Sunday, March 3, 2019

কিশোর গ্যাংয়ের গণধর্ষণ, ২ জনের স্বীকারোক্তি

ওরা সাত জন। কিশোর গ্যাংয়ের হিরো হিসেবে পরিচিত এলাকায়। মারামারি-হানাহানি তাদের নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। ফলে তাদের ভয়ে তটস্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট এলাকার মানুষ। শনিবার সন্ধ্যায় এই সাত হিরোর দুই জনকে গ্রেপ্তার করে নগরীর সদরঘাট থানার পুলিশ। তারা হলেন- শাহ আলম রাসেল (১৮) ও মোহাম্মদ হানিফ (১৮)।
রাতেই তাদের নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল ইমরান খানের আদালতে। সেখানে এক তরুণীকে দলবেঁধে গণধর্ষণের স্বীকারোক্তি দেয় তারা।
আদালত ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। এদিকে বন্ধুদের আটকের খবর পেয়ে নয়ন ও আরিফ হোসেনসহ গ্যাংয়ের অন্যরা গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানান সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন।
তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর সদরঘাট থানার অভয় মিত্রঘাটের উত্তর নালাপাড়ার একটি বাসায় এক তরুণী গণধর্ষণের শিকার হন। সঙ্গে থাকা আরেক তরুণী কোনোরকমে পালিয়ে নিজেকে বাঁচান। তার কাছ থেকে খবর পেয়ে সদরঘাট থানার পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় গণধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে উদ্ধার করা গেলেও ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। পরে শনিবার সন্ধ্যার দিকে অভিযান চালিয়ে রাসেল ও হানিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রুহুল আমিন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত তরুণরা স্থানীয়ভাবে কিশোর গ্যাংয়ের হিরো হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক ছত্র ছায়া থাকায় গ্রেপ্তারের পরই তাদের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠায়। এর আগে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয় বলে জানান তিনি।
সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নেজাম উদ্দীন বলেন, শুক্রবার বিকেলে ওই তরুণী নগরীর অভয়মিত্রঘাট এলাকায় বান্ধবীকে নিয়ে বেড়াতে যান। সেখান থেকে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে তাদের অনুসরণ করে গ্রেপ্তারকৃত দুজন ও পলাতক নয়ন (২৫), আরিফ (২৪) সহ সাত জন। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুই তরুণীকে ভয় দেখিয়ে উত্তর নালাপাড়া এলাকায় নয়নের বাসায় নিয়ে যায় তারা। এসময় এক তরুণী কৌশলে পালিয়ে গেলেও ওই তরুণীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে তারা।

সুরমা মার্কেটে পুলিশের ‘চোখ’

দিন হলেই বদলে যায় সিলেটের সুরমা মার্কেটের পরিবেশ। উঠতি বয়সী যুবকদের ভিড় লেগেই থাকে মার্কেটের দু’টি আবাসিক  হোটেলে। মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এতে অতিষ্ঠ। প্রতিবাদ করলে বাড়ে পুলিশি ঝামেলা। হুমকিও আসে বিভিন্ন তরফ থেকে। এ কারণে কোনো ব্যবসায়ী মুখ  খোলেন না। চোখের সামনে অনেক কিছু ঘটলেও তারা নির্বিকার। এই মার্কেটে এবার ‘চোখ’ পড়েছে সিলেট পুলিশের।
এক রাতের অভিযানে দু’টি আবাসিক হোটেল থেকে আটক করা হয়েছে ৬ রমণীকে। তাদের সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছে হোতারাও। গতকাল গোটা মার্কেটে আলোচনায় ছিল পুলিশের অভিযান। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- প্রায়ই অভিযান হয় সুরমা মার্কেটে। দু’-একদিন বন্ধ থাকে। এরপর আবারো পুরনো দৃশ্য। সিলেট নগরীর প্রাচীন মার্কেট ‘সুরমা মার্কেট’। নগরীর প্রাণকেন্দ্রে ওই মার্কেটের অবস্থান। কীন ব্রিজে ঢোকার মুহূর্তে ডানপাশে সুরমা মার্কেট। এ মার্কেটের ভেতরের অংশে নিউ সুরমা রেস্ট হাউস। বাইরের অংশে বদরুল রেস্ট হাউস। দু’টি আবাসিক হোটেল সিলেট শহরে পরিচিত ভিন্ন নামে। অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য পরিচিত। সিলেট মহানগর পুলিশের উত্তরের ডিসি আজবাহার আলী শেখের কাছে এ দুই আবাসিক হোটেল নিয়ে একাধিক অভিযোগ। নামে-বেনামে এসব অভিযোগ দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ছদ্মবেশে সুরমা মার্কেটে যান ডিসি আজবাহার। তিনি নিজে গিয়েও অভিযোগের সত্যতা পান। এর পরপরই পুলিশের কয়েকটি টিম একসঙ্গে অভিযান চালায় দু’টি হোটেলে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে ৬ নারী সহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- নিউ সুরমা আবাসিক হোটেলের সাব-ম্যানেজার কামরুল ইসলাম, স্থানীয় ফুটপাতের দোকানি দেলোয়ার হোসেন কালু, জালালাবাদ এলাকার আমিনুল ইসলাম, বরিশাল মেহেন্দী গঞ্জের সুমি আক্তার, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের আঁখি আক্তার, হবিগঞ্জের রাশিদা প্রকাশ আসমা, পটুয়াখালীর আঁখি, কুমিল্লার মুরাদ নগরের রিতা আক্তার, পাবনার আতাইকুলার হাসনা আক্তার ও বদরুল রেস্ট হাউসের ম্যানেজার সমীরণ দাশ। অভিযানের পর সিলেট মহানগর পুলিশের ডিসি আজবাহার আলী শেখ সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিন থেকে সুরমা মার্কেটের এই দুটি আবাসিক হোটেলে অসামাজিকতা চলছে। তাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে তাদের আটক করা সম্ভব হয়েছে।
এদের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলবে। এদিকে- অভিযানে আটককৃত ১০ জনের বিরুদ্ধে গতকাল সিলেটের কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন কোতোয়ালি থানার এসআই আকবর হোসাইন। গতকাল বিকালে ১৯৩৩ সালের নীতিহীন ব্যবসা আইন, নারীদের  বেশ্যা হিসেবে ভাড়ায় আনয়ন ও কাজে নিয়োজিত করার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিকালে পুলিশের এজাহার ফিরিয়ে দিয়ে ধারা সংশোধন করে নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- সুরমা মার্কেটের নিউ সুরমা আবাসিক হোটেলের মালিক হচ্ছেন সিলেটের কারাবন্দি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা উসমান আলী।
তিনি দোয়ারাবাজারের আজরফ নামের এক ব্যক্তিকে হোটেল ভাড়া দিয়েছেন। হোটেলের ম্যানেজার আব্বাস। শুক্রবার রাতে অভিযানের সময় আব্বাস পালিয়ে যায়। অভিযানকালে উপস্থিত মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- নিউ সুরমা হোটেলের নিয়ন্ত্রক আজরফ আগে হোটেল বিলাসের বয় ছিলো। এরপর সে সিলেটে মজলিস বোর্ডিং, তায়েফ বোর্ডিংয়েও চাকরি করেছে। রাতের অভিযানের সময় নিউ সুরমা হোটেলে থাকা রমণীদের বিশেষ ব্যবস্থায় তৈরি করা একটি কক্ষে নিয়ে রাখা হয়। পুলিশ কেবল মাত্র ওই হোটেলের একটি কক্ষ থেকে একজন মহিলাকে আটক করেছে।
অভিযানে  টের পেয়ে এসব মহিলাদের ওই বিশেষ ঘরে নিয়ে বন্দি করে রাখা হয়। আটকের পর নিউ সুরমা হোটেলের সাব ম্যানেজার কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- তারা হোটেলে অবৈধ ব্যবসা করলেও পুলিশকে মোটা অঙ্কের টাকা দেন। এর মধ্যে প্রতিমাসে কোতোয়ালি থানার ওসি’র তহবিলে যায় ২৫ হাজার টাকা, এসি’র তহবিলে যায় ১০ হাজার টাকা, ওসি তদন্তের তহবিলে যায় ৮ হাজার টাকা, গোয়েন্দা পুলিশকে দেয়া হয় ২৫ হাজার টাকা। এর বাইরেও তারা প্রতিদিন টহলে থাকা পুলিশ দলকেও টাকা দিয়ে থাকেন। একই কথা জানিয়েছেন বদরুল রেস্ট হাউসের ম্যানেজার সমীরণ দাশ। তিনি বলেন- পুলিশকে টাকা দিয়েই তারা ব্যবসা চালাচ্ছেন। সুরমা মার্কেটের চারটি গেইট রয়েছে। প্রতিটি গেইটে তারা দিনে ও রাতে ৪ জন করে পাহারাদার রাখেন। পুলিশ মার্কেটের ভেতরে ঢুকলেই তারা হোটেল খালি করে দেন। তিনি বলেন- পুলিশ তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়, আবার অভিযানও চালায়।
এদিকে- ডিসি আজবাহার আলী শেখের আগে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ উত্তরের ডিসি ছিলেন ফয়সল মাহমুদ। তিনিও গত বছরের ৭ই জুলাই সুরমা মার্কেটের ওই দু’টি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়েছিলেন। ওই সময় ডিসি ফয়সল মাহমুদ তালা ভেঙে দু’টি হোটেল থেকে অসামাজিক কাজে নিয়োজিত থাকা মহিলা ও মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করেছিলেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- ওই অভিযানের পর কয়েকদিন মার্কেটের পরিবেশ স্বাভাবিক ছিলো। এরপর থানা ও ফাঁড়ি পুলিশকে ম্যানেজ করে ফের ব্যবসা শুরু করে দুই হোটেলের নিয়ন্ত্রকরা। অসামাজিক কাজের আড়ালে ইয়াবা বিক্রি করা হয় ওই দু’টি হোটেলে। তবে- পুলিশের অভিযানে কোনো মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়নি।

