Tuesday, July 30, 2024

কোটা বিক্ষোভ দমনের পর প্রান্তসীমায় বাংলাদেশ: ক্রাইসিস গ্রুপের রিপোর্ট by পিয়ের প্রকাশ

কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন শুরু করে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। এতে ১৬ই জুলাই থেকে সারা বাংলাদেশে কমপক্ষে ২০০ জন নিহত এবং হাজার হাজার আহত হয়েছেন। জুলাইয়ের শুরুতে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে, কয়েক হাজার শিক্ষার্থী  এবং সহানুভূতিশীলরা আদালতের একটি সিদ্ধান্তে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে রাস্তায় নামেন। কারণ, নিম্ন আদালত তার রায়ে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল  রাখে ১৯৭১ সালের  মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের জন্য। এই কোটা সংস্কারের জন্য বিক্ষোভে সরকারের সহিংস প্রতিক্রিয়া আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছে। এটিকে অন্তত এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত করেছে এবং সম্ভবত ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে আসে যখন বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির কারণে টালমাটাল, যার ফলে বেসরকারি খাতে তরুণদের  চাকরির সুযোগ কমছে। সেইসঙ্গে সরকারের কর্তৃত্ববাদের জেরে  বাড়ছে ক্রমবর্ধমান হতাশা।

সংকট মূলত সরকারের তৈরি। এর প্রাথমিক দমন-পীড়নের নৃশংসতা এবং প্রতিবাদী ছাত্রদের সম্পর্কে শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবমাননাকর মন্তব্য শুধুমাত্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে, বিক্ষোভের আকার বাড়িয়েছে এবং ছাত্রনেতাদের তাদের দাবিগুলো প্রসারিত করতে প্ররোচিত করেছে। ১৮ই জুলাই ছাত্ররা দেশব্যাপী ‘ব্লকেড’র ডাক দিলে উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়, কয়েক ডজন তরুণকে হত্যা করে।
রক্তপাতের সেই ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফরমগুলোতে। বিক্ষোভকারীদের সংগঠিত করা থেকে বিরত রাখতে- বিশেষ করে ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে- সরকার সেই রাতে অবিলম্বে দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৭ কোটি মানুষকে অনলাইন সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি যা হবার  হয়ে গেছে। পরের দিন, বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায়, যেখানে অনেক বিক্ষুব্ধ নাগরিক ছাত্র মিছিলে যোগ দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি কঠোর কারফিউ ঘোষণা করেন, দিনে কয়েক ঘণ্টা বাদে নাগরিকদের ঘরের মধ্যে আটকে থাকতে বাধ্য করেন। তিনি  দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়ে সেনাবাহিনীকে রাস্তায় নামানোয় ১৯ থেকে ২১শে জুলাই পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি লোককে হত্যা করা হয়, এবং বেশ কয়েকজন প্রতিবাদী নেতাকে  অপহরণ করা হয়।

কর্তৃপক্ষও বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে উঠেপড়ে লাগে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ২১শে জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা কমানোর আদেশ দেয়। সরকার  একটি স্বাধীন তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং একজন মন্ত্রী দাবি করেছেন যে, সহিংসতার জন্য দায়ী  প্রত্যেককে  জবাবদিহি করা হবে। তবুও আইনি প্রক্রিয়া বা ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে সরকারের দমনমূলক প্রতিক্রিয়ার কঠোরতা, বিক্ষোভকে নীরব করে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ২২শে জুলাই ছাত্র নেতারা নতুন দাবি জানান। তবে তাদের বিক্ষোভে ৪৮ ঘণ্টা বিরতি ঘোষণা করা হয়, যা তারা আরও ৪৮ ঘণ্টা বাড়িয়েছেন। ঢাকার হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ মৃতদেহের সংখ্যা কমছে  এবং স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে। সরকার সীমিত ইন্টারনেট সুবিধা পুনরুদ্ধার করেছে, কারফিউ ধীরে ধীরে শিথিল করা হয়েছে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম আংশিকভাবে আবার শুরু হয়েছে। রাজধানীতে ফিরে এসেছে সেই ‘ট্রাফিক জ্যাম’। তবে, অস্থিরতার ফল এখন টের পাওয়া যাচ্ছে। যদিও সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, মাত্র কয়েক ডজন মারা গেছেন। বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্টে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৯০ থেকে ২০২ এর মধ্যে। প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে; ইন্টারনেট বন্ধের ফলে সারা দেশে অশান্তির একটি সম্পূর্ণ চিত্র সংগ্রহ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা  বিরোধী দলগুলোকে, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীকে হিংসাত্মক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য দায়ী করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী ৩,০০০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে- যার মধ্যে কিছু ছাত্রনেতা কিন্তু প্রধানত বিএনপি ও জামায়াতের কর্মকর্তারা রয়েছেন এবং ৬০,০০০ জনেরও বেশি লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও সরকার তার দাবির সমর্থনে সামান্য প্রমাণ সরবরাহ করেছে যে বিএনপি ও জামায়াত বিক্ষোভ চালাচ্ছে। যদিও বিএনপি ছাত্রদের জনসমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং তার কিছু অনুসারী রাজপথে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল, তবে দলটি সরাসরি মিছিল আয়োজনে জড়িত ছিল না। নিহতদের মধ্যে যদি কেউ থাকে, তাহলে তারা বিএনপি, জামায়াত বা অন্যান্য বিরোধী দলের লোক বলে মনে করা হচ্ছে ।

কোটা পদ্ধতি কীভাবে আন্দোলনের সূত্রপাত করেছে?
স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২  সালে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা চালু করা হয়েছিল। প্রথমে সরকারি চাকরির ৮০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তরে ক্ষতিগ্রস্ত নারী এবং দেশের দরিদ্র এলাকার মানুষদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। কোটার সামগ্রিক শতাংশ বছরের পর বছর ধরে বেড়েছে। প্রতিবন্ধী এবং সংখ্যালঘু মানুষদের  জন্য বিশেষ  বিভাগ যোগ করা হয়েছে; ২০১২ সাল থেকে কোটা ৫৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারীদের  জন্য ১০ শতাংশ, ‘অনগ্রসর জেলা’ (অর্থাৎ দেশের দরিদ্র অঞ্চল) এর বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ, জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য ৫ শতাংশ এবং ১ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য। এটা প্রথম নয় যে ছাত্ররা কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, যেটিকে বাংলাদেশে অনেকেই   অন্যায্য বলে মনে করেন। ২০১৮ সালে অনুরূপ- যদিও ছোট-বিক্ষোভের পরে, আওয়ামী লীগ সরকার কিছু গ্রেডের সরকারি চাকরির জন্য কোটা বাতিল করে, আপাতদৃষ্টিতে সেই বছরের নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে থাকার প্রয়াসে। মুক্তিযোদ্ধাদের বেশকিছু বংশধর পরবর্তীতে সরকারের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক দাবি করে আদালতে আপিল করেন। জুনের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে হাইকোর্ট কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল রাখে। সেই রায় প্রতিবাদের আগুনে ঘি দেয়ার মতো কাজ করে।

অনেক সরকারি সমালোচকদের জন্য, এই রায়টি সরকারের ইচ্ছার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার ওপর তার প্রভাব প্রতিফলিত করে। কোটার প্রতি প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সমর্থন তার একটি বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়। সম্প্রতি তিনি বলেন- ‘দেশের উচিত মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা’।  তার পিতা ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি আওয়ামী লীগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং ১৯৭৫ সালে তাকে  হত্যার আগ পর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন; লীগ এখনো নিজেকে জাতীয় মুক্তির দল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে।  লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান, একজন সামরিক শাসক যিনি শেষ পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন, ১৯৭৮ সালে একটি কেন্দ্রবাদী শক্তি হিসেবে বিএনপি গঠন করেছিলেন। যদিও পরে এটি স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী ইসলামপন্থিদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছিলেন। হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং যারা পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্নতা প্রতিরোধ করেছিল তাদের মধ্যে যোগসূত্রকে ঘৃণার চোখে দেখে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণ, যা হাসিনার  পিতার দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল, এই বিভাজনগুলোকে শক্তিশালী করার একটি উপায়। মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের বংশধররাও আওয়ামী লীগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অংশ হিসেবে রয়ে গেছেন, কোটাকে রাষ্ট্রীয় আমলাতন্ত্রে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান এবং মিত্র বাড়ানোর একটি মাধ্যম করে তুলেছে।

বিক্ষোভ যখন গতি পেতে শুরু করে, তখন সরকার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগকে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বলে, সেইমতো ৭ই আগস্ট শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে এবং দেশটি কার্যত লকডাউনের অধীনে চলে যায়। যা দেখে সুপ্রিম কোর্ট শুনানি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। ২১শে জুলাইয়ে রায়ে শীর্ষ আদালত ব্যাপকভাবে কোটা ৫৬ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে  এনেছে, যার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মীয়দের জন্য ৫ শতাংশ এবং জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী এবং নন-বাইনারি লিঙ্গের লোকদের জন্য ২ শতাংশ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণভাবে এগুলো সমস্ত গ্রেডের চাকরিতে প্রযোজ্য। অন্যদিকে, নারীদের জন্য কোটা বাতিল করা ছিল একটি আশ্চর্যজনক পদক্ষেপ, কারণ ছাত্ররা নারী ও অন্যান্য গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের জন্য এটি  বজায় রাখতে চেয়েছিল।

