Thursday, July 4, 2013

চীন ও পাকিস্তানের সম্পর্ক মধুর চেয়ে মিষ্টি: নওয়াজ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, চীনের সঙ্গে তাঁর দেশের সম্পর্ক মধুর চেয়ে মিষ্টি। প্রথম বিদেশ সফরে বেইজিং গিয়ে নওয়াজ গতকাল শুক্রবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ দেওয়া অভ্যর্থনার প্রশংসা করে নওয়াজ বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক হিমালয়ের চেয়েও উঁচু, গভীরতম সাগরের চেয়েও গভীর এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি।’ এর আগে গত বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন নওয়াজ। লি ও নওয়াজের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডর স্থাপনের লক্ষ্যে ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা’ ছাড়াও প্রযুক্তি, পোলিও প্রতিরোধ ও সৌরশক্তির ব্যবহারসংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তি হয়েছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) ও নওয়াজের পাকিস্তান মুসলিম লিগ-এনের মধ্যেও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাবিষয়ক চুক্তি হয়েছে। চীন-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে রাওয়ালপিন্ডি পর্যন্ত ফাইবার অপটিক কেব্ল বসানোর জন্য চার কোটি ৪০ লাখ ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়। এ ছাড়া কয়েক বছরের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এক হাজার ২০০ কোটি থেকে দেড় হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার বিষয়েও মতৈক্য হয়েছে। এএফপি।

স্নোডেনকে স্বাগত জানানোর আহ্বান অ্যাসাঞ্জের

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ
মার্কিন নজরদারির খবর ফাঁস করে দেওয়া এডওয়ার্ড স্নোডেনকে স্বাগত জানাতে ইউরোপের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। গতকাল বুধবার এই আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে নতি স্বীকার করা ইউরোপের দেশগুলোর উচিত হবে না। গণমাধ্যমের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের প্রধানের সঙ্গে যৌথভাবে ফ্রান্সের লাঁ মঁদ পত্রিকায় লেখা মন্তব্য প্রতিবেদনে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে ফ্রান্স ও জার্মানির কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনাই স্নোডেনের প্রাপ্য। এএফপি।

জিএসপি এখন নতুন রাজনৈতিক ইস্যু by ড. তুহিন মালিক

যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে মারাÍক ইমেজ সংকটের মধ্যে পড়েছে। আর দেশের সরকার তার দায় এড়ানোর জন্য পিলো পাসিং খেলছে। রাজনৈতিক পাশা খেলায় পারদর্শী সরকার এ ব্যর্থতার পুরো দায়টি চাপিয়ে দিচ্ছে বিরোধী দলের নেত্রীর কাঁধে। বিদেশী পত্রিকায় নিবন্ধ লিখে নাকি বেগম খালেদা জিয়া জিএসপি বাতিল করেছেন। পত্রিকায় নিবন্ধ লিখে জিএসপি বাতিল করা সম্ভব হলে পত্রিকায় নিবন্ধ লিখে কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় না কেন, তা বোধগম্য নয়। আর খালেদার চিঠিতে জিএসপি বাতিল হলে সরকারের এক চিঠিতে সেটা চলে আসে না কেন? আসলে দায় এড়ানোর পন্থা হিসেবে এসব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে এখন আর রাজনীতি করা যায় না। তাই দেশের ললাটে কলংক লেপন করে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশকে পঙ্গু করার আÍঘাতী রাজনীতি থেকে আমাদের সরে আসার কোনো বিকল্প নেই।
জিএসপি স্থগিতের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কী করে ভিলেজ পলিটিক্সের অংশ হয়ে গেল তা ভাবতে অবাক লাগে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সংসদে দাঁড়িয়ে জিএসপি বাতিল, শেয়ার মার্কেট, হলমার্ক ও পদ্মা সেতুতে বিএনপি জড়িত বলে অভিযোগ করেন, সেখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, সবই যখন বিএনপি করছে তাহলে সরকারের কাজটা কী? পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা, প্রশাসন, পররাষ্ট্র দফতর কি এতটাই ব্যর্থ বিএনপির কাছে? তবে তো সরকার নয়, বরং বিএনপিরই দেশ পরিচালনা করা উচিত। আসলে দেশ পরিচালনা করে সরকার। আর দোষ চাপানো হচ্ছে কিনা বিরোধী দলের ওপর। দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারকেই তো ব্যর্থতার দায়-দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা বুঝতে পারছি না, নেত্রীরা জিএসপি নিয়ে কেন এত ঝগড়া করছেন। কেন জিএসপি স্থগিত হল, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি না কেন? যাদের জন্য এই বিপর্যয়, তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে না কেন? কাদের কারণে দেশের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ ব্যাহত হল? দেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট করার পেছনে কারা দায়ী?
জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ার বিষয়টি কিন্তু হঠাৎ করে ঘটেনি। কয়েক মাস ধরে এটি আলোচিত হয়ে আসছিল। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চার দফা শুনানিও হয়। স্থগিত হওয়ার আশংকা বরাবরই ছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই বাস্তব রূপ পেল। এ সময়ের মধ্যে আমরা কী করলাম? মূলত তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে নড়েচড়ে বসে পশ্চিমা দেশগুলো। রানা প্লাজা ধসের পর সেটা আরও ত্বরান্বিত হয়। রানা প্লাজা ধসের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন পোশাক কারখানায় শ্রমমান ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তাগাদা দিয়ে আসছিল। বলা হয়েছিল, তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রম অধিকারের গুরুতর পদ্ধতিগত লংঘন চলতে থাকলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে।
খুব সঙ্গতভাবেই প্রশ্ন জাগে, সরকার পশ্চিমা দেশগুলোর এই হুশিয়ারিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিল কিনা? শ্রমমান, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের অঙ্গীকার কোথায় ছিল? জিএসপির বিষয়টিতে সরকার যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি কেন? এই সুবিধা বহাল রাখার জন্য যে ধরনের লবিং ও কার্যকর ব্যবস্থা অবলম্বন করা প্রয়োজন ছিল, সরকার তা করেছে কিনা? কূটনৈতিক দুর্বলতা ছিল কিনা? বিষয়টি হ্যান্ডলিং করার মতো সক্ষমতা সরকারের কর্তাব্যক্তিদের ছিল কিনা? সবচেয়ে বড় কথা, অন্যান্য ইস্যুর চেয়ে এ বিষয়টিকে সরকার গুরুত্ব দিয়েছিল কিনা? এসব প্রশ্নের জবাব আমাদের জানা নেই। তবে প্রশ্ন ওঠে, জবাব কেন নেই? বিএনপির দোষে এটা হয়েছে বলে জবাব দিলে তা কী করে যুক্তিযুক্ত বা গ্রহণযোগ্য হবে?
আসলে নিষ্ঠুর বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশকে এক কলংকজনক ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একক দেশ হিসেবে জিএসপি সুবিধা বাতিলের এ ঘটনা নিশ্চিতভাবেই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা ম্লান করে দিয়েছে। এটি দেশের জন্য যেমন লজ্জার, তেমনি দুর্ভাগ্যের। আসলে সরকার রাজনৈতিক দলগুলো দমনে ব্যস্ত সময় পার করতে গিয়ে পোশাক খাতটির দিকে মোটেও নজর দেয়নি। শ্রমিকদের স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে কর ও শুল্ক ছাড়সহ নানা সুবিধা নিয়ে মালিকদের স্বার্থরক্ষা করেছে সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস জিএসপি স্থগিত করার পর এ নিয়ে সম্পাদকীয় নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের স্বার্থে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার সরকারের ওপরে চাপ তৈরি করবে। শেখ হাসিনার সরকার বারবার আশ্বাস দিয়েছিল, কারখানায় কর্মপরিবেশের মান উন্নত করা হবে এবং শ্রমিকরা যাতে সহজে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এগুলো আশ্বাসই থেকে গেছে। নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার মতো নেতারা খুব চাপে না পড়লে এমন কোনো পরিকল্পনা হাতে নিতে চান না যাতে কারখানার মালিক ও তাদের পরিবার ক্ষুব্ধ হয়। বাংলাদেশের লাখ লাখ শ্রমিকের জীবন যখন বিপন্ন, তখন বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ তৈরির জন্য মার্কিন ও ইউরোপীয় নেতাদের হাতে যে দু-একটি ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা আছে, সেগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।
যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা স্থগিতের কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তা ৬০ দিন পর কার্যকর হবে, তাই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর করতে এসওএস ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে। এর প্রভাব যাতে কানাডা ও ইউরোপের দেশগুলোতে না পড়ে তার জন্য এখন থেকেই জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। একে অন্যের ঘাড়ে দোষ না চাপিয়ে ব্যর্থতার কারণগুলো চিহ্নিত করে এখনই কার্যকর, জোরালো ও শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, এই স্থগিতাদেশ সাময়িক। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১৭টি দেশের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিলেও ইতিমধ্যে ১৪টি দেশের ওপর থেকে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে এর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন আমাদের আÍশুদ্ধি। মার্কিন নীতিও তাই বলে। তারা সুযোগ দেয় সংশোধিত হওয়ার। আমাদের এই সুযোগকে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে জাতীয় স্বার্থে। এতে লজ্জার কিছু নেই। আÍনির্ভরশীল না হওয়াটাই বরং বেশি লজ্জার। তাই এটাকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ইস্যু না বানিয়ে বরং জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রেক্ষাপটে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। যদিও আগামী জাতীয় নির্বাচনে এটি নিঃসন্দেহে একটি নতুন ইস্যু হিসেবে কাজ করবে। তবে সেটা অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রফতানিকে গুলিয়ে ফেললে মারাÍক ভুল হবে। মনে রাখতে হবে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমরা মরণপণ প্রতিযোগিতা করছি। এটাও মনে রাখতে হবে, আমাদের জিএসপি বাতিলে লাভ কোন দেশের।
ড. তুহিন মালিক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ

পাকিস্তানে ড্রোন হামলায় নিহত ১৭

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপজাতি-অধ্যুষিত উত্তর ওয়াজিরিস্তানে আবারও মার্কিন চালকবিহীন বিমানের (ড্রোন) হামলা হয়েছে। গতকাল বুধবারের এ হামলায় অন্তত ১৭ সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা এ খবর জানিয়েছেন। পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ড্রোন হামলার ঘটনাস্থলে জঙ্গিসংগঠন আল-কায়েদার সহযোগী হাক্কানি নেটওয়ার্কের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, মিরানশাহ শহরে ভোরের ওই ড্রোন হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আফগান ও পাকিস্তানি জঙ্গিরা রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি এর লক্ষ্য ছিল কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় একটি বিপণিকেন্দ্র লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে চারটি গোলা নিক্ষেপ করা হয়। পাকিস্তানের জনবহুল ও স্থাপনাসমৃদ্ধ এলাকায় এ রকম ড্রোন হামলার ঘটনা বিরল। তবে হামলায় বিধ্বস্ত স্থানটি হাক্কানি নেটওয়ার্কের ঘাঁটি ছিল বলে পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। আফগানিস্তানে বিভিন্ন সরকারি ও পশ্চিমা স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার কয়েকটি ঘটনার জন্য হাক্কানি নেটওয়ার্ককে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর ওয়াজিরিস্তানের দুর্গম সীমান্ত এলাকায় গত বছরের ১১ অক্টোবর এক মার্কিন ড্রোন হামলায় ১৮ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর গতকালের হামলাটিই সবচেয়ে ভয়াবহ। এএফপি ও বিবিসি।

আমরা কি যুক্তিবাদী হওয়ার চেষ্টা করব না? by বিভুরঞ্জন সরকার

দেশের রাজনীতি থেকে যুক্তির চর্চা উঠে যাচ্ছে। রাজনীতিকরা যেমন অধিকাংশ সময় যুক্তিহীন ঢালাও মন্তব্য করেন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য যখন যে যুক্তি সুবিধাজনক মনে হয় সেটাই তুলে ধরেন, তেমনি বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ আজকাল রাজনীতিকদের মতোই সস্তা বাহবা কুড়ানোর মতো কথাবার্তা বলতে পছন্দ করছেন। কোনো কোনো বুদ্ধিজীবীর মধ্যে রাজনীতি চর্চার প্রবণতা এত প্রবল হয়ে উঠেছে যার জন্য অনেক সময় বুঝতে অসুবিধা হয়, কোনটা রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য আর কোনটা বুদ্ধিজীবীর। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সম্মানজনক পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরাও যখন রাজনৈতিক দলের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মীর মতো কথা বলেন, আচরণ করেন তখন রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের আশা দুরাশায় পরিণত না হয়ে পারে না। বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে তার জন্য অনেকেই দুই নেত্রীকে দায়ী করে থাকেন। যত দোষ নন্দ ঘোষ। যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর। আমরাও আমাদের রাজনীতির সব বালা-মুসিবতের জন্য দুই নেত্রীকে দায়ী করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি। দুই নেত্রীকে এক পাল্লায় তুলে সমান গালাগাল দিয়ে পাবলিকের কাছে বাহবা পাওয়া যায়Ñ নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি তৈরি হয়। কিন্তু তাতে সংকটের সমাধান হয় না। যারা সব অনিষ্টের জন্য দুই নেত্রীকে দায়ী করেন, তাদের যদি প্রশ্ন করা হয়, আমাদের দেশে না হয় দুই নেত্রী আছেন, তারা সংকট তৈরি করছেন, সমস্যা জিইয়ে রাখছেন কিন্তু যেসব দেশে দুই নেত্রী নেই সেসব দেশে রাজনীতিতে সংকট-সমস্যার জন্য তবে দায়ী কে? পাকিস্তান, নেপালসহ যেসব দেশ তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে সময় অতিক্রম করছে, সেসব দেশে তো দুই নেত্রী নেই। তাহলে ওসব দেশ সংকট কাটাতে পারছে না কেন? আমাদের দেশে যদি আওয়ামী লীগ থেকে শেখ হাসিনা বাদ যান এবং বিএনপি থেকে ঝরে পড়েন খালেদা জিয়া তাহলে রাজনীতিতে কি কোনো সমস্যা থাকবে না? রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের জন্য কোনটা জরুরিÑ ব্যবস্থা বা সিস্টেম, নাকি ব্যক্তির বদল? আসলে আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যার গভীরে যেতে চাই না, চিন্তাভাবনা করতে চাই না। স্রোতের শ্যাওলা হয়ে ভেসে বেড়াতে যাদের আনন্দ, তাদের চোখে রাজনীতি দেখলে রাজনীতিতে আদর্শের যে সংকট চলছে তা দূর হবে না।
কথায় কথায় বিদেশের উদাহরণ টানাও আমাদের অনেকের এক ধরনের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু একটা ঘটলেই বলা হয় দুনিয়ার কোথাও এমন ঘটে নাই। অথচ খোঁজখবর নিলে হয়তো দেখা যাবে দুনিয়ার অনেক দেশেই ওইরকম ঘটনা হরহামেশাই ঘটে থাকে। ওই দেশে তো এরকম হয় না, আমাদের দেশে এরকম কেনÑ এমন মন্তব্য যারা করি, তারা কিন্তু আমাদের দেশের আলাদা বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা বিবেচনায় রাখি না। স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষÑ এমন বিতর্ক দুনিয়ার অনেক দেশেই নেই। সে জন্য আমাদের দেশে তা থাকবে না? যারা অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের দেশের তুলনা করে সরল মন্তব্য করেন তারা ভুলে যান যে, দুনিয়ার খুব কম দেশকেই আমাদের মতো স্বাধীনতার জন্য রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র লড়াই করতে হয়েছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লাখ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে, প্রায় তিন লাখ নারীকে চরম লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে, লাখ লাখ বাড়িঘর ভস্মীভূত হয়েছে, এক কোটি মানুষকে শরণার্থী জীবন বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে, কোটি কোটি মানুষকে দীর্ঘ নয় মাস অনিশ্চিত জীবনযাপন করতে হয়েছে, দেশের সেরা বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং সর্বোপরি স্বাধীনতার বিরোধিতা করার জন্য রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনীর মতো ঘাতক দল গঠন করা হয়েছে।
স্বাধীনতা লাভের এতদিন পর স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজনকে যারা অপ্রত্যাশিত ও অনাকাক্সিক্ষত মনে করেন, তারা ভুলে যান যে, একাত্তরে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন, তারা কিন্তু পরে একবারের জন্যও নিজেদের ভুল স্বীকার করেননি, একাত্তরের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেননি এবং দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেননি। স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েও স্বাধীন দেশের মাটিতে অবাধে রাজনীতি করার অধিকার পেয়েছে, এমন কোনো দেশের কথা কি কেউ বলতে পারবেন?
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের দেশে যে সস্তা বিতর্কের সূত্রপাত করা হয়েছে তার শেষ কোথায়, তা কেউ বলতে পারছেন না। বলা হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে নাÑ যারা বলছেন তারা কোন অভিজ্ঞতার আলোকে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন? আমাদের দেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে মাত্র দুটি। একটি ১৯৭৩ সালে। অন্যটি ১৯৯৬ সালের মধ্য ফেব্র“য়ারিতে। ১৯৭৩ সালে নির্বাচন হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের সরকার তখন ক্ষমতায়। ’৭৩-এর নির্বাচন একেবারে বিতর্কমুক্ত ছিলÑ এ দাবি করা যাবে না। কয়েকটি আসনে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেয়ার অভিযোগ তখন বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছিল। কিন্তু এমন কথা কেউ বলেননি যে, ওই নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণযোগ্য ছিল না। অর্থাৎ ওই সময় আওয়ামী লীগের বদলে অন্য কোনো দলের সরকার গঠনের সম্ভাবনা ছিলÑ সে রকম দাবি কোনো মহল থেকেই ওঠেনি। ’৭৩-এর নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব বিস্তারের সীমা এতটা প্রসারিত ছিল না, যা থেকে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়।এরপর আসে ১৯৯৬ সালের ফেব্র“য়ারি মাসের নির্বাচন প্রসঙ্গ। ওই নির্বাচন হয়েছিল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারে আমলে। ওই নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ অন্য কোনো রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ না করায় ওটা হয়েছিল একতরফা নির্বাচন। ওই একটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া কি যথার্থ যে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়?
ওই দুই নির্বাচন ছাড়া আর নির্বাচন হয়েছে জিয়াউর রহমান এবং এইচএম এরশাদের সামরিক শাসনামলে। জিয়া-এরশাদ আমলের নির্বাচনকে নিশ্চয়ই কেউ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বলবেন না। বস্তুত সামরিক শাসনের আমলেই দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার বারোটা বাজানো হয়েছিল। ভুতুড়ে ভোটার, ভোট ডাকাতি, মিডিয়া ক্যু ইত্যাদি শুরু করেছিল সামরিক শাসকরা এবং দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ওই অপধারার চর্চা খালেদা জিয়ার নির্বাচিত সরকার আমলেও অব্যাহত থাকার কারণেই মূলত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না করার পক্ষে দেশে একটি রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয় এবং এ ব্যাপারে জনমত গড়ে ওঠে। বেগম জিয়ার বিএনপি সরকারের সময় যদি মাগুরা এবং মিরপুরের উপনির্বাচনে জবরদস্তির আশ্রয় নেয়া না হতো তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জোরালো হতো না।
এবার আসা যাক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের অভিজ্ঞতায়। এরশাদের স্বৈরশাসনের পতনের পর ১৯৯১ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত যে সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সে নির্বাচনকেই বলা যায় দেশে প্রথমবারের মতো নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। একানব্বইয়ের নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ বলেই মনে করা হয়। অথচ ওই নির্বাচনে হেরে গিয়ে শেখ হাসিনা সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ এনেছিলেন। দেশের অন্যতম প্রধান একটি রাজনৈতিক দল যে নির্বাচনের ফলাফল সহজভাবে মেনে নিতে পারে না, সে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বলে অন্যরা যত সার্টিফিকেটই দিক, তা যে রাজনৈতিক সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখে না, এটা স্বীকার না করে উপায় আছে?
বেগম জিয়ার আমলে মাগুরা এবং মিরপুর উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির কারণে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নির্বাচনকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দেশে প্রবল আন্দোলন হয় এবং সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান চালু করতে বাধ্য হয় বিএনপি। এর পর ১৯৯৬ সালে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এবং ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুটি নির্বাচন হয়। ওই দুই নির্বাচনের একটিতে আওয়ামী লীগ এবং আরেকটিতে বিএনপি জয়লাভ করে। দুই নির্বাচনেই বিজয়ী পক্ষ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বলে মেনে নিলেও পরাজিত পক্ষ তা মানেনি। সে জন্যই পর্যায়ক্রমে দেশের রাজনীতিতে অচলাবস্থা বেড়েছে। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিট রাজনৈতিক ফল হচ্ছে, বিরোধী দলের সংসদ বর্জন এবং দেশে সংঘাত-সংঘর্ষের রাজনীতির গোড়া পত্তন।
রাজনীতিকদের পারস্পরিক সন্দেহ-অবিশ্বাস-অনাস্থার কারণেই মূলত নির্বাচন পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক বা দলীয় সরকারের বিরোধিতা করা হচ্ছে। পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাজনীতিবিদের ওপর আমরা আস্থা স্থাপন করতে পারছি, কিন্তু তিন মাসের নির্বাচন পরিচালনার জন্য পারছি না। নির্বাচনকে প্রভাবিত করবেÑ এ আশংকায় যাদের বিশ্বাস করা যাচ্ছে না, তাদের ওপর পাঁচ বছরের জন্য দেশবাসীর ভাগ্য পরিচালনার দায়িত্ব দেয়ার ঝুঁকি আমরা নিচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই দেশের রাজনৈতিক সংকটের যে সমাধান হয়ে যাচ্ছে, তাও তো নয়। পরাজিতরা সংসদে যায় না। সংসদ বর্জন স্থায়ী রূপ পাচ্ছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাড়ছে। নাগরিকদের জীবন ও সম্পদ অনিরাপদ হয়ে উঠছে। আমরা এটাও দেখছি, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় নির্বাচনের ফলে যারা নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় বসছে, তারা আগের আমলের চেয়ে পরের বার আরও খারাপভাবে দেশ শাসন করছে। আমরা কি ক্রমাগত খারাপ শাসনকেই মেনে নিতে থাকব? আমাদের জন্য কোনটা জরুরিÑ তত্ত্বাবধায়ক সরকার; নাকি সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক দলের ভেতরে সংস্কার? আÍঘাতী, হুজুগপ্রিয় এবং আবেগপ্রবণÑ এ বিশেষণগুলো বাঙালির বৈশিষ্ট্য থেকে দূর করে যুক্তিবাদী হওয়ার কোনো চেষ্টাই কি আমরা করব না?
ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা তৈরির ফলে ভুয়া ভোটার হওয়ার আশংকা দূর হয়েছে। ভোট নিয়ে জনসচেতনতাও এখন অনেক বেড়েছে। মিডিয়া এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সতর্ক ও তৎপর। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলো করবে না, সেটা শতভাগ নিশ্চিত কেউ করতে পারবে না। তবে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করা, ভোট ডাকাতি করে কিংবা মিডিয়া ক্যু করে ভোটের ফলাফল পাল্টে দেয়া এখন আর কারও পক্ষে সহজ নয়। কাজেই রাজনৈতিক বা দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু বা ভালো নির্বাচন সম্ভব নয়Ñ এ ভ্রান্ত ধারণা থেকে আমাদের সরে এসে এ নিয়ে প্রচারণা বন্ধ করা উচিত। এ প্রচারণায় রাজনীতিরই ক্ষতি হচ্ছে। অরাজনীতি বা বিরাজনীতিকে উৎসাহিত করে আর যাই হোক দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা যাবে না।
বিভুরঞ্জন সরকার : সাংবাদিক ও কলাম লেখক

তালেবানকে নিয়ন্ত্রণকরে পাকিস্তান

পাকিস্তান যদি তালেবানকে তার জঙ্গী কার্যক্রম বন্ধ করতে বলে দেয়, তবে আফগানিস্তানে সংঘাত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই থেমে যাবে। আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল শের মোহাম্মদ করিমি এ মন্তব্য করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানই তালেবানকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়। পাকিস্তান তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিবিসির জনপ্রিয় হার্ডটক অনুষ্ঠানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল করিমি বলেন, ‘তালেবান (পাকিস্তানের) নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে। তাদের নেতৃত্ব পাকিস্তানে আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সব তালেবানকে আফগানিস্তানে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ যদি যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান চায়, তবেই আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেন করিমি। তিনি বলেন, ‘(পাকিস্তান) যদি (তালেবানের) নেতৃত্বকে চাপ দেয় অথবা কী করতে হবে সে বিষয়ে বোঝায়, তবে সেটা ব্যাপকভাবে সাহায্য করতে পারে।’ গত এপ্রিল মাসে ন্যাটো বাহিনীর একটি প্রতিবেদন ফাঁস হয়। তাতে দেখা যায়, তালেবান নেতারা যে পাকিস্তানের সীমানার ভেতরে রয়েছেন, সে বিষয়ে দেশটি অবগত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাসিরউদ্দিন হাক্কানির মতো জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতারা ইসলামাবাদে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সদর দপ্তরের কাছাকাছি অবস্থিত কোনো বাড়িতে রয়েছেন। ধরা পড়া ২৭ হাজার তালেবান, আল-কায়েদা ও বিদেশি যোদ্ধাদের পাশাপাশি বেসামরিক লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পাকিস্তান তালেবানকে নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে। যদিও ১৯৯৪ সালে আফগানিস্তানে তালেবান বাহিনী প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ২০০১ সালে তাদের সরকারের পতন হওয়া পর্যন্ত সংগঠনটির অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিল পাকিস্তান। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর অভিযানে তালেবান সরকারের পতন ঘটার পর সংগঠনটির অধিকাংশ নেতা পাকিস্তানে পালিয়ে যান বলে দাবি করা হয়। এখনো তাঁরা বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেশটির সহায়তার ওপরে ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। জেনারেল করিমির মন্তব্য, এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার চেষ্টা করছে এবং ন্যাটো বাহিনী তার সেনাদের আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়া অব্যাহত রেখেছে। আগামী বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। পাকিস্তানের অস্বীকৃতি: আফগানিস্তানের সেনাপ্রধান করিমির মন্তব্যকে ‘সুনিশ্চিতভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘পাকিস্তান তালেবানকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাদের আফগানিস্তানে লেলিয়ে দেয় এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমরা সুনিশ্চিতভাবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করি।’ বিবিসি ও এএফপি।

গাজীপুরে গণতন্ত্রের অগ্নিপরীক্ষা by মোঃ আবু সালেহ সেকেন্দার

সদ্যসমাপ্ত চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ গোহারা হেরেছে। আসন্ন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। যদিও গাজীপুরের এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলের প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে, তাদের সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান ১৭ বছর ধরে টঙ্গী পৌরসভার কর্ণধার। উপরন্তু, ১৯৮৬ সালে গাজীপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কখনও বিএনপি জয় পায়নি। অন্যদিকে বিএনপি তথা ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী এমএ মান্নান দীর্ঘদিন স্থানীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। যদিও তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তবে ওই নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তাকে আর স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে খুব বেশি সক্রিয় হতে দেখা যায়নি, গণমাধ্যম সূত্রে আমরা এমন খবরই পাচ্ছি। ২০০১ সালে যখন সারাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের প্রার্থীদের জয়জয়কার, তখন গাজীপুরে এমএ মান্নানের পরাজিত হওয়াটা প্রমাণ করেছে, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের একটা শক্ত ভিত্তি আছে।
তবে এবারের নির্বাচন কাগজে-কলমে নির্দলীয় ও স্থানীয় নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হলেও পারতপক্ষে নির্বাচনের ফলাফলের ওপর জাতীয় রাজনীতির প্রভাব স্পষ্ট। তাছাড়া স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিকদের আনাগোনা ও প্রত্যক্ষ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সরব উপস্থিতি লক্ষণীয়। ফলে ওই নির্বাচনগুলো আর স্থানীয় নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিকদের সরব উপস্থিতির কারণে স্থানীয় ইস্যুগুলোর পরিবর্তে জাতীয় ইস্যুই প্রধানত সামনে চলে আসছে। ফলে খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতাসীনরা আগের তুলনায় বেশি উন্নয়ন করলেও জাতীয় ইস্যুর জোয়ারে সেই উন্নয়ন ভেসে গেছে। তাই তাদের ভরাডুবি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দল এবং বিএনপি তথা ১৮ দল উভয়েই গাজীপুর সিটি নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। তবে সেই শক্তি যতটুকু না স্থানীয় তার চেয়ে বেশি কেন্দ্রীয়। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের ৭০ জন সংসদ সদস্য, অর্ধশত কেন্দ্রীয় নেতা মাঠে নেমেছেন। তারা আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থীকে জয়ী করতে মরিয়া। অন্যদিকে বিএনপি তথা ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থীর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটছে না। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও বসে নেই। তারাও মাঠে নেমেছেন তাদের প্রার্থীদের পক্ষে। তাই এ নির্বাচন স্থানীয় নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ইতিমধ্যে জাতীয় নির্বাচনের তকমা গায়ে লাগিয়েছে। ফলে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা থেকে সর্বশেষ ভোটের হিসাব-নিকাশ সবক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ের প্রভাব থাকবে বলেই মনে হয়।
আওয়ামী লীগ বা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা যখন প্রচারণায় অংশ নেবেন, তখন পারতপক্ষে জাতীয় সংকটগুলো তারা না চাইলেও সামনে চলে আসবে। তাদের বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যে কম-বেশি তার ছোঁয়াও থাকবে। অন্যদিকে মন্ত্রী-এমপিরা নির্বাচনী প্রচারে থাকায় সরকারের সংকট ও কেলেংকারিগুলোও নতুন মাত্রা পাবে। বিরোধী পক্ষ সেই সুবিধা নেবে। তারা স্থানীয় নির্বাচনে জয়ী হতে সরকারের নানা দুর্নীতি ও কেলেংকারি তাদের প্রচারণা, বক্তৃতা-বিবৃতিতে তুলে ধরবে, যা ভোটারদের প্রভাবিত করলেও করতে পারে। আর নির্বাচনের জয়-পরাজয়ের মূল কারিগর ভোটাররা যদি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়, তবে সুদীর্ঘকাল পর গাজীপুরে বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীর জয়ী হওয়াটা নিশ্চিত হয়ে যাবে। চার সিটি নির্বাচনের ফলাফলে এমনটিই লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেয়ায় স্থানীয় ইস্যুগুলো চাপা পড়ে জাতীয় ইস্যু তথা সরকারের দুর্নীতি-কেলেংকারির ঘটনাগুলোই প্রধানত জয়-পরাজয় নির্ধারণ করেছে। গাজীপুরও এর ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয় না। সেখানেও ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থীকে পদ্মা সেতু কেলেংকারি, গুম-হত্যার রাজনীতি, রেলের কালো বিড়ালখ্যাত সুরঞ্জিত, রানা প্লাজা ধস প্রভৃতি বিষয় মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা প্রকাশ্যে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সমর্থন পাওয়া আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কঠিন হবে। উপরন্তু গাজীপুরে জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ায় আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীর জন্য তা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হতে পারে। স্থানীয় হোক আর জাতীয়ই হোক, দেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি তথা এরশাদ যে একটি ফ্যাক্টর এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বিগত নির্বাচনগুলোয় এটা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও তার সমর্থকরা জোরপূর্বক তাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে বাধ্য করার ঘটনাটিকে ভালোভাবে নেয়নি। ফলে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ কম-বেশি রয়েই যাবে, যা আজমত উল্লাহর জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দুই
স্থানীয় নির্বাচনে স্থানীয় ইস্যু প্রাধান্য পাওয়াটাই যৌক্তিক, গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনকও বটে। তবে সরকারি ও বিরোধী দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের জোরালো সম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয় নির্বাচন আর স্থানীয় নির্বাচনের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সেখানে এখন জাতীয় নির্বাচনের মতো দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে। সরকারের ভালো-মন্দ কর্মকাণ্ড ভোটের ফলাফল নির্ধারণের নিয়ামক হয়ে উঠছে। এমনটি ঘটছে প্রধানত স্থানীয় পর্যায়ে জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতির কারণে। তবে স্থানীয় ইস্যু প্রাধান্য না পেয়ে জাতীয় ইস্যু প্রাধান্য পাওয়াটা আপাতদৃষ্টিতে কোনো পক্ষের জন্য লাভজনক হলেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব তৃণমূল গণতন্ত্রের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না, এটা হলফ করে বলা যায়।
অন্যদিকে স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের প্রচার-প্রচারণা তৃণমূল নেতৃত্ব বিকশিত হওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় নেতাদের জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো একদিন দেখা যাবে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বার নির্বাচনের সময়ও মন্ত্রী-এমপিরা দল বেঁধে প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে স্থানীয় নির্বাচনে কোনো দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সরব উপস্থিতি অথবা মন্ত্রী-এমপিদের প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ এ নির্বাচনের নির্দলীয় চরিত্রকে মারাÍকভাবে ক্ষুন্ন করে। তৃণমূলের গণতন্ত্রের জন্য যা হুমকিস্বরূপ। তাই প্রস্তাব থাকবে, যদি স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের তথা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বন্ধ করা সম্ভব না হয়, তবে এ নির্বাচনকে নামমাত্র নির্দলীয় উপাধিতে ভূষিত না করে তাকে প্রকাশ্য দলীয় নির্বাচন হিসেবে ঘোষণা করা হোক।
পরিশেষে গাজীপুর সিটি নির্বাচনও যেন সদ্যসমাপ্ত চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মতো সুষ্ঠু হয়, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে সেই দাবি জানাচ্ছি। ইতিমধ্যে একজন প্রার্থী কয়েকজন প্রিসাইডিং অফিসারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে আশা করি। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে কোন দল বা জোট সমর্থিত প্রার্থী জয়ী বা পরাজিত হল, তার চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে, গণতন্ত্র যেন কলংকিত না হয়। কোনো দলের কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনকে যেন কলংকিত করতে না পারেন, সেদিকে নজর দিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করছি।
মোঃ আবুসালেহ সেকেন্দার : শিক্ষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

মোদিকে নিয়ে অগোছালো বিজেপি ঘর গোছাচ্ছে কংগ্রেস by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

নরেন্দ্র মোদিকে দল ও জোটের মুখ হিসেবে তুলে ধরা নিয়ে বিজেপি যখন বিব্রত, দ্বিধাবিভক্ত এবং অগোছালো, কংগ্রেস তখন ঘর গোছানো শুরু করে দিয়েছে। শতাব্দীপ্রাচীন কংগ্রেস আগামী নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রাজ্যে রাজ্যে বন্ধুর সন্ধান শুরু করেছে। এই প্রচেষ্টারই সাম্প্রতিক উদ্যোগ ঝাড়খন্ডে একসময়কার মিত্র ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) সঙ্গে সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত।সবকিছু ঠিকঠাক চললে চলতি সপ্তাহেই ঝাড়খন্ডে রাষ্ট্রপতির শাসনের বদলে জেএমএম-কংগ্রেস-রাষ্ট্রীয় জনতা দলের জোট সরকার গঠিত হবে। ঝাড়খন্ডের দিকে তাকানোর আগে গত সপ্তাহেই তামিলনাড়ুর একদা বন্ধু পরে ক্ষুব্ধ ডিএমকের সঙ্গে বোঝাপড়া প্রায় পাকা করে নেয় কংগ্রেস। করুণানিধির কন্যা কানিমোড়ি (এটাই ঠিক তামিল উচ্চারণ) কংগ্রেসের সমর্থন না পেলে দ্বিতীয়বারের জন্য রাজ্যসভায় নির্বাচিত হতে পারতেন না। প্রয়োজনীয় সেই সমর্থন চাওয়ামাত্রই কংগ্রেস হাত বাড়িয়ে দেয়। ডিএমকেকে যেমন কংগ্রেসের প্রয়োজন, করুণানিধিরও তেমনি চাই কংগ্রেসকে। দুর্নীতির দায়ে মন্ত্রী এ. রাজা এবং কন্যা কানিমোড়ির জেলযাত্রা আটকাতে ব্যর্থ করুণানিধি শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় তামিলদের ‘স্বার্থহানির’ প্রশ্নে ইউপিএ থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ঝাড়খন্ডে গত জানুয়ারি মাসে অর্জুন মুন্ডা সরকারের পতন ঘটার পর থেকে রাষ্ট্রপতির শাসন চলছে। ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ শিবু সোরেনের হাত ধরে জোট সরকার গঠনে শুরুতে কংগ্রেসের আপত্তি ছিল। কিন্তু মোদির উত্থানে বিজেপি যাতে বাড়তি গুরুত্ব না পায়, সে জন্য পুরোনো বন্ধু শিবু সোরেনের হাত ধরতে শেষ পর্যন্ত রাজি হয়ে যায়। ঠিক হয়েছে জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পদ পাবে জেএমএম (মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেন না তাঁর পুত্র হেমন্ত ঠিক হয়নি), কংগ্রেস পাবে রাজ্যের ১৪ লোকসভা আসনের মধ্যে আট থেকে দশটি। এই ফর্মুলায় ২০০৪ সালে কংগ্রেস, জেএমএম ও লালু প্রসাদের রাষ্ট্রীয় জনতা দল ১৪টির মধ্যে ১৩টি আসন জিতেছিল। বিজেপিকে রুখতে এবারও সেই পথে হাঁটতে চলেছে কংগ্রেস। ঝাড়খন্ডের পাশের রাজ্য বিহারেও নিতীশ কুমারের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। নিতীশ সেই হাত ধরবেন না, এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো দেননি। কংগ্রেস চাইছে, বিহারেও তাদের সঙ্গে বিজেপিবিরোধী তিন শক্তি, নিতীশ-লালু-রামবিলাস একজোট হোন। কংগ্রেসের নজরে পরবর্তী রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশ। রাজশেখর রেড্ডির অকালমৃত্যু ও তাঁর ছেলে জগনমোহনের বিদ্রোহ কংগ্রেসকে যথেষ্ট দুর্বল করে দিয়েছে। জগনমোহনের সঙ্গে সমঝোতার একটা চেষ্টা তলে তলে চলছে।এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা গতকাল রাতে খাদ্য নিরাপত্তা অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে। কংগ্রেসের আশা, এই অধ্যাদেশও ভোটের রাজনীতিতে তাদের সুবিধা করে দেবে।

মিসরের নতুন ‘লৌহমানব’ সেনাপ্রধান সিসি?

আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি
মিসরের চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নতুন ‘লৌহমানব’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। তিনি চলমান সংকটের ইতি টানতে উদগ্রীব। তবে দেশকে ২০১১-১২ সালের মতো অজনপ্রিয় সেনাশাসনের দিকে নিয়ে যেতে চাইছেন না বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা।সেনাপ্রধান সিসি গত সোমবার নাটকীয়ভাবে দেশটির চলমান পরিস্থিতিতে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি দেশটির ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে  বিরোধীদের সঙ্গে ক্ষমতার ভাগাভাগির প্রশ্নে সমঝোতায় পৌঁছাতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। এতে মুরসিবিরোধী বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নামা জনতার প্রশংসা কুড়িয়েছেন সিসি।মুরসিবিরোধী বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর কায়রোর তাহরির স্কয়ারে স্লোগান দিয়েছে ‘সেনাবাহিনী ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ’। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মুরসির সমর্থকদের কাছে সেনাবাহিনীর এ হস্তক্ষেপ কার্যত অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের ছদ্মবেশী হুমকি।প্রেসিডেন্ট মুরসির দাপ্তরিক টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তাঁকে মিসরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে ‘সাংবিধানিক বৈধতা’র দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘(তিনি) কোনো প্রকার সীমা লঙ্ঘনের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করছেন, সশস্ত্র বাহিনীকে তাদের হুঁশিয়ারি প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং কোনো প্রকার নির্দেশ—তা সে অভ্যন্তরীণই হোক আর বিদেশিই হোক—প্রত্যাখ্যান করছেন।’কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কামেল আল-সাইদ বলেন, জেনারেল সিসি অতীতে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি গত বছর নতুন সংবিধান প্রণয়ন নিয়ে সংকট চলাকালে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে চেষ্টা করেন।রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের মধ্যে যাঁরা সিসির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন তাঁদের বিশ্বাস, তাঁর প্রধান ভাবনা সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনাকে কেন্দ্র করে।৫৮ বছর বয়সী সিসি তাঁর উত্তরসূরি মোবারকের ঘনিষ্ঠ হুসেইন তানতাউয়ির চেয়ে বয়সে ২০ বছরের ছোট। গত বছরের আগস্টে মুরসি যখন সিসিকে সেনাপ্রধানের পদে বসান তখন মনে করা হচ্ছিল, ইসলামপন্থীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক ভালো হবে। সেনাপ্রধান পদে নিযুক্ত হওয়ার পর অনেকেই অভিযোগ করেন সিসি ইসলামপন্থীদের কাছের মানুষ। অন্য অনেক মিসরীয় সেনা কর্মকর্তার মতো সিসি সাবেক জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসেরের একান্ত অনুরক্ত। ১৯৫৪ সালের নভেম্বরে কায়রোতে জন্মগ্রহণকারী সিসি মিসরের সামরিক একাডেমি থেকে সমরবিজ্ঞানে ১৯৭৭ সালে স্নাতক পাস করেন। এএফপি।

ম্যান্ডেলার নাতির বিরুদ্ধে জিতলেন পরিবারের অন্যরা

মান্ডলা ম্যান্ডেলা
নেলসন ম্যান্ডেলার তিন সন্তানের মরদেহ পারিবারিক সমাধিক্ষেত্র থেকে স্থানান্তর নিয়ে মামলায় হেরে গেলেন সাবেক প্রেসিডেন্টের নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে জিতেছেন ম্যান্ডেলা পরিবারেরই ১৬ জন সদস্য।দুই বছর আগে মান্ডলা ম্যান্ডেলা ওই দেহাবশেষগুলো পারিবারিক সমাধিক্ষেত্র থেকে সরিয়ে অন্য কবরস্থানে সমাহিত করেন। পরিবারের সদস্যরা তা আবার আগের সমাধিক্ষেত্রে কবর দিতে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। উচ্চ আদালত গতকাল বুধবার তাঁদের পক্ষে রায় দেন। স্থানীয় সময় গতকাল সন্ধ্যার মধ্যেই রায় কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কিংবদন্তিপ্রতিম নেতা ম্যান্ডেলাও অনেক আগেই ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুনু গ্রামে অবস্থিত পারিবারিক সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। মান্ডলার বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগ করা হয়, দুই বছর আগে ম্যান্ডেলার তিন সন্তানের মরদেহ পারিবারিক সমাধিক্ষেত্র থেকে সরিয়ে ফেলার সঙ্গে তিনি জড়িত। নেলসন ম্যান্ডেলা তাঁর নাতিকে কুনু থেকে ২২ কিলোমিটার দূরের এমভেজো এলাকার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ম্যান্ডেলার তিন সন্তানের দেহাবশেষ উঠিয়ে মান্ডলা এমভেজোতে সমাধিস্থ করেন। তিনি সেখানে নেলসন ম্যান্ডেলার সম্মানে একটি ঐতিহ্যকেন্দ্র গড়ে তুলতে চান। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ম্যান্ডেলা পরিবারের অনেকের বাধার মুখে পড়েন মান্ডলা। নেলসন ম্যান্ডেলা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই অবস্থায়ই তাঁর পরিবারের সদস্যরা আইনি লড়াইয়েলিপ্ত। বিবিসি।

‘তিনি চিরকাল আমাদের সঙ্গে থাকুন’

নেলসন ম্যান্ডেলা
টাটা মাদিবা, সেরে ওঠো; আমরা তোমাকে ভালোবাসি।’ ভক্তরা নেচে-গেয়ে প্রিয় নেতার আরোগ্য লাভের জন্য এভাবেই প্রার্থনা করেছেন। জোহানেসবার্গের প্রেসিডেন্ট স্ট্রিটে এএনসির সদর দপ্তর লুথুলি হাউসের বাইরে মঙ্গলবার ম্যান্ডেলার সুস্থতা কামনায় এ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। ক্ষমতাসীন দল এএনসির প্রধান ধর্মযাজক ভুকিলে মেহানা ম্যান্ডেলা পরিবারের ঐক্যের জন্যও প্রার্থনা করেন। ম্যান্ডেলা ভক্তরা কবি এমজোয়াখে এমবুলির গানের ছন্দের সঙ্গে নাচেন। এ সময় ম্যান্ডেলার স্তুতি গাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আরও কয়েকজনের নামও উচ্চারিত হয়। এর মধ্যে ছিলেন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ সহচর এএনসির প্রবীণ নেতা অলিভার টাম্বো এবং ওয়াল্টার সিসলু। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সবার কণ্ঠেই ছিল ম্যান্ডেলার সেরে ওঠার জন্য আকুতি। এএনসির মহাসচিব গোয়েদে মানতাশে বলেন, ‘জানি, আমরা চিরদিন বেঁচে থাকব না। তবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন ম্যান্ডেলাকে সুস্থ করে দেন।’ এএনসি ন্যাশনাল চেয়ারপারসন বালেকা এমবেতে বলেন, ‘মাদিবা দক্ষিণ আফ্রিকা ও বহির্বিশ্বের মানুষকে এক সুতায় গেঁথেছেন। আমরা চাই, তিনি চিরকাল আমাদের সঙ্গে থাকুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন সময়টা শুধু এএনসির জন্য নয়, গোটা মানবতার জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। আমি আশা করি, ঈশ্বর মাদিবাকে আমাদের মাঝেই রেখে দেবেন।’ দ্য স্টার।

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্টের বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা

মার্কিন নজরদারি ফাঁস করে আলোড়ন তোলা এডওয়ার্ড স্নোডেন আছেন সন্দেহে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের বিমানকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে। পর্তুগাল ও স্পেনসহ চারটি দেশ তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় বিমানটি অস্ট্রিয়ায় অবতরণ করে। বলিভিয়া ও অস্ট্রিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই বিমানে স্নোডেন ছিলেন না। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মোরালেস। বলিভিয়া এ বিষয়ে জাতিসংঘে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মোরালেসকে বহনকারী বিশেষ বিমান মঙ্গলবার রাতে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে বলিভিয়া ফিরছিল। পথে পর্তুগাল, স্পেন, ইতালি ও ফ্রান্স নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দেয় ওই বিমানকে। বিমানে স্নোডেন আছেন সন্দেহ করে তা করা হয়। একপর্যায়ে জ্বালানি নেওয়ার জন্য স্পেনের মাদ্রিদে অবতরণ করার অনুমতি চাওয়া হয়। সেই অনুমতিও মেলেনি। পরে মোরালেসের বিমান অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনির্ধারিতভাবে অবতরণ করে। ক্ষুব্ধ মোরালেস বলেছেন, ‘আমি অপরাধী নই। কোনো ভুলও করিনি। তার পরও এমনটা করা হয়েছে।’ বিমানে প্রেসিডেন্ট মোরালেসের সঙ্গে ছিলেন তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুবেন সুভের্ডা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারকে ব্যবহার করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বলিভিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড চাকুয়েহুয়ানসা সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্নোডেন বিমানে আছেন—এই ডাহা মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে ফ্রান্স ও পর্তুগাল প্রেসিডেন্ট মোরালেসকে বহনকারী বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি। আমরা জানি না কারা এ ধরনের মিথ্যা ছড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট মোরালেসের বিমান নিয়ে এই অন্যায়ের তীব্র নিন্দা জানাই আমরা।’ অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলেকজান্ডার সলেনবার্গ নিশ্চিত করেছেন, বলিভিয়ার প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানে স্নোডেন ছিলেন না। মোরালেস একটি সম্মেলনে যোগ দিতে রাশিয়া গিয়েছিলেন। সেখানেই মস্কোর শেরেমেয়িতেভো বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় গত ২৩ জুন থেকে অবস্থান করছেন হংকং থেকে যাওয়া স্নোডেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করায় এবং কোনো দেশ এখনো রাজনৈতিক আশ্রয় না দেওয়ায় ট্রানজিট এলাকাতেই অবস্থান করতে হচ্ছে স্নোডেনকে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও নিজ দেশের জনগণের ওপর মার্কিন প্রশাসনের নজরদারির খবর ফাঁস করায় যুক্তরাষ্ট্র স্নোডেনের ওপর ক্ষুব্ধ। মোরালেস গত মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, স্নোডেন তাঁর দেশের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলে তা বিবেচনা করে হবে। তবে তিনি জানান, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত স্নোডেনের কোনো আবেদন তাঁর সরকার পায়নি। রাশিয়ার গণমাধ্যমে এমন কথা প্রচারের কয়েক ঘণ্টা পরই মোরালেসের বিমান নিয়ে এ ঘটনা ঘটল। মোরালেসকে বহনকারী বিমান শেষ পর্যন্ত অস্ট্রিয়া থেকে বলিভিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পথে তেল নিতে এটির স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে অবতরণের কথা। পরে স্পেনের কাছ থেকে সেই অনুমতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।  জাতিসংঘে নিযুক্ত বলিভিয়ার রাষ্ট্রদূত সাচা লরেন্তি গতকাল জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট মোরালেসের বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হয়েছে। আমরা জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে এর নিন্দা জানানোর উদ্যোগ নিয়েছি।’ এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইইউভুক্ত একটি দেশের সার্বভৌমত্বের দায়দায়িত্ব তার নিজের নিয়ন্ত্রণে। কোনো দেশ এককভাবে চাইলে তার আকাশসীমায় প্রবেশে যে কাউকে বাধা দিতে পারে। তবে ফ্রান্স ও পর্তুগাল কী কারণে প্রেসিডেন্ট মোরালেসের বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তা অস্পষ্ট। এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স।

স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন : মাছ ও মুরগি তত্ত্ব by কারার মাহমুদুল হাসান

চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বলা যায় মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোসহ সারাদেশে হানাহানির আশংকা অনেকে করেছিলেন এবং এ আশংকা করার মতো আলামতও চারদিকে যথেষ্ট বিদ্যমান ছিল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট চার সিটি কর্পোরেশনে আগের চার মেয়রকেই আবার নির্বাচন করার জন্য সমর্থন দিয়েছিল। আর এ সমর্থন প্রদানের প্রক্রিয়ায় জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের স্ব স্ব সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ী করার জন্য যা যা আয়ত্তের মধ্যে ছিল, তার সবই করেছিলেন। ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট আশা করেছিল, গত চার বছরে চার সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় হাজার কোটিরও বেশি টাকা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করার সুবাদে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা হয়তো সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার পথে আরেক ইতিহাস সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃতে ১৮ দলীয় জোট নিজেদের বিশেষত বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল যথাসম্ভব মিটিয়ে ফেলে চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেই অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সুশৃংখল কায়দায় মিছিল-স্লোগান ইত্যাদির মাধ্যমে ঘরে ঘরে তাদের মেয়র প্রার্থীর জন্য ভোট প্রার্থনা করে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি সিটি মেয়র নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। শুধু তা-ই নয়, কাউন্সিলর পদেও বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে জয়ের মালা ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হন।
ওই চার সিটি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, ভোট কেনাবেচা, জোরজবরদস্তি এবং আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে সরকারি দল তাদের সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে সর্বশক্তি নিয়োগ করবে, এমনটি বিএনপি ও শরিক দলগুলো হরহামেশা বলে আসছিল বিভিন্ন সভা-সমাবেশে। এ ধরনের বিধিবহির্ভূত কাজ করলে সেসব জনগণ সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করবে- এমন হুংকার দিয়েও কর্মীদের উজ্জীবিত রাখার কৌশল অনুসরণ করেছে বিএনপি। নির্বাচনের আগের দিন এমনকি নির্বাচনের দিনও আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবউল হক হানিফ টিভি ক্যামেরা, সাংবাদিক ও অন্যদের সামনে জোর গলায় বলে বেরিয়েছেন, বিএনপি সব সিটি নির্বাচনে করুণভাবে হারবে- এটা নিশ্চিতভাবে জেনেই ‘নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না’ ইত্যাদি নেতিবাচক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে।
নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর আওয়ামী লীগ এখন সবরকম ‘অবসাদ ও কষ্ট’ ঝেরে বলতে শুরু করেছে, আগে অনুষ্ঠিত অন্যূন পাঁচ সহস্রাধিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন ও সরকার। এ কারণে এ নির্বাচনগুলোতে সরকার সমর্থিত প্রার্থীরা হারলেও ইসি ও সরকার নিরপেক্ষতার সর্বোত্তম নজির সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। আর সে কারণেই আগামী সংসদ নির্বাচনও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হতে হবে এবং তাতে গণতন্ত্রেরই জয়জয়কার হবে। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর সরকারপ্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ওই একই ধাঁচের কথাবার্তা প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন সভা-মাহফিলে বলছেন। তিনি আগের মতো আরও বলে চলেছেন যে, বিএনপির দাবি অনুযায়ী যদি আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার জাতির কাঁধে চেপে বসে, তবে সেই অগণতান্ত্রিক সরকার কোনো নির্বাচনই দেবে না এবং সরকারি ও বিরোধী দলের নেত্রীদ্বয়কে জেলে পাঠাবে। শুধু তা-ই নয়, তারা খালেদা জিয়াকে প্রথমে জেলে পাঠাবে আর তার দুই ছেলেকে আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো চরম শাস্তি দেবে। সুতরাং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূত বিরোধী দলের নেত্রীর মাথা থেকে সরাতে হবে এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে বিদ্যমান সরকারের অধীনে (ক্ষমতা কিছুটা কাটছাঁট করে) নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও আগামী সংসদ নির্বাচন সেভাবেই হবে। তাছাড়া মহামান্য উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি তো বাতিলই করে দিয়েছেন। সুতরাং আইনিভাবে সেই বাতিলকৃত সরকার আর ফেরত আনা যাবে না এবং তার কোনো সুযোগও নেই।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে সরকারি প্রার্থীদের করুণ পরাজয়ের বিষয়ে সিপিবি নেতা হায়দার আকবর রনো অবশ্য বলেছেন, সরকারের সাড়ে চার বছরের কর্মকাণ্ডের জবাব দিয়েছে জনগণ। অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেছেন, মেয়র নির্বাচনে বিপর্যয় সরকারের জন্য অশনিসংকেত। অন্যদিকে রাজশাহীর সরকার সমর্থিত মেয়র প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র নির্বাচনে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণার একপর্যায়ে মিডিয়া ক্যুর অভিযোগ আনেন। আর বরিশালের সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী তার পরাজয়ের জন্য দোষ চাপিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক চিফ হুইপ ও বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ওপর। এর পর দু’দিনের মাথায় জেলা আওয়ামী লীগ সভা করে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।
সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে করা হয়নি- এ বক্তব্যের বিপরীতে নির্বাচনের দিন দৈনিক ইত্তেফাকে ‘শেষ মুহূর্তে চার মিনিটে ব্যাপক ধরপাকড়’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরটিতে বলা হয়, চার সিটি নির্বাচনের আগের দিন ব্যাপক ধরপাকড় করেছে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ ও টাকা বিলির অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করার তথ্য স্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী। তবে বিএনপির একাধিক নেতার অভিযোগ, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আতংক ছড়ানোর জন্য এই ধরপাকড় করা হয়েছে। গত ১৪.০৬.১৩ তারিখ রাত পর্যন্ত রাজশাহীতে ৩০ জন, খুলনায় ১৫ জন, সিলেটে ১০ জন এবং বরিশালে ২৫ জনকে আটকের সংবাদ পাওয়া গেছে মর্মে ওই পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে।
একই পত্রিকায় ‘আলালের বাসায় র‌্যাব পুলিশের অভিযান’ শিরোনামে প্রকাশিত (১৫.০৬.১৩) খবরে বলা হয়, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বটতলার বাসভবনে বৃহস্পতিবার রাতে দফায় দফায় অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব ও পুলিশ। আলাল ইত্তেফাককে জানান, রাতে তিন দফায় র‌্যাব ও পুলিশ গিয়ে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বরিশাল ত্যাগ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। আলাল তখন র‌্যাব ও পুলিশকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ বাড়িতে থেকেই তিনি বাবুগঞ্জ-উজিরপুর আসনে একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে, তখনও তাকে বাবুগঞ্জ বা উজিরপুর এলাকা ছেড়ে যেতে বলা হয়নি। অথচ র‌্যাব-পুলিশ তাকে ঢাকায় মোহাম্মদপুর চলে যেতে বলেন। না গেলে পরবর্তীকালে লিখিত আদেশ নিয়ে তাকে বরিশাল ছাড়া করা হবে বলে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আলালকে জানিয়ে দেন। আগের দিন শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত আলাল বরিশাল নগরীতে অবস্থান করেছিলেন। দুপুরে তিনি বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন। একই রাতে র‌্যাব কাউনিয়া এলাকা থেকে মেয়র প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের সমর্থক কাউনিয়ার বিএনপি নেতা বাবলা, করিম কুটির থেকে আল-আমিন ও গতকাল আমানতগঞ্জ এলাকা থেকে সাইদুল ইসলাম পলুকে গ্রেফতার করে। বিএনপি নেতা এবায়দুল হক চাঁন ইত্তেফাককে জানান, র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত তিনজনকে অস্ত্র দিয়ে চালান দিয়েছে র‌্যাব। পুলিশ জানিয়েছে, কোতোয়ালি থানায় আল-আমিনকে ও কাউনিয়া থানায় বাবলাকে অস্ত্রসহ সোপর্দ করেছে র‌্যাব-৮। র‌্যাবের গ্রেফতার অভিযান থাকায় অধিকাংশ বিএনপি নেতাকর্মী গা-ঢাকা দিয়েছেন। বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মাঝে চরম আতংক দেখা দিয়েছে।
এ ধরনের পুলিশি উৎপাত সংক্রান্ত আরও বিভিন্ন খবরাখবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে নির্বাচনের ঠিক আগে। সুতরাং সরকার সিটি নির্বাচনে কোনো ধরনের উৎপাত করেনি এটা বলা সমীচীন নয়। তবে নির্বাচনের ফলাফল সর্বতোভাবে বিএনপি সমর্থিতদের পক্ষে চলে যাওয়ায় এ ব্যাপারে পরে বিএনপির পক্ষ থেকে আর কোনো উচ্চবাচ্য করা হয়নি বলে প্রতীয়মান।
নির্বাচনের দু’দিন পর ১৭.০৬.১৩ তারিখে আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ মর্মে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয় যে, একটি নির্বাচিত সরকারই আরেকটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। যতই হুমকি-ধামকি দেয়া হোক, কোনো অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দ্বারা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে না। কোনো শক্তির কাছে মাথানত করবে না সরকার। নির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারই আগামী নির্বাচন পরিচালনা করবে এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। এছাড়া সংসদের বাইরে কোনো সংলাপে রাজি নয় আওয়ামী লীগ। ১৬.০৬.১৩ তারিখ রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে কার্যনির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। বর্ধিত সভায় জেলা নেতাদের এমন প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রস্তাবটি অনুমোদন দিয়েছে কার্যনির্বাহী সংসদ। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়েই গঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকার। ইচ্ছা করলে ওই সরকারে অংশ নিতে পারে বিএনপি। তত্ত্বাবধায়ক নয়, সংলাপ হতে পারে অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা নিয়ে। তবে সংলাপ হলে তা হবে জাতীয় সংসদে, অন্য কোথাও নয়- এটাই কার্যনির্বাহী কমিটির শেষ কথা।
সে যাই হোক, চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে খোদ আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ে। তবে বামপন্থী রাজনীতিক হায়দার আকবর খান রনো, যিনি ছাত্রজীবন থেকে গত ৪০-৪৫ বছর ধরে সৎ রাজনীতি করে এখনও দেশী-বিদেশী রাজনীতির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে সহি মতামত দিতে সক্ষম, তার এ সংক্রান্ত মন্তব্যটি অনেকটা গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়। তিনি বলেছেন, সাড়ে চার বছরে সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, পদ্মা সেতু কেলেংকারি, শেয়ারবাজার কেলেংকারি, সোনালী ব্যাংক দুর্নীতি, খুন-গুম, টেন্ডারবাজি, ছাত্রলীগ-যুবলীগের দাপট, গার্মেন্ট শ্রমিকদের নির্যাতন সবকিছুর জবাব জনগণ দিয়েছে এ সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে। তিনি বলেছেন, এতে নতুনত্বের কিছু নেই। এর আগে বিএনপি সরকারও একই অবস্থা করেছিল বলে গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জনগণ বেছে নিয়েছিল। এবার আবার আওয়ামী লীগ বিএনপির মতো একই আচরণ করায় জনগণ বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে। আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষ হতাশ হয়েছে।
বিএনপি মনে করে, এ সরকারের অধীনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বিরোধী দল ১৪ দলের কোনো ফাঁদে পা দিতে চায় না। বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত ১৮ দলসহ দেশের জনগোষ্ঠীর ব্যাপক অংশ- সুশীল সমাজ, রাজনীতি পর্যবেক্ষণকারী নিরপেক্ষ ব্যক্তিরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করছেন সর্বদা। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন জনমতেও একই ধারণার প্রকাশ ঘটেছে। ১৯৯৩ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিএনপির অধীনে হয়েছিল। তাতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা মেয়র পদে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও আওয়ামী লীগ বিএনপির অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যায়নি। তখন তাদের দাবিতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেছিল। সেভাবেই বিএনপি ও ১৮ দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করবে বলে মনে
করছেন তারা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, যদিও বাস্তবে রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন কায়দায় এসব নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে উৎসাহবোধ করে থাকে। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচন তথা সংসদ নির্বাচন আবশ্যিকভাবেই রাজনৈতিক এবং এ নির্বাচনের মূল অংশগ্রহণকারী হল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রতিনিধি (চেয়ারম্যন, মেম্বার, মেয়র, কাউন্সিলর ইত্যাদি) নির্বাচনের জন্য যেমন নির্বাচন করতে হয়, জাতীয় তথা সংসদ নির্বাচনের জন্যও ভিন্নতর আঙ্গিকে নির্বাচন করতে হয়। দু’ধরনের এ নির্বাচনের পার্থক্য অনেকটা মাছ ও মুরগির মতো। মাছ ও মুরগি প্রাণী দুটি আকারে ছোট, তবে প্রায় একই রকম এবং সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে এ দু’ধরনের প্রাণীই রান্না করে খাবার টেবিলে পরিবেশন করা হয়। কিন্তু এ দুই প্রাণীর আচরণ ও বিচরণস্থলের মধ্যে ফারাক অনেক- একটির বিচরণক্ষেত্র ডাঙায় এবং অপরটির পানিতে। ঠিক সে রকম পার্থক্য স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে। তাছাড়া মাছের ধরন অগণিত এবং গতিপ্রকৃতিও নানা ধরনের- অনেকটা স্থানীয় সরকারের মতো। চেয়ারম্যান, মেম্বার, মেয়র, কাউন্সিলরদের বিভিন্ন ইউনিটে ভিন্ন ভিন্ন পদে নির্বাচন করতে হয়। পানিতে বসবাসকারীর সংখ্যা যেমন বিপুল, তেমনি স্থানীয় সরকারের ইউনিটের সংখ্যাও বিপুল- যেখানে স্থানীয় ভিত্তিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠান করা হয়। এ ধরনের নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হয় না। অন্যদিকে মুরগির আদল বা গতিপ্রকৃতি প্রায় একই ধাঁচের. অনেকটা জাতীয় সংসদের সদস্যদের মতো। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কাজের ধরন ও প্রকৃতি প্রায় একই রকম। সেজন্য স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি নির্বাচন ও জাতীয় সংসদ প্রতিনিধিদের নির্বাচন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের। একটির সঙ্গে অন্যটির তুলনা খোঁজার সুযোগ নেই বললেই চলে।
এ বাস্তবতার আলোকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আবশ্যিকভাবেই (বাংলাদেশের বিগত দুই দশকের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে) দলনিরপেক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ধাঁচের কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া সমীচীন। এর ভিন্ন কিছু হলে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে নিঃসন্দেহে। আশা করি, বর্তমান শাসক জোটসহ দলমত নির্বিশেষে সবাই বিষয়টি অতিশয় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে কালবিলম্ব না করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৎপর হবেন।
কারার মাহ্মুদুল হাসান : সাবেক সচিব; প্রেসিডেন্ট, চাটার্ড ইন্সটিটিউট অব লজেস্টিকস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট, বাংলাদেশ কাউন্সিল

ক্ষমতায় যাওয়ার পর by সাযযাদ কাদির

সরওয়ার আহমদ নিজের পরিচয় দেন লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে। তিনি মানবজমিন-এর স্টাফ রিপোর্টার মৌলভীবাজার।

চিকিৎসা-দর্শন by ড. মাহফুজ পারভেজ

শিক্ষাজীবনে মেডিকেলের ছাত্রদের গ্রিক দার্শনিক হিপোক্রেটিস নির্দেশিত শপথবাক্য পাঠ করতে হয়- ‘রোগীকে ভালোবেসে চিকিৎসা করব, অবহেলা বা অবজ্ঞা করব না।

সেনাবাহিনীর সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে মিরর

সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি চৌধুরী হাসান সরওয়ার্দী বৃটিশ সানডে মিররে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি  করে বলেছেন,

বার্কলেস ব্যাংকের বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তে বৃটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা রুশানারা আলী এমপির by তানজির আহমেদ রাসেল

যুক্তরাজ্যের বার্কলেস ব্যাংক বাংলাদেশী ব্যাংকের একাউন্ট বন্ধের ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বৃটিশ শ্যাডো ডিএফআইডি মিনিষ্টার ও বেথনাল গ্রীন এন্ড বো আসনের এমপি রুশানারা আলী।

খালেদার নামে প্রকাশিত নিবন্ধ নিয়ে পাল্টাপাল্টি

ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়ার নামে  প্রকাশিত নিবন্ধ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

ঘর গোছাচ্ছেন খালেদা by মান্নান মারুফ ও সাজেদা সুইটি

দলকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিকতায় এবার অঙ্গ সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

মুরসিকে গৃহবন্দি করে রেখেছে সেনাবাহিনী

গণবিক্ষোভের মুখে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত মিশরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন জাহাঙ্গীরনগরে এসব কী হচ্ছে?

‘পিতা গড়ে দেহ, শিক্ষক গড়ে মন/পিতা বড় নাকি শিক্ষক বড়, বলিবে কোন জন’ কবিতার এই লাইনগুলোর সত্যতার প্রমাণ মেলে শিক্ষাজীবনের শুরুতেই। স্কুল ও কলেজজীবনে বারবার লাইনগুলোর যথার্থতা অনুভব করতে হয়।

শিক্ষাঙ্গন জাহাঙ্গীরনগরে এসব কী হচ্ছে?

‘পিতা গড়ে দেহ, শিক্ষক গড়ে মন/পিতা বড় নাকি শিক্ষক বড়, বলিবে কোন জন’ কবিতার এই লাইনগুলোর সত্যতার প্রমাণ মেলে শিক্ষাজীবনের শুরুতেই। স্কুল ও কলেজজীবনে বারবার লাইনগুলোর যথার্থতা অনুভব করতে হয়।

স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় থাক রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য

রমজান মাস আসার আগে জিনিসপত্রের দাম বাড়া নিয়ে লোকজনের মধ্যে একটি ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে, রমজান মাসে প্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্যের দাম নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।

আদর্শ বিসর্জন দিয়ে গণতন্ত্র বাঁচানো যায় না স্বৈরাচারের কাছে ধরনা

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে সাবেক সামরিক স্বৈরাচারী শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও তাঁর দল জাতীয় পার্টির আনুকূল্য লাভের জন্য দুই দল ও জোট ব্যাকুল হয়ে উঠেছে।

মাদককে ‘না’ মাদকাসক্ত ব্যক্তির নিজের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না

প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে গত ১৫ জুন বিকেল সাড়ে চারটায় পরামর্শ সহায়তা-৩৯-এর আসরটি অনুষ্ঠিত হয় ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে। এ আয়োজনে মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদককে ‘না’ মাদকাসক্ত ব্যক্তির নিজের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না

প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে গত ১৫ জুন বিকেল সাড়ে চারটায় পরামর্শ সহায়তা-৩৯-এর আসরটি অনুষ্ঠিত হয় ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে। এ আয়োজনে মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদককে ‘না’ মাদকাসক্ত ব্যক্তির নিজের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না

প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে গত ১৫ জুন বিকেল সাড়ে চারটায় পরামর্শ সহায়তা-৩৯-এর আসরটি অনুষ্ঠিত হয় ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে। এ আয়োজনে মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদককে ‘না’ মাদকাসক্ত ব্যক্তির নিজের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না

প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে গত ১৫ জুন বিকেল সাড়ে চারটায় পরামর্শ সহায়তা-৩৯-এর আসরটি অনুষ্ঠিত হয় ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে। এ আয়োজনে মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নুরজাহান-আলোকিত ঈদ ফ্যাশন প্রতিযোগিতা- শেষ হলো প্রাথমিক বাছাই, এবার চূড়ান্ত পর্বের অপেক্ষা

সকাল থেকে সারা দিন চলেছে পোশাক বাছাইয়ের ব্যস্ততা। নানা রঙের নানা পোশাকের ভিড় থেকে সেরা ডিজাইনের পোশাক খুঁজে নিতে গলদঘর্ম হয়েছেন পাঁচজন বিচারক। গতকাল এভাবেই শেষ হলো নুরজাহান-আলোকিত ঈদ ফ্যাশন ২০১৩ প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাই পর্ব। এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত পর্বের।

গল্পটা বেলীর by আশরাফ উল্লাহ

গানের শুরু কিছুটা লুকোচুরির মধ্যে। তখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। বাবার বারণ—ঘরে গান চলবে না। কিন্তু গানপাগল মেয়েটি নাছোড়বান্দা। মাও প্রশ্রয় দেন। পাশে দাঁড়ান বড় ভাই। বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোনোর আগেই ভাইয়া হাতে ধরিয়ে দেন ড্রামের কাঠি।

তাঁবুর জীবন বৃষ্টি হলে কষ্ট বাড়ে

টাইগারপাস নব দিগন্ত ক্লাব মাঠ। মাঠে সারিবদ্ধ তাঁবু। মধ্যে চলাচলের পথ। পথের বেশির ভাগ অংশজুড়েই কাদা-পানি। কিছু তাঁবুর ভেতরেও একই অবস্থা। টানা বর্ষণে ভোগান্তি বেড়েছে তাঁবুর বাসিন্দাদের।

উন্নয়নের ভোগান্তিতে যোগ হলো বৃষ্টি by মিঠুন চৌধুরী

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভোগান্তি বেড়েছে নগরবাসীর। টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে বহদ্দারহাট, প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ নগরের বিভিন্ন এলাকার সড়কে পানি জমে যাচ্ছে।

আসছে রোজা, বাড়ছে শঙ্কা by মাসুদ মিলাদ

এক সপ্তাহ পরেই আসছে রোজা। রোজার পণ্যের মজুত নিয়ে শঙ্কা দূর হয়েছে অনেক আগেই। এর পরও রোজা শুরু না হওয়া পর্যন্ত দাম নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। কারণ, রোজার দু-এক দিন আগে বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখে পণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেন বিক্রেতারা।

আমি কী ভাবছি সুয়োরানি-দুয়োরানির পালাবদল by নুরুল আলম আতিক

তারা ঝলমল ভুবনের মানুষেরা সব সময় ব্যস্ত থাকেন নাটক-চলচ্চিত্রের কাজে। তাঁদের চিন্তাজগতে কত রঙের আলো খেলা করে? জেনে নিন তারকাদের নিজের লেখায়...

আজ যে ঘুঁটেকুড়ানি কাল সে রাজরানি।

হলিউড টপচার্ট



১. মনস্টারস ইউনিভার্সিটি: বিলি ক্রিসটাল, জন গুডম্যান, ডেভ ফলি
২. দ্য হিট: স্যান্ড্রা বুলক, মেলিসা ম্যাকার্থি, বিল বার

বলিউড টপচার্ট

১. ঘনচক্কর: বিদ্যা বালান, এমরান হাশমি, রাজেশ শর্মা
২. রনঝনা: ধানুস, সোনম কাপুর, অভয় দেওল

হলিউড টম হ্যাঙ্কসের জন্মদিন

দেখতে ফরসা, মিষ্টি চেহারার ছেলেটিকে স্কুলে সবাই থমাস জেফ্রি হ্যাঙ্কস নামে চিনত। মজার ব্যাপার হলো, প্রচণ্ড লাজুক স্বভাবের হলেও যথেষ্ট ভালো এবং দায়িত্বশীল ছেলেটি কখনো বিপদে পড়ত না। ছোট্ট সেই ছেলেটি এখন ছয় ফুটের এক মধ্যবয়সী অভিনেতা।

বলিউড নতুন রূপে বিদ্যা

বলিউডে প্রথম ছবিতেই সেরা নবাগতার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। এরপর পা, ইশকিয়া, ডার্টি পিকচার ও কাহানি—গত কয়েক বছরের অভিনীত ছবিগুলোয় একের পর এক অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ারে জুটেছে সেরা অভিনেত্রী পুরস্কারও।

কালের পুরাণ কী হবে গাজীপুরে, তারপর? by সোহরাব হাসান

একটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল সরকারের পতন ঘটাবে না বা বিরোধী দলকেও ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপি গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে নিয়েছে বাঁচা-মরার লড়াই হিসেবে।

দেশের প্রথম জরিপ ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার শিকার by শিশির মোড়ল

দেশের শহরাঞ্চলের ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার শিকার। আর ঢাকা মহানগরে এই হার ২১ শতাংশ। এসব শিশুর শারীরিক সক্রিয়তা কম। অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার অন্যতম কারণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাস।

সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপিকে সমর্থন ভোট কম, তবু জাপাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া by শরিফুল হাসান ও মাসুদ রানা

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের শুরু থেকেই বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। গতকাল বুধবার বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও হেফাজত যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

নিরাপদ খাদ্যের জন্য বিক্ষিপ্ত উদ্যোগ by ইফতেখার মাহমুদ

খাদ্যে ক্ষতিকর মাত্রায় রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন হচ্ছে ও কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়েছে। ভেজাল চিহ্নিত করার পরীক্ষাগার হয়েছে। তার জন্যও একটা কর্তৃপক্ষ হয়েছে। কেনা হচ্ছে ভেজাল চিহ্নিত করার যন্ত্র।

এক বছরের মাথায় সামরিক হস্তক্ষেপ সংবিধান স্থগিত- মিসরে অভ্যুত্থান, মুরসি ক্ষমতাচ্যুত

২০১১ থেকে ২০১৩। মাত্র দুই বছরের ব্যবধান। এবার মোহাম্মদ মুরসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল মিসরের তাহরির স্কয়ার। গতকাল বুধবার রাতে গণবিক্ষোভের মুখে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক বছরের মাথায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সরিয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী।