Sunday, September 16, 2018

এটাই কী আমার অপরাধ? by পিয়াস সরকার

হাসপাতালে গিয়েছিলাম প্রচণ্ড জ্বর আর শরীর ব্যথা নিয়ে। ডাক্তার দেখানোর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল যেন একেকটি যুদ্ধ। টিকিট নিতে নারী-পুরুষ নিয়ে প্রথম দ্বিধা। টিকিট কাউন্টারে এমনভাবে তাকাচ্ছিল যেন আমি অন্যায় কোনো কাজ করতে এসেছি। ডাক্তারের রুমের সামনে ছিল বিশাল লাইন। সেখানেও একই সমস্যা, দাঁড়াবো কোন লাইনে- ছেলেদের না মেয়েদের? আমি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবার চোখ আমার দিকে এবং নীরবতা নেমে এলো সেখানে। বলতে বলতে চোখের কোণে পানি চলে আসে নূরজাহান বেগমের। তিনি আরো বলেন, তবে ডাক্তার খুব ভালো ছিল। তিনি আমাকে খুব ভালোভাবে দেখেছেন। ওষুধ লিখে দিয়েছেন।
চলতে ফিরতে প্রায়শই হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের চোখে পড়ে আমাদের। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি এসব মানুষদের আমরা নিগ্রহের চোখেই দেখি। চাঁদাবাজি, অশোভন আচরণ, ভিক্ষাবৃত্তি ইত্যাদির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। কিন্তু একটা বিষয় লক্ষ্য হয়তো করেছেন আমাদের সামনে আসা হিজড়াদের বয়স আনুমানিক ১৮ থেকে ৪০। কিন্তু এর বেশি বয়সের হিজড়ারা আমাদের লোকচক্ষুর অন্তরালেই রয়ে যায়।
নূরজাহান বেগম, বয়স আনুমানিক ৭০। থাকেন রায়ের বাজার বস্তির হিজড়া পল্লীতে। বয়সের সঙ্গে শরীরে বাসা বেঁধেছে নানান রোগ। হাঁটুর ব্যথায় যেমন কাতর তেমনি প্রায়শই আঘাত হানে মাথা ব্যথা। মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে তিন দিন অচল। নূরজাহান বেগম বলেন, বয়স হয়ে গেছে, খাই অন্যের টাকায়। তবে, এখানে রক্তের সম্পর্কের কেউ না থাকলেও সবাই আপন।
নূরজাহান বেগমের বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়। ৮ ভাই ১ বোন আর নুরজাহান সবার ছোট। তৃতীয় লিঙ্গ নিয়ে জন্ম নেয়ায় ১২ বছর বয়সে বাবা তাকে রেখে আসে ফরিদপুর হিজড়া পল্লীতে। তারপর সেখানে ছয় বছর থাকার পর পাড়ি জমান ঢাকাতে। আমার জীবনের সব থেকে সুখের সময় ছিল ছোট বেলায়। অভাবের সংসার হলেও বাবা-মা ভাইবোন নিয়ে অনেক ভালো ছিলাম। কিন্তু যত বড় হই, লোকজনের কথা তত বাড়তে থাকে। বাবা একদিন মেলায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রেখে আসে পল্লীতে। ফরিদপুর থেকে ঢাকা আসার সময় একবার গিয়েছিলাম বাড়িতে। আমার মা খুবই খুশি হয়েছিল তখন। দুইদিন ছিলাম। আসার সময় মায়ের কান্না দেখে আমার বুক ফেটে যাচ্ছিল। সেটাই ছিল মায়ের সঙ্গে শেষ দেখা। মা মারা গেছে সেটা আমি জানি বছর খানেক পর। বাবার মৃত্যুর খবর পাই নাই। নিশ্চয়ই এতদিনে মারা গেছেন। আমার ভাই-বোন কেমন আছে, বেঁচে আছে না মরে গেছে তাও জানি না। বলতে বলতে আবারো কেঁদে ফেলেন তিনি।
এখন কিভাবে সময় কাটে? এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখন শুধুই মৃত্যুর অপেক্ষা। নামাজ পড়ি, আল্লাহকে ডাকি। দুনিয়াতে তো সুখ দিলো না আল্লাহ। পরপারে যেন সুখ পাই।
রাস্তাঘাটে, দোকানে, বাচ্চা জন্মানো, বিয়ে বাড়ি ইত্যাদি স্থানে চাঁদাবাজি নিয়ে বলেন- জানি এটা খারাপ কাজ। কিন্তু আমাদেরও পেট আছে। আমাদেরও খেতে হয়। আমরা কাজ চাইলেও পাই না। তাই আমাদের বাধ্য হয়ে এসব করতে হয়। বলেন, আমি কেন বাড়ি ছাড়া? আমি হিজড়া হয়ে জন্মেছি, তাতে আমার তো কোনো দোষ ছিল না। ১৯৮০ সালের কথা, শীতকাল। তখন আমরা দলগতভাবে দোকানে দোকানে টাকা তুলি। ফার্মগেটে একদোকানদার হঠাৎ আমার মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে। ফাঁকা দোকানের ভেতর নিয়ে যায়। এখনো স্পষ্ট মনে আছে আমার, প্রায় ৪-৫ জন ছিল। একজন আমার শরীরে ঠাণ্ডা পানি ঢেলে দেয়। আর একজন কথাবার্তা ছাড়া মারতে শুরু করে। উলঙ্গ করে দেয় আমায়। শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। এমন অবস্থায় রেখে চলে যায় তারা, রুম বন্ধ করে। ঘণ্টাখানেক পর এসে আমার মুখ খুলে দেয়। তখন নিঃশ্বাস নিয়ে মনে হয়েছিল যেন জীবন ফিরে পেলাম। উলঙ্গ অবস্থায় বেশ কিছু সময় হাসি তামাশা করে ছেড়ে দেয়। আপনি বলেন, আমি হিজড়া এটাই কি আমার অপরাধ?
আরেকদিন, আমরা টাকা তুলে সবাই বসে বিশ্রাম করছিলাম ফার্মগেটের একটা চায়ের দোকানে। তখন দেখি ৭-৮ বছরের একটা শিশু কাঁদছে। কথা বলে জানতে পারি, সে তার বাবাকে খুঁজে পাচ্ছে না। আমরা তাকে নিয়ে তার বাবাকে খোঁজা শুরু করি। এমন সময় তার বাবা পেছন থেকে এসে বলে, এই তোরা আমার ছেলেকে নিয়ে কোথায় পালাচ্ছিস? নানান কথা। লোকজন জড়ো হলে বাচ্চাটি বলে উঠে ‘না বাবা ওরা আমাকে নিয়ে পালাচ্ছে না।’ তার ছেলের মুখে সব কথা শোনার পর কিছু না বলেই ছেলেকে নিয়ে চলে যায়।
বয়স বেড়ে যাবার পর একমাত্র আয় এখন ‘দোয়া’। অনেকে আমাদের ভয়ে ছোট বাচ্চা লুকিয়ে রাখে। আবার অনেক পরিবার আমাদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যায় ছোট বাচ্চাকে দোয়া করার জন্য। আগে দেখতাম এমন দাওয়াত অনেক আসত। কিন্তু এখন মাসে দুই একটার বেশি আসে না। খুব ভালো লাগে আমাদের সম্মান করে কেউ বাড়িতে নিয়ে যায়। আমরা প্রাণ ভরে দোয়া করি এসব বাচ্চাদের জন্য। আমারো খুব শখ ছিল মা হওয়ার। এই ক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দেয় নাই। তাই দোয়া করেই মন ভরাই। আসার সময় খুশি হয়ে কিছু টাকা ধরিয়ে দেয় এটাই একমাত্র আয়।
স্বপ্ন? দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, আমি অল্প কিছু দিন স্কুলে গিয়েছিলাম। আমি পড়তে জানি। অল্প লিখতেও পারি। আমি চাই সব হিজড়া তার পরিবারের সদস্য হয়ে থাকুক। আমার বাবার মতো যেন মেলায় যাওয়ার কথা বলে পল্লীতে রেখে আসতে না হয়। একটাই স্বপ্ন হিজড়ারাও যে মানুষ সমাজ তা মেনে নিক।

