Tuesday, August 12, 2014

দীর্ঘ যুদ্ধবিরতির জন্য আবার তোড়জোড়

পশ্চিম তীরের কাবানায় গতকাল ইসরায়েিল বাহিনীর
অভিযানের সময় ভয়ে পালায় নারী–শিশুরা। এএফপি
হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন দফায় ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গতকাল সোমবার গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি ছিল শান্ত। তবে এদিন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এ অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আবার মিসরে আলোচনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এদিকে জাতিসংঘের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, গাজা থেকে ইসরায়েল অবরোধ তুলে না নিলে নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে। খবর এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসির। মিসরের রাজধানী কায়রোতে কয়েক দিনের চেষ্টার পর গত রোববার ইসরায়েল ও হামাসকে ৭২ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানো হয়। এরপর স্থানীয় সময় রোববার মধ্যরাত (গ্রিনিচ মান সময় রাত নয়টা) থেকে যুদ্ধিবিরতি কার্যকর হয়। অবশ্য যুদ্ধবিরতি শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে বেশ কয়েকটি রকেট ছোড়ার দাবি করেছে হামাস। অন্যদিকে ইসরায়েলও রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজায় বিমান হামলা চালায়। যুদ্ধবিরতি শুরুর আগে উত্তর গাজায় এক ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করে। গত ৮ জুলাই গাজায় সংঘাত শুরুর পর এটি দ্বিতীয় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা। আগের ৭২ ঘণ্টার মেয়াদ শেষ হয় শুক্রবার। এর পর থেকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত আরও ২০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু এবং রকেটের আঘাতে দুই ইসরায়েলি আহত হয়। দুই পক্ষই কায়রো আলোচনা ছাড়ার হুমকি দেওয়ার পর রোববার অনেকটা আকস্মিকভাবেই ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ‘নিবিড় ও টেকসই সমঝোতা’র জন্য আলোচনা আবার শুরু করতে উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানায়। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনও আশা প্রকাশ করেন, বেসামরিক মানুষের কথা চিন্তা করে উভয় পক্ষ আরেকটি সুযোগ গ্রহণ করবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি না আসা পর্যন্ত সামরিক অভিযান থামবে না। মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘গুলির মধ্যে থেকে ইসরায়েল কোনো আলোচনায় বসবে না।’ ইসরায়েল ও মিসরের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা করতে ইসরায়েলের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল সকালে কায়রোতে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিদল আগে থেকেই সেখানে আছে। উভয় পক্ষ মিসরের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিজেদের দাবিদাওয়া জানাবে। তবে এখনো উভয় পক্ষ ছাড় দেওয়ার মানসিকতা কমই দেখিয়েছে। ইসরায়েল গাজাকে অসামরিকীকরণের দাবি থেকে সরছে না। অন্যদিকে হামাসও গাজার ওপর থেকে ইসরায়েলের আট বছরের অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি থেকে সরে আসবে বলে মনে হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
‘অবরোধ না তুললে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি’: ইসরায়েল গাজা থেকে অবরোধ তুলে না নিলে নতুন করে সংঘাত বাঁধতে পারে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের শীর্ষ মানবিক কর্মকর্তা জেমস রাওয়েলি বলেন, গাজায় এক মাসের বেশি সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হয়েছে। সংঘাতে এক হাজার ৯৩০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি ও ৬৭ ইসরায়েলিকে প্রাণ দিতে হয়েছে। রাওয়েলি বলেন, ‘কেবল গাজা পুনর্গঠনে সরঞ্জামাদি পাঠানোর জন্য এই অবরোধ তুলতে হবে, এমন নয়। বরং ১০ বছর আগে গাজা যেভাবে স্বাভাবিকভাবে বহির্বিশ্বের সঙ্গে ওঠাবসা করেছে, সে অবস্থা ফিরে আনার সুযোগ দিতে হবে।’
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি নিহত: পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের চিকিৎসাকর্মীরা জানান, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সেখানকার একটি বাড়িতে অভিযানকালে একজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত ফিলিস্তিনির নাম জাকারিয়া আল-আকরা (২৩)। তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ছয়জন। এ ছাড়া আকরার বাড়িটি সেনাবাহিনীর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

জঙ্গি দমনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার

প্রথম সৌদি আরব সফরে গেলেন প্রেসিডেন্ট সিসি
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহ জঙ্গি দমনে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। গত রোববার জেদ্দায় বাদশাহ আবদুল্লাহর প্রাসাদে এক বৈঠক দুই নেতা এই অঙ্গীকার করেন।বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে তুরস্কের করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।খবর রয়টার্সের। সিসির মুখপাত্র ইহাব বাদাবি বলেন, বৈঠকে তাঁরা মিসরের নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামপন্থী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডকে শত্রু বলে ঘোষণা দেন। ব্রাদারহুডের নেতা মোহাম্মদ মুরসি মিসরে প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
কিন্তু এক বছর না যেতেই গত বছর বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এর পর থেকে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা-কর্মীদের ওপর ব্যাপক দমন-নিপীড়ন চালায় সেনা-সমর্থিত সরকার। ইহাব বাদাবি বলেন, দুই নেতা ইরাকে জঙ্গিদের সাম্প্রতিক সাফল্যকে তাঁদের স্থিতিশীলতা এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করেন। তাঁরা ইরাকের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সিসির এটিই প্রথম সৌদি আরব সফর। এর আগে গত জুনে কায়রোয় দুই নেতা মিলিত হয়েছিলেন।
এইচআরডব্লিউর কর্মকর্তাকে মিসরে ঢুকতে বাধা: হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রোথ ও আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সারাহ লি হুইটসনকে মিসরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এইচআরডব্লিউয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের প্রধান হুইটসন বলেন, কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাঁদের মিসরে ঢুকতে বাধা দেন কর্মকর্তারা। এ সময় তাঁদের ১২ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

ওবামার ভুলে ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গিদের উত্থান: হিলারি

হিলারি ক্লিনটন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেন, ওবামার ভুল পররাষ্ট্রনীতির কারণেই সিরিয়া ও ইরাকে জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। খবর আইএএনএসের। গত রোববার মাসিক আটলান্টিক সাময়িকীতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রথম মেয়াদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি বলেন, ইসলামি জঙ্গিদের হুমকি মোকাবিলা করার মতো শক্তি ওবামার নেই।
সাক্ষাৎকারে হিলারি প্রেসিডেন্ট ওবামার সমালোচনা করতে গিয়ে বেশ কড়া কড়া কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘শক্তিশালী জাতির দরকার সুসংগঠিত নীতি। নির্বোধ কর্মকর্তা দিয়ে সুসংগঠিত জাতি গঠন করা যায় না। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করতে যখন বিরোধীরা সহিংসতা শুরু করে, তখন ওবামা অনেকটাই চুপচাপ ছিলেন। মনে হয়েছিল, তিনি ঘটনাকে এড়িয়ে যেতে চান। এটি তাঁর বড় ব্যর্থতা।’ হিলারি বলেন, আসাদের বিরোধীরা ছিল ইসলামপন্থী, জঙ্গিবাদী। তাদের দমন করতে ওবামার ব্যর্থতা বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে।

শচীনের ছুটি মঞ্জুর

শচীন টেন্ডুলকার
বাজেট অধিবেশনজুড়েই অনুপস্থিত। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের ক্রিকেট-কিংবদিন্ত রাজ্যসভার সদস্য শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। যে কদিন অনুপস্থিত ছিলেন, সেসব দিনের জন্য ছুটির আবেদন করেছেন। গতকাল সোমবার তাঁর ছুটি মঞ্জুর হয়েছে। খবর পিটিআইর রাজ্যসভার সদস্যরা শচীনের এই আচরণকে ‘পার্লামেন্ট ও দেশের প্রতি অশ্রদ্ধা’ বলে উল্লেখ করেন। গত সপ্তাহে দিল্লিতে পার্লামেন্টের কাছে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন শচীন,
কিন্তু পার্লামেন্টে যাননি। রাজ্যসভার সদস্যরা শচীনের কাছে ওই দিনের ব্যাখ্যা দাবি করেন। সমাজবাদী পার্টির নরেশ আগারওয়াল জানান, শচীন টেন্ডুলকার পার্লামেন্টের কাছে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। অথচ পার্লামেন্টে যোগ দিলেন না। সদস্যদের সবার মনে হয়েছে পার্লামেন্টের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা নেই।

পরিবার চায় না

সুভাষচন্দ্র বসু
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনবিরোধী আন্দোলনের নেতা সুভাষচন্দ্র বসুকে সরকার ‘ভারতরত্ন’ পুরস্কার দিচ্ছে বলে গুঞ্জন চলছে। তবে নেতাজির পরিবার সেটা চায় না। সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ‘ভারতরত্ন’ পুরস্কার দেওয়ার জন্য নেতাজি সুভাষ বসু ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির নাম বিবেচনা করছে। নেতাজির প্রপৌত্র ও তৃণমূল কংগ্রেসদলীয় লোকসভার সদস্য সুগত বসু বলেন, ‘নেতাজি ও ব্রিটিশ শাসনবিরোধী অহিংস আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা মহাত্মা গান্ধী ভারতরত্নের ঊর্ধ্বে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ি ভারতরত্নের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী, নেতাজি নন। রাজীব গান্ধীর পর নেতাজিকে কীভাবে ভারতরত্ন দেওয়া যেতে পারে? ইতিহাসের জ্ঞান থাকা যে কেউই আমার সঙ্গে এই বিষয়ে একমত হবে।’ সুগত জানান, তিনি সুভাষ বসুর পরিবারের ৬০ সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন। কেউই নেতাজির পক্ষে ‘ভারতরত্ন’ পুরস্কার গ্রহণ করতে রাজি নন। টাইমস অব ইন্ডিয়া