরিক বিমান, চারটি বেসামরিক বিমান ও ১৪টি জাহাজ অনুসন্ধানের কাজে অংশ নিচ্ছে। কুয়ালালামপুর থেকে ২৩৯ জন আরোহী নিয়ে গত ৮ মার্চ রাতে বেইজিংয়ের পথে রওনা হওয়ার পর নিখোঁজ হয় উড়োজাহাজটি।

কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মালয়েশিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, উড়োজাহাজটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ অংশে ধ্বংস হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার পশ্চিমে।

গিনেস বুকে ‘আমার সোনার বাংলা’

লাখো কণ্ঠে গাওয়া বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রেকর্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ।  গতকাল মঙ্গলবার গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়।

‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি...’ গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে এই গান পাওয়া হয়। সেই দিন সমবেত হয়েছিল লাখো বাঙালি। তাদের সঙ্গে সারা দেশে অসংখ্য বাঙালি কণ্ঠ ছেড়ে গেয়েছে ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি...।’ ১৩ দিন পর তারই স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ।

লাখো লোকের মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার এই উদ্যোগটি ছিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের। বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। ওই দিন জাতীয় প্যারেড ময়দানে ঢোকার সময় স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক গণনা অনুসারে লোক হয়েছিল দুই লাখ ৫৪ হাজার ৬৮১ জন। এতেই গত বছরের ৬ মে সাহারা গ্রুপের আয়োজনে এক লাখ ২২ হাজার লোকের একসঙ্গে জাতীয় সংগীত গাওয়ার ভারতের রেকর্ডটি ভেঙে নতুন বিশ্বরেকর্ড হয়। গতকাল সেটির চূড়ান্ত ফল জানিয়ে দেয় গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

থমকে গেছেন র‌্যাম্প মডেল রুহি

থমকে গেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় র‌্যাম্প মডেল রুহি। হঠাৎ করেই যেন তার এই থমকে যাওয়া। যতটা ভাবনায় ছিল তার কোনটি ঘটেনি বলেই বর্তমানে পুরো স্থির হয়ে আছেন চলচ্চিত্রে নবাগত এই নায়িকা। সমসাময়িক অথবা সিনিয়র অন্য নায়িকা-অভিনেত্রীরা যেখানে নাচে-গানে, আনন্দ-আয়োজনে পুরো চলচ্চিত্র দিবস মাতিয়ে রেখেছিলেন গত ৩রা এপ্রিল। সেদিন সন্ধ্যায় অল্প সময়ের জন্য এফডিসিতে একঝলক দেখা গেছে রুহিকে।

ত্বকী মঞ্চের সংবাদ সম্মেলন- হত্যাকারী ও নির্দেশদাতাদের গ্রেপ্তারের দাবি

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার এক বছর এক মাস অতিবাহিত হলেও অধিকাংশ হত্যাকারী ও হত্যার নির্দেশদাতা আসামিরা এখনও পর্যন্ত রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ত্বকীর সকল হত্যাকারী ও হত্যার নির্দেশদাতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত  করার দাবিতে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে।

মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমান ইতিহাসের সর্বোচ্চ খরচের অনুসন্ধান

মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমান ও এর আরোহীদের অনুসন্ধান অভিযানে বেসামরিক বিমান চলাচলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে। এর পরিমাণ দাঁড়াতে পারে কয়েক কোটি ডলার। এ অভিযানে অংশ নিয়েছে ২৬টি দেশ। তারা বিমান, জাহাজ, সাবমেরিন ও উপগ্রহের মাধ্যমে সহায়তা করছে। গত এক মাসে এ অভিযানের ওপর খরচের বিষয়ে বার্তা সংস্থা একটি হিসাব সম্পন্ন করেছে।

