Tuesday, December 12, 2017

আড়াই হাজার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে প্রায় আড়াই হাজার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা যুবককে গ্রেপ্তার করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার সকালে পটিয়া উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকা থেকে ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান, অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (গোয়েন্দা) জিল্লুর রহমান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. রফিক (১৮) ও আনিছ উল্লাহ (২০) কক্সবাজারের কুতুপালং ১১ নম্বর শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে তারা মিয়ানমার থেকে এসে কক্সবাজারে আশ্রয় নেন।

জিল্লুর রহমান বলেন, রফিক ও আনিছ ইয়াবা নিয়ে বাসে করে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের গোয়েন্দা শাখার একটি দল খবর পেয়ে আগে থেকেই বাদামতল এলাকায় অবস্থান নিয়ে ছিল। তারা বাস থেকে নামার পর তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

মারা গেছে সিংহ ‘যুবরাজ’

কুমিল্লা চিড়িয়াখানার সিংহ যুবরাজ মারা গেছে। মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় তার মৃত্যু হয়।

সিংহটি দীর্ঘদিন ধরে মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল। যুবরাজের ময়নাতদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

কুমিল্লা সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার পোদ্দার আরটিভি অনলাইনকে জানান, বার্ধক্যজনিত কারণেই সিংহটির মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর সিংহটির বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। যা পরীক্ষা করার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। আর তার দেহের অন্যান্য অংশ কুমিল্লা চিড়িয়াখানাতেই মাটি চাপা দেয়া হবে।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বলেন, যুবরাজ সিংহ দীর্ঘদিন মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একটি সিংহ সাধারণত ১৪ বছর বাঁচে, যুবরাজের বর্তমান বয়স ১৮ বছর। এটি মূলত তার বাড়তি জীবনকাল অতিবাহিত করেছে। মঙ্গলবার সেটি মারা যায়।

গেলো নভেম্বরে কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় সিংহ যুবরাজের রুগ্নতা নিয়ে খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদে চিড়িয়াখানার বেহাল অবস্থার কথাও তুলে ধরা হয়। এরপরই চিড়িয়াখানার সংস্কার নিয়ে নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ।

২০০৪ সালে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে যুবরাজকে কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় আনা হয়।

চট্টগ্রামে ফিরলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী

চিকিৎসা শেষে এক মাস পর চট্টগ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরেছেন নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

মঙ্গলবার বেলা ১টায় তিনি নগরীর ষোলশহর চশমা হিলের মেয়র গলির বাড়িতে পৌঁছান। এসময় প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য বাড়ির সামনে হাজারখানেক নেতাকর্মী জড়ো হন।

মহিউদ্দিনের সঙ্গে ছিলেন তার বড় ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

এর আগে সকালে সড়ক পথে ঢাকা থেকে নিজের মালিকানাধীন বিজয় টেলিভিশনের একটি গাড়িতে করে চট্টগ্রামের পথে রওনা হন মহিউদ্দিন।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী মো. ওসমান বলেন, “বেলা ১টার দিকে বাসায় ফিরে বিশ্রামে রয়েছেন তিনি।”

নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, গাড়ি থেকে নামার পর নেতাকর্মীদের দেখে মৃদু হাসলেও কারো সাথে কথা বলেননি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক মেয়র ৭৪ বছর বয়সী মহিউদ্দিন চৌধুরী হৃদযন্ত্র ও কিডনির রোগে ভুগছেন।

গত ১১ নভেম্বর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নগরীর বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন দুপুরে হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শে ১৬ নভেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে মহিউদ্দিনকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে ফেরার পর তিনি স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।

ঢাকায় থাকার সময় একাধিকবার পরিবারের লোকজন ও রাজনৈতিক শিষ্যদের কাছে চট্টগ্রামে ফেরার আকুতির কথা জানান মহিউদ্দিন।

প্রায় এক মাস পরে মহিউদ্দিন চট্টগ্রামে ফিরলেও ভিড় এড়াতে গণমাধ্যমকর্মীদের এ বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।

কসবায় মদসহ ছাত্রলীগের ৫ নেতা গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় মদসহ ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করেছে সীমান্ত রক্ষ্মী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার রাতে কসবা উপজেলার গোপীনাথপর ইউনিয়নের দৌলতপুর ও পাতাবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে তাদেরকে আটকের পর রাতে মামলা দিয়ে কসবা থানা পুলিশের কাছে হস্তাহন্তর করা হয়। ধৃতদের মধ্যে কসবা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আজিমুর রেজা (২২) ও দ্বিন মোহাম্মদ স্বপন (২২) রয়েছেন। বাকি তিনজনের নামা জানা যায়নি। তারা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা বলে জানা গেছে।
কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মহিউদ্দিন জানান, সোমবার সীমান্ত এলাকা থেকে ছাত্রলীগ নেতা আজিমুর ও দ্বীন মোহাম্মদসহ পাঁচ নেতাকর্মীকে পাঁচ বোতল মদসহ গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিজিবির করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। রাতে আটকদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বিজিবি। তবে কসবা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: মনির হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শুধুমাত্র স্বপন ও রেজা ছাত্রলীগ নেতা, বাকি তিনজন সাধারণ ছাত্র। সীমান্ত এলাকায় ঘুরতে গিয়ে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে : যশোরে কাদের

যশোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনে না আসার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক অস্তিত্ব ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে না চাইলে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে। এটাকে তারা পাশ কাটিয়ে যেতে পারে না। তাহলে তারা আরো সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। মঙ্গলবার সকালে যশোর-খুলনা মহাসড়ক পরিদর্শন করে সাতক্ষীরা যাওয়ার পথে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, 'আমরা বারবার বলেছি, নির্বাচনে বিএনপি আসুক; নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হোক। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন কোনো নির্বাচন আমরা করতে চাইনি।
কিন্তু বিএনপি একটা পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল। আসব আসব করে বিএনপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে একটা প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। কিন্তু আইনগতভাবে নির্বাচন কারো জন্যে থেমে থাকে না। নির্বাচনের ট্রেন চলবেই। গণতন্ত্রের যাত্রা ব্যাহত হওয়ার সুযোগ নেই। আর বিএনপি না এলে নির্বাচন তো বন্ধ থাকতে পারে না। বিএনপি নির্বাচনে না এলে গণতন্ত্রের কী দোষ!' মতবিনিময়কালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারসহ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা।

অস্ত্র বিক্রির শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

২০১৬ সালে বিশ্বের ১০০টি শীর্ষ কোম্পানির অস্ত্র বিক্রির হার বেড়েছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম। আর অস্ত্র বিক্রির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্য স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট (সিপরি) সোমবার এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। খবর দ্য ইকোনমিক টাইমস।

যুক্তরাষ্ট্রের পরেই অবস্থান পশ্চিম ইউরোপের। বিশ্বের মোট অস্ত্র বিক্রির ৮২ শতাংশই তারা করেছে।

দ্য স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট এক বিবৃতিতে বলেছে, চীন ছাড়া বিশ্বের যে ১০০টি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামাদি উৎপাদনকারী কোম্পানির ওপর গবেষণা চালানো হয়েছে, তারা ২০১৬ সালে ৩৭ হাজার ৪৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে। যা বিশ্বের জিডিপির প্রায় অর্ধেক।

গত বছর উল্লিখিত ১০০টি কোম্পানি যে অস্ত্র বিক্রি করেছে তার প্রায় ৬০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের।

সিপরি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ পরিচালনা করছে এবং অন্যান্য দেশ থেকে বড় ধরনের ও আধুনিক অস্ত্রের চাহিদা আসছে। ফলে তাদের অস্ত্র বিক্রিও বেড়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের কোম্পানিগুলো মিলে মোট ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ অস্ত্র বিক্রি করেছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার কোম্পানিগুলোর অস্ত্র বিক্রি ক্রমাগত বাড়ছে। গত বছর দেশটির কোম্পানিগুলোর অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো গত বছর অস্ত্রের বিক্রি বাড়িয়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে তাদের এ বিক্রি বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্রাজিল ১০ দশমিক ৮ এবং তুরস্কের কোম্পানিগুলো গত বছর অস্ত্রের বিক্রি বাড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রশাসনের হাতেই পড়ল : মির্জা ফখরুল

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আবারো প্রশাসনের হাতে গিয়েই পড়লো। আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সিনেট ২৫জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটস প্রতিনিধি নির্বাচন-২০১৭ উপলক্ষে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী পরিষদের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আমরা বহু কথা ও আন্দোলন করেছি। সংসদে আইন পাশ হয়েছে। আর কোনোভাবেই এটাকে মুক্ত করা গেল না। দুর্ভাগ্য প্রধান বিচারপতি (এসকে সিনহা) যখন মুক্তির চেষ্টা করেছেন তখন তাকে পদ হারাতে হলো, পরবর্তীতে দেশ ত্যাগ করতে হয়েছে। আর আমরা কথা বলতে যাবো, প্রতিবাদ করলে নেমে আসে মামলার খড়গ। তিনি বলেন, এ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বেশিরভাগই ফলাফল শূন্য। তারপরও আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচন করে যেতে চাই। কারণ আমাদের একটিমাত্র পথ সেটি হচ্ছে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে সকল সত্যকে ফিরিয়ে আনা। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক আকতার হোসেন খানের পরিচালনায় এবং বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন- নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, ঢাবি অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, ঢাবির সাবেক সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, ড্যাব সভাপতি একেএম আজিজুল ইসলাম প্রমুখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটস প্রতিনিধি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী পরিষদের প্রার্থীরা হলেন- অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ড. উম্মে কুলসুম রওজাতুর রোম্মান, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী, এ বি এম ফজলুর করিম, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, কে এম আমিরুজ্জামান শিমুল, ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান, ড. জিন্নাতুন নেছা তাহমিদা বেগম, অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড. মোহাম্মদ আবদুর রব, ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, ডা. মোহাম্মদ রফিকুল কবির লাবু, মো: আশরাফুল হক, অ্যাডভোকেট মো: মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ডা. মো: মোয়াজ্জেম হোসেন, ড. মো: শরীফুল ইসলাম দুলু, মো: সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, অধ্যক্ষ মো: সেলিম ভূঁইয়া, মো: সেলিমুজ্জামান মোল্যা সেলিম, শওকত মাহমুদ, ড. সদরুল আমিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অত্যন্ত কঠিন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই সময়টা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচাইতে কলঙ্কজনক একটি অধ্যায়। আজকে গণতন্ত্রের নামে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। গণতন্ত্রের নামে আমাদের মৌলিক অধিকারগুলো কেড়ে নেয়া হচ্ছে। গণতন্ত্রের নামে আমাদের শিক্ষক সমাজের অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। ছাত্রসমাজের অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে অথবা তাদেরকে একঘরে করে রাখা হচ্ছে। তাদেরকে কোনোরকম কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে অংশ নিতে দেয়া হচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি বিশেষ দলের প্রাধান্য বিস্তার করছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যে চেতনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম সেই চেতনাগুলো আজকে ধ্বংস হতে চলেছে। যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা মুক্তচিন্তার পাদপীঠ বলে মনে করি, এই দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার বলে মনে করি, গর্ববোধ করি, সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন পুরোপুরিভাবে একটি একদলীয় চিন্তাভাবনার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকে দুর্ভাগ্য আমাদের যে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৬/৪৭ বছর পরে আমরা এধরনের পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি। এধরনের কলঙ্কময় একটি পরিবেশের মধ্যে আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেটে নির্বাচন করতে হচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা জানি না নির্বাচনের ফল কী হবে? তবে এটুকু জানি যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে বাংলাদেশের মুক্তিকামী ও গণতন্ত্র চিন্তার মানুষকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। এখানে জয়পরাজয় প্রধান লক্ষ্য হবে না। লক্ষ্য হবে আমাদের লড়াই সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। দেশের চলমান সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুমিকায় দুঃখ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, যখন দেখি দেশের সার্থ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয় কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো প্রতিবাদ আসে না। তখন খুবই দুঃখ হয়, কষ্ট লাগে যখন দেখি ছাত্র-ছাত্রীরা নির্মমভাবে নিহত হয়, অন্যায়ের কাছে পরাজিত হয়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো প্রতিবাদ আসে না। অধিকার আদায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো সোচ্চার কণ্ঠ ভেসে আসে না। তিনি বলেন, আমরা ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ‘৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ভূমিকা সেটা ফিরে চাই। বিশেষ করে গণআন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যে নেতৃত্ব দিয়েছিল সেটা ফিরে চাই। আমরা ফিরে চাই আবারো বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে দাঁড়াবে এবং পথিকৃৎ হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে রেখে বাংলাদেশের মানুষ আবারো উজ্জীবিত হবে। আমরা ত্যাগ স্বীকার করে লক্ষ্যে অটুট থাকলে ইনশাআল্লাহ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবো। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, এধরনের নির্বাচনে বিএনপি আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই অংশ নেয়। কারণ গণতন্ত্রের মধ্যেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। আর এই গণতন্ত্রের আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বেরিয়ে আসতে হবে। মুক্তচিন্তা ও অধিকার রক্ষার আন্দোলন বের করতে হবে। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে- যতক্ষণ না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো আন্দোলন শুরু হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত সেই আন্দোলন লক্ষ্যে পৌঁছায় না। সুতরাং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট নির্বাচনকে শুধু সিনেট নির্বাচন হিসেবে না নিয়ে আমাদের গণতন্ত্রকে মুক্তচিন্তার অধিকারকে মুক্ত করার নির্বাচন হিসেবে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। আক্তার হোসেন খান লিখিত বক্তব্যে বলেন, আগামী ৬ ও ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ ঢাকার বাইরের কেন্দ্রসমূহে এবং ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রসমূহে দেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট হিসেবে পরিচিত ঢাবি সিনেটের ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটস প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয় মূল্যেবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক জাতীয়তাবাদী পরিষদ মনোনীত প্রার্থীগণ অংশগ্রহণ করছে। প্যানেলের পক্ষে ৭টি এজেন্ডা তুলে ধরেন আকতার হোসেন খান। এজেন্ডাগুলো হলো- ঢাবির ভাবমূর্তি ও মান-মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা, একাডেমিক কার্যক্রমের দৃশ্যমান উন্নয়নসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সিনেটকে সম্পৃক্ত, কেবলমাত্র বাজেট অনুমোদন ও ভিসি প্যানেল নির্বাচন করার মধ্যেই সিনেটকে সীমাবদ্ধ না করা, শিক্ষক নিয়োগ মেধার মূল্যায়নকেই একমাত্র মানদন্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানজট সমস্যার সমাধান করা ও নিরাপত্তা জোরদার, দলমত নির্বিশেষে সব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত এবং ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাণের দাবি, ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা।