ইসরাইলকে রক্ষার জন্য ট্রাম্পের 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' পরিকল্পনায় যা আছে: পর্ব-তিন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের জন্য 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' নামের যে কথিত শান্তি প্রস্তাব বা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন সে সংক্রান্ত আলোচনার গত পর্বে আমরা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমেরিকা, ইসরাইল ও সৌদি আরবের ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরেছিলাম। মার্কিন কথিত এই শান্তি প্রস্তাব বা পরিকল্পনার প্রধান টার্গেট হচ্ছে ফিলিস্তিনিদেরকে হটিয়ে দিয়ে দখলদার ইসরাইলের নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করা।
প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ সংগ্রাম। 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' নামের পরিকল্পনার ব্যাপারে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)'র নির্বাহী কমিটির মহাসচিব সায়েব আরিকাত বলেছেন, "এতে পবিত্র বায়তুল মোকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া, ১৯৬৭ সালে দখলীকৃত ভূখণ্ড থেকে বহু দূরে একটি প্রত্যন্ত এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য রাজধানী তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে যা অযৌক্তিক।"
পিএলও'র নির্বাহী কমিটির মহাসচিব সায়েব আরিকাত আরো বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার এ পরিকল্পনায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইহুদি নতুন নতুন উপশহরগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জর্দান নদীর পশ্চিম তীর এলাকার ১৫ শতাংশ ভূমি ইসরাইলি ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১০ শতাংশ এলাকার ওপর ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রতি সম্মতি দেন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর ট্রাম্প তার প্রস্তাবে ফিলিস্তিনিদের জন্য যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হলেও ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব কোনো নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে না। বরং জর্দান, মিশর, আমেরিকাসহ আরো কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণে যৌথ বাহিনী মোতায়েন রাখার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, পশ্চিম তীরসহ সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় ইসরাইলি সেনা মোতায়েন রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ট্রাম্পের 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' নামের পরিকল্পনায়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' নামের পরিকল্পনার বিভিন্ন ধারা লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বায়তুল মোকাদ্দাসসহ আরো বহু এলাকা কেড়ে নেয়ার অর্থ হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিচিতিকে মুছে ফেলার চেষ্টা। তাই ষড়যন্ত্রমূলক এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের স্বশাসন কর্তৃপক্ষ এবং ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধকামী সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে। এ ব্যাপারে কাতারের দৈনিক আল আরাবি আল জাদিদের সংবাদ বিশ্লেষক সালেহ আল নাআমি লিখেছেন, "এটা স্পষ্ট যে ফিলিস্তিনের কোনো রাজনৈতিক দলই ট্রাম্পের দেয়া 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' নামের পরিকল্পনা বা প্রস্তাবকে সমর্থন করেনি কারণ তারা জানে এটা ফিলিস্তিন জাতিকে ধ্বংস করার পায়তারা।"
এ কারণে দেখা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মে মাসে তেলআবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে দূতাবাস স্থানান্তর করার কারণে এর প্রতিবাদে ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষ আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। তবে যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হচ্ছে, ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষ কেবলমাত্র ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিরোধিতা করা, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং এ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমাজের দ্বারস্থ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু অপরপক্ষে ফিলিস্তিনের জিহাদি ও সংগ্রামী দলগুলো ট্রাম্পের 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' নামের পরিকল্পনা বা প্রস্তাব প্রতিহত করার জন্য প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং রাজধানী তেলআবিবসহ অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন করে ইন্তিফাদা গণজাগরণ শুরুর পদক্ষেপ নিয়েছে।
পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসি'র গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দু'টি দেশ অর্থাৎ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ট্রাম্পের 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' নামের পরিকল্পনা বা প্রস্তাবের প্রধান সমর্থক। এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা মেনে নিতে ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং গাজা পুনর্গঠনে সহায়তা করা ও জর্দানকে আর্থিক সাহায্য দেয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে সৌদি আরব ও আমিরাত।
গত ২৩ জুন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি দলের কয়েকটি আরব দেশ সফরের কথা উল্লেখ করেছে। এতে লেখা হয়েছে ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সৌদি আরব ও আমিরাত ট্রাম্পের 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' নামের প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য জর্দান ও ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে সম্মত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবে যেসব ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা জর্দানে অবস্থান করছে তাদেরকে সেখানেই স্থায়ীভাবে রেখে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। আমেরিকা মনে করে  'শতাব্দির সেরা চুক্তি' নামের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জর্দানের সহযোগিতা খুবই জরুরি। এ কারণে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত ১৯ জুন আম্মান সফর করে সেদেশের রাজা আব্দুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হন। জর্দান ভূ-রাজনৈতিক কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে। জর্দানের সঙ্গে ইসরাইল ও পশ্চিম তীরের সীমান্ত রয়েছে। এ কারণে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমেরিকা, ইসরাইল ও সৌদি আরব যেভাবেই হোক জর্দানকে সঙ্গে রাখার চেষ্টা করছে। বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী আল আকসা মসজিদ পরিচালনার দায়িত্ব জর্দানের কাছ থেকে নিয়ে ইসরাইলের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ইসরাইল বিষয়ক জর্দানের লেখক আইমান দেহাজ আল হানিথি 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' ইস্যুতে বলেন, অর্থনৈতিক চাপের কারণে জর্দান সরকার এ ধরণের অন্যায্য চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' নামের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মিশরেরও বিরাট ভূমিকা রয়েছে। মিশরের ইতিহাস ঐতিহ্য, বিপুল জনসংখ্যা ও ভূ-কৌশলগত অবস্থানের কারণে আমেরিকার কাছে ওই দেশটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মিশর আরব বিশ্বের অন্যতম একটি প্রভাবশালী দেশ এবং আল্ আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে মুসলিম বিশ্বে মিশরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আরব দেশগুলোর মধ্যে মিশরে রয়েছে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা এবং সামরিক দিক থেকেও দেশটি অনেক শক্তিশালী। ইসরাইল ও গাজার সঙ্গে সীমান্ত থাকায় ভৌগোলিক দিক থেকেও মিশরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এসব কারণে ট্রাম্পের 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' নামের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মিশরের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। মিশরের একটি কূটনৈতিক সূত্র এ কথা ফাঁস করে দিয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জারেড কুশনার কায়রোয় দেশটির কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাত করে একটি সমঝোতায় পৌঁছেন। এ সমঝোতা অনুযায়ী মিশের রাফা ও গাজা সীমান্তে বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং তা গাজায় সরবরাহ করা হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমিরাত ৫০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দেবে।
এ ছাড়া, উত্তর সিনা উপত্যকায় গাজা ও মিশরের যৌথ সমুদ্র সীমায় বন্দর নির্মাণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে যা কিনা মিশরের তত্বাবধানে পরিচালিত হবে। ওই বন্দরের কার্যক্রম চালানোর জন্য যে জনশক্তির প্রয়োজন হবে তার জন্য গাজার অধিবাসীদেরকে ব্যবহার করা হবে।

কিডনি হাসপাতালে ডায়ালাইসিসে ব্যাপক অনিয়ম by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

রাজধানীর সরকারি জাতীয় ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি  হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিসে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখানে একটি ডায়ালাইজার ব্যবহার হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ বার। আবার ডায়ালাইসিস করতে যে ফ্লুইড ব্যবহার করা হয় তা ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডের বয়রা ও নার্সরা হাসপাতালে বসেই তৈরি করে থাকেন  বলে অভিযোগ উঠেছে।
ডায়ালাইসিস নিতে আসা রোগীরা ১৩ই সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেন ডায়ালাইসিসের নানা অনিয়ম নিয়ে। রোগীরা লিখিত অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে গেলেও পরিচালক বা তার পক্ষে কেউ এ অভিযোগ গ্রহণ করেননি। পরে রোগী ও অভিভাবকরা একসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে তাদের লিখিত অভিযোগ দিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন রোগীরা।
অভিযোগকারী রোগীরা হচ্ছেন- নুর বানু (আইডি ৪৮৯), মোছা: আফলাতুন নেছা (আইডি ৮০), প্রদীপ কুমার দেব (আইডি ১৩৯), নাজমা আক্তার (আইডি ১২০), খায়রুন নেছা (৫৫০), একেএম মুসা (আইডি ৫৫৮) প্রমুখ।
রোগীরা জানিয়েছেন, সরকারি কিডনি হাসপাতালে সেন্ডর নামক একটি প্রতিষ্ঠান ডায়ালাইসিস করে থাকে সরকারি অনুমতি নিয়ে। কিন্তু তারা যথাযথভাবে ডায়ালাইসিস করছে না। দীর্ঘদিন থেকে এটা নিয়ে ডায়ালাইসিসের রোগীরা ক্ষুব্ধ থাকলেও বৃহস্পতিবারই এ নিয়ে সবাই মিলে অভিযোগ করেন। এর আগে গত বছরও একই ধরনের অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে এটা নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল।
রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, বিদেশে তো বটেই, বাংলাদেশের সব ডায়ালাইসিস সেন্টারে একটি ডায়ালাইজার নিয়ে মাত্র একবারই ডায়ালাইসিস করা হয়ে থাকে। ডায়ালাইজারের ভেতরে যে নরম টিস্যু ব্যবহার করা হয় রক্তের বর্জ্য আটকে দেয়ার উদ্দেশ্যে একবার ব্যবহারের পর এই টিস্যুগুলোর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।
পরের বার একই ডায়ালাইজার দিয়ে ডায়ালাইসিস করলে তা রক্তের বর্জ্য পুরোপুরি পরিষ্কার করে না। অন্যান্য ডায়ালাইসিস সেন্টারে কোনো কিডনি রোগী সপ্তাহে তিন বার ডায়ালাইসিস করে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারলেও কিডনি হাসপাতালে তা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে রোগীরা নানা ধরনের অসুস্থতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। জানা গেছে, এক একজন কিডনি বিকল রোগীর একেক ধরনের ডায়ালাইজার লাগে। কিন্তু এ হাসপাতালে সবার জন্য একই রকম ডায়ালাইজার ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে।
ডায়ালাইসিসের ফ্লুইড ওষুধ কোম্পানিগুলো বিশেষ মেশিনের মাধ্যমে তৈরি করে থাকে। কিন্তু কিডনি হাসপাতালে সেন্ডর কোম্পানি তার বয়দের দিয়ে হাসপাতালেই ফ্লুইড তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা। বিশ্বের অন্যান্য দেশে তো এরকম কোনো নজির নেই- বাংলাদেশের কোনো বেসরকারি ডায়ালাইসিস সেন্টারও করে না। কিন্তু কিডনি হাসপাতালে একটি কনটেইনার বার বার ব্যবহার করছে ফ্লুইড উৎপাদনে। ডায়ালাইসিসের ফ্লুইড অনেক রকম রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। এতে জড়িত থাকেন বিশেষজ্ঞ কেমিস্টরা।
কিন্তু কিডনি হাসপাতালে ফ্লুইড উৎপাদনে কোনো বিশেষজ্ঞ কেমিস্টের সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে না। রোগীরা বলছেন, এই ফ্লুইড উৎপাদনে বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরেরও অনুমতি নেই কিংবা ওষুধ প্রশাসনের মান নিয়ন্ত্রণ অথবা নিয়মও মানা হয় না। তারা আরো বলেন, এখানে নার্স ব্রাদার স্টাফদের দুর্ব্যবহার চরম পর্যায়ে  পৌঁছেছে। তাদের আচরণের প্রতিবাদ করলে হুমকি দেন ডায়ালাইসিস সিডিউল বাতিল করে দেবো- ইত্যাদি।
এ বিষয়ে জাতীয় ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের  পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল হুদা লেলিনের সঙ্গে কয়েকবার মোবাইল এবং ল্যান্ডফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও  পাওয়া যায়নি। ফোন রিং হয় কিন্তু রিসিভ হয় না। এছাড়া ক্ষুদে বার্তা দেয়া হলেও উত্তর মেলেনি।

