Monday, February 27, 2017

যাত্রাবাড়ীতে জুতার কারখানায় আগুন

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মির্জাবাড়ি এলাকায় আজ সোমবার জুতার কারখানা ও দোকানে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ বেলা ১১টা ২২ মিনিটে আগুন লাগে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট কাজ করছে। এই ঘটনার আগে একই এলাকার সিনহা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে আগুন লেগেছিল।
সে কারণে রাস্তায় খানিকটা জট ছিল। তবে মির্জাবাড়িতে আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো সেখানে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সৃষ্টিসুখ আর অনটনের দোলাচলে মৌসুমি-সাদিক

ছোট ছোট পায়ে টুক টুক হাঁটে। এটা ধরে, ওটায় টান মারে। জিনিসপত্র তছনছ। তার সব কাণ্ডই যেন বিস্ময়। এই বিস্ময়ের নাম সামিরা সোহানা সৃষ্টি। ২৬ ফেব্রুয়ারি মেয়েটি দুই বছর পার করেছে। বিকেলে মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে কেনা হয় ছোট একটি কেক আর সামান্য পোলাওয়ের চাল ও মাংস। কিন্তু এসব কিনতে ওর বাবা সাদিকের হিমশিম খেতে হয়েছে। মা মৌসুমি আক্তারও শরীরের যন্ত্রণা সামলে রান্না করেছেন। অভাব আর যন্ত্রণা সাদিক-মৌসুমির প্রতিদিনের সঙ্গী। কারণটা সাভারের রানা প্লাজা। ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের ধকল এখনো তাঁরা দুজন সহ্য করছেন। আবার ওই দুর্ঘটনাই সাদিক ও মৌসুমিকে করে দিয়েছে জীবনসঙ্গী। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এই দম্পতির ঘরে আসে সৃষ্টি। সৃষ্টির আগমন সংসারে সুখ এনে দিলেও সাদিক-মৌসুমি স্বাচ্ছন্দ্যে নেই। অভাব ওঁদের নিত্যসঙ্গী। রানা প্লাজায় আটকে পড়ার ঘটনায় এখনো আঁতকে ওঠেন সাদিক-মৌসুমি দুজনই। ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল সকালে রানা প্লাজায় হঠাৎ ধস।
তখন পাশে থাকা মেয়েটির হাত ধরে টেনে পিলারের নিচে আশ্রয় নেন রানা প্লাজার নিউ ওয়েব বটম লিমিটেডের কোয়ালিটি মাস্টার কিউ এম এ সাদিক। চলে বাঁচার বিরামহীন লড়াই। চতুর্থ দিন উদ্ধার হন মৌসুমি। তৃতীয় তলায় আটকা পড়েছিলেন সাদিক। টানা পাঁচ দিন, ঘড়ির কাঁটা হিসাবে ১০০ ঘণ্টা বাঁচার লড়াই করেন তিনি। এরপর ২৮ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। ভবন ধসের বর্ণনা দিতে গিয়ে সাদিক বলেন, ‘ভবনটি যখন ধসে পড়ে, তখন তৃতীয় তলার এ ও বি ব্লকের পিলারের মাঝখানে আটকা পড়ে যাই। তখন মনে হচ্ছিল, সময় যেন থেমে গেছে। একটু পরেই প্রচণ্ড ধোঁয়ায় সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়। টিউব লাইট ভেঙে কাচগুলো আমার শরীরের বিভিন্ন অংশে ঢুকে যেতে থাকে। নড়াচড়ার কোনো উপায় ছিল না। হাতে দুটি মোবাইল ফোন সেট, অথচ কোনো নেটওয়ার্ক নেই। এ অবস্থায় দুই দিন কাটাই। প্রচণ্ড পানির পিপাসা লাগে, কিন্তু ওই দুই দিন কোনো পানিও পাইনি। আল্লাহকে শুধু ডাকতাম। মাঝেমধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ ঝাড়তাম। এ অবস্থায় দুই দিন থাকার পর তিন বোতল পানি হাতে পাই। পরে দেখি, আমার ঠিক পাশেই আরেকজন মেয়ে আটকা পড়েছে। পানির জন্য কাতরাচ্ছে। পরে তাঁকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়।’ আটকা পড়ার প্রথম দিন থেকে গ্রিল কাটার শব্দ পান সাদিক। এতে উদ্ধার হওয়ার খানিকটা আশা জাগে তাঁর। তারপর অনেক চিত্কার চেঁচামেচি করেছেন। কিন্তু উদ্ধারকর্মীদের কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি সেই শব্দ। দুই দিন পরে উদ্ধারকর্মীরা জানতে পারেন,
ওই স্থানে সাদিকসহ আরও কয়েকজন আটকে পড়ে আছেন। সাদিক বলেন, ‘আমি যে পিলারের মধ্যে আটকা পড়েছিলাম, এর পাশে বেশ কয়েকজন মানুষকে চিত্কার করতে করতে মরে যেতে দেখেছি। একটি মেয়েকে দেখেছি, পানির জন্য সে তার হাত ইট দিয়ে থেঁতলে রক্ত বের করে সেই রক্ত খাচ্ছে। আরেকজনকে দেখেছি, তাঁর পা আটকা পড়েছে। বাধ্য হয়ে লোকটি ইট দিয়ে পায়ে মারতে মারতে দুই দিনে শরীর থেকে পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। পরে অবশ্য তিনি আর বাঁচতে পারেননি।’ সাদিক বলেন, ঘটনার পর রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে একজন উদ্ধারকর্মী তাঁর খোঁজ পান। তারপর বেশ কয়েকজন উদ্ধারকর্মী এসে তাঁকে বের করার চেষ্টা করে প্রথমে ব্যর্থ হন। সারা শরীর কাচবিদ্ধ। তখন সাদিক বুঝতে পারেন, তাঁর হয়তো আর বাইরের আলো দেখা হবে না। তাই তিনি কাছে থাকা মুঠোফোন, ছবি আর মানিব্যাগটি উদ্ধারকর্মীদের হাতে দিয়ে তাঁর স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর একটি সুড়ঙ্গ কেটে ১০০ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয় সাদিককে। ওই দিনই সাদিককে নেওয়া হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। সেখানে তিন দিন তাঁর চিকিৎসা চলে। ডান পায়ের ভাঙা পাতায় ব্যান্ডেজ লাগানো হয়। পরে তাঁকে সেখান থেকে চলে আসতে হয়। চার মাস নিজেই নিজের চিকিৎসা চালিয়ে যান। সাভারের ব্যাংক কলোনির ভাড়া বাসা থেকেই হাসপাতালে যেতেন সাদিক। চরম দুর্দিনের সঙ্গী মৌসুমিকে শেষ পর্যন্ত জীবনসঙ্গী করেছেন সাদিক। ২০১৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিয়ে করেছেন তাঁরা। তাঁদের সংসারে সুখ এলেও অভাব ঘিরে আছে। অভাব-অনটন কাটাতে চেষ্টার কমতি রাখেননি সাদিক। প্রথমে সাভারের বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় চাকরির চেষ্টা করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না তিনি। তাই বেতনও সাত হাজার টাকার বেশি দেওয়া হতো না। রানা প্লাজার ঘটনার আগে সাদিক আয় করতেন এর দ্বিগুণ। ব্যবসা করতে স্ত্রীকে নিয়ে সাদিক চলে যান দিনাজপুরে শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে মুদি দোকান ব্যবসা করেন। কিন্তু বাকিতে পণ্য নিয়ে মূল্য শোধ করেননি ক্রেতারা। লোকসান গুনে আবারও চলে আসেন সাভারে।
ঠিকানা বাবা কাজী আহসান ফারুকের ভাড়া বাসায়। বাবার পেনশন আর ব্যাংকের কর্মচারী ছোট ভাই জিতুর সাহায্যে মেয়ে সৃষ্টিকে নিয়ে সাদিক-মৌসুমির দিন চলছে। একই অবস্থা স্ত্রী মৌসুমিরও। রানা প্লাজা ধসে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান তিনি। মাথায় যন্ত্রণা থাকে এখনো। এ জন্য দুবেলা তাঁর ওষুধ খেতে হয়। সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাচ্চার মুখটা দেখার পর সব কষ্ট ভুলে গেছি। সংসারে অশান্তি নাই, কিন্তু অর্থনৈতিক সমস্যা আছে।’ তাঁর ভাষ্য, জীবনটা হতে পারত আরও গোছানো। উচ্চমাধ্যমিক পাস করে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছে ছিল তাঁর। নিজের টাকায় পড়াশোনা করবেন, তাই গ্র্যান্ড আজাদে ফ্রন্ট অফিস এক্সিকিউটিভের কাজ করতেন তিনি। তখন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। পরে সাভারে পোশাক কারাখানায় চাকরি নেন। চাকরি করেই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মান পঞ্চম সেমিস্টার পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। তখন ঘটে রানা প্লাজার দুর্ঘটনা। সাদিক আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি চাকরি নিলাম আর ছয় মাসের মধ্যেই রানা প্লাজা ধসে গেল। ছয় মাস তো হাঁটতেই পারিনি। পরে আবার পাঁচ মাস শারমিন গ্রুপের শারাফ এপেয়ারেলস নামে পোশাক কারখানায় করেছি।’ রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় সরকারি সাহায্য বলতে ১০ হাজার টাকা বলে জানালেন সাদিক। এরপর আবেদন করেও কিছু মেলেনি। সংসার চালানোর জন্য একটা চাকরি পেলে জীবনের মোড় আবার ঘুরবে—সেই স্বপ্ন দেখেন তিনি। স্ত্রী-সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা শেষ করতে পারবেন—সেই বিশ্বাস তাঁর আছে।

শেষবারের মতো সময় পেলেন খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা ১১টি মামলার শুনানি পিছিয়ে নতুন তারিখ আগামী ১৪ মার্চ ধার্য করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা এই তারিখ ধার্য করেন। ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল প্রথম আলোকে বলেন, আজ আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করেন তাঁর আইনজীবীরা। তাঁরা আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ। বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে তাঁর একটি বৈঠক রয়েছে। এ সময় আদালত খালেদা জিয়ার আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, অনেকবারই সময় নেওয়া হয়েছে, এই শেষবারের মতো সময় আবেদন মঞ্জুর করা হলো।
পরবর্তী তারিখে অবশ্যই খালেদা জিয়াকে হাজির করবেন। সরকারি কৌঁসুলি জানান, আজ দারুস সালাম থানায় করা আটটি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। যাত্রাবাড়ী থানায় করা দুটি মামলার মধ্যে একটি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ও আরেকটি মামলার অভিযোগ আমলে নেওয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় উচ্চ আদালতের আদেশ দাখিলের জন্যও আজ দিন ধার্য ছিল। সব কটি মামলারই শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৪ মার্চ।

সিলেটে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আরেকজনের মৃত্যু

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আরেকজন মারা গেছেন। আজ সোমবার সকাল সাতটার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল মিয়া (৩৫) নামের এক যুবক মারা যান। এ নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন মারা গেলেন। সোহেল মিয়ার বাড়ি ওসমানীনগর উপজেলার কালিরচর গ্রামে। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আউয়াল চৌধুরী সোহেলের মৃত্যুর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গতকাল রোববার সকালে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে সাইফুল ইসলাম (১৮) নামের এক তরুণ মারা যান। আহত হন ১৬ জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সোহেল মিয়াও ছিলেন। গুরতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর মাথা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। জানা গেছে, নিহত সোহেল মিয়া কোনো পক্ষের সমর্থক ছিলেন না। সংঘর্ষে দুই পক্ষের সমর্থকদের পাশাপাশি কয়েকজন গ্রামবাসী আহত হন। সোহেল মিয়া ছিলেন গ্রামবাসীদের একজন। ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ মার্চ। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া আতাউর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান চৌধুরী (জগলু চৌধুরী) বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির মো. শিব্বির আহমদও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গ্রামবাসী ও পুলিশ সূত্র বলেছে, আখতারুজ্জামানকে নিয়ে গত শনিবার বিকেলে উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি কবির উদ্দিন ওই ইউনিয়নের বাংলাবাজারে গণসংযোগে যান। কবির উদ্দিন সেখানে পাশের জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর কালনীরচর গ্রামের আল-আমিনসহ ছয় তরুণকে আখতারুজ্জামানের পক্ষে কাজ করতে বলেন। ওই তরুণেরা নিজেদের আতাউর রহমানের সমর্থক বলে জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। বাংলাবাজার ওসমানীনগরের দক্ষিণ কালনীরচরের বাজার। শনিবার বিকেলের কথা-কাটাকাটির জেরে গতকাল সকালে দক্ষিণ কালনীরচর গ্রামে আতাউরের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সকাল ১০টার দিকে বাংলাবাজারে আবারও আল-আমিনসহ তাঁর পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কবিরের পক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। সাড়ে ১০টার দিকে আল-আমিনের পক্ষ কয়েকজনের ওপর হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, নিহত সাইফুল ছিলেন আল-আমিনের সঙ্গে। সংঘর্ষের সময় তিনি কয়েকজনকে নিয়ে মিছিল শুরু করলে তাঁদের লক্ষ্য করে কে বা কারা ছররা গুলি ছোড়ে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ফোন তল্লাশি