এবিএম মূসার ৬০ বছরের সাংবাদিকতার বর্ণিল অধ্যায়

দেশবরেণ্য সাংবাদিক এবিএম মূসা জীবনের ৬০ বছরই কেটেছে সাংবাদিকতায়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করে খ্যাতি কুড়িয়েছেন। দক্ষতা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। শাসক শ্রেণীর রক্ষচক্ষুকে উপেক্ষা করে সাংবাদিকতার নীতি ও আদর্শ উচ্চকিত রেখেছেন কর্মজীবনে। তার হাত ধরে অনেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন সাংবাদিকতায়। সাংবাদিক সমাজের অভিভাবক ও জাতীয় এই মুরব্বি শেষ জীবনেও সত্য কথা বলে অপরিসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে গেছেন।

মুজিব অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- লন্ডনে সুধী সমাবেশে তারেক রহমান

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৬ই ডিসেম্বর  দেশ স্বাধীন হবার পর শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি পকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফিরে ১২ই জানুয়ারি দেশের  প্রধানমন্ত্রীর যে দায়িত্ব নিলেন প্রকৃতপক্ষে তা ছিল অবৈধ, তিনি ছিলেন অবৈধ প্রধানমন্ত্রী।

প্রেমের নামে প্রতারণা- মিরপুরে নারীসহ ৬ প্রতারক আটক

রাজধানীর মিরপুরে প্রেমের নামে প্রতারণায় জড়িত  দোলা আক্তার ও প্রতারক চক্রের মূলহোতা আবু তালেবসহ ছয় জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মিরপুর থানার মধ্য পাইকপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ওয়্যারলেস সেট, হ্যান্ডকাপ ও একটি ডিজিটাল ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়।

এবিএম মূসার ইন্তেকাল

প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবিএম মূসা আর নেই। আজ বুধবার দুপুর সোয়া একটার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

নিখোঁজ বিমান কান্দাহারে, সব আরোহী জীবিত!

রাশিয়ার একটি গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ২৩৯ আরোহীসহ নিখোঁজ মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৭৭ বিমানটি আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী কান্দাহারের কাছে পাকিস্তানে শনাক্ত করা হয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, গ্রামের একটি রাস্তায় ডানা ভাঙা অবস্থায় বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনকে মমতার হুংকার, কাউকে বদলি নয়

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে নিরপেক্ষভাবে কাজ না করার অভিযোগে রাজ্যের একজন জেলা প্রশাসক ও পাঁচজন পুলিশ সুপারকে (এসপি) বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশন এ নির্দেশ দেয়। নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করছি। আমি দায়িত্বে থাকাকালে কাউকে বদলি করতে দেব না।’ মমতা বলেন, ‘আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। দায়িত্বে আছি আমি।
আর আমার সঙ্গে আলোচনা না করে কোনো কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই।’ গত শনি ও রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভি এস সম্পত পশ্চিমবঙ্গে আসেন। তাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন স্বীকৃত দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রোববার বৈঠকও করেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার গতকাল নয়াদিল্লিতে গিয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের ওই ছয় শীর্ষ কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশ দেন। ওই ছয় কর্মকর্তা হলেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসক সঞ্জয় বনসল, বীরভূমের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া, বর্ধমানের পুলিশ সুপার সৈয়দ মির্জা, পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ, মালদহের পুলিশ সুপার রাজেশ যাদব ও মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির।

রাহুলকে চ্যালেঞ্জ মনে করি না

স্মৃতি ইরানি
ভারতের উত্তর প্রদেশে নিজের নির্বাচনী আসনে গিয়েই কংগ্রেসের ভাইস-প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীকে একহাত নিয়েছেন বিজেপির প্রার্থী টেলিভিশন অভিনেত্রী স্মৃতি ইরানি। রাজ্যের আমেথি আসনে কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী রাহুলকে মোকাবিলায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম সফর। স্মৃতি ইরানি গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি রাহুলকে চ্যালেঞ্জ মনে করি না। কারণ, তিনি নিজেই আমেথির জনগণের সামনে বিরাট এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।’ এনডিটিভি।

