Thursday, November 13, 2025

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নিজ শর্তে অনড় সৌদি আরব

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) এ মাসে হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কিন্তু কূটনীতিকরা বলছেন, ট্রাম্পের বারবার দেয়া ‘অচিরেই ঐতিহাসিক চুক্তি’র আশাবাদী মন্তব্য সত্ত্বেও, রিয়াদ এ সফরে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে না। ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে দশকের পর দশকের শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও জোরদার করতে পারে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গত মাসে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, সৌদি আরব খুব শিগগিরই ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী মুসলিম দেশগুলোর দলে যোগ দেবে। তবে রিয়াদ কূটনৈতিক মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে, তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। তারা কেবল তখনই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে যদি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি রোডম্যাপে একমত হওয়া যায়। রয়টার্সকে দু’জন উপসাগরীয় কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এক রাখার জন্য এবং কোনো ভুল বার্তা বা বিভ্রান্তি এড়ানোর লক্ষ্যে তারা প্রকাশ্যে কিছু বলার আগে পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো ১৮ নভেম্বর হোয়াইট হাউস বৈঠকের সময় বা পরে কোনো দ্ব্যর্থতা যাতে না থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন প্যানিকফ বলেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ না থাকলে এমবিএস কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের দিকে অগ্রসর হবেন না। প্যানিকফের মতে, এমবিএস ট্রাম্পকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবেন যেন তিনি একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আরও স্পষ্ট ও জোরালো সমর্থন দেন।

২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আগামী সপ্তাহের এই সফর এমবিএসের প্রথম ওয়াশিংটন সফর। খাশোগি হত্যায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। এমবিএস এতে সরাসরি জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো ইতিমধ্যে আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে।

ট্রাম্প দাবি করছেন, আরও দেশ খুব শিগগিরই এতে যোগ দেবে। কিন্তু এই চুক্তিগুলো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি পাশ কাটিয়ে গেছে। দুই উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছেন, রিয়াদ ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে- ইসরাইলকে কোনোরকম স্বীকৃতির পদক্ষেপ কেবল নতুন কাঠামোর মধ্য দিয়েই সম্ভব, আগের কোনো চুক্তির সম্প্রসারণ নয়। ইসলামের জন্মভূমি এবং মক্কা-মদিনার অভিভাবক হিসেবে সৌদি আরবের জন্য ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া কেবল কূটনৈতিক বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, ধর্মীয় দায়িত্ব ও দীর্ঘদিনের আরব অবস্থানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি বিষয়। বিশেষ করে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক নৃশংস হামলায় বিপুল বেসামরিক প্রাণহানির পর আরব বিশ্বে ইসরাইলের প্রতি অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের নিশ্চয়তা ছাড়া রিয়াদের জন্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করা কঠিন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মনাল রাদওয়ান বলেন, গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলের সময়সীমাবদ্ধ ও পূর্ণ প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন এবং ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা- এই তিনটি পদক্ষেপই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি এবং আঞ্চলিক একীকরণের শর্ত।

কিন্তু ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেহেতু ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোর বিরোধী, তাই সৌদি আরব মনে করছে ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী এখনই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা নেই।
সৌদি কর্মকর্তারা চাইছেন, ট্রাম্প-এমবিএস বৈঠক যেন ইসরাইল-সম্পর্ক ইস্যুর পরিবর্তে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আলোচনায় কেন্দ্রীভূত থাকে। এ বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশের বাস্তব শাসকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুরক্ষার সীমা নির্ধারণ করবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি আরও সুদৃঢ় করবে। তবে চুক্তির পরিধি কমানো হয়েছে। দুই উপসাগরীয় সূত্র ও তিন পশ্চিমা কূটনীতিক জানিয়েছেন, এই চুক্তি সেই পূর্ণাঙ্গ কংগ্রেস অনুমোদিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়, যা রিয়াদ একসময় ইসরাইল স্বীকৃতির বিনিময়ে চেয়েছিল।

এই নতুন চুক্তিটি সেপ্টেম্বর মাসে কাতারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশভিত্তিক সমঝোতার ধাঁচে তৈরি, যা প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়াবে। রিয়াদ ভবিষ্যতের মার্কিন প্রশাসনগুলোকে এই চুক্তি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে উন্নীত করার সুযোগ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে পরবর্তী কোনো প্রেসিডেন্টের নীতিগত পরিবর্তনে এটি বাতিল না হয়। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের ফেলো ডেভিড মাকোভস্কি বলেন, এটি সৌদিদের কাক্সিক্ষত পূর্ণাঙ্গ চুক্তি নয়; তবে এটি একটি ধাপ, ভবিষ্যতের চুক্তির সেতুবন্ধন।

https://mzamin.com/uploads/news/main/188824_Abul-5.webp

লাতিন আমেরিকায় মার্কিন রণতরি, ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ছে

ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি নাটকীয় গতিতে জোরদার হচ্ছে। এরই মধ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি জেরাল্ড ফোর্ড লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে প্রবেশ করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়ে বলেন, গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে জেরাল্ড ফোর্ড মোতায়েনের নির্দেশ দেন।

জেরাল্ড ফোর্ডের সঙ্গে আটটি যুদ্ধজাহাজ, একটি পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন ডুবোজাহাজ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্যারিবীয় অঞ্চলে পৌঁছেছে।

২০১৭ সালে কমিশন পাওয়া জেরাল্ড ফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরি। এখানে পাঁচ হাজারের বেশি নাবিক কর্মরত।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত এ খবর নিশ্চিত করে পেন্টাগন বলেছে, তাদের রণতরি মোতায়েনের লক্ষ্য মাদক পাচার প্রতিহত করা এবং আন্তসীমান্ত অপরাধী চক্রগুলো দুর্বল ও ধ্বংস করা।

অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর অভিযোগ, লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এ সামরিক প্রস্তুতির লক্ষ্য তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা।

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, মাদুরোর সঙ্গে মাদক পাচার ও অপরাধী চক্রের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। মাদুরো এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মাদুরোকে গ্রেপ্তারে তথ্য প্রদানের জন্য ওয়াশিংটন পুরস্কার ঘোষণা করেছে; গত আগস্ট মাসে সে পুরস্কার দ্বিগুণ করে পাঁচ কোটি ডলার করা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত ক্যারিবীয় সাগর ও লাতিন আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলে মাদক বহন করছে সন্দেহে অন্তত ১৯টি নৌযানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ৭৬ জন নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র যখন প্রথম রণতরি মোতায়েনের ঘোষণা করে, তখন নিকোলা মাদুরো সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কখনো তাঁর দেশে হস্তক্ষেপ করে, তবে রাইফেল হাতে লাখ লাখ নারী-পুরুষ দেশজুড়ে মিছিল করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করতে ভেনেজুয়েলাও অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করেছে—রয়টার্স এমন কিছু নথিপত্র দেখেছে। সেখানে দেখা গেছে, ভেনেজুয়েলা রাশিয়ার তৈরি কয়েক দশকের পুরোনো অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করেছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র আকাশ বা স্থলপথে অভিযান চালায়, তবে গেরিলা কায়দায় তা মোকাবিলার পরিকল্পনা করেছে তারা।

শুধু ভেনেজুয়েলা নয়, প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বাড়ছে। ট্রাম্প ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো একে অপরের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিমানবাহী রণতরি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। সেপ্টেম্বরে এটি নরওয়ের পথে ছিল। ছবিটি সে সময়ে তোলা
বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিমানবাহী রণতরি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। সেপ্টেম্বরে এটি নরওয়ের পথে ছিল। ছবিটি সে সময়ে তোলা। ছবি: রয়টার্স

মামদানিকে ঠেকাতে নাগরিকত্ব বাতিলের কথা বলছেন রিপাবলিকানরা, তা কি সম্ভব

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের প্রথম মুসলিম মেয়রের পদে বসছেন জোহরান মামদানি। শহরটিতে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রথম মেয়রও হচ্ছেন তিনি। এটি মোটেও মেনে নিতে পারছেন না মামদানির রিপাবলিকান নিন্দুকেরা। যেকোনো মূল্যে তাঁর মেয়র পদে বসা ঠেকাতে চাচ্ছেন তাঁরা। তাই এবার মামদানির নাগরিকত্ব বাতিলের কথা বলছেন।

নির্বাচনের আগে থেকে মামদানিকে নিয়ে নানা কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উগান্ডায় জন্ম নেওয়া ৩৪ বছর বয়সী এই মুসলিমকে ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। এমনকি হুমকি দিয়ে এ–ও বলেছেন, মামদানি মেয়র হলে নিউইয়র্কে কেন্দ্রীয় তহবিল বন্ধ করে দেবেন।

ট্রাম্পের সুরে সুর মিলিয়ে রিপাবলিকান কয়েকজন আইনপ্রণেতা মামদানির নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। কয়েকজন আবার তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার কথা বলেছেন। এই আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ মামদানি কমিউনিস্ট এবং ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। যদিও কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি তাঁরা।

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে মামদানির নাগরিকত্বের বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলেছিলেন প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্য অ্যান্ডি ওগলেস। পরে গত ২৯ অক্টোবর তিনি বলেন, ‘মামদানি যদি নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত নথিপত্রে মিথ্যা বলে থাকেন, তাহলে তিনি নাগরিক থাকতে পারবেন না। আর অবশ্যই নিউইয়র্ক শহরের মেয়র নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।’

মামদানিকে কমিউনিস্ট ও সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে ওগলেস আরও বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সমাজতন্ত্র বা সন্ত্রাসবাদে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করতে হয়। আমার সন্দেহ আছে তিনি (মামদানি) এগুলো প্রকাশ করেছিলেন কি না। আমার এই অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে উগান্ডায় যাওয়া প্রথম ফ্লাইটেই তাঁকে ফেরত পাঠান।’

মামদানির নাগরিকত্ব নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছেন প্রতিনিধি পরিষদে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সদস্য রেন্ডি ফাইন। ফাইন ও ওগলেস—দুজনের কাছেই তাঁদের বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য চেয়েছিল মার্কিন ফ্যাক্টচেকিং ওয়েবসাইট পলিটিফ্যাক্ট। তবে কোনো জবাব দেননি তাঁরা। আর মামদানি তাঁর নাগরিকত্বের আবেদনে মিথ্যা বলেছিলেন—এমন কোনো তথ্যও পায়নি ওয়েবসাইটটি।

জোহরান মামদানির জন্ম উগান্ডায়। ১৯৯৮ সালের মাত্র সাত বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। ২০১৮ সালে দেশটির নাগরিকত্ব পান। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, দেশটির নাগরিকত্ব পেতে একজন বিদেশি প্রাপ্তবয়স্ককে অবশ্যই আইন মেনে টানা পাঁচ বছর বসবাস করতে হবে। আর মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য দেশটিতে অন্তত তিন বছর টানা বসবাস করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল শুধু দেশটির আদালত করতে পারেন। মামদানির নাগরিকত্বের আবেদন দিয়ে ওগলেস ও ফাইন যে অভিযোগ এনেছেন, তার পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখছেন না অভিবাসী আইনবিশেষজ্ঞরা। অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবী জেরেমি ম্যাককিনলে বলেন, ‘মামদানি নাগরিক হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় অযোগ্য ছিলেন বা নথিতে কোনো কিছু লুকিয়েছেন—এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ আমার চোখে পড়েনি।’

রিপাবলিকানদের অভিযোগ পুরোনো

গত গ্রীষ্মে মামদানি যখন ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে নিউইয়র্কের মেয়র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন থেকে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করেন রিপাবলিকানরা। গত জুনে পাম বন্ডিকে লেখা একটি চিঠিতে মামদানির নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ওগলেস। তিনি বলেছিলেন, মামদানি হয়তো ‘নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য বিকৃত করেছিলেন বা সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের কথা গোপন করেছিলেন।’

‘হোলি ল্যান্ড ফাইভের’ প্রতি সমর্থন জানিয়ে মামদানির লেখা একটি র‍্যাপ সংগীতের কথা চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন ওগলেস। হোলি ল্যান্ড ফাইভের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে মুসলিম দাতব্য সংস্থা ‘হোলি ল্যান্ড ফাউন্ডেশনের’ পাঁচ ব্যক্তিকে। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রতি সমর্থনের জন্য ২০০৮ সালে তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। যদিও ওই মামলায় উপস্থাপন করা প্রমাণ ও গুজবের ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন কয়েকজন আইনজীবী।

মামদানি একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী। তিনি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট অব আমেরিকা নামের একটি সংগঠনের সদস্যও। ওগলেস ও ফাইন বলেছেন, নাগরিত্বের আবেদনপত্রে মামদানি এই সদস্যপদের কথা উল্লেখ করেননি। সংগঠনটিকে কমিউনিস্ট তকমা দিয়ে তাঁরা আরও বলেন, এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে মামদানির নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণের যে আবেদনপত্র রয়েছে, তাতে জানতে চাওয়া হয় আবেদনকারী কোনো কমিউনিস্ট বা স্বৈরতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত কি না। তবে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট অব আমেরিকা কোনো কমিউনিস্ট দল নয়। এমন কথাই বলছেন আইনজীবী জেরেমি ম্যাককিনলে ও এমোরি ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ হারভি ক্লের।

পলিটিফ্যাক্টকে হারভি ক্লের বলেন, সমাজতন্ত্রের বিকল্প হিসেবে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের আবির্ভাব হয়েছে। কমিউনিস্টরা জনপ্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের বিরুদ্ধাচরণ করেন এবং তাঁদের বিশ্বাস হলো উৎপাদনব্যবস্থার ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা রয়েছে। কমিউনিস্টদের এই বিশ্বাস সাধারণত প্রত্যাখ্যান করেন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীরা। আর ম্যাককিনলে বলেন, ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট অব আমেরিকার সদস্য পদ নাগরিকত্বের জন্য কোনো বাধা নয়।

খাটানো হচ্ছে ভিন্ন কৌশল

সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামদানির মেয়র হওয়ার পথে বাধা দিতে অন্য একটি কৌশল খাটাচ্ছে দ্য নিউইয়র্ক ইয়ং রিপাবলিকান ক্লাব নামের একটি সংগঠন। তারা উল্লেখ করছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর কথা। এতে বলা হয়েছে, দেশের ‘শত্রুদের সহায়তা–সহানুভূতি দিলে’ এবং ‘বিদ্রোহে যুক্ত’ থাকলে কেউ সরকারি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

রিপাবলিকানপন্থী ওই ক্লাবটির দাবি, ‘হামাসপন্থী’ সংগঠনগুলোকে সমর্থন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের প্রতি ‘সহায়তা ও সহানুভূতি’ দেখিয়েছেন মামদানি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সদস্যদের প্রতিহত করার কথা বলে অপরাধী চক্রগুলোকে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।

এই কৌশল মামদানির মেয়র হওয়া ঠেকানোর একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা। মামদানি মেয়র হওয়ার যোগ্য নন, তা ঘোষণার জন্য প্রাথমিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দুই–তৃতীয়াংশ ভোট লাগবে। কংগ্রেসে বিষয়টি অনুমোদন হলেও এর বিরুদ্ধে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা যাবে।

তবে অভিবাসনবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা পলিটিফ্যাক্টকে বলছেন, সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীতে যুদ্ধ চলাকালে শত্রুদের সহায়তা এবং বিদ্রোহের কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে বলা হয়নি। তাই মামদানি আইসিই সদস্যদের প্রতিহত করা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা চতুর্দশ সংশোধনীর বিরুদ্ধে যায় না।

যেভাবে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায়

নাগরিকত্বের আবেদনপত্রে জালিয়াতির অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে অথবা দেওয়ানি মামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারেন বিচার বিভাগ। দুই মামলার ক্ষেত্রে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে আবেদনকারী নাগরিকত্বের আবেদনপত্রে মিথ্যা বলেছেন অথবা তাঁর বক্তব্য আবেদনপত্রের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক কাসান্দ্রা বার্ক রবার্টসন বলেন, মামদানির নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো মামলা গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে বড় সমস্যাটা হলো এমন মামলা করা হলে, সক্ষমতা কম—এমন অনেক মানুষই সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে ভয় পেতে পারেন।

নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বিরল হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে তা প্রায়ই ঘটছে বলে উল্লেখ করেছেন নিউইয়র্কের হফস্ট্রা ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক ইরিনা মান্ত্রা। তাই শেষ পর্যন্ত যদি মামদানির নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসকারী (পারমানেন্ট রেসিডেন্ট) হিসেবে থাকতে পারবেন। ফলে তিনি আর নিউইয়র্কের মেয়র হতে পারবেন না।

জোহরান মামদানি
জোহরান মামদানি। ফাইল ছবি: রয়টার্স

গাজায় শিশুদের টিকার ১৬ লাখ সিরিঞ্জ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল: ইউনিসেফ

ইউনিসেফ জানিয়েছে শিশুদের টিকা দেওয়ার সিরিঞ্জ এবং বেবি ফর্মুলার বোতলসহ অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী গাজায় প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল। এর ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় সাহায্য পৌঁছাতে দাতব্য সংস্থাগুলো ব্যর্থ হচ্ছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, আংশিক শান্তিচুক্তির মধ্যেই তারা শিশুদের ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে ১৬ লাখ সিরিঞ্জ এবং সোলার চালিত ফ্রিজ গাজায় প্রবেশ সমস্যায় পড়েছে। এসব টিকা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন ওই ফ্রিজগুলো। সিরিঞ্জগুলো আগস্ট থেকে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য অপেক্ষা করছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরব নিউজ।

মঙ্গলবার ইউনিসেফ মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেস বলেন, সিরিঞ্জ এবং ফ্রিজকে ইসরাইল ‘ডুয়েল-ইউজ’ হিসেবে বিবেচনা করছে। এই সামগ্রীগুলো কাস্টমস এবং তল্লাশি থেকে পার করানো খুব কঠিন, তবুও এগুলো জরুরি। ডুয়েল-ইউজ বলতে বোঝায় এমন সামগ্রী যেগুলোকে সামরিক ও সাধারণ উভয় কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে ইসরাইল মনে করে। গাজায় সাহায্য প্রবাহ পর্যবেক্ষণকারী ইসরাইলি সামরিক শাখা কোগ্যাট তৎক্ষণাৎ মন্তব্য করেনি।

আগে তারা বলেছে যে খাদ্য, পানি, চিকিৎসা সামগ্রী ও আশ্রয় সামগ্রী প্রবেশে তারা সীমাবদ্ধতা আরোপ করছে না। এছাড়াও তারা হামাসকে মানবিক সরবরাহ চুরি করার অভিযোগে দায়ী করেছে। তবে হামাস এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউনিসেফ গত রবিবার গাজায় প্রথম টিকা দানের রাউন্ড শুরু করেছে। এর লক্ষ্য ৩ বছরের কম ৪০,০০০ শিশুকে পোলিও, জ্বর ও নিউমোনিয়ার টিকা দেয়া, যারা দু’বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধে নিয়মিত টিকা মিস করেছে। প্রথম দিনে ২৪০০ শিশুকে একাধিক টিকা দেয়া হয়েছে।

mzamin

মুসলমান বলেই রোহিঙ্গারা ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার -প্রধান উপদেষ্টা

রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের দুরবস্থা বর্তমান সময়ে অন্যতম করুণ মানবিক সংকট বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, শুধু মুসলমান হওয়ার কারণেই রোহিঙ্গারা এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার।

গত ৪ নভেম্বর সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তুরস্কের একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। পাঁচ সদস্যের ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তুরস্ক-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের সভাপতি ও তুর্কি পার্লামেন্ট সদস্য মেহমেত আকিফ ইয়িলমাজ।

সাক্ষাতে দুই পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করে। এ সময় মেহমেত আকিফ ইয়িলমাজ বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেন তিনি।

ইয়িলমাজ বলেন, তাঁদের প্রতিনিধিদল রোববার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছে এবং তুর্কি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, বিশেষ করে তুর্কি ফিল্ড হাসপাতালের মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হয়েছে। এ সময় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতি তুরস্কের অবিচল সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তুর্কি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের দুরবস্থা আমাদের সময়ের অন্যতম করুণ মানবিক সংকট। তারা শুধু মুসলমান বলেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার এবং তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আট বছর ধরে আশ্রয়শিবিরে থাকায় রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ সুযোগ একেবারেই সীমিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা হতাশা ও অস্থিতিশীলতার জন্ম দিতে পারে।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-03%2F02ipczez%2FUntitled-1.jpg?rect=23%2C0%2C599%2C399&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
তুরস্কের পার্লামেন্ট সদস্য মেহমেত আকিফ ইয়িলমাজের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়। প্রেস উইং

হেরাত প্রদেশে হাসপাতালে যেতে নারীদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক: এমএসএফ

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে নারী রোগী, অভিভাবক ও চিকিৎসাকর্মীদের সরকারি হাসপাতালে প্রবেশের জন্য বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করেছে তালেবান কর্তৃপক্ষ। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এমএসএফ জানায়, নতুন এই বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে ৫ নভেম্বর থেকে। নারীদের পূর্ণ শরীর ও মুখ ঢেকে রাখা ইসলামী পর্দা প্রথা।

এমএসএফের আফগানিস্তান প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারা শাতো বলেন, এই সিদ্ধান্ত নারীদের জীবন আরও সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবায় তাদের প্রবেশাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি জানান, এমনকি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা নারীরাও এতে প্রভাবিত হচ্ছেন। তবে তালেবান সরকারের একজন মুখপাত্র এমএসএফের এই দাবিকে অস্বীকার করেছেন। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ প্রকাশের পর কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছে। এমএসএফ হেরাত আঞ্চলিক হাসপাতালে শিশু বিভাগে সহায়তা দিচ্ছে।

তারা জানিয়েছে যে, নতুন নিয়ম কার্যকরের প্রথম ক’দিনেই জরুরি রোগী ভর্তি ২৮ ভাগ কমে গেছে। সারা শাতো বলেন, তালেবান সদস্যরা হাসপাতালের ফটকে দাঁড়িয়ে বোরকা না পরা নারীদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছিলেন। তালেবান সরকারের ‘নৈতিকতা প্রচার ও অসৎ কাজ প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়’-এর মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম খাইবার বলেন, এই খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের অবস্থান কেবল হিজাব পরিধান সম্পর্কে।

mzamin