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ফোন তল্লাশি শুরু হয়েছে। প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার নিজেই তল্লাশির তদারকি করছেন। হোয়াইট হাউস থেকে সংবাদমাধ্যমে তথ্য পাচার রোধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিএনএনসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম গতকাল রোববার হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের ফোন তল্লাশিসংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তিনি বেশ জোরের সঙ্গেই ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগ করছেন। বলছেন, গোপন তথ্যসূত্র উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে হবে। নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএনের মতো মর্যাদাসম্পন্ন সংবাদমাধ্যম এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রোষানলের শিকার। হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তাব্যূহ ভেদ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম প্রতিদিনই নানা অব্যবস্থাপনার সংবাদ প্রকাশ করছে। এবার সরষের ভেতর ভূত খোঁজা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের মতে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি টেলিফোন তল্লাশি শুরু করেছেন। গোপন সব কথা কে বা কারা পাচার করছেন, এ জন্যই এই তল্লাশি চলছে। ফক্স নিউজের সংবাদে বলা হয়েছে, প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ডেকে পাঠান। বাইরে পাচারের কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা পরীক্ষা করে দেখেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত হবে বলেও কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ ধরনের অ্যাপসের খোঁজ করা হয়। এসব অ্যাপস দিয়ে প্রযুক্তিগত সংকেতের মাধ্যমে তথ্য পাচার হতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের অ্যাপসে বার্তা পাঠানোর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়। কোনো প্রমাণ থাকে না। সাম্প্রতিক কালে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বেশ কিছু স্পর্শকাতর সংবাদ পরিবেশন করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। সংগত কারণেই এসব সংবাদসূত্রের নাম গোপন রাখতে হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ কারণেই বারবার বলছেন, তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে ভুয়া গণমাধ্যম সংবাদ প্রচার করছে। হোয়াইট হাউসের গোপন সংবাদ পাচার ঠেকাতে এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পলিটিকো তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলেছে, প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার কেবল ফোন তল্লাশিই করেননি; অনেক কর্মকর্তার অন্যান্য প্রযুক্তও তল্লাশি করেছেন। একদিকে গোপন তথ্য পাচার নিয়ে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস রয়েছে, অন্যদিকে চাকরি হারানোর ভয় রয়েছে খোদ হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মধ্যে। গোপন তথ্যসূত্রের বরাত দিয়ে তাঁদের এমন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার খবরও দ্রুত মার্কিন মিডিয়ায় আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে ভুয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে সবাই তা মনে করছে না। একদল সমর্থক এই সপ্তাহান্তে টাইমস্কয়ারসংলগ্ন নিউইয়র্ক টাইমস ভবনের পাশে সংহতি সমাবেশ করেছে। নাগরিক অধিকার আন্দোলনের এসব সংগঠক বলছেন, কঠিন সব সত্যপ্রকাশের মাধ্যমে নিউইয়র্ক টাইমসের মতো পত্রিকা আজকের এই অবস্থানে এসেছে। সংবাদমাধ্যম নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

মেঘালয়ে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭

উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয় রাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জন হয়েছে। আহত হয়েছে ৬১ জন। গতকাল রোববার ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পুণ্যার্থীদের নিয়ে একটি ট্রাক পাহাড়ি পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। মেঘালয়ের শিলং টাইমস আজ সোমবার জানায়, দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয়েছে।
আহত হয়েছে ৬১ জন। মেঘালয়ের পশ্চিম খাসি পার্বত্য জেলার সদর নংস্টোয়েনের ১১ কিলোমিটার দূরের নংল্যাঙ গ্রামের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া জাতীয় সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুণ্যার্থীরা ট্রাকে করে নংল্যাঙ গ্রামের একটি গির্জায় প্রার্থনা সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের শিলং সিভিল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেলার ডেপুটি কমিশনার অরুণ কুমার কেমভাবি বলেন, ট্রাকটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছিল। পাহাড়ি বাঁক ঘুরতে গিয়ে ট্রাকটি দুর্ঘটনায় পড়ে। ট্রাকটি সড়কের পাশের একটি কংক্রিটের দেয়ালে ধাক্কা খায়। জেলার পুলিশপ্রধান সিলভেস্টার নংজারও বলেন, আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা এই দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের নৈশভোজে যাচ্ছেন না ট্রাম্প

সাংবাদিকদের ‘গণশত্রু’ বলে নিন্দা করার ঘণ্টা কয়েকের মধ্যে নতুন করে তাঁদের ওপর রাগ ঝাড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানিয়ে দিলেন, হোয়াইট হাউসের খবর পরিবেশনকারী সাংবাদিকদের সংগঠন হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএইচসিএ) এ বছরের নৈশভোজে যোগ দেবেন না। সাধারণত ঐতিহ্যবাহী এ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অংশ নেন। ঐতিহ্য ভেঙে ট্রাম্পের আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এ নৈশভোজে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমজগতে। ট্রাম্প শনিবার টুইটারে লেখেন, ‘এ বছর হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে থাকছি না। সবাই ভালো থাকবেন, সন্ধ্যাটা ভালো কাটুক।’ এর আগের দিন শুক্রবারই ট্রাম্প রক্ষণশীল রাজনীতিকদের এক অনুষ্ঠানে সংবাদকর্মীদের ‘গণশত্রু’ বলে আখ্যায়িত করেন। তাঁর সমালোচনা করা প্রতিবেদনগুলোকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ বলে উল্লেখ করেন। একই দিন হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিংয়ে সিএনএন, বিবিসি, গার্ডিয়ান, পলিটিকোসহ বেশ কয়েকটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বেছে বেছে কিছু সাংবাদিককে ঢুকতে না দেওয়ার প্রতিবাদে যখন গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তুমুল সমালোচনা চলছে, তার মধ্যেই ট্রাম্প টুইটারে ডব্লিউএইচসিএর নৈশভোজে না যাওয়ার ঘোষণা দিলেন।
মিডিয়ার প্রতি ট্রাম্পের আচরণের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এবারের নৈশভোজে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাতিল করে দিয়েছিল। নৈশভোজের শেষে ভ্যানিটি ফেয়ার এবং ব্লুমবার্গ এই দুটি সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে একটি গালা পার্টি হওয়ার কথা ছিল। সেটি তারা বাতিল করেছে। এ ছাড়া ২৮ এপ্রিল একটি আগাম পার্টি দেওয়ার কথা ছিল নিউ ইয়র্কার-এর। তারাও সেটি বাতিল করেছে। নৈশভোজের মূল আয়োজক ডব্লিউএইচসিএর সভাপতি জেফ ম্যাসন বলেছেন, তাঁরা পূর্বনির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠানটি চালাবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেখানে না যাওয়ার ঘোষণা সম্পর্কে ম্যাসন বলেন, তিনি সেখানে যাবেন কি যাবেন না, সেটা তাঁর নিজস্ব বিষয়। ১৯২১ সাল থেকে হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রতি বছর বসন্তকালে এ বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করে আসছে। সাংবাদিকতার বৃত্তি দিতে তহবিল গঠনের উদ্দেশ্যে এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে লক্ষ্য করে একের পর এক আক্রমণাত্মক মন্তব্য আসায় সাংবাদিকেরা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু সাংবাদিককে হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢুকতে না দেওয়ার পর ডব্লিউএইচসিএ এর তীব্র নিন্দা জানায়। নিউইয়র্ক টাইমস হোয়াইট হাউসের এই সিদ্ধান্তকে ‘সন্দেহাতীতভাবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অপমান’ এবং সিএনএন একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস এটিকে আখ্যা দিয়েছে ‘মুক্ত সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের ঘোষিত যুদ্ধের নতুন ধাপ’ বলে।
ডব্লিউএইচসিএ’র নৈশভোজ
* শুরু হয় ১৯২১ সালে। প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯২৪ সালে এতে যোগ দেন ক্যালভিন কোলেজ।
* ১৯৩০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম টাফ্টের মৃত্যুর কারণে, ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর অংশগ্রহণের কারণে এবং ১৯৫১ সালে এই আয়োজন বাতিল করা হয়।
* মার্কিন প্রেসিডেন্টরা এই নৈশভোজে গরহাজির থেকেছেন কদাচিৎ। ১৯৭২ সালে রিচার্ড নিক্সন এবং ১৯৭৮ সালে জিমি কার্টার ক্লান্তির কথা বলে যাননি। রোনাল্ড রিগ্যান ১৯৮১ সালে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ক্যাম্প ডেভিডে অবকাশে ছিলেন।
* নারীদের ঢুকতে না দিলে যাবেন না, এ হুমকি দিয়েছিলেন জন এফ কেনেডি। পরে নারীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।
* এখন যেমন প্রেসিডেন্টদের তোপের মুখে পড়তে হয়, তা শুরু হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। ২০০৬ সালে অভিনেতা ও উপস্থাপক স্টিফেন কোলবার্টের বিদ্রূপে তিষ্ঠাতে না পেরে বেরিয়ে যান তখনকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের কয়েকজন সহযোগী।

ওবামার শ্রমমন্ত্রী পেরেস নতুন ডেমোক্র্যাট নেতা

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের শ্রমমন্ত্রী টম পেরেস যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির নতুন প্রধান হলেন। শনিবার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা শহরে অনুষ্ঠিত দলীয় নির্বাচনে জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন পেরেস। গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যায় ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণও চলে গেছে রিপাবলিকানদের হাতে। এই পরিস্থিতিতে দল পুনর্গঠনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হলো। টম পেরেসের জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো একজন হিস্পানিক আমেরিকান ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান নির্বাচিত হলেন। দলটির পুনর্গঠনের দায়িত্ব এখন পেরেসের ওপর।
রিপাবলিকান পার্টির টিকিটে প্রেসিডেন্ট হওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও মোকাবিলা করতে হবে তাঁকে। মুসলিম কংগ্রেসম্যান কিথ এলিসনের সঙ্গে টম পেরেসের জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। দ্বিতীয় পর্বের ভোটে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন পেরেস। তিনি পেয়েছেন ২৩৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী এলিসন পেয়েছেন ২০০ ভোট। জয়ী হওয়ার পর কিথ এলিসনকে ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত করেন টম পেরেস। তাঁর সামনে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হবে ২০১৮ সালে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের অবস্থা ভালো করে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনা। তবে ভোট নিয়ে দলের মধ্যে ব্যাপক বাদানুবাদ হয়েছে। উদারনৈতিক ডেমোক্র্যাটরা পেরেসের পক্ষে অবস্থান নেন। আর দলের মধ্যে ‘প্রগতিশীল অংশ’ হিসেবে পরিচিত নেতারা চেয়েছিলেন কিথ এলিসনকে। পেরেজের জয়ে তাঁরা বেশ হতাশ। জিম ডিন নামে এলিসনের সমর্থক একজনের মন্তব্য, দল পুনর্গঠনের আরেকটি সুযোগ হারাল ডেমোক্রেটিক পার্টি। তবে বরফ গলানোর আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, ‘আমি জানি টম পেরেস আমাদের ঐক্যবদ্ধ করবেন।’ পেরেস ও এলিসন আগামী চার বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। দলের জাতীয় কমিটির উদ্দেশে পেরেস বলেছেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসের সংকটে ভুগছি, ভুগছি প্রাসঙ্গিকতার সংকটে।’ ডেমোক্র্যাটদের এই বিরোধে খুব খুশি রিপাবলিকানরা।
তারা মনে করছে, ডেমোক্র্যাটদের এই নির্বাচন প্রমাণ করে দিচ্ছে তারা কতটা ‘জনবিচ্ছিন্ন’। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও টুইট করে বলেছেন, ‘আমি তাঁর (পেরেস) এবং রিপাবলিকান পার্টির জন্য বেজায় খুশি।’ গত বছরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যায়। ওবামার শাসনামলে রিপাবলিকান পার্টিকে নেতৃত্বহীন মনে হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা অভিবাসী ও নিম্নবিত্তদের সঙ্গে আপাতসংযোগহীন রিপাবলিকান পার্টিকে ২০১৫ সালেও বিভ্রান্ত মনে হতো। ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামার প্রস্থানের পর দলের বিধ্বস্ত অবস্থা প্রকাশ্যে ফুটে ওঠে। হিলারি ক্লিনটনের পেছনে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা ঐক্যবদ্ধ থাকলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর শেষ রক্ষা হয়নি।

এখন কি রুশবিরোধী হয়ে উঠছেন ট্রাম্প?