প্রতিবাদ আন্দোলনের পেছনে অন্য কারণ আছে কি?
কোটা বিরোধী বিক্ষোভ বাংলাদেশে গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে  শক্তি অর্জন করেছে। দেশের অর্থনীতি বহু বছর ধরে বর্ধনশীল ছিল- বিশেষ করে ১৯৯০ সালে সামরিক শাসনের অবসানের পর থেকে  মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছে। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির  পর থেকে সরকার মুদ্রাস্ফীতি, বিশেষ করে উচ্চ খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সংগ্রাম করছে। তবে  অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতি তার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল দুর্নীতি কেলেঙ্কারি প্রকাশ পেয়েছে, যা অনেক বাংলাদেশির জন্য গভীর অর্থনৈতিক যন্ত্রণার সময়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ১৪ই জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা স্বীকার করেন যে তার একজন গৃহকর্মী কয়েক মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি কীভাবে এত ধনী হয়েছিলেন তা তিনি বুঝতে পারেননি বলে দাবি করেন। কিন্তু অনেক বাংলাদেশির কাছে এটা অবাক হওয়ার কিছু নেই যে ক্ষমতার এত কাছে থাকা একজন ব্যক্তি এত সম্পদ অর্জন করতে পারে।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে অর্থ কোটা হলো সবচেয়ে বাস্তব উপাদান। অনেক বাংলাদেশি সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থাকে পচনধরা একটি সিস্টেম বলে মনে করে। শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন যে অনেক কথিত যোগ্যতাভিত্তিক পদ তাদের কাছে যায় যাদের  ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। একই সময়ে গ্রাজুয়েটরাও বৃহত্তর জনসংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি মাত্রার বেকারত্বের সম্মুখীন হয়, সরকারি চাকরিতে তারা তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। ইতিমধ্যে জনমত জরিপ থেকে বোঝা যায় যে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা কোটা পদ্ধতিকে  ক্রমশ অজনপ্রিয় করে তুলেছে। ২০১৩ সাল থেকে, কর্তৃপক্ষ কয়েক হাজার বিরোধী সদস্যকে বিভিন্ন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করেছে। সক্রিয় গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড  একটি ক্রমবর্ধমান ঘটনা হয়ে উঠেছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকা, এই অভিজাত বাহিনীর অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে  হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়। দেশের কঠোর সেন্সরশিপ আইন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক হাজারেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করেছে, প্রধানত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য।

অধিকন্তু, হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক জাতীয় নির্বাচন হয়নি। ক্ষমতাসীন দল ভোটকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা সত্ত্বেও ৭৫ শতাংশ আসন জিতে নেয়- উদাহরণস্বরূপ, প্রায় ২০ শতাংশ আসন তারা হেরেছে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের’ কাছে যারা বাস্তবে ক্ষমতাসীন দলেরই  সদস্য। কিন্তু ভোটদানের হার আনুষ্ঠানিকভাবে ৪২ শতাংশ দেখায়  যার কারণে বাংলাদেশিরা  বোকা বনেনি। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এর আগে ভোটকে সামনে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের দাবি মেনে নিতে সরকারকে চাপ দিতে গণআন্দোলন শুরু করেছিল। পুলিশ এবং ছাত্রলীগ ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি বড় সমাবেশ ভেঙে দেয় এবং অনেক বিএনপি নেতাকে জেলে পাঠানো হয়, দলটিকে ভোট বর্জন করতে প্ররোচিত করে।   

কোটা বিরোধী বিক্ষোভ তাই রাজনৈতিক দৃশ্যপটকেও রূপান্তরিত করেছে, জনগণের অসন্তোষকে এমনভাবে কাজে লাগিয়েছে যেটা বিএনপি করতে পারেনি, পাশাপাশি একটি তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে এনেছে রাজনীতিতে যাকে অচল বলে মনে করা হয়েছিল। এমনকি এতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে  যারা  ধনী পরিবার থেকে এসেছে  এবং কোটা পদ্ধতির অধীনে চাকরি পাওয়ার চেয়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে বেশি আগ্রহী। প্রতিবাদী আন্দোলনে অনেক তরুণীর সম্পৃক্ততাও নজরে এসেছে।

ঢাকার এখন কী করা উচিত?
সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করতে এবং রাজপথে শান্তি ফিরিয়ে আনতে, আওয়ামী লীগ সরকারকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে দেশকে প্রান্তিক অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেয়া উচিত। সামরিক আইন প্রত্যাহার করা উচিত, ইন্টারনেট অ্যাক্সেস পুনরুদ্ধার করা উচিত এবং বিক্ষোভের সময় হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উচিত।  বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পুনরায় খোলার ব্যবস্থা করতে হবে এবং গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া  ছাত্রদের মুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে নাগরিক অধিকারের প্রতি সম্মান পুনরুদ্ধার করতে এবং কোটা বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য অনুরোধ জানাতে বিদেশি অংশীদারদের এগিয়ে আসা উচিত।  হাসিনা সরকারের কট্টর সমর্থক ভারতের উচিত  বহুদলীয় গণতন্ত্র, সুশাসন এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি সম্মান পুনরুদ্ধার করে বাংলাদেশকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করা। আওয়ামী লীগের প্রতি নয়াদিল্লির সমর্থন দীর্ঘদিনের। কিন্তু  বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাবের  মধ্যে এই কৌশল  ঝুঁঁকিপূর্ণ হতে পারে-  বিষয়টি একদিকে যেমন বাংলাদেশের প্রতিবেশীর জন্য খারাপ তেমনি  বাংলাদেশের জনগণের জন্য উপকারী নাও হতে পারে। কোটা বিরোধী বিক্ষোভের উত্থান বাংলাদেশে একদলীয় শাসন কতোটা ভঙ্গুর তা চিত্রিত করেছে। সংলাপ এবং রাজনৈতিক সংস্কারের গুরুতর প্রচেষ্টার পরিবর্তে বিক্ষোভ দমন করার জন্য কর্তৃত্ববাদী পদ্ধতি কখনই দেশে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে না। 

মানবজমিন

পিয়ের প্রকাশ, এশিয়ার প্রোগ্রাম ডিরেক্টর

গুলিতে ইকরামের মগজ ছিটকে পড়ে রাস্তায় by নাজমুল হক শামীম

কোটা বৈষম্য আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ঢাকা কবি নজরুল কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন কাউছার। গত ১৭ ও ১৮ই জুলাই দু’দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মেসগুলোতে রান্না বন্ধ ছিল। দু’দিন কিছু খেতে না পেরে কাউছার খাবারের জন্য ১৮ই জুলাই শুক্রবার দুপুরে মেস থেকে বের হন। জুমার নামাজ শেষে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ঠেলাওয়ালার দোকান থেকে চেয়ে ভাত খায় ইকরাম। পরে ঠেলাওয়ালা সেধে একরামকে রাতের খাবারের জন্য একটি বিস্কুটের প্যাকেট ধরিয়ে দেন। ইকরাম বিস্কুটের প্যাকেটটি নিয়ে সড়ক পার হতে হতে প্যাকেটটি ছিঁড়ে একটি বিস্কুট মুখে দেন। এমন সময় পিছন থেকে মাথায় গুলি করে পুলিশ। মুহূর্তেই ইকরামের মগজ ছিটকে সড়কে পড়ে যায়। দূর থেকে দেখে সেই ঠেলাওয়ালা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে মগজগুলো পলিথিনে ভরে। পরে তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেলে পাঠানো হয়।

এভাবেই বড় ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনাটি প্রতিবেদককে জানান ছোট ভাই ইমরান হোসেন ফারুক। তিনি বলেন, মৃত্যুর ২০ মিনিট আগেও বড় ভাই ইকরাম হোসেন কাউছার বাড়িতে ফোন করেছিলেন। কবি নজরুল কলেজ সংলগ্ন লক্ষ্মীবাজার এলাকায় ভাই যে জায়গায় থাকতেন সেখানে বিদ্যুৎ না থাকায় তার মোবাইলে চার্জ ছিল না। যেই ঠেলাওয়ালা ভাইকে ভাত খাইয়েছিলেন সেই ঠেলাওয়ালার ফোন থেকে বাড়িতে ফোন করেন ইকরাম। সেই ঠেলাওয়ালাই ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদটি প্রথম বাড়িতে জানান।
ইমরান আরও বলেন, ভাইয়ার ফোন কলটি ছিল বাবার সঙ্গে শেষ কথা। বাবাকে তিনি বলেছিলেন তিনি ভালো আছেন। তার জন্য দোয়া করতে। আমাকে দেখে রাখতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাড়ি ফিরে আসবেন। নিহত ইকরাম হোসেন কাউছার ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার রাজসপুর গ্রামের হাজীবাড়ির স্কুলশিক্ষক আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিন সন্তানের মধ্যে ইকরাম ছিলেন মেজো সন্তান।
ইকরামের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন,  সামান্য স্কুলশিক্ষক হয়ে তিনি তিন সন্তানকে পড়ালেখা করিয়ে যাচ্ছিলেন। তার বড় ছেলে ইকরাম এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। তিনি মেধাবী হওয়ায় ঢাকা কবি নজরুল কলেজ থেকে অনার্স শেষ করে মাস্টার্স পড়ছিলেন। জমি বিক্রি করে ছেলের পড়ালেখার খরচ চালাচ্ছিলেন। ছেলের স্বপ্ন ছিল মাস্টার্স শেষ করে সে বিসিএস এ অংশগ্রহণ করবে। পুলিশের গুলিতে তার স্বপ্ন অঙ্কুরে বিনষ্ট হলো। এ হত্যার দায় কে নেবে? ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে শুক্রবার রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তার মা-বাবা। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ নিয়ে এসে রাতেই নিজ এলাকায় দাফন করা হয়।
ইকরামের একমাত্র বোন জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, আমাদের পরিবার খুবই গরিব। পড়ালেখা শেষ করে ইকরাম পরিবারে হাল ধরবেন আমাদের দুঃখ ঘুচবে এমনটাই আশা করেছিলাম। এখন আমার ভাই নেই, আমাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। আমরা আশা করবো সমাজের বিত্তবানরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবেন।