টিভি দেখা বন্ধ করুন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামান by জাবেদ নাকভি

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জর্জ পারকোভিচ যে মন্ত্র দিয়েছেন তাই আমি কায়মনোবাক্যে জঁপছিলাম। এবং সে মতে কয়েক বছর বা তারও বেশি সময় আমি ভারতীয় টিভির খবর দেখি নি। আমি একই পরামর্শ দিয়েছি আমার পাকিস্তানি বন্ধুদের। বলেছি তাদের টিভিও বন্ধ রাখতে।
সুখ্যাত প্রতিরক্ষা বিষয়ক এই বিশ্লেষক নতুন একটি বই লিখেছেন। তার বিষয়বস্তু দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি দেশের মধ্যে অসমাপ্ত ও ভয়ানক শত্রুতামুলক সম্পর্ক নিয়ে। এই দুটি দেশের মধ্যে যখন পরিহারযোগ্য একটি সামরিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় ঠিক তেমন এক উত্তেজনাকর সময়ে দিল্লি এসেছিলেন তিনি। ভারতের পারমাণবিক নীতির ওপর তিনি মৌলিক বইয়ের লেখক।
তার বইটি প্রমোট করতে দিল্লি এসেছিলেন।
তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল- এমন কিছু কি আছে যা উত্তেজনাকে প্রশমিত করতে পারে। জবাবে তিনি বলেছিলেন, টিভির প্লাগটি খুলে ফেলুন। সীমান্তের দু’পাশেই আমার বন্ধুদের কাছে এই উপদেশ ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে।
যদি দুই পক্ষের কট্টর জাতীয়তাবাদী সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের প্রস্তাব করা হয় পারমাণবিক যুদ্ধ শুরুর এবং শারদ মাস্টার নরেন্দ্র নাথ ধরের সুখকর ‘মিয়া কি তোড়ি’ (ভারতীয় ক্লাসিক্যাল গান) শুনতে দেয়া হয় কোনো এক রোববার সকালের মাহফিলেÑ তাহলে বেছে নিন দ্বিতীয়টি।
যদি নেভি সিলের মতো অপারেশনে বৈদেশিক টার্গেট উপড়ে ফেলা হয় এবং এ সংক্রান্ত উন্মত্ত পরামর্শে উপস্থাপক উদ্বেলিত হন, যদি ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে বিনায়ক তোরভি একটি বাগেশ্বরী পরিবেশন করেন দুটি মারাঠি আভাঙ শেষে তা করা হয়Ñ যদি তা পরিবেশন করেন ঋষি তুকারাম, হালে শুনুন তোরভিকে।
একটি বাস্তব অথবা কল্পিত শত্রুর বিরুদ্ধে কা-জ্ঞানহীনের চিৎকারের চেয়ে যদি দুর্দশা ভাগাভাগি করার পন্থাটি কম গুরুত্ব পায় কারো কাছে। যারা কনসার্টে যাচ্ছেন অথবা মুভি দেখতে যাচ্ছেন তারা অন্যদিনে কাশ্মিরের পালওয়ামাতে আধা সামরিক বাহিনীর ওপর চালানো ভয়াবহ নৃশংসতার বিষয়ে অবহিত নন অথবা এ বিষয়ে তারা অভ্যস্ত নন।
আম্মা ও লক্ষেèৗয়ের অন্য নারীরা তাদের সবচেয়ে সেরা স্বর্ণালঙ্কার নীরবে জমা দিয়েছেন জাতীয় তহবিলে। কারণ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওয়াহারলাল নেহরু চীনের সঙ্গে ১৯৬২ সালের যুদ্ধে এমনটা করতে ব্রিফিং করেছিলেন।
এর ২৫ বছর পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী করমর্দন করেছিলেন চীনের সাবেক নেতা দেং সিয়াওপিংয়ের সঙ্গে। এটা ছিল এক ঐতিহাসিক করমর্দন। ব্যতিক্রম হলো, কেউ একজনের দেয়া একটি স্ক্রিপ্টে ঠোঁট মিলালেন টিভির উপস্থাপক। যখন বিষয়টি অসাড় হয়ে যায়, যেমনটা বর্তমানের দিনকালেও আছে, তখন খবরগুলো হয়ে পড়ে ক্ষণক্ষণে উপদেশ।
যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে আগ্রাসন চালালো, তখন টিভি উপস্থাপকদের তার যথার্থতা বিবেচনা না করে উপস্থাপন করে যেতে হয়েছিল। কাতার মালিকানাধীন আল জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেল তার উদারতার বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখে ধর্মনিরপেক্ষ সিরিয়ার বিরুদ্ধে ধর্মীয় গোাঁড়াদের বর্ণনা প্রচার করে। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভবত এমন রাষ্ট্র ওই একটিই ছিল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পন্সর করা সার্ক বিষয়ক একটি ডকুমেন্টারির জন্য টিভি ফুটেজ ধারণ করতে আমি ১৯৯৭ সালের ১৪ই আগস্ট লাহোরে ছিলাম। গুজরালের যুগে, এমন ধারণা করা সম্ভব ছিল এবং অবশ্যই সব প্রতিবেশীর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক রাতারাতি আকস্মিকভাবে উন্নত হয়েছিল।
ওইদিনটি লাহোরে একটা বাজে দিন ছিল। তাই আমি হোটেল রুমে একটি পাকিস্তানি বিনোদন জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল খুললাম। দেশটির স্বাধীনতা দিবসের ওপর একটি নাটক চলছিল টেলিভিশনে। এতে দেখানো হচ্ছিল উদগ্রীব তরুণ ছাত্ররা মাথায় ফেজটুপি পরে ১৯৪৫ সালে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বক্তব্য শুনছে।
দৃশ্যটি কেটে নেয়া হয়েছে কংগ্রেস পার্টিতে। কংগ্রেসের ভিলেনের মতো দেখতে একজন কর্মীকে শোনা গেল তার খাদি-পোশাক পরা সহকর্মীদের বলছেন, লালাজি, যদি আমার সামনে পথ থাকতো তাহলে আমি সম্প্রতি হিরোশিমাকে ধ্বংস করে দেয়ার মতো করে একটি এটম বোমা ফেলতাম ওইসব মুসলিমদের মাথার ওপর।
মহাত্মা গান্ধী নেতৃত্বাধীন দল সম্পর্কে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্রে এমনটাই বলা হয়। মহাত্মা গান্ধী হলেন সেই মানুষ, যিনি চেয়েছিলেন জিন্নাহ হবেন প্রধানমন্ত্রী, যদি তাতে ভারত একীভূত থাকে।
দিল্লি ফিরে এসে আমি কাশ্মিরের ওপর একটি টেভিলিশন নাটক দেখছিলাম। এটা হলো অন্য পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় প্রচারণা। একজন সুন্দরী যুবতী তার প্রিয়তমের কানের কাছে এসে কিছু বলছেন। তার প্রেমিকটি সংশোধিত একজন জঙ্গি। তার কানের কাছে গিয়ে ওই যুবতী বলছেন, তিনি অস্ত্র ত্যাগ করার কারণে কত খুশি হয়েছেন। কিভাবে মাদকাসক্তি ত্যাগ করার কারণে তিনি কত খুশি হয়েছেন। এসব ওই যুবকের ভিতর প্রবেশ করিয়েছিল অশুভ মানসিকতার লোকজন। আর এর ফলেই তিনি অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। ওই যুবতী বলছিলেন, ‘সরকার এখন আমাদেরকে এই জমি দিয়েছে আপেল চাষ করার জন্য এবং সুখী জীবন যাপনের জন্য। ’
১৯৯৭ সালে ভারত যে প্রচারণা চালায় তা হলো, মাদকাসক্তির ফলে অথবা ওই রকম বিভিন্ন কারণে কাশ্মির অঞ্চলে সহিংসতা দেখা দেয়।  আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম টিভির খবর দেখবো না।
সোমবার মাত্র দুই মিনিটের জন্য আমি টিভি খুলেছিলাম। একটি চ্যানেলে দেখানো হলো, বোরকা পরা নারীরা পাকিস্তানি পতাকা পোড়াচ্ছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি পালওয়ামায় প্রাণহানীর প্রতিশোধ নেয়ার দাবি জানাচ্ছেন। এমন ক্ষুব্ধ হওয়ায় অন্যায় কিছুই নেই।
ভারতের চলচ্চিত্র জগতের দম্পতি জাভেদ আখতার ও শাবানা আজমীর করাচি সফরে যাওয়ার কথা ছিল একটি সাহিত্য আসরে। কিন্তু তারা সেই সফর বাতিল করে দিয়েছেন। তাদের চেয়ে স্পষ্টতই এসব নারী কম দ্বিধার মধ্যে ছিলেন। কাশ্মির নিয়ে ক্ষোভের কারণে সব রকম সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে খর্ব করার দাবি জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী শাবানা আজমী।
ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ এবং সরদার জাফরি হয়তো কবরে ফিরে যাবেন। এমনকি ভারতীয় নেতারা হয়তো এমন মুহূর্তে সুস্থ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, দ্বিপক্ষীয় শান্তি আলোচনাকে কক্ষচ্যুত হতে দেয়া উচিত নয় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে। দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এটাই।
যেহেতু তা ছুড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয় নি, তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইমরান খান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে শক্ত করে ধরার সুযোগ পাবেন এবং তারা দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ককে খাটো করতে কোনো বিরাষ্ট্রীয় উপাদানকে অনুমোদন দেবেন না।
বিকল্প একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে। তা হলো, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে সাধারণ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে একরকম হিস্টেরিয়া ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে টিভি চ্যানেলগুলো। এটা হলো টিভির উপসংহার।
২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বইয়ে ভয়াবহ রক্তপাত হয়। এরপরের বছরে ২০০৯ সালে ভারতে জাতীয় নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি আঙ্গুলও না তুলে বিজয়ী হয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। পক্ষান্তরে তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে শার্ম আল শেখ সম্মেলনে গিয়েছিলেন। তার দল শান্তিচুক্তি করেছিল এবং তা নিয়ে তার দল উল্লাস করেছিল এটা আরেকটি বিষয়।
অন্যদিকে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী কারগিল যুদ্ধ জিতেছিলেন। কিন্তু তার পরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার ভোটের শতকরা হার কিন্তু কমে গিয়েছিল। ওটা হয়েছিল টিভির খবরের কারণে নয়। এটাই বাস্তবতা।
(লেখক নয়া দিল্লিতে পাকিস্তানি পত্রিকা ডন-এর প্রতিনিধি। তার এই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে দ্য স্ট্রেইটস টাইমসে। সেখান থেকে অনুবাদ)

