Tuesday, May 21, 2013

চর বিতাড়িত

রাশিয়ার মস্কোতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক রায়ান ফোগলকে সিআইএর এজেন্ট আখ্যা দিয়ে তাঁকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যকে দলভুক্তির চেষ্টার বিষয়টি তাদের কাছে ধড়া পড়লে তারা এ ব্যবস্থা নেয়। রায়ান গত রোববার মস্কো ছাড়েন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি। তারা দেশটির সারামেটেয়ভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নেওয়া রায়ানের ছবি সম্প্রচার করে। এএফপি।
পুলিশ নিহত
পাকিস্তানের আফগান সীমান্তবর্তী উপজাতি অধ্যুষিত বাজাউর জেলায় বন্দুকধারীদের গুলিতে পোলিও টিকাদান কর্মীদের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশের একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা সুহাইল আহমেদ খান বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, স্থানীয় পোলিও টিকা সরবরাহ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে টিকাদান কর্মীদের একটি দলকে লক্ষ্য করে বন্দুকধারীরা গুলি ছোড়ে। 
আত্মঘাতী হামলা
আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের বাঘলান প্রদেশের রাজধানী পুল-ই-কুমরির প্রাদেশিক ভবনের বাইরে গতকাল সোমবার একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক জ্যেষ্ঠ রজনীতিবিদ ও পুলিশের সাত সদস্যসহ ১৪ জন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীর শরীরে ছিল পুলিশের পোশাক।
গায়ে আগুন
পুলিশ মালামাল কেড়ে নেওয়ার পর সৌদি আরবে রাস্তার পাশের এক সবজি ও ফল বিক্রেতা নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পরদিন হাসপাতালে মারা যান তিনি। রিয়াদে গত বুধবার এ ঘটনা ঘটে। গতকাল দেশটির একজন মানবাধিকারকর্মী এ তথ্য জানিয়ে বলেন, অনুমতি ছাড়াই রাস্তার পাশে ফল ও সবজি বিক্রি করায় পুলিশ মুসা আহমেদ আল-হারিসি নামের ওই বিক্রেতার মালামাল বাজেয়াপ্ত করে। এর প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় পেট্রল ঢেলে নিজের গায়ে অগুন ধরিয়ে দেন মুসা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চায় ভেনেজুয়েলা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরোপুরি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে আগ্রহী ভেনেজুয়েলা। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিয়াস জওয়া গত রোববার একটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন। এলিয়াস জওয়া জানান, ওয়াশিংটনে অবস্থিত ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক মিশনে ক্যালিক্সতো ওরতেগাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের জন্য একটি বার্তা। এর মাধ্যমে তাঁরা বুঝতে পারবেন, সর্বোচ্চ কূটনৈতিক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাওয়া প্রসঙ্গে জওয়া বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার রয়ে গেছে।’

ওসাকার মেয়রের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান জাপানিদের

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নারীদের যৌনকর্মে বাধ্য করার ঘটনা ‘সামরিক প্রয়োজনীয়তা’ বলে জাপানের ওসাকা শহরের মেয়র তোরু হাশিমাতো বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, জনমত জরিপে তার বিরোধিতা করা হয়েছে। মূল ধারার ইতিহাসবিদদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কোরিয়া, চীন, ফিলিপাইন ও অন্যান্য দেশের প্রায় দুই লাখ নারীকে জাপানি সেনাবাহিনীর তৈরি গণিকালয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল।  হাশিমাতোর বক্তব্যের সঙ্গে জাপানিদের সবাই একমত নয়। মাইনিচি শিমবান পত্রিকার জরিপে অংশগ্রহণকারী এক হাজার ৫৫০ গ্রাহকের ৭১ শতাংশ মনে করেন, হাশিমাতোর বক্তব্য ‘সঠিক নয়’। অপরদিকে ২০ শতাংশ গ্রাহকের মতে ওই বক্তব্য ‘সঠিক’। এ ছাড়া, আসাহি শিমবান পত্রিকার এক জরিপে তিন হাজার ৬০০ গ্রাহকের মধ্যে ৭৫ শতাংশ মনে করেন, ওই বক্তব্য ‘সমস্যাযুক্ত’। আর ২০ শতাংশের মতে, বক্তব্যটিতে তেমন কোনো সমস্যা নেই কিংবা এটি সমস্যামুক্ত।

ঐতিহাসিক সফরে ওয়াশিংটনে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন গতকাল সোমবার ঐতিহাসিক সফরে ওয়াশিংটন পৌঁছেছেন। প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম মিয়ানমারের কোনো প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলেন। সফরে মিয়ানমারের সাবেক জেনারেল থেইন সেইন প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসার ক্ষেত্র সৃষ্টির জন্য সে দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সমালোচকেরা বলছেন, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে ওবামার আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তটি সুবিবেচনাপ্রসূত হয়নি। কারণ, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা মুসলিমবিরোধী সহিংসতায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ক্ষমতার এ ধরনের অপব্যবহারের কারণে মিয়ানমার চাপের মধ্যে রয়েছে। তবে ওবামার আমন্ত্রণ মিয়ানমারের এ চাপকে অনেকটাই হালকা করে দিল বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। ২০১১ সালে নামে মাত্র নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে থেইন সেইন বেশ কিছু রাজবন্দীকে মুক্তি দেন। গণমাধ্যমের ওপর থাকা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা হয়েছে। দীর্ঘদিন গৃহবন্দী থাকা গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিও পার্লামেন্টে যোগ দিয়েছেন। ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে থেইন সেইন বলেছেন, হোয়াইট হাউসে তিনি প্রেসিডেন্ট ওবামাকে বলবেন যে মিয়ামারের সংস্কার সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তাই তিনি মিয়ানমারের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ পুরোপুরি তুলে দেওয়ার আহ্বান জানাবেন। অবশ্য এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর থেকে বেশ কিছু অবরোধ স্থগিত করেছে।

ওকলাহোমায় টর্নেডো, নিহত ১

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গত রোববার বেশ কয়েকটি টর্নেডো আঘাত হেনেছে। ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে টর্নেডোর আঘাতে একজন নিহত এবং বহু লোক আহত হয়েছে। সেখানকার ১৬টি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা চলছে। টর্নেডোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওকলাহোমা শহরের ৫৫ কিলোমিটার দূরবর্তী শহর শনি। এ শহরের কাছে একটি মোবাইল পার্ক টর্নেডোর আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। পার্কের অস্থায়ী বাড়িঘরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ওকলাহোমা ছাড়াও আইওয়া, মিনেসোটা, কানসাস ও ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে টর্নেডো আঘাত হেনেছে। জাতীয় আবহাওয়া সার্ভিস (এনডব্লিউএস) তাদের পূর্বাভাসে বলেছে, একটি শক্তিশালী টর্নেডো কানসাস অঙ্গরাজ্যের উইশিটা শহরের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। এর আগে এনডব্লিউএস ওকলাহোমার কয়েকটি এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়। স্থানীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়, টর্নেডোর আঘাতে ওকলাহোমায় একজন নিহত হয়েছে। বহু গাছপালা বিনষ্ট হয়েছে। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের লাইন উপড়ে সড়কে পড়ে আছে। এডমন্ড শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। টর্নেডো-কবলিত বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। ওকলাহোমার গভর্নর মেরি ফলিন জানান, অঙ্গরাজ্যের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দিতে ১৬টি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। গত রোববার অন্তত চারটি অঙ্গরাজ্যে টর্নেডো আঘাত হেনেছে। এরপর টর্নেডোর একাংশ উত্তর-পূর্বাঞ্চল হয়ে মধ্য-পশ্চিমের অঙ্গরাজ্যগুলো ও টেক্সাসের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

