Wednesday, April 23, 2014

প্রশাসনের গায়ে রাজনীতির জামা by আলী ইমাম মজুমদার

রাজনৈতিক দল গঠন ও পরিচালনা রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদেরই কাজ। দলগুলোর কর্মসূচি থাকে। তারা সরকার গঠন করলে এসব কর্মসূচি বিধিসম্মতভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত প্রশাসনের। সরকারে সাধারণ তত্ত্বাবধানে প্রশাসনব্যবস্থা পরিচালনাও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরই কাজ। কিন্তু হাল আমলে দেখা গেছে, ক্ষেত্রবিশেষে একজনের কাজ করছেন আরেকজন। কখনো সমঝোতায়। আর কখনো বা তাঁদের সীমা অতিক্রম করে। যেমন, দিন কয়েক আগে সংবাদপত্রের প্রধান শিরোনাম হলো, ‘প্রশাসননির্ভর আওয়ামী লীগ’। কিছু তথ্য ও মতামতসংবলিত সে সংবাদটি মূলত দেশের শাসক দলটির প্রশাসননির্ভরতা নিয়ে। উল্লেখ রয়েছে, মাঠপর্যায়ে দলটির ভিত দুর্বল। তাই দলীয় কাজে আবশ্যক হচ্ছে প্রশাসনের সহায়তা। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ ধরনের ‘সহায়তা’ গ্রহণের পরিসর আরও ব্যাপক হয়।

মমতার গোয়েবলসকে অনুসরণ? by রজত রায়

রাজনীতিকদের মধ্যে অনেকেই এটা বিশ্বাস করতে ভালোবাসেন যে একটা মিথ্যাকে বারবার সোচ্চারে বললেই সেটা সত্যি হয়ে যায়। প্রচারের এই গোয়েবলসীয় কায়দা রাজনীতিকদের প্রায়ই অনুসরণ করতে দেখা যায়, যেমনটি এবার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করছেন।

কারও ভাবনাতেই নেই! by নাইর ইকবাল

বনানীতে চলন্ত সিঁড়ির ওভারপাস নিয়ে সাধারণ এক মানুষের মন্তব্যে সেদিন সত্যিই চমকে উঠেছিলাম। ‘অটোমেটিক সিঁড়ির ওভারপাস চালু করে কী লাভ? ঢাকায় তো চড়ার মতো বাসই নেই।’ মন্তব্যটি শুনে আমার চমকে ওঠার কারণ, সাধারণ মানুষও আজ কত সহজেই এই শহরটির মূল সমস্যাটি ধরতে পারছে। অথচ আমাদের নীতিনির্ধারকেরা যেন এ ব্যাপারে আচ্ছন্ন হয়ে আছেন এক নিরন্তর ঘুমে। কোনো আওয়াজ, কোনো চিৎকারই তাঁদের ঘুম ভাঙাতে পারছে না।

কোনঠে আছেন দেশদরদি, হামাক বাঁচান by তুহিন ওয়াদুদ

তিস্তাকে বলা হয় উত্তরের জীবনরেখা। জীবনরেখা বলার কারণ হচ্ছে, তিস্তার দান করা জলদুগ্ধে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে উত্তরের মানুষ। সে জীবনরেখা এখন মৃতপ্রায়। জলদুগ্ধশূন্য তিস্তা। ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করার কারণে তিস্তা সেচ প্রকল্পের উজানের অংশে পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের নিচ থেকে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত যে তিস্তা নদী, সেখানে চিকন নালাটিও নেই, একেবারেই মৃত।

