Thursday, November 13, 2014

আফগানিস্তানকে হারাল মেয়েরা

কিছুদিন আগেই এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মেয়েদের ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েরা নজর কেড়েছিল পুরো দেশের। আজ মেয়েদের জাতীয় দলও সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুটা করেছে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই। ইসলামাবাদে নিজেদের প্রথম খেলায় মেয়েরা আফগানিস্তানকে হারিয়েছে ৬-১ গোলে।
কৃষ্ণা রানী সরকার হ্যাটট্রিক পেয়েছেন। অপর তিনটি গোল সাইনু মারমা, সাবিনা খাতুন ও মুনমুন আকতারের।
খেলার ২৪ মিনিটে অবশ্য এগিয়ে গিয়েছিলেন আফগান মেয়েরাই। মারজানের গোলে এগিয়ে গেলেও নারী ফুটবলে তুলনামূলক অভিজ্ঞ বাংলাদেশের সামনে প্রতিরোধের দেয়াল গড়তে পারেননি তাঁরা। দশ মিনিটের মাথাতেই সাইনু মারমার গোলে খেলায় ফিরে আসে বাংলাদেশ। এর পরের সময়টা ছিল পুরোপুরিই বাংলাদেশের।
৩৬ মিনিটে কৃষ্ণার গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে এই কৃষ্ণাই দলকে এগিয়ে নেন ৩-১ গোলে। ব্যবধান ৪-১ করেন সাবিনা খাতুন খেলার ৬২ মিনিটে। ৬৯ মিনিটে কৃষ্ণা তাঁর হ্যাটট্রিক পূরণ করেন।
ম্যাচের ইনজুরি সময় আফগানদের মাথা আরও হেঁট করে দেন মুনমুন আকতার।
ম্যাচ শেষে মেয়েদের বড় জয়ে সন্তুষ্টি ঝরেছে দলের জাপানি প্রধান কোচ সু কি তাতে নোরিওর কণ্ঠে। তিনি বলেছেন, ‘আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে মেয়েদের খেলার ধরনে।’
>>বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার ম্যাচের দৃশ্য। ছবি: বাফুফে।

রোহিত একাই ২৬৪!

নভেম্বর মাসটা কি রোহিত শর্মার খুব প্রিয়? গত বছর এই নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেঙ্গালুরু চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে খেললেন ২০৯ রানের ইনিংস। আজ কলকাতার ইডেন গার্ডেনে নিজের সেই কীর্তি তো ছাড়ালেনই, করলেন নতুন রেকর্ডও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে রোহিতের ‘অগ্নিশর্মা’ রূপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রানের পাহাড় গড়েছে ভারত। এ ওপেনারের ২৬৪ রানের সৌজন্যে নির্ধারিত ৫০ ওভারে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৪০৪।

>>নতুন উচ্চতায় রোহিত, উদযাপনটা তাই বাঁধনহারা। ছবি: বিসিসিআই
টসে জিতে প্রথম ব্যাট করতে নেমে ৫৯ রানেই ২ উইকেট হারিয়েছিল ভারত। এরপর কোহলিকে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে লঙ্কান বোলারদের নিয়ে রীতিমতো খেলতে শুরু করলেন রোহিত। রোহিত-কোহলির জুটিতে উঠল ২০২ রান। কী কী কীর্তি গড়লেন রোহিত, তার ছোট্ট একটা ফিরিস্তি দেওয়া যাক—
* ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। ছাড়িয়ে গেলেন বীরেন্দর শেবাগের করা ২১৯ রানের রেকর্ডকে।
* ওয়ানডে ক্রিকেটের একমাত্র ব্যাটসম্যান, যাঁর আছে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি।
* গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৬টি ছক্কার রেকর্ড গড়েছিলেন। এবার ‘উড়িয়ে’ মারার রেকর্ড গড়েননি ঠিকই, করেছেন সর্বোচ্চ চারের রেকর্ড। টেন্ডুলকারের ২৫ চারের রেকর্ড ছাপিয়ে রোহিত মেরেছেন ৩৩টি।
* এদিন রোহিত ছয়-ছয়বার ব্যাট উঁচিয়ে ধরলেন—ফিফটি, সেঞ্চুরি, ১৫০, ২০০, সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভেঙে আর ২৫০ করে। একদিনের ম্যাচে এতবার ব্যাট উঁচু করার সুযোগ কি আর কোনো ব্যাটসম্যান পেয়েছেন? এটিও কি একপ্রকার ‘রেকর্ড’ নয়?
রোহিতের দিনে ভারত গড়ল চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। আজ ভারতের প্রথম ১০০ রান এল ১৩৯ বলে, পরেরটি ৬৫, তারপর ৬০ আর শেষের ১০০ রান তুলতে লেগেছে মাত্র ৩৯ বল! বোঝাই যাচ্ছে শেষ দিকে কতটা চড়াও হয়েছিলেন ভারতের ব্যাটসম্যানরা। শ্রীলঙ্কার ফিল্ডিং দেখে অবশ্য হতাশ হতে হবে। এমন কিছু ‘ডলি’ ক্যাচ ছেড়েছেন লঙ্কান ফিল্ডাররা, তাতে চরম বিস্মিত ভারতীয় খেলোয়াড়েরাও। এমন বাজে দিনে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে সফল বোলার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। লঙ্কান অধিনায়ক ৮ ওভারে ৪৪ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট।
৪০৫ রানের রিবাট লক্ষ্যে খেলতে নেমে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না হতেই কুশল পেরেরার উইকেটটি হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সর্বশেষ ৪.২ ওভারে ১ উইকেট ১৯ তুলেছে শ্রীলঙ্কা।

যত রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিলেন রোহিত

ব্যাট তো নয়, যেন তরবারি নিয়ে নেমেছিলেন মহারাষ্ট্রের তরুণ। স্রেফ কচুকাটা করলেন বোলারদের। তাতেই বেশ ওলট-পালট হলো রেকর্ড বইয়ে। আসুন, দেখে নিই আজ কী কী রেকর্ড রোহিত শর্মা ভেঙেছেন। আর কী কী রেকর্ড ভাঙার একদম প্রান্তে চলে গিয়েছিলেন।

>>আজ যেন রেকর্ডের মালা পরেছেন রোহিত। পেলেন সতীর্থদের উষ্ণ অভিনন্দনও। ছবি: বিসিসিআই
* বীরেন্দর শেবাগের ২১৯ পেরিয়ে রোহিতের ২৬৪-ই এখন ওয়ানডের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
* এতদিন আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ইনিংসটির মালিক ছিলেন একজন নারী। বেলিন্ডা ক্লার্কের সেই ২২৯ রানের ইনিংসের রেকর্ডটাও পেরিয়ে গেলেন রোহিত। নারী-পুরুষ মিলিয়েই সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডের মালিক এখন তিনি।
* গত বছর নভেম্বরেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০৯ রান করেছিলেন। ওয়ানডেতে দুটো ডাবল সেঞ্চুরির একমাত্র মালিক এখন রোহিত।
* শুধু তা-ই নয়, ওয়ানডেতে ১৯০-এর দুটো ইনিংস রোহিত ছাড়া আর কারও নেই।
* ওয়ানডেতে ১৭৫-এর বেশি তিনটি ইনিংস আছে শচীন টেন্ডুলকারের। ভিভ রিচার্ডস, শেবাগ ও রোহিতের আছে দুটো করে।
* লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে (আন্তর্জাতিক ও স্বীকৃত একদিনের ম্যাচ মিলিয়ে) ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিকও এখন রোহিত। ভারত ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে গত বছর ২৪৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন শিখর ধাওয়ান।
* মাত্র চার রানের জন্য লিস্ট ‘এ’ ম্যাচের সর্বোচ্চ ইনিংসটার রেকর্ড হলো না রোহিতের। ২০০২ সালে সারের হয়ে ২৬৮ রান করেছিলেন অ্যালিস্টার ব্রাউন।

* আজ ৩৩টি চার মেরেছেন রোহিত। ওয়ানডেতে এটাই এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি চার মারার রেকর্ড। আজ অবশ্য ‘মাত্র’ ৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। তবে আগের ডাবল সেঞ্চুরিতে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন ১৬টি, যেটি ওয়ানডের রেকর্ড।
* সব মিলিয়ে ৪২টি বাউন্ডারি (চার-ছক্কা) হাঁকিয়েছেন। যেটি ভেঙে দিয়েছে শেবাগের ৩২টি বাউন্ডারি হাঁকানোর রেকর্ড।

পরিণীতি চোপড়া নির্লজ্জ বললেন রণবীরকে

জনসমক্ষে প্যান্ট খুলে সংবাদের শিরোনাম হন রণবীর সিং। কিন্তু রণবীর সিং একটু বেরসিকভাবেই প্যান্ট খোলেন। তাইতো সহ-অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া নির্লজ্জ বললেন তাকে।
সম্প্রতি কিল দিল ছবিতে রণবীরের সহ-অভিনেত্রী পরিণীতি বলেছেন, রণবীর যখন-তখন যার-তার সামনে জামাকাপড় খুলতে কোনো রকম লজ্জা অনুভব করেন না। রণবীরকে যেকোনো রূপে দেখতে আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তিনি জামাকাপড় না পরেই নির্দ্বিধায় যেকোনো মানুষের সামনে চলে আসতে পারেন। তার ভেতরে কোনো লজ্জা কাজ করে না। ঘন ঘন আমার সামনে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।’
পরিণীতা আরো বলেন, ‘আমি সাধারণত যে-কারো মেকআপ ভ্যানে ঢুকতে পারি কিছু না বলে। কিন্তু রণবীরের ভ্যানে অনুমতি না নিয়ে কখনই প্রবেশ করি না। তার ভ্যানে ঢুকতে গেলেই আমি শঙ্কিত থাকি, আদৌ তিনি পোশাক পরে আছেন কি না তা ভেবে। এমন ঘটনাও ঘটেছে যখন আমি তার ভ্যানে ঢোকার পরও তাকে পোশাক ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি।’
শুধু তাই নয়, রণবীর সবার সামনে প্যান্ট খুলতে পছন্দ করেন বলেও মন্তব্য করেছেন পরিণীতি। তবে রণবীর সিং এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি।

৩৩তম বিসিএস: নন-ক্যাডার নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পরেও শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ নন–ক্যাডাররা প্রার্থীরা। তাঁরা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ হস্তক্ষেপ কামনা করেন ৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন মাসুম বিল্লাহ।

>>নিয়োগের দাবিতে ৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। ছবি: প্রথম আলো
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সরকারের ৩৯টি মন্ত্রণালয় এবং এগুলোর অধীন বিভাগগুলোর প্রথম শ্রেণির মোট ১২ হাজার ৬৯৬টি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ৫০ হাজারের বেশি পদ খালি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গত ২১ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে আবার এই শূন্যপদগুলো পূরণের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এর পরও সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) নিশ্চুপ। এর ফলে একদিকে জনবল ঘাটতিতে দেশের স্বাভাবিক কাজের ব্যাঘাত হচ্ছে, অন্যদিকে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরিবঞ্চিত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৯০০ নম্বরের লিখিত ও ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় উর্ত্তীণ ২ হাজার ৯০৬ জন দ্বিতীয় শ্রেণির নন–ক্যাডার পদে চাকরির জন্য পিএসসিতে আবেদন করেছেন। কিন্তু তাঁদের চাকরি দেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে পিএসসির চেয়ারম্যানকে তিনবার স্মারকলিপি দেওয়া সত্ত্বেও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা পদে নিয়োগের কাজটি করে পিএসসি। এর মধ্যে ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষা নেওয়া হয়। আর নন–ক্যাডার পদগুলোর জন্য নেওয়া হতো আলাদা পরীক্ষা। কিন্তু প্রতিটি বিসিএস পরীক্ষায় প্রাথমিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ৮ থেকে ১০ হাজার প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও পদের শূন্যতার কারণে বেশির ভাগ প্রার্থীকেই ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করতে পারত না পিএসসি। এ কারণেই ২০১০ সালে নন–ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা করা হয়।
ওই বিধিমালায় বলা হয়, চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে থেকে যাঁরা ক্যাডার পদ পাবেন না, পদ শূন্য থাকলে তাঁদের আবেদন এবং মেধাক্রমের ভিত্তিতে তাঁরা প্রথম শ্রেণির নন–ক্যাডার পদে নিয়োগ পাবেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগের জন্যও ওই বিধিমালা সংশোধন করা হয়। এর ফলে বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন কিন্তু ক্যাডার পদ পাননি এমন প্রার্থীদের প্রথম শ্রেণির নন–ক্যাডার পদের পাশাপাশি দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা পদেও নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে মন্ত্রণালয়গুলো খুব বেশি চাহিদাপত্র না পাঠানোর কারণে বিসিএস উত্তীর্ণ অধিকাংশ প্রার্থীকেই নিয়োগের সুপারিশ করতে পারে না পিএসসি। ফলে নন-ক্যাডার নিয়োগ বিধিমালা জারির উদ্দেশ্য খুব বেশি সফল হচ্ছে না।

কিবরিয়া হত্যায় বিএনপি নেতা হারিছ, আরিফ গউছসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সম্পুরক চার্জশীট by এম এ মজিদ

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহএএমএস কিবরিয়া হত্যাকান্ডের ৯ বছর পর বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় সম্পুরক চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। প্রথম চার্জশীটে ১০জন দ্বিতীয় সম্পুরক চার্জশীটে ২৪ জন এবং তৃতীয় দফা সম্পুরক চার্জশীটে আরও ৯ জনকে জড়িয়ে মোট ৩৩ জনকে আসামী করে বৃহস্পতিবার অতি গোপনে চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। মামলার পঞ্চম তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি মেহেরুন নেছা পারুল এ চার্জশীট দাখিল করেন।

একটি সূত্র জানিয়েছে কিবরিয়া হত্যা মামলায় আরও ২ জনকে চার্জশীটভূক্ত করা হয়, তবে তারা ইতিমধ্যে ভারতে মারা যাওয়ায় তৃতীয় দফা সিএস এ তাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে। নতুন চার্জশীটে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সেক্রেটারী ও পৌর মেয়র আলহাজ্জ জিকে গউছকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
নতুন চার্জশীটে সম্পৃক্ত অন্য ৬ জন হলেন- হাফেজ মো. ইয়াহিয়া, আবু বকর ওরফে করিম, দেলোয়ার হোসেন রিপন, শেখ ফরিদ, আবদুল জলিল ও মওলানা শেখ আবদুস সালাম। নতুন চার্জশীটভূক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে কিবরিয়া হত্যা মামলায় কার কি ভূমিকা ছিল তা জানা যায়নি।
তবে হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ্জ জিকে গউছ জানিয়েছেন- সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যাকান্ডের সময় তিনি পবিত্র ওমরা হজ্জ পালনের জন্য সৌদী আরবে ছিলেন। এমন একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির হত্যাকান্ডের সাথে তাকে সম্পৃক্ত করার অর্থ হল তার রাজনৈতিক ভবিষ্যত নষ্ট করা।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারী হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী এসএএমএস কিবরিয়া, তার ভাতিজা মঞ্জুরুল কিবরিয়াসহ ৫জন। এ ঘটনায় জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সেক্রেটারী ও এমপি আব্দুল মজিদ খান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার দেড় মাসের মাথায় একই বছরের ১৯ মার্চ তৎকালীন সদর থানার ওসি ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এস. জামান, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান জেলা বিএনপি সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ূমসহ ১০ জন অখ্যাত বিএনপি ঘরানার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন।
প্রতিবেদন দাখিলের দিনই আদালতে নারাজী পিটিশন দাখিল করেন মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান। আদালত এ আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর একই বছরের ১০ মে মামলার শুনানীর তারিখ ধার্য হয়। কিন্তু মামলার বাদীর নারাজীর পিটিশন বাতিল হলে তারা হাইকোর্টে আপিল করেন। হাইকোর্ট এই আবেদনের পরিপ্রেেিত মামলাটি সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন।
সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যাল মুন্সি আতিকের দাখিলকৃত চার্জশীট থেকেই বিচার কাজ শুরু করতে চাইলে মামলার বাদী বর্ধিত ও অধিকতর তদন্তের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক বিপ্লব গোস্বামী সেই আবেদনও খারিজ করে দেন। আবেদনটি খারিজ হলে মামলার বাদী হাইকোর্টে রিভিশন লিভ টু আপিল দায়ের করেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হাইকোর্ট দীর্ঘ শুনানী শেষে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ মামলাটির অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
সিআইডি’র এএসপি মোঃ রফিকুল ইসলামকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। বর্ধিত তদন্তকালে মামলাটি নতুন মোড় নেয়। এর সঙ্গে জঙ্গী মিজান ও মুফতি হান্নানসহ জঙ্গী চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। মুন্সি আতিকের দেওয়া অভিযুক্ত ১০ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না যাওয়ায় প্রায় সাড়ে ৩ বছর পর ১০ আসামী জামিনে মুক্ত হন।
২০১১ সালের ২০ জুন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, মুফতি হান্নানসহ ২৪ জনকে আসামী করে অধিকতর তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তদন্তারী কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি রফিকুল ইসলাম ৪ বছর অধিকতর তদন্ত শেষে হবিগঞ্জ জুডিসিয়াল বিচারিক আদালতে এই প্রতিবেদন দাখিল করেন।
২০১১ সালের ২৮ জুন কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া প্রতিবেদনের উপর হবিগঞ্জের বিচারিক আদালতে নারাজীর আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেেিত মামলার মুল নথি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে থাকায় বিচারক রাজিব কুমার বিশ্বাস উপ-নথির মাধ্যমে আবেদনটি সিলেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কিবরিয়া হত্যাকান্ডের অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন এর বিরুদ্ধে নারাজীর আবেদন গ্রহণ করেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক দিলীপ কুমার দেবনাথ। তিনি ওইদিনই সিআইডির সিনিয়র পুলিশ অফিসারের মাধ্যমে মামলার অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
পরে ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে সিআইডির এএসপি মেহেরুন নেছা অধিকতর তদন্ত শুরু করার ২ বছর ১১ মাসের মাথায় তৃতীয় দফা সম্পুরক চার্জশীট প্রদান করেন। এ প্রসঙ্গে মামলার বাদী পরে আইনজীবী এডভোকেট আলমগীর ভূইয়া বাবুল জানান- পুরো চার্জশীট দেখিনি। তাই মন্তব্য করা বেশ কঠিন। প্রসঙ্গত, মরহুম শাহ এ এম এস কিবরিয়া ১৯৩১ সালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলা আ’লীগের ভন্ডামি :আকবর খান রনো

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো বলেছেন, আওয়ামী লীগ আমলেই হিন্দুদের দেশ ছাড়ার ঘটনা লজ্জাজনক। এ আমলেই যখন হিন্দুরা দেশ ত্যাগ করছে, তখন আওয়ামী লীগ কি করে বলে তারা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী? কি করে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলা আওয়ামী লীগের ভন্ডামি।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ভিআইপি লাউঞ্জে দিনেশ চন্দ্র বিশ্বাস স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে স্মরণ সভায় হায়দার আকবর খান রনো এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, হিন্দুদের এভাবে দেশ ত্যাগ করা চলবে না। প্রতিরোধ করতে হবে।
একই অনুষ্ঠানে প্রবীন রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টচার্য্য বলেন, বর্তমান সরকার দখলবাজদের লালন করছে। এরা কায়েমি আমলাদের হাতে বন্দী। ভ’মিদস্যু, ব্যাংক ডাকাতসহ ক্রাইম সিন্ডিকেটের হাতে বন্দী। এ প্রতিবেদন তৈরি করা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলছে।

প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকেও গ্রেফতার : নানক

দেশের স্থিতিশীল পরিবেশ ও শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকেও গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।
ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কিশোরগঞ্জের জনসভায় দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।
খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্য করে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আপনি দু’বার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাতে কি? আইনে উর্ধ্বে কেউ নয়। যে কেউ আইনের ব্যতয় ঘটাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কর্মসূচি যারাই দিবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নানক বলেন, দেশবাসীর কাঙ্খিত উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার যে কোনো ষড়যন্ত্র জনগণ দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করবে। সে যেই হোক। জনজীবনে শান্তি, নিরাপত্তা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার যে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কিশোরগঞ্জে দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানসিক অসুস্থতাকে লুকিয়ে রাখা যায় না। আপনার আচরণ শিরপীড়া, বিকারগ্রস্ত অস্থির যন্ত্রণার পরিচয় বহন করে। নিজের প্রতি যত্মবান হোন। তাহলে প্রচুর অসত্য ভাষণের সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কিশোরগঞ্জে যে ভাষণ দিয়েছেন তা অগণতান্ত্রিক, অসংলগ্ন, অপ্রাসঙ্গিক। দেশের মানুষ যখন শান্তিতে আছে, খালেদা জিয়া তখন অশান্তিতে আছেন। তার অশান্তির কারণ হচ্ছে ক্ষমতায় থেকে লুটপাট ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে না পারা।
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, বাংলাদেশের মীর জাফর জিয়ার স্ত্রী ঢাল-তলোয়ার নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ সম্মিলিতভাবে এ অগণতান্ত্রিক আস্ফালণকে দুরাশায় পরিণত করবে।
সংবাদ সম্মেলন আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক আব্দুল মান্নান, ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।

গাদ্দাফির ছেলেকে আইসিসির হাতে দিতে লিবিয়ার অস্বীকৃতি

গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফিকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি)র হাতে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে লিবিয়ান সরকার। সংবাদ মিডলইস্ট মনিটরের।
জাতিসঙ্ঘে স্থায়ীভাবে নিয়োজিত লিবিয়ার প্রতিনিধি ইব্রাহিম ওমার দাব্বাশি বুধবার বলেছেন ‘লিবিয়া সরকার অন্য আসামিদের মতোই সাইফ গাদ্দাফির নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে চায়। লিবিয়ার আদালত এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি এটা পরিষ্কার যে, কোথায় এ মামলার সঠিক বিচার করা সম্ভব।
ডাব্বাশি জানান, তিনি জাতিসঙ্ঘের সিকিউরিটি কাউন্সিলের অধিবেশনে আইসিসির প্রসিকিউটরের কাছে লিবিয়ার অপস্থা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। সরকার আশা প্রকাশ করে আইসিসি লিবিয়ান বিচারব্যবস্থার অধীনেই সাইফ গাদ্দাফির বিচারকে স্বীকৃতি দেবে।
আইসিসির জেনারেল প্রসিকিউটর ফ্যাটু বেনসৌদিয়া বুধবার এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক আদালতকে সহযোগিতা করার জন্য লিবিয়ান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বিশেষ এই আদালতের আদেশ মেনে গাদ্দাফিকে হস্তান্তরের কথা বলেন।
সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফি ২০০১১ সালের ২ অক্টোবর লিবিয়ান মরু শহর জিনতান থেকে গ্রেফতার হন। ২০১৩ সালের মে মাসে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার আগে তাকে জিনতানের কারাগারেই রাখা হয়।

মাশরুম পার্ক by এম এ করিম

সৈয়দপুরের লক্ষণপুরে মাশরুম পার্কের উদ্বোধন করা হয়েছে। পার্কে বেড়ানোর পাশাপাশি নিজস্ব ফার্মে উৎপাদিত কাঁচা মাশরুম, মাশরুম আটা, মাশরুম ট্যাবলেটসহ রকমারি সুস্বাদু খাবার মিলবে। গত ৬ই নভেম্বর এই পার্কের উদ্বোধন করেন লক্ষণপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল আজিজ। এ উপলক্ষে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয় মাশরুম পার্কে। পার্কের উদ্যোক্তা ও মাশরুম উৎপাদনকারী হাফিজুর রহমান গামা জানান, মানুষের চিত্তবিনোদনের পাশাপাশি মাশরুমের রকমারি খাবার সরবরাহের জন্য এই মাশরুম পার্ক তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ নানা রোগব্যাধি থেকে রক্ষার জন্য মাশরুমের ট্যাবলেটও তৈরি করা হয়েছে। এই মাশরুম পার্কটি নিজস্ব বিশাল দীঘির পাড় নিয়ে দৃষ্টিনন্দন করে তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষও কৌতূহলবশত একবার নিয়মিত মাশরুম খেয়ে এর স্বাদ ও উপকারিতায় মুগ্ধ হয়ে মাশরুম গ্রহণ শুরু করেছে। উন্নতমানের সবজি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে মাশরুম। সব ধরনের পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এ খাবারটি আজ সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ নানা জটিল ও কঠিন রোগীদের চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ওষুধের পাশাপাশি উৎকৃষ্ট পথ্য হিসেবে মাশরুম খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ কারণে মাশরুমের কার্যকারিতার বিষয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। সৈয়দপুরে বাণিজ্যিকভিত্তিতে মাশরুম চাষ শুরু হয়েছে। ওই ইউনিয়নের বেকার যুবক হাফিজুর রহমান গামা মাশরুম চাষ শুরু করেন। তার বাসাতেই ছোট্ট পরিসরে মাশরুম চাষ শুরু করে সফলতা অর্জন করেছেন। তিনি দিনাজপুর ও রংপুর থেকে বীজ সংগ্রহ করে মিলকি মাশরুম সেন্টার গড়ে তুলেছেন। মাশরুম এমন একটি সবজি যা বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে রুচিকর রকমারি খাবার তৈরি করা যায়। এই মাশরুম থেকে সব ধরনের শাকসবজি, ভাজি, মাছ, মাংস ডিম অমলেট, চপ, সিঙ্গারা, সমুচা, নুডলস, মোগলাই, চটপটি, পেটিস, বার্গার, চাইনিজ, স্যুপ, পোলাও, বিরিয়ানি, রাইস ফ্রাই ইত্যাদি তৈরি হয়। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের এটি আদর্শ খাবার। শরীরের কোলেস্টরল ও মেদ ভুঁড়ি কমাতে সাহায্য করে। গর্ভবতী মা ও শিশুদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মাশরুম উচ্চ রক্তচাপ, রক্ত স্বল্পতা, চর্মরোগ, অ্যালার্জি, পেটের পীড়া, জন্ডিস, কোষ্ঠকাঠিন্য ও টিউমার রোগের নিরামক হিসেবে সর্বাধিক সমাদৃত। সম্ভবত সৈয়দপুরে এটিই প্রথম মাশরুম পার্ক।

এবার স্কুলেও অনলাইনে ভর্তির আবেদন

ঢাকা মহানগর স্কুলে ভর্তি ফরম বিক্রি হবে অনলাইনে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি কমাতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রথমবারের মতো ঢাকা মহানগরীর ৩০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি অনলাইনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে স্কুলগুলোতে আবেদন ফরমের মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে কয়েকটি নামিদামী বেসরকারি স্কুলও ইতিমধ্যেই অনলাইনে ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) সুপারিশের আলোকে প্রাথমিক অনুমোদন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার দেশের সরকারি স্কুলে ভর্তি নীতিমালা ২০১৫ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক) মো. জাকির হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তররের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুনসহ উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, এবার নীতিমালায় বেশ কিছু নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যদিও এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন লাগবে। সরকারি ৩০টি স্কুলে ভর্তি হতে হলে এবার স্কুলের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ফরমের মূল্য পরিশোধ করতে হবে ‘বিকাশে’র মাধ্যমে। এবার ফরমের মূল্য ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করা হয়েছে। বেসরকারি স্কুলগুলোকেও এই নিয়ম-নীতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সরকারি স্কুলে কবে থেকে ফরম বিতরণ শুরু হবে তা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) আগামী সপ্তাহে এক বৈঠকের মাধ্যমে ঠিক করার জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়ে মাউশি’র উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) একেএম মোস্তাফা কামাল বলেন, গতকাল ভর্তি সংক্রান্ত একটি বৈঠক ভর্তির বিষয়ে নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। মাউশি সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ২৪টি স্কুলকে এবারো এলাকাভিত্তিতে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ এই তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। এলাকা অনুযায়ী ঢাকার নতুন ছয়টি সরকারি স্কুলকে এবার বিভিন্ন গ্রুপে বণ্টন করা হবে। আগামী সপ্তাহে সেই বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। নতুন স্কুলগুলো হচ্ছে আজিমপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, হাজারীবাগ শেখ রাসেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মিরপুরের দুয়ারীপাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডেমরার আলহাজ হাজী গফুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভাষানটেক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং উত্তরখানের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। একই গুচ্ছের একাধিক স্কুল থেকে ভর্তি ফরম কেউ কিনতে পারবে না। একজন শিক্ষার্থী তিনটি গুচ্ছের প্রতিটি থেকে একটি করে সর্বোচ্চ তিনটি ফরম কিনতে পারবে। যে স্কুলে ভর্তি হতে আগ্রহী সেখান থেকেই ফরম কিনতে হবে। তিন ক্যাটিগরিতে ভাগ করা স্কুলগুলোতে একই দিনে লটারি অনুষ্ঠিত হবে। ‘ক’ গ্রুপের স্কুলগুলো হচ্ছে গভ. ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, নিউ গভর্নমেন্ট গার্লস হাইস্কুল, ইসলামিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, মিরপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও নবাবপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়। ‘খ’ গ্রুপের স্কুলগুলো হচ্ছে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, নারিন্দা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত হাইস্কুল, গভ. মুসলিম হাইস্কুল, বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ধানমন্ডি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও ধানমন্ডি কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। আর ‘গ’ গ্রুপে রয়েছে ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাইস্কুল, টিকাটুলি কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, আরমানীটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, গণভবন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও তেজগাঁও সরকারি উচ্চবিদ্যালয়।

এ ছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীতে গত বছরের মতোই ৫০ নম্বরের এক ঘণ্টার ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণীতে ১০০ নম্বরের ২ ঘণ্টার পরীক্ষা নেয়া হবে। আর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নবম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীতে বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫ ও গণিতে ২০ নম্বর করে মোট ৫০ নম্বরের এক ঘণ্টার এবং অন্যান্য শ্রেণীতে বাংলা ৩০, ইংরেজি ৩০ ও গণিতে ৪০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের ২ ঘণ্টার পরীক্ষা নেয়া হবে।

অরিনের ‘ভয়ঙ্কর গোলমাল’

লাক্স চ্যানেল আই তারকা অরিনের দ্বিতীয় ছবি ‘ভয়ঙ্কর গোলমাল’-এর শুটিং মহরতের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে এ মাসেই। বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিতব্য এই ছবির বাংলাদেশী পরিচালক দেওয়ান নাজমুল। ইতিমধ্যেই এই পরিচালক যৌথ প্রযোজনায় ‘সীমারেখা’ নামক একটি ছবি নির্মাণ করেছেন টালিগঞ্জের সফল পরিচালক স্বপন সাহার সঙ্গে। এবার করছেন তপন দাশ-এর সঙ্গে। ‘ভয়ঙ্কর গোলমাল’ ছবির মহরত হবে এফডিসিতে। লাক্স তারকা অরিনের সঙ্গে আরও থাকবেন কলকাতার দুজন নায়ক-নায়িকা। বাংলাদেশ থেকেও একজন জনপ্রিয় নায়ক থাকবেন। আরও থাকবেন কলকাতার রজতভ দত্ত, বাংলাদেশের সাদেক বাচ্চুসহ অনেকেই। পরিচালক দেওয়ান নাজমুল জানালেন, সহসাই সব কিছু চূড়ান্ত হবে। ‘ভয়ঙ্কর গোলমাল’ লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০১২-এর বেস্ট স্কিন অরিনের দ্বিতীয় ছবি।

ইতিমধ্যেই তিনি রাজু আহমেদ পরিচালিত ‘অসম প্রেম’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রেখেছেন। এটিএন বাংলার চলচ্চিত্র প্রযোজনা মাল্টিমিডিয়া ফিল্ম প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মীয়মাণ ‘অসম প্রেম’ ছবিতে অরিন অভিনয় করছেন দেশীয় চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাকের বিপরীতে। বাপ্পারাজও এই ছবিতে তার নায়ক। অন্য রকম গল্পের জটিল একটি চরিত্রে দেখা যাবে অরিনকে। ছবিতে আরও রয়েছেন ইমন ও অমৃতা খান।

মাদক পাচারের দায়ে কেনিয়ায় গ্রেপ্তার মমতা

মাদক পাচারের দায়ে বলিউডের নব্বই দশকের আলোচিত অভিনেত্রী মমতা কুলকার্নি ও তার কথিত স্বামী বিজয় ভিকি গোস্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে কেনিয়া পুলিশ। মাদক পাচারের প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। মমতা কুলকার্নি প্রায় এক যুগ ধরে বলিউড থেকে দূরে রয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই সময়ে নিজেকে একজন যোগিনী হিসেবেও প্রমাণ করেছেন তিনি। বলিউডে অভিনয় করাটা ছিল তার ভুল, এখন নিজের ভুল বুঝতে পেরে যোগিনী হিসেবে সৃষ্টিকর্তার তপস্যা করেই পুরো জীবন পার করবেন- এমনটাই কদিন আগেও জানিয়েছেন মমতা। সারা জীবন একাই থাকবেন বলেও সে সময় ঘোষণা দেন তিনি। এদিকে মধ্যবয়সী ভিকির সঙ্গে মমতার সম্পর্ক বেশ পুরানো। বলিউডে কাজ করা অবস্থায় মমতা লিভ টুগেদারও করেছেন তার সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের ব্যাপারে কখনও কোন কিছু বলেননি মমতা। তাই ভিকি আসলেই মমতার স্বামী কিনা সেই বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে ভিকি মাদক পাচারের দায়ে এরই মধ্যে ১৫ বছর কারাভোগ করেছেন। ২০১২ সালে তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে অবারও মাদক পাচারে জড়িয়ে পড়েন। ভিকি ও মমতার সঙ্গে কেনিয়া পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তানি দুই নাগরিককেও। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে কেনিয়া পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মমতা ও ভিকির গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ফলাও করে প্রকাশ করেছে কেনিয়ান গণমাধ্যমগুলো। উল্লেখ্য, নব্বই দশকে অভিনেত্রী হিসেবে আলোচনার তুঙ্গে থাকা অবস্থায়ও একবার মাদক সেবন ও পাচারের দায়ে ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মমতা। তবে সে সময় খুব দ্রুতই ছাড়া পেয়ে যান তিনি।

এখনও অভিনয় করতে চান ফরিদ আলী

অভিনেতা ফরিদ আলীকে চেনেন না এমন নাটক বা সিনেমাপ্রিয় দর্শক এ দেশে খুঁজে পাওয়া বোধকরি দুষ্কর। সবার কাছে একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র কৌতুক অভিনেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন সাংবাদিকও বটে। ৭৩ বছর বয়সী ফরিদ আলী এখনও অভিনয় করতে চান। পুরান ঢাকার ঠাটারি বাজারের বাসিন্দা ফরিদ আলী শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হলেও ক্যামেরার সামনে এখনও প্রাণবন্ত। যে কারণে গত ঈদে তিনি আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় ‘পূর্ণিমার চাঁদে মেঘ’ নাটকে অভিনয় করেছেন। তবে কবে সর্বশেষ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তা এখন মনে করতে পারছেন না এ অভিনেতা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ফরিদ আলীকে বঙ্গবন্ধু ‘চাল্লি ফরু’ বলে ডাকতেন। এ নামে কেউ ডাকলে তখন খুব ভাল লাগে তার। ১৯৫৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা থাকলেও তা আর শেষ পর্যন্ত দেয়া হয়নি এ মানুষটির। বিটিভির প্রথম হাসির নাটক ‘ত্রি রত্ন’র তিনজন ছিলেন প্রয়াত আশীষ কুমার লৌহ, জলিল ও ফরিদ আলী। মূলত সালাহউদ্দিনের পরিচালনায় ‘ধারাপাত’ চলচ্চিত্রে ব্যঙ্গ চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে ফরিদ আলীর সম্পৃক্ততা ঘটে। এরপর সংগম, অভিশাপ, পরশমণি, গুণ্ডা, রংবাজ, সপ্তডিঙ্গা, যে আগুনে পুড়ি, তিতাস একটি নদীর নাম, জালিয়াত, পালঙ্ক, অধিকার, গোপাল ভাঁড়, তরুলতা, ঘুড্ডি, লাগাম, কলমীলতা, ভাগ্যলিপি, সাধনাসহ বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ফরিদ আলী বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে আমজাদ হোসেনের মতো গুণী, মেধাবী নির্মাতা আর আসবেন না। নায়ক রাজ রাজ্জাক-কবরী আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রের অহঙ্কার। এমন সফল জুটিও আর হবে না আমাদের চলচ্চিত্রে। আমার সৌভাগ্য যে, আমি আমজাদ হোসেনের মতো গুণী পরিচালক এবং নায়করাজ রাজ্জাক ও কবরীর সঙ্গে অভিনয় করতে পেরেছি। ফরিদ আলী তার অভিনয় জীবনে চলচ্চিত্রে বেশি অভিনয় করেছেন রাজ্জাক ও কবরীর সঙ্গে বিভিন্ন ছবিতে। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে ফরিদ আলী সবার ছোট। বিটিভির চতুর্থ নাটক ‘নবজন্ম’ ছিল ফরিদ আলীরই লেখা। তবে তার লেখা সবচেয়ে দর্শকপ্রিয় আলোচিত নাটক ছিল ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’। ফরিদ আলী ১৯৭৫ সালের ২০শে আগস্ট মনোয়োরা বেগম বিউটির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি চার পুত্র ও এক কন্যার গর্বিত পিতা। ফরিদ আলী কৃতজ্ঞ ফরিদুর রেজা সাগরের কাছে। কারণ, দীর্ঘ এক যুগ এ মানুষটি প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন তাকে।

ইবোলায় প্রাণহানি ৫,০০০ ছাড়ালো

প্রাণঘাতী ভাইরাস ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে প্রাণহানির সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গত ১১ই নভেম্বরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইবোলায় ৫,১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৯ই নভেম্বরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইবোলায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৬৮ জন। এদিকে সিয়েরা লিওনে ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। দেশটিতে আরও ৪২১ জন ইবোলায় সংক্রমিত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি ও এনডিটিভি। নতুন পরিসংখ্যানে ৯ই নভেম্বর পর্যন্ত নাইজেরিয়া, সেনেগাল, মালি, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৩টি নতুন মৃত্যু ও ৩০টি সংক্রমণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লাইবেরিয়ায় ২,৮৩৬, সিয়েরা লিওনে ১,১৬৯, গিনিতে ১,১৪২, নাইজেরিয়ায় ৮, মালিতে ৪ ও যুক্তরাষ্ট্রে ১ জন ইবোলা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

ইতালিতে ডিভোর্সের হার বাড়ার কারণ ‘হোয়াটসঅ্যাপ’

বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয় মেসেঞ্জার সার্ভিস ‘হোয়াটসঅ্যাপ’। ইতালিতে হোয়াটসঅ্যাপ সবচেয়ে জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদানকারী সেবা। সম্প্রতি স্মার্টফোনের এ অ্যাপটির যথেচ্ছা ও অপব্যবহারে সম্পর্কেও ধরছে ভাঙন। ফেইসবুকের বিরুদ্ধে এ অপবাদ ছিল আগেই। সে তালিকার নতুন সংযোজন হোয়াটসঅ্যাপ। অপরিচিত কোন নারী বা পুরুষের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আলাপচারিতার জন্য ইতালির বহু নারী-পুরুষ হোয়াটসঅ্যাপকে বেছে নিয়েছেন। ইতালির শীর্ষস্থানীয় এক আইনজীবীর দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে ডিভোর্স বা বিয়ে বিচ্ছেদের হার বেড়েছে হোয়াটসঅ্যাপের কারণে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই। ব্যভিচারের অভিযোগ এনে যে ডিভোর্সগুলো করা হয়েছে, তার ৪০ শতাংশই হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের কারণে। অসৎ স্বামী বা অসতী স্ত্রী বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক গড়েছেন পরপুরুষ বা পরনারীর সঙ্গে এবং সে অবৈধ সম্পর্কের হালে পানি দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। ইতালিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যাট্রিমোনিয়াল লইয়ার্স সংগঠনের প্রেসিডেন্ট জিয়ান এত্তোরে গাসানি এ তথ্য দিয়েছেন। জিয়ান এত্তোরি বলেন, ইতালিতে বিশ্বাসঘাতকতার মাত্রাকে বাড়িয়ে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তিনি বলেন, প্রথমত মেসেজ পাঠানো, এরপর ফেইসবুক এবং এখন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ সহজ করা হয়েছে। ব্যাপকভাবে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে দেশটিতে। প্রেমিক-প্রেমিকারা এখন তাদের অন্তরঙ্গ ছবি শেয়ার করতে পারেন। ব্যাভিচারীরা ৩ থেকে ৪টি সম্পর্ক গড়ে তুলছে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে। জিয়ান বলেন, এটা ডিনামাইটের মতো। ২০১২ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং মার্কেটের ৮৮ শতাংশই ছিল হোয়াটসঅ্যাপের দখলে। জিয়ান বলেন, ইতালিতে পরিবার হচ্ছে মূলভিত্তি। কিন্তু, গত বেশ কয়েক বছর ধরে সেই পরিবার ব্যবস্থা আক্রমণের শিকার হচ্ছে এবং হোয়াটসঅ্যাপ সে তালিকার সর্বশেষ বা চূড়ান্ত সংযোজন।

চট্টগ্রামে স্বপ্নিল সূচনা by ইশতিয়াক পারভেজ

তামিম ইকবালের তখন ৯৮ রান। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ২ রান দূরে। তখনই ইমরুল কায়েসকে দেখা গেল কিছু একটা বলছেন। পার্টনার তামিমকে দেয়া সেই মন্ত্রটায় শেষ পর্যন্ত কাজও হলো। টেস্ট ক্যারিয়ারে ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন তামিম। ইমরুলের বলা সেই কথা কি ছিল? ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিমকে প্রশ্নটি করতেই তিনি ইমরুলকে উত্তরটা দিতে বললেন। ইমরুল বলেন, ‘আসলে আমি বলেছিলাম আর মাত্র ২টা রান লাগবে। যদি তাড়াহু ড়ো করতে যাই রান আউট হয়ে যেতে পারি। যদি উইকেটে থাকি তাহলে রান আসবেই।’ একই ভাবে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটিতে রেকর্ড উপহার দেয়ার পথে তাদের দেখা গেল বেশ কয়েকবার একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে। ইমরুল কায়েসও শেষ পর্যন্ত টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন।  তাদের সেই অসাধারণ বোঝাপড়াটাই ছিল রানের চাকা সচল রাখার আসল হেতু। আর শেষ পর্যন্ত ওপেনিংয়ে সর্বোচ্চ ২২৪ রানের জুটি। সেই সুবাদে সাগরিকায় প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে ৯০ ওভারে ৩০৩ রান ২ উইকেট হারিয়ে। নিজেদের এই  বোঝাপড়া নিয়ে তামিম বলেন, ‘এটা সত্য যে, আমি আর ইমরুল দু’জন দু’জনকে বুঝি বিশেষ করে ব্যাটিংটা। আর এই কারণেই আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা খুব ভাল হয়। ৫৫-৬৫ রান করার সময় আমি একটু বাজে শট খেলছিলাম। তখনও ইমরুল আমাকে শান্ত করে। আর সেই কারণেই সেঞ্চুরিটা চলে এসেছে।’ আজ জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে ৪৬ রানে মুমিনুল ও ৫ রান করে অপরাজিত থাকা মাহমুদুল্লাহ দ্বিতীয় দিন শুরু করবে। এর আগে বাংলাদেশ একদিনে ৩ শ’ রান তুলতে এত কম উইকেট হারায়নি। ২০১২ সালে খুলনায় বাংলাদেশ একদিনে সর্বোচ্চ ৩৬৫ রান সংগ্রহ করলেও উইকেট হারিয়েছিল ৮টি। আর ৩০৩ রান করে একদিনে মাত্র ২টি উইকেট হারানো এটি বাংলাদেশের জন্য প্রথম। আর চট্টগ্রামে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ের ম্যাচে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের একদিনে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই সংগ্রহ ছিল ২৮০ রান ৪ উইকেট হারিয়ে। আর জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের একদিনে সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ২৫৫ রান ৪ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। গতকাল সাগরিকায় একদিনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন শক্ত ভিত গড়তে তামিম ইকবালের ব্যাট থেকে এসেছে ১০৯ ও ইমরুলের ক্যারিয়ার সেরা ১৩০ রান। প্রায় তিন বছর পর ইমরুল এই বছর এই চট্টগ্রামে টেস্ট খেলতে নামে। তখন মাঠে ফিরেই  ক্যারিয়ারে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকান। এরপর দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি আসে আবারও এই মাঠেই।  তামিম ইকবাল তার টেস্টে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় বারের মতো ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি হাঁকান। সাগরিকায় গতকাল ইমরুল হাঁকান ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি। খুলনায় ১০৯ রান করতে তামিম খেলেছিলেন ৩৩২ বল। কিন্তু গতকাল ১০৯ রান করতে খেলেছেন মাত্র ১৭১টি বল। নিজের এমন ইনিংস নিয়ে তামিম বলেন, ‘আসলে আমি বলবো এই সেঞ্চুরির চেয়ে খুলনারটি সবচেয়ে বেশি কঠিন ছিল। কারণ উইকেট ফ্লাট মনে হলেও সেখানে টিকে থাকা ছিল কঠিন। আর একটি বিষয় আমি আমার টেস্ট ক্যারিয়ারে একদিন টিকে থেকে আগে ব্যাট করিনি। সেটি ছিল প্রথম। তাই সারাদিনে আমি করেছিলাম ৭৪ রান এটি আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল। আর এখানে খুব সহজ না হলেও আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।’ তবে নিজের ৬টি টেস্ট সেঞ্চুরির কোনটিকে বড় করে দেখতে চান না। তিনি বলেন, ‘আমার সবগুলো সেঞ্চুরিই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ দলীয় ২২৪ রানের সময় বাজে একটি শট খেলতে গিয়ে অবশ্য সিকান্দার রাজার শিকার হন তামিম অন্যদিকে তামিম ইকবালের বিদায়ের পর মুমিনুলকে নিয়ে আরেকটি জুটি গড়ার পথে ২৭৫ বল খেলে ১৩০ রান করে আউট হন ইমরুল।
অন্যদিকে বাংলাদেশের হয়ে ওপেনিং সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী জুটি এখন ইমরুল-তামিম ইকবালেরই। এই দু’জনের ব্যাটে ২০০৮ সাল থেকে এই পর্যন্ত ৩৩ ইনিংসে ওপেনিং জুটিতে এসেছে ১৪৫৩ রান। ওপেনিং দ্বিতীয় সেরা জুটিতেও  আছেন তামিম ইকবালের বড় ভাই নাফিস ইকবাল ও জাবেদ ওমর। তাদের সংগ্রহ ছিল ১৯ ইনিংসে ৬৬৫ রান। বলা চলে বাংলাদেশের ১৪ বছরে টেস্ট ক্যারিয়ারে ওপেন করতে নেমে এই এখন পর্যন্ত ইমরুল ও  তামিমই সেরা। ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের শত রানের জুটি এত দিন ছিল মাত্র ৪টি। আগের এই চার সেরা জুটির তিনটিতেই ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবালের অবদান। গতকাল এই দু’জন আবারও ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সেরা জুটির রেকর্ড উপহার দিলেন। শুধু কি তাই, এখন পর্যন্ত কোন ওপেনিং জুটিতেই আসেনি জোড়া সেঞ্চুরিও। কিন্তু সাগরিকায় ব্যাট করতে নেমে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের জোড়া সেঞ্চুরিতে ২২৪ রান সংগ্রহ করে নিজের ২০১০ সালে লর্ডসে গড়া ১৮৫ রানের রেকর্ড ভাঙেন তারা। বাংলাদেশের সব উইকেটে রানের জুটির দিক থেকে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটি।  ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা জুটি ছিল এই পর্যন্ত জুনায়েদ ও তামিম ইকবালের নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ডুনেডিনে ১৬১ রান। তবে ওপেনিং বাংলাদেশের মাটিতে গতকালেরটি সর্বোচ্চ রানের জুটি। দেশের মাটিতে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জাবেদ ওমর ও নাফিস ইকবালের ১৩৩ রান।
ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সেরা ৫ জুটি :
জুটি         রান     প্রতিপক্ষ          ভেন্যু/সাল
ইমরুল-তামিম        ২২৪    জিম্বাবুয়ে        চট্টগ্রাম/২০১৪
ইমরুল-তামিম        ১৮৫     ইংল্যান্ড        লর্ডস/    ২০১০
জুনায়েদ-তামিম        ১৬১    নিউজিল্যান্ড        ডুনেডিন/২০০৮
জাবেদ-নাফিস ইকবাল        ১৩৩    জিম্বাবুয়ে        ঢাকা/২০০৫
ইমরুল-তামিম         ১২৬    ইংল্যান্ড        ম্যানচেষ্টার/২০১০

অপুর জামিন আবেদন খারিজ

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব মিয়া নূর উদ্দিন অপুর জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন এবং বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন, দুদকের পক্ষে  খুরশীদ আলম খান এবং অপুর পক্ষে জয়নুল আবেদীন শুনানি করেন। গত ১৪ই জুলাই ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায় অপুর জামিন আবেদন নাকচ করেন। এরপর ২০শে জুলাই তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। ওই সময় হাইকোর্ট রুল জারি করেছিল। শুনানি শেষে ওই রুল খারিজ করলো আদালত। বসুন্ধরা গ্রুপের কর্মকর্তা হুমায়ূন  কবীর সাব্বির হত্যা মামলার আসামিদের বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে ২১ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর দুদক এই মামলা দায়ের করে। ২০০৮ সালের ১৪ই জুলাই আদালত অভিযোগ গঠন করে। অপু এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

‘ক্যাম্পাসে কেউ সন্ত্রাস করলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন’ -জয়

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিরাপদ রাখতে হবে। কোন ক্যাম্পাসে কেউ সন্ত্রাস করলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন। যারা সন্ত্রাস করবে, তাদের সহ্য করা হবে না। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে ছাত্রলীগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের বদনাম হয়, নেতা-কর্মীদের সেই ধরনের কোন কাজ করা ঠিক হবে না। যখন দল ক্ষমতায় থাকে, তখন সবাই ছাত্রলীগ আর আওয়ামী লীগার হয়ে যায়। আমাদের দেশে একশ্রেণির মানুষ আছে, যারা পাকিস্তানের এজেন্ট। তারাও অপপ্রচার চালাতে থাকে। এই ধরনের প্রচারে কান দেয়ার দরকার  নেই। প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, আমরা যদি সৎ থাকি, তবে চিন্তার কিছু নেই। কেউ সঠিক শিক্ষা নিলে তার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি করার দরকার হয় না।

ধূমকেতুতে নামল রোবটযান

ধূমকেতু সিক্সটিসেভেনপির বুকে অবতরণের আগ মুহূর্তে রোবটযান
ফিলে। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির দেওয়া ছবি l রয়টার্স
এই প্রথম কোনো ধূমকেতুতে রোবট নামল। বাংলাদেশ সময় গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে রোবটযান ফিলে ধূমকেতু সিক্সটিসেভেনপির ওপর অবতরণ করে। ঘটনাটি পৃথিবী থেকে ৫১ কোটি কিলোমিটার দূরে। খবর নাসা ও বিবিসির।
বাংলাদেশ সময় গতকাল বেলা দুইটা ৩৫ মিনিটে ধূমকেতু সিক্সটিসেভেনপির কাছাকাছি অবস্থানরত ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) মহাকাশযান রোজেটা থেকে রোবটযান ফিলে বিচ্ছিন্ন হয়। এটি ধূমকেতুর পৃষ্ঠে অবতরণ করতে সাত ঘণ্টার মতো সময় নেয়। রোজেটার অভিযানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশের পাশাপাশি সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
ফিলে রোবটযান ধূমকেতুতে অবতরণের পরপরই ইএসএর মহাব্যবস্থাপক জেন-জ্যাকুয়েস ডোরিয়েন বলেন, এটি মানবসভ্যতার জন্য এটি বড় পদক্ষেপ।
গবেষকদের আশা, অভিযান সফল হলে ৪৫০ কোটি বছর আগে সৌরজগৎ সৃষ্টির সময়কার প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে জানা যাবে।
রোবটযান কীভাবে ধূমকেতুতে অবতরণ করল, এ বিষয়ে গবেষকেরা বলেন, ধূমকেতু থেকে ১৪ মাইল (২৩ কিলোমিটার) দূরে থাকা অবস্থায়, ১০০ কেজি ওজনের ফিলে রোবটযান মহাকাশযান রোজেটা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। কোনো রকম ইঞ্জিনের শক্তি বা দিকনির্দেশনা ছাড়াই এটি ধূমকেতুর দুর্বল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে এর ওপরে অবতরণ করে।
অভিযান শুরুর আগে ইএসএর জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞান উপদেষ্টা অধ্যাপক মার্ক ম্যাককফরিয়ান বলেছিলেন, ধূমকেতুতে ফিলের অবতরণ বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন ও পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রের ওপর নির্ভরশীল।
রোবটযান ফিলের সফল অবতরণে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল, চার কিলোমিটার দীর্ঘ ধূমকেতু সিক্সটিসেভেনপির অত্যন্ত কম মাধ্যাকর্ষণ। রোবটযানটি ধূমকেতুর ওপর পড়ে লাফিয়ে উঠে মহাশূন্যে হারিয়ে যেতে পারত। তাই অবতরণ নির্বিঘ্ন করতে রোবটযানটি ধূমকেতু লক্ষ্য করে হারপুন (মাছ শিকারের চোখা দণ্ডবিশেষ) ছোড়ে। আর রোবটযানের পা থেকে বের হওয়া স্ক্রু ধূমকেতুতে আটকে গিয়ে এর অবস্থান সুসংহত করে।
নাসার গবেষক আর্ট চেমিলিউস্কি বলেন, ধূমকেতু সিক্সটিসেভেনপির মাধ্যাকর্ষণ বল পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের এক লাখ ভাগের এক ভাগ। চেমিলিউস্কি আরও বলেন, রোবটযান ফিলেতে দুটি হারপুন ও ধাক্কা সহ্য করে অবতরণের দুটি যন্ত্র আছে। এ ছাড়া এর তিনটি পায়েই একটি করে ড্রিল মেশিন আছে। এর মধ্যে একটি ছোটখাটো রকেট ইঞ্জিনও আছে। এই সবকিছুই শুধু সফল অবতরণের জন্য।
ইএসএর রোজেটা মিশনের গবেষক মেরিনা গারল্যান বলেন, ‘ধূমকেতুতে নামার প্রক্রিয়াটি ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা জানতাম না, ধূমকেতুটির উপরিভাগ কী দিয়ে গঠিত ছিল। এটি যদি শক্ত বরফের তৈরি হতো, তাহলে ফিলে রোবটযান ধূমকেতুতে স্পর্শ করার পরপরই মহাশূন্যে হারিয়ে যেত। আর যদি তুলার মতো নরম হতো, তাহলে রোবটযান ধূমকেতুর মধ্যে ডুবে যেতে পারত।’
অবতরণের পর রোবটযান ফিলের কাজ প্রসঙ্গে গবেষকেরা জানান, ধূমকেতুতে ভালোভাবে অবস্থান নিশ্চিত করার পরপরই রোবটযান চারপাশের ছবি তুলবে। দূর থেকে দেখা গভীর গর্ত ও লম্বা প্যাঁচানো বরফের ধূমকেতুটি দেখা যাবে অনেক কাছ থেকে।

৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সবারই জানা -মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র

বাংলাদেশের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা সবারই জানা বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেন পাসাকি। ১২ই নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মানবজমিন-এর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি কাউসার মুমিনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, গত জানুয়ারিতে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বা গণতন্ত্র নিয়ে আমাদের যে উদ্বেগ, তা সবাই জানেন এবং আমরা প্রায়ই তা বলে আসছি। এ বছরের শুরুর দিকে আমরা নির্বাচনের ব্যাপারে একটি বিবৃতি দিয়েছিলাম, যেখানে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের সরকার ও বিরোধীদলগুলোকে একটি সংলাপে বসার জন্য আমরা উৎসাহিত করেছিলাম, যেন জনগণের মতামত দেয়ার একটি উপায় তারা খুঁজে বের করতে পারেন এবং অন্যরা তা শ্রদ্ধা করতে পারেন। আমরা উস্কানিমূলক সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এনজিওসমূহ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিপক্ষে কথা বলেছি এবং এগুলো আমরা নিয়মিতই করে থাকি। আমরা এটা অব্যাহত রাখবো, যতদিন পর্যন্ত আমরা তা ন্যায্য বলে বোধ করবো। জেন পাসাকিকে উদ্দেশ্যে করে কাউসার মুমিন বলেন, আমার নাম কাউসার মুমিন। আমি বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক মানবজমিন’-এর প্রতিনিধি হিসেবে গত তিন বছর ধরে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খবর সংগ্রহ করছি। আমার আজকের প্রশ্নটি মূলত বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের ব্যাপারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার যে সংলাপটি হয়, সেখানে একটি যৌথ বিবৃতি দেয়া হয়। কিন্তু, সেখানে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ব্যাপারে কোন জোর দেয়া হয়নি। কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র আর মান-নির্ভর কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করছে না। আমি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে উদ্বুদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ব্যাপারে আপনার মতামত জানতে চাই। তবে প্রশ্নটি করার আগে আমি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গতকাল যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাকে অভিনন্দন জানাই। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকেও অভিনন্দন জানাই। কারণ, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক চুক্তি বাংলাদেশের মতো অরক্ষিত দেশগুলোর জন্য সুফল বয়ে আনবে। জবাবে জেন পাসাকি বলেন, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ এবং অবশ্যই অভিনন্দনের জন্যও। আমি প্রথমেই বলতে চাই যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম জনসংখ্যা নিয়ে মধ্যপন্থি, ধর্মনিরপেক্ষ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ গণতান্ত্রিক এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে তৃতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সাফল্য ওই অঞ্চল এবং তার বাইরেও ইতিবাচক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রাখবে। যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার ও দেশটির জনগণের সঙ্গে আমাদের বৃহৎ পরিসরের সম্পর্কের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।

বুশের বিচারের সম্ভাবনা খুবই কম

জর্জ ডব্লিউ বুশ
মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির প্রতিবেদনে সিআইএর নৃশংস জিজ্ঞাসাবাদ কৌশলের তথ্য প্রকাশের পর দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবি উঠেছে। তবে তখনকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ নির্যাতনের বিষয়টি অনুমোদন করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুব কম। তাঁর সময়কার জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরও হয়তো বিচারের মুখোমুখি হতে হবে না। খবর আল-জাজিরার। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ আল-হুসেইন বলেন, ‘অন্যায়কারীরা শুধু রাজনৈতিক সুবিধাবাদিতার কারণে পার পেয়ে যেতে পারে না।’ প্রায় একই ধরনের বক্তব্য উঠে এসেছে অন্যান্য মানবাধিকার বিশ্লেষক, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকেও। নৃশংস জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতির জন্য বুশ বা তাঁর আমলের কর্মকর্তাদের সরাসরি বিচারের আওতায় আনতে পারে মার্কিন বিচার বিভাগ। কিন্তু সেই বিচার বিভাগের কর্মকর্তারাই বলছেন, বন্দীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের ঘটনা নিয়ে তাঁরা ২০০০ সাল থেকে দুটি তদন্ত চালিয়েছেন। কিন্তু সেই তদন্তে বন্দীদের জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার মতো কোনো তথ্য-প্রমাণ পাননি। ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত সিনেট কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এমন কোনো নতুন তথ্য পাওয়া যায়নি যে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি করা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জিজ্ঞাসাবাদের ওই বিতর্কিত কৌশল প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘অতীতের ওই কৌশলগুলো বাদ দেওয়া প্রয়োজন।
 ওবামাও ইঙ্গিত দেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে না। কিন্তু বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংগঠন ও কর্মীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি তুলেছেন। আর মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, তখনকার প্রেসিডেন্ট বুশ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রেই বাস করছেন, তাই বিচার প্রক্রিয়া মার্কিন আদালতে করাই ভালো হবে। কারণ তথ্য-প্রমাণের বিষয়গুলো মার্কিন কর্মকর্তাদেরই কাছ থেকে চাওয়া হবে। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সেন্টার ফর জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিবিলিটির আইনজীবী ক্যাথি রবার্টস বলেন, ‘সিনেট কমিটির প্রতিবেদনে প্রচুর নতুন তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। বিচার বিভাগের উচিত প্রতিবেদনটির দিকে আবার নজর দেওয়া। রাজনৈতিক চাপে বিচার বিভাগের প্রভাবিত হওয়া উচিত হবে না।’ মার্কিন আদালত এই বিচার করতে অনিচ্ছুক বা ব্যর্থ হলে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বিচারের পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেখানে রাষ্ট্রপক্ষ না হলে আইসিসি সে বিচার করবে না। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার বিকল্প পথ রয়েছে। আইসিসি মার্কিন বন্দিশিবিরে আফগান বন্দীদের নির্যাতনের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছিল। আফগানিস্তান আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র। সে ক্ষেত্রে একটি মামলাও হতে পারে। সিনেটের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির প্রতিবেদনে ১১৯ জন বন্দীকে নির্যাতন করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই নির্যাতন যুদ্ধাপরাধ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এইচআরডব্লিউয়ের আইনজীবী রিচার্ড ডিকার বলেন, কথিত নির্যাতনের শিকার বন্দীর সংখ্যা হয়তো আইসিসির মতো বড় আদালতে বিচারের জন্য যথেষ্ট নয়। এ ছাড়া সংগঠকটির গবেষক রিড ব্রোডি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসি প্রতিষ্ঠার সময় মিত্রদের সঙ্গে চুক্তি করে নিয়েছিল মার্কিন কোনো নাগরিককে এর কাঠগড়ায় তোলা যাবে না।

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে ২৮ নভেম্বর ফ্র্যান্স পার্লামেন্টে ভোট

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে উদ্যোগ নিয়েছে ফ্র্যান্স। আগামী ২৮ নভেম্বর দেশটির পার্লামেন্টে ভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানায় টাইমস অব ইসরাইল।
বুধবার পার্লামেন্টের একটি সূত্র জানায়, সরকারের কাছে সোসাইলিস্ট পার্টির প্রস্তাব বিবেচনা করে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাধ্যবাধকতাহীন এ প্রতিকী ভোট অনুষ্ঠিত হবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এবং সুইডেনের উদ্যোগকে অনুসরণ করে। এতে ফ্র্যান্সের আইন প্রণেতারা পক্ষে বিপক্ষে ভোট দেবেন।
ন্যাশনাল এসেম্বলির নিম্ন কক্ষে সোসাইলিস্ট পার্টির এ প্রস্তাবনার খসড়ায় উল্লেখ করা হয়, স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে একটি স্থায়ি সমাধানে পৌঁছতে পারবে ফিলিস্তিন।
শনিবার ফ্র্যান্সের পররাস্ট্রমন্ত্রী লউরেন্ট ফেবিয়াস বলেন, অবশ্যই একটা সময়ে এসে ফিলিস্তিন স্বীকৃতি পাবে।’
তিনি বলেন, প্রশ্ন আসতে পারে কখন এবং কিভাবে? যখনই হোক, যেভাবেই হোক এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিনের অচলাবস্থা দূর করতে পারে। এবং চূড়ান্ত সমাধানের জন্য কার্যকরি হতে পারে।
এ ব্যাপারে ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষনিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ব্রিটিশ আইন প্রণেতাদের মধ্যে অক্টোবরের ১৩ তারিখ বাধ্যবাধকতাহীন একটি ভোটে স্থায়ি শান্তির জন্য ফিলিস্তিনের পাশাপাশি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য ভোট হয়। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার মুখেও অক্টোবরের ৩০ তারিখে ফিলিস্তিনকে অফিসিয়ালি রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয় সুইডেন।
ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের হিসাবে ১৩৪টি দেশ তাদেরকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যদিও সংখ্যাটি বিতর্কিত। স্বীকৃতির তালিকায় ইউরোপিয় ইউনিয়নের কয়েকটা দেশ রয়েছে যেগুলো আগে সোভিয়েতের আওতায় ছিলো।
শনিবার ইউরোপের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে ইসরাইলের সাথে ভাগ করে জেরুসালেমকে রাজধানী করার আহ্বান জানান।
সুইডেন এবং ফ্র্যান্সের কর্মকর্তারা বলেন, স্বীকৃতি দেয়ার পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রটি শান্তি আলোচনার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাবে।

রাজধানীতে প্রচণ্ড যানজট

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর সড়কগুলোতে প্রচণ্ড যানজট লক্ষ করা গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। যাত্রী, চালক ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ ছিল কিছুটা বেশি। সকাল সাড়ে সাতটার পর তা তীব্র আকার ধারণ করে। সকাল আটটার পর ভিআইপি সড়কগুলো যানজটে প্রায় থমকে যায়। পরে এই যানজট ভিআইপি সড়কসংলগ্ন অন্যান্য সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্যমতে, রাজধানীর ভিআইপি সড়ক ছাড়াও মগবাজার, এলিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডি, গ্রিন রোড, মিরপুর রোডসহ বিভিন্ন সড়কে সকালে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়।
বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা মইনুল হক মিরপুর ১২ নম্বর থেকে সকাল পৌনে আটটায় মতিঝিলের উদ্দেশে রওনা দেন। কারওয়ান বাজার আসতে তাঁর প্রায় দেড় ঘণ্টা লেগে যায়। এর মধ্যে বিজয় সরণি সিগনালেই কেটে যায় আধঘণ্টা।
সকাল সোয়া আটটায় মোহাম্মদপুর থেকে বাসে ওঠেন শাকিল আহমেদ। তিনি বলেন, দিলকুশা যেতে দুই ঘণ্টা লেগে গেছে।
তীব্র যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে যাত্রীদের অসহায়ের মতো বসে থাকতে দেখা গেছে। অনেকে ধৈর্যহারা হয়ে গণপরিবহন থেকে নেমে গন্তব্যের উদ্দেশে হাঁটতে শুরু করেন।
সকাল ১০টানাগাদ যানজট কিছুটা কমে আসে।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) আবদুল আওয়াল বলেন, আজ সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কগুলোতে যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ। এই চাপ সামাল দিতে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ছাত্রলীগ শৃঙ্খলা না মানলে দরকার নেই: প্রধানমন্ত্রী by একরামুল হক ও তাসনীম হাসান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিরোধ মেটাতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ছাত্রলীগের কেউ যদি শৃঙ্খলা না মানে এবং অনৈতিক কাজে জড়ায় সংগঠন থেকে তাদের বের করে দিতে হবে।
গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম সেনানিবাসে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির ফাঁকে খাবারের টেবিলে দুই নেতার সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে দুই নেতার আলাপের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ। তিনি প্রথমে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেন, ‘ভার্সিটিতে কেন গন্ডগোল হচ্ছে? ক্যাম্পাসকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। ছাত্রলীগের যারা সিদ্ধান্ত মানবে না, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকবে-সেই ছাত্রলীগ আমার দরকার নেই। ক্যাম্পাসের পরিবেশ কোনোভাবে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। এক মুহূর্তের জন্য শিক্ষাজীবন নষ্ট করা যাবে না। ক্যাম্পাস খোলা রাখতে হবে। শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।’
যোগাযোগ করা হলে আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘ক্যাম্পাসে যারা গন্ডগোল করছে সেই ছাত্রলীগের প্রয়োজন নেই বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন। সরকার স্থিতিশীল শিক্ষার পরিবেশ চায়। যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ মেনে নেওয়া হবে না।’
সূত্র জানায়, আ জ ম নাছিরের সঙ্গে কথা বলার পর প্রধানমন্ত্রী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ডাকেন। তিনি দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে তাঁর কঠোর মনোভাব জানিয়ে দেন মহিউদ্দিন চৌধুরীকে। এ সময় মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘যারা ক্যাম্পাসে হাঙ্গামা করছে, ওরা ছাত্রলীগ করে কি না সন্দেহ। এসব হচ্ছে ব্যবসার জন্য। সব সমস্যার মূলে রয়েছে ব্যবসা।’
এরপর প্রধানমন্ত্রী আবার আ জ ম নাছিরকে ডেকে মহিউদ্দিন চৌধুরীর মুখোমুখি করান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নাছিরকে সব বলেছি। আপনাকেও (মহিউদ্দিন) বলছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা দ্রুত সমাধান করুন। যারা কথা শুনবে না তাদের বের করে দিন।’
এ বিষয়ে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ক্যাম্পাসের প্রশাসক ঠিক থাকলে সমস্যা এত দূর পর্যন্ত গড়াত না। এখন আমরা বসে দ্রুত সমাধান বের করব।’
সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে বিমান বাহিনীর একটি কর্মসূচিতে যোগ দেন। সেদিন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও চট্টগ্রামের জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কোন্দল-সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুরো পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে গত শনিবার সব খুলে বলেছি। তিনি মন দিয়ে আমাদের কথা শুনেছেন। আমরা এখন আশাবাদী। কারণ সমাধান রাজনৈতিকভাবে হবে।’
এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘সমস্যা সমাধানে ১৫ নভেম্বর যৌথ বৈঠক হবে। সেখানে রাজনৈতিক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবদমান পক্ষের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।’
ছাত্রলীগের মধ্যে সমস্যা যে কারণে: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের মধ্যে এক বছর ধরে বিরোধ চলছে। পক্ষ দুটি হলো ‘ভিএক্স’ (ভার্সিটি এক্সপ্রেস) এবং ‘ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ’ ও ‘সিএফসি’ (চুজ ফ্রেন্ডস উয়িথ কেয়ার)। এর মধ্যে ভিএক্স পক্ষের বাধার মুখে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারছে না সিএফসি ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ। ফলে এই পক্ষটি রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চায়।
‘ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ’ ও ‘সিএফসি’ পক্ষের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, উপাচার্যের সঙ্গে ভিএক্স পক্ষের সখ্য রয়েছে। তবে বিবদমান দুটি পক্ষই মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের নভেম্বরে ভিএক্স পক্ষের কর্মী রুবেল দেসহ কয়েকজনের হাতে লাঞ্ছিত হন ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ ও সিএফসি পক্ষের নেতা সুমন মামুন। এ ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সর্বশেষ এ বছরের ৫ এপ্রিল ভিএক্স পক্ষের হাতে লাঞ্ছিত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির হায়দার।
নাসির হায়দারের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও ভিএক্স পক্ষের নেতাদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে সিএফসি ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ পক্ষ। তারা ৭ মে থেকে ১৩ মে পর্যন্ত অবরোধ করে ক্যাম্পাস। এতে টানা সাত দিন অচল ছিল বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া দুটি পক্ষের ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় এ বছর ১৬ দিন অচল ছিল।
নানা বিতর্ক ও দফায় দফায় সংঘর্ষের জের ধরে চলতি বছরের ১০ জুন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ। কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও বেড়ে যায়।
এদিকে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে জড়িয়ে উপাচার্য আনোয়ারুল আজিমের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একপক্ষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। উপাচার্য বলেছিলেন, ‘তিনি (মহিউদ্দিন চৌধুরী) চান বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে উঠুক।’
এ বিষয়ে সিএফসি ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ পক্ষের নেতা অমিত কুমার বসু প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন উপাচার্য শুধু তাঁর ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে সন্তানতুল্য দুই শতাধিক বৈধ শিক্ষার্থীকে অবৈধ হিসেবে বলতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। এটি কোনো ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের অংশ কি না খতিয়ে দেখা দরকার। উপাচার্য মহোদয়কে প্রমাণ করতে হবে একজন বৈধ শিক্ষার্থী কীভাবে অবৈধ হন।’
ভিএক্স পক্ষের নেতা এস এম আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মহিউদ্দিন চৌধুরী আমাদের নেতা। উনি যেভাবেই বলেন সেভাবেই আমরা কাজ করব। তবে আমাদের অনুরোধ, যারা অতীতে অপকর্ম করেছে তারা বাদে অন্যরা হলে উঠুক।’

জাহিদ হোসেন খোকনের মৃত্যুদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দার পৌর মেয়র ও পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি জাহিদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় দেয়। খোকন রাজাকার হিসেবে পরিচিত জাহিদ হোসেন খোকন পলাতক রয়েছেন। খোকনের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধাকালিন সময়ে হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করাসহ ১১টি অভিযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকার ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বৃহত্তর ফরিদপুর এলাকায় জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারনা চালান। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ফরিদপুর ও তার আশপাশ এলাকায় পাকিস্তানী সেনাদের সহযোগীতায় মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন। পরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে জড়ান এবং নগরকান্দা পৌর কমিটির সহ-সভাপতি হন। ২০১১ সালে তিনি নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।

মোড়ে পৌঁছেছি, এবার টার্ন নিতে হবে by মেজর (অব.) সুধীর সাহা

একটি দেশের অগ্রগতির জন্য, সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ৪০-৫০ বছর খুব বেশি সময় নয়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উন্নতি নয়, একটি দেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে অনেক শর্ত থাকে। যেসব দেশ সামনে এগিয়ে গেছে, সেগুলোর প্রতিটিরই সময় লেগেছে। তবে কোনো কোনো দেশের কথা আলাদা। সেগুলোর কোনো কোনোটি সোনার চামচ কিংবা তেলের ঝাঁপা মাথায় করে জন্ম নিয়েছে। তাই তাদের প্রাকৃতিক সম্পদই তাদের সামনের দিকে ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের কপাল তত ভালো ছিল না। অন্যদিকে, পুরো পাকিস্তানের সময়টুকুতে বাঙালি অধ্যুষিত পূর্ব পাকিস্তানকে দাবিয়ে রাখার সব চেষ্টাই করেছিল পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকচক্র। ফলে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার প্রাক্কালে আমাদের খালি হাতেই একটি নতুন রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য যখন উঁকি দিচ্ছিল আমাদের জানালায়, ঠিক সেই সময়ে পাকিস্তানের পিশাচের দল আমাদের অনেক সূর্যসন্তানকে হত্যা করেছিল। নতুন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার চক্রান্তের একটি নীল নকশা ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড। যেহেতু স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত, রাশিয়া আমাদের পাশে ছিল, তাই যুক্তরাষ্ট্র আর পাকিস্তান বৈরী মনোভাব নিয়েই দেখছিল আমাদের স্বাধীনতার পর থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব পরবর্তী সময়ে কিছুটা পরিবর্তিত হলেও বাংলাদেশের প্রতি পাকিস্তানের মনোভাবের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি আজ অবধি। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশ নিয়ে কৌতুক করে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিলেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সেই সময়ের বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে একটি জটিল ও নাজুক উন্নয়ন সমস্যার দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।
বিশ্বের নানা দেশে ভ্রমণের সময় যাত্রীরা যদি লাইনের বাইরে দাঁড় করানো কোনো হতভাগ্য যাত্রীকে দেখতে পেয়ে করুণার দৃষ্টিতে তাকাত, তবে সে যে বাংলাদেশের কোনো যাত্রী হবে এমনটা অনুমান করা যেত। বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী লোকটি অস্পৃশ্য, তাকে লাইনের বাইরে নিয়ে ম্যাগনিফায়িং গ্লাসে পরীক্ষা করতে হবে। কঠিন ও তীর্যক প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া যেন বাংলাদেশীদের ভাগ্যের লিখন। কখনও তারা ছাড়া পেত, প্লেন ধরতে পারত। আবার কখনও কখনও প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতেই প্লেনটি তার নাকের ডগা দিয়ে চলে যেত। পরবর্তী প্লেনের জন্য তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। ইংরেজিতে বোঝাতে না পেরে বাংলাদেশের কত যাত্রী যে ভোগান্তিতে পড়েছে তা হিসাব করে বলার উপায় নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনো শহর থেকে প্লেনে উঠলেই শত শত বাঙালি শ্রমজীবী কর্মী পাবেন। বিমানে বসা থেকে শুরু করে খাওয়া- সর্বত্রই তাদের ব্যবহারিক সমস্যা আছে। তারা চিৎকার করে কথা বলে। অযথাই হাঁটাহাঁটি করে। তাদের ব্যবহার নিয়ে বিমানবালাদেরও বিরক্তির শেষ নেই। এয়ারপোর্ট সংক্রান্ত কোনো ফরম পূরণ করতে হলে তারা সমস্যায় পড়ে। পাশের কোনো শিক্ষিত লোককে অনুরোধ করে তার ফরমটি পূরণ করে দিতে। এসব সমস্যা আমাদের আছে দীর্ঘদিন ধরে। শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন থেকেও বিদেশে যায় প্রচুর শ্রমিক। তবে তাদের জানার পরিধি আমাদের শ্রমিকদের থেকে বেশি হওয়ায় তারা রাস্তায় কোনো সমস্যায় পড়ে না। শ্রমিকদের শিক্ষা, কারিগরি জ্ঞান, ব্যবহার, কোনো কিছুর প্রশিক্ষণেই আমাদের রাষ্ট্র খুব বেশি মনোযোগী ছিল না কখনও। তাই তো গ্রামবাংলার অশিক্ষিত শ্রমিক যখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশে যাচ্ছে, তাদের কাঁচা স্বভাব পরিবর্তন করার সুযোগ সে পাচ্ছে না। এমন অপরিপক্ব জ্ঞানের জন্য কাকে দায়ী করা যায় সে প্রশ্ন রয়েই যাবে। তবে পাশাপাশি সাফিয়ার মতো আমাদের বীর গৃহকর্মীও আছেন, যাকে নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। আমিরাতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন সাফিয়া। সাফিয়া নিজের জীবন দিয়ে আবুধাবির সমুদ্র সৈকতে ডুবন্ত চার শিশুকে প্রাণে বাঁচান। মনিবের সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে সাফিয়া নিজের জীবন দান করে গেছেন। এই সাফিয়া আর আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন না। কিন্তু তিনি হাজার সাফিয়াকে উদ্বুদ্ধ করে গেলেন নিজের জীবন দিয়ে।
ভদ্রলোক বাংলাদেশের। অনেক বছর বিশ্ব সংস্থার বিভিন্ন দেশে চাকরি করে বিশ বছর ধরে কানাডায় থাকেন। গ্রীষ্মে কানাডা এবং শীতে বাংলাদেশে থাকবেন এই আশায় তিনি ঢাকার বনানীতে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় করেন। তিন বছর কাটে এভাবে। কিন্তু তিন বছর পর গত বছর থেকে ভদ্রলোক বনানীর অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করে মালয়েশিয়ায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় করে শীতের সময় বাংলাদেশের পরিবর্তে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বসবাস শুরু করেন। কেন বাংলাদেশ ছাড়তে হল এমন একটি প্রশ্ন করে, আমার মনে হল, আমি যেন মৌচাকে ঢিল দিয়ে বসেছি। ভদ্রলোক ঢাকা, বাংলাদেশ এবং তার পরিচিত ঢাকাবাসীকে নিয়ে যত নেগেটিভ কথা বলা যায় সবই বলে গেলেন একদমে। তার কাছে তার মাতৃভূমি একেবারেই বসবাসের অনুপযোগী মনে হয়েছে। রাস্তার যানজট, প্রতিবেশীর মন্দ ব্যবহার, সরকারি অফিসের দুর্নীতি, চলাচলের পরাধীনতা, খাবার জিনিসে ভেজাল, রাজনৈতিক সহিংসতাসহ অনেক বিষয়ই তার বিরাগের কারণ হিসেবে কাজ করেছে। ভদ্রলোক বেশ কয়েকটি বাস্তব অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে নিজ দেশের প্রতি এমন বিরাগভাজন হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করছিলেন।
এসব বাস্তবতা স্বীকার করেও বলতে ইচ্ছা হয়, বাংলাদেশ সামনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই, দুর্নীতি একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা, প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম আর অব্যবস্থা বিদ্যমান। তারপরও বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে দ্রুতগতিতে। গ্রস ন্যাশনাল ইনকাম (জিএনআই) হল মধ্যম আয় মাপার মাধ্যম। নিু আয় ধরা হয় ১,০২৫ ডলার পর্যন্ত। নিু মধ্যম আয় ১,০২৬ থেকে ৪,০৩৫ ডলার। বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু জিএনআই ৮৫১ ডলার। এই জিএনআই অব্যাহতভাবে বেড়ে চলেছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশের ৫০তম স্বাধীনতাবার্ষিকীতে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা দেয়া সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বন্যা, দুর্যোগ মোকাবেলা করছে প্রতিনিয়ত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এর অবস্থা নাজুক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর নিত্যসঙ্গী। বাংলাদেশের রাজনীতি সংঘাতময়। শাসন ব্যবস্থা এখানে দুর্বল। এরপর আছে বিশ্ব সমাজের প্রভাবশালীদের চাপ। সবকিছু সত্ত্বেও বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। স্বাধীনতার পর যেসব দেশ বিরূপ মন্তব্য করেছিল, বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ বাংলাদেশও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব করেছে; সুলভ শ্রমশক্তিকে কাজে লাগিয়ে রফতানিনির্ভর অর্থনীতি রেখেছে সমুন্নত। অনেক সামাজিক সূচকে প্রতিবেশী জায়েন্ট
ভারতকে বৃদ্ধাঙুলি দেখাতে পেরেছে বাংলাদেশ। প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল যেখানে ভারতে ৬৬, সেখানে বাংলাদেশে ৬৯। শিশু মৃত্যুর হার ভারতে ৪৪ এবং বাংলাদেশে ৩৭। জন্মহার ভারতে ২ দশমিক ৫ আর বাংলাদেশে ২ দশমিক ২। নারীশিক্ষার হার ভারতে ৭৪ আর বাংলাদেশে ৮০। অপুষ্টির হার ভারতে ১৮ আর বাংলাদেশে ১৭। বাংলাদেশে সামাজিক সূচকের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা এবং নারী-পুরুষের সমতা বিষয়ে বাংলাদেশের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে। সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংকসহ অন্যান্য এনজিও এবং নারী উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী খুব বড় করে ধন্যবাদ পেতে পারেন। প্রথমবারের জন্য নারী জাগরণের বাঁশিটি প্রকৃতপক্ষে তিনিই অফিসিয়ালি বাজিয়েছেন।
আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি, যেদিন আর পৃথিবীর রাস্তাঘাটে বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীদের অযথা নাজেহাল হতে হবে না। বাংলাদেশের শ্রমিকরা আর দৌড়াবে না বিদেশের মাটিতে। বরং নিজের দেশে তারা শ্রম দেবে নিরলসভাবে। সাফিয়ারা আর দুবাই-আবুধাবিতে মনিবের শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে সাগরে প্রাণ দিবে না। কানাডার বাঙালি ভদ্রলোকের মনের ক্ষোভ আর অন্য কোনো প্রবাসীর মনে জেগে উঠবে না। বাংলাদেশ জেগে উঠবেই একদিন। আর সেদিন এখন আর কল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া আগামী দিনের বাস্তবতা। এটা আরও ত্বরান্বিত হবে যদি আমরা রাজনীতিকে কিছুটা সংঘাতহীন করতে পারি, দুর্নীতির রশিকে কিছুটা টেনে রাখতে পারি এবং সুশাসনের বলয় উপহার দিতে পারি। ১৯৭১-এর বাংলাদেশ ২০১৪-তে দাঁড়িয়ে সত্যি সত্যি একটি শক্ত অবস্থানের ঘোষণা দিচ্ছে।
মেজর (অব.) সুধীর সাহা : কলাম লেখক

স্কুল শিক্ষার গাঁথুনিটা শক্ত হওয়া চাই by একে এম শাহনাওয়াজ

সবকিছুর রাজনীতিকরণ সুস্থ ধারার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। অবস্থার বাস্তবতায় একে রাজনীতিকরণ না বলে কুরাজনীতিকরণ বলা শ্রেয়। কে যে আমাদের ক্ষমতাসীন দলগুলোকে বুঝিয়েছে বেশিসংখ্যক প্রথম বিভাগ না পেলে শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের কৃতিত্ব প্রকাশ পাবে না। অবশ্য নিজ মেধায় অনেক বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী উজ্জ্বল ফলাফল করলে কোনো বাধা নেই। কিন্তু বলপূর্বক বা কৌশলে মেধাবী বানানোতে রয়েছে সংকট।
অধুনা প্রথম-দ্বিতীয় বিভাগের যুগ নেই। এখন গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফলাফল হয়। উর্বর ভাবনা এ পদ্ধতিতেও আছে। ধরি যদি ৭০ ভাগ বি, ২০ ভাগ এ আর ১০ ভাগ বি প্লাস পায় তাহলে চলবে না- ফলাফলে বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে। এ আর এ প্লাসে যত সয়লাব করে ফেলা যাবে, তত শিক্ষা মন্ত্রণালয় আর সরকারের কৃতিত্বের আলো ছড়াবে। এ কারণেই স্কুলের শিক্ষকদের কাছে কৌশলী বার্তা নাজিল হয়, ছাত্রছাত্রীরা কষ্ট করে কিছু লিখলেই পরীক্ষকের কলম সচল করতে হবে হাত খুলে নম্বর দিতে। স্কুলগুলোতে শতভাগ পাসের রেকর্ড গড়তে হবে। এভাবেই পাস, এ, এ প্লাস আর স্বর্ণ মোড়ানো এ প্লাসের জোয়ারে মেধাবী শিক্ষার্থীরা মেধাচর্চার কোনো সুযোগ পাচ্ছে না। পুরোটা কেড়ে নিয়েছে জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতা। ঘাড়ের ওপর একের পর এক প্রাইভেট টিউটরের নিঃশ্বাস। একের পর এক শিক্ষকের বাড়ি আর কোচিং সেন্টারে ছোটাছুটি। এভাবে ছকেবন্দি হয়ে গেছে পড়াশোনা। ছক পূরণ করতে করতে সময় শেষ। ফলে সিলেবাসের বাইরে রবীন্দ্রনাথ, নজরুলকে জানা হয় না। সুকুমার রায় অচেনা থেকে যান। হ্যান্ডস ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসন আর পড়ার টেবিলে থাকে না। বাঙালির হাজার বছরের সভ্যতা-সংস্কৃতি জানার অবকাশ কোথায় এ দুর্ভাগা শিক্ষার্থীদের!
এই ছকবন্দি লেখাপড়ার পরিণতি কেমন, আমরা যারা দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছি তারা টের পাচ্ছি। মেধা বিস্ফোরণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাবীদের মুখ থুবড়ে পড়া নিয়ে এবার বেশ বিতর্ক জমেছিল। যারা রাজনীতির বদ্ধ জলাশয়ে ঘোরাফেরা করেন, তারা দায়ী করছেন পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রশ্নপত্রের অন্যায় কড়াকড়িকে। অন্যপক্ষ বলতে চাচ্ছে, জিপিএ-৫ ধরনের ফলাফল প্রমাণ করছে না এসব শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত যতটুকু মেধাচর্চা করে আসার কথা তা করে আসতে পারছে। এর অর্থ এই নয় যে, সব শিক্ষার্থীর মেধার ঘাটতি বয়েছে। বরঞ্চ তারা যে শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে, তাতে সিলেবাসের ছকের বাইরে জানার জগৎ শানিত করার তেমন সুযোগ নেই বললেই চলে।
গলদ তো একটা আছেই। আমাদের শিক্ষার্থীদের অবমূল্যায়ন করছি না, তবে ওদের দুর্ভাগ্য নিয়ে ভাবছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাচ্ছে ফলাফলে আলোকোজ্জ্বল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সরকারের কৃতিত্ব সাধারণ্যে প্রকাশ পাক। ভর্তিযুদ্ধে উচ্চ গ্রেড পাওয়ার একটি ভূমিকা আছে, আবার অভিভাবকদের মধ্যে ছেলেমেয়ের ফলাফলের সঙ্গে সামাজিক মর্যাদা রক্ষার তাড়নাও রয়েছে। তাই শিক্ষার্থী জানার জন্য নিজেকে কতটা শানিত করতে পারল সেটা মোটেও বিবেচনায় আনা হচ্ছে না। ছকবন্দি পদ্ধতিতে ফলাফল কতটা উজ্জ্বল হল সেটাই বিবেচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ কারণে এখনকার উজ্জ্বল ফলাফল করা ছাত্রছাত্রীদের অনেক ছেঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার পর দেখা যায় তাদের মধ্যে ব্যতিক্রম অল্প কিছুসংখ্যক বাদ দিলে অধিকাংশের পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে জানার সঞ্চয় খুবই কম। গুণগত দিক থেকে তাদের অধিকাংশই মেধাবী এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ভুল পদ্ধতিতে এ, এ প্লাসের প্রতিযোগিতায় ছিল বলে যৌক্তিকভাবে নিজেকে তৈরি করতে পারেনি। তাই এ শূন্যতা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাকে প্রচণ্ডভাবে তাড়িয়ে বেড়ায়। জাতিও সামগ্রিক অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আমি বিস্ময়ের সঙ্গে দেখি, দুদশক আগেও যেসব ছাত্রছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেত তাদের ভিত্তিটা অনেক বেশি সবল ছিল। এটি আমি সাধারণীকরণ করে বলছি। অন্তত প্রথমবর্ষের ছাত্রছাত্রীদের ইংরেজি, বাংলা উভয় ক্ষেত্রে ভাষা ও বানান জ্ঞান অনেক ভালো ছিল। এখন তো সদ্য ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের একটি বড় অংশের অনুশীলনী পরীক্ষায় বাংলা বানানের ভুল কাটতে কাটতে পৃষ্ঠা লাল হয়ে যায়। তখন ভাবতে হয়, এ অবস্থা নিয়ে এ ছাত্র বা ছাত্রীটি স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরোল কী করে!
উত্তর কিছুটা জানা ছিল। তবে একটি সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলে পাঠকের অনুধাবনে সুবিধা হবে। তার আগে আমি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। মাস তিনেক আগে একজন স্নেহভাজন কলেজ শিক্ষিকা কোনো এক গ্রন্থ প্রকাশকের পক্ষ থেকে আমাকে অনুরোধ করল একটি পাঠ্য বই রচনা সম্পন্ন হয়েছে, প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে আমি যাতে পাণ্ডুলিপিটি দেখে দিই। আমি আমার ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কথা জানিয়ে অপারগতা প্রকাশ করলাম। ওরা নাছোড়বান্দা। বলল, স্যার আপনার তেমন একটা পরিশ্রম করতে হবে না। এ বইটির এক এক ইউনিট দেশের নামকরা কলেজের এক একজন শিক্ষক লিখেছেন। তারপরও বেশ কয়েকজন শিক্ষক মিলে সম্পাদনা করেছেন। তারা সবাই পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করেছেন যথেষ্ট ঝাড়াই বাছাই করে। প্রায় পঁচিশ-ত্রিশজন শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন এ গ্রন্থ রচনায়। এখন ছাপার জন্য প্রেসে যাওয়া বাকি। সুতরাং আপনি একবার চোখ বুলিয়ে আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই আমরা আনন্দ পাব। অগত্যা রাজি হলাম। পাণ্ডুলিপি এলো। ফুলস্কেপ কাগজে চমৎকার টাইপ করা ৪০০ পৃষ্ঠার বেশি সুবিশাল পাণ্ডুলিপি। প্রথম ১০ পৃষ্ঠা দেখে আমি ভীত হয়ে পড়লাম। প্রকাশককে খবর দিলাম। বিনয়ের সঙ্গে বললাম, দয়া করে পাণ্ডুলিপিটি ফেরত নিয়ে যান। কিছুটা ভাষাগত আর বেশিরভাগ ভুল বানান কাটতে কাটতে পৃষ্ঠাগুলো রীতিমতো লাল হয়ে গেছে। ৪০০ পৃষ্ঠার মহাসমুদ্রে আমি সাঁতার দেব কেমন করে! অবস্থা বুঝে প্রকাশক থ। এবার হাজার অনুরোধের জালে আমাকে আটকে ফেললেন। বললেন, আপনার কাছে না আনলে তো এ অবস্থায় ছাপা হয়ে যেত। এখন আপনি না দেখে দিলে বই প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে আপনাকে রাজি হতে হবে। পেশায় শিক্ষক হওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত পাণ্ডুলিপি ফিরিয়ে নিলাম। দীর্ঘ পরিশ্রমে প্রুফ সংশোধন করতে হল। পাঠক, বিস্মিত হলেও বিশ্বাস করবেন, এ ৪০০ পৃষ্ঠার মধ্যে একটি পৃষ্ঠাও নির্ভুল পেলাম না!
এরপর থেকে আমার কাছে অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে গেছে এত ভালো ফলাফল করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের এ দশা কেন। আমার কাছে স্কুলের শিক্ষকদের গড়পড়তা অবস্থা কী তা জানার মতো উদাহরণ নেই। যখন দেখি মানবেতর জীবনযাপনের উপযোগী বেতন কাঠামোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেসরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়, তখন এর চেয়ে ভালো আশা করব কেন!
আমরা মনে করি, প্রকৃত শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি করতে হলে স্কুলগুলোর সার্বিক মানোন্নয়নে নজর দিতে হবে। এ নজরদারি সবচেয়ে বেশি থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যেখানে শিক্ষার্থীর মান ও মেধার প্রথম ভিত্তি তৈরি হবে। দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষকের বেশি প্রয়োজন এখানে। সুতরাং এমন যোগ্যদের আকর্ষণ করতে হলে শিক্ষকের বেতন কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সবার আগে ভাবতে হবে।
নতুন শিক্ষা কাঠামোর কিছু কিছু দিক নিয়ে আমরা অনেকেই প্রশংসা করেছি। এর একটি সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া। ভাবা হয়েছিল, এবার গাইডবই মুখস্থ করা থেকে সরে আসতে হবে। শিক্ষার্থীর সৃজনশীল ক্ষমতা বাড়বে। মাথা খাটিয়ে উত্তর লিখতে হবে। এ কারণে শিক্ষার্থীর গুণগত মান বাড়বে। কিন্তু অন্যায়-দুর্নীতি আর মূল্যবোধের অবক্ষয়ের দেশে কি আর শুভ আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়! জানা গেল, সৃজনশীল প্রশ্ন-উত্তরের গাইডবই তৈরি হয়ে গেছে। এ ধারার একজন প্রকাশক জানালেন, এখন প্রকাশকরা স্কুল কেনেন। আমার কৌতূহল বাড়ল। তিনি বুঝিয়ে দিলেন। অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষ বিশেষ কিছুর বিনিময়ে সৃজনশীল প্রশ্নের কোনো বিশেষ গাইড তাদের স্কুলে পাঠ্য করে দেয়। সেই বইতে যে সৃজনশীল প্রশ্ন ও তার উত্তর দেয়া আছে, স্কুলের নির্বাচনি পরীক্ষাগুলোতে তা-ই আসবে। অতএব মুখস্থ বিদ্যাই লিখে দিয়ে আসবে শিক্ষার্থী। জানি না এ বিবরণ কতটা সত্য। সত্য হলে শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশের সব আয়োজন ভেস্তে যাবে।
স্কুল শিক্ষার হযবরল অবস্থার আরেকটি কারণ বিনা পয়সায় সরবরাহকৃত এনসিটিবি কর্তৃক প্রকাশিত বইগুলোয় তথ্যগত ভুলের ব্যাপক উপস্থিতি, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়কেই বিভ্রান্ত করছে। কিছুদিন আগে একটি জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় গ্রন্থে মুদ্রিত ভুলের ফিরিস্তি দেয়া হয়েছে। বছরের পর বছর এসব ভুল পড়ে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অথচ এ নিয়ে কোনো পক্ষের মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। স্কুল শিক্ষকরা এসব ব্যাপারে এনসিটিবি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন কিনা জানি না। পত্রিকায় এ ধরনের কোনো রিপোর্ট বা পত্র প্রকাশিত হয়েছে কিনা তাও আমার জানা নেই। আমি নিজ কৌতূহল নিবারণের জন্য উল্লিখিত জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি জানালেন, শিক্ষক বা কোনো পক্ষের অভিযোগে নয়, তিনি তার নিজের গরজেই অনুসন্ধান করেছেন।
ক্লাস টুতে পড়া এক পুত্রের মা টেলিফোনে জানালেন তিনি বিপাকে পড়েছেন। পরীক্ষায় প্রশ্ন এসেছে, কোন মাসে নবান্ন হয়। ছেলেটি জানে তার এনসিটিবি থেকে প্রকাশিত আমার বাংলা বইতে বলা আছে হেমন্তকালে নবান্ন হয়। ও জানে কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাস মিলে হেমন্ত ঋতু। একটি মাস চাওয়ায় ছেলে লিখে দিয়ে এসেছে কার্তিক মাস। মা চিন্তিত। তিনি জানেন, কার্তিক হচ্ছে মরা কার্তিক। তখন তো খাদ্যের আক্রা। নবান্ন উৎসব হয় কেমন করে! আমাদের জ্ঞানের ভাণ্ডার বাংলাপিডিয়া খুললেন তিনি। সেখানে লেখা আছে, নবান্ন হয় পৌষ মাসে। এখন গোলক ধাঁধায় পড়ে গেছেন এ অভিভাবক। আমি উত্তর দিতে পারিনি। সম্ভবত আমিও গোলক ধাঁধায় পড়ে গেছি।
স্কুল শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন নিয়ে ভাবতে গেলে যেসব অসঙ্গতি ও অসম্পূর্ণতার ছবি ভেসে ওঠে, তারই কয়েকটি ছিটেফোঁটা উপরে উল্লেখ করা হল। এতে বোঝা গেল সংকট একমুখী নয়, বহুমুখী। ফলে এ সত্য মানতে হবে, স্কুল শিক্ষার মানন্নোয়ন প্রকৃত অর্থে যদি আমরা চাই, তবে বাগাড়ম্বর আর বাহাদুরি নয়- বাস্তবতার উঠোনে দাঁড়িয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ছিলেন আমাদের সমাজে উদারনৈতিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল ব্যক্তিদের একজন। কিছুদিন আগে চলে গেলেন আরেক গুণীজন অধ্যাপক সালাহ্ উদ্দীন আহমদ। তাদের চলে যাওয়াতে আমাদের সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীকে আমি প্রথম দেখি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদের নির্বাচনের সময়। আমি তখন কলেজে পড়ি। আমরা থাকতাম আজিমপুর সরকারি কলোনিতে। তখন হল ছাত্র সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতো, যা আমাদের আকৃষ্ট করত। আমি যখন তাকে প্রথম দেখি- ওই বছর সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। ওই বছর সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান (পরে যিনি প্রধান বিচারপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন)। তখন হল ছাত্র সংসদ নির্বাচন শেষে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটার অর্থাৎ ছাত্রদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেয়ার রেওয়াজ ছিল। হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যে বক্তৃতা দেন, ওই বক্তৃতা শুনে জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীকে আমাদের আপনজন মনে হয়েছে।
জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ও আমি একই বিভাগের শিক্ষার্থী হলেও বিভাগে তাকে আমরা বেশিদিন পাইনি; কারণ ১৯৫২ সালে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হই- ওই বছরই তিনি মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে যান। বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকার কারণে তার ভালো ফলাফল ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তখনই আমরা জানতে পারি। তখন তাকে আমরা কবি হিসেবেও জানতাম।
পেশাগত কারণে বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে দেখা হয়েছে। এতে আমাদের পরিচয় আরও ঘনিষ্ট হয়েছে। এক পর্যায়ে জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ও মুস্তাফা নূরউল ইসলামের যৌথ উদ্যোগে পূর্বমেঘ নামে একটি পত্রিকা বের হয়। পূর্বমেঘ তখন পাঠক সমাজে বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। ওই পত্রিকায় আমিও লিখতাম। লেখার সূত্রে জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর সঙ্গে আমার যোগাযোগ বাড়ে। তার কবিতা, প্রবন্ধ ও বক্তৃতা- সবকিছুতেই একটা নিজস্বতা ছিল। তার অনুবাদকর্মও বিশেষভাবে উল্লেখ্য।
শিক্ষক হিসেবে, দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। তার সঙ্গে কাজ করাটা ছিল আমার জন্য আনন্দদায়ক। তার ভদ্রতা ও বিনয় ছিল অসাধারণ; কিন্তু যে কোনো বিষয়ে তিনি তার অবস্থানে দৃঢ় থাকতেন। বিভিন্ন বিষয়ে তার উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অনাড়ম্বর ও আকর্ষণীয়ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তার মতো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ পাওয়া আমাদের জন্য ছিল সৌভাগ্যের বিষয়। এটা আমরা কখনোই ভুলতে পারব না। লেখক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর প্রথম পরিচিতি ছিল কবি হিসেবে। যখন তিনি কবিতা লিখতেন না, তখন তার অন্য লেখা ও বক্তব্যে কবিতার গুণ লক্ষ করা যেত।
জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী শিক্ষক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : লেখক ও শিক্ষাবিদ

আলাপে-সংলাপে হৃদকথন by রণজিৎ বিশ্বাস

 আপনি কেমন আছেন?
: আমি কেমন আছি বললে আপনি খুশি হবেন?
: এটি কি কোনো জবাব হল?
: কেন, জবাব হবে না কেন?
: জবাব হবে কীভাবে?! আপনি তো আপনার বিরক্তিকর বিটকেলে ধারায় ফিরে গেলেন!
: আমার বিরক্তিকর বিটকেলে ধারা কোনটি?
: জবাব না দিয়ে প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন করা।
: প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন আমি সবাইকে করি না। আপনাকে যে করলাম, তার কারণ আছে। দিলে যদি চোটও পান, কিছু মনে করবেন না। আপনারা, মুক্তিযুদ্ধের দুশমন ও লুকোনো দুশমন, যারা জগতসংসারে কোনো ধরনের নিরপেক্ষতাকে পছন্দ করেন না, যারা ধর্ম নিয়ে বাণিজ্য করেন, যারা খোদার ওপর খোদকারি করেন, ধর্মনিরপেক্ষতাকে যারা ধর্মহীনতা মনে করেন এবং সংক্ষেপে যদি বলি - ব্যবসায়িক কারণে যারা যুদ্ধাপরাধী মানবতাবিরোধী ও মৌলবাদীদের ভয়াবহভাবে সাপোর্টসমর্থন করেন, দৃষ্টিকটূভাবে দু’বাহুর মাঝখানে টানেন, কোলে বসান, কাঁধে চড়ান ও মাথায় চাপান, তাদের একটা সমস্যা আছে। আচরণগত প্রবলেম।
: সেটি আবার কেমন? তার চেহারাছবি কী রকম?
: এই প্রবলেমটা খুব সাংঘাতিক। আপনারা মানুষের ভালো চান না। বিশেষত যারা মুক্তিযুদ্ধ এবং মানুষ ও মানবতার কথা বলে, তাদের বিনাশ কামনা করেন, ধ্বংস কামনা করেন; তারা কোনোভাবে ভালো আছে জানলে আপনারা খারাপ থাকেন। তাই, আমার বা আমাদের ভালো থাকার সংবাদ আপনাদের দিতে চাই না। বুঝতে ভুল করবেন না। এটি আপনাদের জন্য আমার পর্যাপ্ত সহানুভূতি ও অমেয় কল্যাণকামনার জন্যও হয়ে থাকে। আমি আপনাদের মনে কখনো চোট পৌঁছাতে চাই না। সবদিক থেকে আপনাদের সুস্থ-সুন্দর-স্বাভাবিক-সুস্থির, সুবাসিত ও সুরভিত দেখতে চাই। আমরা ক্রমেক্রমান্বয়ে আবর্জনার ট্রান্সফরমেশান চাই। তাই জিজ্ঞেস করি, আমি কেমন আছি- আপনি শুনতে চান, আমি কেমন আছি শুনলে আপনার ভালো লাগে, আমার ও আমাদের কেমন থাকার খবরে আপনাদের মনে আনন্দ পয়দা হয়, আপনারা উল্লসিত হন। ঠিক কিনা বলুন। খুব তাড়াতাড়ি জবাব দিয়ে আমাকে তুষ্ট করার কিংবা কষ্ট দেয়ার দরকার নেই, আপনি আপনার সকল নিষ্ঠুরতা ও হীনতাদীনতার মাঝে বক্ষে আপনার হস্ত স্থাপন করুন, আত্মার অনুসন্ধান করুন- যার নাম সার্চিং দ্য সৌলস; তারপর ধীরে ধীরে জবাব দিন। একটাই শুধু অনুরোধ, বড় বিনম্র অনুরোধ- নীতি-নৈতিকতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে হলেও নিজেদের প্রকৃতিবিরুদ্ধ অবস্থানে গিয়ে হলেও সত্য বলবেন, সত্যশ্রয়ী থাকবেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন, আমি কী বলতে চাইছি; আপনাকে সামনে পেয়ে ও আপনার প্রশ্ন শুনে আমার অন্তরের লিপিস্বরলিপি কোন সুরে কোন গান গাইতে চাইছে আশা করি অনুমান করতে পারছেন।
: বুঝতে পেরেছি। আরও একটা বিষয় বুঝতে পেরেছি। আপনি আমাদের পছন্দই করেন না। আপনি মানুষই মনে করেন না আমাদের, সবসময় দুশমন দুশমন ভাবেন।
: যথার্থ বলেছেন ও ঠিক ধরেছেন। আমি আপনাদের পছন্দই করি না শুধু নয়, পছন্দ করার জন্য আমি নিজেকে কোনোভাবেই বা কোনো শর্তেই প্রস্তুত করতে পারি না। আপনার পর্যবেক্ষণে আরও একটু এক্সটেনশন থাকতে পারে। আমি, আপনাদের ঘৃণা করি, বড় তীব্রভাবে ঘৃণা করি, কারণ ঘৃণা না করে আমি পারি না। জিজ্ঞেস করবেন না এর কারণ কী।
: করলাম। বলুন, আমাদের জন্য, স্বাধীনতার দুশমন ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী এবং তাদের পালকপোষক-অভিভাবকদের জন্য এমন প্রবল অপছন্দ ও তীব্র ঘৃণার কারণ কী?
: আবার আমার ইচ্ছে করছে, পাল্টা প্রশ্ন করি। জিজ্ঞেস করি- পছন্দ করার মতো ও ঘৃণা না করার মতো আপনাদের চরিত্রে কী আছে?! কিন্তু, সে প্রশ্ন আমি করব না। সবসময় নিগেটিভ হতে ও থাকতে আমার ভালো লাগে না। আমি যা বলব সরলসিধে ভাষায় পজিটিভলি বলব এবং সরাসরি উত্তর দিয়ে আপনাদের সন্তুষ্ট করতে চেষ্টা করব। আপনাদের প্রতি আমার প্রবল অনুভূতির অর্থাৎ আপনাদের অপছন্দ করার ও ঘৃণার মাঝে বাঁচিয়ে রাখার কারণ দুটো এবং দুটোই খুব সিম্পল কারণ। যেমন, একটি সঞ্চয় আপনাদের আছে, এবং একটি একেবারেই নেই। সহজতম শব্দবিন্যাসে যদি বলি- পছন্দ করার মতো কিছু আপনাদের নেই এবং ঘৃণা করার মতো অনেক বেশিকিছু আপনাদের সঙ্গে যুক্ত আছে, বড় আদরেসোহাগে জড়িয়েপ্যাঁচিয়ে আছে। বিধাতা আপনাদের একটি জিনিস বরাদ্দ দিয়েছেন, আরেকটি দেননি; একেবারেই দেননি। আমরাতো আপনাদের কিছু দিতেও পারি না, কিছু আপনাদের কাছ থেকে কেড়েও নিতে পারি না। শুধু কামনা করতে পারি- ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, মানুষের মতো থাকবেন। মানুষের ঘৃণা ও বমনের মাঝে চিরদিন থাকবেন না। মন ও শরীর দুটোই খারাপ করবে।
রণজিৎ বিশ্বাস : রম্যলেখক ও সংস্কৃতিকর্মী

বিচারপতি নিয়োগের আইন দ্রুত প্রণয়ন করা হোক by আবদুল লতিফ মন্ডল

আইন হয়নি ৪২ বছর শিরোনামে যুগান্তরের প্রথম পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল গত ২৫ সেপ্টেম্বর। এতে বলা হয়েছিল, উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে গত ৪২ বছরে আইন প্রণয়ন হয়নি। অতীতের সব সরকার আইন ছাড়াই বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথমদিকে কনভেনশন অনুসরণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে সরকার ইচ্ছামতো বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইনের মাধ্যমে বিচারপতি নিয়োগের বিষয় সংবিধানে উল্লেখ থাকলেও কোনো সরকার সেদিকে যায়নি। এছাড়া বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছতার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল, আইন কমিশনের সুপারিশ কিছুই আমলে নেয়নি সরকার।
সংবিধানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকবে এবং আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে তা গঠিত হবে। এ আদালতে নিযুক্ত প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারক বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন। সংবিধানের ৯৫(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে এবং সুপ্রিমকোর্টে অন্যূন দশ বছরকাল অ্যাডভোকেট না থেকে থাকলে, অথবা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বছর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করে থাকলে, অথবা সুপ্রিমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থেকে থাকলে তিনি বিচারক পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না।
সংবিধানে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য আইন প্রণয়নের মাধ্যমে যোগ্যতা নির্ধারণের নির্দেশনা থাকলেও স্বাধীনতা-পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে আইনটি প্রণীত হয়নি। ফলে বিভিন্ন সরকার, বিশেষ করে বিগত দুই দশকের বেশি সময় প্রায় পালাক্রমে দেশ শাসনের দায়িত্বে থেকে বিএনপি সরকার ও আওয়ামী লীগ সরকার উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগকে দলীয়করণ করেছে। সুপ্রিমকোর্টের সব পর্যায়ে বিচারক নিয়োগ দলীয়করণ করার সুযোগ থাকলেও এ সুযোগটির সর্বোচ্চ ব্যবহার হয় বিচারক হিসেবে নিয়োগের প্রবেশদ্বার হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক পদে নিয়োগে। সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অনধিক দুই বছরের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক নিযুক্ত করতে পারেন। এভাবে নিযুক্ত কোনো অতিরিক্ত বিচারককে দুই বছর বা বর্ধিত সময়ের মধ্যে স্থায়ী না করা হলে তিনি ওই পদে বহাল থাকেন না। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৪ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ১৯ ব্যক্তিকে হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক নিযুক্ত করা হয়। তৎকালীন সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ) এ নিয়োগকে দলীয়করণ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বাতিলের জন্য আন্দোলন শুরু করে। কোন বিবেচনায় এ নিয়োগ প্রদান করা হয় তা জানাতে এসসিবিএ তৎকালীন আইনমন্ত্রীকে নোটিশ প্রদানের এবং মন্ত্রীর জবাব সন্তোষজনক না হলে হাইকোর্ট বিভাগে রিট করার সিদ্ধান্ত নেয়। অনুরূপভাবে ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে ১৭ ব্যক্তিকে হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক নিযুক্ত করা হয়। এসসিবিএ এ নিয়োগের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ আনে। বিশেষ করে তাদের মধ্যে দুজন সর্বজনাব রুহুল কুদ্দুস ও মো. খসরুজ্জামানের নিযুক্তির বিরুদ্ধে ঘোর আপত্তি জানায় এসসিবিএ। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিযুক্তি পাওয়া ১৭ জনের মধ্যে ১৫ জনকে শপথবাক্য পাঠ করালেও ওই দুজনকে শপথবাক্য পাঠ করাতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তী প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। উচ্চ আদালতের অন্যান্য স্তরে নিয়োগেও দলীয়করণের অভিযোগ রয়েছে। নিবন্ধের আকার বিবেচনায় নিয়ে উদাহরণ দেয়া থেকে বিরত থাকা হল।
উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির ভূমিকা নিয়েও রাজনীতি করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গৃহীত এবং ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া বাংলাদেশের সংবিধানের (অতঃপর মূল সংবিধান বলে অভিহিত) ৯৫(১) অনুচ্ছেদে বিধান করা হয়, প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করবেন। সংবিধান গৃহীত ও কার্যকর হওয়ার দুই বছর পার হতে না হতেই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনীর (২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫) মাধ্যমে অন্যান্য বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পরামর্শ করা সংক্রান্ত বিধানটুকু বিলোপ করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বিচারপতি এএসএম সায়েম ১৯৭৬ সালের ২৩ জানুয়ারি এক আদেশের (Proclamation Order No. IV) মাধ্যমে মূল সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদটি পুনর্বহাল করেন। অর্থাৎ সুপ্রিমকোর্টে অন্যান্য বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পরামর্শ করা সংক্রান্ত বিধান পুনর্বহাল করা হয়। সায়েমকে হটিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের ক্ষমতা গ্রহণকারী মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের এক আদেশে (Second Proclamation Order No.I of 1977) ৪র্থ সংশোধনীর ফলে ৯৫(১) অনুচ্ছেদটি যে অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল সেটিকে ঠিক ওই অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন। অর্থাৎ সুপ্রিমকোর্টে অন্যান্য বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পরামর্শ করা সংক্রান্ত বিধান রহিত করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মূল সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদটি পুনর্বহাল করা হয়।
সুপ্রিমকোর্টে বিচারক নিয়োগে দলীয়করণ রোধে উদ্যোগ গ্রহণ করে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশন অর্ডিন্যান্স ২০০৮ জারি করেন। এতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশন গঠনের বিধান করা হয়। আইনমন্ত্রী, আপিল বিভাগে কর্মরত বিচারকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে তিনজন প্রবীণতম বিচারক, হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বিচারকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে দুজন প্রবীণতম বিচারক, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকে এ কমিশনের সদস্য করা হয়। আপিল বিভাগে বিচারক পদে এবং হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক পদে নিয়োগের জন্য নাম সুপারিশ করার জন্য এ কমিশনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
সুপ্রিমকোর্টের জনৈক অ্যাডভোকেট সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশন গঠনকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (রিট পিটিশন নং ৩২২৮/২০০৮) দাখিল করেন। ২০০৮ সালের ২৮ এপ্রিলে হাইকোর্ট ব্যাখ্যা চেয়ে সরকারের ওপর রুলনিশি জারি করেন এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশনের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। রিট পিটিশনটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার আগে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ওই নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে সরকার গঠন করে। ওই সরকার সুপ্রিম জুডিশিয়াল কমিশন অর্ডিন্যান্স ২০০৮ অনুমোদনের জন্য সংসদে উপস্থাপন করা থেকে বিরত থাকে।
এখন দেখা যাক আমাদের পাশের দেশগুলোতে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত গ্রেট ব্রিটেনে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ভারতের সংবিধানের ১২৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ভারতের প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের যেসব বিচারকের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন মনে করবেন, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি সুপ্রিমকোর্টে বিচারক নিয়োগ দেবেন। অনুরূপভাবে কোনো হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগে রাষ্ট্রপতি ভারতের প্রধান বিচারপতি, সংশ্লিষ্ট রাজ্যের গভর্নর এবং সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে ওই হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ দেবেন (অনুচ্ছেদ ২১৭)। গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরে জানা যায়, ভারতের উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সে দেশের সরকার। আগস্টে লোকসভায় পেশ করা হয়েছে ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্টস কমিশন (এনজেএসি) বিল। এতে ভারতের প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিমকোর্টের অন্যান্য বিচারক এবং হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারক নিয়োগে সুপারিশ প্রদানে এনজেএসি যে পদ্ধতি অনুসরণ করবে তার বর্ণনা রয়েছে।
২০১০ সালে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পাকিস্তানের উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আমূল পরিবর্তন আনা হয়। এতে সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট এবং ফেডারেল শরিয়াহ কোর্টে বিচারক নিয়োগে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জুডিশিয়াল কমিশন গঠনের বিধান করা হয়।
উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে গ্রেট ব্রিটেন সাতশ বছরের ঐতিহ্য ভঙ্গ করে ২০০৬ সালে নতুন পদ্ধতি চালু করে। বিচারক নিয়োগে সুপারিশ প্রদানে ওই বছরের এপ্রিলে গঠন করা হয় জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্টস কমিশন। এর আগে লর্ড চ্যান্সেলর (যিনি মন্ত্রিসভার একজন সদস্য) সুপারিশক্রমে রাজা বা রানী উচ্চ আদালতে (সুপ্রিমকোর্ট অব জুডিকেচার এবং কোর্ট অব ক্রিমিনাল আপিল) বিচারক নিয়োগ দিতেন।
সবশেষে যা বলা দরকার তা হল, বাংলাদেশে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে দলীয়করণ রোধে সংবিধান নির্দেশিত আইনটি প্রণয়নে আর দেরি নয়। সংবিধানে উচ্চ আদালতে কোনো ব্যক্তির বিচারক পদে নিয়োগ পেতে যে তিনটি যোগ্যতার কথা বলা আছে, সেগুলোসহ আইনে বিচারক নিয়োগে সুপারিশ প্রদানে জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, কোনো রাজনৈতিক দল বা অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, ফৌজদারি অপরাধ এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে রেকর্ড যাচাইয়ের বিধান থাকতে হবে। বিচার বিভাগ ও জনগণের স্বার্থে আইনটি যত তাড়াতাড়ি প্রণীত হয়, ততই মঙ্গল।
আবদুল লতিফ মন্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

সংক্ষিপ্ত সংবাদ

নয়াদিল্লি
সোনিয়া গান্ধী হাসপাতালেঅসুস্থাবস্থায় কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্বাসনালীর সংক্রমণজনিত কারণে তাকে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে সোনিয়াকে স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখানে চেস্ট মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট অরূপ কুমার বসুর তত্ত্বাবধানে আছেন।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতকালে এ ধরনের সমস্যা অনেকের মধ্যেই হরহামেশা দেখা যায়। সোনিয়া গান্ধীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।সিডনি৮ শিশুকে হত্যাঅস্ট্রেলিয়ায় একটি বাড়িতে ছুরিকাঘাত করে আট শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে শিশুদের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অস্ট্রেলিয়া পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, নিহতদের বয়স ১৮ মাস থেকে ১৫ বছরের মধ্যে হবে।শুক্রবার দেশটি কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের কায়ার্নস শহরে এ মর্মান্তিক ঘটনার খবর পাওয়া যায়। তবে ঘটনাটি কখন ঘটেছে, কারা একসঙ্গে আট শিশুকে হত্যা করলো এসব কিছুর তদন্তে নেমেছে গোয়েন্দারা। কুইনসল্যান্ড পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় রাত রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে এলাকার বাসিন্দারা ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত নারীর খবর জানায়। এরপর বাড়ি থেকে ওই ৮ শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। বিবিসিআবুজাঅপহরণ ১৮৫আবার বোকো হারামের প্রাণনাশী ছোবলে নিহত হল ৩৫ জন। নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় একটি গ্রামে সশস্ত্র হানা দিয়ে এসব মানুষকে হত্যা করে বোকো হারামের জঙ্গিরা। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি জঙ্গিরা। গ্রামের ১৮৫ লোককে অপহরণকরেছে তারা।জঙ্গিদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তির দেয়া তথ্য থেকে এ খবর প্রকাশ করেছে এএফপি। এই ব্যক্তির তথ্য মতে, হঠাৎ গুমসুরি গ্রামে হানা দেয় বোকো হারাম। হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর গ্রামের শিশু-নারী-যুবকসহ অন্তত ১৮৫ লোককেতুলে নিয়ে যায়।গুমসুরি গ্রামে বোকো হারামের এ তাণ্ডব চলেছে গত রোববার। গ্রামটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও মোবাইল নেটওয়ার্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সঠিক সময়ে প্রশাসন ও গণমাধ্যমে খবর পৌঁছায়নি। গুমসুরি গ্রামের অধিবাসীদের দেয়া তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার বোকো হারামের অভিযান সম্পর্কে জানা যায়।

২০২১ সালের মধ্যেই ভারতকে মুসলিম খ্রিস্টান মুক্ত করা হবে

২০২১ সালের মধ্যে ভারতকে মুসলিম এবং খ্রিস্টানমুক্ত করা হবে। মুসলিম ও খ্রিস্টানদের ভারতে থাকার অধিকার নেই। ইসলাম বিদেশী ধর্ম। যদি ওরা মুসলমান হয়ে ভারতে থাকতে চায়, ওদের থাকতে দেয়া হবে না। তা সে বাংলাদেশী হোক বা অন্য কেউ হোক। এই দেশ মুসলমানদের সম্পত্তি নয়। ধর্মান্তকরণ বিবাদ নিয়ে যখন খোদ ভারতের পার্লামেন্টে বিতর্ক দেখা দিয়েছে, তখন ফের আপত্তিকর এ বিবৃতি দিলেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের শাখা ধর্ম জাগরণ মঞ্চর সভাপতি রাজেশ্বর সিং।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রাজেশ্বর সিং বলেন, ইন্ডিয়া ইন্ডিপেনডেন্টস অ্যাক্ট পড়–ন, তাতে লেখা আছে, ভারত হিন্দুদের এবং পাকিস্তান মুসলিমদের। তারা আরও বলেন, ভারত মুসলমানদের জন্য নয়, পাকিস্তান আছে, বাংলাদেশ আছে, আপনারা সেখানে গিয়ে থাকুন। খ্রিস্টানদের নিয়ে তার মতামত হল, এখানে তাদের শাসন নেই। যখন তাদের শাসন ছিল, তখন তারা থাকতে পারতেন। যদি ভারতীয় খ্রিস্টান হয়, তাহলে তাদের হিন্দু হয়ে থাকতে হবে। বিদেশী হলে, তাদের ফিরে যেতে হবে। এটা আমাদের সত্য অনমনীয় নীতি। ডেইলি মেইল।

সিনজারে পিছু হটলো আইএস

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় সিনজার পর্বতমালা থেকে ইসলামিক স্টেট বা আইএস জঙ্গিদের হটিয়ে দিয়েছে দেশটির কুর্দি বাহিনী। ওই এলাকাটি গত আগস্ট থেকে আইএসের দখলে ছিল। আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর এটাকে তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে দাবি করেছে কুর্দি বাহিনী। বিবিসির খবরে বলা হয়, বুধবার সকাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার সহায়তায় আইএস নিয়ন্ত্রণাধীন সিনজার পর্বতমালার দিকে অগ্রসর হয় কুর্দি বাহিনী। কুর্দি বাহিনীর দাবি, প্রায় আট হাজার কুর্দি পেশমার্গা বাহিনী সেখানে হামলা চালায়। আইএসের কাছ থেকে সিনজার পর্বতমালার বেশকিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার কুর্দিস্তান আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাউন্সিলের চ্যান্সেলর মাসুদ বারজানি বলেন, ‘সিনজার পর্বতমালায় অবরুদ্ধ ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের লোকদের উদ্ধার করতে অক্টোবরে পুনর্দখলে নেয়া জুমার থেকে অগ্রসর হয় কুর্দি সেনারা।
এদিকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান মার্টিন ডেম্পসি বলেছেন, ‘ইরাকে বড় আকারের বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরাকের আইএসের শীর্ষ সাত নেতা নিহত হয়েছে। শীর্ষ আইএস নেতাদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে এ বিমান হামলা চালানো হয়। আইএস জঙ্গি দমনে এটি কার্যকর হবে।’ বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা নতুন সম্পর্কের দশ জিজ্ঞাসা

১. কেন ওবামা এটা করছেন?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, কিউবাকে বিচ্ছিন্ন রাখার নীতি সেকেলে ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ অর্জন বা দেশটির অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ঘটেনি। ওবামা প্রশাসন মনে করে বিচ্ছিন্ন নয়, সম্পর্কযুক্ত থাকলেই মার্কিন লক্ষ্য পূরণে তা অধিক ফলপ্রসূ হবে। তাছাড়া ল্যাটিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব বজায় রাখতে কিউবাকে বাইরে রাখা যাবে না। এটা যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্র-বিশ্ব সম্পর্ক।২. অবরোধ কি শেষ?না, কিউবার ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ সম্পূর্ণ উঠবে না। ওবামা তার নিজের আমলে অন্তত তা পারছেন না। কারণ এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন দরকার। ওবামা চাইলেও কংগ্রেস শিগগিরই তা করছে না।৩. কূটনৈতিক সম্পর্ক কেমন হবে?হাভানায় মার্কিন দূতাবাস খোলার অর্থ ১৯৬১ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক আবার চালু হওয়া। এতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন উপায়ে কিউবা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করত। এখন অফিসিয়ালি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে করা হবে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি সফর পুনরায় শুরু হবে।৪. কিউবার নান্দনিক সৈকতগুলোতে আমেরিকানরা ঘুরতে পারবে?আপাতত তা পারছেন না। আমেরিকানদের কিউবা ভ্রমণ নিষিদ্ধ ছিল। ২০০৯ ও ২০১১ সালে ওবামা প্রশাসন পরিবার, সাংবাদিকতা, ধর্ম ও শিক্ষার কাজে কিছু লোককে হাভানা ভ্রমণের অনুমোদন দেয়। নতুন সম্পর্কে মানুষের তালিকাটা প্রশস্ত হবে। কিন্তু পর্যটনের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে।৫. মার্কিন কালো তালিকায় কিউবার নামের কী হবে?এটা বিবেচনাধীন রয়েছে। ওবামা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো কালো তালিকা থেকে কিউবার নাম বাদ দেয়ার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে এবং ছয়মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে। ১৯৮২ সালে কিউবাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।৬. ফেসবুক চালাতে পারবে?কিউবায় ফেসবুক নিষিদ্ধ। সবার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারের অনুমোদন নেই। নতুন সম্পর্কের ফলে দেশটির টেলিকমিউনিকেশন খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়বে ও হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার রফতানি হবে। কিউবানদের ইন্টারনেট ব্যবহারের আওতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা চালাবে।৭. বাণিজ্য খাত কতটা উন্মুক্ত হবে?হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কিউবার টেলিকমিউনিকেশন খাতের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পণ্য ও কৃষিদ্রব্যে সহযোগিতা করা হবে। কিউবার প্রাইভেট সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন আনতে আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্র।৮. মানবাধিকার কতটা উন্নত হবে?হোয়াইট হাউস বলছে, কিউবার মানবাধিকার পরিস্থিতি শিগগিরই উন্নতির পথে আসবে না। রাতারাতি স্বাধীন পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ইচ্ছাও ওবামা রাখেন না। তবে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে কথা বলে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে ওবামা উদ্বেগ জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন মনে করছে সুসম্পর্ক রাখাটাই এখনকার কাজ।৯. ফিদেল ক্যাস্ত্রো কতটা প্রাসঙ্গিক?হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কিউবার সাবেক নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত নন। তার ভাই ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রোই নীতিনির্ধারক। রাউলই এই চুক্তির কর্তৃপক্ষ।

লাখভি আবার গ্রেফতার

ভারতে ২৬/১১-এর মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী জাকিউর রেহমান লাখভিকে আবারও গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি) থেকে জামিন পান তিনি। এর একদিন পরেই ফের তাকে দেশটির সরকারি আদেশ রক্ষণাবেক্ষণ (এমপিও) আইনের অধীনে গ্রেফতার করে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। দেশটির জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রভাবশালী দৈনিক ডন জানায়, লাখভির জামিন অনুমোদনের বিরোধিতা করে উচ্চ আদালতে আপিল আবেদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাক সরকার। লাখভির গ্রেফতার-পরবর্তী জামিন আবেদন গৃহীত হওয়ার পর এটিসি তাকে মুক্তি দেয়ার আদেশ দেয়। লাখভির জামিন হিসেবে পাকিস্তানি মুদ্রায় এক লাখ রুপি ধার্য করেন বিচারক সৈয়দ কাওসার আব্বাস জাইদিএটিসির এ সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। স্মরণকালের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার শিকার হওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় কীভাবে এমন সিদ্ধান্তে আসতে পারল পাকিস্তান, তা নিয়েও বিস্মিত ভারতের বিভিন্ন মহল। ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের অভিযোগে অভিযুক্ত সাতজনের অন্যতম হলেন লাখভি। অভিযুক্ত বাকি ছয়জন হাম্মাদ আমিন সাদিক, শাহিদ জামিল রিয়াজ, ইউনুস আনজুম, জামিল আহমেদ, মাজহার ইকবাল ওপ আবদুল মাজিদ বর্তমানে মুম্বাই হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছেন এবং আদিয়ালা কারাগারে আটক আছেন।