দুবাইয়ে নজিরবিহীন শ্রমিক ধর্মঘট চলছে

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্ববৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আরবটেকের হাজার হাজার শ্রমিক গত শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন। রোববার এই ধর্মঘট আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। মজুরি বৃদ্ধি ও সেই সঙ্গে অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক প্রদানের দাবিতে তাঁরা এ ধর্মঘট শুরু করেছেন। উপসাগরীয় আরব দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রমিকদের এমন বিক্ষোভের ঘটনা একেবারেই বিরল। দেশটিতে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন নিষিদ্ধ। উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের বেশির ভাগই অভিবাসী। তাঁরা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে চুক্তি ভিত্তিতে ওই সব দেশে যান। এসব দেশে শ্রমিকদের কর্মবিরতি বা ধর্মঘটকে সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখা হয় না। আরব আমিরাতের সরকারি তালিকাভুক্ত বৃহত্তম নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আরবটেকে শনিবার থেকে শ্রমিকদের কর্মবিরতি শুরু হলেও রোববার তা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্পে ছড়িয়ে পড়ে। দুজন শ্রমিক জানান, প্রতিষ্ঠানটির কয়েক হাজার শ্রমিক রোববার কাজে যোগ দেননি। এদিন তাঁরা নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করেন। মজুরি বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আরবটেকের একজন সহযোগী ঠিকাদার (সাব-কন্ট্রাক্টর) এ খবর নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে তিনি একটি প্রকল্প থেকে তাঁর শ্রমিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।  একজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, এই প্রকল্পে শ্রমিকদের মাসে ১৬০ থেকে ১৯০ ডলার মজুরি দেওয়া হয়। আবার তাঁদের অতিরিক্ত সময়ের  পারিশ্রমিকও দেওয়া হয় না। তবে আরবটেকের পক্ষ নিয়ে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, শ্রমিকদের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ীই বেতন-ভাতা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। মজুরির বাইরে প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের বিনা মূল্যে খাবার, যাতায়াত, বাসস্থান, চিকিৎসা খরচ এবং বিমা ও অন্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। আর্থিক মূল্যে এগুলো শ্রমিকদের মজুরির সমপরিমাণ হবে। 
আরবটেকের একজন মুখপাত্র জানান, বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত অবসানে শ্রম মন্ত্রণালয় ও পুলিশের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের আলোচনা চলছে। শ্রম মন্ত্রণালয় বলেছে, শ্রমিক-সংকট নিরসনবিষয়ক শ্রম মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কর্মবিরতির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

ইরাকে সিরিজ গাড়িবোমা হামলায় নিহত ৫৪

ইরাকের রাজধানী বাগদাদসহ বিভিন্ন শহরে গতকাল সোমবার একের পর এক গাড়িবোমা হামলায় কমপক্ষে ৫৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক। পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এই তথ্য জানিয়েছেন কর্মকর্তারা বলেছেন, বাগদাদের শিয়া-অধ্যুষিত এলাকাগুলোর বাসস্টেশন ও বিপণিবিতানের বাইরে গতকাল আটটি গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়। এদিকে বাগদাদ থেকে ৪২০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বসরায় দুটি পৃথক গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়। প্রথমটি হানানিয়ার পার্শ্ববর্তী একটি ব্যস্ততম বাজার ও রেস্তোরাঁর কাছে এবং দ্বিতীয়টি সাদ মোড়ের একটি বাস টার্মিনালের ভেতরে চালানো হয়। এই দুটি হামলায় নিহত হয় ১১ জন। শিয়া-অধ্যুষিত বসরা নগরী তুলনামূলকভাবে অনেকটা শান্ত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেখানেও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ছত্তিশগড়ে তিন শিশুসহ আট গ্রামবাসীরমৃত্যু

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য ছত্তিশগড়ে গত শনিবার নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদী বিদ্রোহীদের মধ্যে গুলিবিনিময়ের সময় ক্রসফায়ারে পড়ে আটজন গ্রামবাসী নিহত হয়েছে। দেশটির পুলিশ গতকাল সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে। তবে বিরোধী রাজনীতিকেরা বলছেন, ওই আটজন ‘গণহত্যার শিকার’ হয়েছে। তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছত্তিশগড়ের মাওবাদীবিরোধী অভিযানের প্রধান রাজিন্দর ভিজ জানান, রাজ্যের রাজধানী রায়পুরের ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে বিজয়পুর জেলার এদাসমেতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের পর পুলিশ আটটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ তিনটি শিশুও পাওয়া গেছে। রাজিন্দর ভিজ বলেন, ‘আমরা সন্দেহ করছি, নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের সময় ক্রসফায়ারে পড়ে গ্রামবাসী মারা গেছে। এ ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছে।’ তাঁর দাবি, নিহতদের মধ্যে একজন ‘সন্দেহভাজন মাওবাদী’ও রয়েছে। তবে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একটি ‘ভুয়া অভিযান’ চালিয়ে ‘নিষ্পাপ গ্রামবাসীদের’ হত্যা করেছে।

করাচির স্থগিত আসনে ইমরানের দলের জয়

পাকিস্তানের করাচির একটি স্থগিত আসনের পুনর্নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে জয় পেয়েছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ভোট জালিয়াতির অভিযোগে করাচির ওই আসনের প্রথম দফার নির্বাচন বাতিল হয়ে যায়। এরপর গত রোববার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আসনটির ৪৩টি কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ হয়। এতে ৭৭ হাজার ৬৫৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন পিটিআইর প্রার্থী আরিফ আলভি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমকিউএমের খুশবখত সুজাত পেয়েছেন ৩০ হাজার ৩৬৫ ভোট। আলভি বলেন, ‘করাচিতে আমাদের জয় শান্তি ও সহিষ্ণুতার নতুন যুগের সূচনা করল। এই শহরের রাজনৈতিক মঞ্চে পরিবর্তন আনার জন্য জনগণ তাঁদের দৃঢ় প্রত্যয়ের পরিচয় দিয়েছেন।’ করাচি এমকিউএমের শক্ত ঘাঁটি। জাতীয় পরিষদে করাচির ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পেয়েছে এমকিউএম। বাকি আসনটি পেল পিটিআই। এই নির্বাচনের এক দিন আগে একই এলাকায় পিটিআইর শীর্ষ নেত্রী জাহরা শাহিদ হুসেইন  অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন।

নওয়াজকে নিয়ে ভয়ে আফগানিস্তান!