রাক্ষসী পদ্মার থাবা নড়িয়ার ১২ গ্রাম বিলীন, নিঃস্ব ৭ হাজার পরিবার by শেখ খলিলুর রহমান

নড়িয়ায় রাক্ষসী পদ্মার কালো থাবায় নিঃস্ব শত শত মানুষ। নদী ভাঙনে গত তিন-চার দিনে মোক্তারেরচর, কেদারপুর ও ঘড়িষার তিনটি ইউনিয়নসহ নড়িয়া পৌরসভার ২নং ও ৪নং ওয়ার্ডের ঘরবাড়ি, কয়েক শত একর ফসলি জমিসহ ১২টি গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে।
এরমধ্যে মোক্তারেরচরের শেহের আলী মাদবরেরকান্দি, ঈশ্বরকাঠি, পাঁচুখাঁরকান্দি, কেদারপুর ইউপির ওয়াপদা, লঞ্চঘাট, সাধুর বাজার, লঞ্চঘাট, চরনড়িয়া. সাহেবরচর, চরজুজিরা/উত্তর কেদারপুর, দাসপাড়া ,কেদারপুর, দেওয়া ক্লিনিক, রওশনারা শপিংমল,  হেলথ কেয়ার ক্লিনিক, গাজী কালুরবাড়ীসহ সাধুর ও ওয়াবদা বাজার দুই-তিন শতাধিক দোকান ঘর, চরজুজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর কেদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘড়িষার ইউপির  চন্ডিপুর, শ্রী সত্য নারায়ণ মন্দির, পাঁচগাঁও, নড়িয়ার মুলফৎগঞ্জ বাজারের তিন শতাধিক দোকান ও বাসতলা বাজারের আরো ১৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ৪৫টি বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে।
এ ছাড়া কাঠগাছের বাগান, পানের বরজ, একটি কলাবাগানসহ কয়েক একর ফসলি জমি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে  নড়িয়া উপজেলার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ ৭ শতাধিক স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হয়ে গেছে নড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর নতুন ভবন, মসজিদ, গাড়ির গ্যারেজ, বসার স্থান। যেকোনো মুহূর্তে রাক্ষসী পদ্মায় খেয়ে ফেলতে পারে নড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনটি। এ দিকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নড়িয়া উপজেলার ৫ লক্ষাধিক  মানুষ। নদীভাঙনের মুখে পড়েছে মুলফৎগঞ্জ বাজারের ৮-৯ শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ।
সব সময়ের জন্য আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় ব্যবসায়ীদের। কেউ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর ছেড়ে যেত চায় না। গৃহহীন হয়ে পড়েছে এলাকার প্রায় ৭ হাজার পরিবার। এর মধ্যে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কেউ কেউ। কেউ রাস্তার পাশে ঝুপড়ি করে আছে। নদীভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন পদ্মার তীরে ভিড় করছে হাজার হাজার মানুষ। বাসতলা এলাকার মন্নান ঢালীর স্ত্রী জাহানারা বলেন, আমাদের  চোখের সামনে বাড়িঘর, জমিজমা পদ্মা নদী গিলে খেয়েছে। আমরা কিছুই বুজতে পারছি না, নিঃস্ব হয়ে গেলাম।
আমাদের দাবি, তাড়াতাড়ি যেন নদীতে বেড়ি বাঁধ হয়। কেদারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন দেওয়ান বলেন, আমরা বাপ-দাদার ভিটাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেলাম। সন্তানদের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারলাম না। চরজুজিরা গ্রামের সুলতান লস্কর বলেন, নদীশাসন না করে পদ্মা সেতুর কাজ করা ঠিক হয়নি। কারণ, ড্রেজিং করে নদীর স্রোত দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে সরিয়ে দেয়ার কারণে আমরা নড়িয়া উপজেলাবাসী পদ্মার ভাঙনে পড়েছি। যদি নদীর স্রোত মাঝখান দিয়ে দেয়া হতো তাহলে আমরা ভাঙনে পড়তাম না।
কেদারপুর এলাকার মিহির চক্রবর্তী বলেন, শুধু পদ্মার পাড়ে কান্না আর কান্না, সনাতন ধর্মের মানুষ পদ্মার পাড়ে কালীমন্দিরের সামনে গঙ্গা পূজা করে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করে এবং প্রসাদ বিতরণ করে। কেদারপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সানাউল্ল্যা বলেন, আমাদের  কেদারপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৬টি ওয়ার্ড নদীগর্ভে চলে গেছে। এলাকার মানুষ অসহায়/মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পর্যাপ্ত পরিমাণ কোনো সাহায্য নেই। তড়িঘড়ি করে নদীশাসন না করলে পুরো উপজেলা নদীগর্ভে চলে যাবে। নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন  বলেন, প্রতিদিন পদ্মা নদীর ডান তীর তথা নড়িয়া উপজেলার পৌরসভাসহ তিনটি ইউনিয়ন ভাঙনে পড়েছে। কেদারপুর ইউনিয়ন বেশি ক্ষতি হচ্ছে। ফসলি জমি ছাড়া মানুষের ঘরবাড়ি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি হাসপাতাল, মসজিদ, মাদরাসা, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ভাঙনে পড়েছে। এ দিকে গত সোমবার বিকালে নড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরাতন ভবনটি যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিঘ্ন ঘটবে। তবে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।      
নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প.প. কর্মকর্তা  ডা. মনির আহমেদ বলেন, আমরা স্বাস্থ্য কমপেক্সের মূল ভবন ছেড়ে আবাসিক ভবনে  বসে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিই; যে রোগী  জরুরি সেগুলো শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই। এর কোনো সমস্যা দেখা দিলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মতে ব্যবস্থা নেব।