ভারতে অস্ত্রের বড় উৎস ইসরাইল -জেরুজালেম পোস্টের রিপোর্ট

ভারত ও পাকিস্তান যদি যুদ্ধ লাগে তাহলে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ইসরাইলি অস্ত্র। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের প্রতিরক্ষা বিষয়ক মূল অংশীদার হয়ে উঠেছে ইসরাইল। ভারতে সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্রাগারকে আধুনিক কর্মসূচির অধীনে এনে তাকে আরো আধুনিকায়ন করার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রযুক্তিগত ভূমিকা রাখছে ইসরাইল। এ খবর দিয়েছে ইসরাইলের পত্রিকা জেরুজালেম পোস্ট অনলাইন।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে দ্রুত। তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০০ কোটি ডলারে। ভারতের অস্ত্রবাজারে ইসরাইলের বিভিন্ন পর্যায়ের বড় বড় অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সুযোগ খুঁজেছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ইসরাইল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই), রাফায়েল এডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস, ইসরাইল মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএমআই) এবং এলবিট।
গত এক দশকে অস্ত্র কেনাবেচা বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০০৩ সালে আইএমআই ভারতের কাছে ট্যাংক-শেল সরবরাহের জন্য স্বাক্ষর করেছে ২ কোটি ডলারের চুক্তি। এ ছাড়া ইসরাইলের কাছ থেকে নয়া দিল্লি কিনেছে টেভর রাইফেল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ভারতের কাছে মোট ১৫০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে ইসরাইল।
২০১৭ সাল নাগাদ ভারতের অস্ত্রবাজারে মোট যে পরিমাণ অস্ত্র আসে তার শতকরা ৪৯ ভাগই হলো ইসরাইলি। ২০১৭ সালে এক রিপোর্টে এ কথা জানিয়েছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্স। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভারত সফর করেন। এ সময়ে তার সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল অস্ত্র বিক্রি নিয়ে আলোচনা।
ব্যবসা বিস্তৃত হলেও সবকিছু মসৃণভাবে অগ্রসর হচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য ২০১৬ সালে যে ৫০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছিল তা বাতিল করেছে ভারত।  আইএআই ও রাফায়েলের সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তি ভারত বাতিল করেছে ২০১৬ ও ২০১৮ সালের মধ্যে। এ ছাড়া তারা ২০০৯ সালে আইএমআইয়ের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে তাদেরকে নিষিদ্ধ করেছে, যদিও রিপোর্ট আছে যে, ২০১৪ সালে ভারতের বাজারে ফিরেছে আইএমআই।
ভারতীয় মিডিয়ার খবর অনুযায়ী ইসরাইলে তৈরি স্পাইস কিট ব্যবহার করে তৈরি বোমা গত ২৬ শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে ফেলে ভারতীয় বিমানবাহিনী। ফ্লাইট গ্লোবালের মতে, স্পাইস ১০০০ নির্দেশিত বোমা ভারতকে সরবরাহ করে ইসরাইল ৩৬ ডেসল্ট রাফায়েলস। এ ছাড়া ভারতের তেজাস জেটের জন্য সরবরাহ করা হয় স্পইস ২৫০। রাফায়েল এডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেম থেকে ভারতের জন্য এটা ছিল একটি বড় বিপ্লব। দেয়া হয়েছিল পাইথন-৫, আই-ডারবি ইআর আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, লিচেনিং ৫ টার্গেটিং পড। ২০১৬ সালের একটি আর্টিকেল অনুযায়ী, এসব চুক্তির মূল্য ৫০ কোটি ডলার।
২০১৭ সালে আই-এইচআইএস এক প্রতিবেদনে বলে, তেজাহ’র জন্য এক স্টোয়াড্রন যুক্ত হবে রাফায়েল আই-ডারবি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে। স্থানীয় ইন্ডিয়ান ডিআরডিও কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির অধীনে এগুলো দেয়ার কথা বলা হয়।
ভারতের স্থল বাহিনী তাদের বিভিন্ন রকম অস্ত্রের আধুনিকায়নে ইসরাইলি অস্ত্র চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫৫ এমএম বন্দুক, এর সঙ্গে রয়েছে ইসরাইলের ট্রফি একটিভ প্রটেকশন সিস্টেম। ২০১৮ সালে এলবিট এবং অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর অর্ধীনে অশোক লেল্যান্ডের চাকাযুক্ত যানের জন্য আর্টিলারি গান দেয়ার কথা বলা হয়।
হুমকি থেকে রক্ষার জন্য ভারতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো রাডার। ২০১৮ সালের অক্টোবরে নয়া দিল্লি আইএআই-এর এলটা সিস্টেমের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর অধীনে ৮৩ টি এএলএম-২০৫২ রাডার ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সুট দেয়ার কথা বলা হয়। এ ছাড়া ২০১৮ সালের অক্টোবরে ৫৫ কোটি ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে আইএআই। তাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য স্কাই ক্যাপচার কমান্ড ও এন্টি-এয়ারক্রাফট সিস্টেম কন্ট্রোলের জন্য চুক্তি হয়।
সমুদ্রেও শক্তিশালী ভারত। ২০১৫ সালে ভারতের নৌবাহিনী আইএআইয়ের বারাক-৮ এর সঙ্গে একটি সফল চুক্তি করে। ভারতে ডিআরডিও’র সঙ্গে যৌথভাবে তারা এএ রাডার, কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম তৈরি করে। ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার তৈরি করে। ২০১৯ সালে আইএআই ঘোষণা করে ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের অতিরিক্ত একটি চুক্তির। এর অধীনে মধ্যম মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এগুলো ভারতের আকাশসীমাকে নিরাপত্তা দেবে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে সম্পাদিক ৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারের চুক্তি হয়। এর অধীনে সাতটি জাহাজ দেয়ার কথা হয়। এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ভারতের ভারত ইলেক্ট্রানিক্স লিমিটেডের সঙ্গে।
ইসরাইলের এলবিট নামের প্রতিষ্ঠানটি আরো চুক্তি স্বাক্ষর করে আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড এরোস্পেসের সঙ্গে। এর অধীনে রয়েছে হার্মিস ৯০০ এবং হার্মিস ৪৫০, ইউএভি।

পাচারের ঝুঁকিতেও ভয় নেই রোহিঙ্গাদের -রয়টার্সের রিপোর্ট

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন আমিনা বেগম নামের এক রোহিঙ্গা নারী। তার স্বামী থাকেন মালয়েশিয়া। তার কাছে যেতে চান আমিনা বেগম। এ জন্য যেন কেউ তাকে থামাতে পারছেন না, যদিও তিনি এরই মধ্যে একবার পাচারকারীদের শিকারে পড়েছিলেন।
আমিনা বেগমের বয়স ১৮ বছর। তার দাবি মিয়ানমারের এক সেনা সদস্য তাকে ধর্ষণ করেছে। তাই নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার চেয়ে বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণের মাধ্যমে তিনি মালয়েশিয়া যেতে চান।
তার মতো রোহিঙ্গা শিবিরে আরো অনেকে আছেন।
তারা আসন্ন বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সফরের মাধ্যমে অন্য দেশে যেতে চান। আর এক্ষেত্রে পাচারকারীরা নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ ব্যবহার করছে। ফলে আইন প্রয়োগকারীদের থাকতে হয়েছে উচ্চ সতর্ক অবস্থায়।
আমিনা বেগম দোভাষীর মাধ্যমে টেলিফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, কক্সবাজারে আশ্রয়শিবিরে জীবনযাপনের মান এখন উন্নত হয়েছে। কিন্তু আমি জানি একদিন আমাকে মিয়ানমারে ফিরে যেতেই হবে। সেখানে আমার কোনো ভবিষ্যত নেই।
বাংলাদেশের আধা সামরিক বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিপি সম্প্রতি মিয়ানমার সীমান্তের কাছে তল্লাশি চালিয়ে আমিনা বেগম ও অন্য ১১ জনকে উদ্ধার করেছে। আইন প্রয়োগকারীরা এ বছর পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেছেন কমপক্ষে ১০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে।
সম্প্রতি টেলিফোনে আরেক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বিয়ে করেছেন আমিনা বেগম। তার গ্রামে এভাবে বিয়ে বৈধতা দিয়েছেন বড়রা। এখন মালয়েশিয়ায় সেই স্বামীর কাছে যেতে চান আমিনা। এ জন্য তিনি দালালদের অর্থ দিয়েছেন।
আমিনা বেগমের মতো শারমিন খাতুনও মালয়েশিয়ায় তার স্বজনদের সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস করতে যেতে চান। তিনিও পাচারকারীদের খপ্পরে পড়েছেন। উপকূলের কাছ থেকে বোটে করে অন্য আরো ২০ রোহিঙ্গার সঙ্গে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় তাদেরকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বিজিবি কর্মকর্তারা বলেছেন, দালালরা আমিনা ও শারমিনের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভুলপথে পরিচালিত করছে। ২০১৫ সালে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার সীমান্তে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশীদের গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর মালয়েশিয়াগামী সব পাচারের রুট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আইন প্রয়োগকারীরা বলছেন, তা সত্ত্বেও পাচারকারীরা অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের পাচার করতে অর্থ নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
তবে পাচার বিরোধী সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, বঙ্গোপসাগরে যেসব রুট ২০১০ সালের দিকে সক্রিয় ছিল তা আবার ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। কারণ, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার বাসনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
আরাকান প্রজেক্ট নামের নজরদারিকারী গ্রুপের পরিচালক ক্রিস লিওয়া বলেছেন, অনেক শরণার্থী অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা ও আশাহত বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরগুলোতে। এর ফলে তারা এসব শিবির ছাড়তে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তারা মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী আত্মীয়স্বজনদের কাছে যেতে চান। এক্ষেত্রে বোটে করে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো উপায় নেই। যদিও এক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা নজরদারি করে যাচ্ছে।
মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নৃশংস নির্যাতনের পর ১৮ মাস বা দেড় বছর হয়ে গেছে। এর মধ্যে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন কমপক্ষে ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা। এর ফলে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যটন স্পট কক্সবাজার পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির।
সম্প্রতি পুলিশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা বলছে, বিদেশে কাজের অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং উন্নত জীবনের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য পাচারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওদিকে ১৫ই নভেম্বর প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা ছিল রোহিঙ্গাদের। বলা হয়, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে প্রস্তুত। রোহিঙ্গাদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। রোহিঙ্গারা দাবি তুলেছে, তাদের নাগরিকত্ব ও চলাচলের স্বাধীনতা সহ মৌলিক অধিকারগুলোর পূর্ণাঙ্গ নিশ্চয়তা দিতে হবে। তারপরেই তারা ফিরে যাবে মিয়ানমারে।
শুক্রবার ৩৫ জন মানুষকে মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য পারলিসের উপকূলে আটকে পড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে তারা রোহিঙ্গা মুসলিম। এর ফলে কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, আবার সমুদ্রপথে ভয়াবহ উপায়ে মানুষ পাচার শুরু হয়েছে। ওই ৩৫ জনের ভিতরে রয়েছে ৯টি শিশু।
পারলিসের পুলিশ প্রধান নূর মুশার মোহাম্মদ বলেছেন, আমাদের মনে হয় এসব মানুষকে সমুদ্রের ভিতরে মাছ ধরা নৌকা থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে ভোর রাতে, যাতে তারা ভাটার সময় তীরে পৌঁছাতে পারেন। তবে এসব মানুষ কি মিয়ানমারের নাকি বাংলাদেশের তা নিশ্চিত করতে পারেন নি কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের রেকর্ড অনুযায়ী, এ বছর কক্সবাজার থেকে পাচার করার সময় কমপক্ষে ১০০ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিকী বলেছেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা যুক্ত এমন মানব পাচারের ৬৩টি মামলার শুনানি করেছে মোবাইল কোর্ট। কয়েক হাজার মানুষকে শিবির ছেড়ে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে।
একজন মুখপাত্র বলেছেন, সংকট শুরুর পর থেকে কক্সবাজারে কমপক্ষে ২১৭ জন পাচারের শিকার ব্যক্তিকে সনাক্ত করে তাদেরকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক এজেন্সি আইওএম। আইওএমের বাংলাদেশের প্রতিনিধি ফিওনা ম্যাকগ্রেগর বলেছেন, সত্যিকার অর্থে যে পরিমাণ রোহিঙ্গা পাচারের শিকার হচ্ছেন আমরা মনে করি এ সংখ্যা তার অংশ বিশেষ।
বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা বলছে, সামনেই বর্ষা মৌসুম। এপ্রিল মাস থেকে শুরু এ মৌসুমের। এ মৌসুমকে সামনে রেখে পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের ফিল্ড অফিসার ওমর সাদেক বলেছেন, বর্তমানে সমুদ্র শান্ত। এ জন্য পাচারকারীরা উৎসাহী হয়ে উঠেছে।
তবে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারীরা মনে করেন, অনেক পাচারকারীই রোহিঙ্গাদেরকে মালয়েশিয়া নিয়ে যেতে সক্ষম হবে না। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রতারণা করে দালালরা। তারা অর্থ নিয়ে আলাদা বোটে চলে যায়।
এ অবস্থায় আশ্রয় শিবিরের পরিবেশ ও অবস্থা উন্নত করার চেষ্টা করছে কর্মকর্তারা। সরকারও পাচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে ভাল নজরদারি করার জন্য ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

শেরি রেহমানের প্রশ্নঃ রাতারাতি কিভাবে পাইলটকে মুক্তির সিদ্ধান্ত হলো?

ভারতের পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে তাড়াহুড়ো করে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। তারা জানতে চেয়েছে, এ নিয়ে পর্দার আড়ালে কোনো সমঝোতায় গেছে কিনা পাকিস্তান সরকার। শুক্রবার পাকিস্তানের সিনেটে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা নিয়ে আলোচনায় এসব প্রশ্ন তোলেন পিপিপির পার্লামেন্টারি নেতা শেরি রেহমান। অভিনন্দনকে মুক্তি দেয়ার পর ভারতের পক্ষ থেকে কি প্রতিক্রিয়া বা বার্তা আসছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, এখন দেখতে হবে অন্যপক্ষ থেকে কি বার্তা আসে। ভারত কি আলোচনার জন্য রাজি হয়েছে? এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের অনলাইন ডন।
শেরি রেহমান আরো বলেন, ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেয়ার বিরোধী তিনি নন। তবে তিনি জানতে চান, এর বিনিময়ে পাকিস্তান ভারতের কাছে কি চেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে, এর বিনিময়ে ভারত কোনোই ছাড় দেয় নি।
ফলে (ওই পাইলটকে মুক্তি দেয়ার বিনিময়ে) আমরা যদি কিছুই না চেয়ে থাকি, তাহলে তা হবে একটি অপরিপক্ব কূটনীতি। শেরি রেহমান আরো বলেন, পাকিস্তানের আকাশসীমা দু’বার লঙ্ঘন করেছে ভারত। এটা এক রকম আগ্রাসী কর্মকা-।
শেরি রেহমান আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হলো ভারতের একটি মিত্র। তারা চায় পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। এক্ষেত্রে পাকিস্তান তার উচ্চ নৈতিকতা প্রদর্শন করেছে। কিন্তু ভারতীয় মিডিয়া দৃশ্যত শিশুসুলভ আচরণ করছে। পাইলট অভিনন্দনকে মুক্তি দেয়ায় ভারত যে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা যথার্থ নয়। ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বার বার ফোন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। কিন্তু তিনি তাতে সাড়া দেন নি’। শেরি রেহমান প্রশ্ন রাখেন, কিভাবে রাতারাতি ওই পাইলটকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো? এমন শুভেচ্ছার বিনিময় হিসেবে ভারত কি সাড়া দিয়েছে? ভারতের উচিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর ফোনের অন্তত জবাব দেয়া।
সিনেটের এই বিতর্কে অংশ নেন সিনেটের সাবেক চেয়ারম্যান মিয়া রাজা রাব্বানি। তিনি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যাতে বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তুঙ্গু উত্তেজনায় ভূমিকা রাখছে ইসরাইল। তিনি বলেন, ভারতের সামরিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার প্রচারণার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র চাইছে এ অঞ্চলে চীনকে দমিয়ে রাখতে ভারতকে প্রহরী হিসেবে দাঁড় করাতে। মিয়া রাজা রাব্বানি আরো বলেন, পালওয়ামা হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটা সত্য যে, এই উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী প্রচারণা। এ ছাড়া আরো অনেক ফ্যাক্টর রয়েছে।
এসব ফ্যাক্টর সম্পর্কে তিনি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্স অ্যান্ড এনালাইসিস উইং (র)। এই সংস্থাটি পাকিস্তানের ভিতরে সন্ত্রাসে সহযোগিতা দিচ্ছে, সাহায্য করছে। এরপরে আসে ভারতের নিয়ন্ত্রণ রেখা লঙ্ঘনের ঘটনা। এরপরই ভারত সার্ক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। তারা বলে, সন্ত্রাসের ছায়া যেখানে আছে সেখানে তারা যেতে পারে না।
রাজা রাব্বানি আরো বলেন, ভারত প্রচার করে যে পাকিস্তান হলো সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্য। তারা কথা বলে ইন্দুস পানি বন্টন চুক্তি লঙ্ঘন নিয়ে। তারা চেষ্টা করছে পাকিস্তানকে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের কালো তালিকায় নিতে। তার পরেই ভারত বলে, তারা শুধু সন্ত্রাস নিয়ে আলোচনা করবে। কাশ্মির ইস্যুতে নয়।