সড়ক দুর্ঘটনায় পল্লী চিকিৎসক বশির নিহত

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার বার আউলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে স্কয়ার কোম্পানির একটি মিনি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় এক পল্লী চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুইজন। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত পল্লী চিকিৎসক বশির আহমদ (৩৩) সাতকানিয়া উপজেলার বোয়ালিয়া পাড়ার মৃত আবুল কাশেমের পুত্র। আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। 

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান বসির লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর বাস স্টেশনে চেম্বার আসার পথে স্কয়ার কোম্পানির পণ্যবাহী একটি মিনি কাভার্ড ভ্যান তাকে পিছনে ধাক্কা দিলে সে মোটরসাইলে থেকে ছিটকে পড়ে যায় এবং ওই গাড়িই তাকে চাপা দেয়। মুহূর্তে সে ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি ২টি দোহাজারী হাইওয়ে থানা হেফাজতে রয়েছে বলে জানা যায়।

এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ভয়ংকর সুন্দর’

কলকাতার পরমব্রত ও বাংলাদেশের অভিনেত্রী ভাবনা অভিনয় করেছেন অনিমেষ আইচ পরিচালিত ‘ভয়ংকর সুন্দর’ চলচ্চিত্রে। ছবিটি এবার ‘থার্ড আই এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসব’-এ আমন্ত্রিত হয়েছে।

ভারতের মুম্বাইয়ে আগামী ২১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে এই উৎসব ৯ দিনব্যাপী চলবে। উৎসবে ২৪ ডিসেম্বর ‘ভয়ংকর সুন্দর’ ছবিটির প্রদর্শনী হবে। প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে মুম্বাইয়ের রবীন্দ্র নাট্য মন্দিরে। ছবিটির পরিচালক অনিমেষ আইচ আরটিভি অনলাইনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

১৬তমবারের মতো আয়োজিত এই উৎসবে বাংলাদেশ-ভারতসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ অংশ নেবে। বিশ্ব উষ্ণতা ও খাবার পানি সঙ্কট নিয়ে নির্মিত ‌‘ভয়ংকর সুন্দর’ছবিটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এ বছরই ‘ভয়ংকর সুন্দর’ ছবিটি বাংলাদেশে মুক্তি পায়। এই ছবির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় অভিষেক হয় ছোট পর্দার অভিনেত্রী ভাবনার। এর মধ্য দিয়েই প্রথমবার ঢাকার কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

২ ঘণ্টা ১০ মিনিট ব্যাপ্তির এ ছবির মূল ভাবনা নেয়া হয়েছে মতি নন্দীর ‘জলের ঘূর্ণি ও বকবক শব্দ’ গল্প থেকে। এতে আরও অভিনয় করেছেন হাসান ইমাম, খায়রুল আলম সবুজ, লুৎফর রহমান জর্জ, ফারহানা মিঠু, ফারুক আহমেদ, শিল্পী সরকার অপু, এ্যালেন শুভ্র প্রমুখ।

ছবিটি প্রযোজনা করেছে স্কয়ার ফিল্ম কোম্পানি। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ইমন সাহা। চিত্রগ্রহণে খায়ের খন্দকার, নৃত্য পরিচালনায় সোহাগ ও কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চিন্ময়ী গুপ্তা।

জেএসসি-পিইসি পরীক্ষার ফল ৩০ বা ৩১ ডিসেম্বর

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ৩০ অথবা ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এই দুই দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন ফল প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ৩০ ডিসেম্বরেই জেএসসি ও জেডিসির ফল প্রকাশের বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েক বছর ধরে জেএসসি ও পিইসি দুই পরীক্ষার ফল একই দিনে প্রকাশিত হয়। সেই হিসাবে ৩০ ডিসেম্বর জেএসসির ফল প্রকাশ করা হলে ওই দিনই পিইসির ফলও প্রকাশিত হবে।

উল্লেখ্য, রেওয়াজ অনুযায়ী ফল প্রকাশের নির্ধারিত দিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করবেন। এর আগে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান এবং শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ফলাফলের কপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করবেন।

ভেনেজুয়েলায় নির্বাচনে বিরোধী দল নিষিদ্ধ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো বলেছেন, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশটির প্রধান বিরোধী দলগুলো অংশ নিতে পারবে না। কারণ তারা রোববারের মেয়র নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত করতে এটি তাঁর আরেকটি পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটের পর মাদুরো বলেন, ভেনেজুয়েলার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কেবল ওই দলগুলো অংশ নিতে পারবে, যারা রোববারের মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। অন্য দলগুলো আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিষিদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলো মেয়র নির্বাচন বয়কট করে রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে ‘গায়েব’ হয়ে গেছে। অন্যতম বিরোধী দল জাস্টিস ফার্স্ট, পপুলার উইল ও ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন মেয়র নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল গত অক্টোবরে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের পদ্ধতি পক্ষপাতদুষ্ট এবং তা কেবল মাদুরোর স্বৈরশাসনকেই আরও দৃঢ় করবে। ৩৩৫টি মেয়র নির্বাচনের মধ্যে ৩০০টিতে জয় পেয়েছে মাদুরোর দল। রোববারের নির্বাচনে ৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। বিশ্লেষকদের ধারণা, ফল নিজের পক্ষে নিতে নির্বাচন এগিয়ে আনতে পারেন মাদুরো। মাদুরোর দাবি, তিনি জাতীয় সাংবিধানিক পরিষদের আলোকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত আগস্টে গঠিত এই পরিষদে মাদুরোর দল সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে তারা নিজেদের মতো করে নির্বাচনের নীতিমালা পরিবর্তন করতে পারে। এর মাধ্যমে মাদুরো নিজের ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত করতে চাইছেন বলে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ। বেশ কয়েক বছর ধরে ভেনেজুয়েলায় অর্থনৈতিক মন্দা যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনীতিবিদকে বন্দী করা হয়েছে। এই বছরের প্রথম দিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে ভেনেজুয়েলা। মাদুরো নতুন সংবিধান তৈরির প্রস্তাব দেওয়ার পর বিক্ষোভ শুরু হয়। সংঘর্ষে বহু লোকের প্রাণহানি হয়।

ডাকসু নির্বাচন

‘আমরা ডাকসু নির্বাচন করব। তবে এর সঙ্গে যেহেতু অনেকগুলো অংশীজন জড়িত, তাই একটু সময় লাগবে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ার যে সংস্কৃতি চলে আসছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।’ এ রকম আশ্বাসবাণী শুনিয়ে ওয়ালিদ আশরাফের অনশন ভাঙালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। স্নাতকোত্তর পর্বের এই ছাত্র ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার দাবিতে একাই দুই সপ্তাহ ধরে অনশন করছিলেন। কিন্তু উপাচার্য যে বললেন ‘একটু সময় লাগবে’, এই সময় কত লম্বা হবে, তা কেউ জানে না। কারণ, ওয়ালিদের অনশন চলাকালীন দুই সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো পর্যায়ে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। কোনো ছাত্রসংগঠন বা অংশীজনের সঙ্গেও তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব এড়িয়ে চলাই শ্রেয় মনে করে আসছে, তা বেশ স্পষ্ট। নইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির আহ্বানকেও কেন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না? এ ছাড়া গত ১০ অক্টোবর হাইকোর্ট ছয় মাসের মধ্যে সিনেট পূর্ণাঙ্গ করার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তাতেও ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ আছে। কেননা, ডাকসুর প্রতিনিধিত্ব ছাড়া সিনেট পূর্ণাঙ্গ হয় না। অর্থাৎ আদালত কর্তৃক সিনেট পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা পরোক্ষভাবে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা হিসেবেও বিবেচ্য হতে পারে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১০ অক্টোবর থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট পূর্ণাঙ্গ করতে হলে এই সময়সীমার মধ্যেই ডাকসু নির্বাচন করা আবশ্যক। সুতরাং আর সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই।
এ ছাড়া বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোসহ ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এবং তাঁদের দাবির প্রতি সমর্থন-সংহতি প্রকাশকারী প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাবেক ছাত্রনেতাদের মতামতও আর অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। তাই ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি দ্রুত শুরু করা উচিত। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, ১৯৯১ সাল থেকে ২৬ বছর ধরে দেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। অথচ ১৯৯০ সালে বিপুল গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে গণতন্ত্রে প্রবেশ করেছি। জনপ্রতিনিধিত্বশীল শাসনব্যবস্থায় দেশ পরিচালিত হচ্ছে কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছে—এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলেই মনে হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক এবং এতে একচেটিয়া কর্তৃত্বপরায়ণতার প্রকাশ ঘটছে। অবিলম্বে এটা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করা হোক।

মাতৃমৃত্যুর তথ্য

জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) মাতৃমৃত্যু বৃদ্ধির তথ্য সরকার যে কায়দায় বাতিল করে দিতে চেয়েছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। কোনো পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, সেটার ত্রুটি–বিচ্যুতি থাকলে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা থাকতে পারে, কিন্তু নিপোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে মাতৃমৃত্যু–সংক্রান্ত জরিপের প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়াটা কি আদৌ বিবেচনাসম্মত হলো? নিপোর্টের মাতৃস্বাস্থ্য জরিপ প্রতিবেদন ২০১৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে মাতৃমৃত্যুর হার লাখে ১৯৬। অর্থাৎ এক লাখ জীবিত শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে ১৯৬ জন মায়ের মৃত্যু হচ্ছে। ২০১০ সালে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ১৯৪।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় লাখে ১৭৬ জনে। এর মানে হচ্ছে মাতৃমৃত্যুর হার আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু এই তথ্য মানতে নারাজ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনের তথ্যের সঙ্গে নিপোর্টের তথ্য মিলছে না। নিরপেক্ষ কাউকে দিয়ে এই জরিপ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করানো এবং কী পদ্ধতিতে এই জরিপ চালানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে বলে তাঁরা মনে করেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা না মানলে আর ওয়েবসাইট থেকে মাতৃমৃত্যুর প্রতিবেদন সরিয়ে ফেললেই কি আসল পরিস্থিতি বদলে যাবে? সরকার বেশ কয়েক বছর ধরে মাতৃমৃত্যু রোধে তাদের সাফল্যের কথা প্রচার করে আসছে। এখন প্রচারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হলো না বলে তথ্য মেনে না নেওয়ার মানসিকতা বিপজ্জনক। কোনো তথ্য না মানলে সেটা যে মিথ্যা হয়ে যায় না, এটা সরকার কবে বুঝবে? সরকারের বরং উচিত হবে জরিপের ফলাফল প্রত্যাখ্যান না করে একে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া। জরিপে উঠে আসা তথ্য থেকে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচিতে কোথায় কী সীমাবদ্ধতা আছে, তা চিহ্নিত করে সেই সব সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অনুযায়ী দেশে মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখে ১৪৩ জনে নামিয়ে আনার কথা ছিল সরকারের, কিন্তু তা হয়নি। এটা পরিষ্কার যে এই লক্ষ্য অর্জনে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের তরফে উচিত ছিল তা যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি। বেশির ভাগ মাকে জীবন রক্ষাকারী কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে মাতৃ স্বাস্থ্যসেবার মান যথাযথ নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশ করুণ। সারা দেশে শুধু ৩ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্বাভাবিক প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করে। বাড়িতে সন্তান জন্ম দেওয়া মায়েদের মাত্র ৩ শতাংশ প্রশিক্ষিত ধাত্রীর সেবা পাচ্ছেন। রয়েছে আরও অনেক সমস্যা। সরকারকে এখন এসব সমস্যার দিকে নজর দিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

পশ্চিমের হাত গুটিয়ে থাকলে চলবে না

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে জাতিগত নিধন অভিযান চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এই গত সপ্তাহে গতি পেয়েছে। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল ‘খুব সম্ভবত মানবাতাবিরোধী অপরাধের’ জন্য এক প্রস্তাব পাস করে মিয়ানমারের সমালোচনা করেছে। আর তার পরদিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ উৎসাহ নিয়ে এক প্রস্তাব পাস করে সামরিক বাহিনীর হামলার অবসান চেয়েছে। একই সঙ্গে তারা রাখাইন প্রদেশে মানবিক সহায়তা দেওয়ার সুযোগের দাবি জানিয়েছে। এই রাখাইন প্রদেশ থেকে গত আগস্টের শেষ ভাগ থেকে সোয়া ছয় লাখের বেশি মানুষকে তাড়ানো হয়েছে। কংগ্রেস ও ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে, এর আওতায় সামরিক নেতৃত্বও আছে। অন্যদিকে যারা দেশটির সামরিক বাহিনীকে সরঞ্জামাদি সরবরাহ করে, কংগ্রেস তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। এই মাসের শুরুর দিকে পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে দেখা করেছেন, এর আগে তিনি মিয়ানমারও সফর করেছেন। এর সঙ্গে তিনি ‘মানুষের ব্যাপক দুঃখ-কষ্টের’ ব্যাপারে মুখ খুলেছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এমন কোনো লক্ষণ দেখছি না যে এতে মিয়ানমারের জেনারেল ও নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারের ওপর প্রভাব পড়েছে। অধিকাংশ বিবরণেই দেখা যাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ঘৃণার ব্যাপারে মিয়ানমার সমাজ দারুণভাবে একতাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা নাকচ করার ক্ষেত্রেও তারা এককাট্টা।
আর রোহিঙ্গাদের প্রতি তাদের ঘৃণা দীর্ঘদিনের। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রণালিবদ্ধ বর্বরতার—শিশু হত্যা, গণধর্ষণ, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া—তদন্ত তো দূরের কথা, সামরিক বাহিনী উল্টো বলছে, সেনাবাহিনী নিরপরাধ। অন্যদিকে অং সান সু চি জেনারেলদের বিরুদ্ধে কথা বলা বা তাদের চাপ দেওয়া দূরে থাক, তিনি বলছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান এটার মধ্যে ‘গণহত্যার উপাদান’ আছে বলে যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে মিয়ানমারের উদীয়মান গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ডিসেম্বরের ১ তারিখে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে নিয়ে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য বেইজিং সফর করেছেন। বলা বাহুল্য, সি চিন পিংয়ের সরকার মিয়ানমারের ব্যাপারে জাতিসংঘের যেকোনো বক্তব্য ও কাজের সমালোচনা করেছে। আবার মিয়ানমারের প্রতি চীনের সমর্থনও কিন্তু একদম নিঃশর্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের মতো চীনও বাংলাদেশের জীর্ণ শিবিরে আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানিয়েছে। মিয়ানমার তত্ত্বগতভাবে এই প্রত্যাবাসন মেনে নিয়েছে। তারা গত মাসে বাংলাদেশের সঙ্গে এক চুক্তি সই করেছে। তারা বলেছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। কিন্তু জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের টেকসই ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। অনেক রোহিঙ্গাই এখন পর্যন্ত ভীতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সেখানে আন্তর্জাতিক নজরদারি, মানবিক সহায়তা ও বাঁচার মতো নিরাপদ জায়গা নেই; এমনকি নাগরিকত্বের মতো মৌলিক অধিকার লাভেরও নিশ্চয়তা নেই। এই কঠিন বাস্তবতার অর্থ হলো জাতিসংঘ ও পশ্চিমা সরকারগুলোর উচিত বাংলাদেশে অবস্থানরত লাখ লাখ রোহিঙ্গার জীবনমান উন্নয়নে নজর দেওয়া। নিকট ভবিষ্যতে তাদের তো সেখানেই থাকার কথা। সেখানে তাদের গুরুতর মানবিক ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা আছে, যেমন ডিপথেরিয়ার মতো প্রাথমিক পর্যায়ের মহামারি ঘটে যেতে পারে। তাদের এই ক্ষণস্থায়ী নিবাসগুলো দ্রুতই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে। এগুলো যদি ঠিকঠাক ব্যবস্থাপনা বা দেখভাল করা না হয়, তাহলে তা চরমপন্থীদের দলভুক্তকরণের উর্বর ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিমা সরকারগুলোর অবশ্যই মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠীর অনমনীয়তাকে প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক হবে না। তারা যে রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে দূরে রাখতে চাইছে, সেটা হতে দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ জাতিগত নিধনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়ার যে চেষ্টা তারা করছে, তা বন্ধ করতে হবে। ব্যাপারটা হলো মানবতাবিরোধী অপরাধের শাস্তি না হওয়ার মানে কিন্তু আরও ভয়ংকর নৃশংসতা ডেকে আনা।

দেখুন, কীভাবে আপনার শিশুকে মেরে ফেলছেন!

দোষ করে বুড়োধাড়িরা, মাশুল গোনে শিশু। নইলে ৯৫ শতাংশ শিশুর শরীরে নিকোটিন ঢুকবে কেন? হ্যাঁ, ধূমপানের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের কথাই বলা হচ্ছে। গতকাল সোমবার পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরটি ভয়াবহ—রীতিমতো আতঙ্কজনক! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ যুক্তরাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের আশপাশের ৯৫ শতাংশ শিশুর দেহে নিকোটিন রয়েছে, যা ফুসফুসের ক্যানসারে মারাত্মক ইন্ধন জোগায়। শুধু ফুসফুসই নয়, নিকোটিনের কুপ্রভাবে যকৃৎ-কিডনি-মস্তিষ্ক কোনোটাই সুস্থ থাকে না। বড়রাই নিকোটিনের মরণ ছোবল থেকে রেহাই পান না, আর কচিপ্রাণ শিশুদের বেলায় এটি যে কেমন মারাত্মক হতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, তামাক থেকে আসা নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাবে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৬০ লাখ লোক মারা যায়, যা বিশ্বে প্রতিবছরের গড় মৃত্যুর ১০ শতাংশ। এর মধ্যে ছয় লাখ মানুষ মারা যায় ধূমপানের পরোক্ষ প্রভাবে। অর্থাৎ, ধূমপায়ী তামাক সেবন করে আর তার ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয় আশপাশের মানুষ। আমাদের দেশে ধূমপায়ীর অন্ত নেই। গ্রামই বলুন আর শহরই বলুন, ছেলেপুলেরা অনেকে গোঁফের রেখা ফোটার আগেই তলে তলে ধূমপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। আর তা বড়দের দেখে দেখেই শেখে। কেবল পুরুষই নয়, আমাদের দেশে নারী ধূমপায়ীর সংখ্যাও কম নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দেশে মোট নারীর দুই কোটিরও কিছু বেশি তামাক সেবন ও ধূমপানে আসক্ত (বাংলাদেশ প্রতিদিন)। আর ঢাকা তো ধোঁয়ার ধূম্রজালে ঢাকা। একদিকে ইটভাটায় কাঠ আর কয়লা পুড়ে শ্বাসরোধী ধোঁয়া উড়ছে, আরেক দিকে রয়েছে নানা কলকারখানার ধোঁয়া। আবর্জনা পুড়িয়ে ধোঁয়া ওড়ানো হচ্ছে। উড়ছে বিটুমিন পোড়ানো ধোঁয়া। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে রাশি রাশি তামাক পোড়ানো ধোঁয়া। কার্বনজনিত গ্যাসে ঢাকার আকাশ ঢাকা। এর মধ্যে অক্সিজেন ফেরারি। অনেকটা কৌতূহল থেকেই ধূমপানের শুরু। বড়রা কত মজা করে সিগারেট ফোঁকে, আমিও একটু টেনে দেখি না কেমন লাগে—এ ধরনের কৌতূহল থেকে ছোটরা ধীরে ধীরে ধূমপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। বয়স বাড়ে, ক্ষতিকর অভ্যাসটাও ক্রমে গ্যাঁট হয়ে বসে।
গ্রামে খেতখামারে যাঁরা কাজ করেন, কায়িক শ্রমে হাঁফ ধরে গেলে পালা করে তাঁরা হুঁকা টানেন বা বিড়ি ফোঁকেন। ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, এটা তাঁদের ক্লান্তি দূর করে। কাজে জোশ এনে দেয়। অনেক পরিবারে ঘরের বাড়ন্ত ছেলে বা মেয়েকেই হুঁকা সাজানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। হুঁকা সাজানো হলে তারা গুড়ুক গুড়ুক করে দু-একবার টেনে পরখ করে ঠিকমতো হয়েছে কি না। কুয়াশাঢাকা শীতে হি-হি করে কাঁপছেন কোনো চাষি বা দিনমজুর, গা গরম করতে কী করেন দেখুন। নিকোটিনে ভরপুর ওই বিড়ি বা সিগারেট ফুঁকবেন। মানা করুন, গাল বাঁকা করে হাসবেন। উল্টো বুঝ দেবেন, ‘আরে, এতে গা গরম হয়!’ ক্লান্ত দুপুরে ছায়ায় দাঁড়িয়ে ধূমপানরত কোনো রিকশাচালক বা স্কুটারচালকের কাছে গিয়ে ধরনা দিন, আপনাকে কেয়ারই করবে না। সুখটান দিয়েই তবে নড়বে। আর এই সুখটানে কী যে সুখ, অল্পবয়সী ধূমপায়ীরা যখন পালা করে সিগারেট টানে, তখন বোঝা যায়। কেউ কেউ এমন মরিয়া থাকে, সুখটান না দিলে যেন মরেই যাবে। নিম্নশ্রেণির মানুষের মধ্যে অনেকের ধূমপানে এমন নেশা, ঘুম থেকে উঠেই বিড়ি ধরায়। নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত—এসব ঘরেও এমন ঘটনা দেখা যায়। আর সারা দিনে এক থেকে দেড় প্যাকেট সিগারেট ধ্বংস করা ধূমপায়ীরও অভাব নেই। ধূমপায়ীরা জেনেশুনে বিষ পান করে নিজেদের স্বাস্থ্যের বারোটা বাজালে কার কী করার আছে? কিন্তু তাঁদের এই রোজকার অভ্যাস যে অন্যদের যমের বাড়ি যাওয়ার পথ তৈরি করছে, কথা তো সেখানেই। নিজে মরবেন ভালো কথা, কিন্তু শিশুকে নিয়ে কেন? নারী বা পুরুষ যিনিই শিশুর সান্নিধ্যে ধূমপান করবেন, অলক্ষ্যেই শিশুর জীবনকে ধ্বংস করবেন তুষের আগুনের মতো। দেখা যায়, ধূমপায়ী অভিভাবক ঘরের ভেতর শিশুর সামনেই সিগারেট ধরিয়েছেন। শিশুটি নাক কুঁচকে অনুচ্চ আপত্তি জানাচ্ছে, পাত্তাই দিচ্ছেন না। এমন দৃশ্যও দেখা যায়, স্কুলগামী শিশুর পাশে থাকা (দায়িত্বশীল?) ব্যক্তিটিই অবলীলায় ধূমপান করছেন। একবার এক ব্যক্তি সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। পেছনে পাগল কিসিমের এক লোক তাঁকে অনুসরণ করছেন। হাতে আবার দা। ওই ব্যক্তি যেখানেই যান, পাগলা সেখানেই হাজির। একপর্যায়ে ব্যক্তিটি ভালোই ভড়কে গেলেন—এই পাগল আবার দা না চালায়! সিগারেট ফেলে দিয়ে তিনি ভোঁ-দৌড়! আর ওই পাগলা তখন আধখাওয়া সিগারেট তুলে আরামসে টানতে শুরু করল। কী মজা! জানি, ধূমপান ত্যাগের কথা বললে অনেকে গাল বাঁকা করে হাসবেন। কটু কথা বলবেন। নিজের চরকায় তেল দেওয়ার ভালো পরামর্শ দেবেন। এরপরও পুরোনো সেই বচনই আওড়ে যাব। ধূমপান ত্যাগ করুন। নিজের স্বাস্থ্যের দিকে না তাকান, আপনার ঘরের শিশুর দিকে তাকান, পাশের শিশুর দিকে তাকান, নগরের শিশুর দিকে তাকান, যারা এ দেশের ভবিষ্যৎ। ঠান্ডা মাথায় একবার অন্তত ভাবুন, আপনার তামাক পোড়ানো নিকোটিন কীভাবে একটি কচিপ্রাণে ঢুকে তার মধ্যে প্রাণঘাতী ক্যানসারের বীজ বুনে দিচ্ছে! অথচ ওর কোনো দোষ নেই। এ মুহূর্তে একটা গর্ব করতেই পারি যে আমি একজন অধূমপায়ী। কোনো দিনও তামাকজাত কোনো পণ্য বা সিগারেট আমাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। বন্ধুদের পীড়াপীড়িতে দু-একবার যে সিগারেটে টান দিইনি, তা নয়। কিন্তু এর ধোঁয়া বা স্বাদ কোনোটাই আমাকে কখনো আকৃষ্ট করতে পারেনি। আমার কাছে সব সময়ই মনে হয়েছে, আমি ধূমপান করব না—ধূমপান ত্যাগে এই ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট। অন্য কোনো কিছুর দরকার নেই। আর ধূমপানের নেশাটা যদি অদম্যই হয়ে থাকে, যা কিছুতেই বশে আনা সম্ভব নয়, তাহলে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা তো নেওয়া যায়। লোকজনের ভিড়পূর্ণ জায়গায় ধূমপান না করলেই হয়। যেমন: খেলার মাঠ, বাস টার্মিনার, রেলস্টেশন, বাস বা ট্রেনের ভেতর। ধারেকাছে শিশু আছে—এমন কোনো জায়গাও বাদ দিতে হবে। সচ্ছল ব্যক্তিরা চাইলেই বাড়ির ভেতর আলাদা ধূমপানঘর তৈরি করে নিতে পারেন, যেখান থেকে পরিবারের অন্যরা, বিশেষ করে শিশুরা থাকবে দূরে। বস্তিবাসীর পক্ষে এমন জায়গা খুঁজে নেওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে ঘর থেকে দূরের কোনো জায়গায় গিয়ে বিড়ি বা সিগারেট ফোঁকার কাজটা চালানো যেতে পারে। আর ধূমপানের পর একটা কাজ কিন্তু সবারই করা উচিত। তা হচ্ছে ধূমপানের পর হাত ও মুখ এমনভাবে ওয়াশ করা, যার ফলে নিকোটিন শিশুর কাছে যাওয়ার আশঙ্কা কমে যা।
শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া: সাহিত্যিক, সাংবাদিক
sharifrari@gmail.com

বাংলাদেশি বলে পাসপোর্ট নিলেন এক রোহিঙ্গা

অবৈধভাবে জাহাজে ভেসে তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান নরসিংদীর নন্দলালপুরের রিকশাচালক রমজান মিয়া। সেখানে একটি কোম্পানিতে চাকরিও নেন। একদিন মালিকের সহায়তায় মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে পাসপোর্টের আবেদনপত্র জমা দেন। কয়েক মাস পর জমার রসিদ নিয়ে পাসপোর্ট তুলতে গিয়ে জানতে পারেন তাঁর নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে অন্য একজন সেই পাসপোর্ট নিয়ে গেছেন। মুঠোফোনে রমজান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর সাবেক সহকর্মী মিয়ানমারের এক রোহিঙ্গা তাঁর নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে নিজের নামে পাসপোর্ট তৈরি করেছেন। দুটো রসিদ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উভয় রসিদেই গ্রাহকের নাম, বাবা-মায়ের নাম সব একই। কেবল গ্রামের নাম আলাদা। গত বুধবার নরসিংদীর নন্দলালপুর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, মূলত দুটিই একই গ্রাম। কাগজ-কলমে গ্রামটির নাম একটি আর মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত অন্যটি। নন্দলালপুর গ্রামে গিয়ে কথা হয় রমজানের পরিবারের সঙ্গে। মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে রমজানের পরিবার একটি একচালা টিনের ঘরে ভাড়া থাকে। মালয়েশিয়া থেকে টেলিফোনে রমজান মিয়া বলেন, ‘কোম্পানির মালিকের সহযোগিতায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে পাসপোর্ট আবেদন জমা দেওয়ার পর তারা জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ইত্যাদি নিয়ে আমাকে একটি রসিদ দেয়। নির্দিষ্ট দিনে গেলে জানায়, আমার পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়ে গেছে। আবার পরের তারিখে পাসপোর্ট আনতে গেলে জানায়, আমার পাসপোর্ট অন্য কেউ নিয়ে গেছে। আমার জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে অন্য কারও নামে কীভাবে পাসপোর্ট হওয়া সম্ভব? জানতে চাইলে হাইকমিশন থেকে তারা জানায়, গ্রামের নাম বদল করা হয়েছে।’ পাসপোর্ট কী করে হলো, জানতে চাইলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলার সাইদুল ইসলাম বলেন, পাসপোর্টের বিষয়টি দেখেন মশিউর রহমান। পরে মশিউর রহমানের ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। রমজান বলেন, মালয়েশিয়া আসার পর একই কোম্পানিতে কর্মরত এক রোহিঙ্গার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা হয়। পাঁচ বছর আগে ওই রোহিঙ্গা অবৈধভাবেই মিয়ানমার থেকে জাহাজে করে মালয়েশিয়ায় এসেছিলেন। ঘনিষ্ঠতার সুবাদে রমজানের সবকিছুই জানতেন তিনি। এর সুযোগ নিয়ে তিনি হাইকমিশনে ঘুষ দিয়ে রমজানের পাসপোর্ট করিয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। রমজান ওই ব্যক্তির ফেসবুক আইডি সরবরাহ করেন। তাতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তির নাম সমীর খান। ফেসবুকে তাঁর কোনো জাতীয়তা পরিচয় নেই। রমজানের মা শেফালি বেগম বলেন, ‘রমজানের পাসপোর্টের ভেরিফিকেশনের জন্য বাড়িতে পুলিশ এসেছিল। তারা আমার ছেলের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ ইত্যাদি যাচাই করে নিয়ে যায়।’ জানতে চাইলে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, নরসিংদীর সহকারী পরিচালক জেবুন্নাহার পারভীন দুটি রসিদ মিলিয়ে দেখে বলেন, এই পাসপোর্টগুলোর জন্য আবেদন করা হয়েছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ দূতাবাসে। সেখানে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। অস্তিত্বহীন জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে বাংলাদেশি নন এমন কারও পক্ষে পাসপোর্ট করা সম্ভব কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তো পুলিশ ভেরিফিকেশনে কোনো সমস্যা হতে পারে। জানতে চাইলে নরসিংদীর ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘কেউ যদি এই বিষয়ে অভিযোগ দেন তবে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

রোহিঙ্গা নির্যাতন জাতিগত নিধনের শামিল

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো নির্যাতনকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের একটি প্রতিবেদনে। গতকাল সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নির্যাতনের ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে এবং এটি গণহত্যারও শামিল। এ ইস্যুতে যুক্তরাজ্য এর নিজস্ব মানদণ্ড অনুযায়ী যথার্থ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি (ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘রাখাইন রাজ্যে সংঘাত এবং যুক্তরাজ্যের ভূমিকা’ (ভায়োলেন্স ইন রাখাইন স্টেট অ্যান্ড ইউকে’স রেসপন্স) শীর্ষক এ প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলা হয়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাজ্য এর নিজস্ব মানদণ্ড অনুযায়ী যথার্থ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এ সংঘাতকে সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য সরকারের বক্তব্যগুলো চরমভাবে বিভ্রান্তিকর ছিল বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, ‘যেকোনো সংঘাতের যথাযথ সংজ্ঞা নির্ধারণ জরুরি। কেননা, এটি সুরক্ষার দায়দায়িত্বকে সামনে নিয়ে আসে এবং রাষ্ট্রগুলোকে ভূমিকা পালনে বাধ্য করে।’ যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর পরিস্থিতির নিজস্ব মূল্যায়ন না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনে। এতে দ্রুত বিশেষজ্ঞ দল প্রেরণ করে ধর্ষণ ও সংঘাতের অভিযোগগুলোর তদন্ত এবং পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র উদ্‌ঘাটন করে কমিটির কাছে প্রতিবেদন দাখিলে পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার সুপারিশ করা হয়েছে। রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র বিভাগ এ নিয়ে কী ভূমিকা পালন করেছে, তার মূল্যায়ন করতেই এই প্রতিবেদন তৈরি করে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। ৩৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে দেশটির একক ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যৌথ ভূমিকার বিষয়গুলো আলাদা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়। রোহিঙ্গা পরিস্থিতির মূল্যায়নে দ্রুত সরকারকে নিজস্ব তদন্তের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকাকে অপর্যাপ্ত আখ্যায়িত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপক হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হওয়ার দায় যুক্তরাজ্যেরও আছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চীনের হস্তক্ষেপে প্রস্তাব পাস না হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এতে বলা হয়, আঞ্চলিক মিত্র ও জোটের সঙ্গে মিলে যুক্তরাজ্যের উচিত সমাধান খোঁজা। প্রতিবেদনে বলা হয়, অবরোধ আরোপ যদিও কোনো উপযুক্ত পন্থা নয়; কিন্তু মিয়ানমারের কোনো সমালোচনা না করে একতরফা সম্পর্ক অব্যাহত রাখাটা যুক্তরাজ্যের জন্য সমীচীন নয়। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না ঘটলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ব্যবসার ওপর অবরোধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। রোহিঙ্গা নির্যাতনের পুরো দায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মিন অং হেইংয়ের ওপর বর্তায় বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। বেসামরিক সরকারের প্রধান স্টেট কাউন্সেলর অং সাং সু চির নীরবতা সমালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও দেশটির গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সু চির বিকল্প নেই, কিন্তু তিনি ইতিমধ্যে নিজেকে নীতিভ্রষ্ট হিসেবে প্রমাণ করেছেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে মানবিক উদাহরণ তৈরির জন্য বাংলাদেশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয় প্রতিবেদনে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে বলা হয়, বাস্তুহারা মানুষদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কাজটি বেশ চ্যালেঞ্জের। নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেওয়া হয় প্রতিবেদনে। এতে জাতিসংঘের আস্থা অর্জন ব্যতীত কোনো ‍চুক্তিতে সমর্থন না দিতে যুক্তরাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য স্থায়ী ক্যাম্প প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বাস্তবতার নিরিখে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এটা লোকগুলোকে আশাহীন ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেবে এবং উগ্রবাদে দীক্ষিত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলবে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তিন নারীর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন তিন নারী। এ ঘটনায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কংগ্রেসে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। আজ মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল সোমবার নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে জেসিকা লিডস, সাবেক মিস নর্থ ক্যারোলাইনা (২০০৬) সামান্থা হোলভে ও র‍্যাচেল ক্রুকস নামের ওই তিন নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জেসিকা, সামান্থা ও র‍্যাচেলের অভিযোগ, অপ্রত্যাশিতভাবে ট্রাম্প তাঁদের শরীরে হাত দিয়েছেন, জড়িয়ে ধরেছেন এবং জোর করে চুমু দিয়েছেন। এতে তাঁরা অপমানিত ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওই তিন নারীর অভিযোগ মিথ্যা। হলিউডের প্রযোজক হার্ভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর সারা বিশ্বে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির ঘটনাগুলো সামনে চলে আসছে। যেসব নারী ও পুরুষ যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ‘#মি টু’ দিয়ে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করছেন। এ পর্যন্ত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১৬ জন নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। সাবেক মিস নর্থ ক্যারোলাইনা (২০০৬) সামান্থা হোলভে বলেন, ২০০৬ সালে মিস নর্থ ক্যারোলাইনা প্রতিযোগিতার সময় ট্রাম্প তাঁর দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন।
তাঁর অশালীন ভঙ্গিতে তাকানো দেখে বিবৃত হয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেন, এভাবেই প্রতিদিন নারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে কংগ্রেসে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হবে। ৭০ বছর বয়সী জেসিকা লিডসের অভিযোগ, ৩৮ বছর বয়সে তিনি নিউইয়র্ক থেকে একটি ফ্লাইটের প্রথম শ্রেণির কেবিনে ট্রাম্পের পাশের আসনে বসেছিলেন। সেখানেই জোর করে ট্রাম্প তাঁকে যৌন নির্যাতন করেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প প্রকৃত অর্থে কী রকম ব্যক্তি তা আমি মানুষকে জানাতে চাই। তিনি কতটা বিকৃত মানসিকতার তাও মানুষের জানা দরকার।’ র‍্যাচেল ক্রুকসের অভিযোগ, তিনি ট্রাম্প টাওয়ারে একটি রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের অভ্যর্থনাকারীর চাকরি করতেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ২২ বছর। ২০০৫ সালে একদিন লিফটের বাইরে ট্রাম্প তাঁকে জোর করে জড়িয়ে ধরেন। এরপর তাঁর ঠোঁটে চুমু দেন। র‍্যাচেল বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। ভেঙে পড়েছিলাম।’ এ বিষয়ে গতকাল হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডারস বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নাসিরনগরে হামলায় আসামিদের অর্ধেক আ. লীগ-বিএনপির

ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা আট মামলার একটিতে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে ‍পুলিশ। পুলিশ বলছে, অভিযোগপত্রভুক্ত ২২৮ আসামির মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩০-৩৫ ও বিএনপির ৬০-৭০ জন নেতা-কর্মী রয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ফারজানা আহমেদের আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন জেলা জজ আদালতের পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান। হামলার ১৩ মাস পর গত রোববার বিকেলে মাহবুবুর রহমানের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শওকত হোসেন। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে পাঁচ কিশোরও রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। গত বছর ৩০ অক্টোবর প্রথম হামলা ও এরপর একাধিকবার হামলার ঘটনায় করা ৮ মামলায় প্রায় ৩ হাজার জনকে আসামি করা হয়। জেলা পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩০-৩৫ ও বিএনপির ৬০-৭০ জন নেতা-কর্মী রয়েছেন। নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগপত্রে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর ৬ জন নেতা, ১ কর্মী ও ২ সমর্থক এবং উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ১১ নেতার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আ.লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যাঁদের পরিচয় জানা গেছে
নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান (সাময়িক বরখাস্ত), নাসিরনগরের সদর ইউপি চেয়ারম্যান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের ভাগনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক আবুল হাসেম, হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি (বহিষ্কারের সুপারিশকৃত) ফারুক মিয়া, চাপরতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি (বহিষ্কারের সুপারিশকৃত) সুরুজ আলী, হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা রাশেদ চৌধুরী (পদবি জানা যায়নি) ও কর্মী সুহেল, উপজেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি শেখ আবদুল আহাদ, আওয়ামী লীগের সমর্থক আহাদ মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম।
বিএনপি নেতারা
নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও হরিপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. জামাল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাসির উদ্দিন, সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারজান, হরিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বিল্লাল হোসেন, হরিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মাহবুব, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জামাল (পদবি জানা যায়নি) ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইকবাল, কুণ্ডা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. পাভেল, গোকর্ণ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. মনু মিয়া (পদবি জানা যায়নি)।

রাহুল কি পারবেন কংগ্রেসের ভাগ্য বদলে দিতে?

ভারতে কংগ্রেস পার্টির নতুন নেতা হয়েছেন রাহুল গান্ধী। এমন এক সময় তিনি ১৩২ বছরের পুরোনো এই দলের কান্ডারি হলেন - যখন দলটি ভারতের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকার জন্য লড়াই করছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কংগ্রেস সভাপতির পদে হলেন রাহুল গান্ধী। সোমবার এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দায়িত্ব নেবেন ১৬ই ডিসেম্বর। বিবিসির ভারত সংবাদদাতা স্যৌতিক বিশ্বাস লিখছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে - যেবার নরেন্দ্র মোদির বিজেপি ক্ষমতায় আসে - সেবার কংগ্রেস জনগণের ভোটের মাত্র ২০ শতাংশ পেয়েছিল।
শুধু তাই নয় লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মাত্র ৮ শতাংশ বা ৪৪টি আসন পেয়েছিল দলটি। রাজ্য স্তরে ভারতে বর্তমানে মাত্র দুটি বড় রাজ্য পাঞ্জাব ও কর্ণাটকে কংগ্রেস ক্ষমতাসীন আছে। ২০১৪ সালের পর তারা ৬টি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে হেরেছে। কোন রাজ্যে একবার হারলে তারা আর সেখানে ফিরে আসতে পারছে না - এটাও দেখা গেছে, যেমন পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে। গুজরাট আর হিমাচল প্রদেশের নির্বাচনে তাদের সম্ভাবনাকে ‘মিশ্র’ বলেই মনে করা হয়। গত দুটি নির্বা্চনে দেখা গেছে শহর ও গ্রাম - উভয় এলাকার ভোটাররাই কংগ্রেসকে ত্যাগ করেছে। বিভিন্ন বর্ণগত সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে তাদের সমর্থন কমেছে। তাই এখন প্রশ্ন হলো রাহুল গান্ধী কি কংগ্রেসের এই দুর্দশার অবসান ঘটাতে পারবেন? গান্ধী পরিবারের পঞ্চম প্রজন্মের এই রাহুল গান্ধীকে অনেকেই মনে করেন একজন ‘অনিচ্ছুক’ রাজনীতিবিদ বলে। তার মা সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস নেত্রী হয়ে চেষ্টা করেও দলের মোড় ফেরাতে পারেননি। তবে রাহুল গান্ধী যখন সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান - সেসময় কিছু একটা ঘটেছিল, তার সফর বেশ ভালোভাবে গৃহীত হয়েছিল বিভিন্ন মহলে। সামাজিক মাধ্যমেও তার প্রচারণা শেষ পর্যন্ত একটা শক্তি অর্জন করেছে। তার মন খুলে কথা বলা, রসবোধ, - এগুলো একটা ভালো ভাবমূর্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে গুজরাটের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেখা গেছে যে তিনি তার কোন্দল-প্রবণ দলের নেতাদের উজ্জীবিত করতে পেরেছেন। বেকারত্ব, অসহিষ্ণুতা, অর্থনীতি, নোট বাতিল করা, নরেন্দ্র মোদি সরকারের অ-বাস্তবায়িত প্রতিশ্রুতি - এগুলোর ব্যাপারে তার স্পষ্ট কথাবার্তা ভোটাররা পছন্দ করেছেন। এতে তার দরও কিছুটা উজ্জীবিত হয়েছে বলে মনে হয়, কিন্তু নির্বাচিত হতে হলে তাকে আরো অনেক বেশি রাজনৈতিক দক্ষতা দেখাতে হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক আগেই কংগ্রেস ভারতের রাজনীতির খেই হারিযে ফেলেছিল। ভারত যে এক-দল প্রধান রাজনীতি থেকে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক বহু-দলীয় রাজনীতির দিকে যাচ্ছে - কংগ্রেস তা বুঝে তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলোও তাদের ক্ষতি করেছে। অনেকের মত হলো, রাহুল গান্ধীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে - তার দলের পরিবারতন্ত্রের ঐতিহাসিক বোঝা তিনি কিভাবে বহন করবেন। নরেন্দ্র মোদি তার সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসাকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়েছেন।
কিন্তু রাহুল একবার আমেরিকায় এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ভারত এভাবেই চলে। এক অর্থে রাহুল গান্ধী হয়তো ঠিকই বলেছেন। ভারতে আঞ্চলিক দলগুলোতেও পরিবারতান্ত্রিক নেতৃত্ব দেখা যায়। বিজেপিও এর থেকে মুক্ত নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলেন, ভারতীয় ভোটাররা এ ক্ষেত্রে খুব একটা বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন না। গত সাধারণ নির্বাচনের সময় দেখা গেছে, ভারতের হিন্দু ভোটারদের মাত্র ১৬ শতাংশ পেয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের ভোটারদের প্রতি ১০ জনের ৬ জন ছিল হয় মুসলিম, নয় উপজাতীয়, শিখ বা খ্রিষ্টান। বিজেপির ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ১০ জনে মাত্র তিন জন। একজন বিশ্লেষক বলেন, রাহুল গান্ধীর চ্যালেঞ্জ হলো বিজেপির মতো হিন্দুত্ববাদের কপি না হয়েও হিন্দুদের ভোট টানার ক্ষমতা অর্জন করা। হিন্দুদের বিচ্ছিন্ন না করেও হিন্দু-জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা করা। হয়তো তার সেরা কৌশল হবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা - যখন নরেন্দ্র মোদিও কংগ্রেস যে ভুল করেছিল ঠিক সেই ভুলগুলো করতে শুরু করবেন। স্পষ্টতই, রাহুল গান্ধীর সামনে অনেক কঠিন সময় পড়ে রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি

গাজায় আবারো ইসরাইলের ট্যাঙ্ক ও বিমান হামলা

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা গাজা উপত্যকার হামাসের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে ট্যাঙ্ক ও বিমান হামলা চালিয়েছে। সোমবার ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনীদের রকেট হামলার পর তারা পাল্টা এ হামলা চালায়। সামরিক বাহিনী জানায়, গাজা উপত্যকা থেকে কমপক্ষে দুটি রকেট ছোড়া হয় এবং এর দ্বিতীয়টি ইসরাইলের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করে। প্রথম দফা রকেট হামলার পর সামরিক বাহিনী বিবৃতি জারি করে এর জবাব দেয়ার কথা জানায়। এরপরই গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের সামরিক চৌকিগুলো লক্ষ্য করে ইসরাইলি বাহিনী ট্যাঙ্ক ও বিমান হামলা চালায়। প্রথম দফার রকেট হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা সেব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। গাজা থেকেও ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুসালেমকে স্বীকৃতি দিয়ে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবৃতির পর এটি ছিলো সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পরিণতি মারাত্মক হতে পারে
জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতি এমুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘটনা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ফিলিস্তিনে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং শেষ হয়ে যেতে পারে মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়া। জেরুসালেম নিয়ে কেন এই বিতর্ক এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মূল সমস্যা কোথায়?
ফিলিস্তিন ও ইসরাইল উভয় রাষ্ট্রই জেরুসালেমকে তাদের নিজ নিজ রাজধানী ও পবিত্র নগরী মনে করে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হলেও শহরটি বর্তমানে ইসরাইলের দখলে। এই সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন শান্তিচুক্তি। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকেই নগরীটির মর্যাদা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। এই যুদ্ধের আগে জেরুসালেমকে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক এলাকা ঘোষণা করেছিল জাতিসঙ্ঘ; কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা না করে যুদ্ধে ইসরাইল নগরীর পশ্চিম অর্ধেক দখল করে নেয়। আর ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে দখল করে নেয় বাকি অর্ধেক। বেশির ভাগ মানুষেরই প্রত্যাশা ছিল, একটি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম জেরুসালেম ইসরাইলকে ও পূর্ব জেরুসালেম ফিলিস্তিনকে দেয়া হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই জেরুসালেমকে একটি সঙ্কট হিসেবে দেখেছে এবং এর সমাধানের জন্য ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের জনগণকে তাগিদ দিয়েছে। দেশটি সব সময় নিজেদের এই সঙ্কটের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করত। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করেছেন ট্রাম্প। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, জেরুসালেমের যেকোনো অংশে রাজধানী স্থাপন করতে রাজি নয় ইসরাইল। তারা চায় পুরোটা। ১৯৮০ সালে ইসরাইল জেরুসালেমকে তাদের চিরন্তন রাজধানী ঘোষণা করে আর তখনই মূলত পূর্ব জেরুসালেমের দখলকে আনুষ্ঠানিকতায় রূপ দেয় দখলদার ইহুদি দেশটি। ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন সেটিই শুধু নয়, তিনি ইসরাইলের এই অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করতে এবং জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হওয়া উচিত, এই সত্য কথাটুকু বলতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। এর অর্থ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইসরাইলের দখলদারিত্বকেই সমর্থন দিচ্ছে, তাই এই সিদ্ধান্ত যেকোনো সম্ভাব্য শান্তি প্রক্রিয়ার মৃত্যু ঘটাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষপাতিত্ব
যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরেই ইসরাইল-ফিলিস্তিন সঙ্কটের প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রেখেছে। উভয় দলের আস্থা অর্জন ও তাদের আলোচনার টেবিলে রাখার জন্য মধ্যস্থতাকারীর নিরপেক্ষতা খুবই জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকেরাও তাদের এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার প্রধান নীতি হিসেবে নিরপেক্ষতাকে সব সময়ই ধারণ করতে চান, তাই ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে তারা মনে করেন হুঁশিয়ারি সঙ্কেত হিসেবে। তবে নিরপেক্ষতার সেই নীতি বিতর্কিত হয়েছে গত শতাব্দীর আশির দশক থেকে। এটি আরো জোরদার হয়েছে খ্রিষ্টধর্মীয় বিষয়গুলো যখন রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারকেরা সরাসরি মার্কিন ইহুদিদের সাথে সুর মিলিয়েছেন, আর অন্যরা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এই ঘটনায় ইসরাইলকে সমর্থন করা। এই শতাব্দীর শুরুর দিকে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার পর থেকে এই অবস্থান আরো জোরদার হয়েছে। এই বিতর্ক সব সময়ই জোরালো হয়েছে জেরুসালেম বিষয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থীরাও তেলআবিব থেকে জেরুসালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের অঙ্গীকার করে আসছেন। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর অতীতে কেউ এটি বাস্তবায়ন করেননি। তাদের যুক্তি ছিল, শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা সৃষ্টি করা। কিন্তু ট্রাম্প কোনো রাখঢাক ছাড়াই সরাসরি ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নিলেন। পরবর্তী পরিণতি
ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে বিক্ষোভ, যা প্রায়ই রূপ নিচ্ছে সহিংসতায়। ফিলিস্তিনিদের বক্তব্য হলো ইসরাইলকে বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও দখল করতে দেবো না। আর সমগ্র আরব বিশ্বের প্রসঙ্গে বলা যায়- এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত কোনো বন্ধু নয়। আরবরা এখনো মনে করেন মিথ্যা অজুহাতে ইরাকে মানুষ হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে এই মার্কিন-ইসরাইলি ষড়যন্ত্রের পর আরব শাসকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতার নীতি বজায় রাখা কঠিন হবে। ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে গুরুত্ব না দিলেও নিজ দেশের নাগরিকদের ক্ষোভের বিষয়টি তাদের অবশ্যই চিন্তার কারণ হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, আরব বিশ্ব যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, তবে তারা অনেক বেশি সাবধানী হবে সহযোগিতার ক্ষেত্রে। এর ফলে ফিলিস্তিনি শান্তি আলোচনায় আমেরিকার নিরপেক্ষতার গুরুত্ব হারিয়েছে চিরতরে।-  নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ

বিচারকদের আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ

সরকার নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি ও আচরণবিধির গেজেট আজ সোমবার প্রকাশ করেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মো. রেজাউল করিম আজ জানান, আপিল বিভাগে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত সময়ের দু’দিন আগে এই গেজেট জারি করা হলো। তিনি বলেন, আজ এ সংক্রান্ত একটি গেজেট জারি করা হয়েছে এবং এটি প্রকাশের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। গেজেটটি খুব শিগগির প্রকাশ করা হবে বলে আমরা আশা করছি। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ১০ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতের আচরণ বিধি চূড়ান্ত ও গেজেট প্রকাশের জন্য রাষ্ট্রকে আরো তিন দিনের সময় দেয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট গেজেট প্রকাশের জন্য ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রকে সময় বেধে দিয়েছিল। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এ সংক্রান্ত এটি মন্তব্যের পরই এই আদেশ জারি হলো। মন্ত্রী বলেছিলেন, আচরণ বিধির খসড়াটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগির এটি প্রকাশ করা হবে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এই গেজেট প্রকাশ করা নিয়ে খুবই আগ্রহী ছিলেন। তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর অষ্ট্রেলিয়া যান। অবশ্য পরে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠান। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নিম্ন আদালতের এই আচর বিধি বিচার বিভাগে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ফলে গেজেট প্রকাশের পর যাতে এটির ব্যাপারে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে না পারে, সেজন্য আমরা শেষ বারের মতো এটি যাচাই বাছাই করেছি। সূত্র: বাসস

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবসে চুয়েটে র‌্যালি

জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবসে বর্ণাঢ্য র‌্যালি করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)।

মঙ্গলবার  সকাল সাড়ে ১০টায় র‌্যালিটি নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর ও প্রধান ফটক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দেশের প্রথম আইসিটি বিজনেস ইনকিউবেটরের জন্য নির্ধারিত সাইটে গিয়ে শেষ হয় র‌্যালি।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রণজিৎ কুমার সূত্রধর, পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহমান ভূঁইয়া, যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র বনিক, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মশিউল হক, পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মইনুল ইসলাম, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন, রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. এএইচ রাশেদুল হোসেন, গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইয়াকুব আলী, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার পালিত, শহীদ তারেক হুদা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রশীদ এবং শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের প্রভোস্ট ড. মো. কামরুল হাছানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী অংশ নেন।

কখন '৯৯৯'-এ কল করবেন


ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পুলিশি সেবার জন্য '৯৯৯' নম্বর ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জান খাঁন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন ও আইজি এ কে এম শহীদুল হক।

কখন '৯৯৯'-এ কল করবেন

যখন কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে দেখবেন, প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখা দিলে, কোনো হতাহতের ঘটনা চোখে পড়লে, আপনার কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে, কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে এবং যখন আপনার অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হবে।

মোবাইলে টাকা না থাকলেও '৯৯৯'-এ কল করা যাবে। সাহায্যের আবেদনকারীকে একই প্রশ্নের উত্তর একাধিকবার দেয়া লাগতে পারে। '৯৯৯' থেকে কল ট্রান্সফার হয়ে পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিস বা হাসপাতালে পাঠানো হলে এমনটা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ধৈর্য্যের সঙ্গে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং দ্রুত সেবার জন্য সঠিক অবস্থানের বিষয়টি জানাতে হবে।


বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে: কাদের



সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনে না আসার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক অস্তিত্ব ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে না চাইলে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে। এটাকে তারা পাশ কাটিয়ে যেতে পারে না। তাহলে তারা আরও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। 

মঙ্গলবার সকালে যশোর-খুলনা মহাসড়ক পরিদর্শন শেষে যশোরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা বারবার বলেছি, নির্বাচনে বিএনপি আসুক; নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হোক। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন কোনো নির্বাচন আমরা করতে চাইনি। কিন্তু বিএনপি আমাদের একটা পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল। আসবো আসবো করে বিএনপি ৫জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে একটা প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। 

কিন্তু আইনগতভাবে নির্বাচন কারো জন্যে থেমে থাকে না। নির্বাচনের ট্রেন চলবেই।
গণতন্ত্রের যাত্রা ব্যাহত হওয়ার সুযোগ নেই। আর বিএনপি না আসলে নির্বাচন তো বন্ধ থাকতে পারে না। বিএনপি নির্বাচনে না আসলে গণতন্ত্রের কী দোষ!

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারসহ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ। বক্তব্য শেষে মন্ত্রী সড়ক পথে সাতক্ষীরার দলীয় সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি ও জনসভায় যোগদানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। 

ইসরাইলের আহ্বান নাকচ ইইউর

পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুসালেম শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকাকে অনুসরণ করার জন্য যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি। সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসলেসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি আরো বলেছেন, বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ঐকমত্যকেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন মেনে চলবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নেতানিয়াহু প্যারিস থেকে ব্রাসেলসে গেছেন। ২২ বছরের মধ্যে এটা ইসরাইলের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়ন সফর। গত বুধবার বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। কিন্তু ইউরোপের বহু দেশ এর বিরোধিতা করেছে। এমনকি ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ চেক প্রজাতন্ত্র বলেছে, ট্রাম্পের পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য খারাপ। তবে নেতানিয়াহু অনেকটা পীড়াপীড়ি করে বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ কিংবা বেশিরভাগ দেশ জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে এবং তেল আবিব থেকে তাদের দূতাবাস সরিয়ে জেরুসালেমে নেবে।’
নেতানিয়াহুর ক্ষোভ
ইহুদিবাদী ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইউরোপ সফর করার আগে ইউরোপীয় দেশগুলোর দ্বৈত ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেরুজালেম খ্যাত বায়তুল মোকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করেছেন। ওই ঘোষণার ব্যাপারে ইউরোপ একপেশে অবস্থান নিয়েছে। নেতানিয়াহু বলেছেন ইউরোপ অবশ্যই সম্মান পাবার যোগ্য কিন্তু তাদের দ্বৈত ভূমিকা গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষেদে দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি খসড়া প্রস্তাবেও ইউরোপীয় দেশগুলো সমর্থন দিয়েছে। ওই প্রস্তাবগুলোতে জেরুসালেমকে ‘অধিকৃত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণেও নেতানিয়াহু ইউরোপের প্রতি ক্ষুব্ধ। অবশ্য ইসরাইলের সঙ্গে আরও বহু বিষয়েও ইউরোপের দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা কিংবা এই শহরে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করাই আসল কারণ নয়। বিগত দুই দশক ধরেই ধীরে ধীরে ইসরাইলের ব্যাপারে ইউরোপের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। ইউরোপীয় সরকারগুলো এখনও দাবি করছে তারাই ইসরাইলকে টিকিয়ে রেখেছে। তবে বুদ্ধিজীবী মহলে এবং ইউরোপের যুবকদের মাঝে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সমালোচনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কারণ অনেক। যেমন ইউরোপের মধ্যবয়সীদের বিপরীতে যুবকরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদি গণহত্যাকে অন্যায় মনে করছে না।
তাছাড়া বর্তমান ইসরাইলি সরকারের পাশবিক আচরণও ইউরোপীয় তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাব ফেলেছে। ইসরাইলি অবরোধের কারণে অন্তত ১৫ লাখ গাজাবাসী কার্যত বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারাগারে বসবাস করছে। আন্তর্জাতিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে ইসরাইলিরা ফিলিস্তিনীদের ভূখণ্ড জবরদখল করে সেখানে ইহুদি উপশহর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গণমাধ্যমসহ সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে ইউরোপের তরুণরা এখন ফিলিস্তিনীদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারছে। এখন আর আগের মতো সত্য লুকিয়ে রাখার সুযোগ নেই। ইউরোপের বুদ্ধিজীবী শ্রেণী, ভার্সিটির ছাত্র এবং তরুণরা যুক্তি খুঁজে পায় না- কেন ইসরাইলি সেনারা ফিলিস্তিনীদের ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে অথচ পাথর ছোঁড়ার কারণে ফিলিস্তিনী যুবকদেরকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব কারণেই ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে ইউরোপের তরুণদের মাঝে প্রতিবাদ বিক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুদস শরিফকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার মার্কিন ঘোষণায় ইউরোপে তাই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নিউইয়র্কে হামলাকারী বাংলাদেশী অভিবাসী!

আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ততম বাস স্টেশনে ঘটা এক বিস্ফোরণকে 'সন্ত্রাসী আক্রমণের চেষ্টা' বলে বর্ণনা করেছেন শহরটির মেয়র বিল দা ব্লাসিও। বিস্ফোরণের পর আহত অবস্থায় আকায়েদ উল্লাহ নামে গায়ে বোমা-বাঁধা এক যুবককে আটক করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম তাকে 'বাংলাদেশী অভিবাসী' বলে উল্লেখ করছে। টার্মিনালে সকালের ভিড়ের মধ্যে এক যুবক তার গায়ে-বাঁধা একটি 'নিম্নস্তরের-প্রযুক্তিতে' তৈরি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণে আক্রমণকারীসহ চারজন আহত হয়। সন্দেহভাজন এই ২৭ বছর বয়স্ক যুবকের নাম আকায়েদ উল্লাহ বলে পুলিশ বলছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ একাধিক মার্কিন সংবাদ মাধ্যম পুলিশকে উদ্ধৃত করে বলছে, আকায়েদউল্লাহ একজন বাংলাদেশী অভিবাসী এবং ব্রুকলিন এলাকার বাসিন্দা। নিউইয়র্ক থেকে একজন সাংবাদিক লাভলু আনসার বিবিসি বাংলাকে জানান, আকায়েদ উল্লাহ ব্রকলিনের ফ্ল্যাটল্যান্ডস এলাকার থাকতো । তার বাড়িটি এখন ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। আকায়েদ উল্লাহ একটি বৈদ্যুতিক সামগ্রীর দোকানে কাজ করতেন এবং সেখানেই বোমাটি তৈরি করা হয় বলে জানা গেছে। এএফপির খবরে বলা হয়, আকায়েদ পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি ইসলাসিক স্টেটের ওপর মার্কিন বিমান হামলার প্রতিশোধ নিয়েত চেয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কথিত সন্দেহভাজন লোকটি মাটিতে পড়ে আছে, তার কাপড়চোপড় ছেঁড়া এবং শরীরের ওপরের অংশ ক্ষতবিক্ষত। সংবাদ মাধ্যমে বলা হয় - এই ব্যক্তি হয়তো একটি আত্মঘাতী হামলা চালাতে চেয়েছিল । তার দেহে পাইপবোমা এবং তার বাঁধা ছিল। পাইপ বোমাটি আংশিকভাবে বিস্ফোরিত হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। মেয়র দা ব্লাসিও বলেছেন, এটিকে মাত্র একজন আক্রমণকারীর কাজ বলেই তারা মনে করছেন। সন্ত্রাস দমন পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর লোকেরা শত শত লোককে বাস টার্মিনাল এবং তার নিচের পাতাল রেল স্টেশন থেকে বের করে নিয়ে আসে। ঘটনার পর টার্মিনালটি এবং টাইমস স্কোয়ার সাবওয়ে স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার কথা ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে।

মিয়ানমার সেনারা পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ করেছে রোহিঙ্গা নারীদের

রোহিঙ্গা নারীদের মিয়ানমারের সেনারা নির্বিচারে ও পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ করত। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ধর্ষণের শিকার ২৯ রোহিঙ্গা নারীর সাক্ষাৎকারের পর এক রিপোর্টে এ কথা জানিয়েছে। মিয়ানমারের সেনাদের নিপীড়নের শিকার এসব রোহিঙ্গা নারী বেশ কয়েকটি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। পৃথকভাবে তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এপির সাংবাদিক। এসব নারী তাদের নাম জানিয়েছেন এপির কাছে। তবে নিজের অথবা স্বজনদের প্রাণনাশের আশঙ্কা থেকে তারা কেবল নামের আদ্যাক্ষর প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে। এদের প্রত্যেকের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে মধ্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার এসব নারী রাখাইন রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা। এসব নারীর প্রত্যেকের গল্পের ধরন প্রায় একই। এদের ধর্ষকদের প্রত্যেকেই সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত ছিল। এদের অনেকের পোশাকে তারকা ব্যাজ ছিল, আবার কারো পোশাকে তীরের ব্যাজ ছিল। এর মানে হচ্ছে এসব ধর্ষক মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্য। এর আগে জাতিসঙ্ঘ অভিযোগ করেছিল, রোহিঙ্গাদের নির্মূল করতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ধর্ষণকে ‘সন্ত্রাসের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে। বার্তা সংস্থা এপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। অবশ্য গত মাসে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্ত রিপোর্টে দাবি করেছিল রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। গত সেপ্টেম্বরে মিয়ানমার সরকারের আমন্ত্রণে রাখাইন সফরে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাখাইনের সীমান্ত কল্যাণমন্ত্রী ফোন টিন্ট বলেন, এই নারীরা দাবি করছেনÑ তারা ধর্ষিত হয়েছেন; কিন্তু তাদের শরীরের দিকে তাকান। আপনি কি মনে করেন, ধর্ষিত হওয়ার মতো তাদের শারীরিক আকর্ষণ আছে? চিকিৎসক ও দাতব্য কর্মীরা বলছেন, ধর্ষণের শিকার নারীদের যে চিত্র তারা পেয়েছেন তাতে বিস্মিত। ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুদের খুব কমসংখ্যকই চিকিৎসার জন্য আসছেন। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা মেডিসিনস স্যানস ফ্রন্টিয়ারসের চিকিৎসকেরা আগস্টের পর থেকে কক্সবাজারে ১১৩ জনকে যৌন সহিংসতার চিকিৎসা দিয়েছেন, যাদের এক-তৃতীয়াংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। তবে সবচেয়ে কম বয়সী ধর্ষণের শিকার শিশুর বয়স ৯ বছর। বিশ্বে সবচেয়ে বঞ্চিত ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠী হিসেবে রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করেছে জাতিসঙ্ঘ। দেশটিতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নেই, নেই কোনো মৌলিক অধিকার। বাংলাদেশের কক্সবাজারের তৃণভূমিতে জীর্ণশীর্ণ শিবিরে বর্তমানে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। ‘এফ’ আদ্যাক্ষরের এক নারী জানিয়েছেন, এক মাস আগে তার বিয়ে হয়েছিল।
তার স্বামীর বাড়িতে হামলার আগের দিন তিনি জানতে পারেন সেনারা তার বাবা-মাকে হত্যা করেছে ও ভাইয়েরা নিখোঁজ রয়েছে। ওই রাতে সাত সেনা তার স্বামীর ঘরে হামলা চালায়। তারা ওই নারীর স্বামীকে বেঁধে ফেলে এবং মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে দেয়। সেনারা যখন তাকে ধর্ষণ করছিল তার স্বামী মুখের বাঁধন আলগা করে চিৎকার করতে শুরু করলে তার বুকে গুলি করে এক সেনা। এ সময় আরেক সেনা তার স্বামীর জিহ্বা কেটে দেয়। সাত সেনা ধর্ষণের পর তাকে ঘরের বাইরে ফেলে রেখে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ওই নারী এক প্রতিবেশী মহিলার বাড়িতে আশ্রয় নেন। তিন মাস পর পাঁচ সেনা ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে প্রতিবেশীর সন্তান ও তার স্বামীকে হত্যা করে। এ সময় তারা ওই প্রতিবেশী মহিলা ও তাকে ধর্ষণ করে চলে যায়। ধর্ষণ ও হামলার ব্যাপারে অন্য নারীদের দেয়া তথ্যও বর্ণনার সাথে এফের বর্ণনা প্রায় একই। কয়েক জন বলেছেন, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা গ্রাম ঘিরে ফেলে, পুরুষদের থেকে নারীদের আলাদা করে। পরে অন্য কোনো স্থানে নিয়ে গণধর্ষণ করে নারীদের। এই নারীরা বলছেন, তাদের চোখের সামনেই স্বামীকে পিটিয়ে ও গুলি করে এবং সন্তানদের গলা কেটে হত্যা করতে দেখেছেন। রাতের আঁধারে প্রিয়জনদের মাটিচাপা দিয়েছেন, এমনকি অনেকের লাশ সেখানে ফেলে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তারা ধর্ষণের নিদারুণ ব্যথার কথা বলছেন, রক্তপাত নিয়েই বাংলাদেশে এসেছেন দীর্ঘ পথ পায়ে মাড়িয়ে। ধর্ষণ থেকে বেঁচে এসেছেন রোহিঙ্গা নারী ‘এন’। তবে তার স্বামী, দেশ ও শান্তি বলে কোনো কিছুই নেই এখন। তার করারও কিছু নেই। তবে তার আশা, তাদের দুর্দশার কথা হয়তো কেউ শুনবেন। ‘আমার আর কিছুই নেই। এখন বলা ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই।’ সেনা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এফের কাছে সন্ধ্যার পর এলেও ‘কে’র কাছে এসেছে দিনের আলোতে। তিনি বলেন, এটা ছিল আগস্টের শেষের দিকের ঘটনা। উত্তর রাখাইনে নিরাপত্তাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পরের ঘটনা। নিরাপত্তাবাহিনী রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার জবাব দিয়েছে নৃশংস উপায়ে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, রাখাইনে শত শত রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে অগ্নিসংযোগ করে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা

নিউইয়র্কে হামলা : বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তা

অ্যামেরিকার নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ততম বাস টার্মিনালে ‘সন্ত্রাসী আক্রমণের চেষ্টা’র অভিযোগে পুলিশ একজনকে আটক করেছে। আটক হবার সময় আহত ঐ ব্যক্তিকে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ‘বাংলাদেশী অভিবাসী’ বলে উল্লেখ করেছে। শহরটির মেয়র বিল দা ব্লাসিও বলেছেন, সন্ত্রাসীরা কিছুতেই জয়ী হবে না। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর শরীরে ‘নিম্ন-প্রযুক্তি’র একটি বোমা বাধা অবস্থায় আকায়েদ উল্লাহ নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ একাধিক মার্কিন সংবাদ মাধ্যম পুলিশকে উদ্ধৃত করে বলছে, আকায়েদউল্লাহ একজন বাংলাদেশী অভিবাসী এবং ব্রুকলিন এলাকার বাসিন্দা। এরপর থেকে সেখানকার বাংলাদেশী কম্যুনিটির মধ্যে উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়ে। নিউইয়র্কে দীর্ঘদিন ধরে একটি তথ্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালাচ্ছেন এবং কমিউনিটিতে প্রভাবশালী ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ বলছিলেন, স্বাভাবিকভাবে পুরো কম্যুনিটির মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। যেসব জায়গায় বাংলাদেশীদের বেশি আনাগোনা, বিস্ফোরণের পর সেটি একেবারেই কমে গেছে। এমনকি যাদের বৈধ কাগজপত্র আছে এবং নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারা ভয় পাচ্ছে। যারা অবৈধ আনডকুমেন্টেড কিন্তু কাগজপত্রের জন্য অ্যাপ্লাই করেছে, তারা সবাই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন। সবার আশংকা তাদের বৈধতার কাগজপত্র তৈরির পথে এ ঘটনার প্রভাব পড়তে পারে। মি. হানিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী নীতির মধ্যে এ ধরণের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করে। বাংলাদেশী কম্যুনিটির সকলেই একবাক্যে বলছেন, হামলাকারী ‘বাংলাদেশী অভিবাসী’ হলেও সে কিছুতেই বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে না। তার শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন কম্যুনিটির নেতৃবৃন্দ। মি. হানিফ বলেছেন, ২০১৩ সালে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে হামলা চালিয়েছিল ২১ বছর বয়েসী একজন অভিবাসী বাংলাদেশী।
তখনো সেখানকার বাংলাদেশীদের উদ্বেগে দিন পার করতে হয়েছে। এর আগে নিউইয়র্ক থেকে সাংবাদিক লাভলু আনসার বিবিসি বাংলাকে জানান, আকায়েদ উল্লাহ ব্রকলিনের ফ্ল্যাটল্যান্ডস এলাকার থাকতো। তার বাড়িটি এখন ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। আকায়েদ উল্লাহ একটি বৈদ্যুতিক সামগ্রীর দোকানে কাজ করতো এবং সেখানেই বোমাটি তৈরি করা হয় বলে জানা গেছে। মি. হানিফ মনে করেন, নিউ ইয়র্কে এখন অভিবাসী বাংলাদেশীদের বেশিরভাগই দ্বিতীয় প্রজন্মের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। ফলে অভিভাবকদের সন্তানদের বেশি করে সময় দেয়া প্রয়োজন, যাতে তারা কি করছে, সে সম্পর্কে তারা যথেষ্ঠ ওয়াকিবহাল থাকেন। সন্তানেরা কি করছে, কাদের সঙ্গে ওঠাবসা করছে, ড্রাগ নিচ্ছে কিনা, সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কিনা এগুলো খেয়াল রাখতে হবে মা-বাবাদের। তিনি বলছেন, সন্ত্রাসী হামলার মতো ঘটনায় সম্পৃক্ত হয়ে পড়ার আগে দেখা যায় পাঁচ ছয় মাস ঐসব ছেলেদের কোনো খবর থাকে না। ঐ সময় হয়তো তাদের ‘মগজ-ধোলাই’ হয়। ফলে এসব ব্যপারে সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের। সোমবার বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় লোকজনের ছুটোছুটি-হুড়োহুড়ি শুরু হয়। ঘটনার পর টার্মিনালটি এবং টাইমস স্কোয়ার সাবওয়ে স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সরকারি স্কুলে ভর্তির বয়স নিয়ে বিপত্তি

কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এবার স্কুলে বয়স নির্ধারণ করে ভর্তি নীতিমালা-২০১৭ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতি বছর প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির বয়সসীমা নির্ধারণ করা থাকে। এবার দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীর বয়সের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০১০ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স ৬ + হতে হবে। সে হিসাবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণী ভর্তির বয়স নির্ধারিত হবে। ভর্তির বয়সের ঊর্ধ্বসীমা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় নির্ধারণ করবে। শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণের জন্য ভর্তির আবেদন ফরমের সাথে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।’ নীতিমালার এ নির্দেশনা নিয়ে বিপাকে পড়েছে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণীতে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। আগামী জানুয়ারি মাসে ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে সরকারি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ হবে ১১+ বছর। অন্য দিকে পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক সমাপনীতে অংশ নেয়া শিশুদের বয়স ১০+ বছর। এ নিয়ে অষ্টম শ্রেণীর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরাও সমস্যায় পড়েছে। এ অবস্থায় সন্তানের ভর্তি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন লাখ লাখ অভিভাবক। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকেরা প্রশ্ন তুলেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে। এ নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা চেয়ে চিঠি দিয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে সরকারি স্কুলের মাধ্যমিক শ্রেণীতে ভর্তির জন্য মধ্যবিত্ত অভিভাবকেরাই বেশি আগ্রহী থাকেন। এখানে শিক্ষা ব্যয় তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এ কারণেই অনেক অভিভাবকের প্রথম পছন্দ সরকারি স্কুল। এ ছাড়া জেলাপর্যায়ের সরকারি স্কুলের আলাদা একটা গুরুত্ব রয়েছে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের কাছে। অভিভাবকেরা বলছেন, এ বছর হঠাৎ করেই ভর্তির বয়সসীমা এক বছর বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য বয়স ন্যূনতম ছয় বছর (লটারি), তৃতীয় শ্রেণীর জন্য আট বছর এবং ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য ১১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবে তৃতীয় ও ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি ইচ্ছুক ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থীর বয়স যথাক্রমে ৭ এবং ১০ বছরের বেশি; কিন্তু ৮ ও ১১ বছরের কম। অন্যান্য বছর ৭+ এবং ১০+ বছরের শিক্ষার্থীরাই এ দু’টি শ্রেণীতে ভর্তি হতো। তারা বলেন, হঠাৎ বয়স বাড়ানোর এ সিদ্ধান্তে বেশি অসুবিধায় পড়েছে পঞ্চম শ্রেণীতে সমাপনী দেয়া শিক্ষার্থীরা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) উপপরিচালক (মাধ্যমিক) মো: মোস্তফা কামাল বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য শ্রেণীতে ভর্তির জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। নির্দেশনা পাওয়া গেলে সংশোধনী জানিয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, অন্যান্য শ্রেণীতে ভর্তির জন্য আগের নিয়ম বিদ্যমান থাকবে। গত ১ ডিসেম্বর থেকে দেশের সরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজধানীর ৩৫টি সরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণীতে ভর্তি করা হবে। অনলাইনে আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ল্যাবরেটরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, শেরেবাংলা নগর গভর্নমেন্ট বয়েজ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, মতিঝিল গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শেরেবাংলা নগর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। গতবারের মতো ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা মহানগরের সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলোকে ‘এ’ ‘বি’ ও ‘সি’ এ তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৩টি, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ১২টি ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ১২টি স্কুল রয়েছে। লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করা হবে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর লটারি অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে। ‘এ’ ক্যাটাগরির ভর্তি পরীক্ষা ১৯ ডিসেম্বর, ‘বি’ ক্যাটাগরির ২০ ডিসেম্বর এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সব পরীক্ষার ফল ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হবে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু হবে।
‘এ’ গ্র“পের স্কুল হচ্ছে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, তেজগাঁও সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, নিউ গভর্নমেন্ট গার্লস হাইস্কুল, নবাবপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ইসলামিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ধানমন্ডি কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, রূপনগর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরখান সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শেখ জামাল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় (ফিডার শাখা)। ‘বি’ গ্র“পের স্কুলগুলো হচ্ছে- মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, নারিন্দা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, গভর্নমেন্ট মুসলিম হাইস্কুল, বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত হাইস্কুল, ধানমন্ডি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, হাজী এম এ গফুর সরকারি মাধ্যমিক স্কুল, বঙ্গমাতা শেখ ফাজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জুরাইন শেখ কামাল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, দারুস সালাম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল (ফিডার শাখা)। ‘সি’ গ্র“পের স্কুলগুলো হচ্ছে- ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল, আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, টিকাটুলী কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল ও গণভবন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, মিরপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, শহীদ শেখ রাসেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ভাসানটেক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট সরকারি মাধ্যমিক স্কুল, খিলগাঁও সরকারি উচ্চবিদ্যালয় (ফিডার শাখা)।

অবশেষে মারা গেল মহম্মদপুরের সেই আলেচিত ‘বৃদ্ধ শিশু’

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খালিয়া গ্রামের সেই ‘বৃদ্ধ শিশু’ বায়েজিদ শিকদার (৬) অবশেষে মারা গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বায়েজিদ বিশ্বাস বিরল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়। দেখতে অশীতিপর বৃদ্ধ মানুষের চেহারা নিয়ে তার জন্ম হয়। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় খালিয়া মাদ্রাসা-গোরস্থান ময়দানে নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। ২০১৬ সালের ২৩ মে ‘মায়ের কোলে বৃদ্ধ শিশু’ শিরোনামে সর্বপ্রথম বায়েজিদকে নিয়ে দৈনিক নয়া দিগন্তে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশের প্রায় সব গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হলে সরকার বায়েজিদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত এক বছর ধরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলে। বেশ কিছু দিন সুস্থ থাকার পর বায়েজিদ সম্প্রতি আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী বায়েজিদের বাবা লাভলু শিকদার জানান, বায়েজিদ প্র¯্রাবের বাধাগ্রস্ততাসহ সর্দি, কাশি এবং প্রচন্ড শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরণের জটিলতায় ভুগছিল। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছিল। সাথে ছিল অসুখের প্রকোপ। ফলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল সে। রোববার রাতে বায়েজিদ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে মাগুরা সদর হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আজ সোমবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটারদিকে বায়েজিদ মারা যায়। লাভলু শিকদার কথা প্রসঙ্গে জানালেন, ২০১২ সালের মে মাসে মাগুরার মাতৃসদন হাসপাতালে তার স্ত্রী তৃপ্তি খাতুন বৃদ্ধ মানুষের চেহারা সম্বলিত বায়েজিদের জন্ম দেন। দিনে দিনে বায়েজিদের শরীরে বার্ধক্যের ছাপ আরো প্রকট হতে থাকে। জন্মের তিন মাসের মধ্যেই তার দাঁত ওঠে। জন্মের পর বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের স্মরণাপন্ন হলেও স্বাভাবিক চেহারায় ফিরে আসেনি শিশুটির। লাভলু বললেন, এ পর্যন্ত ছেলের সুস্থতার জন্য অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। ছেলের জন্য আর অর্থ ব্যয় করা আমার সামর্থের বাইরে। তবুও ছেলের মুখের দিকে তাকালে কষ্ট হতো তার। সুস্থতার জন্য ধারদেনা করে চিকিৎসার খরচ যুগিয়েছেন। বায়েজিদের মা তৃপ্তি খাতুন বায়েজিদ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে জানালেন, অন্য শিশুরা সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে হাঁটা শিখলেও বায়েজিদ হাঁটা শিখেছে সাড়ে তিন বছর বয়সে। অথচ বায়েজিদের দাঁত ওঠে জন্মের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই। গত বছর ২৯ মে মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড জানায়, বায়োজিদ বিরল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে সময় তাকে তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও দেড় মাস ধরে চিকিৎসা করানো পর কোনো ফল না পেয়ে দরিদ্র লাবলু শিকদার শিশুপুত্র বায়োজিদকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। মাগুরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন রোগ বিশেষজ্ঞ দেবাশিষ বিশ্বাস বলেন, প্রজেরিয়া রোগটি একটি বিরল জেনেটিক অসঙ্গতি। এক কোটি শিশুর মধ্যে একজনের এই রোগে আক্রান্ত একজন শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যেতে পারে। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত ১০০টির মতো রোগী শনাক্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নানাবিধ শারীরিক সমস্যার সাথে সাথে বিরল রোগ প্রজেরিয়ায় আক্রান্ত বায়েজিদের পুরুষাঙ্গের চামড়া নিচের দিকে ঝুলে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের শারীরিক জটিলতাকে ‘প্রিরিপিউস’ বলা হয়। দৈহিক বৃদ্ধি এবং দৃষ্টিশক্তিসহ অন্যান্য বিষয় স্বাভাবিক থাকলেও এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের শরীরের চামড়া বৃদ্ধ মানুষদের মত কুচকানো হয়। তবে, এ রোগে আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত ১৩/১৪ বছরের বেশিদিন বাঁচে না বলে জানালেন তিনি।

কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হলেন রাহুল গান্ধী

ভারতের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাহুল গান্ধী। সর্বসম্মতিক্রমে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হলেন। এ পদে রাহুলের বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী ছিলেন না। গুজরাটের বিধানসভার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত রাহুল এখনই দায়িত্ব গ্রহণ করছেন না। গুজরাটের ভোটপর্ব শেষ হওয়ার দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর রাহুল আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এদিন ৪৭ বছর বয়সী রাহুলের কাছে দলের সভাপতির দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন বর্তমান সভাপতি ও তার মা সোনিয়া গান্ধী। খবর এনডিটিভির। সভাপতি নির্বাচনে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির রিটার্নিং অফিসারকে উদ্ধৃত করে সোমবার বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়, ‘বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাহুল গান্ধী।’ টানা ১৯ বছর কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বে থাকা সোনিয়া ছেলে রাহুলের হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে বিদায় নেবেন। এর মাধ্যমে ভারতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ব এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে হস্তান্তরিত হবে। ভারতের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের নেহরু-গান্ধী পরিবারের পঞ্চম সদস্য রাহুল। ১৩২ বছরের পুরনো দল কংগ্রেসকে ১৯৯৮ সাল থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাহুলের মা সোনিয়া গান্ধী। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে রাহুলকে কংগ্রেসের সহসভাপতি করা হয়। তারপর থেকে তিনি দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কংগ্রেসের বর্তমান সভাপতি ৭০ বছর বয়সী সোনিয়া আর আগের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারছিলেন না। এ কারণে কংগ্রেসের সভাপতি পদে পরিবর্তন অনেকটা অনুমিত ছিল। সোমবার দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা এম ভীরাপ্পা মইলি বলেন, দলীয় সভাপতির পদ থেকে সরে গেলেও কংগ্রেসের পার্লামেন্ট দলীয়প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন সোনিয়া। দলের লক্ষ্য ও দিকনির্দেশনাও দেবেন তিনি। ৪ ডিসেম্বর রাহুল গান্ধী দিল্লির আকবর রোডে দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগে রাহুলকে দলের সভাপতি করতে কংগ্রেসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে মোট ৮৯টি প্রস্তাব আসে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর একের পর এক রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়েছে কংগ্রেস। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় প্রাচীন দলটির সদস্য এখন মাত্র ৪৪ জন। তাই এখন রাহুলের নেতৃত্বে ভরসা রেখে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে দলটি।

আত্মত্যাগ বিফলে যাবে না by আবিদ আনোয়ার

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায়। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে হলেও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছিল অল্পদিনেই। কিন্তু ‘মুক্তিযুদ্ধে’ ‘মুক্তি’ শব্দটির সংযোজনই বলে দেয় সেটি শুধু ভৌগোলিক স্বাধীনতা অর্জনের প্রত্যাশায় শুরু হয়নি। যোদ্ধাদের এবং এদেশের জনগণের প্রত্যাশা ছিল ভৌগোলিক স্বাধীনতা অর্জিত হলে এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আর্থসামাজিক ‘মুক্তি’ যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি স্বাধীনতার পর জনগণের ব্যক্তিগত অনেক প্রত্যাশাও পূরণ হবে। যুদ্ধজয়ের পর জনগণের প্রত্যাশা হয়ে ওঠে আকাশচুম্বী। কোনো যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশে যেমনটি হয়, বাংলাদেশেও তেমন পরিস্থিতির উদ্ভব হল। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রও সেই সংকট সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে, এ কথা জোর দিয়েই বলা যায়। অর্থনীতির ভিত নড়ে উঠল; মুদ্রাস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হুহু করে বাড়তে শুরু করল। সবশেষে চুয়াত্তর সালে দেশজুড়ে দেখা দিল ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। ফলে, জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির ফারাক ক্রমেই বাড়তে লাগল। সে অবস্থায় বঙ্গবন্ধু ভাবলেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় সমাজতন্ত্র কায়েম করাই এ সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ। ‘বাকশাল’ তৈরি হয়েছিল সমাজতন্ত্র কায়েমের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে। আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী ইঙ্গ-মার্কিন শক্তিবলয়ের কেউ যেমন তা চায়নি, বাংলাদেশের পরম বন্ধু সোভিয়েত ইউনিয়নও। সে সময়টায় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোয় ভাঙন শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অন্য এক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র চীনও ছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী। এমন পরিস্থিতিতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাকশাল যেমন বিলুপ্ত হল, তেমনি বিলুপ্ত হল তার সমাজতন্ত্র কায়েমের স্বপ্নও। প্রকৃতপক্ষে, কোনো রাষ্ট্র ব্যবস্থা নয়, জাতীয় উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য চাই নেতানেত্রীদের সততা ও একাগ্রতা- গণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য তাদের নিজস্ব, ব্যক্তিগত শিক্ষাদীক্ষা ও দক্ষতা। আমি বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রপ্রধানগণ নিজেদের জনপ্রিয়তা টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই হোক আর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার জন্য আত্মতৃপ্তির কারণেই হোক সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনার ইচ্ছা রাখেন এবং অধীনস্থদের ওপর এ বিষয়ে নজরদারি করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশ শাসন করে আমলাতন্ত্র; নেতানেত্রীরা পরিচালিত হন আমলাদের দ্বারা। অথচ বাঞ্ছনীয় ছিল উল্টোটা। রাষ্ট্রীয় তহবিল তছরুপ করে ব্যক্তিগত উন্নয়নই যাদের মূল লক্ষ্য, তাদের দিয়ে জাতীয় উন্নয়ন কতটা সম্ভব এবং যুদ্ধজয়ী জনগণের প্রত্যাশা পূরণই বা কতটা সম্ভব! প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অব্যবস্থা কী করে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, সে সম্পর্কে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এ লেখা শেষ করছি- মুক্তিযুদ্ধের পরপর আমি কিশোরগঞ্জ মহকুমা মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের কমানড্যান্ট ছিলাম। ভারতের চাকুলিয়া বিশেষ ক্যাম্প থেকে কমান্ডো হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি ৩ নম্বর সেক্টরের অধীনে কিশোরগঞ্জ এলাকায় যুদ্ধ করি। ১৯৭২ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আমি দফতরের ঠিকানায় ডাকযোগে একটি প্যাকেট পাই। খুলে দেখলাম- জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর মুদ্রিত স্বাক্ষর দেয়া কয়েক হাজার সার্টিফিকেট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে শ’দুয়েক সার্টিফিকেটে আঞ্চলিক অধিনায়ক হিসেবে তিন নম্বর সেক্টরের মেজর এজাজ আহমদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। বাকিগুলোয় আঞ্চলিক অধিনায়ক হিসেবে কারও স্বাক্ষর নেই। কোনো সার্টিফিকেটেই কোনো মুক্তিযোদ্ধার নাম-ঠিকানা লেখা নেই। প্যাকেটের ভেতর একটি চিঠিতে আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যেসব মুক্তিযোদ্ধা অস্ত্র জমা দিয়েছেন তাদের মধ্যে যেন এগুলো বিতরণ করা হয়। আমাদের ক্যাম্পের সব মুক্তিযোদ্ধা (প্রায় এগারো হাজার) তিন নম্বর সেক্টরের ছিলেন না; ২ নম্বর ও ১২ নম্বর সেক্টরেরও অনেকেই ছিলেন। মেজর এজাজ আহমদ চৌধুরীর স্বাক্ষর দেয়া সার্টিফিকেট মাত্র শ’দুয়েক। যেসব সার্টিফিকেটে আঞ্চলিক অধিনায়কের স্বাক্ষর নেই সেগুলো বিতরণ করব কী করে- এই দ্বন্দ্বে বিক্ষত হয়ে আমি চিঠি প্রেরকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি জানান, এতসব ভাবনার সময় নেই; মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পগুলো দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ আছে; আপনি নিজেই আঞ্চলিক অধিনায়ক হিসেবে স্বাক্ষর দিয়ে তাড়াতাড়ি ক্যাম্পের দায়িত্ব কিশোরগঞ্জের মুজিব বাহিনী প্রধান অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদকে বুঝিয়ে দিন এবং দাফতরিক মালপত্র মহকুমা প্রশাসকের নেজারতে জমা দিয়ে ২৫ তারিখের মধ্যে ক্যাম্প বন্ধ করে দিন। আমাকে তা-ই করতে হল। নেজারতে জমা দেয়া মালপত্রের মধ্যে ছিল কয়েক হাজার সার্টিফিকেটও। যেগুলোয় কোনো যোদ্ধার নাম-ঠিকানা ছিল না। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরের পর জন্ম নিয়েছেন এমন ‘মুক্তিযোদ্ধাদের’ ব্যঙ্গ করে বলা হতো ‘ষোড়শ বাহিনী’। ক্যাম্পে ক্যাম্পে সেইসব অবিতারিত সার্টিফিকেটের বদৌলতেই অবৈধ ‘ষোড়শ বাহিনী’ও বৈধতা পেয়েছিল, পরে জেনেছি। যারা এমন অনৈতিক কাজটি করতে পেরেছিলেন তারা আরও অনেক অনৈতিক কাজে জড়িত হবেন সেটাই স্বাভাবিক। খোঁজ নিলে জানা যাবে, রাজনীতিতে, প্রশাসনে তাদেরই আধিপত্য বেশি। তাই, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির খতিয়ান লিখে আর কী হবে! তবুও, আশায় আছি একদিন পরিস্থিতি বদলে যাবে। যুদ্ধজয়ী জনগণ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে; আজ হোক, কাল হোক আত্মত্যাগ বিফলে যাবে না।
লেখক : কবি, প্রাবন্ধিক ও গীতিকার