সরকারি হাসপাতালগুলোর রোগীই ছিল ১৪ হাসপাতালের টার্গেট by সুদীপ অধিকারী

সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের দম ফেলার সময় নেই। সকালে নিয়োগকৃত সরকারি হাসপাতালে, তো বিকালে বসছেন কোনো প্রাইভেট চেম্বারে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনও ছুটছেন রোগীর পেছনে। পাশাপাশি এসব ডাক্তারের কখনো নিজের নামে আবার কখনো অন্য নামের মালিকানায়, মোহাম্মদপুর এলাকায় গড়ে উঠেছিল অনুমোদনহীন ১৪টি প্রাইভেট হাসপাতাল। যাদের বেশিরভাগ চিকিৎসা বাণিজ্যই চলতো সরকারি হাসপাতালের রোগীর ওপর ভরসা করে। আর এসব রোগী আসতো দালাল, ডাক্তারের কর্মচারী বা কখনো ডাক্তারের পরামর্শেই। 
রাজধানীর মোহম্মদপুরের হুমায়ুন রোড, বাবর রোড ও খিলজি রোডে অবস্থিত অনুমোদনহীন বিডিএম হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, সেবিকা জেনারেল হাসপাতাল, জনসেবা নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লাইফ কেয়ার নার্সিং হোম, রয়েল মাল্টিস্পেশালিস্ট হসপিটাল, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা মেন্টাল অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডিকশন হসপিটাল, মনমিতা মেন্টাল হসপিটাল, প্লাজমা মেডিকেল সার্ভিস অ্যান্ড ক্লিনিক, শেফা হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইসলামিয়া মেন্টাল হসপিটাল, ক্রিসেন্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মক্কা মদিনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, নিউ ওয়েল কেয়ার হসপিটাল এবং বাংলাদেশ ট্রমা স্পেশালাইজড হসপিটাল চলত এভাবেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হুমায়ুন রোডের ‘বিডিএম হাসপাতালটির’ প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের ৭ জন চিকিৎসক।
যাদের মধ্যে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) একজন খাতিমান চিকিৎসকেরও নাম রয়েছে। অনুমোদনহীন প্রতিটি হাসপাতালে এমনই সব সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা রোগী দেখতেন প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন ডাক্তারের নাম দিয়ে রকমারি সব সাইনবোর্ড লাগানো থাকতো হাসপাতালগুলোর সামনে। জানা যায়, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানের সময় এসব চিকিৎসক এক বা একাধিক কর্মচারী নিয়োগ করেন। চিকিৎসক কাজে ব্যস্ত থাকাকালে, যাদের কাজ থাকে চেম্বার অর্থাৎ চিকিৎসকের নির্দিষ্ট রুমের সামনে বসে থাকা। ডাক্তার কোথায় ও কবে, কখন প্রাইভেট রোগী দেখেন তার বিষয়ে মানুষকে বলা। প্রয়োজন মতো প্রাইভেট ভিজিটিং কার্ড সরবরাহসহ রোগীর সিরিয়াল লেখার কাজও করেন তারা। তাদের মাধ্যমেই  বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠান সরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররা।
এলাকাটিতে অবস্থিত সরকারি হাসপাতাল ঢাকা শিশু হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল, বাংলাদেশ কিডনি ইনস্টিটিউট, জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আগত দেশের বিভিন্ন এলাকার রোগীদের ওপর ভরসা করে এই এলাকায় গড়ে ওঠে অনুমোদনহীন একাধিক হাসপাতাল। এসব সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারের পরামর্শ ও সঙ্ঘবদ্ধ দালালচক্রের মাধ্যমে রোগী আনা হতো অনুমোদনহীন হাসপাতালগুলোয়। এমনই একজন নাসিমা বেগম। পা ভেঙে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন থেকে এক্স-রে করতে হবে, ডাক্তারের এমন নির্দেশে পায়ের এক্স-রে করাতে গিয়েছিলেন সেবিকা জেনারেল হাসপাতাল ও লাইফ কেয়ার নার্সিং হোমে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ভালো হবে না, আপনার ওই ডাক্তার এখানেই বসে। সঠিক ট্রিটমেন্টটা পাবেন। এমন নানা কথা বলে, নার্সিং হোমেই ভর্তি করে নেয় তাকে। কিন্তু দিন গেলেই নিত্য নতুন খরচ দেখে টনক নড়ে তার। 
হাইকোর্টের দেয়া রায়ের পর বৃহস্পতিবার হাসপাতালগুলোর বর্তমান অবস্থা জানতে গেলে দেখা যায়, হাসপাতালগুলোর বেশিরভাগই পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বন্ধ গেটের সামনে বসে আছে কিছু নিরাপত্তাকর্মী। তবে ভেতরে মানুষের অবস্থান বোঝা যাচ্ছে। কথা বলতে গেলে তেমন কাউকেই পাওয়া যায়নি। তবে, দিব্যি খোলা রয়েছে রয়েল মাল্টিস্পেশালিস্ট হাসপাতাল। সব কার্যক্রমই চলছে তাদের।
রিসিপশনে বসে থাকা মানসুরা আক্তার বলেন, আমরা টিভিতে খবরটি দেখেছি। আমাদের হাসপাতালটি দোতলা বাড়িতে অবস্থিত। আমরা মনে করি এতে যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। রোগীর চাপে এখানে আমরা শিফটে ডিউটি করি। নিয়মিত চিকিৎসক আছেন ৬-৭ জন। আর কলে আসেন এমন চিকিৎসক আছেন ১০ জন। আমাদের এখানে সব ধরনেরই অস্ত্রোপচার করা হয়। তিনি দাবি করেন, এই হাসপাতালে ২০ শয্যার অনুমোদন আছে। তবে, এখন শয্যা আছে ১০টি। ভিআইপি কেবিন আছে ২টি এবং সিঙ্গেল কেবিন আছে ২টি। কার্যক্রম চালোনোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান স্যার ডা. আরিফ হোসেন এখন দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশে ফিরে আসার পরই সিদ্ধান্ত নেবেন এই রায়ের ব্যাপারে কী করা যায়।
বাংলাদেশ স্পেশালাইজড ট্রমা সেন্টারের রিসিপশনেও কর্মী বসে থাকতে দেখা যায়। লোকজনের আনাগোনাও ছিল চোখে পড়ার মতো। যে কেউই বুঝতে পারবে, তাদের কার্যক্রম এখনো থেমে নেই। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পরও কার্যক্রম চালনোর বিষয়ে তারা বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স আছে, তবে তা নবায়ন করা হয়নি। অনুমোদনহীন রোগী সেবা দেয়ার বিষয়ে জানান, আমরা নতুন কোনো রোগী ভর্তি করিনি। পুরনো যে কয়েকজন রোগী ছিল তাদেরই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শুধু বিভিন্ন ফিজিওথেরাপি দেয়া হচ্ছে।  সেবিকা জেনারেল হাসপাতাল ও লাইফ কেয়ার নার্সিং হোমে পুরনো দু-একজন রোগীর দেখা মিল্লেও দেখা মেলেনি কোনো চিকিৎসকের। তবে, বিডিএম হাসপাতালে এখনো রোগীর ভিড় চোখে পড়ার মতো।
এ বিষয়ে হাসপাতালের  ম্যানেজার মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমরা ২০-২২ বছর ধরে রাজধানীতে এই হাসপাতাল পরিচালনা করছি। যদি কোনো খুঁত থাকতো তাহলে এত দিন এই হাসপাতাল পরিচালনা করতে পারতাম না। আমাদের এখানে বড় বড় হাসপাতালের নামি চিকিৎসকরা এসে চিকিৎসা করেন। মূলত অর্থোপেডিক রোগীর চিকিৎসা এখানে বেশি করা হয়। ৮তলা এই হাসপাতালটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট। ১৫০ জন স্টাফ আছেন। ২০ জন চিকিৎসক আছেন। আমরা যতদূর সম্ভব ক্লিনভাবে এই হাসপাতাল চালাই। এই প্রথমবার রিটের মুখোমুখি হলাম। আমরা আইনিভাবেই এর জবাব দেবো। হাইকোর্টের রায়ের পর থেকে কিছু হাসপাতাল খোলা থাকলেও বাকিগুলোর বেশির ভাগের কার্যক্রমই  রয়েছে বন্ধ।
মোহাম্মদপুর কয়েকশ মিটারের মধ্যেই গড়ে উঠেছিল ২৬টি ব্যক্তিমালিকানার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যার মধ্যে ১৪টিরই নেই কোনো লাইসেন্স বা সরকারি অনুমোদন। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে মামলা করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআর পিবি)। গত ১১ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবৈধভাবে পরিচালিত ১৪টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার দ্রুত বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ক্লিনিকগুলো দ্রুত বন্ধের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলেছেন আদালত।

ভিন্নমত ছাড়া গণতন্ত্র বাঁচে না by সাজেদুল হক

কথাটা হয়তো আপনি অনেকবারই পড়েছেন। দুঃখিত যে, তা আবারো লিখতে হচ্ছে। ভিন্নমতের পৃথিবী ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। দুনিয়ার দেশে দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে ক্রমশ। আবির্ভাব হচ্ছে বলশালী শাসকদের। যারা ভিন্নমত ঘৃণা করেন। মার্কিন মুল্লুকে ডনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় এক অভিনব পরিস্থিতিই তৈরি করেছে। প্রায় প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন তিনি। মিডিয়াও তাকে ছেড়ে কথা বলছে না। ক’দিন আগেই তিনশ’ সংবাদপত্র ঐক্যবদ্ধভাবে তার বিরুদ্ধে সম্পাদকীয় প্রকাশ শুরু করেছে। আমরা আরেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের কথাও স্মরণ করতে পারি। তিনি আফগান-ইরাক যুদ্ধের পটভূমিতে সারা দুনিয়াকে হুঁশিয়ার করেছিলেন, হয় তুমি আমাদের পক্ষে, না হয় বিপক্ষে।
বাংলাদেশের মিডিয়াও বহুদিন ধরেই এ বুশ ডকট্রিনে চলছে। হয় তুমি আমার পক্ষে, না হয় বিপক্ষে। তৃতীয় কোনো মত থাকতে পারে- এটা কেউই মানতে চান না। পছন্দ না হলেই আক্রমণ। চাপাতিতে শান দেন কেউ। কেউবা নিক্ষেপ করেন কারাগারে। অথচ এ দেশের স্বাধীনতার পেছনে সংবাদপত্রের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। ইত্তেফাক এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকায় ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের চলার পথ মসৃণ ছিল না। তবে এরশাদের পতনের পর এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে বাংলাদেশের মিডিয়া। সাপ্তাহিক খবরের কাগজের মামলায় উচ্চ আদালতের রায় এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। সংবিধানে কিছু বাধা-নিষেধ রয়ে গেলেও প্রায় অবাধ স্বাধীনতাই ভোগ করছিল সংবাদপত্র। যদিও মতপ্রকাশের জন্য হত্যা আর হামলা কখনো থামেনি। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা যে এখন এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সে কথা হলফ করে না বললেও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। সোশ্যাল মিডিয়া, সুবিধা-অসুবিধা দুটোই তৈরি করেছে। সেখানে মন্তব্য-কটূক্তি করার দায়ে কারাভোগ করেছেন বহু মানুষ।
পাকিস্তানে সেনা ছাউনির সঙ্গে দেশটির শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক ডনের টানাপড়েন চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। ভারতে দুই/তিন দিনে বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী আর মানবাধিকার কর্মীকে আটক করা হয়েছে। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য এক্ষেত্রে খুবই সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ঐতিহাসিক সত্য ফের উচ্চারণ করেছে আদালত, ভিন্নমত গণতন্ত্রের সেফটি বাল্ব।
শুধু ব্যালট উৎসবের নাম গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্র একটি ব্যবস্থা। সম্ভবত, এর সবচেয়ে বড় উপাদান, মত প্রকাশের স্বাধীনতা। ভোটও তো মত প্রকাশই। আর এই মত প্রকাশের জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষা আর লড়াইয়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সপ্তদশ শতকে বৃটিশ রাজার সঙ্গে বিবেকের স্বাধীনতা ও চিন্তার স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে নামেন কবি জন মিল্টন। অ্যারিওপ্যাজিটিকায় তার অমর উচ্চারণ স্মরণ করে শেষ করছি এই লেখা, ‘আমায় জ্ঞানের স্বাধীনতা দাও, কথা কইবার স্বাধীনতা দাও। আর সবার উপরে আমাকে দাও মুক্তি।’