আসাম ও ত্রিপুরা দিয়ে ভোট শুরু

ভারতের আসাম রাজ্যের নাগাঁও জেলার কলিয়াবার ভোটকেন্দ্রে
সকাল থেকে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। এ কেন্দ্রে ভোট দিতে
সাইকেলে করে এক ব্যক্তি তাঁর বৃদ্ধ মাকে নিয়ে আসেন।
ভোট দেওয়ার পর কালিমাখা আঙুল দেখাচ্ছেন বৃদ্ধা।
ভারতের ষোড়শ লোকসভা নির্বাচন গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে। নয় দফার নির্বাচনের প্রথম দফায় গতকাল আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের ছয়টি আসনে ভোট হয়। আসামে ভোট চলাকালে দু-এক জায়গায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। আসামে তরুণ ভোটারদের পাশাপাশি নারীদেরও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে দেখা যায়। সেখানে ভোটার উপস্থিতি ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে।
আর ত্রিপুরায় ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানান। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা আশুতোষ জিন্দাল সাংবাদিকদের বলেন, ত্রিপুরার একটি আসনের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই-এম) ক্ষমতায় রয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সিপিআই-এম ছাড়াও কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ত্রিপুরা রাজ্যের এই আসনটিতে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সিপিআই-এমের শঙ্কর প্রসাদ দত্ত, কংগ্রেসের অরুন্ধতী সাহা, বিজেপির সুধীন্দ্র দাসগুপ্ত প্রমুখ। আসামে বর্তমানে বিধানসভায় কংগ্রেস ক্ষমতায় রয়েছে। গতকাল এই রাজ্যের পাঁচটি আসনের ভোটেও ছিল উৎসবের আমেজ। দিব্রুগড়, জোড়হাট, কালিয়াবর, লখিমপুর ও তেজপুর আসনের নির্বাচনে চা-শ্রমিকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়। তাঁরা বর্ণিল পোশাকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে হাজির হন। রাজ্যে বেলা তিনটা পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পড়ে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। ওই আসনগুলোয় মোট ভোটার সংখ্যা ৬৪ লাখ ৪০ হাজার।
ভোট গ্রহণ শুরু হয় সকাল সাতটায়। তবে কয়েকটি স্থানে বৈদ্যুতিক ভোটযন্ত্র (ইভিএম) চালু করতে কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে দেরিতে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। আসামের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা বলেন, দুপুরের মধ্যেই অর্ধেকের বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার ‘উত্থান দিবস’ হলেও গতকাল কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকটি স্থানে ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। কোনো হামলার হুমকি না থাকলেও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্কাবস্থায় ছিল। আসামের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী পবন সিং ঘাটোয়ার (দিব্রুগড়) ও রানী নারাথ (লখিমপুর) এবং সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কংগ্রেসের বর্তমান সাংসদ বিজয় কৃষ্ণ। মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈর ছেলে গৌরব এবার কালিয়াবর আসনে প্রার্থী হন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সবানন্দ সোনোওয়াল লড়ছেন লখিমপুর আসন থেকে। পুলিশ জানায়, কালিয়াবর আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছেন। দিব্রুগড়, কালিয়াবর, লখিমপুর ও তেজপুরের বিভিন্ন কেন্দ্রে অন্তত ৪০টি ইভিএম ঠিকমতো কাজ করেনি। মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ আসামে কংগ্রেসের জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাজ্যে দ্বিতীয় পর্বে শিলচর, করিমগঞ্জ ও দিফু (স্বায়ত্তশাসিত জেলা) আসনে ১২ এপ্রিল দ্বিতীয় পর্বে ভোট নেওয়া হবে। তরুণ গগৈ বলেন, এই রাজ্যে মোদির জাদু নেই, বরং তরুণ গগৈর জাদু রয়েছে। তিনি আগে ১০টি আসনের কথা বললেও এখন বলছেন, কংগ্রেস আরও বেশি আসনে জয়ী হবে। আইএএনএস, এনডিটিভি ও জি নিউজ।