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন) জয় পাওয়ার পর থেকে তাঁর ওপর সতর্ক নজর রাখছে আফগানিস্তান। দেশটির নেতারা ভাবছেন, নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানি তালেবানের সঙ্গে আলোচনা করে সে দেশে জঙ্গিবাদ ও সহিংসতার অবসান ঘটাতে পারেন। পরিণামে পাকিস্তান বাদ দিয়ে তালেবানের পুরো নজর পড়তে পারে আফগানিস্তানের ওপর। এতে দেশটির স্থিতিশীলতা চরম হুমকির মধ্যে পড়তে পারে। পাকিস্তানের ভাবী সরকারকে নিয়ে অস্থির হামিদ কারজাই শিগগিরই ভারত সফরে যাচ্ছেন। তাঁর এক মুখপাত্র গত রোববার বলেন, ভারত সফরে কারজাইয়ের মূল আলোচনার বিষয় হবে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সীমানা নির্ধারণ-রেখা ‘ডুরান্ড লাইন’ এবং নিরাপত্তা প্রশ্ন। ২০১১ সালে কাবুলের সঙ্গে একটি কৌশলগত চুক্তি করে নয়াদিল্লি। এরপর কয়েক বছর ধরে আফগান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে ভারত। বিবিসির এক প্রতিবেদনে রোববার জানানো হয়, নওয়াজ শরিফের জয় অনেক আফগানের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এতে আফগানিস্তানে ‘অস্থিতিশীলতা’ সৃষ্টি হতে পারে। নওয়াজ শরিফ মনে করেন, আফগানিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা দেওয়া পাকিস্তানের বন্ধ করে  দেওয়া উচিত। নওয়াজ পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। আফগানিস্তানে সোভিয়েত কর্তৃত্ব খর্ব করতে জিয়া ও নওয়াজ সাতটি জঙ্গি সংগঠনকে সংগঠিত করেন। এসব সংগঠনকে তাঁরা পাকিস্তানে আশ্রয়ও দেন।  বেনজির ভুট্টোর আমলে আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থান হলেও ১৯৯৭ সালে নওয়াজ শরিফের সরকার তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৯৮ সালে নওয়াজ সংবিধান সংশোধন করে পাকিস্তানে শরিয়া আইন প্রবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন। অনেকে মনে করছেন, গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের হিজবে ইসলামের মতো আফগানিস্তানের অনেক দলের সঙ্গে নওয়াজের সখ্য আছে। আফগানিস্তানের সরকার ও তালেবানের মধ্যে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করছে হিজবে ইসলাম। সে ক্ষেত্রে নওয়াজের প্রভাবও থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির দায়িত্বে বরুণ গান্ধী

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবার পশ্চিমবঙ্গের সাংগঠনিক দায়িত্ব দিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বরুণ গান্ধীকে। তিনি ইন্দিরা গান্ধীর ছোট ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর একমাত্র ছেলে। বিজেপি সূত্র বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিজেপি বরুণ গান্ধীকে এই দায়িত্বে বসিয়েছে। বিজেপির লক্ষ্য মমতাকে বাগিয়ে আনা। সম্প্রতি মমতার সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকায় তিনিও চাইছেন কংগ্রেসবিরোধী কোনো শক্তির সঙ্গে আঁতাত করতে। সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি এগোচ্ছেন। মমতাবিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ভালো ফল করলে মমতা শেষ পর্যন্ত আঁতাত গড়তে পারেন বিজেপির সঙ্গে।

সীমান্ত বিরোধ মিটিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চায় দিল্লি-বেইজিং

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং উভয় দেশের সীমান্ত বিরোধ ও অন্যান্য উত্তেজনা যতটুকু সম্ভব কমিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। দুই প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে গতকালের আলোচনায় বাণিজ্য সম্পর্ক ও অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয় স্থান পায় এবং তাঁরা আটটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। কেকিয়াং গত রোববার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছান। চীনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন ও ভারতের মধ্যে ব্যবধানের তুলনায় অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় অনেক বেশি। উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ না করলে এশিয়া শক্তিশালী হতে পারবে না এবং বিশ্বকে আরও ভালো একটি স্থানে পরিণত করা যাবে না। মনমোহন বলেন, চীন ও ভারতের উত্থানকে গোটা বিশ্বের জন্যই ইতিবাচক বলে মনে করেন তিনি। এশিয়ার দুই দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ। বৃহত্তর আস্থা ও আত্মবিশ্বাস তৈরির জন্য উভয় পক্ষকেই সক্রিয় হতে হবে। জনসংখ্যা বিবেচনায় বিশ্বের শীর্ষ দুই দেশ চীন ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে গত মাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। লাদাখ সীমান্ত নিয়ে ১৯৫০ সাল থেকে দুই দেশের বিরোধ রয়েছে। কেকিয়াং বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার অস্তিত্ব অস্বীকার করা যায় না। তাই উদার ও পরিশীলিতভাবে সেগুলো মোকাবিলা করতে হবে এবং উভয় দেশের সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখতে হবে। দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে শিগগিরই আলোচনা হবে। সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে তাঁরা উভয় দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন।  সীমান্ত-সংকট ও অন্যান্য জটিলতা সত্ত্বেও ভারত-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার রয়েছে। বাণিজ্যে ভারতের অংশীদার শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে চীনও একটি। ২০১৫ সালের মধ্যে তাদের মধ্যে ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বাণিজ্যের ব্যাপারে ইতিমধ্যে নতুন চুক্তি হয়েছে। প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে আসার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে চীনা প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ককে বেইজিং কতটা গুরুত্ব দেয় তাঁর এই পদক্ষেপই সেটা ইঙ্গিত করে। তিন দিনব্যাপী ভারত সফরে দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের প্রধান সোনিয়া গান্ধী এবং লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা সুষমা স্বরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কেকিয়াং। এ ছাড়া তিনি দিল্লিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন এবং মুম্বাইয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি পাকিস্তান, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানি সফরে যাবেন।

‘সরকার ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণমূলক হয়ে উঠছে’

আগামী এক মাস রাজধানীতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে। বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের এ আচরণকে ‘নিয়ন্ত্রণমূলক’ হিসেবে চিহ্নিত করে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলেছে, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত সাংবিধানিক অধিকারকে সরাসরি লঙ্ঘন করে। জরুরি অবস্থা জারি ছাড়া কোনো অবস্থাতেই এই সাংবিধানিক অধিকার স্থগিত বা কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/পুলিশ কমিশনাররা আগে ঘোষণা দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করতে পারেন।
কিন্তু সরকারের একেকজন মুখপাত্র একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন, যা জনমনে বিভ্রান্তি ও অনিরাপত্তা বোধের জন্ম দিচ্ছে। সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের এ ধরনের ঘোষণা সরকারের ভেতরে অস্থিরতা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব বলেই মনে হয়।গতকাল রাজধানীর শাহবাগে ‘প্রতিবাদের অধিকার দাবিতে জনতা’র ব্যানারে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়। মানববন্ধন শেষে বক্তারা অভিযোগ করেন, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সরকার ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণমূলক হয়ে উঠছে। ইউটিউব নিষিদ্ধ, ব্লগে লেখার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর এবার রাজপথে মত প্রকাশের স্বাধীনতাও কেড়ে নিচ্ছে সরকার। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিম রেজা নিউটন, ব্লগার পারভেজ আলম, মাহবুব রশিদ ও বাকি বিল্লাহ।সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ও বাসদ বিকেলে তোপখানা রোড থেকে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। সেখানে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ ব্রিফিং করে তারা। প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির নেতা মোশরেফা মিশু। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বাম মোর্চার ২২ মে মিরপুরে শ্রমিক গণসমাবেশ এবং ২৮ মে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিনা শুল্কে পণ্য এনে খোলাবাজারে বিক্রি by কামরুল হাসান

দ্রুত ও সহজে তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য প্রচ্ছন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছিল প্যাকেজিং শিল্পকে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানই বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করছে। অভিযোগ উঠেছে, বন্ডের আওতায় বিনা শুল্কে পণ্য এনে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি করা হচ্ছে পলিদানা বলে পরিচিত পলিথিন ব্যাগ তৈরির কাঁচামাল। এ অবৈধ কেনাবেচার সঙ্গে বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তাদের যোগসাজশও রয়েছে। যদিও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধের দায়িত্ব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বন্ড কমিশনারেটদের। এনবিআরের শুল্ক ও গোয়েন্দা তদন্ত অধিদপ্তরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, অধিদপ্তরের একটি অনুসন্ধানে এর প্রমাণও মিলেছে। বন্ড সুবিধা পাওয়া ৩০টি প্যাকেজিং শিল্পের মধ্যে সাতটির কোনো অস্তিত্ব নেই। যা আছে তার কোনোটির অফিস আছে তো মেশিন নেই, মেশিন থাকলেও স্থাপন করা হয়নি। আবার কোনোটিতে মেশিন চালু থাকলেও যে ধরনের পণ্য আমদানির কাগজপত্র দেখানো হয়েছে, তা সেখানে উৎপাদিতই হচ্ছে না। বর্তমানে দেশে পাঁচ হাজার ৮০০টি বন্ড অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে সরাসরি রপ্তানিকারক চার হাজার ১২টি এবং প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠান এক হাজার ৫৩৯টি। এর বাইরে বিদেশি মিশনের কিছু লাইসেন্স আছে। এই লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য এনে তা প্রক্রিয়াজাত করে হয় নিজে রপ্তানি করতে হয়, না হয় রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করতে হয়। এসব পণ্য বাজারে বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্যাকেজিং পণ্য চোরাই পথে কেনাবেচার জন্য রীতিমতো সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পলিদানা, রেজিন, আর্টকাড, ডুপ্লেক্স বোর্ড, টেপ, কাঁচা তুলা, সুতা, জিপার, উল ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক আমদানি করে।
জানতে চাইলে শুল্ক ও গোয়েন্দা তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্যাকেজিং শিল্পের অনিয়মের ব্যাপারে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এনবিআরকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
যাদের পণ্য চোরাই পথে: শুল্ক গোয়েন্দারা জানান, চোরাই পথে পণ্য বিক্রির এ রকম একটি প্রতিষ্ঠান হলো কেরানীগঞ্জ বিসিক শিল্প এলাকায় অবস্থিত দি পদ্মা প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ। এ প্রতিষ্ঠানটি গত পাঁচ মাসে ছয় হাজার ৪০০ বস্তা পলি ব্যাগ তৈরির দানা আমদানি করে। ২৭ জানুয়ারি শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দেখতে পান, প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করা ৮৯ টন পলিদানা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে।
এ নিয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এটা করেছিলাম, পরে এর জন্য ধার্য করা জরিমানা দিয়েছি।’
গত ৩ এপ্রিল শুল্ক গোয়েন্দারা নারায়ণগঞ্জের দেলদুয়ারের প্যাট্রিয়ট প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজে অনুসন্ধান করে দেখতে পান, তারা আমদানি করা ১০ হাজার ৩১৭ কেজি গাম টেপ, ইন্টারলাইনিং, প্যারাফিন ওয়াক্স ও স্টার্চ পাউডার চোরাই পথে বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। কারখানার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ বখতিয়ার শুল্ক গোয়েন্দার কাছে লিখিতভাবে এসব অভিযোগ স্বীকার করেন।
কার্টন তৈরির ৭০ হাজার ৮০৪ টন কাগজ চোরাই পথে বিক্রি করে দিয়েছে আশুলিয়ার প্যারাগন প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং। একইভাবে গাজীপুরের মেসার্স ডাফ এক্সারসাইজও বিপুল পরিমাণ পণ্য বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে।
ডুপ্লেক্স বোর্ড, পলিয়েস্টার ও পলিথিন আমদানিকারী প্রতিষ্ঠান তেজগাঁও শিল্প এলাকার মেসার্স মোমেনশাহী ৬৯ টন সামগ্রী চোরাই পথে বিক্রি করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগর এলাকার মেসার্স গোল্ডেন সন লিমিটেডে পলিদানা বিক্রির ক্ষেত্রে চোরাবাজারের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান বলে শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে। শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এ বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে গুদামে অনুসন্ধান করে দেখতে পান প্রতিষ্ঠানটি পলিথিন তৈরির আট লাখ ৯৫ হাজার কেজি কাঁচামাল বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। এতে তিন কোটি ২১ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়।
ভুয়া প্রতিষ্ঠান: শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তারা ৩০টি বন্ড সনদ পাওয়া কারখানায় খোঁজখবর শুরু করে। এতে দেখতে পায় সাতটি কারখানার কোনো কার্যালয়ই নেই। এসব কারখানার কোনো কর্মকর্তাও নেই। যে ঠিকানা দিয়ে কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে তা-ও ভুয়া।
 সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এ রকম দুটি কারখানা আছে পশ্চিম কাফরুলের ২০৫/৪ বেগম রোকেয়া সরণির ঠিকানায়। মেসার্স মাহমুদ অ্যাপারেলস ও মারভেলাস অ্যাপারেলস নামের দুটি প্রতিষ্ঠান এই ঠিকানা ব্যবহার করে বন্ড লাইসেন্স নিয়েছে। অথচ ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনো ঠিকানা খুঁজে পায়নি শুল্ক গোয়েন্দা পরিদপ্তর।
প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে ভবনের দারোয়ান দুলাল মিয়া বলেন, সাত-আট মাস আগে এ বাড়িতে একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ছিল। তারা কোথায় গেছে তা তিনি জানেন না। ভবনের দোতলায় হল-মার্কের একটি সাইনবোর্ড দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির নামে বিজিএমইএর ডাইরেক্টরিতে যে ফোন নম্বর আছে, সেখানে ফোন করে কাউকে পাওয়া যায়নি।
নিরীক্ষার নামে যা হচ্ছে: বন্ডের পণ্যে আমদানি থেকে শুরু করে রপ্তানি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া যাচাই করে দেখতে নিরীক্ষার বিধান রয়েছে। কিন্তু শুল্ক গোয়েন্দার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একজন কর্মকর্তা এক বছরে আড়াই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব নিরীক্ষা করেছেন, যা বাস্তবসম্মত নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরীক্ষার নামে সুবিধা নিয়ে সব কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে দেন বন্ডের কর্মকর্তারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বন্ড কমিশনার মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, পাঁচ হাজার ৮০০ প্রতিষ্ঠান দেখার জন্য আছেন ৬৩ জন কর্মকর্তা। তার ওপর নেই যানবাহন। ফলে কোনো কিছুই ভালো করে দেখা যায় না।