ওয়াশিংটনে টিকফা বৈঠক: বাংলাদেশের বক্তব্য শুনলেন ট্রাম্প প্রশাসনের ৩০ কর্মকর্তা

ওয়াশিংটনে টিকফার চতুর্থ বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্তত ৩০ জন কর্মকর্তা বাংলাদেশ নিয়ে ঢাকার কর্মকর্তাদের কথা শুনেছেন। প্রায় ৩ ঘণ্টার ওই বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানার চেষ্টা করেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। সেখানে তারা শ্রম খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তবে এসব উদ্যোগে দ্রুত এবং কার্যকর বাস্তবায়ন যেমন চেয়েছেন তেমনি দেরি হলে যেকোনো ভালো উদ্যোগই হারিয়ে যায় বলে সতর্ক পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
বাংলাদেশের কর্মকর্তা অঙ্গীকার করেছেন চলতি সংসদেই শ্রম খাতের উদ্যোগগুলো আইনে রূপান্তরিত হওয়ার বিষয়ে। বৈঠকে অংশ নেয়া ঢাকার একাধিক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে কমর্রত শ্রমিকের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ কমলেও এটি পুরোপুরি নিরসন হয়নি। ফলে দেশটিতে বহুল আলোচিত স্থগিত হওয়া জিএসপি (শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা) ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনও কোনো আশার আলো নেই। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তি- টিকফা’র চতুর্থ বৈঠক হয়। সেখানে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধার আওতায় জিএসপির ইস্যুটি উঠলে আলোচনা বেশি দূর এগোয়নি। বরং সার্বিক শ্রম কাঠামো নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য।
২০১৩ সাল থেকে জিএসপি সুবিধা স্থগিত রয়েছে দেশটিতে। শ্রম অধিকার রক্ষায় সরকারের বহুপক্ষীয় উদ্যোগ দৃশ্যমান হওয়ার পরও জিএসপি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো হেরফের না হওয়ায় হতাশ ঢাকা। কর্মকর্তারা এ নিয়ে কোনো কথা না বললেও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ একাধিকার বলেছেন, জিএসপি সুবিধা ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনায় আগ্রহী নয় ঢাকা। যদি যুক্তরাষ্ট্র তার ওই ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ নিজে থেকে পরিবর্তন করে বাংলাদেশকে জিএসপি ফেরত দেয় ঢাকা তা স্বাগত জানাবে এমনটাই বলছেন কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবারের টিকফা বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- বৈঠকে উভয় দেশই বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বন্ধন আরো গভীর করার অঙ্গীকার করেছে। সভায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সহকারী ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ মার্ক লিন্সকট ও বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু নেতৃত্ব দেন।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যবিষয়ক নীতি বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শ্রম অধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নের লক্ষ্যে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। প্রতিনিধি দলটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করেছে। সূত্র জানিয়েছে, জিএসপি পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত পরিপালনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে খুশি নন প্রতিনিধি দল। এই প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ইইউ বাংলাদেশকে দেয়া জিএসপি সুবিধা পর্যালোচনার বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
সেক্ষেত্রে চলমান রাখা-না রাখা কিংবা নতুন কোন শর্তের বিষয়টি উল্লেখ করতে পারে। ইইউ’র ২৮টি দেশে প্রায় সব পণ্যেই শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পায় বাংলাদেশ। এ দেশগুলো সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৬০ শতাংশের বেশি রপ্তানি হয় ইইউভুক্ত দেশগুলোতে। ফলে এখানে কোনো কারণে জিএসপি বাধাগ্রস্ত হলে কিংবা শর্তের মধ্যে পড়লে তা সার্বিক রপ্তানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। অবশ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে মালিক পক্ষের পাশাপাশি শ্রমিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের শ্রমিকের স্বার্থে জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর শ্রম অধিকার ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার ঘাটতির অজুহাত তুলে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে গার্মেন্টস কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করে অ্যালায়েন্স ও অ্যাকর্ড নামে দুটি জোট। এরপর জিএসপি পুনরুদ্ধারে ১৬টি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের শর্ত দেয় দেশটি। গত কয়েক বছরে এসব কর্মপরিকল্পনার প্রায় সবই বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন আলোচনায় শ্রম অধিকারের ইস্যুটি আলোচনায় এনেছেন এবং এ বিষয়ে আরো অনেক কিছু করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তাগিদ দিয়ে আসছিলেন।
অন্যদিকে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডাসহ আরো কয়েকটি দেশের সমন্বয়ে গঠিত (বাংলাদেশও রয়েছে) প্ল্যাটফর্ম ‘সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্টের’ সর্বশেষ সভায়ও শ্রম অধিকারের বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে। এ লক্ষ্যে আইএলও’র নীতিমালার আলোকে শ্রম আইনের সংশোধন, শ্রমিকের স্বাধীনভাবে যৌথ দর কষাকষির লক্ষ্যে কার্যকর সিবিএ গঠন, হয়রানি বন্ধ করার কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে পরামর্শ দেয়া হয়।

দেবর-ভাবির পরকীয়ার বলি স্বামী

দুই ভাই মনিরুজ্জামান মনির (৩৫) ও আজমল হক মিন্টু (২৪)। কর্মসূত্রে একজন থাকেন ঢাকা অন্যজন ফেনীতে। মনিরের স্ত্রী কাজল রেখা (৩০) থাকতেন গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। কাজল রেখার দুই সন্তান রয়েছে। আট বছর আগে আজমল একদিন গ্রামের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই সময় আজমলের সেবাযত্ন করেন তার ভাবি কাজল রেখা। ওই সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে দু’জনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। দিন দিন সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়।
আজমল সিদ্ধান্ত নেয় কাজল রেখাকে বিয়ে করার।  কিন্তু ওই বিয়েতে বাধা হয়ে দাঁড়ান মনির। তখন মনিরকে হত্যার পরিকল্পনা করে আজমল। ১ লাখ টাকা দিয়ে ভাড়াতে খুনি ঠিক করে। নিজ ভাইকে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে হত্যা করে আবার নিজেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে লাশ শনাক্ত করতে যায়। সেখানে তাকে কাঁদতেও দেখা যায়। মনিরের স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে স্বামী খুনের কথা শুনে আহাজারি করতে থাকে।
কিন্তু খুনের কারণ ও পরিকল্পনার ছক আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ। কাজল রেখা ও আজমল খুনের বিষয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়াও পুলিশ খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আজমল হক মিন্টু, আবদুল মান্নান, সোহাগ ওরফে শাওন ও ফাহিমকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ তাদের কাছ থেকে খুনে ব্যবহৃত ২টি চাকু ও মৃতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। গতকাল সকালে পুলিশের গুলশান বিভাগের ডিসি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের গুলশান বিভাগের ডিসি এসএম মোস্তাক আহমেদ জানান, গত ৮ই সেপ্টেম্বর সকালে বাড্ডা থানাধীন সাঁতারকূল এলাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পশ্চিম দিকে হিন্দুপাড়ার খোলা মাঠে পায়ে চলাচলের রাস্তায় গলা এবং পেটে ছুরিকাঘাত করা একটি অজ্ঞাতনামা মৃতদেহ উদ্ধার করে বাড্ডা থানা পুলিশ। সেটি ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠালে পরবর্তী সময়ে মৃতের ছোট ভাই আজমল হক মিন্টু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃতদেহটি শনাক্ত করে। পরে আজমল বাড্ডা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
তিনি জানান, এই মামলাটি তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মামলার তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়। নিহত মনিরের স্ত্রী কাজল রেখার সঙ্গে মনিরের আপন ছোট ভাই আজমল হক মিন্টুর প্রায় ৮ থেকে ৯ বছর যাবৎ অবৈধ পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। তাদের এই সম্পর্ক স্থায়ী করতে একমাত্র পথের কাটা স্বামী মনিরকে হত্যার পরিকল্পনা করে কাজল ও মিন্টু। হত্যা করার পরিকল্পনা হিসেবে তারা এক লাখ টাকার ?চুক্তিতে ঢাকার ৩ খুনিকে ভাড়া করে।
অগ্রিম হিসাবে তাদের ত্রিশ হাজার টাকা দেয় তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে খুনিরা মনিরকে হত্যা করে। পরিকল্পিতভাবে খুন করে খুনের দায় এড়ানোর জন্য আজমল হক মিন্টু নিজে বাদী হয়ে গত ৮ই সেপ্টেম্বর বাড্ডা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। তিনি আরো জানান, ফেনী যাওয়ার পথে গত ৭ই সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকায় আসেন মনিরুজ্জামান মনির। ঢাকায় ছোট ভাই মিন্টুর বাসায় যাওয়ার কথা ছিল তার। ওইদিন রাতে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরের দিন থেকে মনিরের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
৮ই সেপ্টেম্বর সকালে পুলিশ সাঁতারকূল এলাকায় লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে পরের দিন তার ভাইয়ের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে শনাক্ত করেন আজমল। আজমল গ্রামের বাড়িতে তার ভাই নিহতের কথা জানান। এ সময় গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ বিষয়টির তদন্তে নামে। মনিরের স্ত্রী কাজল রেখা এবং আজমলের দুটি মোবাইল জব্দ করে পুলিশ। পরে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা খুনের পরিকল্পনার কথা বলে।
তিনি আরো জানান, কোরবানি ঈদের পর মনিরকে হত্যার পরিকল্পনা নেয়। আজমল তার ভাইকে হত্যার জন্য এক লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি ঠিক করে। অগ্রিম ৩০ হাজার টাকাও দেয়। পরিকল্পনা ছিল, ঈদের সময় দিনাজপুরে আসার পথে ঢাকায় মনিরকে হত্যা করা হবে। ঈদের সময় আজমল ফোন করে মনিরকে। ঢাকায় নিজের বিয়ের জন্য মেয়ে দেখার কথা বলে আজমল। ঢাকায় আজমলের বাসায় যাওয়ার কথা বলে দিনাজপুর থেকে ৭ই সেপ্টেম্বর রওনা দেন মনির।
রাত ১০টার দিকে গ্রামীণফোনের সিমে স্বামীর সঙ্গে কথা বলেন। অন্যদিকে, আরেকটি সিম দিয়ে দেবরের সঙ্গে কথা বলেন কাজল। আজমল ফোন করে তার ভাইকে মেরে ফেলার কথা জানান কাজলকে। এরপর কাজল গ্রামীণফোনের সিমটি ফেলে দেন। কান্নাকাটি করে কাজল বাড়ির সবাইকে বলেন, ২০ হাজার টাকা নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন মনির। ছিনতাইকারীদের হাতে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে জানান কাজল। সংবাদ সম্মেলনে বাড্ডা জোনের পুলিশের সহকারী কমিশনার আশরাফুল কবীর ও বাড্ডা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মেডিকেল বোর্ডকে খালেদার প্রশ্ন, আমার চিকিৎসক কোথায়?

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন তার চিকিৎসার জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। গতকাল বিকালে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গেলে তিনি প্রশ্ন করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কেউ বোর্ডে নেই কেন? এ সময় চিকিৎসকরা জানান, নতুন মেডিকেল বোর্ডের সদস্য হিসেবে তারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে এসেছেন। পরে খালেদা জিয়া তার শারীরিক সমস্যাগুলো মেডিকেল বোর্ডকে জানান। বোর্ডের  একজন চিকিৎসক মানবজমিনকে জানান, উনার সমস্যাগুলো পুরনো।
এক স্থানে থাকার কারণে বেড়েছে। রোববার আমরা চিকিৎসার বিষয়ে পরামর্শ দেব। শনিবার বিকাল পৌনে ৪টায় চিকিৎসক দলটি ‘বাংলাদেশ জেল’ লেখা একটি মাইক্রোবাসে করে কারাগারের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করেন। কারাভ্যন্তরে প্রায় ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট অবস্থান করে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে তারা বেরিয়ে আসেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চিকিৎসার বিষয়ে তারা গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে কোনো মন্তব্য করেননি। এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা প্রায় ২০ মিনিট ধরে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। আজ (রোববার) চিকিৎসকরা কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার জন্য ব্যবস্থাপত্রের (প্রেসক্রিপশন) অফিসিয়ালি রিপোর্ট দেবেন। কী সমস্যা ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার শরীরে আগের যে সমস্যাগুলো ছিল- যেমন, আর্থাইটিস, হাঁটুতে ব্যথা।
এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন গণমাধ্যমকে জানান, কারা-কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিঠি পাওয়ার পর ১৩ই সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডা. মো. আবদুল জলিল চৌধুরীকে প্রধান করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় পাঁচ সদস্যের এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক হারিসুল হক (কার্ডিওলজি), অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী (অর্থোপেডিক সার্জারি), সহকারী অধ্যাপক তারেক রেজা আলী (চক্ষু) ও সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ (ফিজিক্যাল মেডিসিন)। উল্লেখ্য, ৯ই সেপ্টেম্বর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করেন।
তারা খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী রাজধানীর কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর অনুরোধ জানায়। এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড হবে। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে এই বছরের ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। বন্দি থাকা অবস্থায় ইতিমধ্যে একবার মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। তখন স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর মেডিকেল বোর্ড বলেছিল, খালেদা জিয়ার অবস্থা গুরুতর নয়। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা করতে গত ৭ই এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয়বারের মতো মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

ভারত থেকে অবৈধদের বের করে দেয়াই সমাধান নয় -ইকোনমিক টাইমসের সম্পাদকীয়

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহ অবৈধ প্রতিজন অভিবাসীকে দেশ থেকে বের করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ঘোষণায় সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান নেই। উল্টো তাতে চরম অবিচার ও তা থেকে বিশৃংখলা সৃষ্টি হবে। সম্প্রতি বিজেপির শীর্ষ স্থানীয় একাধিক নেতা আসামের নাগরিকপঞ্জিকে কেন্দ্র করে আসামে ও ভারতের অন্য রাজ্যে বসবাসকারী ‘অবৈধ প্রতিজন বাংলাদেশী’কে বের করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তারই প্রেক্ষিতে শুক্রবার অনলাইন ইকোনমিক টাইমস তার সম্পাদকীয়তে উপরের কথাগুলো লিখেছে। এতে বিজেপির উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বলা হয়েছে, ভারতে বসবাসকারী অন্য দেশের অবৈধ নাগরিকদের বিষয়ে বিজেপি তাহলে কি করবে। এ নিয়ে তাদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশ থেকে (অবৈধদের) বের করে দেয়াই সমস্যার সমাধান নয়। ওই সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, ৩০ শে জুলাই প্রকাশিত হয় আসামের নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)র চূড়ান্ত খসড়া তালিতা। তা থেকে বাদ পড়েছেন ৪০ লাখ মানুষ। বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন অনেক গোর্খা, হিন্দি ও বাংলাভাষী। আছেন, আসামের আদিবাসীরাও। এ কথা সোমবার স্বীকার করেছেন আসাম বিজেপির নেতা রণজিত দাস।
অমিত শাহ যেমনটা বলেছেন, ভারতজুড়ে এনআরসি প্রয়োগ করা উচিত। তাহলে তামিলনাড়–তে যেসব শ্রীলঙ্কান তামিল বসবাস করেন তাদের কি হবে? বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে কি নেপালের গোর্খা ও লেপচাসদের উচ্ছেদ করা হবে? সিঙ্গফোসদের (মিয়ানামারে যাদেরকে কাচিন বলা হয়) কি বলা হবে অরুণাচল প্রদেশ থেকে চলে যেতে?
ওই সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন রাখা হয়- যদি এটা সম্ভব হয়ও, তাহলে কিভাবে তাদেরকে বের করে দেয়া হবে? ব্যাপক সংখ্যায় মানুষকে ভারত থেকে বের করে দেয়ার জন্য পাশাপাশি থাকা সরকারগুলোর সঙ্গে কোনো চুক্তি নেই ভারতের। ভারতকে একটি মহত দেশ বা জাতি হিসেবে উপযুক্ত একটি সমাধান খুঁজতে হবে। সেটা করতে হবে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তকে প্রবেশযোগ্য রেখে, যেমনটি আছে নেপালের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি যেসব মানুষ ভারতে জন্ম নিয়েছেন তাদেরকে পিতামাতার বিষয়টি মাথায় না নিয়ে, বৈধতা দিয়ে নাগরিকত্বকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে হবে।  যারা তাদের জীবনের বিবেচ্য বড় একটি অংশ ভারতে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে কাটিয়েছেন তাদেরকেও ধরতে হবে।
এতে আরো বলা হয়, যখন কাউকে বিদেশী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয় তখন স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ফরেনার্স অ্যাক্ট ব্যবহার করে অভিযুক্তর নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা হয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে নির্দোষ হিসেবে দেখার যে মূলনীতি আছে এটা তার বিপরীত। এমন নীতি বাদ দেয়া উচিত।

মেঘনায় বিলীন ৫ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি by আব্বাছ হোসেন

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরফলকন, চর কালকিনি চর সাহেবের হাট ও চর পাটওয়ারীর হাট এ চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন মেঘনা নদীর ভাঙন চলছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে গত এক বছরে ৮ বার ধস নামে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এর আগে ১৫শে জুলাই ভোররাতে ওই বাঁধের দক্ষিণাংশের প্রায় ২০০ মিটারে ধস নামে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হওয়ায় বাঁধের দুই পাশের এলাকায় অব্যাহতভাবে ভাঙছে। আশেপাশের এলাকায় ভাঙনের কারণে বাঁধ ধসে পড়েছে। গত বর্ষা মৌসুমেও ওই বাঁধে পাঁচ বার ধস নামে। অনিয়মের মধ্য দিয়ে নিম্নমানের কাজ করায় বার বার বাঁধে ধস নামছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। হুমকির মুখে রয়েছে পুরো বাঁধ। বাঁধে ধস দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে কমলনগর উপজেলার দু-লক্ষাধিক মানুষ। গত কয়েকদিনের তীব্র স্‌্েরাতে নদীর তীর এলাকার ঘরবাড়ি প্রতিদিন ভেঙে পড়ছে।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে কমলনগর উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকায় এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ব্যয় হয় ৪৮ কোটি ১১ লাখ টাকা। উক্ত কাজ পায় ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্ক লিমিটেড (ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান)। কিন্তু ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি না করে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংকে দিয়ে তখন কাজ শুরু করেন। শুরুতে নিম্নমানের বালু ও জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ শুরু করায় স্থানীয়দের চাপের মুখে পড়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনসহ নানান কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। এদিকে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনে গত এক বছরে গৃহহীন হয়ে পড়েছে ৫ হাজার পরিবার। এছাড়া কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি বহু স্থাপনা।
তীব্র স্রোতে এক কিলোমিটার নির্মাণাধীন বাঁধের দু’পাশে ব্লক সরে ধসে পড়ছে। এতে করে জোয়ারের পানি ডুকে পড়েছে কিছু এলাকায়। এছাড়া ব্লক থেকে ব্লকের দূরত্ব বাড়?ায় বাঁধের বেশ কিছু অংশ ফাঁকা হয়ে গেছে। ধস ঠেকাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জিও ব্যাগ (বালুভর্তি বিশেষ ব্যাগ) ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করলে কোনোভাবেই রক্ষা করা যাচ্ছে না বাঁধ। এলাকাবাসীর দাবি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ায় অনিয়মের কারণেই বার বার বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে আরো ৮ কিলোমিটার কাজ রামগতি আলেকজান্ডরের মতো সেনাবাহিনী দিয়ে করলেই জেলার মানচিত্র থেকে কমলনগর উপজেলা রক্ষা পাবে।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মো. মুসা ভাঙনের কথা স্বীকার করে জানন, আমরা প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছি। অনুমোধন পেলে কাজ শুরু করবো।

বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অবরোধ কেউই জানেন না by আল-আমিন

মামলার এজাহারে ঘটনার তারিখ ১১ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার। সময় রাত ৮টা ১৫ মিনিট। ঘটনার স্থান বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট। মামলায় অভিযোগ, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সড়ক অবরোধ করে জনজীবন বিপর্যস্ত করেছে। নাশকতার উদ্দেশে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিল। ঢাকার পল্টন থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। মামলা নম্বর-২৩। মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের আসামি করা হয়েছে। আসামির তালিকায় রয়েছে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতাকর্মীদের নামও। গতকাল দিনভর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে সরজমিনে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই এলাকায় সড়ক অবরোধের এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারা সেখানে কাউকে জড়ো হতে দেখেনি। অবরোধ আর মামলার কথা শুনে ওই এলাকার দোকানি ও লোকজন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। মামলায় যারা এজাহারনামীয় আসামি তাদের ধরতে বৃহস্পতিবার রাতে বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, মামলার বিষয়ে সরজমিনে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আসামিদের ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১১ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে যে মামলা দায়ের হয়েছে সেই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে যে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে ঢাকার বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে জড়ো হতে থাকে। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা এবং এর আশপাশ এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সড়কে আটকা পড়ে হাজার হাজার গাড়ি। সড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই হেঁটে গন্তব্যস্থলে রওনা দেয়। এজাহারে আরো বলা হয়েছে, পল্টন থানা পুলিশ ওয়াকিটকির মাধ্যমে খবর পেয়ে পল্টন থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম কয়েকজন কনস্টেবলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
সড়ক অবরোধ করে জনভীতি ছড়ানোর জন্য এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আসামির তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, খালেদা জিয়ার আইনজীবীর অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক এমএ মালেক, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি, শহীদুল ইসলাম বাবুল, কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও বেলাল আহমেদ, কণ্ঠশিল্পী মনির খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য হাসান মামুন, অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ, শেখ মো. শামীম, অ্যাডভোকেট ফেরদৌসী আক্তার ওয়াহিদা, সাবেরা আলাউদ্দিন ও কাজী মফিজুর রহমান প্রমুখের নাম। এ ছাড়াও মামলার এজাহারে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করীম ও পল্টন থানা শিবিরের নেতা আহমেদ ইয়াসিনের নাম রয়েছে।
বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটের ফুটওভার ব্রিজের চা দোকানি মো. আজিজ জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত চা বিক্রয় করেছি। কিন্তু, কোন লোক সমাগম দেখিনি। কোন অবরোধের ঘটনা ঘটেনি। খেজুর বিক্রেতা শামসুল আলম জানান, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরাতো সকাল ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছিলাম। বই বিক্রেতা শহীদ আলম জানান, আমরা এমন কোনো ঘটনা দেখিনি। কে বলেছে এখানে অবরোধ হয়েছে? তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটের মার্কেটের এক ঘড়ি ব্যবসায়ী জানান, সেই দিন এই এলাকায় কোনো অবরোধের ঘটনা ঘটেনি।
এ মামলার যারা আসামি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রায় সবার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে, পুলিশি হয়রানি রোধে অনেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন। মামলার আসামি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ জানান, এটা গায়েবি মামলা। সরকার ভীত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে এমন মামলা দিয়েছে। সরকার জলাতঙ্ক রোগে ভুগছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মামলার আসামি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ছেলে দেবাশীষ রায় ফোনটি রিসিভ করেন। তিনি জানান, শুনেছি বাবার নামে মামলা হয়েছে। তরিকুল ইসলামের মতো যিনি গুরুতর অসুস্থ তার নামেও পুলিশ মামলা দিয়েছে। এ মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর ভাষা নেই।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই রফিকুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, মামলাটির তদন্তের দায়িত্বের ভার আমার ওপর পড়েছে। মামলার এজাহারনামীয় আসামি কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। মামলার এজাহারে যে অবরোধের স্থান বলা হয়েছে সেখানে কোনো অবরোধের ঘটনা ঘটেনি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

নারায়ণগঞ্জে ৩ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা: বাসের সুপারভাইজারের খোঁজ মিলছে না

রূপগঞ্জের পূর্বাচল থেকে শুক্রবার ভোরে ৩ ঝুট ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সফিউদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহতদের স্বজনদের বাদ দিয়ে পুলিশ কেন মামলা করলো এমন প্রশ্নে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক সেকান্দার আলী বলেন, তারা কেউ থানায় যোগাযোগ না করায় বাধ্য হয়ে পুলিশ মামলার বাদী হয়েছে।
নিহতদের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ এবং মুন্সীগঞ্জে কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড না থাকলেও রূপগঞ্জ থানা পুলিশের দাবি নিহত সবার বিরুদ্ধেই রাজধানীতে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে রাজধানীর বনানী ও মুগদা থানায় যোগাযোগ করলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে নিহত ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন এ তথ্য প্রকাশকারী পূর্বাশা বাস পরিবহনের সুপার ভাইজারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। গত ১৪ই সেপ্টেম্বর ভোরে পূর্বাচল উপ-শহরের কাঞ্চন-কুড়িল সড়কের আলমপুর ৯ নং সেতুর নিচে ৩ যুবকের মৃতদেহ পরে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ী উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল ওহাবের ছেলে নূর হোসেন বাবু (৩২), ঝিনাইদহের সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের গুড়েলা গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে শিমুল আজাদ (২৯) এবং রাজধানীর বনানী, মহাখালী দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত শহিদুল্লাহর ছেলে সোহাগ ভূঁইয়া (৩৪) এর মৃতদেহ উদ্ধার করে। তাদের প্রত্যেককেই খুব কাছ থেকে মাথা ও বুকেসহ একাধিকস্থানে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে নিহত শিমুল আজাদের কাছ থেকে ৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখায় রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত  শিমুল আজাদ ও নূর হোসেন বাবু আত্মীয়। তারা রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় বসবাস করতেন। নিহত ৩ জনই সে এলাকায় পার্টনার হিসেবে গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা করে আসছিলেন।
নিহতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১২ই সেপ্টেম্বর শিমুল আজাদের গ্রামের বাড়িতে ৩ জন বেড়াতে যান। পরের দিন ঢাকায় ফেরার পথে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটের সামনে বাসের ভিতর থেকে তাদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকের লোকজন তুলে নিয়ে যায়। এ তথ্যর সত্যতা মানবজমিনকে নিশ্চিত করেন পূর্বাশা বাস সার্ভিস পরিবহনের সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেছিলেন, ১২ই সেপ্টেম্বর রাতে উল্লেখিত ৩ ব্যক্তি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার লাউতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে তার গাড়িতে উঠেন। ১৩ই সেপ্টেম্বর ভোরে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটের সামনে থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ১৫/১৬ ব্যক্তি তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়।
এ খবর মানবজমিন-এ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই আশরাফুলের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ঝিনাইদহ পূর্বাশা কাউন্টারের কর্মী সজিব জানান, আশরাফুলকে শনিবার ডিউটি করতে দেখা যায়নি। তার বাড়ি শহরের আমচারা এলাকায় গিয়েও দেখা গেছে ঘর তালাবদ্ধ। শনিবার নিহতের স্বজনদের দেয়া মুঠোফোন নম্বরগুলোও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিলো।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশের দাবি, নিহত সোহাগ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী থানায় একটি হত্যা ও ৫টি মাদকের মামলা রয়েছে। শিমুল আজাদ ও নূর হোসেন বাবুর বিরুদ্ধেও বনানী থানায় একাধিক মাদকের মামলা আছে। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, গুড়েলা গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে শিমুল আজাদের নামে তার থানায় নতুন পুরনো কোনো মামলা নেই। একই দাবি করেছেন মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন। তিনি বলেন, সকল রেকর্ড অনুসন্ধান করা হয়েছে। টঙ্গীবাড়ী থানা পাইকপাড়া গ্রামের আবদুল ওহাবের ছেলে নূর হোসেন বাবুর নামে এ থানায় কোনো মামলা নেই।
এদিকে ওই তিন যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, নিহত নূর হোসেন বাবুর মাথায় দু’টি ও বুকের ডান পাশের পাঁজরে একটি, শিমুল আজাদের বুকে ও পায়ে ৫টি এবং সোহাগ ভূঁইয়ার মাথায় ও বুকে দু’টি গুলির চিহ্ন রয়েছে। আসাদুজ্জামান আরো বলেন, সবক’টি গুলির চিহ্ন একই ধরনের। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে ওই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মধ্যরাতের কোনো এক সময় তাদের হত্যা করা হয়।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা কমছে by স্টিভ চিমা ও জিওফ্রি ম্যাকডোনাল্ড

বাংলাদেশে ক্রমেই অস্থিতিশীলতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের ফল কি হবে তা অনিশ্চিত। বাংলাদেশে আমাদের ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউটের (আইআরআই) নতুন জনমত জরিপে অবশ্য কিছু চিত্র উঠে এসেছে, যেগুলো হয়তো আগামী নির্বাচনের প্রচারাভিযান, ফলাফল ও নির্বাচন পরবর্তী স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
জরিপে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের জনগণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ার ওপর ক্রমেই আস্থা হারাচ্ছে। দেশের গণতন্ত্রের ওপর জনগণের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে আসন্ন নির্বাচন সকল রাজনৈতিক দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
আইআরআই’র জরিপ থেকে অবশ্য বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিতও মিলেছে। জরিপে দেখা গেছে ৬২ শতাংশ বাংলাদেশি মনে করেন দেশ সঠিক পথে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা অগ্রসরমান অর্থনীতি ও বর্ধিত উন্নয়নের কথা বলছেন। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ৬৯ শতাংশই ইতিবাচক নম্বর দিয়েছেন। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারী ‘কিছুটা ভালো’ কিংবা ‘খুবই ভালো’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
তবে ২০১৭ সালের এপ্রিলে করা জরিপের তুলনায় এই জরিপে ইতিবাচক আশাবাদের মাত্রা বরং কমেছে। বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে বলে যারা মনে করেন, তাদের সংখ্যা এই ১২ মাসেই ১৩ শতাংশ কমে গেছে। অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ‘খুবই ভালো’ পর্যায়ে আছে, এমন মতামতধারীর হার যথাক্রমে ২৬, ২৭ ও ১৯ পয়েন্ট কমেছে। এছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, উচ্চ আদালত ও নির্বাচন কমিশন সহ বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি সন্তুষ্ট মানুষের সংখ্যাও কমেছে। ২১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দুর্নীতি। ১৬ শতাংশ মনে করেন অর্থনীতি।
ঐতিহাসিকভাবেই গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের অনুরাগ বেশ প্রবল। তবে মানুষের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি বেশ বিভক্ত। মাত্র ৫১ শতাংশ মনে করেন দেশের গণতন্ত্র ‘কিছুটা ভালো’ বা ‘খুবই ভালো।’ আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা ‘খুব বেশি’ এমন মানুষের হার ১৮ শতাংশ কমে ৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, মাত্র ৩২ শতাংশ মনে করেন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে। বেশিরভাগ উত্তরদাতাই এই প্রশ্নের জবাব জানেন না কিংবা উত্তর দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
এই জনমত জরিপে ২০১৭ সালের আগস্টে আইআরআই পরিচালিত ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন (এফজিডি) গবেষণায় উঠে আসা ফলাফলের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সরকারী প্রতিষ্ঠানের পারফরম্যান্স, গণতন্ত্র ও অর্থনীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রত্যন্ত সিলেট অঞ্চলের একজন বলেন, ‘পুলিশের দায়িত্ব হলো দেশের নিয়ম-নীতি বজায় রাখা। কিন্তু তারা সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। নির্দোষ মানুষের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করছে।’
বরিশালের প্রত্যন্ত এলাকার এক নারী বলেন, ‘এখন জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করেই সব হচ্ছে। যদি দেশে গণতন্ত্র থাকতো আমরা তাহলে ভোট দিতে পারতাম।’
ওদিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে কর্মসংস্থানহীনতা প্রকট রূপ নিয়েছে। চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক নারী বলেন, ‘এখন কোনো চাকরি নেই। কেউ চাকরি পাচ্ছে না।’ রংপুর শহরের একজন পুরুষ আলোচক বলেন, ‘আমি মনে করি এখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসা করা খুবই কঠিন। আগে যেমনটা পারতাম এখন ততটা ভালোভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারি না। কিছু রাজনীতিক আমাদেরকে নির্যাতন করেন। নির্যাতন মানে, তারা আমাদের কাছ থেকে চাঁদা চায়। হুমকি দেয়। ফলে চাঁদা দিতে আমরা বাধ্য।’
মোটাদাগে, আইআরআই’র গতবছরের জনমত উপাত্ত থেকে দেখা যায় দৃশ্যত ইতিবাচক মনোভাব থাকলেও, ভেতরে ভেতরে মানুষের মধ্যে সরকারী সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে। এ বিষয়গুলো নিশ্চিতভাবেই আগামী নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় রাজনৈতিক বিতর্কে প্রভাব ফেলবে।
ডিসেম্বরে যেই দলই জিতুক না কেন, এই নির্বাচন হবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও শাসক শ্রেণির জন্য জনসন্তোষের জোয়ার ঠেকানো এবং মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন, প্রাণবন্ত অসহিংস প্রতিদ্বন্দ্বীতার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে পুনর্জ্জীবিত করার একটি সুযোগ।
(স্টিভ চিমা হলেন ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউটের বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা বিষয়ক আবাসিক প্রোগ্রাম ডিরেক্টর। জিওফ্রি ম্যাকডোনাল্ড হলেন প্রতিষ্ঠানটির গণতন্ত্র ও সুশাসন বিষয়ক প্রধান গবেষক। তাদের এই নিবন্ধ প্রভাবশালী মার্কিন থিংকট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেইন রিলেশন্সের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।)

অর্থবছরের প্রথম মাসেই বাণিজ্য ঘাটতি ১০ হাজার কোটি টাকা

আমদানির চাপে বেড়েই চলছে বাণিজ্য ঘাটতি। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি ব্যয় বাড়লেও সে অনুযায়ী বাড়ছে না রপ্তানি আয়। ফলে বাড়ছে বাণিজ্যের ঘাটতির পরিমাণ। এতে করে চাপে পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা। তাদের মতে, দেশে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ চলছে। এসব বড় বড় প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানি বেড়ে গেছে। এ ছাড়া শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি বেড়েছে। এসব কারণেই বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে। তবে এই ঘাটতি মেটানো হয় রেমিট্যান্স ও বিদেশি বিনিয়োগ দিয়ে। এই খাতেও তেমন আশানুরূপ গতি নেই। ফলে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট বা বিওপি) ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা বিদ্যমান থাকা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ভালো নয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই শেষে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাসে ইপিজেড সহ রপ্তানি খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে ৩৫২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় করেছে ৪৭০ কোটি ডলার। এ হিসাবে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। যা বর্তমান বিনিময় হার (৮৪ টাকা) অনুযায়ী ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। সর্বশেষ জুলাই শেষে ২৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার (-) ঋণাত্মক হয়েছে। যা এর আগের অর্থবছরে ঋণাত্মক ছিল ৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
এদিকে আলোচিত সময়ে সেবাখাতে বেতন-ভাতা বাবদ বিদেশিদের পরিশোধ করা হয়েছে ৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর বাংলাদেশ এ খাতে আয় করেছে মাত্র ৫৫ কোটি ডলার। এ হিসাবে সেবাখাতে বাণিজ্যে দেশে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। যা গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল (ঘাটতি) ৪১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত সময়ে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ২৪ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি। এদিকে এফডিআই বাড়লেও দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাপক হারে কমেছে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে শেয়ারবাজারে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। যা তার আগের অর্থবছরে ছিল ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
এদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিটেন্স সংক্রান্ত তথ্যে দেখা গেছে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে ১৪১ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের আগস্ট মাসের চেয়ে ০.৫৩ শতাংশ কম। তবে অর্থবছরের প্রথম মাসের চেয়ে অর্থাৎ জুলাই মাসের চেয়ে ৭.১৪ শতাংশ বেশি। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে ২৭২ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭.৭ শতাংশ বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৫৩ কোটি ৪১ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল বাংলাদেশে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৩১ কোটি ৭০ লাখ (১.৩১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত বছরের একই মাসের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি।