Saturday, May 13, 2017

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল শুক্রবার প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তাঁর দেশের গভীর সম্পর্ক গড়ার আগ্রহের কথা ঘোষণা করেছেন। দ্বীপ দেশটির ওপর প্রভাব বিস্তারে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেই মোদি এ ইচ্ছার কথা জানালেন বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত বরাবরই ক্ষুদ্র প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা তার নিজের প্রভাববলয়ের মধ্যে রয়েছে বলে বিবেচনা করে থাকে। তবে শ্রীলঙ্কার সাবেক লৌহমানব প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের আমলে দেশটিকে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে দেখেছে ভারত। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বারের মতো শ্রীলঙ্কা সফর করছেন। শ্রীলঙ্কার সমর্থন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা ও দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে চীনের উদ্যোগকে টেক্কা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে তাঁর এ সফরকে। শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় বৌদ্ধধর্মীয় এক সম্মেলনে গতকাল মোদি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার একটা বড় সুযোগ পেয়েছি আমরা। এটা এমন এক সুযোগ, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের অংশীদারত্বে এক বড় অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব।’ মোদি এমন এক সময় এ মন্তব্য করলেন, যখন চীন তার একটি ডুবোজাহাজ শ্রীলঙ্কার এক বন্দরে নোঙর করার অনুরোধ জানিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
সম্মেলনে মোদি দুই দেশের মধ্যকার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি রক্ষার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এই সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ও উন্নয়ন সহযোগিতা গভীরতর করতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গতিশীল করার চেষ্টা আমরা অব্যাহত রাখব।’ শ্রীলঙ্কায় সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের সময়কালে চীনের সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প বিস্তৃত হয়। তিনি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন লাভে বেইজিংয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিলেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা ক্ষমতায় এসে চীনের অর্থায়নে পরিচালিত আগের প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা ও ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি গত বৃহস্পতিবার দুই দিনের সফরে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় পৌঁছান। সে সময় শ্রীলঙ্কার একজন শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, তাঁর দেশের একটি বন্দরে চীনা ডুবোজাহাজ ভেড়ানোর অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালে কলম্বো বন্দরে চীনের দুটি ডুবোজাহাজ ভিড়লে ক্ষুব্ধ হয়েছিল ভারত।

এ দেশের আফনান ও দেশে মাস্টারশেফ

হেঁশেলে রান্না করছেন মা, তাঁর আঁচল ধরে পাশেই দাঁড়িয়ে সন্তান। এমন ছবি তো চিরায়ত। কিন্তু এমন হেঁশেল কি খুব একটা দেখা যায়, যেখানে মায়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাঁধবে ১২ বছরের ছোট্ট ছেলেটিও। আফনানের বাসার দৃশ্যপট এমনই। আফনান নয়, আফনানের মা তাঁর ছেলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাঁধেন প্রায় দিনই। তাও সব সময় টেক্কা দিতে পারেন না খুদে সেই রন্ধনশিল্পীকে। পারবেনই বা কী করে, ছেলে যে ‘মাস্টারশেফ’। রান্নাবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা (রিয়েলিটি শো) ‘মাস্টারশেফ জুনিয়র ইউএস’-এর পঞ্চম মৌসুম চলছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খুদে রন্ধনশিল্পী খুঁজে বের করতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের যুক্তরাষ্ট্রের অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য সবিশেষ। এবারই কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত খুদে রন্ধনশিল্পী সেরা দশে জায়গা করে নিল। সেই রন্ধনশিল্পীর নাম আফনান আহমেদ। বাংলাদেশের দর্শকেরা এই অনুষ্ঠানের অষ্টম পর্ব দেখবেন কাল রোববার। আর যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকেরা এরই মধ্যে চূড়ান্ত পর্বের কাছাকাছি দেখে ফেলেছেন। পর্ব প্রচারের দিক থেকে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আমরা আজ আফনানের মাস্টারশেফ প্রতিযোগিতার ফলাফলে যাব না, আমরা কথা বলব নিজ দেশ থেকে অনেক দূরে বড় হওয়া বাংলাদেশের এই ছেলেকে নিয়ে। সেই আফনান, যে ভিনদেশি এক রিয়েলিটি শোতে নানাভাবে বাংলাদেশ এবং দেশি খাবারকে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। আফনান আহমেদ এখন পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ইউনিয়ন গ্রুভ মিডেল স্কুলে, সপ্তম শ্রেণিতে। সামনেই বার্ষিক পরীক্ষা তার। পড়ালেখা, প্রতিযোগিতার চাপ সব সামলে আফনান প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলল। জানাল তার ‘মাস্টারশেফ জুনিয়র’-এর সফরের কথা। পরিপাটি ছেলেটি টিভিতে ইংরেজিতে কথা বললেও ফোনে কথা বলার শুরুতেই শুদ্ধ বাংলা বলে, ‘কেমন আছেন?’ এরপর বলতে থাকল মাস্টারশেফের অভিজ্ঞতা। মাস্টারশেফ জুনিয়র ইউএস-এর প্রথম ধাপে আফনান ৫ হাজার শিশুর মধ্য থেকে সেরা ৫০ খুদে শেফের তালিকায় উঠে আসে। সেখান থেকে সেরা ৪০, এরপর ২৪ এবং সবশেষ সেরা ১০-এ। আফনান এ পর্যন্ত অনেকের চেয়ে এগিয়ে আছে। কয়েকবার সে জিতেছে ইমিউনিটি চ্যালেঞ্জ, চলে গেছে সেফ জোনে। তার রান্না করা রেসিপি হয়েছে প্রতিযোগিতায় সেরা। বিখ্যাত শেফ গর্ডন র্যামসে ও ক্রিস্টিনা টোসিও আফনানের রান্নায় মুগ্ধ। আফনানের মা শামীমা এবং বাবা সৈয়দ সোহেল আহমেদ প্রায় বছর ২০ আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। আফনানের জন্মও সে দেশেই। তবে দেশে আছে আফনানের দাদা-দাদিসহ পুরো পরিবার।
চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে আফনানের দাদাবাড়ি, আর আলকরনে নানাবাড়ি। বেশ কয়েকবার বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছে বাংলাদেশে। শেষবার আফনান দেশে এসেছিল চার বছর আগে। সে সময় ঢাকায় ও চট্টগ্রামে থাকা পরিবারের সঙ্গে লম্বা সময় কাটিয়েছে আফনান। দেশের কথা জিজ্ঞেস করতেই আফনান বলল, ‘স্কুলে ভ্যাকেশন (ছুটি) শুরু হলে দেশে আসতে চাই। সবার সঙ্গে দেখা করতে চাই। দেশে এসে যারা আমার রান্না পছন্দ করেছে, তাদের সঙ্গে রান্না নিয়ে কথা বলতে চাই।’ মা শামীমার কাছ থেকে আফনানের রান্নার হাতেখড়ি। মায়ের কাছ থেকে দেশি কায়দায় মসলা দিয়ে গরুর মাংস রান্না করতে শিখেছে আফনান। তবে মায়ের হাতে কালাভুনার সঙ্গে টক্কর দেওয়ার মতো ডিশ রান্না করার সাহস নাকি আফনান এখনো করতে পারে না। আফনান বলে, ‘দেশি খাবার আমার খুব পছন্দের। বিশেষ করে আমাদের চিটাগংয়ের খাবার। মায়ের হাতের মেজবানি গোশত খুব মজা হয়। আমি এখনো ওটা রাঁধতে পারি না। মা টমেটো-আলু দিয়ে তেলাপিয়া মাছ রান্না করে, সেটাও আমার খুব প্রিয়।’ রান্না নিয়ে আফনানের ভাবনাগুলো খুব আধুনিক। দেশি খাবারকে তুলে ধরতে চায় ভিনদেশি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে। আফনান তার এই ভাবনাকে বলছে ‘গ্লোবাল’ ফিউশন। প্রতিযোগিতায় বেশ কয়েকবার সে এভাবেই দেশি খাবারের সঙ্গে পাশ্চাত্যের ধারা মিলিয়েছে। খিচুড়ি রান্না করেছে, রুটি বানিয়েছে, তবে সবকিছুতেই যোগ করেছে পশ্চিমা উপস্থাপনার কায়দা। আফনান বড় হয়ে হতে চায় নিউরোসার্জন। আর রান্না নিয়ে স্বপ্ন হলো, বাংলায় একটা টিভি শো করার ইচ্ছা তার। সেখানে দেশি খাবারগুলো নিয়ে আফনানের যত আধুনিক ভাবনা, সবই তুলে ধরতে চায়।

একযোগে ৭৪ দেশে সাইবার হামলা

বিশ্বজুড়ে একযোগে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অন্তত ৭৪টি দেশের কম্পিউটার ব্যবস্থায় হানা দিয়েছে হ্যাকাররা। গতকাল শুক্রবার হ্যাকিংয়ের শিকার দেশগুলোর তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, স্পেন, ইতালি ও তাইওয়ানের মতো উন্নত প্রযুক্তির রাষ্ট্রও। হ্যাকারদের ছড়িয়ে দেওয়া এক সফটওয়্যারে দৃশ্যত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো স্থানের কম্পিউটার ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। হ্যাকাররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওয়েবসাইট অচল করে দিয়ে বিনিময়ে ৩০০ মার্কিন ডলার দাবি করে। বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে আসতে একযোগে কাজ শুরু করেছেন অনেক প্রযুক্তি নিরাপত্তা গবেষক। এ আক্রমণের পর ইয়াকুব রৌসতেক নামের একজন সাইবার বিশেষজ্ঞ টুইট করেন, র‍্যানসমওয়্যার দিয়ে (ওয়ানাক্রাই বা আরও একাধিক নামে পরিচিত) কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের হাজার হাজার ঘটনা তিনি শনাক্ত করেছেন। ইন্টারনেট নিরাপত্তাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাভাস্টের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘এটা অনেক বড় হামলার ঘটনা।’ বিশেষজ্ঞরা জানান, র‍্যানসমওয়্যার হচ্ছে পরিচিত ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রোগ্রাম। কম্পিউটার বা মুঠোফোনের মতো যন্ত্রের মধ্যে এই সফটওয়্যার ঢুকিয়ে দিতে পারলে যন্ত্রটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া যায়। এ কাজ করে তা থেকে মুক্তির জন্য অর্থ দাবি করে হ্যাকাররা। সাইবার নিরাপত্তা প্রদানকারী আরেক প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি বলেছে, তারা এখন পর্যন্ত ৭৪টি দেশের কম্পিউটারে র‍্যানসমওয়্যার প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত করেছে। এই আক্রমণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এ সাইবার হামলার শিকার হয় যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগও (এনএইচএস)। ইউরোপের অন্যান্য স্থানে এর শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে স্পেনের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

‘বোমা মেরে শান্তি আনার’ নীতি ত্যাগ করব

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, ‘আগে বোমা মেরে, পরে শান্তি আলোচনা’র নীতি ব্যর্থ হয়েছে। আফগানিস্তান, ইরাক ও লিবিয়ায় হামলা বিশ্বশান্তি বিনষ্ট করেছে এবং নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অভিজ্ঞতা থেকে ক্ষমতায় গেলে ‘আলোচনা’ ‘সর্বজনীন অধিকার’ ও ‘আন্তর্জাতিক আইন’কে প্রাধান্য দেওয়াই হবে তাঁর পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি। ৮ জুনের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার নিজেদের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত করবিন। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি যুক্তরাজ্যের সরকারগুলোর যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর পররাষ্ট্রনীতির কড়া সমালোচনা করেন। করবিন বলেন, ওয়াশিংটনে হাওয়া কোন দিকে বইছে তা দেখে মোড় নেওয়া শক্তিশালী নেতৃত্ব নয়। লেবারপ্রধান বলেন, তাঁরা ক্ষমতায় গেলে লন্ডনের নিজের তৈরি বলিষ্ঠ ও স্বতন্ত্র পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে থেরেসা মে সিরিয়ায় হামলা চালাতে সম্মত হয়েছেন অভিযোগ করে করবিন বলেন, কনজারভেটিভ পার্টিকে ভোট দেওয়ার মানে হবে সিরিয়ার যুদ্ধকে উসকে দেওয়া। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণেই দেশে দেশে শরণার্থী সংকট গুরুতর আকার ধারণ করেছে।

কয়েক রকম গল্প ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা দৃশ্যত মন ঠিক করে উঠতে পারছেন না ঠিক কোন কারণে এফবিআই-প্রধান জেমস কোমিকে পদচ্যুত করা হলো। গতকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সে গল্প বেশ কয়েকবার পরিবর্তিত হয়েছে। নিজের সিদ্ধান্ত সঠিক, এই যুক্তি দেখাতে গিয়ে ট্রাম্প নিজের জন্যই বিপদ ডেকে আনছেন, এ ব্যাপারে অধিকাংশ ভাষ্যকারই একমত। হোয়াইট হাউস থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রোজেনস্টাইনের পরামর্শ অনুযায়ী কোমিকে পদচ্যুত করা হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত রোজেনস্টাইন এক চিঠিতে কোমিকে পদচ্যুত করার পক্ষে যুক্তি দেখান, হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল নিয়ে তদন্ত যোগ্যতার সঙ্গে পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ট্রাম্প নিজে ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সেই চিঠিকেই কোমিকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে বৃহস্পতিবার এনবিসি টিভির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সম্পূর্ণ উল্টো কথা বললেন ট্রাম্প। এনবিসিকে ট্রাম্প বলেন, তিন দিন আগে নয়, বরং শপথ গ্রহণের সময় থেকেই তিনি কোমিকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। হোয়াইট হাউস বলেছে, এর সঙ্গে ট্রাম্পের প্রচারণা দলের সঙ্গে রাশিয়ার কথিত আঁতাত নিয়ে কোমি যে তদন্ত পরিচালনা করছিলেন, তার কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ এনবিসিকে ট্রাম্প বলেন, কোমিকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তিনি ‘এই রাশিয়া ব্যাপারটা’ নিয়ে ভেবেছিলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে এ-ও বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ পুরোপুরি বানানো। এর আগে ট্রাম্প ‘সরকারি অর্থে এই অর্থহীন তদন্ত’ বন্ধের দাবি তুলেছিলেন। টিভি সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি চান তদন্ত অব্যাহত থাকুক। এর শেষ দেখতে চান। এনবিসি টিভিকে ট্রাম্প বলেন, কোমির সব কাজ ছিল লোক দেখানো। তাঁর অধীনে এফবিআই এক অথর্ব ও আগাছায় ভরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
এই সংস্থার অধিকাংশ সদস্য তাঁর প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্টের এ দাবি যে ভিত্তিহীন, বৃহস্পতিবার সিনেটের শুনানিতে এফবিআইয়ের অস্থায়ী প্রধান এন্ড্রু ম্যাকাবের কথায় তা স্পষ্ট। ম্যাকাবের কথায়, জেমস কোমির প্রতি ব্যাপক সমর্থন আগেও যেমন ছিল, এখনো আছে। একই টিভি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, কোমি তাঁকে তিন-তিনবার জানিয়েছিলেন রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে তদন্তের লক্ষ্য তিনি নন।  তবে কোমিকে পদচ্যুত করার পেছনে রাশিয়া-তদন্তই প্রধান কারণ বলে মনে করেন খ্যাতিমান ভাষ্যকার ইউজিন রবিনসন। তিনি বলেন, ট্রাম্প যে একটা কিছু লুকাতে চাইছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দেশের প্রতিটি প্রধান তথ্যমাধ্যম জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প শিবিরের আঁতাত নিয়ে তদন্ত বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট কোমির ওপর চাপ দিচ্ছিলেন। কোমি তাতে সম্মতি দেননি। সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা নিউইয়র্কে তাঁর বাসভবনে আড়ি পাতার ব্যবস্থা করেছিলেন, ট্রাম্পের এই ভিত্তিহীন দাবি সমর্থন করতেও কোমি অস্বীকার করেন। রবিনসনের মন্তব্য, কোমিকে সরানোর এগুলোই আসল কারণ। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ট্রাম্প কোমির কাছে পূর্ণ আনুগত্য দাবি করেছিলেন। কোমি সম্মত হননি। কারণ, মার্কিন শাসনব্যবস্থায় বিচার বিভাগ হোয়াইট হাউস অর্থাৎ প্রশাসন থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ। চলমান কোনো তদন্ত নিয়ে এফবিআই-প্রধান সে তদন্তে যুক্ত কারও সঙ্গে খোলামেলা কথা বলবেন, তা অবৈধ না হলেও ‘যথাযথ নয়’—এ ব্যাপারে অধিকাংশ আইনজ্ঞ একমত। ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক মাইকেল গ্রিনবার্গার ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকাকে বলেছেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোমির এমন কথোপকথন হয়েছে, তা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই কথোপকথন ঘটে থাকলে ট্রাম্প ‘ন্যায়বিচারে বাধা সৃষ্টির’ অপরাধেও অভিযুক্ত হতে পারেন। কোমিকে পদচ্যুত করে ট্রাম্প কার্যত ন্যায়বিচার অর্জনে বাধা সৃষ্টি করেছেন, নিউইয়র্ক টাইমসও একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তবে এ কথা প্রমাণ খুব সহজ হবে না।

কে জানত ট্রাম্প একজন ‘কবি’?

নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার শীর্ষে। তিনি যেমন নানা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে সে সময় থেকেই সংবাদ শিরোনাম হচ্ছেন, একইভাবে এমন অনেক কথা বলেছেন, যা হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে এবং দিচ্ছে। যেমন একদিন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ভাষা জানি...ভাষায় আমি দক্ষ।’ তবে কে জানত, ধনাঢ্য এই ব্যবসায়ী কাব্য রচনাও করতে পারেন? ট্রাম্প নিজেও কি তা জানতেন? নরওয়ের এক ব্যক্তির সুবাদে এবার ট্রাম্পের গায়ে ‘কবি’র তকমাও লাগল। ক্রিস ফেল্ট নামের ওই ব্যক্তি ট্রাম্পের সেরা উক্তিগুলো ‘কাব্যসমগ্র’ হিসেবে একত্র করেছেন। ক্রিস ফেল্টের মতে, ‘ট্রাম্প যা বলেন, তা আসলে বাস্তবতার চেয়ে কাব্য আর গল্পেরই বেশি কাছাকাছি।’
নরওয়ের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক আফতেনপোস্তেনকে তিনি বলেন, ‘চিন্তাভাবনা বা প্রস্তুতি ছাড়া বাগাড়ম্বরপূর্ণ কথাবার্তা বলেই তাঁর (ডোনাল্ড ট্রাম্প) নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আমাদের হতভম্ব করে দেয়।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৭০ বছর বয়সী ট্রাম্পের স্লোগান ‘আমেরিকাকে আবার মহান করো (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন)’-এর অনুসরণে ‘কাব্যসমগ্র’টির নামকরণ করা হয়েছে ‘কবিতাকে আবারও মহান করো’। এতে বিভিন্ন বক্তৃতা, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট যেসব কথাবার্তা বলেছেন, তার থেকে নির্বাচিত অংশই শুধু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১০ বছর আগে নিজের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প সম্পর্কে করা ট্রাম্পের মন্তব্য অন্যতম:
‘আমি বলেছি
যদি ইভাঙ্কা
আমার মেয়ে না হতো
সম্ভবত
আমি তাঁর সঙ্গে প্রেম করতাম।’
শুধু এটাই না, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প টুইট করেন, ‘যেকোনো প্রকার নেতিবাচক জনমত জরিপই ভুয়া, যেমনটা ভুয়া ছিল নির্বাচনের সময় সিএনএন, এবিসি, এনবিসির জরিপ।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই দেশজুড়ে শুরু হয় ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ। এর পরিপ্রেক্ষিতে শপথ নেওয়ার এক দিন পর গত ২২ জানুয়ারি তিনি টুইট করেছিলেন, ‘গতকালের বিক্ষোভ দেখলাম, কিন্তু এমন এক গভীর অনুভূতির মধ্যে ছিলাম, যেন মাত্রই আমরা নির্বাচন করলাম! এই লোকেরা কেন ভোট দিল না?’ বইটির নরওয়ের প্রকাশক কাগ্গের দেওয়া তথ্যানুসারে, বইটির প্রথম সংস্করণে দুই হাজার কপি ছাপা হয়েছে। একটি সৌজন্য কপি ট্রাম্পকেও পাঠানো হয়েছে।এখন দেখার বিষয়, ঝোঁকের বশে তিনি এই বইটিকে ‘সর্বাধিক বিক্রীত’ বলে দাবি করে বসেন কি না!

শাফাত ও সাকিফ রিমান্ডে

বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামিদের বাঁচাতে নানা চেষ্টা-তদবিরের পরও শেষরক্ষা হলো না। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপের মুখে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদ ও রেগনাম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফকে গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার তাঁদের আদালতে হাজির করে শাফাতকে ছয় দিন ও সাদমানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। এ মামলার অন্য তিন আসামি এখনো পলাতক। ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় এ মামলা দায়ের করেন ধর্ষণের শিকার হওয়া এক ছাত্রী। কিন্তু মামলা দায়েরের আগে থেকেই বনানী থানা ও গুলশান বিভাগ পুলিশের কর্মকাণ্ডে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। অভিযোগ ওঠে এক রাজনৈতিক নেতার প্রভাবে পুলিশ আসামিদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে। গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৃষ্টি হয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন। একপর্যায়ে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর থেকে আসামি গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এরপরই অভিযানে নামতে বাধ্য হয় পুলিশ। দুই আসামি গ্রেপ্তার এবং পুরো ঘটনা সম্পর্কে জানাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় গতকাল দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এলে থানা-পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন।
জবাবে তিনি বলেন, বনানী থানার ভূমিকা খতিয়ে দেখতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও দুজন যুগ্ম কমিশনারের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘এই মামলায় আমরা সব অনুরাগ-বিরাগের ঊর্ধ্বে উঠে শতভাগ পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করছি এবং করব। সেই প্রতিশ্রুতি আমি দিচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে পুলিশের যে ভুল বোঝাবুঝি ও দেশবাসীর মধ্যে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা থাকবে না। তদন্তটি মডেল ইনভেস্টিগেশন হয়ে থাকবে।’ তবে গত ২৮ মার্চ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া ওই মামলার বাকি তিন আসামিকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পলাতক তিন আসামি হলেন ইমেকার্স ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের স্বত্বাধিকারী নাঈম আশরাফ, শাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ। দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, শাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ তাঁদের জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। তবে তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং এ ঘটনার পেছনে আর কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। যুগ্ম কমিশনার বলেন, তদন্ত কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। সব তথ্য উপস্থাপন করা সমীচীন হবে না।
এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এক বিবৃতিতে বলেন, ধর্ষণের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই মামলা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সিলেট থেকে দুই আসামিকে ঢাকায় আনার পর গতকাল সকাল থেকে মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। এরপর বিকেলে তাঁদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার করা রিমান্ড আবেদনের ওপর মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলামের আদালতে শুনানি হয়। আদালতের আদেশের পর তাঁদের গোয়েন্দা কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।  এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর থেকে দিলদার ও শাফাত আহমেদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে, বহুল আলোচিত ধর্ষণের ঘটনা চাপা দিতে বিপুল অর্থ খরচের চেষ্টা হয়েছে। এই অর্থের উৎস ‘ডার্টি মানি’ কি না, তা ছাড়া তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ‘অস্বচ্ছ’ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই দুজনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপন জুয়েলার্সেরও ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে।
যেভাবে গ্রেপ্তার
ঢাকায় পুলিশ বলেছে, ৫ মে রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে খোঁজখবর শুরু হওয়ার পরই শাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ ঢাকা ছাড়েন। তবে তাঁরা সিলেটে পৌঁছান ৮ মে। সিলেট থেকে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, সিলেটের পশ্চিম পাঠানটুলায় ‘রশীদ ভিলায়’ শাফাত ও সাকিফকে রাখা হয়েছিল। বাড়ির মালিক যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মামুনুর রশীদ। শাফাতের এক আত্মীয় ওই বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক নূরুন্নবীকে বলে তাঁদের দুজনের থাকার ব্যবস্থা করেন। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক নূরুন্নবী বলেন, তাঁরা জানতেন না যে ওই দুই তরুণ ধর্ষণ মামলার আসামি। সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দল সিলেটের গোয়েন্দা বিভাগের সহযোগিতায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার বলেন, ৮ মে দুপুর থেকে দুজন সিলেটে অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশের কাছে খবর ছিল। শাফাত ও সাদমান তাঁদের মুঠোফোনসহ অন্যান্য ডিভাইস বন্ধ করে লুকিয়ে ছিলেন। তবে সিলেটে থাকা শাফাতের এক মামার মুঠোফোনে দুজনের ফোনালাপের প্রমাণ পাওয়া যায়। মামাকে ধরার পর শাফাত ও সাদমানের অবস্থান জানা যায়। প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ শাফাতের অবস্থান সিলেট নগরের পশ্চিম পাঠানটুলার রশীদ ভিলায় বলে নিশ্চিত হয়।
ধর্ষণ মামলা নিয়ে পুলিশ যা করল
মামলা দায়েরের পর থেকে বনানী থানা-পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ আসামি গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। থানা-পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার মামলার গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে অব্যাহত চাপের মুখে পুলিশের মহাপরিদর্শক বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দলকে অভিযানের নির্দেশ দেন। সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান এই দলে নেতৃত্ব দেন। এর এক দিন পরই সিলেট মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সহযোগিতায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় গতকাল বলেন, অভিযানে বনানী থানা, উইমেন সাপোর্ট সেন্টার, ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ তৎপর ছিল। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দলও যোগ দেয়। ধর্ষণের ঘটনা ঘটার এক মাসের বেশি সময় পর মামলা করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল পুলিশ। তবে এখন বলছে, যথাসময়ে মামলা না হওয়ায় তদন্তের ক্ষেত্রে যে অসংগতি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা দূর করার চেষ্টা করছে তারা। কৃষ্ণপদ রায় বলেন, কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ যেন নষ্ট না হয়, সে চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনা প্রমাণ করতে পারিপার্শ্বিক যত সাক্ষ্য-প্রমাণ আছে, ‘ফিজিক্যাল’, ‘ওরাল’ সবই বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা যে ভিডিওর কথা বলেছেন, তা পাওয়া গেছে কি না বা হোটেল রেইনট্রি কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে গেছেন কৃষ্ণপদ রায়। তিনি বলেন, সব বিষয় মাথায় নিয়েই পুলিশ এগোচ্ছে। তিনি বলেন, আসামি গ্রেপ্তার ও তদন্ত সুষ্ঠুভাবে করার জন্য ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ), উপকমিশনার গুলশান, উপকমিশনার উইমেন সাপোর্ট সেন্টার, উপকমিশনার গোয়েন্দা বিভাগকে (উত্তর) নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে।
দুই ছাত্রীর জবানবন্দি
রাজধানীর বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রী বৃহস্পতিবার আদালতে জবানবন্দি দেন। ঢাকা মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিন তাঁর খাসকামরায় বেলা একটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত তাঁদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দিতে দুই ছাত্রী জানান, গত ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে তাঁদের নেওয়া হয়। শাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী তাঁদের বনানীর ২৭ নম্বর রোডের দ্য রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যান। হোটেলে যাওয়ার আগে দুজনই জানতেন না সেখানে পার্টি হবে। এ সময় তাঁদের সঙ্গে শাহরিয়ার নামের এক বন্ধু ছিলেন। তাঁদের বলা হয়েছিল, এটা একটা বড় অনুষ্ঠান, অনেক লোকজন থাকবে। হোটেলে যাওয়ার পর শাফাত ও নাঈমের সঙ্গে তাঁরা আরও দুই তরুণীকে দেখেন। পরিবেশ ভালো না লাগায় শাহরিয়ারসহ দুই তরুণী চলে আসতে চেয়েছিলেন। তখন আসামিরা শাহরিয়ারের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে নেন এবং তাঁকে মারধর করেন। এরপর দুই তরুণীকে অস্ত্রের মুখে একটি কক্ষে নিয়ে যান। ধর্ষণ করার সময় শাফাত গাড়িচালককে ভিডিও চিত্র ধারণ করতে বলেন।
আর নাঈম তাঁদের মারধর করেন। তাঁরা এ ঘটনা জানিয়ে দেবেন বলে জানানোর পর শাফাত তাঁর দেহরক্ষীকে ওই দুই তরুণীর বাসায় তথ্য সংগ্রহের জন্য পাঠান। লোকলজ্জার ভয় এবং মানসিকভাবে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন আসামিরা। তাঁদের কথামতো না চললে বা এ ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। বাদী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সে সময় অনেক চিৎকার করেছি। ওদের পায়ে ধরেছি। আর ভেবেছি রেইনট্রিতে কেউ নেই? আমাদের চিৎকার কেউ শুনতে পেল না?’ ৬ মে রেইনট্রির মহাব্যবস্থাপক ফ্র্যাঙ্ক ফরগেটের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, হোটেলের দুটি কক্ষ শাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফের নামে বুকিং দেওয়া ছিল। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে আর কেউ ছিলেন কি না, সে খবর তাঁরা জানেন না। ২৯ তারিখ সকালে স্বাভাবিকভাবে তাঁরা কক্ষ ছেড়ে যান। সে সময়ও তাঁরা অস্বাভাবিক কিছু দেখেননি। এক মাস পর তাঁরা ভিডিও ফুটেজ রাখেন না। সে কারণে ওই দিনের ভিডিও ফুটেজও নেই।
ঘটনাক্রম
২৮ মার্চ: রেইনট্রি হোটেলে দুই ছাত্রীকে আটকে ধর্ষণ
৬ মে: থানায় ধর্ষণ মামলা
৭ মে: ঢাকা মেডিকেলে দুই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা
৮ মে: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি গঠন
১০ মে: ঘটনার প্রাথমিক সত্যতার কথা স্বীকার ডিএমপি কমিশনারের
১১ মে: শাফাত ও সাকিফ সিলেট থেকে গ্রেপ্তার

ঘোড়াঘাট থেকে ওই ব্যক্তিকে তুলে নিল কারা?

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা থেকে এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রানীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে শাহিনুর আলম (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের ধারণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাদাপোশাকে শাহিনুর আলমকে তুলে নিয়ে গেছেন। সম্প্রতি সিলেটের মৌলভীবাজারে জঙ্গি আস্তানায় নিহত সাতজনের বাড়ি দিনাজপুরের সিংড়া ইউনিয়নের ডাঙাপাড়া গ্রামে। শাহিনুরের বাড়িও ডাঙাপাড়া গ্রামে। সে ক্ষেত্রে পুলিশ ‘জঙ্গি সন্দেহে’ তাঁকে তুলে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে পরিবার। তবে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শাহিনুর ঘোড়াশালে আরএফএল কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের ডাঙাপাড়া গ্রামের আবদুল কাহারের একমাত্র ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গি বিষয়ে এলাকায় পুলিশের সেখানে কড়া অবস্থান রয়েছে। এসব কারণে তাঁকে সন্দেহভাজন জঙ্গি হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে শাহিনুর কোথায় আছেন, তা জানতে চান পরিবারের লোকজন।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী প্রথম আলোকে জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে শাহিনুর আলম রানীগঞ্জ বাজারে হানিফ কাউন্টারের পাশে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় বিরামপুর দিক থেকে সাদা রঙের বড় একটি মাইক্রোবাস হানিফ কাউন্টারে সামনে এসে দাঁড়ায়। মাইক্রোবাস থেকে নেমে এসে চার ব্যক্তি শাহিনুরকে জাপটে ধরে মাইক্রোবাসে তুলে বিরামপুরের দিকে রওনা দেয়। শাহিনুর আলমের ফুপাতো ভাই ইসমাইল হোসেন প্রথম আলোকে জানান, তিনি (শাহিনুর) কয়েক দিন আগে ছুটিতে বাড়ি আসেন। গতকাল রাতে হানিফ এন্টারপ্রাইজের নৈশ কোচে ঘোড়াশাল যাওয়া জন্য কাউন্টারে যান। এ সময় ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি তাঁরা পুলিশ ও র‌্যাবকে জানিয়েছেন। ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসরাইল হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, এ বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রশীদ জানান, দিনাজপুরের ডিবি পুলিশ কাউকে উঠিয়ে নিয়ে যায়নি। তবে অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১৩-এর দিনাজপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাকিব। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, শাহিনুরের পরিবার থেকে ঘটনাটি র‌্যাবকে জানানো হয়েছে। র‍্যাবের একটি টহল টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে র‌্যাব গতকাল রাতে ঘোড়াঘাট থেকে কাউকে তুলে নিয়ে যায়নি বলে তিনি জানান।

পাবনায় ১৬ মাসে ৭১ নারী খুন

বছরখানেক আগে পাবনার বেড়া উপজেলার জাকিয়া বেগমের বিয়ে হয়েছিল পাশের সুজানগর উপজেলার ভুরকুলিয়া গ্রামের আবদুল হাইয়ের সঙ্গে। ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা জাকিয়াকে স্বামী চাপ দিচ্ছিলেন গর্ভপাতের জন্য। রাজি না হওয়ায় গত ১৭ এপ্রিল রাতে জাকিয়াকে বেদম পেটান স্বামী। খবর পেয়ে পরদিন জাকিয়ার পরিবারের লোকজন তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে জাকিয়া মারা যান। গত ১৬ এপ্রিল পাবনা শহরের বুদেরহাট এলাকায় গৃহবধূ নুরুন্নাহারকে শিল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। স্বামী নূরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে অভিযোগ। এর পরদিন ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় খুন হন সাদিয়া খাতুন। অভিযোগ, যৌতুক না পেয়ে স্বামী সাইফুল ইসলাম তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। শাপলা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল পারিবারিক সিদ্ধান্তে। তাঁর গায়ের রং কালো। এ নিয়ে স্বামী চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়ার গোলজার হোসেন নিত্যই লাঞ্ছনাগঞ্জনা, এমনকি মারধর করতেন। গত ৫ জানুয়ারি পিটুনিতে শাপলাকে প্রাণই হারাতে হয়। গোলজারকে লোকজন আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। জাকিয়া, নুরুন্নাহার, সাদিয়া, শাপলার মতো গত ১৬ মাসে (গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত) পাবনায় ৭১ জন নারী খুন হয়েছেন। একই সময়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪৮ জন।
এই তথ্য পাওয়া গেছে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের এক পরিসংখ্যানে। বিভিন্ন সংস্থার মতে, জেলায় যৌতুকসহ নানা কারণে হত্যা, পারিবারিক সহিংসতা ও নারী নির্যাতন বাড়ছে। গত রোববার সুজানগরে গেলে জাকিয়া বেগমের মামা দুলাল খাঁ প্রথম আলোকে বলেন, যৌতুকের জন্য জাকিয়ার ওপর চাপ দিতেন স্বামী আবদুল হাই। এর মধ্যে জাকিয়া অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গর্ভপাত করাতে চাপ দেন। এখন মামলা তুলে নিতে আবদুল হাইয়ের পরিবার চাপ দিচ্ছে। জেলায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করছেন ব্র্যাকের কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট ব্যবস্থাপক নয়ন কুমার মণ্ডল। গত সোমবার তিনি বললেন, ব্র্যাকের নিজস্ব অনুসন্ধানে পাবনায় গত বছর ৫৭টি খুন, ৮ নারী ও ১৬ শিশু ধর্ষণ, ৩০টি শারীরিক নির্যাতন, ৪৬টি আত্মহত্যা ও অন্যান্য ধরনের ১২টি নির্যাতনের ঘটনার তথ্য তাঁরা সংগ্রহ করেছেন। এ বছর এপ্রিল পর্যন্ত ১৪টি খুন, ৫ নারী ও ৩ শিশু ধর্ষণ, ১৮টি শারীরিক নির্যাতন ও ১৮টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, পৌরসভা ও ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে তাঁদের ‘পল্লিসমাজ’ নামের বিশেষ কমিটি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ও তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন কাজ করছে। নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা দেয় বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। ব্লাস্টের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে জেলায় নারী নির্যাতনের মোট মামলা হয়েছিল ২২৮টি, ২০১৬ সালে হয় ২৪৪টি আর চলতি বছর এপ্রিল পর্যন্ত হয়েছে ১০১টি। বেশি মামলা হচ্ছে যৌতুক, খোরপোশ আদায় ও শারীরিক নির্যাতন নিয়ে। জেলা ব্লাস্টের সভাপতি আইনজীবী আলমগীর হোসেন বলেন, পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা অনেক বেড়েছে। গত নভেম্বর থেকে পাবনায় নারী ও শিশু আদালত বিচারকশূন্য।
গত সোমবার আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুস সামাদ খান বলেন, অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালত অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নারী ও শিশু আদালতের বিচারকাজ করছেন। সপ্তাহে এক দিন মামলা লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। বিচারিককাজ প্রায় বন্ধ। আদালতে ১ হাজার ৫২৫টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, জেলায় প্রতিবছর প্রায় ১০ শতাংশ হারে নারী নির্যাতনসংক্রান্ত মামলা বাড়ছে। জেলায় নারী নির্যাতন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মাদক ও দারিদ্র্য। বাল্যবিবাহ ও বহু বিবাহকে পাবনায় নারী নির্যাতনের একটি প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেন মানবাধিকার আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘পাবনা প্রতিশ্রুতি’-এর উপসহকারী পরিচালক আবদুল আহাদ বলেন, নারী নির্যাতনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে নির্যাতনের পরিমাণ কমে যেত। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর যথার্থ কার্যকর ভূমিকা নেই বলে মনে করেন জেলা নির্যাতন প্রতিরোধ নেটওয়ার্কের যুগ্ম সচিব শামসুন্নাহার। পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীমা বেগমের নেতৃত্বে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল নির্যাতিত নারীদের সহায়তা দেয়। এ ছাড়া থানায় থানায় কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে সভা করে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ, মাদক ও জঙ্গিবাদ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

রাজবাড়ীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নে র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত হয়েছেন। র‍্যাবের দাবি, তাঁরা চরমপন্থী দলের সদস্য ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে চারটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬০টি গুলি উদ্ধারের দাবি করেছে র‍্যাব। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে রাখালগাছি পদ্মার চরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন বাপ্পী ও লালন। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ র‍্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। র‍্যাব-৮–এর কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রইস উদ্দিন জানান, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ র‍্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতন্ত্রের জয়

দক্ষিণ কোরিয়ার সোমবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দেশটির গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রায় আরও এক ধাপ সাফল্যের প্রমাণ আন্তর্জাতিক সমাজের সামনে তুলে ধরছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্র বাংলাদেশের প্রায় সমবয়সী হওয়া সত্ত্বেও জনগণের ম্যান্ডেট লাভের সঙ্গে জড়িত দায়-দায়িত্বের বেলায় দেশটি যে আমাদের অনেকটাই পেছনে ফেলে দিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ঘটনা এর শক্ত প্রমাণ নিয়ে উপস্থিত। চলতি বছর নির্বাচিত একজন প্রেসিডেন্টকে বিদায় নিতে হয়েছে পেছনের দরজার ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ঠিক করে নেওয়া পদক্ষেপ অনুসরণ করে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে। পাশাপাশি গত শতকের প্রায় অর্ধেক সময়জুড়ে যে দেশটিতে দাপটে রাজত্ব করে গেছে সামরিক আমলাতন্ত্র, সম্প্রতি দেশের কঠিন অবস্থা পার করে যাওয়ার সময় সেই একই গোষ্ঠীর মুখ থেকে এ রকম কোনো কথা শোনা যায়নি যে তারাই হচ্ছে সবচেয়ে সংগঠিত শক্তি হিসেবে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নিয়ামক শক্তি, যেমনটা আমরা শুনে আসছি আমাদেরই দক্ষিণ এশিয়ার এক ‘গণতান্ত্রিক’ প্রতিবেশী দেশের সমরনায়কদের মুখে। উল্টোভাবে বরং নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়ে যাওয়ার ঠিক পরপর দেশের সামরিক বাহিনীর প্রধান নতুন প্রেসিডেন্টের দপ্তরে উপস্থিত হয়ে শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাখ্যা তাঁর সামনে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে আবার গণতন্ত্র হচ্ছে সমষ্টির শাসন এবং নির্বাচনে পরাজিত বিভিন্ন পক্ষও যে সমষ্টিগত সেই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত, দক্ষিণ কোরিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনও কিন্তু বিজয়ের সূচনালগ্নে ভুলে যাননি গুরুত্বপূর্ণ সেই বিষয়টি। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের প্রথম মুহূর্তে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল পরাজিত প্রার্থীদের দপ্তরে নিজে উপস্থিত হয়ে আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রশাসন প্রক্রিয়ায় তাঁদের সহযোগিতা কামনা করা। যে সত্য তিনি ভুলে যাননি তা হলো সংখ্যাগত হিসাবে দেশের নাগরিকদের মধ্যে যতজন তাঁর পক্ষে ভোট দিয়েছেন, বিপক্ষের সম্মিলিত ভোট হচ্ছে এর চেয়ে বেশি। ফলে তাঁদের সবাইকে গণনার মধ্যে রাখলে আগামী পাঁচ বছরে তাঁর নিজের প্রশাসনকেই তা আরও শক্তিশালী করে তুলবে। এসব কিছুর বাইরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যেসব বার্তা প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন পৌঁছে দিচ্ছেন, সেগুলোও গণতন্ত্রের বিজয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আজন্ম শত্রু হিসেবে যে দেশটির নাম বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিয়মিতভাবে আমাদের সামনে বলে যাচ্ছে, সেই উত্তর কোরিয়া বিষয়েও খুবই যুক্তিসংগত বক্তব্য তিনি দিয়েছেন, যে বক্তব্য অন্যদিকে আবার তাঁর নির্বাচনী প্রচারের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রয়োজন হলে উপযুক্ত সময় ও পরিবেশে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে মিলিত হতে তিনি প্রস্তুত আছেন। অর্থাৎ যুদ্ধ–উন্মাদনার বাগাড়ম্বর থেকে দেশকে তিনি অনেকটাই এই এক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরিয়ে এনেছেন। তবে সেই পথে কতটা তিনি অগ্রসর হতে পারবেন তার অনেকটাই নির্ভর করবে উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে কী রকম সাড়া তিনি পাবেন এবং সেই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘বরাবরের মিত্র’ যুক্তরাষ্ট্র নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য নিজের ভাবনাচিন্তা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ কতটা করে দেবে, গুরুত্বপূর্ণ সেসব বিষয়ের ওপর। ওয়াশিংটন যে জলপাই পল্লব উত্তরের দিকে তুলে ধরার এতটা দ্রুত পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হতে পারছে না, তারও ইঙ্গিত ইতিমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে ওয়াশিংটনের বিলম্বিত প্রতিক্রিয়ার মধ্যে। দক্ষিণ কোরিয়ার ভূখণ্ডে অগ্রসর থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তরিকভাবে আলোচনা চালানোর উল্লেখ নতুন প্রেসিডেন্ট তাঁর প্রথম ভাষণে করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এখনো কোনোরকম প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। ওয়াশিংটন সম্ভবত ভবিষ্যতে ঘোষিত হতে যাওয়া নীতিগত অবস্থানের অপেক্ষায় আছে। অন্যদিকে চীন ও জাপান উভয় দেশের নেতারা নতুন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেও স্বাগত অভিনন্দনের ভাষা ছিল ভিন্ন। জাপান যেমন নতুন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আভাস দিয়েছে যে টোকিও আশা করছে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন নির্বাচিত নেতা ২০১৫ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ববর্তী প্রশাসন যুদ্ধকালে যৌনদাসী সমস্যা সমাধান করে নেওয়ার সেই চুক্তি স্বাক্ষর করলেও দেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চুক্তিটি নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল এবং প্রেসিডেন্ট মুন নির্বাচনী প্রচারকালে চুক্তির শর্তাবলি নতুনভাবে নির্ধারণ করে নিতে জাপানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর অঙ্গীকার করেছিলেন। ফলে নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি চুক্তি মেনে চলার দাবি টোকিওর উত্থাপন করা স্পষ্টতই জাপানের অসন্তুষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে চীন সরাসরি উল্লেখ না করলেও আকার-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছে যে বেইজিং থাড মোতায়েন নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশায় আছে। প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন নিয়ে চীন শুরু থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল এবং নির্বাচনের ফলাফলকে চীনা নেতৃত্ব অনুকূল হিসেবেই দেখছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এ রকম বহুবিধ এবং বিপরীতমুখী প্রত্যাশার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ যে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে তা হলো, রাজনীতিতে বাণিজ্যের জগতের প্রভুদের অনাহূত হস্তক্ষেপের অবসানে দেওয়া প্রতিশ্রুতি নতুন প্রেসিডেন্ট পূরণ করবেন এবং দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ একটি প্রশাসন তিনি উপহার দেবেন। বলা যায় নতুন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে প্রত্যাশার কোনো কমতি দেশে এবং বিদেশে নেই। গণতন্ত্রের বিজয় পতাকা আরও একটু ঊর্ধ্বে তুলে ধরে সবার প্রত্যাশা তিনি নিশ্চিতভাবেই অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে কঠিন পথে এখন থেকে তাঁকে যে হাঁটতে হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সময় এবং পরিস্থিতি তাঁর অনুকূলে থাকুক—এটুকুই শুধু বিজয়ের এই মুহূর্তে আমরা কামনা করতে পারি।
মনজুরুল হক: শিক্ষক ও সাংবাদিক।

ধর্মীয় মৌলবাদ বনাম বাঙালি সংস্কৃতি

ধর্মীয় মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ এক ভয়াবহ বিপদ হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। তবে আমি মনে করি, একে মোকাবিলা করা ও পরাস্ত করা কঠিন কিছু নয়। কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধর্মীয় মৌলবাদের অনুকূলে নয়। ধর্মীয় মৌলবাদের, বিশেষ করে ইসলামি মৌলবাদের একটা আন্তর্জাতিক চরিত্র আছে। ইসলামি মৌলবাদের উৎস হচ্ছে আরব জগৎ ও মধ্যপ্রাচ্য। কিন্তু সেখানকার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজ থেকে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজ একেবারে ভিন্ন। আমাদের আছে একটি সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, যার মধ্যে রয়েছে মানবতাবোধ ও ভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি উদার দৃষ্টিভঙ্গি। আরব দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য তেমন কখনোই ছিল না। আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের পাশাপাশি আরও ছিল বামপন্থী ও সাম্যবাদী রাজনৈতিক আন্দোলন, যা একসময় যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। এই সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গিও আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির মধ্যে ভালোভাবেই দেখা যাবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস ও সংস্কৃতির মধ্যে দেখা যাবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামি মৌলবাদের ক্ষেত্রে অন্য একটি জিনিস দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো ধর্মীয় সংগঠন মৌলবাদের চর্চা করলেও পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদবিরোধী উপাদানও তার মধ্যে দেখা যায় এবং সেই কারণে তারা জনপ্রিয়ও বটে। যেমন লেবাননে হিজবুল্লাহ অথবা গাজায় হামাস। তারা সশস্ত্রও বটে।
১৯৯৯ সালে ইউএনডিপি এক রিপোর্টে উল্লেখ করেছিল: ‘বিশ্বজোড়া ভোগবাদী সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক সমসত্ত্বতা গড়ে তোলার জেরে মৌলবাদী তৎপরতা বেড়েছে। স্থানীয় আঞ্চলিক সংস্কৃতিচর্চায় ফের উৎসাহ দেখা দিচ্ছে। রাজনৈতিক আন্দোলনে স্থানীয় সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয় রক্ষার প্রশ্নটি গুরুত্ব পাচ্ছে। মৌলবাদী আন্দোলনগুলোর বিকাশের মধ্যে তা প্রতিফলিত হয়।’ মধ্যপ্রাচ্যে পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্বজাতীয় সংস্কৃতি ধরে রাখার ও আত্মপরিচয় তুলে ধরার প্রবণতার মধ্যে জাতীয়তাবাদী উপাদান আছে, যার সঙ্গে ইসলামকে এক করে দেখার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে কোনো মৌলবাদী সংগঠন, তা জামায়াত, হেফাজত, জেএমবি—যে-ই হোক, কারও কথায় বা কাজে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী উপাদান নেই। জাতীয়তাবাদী উপাদানও নেই। বরং এই ধরনের সব ধর্মীয় রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি সংস্কৃতিকেই অস্বীকার করতে চায়। ঠিক এই কারণেই ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠনগুলো এই দেশে কোনো গণভিত্তি অর্জন করতে আগেও পারেনি, এখনো পারবে না। ধর্মীয় মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ খুবই বিপজ্জনক। তারা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। তারা মানুষ খুন করেছে, হয়তো ভবিষ্যতে আরও করবে। তাদের অবশ্যই পুলিশ-প্রশাসন দ্বারা দমন করতে হবে। কিন্তু তাদের পরাজিত করার প্রধান অস্ত্র হলো মতাদর্শ ও সংস্কৃতি। যারা আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিই মানে না, তারা কী করে বিস্তার লাভ করবে? অন্যদিকে আমাদের সাংস্কৃতিক শক্তি প্রবল। লেখক-সাংবাদিক আনিসুল হক গত ১১ এপ্রিল প্রথম আলোয় ‘ফুল তোমাকে ফুটিতেই হইবে’ শীর্ষক এক নিবন্ধের শেষে লিখেছেন: ‘আমরা জানি, আমাদের মুক্ত সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রে বাধা আছে। বাধা আছে এবং আক্রমণও আছে। তা সত্ত্বেও সরকার বা রাষ্ট্রের শক্তি নয়, আমরা আমাদের সমাজের শক্তির ওপরই আস্থা রাখতে পারি।
বাংলাদেশের মানুষের পরাজয় নেই, কারণ তার সংস্কৃতি আছে।’ আমাদের এই সংস্কৃতির ভিত্তি বা উৎস ধর্ম নয়, বরং লোকায়ত চিন্তা ও ভাবাদর্শ, যা প্রজন্ম–পরম্পরায় চলে আসছে। সেই চর্যাপদের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত। শুধু আধুনিক লিখিত সাহিত্যে নয়, পালা, পল্লিগান, যাত্রা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে এক সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রকাশ ও বিস্তার আমরা দেখি, যার মধ্যে কিছু ধর্মীয় বিষয় ও কখনো কখনো রাজপুরুষদের কাহিনি থাকলেও (মহাকবি ও শ্রেষ্ঠ নাট্যকার শেক্‌সপিয়ারের নাটকেও রাজরাজড়ার ও ভূত-প্রেতের কাহিনি আছে) মর্মবস্তুর মধ্যে যা প্রধান ছিল, তা হলো মানুষের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধ, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও উদারপন্থী মতবাদ। ঐতিহাসিক সুজিত আচার্য ‘বাংলায় ইসলাম ধর্মের আদিপর্ব’ নামক রচনায় বলেছেন, এ দেশে ইসলাম ধর্ম বিস্তার লাভ করেছিল তরবারির জোরে নয়, বরং সুফি মতবাদী ধর্ম প্রচারকদের দ্বারা। তাঁদের মতবাদের সঙ্গে এই দেশের শোষিত নিম্নবর্ণের হিন্দুরা তাদের সহজিয়া মতবাদের অনেক সামঞ্জস্য খুঁজে পেয়েছিল। ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের অনেক আগেই যে বৌদ্ধধর্মের সহজিয়া মতবাদ ও বেদবিরোধী লোকায়ত দর্শন জনমনে গভীরভাবে স্থান করে নিয়েছিল, তার মানবিক দিক ছিল অনেক বেশি। সহজিয়া সাহিত্যে বৈদিক ধর্ম, পৌরাণিক পূজাপদ্ধতি, এমনকি বৌদ্ধধর্মের অনেক আচার-নিষ্ঠাকে কটাক্ষ করা হতো। বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক মহাপুরুষ শ্রীচৈতন্য (জন্ম ১৪৮৬ সাল) এবং কবি চণ্ডীদাস ছিলেন সহজিয়া মতবাদের সগুণ ধারার প্রতিনিধি। শ্রীচৈতন্য নিজে ব্রাহ্মণ হলেও জাতিভেদের বিরুদ্ধে ছিলেন এবং তাঁর অনেক মুসলমান শিষ্য ছিল। কবি চণ্ডীদাসই বলেছিলেন, ‘সবার উপর মানুষ সত্য,
তাহার উপর নাই।’ সহজিয়া নির্গুণ ধারার প্রতিনিধি ছিলেন বাউল সাধকেরা। তাঁদের গানে কিছু আধ্যাত্মিক বিষয় থাকলেও মানবিক দিকটাই ছিল প্রধান। এবং তা ছিল হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সংগীত সাধনা। বাউলসংগীতের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘এই গানের ভাষায় ও সুরে হিন্দু-মুসলমানের কণ্ঠ মিলেছে। কোরআন-পুরাণ ঝগড়া করেনি। এই মিলনেই ভারতের সভ্যতার সত্য পরিচয়, বিবাদ বিরোধে বর্বরতা।’ (মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন কর্তৃক বাউল সংকলন হারামনির ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথের বক্তব্য)। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র কৃষক সংগ্রাম (যথা অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ), ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ, নীলকরবিরোধী কৃষক বিদ্রোহ, উনিশ শতকের পাবনা ও অন্যান্য অঞ্চলে প্রজা বিদ্রোহ—এই সবই ছিল এই দেশের সাধারণ কৃষক ও শ্রমজীবীর সংগ্রাম, হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সংগ্রাম। অবশ্য এসব সংগ্রামের সঙ্গে ঊনবিংশ শতাব্দীর নবজাগ্রত উচ্চবর্ণের হিন্দু অথবা নবাব আবদুল লতিফের মতো অভিজাত মুসলমানদের কোনো সংশ্রব ছিল না। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে হিন্দু পুনর্জাগরণবাদের প্রবাহ দেখা দিয়েছিল, যার প্রধান প্রবক্তা ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে প্রায় একই সময় নবাব আবদুল লতিফ প্রমুখের নেতৃত্বে মুসলিম জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ঘটে, যাঁরা জাতীয়তাবাদের উৎস খুঁজতেন দেশের বাইরে আরব, ইরান ও তুরস্কে। নবাব আবদুল লতিফ মুসলমানদের ইংরেজি শিক্ষার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তিনি মোহামেডান সোসাইটি গঠন করেছিলেন, যেখানে ইংরেজি ভাষার চর্চা হতো, কিন্তু বাংলা ভাষা নিষিদ্ধ ছিল। তখন থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তথাকথিত অভিজাত মুসলমানরা ঘরে উর্দু বলত। পরবর্তী সময়ে ভাষা আন্দোলন সেই আভিজাত্য ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। জিন্নাহ ও মুসলিম লিগের নেতারা তথাকথিত অভিজাত মুসলমানদের জানতেন ও চিনতেন। সাধারণ মুসলমান জনগণের সঙ্গে পরিচয় ছিল না। তাই বাংলা ভাষাকে তাচ্ছিল্য করার এবং উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করার মতো ঔদ্ধত্য দেখাতে পেরেছিলেন, যার উপযুক্ত জবাব তিনি সঙ্গে সঙ্গেই পেয়েছিলেন। পাকিস্তানি শাসকেরাও নানাভাবে চেষ্টা করেছিলেন বাংলা ভাষা বিকৃত করার এবং বাঙালির সংস্কৃতি ধ্বংস করার। কিন্তু পারেননি।
কারণ, এই সংস্কৃতির অভ্যন্তরীণ বল অনেক বেশি। বরং পাকিস্তানি ভাবাদর্শ ছিল বড়ই ঠুনকো, তাই তা টিকতে পারেনি। তবে এ কথা সত্য যে গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে প্রতিক্রিয়াশীল পাকিস্তান আন্দোলনের জোয়ারে সাময়িকভাবে হলেও ভেসে গিয়েছিল এই দেশের মুসলিম জনগণ। তারা ভুল বুঝেছিল। কৃষক ভেবেছিলেন জমিদারি শোষণ থেকে মুক্তি পাবেন। মধ্যবিত্ত ভেবেছিল তাদের শ্রেণিগত উন্নতি হবে। দ্রুতই তাদের স্বপ্নভঙ্গ ঘটেছিল। পাকিস্তান আমলে ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু কাজে আসেনি। এখনো যারা মনে করে, মুসলমানিত্ব পরিচয়ের জন্য বাঙালিত্ব ঘুচিয়ে দিতে হবে, তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করে। তারাই পয়লা বৈশাখের বিরোধিতা করে, আলপনা আঁকাকে সুন্দর আর্ট হিসেবে না দেখে আলপনার গায়ে কালি লাগায়, ভাস্কর্যের সৌন্দর্য উপভোগ করতে জানে না। আমাদের দেশে ধর্মীয় সংস্কারভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন হয়েছিল ইংরেজ আমলেও। ওয়াহাবি আন্দোলন ও ফরায়েজি আন্দোলন ইতিহাসবিখ্যাত। এসব আন্দোলন ইসলাম ধর্মের সংস্কার দিয়ে শুরু হলেও তা ব্রিটিশ রাজবিরোধী ও জমিদারবিরোধী শ্রেণিসংগ্রাম ও জাতীয়তাবাদী সংগ্রামে পরিণত হয়েছিল। শহীদ বীর তিতুমীর মুসলমান কৃষককে ধর্মশিক্ষা দিতেন, আরবি-ফারসি শব্দে নাম রাখা ও ‘আকিকা’ করার কথা বলতেন। তিনি দাড়ি রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেছিলেন। ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা পীর মহসিন উদ্দিন দুদু মিয়া পোশাকপরিচ্ছদে হিন্দু থেকে মুসলমানদের স্বতন্ত্র হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি ধুতিকে হিন্দুর পোশাক বলে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ওয়াহাবি নেতা তিতুমীর অথবা ফরায়েজি আন্দোলন জনপ্রিয় হয়েছিল এসব কারণে নয়। তাদের জমিদারবিরোধী সংগ্রামেই হিন্দু-মুসলমাননির্বিশেষে সব কৃষক ও গরিব মানুষ যোগদান করেছিল। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, আমাদের সংস্কৃতিতে ধর্মীয় চেতনা কখনোই প্রাধান্য বিস্তার করেনি। বরং অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি—যা আমাদের লোকায়ত সংস্কৃতির উপাদান হিসেবে ছিল এবং এখনো আছে, তা খুবই শক্তিশালী। তাই আনিসুল হকের কথার প্রতিধ্বনি করে আবারও বলব, ‘বাংলাদেশের মানুষের পরাজয় নেই, কারণ তার আছে সংস্কৃতি।’ হায়দার আকবর খান রনো: রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি।

ভিশন ২০১৮ ঘোষিত হবে কবে?

বিতর্ক উঠেছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ ঘোষণা আসল না নকল, মৌলিক না ধার করা? বিতর্কটি তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং আরও কেউ কেউ। ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার এই ভিশন-২০৩০ একটি ফাঁকা প্রতিশ্রুতির ফাঁপানো রঙিন বেলুন। এই বেলুন অচিরেই চুপসে যাবে। জাতির সঙ্গে একটি তামাশা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।...একটি রাজনৈতিক দল কতটা দেউলিয়া হলে অপর একটি রাজনৈতিক দলের দেওয়া আইডিয়া এবং ভাবনাচিন্তা (থটস) চুরি, নির্লজ্জভাবে চুরি করতে পারে। বিএনপি নকল (ইমিটেট) করতে পারে। কিন্তু উদ্ভাবন (ইনোভেট) করতে পারে না। (প্রথম আলো ১১ মে ২০১৭)। বিএনপির বিরুদ্ধে তিনি অন্যের ভাবনা চুরি করা এবং রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের অভিযোগ এনেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের ভিশন বা রূপকল্প ২০২১ কতটা মৌলিক ছিল তা বলেননি ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ দিনবদলের সনদ দিয়ে জনগণের বিপুল বাহবা পেয়েছিল। একই বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যার নির্বাচনী স্লোগান ছিল ‘চেঞ্জ উই নিড’। ওবামার নির্বাচন হয়েছিল ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর। আর আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে। ফলে বলার সুযোগ নেই যে ওবামা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী স্লোগানটি ধার করেছেন। আওয়ামী লীগই ওবামা থেকে ধার করেছে। ভালো জিনিস ধার করলে দোষের কিছু নেই। আওয়ামী লীগের সেই স্লোগান ধার করা হোক আর মৌলিক হোক, স্বীকার করতে হবে সেটি জনচিত্তকে আন্দোলিত করেছিল বলে তারা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল।
কিন্তু গত সাড়ে আট বছরের শাসনামলে দিনবদলের সনদের কী কী অঙ্গীকার তারা পূরণ করেছে, আর কী কী করেনি পাশাপাশি রাখলে শেষোক্ত তালিকাই ভারী হবে। এ কথা বলছি কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারে সরকারের সাফল্যের কথা মাথায় রেখেই। এ সময়ে জনগণের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকারগুলো যে আরও সংকুচিত হয়েছে, সে কথা জানতে বিদেশি প্রতিবেদন পড়তে হয় না, যাপিত জীবনেই মানুষ তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত হয়তো ‘পোড়খাওয়া’ রাজনীতিক নন বলেই খালেদা জিয়ার ভিশনকে সরাসরি নাকচ করেননি। বলেছেন, তাঁর ভিশনে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কথা আছে, এটি ভালো। অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব পাল্টা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগই ২০০১ সালে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার চুরি করে কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিকেরা যদি সব বিষয়ে পাল্টাপাল্টি করেন, তাহলে দেশ ও জনগণের জন্য তাঁরা কাজ করবেন কখন?  তবে ওবায়দুল কাদেরের একটি কথাকে আমরা সমর্থন করি। খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদ–সন্ত্রাসবাদ নিয়ে অনেক কথা বললেও যুদ্ধাপরাধ বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে একটি কথাও বলেননি। এটি তাঁর ভিশনের বড় দুর্বলতা বলে মনে করি। যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি এড়িয়ে কিংবা অস্বীকার করলে বিএনপি এবারও তরুণ প্রজন্মের সমর্থন হারাবে।
২. ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেছিল, যা আখ্যায়িত হয়েছিল দিনবদলের কর্মসূচি হিসেবে। সেই সময় বিএনপি দিয়েছিল ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ কর্মসূচি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ রূপকল্প ২০৪১ ঘোষণা করে। বিএনপি সেই নির্বাচন বর্জন করেছিল। তাই তারা কোনো কর্মসূচি দেয়নি। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এবার বিএনপি ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করল। আওয়ামী লীগ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ করতে চায়। বিএনপি ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার কথা বলছে। এসব স্বপ্ন ও রূপকল্পের মধ্যে তেমন ফারাক নেই। নির্বাচনের আগে সবাই ভালো ভালো কথা বলেন। প্রশ্ন হলো ক্ষমতায় গিয়ে তঁারা কে কী করেছেন, কী করছেন? কোনো দলের ভিশন বা রূপকল্প নিয়ে অহেতুক বিতর্ক কিংবা কূটচালের প্রয়োজন নেই। কার ভিশন নকল কার ভিশন আসল সেটি জনগণকেই ঠিক করতে দিন। আগামী নির্বাচন (সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষে হওয়ার কথা) কীভাবে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ হবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে কোনো রূপকল্প বা রোডম্যাপ এখনো আমরা পাইনি।
এক পক্ষ বলছে, নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনেই হবে। আরেক পক্ষ শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বলে আওয়াজ তুলছে। নির্বাচন নিয়ে দুই প্রধান দলের পরস্পরবিরোধী অবস্থান কিংবা অবিরাম কাদা ছোড়াছুড়ি জনমনে আশা জাগায় না, শঙ্কা বাড়ায়। আওয়ামী লীগ নেতারা যখন বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে আসতেই হবে, তখনই সন্দেহ জাগে আওয়ামী লীগ কি সত্যি সত্যি চায় বিএনপি নির্বাচনে আসুক। আবার বিএনপি নেতারা যখন আওয়াজ তোলেন বিএনপি ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না, তখন তাঁদের জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা হয়, নির্বাচন ছাড়া কীভাবে তাঁরা ক্ষমতায় যেতে চান। নব্বই-পরবর্তী রাজনীতিতে কোনো দলই এককভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারেনি। প্রথম বিএনপি সরকারের সময়ে জামায়াতের সঙ্গে করা অলিখিত চুক্তিই দ্বিতীয় আমলে লিখিত রূপ পায়। আর ১৯৮৬ সালে সামরিক শাসনের অধীনে নির্বাচনে গিয়ে আওয়ামী লীগ এরশাদকে যে ছাড় দিয়েছিল, সেই ছাড়ের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে মহাজোট গঠিত হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সাবেক স্বৈরাচারের দল ও আ স ম রবের সহায়তায় সরকার গঠন করেছিল। মাঝখানে একবার এরশাদ বিএনপির সঙ্গেও ভিড়েছিলেন।   নির্বাচন এলে আওয়ামী লীগ তার কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাবে। বিএনপি তার কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাবে। অন্যান্য দলও তাদের কর্মসূচি তাদের জানাবে। এরপর জনগণই ঠিক করবে জনগণ কোনটি গ্রহণ করবে, আর কোনটি করবে না। সে জন্যই প্রয়োজন নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ, সবার জন্য সমান সুযোগ। এক পক্ষ মাঠে-ময়দানে আগাম নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে আরেক পক্ষ ঘরে বসে থাকবে, তাতে তো খেলার মাঠ সমতল হবে না। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া বা করা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যতই আহ্লাদিত হোন না কেন, বড় চ্যালেঞ্জটি তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। প্রথমত জনগণ ১০ বছর আগে বিএনপি কী করেছে, সেসব কথা বলে ভোটারদের মন জয় করা যাবে না। তারা দেখতে চাইবে অতি সম্প্রতি কী ঘটছে।
দ্বিতীয় নির্বাচনটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে না পারলে মাগুরার পুনরাবৃত্তি ঘটাও অস্বাভাবিক নয়। এখন মানুষ আরও বেশি সচেতন, সংবাদপত্র ছাড়াও ২৭টি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের চোখ থাকবে নির্বাচনের ওপর। তাই শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করা বিএনপির জন্য যতটা না বড় চ্যালেঞ্জ, তার চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য। বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হয়নি। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে এলে একটি পরীক্ষা হয়ে যেত। তারা আসেনি বলে পরীক্ষাটি তখন হয়নি। এখন আওয়ামী লীগকে নতুন করে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে। তবে আওয়ামী লীগকে সেই চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে আরও কতগুলো বাছাই পরীক্ষা দিতে হবে। এসএসসি পরীক্ষার আগে যেমন টেস্ট বা বাছাই পরীক্ষা হয়, তেমনি জাতীয় নির্বাচনের আগেও অনেকগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরীক্ষা সামনে রয়েছে। বিশেষ করে আগামী বছর মাঝামাঝি সময়ে কিংবা তার আগেই রাজশাহী, গাজীপুর, সিলেট, রংপুর, খুলনা, বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, ফরিদপুর সিটি করপোরেশন করে তিন মাসের মধ্যে সেখানেও নির্বাচন হবে। এর আগে ময়মনসিংহ বিভাগ করা হলেও সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা হয়নি। সে ক্ষেত্রে ধরে নিতে পারি ময়মনসিংহ সিটি করপোরশনের নির্বাচনও হবে। এসব সিটি করপোরেশন নির্বাচন কেমন হয়, কীভাবে হয়, কতটা সুষ্ঠু হয় তার ওপরই নির্ভর করছে জাতীয় নির্বাচনের গতি-প্রকৃতি। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে নিজেদের রূপকল্প ঘোষণার পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ বা রূপকল্প ঘোষণা করতে যাচ্ছে, তাকে সর্বতোভাবে সহায়তা করা। এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেই এগিয়ে আসতে হবে। একটি সহিষ্ণু রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। খালেদা জিয়ার প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দেওয়া যদি ভূতের মুখে রাম নাম হয়,
তাহলে আওয়ামী লীগকে সেটি বাস্তবে করে দেখাতে হবে। তার নিজের জন্য যা জায়েজ তা অন্যের জন্যও জায়েজ করতে হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, সব রাজনৈতিক দল একমত না হলে ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন চালু করবেন না। নির্বাচন কমিশনের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিরোধী দলের আস্থা অর্জন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে যদি প্রাক্‌-বাছাই বা প্রি-টেস্ট বলি, তাতে তাঁরা উত্তীর্ণ হয়েছেন। এখন টেস্টেও তাঁদের ভালো করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক দল একবার জনগণ দ্বারা ধিক্কৃত হলেও ফের তাদের কাছে যেতে পারে। অতীতের ভুলত্রুটি শুধরে কিংবা ক্ষমা চেয়ে ক্ষমতায় যাওয়াও অসম্ভব নয়।  কিন্তু নির্বাচন কমিশন একবার আস্থা হারালে আর জনগণের কাছে যেতে পারবে না। তখন তাদের পক্ষে নির্বাচন করা কেবল কঠিন নয়, অসম্ভবও বটে। রাজনৈতিক দলগুলোর ভিশন বা রূপকল্পের পাশাপাশি আগামী নির্বাচন তথা ২০১৮ সালের জন্য একটি রূপকল্প চাই। সুষ্ঠু নির্বাচনের রূপকল্প।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া শান্তি অসম্ভব

পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকটের একমাত্র সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আল কুদস ওয়াকফ আন্তর্জাতিক ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে আরও অধিকসংখ্যক মুসলিমদের জেরুজালেম সফরের আহ্বান জানান এরদোগান। তিনি বলেন, ‘মুসলিম হিসেবে আমাদের বেশি বেশি করে আল কুদস (জেরুজালেম) সফরে যাওয়া উচিত।’ খবর আরটি নিউজের। এরদোগান জানান, ২০১৫ সালে প্রায় ছয় লাখ আমেরিকান, চার লাখ রাশিয়ান এবং তিন লাখ ফরাসি নাগরিক জেরুজালেম পরিদর্শন করেন। একই সময়ে মুসলিম দেশগুলোর মধ্য তুরস্ক থেকে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার লোক জেরুজালেম সফর করেন। এরদোগান প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কেন হাজার হাজার মুসলিম পবিত্র এই স্থানটি পরিদর্শন করতে আসছেন না? মুসলিমদের এ ধরনের সফর আমাদের ফিলিস্তিনি মুসলিম ভাইদের জন্য সর্বাধিক সমর্থন জোগাবে।’ ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান সংঘাত সম্পর্কে এরদোগান বলেন, ফিলিস্তিনি সমস্যার ন্যায্য সমাধান ছাড়া এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ‘অসম্ভব’। ইসরাইলের আচরণকে ‘বর্ণবাদী’ ও ‘বৈষম্যমূলক’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘গাজার ওপর ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধ।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘১৯৬৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।’ ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। ১৯৮০ সালে সমগ্র শহরটিকে একত্র করে এটিকে ইসরাইলের একটি অবিচ্ছেদ্য এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। তবে, দেশটির এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো স্বীকৃতি নেই। এরদোগান জানান, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে তুরস্ক সবসময়ই সমর্থন দিয়ে যাবে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আল-কুদস সম্পর্কিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আল কুদস’ তিনটি ঐশ্বরিক ধর্মের জন্যই পবিত্র স্থান। এটি হচ্ছে সব মানুষের ইতিহাসের প্রাণ। আমাদের ধর্ম ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব থেকে ‘আল কুদস’ এবং আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই উভয়ই আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কুদসকে একটি শান্তির শহরে পরিণত করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।’ সংলাপই দ্বন্দ্বের একমাত্র সমাধান -পুতিন: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব সমাধান করা সম্ভব। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী অবকাশযাপন কেন্দ্র সোচিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। পুতিন বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সরাসরি সংলাপ অনুষ্ঠানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে রাশিয়া। এ সময় পুতিন একপেশে পদক্ষেপ নেয়ার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার সংকট নিরসনের জন্য দুই পক্ষকে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরে সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ আব্বাস মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাস মোকাবেলায় রাশিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রাশিয়ার অংশগ্রহণ ছাড়া ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের আগেকার সীমানা অনুযায়ী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়। রাশিয়া এনে দিতে পারে আরব-ইসরাইল সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান। মাহমুদ আব্বাস ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের অব্যাহত অবৈধ বসতি নির্মাণসহ সেখানকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ ছাড়া, ইসরাইলের কারাগারে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নাগরিকের করুণ বন্দিদশার কথা উল্লেখ করেন। এ সময় মাহমুদ আব্বাস জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলের হত্যা ও দমন অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ বন্ধ করে দিতে পারে।

একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রীকে হারালেন মুর্তজা বশীর

রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউতে শুয়েই চিরদিনের জন্য প্রিয়তমা স্ত্রীকে হারালেন শিল্পী মুর্তজা বশীর। শনিবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিল্পীর স্ত্রী আমিনা বশীর মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। এই দম্পতির মেয়ে মুনীরা বশীর গণমাধ্যমকে মায়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তার মা ‘লাইফ সাপোর্টে’ ছিলেন। সকাল পৌনে ৭টার দিকে তা খুলে নেয়া হয়। দুপুরে জোহরের নামাজের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে আমিনা বশীরের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মনিপুরীপাড়ায় বায়তুশ শরফ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানীতে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে।
মুনীরা বশীর বলেন, ‘মা আর নেই। একই হাসপাতালের আইসিইউতে আমার বাবা শিল্পী মুর্তজা বশীর। তবে অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও বাবাকে রিলিজ নিয়ে যাচ্ছি।’ ভাষাবিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে মুর্তজা বশীর বৃহস্পতিবার থেকে অ্যাপলো হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন। তার ফুসফুসে পানি জমেছে। পাশাপাশি তার কিডনিতেও সমস্যা রয়েছে। তবে বর্তমানে মুর্তজা বশীরের অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। চিত্রশিল্পী, কার্টুনিস্ট ও ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় কর্মী মুর্তজা বশীরের জন্ম ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট। উপমহাদেশের প্রখ্যাত বহু ভাষাবিদ, জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র সন্তান তিনি। ১৯৪৯ সালে ঢাকা আর্ট কলেজে (বর্তমান চারুকলা ইন্সটিটিউট) ভর্তি হন তিনি। এর আগে থেকেই তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এ জন্য কারাভোগও করেন তিনি।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সার্ক ফোয়ারায় ট্রাক

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারার বেদির উপর উঠে গেল একটি দ্রুতগামীর সিমেন্টবোঝাই ট্রাক। এতে সার্ক ফোয়ারার কিছু অংশ ভেঙে গেছে। উপড়ে গেছে ফোয়ারার সিগন্যাল বাতির খুঁটি। শনিবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ট্রাকটির চালক ও হেলপার দুর্ঘটনার পরই পালিয়ে গেছে। দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মোঃ আতাহার হোসেন বলেন, বাংলামোটর দিক থেকে শাহ সিমেন্টের ট্রাকটি দ্রুত গতিতে এসে সার্ক ফোয়ারার বেদির উপর উঠে যায়। এতে ফোয়ারার কিছু অংশ ভেঙে গেছে।
উপড়ে গেছে ফোয়ারার সিগন্যাল বাতির খুঁটি। তিনি জানান, ট্রাকটির সামনের চাকা খুলে গেছে। সামনের অংশের গ্লাসও ভেঙে গেছে। এছাড়া ট্যাংকি ফেটে ডিজেল পড়ছে। তবে এসময় জনচলাচল কম থাকায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আরেকটু বেলা হলে এ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটার সম্ভাবনা ছিল। ট্রাকটি সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা।

অল্প কিছু টাকা হলেই বেঁচে যাবে রাহিম

‘ছেলেকে বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে কিছু টাকা পেয়েছি। নিজেদের যা ছিল সবই খরচ করেছি। আর অল্প কিছু টাকা হলে চিকিৎসাটা শেষ করতে পারতাম। এখন আমরা সমাজের বিত্তবানদের দিকে তাকিয়ে আছি।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের করকোলা গ্রামের নাসির ফকির ও রোজিনা খাতুন দম্পতি। এই দম্পতির ছোট ছেলে রাহিম হাইড্রেসেফালাস রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসকরা বলেছেন রাহিমকে বাঁচাতে অপারেশন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন ৩ লাখ টাকা। গত ২ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় 'তিন লাখ টাকার জন্য শিশুটির চিকিৎসা বন্ধ' শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এছাড়া অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর গত কয়েক দিনের মধ্যে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিদের পাঠানো নগদ ৭০ হাজার ২০০ টাকা রাহিমের অভিভাবকদের হাতে এসেছে। পাবনা জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালোর মাধ্যমে বৃহস্পতিবার শিশুটির পরিবারের হাতে এ টাকা তুলে দেয়া হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো নিজেও রাহিমের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে এখনো রাহিমের অপারেশনের জন্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার প্রয়োজন। এজন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাহিমের বাবা-মা।
টাকা পাঠানোর ঠিকানা:
Md Nasir
Dhaka Bank, Chatmohor Branch, Pabna.
A/C No- 303-200-27605
বিকাশ নম্বর (পারসোনাল)- রাহিমের চাচা আফজাল ফকির- ০১৭২৯-৯৭২৩০৮

এক ওড়নায় প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে একই সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার থানাপাড়া এলাকার একটি রেইনট্রি গাছ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন, কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের মানিক শেখের ছেলে ফার্নিচার মিস্ত্রী নুর ইসলাম শেখ (২৪) ও ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের নওশের আলীর মেয়ে খুকু মনি (২২)। কাশিয়ানী থানার ওসি একেএম আলীনুর হোসেন জানান, ভগ্নিপতি রিপন মিয়ার বাড়িতে থাকতেন খুকু মনি। নুর ইসলাম রিপনের সঙ্গে কাঠমিস্ত্রীর যোগাড়ে হিসেবে কাজ করতেন। এরই সুবাদে খুকু মনির সঙ্গে নুর ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার রাতে তারা দু'জন রিপনের বাড়িতে খাবার খায়। পরে রাতের কোনো এক সময় বাড়ির পাশে নদীর পাড়ে রেইনট্রি গাছে এক ওড়নায় ফাঁস নেন। শনিবার সকালে স্থানীয়রা গাছের ডালে লাশ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ওসি আরও জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এটি হত্যা, না আত্মহত্যা তা বলা সম্ভব হবে। তবে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

খাগড়াছড়িতে বাবা-ছেলে হত্যায় আ'লীগের ৩৪ জনের নামে মামলা

খাগড়াছড়িতে ব্যবসায়ী চিরঞ্জয় ত্রিপুরা ও তার ছেলে কর্ণ জ্যোতি ত্রিপুরাকে হত্যা এবং নারী গণধর্ষণের অভিযোগে আওয়ামী লীগের ৩৪ নেতাকর্মীসহ ৬৪ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নিহত চিরঞ্জয় ত্রিপুরার ছেলে নিহার ত্রিপুরা বাদী হয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৪। মামলায় অন্যতম আসামি করা হয়েছে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরাকে। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক আব্দুল হান্নান মামলার দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরা, জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু এবং ইউপি সদস্য কালিবন্ধু ত্রিপুরাসহ ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়। ওসি বলেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে জেলা সদরের থলিপাড়া এলাকায় ত্রিপুরা অধ্যুষিত গ্রামে কালিবন্ধু ত্রিপুরা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় ব্যবসায়ী চিরঞ্জয় ত্রিপুরা ও তার ছেলে কর্ণ জ্যোতি ত্রিপুরা নিহত এবং চিরঞ্জয় ত্রিপুরার স্ত্রী ভবেলক্ষী ত্রিপুরা ও ছেলে কর্ণ জ্যোতি ত্রিপুরার স্ত্রী বিজলি ত্রিপুরা গুরতর আহত হন। সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ী চিরঞ্জয় ত্রিপুরা ও তার ছেলে কর্ণ জ্যোতি ত্রিপুরাকে প্রথমে গুলি ও পরে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় চিরঞ্জয় ত্রিপুরার স্ত্রী ভবেলক্ষী ত্রিপুরা ও ছেলে কর্ণ জ্যোতি ত্রিপুরার স্ত্রী নারী কার্বারী বিজলি ত্রিপুরা পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন। বর্তমানে আহতরা খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চট্টগ্রামে দুর্ঘটনায় নেপ ডিজি নিহত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক মো. ফজলুর রহমান (৫৫) নিহত ও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার নাজিরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, চট্টগ্রাম পিটিআইর (প্রাইমারি টিচার ট্রেইনিং ইন্সটিটিউট) সুপারিনটেনডেন্ট রফিকুল ইসলাম তালুকদার, পটিয়া পিটিআইর সুপারিনটেনডেন্ট মুশফেকা বিনতে সুলতান, পিটিআইর পিয়ন সাইফুল এবং মাইক্রোবাসের চালক আলী হোসেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফজলুল রহমানসহ চারজন মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি যাচ্ছিলেন। পথে ওই এলাকায় বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের সবাই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা ফজলুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যরা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ জহির যুগান্তরকে জানান, সকালে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ফজলুল রহমানকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে এখানে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ফজলুর রহমানের বাড়ি ময়মনসিংহ শহরের কালিবাড়ী রোড এলাকায়। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৯৮২ (স্পেশাল) ব্যাচের একজন সদস্য। ফজলুর রহমান যুগ্ম সচিব ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ), ময়মনসিংহ'র মহাপরিচালক পদে যোগদান করেন। এছাড়া ফজলুর রহমান উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, থানা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও উন্নয়ন), মেরিন সেফটি অফিসার ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট, উপ-সচিব ও ডিআইজি (প্রিজন্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দ. চীন সাগরে চীনের অত্যাধুনিক গোয়েন্দা বিমান মোতায়েন

চীন অত্যাধুনিক গোয়েন্দা বিমান শাহনশি কেজে-৫০০ দক্ষিণ চীন সাগরের হাইনান দ্বীপে মোতায়েন করেছে। উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে বিরোধপূর্ণ এলাকায় এ বিমানের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। আকাশ থেকে শত্রু বিমানের উপস্থিতির বিষয়ে আগাম সতর্কীকরণ করতে সক্ষম কেজে-৫০০য়ে রাডার ডিশ রয়েছে। এতে বিমানকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্র ভুল হওয়ার আশংকা থাকে না। কেজে-৫০০ দিয়ে চারশ’ ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে একসাথে ৬০টি বিমানের গতিবিধির ওপর নজর রাখা যায়। এ বিমানের রাডারকে নজরদারি এবং সাধারণ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজেও ব্যবহার করা যায়। দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর চীনের পাশাপাশি অনেক দেশই ভৌগলিক অধিকার দাবি করছে। বিরোধপূর্ণ এ এলাকায় কেজে-৫০০ বিমানকে চীন নানাভাবে ব্যবহার করতে পারবে। হাইনান ঘাঁটিতে এই প্রথম এ বিমান মোতায়েন করা হলো এবং উপগ্রহ থেকে নেয়া ছবিতে ঘাঁটিতে এ রকম অনেক বিমানের উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

ঈশ্বরদীতে আর্সেনিকে দশ বছরে মারা গেছে ১১৫ জন

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে আর্সেনিকের ভয়াবহতা মারাত্বক আকার ধারণ করেছে। ওই গ্রামে গত ১০ বছরে আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে ১১৫ জন মৃত্যুবরণ করেছে। আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীর রয়েছেন ৩৫০ জন। রুপপুর এলাকার যুবক-যুবতীদের বুকে আছে চাপাকান্না, সামর্থ ও যোগ্যতা থাকা সত্বেও আর্সেনিকের কারণে তাদের বিয়ে হয়না। অন্য গ্রামের কোন ছেলে-মেয়ে ওই গ্রামে বিয়ে করতে চায়না শুধুমাত্র আর্সেনিক আতঙ্কে। ঈশ্বরদী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বেসরকারী সংস্থা নিউ এরা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর, নলগাড়ি, চররূপপুর, নদীপাড়া, বিবিসি বাজারপাড়া, খান পাড়া, বাদুরপাড়া, সরদার পাড়া, বিশ্বাস পাড়া, মহাবুল মেম্বরের পাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে আর্সেনিক আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বাড়ছেই। মাঝে মধ্যে আর্সেনিকে আক্রান্তরা বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন। আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীর রয়েছেন ৩৫০ জন। অথচ ঈশ্বরদীতে এই রোগের কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য মতে, শুধুমাত্র রূপপুর গ্রামে গত ১০ বছরে আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ১১৫ জন। সর্বশেষ চলতি বছরের গত ২১ এপ্রিল রূপপুর নলগাড়ি গ্রামে সুজন (২৫) ও বাবু (৪৫) নামের দুই চাচাতো ভাই আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সুজন ওই গ্রামের আমিরুল মালিথার ছেলে ও বাবু ইয়াছিন মালিথার ছেলে। এছাড়া ইতিপূর্বে আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে রূপপুরের নলগাড়ী গ্রামের একটি বাড়িতেই মারা গেছেন ওই বাড়ির ১১ সদস্য। ওই বাড়ির সদস্য মতিয়ার রহমান জানান, তার বাড়ির ১১ জন সদস্য এ পর্যন্ত আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি জানান, প্রথমদিকে তারা এ রোগ সম্পর্কে জানতেন না, প্রথমে শরীরে কালো তিলের মতো দাগ হতো। এরপর ধীরে ধীরে অসুস্থ্য হয়ে এক সময় অনিবার্য মৃত্যু। সম্প্রতি সরেজমিনে রূপপুর নলগাড়ি গ্রামে গিয়ে আর্সেনিকে আক্রান্ত লালু প্রামানিক (৩২) ও তার স্ত্রী সীমা খাতুনের সঙ্গে কথা হয়। সীমা খাতুন জানান, আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে তার শ্বশুর, শ্বাশুড়ি ও ভাসুর ইতিমধ্যে মারা গেছেন। স্বামী লালু প্রামানিক দুই হাত-পা ও সারা শরীরে আর্সেনিকের কারনে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশ স্বেতী রোগের মত সাদা ছোপ ছোপ দাগ হয়ে গেছে। লালু প্রামানিক জানান, আমি ট্রাক্টরে বালু শ্রমিকের কাজ করি, এ রোগের কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, তাই আল্লাহর ওপর ভরসা করে বেঁচে আছি, যেদিন মরন হয় হবে। আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত শাহনাজ পারভিন জানান, প্রথম দিকে আমরা জানতাম না যে, পানি পান করলে আর্সেনিক রোগ হয়। এছাড়া এটা আর্সেনিক রোগ তাও আমরা জানতে পারিনি। এই রোগে আমাদের গ্রামের অনেক মানুষ মারা গেছে। কয়েক বছর আগে ঢাকা থেকে একদল ভদ্রলোক এসে পানি পরীক্ষা করে প্রথম আমাদের জানালেন, এটা আর্সেনিক রোগ। আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করার ফলে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এই এলাকার হাতে গোনা দু’একটা বাদে প্রায় প্রতিটি বাড়ির টিউবওয়েলেই আর্সেনিকের উপাদান থাকায় টিউবওয়েলগুলিতে লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা আছে। স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক মনিরুল ইসলাম জানান, পাকশী ইউনিয়নের বৃহত্তর রূপপুর গ্রামে আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। রূপপুরের বাসিন্দা এনামুল হক জানান, গোটা এলাকাতে আর্সেনিক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে এই এলাকার প্রচুর মানুষ অকালে প্রাণ হারিয়েছে। আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে এই এলাকার অন্ততঃ ১০/১২ জন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। এলাকাবাসী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পায়নি এই এলাকার মানুষ। পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস জানান, বাংলাদেশে আর্সেনিক আক্রান্ত এলাকার মধ্যে ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামকে শীর্ষস্থানীয় এলাকা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে শুধু রূপপুর গ্রামেই দত দশ বছরে ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এই রোগে। এলাকায় আর্সেনিকের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অথচ সরকারী-বেসরকারী কোনভাবেই এখানে চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। উপজেলঅ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ও দুএকটি বে-সরকারি সংগঠন আর্সেনিক নিয়ে গবেষণা এবং আক্রান্ত এলাকায় কাজ করে আর্সেনিকের ভয়াবহ যে মাত্রা পেয়েছে তা অত্যন্ত ভীতিকর। নিউ এরা ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়ক মোস্তাক আহমেদ কিরণ জানান, বিশুদ্ধ পানির অভাব দূর করতে নিউ এরা ফাউন্ডেশন ইতিপূর্বে প্রায় ২২০ ফুট গভীরে পাইপ লাইন স্থাপন করে বিনামূল্যে ৩৮টি টিউবওয়েল ও দুটি আর্সেনিক আয়রন রিমুভার প্ল¬¬ান্ট ট্যাঙ্ক স্থাপন করেছে এবং ২৫০ জন আর্সেনিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ২ বছর ধরে তাদের এসকল কর্মকান্ডও বন্ধ রয়েছে। পাকশী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর মহিবুল ইসলাম জানান, তিনি নিজেও আর্সেনিক রোগে আক্রান্ত। এ এলাকায় আর্সেনিক মহামারী আকার ধারণ করেছে উল্লে¬খ করে তিনি বলেন, এখানে বিশুদ্ধ খাবার পানির বড়ই অভাব। বেশ কয়েক বছর আগে একটি সংস্থা বৃষ্টির পানি ধরে রেখে পান করার জন্য ডিসিএইচ মালয়েশিয়া ও ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালের সহযোগিতায় ১০০টি সিমেন্টের ঢোপ টাইপের পাত্র বানিয়ে দিয়েছিল। সেগুলো এখন অকেজো হয়ে বাড়ির উঠানের জায়গা দখল করে আছে। এই এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য দুইটি মেশিন স্থাপন করা হয়েছিল। সেই মেশিনের একটি দীর্ঘ দিন থেকে অকেজো হয়ে পড়ে আছে, তা দেখার বা খোঁজ নেওয়ারও কেউ নেই। এই এলাকায় এখনো ৩৫০ জন চিহ্নিত আর্সেনিক আক্রান্ত রোগী রয়েছে বলে জানান তিনি। এলাকাবাসী জানান, আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীদের গায়ে, হাতে, পায়ে ফোসকা জাতীয় এবং তিলের মতো কালো ধরনের চিহ্ন রয়েছে। এই এলাকার যুবক-যুবতীদের বুকে আছে চাপাকান্না, যোগ্যতা থাকা সত্বেও আর্সেনিকের কারণে তাদের বিয়ে হয়না। অন্য এলাকার কোন ছেলে-মেয়ে এই এলাকায় বিয়ে করতে চায়না শুধুমাত্র আর্সেনিকের কারণে। এলাকাবাসী আর্সেনিকমুক্ত পানির জন্য সরকারের নিকট বিশুদ্ধ পানির গভীর নলকূপ স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন। পাকশী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস বলেন, পাকশী ইউনিয়নে আর্সেনিকের মাত্রা অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি। এখানে বিশুদ্ধ পানির অভাবে ক্রমান্বয়েই আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬¬ক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসমা খান জানান, ইতিমধ্যে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ৬শ’ জন আর্সেনিক রোগীকে চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করা হয়েছে। তবে সরকারী প্রকল্প বন্ধ থাকায় এখন ঔষধ প্রদান করার সুযোগ নেই। ঈশ্বরদী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মহাবুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর আগে রূপপুর এলাকায় আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহের জন্য পাইপলাইন স্থাপন করার পর বাজেট না থাকায় আর কোন অগ্রগতি নেই।

রাণীনগরে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বাদাম চাষ

দেশের উত্তর জনপদের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ব্যাপক ধান চাষের পাশাপাশি চলতি খড়িপ ও রবি মৌসুমে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি সাদা সোনা খ্যাত বাদাম চাষের দিকে কৃষকরা দিনদিন ঝুকে পড়ছে। ফলে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই উপজেলায় বাদাম চাষ। স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় চাষিরা এই ফসল চাষের দিকে ঝুকে পড়ছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি খড়িপ ও রবি মৌসুমে বোরো ধানের পাশাপাশি বাদাম চাষ সবুজের ডানা মেলেছে। কৃষকরা আশা করছেন ভাল বাজার দর পেলে তাদের মুখে ফুটবে হাসির ঝিলিক। জেলার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে রাণীনগর উপজেলায় এবার বাদাম চাষে প্রায় শীর্ষ স্থান দখল করে নিয়েছে। রাণীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি খড়িপ ও রবি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে পরীক্ষা মূলক ভাবে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। বিগত বছরে বাদামের ভাল ফলন ও দাম আশানুরুপ পাওয়ায় এলাকার চাষিরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বাদাম চাষের দিকে মনোযোগী হচ্ছে। গত কয়েক বছরগুলোতে চাষিদের উৎপাদিত অন্যান্য কৃষিজাত ফসলে লোকসান হওয়ার কারণে এলাকার চাষিরা বাদামের আবাদ মনোযোগ দিয়েই করছে। ফলন ও দাম ভাল পেলে চাষিদের আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পাবে এমনটায় আশা করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। ভরা মৌসুমে প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগ দেখা দিলে অন্যান্য ফসলের যেমন ক্ষতি হয় বাদামের তেমন একটা ক্ষতি হয় না। প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় আড়াই টন পর্যন্ত বাদাম উৎপাদন হয়। ধান চাষের পরেই এলাকায় অন্যান্য কৃষি ফসলের পাশাপাশি সাদা সোনা খ্যাত বাদাম চাষের উজ্জল সম্ভবনা দেখা দিচ্ছে। উপজেলা ৩নং গোনা ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের বাদাম চাষি মো: মোবারক আলী জানান, আমি নিজের জমিতে বোরো ধানের চাষ করতাম। কিন্তু ধানের জমি কিছুটা কমিয়ে বাদাম চাষের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। এবছর আমি দেড় বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত রোগবালাই মুক্ত থাকায় আশা করছি ভাল ফলন হবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সবুজ কুমার সাহা জানান, মাঠ পর্যায়ে চাষিদের বাদাম চাষের আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রান্তিক পর্যায়ে চলতি খড়িপ ও রবি মৌসুমে চাষিদের রোগ প্রতিরোধ সর্ম্পকে কৃষকদের গঠন মূলক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই ফসলে এমনিতেই তেমন কোন রোগ-বালাই আক্রান্ত হয় না। দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকরা দিনদিন বাদাম চাষের দিকে মনোযোগী হচ্ছে।

'বিশ্বকে বিপজ্জনক করে তুলছেন ট্রাম্প'

ব্রিটেনের লেবার পার্টির নেতা জেরেমি কোরবিন অভিযোগ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেপরোয়াভাবে উত্তর কোরিয়া ও সিরিয়ার সাথে সঙ্ঘাতের বিস্তার ঘটিয়ে বিশ্বকে আরো বেশি বিপজ্জনক করে তুলেছেন। ব্রিটেনের আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি শুক্রবার লন্ডনের চ্যাথাম হাউজে দলের পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। এতে তিনি বলেন, ট্রাম্প বিশ্বে বিরাজমান সঙ্কটগুলোকে উস্কে দিচ্ছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সহচর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনেন কোরবিন। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ‘ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতার একটি জোট’ গঠনের চেষ্টা করছেন থেরেসা মে। লেবার পার্টির নেতা বলেন, ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সমাজের সাথে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার বিরোধিতা করার পাশাপাশি রাশিয়ার সাথে নতুন করে পরমাণু অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন। এর ফলে বিশ্বের চলমান সঙ্কটগুলো আরো বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। লেবার পার্টির নেতা বলেন, আগামী ৮ জুন অনুষ্ঠেয় আগাম নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হতে পারলে তিনি সিরিয়ায় ব্রিটেনের বিমান মামলা বন্ধ করবেন। তিনি সিরিয়া যুদ্ধের বিস্তার ঘটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী মে’কে অভিযুক্ত করেন। সিরিয়া সঙ্কট’সহ বিশ্বের সব যুদ্ধ ও সহিংসতা রাজনৈতিক উপায়ে সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দেন জেরেমি কোরবিন। সূত্র : ওয়েবসাইট

ব্রাজিলে পীতজ্বরে ২৫৯ জনের মৃত্যু

ব্রাজিলে চলতি বছর পীতজ্বরে আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ২৫৯ জন মারা গেছেন। এদের বেশিরভাগই মারা গেছে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। শুক্রবার দেশটির সরকার এক ঘোষণায় একথা জানিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ২৫৯ জন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আরো ৪৭ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এদিকে এই রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়ে ৭৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া পীত জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে এ আশঙ্কায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরো ৬২২ জনকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছে। মাইনাস গেরাইস ও এসপিরিতো সান্টোতে সবচেয়ে বেশি লোক এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। রাজ্য দুটোই ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। এই দুটি রাজ্যে যথাক্রমে ৪৮৮ ও ২৩৪ জনের এই রোগ ধরা পড়েছে। উল্লেখ্য, জিকা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো এডিস এইগিপটি মশার মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়।

ফটিকছড়িতে দুর্ঘটনায় নেপ ডিজি নিহত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এক শিক্ষা কর্মকর্তা। নিহত ফজলুর রহমান (৫৫) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী নেপ মহাপরিচালক ছিলেন। শনিবার সকালের এই দুর্ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আরও দুই কর্মকর্তা, এক কর্মচারী এবং তাদের গাড়ির চালকও আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আহতরা হলেন- চট্টগ্রাম পিটিআইর (প্রাইমারি টিচার ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট) সুপারিনটেনডেন্ট রফিকুল ইসলাম তালুকদার, পটিয়া পিটিআইর সুপারিনটেনডেন্ট মুশফেকা বিনতে সুলতান, পিটিআইর পিয়ন সাইফুল এবং গাড়িচালক আলী হোসেন। তারা একটি মাইক্রোবাসে খাগড়াছড়ি যাচ্ছিলেন। সকাল ৭টার দিকে ফটিকছড়ি পৌর সদরের আনন্দপুর কমিউনিটি সেন্টারের কাছে লোহবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

যশোরে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

যশোরের শার্শার ইউনিয়নের পন্ডিতপুর গ্রামে পুকুরে ডুবে সোহেল (৪) ও আফরোজা (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত সোহেল (৪) পন্ডিতপুর গ্রামের সোহেল রানার ছেলে এবং আফরোজা আমবটতলা-ইসলামপুর গ্রামের আহম্মদ আলীর মেয়ে। তারা সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন। শার্শার গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক আবু জাফর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও মৃতের স্বজন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরের দিকে পন্ডিতপুর গ্রামের নিজ বাড়ির পাশে খেলা করছিল ওই দুই শিশু। একপর্যায়ে সবার অগোচরে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে ডুবে যায় তারা। অনেক খোঁজাখুজি করে তাদেরকে পাওয়া যায়নি। পরে বিকেল ৫টার দিকে পানিতে দুই জনকে ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে নাভারন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে।

নড়াইলে কুপিয়ে হত্যা

দাওয়াত খেয়ে বাড়িতে ফেরার পথে নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়নের কোমখালী গ্রামে জিল্লুর শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার রাত আড়াইটার দিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটে। নিহত জিল্লুর কোমখালী গ্রামের ভোলাই শেখের ছেলে। জিল্লুর শেখের মেয়ে মনিরা পারভীনসহ স্বজনেরা জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ সময় জিল্লুর সঙ্গী তরিকুল ইসলামকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। তারা দাওয়াত খেয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে ফিরছিলেন। আহত তরিকুল ইসলাম জানান,
নড়াইল শহর থেকে কাজ শেষে শুক্রবার রাতে জিল্লুরসহ তারা তিনজন মোটরসাইকেলযোগে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার গজনগর গ্রামের আজবাহারের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যান। সেখান থেকে বাড়িতে ফেরার পথিমধ্যে তাদের অপর সঙ্গী সাজ্জাদকে সিঙ্গিয়া গ্রামে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে দিয়ে তারা (জিল্লুর ও তরিকুল) কোমখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে রাত আড়াইটার দিকে সিঙ্গিয়া কবরস্থান এলাকায় পৌছালে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাদের বেপরোয়াভাবে কোপাতে থাকে। এ ঘটনায় জিল্লুর নিহত এবং তরিকুল আহত হন। সদর থানার এসআই শেখর চন্দ্র মল্লিক জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

২১দিনেও বাড়ি ফিরেনি ফাতেমা

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি এলাকার বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিনের কন্যা ফাতেমা আক্তার (১৫) চিকিৎসার জন্য বাড়ি থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে গিয়ে ২১দিনেও ফিরে আসেনি। ফাতেমাকে দীর্ঘদিন না পেয়ে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ফাতেমাকে হারিয়ে দিশেহারা মা মাটিরাঙ্গা থানায় সাধারণ ডয়েরী করে। পরিবার ও এলাকাবাসীর সুত্রে জানা যায়, জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি এলাকার বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিনের কন্যা ফাতেমা আক্তার (১৫) পাশ্ববর্তি মর্জিনা বেগমের বাড়িতে তারঁ নাতীকে দেখাশুনার কাজের জন্য ছয়-সাত মাস থেকে বসবাস করে আসছে। গত ২৩এপ্রিল ফাতেমাকে ডাক্তার দেখাবে বলে চিকিৎসার জন্য বাড়ি থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে মর্জিনা বেগম সাথে করে নিয়ে আসে। আসার পর থেকে ফাতেমা আর বাসায় ফিরে আসেনি। পরে তার মা পারুল বেগম গত ১লা মে মাটিরাঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।
(জিডিনং-২৪)। নিখোঁজ ফাতেমার মা পারুল আক্তার ও বাবা ফরিদ উদ্দিন জানান, প্রতিবেশি মর্জিনা বেগমের বাসায় তারঁ নাতীকে শেখাশুনার জন্য কাজ করতো এবং তাদের বাড়িতেই থাকতো। গত ২৩ এপ্রিল খাগড়াছড়ি শালবাগানে ফাতেমার দুলা ভাইয়ের বাসায় রেখে চিকিৎসা করাবে বলে মর্জিনা সাথে করে নিয়ে যায়। সারা দিন মেয়ের সন্ধান না পেয়ে বিকালে তারঁ দুলাভাইয়ের বাসায় ফোন করে খবর নিলে জানতে পারি সেখানে তারাঁ যায় নি। পরে চারদিকে খোজাঁ খোজি করেও কোন সন্ধান পাইনি। প্রতিবেশি মর্জিনার ফোনে বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। উপায়ান্তর না দেখে মাটিরাঙ্গা থানায় জিডি করি। কিন্তু অদ্যবদি পর্যন্ত মেয়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। মাটিারাঙ্গা থানার পুলিশ ইনচার্জ মোঃ শাহাদাত হোসেন টিটু জানান, ফাতেমা নিখোজেঁর বিষয়ে জেনেছি। বিষয়টি পুলিশ খুব গুরুত্বের সাথে দেখছি। অতি সত্বর তাকেঁ খুজেঁ বের করা হবে। এক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

দিল্লিকে চাপে রাখতে বাতিল হচ্ছে ভারত-চীনযৌথ সামরিক মহড়া!

‘চক্ষুশূল’ দালাই লামার অরুণাচল সফরের পরিকল্পনা শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল চীন। তিব্বতি ধর্মগুরুকে ভারত যদি অরুণাচল প্রদেশে যেতে দেয়, তা হলে ফল খারাপ হবে, হুঁশিয়ারি দিয়েছিল বেইজিং। নয়াদিল্লি অবশ্য গুরুত্ব দেয়নি। নির্ধারিত সূচি মেনেই উত্তর-পূর্বের বিস্তীর্ণ এলাকা সফর করেন বিতর্কিত নির্বাসিত তিব্বতি সরকারের কাণ্ডারী। কিন্তু সেই সফরের পর প্রায় এক মাস কাটলেও তিক্ততা যে একটুও কমেনি, তা বুঝিয়ে দিল চীন। ভারত ও চীনের মধ্যে যে দ্বিপক্ষীয় সামরিক মহড়া হওয়ার কথা ছিল, তা সম্ভবত বাতিল হচ্ছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রেই এই খবর মিলেছে। মহড়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে যে ‘ইনিশিয়াল প্ল্যানিং কনফারেন্স’ (আইপিসি) হওয়ার কথা ছিল, চীনের কারণেই সে সম্মেলন হচ্ছে না, জানা গেছে সাউথ ব্লক সূত্রে। ‘হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড মিলিটারি এক্সারসাইজ’— ভারত ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সামরিক মহড়ার পোশাকি নাম এটিই। সেনা, বিমান ও নৌ— তিন বাহিনীই অংশ নেয় এই দ্বিপক্ষীয় মহড়ায়। ভারত ও চিন পরস্পরের মধ্যে মূলত প্রশিক্ষণ বিনিময় করে এই মহড়ায়। ২০১৬ সালেও নির্দিষ্ট সময়েই মহড়া হয়েছিল। এ বছরও হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যেকোনো সামরিক মহড়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি যে যৌথ প্রস্তুতি সম্মেলন করে, সেই সম্মেলন অর্থাৎ আইপিসি ভেস্তে গেল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আইপিসি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হচ্ছে না। চীন সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে না বলেই তা স্থগিত হয়ে গিয়েছে বলে খবর। আইপিসি স্থগিত হয়ে যাওয়া মানে যে মহড়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়া, সে নিয়ে কোনো শিবিরেরই সংশয় নেই। যৌথ মহড়া থেকে কেন পিছিয়ে গেল চীন? ভারতের সঙ্গে চীনের সাম্প্রতিক টানাপড়েন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার জেরেই চীনের এই সিদ্ধান্ত বলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশারদরা মনে করছেন। যেকোনো আন্তর্জাতিক বিবাদেই চীন যে ভাবে আগ্রাসী নীতি নিয়ে বিপরীত পক্ষকে চাপে ফেলতে চায়, এ বারও সেই নীতিই নেওয় হয়েছে বলে ভারতের ওয়াকিবহাল মহলের মত। তবে এ ক্ষেত্রে বিপরীত দিকে থাকা দেশটির নাম যে হেতু ভারত, সে হেতু প্রকাশ্য আগ্রাসন চীন দেখাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, চীন ‘নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন’ দেখাচ্ছে। দালাই লামার অরুণাচল সফর নিয়ে প্রকাশ্যে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েও যেকোনো কাজ হয়নি, তা বেইজিং ভোলেনি। নয়াদিল্লিও পাল্টা সুর চড়িয়েছিল। তাই এ বার আর প্রকাশ্য হুঁশিয়ারির পথ না নিয়ে সহযোগিতা এবং যৌথ পরিকল্পনার রাস্তা থেকে সরে যাচ্ছে চীন।
এই ‘নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন’ আসলে চাপ বাড়ানোর কৌশল, খানিকটা ‘বয়কটের’ বার্তা দেয়ার চেষ্টা— বলছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশারদদের একাংশ। ভারতের সঙ্গে চীনের বিবাদ অবশ্য শুধুমাত্র দালাই লামাকে কেন্দ্র করে নয়। বিবাদের কারণ আরও অনেক। দীর্ঘ দিন ধরেই এনএসজি-তে ভারতের অন্তর্ভুক্তির তীব্র বিরোধিতা করছে চীন। মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাবও চীনা ভেটোয় বার বার আটকে যাচ্ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পাক-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মধ্যে দিয়ে চীন অর্থনৈতিক করিডর বানিয়েছে, ভারত যার তীব্র বিরোধিতা করেছে। অরুণাচল নিয়েও ইদানীং চীনের সুর আগের চেয়ে অনেক চড়া হয়েছে। ১৯৬২-র যুদ্ধের পর যে অরুণাচল থেকে বাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়েছিল বেইজিং, গত কয়েক বছর ধরে সেই অরুণাচলকেই চীন আবার ‘দক্ষিণ তিব্বত’ নামে ডাকতে শুরু করেছে। দলাই লামার অরুণাচল সফরের পর চীন ওই ভারতীয় রাজ্যের ছ’টি অঞ্চলের নতুন নামকরণও করেছে। সব মিলিয়ে ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রবল টানাপড়েনের মধ্যে দিয়েই যাচ্ছে। রাশিয়া, ভারত এবং চীনের মধ্যে যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, সম্প্রতি সে বৈঠকে যোগ দেয়নি চীন। আবার আগামী রোববার বেইজিং-এ বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরামের যে বিশাল শিখর সম্মেলন আয়োজিত হচ্ছে, সেখানেও ভারতের কোনো হাই-প্রোফাইল প্রতিনিধি যোগ দিচ্ছেন না। শুধু বেইজিং-এর ভারতীয় দূতাবাস থেকে কোনো প্রতিনিধি সেখানে যেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এই রকম এক পরিস্থিতিতেই যৌথ সামরিক মহড়ার আইপিসি থেকে হঠাৎ চীন সরে দাঁড়াল। এ বছরের হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড মিলিটারি এক্সারসাইজও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। ভারতীয় সেনা অবশ্য এখনই বলছে না যে যৌথ মহড়া এ বছরের মতো বাতিল। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইপিসি স্থগিত হয়েছে মানে এই নয় যে এ বছর আর ভারত-চীন মহড়া হবে না। তবে ভারত-চীন সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বেইজিং-এর এই অবস্থান যে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে ওয়াকিবহাল মহলের সংশয় নেই। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

মার্কিন গোয়েন্দা বিমান রুখে দিল রাশিয়া

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, কৃষ্ণ সাগরের আকাশে একটি মার্কিন গোয়েন্দা বিমানের গতিপথ রোধ করেছে রুশ যুদ্ধবিমান। রাশিয়া সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় বিমানটির গতিপথ রোধ করে রুশ যুদ্ধবিমান এসইউ-৩০। গত ৯ মে গ্রিনিচ সময় ৯টায় এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাশিয়া নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার বার্ষিকী পালন করছিল। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, নিরাপদ দূরত্ব থেকেই রুশ পাইলট কৃষ্ণ সাগরের আকাশে একটি বস্তু দেখতে পান এবং পরে তিনি তাকে মার্কিন গোয়েন্দা বিমান পি-৮এ হিসেবে শনাক্ত করেন। রুশ রাডারে ধরা পড়ার পর রুশ পাইলট মার্কিন পাইলটের সাথে কথা বলেন এবং বিমানের বিশেষ কসরত দেখান। তখন মার্কিন গোয়েন্দা বিমানটি রুশ সীমান্তে দিকে না গিয়ে ভিন্ন দিকে চলে যায়। পরে এসইউ-৩০ বিমানটি নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে যায়। সূত্র : ওয়েবসাইট

মিডিয়াকে ট্রাম্পের হুমকি

আবারো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোপে মুখে পড়তে হলো সংবাদ মাধ্যমকে৷ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-য়ের প্রধান পদ থেকে জেমস কোমিকে হঠাৎ সরিয়ে দেয়ার সংবাদকে যেভাবে বিশ্বের সামনে এনেছে মার্কিন মিডিয়া তাতেই চটেছেন ট্রাম্প৷ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে এই ভাবে চলতে থাকলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেয়া হবে প্রাত্যহিক ব্রিফিং৷ এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্টের রোষের মুখে পড়েছেন সদ্য সাবেক এফবিআই চিফ জেমন কোমিও৷ তাকে হুমকির সুরে ট্রাম্প বলেছেন তাদের মধ্যে হওয়া কথাবার্তা গোপন রাখতে৷ মিডিয়ার সামনে তা ফাঁস না করতে৷
সম্প্রতি ঘনিষ্ঠ মহলে কমির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার যোগের ঘটনাটি সামলাতে যেভাবে অসফল হয়েছিলেন কমি৷ তাতে যথেষ্ট অসন্তুষ্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ তাকে সরানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন তিনি৷ কোমেকে সরানোর পরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে কথা শোনা গিয়েছে, নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা৷ নতুন এফবিআই ডিরেক্টর খোঁজার কাজ অবিলম্বে শুরু করা হবে৷ মনে রাখার বিষয় এই কোমেই তদন্তে নেতৃত্ব দিয়েছিল ২০১৬ সালে নির্বাচনে রাশিয়ার অনধিকার চর্চার বিষয়ে এবং ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার ও রাশিয়ার মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে৷

পাকিস্তানে আদালতের ভিতরে ছবি তুলে ক্ষমা চাইলেন ভারতীয় কূটনীতিক

একটি মামলার শুনানি চলাকালীন ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ভিতরে ছবি তুলে বিচারপতির রোষে পড়লেন ভারতীয় হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পীযূষ সিংহ। তাকে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হল। নিজের ভুল স্বীকার করায় পীযূষের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি আদালত। ইসলামাবাদ হাইকোর্টে এই ঘটনার সময় পাকিস্তানের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতের এক মহিলাকে জোর করে বিয়ে করা সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছিল।
উজমা নামে ওই মহিলার দাবি, তার স্বামী তাহির আলি হেনস্থা করছেন এবং ভয় দেখাচ্ছেন। তাহির আবার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই মামলার শুনানির সময়ই বিচারপতি মহসিন আখতার কায়ানির ছবি তোলেন পীযূষ। সেই সঙ্গে তিনি আরও দুটি ছবি তোলেন। আদালতের কর্মীরা বিষয়টি বিচারপতির নজরে আনেন। আদালতের নিয়ম ভঙ্গ করার দায়ে এই ভারতীয় কূটনীতিককে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। পীযূষ প্রথমে মৌখিকভাবে ক্ষমা চান। পরে তিনি লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে নেন।

মানিকছড়ির গচ্ছাবিলে ফানির্চার দোকান পুড়ে ছাই

মানিকছড়ির গচ্ছাবিল বাজারে আগুন লেগে ৫টি ফার্নিচার দোকান পুড়ে ছাই। ১৩ মে শনিবার রাত ৩ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।   জানা গেছে, উপজেলার গচ্ছাবিলের ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. রহমত উল্লাহ ওরফে দুলাল, আবদুল জলিল দীর্ঘদিন ধরে বাজারস্থ ৫টি ঘরে ফার্নিচার তৈরি করে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত। আজ ১৩ মে ভোর রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার পর হঠাৎ ফার্নিচার দোকানে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং এতে ৫টি দোকানই পুড়ে ছাই। আগুনের খবর পেয়ে গচ্ছাবিলস্থ ২ আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দল বেঁধে বাজারে আসে এবং স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দেড় ঘন্টা ব্যাপি চেষ্ঠা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ সময় মানিকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান ফারুক, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস ইসলাম বাচ্চু, সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম,ইউপি সদস্য মো. মোশারফ হোসেনসহ এলাকাবাসীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন। ভোর ৫টায় সরজমিনে গেলে কথা হয় ইউপি সদস্য মো. মোশারফ হোসেন এর সাথে তিনি ক্ষতিগ্রহস্থদের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, পুড়ে যাওয়া ৫টি দোকানই ফার্নিচারের। শুক্রবার দোকান বন্ধ ছিল। রাত পৌনে ৩টার দিকে হঠাৎ দোকানে আগুনের লেলিহান দেখে পাশ্ববর্তীরা চিৎকার দিলে দোকানজন ও আনসার সদস্যরা এগিয়ে এসে টিউবওয়েল থেকে পানি ও বালি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অন্যথায় পুরো বাজার পুড়ে যেত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ,আনসার ও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে রামগড় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া স্বত্বেও তারা আসেনি।

রাজবাড়ীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নে র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে রাখালগাছি পদ্মার চরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন বাপ্পী ও লালন। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ র‍্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। র‍্যাবের দাবি, তাঁরা চরমপন্থী দলের সদস্য ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে চারটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬০টি গুলি উদ্ধারের দাবি করেছে র‍্যাব। র‍্যাব-৮–এর কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রইস উদ্দিন জানান, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ র‍্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।

আইপিএলে আবারো ফিক্সিং!

নির্বাসন কাটিয়ে আগামী বছর আইপিএলে ফেরার কথা পুরনো দুই দল রাজস্থান ও চেন্নাইয়ের৷ চলতি টুর্নামেন্ট শেষেই বিদায় নেবে পুণে এবং গুজরাট৷ আর তার আগে আবার চলতি ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে পড়ল ফিক্সিংয়েরর ছায়া৷ গত বুধবার কানপুরে গুজরাট লায়ন্স বনাম দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ম্যাচে গড়াপেটার অভিযোগে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হল তিন বুকিকে৷ জানা গেছে, সুরেশ রায়না ও জাহির খানদের দল যে হোটেলে ছিল, সেই হোটেলে বসেই বেটিংয়ে ব্যস্ত ছিল ওই তিনজন৷ কানপুরের সিনিয়র এসপি আকাশ কুলহারি জানান, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের দুর্নীতিদমন ও নিরাপত্তা শাখার পক্ষেই প্রথমে খবর দেয়া হয় যে টিম হোটেলেই বেটিং চক্র চলছে৷ তারপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচতারা হোটেলের ১৮ তলার একটি ঘর থেকে গ্রেফতার করা হয় তিন বুকিকে৷ মহারাষ্ট্রের নয়ন শাহ এবং পুখরায়নের বিকাশ কুমারকে ঘর থেকে গ্রেফতার করা হলেও আরেক বুকি রমেশ কুমার গ্রেফতার হয় গ্রিন পার্ক স্টেডিয়াম থেকে৷
পুলিশ সূত্রে খবর, রমেশের কাজ ছিল হোটেলে থাকা দুই বুকিকে স্টেডিয়াম ও পিচের সমস্ত আপডেট দেয়া৷ রমেশের থেকে বাজেয়াপ্ত করা মোবাইলে পিচের একাধিক ছবিও পাওয়া গেছে৷ সেই মতো বেটিংয়ে টাকা ঢালা হত৷ হোটেলের ঘর থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা, চারটি মোবাইল এবং একটি ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷ বিসিসিআই-এর দুর্নীতিদমন শাখা সূত্রে খবর, রমেশ নাকি তার সহযোগীদের বলেছিল, মাঠের গ্রাউন্ডম্যানদের সাথে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে৷ প্রয়োজন মতো পিচে বেশি পানি ঢালিয়ে উইকেট বিকৃতির ব্যবস্থা করতেই পারে সে৷ যদিও সেদিন দিল্লির বিরুদ্ধে ১৯৭ রান তুলেছিল গুজরাট৷ সেই রান আবার তাড়া করে জিতেও গিয়েছিল দিল্লি৷ বোর্ডের দুর্নীতিদমন শাখা লাগাতার সন্দেহভাজনদের উপর কড়া নজর রেখে চলেছে৷ গ্রেফতার করা তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ৷

না খেলেই প্লে-অফে কলকাতা

একেই বলে মেঘ না-চাইতে বৃষ্টি! আইপিএল ম্যাচে কোটলায় পুণে হেরে গেল দিল্লির কাছে৷আর রানরেটের নিরিখে কলকাতা কার্যত পৌঁছে গেল প্লে-অফে৷ শনিবার অর্থাৎ মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে কলকাতা যদি বড় ব্যবধানেও হেরে যায়, তাও কেকেআর-এর প্লে-অফের রাস্তায় কোনো বাধা আসবে না৷ অন্যদিকে পুণেকে পরের ম্যাচে পাঞ্জাবকে হারাতেই হবে৷ নাহলে তাদের আইপিএল শেষ হয়ে যাবে এবারের মতো৷
অন্যদিকে শনিবার গুজরাত যদি সানরাইজার্সকে হারিয়ে দেয় তাহলে সেক্ষেত্রে পুণে পৌঁছে যাবে প্লে-অফে৷ এখন এই অঙ্কেই দাঁড়িয়ে প্লে-অফের ভাগ্য৷ শুক্রবার পুণে বনাম দিল্লি ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জাহির৷ করুণ নায়ার (৬৪) ও ঋষভ পন্তের (৩৬) ব্যাটে দিল্লি নির্ধারিত ওভারে আট উইকেট হারিয়ে ১৬৮ তোলে৷জবাবে মনোজের তিওয়ারির দুর্দান্ত ৬০ রানের লড়াইয়েও শেষরক্ষা হল না পুণের৷হেরেই গেল তারা৷সাত রানে ম্যাচ জিতল দিল্লি৷

এমন উইকেটে আর কবে খেলেছে বাংলাদেশ

'কি মাঠ বাবা!!! দুই দলের জার্সিও সবুজ, মাঠও সবুজ, পিচও সবুজ। কিছুই বুঝতে পারছি না।' নয়া দিগন্তের ফেসবুক পেজে এম মেহরাজ ইসলাম নামে এক পাঠকের মন্তব্য এটি। শুক্রবার ডাবলিনে বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ড ম্যাচের বিষয়ে এমন মন্তব্য করেন ওই পাঠক। ডাবলিনের মালাহাইডে শুক্রবার যে উইকেটে খেলা হয়েছে তাতে ছিলো প্রচুর ঘাস। এতই ঘাস ছিলো যে মাঠ থেকে উইকেট আলাদা করতে বেগ পেতে হয়েছে টিভির দর্শকদের। সাধারণত ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা ওয়েস্ট ইন্ডিজে পেস বান্ধব সবুজ উইকেটে খেলার ঐতিহ্য রয়েছে। কিছুদিন আগে নিউজিল্যান্ড সফরেও বেশিরভাগ ম্যাচে ছিলো সবুজ উইকেট। তবে আজকের ম্যাচের উইকেটে ঘাস যেন একটু বেশিই ছিলো। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যনারা এমন স্পোটিং উইকেটে খেলে অভ্যস্ত নন। আমাদের দেশে উইকেট তৈরি হয় স্পিনার ও ব্যাটসম্যানদের কথা বিবেচনা করে। শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো উপমহাদেশেই স্পোটিং উইকেটের সংখ্যা হাতে গোনা।
স্বাভাবিকভাবেই তাই এমন উইকেটে খেলতে গেলে বিপাকে পড়তে হয় এই অঞ্চলের ব্যাটসম্যানদের। প্রচুর বাউন্স ও সুইং পেয়ে থাকেন বোলাররা। হঠাৎ করেই লাফিয়ে ওঠে কোন কোন বল। মোট কথা ব্যাটসম্যানদের জন্য এই ধরনের উইকেটে আতঙ্ক হয়ে দেখা দেন পেসাররা। আজও যার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রথম ৭০ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে তামিম-মাহমুদ উল্লাহ জুটি সেই বিপর্যয় সামাল দিয়েছে। পুরো সিরিজ জুড়েই হয়তো এমন উইকেটে খেলতে হবে বাংলাদেশকে। সামনের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও হয়তো পাওয়া যাবে এমন উইকেট। বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা তাই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়ে কতটা সফল হবে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুদিন। তবে মাশরাফি-তাসকিন-রুবেল হোসেনরা যে এমন উইকেটে বল হাতে নিতে পেরে খুশি হবেন সেকথা বলাই যায়। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেয়ার এমন সুযোগ তো আর দিন দিন পাওয়া যায় না!

হোয়াইট হাউসে রুশ আলোকচিত্রীর প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ওভাল অফিসে রুশ সাংবাদিকের প্রবেশাধিকার নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে হোয়াইট হাউস। ওই ফটো সাংবাদিককে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ নিরাপত্তার প্রতি ঝুঁকি বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, ওভাল অফিসে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও অপর দু’জন শীর্ষ রুশ কর্মকর্তার ছবি তুলতে রুশ সংবাদপত্রে কাজ করা এক ফটো সাংবাদিককে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। ওই সাংবাদিকের প্রবেশের কারণে নিরাপত্তার হুমকি উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসন। তবে হোয়াইট হাউসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, রুশ সাংবাদিকের ভূমিকার ব্যাপারে হোয়াইট হাউসকে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছিল। ওই সাংবাদিক মূলত রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত একটি সংবাদপত্রে কাজ করেন।
ওই সাংবাদিক নিজেই হোয়াইট হাউসকে বলেছিলেন, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভের ব্যক্তিগত ফটো সাংবাদিক। কিন্তু তিনি যে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাসের হয়ে কাজ করেন সেটা তিনি বলেননি। হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা বিষয়টা তখনই জানতে পারেন, যখন তারা দেখতে পান, বৈঠক শেষ হতে হতেই ট্রাম্প ও লাভরভের ফটো অনলাইনে ছড়িয়ে গেছে। এটা দেখে তারা বিস্মিত হন এবং এটা হোয়াইট হাউসের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন। কেননা ওই বৈঠকের ছবি তৎক্ষণাৎ প্রকাশের ব্যাপারে হোয়াইট হাউসের কোনো পরিকল্পনা ছিল না।

জোয়ান পোলা একটু আধটু তো করবই আমিও করি...

‘আরে মিয়া, আমার পোলা আকাম (ধর্ষণ) করছে তো কি হইছে। জোয়ান পোলা একটু-আধটু তো এসব করবই। আমিও তো করি। আমার যৌবন কি শেষ হয়ে গেছে? আমি এখনও বুড়া হইনি।’ ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হওয়ার পর ছেলের অপকর্মে সমর্থন দিয়ে এসব কথা বলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম। রাজধানীর বারিধারা আবাসিক এলাকায় আপন জুয়েলার্সের অফিসে যুগান্তরকে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় আপন জুয়েলার্সের কর্মকর্তা ডা. দৌলাসহ তার ঘনিষ্ঠ আরও দুই বন্ধু উপস্থিত ছিলেন। তারাও মাথা নেড়ে সেলিমের এমন বক্তব্য সমর্থন করেন। স্বর্ণালঙ্কার ব্যবসায়ী দিলদার আহমেদ সেলিমের বড় ছেলে সাফাত আহমেদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। যুগান্তরের পক্ষ থেকে ধর্ষণ মামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সেলিম বারিধারার সোহরাওয়ার্দী এভিনিউর ১০৩ নম্বর বাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গেলে দেখা যায়, একটা কাচঘেরা কক্ষে স্বল্প আলোতে সোফায় বসে একের পর এক ধূমপান করছেন তিনি। তার দু’পাশে আরও দু’জন মধ্য বয়সী ব্যক্তি বসে আছেন। সাংবাদিক এসেছেন শুনে তিনি ডা. দৌলা নামের আপন জুয়েলার্সের এক কর্মকর্তাকে ডেকে পাঠান। ধর্ষণ মামলা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতেই সেলিম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
বলেন, ‘আরে ভাই এমন ফালতু বিষয় নিয়ে হৈচৈ করার কি আছে? মানছি আমার ছেলে আকাম করছে। কিন্তু ওই দুইটা মেয়েও তো ভালো না। খারাপ মেয়ে। তা না হলে কেউ গভীর রাতে হোটেলে যায়? ভদ্রঘরের কোনো মেয়ে কি রাত-বিরাতে হোটেলে যাবে?’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ধর্ষণ কাকে বলে আসলে আপনারা তা জানেন না। জোর করে কিছু করলে তাকে ধর্ষণ বলে। কিন্তু যে মেয়ে নিজের ইচ্ছায় হোটেলে গিয়েছে তাকে ধর্ষণ করতে হবে কেন? আসলে ওরা (ধর্ষিত দুই তরুণী) মনে করছে বড় লোকের ছেলেরে পাইছি। এগুলোরে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসাইতে পারলে কিছু টাকা-পয়সা পাওয়া যাবে।’ সেলিম বলেন, ‘পুরোপুরি প্ল্যানিং করে ওরা এটা করেছে। আমার সাবেক পুত্রবধূ ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাও ওদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।’ সেলিম বলেন, ‘আমিও তো অনেক জায়গায় আকাম করি। করুম না কেন। আমি কি বুড়া হইয়া গেছি নাকি? আমার যৌবন নাই? আমিও তো হোটেলে যাই। আমার ছেলে যদি হোটেলে ওগো লগে কিছু কইরা থাকে তো মিলমিশ কইরা করছে। ধর্ষণ করতে যাইব ক্যান?’ ঘটনার পুরো দায় পিয়াসার ওপর চাপিয়ে তিনি বলেন, পিয়াসা যে এসব করছে তার প্রমাণও তার কাছে আছে। কথাবার্তার ফাঁকে নিজের মোবাইল ফোন থেকে তিনি কয়েকটি ক্ষুদে বার্তা (মেসেজ) দেখিয়ে বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর পিয়াসা আমার কাছে এসব দিয়েছে। ওই বাজে মেয়ে (পিয়াসা) মনে করছে আমরা বিপদে পড়েছি। এখন সে যা বলবে তাই করব। ওই মাইয়া বলেছে, তার সঙ্গে মিটমাট করে ফেললে সে সব সমাধান করে দিতে পারবে। বিনিময়ে বউ হিসেবে তাকে মেনে নিয়ে ঘরে তুলে নিতে হবে। কিন্তু বলেন তো, ওর মতো ... মেয়ে কি সেলিমের বউ হতে পারে ... ইত্যাদি (একেবারে প্রকাশযোগ্য নয়)।’ সেলিম বলেন, ‘পিয়াসা প্রেমের ফাঁদে ফেলে আমার ছেলেকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু তার সম্পর্কে জানার পর আমার ছেলে তাকে তালাক দিয়েছে। তালাকের পর থেকেই ওর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ক্ষতি করার জন্য সে আমার পরিবারের পেছনে লেগেছে।’
দিলদার আহমেদের এমন মন্তব্যের বিষয়ে তার সাবেক পূত্রবধু ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা যুগান্তরকে বলেন, ‘দিলদার আহমেদ সেলিম একটা প্রথম সারির লম্পট। এখন তার ৫৪ বছর বয়স। কিন্তু নারী লিপ্সা থেকে তিনি পিছু হটছেন না। এক প্রশ্নের উত্তরে পিয়াসা বলেন, মূলত তার লাম্পট্যের কারণেই সাফাত নষ্ট হয়েছে। বাপ হয়ে ছেলের চরিত্র নষ্ট করেছেন তিনি।’ পিয়াসা বলেন, ‘কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করলেই আপনারা বুঝতে পারবেন দিলদার আসলে কেমন চরিত্রের মানুষ।’ তিনি জানান, ‘আমি তখন ওই বাড়ির বউ। একদিন ফোন এলো সাফাতের বাবাকে গুলশানের একটি পাঁচতারকা হোটেলের কর্মচারীরা মারধর করছে। একথা শুনে সাফাত হোটেলে যায়। গিয়ে দেখে ঘটনা ভিন্ন। মদপান করে মাতাল অবস্থায় এক নারীকে তুলে নিতে চাইছিলেন সেলিম। এ নিয়ে হোটেল কর্মচারীদের সঙ্গে তার তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে হোটেলে আটকে রাখে। পরে সাফাত ক্ষমা চেয়ে তার বাবাকে ছাড়িয়ে আনে।’ দিলদার হোসেনের বন্ধু-বান্ধবদের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আপন জুয়েলাসের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সেলিমের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হলেন ডা. দৌলা ও জনৈক রাজনৈতিক নেতা। এদের মধ্যে ডা. দৌলা যুবলীগ নেতা মিল্কী হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন। পরে সেলিমই প্রচুর টাকা-পয়সা খরচ করে তার জামিনের ব্যবস্থা করেন। আর রাজনৈতিক দলের জনৈক নেতা একাধিক হত্যা মামলার আসামি। অভিযোগ আছে, তাকে নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত পাঁচতারকা হোটেলে মদপান করেন তিনি। দিলদার আহমেদ সেলিমের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু যুগান্তরকে বলেন, এমনিতে তার আর কোনো দোষ নেই। তবে মদ ও নারী ছাড়া সেলিমের চলে না। সন্ধ্যার পর গুলশানের কোনো না কোনো বারে তাকে পাওয়া যাবেই। তবে নির্ধারিত একটি হোটেলের বারে নিয়মিত মদপান করেন তিনি। একদিন মাতাল হয়ে বারের এক ক্যাবারে ড্যান্সারকে তার ভালো লেগে যায়। এ নিয়ে হোটেলে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে। ঢাকার অভিজাত হোটেলে ডিজে পার্টির এক আয়োজক যুগান্তরকে বলেন,
‘সেলিমের নারী বন্ধু’র তালিকা অনেক বড়। উনার যে কতগুলো গার্লফ্রেন্ড আছে তা গুনে শেষ করা যাবে না। পার্টিতে এলেই তিনি সুন্দরী মেয়ে খুঁজতেন।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেল কর্মকর্তা শাহরিয়ার শেখের সঙ্গে সেলিমের দহরম-মহরম। হোটেলে রুম বুক থেকে শুরু করে মদ ও নারী সরবরাহের কাজটা করেন এ শাহরিয়ার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু যুগান্তরকে বলেন, দিলদার হোসেন সেলিম শূন্য থেকে কোটিপতি। প্রায় সব সময়ই সে মাতাল অবস্থায় থাকে। এছাড়া তার আশপাশে অপরাধী ও স্মাগলারদের ঘোরাফেরা। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এত টাকা-পয়সা থাকলেও পারিবারিকভাবে সেলিম সাহেব সুখী নন। প্রতিদিন তিনি মাতাল অবস্থায় বাসায় ফেরেন। শুনেছি মাতাল হয়ে স্ত্রী-সন্তানকে গালাগালও করেন।’ সেলিমের পরিবারিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে তার সাবেক পুত্রবধূ ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘তার মাতলামির কথা বলে শেষ করা যাবে না। এসব কারণে বড় ছেলে তো নষ্ট হয়েছেই, এখন ছোট ছেলে ইফাতও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ছেলের বন্ধু হলেও নাঈমকে (দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ ওরফে হালিম) দিয়ে তিনি শোবিজের উঠতি মডেলদের ভাড়া করতেন। অনেক মডেলকে নিয়ে তিনি থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরেও গেছেন। বাবাকে দেখে তার ছেলেও এসবই শিখেছে। সাফাতও আপন জুয়েলার্সের মডেলদের নিয়ে বিদেশে যাওয়া শুরু করেছে। কিছুদিন আগে সে একজন আলোচিত মডেল নিয়ে ভারতে যায়। ওই মডেলের সঙ্গে সাফাতের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে।’