পূর্বসূরি বারাক ওবামার আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার যে তিক্ত সম্পর্ক চলছিল, সেখান থেকে সরে আসবেন বলে কথা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারণার সময় জোর দিয়ে বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী সম্পর্ক থাকবে না; বরং দুই দেশের সম্পর্ক যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ হবে।
কিন্তু ট্রাম্প গদিতে বসার মাসখানেক পার হতেই বাতাস ঘুরতে শুরু করেছে। ট্রাম্পের রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পরিকল্পনা দৃশ্যত ঝুলে গেছে। শুধু তা-ই নয়, হোয়াইট হাউসে রুশবিদ্বেষী মুখের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। ট্রাম্প প্রথম থেকেই বলে এসেছেন, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি ‘চুক্তি’ করবেন। এ ছাড়া রাশিয়ার অঘোষিত বিরোধী শক্তি ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে আগের মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখবেন না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের দিনক্ষণই ঠিক করে উঠতে পারেননি তিনি।
ট্রাম্প কিছুদিন আগেও বলেছেন, ন্যাটো ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ হয়ে গেছে, সেখানে পয়সা কড়ি ঢেলে লাভ নেই। তাঁর সমালোচনা থেকে ইইউ পর্যন্ত বাদ পড়েনি। কিন্তু গত সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনে বলে এসেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের মতোই ন্যাটো ও ইইউর সঙ্গে দৃঢ়ভাবে থাকবে। এটি ট্রাম্পেরই অবস্থান বলে সেখানে সবাইকে আশ্বস্ত করেন। এর কয়েক দিন আগে ব্রাসেলসে পেন্টাগন-প্রধান জেমস ম্যাটিস ন্যাটোকে যুক্তরাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে আখ্যায়িত করেন। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি যে থমকে গেছে, তা অনেকটাই পরিষ্কার। ট্রাম্প প্রথমে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে যাঁকে নিয়োগ দিয়েছিলেন সেই মাইকেল ফ্লিন অনেক আগে থেকেই রুশপন্থী। পুতিনের সঙ্গে ফ্লিনের ব্যক্তিগত জানাশোনার কথাও কারও অজানা ছিল না। ট্রাম্প শপথ নেওয়ার আগেই ফ্লিন রুশ কূটনীতিকদের সঙ্গে মস্কোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া নিয়ে কথা বলেছিলেন। এ কারণে ফ্লিনকে সরিয়ে দেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে ফ্লিনের স্থলে যাঁকে বসানো হয় সেই ম্যাক মাস্টারের চিন্তাভাবনা ফ্লিনের ঠিক উল্টো। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র তথা সারা বিশ্বের প্রথম হুমকি হলো রাশিয়া। সিনেট আগামী সপ্তাহে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক হিসেবে যাঁর নিয়োগ অনুমোদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে, সেই ড্যান কোস্টও একজন রুশবিরোধী লোক।
ওয়াশিংটনের থিংকট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রতিষ্ঠানটির পররাষ্ট্রনীতি শাখার পরিচালক ব্রুস জোনস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বাঁক নিচ্ছে।’ তিনি মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনও রাশিয়াকে হয়তো হুমকি বলে মনে করা শুরু করেছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জ্যাক সুলিভান বলেছেন, তিনি মনে করেন হোয়াইট হাউস এখনো তাঁর পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করে উঠতে পারেনি। সুলিভান মনে করেন, হোয়াইট হাউসে যদি আরও রুশবিরোধী লোকজন নিয়োগ দেওয়া হয় তা হলেও এই সিদ্ধান্তে আসা যাবে না যে ট্রাম্প রুশবিরোধী অবস্থা নিয়েছেন। ট্রাম্প যে মনোভাবের লোক তাতে তিনি যেকোনো সময় পুতিনকে ফোন করে কথা বলতে পারেন। চুক্তিও করে বসতে পারেন।

নার্ভ এজেন্টের প্রভাবে গুরুতর পক্ষাঘাত হয় কিম জং–নামের

প্রাণঘাতী নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগের ফলে ‘অত্যন্ত মারাত্মক পক্ষাঘাতে’ আক্রান্ত হয়ে কিম জং-নামের মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এ রকম ইঙ্গিত মিলেছে বলে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী এস সুব্রামানিয়াম গতকাল রোববার এ কথা জানিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সৎভাই জং-নাম কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগের শিকার হয়ে (৪৫) দৃশ্যত খুব অল্প সময়ের মধ্যে মারা যান। মালয়েশিয়ার পুলিশ গত শুক্রবার জানায়, হত্যাকারীরা জং-নামের মুখমণ্ডলে ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করেছিল। জাতিসংঘের তালিকা অনুযায়ী ওই রাসায়নিক উপাদানটি একটি গণবিধ্বংসী অস্ত্র।
১৩ ফেব্রুয়ারির এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মালয়েশিয়ার পুলিশ দুই নারী এবং উত্তর কোরীয় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। তারা কমিউনিস্ট দেশটির আরও সাতজনকে খুঁজছে। পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজন চার ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের দিনই মালয়েশিয়া ছেড়ে পালিয়েছে। কুয়ালালামপুরে উত্তর কোরীয় দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব হিওন কুয়াং সংকেও কয়েক দিন আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। তিনি জং-নাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, তদন্তে স্বেচ্ছায় সহযোগিতা না করলে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে।

দেশবিরোধী আখ্যা দেওয়া সরকারের উদ্ধত আচরণ

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ভারতের সরকার যেভাবে সবাইকে ‘দেশবিরোধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে তাতে বোঝা যায় তারা কতটুকু উদ্ধত। জনগণের কথা শোনা গণতন্ত্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সরকার তা শুনছে না। গতকাল রোববার নিজের বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এনডিটিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন অমর্ত্য সেন। সাক্ষাৎকারে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটা সাম্প্রতিক সহিংসতার নিন্দা জানান অমর্ত্য সেন। তিনি ক্ষমতাসীন বিজেপির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘দেশবিরোধী শব্দটি অদ্ভুত। একটি সংখ্যালঘু সরকার এটি ব্যবহার করছে। ৩১ শতাংশ ভোট পাওয়ার মানে এই নয় যে, আপনি বাকি ৬৯ শতাংশকে দেশবিরোধী বলতে পারবেন।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজেপি ৩১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। পাঁচ শ ও এক হাজার রুপির নোট বাতিল প্রসঙ্গে খ্যাতনামা এ অর্থনীতিবিদ বলেন, নোট বাতিলের ফলে পুরো ভারত উপকৃত হয়েছে, এমনটা বলা কঠিন। এ পদক্ষেপের আসলে বাস্তবিক কোনো প্রভাব নেই। বিজেপি নির্বাচনে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কি না তা এত দ্রুত বলাও কঠিন। সর্বজনীন মৌলিক আয় ধারণার বিরোধিতা করে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘এটা অনেকটা রাস্তায় ভিক্ষা দেওয়ার মতো। এর ফলে দায়িত্ববোধ নষ্ট হয়ে যাবে। দারিদ্র্য নির্মূলে সর্বজনীন মৌলিক আয় ধারণা কাজে আসবে বলে মনে হয় না।’

উড়োজাহাজ যেন লোকাল বাস!

অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বাস কিংবা লঞ্চযাত্রার কথা আমাদের শোনা। কিন্তু উড়োজাহাজের ঘটল সেই কাণ্ড। তা-ও আবার এক বা দুজন নয়, সাতজন যাত্রীকে দাঁড় করিয়ে আকাশে ওড়ার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (পিআইএ) একটি ফ্লাইটের। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরই পিআইএর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, পিআইএর একটি উড়োজাহাজে ‘যাত্রী সুরক্ষা নীতি’ লঙ্ঘন করে যাত্রীদের আসনে মাঝের ফাঁকা জায়গায় (হাঁটার পথ) সাত যাত্রীকে দাঁড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। পিআইএর ওই উড়োজাহাজটি ‘বোয়িং ৭৭৭’ মডেলের। ককপিটের আসনসহ উড়োজাহাজে বসার আসন ছিল ৪০৯ জনের। কিন্তু ২০ জানুয়ারির পাকিস্তানের করাচি থেকে সৌদি আরবের মদিনাগামী ওই ফ্লাইটে যাত্রী ওঠানো হয় মোট ৪১৬ জন। অতিরিক্ত ওই সাত যাত্রীকে দাঁড়ানো অবস্থায় গন্তব্যে নিয়ে যায় উড়োজাহাজটি। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়েই গন্তব্য যান ওই সাত যাত্রী। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ডন ওই ঘটনা ফাঁস করে দেওয়ার পর শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। উড়োজাহাজে প্রত্যেক যাত্রীর জন্য কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে ‘বোর্ডিং পাস’ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ফ্লাইটে বাড়তি যাত্রী কীভাবে পাস পেল, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
পরে অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাদের বোর্ডিং পাস স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে হয়নি। বোর্ডিং পাস হাতে লেখা। ফলে বিষয়টি কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ধরা পড়েনি। এ ঘটনায় এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে। পিআইএ মুখপাত্র দানিয়েল গিলানি বলেছেন, দাঁড়িয়ে যাত্রী গন্তব্য নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। গিলানি বিবিসিকে বলেন, অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে ‘এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’। যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোম্পানি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুই ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ গেল রিকশাভ্যানচালকের

নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় আবদুর রহমান (৬২) নামের একজন রিকশাভ্যানচালক মারা গেছেন। আজ সোমবার সকালে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার রেজীর মোড় এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী মোবারক হোসেন জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা ও যশোরগামী দুটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় চাকা ফেটে একটি ট্রাক সড়কের পাশে উল্টে যায়।
ওই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে একটি রিকশাভ্যান। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান চালক আবদুর রহমান। নিহত ওই চালকের বাড়ি দুর্ঘটনাস্থলের পাশেই। বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুর নুর জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকের নিচ থেকে চালকের লাশ উদ্ধার করে। পরে ট্রাক সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। উভয় ট্রাকের চালক ও তাঁদের সহকারীরা পালিয়ে গেছেন।

বাগমারায় যুবকের লাশ উদ্ধার

রাজশাহীর বাগমারায় একটি পুকুরের পাড় থেকে আজ সোমবার সকালে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই যুবকের নাম পিন্টু হোসেন (২৭)। তিনি উপজেলার আচিনঘাট গ্রামের আজগর আলীর ছেলে। নিহত যুবকের স্বজনদের ভাষ্য, গতকাল রোববার রাতে পিন্টু বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। অনেক খুঁজেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে স্থানীয় লোকজন বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি পুকুরের পাড়ে তাঁর লাশ পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিন্টুর লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ গোলাম রাব্বানী নামের এক যুবককে আটক করেছে। তিনি পিন্টুর বন্ধু। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে এখনো মামলা হয়নি। পিন্টুর শরীরে কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানান তিনি।