কি চমক দেখাবে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ইশাল

বৃটেনে বিস্ময় সৃষ্টি করছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মাত্র ১২ বছর বয়সী ইশাল মাহমুদ। সেখানে টিভি শো ‘চাইল্ড জিনিয়াসে’ যে পাঁচজন প্রতিযোগী রয়েছে চূড়ান্ত পর্বে তার মধ্যে ইশাল অন্যতম। বাংলাদেশী ফরহাদ মাহমুদ (৪০) ও মা মমতাজের (৩৬) মেয়ে সে। তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সফলতার শিখরে নিয়ে গেছেন মামা এমরান হোসেন। ফলে টেলিভিশনে যখনই দেখানো হয় ইশাল মাহমুদকে তখনই কোটি মানুষ বিস্ময়ের চোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।
এত্তটুকুন মেয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে একের পর এক উত্তর দিয়ে যায়। যেমন তার বুদ্ধিমত্তা, তেমন চিন্তাশক্তি। আছে বিশাল ব্যতিক্রমী বুদ্ধি।
সব মিলিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছে ইশাল। শনিবার দিবাগত রাতে ওই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব হওয়ার কথা। সেখানেই বাছাই হওয়ার কথা বৃটেনের সবচেয়ে ব্রাইট শিশু। তাই তাকে নিয়ে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল বিশাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে ইশাল এতটা পথ পাড়ি দিয়েছে। ইশাল বলেছে, সে অক্সফোর্ড অথবা কেমব্রিজে গণিত পড়ার পরে একজন জ্যোতির্বিদ হবে। তার পিতা একজন ট্যাক্সিচালক। সপ্তাহে ৮০ ঘন্টা কাজে থাকেন। মা মমতাজ জাতীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রকল্পে কাজ করেন। কিন্তু ইশালকে গড়ে তোলার কাজে মন দেন তার মামা এমরান হোসেন। ইশালের সামান্য অবসর সময় পেলেই তার মধ্যে তথ্য ঢুকাতে থাকেন তিনি। এমরান অক্সফোর্ডের গ্রাজুয়েট। তার কোনো ছেলেমেয়ে নেই। তাই তিনি প্রতিটি মুহূর্ত ভাগ্নি ইশালকে গড়ে তোলার কাজ করেন। স্কাইপ মাধ্যমে, সকালে নাস্তা খাওয়ার সময়, সব সময়ই তিনি লেগে থাকেন। তাকে দিয়ে টেলিভিশনে খবর দেখানো হয়। এমপিদের কাছে চিঠি লেখানো হয়। লেখানো হয় উপন্যাস।
ইশাল শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যেই থাকে নি। সে শিখেছে মেধা, শক্তি সহ সব পর্যায়ের জ্ঞান। বাজাতে পারে অর্গান। জুনিয়র স্কুলে পড়াকালে সে পোর্টসমাউথ ক্যাথেড্রালে প্রার্থনাসঙ্গীতে অংশ নিয়েছে। সম্ভবত বিশ্বে এমন প্রার্থনা সঙ্গীতে সেই একমাত্র অর্গানিস্ট এবং রয়েল স্কুল অব চার্চ মিউজিকের একজন সদস্য। অর্গান বাজানো বেছে নিয়েছে সে।
তাকে সহযোগিতা করেছেন যে মামা এমরান হোসেন তিনিও কম মেধাবী নন। তিনি নিজেও ছিলেন চাইল্ড জিনিয়াস। তার সংগ্রহে রয়েছে ২৬টি জিসিএসই। সবগুলোতে শীর্ষ গ্রেড পেয়েছেন। পূর্ব লন্ডনের একটি অবহেলিত এলাকা থেকে তিনি এ সফলতা অর্জন করেছিলেন। তার বোন মমতা বলেন, এরপরই এমরান ইটনে সুযোগ পায়। কিন্তু বাবা তাকে আমাদের বাসা ছেড়ে যেতে দিলেন না। ফলে সে আমাদের সঙ্গেই রয়ে গেছে। সরকারি স্কুলের শিক্ষা মিস করেছেন এমরান। কিন্তু তিনি এখনও অক্সফোর্ডে মেডিসিন পড়ার জন্য একটি বৃত্তি ধরে রেখেছেন। আর কাজ করছেন একটি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক পরামর্শ কেন্দ্রে।
ইশালের পিতা ফরহাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশেই। পূর্ব লন্ডনে আট ভাইবোনের সঙ্গে বড় হয়েছেন মমতাজ। তার সঙ্গে ফরহাদের বিয়ে ঠিক হয়। সেই সূত্রে তিনি বৃটেনে যান। ওই সময় মমতাজের বয়স ছিল ১৮ বছর। তাদের বিয়ের পর জন্ম হয় ইশাল ও তার ভাই জিশান (১১)-এর।

যেমন করে বিয়ে হয়েছিল আইএসের শামীমার

আইএস ব্রাইড বলে পরিচিত শামীমা বেগমকে নিয়ে নিজের দেশ হল্যান্ডে যেতে চান তার ডাচ স্বামী ইয়গো রিডিজক। শামীমা ও তার নবজাতক জেরাহর নাগরিকত্ব নিয়ে বৃটেন সহ বাংলাদেশে যখন চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে তখন মুখ খুললেন রিডিজক। শামীমার বৃটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ। ইঙ্গিত করা হয়েছে, দ্বৈত নাগরিকত্বের অধীনে শামীমাকে বাংলাদেশে আশ্রয় চাইতে বলা হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে, শামীমাকে আশ্রয় দেয়ার প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের আহমেদ আলীর মেয়ে শামীমা।
আহমেদ আলী অনেক আগে পূর্ব লন্ডনে বসতি গড়েছেন। শামীমা সেখান থেকে মাত্র ১৫ বছর বয়সে পালিয়ে প্রথমে তুরস্কে যান। তারপর সীমান্ত পেরিয়ে চলে যান সিরিয়া।
উদ্দেশ্য জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসে যোগ দেয়া। ঠিকই সেখানে পৌঁছার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে তিনি বিয়ে করেন ডাচ নাগরিক রিডিজককে। এরপর তার দুটি সন্তান হয়। তারা মারা যায়। ফেব্রুয়ারির শেষে এসে তার তৃতীয় সন্তানের জন্ম হয়।
রিডিজক বিবিসির কাছে আইএসে যোগ দিয়ে যুদ্ধ করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে বলেছেন, তিনি এখন তার স্ত্রী শামীমা ও নবজাতক সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরতে চান। বর্তমানে তিনি সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত একটি বন্দিশিবিরে আটক আছেন। তিনি যদি নেদারল্যান্ডে ফিরে যান তাহলে সেখানকার আইন অনুযায়ী সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দেয়ার কারণে তার ৬ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।
বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রতিনিধি কুইন্টিন সমারভিলে তার সাক্ষাতকার নিয়েছেন। এতে রিডিজক বলেছেন, তিনি আইএসকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওই গ্রুপ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন। তার দাবি, রাকায় তাকে আটক রাখা হয়েছিল। তিনি একজন ডাচ গোয়েন্দা এমনটা ভেবে কট্টরপন্থিরা তার ওপর নির্যাতন করেছে বলেও জানান তিনি।
শামীমা বেগমের বয়স এখন ১৯ বছর। সিরিয়ার বাঘোজ শহরে আইএসের পতন হলে সেখান থেকে রিডিজককে সঙ্গে নিয়ে তিনি পালিয়ে যান। এক পর্যায়ে সিরিয়ান যোদ্ধাদের একটি গ্রুপের কাছে আত্মসমর্পণ করেন রিডিজক। আর শামীমা আশ্রয় নেন আল হাওল শরণার্থী শিবিরে। সেখানে ৩৯ হাজার মানুষের মাঝে আশ্রয় শিবিরে জন্ম হয় তার সন্তান জেরাহর। সেখান থেকে ছেলেকে নিয়ে শামীমা পালিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে বৃটিশ মিডিয়া।
শামীমাকে যখন রিডিজক বিয়ে করেন তখন শামীমার বয়স ১৫ বছর। রিডিজকের বয়স ২৩ বছর। ওই বয়সে শামীমাকে বিয়ে করে কোনো ভুল করেন নি বলে দাবি রিডিজকের। তিনি বলেছেন, বিয়ের বিষয়টি ছিল শামীমার পছন্দ।
রাকায় নারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন পূর্বলন্ডনের স্কুল পড়–য়া শামীমা। তার সঙ্গে কিভাবে সাক্ষাত হয়েছিল সে বিষয়ে রিডিজক বলেছেন, প্রথমে তিনি শামীমার প্রতি আগ্রহী ছিলেন না।
কারণ, শামীমা তখনও অনেক কম বয়সী। রিডিজকের ভাষায়, সততার সঙ্গে বলছি, যখন আমার এক বন্ধু এসে আমাকে বললো যে, একটি মেয়ে এসেছে। সে বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু আমি আগ্রহ দেখাই নি তার বয়সের কারণে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে করেই হোক আমি মেনে নিলাম। শামীমাকে তখন সুস্থ মানসিকতার মেয়ে বলে মনে হয়েছিল। বিয়ের বিষয়টি তার একান্তই নিজস্ব পছন্দ। সে তার জন্য একজন পার্টনার খুঁজতে বলেছিল। আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
রিডিজক স্বীকার করেন, শামীমার বয়স কম হওয়ার কারণে তার আরও অপেক্ষা করা উচিত ছিল। কিন্তু সে তা করে নি। সে বিয়ে করাটাকেই বেছে নিয়েছে। আমিও তাকে বিয়ে করেছি।

২৫,০০০ অবৈধ গুদাম কারখানা পুরান ঢাকায়: অভিযানে বাধা, মেয়র বললেন ছাড় নয়

ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ কেমিক্যাল কারখানা ও গুদামে রাজধানীর পুরান ঢাকা যেন এক গুপ্ত নরকুণ্ড। নিমতলী ও চুড়িহাট্টা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে অবৈধ এসব কারখানা-গুদাম কতোটা সর্বনাশা রূপ নিতে পারে মুহূর্তে। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বলছে অন্তত ২৫ হাজার অবৈধ কারখানা ও গুদাম রয়েছে পুরান ঢাকায়। যেখানে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ও দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা হয়। যা  যে কোনো মুহূর্তে বিপদের কারণ হতে পারে।
সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মোট ৯৪৪টি কেমিক্যাল কারখানা রয়েছে যার মধ্যে ৭৭ টি বৈধ। নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর ২০১৩ সাল থেকে এসব কারখানার কোনো নবায়ন করেনি সিটি করপোরেশন। ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ এসব কারখানা পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। আর অন্যদিকে পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বলছে, পুরান ঢাকায় প্রায় ২৫ হাজার স্থাপনা রয়েছে।
এসব স্থাপনায় কেমিক্যাল, প্লাস্টিক কারখানা, গুদাম ও অন্যান্য বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ ভরপুর রয়েছে।
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব দাহ্য পদার্থের কারখানা গত নয়বছর ধরে নানা উদ্যোগ নিয়েও সরানো সম্ভব হয়নি। চুড়িহাট্টার ভয়াল অগ্নিকাণ্ডের পর বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করে অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল মতিন মানবজমিনকে বলেন,  নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে আমরা নানাভাবে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো অগ্রগতি নেই। কাজ করবে সরকার তারা যদি না করে তাহলে আমাদের কী করার আছে। গত ক’বছর ধরে সরকার শুধু পরিকল্পনাই করছে আর বলছে এটা করবে ওটা করবে। বাস্তবে কিছুই করেনি। তিনি বলেন, পুরান ঢাকার কারখানার মালিকরা অন্যত্র যেতে চান না। না যাওয়ার পেছনে হয়তো অনেক কারণ থাকতে পারে। তারা সরকারের সঙ্গে লবিং করে সময় বিলম্ব করেছেন। ফলে আরো একটি দুর্ঘটনা ঘটল। আইন ও সরকারের নিয়মনীতির প্রয়োগ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খারাপ মানুষ খারাপ কাজ করবেই। তবে আইনের মাধ্যমে তাদেরকে একটা সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
গতকাল পুরান ঢাকার চকবাজারের জয়নাগ রোডে প্লাস্টিক কারখানায় অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার সম্মুখিন হতে হয়েছে টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যদেরকে। ওই রোডের একটি বাসায় টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা কেমিক্যালের গোডাউন খুঁজে পান। তখন ওই ভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়। এ সময় ব্যবসায়ীরা জড়ো হয়ে বাধা প্রদান করে। এতে করে টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা তোপের মুখে পড়ে অভিযান স্থগিত করে মেয়রকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি এসে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মিটমাট করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, কেমিক্যাল কারখানায় অভিযান নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়ানো হয়েছিল। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছে, অনুুধাবন করেছেন। এখন তারা আমাদেরকে সহযোগিতা করছেন। যে ভুল বোঝাবুঝি বা বিভ্রান্তি ছিল সেটা এখন আর নাই।
মেয়র বলেন, মানুষের জান মালের নিরাপত্তার জন্য আমরা কেমিক্যাল কারখানাগুলো অন্যত্র সরাতে চাচ্ছি। কিন্তু এক শ্রেণির লোক এটাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে ব্যবসায়ীদের ভুল বুঝানোর চেষ্টা করেছিল। প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেয়া হবে বলেও গুজব ছড়িয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমরা যেসব ভবনে কেমিক্যালের অস্তিত্ব পাচ্ছি সেসব বাসাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে ধরে নিচ্ছি। যদি কোনো কারণে এসব ভবনে বিস্ফোরণ হয়  সেজন্য নিরাপত্তার স্বার্থেই বিদ্যুৎ, গ্যাস পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছি। যাতে করে আশপাশের এলাকায় আগুন না ছড়ায়। মেয়র বলেন, আমাদের অভিযান চলবে। পুরান ঢাকাকে ঝুঁকিমুক্ত করার জন্যই আমাদের এ অভিযান। আমরা চাই না আরেকটি নিমতলী বা চুড়িহাট্টার মতো ঘটনা।
বাংলাদেশ প্লাস্টিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মানবজমিনকে বলেন, চুড়িহাট্টায় প্রথমে সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে পরে পারফিউম কেমিক্যাল থেকে ছড়িয়ে পড়ে। দায়টা কেমিক্যালের ওপর দিয়ে যায়। কিন্তু আমাদের প্লাস্টিক কারখানার সঙ্গে আগুনের কোনো সম্পর্ক নেই। প্লাস্টিক কারাখানায় আগুন লাগলেও সেটা ছড়াবে না। তারপরও আমাদেরকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। মেয়রের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি আমাদেরকে বলেছেন, শুধুমাত্র কেমিক্যালের ফ্যাক্টরি ও গুদাম যেসব ভবনে আছে সেসব ভবনের ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হবে। কোনো বাড়ির ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধ করা হবে না। তিনি বলেন, প্লাস্টিক ব্যবসায়ীদের ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোন রয়েছে। এই ব্যবসার সঙ্গে একহাজার ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জড়িত। মালামাল ও কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য আমাদেরকে সময় ও স্থান দেয়া হোক।
পুরান ঢাকার কেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও দাহ্য পদার্থের কারখানা অপসারণে টাস্কফোর্সের অভিযান শুরু হয়েছে গত বৃস্পতিবার থেকে। প্রথম দিনের অভিযানে  ২৪ নং ওয়ার্ডসহ শহীদ নগর ও  ২৯ নং ওয়ার্ড ও ইসলামবাগ এলাকার ২১টি বাড়িতে কেমিক্যাল ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। গতকাল দ্বিতীয় দিনে টাস্কফোর্সের একটি টিম শহীদ নগর ও বউবাজারের আটটি কারখানার কেমিক্যালের উপস্থিতি পেয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অভিযানের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুবর্ণা শিরিন বলেন, আমরা শহীদ নগর ও বউবাজার এলাকায় ঘুরে আটটি কারখানার ইউটিলিটি সার্ভিস বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি। এসব কারখানায় অতি দাহ্য পদার্থ ছিল।
এদিকে গতকাল সরজমিন রাজধানীর চকবাজার, আরমানিটোলা, নিমতলী, হাজী আজগর লেন, জয়নাগ রোড, মৌলভীবাজার, রহমতগঞ্জ, মিটফোর্ড, মাজেদ সরদার রোড ঘুরে দেখা গেছে এসব এলাকার বেশির ভাগ বাড়িতেই কেমিক্যালের দোকান ও গুদাম রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এসব কারখানা ও গুদামে সোডিয়াম অ্যানহাইড্রোস, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, থিনার, গ্লিসারিন, সোডিয়াম থায়োসালফেটসহ আরো অনেক ভয়ঙ্কর দাহ্য পদার্থ রয়েছে। শুধুমাত্র একটু আগুনের ছোঁয়া পেলেই এসব দাহ্য পদার্থ থেকে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, হাজারীবাগ, শ্যামপুর, লালবাগ কামরাঙ্গীরচর, চকবাজার, বংশাল এলাকায় সবচেয়ে বেশি কেমিক্যালের কারখানা। এছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে মতিঝিল, পল্টন, নিউমার্কেট, তেজগাঁও, মিরপুর, উত্তরা, পল্লবী, কাফরুল, শাহ্‌ আলী থানা এলাকায় দাহ্য পদার্থের গোডাউন রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র বলছে, তাদের হিসাবে ৮৬৭টি অবৈধ কেমিক্যাল গুদামের মধ্যে ৩৭১টির অবস্থান পুরান ঢাকার সূত্রাপুর ও কোতোয়ালি থানায়। তেজগাঁও, গুলশান ও বনানী এলাকায় রয়েছে ৬৮টি, কামরাঙ্গীরচরে ৮৭টি ও রমনা থানা এলাকায় ৬৬টি।

