Showing posts with label রাজীব আহমেদ. Show all posts
Showing posts with label রাজীব আহমেদ. Show all posts

Friday, October 4, 2019

যমুনার তীরে দুধের গ্রাম by রাজীব আহমেদ

অঙ্কটা খুব সহজ। একটি গাভি দিনে ২০ লিটার দুধ দেয়। এর মধ্যে ১২ লিটার দুধের দামের সমপরিমাণ অর্থ গাভিটির পেছনে খরচ। লাভ ৮ লিটার, যার দাম প্রায় ৩০০ টাকা। এমন ৪টি গাভি পালন করতে পারলে সংসারের খরচ উঠে যায়। বছর শেষে ৪টি বাছুর বিক্রি করে পাওয়া যায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
হিসাবটি দিলেন রাজু আহমেদ, যিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের স্নাতকোত্তরের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সাতটি গরুর একটি খামার পরিচালনা করেন। এর মধ্যে তিনটি গাভি দুধ দেয়। প্রতি সপ্তাহে দুধ বিক্রি করে রাজু আহমেদের মোট আয় ১৬ হাজার টাকা। বিপরীতে খরচ হয় ৭-৮ হাজার টাকা।
রাজু আহমেদের গ্রামের নাম জামিরতা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। স্থানীয়রা জানান, গ্রামের এক পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। একটি সরু পাকা রাস্তা গ্রামটিকে উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। গ্রামটিকে বাংলাদেশের অন্য সব গাম থেকে আলাদা করেছে গরু পালন। জামিরতার প্রায় সব বাড়িতেই কমবেশি গরু পালন করা হয়। দুধ কিনে নেয় প্রাণসহ বিভিন্ন কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
জামিরতায় রাজুদের বাড়ির সামনেই প্রাণের দুধ সংগ্রহ ও শীতলীকরণ কেন্দ্র। প্রতিদিন সকাল ও বিকেল সেখানে দুধ সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেই দুধ নেওয়া হয় শাহজাদপুরে প্রাণের ডেইরি কমপ্লেক্সে। সেখানে কিছু দুধ প্রক্রিয়া করা হয়। বাকিটা চলে যায় নরসিংদীতে প্রাণের কারখানায়। সেখানে তৈরি হয় প্রাণের ইউএইচটি ও পাস্তুরিত তরল দুধ, গুঁড়া দুধ, ঘি, মাখন, পনির, লাচ্ছি, দই, মাঠা, লাবাং ও বিভিন্ন স্বাদযুক্ত বা ফ্লেভার্ড মিল্ক।
শাহজাদপুর ছাড়া পাবনার চাটমোহর, নাটোরের গুরুদাসপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি এবং রংপুরে প্রাণের মোট পাঁচটি ডেইরি হাব বা কেন্দ্র রয়েছে। প্রায় ১২ হাজার চুক্তিভিত্তিক খামারি প্রাণের জন্য দুধ উৎপাদন করে। প্রাণ জানিয়েছে, ২০০১ সাল থেকে তারা হাব প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু করে। ২০২৫ সাল নাগাদ তারা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আরও ৫টি হাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে।
প্রাণের কর্মকর্তা ও খামারিরা জানান, ননির মাত্রাভেদে প্রতি লিটার দুধের দাম ধরা হয় ৩৬ থেকে ৪১ টাকা। আট ধরনের পরীক্ষার পর দুধগুলো সংগ্রহ করা হয়। খামার করার ক্ষেত্রে পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেয় প্রাণ। জাত উন্নয়নে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিমেন বা বীর্য এনে বাছাই করা গরুর প্রজনন করার ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি খামার সম্প্রসারণের জন্য সোনালী, কর্মসংস্থান ও আইএফআইসি ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থাও করা হয় প্রাণের পক্ষ থেকে।
প্রাণের ডেইরি সম্প্রসারণের প্রধান কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান বলেন, ‘উন্নত জাতের গাভি পালন করতে পারলে খামারিরা লাভবান বেশি হন। খামারিদের গাভিগুলোকে এখন উন্নত জাতের কৃত্রিম প্রজননের ব্যবস্থা করা দরকার। কিন্তু আমরা উন্নত জাত আমদানির অনুমতি পাচ্ছি না।’
শাহজাদপুরে দুধকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কেউ দুধ পরিবহন করেন। কেউ গোবর কিনে সার তৈরি করেন। কেউ ঘুঁটে বিক্রি করেন। কেউ আবার ঘাস চাষ করে বিক্রি করেন।
স্থানীয় খামার মালিক সানোয়ার হোসেন বলেন, একসময় এ অঞ্চলে কর্মসংস্থানের বড় উৎস ছিল তাঁত। এখন গরু পালন আয়ের পথ দেখাচ্ছে।

Thursday, August 22, 2019

বাংলাদেশ এখন রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে দ্বিতীয় by রাজীব আহমেদ

বিশ্বে যে কয়েকটি দেশের রপ্তানি আয় খুব দ্রুত বাড়ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। গড় হিসাবে এক দশক ধরে দেশের রপ্তানি আয়ে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। অগ্রসরমাণ অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়, ওপরে আছে কেবল ভিয়েতনাম। বিশ্ববাণিজ্যের এ চিত্র উঠে এসেছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ-২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে। এটি গত সপ্তাহে প্রকাশ করা হয়। সব মিলিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশ এখন ৪২ তম বড় রপ্তানিকারক দেশ, অন্যদিকে আমদানিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৩০তম।

রপ্তানিতে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রার অগ্রভাগে পোশাক খাত। একটু পেছনের দিকে তাকালে দেখা যায়, বৈশ্বিক পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। ২০০০ সালে পোশাক বাজারে এ দেশের হিস্যা ছিল আড়াই শতাংশের কিছু বেশি। এটা গেল বছর সাড়ে ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এতে পোশাক রপ্তানিতে একক দেশ হিসেবে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

অবশ্য এত সুখবরের মধ্যে কপালে ভাঁজ ফেলার মতো খবরও আছে। বাংলাদেশের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ভিয়েতনাম। ২০১৮ সালে বৈশ্বিক পোশাক বাজারে ভিয়েতনামের হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। বাংলাদেশ একটু ওপরে আছে। কিন্তু ২০১৮ সালে বাংলাদেশের হিস্যা যেখানে কিছুটা কমেছে, সেখানে ভিয়েতনাম বেশ এগিয়েছে। ২০১৮ সালে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির হার ছিল ১৩ শতাংশ, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ছিল ১১ শতাংশ। দুই দেশেরই রপ্তানি আয় ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারের মতো।
  • ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ-২০১৯ শীর্ষক প্রতিবেদন।
  • বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রতিবেদনটি গত সপ্তাহে প্রকাশ করা হয়।
  • বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশ এখন ৪২তম বড় রপ্তানিকারক দেশ।
  • রপ্তানিতে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার অগ্রভাগে পোশাক খাত।
বাংলাদেশের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পেছনের কারণ জানতে চাইলে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি ও শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক হাসান তিনটি কারণ উল্লেখ করেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘পোশাকের নতুন বাজার খোঁজা ও নতুন নতুন পোশাক পণ্য উৎপাদনে আমরা নিয়মিত প্রচেষ্টা চালিয়েছি, এখনো চলছে। আরেকটি দিক হলো যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া উন্নত করতে অব্যাহত বিনিয়োগ।’ ফারুক হাসানের মতে, তৃতীয় কারণটি হলো পোশাক খাতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি। তিনি বলেন, সব মিলিয়ে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে কারখানার মালিকেরা সফল হয়েছেন।

চীনা হিস্যা ভিয়েতনামে
বৈশ্বিক পোশাক বাজারে চীনের হিস্যা কমছে। ২০১৭ সালের তুলনায় সাড়ে ৩ শতাংশ কমে ২০১৮ সালে চীনের হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ শতাংশের বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বাংলাদেশের হিস্যাও কিছুটা কমেছে। বেড়েছে ভিয়েতনামের। তাহলে চীনা ব্যবসা কি ভিয়েতনামেই বেশি যাচ্ছে?

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এখন পর্যন্ত চীনা ব্যবসা আমরা পাচ্ছি না। ভিয়েতনাম অনেক বেশি পাচ্ছে। এর কারণ শুল্ক সুবিধা ও সংস্কৃতি। বাংলাদেশের অবকাঠামো এখনো ভালো নয়।’ তিনি বলেন, কম্বোডিয়ার মতো দেশে প্রস্তুত জমি পাওয়া যায়। গ্যাস-বিদ্যুৎ সহজেই মেলে। বাংলাদেশের মতো তারা বলবে না যে এখন টাকা দাও, কয়েক বছর পরে জমি পাবে।

ভিয়েতনাম এত ভালো কীভাবে করছে, আরেকটি ব্যাখ্যা দেন ফারুক হাসান। তিনি বলেন, ভিয়েতনাম কৃত্রিম তন্তুর পোশাক বেশি রপ্তানি করে, যার দাম বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশও নয়।

আর কেউ পারেনি
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবশ্য রপ্তানি খাতের হিস্যা এখনো কম। ডব্লিউটিওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের জিডিপিতে পণ্য ও সেবা রপ্তানি খাতের অবদান দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৬ শতাংশে। স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে অ্যাঙ্গোলা (৩৮.৬ %), কম্বোডিয়া (৭৪ %) ও মিয়ানমারের (২৪.৫ %) হার আরও বেশি।

এদিকে পোশাক খাত ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো খাত রপ্তানিতে তেমন এগোতে পারেনি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৫৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে পোশাক খাতের হিস্যা ৮৪ শতাংশ। এটি বছর বছর বাড়ছে। অন্যদিকে চামড়া, হোম টেক্সটাইল, পাট, চিংড়ি ইত্যাদি খাত একটি গণ্ডির মধ্যে আটকে গেছে।

এগুলোকে একটি ‘হতাশাজনক চেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে আহসান এইচ মনসুর বলেন, মোদ্দা কথা হলো দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিদেশিরা পুঁজি, বাজার ও প্রযুক্তি নিয়ে আসবে। যেটা ভিয়েতনামে, ফিলিপাইনে হয়েছে। এ দেশে বিদেশি বিনিয়োগ যেটুকু আসছে, তার বেশির ভাগটাই জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি খাতে। উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক খাতেও বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। বিজিএমইএ তো সেটা চায় না।

পোশাক খাতে বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহ না দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক বলেন, ‘পোশাক খাতের সংযোগ শিল্পে (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ) বিদেশি বিনিয়োগ এলে আমরা খুব খুশি হব। সেটা আমাদের খুব দরকার। কারণ উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পর পোশাক রপ্তানিতে দেশীয় কাপড় ব্যবহার না করলে বাণিজ্য সুবিধা মিলবে না।’ তিনি মনে করেন, পোশাক খাতে যেসব ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা সক্ষমতা অর্জন করেছেন, সেখানে বিদেশি বিনিয়োগের দরকার নেই।

Monday, June 3, 2019

বাংলাদেশের জন্য দ্রুত খুলছে জাপানের দুয়ার by রাজীব আহমেদ

চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইন আজকে যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে একটা বড় অবদান জাপানিদের। জাপানি কোম্পানিগুলো ওই সব দেশে কারখানা করেছে, প্রযুক্তি হস্তান্তর করেছে, তাতে স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ফলাফল মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে।
বাংলাদেশেও এখন জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ বাড়ছে। পাশাপাশি জাপান সরকারও বাংলাদেশে তাদের উন্নয়ন সহায়তা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে। এতে করে জাপান বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার হয়ে উঠছে।
জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, একটি হাঁস উড়াল দিলে তাকে দেখে অন্য হাঁসও উড়তে শুরু করে। তেমনি জাপানের মতো বিনিয়োগকারী দেশ যখন কোনো দেশে যায়, তখন অন্য বিনিয়োগকারীরাও সেখানে বিনিয়োগের চিন্তা করে।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আজকের উত্থানের পেছনে জাপানের ভূমিকাকে অনেক বড় বলে মনে করা হয়। জাপান অনেক দিন ধরেই চীনের পাশাপাশি অন্য দেশে কারখানা করার ওপর জোর দিচ্ছে, যাকে ‘চীন প্লাস ওয়ান’ নীতি বলা হয়। বাংলাদেশের উচিত যেসব ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা কম, সেখানে জাপানিদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। বিশেষ করে যন্ত্রপাতি, সংযোগ শিল্প, কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য উৎপাদনে জাপানি বিনিয়োগ ভালো হবে।
জাপান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে বাংলাদেশে কার্যরত জাপানি কোম্পানির সংখ্যা ছিল ৭০টি। এক দশক পর ২০১৮ সালে সংখ্যাটি ২৭৮-এ উন্নীত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কারখানা করেছে জাপানের মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড হোন্ডা। এছাড়া ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের কারখানা করেছে এসিআই, যেখানে সহায়তা দিয়েছে জাপানের ইয়ামাহা মোটর করপোরেশন। তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান জাপান টোব্যাকো গত জুনে দেশের আকিজ গ্রুপের তামাক ব্যবসা কিনে নেয়। এতে জাপানের কোম্পানিটি বিনিয়োগ করছে ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ইস্পাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিপ্পন স্টিল অ্যান্ড সুমিতমো মেটাল দেশীয় প্রতিষ্ঠান ম্যাকডোনাল্ড স্টিল বিল্ডিং প্রোডাক্টসের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইস্পাত কারখানা করছে। তারা ১০০ একর জমি বরাদ্দের বিষয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে চুক্তি করেছে।
জাপানের সজিত করপোরেশন মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প পার্ক করতে চাইছে। জাপানের সুমিতমো করপোরেশন জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজ করতে গত রোববার চুক্তি করেছে বেজার সঙ্গে। ঢাকায় একের পর এক স্টোর খুলছে জাপানি পোশাকের ব্র্যান্ড ইউনিক্লো ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড মিনিসো।
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিনিয়োগ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ১ হাজার ৫৭০ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করেছে। প্রতি ইয়েনের বিনিময়মূল্য ৭৭ পয়সা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২১২ কোটি টাকা। আগের বছরের চেয়ে এ দেশে জাপানের বিনিয়োগ বেড়েছে ৩৯ শতাংশ বেশি। অবশ্য ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, এমনকি মিয়ানমারের তুলনায় পরিমাণটি নগণ্য।
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস, অর্থাৎ জুলাই-এপ্রিল সময়ে জাপানে ১১৭ কোটি ডলারের বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে জাপান থেকে বাংলাদেশের পণ্য আমদানিও বাড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে ১৮৭ কোটি ডলারের জাপানি পণ্য আমদানি হয়েছে, এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশ।
জাপান ও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) জেনারেল সেক্রেটারি তারেক রাফি ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, জাপানিরা কোনো দেশে বিনিয়োগ করলে শুধু মুনাফা করে চলে যায় না। তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য কাজ করে। তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশে আরও অনেক জাপানি কোম্পানি বিনিয়োগ করবে।
বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ ৩৯% বেড়েছে। জাপানে রপ্তানি বেড়েছে ২৩%। বিনিয়োগ-বাণিজ্যে বড় অংশীদার হয়ে উঠছে জাপান।

Thursday, April 4, 2019

পোশাকপল্লির জমি: ৫০০–এর মধ্যে ৪৪১ একরই শেষ by রাজীব আহমেদ ও শুভংকর কর্মকার

পোশাকপল্লির জমি: ৭৬টি কোম্পানি সেখানে জমি নিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী পোশাকপল্লিসহ ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বুধবার: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের পোশাকপল্লিতে জমি নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা। সেখানে পোশাকপল্লির জন্য রাখা ৫০০ একর জমির ৪৪১ একর ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। জমি ইজারা নিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) ১০০ কোটি টাকা দিয়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
এর মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের জন্য পরিকল্পিত শিল্পনগর প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে। এর আগে মুন্সিগঞ্জের বাউসিয়ায় গার্মেন্টস শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ মাঝপথে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছিল।
বঙ্গবন্ধু শিল্পপার্কে জমি বরাদ্দের বিষয়ে বিজিএমইএর সঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চুক্তি হয় ২০১৮ সালের ২১ মার্চ। এরপর বিজিএমইএ সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে জমি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ইতিমধ্যে ৭০টি কোম্পানি সেখানে জমি নেওয়ার জন্য টাকা জমা দিয়েছে। আরও ৬টি কোম্পানি জমি নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করলেও টাকা এখনো জমা দেয়নি। আগামী বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে, যার মধ্যে একটি বিজিএমইএর পোশাকপল্লি।
বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির প্রথম আলোকে বলেন, ‘জমি বুঝিয়ে দিলেই আমরা কারখানার নির্মাণকাজ শুরু করব। সেখানে মূলত বড় ও মাঝারি উদ্যোক্তারা জমি নিয়েছে। তারা ওই জমিতে বৈচিত্র্যপূর্ণ পোশাক পণ্য উৎপাদনের চিন্তা করছে।’
বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফেনী ও সীতাকুণ্ড ঘিরে গঠিত হচ্ছে। এর প্রস্তাবিত আকার ৩০ হাজার একর। এটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় শিল্প এলাকা। এতে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ১ হাজার ১৫০ একর, শিকদার গ্রুপ, বসুন্ধরা ও গ্যাসমিন মিলে এসবিজি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ৫০০ একর, বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ ৫০০ একর এবং পিএইচপি গ্রুপ পিএইচপি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য ৫০০ একর জমি নিয়েছে। অনেক দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান সেখানে কারখানা করার জন্য জমি নিয়েছে।
সব মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ৫৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৭৭ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে বেজা। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। এতে প্রায় সাত লাখ মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
বেজা জানিয়েছে, মিরসরাইয়ে ইতিমধ্যে ২০ একর জমিতে এশিয়ান পেইন্টস, ১০ একর জমিতে আরমান হক ডেনিম, ১০ একর জমিতে মডার্ন সিনটেক্স এবং ১০ একর জমিতে জুজু জিনইউয়ান কেমিক্যাল কারখানা তৈরির কাজ শুরু করেছে।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বিজিএমইএর জমিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হবে আগামী মাসে। এরপর রাস্তাঘাট
ও অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ শুরু হবে। আগামী বছরের মাঝামাঝিতে কারখানা করা যাবে বলে আশা করা যায়।
বিজিএমইএর যারা জমি নিয়েছে
পোশাকপল্লিতে ইতিমধ্যে জমি নিয়েছে স্টারলিং ডেনিমস, বান্দু ডিজাইন, স্টারলিং স্টাইলস, দ্যাটস ইট স্পোর্টসওয়্যার, অ্যাপারেল গ্যালারি, আরটিস্টিক ডিজাইন, ইপিলিয়ন স্টাইল, গ্লোবাল শার্ট, মেনস ফ্যাশন, ইউনিগিয়ার লিমিটেড, এসকিউ সেলসিয়াস, মার্স স্পোর্টসওয়্যার, গ্রাফিকস টেক্সটাইল, জেনেসিস ফ্যাশনস্, কলম্বিয়া গার্মেন্টস, কলম্বিয়া অ্যাপারেলস, আরডিএম অ্যাপারেলস, ডব্লিউ অ্যাপারেলস, ব্যাবিলন গার্মেন্টস, ব্যাবিলন ক্যাজুয়ালওয়্যার, ক্লিফটন কন, ক্লিফটন অ্যাপারেলস, ফোর এইচ ফ্যাশন, চার্ম ফ্যাশন, ভ্যানকট লিমিটেড, করিম টেক্সটাইল, এসএফ ডেনিম অ্যাপারেলস, মজুমদার গার্মেন্টস, তুসুকা ট্রাউজারস, ভিজ্যুয়াল নিটওয়্যার, এনার্জিপ্যাক ফ্যাশন ও ইভা সোয়েটারস।
আরও রয়েছে অ্যালপস্ অ্যাপারেলস, আরও টেক্সটাইল মিলস, ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং, পশ গার্মেন্টস, মেসার্স এআরএল অ্যাপারেলস, স্যামস অ্যাটায়ার লিমিটেড, ফারসিয়িং নিট কম্পোজিট, ডেনিম ফ্যাশনস, ইএইচ ফেব্রিকস, প্যাসিফিক কটন, কটনলাইন বিডি, কটন ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস, তুসুকা জিনস, উরানাস অ্যাপারেলস, আফরাহ ড্রেসেস, ওয়েল ফ্যাশন, তাফফ অ্যাপারেলস, ইমেজ গার্মেন্টস, শামসের রাজিয়া ফ্যাশন ও শামসের অ্যাপারেলস।
এ ছাড়া শানশিন কোম্পানি (বিডি) লিমিডেট, মাস্ক ট্রাউজারস, আরআর ফ্যাশন, টাওয়েল টেক্স লিমিটেড, টিবিএইচ ফ্যাশনটেক্স, আদিলা অ্যাপারেলস, এস-সিক্স ফ্যাশনস, অ্যাডভান্স ওয়ার্ল্ড, আল-ইত্তেফাক টেক্সটাইল, বিএলপি ওয়ার্ম ফ্যাশন, গার্মেন্টস হোম (প্রা.) লিমিটেড, প্রোগ্রেসিভ অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রিজ, মিলো ফ্যাশনস, কে গার্মেন্টস, চৌধুরী ফ্যাশন ওয়্যার, মদিনা গার্মেন্টস ও আরএনএসসিও সোয়েটারস লিমিটেড বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে জমি নিয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের সুবিধা
বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর হবে পূর্ণাঙ্গ শিল্পশহর। এতে কারখানার পাশাপাশি আবাসন, বিনোদন ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা থাকবে। মিরসরাইয়ে এখন ভূমি উন্নয়নের পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। এখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি দেবে সরকার। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আলাদা একটি বন্দর থাকবে, যেটি দিয়ে সহজেই চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বন্দরে পণ্য আনা-নেওয়া করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরণি নামে চার লেনের একটি সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে, যেটি পরে আট লেন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে এককালীন ৫০ বছরের ভাড়া পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটার অনুন্নত জমির ইজারামূল্য ধরা হয়েছে শূন্য দশমিক ৩০ ডলার এবং উন্নত জমির মূল্য ধরা হয়েছে দশমিক ৬০ ডলার। বেজা জানিয়েছে, বিজিএমইএর ৫০০ একর জমির ৫০ বছরের ইজারামূল্য ৫০০ কোটি টাকা। তারা তিন কিস্তিতে ১০০ কোটি টাকা দিয়েছে বেজাকে।
মিরসরাইয়ে জমি বরাদ্দের জন্য ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে আবেদন নেওয়া শুরু করে বেজা।

Wednesday, March 6, 2019

ভোক্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের চাই লাভ by ইফতেখার মাহমুদ ও রাজীব আহমেদ

  • • কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
  • • একই সঙ্গে সুলভ দামে নিরাপদ খাদ্য দিতে হবে ভোক্তাকে।
কৃষকের চাই ফসলের ন্যায্যমূল্য। ভোক্তার চাই সুলভ মূল্যে নিরাপদ খাদ্য। মোটা দাগে এ দুটি বিষয় নিশ্চিত করাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। খাদ্যের উৎপাদন বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ দেশ অনেকটাই পেরিয়ে এসেছে।
উৎপাদন বাড়লে দাম কমে। ভোক্তা সস্তায় খাবার পান, কিন্তু কৃষক ফসলের ভালো দাম পান না। উৎসাহ হারিয়ে পরের মৌসুমে কৃষক আবাদ কমিয়ে দেন, খাবারের দাম যায় বেড়ে।
কিন্তু এই হিসাবটা এত সহজ না। চ্যালেঞ্জটিও তাই জটিল। দেশে ধারাবাহিকভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে, উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। গবেষক ও পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, সরকারকে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। পাশাপাশি কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম বা মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থেকে কৃষককে রক্ষা, ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশ থেকে অবাধ আমদানি না করা, কৃষক ও ভোক্তাবান্ধব আমদানি শুল্ক বসানো এবং ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানো জরুরি। সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে রাখাও দরকার।
কৃষিকাজ করে সিংহভাগ কৃষক পরিবার সচ্ছলতার মুখ দেখতে পারে না। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলছেন, শুধু কৃষিকাজ করে জীবিকা চালানো কঠিন। কৃষক পরিবারের সন্তানেরা বেশির ভাগই কৃষিকাজে থাকতে চায় না।
সেলিম রায়হান আরও বলেন, ‘ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডেও বাংলাদেশের মতো ছোট ছোট জমিতে কৃষিকাজ হতো। পরে সেটা বাণিজ্যিক রূপ পায়। কৃষকেরা একত্র হয়ে চাষ করেন। এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ বাড়ে, প্রযুক্তি আসে ও উৎপাদন খরচ কমে। পাশাপাশি সুরক্ষার জন্য বিমাও চালু হয়। বাংলাদেশকেও সেই পথেই যেতে হবে।’
দেশের সাধারণ কৃষকের জন্য সবচেয়ে বড় ফসল ধান। এখন বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন চাল উৎপাদিত হয়। এতে চাহিদা প্রায় মিটে যায়। তবে দুর্যোগে ফসলহানি হলে আমদানি করতে হয়।
আলু হয় চাহিদার অনেক বেশি। সবজি, মাছ, মাংস, ডিমও আমদানি করতে হয় না। দেশি পেঁয়াজেই চাহিদার বেশির ভাগ মেটে। তবে গম, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি আর আদা-রসুনের বড় অংশই আমদানিনির্ভর।
কৃষকেরা সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন ধানের দাম নিয়ে। গত আমন মৌসুমে তাঁরা ধানের দাম কম পেয়েছেন। কয়েক বছর ধরে পানির দরে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। দুই মৌসুম হলো পেঁয়াজের উৎপাদন খরচই উঠছে না।
সবজি আবাদ মোটের ওপর লাভজনক। তবে দাম না পেয়ে প্রায়ই সবজি গরুকে খাওয়াতে অথবা ফেলে দিতে বাধ্য হন চাষিরা। পাটের দাম নিয়ে হতাশা ফিরে ফিরে আসে।
মাছ চাষে লাভ আছে, বিনিয়োগও লাগে। পাঙাশ, তেলাপিয়ার মতো সাধারণ মাছে মুনাফা খুবই কম থাকে। দামের ওঠানামায় টিকতে না পেরে মুরগি ও ডিমের হাজার হাজার ছোট খামার বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু আর দুধের চাহিদা আর দামও ওঠানামা করে, প্রায়ই খামারিরা দুধ ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
ধান নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা
দেশের খুচরা বাজারে এখন প্রতিকেজি চাল ৩৪ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত আমন মৌসুমে চালের উৎপাদন খরচই পড়েছে কেজিতে ৩৪ টাকা।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ছিল সাড়ে ২৪ টাকা। কৃষকেরা ধান বিক্রি করে ২৫ টাকা বা তার কিছুটা কম দাম পেয়েছিলেন।
কৃষক যেন ধানের ন্যায্যমূল্য পান, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব খাদ্য মন্ত্রণালয়ের। ফসল ওঠার মৌসুমে মন্ত্রণালয় উৎপাদন খরচ বের করে কৃষকের জন্য লাভজনক একটা দাম ঠিক করে দেয়। তারপর মন্ত্রণালয় সেই দামে সরকারি গুদামের জন্য ধান-চাল সংগ্রহ করে। আমদানি শুল্ক ধার্য করার সময় কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ দেখে পরামর্শ দেওয়ার কাজটিও তাদের।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কাজী সাহাবউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের দাম, মজুত ও আমদানির ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করতে পারেনি। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। নেতৃত্বে দক্ষতারও ঘাটতি ছিল। কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন সরকারের মন্ত্রীর সে পরিকল্পনা থাকা দরকার।
২০১৩ সাল থেকে দেশের বাজারে চালের দাম মোটামুটি একই ছিল। ২০১৭ সালে হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানি হয়। উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কার মুখে ব্যবসায়ীরা চালের দাম অনেক বাড়িয়ে দেন।
সে সময় দরিদ্র মানুষের জন্য ১০ টাকা দরে চাল দিয়ে আসছিল সরকার। সরকারি গুদামে মজুত ছিল কম। সরকার তখন নিজেরা চাল আমদানি করে। আর বেসরকারি খাতে আমদানি বাড়াতে শুল্ক একেবারেই কমিয়ে দেয়।
আমদানি বাড়ে, তবে চালের দাম তেমন কমে না। ২০১৮ সালে বোরো মৌসুমে ব্যাপক আবাদ ও ফলন হলে ধানের দাম পড়ে যায়। সরকার তখন চালের আমদানি শুল্ক আবার বাড়িয়ে দেয়। তখন আমদানি কমে গেলে দাম আবার বাড়ে। তবে লাভ করেন ব্যবসায়ীরা, কৃষকের জন্য ধানের দাম এখনো লাভজনক হয়নি।
২০১৯ সালের গোড়ায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ বলেছে, বিশ্বে এ বছর ধানের উৎপাদন সবচেয়ে বেড়েছে বাংলাদেশে।
সবজিতে লাভ বেশি, তবে...
সবজিসহ দেশের অন্যান্য প্রধান কৃষিপণ্যগুলোর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কাজটি বাজারের নিয়মে ঘটে। সেসব ক্ষেত্রে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ভোক্তার ক্রয়মূল্যের মধ্যে ফারাক কমানোর কোনো চেষ্টা সরকারকে করতে দেখা যায় না।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০১৭-১৮) তিনটি সবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে লাভ ও দাম বাড়ার তথ্য দেওয়া আছে। এতে দেখা যায়, ওই অর্থবছরে এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। কৃষক সেটা স্থানীয় ব্যবসায়ীকে বিক্রি করেছেন গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভে। আরও দুই হাত ঘুরে সেই আলু ভোক্তার কাছে যাচ্ছে। ভোক্তা কিনছেন ২২ টাকা কেজি দরে। প্রতি ধাপেই বিক্রেতার লাভের পরিমাণ কৃষকের চেয়ে বেশি। একই দশা বেগুন ও টমেটোতেও।
দেশে বছরে আলু উৎপাদিত হয় ৯৫ লাখ টনের বেশি। ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশে আলুর চাহিদা ৬০-৬৫ লাখ টন। বাড়তি উৎপাদনের কারণে বাজারে এখন আলুর দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকায় নেমেছে। কৃষক পর্যায়ে এ দর চার থেকে ছয় টাকা। অথচ এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ সাড়ে ৭ টাকার মতো।
পেঁয়াজেও একই চিত্র। ভরা মৌসুমে ভারত থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আসছে। ফলে খুচরা বাজারে দাম নেমেছে কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকায়। কৃষক পাচ্ছেন ১০-১২ টাকা।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক বছর আগের তুলনায় এখন বাজারে আলুর দর ৪০ শতাংশ ও পেঁয়াজের দর ৫২ শতাংশ কম। আলু-পেঁয়াজের দর এখন উৎপাদন খরচের চেয়ে কম। কৃষক লোকসান গুনে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নিরাপদ খাদ্য
দেশে এখন খাদ্যের অভাব নেই, তবে নিরাপদ খাদ্যের অভাব আছে। কৃষিতে অতিমাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহার বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। খামারের মাছ-মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক আর ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যচক্রে আরও দূষণের ঝুঁকি আছে।
সরকারের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দরকার গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (ভালো কৃষির চর্চা—গ্যাপ) নিশ্চিত করা, যেখানে পরিমিত মাত্রায় সঠিক কীটনাশক ও সার ব্যবহার করা হবে। কৃষি দপ্তর ‘বাংলা গ্যাপ’ পরিকল্পনা করেছে। এখন তার বাস্তবায়ন করতে হবে।’
পরিবেশদূষণের কারণে অনেক সময় মাটি ও পানি থেকে ভারী ধাতু ফসলে ঢুকছে। সেটা খাবারের মধ্য দিয়ে মানুষের শরীরেও ঢুকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যে ধাতু বা অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য বিস্তারিত গবেষণা দরকার।
বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়ে যাওয়া নিয়ে সরকারের আত্মতৃপ্তি আছে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ এম এম শওকত আলী। তিনি বলছেন, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই সচিব আরও বলেন, কৃষক নিজের উদ্যোগে সবজি ও মাছ চাষে যে বিশাল বিপ্লবটি করে ফেললেন, তা যাতে টেকসই হয় সে জন্য তাঁদের সহায়তা দিতে হবে। তাঁদের উৎপাদিত খাদ্যকে নিরাপদ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এটা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞ অভিমত
কৃষির নতুন প্রযুক্তিতে নজর দিতে হবে
কে এ এস মুরশিদ
মহাপরিচালক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি এখনো বড় ভূমিকা রাখে। কৃষির যে উন্নতি আমরা ১০-১২ বছর ধরে দেখছি, তার গতি এখন ধীরে ধীরে শ্লথ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে কৃষির নতুন প্রযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
চালের দাম নিয়ে নীতি নির্ধারকসহ দেশের বিভিন্ন মহলে প্রথাগত মানসিকতা রয়েছে। সবাই মনে করে, চালের দাম কম থাকলে ভালো। চালের দাম নিয়ে এত সংবেদনশীল হওয়ার কিছু নেই। যারা হতদরিদ্র, তাদের বিষয় আলাদা। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাওয়া দরকার। সাধারণভাবে বাজারে চালের দাম দু-এক টাকা বেড়ে গেলেই উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। এটি ঠিক নয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যে উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করাটা জরুরি।
গ্রামে কৃষির উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ, মোবাইলের মাধ্যমে অর্থের লেনদেন থেকে শুরু করে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ বড় ভূমিকা রাখছে। এসব প্রযুক্তি কৃষকের জন্য সংযোগ ও নানা সুবিধা এনে দিচ্ছে। এমন কোনো নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া ঠিক হবে না, যাতে কৃষকের সুযোগগুলো সংকুচিত হয়। সরকারি পর্যায়ে কৃষি পণ্যের বিতরণব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করতে হবে।
আমাদের জাতীয় ও গৃহস্থ পর্যায়ে খাদ্যসংকট একসময় নিয়মিত ব্যাপার ছিল। এখন আমরা সেই স্তর অতিক্রম করেছি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের প্রধান খাদ্য চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এটি স্বস্তির পরিস্থিতি দিয়েছে, যার ওপর ভর করে আমরা এখন আরও সামনের দিকে এগোচ্ছি। এখন আমাদের নিরাপদ খাদ্যের কথা চিন্তা করতে হবে। খাদ্যে যাতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক কিছু না থাকে। অনিরাপদ খাদ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দুর্বল করে দেবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকেও এখন সময় উপযোগী করতে হবে। আগের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যে কাজ করছে না তার বড় প্রমাণ হচ্ছে খোলা বাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কৃষকের ধান চাষে ভর্তুকি দেব, না অন্য কোথাও দেব।

Thursday, July 18, 2013

হরতালে হরতালে অতিষ্ঠ রোজাদার ও ব্যবসায়ীরা by রাজীব আহমেদ ও এম সায়েম টিপু

সময় কাটার কথা ছিল চূড়ান্ত ব্যস্ততায়। দোকানে পণ্য তোলা, ক্রেতাকে দেখানো, দামে মিললে বিক্রি করে টাকা বুঝে নেওয়া- অন্তত রোজার এক মাসে দিনভর ফুরসত মেলার কথা নয় দোকানকর্মীদের।

Friday, June 28, 2013

দ্রব্যমূল্যের পারদ চড়ছে দেশে এসেশবেবরাতে বেড়েছে এক দফা, রমজানেও আশঙ্কা by রাজীব আহমেদ

গত জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের গড় দাম ছিল এক হাজার ২০০ ডলারের কাছাকাছি। কয়েক মাস ধরে কমতে কমতে তা এখন এক হাজার ১০০ ডলারের নিচে।

Friday, June 21, 2013

মুনাফার নামে ডাকাতি! by রাজীব আহমেদ

কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যে দাম হওয়া উচিত, তার চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। আমদানি খরচের সঙ্গে পণ্যের কর, বিভিন্ন ধরনের খরচ ও তিন পর্যায়ের মুনাফা যোগ করে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেল যে কাঙ্ক্ষিত দাম ঠিক করেছে,

Saturday, June 8, 2013

জীবনযাত্রায় স্বস্তির আশা by রাজীব আহমেদ

,
২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর মহাজোট সরকারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল ভোগ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারদর। ওই বছর জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমতে থাকে।

Friday, June 7, 2013

নির্বাচনী রাজনীতির বাজেট by আবুল কাশেম ও রাজীব আহমেদ

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের যে বাজেট পেশ করেছেন, তাতে অনেক ক্ষেত্রেই আছে নির্বাচনী চিন্তার প্রতিফলন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের এটি শেষ বাজেট।

Monday, February 4, 2013

হতাশ কৃষক বোরোবিমুখ by রাজীব আহমেদ

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পিচুরিয়া গ্রামের হজরত আলী বরাবরই বর্গাচাষি। প্রতি বোরো মৌসুমে তিনি ১২০ শতাংশ জমিতে ধান বোনেন। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে এ বছর তিনি মালিককে ৭০ শতাংশ জমি ফেরত দিয়েছেন। অন্য ৫০ শতাংশে করেছেন গমের চাষ।

Monday, January 28, 2013

তদারকহীন হাজারো কারখানার দায় কার by রাজীব আহমেদ

মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় 'স্মার্ট এক্সপোর্ট ফ্যাক্টরি' নামের যে কারখানায় আগুন লেগে সাত শ্রমিক মারা গেছেন, সেখানে পোশাক তৈরি হচ্ছিল ইনডিটেক্স নামের একটি আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জন্য। ওই প্রতিষ্ঠান ১০০টিরও বেশি কম্পানি ও আটটি ব্র্যান্ডের পোশাকের মালিক।

Friday, January 18, 2013

সারা দেশে এক দামে না বেচলে মামলা-* নিত্যপণ্য সরবরাহ নীতিমালা চূড়ান্ত হতে পারে আজ -* চিনি ও ভোজ্য তেল দিয়ে শুরু by আবুল কাশেম ও রাজীব আহমেদ

চিনি ও ভোজ্য তেল সারা দেশের খুচরা বাজারে একই দামে বিক্রি হবে। দাম ঠিক করবেন ব্যবসায়ীরা, তবে লাগাম থাকবে সরকারের হাতে। বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে কেউ চিনি বা ভোজ্য তেল বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট পরিবেশকের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ থাকবে।

Tuesday, January 15, 2013

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা সুদূরপরাহত by রাজীব আহমেদ

পোশাক খাতে এক দশক ধরে শুল্কমুক্ত সুবিধার জন্য নানা চেষ্টা-তদবির চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তা পাওয়া যায়নি। কবে নাগাদ এ সুবিধা পাওয়া যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

Saturday, January 5, 2013

সামান্য টাকায় বিপন্ন মানুষ-আইএমএফের শর্ত মানতে তেলের মূল্যবৃদ্ধি, ভুল সিদ্ধান্ত! by আরিফুজ্জামান তুহিন ও রাজীব আহমেদ

দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি আর প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স- দুইয়ে মিলে বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। এক দিনে তা দাঁড়ায় ১১ কোটি ডলারের কাছাকাছি।

Tuesday, January 1, 2013

মহাজোট সরকার : ভাল-মন্দের ৪ বছর-কৃষির সুদিন কৃষকের নয় by রাজীব আহমেদ

বিরোধীরা বলবে কৃষকের সাফল্য, পক্ষের লোকেরা বলবে সরকারের সাফল্য। আসলে সাফল্য যারই হোক- বাংলাদেশ এখন চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শুধু চাল নয়, অন্যান্য কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ায় বাংলাদেশকে এখন আর আমদানির পেছনে কাঁড়ি কাঁড়ি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয় না।

Friday, December 7, 2012

বহির্বিশ্বের প্রবল চাপে পড়েছে বিজিএমইএ-যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের রুদ্ধদ্বার বৈঠক by রাজীব আহমেদ

ট্রেড ইউনিয়ন চালু ও কাজের পরিবেশ উন্নত করার চাপ আগে থেকেই ছিল, নতুন করে বেড়েছে তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন লেগে ১১১ শ্রমিকের মৃত্যুর পর। ক্রেতা, ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দেশের কূটনীতিকরা আগের থেকে অনেক জোরালোভাবে এখন ট্রেড ইউনিয়ন চালুর কথা বলছেন, কাজের পরিবেশ উন্নত করার কথা বলছেন। এর ফলে ব্যাপক চাপে পড়েছে বিজিএমইএ।

Monday, December 3, 2012

গার্মেন্টে আগুন নেভানোর সরঞ্জাম বসানোর ধুম by রাজীব আহমেদ

তাজরীন গার্মেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক প্রাণহানির ঘটনায় আগুন নিয়ে সতর্কতা বহুগুণ বেড়ে গেছে পোশাক কারখানার মালিকদের মধ্যে। কারখানার 'শোপিস' হিসেবে এত দিন মেয়াদোত্তীর্ণ যেসব অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম ছিল, সেগুলো এখন পাল্টে নিতে শুরু করেছেন তাঁরা।

Thursday, November 29, 2012

পোশাক শ্রমিকদের দাবি বরাবরই উপেক্ষিত-বাধ্য হয়েই নামতে হয় সংঘাতে by রাজীব আহমেদ

পোশাক কারখানার ভাড়ার ওপর ৯ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) পুরোপুরি উঠে গেছে। নতুন বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে মিলেছে নগদ ২ শতাংশ প্রণোদনা। প্রস্তাবিত উৎসে কর ১.২০ থেকে ০.৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

Tuesday, November 27, 2012

'গার্মেন্টপল্লী' হয়নি ১৫ বছরেও-পরিকল্পিত শিল্প হলে ঝুঁকি কমত : বিজিএমইএ by রাজীব আহমেদ

দাবি-দাওয়া নিয়ে পোশাক শিল্পমালিকরা যখন সংবাদ সম্মেলন করেন তখন প্রথম দাবি থাকে উৎসে কর কমানোর। এ নিয়ে তাঁরা অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং সফলও হন।