সে আমাকে প্রতিবন্ধী করেছে আমি বদরুলের বিচার চাই

‘আমার শরীরের যে যে জায়গায় আসামি আঘাত করেছে, তার দাগ আছে। সে আমাকে সারা জীবনের জন্য প্রতিবন্ধী করেছে। আমি বদরুলের বিচার চাই।’ সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিমের আদালতে গতকাল রোববার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এই বলে হামলাকারী বদরুল আলমের শাস্তির দাবি জানান কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম। মহানগর আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, খাদিজাকে হত্যাচেষ্টার মামলার মোট ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে সর্বশেষ সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা। তাঁর এ সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো। খাদিজাকে গতকাল আইনজীবীরা জেরাও করেন। এরপর বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো আগামী ১ মার্চ যুক্তিতর্কের তারিখ ধার্য করেন।আদালত সূত্র জানায়, সিলেট সদর উপজেলার আউশা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খাদিজা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আদালতে পৌঁছান। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে আদালতে হাজির করা হয় আসামি বদরুলকে। দুপুর ১২টায় সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন খাদিজা। তিনি আদালতকে বলেন, ঘটনার দিন বিকেল পাঁচটার দিকে এক সহপাঠীর সঙ্গে তিনি এমসি কলেজের পুকুরপাড় দিয়ে ফিরছিলেন। এ সময় তাঁদের পথরোধ করেন বদরুল। তাঁর হাতে একটি চাপাতি ছিল। বদরুল খাদিজাকে জোর করে পুকুরের পূর্ব পাড়ে নিয়ে উপর্যুপরি কোপাতে শুরু করেন। প্রথম কোপটা বদরুল মাথা লক্ষ্য করে দিয়েছিলেন। এ কোপ খাদিজা দুই হাত দিয়ে ফেরান। এরপর বদরুল এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এ সময় নাকে ও বাম কানের লতিতেও আঘাত লাগে। এরপরই অচেতন হয়ে লুটিয়ে পড়েন খাদিজা। আদালত সূত্র আরও জানায়,
আইনজীবীদের জেরার সময় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বদরুলের দাবি করা বিষয়গুলো ‘সত্য নয়’ বলে জানান খাদিজা। জবানবন্দিতে বদরুল দাবি করেছিলেন, খাদিজার গৃহশিক্ষক ছিলেন তিনি। সেই সুবাদে খাদিজার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। খাদিজার সাক্ষ্য শেষে আসামির কাঠগড়ায় থাকা বদরুল ‘কিছু বলতে চাই’ বলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিচারক তাঁর আবেদনে সাড়া না দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যান। সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আদালত যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করলে বদরুল উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, ‘তুমি সুখী হও, খাদিজা। বিচারক আল্লাহ আছেন। আমার ফাঁসি হোক।’ গত বছরের ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি (পাস) পরীক্ষার্থী খাদিজা বেগমকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের অনিয়মিত ছাত্র বদরুল আলম। ঘটনার পরপরই উপস্থিত লোকজন বদরুলকে আটক করে পুলিশে দেন। এ ঘটনায় ৪ অক্টোবর বদরুলকে একমাত্র আসামি করে খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস মামলা করেন। ৫ অক্টোবর বদরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঢাকায় দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত শুক্রবার সিলেটে নিজ বাড়িতে ফেরেন খাদিজা।

ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য তালিকায়

পুরান ঢাকায় দরজি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের গতকাল রোববারের কার্যতালিকায় বিষয়টি শুনানির জন্য ২০ নম্বর ক্রমিকে ছিল। সঙ্গে আসামিদের আপিল ও জেল আপিল রয়েছে। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলার পেপার বুক প্রস্তুত করা হয়। সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে পেপার বুক প্রস্তুতের পর তা সরকারি ছাপাখানা থেকে গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। সূত্র বলেছে, এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলার শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন। গতকাল মামলাটি কার্যতালিকায় ওঠে। এই আদালতে নিয়োজিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আশা করছি দুই সপ্তাহের মধ্যে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি শুরু হবে।
২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর সকালে পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪। ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২১ আসামিই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী। মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন রফিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, রাশেদুজ্জামান, ইমদাদুল হক, কাইয়ুম মিয়া, সাইফুল ইসলাম, রাজন তালুকদার (পলাতক) ও নূরে আলম (পলাতক)। যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন এইচ এম কিবরিয়া, গোলাম মোস্তফা, খন্দকার ইউনুস আলী, মনিরুল হক, তারিক বিন জোহর, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম (২), কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেন। তাঁদের মধ্যে কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা ছাড়া বাকিরা পলাতক।

গ্যাসের দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক

লেখক-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, সরকারকে যুক্তিসহকারে বলা হয়েছে, গ্যাসের দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। সে কথা বলার পর গণশুনানি হয়েছে, গণমাধ্যমও বলেছে, তারপরও সরকার তা শোনে না। তাই গ্যাসের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গতকাল রোববার সকালে এক অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচিতে সৈয়দ আবুল মকসুদ এ কথা বলেন। গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ‘নাগরিক কমিটি’ এই কর্মসূচি করেছে। সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘গতকাল এক পোশাকশিল্পের কর্মচারী আমাকে বলেছেন, এমনিতেই আমরা মাসের ভেতরে ১০ দিন শুধু ডাল অথবা ভর্তা দিয়ে ভাত খাই। গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে অন্তত এক সপ্তাহ কোনো বাজার করার পয়সা থাকবে না।
এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, গ্যাসের দাম বাড়ানো প্রত্যেক মানুষের জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।’ অবস্থান কর্মসূচিতে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এস এম শামসুল আলম বলেন, গ্যাস খাতের প্রতিটি কোম্পানির হাতে বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে। এই অবস্থায় গ্যাসের দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচিতে অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান, বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের শম্পা বসু সিএনজি স্টেশন ও কনভারশন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর প্রমুখ বক্তব্য দেন।

লেখক ও কবি ওয়াহিদ রেজা আর নেই

প্রথাবিরোধী লেখক ও কবি ওয়াহিদ রেজা (৬০) গতকাল রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল বাদ আসর নারায়ণগঞ্জের আমলাপাড়ার বড় মসজিদে জানাজা শেষে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বিকেলে তাঁর মরদেহ নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। পরে নগরের মাসদাইর সিটি কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ওয়াহিদ রেজা ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দুই দিন আগে স্ট্রোক করলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বির বড় ভাই। তিনি মৃত্তিকা ও অর্ণব নামের দুই ছেলেমেয়ে রেখে গেছেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে বের হওয়া ছোট কাগজ ড্যাফোডিল ১৯৮৮ সাল থেকে সম্পাদনা করেছেন ওয়াহিদ রেজা। আগের ১০ বছর এটির সম্পাদক ছিলেন কবি হালিম আজাদ।
ওয়াহিদ রেজার মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়ন, নারায়ণগঞ্জ কবিতা পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, নারায়ণগঞ্জ জেলা খেলাঘর আসর, জেলা কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। ওয়াহিদ রেজার প্রথম গল্পগ্রন্থ আসলে আমি-ই নায়ক বের হয় ১৯৮৪ সালে। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে কবি জন কিটস ও তাঁর প্রেম, মহাকালের ইঙ্গিত, আমি বাঁচতে চাই প্রধানমন্ত্রী, এখন পরপুরুষ, শুধু প্রেমের গল্প নয়, বিশু ডাকাতের গল্প, মেঘে ঢাকা রোদ্দুর, সেই প্রিয় বান্ধবী, দীপালীর পরকীয়া বায়োস্কোপ, মশুর মিশন ও হালাকু দৈত্য ইত্যাদি।

যত ভোগান্তি ভাঙাচোরা চার কিলোমিটারে

মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের কুলাউড়া উপজেলার লুয়াইউনি চা-বাগান থেকে রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা। কিন্তু ওই সড়ক সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় লোকজনকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর এবং সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক ইউনিয়নের কুলাউড়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রাম পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৯ কিলোমিটার। এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের দুই-আড়াই হাজার যান চলাচল করে। এর মধ্যে দূরপাল্লার বাসও রয়েছে। বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া এবং সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লোকজন এ সড়ক দিয়ে ঢাকা, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা সদরে চলাচল করে। এ ছাড়া দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা এ সড়ক দিয়ে বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে বেড়াতে যান। ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের লুয়াইউনি চা-বাগান থেকে শুরু করে রাজনগর ও মাথিউরা চা-বাগান এলাকায় অন্তত ১৫টি বাঁক রয়েছে। এসব জায়গায় সড়কের পিচ উঠে নুড়ি-পাথর বেরিয়ে গেছে। অনেক স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের ছবি তোলার সময় মৌলভীবাজার থেকে কুলাউড়াগামী যাত্রীবাহী বাসের চালক মোস্তফা মিয়া গাড়ি থামিয়ে বললেন, ‘রাস্তাটা অনেক দিন ধরি খারাপ। কেউ এইটা দেখে না। মানুষের কষ্ট হচ্ছে।
আর গাতে পড়িয়া গাড়ির কলকবজা তো নষ্ট হয়-ই।’ টেংরা বাজার থেকে আসা যাত্রীবাহী অটোরিকশার চালক পারভেজ আহমদ বলেন,‘এই জায়গায় (টেংরা বাজার-লুয়াইউনি বাগান) আগে রাইতে গাছ ফালাইয়া গাড়ি আটকাইয়া ডাকাতি হইতো। মানুষ এখনো রাইতে চলতে ভয় পায়। রাস্তা খারাপ থাকায় রিস্ক (ঝুঁকি) আরও বাড়ি গেছে।’ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কুলাউড়া উপজেলা শাখার সভাপতি আবদুস শহীদ মাখন বলেন, সড়কের দুরবস্থার কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময়ও বেশি লাগে। সওজের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত ২০ ফেব্রুয়ারি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বর্ষা মৌসুমে দুই পাশের টিলা-পাহাড় থেকে পানি বেয়ে পড়ায় সড়কের এ অবস্থা হয়েছে। উৎপল সামন্ত বলেন, মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম সড়কের লুয়াইউনি বাগান থেকে টেংরা বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার জায়গাসহ জেলার বিভিন্ন সড়কের উন্নয়নে একটি প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তা অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া লুয়াইউনি বাগান থেকে টেংরা বাজার পর্যন্ত সড়কে তিনটি কালভার্ট ও পানি নিষ্কাশনের জন্য কয়েকটি ড্রেন (নর্দমা) নির্মাণের বিষয়টিও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে আপাতত সড়কের ওই অংশে নুড়ি-পাথর ও বিটুমিন দিয়ে মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করা হবে।

কলকাতার ‘চক্রব্যূহ’ মাতাল উৎসবমঞ্চ

কলকাতা থেকে নাটকের দল আসবে, এমন খবর কয়েক দিন ধরেই আলোচনায় ছিল। নাট্যমেলার নিয়মিত দর্শকেরাও অপেক্ষায় ছিলেন ভিনদেশি নাটকের স্বাদ গ্রহণের। অবশেষে গতকাল রোববার রাতে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর মাঠে অনির্বাণ একুশে নাট্যমেলার উৎসবমঞ্চে গতকাল কলকাতার রবীন্দ্রনগর নাট্যায়ুধ পরিবেশিত নাটক চক্রব্যূহ মঞ্চস্থ হয়। দর্শকদের হৃদয় জয় করেছে সীমান্তের ওপারের এই নাটকের দল ও তাদের পরিবেশনা। চক্রব্যূহ প্রকৃতপক্ষে একটি বর্ণনামূলক একক নাটক। নাটকটির একমাত্র চরিত্রটিতেও অভিনয় করেন নির্দেশক ও রচয়িতা দানী কর্মকার নিজেই। গোটা নাটকটিতে মঞ্চে আলো-আঁধারি খেলা ও মনোমুগ্ধকর আবহ সংগীতে উপস্থিত দর্শকদের মন ভরে যায়। নাটকের কাহিনির প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে দানী কর্মকার বলেন, চক্রব্যূহ শব্দটি মহাভারতের অভিমন্যুর ফাঁদে পা দেওয়া থেকে উৎপত্তি। অভিমন্যু মায়ের গর্ভ থেকেই যুদ্ধ-সম্পর্কিত শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি জানতেন কীভাবে চক্রব্যূহ প্রকাশ করতে হয়, কিন্তু বের হওয়ার উপায় জানতেন না। নাটকটি শুধু অভিমন্যু হত্যার নিমিত্তেই নয় বরং একটি রূপক-অলংকারও বটে। নাটকটি মানবজীবনের অবিরাম সংগ্রামকেই চিত্রিত করে। এদিকে মেলার প্রধান আকর্ষণ নাটক হলেও গতকাল বিকেল থেকেই উৎসবমঞ্চে ছিল জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা।
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে দর্শনার অংকুর আদর্শ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত শিল্পী আশানুর রহমান, কৃষ্ণ গায়েন ও মোস্তফা কামাল সংগীত এবং মুহিনী, নাদিয়া ও সেঁজুতি নৃত্য পরিবেশন করেন। রাতে নাটক শুরুর আগে ছিল অনির্বাণ থিয়েটারের নিয়মিত আয়োজন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভা। গতকালের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আজকের প্রজন্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় থিয়েটারের নির্বাহী সদস্য বদরুল আলম সভাপতিত্ব করেন। আলোচক ছিলেন রাজশাহীর সংস্কৃতিকর্মী কাওসার জামী ও চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত প্রতিদিনের নতুন খবর পত্রিকার সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। এদিকে মেলার মূল মঞ্চের বাইরে বিশাল এলাকাজুড়ে বসেছে গ্রামীণ মেলার আদলে অসংখ্য স্টল। আছে নাগরদোলাসহ শিশুদের বিনোদনের বিভিন্ন উপকরণ। চাকরির সূত্রে বর্তমানে দর্শনার বাসিন্দা কামরুন্নাহার মিতা এমন উৎসব দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি। স্বামী ও সন্তান নিয়ে দুই দিন এসেছেন নাট্যমেলায়। তিনি গতকাল বলেন, দর্শনার মতো মফস্বল শহরে যে আয়োজন করা হয়েছে, তা অভাবনীয়। মেলাটি এখন প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে।

নারী স্থপতি ও প্রকৌশলীদের সংখ্যা বাড়াতে হবে

নারী স্থপতি ও প্রকৌশলীদের মাঠপর্যায়ে কাজটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আর এ কাজে নারীদের ধরে রাখতে হলে নারীবান্ধব কর্মক্ষেত্র ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে নারীরা মাঠপর্যায়ে এ কাজ করতে পারবেন না—এ ধরনের নেতিবাচক মনোভাবে পরিবর্তন ঘটাতে হবে। গতকাল রোববার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে প্রথম আলো আয়োজিত ‘নির্মাণশিল্পে নারী প্রকৌশলী ও স্থপতি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আলোচকেরা এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস সামনে রেখে সেভেন রিংস সিমেন্টের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম। আলোচকেরা বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে।
ছাত্রীরা ভালো ফলাফল করে পাস করছে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে নারী স্থপতি বা প্রকৌশলীর উপস্থিতি সেই তুলনায় কম। ২০৩০ সালের মধ্যে নারী ও পুরুষ প্রকৌশলী ও স্থপতির সংখ্যা যাতে সমান সমান হয়, সে বিষয়টিতেও সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। তবে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান আলোচকেরা। গোলটেবিল বৈঠকের প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, একসময় মানুষ আঙুল তুলে বলত, ‘ওই বাড়িতে মহিলা ইঞ্জিনিয়ার আছে’। কিন্তু এখন বিষয়টা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও অনেক নারী চাকরি করতে পারছেন না। সরকার সরকারি কর্মজীবী নারীদের জন্য ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটির বিধান করেছে। ৮৪টি শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র তৈরির পাশাপাশি সরকার চাচ্ছে প্রতি জেলায় এ ধরনের কেন্দ্র গড়ে তুলতে। নারীবান্ধব কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। সরকারি কর্মকমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও বেসরকারি অনেক কারখানা বা কোম্পানিতে তা নিশ্চিত করা যায় না। এটি নিশ্চিত করতে হবে। মেয়েরা এ কাজ করতে পারবে না—সমাজে প্রচলিত এ ধরনের সামাজিক ‘ট্যাবু’ ভাঙতে হবে। সেভেন রিংস সিমেন্টের পরিচালক তাহমিনা আহমেদ বলেন, নারীদের নিয়োগের সময় অনেক ক্ষেত্রেই চিন্তা করতে হয়, নারীদের নিয়োগ দিলে তাদের জন্য বাড়তি কিছু ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ধরনের চিন্তা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সেভেন রিংস সিমেন্টের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আসাদুল হক সুফিয়ানী বলেন, নারী স্থপতি ও প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্রে কোন কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, গুণগতমান পরিবর্তনে করণীয় নির্ধারণের জন্যই এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনায় বুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন জেবুন নাসরীন আহমদ বলেন, নারীর কাজের বিচার করছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। কর্মক্ষেত্রে সরকার এখন পর্যন্ত পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। সমাজ ও সমাজের মানুষ এখন পর্যন্ত নারী স্থপতি বা প্রকৌশলীর কাজ মেনে নিতে পারছে না। কর্মক্ষেত্রে একজন পুরুষ যখন ছেলের অসুখের কথা বলে তখন সবাই ওই পুরুষকে দায়িত্বশীলতার জন্য বাহবা দেয়, আর নারীর ক্ষেত্রে বলে ‘অজুহাত’।
বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ফরিদা নিলুফার ২৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, এখানে শিক্ষার্থীদের ছেলে ও মেয়ে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয় না। তবে শেখার পরিবেশ ও মাঠের পরিবেশ ভিন্ন। শিক্ষার্থী হিসেবে একজন মেয়ে পরিবার থেকে যে সহযোগিতা পায়, পরে স্ত্রী বা মা হিসেবে পরিবার থেকে ওই নারীর সহযোগিতার ধরনটা পাল্টে যায়। পরিবারের কথা চিন্তা করে নারীরা বিদেশ যাওয়া বা প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। বেসরকারি পর্যায়ে নারী স্থপতি ও প্রকৌশলীদের বেশি কর্মঘণ্টা কাজ করালেও বেতন কম দেওয়া হচ্ছে। পদোন্নতি বা বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বৈষম্য করে প্রতিষ্ঠান। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শায়লা জোয়ার্দার নারীদের সুযোগ দিতে হবে কেন বলে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, নারী নিজের যোগ্যতায় কাজ করবেন। নিজের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে শায়লা বলেন,‘শ্বশুরবাড়ির এলাকায় একবার কাজ করতে গেলাম। নকশা করার সময় এমন মন্তব্যও শুনেছি “ওই বাড়ির বউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে”। কিন্তু কাজ থেকে সরে আসিনি। এ পর্যন্ত মাঠে কেউ আমার কথা শোনেনি, তা হয়নি। নিজের দক্ষতায় জায়গা করে নিয়েছি।’ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব নাইম আহমেদ খান বলেন, পরিবারে একটি ছেলে ও মেয়েশিশুকে সমান গুরুত্ব দিয়ে বড় করা হয় না। স্থপতি ও নারী প্রকৌশলীদের বেলায়ও ধরেই নেওয়া হয় তাঁরা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে পারবেন না। নারীকে বাড়তি নেতৃত্বের গুণাবলি দিয়ে কাজ আদায় করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন। স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম ১৯৯৫ সালে যখন বুয়েট থেকে পাস করেন তখন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় সমান সমান। বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য বিভাগে মেয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে মেরিনা বলেন, কিন্তু মাঠপর্যায়ে সেই পরিমাণ নারীকে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে পরিবার এবং কর্মক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় শিক্ষকতা পেশাকে বেছে নিচ্ছেন। স্থপতি হতে হলে মনে রাখতে হবে মাঠে যেতেই হবে,
তাই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা হক খান বলেন, ‘শিক্ষকতা করব বলে স্বপ্ন ছিল। চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসেবে ঢুকি। কিন্তু স্বামী বুয়েটের অধ্যাপক। সংসারের কথা চিন্তা করে স্বপ্ন পূরণ হলো না। সওজে ঢুকলাম।’ তিনি বলেন, এ পেশায় নারীরা বেশি কাজ করলেও অনেক সময় স্বীকৃতি পায় না। নারীদের নামে অপপ্রচার বেশি হয়। পুলিশে উচ্চপর্যায়ে কর্মরত নারীদের সন্তানদের দেখভালের জন্য যেমন একজন নারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়, উচ্চপর্যায়ে কর্মরত অন্য নারীদের জন্যও সে ধরনের ব্যবস্থা করতে হবে বলে সুপারিশ করেন তিনি। ২০০৩ সালে রাজউকে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া প্রথম নারী হলেন রাহাত মুসলেমীন। তিনি বর্তমানে রাজউকের কেন্দ্রীয় ঢাকা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। রাহাত বলেন, চাকরিতে ঢোকার পর প্রথম থেকেই ধারণা করা হয়, একজন নারী এ কাজ করতে পারবেন না। তাই অফিশিয়াল কাজ করতে বলে কর্তৃপক্ষ। নারীকে দায়িত্ব দিতে হবে। একইভাবে নারীকে দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারি চাকরিতে স্বামী ও স্ত্রীকে এক জায়গায় পোস্টিং দেওয়ার যে নিয়ম তা বেসরকারি খাতেও চালু করার সুপারিশ করেন তিনি। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সালমা আকতার খুকী বলেন, সওজে ২০০ প্রকৌশলীর মধ্যে নারী প্রকৌশলীর সংখ্যা ১০ শতাংশেরও কম। সংখ্যাগত সমতা থাকা জরুরি। ভবিষ্যতে নির্মাণশিল্পে নারীরা যাতে রোল মডেল হতে পারেন, সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ শুরু

যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়গুলোতে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রথম আলোর আঞ্চলিক কার্যালয়, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:
যশোরে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবীর। সভাপতিত্ব করেন কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জামাল হোসেন। সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে এখানে একাধিক সহায়তা বুথ বসানো আছে। এখান থেকে ব্যাংকে টাকা জমা, অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ, ছবি তোলাসহ যাবতীয় কাজ করা যাবে। চুয়াডাঙ্গায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস। উপস্থিত ছিলেন কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক এস এম এ সানী। মেহেরপুরে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ। উপস্থিত ছিলেন কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক বশির আহম্মেদ, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেজবাহুল হক প্রমুখ।

স্বপ্নের মৃত্যু ঘটিয়ে আনিছুরের লাশ এল

দিন বদলের স্বপ্ন নিয়ে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন আনিছুর রহমান (২৫)। প্রায় আড়াই বছর পর গতকাল রোববার বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। তবে স্বাভাবিকভাবে নয়; লাশ হয়ে। সঙ্গে অপমৃত্যু ঘটেছে নিজের পরিবারের স্বপ্নের। আনিছুর যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীকান্তপুর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের অদূরে একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। ২১ ফেব্রুয়ারি ভবনটির ছাদের কার্নিশ ভেঙে নিচে পড়ে গিয়ে আনিছুরের মৃত্যু হয়। গতকাল সকালে তাঁর মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছায়। পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে। আনিছুরের বাবা আবদুর রহমান বলেন, তিনি পেশায় একজন কৃষক। জমি আছে ১২ বিঘা। এর মধ্য থেকে তিন বিঘা বন্ধক রেখে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠান। এখনো সেই জমি তিনি ফেরত নিতে পারেননি। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আনিছুরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।’
গতকাল সকালে লক্ষ্মীকান্তপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে উঠানে রাখা হয়েছে আনিছুরের লাশ। মা আদুরী বিবি (৫৫) ছেলের লাশের সামনে দুই হাত দিয়ে বুক চাপড়ে বিলাপ করে বলছেন, ‘আমার বাজানের এ কী হয়ে গেল। আমি কী করে বাঁচব, বাজান?’ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবদুর রহমানের (৬০) দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। মেয়ে দুটির বিয়ে হয়েছে। বড় ছেলে মুনছুর রহমান (৩০) কৃষিকাজ করেন। তিনি বিয়ে করেছেন। আনিছুর অবিবাহিত ছিলেন। এসএসসি পাস করার পর বেকার কাটছিল সময়। তবে মাঝেমধ্যে বাবার কৃষিকাজে সহায়তা করতেন। ভাগ্য বদলের আশায় মালয়েশিয়া যান। মুনছুর রহমান বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে ভাইকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিলাম। আশা করেছিলাম, সংসারে সুদিন আসবে। দায়-দেনা শোধ হবে। আমাদের সব আশা শেষ হয়ে গেল।’

দেশের প্রথম সৌরচালিত খাদ্যগুদাম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বগুড়ার সান্তাহারে ২৫ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বহুতল খাদ্যগুদাম (সাইলো) উদ্বোধন করেছেন। গতকাল রোববার সকালে তিনি এ খাদ্যগুদাম উদ্বোধন করেন। পরে বিকেলে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুনর্নির্বাচিত করার আহ্বান জানান। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সহযোগিতায় প্রায় ২৩২ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে খাদ্য অধিদপ্তর সান্তাহারে আধুনিক শীতাতপনিয়ন্ত্রিত খাদ্যগুদামটি নির্মাণ করেছে। এটি সৌরশক্তির সাহায্যে পরিচালিত হবে এবং এখানে সারা বছর খাদ্যশস্য মজুত থাকবে। খাদ্যশস্য সারা বছর একটি নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। তাই এখানে খাদ্যগুণ অটুট থাকবে।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী গুদামটি ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি বলেন, তাঁর সরকার খাদ্য মজুত বাড়ানোর জন্য অক্লান্ত¯পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ২০২১ সাল নাগাদ দেশ শতভাগ খাদ্য মজুতের সক্ষমতা অর্জন করবে বলেও প্রধানমন্ত্রী এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, স্থানীয় সাংসদ এবং রাজনৈতিক নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় খাদ্যগুদাম প্রাঙ্গণে একটি আমগাছের চারাও রোপণ করেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী গতকাল বগুড়ায় বিভিন্ন উন্নয়নকাজের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী এদিন বগুড়ায় ২৬৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পগুলো হলো নন্দীগ্রাম উপজেলা কমপ্লেক্সের সম্প্রসারিত ভবন ও হলরুম, শাহজাহানপুরে থানা ভবন ও সমন্বিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম ভবন, শিবগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, সোনাতলায় সিচারপাড়া-৩ গুচ্ছগ্রাম, সারিয়াকান্দিতে ১২টি আশ্রয়ণ প্রকল্প, আদমদীঘিতে সোলার প্যানেলযুক্ত পাতকুয়ার মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম, জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস ভবন এবং বগুড়া সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নে ১০ শয্যার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী ৫২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য সাতটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। প্রকল্পগুলো হলো সারিয়াকান্দি মহাসড়কে খৈলসাকুড়ি সেতু, বগুড়া-সারিয়াকান্দি মহাসড়কে জয়ভোগা সেতু, বগুড়া-সারিয়াকান্দি মহাসড়কে হাটফুলবাড়ী সেতু, সোনাতলায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক, সারিয়াকান্দিতে ১০ কিলোমিটার সড়ক, বগুড়া প্রেসক্লাব ভবন এবং সোনাতলা উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম।
জনসভায় ভাষণ
বিকেলে সান্তাহার স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৯ সালের মধ্যে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আপনারা যদি এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান, তাহলে সেই নির্বাচনে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করে দেবেন, যাতে করে আমরা পুনরায় আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাই।’ শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘নৌকা’ ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের মানুষ কিছু পায়। ‘ধানের শীষ’ ক্ষমতায় এলে ধানে চিটা ধরে যায় এবং দেশে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। দেশে লুটপাট, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা আছে, প্রত্যেক উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত রাস্তাঘাট করতে ইতিমধ্যে এলজিইডি থেকে আমরা একটি প্রকল্প হাতে নিয়ে একনেকে পাস করে দিয়েছি। আমরা সমগ্র বাংলাদেশ ম্যাপ করে পরিকল্পনামাফিক উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রশ্নে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির উল্লেখ করে শিক্ষক, অভিভাবক, মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সরকারের সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনের উদ্যোগে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনসার আলী মৃধার সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তৃতা করেন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সাংসদ আবদুল মান্নান, সাংসদ হাবিবুর রহমান, সাংসদ শহীদুজ্জামান সরকার প্রমুখ।

চারজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড, দুজন খালাস

রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে পরিত্যক্ত পানির পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যুর মামলায় চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় অপর দুজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। আদালত বলেছেন, আসামিদের চরম অবহেলার কারণে জিহাদের অকালমৃত্যু হয়েছে। কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত চারজন হলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস আর হাউসের মালিক আবদুস সালাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন ও ইলেকট্রিশিয়ান জাফর আহমেদ। খালাস পাওয়া দুজন হলেন রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও দীপক কুমার ভৌমিক। রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে ১১ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছে। সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আসামিরা পুরাতন কূপটিকে বাতিল করার পর নতুন আরেকটি কূপ খনন করা হয়। নতুন কূপ খননকাজে পুরাতন কূপ থেকে পানি উত্তোলন করেছেন। আসামিরা কাজের পর কূপ অরক্ষিত ফেলে রাখেন। রায়ে বলা হয়, অরক্ষিত নলকূপের ঢাকনা খোলা রাখায় তাতে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যু হয়। রেলওয়ের নিয়ম মেনে যদি কূপটি রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো, তবে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। আসামিদের চরম অবহেলার কারণে শিশু জিহাদের অকালমৃত্যু হয়েছে। রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। তাই তাঁদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হলো। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের আরও দুই বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিশু মো. জিহাদের বাবা ও এই মামলার বাদী নাসির উদ্দিন ফকির। তিনি বলেন, এ রায়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। দুজনকে খালাস দেওয়ার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তিনি আশা করেছিলেন, ছয়জনেরই সর্বোচ্চ সাজা হবে, কিন্তু সেটা হয়নি। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল চারটার দিকে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে বাসার পাশে পরিত্যক্ত পানির পাম্পের কাছে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে পাম্পের একটি পরিত্যক্ত দেড় ফুট ব্যাসের গভীর পাইপে পড়ে যায় চার বছরের শিশু জিহাদ। ফায়ার সার্ভিস দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টার অভিযানেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরদিন বেলা তিনটার দিকে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করে। এরপর একদল উদ্যমী তরুণের চেষ্টায় জিহাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জিহাদের বাবা শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলা ও বিপজ্জনকভাবে গভীর পাইপের মুখ খোলা রাখার অভিযোগ আনা হয়। গত বছরের ৪ অক্টোবর ছয়জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১১ জন এবং আসামিপক্ষে ৩ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রচারণায় সরগরম রাঙ্গাবালী

পোস্টারে ছেয়ে গেছে গ্রামের হাটবাজার। সকাল-সন্ধ্যা চলছে গণসংযোগ-পথসভা। কখনো ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ছুটছেন প্রার্থী-সমর্থকেরা, আবার কখনো ভোটারদের সমর্থন পেতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা করে উপজেলার উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। উপজেলার উন্নয়নে কোন প্রার্থী বেশি ভূমিকা রাখবেন, সেই হিসাব-নিকাশও করছেন ভোটাররা। পটুয়াখালী জেলার সাগরঘেঁষা দ্বীপচর রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন ঘিরে এখন প্রচারণায় সরগরম উপজেলার হাটবাজার-বন্দর।
২০১২ সালে ২৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে এই উপজেলার যাত্রা শুরু হয়। বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা দ্বীপচর রাঙ্গাবালী। ২০১৪ সালের ২২ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন হয়। নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান কবির চান। ২০১৬ সালের ২ মার্চ তিনি মারা গেলে পদটি শূন্য হয়। আগামী ৬ মার্চ এ পদে উপনির্বাচন হবে। উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন, বিএনপির প্রার্থী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা মু. জাহাঙ্গীর হোসেন আকন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মো. আমির হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রার্থীরা সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ভোটাররা উপজেলার উপনির্বাচনকেও খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। এর কারণ হিসেবে বিচ্ছিন্ন এই উপজেলার উন্নয়নকেই সামনে নিয়ে আসছেন তাঁরা। চর মোন্তাজ ইউনিয়নের ভোটার রেবেকা বেগম উপজেলা সদরে এসেছেন চিকিৎসাসেবা নিতে। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ভালো নেই। উপজেলা থেকে অন্য উপজেলা কিংবা জেলা সদরে যেতে হলে নদী পার হতে হয়। যোগাযোগের দিক থেকে এই উপজেলা অনেক পিছিয়ে। কাজেই ভোটের ব্যাপারে উপজেলার উন্নয়নই বেশি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি। হাতপাখা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন মো. আমির হোসেন। তিনি সমর্থকদের নিয়ে সকালে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া বাজার এলাকায় গণসংযোগ করছিলেন।
নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ ভালো। যোগ্য প্রার্থীকে ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ সৃষ্টির ওপর জোর দেন তিনি। বিকেল চারটার দিকে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের গহিনখালী বাজারে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে পথসভা করতে দেখা গেছে। সেখানে কথা হয় বিএনপির প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনের (ধানের শীষ প্রতীক) সঙ্গে। তিনি বলেন, ভোটাররা উপজেলার উন্নয়ন চান, পাশাপাশি ভোটের পরিবেশও চান। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকেরা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাই ভোটাররা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। বেলা সাড়ে তিনটায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন (নৌকা) গঙ্গীপাড়া ও রাজাবাজার এলাকায় পৃথক পথসভা করেন। দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগ ঠিক নয়। আসলে আমরা সবাই চাই, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।’ নির্বাচনের পর সবাই মিলে উপজেলার উন্নয়নে কাজ করে যেতে চান বলে জানান তিনি। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা খান আবি শাহিনুর খান বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সুন্দরভাবে প্রচারণা চলছে। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করেন।

কাজে অনিয়ম-ধীর গতির প্রতিবাদে মানববন্ধন

সুনামগঞ্জে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ধীর গতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে গতকাল রোববার শহরে মানববন্ধন হয়েছে। ‘সচেতন হাওরবাসী’র ব্যানারে পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের সড়কে দুপুর ১২টায় এই মানববন্ধন হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন প্রবীণ আইনজীবী হোসেন তওফিক চৌধুরী, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সুনামগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর হোসেন আহমদ, জেলা খেলাঘর আসনের সভাপতি বিজন সেন রায়, সমাজকর্মী মোরশেদ আলম ও বিন্দু তালুকদার, ‘আমরা হাওরবাসী’র প্রধান সমন্বয়ক রুহুল আমীন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন, প্রভাষক মশিউর রহমান, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক সালেহীন চৌধুরী, সংস্কৃতিকর্মী শামস শামীম, গিয়াস চৌধুরী, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তারেক চৌধুরী প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুনামগঞ্জের সব হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো অর্ধেক কাজ হয়নি। বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে হাওরের বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে জেলার ধরমপাশা উপজেলার চন্দ্রসেনারথাল, মধ্যনগরের ঘুরমার, তাহিরপুরের সমসার, সন্ন্যাসী, এরালিয়া কোনা, গনিয়াকুরি হাওরে পানি ঢুকেছে। তলিয়ে গেছে বোরো ধান। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসার উদ্দিন বলেন, বাঁধের কাজ সঠিকভাবে চলছে। এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৬০ থেকে ৭০ ভাগ। কাজের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের সাইকেল জাদুঘরে হস্তান্তর

নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে নূর মোহাম্মদের ব্যবহার করা নিজের সাইকেলটি হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে তাঁর ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানে তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা ও ফজিলাতুন্নেসার ভাতিজা এমদাদুল হক জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফের কাছে সাইকেলটি হস্তান্তর করেন। জেলা প্রশাসক বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্টের সভাপতি। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ভূঁইয়া, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. গোলাম নবী,
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার এস এ মতিন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শরীফ হুমায়ুন কবির, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিমুল কুমার সাহা, আইনজীবী এম এম দাউদ আলী প্রমুখ। ফজিলাতুন্নেসা বলেন, তাঁর ভাতিজা এমদাদুল হক এত দিন ধরে নূর মোহাম্মদের সাইকেলটি সযত্নে ব্যবহার ও সংরক্ষণ করেছেন। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাইকেল হস্তান্তর ও আলোচনা সভা হয় সদর উপজেলার নূর মোহাম্মদ নগরের বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে। এর আগে সেখান থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে তাঁর জন্মভিটার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং পুলিশের একটি দল স্মৃতিসৌধে গার্ড অব অনার দেয়। নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে (বর্তমানে নূর মোহাম্মদ নগর) জন্মগ্রহণ করেন।

তিন দিনব্যাপী ভাওয়াইয়া উৎসব শেষ

দর্শকশ্রোতাদের মুগ্ধ করে রংপুরে গতকাল রোববার তিন দিনব্যাপী ভাওয়াইয়া উৎসব শেষ হয়েছে। প্রতিদিনই বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হাজারো দর্শকশ্রোতা মাটি ও মানুষের প্রাণের ভাওয়াইয়া গান শুনতে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ছুটে এসেছেন। গতকালও এর কমতি ছিল না। রংপুরের সাংস্কৃতিক সংগঠন সংগীত শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। ‘কানিচাত গাড়িনু আকাশি আকালি’, ‘আকালি ঝুমঝুম করে’, ‘আসা-যাওয়ার ঘাটাকোনাত বসাইয়াছে পিরিতির ফান্দ’, ‘বাও কুণ্ঠা বাতাস যেমন ঘুরিয়া ঘুরিয়া মরে’, ‘ও মোর কালারে’, ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’—এমনই অনেক ভাওয়াইয়া গানের সুরের মূর্ছনায় গতকাল শেষ দিনে দর্শকশ্রোতারা প্রাণভরে এ অঞ্চলের মাটি ও মানুষের গান শোনেন। সেই সঙ্গে ভাওয়াইয়া গানের তালে নৃত্য পরিবেশিত হয়েছে।
বিকেল থেকে টানা রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শকশ্রোতারা প্রাণ ভরে উপভোগ করেছেন ভাওয়াইয়া সংগীত। উৎসবের শেষ দিনে গতকাল ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার ভাওয়াইয়াশিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। গতকাল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিনু শীল। আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মকসুদার রহমান বলেন, এ অঞ্চলের ভাওয়াইয়াশিল্পীদের একত্র করে এই আয়োজন করতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। আগামী দিনে আরও বড় আয়োজন করার চিন্তভাবনা রয়েছে।

মা–বাবার অভিযোগ বাবুলের বিরুদ্ধে

মাহমুদা খানম হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন মাহমুদার মা ও বাবা। গতকাল রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে এ অভিযোগ করেছেন বলে প্রথম আলোকে জানান মাহমুদার বাবা সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন ও মা শাহেদা মোশাররফ। পারিবারিক অশান্তির কারণে মাহমুদা একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলেও তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেছেন তাঁরা। খুনের ঘটনার আগে বাবুলের সঙ্গে মাহমুদার (মিতু) সম্পর্ক ভালো ছিল না বলেও দাবি তাঁদের।
তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কামরুজ্জামান গতকাল দুপুরে রাজধানীর মেরাদিয়ার ভূঁইয়াপাড়ায় মাহমুদার বাবার বাসায় যান। প্রায় আড়াই ঘণ্টা তিনি মাহমুদার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। গত বছরের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করা হয় মাহমুদাকে। এত দিন চুপ থাকার পর এখন কেন বাবুলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করছেন, জানতে চাইলে মাহমুদার মা প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত দিন অবুঝ দুটি সন্তানের কথা চিন্তা করে মুখ খুলিনি।’ তিনি বলেন, বাবুলের একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এ কারণে মাহমুদার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন বাবুল। আর এসব কারণে মাহমুদাকে হত্যা করে বাবুল। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগ থেকে মাহমুদার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে শুরু করেন বাবুল। দুই বাচ্চাকে বাবুলের কাছে রেখে ঘুম পাড়ানোর অভ্যাসও করান। মাহমুদাকে হত্যা করা হবে বলে বাবুলের আচরণে এমন পরিবর্তন এনেছিলেন বলে তিনি সন্দেহ করেন। গতকাল বেলা দেড়টার দিকে মাহমুদার বাবার বাসায় যান তদন্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান। এ সময় খিলগাঁও থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা সঙ্গে ছিলেন। বেলা দেড়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহমুদার মা শাহেদা মোশাররফ ও ছোট বোন শায়লা আক্তারের সঙ্গে কথা বলেন।
দুজনের বক্তব্য শোনার পর মাহমুদার বাবা মোশাররফ চার পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তার হাতে তুলে দেন।বাবুলকে নিয়ে মাহমুদার মা-বাবার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাহমুদার পরিবার অনেক কথা বলেছে। তাদের বক্তব্য নিয়েছি। বিভিন্ন দিক থেকে পাওয়া সব তথ্যই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাহমুদা হত্যার পর বাবুলের সম্পর্কে যেসব অভিযোগ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারটির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে যাচাই করা হচ্ছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বাবুল আক্তারকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মাহমুদা খুনের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে বাবুলের জড়িত থাকার অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু মাহমুদার বাবা ও মা এসব উড়িয়ে দেন। বাবুলের সঙ্গে মাহমুদার দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো ছিল বলেও বিভিন্ন সময় তাঁরা বলেছেন। পারিবারিক অশান্তির কারণে মাহমুদা খুন হতে পারেন না বলেও তাঁরা দাবি করে আসছিলেন। মাহমুদার বাবা-মায়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাবুল আক্তারের সঙ্গে গতকাল বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁর মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। মাহমুদা খুনের পর থেকে বাবুল গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন। পুলিশ সুপারের চাকরি থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। তদন্ত কর্মকর্তা মাহমুদাদের বাসায় আসার আগে মাহমুদার মা ও বাবা প্রথম আলোকে বলেন, মামলা পুলিশ তদন্ত করছে। কেন ও কী কারণে মাহমুদাকে হত্যা করা হয়েছে, তা পুলিশকে বের করতে হবে।
এসব বের না করে মামলার অভিযোগপত্র দিলে আদালতে নারাজি আবেদন করা হবে। তাঁরা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর নাতি-নাতনি নিয়ে তাঁদের বাসায় ওঠেন বাবুল। কিন্তু বিপদ সরে গেছে মনে করে বাবুল সন্তানদের নিয়ে এখান থেকে চলে গেছেন। এখন বাবুল তাঁদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করছেন না। ফোন দিলেও ধরেন না। মাহমুদার মা ও বাবা অভিযোগ করেন, মাহমুদাকে নিয়ে বাবুল চট্টগ্রামে যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, সেই ফ্ল্যাটের মালিক সমিতির একজন কর্মকর্তা ছাড়াও আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য বেরিয়ে আসবে। পুলিশ বাবুলের ভাড়া করা ওই ফ্ল্যাটের গৃহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। নিহতের মা-বাবা হিসেবে তাঁদের সঙ্গে মাত্র দুবার যোগাযোগ করেছে পুলিশ। আর সন্দেহ করা হলেও বাবুলকে মাত্র একবার চট্টগ্রামে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি মাহমুদার মা শাহেদা মোশাররফ ও বাবা মোশাররফ হোসেনকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ডেকে নিয়ে কথা বলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। সেদিন তদন্ত কর্মকর্তাকে মাহমুদার মুঠোফোন সেটটি উদ্ধার করতে অনুরোধ করেন তাঁরা। ঘটনার দিন মুঠোফোন সেটটি মাহমুদার সঙ্গে ছিল। কিন্তু লাশ উদ্ধারের সময় মুঠোফোনটি খুঁজে পায়নি পুলিশ। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোলা থেকে শুধু সিমটি উদ্ধার করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এর আগে ২ জানুয়ারি বাবুলের বাবা ও মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ ছাড়া গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বাবুল আক্তার এবং ২২ ডিসেম্বর মাহমুদার বাবা মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে আরেকবার কথা বলেন তিনি। মাহমুদার বোন শায়লা প্রথম আলোকে বলেন, বাবুলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মাহমুদা একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের পরিবারের কথা চিন্তা করে তিনি সে পথ থেকে ফিরে আসেন। তবে তাঁর (শায়লা)
বিয়ে হওয়ার পর বাবুলকে ছেড়ে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। একাধিক নারীর সঙ্গে বাবুলের সম্পর্ক ছিল। এই হত্যার জন্য বাবুল দায়ী। মাহমুদা হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের তিন সপ্তাহ পর গত বছরের ২৭ জুন মো. ওয়াসিম ও আনোয়ার নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই দিনই তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁরা স্বীকার করেন, কামরুল শিকদার ওরফে মুছার নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডে তাঁরা সাত-আটজন অংশ নেন। বাবুল আক্তারের ঘনিষ্ঠ সোর্স হিসেবে কাজ করতেন মুছা। ওয়াসিম ও আনোয়ারকে যেদিন গ্রেপ্তার করা হয়, সেদিন রাতে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার রাজাখালী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এহতেশামুল হক ওরফে ভোলাকে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরদিন পিস্তল, গুলিসহ মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই পিস্তল দিয়েই মাহমুদাকে হত্যা করা হয়। পিস্তলটি ভোলার কাছ থেকে মুছা সংগ্রহ করেছিলেন। মুছাকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ। যদিও পরিবার বলছে, মুছাকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে।

আগে গ্রেপ্তার ১৫৫ জনের কী হবে

গাইবান্ধার সাংসদ মনজুরুল ইসলামকে (লিটন) হত্যার পরপর সন্দেহভাজন হিসেবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের যে ১৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, এখন তাঁদের কী হবে? এই হত্যার পরিকল্পনা ও অর্থায়নের কথা স্বীকার করে জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ আবদুল কাদের খানের জবানবন্দি এবং তাঁর তিন কর্মীর সরাসরি খুনে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকারের পর এখন এই প্রশ্ন সামনে এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, কাদের খানসহ পাঁচজনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর এটা পরিষ্কার হয়েছে যে আগে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাঁরা সাংসদ হত্যায় জড়িত নন। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গাইবান্ধার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বলছেন, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহভাজনদের কারাগারেই থাকতে হবে। গাইবান্ধার বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাংসদ মনজুরুল হত্যার পর এই তিনটি দলের ১৫৫ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এঁদের মধ্যে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় সাংসদ হত্যা মামলায়। বাকিদের বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা নতুন চারটি মামলা দিয়ে তাতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সাংসদ হত্যা মামলাসহ সবগুলো মামলাই হয়েছে সুন্দরগঞ্জ থানায়। ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, সাংসদকে হত্যার পর ১৫৫ নয়, ১১০ জনকে বিভিন্ন নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত অব্যাহত আছে। আর সাংসদ মনজুরুল হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয় ২৮ জনকে। যার মধ্যে সর্বশেষ পাঁচজন হলেন সাবেক সাংসদ ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা কাদের খান ও তাঁর চারজন সহযোগী, যাঁরা সবাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে যে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাঁদের মধ্যে ২১ জনই জামায়াতের নেতা-কর্মী বলে দলটির জেলা নেতারা দাবি করছেন। বাকি দুজন আওয়ামী লীগের।
তাঁরা হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা মাসুদুর রহমান (মুকুল)। অবশ্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ শামস-উল-আলম প্রথম আলোকে বলেন, যেহেতু মামলা তদন্তাধীন। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দুজন কারাগারে থাকার পক্ষে তিনি। বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা বলছেন, সাংসদ মনজুরুল হত্যার পরপর আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের নেতারা ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবির ও বিএনপিকে দায়ী করে বক্তৃতা দেন। ফলে পুলিশের গ্রেপ্তার তালিকায়ও এই দুটি দলের নেতা-কর্মীর সংখ্যা বেশি। গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের আমির মো. আবদুর রহিম সরকার প্রথম আলোকে বলেন, সাংসদ হত্যার পর তাঁদের দলের ১২৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২১ জনকে সাংসদ হত্যা মামলায় এবং বাকি ১০২ জনকে পুলিশের করা বিস্ফোরক আইনের তিনটি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের করা এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। জামায়াত জানায়, গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মধ্যে জেলা কমিটির সাবেক সেক্রেটারি শাহিন মাহমুদ, ১৯৯১ ও ’৯৬ সালে সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আমিনুল হক এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পূর্ব অঞ্চলের আমির সাইফুল ইসলাম অন্যতম। বাকিরা মূলত কর্মী। গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আইনজীবী মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরগঞ্জ থানা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বেলকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সানোয়ার হোসেনসহ তাঁদের দলের ৩০ জনের মতো নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিটি মামলার এজাহারে বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ফলে একটি মামলায় কেউ জামিন পাওয়ার পর পুলিশ অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে। এটাকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার-বাণিজ্যও হয়েছে। বিএনপির এই নেতার দাবি, ঘটনার সঙ্গে যে বিএনপির কেউ জড়িত নন, তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত। তাই সন্দেহভাজন হিসেবে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের মুক্তি দিতে হবে।
মামলার নথি ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সাংসদ মনজুরুল ইসলামকে হত্যার পর ৪, ৮, ১৬ ও ২০ জানুয়ারি চারটি মামলা করে পুলিশ। এর মধ্যে তিনটি বিস্ফোরক আইনে ও একটি হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। এই চার মামলার এজাহারে আসামি হিসেবে ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, আর অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ৩৯০ জন। বিএনপি-জামায়াতের গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের বড় অংশকে ওই অজ্ঞাতনামা সন্দেহে ধরা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সাংসদ মনজুরুল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। এর পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা কাদের খান। খুনে সরাসরি অংশ নেন তাঁরই তিন ঘনিষ্ঠ কর্মী। তাঁরা সবাই গ্রেপ্তারও হয়েছেন। এই অবস্থায় আগে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কী হবে। এ নিয়ে গত শনিবার সকালে (নতুন কর্মস্থল খাগড়াছড়ি যাওয়ার আগে) কথা হয় গাইবান্ধা জেলার পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সন্দেহভাজন হিসেবে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁদের বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শফিকুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, হত্যাকাণ্ডটি কারা ঘটিয়েছে, তা চিহ্নিত হয়েছে, ঠিক আছে। কিন্তু যেহেতু এখনো তদন্ত চলছে এবং অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি, তাই এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্যরা কারাগারেই থাকবেন। অভিযোগপত্র দেওয়ার পর কার বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটা বোঝা যাবে।

বখাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি শিক্ষার্থীদের

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ইভ টিজিংয়ে বাধা দেওয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে জুতাপেটা করার ঘটনায় উপজেলার দেউঘর ইউনিয়নের হক সাহেব উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। অভিযুক্ত অটোরিকশার চালক সাকিল খার (২২) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তারা গতকাল রোববার প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় ঘেরাও করে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সামিউল হক বলেন, ‘অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিন দিন সময় চেয়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের এই আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে ফিরে এসেছে।
এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করতে আগামীকাল (আজ) গ্রামবাসীদের নিয়ে সমাবেশ করা হবে।’ ২১ ফেব্রুয়ারি দেউঘর এলাকায় সাকিল খা সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর গতিরোধ করে প্রেমের প্রস্তাব দেন। ঘটনাটি অভিভাবকদের জানানোর হুমকি দিলে সাকিল ছাত্রীটিকে জুতাপেটা করেন। ওই ছাত্রীর বাবা গত শুক্রবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এই ঘটনায় সাকিলকে গ্রেপ্তারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা লাগাতার আন্দোলন শুরু করে।

পরিবহন ধর্মঘটে পিষ্ট সড়ক নিরাপত্তা

জনস্বার্থে কিংবা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন আটকে গেছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর কারণে। গত আট মাসে সারা দেশে অন্তত ২০ বার ধর্মঘট ডেকেছে এসব সংগঠন। তাদের মূল দাবি হচ্ছে, চালকের সাজা মওকুফ, আইন অমান্য করে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের সুযোগ দেওয়া, রাস্তায় পুলিশের তৎপরতা কমানো ইত্যাদি। তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনায় ঘাতক বাসের চালক জামির হোসেনের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে গতকাল রোববার থেকে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটি এ ধর্মঘট ডেকেছে। এর আগে রায়ের পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় ধর্মঘট পালন করা হয়। এই সংগঠনটি গত বছরের ১৫ মে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের পরিবারের পক্ষ থেকে করা ক্ষতিপূরণ মামলার বিরুদ্ধেও ধর্মঘট পালন করে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জামির হোসেনকে ২০১১ সালে গ্রেপ্তার করার পর তাঁর মুক্তির দাবিতে মালিক-শ্রমিকেরা যৌথভাবে সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট পালন করেন। শহীদ মিনারে শ্রমিক সমাবেশ করা হয়।
জানতে চাইলে চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও নিরাপদ সড়ক চাই-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন প্রথম আলোকে বলেন, শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এই ধর্মঘট। ১৯৮৩ সালেও তারা শক্তি প্রদর্শন করে সড়ক দুর্ঘটনার মামলার সাজা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়। অতীতে গাড়িতে মাদকদ্রব্য রাখার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া চালককে ছাড়াতেও তারা ধর্মঘট করেছে। মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো সব সময় আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে চায়। তিনি বলেন, ‘আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ডাকা ধর্মঘটের বিষয়ে আদালত ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করছি। জনগণকে বলব, আপনারা মাথা নোয়াবেন না। দেখি তারা কত দিন ধর্মঘট করতে পারে।’ ১২ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফরিদপুর, নরসিংদী ও গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিকদের কাছে গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে ব্যাখ্যা চায়। কিন্তু গতকালও ব্যাখ্যা জমা হয়নি বিআরটিএতে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, ধর্মঘটের কারণে এই ব্যাখ্যা দেওয়ার বিষয়টি চাপা পড়ে গেছে। সারা দেশের পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলোর শীর্ষ ফোরাম হচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এর কার্যকরী সভাপতি নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। আর মালিকদের শীর্ষ সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি। এর সভাপতি সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে যত পরিবহন ধর্মঘট হচ্ছে, এর প্রায় সব কটির পেছনেই এই দুটি সংগঠন কিংবা তাদের স্থানীয় অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ধর্মঘট ডাকার পর সরকারের সঙ্গে সালিস-মীমাংসার বৈঠকেও এই সংগঠনের নেতারা নেতৃত্ব দেন। জানতে চাইলে মসিউর রহমান রাঙ্গা প্রথম আলোকে বলেন, ‘মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো সারা দেশে বিস্তৃত। নানা ধরনের মানুষ এর মধ্যে আছে। দাবি আদায়ের পন্থা হিসেবে ধর্মঘট অনেক পুরোনো। জনস্বার্থে ও সড়ক নিরাপত্তার জন্য নেওয়া সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শাজাহান খান ও আমি মিলে চেষ্টা করছি।’ যানবাহন-সংক্রান্ত বিধিবিধান ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল কর্তৃপক্ষ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এই বিভাগের অধীন বিআরটিএ হচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পরিবহন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে স্বরাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। এই তিন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএ সূত্র জানায়, সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত মালিক-শ্রমিকদের মনঃপূত না হলেই তারা ধর্মঘট করে।
কিছু ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আঞ্চলিক বা জাতীয় পর্যায়ে ধর্মঘট হলে সড়ক পরিবহন কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করা হয়। কেন্দ্রীয় বৈঠকের নিয়মিত মুখ হচ্ছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান। পরিবহন মালিক-শ্রমিক সূত্রগুলো বলছে, ধর্মঘট ডাকার ক্ষেত্রে খুলনাভিত্তিক দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, চট্টগ্রাম অঞ্চল ও রাজশাহীভিত্তিক উত্তরবঙ্গের শ্রমিক-মালিক সংগঠনগুলোই বেশি তৎপর। এই সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা শাজাহান খান ও মসিউর রহমানের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটিরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। গতকাল জাতীয় ঈদগাহ গেটের সামনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, মামলার রায়ের পর পরিবহন শ্রমিকেরা তাঁর কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন। তিনি তাঁদের বলেছিলেন, আদালতের রায় অমান্য করা যাবে না। রায়ে সন্তুষ্ট না হলে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন। কিন্তু এরপরও অযৌক্তিক ধর্মঘট ডেকে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে। এতে তাঁদের কোনো লাভ হবে না।
ধর্মঘটে আটকে যাচ্ছে সিদ্ধান্ত
খুলনাভিত্তিক শ্রমিক সংগঠনটির নেতাদের নেতৃত্বে পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে গত ২৩ জানুয়ারি থেকে দুই দিন ধর্মঘট পালন করা হয়। খুলনা ও বরিশাল বিভাগ ও বৃহত্তর ফরিদপুরের ২১টি জেলায় পণ্য পরিবহন বন্ধ ছিল। এই ধর্মঘটের ফলে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও বাস মূল কাঠামোয় ফিরিয়ে আনার সরকারি সিদ্ধান্ত আটকে আছে। সারা দেশে প্রায় পৌনে দুই লাখ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের আকৃতি পরিবর্তন করে লম্বায় সাত ফুট ও চওড়ায় দুই ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। বডিতে লাগানো হয়েছে তিনকোনা আকৃতির লোহার পাতের অ্যাঙ্গেল। সামনে-পেছনে আছে বাম্পার। অনেক বাস-মিনিবাসেরও আকৃতি পরিবর্তন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের জন্যই এভাবে আকৃতি পরিবর্তন করা হয়েছে, যা মোটরযান আইনের পরিপন্থী এবং এটি সড়ক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। গতকাল এ বিষয়ে বিআরটিএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক মালিক-শ্রমিকদের বাধার মুখে সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। আগামী শনিবার পুনরায় বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র জানায়।
এর আগে ২৩ জানুয়ারি ২১ জেলায় ধর্মঘট ডাকার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মালিক-শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়। এতে নৌমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত থেকেও বিষয়টি সুরাহা করতে পারেননি। দেশের সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—এই বিবেচনায় নির্ধারিত ওজন সীমার অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহনের বিরুদ্ধে গত বছর জরিমানা আরোপ করে সরকার। এর প্রতিবাদে গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১০০ ঘণ্টা ধর্মঘট পালন করে মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। পরে ৫ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, নৌমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ছয়জন মন্ত্রী ও একজন মেয়র এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বৈঠক করে মালিক-শ্রমিকদের চাপের মুখে বাড়তি জরিমানা প্রত্যাহার করা হয়। এখন ট্রাক ও লরিতে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন চলছে। এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন বিভাগের সচিব এম এ এন সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ধর্মঘট তাদের ব্যাপার। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমরা কঠোর হব। ২৮ ফেব্রুয়ারির পর ছাড় দেওয়া হবে না।’
মূল দাবির আড়ালে অন্য দাবি
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত বছরের মে থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে ২০ বার পরিবহন ধর্মঘট হয়েছে। এর মধ্যে সাতবার আহ্বান করা হয়েছে অঞ্চলভিত্তিক। বাকিগুলো জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এসব ধর্মঘটে প্রকাশ্যে দাবির মধ্যে জনপ্রিয় দাবিগুলো হচ্ছে পুলিশের হয়রানি বন্ধ, লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ করা, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, টার্মিনাল স্থাপন ও চাঁদা বন্ধ করা। তবে একজন শ্রমিকনেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত মনঃপূত না হলে তাঁরা অন্য দাবির আড়ালে ধর্মঘটের ডাক দেন। সরকার বৈঠক ডাকলে তাঁরা তাঁদের মূল দাবিতে অটল থাকেন। জানতে চাইলে সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে সোচ্চার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রথম আলোকে বলেন, গণপরিবহন ব্যবহার করে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ। কিন্তু মালিক-শ্রমিকদের কাছে এই মানুষের কিছুমাত্র মূল্য নেই। মালিক ও শ্রমিকনেতারা সরকারি লোক। ফলে সরকার তাদের স্বার্থই দেখে।