Saturday, June 17, 2017

অংশগ্রহণ না থাকায় বাজেট বাস্তবায়ন হয় না: আকবর আলি

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, আমাদের দেশে যেভাবে বাজেট তৈরি হচ্ছে, তাতে মন্ত্রী-এমপিদের কোনো ভূমিকা নেই। এমনকি এ প্রক্রিয়ায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিরও কোনো ভূমিকা নেই। নতুন কোনো করারোপ করা হলে তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয় না। প্রধানমন্ত্রী কিছু নির্দেশনা দেন, আর অর্থমন্ত্রী সেভাবে একটা বাজেট তৈরি করেন। জনপ্রতিনিধিদের অংশ গ্রহণ না থাকায় বাজেট বাস্তবায়ন হয় না।
শনিবার রাজধানীর লেক শোর হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিড) আয়োজিত বাজেট সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কিমিটির সভাপতি ড. আবদুল রাজ্জাক। এতে সভাপতিত্ব করেন সিপিডি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। আকবর আলি বলেন, আমি বড় বাজেটকে স্বাগত জানাই। কিন্তু বড় বাজেটের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন। অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৪/৫ বছর পর রিজার্ভেও ক্রাইসিস দেখা দিতে পারে। কারণ এখন যেভাবে বিদেশি ঋণ নেয়া হচ্ছে, এটা পরিশোধের সময় রিজার্ভের উপর চাপ পড়তে পারে। সুশাসনের অভাবকেও দায়ী করেন আকবর আলি।
ভ্যাটের সঙ্গে ব্যাংক হিসেবে আবগারি শুল্ক জনগণের উপর চাপ সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদিকে ১৫ শতাংশ মূসক, অন্যদিকে ব্যাংক একাউন্টের উপরে আবগারি শুল্ক। এই দুটো কাজ একসঙ্গে করা একেবারেই ঠিক হয়নি। সরকারি ব্যাংকগুলো প্রতিবছর পুনঃঅর্থায়ন করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মত জানিয়ে এগুলোকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। আকবর আলি খান বলেন, বাজেট প্রণয়নে স্বচ্ছতা নেই। অনেক তথ্যই লুকানো হয়। কারণ অর্থমন্ত্রী নিজেও চান না নতুন কর আরোপের বিষয়ে আগে থেকে মানুষ জানুক। কর আরোপ ও অন্য বিষয়ে সংসদ ও অন্য ফোরামে খুব বেশি আলোচনা হয় না। আকবর আলি খান বলেন, সরকারের হিসাব মতে আমাদের দেশে ৪ শতাংশ মানুষ বেকার। যা প্রকৃত অর্থে অগ্রহণযোগ্য। কারণ বেকার সংখ্যার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশে অনেক মানুষ আছে যারা যথাযথ কর্মসংস্থানের অভাবে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যা মূলত বেকারত্বের মতোই। এই সংখ্যা যদি যোগ করা হয় তাহলে বেকার সংখ্যা ৩২ থেকে ৩৫ শতাংশ হবে। দেশে বর্তমানে বেকার সমস্যা উদ্বেগের বিষয়।

পুরুষের দেহ থেকে কাটা হলো নারীর প্রজনন অঙ্গ

ভারতের রাজস্থানের উদয়পুরের ২২ বছরের এক যুবকের চিকিৎসা করতে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়লেন ডাক্তাররা। আনডিসেনডেড টেস্টিকলস-এর চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন যুবক। কিন্তু সেই চিকিৎসা শুরু করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা দেখেন ওই যুবকের শরীরে রয়েছে স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ। বুধবার জিবিএইচ আমেরিকান হাসপাতালে সার্জারিটি হয়।
অস্ত্রোপচার করে বাদ দেওয়া হল জরায়ু, ডিম্বাশয় এবং সার্ভিক্স। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন ওই যুবক এবং আগামী দিনে বিয়ে করে সংসার পাততে চান তিনি।
সিনিয়র গাইনিকলজিস্ট শিল্পা গোয়াল জানিয়েছেন, ‘আমার কর্মজীবনে এমন অস্ত্রোপচার এই প্রথম। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন বিরল ঘটনা মাত্র ৪০০টি রয়েছে। গাইনিকলোজিস্ট হওয়ায় আমি নারী শরীরের সব অঙ্গ সম্পর্কে জানি। কিন্তু এখানে চ্যালেঞ্জটা একেবারে অন্যরকম ছিল। এক পুরুষের শরীর থেকে নারীর অঙ্গ বাদ দিতে হত।’
এই বিরল অস্ত্রোপচারে ডা শিল্পা গোয়ালের সঙ্গে ছিলেন ইউরোলজিস্ট ডা মনীশ ভাট। যুবকের মা-বাবা তার জন্ম থেকেই এই সমস্যার কথা জানলেও কোনো চিকিৎসা করাননি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

‘সাতকানিয়া সমিতি চট্টগ্রাম সেবামূলক কাজের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ -সিটি মেয়র আলহাজ আ জ ম নাছির

সাতকানিয়া সমিতি–চট্টগ্রামের উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার ইফতার, দোয়া মাহফিল ও সাধারণ সভা নগরীর রীমা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির আহ্বায়ক ও চিটাগাং চেম্বারের পরিচালক অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপনের সভাপতিত্বে এবং সাতকানিয়ার পৌর মেয়র ও সমিতির সদস্য সচিব মোহাম্মদ জোবায়েরের সঞ্চলনায় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। প্রধান বক্তা ছিলেন সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএ হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ–সভাপতি এডভোকেট এ কেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আলহাজ মুহাম্মদ আলী সিআইপি, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ মোতালেব সিআইপি, সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী, সাতকানিয়া সমিতি চট্টগ্রামের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ আবুল বশর আবু, উপ–পুলিশ কমিশনার (চট্টগ্রাম দক্ষিণ) মুস্তেইন হোছাইন, আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী রিজিয়া রেজা চৌধুরী, সাহিদা আকতার জাহান, সমিতির উপদেষ্টা লায়ন আলহাজ ওসমান গণি চৌধুরী, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মুহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী, ফয়েজ আহমদ লিটন, আলহাজ আমান উল্লাহ আমান, সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, আলহাজ জসিম উদ্দিন, আলহাজ আহমদ হোছাইন, আব্দুল খালেক, মো. আবু তাহের বিএসসি, প্রফেসর মুহাম্মদ আলী, ফারুকে আজম, মোসাদ হোসাইন চৌধুরী, আবু তাহের জিন্নাহ, এ এইচ এম হানিফ, জসিম উদ্দিন মিঠুন, শামসুল আলম, সাংবাদিক অধ্যাপক শাব্বির আহমেদ, মাহমুদুল হাসান, বশির আহমদ, আরটিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সরোয়ার আমিন বাবু, শেখ সালাউদ্দিন দিনার, জুনিয়র চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, কফিল উদ্দিন, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, আলহাজ নুরুল ইসলাম, আলহাজ আবুল কালাম আজাদ, মুহাম্মদ শাকের উল্লাহ, আবু রাশেদ মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, এটিএম রশিদ উদ্দিন শাহিন, কাজী গিয়াস উদ্দিন, নাজমুল আমিন আমিন, মাওলানা মাহমুদুল হক চেয়ারম্যান, আলহাজ এমএ মান্নান, আলহাজ হারুনুর রশিদ, মুহাম্মদ জাবেদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।
প্রধান অতিথি সিটি মেয়র আলহাজ আ জ ম নাছির উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, ব্যবসা–ব্যাণিজ্যে সাতকানিয়াবাসীর সুনাম দেশব্যাপী। চট্টগ্রাম শহরের টেরীবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন জায়গায় সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছে। চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত সাতকানিয়াবাসীর সংগঠন সাতকানিয়া সমিতি–চট্টগ্রাম বহু উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত আছেন। আত্মমানবতামূলক সেবায় সাতকানিয়া সমিতি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।–বিজ্ঞপ্তি

শুভ্র সমুজ্জ্বল গাজী শাহাবুদ্দিন আহমদ

প্রিয় গাজী ভাই, আপনি চলে গেলেন আপনাদের গাজী ভবন ছেড়ে। বীথি ভাবি, শারমিন বাবু, শুভ্র, নাতি-নাতনি, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, পরিচিতজনদের ছেড়ে। স্মৃতি ভারাক্রান্ত স্বজনেরা। আপনার কথা বলছি, ভাবছি, লিখছি; কিন্তু আপনি নেই ইহজগতে। আপনি কখনো আত্মপ্রশংসায় উৎফুল্ল হতেন না। আদৌ কি আমরা আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলাম? আপনার কৃতিত্ব সচিত্র সন্ধানীর সৌরভ আপনাকে গুণমুগ্ধদের কাছে টেনে নিয়েছে। আপনি সলাজে নিজের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। রাষ্ট্রীয় সম্মান, নানা সম্মাননা, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ নানা গুণীজন সংবর্ধনা যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদের অনেকেই আপনার সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে সংস্কৃতির বন্ধনে সম্পৃক্ত। তাঁদের অনেকেরই চলার পথকে মসৃণ করেছেন, তাঁদের স্বপ্ন দেখার চেতনাকে উদ্দীপ্ত করেছেন আপনি। আপনিও আলোকিত পথে চলেছেন তাঁদের সঙ্গী করে। জীবনসায়াহ্নে আপনার কাছে পরোক্ষ অনুরোধ এসেছিল রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বা জাতীয় সম্মাননার জন্য আপনার জীবনতথ্য-পরিচিতি যেন আপনি বা আপনার পক্ষে কেউ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছে দেন। হয়তো সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই রীতি-ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই সম্মানিত হয়েছেন। কিন্তু আপনি এই কাঙালিপনা নাকচ করেছেন, জীবনতথ্য সরকারি দপ্তরে জমা দিয়ে সম্মাননা পাওয়ার বিধিবিধানকে অবজ্ঞা করেছেন। আপনার পক্ষে পরিবারের সন্তান-স্বজনেরা কেউ যেন সেই প্রক্রিয়ার পথে না যায়, সেই কথা বলে গেছেন আত্মজ শুভ্রকে। এখন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্টজনেরা নিজ প্রয়াসে যদি পদক্ষেপ নেন, তবেই হয়তো কিছুটা স্খালন হবে আমাদের রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের চিরাচরিত প্রথার অপমানিত পদক্ষেপ।
আপনার সাক্ষাৎকার বেরিয়েছে কালের কণ্ঠে ১২ জানুয়ারি, বললেন সে কথা। পড়েছি। স্মৃতিসম্মাননা নিয়ে, স্মৃতিকথার মধ্যে ‘মালেকা বেগম’-এর কথা বলেছেন। আমি কৃতার্থ, গাজী ভাই। এসবই পরোক্ষ বচনে আপনাকে আপনার সঠিক পরিচয়ে স্মরণ করার প্রয়াস। প্রত্যক্ষ কথায় ফিরে আসি। ২৯ মে (২০১৭) সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে আপনার বাড়ির উদ্দেশে পাড়ি জমিয়ে বিকেল চারটায় পৌঁছাই গাজী ভবনে। আপনাদের মেয়ে শারমিন বাবুকে ফোনে জানাই। সে তখন ‘এবিসি রেডিও’ ভবনে পেশাগত কাজে ব্যস্ত ছিল। জানাল, গাজী ভবনে ওর গাড়ি রাখার গ্যারেজে আমার গাড়িটা রাখার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। লিফটের ১০-এ চাপ দিয়ে ভাবছিলাম বিকেলে হয়তো আপনারা বিশ্রাম নিচ্ছেন, ঠিক হলো কি এই অবেলায় আসা? আপনার ফ্ল্যাটের সদর দরজা খোলা ছিল। আপনি বসার ঘরে বসে ছিলেন। উঠে এসে পরম মমতায় হাত ধরে নিয়ে গেলেন ঘরের ভেতরে। সেদিন আপনি ও আমি প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেছিলাম পুরোনো স্মৃতিতাড়িত হয়ে। আপনার সঙ্গে পরিচয়, শ্রদ্ধাপূর্ণ ঘনিষ্ঠতায় কাটানো প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সেই দিনই প্রথম আপনার হাত জড়িয়ে বসে ছিলাম এক ঘণ্টা ধরে। আপনিও পরম স্নেহে সেই বন্ধনে ধরা দিয়েছিলেন। চোখে পানি টলটল করছিল আমার, লুকানোর জন্য ছল করেছি চোখে কী যেন পড়েছে বলে। আপনি সেই এক ঘণ্টাজুড়ে একাই বলে গেলেন পরম শ্রদ্ধেয় খালাম্মা জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি বইটির প্রথম প্রকাশনা থেকে ৪০তম সংস্করণের প্রকাশনার সময়কালের স্বর্ণযুগের কথা। বলেছিলেন শিগগিরই ৫০তম প্রকাশনা হয়ে যাবে। প্রতিটি প্রকাশনা পাঠক-প্রীতিধন্য হয়ে দ্রুতই ফুরিয়ে যায়। ধুমধাম করে নতুন সংস্করণের প্রস্তুতি চালিয়েছেন আপনি। স্মৃতিতাড়িত হয়ে হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে বললেন যে প্রথম আলো অফিসে গিয়েছিলেন কয়েক দিন আগে, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর শিষ্য-শিল্পী তরুণ অশোক কর্মকারকে বলেছেন অবিকল কাইয়ুম চৌধুরীর আঁকা প্রচ্ছদচিত্রের অনুকরণে একাত্তরের দিনগুলি বইটির নতুন সংস্করণের প্রচ্ছদ দ্রুত এঁকে দিতে। সব প্রস্তুতি শেষ হয়ে গিয়েছিল। আপনি যে অগস্ত্যযাত্রায় পাড়ি দেবেন, সেটা তো সেদিন বলেননি! বরং বলেছিলেন, দুরারোগ্য ক্যানসার প্রতিরোধ করে নতুন জীবনের সময়কালটা আরও যেন কয়েকটা বছর সুস্থভাবে কাটাতে পারেন, সেই প্রার্থনাই করছেন। না, কোনো ইহলৌকিক সুখ, ‘স্ত্রী-সন্তান-নাতি-নাতনি-ভাইবোন’দের সান্নিধ্যের জন্য নয়—শুধু একাত্তরের দিনগুলি বইটির ৫০তম সংস্করণের প্রকাশনা করে যাওয়ার তীব্রতম আকাঙ্ক্ষায় বেঁচে থাকার ইচ্ছাকে প্রকাশ করেছিলেন সেদিন। বারবার ‘পঞ্চাশ’ শব্দটি নাকি মৃত্যুর সময়কালে বলেছিলেন ছেলে শুভ্রকে। এই শেষ আকাঙ্ক্ষাটি পূরণ করার দায়িত্ব আপনি অর্পণ করে গেলেন পরবর্তী প্রজন্মের হাতে। অনেক স্মৃতিতাড়িত হয়ে লিখছি, জানি স্মৃতি রোমন্থনের লেখা এটা নয়। আপনাকে শ্রদ্ধা-স্মরণের জন্যই উৎসর্গিত করছি এই লেখা। তবু ‘আমিত্ব’ গ্রাস করছে। আপনাকে ও বীথি ভাবিকে অন্তরঙ্গ আলোকে জেনেছি ১৯৭৯-১৯৮৬ সময়কালে সচিত্র সন্ধানীতে পেশাগত কাজের সময়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলাম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলাম, পেশাগত কাজের প্রয়োজনে খণ্ডকালীন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকতাম। সচিত্র সন্ধানীতে চাকরি পাওয়ার অনুরোধ জানাতে পুরানা পল্টনের ‘কথাকলি’ অফিসে আপনার সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। আপনি আমাকে চাকরি যাচনার কোনো কথাই বলতে দেননি। শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ভাই এবং আপনি এমনভাবে অনুরোধ জানালেন যেন আমি চাকরিপ্রার্থী নই, আপনাদের প্রস্তাবে আমি সম্মত হলে আপনারাই কৃতার্থ হয়ে যাবেন। হতভম্ব আমি, জীবনসংগ্রামে, আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যাপৃত আমি ও মতিউর রহমান সেই সত্তরের মাঝামাঝি থেকে ১৯৮০-র দশকে আপনার আশ্রয়ে কাটিয়েছি পরম নিশ্চিন্তে। স্মরণ করছি, শ্রদ্ধা জানাচ্ছি কাইয়ুম ভাই, বেলাল ভাই, শফিক রেহমান ভাই, সৈয়দ শামসুল হক ভাইকে। ২৯ মে বিকেলে আপনাকে এবং বীথি ভাবিকে বলেছিলাম, শুভ্র সমুজ্জ্বল ২য় খণ্ড প্রকাশের ইচ্ছা আছে। সে জন্য আপনাদের সঙ্গে একান্ত আলাপনের সময় যাচনা করেছিলাম। আপনি আধো সংকোচে, বিনয় জানিয়ে বলেছিলেন, হবে হবে, একদিন আসবেন, কথা হবে। তবে আমি ঘুম থেকে উঠি দুপুর একটায়। বীথি ভাবি মৃদু ঝঙ্কারে, বিলোল কটাক্ষ হেনে বলেছিলেন, কেন, এক দিন সকালে ঘুম থেকে জাগলে কী হয়? হাসিতে উচ্ছল ৭৮ বছরের আপনি হয়ে গেলেন তরুণ প্রেমিক। জীবনসঙ্গিনীর মনের কথা বুঝে নিলেন। বললেন, ঠিক আছে, কবে আসবেন? বলেছিলাম, ১০ জুন বেলা ১১টায়। বলেছিলেন, পাক্কা কথা দিলাম। না, গাজী ভাই, আপনি কথা রাখলেন না। ৯ জুন বেলা ৩টায় পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেন পরপারে। কিন্তু আমরা-আমি আপনাকে ছাড়ছি না। আমার প্রকাশিতব্য শুভ্র সমুজ্জ্বল বইয়ের জন্য জীবনসঙ্গিনীর আয়নায় গাজী শাহাবুদ্দিন-এর কথা লিপিবদ্ধ করার জন্য বীথি ভাবির কাছে সময় চেয়েছি। আপনি আছেন, থাকবেন বাংলার সংস্কৃতি-ভুবনের সর্বত্র।
মালেকা বেগম: অধ্যাপক, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।

গণমাধ্যমে ভেজালবিরোধী খবর উপেক্ষিত কেন?

প্রথম পাতায় জায়গা হয় না। শেষ পাতায়ও না। কেউ কেউ ভেতরের পাতার কোনাকাঞ্চিতে জায়গা দেন। ম্যাগ্নিফায়িং গ্লাস নিয়ে না বসলে খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ, দুটো-তিনটে প্যারায় বড়জোর শ খানেক, শ দেড়েক শব্দ। ছবির কথা দূরে থাক। আর বেশির ভাগ কাগজে তো একেবারেই ব্ল্যাকআউট। গণমাধ্যমে ভেজালবিরোধী অভিযানের খবরের দুর্দশা চলছেই। মূলধারা, উপধারা, সামাজিক ধারা, কোথাও ভেজালবিরোধী অভিযানকে আমলে নেওয়া হচ্ছে না। এই উদাসীনতা নতুন নয়। ছিল, আছে। বরং এখন পৌঁছেছে অবজ্ঞার পর্যায়ে। অথচ ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভেজালবিরোধী অভিযান থেমে নেই। তাহলে কেন ভুলে থাকছে গণমাধ্যম? কেন এই অবহেলা? ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভেজালবিরোধী অভিযানের কথা এলেই আমাদের অনেকেরই মনে পড়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুদ্দৌলার কথা। তাঁর অভিযান, সাজা প্রদানের ধরন ছিল একটা সময় গণমাধ্যমের হট টপিক। তিনি রিপোর্টারদের সঙ্গে নিয়েই অভিযানে নামতেন। বেশ ফলাও করে বেরোত খবরগুলো টেলিভিশনে, খবরের কাগজে। এর পরেও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষে আরও অনেক কর্মকর্তাই ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন। আলোচনা, সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে ঢের। এতে লাভ হয়েছিল সাধারণ ভোক্তাশ্রেণির। ফরমালিন দেওয়া খাবার, ফলফলাদি না খাওয়ার ব্যাপারে সাধারণ পর্যায়ে একধরনের সচেতনতা গড়ে উঠেছিল। কমে এসেছিল কারবাইড দিয়ে ফল পাকানোর প্রবণতাও। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে গণমাধ্যম সম্মিলিতভাবে যখন কোনো বিষয়কে গুরুত্ব দেয়, কোনো দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে, আখেরে সেটার একটা ফল মেলে। সরকারও পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। থেমে যায় অপরাধীদের আগে বাড়া। ভেজাল পণ্যের ব্যাপারেও ঠিক সেই কাজটিই করেছিল গণমাধ্যম, যা এখন করা হচ্ছে না। এখন বাজারে টসটসা আপেল দেখলে মনে হয়, এর মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত ফরমালিন দেওয়া নেই তো! বাজারে যেসব মাল্টা, নাসপাতি মেলে, কুড়ি-পঁচিশ দিনেও তা অটুট থাকে! এখন আমের মৌসুম। একেকটা আম একেক সময় বাজারে আসে। কিন্তু কার সময় আছে এত অপেক্ষা করার? না ব্যবসায়ীর, না ভোক্তার। আধা পাকা ফল কারবাইড মেরে পাকিয়ে বাজারে আনলেই মওকা। সচেতনতা নেই বলে এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো চাপ অনুভব করছেন না।
আর আমাদের মতো ভোক্তারা সন্দিগ্ধ মন নিয়ে ফল কিনছেন, দেদার খাওয়া চলছে। কেন গণমাধ্যম ভেজালবিরোধী অভিযানকে আমলে নিচ্ছে না, জানতে চেয়েছিলাম একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের কাছে, যিনি বিষয়টি নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করছেন। তাঁর ভাষ্য, কেবল অভিযানের খবরটি কভার করাই যথেষ্ট নয়। ভেজাল বিষয়টি গণমাধ্যমের নিজস্ব এজেন্ডায় থাকতে হবে, যা একটি বা দুটি মিডিয়া বাদে কারও নেই বললেই চলে। শুধু প্রতিবেদন লেখাই যথেষ্ট নয়, ধারাবাহিকভাবে রচনা করতে হবে সংবাদ বিশ্লেষণ, সম্পাদকীয়, মতামত। কিন্তু দুঃখজনক হলো, লেগে থাকা তো দূরের কথা, সামান্য কভারই করা হচ্ছে না। তাহলে কি ভেজালবিরোধী অভিযানের গতি স্তিমিত হয়ে গেছে? প্রশ্নটি করেছিলাম মাসুম আরেফিনকে। তিনি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (তদন্ত)। এই রমজানে তিনি একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন। তিনি এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের কোনো দুর্বলতা দেখেন না। তিনি মনে করেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত যদি সঠিক জায়গায় হিট করতে পারেন, তাহলে সে খবর গণমাধ্যম গুরুত্ব না দিয়ে পারে না। বলছিলেন, তিনি সম্প্রতি অভিযান পরিচালনা করে একটি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন, সে খবরটি গণমাধ্যমে কল্কে পায়নি। কিন্তু আরেক দিন এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন, সে খবরটির ঠিকই জায়গা হয়েছে। অর্থাৎ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন এই কর্মকর্তা মনে করছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতকে অগ্রাধিকার ঠিক করে অভিযানে নামতে হবে। সাধারণ মানুষ কোথায়, কীভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে, সেটা বুঝে কাজ করতে হবে। একটা সাধারণ আলোচনা আছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত রাঘববোয়ালদের সামান্য পশমও ধরতে পারে না, কিন্তু ছোটখাটো প্রতিষ্ঠানের টুঁটি চেপে ধরে। অর্থাৎ সবলকে বাঁচিয়ে কেবল দুর্বলের ওপর আইন ফলায়। সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে, বিষয়টি বিবেচনায় নিলে অভিযানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। একই প্রশ্ন করি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমকে। প্রায় নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে। তাঁর মতে, গণমাধ্যম অন্য নানা বিষয়ে ব্যস্ত। যে কারণে এখন আর এ খবরগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে না। তবে সরকারের যেসব সংস্থা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে, তাদেরও তৎপর হতে হবে। যেমন অভিযানের খবর গণমাধ্যমকে নিবিড়ভাবে জানানো, সাপ্তাহিক-মাসিক ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি এবং পৌঁছানো, নিয়মিত ব্রিফিংয়ের আয়োজন। সারওয়ার আলম মনে করেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজটি যে গুরুত্বপূর্ণ, এটা আগে তাদের বুঝতে হবে। তারা বুঝলে গণমাধ্যম না বুঝে বসে থাকতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা দেখেন না রোবায়েত ফেরদৌস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই সহযোগী অধ্যাপকের পর্যবেক্ষণ, গণমাধ্যম কোনো একটা ইস্যু ধরে বেশ এগোয়। তারপর মাঝপথে ফেলে চলে যায়। এরপর আর খবর নেয় না। ভেজালবিরোধী অভিযান কভার করার ক্ষেত্রেও গণমাধ্যম অনেকটা এ রকম করেছে। তাঁর মতে, গণমাধ্যম কখনো কখনো মাঝামাঝি অবস্থানও নিয়ে থাকে। কোনো কোনো মহল থেকে সমালোচনা করে বলা যায়, এসব খবর ফলাও প্রচার করে গণমাধ্যম মূলত দেশীয় কৃষিজাত ও ক্ষুদ্রশিল্পের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। এসব সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক সময় গণমাধ্যম পিছু হটে। কিন্তু গণমাধ্যমকে কি পিছু হটলে চলবে? গণমাধ্যম পিছু হটলে এ দেশের গণমানুষের আশার জায়গাটি আর রইল কোথায়? প্রশ্ন হলো, গণমাধ্যম কেন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় হতে বাধ্য করে না? আমরা কালের আয়নায় গণমাধ্যমের ঝাপসা মুখ দেখতে চাই না।
কাজী আলিম-উজ-জামান: সাংবাদিক
alimkzaman@gmail.com

কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি গেট আংশিক খুলে দেওয়া হয়েছে

রাঙামাটির কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্লুইসগেটের আংশিক খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ঝুঁকির আশঙ্কায় এমনটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আবদুর রহিম। আবদুর রহিম আরও বলেন, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। বাঁধের একেকটি দরজা ১৮ ইঞ্চি লম্বা। প্রতিটি ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছে। ভারী বর্ষণে কাপ্তাই লেকের পানি বেড়ে গেছে। পুরোনো এই লেকে বেশি পানি হলে ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে দরজাগুলো খোলা হয়েছে। লেকের পানি এই দরজা দিয়ে কর্ণফুলী নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়বে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ভোররাত থেকে চলা যানজট দুপুর ১২টার দিকে কমেছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটারজুড়ে যানজট ছিল। ওই অংশে এখন যান চলাচল স্বাভাবিক। কোনাবাড়ি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হোসেন সরকারের ভাষ্য, গতকাল শুক্রবার রাতে বংশাই সেতুর মেরামতের কাজ করা হয়। এ জন্য মহাসড়কের একদিকে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ কারণেই রাত থেকে যানজট শুরু হয়। যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ঋণ কোটি কোটি ডলার

বেশ ঝামেলায় আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে থেকে বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না তাঁর। এবার ফাঁস হলো তাঁর ব্যক্তিগত ঋণের তথ্য। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে ট্রাম্পের ঋণের দায় এখন প্রায় ৩২ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। সরকারি ওয়েবসাইটে ফাঁস তথ্যে দেখা যায়, ডয়েচে ব্যাংক ট্রাস্ট কোম্পানি অ্যামেরিকাস থেকে ট্রাম্প ঋণ নিয়েছেন ১৩ কোটি ডলার। এই ব্যাংক জার্মানির ডয়েচে ব্যাংক এজির একটি ইউনিট। এ ছাড়া আবাসন খাতের বাণিজ্যিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান লাড্ডার ক্যাপিটালের লস অ্যাঞ্জেলেস ও ফ্লোরিডা শাখা থেকে ট্রাম্প ঋণ নিয়েছেন ১১ কোটি ডলার। ফাঁস হওয়া এই তথ্যের বিষয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ও স্বাভাবিক পদ্ধতি অনুসারে, এই নথি প্রত্যয়িত হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউসও। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্প তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক বিবরণী প্রকাশের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মুখপাত্র মুখ খোলেননি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
২০১৬ সালে ট্রাম্পের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২০১৭ সালের শুরুতে এই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪০ কোটি ডলার। ট্রাম্পের আয়ের অন্যতম উৎস গলফ রিসোর্ট ব্যবসা। মায়ামিতে গলফ রিসোর্ট ব্যবসা থেকে ট্রাম্পের আয় আসে প্রায় ১২ কোটি ডলার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিভিন্ন সময় মোট ৫৬৫টি করপোরেশনে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ট্রাম্প। গত ১৯ জানুয়ারি এগুলোর অনেক পদ থেকেই সরে দাঁড়ান তিনি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই ট্রাম্পের ব্যবসায়িক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার চলাকালে ট্রাম্প তাঁর আয়কর বিবরণী প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। এর মাধ্যমে ট্রাম্প দেশটির দীর্ঘ ঐতিহ্যের ব্যত্যয় ঘটান। নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁর আয়কর নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তা প্রকাশ করা হবে। গত মার্চে ট্রাম্পের ২০০৫ সালের আয়কর বিবরণী ফাঁস হয়। এতে দেখা যায়, ২০০৫ সালে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের বিপরীতে ট্রাম্প ৩৮ মিলিয়ন ডলার আয়কর দিয়েছেন।

প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: রাষ্ট্রদূত মোমেন

প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষা ও মৌলিক স্বাধীনতাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার একটি অগ্রাধিকার নীতি হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। গত ১৫ জুন বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষা কমিটি অনুস্বাক্ষরকারী দেশসমূহের দশম সম্মেলন’ উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, ‘প্রতিবন্ধীতাই দারিদ্র্য ও বৈষম্যের কারণ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষা কমিটির (সিআরপিডি) অষ্টম অনুস্বাক্ষরকারী দেশ। তা ছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত বাংলাদেশ সংবিধানের নীতিমালার সঙ্গে সিআরপিডির নীতিমালা সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার সিআরপিডি অনুস্বাক্ষর করা ছাড়াও প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক ব্যক্তিদের কল্যাণে “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা আইন ২০১৩” এবং “নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটি প্রোটেকশন ট্রাস্ট অ্যাক্ট ২০১৩ প্রণয়ন করেছে।” 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অটিজম বিষয়ক উপদেষ্টা ও তাঁর কন্যা সায়মা হোসেন দেশের অটিজম ও অন্যান্য নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন বলে স্থায়ী প্রতিনিধি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য বাংলাদেশ জাতিসংঘে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি), ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅডার্রস (ডিডি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অক্ষমতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের আর্থসামাজিক চাহিদা সংবলিত রেজুলেশন উত্থাপন করে যা সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশ মিশন এপ্রিল মাসের ২ তারিখে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। উল্লেখ্য জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষা কমিটি অনুস্বাক্ষরকারী দেশসমূহের ১০ম সম্মেলন গত ১৩ জুন শুরু হয়ে ১৫ জুন শেষ হয়। জাতিসংঘ ২০০৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষা কনভেনশন এবং এর অপশনাল প্রটোকল গ্রহণ করে এবং এটি ২০০৮ সালের ৩ মে থেকে কার্যকর হয়।

স্পেন-বাংলা প্রেসক্লাবের ইফতার

স্পেন বাংলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মাদ্রিদে ইফতার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদ্রিদের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা লাভাপিয়েসে মাতৃভূমি রেস্তোরাঁয় গত ১৪ জুন বুধবার এ ইফতার আয়োজন করা হয়। ইফতারে প্রেসক্লাবের সদস্যরা ছাড়াও বাংলাদেশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেোরা উপস্থিত ছিলেন। ইফতারপূর্ব আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন স্পেন-বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাহাদুল সুহেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সভাপতি জামাল উদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম, আওয়ামী লীগের স্পেন শাখার নেতা দুলাল সাফা, একুশে সম্পাদক শাহ জামাল আহমেদ, গ্রেটার সিলেট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন, সাঈদ মিয়া এবং প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মিনহাজুল আলম, সহসভাপতি জাহিদুল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম আলম, ক্রীড়া সম্পাদক জাফরুল ইসলাম, সদস্য কবির আলম মাহমদু ও সাইফুল আমিন। মাহফিলে উল্লেখযোগ্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমান, হবিগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাইদ মিয়া, জাকির হোসেন, কুমিল্লা সমিতির সভাপতি আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কাজী স্বপন, নোয়াখালী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম, সিলেট দক্ষিণ সুরমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান, আফজাল হোসেন, দিদারুল আলম, ব্যবসায়ী নাহিদ আনোয়ারুল, জাহাঙ্গীর মিয়া, ইদ্রিস মিয়া, কামাল হোসেইন প্রমুখ। এ ছাড়া আরও ছিলেন বিএনপির স্পেন শাখার নেতা সোহেল আহমেদ, আওয়ামী লীগের স্পেন শাখার নেতা আমান উল্লাহ ও সায়েম সরকার প্রমুখ। ইফতার পরবর্তী সভায় আসন্ন ঈদের প্রস্তুতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন বায়তুল মোকাররম বাংলাদেশ মসজিদের সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদার।

সবার গুদামে চালের ঘাটতি

সরকারি গুদামে চালের মজুত দুই লাখ টনের নিচে নেমে এসেছে। এ সময় ব্যবসায়ীদের হাতেও মজুত কম। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি দুই খাতেই চালের মজুত এখন সবচেয়ে কমে গেছে। স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ লাখ টন চাল কম নিয়ে ২০১৭ সাল শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ রকম পরিস্থিতিতে মোটা চালের পর বাজারে এবার সরু চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে। মোটা চালের দামও কমার লক্ষণ নেই। ‘খাদ্য পরিস্থিতি প্রতিবেদন জুন-২০১৭’ শীর্ষক এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ার প্রধান চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে চালের উৎপাদন বৃদ্ধির হার সবচেয়ে কমেছে। সরকারি-বেসরকারি সব খাতে চালের এই ঘাটতির কারণেই বাজারে দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও গবেষকেরা। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বাজারে সরু চালের কেজি ছিল ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা। এ সপ্তাহে তা ২ টাকা বেড়ে ৫৬ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের দাম ৪৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৮ টাকা। সব ধরনের চালের দাম গত এক মাসে ৪ থেকে ৮ শতাংশ এবং এক বছরে ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে প্রতি কেজি চালের দাম ১০ টাকা বেশি হওয়া সত্ত্বেও বেসরকারি খাতে চাল আমদানি কম। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬—এই দুই অর্থবছরে দেশে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে চাল আমদানি হয়েছিল প্রায় ৩০ লাখ টন। ওই সময়ে দেশে চালের দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। আর এখন চালের কেজি ৫০ টাকা ছুঁইছুঁই করলেও গত এক বছরে মাত্র ১ লাখ ২৮ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও চাল আমদানির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি কেজি চাল আমদানিতে ৯ টাকা করে শুল্ক দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে ব্যাংকঋণ ও অন্যান্য খরচ যোগ করে চালের দাম যা দাঁড়ায়, তাতে তাঁদের আমদানি করে পোষাচ্ছে না। তাই বাজারে চালের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা আমদানির দিকে যাচ্ছেন না।
সরকার ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে চাল আমদানির উদ্যোগ নিলেও তা আগামী এক থেকে দুই মাসের আগে দেশে আসছে না।  এ ব্যাপারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং ১৯৯৮ সালের বন্যার সময় সরকারের কৃষিসচিবের দায়িত্ব পালনকারী ড. এ এম এম শওকত আলী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে চালের মজুত কমে যাচ্ছে—এ তথ্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে নিয়মিত যায়। তখন তারা কী করছিল? দেশে চালের এ সংকটের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্বল তদারকি সবচেয়ে বেশি দায়ী। অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, সরকারি গুদামে সব সময় ৬ থেকে ১০ লাখ টন চাল মজুত থাকা উচিত। কিন্তু দুই বছর ধরে সরকারি চালের মজুত ৬ লাখ টনের নিচে ছিল। তিন মাস ধরে তা ৩ লাখ টনের নিচে। হাওরে ফসল বিপর্যয় ও বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগের কারণে সরকারি হিসাবে ১২ লাখ টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীদের হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ লাখ টন। বাজারে চালের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা। শওকত আলী গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, ‘২০০৮ সালে দেশে চাল নিয়ে একই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল। বেসরকারি মজুত কমে যাওয়ায় চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা যে শিক্ষা নিইনি, বর্তমান পরিস্থিতি তারই প্রমাণ। সরকারের উচিত অন্তত আমন ওঠার আগ পর্যন্ত চালের আমদানি শুল্ক উঠিয়ে দেওয়া। এতে আমদানি বেড়ে বাজারে জোগান বাড়বে, দামও কমবে।’ এই পরিস্থিতিতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ও বেসরকারি খাতে আমদানির জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে। তারা মনে করছে, খাদ্য অধিদপ্তর একা চালের দাম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারবে না। গত রোববার খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের মজুত ও জোগান পরিস্থিতি নিয়ে যে সভা করেছে, তাতে তারা বেসরকারি খাতে চালের জোগান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে চাল আমদানি বাড়ানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার ওপরে তারা গুরুত্ব দিয়েছে। এ ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চালকলমালিকদের কাছ থেকে মজুতের হিসাব ইতিমধ্যে নিয়েছি। সেখানে খুব বেশি চালের মজুত নেই। ব্যবসায়ীদের কাছে কী পরিমাণ চাল আছে, তা আমরা অনুসন্ধান করে দেখছি। আর বেসরকারি খাতে আমদানি শুল্ক কমানোর সুপারিশ আমরা সরকারের বিভিন্ন মহলে কয়েক দফা বলেছি।’ এ ব্যাপারে দেশের অন্যতম শীর্ষ খাদ্যপণ্য আমদানিকারক ও বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বাসার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম দ্রুত বাড়ছে। ফলে যা আমদানি করার এখনই করতে হবে। কিন্তু প্রতি কেজিতে ৮-১০ টাকা শুল্ক দিয়ে চাল আমদানি করতে গেলে আমাদের পোষাচ্ছে না।’ শুল্ক প্রত্যাহার হলে ব্যবসায়ীরা আমদানি বাড়াবেন বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশে উৎপাদন বৃদ্ধির হার কমেছে
চালের উৎপাদনের যে হিসাব এফএওর প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে গড়ে ৩ কোটি ৪৫ লাখ টন চাল উৎপাদিত হয়েছে। ২০১৬ সালে তা থেকে ২০ লাখ টন উৎপাদন বেড়েছিল। ২০১৭ সালে উৎপাদন বৃদ্ধির পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমে মাত্র ১০ লাখ টন হয়। ভারতে গত এক বছরে চালের উৎপাদন বেড়েছে ১২ লাখ টন, পাকিস্তানে ২ লাখ টন, থাইল্যান্ডে ৪ লাখ টন এবং ভিয়েতনামে ৩ লাখ টন। 
মজুত জানার আইন আছে, প্রয়োগ নেই
২০১১ সালে খাদ্য মন্ত্রণালয় কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল ফুড কমোডিটি অ্যাক্ট সংশোধন ও হালনাগাদ করে। ওই আইন অনুযায়ী খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দেশের সব চাল, গম, ভোজ্যতেল ও ডালের মজুতের হিসাব পাক্ষিকভাবে দিতে হবে। ওই আইন প্রণয়নের প্রথম দুই বছর খাদ্য মজুতের হিসাব রাখা হয়। কিন্তু তারপর ধীরে ধীরে মজুত রাখার ওই নিয়ম অনিয়মিত হয়ে যায়। তবে সরকারি গুদামগুলোতে চালের মজুতের হিসাব খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে রয়েছে। এই মজুত প্রতি সপ্তাহে ৫ থেকে ১০ হাজার টন করে কমছে। বর্তমানে সরকারি গুদামে চালের মজুত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার টনে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মজুত সংকটের কারণে সরকারের খোলাবাজারে চাল বিক্রিসহ (ওএমএস) বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে চাল বিতরণ বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে চালের মজুত কমতে থাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয় বেসরকারি খাতের মজুতের হিসাব নেওয়ার কাজ শুরু করে। গত সপ্তাহে খাদ্য অধিদপ্তর থেকে বেসরকারি খাতে মজুতের হালনাগাদ তথ্যের হিসাব দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ী ও চালকলমালিকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অটো, হাসকিং ও মেজর চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম লায়েক আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কাছে তেমন চালের মজুত নেই। বরং চালের অভাবে আমাদের সমিতির অন্তর্ভুক্ত ২২ হাজার চালকলের অর্ধেকই বন্ধ রয়েছে। অর্থাভাবে আমরা চাল কিনতে পারছি না। চাল যদি কিছু থেকে থাকে, তা ব্যবসায়ীদের কাছে আছে।’ এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে যা ভুল হওয়ার হয়ে গেছে। আমরা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ—এই আত্মতুষ্টিতে ভুগে দেশে চালের ঘাটতি ও মজুতের বিষয়টি ভুলে গেছি। পরিস্থিতি আরও জটিল ও খারাপ হওয়ার আগে সরকারের উচিত বেসরকারিভাবে চাল আমদানি বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, ২৮ শতাংশ শুল্ক সীমিত সময়ের জন্য প্রত্যাহার করা।’

ফ্ল্যাটের দাম বাড়াবে রডের নতুন দর

প্রথম আলো: রডের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে কী প্রভাব পড়তে পারে?
মানোয়ার হোসেন: ভ্যাট আরোপের কারণে রড সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। রডের ব্যবহার ব্যাপক হারে কমবে। গ্রাম-বাংলার উন্নয়ন থমকে যাবে। সরকারের প্রকল্প ব্যয় বাড়বে। শহরাঞ্চলে ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে যাবে। ভ্যাট আরোপের ফলে রডের দাম প্রতি টনে ৭ হাজার ৮০০ টাকা বাড়বে। তার সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতের বাড়তি দাম যোগ করলে সব মিলিয়ে প্রতি টন রডের দাম বর্তমানের চেয়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
প্রথম আলো: ভ্যাটের বিষয়ে রড ব্যবসায়ীরা কতটা প্রস্তুত?
মানোয়ার হোসেন: ২৭ বছর আগে ভ্যাট আইন কার্যকর করা হয়। বড় প্রতিষ্ঠান হওয়ার পরও আমাদের ভ্যাট হিসাব-নিকাশ করতে এখনো ভুল হয়। ফলে আপনি যদি ভাবেন, সবাই প্রস্তুত হয়ে গেছে, সেটি ভুল। কাঠামোগতভাবে কেউ প্রস্তুত নয়। তা ছাড়া ভ্যাট সংগ্রাহকদের তো একটা অপবাদ আছে। আমাদের পর্যায়ে যদি হয়রানি হয়, তাহলে নিচের পর্যায়ে কী হতে পারে, সেটি একবার ভাবুন। সব মিলিয়ে পদ্ধতিটা এত তড়িঘড়ি করে দেওয়াটা ঠিক হচ্ছে না। ১০টি দোকানের মধ্যে আটটা হয়তো ভ্যাট দেবে না। যে দুইটা দেবে, এনবিআরের কর্মকর্তাসহ সবাই তাকে জ্বালাবে।
প্রথম আলো: রডের ওপর ভ্যাট কার্যকরে ব্যবসায়ীরা কি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন?
মানোয়ার হোসেন: অবশ্যই। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সবচেয়ে বেশি হবেন খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অনেকের অবস্থা দিন এনে দিন খাওয়ার মতো। তাঁদের রেয়াত নিতে সমস্যা হবে। তাই আমরা চাই, যাঁরা উৎপাদক পর্যায়ে ভ্যাট দিয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেই ভ্যাট থাকুক। সরকার একটা বার্তা দিতে পারে যে সবার জন্য ভ্যাট আসছে। সেটি হলে ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতির জন্য এক, দুই বা তিন বছর সময় পাবে। আমি বুঝতে পারছি না, ভ্যাট কেন নিম্ন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। রড, সিমেন্ট কিংবা চানাচুর—যে পণ্যের কথাই বলেন না কেন, সবাই কিন্তু সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে (এমআরপি) পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে। কক্সবাজারে যে দামে পণ্য পাচ্ছেন, সেই দামেই রাজশাহীতে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ভ্যাট সংগ্রহ এত জটিল না করে উৎপাদক পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া যায়। আমরাই পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীর ভ্যাট দিয়ে দিলাম। আমরা কেন সব মানুষের কান ধরে টানব?
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: শুভংকর কর্মকার

ইফতারে বেছে নিন সালাদ

ইফতারে রীতি অনুযায়ী আমরা নানা ধরনের ভাজা-পোড়া খেয়ে থাকি। কিন্তু স্বাস্থ্যসচেতন অনেকে আজকাল তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে চান। এতে খাবারটা স্বাস্থ্যসম্মত হয়। রমজানে বেশি ভাজা-পোড়া খাওয়া এবং শাকসবজি কম খাওয়ার কারণে অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভোগেন। তাই ইফতারে সালাদজাতীয় দু-একটা পদ রাখুন। এতে ক্যালরি ও তেলের পরিমাণ যেমন কমে, তেমনি খাবারে বৈচিত্র্যও আসে। জেনে নিন এ রকম সালাদে কতটুকু ক্যালরি ও পুষ্টিমান আছে:
সালাদ ১
ক্যালরি মাত্রা: ১৭২ ক্যালরি
চর্বি ০.৮ গ্রাম, প্রোটিন ৬.৬ গ্রাম, আঁশ ৯.২ গ্রাম, ভিটামিস সি ও আয়রন প্রচুর ৩ কাপ টমেটো, আধা কাপ পেঁয়াজ, খানিকটা ধনেপাতা, ক্যাপসিকাম কাটা আধা কাপ, ৪টা রসুন (কিমা করা), ৪ চা-চামচ সিরকা, আধা চা-চামচ লবণ। সব একসঙ্গে মিশিয়ে কিছুক্ষণ একটা কড়াইয়ে রান্না করুন, তারপর ঠান্ডা করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন।
সালাদ ২
ক্যালরি মাত্রা: ৮০
প্রোটিন ৩ গ্রাম, আঁশ ৩ গ্রাম, শর্করা ১৪ গ্রাম, চর্বি ১.৮ গ্রাম ১ কাপ সেদ্ধ সাদা ছোলা, আধা কাপ শসা কাটা, ১টা টমেটো কাটা, ১টা ক্যাপসিকাম কাটা, আধা কাপ পেঁয়াজ কুচি, ২টা রসুন (কুচি করা), ৩ চা-চামচ লেবুর রস, আধা চা-চামচ লবণ, ২ চা-চামচ অলিভ অয়েল। সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ১০ মিনিট ঢেকে রাখতে হবে।

জলাশয়ে বস্তাবন্দী ইউপি সদস্য

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের (শ্রীপুর টেক্সটাইলের) পাশের জলাশয় থেকে বস্তাবন্দী এক ইউপি সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম বদরুল আলম ভুঁইয়া (৬২)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার ৪নং সরারচর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য এবং গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত ইলিয়াস ভূঁইয়ার ছেলে। বদরুল ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। শনিবার সকাল ১১টার দিকে শ্রীপুর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বেড়াইদেরচালা এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে রাব্বি হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ছোট্ট একটি জলাশয় থেকে আল্লাহু আল্লাহু শব্দ শুনতে পান। এগিয়ে জলাশয়ে দেখতে পান একটি বস্তার ছেঁড়া অংশ দিয়ে মাথা দেখা যায়। এর ভেতর থেকেই শব্দটা ভেসে আসছে। আশপাশের লোকজন ডেকে এনে তিনি বস্তাটি পানি থেকে টেনে তুলেন। বস্তা খুলে দেখতে পান জীবিত মানুষ। পরে থানা পুলিশকে খবর পাঠান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বদরুল আলম ভুঁইয়া জানান, ২০১৪ সালে তার এলাকার ২০ জন লোককে বিদেশে পাঠানোর জন্য ঢাকার আশকোনা এলাকার সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টারের মালিক সাগর মিয়াকে ৩৫ লাখ টাকা দেন।
সাগর বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে না পেরে টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সাগর নানা ধরনের টালবাহানা করতে থাকলে তিনি নিজে জমি বিক্রি করে ২০জনের টাকা পরিশোধ করেন। ওই টাকা আনার জন্য বিভিন্ন সময় সাগরের কাছে যেতেন বদরুল আলম। বৃহষ্পতিবার পাওনা টাকা আনতে গিয়ে ট্রেনিং সেন্টারে সাগর মিয়ার সঙ্গেই ইফতার করেন। এরপর থেকে তিনি আর কিছু বলতে পারেননি। বদরুল আলম ভুঁইয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) সকালে এগারসিন্ধুর ট্রেনের মাধ্যমে তার বাবা রাজধানী ঢাকায় সাগর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাড়ি হতে বের হন এবং বলে যান সন্ধ্যার ট্রেনে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু বিকেল হতেই তার বাবার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার সন্ধানের জন্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বাবাকে কে বা কারা এমন অবস্থা করেছেন তা তাদের জানা নেই। শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামিল আহমেদ জানান, জলাশয় থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বদরুল আলম বর্তমানে সুস্থ। ধারণা করা হচ্ছে ট্রেনিং সেন্টারের মালিক বা তার লোকজন তাকে অচেতন করে মৃত্যু নিশ্চিত জেনে জলাশয়ে ফেলে গেছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

রাজনীতির পরিভাষার রূপান্তর

‘বিপ্লব’, ‘বৈপ্লবিক’, ‘বৈপ্লবিকতা’ ইত্যাদি শব্দ হামেশা ব্যবহারের ফলে এই শব্দগুলো ক্লিশে হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ ব্যবহারে ব্যবহারে জীর্ণ, অনেকটা ছেঁড়া টাকার মতো। অথচ জাতীয় টাঁকশাল থেকে ছাপা টাকা সবসময়ই বৈধ। ছেঁড়া টাকা এখনও বিনিময়ের বৈধ মাধ্যম, কিন্তু বাজারে সেই টাকা চলে না, কেনাবেচা কঠিন হয়ে পড়ে। ছেঁড়া টাকা সহজে কেউ নিতে চায় না। তেমনি পরস্পরের মধ্যে চিন্তার বিনিময়ের জন্য কিছু উপযুক্ত ভাষা-পরিভাষার দরকার আছে, চিন্তার টাঁকশাল থেকেই তাদের উৎপত্তি। কিন্তু অতি ব্যবহারে সেটিও যখন জীর্ণ হয়, তখন যার সঙ্গে ভাবের বিনিময় ঘটাতে চাই তিনি তা বিশেষ কবুল করতে রাজি হন না। সেই ক্ষেত্রে ভাষা ও পরিভাষার মধ্যেও বদল আনা জরুরি হয়ে পড়ে। নতুন পরিভাষার দরকার হয়, কিংবা ছেঁড়া টাকা টাঁকশাল থেকে বদলিয়ে ঝকঝকে নতুন ছাপা টাকা নিয়ে চিন্তার বাজারে কেনাবেচায় নামতে হয়। ক্লিশে পরিভাষাগুলোর হয়েছে সেই দশা। তবে পরিভাষাগুলো এখনও গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যখন ব্যবহার করে তখন ব্যবহারকারীর আকাক্সক্ষার দিকটা বোঝা খুব একটা কঠিন নয়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কোন ?অর্থে? রোমান্টিক ভাবাবশে ‘বিপ্লব’ সম্পর্কে পুরনো চিন্তা আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য নয়। বরং বদ্ধমূল ধ্যানধারণার কঠোর ও নির্মোহ পর্যালোচনার জন্য। সমাজ, রাজনীতি, রাষ্ট্র, আইন, ক্ষমতা ইত্যাদি সম্পর্কে চিন্তাভাবনা ইতোমধ্যে বহুদূর এগিয়ে গিয়েছে। নতুন নতুন প্রশ্ন উঠছে। পুরনো ভুল ও ব্যর্থতা নিষ্ঠার সঙ্গে পর্যালোচনার তাগিদ বেড়েছে। কেউ যখন বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা বলে তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ওই বলার মধ্যে মৌলিক পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা থাকে। সেই ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন বলতে সুনির্দিষ্টভাবে কী চাওয়া হচ্ছে, তার দ্বারা কী ধরনের রূপান্তর কাম্য পরিষ্কার বোঝা দরকার।
বোঝা না গেলে ক্লিশে পরিভাষার ব্যবহার নিছকই কথার কথা মাত্র। বিদ্যমান অবস্থা কারও কাছে অসহ্য মনে হলে একদিন তার খোল-নলচে বদলে ফেলার আকাক্সক্ষা তৈরি হতেই পারে। সেটি বাস্তব দুর্দশার প্রতি মানুষের সাধারণ প্রতিক্রিয়া। কিন্তু সমাজ বদলের সমাজতত্ত্ব ও রাজনীতি এবং ক্ষমতা বা বলপ্রয়োগের দার্শনিক বিচার একালে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে আমাদের সমাজে মনোযোগ, গবেষণা ও বিশ্লেষণ নাই বললেই চলে। বাংলায় বিপ্লব কথাটা আর দশটা পরিভাষার মতো পাশ্চাত্যের ‘রেভলিউশান’-র অনুবাদ হিসেবেই এসেছে। আধুনিক সমাজের গতিশীলতা, দ্বন্দ্ব ও অনিশ্চয়তা আমাদের প্রাক-পুঁজিতান্ত্রিক সমাজে ছিল না। সমাজ একদমই নিশ্চল ছিল কিনা সেটি তর্কসাপেক্ষ, তবে আধুনিক সমাজের তুলনায় অনেক নিস্তরঙ্গ ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নাই। জাতপাত ও আভিজাত্যের সুস্পষ্ট পার্থক্যে বিভক্ত নিশ্চল সমাজকে কার্ল মার্কস নাম দিয়েছিলেন ‘প্রাচ্যের স্বৈরতন্ত্র’ (Oriental Despotism); জীবন ছিল নিয়তির হাতে ছেড়ে দেয়া উদ্যমহীন ব্যাঙের ছাতা, মার্কসের ভাষায় ‘মর্যাদাহীন, আটকে পড়ে থাকা উদ্ভিদমার্কা জীবন (undignified, stagnatory, and vegetative life’ that this passive sort of existence)। এই নিস্তরঙ্গ সমাজে ‘বিপ্লব’-এর কোনো ধারণা ও পরিভাষা গড়ে ওঠা অসম্ভবই বলা যায়। ফলে পাশ্চাত্যের ‘রেভুলিউশান’ অনুবাদ করে আমরা ‘বিপ্লব’ বানিয়েছি, এ অভিযোগ মিথ্যা নয়। রাজনৈতিক পরিভাষা হিসেবে রেভুলিউশানের বাংলা অনুবাদ ‘বিপ্লব’-এর মধ্যে ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯-৯৯) বৈপ্লবিকতা ধারণের চেষ্টা আছে। ইউরোপে গির্জা, পুরোহিত ও সামন্ত শ্রেণির একচ্ছত্র ক্ষমতা সাধারণ মানুষ সশস্ত্র গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ও আর্থ-সামাজিক সম্পর্ক থেকে উৎখাত করে; এরই চূড়ান্ত পরিণতিতে প্রাচীন রাজতন্ত্র (Monarchy) জনসাধারণতন্ত্রে (Republic) রূপ নেয়। পার্থক্য থাকলেও ‘রিপাবলিক’ বা জনসাধারণতন্ত্রকে আমরা সাধারণত গণতন্ত্র বলেই গণ্য করি। মনে করি, ইংল্যান্ড ও ইউরোপের সাংবিধানিক রাজতন্ত্রও আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একটি রূপ। এর মানে তাদের সাধারণ মিল থাকলেও বিশেষ বৈশিষ্ট্যের দিকে আমরা মনোযোগী থাকি না। ইংল্যান্ড নিজেকে ‘ইউনাইটেড কিংডম’ বা রাজাদের ‘যুক্তরাজ্য’ বলে। কিন্তু একে আমরা সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করি। ফরাসি বিপ্লবের আগে ইংল্যান্ডে সাধারণ মানুষের বিপ্লব ঘটেছে ১৮৮৮ সালে।
রাজা বা রানীর রাজকীয় ক্ষমতা ইংল্যান্ডে বিল অব রাইটস ১৬৮৯ এবং অ্যাক্টস অফ সেটেলমেন্ট ১৭০১ দ্বারা সীমিত। তাই ইংল্যান্ডকে সীমিত রাজতন্ত্রও বলা যায়। রাজা বা রানীর ক্ষমতা সীমিত করার ইতিহাস অবশ্য আরও অতীতে, ১২১৫ সালের ম্যাগনা কার্টায়। বিপ্লবে সাধারণ মানুষের বৈপ্লবিক ইচ্ছা ও অভিপ্রায় সংবিধান ও আইনে রাষ্ট্রের গঠনতন্ত্র (Constitution) হিসেবে রূপ নেয়। গঠনতন্ত্র ‘ইংলিশম্যান’কে মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দান করে। আধুনিক পাশ্চাত্য রাষ্ট্রগুলোতে রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্ম বা গির্জার সম্পর্ক নিয়েও বাংলাদেশে বিস্তর বিভ্রান্তি আছে। ইংল্যান্ডে চার্চ অফ ইংল্যান্ডকে বলা হয় ‘প্রতিষ্ঠিত গির্জা’ (Established Church), রাষ্ট্রের মধ্যেই তার প্রতিষ্ঠা। এখানে ধর্ম রাষ্ট্র থেকে আলাদা বলার সুযোগ নাই, কারণ আইনের চোখে গির্জা রাষ্ট্রের বাইরে নিছক সামাজিক বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়। পার্লামেন্টে বিশপ গির্জার প্রতিনিধিত্ব করেন। যে কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত গঠনতন্ত্রের প্রথম সংশোধনীতে পরিষ্কার উল্লেখ করা রয়েছে যে, ‘কংগ্রেস ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য কোনো আইন করবে না, কিংবা স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনে কাউকে বাধাও দেবে না...’, ইত্যাদি। মার্কিন আদালত একে সাধারণত ব্যাখ্যা করে- রাষ্ট্র সব সরকারি কর্মকাণ্ডে, স্কুলে বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ধর্মকে আলাদা রাখবে কিংবা ধর্ম থেকে বিযুক্ত থাকবে, কিন্তু একইসঙ্গে সমাজে ধর্ম চর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। অন্যান্য আধুনিক সেকুলার রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো রাষ্ট্র ও ধর্মের বিযুক্তির ব্যাপারে এত কড়া নয়। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ধর্মীয় চরিত্রের দিক থেকে অতিশয় ধর্মীয় সমাজগুলোর অন্যতম। এই ঐতিহাসিক পার্থক্যগুলো মনে রাখলে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক বিপ্লব বা গণতান্ত্রিক বিপ্লব বলতে বোঝায় : সামন্ততন্ত্র বা প্রাক-পুঁজিতান্ত্রিক ক্ষমতা সম্পর্কের খোল-নলচে বদলে দেয়া, এর বিশেষ অর্থ হচ্ছে সামন্তশ্রেণী ও রাজরাজড়ার বিপরীতে ‘সার্বভৌম ক্ষমতা’র দাবি নিয়ে জয়ী ‘জনগণ’-এর ঐতিহাসিক আবির্ভাব। ‘জনগণ’ নিছকই একটি অক্ষর বা শব্দ নয়, অতএব একে আক্ষরিকভাবে বোঝার সুযোগ নাই। তাহলে ‘বিপ্লব’ কথাটা বুঝতে হলে জনগণের ঐতিহাসিক আবির্ভাব কথাটিকে ঐতিহাসিকভাবেই বুঝতে হবে। ইংরেজিতে ‘উই দ্য পিপল’ কথাটা একদিকে রাজনৈতিক ইতিহাস ও জনগণের লড়াই সংগ্রামের প্রেক্ষাপট যেমন বর্ণনা করে, একইভাবে জনগণের ঐতিহাসিক বিজয়ও ধারণ করে। এ ঘোষণা নিজেদের রক্ত, বর্ণ, ধর্ম, সম্প্রদায়, পরিচয় ইত্যাদি সব ধরনের সামাজিক বৈচিত্র্যের ঊর্ধে নিজেদের একটি একক ও অখণ্ড রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে হাজির করে। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সামাজিক বৈচিত্র্য ও পরিচয় মুখ্য নয়, কারণ তা ঐক্য ও অখণ্ডতার বিপরীত। অন্যদিকে সমাজে এই বৈচিত্র্য, পার্থক্য ও পরিচয় ভেদ আছে বলেই জনগণকে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের পার্থক্য ঘোষণা করতে হয়। অর্থাৎ ঘোষণা দিতে হয় রক্ত, বর্ণ, ধর্ম,
সম্প্রদায়, পরিচয় ইত্যাদি সব ধরনের সামাজিক বৈচিত্র্য ও পার্থক্য সত্ত্বেও আমরা রাজনৈতিকভাবে এক ও অখণ্ড সত্তা এবং বিশ্বের অন্যান্য রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা। এই ঐক্য ও অখণ্ডতা বজায় ও রক্ষার জন্য একটি গণতান্ত্রিক গঠনতন্ত্রের (Constitution) ভিত্তিতে আমরা নিজেদের আবির্ভাব ঘোষণা করছি এবং একটি মূর্ত রাষ্ট্রের রূপ ও অস্তিত্ব নিয়ে হাজির হয়েছি। রাজনৈতিকভাবে এক ও অখণ্ড রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে হাজির হওয়ার এই রাজনৈতিক ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ই হচ্ছে রাষ্ট্রের ন্যায্যতা ও সিদ্ধতা যা গঠনতন্ত্রে বিধৃত থাকে। উই দ্য পিপ্ল বা বাংলাদেশের সংবিধানের ‘আমরা বাংলাদেশের জনগণ...’ কথাটার একটা অর্থ দাঁড়ায়। তাহলে দেখা যাচ্ছে জনগণের বিজয়ী গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক অর্থ হচ্ছে (ক) নিজেদের এক ও অখণ্ড রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিগঠন; (খ) গণতান্ত্রিক গঠনতন্ত্র প্রণয়ন এবং (গ) গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন। দ্বিতীয়ত, জনগণের ঐতিহাসিক আবির্ভাব বা জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার মানে দাঁড়ায় ধর্মের নামে বা ঈশ্বরের নামে ধরায় ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে গির্জা বা পুরোহিত শ্রেণী যে সার্বভৌম ক্ষমতা ভোগ করত তার অবসান। জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় ছাড়া অন্য কোনো অজুহাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা আর দাবি করা যায় না। ইংল্যান্ডে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার রূপ হচ্ছে ভোটে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। যে কারণে পার্লামেন্টই ‘সার্বভৌম’ বলে একটা কথার চল আছে। যা নিয়ে আমাদের দেশেও তর্ক চলে। এখান থেকে আমরা বুঝতে পারছি যে ‘সার্বভৌমত্ব’ মূলত রাষ্ট্রক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনার তর্ক। খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বে ঈশ্বরের সার্বভৌমত্ব গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। আধুনিক পাশ্চাত্য রাষ্ট্রের ‘সার্বভৌমত্ব’ খ্রিস্টীয় ধর্মতাত্ত্বিক ধারণারই ইহলৌকিক বিকার কিনা সেটি একালে খুবই গুরুত্বপূর্ণ তর্ক। ‘সার্বভৌমত্ব’ বা ‘সার্বভৌম ক্ষমতা’র বিচার একালে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তৃতীয়ত, বিপ্লব একটি প্রক্রিয়া; হঠাৎ একদিনের, এক মাসের বা দুই এক বছরের ব্যাপার নয়। ‘বিপ্লব’ ধারণার এটা হচ্ছে আরেকটি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ দিক। হঠাৎ হাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাজার প্রাসাদ দখল করা নয়। এর জন্য সমাজেরও বিপুল বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্তুতির দরকার হয়। বিপ্লবী বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাকে ন্যায্য ও সিদ্ধ প্রমাণ করার নীতি ও কৌশলের অন্তর্গত। লেনিন যে কারণে বিপ্লবী তত্ত্বচর্চা ও প্রচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। এ ছাড়া বিপ্লবের সফলতা অসম্ভব। রাজা, পুরোহিত ও চার্চের ক্ষমতা ঈশ্বরের দৈব ক্ষমতারই ইহলৌকিক রূপ। এই দৈব উৎস ও চরিত্রই সার্বভৌম ক্ষমতার ন্যায্যতা হিসেবে জনগণের কাছে স্বীকৃত এবং দৈবগুণেই সিদ্ধ। তাহলে জনগণের ক্ষমতাকে ন্যায্য ও সিদ্ধ করার জন্য নতুন বিপ্লবী বয়ান বিপ্লবীদের করতে হয়েছে। সামন্ত শ্রেণী, রাজা ও গির্জার ক্ষমতার বিরোধী হলেও বিপ্লবী বয়ানে ধর্মকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয়েছে। যার ফলে ধর্মের নানা ফেরকা, মজহাব ও তরিকারও উদ্ভব ঘটেছে। দেশ ও রাষ্ট্রভেদে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই ও সংগ্রামে ধর্মের প্রতি রাষ্ট্রের এবং ধর্মের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিরও নানান রূপান্তর ঘটেছে। ধর্মতত্ত্বেরও বিবর্তন ঘটেছে। চতুর্থত, দেশ, কাল ও পাত্রভেদে বিপ্লব ইউরোপের ফটোকপি হবে তার কোনো যুক্তি নাই। সেই দিক থেকে পাশ্চাত্য চিন্তার পরিমণ্ডলে থেকে বলশেভিক বিপ্লব বা চিনা বিপ্লবের বয়ান সেই দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী যেমন হয়েছে, তেমনি ইরানের বিপ্লব সেই দেশের ধর্ম, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের চরিত্র থেকে ভিন্ন কিছু হয়নি। হওয়া আশা করাটাই বাতুলতা। ইরানের বিপ্লব বিপ্লবের ইতিহাসে নতুন কী যুক্ত করল সেটি একালে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। উপেক্ষা করার উপায় নাই।
দুই. বিপ্লবী রাজনীতি সম্পর্কে বাংলাদেশে প্রচলিত ধারণা হচ্ছে যারা বিপ্লবের কথা বলেন তারা সশস্ত্র ও সহিংস কায়দায় তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করেন। বাস্তবে সশস্ত্রতা ও সহিংসতার চর্চা শুধু বিপ্লবী রাজনীতি করে, সেটিও ঠিক নয়। তবে ওপরের কথাগুলো মনে রাখলে আমরা বুঝব সশস্ত্রতা বা সহিংসতা বিপ্লবী রাজনীতির অন্তর্গত বৈশিষ্ট্য বা নীতি নয়। একই ধারণার বশবর্তী হয়ে অনেকে সেনা অভ্যুত্থানকেও ‘বিপ্লব’ বলে থাকেন। ক্ষমতাসীনদের একাংশকে বল প্রয়োগ করে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেয়। সমাজে ক্ষমতাসীন শ্রেণীরই একটি অংশ বা গোষ্ঠী যখন তাদের প্রতিযোগী বিরুদ্ধ গোষ্ঠী বা অংশকে সশস্ত্র কায়দায় ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে সেটি মোটেও ‘বিপ্লব’ নয়। কারণ সেটি এক শ্রেণীর দ্বারা অন্য শ্রেণীকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত, রাষ্ট্রের গাঠনিক ও রাজনৈতিক রূপের কোনো মৌলিক পরিবর্তন নয়। রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে অস্ত্রের জোরে কোনো গোষ্ঠী বা দল কাকে অস্ত্রের জোরে বা নির্বাচনের মাধ্যমে সরাল, বৈপ্লবিক রূপান্তরের দিক থেকে তাতে কিছুই বিশেষ আসে যায় না। বড়জোর সেটি সমাজের ক্ষমতাসীন শ্রেণীর বিভিন্ন অংশের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও দ্বন্দ্ব এবং সেই দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে মীমাংসার ব্যর্থতা হতে পারে। ক্ষমতাবান শ্রেণীর পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ্ব শ্রমিক, কৃষক ও নিপীড়িত শ্রেণীকেও বিভক্ত করে এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করতে পারে। সেই ক্ষেত্রে যারা নিপীড়িত শ্রেণীর পক্ষে রাজনীতি করেন তাদের কাজ হচ্ছে দ্বন্দ্বের চরিত্র ভালোভাবে বোঝা। দ্বন্দ্বের উৎপত্তি সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণে ঘটে। সমাজে ক্ষমতাসীন শ্রেণীর বিভিন্ন অংশ সব সবসময়ই পরস্পরের বিরুদ্ধে সশস্ত্র ও সহিংস আক্রমণ জারি রাখে। সেটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে তাকালেই আমরা বুঝব। সশস্ত্রতা ও সহিংসতা চর্চার একচেটিয়া ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতে থাকে। ক্ষমতাসীন শ্রেণীর বিভিন্ন অংশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, আইন আদালত ইত্যাদি। অর্থাৎ বল প্রয়োগের রাষ্ট্রীয় হাতিয়ারগুলো ব্যবহারের জন্য নিরন্তর নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। রাষ্ট্রের কেন্দ্রীভূত সশস্ত্র শক্তির সমর্থন ছাড়া বাংলাদেশের মতো দেশে ক্ষমতায় যাওয়ার অন্য কোনো বিকল্প নাই। ফরাসি বিপ্লব বৈপ্লবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যে মানে তৈরি করেছে, বিপ্লব কথাটার যে অর্থ তৈরি করেছে- সেটি নিছক সশস্ত্র ও সহিংস কায়দায় ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী কিংবা অন্য কারও ক্ষমতা দখল নয়। যে দিকগুলো ইউরোপের বিপ্লব প্রসঙ্গে এখানে আমরা আলোচনা করতে পারিনি, তার মধ্যে রয়েছে বিপ্লবসংক্রান্ত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা ও শ্রেণির প্রশ্ন। বিভিন্ন অর্থনৈতিক শ্রেণি এবং আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার নিরিখে তাদের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভূমিকা। মার্কস, লেনিন, মাও জে দং প্রমুখের দিক থেকে বিপ্লবের একটা আর্থ-সামাজিক মানে আছে। সমাজে উৎপাদন সম্পর্ক যখন অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে ওঠে, দ্রুত ও ত্বরান্বিত বিকাশ অসম্ভব হয়ে ওঠে, তখন প্রতিবন্ধতা সৃষ্টিকারী শ্রেণীকে উৎখাত করবার নামই বিপ্লব। ফরাসি দেশে সামন্ত শ্রেণি ও তাদের ক্ষমতার রাজনৈতিক রূপ ‘রাজতন্ত্র’ সমাজের বিকাশের জন্য বাধা হয়ে উঠেছিল, রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে তাদের উৎখাত করে রাষ্ট্র ও রাজনীতির নতুন গণতান্ত্রিক বিন্যাস জরুরি হয়ে পড়েছিল। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সামন্ততন্ত্রের বিরুদ্ধে যারা আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাকে গতিশীল করবার নেতৃত্ব দিচ্ছিল তারা ছিল ‘বুর্জোয়া’ শ্রেণী। সামন্ত শ্রেণীর শাসন-শোষণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য শ্রমিক, কৃষক ও মজলুম জনগণ এই শ্রেণীকে সমর্থন দিয়েছিল। ফরাসি বিপ্লবের সামন্ত শ্রেণীর পরাজয় ঘটে এবং বুর্জোয়া শ্রেণী রাজতন্ত্র উচ্ছেদ করে ‘গণতন্ত্র’ কায়েম করে। অপরদিকে সামন্ততান্ত্রিক আর্থ-সামাজিক সম্পর্ক উৎখাত করে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিতান্ত্রিক অর্থনীতির বিকাশ নিশ্চিত করে। যেহেতু বুর্জোয়া শ্রেণীর কাজ পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম ও গতিশীল করা, এ জন্য ‘বুর্জোয়া’ বলতে আমরা সাধারণত ধনী শ্রেণী বুঝি। কিন্তু ‘বুর্জোয়া’ কথাটা বিপ্লবী রাজনীতির পরিভাষা হিসেবে শুধু অর্থনৈতিক বর্গ নয়,
মূলত রাজনৈতিক বর্গ। অর্থাৎ এই পরিভাষাটিকে বুঝতে হবে তাদের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ভূমিকার দিক থেকেও। এই বর্গের মধ্যে অর্থনৈতিক অবস্থা ও রাজনৈতিক চেতনা কীভাবে সম্বন্ধযুক্ত? নাকি তারা আলাদা? অর্থনৈতিক শ্রেণী এবং তাদের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক চেতনার সম্পর্ক পুরনো একটি তর্ক। সেই তর্কের এখনও মীমাংসা হয়নি। সেই আলোচনাও এখানে করা হয়নি। এই তর্কটা বিভিন্নভাবে নানান দিক থেকে আজকাল করা হচ্ছে। যারা ‘বৈপ্লবিক’ পরিবর্তনে আগ্রহী ও বিপ্লবী রাজনীতির পুনর্গঠনে আন্তরিক, তর্কগুলোর সঙ্গে তাদের পরিচিত হয়ে ওঠা জরুরি। যেমন, বিপ্লবের এজেন্ট বা কর্তাসত্তা নির্ণয়ের উপায় কী? কাজটা কি শহরের শ্রমিকরাই করবেন? তাহলে কি গণতান্ত্রিক বিপ্লবে ‘উই দ্য পিপল...’ কথাটার আর কোনো তাৎপর্য বা ভূমিকা নাই? থাকলে সেটি কী? পরিবর্তন যারা ঘটাবেন সেই ‘জনগণ’ কারা? বিপ্লবের এজেন্সি বা কর্তাসত্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে শুধু অর্থনৈতিক অবস্থানই কি একমাত্র বিবেচ্য, নাকি ধর্মচিন্তাসহ মতাদর্শ, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ইত্যাদি সব কিছুই আমলে নেয়া জরুরি। বলাবাহুল্য বাস্তবে বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার দ্বন্দ্ব- সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির মধ্যে কীভাবে প্রকাশিত হচ্ছে, তাকে বাস্তবিকভাবে বোঝাটাই প্রাথমিক কাজ। বাংলাদেশে সেই দ্বন্দ্ব ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম ইসলামপন্থা হিসেবে হাজির হল কেন? এর উত্তর আগাম মাথায় তৈয়ার করে রাখা মতাদর্শের খোপে ফেলে বোঝা যায় না। তার জন্য বাস্তবে কী ঘটছে তাকে বাস্তবোচিতভাবেই বুঝতে হবে। তবে রাজনীতি শেষাবধি ক্ষমতা ও রাষ্ট্রের ধারণার সঙ্গে যুক্ত। এ কালে ক্ষমতা, সার্বভৌমত্ব ইত্যাদি ধ্যান-ধারণার বোঝাবুঝির ক্ষেত্রে বিপুল পরিবর্তন ঘটেছে। বিপ্লবের পুরনো চিন্তা দিয়ে যা আর বুঝার উপায় নাই বললেই চলে। এখানে বা অন্য কোথাও আগামী কোনো লেখালিখিতে সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা রাখি। ১৬ জুন, ২০১৭, শ্যামলী

কর ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা

ধ্রুপদী অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথ আদর্শ কর ব্যবস্থাপনার চারটি বৈশিষ্ট্যের তত্ত্ব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে, ন্যায়পরায়ণতা, নিশ্চয়তা, সুবিধা ও মিতব্যয়িতার নীতি। কিন্তু বর্তমানে তা যেন বারবার হোঁচট খাচ্ছে। রাজস্বনীতি কাঠামোতে এসব নীতির তেমন প্রতিফলন হচ্ছে না। যদিও বিভিন্ন সময়ে অর্থনীতিবিদরা কর ব্যবস্থাপনায় আরও ৫টি বৈশিষ্ট্য যুক্ত করেছেন। এগুলো হচ্ছে উৎপাদনশীলতা, সম্প্রসারণশীলতা, সরলতা, বহুমুখিতা আর নমনীয়তার নীতি। এসব নীতি কর কাঠামোতে তেমন স্থান পাচ্ছে না। আয় হবে কিনা, তার নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু তাতে কী, উৎসে কর কেটে রাখা হবে। প্রত্যক্ষ কর বলা হলেও চরিত্রগত অবস্থা বিবেচনায় এটা পরোক্ষ কর। যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান ব্যবস্থায় উৎসে কর পরিশোধ করে থাকে, তা তার সেবা বা পণ্যমূল্যে যোগ করে দেয়। যা শেষ পর্যন্ত ক্রেতা-ভোক্তাকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। রাজস্ব বোর্ড আবারও এ ধরনের উৎসে কর আদায়ে বেশ উৎসাহী। বাড়ছে ব্যাপ্তি ও পরিমাণ। প্রায় দেড়শ’ বছর আগে করবর্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। এক অর্থবছর শেষ হলে পরের অর্থবছরে কর আদায় করা হবে।
প্রত্যক্ষ আয়কর ব্যবস্থাপনায় এটা মেনে নেয়া হয়। কিন্তু উৎসে করের বিধানে আছে জটিলতা। এখানে বছরের হিসাব তো দূরের কথা, তাৎক্ষণিকভাবে কর কেটে নেয়া হয়। এ ধরনের খাতের সংখ্যাও বেশ। এর মধ্যে আছে- বেতন থেকে আয়, সুদ খাতে আয়, মাল সরবরাহের জন্য ঠিকাদারদের আয়, আমদানি বা রফতানি খাতে আয়, জনশক্তি রফতানির ফলে আয়, ব্যাংকের সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানতের ওপর সুদ খাতে আয়, বীমা কমিশন বাবদ প্রাপ্ত আয়, মূলধনী লাভ খাতে আয় ইত্যাদি। উৎসে কর বেশি দিলে সহসা ফেরত পাওয়া বেশ কষ্টকর। নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয় বলে উৎসে কর প্রদানকারী প্রায়ই বঞ্চিত হয়ে থাকেন। এখন কর কর্তনের দুই সপ্তাহের মধ্যে তা ট্রেজারি চালানে জমা দিতে হয়। এর পাশাপাশি উৎসে কর কর্তনের বিবরণী নির্ধারিত সময়ে দাখিল করতে হবে সংশ্লিষ্টকে। এসব করতে প্রয়োজন বাড়তি জনবলের। আর এতে বেড়ে যায় ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ। প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা যায়নি। যার কারণে দেখা যাচ্ছে, প্রত্যক্ষ করের চেয়ে পরোক্ষ করে সরকারের আস্থা বেশি। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সরকারের প্রশংসা করেছে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ‘বিচ্যুত’ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যে সংস্থার চাপে-পরামর্শে জনদুর্ভোগ উপেক্ষা করে আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তাদের এ ধরনের অভিমত রাজস্ব ব্যবস্থাপনার নানা অসংগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিচ্ছিন্নভাবে সংস্কার করা হয়েছে, তবুও এখন হালে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। আগামী বছর ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে পরবর্তীকালে আসবে আয়কর আইন। আইএমএফের পরামর্শে করা ভ্যাট আইনে রাজস্ব বোর্ড ও তার কর্মকর্তাদের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, ‘এই আইন বা তদধীন প্রণীত কোনো বিধির অধীনে সরল বিশ্বাসে কৃত কোনো কার্যের ফলে কোনো ব্যক্তির ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য বোর্ড বা উহার কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা দায়ের বা রুজু করা যাইবে না।’ দেশের প্রচলিত আইনে প্রতিকার আর মিলবে না, বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে রাজস্ব বোর্ডের কাছে বারবার সহযোগিতা চাইতে হবে। এনবিআরের এই ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার প্রবণতাও ব্যবসায়ী মহলে ভীতি ছড়াচ্ছে। ভ্যাট ও বিক্রয় কর বিতর্কের নিরসন হওয়াও জরুরি। মূল্য সংযোজনের ওপর কর নির্ধারণ করা হচ্ছে ভ্যাট আইনের মূলমন্ত্র। তবে নতুন আইনে দেখা যাচ্ছে ভ্যাট নির্ধারণ হবে বিক্রয় মূল্যের ওপর। অনেক সময় দেখা যায়, উৎপাদন খরচ যাই হোক, মূল্য সংযোজনের হার বাড়িয়ে দেখানো হয়। অর্থাৎ ৫০ টাকা উৎপাদন ব্যয় হলেও হয়তো একশ’ টাকায় বিক্রি করা হতে পারে। আর ৮০ টাকা উৎপাদন ব্যয়ের পণ্য আবার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে ১০০ টাকার ওপরে অর্থাৎ বিক্রয় করের ভিত্তিতে, মূল্য সংযোজনের মৌলিক হিসাবে নয়। এটাকে সাম্যতার পরিপন্থী মনে করছেন অনেকে। আর ভ্যাট ফেরত পেতে যেভাবে হিসাব সংরক্ষণ করতে হয়, সে পদ্ধতি দেশে তেমন বিস্তৃত নয়। এ কারণে ভ্যাট পরিশোধ করলে সরকারের কোষাগারে পৌঁছাবে, তার নিশ্চয়তা কতটুকু? বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যাটসহ যে কোনো ধরনের পরোক্ষ কর সামাজিক এবং আর্থিক বৈষম্য দূর করে থাকে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তৃতার নবম অধ্যায়ে স্থান দিয়েছেন রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়। এর ৪০টি অনুচ্ছেদের মধ্যে আয়কর সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ মাত্র ১৮টি। অথচ অর্থবিলে যে ৭৩টি ধারা আছে, তার মধ্যে আয়কর সংক্রান্ত বিষয় ৪৮টি। এবারের অর্থবিলে আয়করের মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন ‘আয়’-এর সংজ্ঞা, ‘করযোগ্য সত্তা’-এর সংজ্ঞা।
আনা হয়েছে উৎসে আয়কর কর্তন সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু পরিবর্তন। আয়কর সংক্রান্ত প্রস্তাবনায় মূল ফোকাস উৎসে আয়কর সংগ্রহ সুদৃঢ় করা। ৫৫টি খাতে উৎসে আয়কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হয়। উৎসে সংগৃহীত আয়করের বিভিন্ন খাতের জন্য ভিন্ন ভিন্ন করহার আছে। রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটনে প্রণোদনা দেয়ার বিধান চালু রেখেছে এনবিআর। কিন্তু কেন জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে প্রণোদনা দেয়া হয়। আইনি কাঠোমোর মাধ্যমে দেয়া হলে এর নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একজন কর্মকর্তার কাজ কী তা তার নিয়োগবিধিতে স্পষ্ট উল্লেখ থাকে। রাজস্ব ফাঁকি রোধের পাশাপাশি করদাতাকে আইনি বলয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করাই তো তার প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে তথ্য উদ্ঘাটনে প্রণোদনা কেন? ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক আরোপের বিরোধিতায় সরব হয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা। সংসদের বাজেট অধিবেশনে অনেক সরকারদলীয় সংসদ সদস্য প্রশ্ন তুলেছেন, কেন আমানতে এই আবগারি শুল্ক? মদ, বিয়ার ও সিগারেটের মতো পণ্যে আবগারি শুল্ক আদায় করে অনেক দেশ। এর বাইরে, আমদানিকৃত কিংবা দেশে উৎপাদিত বিশেষ পণ্যে এ ধরনের কর আরোপ করতে পারে সরকার। নব্বুইয়ের আগ পর্যন্ত এ প্রচলন ছিল বাংলাদেশেও। আবগারি শুল্ক আদায় হয় ১৯৪৪’র আবগারি ও লবণ আইনের অধীনে। এতেও উত্তেজক পণ্যবিশেষে কর আদায়ের কথা বলা হয়েছে। পরে, ২০০৪ সালে আগের ধারা বাতিল করে শুধু ব্যাংকে ব্যক্তিসঞ্চয় ও অভ্যন্তরীণ বিমান টিকিটের ওপর আবগারি শুল্ক বহাল রাখে রাজস্ব বোর্ড। কর হার সমন্বয়ও করা হয় একাধিকবার। ১৯৯১-৯২ অর্থবছরের বাজেটে ১ লাখ টাকা আমানতের ওপর দেড়শ’ টাকা আবগারি শুল্ক আরোপ করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান। পরে ৬ বার এ শুল্ক বাড়ানো হলেও তা বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অনেক আমানতকারী জানেনই না এ করের কথা। আগামী অর্থবছরে আবগারি শুল্ক থেকে ৯২৫ কোটি টাকা আদায় করতে চায় সরকার, যা মোট রাজস্ব আয়ের মাত্র দশমিক তিন শতাংশ। আবগারি শুল্ক আরোপের ফলে সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে যথেষ্ট। ব্যাংকবিমুখ হয়ে পড়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। আর এভাবে শুল্ক আরোপের ফলে দেখা যাবে, একজন সম্পদশালী তার অব্যবহৃত টাকা ব্যাংকে রাখলে যে অর্থ কাটা হবে, পেনশনভোগী বা জীবন সায়াহ্নে জমানো টাকা যিনি রাখবেন, তার অর্থও সমভাবে কাটা হবে। এ তো ন্যায্যতার পরিপন্থী। টাকা কেটে রাখার দুঃশ্চিন্তায় হয়তো সমাজে অনেকে অনানুষ্ঠানিক খাতে বিনিয়োগ করার চিন্তা করবে। লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত আনতে জোরজবরদস্তির মুখে পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ। যা আরও আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সাজ্জাদ আলম খান : সাংবাদিক
sirajgonjbd@gmail.com

বয়স্কদের ১০ জনের ৯ জনই ফেসবুকে

বয়স্কদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ও স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ৬৫-৭৪ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রতি ১০ জনের চারজনই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান অফকমের জরিপের এক ফলাফলে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এমনকি একই বয়সী প্রায় অর্ধেক মানুষের সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্টও রয়েছে। ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই বেছে নিচ্ছেন ফেসবুক।
৬ শতাংশ মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ এবং এক শতাংশ মানুষ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছেন। তবে যাদের বয়স ৭৫-এর বেশি তারা অনলাইনে কার্যক্রম বাড়াতে আগ্রহী নন। বয়স্ক ব্যক্তিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হলেও তাদের মধ্যে অনলাইনে সময় কাটানোর প্রবণতা কম। তরুণদের তুলনায় যা অর্ধেক। যুক্তরাজ্যের বয়স্ক মানুষের ভেতর ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পেলেও অনেকেই আছেন যারা সার্চ করতে গিয়ে হিমশিম খান। তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে। অনেকেই নতুন করে ইন্টারনেট ব্যবহার শিখছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অফকমের হেড অব মিডিয়া লিটারেসি অ্যালিসন প্রেসটন। টেকশহর। বিবিসি অবলম্বনে

এলো গুগল ক্রোমের নতুন আপডেট

ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সংস্করণ নিয়ে হাজির হল গুগল ক্রোম। নতুন উইজেট, নিরাপত্তা আপডেট ও অনেক এপিআইয়ের উন্নতি সাধন করা হয়েছে এতে। প্রতিষ্ঠানটি এক ব্লগপোস্টে গুগল ক্রোমের নতুন আপডেট সম্পর্কে জানায়। অ্যান্ড্রয়েড, ক্রোম ওএস, লিনাক্স, ম্যাক ও উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা নতুন সংস্করণটি ব্যবহার করতে পারবেন। যুক্ত হওয়া নতুন সার্চ উইজেটটি ব্যবহার করে হোমস্ক্রিন থেকে ব্যবহারকারীরা সহজেই যে কোনো তথ্য খুঁজে বের করতে পারবেন। চাইলে হোম উইজেটের সাইজ সহজেই পরিবর্তন করে নিতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। নতুন সংস্করণে ওয়েব ব্রাউজ ও গুগল সার্চ করা করা যাবে আরও দ্রুত। এতে নতুন পেমেন্ট ও পাসওয়ার্ড এপিআই যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে ডেস্কটপ ব্যবহারকারীরা পেমেন্ট রিকুয়েস্ট এপিআই ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া পেইন্ট টাইমিং এপিআই, সিএসএস ফ্রন্ট-ডিসপে্ল এপিআইয়ের যথষ্টে আপডেট করা হয়েছে সংস্করণটিতে। গুগল ব্লগ অবলম্বনে

‘পাকিস্তানকে দায়ী না করে অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে নজর দিন’

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া প্রতিবেশী দেশগুলো উদ্দেশ্য বলেছেন, পাকিস্তানকে দায়ী না করে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিরসনের দিকে নজর দিন। কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে এ বক্তব্য দেন তিনি। রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় নিরাপত্তা এবং যুদ্ধ পাঠ্যধারায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্য এ ভাষণ দেন তিনি। তিনি বলেন, নিজ দায়িত্বের প্রতি চোখ বন্ধ রেখে এবং বাইরের দেশকে দায়ী করে সন্ত্রাসবাদকে পরাস্ত করা যায় না।
এ অঞ্চলের কোনো কোনো দেশ এ রকম করে বলেও এর আগে উল্লেখ করেন তিনি। অবশ্য কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি তিনি। আফগানিস্তান এবং ভারত প্রায় নিয়মিতই তাদের ভূমিতে সন্ত্রাসবাদ উসকে দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছে। নিজ দেশের বেশিরভাগ সন্ত্রাসী তৎপরতার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করে কাবুল। অন্যদিকে কাশ্মিরে গণআন্দোলনকে খাটো করে দেখানোর জন্যও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ করছে ভারত। পাশাপাশি পাকিস্তানের সাথে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে সংলাপ চালাতেও অস্বীকার করছে ভারত। অবশ্য পাকিস্তান বরাবর এ ধরণের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর হেলমুটে চির বিদায়

জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর হেলমুট কোল মৃত্যু বরণ করেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার জার্মানির  রিহিনেল্যান্ড-প্যালাটিনেট প্রদেশের লুডিইগশ্যাফেন শহরে মৃত্যু হয় কোলের। কোলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জিন ক্লাউডি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব প্রতিষ্ঠানে পতাকা অর্ধনমিত  রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁর পক্ষ থেকে।
১৯৮২ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করেন কোল। পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি একত্রীকরণের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন তিনি এছাড়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিঁতেরার সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি ইউরোপে ইউরো মুদ্রার প্রচলন করেন। হেলমুট কোল ১৯৩০ সালের ৩ এপ্রিল লুডিইগশ্যাফেন শহরে  জন্মগ্রহণ করেন।মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর

লাশের সন্ধানে রাঙ্গামাটিতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত

রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহতদের উদ্ধার তৎপরতা আনুষ্ঠানিক সমাপ্ত ঘোষণা করা হলেও স্থানীয় লোকজনের দাবি মুখে আজ শনিবার সকালে শহরের মুসলিম পাড়া ও লোকনাথ মন্দির এলাকায় লাশের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল এইসব এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে দুপুর পর্যন্ত কোনো লাশপায়নি। রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, পাহাড় ধসে নিহতদের লাশ পানিতে ভাসছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে তারা উদ্ধার তৎপরতায় চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোথাও কোন মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে শহরের এ দুটি এলাকায় পাহাড় ধসে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তারা কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এদিকে পাহাড়া ধ্বসের বিপর্যয়ের ঘটনায় রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক, রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক, রাঙ্গামাটি-বড়ইছড়ি ও রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো বিছিন্ন রয়েছে। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মীরা রাস্তার যোগাযোগ পুনস্থাপনের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রাঙ্গামাটির ১২টি আশ্রয় কেন্দ্রে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেনাবাহিনী আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পানি ও খাবার সরবরাহ করছে। শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে গেলেও রাঙ্গামাটি কাপ্তাই পানি পথে সীমিত পণ্য পরিবহন শুরু করা হয়েছে।

দুই জাহাজের সংঘর্ষ : যুক্তরাষ্ট্রের ৭ নৌ-সদস্য নিখোঁজ

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-বাহিনীর জাহাজের সঙ্গে ফিলিপাইনের পতাকাধারী একটি মালবাহী জাহাজের সংঘর্ষে ৭ নৌ ক্রু নিখোঁজ হয়েছে।খবর বিবিস,রয়টার্স্। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জাপান উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ জাহাজ ইউএসএস ফিৎজারঅল্ড ও ফিলিপাইনের পতাকাধারী কন্টেইনারবাহী জাহাজ এসিএক্স ক্রিস্টালের সঙ্গে এ সংঘর্ষ ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান এ্যাডমিরাল জন রিচার্ডসন বলেছেন, আমরা এখন হারানো ক্রুদের সন্ধান ও তাদের পরিবার নিয়ে ব্যস্ত আছি।কি ঘটেছে খুব শিগগরিই বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।' সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজের কমান্ডার ব্রেইস বেনসন আহত হলে তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসাপাতালে নেয়া হয়।তিনি বর্তমানে জাপানের ইয়োকোশুকা শহরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জাপানের ইয়োকোশুকো শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে ১০৩ কিলোমিটার দূরে অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ জাহাজ ইউএসএস ফিৎজারঅল্ড অত্যান্ত আধুনিক এবং এতে সর্বাধুনিক রাডার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু ৭০০ ফিট লম্বা কনটেইটারবাহী জাহাজ কেন রাডারে শনাক্ত করতে পারেনি বা কর্মকর্তারা কেন শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয় তা নিশ্চিত করে এখনো কিছু জানা যায়নি। কোস্ট গার্ড সুত্রে বিবিসি জানিয়েছে, এসিএক্স ক্রিস্টাল জাহাজটি ফিলিপাইনের পতাকা লাগানো ছিল। জাহাজটি এতে প্রায় ৩০ হাজার টন মাল বহন করছিল।

রামপাল নিয়ে বিরাট ঝুঁকির মধ্যে আছি : সুলতানা কামাল

সুন্দবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে আমরা একটা বিরাট ঝুঁকির মধ্যে আছি। তিনি বলেন, রামপাল প্রকল্পটির ব্যাপারে জনমতকে পাত্তা না দিয়ে এগিয়ে নেয়া হলে একসময়ে কাছে আমরা সুন্দরবনের ক্ষতির জন্য দায়ী থাকব। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়াটিভ ও ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্টের যৌথ উদ্যোগে আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি হল কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল একথা বলেন। ‘‘পারদের নিঃসরণ, বায়ুমন্ডলে সঞ্চয়ন ও প্রতিবেশ দূষণঃ সুন্দরবনের জীব ভৌগলিক বলয়ে রামপাল থেকে নির্গত পারদের প্রভাব’’ শীর্ষক আর্ন্তজাতিক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তিনি আরো বলেন, পাহাড়ের জীব-বৈচিত্র রক্ষায় একসময় পারিবেশবাদিরা যে পরামর্শ দিয়েছিলেন তাকে তখনও ভিত্তিহীন বলা হয়েছিল। আজ আমরা যারা বলছি রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সুন্দরবনের জন্য ক্ষতি হবে-তাকেও ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এভাবে ভিত্তিহীন বলার পর যখন রামপালের কারণে ধীরে ধীরে সুন্দরবন উধাও হয়ে যাবে তখনতো তারাও থাকবেন না, আমরাও থাকব না। সেদিন কেউ আমাদের ধরতে পারবে না।
কিন্তু ইতিহাসে আমরা দোষী হয়ে থাকব। বলা হবে এরা এই সুন্দরবন ধবংস করে দিয়ে গেছে। তবে ক্ষমতায় থেকে যারা নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করে তারাতো সব কিছুকে ভিত্তিহীন বলতে পারে। তিনি সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে জানতে চান, তারা কোন ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলা হচ্ছে। যারা ক্ষমতার দম্ভে সব কিছুকে ভিত্তিহীন বলে সেটাও কিন্তু দুনীতির মধ্যে পরে। স্কাইপির মাধ্যমে ‘‘মার্কারী দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব’’ বিষয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরেন অধ্যাপক চার্লেস ড্রিজকল (Prof. Charles Driscoll of Syracuse University, NY, USA)। গবেষকদের পক্ষে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম। এরপর আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ও বারডেম হাসপাতাল এর মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি-পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন।

বিমানবন্দরে ৩৩৮ কার্টন সিগারেট জব্দ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩৩৮ কার্টন আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘থ্রি জিরো থ্রি (৩০৩)’ ব্র্যান্ডের এসব সিগারেট জব্দ করা হয়। দুবাই থেকে আসা মো. ফরহাদুল ইসলাম চৌধুরী নামে এক যাত্রী এসব সিগারেট আনেন। তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাসিন্দা। সূত্র জানায়, সকাল ৯টা ৫ মিনিটে দুবাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (বিজি-০৫২) শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ফরহাদ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ব্যাগেজ বেল্টসহ গ্রিন চ্যানেলে বিশেষ নজরদারি রাখেন। ফরহাদুল ব্যাগেজ বেল্ট থেকে লাগেজ সংগ্রহ করে গ্রিন চ্যানেলের স্ক্যানিং ফাঁকি দিয়ে অতিক্রম করে দ্রুত চলে যাওয়ার সময় তার গতিরোধ করা হয়। পরে কাস্টমস হলে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে তার তিনটি লাগেজ খুলে ৩৩৮ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মইনুল খান জানান, আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে বাংলায় ধুমপানবিরোধী সতর্কীকরণ লেখা ছাড়া বিদেশি সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ। সিগারেটের ওপর উচ্চ শুল্ক (প্রায় ৪৫০ শতাংশ) ফাঁকি দিতেই এসব সিগারেট আনা হয়েছে। তিনি জানান, এসব সিগারেটের মূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা। এ ঘটনায় শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ছাগলে গাছ খাওয়ায় যুবক খুন

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ছাগলে গাছ খেয়ে ফেলার জেরে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে আমিনুর রহমান (৩০) নামের এক যুবক খুন হয়েছেন। শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ছোট কাশিমালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আমিনুর একই গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় ভটভটি চালক। কাহালু বীরকেদার ইউপি সদস্য এমদাদুল হক জানান, সকালে চাচাতো ভাই আবদুল মান্নানের (২৬)  গাছ খেয়ে ফেলে আমিনুরের বড়ভাইয়ের ছাগল। এ নিয়ে মান্নান-আমিনুরের তর্ক-বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে মান্নান ক্ষিপ্ত হয়ে আমিনুরের বুকে ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই আমিনুরের মৃত্যু হয়। লাশ উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে মান্নান পলাতক রয়েছেন। কাহালু থানার ওসি নূর-এ-আলম সিদ্দিকী জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি।

কাশ্মিরে লস্করের শীর্ষ কমান্ডারসহ নিহত ৩

ভারত শাসিত কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) শীর্ষ কমান্ডার জুনায়েদ মাত্তো নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের এই বন্দুকযুদ্ধে এলইটি'র আরো দু'জন নিহত হয়েছেন। শনিবার পুলিশ একথা জানিয়েছে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার দক্ষিণে অনন্তনাগ জেলার আরওয়ানি গ্রামে এলইটি ও সরকারি বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এ সংঘর্ষে ঘটে।

দুদককে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করছে সরকার : মির্জা ফখরুল

বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, মুক্তচিন্তার মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়ায় এই আওয়ামী লীগ সরকারের চরিত্র। যার প্রমাণ আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের স্ত্রী ফিরোজা মাহমুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে সরকার। আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব বলেন। আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের স্ত্রী ফিরোজা মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ ও প্রত্যাহারের দাবিতে এই মানববন্ধন হয়। আমার দেশ পরিবার এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ,আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু প্রমুখ। মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কয়েকশ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বহু সংবাদমাধ্যম ও পত্রিকা বন্ধ করেছে। এমনকি সাংবাদিককে হত্যা পর্যন্ত করা হয়েছে। এই সরকার অতীতেও একই কাজ করেছিল। তিনি বলেন, আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করা হয়েছে। সম্পাদককে জেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এবার তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শাশুড়ির বিরুদ্ধেও মামলা দেয়া হয়েছে। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আজকে সবার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের সাড়ে সাত হাজার মামলা প্রত্যাহার করেছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও মামলা ছিল। কিন্তু সেটাও প্রত্যাহার করেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আসলে দেশের প্রধান সমস্যা হলো গণতন্ত্র নেই। মানুষের কথা বলার অধিকার নেই। গণমাধ্যমের লেখার স্বাধীনতা নেই। জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আগামীদিনে সব দলের অংশগ্রহণমূলক একটি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। মাহমুদুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা অতীতেও গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ করেছিল। ১৬ জুন ছিল সংবাদপত্রের কালো দিবস। তিনি দুদকের সমালোচনা করে বলেন, বিএনপির আমলে দুদক প্রতিষ্ঠা করা হয়। দুদকের আসল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত দুর্নীতিবাজদের ধরা। কিন্তু বাথরুমে কার কমোডে কয়টা ঢাকনা সেটা দেখার কাজ তো দুদকের কাজ না। তিনি বলেন, আসলে সরকার জিয়া পরিবার এবং আমার পরিবারকে ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু আমি যতদিন বাঁচবো ততদিন দেশের স্বাধীনতার পক্ষে এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় লড়াই চালিয়ে যাবো। হামলা মামলা করে আমার কণ্ঠরোধ করা যাবেনা। মাহমুদুর রহমান আরো বলেন, আজকে দেশে দুর্নীতির সয়লাব চলছে। পদ্মা সেতুর জন্য আবারো খরচ বাড়ানো হয়েছে। জনগণের পকেট কেটে নেয়া হচ্ছে। এতটাকা কোথায় যায় সবাই জানে। দেশ থেকে বছরে নয় হাজার মিলিয়ন টাকা পাচার হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ছেলেকি কার?

ছাগলনাইয়া পৌরসভার কলেজ রোডে শুক্রবার দুপুরে মারুপ আহম্মেদ বিশাল (১০) নামের একটি ছেলে পাওয়া গেছে। বর্তমানে সে ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। জানা গেছে, গতকাল দুপুরে ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজ রোডের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মারুপ আহম্মদ বিশাল নামে ওই ছেলেটিকে স্থানীয়রা কাঁদতে দেখেন। ছেলেটি তার নাম মারুপ আহম্মদ বিশাল, বাবার নাম নয়ন, ছোট ভাইয়ের নাম আকাশ, গ্রাম টেকেরঘাট, শারপিন, সুনামগঞ্জ বলে জানায়। তার বাবা নেই। সৎ মা কাজল তাকে বেড়ানোর কথা বলে বৃহস্পতিবার ছাগলনাইয়া জমাদ্দার বাজারে রেখে পালিয়ে যায় বলে সে জানায়। তার মামা ব্র্যাক অফিসে চাকুরি করেন (তার গায়েও ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজ লেখা নীল রঙের শার্ট রয়েছে। এই রঙের একটি জিন্সের প্যান্টও ছেলেটির পরনে রয়েছে। গায়ের রঙ কালো। ছেলেটি কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধি বলে স্থানীয়দের অভিমত। খবর পেয়ে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ ছেলেটিকে উদ্ধার করে তাদের জিম্মায় নিয়েছেন। তার সন্ধান জানতে ০১৭১৩৩৭৩৭৮২, ০১৮৮২৯২৪৪৪৪ ছাগলনাইয়া থানায় যোগাযোগ করা যেতে পারে। ছাগলনাইয়া থানার ওসি তদন্ত আবুল খায়ের শেখ জানান, ছেলেটির ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহে জমি নিয়ে সংঘর্ষে দুইজন নিহত

ময়মনসিংহ সদরের চরসিরতায় জমি নিয়ে সংঘর্ষে মহিলাসহ দুইজন নিহত এবং আহত হয়েছেন ১৫ জন। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত ১০ জনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় মহিলাসহ ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ, এলাকাবাসী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চরসিরতা গ্রামে বাড়ির পাশে রাস্তার জমি নিয়ে হাফিজ উদ্দিন ও প্রতিবেশি হেলাল উদ্দিনের বিরোধ চলছিল। এনিয়ে বৃহস্পতিবার দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে শুক্রবার সকালে আবারো বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে দু’পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এসময় মৃত ইলমউদ্দিনের মেয়ে সাথী আক্তার (৩৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। সংঘর্ষে আহত ১১ জনকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হলে মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৪০) মারা যায়। হাসপাতালে ভর্তিকৃতরা হলেন, নুরুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৭), ফজলুল হকের ছেলে আসাদ মিয়া (২৬) ও তার সহোদর দেলোয়ার হোসেন (২৮), ময়েজউদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার আলী (২৪), হারুন মিয়ার স্ত্রী পারভীন আক্তার (৪৫), ইলিশ মিয়ার ছেলে মিজারুল হোসেন (৩৫), আবুল হোসেনের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৫০), আমির চানের ছেলে মাজহারুল মিয়া (২৫) ও শাকিব (১৭) ও রস মিয়ার ছেলে হারুন আলী (৪৫)। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬জন মহিলাসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

ধর্ষণের অভিযোগে অভিনেতা তানভীর তনু গ্রেফতার

এক তরুণীর ধর্ষণের মামলায় অভিনেতা তানভীর তনুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রূপনগর আবাসিক এলাকার নিজের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ওই তরুণীর অভিযোগ, গত ৬ মে বাসায় ডেকে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন তনু। ওই সময় তনুর এক বন্ধু ওই বাড়িতে ছিলেন। রূপনগর থানার ওসি শহীদুল আলম বলেন, “এতদিন পর মামলা করার কারণ সম্পর্কে ওই তরুণী বলছে, তাকে ধর্ষণের পর থেকে তনু পালিয়ে ছিলেন। আজকে বাসায় আছে নিশ্চিত হয়ে পুলিশে খবর দেন।” তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে তনুকে গ্রেফতার করে। এ সময় বাসায় তনুর স্ত্রী ছিলেন। এই দম্পতির কোনো সন্তান নেই বলে ওসি জানান।
মামলার বরাত দিয়ে ওসি বলেন, ফেসবুকে পরিচয় থেকে তনুর সাথে ওই তরুণীর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তাকে মালয়েশিয়া নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তনু। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ৬ মে তনু তাকে বাসায় ডেকে নেন। সে সময় তার স্ত্রী বাসায় ছিলেন না। সেই ফাঁকে তনু মেয়েটিকে ধর্ষণ করার পর বন্ধুকেও বলে তাকে ধর্ষণ করতে। এরপর এক পর্যায়ে ওই তরুণী পালিয়ে আসেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফুল অ্যান্ড ফাইনাল, স্বপ্নছোঁয়া, গুণ্ডা ও খাস জমিনসহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তানভীর তনু। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘কর্মফল’ অবলম্বনে নির্মিত নাটক ‘কর্মফল’র সতীশ চরিত্রেও দেখা গেছে তাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্মানজনক আলোচনা অব্যাহত রাখবে কিউবা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিউবানীতি আরো কঠোর করার সিদ্ধান্তকে কিউবা-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে একটি নেতিবাচক আচরণ হিসেবে দেখছে হাভানা সরকার। শুক্রবার রাতে জাতীয় টেলিভিশনে কিউবান সরকারের এক বিবৃতিতে সম্প্রচার করা হয়। এতে এ কথা বলা হয়েছে। কিউবার পক্ষ থেকে বলা হয়, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও কিউবা সরকার দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্মানজনক আলোচনা অব্যাহত রাখবে।

দুই ফিলিস্তিনি যুবককে গুলি করে হত্যা

ইসরাইলি সেনারা অধিকৃত জেরুজালেম আল-কুদসে দুই ফিলিস্তিনি যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো এক যুবক। 'ছুরিকাঘাত' করার অভিযোগে এসব ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার দামেস্ক গেটের কাছে এ ঘটনা ঘটে। আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। এর আগে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় তিন ফিলিস্তিনি নিহতের কথা জানিয়েছিল।
পরে সংশোধন করে দু'জন নিহত ও একজন আহতের কথা জানায়। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম আল-কুদসের পুরনো শহরে প্রবেশের অন্যতম প্রধান দরজা হচ্ছে দামেস্ক গেট।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরাইলি সেনারা হঠাৎ করে ভিড়ের মধ্যে এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। মসজিদের মাইক থেকে যখন মাগরিবের আজান ভেসে আসছিল তখন এই নির্বিচার গুলিবর্ষণ করা হয়। ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে সেনারা মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে দেয়। তখন থেকে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত প্রায় দুই বছরে ইসরাইলি সেনাদের হামলায় অন্তত ৩০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

মার্কিন রণতরীর সাথে বাণিজ্যিক জাহাজের সংঘর্ষ, নিখোঁজ ৭ সেনা

জাপান উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজের সাথে ফিলিপাইনের একটি বাণিজ্যিক জাহাজের সংঘর্ষ হয়েছে। অনেকে আহত হয়েছেন। এতে নিখোঁজ রয়েছেন সাত সেনা সদস্য। প্রেস টিভি এ খবর জানিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী শুক্রবার জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর রাত ২টা ৩০ মিনিটে বন্দরনগরী ইয়োকোসুকা থেকে ১০৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এ ঘটনা ঘটে।
টুইটারে নৌবাহিনীর সপ্তম নৌবহর জানিয়েছে, 'ইউএসএস ফিটজেরাল্ড ফিলিপাইনের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এসিএক্স ক্রিস্টালের সাথে সংঘর্ষ হয়। জাপানের কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে আছে।' এ ঘটনার পর আহত মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ও নাবিককে জাপান কোস্টগার্ড হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। জাপানের এনএইচকে টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় সাতজন মার্কিন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন।

ওবামার কিউবা নীতি থেকে সরে আসছেন ট্রাম্প

কিউবা সরকারের সাথে প্রায় দুই বছর আগে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে চুক্তি করেছিলেন সেটি বাতিল করে দেবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডার মিয়ামিতে গতকাল শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে নতুন কিউবা নীতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অবস্থান ছিল কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা।এ লক্ষ্যে হাভানার সঙ্গে এক চুক্তিতে স্বাক্ষরও করেন ওবামা। কিন্তু ট্রাম্পের প্রশাসন কড়াকড়ি আরোপ করে উল্টো পথেই চলা শুরু করেছে বলছেন অনেকে। বারাক ওবামার করা চুক্তিটিকে 'এক তরফা' উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, 'কমিউনিস্টদের করা নিগ্রহ দেখে যুক্তরাষ্ট্র চুপ করে থাকবে না।' কিউবার উপরে ভ্রমণ ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাও আরো কঠোর হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেছেন "রাজনৈতিক বন্দীদের যতদিন মুক্তি দেয়া না হবে, যতদিন সংসদ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সম্মানিত না হবে, সকল রাজনৈতিক দলকে যতদিন বৈধতা না দেয়া হবে, আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদেরকে যতদিন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ না দেয়া হবে, ততদিন কিউবার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলা হবে না"। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ওবামার করা চুক্তিটিকে 'ভয়ঙ্কর' ও 'ভুল পথে চালিত' বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হচ্ছে না এবং হাভানার মার্কিন দূতাবাসও বন্ধ হচ্ছে না বলে জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া বাণিজ্যিক ফ্লাইট ও নৌ পথে চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন ট্রাভেল এজেন্সিগুলো লোকসানে পড়বে বলে জানাচ্ছেন পর্যটনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এই চুক্তি সম্পূর্ণ বাতিল না করতে প্রেসিডেন্টের প্রতি অনুরোধও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আর সমালোচকেরা বলছেন "ট্রাম্প নিজেই যে সমস্ত কর্মকাণ্ড করছেন এর পরে তিনিই আবার 'মন্দ আচরণের অভিযোগে' অন্যদেশকে 'বাণী' শোনাচ্ছেন, যা ঠিক নয়"। কিউবার সরকারী পত্রিকা 'গ্র্যানমা' ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলছে, ব্যর্থ নীতির কাছে তিনি আটকে পড়েছেন এবং কিউবার জনগণের ক্ষতি করছেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইটারে নিশ্চিত করেন যে এফবিআই এর পরিচালক জেমস কোমিকে বরখাস্ত করার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এই টুইটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও অভিযোগ করেছেন যে একজন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের কথিত অভিযোগের যে তদন্ত চালাচ্ছেন, সেটা আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।

ঈদ রাজনীতিতে মন্ত্রী-এমপিরা

ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ঈদরাজনীতি শুরু হয়ে গেছে। তাই মন্ত্রী-এমপিদের আর ঢাকায় বসে থাকার সুযোগ নেই। ছুটছেন গ্রামেগঞ্জে আর নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায়। পাড়ায়-মহল্লায় চলছে ইফতার মাহফিল, আলোচনা সভা, কর্মিসভা ও শুভেচ্ছা বিনিময়। এসব অনুষ্ঠানকে উপলক্ষ করে গাঁয়ের মেঠোপথ আর অলিগলিতে চলছে গণসংযোগ। এর মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে নতুন করে সম্পর্ক ঝালিয়ে নিচ্ছেন মন্ত্রী-এমপিরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পর নড়েচড়ে বসেছেন সতাসীন দলের মন্ত্রী-এমপিরা। বিশেষ করে ‘এবার কঠিন নির্বাচন হবে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো কারো দায়িত্ব আমি নিতে পারব না’Ñ সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতামূলক এমন বক্তব্যের পর এলাকার জনগণ ও তৃণমূল নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তারা। একটু সময় বের করতে পারলেই গ্রামেগঞ্জে ছুটছেন তারা। রুটিন করে সময় দিচ্ছেন নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায়। আবার কোনো কারণে এলাকায় যেতে না পারলে জাতীয় সংসদে নিজ কার্যালয়ে এলাকার মানুষকে নিয়মিত সময় দিচ্ছেন অনেকেই। এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন তারা।  সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন জনবিচ্ছিন্ন থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের অনেক মন্ত্রী-এমপি জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। তাদের কর্মকাণ্ডে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। মন্ত্রী-এমপিদের পারিবারিক বলয় এবং তাদের পাশে থাকা সুবিধাভোগীদের অরাজনৈতিক আচরণে ওয়ার্ড, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অনেক নেতাকর্মী রাজনীতিবিমুখ হয়েছেন। অভিমান করে নিজেকে রাজনীতি থেকে দূরেও সরিয়ে নিয়েছেন অনেকে। সামনে নির্বাচন। এখন অভিমানী নেতাকর্মীদের কাছে পাওয়া বড়ই প্রয়োজন মন্ত্রী- এমপিদের। সেজন্য দূরত্ব ঘোচাতে এই রমজান এবং ঈদকেই বড় উপলক্ষ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারা। রমজানে নিজ নিজ এলাকায় নানা সংগঠনের মাধ্যমে ইফতার মাহফিল, আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করছেন মন্ত্রী- এমপি ও তাদের অনুসারীরা। এতে ুব্ধ নেতাকর্মীদের বিশেষভাবে দাওয়াত করা হয়। সেখানে মন্ত্রী-এমপিরা বিুব্ধ ও অভিমানী নেতাকর্মীদের গায়ে হাত বুলাচ্ছেন। অতীতের ভুলের আর পুনরাবৃত্তি হবে নাÑ এমন আশ্বাস দিয়ে তৃণমূলপর্যায়ে দলকে ফের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন তারা। এ সময় কেউ কেউ আবার পরিবারকে নিয়ে ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করার জন্য অভিমানী নেতাকর্মীদের হাতে ঈদ সালামি এবং শাড়ি, পাঞ্জাবিসহ নানা উপহার-উপঢৌকন তুলে দিচ্ছেন। একইসাথে সামনের নির্বাচনের জন্য নতুন করে তৈরি হওয়ার আহবান জানাচ্ছেন তারা।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সংসদের বৈঠকের পরই প্রায় দুই শতাধিক এমপি-মন্ত্রী নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন।
শুক্র ও শনিবার এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রোববার ঢাকায় ফিরবেন তারা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকারি সফরে দেশের বাইরে থাকায় রাজধানীতে জাতীয় কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হচ্ছে না এমপি-মন্ত্রীদের। আর এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ এলাকায় সময় দিচ্ছেন তারা। রোববার বা সোমবার অনেকে ঢাকায় ফিরলেও আবার ঈদের আগেই চলে যাবেন নিজ নিজ এলাকায়। সেখানে নেতাকর্মীদের সাথে ঈদ করবেন তারা। আর ঈদকে কেন্দ্র করে গণসংযোগসহ নানা ধরনের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড সেরে ফেলবেন মন্ত্রী-এমপিরা। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ সারা বছরই নিয়মিত সময় দেন নিজ এলাকা কুষ্টিয়ায়। কেন্দ্রীয় বড় পদধারী নেতা হয়েও এলাকায় গিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নানা ধরনের সমস্যা এবং চাওয়া-পাওয়ার সমাধানে কাজ করেন তিনি। পার্বত্য এলাকায় জাতীয় ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে সেখান থেকেই বৃহস্পতিবার চলে যান নিজ এলাকা কুষ্টিয়ায়। সেখানে একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রোববার ঢাকায় ফিরবেন বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। ঈদুল ফিতর ঢাকায় করার চিন্তা থাকলেও ঈদের আগে আবারো এলাকায় যাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে বরাবরের মতো ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন কুষ্টিয়াতেই। ঈদরাজনীতি নিয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, এটি রাজনীতি নয়, আমাদের নিয়মিত কর্মকাণ্ড মাত্র। আমরা কেন্দ্রীয় নেতা হলেও এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি সারা বছর। তবে হ্যাঁ, দলের কোনো কোনো নেতা বা এমপি-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এলাকায় জনবিচ্ছিন্ন থাকার কথা শোনা যায়। তারা হয়তো ঈদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সেরে ফেলছেন। দলের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সাথে নিজ এলাকা দিনাজপুরের মানুষের যোগাযোগ রয়েছে নিয়মিত। প্রত্যেক সপ্তাহে ছুটির দিনগুলো তিনি দিনাজপুরের মানুষের সাথেই কাটান। নিজ এলাকার মানুষের দুঃখ, দুর্দশায় পাশে থাকার চেষ্টা করেন তিনি।  রমজানে ইতোমধ্যেই একাধিকবার ঘুরে এসেছেন নিজ সংসদীয় এলাকা।  ঢাকায় ঈদ না করলে এবারো নিজ এলাকাতেই ঈদ উদযাপন করবেন তিনি। ঈদরাজনীতি নিয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা সারা বছরই রাজনীতি করি, এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। এলাকার প্রতি আমাদের নাড়ির টান রয়েছে সব সময়। দলের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী বলেন, আমি সারা বছরই নেতাকর্মীদের সাথে সম্পর্ক রাখি এবং তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করি। কোনো নির্দেশ বা দিবসের অপোয় বসে থাকার সুযোগ নেই। এলাকার জনগণের সাথে সব সময় যোগাযোগ ছিল এবং বর্তমানেও তা বজায় আছে।

সুপ্রিমকোর্টের সাথে পরামর্শ ছাড়া বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত নয়

সুপ্রিমকোর্টের সাথে পরামর্শ ব্যতীত কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে অসদাচরণ, দুর্নীতি বা অন্য কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে তার প্রাথমিক তদন্ত বা অনুসন্ধান না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে জারি করা হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত এ সার্কুলার সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়, এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করে কোন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত যে কোন অভিযোগ সুপ্রিমকোর্টের সাথে পরামর্শ ছাড়া তদন্ত বা অনুসন্ধান পরিচালনা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা সুপ্রিমকোর্টকে অবহিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি দান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলাবিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে তা প্রযুক্ত হয়। ফলে, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলাবিধান, বিদেশ গমন ও চাকরির অন্য শর্তাবলী ইত্যাদি সব বিষয় উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুপ্রিমকোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে নির্ধারণ করা বাধ্যকর। এছাড়া সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের হাতে ন্যস্ত আছে। সংবিধানের ১০৯, ১১৬, ১১৬(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস ও এই সার্ভিসের সদস্যদের অন্য সব সার্ভিস থেকে পৃথক এবং স্বাতন্ত্র করা হয়েছে। সার্কুলারে আরো বলা হয়, মাজদার হোসেন ও অন্যান্য মামলায় আপিল বিভাগ কর্তৃক বিচারকর্ম বিভাগে কর্মরত বিচারকগণের অন্যান্য সকল বিষয়ের পাশাপাশি শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়েও সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শের প্রাধান্য নিশ্চিত করা হয়েছে।