মেসে মেসে হানা: আদালতে স্বজনদের ভিড়

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গতকালও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, যুবককে আটক করে। যাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কাউকে কাউকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতদের বেশির ভাগকে রাতে বাসাবাড়ি ও মেসে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।  গতকাল ঢাকার সিএমএম আদালতের সামনে গ্রেপ্তারকৃতদের এমন অনেক স্বজনদের ভিড় দেখা গেছে।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে আদালতপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, সকাল হতে না হতেই আন্দোলনে জড়িত সন্দেহে আটককৃতদের স্বজনরা সিএমএম আদালতের সামনে ভিড় করেন। স্বজনদের অভিযোগ, এলাকার সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় বাসাবাড়ি ও মেস থেকে পুলিশ ধরে এনেছে। অনেকে দাবি করেন তাদের স্বজন কোনো আন্দোলন বা দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন।

কী অপরাধে, কোন মামলায় আটক করা হচ্ছে, সেই তথ্যও দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে করে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় মধ্যে কাটছে তাদের দিন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের রাজধানীর বিভিন্ন থানার নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা এডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী  মানবজমিনকে বলেন, গতকালও পুলিশ ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের কয়েকশত নেতাকর্মীকে বাসাবাড়ি ও মেসে অভিযান চালিয়ে  আটক করেছে। শুধু আটক করেই ক্ষান্ত হননি তাদেরকে বেধড়ক পেটানোও হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ আইনের পরিপন্থি। আমরা যাতে সহজে জামিনের আবেদন করতে না পারি সেজন্য নথিপত্রও প্রদান করছে না।   

সিএমএম আদালতের গারদখানা থেকে পুলিশের কাঁধে ভর করে সাদ্দাম হোসেনকে নেয়া হচ্ছিল আদালতে। তিনি জানান, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাদ্দাম হোসেনকে শনিবার একটি মেস থেকে ছাত্রলীগের নেতারা ধরে এনেছে। এরপর তাকে বেধড়ক পিটুনি দেয়। পরে পুলিশে সোপর্দ করে। ওরা আমার পায়ের পাতা, হাঁটুতে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে। একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এরপর আর কিছু মনে নেই।     


পল্লবী থানার একটি মামলায় ১৭ বছরের শিশু মো. নাসিম হোসেন তালুকদার  কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আছে বলে জানান শিশুটির আইনজীবী মাহফুজুর রহমান। তিনি মানবজমিনকে বলেন, বাসাবাড়ির সামনে থেকে পুলিশ শিশুটিকে আটক করেছে। আমরা তার জামিনের জন্য শিশু আদালতে আবেদন করেছি। আজ সোমবার ওই শিশুর জামিন আবেদনের শুনানি হবে।   
সরজমিন দেখা যায়, সকালে আদালতপাড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি প্রিজন ভ্যানের মধ্যে নিজের ভাইকে খুঁজছিলেন বড় ভাই। সাতদিন আগে, বন্ধুর কাছে পাওনা টাকা চাইতে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় যান ছোট ভাই মাইন উদ্দিন। সেদিন যাত্রাবাড়ী ও সাইনবোর্ড এলাকায় চলছিল সংঘাত সহিংসতা। এরপর থেকেই তার ফোন বিচ্ছিন্ন। ভাই জাহাঙ্গীর জানান, পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর মাইন উদ্দিনের আটকের খবর জানতে পারেন তিনি। তাই ভাইকে জামিন মুক্ত করতে আদালতপাড়ায় ছুটে আসেন। বিভিন্ন থানা থেকে আটক শিক্ষার্থীদের হাত পেছনে দিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে সিএমএম-এর গারদখানায় আনতে দেখা গেছে। কারও কারও মাজায় রশি বাঁধাও দেখা গেছে।

রাজধানীর আজিমপুর কলোনির বাসাবাড়ি থেকে আটক এক স্বজন ছেলের খোঁজে আদালতের সামনে আইনজীবীর সঙ্গে শলাপরামর্শ করতে দেখা যায়। তিনি জানান, শনিবার দিবাগত রাতে আজিমপুর কলোনিতে তল্লাশি করা হয়েছে। আমার ছেলের মতো আরও কয়েকজন ছেলেকে পুলিশ আটক করেছে।

শনিবার ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রানাসহ সাত জনকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয় আদালত। ওই সাতজনের মধ্যে ১৭ বছরের ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী  হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজের রিমান্ড বাতিল চেয়েছিলেন তার আইনজীবী।  ফাইয়াজের আইনজীবী মো. মুজাহিদুল ইসলাম শনিবার আদালতে রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন চেয়েছিলেন। ফাইয়াজকে ‘শিশু’ দাবি করে রিমান্ডে না পাঠানোর আর্জি জানিয়েছিলেন। এরপরেও শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামিন নাকচ করে ফাইয়াজকেও রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। গতকাল আদালত তার রিমান্ড স্থগিত করেছেন এবং উক্ত অভিযুক্তের বয়স নির্ধারণ বিষয়ে শুনানি ও আদেশের জন্য সংশ্লিষ্ট শিশু আদালতে পাঠান। শিশু আদালত শুনানি শেষে অভিযুক্ত ফাইয়াজকে শিশু হিসেবে ঘোষণা করে তার রিমান্ড বাতিল করেন এবং তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।

ট্রাম্পকে একজন যৌন হেনস্থাকারী বললেন কমালা

সময়ের কাঁটা এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর ১০০ দিন বাকি। ডেমোক্র্যাট দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন না পেলেও কোমর বেঁধে ভোট প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েছেন কমালা হ্যারিস।  গত সাত দিনে তিনি যে ক’টি প্রচার সভা করেছেন, তার প্রতিটাতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। শনিবারের সভায় বলেন, ‘‘আমি এক জন আইনজীবী। ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার সংজ্ঞা জানি। আমি হলফ করে বলতে পারি, ট্রাম্প একজন যৌন হেনস্থাকারী। এক অদ্ভুত ব্যক্তি ’’।  রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্টের প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে কমালা বলেন, আশা করি ট্রাম্প সাহস করে আমার সঙ্গে বিতর্কে অংশ নেবেন। তা হলে সরাসরি তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করব। এর মধ্যেই হ্যারিস-ট্রাম্পের একটি বিতর্ক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প সেই বিতর্কে অংশ নিতে অস্বীকার করেন।  গত বৃহস্পতিবার অন্তত দুটি এবং শুক্রবার একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫ নভেম্বরের নির্বাচনের ফল নির্ধারণী ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোয় ট্রাম্পের সঙ্গে হ্যারিসের ব্যবধান কমে এসেছে। এমারসন কলেজ ও দ্য হিল পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ চারটি রাজ্যে ট্রাম্প সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অ্যারিজোনায় ট্রাম্পের ৪৯ শতাংশের বিপরীতে হ্যারিস ৪৪, জর্জিয়ায় ট্রাম্প ৪৮ ও হ্যারিস ৪৬ শতাংশ, মিশিগানে ট্রাম্প ৪৬ ও হ্যারিস ৪৫ এবং পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্প ৪৮ ও হ্যারিস ৪৬ সমর্থন পেয়েছেন।

উইসকনসিনে ট্রাম্প ও হ্যারিস উভয়ই পেয়েছেন ৪৭ শতাংশ সমর্থন। নিউ ইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা কলেজের জরিপের ফলাফলও প্রকাশ হয় গত বৃহস্পতিবার। দেশব্যাপী নিবন্ধনকৃত ভোটারদের মধ্যে চালানো এ জরিপেও দেখা যায়, ট্রাম্প হ্যারিসের চেয়ে মাত্র ২ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। যেখানে আগে বাইডেনের চেয়ে ৮ শতাংশে এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে কমালা হ্যারিসের নাম সামনে আসার পর তাকে বামপন্থি ও উন্মাদ আখ্যা দিয়েছিলেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। অতি-উদারপন্থী কমালা হ্যারিস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধ, বিশৃঙ্খলা, মারপিট এবং মৃত্যু ডেকে আনবে বলে প্রচার চালান তিনি । তার পাল্টা হিসেবে ট্রাম্পকে যৌন হেনস্থাকারী  আখ্যা দিয়ে  রিপাবলিকান প্রার্থীকে একহাত নিলেন কমালা।  

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে নিহত ২৬৬ জনের তালিকা

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলি-ব্রাশফায়ার ও সংঘর্ষে ২৬৬ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে। দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে,  সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল সূত্র থেকে পাওয়া এ তালিকা নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র অনুসারে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলি ও সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে অনেকের লাশ হাসপাতালে না নিয়ে দাফন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক পরীক্ষায় মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর এসব লাশ হাসপাতালে গ্রহণ না করে আত্মীয়দের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে, যাদের ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে বড় সংখ্যকই শিক্ষার্থী। যারা বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বাকিদের একটি অংশ বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় মানুষ, যাদের অনেকে ছাত্রদের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসে।

এর বাইরে নিহত উল্লেখযোগ্য একটি অংশ পথচারী দোকানদার অথবা নিজেদের বাড়ি বা অফিসে গুলি বা ব্রাশফায়ারে মৃত্যবরণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগের পরিচয় চিহ্নিত করা গেলেও নিহত সাধারণ অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করতে না পেরে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম বা কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।

নিহতদের দুই-তৃতীয়াংশ মারা গেছে গুলিবিদ্ধ হয়ে। কিছু মারা গেছে ব্রাশফায়ারে। বুকে বা মাথায় আঘাতে মারা গেছে বেশ কয়েকজন। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পানিতে পড়ে মারা গেছে বেশ কয়েকজন। তিনজন সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও মৃত্যুবরণ করেছেন।

নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সৃষ্ট সহিংসতায় তার কাছে ১৪৭ জনের নিহত হওয়ার খবর রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছাত্র, পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। সরকারিভাবে পাওয়া ১৪৭ জন মারা যাওয়ার তথ্যটি রোববার পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী।
ঢাকার বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে সোয়া দুই শ’ জনের নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ করা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর কয়েকগুণ হবে বলে উল্লেখ করেছেন।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও দুই শতাধিক নিহতের খবর উল্লেখ করে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর অনেক বেশি হবে জানানো হয়েছে।

কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলন শুরু হয় ১ জুলাই। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে প্রায় সারা দেশে। এর পরদিন থেকে এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা, সংঘর্ষ, সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতদের তালিকা
১. মো: ফারুক (৩২), ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী, গুলিতে নিহত, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুরাদপুর, চট্টগ্রাম, ১৬ জুলাই।
২. মো: ওয়াসিম (২২), চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র, আহত হয়ে মৃত্যু, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুরাদপুর, চট্টগ্রাম, ১৬ জুলাই।
৩. ফয়সল আহমেদ (২০), ছাত্র, গুলিতে নিহত, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, মুরাদপুর, চট্টগ্রাম, ১৬ জুলাই।
৪. মো: শাহজাহান (২৫), কাপড়ের দোকানের কর্মচারী, মাথায় আঘাতে মৃত্যু, ব্রাদার নূরুন নবী, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ঢাকা, ১৬ জুলাই।
৫. সবুজ আলী (২৫), ছাত্র, ঢাকা কলেজ, মাথায় আঘাতে মৃত্যু, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা কলেজের উল্টোদিকে, ১৬ জুলাই।

৬. আবু সাঈদ (২২), ছাত্র, গুলিতে নিহত, বিআরইউর সামনে, ১৬ জুলাই।
৭. আসিফ (২৩), ছাত্র, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
৮. সাকিল, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
৯. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১০. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।

১১. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১২. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১৩. অজ্ঞাত, ছাত্র, গুলিতে নিহত, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১৪. অজ্ঞাত, ছাত্র, গুলিতে নিহত, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১৫. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।

১৬. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১৭. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১৮. ফারহান ফয়েজ রাতুল (১৭), ছাত্র, গুলিতে নিহত, সিটি হাসপাতাল, উত্তরা, ১৮ জুলাই।
১৯. হাসান মেহেদী, সাংবাদিক, ঢাকা টাইমস, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কাজলা, যাত্রাবাড়ী, ১৮ জুলাই।
২০. ওয়াসিম শেখ (৩০), মাথায় আঘাতে মৃত্যু, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ফিশ স্টোর, ১৮ জুলাই।

২১. নাজমুল কাজী (২০/২২), আহত হয়ে মৃত্যু, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ১৮ জুলাই।
২২. মোহাম্মদ (২০), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আজিমপুর, ১৮ জুলাই।
২৩. অজ্ঞাত (৩০), রিকশাচালক, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ১৮ জুলাই।
২৪. অজ্ঞাত, ফারাজী হাসপাতাল, রামপুরা, ১৮ জুলাই।
২৫. অজ্ঞাত, ফারাজী হাসপাতাল, রামপুরা, ১৮ জুলাই।

২৬. অজ্ঞাত (১৮), ছাত্র, গুলিতে নিহত, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, বহদ্দারহাট, ১৮ জুলাই।
২৭. অজ্ঞাত (২২), ছাত্র, গুলিতে নিহত, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, বহদ্দারহাট, ১৮ জুলাই।
২৮. আসহাবুল ইয়ামিন (২০), ছাত্র, এমআইএসটি, মিরপুর, গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ, সাভার, ১৮ জুলাই।
২৯. তাহমিদ তামিম (১৫), স্কুলছাত্র, নরসিংদী, গুলিতে নিহত, ১০০ বেড হাসপাতাল, নরসিংদী, ১৮ জুলাই।
৩০. ইমন মিয়া (২২), ছাত্র, সরকারি সাটিরপাড়া স্কুল, গুলিতে নিহত, নরসিংদী সদর হাসপাতাল, নরসিংদী, ১৮ জুলাই।

৩১. দীপতো দে (২১), ছাত্র, মাদারীপুর কলেজ, লেকপাড়, মাদারীপুর, ১৮ জুলাই।
৩২. রৌদ্র সেন (২২), ছাত্র, এসইউএসটি, পুলিশ লেক এরিয়া, সুরমা গেট পয়েন্ট, ১৮ জুলাই।
৩৩. মানিক মিয়া (৪০), রিকশাচালক, গুলিতে নিহত, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পুলিশ স্টেশনের পেছনে, ১৮ জুলাই।
৩৪. সাকিল হোসেন (২২), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৮ জুলাই।
৩৫. ইমরান (২৪), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ১৮ জুলাই।

৩৬. আবদুল্লাহ (১৫), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ১৮ জুলাই।
৩৭. সাইমুন সিয়াম (২৫), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ১৮ জুলাই।
৩৮. ইসমাইল (৩৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা, ১৮ জুলাই।
৩৯. খালিদ সাইফুল্লাহ (১৮), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টার, ঢাকা, ১৮ জুলাই।
৪০. দুলাল মাতব্বর, মাইক্রোবাস ড্রাইভার, গুলিতে নিহত, মেরুল বাড্ডা, ১৮ জুলাই।

৪১. জিল্লুর রহমান (১৭), ছাত্র, ইমপিরিয়াল কলেজ, গুলিতে নিহত, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এরিয়া, ১৮ জুলাই।
৪২. রৌদ্র সেন (২০/২২), ছাত্র, লেকপাড়, আখালিয়া, ১৮ জুলাই।
৪৩. হোসেন, গুলিতে নিহত, বাঁশতলা, বাড্ডা, ১৮ জুলাই।
৪৪. মো: সাকিল হোসেন, সাংবাদিক, দৈনিক ভোরের আওয়াজ, গাছা থানা, গাজীপুর, ১৮ জুলাই।
৪৫. রাকিব হোসেন (২২), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আফতাবনগর, ১৯ জুলাই।

৪৬. গনি শেখ (৪৫), শ্রমিক, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শাহজাদপুর, ১৯ জুলাই।
৪৭. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কাজলা।
৪৮. সোহাগ (১৯), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শাহজাদপুর, ১৯ জুলাই।
৪৯. আরিফ (১৮), দোকানের কর্মচারী, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, কাজলা, ১৯ জুলাই।
৫০. সান্তু (২০), দোকানের কর্মচারী, গুলিতে নিহত, যাত্রাবাড়ী, কাজলা, ১৯ জুলাই।

৫১. রাব্বী (২৭), গুলিতে নিহত, আবু তালেব স্কুল, ১৯ জুলাই।
৫২. অদুদ (৪০), গুলিতে নিহত, চায়না বিল্ডিং, নিউমার্কেট, ১৯ জুলাই।
৫৩. পাভেল (২৫), দোকানের কর্মচারী, শাহবাগ, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পল্টন, ১৯ জুলাই।
৫৪. মোবারক (৩২), দোকানের কর্মচারী, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কদমতলী, ১৯ জুলাই।
৫৫. আকরাম খান রাব্বী (২৪), ছাত্র, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।

৫৬. জিহাদ (২২), ছাত্র, গুলিতে নিহত, শনিরআখড়া, ১৯ জুলাই।
৫৭. দুলাল মোহাম্মদ দোলন (৪০), ব্যাংকার, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আজিমপুর, ১৯ জুলাই।
৫৮. অজ্ঞাত (১৮), গুলিতে নিহত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাটারা, ১৯ জুলাই।
৫৯. ওমর ফারুক (২৩), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা, ১৯ জুলাই।
৬০. আবদুল ওয়াদুদ, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।

৬১. মারুফ হোসাইন (২৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬২. মেহেদী হাসান (২০), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬৩. সাইফুল ইসলাম, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬৪. অজ্ঞাত (২৫), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬৫. রবিউল ইসলাম (৩০), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।

৬৬. ইসমাইল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬৭. কামাল মিয়া/জালাল মিয়া (৪৫), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬৮. নবীন তালুকদার, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৬৯. ইমন (২৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৭০. সোহেল (৩৫), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।

৭১. অজ্ঞাত (২২), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৭২. শাওন (২৪/২৫), ছাত্র, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চায়না বিল্ডিং, নিউমার্কেট, ১৯ জুলাই।
৭৩. পারভেজ (২৩), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৭৪. মামুন সরদার (৩৪/২৭), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৭৫. শোভন (২৫), চায়না বিল্ডিং, নিউমার্কেট, ১৯ জুলাই।

৭৬. রেদোয়ান (২২), ছাত্র, বঙ্গবন্ধু, গুলিতে নিহত, কামারপাড়া, ১৯ জুলাই।
৭৭. শরীফ (২৩), ছাত্র, বঙ্গবন্ধু, গুলিতে নিহত, কামারপাড়া, ১৯ জুলাই।
৭৮. রাইদ (২২), ছাত্র, বঙ্গবন্ধু, গুলিতে নিহত, কামারপাড়া, ১৯ জুলাই।
৭৯. রানা (১৫), গুলিতে নিহত, ১৯ জুলাই।
৮০. সোহাগ মোল্লা, পিএ, মেয়র, উত্তরা, ১৯ জুলাই।

৮১. মুনসুর (৪০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৮২. শরীফ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৮৩. রাসেল, ছাত্র, ফরাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৮৪. অজ্ঞাত, ফরাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৮৫. অজ্ঞাত, ফরাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।

৮৬. অজ্ঞাত, বি লাইফ এইচ, ১৯ জুলাই।
৮৭. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৮৮. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৮৯. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৯০. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।

৯১. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৯২. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৯৩. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৯৪. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৯৫. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।

৯৬. অজ্ঞাত, এসএসএমসিএইচ, ১৯ জুলাই।
৯৭. অজ্ঞাত, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৯৮. অজ্ঞাত, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
৯৯. অজ্ঞাত, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১০০. অজ্ঞাত, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।

১০১. অজ্ঞাত, উত্তরা, ১৯ জুলাই।
১০২. সজ্জল হোসেন (২৮), রংপুর, ১৯ জুলাই।
১০৩. মেরাজ (৪০), রংপুর মেডিক্যাল কলেজ, ১৯ জুলাই্।
১০৪. অজ্ঞাত, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ, ১৯ জুলাই।
১০৫. মোজাম্মেল (৩২), রংপুর মেডিক্যাল কলেজ, ১৯ জুলাই।