প্রশাসনের গায়ে রাজনীতির জামা

রাজনৈতিক দল গঠন ও পরিচালনা রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদেরই কাজ। দলগুলোর কর্মসূচি থাকে। তারা সরকার গঠন করলে এসব কর্মসূচি বিধিসম্মতভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত প্রশাসনের। সরকারে সাধারণ তত্ত্বাবধানে প্রশাসনব্যবস্থা পরিচালনাও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরই কাজ। কিন্তু হাল আমলে দেখা গেছে, ক্ষেত্রবিশেষে একজনের কাজ করছেন আরেকজন। কখনো সমঝোতায়। আর কখনো বা তাঁদের সীমা অতিক্রম করে। যেমন, দিন কয়েক আগে সংবাদপত্রের প্রধান শিরোনাম হলো, ‘প্রশাসননির্ভর আওয়ামী লীগ’। কিছু তথ্য ও মতামতসংবলিত সে সংবাদটি  মূলত দেশের শাসক দলটির প্রশাসননির্ভরতা নিয়ে। উল্লেখ রয়েছে, মাঠপর্যায়ে দলটির ভিত দুর্বল। তাই দলীয় কাজে আবশ্যক হচ্ছে প্রশাসনের সহায়তা। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ ধরনের ‘সহায়তা’ গ্রহণের পরিসর আরও ব্যাপক হয়। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন, বিদ্রোহী প্রার্থীকে বসিয়ে দেওয়া, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছে। গত ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালেও প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় দলটি অসহায় ছিল। তাদের নিরাপত্তার বিধান করতে হয়েছে প্রশাসনকে। জাতীয় পার্টির (জাপা) ভিন্নমুখী ভূমিকার মুখে এ ধরনের সংস্থাকেই করা হয়েছিল ব্যবহার। সংবাদটিতে উল্লেখ রয়েছে যে ক্ষমতায় যাওয়ার পর দলের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ সাংগঠনিক কাজ উপেক্ষা করে যেকোনো উপায়ে টাকাপয়সা উপার্জনে ব্যস্ত রয়েছে। ফলে দলের কাঠামো হয়ে পড়েছে দুর্বল। অবশ্য একই সংবাদে দলের মতামত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে যে এ ধরনের মূল্যায়ন যথার্থ নয়। তদুপরি তারা প্রশাসননির্ভরও নয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
গেল সংসদ নির্বাচন আর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আমরা দেখলাম। এগুলো দেখার পর উপলব্ধি জোরদার হয় যে বিশ্লেষণটি যৌক্তিক। ৬৫ বছরে রাজনৈতিক ঐতিহ্য নিয়ে চলমান রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলটির প্রশাসননির্ভরতা দুঃখজনক। দলটির প্রতিষ্ঠা ক্ষমতার বাইরে থেকে। শুরু থেকে জেল-জুলুমের ভয় উপেক্ষা করে একদল ত্যাগী নেতা-কর্মী ছিলেন এর পেছনে। দল গঠিত হওয়ার পর তাঁরা অতীতেও সরকার চালিয়েছেন। তবে দল চালানোর জন্য তেমন আবশ্যক হয়নি প্রশাসনের। অথচ ২০০৯ সালে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে দলটি ক্ষমতায় এসে হঠাৎ প্রশাসননির্ভর হয়ে পড়ে। লক্ষণীয় যে স্থানীয় পর্যায়ে নেতা-কর্মীরা সাংগঠনিক কাজে না থাকলেও বসে নেই। বরং প্রশাসনের কিছু কাজ করতে অতি তৎপর হয়ে পড়েছেন। সরকারি হাইস্কুলে ভর্তি কে হবে, থানায় মামলা নেওয়া হবে কি না আর আসামিই বা কারা হবে, টেন্ডারে কাজ পাবে কে কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ কাদের দেওয়া হবে—এসব সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা মূল ভূমিকায়। একটি রাজনৈতিক দল প্রশাসননির্ভর হতে পারে শুধু ক্ষমতায় থাকলে। অবশ্যই তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের দলীয় কাজে অনৈতিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে। এটা করতে গিয়ে দলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়ায় কমে যায় নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততা। রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার মনোবল হারিয়ে ফেলে। সৃষ্টি হয় সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা। ফলে যাঁরা ক্ষমতার ভাগ পান কিংবা যাঁদের থাকে টাকা কামানোর সুযোগ, তাঁরা ছাড়া অন্য নেতা-কর্মীরা ক্রমান্বয়ে দলের প্রতি নিরুৎসাহী হয়ে পড়েন। ভালো ভালো নেতা-কর্মী বনে যান নেহাত সমর্থক। ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলের প্রশাসননির্ভরতা তাদের দলের মধ্যে এ ধরনের অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি রাষ্ট্রযন্ত্রে বহুমাত্রিক সমস্যা ডেকে আনে।
আমরা ইতিমধ্যে এ ধরনের সমস্যাদির মুখোমুখি হতে শুরু করেছি। যারা সুবোধ বালকের ন্যায় একটি রাজনৈতিক দলের এ ধরনের চাহিদা পূরণ করে, তাদের একটি অংশ যুদ্ধ শেষের প্রাপ্য কড়ায়-গন্ডায় আদায় করে। আর প্রায় ক্ষেত্রে চক্রবৃদ্ধি সুদসমেত। এ ধরনের কর্মকর্তারা পদোন্নতি, পদায়নে নিতে থাকেন অন্যায্য সুযোগ। সে সুযোগ নিতে গিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে বঞ্চিত করেন তাঁদের জ্যেষ্ঠ, দক্ষ ও মেধাবী সহকর্মীদের। যোগ্যতার ঘাটতির মাশুল দেয় জাতি। আর দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে পরিস্থিতি ক্রমাবনতিশীল। উল্লেখ করতে হয়, এ প্রবণতা আর কার্যক্রম শুধু বর্তমান সরকারের সময়েই নয়, গত দুই যুগের অধিক চলছে। মাঝে ছিল সামান্য বিরতি। মাত্রার হেরফের থাকতে পারে। কিন্তু গতি-প্রকৃতি এক। তবে সাম্প্রতিক কালে রাজনীতির প্রশাসননির্ভরতা সমস্যাটিকে প্রকটতর করেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে দুর্নীতির একটি প্রবণতা থাকে। আমাদের মতো দেশে তা থাকে একটি বেশি মাত্রাতেই। তবে শাসনব্যবস্থা কার্যকর থাকলে দুর্নীতিবাজদের কেউ কেউ শনাক্ত হন। হয় বিচার। তাই তাঁদের থাকতে হয় সাবধানে। রাখঢাক থাকে কিছু ক্ষেত্রে। কিন্তু প্রশাসন আর রাজনীতি একাকার হয়ে যাওয়ার পর এসব রাখঢাক ভাবটি মনে হয় চলেই গেছে। ফৌজদারি অপরাধে দায়ের করা কয়েক হাজার মামলা থেকে দলীয় বিবেচনায় নেতা-কর্মীদের মুক্তির ন্যায় একশ্রেণীর কর্মকর্তাও অপরাধ করে দায়মুক্তি পেয়ে চলছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে খবর হয় প্রায়ই। ব্যবস্থা নেওয়ার ভাবও দেখানো হয়। তবে আইন চলে অতি ধীরগতিতে। আবার একসময়ে সবার অজান্তে তা থেমেও যায়। আর দিনের পর দিন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটার দেশটিতে মানুষও একটি ভুলে নতুন চমক সৃষ্টিকারী খবরের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এ ধরনের দু-তিনটি ঘটনার সম্পর্কে সামান্য আলোকপাতের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একটি খবরের শিরোনাম, ‘ক্রেস্টের স্বর্ণের ১২ আনাই মিছে!’।
কারও নজর এড়ানোর কথা নয় খবরটির। মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব বিদেশি ব্যক্তি বা সংগঠন আমাদের পক্ষে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন, তাঁদের সম্মাননা পদকে সোনার ঘাটতি সম্পর্কে উপরিউক্ত শিরোনাম। খবরে আরও উল্লেখ রয়েছে, ৬০টি পদকে স্বর্ণের স্থান দখল করেছে পিতল, তামা ও দস্তা। তৃতীয় পর্বের ৬০টি পদক বিএসটিআই নমুনা যাচাই করে ২০১২ সালে প্রতিবেদন দিয়েছিল। অন্য পদকগুলোর মান জানা যায়নি। তবে ভিন্নতর কিছু হওয়ার কথা নয়। আর এ মান জেনেও বিষয়টিকে গোপন রেখে পদক দিয়ে দেওয়া হয়। দেড় বছরেও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। খবরটি প্রকাশের পর একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। প্রশাসননির্ভর দলটির সরকারকে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এভাবে ঝরঝরে করে ফেলছেন, বললে কি বেশি বলা হবে? প্রশাসননির্ভর না হলে তাঁরা হয়তো বা এতটা দুঃসাহসী হতেন না। আরেকটি খবরের শিরোনাম, ‘সোনা চোরাচালানে পুলিশ জড়িত’। এ তথ্য জানা গেছে সোনা চোরাচালানকারী দলের একজন সদস্য গ্রেপ্তারের পর তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে। এ ধরনের জবানবন্দি কারও অপরাধ চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে না, এটা সত্য। তবে পুলিশের কিছু সদস্য চোরাচালান কাজে আগে থেকেই জড়িত থাকার বিভিন্ন খবর আসছিল। আর ইদানীং তা আসছে অনেক বড় হয়ে। চোরাচালানিদের কাছ থেকে আটক করা সোনার বড় একটি অংশ আত্মসাৎ-প্রচেষ্টায় পুলিশের তিন সদস্য আপাতত কারাগারে। তদন্ত আর বিচারে কী হয়, এটা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।
এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতাদের দলীয় কাজে অতিরিক্ত পুলিশনির্ভরতা তাদের ক্রমান্বয়ে অপরাধমূলক কাজ করতে দুঃসাহসী করে তুলছে। তাদের ভূমিকায় সরকারের ভাবমূর্তি একইভাবে মলিন হচ্ছে। ইউরোপের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দেশে আমাদের দূতাবাসে নিয়োগ, গাড়ি মেরামতসহ বিভিন্ন কাজে মোটা অঙ্কের ব্যয়ে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এসেছে সরকারি অডিটে। সে কর্মকর্তা বর্তমানে অন্যত্র বদলির আজ্ঞাধীন। এর আগে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকতেও একই ধরনের আর্থিক অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে অনেকটা দলীয় আনুগত্যের জোরেই গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্রুত আরোহণ আর অবস্থান করতে পেরেছেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যর্থতার জন্য। সেটা উতরাতে পারলে এসব অনিয়ম নিয়ে কেউ হয়তো বা উচ্চারণও করত না। এ ধরনের ঘটনাগুলো কিন্তু হিমশৈলীর চূড়াবিশেষ। বিশালকায় হিমশৈলী রয়েছে পানির একটু নিচেই। আর এক শতাব্দী আগে এ ধরনের একটি হিমশৈলীর আঘাতেই টাইটানিকের মতো যাত্রীবাহী বড় জাহাজ ডুবে গিয়ে মানব ইতিহাসে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল। ইতিহাস হলেও আজ এটা থেকে শিক্ষা নেয় অনেকেই। আমরা কিন্তু পারছি না তা করতে। প্রশাসন কর্মকর্তাদের আশকারা দিয়ে দলীয় কাজ করালে তাঁরাও বিনিময়ে আখের গোছাতে নেমে পড়বেন ভয়ভীতি ছাড়া। পরিণামে জনগণের কাছে দায়ী হবে শুধু সরকার। আরও বিপর্যস্ত হবে প্রশাসনব্যবস্থা।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com

কারও ভাবনাতেই নেই!

বনানীতে চলন্ত সিঁড়ির ওভারপাস নিয়ে সাধারণ এক মানুষের মন্তব্যে সেদিন সত্যিই চমকে উঠেছিলাম। ‘অটোমেটিক সিঁড়ির ওভারপাস চালু করে কী লাভ? ঢাকায় তো চড়ার মতো বাসই নেই।’ মন্তব্যটি শুনে আমার চমকে ওঠার কারণ, সাধারণ মানুষও আজ কত সহজেই এই শহরটির মূল সমস্যাটি ধরতে পারছে। অথচ আমাদের নীতিনির্ধারকেরা যেন এ ব্যাপারে আচ্ছন্ন হয়ে আছেন এক নিরন্তর ঘুমে। কোনো আওয়াজ, কোনো চিৎকারই তাঁদের ঘুম ভাঙাতে পারছে না। ঢাকা বোধ হয় পৃথিবীর একমাত্র মেট্রোপলিটন শহর, যেখানে ভদ্রোচিত কোনো গণপরিবহন নেই। আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাজধানীর সৌন্দর্যবর্ধনের নামে আলোকসজ্জা করি, শত শত কোটি টাকা খরচ করি অথচ ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে আমাদের নিদারুণ অনীহা। আমাদের এখানে বাস চলে কিন্তু তাতে উঠতে পারেন না শহরের বেশির ভাগ মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে সেগুলোতে ওঠার কথা তো ভাবতে পারেন না অনেকেই। নিরুপায় অনেকেই ওঠেন, কিন্তু তাঁদের দুর্ভোগ চোখে দেখা যায় না। আমাদের এখানে অটোরিকশা চলে, কিন্তু সেটাও কোনো নিয়মকানুনের মধ্যে থেকে নয়। ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের ওপর চলে জুলুম। বছরান্তে যখন এই শহরটি পৃথিবীর নিকৃষ্টতম বসবাস-উপযোগী শহরের খেতাব লাভ করে, তখন আসলে তা আমাদের খুব একটা অবাক করে না। একটা জনবহুল শহরে শহরবাসীর মৌলিক স্বাচ্ছন্দ্যের যে ব্যাপারটি, সেটাই যখন এই ঢাকায় অনুপস্থিত, তখন এমন তালিকায় ঢাকার নাম থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক।
মহাজোট সরকারের প্রথম মেয়াদে রাজধানীর যানজট নিরসনে বেশ কিছু ভালো কাজ হয়েছে—এ কথা তাদের ধন্যবাদ দিয়েই স্বীকার করতে হয়। সেই সঙ্গে এটাও বলতে হয়, তাদের প্রথম মেয়াদে গণপরিবহনের সমস্যাটি অবহেলিতই থেকেছে। বরং তাদের এই মেয়াদে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাতে গণপরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি জিম্মি হয়ে গেছে। এটা সরকারের ব্যর্থতা নাকি আমাদের দুর্ভাগ্য, সেই আলোচনায় না গিয়েও বলা যায়, সরকার এই সমস্যাটির ব্যাপারে একেবারে মনোযোগী ছিল না। তবে মহাজোট সরকারের প্রথম মেয়াদে বিআরটিসির জন্য যে পরিমাণ নতুন বাস আমদানি করা হয়েছে, সেটা অতীতে আর কখনো হয়েছে কি না, সেটা নিয়ে ভাববার বিস্তর অবকাশ আছে। কিন্তু ওই যে গোষ্ঠীস্বার্থ! সেই গোষ্ঠীস্বার্থের কারণেই বিআরটিসির এই বাসগুলো রাজধানীর গণপরিবহন সমস্যা সমাধানে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। চীন থেকে নিম্নমানের বাস আমদানি করা (যার বেশির ভাগই এই মুহূর্তে লক্কড়ঝক্কড়ে পরিণত), সঠিক রুট বিন্যাস না হওয়া, বেসরকারি পরিবহন মালিকদের অনৈতিক চাপ—সরকারের সদিচ্ছাকে সঠিক পথ দেয়নি। এই মুহূর্তে যদি একটা হিসাব নেওয়া যায় যে গত মেয়াদে আমদানি হওয়া বাসগুলোর কয়টি এখন ঢাকার রাস্তায় চলছে, তাহলে নিশ্চিত বিআরটিসির বাসের ব্যাপারে একটা হতাশার চিত্রই নগরবাসীর চোখের সামনে দেওয়া যাবে। চারদলীয় জোট সরকারের আমলের আধুনিক ভলভো বাসগুলোর আলাপ এখানে না-ই বা করলাম! গণপরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের অবহেলার সবচেয়ে বড় নমুনা হচ্ছে মেট্রোরেল নিয়ে অযথা সময়ক্ষেপণ। রাজধানী ঢাকার যানজট সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে আসা, ঢাকার গণপরিবহন সমস্যার সমাধান, যা-ই বলি না কেন, এই এক মেট্রোরেলের মাধ্যমেই করা সম্ভব ছিল। জাপানি সাহায্য সংস্থা জাইকার সিংহভাগ আর্থিক অনুদানে এখনো পরিকল্পনার মধ্যে থাকা মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ শুরু করে দেওয়া মহাজোট সরকারের প্রথম মেয়াদকালেই সম্ভব ছিল।
কিন্তু সেটা হয়নি। সরকার ঢাকায় যে ফ্লাইওভারগুলো তৈরি করেছে, সেগুলোর একটিও তৈরি না করে যদি মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ শুরু করতে পারত, সেটাই হতো ঢাকাবাসীর সবচেয়ে বড় স্বস্তির কারণ। মেট্রোরেলের পাশাপাশি ঢাকার গণপরিবহন সমস্যা সমাধানের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি। ঢাকার জন্য যে বিশেষ কৌশলগত পরিবহন ব্যবস্থার (স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান বা এসটিপি) পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, তাতে কয়েকটি মেট্রোরেল লাইনের (এমআরটি) পাশাপাশি আছে দুটি বিআরটি লাইন। যার একটি জয়দেবপুর থেকে শাহজালাল বিমানবন্দর ও অপরটি বিমানবন্দর থেকে সদরঘাট পর্যন্ত হওয়ার কথা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এই প্রকল্প দুটিও বহু বছর হতে যাচ্ছে হিমাগারেই। মাঝেমধ্যে মন্ত্রী মহোদয়রা প্রকল্পসংক্রান্ত উপস্থাপনায় মিডিয়ার সামনে আওয়াজ-টাওয়াজ দিয়ে হুলুস্থুল করলেও কাজের কাজটা এখনো করতে পারেননি। এই প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসত, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু এগুলোর নির্মাণকাজ সরকার কেন শুরু করতে পারছে না, তার কোনো সদুত্তর সত্যিই কারও কাছে নেই। মহাজোট সরকার নতুন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত তিন মাসের বেশি হতে চলল। এটা অনস্বীকার্য যে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পগুলোকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসার পুরো কৃতিত্ব সরকারের। কিন্তু নির্মাণকাজটা যেন নতুন মেয়াদে সরকার দ্রুত শুরু করতে পারে, এটাই এখন ঢাকাবাসীর প্রাণের দাবি। মেট্রোরেল ও বিআরটির পাশাপাশি ঢাকার মধ্য দিয়ে বিদ্যমান রেললাইনটিকে (যা উত্তরে জয়দেবপুর ও দক্ষিণে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত) কেন্দ্র করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্টেশন স্থাপন করে কমিউটার রেল ব্যবস্থার প্রবর্তন করা যায়, তাহলে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব।
নীতিনির্ধারকেরা, ব্যাপারগুলো একটু যত্ন নিয়ে ভেবে দেখবেন কি!
নাইর ইকবাল: সাংবাদিক।
nayirdhaka@gmail.com

‘কোনঠে আছেন দেশদরদি, হামাক বাঁচান’

তিস্তাকে বলা হয় উত্তরের জীবনরেখা। জীবনরেখা বলার কারণ হচ্ছে, তিস্তার দান করা জলদুগ্ধে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে উত্তরের মানুষ। সে জীবনরেখা এখন মৃতপ্রায়। জলদুগ্ধশূন্য তিস্তা। ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করার কারণে তিস্তা সেচ প্রকল্পের উজানের অংশে পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের নিচ থেকে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত যে তিস্তা নদী, সেখানে চিকন নালাটিও নেই, একেবারেই মৃত। তিস্তার এই মৃত্যু উত্তরের জনপদের জন্য নিশ্চিত অভিশাপ বয়ে নিয়ে আসবে। সন্দেহ নেই, এই অভিশাপে পুড়তে হবে গোটা দেশকে। কারণ, তিস্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আশ্রয়ে রংপুর বিভাগ এবং তার পার্শ্ববর্তী কিছু এলাকা মিলে প্রায় দুই কোটি মানুষ বেঁচে আছে। শুধু যে দুই কোটি মানুষ বাঁচে তা নয়, এই অঞ্চলে যে কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়, তা প্রায় চার কোটি মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে থাকে। দেশের প্রায় আট ভাগের এক ভাগ অঞ্চল থেকে উৎপাদিত খাদ্যশস্য সারা দেশের চার ভাগের এক ভাগ জনগোষ্ঠীর খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে। যদি এই তিস্তাকে বাঁচানো না যায়, তাহলে এই চার কোটি মানুষের জন্য খাদ্য উৎপাদন বন্ধ হবে। ২০১৩ সালে তিস্তায় প্রায় সর্বোচ্চ তিন হাজার কিউসেক এবং সর্বনিম্ন দেড় হাজার কিউসেক পানি ছিল। সেই বিবেচনায় এ বছর ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিয়ে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৪ সালের শুরুতেই দুই হাজার ৭০০ কিউসেক পানি থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৩০০ কিউসেকে। হঠাৎ করে এই পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় দুর্বিপাকে পড়েছেন সেচ প্রকল্পের অধীন চাষিরা। সে কারণে ১০-১২ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ শুরু করা হয়;
কিন্তু এর জন্য যে পরিমাণ পানি প্রয়োজন, তা না থাকায় এগুলোরও অনেক জমি নষ্ট হয়েছে। তিস্তা সেচ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ১১ হাজার হেক্টর জমি হলেও চাষাবাদ শুরু হয়েছিল প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে। পানি কমে আসার কারণে অন্যান্য বছর চাষ হচ্ছিল প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এবারে সেই পরিমাণ নেমে আসে ১০-১২ হাজারে। আমাদের সেচ প্রকল্পের শুধু প্রথম পর্যায়ের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে প্রায় ছয় হাজার কিউসেক পানির প্রয়োজন। আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩০০ কিউসেক। গত মাসে বাসদের রোডমার্চের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রিভারাইন পিপলের পক্ষে আমিও গিয়েছিলাম তিস্তার দোয়ানি বাজারে। যাত্রাপথের বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হচ্ছিল। একটি পয়েন্টে পথসভা চলাকালে হাত-পায়ে কাদামাখা ও কণ্ঠে উৎকণ্ঠা নিয়ে এক বৃদ্ধ অনর্গল বলতে শুরু করলেন, ‘কোনঠে আছেন দেশদরদি ভাই, কোনঠে আছেন ভোট চাওনেওয়ালা। আইসো, হামাক বাঁচান। হামার জমিত পানি নাই। হামরা মরি যামো।’ সত্যি সত্যি এই বৃদ্ধের কণ্ঠে যে আহাজারি, এটাই তিস্তাপারের মানুষের প্রকৃত অবস্থা। অশীতিপর এক বৃদ্ধ তিস্তার কোল ঘেঁষে দোয়ানি বাজারে বসে জনসভা শুনছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘চাচা, আপনার তো অনেক বয়স, আপনি কি কখনো তিস্তায় এত কম পানি দেখেছেন?’ চাচা কিছুটা মলিন দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে থেকে ডানে-বাঁয়ে কয়েকবার মাথা নাড়লেন। মনে হলো, তাঁর চোখের কোনায় জল জমেছে। তিস্তার ধু ধু বালুচরে দাঁড়িয়ে যখন একে বাঁচানোর প্রত্যয়ে শপথ হচ্ছিল, তার একটু পরেই মধ্যবয়সী স্থানীয় এক নারী আমাকে জিজ্ঞাসা করছিলেন,
‘সরকার কী কয়?’ আমি বললাম, ‘সরকার তো চুপ আছে, চাচি।’ ‘ছাওয়া না কাঁদলে মাও দুধ দেয় না’—এ কথা বলতে বলতে তিনি চলে যান। চাচির কথা ধরে বলা যায়, ছাওয়া (বাচ্চা) কাঁদতে শুরু করেছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো সংগঠিত হচ্ছে। প্রতিদিন নদী নিয়ে কোনো না কোনো কর্মসূচি থাকছে। রাজনৈতিক দলগুলো একের পর এক রোডমার্চ, লংমার্চ, তিস্তা মার্চ করছে। লক্ষ্য একটাই, তিস্তায় পানি চাই। স্লোগান চলছে, ‘আর কোনো দাবি নাই—তিস্তায় পানি চাই। দাবি মোদের একটাই—তিস্তায় পানি চাই’। বাসদ কনভেনশনের রোডমার্চের পর, বাম মোর্চা লংমার্চ করেছে, এরপর বাসদ-সিপিবি লংমার্চ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার লংমার্চ করল বিএনপি। যেসব রাজনৈতিক দল তিস্তার পানির দাবিতে আন্দোলন করছে, এখন সেই দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিস্তায় পানি না থাকার কারণে এখনই অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। যেমন: নদীসংলগ্ন যে জমিতে একবার ফসল হতো, এখন আর তাও হচ্ছে না। তিস্তায় পানি না থাকার কারণে পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে যাচ্ছে। যখন পানির স্তর নিচে নেমে যায়, তখন কৃষকেরা আরও গভীর থেকে পানি উত্তোলন করে জমিতে সেচ দেন। এতে করে পানির ভূগর্ভস্থ স্তর আরও নিচে নেমে যায়। এ অবস্থা চলতে থাকলে পানির স্তর আরও অনেক নিচে নেমে যাবে। ভূমির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তখন ভূমি মরুভূমি হবে। কয়েক দিন আগে তিস্তা নদী রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি বলছিলেন, তিস্তায় পানি না থাকার কারণে আবহাওয়ার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলছিলেন, গরু ও ছাগলের শরীর থেকে অনেকখানি করে চামড়া উঠে যাচ্ছে। এটার জন্য তিনি তিস্তার পানি না থাকাকেই দায়ী করছেন।
তিস্তার পানি না থাকার কারণে এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় আহাওয়া বদলে যেতে শুরু করেছে। গ্রীষ্মে এখন দিন-রাতে দুই ধরনের আবহাওয়া পরিলক্ষিত হয়। দিনের বেলা প্রচুর গরম এবং রাতের শেষভাগে অধিকাংশ রাতে ঠান্ডা নামে। আবহাওয়ার দুই রকম অবস্থা আগে ছিল না। রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি, কুড়িগ্রাম-এর সমন্বয়ক নাহিদ নলেজ বলেন, ‘তিস্তা আমাদের জীবন, তিস্তা নাই তো জীবন নাই। জীবন বাঁচাতেই তিস্তা বাঁচানো অপরিহার্য।’ সাংবাদিক শাহাজাদা মিয়া তিস্তার পানি না থাকার ভয়াবহতা সম্পর্কে বলেন, ‘জলঢাকা এলাকার শলেয়াহ শাহ এলাকায় হাঁটু পরিমাণ ধুলো জমেছে। মরুভূমি হতে আর বেশি দিন লাগবে না।’ তাঁর ৫০ বছর বয়সে কখনোই এ রকম দেখেননি। পরিবেশবাদী সংস্থা সবুজ পাতার উদ্যোক্তা শাহেদ আলম বলেন, বাংলাদেশর উন্নয়নের বড় সূচক একেকটি প্রবহমান নদী। সেই বিচেনায় উন্নয়নের বড় সূচক তিস্তার প্রমত্তা যৌবন ফিরিয়ে আনা ভীষণ জরুরি। বর্তমানে তিস্তার পানি না থাকার কারণে মরুকরণের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। কেন গবাদিপশুর চামড়া উঠে যাচ্ছে, কেন দিনে প্রচণ্ড গরম, ভোররাতে ঠান্ডা। কেন হাঁটু পরিমাণ ধুলোর স্তর তৈরি হচ্ছে; এমনকি তিস্তার পানি যদি আমরা না পাই, তাহলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কী উপায়, তাও গবেষণায় আনা প্রয়োজন। যেভাবে পানির স্তর নিচে নামছে, এতে করে উত্তরাঞ্চল মরুভূমি হতে কত বছর লাগবে। এই সময়ে আমাদের প্রস্তুতি কী হওয়া উচিত, সে সম্পর্কেও আলোকপাত করা প্রয়োজন। যদি আমাদের নদী খনন করে, প্রচুর গাছ লাগিয়ে, একসময়ের জালের মতো ছড়ানো শাখানদীগুলোকে বাঁচিয়ে মরুকরণ থেকে উত্তরের জনপদকে বাঁচানো যায়, তাহলে সে ব্যবস্থাও এখনই গ্রহণ করতে হবে। নয়তো ‘সময় গেলে সাধন হবে না’।
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ও সিনেটর, রিভারাইন পিপল।
wadudtuhin@gmail.com

পোশাক মালিকদের পিছটান-রানা প্লাজা ধস by শুভংকর কর্মকার

শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে ক্রেতারাই ভরসা!
* বিজিএমইএ ১৪ কোটি টাকা খরচ করে দায়িত্ব শেষ করেছে
* প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১২৭ কোটি টাকা জমা, খরচ ২২ কোটি
* চার কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক তহবিল গঠন নিয়ে সংশয়

২৩৪ পাম্প বন্ধ, পানির অভাবে ধুঁকছে ঢাকা! by অরূপ দত্ত

তীব্র দাবদাহে সারা দেশের মতোই হাঁসফাঁস করছে রাজধানীবাসী। এমন পরিস্থিতিতে নগরের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে পানির তীব্র সংকট। রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় ওয়াসার পানির পাম্প বন্ধ থাকায় কয়েক দিন ধরে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

রোগীরা কষ্ট পাচ্ছেন চিকিৎসকদের হাতে!

দেশের তিনটি বড় হাসপাতালে চিকিৎসকদের ধর্মঘটে জিম্মি হয়ে পড়েছেন রোগীরা। ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা গতকাল মঙ্গলবারও কাজে যোগ দেননি। ধর্মঘট চলছে রাজধানীর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে। আরেক বড় হাসপাতাল বারডেমের চিকিৎসকেরা প্রতিদিনের মতো গতকালও এক ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন।

লংমার্চের কারণে ভারত কিছু পানি ছেড়েছে by তানভীর সোহেল

বিএনপির লংমার্চের কারণে ভারত তিস্তায় কিছুটা পানি ছেড়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এটা লংমার্চের প্রাথমিক সাফল্য। আমরা সাময়িক নয়, পুরোপুরি সফলতা চাই।’

ভাড়ায় মিলবে ছেলেবন্ধু, কেনা যাবে কবির দুঃখ!

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলোর একটা চীনের তাওবাও ডটকম। এতে যেসব পণ্য ও সেবার বিকিকিনি হয় তার মধ্যে আছে ছেলেবন্ধু ভাড়া করা থেকে শুরু করে জ্যান্ত বিছা আর কান্না-থামানো তাও তাবিজের মতো অনেক কিছুই। এতে এমনকি বেচাকেনা হয় কবির দুঃখও! তাওবাও ডটকমের ৫০ কোটি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী গড়ে প্রতি মিনিটে অন্তত ৫০ হাজার পণ্য ও সেবা নিয়ে থাকেন। বিবিসি এই ওয়েবসাইটে কিছু সেবা ও পণ্যের বিকিকিনি সম্পর্কে জানিয়েছে।