বিজেপির আদর্শিক টানাপোড়েন

প্রথম দফা নির্বাচন শুরুর প্রথম দিনেও কেন বিজেপি নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করতে পারল না? নরেন্দ্র মোদির জন্য এই ব্যর্থতা খুবই লজ্জার ব্যাপার। দলটির দৃষ্টিভঙ্গি যে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে, এটা শুধু তাই-ই বোঝাচ্ছে না, মোদিকে নিয়ে বিজেপির ‘ওয়ান ম্যান শো’ ঠিকঠাক চলছে না। নরেন্দ্র মোদির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে ফাটলের লক্ষণ এটি। ইশতেহার প্রকাশিত হতে না পারা মোদির উন্নয়নবাদী গোষ্ঠী আর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) সমর্থিত বিজেপির হিন্দুত্ববাদীদের দ্বন্দ্বের প্রতিফলন। বিজেপির প্রধানমন্ত্রিত্বের দাবিদার মোদি যে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতাবাদীদের হুকুমে চলছেন তা বোঝা যায় গরুর মাংস রপ্তানির অনুমোদন দেওয়ার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মোদির আক্রমণে। আর এই বক্তৃতা তিনি দিয়েছেন যাদব-অধ্যুষিত এলাকায়। বর্ণ-কাঠামোর মধ্যবর্তী স্তরে থাকা যাদবেরা প্রথাগতভাবে গরু পালন করে দুধ জোগানোর গোয়ালার কাজ করেন। কিন্তু এঁদের অনুভূতিকে তোয়াজ করার জন্য মোদি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেননি। তিনি এটা করেছেন মুসলমানদের বিরুদ্ধে আরএসএসের দীর্ঘমেয়াদি প্রচারণার অংশ হিসেবে। একইভাবে, মনিহারি পণ্যের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিরোধিতা করে দেশীয় বেনিয়া শ্রেণীটিকে খুশি করতে চেয়েছেন। অথচ বেশি দিন হয়নি, এই মোদিই খুদে ব্যবসায়ীদের বলেছিলেন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত হতে। তাহলেও, ইশতেহার প্রকাশিত না হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে এগুলোই প্রধানতম না-ও হতে পারে।
খুবই সম্ভব যে আরএসএসের নিয়ন্ত্রকেরা ১৯৯৬ সালে অটল বিহারি বাজপেয়ীর তিনটি সিদ্ধান্ত উল্টে দেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। হিন্দুত্ববাদীরা অযোধ্যায় রামমন্দির বানাতে চান, চান সংবিধানে কাশ্মীরের বিশেষ অবস্থান-সংক্রান্ত ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল এবং চান অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়ন ঠেকিয়ে রাখতে। সে সময় বাজপেয়ী এই তিনটি প্রক্রিয়াই স্থগিত করেছিলেন। অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণীত হলে বর্তমানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তথাকথিত নিজস্ব বিধি-ব্যবস্থার জায়গায় বিবাহ ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারের বিষয়টি সবার জন্য অভিন্ন হবে। কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা এটা করতেই দিতে চান না। এ কারণে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর বিজেপি ১৩ দিন চেষ্টা করেও কোনো ‘সেক্যুলার’ দলকে তাদের সরকার গঠনকারী জোটে আনতে পারেনি। কেবল ওই তিনটি বিষয়ে কট্টরপন্থী অবস্থান থেকে সরে আসার ঘোষণা দেওয়ার পরই তারা ১৯৯৮ সালে অদৃষ্টপূর্বভাবে ২৪ দলের জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়। সে সময় বিজেপি পেয়েছিল ১৮২টি আসন। সবাই জানে যে আরএসএস ও বিজেপির মৌলবাদীরা ‘মধ্যপন্থী’ বাজপেয়ীর এই পশ্চাদপসরণ নিয়ে খুশি ছিল না। হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থী নেতা সাধ্বী ঋথাম্বরা তাই তাঁকে অভিহিত করেছিলেন ‘আধা কংগ্রেসি’ বলে। খুবই সম্ভব যে মোদিকে সামনে রেখে বিজেপির কট্টরপন্থীরা আবার ওই তিনটি স্থগিত ধারাকে বিজেপির কর্মসূচিতে ঢোকাতে চাইবে। মোদি হয়তো তাদের এসব চাওয়ার বিপক্ষে নন। সবকিছুর ওপরে আরএসএসের পুরোনো প্রচারক হিসেবে সহজাতভাবেই তিনি আরএসএসের দিকেই ঝুঁকে থাকবেন। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত হতে পারছেন না যে সঙ্ঘ পরিবার ১৯৯০ এর দশকে যে রামজন্মভূমি আন্দোলন শুরু করেছিল, দুই দশক পর সেখানে ফেরার ফল কী হতে পারে? বিশেষত যখন তিনি চান নিজেকে ব্যবসাবান্ধব উন্নয়নের বিকাশ-পুরুষ হিসেবে ও স্মার্ট শহরের রূপকার হিসেবে উপস্থাপন করতে।
তিনি নিশ্চিত নন, করপোরেট সেক্টরের তাঁর বন্ধুরা বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণ, কাশ্মীরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবিধান সংশোধন এবং হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ফরাসিদের শত শত বছরের পুরোনো পারিবারিক আইনে হাত দেওয়ার পরিণতি কী। যেমন সিভিল ম্যারেজের ব্যবস্থা চালু হলে হিন্দুদের আগুনকে সাক্ষী রেখে বিয়ের জায়গায় একমাত্র রেজিস্ট্রি কর্মকর্তা প্রত্যায়িত বিয়ে ছাড়া অন্য বিয়েগুলো আইনি বৈধতা পাবে না। বাজপেয়ীর প্রতিশ্রুতি বদলে ফেললে যে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হবে, তা করপোরেট কর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, কাউকেই খুশি করবে না। তার পরও ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে মুরলি মনোহর যোশীকে। বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় মানবিক সম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী থাকার সময় পাঠ্যপুস্তকের হিন্দুকরণের জন্যই তিনি খ্যাত। সম্প্রতি মোদিকে জায়গা দেওয়ার জন্য তিনি তাঁর পুরাতন নির্বাচনী এলাকা বারানসি ছেড়ে দিয়েছেন। প্রতিদানে তিনি মোদির কাছে কিছু চাইবেন এবং তা হলো, ওই তিন স্থগিত ধারা নিয়ে ছাড়। পরিহাস এই যে সাধারণ মানুষ দলীয় ইশতেহারের প্রতি সামান্যই আগ্রহী। ইশতেহারগুলো প্রকাশ করা হয় আসলে রুটিন হিসেবে, চাওয়া হিসেবে, বাস্তবায়নের জন্য নয়। বিজেপির বেলায় ইশতেহার প্রকাশনার অস্বাভাবিক বিলম্বে নির্বাচন কমিশন কেবল ভ্রুকুটি করতে পারে। কিন্তু এটা তার থেকেও বেশি। এর পেছনের কারণ গভীরভাবে বিভক্ত দলীয় বাস্তবতা।
গালফ নিউজ থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত
অমূল্য গাঙ্গুলি: ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

আওয়ামী লীগ নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছে

নির্বাচনব্যবস্থা তছনছ, প্রশ্নবিদ্ধ আওয়ামী লীগ
প্রত্যাশার সীমাটা বোঝা উচিত
ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ স্মৃতির পাতায় হয়ে থাকবে হতাশার স্মারক। সবার মতো দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব আল হাসানও তাতে জ্বলেছেন নিবু নিবু হয়ে। এ নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এ ব্যাপারে পাঠক ইফতেখার রাশিদ বাবুর মন্তব্য: এটা ঠিক, শ্রীলঙ্কার কাছে তার দেশের লোকের কোনো প্রত্যাশা ছিল না ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে, ব্যাপারটা কিন্তু এখনো নেই। প্রত্যাশা কোনো অজুহাত বা চাপ হতে পারে না। ভারতের জনগোষ্ঠীর এত চাপ বা প্রত্যাশা, তারাও তো চাপের মধ্য দিয়েই ভালো-মন্দ দুটোই খেলছে। এই পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার এতগুলো বছর বা স্ট্যাটাসের দিক আমাদের যতটুকু ম্যাচিউরিটি আছে, সে তুলনায় আমাদের রেজাল্টের পরিসংখ্যানের হিসাবটা এখনো হিসাবের বাইরে। খেলোয়াড় বা ক্যাপ্টেন বদল করে লাভ নেই, গোড়ায় কোথায় যেন গন্ডগোল, বিশ্লেষণটা বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতেই ছাড়লাম ইত্যাদি। রাফিউল ইসলাম: সাকিব যা যা বলেছে, সব শতভাগ ঠিক। কঠিনবাস্তব কথা শুনতে এমনই লাগে। বাংলাদেশ ওয়ানডেতে এখনো অনেক ভালো একটা দল, কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে নয়, ইনফ্যাক্ট টি-টোয়েন্টিতে কখনো বাংলাদেশ ওয়ানডের মতো শক্তিশালী ছিল না। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে এমন কোনো শক্তিশালী দল হয়ে যায়নি যে হাজার হাজার দর্শক মাঠে গিয়ে চিৎকার করলেই দল জিতে যাবে। মানুষের আবেগ দিয়ে প্রত্যাশা না করে বাস্তবতা বোঝা উচিত।
কলি কায়ছার: সাকিবের সব কথা শতভাগ সত্য। কিন্তু এর চেয়ে বড় সত্য হচ্ছে, আমরা বাঙালিরা সত্য কথা সহ্য করতে পারি না। আমরা অন্যের সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু নিজের সমালোচনা করতে পারি না। দেশপ্রেম নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেন, কিন্তু তাঁরা নিজেরাও জানেন না যে তাঁরা দেশপ্রেমিক কি না? দেওয়ান মোশাররফ: সব দেশের জাতীয় দল নিজের মাঠে ভালো খেলে। সাকিবের কৈফিয়ত কোনোভাবেই যুক্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নয়। পুরো দলকে ঢেলে সাজানোর চিন্তা করার সময় এসেছে। সৌরভ গাঙ্গুলী যথার্থই বলেছেন, আমরা পিছিয়ে পড়ছি। কেন পড়ব? বেতন ও সুযোগ-সুবিধা কি কম দেওয়া হয়? তারিকুল ইসলাম তুহিন: শুধু শারীরিক আর মানসিক না, বুদ্ধিগত দিক থেকেও যে আপনারা অন্য দলের চেয়ে পিছিয়ে, তা আপনার এই সাক্ষাৎকার থেকে বোঝা গেল। প্রত্যাশার সীমা আমরা বুঝি। আমি যত দূর জানি, এই কোচিং স্টাফদের নিয়েই আপনারা নিউজিল্যান্ডকে বাংলাওয়াশ করেছিলেন। তার পরও যদি আপনাদের আরও ভালো মানের কোচ দরকার হয়, বোর্ড সভাপতির কাছে যান। আপনার মানের একজন খেলোয়াড় চাপ নিতে পারেন না, কথাটা বিশ্বাস করা কঠিন। শারীরিকভাবে আপনারা দুর্বল, কিন্তু খেলার সময় তো দেখা যায় এক কিংবা দুই রান না নিয়ে শুধু ছয় মারতে যান।
নির্বাচনব্যবস্থা তছনছ, প্রশ্নবিদ্ধ আওয়ামী লীগ
এরশাদ-উত্তর গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় গত ২৩ বছরে দাঁড় করানো নির্বাচনব্যবস্থা কার্যত তছনছ হয়েছে এবারের উপজেলা নির্বাচনে। এ নিয়ে পাঠক শাহ সামসাদ লিখেছেন: উপজেলা নির্বাচনে এই ভোটকেন্দ্র দখল সংস্কৃতি চালু করে কী লাভ হলো আওয়ামী লীগের? মুখে মানুষের ভোটের অধিকার বললেও কোথায় আজ মানুষের ভোটের অধিকার? আওয়ামী লীগ নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মেরেছে। আমার ৪৪ বছরের জীবনে নির্বাচনের এমন নমুনা দেখিনি। এটাকে যদি গণতন্ত্র বলে, তাহলে এই গণতন্ত্র আমি চাই না। সুজন: গণতান্ত্রিক মনোভাব ক্ষুণ্ন হয়েছে। বলপ্রয়োগে ক্ষমতা দখল করা যায়, জনগণের ভালোবাসা আদায় করা যায় না; বরং ভালোবাসা ও আস্থা হারানোর আশঙ্কা বেড়ে যায়। ভাবতে অবাক লাগে, বিশেষ করে চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে এতটা নগ্নভাবে ভোট ডাকাতির পরও তারা কোন শক্তির জোরে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার দাবি করে? ফজলুল হক ভূইয়া: একটা জনপ্রিয় দল নিজেদের কর্মকাণ্ডে কীভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ আওয়ামী লীগ। গাউসুল আজম রাসেল: সময়োপযোগী ও পক্ষপাতবিহীন একটি প্রতিবেদন। কিন্তু এতে কি কারও টনক নড়বে? যত দিন সাধারণ মানুষ না জাগবে, তত দিন এমন চলতেই থাকবে। কিন্তু আমরা জাগব কবে? কে আমাদের জাগাবে?
৩৯ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
ভুল ব্যাখ্যা ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেওয়ায় ৩৯ জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে শিকদার দস্তগীর লিখেছেন: আসলে হওয়া উচিত ছিল শুধু রাজাকারদের তালিকা। রাজাকার বাদ দিলে এ দেশের সবাই মুক্তিযোদ্ধা। কারণ, যে পরিবার থেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা ফিল্ডে যুদ্ধ করতে গেছেন, সেই পরিবারের অন্যরা কীভাবে তাড়া খেয়ে বেড়িয়েছে, কীভাবে তাদের জীবনে দুর্যোগ নেমে এসেছে, তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানে। এ জন্যই বলি, মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো রূপ করুণা প্রদান এতটা জরুরি ছিল না। তার জন্য এ মন্ত্রণালয়ের সনদ নামের লোভনীয় কাগজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় যন্ত্রে এত বুভুক্ষু সৃষ্টি হতো না। রাষ্ট্রটাকে একটা টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র (সত্যিকার কল্যাণ রাষ্ট্র) গড়ার কঠিন দায়িত্বটা পালন করলেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান করা হতো। এখন যা হচ্ছে, তাতে অনেক মুক্তিযোদ্ধাই তা দেখে লজ্জিত হন, ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেন, অভিমানে কাতর হন। গৌরাঙ্গ গোস্বামী: এই কাজের সঙ্গে সঙ্গে যাঁরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও সুবিধাবঞ্চিত আছেন, তাঁদের খুঁজে বের করে প্রাপ্যটা বুঝিয়ে দেওয়া হোক। মো. আবদুল্লাহ আল জাহিদ: জাতি হিসেবে আমরা এত অভাগা যে স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধারা সনদ পান না। আর ভুয়ারা সনদ-সুবিধা নেন। কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ভুয়া ব্যক্তিদের সনদ বাতিল ও সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ ও অধিকার বাস্তবায়ন করা উচিত এবং ভুয়া সনদ যাতে আর ইস্যু না হয়, তার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিজেপি ক্ষমতায় গেলে উষ্ণতায় ভাটা পড়বে?
ভারতের নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলের সম্ভাবনা আছে। নির্বাচনে কংগ্রেস হেরে গেলে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বর্তমান উষ্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে পাঠক আনোয়ার উল্লাহ লিখেছেন: বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সম্পর্ক অনেক উষ্ণ। আর উষ্ণতার দরকার কী? আমাদের নদীগুলো সব শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। আরও উষ্ণ হলে সেই উষ্ণতায় দেশে থাকা যাবে না। এম এইচ রাহমুতুল্লা রব: বিজেপি সম্পর্কে যা-ই বলা হোক, তারা কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে বিরক্ত করে কম। বিজেপির সময় কারগিলে যে স্থানীয় যুদ্ধ হয়েছিল, সেটা সম্পূর্ণরূপে পাকিস্তানেরই সৃষ্ট ছিল, তা এখন সর্বজনবিদিত। আর কংগ্রেসের ‘মুখে ফরিদ, বগলে ইট’। এ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান, ভারত-চীন সব কটি যুদ্ধ হয়েছে কংগ্রেসের শাসনকালে। বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকাণ্ডও কংগ্রেসের সময়ই বেশি লক্ষ করা গেছে। শিখ-মুসলমানের বিরুদ্ধে বড় বড় দাঙ্গাও হয়েছে কংগ্রেসের শাসনকালেই।

প্রথম পর্বের ভোট গ্রহণ শেষ

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভারতের ১৬তম লোকসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রথম দফায় আসামের পাঁচটি ও ত্রিপুরার একটি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়। সোমবার সকাল ৮টায় আসামের তেজপুর, কালিয়াবোর, জোড়হাট, ডিব্র“গড় ও লখিমপুর এবং পশ্চিম ত্রিপুরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়; চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। কংগ্রেস, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), তৃণমূল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি (এএপি), আসাম গণপরিষদ (এজিপি), সিপিআই (এম), অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) এবং সমাজবাদী পার্টিসহ (এসপি) আরও কয়েকটি দলের মোট ৫১ জন প্রার্থী এ পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কংগ্রেসের প্রার্থীরা হলেন- কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমান আদিবাসীবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রানী নারাহ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবন সিং ঘাটোয়ার, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বর্তমান এমএলএ বিজয়কৃষ্ণ হান্ডিক, আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের ছেলে সৌরভ গগৈ ও ভূপেন কুমার বোরা।
আর বিজেপির প্রার্থীদের মধ্যে আছেন দলের রাজ্য কমিটির সভাপতি সর্বানন্দ সনোওয়াল ও কামাক্ষ্যা প্রসাদ তাসা। আসাম গণপরিষদ থেকে নির্বাচন করছেন অরুণ কুমার শর্মা, প্রদীপ হাজারিকা ও যোসেফ টপ্পো। আসামে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার কমান্ডার হীরা সারানিয়া ওরফে নব কুমার সারানিয়াও নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। ইন্ডিয়া টুডের সূত্র মতে আসামে মোট ভোট পড়েছে ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে তেজপুরে ৫৬ শতাংশ, জোড়হাটে ৬০ শতাংশ, লখিমপুরে ৫২ শতাংশ ডিব্র“গড়ে ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং কালিয়াখোরে ৬০ শতাংশ ভোট পড়ে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। আসামের পাঁচ কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৩৪ জন। তার মধ্যে মহিলা ভোটার ৩১ লাখ ২০ হাজার ৬৭ জন। আগামী ১২ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা আসামের তিনটি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রিপুরা রাজ্যে লোকসভার আসন মাত্র দুটি। এর একটি পশ্চিম ত্রিপুরা আসনে আজ ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। সেখানে মোট প্রার্থী ১৩ জন। এই আসনে লড়াই হবে মূলত সিপিআই (এম) ও কংগ্রেসের মধ্যে। লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে বিজেপিও। এই রাজ্যের অন্য আসনটিতে ভোট হবে ১২ এপ্রিল। প্রসঙ্গত ভারতে এবারই প্রথম সারা দেশে নয় দফায় ভোট হচ্ছে। এক মাসের বেশি সময়জুড়ে চলা ভোট উৎসবের শেষ পর্ব আগামী ১২ মে। ভোট গণনা ১৬ মে। ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় মোট আসন ৫৪৩টি। ক্ষমতায় আসতে হলে দলীয় বা জোটগতভাবে কমপক্ষে ২৭২টি আসন দখল করতে হবে। গত দুই লোকসভা নির্বাচনে জিতে পরপর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় আছে কংগ্রেস দলের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট। তবে এবার ভারতজুড়ে জোরেশোরে বইছে ক্ষমতার পালাবদলের হাওয়া।
কংগ্রেস প্রার্থী
কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমান আদিবাসীবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রানী নারাহ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবন সিং ঘাটোয়ার, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বর্তমান এমএলএ বিজয়কৃষ্ণ হান্ডিক, আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের ছেলে সৌরভ গগৈ ও ভূপেন কুমার বোরা
বিজেপি প্রার্থী
রাজ্য কমিটির সভাপতি সর্বানন্দ সনোওয়াল ও কামাক্ষ্যা প্রসাদ তাসা
আসাম গণপরিষদ
অরুণ কুমার শর্মা, প্রদীপ হাজারিকা
যোসেফ টপ্পো