Wednesday, February 23, 2011

অ্যালকোহলের কারণে যুক্তরাজ্যে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুঝুঁকিতে

যুক্তরাজ্যের কয়েকজন চিকিৎ সাবিজ্ঞানী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সেখানে হাজার হাজার মানুষ অ্যালকোহল সেবনজনিত মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের বদভ্যাস থেকে জনগণকে ফেরানো না গেলে আগামী দুই দশকে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে এ কারণে মৃতের সংখ্যা আড়াই লাখে পৌঁছে যাবে। তাঁদের অভিযোগ, যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন সরকার জনস্বাস্থ্য নয়, বরং মদ ব্যবসায়ীদের মুনাফা নিশ্চিত করার ব্যাপারে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছে। দি ল্যানসেট নামের স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকীতে গত সোমবার তাদের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের সাবেক সভাপতি ইয়ান গিলমোর, সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিক শেরন ও নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস হ্যাওকি এ গবেষণা চালিয়েছেন।
গবেষকেরা বলেছেন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে অ্যালকোহল সেবনের মাত্রা বেড়ে গেছে। ১৯৮০-এর দশকে প্রতি এক লাখ লোকের মধ্যে ৪ দশমিক ৯ জন অ্যালকোহল সেবনজনিত রোগে ভুগে মারা গেছে। এখন সেই হার ১১ দশমিক ৪ জনে এসে পৌঁছেছে। এর জন্য তাঁরা অ্যালকোহলের সহজলভ্যতা ও নজরদারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬০-এর দশকে ফ্রান্সে অতিরিক্ত মদ্যপান জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের কারণে বহু লোক ক্যানসারসহ যকৃৎ ও পাকস্থলীর প্রদাহজনিত রোগে মারা যায়। এ ছাড়া মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণও বেড়ে যায়। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য সরকার সে সময় মানহীন সস্তা মদের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি সাধারণ মদের ওপর বাড়তি কর আরোপ করে। দাম বেড়ে যাওয়ায় অ্যালকোহল সেবনের মাত্রা কমে যায়।
গবেষকেরা বলেছেন, যুক্তরাজ্য এ সংকট থেকে বাঁচতে ফ্রান্সের নীতি অনুসরণ করতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা অ্যালকোহল সেবনকে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখতে ‘কড়া পদক্ষেপ’ নিচ্ছে। অন্যদিকে, অ্যালকোহল উৎ পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, তারাও অ্যালকোহলের অপব্যবহার ঠেকাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।
গবেষক দলের প্রধান ইয়ান গিলমোর বলেছেন, সাবান বা পাউডারের মতো অ্যালকোহল কোনো নিত্যপণ্য নয়। এটি একটি মাদক। ফলে এটির অপব্যবহার ঠেকাতে অবশ্যই সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
তবে, মদ ব্যবসায়ীদের সংগঠন ওয়াইন অ্যান্ড স্পিরিট ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, পুরো ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অ্যালকোহল ব্যবসায়ীরাই যে সরকারকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব দেন, সে বিষয়টি গবেষকেরা এড়িয়ে গেছেন।

সৌদি আরবের কাছে বেন আলীকে ফেরত চেয়েছে তিউনিসিয়া

তিউনিসিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলীকে দেশে ফেরত পাঠাতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।
বেন আলী ২৩ বছর তিউনিসিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন। গত মাসে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তিনি দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। ৭৪ বছর বয়সী বেন আলী বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। তিনি সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎ সাধীন।
তিউনিসিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বেন আলী ‘সাংঘাতিক অপরাধে’ জড়িত। তিনি তিউনিসিয়ার জনগণকে হত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। বেন আলীকে ফেরত চাইলেও তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
বেন আলীর শাসনামলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এলেও তাঁর বিরুদ্ধে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

মুসেভেনিকে জয়ী ঘোষণা বিরোধীদের প্রত্যাখ্যান

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনিকে গত রোববার জয়ী ঘোষণা করেছে সে দেশের নির্বাচন কমিশন। এতে মুসেভেনির ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। ২৫ বছর ধরে দেশ শাসন করছেন তিনি। বিরোধী দলের নেতারা নির্বাচনের এই ফলাফলকে নাকচ করেছেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুসেভেনি ৬৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার-পার্টি কো-অপারেশনের নেতা কিজ্জা বেসিগাই পেয়েছেন ২৬ শতাংশ ভোট। বেসিগাই নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। এর আগে বেসিগাই হুমকি দেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ না হলে রাজপথে বিক্ষোভের আহ্বান জানাবেন। তবে মুসেভেনি রাজপথে যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ দমনের অঙ্গীকার করেছেন।
ক্ষমতাসীন দল ভোটের জন্য ভোটারদের ঘুষ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে এই ঘুষ দেওয়া হয় বলে বিরোধী দলের নেতাদের অভিযোগ।
অপর বিরোধী দল উগান্ডা পিপলস কংগ্রেস পার্টির নেতা ওলারা ওতুনু সাংবাদিকদের বলেন, তিনিও নির্বাচনের ফলাফল পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। শুক্রবারের নির্বাচনে ভোট না দেওয়া এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল তাঁরা যা খুশি ঘোষণা করতে পারেন, এ ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তের কোনো হেরফের হবে না।

ভোটে হারলেই ক্ষমতা ছাড়বেন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ বলেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। ভোটে হেরে গেলে তিনি পদত্যাগ করবেন। গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
এদিকে প্রেসিডেন্ট সালেহর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। গতকালও পুলিশের গুলিতে সরকারবিরোধী এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট সালেহ বলেন, ‘তারা (বিক্ষোভকারীরা) আমাকে সরাতে চাইলে নির্বাচনের মাধ্যমে সরাতে হবে। নির্বাচনে হারলেই আমি পদত্যাগ করব।’ তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছে, যার অনেকই অবৈধ। সালেহ আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন বিক্ষোভ ‘নতুন কিছু’ নয়। বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের উসকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বিরোধীদলীয় এমপি, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ গতকাল ব্যাপক বিক্ষোভ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের চারদিকে ঘিরে রাখে। ‘জনতা পরিবর্তন চায়’, ‘জনগণ বর্তমান শাসনের অবসান চায়’, ‘চলে যাও, সালেহ’ প্রভৃতি স্ল্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা।
পার্লামেন্টের বিরোধী জোট দ্য কমন ফোরাম বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানায়, তারা সব দল, বিশেষত তরুণদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। তাদের এই বিক্ষোভ প্রেসিডেন্ট সালেহর নিপীড়ন, জুলুম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে। এর আগে জাতীয় মতৈক্যের সরকার গঠনে প্রেসিডেন্ট সালেহর আহ্বান নাকচ করে দেয় বিরোধী জোট।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে গতকাল পুলিশের গুলিতে একজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। এ নিয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দেশটিতে নিহত লোকের সংখ্যা ১২-তে দাঁড়াল। বিক্ষোভে এ পর্যন্ত সাত সেনাসহ কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে।
এডেন শহরে বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালালে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে আলী আল খালাকি নামের একজন বিক্ষোভকারী নিহত হন। অন্য চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল দেশটির ধর্মীয় নেতারা এক বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তিপ্রয়োগকে ‘অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে জনগণের প্রতি নির্যাতন ও গ্রেপ্তার বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। শেখ আবদুল মাজিদ জিনদানির নেতৃত্বে ধর্মীয় নেতারা এই বিবৃতি দেন। উল্লেখ্য, আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র শেখ জিনদানির নাম কালো তালিকভুক্ত করেছে।
সর্বশেষ ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে সাত বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন আলী আবদুল্লাহ সালেহ। এর আগে তিনি ঘোষণা করেন, মেয়াদ পূরণ হওয়ার আগে তিনি পদত্যাগ করতে রাজি নন।