Friday, December 24, 2010

আইন বাস্তবায়ন ও নথি ব্যবস্থাপনা by মুহাম্মদ লুৎফুল হক

২০০৯-এর মার্চে জাতীয় সংসদে তথ্য অধিকার আইন পাস হয়েছে এবং একই বছরের ১ জুলাই থেকে আইনের কার্যকারিতা শুরু হয়েছে। আইন পাস ও কার্যকর হওয়ার পর থেকে জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার তাত্ত্বিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও এর সুফল এখনো জনগণ ভোগ করতে পারছে না।
কেন বা কী কারণে জনগণ এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তার অনেক দৃশ্যমান ও অদৃশ্য কারণ আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হচ্ছে তথ্যের অপ্রাপ্যতা বা সুষ্ঠু তথ্য ও নথি ব্যবস্থাপনার অভাব। তথ্য অধিকার আইনের সফল বাস্তবায়নের জন্য অতিঅবশ্যই উন্নত নথি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন আছে। ক্রটিপূর্ণ নথি ব্যবস্থাপনা তথ্য অধিকার আইনকে অকার্যকর করে ফেলে, কারণ ক্রটিপূর্ণ নথি ব্যবস্থাপনায় চাহিদাকৃত তথ্য সম্পূর্ণভাবে ও সময়মতো পাওয়া যায় না। তাই তথ্য অধিকার আইন যতই জনবান্ধব ও গণমুখী হোক না কেন অথবা সরকার তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে যতই সচেষ্ট থাকুক না কেন, আধুনিক নথি ব্যবস্থাপনার অভাব থাকলে এই আইন অকার্যকর হয়ে পড়বে। এ জন্যই বলা হয়ে থাকে, নথি ব্যবস্থাপনা যত উন্নত হবে, তথ্য অধিকার আইনও তত সফল হবে। উন্নত তথ্য বা নথি ব্যবস্থাপনায় চাহিদাকারী চাহিদাকৃত তথ্য সঠিক বা নির্ভুলভাবে পেয়ে থাকে, একই সঙ্গে তথ্য সরবরাহকারীও সহজে এবং সময়মতো তথ্য প্রদানে সক্ষম হয়। পক্ষান্তরে সুষ্ঠু পদ্ধতিতে তথ্যসংবলিত নথি সৃষ্টি করা, গুছিয়ে রাখা, তালিকাভুক্ত করা, সংরক্ষণ করা ইত্যাদি অনুসরণ না করলে নথি খুঁজে পাওয়া এবং নিয়মানুযায়ী যথাসময়ে এবং যথা পদ্ধতিতে চাহিদাকারীকে তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে না।
প্রায় ৮০টি দেশে তথ্য অধিকার আইন কার্যকর হলেও এটি বাস্তবায়নের সুবিধার্থে অনেক দেশেই নথি ব্যবস্থাপনা বা তথ্য সংরক্ষণ পদ্ধতিসংশ্লিষ্ট আইনগুলো হালনাগাদ করা হয়নি। এ কারণে অনেক দেশেই জনগণের তথ্য অধিকার ব্যাহত হচ্ছে, এদের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন কার্যকর করার পাশাপাশি নথি ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট আইন ও বিভিন্ন নির্দেশিকা প্রণয়ন বা সংশোধন ও কার্যকর করার প্রয়োজন আছে। কারণ আমাদের নথি ব্যবস্থাপনা এখনো ঔপনিবেশিক সময়ের গোপনীয়তার সংস্কৃতির আলোকে সৃষ্ট নির্দেশাবলি অনুসরণ করছে। প্রায় ১৮ মাস আগে তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হলেও নথি ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট কোনো আইন ও নির্দেশিকা সংশোধন বা প্রণয়ন হয়নি। আগে থেকেই বাংলাদেশে নথি ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট কোনো আইন প্রচলিত নেই অর্থাৎ পাবলিক রেকর্ডস অ্যাক্ট-জাতীয় কোনো আইন বাংলাদেশে নেই। কেন্দ্রীয়ভাবে নথি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কীয় কোনো আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত নির্দেশনাও বাংলাদেশে প্রচলিত নেই। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, আদালত, দপ্তর, বাহিনী ইত্যাদি সংস্থা বা কার্যালয় নিজ নিজ প্রয়োজনে এক ধরনের নথি ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে থাকে, যা অনেক প্রাচীন বা যুগোপযোগী নয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে বাতিলপ্রায়। যেমন, ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত ‘রেকর্ডস ম্যানুয়াল ১৯৪৩’ এখন আর বিশেষ উপযোগী নয়, তবু আধুনিক কোনো নির্দেশিকা না থাকায় এখনো বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে তাই অনুসরণ করা হচ্ছে। সর্বোপরি এসব নির্দেশিকার অনেকগুলোই তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের জন্য অনুকূলও নয়। যেহেতু এসব নির্দেশিকা কোনো কেন্দ্রীয় নির্দেশিকাকে অনুসরণ করে প্রণীত হয়নি, তাই বিভিন্ন স্থানে প্রচলিত নির্দেশাবলি নিজেদের মধ্যে সামঞ্জস্যহীন আবার ক্ষেত্রবিশেষে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়ে ১৯৭৩ সালে সৃষ্ট বাংলাদেশ জাতীয় আর্কাইভসের একটি ভূমিকা আছে, কিন্তু তাদের নিজস্ব বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে নথি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আজও তারা কেন্দ্রীয় কোনো নির্দেশাবলি তৈরি করতে সক্ষম হয়নি।
বাংলাদেশে নথি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বেশির ভাগ সরকারি ও বেসরকারি কার্যালয়ে নথির খোঁজ করলে প্রায়ই শুনতে হয় যে তা পাওয়া যাচ্ছে না। ঔপনিবেশিক আমলে নথি ব্যবস্থাপনার যে মান ছিল, তা ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে নিম্নগামী হতে শুরু করে। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কার্যালয়ে নথি ব্যবস্থাপনাকে বিশেষ কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয় না। প্রশাসনে দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, অব্যবস্থা, স্বজনপ্রীতি ইত্যাদির জন্য উন্নত নথি ব্যবস্থাপনা হুমকিস্বরূপ; তাই প্রশাসনের অশুভ শক্তি নথি ব্যবস্থাপনাকে তাদের অভিন্ন স্বার্থে প্রায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গত বছর বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের নথি ব্যবস্থাপনা ও তথ্য অধিকার আইন বিষয়ে একটি জরিপ করে। এতে উল্লেখ আছে যে বাংলাদেশে নথি ব্যবস্থাপনা গুরুত্বের দিক থেকে খুব নিম্নে। এতে সরকারের কর্মসম্পাদন ও সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে এবং টেকসই আইসিটি পদক্ষেপ গ্রহণে দুর্বলতা থাকছে। ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে তথ্য অধিকার আইন এই দুরবস্থা থেকে উত্তরণে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করতে পারে। নথি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার বিষয়ে তথ্য কমিশনও অবহিত আছে। এ বছরের ১৪ জুলাই প্রধান তথ্য কমিশনার উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশে নথি ব্যবস্থাপনা অনেক নিম্নমানের এবং জরুরি ভিত্তিতে নথিগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
তথ্য বা নথি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা এবং তা কাটিয়ে ওঠার পথ নিয়ে বিশেষ কোনো গবেষণা বা জরিপ বাংলাদেশে এ যাবৎ হয়নি, তবে লব্ধ অভিজ্ঞতা এবং বিশ্বব্যাংকের জরিপ থেকে নথি ব্যবস্থাপনায় নিচের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা যায়:
সর্বস্তরে নথি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উদাসীনতা।
নথি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় স্থানের অভাব।
নথি ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যালয়সমূহে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পদের প্রাধিকার না থাকা।
নথি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অপ্রতুল বা শূন্য বাজেট বরাদ্দ।
নথি ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণের অভাব।
নথি ব্যবস্থাপনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতার অভাব।
নথি ব্যবস্থাপনাবিষয়ক আইনকানুন বা নির্দেশাবলির অভাব।
জাতীয় আর্কাইভসের আইনগত সীমাবদ্ধতা ও অক্ষমতা।
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এ তথ্য সংরক্ষণ ও নথি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা রয়েছে এবং তথ্য কমিশনকে নথি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে যথাযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনের বিভিন্ন ধারা ও উপধারায় তথ্যবিন্যাস, সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে সরাসরি উল্লেখ আছে এবং কোনো কোনো ধারায় পরোক্ষভাবেও তথ্য ও নথি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উল্লেখ আছে। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর যেসব ধারা ও উপধারায় তথ্য সংরক্ষণ ও নথি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উল্লেখ আছে তা হচ্ছে ধারা ৫, ধারা ১৩ (৫)(ক), ধারা ২৫ (১১)(ক)(ঈ), ধারা ২৫ (১১)(চ) এবং ধারা ২৫ (১১)(ঙ)।
বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে তথ্য কমিশন এখনো নিজেদের গুছিয়ে উঠতে পারেনি বা কার্যকর হতে সক্ষম হয়নি। এ কারণে তারা তথ্য বা নথি ব্যবস্থাপনাবিষয়ক কোনো নির্দেশিকা বা প্রবিধান তৈরি করতে সক্ষম হয়নি। তবে ধারণা করা যায় যে তথ্য কমিশন শিগগিরই নথি সংরক্ষণ বিষয়ে প্রবিধান ও নির্দেশিকা তৈরি করবে এবং সব কর্তৃপক্ষকে তা অনুসরণের জন্য নির্দেশ দেবে। তথ্য কমিশন এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং জাতীয় আর্কাইভসের সহযোগিতা নিতে পারে।
এটা বাস্তবতা যে বেশ কিছু সময় অতিক্রান্ত হলেও তথ্য অধিকার আইন এখনো গতিশীল হয়নি। এর সঙ্গে জড়িত প্রায় সবাই যেমন তথ্য অধিকারসংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো, সুশীল সমাজ, অধিকারকর্মী, মিডিয়া বা খোদ তথ্য কমিশনও লক্ষ্য থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। কিছুদিন ধরে তথ্য অধিকার নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা এবং পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকাও সমালোচিত হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারক এবং সরকারি কর্মকর্তারাও তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে প্রকাশ্যে বিরূপ সমালোচনা করছেন এবং বাস্তবায়নে ধীরগতির আশ্রয় নিচ্ছেন। বেসরকারি সংস্থাগুলোর যাঁরা তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একসময় প্রাণপাত করছিলেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য অধিকার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে সক্ষম, তাঁদেরও অনেকে তথ্য অধিকার বিষয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। কারণ আইনে তাঁদেরও তথ্য প্রদানের আওতায় আনা হয়েছে। এ সবই হচ্ছে আইন প্রয়োগের বিষয়ে সরকার ও তথ্য কমিশনের কার্যকর ভূমিকার অভাবে। তথ্য সংরক্ষণ ও নথি ব্যবস্থাপনার উন্নতিকল্পে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং সরকার, তথ্য কমিশন ও সৎ এনজিওদের তথ্য অধিকারবিষয়ক দায়িত্ব পালনের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে তথ্য অধিকার আইনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার পথ করে দিতে এখনই সচেষ্ট হতে হবে। নতুবা অনেক সুন্দর আইনের মতো এই আইনও মুখ থুবড়ে পড়বে। নিশ্চয়ই এটি আমাদের কাম্য নয়।
মুহাম্মদ লুৎফুল হক: গবেষক।
lutful55@gmail.com

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প

জাপানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গতকাল বুধবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৭ দশমিক ৪। ভূমিকম্পের পর সেখানে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়। তবে ভূমিকম্পের ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানায়, স্থানীয় সময় রাত দুইটা ১৯ মিনিটে রাজধানী টোকিওর এক হাজার কিলোমিটার দক্ষিণে ওগাসাওয়ারা দ্বীপে ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ সময়ে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল চিচিশিমা দ্বীপের ৮০ মাইল উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের পর কর্তৃপক্ষ দ্বীপটিতে সুনামির সতর্কতা জারি করে। পরে অবশ্য তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। ১৯৯৫ সালে দেশটির বন্দরনগর কোবেতে ৭ দশমিক ২ তীব্রতার ভূমিকম্পে ছয় হাজার ৪০০ লোকের প্রাণহানি হয়।

ক্রেমলিন-সমর্থিত যুব সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন আনা

রাশিয়ার আলোচিত গুপ্তচর আনা চ্যাপম্যান ক্রেমলিন-সমর্থিত মস্কোর একটি যুব সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে যাচ্ছেন। গতকাল বুধবারই তাঁর মলোদায়া গভারদিয়া (যুবরক্ষী) নামে ওই সংগঠনের সামাজিক পরিষদের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কথা। গতকাল ওই সংগঠনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তি এ কথা জানায়।
মলোদায়া গভারদিয়া এখন রাশিয়ার ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়ার কাঠামোর একটি অংশ। গতকাল সংস্থাটির চতুর্থ কংগ্রেসে নতুন নেতাদের নির্বাচন করার কথা।
সূত্রের বরাত দিয়ে রিয়া নভোস্তি জানায়, মলোদায়া গভারদিয়ায় যোগ দিচ্ছেন আনা চ্যাপম্যান। সেখানে তাঁর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি কংগ্রেসে নির্ধারিত হবে। তবে তাঁর সামাজিক পরিষদের প্রধান হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
গত জুলাইয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আনা চ্যাপম্যানসহ ১০ জন গুপ্তচরকে বহিষ্কার করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই কেলেঙ্কারির ঘটনায় আলোচনায় আসেন আনা। দেশে ফেরার পর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দিন দিন দায়িত্ব বাড়ছে তাঁর। সামাজিক পরিষদের নতুন পদ পেলে তাঁর ব্যস্ততা আরও বেড়ে যাবে।

থাই সাহিত্য পুরস্কার পেলেন যৌনকর্মী

সাবেক এক যৌনকর্মী থাইল্যান্ডের সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। থাইল্যান্ড, হংকং ও জাপানে তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা একটি বইয়ের জন্য তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হলো।
থানাড্ডা সোয়াংডিন নামের ওই নারীর বয়স ৪২ বছর। পেশার কারণে তিনি অতীতে থাইল্যান্ড, হংকং ও জাপান ঘুরে বেড়িয়েছেন। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে আত্মজীবনী তিনি আই অ্যাম এরি: মাই এক্সপেরিয়েন্স ওভারসিজ লিখেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া এ বইটির জন্য থাই নারী লেখকদের পুরস্কার ‘চমানার্দ বুক প্রাইজ’ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার বাথ বা এক হাজার ৬৬৭ মার্কিন ডলার।
ব্যাংকক পোস্টকে থানাড্ডা বলেছেন, ‘বইয়ের মাধ্যমে আমি আমার অভিজ্ঞতা অন্যদের জানাতে চাই। যারা ভুল পথে পা বাড়াতে চায়, তারা যেন এই বই থেকে শিক্ষা নিতে পারে, সেটাই আমার লক্ষ্য।’
জুরি বোর্ডের সদস্যরা বলেন, পতিতাবৃত্তির মতো বহুল আলোচিত একটি বিষয়কে নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার জন্য থানাড্ডার বইটিকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
থানাড্ডা জানান, তাঁর মার্কিন বন্ধু ডেভের উৎসাহে তিনি বইটি লিখেছেন।

ইরাকে খ্রিষ্টানদের ওপর হামলা চালানোর হুমকি দিল আল-কায়েদা

ইরাকে আল-কায়েদার সদস্যরা সে দেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর আরও হামলার হুমকি দিয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, ইসলাম গ্রহণ করায় মিসরের একটি গির্জায় দুজন নারীকে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁদের ছেড়ে দেওয়া না হলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তারা ইরাকের খ্রিষ্টানদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে। অবশ্য কপটিক চার্চ নামে মিসরের ওই গির্জা কর্তৃপক্ষ ইরাকি আল-কায়েদা সদস্যদের ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত মঙ্গলবার একটি ইসলামি ওয়েবসাইটে ওই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এতে ওই দুই নারীকে ছেড়ে দিতে মিসরের ওই গির্জা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ইরাকি খ্রিষ্টানদের আহ্বান জানানো হয়।
আল-কায়েদার জঙ্গিরা ইরাকের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর হরহামেশাই হামলা চালিয়ে থাকে। কিছুদিন আগে রাজধানী বাগদাদে আল-কায়েদার সদস্যরা একটি গির্জার সব সদস্যকে জিম্মি করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে ৬৮ জন নিহত হয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে, ওই ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার খ্রিষ্টান পরিবার ইরাক ছেড়ে বিভিন্ন দেশে চলে গেছে।

ইরানের অপহূত পরমাণু কর্মীকে হত্যার হুমকি দিয়েছে জুন্দাল্লাহ

ইরানের অপহূত পরমাণুকর্মী আমির হুসেইন শিরানিকে হত্যার হুমকি দিয়েছে সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠী জুন্দাল্লাহ। গোষ্ঠীটির নেতা আবদুল রউফ রিগি বলেছেন, ‘ইরান কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি মেনে না নিলে শিরানিকে হত্যা করা হবে।’
রিগি গতকাল বুধবার লন্ডনভিত্তিক সৌদি আরবের মালিকানাধীন দৈনিক আশারক আল-আওসাতকে টেলিফোনে এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইরানের কারাগারে দুই শতাধিক সুন্নি ও বেলুচ রাজনৈতিক কর্মী বন্দী রয়েছেন। তাঁদের ছেড়ে দিলেই শিরানিকে মুক্তি দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, চলতি সপ্তাহে যে ১১ জন ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে, তাঁরা জুন্দাল্লাহর সঙ্গে জড়িত নন।
পত্রিকাটি জানায়, ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের কোনো পাহাড়ি এলাকা থেকে রিগি টেলিফোন করেছেন। তিনি বলেন, ইরান গতানুগতিক ধারাতেই কথা বলছে। যাঁদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তাঁরা জুন্দাল্লাহর সদস্য নন। তাঁদের সঙ্গে অন্য কোনো জাতি গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের সঙ্গে যোগসাজশ থাকতে পারে।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে জুন্দাল্লাহ। গোষ্ঠীটির দাবি, সুন্নি জাতি গোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে তাঁরা সংগ্রাম করছেন।

আইভরি কোস্টে আবার গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে

বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইভরি কোস্টে আবার গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে। এ ব্যাপারে সত্যিকারের ঝুঁকি রয়েছে। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মহাসচিব বান কি মুন। তিনি বলেন, নির্বাচনে আলাসেন ওয়েতাহাকে জয়ী বলে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট লঅন্ত বাগবো সে দেশে মোতায়েন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। একই দিন ওয়েতাহার শিবির থেকে বলা হয়, বাগবো বিশ্বের সঙ্গে চালাকি করছেন। তাঁকে অবশ্যই প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ছেড়ে যেতে হবে। এর আগে বাগবো গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল পুনরায় পরীক্ষা করে দেখার জন্য আন্তর্জাতিক কমিটি গঠনের আহবান জানান।মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় বান কি মুন বলেন, আইভরি কোস্টে দায়িত্ব পালনরত ১০ হাজার শান্তিরক্ষী নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। বাগবোর অনুগত সেনারা তাদের কাজে বাধা দিচ্ছে। এ ছাড়া ওয়েতাহার নিরাপত্তায় মোতায়েন ৮০০ শান্তিরক্ষীকে তারা অবরোধ করে রেখেছে। প্রসঙ্গত, সেনাদের এক পক্ষের সশস্ত্র বিদ্রোহের সূত্র ধরে ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে আইভরি কোস্টে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০০৪ এর অবসান ঘটে।ওয়েতাহা এখন আবিদজানের গলফ হোটেলে অবস্থান করছেন। ওই হোটেলে নিজের সদর দপ্তর স্থাপন করেছেন তিনি। বাগবোর অনুগত সেনারা সেখানে জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছাতে দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বান কি মুন বলেন, ‘জীবন ধারণের রসদ ও অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছাতে বাধা দেওয়ায় আগামী দিনগুলোয় শান্তিরক্ষীরা জটিল পরিস্থিতিতে পড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছি।’ তিনি বলেন, ‘সাধারণ পরিষদের সদস্য দেশ যাদের সে রকম সামর্থ্য আছে, আইভরি কোস্টের শান্তিরক্ষীদের সহায়তা করতে তাদের প্রতি জোরালো আবেদন জানাচ্ছি।’
এর আগে বাগবোর একজন মিত্র সতর্ক করে দেন, শান্তিরক্ষীরা সে দেশ ছেড়ে না গেলে তাদের বিদ্রোহী বলে গণ্য করা হবে। এর মধ্যে টিভিতে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সমন্বয়ে গড়া একটি প্যানেল নির্বাচনের ফলাফল খতিয়ে দেখতে পারে। তিনি আরও বলেন, গলফ হোটেল ছেড়ে ওয়েতাহা যেখানে খুশি চলে যেতে পারেন।
ওয়েতাহার মুখপাত্র অ্যান উলোতো বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাগবোর পুনর্নির্বাচনের দাবি নাকচ করে দেওয়ার পর থেকে তিনি বিশ্বের সঙ্গে চালাকি করে যাচ্ছেন।
নির্বাচনের পর থেকে ক্ষমতায় থাকার বিষয়টিকে বৈধ বলে দাবি করে আসছেন বাগবো। বিশ্বব্যাপী তীব্র নিন্দার পরও তিনি ক্ষমতা ধরে রেখেছেন।

সীমান্তে সামরিক মহড়া চালাবে দ. কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া তার সামরিক শক্তিমত্তা প্রদর্শনের লক্ষ্যে গতকাল বুধবার উত্তর কোরিয়া সীমান্তের কাছে বড় ধরনের গোলাবর্ষণের মহড়া চালানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আজ বৃহস্পতিবার এ মহড়া শুরু হওয়ার কথা।
পদাতিক, গোলন্দাজ ও বিমান বাহিনী মহড়ায় অংশ নেবে। দক্ষিণ কোরিয়ার একজন সামরিক কমান্ডার জানান, উত্তর কোরিয়ার সীমান্তের ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে পোচেয়ন এলাকায় এ মহড়া চালানো হবে । এ মহড়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের সর্বাত্মক সামরিক শক্তি প্রদর্শন করবো।
উত্তর কোরিয়া এর আগে হুমকি দিয়েছিল, দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়া চালালে তারা এর প্রতিশোধ নেবে। কিন্তু দেশটি তার আগের অবস্থান থেকে সরে আসায় সিউল এ মহড়া চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
দক্ষিণ কোরিয়া আগেও একাধিকবার উত্তর কোরীয় সীমান্তের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে এ ধরনের মহড়া চালিয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী বুধবার উত্তর কোরীয় সীমান্তের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে চার দিনব্যাপী এক মহড়া শুরু করেছে। মহড়ায় অংশ নিয়েছে হেলিকপ্টারসহ ছয়টি যুদ্ধজাহাজ।
পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, উত্তর কেরিয়ার সর্বশেষ হামলার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণশীল সরকার তার সামরিক তৎপরতা দেখাতে সচেষ্ট হয়ে উঠেছে। সিউলে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল পিংকস্টোন বলেছেন, নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকলে এবং সঙ্গে ভালোমানুষি ভাব দেখালে উত্তর কোরিয়া কখনই থামবে না।

আন্তর্জাতিক বিধবা দিবস ২৩ জুন

নিদারুণ নিঃসঙ্গতা ও কষ্টের মধ্যে থাকা বিশ্বের কোটি কোটি বিধবার অধিকার ও সামাজিক সম্মান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২৩ জুনকে আন্তর্জাতিক বিধবা দিবস ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ গত মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আফ্রিকার দেশ গ্যানের প্রেসিডেন্ট আলী বঙ্গো অন্দিম্বার স্ত্রী সিলভিয়া বঙ্গো অন্দিম্বা এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সাধারণ পরিষদে পেশ করেন। পরিষদের ১৯২ জন প্রতিনিধি এর প্রতি সমর্থন জানান।
কয়েক বছর ধরে যুক্তরাজ্যভিত্তিক লুম্বা ফাউন্ডেশন এ বিষয়টি জাতিসংঘের অনুমোদনের জন্য প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজ লুম্বা ওই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের স্ত্রী শেরি ব্লেয়ার এর সভাপতি।
সাধারণ পরিষদে পেশ করা লুম্বা ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে ছয় কোটির বেশি বিধবা নারী স্বামী হরিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অসহায় এসব নারীকে দেখার কেউ নেই।
রাজ লুম্বা বলেন, তিনি তাঁর মায়ের বিধবা জীবনের কষ্ট নিজের চোখে দেখেছেন। তিনি বলেন, অল্প বয়সে তাঁর মা বিধবা হন। বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁর দাদি তাঁর মাকে রঙিন শাড়ি খুলে এবং সিঁথির সিঁদুর মুছে সাদা থান কাপড় পরতে বলেন। বিধবার বেশ নিয়ে তাঁর মাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিদারুণ কষ্টের জীবন কাটাতে হয়েছে।
শেরি ব্লেয়ার বলেন, জাতিসংঘের এ স্বীকৃতির মাধ্যমে অসহায় বিধবাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।

সিআইয়ের ক্ষতি মূল্যায়নে টাস্কফোর্স গঠন

উইকিলিকস ওয়েবসাইটে মার্কিন কূটনীতির গোপন তারবার্তা প্রকাশ করার ফলে বিশ্বব্যাপী কী ধরনের প্রভাব পড়েছে তা মূল্যায়নে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) একটি টাস্কফোর্স চালু করেছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে উইকিলিকস টাস্কফোর্স (ডব্লিউটিএফ)। সর্বশেষ আড়াই লাখ নথি প্রকাশের ফলে তাৎক্ষণিক যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা নির্ধারণ করবে ডব্লিউটিএফ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য গোপন করার ক্ষমতার ওপর আস্থা কমে যাওয়ায় সিআইয়ের তথ্য সরবরাহকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হবে কি না তা মূল্যায়ন করাই হবে টাস্কফোর্সের প্রধান কাজ।
সিআইএ মুখপাত্র জর্জ লিটল ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, ‘উইকিলিকস গোপন নথি প্রকাশ করে দেওয়ায় বিদেশি তথ্য সরবরাহকারীদের সঙ্গে সিআইয়ের সম্পর্ক ও কর্মকাণ্ডের ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না তা নির্ধারণে ডব্লিউটিএফকে নির্দেশ দিয়েছেন সংস্থাটির পরিচালক।
পত্রিকাটি জানায়, সিআইয়ের কাউন্টার ইনটেলিজেন্স সেন্টারের নেতৃত্বে ডব্লিউটিএফ পরিচালিত হবে। এতে অন্তত ২৫ জন সদস্য থাকবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পি জে ক্রাউলি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সারা বিশ্বের সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট। তাই উইকিলিকস গোপন নথি ফাঁস করলেও এই সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক আগের মতোই থাকবে। তিনি জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বিশ্ব নেতাদের ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
ক্রাউলি বলেন, মার্কিন গোপন নথি প্রকাশ করা নতুন কিছু নয়। বিশ্ব নেতারা হিলারি ক্লিনটনকে আশ্বস্ত করেছেন যে যা কিছুই প্রকাশ করা হোক না কেন, তাঁদের মধ্যকার সম্পর্ক আগের মতোই থাকবে। এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।

মাঠের বাইরেও উত্তাপ

ক্রিকেট মাঠে সেরা মুহূর্তগুলোর একটি এসেছে পার্থে’—টি-টোয়েন্টি বিগ ব্যাশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাল হাসিমুখে বললেন শেন ওয়াটসন। নিশ্চয়ই ভাবছেন দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর ৯৫ রানের ইনিংসটা বা অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বলছেন তিনি?
ভুল। তাঁর নিজের মুখেই শুনুন, ‘সবাই জানে, জিমি অ্যান্ডারসন মাঠে কথা একটু বেশিই বলে। আমার ধারণা, ইংলিশরা ওকে একটা বাড়তি দায়িত্বও দিয়েছে—আমাদের উত্ত্যক্ত করা। তো, ওকে কিছুটা ফিরিয়ে দিতে পেরে ভালোই লেগেছে। দিনের শেষ বলের আগের বলে অ্যান্ডারসনের সিঙ্গেল না নেওয়া, এরপর শেষ বলে কলিংউডের আউট হওয়া তাই দারুণ উপভোগ করেছি।’
ঘটনা পার্থ টেস্টের তৃতীয় দিনের। শেষ বিকেলে প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানকে আড়াল করা নাইটওয়াচম্যানের দায়িত্ব, কিন্তু শেষ বলের আগের বলে সিঙ্গেল নেওয়ার সুযোগ পেয়েও নেননি অ্যান্ডারসন। পরের বলেই স্লিপে ধরা পড়েন কলিংউড।
নিজের বা দলের সাফল্যের চেয়েও এ ঘটনা ওয়াটসনের স্মরণীয় হওয়ায় অবাক হচ্ছেন? শুরু থেকে এবারের অ্যাশেজ অনুসরণ করে আসলে অবশ্য অবাক হওয়ার কথা নয়। ওয়াটসন যেমন বলেছেন, ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের মতো অ্যান্ডারসন এবার নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্লেজিংয়েও। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম তো এই পেসারের নামই দিয়ে দিয়েছে ‘চিফ স্লেজার’। চিফ স্লেজারকে খোঁচা দেওয়ার এই সুযোগ ওয়াটসন ছাড়বেন কেন?
অ্যাশেজে ব্যাট-বলের লড়াইয়ের মতো জমে উঠেছে কথার লড়াইও। পার্থে সুইং বোলিংয়ে ইংলিশদের বিধ্বস্ত করা মিচেল জনসন বলছেন, তাঁকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে কেভিন পিটারসেনের উইকেটটা। শুনে পিটারসেন নাকি জনসনের কাছে ফোন নম্বর চেয়েছিলেন, যাতে ‘দুজন খুব ভালো বন্ধু হতে পারি।’ ফোনে দুজনের কথোপকথন শোভন কিছু হতো না, এটা তো বোঝাই যাচ্ছে। জনসন ফোন নম্বর দেননি, তবে পিটারসেনকে বলেছেন, ‘স্মার্ট পশ্চাৎদেশ।’
পিটারসেন-জনসনের ‘বীরত্ব’ তো তবু কথা-চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, প্রিয়র-সিডল নাকি একেবারে হাতাহাতির অবস্থায় চলে গিয়েছিলেন! প্রথম ইনিংসে প্রিয়রকে বোল্ড করার পর নাকি ছাপার অযোগ্য কিছু একটা বলেছিলেন সিডল। প্রিয়র জবাব দিয়েছিলেন, ‘উইকেটটা পেয়েছিস তো ভাগ্যে।’ সিডল এরপর এমন কিছু একটা বলেছিলেন যাতে মাথায় রক্ত উঠে যায় প্রিয়রের। সেদিনই খেলা শেষে কার পার্কিংয়ে মুখোমুখি হন সিডলের। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রিয়র এমনভাবে এগিয়ে গিয়েছিলেন যেটাকে সোজা বাংলায় বলে ‘হাত থাকতে মুখে কী!’
ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট-এ নিজের কলামে প্রিয়র অবশ্য এ ঘটনা অস্বীকার করেছেন। তবে সিডলের স্লেজিং নিয়ে যা বলেছেন, তাতেই পরিষ্কার ঘটনা কত দূর গড়িয়েছে, ‘এমনকি বক্সিং ম্যাচেও আপনি খুব একটা দেখবেন না যে, কেউ একজন প্রতিপক্ষকে নকআউট করে নিচে ফেলে দেওয়ার পর আবার লাথি দিয়েছে।’ সিডল কিন্তু পুরো ব্যাপারটায় খুব মজা পেয়েছেন। বোলিংয়ের মতো স্লেজিংটাও যে তিনি মনপ্রাণ দিয়ে করেন! ভিক্টোরিয়ান ফাস্ট বোলার স্লেজিংকে মনে করেন জ্বলে ওঠার রসদ, ‘স্লেজিং খেলারই অংশ। খেলায় আমরা সবটুকু ঢেলে দিই, কিছুটা আবেগ তাই বেরিয়ে আসবেই। ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে মজা করতে আমি ভালোবাসি, স্লেজিং করলে আমার বোলিং আরও ভালো হয়। রিকি (পন্টিং) এটা জানে বলেই আমাকে তাতিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।’ স্লেজিংকে ‘মজা’ হিসেবে দেখেন বলেই চিফ স্লেজার অ্যান্ডারসন নন, সিডলের প্রিয় স্লেজার সোয়ান, ‘ও খুব মজার!’
সিডলের দাবি, হেরেছেন বলেই ছিঁচকাঁদুনের মতো আচরণ করছেন প্রিয়র। পিটারসেন কিন্তু এই স্লেজিংকে কোনো স্লেজিংই মনে করছেন না। ওয়ার্ন-ম্যাকগ্রাদের স্লেজিংয়ের কাছে এসব নাকি নস্যি! ২০০৮ সালের সিডনি টেস্টের সেই ‘হরভজন-সাইমন্ডস’ বিতর্কের পর ক্রিকেটারদের মাঠে অনেক সংযত হতে বলেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী পল মার্শের দাবি, অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্সের অধোগতিতে একটা বড় ভূমিকা রেখেছে এটা, ‘কোনো সন্দেহই নেই স্লেজিং কমিয়ে দেওয়া পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে। অস্ট্রেলিয়া দলের ডিএনএতেই আছে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বোর্ডের ওই সিদ্ধান্তের পর ক্রিকেটাররা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।’ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মুখপাত্র পিটার ইয়াং কিন্তু পার্থের স্লেজিংটাকে বলছেন ‘গ্রহণযোগ্য।’ এটা তাই নিশ্চিত, সিডল-জনসনের এই রূপ সামনেও দেখা যাবে। পার্থের পর পিটারসেন-অ্যান্ডারসনরাও নিশ্চয়ই ছেড়ে কথা বলবেন না। অ্যাশেজ তাহলে সত্যিই জমে উঠল!

বার্সার হতাশার রাত

সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে সর্বশেষ ১০ ম্যাচের ১০টিতেই জয়, সর্বশেষ ৭ ম্যাচে ৩১ গোল—আকাশে উড়ছিল বার্সেলোনা। পাসিং ফুটবলের জাদুতে প্রতিপক্ষকে বিস্ময়ের ঘোরে ফেলা বার্সেলোনা পরশু রাতে নিজেরাই বিস্মিত। বার্সেলোনাকে এই বিস্ময় উপহার দিয়েছে অ্যাথলেটিকো বিলবাও। স্প্যানিশ কিংস কাপের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে বার্সেলোনাকে গোলশূন্য রুখে দিয়েছে তারা। সেটাও আবার বার্সার মাঠ ন্যু ক্যাম্পে এসে। ৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় লেগ বিলবাওয়ের মাঠে। বার্সেলোনার কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়াটা কঠিন হয়ে গেল বৈকি!
প্রতিপক্ষ দুর্বল বিলবাও বলেই কি না শুরুর একাদশে না নামিয়ে মেসি, ডেভিড ভিয়া, সার্জিও বুসকেটসকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন কোচ গার্দিওলা। শেষে মেসি, ভিয়াকে নামিয়েও কাজ হয়নি। ভিয়া অবশ্য বল একবার ফেলেছিলেন বিলবাওয়ের জালে কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হয় গোল। মঙ্গলবার কিংস কাপের অন্য দুটি ম্যাচও ড্র হয়েছে। ভ্যালেন্সিয়া-ভিয়ারিয়াল ম্যাচ ছিল গোলশূন্য আর দেপোর্তিভো লা করুনিয়াকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে দ্বিতীয় বিভাগের দল কর্দোভা।

আজ ফাইনাল

মুখে হাওয়াই মিঠাই। গায়ে লাইফ জ্যাকেট। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে নেপালি মহিলা ফুটবলারদের দেখে অন্য আট-দশজন পর্যটকের মতো মনে হচ্ছিল। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশদের দেখে বোঝা গেল, এটা নেপাল দল।
সাফ মহিলা ফুটবলের আজকের ফাইনালের জন্য যখন শহরের বিডিআর মাঠে সিরিয়াস অনুশীলনে ব্যস্ত ভারত, নেপাল তখন একেবারে নির্ভার। এটি সন্দেহাতীত সত্য, টুর্নামেন্টের দুই সেরা দল উঠেছে ফাইনালে। কাল অনুশীলনে ভারতের কোচ মোহাম্মদ শহীদ জব্বারও সেটাই বললেন, ‘গ্রুপ পর্বে আমরা যে দলগুলোর বিপক্ষে খেলেছি সেখানে ততটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। নেপাল টুর্নামেন্টে সব কটি ম্যাচই ভালো খেলেছে। ফাইনালে ওদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।’
নেপালের কোচ ধ্রুব বাহাদুর শেষ লড়াইয়ের আগে দলকে রাখতে চাইছেন নির্ভার, ‘এই ম্যাচে আমাদের হারানোর কিছু নেই। আমরা জানি, ভারত শক্তিশালী দল। ওদের বিপক্ষে খেলার আগে মেয়েদের বলেছি পুরোপুরি নির্ভার থাকতে।’
নির্ভার থাকতেই কি না কাল নেপালি মেয়েরা ফুরফুরে মেজাজে পানিতে নামলেন, ছবি তুললেন, স্পিড বোটে চড়ে ঘুরলেন। চড়লেন বিচ-বাইকে। অনুশীলনের বদলে কেনাকাটা করতে গেলেন বার্মিজ মার্কেটে।
বিডিআর মাঠে ভারত দল সকাল ৯টায় এসেই নেমে গেল অনুশীলনে। একটু বেশি সিরিয়াস মনে হলো টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা সাসমিতাকে। চার ম্যাচে ১৩ গোল করা ওডিশার তরুণী জানালেন, ‘আমাদের দলটা খুবই ব্যালান্সড। আশা করি, আমরা চ্যাম্পিয়ন হব।’ ঢাকায় গত এসএ গেমসের ফাইনালে এই নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সোনা জিতেছিল ভারত। দুঃস্মৃতিটা ভুলতে পারেননি নেপালের স্ট্রাইকার অনু লামা। টুর্নামেন্টে ১১ গোলের মালিকের চোখেমুখে ছড়িয়ে ছিল সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা।
দুই দল এ নিয়ে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হচ্ছে। নেপালের সামনে সমতায় ফেরার সুযোগ, ভারতের ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার। আজকের ম্যাচে আলাদাভাবে লড়াই জমতে পারে সাসমিতার সঙ্গে অনু লামারও। স্বাগতিক বাংলাদেশ নেই, কিন্তু দর্শকেরা দুই সেরা দলের লড়াই থেকে নিশ্চয়ই খুঁজবে উত্তেজনায় ঠাসা প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

উইকিলিকসে বাংলাদেশ- উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ by কালের কণ্ঠ

ফুলবাড়ী কয়লা খনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলার অনুমতি দিতে বাংলাদেশ সরকারকে ব্যাপক চাপের মধ্যে রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা। বাংলাদেশ সরকার কোনো স্পষ্ট আশ্বাস না দিলেও এ বিষয়ে সংসদীয় সমর্থন তৈরি করতে রাজি হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। এ-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি গত মাসের শেষ ভাগে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পক্ষে সুপারিশ করে।