Wednesday, January 22, 2020

মৃত্যুর পর দান করা মানুষের মৃতদেহ দিয়ে কী হয়?

আলঝেইমার্স রোগের গবেষণার জন্য নিজের মায়ের মৃতদেহ দান করেছিলেন এক ব্যক্তি।
কিন্তু সেটি গবেষণার কাজে ব্যবহৃত না হয়ে বিস্ফোরক পরীক্ষা করার কাজে ব্যবহার করা হয়।
সম্পতি আমেরিকার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে একটি বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের বিরুদ্ধে মামলার বিস্তারিত প্রকাশ পেয়েছে।
২০১৪ সালে সেই সেন্টারটিতে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই অভিযান চালিয়ে মানবদেহের কয়েকশত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পেয়েছে।
এই সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, মৃতদেহ দানকারী ব্যক্তিদের ইচ্ছা অনুযায়ী সেগুলো গবেষণার কাজে ব্যবহার না করে অবৈধভাবে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে।
আদালতের কাগজপত্রে দেখা যাচ্ছে, মৃতদেহ দানকারী ব্যক্তিদের পরিবারগুলো বলছে যে চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য মৃতদেহ দান করা হয়েছিল।
একটি মামলার বাদী জিম স্টফার বলেন, তাঁর মা আলঝেইমার্স রোগের চিকিৎসার গবেষণার জন্য মৃতদেহ দান করেছিলেন।
যেহেতু তিনি নিজে আলঝেইমার্স রোগে ভুগছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মি: স্টফার জানতে পারেন যে বিস্ফোরকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য সেনাবাহিনী তার মায়ের মৃতদেহ ব্যবহার করেছিল।
শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ বা দেখভাল করে যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ এন্ড হিউম্যান সার্ভিসেস বিভাগ।
কিন্তু মৃতদেহ দান করার বিষয়টি দেখভালের কেউ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃতদেহ কেনা-বেচা একটি অপরাধ। কিন্তু মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া, সংরক্ষণ করা, পরিবহন করা এবং ফেলে দেয়ার জন্য কিছু যৌক্তিক অর্থ নেয়া আইনসিদ্ধ কাজ।
কিন্তু এই 'যৌক্তিক অর্থ' বলতে কী বোঝায় সেটি অবশ্য পরিষ্কার নয়।
চিকিৎসা গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর কত মৃতদেহ দান করা হয় সেটির কোন পরিসংখ্যান নেই।
তবে ধারণা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর কয়েক হাজার মানুষ শিক্ষা এবং চিকিৎসার জন্য মৃতদেহ দান করে।
তারা মনে করে, এই মৃতদেহ গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হবে।
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শেখানোর জন্য এই মৃতদেহ ব্যবহার করা হয়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা কাজটি স্বচ্ছ উপায়ে করে।
ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি অ্যানথ্রোপলজিক্যাল রিসার্চ ফ্যাসিলিটি বলছে, মানুষের মৃতদেহ কিভাবে পঁচে যায় সেটি নির্ণয় করার জন্য ফরেনসিক দলকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যানাটমিক্যাল সার্ভিসেস-এর এক কর্মকর্তা জানালেন, মৃতদেহগুলো কোথায় যাচ্ছে সেটি নির্ণয় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি বলেন বর্তমানে যেসব নিয়মকানুন আছে সেগুলো যথেষ্ট নয়।
সুনির্দিষ্ট আইনের অভাবে দানকরা মৃতদেহগুলো যে উদ্দেশ্যে দেয়া হচ্ছে, সেটি পুরোপুরি পালন করা হচ্ছে না। এগুলোর অপব্যবহার হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যেসব প্রতিষ্ঠানে মৃতদেহ দান করা হয় সেগুলোকে সনদ দেয় আমেরিকান এসোসিয়েশন অব টিস্যু ব্যাংকস।
যদিও এ ধরণের সনদ বাধ্যতামূলক নয়। অ্যারিজোনার যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মৃতদেহ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তাদের কোন সনদ ছিল না এবং তারা সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক-ভিত্তিতে পরিচালিত।
এই প্রতিষ্ঠানটি বিনা খরচে মৃতদেহ নিয়ে আসা এবং সমাহিত করার ব্যবস্থা করে। ফলে বিষয়টি নিম্ন আয়ের মানুষকে আকৃষ্ট করে।

অন্যান্য দেশে মৃতদেহ দান


ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে হিউম্যান টিস্যু অথরিটি নামে একটি সংস্থা আছে।
যেসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা গবেষণার জন্য মৃতদেহ দান করা হয়, সেখানে নিয়মিত পরিদর্শন করে টিস্যু অথরিটি।
ব্রিটেনে ১৯টি প্রতিষ্ঠান আছে যারা দান করা মৃতদেহ গ্রহণ করে।
অনেক দেশ আছে যেখানে ধর্মীয় কারণে চিকিৎসা গবেষণার জন্য মৃতদেহ দান করার বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হয়।
আফ্রিকার অনেক দেশে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করার ক্ষেত্রেও নানা ধরণের সামাজিক বিধি-নিষেধ আছে।
কাতারে একটি হাসপাতাল আছে যেখানে চিকিৎসা গবেষণার জন্য মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আমদানি করা হয়। এই হাসপাতালটি ১২ বছর যাবত কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় বায়োলজিক্যাল রিসার্চ সেন্টারে যে ঘটনা ঘটেছে সেটি মৃতদেহ দানকারী শিল্পে অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে।
কিন্তু তারপরেও মৃতদেহ দানকরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মানবদেহকে বোঝার জন্য এটি অমূল্য একটি বিষয়।
মৃতদেহ দানকরা নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারের সুসান পর্টারের ঘটনা।
২০১৫ সালে এই বৃদ্ধ নারী তার মৃতদেহ দান করেন কলোরাডো ইউনিভার্সিটির ভিজিবল হিউম্যান প্রজেক্ট-এর ড. ভিক স্পিটজারের কাছে।
এই প্রজেক্টর মাধ্যমে মানবদেহকে ভার্চুয়াল নমুনায় রূপান্তর করা হয়।
সুসান পর্টারের মৃতদেহ কেটে ২৭০০০ টুকরা করা হয়। প্রতিটি টুকরার ছবি নিয়ে সেগুলোর ভার্চুয়াল স্তূপ করা হয় এবং সেগুলোর মাধ্যমে তার শরীরের থ্রিডি ইমেজ তৈরি করা হয়।

ইউরোপে ধার্মিক বেশি কোন দেশে?

ধর্মচর্চার দিক থেকে ইউরোপের দেশগুলো খুব একটা পিছিয়ে নেই। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অনুন্নত দেশগুলোর থেকে সমৃদ্ধশালী দেশগুলোতে ধার্মিকের সংখ্যা অনেক কম। একইসঙ্গে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে ধার্মিক লোকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইউরোপের ৩৪টি দেশে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। মূলত তিন ক্যাটেগরিতে এটি করা হয়। এগুলো হলো: অত্যন্ত ধার্মিক, মাঝারি পর্যায়ের ধার্মিক ও কম ধার্মিক। নাগরিকদের মধ্যে যাঁরা ধর্মকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন, মাসে একবার ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন, দিনে অন্তত একবার প্রার্থনা করেন ও সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেন, তাঁদের ‘অত্যন্ত ধার্মিক’ ক্যাটেগরিতে রাখা হয়েছে।
কোন কোন দেশে ধার্মিক বেশি?
গবেষণা বলছে, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধার্মিকের বাস রোমানিয়াতে। দেশটির শতকরা ৫৫ ভাগ লোক অত্যন্ত ধার্মিক।
তবে নিয়মিত প্রার্থনার ক্ষেত্রে দেশটির অবস্থান তৃতীয়। গবেষণা বলছে, দেশটির ধার্মিকদের শতকরা ৪৪ ভাগ প্রতিদিন উপাসনা করে থাকেন।  ইউরোপের দেশগুলোতে ধার্মিকের সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আর্মেনিয়া। দেশটির শতকরা ৫১ ভাগ লোক অত্যন্ত ধার্মিক বলে দাবি করছে গবেষণাটি। এর মধ্যে শতকরা ৪৫ ভাগ লোক প্রতিদিন প্রার্থনা করেন, যা ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়। এছাড়া, জর্জিয়ার শতকরা ৫০ ভাগ লোক অত্যন্ত ধার্মিক। সে হিসেবে, ধার্মিকের সংখ্যার দিক থেকে ইউরোপের দেশগুলার মধ্যে জর্জিয়ার অবস্থান তৃতীয়। তবে প্রতিদিন প্রার্থনা করার সংখ্যার দিক থেকে দেশটির অবস্থান পঞ্চম (শতকরা ৩৮ ভাগ উপাসনাকারী)।
তালিকার চতুর্থ স্থানে আছে গ্রীস। দেশটির শতকরা ৪৯ ভাগ অত্যন্ত ধার্মিক। তবে প্রতিদিন প্রার্থনা করার সংখ্যার দিক থেকে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে গ্রীসের অবস্থান নবম। পিউ রিসার্চ বলছে গ্রীসে ধার্মিকদের শতকরা ২৯ ভাগ লোক প্রতিদিন প্রার্থনা করেন। অত্যন্ত ধার্মিক ক্যাটেগরিতে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে মলদোভা। দেশটির শতকরা ৪৭ ভাগ লোক অত্যন্ত ধার্মিক। তবে এ ধার্মিকদের মধ্যে শতকরা ৪৮ ভাগ লোক প্রতিদিন প্রার্থনা করেন বলে জানায় পিউ রিসার্চ।
ধার্মিকের সংখ্যা কম কোন দেশগুলোতে?
উত্তর ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়াতে ধার্মিকের সংখ্যা সবচেয়ে কম। পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির শতকরা সাত ভাগ লোক অত্যন্ত ধার্মিক। এর মধ্যে শতকরা নয় ভাগ লোক প্রতিদিন প্রার্থনা করে থাকেন। কম ধার্মিকের সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক ও চেক প্রজাতন্ত্র। দেশ দুটিতে প্রতি এক’শ জনে আট জন অত্যন্ত ধার্মিক। ডেনমার্কে বসাবাসকারী ধার্মিকদের শতকরা ১০ ভাগ ও চেক প্রজাতন্ত্রের শতকরা নয় ভাগ প্রতিদিন প্রার্থনা করেন।
ইউরোপের দুই সমৃদ্ধরাষ্ট্র জার্মানি ও ফ্রান্সে অত্যন্ত ধার্মিকের সংখ্যা শতকরা ১২ ভাগ। সে হিসেবে গবেষণায় এই দুটি দেশের অবস্থান ২৬তম। একই অবস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ডও। গবেষণা বলছে, জার্মানির ধার্মিকদের শতকরা নয়ভাগ ও ফ্রান্সের ধার্মিকদের শতকরা ১১ ভাগ প্রতিদিন প্রার্থনা করেন। ধার্মিকতার দিক থেকে বৃটেনের লোকজন অনেক পিছিয়ে। দেশটির শতকরা মাত্র ১১ ভাগ লোক অত্যন্ত ধার্মিক। আর ধার্মিকদের শতকরা ছয় ভাগ প্রতিদিন প্রার্থনা করেন বলে গবেষণা বলছে।

শহুরে কল্পকথা by আফিয়া আসলাম

আমার মাথাটা একটা আবর্জনার ভাঁগাড়ের মতো। আবর্জনা একটু নাড়াচাড়া করলে চালু একটা টোস্টারও পেয়ে যেতে পারো।‘ এই ঘোষণা দিয়েছেন আবদুল্লা কে। তিনি হলেন এইচ এম নাকভির দি সিলেক্টেড ওয়ার্কস অব আবদুল্লাহ দি কোসাকের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
নাকভির বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় উপন্যাস প্রমাণ করেছে যে আবদুল্লাহ কের আত্ম-মূল্যায়ন ঠিক ছিল এবং সেজন্যই এটি পড়তে ভালো লাগে। তিনি তার কথার সত্যতা প্রমাণ করে আলতা-ফালতু কাজ করেন, বোকার মতো কথা বলেন। তার এসব কাণ্ডকারখানা একদিকে যেমন মজাদার, আবার বিজ্ঞ পাঠকদের কাছে গ্রহণযোগ্যও। আমরা টোস্টার না পেলেও এই রচনা থেকে দারুণ কিছু পেয়ে যাই।
আব্দুল্লাহ কে (আকা দি কোসাক) এক ধনী ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য। তবে তাদের মা-বাবার মৃত্যুর পর পরিবারটির সদস্যরা আলাদা হয়ে যায়। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় সন্তান ছিলেন তিনি। স্বজনেরা তাকেই তাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মনে করতেন। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। তিনি কুঁড়ের বাদশাহ হিসেবে সানসেট লজে দিন গুজরান করতেন। সেখানে তার সাথে থাকতেন তার ধার্মিক রক্ষণশীল ছোট ভাই ও একেবারেই সাদামাটা ওই ভাইয়ের স্ত্রী বাবু ও নার্গিস।
আবদুল্লাহ কের নির্বাচিত রচনাবলী আসলে একটি আত্মজীবনী। তিনি তার ৭০তম জন্মদিনে তিনি তার জীবনে ঘটা নানা কথা লিখতে শুরু করেছিলেন। বইটি তারই ধারাবাহিকতা।
অন্যান্য বই থেকে তার গ্রন্থটিকে যে বিষয়টি আলাদা করেছে তা হলো তিনি সারা জীবনে ইতিহাস, দর্শন, ধর্ম ও শিল্পকলা নিয়ে যে জ্ঞান সঞ্চয় করেছিলেন, তাই তিনি পরিণত বয়সে নিজের বিশ্লেষণে উপস্থাপন করেছন। এটিই বইটিকে আকর্ষণীয় করেছে। তিনি নিজেকে ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সামনে আনতে পেরেছেন।
বর্তমান ইংরেজিতে লেখালেখি করেন, এমন দুই বিখ্যাত পাকিস্তানি লেখকের একজন হলেন নাকভি। অপর জন হলেন মোহসিন হামিদ। তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে, অর্থ খাতে। পরে তিনি পাকিস্তানে থিতু হন, লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেন। তার লেখালেখির উপর ৯/১১-পরবর্তী ঘটনাবলীর প্রভাব রয়েছে। হামিদের দি রেলাকট্যান্ট ফান্ডামেন্টালিস্ট প্রকাশিত হয় ২০০৭ সালে। আর নাকভি ওই বছরই দেশে ফিরে আসেন। দুই বছর পর তার প্রথম উপন্যাস হোম বয় প্রকাশিত হয়। নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিরোধী যে ভাবাবেগের সৃষ্টি হয়েছিল, তাই তিনি তুলে ধরেছেন এই উপন্যাসে।
তবে দেশেও তিনি শান্তি পাচ্ছিলেন না। ওয়ার অন টেররের কারণে তিনি করাচিতেও সহিংসতা আর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।
করাচির এই দুরাবস্থার কথা কেবল তিনি নন, আরো অনেকের লেখাতেই ফুটে ওঠছে। মোহাম্মদ হানিফের ২০১১ সালের আওয়ার লেডি অব অ্যালিস ভাট্টি, বিলাল তানবিরের ২০১৪ সালের দি স্কটার হেয়ার ইজ টু গ্রেট, শানদানা মিনহাজের ২০১৬ সালের ড্যাডিস বয়েস ওইসব দিনের কথাই তুলে ধরেছে।
নাকভির হোম বয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পাকিস্তানি অভিবাসীদের ওপরই জোর দেয়া হয়েছে। তবে সমসাময়িক অন্যান্য পাকিস্তানি লেখক কিন্তু করাচির বাস্তবতা তুলে ধরার দিকে মনোযোগী হয়েছেন। হোম বয়ে করাচির ভূমিকা খুব বেশি বিস্তৃত নয়, তবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ২০০৯ সালে ফর্বেস ম্যাগাজিনে স্মৃতিকথায় জানিয়েছেন, তিনি তার বন্ধুদের নিয়ে নিউ ইয়র্ক থেকে করাচিতে কিভাবে গিয়েছিলেন। একই ধরনের সফর করা হয়েছে দি সিলেক্টেড ওয়ার্কস অব আবদুল্লাহ দি কোসাকে। এই সফর জিন্নাহর সমাধি থেকে শুরু হয়ে একটি হিন্দু মন্দিরে শেষ হয়েছে। তার বইয়ের একটি আকর্ষণীয় দিক হলো করাচির সাংস্কৃতিক জীবন।
তার বইটির সফলতা তাকে করাচির সাহিত্যিক সমাজে স্থায়ী আসন নিশ্চিত করে। এরপর থেকে তিনি বার্ষিক করাচি লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে (কেএলএফ) নিয়মিত সদস্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সেখানে অনেকেই তার সাথে সাক্ষাত করতে বেশ আগ্রহী থাকে। তাছাড়া সন্ধ্যায় এই প্রিয় লেখকের সন্ধান অনেকেই পেয়ে থাকেন রোডসাইড ক্যাফেতে।
সময়ের পরিক্রমায় তার লেখার বিষয়বস্তুও পাল্টে যাওয়ার বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই দৃষ্টিগোচর হয়। তার হোম বয় ছিল ৯/১১-এর উপন্যাস। আর দি সিলেক্টেড ওয়ার্কস অব আবদুল্লাহ দি কোসাকে ছিল চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরকে কেন্দ্র করে।
অবশ্য তার লেখার ধারাটি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, তিনি একটু জটিলভাবেই লেখালেখি করছেন। আবার ধর্ম, রাজনীতি, খাবার ইত্যাদি নিয়ে তিনি বেশি গুরুত্ব দেয়ায় অনেকেই ধৈর্যচ্যুতির শিকার হয়েছেন।
কিন্তু তারপরও নাকভির রচনা কাছে টানবেই। সময়ের পরিক্রমায় করাচির সামাজিক-রাজনৈতিক জীবনে যে পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে, তিনি সে দিকে নজর দিয়েছেন ভালোমতোই। পাঠককে এই পরিবর্তনকে ভালোভাবেই দেখিয়ে দিতে পেরেছেন তিনি। তিনি বৃদ্ধ, ধনী ও হেরে যাওয়া লোক। রোদের সময় বাইরে বের হলে তিনি সঙ্গে ছাতা নেন। তিনি শিশুদের ভালোবাসেন। তিনি সঙ্ঘাত এড়িয়ে চলেন, ব্যবসায়ের সিদ্ধান্তও নিজে নিতে যান না। অন্য কথায় বলা যায়, তিনি কারো প্রতি, এমনকি পাঠকের প্রতিও কোনো ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেন না। আর সেটাই বোঝা যায় বাবু আর নার্গিসকে কিভাবে তিনি কাছে টেনে নিয়েছেন তা দেখে।
লেখক: সাবেক সম্পাদক, পেপারকাটস ম্যাগাজিন, সহ-প্রতিষ্ঠাতা, দেশি রাইটার্স লঞ্জ

ধর্মের চেয়ে জাতীয়তাবাদই চরমপন্থাকে বেশি উদ্দীপ্ত করে: ফাতিমা ভুট্টো by ইন্তিফাদা পি বাশির

চরমপন্থা, বিচ্ছিন্নতা ও অ-সার্বজনীনতা হলো ফাতিমা ভুট্টোর নতুন উপন্যাস দি রানওয়েজের প্রধান থিম। উপন্যাসটি অনিতা, মন্টি ও সানি নামের তিন তরুণের জীবনরেখার ওপর ভিত্তি করে এগিয়েছে। তারা ইসলামি স্টেটের অগ্রযাত্রার সময় পাকিস্তান থেকে পালিয়ে ইরাক পাড়ি দিয়েছিলেন।
ফাতিমা ভুট্টো ইতোমধ্যেই একটি কাব্য গ্রন্থ, দুটি নন-ফিকশন (এর মধ্যে তার স্মৃতিকথা সংস অব ব্লাড অ্যান্ড সোর্ডও রয়েছে), দুটি ফিকশন রচনা করেছেন। দি ওয়্যারের সাথে সাক্ষাতকারে তিনি চরমপন্থী দলে যাওয়া তরুণদের কেন এভাবে উপস্থাপন করলেন তা জানান। তিনি মনে করেন, এসব তরুণের ভয়াবহ ভুল পথে যাওয়ার আগে তাদের সাথে সহানুভূতিসূচক আচরণ করা উচিত ছিল।
প্রশ্ন: আপনার গ্রন্থের মূল থিম হলো চরমপন্থা। আইএসআইএসের আকস্মিক উত্থানের কারণেই নাকি পাকিস্তানের ঘরের কাছে এর উত্থান ও অনেক পাকিস্তানি তাতে যোগ দেয়ার কারণে আপনি এই বিষয়টি বেছে নিয়েছেন?
ফাতিমা: এ নিয়ে বেশ ঝামেলার মধ্যে পড়েছি বলেই আমি এ নিয়ে লিখেছি। আমার বয়স এখন ৩৬। ফলে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ আগেকার ঘটনাবলী মনে আছে। ওই সময় আমার পাসপোর্টের রং বা আমার ধর্ম বেশির ভাগ লোকের মধ্যে কোনো ধরনের হুমকি সৃষ্টি করত না। তবে তরুণ প্রজন্ম এই নির্যাতনমূলক ছায়ার যুগকে দেখতে পাচ্ছে।
পাকিস্তান অবশ্যই দুর্ভোগ পুহিয়েছে। এই দেশের মাটির ওপর যেসব তরুণের রক্ত পড়েছে, তাদের মা-বাবাকে কী বলবেন? আইতজাজ হাসানের পরিবারকে কী বলবেন? একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা থেকে দুই হাজার ছাত্রকে রক্ষার জন্য মানবঢাল হিসেবে নিজেকে ব্যবহার করে সে প্রাণ দিয়েছে। তরুণ ও নির্দোষ লোকজনের বারবার আত্মত্যাগ করার ঘটনা আমার কাছে হৃদয়বিদারক মনে হয়েছে।
অপাশ্চাত্য দেশের ব্যথা পাশ্চাত্য বুঝতে পারে না। তারা চরমপন্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ মিথ্যা ভাষ্য নির্মাণ করেছে। আর তাই তাদেরকে তাদের যুদ্ধ, তাদের দখলদারিত্বের অজুহাত তৈরি করে দিয়েছে। অনেক কারণেই উপন্যাস রচনা করা যায়। তবে লিখতে যখন বসেছি, তখন মাত্র কয়েকটি বিষয়ই মাথায় ছিল।
প্রশ্ন: তিন মুখ্যচরিত্র এসেছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট থেকে। আপনি কি বিশ্বাস করেন, আজকের কোনো ধনী মুসলিম কিশোর অনিতার মতো গরিব খ্রিস্টান মেয়ের মতো ইসলামি চরমপন্থী হওয়ার প্রবণতায় থাকবে?
ফাতিমা: আমি একে মোটেই ইসলামি চরমপন্থা বলছি না। আজকের দুনিয়ার দিকে তাকান। চরমপন্থা কোনো এক ধর্মের লোকজনের তালুক নয়। তরুণরা বিশ্বজুড়ে থাকা ক্রোধ ও সহিংসতার কাছে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
যেকোনো ধর্মীয় বিশ্বাসের চেয়ে জাতীয়তাবাদের মাধ্যমেই চরমপন্থা সবচেয়ে বেশি উদ্দীপ্ত হয়। গবেষণায় বিষয়টি বারবার দেখা গেছে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক ২০০০-এর প্রথম দিকের প্রতিটি আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক বিশ্বাসে উদ্দীপ্ত ছিল তারা, ধর্মীয় নয়। নিউজিল্যান্ডে ২৮ বছরের সন্ত্রাসীর ৫০ জন মুসলিমকে হত্যার ঘটনাটি দেখুন। রাজনীতি ও তার জাতীয়তাবাদের ঘৃণাপূর্ণ ব্যাখ্যাই তাকে এ পথে ঠেলে দিয়েছে।
প্রশ্ন: আপনার প্রথম তিন চরিত্রের কাহিনী অনেকটাই ইসলামিক স্টেটে যোগ দেয়া ব্রিটিশ কিশোরী শামিমা বেগমের মতো। ব্রিটেনের অনেকে তার প্রত্যাবর্তনের অধিকারের বিরোধিতা করে বলছে, সে কোনো ধরনের ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য নয়। রানওয়েজে সানি তার সিদ্ধান্তের চরম প্রকৃতি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সে শামিমার পথই বেছে নিয়েছে। আপনি কি মনে করেন, এসব তরুণের ব্যাপারে এটিই সঠিক পথ?
ফাতিমা: দেখুন, শামিমা জন্মগ্রহণ করেছে ব্রিটেনে, শিক্ষাগ্রহণ করেছে ব্রিটেনে, চরমপন্থীও হয়েছে ব্রিটেনে। ব্রিটেন থেকেই সে বিপর্যয়কর সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে গেছে। তাহলে কিভাবে ব্রিটেন তার হাত মুছে ফেলবে। সে নাগরিক, তার অধিকার আছে। সে যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তবে তার বিচার হতে পারে, তাকে পুনর্বাসন করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ১৫ বছরের একজনকে কিভাবে পাসপোর্ট ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হলো? কর্তৃপক্ষ কেন জিজ্ঞাসা করেনি, তুমি কোথায় যাচ্ছ? সে এখন অনুশোচনা করছে, সে তিনটি মাসুম শিশু হারিয়েছে। আমি মনে করি, সে তার সিদ্ধান্তের জন্য অবিশ্বাস্য রকমের যন্ত্রণা ভোগ করেছে।
এসব তরুণ একাকিত্ব ও ক্রোধের কারণে দুনিয়ার বিরুদ্ধেই অবস্থান গ্রহণ করেছ। এসব ভয়াবহ ভুলের আগেই তাদের সাথে সহানুভূতিশীল আচরণ করা উচিত ছিল। রানওয়েজে সানি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি তার প্রথম বিকল্প ছিল না। সে একটা আশ্রয় চেয়েছে। কিন্তু পায়নি। এ কারণেই সে ভয়ঙ্কর পথটি বেছে নিয়েছে।
প্রশ্ন: আপনি ইরাকের একটি জিহাদি ক্যাম্প বেছে নিয়েছেন কেন? কেন তা বাড়ির আরো কাছে হলো না? আপনি কি পাকিস্তানের সন্ত্রাসী উপস্থিতি এড়াতে এ কাজ করেছেন?
ফাতিমা: আমার উপন্যাস দায়েস সম্পর্কে, পাকিস্তান সম্পর্কে নয়।
প্রশ্ন: নরেন্দ্র মোদি ও ইমরান খানের মতো প্রধানমন্ত্রীদের এ ধরনের চরমপন্থা ও নিঃসঙ্গতা দূর করতে কী ভূমিকা পালন করা উচিত বলে মনে করেন?
ফাতিমা: যেকোনো নেতার কাজ হলো তার দেশের তরুণদের কাছে একটি ভিশন উপহার দেয়া, এবং তরুণরাও যে ওই ভিশনের অন্তর্ভুক্ত তা নিশ্চিত করা। লোকজন যখন মর্যাদাপূর্ণ কাজ পায়, বাড়ি পায়, সহানুভূতি পায়, তখন তারা মারার জন্য কোথাও যায় না। দেশে যদি তাদের সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা দেয়া হয়, তবে তারা কোনো অবস্থাতেই অস্ত্র হাতে তুলে নেবে না।
লেখক: দিল্লিভিত্তিক ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

কোয়েটার বই বিক্রেতাদের দিন শেষ! by মোহাম্মদ আকবর নতিজাই

সাজিদ বালুচ। বয়স ২২। হাতে দুটি বই। একটি ড. মুবারক আলীর নির্বাচিত প্রবন্ধের সঙ্কলন, নাম ‘ইন দি শ্যাডো অব হিস্টরি।’ অপরটি ‘ইন সার্চ অব সলুউশন : অ্যান অটোবায়োগ্রাফি অব মির গাউস বখম বিজেনজো।’ সাজিদ বেলুচিস্তানের কেচ জেলার লোক। তিনি বেলুচিস্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের ছাত্র। তিনি ক্যাম্পাসের বুক পয়েন্টে এসেছেন এর মালিক মোহাম্মদ এশার কাছ থেকে কিছু ডিসকাউন্টের আশায়।
আমুদে ধরনের এশার বয়স মাত্র ৩৫ হলেও এর মধ্যে মাথায় বিশাল টাক গজিয়েছে। আর তা ঢাকার জন্য সবসময় টুপি পরে থাকেন। তিনি সাজিদকে ২৫ ভাগ কমিশন দিতে রাজি হলেন। ছাত্রদের ছাড় দেয়ার পক্ষপাতী তিনি। আর এই সাজিদের মতো ছাত্ররাই তার ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছে।
নিউজ উইক টাইম বুকল্যান্ডের মতো নগরীর বইয়ের দোকানগুলো এই সৌভাগ্য পায়নি।
৭২ বছর বয়স্ক সোহাইল আহমদ শিশুসুলভ হাসিমাখা মুখের জন্য পরিচিত। তিনি কোয়েটার সবচেয়ে প্রাচীন একটি বইয়ের দোকানের মালিক। নাম নিউ কোয়েটা বুক স্টল। ১৯৩৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত। তার জায়গাটি ভাড়া নেয়ার জন্য ব্যাংকগুলো ৫ লাখ রুপি দিতে রাজি। কিন্তু তিনি দোকান গুটিয়ে ফেলতে নারাজ। তিনি যে কোনো মূল্যে বইয়ের দোকানটি চালু রাখতে চান।
তিনি বলেন, ‘নিউজ উইক টাইম বুকল্যান্ডের মালিক সালিম বুখারি বলেছেন, আমি যেন কোনোভাবেই দোকানটি বন্ধ না করি। তবে তিনি নিজে আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি তার দোকানটি বিক্রি করে দিতে চান।’
তিনি অবশ্য দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। নিজে নিজেই বলেন, এছাড়া তিনি আর কীই বা করতে পারেন। তিনি নিজে বুড়ো হয়ে পড়েছেন। তার ছেলেদের একজন ইংল্যান্ডে, আরেকজন লাহোরে থাকেন। তার স্ত্রী মারা গেছেন। তবে সবচেয়ে বড় কথা, বই বিক্রি করে চলা যায় না।
এখনকার দিনে, আহমদের দোকানে ক্রেতা আসার ঘটনা বিরল। অথচ নগরীর একেবারে কেন্দ্রস্থলে তার দোকানটি।
আহমদ অবশ্য কয়েকটি কারণে এখনো দোকানটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী। দোকানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার বাবা মোহাম্মদ আইয়ুব। ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ারও আগে। ফলে এই দোকানটি তার পারিবারিক ঐতিহ্য। এই দোকানেই তার পুরনো বন্ধুরা আর সহকর্মীরা আসেন দেখা-সাক্ষাৎ করতে। এই কারণেই তিনি ব্যাংকের প্রলোভনেও ধরা দেননি।
এক সময় বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অংশ থেকে ছাত্ররাও আসতো এই দোকানে। এখন তাদের সাক্ষাৎ পাওয়া বিরল ব্যাপার।
আসলে বেলুচিস্তানে পাঠাভ্যাস কমে যাওয়ায় বই বিক্রিও কমে গেছে।
তবে বিষয়টি মানতে নারাজ ড. শাহ মোহাম্মদ মারি। তিনি উর্দু ভাষায় বেশ কয়েকটি গ্রন্থ লিখেছেন। তার মতে, লোকজন পড়ে ঠিকই। তবে তাদের পড়ার ধরনটি বদলে গেছে। লোকজন এখন ইন্টারনেট আর সামাজিক মাধ্যমে পড়াশোনা করে। এগুলোই এখন বই পুস্তকের নতুন উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে স্বীকার করেন, বইয়ের দোকানের জন্য এখন কঠিন সময়। বেলুচিস্তানে বই বিক্রি কমে যাওয়ার জন্য তিনি তিনটি কারণের কথা বলেন। একটি হলো আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, দ্বিতীয়ত ইন্টারনেটের মতো অনেক মাধ্যমের আবির্ভাব হয়েছে বিকল্প উৎস হিসেবে এবং তৃতীয়টি হলো বইয়ের মূল্য বেড়ে যাওয়া।

কাঠমান্ডুর দরবারে by গাজী মুনছুর আজিজ

নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থিত হনুমান ধোকা দরবার ১৯৭৯ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এটি ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত নেপালের রাজপ্রাসাদ ছিল। ঘুরে এসে লিখেছেন- গাজী মুনছুর আজিজ
দরবারে প্রবেশ পথের এক প্রান্তে বেশ বড় আকৃতির হনুমান মূর্তি। এ মূর্তির জন্যই দরবারটির পোশাকি নাম হনুমান ধোকা দরবার স্কয়ার। নেপালের কাঠমান্ডু শহরের এ দরবার কাঠমান্ডু দরবার স্কয়ার নামেও পরিচিত। ১৫০ রুপির টিকিট কেটে কাঠমান্ডুর প্রাচীন এ রাজপ্রাসাদে যখন প্রবেশ করি তখন সূর্য মাথা বরাবর। অবশ্য বরফের দেশ বলে সূর্যের তেজ খুব একটা গায়ে লাগছে না। তবে দরবারে প্রবেশ করে মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল। কারণ, দরবারের অনেক স্থাপনা ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে ভেঙে গেছে। এ ভূমিকম্পের প্রায় বছর দুই পর প্রথমবার এসেছিলাম এ দরবারে। এক বছরের মাথায় আবারও এলাম। এবারের ভ্রমণসঙ্গী সাইক্লিস্ট আবুল হোসেন আসাদ।
দরবারের অন্যতম আকর্ষণ বসন্তপুর টাওয়ার। ভূমিকম্পের আঘাতে এ টাওয়ারও ভেঙে গেছে। এ টাওয়ারসহ পুরোপুরি ভেঙেপড়া দরবারের স্থাপনাগুলো আবার নতুন করে আগের আদলে সংস্কার করা হচ্ছে। এছাড়া যেসব স্থাপনা বেশি বা অল্প ক্ষতি হয়েছে, সেগুলোরও সংস্কার চলছে আগের আদলে। কিছু কিছু স্থাপনার দেওয়াল কাঠ ও লোহার পাইপ দিয়ে ঠেক দেওয়া হয়েছে, যাতে ভেঙে না পড়ে।
দরবারের খোলা চত্বরে অস্থায়ী অনেক দোকানে নানা পণ্য সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। আমরা ঘুরে ঘুরে এসব দোকানের পণ্য দেখি। এসব পণ্যের মধ্যে আছে কাঁসা-পিতলের বৌদ্ধমূর্তিসহ বিভিন্ন দেব-দেবির মূর্তি, নেপালের ঐতিহ্যবাহী খুরকি বা নকশা করা খাপঅলা ছুরি, কাঁসা-পিতলের বিভিন্ন পাত্র, উজ্জ্বল রঙের পাথর, পুঁতি বা কাঠের মালা, চুড়ি, নানা গহনাসহ বিভিন্ন পর্যটন-স্মারক। কিছুক্ষণ এসব পণ্য দেখি।
দরবারের ইতিহাস ঘেঁটে জানি, ১৪৮২ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীন কাঠমান্ডুর প্রথম রাজা ছিলেন রতœ মল্লা। মূলত তার নির্দেশেই দরবারের নির্মাণ কাজ শুরু। ১৬ শতকেও কিছু নির্মাণ হয়েছে। ১৬৭২ সালে দরবারের প্রধান গেটের সামনে হনুমানের মূর্তি স্থাপন করা হয়। তবে ১৭ শতকে রাজা প্রতাপ মল্লার দ্বারা দরবারের অধিকাংশ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। মূলত ১৫ থেকে ২০ শতকের মধ্যে নির্মিত হয় রাজকীয় এ প্রাসাদ। রতœ মল্লা থেকে পৃথিবী বীরবিক্রম শাহ পর্যন্ত প্রত্যেক রাজাই প্রাসাদে কিছু না কিছু নির্মাণ বা সংস্কার করেন। এ দরবার ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত নেপালের রাজকীয় প্রাসাদ ছিল। ১৯৭৯ সালে এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।
দরবারে একাধিক চৌক বা আঙিনা আছে। প্রতিটি চৌকের আলাদা আলাদা নাম। এসব চৌক বা আঙিনায় যেসব ভবন বা মন্দির আছে, তার নামও আলাদা আলাদা। একেকটি ভবন একেক রকমের। কোনোটি দোতলা, কোনোটি তিনতলা, আবার কোনোটি চারতলা বা তারও বেশি তলা বিশিষ্ট। তবে সব ভবনই নান্দনিক কারুকাজে নির্মিত এবং প্রায় একই ধাঁচের।
ঘুরে ঘুরে একে একে আসি দরবারের দখ চৌক, সুন্দরী চৌক, মহাখালী চৌক, মাসান চৌক, মহা বিষ্ণু মূর্তি, নরসিংহের মূর্তিসহ বিভিন্ন চৌক। সব চৌক বা আঙিনার সব ভবনই অনেকটা একই নকশায় নির্মিত। এছাড়া অধিকাংশ ভবনের ওপরের অংশ চৌচালা আকৃতির। কিছু আছে গোলাকার। তবে সব ওপরের অংশই পর্যায়ক্রমে নিচেরটার চেয়ে ওপরেরটা ছোট হয়ে উঠে গেছে। অনেকটা পিরামিডের মতো। অবশ্য প্রত্যেক ভবনেরই দরজা ও জানালা কাঠের। শুধু কাঠের নয়, এসব দরজা ও জানালায় নিখুঁতভাবে খোদাই করে নকশা করা ফুল, পাখিসহ বিভিন্ন দেব-দেবির মূর্তি। কাঠের এসব কারুকাজ সত্যিই বিস্ময়কর। শত শত বছর আগে যেসব কারিগর বা শিল্পী কাঠের এসব কারুকাজ করেছেন, তারা আসলেই অনেক মেধাবী ও সৃজনশীল জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। কাঠের কারুকাজ ছাড়াও দরবারের বিভিন্ন আঙ্গিনা বা ভবনের দরজার দুই পাশে আছে বড় আকৃতির সিংহসহ বিভিন্ন মূর্তি।
দরবারের একটি আঙিনায় দেখি অনেক কবুতর। দরবারে আসা দর্শনার্থীরা এসব কবুতরকে খাবার ছিটিয়ে খেতে দেন। ভ্রমণসঙ্গী আসাদও কিছু খাবার ছিটিয়েছেন। এছাড়া দরবারের খোলা চত্বরের অস্থায়ী দোকানের পাশাপাশি বিভিন্ন ভবনের নিচেও ছোট ছোট দোকান আছে। এসব দোকানে আছে বিভিন্ন গরম কাপড়, চিত্রকর্মসহ নানা ধরনের পণ্য ও পর্যটন স্মারক।
বিভিন্ন আঙিনা ঘুরে প্রবেশ করি দরবারের জাদুঘরে। মূলত এটিও একটি আঙিনা বা ভবন। এ আঙিনায় এক সময় নেপালের রাজ পরিবারের বসবাস ছিল। আঙিনার বারান্দার দেওয়ালজুড়ে সাজানো নেপালের রাজপরিবারের ছবি। এছাড়া এ জাদুঘরে আছে শাহ সিংহাসন। শাহ রাজারা এ সিংহাসন ব্যবহার করতেন। আরও আছে রাজকীয় পরিবারের সদস্যদের বহন করার পালকি। পিতলসহ নানা ধাতুর মাধ্যমে কারুকাজ করা এ পালকি রাজপরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠানেও ব্যবহার হতো।
পালকির পাশাপাশি রাজপরিবারের সদস্যদের লাশ বহন করার জন্য ব্যবহৃত স্ট্রেচারও আছে। এছাড়া জাদুঘরের আরেক আকর্ষণ মল্লা সিংহাসন। কাঠের নির্মিত এ সিংহাসন নান্দনিক কারুকাজে অলঙ্করিত।
বিকালের দিকে বের হই দরবার থেকে। আগের বছর যখন এসেছিলাম, তখন এ দরবার দেখে ললিতপুরের পাটান দরবারেও পা রাখি। কাঠমান্ডুর এ দরবারও ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। সে গল্প আরেক দিন।
ছবি : লেখক

বাংলাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে কি যথেষ্ট সচেতনতা তৈরি হয়েছে by সায়েদুল ইসলাম

ঢাকায় নেশাখোরদের এক আড্ডা
কলেজে পড়ার সময় ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মাধ্যমে ইয়াবায় আসক্ত হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের বিশ বছরের এক তরুণী।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, "প্রথম প্রথম ওরা ফ্রি ইয়াবা দিতো, খাওয়ার ব্যবস্থাও বন্ধুরাই করে দিতো। তখন আমি বুঝতেও পারছিলাম না, আমার কোন ধারণাও ছিল না যে, কী ভয়াবহ বিপদে জড়িয়ে পড়ছি!"
তিনি বলছেন, ইয়াবা খেলে কী হয়, এর ক্ষতির দিকগুলো কী - এ সম্পর্কে তাকে কেউ কখনো সচেতন করেনি।
তবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার পর যখন পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেন, তখন তারা তাকে ভালো করার অনেক চেষ্টা করেন। নানা ভাবে বোঝান। রিহ্যাবে ভর্তি করেন।
কয়েক দফা রিহ্যাবে চিকিৎসার পর তিনি এখন সুস্থ হয়েছেন। বিয়ে হয়েছে, একটি সন্তানও রয়েছে।
কিন্তু এই তরুণীর মতো বাংলাদেশের আরো অনেক তরুণ-তরুণী বলছেন, তারা যখন মাদকে আসক্ত হন, তখন এর অপকারিতা বা ক্ষতির দিক সম্পর্কে তারা জানতেন না। নিছক আগ্রহ বা বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে তারা এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
গবেষণায় কী আছে
বাংলাদেশের নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক অধ্যাপক এমদাদুল হক ২০১৮ সালে একটি গবেষণায় বলেছেন, দেশটিতে প্রায় ৭০ লক্ষ মাদকাসক্ত রয়েছে, যাদের অধিকাংশই ইয়াবাসেবী।
এছাড়া আছে ফেন্সিডিল, হেরোইন এবং অন্যান্য মাদক।
তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এতদিন এ বিষয়টা খোলামেলা ভাবে আলোচিত হয় নি, কিন্তু পরিস্থিতি সত্যি ভয়াবহ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকাসক্তদের নিয়ে পারিবারিক বা সামাজিকভাবে লুকোছাপার কারণে একদিকে যেমন আসক্তদের চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি মাদকাসক্তি ঠেকাতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
সচেতনতা তৈরি হয়েছে কতটা
মুক্তি ক্লিনিক নামের একটি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক ড. আলী আশকার কোরেশী বিবিসি বাংলাকে বলছেন, এটা ঠিক যে, মাদক নিয়ে পারিবারিক, সামাজিকভাবে সচেতনতার ব্যাপারে একটা ঘাটতি আছে।
"মাদক দ্রব্যের ভয়াবহতা নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে তা এখনো অনেক অপ্রতুল বলা যায়। কারণ শহর এলাকা ছাড়িয়ে মাদক এখন তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে গেছে এবং তরুণরা ব্যবহার করছে"।
"যতটুকু প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে, তাও হচ্ছে বড় শহর এলাকায়, তৃণমূল পর্যায়ে আসলে সেরকম প্রচারণা নেই। কিন্তু গ্রামে-গঞ্জে মাদক পাওয়া যাচ্ছে এবং অনেক তরুণ-তরুণী আসক্ত হয়ে পড়ছে" - বলছেন মি. কোরেশী।
"শিক্ষা কার্যক্রমে ইদানীং কিছু কিছু প্রচারণা বা সচেতনতার উদ্যোগ শুরু হয়েছে, কিন্তু তাও পর্যাপ্ত নয়। কারণ প্রতিটি স্কুল-কলেজে এ ব্যাপারে সচেতনতার উদ্যোগ থাকা দরকার" বলছিলেন তিনি।
তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, "যখন আমরা মাদকাসক্ত রোগীর চিকিৎসা করতে যাই, তখন দেখি তাদের অভিভাবকদেরই এ সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। এমনকি সন্তান মাদকে আসক্ত জানার পরেও তাদের মনোভাব থাকে, দেখি না কী হয়। এভাবে কয়েক বছর পার হয়ে যায়, আর তাদের সন্তান মাদকে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে"।
"শুধু মাদকে আসক্ত নয়, তাদের পরিবার, পিতামাতার আগে সচেতন হওয়ার দরকার। যখনি কেউ সন্তানের মধ্যে আচার-আচরণের পরিবর্তন দেখতে পাবেন, তখনই তার উচিত হবে একজন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া" তিনি বলেন।
মাদক নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক ড. আলী আশকার কোরেশী বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান বা সচেতনতা শুরু করতে হবে পরিবার থেকে। সামাজিকভাবে এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে, না হলে শুধু সরকার বা এনজিওর ওপর নির্ভর করে মাদকের এই বিপুল বিস্তৃতি ঠেকানো যাবে না।
মাদকবিরোধী অভিযানে কি কাজ হচ্ছে?
বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১১ সালে মাদক সংক্রান্ত মামলা হয়েছিল ৩৭ হাজার ৩৯৫টি, আসামি ছিল ৪৭ হাজার ৪০৩ জন। ২০১৭ সালে মামলার সংখ্যা ১ লাখ ছয় হাজার ৫৩৬ জন, আসামি এক লাখ ৩২ হাজার ৮৮৩ জন।
তারা বলছেন, ইয়াবা পরিবহনে সুবিধাজনক, দামও কম আর মিয়ানমার থেকে প্রচুর যোগান আসছে, এসব কারণে এই মাদকটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসায় রোহিঙ্গা থেকে শুরু করে নানা পেশাজীবী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী, ছাত্র-ছাত্রীরা জড়িয়ে পড়েছে। সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানে অনেক সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত বা গ্রেপ্তার হয়েছে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মসমর্পণ বা অভিযান অব্যাহত রাখার ঘটনার পরও ইয়াবাসহ অবৈধ মাদক পাচার বা এর ব্যবসার প্রত্যাশা অনুযায়ী কমেনি।
এর কারণ হিসাবে তারা বলছেন, মাদক বিরোধী অভিযান চললেও, এখনো মাদকে আসক্ত তরুণদের এ থেকে পুরোপুরি সরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে এর ব্যবসাও বন্ধ হচ্ছে না।
তবে বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ জামাল উদ্দীন আহমেদ বলছেন, মাদকের ক্ষতি ও অপব্যবহার নিয়ে তাদের প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডে একসময় ঘাটতি থাকলেও, এখন তারা সেসব কর্মকাণ্ড অনেক বাড়িয়েছেন।
"এটা ঠিক যে, এসব কার্যক্রম সম্প্রতি বিস্তৃত করা হয়েছে। এটা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, মাদক নিয়ে এতো কথা বা চর্চা অতীতে কখনো হয়নি। মাদক একটি অবহেলিত বিষয় ছিল, ভেতরে ভেতরে মাদক যে আগ্রাসন চালাচ্ছে, আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে, সেই সচেতনতা আমাদের ছিল না" - বলছিলেন মি. আহমেদ।
তিনি আরো বলছিলেন "অভিযান চালানোর পাশাপাশি আমরা মাদকের চাহিদা হ্রাস করার নানা কর্মসূচী নিয়েছি। সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ব্যানার ফেস্টুন ঝুলিয়ে, বিতর্ক কর্মসূচী, র‍্যালি, নানা ধরণের কর্মসূচীর মাধ্যমে মাধ্যমের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছি। গত বছরে সারাদেশে আমরা ছোটবড় মিলিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে প্রায় ৯ হাজার সমাবেশ করেছি"।
''বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায় থেকে সামাজিকভাবে এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির একটি চেষ্টা আমরা করছি।''
এর মধ্যে ২৮ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদক বিরোধী একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সেখানে মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
মহাপরিচালক মোঃ জামাল উদ্দীন আহমেদ বলছেন "এখনো এটা সত্যি যে, সমাজের সবাই যে সমানভাবে জাগ্রত হয়েছে তা নয়। তবে তাদের জাগিয়ে তোলার কাজটা শুরু হয়েছে"।
নেশার কবলে ঝড়ে পড়ছে অনেক সুস্থ প্রাণ।