Friday, May 31, 2013

শাপলা চত্ত্বরের শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে দিব নাঃ আল্লামা শফী by আবু তালেব

যেভাবে সারা দেশের মানুষ আল্লাহর দ্বীনের ইজ্জত রাক্ষার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, শহীদ হয়েছেন, আঘাত পেয়েছেন, আল্লাহ তাআলা নিশ্চয় দেখেছেন। ঢাকার শাপলা চত্ত্বরে আইন-শৃংঙ্খলা বাহীনির হাতে এদেশের উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা দেশের জন্য শহীদ হয়েছে,

রাজশাহীতে চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ২০ এমপির দিনভর বৈঠক by জিয়াউল গনি সেলিম

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে শুক্রবার দিনভর রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন সরকারের চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ অন্তত ২০ এমপি। দুপুরে নগরীর অদূরে হরিয়ানে অবস্থিত রাজশাহী চিনিকলে রাজশাহী বিভাগীয় আওয়ামী লীগের যৌথসভার ব্যানারে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আইন লঙ্ঘন করে প্রচারণা: তামাক কোম্পানিগুলোর শাস্তি দাবি

তরুণ প্রজন্মকে মরণঘাতী নেশা থেকে দূরে রাখতে তামাক কোম্পানিগুলোর প্রতারণামূলক প্রচারণা বন্ধ ও তাদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন দেশের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবিদগণ। শুক্রবার বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত গোলটেবিল সভায় বক্তারা উপরোক্ত দাবি জানান।

বিএনপির আটক এমপিদের মুক্তি দেওয়া উচিত: নাসিম

আটক থাকা বিএনপির সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অভিযোগ না থাকলে তাদের মুক্তি দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

প্রসঙ্গ তারেক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলো বিএনপি

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান কখন কোথায় কি মুচলেকা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের কাছে তার ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি। শুক্রবার সন্ধ্যায় দলের এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ব্যাখ‍া দাবি করেন।

খোঁড়াখুঁড়ি, নগরজুড়ে দুর্ভোগ by উৎপল রায়

বর্ষার শুরুতে নগরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি। জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগ। এটি যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছরই বর্ষার শুরুতে এমন চিত্র দেখা যায় রাজধানীতে। সর্বশেষ কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাজধানীতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মূলেও অনেকটা দায়ী ছিল এমন খোঁড়াখুঁড়ি।

যা ভাবছে হেফাজত by আহমেদ জামাল ও মহিউদ্দিন জুয়েল

৫ই মের ক্র্যাকডাউনের পর থেকেই নীরব আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। ওই ঘটনার পর থেকে বক্তব্য-বিবৃতি ছাড়া কোন কর্মসূচি দেয়নি সংগঠনটি। ৬ই এপ্রিল ঢাকায় লংমার্চ পরবর্তী সমাবেশে ব্যাপক সমাগমের পর আলোচনায় আসে এই সংগঠনটি।

কেমন আছেন বাবুনগরী by নূরুজ্জামান

বারডেম হাসপাতালের আইসিইউতেই চিকিৎসাধীন আছেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী। তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

মহাজোট যেন কাগুজে! by মহিউদ্দিন মাহমুদ

কাগজ-কলমে সীমিত হয়ে পড়েছে মহাজোটের কার্যক্রম। সরকারের শরিক হয়ে থাকলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ও  জোটগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মহাজোটে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) এখন অদৃশ্যই বলা চলে।

সিটি নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করছে বিএনপি-জামায়াত: ১৪ দল

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য বিএনপি জামায়াত ধর্মকে ব্যবহার করেছ বলে অভিযোগ করেছে ১৪ দল। আজ বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ১৪ দল নেতারা।

তামাকের রাস্তায় আমাদের নারী by মোমিন মেহেদী

৩১ মে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস,তবে দিবসটি পালিত হবে ১১ জুন। তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিশ্বের ১৭৬টি  দেশে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হবে। অন্যসব দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপিত হবে। তবে তামাকমুক্ত দিবস শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বাংলাদেশে ১১ জুন এই দিবস উদযাপন করা হবে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হলো 'তামাকের সব বিজ্ঞাপন ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ।