১০৬. মোখলেসুর রহমান মিলন (২৫), রংপুর, ১৯ জুলাই।
১০৭. মউন (২৫), রংপুর, ১৯ জুলাই।
১০৮. আবদুর রশীদ (৭০), হোল্ড/রেইড, ফজলুল হক রোড, সিরাজগঞ্জ, ১৯ জুলাই।
১০৯. সিয়াম (১৬), গুলিতে নিহত, আমতলা মোড়, বগুড়া, ১৯ জুলাই।
১১০. এহসানুল হক (২২), ১৯ জুলাই।

১১১. এটিএম তোরাব (৩০), সাংবাদিক, সিলেট, ১৯ জুলাই।
১১২. অজ্ঞাত, নরসিংদী, ১৯ জুলাই।
১১৩. সাগর, (১৬), ময়মনসিংহ, ১৯ জুলাই।
১১৪. আল আমিন (২৪), ডারাজ কর্মচারী (ছাত্র), এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাভার, ১৯ জুলাই।
১১৫. শাহজালাল (২৬), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।

১১৬. পারভেজ (২৩), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১১৭. জুয়েল (২৫), আনসার, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, দৈনিক বাংলার মোড়, ১৯ জুলাই।
১১৮. ইফতি (১৬/১৪), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, অনাবিল হাসপাতালের সামনে, কাজলা, ১৯ জুলাই।
১১৯. অজ্ঞাত (৪১), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১২০. শাকিল (২২), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।

১২১. অজ্ঞাত (৩০), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১২২. রাজিব (৩০), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১২৩. আল আমিন (১৮), ছাত্র, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কামারপাড়া, উত্তরা, ১৯ জুলাই।
১২৪. নাঈমা সুলতানা (১৫), ছাত্র, গুলিতে নিহত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, হোম, ১৯ জুলাই।
১২৫. নুরুল ইসলাম, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।

১২৬. জামাল মোল্লা, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১২৭. অজ্ঞাত, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১৯ জুলাই।
১২৮. অজ্ঞাত, ক্রিসেন্ট হসপিটাল, ১৯ জুলাই।
১২৯. মো: সিয়াম (১৮), গুলিতে নিহত, ১৯ জুলাই।
১৩০. হৃদয় মীর (১৮), গুলিতে নিহত, ১৯ জুলাই।

১৩১. সুজন মিয়া (১৭), গুলিতে নিহত, ১৯ জুলাই।
১৩২. আমজাদ হোসেন (২২), গুলিতে নিহত, ১৯ জুলাই।
১৩৩. অজ্ঞাত, ১৯ জুলাই।
১৩৪. আসিফ ইকবাল (২৯), এক্স ছাত্র, মাগুরা, ঢাকা, ১৯ জুলাই।
১৩৫. মোত্তাকিন বিল্লাহ (২৫), মাগুরা, ঢাকা, ১৯ জুলাই।

১৩৬. রাজু, মাগুরা, ১৯ জুলাই।
১৩৭. আতিকুল ইসলাম (৩২), গুলিতে নিহত, পটুয়াখালী, মিরপুর-১০, ১৯ জুলাই।
১৩৮. অজ্ঞাত (২০), মিটফোর্ড হসপিটাল, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা, ১৯ জুলাই।
১৩৯. অজ্ঞাত (৪০), মিটফোর্ড হসপিটাল, ঢাকা, ১৯ জুলাই।
১৪০. রোহান (২০), ছাত্র, এইচএসসি পরীক্ষার্থী, মিটফোর্ড হসপিটাল, ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, ১৯ জুলাই।

১৪১. রাসেল, মিটফোর্ড হসপিটাল, ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, ১৯ জুলাই।
১৪২. বাঁধন (১৯), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা, ১৯ জুলাই।
১৪৩. মো: জুবায়ের (৪০), কুয়েত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল, ১৯ জুলাই।
১৪৪. মো: রোমান (২৫), স্টাফ হসপিটাল, ল্যাবএইড, ১৯ জুলাই।
১৪৫, আসিকুল ইসলাম ইলিয়াস আসিক (১৫), মাদরাসা ছাত্র, গুলিতে নিহত, বনশ্রী হসপিটাল, বনশ্রী, ঢাকা, ১৯ জুলাই।

১৪৬. রোমান বেপারী (৩২), ট্রাক ড্রাইভার, গুলিতে নিহত, মাদারীপুর, চরমোগোরিয়া, সার্বিক পেট্রোল পাম্প, নতুন বাস স্টেশন, ১৯ জুলাই।
১৪৭. তৌহিদ সান্নামাত (২০), মাদরাসা ছাত্র, গুলিতে নিহত, মাদারীপুর, চরমোগোরিয়া, সার্বিক পেট্রোল পাম্প, নতুন বাস স্টেশন, ১৯ জুলাই।
১৪৮. মো: ইমরান খলিফা (৩৩), বেসরকারি স্কুল শিক্ষক, গুলিতে নিহত, খিলবাড়ী টেক, শাহজাদপুর, ঢাকা, ১৯ জুলাই।
১৪৯. আলমগীর শেখ (৩৫), ড্রাইভার, গুলিতে নিহত, বিটিভি সেন্টার, বিটিভি, ১৯ জুলাই।
১৫০. মনির (১৮), পেইন্টার, গুলিতে নিহত, বাঁশতলা, বাড্ডা, ১৯ জুলাই।

১৫১. হাসনাইন (২৫), ডিশলাইন কর্মচারী, গুলিতে নিহত, মোহাম্মদপুর, ১৯ জুলাই।
১৫২. সাফকাত সামির (১১), মাদরাসা ছাত্র, গুলিতে নিহত, কাফরুল, মিরপুর, ১৯ জুলাই।
১৫৩. এএসআই মোকতাদির (৪৮), ট্যুরিস্ট পুলিশ, গণপিটুনি, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শনিরআখড়া, রায়েরবাগ, যাত্রাবাড়ী, ২০ জুলাই।
১৫৪. নায়েক গিয়াসউদ্দিন (৫৮), ডিএমপি পুলিশ, গণপিটুনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ফুটওভারব্রিজের নিচে, রায়েরবাগ, ২০ জুলাই।
১৫৫. ইমাম হোসেন তাজিম (১৯), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শনিরআখড়া এবং যাত্রাবাড়ী এরিয়া, ২০ জুলাই।

১৫৬. জিসান (৩৩), পানি বিক্রেতা, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শনিরআখড়া এবং যাত্রাবাড়ী এরিয়া, ২০ জুলাই।
১৫৭. ইউনূস আলী শাওন (২৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শনিরআখড়া এবং যাত্রাবাড়ী এরিয়া, ২০ জুলাই।
১৫৮. ইউসুফ মিয়া ইলিয়াস সানোয়ার হোসেন (৩৫/৪০), চাল ব্যবসায়ী, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শনিরআখড়া এবং যাত্রাবাড়ী এরিয়া, ২০ জুলাই।
১৫৯. হাবিব সরদার (৩০/৪০), সিএনজি ড্রাইভার, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শনিরআখড়া এবং যাত্রাবাড়ী এরিয়া, ২০ জুলাই।
১৬০. কামরুল মিয়া (২৭), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মিরপুর, ২০ জুলাই।

১৬১. সোহেল (৩৫/২৩), মোবাইল দোকান কর্মচারী, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কদমতলী, ২০ জুলাই।
১৬২. আরিফ (৩৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জ, শনিরআখড়া, ২০ জুলাই।
১৬৩. অজ্ঞাত শিশু (১০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জ, ২০ জুলাই।
১৬৪. আবদুল হান্নান, (৩৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাটারা, ঢাকা, ২০ জুলাই
১৬৫. শুভ (১৬), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাটারা, ধানমন্ডি, ঢাকা, ২০ জুলাই।

১৬৬. আবদুল্লাহ আল আবির (২৩), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাটারা, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৬৭. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, এস সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২০ জুলাই।
১৬৮. রাকিব (১৯), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, কলতাপাড়া, গৌরীপুর উপজেলা, ২০ জুলাই।
১৬৯. জুবায়ের (২১), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, কলতাপাড়া, গৌরীপুর উপজেলা, ২০ জুলাই।
১৭০. মো: বিপ্লব (১৮), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, কলতাপাড়া, গৌরীপুর উপজেলা, ২০ জুলাই।

১৭১. সাইফুল ইসলাম (৪২), কৃষক, গুলিতে নিহত, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, আমাকান্দা ব্রিজ, ফুলপুর ময়মনসিংহ, ২০ জুলাই।
১৭২. কোরবান আলী (৬০), পোলট্রি ব্যবসায়ী, গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ, সাভার, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৭৩. মেহেদী হাসান (২৪), রাজমিস্ত্রি, গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ, বাজার রোড, সাভার, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৭৪. শাদ মাহমুদ খান (১৪), মাদরাসা ছাত্র, গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ, সাভার, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৭৫. রনি (২৭), রিকশাচালক, গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ, সাভার বাসস্ট্যান্ড, ঢাকা, ২০ জুলাই।

১৭৬. মো: রায়হান (১৮), গার্মেন্টশ্রমিক, গুলিতে নিহত, এস তাজউদ্দিন এএমসিএইচ, বোর্ডবাজার এরিয়া, চান্দনা চৌরাস্তা, ২০ জুলাই।
১৭৭. নুরুল আমিন (২১), ডেলি লেবার, গুলিতে নিহত, এস তাজউদ্দিন এএমসিএইচ, টেলিপাড়া এরিয়া জয়দেবপুর, বোর্ডবাজার, ২০ জুলাই।
১৭৮. টিপু সুলতান/ মো: টিপু/জহিরুল ইসলাম (২৭/৪৮) গণপিটুনি, শিবপুর হসপিটাল, কলেজ গেট, শিবপুর, নরসিংদী, ২০ জুলাই।
১৭৯. মোবারক আলী (১৩), গুলিতে নিহত, গ্রিনলাইফ হসপিটাল, পান্থপথ, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৮০. হাসান মিয়া (৪৫), ডেইলি লেবার, গুলিতে নিহত, মেহেরপাড়া, নরসিংদী, ২০ জুলাই।

১৮১. মো: মেহেদী (২০), ছাত্র, গুলিতে নিহত, নেয়ার প্রীতম টাওয়ার, শিমরাইল, সিদ্ধিরগঞ্জ, ২০ জুলাই।
১৮২. মো: হৃদয় (২৮), গুলিতে নিহত, সুগন্ধা প্রাইভেট হসপিটাল, নেয়ার প্রীতম টাওয়ার, শিমরাইল, সিদ্ধিরগঞ্জ, ২০ জুলাই।
১৮৩. মো: শাহীন/মানিক (২৩), হোটেল ম্যানেজার, গুলিতে নিহত, সুগন্ধা প্রাইভেট হসপিটাল, নেয়ার প্রীতম টাওয়ার, শিমরাইল, সিদ্ধিরগঞ্জ, ২০ জুলাই।
১৮৪. মো: সজল (২২), গুলিতে নিহত, সুগন্ধা প্রাইভেট হসপিটাল, নেয়ার প্রীতম টাওয়ার, শিমরাইল, সিদ্ধিরগঞ্জ, ২০ জুলাই।
১৮৫. মিনারুল ইসলাম (২৫), গার্মেন্টশ্রমিক, গুলিতে নিহত, ৩০০ সিট হসপিটাল, নারায়ণগঞ্জ, নেয়ার প্রীতম টাওয়ার, শিমরাইল, সিদ্ধিরগঞ্জ, ২০ জুলাই।

১৮৬. রাজিব হোসেন (৩০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কদমতলী, ২০ জুলাই।
১৮৭. মায়া ইসলাম (৬০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ইন ফ্রন্ট অব হার হাউজ, রামপুরা, ২০ জুলাই্
১৮৮. আমজাদ হোসেন (২২/১৭), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ইটাখোলা হাইওয়ে থানা, ২০ জুলাই।
১৮৯. হৃদয় মীর (১৫), ছাত্র গ্যারেজ মিস্ত্রি, গুলিতে নিহত, ইটাখোলা হাইওয়ে থানা, ২০ জুলাই।
১৯০. সুজন মিয়া (১৭), ছাত্র/ভটভটি/ লেগুনা ড্রাইভার, গুলিতে নিহত, ইটাখোলা হাইওয়ে থানা, ২০ জুলাই।

১৯১. সিয়াম আহমেদ (১৯) ছাত্র, গুলিতে নিহত, ইটাখোলা হাইওয়ে থানা, ২০ জুলাই।
১৯২. অজ্ঞাত (মধ্যবয়সী), গুলিতে নিহত, ভেলানগর নরসিংদী, ২০ জুলাই।
১৯৩. আশিক মিয়া (১৫), গুলিতে নিহত, মাধবদী, নরসিংদী, ২০ জুলাই।
১৯৪. হুমায়ুন কবীর (২৫), গুলিতে নিহত, বোর্ড বাজার এরিয়া, গাজীপুর, ২০ জুলাই।
১৯৫. তনয় দাশ/তন্ময় দাশ (২৮), গুলিতে নিহত, বোর্ড বাজার এরিয়া, গাজীপুর, ২০ জুলাই।

১৯৬. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, কলতাপাড়া, গৌরীপুর উপজেলা, ময়মনসিংহ, ২০ জুলাই।
১৯৭. অজ্ঞাত (২৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল/এএমজেডএইচ, বাড্ডা, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৯৮. কামরুল মিয়া (২৭), ফার্নিচার কর্মচারী, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল/এএমজেডএইচ, বাড্ডা, ঢাকা, ২০ জুলাই।
১৯৯. জাহাঙ্গীর (৪০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ২০ জুলাই।
২০০. রুবেল মিয়া (২০/৩০), গুলিতে নিহত, সুগন্ধা প্রাইভেট হসপিটাল, নেয়ার প্রীতম টাওয়ার, শিমরাইল সিদ্ধিরগঞ্জ, ২০ জুলাই।

২০১. অজ্ঞাত (২৭), গুলিতে নিহত, আজিমপুর, ঢাকা, ২০ জুলাই।
২০২. শাহরিয়ার (১৯/২৩), মাদরাসা ছাত্র, গুলিতে নিহত, শনিরআখড়া অ্যান্ড যাত্রাবাড়ী এরিয়া, ২০ জুলাই।
২০৩. অজ্ঞাত (২০), গুলিতে নিহত, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা, ২০ জুলাই।
২০৪. মো: শাকিল (২২), গার্মেন্টশ্রমিক, গুলিতে নিহত, বসিলা, মোহাম্মদপুর, ২০ জুলাই।
২০৫. অজ্ঞাত (৩০), গুলিতে নিহত, বসিলা, মোহাম্মদপুর, ২০ জুলাই।

২০৬. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল, টঙ্গী এরিয়া, গাজীপুর ২০ জুলাই।
২০৭. অজ্ঞাত, গুলিতে নিহত, গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল, টঙ্গী এরিয়া, গাজীপুর ২০ জুলাই।
২০৮. অজ্ঞাত, ২০ জুলাই।
২০৯. অজ্ঞাত, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রাউ, বরিশাল, ২০ জুলাই।
২১০. সেলিম মন্ডল (২৯), রাজমিস্ত্রি, ব্রাশ ফায়ারে মৃত্যু, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হসপিটাল, হাজী ইব্রাহিম শপিং কমপ্লেক্স, ২০ জুলাই।

২১১. আবদুস সালাম (২২), রাজমিস্ত্রি ব্রাশ ফায়ারে মৃত্যু, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হসপিটাল, হাজী ইব্রাহিম শপিং কমপ্লেক্স, ২০ জুলাই।
২১২. সোহেল আহমেদ (৪২/২১) রাজমিস্ত্রি ব্রাশ ফায়ারে মৃত্যু, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হসপিটাল, হাজী ইব্রাহিম শপিং কমপ্লেক্স, ২০ জুলাই।
২১৩. আদিল আল মাহমুদ, কর্মচারী, গুলিতে নিহত, নেয়ার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ২০ জুলাই।
২১৪. মো: ইমরান (১৬), টেইলার, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাইনবোর্ড, ২১ জুলাই।
২১৫. আকাশ (১৬), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চিটাগাং রোড, ২১ জুলাই।

২১৬. অজ্ঞাত (৪০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, ২১ জুলাই।
২১৭. আমিন (১৬) ওয়ার্কশপ শ্রমিক, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কদমতলী গুলবান, ২১ জুলাই।
২১৮. জসিম (৪০), চা বিক্রেতা, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২১ জুলাই।
২১৯. রাকিব বেপারী (২০), গার্মেন্ট শ্রমিক, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ, ফতুল্লা, ২১ জুলাই।
২২০. ফয়েজ (৩০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।

২২১. মো: জাকির/ মো: জাহিদ (৩২), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ঢাকা, ২১ জুলাই।
২২২. তৌফিকুল ইসলাম (৩০), ইঞ্জিনিয়ার, পেট্রোবাংলা, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাড্ডা, ঢাকা, ২১ জুলাই।
২২৩. সোহাগ (২৪), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, গোপীবাগ রেল গেইট, ২১ জুলাই।
২২৪. মো: রাব্বী/আবদুল বারী (১৭), ছাত্র, টেইলার, গুলিতে নিহত, শেখেরচর মাজার বাসস্ট্যান্ড, ২১ জুলাই।
২২৫. মো: নাহিদ মিয়া (৩০), গুলিতে নিহত, গুলিতে নিহত, শেখেরচর মাজার বাসস্ট্যান্ড, ২১ জুলাই।

২২৬. আলী হোসেন (৪৫), টেইলার, গুলিতে নিহত, গুলিতে নিহত, শেখেরচর মাজার বাসস্ট্যান্ড, ২১ জুলাই।
২২৭. অজ্ঞাত (২৫), গুলিতে নিহত, নরসিংদী সদর হসপিটাল, শেখেরচর মাজার বাসস্ট্যান্ড, ২১ জুলাই।
২২৮. হুমায়ুন আহমেদ, গুলিতে নিহত, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, গাজীপুর, ২১ জুলাই।
২২৯. প্রণয় দাস, গুলিতে নিহত, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, গাজীপুর, ২১ জুলাই।
২৩০. অজ্ঞাত (২৫), গুলিতে নিহত, ৩০০ বেড হসপিটাল নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।

২৩১. আবদুল মজিব (২৮), কভার্ড ভ্যান ড্রাইভার, আগুনে দগ্ধ, চৌদ্দগ্রাম, হাজীগঞ্জ থানা, চাঁদপুর, ২১ জুলাই।
২৩২. নবী নূর (৪১), ফিশ ট্রেডার্স গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ, সাভার, ২১ জুলাই।
২৩৩. শফিকুল ইসলাম (২৫), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, দক্ষিণ পরিবাগ, ২১ জুলাই।
২৩৪. মাসুদ পারভেজ, পুলিশ, রাজারবাগ সেন্ট্রাল পুলিশ হসপিটাল, ঢাকা, ২১ জুলাই।
২৩৫. মিলন মিয়া (৩০), ফিশ ট্রেডার্স, গুলিতে নিহত, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।

২৩৬. সুমাইয়া আকতার সুমী (২০), গুলিতে নিহত, গুলিতে নিহত, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।
২৩৭. সজীব মিয়া (১৭), গুলিতে নিহত, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।
২৩৮. আশিকুর রহমান (১৯), গুলিতে নিহত, সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।
২৩৯. বাবুল (২৮), গুলিতে নিহত, সাইনবোর্ড, নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।
২৪০. মো: শরীফ, গুলিতে নিহত, সানারপার, নারায়ণগঞ্জ, ২১ জুলাই।

২৪১. আবদুল লতিফ (২৭), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা, ২১ জুলাই।
২৪২. ইউসুফ আলী সোহান (১৬), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শনিরআখড়া, ঢাকা, ২১ জুলাই।
২৪৩. মো: হান্নান (৩০), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাড্ডা, ঢাকা, ২১ জুলাই।
২৪৪. ফারুক (৪৫/২২), গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল হাসপাতাল সাভার, ২১ জুলাই।
২৪৫. রাসেল (২০), টেম্পু হেলপার, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, দনিয়া, ঢাকা, ২২ জুলাই।

২৪৬. আজিজুল মিয়া (২২), ইমপ্লয়ী, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২২ জুলাই।
২৪৭. সান্তু (২২), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বার্ন ইনস্টিটিউট, ২২ জুলাই।
২৪৮. সৈয়দ গোলাম মোস্তফা রাজু (৩৬), ইঞ্জিনিয়ার এমঅইসটিআরআই, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বার্ন ইনস্টিটিউট, ২২ জুলাই।
২৪৯. অজ্ঞাত (৩৫), গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বার্ন ইনস্টিটিউট, ২২ জুলাই।
২৫০. মনির হোসেন, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ২২ জুলাই।

২৫১. হৃদয় চন্দ্র তরুয়া, (২২), ছাত্র, সিইউ, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২৩ জুলাই।
২৫২. অজ্ঞাত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাভার, ২৩ জুলাই।
২৫৩. অজ্ঞাত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাভার, ২৩ জুলাই।
২৫৪. অজ্ঞাত, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২৩ জুলাই।
২৫৫. অজ্ঞাত, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২৩ জুলাই।

২৫৬. শুভ শীষ (২৪), গার্মেন্ট কর্মী, গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাভার, ২৩ জুলাই।
২৫৭. অজ্ঞাত (২২), মাথায় আঘাত, ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স, উত্তরা, ২৩ জুলাই।
২৫৮. শাহরিয়ার শুভ (২৮), গুলিতে নিহত, ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স, মিরপুর-১, ২৩ জুলাই।
২৫৯. নাসির হোসেন, গুলিতে নিহত, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, রায়েরবাগ, যাত্রাবাড়ী, ২৩ জুলাই।
২৬০. রিয়া গোপ (৬), ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাড়ির ছাদে গুলিবিদ্ধ, ২৪ জুলাই।

২৬১. শাহজাহান হৃদয় (২১), মাদ্রাসার ছাত্র, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, লেভেল ক্রসিং, এসকে টাওয়ার, মহাখালী, ২৪ জুলাই।
২৬২. সাজেদুর রহমান ওমর (২২), আইটি টেকনিশিয়ান, ডেমরা, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাইনবোর্ড এলাকা, কোনাপাড়া, ডেমরা, ২৪ জুলাই।
২৬৩. তুহিন আহমেদ (২৬), মাসন, গুলিতে নিহত, এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সাভার, ২৪ জুলাই।
২৬৪. জাকির হোসেন (২৯), টেইলর, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যাত্রাবাড়ী, ২৫ জুলাই।
২৬৫. জামান মিয়া (১৭), শ্রমিক, গুলিতে নিহত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ, ২৫ জুলাই।

২৬৬. সোহেল রানা (২০), গুলিতে নিহত, বিএসএমএমইউ, রামপুরা, ২৫ জুলাই।

মানবজমিন ডিজিটাল...
সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৫ অপরাহ্ন

চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে করুণ দৃশ্য: আল জাজিরার রিপোর্ট

জীবাণুমুক্ত জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভেতরে এক করুণ দৃশ্য। তার ভেতরে কয়েক ডজন যুবকের মুখে গভীর হতাশা ও অনিশ্চয়তা। তারা নীরব বসে আছেন। চোখের ক্ষত ঢাকতে সানগ্লাস পরেছেন কেউ কেউ। অন্যরা তাদের একচোখে বা দুই  চোখেই পরেছেন ব্যান্ডেজ। তাদের মাঝে একটিই প্রশ্ন তারা কি আর কখনো এই সুন্দর পৃথিবী দেখতে পাবেন? এসব মানুষ ছররা গুলির শিকার। তারা গুলি থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষ। গত সপ্তাহে বাংলাদেশে কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের মধ্যে যে সংঘর্ষ হয়েছে তারই শিকার তারা। এর মধ্যে ঢাকা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে মাদারীপুরের ২৪ বছর বয়সী একজন সেলসপারসন মোহাম্মদ অনিক। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের একজন ডিউটি ডাক্তার বলছেন, অনিকের দৃষ্টিশক্তি ফেরার সম্ভাবনা শতকরা ৫০ ভাগেরও কম। তার দুটি চোখেই অনেক ক্ষত। আমরা আমাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করছি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

গত সপ্তাহের সোমবার কাজ থেকে বাসায় ফিরছিলেন অনিক। এ সময় বিক্ষোভকারী ও পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান রাস্তায়। কী ঘটছে তা বুঝে ওঠার আগেই ছররা গুলি এসে তার মুখমণ্ডলে লাগে। তিনি মাটিতে পড়ে যান। অচেতন হয়ে পড়েন। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আনা প্রায় ৫০০ রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।

হাসপাতালের রেকর্ড বলছে এর মধ্যে কমপক্ষে ২৭৮ জনের শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও ক্ষত হয়েছে। মোটরসাইকেল ওয়ার্কশপে কাজ করে ১০ বছর বয়সী মোহাম্মদ শামীম। গত শুক্রবার মিরপুরে সংঘর্ষ চলাকালে তার দুই চোখেই ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। সে কোনোদিনই পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শামীমের পিতা মোহাম্মদ ইদ্রিস সন্তানের এই পরিণতির জন্য কাঁদছেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোলাম মোস্তাফা নিশ্চিত করেন যে, এসব মানুষ আহত হয়েছেন বিক্ষোভের সময় সংঘর্ষে শটগানে ছররা গুলি ব্যবহার করার কারণে। এসব গুলি চোখে প্রবেশ করে আটকে আছে কেন্দ্রীয় অঞ্চল রেটিনায় অথবা শক্তির ফলে তা বেরিয়ে গেছে। এসব কারণে আংশিক অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে।
ধাতব ছররা গুলি শটগান, আইন প্রয়োগকারীদের ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। তারা বলেছে, এটা ব্যবহার যথার্থ নয়। তা প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকের নীতিকে লঙ্ঘন করে। বেশ কিছু নিরাপত্তা বিশ্লেষক অনেক ছবি ও ফুটেজ যাচাই করে বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা ১২ গজ পাম্প-অ্যাকশন শটগান ব্যবহার করেছে। তাতে এসব ধাতব ছররা গুলির কার্ট্রিজ থাকে।

এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেক্সট মেসেজে যোগাযোগের চেষ্টা করে আল জাজিরা। কিন্তু কোনো সাড়া পায়নি আল জাজিরা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদ আল জাজিরাকে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম প্রাণঘাতী অস্ত্র পুলিশ বা আধা সামরিক বাহিনী ব্যবহার করেছে কিনা তা তিনি চেক করে দেখবেন। কিস্তু যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিযোগ করেছে বিক্ষোভ চলাকালে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করেছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। একই রকম উদ্বেগ জানিয়েছে আরেক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তারা বলেছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে তাদের ওপর সরাসরি গুলি, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট এবং শটগান থেকে ছররা গুলি ছোড়া হয়েছে। চোখে আহত হয়ে যারা বেঁচে আছেন তারা ও তাদের পরিবার দাবি করেছে, বৈষম্যমূলকভাবে শক্তি প্রয়োগ করেছে পুলিশ। কোনো বিরতি না দিয়ে গুলি করেছে। দক্ষিণের বরিশালে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন রকিবুল আহসান। তিনি বিএম কলেজে পরিসংখ্যানে চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। গত মঙ্গলবার তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে রাস্তায় অবস্থান নিলে তার দুই চোখেই গুলি করা হয়েছে। তার চোখ পুরোপুরি ভালো হবে কিনা তা নিশ্চিত নন ডাক্তাররা। রকিবুল আহসান বলেন, আমরা একটি আইনগত বিষয়ে প্রতিবাদ করছিলাম।

এর জন্য আমাদের গুলি করা হলো। এখানে কোনো ন্যায়বিচার নেই। সেলসম্যান অনিকের সঙ্গে হাসপাতালের একই ওয়ার্ডে আছেন মাদারীপুরের সুমন মিয়া। তিনি একজন রাজমিস্ত্রি। তার ডানচোখে গুলি বিদ্ধ হয়েছে। আহসান বা অনিকের মতো তিনি সরকার বিরোধী প্রতিবাদে জড়িত নন। তিনি কাজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। অপারেশন সত্ত্বেও চিকিৎসকরা তার চোখটি বাঁচাতে পারেননি। তার ওই চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। তার বোন লিপি আকতার বলেন, কোনো প্রতিবাদে যুক্ত ছিল না আমার ভাই। তাকে কেন গুলি করা হলো? এর জন্য কাকে দায়ী করা হবে?

অনলাইনে প্রথম যে জিনিসটি দেখা গিয়েছিল তা হলো ‘মৃতদের ডিজিটাল ইয়ারবুক’ by মুজিব মাশাল ও সাইফ হাসনাত

একজন পার্টটাইম শিক্ষকের ঘাড়ে গুলি লেগেছে। একজন সাংবাদিক যিনি দুই সন্তানের  বাবা, তার মাথা ভেদ করে গেছে গুলি। এক দোকানদারের ছেলেরও  গুলি গিয়ে লেগেছে সোজা মাথায়। গত সপ্তাহে ছাত্র বিক্ষোভের উপর একটি ভয়ঙ্কর ক্র্যাকডাউনের পরে যখন বাংলাদেশের মানুষকে প্রায় গোটা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল, তখন অনলাইনে প্রথম যে জিনিসটি আবির্ভূত হয়েছিল তা হলো  ‘মৃতদের ডিজিটাল ইয়ারবুক’।

সরকারি চাকরিতে  সংরক্ষিত কোটার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, তা দমন করার নামে সরকারি বাহিনী রীতিমতো হত্যাযজ্ঞ চালায়।  মৃতের সংখ্যা প্রায় ২০০-এর কাছাকাছি। হাজার হাজার আহত হয়েছেন। শুধু রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালেই ২৫০ জনেরও বেশি লোকের মুখে পেলেট বা (রাবার বুলেট) গুলি করার পর চোখের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। নিহতদের অধিকাংশই যুবক, তাদের বয়স ২০। স্থবির অর্থনীতির জেরে  চাকরির সম্ভাবনা  ক্ষীণ হওয়ার কারণে তারা রাজপথে একত্রিত হয়েছিল। রাষ্ট্র নেতারা চাকরির মেধাভিত্তিক বণ্টনের জন্য তাদের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি সরকারি দুর্নীতি এবং দায়মুক্তি হিসেবে তারা যা প্রত্যক্ষ করেছিল  তা তাদের  মনে একটু একটু করে ক্ষোভের  সঞ্চার করে।

২৩ বছর বয়সী হৃদয় চন্দ্র তারুয়া ইতিহাসে ডিগ্রি শেষ করে গৃহশিক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন। তার বাবা একজন কাঠমিস্ত্রি,  মা ঘর সামলান। কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পর সে মাকে সাহায্য করতো। জামাকাপড় ধুয়ে দিতো, মসলা পিষে দিতো। মাকে সান্ত্বনা দিতো এই বলে-চাকরি পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। এরপরে আর কষ্ট করতে হবে না। কিন্তু হৃদয়ের আর বাড়ি ফেরা হলো না।
নিহত তিন সাংবাদিকের একজন হাসান মেহেদি (৩৫)। তিনি তার স্ত্রী ও দুই  কন্যাসন্তানকে রেখে গেছেন, যাদের বয়স তিন বছরের কিছু  বেশি। তার স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপি বলে ওঠেন, ‘আমার ছোট মেয়ে সবেমাত্র  ‘আবু, আবু’ বলতে শিখেছে। আমার মেয়েরা কখনই জানতে পারবে না যে, তাদের বাবা আসলে কে ছিলেন।’

দমনপীড়ন শুরু হওয়ার সময় মাহমুদুল রহমান সৈকত (২০) তার  দোকানটি  বন্ধ রেখেছিলেন। তার বোন সাবরিনা সাবন্তী জানান, আহত ছাত্রদের সাহায্য করতে ছুটে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। দুই বোনের সঙ্গে ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার মাহমুদুল রহমান সৈকতের খুনসুটির সম্পর্ক ছিল। সাবন্তী অশ্রুসজল নয়নে বলছেন-  ‘যখন তারা ভাইকে কবর দিতে নিয়ে গিয়েছিল, তখন সমস্যা হচ্ছিলো। কারণ ভাই এতটা লম্বা ছিল।’

নিহতদের পরিবারের জন্য তাদের প্রিয়জনের মৃত্যুর  পরের কাজটি ছিল সব থেকে কঠিন। ফোন বন্ধ থাকার কারণে মৃতদেহ অনুসন্ধান করা, দাফন সম্পন্ন করা প্রতি পদক্ষেপে তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়। সাবন্তীর কথায়, ‘আমি জানি না, আমরা আর কখনো মন খুলে হাসতে পারবো কিনা। আমার মা সারাদিন কাঁদে। বাবা সারাদিন কাঁদে। আমরা শুধু ভাইয়ের কথাই ভাবতে থাকি।’
বিক্ষোভ, যা ক্র্যাকডাউন এবং কারফিউ’র পরে প্রশমিত হয়েছে, এই মাসের শুরুতে একটি একক দাবিতে শুরু হয়েছিল। ছাত্ররা এমন একটি ব্যবস্থার অবসান চেয়েছিল যেখানে সরকারি চাকরিতে ‘মুক্তিযোদ্ধাদের; বংশধরদের জন্য ৩০% কোটা বরাদ্দ ছিল। প্রায় ১০ দিন আগে বিক্ষোভটি বিশৃঙ্খলায় নেমে আসে,  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে পুরো সুসজ্জিত করে রাস্তায় নামিয়েছিলেন।

হাজার হাজার মানুষকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয় যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বন্দিদের ভিড়ে পরিপূর্ণ। এলাকায় এলাকায় টহল দিতে থাকে নিরাপত্তা বাহিনী।  ঘরবাড়িতে ঢুকে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি এবং রাস্তায় লোকজনকে দাঁড় করিয়ে তাদের ফোন ঘেঁটে দেখা হয় সেখানে বিক্ষোভের কোনো  ফুটেজ আছে কিনা যা অনলাইনে পোস্ট করা যেতে পারে। হাসিনার বাহিনীও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তিনজন ছাত্রনেতার একজনকে আহত অবস্থায়  হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে তাকে  তুলে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান তিনজন ছাত্রনেতার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন,  ‘বিক্ষোভ চালিয়ে যাবার জন্য ছাত্রদের হুমকি দেয়া হচ্ছিলো। শুধুমাত্র তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য, আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবো।’
হাসিনা তার রাজনৈতিক বিরোধীদের সহিংসতার জন্য দায়ী করেছেন, বলেছেন যে তারা তার সরকারকে পতনের চেষ্টা করতে বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করেছিল। অন্তত তিনজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়, তার দলের একজন সদস্যকে মারধর করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়। বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা বলছেন, খুব সম্ভবত দীর্ঘদিন ধরে দমে থাকা  বিরোধী দলগুলো এই মুহূর্তটি কাজে লাগাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। কিন্তু তারা এটাও বলে হাসিনার প্রতিক্রিয়া জানানোর একটি প্যাটার্ন আছে:    সংঘাতকে তীব্র পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, তারপর নিজের ক্ষমতাবলে সমর্থকদের রক্ষা করা ও বিরোধীদের দোষারোপ করা।

ডিজিটাল ইয়ারবুকে ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদের মৃত্যুকে ১ নম্বরে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তার প্রতিকৃতিতে  শোভা পাচ্ছে বাংলাদেশের পতাকা। সাঈদ উত্তরাঞ্চলীয় শহর রংপুরের ছাত্র ছিলেন। তার পরিবার বছরের পর বছর ধরে কিছু জমিজমা বিক্রি করে সংসার চালায়। তিনি রংপুর থেকে দূরে সরকারি চাকরি করে জীবন গড়তে চেয়েছিলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি জানতেন যে, সামনে অনেক প্রতিকূলতা রয়েছে। তার  একজন চাচাতো ভাই যিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেও এখনো কোনো সরকারি চাকরি খুঁজে পাননি।  তাই সাঈদ সিভিল সার্ভিসে কোটা সিস্টেম নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন।  প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে তার সংকল্পের আরেকটি কারণ ছিল: হাসিনা  রাজাকারদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তুলনা করার পর তার দলের যুব শাখার সদস্যরা সাঈদের পাশাপাশি  শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। মৃত্যুর আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতে সাঈদকে বলতে শোনা যায় যে, তাকে মুখে থাপ্পড় মারা হয়েছে। তার পরিবার জানিয়েছে,  হত্যার একদিন আগে এই  ঘটনা ঘটে।

আরেকটি ভিডিও ১৬ই জুলাই বিকাল থেকে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার আগে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। যাতে দেখা যায়  সাঈদ একটি কালো টি-শার্ট পরে আছেন এবং একটি লাঠি ধরে আছেন। তিনি তার বাহু প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছেন  যখন পুলিশ অফিসাররা তাকে লক্ষ্য করে  গুলি চালায়। সেই সময়ে  ভিডিওতে একটি কণ্ঠস্বর ভেসে ওঠে ‘তাকে গুলি করা হয়েছে, তাকে গুলি করা হয়েছে’। তারপর   আবার উঠে দাঁড়ান নির্ভীক সাঈদ। আবার গুলি চলতে থাকে তাকে লক্ষ্য করে। সাঈদের শরীরে বেশির ভাগ ক্ষত রাবার বুলেটের। কিন্তু তার মৃতদেহ গ্রহণকারী তার ভাই রমজান আলী বলেছেন যে,  সাঈদের মাথার কাছে যে গুলিটি গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল সেটি অন্তত রাবার বুলেট ছিল না। সাঈদকে একটি হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করার পর তার বন্ধুরা তার লাশ বিক্ষোভস্থলে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তা ছিনিয়ে নিয়ে লুকিয়ে রাখে। তার ভাই রমজান আলী বলছেন  যে, তিনি যখন হাসপাতালে পৌঁছান তার ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করতে তখন কয়েক ঘণ্টা ধরে  খোঁজাখুঁজি ও অনুনয়-বিনয় করতে হয়েছিল। আলী কিছু কাগজপত্রে সই করে ফিরে আসার পর দেখেন সাঈদের  লাশ গায়েব। তিনি আরও কয়েক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি ও অনুনয়-বিনয় করার পর পুলিশ জানায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কী ঘটছে তা তার কাছে পরিষ্কার ছিল। পুলিশ ইচ্ছা করে সময় নষ্ট করছিল।

মধ্যরাতের পর ছাত্রছাত্রীরা লাশ ফেরতের দাবিতে হাসপাতালে হামলার হুমকি দিলে কর্মকর্তারা সূর্যোদয়ের আগে সাঈদের লাশ দাফন করার জন্য তার পরিবারের ওপর চাপ দিতে থাকে। এমনকি লাশ দেয়ার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে কিনা তাও জানতে চায় পুলিশ। আলী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম মামলা  করবো না।  কারণ আমরা ভয় পেয়েছিলাম, তাহলে হয়তো ভাইয়ের লাশটাও আমরা পাবো না।’

(লেখক: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যুরো প্রধান। তিনি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং ভুটান সহ ভারত এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের কভারেজে সাহায্য করেন)।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস