Showing posts with label নির্যাতন. Show all posts
Showing posts with label নির্যাতন. Show all posts

Thursday, January 30, 2025

নির্যাতনে চার দাঁত হারানো গৃহকর্মী কল্পনা এবার হাসিমুখে বাড়ি ফিরবে

১৩ বছর বয়সী কল্পনার মুখে ঝকঝকে দাঁত, আর মুখে হাসি লেগেই আছে। লেখাপড়া করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায় সে। এখন আর ভয় পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কল্পনার হাসিমুখের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে।

অথচ আজ থেকে ৩ মাস ১১ দিন আগে কল্পনার চেহারা দেখে যে কেউ আঁতকে উঠতেন। কল্পনার সামনের চারটি দাঁত ভাঙা ছিল। হাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছিল ছ্যাঁকার ক্ষত। কোনো কোনো ক্ষত ছিল দগদগে। বুক, পিঠসহ সারা শরীরে মারের চিহ্ন। রক্তশূন্যতার পাশাপাশি মানসিক ট্রমা তো ছিলই।

কল্পনা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের অধীনে চিকিৎসাধীন। এই চিকিৎসক জানান, দুই–এক দিনের মধ্যেই কল্পনা হাসিমুখে বাড়িতে ফিরবে। কল্পনার শরীরে অনেকগুলো অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কৃত্রিমভাবে চারটি দাঁত লাগানো হয়েছে। দাঁতগুলো স্থায়ীভাবে লাগানোর প্রক্রিয়া চলছে। নিচের ঠোঁটেও ছোট একটি অস্ত্রোপচার লাগবে। সব মিলিয়ে তাকে ফলোআপে রাখা হবে।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় সাড়ে চার বছর গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত কল্পনা। সেখানেই সে চরম নির্যাতনের শিকার হতে থাকে।

বেসরকারি চ্যানেল ৭১ টেলিভিশনের সাংবাদিক ইশতিয়াক ইমন একটি ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে কল্পনার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তাঁর মাধ্যমে ভাটারা থানার পুলিশের সহায়তায় ১৯ অক্টোবর রাতে বসুন্ধরার ওই বাসা থেকে কল্পনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কল্পনা প্রথম আলোকে জানিয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে তাকে মারধর করার পাশাপাশি দিনে এক বেলা খাবার দেওয়া হতো। চুল সোজা করার যন্ত্র দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া, লম্বা বেত দিয়ে মারধর করা এবং বন্দী করে রাখা হয়েছিল। মা ফোন করলেও ফোনের সামনে বাড়ির মালিক দিনাত জাহান থাকতেন বলে কল্পনা মাকেও নির্যাতনের কথা বলতে পারত না।

কল্পনারা পাঁচ বোন ও এক ভাই। কল্পনার বাবা শরিফ মিয়া সিলেটের হবিগঞ্জে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তবে মেয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে তিনি ও তাঁর স্ত্রী আফিয়া বেগম তিন মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালেই ছিলেন।

মেয়েকে মারধরের অভিযোগে আফিয়া বেগম বাদী হয়ে বাড়ির মালিক দিনাত জাহানের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী মামলা করেন। দিনাত জাহান ও তাঁর এক ভাই বর্তমানে কারাগারে আছেন।

আজ বুধবার মুঠোফোনে কল্পনার মা আফিয়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাইয়াডারে কামে দিয়া সব্বনাশ হইছে। মাইয়ারে আর কামে দিমু না। বাড়িত নিয়া ইস্কুলে ভর্তি করামু।’

পরে মায়ের মুঠোফোনেই কল্পনার সঙ্গে কথা হয়। শুরুতেই কেমন আছো, জানতে চাইলে কল্পনা জানায়, সে ভালো আছে। নিজে থেকেই প্রতিবেদককে ‘আপনি কেমন আছেন’ তা–ও জানতে চায়।

টুকটুকে লাল লিপস্টিক দেওয়া কল্পনার হাসিমুখের ছবিটি খুব সুন্দর হয়েছে বললে সে হাসতে থাকে। জানায়, লিপস্টিকটি বড় বোন রত্না কিনে দিয়েছেন। বাড়িতে ফিরে স্কুলে ভর্তি হবে এবং পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হবে বলেও জানিয়ে দিল সে। সে নির্যাতনকারী দিনাত জাহানের ফাঁসি চায়।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কল্পনাকে দেখতে গিয়েছিল। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ কল্পনাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে তাঁর সুচিকিৎসার পাশাপাশি অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছিলেন।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মেয়েটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার আসামি হিসেবে দিনাত জাহান এবং সহযোগী অপরাধী হিসেবে তাঁর এক ভাই বর্তমানে কারাগারে আছেন। মেয়েটির মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলার নিষ্পত্তি করা হবে।

কল্পনার চিকিৎসক বার্ন ইউনিটের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন আজ সন্ধ্যায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কল্পনা হাসিমুখে বাড়িতে ফিরছে, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে।’ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পরে উপদেষ্টার সঙ্গে সরাসরি দেখা করে কল্পনার সার্বিক অবস্থার কথা জানানো হয়েছে। উপদেষ্টা তাঁর মন্ত্রণালয়কে কল্পনার পড়াশোনাসহ পুনর্বাসনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

হাসপাতালে ভর্তির পর ক্ষত জায়গার সংক্রমণ এড়াতে কল্পনার শরীর ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়েছিল। মানুষের ভিড় থেকে দূরে রাখতে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) রাখতে হয়েছিল তাকে। তার শরীরের অনেকগুলো অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় চামড়া লাগাতে হয়েছে। হাসপাতালের দন্ত বিভাগ, মানসিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কল্পনার চিকিৎসা চলে। সরকারি খরচে তার চিকিৎসা হয়েছে।

মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন জানান, কল্পনার শরীরে এখন শুধু অস্ত্রোপচারের দাগ আছে। আগে যে ট্রমা ছিল, তা এখন নেই বললেই চলে। কল্পনাও টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলে, সে এখন আর মানুষ দেখে ভয় পায় না।

গত ২০ অক্টোবর প্রথম আলো অনলাইনে ‘নির্যাতনে গৃহকর্মী শিশুটির চারটি দাঁত ভেঙেছে, শরীরে মারধর ও ছ্যাঁকার ক্ষত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

নির্যাতনে গৃহকর্মী শিশুটির চারটি দাঁত ভেঙেছে, শরীরে মারধর ও ছ্যাঁকার ক্ষত by মানসুরা হোসাইন

১৩ বছর বয়সী কল্পনার সামনের চারটি দাঁত ভাঙা। হাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকার ক্ষত। কোনো কোনো ক্ষত শুকিয়ে টান ধরেছে। কোনো কোনো ক্ষত এখনো দগদগে। বুক, পিঠসহ সারা শরীরে মারের চিহ্ন। একদিকে মারধর, অন্যদিকে রক্তশূন্যতা। শারীরিক সমস্যার সঙ্গে মানসিক ট্রমা তো আছেই।

কল্পনা রাজধানীতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এক বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। সাড়ে চার বছর ধরে সে এই বাসায় কাজ করত। বর্তমানে কল্পনা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

আজ রোববার কল্পনার শারীরিক ও মানসিক ট্রমার কথা এভাবেই বর্ণনা করলেন বার্ন ইউনিটের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন। শনিবার থেকে এই চিকিৎসকের অধীনেই ভর্তি আছে কল্পনা।

নাসির উদ্দীন জানালেন, মেয়েটির সারা শরীরে ক্ষত। তাই সংক্রমণ এড়াতে ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়েছে। শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো হলে মঙ্গলবার প্রাথমিকভাবে একটি অস্ত্রোপচার করার সম্ভাবনা আছে। এরপর আরও অস্ত্রোপচার লাগবে। মানুষের ভিড় থেকে দূরে রাখতে এবং চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের দন্ত বিভাগ, মানসিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেয়েটির চিকিৎসা করতে হবে।

বেসরকারি চ্যানেল ৭১ টেলিভিশন একটি ভিডিও ফুটেজ থেকে কল্পনার বিষয়টি জানতে পারে। পরে চ্যানেলটির সাংবাদিক ইশতিয়াক ইমনের মাধ্যমে ভাটারা থানার পুলিশের সহায়তায় গতকাল শনিবার রাতে বসুন্ধরার ওই বাসা থেকে কল্পনাকে উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় বাসার মালিক তরুণী দিনাত জাহানকে।

৭১ টেলিভিশনের প্রতিবেদনে কল্পনা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাকে মারধর করার পাশাপাশি দিনে এক বেলা খাবার দেওয়া হতো। চুল সোজা করার যন্ত্র দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো তাকে। লম্বা বেত দিয়ে মারধর করা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দেওয়া এবং বন্দী করে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছে কল্পনা।

কল্পনারা পাঁচ বোন ও এক ভাই। আজ মুঠোফোনে কথা হয় কল্পনার মা আফিয়া বেগমের সঙ্গে। তাঁর স্বামী শরিফ মিয়া কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। তাঁরা থাকেন সিলেটের হবিগঞ্জে। মেয়েকে মারধরের অভিযোগে আফিয়া আজ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এর অধীনে ভাটারা থানায় দিনাত জাহানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

আফিয়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে মেয়েকে ওই বাসায় কাজে দিয়েছিলেন। দিনাত জাহানের মা–বাবার সঙ্গে কথা বলেই মেয়েকে কাজে দেন। এক মাস আগে দিনাত জাহানকে ফোন দিলে তিনি বসুন্ধরা না, গুলশানে থাকেন (একা) বলে জানান। বাসায় গিয়ে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে দিনাত জাহান বাসায় যাওয়া যাবে না এবং মেয়ে ভালো আছে বলেও জানান। মেয়েও ভয়ে টেলিফোনে নির্যাতনের কথা বলতে পারেনি।

এই মা বললেন, ‘এক মাস আগেই মনে হয় দাঁত ভাইঙ্গা দিছিল। তাই মাইয়্যা কথাও কইতে পারতেছিল না। এখন দেখি মাইয়্যারে সারা শরীরে ছ্যাঁকাও দিছে। আমার কলিজাডা ফাইট্যা যাইতেছে। এইটা কোনো কারবার হইছে? আমি উপযুক্ত বিচার চাই।’

কল্পনার বোনের স্বামী হৃদয় ইসলাম গাজীপুরের চন্দ্রায় অটোরিকশা চালান। হাসপাতালে কল্পনাকে দেখতে এসেছেন। বললেন, ‘কল্পনার অবস্থা তো খুবই গুরুতর। চারটি দাঁত নাই। ওরে দেইখ্যা নিজেদেরই কষ্ট লাগতেছে।’

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মেয়েটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিকে রিমান্ডে চাওয়া হয়েছে।

এদিকে কল্পনার সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে আজ দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। এ ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কমিশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন চেয়ারম্যান। তিনি জানান, মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, শিশুটির চিকিৎসায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শিশুটির সারা শরীরে ক্ষত। তাই সংক্রমণ এড়াতে ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়েছে
শিশুটির সারা শরীরে ক্ষত। তাই সংক্রমণ এড়াতে ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নির্যাতনে চারটি দাঁত ভেঙে গেছে শিশুটির
নির্যাতনে চারটি দাঁত ভেঙে গেছে শিশুটির। ছবি: সংগৃহীত

Wednesday, March 7, 2018

শিকলে বেঁধে দুই গৃহকর্মীকে বর্বর নির্যাতন

দেড় বছর ধরে বাসায় আটকে শিকল দিয়ে বেঁধে দুই গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতন করা হতো। এমনকি প্রায়ই তাদের হাতের আঙ্গুলে সুঁই ফুটানো হতো। নির্যাতন সইতে না পেরে কৌশলে অসুস্থ্য এক গৃহকর্মী পালিয়ে গিয়ে কতিপয় ব্যক্তির কাছে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ওই গৃহকর্মীকে নিয়ে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে নির্যাতনকারী দম্পত্তিকে আটক ও অপর গৃহকর্মীকে উদ্ধার করেছেন। ঘটনাটি বরিশাল নগরীর বাজার রোড এলাকার। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন জানান, গৃহকর্তা বাজার রোডের এ অ্যান্ড জে এন্টারপ্রাইজের মালিক জুয়েল আহমেদ ও তার স্ত্রী ইসরাত জাহান দিনা দীর্ঘদিন থেকে দুই গৃহকর্মীকে কারণে অকারণে অমানুষিক নির্যাতনের পর বাসায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতো। দুই গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতনের প্রমান মিলেছে তাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে ক্ষতের চিহ্ন। পুলিশ কশিনার আরও জানান, নির্যাতন সইতে না পেরে আশফিয়া (১৩) নামের এক গৃহকর্মী সোমবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে পালিয়ে নগরীর দক্ষিণ বাঘিয়া এলাকায় আশ্রয় নেয়। স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ আশফিয়াকে উদ্ধারের পর পুলিশের কাছে সে নির্যাতনের বর্ননা করে।
পরবর্তীতে তাকে (আশফিয়া) সাথে নিয়ে রাতেই জুয়েল আহমেদের নগরীর বাজার রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপর নির্যাতিত গৃহকর্মী আয়শাকে (১২) উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় ওই বাসায় নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত শিকল উদ্ধারসহ গৃহকর্মীদের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পুলিশ গৃহকর্তা জুয়েল ও তার স্ত্রী দিনাকে আটক করেন। নির্যাতনের শিকার আশফিয়া জানায়, জুয়েল আহমেদের বাড়িতে দেড়বছর যাবৎ গৃহকর্মী হিসেবে সে কাজ করতো। প্রায়ই গৃহকর্তী ইশরাত জাহান দিনা ও গৃহকর্তা জুয়েল আহমেদ তার উপর নির্মম নির্যাতন চালাতো। এমনকি তার পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে আংগুলে সুই ফুটো করে নির্যাতন করতো। নির্যাতন সইতে না পেরে সে পালিয়ে যায়। ওই দম্পত্তি আয়েশা নামের আরেক গৃকর্মীকেও নির্যাতন করতেন বলে জানায় আশফিয়া। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার মোঃ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরদিকে নির্যাতনের শিকার দুই গৃহকর্মীকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

Saturday, February 3, 2018

শিশু গৃহকর্মীকে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন

রাজধানীর কদমতলী থানাধীন শ্যামপুর ঢাকা মেস এলাকায় লাবণী (১২) নামে শিশু গৃহকর্মীকে গরম পানি ঢেলে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ গৃহকর্ত্রী মারিয়া সুলতানাকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার তুচ্ছ ঘটনাটি ঢাকা মেস নতুন আলী বহরের বিক্রমপুর হাউজিংয়ের একটি বাড়ির ৬ তলায় তাওহীদ হোসেনের বাসা থেকে ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করা হয়।
শিশুটিকে নির্যাতনের সময় তার চিৎকারে ওই বাড়ির বাসিন্দারা ছুটে যান। তারা পুলিশে খবর দিলে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠায়। এ সময় গৃহকর্ত্রী মারিয়া সুলতানাকে আটক করা হয়। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্যাতনের বিষয় গৃহকর্তা তাওহিদ হোসেনকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এছাড়া শিশুটিকে মারধরের সময় প্রতিবেশীরা বাধা দিলে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হতো মারিয়া। এ ব্যাপারে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল যুগান্তরকে বলেন, শিশুটিকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গৃহকর্ত্রী মারিয়া সুলতানাকে আটক করা হয়েছে। শিশুটির গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবের লালকুঠিতে। শিশুটির মা অন্ধ, বাবা নাছির আরেক নারীকে বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছে। এক স্বজনের মাধ্যমে এক বছর আগে ওই বাসায় তাকে কাজে দেয়া হয়।

Wednesday, January 24, 2018

শিউরে ওঠার মতো হত্যা

গৃহকর্মী নির্যাতনের বিষয়টি ব্যাপক নিন্দিত ও সমালোচিত হলেও তাদের ওপর নির্যাতন যে কমছে, এমন কোনো লক্ষণ নেই। নির্যাতনের ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে যেভাবে সবাই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে, সে তুলনায় নির্যাতন না কমার একটি কারণ হতে পারে অপরাধপ্রবণদের একটি বড় অংশ দেশের ঘটনাপ্রবাহের খুব একটা খোঁজখবর রাখে না। অনেক গৃহকর্মী তাদের ওপর নির্যাতনকে নিয়তি বলেই মেনে নেয়।
১২ বছর বয়সী গৃহকর্মী আল আমিনের ওপর গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী যেভাবে নির্যাতন করেছে, তা কল্পনাকেও হার মানায়। বুধবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গৃহকর্মী আল আমিনের কাজে সামান্য ভুল হলেই নির্মমভাবে নির্যাতন করা হতো তার ওপর। সামান্য ভুলের কারণে যারা শিশুটির ওপর নির্যাতন করত- সেই গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীর অমানবিকতার কোনো ক্ষমা হয় না। এক পুলিশ কর্মকর্তার একটি বাক্য থেকেই বোঝা যায় কী নির্মমতার শিকার হয়েছে শিশুটি। ওই পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য- তাকে দেখে মনে হয়েছে একটি কঙ্কালের ওপর চামড়া লাগিয়ে দেয়া হয়েছে! রাজধানীর আদাবরে নির্মমতার শিকার আল আমিন গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে। আল আমিনের ওপর যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তাতে মনে হয় গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীর মধ্যে মানুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলীর অভাব প্রকট। এই বর্বরতার কঠোর শাস্তিই কাম্য। দেশে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ। পরিবারের সদস্যদের আদর-যত্নে যে শিশুর বড় হওয়ার কথা সেই শিশুটি গৃহকর্মী হওয়ায় সারাদিনের অমানুষিক পরিশ্রমের পর তার ভাগ্যে জুটত পচা খাবার। এ অখাদ্য খেয়ে বড় হওয়ার সুখও আল আমিনের কপালে সইল না।
হতভাগ্য আল আমিন গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীর নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুকে যেভাবে বরণ করেছে, তা যে কোনো মানুষের বিবেককে নাড়া না দিয়ে পারে না। মৃত্যুর আগে শিশুটি মানবিকতা শব্দটির সঙ্গে পরিচিতই হতে পারল না! আল আমিনের মতো শিশুদের যাতে গৃহকর্মী পেশায় নিযুক্ত হওয়ার প্রয়োজন না হয় এজন্য সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। অসহায় শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে একসময় তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব। পাশাপাশি গৃহকর্মীরা যাতে তাদের অধিকার ও মর্যাদা পায়, এ ব্যাপারে সমাজের সবারই সোচ্চার হওয়া উচিত। ক্রমাগত নির্যাতনের মাধ্যমে আল আমিনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে- এমন পরিণতি যাতে আর কোনো শিশুকে বরণ করতে না হয়, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

Wednesday, December 27, 2017

‘রাখা হতো টয়লেটে পেটানো হতো অজ্ঞান না হওয়া পর্যন্ত’

‘কিশোর গৃহকর্মী আল আমিনের কাজে একটু ভুল হলেই মাথায় তুলে আছাড় মারা হতো। অজ্ঞান না হওয়া পর্যন্ত তাকে পেটানো হতো। এরপর টয়লেটে ফেলে রাখা হতো। জ্ঞান ফিরলে একবেলা জুটত পচা খাবার।’ সোমবার ১৬৪ ধারায় আদালতে আসামিদের দেয়া জবানবন্দি থেকে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। রাজধানীর আদাবরের শেখেরটেকের (রোড নম্বর ৪, বাসা নম্বর ২৩/২৫) একটি বাসায় গৃহকর্মী আল আমিনের (১২) ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা চলত। তাকে নির্যাতন করে গৃহকর্ত্রী ও গৃহকর্তা পৈশাচিক আনন্দ পেত। টানা ছয় মাস ধরে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। খেতে না পেয়ে তার শরীর হয়ে ওঠে কঙ্কালসার। নির্যাতন করেও সাধ মেটেনি তাদের। রোববার ঘাড় মটকে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা গৃহকর্তা শেখ জোবায়ের আলম ও গৃহকর্ত্রী সাইয়্যেদা রহমান আড়াই লাখ টাকা দিয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় জোবায়ের, তার স্ত্রী সাইয়্যেদা, শাশুড়ি আনজু আরা পারভীন ও শ্যালক সাকিব আহমেদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ঘটনার দায় স্বীকার করে জোবায়ের ও সাইয়্যেদা সোমবার ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। আল আমিনের চাচা হারুন অর রশীদ জানান, ময়মনসিংহের বাঘাডুবার শিমুলিয়াপাড়ার দরিদ্র কৃষক রুহুল আমিনের চার সন্তানের মধ্যে বড় আল আমিন। অভাবের তাড়নায় ঢাকার এক বাসায় গৃহকর্মীর কাজে তাকে দিয়েছিলেন তার বাবা। ছয় মাস ধরে তাকে এমন নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি তার পরিবার। আদাবর থানার অপারেশন অফিসার সুজিত সাহা যুগান্তরকে বলেন, আল আমিনের শরীরের সর্বত্র ক্ষতচিহ্ন ছিল। তাকে দেখে মনে হয়েছে একটি কঙ্কালের ওপর চামড়া লাগিয়ে রাখা হয়েছে। এই কঙ্কালসার দেহের ওপর এমন অত্যাচার কল্পনাও করা যায় না। পেশাগত জীবনে এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনা শোনেননি তিনি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ছয় মাস আগে জোবায়ের ও সাইয়্যেদা দম্পতির জন্ম নেয়া সন্তানের দেখাশোনা করার জন্য আল আমিনকে নেয়া হয়। আল আমিনের চাচাতো ভাই মানিক মাসিক তিন হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মী হিসেবে তাকে ওই বাসায় কাজে দেন। এরপর আল আমিনকে একটিবারের জন্যও ওই বাসা থেকে বের হতে দেয়া হয়নি। এমনকি পরিবারের সঙ্গে তাকে যোগাযোগ করতেও দেয়া হয়নি। কাজে ভুল করার অজুহাতে দিনভর সাইয়্যেদা তাকে নির্মম নির্যাতন করত। কখনও তিনি স্কেল দিয়ে, আবার কখনও লোহার রড দিয়ে আল আমিনকে পেটাতেন। গার্মেন্টস এক্সেসরিজের ব্যবসায়ী জোবায়ের ফিরলে সাইয়্যেদা নানা অভিযোগ দিতেন আল আমিনের নামে। স্ত্রীকে খুশি রাখতে তিনি কখনও রড দিয়ে আল আমিনকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে টয়লেটে রেখে আসতেন। কখনও আছাড় মারতেন। এসব দেখে তার স্ত্রী পৈশাচিক আনন্দ পেতেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান মনি যুগান্তরকে বলেন, তিন মাস আগে আল আমিনের ডায়রিয়া হয়। তখন তাকে টয়লেটে থাকার স্থায়ী বন্দোবস্ত করা হয়। রাত ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তাকে টয়লেটে থাকতে হতো। গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী ঘুম থেকে উঠলে আল আমিন টয়লেট পরিষ্কার ও গোসল করে সেখান থেকে বের হওয়ার অনুমতি পেত। সারাদিন কাজ করে রাতে একবেলা তার পচা খাবার মিলত। আল আমিনকে যেভাবে হত্যা করা হয় : তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার সকালে কাজে ভুল করার অজুহাতে আল আমিনকে একদফা রড দিয়ে পেটান সাইয়্যেদা।
সন্ধ্যার পর জোবায়ের বাসায় বাজার নিয়ে এলে সেগুলো গুছিয়ে রাখতে আল আমিনকে বলা হয়। শরীর অসুস্থ থাকায় সে গুছানোর কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন জোবায়ের ও সাইয়্যেদা তাকে পেটায়। রাত ৮টার দিকে বাচ্চার দুধের ফিডার হাত থেকে পড়ে গেলে সাইয়্যেদা চিৎকার শুরু করে। জোবায়ের স্ত্রীকে খুশি করতে আল আমিনকে মাথায় তুলে ছুড়ে মারে। এতে তার মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। ওই অবস্থায় তাকে আবারও পেটায় জোবায়ের। আল আমিন অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে টয়লেটে রেখে আসা হয়। তাকে পানির ট্যাবের নিচে রেখে সেটি চালু করে দেয়া হয়। এক ঘণ্টা পর সেটি বন্ধ করা হয়। রাত ১টার দিকে সাইয়্যেদা টয়লেটে গিয়ে দেখে আল আমিন ওই অবস্থায়ই শুয়ে আছে। তাকে অনেকবার ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে সে প্রচণ্ড রেগে যায়। সে তার ঘাড়ে জোরে লাথি মারে। এতে আল আমিন টয়লেটের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছিটকে পড়ে। পরে টয়লেটের দরজা লাগিয়ে সাইয়্যেদা ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন রোববার সকাল ৭টার দিকে সাইয়্যেদার মা আনজু আরা টয়লেটের দরজা খুলে দেখেন আল আমিন ওই অবস্থাতেই মেঝেতে পড়ে আছে। তার হাত-পা ঠাণ্ডা। তখন তিনি জোবায়ের ও সাইয়্যেদাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। জোবায়ের স্থানীয় একটি ওষুধের দোকান থেকে একজনকে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা করে তিনি জানান, আল আমিন মারা গেছে। মোবাইল ফোনে আল আমিনের পরিবারকে জোবায়ের জানান, আল আমিন গুরুতর অসুস্থ। রোববার সন্ধ্যায় তার চাচা হারুন ও অন্য আত্মীয়স্বজনরা এসে তার লাশ দেখতে পায়। সে সময় জোবায়ের আড়াই লাখ টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আদাবর থানা পুলিশ রাতে লাশ উদ্ধার করে। ওই রাতে হারুন আদাবর থানায় হত্যা মামলা করেন।

Wednesday, October 28, 2009

বাপ্পী থেকে মাসুম—র‌্যাবের হাতে কেউই নিরাপদ নয় -সাংবাদিক নির্যাতন

যে নিষ্ঠুরতার শেষ দেখা যাচ্ছে না, র‌্যাবের ‘অপরাধ দমন’ হয়ে উঠছে তারই শিরোনাম। যাদের দায়িত্ব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তারাই জনমনে তৈরি করছে নিরাপত্তাহীনতার বোধ। ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর সাংবাদিক এফ এম মাসুমকে আটক-নির্যাতন র‌্যাবের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের সাম্প্রতিক নজির।
এফ এম মাসুমকে যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁর সাংবাদিকতার পরিচয় সম্পর্কে সজ্ঞান হয়েই তাঁকে নিপীড়ন করা হয়েছে, তা ভাবা অমূলক নয়। তাঁকে সবার সামনে প্রহার করে তাঁর ঘরে মাদকদ্রব্য রেখে তা ভিডিওতে ধারণ করা এবং মাদকব্যবসায়ী হিসেবে অভিযুক্ত করার মতো কাজ যে কোনো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা করতে পারে, এটা অভাবনীয়। কিন্তু এই অভাবনীয় অমানবিক কাজই করা হয়েছে।
অপরাধী ও আইনের রক্ষকদের আচরণের মধ্যে পার্থক্য লোপ পেলে কেবল আইনের শাসনই হুমকিগ্রস্ত হয় না, সমাজের মানবিকতার ভরসাটাই ভেঙে পড়ে। আইনের নামে এ রকম ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটলে, রক্ষক এভাবে ভক্ষকে পরিণত হলে নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা বলে কিছু আর থাকে না। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন তখন মিথ্যা হয়ে যায়। কিছুদিন আগে র‌্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ নিরপরাধ যুবক বাপ্পী নিহত হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সাংবাদিক নির্যাতনের এই ঘটনা সেই কঠিন সত্যই প্রকাশ করে গেল।
আরেক দিক থেকে এ ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। সব সরকারের আমলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সাংবাদিক ও সংবাদ-প্রতিষ্ঠানগুলো আক্রান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে অপরাধী গোষ্ঠী আর সরকারি সংস্থার আচরণ অনেক সময়ই একাকার হয়ে যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন এ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে, অন্যায় ঘটে থাকলে তার জবাবদিহির আশ্বাস দিয়েছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এর আগে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকে পুলিশ আহত করলে তিনি একইভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। উপর্যুপরি এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে দুঃখ প্রকাশ করা কৌশল হিসেবে ভালো হতে পারে, কিন্তু এটা নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে না। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের দুঃখ প্রকাশ অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়। আমরা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়তা ও তার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।