সরকারি ভবনগুলোও অনুমোদনহীন! by অরূপ দত্ত

আইন ও বিধিমালায় উল্লেখ থাকলেও কোনো সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা তাদের নিজস্ব ভবন নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নেয় না। আবার রাজউকও এসব সংস্থার ওপর আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ না করে দায়িত্ব এড়িয়ে যায়।ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮ অনুসারে দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া রাজধানীর যেকোনো ভবনের নকশা অনুমোদন করার একমাত্র কর্তৃপক্ষ রাজউক। অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এর ব্যাখ্যা চায়নি রাজউক।জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যান মো. নূরুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, রাজধানীর চারপাশের ৫৯০ বর্গমাইল এলাকা রাজউকের নিয়ন্ত্রণে। কোনো সরকারি সংস্থা, এমনকি সিটি করপোরেশনও রাজউকের অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মাণ করে না। রাজউক ব্যবস্থা নেয় না কেন, জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনসহ অন্য সংস্থাগুলোকে সরাসরি নোটিশ দেওয়া না হলেও মন্ত্রণালয়কে বিভিন্ন সময়ে অবহিত করা হয়েছে এবং আন্তমন্ত্রণালয়ের সভায় বিষয়টি উত্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
আইনে যা আছে:
ইমারত নির্মাণ আইনের ৩.(১) ধারায় বলা আছে, ‘অন্য আইনে যা-ই থাকুক না কেন, রাজউকের অথরাইজড কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ভবন নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, সংযোজন বা পরিবর্তন করা যাবে না।’সে অনুসারে রাজউক এলাকায় যেকোনো স্থাপনার কাঠামোগত ভালো-মন্দ দেখার কর্তৃপক্ষ হচ্ছেন রাজউকের চেয়ারম্যান। তাঁর পক্ষে রাজউকের অথরাইজড কর্মকর্তারা এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ১৯৮৭ সালের আগ পর্যন্ত সরকারি সংস্থাগুলো নিজ উদ্যোগে ভবন নির্মাণ করতে পারত। ওই সময় সাবেক ডিআইটি এসব ভবন পরীক্ষা করতে পারত। তবে নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সেনানিবাস এলাকায় এসব স্থাপনার অনুমোদন দিতে পারে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ইমারত আইনের এই ধারার বাইরে আরেকটি বিধান রয়েছে। তা হচ্ছে, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা তৈরির অধিকার অর্জন। পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে ভবন তৈরির ‘অথরাইজড’ সংস্থা হওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে স্থাপনার নকশা তৈরির আবেদন করলে মন্ত্রণালয় যদি যথাযথ মনে করে, তাহলে ইমারত নির্মাণ আইনের আওতায় গেজেট তৈরি করে আবেদনকারী সংস্থাকে ‘অথরাইজড সংস্থা’র মর্যাদা দিতে পারে। ২০০৮ সালে এই স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতিকে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়।
নগর ভবনও অনুমোদনহীন: বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, যেহেতু রাজউকের অনুমোদন নেওয়া হয়নি, তাই ঢাকা সিটি করপোরেশনের নগর ভবনও অবৈধ। এটা অবশ্যই একটি খারাপ দৃষ্টান্ত।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০০৯ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ইমারত নির্মাণের অনুমোদনের ক্ষমতা প্রধান প্রকৌশলীকে দেওয়া হয়। কিন্তু নগর ভবনসহ ডিসিসির অনেক ভবনই এই ক্ষমতা পাওয়ার আগে তৈরি হয়েছে, এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, রাজউকের বাধ্যবাধকতাগুলো ডিসিসি সব সময়ই পালন করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯২ সালে নির্মিত নগর ভবন শুধু নয়, ঢাকা সিটি করপোরেশনের কোনো ভবনেরই নকশা রাজউক অনুমোদিত নয়। নিজস্ব প্রকৌশলীদের সহায়তায় বেসরকারি স্থপতিদের মাধ্যমে নকশা তৈরি করে করপোরেশন এসব ভবন নির্মাণ করে। প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে ‘কমিউনিটি সেন্টার’ তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে গিয়ে গত ২৫ বছরে ৩৯টির মতো ভবন তৈরি হয়। এগুলো ছাড়াও সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২, বঙ্গবন্ধু পাতাল সড়ক সুপার মার্কেট, নবাববাড়ি সুপার মার্কেট, মোহাম্মদপুর শহীদ পার্ক মার্কেটসহ আরও অনেক স্থাপনার অনুমোদন নেওয়া হয়নি। উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে সিটি করপোরেশনের বহুতল কাঁচাবাজার তৈরি হয়েছে রাজউকের অনুমোদন ছাড়া।
গণপূর্ত অধিদপ্তরও নিজস্ব ভবন তৈরিতে নিয়ম অনুযায়ী অতীতে কখনো রাজউকের অনুমোদন নেয়নি। ২০০৭ সালে বিজয় সরণি-তেজগাঁও সংযোগ সড়ক তৈরির কাজ শুরুর পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্মাণাধীন সাতটি বহুতল ভবনের জন্য রাস্তাটি আরও চওড়া করা যায়নি। এখানে ১০০ ফুট রাস্তা করতে হয় বিভাজন লাইন, ফুটপাতসহ ৬০ ফুট। ওই সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর রাজউকের কোনো অনুমোদন ছাড়াই ভবনগুলো তৈরি হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে কমলাপুর ও আবদুল গনি রোডে নতুন যে ভবনগুলো তৈরি করেছে, সেগুলোর জন্য রাজউকের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। নিকেতনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্মাণাধীন পুলিশ কমপ্লেক্সও হচ্ছে নিজস্ব অনুমোদনে। ঢাকা ওয়াসা সায়েদাবাদ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও সেখানকার অন্য স্থাপনাগুলোর অনুমোদনের জন্য রাজউকের শরণাপন্ন হয়নি। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) বিদ্যুৎ ভবনও অনুমোদনহীন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল, জিয়া হল, একুশে হল, বেগম সুফিয়া কামাল হল, ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল, নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন ইত্যাদি নির্মিত হয় ১৯৮৭ সালের পর। এগুলো রাজউক অনুমোদিত নয়। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ভবন নির্মাণে অতীতে কখনো রাজউকের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। রাজউকও কখনো আপত্তি জানায়নি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নতুন একাডেমিক ভবন তৈরিতেও রাজউকের কোনো ভূমিকা নেই। এ ক্ষেত্রে যুক্তি হচ্ছে, বুয়েটের প্রকৌশলী ও স্থপতিরা রাজউকের অথরাইজড কর্মকর্তাদের তুলনায় অনেক বেশি অভিজ্ঞ। এমনকি রাজউকের অধীন এলাকায় কোনো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হলে তা পরীক্ষা করার জন্য বুয়েটের বিশেষজ্ঞদেরই সহায়তা নিতে হয়। তবে বুয়েটের উপাচার্য নজরুল ইসলাম বলেন, এখন বুয়েটের ভবন নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন নেওয়া হয়।
ঢাকা সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন। মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মো. শহিদ খান রাজউকের অনুমোদন নেওয়া প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন সময়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়ররা মনে করেছেন, ভবন নির্মাণের বিষয়ে তাঁদের প্রধান প্রকৌশলীই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। সেদিক থেকে করপোরেশন নিজস্ব নকশায় ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে অন্য সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন বোধ করে না। পৃথিবীর সব দেশেই পৌর করপোরেশন ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পালন করে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব খন্দকার শওকত হোসেন বলেন, শুধু রাজউক নয়, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ পূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের এলাকায় অন্য কোনো সংস্থা যাতে নিজ উদ্যোগে ভবন বা স্থাপনা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য মন্ত্রিসভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভায় পেশ করে অনুমোদন নেওয়া হবে। তাহলে ইমারত নির্মাণ আইনের এই বিষয়টিও রক্ষা পেতে পারে।

দায় এড়াচ্ছেন রানা, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

সাভার পৌর যুবলীগের নেতা সোহেল রানা ভবনধসের ঘটনার দায় স্বীকার করছেন না। শ্রমিকদের কারখানায় ঢোকানোর জন্য তিনি পোশাক কারখানার মালিকদের দায়ী করছেন। আর কারখানা-মালিকেরা দায়ী করেছেন সোহেল রানাকে।ঢাকা জেলা ডিবির ১৭ দিনের জিজ্ঞাসাবাদেও কোনো কিছু স্বীকার করেননি রানা। গতকাল তাঁকে আরও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ঢাকা জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনত (কাগজে) ভবনটির মালিক রানার বাবা আবদুল খালেক। তবে রানাই ওই ভবনের সবকিছু দেখভাল করতেন ও সিদ্ধান্ত দিতেন। ভবন ধসে পড়ার পর পুলিশ ও র‌্যাব ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন সোহেল রানা, আবদুল খালেক, ভবনে অবস্থিত কারখানাগুলোর মালিকপক্ষের চারজন ফ্যান্টমের চেয়ারম্যান (ফ্যান্টম অ্যাপারেলস ও ফ্যান্টম টেক) আমিনুল ইসলাম, নিউওয়েভের (নিউওয়েভ স্টাইল ও নিউ ওয়েভ বটমস) চেয়ারম্যান ফজলুস সামাদ আদনান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান এবং ইথারটেক্সের মালিক আনিসুর রহমান, সাভার পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী ইমতেমাম হোসেন ও সহকারী প্রকৌশলী আলম মিয়া, রানা প্লাজা নির্মাণের তদারকিতে থাকা প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক, রানাকে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী শাহ আলম মিন্টু ও অনিল দাস। তাঁদের সবাইকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রানা বাদে অন্য সবাই এখন কারাগারে।সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, রানার বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি হত্যা মামলা, রাজউক থেকে ইমারত আইনে একটি মামলা এবং ধামরাই থানায় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত রানাকে ৩৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। যার মধ্যে ১৭ দিন অতিবাহিত হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, রানা ওই এলাকায় ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। পাশাপাশি ফেনসিডিলের ব্যবসাও করতেন। তাঁর কাছ থেকে দুটি অস্ত্র পাওয়া গেছে। এসব অস্ত্রের একটির কাগজ দেখাতে পারলেও অন্যটির কোনো কাগজ নেই।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পোশাক কারখানার মালিকেরা জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের ভুল স্বীকার করলেও ধসের ঘটনার দায়দায়িত্ব নেননি। কারখানা-মালিকেরা স্বীকার করেছেন, তাঁরা রানা প্লাজায় ফ্লোর ভাড়া নেওয়ার আগে ভালোভাবে ভবনের তথ্য যাচাই করেননি। ভবনের উপকরণ সম্পর্কেও তাঁদের বিশেষ ধারণা ছিল না। গত ২৪ এপ্রিল শ্রমিকদের জোর করে ভবনে ঢোকানোর অভিযোগও তাঁরা স্বীকার করেননি। তাঁরা বলেছেন, রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তিকে পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে উপস্থাপন করেন রানা। ওই রাজ্জাক ভবনটিকে ত্রুটিমুক্ত ঘোষণা করলে মালিকেরা আশ্বস্ত হন। এ ছাড়া ধসের আগের দিন বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভবনটি পরিদর্শন করেন এবং ‘সে রকম কিছু হয়নি’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এরপর মালিকেরা আশ্বস্ত হয়ে ২৪ এপ্রিল সকালে শ্রমিকদের ডেকে এনে ভেতরে ঢোকান। মালিকদের দাবি, রানার প্রতারণাই শ্রমিকদের মৃত্যুর জন্য দায়ী। মালিকেরা বলেছেন, ফাটলের কারণে যাতে ভবনের কোনো ক্ষতি না হয়, সে জন্য ধসের আগের দিন বিকেলে কারখানাগুলোতে মিলাদ পড়ানো হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কারখানা মালিকেরা রানার ওপর দোষ চাপিয়েছেন। আর রানা বলেছেন, কারখানা মালিকেরা বিভিন্ন তলায় জেনারেটর বসিয়েছিলেন। ফ্লোরগুলোতে অতিরিক্ত সংখ্যক যন্ত্রপাতি ও মালামাল রাখা হয়েছিল। যে কারণে ভবনটি ধসে যায়।
মাসুদ বলেন, ১৪ মে রানার বাবা আবদুল খালেককে ১৩ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে পাঠালে আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ১৩ দিনের রিমান্ড শেষে পরদিন রানাকেও আদালতে হাজির করে পুলিশ। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তিনটি মামলায় আরও ১৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সর্বশেষ গতকাল ইমারত নির্মাণ আইনের মামলায় আবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর রিমান্ডের আবেদন করেন। মাসুদ হোসেন জানান, পুলিশ অনেক তথ্য ও দলিলপত্র পেয়েছে। এগুলো যাচাই চলছে।

ডিসিসির নির্বাচন নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরাদ্বিধাদ্বন্দ্বে by আনোয়ার হোসেন

একদিকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা—এই দ্বৈত অবস্থান দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলেছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের।ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল সোমবার এ-সংক্রান্ত নথি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ কমিশনের বৈঠকে তা উপস্থাপন করা হবে। কিন্তু ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন শিগগিরই হচ্ছে—এ বিষয়ে আশ্বস্ত হতে পারছেন না সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থীরা। গত বছরের ৯ এপ্রিল ডিসিসি উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। গত বছরের ২৪ মে ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময় প্রায় দুই ডজন প্রার্থী মেয়র পদে এবং কয়েক শ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। তফসিল ঘোষণার আগেই পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গিয়েছিল শহর। কিন্তু এবার সে রকম চোখে পড়ছে না। সীমানা নির্ধারণসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনের কয়েকটি ধারা মানা হয়নি—এই অভিযোগে হাইকোর্টে রিট করা হলে নির্বাচন স্থগিত করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ১৩ মে এই রিট (রুল ডিসচার্জ) খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ২০১০ সালেও একবার ডিসিসি নির্বাচন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সীমানাবিন্যাসের দাবি জানিয়ে একাধিক রিট হওয়ায় তা ভেস্তে যায়। এরপর কয়েক দফা চেষ্টা করেও সরকারের অনীহার কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি। এবার নির্বাচন কমিশন আবার সিটি নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে। আদালতের দিক থেকেও কোনো সমস্যা আপাতত নেই। কিন্তু এখনো আটঘাট বেঁধে মাঠে নামার চেয়ে অপেক্ষায় থাকার পক্ষে বেশির ভাগ প্রার্থী। মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী অনেক প্রার্থী বলেছেন, ঢাকায় আগামী এক মাস সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রার্থীদের আরও দ্বিধায় ফেলে দিয়েছে। তাই তফসিল ঘোষণার আগে প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারণায় নামতে চাইছেন না কেউ। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে না হলেও তাঁরা ভেতরে ভেতরে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, রমজান মাসের আগে নির্বাচন করতে হলে দু-চার দিনের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। বিষয়টি মাথায় রেখেই আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) কমিশনের বৈঠক হবে।
তবে রমজানের আগে ডিসিসি নির্বাচন করার পক্ষে নন কমিশনার আবদুল মোবারক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রমজানের পরে নির্বাচন হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচন করার সুযোগ থাকবে। আগে করা হলে মামলা-মোকদ্দমা হয়ে যেতে পারে।
কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নকে দক্ষিণ সিটির ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ওয়ার্ডের সীমানা বিন্যাস করা হয়নি। এ বিষয়ে গত সপ্তাহের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড এখনো দক্ষিণ সিটির আওতাভুক্ত হয়নি। তাই এই ওয়ার্ডকে বাদ রেখে নির্বাচন করা যেতে পারে।
কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, গতকাল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের তালিকা ও ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেলও চূড়ান্ত হয়েছে।
 আইনি ও পরিস্থিতিগত অবস্থার বাইরে এই নির্বাচনের রাজনৈতিক রসায়নও গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, বিরোধী দল যাতে নির্বাচনকালীন সরকারের ইস্যুতে বড় আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে, সে জন্যই ডিসিসির নির্বাচন দিতে চাইছে সরকার। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের ইস্যু বাদ দিয়ে মানুষ ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে মেতে থাকবে—এমনটা মনে করছে না বিএনপি। এর পরও তফসিল ঘোষণা হয়ে গেলে বিএনপি একেবারে ছেড়ে দেবে না, একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
আর আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন, বিএনপি নির্বাচনে এলে আওয়ামী লীগ জোটগতভাবে কিংবা দলীয়ভাবে মেয়র পদে একক প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নেবে। আর বিএনপি নির্বাচনে না এলে কাউকে সমর্থন না দিয়ে প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখা হবে। তবে সরকার বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে দলের অবস্থা জরিপ করাচ্ছে।
গত বছর স্থগিত হওয়া নির্বাচনে ডিসিসি উত্তরের জন্য মনোনয়নপত্র কেনা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, চার বছর নির্বাচন হয়নি। সরকারের শেষ সময়ে এসে সংঘাত, আন্দোলন ও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জটিলতার মুখে ডিসিসি নির্বাচন করার অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, সেটা খোলাসা হওয়া দরকার। সরকারেরই দায়িত্ব এটা খোলাসা করা। কিন্তু তারা তা না করে এর মধ্যে ঢাকায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর জন্য ২৫ মে মিরপুরে একটি মতবিনিময় সভা করার কথা থাকলেও তিনি সংশয়ে আছেন করতে পারবেন কি না। তিনি বলেন, ‘সবকিছু খোলাসা হলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করব।’
মেয়র পদে নির্বাচনে ইচ্ছুক সরকারি দলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচন করতে চাইলে সরকার ক্ষমতায় এসেই করত। এখন অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের জনপ্রিয়তার পড়তির সময় নির্বাচন দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠছে।
উত্তরে কারা প্রার্থী
স্থগিত হওয়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্র যেসব নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছিলেন, এখনো পর্যন্ত আলোচনায় তাঁরাই আছেন। নতুন করে কারও নাম শোনা যাচ্ছে না। দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাই মনে করছেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অরাজনৈতিক হলেও তফসিল ঘোষণা হলে দল একজনকে সমর্থন দেবে।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন গত বছর। এবারও সরকারি দলের পক্ষে ডিসিসি উত্তরে তিনি জোরালো প্রার্থী। সেখানে ১৪ দলের শরিক জাসদের শিরিন আখতারও প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন স্থগিত নির্বাচনে।
স্থগিত নির্বাচনে উত্তরে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নাম এসেছিল ব্যবসায়ী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর। তবে সিটি করপোরেশন দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ায় তিনি প্রার্থী হতে খুব বেশি আগ্রহী ছিলেন না। তবে দলের প্রধান চাইলে তিনি প্রার্থী হতে রাজি ছিলেন বলে তখন শোনা যাচ্ছিল। এখনো সেই অবস্থানেই আছেন তিনি। মিন্টু প্রার্থী না হলে কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে নানা প্রচার আছে। আপাতত তিনজনের নাম আছে এই আলোচনায়।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থীর আগ্রহ রয়েছে। স্থগিত হওয়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র মো. হানিফের ছেলে সাইদ খোকন ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। বিএনপির আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামানও তখন মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন বলে জানা গেছে। এবারও তাঁর আগ্রহ আছে। নির্বাচনে আগ্রহ আছে মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবদুস সালামেরও।স্থগিত হওয়া নির্বাচনে ডিসিসি দক্ষিণে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ এবং নির্দলীয় হিসেবে তুহিন মালিক তৎপর ছিলেন।
কে কী বলেন
 জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আগে তফসিল হোক, তারপর এ বিষয়ে কথা বলা যাবে।’ নির্বাচন করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই প্রস্তুত। নির্বাচন হলে প্রার্থী হব।’জাসদের নেত্রী শিরিন আখতার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নির্বাচনের জন্য সব সময়ই প্রস্তুত। কিন্তু সরকার তো এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে রোজার আগে নির্বাচন কীভাবে হবে? পরে হলে কখন হবে, এটা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’
বিএনপির আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি তো প্রথম থেকেই কাজ করছি। এর আগে দল আমাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছিল। এবার নির্বাচন হলে দলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করব।’
দক্ষিণের প্রার্থী হতে আগ্রহী ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, বিএনপির মূল দাবি দুই সিটি করপোরেশনকে এক করা এবং ক্ষমতায় গেলে সেটাই তারা করবে। তবে সরকার বিভক্ত সিটি করপোরেশনে নির্বাচন দিয়ে দিলে তারা নির্বাচন ছেড়ে দেবে না। নিজের ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নেতা-কর্মীরা আমাকে মেয়র পদে দেখতে চান। আমিও প্রস্তুতি নিয়ে আছি। নির্বাচন হলে দাঁড়াব। তফসিল ঘোষণার পর পার্টি ঠিক করবে বাকিটা।’দক্ষিণের সম্ভাব্য প্রার্থী সাইদ খোকন বলেন, অনেক দিন ধরেই তিনি ডিসিসি নির্বাচনের জন্য কাজ করছেন। নির্বাচন হলে তিনি প্রার্থী হবেন।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, ডিসিসি নির্বাচন হবে—এটা সিদ্ধান্ত। এখন কবে হবে সেটা ঘোষণার বিষয়। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর মেয়র পদে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান বলেন, ‘সরকার ডিসিসি নির্বাচনকে বিরোধী দলকে আন্দোলন থেকে দূরে রাখার কৌশল মনে করতে পারে। কিন্তু আমরা মনে করি, এই নির্বাচনও আন্দোলনের একটি অংশ। নির্বাচনে দলের অনেকেই নাগরিক ফোরামের হয়ে প্রার্থী হবেন। তাঁদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে।

সমন্বয়হীনতায় এগোতে পারছে না পুষ্টি সেবা by শেখ সাবিহা আলম

জাতীয় পুষ্টি সেবা (এনএনএস) কর্মসূচির আওতায় গত এক বছরে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন প্রায় ৪১ হাজার মানুষ। আর কর্মসূচি শুরুর ছয় মাসের মধ্যে খরচ হয়েছে ৪০ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যেই অনিয়ম হয়েছে ২৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকার। কিন্তু কর্মসূচির লক্ষ্য অনুযায়ী মানুষের কাছে এখনো পৌঁছেনি পুষ্টি সেবা।পুষ্টি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই বলছেন, সমন্বয়হীনতার কারণেই সবার কাছে পুষ্টি সেবা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।সমন্বয়হীনতা কোথায়, এ প্রশ্নের অনুসন্ধানে খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝেই পারস্পরিক দোষারোপের চিত্রটি উঠে এসেছে। আবার এনএনএস-সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা উন্নয়ন-সহযোগীদের হস্তক্ষেপেরসমালোচনাও করেছেন। তাঁরা বলছেন, সরকারকে পাশ কাটিয়ে উন্নয়ন-সহযোগীরা কাজ করতে চায়। আর উন্নয়ন-সহযোগীদের অভিযোগ, সরকারের কাজের গতি শ্লথ।এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনএনএসের অন্যতম কর্মসূচি ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সমন্বয়হীনতা শুরুর দিকে কিছুটা ছিল। কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।সবার কাছে পুষ্টি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১১ সালে পাঁচ বছর মেয়াদি এ কর্মসূচি নেয়। এ জন্য বরাদ্দ রয়েছে এক হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। কর্মসূচি শুরু হয় গত বছরের জানুয়ারিতে। মোট ২০টি ক্ষেত্রকে প্রাধান্য দিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে এনএনএসের দাবি চারটি ক্ষেত্রে কাজ এগিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, তা যথেষ্ট নয়। ২০১১-১২ অর্থবছরের এনএনএসের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরুর পর জুনের মধ্যে ৪০ কোটি ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আর মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনিয়ম হয়েছে ২৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকার।
কর্মসূচিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রথম বছরে কিছু সমস্যা ছিল। এখন আর এসব সমস্যা নেই।
 দেশের শীর্ষস্থানীয় পুষ্টিবিদ এস কে রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘কর্মসূচিটি নিয়ে আমি ভীষণ অসন্তুষ্ট। এত কোটি কোটি টাকার কর্মসূচি যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে আনন্দিত হওয়ার কারণ দেখি না।’
মাঠপর্যায়ে সমন্বয়হীনতা: পুষ্টি সেবা মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের। গত ৩০ মার্চ এই দুই অধিদপ্তরের নড়াইল, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও সাতক্ষীরার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীদের নিয়ে রাজধানীর জাতীয় জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠানে (আইপিএইচএন) একটি কর্মশালা আয়োজন করে এনএনএস। পুষ্টি সেবা পৌঁছাতে নানান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।
কর্মশালার পরে কয়েকটি উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য পরিচর্যা কর্মীদের (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার) সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবার পরিকল্পনা কর্মীরা পুষ্টি তথ্য ও গর্ভবতী মায়েদের আয়রন ফলিক অ্যাসিড সরবরাহসহ কোনো কাজেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মীদের সহযোগিতা করেন না।
এ বিষয়ে একটি জেলার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, পরিবার পরিকল্পনা সহকারীদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সারাক্ষণ নিজেদের কাজে ব্যস্ত রাখে। তাঁদের সপ্তাহে দুই দিন কমিউনিটি ক্লিনিকে বসতে হয়, দুই দিন সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির কাজ করতে হয়। পুষ্টির কাজ করাটা তাঁদের জন্য একটা বাড়তি চাপ। একই জেলার সিভিল সার্জনের দাবি, এক মাসে তিনি নয়টি কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে গেছেন। কিন্তু এক দিনও পরিবার পরিকল্পনা কর্মীদের পাননি।
এনএনএসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যেও সমন্বয় নেই: এনএনএসের মোট ১০ জন উপকর্মসূচি ব্যবস্থাপক হলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কেনাকাটা, বিদেশ ভ্রমণে বেশি আগ্রহী। জানা যায়, এ কর্মসূচিতে জরুরি অবস্থায় পুষ্টি সেবা কর্মসূচি দেখভাল করার কথা ছিল পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আলমগীর মুর্শেদীর। কিন্তু তিনি কেনাকাটার কাজ করেন। এ বিষয়ে আলমগীর মুর্শেদী জানান, তিনি আগেও সরকারের কেনাকাটার কাজ করেছেন।
পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের দাবি, কাজের চাপ কম থাকায় পুষ্টি কর্মসূচিতে বদলি হয়ে এসেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) তিন প্রভাবশালী নেতা মীর মোবারক হোসেন, শাহ গোলাম নবী ও আমীর হোসেন। একই সঙ্গে শাহ গোলাম নবী এবং আমির হোসেন পুষ্টি সেবা কর্মসূচির বাইরে আলাদা দুটি কর্মসূচির দায়িত্বেও রয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁরা বলেন, পুষ্টি সেবা কর্মসূচি এগিয়ে নিতে কাজ করছেন।
এলোমেলো কর্মসূচি: সমন্বয়হীনতার প্রভাব পড়ছে পুষ্টি সেবা কর্মসূচির বাস্তবায়নে। এনএনএসের কর্মকর্তাদের দাবি, তাঁরা দেশের ১৮টি মেডিকেল কলেজসহ মোট ৩৯টি জায়গায় তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা দিচ্ছেন। ঢাকার আজিমপুর মাতৃসদনে গত ৩০ মার্চ শিশু বিশেষজ্ঞ নাদিরা আফরোজ বলেন, তাঁরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। সরকার তাঁদের একটি পানির ফিল্টার, জগ, কাপ, চামচ দিয়েছে। তবে তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের যে খাবার দেওয়ার কথা, তার বরাদ্দ নেই। সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর থেকে তাঁরা চাল, ডাল, তেল, নুন সংগ্রহ করেন। বরিশাল বিভাগীয় কয়েকটি জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানেও চিকিৎসাব্যবস্থা চালু হয়নি।
অভিযোগ আছে, বছরজুড়ে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে শুধু প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলেছে। এনএনএস এবং বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলো একই জনগোষ্ঠীকে বারবার একই প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
বরিশাল বিভাগের একটি জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশি-বিদেশি সবাই আসে শুধু প্রশিক্ষণ দিতে। একই কথা বারবার বলে।’