Tuesday, December 14, 2010

প্রথম থেকে দশম খসড়ার পূর্বাপর by মো. নুরুল ইসলাম

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ২৫ অক্টোবর ২০১০ খসড়া কয়লানীতির দশম সংস্করণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত প্রদানের জন্য উন্মুক্ত করেছে। খসড়া কয়লানীতি সম্পর্কে মতামত প্রদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এই প্রবন্ধে খসড়া কয়লানীতির প্রথম থেকে দশম সংস্করণ পর্যন্ত প্রণয়নের প্রেক্ষাপট আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। সামনে অন্য লেখায় কয়লানীতির দশম সংস্করণ সম্পর্কে মতামত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে বাংলাদেশের যেকোনো ভূমির অন্তঃস্থ সব খনিজ সম্পদের মালিকানা বাংলাদেশের জনগণ এবং জনগণের পক্ষে তা সরকারের ওপর ন্যস্ত। কয়লাসহ সব ধরনের খনিজ সম্পদ উন্নয়নের জন্য সরকার খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ প্রণয়ন করেছে। খনি ও খনিজ সম্পদ আইন অনুসারে কয়লা ও খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য দি মাইন অ্যান্ড মিনারেলস রুলস ১৯৬৮-এর (সংশোধিত ১৯৯৫, ১৯৯৯, ২০০২, ২০০৪) বিধিবিধান প্রযোজ্য। ওই আইনের ৩ ধারায় বর্ণিত আছে, বিধির বিধান অনুসরণ ব্যতীত অন্য কোনো পন্থায় অনুসন্ধান লাইসেন্স বা খনি ইজারা প্রদান করা যাবে না।
খনি ও খনিজ সম্পদ উন্নয়ন বহুলভাবে পরিবেশ দূষণ করে এবং স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকা বিঘ্নিত করে। সে কারণে খনি ও খনিজ সম্পদ উন্নয়নের সময় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ রুলস, ১৯৯৭-এর (পরে সংশোধিত) বিধিবিধানও প্রযোজ্য। স্বচ্ছতার সঙ্গে কয়লা ও খনিজ সম্পদ উন্নয়নের জন্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০০৮-এর বিধিবিধান মেনে চলা প্রয়োজন। খনি ও খনিজ সম্পদ উন্নয়ন আইন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ভঙ্গের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে যথাক্রমে তিন বছর এবং ১০ বছর। উপরিউক্ত আইন ও বিধিবিধান মেনে চলা সংশ্লিষ্ট সবার জন্য কাম্য। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, দেশের সর্বোচ্চ আইন হচ্ছে সংবিধান। তার পরে সংবিধানের অধীনে প্রণীত আইন ও বিধিবিধানের অবস্থান। এর পরে হচ্ছে সরকার কর্তৃক প্রণীত বিভিন্ন নীতির অবস্থান।
গত ২০ বছরে বাংলাদেশে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী এবং তাদের সুবিধাভোগী কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এ দেশের জনগণকে বঞ্চিত করে দেশের খনিজ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদকে তাদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে দেশের সরকার ও জনগণ সতর্ক দৃষ্টি রাখবে, এটা সবার কাম্য। এ প্রচেষ্টার প্রধান কৌশল হলো, যেভাবেই হোক নিজেরা কিছু পাওয়ার বিনিময়ে দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বিদেশিদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে চুক্তি করার প্রচেষ্টা চালানো।
টাটা কোম্পানির কর্ণধার রতন টাটা ২০০৪ সালের ১৩ অক্টোবর বিনিয়োগ বোর্ডের সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে রপ্তানিমুখী সার কারখানা, স্টিল মিল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আগ্রহপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। এ ছাড়া সরকার অনুমতি দিলে টাটা কোম্পানি উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগেও আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। ১৯৯৮ সালে বিএইচপি মিনারেলসের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি অ্যাসাইনমেন্ট (মালিকানা হস্তান্তর) চুক্তির সূত্রে এশিয়া এনার্জি করপোরেশন (বাংলাদেশ) ২ অক্টোবর ২০০৫ উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী কয়লাক্ষেত্রের কয়লা উন্নয়ন ও উত্তোলনের জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কাছে একটি ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি প্রতিবেদন দাখিল করে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ওই প্রস্তাবটি মূল্যায়নের জন্য ১৭ নভেম্বর ২০০৫ একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আমি ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৬ প্রথমবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তৎকালীন সচিবের কাছে কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করি। কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, আইনগত, প্রযুক্তিগত, পরিবেশগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি দুর্বলতার কারণে এশিয়া এনার্জি করপোরেশন (বাংলাদেশ) কর্তৃক দাখিলকৃত প্রকল্প প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য নয়। কমিটির সুপারিশ কর্তৃপক্ষের মনঃপূত না হওয়ার কারণে দাখিলকৃত প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয় ও সরকারি পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উপস্থাপিত হয়নি। শোনা যায়, পরবর্তীকালে ওই প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয় থেকে হারিয়ে গেছে। যে কারণে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পরবর্তী সচিবের অনুরোধে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ কমিটির আহ্বায়ক পুনরায় প্রতিবেদনটি সচিব বরাবর প্রেরণ করেছেন। কিন্তু ২০১০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়নি। খসড়া কয়লানীতির দশম সংস্করণ বিবেচনার আগে উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী কয়লাক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য দাখিলকৃত ফিজিবিলিটি রিপোর্ট মূল্যায়নের জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করার বিনীত অনুরোধ করছি।
অক্টোবর ২০০৪ সালে টাটা কোম্পানি কর্তৃক উন্মুক্ত পদ্ধতিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ এবং অক্টোবর ২০০৫ সালে এশিয়া এনার্জি কর্তৃক উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী কয়লাখনি উন্নয়নের প্রস্তাব দাখিল করার পর—জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, খনি ও খনিজ সম্পদ আইন (১৯৯২) এবং সংশ্লিষ্ট মাইনিং রুলস বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কয়লাখনি উন্নয়নের জন্য কয়লানীতি প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এখানে বলা প্রয়োজন, দেশের বিদ্যমান আইন ও বিধিকে পাশ কাটিয়ে দুটি বিদেশি কোম্পানিকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করার জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কয়লানীতি প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সময়ের ক্রমানুসারে ওই প্রচেষ্টার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে উপস্থাপন করা হলো: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক নিয়োগকৃত কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান (আইআইএফসি) ডিসেম্বর ২০০৫ সালে খসড়া কয়লানীতির প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণ প্রণয়ন করে। ওই খসড়া কয়লানীতিতে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ২০০৮ সাল থেকে এশিয়ান এনার্জি করপোরেশনকে দিয়ে উন্মুক্ত খনি পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী কয়লাখনি এবং ২০১১ সাল থেকে টাটা কোম্পানিকে দিয়ে উন্মুক্ত খনি পদ্ধতিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়। বিভিন্ন সেমিনারে খসড়া কয়লানীতি নিয়ে আলোচনার সময় ওই সুপারিশ সম্পর্কে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। যে কারণে পরে কয়লানীতির বিভিন্ন সংস্করণে বিষয়টি ঊহ্য রেখে কয়লানীতির খসড়ার পরবর্তী সংস্করণসমূহ প্রণয়ন করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ৩০ মে ২০০৬ আইআইএফসি কর্তৃক প্রণীত খসড়া কয়লানীতির পঞ্চম সংস্করণ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ওই খসড়ার ওপর বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করে এবং সে মতামত অনুসারে খসড়া কয়লানীতির পঞ্চম সংস্করণ সংশোধনের জন্য আগস্ট ২০০৬ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে নির্দেশ প্রদান করে।
সরকার পরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় খসড়া কয়লানীতির পঞ্চম সংস্করণের ওপর বিশেষজ্ঞদের প্রাপ্ত মতামত অনুসারে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ মার্চ ও জুন ২০০৭ খসড়া কয়লানীতির ষষ্ঠ এবং সপ্তম সংস্করণ প্রণয়ন করে। তৎকালীন জ্বালানি উপদেষ্টা তপন চৌধুরীর নির্দেশে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জুন ২০০৭ সালে খসড়া কয়লানীতির সপ্তম সংস্করণ পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান করার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল মতিন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে। কমিটি জুন থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০০৭ পর্যন্ত মোট ১৯টি উন্মুক্ত সভায় আলোচনার মাধ্যমে খসড়া কয়লানীতির অষ্টম সংস্করণ প্রণয়ন করে এবং ৮ জানুয়ারি ২০০৮ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে দাখিল করে। অধ্যাপক পাটওয়ারী কমিটি কর্তৃক প্রণীত অষ্টম খসড়া কয়লানীতির প্রধান কয়েকটি সুপারিশ ছিল নিম্নরূপ:
(১) কয়লানীতি জাতীয় জ্বালানিনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে, (২) পাবলিক সেক্টর প্রতিষ্ঠান ‘কোল বাংলা’ কয়লা উত্তোলনের সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে, বিদেশি সাহায্যের প্রয়োজন হলে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগে প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে, (৩) দেশে বর্তমানে আবিষ্কৃত কয়লাক্ষেত্রসমূহ থেকে উত্তোলিত কয়লা রপ্তানির কোনো সুযোগ নেই, (৪) দেশের আগামী ৫০ বছরের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কয়লা রপ্তানির বিষয় বিবেচনা করা যাবে, (৫) দেশের কয়লার চাহিদার সঙ্গে সমতা রেখে কয়লা উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে হবে, (৬) খনি উন্নয়নকারীকে খনিমুখে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে, (৭) পরিবেশগত আইন ও বিধি মেনে কয়লা উত্তোলন করতে হবে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, (৮) খনি উন্নয়নের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অধিবাসীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, (৯) কয়লা উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি পুনরুদ্ধার করে উৎপাদনের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে এনে ভূমির মূল মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইন প্রণয়ন করতে হবে, (১০) কোল পলিসির সঙ্গে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসারে বাস্তবসম্মত কয়লার রয়্যালটির হার নির্ধারণ করতে হবে, (১১) বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে প্রচলিত সুড়ঙ্গের অনুরূপ পদ্ধতিতে অন্যান্য কয়লাক্ষেত্রেও কয়লা উত্তোলন করা চলবে, (১২) বাংলাদেশের খনি অঞ্চল পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এবং বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হাইড্রো-জিওলজিক্যাল অবস্থার কারণে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উত্তর দিকে পরীক্ষামূলকভাবে একটি উন্মুক্ত কয়লাখনি বাস্তবায়ন করা উচিত হবে, সন্তোষজনকভাবে ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন করার অনুমতি প্রদান করা যাবে। পাটওয়ারী কমিটি কর্তৃক দাখিলকৃত খসড়া কয়লানীতির বিভিন্ন শর্ত উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী কয়লা উত্তোলনের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব দাখিলকৃত কোম্পানির জন্য যথার্থ হয়নি। সে কারণে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ওই কোম্পানির স্বার্থে অষ্টম সংস্করণের কিছু শর্ত পরিবর্তন করে নবম সংস্করণ প্রণয়ন করে। যে বিষয়গুলো পরিবর্তন করা হয় তা হলো: (ক) পুনরুদ্ধারকৃত ভূমি মূল মালিকদের কাছে ফেরত না দেওয়া, (খ) পরিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মূলনীতি থেকে স্থানান্তরিত করে গুরুত্বহীন করার উদ্যোগ নেওয়া, (গ) ভবিষ্যতে রয়্যালটি নির্ধারণের জন্য অষ্টম সংস্করণে বর্ণিত পদ্ধতি বাদ দিয়ে উন্মুক্ত পদ্ধতির জন্য ৬ শতাংশ হারে এবং সুড়ঙ্গ পদ্ধতির জন্য ৫ শতাংশ হারে রয়্যালটির হার নির্ধারণ করা। খসড়া কয়লানীতির এই উদ্দেশ্যমূলক পরিবর্তন সম্পর্কে প্রথম আলোতে লেখা হয়, একটি বিদেশি কোম্পানির স্বার্থের প্রতি দৃষ্টি রেখে কয়লানীতির নবম সংস্করণ খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে (প্রথম আলো, আগস্ট ৪, ২০০৯)। নবম সংস্করণে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বিবেচনা না করার অনুরোধ করে সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয় (প্রথম আলো, আগস্ট ১৩, ২০০৯)। মন্ত্রিসভা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত খসড়া কয়লানীতির নবম সংস্করণ অনুমোদন না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
২০০৫-০৬ সময়কালে কয়লানীতির পাঁচটি সংস্করণ এবং ২০০৭-০৮ সময়কালে তিনটি সংস্করণ প্রণয়ন করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ অত্যন্ত সতর্কতা ও গোপনীয়তার সঙ্গে ইতিপূর্বে প্রণীত খসড়া কয়লানীতির নবম সংস্করণ সংশোধন করে দশম সংস্করণ প্রণয়ন করে এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পেশ করে। প্রধানমন্ত্রী ওই খসড়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত প্রদানের সুযোগ প্রদান করেন।
মো. নুরুল ইসলাম: অধ্যাপক, ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

কানকুন জলবায়ু সম্মেলন

মেক্সিকোর কানকুনে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে সাফল্য সামান্যই। কোপেনহেগেনের বহুল আলোচিত সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ার পর এবারের সম্মেলন কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হলে এ ধরনের বহুপক্ষীয় আলোচনা ভবিষ্যতে আদৌ রাষ্ট্রগুলোর কাছে কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে পারত কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ ছিল। এ সম্মেলনের মাধ্যমে তা অনেকটাই কাটানো গেছে।
তবে জলবায়ু আলোচনার বেশ কিছু মুখ্য প্রশ্ন এবারও পাশ কাটিয়ে যাওয়া হলো। একটি ন্যায্য ও আইনগত বাধ্যবাধকতার চুক্তি করা যায়নি। অন্যদিকে কিয়োটো প্রটোকলের মেয়াদ বাড়ানো নিয়েও কোনো সমঝোতা হয়নি। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী সম্মেলন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অথচ কিয়োটো প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে ২০১২ সালে। এটির পরের পর্যায় শুরু করার ব্যাপারে সম্মত হতে কয়েক বছর লেগে যাবে। এই শূন্যতা কীভাবে পূরণ হবে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা থেকেই যাচ্ছে। এই সমঝোতায় ২০৫০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাও অনুপস্থিত। তা ছাড়া শিল্প খাতভিত্তিক কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। ফলে আরও এক বছর তারা অনিয়ন্ত্রিতভাবে দূষণ ঘটিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেল।
কানকুন সমঝোতায় শিল্পবিপ্লবপূর্ব সময়ের সাপেক্ষে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার ব্যাপারে অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জন জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব এড়ানোর জন্য অপরিহার্য। তাই এ অঙ্গীকার ইতিবাচক। যদিও এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। গত কোপেনহেগেন সম্মেলনেও বহু অঙ্গীকারের কথা শোনা গেছে, কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি নেই বললেই চলে।
অন্যদিকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলায় গরিব দেশগুলোকে তহবিল প্রদানের ব্যাপারেও মতৈক্যে পৌঁছা গেছে। কোপেনহেগেন সম্মেলনেও ঝুঁকির মধ্যে থাকা দরিদ্র দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তহবিল প্রদানের মুলো ঝুলিয়ে একধরনের আশাবাদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এবারের সম্মেলনেও তার ছায়া অপসৃত হয়নি। আমাদের জলবায়ু কূটনীতিকে আরও সক্রিয় করা প্রয়োজন। মূলত শিল্পোন্নত ও সাম্প্রতিক কালে বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। তাই ক্ষতিপূরণের দাবি ন্যায্য। অভিযোজনও বিরূপতা কাঠানোর কৌশল। জলবায়ু পরিবর্তন যে ভয়ানক বিপদ হাজির করে, তাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরই জোর দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য বাংলাদেশের দিক থেকে ন্যায্য তহবিল পাওয়ার চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নেওয়া।

বিচারপতিদের সামনে যখন ‘ঘুষ’ by মিজানুর রহমান খান

সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. গোলাম রাব্বানী আলোচনার সূচনাতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় বিচারকদের রাখার বিধান বহাল রাখা সমর্থন করলেন। তিনি বললেন, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিরাই সবচেয়ে নিরপেক্ষ। তাই এই পদে বিচারকদের রাখলে ক্ষতি নেই। সবিনয়ে তাঁর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেন ড. আকবর আলি খান। তাঁর কথায় আশ্বস্ত হলাম। ড. খানের যুক্তি: বিচারকদের উপদেষ্টা রাখার কারণে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি নানাবিধ বিকল্পের কথা বললেন। আমি তাঁকে সমর্থন জানালাম। বললাম, স্যার, নিনিয়ানের ৫+৫+১ ফর্মুলা এখনো উত্তম মনে করি। তবে যা-ই হোক, এ নিয়ে একটা ফয়সালার চেষ্টা এখনই শুরু করা উচিত। লগি-বৈঠার পরিবেশে সংবিধানসম্মত সুরাহা আশা করা চলে না। সুপ্রিম কোর্টকে বাঁচাতে হবে। আদালতকে বাদ দিয়ে অন্য যেকোনো বিকল্প বের করতে হবে।
গত সপ্তাহে এই আলোচনা হচ্ছিল আরটিভির ‘রোড টু ডেমোক্রেসি’ অনুষ্ঠানে। বললাম, এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় আছে। শুধু রায় বললে কম বলা হবে। এটা একটা মাইলফলক রায়। শুধু প্রধান উপদেষ্টা কেন, অবসরের পরবর্তী প্রথম তিন বছরে যাতে তাঁরা কোনো পদই না নেন, তা হোক লাভজনক বা অলাভজনক, সে বিষয়ে বিচারপতি খায়রুল হকের একটি অনন্যসাধারণ রায় আছে। এটা শুধু অবসরপ্রাপ্তদের জন্য নয়, কর্মরতদেরও জন্য প্রযোজ্য। কর্মরতদের জন্য নির্বাচন কমিশনের পদ গ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে এই রায়। বাংলায় লেখা এই শ্রমসাধ্য দীর্ঘ রায়টি পড়লে আপনার সামনে ছবির মতো ভেসে উঠবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অর্জনের হাজার বছরের ইতিহাস। অবাক বিস্ময়ে আমরা সেই ইতিহাস পড়েছি। স্পন্দিত হয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা, এই রায়টি হয়েছে জরুরি অবস্থায়, ১২ ডিসেম্বর ২০০৭। পূর্ণাঙ্গ রায় এসেছে আরও অনেক পরে। আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা তখন বাতাসে ভাসছে।
প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক তাঁর রায়ে স্পষ্ট বলেছেন, অবসরে গিয়ে এ ধরনের পদপদবি গ্রহণের সুযোগ বিচারকদের জন্য রাখা হলে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। ওই আলোচনায় সে কথা উল্লেখ করে বলি, এর সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। তিনি এখন এ ব্যাপারে তাঁর সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন। বিচারপতি মো. গোলাম রাব্বানী এ প্রসঙ্গে উচ্চ আদালতের রায় সম্পর্কে আমার ‘আইডিয়া’ না থাকার কথা বলেন। তাঁর যুক্তি: বিচারকেরা রায়ের মাধ্যমে কথা বলেন। এর বাইরে কথা বলেন না। তাঁর মতে, বিচারপতি খায়রুল হকের তরফে প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করা বা না-করা প্রশ্নে মন্তব্যের সময় এখনো আসেনি। টিভি উপস্থাপক অতঃপর ড. আকবর আলি খানের মন্তব্য জানতে চান। তিনি বিচারপতি রাব্বানীর সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তাঁর ভাষায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হতে এখনো অনেক দেরি আছে। সুতরাং এখন বলার সুযোগ নেই।
তাঁদের প্রতিক্রিয়ার দুটি দিক আছে। একটি হলো, এখনই মতামত দিতে সংবিধান বাধা দেয় কি না। দ্বিতীয়ত, এখনই বলার সুযোগ আছে কি না। একটি আইনগত, অন্যটি রাজনৈতিক। আমি শুধু বললাম, বিজ্ঞ দুই আলোচক যে অভিমত রেখেছেন, সেটা আমি ধরে নিচ্ছি যে তাঁরা তাঁদের যুক্তি আইন ও সংবিধানের আলোকে করেছেন। প্রধান বিচারপতির এখন কথা বলা বারণ। টিভিতে শুধু বললাম, আমি বিনয়ের সঙ্গে তাঁদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি।
এম এ আজিজ কর্মরত বিচারক থাকতে সিইসি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস (প্রধান বিচারপতি তাঁকে বিতর্কের মুখে অতিরিক্ত বিচারক পদে সম্প্রতি শপথ দেন)। এ মামলায় সিইসি পদে আজিজের নিয়োগ অবৈধ ঘোষিত হয়। এই রায়ে কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়, একটি নীতি মীমাংসিত হয়। টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুল ইসলাম, এম আমীর-উল ইসলাম, এম কে রহমান (বর্তমানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল) ও ড. শাহ্দীন মালিক ছিলেন অ্যামিকাস কিউরি। বার ও বেঞ্চ এক বিরল মতৈক্যে পৌঁছান। তাঁরা বলেন যে অবসরে গিয়েও কোনো লাভজনক পদ গ্রহণ করা বিচারকের জন্য সমীচীন নয়। সামরিক ও বেসামরিক আমলারা গত কয়েক বছরে অবসর নিয়ে সংসদ নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছিলেন। আইন করে অবসর গ্রহণের তিন বছরের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়। বাকি ছিলেন বিচারকেরা। এই রায় সেখানে শক্ত দেয়াল তুলে দেয়।
বাহাত্তরের মূল সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদটি পঞ্চম সংশোধনী মামলায় ফিরে আসতে পারত। তাহলে আমরা দেখতাম ত্রয়োদশ সংশোধনীর আংশিক বাতিল হয়ে গেছে। বিচারপতি খায়রুল হক তা সযত্নে এড়িয়ে যান। কিন্তু এটা যে একটা বিরাট স্ববিরোধিতা ছিল, তা হয়তো তাঁকে পীড়িত করছিল। তাই আমরা দেখি, ২০০৫ সালে তাঁর ওই দৃশ্যমান বুদ্ধিবৃত্তিক পলায়ন দুই বছর বাদে তিনি বীরোচিতভাবেই মোকাবিলা করেন। তফাত শুধু এই যে ৯৯ অনুচ্ছেদকে বাঁচিয়ে তুলতে তিনি পুনর্মুদ্রণের সুযোগ সৃষ্টি করেননি। নির্দিষ্টভাবে সংসদকে শোধরাতে বলেছেন। পাঠক খেয়াল করবেন, নিজেদের পায়ের মাপের সঙ্গে এটা যায় না বলে দুই বড় দল ও তদীয় মিত্রজীবীরা এ বিষয়ে যথারীতি চুপচাপ আছেন।
বাহাত্তরের সংবিধানে কেন বলা হয়েছিল যে অবসরে গিয়ে বিচারকেরা প্রজাতন্ত্রের কর্মে অযোগ্য হবেন, তার ইতিহাস তুলে ধরেছেন বিচারপতি খায়রুল হক। ক্রুদ্ধ রাজার সামনে ‘ভূমিতে ষষ্ঠাঙ্গে প্রণামরত’ অবস্থায় থাকা প্রধান বিচারপতি কোক থেকে পরের ৪০০ বছরের ইতিহাসের অতল স্পর্শ করেন তিনি। রাজনীতিক ও বিচারবহির্ভূত পদপদবি গ্রহণে আগ্রহী বিচারকদের চোখে তিনি সজোরে অঙ্গুলি চালিয়েছেন। দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, ‘একটি জাতির সামনে এমন কোনো পরিস্থিতিই আসা স্বাভাবিক নয়, যখন অবসরপ্রাপ্ত বিচারকেরা লাভজনক পদে নিযুক্ত হবেন।’ আমাদের সমাজের কতিপয় লোক, গণতন্ত্র কিংবা বাংলাদেশি বাস্তবতার নিরিখে এখনো বিচারকদের রেহাই দিতে চান না, তাঁদের প্রতিও তিনি এই রোদনভরা বাণী দিয়েছেন বলে আমাদের বিশ্বাস।
বিচারপতি খায়রুল হক প্রকারান্তরে লিখেছেন, বিচারকদের সামনে এ ধরনের পদের মুলো ঝুলিয়ে রাখা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থী। পাঠক যদি বলেন আপনি মুলো কথাটি বললেন, সেটা কি তিনি ব্যবহার করেছেন? আমি বলব, না, ঠিক মুলো নয়, তিনি এটাকে ‘ঘুষ’ বলেছেন। বলেছেন, এটা হলো ‘প্রলুব্ধকরণ’ বা সম্মোহন।
বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ কিন্তু অষ্টম সংশোধনী মামলার রায়ে ১৯৮৯ সালে ঠিক এ কথাই বলেছিলেন। আবার এক বছর না যেতেই সেই তিনি তিন জোটের ঐতিহাসিক রূপরেখা অনুযায়ী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর পদ গ্রহণ করেছিলেন। বিচারপতি খায়রুল হক যথার্থ বলেছেন, ‘নেহাত দুর্ভাগ্য ব্যতিরেকে কোনো জাতির জীবনে এই রূপ অস্বাভাবিক অবস্থা একাধিকবার আসে না। এবং সমস্যা সমাধানের অজুহাতে কখনোই নতুন কোনো স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে না।’ সুতরাং এরশাদের পতনের পর একটি বিশেষ অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটেছিল। সেটাকে মডেল দেখিয়ে নির্বাহী বিভাগে বিচারকদের পদায়ন ছিল অবৈধ। সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী।
তথাকথিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিচারিক যাচাই-বাছাই একেবারে কম হয়নি। ১৯৯৬ সাল। বিচারপতি এম এম হক ও বিচারপতি এম এ মতিনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের সামনে সম্ভবত প্রথম প্রশ্ন এসেছিল। বলা হয়েছিল, এই সংশোধনীর জন্য গণভোট দরকার ছিল। ওই বেঞ্চ সরাসরি রিট নাকচ করে বলেছিলেন, গণভোট দরকার নেই। পরে ১৯৯৯ সালে আরেকটি রিটে যথার্থ প্রশ্ন তোলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে কি না? বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টার পদ গ্রহণে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি ছিল এই রিটের অন্যতম প্রতিপাদ্য। বিচারপতি শাহ আবু নঈম মোমিনুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই প্রশ্নে বিভক্ত রায় দিয়েছিলেন। সে কারণে তিন সদস্যের একটি বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠিত হয়েছিল। ২০০৪ সালে তাঁরা রায় দেন। এতে সার্বিকভাবে ত্রয়োদশ সংশোধনী টিকে যায়। কিন্তু বিচারকদের উপদেষ্টা হওয়ার বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পায়। বিচারকেরা যথেষ্ট রক্ষণশীলতার সঙ্গে সমর্থন দেন। তাঁরা বলেন, কেউ যদি নিজেকে পক্ষপাত বা কোনো দলের বিজয় দেখতে আগ্রহী হন, তাহলে তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদ নেবেন না। তাঁরা আরও বলেন, সংসদ চাইলে তার আপন প্রজ্ঞায় বদলে নিতে পারে। তদুপরি আমরা হাইকোর্টের রায়ের সমালোচনা করি। কারণ তাঁরা বিচারকদের ‘প্রধানমন্ত্রীর’ মতো রাজনৈতিক পদ গ্রহণের বিষয়টিকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোবিধ্বংসী হিসেবে ঘোষণা করতে অসমর্থ হয়েছিলেন। হাইকোর্টের রায়ে ইনিয়ে-বিনিয়ে ‘সংসদের প্রজ্ঞা’র ওপর জোর দেওয়া হয়। সংসদের প্রজ্ঞা যদি এত পূত-পবিত্র হবে, তাহলে জিয়ার ফরমান পঞ্চম ছাড়াও দ্বাদশ সংশোধনীতে দুই দলের প্রজ্ঞায় পাস হলেও তা এখন অপবিত্র হলো কেন।
ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতা পরীক্ষার ওই মামলায় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রবর্তনকে সমর্থন করেন। কিন্তু বিচারকদের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার বিধানকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর বলে বর্ণনা করেন। ওই মামলার অন্যতম অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক তা সমর্থন করেন। এভাবে আমরা দেখি, বিচারকেরা যেকোনো অবস্থাতেই উপদেষ্টা হতে পারেন না এবং তেমন বিধান বিচার বিভাগবিধ্বংসী, সে কথায় দুই বড় দলের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীরা একমত। এবং তার প্রমাণ সুপ্রিম কোর্টের হেফাজতে আছে।
বিচারকেরা উপদেষ্টা, মন্ত্রী কিংবা সিইসি হলে কী ক্ষতি, তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন বিচারপতি খায়রুল হক। কোনো অবস্থাতেই বিচারকদের উপদেষ্টার পদ গ্রহণ সমর্থন করেননি তিনি। পরোক্ষভাবেও বৈধতা দেননি। এমনকি তিনি অবসর নেওয়ার তিন বছর পরও এ ধরনের পদপদবি গ্রহণের বিরুদ্ধে অভিমত ব্যক্ত করেন। যেমন তিনি বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা প্রায় সবাই যে জ্ঞানে-গুণে এবং অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ, তা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। এটা অনস্বীকার্য যে অবসরে গমনের পরও বিচারপতিরা তাঁদের সুদীর্ঘ কর্মজীবনে আহরিত অমূল্য অভিজ্ঞতার ফসল বিভিন্ন বিচার বিভাগীয় পদে বহাল হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে ব্যয় করতে পারেন। কিন্তু তা কখনোই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মূল্যে নয়।’
বিচারপতি অ্যান্ড্রু জ্যাকসন ছিলেন আমেরিকার সপ্তম প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সহযোগী বিচারক। বিচারপতি খায়রুল হক তাঁর রায়ের উপসংহারে বলেছেন, ‘বিচারপতি জ্যাকসনের ভাষায়, ‘বিচারকেরা (জ্যাকসন অবশ্য তাঁর রায়ে বিচারক নয়, মানুষ কথাটি ব্যবহার করেছিলেন) প্রায়ই অর্থের চেয়ে বেশি মাত্রায় উচ্চাভিলাষ ও আনুগত্যের ঘুষ গ্রহণ করে থাকেন। অতএব বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতাকে দেশ ও জাতীয় স্বার্থে কোনো কারণে বা কোনো অবস্থাতেই ক্ষুণ্ন করা যাবে না।’
বিচারপতি খায়রুল হক আরও লিখেছেন, ‘বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা এবং ক্ষমতার পৃথক্করণ নীতি সংবিধানের মূল নীতিগুলো অপরিবর্তনীয়। নির্বাহী আদেশ বা আইন সংশোধন মারফত কোনোভাবেই সংবিধানের কোনো মূল নীতিকে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না, এমনকি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেও নয়।’ তার মানে, ত্রয়োদশ সংশোধনীতে বিচারকদের জন্য রাখা টোপের প্রতি তিনি কটাক্ষ হেনেছেন। তিনি লেখেন, ‘সংশোধিত সংবিধান যদি উক্ত মূল নীতিকে কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা দুর্বল করে তাহলে সংশোধিত সংবিধানের সেই অংশ অসাংবিধানিক হবে। প্রলুব্ধতার হাত থেকে রক্ষা করবার স্বার্থে অবসর বা অপসারিত হবার পর প্রজাতন্ত্রের অন্য কোন লাভজনক পদে বহাল করা থেকে বিচারকদের সাংবিধানিকভাবে অযোগ্য করা হয়েছে। যাতে ভবিষ্যৎ অনুগ্রহের আশায় দায়িত্ব পালন কর্মকালীন সময়ে তাঁদের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হবার কোন আশঙ্কা না থাকে।’ এরপর তিনি আরও দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দেন যে ‘সুপ্রিম কোর্টের কোন বিচারক তাঁর পদে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কিংবা অবসর গ্রহণের পর কিংবা অপসারণের পর সংবিধানের মূল বৈশিষ্ট্য বা নীতির পরিপন্থী বা ব্যতিক্রমকরত কোন প্রকার লাভজনক বা অলাভজনক পদ গ্রহণ করতে পারবেন না।’
আমরা এটা ধরে নিতে পারি, প্রধান উপদেষ্টা হওয়াসংক্রান্ত জটিলতা তাঁর কাছে পরিষ্কার ছিল। সে কারণে তিনি যেসব পদপদবি গ্রহণ করা যাবে না, তার একটি তালিকা দেন। এর নামকরণ করেন ‘উদ্ভাসিত সত্য’। সেই সত্যে তিনি অবসরে যাওয়া বিচারকদের প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণকে নিষিদ্ধ করেন বলেই প্রতীয়মান হয়।
এমনকি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা টি এইচ খান নির্দিষ্ট অভিমত দেন, বিচারকেরা অবসরে গমনের দুই-তিন বছর পরই শুধু যথাযথ বিচার বিভাগীয় বা আধা বিচার বিভাগীয় পদে বহাল হতে পারেন। এমনকি বিএনপি-সমর্থিত বারের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেনও এ বিষয়ে পরিত্রাণ পেতে সোচ্চার। আমরা শুধু দেখি, দুই নেত্রী তাঁদের বিচিত্র ও ঝাঁঝালো বাদানুবাদের মধ্যেও কায়দা করে এই বিষয়টিতে তাঁদের অবস্থান নির্দিষ্ট করছেন না। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, প্রধান বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা পদে বিতর্কিত করতেই বিএনপি তাঁর সমালোচনা করছে। বিএনপি অনেক আগেই বলেছে, তারা তাঁর অধীনে নির্বাচনে যাবে না। রফিক-উল হক বলেন, ‘অ্যাটর্নি জানলেন কী করে যে তিনিই হবেন।’ তবে আমরা মনে রাখব, এ ধরনের বোলচালে কোনো গঠনমূলক অবস্থান নেই। আলোচ্য রায়ের কথা প্রবক্তাদের কাউকে মুখে নিতে দেখি না।
শেক্সপিয়ারের কালজয়ী ‘হ্যামলেট’ নাটক সারা বিশ্বে তুমুল জনপ্রিয়। মনে হচ্ছে তার চেয়েও জনপ্রিয় ছয় শব্দের একটি সংলাপ। ‘টু বি অর নট টু বি’। এর অর্থ হতে পারে আলোতে বেরিয়ে আসব, নাকি অন্ধকারে। প্রধান বিচারপতি এই মুহূর্তে ‘টু বি অর নট টু বি’-তে আছেন ও থাকবেন। তিনি তাঁর ওই রায়ের ৩৭৭ নম্বর প্যারাগ্রাফে লিখেছেন, ‘এমতাবস্থায় একদিকে দেশ ও জাতীয় স্বার্থে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিগণের সেবা গ্রহণ, অন্যদিকে তাঁদেরকে প্রলুব্ধতার হাত থেকে রক্ষা করে দেশ ও জাতিকে রক্ষাকরণ—এই দুইয়ের মধ্যে টু বি অর নট টু বি-এর মতো অবস্থান। এর মধ্যে একটি সমতা আনা প্রয়োজন। এই রূপ সমতা আনয়নের কথা বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ তাঁর অষ্টম সংশোধনী রায়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমতাবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের কোন বিচারপতিকে তাঁর অবসর গ্রহণের অন্তত তিন বছর অতিবাহিত হবার পর কোন পদে বহাল করবার লক্ষ্যে সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদে প্রয়োজনীয় সংশোধনী বাংলাদেশ সংসদ আনতে পারে।’
আমরা তাঁর সঙ্গে একমত। রুহুল কুদ্দুস বনাম বিচারপতি আজিজ মামলার রায়টির প্রতি অক্ষরের সঙ্গে আমরা একমত। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, দুই বড় দলীয় কিংবা নির্দলীয় উল্লিখিত শীর্ষ আইনবিদেরা সত্যিই বিশ্বাস করেন, সুপ্রিম কোর্টকে বাঁচাতে হবে। আর সে জন্য মুলো ঝোলানোর ওই বিধান অপসারণ করা দরকার। আমরা আশা করব, যথেষ্ট সময় থাকতেই ৯৯ অনুচ্ছেদে উপযুক্ত সংশোধনী আনা হবে। জনগণকে ভাঁওতাবাজির কবল থেকে মুক্তি দিতে পরম করুণাময় আমাদের সবাইকে শক্তি দিন।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

ইতিহাসে উপেক্ষিত শহীদ নারী by জোবাইদা নাসরীন



১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবের ইতিহাস। সেই ইতিহাস নিয়ে আমাদের গর্ব আছে, আছে পূর্বসূরিদের প্রতি এই প্রজন্মের গভীর শ্রদ্ধাবোধ। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে এ পর্যন্ত জাতীয়ভাবে করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের পাঁচটি তালিকা (সূত্র: প্রথম আলো ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯-এ প্রকাশিত তথ্য)। সেই তালিকার সঙ্গে আছে শহীদদের তালিকাও। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দফায় দফায় তৈরি হওয়া শহীদদের নামের তালিকায় নারী শহীদদের নাম খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এমনকি শহীদদের স্মৃতিতে তৈরি হওয়া বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভেও স্থান হয়নি শহীদ নারীদের। এ কারণে দেশের বেশির ভাগ মানুষই শহীদ হিসেবে নারীর পরিচিতি জানেন না। স্বাধীনতার ৩৯ বছর পরও কতজন নারী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, এর কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। কিন্তু গবেষণাতথ্য বলে অন্য কথা।
‘ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা’—মুক্তিযুদ্ধের এই ধরনের বয়ান নির্মাণের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের ভিত্তিকেও করা হয়েছে লিঙ্গীয় পক্ষপাতমূলক।
ইতিহাসে নারী-পুরুষের অবদানকে দেখার ক্ষেত্রে এই লিঙ্গীয় দ্বি-বিভাজিত অবস্থান পক্ষান্তরে নারীর বহুমাত্রিক ভূমিকাকে আড়াল করেছে দীর্ঘদিন। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেন্দ্রিক বেশ কিছু বই প্রকাশিত হলেও এ বইগুলোতে বেশ একটা বড় সময় ধরে নারী ছিলেন অনুপস্থিত। কিন্তু গত দশকের শেষ দিকে মুক্তিযুদ্ধে নারীর বহুমুখী অবদান নিয়ে প্রকাশিত হতে থাকে অনেক অজানা তথ্য। বিশেষ করে, মুক্তিযুদ্ধে নারীর অংশগ্রহণ, প্রকৃতি, তার মাত্রা ও ব্যাপকতা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য এখান থেকে জানা যেতে থাকে। মানুষ জানতে পারে তারামন বিবি বীর প্রতীক, ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম বীর প্রতীক, কাঁকন বিবি, শাহানারা পারভীনসহ আরও অনেক সশস্ত্র সংগ্রামী নারীর কথা। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে নারীর বহুমুখী অবদানের স্বীকৃতি অনস্বীকার্য হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু শহীদ নারীদের প্রতি রাষ্ট্রের উদাসীনতা স্পষ্ট হয়, কারণ এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে কিংবা প্রকাশ করতে রাষ্ট্র খুব বেশি আগ্রহী হয় না। শহীদ নারী হিসেবে সাংবাদিক সেলিনা পারভীন ও কবি মেহেরুন্নেসার নাম ছাড়া এ বিষয়ে খুব বেশি তথ্য আলোচনায় আসেনি। বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত স্মৃতি ১৯৭১ (সম্পাদনায়: রশীদ হায়দার)-এর বিভিন্ন খণ্ডে প্রকাশিত স্মৃতিচারণামূলক লেখায় এর বাইরে আরও দুজন নারী শহীদের নাম জানা যায়। তাঁরা হলেন মাগুরার শহীদ লুৎফুন্নাহার হেলেন এবং ঢাকার শহীদ ডা. আয়েশা বেদৌরা চৌধুরী।
১৯৭১ সালে মার্চে তৈরি হওয়া অসহযোগের শহীদ যশোরের গৃহবধূ চারুবালাও স্থান পাননি ইতিহাসে। চারুবালার মৃত্যু সে সময় যশোরের নারীদের মিছিলে নিয়ে আসে এবং অসহযোগ আন্দোলনকে নতুন রূপ দেয়। ২৫ মার্চ সেই ভয়াল কালরাতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শহীদ হন অন্তঃসত্ত্বা যোগমায়া দে ও রিনা রানী দে (শহীদ মধূসুদন দের কথা বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এলেও তাঁদের কোথাও স্থান দেওয়া হয়নি)। এপ্রিল মাসে দিনাজপুরে নিজের বাড়িতেই শহীদ হন সুরবালা দেবী। একই মাসে সৈয়দপুরে শহীদ হন সাংস্কৃতিক কর্মী ভ্রমর, সুফিয়া খাতুন, হোসনে আখতার (যাঁকে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হয়েছিল) ও সরোজিনী মল্লিক। সিলেটের পাত্রখোলা চা-বাগানে শহীদ হন বাবনী রাজগৌড়, লসিমুন কুর্মী, রাঙামা কুর্মী, সালগী খাড়িয়াসহ অনেকে। সিলেটের বিয়ানীবাজারে বাঙালিদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে প্রাণ দিতে হয়েছিল খাসি মেয়ে কাঁকেটকে। পটুয়াখালীতে হানাদারদের তাণ্ডবলীলায় শহীদ হন কনকপ্রভা গাঙ্গুলী, সোনাই রানী সমাদ্দার, বিদ্যাসুন্দরী দাস, সাবিত্রী রানী দত্ত, শান্তি দেবসহ আরও অনেকে। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মধ্য জুলাইয়ে শহীদ হন কিরণ রানী সাহা।
পিরোজপুরে শহীদ হন ভাগীরথী সাহা। ভিক্ষুক সেজে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর খোঁজখবর এনে দিতেন মুক্তিযোদ্ধাদের। পরে রাজাকারেরা তাঁকে ধরিয়ে দেয়। পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে জিপের সঙ্গে বেঁধে রাস্তায় টানতে টানতে হত্যা করে। সেই ভাগীরথীরও স্থান মেলেনি শহীদদের তালিকায়। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আঞ্জুমান আরাকে মালবাহী ট্রেনের গরম কয়লার চুল্লিতে নিক্ষেপ করে হত্যা করে বিহারিরা। তাঁর অপরাধ, তিনি তাঁর বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন।
এ ছাড়া হানাদার ক্যাম্পে কত নারী নানা ধরনের অত্যাচারে মৃত্যুবরণ করেছেন কিংবা যাঁদের মেরে ফেলা হয়েছে, তাঁদের হিসাব কেউ জানে না, কিংবা জানার চেষ্টা করেনি। পরিবার ও সমাজের কাছে তাঁরা শহীদ হিসেবে জায়গা পাননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, স্বাধীনতার অল্প কিছুদিন পর গণকবরগুলোতে বেশ কজন নারীর লাশ পাওয়া গিয়েছিল এবং নির্যাতন ক্যাম্পগুলোতে কাচের চুড়ি, শাড়ি ও নারীর হাড়-কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বধ্যভূমিগুলো থেকেও তেমনিভাবে উদ্ধার করা হয় নারীর কঙ্কাল। যুদ্ধের সময় নারী শহীদ হওয়ার এত সব সাক্ষ্য থাকলেও কেন তাঁদের জায়গা হলো না ইতিহাসে, সেটি আজও প্রশ্ন। আশা করি, সরকার এ বিষয়ে নজর দেবে, তাঁদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করবে এবং যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ব্যবস্থা করবে।
শুধু ইতিহাসেই নয়, স্মৃতিচারণায় এসেছে লিঙ্গীয় রাজনীতি। যেসব পরিবারে মা-বাবা উভয়ই শহীদ হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই মায়ের স্মৃতি অনেকটাই ভুলে গেছেন। কারণ হিসেবে তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে মায়ের কথা যেহেতু কেউ খুব একটা জানতে চাননি, তাই তাঁদেরও বলতে হয়নি। স্মৃতিচারণা না করা এবং এই বিষয়ে চর্চা না থাকায় মায়ের স্মৃতি তাঁরা ভুলে গেছেন অনেকটাই। অর্থাৎ জীবিত অবস্থায় তো বটেই, একই ঘটনায় শহীদ হওয়ার পরও গুরুত্ব পেয়েছে পুরুষ—বাদ থেকেছেন নারী।
তাই আজও নারী শহীদদের স্মৃতিকথা বিস্মৃত ও বিবর্ণ। বর্তমান সরকার এত বছর পর হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিয়েছে। আশা করা যায়, এই সরকারের শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি শহীদদের তালিকাও চূড়ান্ত করা হবে। আমরা চাই, শহীদদের তালিকায় নারী শহীদদের নামগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হোক। নারী শহীদদের প্রকৃত সংখ্যা কত, তা সরকারকে আগ্রহ নিয়েই বের করতে হবে এবং তাঁদের যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। তা করা হলে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নির্মাণে লিঙ্গীয় পক্ষপাত কিছুটা হলেও দূর হবে।
জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
zobaidanasreen@gmail.com

লিতভিনেঙ্কোকে বিষপ্রয়োগের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল মস্কো

রাশিয়ার সাবেক গুপ্তচর আলেক্সান্দার লিতভিনেঙ্কোকে ২০০৬ সালে লন্ডনে বিষপ্রয়োগে হত্যার আগেই এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গতিবিধি জানতে পেরেছিলেন মস্কোর গোয়েন্দারা। ‘সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে’ উল্লেখ করে ব্রিটেন এ ব্যাপারে মস্কোকে আর এগোতে দেয়নি। উইকিলিকসের বরাত দিয়ে ব্রিটেনেরগার্ডিয়ান পত্রিকা এ খবর প্রকাশ করেছে।
গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে লিতভিনেঙ্কো মারা যান। ওই বছরের ডিসেম্বরে ফ্রান্সে মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক স্মারক থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্যারিসে মার্কিন দূতাবাসের একজন কর্মকর্তার লেখা স্মারক থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৭ ডিসেম্বর মার্কিন অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ হেনরি ক্রাম্পটন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি আনাতলি সাফোনভ এক নৈশভোজে অংশ নেন। তাঁদের ওই আলোচনা থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বৈঠকে সাফোনভ দাবি করেন, ‘লন্ডনে অবস্থানরত রুশ কর্তৃপক্ষ জানত, কয়েকজন ব্যক্তি তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিয়ে শহরের মধ্যে অবস্থান করছে। বিষয়টি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে জানানোও হয়। কিন্তু ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।

শান্তিনিকেতনে পৌষমেলায় এবার কঠোর নিরাপত্তা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রবীন্দ্রস্মৃতি-বিজড়িত শান্তিনিকেতনে ২৩ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা। এ উপলক্ষে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ওই দিন সকালে গৌর প্রাঙ্গণে ব্রহ্ম উপাসনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে সপ্তাহব্যাপী এই মেলা। এতে যোগ দিচ্ছেন দেশ-বিদেশের বহু শিল্পী। প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গণের মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে লোকগীতি, পল্লিগীতি, বাউল, ফকিরি গানের আসর আর যাত্রা অনুষ্ঠান।
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গেছে, মেলা বসছে চারটি মাঠে। বসছে এক হাজার ৯০০টি স্টল। গত বছর এ সংখ্যা ছিল এক হাজার ২০০।

শ্রীলঙ্কার এমপিদের জন্য যোগব্যায়াম

চাপমুক্ত থেকে কাজে শতভাগ মনোনিবেশ যাতে করতে পারেন, সে লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার আইনপ্রণেতাদের জন্য কর্মস্থলে যোগব্যায়ামের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পার্লামেন্টের অধিবেশন চলাকালে এমপিদের জন্য যোগব্যায়ামের এ বিশেষ অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী মাসে।
যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষক চামিন ওয়ার্নাকুলা বলেছেন, এমপিরা চাপমুক্ত থেকে যেন কাজ করতে পারেন, সে জন্য যোগব্যায়াম অধিবেশনের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এমপিরা শৃঙ্খলা, সদাচরণ ও চাপের মধ্যে কীভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, সে সম্পর্কে জানতে পারবেন। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে প্রচারপত্র ছাড়া হয়েছে। এই প্রচারপত্রের শিরোনাম ‘এমপিদের মন, দেহ ও আত্মার জন্য যোগব্যায়াম’।
যোগব্যায়াম অধিবেশনে এরই মধ্যে ভর্তি হওয়া এমপি সঞ্জিবা পেরেরা বলেছেন, এমপিরা খুব চাপের মধ্যে কাজ করেন। তাই তাঁদের ব্যায়াম করার সুযোগ কম। তিনি বলেন, প্রত্যেক পার্লামেন্ট অধিবেশনের শুরুতে এমপিদের জন্য যোগব্যায়াম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে তাঁরা উভয় অধিবেশনের জন্যই একই পোশাক পরতে পারবেন।
শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলীয় এমপিদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক চলছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমপিদের মধ্যে ব্যাপক হইচইয়ের কারণে স্পিকার চমল রাজাপক্ষে গত বুধবার পার্লামেন্টের কার্যক্রম বাতিল করে দেন।
বিরোধীদলীয় এমপি রঞ্জন রামানায়েকে অভিযোগ করেছেন, সরকারদলীয় এমপিরা অব্যাহতভাবে তাঁদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, যোগব্যায়ামের মাধ্যমে সরকারদলীয় এমপিরা অন্তত গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও শৃঙ্খলার বিষয়টি শিখতে পারবেন।’
অবশ্য এমপিদের এই যোগব্যায়াম অধিবেশনের প্রথম ধারণা দিয়েছেন একজন সরকারদলীয় এমপি। মালানি ফনসেকা নামের ওই এমপি বলেন, যোগব্যায়ামের মাধ্যমে এমপিরা তাঁদের শরীরী ভাষা বোঝার ক্ষমতা অর্জন করতে পারলে তাঁদের মনে শান্তভাব চলে আসবে। একই সঙ্গে তাঁরা চাপমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবেন।

আসামে মাওবাদীদের আদিবাসী পিপলস আর্মি গঠন

আসামে বিচ্ছিন্নতাবাদী উলফা এবং এনডিএফবির ছত্রচ্ছায়ায় মাওবাদীরা আদিবাসী পিপলস আর্মি বা এপিএ নামের একটি নতুন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন গড়ে তুলেছে। আদিবাসী অধ্যুষিত কোকরাঝাড় জেলায় এটি গড়ে তোলা হয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ দাবি করেছে।
পুলিশ বলেছে, মাওবাদীরা ইতিমধ্যে এপিএর মাধ্যমে আসামের ধুবরি, ডিব্রুগড়, তিনসুকিয়া, গোয়ালপাড়া ও কোকরাঝাড়ে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে।
আসামের উদালগুড়ি জেলার মাজভাত জঙ্গলে অস্ত্র প্রশিক্ষণ ক্যাম্প তৈরি করে তারা অস্ত্র প্রশিক্ষণও নিয়েছে। এপিএর কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ করা হয় কোকরাঝাড় জেলার গোসাইগাঁওর বাসিন্দা টারজান মাঝিকে। তবে টারজান ইতিমধ্যে ধরা পড়েছেন আসাম পুলিশের হাতে। পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী দলের রাজ্য সম্পাদক কাঞ্চন সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাজ্য পুলিশের জেরার মুখে তাঁদের সঙ্গে আসামের উলফা এবং এনডিএফবির যোগ থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

বিনিয়োগ জালিয়াতির নায়ক বার্নার্ড ম্যাডফের ছেলের আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ জালিয়াতির দায়ে কারাদণ্ড পাওয়া মার্কিন ব্যবসায়ী বার্নার্ড ম্যাডফের ছেলে মার্ক ম্যাডফ আত্মহত্যা করেছেন। গত শনিবার সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহ্যাটনের বাসার নিজের কক্ষে তাঁর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, কুকুর বাঁধার দড়ি দিয়ে ৪৬ বছর বয়সী মার্ক আত্মহত্যা করেন। তাঁর বাবা বার্নার্ড ম্যাডফ গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক দুই বছর পর তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিলেন।
গত শনিবার মার্কের আইনজীবী বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। অপরাধী না হয়েও তাঁর বাবার অপরাধের বলি হলেন তিনি। দুই বছর ধরে বাবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগ এবং নানা ব্যঙ্গোক্তিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিলেন।
গত শনিবার ভোরে আত্মহত্যার আগে মার্ক তাঁর স্ত্রীকে একটি ই-মেইল বার্তা পাঠিয়েছেন। ওই বার্তায় মার্ক তাঁর স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তাঁদের দুই বছরের সন্তানকে দেখে রাখার আকুতি প্রকাশ করেছেন।
২০০৮ সালের ১১ ডিসেম্বর জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বার্নার্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের জঘন্যতম বিনিয়োগ জালিয়াতির নানা ঘটনা। গত বছর বার্নার্ড প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁকে ১৫০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাবার অপরাধের সঙ্গে মার্ক ও তাঁর ভাই জড়িত কি না, সে ব্যাপারে তদন্ত হলেও তাঁদের অভিযুক্ত করা হয়নি।

জান্তার সঙ্গে সংলাপে সময় নেবেন সু চি

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি দেশটির জান্তা সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসার জন্য আরও সময় নেবেন বলে জানিয়েছেন। সম্প্রতি জাপানের সরকারি প্রচারমাধ্যম এনএইচকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন।
সু চি গত মাসে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমি মনে করি, সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা কোনো পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করে না। এটা জনগণের ওপর নির্ভর করে। বিষয়টি জনগণের সত্যিকার সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের ওপর জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা সঠিক, তা যাচাইয়ে আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।’
গত ১৩ নভেম্বর দীর্ঘদিনের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান সু চি। গত ২০ বছরের মধ্যে বেশির ভাগ সময়ই তিনি বন্দী অবস্থায় কাটিয়েছেন। তাঁর বন্দী অবস্থাতেই গত ৭ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা ছিল গত দুই দশকের মধ্যে মিয়ানমারের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। তবে দেশটির গণতন্ত্রকামী মানুষ ও পশ্চিমারা এ নির্বাচনের ব্যাপক সমালোচনা করেছে। নির্বাচনে জান্তা-সমর্থিত দল জয়ী হওয়ার দাবি করছে।
১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী এই নেত্রী আরও বলেন, ‘জনগণের ওপর আমার প্রভাব রয়েছে। জাতীয় ঐকমত্যের ক্ষেত্রে আমি এ প্রভাব ব্যবহার করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘সংলাপের ব্যাপারে জান্তা সরকার কখনোই খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’
সু চি বলেন, ‘আমি মুক্তি পেয়েছি কেবল এক মাস হলো। ধৈর্য ধারণের ক্ষেত্রে এই সময় যথেষ্ট নয়। আমরা আরও ধৈর্য ধারণের সামর্থ্য রাখি।’

ভারতের ‘তদবির’ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি কাঠামোয় আনা দরকার

কিছু দিন আগেও ভারতে ‘লবিং’ বা ‘তদবির’ শব্দটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে ব্যবহূত হতো। সাধারণ মানুষ শব্দটি সচরাচর ব্যবহার করত না। তবে কোটি কোটি ডলারের টেলিকম কোম্পানি ২জি স্পেকট্রামের সঙ্গে ভারতের পেশাদার তদবিরকারী নীরা রাডিয়ার সম্পর্ক এবং তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের টেলিফোনে আলাপের টেপ প্রকাশিত হওয়ার পর তদবিরের বিষয়টি সামনে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশে তদবিরকে আইনগত বৈধতা দেওয়া হলেও ভারতে এখনো এটিকে দুর্নীতি হিসেবে দেখা হয়। তবে ভারতের প্রসারমাণ অর্থনীতি ও বিদেশি কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগে সে দেশে তদবির বিষয়টি দিন দিন ‘ওপেন সিক্রেট’ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় বিষয়টিকে ধামাচাপা না দিয়ে আইনগত কাঠামোয় আনা উচিত বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
ভারতে প্রতিদিনই বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ছে। রাস্তাঘাট নির্মাণ থেকে শুরু করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ পাওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেসব কোম্পানি সাবেকি নীতি ও পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই এসব কাজ পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে করপোরেট গ্রুপগুলো এখন অর্থের বিনিময়ে লবিস্ট বা তদবিরকারী নিয়োগ করছে। এসব তদবিরকারীর কাজ হচ্ছে রাজনীতিবিদ এবং আমলাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে নিজ নিজ মক্কেলদের স্বার্থে কাজ বাগিয়ে আনা। কখনো পলিসি অ্যাডভোকেসি গ্রুপের আওতায়, কখনো বা ব্যক্তিগত পর্যায়ের পরামর্শক হিসেবে তদবিরকারীরা কাজ করে থাকেন।
নীরা রাডিয়া নামের যে তদবিরকারীকে নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে বিতর্ক চলছে, তাঁর ‘বৈষ্ণবী কমিউনিকেশন’ নামের যোগাযোগ ও অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনাবিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভারতের টাটা ও আম্বানি শিল্প পরিবারের ব্যবসাসংক্রান্ত পরামর্শক হিসেবে তিনি কাজ করছেন।
সম্প্রতি ভারতের আয়কর কর্মকর্তারা রাডিয়ার অনেকগুলো টেলিসংলাপের টেপ প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কূটনীতিকের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। কাকে টেলিকমমন্ত্রী বানালে ২জি স্পেকট্রামের স্বার্থ রক্ষা হবে, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে। রাডিয়ার ওই টেলিসংলাপে করপোরেটদের ক্ষমতার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। কৃষি অথবা অন্য কোনো জাতীয় সমস্যা নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে আজ পর্যন্ত দিন্যব্যাপী আলোচনা না হলেও আম্বানি গ্রুপের মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সেখানে দিনভর আলোচনা হয়েছে। তাঁদের কথোপকথনে বেরিয়ে এসেছে করপোরেটদের প্রভাবে রাজনীতিকেরা ওই সব কোম্পানির হয়ে কাজ করে থাকেন।
ভারতে তদবির বিষয়টিকে অনৈতিক ও দুর্নীতির সমার্থক মনে করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারিভাবে একে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর দুই হাজার পেশাদার তদবিরকারীকে লাইসেন্স দেওয়া হয়। মজার ব্যাপার হলো, ১৯৯৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন কংগ্রেসের ৪৩ শতাংশ সদস্য সরকারি দায়িত্ব ছেড়ে বেসরকারি তদবিরকারী হিসেবে কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে এক হাজার ৯০০ নিবন্ধিত তদবিরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন ১১ হাজার তদবিরকারী। তাঁদের কাজ হলো, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের প্রভাবিত করে নিজ নিজ মক্কেলদের কাজ বাগিয়ে আনা। তবে তাঁদের সরকারের বেঁধে দেওয়া নীতিমালার ভেতরে থেকে এসব কাজ করতে হয়।
ভারতে একইভাবে তদবিরের বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া উচিত বলে অনেকে মনে করছেন। তাঁরা বলছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু তদবির বা লবিংয়ের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা হয়, যার ফল সমাজের বেশির ভাগ লোক ভোগ করতে পারে। সেদিক থেকে বিবেচনা করে তাঁরা তদবিরকে আইনি কাঠামোবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা উচিত বলে মনে করেন।

উইকিলিকসের কর্মকাণ্ড দুঃখজনক: ওবামা

গোপন ও স্পর্শকাতর তথ্যফাঁস করে আলোড়ন তোলা উইকিলিকস ওয়েবসাইটের কর্মকাণ্ডকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত শনিবার তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের সময় এ কথা বলেন তিনি। ওবামা মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ফেলিপে ক্যালডেরনের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দুই নেতাকেই বলেছেন, উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁদের দেশের সম্পর্কের অবনতি হওয়া উচিত হবে না।
গত মাসের শেষের দিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো গোপন তারবার্তা ফাঁস করে ব্যাপক হইচই ফেলে দেয় উইকিলিকস। এতে যুক্তরাষ্ট্র ভীষণ বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে। একাধিক বার্তার ব্যাপারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায় চীন ও রাশিয়া।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এরদোগানকে টেলিফোনে উইকিলিকসের ফাঁস করা বার্তার বিষয়ে খেদ জানিয়েছেন ওবামা। দুই নেতাই একমত হয়েছেন, এতে দুই দেশের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়া উচিত নয়। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টকেও টেলিফোনে একই ধরনের কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওবামার টেলিফোন করার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সে দেশের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র তুরস্ক। সম্প্রতি উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন কূটনীতিক বার্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের প্রতি সমর্থন জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ হয়েছে। সুইডেনে যৌন নিপীড়নের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলে গত সপ্তাহে ব্রিটেনে অ্যাসাঞ্জ আত্মসমর্পণ করেন। স্পেনে অ্যাসাঞ্জের অনলাইন-সমর্থকেরা শনিবার তাঁর মুক্তির দাবিতে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ আয়োজনের আহ্বান জানান। লন্ডনে কারাবন্দী অ্যাসাঞ্জকে আগামীকাল মঙ্গলবার আবার আদালতে হাজির করার কথা।
একটি ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতার জন্য, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রতি “না” বলুন।’ এতে উইকিলিকসের পুরোনো ডোমেইন নামটি আবার চালু করা এবং অ্যাসাঞ্জের মুক্তির দাবি করা হয়। এসব দাবিতে স্পেনের বার্সেলোনা ও মাদ্রিদে আয়োজিত সমাবেশে মাত্র ৪০০ বিক্ষোভকারী যোগ দেন। নেদারল্যান্ডের আমস্টার্ডাম ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি শহরেও একই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কিন্তু তেমন লোকসমাগম হয়নি।
মাদ্রিদে শতাধিক বিক্ষোভকারী ব্রিটিশ দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়ে অ্যাসাঞ্জকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। তাঁরা স্লোগান দেন, ‘বাক স্বাধীনতা চাই’, ‘অ্যাসাঞ্জকে মুক্ত করো’ ইত্যাদি। আমস্টার্ডামের কেন্দ্রস্থলে ৭৫ জন অ্যাসাঞ্জ-সমর্থক জড়ো হয়ে তাঁর পক্ষে সমর্থন জানান। ডাচ পাইরেটস পার্টি ওই সমাবেশের আয়োজক। পর্তুগালের লিসবনেও সমাবেশ হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকায় মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটিতে ৪০ জন, পেরুর লিমায় ১২-১৪ জন, কলম্বিয়ার বোগোটায় ১৫ জন বিক্ষোভকারী অ্যাসাঞ্জের মুক্তির দাবি জানিয়ে সমাবেশ করেন।

আগামী বছর বিশ্ববাজারে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা পাবে বাংলাদেশ

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ আগামী বছর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের সুবিধা পাবে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের রপ্তানি-বাণিজ্যের সমস্যা ও এর সমাধান’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে এ জন্য অবশ্য বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিওর) দোহা রাউন্ড সম্পন্ন হতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
ঢাকায় ইপিবির কার্যালয়ে গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত হয় সেমিনারটি। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের উপস্থাপনায় সেমিনারে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আবু আবদুল্লাহ, ইপিবির দুই মহাপরিচালক রাখাল চন্দ্র বর্মণ ও আমীর হোসেন, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আসিফ ইকবাল, বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল ও লিনেন উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির চেয়ারম্যান এম আনিসুজ্জামান এবং বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতি এবং বিভিন্ন পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ৪৮০টি পণ্য ছাড়াও ভারতের স্পর্শকাতর তালিকা থেকে বাংলাদেশের আরও ৬১টি পণ্য বাদ দেওয়ার বিষয়ে এখন কাজ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের ভবিষ্যৎ ইতিবাচক।
সেমিনারে রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ২৬টি সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের ব্যাপারে সরকারের প্রতি দাবি জানান দেশের রপ্তানিকারকেরা।
এর আগে ইপিবির পক্ষ থেকে আটটি চেম্বার, ৪২টি পণ্যভিত্তিক সমিতি ও ১৬৭টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের কাছে রপ্তানি-বাণিজ্যের সমস্যা এবং সমাধান বিষয়ে তাদের পরামর্শ জানতে চাওয়া হয়। এর মধ্যে একটি চেম্বার, ১৮টি পণ্যভিত্তিক সমিতি ও ১৪টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের পরামর্শ ইপিবিতে জমা দিয়েছে। এসব পরামর্শ ও সমস্যা যাচাই-বাছাই করে ২৬টি সমস্যা চূড়ান্ত করেছে ইপিবি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মংলা বন্দরকে সক্রিয় করা, ব্যাংক সুদের হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা, সবজি রপ্তানির ক্ষেত্রে প্যাকেজিং পদ্ধতি উন্নত করে কার্গো ফ্লাইট চালু করার কথা সরকার ভাবছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর বাংলাদেশ যে ৩৫টি মেলায় অংশ নেয় সেগুলোতে এখন থেকে অন্তত একটি স্টল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের জন্য বরাদ্দ রাখার নির্দেশ দেন ফারুক খান।
চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অবরোধসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৬ কোটি মানুষের দেশে এগুলো ঠেকানো খুবই কঠিন। তবে এও ঠিক, গরিব ও অশিক্ষিত জনগোষ্ঠী কখনো প্রতারিত হয়ে, কখনোবা অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতির সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে যুক্ত হয়ে পড়ে।
আবু আবদুল্লাহ জানান, অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড গঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। আগামী ছয় মাস পরে এই প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদ দেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জনে সক্ষম হবে।

ডিএসইতে দরপতনে আতঙ্কিত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল রোববার অর্থাৎ সপ্তাহের প্রথম দিন আবারও দরপতনের ঘটনা ঘটেছে।
গত বুধবারের নজিরবিহীন দরপতনের রেশ কাটতে না কাটতেই বড় ধরনের এই দরপতনে সাধারণ বিনিয়োগকারী, বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আবার বাজার বিশ্লেষকেরা একে অস্বাভাবিক বলেও মনে করছেন।
ডিএসইতে গতকাল ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সব খাতের প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিনিয়োগকারী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ডিএসইতে দরপতনের এটাই রেকর্ড। এমন অবস্থা এর আগে কখনো দেখেননি তিনি। তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজারে এভাবে ধস নামতে থাকলে আমাদের পথে বসতে হবে।’
সাধারণ বিনিয়োগকারী নুর মোহাম্মাদ হোসেন জানান, হঠাৎ করে এ ধরনের দরপতনের ঘটনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজারে এমন অবস্থা চলতে থাকলে বিনিয়োগ করা তো দূরে থাক, বিনিয়োগ উঠিয়ে আনতে পারব কি না, তা নিয়েই চিন্তায় পড়ে গেছি।’
আরেকজন বিনিয়োগকারী সাইফুল ইসলাম জানান, ‘শেয়ারবাজারে হঠাৎ করে দরপতনে আমার মতো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’ তিনি বলেন, বাজারকে বাজারের গতিতে চলতে দেওয়া উচিত। জোর করে টেনে ধরা উচিত নয়।
এ ব্যাপারে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক, ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান গতকালের দরপতনকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে বলেন, ‘আজ ডিএসইতে দরপতনের উল্লেখযোগ্য কোনো কারণ দেখছি না। এর কোনো যথার্থ ব্যাখ্যাও খুঁজে পাচ্ছি না। এ ছাড়া এই দরপতনকে সংশোধনও বলতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) উচিত লেনদেনের তথ্য (ডেটা) পর্যালোচনা করে দেখা। কেননা, তিনি মনে করেন সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনা পর্যালোচনার দাবি রাখে।

বিনিয়োগে মার্জিন ঋণের হার আবার ১:১

শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্জিন ঋণের হার বাড়িয়ে আবারও আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এখন থেকে বিনিয়োগকারীরা ১:১ হারে মার্জিন ঋণ পাবেন। অর্থাত্ ১০০ টাকা বিনিয়োগে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক অথবা ব্রোকারেজ হাউস থেকে ১০০ টাকা ঋণ পাবেন বিনিয়োগকারীরা। আজ সোমবার এসইসির বাজার পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা আজ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।
এসইসি সূত্রে জানা যায়, বিনিয়োগকারীদের জন্য আগে থেকেই ১:১ মার্জিন ঋণের প্রচলন ছিল। কিন্তু গত ২১ নভেম্বর মার্জিন ঋণের এই হার পরিবর্তন করে ১:১ এর স্থলে ১: দশমিক ৫ করার সিদ্ধান্ত নেয় এসইসি। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তটি পরিবর্তন করে আগের নিয়মই বহাল রাখল কমিশন।
একটি সূত্র জানায়, শেয়ারবাজারের ব্যাপক দরপতন ঠেকাতেই মার্জিন ঋণের হার আবার আগের অবস্থায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বড় ধরনের দরপতন ঘটে। এ ছাড়া গতকাল রোববার ডিএসইর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দরপতন হয়। গতকাল এক দিনেই ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক প্রায় ২৮৫ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ কমে যায়।
এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এবং বাজার যাতে নিজস্ব গতিতে চলতে পারে, সে জন্যই আজ মার্জিন ঋণের হারে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

চেলসির ড্রয়ে দ্রগবা নায়ক, খলনায়কও

বেঞ্চে বসে দলকে পিছিয়ে যেতে দেখলেন। মাঠে নেমে ম্যাচে ফেরালেন, এরপর পেনাল্টি মিস করে খলনায়কও হয়ে গেলেন দিদিয়ের দ্রগবা। পাভলিউচেঙ্কোর ১৫ মিনিটের গোলে টটেনহাম হটস্পারের মাঠে পিছিয়ে পড়ে চেলসি। দ্রগবার ৭০ মিনিটের গোলে ম্যাচে ফেরে তারা। এরপর এগিয়ে যাওয়ারও সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু পেনাল্টি মিস করেন দ্রগবা। ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় চেলসিকে।

তেভেজের মুক্তির অনুরোধে সিটির ‘না’

দু-এক দিন পরপরই সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে রবার্তো মানচিনির সঙ্গে কার্লোস তেভেজের বনছে না। ম্যানচেস্টার সিটির ইতালিয়ান কোচ বলে গেছেন, তেভেজের সঙ্গে তাঁর কোনো ঝামেলা নেই। সব ঠিক আছে। কিন্তু মানচিনি আসলে এত দিন সত্য লুকিয়েছেন।
তেভেজ সত্যিই ম্যান সিটি থেকে মুক্তি চাইছেন। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার ম্যান সিটিকে অনুরোধ করেছেন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হোক। কিন্তু ম্যানইউ ছেড়ে ম্যান সিটিতে যোগ দেওয়ার পর ৫০টি লিগ ম্যাচে ৩৩ গোল করা তেভেজের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে ইংলিশ ক্লাবটি। আগের সপ্তাহে বোল্টনের বিপক্ষে ম্যান সিটির ম্যাচে তেভেজের বদলি হিসেবে জেমস মিলনারকে নামান মানচিনি। এ নিয়ে টাচলাইনে বসে কোচের সঙ্গে কথাকাটাকাটি করেছেন তেভেজ।

আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে স্থানীয় আয়োজকেরা সংবাদ সম্মেলনে ঘটা করে বলেছিলেন, ‘জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করে তাক লাগিয়ে দেব আমরা।’ কিন্তু কাল উদ্বোধনী দিনে অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতার চূড়ান্ত পরিচয় দিল কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থা। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে কোনো মিডিয়া সেন্টার নেই! সাংবাদিকদের জন্য কোনো প্রেসবক্সও করা হয়নি। একটা টেবিল পর্যন্ত নেই, প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে লিখতে হচ্ছে হাঁটুর ওপর ল্যাপটপ রেখে। অথচ ভিআইপি গ্যালারির দুই পাশে শতাধিক চেয়ার ছিল আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য। তবে অনেকে আবার চেয়ার পাননি। ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তা দেবজিৎ মুখার্জি অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে রইলেন। বসার জন্য চেয়ার চেয়ে পাচ্ছিলেন না বাংলাদেশের আমন্ত্রিত এই অতিথি! ম্যাচের আগে মালদ্বীপের জাতীয় সংগীতের সিডি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিব্রত বিদেশি কর্মকর্তারা। পরে অবশ্য সিডি পাওয়ার পর দুঃখ প্রকাশ করলেন অনুষ্ঠান সঞ্চালক।

প্রিয়রের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডের ড্র

ব্রিসবেনে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ড্র, অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়াকে নাস্তানুবাদ করে ইনিংস ও ৭১ রানের জয়। দাপুটে এই ইংল্যান্ডের কি দরকার ছিল আর প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার? কিন্তু পূর্বসূচিমতো ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে আরেকটু হলে বিপদেই পড়ে গিয়েছিল অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের দল।
রক্ষা, সেঞ্চুরি করে ম্যাচ বাঁচিয়েছেন ম্যাট প্রিয়র।
শুধু ড্র নয়, ড্রয়ের সঙ্গে ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান যেন দলের জন্য মেলবোর্ন থেকে কুড়িয়ে এনেছেন আরেক মুঠো আত্মবিশ্বাসও। ১৬ ডিসেম্বর পার্থে শুরু তৃতীয় টেস্ট। তার আগে বাড়তি এই আত্মবিশ্বাস ১-০-তে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ডকে আরও উজ্জীবিত করবে। প্রিয়রই যেমন বলছেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে অপরাজিত থেকেই দেশে ফিরতে চান তাঁরা।
ভিক্টোরিয়া ২১৬/২ ও ২৮৭/৬, ইংল্যান্ড ১৮৪/২—নাটকীয় তিন ইনিংস ঘোষণায় কাল শেষ দিনে গা-গরমের ম্যাচটা পায় অন্য মাত্রা। ৩১১ রানের জয়ের লক্ষ্যে নেমে ইংল্যান্ড লাঞ্চের আগেই হারিয়ে বসে ৪ উইকেট। পরের সেশনে হারায় আরও ২ উইকেট। জয় ভুলে ড্রকেই লক্ষ্য বানিয়ে ফেলা ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেন প্রিয়র। চা-বিরতির পর তাই প্রিয়র-স্ট্রাউস রান নয়, মনোযোগী হন সময় কাটাতে। ২১ ওভারে ৫২ রানই তাঁর প্রমাণ। দিন শেষের ঘণ্টা খানেক আগে ইংল্যান্ড ২১১/৬ করতেই ঘোষণা করা হয়, ম্যাচ ড্র। প্রিয়র ১০২ আর ৬৫ বলে ২২ রান করে অপরাজিত থাকেন স্ট্রাউস।

ফিরবে সেই পুরোনো উত্তাপ

টাইম মেশিনে করে বছর পাঁচেক পেছনে গেলে দেখবেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর আর্সেনালের ম্যাচ মানে অন্যরকম এক উন্মাদনা আর উত্তাপের ছবি। সেটাই হওয়ার কথা। বছর পাঁচেক আগে যে ইংলিশ শিরোপা লড়াইটা ছিল মূলত এই দুই দলের মধ্যেই।
আজ আবার আরেকটা ম্যানইউ-আর্সেনাল লড়াই। অনেকেই হয়তো স্মৃতিচারণা করবেন। স্মৃতিচারী হয়ে পড়েছেন ম্যানইউ কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন নিজেই, ‘পাঁচ-ছয় বছর আগে এই ম্যাচটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ শিরোপা লড়াইটা আমাদের এই দুই দলেই হতো তখন। এখন চেলসি এসেছে। ৫ বছর ধরে শিরোপা লড়াইটা আমাদের আর চেলসির হয়ে গেছে।’
মৌসুমের শেষ দিকের ছবিটা বলা কঠিন, কিন্তু এ পর্যন্ত অন্তত ম্যানইউর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে রয়েছে আর্সেনাল। কাল চেলসি-টটেনহাম ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় ১৬ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ‘গানার’রাই। ১৭ ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে ম্যান সিটি দ্বিতীয় স্থানে। ১৫ ম্যাচ খেলা ম্যানইউর পয়েন্ট ৩১।
মাস খানেক ধরে আর্সেনাল আর ম্যানইউ আবার ভালো খেলছে। চেলসিকে সরিয়ে পাদপ্রদীপের আলোটাও নিয়ে নিয়েছে তারা নিজেদের ওপর। এ কারণেই আজকের আর্সেনাল-ম্যানইউ ম্যাচটির দিকে তাকিয়ে আছে অনেকেই। এ ম্যাচ তাই ফিরিয়ে এনেছে পুরোনো সেই উন্মাদনা, পুরোনো সেই উত্তাপ।
ম্যানইউ ও আর্সেনাল—দুই দলেই সাজ সাজ রব; ঠিক যেন যুদ্ধ পরিস্থিতি! ম্যানইউর ফরাসি ডিফেন্ডার প্যাট্রিস এভরা মনস্তাত্ত্বিক লড়াই জিততে আর্সেনালকে ভেংচি কেটেছেন ট্রেনিং সেন্টার বলে। মনে করিয়ে দিয়েছেন ২০০৫ সালের পর এই বড় ক্লাবটি কিছুই জেতেনি। এভরার ফরাসি সতীর্থ আর্সেনাল মিডফিল্ডার সামির নাসরি ছেড়েছেন হুংকার, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, এই ম্যাচ থেকে ভালো ফল বের করে আনব আমরা। রোনালদো আর তেভেজ থাকতে এই ক্লাবটি যেমন ছিল, এখন আর তেমন শক্তিশালী নেই।’
রোনালদোর বিদায়ের পর রুনি, নানি, এভরা, ভিদিচ, ফার্ডিনান্ডরা গুছিয়ে এনেছেন ফার্গুসনের ম্যানইউকে। কিন্তু আজ আর্সেনালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভিদিচ ও ফার্ডিনান্ডকে না-ও পেতে পারেন ফার্গুসন। দুজনেরই চোট। আর রুনি সেই কবে থেকেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন। চোটের ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে ওয়েঙ্গারের আর্সেনালকেও। দলের অন্যতম ভরসা অধিনায়ক সেস ফ্যাব্রিগাস তো চোট ছাড়ছেই না।
এর পরও আজ ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচই হবে বলে মনে করেন ফার্গুসন, ‘এই দুটি দল এবং তাদের লড়াইয়ের ইতিহাস সব সময়ই ভালো ম্যাচের প্রতিশ্রুতি দেয়। আমার মনে হয়, সোমবারের (আজ) ম্যাচটিও কমবেশি সে রকমই হবে।’ তবে ম্যাচটি ওল্ড ট্রাফোর্ডে বলে একটি ভয়ও আছে আর্সেনালের। ফার্গুসন দায়িত্ব নেওয়ার পর লিগে ম্যানইউর বিপক্ষে আর সব দলের চেয়ে বেশি ম্যাচ জিতলেও ওল্ড ট্রাফোর্ডে ২০০৬ সালের পর আর জেতেনি ‘গানার’রা।

ফুটবলেই আনন্দ খুঁজল দর্শক

স্টেডিয়ামের পেছনের দিকে বঙ্গোপসাগর। তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে সারি সারি ঝাউগাছ। সাগর থেকে বড়জোর এক কিলোমিটার দূরত্ব হবে কক্সবাজার জেলা স্টেডিয়ামের। এই স্টেডিয়ামেই কাল রং-বেরঙের বেলুন উড়িয়ে প্রথম সাফ মহিলা ফুটবলের উদ্বোধন করলেন ফিফার মহিলাবিষয়ক চেয়ারম্যান ওরাউয়ি মাকুদি।
‘কক্সবাজার দইজ্জার চর, তার উওরদি পাহাড়, নদীর কূলত ঢেউ খেলি যার, হত গমগম লার ছঅনা, হত সুন্দর লার...’ জনপ্রিয় আঞ্চলিক গানের সঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাচল স্থানীয় আটটি স্কুলের চার শ ছাত্রছাত্রী।
কক্সবাজার পর্যটন শহর হলেও এই জনপদ রক্ষণশীলতার ঘেরাটোপে বন্দী। অথচ এখানেই হচ্ছে মহিলা আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট। উৎসবের উত্তাপ খুব একটা টের পাওয়া গেল না শহরে পা রেখে। টুর্নামেন্ট উপলক্ষে শুধু স্টেডিয়ামের পাশে জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজন করেছে ‘উইমেন এন্টারটেইনার ট্রেড ফেয়ার।’ এটুকু করেই যেন দায়িত্ব পালন করেছেন আয়োজকেরা। অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর দিন কয়েক আগে থেকে কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সে কি হাঁকডাক, আয়োজনের ঔজ্জ্বল্যে নাকি গোটা এশিয়ার চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়া হবে!
তবে ফুটবলপ্রেমী দর্শক এসব কথাবার্তায় ভোলেনি। তাদের মূল যে আগ্রহ, সেই ফুটবলের টানেই খুঁজে নিল স্টেডিয়াম। নেপাল-মালদ্বীপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতেই পাঁচ হাজার ধারণক্ষম ছোট্ট স্টেডিয়ামের গ্যালারি উপচে পড়ল। তিন দিকের তিনটি গ্যালারি ছাড়াও পাশের খোলা চত্বরে দাঁড়িয়ে ম্যাচটি উপভোগ করল আরও হাজার দুয়েক দর্শক। স্থানীয় সৈকত উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী নাজমা দারুণ উত্তেজিত, ‘এমন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এখানে হচ্ছে বলে খুব খুশি আমরা।’
স্থানীয় আয়োজকদের অনভিজ্ঞতার ছাপ দেখা গেল পদে পদে। শিল্পী কানিজ সুবর্ণা বিমান মিস করে এলেন ম্যাচের পরে। স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার কথা ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। সেসবের কিছুই খুঁজে পাওয়া গেল না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিফার প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন সুইডিশ ফুটবলার ইয়োহান্না ফ্রিস্ক। স্বর্ণকেশী এই ডিফেন্ডার জানালেন, ‘আশা করি, এই অঞ্চলের ফুটবল দিনকে দিন আরও এগিয়ে যাবে।’ ছিলেন জার্মানির মহিলা দলের সাবেক কোচ মনিকা স্টাব। ফিফার ফুটবল পরামর্শক হিসেবে বাংলাদেশে এসেছেন স্টাব। নিজের দেশের উদাহরণ টেনে বললেন, ‘এখানকার মেয়েরা ফুটবল খেলতে গিয়ে যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, ৪০ বছর আগে আমাদের অবস্থাও একই রকম ছিল। আশা করি, এখানকার অভিভাবকেরা তাঁদের মেয়েদের ফুটবলে পাঠাতে আগ্রহী হবেন।’
কাল একমাত্র ম্যাচে মালদ্বীপকে নিয়ে খেলল নেপাল। অনু লামার হ্যাটট্রিকে নেপাল ৬-০ গোলে হারাল ছোট্ট দ্বীপ দেশটিকে। গত সাফ গেমসের হ্যাটট্রিক-নায়িকা যমুনা করেছেন দুটি গোল। অন্যটি আত্মঘাতী। আজ প্রথম ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ ভুটান। ফেবারিট ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশেরও টুর্নামেন্ট শুরু আজ। বাংলাদেশের কোচ গোলাম রব্বানির (ছোটন) প্রত্যাশা শুধুই ভালো খেলা উপহার দেওয়ার, ‘স্বাগতিক হিসেবে একটু চাপে থাকব স্বাভাবিক। তবে যেভাবে অনুশীলন করেছে মেয়েরা তাতে ভালোই খেলবে।’ ঘরের মাঠে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ কতটা ভালো খেলতে পারে সেটাই দেখার অপেক্ষায় সবাই।
আজকের খেলা
ভারত-ভুটান (শুরু বেলা ১১.০৫ মিনিট)
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা (শুরু বেলা ২.৪৫ মিনিট)
দুটি ম্যাচই দেখাবে এটিএন বাংলা

টুকরো টুকরো ছবি

  1. দুঃস্বপ্নের শুরু
    ফ্রি-হিটে শুধু একভাবেই আউট হওয়া সম্ভব, আত্মহত্যার জন্য ব্রেন্ডন টেলর বেছে নিলেন সেটিকেই। সেটিও কিনা আবার ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই! কাভারে বল ঠেলেই এমন দৌড় দিলেন, যেন জয়ের জন্য প্রয়োজন এক বলে এক রান! মাসাকাদজার তা মনে হয়নি, ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন তাই নিজের প্রান্তে। ওয়ানডেতে এই প্রথম প্রথম ওভারেই রানআউট টেলর।

    উন্নতি-অবনতি
    সিরিজ শুরু করেছিলেন আট নম্বরে ব্যাটিং করে। কিথ দাবেংওয়া পরের ম্যাচে এক লাফে উঠে এলেন চারে, কাল প্রথমবারের মতো তিনে। বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিন সামলাতেই এই বাঁহাতিকে ওপরে আনা। কিন্তু শুধু স্পিন সামলালেই তো চলবে না, পেসও সামলাতে হবে! বেশ কবার অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ার পর আউট হলেন মাশরাফির বলে।

    নাদির শাহর ‘রেকর্ড’
    স্টাম্প সোজা বলটি আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে হলো না হ্যামিল্টন মাসাকাদজার, বোলার মাশরাফি আবেদন শুরু করতেই আউট দিয়ে দিলেন আম্পায়ার নাদির শাহ। এটাই দ্রুততম এলবিডব্লু দেওয়ার রেকর্ড কিনা, এই আলোচনা জমে উঠতেই তা থামিয়ে দিলেন নাদির। এবার দাবেংওয়ার প্যাডে লাগল বল, আবেদন করার জন্য বোলার মাশরাফি ঘুরে দেখেন এরই মধ্যে আঙুল তুলে দিয়েছেন নাদির! তবে দুবারই নাদির শাহর সিদ্ধান্ত ছিল সঠিক।

    বাউন্ডারি-খরা
    শুরুতেই তিন উইকেট হারানো, বাংলাদেশি বোলারদের দুর্দান্ত বোলিং আর ভারী আউটফিল্ড মিলিয়ে বাউন্ডারির দেখাই পাচ্ছিল না জিম্বাবুয়ে। অবশেষে ২৪তম ওভারের শেষ বলে প্রথম চার এনে দিলেন টাটেন্ডা টাইবু। ওয়ানডেতে এটাই সবচেয়ে দেরিতে চার কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ১৯৮৩ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাকিস্তান ৬০ ওভারে মাত্র দুটি চার মারতে পেরেছিল, প্রথমটি কততম ওভারে এসেছিল কে জানে!

    ছয় নম্বর সাকিব
    অনেক দিন ধরেই শুধু দলের সেরা স্পিনারই নন, সেরা বোলারও সাকিব। এ জন্য নিয়মিতই বোলিং আক্রমণে আগেভাগে দেখা যায় তাঁকে। কাল সেই সাকিব নিজেকে বোলিংয়ে আনলেন ছয় নম্বর বোলার হিসেবে। গত জুনে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ছয় নম্বরে বোলিং করেছিলেন সাকিব, তার আগে ২০০৭ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

    ধাক্কা-ছক্কা
    টেলরের দ্বিতীয় ওভার। হালকা হাতে খেলে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছিলেন জুনায়েদ, অন্য প্রান্তে নিজেকে বাঁচাতে ক্রিজে ফেরার চেষ্টা করছিলেন তামিম। তাঁর সঙ্গে ধাক্কা লাগায় সহজ ক্যাচটি নিতে পারলেন না টেলর, রাগে ক্রূর দৃষ্টিতে তাকালেন তামিমের দিকে। তামিমের তা ভালো লাগবে কেন? টেলরের পরের চার বলে এক ছয়সহ ১১ রান তুলে জবাব দিলেন ব্যাটেই।

    ছক্কা-অক্কা
    তামিমকে তখন ছয়ের নেশায় পেয়েছে। ক্রেমারকে টানা দুটি ছয়। দাবেংওয়ার পরের ওভারে এক ইনিংসে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের সবচেয়ে বেশি ছক্কার নিজের রেকর্ডটিই ভাঙলেন। এই ছয়েই মাশরাফিকে (৪০) তিনে ঠেলে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কার তালিকায় উঠে এলেন দুইয়ে। কিন্তু আফতাবের (৪৯ ছক্কা) আরেকটু কাছে যাওয়ার চেষ্টাটা হয়ে গেল ক্যাচ। ঘরের ছেলের দুঃখে গ্যালারিতে নেমে এল পিনপতন নীরবতা।

    প্রাইসের কুর্নিশ
    পোফুর সঙ্গে অভিনব উদ্যাপন দেখিয়েছেন পুরো সিরিজেই। কাল রে প্রাইস দেখালেন নতুন আরেকটি উদ্যাপন। সাকিবকে আউট করার পর প্রথমে মুষ্টিবদ্ধ হাত ছুড়লেন বাতাসে, এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে কুর্নিশ করলেন সাকিবকে। পুরো সিরিজেই প্রাইসের সঙ্গে মাঠে একটা ঠান্ডা লড়াই চলেছে পুরো বাংলাদেশ দলের, এই কুর্নিশে কী বোঝাতে চাইলেন, বুঝে নিন নিজের মতো করে!

আরেকটি সিরিজ জয়

জেমি সিডন্সের খুশির উপলক্ষ হতে পারে তিনটি—
অস্ট্রেলিয়ায় রেখে আসা নবজাতক পুত্রসন্তান টোবি, স্ত্রী কিম কন্যা স্টেলাকে নিয়ে ভালো আছেন। তার ওপর কাল বাংলাদেশের শীর্ষ দৈনিকে ছাপা হয়েছে পরিবারের সবার ছবি। খুশি খুশি চেহারায় প্রথম আলোর কালকের স্টেডিয়াম পাতাটা সযত্নে ভাঁজ করে রেখে দিলেন হাতে।
হার দিয়ে শুরু করলেও বিশ্বকাপের আগে আরও একটা সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সিডন্সের আনন্দিত হওয়ার এটাই বোধ হয় সবচেয়ে তাজা কারণ।
আর শুধু কি সিরিজই জিতল বাংলাদেশ, কোচ তো কাল ভবিষ্যদ্বক্তা হিসেবেও শতভাগ সফল! আগের দিনই বলেছিলেন, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট বড়জোর ১৮০-২০০ রানের। জিম্বাবুয়ে দল যেন তাঁর কথা মেনেই ৫০ ওভারে করল ১৮৮ রান!
চট্টগ্রামে আসার পর থেকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর কর্দমাক্ত মাঠ দেখে দেখেই সময় কাটছিল সবার। পরশু ক্রিকেটীয় আবহাওয়াটা ফিরে আসার পর কালও গেল ঝা-চকচকে একটা দিন এবং সেই দিন শেষে বাংলাদেশ শিবিরে আনন্দের ফল্গুধারা। তবে চট্টগ্রামের উইকেট আর আউটফিল্ড নিয়ে যে আতঙ্কটা ছিল, সেটাকে সিরিজ জয়ের পরও সামনে নিয়ে এলেন কোচ। কথা ফলে যাওয়া আর সিরিজ জয়ের আনন্দ সে কারণেই মিলেমিশে একাকার।
আনন্দটা সবচেয়ে বেশি হওয়ার কথা তামিম ইকবালের। ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়ার আফসোসকে এক পাশে রেখে দিলেও কালকের ৯৫ রানের ইনিংস তাঁর জন্য অন্যরকম গর্বের। নিজ শহর চট্টগ্রামের মাটিতে খেলা ওয়ানডেতে এটাই তামিমের সর্বোচ্চ ইনিংস। এই ইনিংসে মারা ৭টি ছক্কা দিয়েই তিনি নতুন করে লিখেছেন বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার নিজের পুরোনো রেকর্ডটি। তামিম চাইলে গর্বে বুকটাকে আরেকটু ফুলিয়ে নিতে পারেন এটা জেনে যে, বাংলাদেশের মাটিতে এখন পর্যন্ত এক ম্যাচে এর চেয়ে বেশি ছক্কা মারতে পারেনি কোনো বিদেশি ব্যাটসম্যানও।
তামিমের ৭টিসহ কালকের ম্যাচে ছক্কা হয়েছে মোট ৯টি। সংখ্যাটা জেনে চট্টগ্রামের মাঠ-উইকেটকে ভুল বুঝবেন না যেন। ম্যাচ শেষে তামিম যে বললেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছিল এক নেওয়াই বরং কষ্টকর, ছয় মারা সহজ। দুই দিন ধরেই আমি আপসেট ছিলাম স্লো আউটফিল্ড নিয়ে। মারলাম কিন্তু চার হলো না, নিজের কাছে তখন খুব খারাপ লাগে। এটা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম’, ওটাই আসলে বাস্তবতা।
বাউন্ডারির চেয়ে ছক্কা বেশি মেরে নিজের চিন্তা তামিম নিজেই দূর করে দিয়েছেন। তবে নার্ভাস নাইনটিজে গিয়ে আরেকটু ধৈর্য ধরলে বোধ হয় খারাপ হতো না। ইনিংসের ২৯তম ওভারের পঞ্চম বলে দেবাংওয়াকে শেষ ছক্কাটি হাঁকালেন লং অনের ওপর দিয়ে—৮৯ থেকে ৯৫। পরের বলটাও তুলে মারতে চাইলেন মিড উইকেট দিয়ে। কিন্তু ডিপ মিড উইকেটে ক্রেমারের হাতে ক্যাচ হয়ে গেল সেটি। সেঞ্চুরির সম্ভাবনারও কবর তাতেই।
‘তামিম শো’র কারণেই দলের মাত্র ৩ রানে ইমরুল কায়েসের কট বিহাইন্ড হয়ে যাওয়াটা বিপদের কারণ হয়নি বাংলাদেশের জন্য। বরং জুনায়েদ সিদ্দিকের (৫৬*) সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে তামিমের ১৩৬ রানের জুটি ১৮৯ রানের লক্ষ্যটাকে করে দেয় আরও সহজ। মাঝে রকিবুলের শূন্য রানে ফিরে যাওয়াটা কিঞ্চিৎ দুশ্চিন্তার ডালপালা ছড়িয়েছে। এসব ক্ষেত্রে যখন ম্যাচ শেষ করে দিয়ে আসারই চেষ্টা করেন ব্যাটসম্যানরা, রকিবুল তখন চার বল খেলেই মাসাকাদজার বলে স্লিপে ক্রেমারের ক্যাচ! তবে এরপর সাকিব-মুশফিকুররা ছিলেন বলে ম্যাচ জেতা নিয়ে সংশয় ছিল না। তবে ব্যাটিং-অর্ডারের চার নম্বর জায়গাটি নিয়ে যে এখনো চিন্তামুক্ত হওয়ার সময় আসেনি, পরপর দুই ম্যাচে ব্যর্থ রকিবুল যেন সেটাই জানিয়ে দিয়ে গেলেন! এই সিরিজের আগে সংশয় ছিল তিন নম্বর জায়গা নিয়েও। সিরিজে দুটি ফিফটি করে জুনায়েদ সিদ্দিক অবশ্য সেই দুশ্চিন্তা কিছুটা কমিয়েছেন।
জিম্বাবুয়ে দলের চেয়েও এই সিরিজে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল আসলে এ রকম কিছু বিষয়ই। জুনায়েদের মতো সেই চ্যালেঞ্জে সফল ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজাও। ঢাকার তৃতীয় ওয়ানডেতে দুর্দান্ত বল করেছেন। ৮ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ২ উইকেট—সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন কালও। মাশরাফির দুর্ভাগ্য, উইকেট ২টির জায়গায় ৩টি হলো না জিম্বাবুয়ে ইনিংসের শেষ বলে ডিপ মিড উইকেটে সোহরাওয়ার্দী ক্যাচ ফেলে দেওয়ায়। এর আগে ২১ রানে ৩ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়েকে ১৮৮ রান এনে দিয়েছে মূলত ক্রেইগ আরভিন আর টাটেন্ডা টাইবুর ৯৫ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি।
জীবন ফিরে পাওয়ার সৌভাগ্য বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেরও ছিল। ২৪ রানে তামিমের দেওয়া ফিরতি ক্যাচ ধরতে পারেননি। জুনায়েদের ‘লাইফ’ ২০ রানের সময়। নন-স্ট্রাইকিং এন্ডে থাকা তামিমের সঙ্গে সংঘর্ষে নিজের বলে জুনায়েদের ক্যাচটা নিতে পারেননি বাঁহাতি স্পিনার রে প্রাইস। ভাগ্যের এই দুটি ছোঁয়া না পেলে ম্যাচের রং বদলেও যেতে পারত।
জয়ের দিনেই এসব তুচ্ছ হয়ে যায়, সিরিজ জয়ের দিনে তো আরও বেশি। তার পরও বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজটা ছিল একটা ‘গিনিপিগ’। জেমি সিডন্সের গবেষণাগারে নিশ্চয়ই বাড়তি ‘মর্যাদা’ পাবে এসব ছোটখাটো ভুলও।

মুক্তিযুদ্ধ- মুক্তিযুদ্ধে গ্রাম by সেলিনা হোসেন

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে একটি উপন্যাস লিখব বলে তথ্য সংগ্রহের জন্য অনেক আগে গিয়েছিলাম ১১ নম্বর সেক্টরের কামালপুর ও ধানুয়া গ্রামে। এ দুটি গ্রাম বর্তমান কামালপুর জেলার অন্তর্গত এবং ভারতের মেঘালয় সীমান্তের কাছে বাংলাদেশের অংশ। সীমান্তের ওপারে যে গ্রাম তার নাম মহেন্দ্রগঞ্জ, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল।

খবর, প্রথম আলোর- ১২ বছর আগে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে ____সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ ইউনূস

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘কয়েক দিন ধরে দেশের সংবাদমাধ্যমের একটি উল্লেখযোগ্য অংশে যা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছি।’ তাঁর মতো দেশের বহু মানুষ এতে কষ্ট পেয়েছেন বলেও ড. ইউনূস জানান। অথচ ওই সব সংবাদে যে বিষয়টি এসেছে, তার নিষ্পত্তি হয়ে গেছে ১৯৯৮ সালেই।