Tuesday, April 19, 2011

স্যামসাংয়ের জন্য বাংলাদেশের বাজার সম্ভাবনাময়

বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্যামসাং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার বাজারে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৪ এপ্রিল আয়োজিত সাউথ-ওয়েস্ট এশিয়া রিজিওনাল ফোরামে স্যামসাংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে নিজেদের কর্মপরিকল্পনার কথা জানান।
ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালকে নিয়ে গঠিত স্যামসাংয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার বাণিজ্যিক অঞ্চলে নিজেদের ‘সহজ জীবন ধারণা’কে ছড়িয়ে দিয়ে এ দেশগুলোর বাজারে স্যামসাংকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন কর্ম-পদ্ধতি নিয়েও এই ফোরামে আলাপ-আলোচনা হয়।
এই ফোরামে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের প্রধান জে এস শিন বলেন, ‘দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার বাজারে নিজেদের শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন করেছে স্যামসাং।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের “সহজ জীবন ধারণা” ও এই অঞ্চলের জন্য উপযোগী নতুন বিপণন পরিকল্পনার সার্থক প্রয়োগের মাধ্যমে অচিরেই আমরা নিজেদের শীর্ষে নিয়ে যাব।’
স্যামসাংয়ের সহজ জীবন ধারণা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে জে এস শিন বলেন, ‘স্যামসাং সব সময়ই তার পণ্যের সুন্দর বিন্যাস, ব্যবহার উপযোগিতার ওপর জোর দিয়ে থাকে। আর এগুলোর সম্মিলিত প্রয়োগেই মানুষের জীবন হয়ে ওঠে সহজ ও সুন্দর।’
অনুষ্ঠানে স্যামসাংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, ২০১০ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়াতে স্যামসাং প্রায় ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। পুরো বিশ্বে যেখানে স্যামসাংয়ের রাজস্ব আয় ১৩৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, সেখানে এ অঞ্চল থেকেই এসেছে তিন দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার। এ প্রবৃদ্ধি ও আয় স্যামসাং একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কোনো অঞ্চলে সর্বোচ্চ।
কর্মকর্তারা আরও বলেন, এলইডি ও এলসিডি টেলিভিশনের বাজারে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় স্যামসাং ইতিমধ্যেই নিজেদের শীর্ষস্থানে তুলে নিয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন প্রভৃতি পণ্যের ক্ষেত্রেও এই অঞ্চলে অন্যতম শীর্ষ অবস্থানেই রয়েছে এ বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড।
এ অঞ্চলে ভারতের পরপরই বাংলাদেশকে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বাজার হিসেবে মনে করে স্যামসাং। প্রতিষ্ঠানটির ঢাকার আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এইচ লি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাংলাদেশের বাজারে শীর্ষ অবস্থান অর্জনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে স্যামসাং। তিনি আরও বলেন, ‘এ মুহূর্তে স্যামসাংয়ের কাছে ভারতের পরপরই বাংলাদেশ সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বাজার। কিন্তু বাংলাদেশের কর পদ্ধতি এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশ যেমন শ্রীলঙ্কা ও নেপালের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। এর পাশাপাশি, করের উচ্চ হার ব্যবসায়ে যথেষ্ট প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে আমাদের অনেক কিছুই বাস্তবায়নে দেরি হয়ে যায়। এ সমস্যাগুলো বাদ দিলে বাংলাদেশ স্যামসাংয়ের জন্য যথেষ্টই সম্ভাবনাময় বাজার। লি আরও বলেন, বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই টেলিভিশনের বাজারের ৫০ শতাংশ ও মোবাইলসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের ৩০ শতাংশ স্যামসাংয়ের দখলে।
বাংলাদেশের বাজার সম্পর্কে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া প্রধান জে এস শিন বলেন, ‘এ অঞ্চলে বিশাল দেশ হিসেবে ভারতের জন্য আমাদের যে বিপণন কৌশল, বাংলাদেশের জন্যও আমরা সেটাই নিতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভাবনার দিক দিয়ে বাংলাদেশের বাজার ভারতের চেয়ে কোনো অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

তিন কোম্পানির রাইট শেয়ার অনুমোদন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, জনতা ইনস্যুরেন্স ও পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্সের রাইট শেয়ার অনুমোদন করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ সোমবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে পুরবী জেনারেল ইনস্যুরেন্সের রাইট শেয়ারের আবেদন আইনসম্মত না হওয়ায় বিষয়টি বাতিল করা হয়েছে।
এসইসি সূত্রে জানান যায়, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ বর্তমান শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ১:১ রাইট শেয়ার ঘোষণা করে। প্রতিষ্ঠানটি ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৩০০টি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা সংগ্রহ করবে। এ ক্ষেত্রে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দাম পড়বে ২০ টাকা, যার মধ্যে প্রিমিয়াম নেওয়া হবে ১০ টাকা।
জনতা ইনস্যুরেন্স বর্তমান শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ১:২ রাইট শেয়ার ঘোষণা করে। প্রতিষ্ঠানটি ১৬ লাখ ২৬ হাজার ২৪০টি শেয়ারের বিপরীতে পুঁজিবাজার থেকে ৩২ কোটি ৫২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা সংগ্রহ করবে। এ ক্ষেত্রে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দাম পড়বে ২০০ টাকা, যার মধ্যে প্রিমিয়াম নেওয়া হবে ১০০ টাকা।
পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স বর্তমান শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ৫:১ রাইট শেয়ার ঘোষণা করে। প্রতিষ্ঠানটি তিন লাখ ৭৫ হাজার সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এ ক্ষেত্রে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দাম পড়বে ৪০০ টাকা, যার মধ্যে প্রিমিয়াম নেওয়া হবে ৩০০ টাকা।

সালভো কেমিক্যালের লেনদেন শুরু বৃহস্পতিবার

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শুরু হবে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন। আজ সোমবার ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে ডিএসই সূত্রে জানা যায়। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি এসইসির অনুমোদন নেয়।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রসপেক্টাসের তথ্য অনুযায়ী সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা এবং প্রি-আইপিও পরিশোধিত মূলধন ১৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া আইপিওর আকার ২৬ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে আইপিও-পরবর্তী পরিশোধিত মূলধন দাঁড়ায় ৪০ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা এবং প্রতি ৫০০টি শেয়ারে একটি মার্কেট লট।
২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদের দাম (এনএভি) ছিল ১০ দশমিক ৮২ টাকা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় দেখানো হয়েছে ৯১ পয়সা। প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপক এএএ কনসালট্যান্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজারস লিমিটেড।
গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি দেশি বিনিয়োগকারীদের এবং ৩০ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের আইপিওর সাবস্ক্রিপশন চলে।

এমটিবি মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন

এমটিবি মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্ট ডিড ও ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট চুক্তি অনুমোদন করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ সোমবার এসইসির নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ফান্ডটির উদ্যোক্তা মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ট্রাস্টি সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স, কাস্টোডিয়ান ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ও অ্যাসেট ম্যানেজার এইমস অব বাংলাদেশ লিমিটেড।
সাইফুর রহমান আরও জানান, এই মিউচুয়াল ফান্ডটি একটি স্কিম বেইজড ফান্ড। তাই এর আকার বলা যাচ্ছে না। আমব্রেলা ট্রাস্ট ডিডের আন্ডারে এটি অনুমোদিত হয়েছে। একের পর এক এর আওতায় বিভিন্ন স্কিম আসতে থাকবে।
এদিকে জিবিবি পাওয়ার লিমিটেডের আইপিওর আবেদন অনুমোদন করেনি এসইসি। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম বেশি মনে হওয়ায় পুনরায় আর্থিক বিবরণী এসইসিতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করুন -শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি তদন্তে কমিটি গঠন করায় জনমনে যতটুকু উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছিল, কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় তাতে শুধু ভাটাই পড়েনি, বরং সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যাঁরা শেয়ার কেলেঙ্কারির জন্য দায়ী, সরকার তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করতে চায় কি না? তদন্ত কমিটি তো যথাসম্ভব দ্রুতই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সরকারের উচিত ছিল সঙ্গে সঙ্গে তা জনগণকে জানতে দেওয়া। কিন্তু ১১ দিন হয়ে গেল, এখনো প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হলো না।
সরকার প্রকাশ না করলেও পত্রপত্রিকায় অনেক তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। তাতে দেশের অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী, শিল্পপতির নাম আসছে। তাঁরা সবাই রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী। কিন্তু সরকার যেহেতু প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি, তাই এসব নাম সঠিক কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। যদি ঠিক হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে এরকম ধারণা বদ্ধমূল হবে যে সরকার প্রভাবশালী ধনী ব্যক্তিদের রক্ষার জন্যই বোধহয় প্রতিবেদন প্রকাশে গড়িমসি করছে। আর যদি নামগুলোতে ভুলভ্রান্তি থাকে, তাহলে নির্দোষ কোনো শিল্পপতি সম্পর্কে সমাজে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হবে। সরকার-ঘোষিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন যথাসময়ে প্রকাশ না করার এই হলো কুফল।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, ১৯৯৬ সালেও শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সর্বনাশ হয়েছিল। সেই সময়ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তাঁদেরই কারও কারও পক্ষে এবারের বাজার কেলেঙ্কারিতে কলকাঠি নাড়া সম্ভব হয়েছে বলে কথা উঠেছে। এখন যদি আবার তাঁদের রেখেঢেকে রাখার চেষ্টা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা থাকবে।
এখন সরকারের অন্তত দুটি কাজ খুব দ্রুত করতে হবে। প্রথমত, তদন্ত প্রতিবেদনটি অনতিবিলম্বে, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা। এখানে সরকারের যদি কোথাও আপত্তি থাকে, বা অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে সরকারের দ্বিমত থাকে, তাহলে একই সঙ্গে তা প্রকাশ করতে পারে। যদি আরও অনুসন্ধান দরকার বলে মনে করে, তাহলে সেটাও প্রকাশ করুক। এটাই তো গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। সরকার যখন প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, তাহলে তার প্রতিবেদন পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশে বাধা কোথায়?
দ্বিতীয়ত, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) বিভিন্ন অনিয়মের জন্য দায়ী বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এসইসি পুনর্গঠনের কোনো বিকল্প নেই। বাজারসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সবাই এই মত পোষণ করেন। এ ব্যাপারে কোনো রকম শৈথিল্য কাম্য নয়।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে দেরি করার সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সরকারের ওপর মহলে তদবির করে প্রতিবেদনটি বাতিলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যানসহ অন্য সদস্যদের সমাজের চোখে হেয়প্রতিপন্ন করারও অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগ যদি সত্য হয় এবং এ ধরনের অপচেষ্টা যদি সফল হয়, তা হলে তা হবে একটি অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত। এটা শুধু শেয়ারবাজার নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর হবে। এ ধরনের কারসাজি রোধে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ আজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে আজ সোমবার প্রথম দফায় ভোট নেওয়া হবে। আজ রাজ্যের ছয়টি জেলার ৫৪টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। এতে ৩৮৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলাগুলো হলো: দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহ। পশ্চিমবঙ্গে এবার ২৯৪টি আসনের বিধানসভা নির্বাচনে ছয় দফায় ভোট নেওয়া হবে।
সীমান্তপথ বন্ধ: প্রথম দফার নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের সীমান্তপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তরাজ্য সীমান্তপথও বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে রয়েছে বিহার, ওডিশা ও ঝাড়খন্ড রাজ্যের সীমানা। এ ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয় ও আসাম রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারিব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
ইলেকশন ওয়াচের প্রতিবেদন: ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী রাজ্যের ৫৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩৮৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। ফৌজদারি মামলার তালিকায় নাম থাকা প্রার্থীদের মধ্যে কংগ্রেসের ১০ জন, সিপিএমের আটজন, বিজেপির আটজন ও তৃণমূল কংগ্রেসের চারজন রয়েছেন। প্রার্থীদের মধ্যে নয়জন কোটিপতিও রয়েছেন। আর সবচেয়ে ধনী প্রার্থী হচ্ছেন জলপাইগুড়ির কংগ্রেস মনোনীত সুখবিলাস বর্মা। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ দুই কোটি ২১ লাখ রুপি। সবচেয়ে দরিদ্র প্রার্থী মাটিগড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের বিজেপি মনোনীত অসীম সরকার। তাঁর কোনো সম্পত্তি নেই।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভোট নেওয়া হবে ২৩ এপ্রিল। নদীয়া, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম জেলার ৫০টি আসনে এ ভোট নেওয়া হবে। তৃতীয় দফার ভোট নেওয়া হবে ২৭ এপ্রিল। কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ৭৫টি আসনে এ ভোট নেওয়া হবে। চতুর্থ দফায় আগামী ৩ মে ভোট নেওয়া হবে। হাওড়া, হুগলি ও বর্ধমানের ১২টি আসন এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ৬৩টি আসনে এ ভোট নেওয়া হবে। পঞ্চম দফায় ভোট নেওয়া হবে আগামী ৭ মে। বর্ধমান জেলার অন্য ১২টি আসন, পশ্চিম মেদিনীপুরের ১২টি আসন, পুরুলিয়ার পাঁচটি ও বাঁকুরার নয়টি আসনে এ ভোট নেওয়া হবে। আর শেষ পর্বের নির্বাচনে ভোট নেওয়া হবে আগামী ১০ মে। পশ্চিম মেদিনীপুরের সাতটি, পুরুলিয়ার চারটি ও বাঁকুরার তিনটি আসনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল ঘোষণা করা হবে ১৩ মে।

জাতিসংঘ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আহ্বান রাজাপক্ষের

শ্রীলঙ্কায় তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের তদন্তের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের দেওয়া প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে বিক্ষোভ করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে।
গতকাল রোববার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, গত শনিবার নিজের দল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজাপক্ষে বলেছেন, ‘এ বছরের মে দিবসের সমাবেশকে আমাদের শক্তি প্রদর্শনের সমাবেশে রূপান্তর করতে হবে। এর মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ তদন্তে আন্তর্জাতিক আহ্বানের জবাব দিতে হবে।’

ক্ষমতা ও দলের শীর্ষ পদে ১০ বছরের বেশি থাকা যাবে না

কিউবায় প্রেসিডেন্ট ও রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদগুলোতে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদে মোট ১০ বছরের বেশি থাকতে পারবেন না—এমন এক প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো। তিনি বলেন, নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির সুযোগ তৈরি এবং আত্মসমালোচনা করতেই একজন ব্যক্তির কোনো পদ ধরে রাখার মেয়াদ সীমিত করতে হবে। শীর্ষ পদে থাকার মেয়াদ তাঁর নিজের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত শনিবার কিউবার ক্ষমতাসীন দল কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট রাউল এসব কথা বলেন। দলের এক হাজার প্রতিনিধি ওই সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে দলের ১০০ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি, ১৯ সদস্যবিশিষ্ট পলিটব্যুরো এবং ১০ সদস্যের সেক্রেটারিয়েট নির্বাচিত করার কথা। ১৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দলটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।
সমাজতান্ত্রিক কিউবায় প্রেসিডেন্ট রাউলের এই ঘোষণা নজিরবিহীন। ৭৯ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো ২০০৮ সালে তাঁর ভাই ফিদেল কাস্ত্রোর কাছ থেকে কিউবার ক্ষমতা গ্রহণ করেন। দুই ভাই মিলে ৫২ বছর ধরে দেশটি শাসন করছেন।
প্রেসিডেন্ট রাউল বলেন, ‘আমরা নিজেদের স্বার্থে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। আর তা হচ্ছে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের জন্য শীর্ষ পদগুলোর মেয়াদ সীমিত করা। এসব পদে পাঁচ বছরে টানা দুই মেয়াদে মোট ১০ বছরের বেশি কেউ থাকতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা প্রয়োজন এবং এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও সম্ভব।’ তিনি নিজের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও এটা কার্যকর হবে।
রাউল বলেন, কমিউনিস্ট পার্টি ও কিউবার বিপ্লব সম্পর্কে কিউবানদের আস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কিউবার জনগণকে ‘মানসিক জড়তা’ কাটিয়ে উঠতে হবে।

রক্তচাপ কমে যাওয়ায় মোবারককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে

রক্তচাপ কমে যাওয়ায় মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে গত শনিবার এ কথা বলা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল, আইনজীবীদের জিজ্ঞাসাবাদকালে মোবারক হূদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এক চিকিৎসা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে সরকারি বার্তা সংস্থা মেনার খবরে বলা হয়, গত মঙ্গলবার আইনজীবীদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় ৮২ বছর বয়সী হোসনি মোবারকের রক্তচাপ মাত্রাতিরিক্ত কমে গিয়েছিল। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মেনা জানায়, পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মোবারকের হূদ্যন্ত্র ভালো আছে এবং এটি ভালোভাবে কাজ করছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
১৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আগে মোবারককে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সরকারি আইনজীবী তাঁকে রাজধানী কায়রোর উপকণ্ঠে সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। মেনা জানিয়েছে, তবে তাঁকে কবে সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হবে, সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি

যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বাগবোর রাজনৈতিক দল

আইভরি কোস্টের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট লরা বাগবোর রাজনৈতিক দল আইভরিয়ান পপুলার ফ্রন্ট (এফপিআই) দেশটিতে সশস্ত্র লড়াই বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। গত শনিবার এফপিআইয়ের নেতা প্যাসকাল আফি এনগুয়েসান এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।
আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট আলাসেন ওয়াতারার প্রধান কার্যালয় আবিদজানের গলফ হোটেলে আশ্রয় নেওয়া আফি এনগুয়েসান বলেন, ‘অনেক জায়গায় আমাদের যোদ্ধারা এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।’ এ লড়াই শেষ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, শান্তির জন্য আমরা যুদ্ধ বন্ধ করে দিই। আইভরি কোস্টের স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের স্বার্থেই আমাদের এটা করা দরকার।’ তিনি বলেন, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে এফপিআই আজ বিপর্যস্ত। অবশ্য নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি দলের পক্ষ থেকে সহানুভূতি জানান তিনি। এ সময় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলসাইদ দিয়েদে তাঁর পাশেই ছিলেন।
আফি এনগুয়েসানসহ সাবেক বাগবো সরকারের কয়েকজন সদস্য ওয়াতারার গলফ হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন। ওয়াতারার অনুগত বাহিনী ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা তাঁদের নিরাপত্তা দিচ্ছে।
গত সপ্তাহে আলাসেন ওয়াতারার অনুগত বাহিনীর হাতে বাগবো আটক হন। পরে শনিবার দেশটির প্রধান শহর আবিদজানের বাইরে ওয়াতারা ও বাগবোর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাগবোর অনুগত যোদ্ধারা আবিদজানের পার্শ্ববর্তী ইয়োপুউগন শহরে আশ্রয় খুঁজছে। আর ওয়াতারার অনুগত যোদ্ধারা তাদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
শনিবার ওয়াতারা সরকারের হাতে আটক ৭০ জন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিরা মূলত বাগবোর পরিবারের সদস্য ও বাসভবনের কর্মকর্তা। বাগবোর বাসভবনে ওয়াতারা বাহিনীর অভিযানের সময় তাঁদের আটক করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ঝড়ে ৪৫ জনের প্রাণহানি

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় ছয়টি অঙ্গরাজ্যে ঘূর্ণিঝড়ে গত তিন দিনে কমপক্ষে ৪৫ জন নিহত হয়েছে। নিহত লোকজনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঝড়ে উত্তর ক্যারোলিনায় ১১ জন মারা গেছে। সেখানে ঝড় আবারও আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন ওই অঙ্গরাজ্যের গভর্নর।
ঝড়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে আলাবামা ও আরাকানসও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ঝোড়ো বাতাসের কারণে। ঝড়ে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। বাতাসের তোড়ে অনেক বাড়ির ছাদ উড়ে গেছে। ঝড়ের কারণে রাস্তাঘাটে যানবাহন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।
আলাবামা ও আরাকানসে সাতজন করে মারা গেছে বলে জানা গেছে। আলাবামায় নিহত লোকজনের মধ্যে এক নারী ও তাঁর দুই সন্তানও রয়েছে। ওকলাহোমায় মারা গেছে ছয়জন। মিসিসিপিতে নয়জন এবং টেক্সাসে ঝড়সংশ্লিষ্ট অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজন মারা গেছে।
আলাবামার গভর্নর গত শনিবার ঝড়ে বিধ্বস্ত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। গোটা অঙ্গরাজ্যকে তিনি বিপর্যয় এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। উত্তর ক্যারোলিনায় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

মুসলিম ভোটারদের দিকে তাকিয়ে আছে সব দল

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে সব দল মুসলিম ভোটারদের দিকে তাকিয়ে আছে। এখানে মুসলিম ভোটারেরা নির্বাচনের ফল নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে চিহ্নিত।
এত দিন মুসলিমদের বেশির ভাগ ভোট বাম দলের দিকে ছিল। দ্বিতীয় স্থানে ছিল কংগ্রেস। এর আগে বিজেপিকে সমর্থন করায় মমতার দিকে মুসলিম ভোটারদের সমর্থন তেমন ছিল না। তবে এবার বিশেষ করে নন্দীগ্রাম, তরুণ প্রকৌশলী রেজওয়ানুর রহমানের রহস্যজনক মৃত্যু এবং তসলিমাকে কলকাতা থেকে বিতাড়নের আন্দোলনে তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিবাচক ভূমিকায় মুসলিম ভোটে নতুন মেরুকরণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই এই ভোট পেতে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বাম দল দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। মুসলিমদের মন জয় করার জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশ মুসলিম। আর রাজ্য বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৭০টি মুসলিমপ্রধান। এ ছাড়া আরও ৫৫টি আসন রয়েছে, যেখানে মুসলিমরাই ভোটের নির্ণায়ক শক্তি। সব মিলিয়ে ১২৫টি কেন্দ্রে মুসলিম ভোটের ওপরই নির্ভর করছে নির্বাচনের ফলাফল। সিপিআইএমের নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পাশাপাশি তাঁদের তিন মুসলিম নেতা মোহাম্মদ সেলিম, আবদুস সাত্তার ও রেজ্জাক মোল্লা মুসলিম ভোটারদের মন জয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
মমতাও মুসলিম ভোটারদের নিজের পক্ষে টানার উদোগ নিয়েছেন। তাই পদযাত্রায় বেরিয়ে তিনি কখনো দরগায় ঢুকে পড়ছেন, কখনো মসজিদে গিয়েও সম্মান জানাচ্ছেন। মমতার সঙ্গে রয়েছেন ফুরফুরা শরিফের পীর তোহা সিদ্দিকী ও কলকাতার টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম মওলানা নূরুর রহমান বরকতির মতো ধর্মীয় নেতারা।
২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং পরে পঞ্চায়েত ও পুরভোটের ফল থেকে স্পষ্ট হয়, মুসলিম ভোটারদের একটা বড় অংশ বামবিমুখ হয়ে পড়েছে। অথচ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর মুসলিমরাই ছিল বামদের নিশ্চিত ভোট ব্যাংক। সেই ভোট ব্যাংকে ভাঙন ধরায় সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন। গত বছর কলকাতা পুরসভার ভোটে দেখা যায়, মুসলিম অধ্যুষিত ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে সিপিআইএম জয় পায় মাত্র পাঁচটি ওয়ার্ডে। আর গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ১২৫টি মুসলিম প্রভাবিত বিধানসভা এলাকার ৯৭টিতেই বামফ্রন্ট তৃণমূলের চেয়ে পিছিয়ে ছিল।
গত এক বছরে বাম সরকার মুসলিমদের মন জয় করতে একগুচ্ছ উন্নয়ন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছে। এমনকি মুসলিমদের জন্য চাকরি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সংরক্ষণেরও উদ্যোগ নিয়েছে। বাম নেতাদের দাবি, তৃণমূল নেত্রীর প্রতি মুসলিমদের মোহভঙ্গ হয়েছে। তাই মুসলিম ভোট আবার বামমুখী।
তবে মমতা রেলমন্ত্রী হওয়ার পর মুসলিমদের মন জয় করতে সংখ্যালঘুদের কল্যাণে বেশ কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে সংখ্যালঘুরা তাঁদের প্রতি যে আস্থা দেখিয়েছেন তা এবারও অটুট থাকবে।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে ভাবব দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করেছি: মনমোহন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, ক্ষমতা ছাড়ার আগে তাঁর দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে তিনি তাঁর দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পেরেছেন বলে মনে করবেন। স্থানীয় গণমাধ্যম মনমোহনের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল রোববার এ কথা জানায়।
কাজাখস্তান থেকে ভারতে ফেরার পথে বিমানে বসে মনমোহন সিং সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুটি দেশের মধ্যে যে স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকা উচিত, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সে ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে সফল হলে আমি আমার কাজ ভালোভাবে করতে পেরেছি বলে মনে করব।’
ভারত ও পাকিস্তান তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর দেশ দুটির সম্পর্কে অবনতি ঘটে। ওই হামলায় ১৬৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। ভারত ওই হামলার জন্য পাকিস্তানি জঙ্গিদের দায়ী করেছে।
গত মাসে মনমোহন সিং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখার আমন্ত্রণ জানান। গিলানিও আমন্ত্রণ রক্ষা করেন। এ সময় দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়। এ ঘটনাকে ‘ক্রিকেটীয় কূটনীতি’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

ইসরায়েলে হামলার প্রশ্নে ফিলিস্তিনিদের সমর্থন কমে গেছে

ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা এবং দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে রকেট হামলার প্রতি ফিলিস্তিনিদের সমর্থন ২০০৯ সালের তুলনায় কমে গেছে। গতকাল রোববার প্রকাশিত জরিপের ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জেরুজালেম মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন সেন্টার পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, ইসরায়েলের ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযানের প্রতি ফিলিস্তিনিদের সমর্থন অনেক কমে গেছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে এই সমর্থন ছিল ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যা এ বছরের এপ্রিলে কমে দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ১ শতাংশে। গাজা থেকে ইসরাইলে রকেট হামলার প্রতিও তাঁদের সমর্থন ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমে গেছে।
সেন্টারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জরিপে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার এক হাজার ১৯৮ ব্যক্তি তাঁদের মত প্রকাশ করেছেন।

কেটের বাবা-মা মেয়ের বিয়েতে এক লাখ পাউন্ড খরচ করবেন

ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকার প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসছে। লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে ২৯ এপ্রিল মহা ধুমধাম করে হবে এই বিয়ে। বিয়ের অনুষ্ঠানে কত খরচ হবে তার ইয়ত্তা নেই। তবে কেটের বাবা-মা মেয়ের বিয়েতে খরচ করবেন এক লাখ পাউন্ড। গতকাল রোববার দ্য সানডে টাইমস পত্রিকার এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, কেটের মা ক্যারল ও বাবা মাইকেল মিডলটন সান্ধ্য অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের খরচ বহন করবেন। প্রিন্স চার্লসের আমন্ত্রণে বাকিংহাম প্রাসাদে ওই অভ্যর্থনা অনুুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া হোটেল বিল, কেটের বিয়ের বিশেষ গাউন, তাঁর সহচরীদের পোশাক কেনার খরচ তাঁরা দেবেন। এমনকি কেট-উইলিয়ামের মধুচন্দ্রিমার খরচও তাঁরা বহন করবেন। বিয়ের অন্যান্য খরচের সিংহভাগ বহন করবেন প্রিন্স চার্লস।
বিয়ের আগে মিডলটন দম্পতি লটবহর নিয়ে উঠবেন বেলগ্রাভিয়া হোটেলে। বাকিংহাম প্রাসাদের অদূরেই বিলাসবহুল এই হোটেলের দুই বেডরুমের একটি কক্ষের জন্য প্রতিরাতে চার হাজার পাউন্ড গুনতে হয়। কেট ও তাঁর বোন পিপার জন্য এ রকম একটি কক্ষ ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কেটের বাবা-মা, ভাই ও অন্যান্য নিকটতম আত্মীয়দের জন্য পৃথক কক্ষ ভাড়া করা হয়েছে। এ ধরনের প্রত্যেকটি কক্ষের প্রতিরাতে ভাড়া দিতে হয় এক হাজার ১৪০ পাউন্ড। শুধু হোটেল ভাড়া, নাশতা, মধ্যাহ্নভোজ ও পানাহারের খরচ হবে অন্তত ২০ হাজার পাউন্ড। এ ছাড়া কেটের বিয়ের গাউনের জন্য ৩০ হাজার পাউন্ড।

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকদের ঘুমিয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে রাতে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকদের ‘ঘুমিয়ে পড়া’ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার কর্তব্যরত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ার কারণে মিয়ামিতে একজন নিয়ন্ত্রককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত এক বছরে এ ধরনের সাতটি ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা বেরিয়ে এসেছে মার্কিন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে।
রাতে কর্তব্যরত অবস্থায় বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকদের ঘুমিয়ে পড়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ঘুমিয়ে পড়া রোধে ব্যর্থতার কারণে গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক বিভাগের প্রধান হ্যাংক ক্রনস্কি।
কর্তব্যরত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ার সব ঘটনাই ঘটেছে মধ্যরাতের পরে। বিমান ওঠা-নামার ব্যস্ততা না থাকায় এ সময় সাধারণত মাত্র একজন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। রানওয়ে ব্যস্ত না থাকলে চেয়ারে বসেই ঘুমিয়ে পড়েন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকদের অনেকেই। অবতরণের অনুমতির জন্য বিমান থেকে বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সাড়া না পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। নিয়ন্ত্রকদের ঘুমিয়ে পড়ার কারণে বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা না ঘটলেও বিমানযাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গাদ্দাফিকে নির্বাসনে পাঠাতে দেশ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হলে তাঁকে কোন দেশে নির্বাসনে পাঠানো হবে, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। আফ্রিকা মহাদেশের কোনো দেশে তাঁকে পাঠানো হতে পারে বলেও ভাবছে তারা। গাদ্দাফির পতনের পর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে আস্থাভাজন কোনো বিদ্রোহী নেতাকে পাওয়া যায়নি বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মিসরাতায় গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের লক্ষ করে সফল অভিযান চালানোর দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। পূর্বাঞ্চলীয় শহর আজদাবিয়ায় অভিযান চালিয়েছে গাদ্দাফি বাহিনী।
ন্যাটো জোটের সব দেশ লিবিয়া অভিযানে সম্পৃক্ত না হওয়ায় সম্প্রতি অভিযানের গতি কিছুটা কমে এসেছে। গাদ্দাফিও বারবার ঘোষণা করছেন, কোনোভাবেই তিনি দেশ ছেড়ে যাবেন না। এর মধ্যেও গাদ্দাফিকে অন্য দেশে পাঠানোর ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সুযোগ সৃষ্টি হলে গাদ্দাফিকে শান্তিপূর্ণভাবে লিবিয়া থেকে অন্য দেশে পাঠানোর উপায় খুঁজছি আমরা।’
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্কো ফ্রাত্তিনি গত মাসে বলেন, আফ্রিকার কোনো একটি দেশ গাদ্দাফিকে আশ্রয় দিতে পারে। কিন্তু তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। শাদ, মালি, জিম্বাবুয়েসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে গাদ্দাফির চমৎকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনো দেশ এখন পর্যন্ত তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে কোনো প্রস্তাব দেয়নি।
গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে অন্য কোনো দেশে পাঠানো হলে তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার জটিল হয়ে পড়বে। তাই তাঁকে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের যেকোনো একটিতে পাঠানোর কথা ভাবছে মার্কিন প্রশাসন। লিবিয়ায় নিজের জনগণের বিরুদ্ধে নৃশংসতা ও ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডে লকারবির আকাশে যাত্রীবাহী বিমানে হামলার ঘটনায় গাদ্দাফিকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলা হচ্ছে।
এদিকে লিবিয়ায় বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা মিসরাতায় গাদ্দাফি বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালিয়ে একটি ট্যাংক ধ্বংস করেছে। মিসরাতার রাজপথ থেকে গাদ্দাফির অনুগত কয়েকজন বন্দুকধারীকে আটকের দাবিও করে তারা।
আজদাবিয়ায় গতকাল রোববারও হামলা চালায় গাদ্দাফির অনুগত সেনারা। এই হামলায় হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগের দিন গাদ্দাফি বাহিনীর রকেট হামলায় আজদাবিয়ায় আট জন নিহত ও অন্তত ২৭ জন আহত হয়। গতকালের হামলার পর অনেক বিদ্রোহী আজদাবিয়া ছেড়ে চলেযায়।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গত ১৭ মার্চ লিবিয়ার জনগণকে রক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ’ নেওয়ার অনুমোদন দেয়। এতে গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু লিবিয়া অভিযান শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরানো হবে বলে বারবার বলে আসছে।

ফুকুশিমার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে নয় মাস লাগবে

ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) গতকাল রোববার বলেছে, নয় মাসের মধ্যে কেন্দ্রটির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশা করছে তারা।
টেপকো জানায়, আগামী তিন মাসের মধ্যে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হ্রাস ও ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে চুল্লিগুলোকে ঠান্ডা করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।
ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি উপর্যুপরি আঘাত হানার পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় পর টেপকো নতুন এই সময়সূচি ঘোষণা করল। ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে ছয় চুল্লির ফুকুশিমা দেইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একাধিক বিস্ফোরণ হয় এবং এর শীতলীকরণব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। তারপর থেকে টোকিওর উত্তর-পূর্বের উপকূলীয় ওই পারমাণবিক কেন্দ্রটি থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ছে।
টেপকোর চেয়ারম্যান তিসুনেহিশা কাতসুমাতা গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাঁদের লক্ষ্য হচ্ছে পারমাণবিক কেন্দ্রটির চুল্লিগুলো শীতল করা এবং এ থেকে তেজস্ক্রিয়তার নিঃসরণ হ্রাস করা।
টেপকোর এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারা ছয়টি চুল্লিই শীতল করার আশা করছে। সামনে অনেক ঝুঁকি রয়ে গেছে উল্লেখ করে টেপকো চেয়ারম্যান কাতসুমাতা বলেন, স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে তাঁরা দুটি পর্যায় স্থির করেছেন। তাঁদের লক্ষ হচ্ছে প্রথম তিন মাসের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা। আর পরবর্তী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো।
টেপকো জানিয়েছে, নাইট্রোজেন প্রবেশ করানোর মাধ্যমে চুল্লিতে হাইড্রোজেন বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণ করার ওপর প্রাথমিকভাবে গুরুত্বারোপ করা হবে। এ ছাড়া পরিবেশে তেজস্ক্রিয় পানি ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হবে।
মার্কিন সমর্থন: এদিকে গতকাল রোববার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন জাপান সফরে গিয়ে ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির জন্য পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
টোকিওতে এক সংক্ষিপ্ত সফরে গিয়ে সম্রাট আকিহিতোর সঙ্গে চা পান করেন হিলারি ক্লিনটন। সাংবাদিকদের হিলারি বলেন, জাপান এই ভয়াবহ সংকট থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।

মৌন-মুখর মরিনহো, বিনয়ী গার্দিওলা

হোসে মরিনহোর মনটা এমনিতেই ভালো ছিল না। ম্যাচের আগেই বার্সেলোনার চেয়ে ৮ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল দল। সংবাদ সম্মেলনে মাদ্রিদভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মৌনব্রতও পালন করছিলেন আগে থেকেই। পরশু বার্সেলোনার সঙ্গে ধ্রুপদি লড়াইয়ে ১-১ গোলে ড্র করার পরও একরকম মৌনই রইলেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ।
সংবাদ সম্মেলনে গেছেন, কথাও বলেছেন। তবে মাদ্রিদের কোনো পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল থেকে প্রশ্ন এলে চুপ থেকেছেন। সামনে ঠেলে দিয়েছেন তাঁর সহকারী আইতর কারাঙ্কাকে। এএস পত্রিকার এক প্রতিবেদক আইতরের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালে বেরিয়ে আসেন মরিনহো। মৌনব্রত ভেঙে ওই সাংবাদিককে বলেন, ‘আপনি কি এএস-এর পরিচালক? যদি তা না হন, তাহলে আপনার সঙ্গে আমি কথা বলব না। এটা আপনারই দর্শন। আপনি যদি আমার সহকারীর সঙ্গে কথা না বলেন, তাহলে আমিও আপনার পরিচালকের সঙ্গেই শুধু কথা বলব।’
মাদ্রিদভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বললেও সংবাদ সম্মেলনে মরিনহো নিজের রাগ আর ক্ষোভ ঠিকই প্রকাশ করেছেন। এই পর্তুগিজ কোচ সবচেয়ে বেশি হতাশ ৫২ মিনিটে রাউল আলবিওলের লাল কার্ড পাওয়ায়, ‘আমরা চাই, রেফারির সিদ্ধান্ত দুই দলের জন্যই সমান হোক। সেই একই আইন এবং আমি ১০ জন নিয়ে খেলে ক্লান্ত। দানি আলভেজের বেলায় রেফারির দৃষ্টিভঙ্গি কেমন বদলে গেল! আমি ঠিক বুঝতে পারছি না, বক্সের মধ্যে ফাউল করেও কেন আলভেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেল না।’
রাউল আলবিওলের ফাউলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে বার্সাকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। পেনাল্টি গোলের আগে আলবিওল দেখেন লাল কার্ড। তবে আলভেজ বক্সে ফাউল করেও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখা থেকে বেঁচে যান। এ নিয়েই আপত্তি মরিনহোর। ‘আমি চতুর্থ রেফারিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আলভেজকে কেন দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেওয়া হলো না। সে আমাকে উত্তর দিয়েছে, আলভেজ ফুলব্যাক বলেই দেওয়া হয়নি!’
১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলা যে কতটা কষ্টের, সেটা বোঝাতে মরিনহো বলেছেন, ‘একবারের জন্য হলেও আমি ১০ জনের বার্সেলোনার সঙ্গে খেলতে চাই।’ মরিনহোর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে রিয়াল ডিফেন্ডার আলভেরো আরবেলোয়া বলেছেন, ‘আলভেজেরও লাল কার্ড পাওয়া উচিত ছিল।’
লাল কার্ড দূরের কথা, বার্সেলোনা শিবির এই পেনাল্টিটাই মানছে না। দানি আলভেজ নিজে বলেছেন, ‘আমরা সাধারণত রেফারিং নিয়ে কিছু বলি না। তবে কখনো কখনো তো বলতেই হয়। রেফারিরা তাঁদের কাজটা ঠিকঠাকভাবেই করতে চান, প্রায় সময়ই তা করতে পারেন। কখনো কখনো তাঁরা ভুলও করেন। আমার বিপক্ষে দেওয়া পেনাল্টিটি ঠিক ছিল না। পরিষ্কারভাবে আমি বল জিতেছি।’
আলভেজ ছাড়া আর কেউই রেফারিং বা পেনাল্টি নিয়ে তেমন কথা বলেননি। বার্সেলোনার কোচ পেপ গার্দিওলা এবং তাঁর শিষ্য জাভি হার্নান্দেজ বলেছেন ম্যাচ আর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে। জাভির কথা, ‘আজ (পরশু) রাতে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে বার্সাই ভালো দল ছিল।’ গার্দিওলা বলেছেন, ‘আমরা এখনো চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাইনি। মাত্র তো ৮ পয়েন্ট এগিয়ে আছি। ছয়টি ম্যাচ এখনো বাকি।’
গার্দিওলা বিনয় দেখালেও এখনই বার্সেলোনার মাথায় স্প্যানিশ লিগের মুকুট পরিয়ে দিয়েছেন অনেকেই। ৬ ম্যাচের মধ্যে ৮ পয়েন্টের ব্যবধান রিয়াল মাদ্রিদ ঘোচাতে পারবে বলে মনে করেন না তাঁরা। তবে রিয়াল ডিফেন্ডার সার্জিও রামোস এখনো আশা ছাড়ছেন না, ‘আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’

অরুণিমার পাশে যুবরাজ

ট্রেনে ভ্রমণের সময় পড়েছিলেন ডাকাতের পাল্লায়। বাধা দিতেই ঝামেলা। অরুণিমা সিনহাকে ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলল ডাকাত দল। ভারতের জাতীয় পর্যায়ের ফুটবল ও ভলিবল খেলোয়াড় দুর্ঘটনায় হারালেন তাঁর একটি পা। এই অরুণিমার পাশে দাঁড়িয়েছেন যুবরাজ সিং। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খেলোয়াড়কে দিয়েছেন এক লাখ রুপি।
সিআইএসএফ পরীক্ষা দিতে গত সোমবার রাতে পদ্মাভাত এক্সপ্রেসে দিল্লি যাচ্ছিলেন অরুণিমা। ট্রেনের কামরাতেই তিন ডাকাত তাঁর সোনার হার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ডাকাতেরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় পাশের লাইনের ওপর। আরেকটি ট্রেন তাঁর বাঁ পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। পা ছাড়াও মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন অরুণিমা। রেলওয়ে এরই মধ্যে তাঁকে একটি চাকরির প্রস্তাব দিয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী অজয় মাকান তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার রুপি দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য ২ লাখ রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এবার ‘যুবরাজ সিং ফাউন্ডেশন’ থেকে ১ লাখ রুপি দিলেন যুবরাজ। সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার ফাউন্ডেশনটি গঠন করেছিলেন ২০০৯ আইপিএলের সময়। প্রাথমিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত ক্রিকেটারদের পাশে থাকার কথা থাকলেও জানানো হয়েছে প্রয়োজনে অন্য খেলার ক্রীড়াবিদদেরও সাহায্য করা হবে।

বিস্মৃত নন শোয়েব

পিসিবি হয়তো ভুলে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেটে শোয়েব আখতারের অবদান। কিন্তু ভোলেনি রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলো। তাই ঘরোয়া পর্যায়ে হলেও তারা আয়োজন করতে যাচ্ছে শোয়েবের বিদায়ী সংবর্ধনার। আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থাগুলো প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করেই এই গতি তারকাকে বিদায় জানাবে।
খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে একাদশ থেকে বাদ পড়ে বিশ্বকাপের মাঝপথেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের আগাম সিদ্ধান্ত নেন শোয়েব। তবে পাকিস্তানের হয়েই বিদায়ী ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলেন ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’। কিন্তু সেটা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ বিশ্বকাপে শোয়েবের দৃষ্টিভঙ্গি টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে প্রশ্নবিদ্ধই থেকে যায়।
যা-ই হোক ঘরোয়া ক্রিকেটের যে দলগুলো শোয়েবের সেবা পেয়েছে তারা ভোলেনি তাকে। যে দলে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সেই রাওয়ালপিন্ডি চাইছে তাঁর সম্মানে জাঁকালো এক প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করতে। রাওয়ালপিন্ডি অঞ্চলের সভাপতি ও পিসিবির সদস্য সৈয়দ নাঈম আখতার গতকাল বলেছেন, ‘সে পাকিস্তানকে দারুণ সেবা দিয়েছে এবং আরও ভালো বিদায় সংবর্ধনা তার প্রাপ্য। আমরা এভাবে ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’কে অবসরে যেতে দিতে পারি না।’
আগামী ২৪ জুন শুরু হতে যাওয়া জাতীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সময় হতে পারে ম্যাচটি। এ জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের। জাতীয় ক্রিকেটাররা দেশের বাইরে থাকায় এই বিলম্ব।
তবে শোয়েবের বর্তমান দল ইসলামাবাদ দাবি করছে আন্তর্জাতিক বিদায়ী ম্যাচের। এই অঞ্চলের সভাপতি শাকিল আহমেদ শেখের দাবি, ‘সে একজন গ্রেট ক্রিকেটার এবং পাকিস্তানের হয়ে বিদায়ী ম্যাচ খেলাটা তার প্রাপ্য।’

মগা যেন গোলমেশিন!

কাঞ্চনের ক্রসে দর্শনীয় হেডে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন। আগের দুটি গোলও সুদানি স্ট্রাইকারকে আলাদা করে চিনিয়েছে। ঢাকার মাঠে জেমস মগা মানেই এখন গোল। মুক্তিযোদ্ধাকে তাই পেছনে ফিরে তাকাতে হচ্ছে না।
আগের দিন ঝড়-বৃষ্টি আর বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আরামবাগের বিপক্ষে ৩-০ এগিয়ে থাকা ম্যাচ পরিত্যক্ত। কাল সেই কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটা আবার নতুন করে হলো এবং আগের দিনের ‘পরিত্যক্ত’ স্কোরলাইনের মতোই বা তার চেয়েও উজ্জ্বল দেখাল মুক্তিযোদ্ধার স্কোর।
ঔজ্জ্বল্য দিলেন আসলে জেমস মগা। তাঁর হ্যাটট্রিকের আগে লাল-সাদার গোলের খাতা খুলেছিলেন নাসির। শেষ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত আরামবাগ। পেনাল্টি থেকে রেজাউল করিম করেছেন আরামবাগের একমাত্র গোলটি (৩-১)। কিন্তু গোলের আর তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি একসময় বড় দলকে নিয়মিতই আটকে দেওয়া মতিঝিলের দলটি।
তারই ফল—খুব সহজেই দ্বিতীয় ম্যাচটা জিতে ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বাধীনতা কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে গেল মুক্তিযোদ্ধা। আরামবাগকে গোল গড়ে পেছনে ফেলে শেষ আটে তাদের গ্রুপসঙ্গী ফেনী সকার। সকার-আরামবাগ ম্যাচ ড্র হয়েছিল। সকারকে মুক্তিযোদ্ধা হারিয়েছিল ২-১ গোলে। শেষ আটে যাওয়ার জন্য কাল অন্তত ড্র দরকার ছিল আরামবাগের। কিন্তু কোথায় কী, মাঠে যেন নামল গোল খেতে।
এক মগাকে আটকানোর পথই খুঁজে পায়নি আরামবাগ। স্কিল, ফিটনেস, গোলের ক্ষুধা—সব মিলে ঢাকার ফুটবলে ‘বড়’ স্ট্রাইকারই এই মগা। ফেডারেশন কাপে হ্যাটট্রিক করে চোখ কেড়েছিলেন প্রথম। তারপর দেশে রাজনৈতিক অশান্তির কারণে ফিরে যান। পরিবারের সঙ্গে কটা দিন কাটিয়ে ফিরে আসেন বাংলাদেশ লিগ শুরু হয়ে যাওয়ার বেশ পরে। পাঁচটা ম্যাচ খেলে এক হ্যাটট্রিকসহ করেছেন ৮ গোল। এই ফেডারেশন কাপে দুই ম্যাচে চার গোল—গোলমেশিন তো বলাই যায় ছয় ফুটেরও বেশি উচ্চতার মগাকে।
তাঁকে পেয়েই এবার অপ্রতিরোধ্য দেখাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাকে। বাংলাদেশ লিগের প্রথম পর্ব শেষে সবার ওপরে থাকা মুক্তিযোদ্ধা এখন স্বপ্ন দেখছে দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা কাপ ঘরে তুলতে।
স্বাধীনতা কাপে ‘গরম ব্যাধি’: আজ শুরু কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব। বিকেল পাঁচটায় শেখ জামাল-ব্রাদার্স, রাত আটটায় আবাহনী-ফরাশগঞ্জ—দুটি ম্যাচই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। কাল একই সময়ে কমলাপুরে খেলবে শেখ রাসেল-ফেনী সকার, এরপর মুক্তিযোদ্ধা-মোহামেডান।
রাত ৮টায় খেলা শুরু মানে টাইব্রেকার হলে রাত ১১টা। বিদ্যুৎ চলে গেলে আরও দেরি। বিদ্যুতের যা অবস্থা, তাতে সরবরাহে গড়বড় হবে না নিশ্চয়তা নেই। জানা গেছে, শেখ জামাল অনুরোধ করেছে আজ ম্যাচটা যাতে রোদের তেজ কমার পর দেওয়া হয়। অনুরোধে ঢেঁকি না গিলে উপায় ছিল না বাফুফের!
তবে খেলার সময় পেছানোর সিদ্ধান্ত কারা নিচ্ছেন প্রশ্ন আছে। বাংলাদেশ লিগের চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী প্রথমে অবাক হয়ে বললেন, ‘রাত ৮টায় তো খেলা শুরু হওয়ার কথা নয়। এটা কে করল খবর নিচ্ছি।’ একটু পরে বললেন, ‘সিদ্ধান্তটা আমিই দিয়েছি।’ বাংলাদেশ লিগ কমিটির কো চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদের কথা, ‘ক্লাবের অনুরোধে খেলা পেছাতে হয়। তবে রাত ৮টায় খেলা দেওয়ার ব্যাপারটা আমার জানা নেই।’
হায় বাফুফে। এটি এখন এমন সংগঠন হয়ে পড়েছে, কমিটির বড় কর্তারা অনেক বিষয়ই জানেন না!

ওয়াসিম আকরামের কাছে কৃতজ্ঞ বালাজি

আইপিএলের চতুর্থ আসরের শুরুটা খুব ভালোভাবেই করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রথম ম্যাচে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে দুই রানের দুঃখজনক হার দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তী তিন ম্যাচেই জয় দিয়ে এ মুহূর্তে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে তারা। গতকাল শেন ওয়ার্নের রাজস্থান রয়ালসের বিপক্ষে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রদর্শনটাও ভালোভাবে করেছে কলকাতা। রাজস্থানকে মাত্র ৮১ রানেই গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাটসম্যানরা খুব অনায়াসেই তুলে এনেছেন আট উইকেটের সহজ জয়। ব্রেট লি, বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি মাত্র ১৫ রানের বিনিময়ে তিনটি উইকেট নিয়ে সবার নজর কেড়েছেন লক্ষ্মীপতি বালাজি। পেয়েছেন ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও। গতকালের এ নজরকাড়া বোলিংয়ের পর কলকাতার বোলিং কোচ ওয়াসিম আকরামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সাবেক এ ভারতীয় পেসার। কলকাতায় পাকিস্তানের এ কিংবদন্তি পেসারের উপস্থিতিটা পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও অনেক লাভজনক হবে বলে মন্তব্য করেছেন বালাজি।
গতকাল ম্যাচ শেষে ওয়াসিম আকরামের ভূয়সী প্রশংসা করে বালাজি বলেছেন, ‘আমরা সবাই জানি, তিনি কী করতে পারেন। নিশ্চিতভাবেই এটা আমাদের দলের প্রতিটা সদস্যের জন্যই একটা বিশাল প্রাপ্তি। আমরা সবাই তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখছি। কীভাবে আক্রমণাত্মক বোলিং করতে হয়। একজন বোলারের কাছে এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটাররাও তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে।’
চার ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে এখনই খুব বেশি আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চাচ্ছেন না বালাজি। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে এখনো অনেক পথ বাকি আছে বলে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এখনো ১০টা ম্যাচ বাকিই আছে। আমাদের খুব ধীরে-সুস্থে পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের নির্দিষ্ট একটা ছন্দ ধরে রেখে খেলতে হবে।

বিধ্বস্ত-বিব্রত ওয়ার্ন!

প্রথম দুটা ম্যাচেই জয় দিয়ে আইপিএলের চতুর্থ আসরের শুরুটা খুব ভালো মতোই করেছিল শেন ওয়ার্নের রাজস্থান রয়্যালস। কিন্তু কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে পরবর্তী দুটা ম্যাচেই রীতিমতো ধরাশায়ী হতে হয়েছে প্রথম আসরের শিরোপাজয়ীদের। ১৫ এপ্রিল জয়পুরে রাজস্থানের বেঁধে দেওয়া ১৫৯ রান তাড়া করতে নেমে গৌতম গম্ভীরের কলকাতা তুলে নেয় নয় উইকেটের সহজ জয়। এ পরাজয়টা তবুও মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু গতকাল ইডেন গার্ডেনে দলের ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না রাজস্থান অধিনায়ক শেন ওয়ার্ন। গতকালের পারফরমেন্সটাকে তিনি এবারের আইপিএলের সবচেয়ে বাজে পারফরমেন্স হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ব্রেট লি, লক্ষ্মীপতি বালাজি, সাকিব আল হাসানদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে একেবারে দাঁড়াতেই পারেনি শেন ওয়াটসন, রস টেলর, অমিত পাউনিকরেরা। ২৮ বল বাকি থাকতেই তাঁরা গুটিয়ে গেছে মাত্র ৮১ রানে। ৮ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন শেন ওয়ার্ন। হতাশ হয়ে দেখেছেন সতীর্থদের আসা-যাওয়া। কলকাতার কাছে টানা দুটি ম্যাচ হারার পর তিনি বলেছেন, ‘আমরা খুবই খারাপ খেলেছি। এটাই আমাদের সবচেয়ে বাজে পারফরমেন্স। এই উইকেটে ১৩০-১৪০ অনায়াসেই করা যায়। কিন্তু তারা আমাদের ওপর চাপ তৈরি করেছিল। অভিজ্ঞতার অভাবে আমরা সেই চাপ সামলে খেলতে পারিনি। এর আগের ম্যাচেও আমরা ১৬০ পর্যন্ত গিয়েছিলাম। কিন্তু এই পারফরমেন্সটা খুবই বিব্রতকর।’
শুধু অধিনায়কই নন, শেন ওয়ার্ন রাজস্থান রয়্যালসের কোচও বটে। দলের এ বাজে পারফরমেন্স যে তাঁকে বেশি চিন্তায় ফেলবে, এটাই তো স্বাভাবিক। তবে এখন তা নিয়ে বেশি না ভেবে সামনের ম্যাচগুলোর জন্য শিষ্যদের ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ান স্পিন কিংবদন্তি। বলেছেন, ‘আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি, ভালোভাবে অনুশীলন করেছি। এখনো প্রতিপক্ষের মাঠে আমাদের তিনটা ম্যাচ খেলতে হবে এবং সেগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই।’

ওয়াসিম আকরামের কাছে কৃতজ্ঞ বালাজি

আইপিএলের চতুর্থ আসরের শুরুটা খুব ভালোভাবেই করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রথম ম্যাচে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে দুই রানের দুঃখজনক হার দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তী তিন ম্যাচেই জয় দিয়ে এ মুহূর্তে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে তারা। গতকাল শেন ওয়ার্নের রাজস্থান রয়ালসের বিপক্ষে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রদর্শনটাও ভালোভাবে করেছে কলকাতা। রাজস্থানকে মাত্র ৮১ রানেই গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাটসম্যানরা খুব অনায়াসেই তুলে এনেছেন আট উইকেটের সহজ জয়। ব্রেট লি, বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি মাত্র ১৫ রানের বিনিময়ে তিনটি উইকেট নিয়ে সবার নজর কেড়েছেন লক্ষ্মীপতি বালাজি। পেয়েছেন ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও। গতকালের এ নজরকাড়া বোলিংয়ের পর কলকাতার বোলিং কোচ ওয়াসিম আকরামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সাবেক এ ভারতীয় পেসার। কলকাতায় পাকিস্তানের এ কিংবদন্তি পেসারের উপস্থিতিটা পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও অনেক লাভজনক হবে বলে মন্তব্য করেছেন বালাজি।
গতকাল ম্যাচ শেষে ওয়াসিম আকরামের ভূয়সী প্রশংসা করে বালাজি বলেছেন, ‘আমরা সবাই জানি, তিনি কী করতে পারেন। নিশ্চিতভাবেই এটা আমাদের দলের প্রতিটা সদস্যের জন্যই একটা বিশাল প্রাপ্তি। আমরা সবাই তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখছি। কীভাবে আক্রমণাত্মক বোলিং করতে হয়। একজন বোলারের কাছে এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটাররাও তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে।’
চার ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে এখনই খুব বেশি আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চাচ্ছেন না বালাজি। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে এখনো অনেক পথ বাকি আছে বলে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এখনো ১০টা ম্যাচ বাকিই আছে। আমাদের খুব ধীরে-সুস্থে পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের নির্দিষ্ট একটা ছন্দ ধরে রেখে খেলতে হবে।’