তামাক হলো মাদকের প্রথম স্তর। আমরা দেখি যে, সিগারেট অথবা বিড়ি দিয়ে মাদকদ্রব্যের সাথে পরিচিতি ঘটে মানুষের। এরপর ধারাবাহিকভাবে গাঁজা, ফেন্সিডিল, ইয়াবা, মদ, হেরোইন, প্যাথোডিন, মরফিনসহ বিভিন্ন স্তরের মাদকে আশক্ত হয় আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এক্ষেত্রে সবার আগে সবচেয়ে যে বিষয়টি ক্ষতি বেশি করে, সে বিষয়টি হলো- পরিবারের বাবা, বড় ভাই, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক, ছাত্র রাজনীতির নেতা বা বখাটে অগ্রজ, পাড়া বা মহল্লায় এলাকার মুরুব্বীদের তামাকদ্রব্য ব্যবহার। তারা যখন ৮ থেকে ১৮ বা ২০ বছর বয়সী একজন নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধির সামনে নির্বিঘে ধুমপান করেন, তখন নতুন প্রজন্মের ঐ প্রতিনিধি ভাবে যে, আমার বাবা, বড় ভাই, শিক্ষক বা মুরুব্বীরা যেহেতু ধুমপান করছে, আমিও একটু দেখিতো কেমন এর স্বাদ।
খেলে কি হয়? আর সেই যে স্বাদ নেয়ার জন্য শুরু হয়; আর থামে না মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত। এক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন প্রচারও একটা বড় ক্ষতির দিক বলে মনে করি আমি। পাশাপাশি সরকারের উদাসিনতাতো রয়েছেই। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, একটা বিল পাশ করে। তারপর সেই পাশ করা বিল সংশ্লিষ্ট আইনগুলো পরবর্তী সরকার এসে বাতিল করে।
বিশেষ করে বললে বলা যায় ‘প্রকাশ্যে ধুমপান করলে জরিমানা’ আদায়ের কথাই। এই আইন চালু হওয়ার পর দেশে প্রকাশ্যে ধুমপান কমেছিলো। কিন্তু পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার এসে সেই আইনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। যে কারনে বেড়ে যায় ধুমপান, মদপানসহ বিভিন্ন নেশাদ্রব্য প্রকাশে সেবনের রীতি।
এভাবে বাংলাদেশকে কোন সরকার খেলার পুতুল হিসেবে ব্যবহার করবে বলে দেশ স্বাধীন করেনি বাংলার দামাল ছেলেরা। তারা চেয়েছিলেন নতুন করে দেশ গড়তে। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো সেই দেশ গড়ার প্রতি লক্ষ্য না দিয়ে নিজেদের আখেড় গোছানোর জন্য নিবেদিত থাকেন সবসময়।
এমতবস্থায় আমাদেরকে, সাধারন মানুষদেরকে কষ্ট করে হলেও কাজ করতে হবে। কেননা, সবার আগে দেশ । দেশের জন্য নিবেদিত থাকলে তামাকমুক্তই শুধু নয়; দেশ হবে মাদকমুক্ত, ধর্ষণমুক্ত, খুনমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত। কেননা, একটি জরিপে দেখা গেছে যে, মাদক-ই হলো সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের উৎস।
বলা হয়ে থাকে যেখানে উন্নত বিশ্বে তামাক সেবনকারীদের সংখ্যা দিন দিন কমছে, সেখানে বাংলাদেশে এই সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে।
কারন হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতি-অর্থনীতি ও সমাজনীতি নিয়ে এগিয়ে চলার সূত্র ধরে আমার কাছে যে বিষয়টি বারবার ধরা পড়েছে, সে বিষয়টি হলো- তামাকজাতদ্রব্য থেকে শুরু করে প্রায় সকল মাদকদ্রব্যই বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে সুলভে পাওয়া যায় আমাদের এই বাংলাদেশে। সুলভে তামাকদ্রব্য-মাদকদ্রব্য এজন্য পাওয়া যায় যে, আমাদের রাজস্বখাতে তামাক ও মাদকদ্রব্যের ভ্যাট সবচেয়ে কম।  যে কারনে নতুন করে যখন গবেষণা করা হয়, তখন গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সারভে (গ্যাটস) ২০০৯-এ প্রাপ্ত তথ্যমতে, বাংলাদেশে ১৫ বছরের বেশি বয়স্ক জনগোষ্ঠী শতকরা ৪৩.৩ ভাগ লোক তামাক ব্যবহার করে।
শতকরা ২৩ ভাগ লোক ধোঁয়ামুক্ত এবং ২৭.৩ ভাগ লোক ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করে। আরো উদ্বেগের বিষয় হলো শতকরা ৬৩ ভাগ লোক কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৪ সালের এক গবেষণা মতে, তামাক ব্যবহারের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩০ বছরের বেশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫৭ হাজার মৃত্যুবরণ করে এবং ৩ লাখ ৮২ হাজার লোক পঙ্গুত্ববরণ করে। 'জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার ২০০৫ সালে প্রণীত আইনকে আরো শক্তিশালী করেছে। ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ২০১৩ আইন সংশোধন করা হয়।
বর্তমান সরকার পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য জরিমানা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করেছে। এই যে আইন করা হয়েছে, সেই আইন মানার মত লোক না সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পাওয়া যাবে, না প্রশাসনে।
যদিও তামাক নিয়ন্ত্রণে জেলা-উপজেলায় টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সিভিল সার্জন এবং জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এমন একটি সময়ে আমরা এসে উপনীত হয়েছি, যেই সময়ে আমাদের জীবনের নিরাপত্তাই সরকারের কাছে নেই। সেখানে মাদকমুক্ত করতে হলে দেশে যে শক্তিশালী প্রশাসনিক কঠোরতা তৈরি করতে হবে, তা অন্তত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শাসনামলে সম্ভব নয় বলেই আমার বিশ্বাস।
অবশ্য এক্ষেত্রে আমরা সাধারন জনতা যদি সচেতন হই, গড়ে তুলি সচেতনতার রাস্তা; সেক্ষেত্রে একটা রেজাল্ট পাওয়া যেতে পারে।  যতদূর মনে পড়ে এর আগে এক বছরের তামাকমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল জেন্ডার এবং তামাক। তখন নারীদের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। তামাক-বাজার থেকে এবং তামাক পান থেকে নারীদের বিরত রাখা ও সুরক্ষার জন্য জোর তাগিদ জানানো হয়।
তামাকের ব্যবসায়ীরা অবিরাম সন্ধান করছেন নতুন তামাক-ব্যবহারকারীদের, যাঁরা তামাক পান ও সেবন ছেড়ে দিচ্ছেন তাঁদের স্থান পূরণের জন্যই এই আগ্রাসী অনুসন্ধান। এসব তামাকসেবী অকালে মৃত্যুবরণ করতে পারেন হার্ট অ্যাটাক, ক্যানসার, স্ট্রোক, এমফিসিমা ও তামাক সেবন থেকে উদ্ভূত অনেক রোগে; অথচ ব্যবসায়ীদের বাজার সম্প্রসারণের আগ্রহ মোটেও কমেনি। নানা প্রলোভনের জাল বিস্তার করে তাঁরা বাজারকে আরও বাড়াতে চাইছেন।
তামাকশিল্পের মালিকেরা খুঁজছেন নতুন সুযোগ, তাঁদের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো নারী। কারণ, পুরুষের চেয়ে অনেক কম নারী ধূমপান করেন বা তামাক চেবান। যেখানে তামাক সেবন করে ৪০ শতাংশ পুরুষ, সেখানে নয়শতাংশ নারী তামাক সেবন করে।
বিশ্বের ১০০ কোটি তামাকসেবীর মধ্যে মাত্র ২০০ মিলিয়ন নারী। তাই তামাক-বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকদের নতুন লক্ষ্য নারী-ধূমপায়ী তৈরি করা।
আরেকটি কথা, কোনো কোনো দেশে যখন পুরুষ-ধূমপায়ীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে, সেখানে তখন বাড়ছে নারী-তামাকসেবীর সংখ্যা। বিশ্বজুড়ে তামাক সেবনের যে চিত্র, এর মধ্যে নারী-তামাকসেবীদের অবস্থান উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠছে।
১৫১টি দেশে তরুণদের মধ্যে তামাক সেবনের যে সমীক্ষণ করা হয়েছে, এর মধ্যে অর্ধেকই তরুণী। কোনো কোনো দেশে তরুণদের চেয়ে তরুণীরা বেশি ধূমপান করে।
যেমন টিনএজাররা ধূমপান শুরু করে, পূর্ণবয়স্ক হলে চেইন স্মোকারে পরিণত হয়।
প্রতিবছর তামাক ব্যবহারের জন্য পৃথিবীতে মৃত্যুবরণ করে ৫০ লাখ মানুষ। এর মধ্যে নারী ১৫ লাখ। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালে তামাক সেবনের কারণে মৃত্যুবরণ করবে ৮০ লাখ মানুষ। এর মধ্যে ২৫ লাখ নারী। এ কারণে নারীমৃত্যুর আনুমানিক তিন-চতুর্থাংশ ঘটবে নিম্ন-আয় ও মধ্য-আয়ের দেশগুলোতে। এসব অকালমৃত্যুর প্রতিটিই প্রতিরোধযোগ্য।
কোনো কোনো দেশে, অন্যদের ধূমপান, বিশেষ করে পুরুষ-ধূমপায়ীর সিগারেটের ধোঁয়া সেবন করে বেশির ভাগ নারী ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। যেমন, চীন দেশে ধূমপায়ীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, প্রায় সবাই পুরুষ-ধূমপায়ী, নারীরা এদের সিগারেটের ধোঁয়া সেবন করে পরোক্ষভাবে, অথচ চীনে তিন শতাংশের কম নারী ধূমপান করে। এই সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মোক বা অন্যের ধূমপানের জন্য ধোঁয়া সেবন করে পৃথিবীজুড়ে ছয় লাখ লোকের মৃত্যু ঘটছে, এর মধ্যে ৬৪ শতাংশ নারী।
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০১০, তামাক বাজারজাতকরণ ও তামাক সেবন নারীদের যে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে সেদিকে দৃষ্টিপাত করেছে। একই সঙ্গে যেসব নারীর সঙ্গে তাঁরা থাকেন বা বসবাস করেন, সেসব পুরুষকে নারীদের সামনে ধূমপান থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্ভাগ্যবশত বিশ্ব জনগোষ্ঠীর মাত্র নয় শতাংশ তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধের আওতায় রয়েছে। নারীরা এখন বড় ঝুঁকিতে। এখন সময় কাজ করার। নারীদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপনের জাল বিস্তারে রত তামাকের ব্যবসায়ীরা। নারীরা ক্রমেই অর্থনৈতিকভাবে সবল ও মুক্ত-স্বাধীন হচ্ছে, এতে তামাক সেবনে অর্থ ব্যয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে, এও একটি কারণ।
তামাক কোম্পানিগুলোর মূল লক্ষ্য হলো নিম্ন-আয় ও মধ্য-আয়ের দেশগুলো। সেখানে নতুন নারী-ধূমপায়ী বেশি। অনেক দেশে ‘সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মোক’ থেকে জনগণের সুরক্ষার বিধিবিধান নেই। অনেক নারী এই ক্ষতিকর দিকের কথা জানেও না। নারীদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের প্রভাবও পুরুষের চেয়ে একটু ভিন্ন। এমনও দেখা গেছে, তামাকের বিজ্ঞাপনে ধূমপান করাকে নারী মুক্তির উপায় হিসেবে উপস্থাপন করা অথবা ক্ষীণাঙ্গী থাকার উপায় হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
এ ধরনের বিজ্ঞাপন বা প্রচার অনেক সময় প্রলুব্ধ করে নারীকে। ধূমপায়ী বা তামাকসেবী নারীদের মধ্যে বন্ধ্যত্ব এবং দেরিতে সন্তানসম্ভবা হওয়ার আশঙ্কা বেশি। গর্ভধারণকালে ধূমপান করলে অকালপ্রসব, মৃতশিশু প্রসবের ঘটনা ঘটে বেশি। কমে যায় স্তনের দুধক্ষরণও। ধূমপানে নারীদের সার্ভিক্সের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে, বাড়ে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিও। অনেক তামাক-নিয়ন্ত্রণ কৌশলের মধ্যে যেসব নারী তামাকপাতা, গুল, জর্দা চেবান, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। ধূমপায়ীর মতো তাঁরাও সমভাবে ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
অতএব, বাংলাদেশের আগামীকে কালো থেকে আলোকিত করতে তৈরি হতে হবে সবাইকে। তৈরি হতে হবে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে। যারা শাহবাগ থেকে সারাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে, তারা অবশ্যই চাইলেই পারবে বাংলাদেশ থেকে তামাক এবং মাদকদ্রব্যের অবাধ ব্যবহার বন্ধের জন্য নিবেদিত থেকে সচেতনতা তৈরি করতে। এই কাজটি যদি নতুন প্রজন্ম প্রত্যয়ের রাস্তায় এগিয়ে এসে করে, তাহলে এখন যেমন যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ চলছে, ঠিক তেমন তামাক ও মাদকমুক্ত দেশ গড়ার কাজ চলবে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত।
শ্লোগান উঠবে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া/তামাক-মাদক দে তুলিয়া/ দেশ হবে নেশামুক্ত/ সমাজ হবে পেশাযুক্ত/ সবাই হবে কাজের লোক/ দেশটা নেশা মুক্ত হোক।

কাঠমিস্ত্রি থেকে মেয়র কামরান! by আহমেদ রাজু

সিলেটের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের উত্থান রূপকথার মতোই। কর্মজীবনের শুরুতে ভাগ্যান্বেষণে তিনি মধ্যপ্রাচ্য গিয়েছিলেন। মুরগির খামারে শ্রমিক ও কাঠমিস্তির কাজ করতেন।

চার সিটি নির্বাচনে ১১২ গিন্নি মাঠে by মাজেদুল নয়ন

বাংলায় বধূ শব্দের প্রতিশব্দ স্ত্রী, পত্নী, অর্ধাঙ্গিনী, দার, জায়া, গৃহিণী, গিন্নি। আর বাংলার এই বধূ আর গিন্নিরাও এবার জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আসন্ন চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে।

বিষয় পুরনো by সাজেদুল হক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সত্যিই তিনি ব্যতিক্রম। সমালোচিত-আলোচিত। তার বই নিয়েও বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ‘এ স্টাডি অব পলিটিক্যাল অ্যান্ড মিলিটারি ইন্টারভেনশন ইন বাংলাদেশ’ নামের বইটি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে আবার আলোচনায় নিয়ে এসেছে এই যা নতুন।

মা-মেয়ের এক স্বামী

মা ও মেয়ের একজনই স্বামী! তা-ও এই বাংলাদেশে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এই খবরটি এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বহুল প্রচারিত। মা’র নাম মিত্তামোনি। তিনি এখন ৫১ বছর বয়সী। তার মেয়ে ওরোলা ডালবোট।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি কথা রাখবেন?

রাজধানীতে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা কত দিন চলবে, সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে বিষয়টি আলোচিত হলেও কোনো সুপারিশ করা হয়নি। সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯ মে ঢাকা শহরে এক মাস সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকবে বলে ঘোষণা করেছেন। সংঘাত-সহিংসতা ও নাশকতা রোধ করতেই এ ধরনের ব্যবস্থা বলে জানানো হয়েছে। এক মাসের জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হলে আগামী ১৯ জুন এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কথা। কিন্তু সংসদীয় কমিটির সভার পর মনে হচ্ছে, অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এটা ঠিক যে সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলগুলোর সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে নজিরবিহীন সন্ত্রাস ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ঘোষিত কর্মসূচির সময় যেমন এ সহিংসতা ঘটেছে, তেমনি কর্মসূচির বাইরেও চোরাগোপ্তা হামলা ও সহিংসতা হয়েছে। সভা-সমাবেশ বা কর্মসূচি আহ্বানকারী দলগুলো এসব সংঘাত ও সহিংসতার দায় এড়াতে পারে না। যে রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী সভা-সমাবেশ বা কর্মসূচি দিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে তা পালন করা এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখাও সেই দল বা গোষ্ঠীর দায়িত্ব। গত কয়েক মাসে দেখা গেছে, রাজনৈতিক কর্মসূচি মানেই সংঘাত-সহিংসতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা। হরতালের ঘোষণা দেওয়ার পর গাড়িতে আগুন লাগানো বা হরতাল পালনে বাধ্য করার জন্য হরতালের দিন যানবাহনের ওপর আক্রমণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের সংঘাত-সহিংসতা বন্ধ করার পথ কি সভা-সমাবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করে রাখা? আমরা মনে করি, এ ধরনের সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক এবং এভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা সরকারের ব্যর্থতা হিসেবেই বিবেচিত হবে। সরকার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে, কিন্তু হরতালের মতো কর্মসূচি পালিত হচ্ছে সেই একই রকম সহিংস কায়দায়। রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক বা যারাই সংঘাত-সহিংসতা করুক, তা ফৌজদারি অপরাধ। যারা এ ধরনের অপরাধ করছে, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির মুখোমুখি করাই সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ। এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সরকারের উচিত রাজনৈতিক বিচার-বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর হাতে এ ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কোনো নাশকতা হবে না, এমন প্রতিশ্রুতি দিলে যে কাউকে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি তাঁর কথা রাখবেন কি না? তাঁকে মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্র এবং সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে চলতে পারে না। আমরা আশা করব, সরকার অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে এবং যেকোনো সংঘাত-সহিংসতা প্রয়োজনীয় আইনি পথেই সামাল দেবে। অন্যদিকে, সংঘাত-সহিংসতার পথ ছেড়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধী পক্ষ তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সভা-সমাবেশ করবে, সেটাই প্রত্যাশিত।

তৃণমূলে শাস্তির বিধান

তৃণমূলে গণতন্ত্র প্রসারিত করা না গেলেও দুর্নীতির তৃণ-মূল্যায়ন মোটামুটি সম্পন্ন। প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ৩০ জন জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত হয়েছেন আর অর্থবরাদ্দ বন্ধ হয়েছে ১১২টি ইউনিয়নে। প্রমাণিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সব সময়ই ইতিবাচক ঘটনা। কিন্তু তৃণমূলের প্রতিনিধিদের দুর্নীতি প্রমাণ করা যত সহজ, যাঁরা ক্ষমতার মগডালে বিচরণ করেন তাঁদের কিছু করা ততটাই কঠিন। স্থানীয় সরকার সহায়তা প্রকল্প (এলজিএসপি) স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি মাত্র প্রকল্প। অথচ এই প্রকল্পেই জনপ্রতিনিধিরা প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কেবল ৩০ জন বরখাস্তই হননি, পাশাপাশি ১১২টি ইউনিয়নে অর্থবরাদ্দ বন্ধ করা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতি এতই প্রকট যে সেগুলো লুকিয়ে রাখা যায় না। ইউনিয়ন পরিষদ এলাকাটি এতই ছোট যে কাজ বা অকাজ উভয়ই জনগণের নজরের মধ্যে থেকেই করতে হয়।  কিন্তু যেখানে পরিসর আরও বড়, সংসদীয় আসন বা জেলা বা দেশ; সেখানে অনেক প্রকল্পের ধরন, অর্থের ব্যবহার, প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার আয়োজনের মধ্যে পদে পদে দুর্নীতি ঘটে, কিন্তু সেগুলো প্রায়ই ধামাচাপা পড়ে যায়। পদের ক্ষমতা যত বেশি, সেই পদের দুর্নীতি আলোচিত হওয়ার সুযোগ ততই কম। জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতির বিষয়ে প্রথম আলোর গত বুধবারের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন তাঁদেরই সহকর্মী ইউপি সদস্যরা। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে অভিযুক্ত দুর্নীতির ভাগ না দেওয়া কিংবা আরও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কারও দুর্নীতিতে সায় না দেওয়ায় প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে অনুযোগ করেছেন। সুতরাং ব্যাপারটা যাতে বড় মাছের ছোট মাছ ভক্ষণ না হয়ে যায়, সেটা দেখতে হবে। ছোট-বড় কোনো দুর্নীতিকেই ছাড় দেওয়া যাবে না। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ অর্থাৎ সরকারের নির্বাহী বিভাগ। এ ঘটনাকে যাতে নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে ব্যবহার করা না হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ ও পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ by এম হুমায়ূন কবির

২৬-২৭ মে ঢাকায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় অংশীদারি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ফর পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স ওয়েনডি শারমেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। অপর দিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। মার্কিন প্রতিনিধিদলে লক্ষণীয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট (আন্তর্জাতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়াবলি) হোজে ফার্নান্দেজ, ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট (গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রমবিষয়ক) ক্যারেন হ্যানবেহান ও একই দপ্তরের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট (জ্বালানি) রিচার্ড আইকড। এ ছাড়া ছিল ৩০ জনের একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল। মার্কিন প্রতিনিধিদলের চেহারা দেখলেই বোঝা যাবে এ সংলাপে তাদের নজর কোন দিকে ছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একসময় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের সুবাদে ঢাকায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক চেম্বার আমাকে বিভিন্ন সময় তাদের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। বলা বাহুল্য, আমি সাগ্রহেই তাদের এসব আমন্ত্রণে সাড়া দিই। এবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের প্রতিনিধিদলের একজন সদস্য হিসেবে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করে অংশীদারি সংলাপের বিজনেস টু বিজনেস অংশে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। এ ছাড়া আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ  (অ্যামচেম) চেম্বারের নেতারা তাঁদের অনুষ্ঠানে যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়ে আমাকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন। এসব সুবিধার কারণে আমি সংলাপের বেশ কয়েকটি সেশনে অংশ নেওয়ার সুযোগ লাভ করি এবং দুই পক্ষের আলোচনার প্রাধান্যের দিকগুলো বুঝে নিতে চেষ্টা করি।
এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা চলে যে তাজরীন ফ্যাশনস ও রানা প্লাজা ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পোশাকশিল্পে কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকারের বিষয়টি ছিল এবারের সংলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রায় দুই মাসে বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার অভাব নিয়ে বহির্বিশ্বে যে পরিমাণ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা বহু বছরেও দেখা যায়নি। এমন দিন খুব কমই গেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো না কোনো পত্রিকা বা টেলিভিশনে বাংলাদেশের প্রাণহানি ও শ্রমিকদের দুর্দশার কথা প্রচার পাচ্ছে না। এর আগেও মাঝেমধ্যে তেমনটি লক্ষ করা যায়নি তা কিন্তু নয়, তবে এবার যে ব্যাপ্তি ও গভীরতা নিয়ে বিষয়টি আবির্ভূত হচ্ছে, তা অভাবিতই বলা চলে। যাঁরা বাইরের পৃথিবীর খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা বিষয়টির গুরুত্ব ভালো করেই উপলব্ধি করতে পারছেন, যদিও দেশে অনেকেই এ ধরনের ঘটনাকে নিয়মিত বা রুটিন প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন।
কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, যার বেশির ভাগ মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেত্রী ওয়েনডি শারমেন ও অন্যরাও জোরালোভাবে উপস্থাপন করে গেছেন। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এমন একটি ধারণা দানা বেঁধে উঠেছে যে আমরা বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছি না। হয়তোবা আমাদের কারও কারও বক্তব্য এতে ইন্ধন জুগিয়ে থাকতে পারে। তবে মনে রাখা দরকার, যেকোনো ধারণা তৈরি হতে পারে নানা প্রেক্ষাপট থেকে এবং এর সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপের তফাত থাকতেও পারে। যেমন সরকারিভাবে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এগুলো কতটুকু বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, এমন ধারণাও দানা বেঁধে উঠেছে যে বাংলাদেশে আইন প্রয়োগের বিষয়ে ব্যাপক গাফিলতি রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ অবস্থার উন্নতি হবে তেমন আশা ক্ষীণ। এমনটাও শোনা গেছে যে প্রতিনিধিদল রানা প্লাজার মতো আরও দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করেছে, যদিও আমরা কেউই তা চাই না। তৃতীয় যে বিষয়টি তাদের সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে তা হলো নিজেদের কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা ও কল্যাণের ব্যাপারে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মতামত প্রদানের সুযোগ না থাকা। বরং তাঁদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত তাঁদের মৃত্যুর গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। চতুর্থ বিষয়টি হচ্ছে বিশ্বাসের ঘাটতি। বিভিন্ন উপলক্ষে আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে শ্রমমান, কর্মপরিবেশ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করিনি। তাতে আমাদের বক্তব্যের ওপর তাদের বিশ্বাসের ভিত্তিটা খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি মার্কিন ও ইউরোপীয় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর গাফিলতির বিষয়টিও সমান গুরুত্ব নিয়ে সামনে এসেছে এবং পাশ্চাত্য জগতে ভোক্তারা এসব প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্য পরিচালনার কৌশল নিয়েও কঠিন কঠিন প্রশ্ন তুলে তাদের তুলাধোনা করছেন। প্রকৃতপক্ষে এ ভোক্তাশ্রেণীর চাপেই এখন বড় বড় ক্রেতা সংস্থাসহ সেসব দেশের সরকারগুলো নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়েছে। আমার বন্ধুদের কাছেই শুনেছি যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বড় বড় ক্রেতা সংস্থাকে ডেকে তাদের কর্মপরিকল্পনা ও কৌশলে আমূল পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি ভালো খবর এবং একটি যথার্থ ইঙ্গিতও বটে। অন্যদিকে, ক্রেতা সংস্থাগুলোও নিজেদের মতো করে পোশাকশিল্পে নিরাপত্তা ও শ্রমমান রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়ালের আওতায় ইউরোপীয় ক্রেতারা এবং অপর দিকে মার্কিন ক্রেতা সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশেও আমরা কিছু কিছু উদ্যোগ লক্ষ করছি। যেমন সম্প্রতি ২০০৬ সালের শ্রম আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং মন্ত্রিপরিষদ ইতিমধ্যেই খসড়া অনুমোদন করেছে। খসড়াটি এখন জাতীয় সংসদের বিবেচনার জন্য যাবে। অন্যদিকে, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির অব্যাহত দাবির মুখে সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণাও দিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, অতি দ্রুত এ বোর্ডের সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে এবং তারা যত দ্রুত সম্ভব তাদের রিপোর্ট সরকারের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করবে। এটিও আশা করা হচ্ছে যে তারা শ্রমিকদের স্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে একটি সম্মানজনক ন্যূনতম মজুরিকাঠামো প্রস্তাব করবে। রানা প্লাজায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের জন্য সরকার এবং বিজিএমইএ থেকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সন্দেহ নেই, এতে সাময়িক সহায়তা হয়তো মিলবে কিন্তু পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির বিবেচনার আরও একটু গভীর চিন্তার প্রয়োজন রয়েছে। আশার কথা হচ্ছে, এ নিয়ে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন। সে ভাবনাকে শাণিত করার লক্ষ্যে কয়েকটি প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
ক. বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সম্ভাবনা অনেক। গত বছর ম্যাকেঞ্জি রিপোর্টে এ সম্ভাবনার একটি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ পোশাক রপ্তানি করতে পারবে এবং এতে করে আরও তিন মিলিয়ন নারীশ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। সম্ভাবনাটি নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক। তবে তা অর্জন করতে হলে অনেক কাজ আমাদের করতে হবে। প্রথমত, শ্রম আইন আধুনিকীকরণ করতে হবে, যাতে ইতিমধ্যেই হাত দেওয়া হয়েছে। তবে এ আইন এখন শুধু আমাদের দেশীয় প্রয়োজনের দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না। এটিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকেও দেখতে হবে। কারণ অনেক। যেমন এতে শ্রমিকের নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ ও তাঁদের সংগঠনকেও কথা বলার অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে এবং তা করতে হবে আন্তর্জাতিক চাহিদার কথা মনে রেখে। এখানে বাধ্যবাধকতাটা আসবে আইএলও এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে। আমরা চেষ্টা করছি আইএলও পরিচালিত বেটার ওয়ার্ক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য। সপ্তাহ দেড়েক আগে আইএলও ও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছে শ্রম আইন করার পরই এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণে আবেদন করতে।  মনে হচ্ছে, শ্রম আইনের যথাযথ আধুনিকীকরণ বেটার ওয়ার্ক প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্তির প্রায় পূর্বশর্তের মতো। অতএব শ্রম আইন যথাযথভাবে আধুনিকায়ন না হলে এ পথে অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। তাতে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এর বাইরেও দেশের শ্রমিক ভাই ও বোনদের এবং সেই সঙ্গে বিশ্ব শ্রমিক সংগঠনগুলোর চোখ তো থাকছেই। অতএব আমরা আশা করছি, জাতীয় সংসদ এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবে। আইন বাস্তবায়নের বিষয়টি তো রইলই। এ নিয়ে আমাদের রেকর্ড যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।
খ. পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে বিতর্ক চলছেই। কয়েক সপ্তাহ ধরেই পোশাক শিল্পাঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে এ বিষয়কে ঘিরে। যদিও সরকার ইতিমধ্যেই মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দিয়েছে, তবুও বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন। বাংলাদেশ বিশ্ব পোশাক বাজারে মোটামুটি কম মূল্যমানের পোশাক সরবরাহকারী দেশ। শ্রমিকের কম মজুরিকে ভিত্তি করেই আমরা এ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলাম। কিন্তু মজুরি বাড়লে পণ্যের দামও বাড়তে পারে। প্রশ্ন হলো, তাতে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা কতটুকু থাকবে। অনেকেই বলেন, আমাদের এ সুবিধা কমে যাবে। কথাটি অনেকাংশেই সত্য। কিন্তু এরই সঙ্গে যা বিবেচ্য বিষয় তা হলো কী করে আমরা আমাদের এ সুবিধা ধরে রাখতে পারব। চীন আমাদের দৃষ্টান্ত হতে পারে। তারা তাদের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে বেশি মূল্যমানের দিকে উঠে এসেছে। আমাদের সে পথেই হাঁটতে হবে। অর্থাৎ কম মূল্য থেকে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে বেশি মূল্যের পোশাক স্তরে উঠে আসতে হবে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে বলা চলে, এটি সম্ভব। তবে এর জন্য যা প্রয়োজন তা হলো আমাদের শ্রমিকের কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি। এর জন্য প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে শ্রমিকদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ।
গ. প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। শিল্পের প্রয়োজনেই আমাদের তা করতে হবে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী যে সমবেদনা আমরা পাচ্ছি, তা এখনই কাজে লাগানো প্রয়োজন। মার্কিন সরকারসহ অন্য ইউরোপীয় সরকারসমূহ পোশাকশিল্পের উন্নয়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তেমনি আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, যেমন: বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, জাইকার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও। ক্রেতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলছে। যদিও তাদের তাৎক্ষণিক মনোযোগ কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ও শ্রম পরিবেশ নিয়ে, তবুও শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আমরা উদ্যোগী হলে তাদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যাবে আশা করি। এ ছাড়া আমরাও আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধির নীতিমালার আওতায় তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধু যা দরকার তা হলো উদ্যোগ নিয়ে কাজে নেমে পড়া। সরকারের সঙ্গে সঙ্গে বিজিএমইএ এ কাজে নেতৃত্ব দিতে পারে। প্রয়োজন হলে সুশীল সমাজভিত্তিক বা বেসরকারি খাতে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সাহায্যও নেওয়া যেতে পারে।
ঘ. রানা প্লাজা-উত্তর প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক উদ্যোগ তৈরি হয়েছে। এসব নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রশ্ন হলো, যে ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ঘিরে এত সব উদ্যোগ, সে ক্ষেত্রে আমাদের সংশ্লিষ্টতা কতটুকু? এটি মোটামুটি বোঝা যাচ্ছে যে খুব শিগগিরই পোশাকশিল্পের জন্য নিরাপত্তা ও শ্রমমানের বিষয়ে নতুন কাঠামো ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি হবে। এ ক্ষেত্রে যা প্রয়োজন তা হলো ক্রেতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সরকারের সংশ্লিষ্টতা। তা না হলে আমরা যা পেতে পারি, তাতে আমাদের জাতীয় স্বার্থ পুরোপুরি সংরক্ষিত নাও থাকতে পারে। কাজেই দেরি না করে আমাদের কূটনৈতিক দক্ষতা ও কাঠামোকে ব্যবহার করে প্রয়োজনে সত্বর দর-কষাকষিতে লেগে যাওয়া দরকার। কারণ, পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অংশীদারি সংলাপের আলোকে আমরা বুঝতে পারছি, এ কাজে আমাদের পাশে আমাদের বন্ধুরা আছেন। প্রয়োজনে আমরা তাঁদের সাহায্যও নিতে পারি। যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি ফর পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স ওয়েনডি শারমেন সে ইঙ্গিতই দিয়ে গেলেন কয়েক দিন আগে।
এম হুমায়ূন কবির: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটেরসহসভাপতি।

কর্মপ্রত্যাশীর চাপ ও বিসিএসের সোনার হরিণ by মুনির হাসান

দুই হাজার ৫২টি সরকারি কর্মকর্তার পদের জন্য লড়াই শুরু করেছেন মাত্র দুই লাখ ২১ হাজার ৫৭৫ জন তরুণ-তরুণী! ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৪ মে। শুধু সংখ্যাধিক্য নয়, পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব, বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযান ইত্যাদি মনে করিয়ে দেয়, সরকারি চাকরি এখন কতটা সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। গেল কয়েক দিন সামাজিক যোগাযোগের সাইটে এই সোনার হরিণের পেছনে ধাওয়ারতদের আক্ষেপ, আকাঙ্ক্ষা আর হতাশার চিত্র দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কয়েকবার করে এই বৈতরণি পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিসিএস পরীক্ষায় কর্মপ্রত্যাশীদের চাপ প্রায় গুণোত্তর হারে বেড়ে চলেছে। ৩৩তম বিসিএসে চার হাজার ২০৬টি পদের জন্য লড়েছেন মাত্র এক লাখ ৯৩ হাজার ৫৯ জন। ৩২তম বিশেষ বিসিএসের আগে ৩১তম বিসিএসে অংশ নিয়েছেন এক লাখ ৬৪ হাজার ১৬৭ জন প্রার্থী আর পদ ছিল দুই হাজার ৭২টি। তারও আগে ৩০তম বিসিএসে দুই হাজার ৩৬৭টি পদের জন্য লড়েছেন এক লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৮ জন!
আগামী দিনগুলোয় এই সংখ্যা হ্রাস পাবে, এমন আশা করা বোকামি হবে। গত এপ্রিলে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বেকারত্বের হার বেড়েই চলেছে। ২০০০ সালের ৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ১০ বছরে এটি বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ১০ বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বিবেচনা করলে শতাংশ বৃদ্ধির শতকরা হার চোখে পড়বেই। এর বাইরে রয়েছে ছদ্মবেকারের সংখ্যা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে এই হার ২০ দশমিক ৩ শতাংশ; যদিও ২০০৬ সালে এটি ছিল ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং যথারীতি এই হার মেয়েদের মধ্যে (৩১%) ছেলেদের (১৪.৪%) তুলনায় অনেক বেশি। আগামী এক দশক ধরে প্রতিবছর প্রায় ২১ লাখ তরুণ-তরুণী কর্মবাজারে প্রবেশ করবেন। তাঁদের জন্য কর্মসংস্থানের যথাযথ উদ্যোগ নিতে না পারলে আমাদের ‘জনসংখ্যা ডিভিডেন্ড’ শেষ পর্যন্ত ‘জনসংখ্যা হাহাকারে’ পরিণত হতে পারে। বছরওয়ারি সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তার শূন্য পদের পাশাপাশি অন্য শূন্য পদগুলো বিবেচনা করলে প্রতিবছর গড়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার সরকারি চাকরির সুযোগ থাকবে। তার মানে, এই বিশালসংখ্যক কর্মপ্রত্যাশীর কর্মসংস্থানের দায়ভার নিতে হবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরই। বিগত সময়জুড়ে বাংলাদেশের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়; যদিও কিছু বদলোকের কারণে যথাযথ স্বীকৃতি পান না আমাদের উদ্যোক্তারা।
অন্যদিকে, আমাদের দেশের কর্মপ্রত্যাশীদের একটি বড় অংশ বিদেশে পাড়ি জমান। ২০১২ সালে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের ষষ্ঠ রেমিট্যান্স পাওয়া দেশ। কিন্তু ভবিষ্যতে এই খাতে আমাদের সব সম্ভাবনা মাঠে মারা যেতে পারে, যদি ঠিকমতো নজর দেওয়া না হয়। কারণ, তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করেছে, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সে দেশের কর্মপ্রত্যাশীদের চাপ। আরব বিশ্বের দেশগুলো তিউনিসিয়ার আরব বসন্তের কারণ ও ফলাফল বিশ্লেষণে সচেতন হয়েছে। তেলসমৃদ্ধ তিউনিসিয়ার আরব বসন্তের মূল কারণ বেকারত্ব। ৩৫ বছরের একজন সৃষ্টিশীল তরুণকে যখন তাঁর চুল কাটার টাকা বাবা বা ভাইয়ের কাছ থেকে নিতে হয়, তখন সেখানে কেবল মনুষ্যত্বের মৃত্যু হয় না, মৃত্যু হয় আবেগপ্রবণ রাষ্ট্রকাঠামোরও। একই কারণে আমেরিকার মতো দেশও দেশের বাইরে কাজ পাঠিয়ে দেওয়ার (আউটসোর্সিং) বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সচেষ্ট হয়ে উঠছে। এ কারণে ভবিষ্যতে অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর যে রেওয়াজ আমরা গত সাড়ে তিন দশকে গড়ে তুলেছি, সেটির মৃত্যু হবে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশের কারণে কেবল কায়িক পরিশ্রমভিত্তিক কাজের বাজার ক্রমেই সংকুচিত হবে। অন্যদিকে, ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে জ্ঞানকর্মীর বাজার। আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের মূল দুর্বলতা তাঁদের ভাষাজ্ঞানের অদক্ষতা এবং কর্মদক্ষতার সনদ। এই দুই বিষয়ে আমাদের বড় ধরনের নজর দেওয়া দরকার।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে আমাদের নজর দিতে হবে বেসরকারি পর্যায়ে স্বতন্ত্র ও নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য। সাধারণভাবে কর্মপ্রত্যাশীদের ৫ থেকে ১৫ শতাংশকে উদ্যোক্তা বানিয়ে ফেলতে পারলেই কর্মসংস্থানের সমীকরণের একধরনের সমাধান করে ফেলা যায়। আমেরিকার মতো বিশ্বের সবচেয়ে উদ্যোক্তাবান্ধব দেশও তাই সব সময় নানাভাবে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সচেষ্ট থাকে। ওবামা প্রশাসনের চলতি বাজেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য প্রেসিডেন্ট নিজেই উঠেপড়ে লেগেছেন। যেসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা নতুন লোককে চাকরি দেবেন তাঁদের ১০ শতাংশ কর রেয়াত, দেড় লাখ ডলার পর্যন্ত ব্যাংকঋণের সব ফি প্রত্যাহারসহ এর দালিলিক চাহিদা কমিয়ে ফেলা, পুনঃ অর্থায়নের সহজ সুযোগ সৃষ্টিসহ উদ্যোক্তাদের পরিচর্যা করার জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তা পরিচর্যাকেন্দ্রের (ইনকিউবেশন সেন্টার) জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ ইত্যাদি এবারের মার্কিন বাজেটের বৈশিষ্ট্য। কেবল তা-ই নয়, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তাদানের সরকারি প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়ানোরও নানা উদ্যোগ সেখানে রয়েছে।
আমাদের দেশেও সরকারি বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নানা ধরনের প্রণোদনা থাকা দরকার। বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৯ শতাংশ সুদে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উদ্যমী ব্যাংকারকেই উদ্যোক্তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বানিয়ে দিতে হয়! এ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যাপকভাবে সহায়তা করতে পারে যে প্রতিষ্ঠানটি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন (এসএমই ফাউন্ডেশন), সেটির শীর্ষ নির্বাহী পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের পদটি শিল্পমন্ত্রী নিজেই অলংকৃত করে বসে আছেন। আর ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদটিও পূরণের কোনো দৌড়ঝাঁপ লক্ষ করা যাচ্ছে না।
বিশ্বব্যাংকের আলোচ্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১০ বছরে কেবল চীনেই প্রায় সাড়ে আট কোটি চাকরি উদ্বৃত্ত হবে। উদ্যোগ নিলে তার মধ্যে দেড় কোটিই বাংলাদেশে নিয়ে আসা সম্ভব। আর সে জন্য দরকার সরকারি-বেসরকারি নানামুখী উদ্যোগ। এর মধ্যে বাজেটে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য যেমন অনেক প্রণোদনা থাকতে হবে, তেমনি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের একটি উদ্যোগ ‘চাকরি খুঁজব না, চাকরি দেব’ নামের ফেসবুকভিত্তিক একটি ভার্চুয়াল গ্রুপ আগ্রহী অনেক তরুণ-তরুণীকে তাঁদের পথ খুঁজে নিতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। আমার সামান্য বুদ্ধিতে বুঝতে পারছি, ব্রডব্যান্ড সংযোগ, সামান্য জ্ঞান-সহায়তা, আর্থিক সহায়তা ও নেটওয়ার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারলে আমাদের যুবাদের বড় একটি অংশকেই আত্মকর্মসংস্থানে উদ্যমী হিসেবে গড়ে তোলা যাবে। যেকোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এ রকম হাজারো যুবাকে আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা করবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এসএমই পল্লি ও এসএমই পরিচর্যাকেন্দ্র গড়ে তুলে এই ক্ষুদ্র সহায়তা প্রদান শুরু করা যায়। মনে রাখা দরকার, সব দূরের যাত্রাই ঘর থেকে দুই পা ফেলে শুরু করতে হয়।
মুনির হাসান: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডকমিটি।

ধূমপান বর্জনে ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মানুষ ধর্মীয় অনুশাসন অগ্রাহ্য করে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও নেশাজাতীয় বিভিন্ন প্রকারের বর্জনীয় বস্তু গ্রহণ করে, যা ধীরে ধীরে উগ্র নেশায় পরিণত হয়। এর মধ্যে বিড়ি, সিগারেট, তামাক, চুরুট, হুক্কা—এসব ধূমপানের সামগ্রী অন্যতম। ধূমপানে নেশা যদিও কম হয়, তবে যে ব্যক্তি প্রথমবারের মতো ধূমপান শুরু করেন তিনি এর নেশা তীব্রভাবে অনুভব করেন। ইসলামি শরিয়তের বিধানমতে, ‘যে জিনিস নেশার উদ্রেক করে সে জিনিসের পরিমাণ কম হলেও তা হারাম।’ এ নীতিমালার আলোকে ধূমপানে নেশা কম হলেও এটা নিষিদ্ধ। কারণ, ধূমপানের বদভ্যাস মানুষকে আসক্ত করে আর সব ধরনের আসক্তিই হারাম। তাই ধূমপান নিষিদ্ধ ও বর্জনীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নেশাজাতীয় বস্তু নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বলেছেন, ‘যাবতীয় নেশার বস্তু হারাম।’ (মুসলিম) ইসলামের দৃষ্টিতে সব ধরনের অপব্যয় ও অপচয় পরিত্যাজ্য। আর্থিক অপচয়ের দিক বিবেচনায় ধূমপানজনিত ব্যয় একজন ব্যক্তির জন্য বড় ধরনের অপচয়। ধূমপানজনিত রোগের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় আরও কয়েক গুণ বেশি। ধূমপানে অহেতুক প্রচুর অর্থ-সম্পদ অপব্যয় হয়। নেশার খরচ জোগাতে অনেক সময় ধূমপায়ীকে পরিবার থেকে জোরপূর্বক অথবা অন্য কারও কাছ থেকে ছিনতাই-চাঁদাবাজির মাধ্যমে অন্যায়ভাবে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়। নেশাগ্রস্ত হয়ে তারা ধর্মকর্ম ভুলে থাকে এবং নানা ধরনের অপকর্ম করে নিজের ও পরিবারের অর্থনৈতিক ক্ষতি, দুঃখ ও দারিদ্র্য ডেকে আনে। অনর্থক অপব্যয় অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। পবিত্র কোরআনে অপচয় করতে নিষেধবাণী ঘোষিত হয়েছে, ‘তোমরা কিছুতেই অপব্যয় করবে না। নিশ্চয়ই যারা অপব্যয় করে, তারা শয়তানের ভাই।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৬-২৭)
ধূমপানের দুর্গন্ধ মুখে নিয়ে ইবাদত করলে তা কবুল হয় না। যেহেতু সিগারেটের তামাক পাতায় বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, সেহেতু ধূমপায়ীদের মুখের দুর্গন্ধ বিশেষত ওই ধরনের তামাকজাত দ্রব্য থেকেই সৃষ্টি হয়। এমন অসহনীয় দুর্গন্ধ নিয়ে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি করা যায় না। তাই নবী করিম (সা.) সাবধানতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়ে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুর্গন্ধময় দ্রব্য খায়, সে যেন ওই অবস্থায় মসজিদের নিকটবর্তী না হয়।’ ধূমপায়ীর মুখের দুর্গন্ধে পার্শ্ববর্তী ধর্মপ্রাণ মুসল্লির কষ্ট হয়, যা ইসলাম-পরিপন্থী অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এভাবে নামাজ আদায়কারীর একাগ্রতা বিনষ্ট করার জন্য ধূমপায়ী দায়ী। সুতরাং ধূমপান আল্লাহর ইবাদতের ক্ষেত্রে অন্তরায়।
ধূমপান যে মারাত্মক বিষাক্ত ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ, এর সঙ্গে খোদ সেবনকারী, উৎপাদক, বিপণনকারীসহ সবাই একমত পোষণ করেন। এমনকি সিগারেটের বিজ্ঞাপনেও লেখা থাকে ‘সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।’ ধূমপান ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে যেমন নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর, তেমনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও অমঙ্গলজনক। যেকোনো রোগীকে সর্বাগ্রে ধূমপান না করার চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়। একখণ্ড পরিচ্ছন্ন কাগজে মোড়া সিগারেট সুদৃশ্য হলেও তা জনস্বাস্থ্যের জন্য এমন ক্ষতিকর উগ্র নিকোটিনের বিষে ভরা, যা ইনজেকশনের মাধ্যমে কোনো সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করালে তার মৃত্যু অনিবার্য।
ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা মহাপাপ। ধূমপানে যেহেতু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়, সেহেতু জেনেশুনে ধূমপান আত্মহত্যার শামিল। ধূমপান ও তামাককে বিষপানের সমকক্ষ বললেই যথার্থ হয় না, বরং ধূমপান বিষপানের চেয়েও মারাত্মক। কেননা বিষপানে শুধু পানকারীরই ক্ষতি হয় আর ধূমপানে তার পরিবেশে অধূমপায়ী এমনকি ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও সর্বনাশ হয়ে থাকে। প্রত্যেক নাগরিকেরই নির্মল পরিবেশে সুস্থ-সুন্দরভাবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। একজন ধূমপায়ী নিজেকে নিঃশেষ করার পাশাপাশি অন্যদের মৃত্যুর দিকে নিয়ে যেতে পারে না। ধূমপানে নিরুৎসাহিত করার জন্য সমাজের মানুষকে বোঝাতে হবে যে ‘ধূমপান নিষিদ্ধ সামগ্রী’। ধূমপানের আসক্তি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং দেশ ও জাতির অনেক ক্ষতি করে। জনগণকে বেশি করে ধূমপানের কুফল সম্পর্কে সচেতন ও তামাক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা দরকার। এ ক্ষেত্রে সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসতে পারে। ধূমপানকে ‘না’ বলার সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা দরকার। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে ধূমপানের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারণা ও গণসচেতনতা চালিয়ে ধূমপান প্রতিরোধ করা যায়। তা ছাড়া ধর্মীয় অনুশাসন মেনে সুস্থ জীবন যাপন করলে এবং ধূমপান ও তামাকমুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখলে এ সমস্যার সমাধান করা যায়।
সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক সমাজ ও মসজিদের ইমাম-খতিবরা ধূমপান ও তামাকমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা যেহেতু তামাক ও মাদকের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়ে তাই ধর্মীয় শিক্ষকেরা যদি ছাত্রদের ধূমপান ও মাদকের কুফল সম্পর্কে অবহিত করেন, তাহলে অনেকেই এ ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হবে। কাজেই শিক্ষক সমাজ যদি আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসে, সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের একটি সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এবং তাদের তামাক, ধূমপান ও মাদকের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সতর্ক করে তাহলে ছাত্রসমাজের মধ্যে তামাক ও মাদক সেবনের প্রবণতা কমে যাবে। মসজিদের ইমাম বা ধর্মীয় নেতারা জুমার খুতবাসহ বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠানে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে নেশার অপকারিতা তুলে ধরে মানুষকে ধূমপান করা থেকে বিরত রেখে তাদের হেদায়েত করতে পারেন।
 সর্বোপরি, ধূমপান বর্জনের জন্য ধূমপায়ীর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ (৩১ মে) অথবা পবিত্র মাহে রমজান মুসলমানদের ধূমপান বর্জনের উপযুক্ত সময়। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ইচ্ছাই বেশি প্রয়োজন। যেহেতু ধূমপান কোনো উপকারে আসে না, বরং এতে মানুষের অনেক ক্ষতি হয়, তাই ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী সবারই স্বেচ্ছায়-সজ্ঞানে ধূমপানের বদভ্যাস অবশ্যই পরিত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

চাকরিতে প্রবেশের বয়স by মো. মহিউদ্দিন

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশের হাজার হাজার সমস্যার মধ্যে শিক্ষাঙ্গনে সেশনজট অন্যতম। সেশনজটের কবলে পড়ে একজন শিক্ষার্থীর স্নাতকোত্তর পাস করতে বয়স ৩০-এর কাছাকাছি চলে যায়। আবার আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে কয়েক বছর বিরতির পর আবার পড়াশোনা শুরু করে স্নাতকোত্তর পাস করেন। তাই অনেকেরই সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়স থাকে না। চাকরিতে প্রতিযোগী বেশি হওয়ার কারণে অনেকে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ছোট চাকরি করেন। তাঁদের মনে আশা থাকে, ভবিষ্যতে ভালো কোনো চাকরি পাবেন। কিন্তু সাধারণ কোটার প্রার্থীদের বয়স ৩০ বছর পর্যন্ত হওয়ায় তাঁরা আর ভালো চাকরিতে আবেদন করতে পারেন না। এতে করে দেশে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, বেকার ও তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করা তরুণ প্রজন্মের একটি অতি জরুরি ও প্রয়োজনীয় দাবি।
আর তাই প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান মহাজোট সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, অবিলম্বে বেকার তরুণ প্রজন্মকে হতাশার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সাধারণ কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর পর্যন্ত করা হোক।
মো. মহিউদ্দিন
উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা।

রাস্তা সংস্কার by লাবণ্য

মিরপুর থানার ১১ ও সাড়ে ১১ এলাকায় হাজার হাজার লোকের বসবাস। এ এলাকার কাঁচাবাজার করতে যাওয়ার রাস্তাটি এত খারাপ যে এখান দিয়ে কোনো যানবাহনই সুষ্ঠুভাবে চলাচল করতে পারে না। রাস্তাটি আর চলাচলের উপযোগী নেই। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে যাঁরা এখানে বাজার করতে আসেন তাঁদের অসহনীয় ও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। অবিরাম বর্ষণের ফলে এ রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং এতে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে।
এ রাস্তা আশু সংস্কার করা হলে জনগণকেই এর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন, অবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কার করা হোক এবং জনগণকে ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই দেওয়া হোক, যাতে জনগণ এ রাস্তা দিয়ে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে চলাচল করতে পারে।
লাবণ্য
মিরপুর। 

পরীক্ষার সময়সূচি

২০১০ সালের মাস্টার্স (শেষ পর্ব) পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু আমরা যারা পরীক্ষার্থী, এই সময়সূচির ব্যাপারে আমাদের আপত্তি রয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষার মধ্যে তিন-চার দিন অবকাশ রাখা হয়েছে। এই অবকাশের সময় বাড়ানো হলে প্রতিটি পরীক্ষা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেওয়া সম্ভব হবে। অপর দিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরীক্ষা পরিবর্তনেরও আশঙ্কা থেকে যায়। সুতরাং, আমাদের পক্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, প্রথম দিনের পরীক্ষার মতো প্রতি শনিবার সময়সূচি প্রণয়ন করলে আমাদের ছাত্রদেরও পরীক্ষা দেওয়া সহজ হবে; পক্ষান্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কবলেও আমাদের পড়তে হবে না।
২০১০ সালের মাস্টার্সের (শেষ পর্ব)
সব পরীক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।