উন্নয়ন পরিকল্পনায় মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বানঃ আইইবি’র কনভেনশন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হতে প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে জলবায়ু,  ভৌগলিক অবস্থান, আমাদের মাটি-পানি সব কিছুর কথা  ভেবে সব পরিকল্পনা নিতে হবে। খুব মিতব্যয়ী হয়ে, স্বল্প খরচে সর্বোচ্চ উন্নতি যাতে করা যায় সেই কথা সব সময় চিন্তা করতে হবে। গতকাল বিকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) এর ৫৯তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের  দেশের মাটি অত্যন্ত নরম মাটি। আমাদের দেশে একটি রাস্তা তৈরি করতে গেলে, একটি স্থাপনা তৈরি করতে  গেলে- অন্য দেশে যেখানে হয়তো মাটি শক্ত, তাদের যে খরচ হয় আমাদের অনেক বেশি খরচ হয়।
গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণার মধ্যে দিয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে আমাদের দেশের মাটি, মানুষ, জলবায়ু, আবহাওয়া সব কিছুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে আমরা উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করতে পারি সে বিষয়ে আমাদের নিজেদেরই কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে গবেষণা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা নতুন দরজা আমাদের সামনে খুলে দিতে পারে। আমাদের অনেক ক্ষেত্রে নিজেরা কাজ করতে পারছি।
উদ্ভাবনী শক্তি বাড়ছে। কাজেই গবেষণাটা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই আমরা কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করি এটা মাথায় রাখতে হবে যে আমাদের ভূ-খণ্ড খুব সীমিত। লোক সংখ্যা বিশাল। সীমিত ভূমিতে ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবে, পুষ্টি নিরাপত্তা দিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবনমানও উন্নত করতে হবে। এগিয়ে চলা বিশ্ব প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ কিভাবে আরো উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে পারে সেই উপায় উদ্ভাবনে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুরসহ জলাধারগুলো রক্ষা করার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, মহাসড়কগুলোতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার পাশে জলাধার থাকা প্রয়োজন। বৃষ্টির পানি যেন জমে না থাকে আবার সেখানে মাছও চাষ হতে পারে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আইইবির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, আইইবির ঢাকা সেন্টারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ওয়ালিউল্লাহ সিকদার।
প্রতিটি মহাসড়কের পাশে আলাদা সার্ভিস রোড করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার নির্দেশ ছিল, এটা আমরা করতে শুরু করেছি। মহাসড়ক হবে তার পাশে আলাদাভাবে সার্ভিস রোড করা। যাতে স্থানীয় যোগাযোগ ও স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা রাস্তা করে দেয়া। তাতে দুর্ঘটনাও কমবে, যাতায়াতও দ্রুত হবে। স্থানীয় মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে। যততত্র সড়ক না করে পরিকল্পিতভাবে করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সারা দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার আরো উন্নয়নে মহাসড়কের উন্নয়ন, সারা দেশে রেল নেটওয়ার্ক নিয়ে যেতে সরকারের উদ্যোগ, বুলেট ট্রেন চালুর পরিকল্পনা, নৌপথগুলোকে সচল করতে ড্রেজিংসহ বিভিন্ন উদ্যোগসহ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন সারাবিশ্বে দৃশ্যমান। তবে অনেকেই বিস্মৃত হয়ে থাকেন যে এত অল্প সময়ে কীভাবে আমরা বাংলাদেশকে এতটা উন্নত করতে পারলাম। এক্ষেত্রে আমার বক্তব্য একটাই ছিল- এর জন্য কোনোকিছু লাগে না। একটা জিনিসেই আমরা মনে করি যে একটা রাজনৈতিক কমিটমেন্ট থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস ও তাদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের জীবনমান উন্নত করার যে পরিকল্পনা বিশেষ করে মানুষের কাছে দেয়া আমাদের ওয়াদা রক্ষা করা- সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি।